(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
دور علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية   (رضا بن محمد صفي الدين السنوسي)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: دور علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية

المؤلف: رضا بن محمد صفي الدين السنوسي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার আলিমদের অবদান   (রিদা বিন মুহাম্মাদ সফিউদ্দিন আস-সানুসী)

বিভাগ: গ্রন্থতালিকা ও নির্দেশিকা


বই: সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার আলিমদের অবদান

লেখক: রিদা বিন মুহাম্মাদ সফিউদ্দিন আস-সানুসী

প্রকাশক: বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স, মদিনা মুনাওয়ারা

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي رفع قدر العلم والعلماء، وجعلهم مصابيح للأنام يدلونهم على الحق ويُرْشدونهم إلى ما فيه رضا الرحمن، أحمده سبحانه وأسأله أن يجعلنا في زمرة العلماء العاملين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن سيدنا ونبينا محمداً عبده ورسوله، اللهم صلِّ وسلم وبارك على عبدك ورسولك محمد وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد:

فانطلاقاً من المنهج الذي التزمت به حكومة المملكة العربية السعودية في تحكيم شرع الله والاهتمام بالكتاب والسنة، وعناية منها بهذين المصدرين، فقد شرعت وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد بعقد ندوة علمية تحت عنوان: ((عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية)) ، وقد وضعت المحاور والموضوعات لهذه الندوة.

ولما كانت هذه الندوة محل اهتمام العلماء في هذه البلاد وغيرها من البلاد الإسلامية، أحببت أن أشارك في هذه الندوة ببحث يلقي الضوء على الجهود الكبيرة التي بذلها علماء مكة المكرمة في القرن الرابع عشر الهجري في خدمة السنة النبوية والسيرة تدريساً وتأليفاً، والأثر العظيم الذي ساهمت به حلقات المسجد الحرام والمدارس العلمية في مكة المكرمة في تعريف الطلاب بهذه العلوم الشرعية، وانتشارها والعناية بها، وكثرة المدرسين لهذه العلوم، حتى أضحى المسجد الحرام والمدارس العلمية منارةَ علم للطلاب ينهلون من هذه المعارف، وأصبح علماء مكة المكرمة يَرحل الناس للأخذ منهم والرواية عنهم، وظهر أثر ذلك في البلاد الإسلامية التي رحل إليها مَنْ رحلَ من علماء مكة، ورجع إليها طلابها الذين نهلوا من حلقات المسجد الحرام، وانتشار المدارس الإسلامية في كثير من بلاد المسلمين مثل إندونيسيا وماليزيا وغير ذلك.
ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ইলম ও ওলামায়ে কেরামের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁদেরকে সৃষ্টির জন্য আলোকবর্তিকা বানিয়েছেন, যাঁরা মানুষকে সত্যের পথ দেখান এবং দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে এমন বিষয়ের দিকে তাঁদেরকে পরিচালিত করেন। আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনাপূর্বক প্রশংসা করছি এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদেরকে আমলকারী আলেমদের দলভুক্ত করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর:

আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়ন এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের যে আদর্শে সৌদি আরব রাজ্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং এই দুই উৎসের প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগের অংশ হিসেবে, ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় "সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবী (সা.)-এর প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন" শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এই সেমিনারের জন্য বিভিন্ন মূল বিষয় ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেহেতু এই সেমিনারটি এই দেশ এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের আলেমদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ববহ, তাই আমি এই সেমিনারে এমন একটি গবেষণাপত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি যা চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে মক্কা মোকাররমার ওলামায়ে কেরামের সুন্নাহ ও সীরাতের খেদমতে পাঠদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে যে বিশাল অবদান ছিল, তার ওপর আলোকপাত করবে। সেই সাথে মক্কা মোকাররমার মসজিদে হারামের দরস বা পাঠচক্র এবং দ্বীনি মাদরাসাসমূহ ছাত্রদেরকে এসব শরয়ী ইলমের সাথে পরিচিত করতে, ইলমের প্রসার ও পরিচর্যায় এবং শিক্ষকদের প্রাচুর্যের ক্ষেত্রে যে মহান ভূমিকা পালন করেছিল—তাও তুলে ধরবে। এমনকি মসজিদে হারাম এবং মাদরাসাসমূহ ছাত্রদের জন্য জ্ঞানের এমন এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছিল যেখান থেকে তারা এই ইলমসমূহ আহরণ করত এবং মক্কা মোকাররমার আলেমগণ এমন মর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন যে মানুষ তাঁদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ ও বর্ণনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসত। এর প্রভাব সেই সব মুসলিম দেশে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যেখানে মক্কার আলেমগণ সফর করেছিলেন এবং যে সব ছাত্ররা মসজিদে হারামের পাঠচক্র থেকে ইলম অর্জন করে নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন; ফলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশে ইসলামী মাদরাসাগুলোর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وقد جعلت عنوان البحث (دور علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية خلال القرن الرابع عشر الهجري) وجعلت البحث في مقدمة وفصل وخاتمة.

المقدمة: أذكر فيها السبب لاختيار هذا الموضوع.

- الفصل الأول: دور علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية وقد جعلته في أربعة مباحث:

- المبحث الأول: الحياة العلمية في مكة المكرمة خلال القرن الرابع عشر.

- المبحث الثاني: علماء مكة في خدمة السنة والسيرة النبوية.

أ - حلقات المسجد الحرام.

ب - المؤسسات التعليمية في النصف الأول من القرن الرابع عشر: المدرسة الصولتية، مدرسة الفلاح، وغيرهما.

جـ - المؤسسات التعليمية في النصف الثاني من القرن الرابع عشر: معهد الحرم المكي، دار الحديث الخيرية، جامعة الملك عبد العزيز فرع مكة (جامعة أم القرى حالياً) .

- المبحث الثالث: علماء مكة في خدمة السنة تدريساً وتأليفاً.

- المبحث الرابع: علماء مكة المكرمة في خدمة السيرة تدريساً وتأليفاً.

- الخاتمة: وأذكر فيها أهم النتائج التي توصلت إليها.

وفي الختام أقدم شكري لكل من تفضل عليَّ في هذا البحث، وأسأل
আমি গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করেছি (চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে সুন্নাহ এবং সীরাতুন নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার আলিমদের ভূমিকা) এবং গবেষণাকর্মটি একটি ভূমিকা, একটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকা: এতে আমি এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ উল্লেখ করেছি।

- প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহ ও সীরাতুন নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার আলিমদের ভূমিকা এবং একে আমি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: চতুর্দশ শতাব্দীতে মক্কা মুকাররমার ইলমি জীবন।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও সীরাতুন নববীর খিদমতে মক্কার আলিমগণ।

ক - মসজিদে হারামের ইলমি হালকাসমূহ।

খ - চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ: মাদ্রাসা সওলতিয়াহ, মাদ্রাসা ফালাহ এবং অন্যান্য।

গ - চতুর্দশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ: মাহাদুল হারাম আল-মাক্কি, দারুল হাদিস আল-খাইরিয়্যাহ, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় মক্কা শাখা (বর্তমানে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়)।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অধ্যাপনা ও রচনার মাধ্যমে সুন্নাহর খিদমতে মক্কার আলিমগণ।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অধ্যাপনা ও রচনার মাধ্যমে সীরাতের খিদমতে মক্কা মুকাররমার আলিমগণ।

- উপসংহার: এতে আমি আমার গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।

পরিশেষে, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গবেষণায় আমাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আমি প্রার্থনা করছি...
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الله أن يعظم لهم الأجر والمثوبة، وأسأله سبحانه أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم وأن يرزقنا التوفيق لما يحبه ويرضاه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
আল্লাহ যেন তাদের প্রতিদান ও সওয়াবকে মহান করেন এবং আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন আমাদের তা করার তাওফিক দান করেন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর এবং বিচার দিবস পর্যন্ত অগণিত সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المبحث الأول: الحياة العلمية في مكة المكرمة خلال القرن الرابع عشر الهجري

مكة المكرمة - شرفها الله - هي مهبط الوحي، ومنبع النور، ومنهل العلم والمعرفة، على يدي هادي الإنسانية ومعلم البشرية، سيدنا ونبينا محمد ابن عبد الله صلى الله عليه وسلم.

ولقد كانت أول آية نزلت عليه {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ* عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} العلق: 1-5] ومن دار الأرقم شع نور العلم على يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولما كان التعليم أساس الحضارة، والقاعدة التي يبنى عليها وعي الأمة ومعرفتها، والضياء الذي يضيء آفاق الحياة الإنسانية، فقد نال التعليم أهمية عظيمة في حياة المسلمين، وكانت مكة المكرمة - حرسها الله - منبع هذا النور ومصدر هذا الخير من عهد الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين. فمن المسجد الحرام شع نور العلم في حلقة الصحابي الجليل عبد الله بن عباس رضي الله عنهما ومن كان معه. وتتابع ذلك في عصر التابعين وأتباع التابعين ومن جاء بعدهم على مر السنين والقرون. ولقد كان المسجد الحرام هو منتدى للعبادة والعلم. وقد ظهرت في مكة المكرمة مدارس تعليمية منذ العصور الأولى كان لها الأثر العظيم في نشر العلم في جميع أنحاء العالم الإسلامي. فمن المعروف أن مكة المكرمة مقصد المسلمين من كل مكان لتأدية مناسك الحج، وكانت الحلقات التي تعقد في المسجد الحرام مقصداً
প্রথম পরিচ্ছেদ: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে মক্কা আল-মুকাররামায় বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাজীবন

মক্কা আল-মুকাররামা - আল্লাহ একে সম্মানিত করেছেন - হলো ওহী অবতরণের স্থান, আলোর উৎস এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঝরণাধারা, যা মানবতার পথপ্রদর্শক ও মানবজাতির শিক্ষক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত।

আর তাঁর ওপর অবতীর্ণ প্রথম আয়াত ছিল: "পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" [আল-আলাক: ১-৫] এবং দারুল আরকাম থেকেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে জ্ঞানের আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল।

যেহেতু শিক্ষা হলো সভ্যতার ভিত্তি এবং সেই মূলভিত্তি যার ওপর উম্মাহর সচেতনতা ও জ্ঞান নির্মিত হয়, এবং সেই জ্যোতি যা মানবজীবনের দিগন্তকে আলোকিত করে, তাই মুসলমানদের জীবনে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে। মক্কা আল-মুকাররামা - আল্লাহ একে রক্ষা করুন - সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈনের যুগ থেকেই ছিল এই আলোর উৎস এবং এই কল্যাণের আধার। অতএব, মাসজিদুল হারাম থেকে মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং তাঁর সহযোগীদের হালকার মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। আর বছরের পর বছর এবং যুগের পর যুগ ধরে তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের যুগেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। বস্তুত মাসজিদুল হারাম ছিল ইবাদত ও ইলমের কেন্দ্রস্থল। মক্কা আল-মুকাররামায় প্রারম্ভিক যুগ থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদরাসা গড়ে উঠেছিল, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ইলম প্রসারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এটি সর্বজনবিদিত যে, মক্কা আল-মুকাররামা হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য সব প্রান্তের মুসলমানদের গন্তব্যস্থল, আর মাসজিদুল হারামে আয়োজিত জ্ঞানচর্চার হালকাগুলো ছিল সকলের লক্ষ্যস্থল।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
لأولئك الحجاج ينهلون من معين العلم الصافي. وقد كانت الحلقات تُدرس فيها شتى أنواع العلوم والمعرفة، من تدريس القرآن وتحفيظه وتفسيره، إلى الحديث وحفظه وشرحه، إلى الفقه والنحو والصرف والعقيدة، وغير ذلك من العلوم. وقد استمرت الحركة العلمية النشطة على هذا المنوال، من إقبال الطلاب وتعلمهم ورجوعهم إلى بلدانهم لنشر ذلك العلم الذي أخذوه. واستمرت هذه الحال إلى القرن الرابع عشر الذي نحن بصدد الحديث عنه.

يقول الشيخ محمد طاهر الكردي رحمه الله: ((المسجد الحرام أخرج من رجال الدين والعلم والصلاح منذ ظهور الإسلام إلى يومنا هذا - يعني القرن الرابع عشر - الشيء الكثير الوفير. وكان لهم من الشأن والبروز ما لو أطلقنا القلم لطال بنا البحث)) (1) .

والحديث عن الحياة العلمية في مكة المكرمة خلال القرن الرابع عشر متشعب ومتعدد الجوانب. يقول الدكتور عبد الوهاب أبو سليمان - حفظه الله -: ((وُجِدت مكة المكرمة لتكون مركز إشعاع ديني ومعرفي على مدى الأزمان والقرون. وبطبيعة الحال فإن هذا الإشعاع يتأثر بعوامل عديدة يَقْوى حين يسود البلاد الأمن والرخاء، ويضعف إذا اختلَّ الأمن، وقست المعيشة فيها. كما أن للحالة السياسية والتشجيع من قبل الحكام وولاة الأمر دوراً فاعلاً لا يقل عن أي عامل آخر. والقرن الرابع عشر الهجري يمثل فترة زمنية سادها الأمن والرخاء فأصبح متميزاً بارزاً بين القرون)) (2) .

--------------------------------------------

(1) التاريخ القويم 5 / 521.

(2) الحرم الشريف الجامع والجامعة ص 9.
সেই সকল হাজীদের জন্য যারা স্বচ্ছ জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে পান করতেন। জ্ঞানের এই আসরগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ইলম ও জ্ঞান শিক্ষাদান করা হতো, কুরআন পাঠ, তা মুখস্থকরণ ও তাফসীর থেকে শুরু করে হাদীস মুখস্থকরণ ও ব্যাখ্যা, ফিকহ, নাহু, সরফ, আকিদাহ এবং অন্যান্য জ্ঞান পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের আগমন, শিক্ষা গ্রহণ এবং তারা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তা প্রচারের জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে এই প্রাণবন্ত জ্ঞানচর্চার ধারা এভাবেই অব্যাহত ছিল। আমরা যে চতুর্দশ শতাব্দী নিয়ে আলোচনা করছি, সেই সময় পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত ছিল।

শায়খ মুহাম্মদ তাহির আল-কুর্দি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইসলামের আবির্ভাব থেকে আজ পর্যন্ত—অর্থাৎ চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত—মসজিদুল হারাম প্রচুর পরিমাণে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, আলিম ও নেককার মানুষ তৈরি করেছে। তাদের মর্যাদা ও প্রসিদ্ধি এতটাই ছিল যে, আমরা যদি বিস্তারিত লিখতে শুরু করি তবে আমাদের গবেষণা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।" (১)।

চতুর্দশ শতাব্দীতে মক্কা মুকাররমার জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বহুমুখী। ড. আব্দুল ওয়াহাব আবু সুলাইমান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন: "মক্কা মুকাররমার অস্তিত্বই হলো যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকিরণের কেন্দ্র হিসেবে থাকার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই এই বিকিরণ বিভিন্ন নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয়; যখন দেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে তখন তা শক্তিশালী হয়, আর যখন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে তখন তা দুর্বল হয়ে যায়। একইভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শাসক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের পক্ষ থেকে উৎসাহ প্রদানও অন্য যে কোনো নিয়ামকের চেয়ে কম কার্যকর ভূমিকা রাখে না। চতুর্দশ হিজরি শতাব্দী এমন একটি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে যখন নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় ছিল, ফলে এটি শতাব্দীগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।" (২)।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখুল কাওয়ীয়াম ৫ / ৫২১।

(২) আল-হারামুশ শরিফ আল-জামি ওয়াল জামিআহ পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ويأتي المسجد الحرام الجامع والجامعة في مقدمة الأماكن العلمية التي نهل منها الطلاب العلم؛ إذ كانت ساحاته وأروقته تغص بحلقات العلم التي كان يدرس بها علماء فطاحل من علماء الحرم المشهورين في علوم متعددة. وقد كانت حلقات التدريس بالمسجد الحرام من الكثرة بمكان. يقول الشيخ أحمد السباعي رحمه الله: ((وقد أحصيت حلقات التدريس في المسجد الحرام فبلغت في بعض الأوقات نحو 120 حلقة تتناوب التدريس في الآصال والبكور بين أطراف الليل والنهار في نشاط وزحام)) (1) .

ثم تأتي الكتاتيب في المكانة الثانية. والكُتَّاب: ((هو المكان الذي يتلقى فيه الصبيان العلم)) (2) وقد انتشرت الكتاتيب في أحياء مكة المكرمة حتى بلغت عام 1305 هـ ثلاثة وأربعين كُتاباً (3) .

وقد أشار الشيخ أحمد السباعي رحمه الله إلى هذه الكتاتيب في هذا القرن قائلاً: ((وتعددت الكتاتيب في هذا العهد لتعلم القراءة والهجاء ومن أشهرها: كُتاب الشيخ محمد الخياط، والشيخ محمد العناني، والسيد عبد الله مجاهد، والشيخ عبد الله حمدوه السناري، والشيخ أحمد السوركتي)) (4) .

وقد كان التعليم في الكتاتيب يستغرق طوال النهار من الصباح حتى الظهر، ثم يعودون إلى الدراسة بعد الغداء إلى ما بعد العصر، وفي بعض الكتاتيب يواصل الطلاب حتى أذان المغرب، وقد كان للفتيات كتاتيب يدرسن فيها. يقول الشيخ أحمد السباعي رحمه الله: ((وكان للفتيات كتاتيب

--------------------------------------------

(1) تاريخ مكة ص 583.

(2) التعليم الأهلي للبنين في مكة المكرمة ص 72.

(3) التعليم في مكة والمدينة ص 29.

(4) تاريخ مكة ص 581.
মাসজিদুল হারাম, যা জামে মাসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় সমতুল্য, এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রভাগে অবস্থান করে যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করেছেন; কেননা এর প্রাঙ্গণ ও বারান্দাগুলো ইলমি হালকাসমূহে (শিক্ষার আসর) ভরপুর থাকত, যেগুলোতে হারামের প্রসিদ্ধ প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন শাস্ত্রে পাঠদান করতেন। মাসজিদুল হারামে পাঠদানের হালকাসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। শায়খ আহমদ আস-সিবায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আমি মাসজিদুল হারামে পাঠদানের হালকাসমূহ গণনা করেছি, যা কোনো কোনো সময়ে প্রায় ১২০টি হালকায় পৌঁছেছিল। দিন ও রাতের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল ও সন্ধ্যায় অত্যন্ত কর্মতৎপরতা ও ভিড়ের মধ্য দিয়ে পালাক্রমে এই পাঠদানগুলো চলত।” (১)

এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে আসে কুততাবসমূহ (মক্তব)। কুততাব হলো: “এমন স্থান যেখানে শিশুরা শিক্ষা লাভ করে।” (২) মক্কা মুকাররমার মহল্লাগুলোতে কুততাবসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি ১৩০৫ হিজরিতে এর সংখ্যা তেচল্লিশটিতে পৌঁছেছিল (৩)।

শায়খ আহমদ আস-সিবায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) এই শতাব্দীতে এই কুততাবগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: “এই যুগে পঠন ও বানান শেখার জন্য কুততাবের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সেগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল: শায়খ মুহাম্মদ আল-খাইয়্যাত, শায়খ মুহাম্মদ আল-আনানি, সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ মুজাহিদ, শায়খ আবদুল্লাহ হামদুহ আস-সিন্নারি এবং শায়খ আহমদ আস-সুরকাতির কুততাব।” (৪)

কুততাবগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দিন চলত। এরপর দুপুরের খাবারের পর আসরের পর পর্যন্ত তারা পুনরায় পড়াশোনায় ফিরে আসত। কিছু কিছু কুততাবে ছাত্ররা মাগরিবের আজান পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেত। বালিকাদের জন্যও আলাদা কুততাব ছিল যেখানে তারা পড়াশোনা করত। শায়খ আহমদ আস-সিবায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “বালিকাদের জন্য কুততাব ছিল...

--------------------------------------------

(১) তারিখ মক্কা, পৃষ্ঠা ৫৮৩।

(২) মক্কা মুকাররমায় বালকদের বেসরকারি শিক্ষা, পৃষ্ঠা ৭২।

(৩) মক্কা ও মদীনায় শিক্ষা, পৃষ্ঠা ২৯।

(৪) তারিখ মক্কা, পৃষ্ঠা ৫৮১।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
يدرسن فيها. يقول الشيخ أحمد السباعي رحمه الله: ((وكان للفتيات كتاتيب موزعة في بعض أحياء مكة أشهرها كتّاب آسية في المروة)) (1) وقد كانت للكتاتيب احتفالات معروفة. يقول الأستاذ فيصل مقادمي: ((عرفت الكتاتيب نوعين من الاحتفالات الخاصة بتعلم القرآن الكريم وحفظه، وذلك عندما يتخرج الطلاب، وينهون حفظ القرآن، أو عندما يجتازون مرحلة ما في حفظ قدر محدد من سور القرآن. فإذا وصل الطالب إلى هذا الحد أقام أهله احتفالاً بهذه المناسبة، وكانت هذه الاحتفالات تسمى الأصرفة والإقلابة)) (2) .

وقد كانت هناك كتاتيب متخصصة في تعليم الخط العربي مع تعليم بعض المواد الأخرى كالحساب. يقول الأستاذ محمد رفيع: ((كما كان من وسائل التثقيف: ما يدعى بالخطاط يقوم بالمسجد الحرام)) ويواصل حديثه قائلاً: ((يجلس الأستاذ عند الباب، وأمامه صندوق صغير فيه ما يلزمه من أدوات الكتابة وترى التلاميذ منتشرين في الرواق الموالي للباب)) (3) .

ثم عرفت مكة المكرمة التعليم المدرسي فقد أنشئت مدارس لتعليم الطلبة وتدريسهم وقد كانت هذه المدارس ينشِئها المحسنون من الأثرياء من بلاد الإسلام، وقد اشتُهِرَ من هذه المدارس: المدرسة الصولتية، ومدرسة الفلاح ودار العلوم الدينية، وغيرها من المدارس الأهلية التي أدت دوراً عظيماً في الحركة العلمية في مكة المكرمة.

يقول الأستاذ عمر عبد الجبار رحمه الله: ((ولما تخرج الفوج الأول

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 582.

(2) التعليم الأهلي للبنين في مكة المكرمة ص 91.

(3) مكة في القرن الرابع عشر الهجري ص 310.
তারা সেখানে পড়াশোনা করত। শেখ আহমদ আস-সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((মক্কার কিছু কিছু এলাকায় মেয়েদের জন্য মক্তব ছড়িয়ে ছিল, যার মধ্যে মারওয়াতে অবস্থিত ‘আসিয়া মক্তব’ ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত)) (১)। আর মক্তবগুলোতে প্রচলিত কিছু উৎসব-অনুষ্ঠান ছিল। উস্তাদ ফয়সাল মুকাদমি বলেন: ((কুরআন শিক্ষা ও হিফযের ক্ষেত্রে মক্তবগুলোতে দুই ধরণের বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল। তা হতো যখন ছাত্ররা শিক্ষা সমাপন করত এবং কুরআন হিফয শেষ করত, অথবা যখন তারা কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ সূরা হিফয করার কোনো স্তর অতিক্রম করত। যখন কোনো ছাত্র এই পর্যায়ে পৌঁছাত, তখন তার পরিবার এই উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। এই অনুষ্ঠানগুলোকে ‘আস-সরফাহ’ এবং ‘আল-ইকলাবাহ’ বলা হতো)) (২)।

সেখানে আরবি লিপিবিদ্যা বা ক্যালিগ্রাফি শেখানোর জন্য বিশেষায়িত মক্তবও ছিল, যেখানে গণিতের মতো অন্যান্য বিষয়ও শেখানো হতো। উস্তাদ মুহাম্মদ রফী বলেন: ((শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম ছিল: যা ‘খাত্তাত’ বা লিপিবিদ নামে পরিচিত ছিল, যা মসজিদুল হারামে পরিচালিত হতো))। তিনি তার আলোচনা অব্যাহত রেখে বলেন: ((উস্তাদ দরজার কাছে বসতেন এবং তার সামনে একটি ছোট বাক্স থাকত যাতে তার প্রয়োজনীয় লিখার সরঞ্জাম থাকত। আর আপনি ছাত্রদের দরজার পাশের বারান্দায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখতেন)) (৩)।

এরপর মক্কা মুকাররমা প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয় শিক্ষার সাথে পরিচিত হয়। ছাত্রদের শিক্ষা ও পাঠদানের জন্য বিভিন্ন মাদ্রাসা বা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম বিশ্বের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এই বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল: মাদ্রাসা আস-সাওলতিয়াহ, মাদ্রাসা আল-ফালাহ এবং দারুল উলূম আদ-দ্বীনিয়াহ সহ অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা মক্কা মুকাররমার জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনে এক মহান ভূমিকা পালন করেছিল।

উস্তাদ উমর আব্দুল জব্বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((যখন প্রথম ব্যাচ শিক্ষা সমাপন করল...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৮২।

(২) মক্কা মুকাররমায় বালকদের বেসরকারি শিক্ষা, পৃষ্ঠা ৯১।

(৩) হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীতে মক্কা, পৃষ্ঠা ৩১০।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
من علماء المدرسة الصولتية، ازدادت حلقات الدروس بالمسجد الحرام إذ عقد المتخرجون حلقاتهم في كل حصوة ورواق)) (1) .

وفي العهد السعودي المبارك انتشر التعليم في جميع أنحاء البلاد، وقد شهدت المملكة العربية السعودية نشاطاً علمياً عظيماً، فانتشرت المدارس والمعاهد والجامعات، وأصبح التعليم ميسراً للجميع وبالمجان، بل إن الجامعات تعطي الطلاب مكافآت تشجعهم على طلب العلم.

وقد أشار الشيخ محمد طاهر الكردي رحمه الله إلى انتشار التعليم قائلاً: ((في العهد السعودي انتشر التعليم في جميع البلاد وكثرت المدارس كثرة فائقة وتطورت أمور التعليم تطوراً عجيباً في جميع مراحله)) (2) .

وبهذا ظلت مكة المكرمة - حرسها الله - مقصد الطلاب من جميع أنحاء العالم الإسلامي حيث يدرسون في المعاهد والجامعات. بارك الله في هذه البلاد والقائمين عليها.

وبهذا يظهر لنا أن الحركة العلمية في مكة المكرمة لم تتوقف، بل استمرت وأخرجت الأجيال العلمية التي كان لها الفضل في انتشار العلم في بلاد المسلمين. وقد أشار إلى هذه الحقيقة الأستاذان محمد سعيد العامودي وأحمد علي بقولهما: ((إن حركة التعليم الديني في أم القرى لم تتوقف أو تضعف في أي عهد من العهود، برغم كل الظروف والأحداث والفتن، وإنما ظلت مستمرة مضيئة منذ القرن الهجري الأول إلى اليوم يعني القرن الرابع عشر وهذا من فضل الله)) (3) .

--------------------------------------------

(1) دروس من ماضي التعليم وحاضره بالمسجد الحرام ص 17.

(2) التاريخ القويم 6 / 27.

(3) المختصر من كتاب نشر النور والزهر ص 10.
সওলাতিয়্যাহ মাদরাসার আলিমগণের মাধ্যমে মসজিদে হারামে পাঠদানের হালকাসমূহ বৃদ্ধি পায়, কারণ গ্র্যাজুয়েটগণ প্রতিটি আঙিনা এবং বারান্দায় তাদের হালকাসমূহ স্থাপন করেন (১)।

এবং বরকতময় সৌদি শাসনামলে দেশের সর্বত্র শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। সৌদি আরব এক মহান ইলমি তৎপরতার সাক্ষী হয়েছে; ফলে স্কুল, ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষা সকলের জন্য সহজলভ্য ও অবৈতনিক হয়ে যায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ইলম অর্জনে উৎসাহিত করার জন্য উপবৃত্তি প্রদান করে।

শায়খ মুহাম্মদ তাহের আল-কুর্দি (রহিমাহুল্লাহ) শিক্ষার বিস্তারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: “সৌদি যুগে সারা দেশে শিক্ষা বিস্তার লাভ করেছে এবং বিদ্যালয়ের সংখ্যা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে এক বিস্ময়কর বিবর্তন ঘটেছে” (২)।

এর মাধ্যমে মক্কা মুকাররমা —আল্লাহ একে হিফাযত করুন— সমগ্র মুসলিম বিশ্বের শিক্ষার্থীদের গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছে, যেখানে তারা ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করে। আল্লাহ এই দেশ এবং এর দায়িত্বশীলদের বরকত দান করুন।

এর দ্বারা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, মক্কা মুকাররমার ইলমি আন্দোলন থেমে থাকেনি, বরং তা অব্যাহত ছিল এবং এমন সব ইলমি প্রজন্ম তৈরি করেছে যাদের অবদানে মুসলিম দেশগুলোতে ইলম বিস্তার লাভ করেছে। উস্তাদ মুহাম্মদ সাঈদ আল-আমূদী এবং আহমদ আলী এই সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: “উম্মুল কুরায় (মক্কায়) দ্বীনি শিক্ষার আন্দোলন কোনো যুগেই থেমে যায়নি বা দুর্বল হয়নি, সকল পরিস্থিতি, ঘটনাপ্রবাহ এবং ফিতনা সত্ত্বেও; বরং তা হিজরী প্রথম শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত উজ্জ্বল ও অব্যাহত রয়েছে এবং এটি আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত” (৩)।

--------------------------------------------

(১) মসজিদে হারামের অতীত ও বর্তমান শিক্ষার পাঠসমূহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(২) আত-তারীখুল ক্বউয়ীম, খণ্ড ৬ / পৃষ্ঠা ২৭।

(৩) মুখতাসারু কিতাবি নাশরিন নূর ওয়াজ যাহর, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المبحث الثاني: علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية

‌‌أولاً: حلقات المسجد الحرام

…

المبحث الثاني: علماء مكة المكرمة في خدمة السنة والسيرة النبوية

لقد كان لعلماء مكة المكرمة دورٌ عظيمٌ في خدمة السنة والسيرة النبوية، وقد ظهر هذا في التدريس بالمسجد الحرام، والمدارس العلمية التي ظهرت في هذا القرن، وسنعرض بشيء من التفصيل لهذا الدور.

أولاً: حلقات المسجد الحرام

لقد كانت حلقات المسجد الحرام رافداً قوياً من روافد العلم في أم القرى، ولقد بلغت حلقات المسجد الحرام قرابة مئة وعشرين حلقة، كما سبق ذكرنا لذلك. وهذه الحلقات كانت تعقد في سائر الأوقات من الصباح إلى المساء، وخاصة بعد الصلوات الخمس يقول الأستاذ محمد عمر: ((وهذا عدا ما يقام من دروس في المسجد بعد كل صلاة والصلوات الخمس. فقد كان عدد غير قليل من علماء مكة وبعض العلماء المجاورين يقومون بالتدريس فيه - حسبة لوجه الله وتبرعاً منهم - فما تجد حصوة أو رواقاً ليس فيه حلقة من حلقات الدروس الدينية واللغوية وغيرهما)) (1) .

وقد تعددت العلوم التي تدرس في هذه الحلقات المباركة، يشير إلى ذلك الشيخ محمد طاهر الكردي قائلاً: ((أما تعليم العلوم الدينية والعربية من التفسير والحديث، والفقه على المذاهب الأربعة، وعلوم البلاغة والنحو والصرف وغير ذلك، فقد كان المسجد الحرام هو محط الآمال في ذلك ومنبع

--------------------------------------------

(1) مكة في القرن الرابع عشر ص 312.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার ওলামায়ে কেরাম

প্রথমত: মসজিদে হারামের ইলমি হালকাসমূহ

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার ওলামায়ে কেরাম

সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর খিদমতে মক্কা মুকাররমার ওলামায়ে কেরামের এক মহান ভূমিকা ছিল। এটি মসজিদে হারামের অধ্যাপনা এবং এই শতাব্দীতে গড়ে ওঠা ইলমি মাদরাসাসমূহের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা এই ভূমিকার কিছুটা বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরব।

প্রথমত: মসজিদে হারামের ইলমি হালকাসমূহ

মসজিদে হারামের হালকাসমূহ ছিল উম্মুল কুরার ইলমি ধারার এক শক্তিশালী উৎস। মসজিদে হারামের এই হালকার সংখ্যা প্রায় একশত বিশটি পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এই হালকাসমূহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব সময়েই অনুষ্ঠিত হতো, বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর। উস্তাদ মুহাম্মদ উমর বলেন: "এটি ছিল মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর নিয়মিত অনুষ্ঠিত দরসসমূহ ছাড়াও অতিরিক্ত। মক্কার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আলেম এবং মক্কায় অবস্থানরত কিছু আলেম সেখানে পাঠদান করতেন—শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। ফলে আপনি এমন কোনো খোলা চত্বর বা বারান্দা পাবেন না যেখানে দ্বীনি, ভাষাগত বা অন্যান্য বিষয়ের কোনো না কোনো ইলমি হালকা সচল ছিল না।" (১)।

এই বরকতময় হালকাসমূহে পাঠদানকৃত শাস্ত্রসমূহ ছিল বহুমুখী। শায়খ মুহাম্মদ তাহের আল-কুর্দি এ প্রসঙ্গে বলেন: "তাফসির, হাদিস, চার মাযহাবের ফিকহ, বালাগাত, নাহু, সরফসহ অন্যান্য দ্বীনি ও আরবি শাস্ত্রসমূহের শিক্ষার ক্ষেত্রে মসজিদে হারামই ছিল সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু এবং মূল উৎস..."

--------------------------------------------

(১) মক্কা ফিল কারনিল রাবে আশার (চতুর্দশ শতাব্দীতে মক্কা), পৃষ্ঠা: ৩১২।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
العلوم والعرفان)) (1) .

أما عدد طلاب الحلقة فقد كان بين الأربعين والمئة طالب. يقول الشيخ محمد طاهر الكردي: ((ولا يقل طلاب كل حلقة من الدروس عن أربعين طالباً، وبعض الحلقات يبلغ طلابها مئة نفس)) (2) .

وأما طريقة التدريس في هذه الحلقات فقد أشار إلى ذلك المستشرق سنوك قائلاً: ((إن المدرس في الوقت الحالي 1302 هـ يختار في تدريسه إحدى ثلاث طرق هي:

1- قراءة أحد الكتب على تلاميذه مع بعض التعليقات والشروح التي وضعها أحد العلماء السابقين، وبذلك يقتصر عمل المدرس على ضبط قراءة النص إلى جانب التفسير العرضي للتعبيرات الصعبة.

2- أن يجعل قراءة أحد الكتب أكثر فائدة وذلك بقراءة النص وإيراد مختلف وجهات النظر التي كتبها العلماء حوله. وفي العادة يقوم المدرس بتحضيرها من مراجع مختلفة.

3- أن يقوم المدرس بتجميع الشروح المختلفة ويستخرج منها مصنفاً يقوم بتأليفه وطبعه)) (3) .

وقد كان المدرسون في هذه الحلقات يفعلون ذلك قربة لله فلم يكن لهم رواتب محددة، يقول الأستاذ عمر عبد الجبار: ((ولم يكن للمدرس راتب من الحكومة، ولا ينتظر من طلابه صدقة ولا زكاة ولا معونة، لأن تعليمه كان

--------------------------------------------

(1) التاريخ القويم 5 / 522.

(2) التاريخ القويم 5 / 522.

(3) صفحات من تاريخ مكة المكرمة ص 325.
জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা)) (১)।

পাঠচক্রের (হালকা) ছাত্রসংখ্যার বিষয়ে বলা যায় যে, তা ছিল চল্লিশ থেকে একশ’র মধ্যে। শেখ মুহাম্মদ তাহের আল-কুর্দি বলেন: ((প্রতিটি পাঠচক্রের ছাত্রসংখ্যা চল্লিশের কম ছিল না এবং কোনো কোনো পাঠচক্রের ছাত্রসংখ্যা একশ ব্যক্তিতে পৌঁছাত)) (২)।

আর এই পাঠচক্রগুলোতে পাঠদানের পদ্ধতির বিষয়ে প্রাচ্যবিদ স্নুক ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: ((বর্তমান সময়ে (১৩০২ হিজরি) শিক্ষক তাঁর পাঠদানের ক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি বেছে নেন, সেগুলো হলো:

১- ছাত্রদের সামনে কোনো একটি কিতাব পাঠ করা এবং সাথে পূর্ববর্তী কোনো আলেম কর্তৃক রচিত কিছু টীকা ও ব্যাখ্যা প্রদান করা। এর মাধ্যমে শিক্ষকের কাজ কেবল মূল পাঠের শুদ্ধতা যাচাই করা এবং পাশাপাশি কঠিন শব্দ ও বাক্যাংশের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

২- কোনো কিতাবের পাঠকে অধিক ফলপ্রসূ করে তোলা; আর তা হলো মূল পাঠ পড়ার পাশাপাশি সে বিষয়ে আলেমদের লিখিত বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। সাধারণত শিক্ষক বিভিন্ন উৎস থেকে এগুলো প্রস্তুত করে থাকেন।

৩- শিক্ষক বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলন করবেন এবং সেগুলো থেকে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করবেন, যা তিনি রচনা ও প্রকাশ করবেন)) (৩)।

এই পাঠচক্রগুলোর শিক্ষকরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজ করতেন, তাই তাঁদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বেতন ছিল না। উস্তাদ ওমর আবদুল জব্বার বলেন: ((সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকের কোনো বেতন ছিল না, আর তিনি তাঁর ছাত্রদের কাছ থেকে কোনো সদকা, জাকাত বা সাহায্যও প্রত্যাশা করতেন না; কারণ তাঁর শিক্ষাদান ছিল

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখুল কায়্যিম ৫ / ৫২২।

(২) আত-তারিখুল কায়্যিম ৫ / ৫২২।

(৩) সাফাহাত মিন তারিখ মক্কা আল-মুকাররামা, পৃষ্ঠা ৩২৫।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
لله وفي سبيل الله، ولذلك مات معظم علماء المسجد فقراء ولم يتركوا سوى الذكر الحسن)) (1) .

ولما تولى الملك عبد العزيز رحمه الله حكم الحجاز سنة 1343هـ خصص للمدرسين في المسجد الحرام مرتبات تعينهم على شؤونهم المعيشية.

وبهذا يتضح لنا الدور العظيم الذي قامت به حلقات المسجد الحرام، يقول الأستاذ الدكتور عبد الوهاب أبو سليمان: «يتفق حديث كل من عايش تلك الحركة في مطلع القرن الرابع عشر على نشاطها، وسمو الروح العلمية بين جماعاتها ولا أدل على هذا من كثرة الدروس والحلقات العلمية التي ازدحمت بها ساحاته، وضاقت بها أروقته. فكان من ثمارها تخرج أعداد بل أفواج كثيرة متتالية من العلماء والمتعلمين الذين أصبحوا بعد ذلك قيادات فكرية واجتماعية في هذه البلاد والبلاد الإسلامية الأخرى» (2) .

--------------------------------------------

(1) دروس من ماضي التعليم وحاضره بالمسجد الحرام ص 16.

(2) الحرم الشريف الجامع والجامعة ص 48.
আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাস্তায়, আর একারণেই মসজিদের অধিকাংশ আলেম দরিদ্রাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তারা কেবল উত্তম স্মৃতিই রেখে গেছেন)) (১) ।

যখন বাদশাহ আবদুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) ১৩৪৩ হিজরিতে হিজাজ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি মসজিদুল হারামের শিক্ষকদের জন্য এমন বেতন বরাদ্দ করেন যা তাদের জীবনযাত্রার প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করে।

এর মাধ্যমেই মসজিদুল হারামের ইলমি হালকাসমূহ যে মহান ভূমিকা পালন করেছিল তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব আবু সুলাইমান বলেন: "চতুর্দশ হিজরি শতকের শুরুতে যারা এই আন্দোলনের সমসাময়িক ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যই এর সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন জামাতের মধ্যে উচ্চতর ইলমি চেতনার বিষয়ে একমত। এর প্রমাণ হিসেবে মসজিদুল হারামের চত্বরসমূহে অসংখ্য পাঠদান ও ইলমি হালকার ভিড় এবং এর বারান্দাগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ার বিষয়টিই যথেষ্ট। এর ফলে আলেম ও শিক্ষার্থীদের একের পর এক বিশাল দল বা কাফেলা তৈরি হয়েছিল, যারা পরবর্তীতে এই দেশ এবং অন্যান্য মুসলিম দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন" (২) ।

--------------------------------------------

(১) দুরুস মিন মাদিল তালীম ওয়া হাদিরিহি বিল মাসজিদিল হারাম, পৃষ্ঠা ১৬।

(২) আল-হারামুশ শরিফ আল-জামি ওয়া আল-জামি'আহ, পৃষ্ঠা ৪৮।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ثانياً: المؤسسات التعليمية في النصف الأول من القرن الرابع عشر الهجري:

عرفت مكة المكرمة التعليم المدرسي بعد ظهور المدارس وانتشارها في البلاد الإسلامية، ولقد تتبع المؤرخون تاريخ التعليم المدرسي، وتناولوا ذكر المدارس التي أنشئت حول المسجد الحرام منذ القرن السادس الهجري، وقد تولى إنشاء هذه المدارس خلفاء وسلاطين وأمراء وأميرات ومحسنات ومحسنون
দ্বিতীয়ত: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর প্রথম অর্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ:

ইসলামী দেশসমূহে মাদ্রাসার উদ্ভব ও প্রসারের পর মক্কা মুকাররমায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচিতি লাভ করে। ঐতিহাসিকগণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন এবং ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দী থেকে মসজিদুল হারামের চারপাশে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর বিবরণ আলোচনা করেছেন। এই মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠায় খলিফা, সুলতান, আমির, রাজকুমারী এবং দানশীল ও পরোপকারী ব্যক্তিবর্গ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
عنوا بالعلم والتعليم، وساهموا في نشر واستمرار العلم في الديار المقدسة (1) . أما المدارس الأهلية التي أنشئت في القرن الرابع عشر، والتي تبنى إنشاءها نفر من المحسنين فسنتحدث عن بعضها:

1 - المدرسة الصولتية. 2 - مدرسة الفلاح.

1- المدرسة الصولتية:

تعد المدرسة الصولتية أول مدرسة قامت على نظام المدارس الأهلية الخاصة، وفق نظام معين ويحدثنا الشيخ حسن قزاز عن بداية هذه المدرسة قائلاً: ((رأى الشيخ رحمت الله رحمه الله أن الأوضاع التعليمية في مكة المكرمة ما زالت على الطريقة القديمة، فأقدم على إحداث أول مدرسة بترتيب ونظام جديد على نفقته الخاصة في شهر رجب عام 1285هـ؛ رجاءَ أن تخدم طلاب العلم من الهند وسائر أنحاء العالم الإسلامي، وعرفت بمدرسة الشيخ رحمت الله أو المدرسة الهندية، وسرعان ما غصت بطلابها)) ويواصل الشيخ حديثه قائلاً: ((قدمت امرأة من الهند من كلكتا في عام 1289هـ للحج واسمها (صولت النساء بيغم) وكانت عازمة على إنشاء رباط في مكة المكرمة، وكانت تسمع عن الشيخ رحمت الله لكنها لم تعرفه، فاستشارت الشيخ في أمر الرباط فأخبرها بكثرة الأربطة، وأن أبناء مكة في حاجة ماسة إلى مدرسة، ففوضت الشيخ بشراء الأرض والإشراف على البناء وتم البناء، وتم افتتاح المدرسة في 14 من المحرم عام 1291هـ في احتفال كبير حضره علماء مكة المكرمة وأعيانها، وانتظمت فيها الدراسة وأطلق الشيخ عليها اسم

(1) انظر تاريخ التعليم في مكة المكرمة ورجالاته 1 / 28.
তারা জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি যত্নবান ছিলেন এবং পবিত্র ভূখণ্ডে জ্ঞান প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন (১)। আর চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে যে সকল বেসরকারি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং যেগুলোর ভিত্তি স্থাপনে একদল হিতৈষী ব্যক্তি এগিয়ে এসেছিলেন, আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির আলোচনা করব:

১ - সওলতিয়া মাদ্রাসা। ২ - ফালাহ মাদ্রাসা।

১- সওলতিয়া মাদ্রাসা:

সওলতিয়া মাদ্রাসাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী বেসরকারি মাদ্রাসা পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রথম মাদ্রাসা হিসেবে গণ্য করা হয়। শায়খ হাসান কাযযায এই মাদ্রাসার সূচনা সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা দিয়ে বলেন: ((শায়খ রহমতুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) লক্ষ্য করলেন যে, মক্কা মুকাররমার শিক্ষা ব্যবস্থা তখনও পুরনো পদ্ধতিতে রয়ে গেছে, তাই তিনি ১২৮৫ হিজরির রজব মাসে নিজস্ব অর্থায়নে একটি নতুন বিন্যাস ও নিয়মের ভিত্তিতে প্রথম মাদ্রাসা তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করেন; এই আশায় যে, এটি ভারত ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা জ্ঞান অন্বেষণকারীদের সেবা করবে। এটি 'শায়খ রহমতুল্লাহর মাদ্রাসা' বা 'মাদ্রাসায়ে হিন্দিয়া' নামে পরিচিতি লাভ করে এবং দ্রুতই এটি ছাত্র সংখ্যায় পূর্ণ হয়ে যায়।)) শায়খ তার আলোচনা অব্যাহত রেখে বলেন: ((১২৮৯ হিজরিতে ভারতের কলকাতা থেকে জনৈক মহিলা হজ্জের জন্য আগমন করেন, যার নাম ছিল (সওলতুন্নিসা বেগম)। তিনি মক্কা মুকাররমায় একটি সরাইখানা নির্মাণ করার সংকল্প করেছিলেন এবং তিনি শায়খ রহমতুল্লাহর কথা শুনতেন কিন্তু তাকে সরাসরি চিনতেন না। তিনি সরাইখানা নির্মাণের ব্যাপারে শায়খের সাথে পরামর্শ করলে শায়খ তাকে জানান যে এখানে সরাইখানা অনেক আছে, বরং মক্কাবাসীদের একটি মাদ্রাসার একান্ত প্রয়োজন। তখন তিনি জমি ক্রয় এবং নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্ব শায়খের ওপর অর্পণ করেন এবং নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ১২৯১ হিজরির ১৪ই মুহররম এক বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি উদ্বোধন করা হয়, যেখানে মক্কা মুকাররমার ওলামায়ে কেরাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নিয়মতান্ত্রিক পাঠদান শুরু হয় এবং শায়খ এর নাম রাখেন

(১) দেখুন: তারিখুত তালীম ফি মক্কা আল-মুকাররমা ওয়া রিজালাতুহু ১ / ২৮।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصولتية إكراماً للمحسنة الفاضلة)) (1) .

وقد كانت المدرسة الصولتية تتألف من عدة مراحل دراسية: القسم التحضيري، القسم الابتدائي، القسم الثانوي، قسم التكميل، القسم العالي.

وكان يُدرس بها القرآن الكريم بالتجويد مع الحفظ، الحديث،

التوحيد، الفقه الحنفي، الفقه الشافعي، أصول الفقه، أصول الحديث، الفرائض، التاريخ الإسلامي، الأدب، المنطق، وغير ذلك من العلوم (2) . ويضيف الدكتور محمد الشامخ أن المدرسة أضافت بعض الفنون كالمطالعة، ومبادئ السيرة النبوية مع تمرين طلاب السنة الثالثة على الخطابة (3) .

وقد فصل الأستاذ فيصل مقادمي الحديث عن المدرسة الصولتية مبيناً المراحل التي مرت بها المدرسة حتى عام 1403 هـ، ذاكراً أهداف المدرسة ومكتبة المدرسة وعدد طلابها والمدرسين متحدثاً عن طريقة التقويم والامتحانات في المدرسة وغير ذلك مما يظهر العناية العظيمة التي حظيت بها المدرسة عند الباحث وغيره (4) ، وما زالت المدرسة مستمرة حتى كتابة هذه السطور.

2- مدرسة الفلاح:

مدرسة الفلاح من أوائل المدارس الأهلية التي أنشئت في مكة المكرمة، وقد ذكر الشيخ حسن قزاز تاريخ هذه المدرسة نقلاً عن السيد إسحاق عزوز رحمه الله قائلاً: ((تأسست مدارس الفلاح في مكة عام 1330هـ، وفي

--------------------------------------------

(1) أهل الحجاز بعبقهم التاريخي ص 186 - 187.

(2) التعليم في مكة والمدينة آخر العهد العثماني ص 40.

(3) المصدر السابق ص 41.

(4) التعليم الأهلي للبنين في مكة المكرمة ص 114 - 127.
সওলতিয়া [নামটি দেওয়া হয়েছে] মহীয়সী দানশীলার সম্মানে (১)।

সওলতিয়া মাদ্রাসাটি বেশ কয়েকটি শিক্ষাস্তর নিয়ে গঠিত ছিল: প্রাক-প্রস্তুতিমূলক বিভাগ, প্রাথমিক বিভাগ, মাধ্যমিক বিভাগ, পরিপূরক বিভাগ এবং উচ্চতর বিভাগ।

সেখানে হিফজসহ তাজবিদসহকারে পবিত্র কুরআন, হাদিস,

তাওহিদ, হানাফি ফিকহ, শাফিঈ ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, উসুলুল হাদিস, ফারায়েজ, ইসলামি ইতিহাস, সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা এবং অন্যান্য শাস্ত্র পড়ানো হতো (২)। ডক্টর মুহাম্মদ আল-শামিখ আরও উল্লেখ করেন যে, মাদ্রাসাটি কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করেছিল যেমন পাঠাভ্যাস এবং সিরাতে নববীর প্রাথমিক বিষয়সমূহ, সেই সাথে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের বক্তৃতাদানের অনুশীলনও করানো হতো (৩)।

উস্তাদ ফয়সাল মাকাদমি সওলতিয়া মাদ্রাসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি ১৪০৩ হিজরি পর্যন্ত মাদ্রাসাটি যে সকল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি মাদ্রাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পাঠাগার, ছাত্র ও শিক্ষক সংখ্যা উল্লেখ করেছেন এবং মাদ্রাসার মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পরীক্ষাসমূহ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা গবেষক ও অন্যদের নিকট এই মাদ্রাসার উচ্চমর্যাদার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে (৪)। আর এই লেখাটি লেখার সময় পর্যন্ত মাদ্রাসাটি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

২- আল-ফালাহ মাদ্রাসা:

আল-ফালাহ মাদ্রাসা মক্কাতুল মুকাররামায় প্রতিষ্ঠিত প্রথমদিকের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর অন্যতম। শেখ হাসান কাযযায সাইয়্যেদ ইসহাক আযযূয (রহিমাহুল্লাহ)-এর বরাতে এই মাদ্রাসার ইতিহাস বর্ণনা করে বলেছেন: "মক্কায় ১৩৩০ হিজরি সনে আল-ফালাহ মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং...

--------------------------------------------

(১) আহলে হিজায বি-আবকিহিম আত-তারিখি, পৃষ্ঠা ১৮৬-১৮৭।

(২) উসমানি যুগের শেষভাগে মক্কা ও মদিনার শিক্ষা ব্যবস্থা, পৃষ্ঠা ৪০।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪১।

(৪) মক্কাতুল মুকাররামায় বালকদের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, পৃষ্ঠা ১১৪-১২৭।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
جده عام 1323هـ، ومؤسسها هو الشيخ محمد زينل علي رضا رحمه الله وكانت نواة مدرسة الفلاح بمكة المكرمة هي كُتاب الشيخ عبد الله حمدوه رحمه الله حيث عرض عليه فكرة المدرسة فرحب بها ونقل طلاب كُتَّابه إليها)) (1) .

وقد كان يدرس فيها جميع العلوم الدينية والعصرية بمختلف أنواعها (2) .

وقد استمرت الدراسة على هذا النسق في المدرسة إلى عام 1384هـ وفي هذا العام أصبحت المدرسة تسير وفق مناهج الدراسة التي تقررها وزارة المعارف، والمدرسة ما زالت مستمرة حتى الآن.

وهناك مدارس أخرى ظهرت في النصف الأول من القرن الرابع عشر الهجري إلا إنها أغلقت وأصبحت تاريخاً يذكر مثل:

1 - المدرسة الفخرية العثمانية 1298هـ، وانتهت في عام 1403هـ.

2 - المدرسة الخيرية 1326هـ، وانتهت في بداية العهد السعودي المبارك.

3 - مدرسة عبد الكريم الطرابلسي 1327هـ، وانتهت حين رحل مؤسسها إلى المغرب بعد سنين قليلة من إنشائها.

4 - مدرسة الماحي 1339هـ - 1370هـ أغلقت المدرسة.

5 - مدرسة الترقي العلمية 1342هـ- 1395هـ أغلقت المدرسة.

وغيرها من المدارس (3) .

--------------------------------------------

(1) أهل الحجاز بعبقهم التاريخي ص 191.

(2) التاريخ القويم 6 / 43.

(3) التعليم الأهلي للبنين في مكة المكرمة ص 128 إلى 148، مكة المكرمة في القرن الرابع عشر الهجري

ص 309.
জেদ্দায় ১৩২৩ হিজরিতে, এবং এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আলী রেজা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। মক্কা মুকাররমায় ফালাহ মাদ্রাসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শেখ আবদুল্লাহ হামদুহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মক্তব, যেখানে তাঁকে মাদ্রাসার ধারণাটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি এটি স্বাগত জানান এবং তাঁর মক্তবের ছাত্রদের সেখানে স্থানান্তরিত করেন)) (১) ।

সেখানে বিভিন্ন প্রকারের সমস্ত ধর্মীয় ও আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হতো (২) ।

মাদ্রাসায় এই ধারায় পড়াশোনা ১৩৮৪ হিজরি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই বছরে মাদ্রাসাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পরিচালিত হতে শুরু করে এবং মাদ্রাসাটি বর্তমান সময় পর্যন্ত চালু রয়েছে।

হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে আরও কিছু মাদ্রাসা আবির্ভূত হয়েছিল, তবে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং এখন কেবল ইতিহাসের অংশ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে, যেমন:

১ - আল-মাদ্রাসাহ আল-ফাখরিয়্যাহ আল-উসমানীয়াহ ১২৯৮ হিজরি, এবং এর সমাপ্তি ঘটে ১৪০৩ হিজরিতে।

২ - আল-মাদ্রাসাহ আল-খায়রিয়্যাহ ১৩২৬ হিজরি, এবং এর সমাপ্তি ঘটে বরকতময় সৌদি যুগের শুরুতে।

৩ - আবদুল কারিম আল-তরাবুলুসি মাদ্রাসা ১৩২৭ হিজরি, এবং এর সমাপ্তি ঘটে যখন এর প্রতিষ্ঠাতা এটি প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর মরক্কোতে চলে যান।

৪ - আল-মাহি মাদ্রাসা ১৩৩৯ হিজরি - ১৩৭০ হিজরি, মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যায়।

৫ - মাদারাসাতুত তারাক্কি আল-ইলমিয়্যাহ ১৩৪২ হিজরি - ১৩৯৫ হিজরি, মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যায়।

এবং অন্যান্য মাদ্রাসা (৩) ।

--------------------------------------------

(১) আহলুল হিজাজ বি-আবিকিহিমুত তারিখি, পৃষ্ঠা ১৯১।

(২) আত-তারিখুল কাওয়িম ৬ / ৪৩।

(৩) আত-তালিমুল আহলি লিল বানিন ফি মাক্কাহ আল-মুকাররমাহ, পৃষ্ঠা ১২৮ থেকে ১৪৮, মাক্কাহ আল-মুকাররমাহ ফিল কারনি আর-রাবি আশার আল-হিজরি

পৃষ্ঠা ৩০৯।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثالثاً: المؤسسات التعليمية في النصف الثاني من القرن الرابع عشر الهجري:

1- معهد الحرم المكي. 2- دار الحديث الخيرية.

3- كلية الشريعة (جامعة الملك عبد العزيز فرع الكتاب والسنة) جامعة أم القرى حالياً.

1- معهد الحرم المكي:

تم إنشاء معهد الحرم المكي عام 1384 هـ بناءً على اقتراح سماحة الشيخ عبد الله بن حميد رحمه الله الرئيس العام للإشراف الديني بالمسجد

الحرام، وصدر الأمر الملكي في عهد الملك فيصل رحمه الله بتأسيس معهد الحرم على ثلاث مراحل: إعدادي، ثانوي، عال، وتم وضع لوائح تنظيمية للقبول والدراسة متلائمة مع السياسة العامة للتعليم بالمملكة العربية السعودية، وكان الهدف من إنشاء المعهد حفظ ودراسة العقيدة الإسلامية وتعميق الإيمان بها مع الحفظ والالتزام بالكتاب والسنة وتعميق دراستهما في مجال التفسير، وعلوم القرآن، والحديث وعلومه، وكذلك إعداد المدرسين المتخصصين في الدراسات الإسلامية، وتأهيل الدعاة لنشر هذا الدين على مستوى العالم، ويقوم بالتدريس بالمعهد كوكبة من أهل العلم والفضل. وقد بلغ عدد الطلاب قرابة 1400 طالباً من جنسيات مختلفة من العالم الإسلامي، ويمنح المعهد مكافآت للطلاب تشجيعاً لهم على التحصيل العلمي، وقد بلغ عدد
তৃতীয়ত: চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ:

১- মাসজিদুল হারাম ইনস্টিটিউট। ২- দারুল হাদিস আল-খায়রিয়া।

৩- শরীয়াহ অনুষদ (কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, কিতাব ও সুন্নাহ শাখা) বর্তমানে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়।

১- মাসজিদুল হারাম ইনস্টিটিউট:

মাসজিদুল হারাম ইনস্টিটিউট ১৩৮৪ হিজরিতে মাসজিদুল হারামের ধর্মীয় তদারকি বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সির প্রধান মহামান্য শায়খ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এবং বাদশাহ ফয়সাল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাসনামলে মাসজিদুল হারাম ইনস্টিটিউটকে তিনটি স্তরে—প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চতর পর্যায়ে প্রতিষ্ঠার জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়। সৌদি আরব রাজ্যের সাধারণ শিক্ষানীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভর্তি ও অধ্যয়নের জন্য সাংগঠনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল ইসলামী আকিদাহ সংরক্ষণ ও অধ্যয়ন করা এবং এর প্রতি ঈমানকে সুদৃঢ় করা, সেইসাথে কুরআন ও সুন্নাহর হিফজ ও অনুসরণের পাশাপাশি তাফসীর, কুরআন বিজ্ঞান, হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এগুলোর অধ্যয়নকে গভীরতর করা। এর পাশাপাশি ইসলামী গবেষণায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষক তৈরি করা এবং বিশ্বজুড়ে এই দ্বীন প্রচারের জন্য দাঈদের যোগ্য করে গড়ে তোলা। একদল প্রথিতযশা আলেম ও গুণীজন এই ইনস্টিটিউটে পাঠদান করেন। ছাত্র সংখ্যা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৪০০ জনে পৌঁছেছে। ইনস্টিটিউট ছাত্রদের জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করার জন্য মেধা-বৃত্তি প্রদান করে থাকে। এবং সংখ্যা দাঁড়িয়েছে...
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الذين تخرجوا في المعهد منذ إنشائه حتى عام 1421 هـ قرابة 1415 طالباً (1) .

2- دار الحديث الخيرية:

فكر في إنشاء هذه الدار بعض علماء المسجد الحرام، وذلك لما رأوه من قلة الاهتمام بالحديث وعلومه، وتبنى دراسة هذه الفكرة الشيخ عبد الظاهر أبو السمح أحد أئمة المسجد الحرام في عهد الملك عبد العزيز رحمه الله وقد تم وضع نظام الدراسة بهذه الدار، وبدأت الدراسة بها في الثاني عشر من شهر ربيع الأول عام 1352هـ وبدأت الدراسة في صفين دراسيين، الصف التمهيدي والصف العالي. ويدرس فيهما الكتب الستة (صحيح البخاري - صحيح مسلم - سنن أبي داود - سنن الترمذي- سنن النسائي- سنن ابن ماجه) كما يدرس التوحيد، والقرآن الكريم، والتفسير، وأصول الفقه، والحديث، وقواعد اللغة العربية. وقد كان الهدف من إنشاء هذه الدار هو إعداد طلبة علم لهم إلمام ودراية بعلوم القرآن الكريم والسنة النبوية، كما كان الهدف نشر الوعي الإسلامي وترسيخ العقيدة الصحيحة، وقد طُوِّر نظامُ الدراسة بالدار فكان مرحلتين، وذلك عام 1374 هـ. المرحلة الأولى: القسم التمهيدي، والمرحلة الثانية: القسم العالي. ثم تطورت الدراسة في الدار عام 1389 هـ وأصبحت على مراحل ثلاث:

1- المرحلة الابتدائية 2- المرحلة المتوسطة 3- القسم العالي.

وفي عام 139

--------------------------------------------

1 هـ ضمت دار الحديث بمراحلها الثلاث إلى الجامعة

(1) نشرة معهد الحرم المكي، من إدارة المعهد، نسخة منها عندي.
প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্ন থেকে ১৪২১ হিজরি পর্যন্ত এখান থেকে প্রায় ১৪১৫ জন শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন (১)।

২- দারুল হাদিস আল-খাইরিয়্যাহ:

মসজিদুল হারামের কতিপয় আলেম এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেন, কারণ তারা হাদিস ও এর শাখাগুলোর প্রতি গুরুত্বের অভাব লক্ষ্য করেছিলেন। বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাসনামলে মসজিদুল হারামের অন্যতম ইমাম শায়খ আব্দুল জাহির আবুস সামাহ এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ১৩৫২ হিজরি সালের ১২ই রবিউল আউয়াল এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দুটি স্তরে পাঠদান শুরু হয়েছিল: প্রাথমিক স্তর এবং উচ্চতর স্তর। উভয় স্তরে কুতুবে সিত্তাহ (সহীহ বুখারী - সহীহ মুসলিম - সুনানে আবু দাউদ - সুনানে তিরমিজি - সুনানে নাসাঈ - সুনানে ইবনে মাজাহ) পড়ানো হয়। পাশাপাশি তাওহীদ, কুরআনুল কারীম, তাফসীর, উসূলে ফিকহ, হাদিস এবং আরবি ব্যাকরণও পড়ানো হয়। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল এমন ইলম অন্বেষণকারী তৈরি করা যাদের কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতা থাকবে। পাশাপাশি এর লক্ষ্য ছিল ইসলামি সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সঠিক আকিদা সুদৃঢ় করা। ১৩৭৪ হিজরি সালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করে দুই স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। প্রথম স্তর: প্রাথমিক বিভাগ এবং দ্বিতীয় স্তর: উচ্চতর বিভাগ। এরপর ১৩৮৯ হিজরি সালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম আরও উন্নত করা হয় এবং তা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়:

১- প্রাথমিক স্তর ২- মাধ্যমিক স্তর ৩- উচ্চতর বিভাগ।

এবং ১৩৯

--------------------------------------------

১ হিজরি সালে দারুল হাদিসকে এর তিনটি স্তরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একীভূত করা হয়।

(১) ইনস্টিটিউট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ইনস্টিটিউট অফ হারাম আল-মাক্কির বুলেটিন, এর একটি অনুলিপি আমার কাছে আছে।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الإسلامية بالمدينة المنورة وسميت: بدار الحديث المكية.

لكن في عام 1395 هـ صدر قرار من الجامعة الإسلامية يقضي بفصل القسم العالي (قسم الحديث) من دار الحديث المكية وجعله قسماً منفصلاً عن الجامعة، ويكون خيرياً، وأصبح دار الحديث الخيرية (القسم العالي) . وقد أعيد تنظيمُ هذه الدار، فأصبحت على ثلاث مراحل، كل مرحلة مدة الدراسة بها ثلاث سنوات، ودار الحديث الخيرية محتاجة إلى كثير من الدعم المادي حتى تأخذ مكانتها العلمية (1) .

3- كلية الشريعة:

أنشئت كلية الشريعة بمكة المكرمة عام 1369 هـ كأول صرح تعليمي عالي بالمملكة، وقد بدأت الدراسة بها بفصل دراسي يضم (15) طالباً وكانت مناهجها تهتم بدراسة العلوم الشرعية واللغة العربية، وفي عام

1372هـ تم إنشاء كلية إعداد المعلمين في مكة المكرمة وفي عام 1380هـ، تم دمج الكليتين باسم الشريعة والتربية. وتولى الإشراف عليها وزارة المعارف، وفي عام 1382هـ تم إنشاء كلية التربية، وفي عام 1382هـ تم فصل كلية المعلمين وفي عام 1384 هـ تم ضم كلية الشريعة والتربية وقسم التاريخ تحت مسمى كلية الشريعة والدراسات الإسلامية. وفي عام 1390هـ تم ضم كلية الشريعة والتربية إلى جامعة الملك عبد العزيز فرع مكة المكرمة، وفي عام 1401هـ أعلن عن قيام جامعة «أم القرى»

--------------------------------------------

(1) التعليم الأهلي للبنين في مكة المكرمة ص 155 - 159.
মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামিয়া এবং এর নাম রাখা হয়েছিল: দারে হাদিস আল-মাক্কিয়া।

কিন্তু ১৩৯৫ হিজরিতে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত জারি করা হয় যা দারে হাদিস আল-মাক্কিয়া থেকে উচ্চতর বিভাগ (হাদিস বিভাগ) পৃথক করার এবং একে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে নির্ধারণ করার নির্দেশ দেয়, এবং এটি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। ফলে এটি দারে হাদিস আল-খাইরিয়া (উচ্চতর বিভাগ) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে, ফলে এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়েছে, যার প্রতিটি স্তরে অধ্যয়নের সময়কাল তিন বছর। দারে হাদিস আল-খাইরিয়া তার বৈজ্ঞানিক মর্যাদা লাভের জন্য প্রচুর আর্থিক সহায়তার মুখাপেক্ষী (১)।

৩- শরিয়াহ অনুষদ:

১৩৬৯ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় শরিয়াহ অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয় যা ছিল এই রাজ্যের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর পাঠদান কার্যক্রম ১৫ জন ছাত্রকে নিয়ে একটি শিক্ষা সেমিস্টার দ্বারা শুরু হয়েছিল এবং এর পাঠ্যক্রম শরয়ি বিজ্ঞান ও আরবি ভাষা অধ্যয়নের উপর গুরুত্ব প্রদান করত। আর

১৩৭২ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৩৮০ হিজরিতে এই দুটি অনুষদকে 'শরিয়াহ ও শিক্ষা' নামে একীভূত করা হয়। এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৩৮২ হিজরিতে শিক্ষা অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৩৮২ হিজরিতেই শিক্ষক অনুষদকে পৃথক করা হয়। ১৩৮৪ হিজরিতে শরিয়াহ ও শিক্ষা অনুষদ এবং ইতিহাস বিভাগকে 'শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ' নামে একত্রিত করা হয়। ১৩৯০ হিজরিতে শরিয়াহ ও শিক্ষা অনুষদকে কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মক্কা মুকাররমা শাখার সাথে যুক্ত করা হয়। আর ১৪০১ হিজরিতে 'উম্মুল কুরা' বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।

--------------------------------------------

(১) মক্কা মুকাররমায় বালকদের বেসরকারি শিক্ষা, পৃষ্ঠা ১৫৫ - ১৫৯।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
جامعةً مستقلة، وقد أنشئت شعبة الكتاب والسنة ضمن التخصصات الدقيقة لقسم الشريعة بكلية الشريعة وذلك عام 1388هـ بمرحلة الماجستير والدكتوراه وذلك إثر الأمر الملكي الصادر في: 22/10/1387هـ بالموافقة على مشروع افتتاح الدراسات العليا الشرعية بكلية الشريعة وبدأ نشاطه بفرعين:

1- فرع الكتاب والسنة 2- الفقه وأصوله

ثم أنشأت شعبة الكتاب والسنة مرحلة البكالوريوس ضمن تخصصات الشريعة عام 1393هـ؛ ليُمنح المتخرج درجة البكالوريوس في الشريعة في التخصص الدقيق الكتاب والسنة. ثم انتقلت الشعبة إلى كلية الدعوة وأصول الدين عام 1401 هـ، عند إنشاء جامعة أم القرى.

ولا زالت هذه الكلية تؤدي عملها على الوجه الأكمل كما خطط لها ونسأل الله لها مزيداً من التوفيق والسداد (1) .

وفي هذا العهد المبارك ((النصف الثاني من القرن الرابع عشر)) عهد إنشاء المملكة العربية السعودية نشطت الحركة التعليمية في مكة وسائر مدن هذه المملكة، ويكفي في هذا هذه المدارس الكثيرة التي أنشئت في مكة، وتشمل مراحل التعليم الثلاث: الابتدائي والمتوسط والثانوي، بالإضافة إلى الكليات والجامعات والمعاهد وما يشمل ذلك من تعليم البنين والبنات، ويؤكد هذا الجانب الشيخ محمد طاهر كردي قائلاً: ((أما التعليم في عهد حكومتنا السعودية وفقها الله تعالى فقد كثرت المدارس بالمملكة حتى صارت تعد

--------------------------------------------

(1) تاريخ التعليم في مكة المكرمة ورجالاته ص 99، نشرة تعريفية بقسم الكتاب والسنة إعداد سعادة الدكتور حسنين فلمبان رئيس قسم الكتاب والسنة وهي تقع في 4 صفحات.
একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে, এবং কিতাব ও সুন্নাহ শাখাটি শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগের সুনির্দিষ্ট বিশেষায়নের অধীনে ১৩৮৮ হিজরিতে মাস্টার্স ও ডক্টরেট পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ২২/১০/১৩৮৭ হিজরিতে শরীয়াহ অনুষদে উচ্চতর শরীয়াহ শিক্ষা প্রকল্প চালুর অনুমোদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রাজকীয় আদেশের পর শুরু হয়েছিল এবং এর কার্যক্রম দুটি শাখায় শুরু হয়েছিল:

১- কিতাব ও সুন্নাহ শাখা ২- ফিকহ ও উসূলে ফিকহ

অতঃপর ১৩৯৩ হিজরিতে শরীয়াহর বিশেষায়নগুলোর অধীনে কিতাব ও সুন্নাহ শাখা স্নাতক পর্যায় চালু করে; যাতে গ্র্যাজুয়েটদের কিতাব ও সুন্নাহর সুনির্দিষ্ট বিশেষায়নে শরীয়াহতে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা যায়। পরবর্তীতে ১৪০১ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় শাখাটি দাওয়াহ ও উসূলে দ্বীন অনুষদে স্থানান্তরিত হয়।

এই অনুষদটি এখনও তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বোত্তম উপায়ে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং আমরা আল্লাহর কাছে এর আরও তৌফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করি (১)।

এই বরকতময় যুগে ((চতুর্দশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ)), যা সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুগ, মক্কা এবং এই রাজ্যের অন্যান্য সকল শহরে শিক্ষা আন্দোলন সক্রিয় হয়ে ওঠে। মক্কায় প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য স্কুলই এর জন্য যথেষ্ট, যা শিক্ষার তিনটি স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক; এর সাথে সাথে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটসমূহ এবং ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা এর অন্তর্ভুক্ত। শায়খ মুহাম্মদ তাহের কুরদি এই দিকটি নিশ্চিত করে বলেন: ((আমাদের সৌদি সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলতে গেলে—আল্লাহ তাআলা একে তৌফিক দান করুন—রাজ্যে বিদ্যালয়ের সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তা গণনা করা হয়...

--------------------------------------------

(১) মক্কাতুল মুকাররমায় শিক্ষার ইতিহাস এবং এর ব্যক্তিত্বগণ, পৃষ্ঠা ৯৯; কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগের পরিচিতিমূলক বুলেটিন, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগের প্রধান মহামান্য ডক্টর হাসনাইন ফ্লাম্বান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত, যা ৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بالمئات بمختلف أنواعها وذلك لازدياد عدد سكانها ورغبة من حكومتنا في نشر التعليم والثقافة في أنحاء البلاد)) (1) .

قلت: ولو أدرك شيخنا الفاضل رحمه الله هذه الحركة العلمية التي تعيشها مملكتنا الحبيبة الآن لازداد إعجاباً بها وذكراً لها. نسأل الله أن يوفق القائمين على هذه البلاد مزيداً من السداد والنجاح حتى ترقى هذه البلاد إلى المكانة التي تستحقها بين بلدان العالم.

--------------------------------------------

(1) التاريخ القويم 6 / 36.
শত শত বিভিন্ন ধরনের, এবং তা এর জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দেশের সর্বত্র শিক্ষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের আকাঙ্ক্ষার কারণে)) (১)।

আমি বলি: যদি আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাদের প্রিয় এই রাজত্ব বর্তমানে যে ইলমী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করতেন, তবে এর প্রতি তাঁর মুগ্ধতা ও এর আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেত। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই দেশের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আরও সঠিকতা ও সফলতা দান করেন, যাতে এই দেশ বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের মাঝে তার প্রাপ্য সুউচ্চ আসনে আরোহণ করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ আল-কায়্যিম ৬ / ৩৬।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثالث: علماء مكة المكرمة في خدمة السنة تدريساً وتأليفاً

لقد كان لعلماء مكة المكرمة رحمهم الله دور كبير في الحركة العلمية المحلية والإسلامية؛ فقد كان المسجد الحرام والمؤسسات التعليمية تخرج الأعداد الكبيرة من هؤلاء العلماء الذين نشروا العلم في بلاد الإسلام، حتى أضحت مكة المكرمة قبلة طلاب العلم من كل مكان، ويكفي للدلالة على كثرة هؤلاء العلماء أن نقف على كتابين من الكتب المؤلفة عن هؤلاء العلماء.

الأول وهو (الجواهر الحسان في تراجم الفضلاء والأعيان من أساتذة وخلان) للعلامة زكريا بن عبد الله بيلا، تحقيق الأستاذ الدكتور عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان والأستاذ الدكتور محمد إبراهيم أحمد علي، وقد تَرْجم لثلاث مئة وثلاثين عالماً (1) .

والكتاب الثاني (أعلام المكيين) للشيخ عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد الرحيم المعلمي، وقد ترجم فيه لمئتين وستين عالماً من علماء مكة الذين عاشوا خلال القرن الرابع عشر، وهؤلاء العلماء الذين ترجم لهم برعوا في علوم شتى وفنون متعددة، وكان منهم القضاة والشعراء والأدباء وأهل الحديث وأهل الفقه وغير ذلك، ولما كان هذا البحث محصوراً في التعريف بعلماء مكة المكرمة الذين برعوا في علم السنة والسيرة فقد اقتصرنا في هذا البحث عليهم دون التوسع في ذلك تحقيقاً للغرض الذي كتب هذا البحث

--------------------------------------------

(1) ذكر لي هذا الأستاذ الدكتور عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان والكتاب سيطبع قريباً إن شاء الله.

(2) قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين ج1 لوحة 10.

(3) أعلام المكيين 2 / 789.

(4) قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين ج1 لوحة 10، أعلام المكيين 2/787، تشنيف الأسماع بشيوخ الإجازة والسماع ص20، العلماء والأدباء الوراقون في الحجاز في القرن الرابع عشر الهجري ص101، بلوغ الأماني في التعريف بشيوخ وأسانيد مسند العصر الشيخ محمد ياسين الفاداني 1/43.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর খিদমতে (শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনায়) মক্কা মুকাররামাহর আলেমগণ

নিশ্চয়ই স্থানীয় এবং ইসলামী জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনে মক্কা মুকাররামাহর আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) এক বিশাল ভূমিকা ছিল; কেননা মসজিদুল হারাম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিপুল সংখ্যক আলেম তৈরি করেছে, যাঁরা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ইলম ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে মক্কা মুকাররামাহ সকল প্রান্তের জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছিল। এই আলেমদের আধিক্য বুঝানোর জন্য তাঁদের সম্পর্কে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্য হতে মাত্র দুটি গ্রন্থের উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে।

প্রথমটি হলো আল্লামা জাকারিয়া বিন আব্দুল্লাহ বেলা রচিত (আল-জাওয়াহিরুল হিসান ফি তারাজিমিল ফুদলা ওয়াল আইয়ান মিন আসাতিযাতি ওয়া খিল্লান), যা প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব ইব্রাহিম আবু সুলাইমান এবং প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইব্রাহিম আহমদ আলী কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে। এতে তিনি তিনশ ত্রিশজন আলেমের জীবনী সংকলন করেছেন (১)।

এবং দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রহিম আল-মুআল্লিমী রচিত (আ'লামুল মাক্কিয়্যিন), এতে তিনি চতুর্দশ শতাব্দীতে বসবাসকারী মক্কার দুইশ ষাটজন আলেমের জীবনী বর্ণনা করেছেন। এই আলেমগণ বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং আরও অনেকে। যেহেতু এই গবেষণাটি মক্কা মুকাররামাহর সেই সমস্ত আলেমদের পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ যাঁরা সুন্নাহ ও সীরাত শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, তাই এই গবেষণার উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে আমরা কেবল তাঁদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এর অধিক বিস্তার ঘটাইনি।

--------------------------------------------

(১) প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব ইব্রাহিম আবু সুলাইমান আমাকে এটি জানিয়েছেন এবং বইটি শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ মুদ্রিত হবে।

(২) কুররাতুল আইন ফি আসানিদি শুইউখি মিন আ'লামিল হারামাইন, ১ম খণ্ড, ১০ নম্বর ফলক।

(৩) আ'লামুল মাক্কিয়্যিন ২ / ৭৮৯।

(৪) কুররাতুল আইন ফি আসানিদি শুইউখি মিন আ'লামিল হারামাইন, ১ম খণ্ড, ১০ নম্বর ফলক; আ'লামুল মাক্কিয়্যিন ২/৭৮৭; তাশনিফুল আসমা বি শুইউখিল ইজাজাতি ওয়াস সামা' পৃষ্ঠা ২০; আল-উলামাউ ওয়াল উদাবাউল ওয়াররাকুনা ফিল হিজায ফিল কারনির রাবি আশারা আল-হিজরি পৃষ্ঠা ১০১; বুলুগুল আমানি ফিত তারিফি বি শুইউখি ওয়া আসানিদি মুসনিদিল আসর আশ-শায়খ মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি ১/৪৩।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
من أجله وسنذكر تراجم هؤلاء العلماء مرتبة على حروف المعجم وهم:

1- العلامة المحدث، المسند، الشيخ إبراهيم بن عبد الله يارشاه بن يار الكتبي الدهلوي، ولد سنة 1251هـ في دهلي بالهند ثم قدم مكة مع والده وجاور بها، وأخذ عن العلامة، المسند، عبد الرحمن بن محمد الكزبري، والعلامة عبد الله سراج، مفتي الحنفية بمكة، والشيخ أبو بكر خوقير، والمحدث عبد الغني الدهلوي، ورحل إلى الشام والعراق ومصر، كان عالماً صالحاً له عناية فائقة بالكتب، وكان له دكان يبيع فيه الكتب وقد عمر طويلاً توفي سنة 1354هـ وقيل 1361هـ.

روى عنه خلق كثير. قال الشيخ محمد ياسين الفاداني: ((استفدت منه كثيراً، وسمعت كثيراً، وتلقيت عنه بعض المسلسلات الحديثية على شروطها واستجزته الرواية فأجازني)) (2) .

وقال عنه الشيخ المعلمي: وكان مجتهداً في تحصيل العلم وطلبه بالجد والنشاط مع العناية بعلم الحديث خاصة (3) . وقد كان يقصده الطلاب للاستفادة منه والأخذ عنه (4) .

2 - الإمام، المحدث، الشيخ إبراهيم بن موسى الحنفي، كان يدرس الحديث بالمسجد الحرام. أخذ عنه الشيخ عبد الستار الدهلوي، وسمع منه أوائل البخاري، وأجازه عن شيخه محدث المدينة المنورة الشيخ عبد الغني النقشبندي، وعن الشيخ عابد السندي، وعن الشيخ إسماعيل الرومي، وغير
এই কারণে আমরা এই সকল আলেমদের জীবনী বর্ণমালার ক্রমানুসারে উল্লেখ করব, তারা হলেন:

১- প্রখ্যাত আলেম, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, শাইখ ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ ইয়ারশাহ বিন ইয়ার আল-কুতুবি আদ-দেহলভি। তিনি ১২৫১ হিজরিতে ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন, অতঃপর পিতার সাথে মক্কায় আগমন করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রখ্যাত আলেম ও মুসনিদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-কুসবরি, মক্কার হানাফি মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ সিরাজ, শাইখ আবু বকর খুকাইর এবং মুহাদ্দিস আব্দুল গনি আদ-দেহলভির নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি সিরিয়া (শাম), ইরাক এবং মিশরে সফর করেন। তিনি একজন সৎ আলেম ছিলেন এবং বইপত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তাঁর একটি দোকান ছিল যেখানে তিনি বই বিক্রি করতেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং ১৩৫৪ হিজরি বা মতান্তরে ১৩৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখ মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি বলেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি, অনেক কিছু শুনেছি এবং তাঁর নিকট থেকে শর্তসমূহ পরিপালন করে কিছু মুসালসাল হাদিস গ্রহণ করেছি। আমি তাঁর নিকট বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করেন।" (২) .

শাইখ আল-মুয়াল্লিমি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি ইলম অর্জন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠা ও উদ্দীপনার সাথে তা অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল" (৩) । শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হওয়ার এবং ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসত (৪) ।

২ - ইমাম ও মুহাদ্দিস শাইখ ইব্রাহিম বিন মুসা আল-হানাফি। তিনি মসজিদুল হারামে হাদিসের দরস প্রদান করতেন। শাইখ আব্দুল সাত্তার আদ-দেহলভি তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর নিকট বুখারি শরিফের প্রারম্ভিক অংশ শ্রবণ করেন। তিনি তাঁকে মদিনা মুনাওয়ারার মুহাদ্দিস শাইখ আব্দুল গনি আন-নকশবন্দি, শাইখ আবিদ আস-সিন্দি এবং শাইখ ইসমাইল আল-রুমি ও অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ذلك من المشايخ (1) .

3- القاضي، الفقيه، العالم، الشيخ أبو بكر بن أحمد بن حسين بن محمد الحبشي المتوفى سنة 1374 هـ، ولد في مكة المكرمة ونشأ في حجر والده وجده لأبيه، قرأ القرآن وحفظه والتحق بمدرسة الفلاح ولازم حضور حلقات المسجد الحرام وقرأ النحو والصرف والبلاغة والفقه والحديث والتفسير، وأخذ عن علماء المسجد الحرام منهم الشيخ عمر حمدان المحرسي، والشيخ أحمد ناضرين، والشيخ عمر باجنيد، والشيخ محمد سعيد يماني، وغيرهم. اشتغل بالتعليم في أول حياته، حتى عين مديراً لمدرسة الفلاح بمكة المكرمة من سنة 1350 هـ إلى 1361 هـ ثم انتقل إلى القضاء وبقي فيه حتى وفاته. من مؤلفاته في علم الأثبات كتابه (الدليل المشير إلى فلك أسانيد الاتصال بالحبيب البشيرصلى الله عليه وسلم وعلى آله ذوي الفضل الشهير وصحبه ذوي القدر الكبير) ، وقد طبع الكتاب سنة 1418هـ وله كتاب في علماء مكة، وله كتب أخرى في الفقه والسيرة وغير ذلك (2) .

4- العلامة، المحدث، المحقق، الفقيه، أبو بكر بن محمد عارف بن عبد القادر خوقير الكتبي ولد بمكة المكرمة سنة 1284هـ، وتوفي بها سنة 1349هـ.

حفظ القرآن وهو صغير، وطلب العلم على مشاهير علماء مكة، وأخذ

--------------------------------------------

(1) نثر المآثر فيمن أدركت من الأكابر لوحة 21، أعلام المكيين 1 / 399.

(2) أعلام المكيين 1 / 357، نثر الغرر لوحة 23، تشنيف الأسماع ص 26، سير وتراجم ص 25، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر 3/1073، معجم المعاجم والمشيخات 2/500، نشر الرياحين في تاريخ البلد الأمين 1/16.
তিনি ছিলেন সেই শায়খদের অন্তর্ভুক্ত (১)।

৩- বিচারক, ফকিহ, আলেম, শায়খ আবু বকর বিন আহমদ বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-হাবশি, যিনি ১৩৭৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি মক্কা মোকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা ও দাদার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। তিনি কুরআন পাঠ করেন ও তা মুখস্থ করেন এবং আল-ফালাহ মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তিনি মসজিদুল হারামের ইলমি মজলিসগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং নাহু, সরফ, বালাগাত, ফিকহ, হাদিস ও তাফসির অধ্যয়ন করেন। তিনি মসজিদুল হারামের আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ উমর হামদান আল-মাহরাসি, শায়খ আহমদ নাজরিন, শায়খ উমর বাজুনাইদ, শায়খ মুহাম্মদ সাইদ ইয়ামানি এবং আরও অনেকে। তিনি তাঁর জীবনের প্রথম ভাগে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন, এমনকি ১৩৫০ হিজরি থেকে ১৩৬১ হিজরি পর্যন্ত মক্কা মোকাররমার আল-ফালাহ মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। অতঃপর তিনি বিচার বিভাগে স্থানান্তরিত হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। ইলমে আসবাত (সনদ বিষয়ক বিদ্যা)-এ তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে তাঁর কিতাব (আদ-দালিলুল মুশির ইলা ফালাকি আসানিদিল ইত্তিসাল বিল হাবিবিল বাশির—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আলা আলিহি জাবিল ফাদলিশ শাহির ওয়া সাহবিহি জাবিল কদরিল কাবির)। এই কিতাবটি ১৪১৮ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছে। মক্কার আলেমদের সম্পর্কেও তাঁর একটি কিতাব রয়েছে এবং ফিকহ, সিরাত ও অন্যান্য বিষয়েও তাঁর আরও কিতাব রয়েছে (২)।

৪- আল্লামা, মুহাদ্দিস, গবেষক, ফকিহ, আবু বকর বিন মুহাম্মদ আরিফ বিন আব্দুল কাদির খুগির আল-কুতুবি। তিনি ১২৮৪ হিজরি সনে মক্কা মোকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪৯ হিজরি সনে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তিনি শৈশবেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং মক্কার প্রসিদ্ধ আলেমদের নিকট ইলম অন্বেষণ করেন এবং গ্রহণ করেন

--------------------------------------------

(১) নাশরুল মাআসির ফিমান আদরাকতু মিনাল আকাবির, পৃষ্ঠা ২১; আলামুল মাক্কিয়্যিন ১/৩৯৯।

(২) আলামুল মাক্কিয়্যিন ১/৩৫৭; নাশরুল গুরার, পৃষ্ঠা ২৩; তাশনিফুল আসমা, পৃষ্ঠা ২৬; সিয়ার ওয়া তারাজিম, পৃষ্ঠা ২৫; মাওসুয়াতু আলামিল করনির রাবি আশারা ওয়াল খামিস আশারা ৩/১০৭৩; মুজামুল মায়াজিম ওয়াল মাশায়াখাত ২/৫০০; নাশরুর রায়াহিন ফি তারিখিল বালাদিল আমিন ১/১৬।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عن الشيخ أحمد زيني دحلان، والشيخ عبد الرحمن سراج، والقاضي أحمد بن عيسى الشرقي وغيرهم، كان شديد النقمة على الذين يشدُّون الرحال للأولياء ويتمسحون بالمقابر ويطلبون منها جلب الخير، وبلغ ذلك ولاة الأمر في عصره فمنع من التدريس، وضيق عليه حتى سجن سنة 1339هـ، ثم خرج من السجن. كان يُدَرِّس بالمسجد الحرام، وكان رحمه الله يوصي بقراءة صحيح البخاري، وبلوغ المرام. ألف مؤلفات في علوم شتى منها، (ما لابد منه في أمور الدين) و (فصل المقال وإرشاد الضال في توسل الجهال) وغيرها، وقد طبع بعض كتبه (1) .

5- العلامة، المحدث، الشيخ السيد أحمد بن بكري بن محمد شطا الشافعي ولد بمكة المكرمة سنة 1300هـ، وتوفي بها سنة 1332هـ.

طلب العلم وهو صغير، وحفظ القرآن، واشتغل بالعلوم فحفظ المتون وأخذ النحو والصرف والحديث والتفسير والمصطلح وغير ذلك، أخذ عن جماعة من العلماء منهم والده الشيخ الإمام بكري شطا والشيخ سعيد اليماني والشيخ محمد خياط وغيرهم، كانت له حلقة بالمسجد الحرام في حصوة باب السلام وقد برع في علوم شتى، ودرس فنوناً متعددة، وكان صريحاً في الحق

لا يخشى في ذلك لومة لائم، انتفع به طلاب العلم (2) .

--------------------------------------------

.

(1) أعلام المكيين 1 / 415، نثر الغرر لوحة 37، سير وتراجم ص 22، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 3 / 1092، العلماء والأدباء الوراقون ص 96، قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين ج1 لوحة 19، معجم المعاجم والمشيخات 2 / 393.

(2) المختصر من كتاب نشر النور والزهر في تراجم أفاضل مكة ص 92، سير وتراجم ص 65، تاريخ التعليم في مكة المكرمة ورجالاته 2 / 30، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 2.
শেখ আহমদ জাইনি দাহলান, শেখ আব্দুর রহমান সিরাজ, কাজি আহমদ বিন ঈসা আশ-শারকি এবং অন্যান্যদের থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন। যারা ওলিদের উদ্দেশ্যে সফর করে, কবরে গা ঘষে এবং কবরের কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, তাদের প্রতি তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তাঁর যুগের কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তাঁকে পাঠদান থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাঁর ওপর কড়াকড়ি করা হয়, এমনকি ১৩৩৯ হিজরিতে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। অতঃপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তিনি মসজিদে হারামে পাঠদান করতেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সহিহ বুখারি ও বুলুগুল মারাম পড়ার অসিয়ত করতেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে— (মা লাবুদ্দা মিনহু ফি উমুরিদ দিন) এবং (ফাসলুল মাকাল ওয়া ইরশাদুদ্দাল ফি তাওয়াসসুলিল জুহহাল) ইত্যাদি। তাঁর কিছু গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছে (১)।

৫- আল্লামা, মুহাদ্দিস, শেখ সাইয়্যেদ আহমদ বিন বাকরি বিন মুহাম্মদ শাতা আশ-শাফেয়ি। তিনি ১৩০০ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩২ হিজরিতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তিনি শৈশবেই ইলম অর্জন করেন, কুরআন হিফজ করেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি শাস্ত্রীয় মূলপাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করেন এবং নাহু, সরফ, হাদিস, তাফসির, পরিভাষা শাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয় আয়ত্ত করেন। তিনি একদল উলামার নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পিতা শেখ ইমাম বাকরি শাতা, শেখ সাঈদ আল-ইয়ামানি, শেখ মুহাম্মদ খাইয়াত প্রমুখ। মসজিদে হারামের বাবুস সালাম চত্বরে তাঁর একটি পাঠদান হালকা ছিল। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং বহুমুখী জ্ঞানশাখা শিক্ষা দিতেন। তিনি সত্যের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী

এবং এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। জ্ঞানান্বেষীরা তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন (২)।

--------------------------------------------

.

(১) আলামুল মাক্কিয়্যিন ১/৪১৫, নাশরুল গুরার লওহা ৩৭, সিয়ার ওয়া তারাজিম পৃষ্ঠা ২২, মাওসুআতু আলামিল কারনিল রাবি আশার ওয়াল খামিস আশার আল-হিজরি ৩/১০৯২, আল-উলামা ওয়াল উদাবা আল-ওয়াররাকুন পৃষ্ঠা ৯৬, কুররাতুল আইন ফি আসানিদি শুয়ুখি মিন আলামিল হারামাইন খণ্ড ১ লওহা ১৯, মুজামুল মা'য়াজিম ওয়াল মাশইয়্যাখাত ২/৩৯৩।

(২) আল-মুখতাসার মিন কিতাবি নাশরিন নূর ওয়াজ যাহর ফি তারাজিমি আফাদিলি মাক্কাহ পৃষ্ঠা ৯২, সিয়ার ওয়া তারাজিম পৃষ্ঠা ৬৫, তারিখুত তালিম ফি মাক্কাতিল মুকাররামা ওয়া রিজালাতিহি ২/৩০, আল-ইলাম বি ওয়াফায়াতিল আলাম লওহা ২।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
6- العلامة، الفقيه، المحدث، المؤرخ الشيخ أحمد بن زيني بن أحمد دحلان المكي الشافعي، ولد بمكة سنة 1232هـ، وتوفي سنة 1304هـ بالمدينة المنورة.

حفظ القرآن وهو صغير، ثم طلب العلم وأخذ عن كثير من علماء المسجد الحرام منهم: الشيخ محمد سعيد قدس، والشيخ عبد الله سراج الحنفي، والشيخ أحمد المرزوقي وغيرهم. اشتغل بالإفتاء والتدريس، ودرس الحديث والسيرة، حتى قالوا: صار صحيح البخاري عنده كالفاتحة. وكانت له مؤلفات في الفقه والحديث والسيرة والتاريخ وغيرها، منها:

(خلاصة الكلام في بيان أمراء البلد الحرام) ، (الفتح المبين في فضائل الخلفاء الراشدين وأهل البيت الطاهرين) و (شرح الأجرومية) وغيرها (1) .

7- العلامة، المقرئ، المحدث، الشيخ أحمد بن عبد الله بن محمد الشامي المكي الشهير بالمخللاتي، ولد في دمشق سنة 1280هـ وتوفي بمكة المكرمة سنة 1362هـ.

حفظ القرآن وهو صغير. ثم اشتغل بطلب العلم. فأخذ عن الشيخ سليم العطار، والشيخ محمد بن أحمد المنيني، والشيخ جمال الدين الخطيب، وغيرهم، جلس للتدريس في المسجد الحرام، ودرس الصحيحين مرات متعددة وانتفع به الطلاب، له مؤلفات عدة منها (الجواهر النقية في القراءات المكية

--------------------------------------------

(1) أعلام المكيين 1/59، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 1/383، فهرس الفهارس والأثبات 1/391، نشر الرياحين في تاريخ البلد الأمين 1/27، معجم المعاجم والمشيخات 2/284، حلية البشر في تاريخ القرن الثالث عشر 1/181، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 4، الأعلام الشرقية 1/265.
৬- আল্লামা, ফকিহ, মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ শাইখ আহমদ বিন জাইনি বিন আহমদ দাহলান মাক্কী শাফিঈ; তিনি ১২৩২ হিজরীতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩০৪ হিজরীতে মদীনাতুল মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন।

তিনি শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর জ্ঞান অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন এবং মসজিদে হারামের বহু আলেমের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শাইখ মুহাম্মদ সাঈদ কুদস, শাইখ আব্দুল্লাহ সিরাজ হানাফী এবং শাইখ আহমদ আল-মারযূকী। তিনি ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং হাদিস ও সীরাত শাস্ত্রের দরস দিতেন; এমনকি বলা হতো: সহীহ বুখারী তাঁর কাছে সূরা ফাতিহার মতো (মুখস্থ) হয়ে গিয়েছিল। ফিকহ, হাদিস, সীরাত ও ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

(খুলাসাতুল কালাম ফী বায়ানি উমারাইল বালাদিল হারাম), (আল-ফাতহুল মুবীন ফী ফাযায়িলিল খুলাফাইর রাশিদীন ওয়া আহলিল বাইতিত তাহিরীন) এবং (শরহুল আজরূমিয়্যাহ) ইত্যাদি (১)।

৭- আল্লামা, ক্বারী ও মুহাদ্দিস শাইখ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ শামী মাক্কী, যিনি আল-মুখাল্লালাতী নামে প্রসিদ্ধ; তিনি ১২৮০ হিজরীতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৬২ হিজরীতে মক্কাতুল মুকাররামায় ইন্তেকাল করেন।

তিনি শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হন। তিনি শাইখ সালীম আল-আত্তার, শাইখ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুনাইনী এবং শাইখ জামালুদ্দীন আল-খতীবসহ অন্যান্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মসজিদে হারামে দরস প্রদানের জন্য বসতেন এবং বহুবার সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) পাঠদান করেছেন, যার মাধ্যমে ছাত্ররা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো (আল-জাওয়াহিরুন নাক্বিয়্যাহ ফিল কিরাআতিল মাক্কিয়্যাহ)

--------------------------------------------

(১) আলামুল মাক্কিয়্যীন ১/৫৯, মাওসূআতু আলামিল করনির রাবি আশার ওয়াল খামিস আশার আল-হিজরী ১/৩৮৩, ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত ১/৩৯১, নাশরুর রাইয়াহীন ফী তারিখিল বালাদিল আমীন ১/২৭, মুজামুল মায়াজিম ওয়াল মাশয়াখাত ২/২৮৪, হিলইয়াতুল বাশার ফী তারিখিল করনিত স্যালিস আশার ১/১৮১, আল-ইলাম বিওয়াফায়াতিল আলাম ফলক ৪, আল-আলামুশ শারকিয়্যাহ ১/২৬৫।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
(الحبل المتين في سند كتاب رب العالمين) ، (جزء في الحديث المسلسل بالأولية) (1) .

8- الإمام، العلامة، المحدث، الفقيه، الشيخ أحمد بن محمد بن أحمد بن عبده الحضراوي الشافعي المكي، ولد بالإسكندرية بمصر سنة 1252هـ، وتوفي بمكة المكرمة سنة 1327 هـ حفظ القرآن وهو صغير، ثم أخذ العلم عن علماء عصره. منهم الشيخ محمد سعيد بشارة، والشيخ عبد الرحمن الكزبري، والشيخ عبد الغني الميداني، كان من أفاضل علماء مكة في تلك الفترة، وكان يدرس بالمسجد الحرام عند باب السلام، ويدرس فيها (سنن الترمذي) ، و (أوائل العجلوني) وغيرها من الكتب، كان يكتب للناس بالأجرة ويتقوت بها، وقد كتب بخطه كتباً كثيرة. كما أنه كان من

المؤلفين، فقد ألف في الحديث والفقه والتاريخ والتراجم، ومن كتبه:

(سراج الأئمة في تخريج أحاديث كشف الغمة) ، (حسن الصفا لجيران الملتزم والصفا) ، و (العقد الثمين في فضائل البلد الأمين) وغيرها من الكتب، وقد انتفع به الطلاب رحمه الله (2) .

9- العلامة، المحدث، المترجم، الشيخ أحمد بن يوسف قستي، ولد بمكة

--------------------------------------------

(1) تشنيف الأسماع ص55، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 2/494، قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين ج1 لوحة 51، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 4، تاريخ التعليم في مكة المكرمة ورجالاته 2/44.

(2) المختصر من كتاب نشر النور والزهر في تراجم أفاضل مكة ص 84، أعلام المكيين 1 / 384، سير وتراجم ص 57، العلماء والأدباء الوراقون في الحجاز في القرن الرابع عشر الهجري ص 59، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 2 / 625، أعلام الحجاز 3 / 75، نشر الرياحين في تاريخ البلد الأمين 1 / 63، الأعلام الشرقية 2 / 852.
(আল-হাবলুল মাতীন ফী সানাদি কিতাবি রব্বিল আলামীন), (জুযউন ফিল হাদীসিল মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ) (১)।

৮- ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, ফকীহ, শায়খ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দু আল-হাদরাওয়ী আশ-শাফিয়ী আল-মাক্কী। তিনি ১২৫২ হিজরীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩২৭ হিজরীতে মক্কাতুল মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন। তিনি শৈশবেই কুরআন হিফজ করেন, অতঃপর তাঁর যুগের আলেমদের থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ মুহাম্মদ সাঈদ বিশারা, শায়খ আব্দুর রহমান আল-কুযবারী এবং শায়খ আব্দুল গনী আল-মায়দানী। তিনি সে সময়ের মক্কার শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম ছিলেন। তিনি মসজিদুল হারামে বাবুস সালামের নিকট দরস প্রদান করতেন। সেখানে তিনি (সুনানে তিরমিযী), (আওয়াইলুল আজলূনী) এবং অন্যান্য কিতাব পড়াতেন। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মানুষের জন্য কিতাব লিখে দিতেন এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি স্বহস্তে প্রচুর কিতাব লিখেছেন। তদুপরি তিনি ছিলেন একজন

লেখক। তিনি হাদীস, ফিকহ, ইতিহাস এবং জীবনীগ্রন্থ (তরাজিম) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে:

(সিরাজুল আইম্মাহ ফী তাখরীজি আহাদীসি কাশফিল গুম্মাহ), (হুসনুস সাফা লি জীরানিল মুলতাযামি ওয়াস সাফা), এবং (আল-ইকদুত সামীন ফী ফাদায়িলিল বালাদিল আমীন) সহ আরও অন্যান্য কিতাব। ছাত্ররা তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন (২)।

৯- আল্লামা, মুহাদ্দিস, জীবনীকার, শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ কুস্তী, মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) তাশনীফুল আসমা, পৃষ্ঠা ৫৫; মাওসূআতু আ'লামিল করনিল রাবে আশারা ওয়াল খামিসা আশারা আল-হিজরী ২/৪৯৪; কুররাতুল আইন ফী আসানিদি শুয়ূখী মিন আ'লামিল হারামাইন খণ্ড ১, ফলক ৫১; আল-ই'লাম বি ওয়াফায়াতিল আ'লাম, ফলক ৪; তারীখুত তালীম ফী মক্কাতিল মুকাররমা ওয়া রিজালাতুহু ২/৪৪।

(২) আল-মুখতাসারু মিন কিতাবি নাশরিন নূর ওয়াজ যাহর ফী তরাজিম আফাদিল মক্কা, পৃষ্ঠা ৮৪; আ'লামুল মাক্কিয়্যীন ১/৩৮৪; সিয়ারু ওয়া তরাজিম, পৃষ্ঠা ৫৭; আল-উলামাউ ওয়াল উদাবাউল ওয়াররাকূনা ফিল হিজায ফিল করনিল রাবে আশারা আল-হিজরী, পৃষ্ঠা ৫৯; মাওসূআতু আ'লামিল করনিল রাবে আশারা ওয়াল খামিসা আশারা আল-হিজরী ২/৬২৫; আ'লামুল হিজায ৩/৭৫; নাশরুর রায়াহীন ফী তারীখিল বালাদিল আমীন ১/৬৩; আল-আ'লামুশ শারকিয়্যাহ ২/৮৫২।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
المكرمة سنة 1296 هـ وتوفي بها سنة 1367 هـ.

طلب العلم وهو صغير، وأخذ عن علماء المسجد الحرام. منهم الشيخ عمر باجنيد، والشيخ عبد الستار الدهلوي، والشيخ صالح بافضل، سافر إلى إندونيسيا فشرع في فتح المدارس واستفاد منه أهلها، تولّى قضاء باتوفهت ثم استقال ورجع إلى مكة، وعقد حلقة في المسجد الحرام. فكان يدرس الفقه والحديث والأدب، وكان رحمه الله يلقي دروسه في يسر، ويشرحها شرحاً يستفيد منه الطلاب دون تعقيد، ترجم عدة كتب إلى اللغة الملاوية منها: (طوالع الهدى) و (الفضل بتحذير المسلمين عن الإعلام بوقت الصلاة بضرب الطبل للشيخ محمد علي المالكي) ، فقد أتم ترجمته ونشره، وشرع في ترجمة تفسير الجواهر لطنطاوي جوهري إلا أنه لم يتمه (1) .

10- الإمام، الفقيه، الشيخ آخوندجان بن محمد هادي البخاري الميرغيناني المكي، ولد في ميرغينان (في إحدى الجمهوريات الإسلامية) سنة 1243 هـ وتوفي في مكة سنة 1320 هـ، حفظ القرآن وهو صغير، وأخذ عن علماء بلده. ثم قدم مكة للحج فاستوطنها، وأخذ عن علماء الحرمين. منهم المحدث عبد الغني المجددي، والشيخ الخرنوي، تصدر للتدريس في المسجد الحرام وانتفع به الطلاب.

وقد ذكر الشيخ عبد الله مرداد أنه أخذ عنه وقال: ((وانتفع به كثير وألف التآليف العديدة، إلا أنه لم يذكر شيئاً منها، وقد ذكر بعض هذه

--------------------------------------------

(1) أعلام المكيين 2/764، سير وتراجم ص 54، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 2/784، أهل الحجاز بعبقهم التاريخي ص 303، تاريخ التعليم في مكة المكرمة ورجالاته 2/67.
সম্মানিত মক্কায় ১২৯৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ১৩৬৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তিনি শৈশবেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং মসজিদে হারামের আলেমদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ওমর বাজুনায়েদ, শেখ আব্দুল সাত্তার দেহলভি এবং শেখ সালেহ বাফাদল। তিনি ইন্দোনেশিয়া সফর করেন এবং সেখানে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা শুরু করেন, যার ফলে সেখানকার অধিবাসীরা উপকৃত হয়। তিনি বাতু পাহাত অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর পদত্যাগ করে মক্কায় ফিরে আসেন এবং মসজিদে হারামে একটি পাঠদান চক্র (হালকা) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ফিকহ, হাদিস ও সাহিত্য শিক্ষা দিতেন। রহমাতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত সহজভাবে পাঠদান করতেন এবং এমনভাবে ব্যাখ্যা করতেন যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো জটিলতা ছাড়াই উপকৃত হতে পারে। তিনি মালয় ভাষায় বেশ কিছু গ্রন্থ অনুবাদ করেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'তাওয়ালিউল হুদা' এবং (শেখ মুহাম্মদ আলী আল-মালিকি রচিত নামাজের সময় ঘোষণার জন্য ঢাক-ঢোল পেটানোর বিষয়ে মুসলিমদের সতর্কীকরণ সংক্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক গ্রন্থ)। তিনি এর অনুবাদ সম্পন্ন ও প্রকাশ করেন। তিনি তানতাউই জাওহারি রচিত 'তাফসিরে জাওয়াহির' অনুবাদ করতে শুরু করেছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করতে পারেননি (১)।

১০- ইমাম, ফকিহ, শেখ আখুন্দজান বিন মুহাম্মদ হাদি আল-বুখারি আল-মিরগিনানি আল-মাক্কি। তিনি ১২৪৩ হিজরিতে মিরগিনানে (একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩২০ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। শৈশবেই তিনি কুরআন মুখস্থ করেন এবং নিজ দেশের আলেমদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় এসে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাদ্দিস আব্দুল গণি আল-মুজাদ্দিদি এবং শেখ আল-খারনাবি। তিনি মসজিদে হারামে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষার্থীরা তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়।

শেখ আব্দুল্লাহ মিরদাদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর মাধ্যমে অনেকে উপকৃত হয়েছে এবং তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যদিও তিনি সেগুলোর কোনোটি উল্লেখ করেননি। আর এগুলোর কিছু উল্লেখ করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আ’লামুল মাক্কিয়্যিন ২/৭৬৪, সিয়ার ওয়া তারাজিম পৃষ্ঠা ৫৪, মাওসুয়াতু আ’লামিল করনির রাবে আশারা ওয়াল খামিস আশারা আল-হিজরি ২/৭৮৪, আহলুল হিজাজ বি-আবাহিহিম আত-তারিখি পৃষ্ঠা ৩০৩, তারিখুত তালীম ফি মাক্কাতিল মুকাররামা ওয়া রিজালাতুহু ২/৬৭।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
التآليف الشيخ عبد الله غازي قائلاً: ألف التآليف العديدة منها رسالة في صلاة العصر، ورسالة في العشاء، ورسالتان في الدخان، ورسالة في اللحية، وغير ذلك)) (1) .

11- الإمام، الخطيب، الفقيه، الشيخ، أمين بن محمد علي بن سليمان مرداد الحنفي المكي، ولد بمكة المكرمة سنة 1277 هـ، وتوفي

بها سنة 1342هـ، حفظ القرآن وهو صغير، وأخذ العلم عن جماعة من العلماء منهم الشيخ رحمت الله الهندي، والشيخ حسن طيب، والشيخ يوسف الهندي.

وقد تصدر للتدريس بالمسجد الحرام، وكانت دروسه في الفقه الحنفي والتفسير والحديث، وانتفع به طلاب العلم (2) .

12- العالم، الفقيه، المحدث، الشيخ باقر بن محمد نور بن فاضل الجوكجاوي الشافعي المكي، ولد في جوكجا بإندونيسيا سنة 1306 هـ، وتوفي بمكة المكرمة سنة 1363 هـ.

طلب العلم وأخذه عن علماء مكة، منهم الشيخ محفوظ الترمسي، والشيخ حسين بن محمد الحبشي وغيرهم، تصدر للتدريس بالمسجد الحرام وكان بارعاً في علوم شتى منها الحديث والفقه الشافعي والأصول، والنحو

--------------------------------------------

(1) المختصر من كتاب نشر النور والزهر في تراجم أفاضل مكة ص 125، أعلام المكيين 1 / 276، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 1، نظم الدرر في اختصار نشر النور والزهر لوحة 167.

(2) أعلام المكيين 2/853، المختصر من كتاب نشر النور والزهر في تراجم أفاضل مكة ص134، سير وتراجم ص74، موسوعة أعلام القرن الرابع عشر والخامس عشر الهجري 3/1012، أهل الحجاز بعبقهم التاريخي ص266.
শেখ আব্দুল্লাহ গাজী এর কিতাবসমূহ সম্পর্কে বলেন: তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন, তার মধ্যে আসরের নামাজ সম্পর্কে একটি রিসালাহ, এশার নামাজ সম্পর্কে একটি রিসালাহ, ধূমপান সম্পর্কে দুটি রিসালাহ, দাড়ি সম্পর্কে একটি রিসালাহ এবং আরও অনেক কিছু (১)।

১১- ইমাম, খতিব, ফকিহ, শেখ, আমিন বিন মুহাম্মদ আলী বিন সুলাইমান মিরদাদ হানাফি মক্কি, তিনি ১২৭৭ হিজরি সনে পবিত্র মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪২ হিজরি সনে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ছোটবেলাতেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং একদল ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ রহমতুল্লাহ হিন্দি, শেখ হাসান তায়িব এবং শেখ ইউসুফ হিন্দি।

তিনি মসজিদে হারামে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পাঠদানগুলো ছিল হানাফি ফিকহ, তাফসির ও হাদিসের উপর, যা থেকে ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে (২)।

১২- আলেম, ফকিহ, মুহাদ্দিস, শেখ বাকির বিন মুহাম্মদ নূর বিন ফাদিল জুকজাবি শাফেয়ি মক্কি, তিনি ১৩০৬ হিজরি সনে ইন্দোনেশিয়ার জুকজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৬৩ হিজরি সনে পবিত্র মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি মক্কার ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলম তলব ও অর্জন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মাহফুজ তিরমাসি, শেখ হুসাইন বিন মুহাম্মদ হাবশি এবং অন্যান্যগণ। তিনি মসজিদে হারামে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন, যার মধ্যে হাদিস, শাফেয়ি ফিকহ, উসুল এবং নাহু অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) আল-মুখতাসার মিন কিতাব নাশরি আন-নূর ওয়া আয-যাহর ফি তারাজিমি আফাদিলি মাক্কাহ, পৃষ্ঠা ১২৫; আলামুল মাক্কিইয়িন ১/২৭৬; আল-ইলাম বিওয়াফায়াতিল আলাম, ফলক ১; নাযমুত দুরার ফি ইখতিসারি নাশরি আন-নূর ওয়া আয-যাহর, ফলক ১৬৭।

(২) আলামুল মাক্কিইয়িন ২/৮৫৩; আল-মুখতাসার মিন কিতাব নাশরি আন-নূর ওয়া আয-যাহর ফি তারাজিমি আফাদিলি মাক্কাহ, পৃষ্ঠা ১৩৪; সিয়ার ওয়া তারাজিম, পৃষ্ঠা ৭৪; মাওসুয়াতু আলামিল কারনি আর-রাবি আশার ওয়াল খামিস আশার আল-হিজরি ৩/১০১২; আহলুল হিজাজ বি-আবাক্বিহিমুত তারিখি, পৃষ্ঠা ২৬৬।
(খণ্ড: ১) দাওরু উলামায়ি মাক্কাতিল মুকাররামাহ ফী খিদমাতিস সুন্নাতি ওয়াস সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وانتفع به طلاب العلم (1) .

13- الإمام، القاضي، الفقيه، المحدث، الشيخ بكر (أبو بكر) ابن محمد سعيد بابصيل ولد في مكة المكرمة سنة1293هـ، وتوفي بها سنة1349هـ. طلب العلم وهو صغير، وأخذ عن علماء عصره منهم والده الشيخ محمد سعيد بابصيل، والشيخ عبد الرحمن الدهان، والشيخ عمر باجنيد وغيرهم.

كانت له حلقة عند باب الوداع يدرس بها طلابه فقد كان جهوري الصوت، يناقش طلابه، ولا ينتقل من مبحث إلى آخر إلا بعد أن يتأكد من فهمهم له، تولى القضاء فترة من الزمن، وقد انتفع الطلاب بعلمه.

فقد فاق أقرانه في نسيج صناعة الحديث، وجمع بين فني الرواية والدراية (2) .

14- العلامة، الفقيه، المحدث، الشيخ بكر صباغ بن عبد الرحمن بن محمد الشافعي ولد بمكة المكرمة سنة 1286هـ، وتوفي بها سنة 1336هـ.

حفظ القرآن وهو صغير، وطلب العلم فقرأ على علماء عصره منهم الشيخ محمد سعيد بابصيل والشيخ سعيد يماني والشيخ عمر باجنيد.

أجيز بالتدريس بالمسجد الحرام، فدرس الفقه الشافعي، والنحو والتفسير، والحديث، وكان عالماً فاضلاً متواضعاً رحمه الله (3) .

--------------------------------------------

(1) أعلام المكيين 1/351، تشنيف الأسماع ص109، معجم المعاجم والمشيخات 2/462، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 14.

(2) قرة العين في أسانيد شيوخي من أعلام الحرمين ج1 لوحة 11، أعلام المكيين 1 / 248، سير وتراجم ص 84، بلوغ الأماني جـ8 لوحة 6.

(3) المختصر من كتاب نشر النور والزهر ص 146، أعلام المكيين 2 / 602، سير وتراجم ص 82، الإعلام بوفيات الأعلام لوحة 14.
এবং ইলম অন্বেষণকারীগণ এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন (১)।

১৩- ইমাম, বিচারক (কাযী), ফকীহ, মুহাদ্দিস, শায়খ বকর (আবু বকর) ইবনে মুহাম্মাদ সাঈদ বাবাসীল। তিনি ১২৯৩ হিজরিতে মক্কা মুকাররামায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪৯ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং তাঁর সমসাময়িক উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পিতা শায়খ মুহাম্মাদ সাঈদ বাবাসীল, শায়খ আব্দুর রহমান আদ-দাহহান, শায়খ উমর বাজুনাইদ এবং আরও অনেকে।

বাবুল বিদা-এর নিকট তাঁর একটি শিক্ষা মজলিস ছিল যেখানে তিনি তাঁর ছাত্রদের পাঠদান করতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল উচ্চ এবং জোরালো। তিনি তাঁর ছাত্রদের সাথে ইলমি আলোচনা ও বিতর্ক করতেন এবং যতক্ষণ না নিশ্চিত হতেন যে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, ততক্ষণ তিনি এক পরিচ্ছেদ থেকে অন্য পরিচ্ছেদে যেতেন না। তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় বিচারকের (কাযা) দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্ররা তাঁর ইলম দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

তিনি হাদিস শাস্ত্রের নিপুণ বুননে তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং রেওয়ায়াত (বর্ণনা) ও দেরায়াত (উপলব্ধি) উভয় বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন (২)।

১৪- আল্লামা, ফকীহ, মুহাদ্দিস, শায়খ বকর সাব্বাগ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আশ-শাফেয়ী। তিনি ১২৮৬ হিজরিতে মক্কা মুকাররামায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩৬ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি শৈশবে কুরআন হিফজ করেন এবং ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করে তাঁর সমসাময়িক উলামায়ে কেরামের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ মুহাম্মাদ সাঈদ বাবাসীল, শায়খ সাঈদ ইয়ামানী এবং শায়খ উমর বাজুনাইদ।

তিনি মসজিদে হারামে পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হন। সেখানে তিনি শাফেয়ী ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), তাফসীর এবং হাদিস শিক্ষা দিতেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ, মর্যাদাবান ও বিনয়ী আলেম, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আলামুল মাক্কিয়্যিন ১/৩৫১, তাশনীফুল আসমা পৃ. ১০৯, মু'জামুল মা'আজিম ওয়াল মাশইয়াখাত ২/৪৬২, আল-ই'লাম বি-ওয়াফায়াতিল আলাম চিত্র ১৪।

(২) কুররাতুল আইন ফি আসানিদি শুয়ুখি মিন আলামিল হারামাঈন খণ্ড ১ চিত্র ১১, আলামুল মাক্কিয়্যিন ১/২৪৮, সিয়ার ওয়া তারাজিম পৃ. ৮৪, বুলুগুল আমানি খণ্ড ৮ চিত্র ৬।

(৩) আল-মুখতাসার মিন কিতাবি নাশরিন নূর ওয়াজ যাহর পৃ. ১৪৬, আলামুল মাক্কিয়্যিন ২/৬০২, সিয়ার ওয়া তারাজিম পৃ. ৮২, আল-ই'লাম বি-ওয়াফায়াতিল আলাম চিত্র ১৪।