(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: -)
قاعدة مختصرة في وجوب طاعة الله ورسوله وولاة الأمور القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: قاعدة مختصرة في وجوب طاعة الله ورسوله وولاة الأمور
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
الناشر: جهاز الإرشاد والتوجيه بالحرس الوطني، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1417هـ
عدد الصفحات: 49
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং উলুল আমরদের আনুগত্যের আবশ্যকতা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বিভাগ: আস-সিয়াসা আশ-শারইয়্যাহ (শরয়ি রাজনীতি) এবং বিচারব্যবস্থা
বই: আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং উলুল আমরদের আনুগত্যের আবশ্যকতা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত মূলনীতি
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
তাহকিককারী: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
প্রকাশক: আল-ইরশাদ ওয়াত-তাওজিহ বিভাগ, ন্যাশনাল গার্ড, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৩)
قاعدة مختصرة في وجوب طاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وولاة الأمور
تأليف: شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله –
تحقيق: عبد الرزاق بن عبد المحسن العباد البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام عل نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
وبعد. فإن منهج أهل السنة- والجماعة مع ولاة أمرهم منهجٌ عدلٌ وسطٌ يقوم على أساس الإتباع ولزوم الأثر كما هو شأنهم في سائر أمور الدين، فهم يقتدون ولا يبتدون، ويتبعون ولا يبتدعون، ولا يعارضون سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بعقولهم وأفكارهم وأهوائهم.
আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্যের আবশ্যকতা বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মূলনীতি
রচনায়: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া – রাহিমাহুল্লাহ –
তাহকিক (تحقيق): আবদুর রাজ্জাক বিন আবদুল মুহসিন আল-আব্বাদ আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই শাসকবর্গের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ (منهج) হলো একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও মধ্যমপন্থা (وسط), যা অনুসরণ (إتباع) এবং আসার (أثر) আঁকড়ে ধরার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি দ্বীনের অন্যান্য সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাদের বৈশিষ্ট্য। তারা পদাঙ্ক অনুসরণ করে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করে না; তারা অনুসরণ (إتباع) করে, বিদআত (إبتداع) সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেদের বুদ্ধি, চিন্তা বা প্রবৃত্তির দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)-এর বিরোধিতা করে না।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৩)
آثار السلف في لزوم الأثر…قال الصحابي الجليل عبد الله بن مسعود- رضي الله عنه: "إنا نقتدي ولا نبتدي، ونتبع ولا نبتدع ولن نضل ما تمسكنا بالأثر" 1.
وقال: "إياكم والتبدع والتنطع والتعمق، وعليكم بالعتيق "
--------------------------------------------
বর্ণনা (الأثر) অনুসরণের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে পূর্বসূরিদের নিদর্শনসমূহ (آثار)…মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নিশ্চয়ই আমরা অনুসরণ করি এবং নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবন (نبتدي) করি না; আমরা অনুগমন করি এবং বিদআত (نبتدع) করি না। আর যতক্ষণ আমরা বর্ণনা (الأثر) আঁকড়ে থাকব, ততক্ষণ আমরা পথভ্রষ্ট হব না।" ১।
এবং তিনি বলেন: "তোমরা বিদআত (التبدع), অনর্থক কঠোরতা ও অতিগভীরতা থেকে সাবধান থাকো এবং তোমরা আদি পথ বা আদর্শ (العتيق) আঁকড়ে ধরো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقال: "اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم، وكل بدعة ضلالة".
وقال: "إنها ستكون أمور مشتبهات فعليكم بالتُّؤدة، فإنك أن تكون تابعاً في الخير خيرٌ من أن تكون رأساً في الشر".
وقال: "إنكم اليوم على الفطرة، وستحدثون ويحدث لكم، فإذا رأيتم محدثاً فعليكم بالهدي الأول ".
وقال: "عليكم بالطريق فلئن لزمتموه لقد سبقتم سبقاً بعيداً، ولئن خالفتموه يميناً وشمالاً لقد ضللتم ضلالاً بعيداً"1.
وكتب الخليفة عمر بن عبد العزيز- رحمه الله إلى بعض عماله: "أوصيك بتقوى الله والاقتصاد في أمره وإتباع سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وترك ما أحدث المحدثون بعده فيما جرت به سنته وكُفوا مؤنته، واعلم أنه لم يبتدع إنسان بدعة إلا قدم قبلها ما هو دليل عليها وعبرة فيها، فعليك
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নব-উদ্ভাবন (تبتدعوا) করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট তা প্রদান করা হয়েছে; আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবনই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।"
এবং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে অনেক অস্পষ্ট ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় (مشتبهات) প্রকাশ পাবে, তাই তোমাদের কর্তব্য হলো ধীরস্থিরতা ও সতর্কতা (بالتؤدة) অবলম্বন করা। কেননা কল্যাণের পথে অনুসারী হওয়া মন্দের পথে নেতা হওয়ার চেয়ে উত্তম।"
এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আজ স্বভাবজাত ধর্মের (الفطرة) ওপর প্রতিষ্ঠিত আছো, অচিরেই তোমরা নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে (ستحدثون) এবং তোমাদের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করা হবে। সুতরাং যখন তোমরা কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثاً) দেখবে, তখন তোমাদের জন্য আদি হেদায়েত (بالهدي الأول) আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য।"
এবং তিনি বলেছেন: "তোমাদের জন্য সঠিক পথ (الطريق) অনুসরণ করা আবশ্যক; যদি তোমরা তা আঁকড়ে ধরো তবে তোমরা বহু অগ্রগামী হয়ে যাবে। আর যদি তোমরা ডানে-বামে তা থেকে বিচ্যুত হও, তবে তোমরা ঘোর পথভ্রষ্টতায় (ضلالاً) নিপতিত হবে।"1.
এবং খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর জনৈক গভর্নরের নিকট লিখেছিলেন: "আমি তোমাকে আল্লাহভীতি (تقوى), তাঁর নির্দেশের পালনে মধ্যপন্থা (الاقتصاد) অবলম্বন এবং তাঁর রাসুল—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের অসিয়ত করছি। আরও অসিয়ত করছি তাঁর পরে নব-উদ্ভাবনকারীদের (المحدثون) প্রবর্তিত বিষয়সমূহ বর্জনের, যেক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ (سنته) ইতিপূর্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার জন্য যথেষ্ট পাথেয় প্রদান করা হয়েছে। জেনে রেখো, কোনো ব্যক্তিই কোনো নব-উদ্ভাবন (بدعة) করে না যার পূর্বে তার বিপক্ষে প্রমাণ ও শিক্ষা অতিবাহিত হয়নি। সুতরাং তোমার কর্তব্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৫)
بلزوم السنة، فإنها لك- بإذن الله- عصمة، واعلم أن من سن السنن قد علم ما في خلافها من الخطأ والزلل والتعمق والحمق، فإن السابقين عن علم وقفوا، وببصر نافذ كفوا، وكانوا هم أقوى على البحث ولم يبحثوا"1.
وقال محمد بن سيرين- رحمه الله: (كانوا يقولون: إذا كان الرجل على الأثر فهو على الطريق"2.
وقال الأوزاعي- رحمه الله: "نَدُور مع السنة حيث دارت"3.
وقال أبو العالية الرياحي: "تعلموا الإسلام فإذا تعلمتموه فلا ترغبوا عنه وعليكم بالصراط المستقيم، فإن الصراط المستقيم الإسلام، ولا تنحرفوا عن الصراط المستقيم يميناً وشمالاً، وعليكم بسنة نبيكم، وإياكم وهذه الأهواء التي تلقي بين أهلها العداوة والبغضاء"4.
--------------------------------------------
সুন্নাহকে (السنة) আঁকড়ে ধরুন, কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় এটি আপনার জন্য সুরক্ষা। জেনে রাখুন, যিনি সুন্নাহসমূহ প্রবর্তন করেছেন, তিনি ভালো করেই জানতেন যে এর বিরুদ্ধাচরণে কী ধরণের ভুল, বিচ্যুতি, অতিরঞ্জন এবং মূর্খতা রয়েছে। নিশ্চয়ই পূর্বসূরিগণ জ্ঞানের ভিত্তিতেই থেমে গিয়েছিলেন এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির কারণেই তাঁরা বিরত থেকেছেন; অথচ তাঁরা তথ্য অনুসন্ধানে অধিক শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও তা করেননি।"১।
মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাঁরা (সালাফগণ) বলতেন: যতক্ষণ কোনো ব্যক্তি বর্ণনার (الأثر) ওপর অটল থাকেন, ততক্ষণ তিনি সঠিক পথেই থাকেন।"২।
ইমাম আওযায়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সুন্নাহ (السنة) যেদিকে আবর্তিত হয়, আমরাও সেদিকেই আবর্তিত হই।"৩।
আবু আল-আলিয়াহ আর-রিয়াহি বলেন: "তোমরা ইসলাম শিক্ষা করো; আর যখন তা শিখে ফেলবে, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ো না। তোমরা সরল পথের (الصراط المستقيم) ওপর অটল থাকো, কেননা ইসলামই হলো সরল পথ। সরল পথ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হয়ো না। তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ (السنة) আঁকড়ে ধরো এবং ঐসব প্রবৃত্তি (الأهواء) থেকে বেঁচে থাকো যা মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ায়।"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
فمن أراد لنفسه الفوز والنجاة عليه أن يلزم غرز هؤلاء ويسلك نهجهم ويتبع طريقهم، ومن كان كذلك فقد سبق سبقاً بعيدا وفاز فوزاً عظيما.
অতএব, যে ব্যক্তি নিজের জন্য সফলতা ও মুক্তি কামনা করে, তার উচিত এদের পদাঙ্ক দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, তাদের পন্থায় চলা এবং তাদের পথ অনুসরণ করা। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে সুদূরপ্রসারী অগ্রগামিতা লাভ করবে এবং এক মহাসাফল্যে মণ্ডিত হবে।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
نقول عن السلف في ذلك…وإن من نهج أهل السنة والجماعة وسبيلهم مع ولاة أمرهم: أنهم يرون وجوب السمع والطاعة لهم في المنشط والمكرة أبراراً كانوا أو فجاراً، وإنما الطاعة في المعروف، فإن أمروا بمعصية الله فلا طاعة لمخلوق في معصية الخالق، وينصحون لهم، ولا يدعون عليهم بل يدعون لهم بالصلاح والمعافاة، ولا يرون جواز الخروج عليهم ولا قتالهم ولا نزع يد الطاعة منهم، وإن جاروا وظلموا، بل يعدون ذلك من البدع المحدثة.
قال إمام أهل السنة الإمام المبجل أحمد بن حنبل- رحمه الله: "أصول السنة عندنا: التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والإقتداء بهم وترك البدع، وكل بدعة فهي ضلالة، وترك الخصومات والجلوس مع أصحاب الأهواء، وترك المراء والجدال والخصومات في الدين.
এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের (سلف) উদ্ধৃতিসমূহ…নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও তাদের শাসকদের সাথে তাদের অনুসৃত পথ হলো: তারা শাসকদের কথা শোনা ও তাদের আনুগত্য করাকে আবশ্যিক (واجب) মনে করেন—তা স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থায় হোক বা অপছন্দনীয় অবস্থায়, শাসকরা নেককার হোক বা পাপাচারী। তবে আনুগত্য কেবল সৎকাজে (معروف); যদি তারা আল্লাহর নাফরমানির নির্দেশ দেয়, তবে স্রষ্টার নাফরমানি করে সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই। তারা শাসকদের কল্যাণ কামনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন না বরং তাদের সংশোধন ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেন। শাসকরা জুলুম ও অবিচার করলেও তারা তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা, তাদের সাথে লড়াই করা কিংবা আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেওয়া বৈধ মনে করেন না; বরং তারা এগুলোকে নব-আবিষ্কৃত বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করেন।
আহলে সুন্নাতের ইমাম, মহিমান্বিত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ (أصول السنة) হলো: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের (صحابة) আদর্শকে আঁকড়ে ধরা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত (بدعة) বর্জন করা। প্রতিটি বিদআতই (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)। এছাড়া ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করা, প্রবৃত্তির অনুসারীদের (أصحاب الأهواء) সাথে উঠাবসা ত্যাগ করা এবং দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক ও বিবাদ বর্জন করা।"
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৭)
والسنة عندنا آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم، والسنة تفسر القرآن، وهي دلائل القرآن، وليس في السنة قياس ولا تُضِرَب لها الأمثال، ولا تُدرَك بالعقول ولا الأهواء، إنما هي الإتباع وترك الهوى، ومن السنة اللازمة التي من ترك منها خصلة لم يقلها ويؤمن بهالم يكن من أهلها1.
… فذكر أموراً ثم قال: والسمع والطاعة للأئمة وأمير المؤمنين البر والفاجر، ومن ولي الخلافة فاجتمع الناس عليه ورضوا به، ومن غلبهم بالسيف حتى صار خليفة وسمي أمير المؤمنين.
والغزو ماض مع الأمراء إلى يوم القيامة، البر والفاجر لا يترك، وقسمة الفيء وإقامة الحدود إلى الأئمة ماضٍ ليس لأحد أن يطعن عليهم ولا ينازعهم، ودفع
--------------------------------------------
আমাদের নিকট সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনাসমূহ (آثار)। সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং তা হলো কুরআনের প্রমাণ ও নির্দেশিকা। সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো অনুমান (قياس) নেই এবং এর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করা হয় না, আর তা বুদ্ধি-বিবেক কিংবা প্রবৃত্তির তাড়না (أهواء) দ্বারা অনুধাবন করা যায় না। বরং এটি হলো কেবল অনুসরণ করা এবং প্রবৃত্তিকে বর্জন করা। আর অপরিহার্য সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন বিষয়সমূহ, যার মধ্য থেকে কেউ যদি একটি বৈশিষ্ট্যও ত্যাগ করে, তা স্বীকার না করে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে সে এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না ১।
… অতঃপর তিনি বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করলেন এবং তারপর বললেন: ইমামগণ এবং আমিরুল মুমিনীন-এর কথা শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা অপরিহার্য, তিনি নেককার হোন কিংবা পাপাচারী। আর যে ব্যক্তি খেলাফতের (خلافة) দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে এবং মানুষ তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, কিংবা যে ব্যক্তি তরবারির মাধ্যমে তাদের ওপর বিজয়ী হয়ে খলিফা (خليفة) হয়েছে এবং আমিরুল মুমিনীন হিসেবে অভিহিত হয়েছে।
আর যুদ্ধ বা অভিযান আমিরদের নেতৃত্বে কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে, নেতা নেককার হোক কিংবা পাপাচারী হোক, তা ত্যাগ করা যাবে না। আর ফায় (فيء) সম্পদ বণ্টন এবং দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার দায়িত্ব ইমামদের ওপর ন্যস্ত এবং তা অব্যাহত থাকবে; কারো জন্য তাদের সমালোচনা করা বা তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়। এবং প্রদান করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصدقات إليهم جائزة ونافذة، من دفعها إليهم أجزأت عنه براً كان أو فاجراً.
وصلاة الجمعة خلفه وخلف من ولَّى جائزة تامة ركعتين، من أعادهما فهو مبتدع تارك للآثار مخالف للسنة ليس له من فضل الجمعة شيء، إذا لم ير الصلاة خلف الأئمة من كانوا برهم وفاجرهم، فالسنة أن تصلي معهم ركعتين من أعادهما فهو مبتدع، وتدين بأنها تامة ولا يكن في صدرك من ذلك شك.
ومن خرج على إمام المسلمين وقد كان الناس اجتمعوا عليه وأقروا له بالخلافة بأي وجه كان بالرضا أو بالغلبة فقد شق هذا الخارج عصا المسلمين وخالف الآثار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن مات الخارج عليه مات ميتة جاهلية. ولا يحل قتال السلطان ولا الخروج عليه لأحد من الناس، فمن فعل ذلك فهو مبتدع على غير السنة والطريق
… "1.
--------------------------------------------
তাদের কাছে সদকা প্রদান করা বৈধ (جائزة) এবং কার্যকর; যে ব্যক্তি তাদের কাছে তা প্রদান করবে, সে নেককার হোক বা পাপাচারী হোক, তা তার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে এবং তার নিযুক্ত প্রতিনিধির পেছনে জুমার নামাজ আদায় করা বৈধ (جائزة) ও পূর্ণাঙ্গ দুই রাকাত হিসেবে গণ্য। যে ব্যক্তি এই নামাজ পুনরায় পড়বে সে বিদআতি (مبتدع), বর্ণনা (آثار) বর্জনকারী এবং সুন্নাহর (سنة) পরিপন্থী। তার জন্য জুমার কোনো সওয়াব নেই যদি সে ইমামগণ নেককার হোক বা পাপাচারী—তাদের পেছনে নামাজ আদায় করাকে বৈধ মনে না করে। সুন্নাহ (সنة) হলো তুমি তাদের সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়বে এবং বিশ্বাস করবে যে এটিই পূর্ণাঙ্গ নামাজ। এ ব্যাপারে তোমার মনে যেন কোনো সন্দেহ না থাকে।
আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে—অথচ জনগণ তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং যেকোনো পন্থায়, সন্তুষ্টির মাধ্যমে হোক কিংবা বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে হোক, তার খিলাফতের ব্যাপারে স্বীকৃতি দিয়েছে—তবে এই বিদ্রোহী ব্যক্তি মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (آثار) বিরোধিতা করল। এমতাবস্থায় যদি সেই বিদ্রোহী মারা যায়, তবে সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল। সুলতানের বিরুদ্ধে লড়াই করা কিংবা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কারো জন্য বৈধ নয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে বিদআতি (مبتدع) এবং সুন্নাহ (سنة) ও সঠিক পথের ওপর নেই
… "1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم ذكر بقية الأصول- أصول الله التي من فارقها لم يكن من أهل السنة-.
وذكر نحواً من هذا وقريباً منه االإمام علي بن المديني في عقيدته1.
وقال الإمام أحمد- رحمه الله أيضاً:. "هذه مذاهب أهل العلم وأصحاب الأثر، وأهل السنة المتمسكين بعروقها المعروفين بها، المقتدى بهم فيها، من لدن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، وأدركت من أدركت من علماء أهل الحجاز والشام وغيرهم عليها، فمن خالف شيئاً من هذه المذاهب أو طعن فيها أو عاب قائلها فهو مبتدع خارج من الجماعة، زائل عن منهج السنة وسبيل الحق ".
وذكر أموراً من أصول الاعتقاد منها قوله: "
… والانقياد إلى من ولاه الله أمركم، لا تنزع يداً من طاعته، ولا تخرج عليه بسيفك حتى يجعل الله لك
--------------------------------------------
এরপর তিনি অবশিষ্ট মূলনীতিসমূহ (الأصول)—আল্লাহর সেই মূলনীতিসমূহ যা কেউ বর্জন করলে সে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত থাকে না—তা উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আলী ইবনুল মাদিনীও তাঁর আকিদাহ গ্রন্থে এই ধরণের এবং এর নিকটবর্তী বিষয় উল্লেখ করেছেন।১
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "এগুলো হলো ইলমের অধিকারী ব্যক্তি ও আসহাবুল আছার (أصحاب الأثر)-দের মতাদর্শ (مذاهب) এবং সেই আহলুস সুন্নাহর পথ, যারা সুন্নাহর মূল ভিত্তি আঁকড়ে ধরেছেন ও এর মাধ্যমেই সুপরিচিত হয়েছেন এবং যাদেরকে এই বিষয়ে অনুসরণ করা হয়—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে শুরু করে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত। আমি হিজাজ, শাম ও অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি, তাদের সবাইকে এই মূলনীতির ওপর অটল পেয়েছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মতাদর্শের (مذاهب) কোনো কিছুর বিরোধিতা করবে, কিংবা এতে আক্রমণ করবে অথবা এর প্রবক্তার নিন্দা করবে, সে একজন বিদআতী (مبتدع), জামাআত থেকে বহিষ্কৃত এবং সুন্নাহর মানহাজ (منهج) ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত।"
তিনি বিশ্বাসের মূলনীতিসমূহ (أصول الاعتقاد) থেকে আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি: "
… এবং আল্লাহ যাকে তোমাদের বিষয়াবলির দায়িত্ব দিয়েছেন তার প্রতি অনুগত থাকা; তার আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নেবে না এবং তার বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের জন্য কোনো পথ প্রশস্ত করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১০)
فرجاً ومخرجاً، ولا تحرج على السلطان، وتسمع وتطيع، ولا تنكث بيعة، فمن فعل ذلك فهو مبتدع مخالف مفارق للجماعة، وإن أمرك السلطان بأمر هو لله معصية، فليس لك أن تطيعه ألبتة، وليس لك أن تخرج عليه ولا تمنعه حقه
… "1.
وقال الإمام البخاري- رحمه الله: "لقيت أكثر من ألف رجل من أهل العلم أهل الحجاز ومكة والمدينة والكوفة والبصرة وواسط وبغداد والشام ومصر
… وذكر جماعة منهم ثم قال: ما رأيت واحداً منهم يختلف في هذه الأشياء
… فذكر أموراً منها:
وأن لا ننازع الأمر أهله لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "ثلاث لا يَغِل عليهن قلب امرىء مسلم: إخلاص العمل لله، وطاعة ولاة الأمر، ولزوم جماعتهم، فإن دعوتهم تحيط من ورائهم"2. ثم أكد في قوله: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا
--------------------------------------------
...মুক্তির পথ এবং নির্গমন পথ (দান করবেন), আর তোমরা শাসকের বিরুদ্ধে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করো না। তোমরা কথা শুনবে ও আনুগত্য করবে এবং বায়আত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করবে না। যে ব্যক্তি তা করবে সে একজন বিদআতী (مبتدع), সত্যের বিরোধী (مخالف) এবং জামাত বা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিচ্ছিন্নকারী (مفارق للجماعة)। যদি শাসক তোমাকে এমন কোনো কাজের নির্দেশ দেয় যা আল্লাহর অবাধ্যতা (معصية), তবে তোমার জন্য কোনোভাবেই তার সেই আনুগত্য করা বৈধ নয়; কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বা তার প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করাও তোমার জন্য জায়েজ নয়
… "1.
এবং ইমাম বুখারী -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন- বলেছেন: "আমি হিজাজ, মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, ওয়াসিত, বাগদাদ, শাম এবং মিশরের এক হাজারেরও বেশি আলিম বা ইলম অন্বেষী ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি
… অতঃপর তিনি তাদের একটি দলের কথা উল্লেখ করে বলেন: আমি তাদের কাউকে এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে দেখিনি
… এরপর তিনি কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ছিল:
এবং আমরা যেন নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হই, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি বিষয় এমন যাতে কোনো মুসলিম ব্যক্তির অন্তর খিয়ানত করে না: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকবর্গের আনুগত্য করা এবং তাদের জামাতের সাথে আবশ্যিকভাবে লেগে থাকা; কারণ তাদের দোয়া বা আহ্বান তাদের সকলকে পেছন থেকে বেষ্টন করে রাখে।"2. অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা জোরালো করেছেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১১)
الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} 1: وأن لا يرى السيف على أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وقال الفضيل: لو كانت لي دعوة مستجابة لم أجعلها إلا في إمام، لأنه إذا صلح الإمام أمن البلاد والعباد. قال ابن المبارك: يا معلم الخير من يجزي على هذا غيرك"2.
وقال أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي: "سألت أبي وأبا زرعة عن مذهب أهل السنة في أصول الدين وما أدركا عليه العلماء في جميع الأمصار وما يعتقدان من ذلك؟ فقالا: أدركنا العلماء في جميع الأمصار حجازاً وعراقاً وشاماً ويمناً فكان من مذهبهم
… فذكرا أموراً منها:
… ونقيم الجهاد والحج مع أئمة المسلمين في كل دهر وزمان، ولا نرى الخروج على الأئمة ولا القتال في
--------------------------------------------
{রাসূলকে এবং তোমাদের মধ্যকার আদেশদানকারীদের (أولي الأمر)} ১: এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরা বৈধ মনে না করা। ফুযায়েল বলেন: "যদি আমার এমন কোনো দোয়া থাকতো যা কবুল করা হবে, তবে আমি তা ইমাম (শাসক)-এর জন্যই নির্দিষ্ট করতাম; কারণ ইমাম যখন সংশোধিত হন, তখন দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকে।" ইবনুল মুবারক বলেন: "হে কল্যাণের শিক্ষক! আল্লাহ ছাড়া আর কে আপনাকে এর প্রতিদান দিবে?" ২।
আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতেম আর-রাজি বলেন: "আমি আমার পিতা এবং আবু যুর'আকে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের মাযহাব এবং বিশ্বের সকল প্রান্তের আলেমদের তারা কোন বিষয়ের ওপর পেয়েছেন এবং নিজেরা কী বিশ্বাস পোষণ করেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা দুজনে বললেন: আমরা হেজাজ, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়ামেনসহ বিশ্বের সকল প্রান্তের আলেমদের পেয়েছি। তাদের মাযহাব ছিল
… অতঃপর তারা বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করলেন যার মধ্যে ছিল:
… আমরা প্রত্যেক যুগে ও সময়ে মুসলিম ইমামদের সাথে জিহাদ ও হজ সম্পাদন করব। আমরা ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (الخروج) করা বা লড়াই করা বৈধ মনে করি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفتنة، ونسمع ونطيع لمن ولاه الله عز وجل أمرنا، ولا ننزع يداً من طاعة، ونتبع السنة والجماعة، ونجتنب الشذوذ والخلاف والفرقة، فإن الجهاد ماض مذ بعث الله عز وجل نبيه عليه الصلاة والسلام إلى قيام الساعة مع ولي الأمر من أئمة المسلمين لا يبطله شيء، والحج كذلك، ودفع الصدقات من السوائم إلى أولي الأمر من أئمة المسلمين
… "1.
وقال سهل بن عبد الله التُّسْتَري وقد قيل له: متى يعلم الرجل أنه على السنة والجماعة؟
قال: "إذا علم من نفسه عشر خصال:
لا يترك الجماعة، ولا يسب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يخرج على هذه الأمة بالسيف، ولا يكذب بالقدر، ولا يشك في الإيمان، ولا يماري في الدين، ولا يترك الصلاة على من يموت من أهل القبلة بالذنب، ولا يترك المسح عل الخفين، ولا يترك الجماعة خلف كل وال جَارَ أو عَدَل "2.
--------------------------------------------
...ফিতনা; আর আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর যাদেরকে কর্তৃত্ব দান করেছেন, আমরা তাদের কথা শুনি ও আনুগত্য করি। আমরা আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নিই না; আমরা সুন্নাহ ও জামায়াত অনুসরণ করি এবং বিচ্যুতি (شذوذ), মতবিরোধ ও বিচ্ছিন্নতা পরিহার করি। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন থেকে তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরণ করেছেন, তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম ইমামদের মধ্য থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অধীনে জিহাদ অব্যাহত থাকবে; কোনো কিছুই একে বাতিল করতে পারবে না। হজও তদ্রূপ; আর চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদিপশুর জাকাত মুসলিম ইমামদের মধ্য থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান করা
… "১।
সহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুসতারি বলেন—তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি কখন জানবে যে সে সুন্নাহ ও জামায়াতের ওপর রয়েছে?
তিনি বললেন: "যখন সে নিজের মধ্যে দশটি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাবে:
সে জামায়াত ত্যাগ করে না, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণকে গালি দেয় না, এই উম্মাহর বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করে না, ভাগ্যকে অস্বীকার করে না, ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে না, দ্বীন নিয়ে বিতর্ক করে না, কিবলাপন্থীদের মধ্য থেকে কেউ পাপের কারণে মারা গেলে তার জানাজা ত্যাগ করে না, মোজার ওপর মাসাহ করা পরিত্যাগ করে না এবং প্রত্যেক শাসক—চাই সে অত্যাচারী হোক বা ন্যায়পরায়ণ—তার পেছনে জামায়াত ত্যাগ করে না।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال الإمام أبو جعفر الطحاوي: "ولا نرى الخروج على أئمتنا وولاة أمورنا وإن جاروا، ولا ندعو عليهم ولا ننزع يداً من طاعتهم، ونرى طاعتهم من طاعة الله عز وجل، ما لم يأمروا بمعصية، وندعو لهم بالصلاح والعافية"1.
وقال الإمام البربهاري- رحمه الله: "واعلم أن جور السلطان لا ينقص فريضة من فرائض الله التي افترضها على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم، جوره على نفسه، وتطوعك وبرك معه تام إن شاء الله تعالى، يعني الجماعة والجمعة والجهاد معهم وكل شيء من الطاعات فشاركهم فيه، وإذا رأيت الرجل يدعو على السلطان فاعلم أنه صاحب هوى، وإذا سمعت الرجل يدعو للسلطان بالصلاح فاعلم أنه صاحب سنة إن شاء الله، يقول الفضيل بن عياض: لو كان لي دعوة ما جعلتها إلا في السلطان. فأُمرنا أن ندعو لهم بالصلاح، ولم نؤمر أن ندعو عليهم وإن جاروا وظلموا؛ لأن جورهم وظلمهم عل أنفسهم وعلى
--------------------------------------------
ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবি বলেন: "আমরা আমাদের ইমাম এবং আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা (خروج) বৈধ মনে করি না, যদিও তারা অন্যায় করেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করি না এবং তাদের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিই না। আমরা তাদের আনুগত্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের অংশ মনে করি, যতক্ষণ না তারা কোনো পাপের নির্দেশ দেন। আমরা তাদের জন্য সংশোধন ও নিরাপত্তার দোয়া করি।"1.
ইমাম আল-বারবাহারি - রহিমাহুল্লাহ - বলেন: "জেনে রাখুন যে, শাসকের অবিচার আল্লাহর কোনো ফরজ বিধানকে হ্রাস করে না, যা তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবানিতে নির্ধারণ করেছেন। তার জুলুম তার নিজের ওপর বর্তাবে, আর তার সাথে আপনার নফল ও নেক আমল ইনশাআল্লাহ পূর্ণ হবে। অর্থাৎ জামাত, জুমা, তাদের সাথে জিহাদ এবং আনুগত্যের সকল কাজে তাদের সাথে শরিক হোন। যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে সুলতানের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে দেখবেন, তখন জানবেন যে সে প্রবৃত্তিপূজারী (صاحب هوى)। আর যখন কোনো ব্যক্তিকে সুলতানের জন্য সংশোধনের দোয়া করতে শুনবেন, তখন জানবেন যে সে সুন্নাহর অনুসারী (صاحب سنة) ইনশাআল্লাহ। ফুদাইল ইবনে আইয়াদ বলেন: 'যদি আমার এমন একটি দোয়া থাকত যা কবুল হবে, তবে আমি তা সুলতান ছাড়া অন্য কারো জন্য করতাম না।' সুতরাং আমাদের তাদের জন্য সংশোধনের দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, যদিও তারা অন্যায় ও জুলুম করে; কারণ তাদের অন্যায় ও জুলুম তাদের নিজেদের ওপর এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المسلمين، وصلاحهم لأنفسهم وللمسلمين "1.
وقال الإمام ابن بطة العكبري: "
… ونحن الآن ذاكرون شرح السنة ووصفها وما هي في نفسها، وما الذي إذا تمسك به العبد ودان الله به سُمى بها واستحق الدخول في جملة أهلها، وما إن خالفه أو شيئاً منه دخل في جملة من عبناه وذكرناه وحذر منه من أهل البدع والزيغ، مما أجمع على شرحنا له أهل الإسلام وسائر الأمة مذ بعث الله نبيه صلى الله عليه وسلم إلى وقتنا هذا".
وذكر جملة من هذه الأصول ثم قال:
"ثم من بعد ذلك الكف والقعود في الفتنة ولا تخرج بالسيف على الأئمة وإن ظلموا.
وقال عمر بن الخطاب- رضي الله عنه: "إن ظلمك فاصبر، وإن حرمك فاصبر".
وقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي ذر: "اصبر وإن كان عبداً حبشياً" 2.
--------------------------------------------
মুসলিমদের, এবং তাদের নিজেদের ও মুসলিমদের জন্য তাদের সংশোধন "1.
ইমাম ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী বলেছেন: "
… আমরা এখন সুন্নাহর ব্যাখ্যা ও তার স্বরূপ বর্ণনা করছি এবং এটি মূলত কী, আর সেটি এমন কী বিষয় যা আঁকড়ে ধরলে এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করলে বান্দাকে সেই নামে অভিহিত করা হয় এবং সে এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা লাভ করে। আর যদি সে এর বা এর কোনো অংশের বিরোধিতা করে, তবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের আমরা সমালোচনা করেছি ও উল্লেখ করেছি এবং যাদের থেকে অর্থাৎ বিদআত (بدعة) ও বিভ্রান্তির অনুসারীদের থেকে সতর্ক করেছি; যে বিষয়ে আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণের সময় থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত মুসলিমগণ ও উম্মতের সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।"
তিনি এই মূলনীতিসমূহের (أصول) একটি সমষ্টি উল্লেখ করে বলেন:
"অতঃপর এরপরে ফিতনা (فتنة)-এর সময় বিরত থাকা ও নিবৃত্ত থাকা এবং শাসকদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ না করা, যদিও তারা জুলুম করে।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যদি সে তোমার প্রতি জুলুম করে তবে ধৈর্য ধারণ করো, আর যদি তোমাকে বঞ্চিত করে তবে ধৈর্য ধারণ করো।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু যরকে বলেছেন: "ধৈর্য ধারণ করো, যদিও সে একজন হাবশী দাস হয়" 2.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد أجمعت العلماء من أهل الفقه والعلم والنسك والعباد والزهاد من أول هذه الأمة إلى وقتنا هذا: أن صلاة الجمعة والعيدين ومنى وعرفات والغزو والحج والهدي مع كل أمير بر وفاجر، وإعْطَاءَهم الخراج والصدقات والأعشار جائز، والصلاة في المساجد العظام التي بنوها، والمشي على القناطر والجسور التي عقدوها، والبيع والشراء وسائر التجارة والزراعة والصنائع كلها في كل عصر، ومع كل أمير جائز على حكم الكتاب والسنة، لا يضر المحتاط لدينه والمتمسك بسنة نبيه صلى الله عليه وسلم ظلم ظالم ولا جور جائر إذا كان ما يأتيه هو على حكم الكتاب والسنة، كما أنه لو باع واشترى في زمن الإمام العادل بيعاً يخالف الكتاب والسنة لم ينفعه عدل الإمام، والمحاكمة إلى قضاتهم ورفع الحدود والقصاص وانتزاع الحقوق من أيدي الظلمة بأمرائهم وشرطهم، والسمع والطاعة لمن والوه وإن كان عبداً حبشياً إلا في معصيته الله عز وجل، فليس لمخلوق فيها طاعة، ثم من بعد ذلك اعتقاد الديانة بالنصيحة للأئمة وسائر الأمة في الدين والدنيا
এই উম্মতের সূচনা থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত ফকিহ, আলিম, আবিদ এবং যাহেদগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে: প্রত্যেক আমীর বা নেতার সাথে—তিনি পুণ্যবান হোন কিংবা পাপাচারী—জুমার সালাত, দুই ঈদের সালাত, মিনা ও আরাফাতের অবস্থান, জিহাদ, হজ এবং কুরবানির পশু (هدي) উৎসর্গ করা বৈধ (جائز)। তাঁদেরকে খারাজ (خراج), সদকা ও উশর (عشور) প্রদান করা বৈধ (جائز)। তাঁদের নির্মিত সুবিশাল মসজিদসমূহে সালাত আদায় করা, তাঁদের তৈরি করা সেতু ও কালভার্টের ওপর দিয়ে চলাচল করা এবং প্রতিটি যুগে প্রতিটি আমীরের অধীনে কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) বিধান অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয়সহ সকল প্রকার ব্যবসা, কৃষি ও শিল্পকর্ম পরিচালনা করা বৈধ (جائز)। যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনকারী এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর (سنة) অনুসারী, কোনো যালেমের যুলুম বা অত্যাচারীর অবিচার তার কোনো ক্ষতি করবে না, যদি তার নিজের সম্পাদিত কাজ কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) বিধান অনুযায়ী হয়। ঠিক যেমন কোনো ব্যক্তি যদি একজন ন্যায়পরায়ণ ইমামের যুগে কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) পরিপন্থী কোনো ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে ইমামের ন্যায়পরায়ণতা তার কোনো উপকারে আসবে না। তাঁদের নিযুক্ত বিচারকদের নিকট বিচারপ্রার্থনা করা, নির্ধারিত দণ্ড (حدود) ও কিসাস (قصاص) কার্যকর করা এবং তাঁদের আমীর ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে যালেমদের হাত থেকে অধিকার আদায় করে নেওয়া বৈধ। তাঁরা যাকে নেতৃত্বে মনোনীত করবেন, তাঁর কথা শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক, যদিও তিনি একজন হাবশি ক্রীতদাস হন; তবে মহান আল্লাহর নাফরমানির ক্ষেত্রে নয়, কারণ স্রষ্টার নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই। অতঃপর দ্বীনদারির অংশ হিসেবে ইমামগণ এবং সাধারণ মুসলিম উম্মাহর জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে কল্যাণকামিতা (نصيحة) পোষণ করা কর্তব্য।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومحبة الخير لسائر المسلمين، تحب لهم ما تحب نفسك وتكره لهم ما تكره لنفسك"1.
وقال أبو منصور معمر بن أحمد الأصبهاني في رسالته التي جمعها في السنة لما رأى غربة السنة وكثرة الحوادث واتباع الأهواء.. قال: "ثم من السنة الانقياد للأمراء والسلطان بأنه لا يخرج عليهم بالسيف وإن جاروا، وأن يسمعوا له وأن يطيعوا وإن كان عبداً حبشياً أجدع، ومن السنة الحج معهم والجهاد معهم وصلاة الجمعة والعيدين خلف كل بر وفاجر
… ".
وقال في تمامها: "ويشهد لهذا الفصل المجموع من السنة كتب الأئمة، فأول ذلك كتاب السنة عن عبد الله بن أحمد بن حنبل وكتاب السنة لأبي مسعود وأبي زرعة وأبي حاتم، وكتاب السنة لعبد الله بن محمد بن النعمان وكتاب السنة لأبي عبد الله محمد بن يوسف البنا الصوفي- رحمهم الله أجمعين، ثم كتب السنن للمتأخرين مثل أبي أحمد العسال، ألفوا كتب السنة، فاجتمع هؤلاء كلهم على
--------------------------------------------
এবং সকল মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করা; আপনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন তাদের জন্যও তা-ই পছন্দ করবেন এবং নিজের জন্য যা অপছন্দ করেন তাদের জন্যও তা অপছন্দ করবেন।"১.
আবু মনসুর মুয়াম্মার ইবনে আহমদ আল-আসফাহানি তাঁর সেই রিসালায় (পুস্তিকায়) বলেছেন যা তিনি সুন্নাহ বিষয়ে সংকলন করেছেন যখন তিনি সুন্নাহর একাকীত্ব (غربة), ফিতনার প্রাচুর্য এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ লক্ষ্য করলেন... তিনি বলেন: "অতঃপর আমীর ও সুলতানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এই অর্থে যে, তাদের বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে বিদ্রোহ করা যাবে না যদিও তারা অন্যায় করে। তাদের কথা শুনতে হবে এবং আনুগত্য করতে হবে যদিও সে একজন অঙ্গহীন হাবশী দাস হয়। তাদের সাথে হজ ও জিহাদ করা এবং প্রত্যেক পুণ্যবান ও পাপাচারী (فاجر) ব্যক্তির পেছনে জুমুআ ও দুই ঈদের সালাত আদায় করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত
… "।
এবং তিনি এর সমাপ্তিতে বলেছেন: "সুন্নাহর এই সংকলিত অনুচ্ছেদের পক্ষে ইমামগণের কিতাবসমূহ সাক্ষ্য দেয়। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণিত সুন্নাহ গ্রন্থ, আবু মাসউদ, আবু যুরআহ ও আবু হাতিমের সুন্নাহ গ্রন্থ, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুমানের সুন্নাহ গ্রন্থ এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-বান্না আস-সুফির সুন্নাহ গ্রন্থ—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) আলেমদের সুনান গ্রন্থসমূহ যেমন আবু আহমদ আল-আসসালের গ্রন্থ; তাঁরা সুন্নাহর ওপর কিতাব রচনা করেছেন। তাঁরা সকলে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إثبات هذا الفصل من السنة.."1.
وقال الإمام أبو إسماعيل الصابوني: "ويرى أصحاب الحديث الجمعة والعيدين وغيرهما من الصلوات خلف كل إمام مسلم براً كان أو فاجراً، ويرون جهاد الكفرة معهم وإن كانوا جورة فجرة، ويرون الدعاء لهم بالإصلاح والتوفيق والصلاح وبسط العدل في الرعية، ولا يرون الخروج عليهم بالسيف، وإن رأوا منهم العدول عن العدل إلى الجور والحيف، ويرون قتال الفئة الباغية حتى ترجع إلى طاعة الإمام العدل"2.
وقال التيمي: "فصل يتعلق باعتقاد أهل السنة ومذهبهم
… وطاعة أولي الأمر واجبة، وهي من أوكد السنن، ورد بها الكتاب والسنة، ولا طاعة لمخلوق في معصية الخالق) 3.
والنقول عن أهل السنة والجماعة في تقرير هذا الأصل
--------------------------------------------
সুন্নাহর এই অধ্যায়ের প্রমাণ.."১.
ইমাম আবু ইসমাঈল আস-সাবুনী বলেন: "হাদিসের অনুসারীগণ প্রত্যেক মুসলিম ইমামের পেছনে জুমুআ, দুই ঈদ এবং অন্যান্য সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করেন, তিনি সৎকর্মশীল হোন কিংবা পাপাচারী (فاجر)। তারা তাদের নেতৃত্বে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকেও বৈধ মনে করেন, যদিও তারা জালিম কিংবা পাপাচারী (فجرة) হন। তারা তাদের (শাসকদের) সংশোধন, তাওফিক, কল্যাণ এবং প্রজাদের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করা কর্তব্য মনে করেন। এবং তারা তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার দিয়ে বিদ্রোহ করা বৈধ মনে করেন না, যদিও তারা তাদের পক্ষ থেকে ইনসাফ থেকে বিচ্যুত হয়ে জুলুম ও অবিচারের পথ অবলম্বন করতে দেখেন। তারা বিদ্রোহী দলের (فئة باغية) বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করা সমীচীন মনে করেন যতক্ষণ না তারা ন্যায়পরায়ণ ইমামের আনুগত্যে ফিরে আসে।"২.
আত-তৈমী বলেন: "আহলুস সুন্নাহর আকিদা ও মাযহাব সংশ্লিষ্ট একটি পরিচ্ছেদ
… উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করা আবশ্যক (واجب), এবং এটি সুন্নাহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তবে স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।" ৩.
এই মূলনীতি (أصل) প্রমাণের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের উদ্ধৃতিসমূহ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثابت كثيرة جداً، ولا يخلو كتاب من كتب أهل السنة والجماعة المؤلفة في شرح السنة وأصول الاعتقاد من تقرير هذا الأصل وبيانه وشرحه.
সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) প্রমাণাদি অত্যন্ত অধিক; আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের এমন কোনো গ্রন্থ নেই যা সুন্নাহর ব্যাখ্যা ও আকিদার মূলনীতি (أصول الاعتقاد) বিষয়ে রচিত এবং যাতে এই মূলনীতিটির (أصل) নির্ধারণ, এর বর্ণনা ও বিশদ ব্যাখ্যা স্থান পায়নি।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من الأمثلة العملية لتطبيق أهل السنة والجماعة لهذا المنهج…ثم إن من الأمثلة العملية في تطبيق أهل السنة والجماعة لهذا المنهج القويم مع ولاة الأمر؛ موقف الإمام أحمد إمام أهل السنة- رحمه الله عندما جاءه نفر من فقهاء بغداد وشاوروه في ترك الرضا بإمرة الواثق وسلطانه الذي ظهر القول بخلق القرآن ودعا إليه وأمر بتدريسه للصبيان في الكتاتيب، وقرب من القضاة وغيرهم من قال به، وعزل وأبعد من خالفه، فأنكر الإمام أحمد عليهم ذلك وأكثر من نهيهم عن ذلك وقال: "لا تخلعوا يداً من طاعة، ولا تَشُقُّوا عَصَا المسلمين، ولا تسفكوا دماءكم ولا دماء المسلمين معكم، انظروا في عاقبة أمركم، ولا تعجلوا
… ".
هكذا أوصاهم وصية العالم السني الحكيم، فخالفوه وكان ما كان.
قال حنبل بن إسحاق بن حنبل: "
… لما أظهر
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের এই কর্মপন্থা (منهج) প্রয়োগের কিছু বাস্তব উদাহরণ…এরপর শাসকবর্গের (ولاة الأمر) সাথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের এই সঠিক কর্মপন্থা (منهج) প্রয়োগের বাস্তব উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে; আহলে সুন্নাতের ইমাম—ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থান, যখন বাগদাদের একদল ফকিহ (فقهاء) তাঁর নিকট আসেন এবং ওয়াসিকের শাসন ও কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও সন্তুষ্টি ত্যাগের বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করেন। কারণ সেই সময় 'কুরআন সৃষ্টি' (خلق القرآن) হওয়ার মতবাদ প্রকাশ পেয়েছিল এবং ওয়াসিক এর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিলেন ও মক্তবগুলোতে শিশুদের এটি শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যারা এই মতবাদ পোষণ করত, তিনি তাদের বিচারক (قضاة) ও অন্যান্য পদে আসীন করেছিলেন, আর যারা এর বিরোধিতা করত তাদের পদচ্যুত ও বহিষ্কার করেছিলেন। তখন ইমাম আহমাদ তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং তাদের বারবার এটি করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন: "আনুগত্যের (طاعة) হাত গুটিয়ে নিও না, মুসলমানদের ঐক্য (عصا) বিনষ্ট করো না, নিজেদের রক্ত ঝরিও না এবং তোমাদের সাথে অন্য মুসলমানদের রক্তও ঝরিও না। তোমাদের কর্মের পরিণতির দিকে লক্ষ্য করো এবং তাড়াহুড়া করো না..."।
এভাবেই একজন প্রজ্ঞাবান সুন্নি আলেম হিসেবে তিনি তাদের উপদেশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তারা তাঁর বিরোধিতা করল এবং যা ঘটার তাই ঘটল।
হাম্বল ইবনে ইসহাক ইবনে হাম্বল বলেন: "
… যখন তিনি প্রকাশ করলেন
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الواثق هذه المقالة، وضرب عليها وحبس، جاء نفر إلى أبي عبد الله من فقهاء أهل بغداد: فيهم بكر بن عبد الله، وإبراهيم بن علي المطبخي، وفضل بن عاصم، وغيرهم فأتوا أبا عبد الله وسألوا أن يدخلوا عليه فاستأذنت لهم فدخلوا عليه، فقالوا له: يا أبا عبد الله: إن الأمر قد فشا وتفاقم، وهذا الرجل يفعل ويفعل، وقد أظهر ما أظهر، ونحن نخافه على أكثر من هذا، وذكروا له أن ابن أبي دؤاد مضى على أن يأمر المعلمين بتعليم الصبيان في الكتاب مع القرآن، القرآن كذا وكذا.
فقال لهم أبو عبد الله: وماذا تريدون؟
قالوا: أتيناك نشاورك فيما نريد.
قال: فما تريدون؟
قالوا: لا نرضى بإمرته ولا بسلطانه.
فناظرهم أبو عبد الله ساعة، حتى قال لهم- وأنا حاضرهم-: "أرأيتم إن لم يبق لكم هذا الأمر، أليس قد صرتم من ذلك إلى المكروه؟ عليكم بالنكرة بقلوبكم، ولا تخلعوا يداً من طاعة، ولا تشقوا عصا المسلمين، ولا
আল-ওয়াসিক এই মতবাদটি গ্রহণ করেছিলেন এবং এর কারণে প্রহার ও কারারুদ্ধ করেছিলেন। এমতাবস্থায় বাগদাদের ফকিহদের (فقهاء) মধ্য থেকে একদল ব্যক্তি আবু আব্দুল্লাহর নিকট আগমন করলেন; তাদের মধ্যে ছিলেন বকর ইবনে আব্দুল্লাহ, ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-মাতবাখি, ফজল ইবনে আসিম এবং আরও অনেকে। তারা আবু আব্দুল্লাহর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি তাদের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করলে তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তারা তাঁকে বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ! বিষয়টি তো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। এই ব্যক্তি (খলিফা) যা করছেন এবং প্রকাশ্যে যা ঘোষণা করছেন, আমরা এর চেয়েও ভয়াবহ কিছুর আশঙ্কা করছি।" তারা তাঁর নিকট আরও উল্লেখ করলেন যে, ইবনে আবি দুয়াদ শিক্ষকদের এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করছেন যেন তারা মক্তবে শিশুদের কোরআনের পাশাপাশি এই মর্মে শিক্ষা প্রদান করে যে, কোরআন হলো এমন এবং তেমন (অর্থাৎ সৃষ্টি)।
অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ তাদের বললেন: "তোমরা আসলে কী চাও?"
তারা বললেন: "আমরা যা করতে মনস্থ করেছি সে বিষয়ে আপনার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি।"
তিনি বললেন: "তোমরা কী করতে চাও?"
তারা বললেন: "আমরা তার নেতৃত্ব ও শাসনের প্রতি সন্তুষ্ট নই।"
অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ তাদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলেন, এমনকি তিনি তাদের বললেন—এমতাবস্থায় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম—: "তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তোমাদের এই উদ্দেশ্য সফল না হয়, তবে কি তোমরা এর ফলে আরও অপছন্দনীয় (مكروه) পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে না? তোমাদের কর্তব্য হলো অন্তর দিয়ে ঘৃণা (نكرة) পোষণ করা, আনুগত্যের হাত গুটিয়ে না নেওয়া, মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট না করা এবং..."
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২০)
تسفكوا دماءكم ولا دماء المسلمين معكم، انظروا في عاقبة أمركم، ولا تعجلوا، واصبروا حتى يستريح بر، ويستراح من فاجر.
ودار بينهم في ذلك كلام كثير لم أحفظه، واحتج عليهم أبو عبد الله بهذا فقال بعضهم: إنا نخاف على أولادنا، إذا ظهر هذا لم يعرفوا غيره ويُمحى الإسلام ويدرس.
فقال أبو عبد الله: كلا، إن الله عز وجل ناصر دينه وإن هذا الأمر له رب ينصره، وإن الإسلام عزيز منيع.
فخرجوا من عند أبي عبد الله، ولم يجبهم إلى شيء مما عزموا عليه، أكثر من النهي عن ذلك والاحتجاج عليهم بالسمع والطاعة، حتى يفرج الله عن الأمة فلم يقبلوا منه.
فلما خرجوا، قال لي بعضهم: امض معنا إلى منزل فلان رجل سمو حتى نوعده لأمر نريد.
فذكرت ذلك لأبي، فقال لي أبي: لا تذهب واعتل
তোমরা তোমাদের রক্ত ঝরিয়ো না এবং তোমাদের সাথে থাকা মুসলিমদের রক্তও ঝরিয়ো না। তোমাদের কাজের পরিণাম চিন্তা করো, তাড়াহুড়ো করো না এবং ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না কোনো নেককার ব্যক্তি প্রশান্তি পায় অথবা কোনো পাপাচারী (فاجر) থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে যা আমি মুখস্থ রাখিনি। আবু আব্দুল্লাহ তাদের সামনে এই যুক্তি পেশ করলেন। তখন তাদের কেউ কেউ বলল: আমরা আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি; যদি এটি প্রকাশ পায়, তবে তারা এটি ছাড়া অন্য কিছু চিনবে না এবং ইসলাম বিলুপ্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
আবু আব্দুল্লাহ বললেন: কখনোই না, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী। আর এই দ্বীনের একজন রব রয়েছেন যিনি একে বিজয়ী করবেন। নিশ্চয়ই ইসলাম শক্তিশালী ও সুরক্ষিত।
অতঃপর তারা আবু আব্দুল্লাহর নিকট থেকে চলে গেল। তারা যা সংকল্প করেছিল, তার কোনো কিছুতেই তিনি তাদের সম্মতি দেননি। বরং তিনি তাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তাদের ওপর শ্রবণ ও আনুগত্য (السمع والطاعة) করার আবশ্যকতা নিয়ে দলীল পেশ করেছেন, যতক্ষণ না আল্লাহ এই উম্মাহর সংকট দূর করেন। কিন্তু তারা তাঁর কথা গ্রহণ করল না।
যখন তারা বেরিয়ে গেল, তখন তাদের একজন আমাকে বলল: আমাদের সাথে অমুক ব্যক্তির বাড়িতে চলো—যাকে তারা নির্দিষ্ট করেছিল—যাতে আমরা যে বিষয়টি চাচ্ছি সে ব্যাপারে তাকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে পারি।
আমি বিষয়টি আমার পিতার কাছে উল্লেখ করলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন: তুমি যেয়ো না এবং কোনো ওজর পেশ করো।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২১)
عليهم، فإني لا آمن أن يغمسوك معهم فيكون لأبي عبد الله في ذلك ذكر، فاعتللت عليهم ولم أمض معهم.
فلما انصرفوا دخلت أنا وأبي على أبي عبد الله، فقال أبو عبد الله لأبي: يا أبا يوسف هؤلاء قوم قد أشرب قلوبهم ما يخرج منها فيما أحسب، فنسأل الله السلامة، ما لنا ولهذه الآفة، وما أحب لأحد أن يفعل هذا. فقلت له: يا أبا عبد الله، وهذا عندك صواب؟ قال: لا، هذا خلاف الآثار التي أمرنا فيها بالصبر، ثم قال أبو عبد الله: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن ضربك فاصبر، وإن حرمك فاصبر، وإن وليت أمره فاصبر".
وقال عبد الله بن مسعود: كذا، وذكر أبو عبد الله كلاماً لم أحفظه.
قال حنبل: فمضى القوم، فكان من أمرهم أنهم لم يحمدوا، ولم ينالوا ما أرادوا، اختفوا من السلطان وهربوا وأُخد بعضهم فحبس، ومات في الحبس"1!؟
--------------------------------------------
তাদের বিরুদ্ধে; কারণ আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তারা আপনাকেও তাদের সাথে জড়িয়ে ফেলবে, যার ফলে আবু আব্দুল্লাহর নাম সেখানে আলোচিত হবে। তাই আমি তাদের কাছে ওজর পেশ করলাম এবং তাদের সাথে গেলাম না।
যখন তারা চলে গেল, আমি এবং আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন আবু আব্দুল্লাহ আমার পিতাকে বললেন: হে আবু ইউসুফ! এরা এমন এক গোষ্ঠী যাদের অন্তরে এমন কিছু গেঁথে দেওয়া হয়েছে যা থেকে তারা বের হতে পারছে না বলে আমি মনে করি। সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। এই বিপদের সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? আর আমি পছন্দ করি না যে কেউ এমন কাজ করুক। আমি তাকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! এটি কি আপনার দৃষ্টিতে সঠিক? তিনি বললেন: না, এটি আসার বা বর্ণনা (الآثار) সমূহের পরিপন্থী যাতে আমাদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি সে তোমাকে প্রহার করে তবে ধৈর্য ধরো, যদি সে তোমাকে বঞ্চিত করে তবে ধৈর্য ধরো, আর যদি তুমি তার শাসনাধীন হও তবে ধৈর্য ধরো।"
আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ অনুরূপ কথা বলেছেন—আবু আব্দুল্লাহ আরও কিছু কথা বলেছিলেন যা আমি সংরক্ষণ করতে পারিনি।
হাম্বল বলেন: অতঃপর সেই লোকেরা চলে গেল, এবং তাদের কাজের পরিণতি এই হলো যে তারা প্রশংসিত হলো না এবং তারা যা চেয়েছিল তাও অর্জন করতে পারল না। তারা শাসকের নিকট থেকে আত্মগোপন করল এবং পালিয়ে বেড়ালো; তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হলো এবং কারাগারেই মৃত্যুবরণ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২২)
وفي هذه القصة أبلغ عظة في خطورة مخالفة منهج أهل السنة والجماعة في هذا الأصل العظيم، وأن مفارق منهجهم لا يجنى من ذلك إلا مثل هذه العواقب الوخيمة، إضافة إلى مجانبته للحق ومفارقته الصواب.
ومثال آخر: فهذا شيخ الإسلام ابن تيمية- رحمه الله قد عاش في زمن كانت السلطة فيه لديها قصور وتقصير بَيِّنٌ، بل إنه- رحمه اطه- أوذي من قبل السلطة بسبب تقريره ونشره لعقيدة أهل السنة والجماعة، ورده على الفرق الضالة كالصوفية والأشعرية، وسجن بسبب ذلك مراراً، حتى إنه- رحمه الله مات محبوساً بقلعة دمشق1.
ومع ذلك كان شديد التحذير من الخروج عل الولاة ونزع اليد من الطاعة، ويبين أن هذا المسلك يترتب عليه من الفساد ما هو أعظم مما يقع من الولاة من فسق أو ظلم أو حور.
--------------------------------------------
এই কাহিনীতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের এই মহান মূলনীতির বিরোধিতার ভয়াবহতা সম্পর্কে এক মহা উপদেশ নিহিত রয়েছে। তাদের মানহাজ বা কর্মপন্থা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলে কেবল এই ধরনের ভয়াবহ পরিণতিই ভোগ করতে হয়; সেই সাথে এটি সত্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং সঠিক পথ বর্জন করার নামান্তর।
অন্য একটি উদাহরণ: এই যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)—তিনি এমন এক সময়ে বসবাস করতেন যখন শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে প্রকাশ্য ত্রুটি ও অবহেলা বিদ্যমান ছিল। এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ব্যাখ্যা ও প্রচারের কারণে এবং সুফিবাদ ও আশআরিয়ার মতো পথভ্রষ্ট দলগুলোর প্রতিবাদ করার কারণে তিনি রাষ্ট্রশক্তির পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে তাকে বারবার কারারুদ্ধ হতে হয়, এমনকি তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দামেস্কের দুর্গে বন্দি থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।১
এতদসত্ত্বেও তিনি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এবং আনুগত্যের বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করতেন। তিনি ব্যাখ্যা করতেন যে, এই পথ অবলম্বনের ফলে যে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তা শাসকদের পাপাচার, জুলুম কিংবা অবিচারের ফলে সৃষ্ট ফাসাদ অপেক্ষা বহুগুণ বড়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال- رحمه الله: "ولهذا كان المشهور من مذهب أهل السنة أنهم لا يرون الخروج على الأئمة وقتالهم بالسيف وإن كان فيهم ظلم، كما دلت على ذلك الأحاديث الصحيحة المستفيضة عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الفساد في القتال والفتنة أعظم من الفساد الحاصل بظلمهم بدون قتال ولا فتنة، فلا يدفع أعظم الفسادين بالتزام أدناهما، ولعله لا يكاد يعرف طائفة خرجت على ذي سلطان إلا وكان في خروجها من الفساد ما هو أعظم من الفساد الذي أزالته
… "1.
--------------------------------------------
তিনি -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন- বলেছেন: "আর এ কারণেই আহলে সুন্নাতের মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত হলো এই যে, তাঁরা ইমাম বা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার দিয়ে লড়াই করা বৈধ মনে করেন না, যদিও তাদের মধ্যে জুলুম বিদ্যমান থাকে। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيحة) ও সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) হাদিসসমূহ নির্দেশ করে; কেননা লড়াই এবং ফিতনা (فتنة) এর মাঝে যে বিপর্যয় রয়েছে, তা লড়াই ও ফিতনা (فتنة) বিহীন তাদের জুলুমের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের চেয়ে বড়। সুতরাং দুটি বিপর্যয়ের মধ্যে ক্ষুদ্রতরটি গ্রহণের মাধ্যমে বৃহত্তরটিকে প্রতিহত করা যায় না। আর সম্ভবত এমন কোনো দল সম্পর্কে জানা যায় না যারা কোনো শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, অথচ তাদের সেই বিদ্রোহের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় তারা যে বিপর্যয় দূর করতে চেয়েছিল তার চেয়ে বড় ছিল না
… "১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعريف موجز برسالة ابن تيمية المحققة…وفي هذه الرسالة التي بين أيدينا أبان شيخ الإسلام منهج أهل السنة والجماعة مع ولاة أمرهم، وأورد على ذلك الدلائل الكثيرة والحجج الوفيرة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وهي رغم صغر حجمها إلاّ أنها وافية كافية.
وقد ضمنها- رحمه الله فصلاً مستقلاً رد فيه على من يفتي الناس بالخروج على ولاة الأمور، ونزع اليد من
ইবনে তাইমিয়্যাহর সম্পাদিত (محقق) রিসালার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি…আমাদের সামনে বিদ্যমান এই রিসালায় শায়খুল ইসলাম শাসকবর্গের প্রতি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ বা কর্মপন্থা বর্ণনা করেছেন এবং এর স্বপক্ষে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ (سنة) থেকে বহুবিদ দলিল ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। এটি কলেবরে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সারগর্ভ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।
তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এতে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাতে তিনি ঐ সকল ব্যক্তিদের খণ্ডন করেছেন যারা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এবং আনুগত্যের হাত ছিন্ন করার বিষয়ে মানুষকে ফতোয়া প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
طاعتهم، قال فيه: "
… ومن أفتى مثل هؤلاء بمخالفة ما حلفوا عليه [أي: من لزوم الطاعة والنصيحة للولاة] والحنث في أيمانهم، فهو مفتر على الله الكذب، مفتٍ بغير دين الإسلام
… ".
وقد سبق أن طبعت رسالته هذه ضمن مجموع فتاواه (35/5-17) ، ورأيت مناسبة طبعها مفردة ليعم نفعها وتعظم فائدتها، وقد عُنيت في هذه الطبعة تصحيح الأخطاء المطبعية اليسيرة الواقعة في الأصل، وعزوت الآيات إلى أماكنها، وخرجت الأحاديث باختصار، وعلقت على مواطن يسيرة منها، وجعلت بين يدي الرسالة مقدمة نقلت فيها جملة من النقول المبينة لمنهج أهل السنة والجماعة مع ولاة أمرهم.
هذا والله الكريم أسألُ أن ينفعَ بهذا الجهد، وأن يجعله لوجهه خالصاً ولسنة نبيه صلى الله عليه وسلم مطابقاً إنه سميع مجيب قريب.
وكتب: عبد الرزاق البدر
তাদের আনুগত্য; তিনি এতে বলেছেন: "
… এবং যে ব্যক্তি এই ধরনের লোকদের তাদের কৃত শপথের [অর্থাৎ: শাসকদের আনুগত্য ও সদুপদেশ প্রদানের আবশ্যকতা] বিরুদ্ধাচরণ করতে এবং শপথ ভঙ্গ করার ফতোয়া দেয়, তবে সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদকারী (مفتر) এবং ইসলাম বহির্ভূত বিষয়ে ফতোয়া প্রদানকারী
… "।
ইতিপূর্বে তাঁর এই রিসালাহটি মাজমুউ ফাতাওয়া (৩৫/৫-১৭)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। আমি এটি স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করা সমীচীন মনে করেছি যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং এর সুফল বৃদ্ধি পায়। এই মুদ্রণে মূল পাঠে থাকা সামান্য কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ স্থানে উদ্ধৃত করেছি, হাদিসসমূহ সংক্ষেপে উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছি এবং কিছু স্থানে সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করেছি। এছাড়া রিসালাহটির শুরুতে একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি যেখানে শাসকদের প্রতি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ (منهج) স্পষ্টকারী একদল ইমামের উদ্ধৃতি রয়েছে।
পরিশেষে, আমি মহানুভব আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করেন, এটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالص) করেন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুগামী করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, কবুলকারী ও অতি নিকটবর্তী।
লিখেছেন: আব্দুর রাজ্জাক আল-বদর
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نص الرسالةالحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، ونشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم تسليماً.
أما بعدة فهذه قاعدةٌ مختصرةٌ في وجوب طاعة الله ورسوله في كل حال على كل أحدٍ، وأن ما أمر الله به ورسوله من طاعة الله وولاة الأمور ومناصحتهم واجبٌ، وغير ذلك من الواجبات.
قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعاً بَصِيراً} 1، وقال
--------------------------------------------
রিসালাহ’র মূল পাঠসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত মূলনীতি (قاعدة), যা প্রতিটি অবস্থায় এবং প্রত্যেকের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের অপরিহার্যতা (وجوب) সম্পর্কে; এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আল্লাহ ও উলুল আমরদের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করার এবং তাঁদের কল্যাণকামিতার (مناصحة) ব্যাপারে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা যে আবশ্যিক (واجب), সেই সাথে অন্যান্য আবশ্যিক (واجب) বিষয়সমূহ সম্পর্কে।
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার মালিকদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছেন তা অত্যন্ত চমৎকার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।} ১, এবং তিনি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} 1.
فأمر الله المؤمنين بطاعته وطاعة رسوله وأولي الأمر منهم، كما أمرهم أن يؤدوا الأمانات إلى أهلها، وإذا حكموا بين الناس أن يحكموا بالعدل، وأمرهم إذا تنازعوا في شيء أن يردوه إلى الله والرسول.
قال العلماء: الرد إلى الله هو الرد إلى كتابه، والرد إلى الرسول بعد موته هو الرد إلى سنته، قال الله تعالى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَاّ الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْياً بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} ১।
সুতরাং আল্লাহ মুমিনদেরকে তাঁর আনুগত্য করার, তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার এবং তাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন; যেমন তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আমানতসমূহ তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং যখন মানুষের মাঝে বিচার করে, তখন যেন ইনসাফের সাথে বিচার করে। আর তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন তারা কোনো বিষয়ে মতবিরোধ করবে, তখন যেন তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেয়।
উলামাগণ বলেছেন: আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর তাঁর ইন্তেকালের পর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর সুন্নাহর (سنة) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মানুষ ছিল এক উম্মত (أمة); অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীগণকে প্রেরণ করলেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন, যাতে মানুষের মাঝে সে বিষয়ে ফয়সালা করা যায় যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করেছিল। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পরও কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তারা তাতে মতবিরোধ করেছিল। অতঃপর তারা যে সত্য বিষয়ে মতবিরোধ করেছিল, আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে মুমিনদেরকে সেদিকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন মুখতাসারাতুন ফী উজুবিল তআতিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি ওয়া উলাতিল উমুর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 1 فجعل الله الكتاب الذي أنزله هو الذي يحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه.
وفي صحيح مسلم وغيره عن عائشة- رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قام يصلي بالليل يقول: "اللهم رب جبرائيل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم" 2.
وفي صحيح مسلم عن تميم الداري- رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الدين النصيحة، الدين النصيحة، الدين النصيحة ". قالوا: لمن يا رسول الله؟ قال: "لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمة المسلمين3
--------------------------------------------
সরল সঠিক পথের দিকে।} ১ সুতরাং আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তাকেই তিনি মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত, তার মীমাংসাকারী নির্ধারণ করেছেন।
সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন, তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফিলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে যাতে তারা মতভেদ করত। সত্যের যে বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তাতে আপনার অনুমতিতে আমাকে হেদায়াত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে চান তাকে সরল সঠিক পথের দিশা দেন।" ২
সহীহ মুসলিমে তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "দীন হলো নসিহত (শুভাকাঙ্ক্ষা), দীন হলো নসিহত, দীন হলো নসিহত।" তারা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞেস করলেন: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমামদের জন্য।" ৩
--------------------------------------------