(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: -)
ذخائر العقبى في مناقب ذوي القربى القسم: السيرة النبوية
الكتاب: ذخائر العقبى في مناقب ذوى القربى
المؤلف: محب الدين أحمد بن عبد الله الطبري (ت 694 هـ)
عنيت بنشره: مكتبة القدسي لصاحبها حسام الدين القدسي بباب الخلق بحارة الجداوي بدرب سعادة بالقاهرة
عن نسخة: دار الكتب المصرية، ونسخة الخزانة التيمورية
عام النشر: 1356 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 261
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
যখায়েরুল উকবা ফি মানাকিবি যাউয়িল কুরবা (নিকটাত্মীয়দের ফযিলত বর্ণনায় পরকালের সঞ্চয়) বিভাগ: সীরাতুন্নবী (নবীজীর জীবনী)
গ্রন্থ: যখায়েরুল উকবা ফি মানাকিবি যাউয়িল কুরবা
লেখক: মুহিব্বুদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তাবারী (মৃত্যু ৬৯৪ হিজরি)
প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল কুদসী, স্বত্বাধিকারী হুসামুদ্দীন আল-কুদসী, বাবুল খালক, হারাতুল জাদাউয়ী, দারবে সা’আদাহ, কায়রো।
সংগৃহীত সংস্করণ: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ এবং আল-খিজানাতুত তাইমুরিয়্যাহর অনুলিপি থেকে।
প্রকাশকাল: ১৩৫৬ হিজরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬১
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৪)
(كلمة عن حياة المؤلف)من شذرات الذهب في أخبار من ذهب لابن العماد هو محب الدين أبو العباس أحمد بن عبد الله بن محمد بن أبى بكر بن محمد الطبري شيخ الحرم المكى.
ولد بمكة في جمادى الآخرة سنة خمس عشرة وستمائة.
وسمع من جماعة.
وأفتى ودرس.
وتفقه وصنف كتابا كبيرا في الاحكام في ست مجلدات وتعب عليه مدة ورحل إلى اليمن وأسمعه للسلطان صاحب اليمن.
وروى عنه الدمياطي وابن العطار وابن الخباز والبرزالى وجماعة.
قال الذهبي: الفقيه الزاهد المحدث كان شيخ الشافعية ومحدث الحجاز.
وقال غيره: له تصانيف كثيرة في غاية الحسن منها في التفسير كتب وشرح التنبيه.
وله كتاب الرياض النضرة في فضائل العشرة، وكتاب ذخائر العقبى
في مناقب ذوى القربى، وكتاب السمط الثمين في مناقب أمهات المؤمنين، وكتاب القرى في ساكن أم القرى، وغير ذلك.
توفى في جمادى الآخرة سنة أربع وتسعين وستمائة رحمة الله تعالى.
(লেখকের জীবনকথা)ইবনুল ইমাদ রচিত 'শাযারাতুয যাহাব ফী আখবারি মান যাহাব' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত: তিনি হলেন মুহিব্বুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী, যিনি মক্কার হারাম শরীফের শায়খ ছিলেন।
তিনি ৬১৫ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি একদল উলামার নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।
তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং অধ্যাপনা করেছেন।
তিনি ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং আহকাম বা বিধিবিধান বিষয়ে ছয় খণ্ডে একটি বিশাল গ্রন্থ সংকলন করেন। এটি সম্পন্ন করতে তিনি দীর্ঘকাল পরিশ্রম করেন। অতঃপর তিনি ইয়ামেনে সফর করেন এবং ইয়ামেনের সুলতানকে তা পাঠ করে শোনান।
তাঁর নিকট থেকে আদ-দিমইয়াতি, ইবনুল আত্তার, ইবনুল খাব্বায, আল-বিরযালী এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন ফকীহ, যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ) ও মুহাদ্দিস; তিনি শাফেয়ী মাযহাবের শায়খ এবং হিজায অঞ্চলের মুহাদ্দিস ছিলেন।
অন্যান্য উলামাগণ বলেন: তাঁর অত্যন্ত চমৎকার অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে তাফসীর বিষয়ক গ্রন্থাবলী এবং 'আত-তানবীহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।
তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- 'আর-রিয়াদুন নাদিরাহ ফী ফাদাইলিল আশারাহ' এবং 'যাখাইরুল উকবা
ফী মানাকিবি যিল কুরবা', 'আস-সিমতুস সামীন ফী মানাকিবি উম্মাহাতিল মুমিনীন', 'আল-কিরা লি সাকিনি উম্মিল কুরা' ইত্যাদি।
তিনি ৬৯৪ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم الحمد لله على خصوص المنح وعموم النعماء وله الشكر على ما أولى من عظائم المنن وكرائم الآلاء.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إله (1) جلت نعوته عن (2) الاحصاء، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله سيد الرسل وخاتم الانبياء: محمد المنتخب من لباب العرب العرباء ونبيه المنتجب من أعلى سنام الذروة العلياء صلى الله عليه وعلى جميع عترته الطاهرة وصحابته الانجم الزاهرة وأهل بيته النجباء.
أما بعد فان الله عزوجل قد اصطفى محمدا صلى الله عليه وسلم على جميع من سواه، وخصه بما عمه به من فضله الباهر وحباه، وأعلى منزلة من انتمى إليه سببا أو نسبة ورفع مرتبة من انطوى عليه بنصرة أو صحبة، وألزم مودة قرباه كافة بريته وفرض محبة جملة أهل بيته المعظم وذريته.
لاجرم سنح بالخاطر تدوين ما ورد في مناقبهم وتعريف (3) ماروى في شريف قدرهم وعلو مراتبهم، وتتبع ما نقل في عظيم فخرهم الفاخر وجمع ما ظفرت به من عميم فضلهم الباهر.
ولم لا وهم هالة قمر الكون وطفاوة شمس البرية.
وأغصان دوحة الشرف وفروع أصل الانوار النبوية.
أعاد الله علينا من معلوم سنى بركتهم.
كما أعاذنا من جهل مفهوم على درجتهم وغمر في غفرانه ذنوبنا بحرمتهم كما غمر باحسانه قلوبنا بمحبتهم وأحسن مآبنا (4) بجاههم عليه.
كما علق آمالنا بالتوسل بهم إليه.
ووسمته بذخائر العقبى في مناقب ذوى القربى من كتب ذوات أعداد على وجه
الاختصار وحذف الاسناد، عازيا كل حديث إلى كتابه تفصيا (5) من عهدة الارتياب وتسهيلا على طلابه.
والله أسأل أن يجعل ذلك وسيلة إلى جنات النعيم وذريعة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীদের ওপর। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর বিশেষ দান এবং সাধারণ নেয়ামতসমূহের ওপর। তাঁরই কৃতজ্ঞতা ঐসব মহান অনুদান ও সম্মানজনক নিআমতের জন্য যা তিনি প্রদান করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি এমন ইলাহ (১) যাঁর গুণাবলি গণনা (২) করা অসম্ভব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, রাসূলগণের সরদার ও নবীদের সমাপ্তিকারী: তিনি খাঁটি আরবদের সারমর্ম থেকে মনোনীত মুহাম্মদ এবং সর্বোচ্চ উচ্চ শিখরের উচ্চতম স্থান থেকে নির্বাচিত আল্লাহর নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধর, উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য সাহাবীগণ এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
অতঃপর, মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর অন্য সকল সৃষ্টির ওপর মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁকে তাঁর উজ্জ্বল ফযীলত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং বিশেষ দান প্রদান করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত করেছেন যে তাঁর সাথে কোনো সূত্র বা বংশীয় মাধ্যমে সম্পর্কিত হয়েছে, এবং সেই ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন যে তাঁর সাহায্য বা সাহচর্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর তাঁর নিকটজনদের ভালোবাসা আবশ্যক করেছেন এবং তাঁর মহান পরিবার ও বংশধরদের সামগ্রিক মহব্বত ফরয করেছেন।
সঙ্গত কারণেই আমার মনে এই ইচ্ছা জাগ্রত হলো যে, তাদের গুণাবলি লিপিবদ্ধ করি এবং তাদের মহান মর্যাদা ও উচ্চ মাকাম সম্পর্কে (৩) যা বর্ণিত হয়েছে তা তুলে ধরি। তাদের সেই মহান ও উজ্জ্বল গৌরবের বিবরণসমূহ অনুসন্ধান করি এবং তাদের ব্যাপক ও উদ্ভাসিত ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু লাভে সক্ষম হয়েছি তা সংকলন করি।
আর কেনই বা নয়, তারা তো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের চাঁদের জ্যোতি এবং সৃষ্টিজগতের সূর্যের চারপাশের আলোকবলয়।
তারা সম্মানের বৃক্ষের শাখা এবং নবুওয়াতের নূরসমূহের মূলের প্রশাখা।
আল্লাহ তাআলা তাদের উচ্চমর্যাদার বরকত থেকে আমাদের ওপর পুনরায় অনুগ্রহ বর্ষণ করুন।
যেমন তিনি আমাদের তাদের মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাদের সম্মানে আমাদের গুনাহসমূহকে তাঁর ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিন, যেমন তিনি তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহকে তাদের ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন। এবং তাঁর কাছে তাদের উচ্চ মর্যাদার অসীলায় (৪) আমাদের প্রত্যাবর্তনকে সুন্দর করুন।
যেমন তিনি তাদের মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রার্থনা করার অসীলায় আমাদের আশাকে সম্পৃক্ত করেছেন।
আমি এই কিতাবের নামকরণ করেছি 'যাখায়েরুল উকবা ফী মানাকিবি যিল কুরবা' (নিকটাত্মীয়দের গুণাবলিতে পরকালের পাথেয়)। এটি সংক্ষিপ্তাকারে এবং সনদ বর্জন করে অনেকগুলো কিতাব থেকে সংকলিত হয়েছে। প্রত্যেক হাদীসকে তার মূল গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যাতে সন্দেহের দায় থেকে মুক্তি (৫) পাওয়া যায় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয়।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে জান্নাতুন নাঈমে পৌঁছানোর মাধ্যম ও উসীলা বানিয়ে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى درك الفوز (1) العظيم ويحقق الامل فيه لديه إنه ولى ذلك والقادر عليه.
ورتبته قسمين قسم يتضمن ما جاء فيهم على وجه العموم والاجمال، وقسم يتضمن ذلك على وجه التخصيص وتفصيل الاحوال.
(القسم الأول) فيما جاء في ذكر القرابة على وجه العموم والإجمال، وفيه أبواب: (باب في فضل قرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ابن عباس رضى الله عنهما قال توفى لصفية بنت عبد المطلب رضى الله عنها ابن فبكت عليه فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم تبكين يا عمة من توفى له ولد في الاسلام كان له بيت في الجنة يسكنه فلما خرجت لقيها رجل فقال لها إن قرابة محمد لن تغنى عنك من الله شيئا فبكت فسمع رسول الله صلى عليه وسلم صوتها ففزع من ذلك فخرج وكان صلى الله عليه وسلم مكرما لها يبرها ويحبها فقال لها يا عمة تبكين وقد قلت لك ما قلت قالت ليس ذلك أبكاني وأخبرته بما قال الرجل فغضب صلى الله عليه وسلم وقال يا بلال هجر بالصلاة ففعل ثم قام صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه وقال ما بال أقوام يزعمون أن قرابتي لا تنفع إن كل سبب ونسب ينقطع يوم القيامة إلا سببي ونسبي وإن رحمى موصلة في الدنيا والآخرة.
قال عمر بن الخطاب رضى الله عنه فتزوجت أم كلثوم لما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ وأحببت أن يكون بينى وبينه نسب
وسبب.
(شرح) : التهجير التبكير في كل شئ يقال هجر يهجر تهجيرا فهو مهجر وهى لغة حجازية، وأراد المبادرة إلى أول وقت الصلاة.
وعن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال كان لآل رسول الله صلى الله عليه وسلم خادم تخدمهم يقال لها بريرة فلقيها رجل فقال لها يا بريرة غطى شعيفاتك (2) فان محمدا صلى الله عليه وسلم لن يغنى عنك من الله شيئا قالت فأخبرت النبي صلى الله عليه وسلم فخرج يجر رداءه محمارة
--------------------------------------------
মহাফল অর্জনে (১) এবং তাঁর নিকট প্রত্যাশা পূরণের উদ্দেশ্যে। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
আমি এটিকে দুই ভাগে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম ভাগ হলো যা সাধারণভাবে ও সংক্ষেপে তাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় ভাগ হলো যা সুনির্দিষ্টভাবে ও বিস্তারিতভাবে তাদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।
(প্রথম ভাগ) আত্মীয়তার বর্ণনায় যা সাধারণভাবে ও সংক্ষেপে এসেছে, এর মধ্যে বেশ কিছু অধ্যায় রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়স্বজনের মর্যাদার অধ্যায়)। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর এক পুত্র মারা গেল। তখন তিনি কাঁদছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে ফুফু! আপনি কাঁদছেন? যার কোনো সন্তান ইসলাম অবস্থায় মারা যায়, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর থাকে যেখানে সে বসবাস করবে। যখন তিনি বের হলেন, এক ব্যক্তির সাথে তাঁর দেখা হলো। সে তাঁকে বলল, মুহাম্মাদের আত্মীয়তা আল্লাহর কাছে আপনার কোনো কাজে আসবে না। এতে তিনি পুনরায় কাঁদলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং এতে তিনি বিচলিত হলেন। ফলে তিনি বেরিয়ে আসলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্মান করতেন, তাঁর সাথে সদাচার করতেন এবং তাঁকে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁকে বললেন, হে ফুফু! আমি আপনাকে যা বলার বলেছি, তবুও আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি সেই কারণে কাঁদছি না। এরপর তিনি লোকটির কথা তাঁকে জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, হে বিলাল! সালাতের জন্য আগেভাগেই আজান দাও। তিনি তা-ই করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন এবং বললেন, সেই সব লোকদের কী হলো যারা মনে করে যে আমার আত্মীয়তা কোনো উপকারে আসবে না? কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্ক ও বংশ ব্যতীত সকল সম্পর্ক ও বংশ ছিন্ন হয়ে যাবে। আর আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক দুনিয়া ও আখিরাতে যুক্ত থাকবে।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি যখন সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এ কথা শুনলাম, তখন উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করলাম। আমি চেয়েছিলাম যে আমার ও তাঁর মধ্যে বংশীয়
ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকুক।
(ব্যাখ্যা): 'তাহজীর' মানে হলো যেকোনো কাজে ত্বরান্বিত করা। বলা হয় 'হাজ্জারা ইহাজ্জিরু তাহজীরান', সুতরাং তিনি 'মুহাজ্জির'। এটি হিজাজবাসীদের ভাষা। এখানে সালাতের প্রথম ওয়াক্তে দ্রুত উপস্থিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের একজন সেবিকা ছিলেন যিনি তাদের সেবা করতেন, যাঁকে বারীরাহ বলা হতো। এক ব্যক্তির সাথে তাঁর দেখা হলে সে তাঁকে বলল, হে বারীরাহ! তোমার চুলের বেণীগুলো ঢেকে রাখো (২), কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে তোমার কোনো উপকার করতে পারবেন না। বারীরাহ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে চাদর টেনে টেনে বেরিয়ে আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وجنتاه وكنا معشر الانصار نعرف غضبة بجر ردائه وحمرة وجنيته فأخذنا السلاح ثم أتيناه فقلنا يا رسول الله مرنا بما شئت والذى بعثك بالحق نبيا لو أمرتنا بآبائنا وأمهاتنا وأولادنا لمضينا لقولك فيهم ثم صعد المنبر فحمد الله وأثنى عليه ثم قال من أنا قالوا أنت رسول الله قال نعم ولكن من أنا قلنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف قال صلى الله عليه وسلم أنا سيد ولد آدم ولا فخر وأول من ينفض التراب عن رأسه ولافخر وأول داخل الجنة ولافخر وصاحب لواء الحمد ولا فخر وفى ظل الرحمن يوم لاظل إلا ظله ولا فخر ما بال أقوام يزعمون ان رحمى لا تنفع بل تنفع حتى تبلغ حكم وحاء (1) - وهم إحدى قبيلتين من اليمن - إنى لاشفع فأشفع حتى إن من أشفع له ليشفع فيشفع حتى إن إبليس ليتطاول طمعا في الشفاعة.
أخرجه ابن البخترى.
(شرح) حكم وحاء (1) فسر في الحديث قال في الغريب وهما حيان واليمن من وراء رمل (2) يبرين.
قال أبو موسى يجوز أن يكون حاء من الحوة وقد حذفت لامه ويجوز أن يكون من حوى يحوى ويجوز أن يكون مقصورا غير ممدود.
حكى ذلك صاحب نهاية الغريب.
وعن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إذا كان يوم القيامة شفعت لابي وأمى وعمى أبى طالب وأخ لى كان في الجاهلية) أخرجه تمام الرازي في
فوائده، وفى طريقه الوليد بن مسلمة وهو منكر الحديث، وإن ثبت فمحمول على ما ورد في الصحيح في أبى طالب من تخفيف العذاب عنه بشفاعته صلى الله عليه وسلم.
وعن أبى هريرة رضى الله عنه قال: جاءت سبيعة بنت أبى لهب رضى الله عنها إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله إن الناس يقولون أنت بنت حطب النار فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مغضب فقال (ما بال أقوام يؤذوننى في قرابتي من آذى قرابتي فقد آذانى ومن آذانى فقد آذى الله) أخرجه الملا في سيرته.
--------------------------------------------
...এবং তাঁর দুই গণ্ডদেশ। আমরা আনসার সম্প্রদায় তাঁর চাদর টেনে ধরা এবং তাঁর দুই গণ্ডদেশের আরক্তিম আভা দেখে তাঁর ক্রোধ বুঝতে পারতাম। তখন আমরা অস্ত্র ধারণ করলাম, অতঃপর তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা ইচ্ছা আমাদের আদেশ করুন। সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদের পিতা-মাতা এবং সন্তানদের ব্যাপারেও আমাদের আদেশ করতেন, তবে আমরা তাদের ক্ষেত্রেও আপনার নির্দেশ পালন করতাম। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেন, আমি কে? তারা বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু আমি কে? আমরা বললাম, আপনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দে মানাফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আদম সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রথম ব্যক্তি যার মস্তক থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলা হবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রশংসার পতাকার (লিওয়াউল হামদ) অধিকারী এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমি সেই দিনে দয়াময় আল্লাহর ছায়াতলে থাকব যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না এবং এতে কোনো অহংকার নেই। সেই সব সম্প্রদায়ের কী হলো যারা ধারণা করে যে আমার আত্মীয়তা কোনো উপকারে আসবে না? বরং তা অবশ্যই উপকারে আসবে, এমনকি তা হাকাম ও হা (১) পর্যন্ত পৌঁছাবে—যারা ইয়ামেনের দুটি গোত্র। নিশ্চয়ই আমি সুপারিশ করব এবং আমার সুপারিশ কবুল করা হবে, এমনকি আমি যার জন্য সুপারিশ করব সেও সুপারিশ করবে এবং তার সুপারিশও কবুল করা হবে। এমনকি ইবলিসও সুপারিশের আশায় ঘাড় লম্বা করে উঁকি দেবে।
ইবনুল বাখতারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা) হাকাম ও হা (১) হাদীসের মধ্যেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 'গারীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এ দুটি ইয়ামেনের দুটি গোত্র যারা ইয়াবরিন বালুময় মরুভূমির (২) ওপারে অবস্থিত।
আবু মুসা বলেন, 'হা' শব্দটি 'আল-হুওয়াহ' থেকে হওয়া সম্ভব যার 'লাম' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে। আবার এটি 'হাওয়া ইয়াহবি' থেকেও হতে পারে। আবার এটি মাকসুর (সংক্ষিপ্ত আলিফ) হওয়াও সম্ভব, মামদুদ (দীর্ঘ আলিফ) নয়।
'নিহায়াতুল গারীব'-এর রচয়িতা এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (যখন কিয়ামত দিবস হবে, আমি আমার পিতা, মাতা, চাচা আবু তালিব এবং জাহেলিয়াত যুগে থাকা আমার এক ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করব)। তাম্মাম আর-রাজি তাঁর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে ওয়ালিদ বিন মাসলামা রয়েছে যে 'মুনকারুল হাদীস' (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী)। যদি এটি সাব্যস্তও হয়, তবে তা আবু তালিবের ব্যাপারে সহীহ হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ধরা হবে, অর্থাৎ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশের মাধ্যমে তার আজাব হালকা করে দেওয়ার বিষয়ে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু লাহাবের কন্যা সুবাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা বলে যে 'তুমি জাহান্নামের ইন্ধনের কন্যা'। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় দাঁড়ালেন এবং বললেন, (সেই সব সম্প্রদায়ের কী হলো যারা আমার আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দেয়? যে আমার আত্মীয়দের কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে কষ্ট দিল)। আল-মুল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৮)
(فصل) *
(ذكر توصيته صلى الله عليه وسلم مع هذا أقاربه أن لا يغتروا بنسبهم) * عن عائشة رضى الله عنها قالت لما نزل قوله تعالى (وأنذر عشيرتك الاقربين) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم على الصفا فقال يا فاطمة بنت محمد يا صفية بنت عبد المطلب يا بنى عبد المطلب لا أملك لكم من الله شيئا سلونى من مالى ما شئتم) أخرجه مسلم.
وعن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزل عليه (وأنذر عشيرتك الاقربين) (يا معشر قريش - أو كلمة نحوها - اشتروا أنفسكم لا أغنى عنكم من الله شيئا يا بنى عبد مناف لاأغنى عنكم من الله شيئا يا عباس ابن عبد المطلب لا أغنى عنك من الله شيئا يا صفية عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم لا أغنى عنك من الله شيئا يا فاطمة بنت محمد سلينى من مالى ما شئت لا أغنى عنك من الله شيئا.
وفى رواية (يا معشر قريش اشتروا
أنفسكم من الله لا أغنى عنكم من الله شيئا يا بنى عبد المطلب لا أغنى عنكم من الله شيئا ثم ذكر نحوه ولم يذكر يا بنى عبد مناف.
أخرجاه وأخرجه البخاري عنه، ولفظه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يا بنى عبد مناف اشتروا أنفسكم من الله يا بنى عبد المطلب اشتروا أنفسكم من الله يا أم الزبير عمة رسول الله يا فاطمة بنت محمد اشتريا أنفسكما من الله لا أملك لكما من الله شيئا سلانى من مالى ما شئتما.
وأخرجه مسلم عنه ولفظه قال لما نزلت هذه الآية (وأنذر عشيرتك الاقربين) دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا فاجتمعوا فعم وخص فقال يا بنى كعب بن لؤى أنقذوا أنفسكم من النار يا بنى مرة بن كعب أنقذوا أنفسكم من النار يا بنى عبد شمس أنقذوا أنفسكم من النار يا بنى عبد مناف انقذوا انفسكم من النار يا بنى هاشم أنقذوا انفسكم من النار يا بنى عبد المطلب انقذوا أنفسكم من النار يا فاطمة بنت محمد أنقذي نفسك من النار فانى لا أملك لكم
(পরিচ্ছেদ) *
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি এই উপদেশ প্রদানের বর্ণনা যে, তারা যেন নিজেদের বংশমর্যাদা নিয়ে ধোঁকায় না পড়ে) * আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো— "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন," তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: "হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ! হে সাফিয়্যাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিব! হে বনু আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচানোর জন্য তোমাদের ব্যাপারে আমার কোনো অধিকার নেই। তোমরা আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি বললেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায় —অথবা এর অনুরূপ কোনো শব্দ— তোমরা নিজেদের (আল্লাহর আজাব থেকে) ক্রয় করে নাও; আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো উপকারের অধিকার আমি রাখি না। হে বনু আবদে মানাফ! আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি আপনার কোনো উপকার করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহর ফুফু সাফিয়্যাহ! আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি আপনার কোনো উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা তুমি চেয়ে নাও, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমার কোনো উপকার করতে পারব না।"
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আল্লাহর নিকট থেকে তোমরা নিজেদের ক্রয় করে নাও; আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না। হে বনু আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না।" এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন, তবে এতে 'বনু আবদে মানাফ'-এর কথা উল্লেখ করেননি।
তাঁরা দুজন (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দসমূহ হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে বনু আবদে মানাফ! আল্লাহর নিকট থেকে তোমরা নিজেদের ক্রয় করে নাও। হে বনু আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর নিকট থেকে তোমরা নিজেদের ক্রয় করে নাও। হে উম্মু যুবাইর, রাসূলুল্লাহর ফুফু! হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ! তোমরা উভয়ে আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদের ক্রয় করে নাও। আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের ব্যাপারে আমার কোনো অধিকার নেই। তোমরা আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও।"
এবং মুসলিম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দসমূহ হলো: তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের ডাকলেন। ফলে তারা সমবেত হলো। এরপর তিনি সাধারণ ও বিশেষ সবার উদ্দেশে বললেন: "হে বনু কাব ইবনে লুয়াই! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু মুররাহ ইবনে কাব! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদে শামস! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদে মানাফ! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু হাশিম! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদুল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ! তুমি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। কারণ আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোনো কিছুর অধিকার রাখি না।"
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৯)
من الله شيئا غير أن لكم رحما سأبلها ببلالها (1) .
وفى رواية لما نزلت (وأنذر عشيرتك الاقربين) جمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا فخص وعم وقال يا معشر قريش انقذوا انفسكم من النار فاتى لا املك لكم ضرا ولا نفعا يا بنى عبد المطلب انقذوا انفسكم من النار فانى لا املك لكم ضرا ولا نفعا يا معشر بنى عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار فانى لا أملك لكم ضرا ولا نفعا يا فاطمة بنت محمد أنقذي نفسك من النار فانى لا أملك لك ضرا ولانفعا إلا أن لك رحما سأبلها ببلالها.
أخرجه الحافظ أبو الحسن الخلعي.
وهذا لا يضاد ما تقدم وأنه صلى الله عليه وسلم لا يملك لاحد من الله شيئا ولاضرا ولانفعا لكن الله عزوجل يملكه نفع أقاربه وأمته بالشفاعة الخاصة العامة.
(فصل ذكر آى نزلت فيهم)عن سعيد بن جبير رضى الله عنه في قوله تعالى (قل لا أسألكم عليه أجرا إلا المودة في القربى) قال هي قربى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أخرجه ابن السرى.
(ذكر الحث على حب قرابته صلى الله عليه وسلم عن ابن عباس رضى الله عنهما قال ان العباس رضى الله عنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم إنا لنخرج فنرى قريشا تتحدث فإذا رأونا سكتوا فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم ودر عرق الغضب بين عينيه ثم قال: والله لايدخل قلب امرئ إيمان حتى يحبكم لله ولقرابتي.
أخرجه أحمد.
(باب في فضل قريش) وذكر سبب تسميتهم قريشا عن ابن عباس رضى الله عنهما وقد سئل عن سبب تسميتهم قريشا قال بدابة في البحر من أحسن دوابه لا تدع شيئا من الغث والسمين إلا أتت عليه يقال لها القريش وأنشد:
--------------------------------------------
আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছুর (মালিক নই), তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি তার আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত রাখব (অর্থাৎ বজায় রাখব)। (১) .
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যখন (আর আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন) অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের একত্রিত করলেন। তিনি বিশেষ ও সাধারণ সকলকে সম্বোধন করলেন এবং বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই। হে বনু আবদিল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই। হে বনু আবদু মানাফ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, কারণ আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই। তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি তার আর্দ্রতা দিয়ে সিক্ত রাখব (বজায় রাখব)।
হাফিয আবু হাসান আল-খালাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
এটি পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিরোধী নয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে কারো জন্য কোনো কিছু বা কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নন; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশেষ ও সাধারণ সুপারিশের (শাফায়াত) মাধ্যমে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও উম্মতের উপকারের মালিক করবেন।
(পরিচ্ছেদ: তাঁদের সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের বর্ণনা)সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মহান আল্লাহর বাণী—(বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা ছাড়া)—প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়বর্গ।
ইবনাস সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়দের ভালোবাসার প্রতি উৎসাহ প্রদানের বর্ণনা)ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমরা যখন বের হই তখন দেখি কুরাইশরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের দেখলে তারা চুপ হয়ে যায়। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর দুই ভ্রুর মাঝখানে রাগের রগ ফুটে উঠল। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! কোনো ব্যক্তির অন্তরে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তোমাদের ভালোবাসবে।
আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন।
(কুরাইশদের ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়) এবং তাদের 'কুরাইশ' নামকরণের কারণের বর্ণনা: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, যখন তাঁকে তাঁদের 'কুরাইশ' নামকরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: এটি সমুদ্রের একটি প্রাণীর কারণে, যা সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। সেটি হালকা বা স্থূল যা-ই পায়, তা গ্রাস না করে ছাড়ে না। একে 'আল-কুরাইশ' বলা হয়। আর তিনি আবৃত্তি করলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقريش هي التى تسكن البح ربها سميت قريش قريشا تأكل الغث والسمين ولا تت رك منه لذى جناحين ريشا أخرجه الهاشمي.
(ذكر إصطفائهم) عن واثلة بن الاسقع قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الله اصطفى من ولد آدم ابراهيم واتخذه خليلا واصطفى من ولد ابراهيم إسمعيل ثم اصطفى من ولد إسماعيل نزار ثم اصطفى من ولد نزار مضر ثم اصطفى من مضر كنانة ثم اصطفى
من كنانة قريشا ثم اصطفى من قريش بنى هاشم ثم اصطفى من بنى هاشم بنى عبد المطلب ثم اصطفاني من بنى عبد المطلب.
أخرجه بهذا السياق الحافظ أبو القسم حمزة بن يوسف السهمى في فضائل العباس.
وأخرجه مسلم والترمذي وأبو حاتم مختصرا، ولفظه إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل واصطفى قريشا من كنانة واصطفى هاشما من قريش واصطفانى من بنى هاشم.
(ذكر انهم رضى الله عنهم خير الخلق) عن العباس بن عبد المطلب قال بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض ما يقول الناس فصعد المنبر فقال من أنا قالوا أنت رسول الله فقال أنا محمد بن عبد الله ابن عبد المطلب إن الله خلق الخلق فجعلني من خير خلقه وجعلهم فرقتين فجعلني في خير فرقة وخلق القبائل فجعلني في خير قبيلة وجعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا فأنا خيركم بيتا وأنا خيركم نفسا (1) .
أخرجه أحمد وأبو القاسم البغوي في الفضائل.
وعن ابن أبى ذئب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال (شرار قريش خيار شرار الناس) .
أخرجه الشافعي في مسنده.
(ذكر انهم اعفة صبر) عن اسماعيل بن عبيد بن رفاعة عن أبيه عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
আর কুরাইশ হলো তারা যারা সমুদ্রে বাস করে, যার কারণে কুরাইশকে কুরাইশ নামে অভিহিত করা হয়েছে; তারা তুচ্ছ এবং পুষ্ট সব কিছুই ভক্ষণ করে এবং ডানা বিশিষ্ট কোনো প্রাণীর পালকও অবশিষ্ট রাখে না। এটি আল-হাশেমি বর্ণনা করেছেন।
(তাদের মনোনীত হওয়ার বর্ণনা) ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইব্রাহিমকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে খলিল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে নিযারকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর নিযারের সন্তানদের মধ্য থেকে মুযারকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর মুযার থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর কুরাইশ থেকে বনু হাশেমকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর বনু হাশেম থেকে বনু আব্দুল মুত্তালিবকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর আমাকে বনু আব্দুল মুত্তালিব থেকে মনোনীত করেছেন।"
হাফেয আবুল কাসেম হামযা বিন ইউসুফ আস-সাহমি তাঁর 'ফাদায়িলুল আব্বাস' গ্রন্থে এই প্রেক্ষাপটে এটি বর্ণনা করেছেন।
মুসলিম, তিরমিযী এবং আবু হাতিম এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে হাশেমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"
(তাদের বর্ণনা যে তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সৃষ্টিজগতের সেরা) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে লোকজনের কিছু কথাবার্তা পৌঁছাল। তখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন, "আমি কে?" তাঁরা বললেন, "আপনি আল্লাহর রাসুল।" তিনি বললেন, "আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির সেরা স্তরে রেখেছেন। অতঃপর তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সেরা ভাগে রেখেছেন। এরপর তিনি গোত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে সেরা গোত্রে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাদের পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সেরা পরিবারে রেখেছেন। সুতরাং আমি বংশের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে সেরা এবং সত্তার দিক থেকেও তোমাদের মধ্যে সেরা (১)।"
আহমদ এবং আবুল কাসেম আল-বাগাওয়ী এটি 'আল-ফাদায়িল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কুরাইশদের মধ্যে যারা মন্দ, তারা মানুষের মন্দদের মধ্যে সেরা।"
ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(তাদের বর্ণনা যে তাঁরা পবিত্র ও ধৈর্যশীল) ইসমাঈল বিন উবাইদ বিন রিফাআহ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১১)
(إن قريشا أعفة صبر ومن يغل لهم الغوائل (1) أكبه الله لوجهه يوم القيامة) .
أخرجه أبو القاسم السهمى في فضائل العباس.
(ذكر انهم افضل الناس أحلاما) عن نافع بن جبير وسعيد بن المسيب عن عمر أنه قال قريش أفضل الناس
أحلاما وأعظم الناس أمانة ومن يرد قريشا بسوء يكبه الله لفيه.
أخرجه الزهري.
وعن رفاعة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال (أيها الناس إن قريشا أهل أمانة فمن بغاها العواثر أكبه الله لمنخريه) يقولها ثلاث مرات.
أخرجه الشافعي في مسنده وسننه.
(ذكر أنه من اراد هو انهم اهانه الله) عن سعد بن أبى وقاص رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من يريد هوان قريش يهنه الله) أخرجه الحافظ أبو الحسن الخلعي وابن الضحاك وأخرجه السرى وقال أهانه الله.
وعن ابن شهاب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال (من أهان قريشا أهانه الله) .
(ذكر النهى عن سبهم) عن محمد بن إبراهيم بن الحرث التميمي أن قتادة بن النعمان وقع بقريش وكأنه نال منهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (مهلا يا قتادة لا تشتم قريشا فانك لعلك ترى منهم رجالا أو يأتي منهم رجال تحقر عملك مع أعمالهم وفعلك مع أفعالهم وتغبطهم إذا رأيتهم لولا أن تطغى قريش لاخبرتها بالذى لها عند الله عز وجل .
وعن الحارث بن عبد الرحمن قال بلغنا (2) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال (لولا أن تبطر قريش لاخبرتها بالذى لها عند الله عزوجل) أخرجهما الشافعي في مسنده وسننه.
--------------------------------------------
(নিশ্চয়ই কুরাইশরা পবিত্র ও ধৈর্যশীল এবং যে ব্যক্তি তাদের ধ্বংস কামনা করবে (১), কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তার চেহারার ওপর উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।) .
আবু আল-কাসিম আল-সাহমি এটি ‘ফাদাইলুল আব্বাস’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(কুরাইশরা ধৈর্য ও সহনশীলতায় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বর্ণনা) নাফি ইবনে জুবায়ের ও সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত যে, ওমর (রা.) বলেছেন, কুরাইশরা ধৈর্য ও সহনশীলতায় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
এবং আমানতদারিতে সবচেয়ে মহান। আর যে ব্যক্তি কুরাইশদের কোনো অনিষ্টের ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে তার মুখের ওপর উপুড় করে দেবেন।
যুহরি এটি বর্ণনা করেছেন।
রিফাআহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (হে লোকসকল! নিশ্চয়ই কুরাইশরা আমানতের অধিকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের বিপর্যয়ে লিপ্ত করার চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে তার নাসারন্ধ্রের ওপর উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।) তিনি এটি তিনবার বলেছিলেন।
শাফেয়ি তার মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(যে ব্যক্তি তাদের অবমাননা করতে চাইবে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করার বর্ণনা) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরাইশদের অসম্মান করার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন।) হাফেজ আবুল হাসান আল-খালায়ি ও ইবনে আদ-দাহহাক এটি বর্ণনা করেছেন। আস-সাররিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেছেন।
ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি কুরাইশদের অপমান করবে, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন।) .
(তাদের গালি দিতে নিষেধ করার বর্ণনা) মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস আত-তামিমি থেকে বর্ণিত যে, কাতাদাহ ইবনুন্নুমান কুরাইশদের সমালোচনা করেছিলেন এবং মনে হচ্ছিল তিনি তাদের মর্যাদাহানি করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (থামো হে কাতাদাহ! কুরাইশদের গালি দিও না। কেননা সম্ভবত তুমি তাদের এমন কিছু মানুষ দেখবে অথবা এমন কিছু মানুষ তাদের থেকে আসবে, যাদের আমলের তুলনায় তোমার আমলকে এবং যাদের কাজের তুলনায় তোমার কাজকে তুমি তুচ্ছ মনে করবে। যখন তুমি তাদের দেখবে তখন তাদের প্রতি ঈর্ষা করবে। কুরাইশরা যদি অহংকারী হয়ে না পড়ত, তবে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যে মর্যাদা রয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের তা জানিয়ে দিতাম।) .
হারিস ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কাছে পৌঁছেছে (২) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (কুরাইশরা যদি দম্ভ না করত, তবে মহান আল্লাহর কাছে তাদের জন্য যে মর্যাদা রয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের তা জানিয়ে দিতাম।) শাফেয়ি তার মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থে এ দুটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১২)
(ذكر قوة قريش وأمانتهم) عن المطلب بن عبد الله بن حنطب عن أبيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (قوة
رجل من قريش تعدل قوة رجلين من غيرهم وامانة رجل من قريش تعدل امانة رجلين من غيرهم) .
وعن جبير بن مطعم قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (ان للقرشي مثل قوة رجلين يعنى من غيره) .
اخرجهما احمد في المناقب.
(ذكر الامر بحفظهم) عن عكرمة قال كان النبي صلى الله عليه وسلم واسطا في قريش كان له في كل بطن من قريش نسب فقال لا اسألكم إلا ما أدعوكم إليه إلا أن تحفظوني في قرابتي قال الله عزوجل (قل لااسألكم عليه أجرا إلا المودة في القربى) .
خرجه المخلص الذهبي.
ذكر ان خيار قريش خيار الناس عن ابن أبى ذئب بسنده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال (خيار قريش خيار الناس وشرار قريش خيار شرار الناس) اخرجه الشافعي في سننه.
ذكر الحث على محبتهم عن سهل بن سعد الساعدي رضى الله عنه قال قال صلى الله عليه وسلم (أحبوا قريشا فان من أحبهم أحبه الله) أخرجه ابن عرفة العبدى.
(ذكر انهم ولاة الامر) عن معاوية بن أبى سفيان رضى الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (إن هذا الامر في قريش لا يعاديهم أحد إلا أكبه الله تعالى على وجهه ما أقاموا الدين) أخرجه البخاري.
وفيه رواية (لا يزال هذا الامر في قريش ما بقى منهم اثنان) أخرجه البخاري أيضا.
وعن عطاء بن يسار رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لقريش أنتم أولى الناس بهذا الامر ما كنتم على الحق إلا أن تعدلوا عنه فتلحون كما تلحى هذه الجريدة يشير إلى جريدة في يده.
(شرح) : يقال لحوت الشجر ولحيتها إذا أخدت لحاها
(কুরাইশদের শক্তি ও বিশ্বস্ততার বর্ণনা) মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তির শক্তি অন্যদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তির শক্তির সমান এবং কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তির বিশ্বস্ততা অন্যদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তির বিশ্বস্ততার সমান)।
জুবায়ের ইবনে মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (নিশ্চয়ই একজন কুরাইশ ব্যক্তির জন্য দুই ব্যক্তির সমান শক্তি রয়েছে, অর্থাৎ অন্য বংশের ব্যক্তিদের তুলনায়)।
ইমাম আহমাদ আল-মানাকিব গ্রন্থে এই দুটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
(তাদের অধিকার রক্ষার নির্দেশের বর্ণনা) ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের মধ্যে মধ্যম অবস্থানে ছিলেন। কুরাইশদের প্রতিটি উপগোত্রেই তাঁর বংশীয় সম্পর্ক ছিল। তাই তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের কাছে আমি যা কিছুর দাওয়াত দিচ্ছি তার বিনিময়ে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আমার আত্মীয়তার মর্যাদা রক্ষা করা ছাড়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা ছাড়া)।
আল-মুখলিস আয-যাহাবি এটি উদ্ধৃত করেছেন।
কুরাইশদের উত্তম ব্যক্তিরা যে মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম, তার বর্ণনা ইবনে আবি যি'ব তাঁর সনদে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কুরাইশদের উত্তম ব্যক্তিরা মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম এবং কুরাইশদের অধম ব্যক্তিরা মন্দ মানুষের মধ্যে উত্তম)। ইমাম শাফিঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
তাদের ভালোবাসার প্রতি উৎসাহ প্রদানের বর্ণনা সাহল ইবনে সাদ আল-সাঈদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (তোমরা কুরাইশদের ভালোবাসো, কারণ যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন)। এটি ইবনে আরাফাহ আল-আবদি উদ্ধৃত করেছেন।
(তারাই যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী, তার বর্ণনা) মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, (নিশ্চয়ই এই শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের মধ্যে থাকবে। যে কেউ তাদের সাথে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত রাখবে)। ইমাম বুখারী এটি উদ্ধৃত করেছেন।
এ বিষয়ে অন্য একটি বর্ণনা হলো, (এই শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে দুইজন লোক অবশিষ্ট থাকে)। এটিও ইমাম বুখারী উদ্ধৃত করেছেন।
আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমরাই এই শাসন ক্ষমতার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি যতক্ষণ তোমরা হকের উপর অটল থাকো। কিন্তু যদি তোমরা হক থেকে বিচ্যুত হও, তবে তোমাদের ছাল ছাড়িয়ে ফেলা হবে যেভাবে এই ডালটির ছাল ছাড়ানো হয়। এ সময় তিনি তাঁর হাতে থাকা একটি খেজুরের ডালের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
(ব্যাখ্যা): বৃক্ষের ছাল ছাড়ানো বা উপড়ানো বলা হয় যখন এর ওপরের আবরণটি বা ছালটি তুলে ফেলা হয়।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهو قشرها.
وعن المطلب بن عبد الله بن حنطب عن أبيه قال خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة فقال (أيها الناس قدموا قريشا ولا تقدموها وتعلموا منها ولا تعلموها) أخرجهما الشافعي في مسنده وخرج الثاني أحمد في المناقب.
وعن على كرم الله وجهه قال سمعته أذناى ووعاه قلبى من رسول الله صلى الله عيله وسلم (الناس تبع لقريش صالحهم تبع لصالحهم وشرارهم تبع لشرارهم) أخرجه أحمد أيضا في المناقب.
وعن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (الناس تبع لقريش في الخير والشر) أخرجه الحافظ الدمشقي وقال حديث حسن صحيح.
وعن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن لكم على قريش حقا وإن لقريش عليكم حقا ما حكموا فعدلوا وائتمنوا فأدوا واسترحموا فرحموا فمن لم يفعل ذلك فعليه لعنة الله) أخرجه أبو حاتم.
(ذكر امتثال امرهم وإن ساءت افعالهم) عن عامر بن شهر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (استمعوا من قريش ودعوا فعلهم) أخرجه أبو حاتم:
(ذكر أنهم افضل العرب) عن سلمان رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (يا سلمان لا تبغضني فتفارق دينك قلت يا رسول الله وكيف أبغضك وبك هدانا الله قال تبغض العرب) أخرجه ابن المثنى في معجمه وابن السرى.
وغن جابر بن عبد الله رضى الله عنه أن رجلا قتل بالمدينة لا يدرى من قتله فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعنه الله (1) إن كان ليبغض العرب.
أخرجه ابن السرى.
(باب في فضل بنى هاشم) تقدم حديث اصطفائهم من قريش وحديث أنهم خير البيوت قبيلة.
--------------------------------------------
আর এটি তার খোসা।
মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ বিন হানতাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন (হে লোকসকল! তোমরা কুরাইশদের অগ্রগণ্য করো এবং তাদের অগ্রবর্তী হয়ো না। তোমরা তাদের থেকে শিখবে এবং তাদের শিক্ষা দিতে যেয়ো না।) শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে উভয়টি এবং আহমাদ দ্বিতীয়টি আল-মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমার কান দুটি তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা ধারণ করেছে যে, (মানুষ কুরাইশদের অনুসারী; তাদের নেককাররা তাদের নেককারদের অনুসারী এবং তাদের বদকাররা তাদের বদকারদের অনুসারী।) আহমাদ এটিও আল-মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (মানুষ কল্যাণ ও অকল্যাণে কুরাইশদের অনুসারী।) হাফেজ দিমেশকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহীহ হাদীস।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (কুরাইশদের ওপর তোমাদের হক আছে এবং তোমাদের ওপরও কুরাইশদের হক আছে; যতক্ষণ তারা ফয়সালা করার সময় ইনসাফ করে, আমানত দিলে তা আদায় করে এবং দয়া প্রার্থনা করা হলে দয়া প্রদর্শন করে। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, তার ওপর আল্লাহর লানত।) আবু হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(তাদের কর্ম মন্দ হলেও তাদের আদেশ পালনের বিবরণ) আমির বিন শাহর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি (তোমরা কুরাইশদের কথা শোনো এবং তাদের কর্মকাণ্ড ছেড়ে দাও।) আবু হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন:
(তারা আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিবরণ) সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (হে সালমান! তুমি আমাকে ঘৃণা করো না, নতুবা তুমি তোমার দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে কীভাবে ঘৃণা করতে পারি অথচ আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করেছেন? তিনি বললেন, তুমি আরবদের ঘৃণা করার মাধ্যমে আমাকে ঘৃণা করবে।) ইবনে আল-মুসান্না তাঁর মুজাম গ্রন্থে এবং ইবনে আস-সাররী এটি বর্ণনা করেছেন।
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, মদিনায় এক ব্যক্তি নিহত হলো কিন্তু তাকে কে হত্যা করেছে তা জানা গেল না। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে লানত করুন (১) যদি সে আরবদের ঘৃণা করে থাকে।
ইবনে আস-সাররী এটি বর্ণনা করেছেন।
(বনু হাশেমের ফজিলত অধ্যায়) কুরাইশদের মধ্য থেকে তাদের মনোনীত করার হাদীস এবং তারা গোত্রগতভাবে সর্বোত্তম পরিবার হওয়ার হাদীস পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(ذكر افضليتهم) عن عائشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (قال جبريل عليه السلام قلبت الارض مشارقها ومغاربها فلم أجد أفضل من محمد صلى الله عليه وسلم وقلبت الارض مشارقها ومغاربها فلم أجد بنى أب أفضل من بنى هاشم) أخرجه أحمد في المناقب.
واخرج الحافظ الذهبي والمحاملى والسمرقندي وابن الجراح عن ابن عباس رضى الله عنهما قال دخل ناس من قريش على صفية بنت عبد المطلب فجعلوا يتفاخرون ويذكرون الجاهلية فقالت صفية منا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا تنبت النخلة أو الشجرة في الارض الكبا فقالت وما الكبا قالوا الارض التى ليست بطيبة فذكرت ذلك صفية للنبى صلى الله عليه وسلم فغضب وقال يا بلال هجر بالصلاة فهجر فقام صلى الله عليه وسلم على المنبر فنادى بصوت فقال (أيها الناس من أنا قالوا أنت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انسبوني قالوا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب قال ما بال (1) أقوام يبتذلون أهلى فوالله إنى لافضلهم أصلا فقالت الانصار قد غضب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقوموا فخذوا السلاح فقاموا فأخذوا السلاح ودخلوا فيه حتى لا يرى منهم إلا الحدق حتى أحدقوا بالناس وغصت بهم أبواب المسجد والسكك فقام النفر واعتذروا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال للانصار الناس دثارى وأنتم شعارى وأثنى عليهم خيرا.
خرجه أبو على بن شاذان.
(شرح) الكبا بكسر الكاف وباء موحدة والقصر الكناسة وما يكنس من البيوت، والتهجير المبادرة في كل شئ.
والشعار الثوب الذى على الجسد، والدثار ما كان فوقه.
(ذكر كلفه صلى الله عليه وسلم بادخالهم الجنة) عن على كرم الله وجهه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (يا معشر بني هاشم
والذى بعثنى بالحق نبيا لو أخذت بحلقة الجنة ما بدأت إلا بكم) أخرجه أحمد في المناقب.
ذكر افتراض عيادتهم إذا مرضوا عن زيد بن أسلم عن أبيه قال قال عمر بن الخطاب رضى الله عنه للزبير بن
--------------------------------------------
(তাদের শ্রেষ্ঠত্বের উল্লেখ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলেছেন, আমি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাউকে পাইনি। আর আমি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু বনী হাশেম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোনো পিতৃ-বংশ খুঁজে পাইনি।" এটি আহমাদ ‘আল-মানাকিব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ যাহাবী, মাহামিলি, সামারকান্দি এবং ইবনুল জাররাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরাইশদের কিছু লোক সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের নিকট প্রবেশ করল এবং তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে শুরু করল ও জাহেলিয়াতের স্মৃতিচারণ করতে লাগল। তখন সাফিয়্যাহ বললেন, "আমাদের মধ্য থেকেই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আবির্ভূত হয়েছেন)।" তারা বলল, "খেজুর গাছ বা কোনো বৃক্ষ তো আবর্জনার স্তূপের (কিবা) ভূমিতেও জন্মে থাকে।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "কিবা কী?" তারা বলল, "এমন ভূমি যা ভালো বা পবিত্র নয়।" সাফিয়্যাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। এতে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং বললেন, "হে বিলাল, নামাজের জন্য মানুষকে দ্রুত সমবেত হওয়ার আহ্বান করো।" অতঃপর মানুষ দ্রুত সমবেত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে ডাক দিয়ে বললেন, "হে লোকসকল, আমি কে?" তারা বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।" তিনি বললেন, "আমার বংশ পরিচয় দাও।" তারা বলল, "মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।" তিনি বললেন, "সেই সম্প্রদায়ের কী হলো (১) যারা আমার পরিবারকে তুচ্ছজ্ঞান করে? আল্লাহর শপথ, মূল বংশধারার বিচারে আমি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" তখন আনসারগণ বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্রুদ্ধ হয়েছেন, অতএব তোমরা দাঁড়াও এবং অস্ত্র ধারণ করো।" তারা দাঁড়িয়ে অস্ত্র হাতে নিলেন এবং সেখানে এমনভাবে প্রবেশ করলেন যে, তাদের চোখের মণি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তারা লোকজনকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলেন এবং মসজিদের দরজা ও অলিগলি তাদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে গেল। তখন সেই দলটি (যারা বিরূপ মন্তব্য করেছিল) দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ক্ষমা চাইল। এরপর তিনি আনসারদের সম্পর্কে বললেন, "অন্যান্য মানুষ হলো আমার উপরের পোশাক (দিছার) আর তোমরা হলে আমার অন্তর্বাস (শিআর—শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাক)।" এবং তিনি তাদের উত্তম প্রশংসা করলেন।
এটি আবু আলী বিন শাজান বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা) 'আল-কিবা' (কাফ বর্ণে কাসরাহ এবং এক নুকতাযুক্ত বা বর্ণসহ) এর অর্থ হলো আবর্জনা বা ঘর ঝাড়ু দেওয়ার পর যা বের হয়। আর 'তাহজীর' মানে হলো কোনো কাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়া। 'শিআর' হলো সেই পোশাক যা শরীরের সাথে সরাসরি লেগে থাকে, আর 'দিছার' হলো সেই পোশাক যা এর উপরে পরিধান করা হয়।
(তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আকুল আকাঙ্ক্ষার উল্লেখ) আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হে বনী হাশেম সম্প্রদায়! সেই সত্তার শপথ যিনি আমাকে সত্যসহ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি যদি জান্নাতের কড়া ধরি, তবে তোমাদেরকে দিয়েই আমি (প্রবেশ) শুরু করব।" এটি আহমাদ ‘আল-মানাকিব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
তারা অসুস্থ হলে তাদের সেবা বা দেখতে যাওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে উল্লেখ যায়েদ বিন আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যুবাইর ইবনে... কে বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العوام رضى الله عنه هل لك في أن تعود الحسن بن على رضى الله عنهما فانه مريض؟ فكان الزبير تلكأ عليه فقال له عمر أما علمت أن عيادة بنى هاشم فريضة وزيارتهم نافلة.
وفى رواية إن عيادة بنى هاشم سنة وزيارتهم نافلة.
أخرجه ابن السماك في الموافقة.
(شرح) : تلكأ معناه توقف وتبطأ.
ذكر إعطائه صلى الله عليه وسلم السقاية لبنى هاشم عن أبى محذورة رضى الله عنه قال: جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم الاذان لنا والسقاية لبنى هاشم والحجابة لبنى عبد الدار.
أخرجه المخلص.
باب في مناقب بنى عبد المطلب عن ابن عباس رضى الله عنهما قال أعطى الله عزوجل بنى عبد المطلب سبعا الصباحة والفصاحة والسماحة والشجاعة والحلم والعلم وحب النساء.
أخرجه أبو القاسم حمزة السهمى في فضائل العباس.
ذكر سؤاله صلى الله عليه وسلم الله عزوجل لهم أشياء والزجر عن بغضهم عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا بنى عبد المطلب إنى سألت الله لكم ثلاثا أن يجعلكم جنودا نجداء رحماء.
أخرجه ابن السرى.
(شرح) : نجداء من النجدة الشجاعة وشدة البأس، يقال رجل نجيد ونجد ونجد ثلاث لغات.
حكاها الجوهرى.
وعن جابر بن عبد الله أن النبي صلى الله عليه وسلم قال (يا بنى عبد المطلب إنى سألت الله أن يثبت قائمكم ويهدى
ضالكم وأن يعلم جاهلكم وأن يجعلكم رحماء نجباء ولو أن رجلا صف قديمه وصلى ولقى الله وهو مبغض لاهل هذا البيت لدخل النار.
أخرجه الملا في سيرته.
ذكر انهم سادات اهل الجنة عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (نحن بنو عبد المطلب سادات أهل الجنة أنا وحمزة وعلى وجعفر بن أبى طالب والحسن والحسين والمهدى.
أخرجه ابن السرى.
আল-আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আপনি কি হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দেখতে যাবেন? কারণ তিনি অসুস্থ। তখন যুবায়ের কিছুটা ইতস্তত করলেন (দেরি করলেন)। তখন উমর তাকে বললেন: আপনি কি জানেন না যে বনু হাশিমকে দেখতে যাওয়া (অসুস্থ অবস্থায়) অপরিহার্য এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা নফল?
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: নিশ্চয়ই বনু হাশিমকে দেখতে যাওয়া সুন্নাহ এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা নফল।
ইবনে আস-সাম্মাক এটি 'আল-মুওয়াফাকাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'তিলকা' (تلكأ) অর্থ হলো থেমে যাওয়া এবং ধীরগতি করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বনু হাশিমকে পানীয় সরবরাহের দায়িত্ব প্রদানের আলোচনা আবু মাহজুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের জন্য, হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব বনু হাশিমের জন্য এবং কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনু আবদুদ দারের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
আল-মুখলিস এটি বর্ণনা করেছেন।
বনু আব্দুল মুত্তালিবের মর্যাদা বিষয়ক অধ্যায়। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বনু আব্দুল মুত্তালিবকে সাতটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন: সৌন্দর্য, প্রাঞ্জলতা, দানশীলতা, বীরত্ব, সহিষ্ণুতা, জ্ঞান এবং নারীদের প্রতি ভালোবাসা।
আবু কাসিম হামযা আস-সাহমি এটি 'ফাযায়িলুল আব্বাস' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কিছু প্রার্থনা এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ থেকে সতর্ক করার আলোচনা। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে বনু আব্দুল মুত্তালিব! আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিসের প্রার্থনা করেছি; যেন তিনি তোমাদের সাহসী যোদ্ধা ও দয়ালু করেন।
ইবনুস সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'নুজাদা' (نجداء) শব্দটি 'নাজদাহ' থেকে আগত, যার অর্থ বীরত্ব ও প্রচণ্ড সাহসিকতা। বলা হয়—নাজীদ, নাজাদ এবং নাজুদ; এগুলো তিনটি ভাষাগত রূপ।
আল-জাওহারি এটি উল্লেখ করেছেন।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে বনু আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তোমাদের স্থিতিশীলদের সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন, তোমাদের পথভ্রষ্টদের পথপ্রদর্শন করেন, তোমাদের মূর্খদের জ্ঞান দান করেন এবং তোমাদের দয়ালু ও শ্রেষ্ঠ করেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার দুই পা সারিবদ্ধ করে দাঁড়ায় ও সালাত আদায় করে, অতঃপর এই আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আল-মুল্লা তার 'সিরাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
তারা জান্নাতবাসীদের নেতা হওয়ার আলোচনা আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমরা বনু আব্দুল মুত্তালিব জান্নাতবাসীদের নেতা—আমি, হামযা, আলী, জাফর ইবনে আবি তালিব, হাসান, হুসাইন এবং মাহদী।
ইবনুস সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ذكر آى نزلت فيهم عن السدى في قوله تعالى (أولى الايدى والابصار) قال هم بنو عبد المطلب أخرجه ابن السرى.
(باب فضل اهل البيت) * (والحث على التمسك بهم وبكتاب الله عزوجل والخلف فيهما بخير) * عن زيد بن أرقم رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إنى تارك فيكم الثقلين ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدى أحدهما أعظم من الآخر كتاب الله عزوجل حبل ممدود من السماء إلى الارض وعترتي أهل بيتى ولن يفترقا حتى يردا على الحوض فانظروا كيف تلحقوا بى فيهما.
أخرجه الترمذي وقال حسن غريب.
وعنه قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا فحمد الله وأثنى عليه ثم قال أيها الناس إنما أنا بشر يوشك أن يأتيني رسول ربى عزوجل فأجيبه وإنى تارك فيكم الثقلين أولهما كتاب الله فيه الهدى والنور فتمسكوا بكتاب الله عزوجل وخذوابه - وحث فيه ورغب فيه ثم قال - وأهل بيتى أذكركم الله عزوجل في أهل بيتى ثلاث مرات فقيل لزيد من أهل بيته أليس نساؤه من أهل بيته فقال بلى إن نساءه من أهل بيته ولكن أهل بيته من حرم عليه الصدقة بعده قال
ومن هم، قال هم آل على وآل جعفر وآل عقيل وآل عباس.
قال أكل هؤلاء حرم عليهم الصدقة قال نعم.
أخرجه مسلم.
وعند أحمد معناه (1) من حديث أبى سعيد ولفظه انه صلى الله عليه وسلم (إنى أوشك أن أدعى فأجيب وإنى تارك فيكم الثقلين كتاب الله وعترتي كتاب الله حبل ممدود من السماء إلى الارض وعترتي أهل بيتى وان اللطيف الخبير أخبرني أنهما لن يفترقا حتى يردا على الحوض فانظروا فيما تخلفوني فيما.
وعن عبد العزيز بسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال (أنا وأهل بيتى شجرة في الجنة وأغصانها في الدنيا فمن تمسك بنا اتخذ إلى ربه سبيلا) أخرجه أبو سعد في شرف النبوة.
--------------------------------------------
তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের আলোচনা সুদ্দী থেকে মহান আল্লাহর বাণী (হাত ও দৃষ্টির অধিকারী) প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারা হলেন আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর। ইবনে সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(আহলে বাইতের ফযীলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) * (তাদেরকে এবং মহান আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং তাদের বিষয়ে উত্তম স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রসঙ্গে) * যায়েদ বিন আরকাম (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি অতি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তাদের একটি অপরটির চেয়ে মহান; মহান আল্লাহর কিতাব, যা আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রশি, এবং আমার বংশধর তথা আমার আহলে বাইত। তারা হাউযে (কাউসারে) আমার নিকট উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। অতএব লক্ষ্য করো, তোমরা আমার পরে এই দুইয়ের সাথে কীরূপ আচরণ করো।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান গরীব।
তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন, অতঃপর বললেন, হে লোকসকল! আমি তো একজন মানুষ মাত্র। শীঘ্রই আমার মহা মহিমান্বিত রবের দূত আমার নিকট আসবেন এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি অতি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি। তাদের প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে হেদায়েত ও নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা মহান আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো এবং তা গ্রহণ করো - তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন - আর আমার আহলে বাইত। আমি আমার আহলে বাইতের বিষয়ে তোমাদেরকে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি - কথাটি তিনি তিনবার বললেন। যায়েদকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁর আহলে বাইত কারা? তাঁর স্ত্রীগণ কি তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত নন? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই, তাঁর স্ত্রীগণ তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাঁর আহলে বাইত মূলত তারা, যাদের জন্য তাঁর পরে সদকা গ্রহণ করা হারাম। তিনি বললেন
তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হলেন আলীর বংশধর, জাফরের বংশধর, আকীলের বংশধর এবং আব্বাসের বংশধর।
তিনি বললেন, এদের সবার জন্যই কি সদকা হারাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আহমদের নিকট এর সমার্থবোধক হাদীস (১) আবু সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যার শব্দগুলো হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (নিশ্চয়ই আমি অচিরেই আমন্ত্রিত হব এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি অতি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি: আল্লাহর কিতাব এবং আমার বংশধর। আল্লাহর কিতাব আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রশি এবং আমার বংশধর হলো আমার আহলে বাইত। আর লতিফ ও খবীর (আল্লাহ) আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা হাউযে আমার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। অতএব লক্ষ্য করো, তোমরা আমার পরে তাদের সাথে কীরূপ আচরণ করো।
আব্দুল আজিজ থেকে তাঁর সনদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমি এবং আমার আহলে বাইত জান্নাতের একটি বৃক্ষ সদৃশ, যার শাখা-প্রশাখা দুনিয়াতে রয়েছে। সুতরাং যে আমাদের আঁকড়ে ধরল, সে তার রবের নিকট পৌঁছানোর পথ গ্রহণ করল।) আবু সা’দ ‘শরাফুল নুবুওয়্যাহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(ذكر اخباره صلى الله عليه وسلم انهم سيلقون بعده اثرة) والحث على نصرتهم وموالاتهم عن عبد الله رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إنا أهل البيت إختار الله لنا الآخرة على الدنيا وان أهل بيتى سيلقون بعدى أثرة (1) وشدة وتطريدا في البلاد حتى يأتي قوم من ههنا وأشار بيده نحو المشرق أصحاب رايات سود فيسألون الحق فلا يعطونه فيقاتلون فينصرون ويعطون ما شاءوا فلا يقبلونه حتى يدفعوها إلى رجل من أهل بيتى فيملؤها عدلا كما ملئت ظلما فمن أدرك ذلك فليأتهم ولو حبوا على الثلج) أخرجه أبو حاتم بن حبان (2) .
وعن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في كل خلوف (3) من أمتى عدول أهل بيتى ينفون عن هذا الدين تحريف الغالين وإنتحال (4) المبطلين وتأويل الجاهلين ألا وان أئمتكم وفدكم إلى الله عزوجل فانظروا بمن توفدون.
أخرجه الملا (5) .
(ذكر انهم امان لامة محمد صلى الله عليه وسلمعن إياس بن سلمة عن أبيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (النجوم أما لاهل السماء وأهل بيتى أمان لامتي) أخرجه أبو عمرو الغفاري.
وعن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (النجوم أمان لاهل السماء فإذا ذهبت النجوم ذهب أهل السماء وأهل بيتى أمان لاهل الارض فإذا ذهب أهل بيتى ذهب أهل الارض) أخرجه أحمد في المناقب.
(ذكر انهم لا يقاس احد بهم) عن أنس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (نحن أهل بيت لا يقاس بنا أحد) .
أخرجه الملا.
--------------------------------------------
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সংবাদ প্রদানের বর্ণনা যে, তাঁরা তাঁর পরে বৈষম্যের সম্মুখীন হবেন) এবং তাঁদের সাহায্য ও তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখার উৎসাহ দান আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমরা আহলে বাইত; আল্লাহ আমাদের জন্য দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে পছন্দ করেছেন। আর নিশ্চয়ই আমার আহলে বাইত আমার পরে বৈষম্য (১), কঠোরতা ও দেশান্তরের সম্মুখীন হবে, যতক্ষণ না এখান থেকে এক কওম আসবে—তিনি তাঁর হাত দিয়ে পূর্বদিকের দিকে ইশারা করলেন—যারা কালো পতাকাবাহী হবে। তারা হক (ন্যায়সঙ্গত অধিকার) চাইবে কিন্তু তাদের তা দেওয়া হবে না। তখন তারা যুদ্ধ করবে এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এরপর তাদের যা চাওয়া হয়েছিল তা দেওয়া হবে, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করবে না, যতক্ষণ না তারা তা আমার আহলে বাইতের এক ব্যক্তির হাতে সোপর্দ করবে। তিনি একে ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করবেন যেভাবে তা জুলুম দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই সময়ের দেখা পাবে, সে যেন তাদের কাছে আসে, যদিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হয়) এটি আবু হাতিম বিন হিব্বান (২) বর্ণনা করেছেন।
এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের (৩) মধ্যে আমার আহলে বাইতের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা থাকবে, যারা এই দীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার (৪) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবে। জেনে রেখো, তোমাদের ইমামগণ মহান আল্লাহর কাছে তোমাদের প্রতিনিধি। অতএব তোমরা দেখো, কাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাচ্ছ।
এটি আল-মুল্লা (৫) বর্ণনা করেছেন।
(তাঁরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ হওয়ার বর্ণনা)ইয়াস বিন সালামা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নক্ষত্ররাজি আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ এবং আমার আহলে বাইত আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ) এটি আবু আমর আল-গিফারি বর্ণনা করেছেন।
এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নক্ষত্ররাজি আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ; যখন নক্ষত্ররাজি চলে যাবে তখন আসমানবাসীরাও চলে যাবে। আর আমার আহলে বাইত যমিনবাসীদের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ; যখন আমার আহলে বাইত চলে যাবে তখন যমিনবাসীরাও চলে যাবে) এটি আহমাদ 'আল-মানাকিব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(তাঁদের সাথে কাউকে তুলনা করা যায় না সেই সম্পর্কিত বর্ণনা) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমরা এমন এক আহলে বাইত যাদের সাথে কাউকে তুলনা করা যায় না)।
এটি আল-মুল্লা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(ذكر الحث على حفظهم) عن أبى بكر الصديق رضى الله عنه انه قال (يا أيها الناس ارقبوا محمدا في أهل بيته) أخرجه البخاري.
(شرح) : ارقبوا معناه إحفظوا.
وعن عبد العزيز باسناده أن النبي صلى الله عليه وسلم قال (من حفظني في اهل بيتى فقد اتخذ عند الله عهدا) اخرجه أبو سعيد والملا.
وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (استوصوا بأهل بيتى خيرا فانى أخاصمكم عنهم غدا ومن اكن خصمه أخصمه ومن أخصمه دخل النار) أخرجه أبو سعد والملا في سيرته.
وعن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (أربعة أنا لهم شفيع يوم القيامة المكرم لذريتي والقاضى حوائحبهم والساعى في أمورهم عند اضطرارهم إليه والمحبة لهم بقلبة ولسانه) أخرجه على بن موسى الرضا.
(ذكر ما جاء في الحث على حبهم والزجر عن بغضهم) عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (أحبوا الله لما يغذوكم به وأحبوني لحب الله وأحبوا أهل بيتى بحبي) أخرجه الترمذي وقال حسن غريب.
وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لو أن رجلا صف بين الركن والمقام فصلى وصام ثم لقى الله مبغضا (1) لاهل بيت محمد دخل النار) أخرجه ابن السرى.
وعن أبى سعيد رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من ابغض اهل البيت فهو منافق) أخرجه أحمد في المناقب.
وعن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (لايحبنا أهل البيت إلا مؤمن تقى ولا يبغضنا إلا منافق شقى) أخرجه الملا.
وعن على كرم الله وجهه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (يرد الحوض أهل بيتى ومن أحبهم من أمتى كهاتين السبابتين) أخرجه الملا.
--------------------------------------------
(তাঁদের অধিকার সংরক্ষণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের উল্লেখ) আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, (হে লোকসকল! তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মান রক্ষা করো তাঁর আহলে বাইতের মাধ্যমে) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'এরকাবূ' শব্দের অর্থ হলো—সংরক্ষণ করো।
আব্দুল আযীয থেকে তাঁর সনদে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আমার সম্মান রক্ষা করল, সে আল্লাহর নিকট একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করল) এটি আবু সাঈদ ও আল-মুল্লা বর্ণনা করেছেন।
তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (তোমরা আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আমি কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক করব। আর আমি যার বিরুদ্ধে বিতর্ক করব তাকে পরাস্ত করব, আর যাকে আমি পরাস্ত করব সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে) এটি আবু সাঈদ ও আল-মুল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (কিয়ামতের দিন চার প্রকার ব্যক্তির জন্য আমি সুপারিশকারী হব—আমার বংশধরদের সম্মানকারী, তাদের প্রয়োজন পূরণকারী, তাদের বিপদে তাদের কার্যাবলীতে সচেষ্ট ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তি তার অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে তাদের ভালোবাসে) এটি আলী বিন মূসা আর-রিযা বর্ণনা করেছেন।
(তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তার উল্লেখ) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো সেই সব নেয়ামতের কারণে যা তিনি তোমাদের আহার হিসেবে দান করেন, আল্লাহর ভালোবাসার খাতিরে আমাকে ভালোবাসো এবং আমার ভালোবাসার খাতিরে আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসো) এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান গরীব।
তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (যদি কোনো ব্যক্তি রুকন ও মাকামের মাঝে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে, অতঃপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী (১) অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে) এটি ইবনে আস-সারী বর্ণনা করেছেন।
আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (যে ব্যক্তি আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে মুনাফিক) এটি আহমাদ 'আল-মানাকিব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতকে কেবল মুত্তাকী মুমিনই ভালোবাসবে এবং কেবল হতভাগ্য মুনাফিকই আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে) এটি আল-মুল্লা বর্ণনা করেছেন।
আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (আমার আহলে বাইত এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা তাদের ভালোবাসে তারা হাউযের নিকট এই দুই তর্জনী আঙুলের ন্যায় একত্রে উপস্থিত হবে) এটি আল-মুল্লা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(ذكر الحث على الصلاة عليهم) عن عبد الرحمن بن أبى ليلى قال: لقيني كعب بن عجرة فقال ألا أهدى لك هدية سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت بلى فاهدها قال سألنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا يا رسول الله كيف الصلاة عليكم أهل البيت قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل ابراهيم إنك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على ابراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد) أخرجه البخاري.
وعن جابر رضى الله عنه انه كان يقول لو صليت صلاة لم أصل فيها على محمد وعلى آل محمد ما رأيت انها تقبل.
(ذكر مكافأته صلى الله عليه وسلم من صنع)إلى اهل بيته معروفا يوم القيامة عن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من صنع مع أحد من أهل بيتى (1) يدا كافأته عنها يوم القيامة) وفى طريق آخر من حديث غير على (من صنع إلى أحد من أهل بيتى معروفا فعجز عن مكافأته في الدينا فأنا المكافئ له يوم القيامة) أخرجه أبو سعد وتابعه الملا على الاول.
(ذكر مالمن توجع لهم) عن الربيع بن منذر عن أبيه قال كان حسين بن على رضى الله عنهما يقول: من دمعت عيناه فينا دمعة أو قطرت عيناه فينا قطرة آتاه الله عزوجل الجنة) أخرجه أحمد في المناقب.
(ذكر دعائه صلى الله عليه وسلم لهم) عن عمران بن حصين رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم سألت ربى أن لايدخل النار أحدا من أهل بيتى فأعطاني ذلك.
اخرجه أبو سعد
--------------------------------------------
(তাদের ওপর দরূদ পাঠে উৎসাহিত করার বর্ণনা) আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাব বিন উজরাহ (রা.)-এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন, "আমি কি তোমাকে এমন একটি উপহার দেব না যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শুনেছি?" আমি বললাম, "অবশ্যই, আমাকে তা দিন।" তিনি বললেন, "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনাদের ওপর অর্থাৎ আহলে বাইতের ওপর দরূদ পাঠের নিয়ম কী? তিনি বললেন: তোমরা বলো— হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: "যদি আমি এমন কোনো সালাত আদায় করি যাতে মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর দরূদ পাঠ না করি, তবে আমি মনে করি না যে তা কবুল হবে।"
(কিয়ামতের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির প্রতিদানের বর্ণনাযিনি তাঁর আহলে বাইতের প্রতি অনুগ্রহ করবেন) আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতের (১) কারো উপকার করবে, আমি কিয়ামতের দিন তাকে তার প্রতিদান দেব।" অন্য একটি সূত্রে আলী ব্যতীত অন্য সাহাবীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতের কারো প্রতি কোনো কল্যাণ করবে এবং দুনিয়াতে তার প্রতিদান দিতে অপারগ হবে, কিয়ামতের দিন আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দানকারী হব।" আবু সাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং মোল্লা আলী প্রথম বর্ণনাটির অনুসরণ করেছেন।
(তাদের ব্যথায় যারা ব্যথিত হয় তাদের মর্যাদার বর্ণনা) রাবী ইবনে মুনযির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আলী (রা.) বলতেন: "আমাদের কারণে যার দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরবে অথবা যার চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি ঝরবে, আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাকে জান্নাত দান করবেন।" ইমাম আহমাদ 'আল-মানাকিব' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(তাদের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দোয়ার বর্ণনা) ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি আমার আহলে বাইতের কাউকে জাহান্নামে প্রবেশ না করান, আর তিনি আমাকে তা দান করেছেন।"
আবু সাদ এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২০)
والملا في سيرته.
وعن على رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (اللهم إنهم عترة رسولك فهب مسيئهم لمحسنهم وهبهم لى قال ففعل وهو فاعل قال قلت ما فعل قال فعله بكم ويفعله بمن بعدكم) أخرجه الملا.
(ذكر انهم اول من يشفع لهم يوم القيامة) عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (اول من اشفع له يوم القيامة من امتى اهل بيتى ثم الاقرب فالاقرب ثم الانصار ثم من آمن بى واتبعني من اهل اليمن ثم سائر العرب ثم الاعاجم) اخرجه صاحب كتاب الفردوس.
(ذكر انهم كسفينة نوح عليه السلام من ركبها نجا)عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (مثل اهل بيتى كمثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تعلق بها فاز ومن تخلف عنها غرق) اخرجه الملا في سيرته.
وعن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (مثل اهل بيتى كمثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تعلق بها فاز ومن تخلف عنها زج في النار) اخرجه ابن السرى.
(ذكر ان الحماسة فيهم) عن حميد بن عبد الله بن يزيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال الحمد لله الذى جعل فينا الحكمة أهل البيت.
خرجه أحمد في المناقب.
(ذكر وعد الله عزوجل نبيه صلى الله عليه وسلم فيهم) عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وعدني ربى في اهل بيتى من أقر منهم بالتوحيد.
خرجه ابن السرى.
(ذكر تحريم الجنة على من ظلمهم) عن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الله حرم الجنة على من ظلم أهل بيتى أو قاتلهم أو أغار عليهم أو سبهم) أخرجه الامام على بن موسى الرضا.
এবং মোল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "হে আল্লাহ, তারা আপনার রাসূলের বংশধর, তাই তাদের মধ্যকার অপরাধীদেরকে তাদের মধ্যকার নেককারদের উসিলায় ক্ষমা করে দিন এবং তাদেরকে আমার জন্য দান করুন।" তিনি বললেন, "অতঃপর আল্লাহ তা করলেন এবং তিনি তা করেন।" আলী বলেন, আমি বললাম, "তিনি কী করেছেন?" তিনি বললেন, "তিনি তোমাদের সাথে এটি করেছেন এবং তোমাদের পরবর্তী যারা আসবে তাদের সাথেও এটি করবেন।" মোল্লা এটি বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যে কিয়ামতের দিন তারাই প্রথম সুপারিশ লাভ করবে) ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম যাদের জন্য আমি সুপারিশ করব তারা হলো আমার আহলে বাইত (পরিবারবর্গ), অতঃপর যারা ক্রমান্বয়ে নিকটতম, অতঃপর আনসারগণ, অতঃপর ইয়েমেনবাসীদের মধ্যে যারা আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অনুসরণ করেছে, অতঃপর অবশিষ্ট আরবগণ, অতঃপর অনারবগণ।" ফিরদাউস কিতাবের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যে তারা নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার মতো, যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে)ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার আহলে বাইতের দৃষ্টান্ত হলো নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার মতো; যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে, যে তা আঁকড়ে ধরবে সে সফল হবে এবং যে তা থেকে পিছিয়ে থাকবে সে ডুবে মরবে।" মোল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার আহলে বাইতের দৃষ্টান্ত হলো নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার মতো; যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে, যে তা আঁকড়ে ধরবে সে সফল হবে এবং যে তা থেকে পিছিয়ে থাকবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" ইবনে সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যে তাদের মধ্যে তেজস্বিতা বিদ্যমান) হুমাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের আহলে বাইতের মধ্যে প্রজ্ঞা দান করেছেন।"
আহমদ এটি আল-মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার বর্ণনা) আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার রব আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তাদের মধ্যে যারা তাওহীদের স্বীকৃতি দেবে (তাদের তিনি ক্ষমা করবেন)।"
ইবনে সাররি এটি বর্ণনা করেছেন।
(যারা তাদের ওপর জুলুম করবে তাদের জন্য জান্নাত হারাম হওয়ার বর্ণনা) আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাতকে হারাম করেছেন ওই ব্যক্তির জন্য যে আমার আহলে বাইতের ওপর জুলুম করে, কিংবা তাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিংবা তাদের ওপর আক্রমণ চালায় অথবা তাদের গালি দেয়।" ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রিদা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২১)
* (باب) * في بيان ان فاطمة وعليا والحسن والحسين هم أهل البيت المشار إليهم في قوله تعالى (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت ويطهركم تطهيرا) وتجليله صلى الله عليه وسلم إياهم بكساء ودعائه لهم عن عمر بن أبى سلمة ربيب رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: نزلت هذه الآية على رسول الله صلى الله عليه وسلم (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت - الآية) في بيت أم سلمة رضى الله عنها فدعا النبي صلى الله عليه
وسلم فاطمة وحسنا وحسينا فجللهم بكساء وعلى خلف ظهره ثم قال اللهم هؤلاء أهل بيتى فأذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا.
قالت أم سلمة وأنا معهم يا رسول الله قال أنت على مكانك وأنت على خير.
أخرجه الترمذي وقال حديث غريب.
وفى رواية (انت على خير انت من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم وعن أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم جلل على الحسن والحسين وعلى وفاطمة كساء وقال اللهم هؤلاء اهل بيتى وحامتى أذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا فقالت ام سلمة أنا معهم يا رسول الله قال إنك على خير.
أخرجه الترمذي وقال حسن.
(شرح) : الحامة الخاصة يقال جئناكم في الحامة لا في العامة ومنه الحميم.
وعنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ ثوبا وجلله فاطمة وعليا والحسن والحسين وهو معهم وقرأ هذه الآية (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس) الآية قالت فجئت أدخل معهم فقال مكانك إنك على خير.
وعنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لفاطمة ائتى بزوجك وابنيك فجاءت بهم وأكفأ عليهم كساء فدكيا ثم وضع يده عليهم ثم قال اللهم إن هؤلاء آل محمد فاجعل صلواتك وبركاتك على آل محمد إنك حميد مجيد، قالت أم سلمة فرفعت الكساء لادخل معهم فجذبه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال إنك على خير.
خرجهما الدولابى في الذرية الطاهرة وعنها قالت: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته يوما إذ قالت الخادم إن عليا وفاطمة
(পরিচ্ছেদ): এই বর্ণনায় যে, ফাতেমা, আলী, হাসান ও হুসাইন হলেন সেই আহলে বাইত যাদের দিকে মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে" (সূরা আহযাব: ৩৩) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁদেরকে চাদর দিয়ে আবৃত করা ও তাঁদের জন্য তাঁর দুয়া করার বর্ণনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পালকপুত্র উমর বিন আবি সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এই আয়াতটি নাযিল হয়: "হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ফাতেমা, হাসান ও হুসাইনকে ডাকলেন এবং তাঁদেরকে একটি চাদর দিয়ে আবৃত করলেন, আর আলী ছিলেন তাঁর পিঠের পেছনে। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত (পরিবার-পরিজন), অতএব আপনি তাঁদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাঁদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করুন।
উম্মে সালামাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমিও কি তাঁদের সাথে? তিনি বললেন: "তুমি তোমার স্থানেই থাকো, আর তুমি কল্যাণের ওপর আছো।"
তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গরীব হাদীস।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তুমি কল্যাণের ওপর আছো, তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত।" উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান, হুসাইন, আলী ও ফাতেমার ওপর একটি চাদর বিছিয়ে দিলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত এবং আমার নিকটাত্মীয়; আপনি তাঁদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাঁদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করুন।" তখন উম্মে সালামাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমিও কি তাঁদের সাথে? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি কল্যাণের ওপর আছো।"
তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'আল-হামমাহ' অর্থ হলো বিশেষ ব্যক্তিগণ। বলা হয়ে থাকে যে, আমরা তোমাদের কাছে বিশেষ প্রয়োজনে এসেছি, সাধারণভাবে নয়। এই মূলশব্দ থেকেই 'হামিম' (অন্তরঙ্গ বন্ধু) শব্দটি এসেছে।
তাঁর (উম্মে সালামাহ) থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদর নিলেন এবং ফাতেমা, আলী, হাসান ও হুসাইনকে সেটি দিয়ে ঢেকে দিলেন এবং নিজেও তাঁদের সাথে ছিলেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। তিনি (উম্মে সালামাহ) বলেন, তখন আমি তাঁদের সাথে প্রবেশ করতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেন: "তোমার স্থানেই থাকো, নিশ্চয়ই তুমি কল্যাণের ওপর আছো।"
তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমাকে বললেন: "তোমার স্বামী ও দুই পুত্রকে নিয়ে এসো।" তিনি তাঁদেরকে নিয়ে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁদের ওপর একটি ফাদাকি চাদর বিছিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত তাঁদের ওপর রাখলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এরা মুহাম্মাদের পরিবার, সুতরাং আপনি আপনার রহমত ও বরকত মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বর্ষণ করুন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" উম্মে সালামাহ বললেন: অতঃপর আমি তাঁদের সাথে প্রবেশ করার জন্য চাদরটি তুললাম, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি টেনে নিলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি কল্যাণের ওপর আছো।"
এ দুটি বর্ণনা আদ-দুলাবী 'আয-যুররিয়্যাহ আত-তাহিরাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এবং তাঁর (উম্মে সালামাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে থাকাকালীন পরিচারিকা এসে বললেন যে, আলী ও ফাতেমা (আসছেন)...
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২২)
بالسدة قالت فقال لى قومي فتنحى عن أهل بيتى قالت فقمت فتنحيت في البيت قريبا فدخل على وفاطمة ومعهم الحسن والحسين وهما صبيان صغيران فأخذ الصبيين فوضعهما في حجره وقبلهما واعتنق عليا باحدى يديه وفاطمة بالاخرى وقبل فاطمة وقبل عليا فأغدق عليهم خميصة سوداء ثم قال اللهم إليك لا إلى النار أنا وأهل بيتى قالت قلت وأنا يارسول الله صلى الله عليك قال وأنت.
أخرجه أحمد، وخرج الدولابى معناه مختصرا.
(شرح) السدة: الباب، وأغدق أرسل، الخميصة قال الاصمعي ثوب أسود من صوف أو خز معلم وجمعة خمائص.
والظاهر أن هذا الفعل تكرر منه صلى الله عليه وسلم في بيت ام سلمة يدل عليه اختلاف هيئة اجتماعهم وما جللهم به ودعائه لهم وجواب ام سلمة والمنع وقع من دخولها معهم فيما جللهم به وعليه يحمل قولها في الحديثين الاولين وأنا معهم أي أدخل معهم لاأنها ليست من أهل البيت بل هي منهم وكذلك لما قالت في الحديث الآخر وأنا ولم تقل معهم أي أنا أيضا إلى الله لا إلى النار قال وأنت إلى الله لا إلى النار وكذلك لما قالت وأنا من اهل البيت فيما سيأتي قال وأنت من اهل البيت وابنتك أيضا، على انه قد ورد انه اذن لها في الدخول معهم في الكساء.
وعنها قالت جاءت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم غدية ببرمة 1 وقد صنعت له فيها عصيدة تحملها في طبق لها حتى وضعتها بين يديه فقال لها أين ابن عمك قالت هو في البيت قال اذهبي فادعية وائتيني بابنيه قالت فجاءت تقود ابنيها كل واحد منهما بيد وعلى يمشى في اثرهما حتى دخلوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فأجلسهما في حجره وجلس على على يمينه وفاطمة على يساره قالت ام سلمة واجتذب من تحتي كساء خيبريا كان بساطا لنا على المنامة فلفهم رسول الله صلى الله عليه وسلم جميعا وأخذ بطرفي الكساء وأومأ بيده اليمنى إلى ربه عزوجل وقال اللهم أهل بيتى أذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا اللهم أذهب عنهم
--------------------------------------------
ফটকের কাছে; তিনি বললেন: এরপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি ওঠো এবং আমার পরিবারের সদস্যদের থেকে সরে দাঁড়াও। তিনি বললেন: তখন আমি উঠলাম এবং ঘরের ভেতরে কাছেই সরে দাঁড়ালাম। এরপর আলী ও ফাতিমা প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের সাথে হাসান ও হুসাইন ছিলেন, তাঁরা তখন ছোট শিশু। তিনি শিশু দুটিকে নিলেন এবং তাঁদের কোলে বসালেন ও চুমু খেলেন। আর তিনি তাঁর এক হাত দিয়ে আলীকে এবং অন্য হাত দিয়ে ফাতিমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি ফাতিমাকে চুমু খেলেন এবং আলীকেও চুমু খেলেন। এরপর তিনি তাঁদের ওপর একটি কালো চাদর বিছিয়ে দিলেন। তারপর বললেন: হে আল্লাহ, আপনার দিকে, আগুনের দিকে নয়—আমি এবং আমার পরিবার। তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আর আমি? তিনি বললেন: তুমিও।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দুলাবি এর অর্থ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা) আস-সুদ্দাহ: দরজা। আগদাকা: ছেড়ে দেওয়া বা ঢেকে দেওয়া। আল-খামিসাহ: আসমায়ি বলেছেন, এটি পশম বা রেশমের তৈরি এক প্রকার কালো চিহ্নিত কাপড়, যার বহুবচন হলো খামায়িস।
বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, এই কাজটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে উম্মে সালামার ঘরে একাধিকবার ঘটেছিল। তাঁদের একত্রিত হওয়ার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা, যা দিয়ে তিনি তাঁদের ঢেকেছিলেন তার ভিন্নতা, তাঁদের জন্য তাঁর দোয়া এবং উম্মে সালামার উত্তর—এসবই এর প্রমাণ দেয়। আর তাঁকে (উম্মে সালামাকে) তাঁদের সাথে চাদরের নিচে প্রবেশ করতে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রথম দুটি হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই কথার ওপর ভিত্তি করে যে—"আমিও কি তাঁদের সাথে?" অর্থাৎ আমি কি তাঁদের সাথে চাদরে প্রবেশ করব? এর অর্থ এই নয় যে তিনি আহলে বাইতের সদস্য নন, বরং তিনি তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে যখন তিনি অন্য হাদিসে বললেন—"আর আমি?" এবং "তাঁদের সাথে" কথাটি বলেননি, তার অর্থ হলো—আমিও কি আল্লাহর দিকে, আগুনের দিকে নয়? তিনি বললেন: তুমিও আল্লাহর দিকে, আগুনের দিকে নয়। তেমনিভাবে সামনে আসা হাদিসে যখন তিনি বললেন—"আমিও কি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত?" তিনি বললেন: তুমি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত এবং তোমার কন্যাও। অধিকন্তু এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁকে তাঁদের সাথে চাদরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন।
তাঁর (উম্মে সালামা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমা এক সকালে একটি পাত্র (১) নিয়ে এলেন যাতে তিনি তাঁর জন্য আসিদাহ (এক প্রকার খাবার) তৈরি করেছিলেন। তিনি সেটি একটি থালায় করে বহন করে আনলেন এবং তাঁর সামনে রাখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বললেন: তিনি ঘরে আছেন। তিনি বললেন: যাও, তাকে ডেকে আনো এবং আমার কাছে তাঁর দুই পুত্রকেও নিয়ে এসো। তিনি বললেন: এরপর তিনি তাঁর দুই পুত্রকে নিয়ে এলেন, তাঁদের প্রত্যেকের হাত ধরে ছিলেন, আর আলী তাঁদের পেছনে পেছনে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি শিশু দুটিকে তাঁর কোলে বসালেন এবং আলী তাঁর ডানে ও ফাতিমা তাঁর বামে বসলেন। উম্মে সালামা বললেন: এরপর তিনি আমার নিচ থেকে একটি খায়বারি চাদর টেনে নিলেন যা আমাদের শোয়ার বিছানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সবাইকে তা দিয়ে পেঁচিয়ে দিলেন এবং চাদরের দুই প্রান্ত ধরলেন। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর মহান প্রতিপালকের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, এরা আমার পরিবার, আপনি তাঁদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাঁদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করুন। হে আল্লাহ, তাঁদের থেকে দূর করে দিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الرجس وطهرهم تطهيرا اللهم اذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا قلت يارسول الله لست منهم قال بلى فادخلي في الكساء قالت فدخلت في الكساء بعد ما قضى دعاءه لابن عمه ولابنته ولابنيه.
وعنها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم
عندنا منكسا رأسه فعملت له فاطمة حريرة فجاءت ومعها حسن وحسين فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم أين زوجك اذهبي فادعيه فجاءت به فأكلوا فأخذ كساء فأداره عليهم وأمسك طرفه بيده اليسرى ثم رفع اليمنى إلى السماء وقال اللهم هؤلاء اهل بيتى وحامتى وخاصتي اللهم اذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا أنا حرب لمن حاربهم سلم لمن سالمهم عدو لمن عاداهم.
أخرجه ابن القبايى في معجمه.
(شرح) : الحامة الخاصة وكرر لاختلاف اللفظ.
وعنها قالت: في بيتى أنزلت (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس) الآية قالت فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى فاطمة وعلى والحسن والحسين فقال هؤلاء اهل بيتى فقلت يا رسول الله أما أنا من اهل البيت قال بلى إن شاء الله تعالى.
أخرجه أبو الخير القزويني الحاكمى وقال صحيح إسناده ثقات رواته.
وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده انه دخل على زينب بنت أبى سلمة فحدثته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عند أم سلمة فجعل حسنا من شق وحسينا من شق وفاطمة في حجره فقال (رحمة الله وبركاته عليكم اهل البيت إنه حميد مجيد) وأنا وام سلمة جالستان فبكت أم سلمة فنظر إليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما يبكيك فقالت يا رسول الله خصصتهم وتركتني وابنتي فقال إنك وابنتك من أهل البيت.
أخرجه أبو الحسن الخلعي.
وعن واثلة بن الاستع رضى الله عنه قال سألت عن على في منزله فقيل لى ذهب يأتي برسول الله صلى الله عليه وسلم إذ جاء فدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم ودخل فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم على الفراش وأجلس فاطمة عن يمينه وعليا عن يساره وحسنا وحسينا بين يديه وقال (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت ويطهركم تطهيرا) اللهم هؤلاء اهل بيتي قال
অপবিত্রতা এবং তাদের পূর্ণরূপে পবিত্র করুন। হে আল্লাহ! তাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করুন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই? তিনি বললেন, অবশ্যই, তুমি চাদরের ভেতরে প্রবেশ করো। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তাঁর চাচাতো ভাই, তাঁর কন্যা এবং তাঁর দুই পুত্রের জন্য দোয়া শেষ করার পর আমি চাদরের ভেতরে প্রবেশ করলাম।
তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের কাছে মাথা নিচু করে বসা ছিলেন। তখন ফাতিমা তাঁর জন্য হারীরা (এক প্রকার খাবার) তৈরি করলেন এবং হাসান ও হুসাইনকে সাথে নিয়ে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তোমার স্বামী কোথায়? যাও, তাকে ডেকে আনো। অতঃপর তিনি তাঁকে নিয়ে আসলেন এবং তাঁরা আহার করলেন। এরপর তিনি একটি চাদর নিলেন এবং তা তাঁদের ওপর জড়িয়ে দিলেন। তিনি চাদরের এক প্রান্ত তাঁর বাম হাত দিয়ে ধরলেন এবং এরপর ডান হাত আসমানের দিকে তুললেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার আহলে বাইত, আমার ঘনিষ্ঠজন এবং আমার খাস পরিজন। হে আল্লাহ! তাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করুন। যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী, যারা তাদের সাথে শান্তিতে থাকবে আমি তাদের সাথে শান্তিকামী এবং যারা তাদের সাথে শত্রুতা করবে আমি তাদের শত্রু।
ইবনুল কাবায়ি তাঁর মু'জামে এটি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা) : 'আল-হামাহ' মানে বিশেষ বা ঘনিষ্ঠজন; শব্দের ভিন্নতার কারণে কথাটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার ঘরেই (নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে) এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা, আলী, হাসান ও হুসাইনের নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন, এরাই আমার আহলে বাইত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত নই? তিনি বললেন, অবশ্যই, ইনশাআল্লাহ তা'আলা।
আবুল খায়ের আল-কাযউইনী আল-হাকিমী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উম্মে সালামার কন্যা যয়নাবের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাঁকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামার নিকট ছিলেন। তখন তিনি হাসানকে এক পাশে, হুসাইনকে অন্য পাশে এবং ফাতিমাকে তাঁর কোলে বসালেন। এরপর বললেন, (হে আহলে বাইত! তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক; নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত)। আমি এবং উম্মে সালামা সেখানে বসা ছিলাম, তখন উম্মে সালামা কেঁদে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, তুমি কেন কাঁদছো? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদেরকে খাস করে নিলেন এবং আমাকে ও আমার কন্যাকে বাদ দিলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি এবং তোমার কন্যা আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত।
আবুল হাসান আল-খালাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলীর খোঁজ করতে তাঁর বাড়িতে গেলাম। আমাকে বলা হলো যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আনতে গিয়েছেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং প্রবেশ করলেন। এরপর আলীও আসলেন এবং প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় বসলেন এবং ফাতিমাকে তাঁর ডানে, আলীকে তাঁর বামে এবং হাসান ও হুসাইনকে তাঁর সামনে বসালেন। এরপর বললেন, (নিশ্চয়ই আল্লাহ চান হে আহলে বাইত! তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে)। হে আল্লাহ! এরাই আমার আহলে বাইত। তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
واثلة بن الاسقع فقلت من ناحية البيت وأنا يارسول الله من اهلك قال وانت
من أهلى (1) قال واثلة إنها من ارجى ما أرتجى.
اخرجه أبو حاتم، واخرجه احمد في مسنده واخرجه في المناقب قال وأجلس حسنا على فخذه اليمنى وقبله وحسينا على فحده اليسرى وقبله وفاطمة بين يديه ثم دعا بعلى فجاءه ثم أردف عليهم كساء خيبريا كأنى أنظر إليه ثم قال (إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس - الآية) فقيل لواثلة ما الرجس قال الشك في الله عزوجل وذكر أن ذلك كان في بيت ام سلمة.
وعن عائشة رضى الله عنها قالت خرج النبي صلى الله عليه وسلم ذات غداة وعليه مرط (2) .
مرجل من شعر فجاء الحسن بن على فأدخله فيه ثم جاء الحسين فأدخله فيه ثم جاءت فاطمة فأدخلها فيه ثم جاء على فأدخله فيه ثم قال (إنما يريد الله) الآية، اخرجه مسلم.
واخرج احمد معناه عن واثلة وزاد في آخره: اللهم هؤلاء اهل بيتى وأهل بيتى احق.
(ذكر ان النبي صلى الله عليه وسلم داخل في) اهل البيت المشار إليهم في الآية عن ابى سعيد الخدرى رضى الله عنه في قوله تعالى (انما يريد الله - الآية) قال نزلت في خمسة في رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى وفاطمة والحسن والحسين.
اخرجه احمد في المناقب.
واخرجه الطبراني.
(ذكر انه صلى الله عليه وسلم كان يمر) بباب فاطمة ويتلو هذه الآية عن انس بن مالك رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمر بباب فاطمة ستة اشهر إذا خرج إلى صلاة الفجر ويقول الصلاة يا اهل البيت (انما يريد الله) الآية.
اخرجه احمد.
وعن ابن الحمراء قال صحبت رسول الله
--------------------------------------------
ওয়াসিলা বিন আল-আসকা হতে বর্ণিত, আমি ঘরের এক পাশ থেকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমিও কি আপনার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: তুমিও আমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। (১) ওয়াসিলা বলেন, এটি আমার সবচেয়ে বড় আশার বিষয়গুলোর একটি যা আমি পোষণ করি।
এটি আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ তার মুসনাদ ও মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসানকে তার ডান উরুর উপর বসালেন এবং তাকে চুম্বন করলেন, আর হুসাইনকে তার বাম উরুর উপর বসালেন এবং তাকেও চুম্বন করলেন। ফাতিমা তার সামনে ছিলেন। এরপর তিনি আলীকে ডাকলেন এবং আলী তার কাছে এলেন। এরপর তিনি তাদের ওপর খায়বরি একটি চাদর বিছিয়ে দিলেন, যেন আমি তা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন (নিশ্চয় আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে—আয়াত)। ওয়াসিলাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'রিজস' (অপবিত্রতা) কী? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা। আর এটি উম্মে সালামার ঘরে সংঘটিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তার গায়ে একটি নকশা করা চাদর ছিল (২)।
যা পশমের তৈরি ছিল। এরপর হাসান ইবনে আলী এলেন, তিনি তাকে সেই চাদরের ভেতরে নিলেন। এরপর হুসাইন এলেন, তিনি তাকেও ভেতরে নিলেন। এরপর ফাতিমা এলেন, তিনি তাকে ভেতরে নিলেন। এরপর আলী এলেন, তিনি তাকেও ভেতরে নিলেন। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন (নিশ্চয় আল্লাহ কেবল চান—আয়াত)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আহমদ ওয়াসিলা হতে এই একই মর্মের হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এর শেষে অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন: হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত (পরিবার) এবং আমার আহলে বাইতই এর অধিক হকদার।
(আয়াতে নির্দেশিত আহলে বাইতের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা) আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে মহান আল্লাহর বাণী (নিশ্চয় আল্লাহ কেবল চান—আয়াত) সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন, এটি পাঁচজন ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আলী, ফাতিমা, হাসান এবং হুসাইন।
এটি আহমদ মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
তবারানিও এটি বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমার দরজার পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন) এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন। আনাস বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের নামাজের জন্য বের হতেন, তখন টানা ছয় মাস ফাতিমার দরজার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলতেন: হে আহলে বাইত, নামাজ! (নিশ্চয় আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে—আয়াত)।
এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল হামরা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্যে ছিলাম—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
صلى الله عليه وسلم تسعة اشهر فكان إذا اصبح اتى على باب على وفاطمة وهو يقول يرحمكم الله (انما يريد الله) الآية.
اخرجه عبد بن حميد.
(ذكر ما جاء انه لما نزل قوله تعالى) (قل تعالوا ندع أبناءنا وأبناءكم) الآية دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم هؤلاء الاربعة عن ابن سعيد رضى الله عنه لما نزلت هذه الآية (فقل تعالوا ندع ابناءنا وأبناءكم) الآية دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا وفاطمة وحسنا وحسينا وقال اللهم هؤلاء اهلي.
اخرجه مسلم والترمذي.
(ذكر ما جاء ان هؤلاء الاربعة مع النبي صلى الله) عليه وسلم في مكان واحد يوم القيامة عن على رضى الله عنه (ان النبي صلى الله عليه وسلم قال (لفاطمة انى واياك وهذين يعنى حسنا وحسينا وهذا الراقد يعنى عليا في مكان واحد يوم القيامة) .
اخرجه احمد.
(ذكر انه صلى الله عليه وسلم حرب لمن حاربهم) سلم لمن سالمهم عن زيد بن ارقم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعلى وفاطمة والحسن والحسين (انا حرب لمن حاربتم وسلم لمن سالمتم) اخرجه الترمذي وقال حديث غريب.
واخرجه أبو حاتم وقال انا حرب لمن حاربكم وسلم لمن سالمكم.
(ذكر انهم المشار إليهم في قوله تعالى) قل لاأسألكم عليه أجرا الا المودة في القربى عن ابن عباس رضى الله عنهما قال لما نزلت (قل لا اسألكم عليه أجرا الا المودة في القربى) قالوا يا رسول الله من قرابتك هؤلاء الذين وجبت علينا مودتهم قال على وفاطمة وابناهما.
أخرجه احمد في المناقب.
وروى انه صلى الله عليه وسلم
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় মাস যাবৎ প্রতিদিন ভোরে আলী ও ফাতিমার দরজায় আসতেন এবং বলতেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন, (নিশ্চয়ই আল্লাহ চান...) আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।
এটি আবদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যা এসেছে যে যখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো) (বলুন, এসো আমরা আমাদের সন্তানদের এবং তোমাদের সন্তানদের ডাকি) আয়াতটি, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই চারজনকে ডাকলেন। ইবনে সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যখন এই আয়াতটি (অতঃপর বলুন, এসো আমরা আমাদের সন্তানদের এবং তোমাদের সন্তানদের ডাকি) অবতীর্ণ হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনকে ডাকলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ, এরাই আমার পরিবার।
এটি মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যা এসেছে যে এই চারজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কিয়ামতের দিন এক স্থানে থাকবেন) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে বললেন, আমি, তুমি এবং এই দুইজন অর্থাৎ হাসান ও হুসাইন, আর এই শায়িত ব্যক্তি অর্থাৎ আলী, কিয়ামতের দিন একই স্থানে থাকব।
এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন।
(বর্ণনা যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণাকারী যে তাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং শান্তিতে বসবাসকারী যে তাদের সাথে শান্তিতে থাকে) যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনকে লক্ষ্য করে বলেছেন, তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে আমি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, আর তোমরা যার সাথে শান্তিতে থাকবে আমি তার সাথে শান্তিতে থাকব। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গরীব হাদীস।
আবু হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে, আমি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত যে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তার সাথে শান্তিতে আছি যে তোমাদের সাথে শান্তিতে থাকে।
(বর্ণনা যে তারাই মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিতকৃত ব্যক্তি) "বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া।" ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন (বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া) আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সেই আত্মীয় কারা যাদের প্রতি ভালোবাসা রাখা আমাদের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক করা হয়েছে? তিনি বললেন, আলী, ফাতিমা এবং তাদের দুই পুত্র।
এটি আহমদ আল-মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এবং বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال ان الله جعل اجرى عليكم المودة في اهل بيتى وانى سائلكم غدا عنهم.
اخرجه الملا في سيرته.
* (باب) * في ذكر سيدة نساء العالمين فاطمة البتول ابنة سيد المرسلين قال أبو عمر هي واختها ام كلثوم افضل بنات النبي صلى الله عليه وسلم كلهم ولدوا قبل النبوة ولدت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم سنة احدى واربعين من مولد النبي صلى الله عليه وسلم، قال أبو عمر وهو مغاير لما رواه ابن إسحق أن أولاد النبي صلى الله عليه وسلم ولدوا قبل النبوة إلا ابراهيم.
* (باب) * ذكر تسميتها فاطمة رضى الله عنها عن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لفاطمة (يا فاطمة تدرين لم سميت فاطمة قال على يارسول الله لم سميت فاطمة قال ان الله عزوجل قد فطمها وذريتها عن النار يوم القيامة) أخرجه الحافظ الدمشقي، وقد رواه الامام على بن موسى الرضا في مسنده، ولفظه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال (ان الله عزوجل فطم ابنتى فاطمة وولدها ومن أحبهم من النار فلذلك سميت فاطمة) وعن ابن عباس رضى الله عنها قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ابنتى فاطمة حوراء إذ لم تحض ولم تطمث وانما سماها فاطمة لان الله عزوجل فطمها ومحبيها عن النار.
أخرجه النسائي.
(الشرح) : الطمث الحيض وكرر لاختلاف اللفظ، والطمث أيضا الجماع ومنه قوله تعالى (لم يطمثهن إنس قبلهم ولا جان) .
* (باب) * ذكر تزويجها بعلى بن أبى طالب كرم الله وجهه
تزوجها على رضى الله عنه وهى ابنة خمس عشرة سنة وخمسة أشهر أو ستة ونصف، وسنه يومئذ رضى الله عند احدى وعشرون سنة وخمسة أشهر ولم يتزوج عليها حتى
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার আহলে বাইতের প্রতি তোমাদের ভালোবাসা অবধারিত করেছেন এবং আমি আগামীকাল তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।
মোল্লা তার সিরত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
* (অধ্যায়) * বিশ্বজগতের নারীগণের নেত্রী, রাসুলগণের সরদারের কন্যা ফাতিমা আল-বাতুল-এর বর্ণনায়। আবু উমর বলেন, তিনি এবং তার বোন উম্মে কুলসুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের সকলেই নবুওয়াতের আগে জন্মগ্রহণ করেছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের একচল্লিশতম বছরে জন্মগ্রহণ করেন। আবু উমর বলেন, এটি ইবনে ইসহাক যা বর্ণনা করেছেন তার বিপরীত, তিনি বলেছেন যে ইবরাহিম ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত সন্তান নবুওয়াতের আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
* (অধ্যায়) * তাঁর নাম ফাতিমা (রা.) রাখার বর্ণনায়। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে বললেন, (হে ফাতিমা! তুমি কি জানো কেন তোমার নাম ফাতিমা রাখা হয়েছে? আলী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! কেন তার নাম ফাতিমা রাখা হয়েছে? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে এবং তার বংশধরদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেছেন)। হাফেজ দামেশকি এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রিদা তার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দগুলো হলো, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার কন্যা ফাতিমা, তার সন্তান এবং যারা তাদের ভালোবাসে, তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেছেন, তাই তার নাম ফাতিমা রাখা হয়েছে)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আমার কন্যা ফাতিমা হলো মানবী হুর, যেহেতু সে ঋতুমতী হয় না এবং অপবিত্র হয় না। আর তার নাম ফাতিমা রাখা হয়েছে কারণ মহান আল্লাহ তাকে এবং তার মহব্বতকারীদের জাহান্নামের আগুন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন।
নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'তামাস' অর্থ ঋতুস্রাব; এখানে শব্দের ভিন্নতার কারণে তা পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। 'তামাস' বলতে সহবাসও বোঝায়, যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: (তাদের পূর্বে কোনো মানুষ বা জিন তাদের স্পর্শ করেনি)।
* (অধ্যায়) * আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর সাথে তাঁর বিবাহের বর্ণনায়।
আলী (রা.) তাকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো বছর পাঁচ মাস অথবা সাড়ে ছয় মাস। আর সেদিন তাঁর (রা.) বয়স ছিল একুশ বছর পাঁচ মাস। তিনি তাঁর বর্তমানে অন্য কোনো বিবাহ করেননি যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ماتت.
عن جعفر قال تزوج على فاطمة في صفر في السنة الثانية من الهجرة وبنى بها في ذى الحجة على رأس اثنين وعشرين شهرا من التاريخ.
قال أبو عمر بعد وقعة أحد وقال غيره بعد بناء النبي صلى الله عليه وسلم بعائشة بأربعة أشهر ونصف وبنى بها بعد تزوجها بسبعة أشهر ونصف.
(ذكر ما جاء في مهرها وكيف تزويجها) ودخولها على على رضى الله عنه قال قالت لى مولاة لى هل علمت أن فاطمة قد خطبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لاقال فقد خطبت فما يمنعك أن تأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم يزوجك فقلت وعندي شئ أتزوج به فقالت انك ان جئت رسول الله صلى الله عليه وسلم يزوجك فوالله مازالت ترجينى حتى دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم جلالة وهيبة فلما قعدت بين يديه أفحمت فوالله ما أتكلم فقال ما جاء بك ألك حاجة فسكت فقال لعلك جئت تخطب فاطمة قلت نعم قال وهل عندك من شئ تستحلها به قات لا والله يا رسول الله فقال ما فعلت الدرع التى سلحتكها فقلت عندي والذى نفس على بيده إنها لحطمية ما ثمنها أربعمائة درهم قال قد زوجتكها فابعث بها فان كانت لصداق فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أخرجه ابن إسحق، وأخرجه الدولابى أيضا.
(شرح) : أفحمت أسكت، والحطمية قال شمر في تفسيرها هي العريضة الثقيلة، وقال بعضهم هي التى تكسر السيوف ويقال هي منسوبة إلى بطن من عبد القيس يقال لهم حطمة بن محارب كانوا يعملون الدروع، قال ابن عيينة: وهى شر الدروع، وهذا أمس بالحديث لان عليا ذكرها في معرض
الذم لها وتقليل ثمنها.
وعن أنس رضى الله عنه قال: جاء أبو بكر ثم عمر رضى الله عنهما يخطبان فاطمة رضى الله عنها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسكت ولم يرجع اليهما شيئا فانطلقا إلى على يأمرانه بطلب ذلك قال على فنبهاني لامر فقمت أجر ردائي حتى أتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت تزوجني فاطمة قال وعندك شئ قلت فرسى وبدنى
তিনি ইন্তেকাল করেন।
জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী হিজরীর দ্বিতীয় সনের সফর মাসে ফাতেমাকে বিয়ে করেন এবং হিজরতের তারিখ থেকে বাইশ মাস পূর্ণ হওয়ার পর যিলহজ মাসে তাঁর সাথে বাসর করেন।
আবু ওমর বলেন, এটি উহুদ যুদ্ধের পরের ঘটনা। অন্য একজন বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার সাথে বাসর করার সাড়ে চার মাস পর এবং তাঁর সাথে বিয়ের সাড়ে সাত মাস পর আলী তাঁর সাথে বাসর করেন।
(তাঁর মোহর এবং তাঁর বিয়ের পদ্ধতি সংক্রান্ত বর্ণনা) এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর বাসর যাপন তিনি (আলী) বলেন, আমার এক মুক্তদাসী আমাকে বলল, "আপনি কি জানেন যে ফাতেমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?" আমি বললাম, "না।" সে বলল, "প্রস্তাব তো দেওয়া হয়েছে, তবে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে কেন প্রস্তাব দিচ্ছেন না যাতে তিনি আপনার সাথে তাঁর বিয়ে দেন?" আমি বললাম, "আমার কাছে কি এমন কিছু আছে যা দিয়ে আমি বিয়ে করব?" সে বলল, "আপনি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যান, তবে তিনি অবশ্যই আপনার বিয়ে দিয়ে দেবেন।" আল্লাহর কসম, সে আমাকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেই থাকল যতক্ষণ না আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক বিশেষ গাম্ভীর্য ও প্রভাব ছিল। যখন আমি তাঁর সামনে বসলাম, আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। আল্লাহর কসম, আমি কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। তিনি বললেন, "তুমি কেন এসেছ? তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে?" আমি চুপ থাকলাম। তিনি বললেন, "সম্ভবত তুমি ফাতেমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তাঁকে নিজের জন্য হালাল করার (বিয়ের) বিনিময়ে দেওয়ার মতো তোমার কাছে কি কিছু আছে?" আমি বললাম, "না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "আমি তোমাকে যে বর্মটি দিয়েছিলাম তার কী হলো?" আমি বললাম, "সেটি আমার কাছেই আছে, আর যাঁর হাতে আলীর প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম, সেটি একটি হুতামিয়াহ বর্ম, যার মূল্য চারশ দিরহামের বেশি নয়।" তিনি বললেন, "আমি তাঁর সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিলাম, তুমি সেটি পাঠিয়ে দাও; এটাই হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতেমার মোহর।"
ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দুলাবিও এটি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'আফহামতু' মানে আমি চুপ হয়ে গেলাম। হুতামিয়াহ বর্ম সম্পর্কে শাম্মার এর ব্যাখ্যায় বলেন, এটি প্রশস্ত ও ভারী। কেউ কেউ বলেন, এটি সেই বর্ম যা তলোয়ার ভেঙে ফেলে। আবার বলা হয়, এটি আব্দুল কায়েস গোত্রের একটি শাখা 'হুতামা বিন মুহারিব' এর দিকে সম্বন্ধিত, যারা বর্ম তৈরি করত। ইবনে উয়াইনাহ বলেন, এটি সবচেয়ে নিম্নমানের বর্ম। আর এটাই হাদীসের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ আলী এটি সেই বর্মের দোষ বর্ণনা করার জন্য এবং এর মূল্য কম বুঝানোর জন্য উল্লেখ করেছিলেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর এবং এরপর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলেন। তিনি চুপ থাকলেন এবং তাদেরকে কোনো উত্তর দিলেন না। এরপর তাঁরা আলীর কাছে গেলেন এবং তাঁকে এটি (বিয়ের প্রস্তাব) চাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আলী বলেন, তাঁরা আমাকে একটি বিষয়ের প্রতি সজাগ করলেন, তাই আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং নিজের চাদর টানতে টানতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম। আমি বললাম, "ফাতেমাকে আমার সাথে বিয়ে দিন।" তিনি বললেন, "তোমার কাছে কি কিছু আছে?" আমি বললাম, "আমার একটি ঘোড়া এবং একটি বর্ম আছে।"
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال أما فرسك فلا بد لك منها، وأما بدنك (1) فبعها فبعتها بأربعمائة وثمانين فجئته بها فوضعها في حجره فقبض منها قبضة فقال أي بلال ابتغ لنا بها طيبا وأمرهم أن يجهزوها فجعل لها سرير مشرط ووسادة من أدم حشوها ليف، وقال لعلى إذا أتتك فلا تحدث شيئا حتى آتيك فجاءت مع أم أيمن حتى قعدت في جانب البيت وأنا في جانب وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ههنا أخى قالت أم أيمن أخوك وقد زوجته ابنتك قال نعم، ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم البيت فقال لفاطمة ائتينى بماء فقامت إلى قعب (2) في البيت فأتت فيه بماء فأخذه النبي صلى الله عليه وسلم ومج فيه ثم قال لها تقدمي فتقدمت فنضح (3) بين ثدييها وعلى رأسها وقال اللهم إنى أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم ثم قال ادبرى فأدبرت فصب بين كتفيها وقال اللهم إنى أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ائتونى بماء قال على فعلمت الذى يريد فقمت فملات القعب ماء وأتيته به وأخذه فمج فيه وصنع بعلى كما صنع بفاطمة ودعاه له بما دعا به لها ثم قال ادخل بأهلك بسم الله والبركة.
اخرجه أبو حاتم واحمد في المناقب عن ابن يزيد رضى الله عنه وقال فأرسل النبي صلى الله عليه وسلم إلى على لاتقرب إمرأتك حتى آتيك فجاء النبي صلى الله عليه وسلم ودعا بماء وقال فيه ما شاء الله أن يقول ثم نضح منه على وجهه ثم دعا فاطمة فقامت إليه تعثر في ثوبها - وربما قال في مرطها - من الحياء فنضح عليها أيضا وقال لها إنى لم آل أن أنكحك احب أهلى
إلى فرأى رسول الله صلى الله عليه وسلم سوادا اوراء الباب فقال من هذا قالت أسماء قال أسماء بنت عميس قالت نعم قال ابغى بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم جئت كرامة لرسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم فدعا لى دعاء انه لاوثق عملي عندي قال ثم خرج ثم قال لعلى دونك أهلك ثم ولى في حجره فما زال يدعو لهما حتى دخل في حجره، ويشبه أن يكون العقد وقع على الدرع
--------------------------------------------
তিনি বললেন, “তোমার ঘোড়াটি তো তোমার একান্ত প্রয়োজন, তবে তোমার বর্মটি (১) বিক্রি করে দাও।” ফলে আমি তা চারশত আশি দিরহামে বিক্রি করলাম এবং তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি তা তাঁর কোলে রাখলেন এবং তা থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, “হে বিলাল, এটি দিয়ে আমাদের জন্য সুগন্ধি কিনে আনো।” তিনি তাদেরকে ফাতিমাকে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তাঁর জন্য ফিতা বা পাতা দিয়ে বোনা একটি খাট এবং চামড়ার একটি বালিশ তৈরি করা হলো যার ভেতরে ছিল খেজুর গাছের ছাল। তিনি আলীকে বললেন, “যখন সে তোমার কাছে আসবে, তখন আমি না আসা পর্যন্ত তুমি নতুন কোনো কিছু করবে না।” অতঃপর ফাতিমা উম্মে আয়মানের সাথে আসলেন এবং ঘরের এক কোণে বসলেন, আর আমি অন্য এক কোণে বসলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং বললেন, “এখানে কি আমার ভাই আছে?” উম্মে আয়মান বললেন, “আপনার ভাই? অথচ আপনি তাঁর কাছেই আপনার কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন!” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ফাতিমাকে বললেন, “আমার কাছে পানি নিয়ে এসো।” তিনি ঘরের একটি পাত্রের (২) দিকে উঠলেন এবং তাতে করে পানি নিয়ে আসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করলেন এবং তাতে কুলি করে দিলেন। এরপর তাঁকে বললেন, “সামনে আসো।” তিনি সামনে আসলেন এবং তিনি তাঁর দুই স্তনের মাঝে ও মাথায় তা ছিটিয়ে (৩) দিলেন। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আমি তাঁকে এবং তাঁর বংশধরদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।” এরপর বললেন, “পেছনে ফেরো।” তিনি পেছনে ফিরলেন এবং তিনি তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে পানি ঢাললেন ও বললেন, “হে আল্লাহ! আমি তাঁকে এবং তাঁর বংশধরদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আমার কাছে পানি নিয়ে এসো।” আলী বললেন, “আমি বুঝতে পারলাম তিনি কী চাচ্ছেন। ফলে আমি উঠে পাত্রটি পানি দিয়ে পূর্ণ করলাম এবং তাঁর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি তা গ্রহণ করে তাতে কুলি করলেন এবং আলীর সাথে তেমনই করলেন যেমনটি ফাতিমার সাথে করেছিলেন। তিনি তাঁর জন্য তেমনই দুআ করলেন যেমনটি ফাতিমার জন্য করেছিলেন। এরপর বললেন, “আল্লাহর নাম ও বরকত নিয়ে তোমার স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করো।”
এটি আবু হাতিম এবং আহমাদ 'মানাকিব' গ্রন্থে ইবনে ইয়াযিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর নিকট বার্তা পাঠালেন যে, “আমি না আসা পর্যন্ত তোমার স্ত্রীর নিকটবর্তী হবে না।” অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং পানি চাইলেন। তাতে তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যা বলার বললেন। অতঃপর তা থেকে তাঁর চেহারায় ছিটিয়ে দিলেন। এরপর তিনি ফাতিমাকে ডাকলেন, তিনি লজ্জায় নিজ কাপড়ের—সম্ভবত তিনি বলেছিলেন চাদরের—মধ্যে হোঁচট খেতে খেতে তাঁর দিকে আসলেন। তিনি তাঁর উপরেও পানি ছিটিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বললেন, “আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির কাছেই তোমাকে বিয়ে দিতে কোনো ত্রুটি করিনি।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরজার আড়ালে একটি ছায়া দেখতে পেলেন এবং বললেন, “এটি কে?” তিনি বললেন, “আসমা।” তিনি বললেন, “আসমা বিনতে উমাইস?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তুমি কি আল্লাহর রাসূলের কন্যার সম্মানার্থে তাঁকে এগিয়ে নিতে এসেছ?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” অতঃপর তিনি আমার জন্য এমন একটি দুআ করলেন যা আমার কাছে আমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আমল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি বের হলেন এবং আলীকে বললেন, “তোমার স্ত্রীকে গ্রহণ করো।” এরপর তিনি তাঁর কামরার দিকে ফিরে গেলেন এবং সেখানে প্রবেশ করা পর্যন্ত তাঁদের জন্য দুআ করতে থাকলেন। আর প্রতীয়মান হয় যে, বিবাহের চুক্তিটি সেই বর্মের বিনিময়েই সম্পন্ন হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كما دل عليه الحديث الاول وبعث بها على رضى الله عنه ثم ردها إليه النبي صلى الله عليه وسلم ليبيعها فباعها وأتاه بثمنها من غير أن يكون بين الحديثين تضاد، وقد ذهب إلى مدلول كل واحد من الحديثين قائل به، وقال بعضهم كان مهرها الدرع ولم يكن إذ ذاك بيضاء ولا صفراء، وقال بعضهم كان مهرها أربعمائة وثمانين وأمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يجعل ثلثها في الطيب.
وخرج الدولابى معنى حديث أبى حاتم عن أنس عن أسماء بنت عميس وذكر فيه تقدم على على فاطمة في النضح والدعاء ثم قال لام أيمن ادعى لى فاطمة فجاءت وهى خرقة من الحياء فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم اسكني بنتى فقد أنكحتك احب أهل بيتى إلى ثم نضح عليها ودعا لها قالت ثم رجع فرأى سوادا بين يديه فقال من هذا قلت أنا قال أسماء بنت عميس قلت نعم قال جئت في زفاف بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت نعم قالت فدعا لى.
(شرح) : خرقة من الخرق بالتحريك الدهش من الخوف أو الحياء.
وعن على رضى الله عنه وذكر قصة زواجه قال فلما أدخلت على قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاتحدثا شيئا حتى آتيكما فأتانا وعلينا قطيفة أو كساء فلما رأيناه تحسحسنا قال على مكانكما ثم دعا باناء فيه ماء فدعا فيه ثم رش علينا قلت يا رسول الله أنا أحب اليك أم هي قال هي احب
إلى منك وأنت أعز على منها.
أخرجه يحيى بن معين.
(ذكر مشاورة النبي صلى الله عليه وسلم فاطمة حين اراد تزويجها عن عطاء بن أبى رباح قال: لما خطب على فاطمة رضى الله عنها أتاها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إن عليا قد ذكرك فسكتت فخرج فزوجها، أخرجه الدولابى.
(ذكر ان تزويج فاطمة عليا كان) بأمر الله عزوجل ووحى منه عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال خطب أبو بكر رضى الله عنه إلى النبي
যেমনটি প্রথম হাদিস নির্দেশ করেছে এবং আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দিয়ে সেটি পাঠিয়েছিলেন, তারপর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বিক্রির জন্য তাঁর কাছে ফেরত দেন। অতঃপর তিনি তা বিক্রি করলেন এবং তার মূল্য নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন, যেখানে এই দুই হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। প্রত্যেকেই এই দুই হাদিসের কোনো একটির অর্থের দিকে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন যে তাঁর মোহর ছিল বর্ম এবং সেই সময়ে কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য ছিল না। আর কেউ কেউ বলেছেন যে তাঁর মোহর ছিল চারশ আশি (দিরহাম) এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তার এক-তৃতীয়াংশ সুগন্ধির জন্য ব্যয় করা হয়।
আদ-দুলাবি আনাস থেকে আসমা বিনতে উমাইস সূত্রে বর্ণিত আবু হাতিমের হাদিসের অর্থ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে পানি ছিটিয়ে দোয়া করার সময় আলির সামনে ফাতিমার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি উম্মে আয়মানকে বললেন, 'আমার কাছে ফাতিমাকে ডেকে আনো'। ফাতিমা আসলেন এবং তিনি লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, 'স্থির হও হে আমার কন্যা, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমার কাছে সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছি'। অতঃপর তিনি তাঁর ওপর পানি ছিটালেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। আসমা বলেন, এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং তাঁর সামনে একটি অবয়ব দেখতে পেয়ে বললেন, 'এ কে?' আমি বললাম, 'আমি'। তিনি বললেন, 'আসমা বিনতে উমাইস?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন, 'তুমি কি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যার বিয়ের আয়োজনে এসেছ?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ'। তিনি বলেন, তখন তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন।
(ব্যাখ্যা): খিরাকা শব্দটি আল-খারাক থেকে এসেছে যার অর্থ ভয় বা লজ্জার কারণে বিহ্বল হয়ে যাওয়া।
আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এবং তিনি তাঁর বিয়ের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, যখন আমাকে প্রবেশ করানো হলো তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, 'আমি তোমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তোমরা নতুন কিছু করো না'। এরপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন এমতাবস্থায় যে আমাদের ওপর একটি কম্বল বা চাদর ছিল। যখন আমরা তাঁকে দেখলাম তখন আমরা নড়াচড়া করলাম। আলি বললেন, 'তোমরা নিজ স্থানে থাকো'। এরপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন এবং তাতে দোয়া করলেন, তারপর আমাদের ওপর তা ছিটিয়ে দিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি আপনার কাছে অধিক প্রিয় নাকি সে (ফাতিমা)?' তিনি বললেন, 'সে আমার কাছে তোমার চেয়ে বেশি প্রিয়
এবং তুমি আমার কাছে তাঁর চেয়ে বেশি সম্মানিত'।
এটি ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন বর্ণনা করেছেন।
(নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফাতিমাকে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন তখন তাঁর পরামর্শ গ্রহণের বর্ণনা) আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আলি ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন, 'নিশ্চয়ই আলি তোমার কথা উল্লেখ করেছে'। ফাতিমা নিশ্চুপ রইলেন। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং তাঁকে বিয়ে দিলেন। এটি আদ-দুলাবি বর্ণনা করেছেন।
(আলি ও ফাতিমার বিবাহ আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর নির্দেশ এবং তাঁর ওহির মাধ্যমে হওয়ার বর্ণনা) আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صلى الله عليه وسلم ابنته فاطمة فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا أبا بكر لم ينزل القضاء بعد ثم خطبها عمر رضى الله عنه مع عدة من قريش كلهم يقول له مثل قوله لابي بكر فقيل لعلى لو خطبت إلى النبي صلى الله عليه وسلم لخليق أن يزوجكها قال وكيف وقد خطبها أشراف قريش فلم يزوجها قال فخطبتها فقال النبي صلى الله عليه وسلم قد أمرنى ربى عزوجل بذلك قال أنس ثم دعاني النبي صلى الله عليه وسلم بعد أيام فقال لى يا أنس أخرج ادع لى أبا بكر الصديق وعمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وعبد الرحمن بن عوف وسعد بن أبى وقاص وطلحة والزبير وبعدة من الانصار قال فدعوتهم فلما اجتمعوا عنده كلهم وأخذوا مجالسهم وكان على غائبا في حاجة للنبى صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم (الحمد لله المحمود بنعمته المعبود بقدرته المطاع بسلطانه المرهوب من عذابه وسطواته النافذ أمره في سمائه وأرضه الذى خلق الخلق بقدرته وميزهم بأحكامه وأعزهم بدينه وأكرمهم بنبيه محمد صلى الله عليه وسلم ان الله تبارك اسمه وتعالت عظمته جعل المصاهرة نسبا لاحقا وأمرا مفترضا أوشج
به الارحام وألزم الانام فقال عز من قائل (وهو الذى خلق من الماء بشرا فجعله نسبا وصهرا وكان ربك قديرا) فأمر الله يجرى إلى قضائه وقضاؤه يجرى إلى قدره ولكل قضاء قدر ولكل قدر أجل ولكل أجر كتاب يمحو الله ما يشاء ويثبت وعنده أم الكتاب ثم إن الله تعالى أمرنى أن أزوج فاطمة بنت خديجة من على بن أبى طالب فاشهدوا أنى قد زوجته على أربعمائة مثقال فضة إن رضى بذلك عن بن أبى طالب ثم دعا بطبق من بسر 1 فوضعت بين أيدينا ثم قال انتهبوا فانتهبنا فبينا نحن ننتهب إذ دخل على رضى الله عنه على النبي صلى الله عليه وسلم فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم في وجهه ثم قال: إن الله قد أمرنى أن أزوجك فاطمة على أربعمائة مثقال فضة إن رضيت بذاك فقال قد رضيت بذلك يا رسول الله قال
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর কন্যা ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে আবু বকর, এখনো ফয়সালা (তাকদীর) নাজিল হয়নি।" অতঃপর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরাইশদের একটি দলসহ প্রস্তাব দিলেন; নবীজি তাদের সবার উদ্দেশ্যেই আবু বকরের মতো একই উত্তর দিলেন। এরপর আলীকে বলা হলো, "আপনি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন, তবে আপনার সাথে বিয়ে হওয়াটাই সংগত হতো।" তিনি বললেন, "তা কীভাবে সম্ভব যখন কুরাইশদের অভিজাতরা প্রস্তাব দিয়েও বিয়ে করতে পারেননি?" আলী বলেন, "অতঃপর আমি প্রস্তাব দিলাম।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমার রব আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।" আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "কয়েকদিন পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, 'হে আনাস, বাইরে যাও এবং আমার কাছে আবু বকর সিদ্দীক, ওমর ইবনুল খাত্তাব, ওসমান ইবনে আফফান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, তালহা, জুবাইর এবং আনসারদের একটি দলকে ডেকে আনো'।" তিনি বলেন, "আমি তাদের ডাকলাম। যখন তারা সকলে তাঁর কাছে সমবেত হলেন এবং নিজ নিজ আসনে বসলেন—আর আলী তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন—তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নিআমতের কারণে প্রশংসিত, তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে ইবাদতযোগ্য, তাঁর কর্তৃত্বের মাধ্যমে অনুগত, তাঁর আজাব ও দাপটের কারণে ভীতিপ্রদ, যাঁর নির্দেশ আসমান ও জমিনে কার্যকর, যিনি তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তাঁর বিধানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা দান করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ—যাঁর নাম বরকতময় এবং যাঁর মহিমা সুউচ্চ—বৈবাহিক সম্পর্ককে পরবর্তী বংশধারা এবং একটি অপরিহার্য বিধান করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সুদৃঢ় করেছেন
আত্মীয়তার বন্ধন এবং মানবজাতিকে এর সাথে দায়বদ্ধ করেছেন। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী এবং তিনি বলেছেন, 'আর তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তায় বিন্যস্ত করেছেন; তোমার রব সর্বশক্তিমান।' সুতরাং আল্লাহর নির্দেশ তাঁর ফয়সালার দিকে ধাবিত হয় এবং তাঁর ফয়সালা ধাবিত হয় তাঁর তাকদীরের দিকে। প্রতিটি ফয়সালার জন্য একটি তাকদীর রয়েছে, প্রতিটি তাকদীরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি কিতাব (লিপি) রয়েছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা তা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা তা বহাল রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব। এরপর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমি যেন খাদিজার কন্যা ফাতিমাকে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে বিয়ে দেই। অতএব তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি চারশ মিসকাল রূপার বিনিময়ে আলীর সাথে তার বিয়ে দিচ্ছি, যদি আলী ইবনে আবি তালিব তাতে রাজি থাকেন।' অতঃপর তিনি আধাপাকা খেজুরের একটি থালা আনিয়ে আমাদের সামনে রাখলেন এবং বললেন, 'তোমরা এটি গ্রহণ করো।' আমরা তা নিচ্ছিলাম, এমন সময় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং বললেন: 'আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আমি যেন চারশ মিসকাল রূপার বিনিময়ে ফাতিমাকে তোমার সাথে বিয়ে দেই; তুমি কি তাতে রাজি আছ?' তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি তাতে রাজি আছি'।" তিনি বললেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أنس فقال النبي صلى الله عليه وسلم جمع الله شملكما وأسعد جدكما وبارك عليكما وأخرج منكما كثيرا طيبا قال أنس فوالله لقد أخرج الله منهما الكثير الطيب، أخرجه أبو الخير القزويني الحاكمى.
(شرح) : أوشج به الارحام أي شبك بعضها ببعض تقول رحم واشجة أي مشتبكة، والجد الحظ والبخت.
وعنه قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فغشيه الوحى فلما أفاق قال تدرى ما جاء به جبريل، قلت الله ورسوله اعلم قال أمرنى أن أزوج فاطمة من على فانطلق وادع لى أبا بكر وعمر وعثمان وعليا وطلحة والزبير وبعدة من الانصار ثم ذكر الحديث بتمامه وقال وشج به الارحام قال فلما أقبل على قال له يا على إن الله جل وعلا أمرنى ان أزوجك فاطمة وقد زوجتكها على اربعمائة مثقال فضة أرضيت؟ قال قد رضيت يا رسول الله قال ثم قام على فخر ساجدا لله شكرا قال النبي صلى الله عليه وسلم جعل الله منكما الكثير الطيب وبارك فيكما، قال أنس فوالله لقد
أخرج الله منهما الكثير الطيب.
أخرجه أبو الخير أيضا، وما تضمنه هذان الحديثان مغاير لما تقدم من ذكر المهر والاول أشهر وأثبت، والعقد لعلى وهو غائب محمول على انه كان له وكيل حاضر أو على انه لم يرد به العقد بل إظهار ذلك ثم عقد معه لما حضر أو على تخصيصه بذلك جمعا بينه وبين ما ورد على شرط القبول على الفور.
وعن عمر رضى الله عنه وقد ذكر عنده على قال ذلك صهر رسول الله صلى الله عليه وسلم نزل جبريل فقال يا محمد إن الله يأمرك أن تزوج فاطمة ابنتك من على.
أخرجه ابن السماك في الموافقة.
وعن عبد الله رضى الله عنه قال لما أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يوجه فاطمة إلى على أخذتها رعدة فقال يا بنية لا تجزعي انى لم أزوجك من على ان الله أمرنى ان أزوجك منه.
اخرجه الغساني.
ذكر تزويج الله تعالى فاطمة عليا في الملا الاعلى بمحضر من الملائكة عن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أتانى ملك
আনাস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তোমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখুন, তোমাদের ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করুন, তোমাদের উপর বরকত দান করুন এবং তোমাদের থেকে অনেক পবিত্র বংশধর বের করুন। আনাস বলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাঁদের থেকে অনেক পবিত্র বংশধর বের করেছেন। এটি আবু আল-খায়ের আল-কাযওয়িনি আল-হাকিমি বর্ণনা করেছেন।
(ব্যাখ্যা): 'আউশাজা বিহি আল-আরহাম' অর্থাৎ সেগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে গেঁথে দিয়েছেন। বলা হয় 'রাহিমুন ওয়াশিজাহ' অর্থাৎ সুসংযুক্ত আত্মীয়তা। আর 'আল-জাদ্দু' অর্থ হলো অংশ বা ভাগ্য।
তাঁহা (আনাস) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হওয়া শুরু হলো। যখন তিনি স্বাভাবিক হলেন, তখন বললেন, জিবরাঈল যা নিয়ে এসেছেন তা কি তুমি জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি ফাতেমাকে আলীর সাথে বিবাহ দিই। সুতরাং তুমি যাও এবং আমার নিকট আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, জুবাইর এবং আনসারদের একটি দলকে ডেকে আনো। অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন এবং বললেন, এর মাধ্যমে তিনি আত্মীয়তার সম্পর্ককে গেঁথে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন আলী আসলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, হে আলী! আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি ফাতেমাকে তোমার সাথে বিবাহ দিই। আর আমি চারশ মিসকাল রৌপ্য মোহরের বিনিময়ে তাঁকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়েছি। তুমি কি সন্তুষ্ট? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, অতঃপর আলী দাঁড়িয়ে আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তোমাদের থেকে অনেক পবিত্র বংশধর সৃষ্টি করুন এবং তোমাদের মধ্যে বরকত দান করুন। আনাস বলেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই
আল্লাহ তাঁদের থেকে অনেক পবিত্র বংশধর বের করেছেন।
আবু আল-খায়েরও এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই দুটি হাদিসে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা মোহর সম্পর্কে পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের পরিপন্থী, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রমাণিত। আর আলী অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তাঁর বিবাহের আকদ হওয়ার বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে, হয়তো সেখানে তাঁর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, অথবা এর দ্বারা মূল আকদ উদ্দেশ্য ছিল না বরং বিষয়টি ঘোষণা করা উদ্দেশ্য ছিল এবং পরে তিনি উপস্থিত হলে তাঁর সাথে আকদ সম্পন্ন করা হয়, অথবা তাৎক্ষণিক কবুল করার শর্তের সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য এটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ বিধান ছিল।
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তাঁর নিকট যখন আলীর কথা উল্লেখ করা হলো তখন তিনি বললেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জামাতা। জিবরাঈল অবতীর্ণ হয়ে বলেছিলেন, হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে আপনার কন্যা ফাতেমাকে আলীর সাথে বিবাহ দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
ইবনে আস-সাম্মাক 'আল-মুয়াফাকাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমাকে আলীর নিকটে পাঠাতে চাইলেন, তখন তিনি কাঁপতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, হে প্রিয় কন্যা! ঘাবড়িয়ো না, আমি নিজ থেকে তোমাকে আলীর সাথে বিবাহ দিইনি, বরং আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিতে।
আল-গাসসানি এটি বর্ণনা করেছেন।
উচ্চতর জগতে (মালায়িউল আ’লা) ফেরেশতাদের উপস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ফাতেমা ও আলীর বিবাহের বর্ণনা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার নিকট একজন ফেরেশতা আসলেন।
(খণ্ড: ১)
জাখাইরুল উকবা ফী মানাকিবি জাবিল কুরবা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فقال يا محمد ان الله تعالى يقرأ عليك السلام ويقول لك انى قد زوجت فاطمة ابنتك من على بن أبى طالب في الملا الاعلى فزوجها منه في الارض، خرجه الامام على بن موسى الرضا في مسنده، وعن أنس رضى الله عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد إذ قال لعلى هذا جبريل يخبرني أن الله زوجك فاطمة وأشهد على تزويجها أربعين الف ملك وأوحى إلى شجرة طوبى أن انثري عليهم الدر والياقوت فنثرت عليهم الدر والياقوت فابتدرت إليه الحور العين يلتقطن في اطباق الدر والياقوت فهم يتهادونه بينهم إلى يوم القيامة.
أخرجه الملا في سيرته.
وعن عبد الله رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لفاطمة حين وجهها إلى على إن الله لما أمرنى ان ازوجك من على وأمر الملائكة أن
يصطفوا صفوفا في الجنة ثم امر شجر الجنان أن تحمل الحلى والحلل ثم امر جبريل فنصب في الجنة منبرا ثم صعد جبريل واختطب فلما فرغ نثر عليهم من ذلك فمن أخذ أحسن أو أكثر من صاحبه افتخر به إلى يوم القيامة يكفيك يا بنية هذا.
أخرجه الغساني.
وعن على كرم الله وجهه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (أتانى ملك فقال يا محمد إن الله تعالى يقول لك إنى قد امرت شجرة طوبى أن تحمل الدر والياقوت والمرجان وان تنثره على من قضى عقد نكاح فاطمة من الملائكة والحور العين وقد سر بذلك سائر أهل السموات وانه سيولد بينهما ولدان سيدان في الدينا وسيسودان على.
كهول أهل الجنة وشبابها وقد تزين أهل الجنة لذلك فاقرر عينا يا محمد فانك سيد الاولين والآخرين صلى الله عليه وسلم خرجه الامام على بن موسى الرضا.
ذكر زفاف الملائكة فاطمة إلى على رضى الله عنهما عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: كانت الليلة التى زفت فيها فاطمة إلى على عليهما السلام كان النبي صلى الله عليه وسلم أمامها وجبريل عن يمينها وميكائيل عن يسارها وسبعون الف ملك من خلفها يسبحون الله ويقدسونه حتى طلع الفجر.
তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলছেন যে, আমি মালাউল আ’লা-তে (ঊর্ধ্বজগতে) আপনার কন্যা ফাতিমাকে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে বিবাহ দিয়েছি, সুতরাং আপনি পৃথিবীতে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন করুন। ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রিদা তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মসজিদে ছিলেন তখন তিনি আলীকে বললেন, এই যে জিবরীল আমাকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ আপনার সাথে ফাতিমার বিবাহ দিয়েছেন এবং এই বিবাহে চল্লিশ হাজার ফেরেশতাকে সাক্ষী রেখেছেন। আর তিনি তূবা বৃক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের ওপর মুক্তা ও ইয়াকুত ছিটিয়ে দেয়; ফলে সেটি তাদের ওপর মুক্তা ও ইয়াকুত বর্ষণ করল। তখন হুরুল আইনগণ সেই মুক্তা ও ইয়াকুতগুলো থালায় কুড়িয়ে নিতে প্রতিযোগিতা শুরু করল; তারা কিয়ামত পর্যন্ত একে অপরকে এগুলো উপহার হিসেবে প্রদান করবে।
আল-মুল্লা তাঁর সীরাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাতিমাকে যখন আলীর কাছে পাঠালেন, তখন তাঁকে বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে আলীর সাথে তোমার বিবাহ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন যেন
তারা জান্নাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়, এরপর তিনি জান্নাতের বৃক্ষসমূহকে অলঙ্কার ও রেশমি পোশাক বহন করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি জিবরীলকে নির্দেশ দিলে জিবরীল জান্নাতে একটি মিম্বর স্থাপন করলেন। তারপর জিবরীল তার ওপর আরোহণ করে খুতবা প্রদান করলেন। যখন তিনি সমাপ্ত করলেন, তখন তাদের ওপর সেসব দ্রব্য ছিটিয়ে দেওয়া হলো। ফলে যে তার সাথীর চেয়ে উত্তম বা অধিক কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছে, সে কিয়ামত পর্যন্ত তা নিয়ে গর্ব করতে থাকবে। হে আমার আদরের কন্যা! তোমার জন্য এটিই যথেষ্ট।
আল-গাসসানী এটি বর্ণনা করেছেন।
আর আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তাআলা আপনাকে বলছেন যে, আমি তূবা বৃক্ষকে মুক্তা, ইয়াকুত ও প্রবাল বহন করার এবং যারা ফাতিমার বিবাহের আকদ সম্পন্ন করেছে সেই ফেরেশতা ও হুরুল আইনদের ওপর তা ছিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এতে আসমানের সকল অধিবাসী আনন্দিত হয়েছে। অচিরেই তাদের থেকে দু’টি সন্তান জন্ম নেবে যারা দুনিয়াতে নেতা হবে এবং তারা নেতৃত্ব দেবে
জান্নাতের বয়স্ক ও যুবকদের ওপর। জান্নাতবাসীরা এর জন্য সুসজ্জিত হয়েছে। সুতরাং হে মুহাম্মদ! আপনি চক্ষু শীতল করুন, কেননা আপনি হলেন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।’ ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রিদা এটি বর্ণনা করেছেন।
ফেরেশতাদের মাধ্যমে আলীর নিকট ফাতিমার বিদায় অনুষ্ঠানের বর্ণনা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে রাতে ফাতিমাকে আলীর নিকট বিদায় দেওয়া হয়েছিল, সেদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন তাঁর সামনে, জিবরীল ছিলেন তাঁর ডানে, মিকাইল ছিলেন তাঁর বামে এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা ছিলেন তাঁর পেছনে; তাঁরা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছিলেন ও তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছিলেন।