(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
إعلام الموقعين عن رب العالمين - ط العلمية   (ابن القيم)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: إعلام الموقعين عن رب العالمين

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)

تحقيق: محمد عبد السلام إبراهيم

الناشر: دار الكتب العلمية - ييروت

الطبعة: الأولى، 1411هـ - 1991م

عدد الأجزاء:4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: উসূলুল ফিকহ

গ্রন্থ: ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন

লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)

তাহকীক: মুহাম্মদ আবদুস সালাম ইব্রাহিম

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ خَلْقَهُ أَطْوَارًا، وَصَرَّفَهُمْ فِي أَطْوَارِ التَّخْلِيقِ كَيْف شَاءَ عِزَّةً وَاقْتِدَارًا، وَأَرْسَلَ الرُّسُلَ إلَى الْمُكَلَّفِينَ إعْذَارًا مِنْهُ وَإِنْذَارًا، فَأَتَمَّ بِهِمْ عَلَى مَنْ اتَّبَعَ سَبِيلَهُمْ نِعْمَتَهُ السَّابِغَةَ، وَأَقَامَ بِهِمْ عَلَى مَنْ خَالَفَ مَنَاهِجَهُمْ حُجَّتَهُ الْبَالِغَةَ، فَنَصَبَ الدَّلِيلَ، وَأَنَارَ السَّبِيلَ، وَأَزَاحَ الْعِلَلَ، وَقَطَعَ الْمَعَاذِيرَ، وَأَقَامَ الْحُجَّةَ، وَأَوْضَحَ الْمُحَجَّةَ، وَقَالَ: {هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} [الأنعام: 153] وَهَؤُلَاءِ رُسُلِي {مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [النساء: 165] ، فَعَمَّهُمْ بِالدَّعْوَةِ عَلَى أَلْسِنَةِ رُسُلِهِ حُجَّةً مِنْهُ وَعَدْلًا، وَخَصَّ بِالْهِدَايَةِ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ نِعْمَةً وَفَضْلًا، فَقِيلَ: نِعْمَةُ الْهِدَايَةِ مَنْ سَبَقَتْ لَهُ سَابِقَةُ السَّعَادَةِ وَتَلَقَّاهَا بِالْيَمِينِ، وَقَالَ: {رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ} [النمل: 19] ، وَرَدَّهَا مَنْ غَلَبَتْ عَلَيْهِ الشَّقَاوَةُ وَلَمْ يَرْفَعْ بِهَا رَأْسًا بَيْنَ الْعَالَمِينَ، فَهَذَا فَضْلُهُ وَعَطَاؤُهُ {وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا} [الإسراء: 20] وَلَا فَضْلُهُ بِمَمْنُونٍ، وَهَذَا عَدْلُهُ وَقَضَاؤُهُ فَلَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ فَسُبْحَانَ مَنْ أَفَاضَ عَلَى عِبَادِهِ النِّعْمَةَ، وَكَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ، وَأَوْدَعَ الْكِتَابَ الَّذِي كَتَبَهُ، إنَّ رَحْمَتَهُ تَغْلِبُ غَضَبَهُ، وَتَبَارَكَ مَنْ لَهُ فِي كُلِّ شَيْءٍ عَلَى رُبُوبِيَّتِهِ وَوَحْدَانِيِّتِهِ وَعِلْمِهِ وَحِكْمَتِهِ أَعْدَلُ شَاهِدٍ، وَلَوْ لَمْ يَكُنْ إلَّا أَنْ فَاضَلَ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي مَرَاتِبِ الْكَمَالِ حَتَّى عَدَلَ الْآلَافَ الْمُؤَلَّفَةَ مِنْهُمْ بِالرَّجُلِ الْوَاحِدِ، ذَلِكَ لِيَعْلَمَ عِبَادُهُ أَنَّهُ أَنْزَلَ التَّوْفِيقَ مَنَازِلَهُ، وَوَضَعَ الْفَضْلَ مَوَاضِعَهُ، وَأَنَّهُ {يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ} [آل عمران: 74] {وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [التحريم: 2] ، {وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [الحديد: 29] أَحْمَدُهُ وَالتَّوْفِيقُ لِلْحَمْدِ مِنْ نِعَمِهِ، وَأَشْكُرُهُ وَالشُّكْرُ كَفِيلٌ بِالْمَزِيدِ مِنْ فَضْلِهِ وَكَرْمِهِ وَقَسَمِهِ، وَاسْتَغْفِرْهُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ مِنْ الذُّنُوبِ الَّتِي تُوجِبُ زَوَالَ نِعَمِهِ وَحُلُولَ نِقَمِهِ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَه إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ كَلِمَةٌ قَامَتْ بِهَا الْأَرْضُ وَالسَّمَوَاتُ، وَفَطَرَ اللَّهُ عَلَيْهَا جَمِيعَ الْمَخْلُوقَاتِ، وَعَلَيْهَا أُسِّسَتْ الْمِلَّةُ، وَنُصِبَتْ الْقِبْلَةُ، وَلِأَجْلِهَا جُرِّدَتْ سُيُوفُ
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টিকে বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সম্মান ও ক্ষমতার দাবি অনুযায়ী সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের যেভাবে ইচ্ছা পরিচালিত করেছেন। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে অজুহাত নিরসন ও সতর্কবাণী হিসেবে মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর বিধান অর্পিত হয়) নিকট রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। অতঃপর যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছে, তাঁদের মাধ্যমে তিনি স্বীয় পরিপূর্ণ অনুগ্রহ পূর্ণ করেছেন। আর যারা তাঁদের পন্থার বিরোধিতা করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি সুদৃঢ় প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতঃপর তিনি দলীল স্থাপন করেছেন, পথ আলোকিত করেছেন, অজুহাতসমূহ দূর করেছেন, ওজরসমূহ ছিন্ন করেছেন, প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সঠিক পথ সুস্পষ্ট করেছেন। এবং তিনি বলেছেন: {এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না} [আল-আনআম: ১৫৩]। আর এঁরাই আমার রাসূল {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলদের (আগমনের) পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে} [আন-নিসা: ১৬৫]। তিনি তাঁর রাসূলদের মুখে দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে সবার কাছে তাঁর প্রমাণ ও ন্যায়বিচারকে ব্যাপক করেছেন, আর তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াতের জন্য মনোনীত করেছেন। সুতরাং বলা হয়েছে: হিদায়াতের নিয়ামত তার জন্য যার তকদীরে পূর্বেই সৌভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে এবং সে তা ডান হাতে গ্রহণ করেছে। এবং সে বলেছে: {হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন} [আন-নামল: ১৯]। আর একে প্রত্যাখ্যান করেছে সে, যার ওপর দুর্ভাগ্য প্রবল হয়েছে এবং জগতসমূহের মাঝে যে এর প্রতি মাথা তুলে তাকায়নি। এটিই তাঁর অনুগ্রহ ও দান {এবং আপনার রবের দান অবারিত} [আল-ইসরা: ২০] এবং তাঁর অনুগ্রহ কখনো শেষ হবার নয়। আর এটিই তাঁর ন্যায়বিচার ও ফয়সালা; তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন এবং তাঁর লিখিত কিতাবে সংরক্ষণ করেছেন যে, নিশ্চয়ই তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর বিজয়ী হয়। বরকতময় সেই সত্তা যাঁর রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), একত্ববাদ, জ্ঞান ও হিকমতের জন্য প্রতিটি বস্তুর মাঝেই ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী বিদ্যমান। আর যদি কেবল এটাই থাকতো যে, তিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে পূর্ণতার স্তরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের সমান একজনকে করে দিয়েছেন। আর এটি একারণে যাতে তাঁর বান্দারা জানতে পারে যে, তিনি তাওফীককে তার যথাস্থানে অবতীর্ণ করেন এবং অনুগ্রহকে তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করেন। আর নিশ্চয়ই {তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেন} [আলে ইমরান: ৭৪] {এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আত-তাহরীম: ২], {এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল} [আল-হাদীদ: ২৯]। আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং প্রশংসার এই তাওফীক লাভ করাও তাঁরই অন্যতম অনুগ্রহ। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি এবং শুকরিয়া তাঁর অনুগ্রহ, দান ও বন্টনের প্রবৃদ্ধির জামিনদার। আমি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সেই সব গুনাহ থেকে তাঁর কাছে তওবা করছি যা তাঁর অনুগ্রহ হরণ করে এবং তাঁর শাস্তি ডেকে আনে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এটি এমন এক কালিমা যার ওপর ভিত্তি করে আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত এবং যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। আর এর ওপরই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিবলা নির্ধারিত হয়েছে এবং এর জন্যই উন্মুক্ত করা হয়েছে তরবারি...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الْجِهَادِ، وَبِهَا أَمَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ جَمِيعَ الْعِبَادِ؛ فَهِيَ فِطْرَةُ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا، وَمِفْتَاحُ عُبُودِيَّتِهِ الَّتِي دَعَا الْأُمَمَ عَلَى أَلْسُنِ رُسُلِهِ إلَيْهَا، وَهِيَ كَلِمَةُ الْإِسْلَامِ؛ وَمِفْتَاحُ دَارِ السَّلَامِ، وَأَسَاسُ الْفَرْضِ وَالسُّنَّةِ، وَمَنْ كَانَ آخِرَ كَلَامِهِ لَا إلَه إلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ

وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَخِيرَتُهُ مِنْ خَلْقِهِ، وَحُجَّتُهُ عَلَى عِبَادِهِ، وَأَمِينُهُ عَلَى وَحْيِهِ، أَرْسَلَهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمَيْنِ، وَقُدْوَةً لِلْعَالَمَيْنِ، وَمُحَجَّةً لِلسَّالِكِينَ، وَحُجَّةً عَلَى الْمُعَانِدِينَ، وَحَسْرَةً عَلَى الْكَافِرِينَ، أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدَيْنِ الْحَقِّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًّا إلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، وَأَنْعَمَ بِهِ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ نِعْمَةً لَا يَسْتَطِيعُونَ لَهَا شَكُورًا، فَأَمَدَّهُ بِمَلَائِكَتِهِ الْمُقَرَّبِينَ، وَأَيَّدَهُ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابَهُ الْمُبِينَ، الْفَارِقَ بَيْنَ الْهُدَى وَالضَّلَالِ وَالْغَيِّ وَالرَّشَادِ وَالشَّكِّ وَالْيَقِينِ، فَشَرَحَ لَهُ صَدْرَهُ، وَوَضَعَ عَنْهُ وِزْرَهُ، وَرَفَعَ لَهُ ذِكْرَهُ، وَجَعَلَ الذِّلَّةَ وَالصِّغَارَ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ، وَأَقْسَمَ بِحَيَاتِهِ فِي كِتَابِهِ الْمُبِينِ، وَقَرَنَ اسْمَهُ بِاسْمِهِ فَإِذَا ذُكِرَ ذُكِرَ مَعَهُ كَمَا فِي الْخُطَبِ وَالتَّشَهُّدِ وَالتَّأْذِينِ، وَافْتَرَضَ عَلَى الْعِبَادِ طَاعَتَهُ وَمَحَبَّتَهُ وَالْقِيَامَ بِحُقُوقِهِ، وَسَدَّ الطُّرُقَ كُلَّهَا إلَيْهِ وَإِلَى جَنَّتِهِ فَلَمْ يُفْتَحْ لِأَحَدٍ إلَّا مِنْ طَرِيقِهِ؛ فَهُوَ الْمِيزَانُ الرَّاجِحُ الَّذِي عَلَى أَخْلَاقِهِ وَأَقْوَالِهِ وَأَعْمَالِهِ تُوزَنُ الْأَخْلَاقُ وَالْأَقْوَالُ وَالْأَعْمَالُ، وَالْفُرْقَانُ الْمُبِينُ الَّذِي بِاتِّبَاعِهِ يُمَيَّزُ أَهْلُ الْهُدَى مِنْ أَهْلِ الضَّلَالِ، وَلَمْ يَزَلْ صلى الله عليه وآله وسلم مُشَمِّرًا فِي ذَاتِ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَرُدُّهُ عَنْهُ رَادٌّ، صَادِعًا بِأَمْرِهِ لَا يَصُدُّهُ عَنْهُ صَادٌّ، إلَى أَنْ بَلَّغَ الرِّسَالَةَ وَأَدَّى الْأَمَانَةَ وَنَصَحَ الْأَمَةَ وَجَاهَدَ فِي اللَّهِ حَقَّ الْجِهَادِ، فَأَشْرَقَتْ بِرِسَالَتِهِ الْأَرْضُ بَعْدَ ظُلُمَاتِهَا، وَتَأَلَّفَتْ بِهِ الْقُلُوبُ بَعْدَ شَتَاتِهَا، وَامْتَلَأَتْ بِهِ الْأَرْضُ نُورًا وَابْتِهَاجًا، وَدَخَلَ النَّاسُ فِي دَيْنِ اللَّهِ أَفْوَاجًا، فَلَمَّا أَكْمَلَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ الدِّينَ، وَأَتَمَّ بِهِ النِّعْمَةَ عَلَى عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ، اسْتَأْثَرَ بِهِ وَنَقَلَهُ إلَى الرَّفِيقِ الْأَعْلَى، وَالْمَحِلِّ الْأَسْنَى، وَقَدْ تَرَكَ أُمَّتَهُ عَلَى الْمَحَجَّةِ الْبَيْضَاءِ، وَالطَّرِيقِ الْوَاضِحَةِ الْغَرَّاءِ، فَصَلَّى اللَّهُ وَمَلَائِكَتُهُ وَأَنْبِيَاؤُهُ وَرُسُلُهُ وَالصَّالِحُونَ مِنْ عِبَادِهِ عَلَيْهِ وَآلِهِ كَمَا وَحَّدَ اللَّهَ وَعَرَّفَ بِهِ وَدَعَا إلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا

أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ أَوْلَى مَا يَتَنَافَسُ بِهِ الْمُتَنَافِسُونَ، وَأَحْرَى مَا يَتَسَابَقُ فِي حَلَبَةِ سِبَاقِهِ الْمُتَسَابِقُونَ، مَا كَانَ بِسَعَادَةِ الْعَبْدِ فِي مَعَاشِهِ وَمَعَادِهِ كَفِيلًا، وَعَلَى طَرِيقِ هَذِهِ السَّعَادَةِ دَلِيلًا، وَذَلِكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ اللَّذَانِ لَا سَعَادَةَ لِلْعَبْدِ إلَّا بِهِمَا، وَلَا نَجَاةَ لَهُ إلَّا بِالتَّعَلُّقِ بِسَبَبِهِمَا، فَمَنْ رُزِقَهُمَا فَقَدْ فَازَ وَغَنِمَ، وَمَنْ حُرِمَهُمَا فَالْخَيْرُ كُلُّهُ حُرِمَ، وَهُمَا مَوْرِدُ انْقِسَامِ الْعِبَادِ إلَى مَرْحُومٍ وَمَحْرُومٍ، وَبِهِمَا يَتَمَيَّزُ الْبَرُّ مِنْ الْفَاجِرِ وَالتَّقِيُّ مِنْ الْغَوِيِّ وَالظَّالِمُ مِنْ الْمَظْلُومِ، وَلَمَّا كَانَ الْعِلْمُ لِلْعَمَلِ قَرِينًا وَشَافِعًا، وَشَرَفُهُ لِشَرَفِ مَعْلُومِهِ تَابِعًا، كَانَ أَشْرَفُ الْعُلُومِ عَلَى الْإِطْلَاقِ عِلْمَ التَّوْحِيدِ، وَأَنْفَعُهَا عَلَى أَحْكَامِ أَفْعَالِ الْعَبِيدِ، وَلَا سَبِيلَ إلَى اقْتِبَاسِ
জিহাদ, যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল বান্দাকে নির্দেশ দিয়েছেন; এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত বা প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এবং এটিই তাঁর ইবাদত ও দাসত্বের চাবিকাঠি, যার দিকে তিনি তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে সকল উম্মতকে আহ্বান করেছেন। এটিই ইসলামের বাণী এবং শান্তি নিকেতনের (জান্নাতের) চাবিকাঠি, ফরয ও সুন্নতের ভিত্তি। আর যার শেষ কথা হবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রমাণ এবং তাঁর ওহীর আমানতদার। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, সৃষ্টিজগতের জন্য আদর্শ, পথিকদের জন্য উজ্জ্বল পথ, হঠকারিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ এবং কাফিরদের জন্য আক্ষেপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে সঠিক পথ ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ জমিনবাসীকে এমন নেয়ামত দান করেছেন যার জন্য তারা যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সক্ষম নয়। আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন এবং স্বীয় সাহায্য ও মুমিনদের মাধ্যমে তাঁকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেছেন তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব, যা সঠিক পথ ও ভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি ও হেদায়েত এবং সংশয় ও নিশ্চিত বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্যকারী। অতঃপর আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর বোঝা লাঘব করেছেন, তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং যে তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করবে তার জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে তাঁর জীবনের শপথ করেছেন এবং তাঁর নামের সাথে নিজের নামকে যুক্ত করেছেন; ফলে যখনই আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়, তাঁর নামও সাথে উল্লেখ করা হয়, যেমনটি খুতবা, তাশাহহুদ ও আযানে পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর অধিকারসমূহ আদায় করা ফরয করেছেন। তিনি নিজের দিকে এবং তাঁর জান্নাতের দিকে যাওয়ার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন; তাঁর পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ কারও জন্য খোলা হবে না। সুতরাং তিনিই সেই ভারী পাল্লা, যাঁর চরিত্র, কথা ও কাজের মানদণ্ডে মানুষের চরিত্র, কথা ও কাজ পরিমাপ করা হয়। তিনিই সেই সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী, যাঁর অনুসরণের মাধ্যমে হেদায়েতপ্রাপ্তদের থেকে পথভ্রষ্টদের আলাদা করা যায়। তিনি (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন, কোনো বাধাদানকারী তাঁকে তাঁর পথ থেকে ফেরাতে পারেনি। তিনি আল্লাহর নির্দেশ নির্ভীকভাবে প্রচার করেছেন, কোনো প্রতিবন্ধকতা তাঁকে বাধা দিতে পারেনি, যতক্ষণ না তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের হক আদায় করেছেন। ফলে তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী অন্ধকারের পর আলোকিত হয়েছে, তাঁর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হৃদয়গুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, পৃথিবী নূর ও আনন্দে ভরে উঠেছে এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেছে। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে দীনকে পূর্ণ করলেন এবং মুমিন বান্দাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সমাপ্ত করলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন এবং তাঁকে সর্বোচ্চ বন্ধু ও মহান মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্থানান্তরিত করলেন। তিনি তাঁর উম্মতকে একটি উজ্জ্বল শুভ্র পথ এবং সুস্পষ্ট দীপ্ত পথের ওপর রেখে গেছেন। আল্লাহর দরুদ, ফেরেশতাগণ, নবীগণ, রাসূলগণ এবং তাঁর নেক বান্দাদের পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষিত হোক, যেমনটি তিনি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করেছেন, আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাঁর দিকে আহ্বান করেছেন। আর তাঁর ওপর বর্ষিত হোক অফুরন্ত সালাম।

অতঃপর, প্রতিযোগীরা যে বিষয়ে প্রতিযোগিতার জন্য সবচেয়ে বেশি যোগ্য এবং প্রতিযোগিতার ময়দানে ধাবমান ব্যক্তিরা যার জন্য দৌড়ানো সবচাইতে সমীচীন মনে করে, তা হলো সেই বিষয় যা বান্দার ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের জামিনদার এবং সেই সৌভাগ্যের পথের দিশারি। আর তা হলো উপকারী ইলম এবং নেক আমল; যা ছাড়া বান্দার কোনো সৌভাগ্য নেই এবং যার অসিলা আঁকড়ে ধরা ছাড়া তার কোনো মুক্তি নেই। যাকে এ দুটি দান করা হয়েছে সে সফল ও লাভবান হয়েছে, আর যে এ দুটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই দুই বিষয়ের ভিত্তিতেই বান্দাগণ দয়াপ্রাপ্ত এবং বঞ্চিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এ দুটির মাধ্যমেই পুণ্যবান থেকে পাপাচারী, মুত্তাকী থেকে পথভ্রষ্ট এবং জালেম থেকে মজলুমের পার্থক্য করা হয়। যেহেতু ইলম ও আমল একে অপরের সঙ্গী ও সুপারিশকারী, আর ইলমের মর্যাদা তার জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদার অনুসারী, তাই নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম হলো তাওহীদের ইলম, এবং বান্দার আমলসমূহের বিধানাবলির ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে উপকারী ইলম। আর তা অর্জনের কোনো পথ নেই...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
هَذَيْنِ النُّورَيْنِ، وَتَلَقِّي هَذَيْنِ الْعِلْمَيْنِ، إلَّا مِنْ مُشَكَّاةِ مَنْ قَامَتْ الْأَدِلَّةُ الْقَاطِعَةُ عَلَى عِصْمَتِهِ، وَصَرَّحَتْ الْكُتُبُ السَّمَاوِيَّةُ بِوُجُوبِ طَاعَتِهِ وَمُتَابَعَتِهِ، وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ الَّذِي لَا يَنْطِقُ عَنْ الْهَوَى؛ إنْ هُوَ إلَّا وَحْيٌ يُوحَى

وَلَمَّا كَانَ التَّلَقِّي عَنْهُ صلى الله عليه وآله وسلم عَلَى نَوْعَيْنِ: نَوْعٌ بِوَاسِطَةٍ، وَنَوْعٌ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ، وَكَانَ التَّلَقِّي بِلَا وَاسِطَةٍ حَظَّ أَصْحَابِهِ الَّذِينَ حَازُوا قَصَبَاتِ السَّبَّاقِ، وَاسْتَوْلَوْا عَلَى الْأَمَدِ فَلَا طَمَعَ لِأَحَدٍ مِنْ الْأُمَّةِ بَعْدَهُمْ فِي اللِّحَاقِ، وَلَكِنْ الْمُبْرِزُ مَنْ اتَّبَعَ صِرَاطَهُمْ الْمُسْتَقِيمَ، وَاقْتَفَى مِنْهَاجَهُمْ الْقَوِيمَ وَالْمُتَخَلِّفُ مَنْ عَدَلَ عَنْ طَرِيقِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ، فَذَلِكَ الْمُنْقَطِعُ التَّائِهُ فِي بَيْدَاءِ الْمَهَالِكِ وَالضَّلَالِ، فَأَيُّ خَصْلَةٍ خَيْرٌ لَمْ يَسْبِقُوا إلَيْهَا؟ وَأَيُّ خُطَّةِ رُشْدٍ لَمْ يُسْتَوْلَوْا عَلَيْهَا؟ تَاللَّهِ لَقَدْ وَرَدُوا رَأْسَ الْمَاءِ مِنْ عَيْنِ الْحَيَاةِ عَذْبًا صَافِيًا زُلَالًا، وَأَيَّدُوا قَوَاعِدَ الْإِسْلَامِ فَلَمْ يَدَعُوا لِأَحَدٍ بَعْدَهُمْ مَقَالًا، فَتَحُوا الْقُلُوبَ بِعَدْلِهِمْ بِالْقُرْآنِ وَالْإِيمَانِ، وَالْقُرَى بِالْجِهَادِ بِالسَّيْفِ وَالسِّنَّانِ، وَأَلْقَوْا إلَى التَّابِعِينَ مَا تَلَقَّوْهُ مِنْ مُشَكَّاةِ النُّبُوَّةِ خَالِصًا صَافِيًا، وَكَانَ سَنَدُهُمْ فِيهِ عَنْ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وآله وسلم عَنْ جِبْرِيلَ عَنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ سَنَدًا صَحِيحًا عَالِيًا، وَقَالُوا: هَذَا عَهْدُ نَبِيِّنَا إلَيْنَا وَقَدْ عَهِدْنَا إلَيْكُمْ، وَهَذِهِ وَصِيَّةُ رَبِّنَا وَفَرْضُهُ عَلَيْنَا وَهِيَ وَصِيَّتُهُ وَفَرْضُهُ عَلَيْكُمْ، فَجَرَى التَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ عَلَى مِنْهَاجِهِمْ الْقَوِيمِ، وَاقْتَفُوا عَلَى آثَارِهِمْ صِرَاطَهُمْ الْمُسْتَقِيمِ، ثُمَّ سَلَكَ تَابِعُو التَّابِعِينَ هَذَا الْمَسْلَكَ الرَّشِيدَ، {وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ} [الحج: 24] ، وَكَانُوا بِالنِّسْبَةِ إلَى مَنْ قَبْلَهُمْ كَمَا قَالَ أَصْدَقُ الْقَائِلِينَ: {ثُلَّةٌ مِنَ الأَوَّلِينَ} [الواقعة: 13] {وَقَلِيلٌ مِنَ الآخِرِينَ} [الواقعة: 14] ثُمَّ جَاءَتْ الْأَئِمَّةُ مِنْ الْقَرْنِ الرَّابِعِ الْمُفَضَّلِ فِي إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ، كَمَا ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، فَسَلَكُوا عَلَى آثَارِهِمْ اقْتِصَاصًا، وَاقْتَبَسُوا هَذَا الْأَمْرَ عَنْ مِشْكَاتِهِمْ اقْتِبَاسًا، وَكَانَ دِينُ اللَّهِ سُبْحَانَهُ أَجَلَّ فِي صُدُورِهِمْ، وَأَعْظَمَ فِي نُفُوسِهِمْ، مِنْ أَنْ يُقَدِّمُوا عَلَيْهِ رَأْيًا أَوْ مَعْقُولًا أَوْ تَقْلِيدًا أَوْ قِيَاسًا، فَطَارَ لَهُمْ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ فِي الْعَالَمِينَ، وَجَعَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ، ثُمَّ سَارَ عَلَى آثَارِهِمْ الرَّعِيلُ الْأَوَّلُ مِنْ أَتْبَاعِهِمْ، وَدَرَجَ عَلَى مِنْهَاجِهِمْ الْمُوَفَّقُونَ مِنْ أَشْيَاعِهِمْ، زَاهِدِينَ فِي التَّعَصُّبِ لِلرِّجَالِ، وَاقِفِينَ مَعَ الْحُجَّةِ وَالِاسْتِدْلَالِ، يَسِيرُونَ مَعَ الْحَقِّ أَيْنَ سَارَتْ رَكَائِبُهُ، وَيَسْتَقِلُّونَ مَعَ الصَّوَابِ حَيْثُ اسْتَقَلَّتْ مَضَارِبُهُ، إذَا بَدَا لَهُمْ الدَّلِيلُ بِأُخْذَتِهِ طَارُوا
এই দুই নূর এবং এই দুই ইলম গ্রহণ করা অসম্ভব সেই প্রদীপ্ত আধার ব্যতীত যার পবিত্রতার ওপর অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত এবং যার আনুগত্য ও অনুসরণের আবশ্যকতা আসমানি কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে। তিনি হলেন সেই সত্যবাদী ও সত্যপ্রমাণকারী, যিনি নিজ খেয়ালখুশি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল প্রত্যাদেশ যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।

আর যেহেতু তাঁর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ দুই প্রকারের ছিল: এক প্রকার মাধ্যমসহ এবং অন্যটি মাধ্যম ব্যতীত; আর মাধ্যম ব্যতীত সরাসরি আহরণ ছিল কেবল তাঁর সাহাবীগণের সৌভাগ্য, যারা শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়েছেন এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন। সুতরাং তাঁদের পর উম্মতের আর কারো তাঁদের স্তরে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অগ্রগামী তো সেই ব্যক্তি যে তাঁদের সরল পথ অনুসরণ করল এবং তাঁদের সুদৃঢ় কর্মপন্থা অবলম্বন করল। আর সেই ব্যক্তিই পশ্চাৎপদ যে তাঁদের পথ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হলো; সে হলো সেই লক্ষ্যভ্রষ্ট যে ধ্বংস ও গোমরাহির মরুভূমিতে পথ হারিয়ে দিগভ্রান্ত হয়ে আছে। সুতরাং কল্যাণের এমন কোন্ গুণ আছে যাতে তাঁরা অগ্রগামী হননি? এবং হেদায়েতের এমন কোন্ কর্মপরিকল্পনা আছে যা তাঁরা আয়ত্ত করেননি? আল্লাহর শপথ! তাঁরা জীবন-উৎসের ঝরনাধারা থেকে সুমিষ্ট, স্বচ্ছ ও নির্মল বারি পান করেছেন এবং ইসলামের ভিত্তিগুলোকে এমন সুদৃঢ় করেছেন যে তাঁদের পর আর কারো কোনো বক্তব্যের অবকাশ রাখেননি। তাঁরা তাঁদের ইনসাফের মাধ্যমে কুরআন ও ঈমানের দ্বারা মানুষের অন্তর জয় করেছেন এবং জিহাদের মাধ্যমে দেশ ও জনপদ জয় করেছেন। তাঁরা নবুওয়াতের প্রদীপ্ত আধার থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছেন তা স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ অবস্থায় তাবিঈদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁদের নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) হতে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে রাব্বুল আলামীন পর্যন্ত তাঁদের সনদ ছিল একটি সহীহ ও সুউচ্চ সনদ। তাঁরা বলেছেন: "এটি আমাদের নিকট আমাদের নবীর অঙ্গীকার এবং আমরা তা তোমাদের নিকট সুপর্দ করছি; এটি আমাদের প্রতি আমাদের রবের অসিয়ত ও ফরজ বিধান এবং এটি তোমাদের ওপরও তাঁর অসিয়ত ও ফরজ।" অতঃপর তাবিঈগণ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের সুদৃঢ় কর্মপন্থায় পরিচালিত হলেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের সরল পথে অটল থাকলেন। এরপর তাবিউত তাবিঈগণ এই সঠিক পথ অনুসরণ করলেন। {তাঁদের পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল এবং পরিচালিত করা হয়েছিল প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে} [হজ্জ: ২৪]। তাঁদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় তাঁদের অবস্থা ছিল তেমন, যেমনটি সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী আল্লাহ বলেছেন: {পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে একটি বড় দল} [ওয়াকিআ: ১৩] {এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকে অল্প কিছু} [ওয়াকিআ: ১৪]। অতঃপর দুই বর্ণনার এক বর্ণনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেষ্ঠ যুগের ইমামগণ আসলেন, যেমনটি আবু সাঈদ, ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা, আয়েশা ও ইমরান বিন হুসাইন বর্ণিত সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে। তাঁরা হুবহু তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন এবং তাঁদের প্রদীপ্ত আধার হতে এই বিষয়টি আহরণ করলেন। মহান আল্লাহর দ্বীন তাঁদের অন্তরে এতটাই মর্যাদাবান এবং তাঁদের অন্তরাত্মায় এতটাই মহান ছিল যে, তাঁরা এর ওপর কোনো ব্যক্তিগত মত, যুক্তি, অন্ধভক্তি কিংবা অনুমানকে অগ্রাধিকার দিতে পারতেন না। ফলে বিশ্ববাসীর নিকট তাঁদের উত্তম প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ল এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরবর্তীদের মাঝে তাঁদের জন্য সুখ্যাতি ও সত্যের জবান দান করলেন। এরপর তাঁদের অনুসারীদের প্রথম দলটি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে সফলকাম ব্যক্তিগণ তাঁদের কর্মপন্থায় অগ্রসর হলেন। তাঁরা ব্যক্তিদের প্রতি অন্ধভক্তি থেকে বিমুখ ছিলেন এবং দলিল ও প্রমাণের পক্ষে অটল ছিলেন। সত্য যেখানেই গিয়েছে তাঁরাও সত্যের সেই কাফেলার সাথেই চলেছেন এবং সঠিক বিষয়টি যেখানেই থিতু হয়েছে তাঁরাও সেখানেই অবস্থান নিয়েছেন। যখনই তাঁদের নিকট দলিল তার আকর্ষণ নিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁরা সেদিকেই দ্রুত ধাবিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
إلَيْهِ زَرَافَاتٍ وَوُحْدَانًا، وَإِذَا دَعَاهُمْ الرَّسُولُ إلَى أَمْرٍ انْتَدَبُوا إلَيْهِ وَلَا يَسْأَلُونَهُ عَمَّا قَالَ بُرْهَانًا، وَنُصُوصُهُ أَجَلُّ فِي صُدُورِهِمْ وَأَعْظَمُ فِي نُفُوسِهِمْ مِنْ أَنْ يُقَدِّمُوا عَلَيْهَا قَوْلَ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ، أَوْ يُعَارِضُوهَا بِرَأْيٍ أَوْ قِيَاسٍ

ثُمَّ خَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ، وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا وَكُلٌّ إلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ، جَعَلُوا التَّعَصُّبَ لِلْمَذَاهِبِ دِيَانَتَهُمْ الَّتِي بِهَا يَدِينُونَ، وَرُءُوسَ أَمْوَالِهِمْ الَّتِي بِهَا يَتَّجِرُونَ، وَآخَرُونَ مِنْهُمْ قَنَعُوا بِمَحْضِ التَّقْلِيدِ وَقَالُوا: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} [الزخرف: 23] ، وَالْفَرِيقَانِ بِمَعْزِلٍ عَمَّا يَنْبَغِي اتِّبَاعُهُ مِنْ الصَّوَابِ، وَلِسَانُ الْحَقِّ يَتْلُو عَلَيْهِمْ: {لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ} [النساء: 123] ، قَالَ الشَّافِعِيُّ قَدَّسَ اللَّهُ تَعَالَى رُوحَهُ: أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى أَنَّ مَنْ اسْتَبَانَتْ لَهُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ لَهُ أَنْ يَدَعَهَا لِقَوْلِ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ، قَالَ أَبُو عُمَرَ وَغَيْرُهُ مِنْ الْعُلَمَاءِ: أَجْمَعَ النَّاسُ عَلَى أَنَّ الْمُقَلِّدَ لَيْسَ مَعْدُودًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَأَنَّ الْعِلْمَ مَعْرِفَةُ الْحَقِّ بِدَلِيلِهِ، وَهَذَا كَمَا قَالَ أَبُو عُمَرَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: فَإِنَّ النَّاسَ لَا يَخْتَلِفُونَ أَنَّ الْعِلْمَ هُوَ الْمَعْرِفَةُ الْحَاصِلَةُ عَنْ الدَّلِيلِ، وَأَمَّا بِدُونِ الدَّلِيلِ فَإِنَّمَا هُوَ تَقْلِيدٌ

فَقَدْ تَضَمَّنَ هَذَانِ الْإِجْمَاعَانِ إخْرَاجَ الْمُتَعَصِّبِ بِالْهَوَى وَالْمُقَلِّدِ الْأَعْمَى عَنْ زُمْرَةِ الْعُلَمَاءِ، وَسُقُوطَهُمَا بِاسْتِكْمَالِ مَنْ فَوْقَهُمَا الْفُرُوضَ مِنْ وَرَثَةِ الْأَنْبِيَاءِ، فَإِنَّ «الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، فَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ» ، وَكَيْفَ يَكُونُ مِنْ وَرَثَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مِنْ يَجْهَدُ وَيَكْدَحُ فِي رَدِّ مَا جَاءَ بِهِ إلَى قَوْلِ مُقَلِّدِهِ وَمَتْبُوعِهِ، وَيُضَيِّعُ سَاعَاتِ عُمْرِهِ فِي التَّعَصُّبِ وَالْهَوَى وَلَا يَشْعُرُ بِتَضْيِيعِهِ تَاللَّهِ إنَّهَا فِتْنَةٌ عَمَّتْ فَأَعْمَتْ، وَرَمَتْ الْقُلُوبَ فَأَصْمَتْ، رَبَا عَلَيْهَا الصَّغِيرُ، وَهَرِمَ فِيهَا الْكَبِيرُ، وَاُتُّخِذَ لِأَجْلِهَا الْقُرْآنُ مَهْجُورًا، وَكَانَ ذَلِكَ بِقَضَاءِ اللَّهِ وَقَدَرِهِ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا، وَلَمَّا عَمَّتْ بِهَا الْبَلِيَّةُ، وَعَظُمَتْ بِسَبَبِهَا الرَّزِيَّةُ، بِحَيْثُ لَا يَعْرِفُ أَكْثَرُ النَّاسِ سِوَاهَا، وَلَا يُعِدُّونَ الْعِلْمَ إلَّا إيَّاهَا، فَطَالِبُ الْحَقِّ مِنْ مَظَانِّهِ لَدَيْهِمْ مَفْتُونٌ، وَمُؤْثِرُهُ عَلَى مَا سِوَاهُ عِنْدَهُمْ مَغْبُونٌ، نَصَبُوا لِمَنْ
দলে দলে এবং এককভাবে তাঁর দিকে (ছুটে আসতেন), এবং যখনই রাসূল কোনো বিষয়ে তাদের ডাকতেন, তারা সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হতেন এবং তারা তাঁর কথার সত্যতার কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে চাইতেন না। তাদের অন্তরে এবং সত্তায় তাঁর বাণীসমূহ মানুষের অন্য কোনো কথাকে তাঁর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার চেয়ে বা সেগুলোকে কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা কিয়াস (অনুমান) দ্বারা বিরোধিতা করার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও মহান ছিল।

অতঃপর তাদের পরে এমন অপদার্থ উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করল এবং বিভিন্ন দলে উপদলে পরিণত হলো; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত। তারা তাদের দ্বীনকে নিজেদের মধ্যে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলেছে এবং প্রত্যেকেই তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। তারা মাযহাবের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামিকে তাদের দ্বীন বানিয়ে নিয়েছে যা তারা পালন করে, এবং সেটিকে তাদের মূলধন বানিয়ে নিয়েছে যা দিয়ে তারা ব্যবসা করে। অন্যদের মধ্যে কেউ কেউ নিছক অন্ধ অনুকরণের ওপর তুষ্ট হয়েছে এবং বলেছে: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি} [যুখরুফ: ২৩]। উভয় দলই অনুসরণযোগ্য সঠিক সত্য পথ থেকে দূরে অবস্থান করছে। আর সত্যের জবান তাদের সামনে পাঠ করছে: {এটা তোমাদের আকাঙ্ক্ষা বা আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী হবে না} [নিসা: ১২৩]। ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর রূহকে পবিত্র করুন) বলেছেন: মুসলিমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়। আবু উমর এবং অন্যান্য আলিমগণ বলেছেন: মানুষ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ইলমের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন; বরং ইলম হলো দলীলসহ সত্যকে জানা। এটি তেমনই যেমনটি আবু উমর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: মানুষ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না যে, ইলম হলো সেই জ্ঞান যা দলীল থেকে অর্জিত হয়। আর দলীলবিহীন যা কিছু তা তো কেবল অন্ধ অনুকরণ মাত্র।

সুতরাং এই দুটি ইজমা (ঐক্যমত) প্রবৃত্তিপরায়ণ কট্টরপন্থী এবং অন্ধ অনুসারীকে আলিমদের কাতার থেকে বহিষ্কার করা এবং তাদের উপরের স্তরের যারা নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই দুই শ্রেণির পতনের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কেননা «আলিমগণই হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল ইলম রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা অংশ লাভ করল।» আর সে কীভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকারী হতে পারে, যে তার মুকাল্লিদ ও অনুসরণীয় ব্যক্তির কথার সপক্ষে রাসূলের আনীত বাণীকে প্রত্যাখ্যান করতে আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম করে? সে তার জীবনের মূল্যবান সময় কট্টরপন্থা ও প্রবৃত্তিপূজায় নষ্ট করে, অথচ সে তার এই অপচয় সম্পর্কে টেরও পায় না। আল্লাহর কসম! এটি এমন এক ফিতনা যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সবাইকে অন্ধ করে দিয়েছে, এবং হৃদয়ে আঘাত করে বধির করে দিয়েছে। এর ওপরই ছোটরা বড় হয়েছে এবং বড়রা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে। এর কারণেই কুরআনকে পরিত্যক্ত করা হয়েছে। আর এটি আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরে কিতাবে লিখিত ছিল। যখন এই বিপদ মহামারি আকার ধারণ করল এবং এর ফলে সৃষ্ট মুসিবত ভয়াবহ রূপ নিল, এমনকি অধিকাংশ মানুষ এটি ছাড়া অন্য কিছু চেনে না এবং তারা এটি ছাড়া অন্য কিছুকে ইলম বলে গণ্য করে না; এমতাবস্থায় তাদের নিকট সত্যের উৎস থেকে সত্য অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি বিভ্রান্ত এবং অন্যের ওপর সত্যকে প্রাধান্যদানকারী ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তারা সেই ব্যক্তির জন্য...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
خَالَفَهُمْ فِي طَرِيقِهِمْ الْحَبَائِلَ، وَبَغَوْا لَهُ الْغَوَائِلَ، وَرَمَوْهُ عَنْ قَوْسِ الْجَهْلِ وَالْبَغْيِ وَالْعِنَادِ، وَقَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ: إنَّا نَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يَظْهَرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ

فَحَقِيقٌ بِمَنْ لِنَفْسِهِ عِنْدَهُ قَدْرٌ وَقِيمَةٌ، أَلَا يَلْتَفِتَ إلَى هَؤُلَاءِ وَلَا يَرْضَى لَهَا بِمَا لَدَيْهِمْ، وَإِذَا رُفِعَ لَهُ عِلْمُ السُّنَّةِ النَّبَوِيَّةِ شَمَّرَ إلَيْهِ وَلَمْ يَحْبِسْ نَفْسَهُ عَلَيْهِمْ، فَمَا هِيَ إلَّا سَاعَةٌ حَتَّى يُبَعْثَرَ مَا فِي الْقُبُورِ، وَيُحَصَّلُ مَا فِي الصُّدُورِ، وَتَتَسَاوَى أَقْدَامُ الْخَلَائِقِ فِي الْقِيَامِ لِلَّهِ، وَيَنْظُرُ كُلُّ عَبْدٍ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ، وَيَقَعُ التَّمْيِيزُ بَيْنَ الْمُحِقِّينَ وَالْمُبْطِلِينَ، وَيَعْلَمُ الْمُعْرِضُونَ عَنْ كِتَابِ رَبِّهِمْ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ

 

‌‌[فَصْلٌ عُلَمَاءُ الْأُمَّةِ عَلَى ضَرْبَيْنِ]

وَلَمَّا كَانَتْ الدَّعْوَةُ إلَى اللَّهِ وَالتَّبْلِيغُ عَنْ رَسُولِهِ شِعَارُ حِزْبِهِ الْمُفْلِحِينَ، وَأَتْبَاعِهِ مِنْ الْعَالَمِينَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] وَكَانَ التَّبْلِيغُ عَنْهُ مِنْ عَيْنِ تَبْلِيغِ أَلْفَاظِهِ وَمَا جَاءَ بِهِ وَتَبْلِيغِ مَعَانِيهِ كَانَ الْعُلَمَاءُ مِنْ أُمَّتِهِ مُنْحَصِرِينَ فِي قِسْمَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: حُفَّاظُ الْحَدِيثِ، وَجَهَابِذَتُهُ، وَالْقَادَةُ الَّذِينَ هُمْ أَئِمَّةُ الْأَنَامِ وَزَوَامِلُ الْإِسْلَامِ، الَّذِينَ حَفِظُوا عَلَى الْأَئِمَّةِ مَعَاقِدَ الدِّينِ وَمَعَاقِلَهُ، وَحَمَوْا مِنْ التَّغْيِيرِ وَالتَّكْدِيرِ مَوَارِدَهُ وَمَنَاهِلَهُ، حَتَّى وَرَدَ مَنْ سَبَقَتْ لَهُ مِنْ اللَّهِ الْحُسْنَى تِلْكَ الْمَنَاهِلَ صَافِيَةً مِنْ الْأَدْنَاسِ لَمْ تَشُبْهَا الْآرَاءُ تَغْيِيرًا، وَوَرَدُوا فِيهَا {عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا} [الإنسان: 6] ، وَهُمْ الَّذِينَ قَالَ فِيهِمْ الْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي خُطْبَتِهِ الْمَشْهُورَةِ فِي كِتَابِهِ فِي الرَّدِّ عَلَى الزَّنَادِقَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي كُلِّ زَمَانِ فَتْرَةٍ مِنْ الرُّسُلِ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَدْعُونَ مَنْ ضَلَّ إلَى الْهُدَى، وَيَصْبِرُونَ مِنْهُمْ عَلَى الْأَذَى، وَيُحْيُونَ بِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمَوْتَى، وَيُبَصِّرُونَ بِنُورِ اللَّهِ أَهْلَ الْعَمَى، فَكَمْ مِنْ قَتِيلٍ لِإِبْلِيسٍ قَدْ أَحْيَوْهُ، وَكَمْ مِنْ ضَالٍّ تَائِهٍ قَدْ هَدَوْهُ، فَمَا أَحْسَنَ أَثَرَهُمْ عَلَى النَّاسِ وَمَا أَقْبَحَ أَثَرَ النَّاسِ عَلَيْهِمْ، يَنْفُونَ عَنْ كِتَابِ اللَّهِ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالِ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلِ الْجَاهِلِينَ، الَّذِينَ عَقَدُوا أَلْوِيَةَ الْبِدْعَةِ، وَأَطْلَقُوا عَنَانَ الْفِتْنَةِ، فَهُمْ مُخْتَلِفُونَ فِي الْكِتَابِ، مُخَالِفُونَ لِلْكِتَابِ، مُجْمِعُونَ عَلَى مُفَارَقَةِ الْكِتَابِ، يَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ وَفِي اللَّهِ وَفِي كِتَابِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ، يَتَكَلَّمُونَ بِالْمُتَشَابِهِ مِنْ الْكَلَامِ، وَيَخْدَعُونَ جُهَّالَ النَّاسِ بِمَا يُشَبِّهُونَ عَلَيْهِمْ؛ فَنَعُوذُ بِاَللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمُضِلِّينَ
তারা তাদের পথে প্রলোভনের জাল বিছিয়েছে এবং তাদের অমঙ্গল কামনা করেছে। তারা মূর্খতা, অবাধ্যতা ও হঠকারিতার ধনুক থেকে তাদের দিকে তীর ছুড়েছে এবং তাদের ভাইদের বলেছে: "আমরা আশঙ্কা করছি যে সে তোমাদের দ্বীন পরিবর্তন করে দেবে অথবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।"

সুতরাং যার নিকট নিজের জীবনের মর্যাদা ও মূল্য রয়েছে, তার জন্য এটাই সঙ্গত যে সে এদের দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং তাদের কাছে যা আছে তাতে সন্তুষ্ট হবে না। যখনই তার সামনে নববী সুন্নাহর ঝাণ্ডা সমুন্নত হবে, সে সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হবে এবং এদের কারণে নিজেকে আটকে রাখবে না। কারণ তা মাত্র এক মুহূর্তের ব্যাপার, অতঃপর কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে, অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করা হবে এবং আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ক্ষেত্রে সকল সৃষ্টির পা সমান স্তরে থাকবে। প্রত্যেক বান্দা দেখতে পাবে তার হাত দুটি যা আগে পাঠিয়েছে। তখন সত্যপন্থী ও মিথ্যাবাদীদের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। আর যারা তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছে তারা তখন জানতে পারবে যে তারা মিথ্যুক ছিল।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: উম্মাহর আলেমগণ দুই প্রকার]

যেহেতু আল্লাহর দিকে আহ্বান এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রচার করা হলো তাঁর সফলকাম দল এবং বিশ্ববাসীর মধ্য থেকে তাঁর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন: এটিই আমার পথ; আমি ও আমার অনুসারীরা জাগ্রত জ্ঞান নিয়ে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]। আর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রচার করার বিষয়টি যেমন তাঁর শব্দাবলি ও তাঁর আনীত বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত, তেমনি তাঁর আনীত অর্থের প্রচারও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই তাঁর উম্মতের আলেমগণ দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: হাদিস সংরক্ষণকারী এবং এর বিশেষজ্ঞগণ, যারা মানবজাতির ইমাম এবং ইসলামের বাহক। তারা ইমামদের থেকে দ্বীনের মূলনীতি ও এর নির্ভরযোগ্য স্থানসমূহ সংরক্ষণ করেছেন এবং এর উৎস ও পানপাত্রগুলোকে বিকৃতি ও কলুষতা থেকে রক্ষা করেছেন। ফলে আল্লাহ যাদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারণ করেছেন, তারা সেই পানপাত্রগুলোতে কলুষতামুক্ত স্বচ্ছ পানি লাভ করেছেন যা কোনো মতাদর্শ দ্বারা পরিবর্তিত হয়নি। তারা সেখানে এমন এক {ঝরনায় উপনীত হয়েছে যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে এবং তারা একে প্রবাহিত করবে।} [ইনসান: ৬]। এরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর জিন্দিক ও জাহমিয়াদের খণ্ডনমূলক কিতাবের সেই বিখ্যাত ভূমিকায় বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলদের আগমনের মধ্যবর্তী প্রতিটি বিরতিকালে আলেমদের অবশিষ্ট একদলকে রেখেছেন। তারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন, তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টে ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন ও আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের পথ দেখান। ইবলিস কর্তৃক কত নিহতকে তারা জীবিত করেছেন এবং কত পথহারা বিভ্রান্তকে তারা পথ দেখিয়েছেন! মানুষের উপর তাদের প্রভাব কতই না সুন্দর এবং তাদের উপর মানুষের প্রভাব কতই না কুৎসিত! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, মিথ্যাবাদীদের অপবাদ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব সম্পর্কে মতবিরোধ করে, কিতাবের বিরোধিতা করে এবং কিতাব বর্জনের ব্যাপারে তারা ঐক্যবদ্ধ। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং মানুষের সামনে বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলে মূর্খদের ধোঁকা দেয়। আমরা পথভ্রষ্টদের ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فَصْلٌ [فُقَهَاءُ الْإِسْلَامِ وَمَنْزِلَتُهُمْ]

الْقِسْمُ الثَّانِي: فُقَهَاءُ الْإِسْلَامِ، وَمَنْ دَارَتْ الْفُتْيَا عَلَى أَقْوَالِهِمْ بَيْنَ الْأَنَامِ، الَّذِينَ خُصُّوا بِاسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ، وَعَنَوْا بِضَبْطِ قَوَاعِدِ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ؛ فَهُمْ فِي الْأَرْضِ بِمَنْزِلَةِ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ، بِهِمْ يَهْتَدِي الْحَيْرَانُ فِي الظَّلْمَاءِ، وَحَاجَةُ النَّاسِ إلَيْهِمْ أَعْظَمُ مِنْ حَاجَتِهِمْ إلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ، وَطَاعَتُهُمْ أَفْرَضَ عَلَيْهِمْ مِنْ طَاعَةِ الْأُمَّهَاتِ وَالْآبَاءِ بِنَصِّ الْكِتَابِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلا} [النساء: 59] قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ فِي إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْهُ وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَالْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَأَبُو الْعَالِيَةِ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَالضَّحَّاكُ وَمُجَاهِدٌ فِي إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْهُ: أُولُو الْأَمْرِ هُمْ الْعُلَمَاءُ، وَهُوَ إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْ الْإِمَامِ أَحْمَدَ.

وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَابْنُ عَبَّاسٍ فِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ وَالسُّدِّيُّ وَمُقَاتِلٌ: هُمْ الْأُمَرَاءُ، وَهُوَ الرِّوَايَةُ الثَّانِيَةُ عَنْ أَحْمَدَ [طَاعَةُ الْأُمَرَاءِ تَابِعَةٌ لِطَاعَةِ الْعُلَمَاءِ]

وَالتَّحْقِيقُ أَنَّ الْأُمَرَاءَ إنَّمَا يُطَاعُونَ إذَا أَمَرُوا بِمُقْتَضَى الْعِلْمِ؛ فَطَاعَتُهُمْ تَبَعٌ لِطَاعَةِ الْعُلَمَاءِ؛ فَإِنَّ الطَّاعَةَ إنَّمَا تَكُونُ فِي الْمَعْرُوفِ وَمَا أَوْجَبَهُ الْعِلْمُ، فَكَمَا أَنَّ طَاعَةَ الْعُلَمَاءِ تَبَعٌ لِطَاعَةِ الرَّسُولِ فَطَاعَةُ الْأُمَرَاءِ تَبَعٌ لِطَاعَةِ الْعُلَمَاءِ، وَلَمَّا كَانَ قِيَامُ الْإِسْلَامِ بِطَائِفَتَيْ الْعُلَمَاءِ وَالْأُمَرَاءِ، وَكَانَ النَّاسُ كُلُّهُمْ لَهُمْ تَبَعًا، كَانَ صَلَاحُ الْعَالَمِ بِصَلَاحِ هَاتَيْنِ الطَّائِفَتَيْنِ، وَفَسَادُهُ بِفَسَادِهِمَا، كَمَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَغَيْرُهُ مِنْ السَّلَفِ: صِنْفَانِ مِنْ النَّاسِ إذَا صَلَحَا صَلَحَ النَّاسُ، وَإِذَا فَسَدَا فَسَدَ النَّاسُ، قِيلَ: مَنْ هُمْ؟ قَالَ: الْمُلُوكُ، وَالْعُلَمَاءُ كَمَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ:

رَأَيْت الذُّنُوبَ تُمِيتُ الْقُلُوبَ … وَقَدْ يُورِثُ الذُّلَّ إدْمَانُهَا

وَتَرْكُ الذُّنُوبِ حَيَاةُ الْقُلُوبِ … وَخَيْرٌ لِنَفْسِك عِصْيَانُهَا

وَهَلْ أَفْسَدَ الدِّينَ إلَّا الْمُلُوكُ … وَأَحْبَارُ سُوءٍ وَرُهْبَانُهَا

 

‌‌[فَصْلٌ مَا يُشْتَرَطُ فِيمَنْ يُوَقِّعُ عَنْ اللَّهِ وَرَسُولِهِ]

ِ] وَلَمَّا كَانَ التَّبْلِيغُ عَنْ اللَّهِ سُبْحَانَهُ يَعْتَمِدُ الْعِلْمَ بِمَا يُبَلَّغُ، وَالصِّدْقَ فِيهِ، لَمْ تَصْلُحْ مَرْتَبَةُ التَّبْلِيغِ بِالرِّوَايَةِ وَالْفُتْيَا إلَّا لِمَنْ اتَّصَفَ بِالْعِلْمِ وَالصِّدْقِ؛ فَيَكُونُ عَالِمًا بِمَا يُبَلِّغُ صَادِقًا
পরিচ্ছেদ: [ইসলামের ফকিহগণ এবং তাদের মর্যাদা]

দ্বিতীয় অংশ: ইসলামের ফকিহগণ, এবং মানুষের মাঝে যাদের বক্তব্যের ওপর ফতোয়া আবর্তিত হয়, যারা শরয়ি বিধান আহরণে বিশেষিত হয়েছেন এবং যারা হালাল ও হারামের মূলনীতিগুলো সুসংহত করার দায়িত্ব পালন করেছেন। জমিনে তারা আকাশের নক্ষত্ররাজির সমতুল্য, যাদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা অন্ধকারে পথ খুঁজে পায়। মানুষের কাছে তাদের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও বেশি। আর আল্লাহর কিতাবের অকাট্য দলিলে তাদের আনুগত্য করা পিতা-মাতার আনুগত্যের চেয়েও বেশি আবশ্যকীয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।" [নিসা: ৫৯]। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (তার থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটিতে), জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, হাসান বসরী, আবুল আলিয়া, আতা ইবনে আবি রাবাহ, দাহহাক এবং মুজাহিদ (তার থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটিতে) বলেছেন: উলুল আমর হলেন আলেমগণ। এটি ইমাম আহমাদের থেকেও বর্ণিত দুই বর্ণনার একটি।

অন্যদিকে আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস (অপর এক বর্ণনায়), জায়েদ ইবনে আসলাম, সুদ্দী এবং মুকাতিল বলেছেন: তারা হলেন শাসকবৃন্দ। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনা। [শাসকদের আনুগত্য আলেমদের আনুগত্যের অনুগামী]

প্রকৃত সত্য এই যে, শাসকদের তখনই আনুগত্য করা হয় যখন তারা ইলম বা জ্ঞানের দাবি অনুযায়ী নির্দেশ প্রদান করেন। সুতরাং তাদের আনুগত্য আলেমদের আনুগত্যের অনুগামী। কেননা আনুগত্য কেবল নেক কাজে এবং ইলম যা আবশ্যক করে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঠিক যেভাবে আলেমদের আনুগত্য রাসূলের আনুগত্যের অনুগামী, তেমনি শাসকদের আনুগত্য আলেমদের আনুগত্যের অনুগামী। যেহেতু ইসলামের প্রতিষ্ঠা আলেম ও শাসক—এই দুই শ্রেণির মাধ্যমেই ঘটে এবং সমস্ত মানুষ তাদেরই অনুসারী, তাই এই দুই শ্রেণির সংশোধনেই বিশ্বের সংশোধন নিহিত এবং তাদের বিপর্যয়েই বিশ্বের বিপর্যয় ঘটে। যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক এবং সালাফগণের অন্যগণ বলেছেন: মানুষের মধ্যে দুটি শ্রেণি এমন রয়েছে যারা সংশোধন হলে সমস্ত মানুষ সংশোধন হয়ে যায়, আর তারা পথভ্রষ্ট হলে সমস্ত মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হলো: তারা কারা? তিনি বললেন: শাসকবৃন্দ এবং আলেমগণ। যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেছেন:

আমি দেখেছি পাপরাশি অন্তরকে মৃত করে দেয় … আর পাপে নিমগ্নতা বয়ে আনে লাঞ্ছনা।

পাপ বর্জনই হলো অন্তরের জীবন … আর আপনার কুপ্রবৃত্তির অবাধ্য হওয়া আপনার নফসের জন্য কল্যাণকর।

ধর্মকে কি ধ্বংস করেছে রাজা-বাদশাহরা … এবং অসৎ আলেম ও সংসারবিরাগীরা ছাড়া অন্য কেউ?

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যারা স্বাক্ষর করেন (ফতোয়া দেন) তাদের জন্য যা শর্ত]

যেহেতু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছু প্রচার করা তা যা প্রচার করা হচ্ছে সে সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাতে সত্যবাদিতার ওপর নির্ভরশীল, তাই বর্ণনা ও ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে প্রচারের এই সুউচ্চ মর্যাদা কেবল তাদের জন্যই উপযুক্ত যারা জ্ঞান ও সত্যবাদিতার গুণে গুণান্বিত। সুতরাং তাকে যা প্রচার করা হচ্ছে সে বিষয়ে জ্ঞানী এবং সত্যবাদী হতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
فِيهِ، وَيَكُونُ مَعَ ذَلِكَ حَسَنَ الطَّرِيقَةِ، مَرَضِيَّ السِّيرَةِ، عَدْلًا فِي أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ، مُتَشَابِهَ السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ فِي مَدْخَلِهِ وَمَخْرَجِهِ وَأَحْوَالِهِ؛ وَإِذَا كَانَ مَنْصِبُ التَّوْقِيعِ عَنْ الْمُلُوكِ بِالْمَحِلِّ الَّذِي لَا يُنْكَرُ فَضْلُهُ، وَلَا يُجْهَلُ قَدْرُهُ، وَهُوَ مِنْ أَعْلَى الْمَرَاتِبِ السَّنِيَّاتِ، فَكَيْف بِمَنْصِبِ التَّوْقِيعِ عَنْ رَبِّ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتِ؟ فَحَقِيقٌ بِمَنْ أُقِيمَ فِي هَذَا الْمَنْصِبِ أَنْ يَعُدَّ لَهُ عِدَّتَهُ، وَأَنْ يَتَأَهَّبَ لَهُ أُهْبَتَهُ، وَأَنْ يَعْلَمَ قَدْرَ الْمَقَامِ الَّذِي أُقِيمَ فِيهِ، وَلَا يَكُونُ فِي صَدْرِهِ حَرَجٌ مِنْ قَوْلِ الْحَقِّ وَالصَّدْعِ بِهِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ نَاصِرُهُ وَهَادِيهِ، وَكَيْف هُوَ الْمَنْصِبُ الَّذِي تَوَلَّاهُ بِنَفْسِهِ رَبُّ الْأَرْبَابِ فَقَالَ تَعَالَى: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ} [النساء: 127] وَكَفَى بِمَا تَوَلَّاهُ اللَّهُ تَعَالَى بِنَفْسِهِ شَرَفًا وَجَلَالَةً؛ إذْ يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ} [النساء: 176] ، وَلِيَعْلَمَ الْمُفْتِي عَمَّنْ يَنُوبُ فِي فَتْوَاهُ، وَلِيُوقِنَ أَنَّهُ مَسْئُولٌ غَدًا وَمَوْقُوفٌ بَيْنَ يَدَيْ اللَّهِ

 

‌‌[فَصْلٌ أَوَّلُ مَنْ وَقَّعَ عَنْ اللَّهِ]

ِ هُوَ الرَّسُولُ] وَأَوَّلُ مَنْ قَامَ بِهَذَا الْمَنْصِبِ الشَّرِيفِ سَيِّدُ الْمُرْسَلِينَ، وَإِمَامُ الْمُتَّقِينَ، وَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ، عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَأَمِينُهُ عَلَى وَحْيِهِ، وَسَفِيرُهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عِبَادِهِ؛ فَكَانَ يُفْتِي عَنْ اللَّهِ بِوَحْيِهِ الْمُبِينِ، وَكَانَ كَمَا قَالَ لَهُ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ: {قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ} [ص: 86] فَكَانَتْ فَتَاوِيهِ صلى الله عليه وسلم جَوَامِعَ الْأَحْكَامِ، وَمُشْتَمِلَةً عَلَى فَصْلِ الْخِطَابِ، وَهِيَ فِي وُجُوبِ اتِّبَاعِهَا وَتَحْكِيمِهَا وَالتَّحَاكُمِ إلَيْهَا ثَانِيَةُ الْكِتَابِ، وَلَيْسَ لِأَحَدٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ الْعُدُولُ عَنْهَا مَا وَجَدَ إلَيْهَا سَبِيلًا، وَقَدْ أَمَرَ اللَّهُ عِبَادَهُ بِالرَّدِّ إلَيْهَا حَيْثُ يَقُولُ: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلا} [النساء: 59] .

فَصْلٌ [الْأَصْحَابُ رضي الله عنهم] ثُمَّ قَامَ بِالْفَتْوَى بَعْدَهُ بَرْكُ الْإِسْلَامِ وَعِصَابَةُ الْإِيمَانِ، وَعَسْكَرُ الْقُرْآنِ، وَجُنْدُ
এতে, এবং সেই সাথে তিনি হবেন উত্তম পদ্ধতির অধিকারী, সন্তোষজনক জীবনচরিত্রের অধিকারী, নিজের কথা ও কাজে ন্যায়পরায়ণ, এবং তাঁর গোপনীয় ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ তাঁর সকল প্রবেশ-প্রস্থান ও সর্বাবস্থায় অভিন্ন হবে। আর যদি পার্থিব রাজাবাদশাহদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর প্রদানের (ফতোয়া বা আদেশ জারি) পদের মর্যাদা এমন হয় যার শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করা যায় না এবং যার গুরুত্ব অজানা নয়, যা সর্বোচ্চ ও মহিমান্বিত পদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে আসমান ও জমিনের রবের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর প্রদানের পদের মর্যাদা কেমন হতে পারে? সুতরাং যাকে এই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে, তার জন্য উচিত হবে এর জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা, এর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করা এবং সে যে অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তার মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করা। সত্য কথা বলতে এবং তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে তার অন্তরে যেন কোনো সংকীর্ণতা না থাকে; কেননা আল্লাহই তার সাহায্যকারী ও পথপ্রদর্শক। আর এটি এমন এক পদ যা পালনকর্তাদের পালনকর্তা (আল্লাহ) স্বয়ং গ্রহণ করেছেন। তিনি তাআলা বলেছেন: "তারা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়; আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন এবং কিতাবে তোমাদের যা পাঠ করে শুনানো হয় তা-ও।" [নিসা: ১২৭] আল্লাহ তাআলা স্বয়ং যা পরিচালনা করেছেন, তার মর্যাদা ও মহিমা বর্ণনায় এটিই যথেষ্ট; কারণ তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন: "তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়; আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে 'কালালাহ' (পিতামাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন।" [নিসা: ১৭৬] আর মুফতির জানা উচিত যে, তিনি কার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করে ফতোয়া দিচ্ছেন এবং তাকে একীন করতে হবে যে, আগামীকাল কিয়ামতের দিন তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন এবং আল্লাহর দুই হাতের সামনে দণ্ডায়মান হবেন।

 

‌‌[প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যিনি স্বাক্ষর প্রদান করেছেন]

তিনি হলেন রাসুল] এবং এই সম্মানিত পদে সর্বপ্রথম যিনি অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন তিনি হলেন সকল রাসুলদের সর্দার, মুত্তাকীদের ইমাম, নবীগণের মোহর, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে ফতোয়া দিতেন। তিনি তেমনই ছিলেন যেমনটা শ্রেষ্ঠ বিচারক (আল্লাহ) তাঁকে বলেছেন: "বলুন, আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।" [সোয়াদ: ৮৬] সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফতোয়াগুলো ছিল বিধানাবলির সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং চূড়ান্ত মীমাংসার ধারক। অনুসরণ করা, ফয়সালা মেনে নেওয়া এবং বিচারের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাবের পরেই এর স্থান। কোনো মুসলমানের জন্যই তা থেকে বিমুখ হওয়ার সুযোগ নেই যতক্ষণ সে তার অনুকূলে কোনো পথ পায়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এর দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।" [নিসা: ৫৯] ।

পরিচ্ছেদ [সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)] এরপর তাঁর পরে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন ইসলামের বরকত ও ঈমানের জামাত, কুরআনের বাহিনী এবং আল্লাহর সৈন্যগণ...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الرَّحْمَنِ، أُولَئِكَ أَصْحَابُهُ صلى الله عليه وسلم، أَلْيَنُ الْأُمَّةِ قُلُوبًا، وَأَعْمَقُهَا عِلْمًا، وَأَقَلُّهَا تَكَلُّفًا، وَأَحْسَنُهَا بَيَانًا، وَأَصْدَقُهَا إيمَانًا، وَأَعَمُّهَا نَصِيحَةً، وَأَقْرَبُهَا إلَى اللَّهِ وَسِيلَةً، وَكَانُوا بَيْنَ مُكْثِرٍ مِنْهَا وَمُقِلٍّ وَمُتَوَسِّطٍ.

[الْمُكْثِرُونَ مِنْ الصَّحَابَةِ]

وَاَلَّذِينَ حُفِظَتْ عَنْهُمْ الْفَتْوَى مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةٌ وَنَيِّفٌ وَثَلَاثُونَ نَفْسًا، مَا بَيْنَ رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ، وَكَانَ الْمُكْثِرُونَ مِنْهُمْ سَبْعَةٌ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، وَعَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ، وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ.

وَقَالَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَزْمٍ: وَيُمْكِنُ أَنْ يُجْمَعَ مِنْ فَتْوَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ سِفْرٌ ضَخْمٌ قَالَ: وَقَدْ جَمَعَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ الْمَأْمُونِ فُتْيَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فِي عِشْرِينَ كِتَابًا وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدٌ الْمَذْكُورُ أَحَدُ أَئِمَّةِ الْإِسْلَامِ فِي الْعِلْمِ وَالْحَدِيثِ.

[الْمُتَوَسِّطُونَ فِي الْفُتْيَا مِنْهُمْ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَالْمُتَوَسِّطُونَ مِنْهُمْ فِيمَا رُوِيَ عَنْهُمْ مِنْ الْفُتْيَا: أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَأُمُّ سَلَمَةَ، وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ، وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُعَاذُ بْنُ جَبْلٍ؛ فَهَؤُلَاءِ ثَلَاثَةَ عَشَرَ يُمْكِنُ أَنْ يُجْمَعَ مِنْ فُتْيَا كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ صَغِيرٌ جِدًّا، وَيُضَافُ إلَيْهِمْ: طَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، وَعِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، وَأَبُو بَكْرَةَ، وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ.

[الْمُقِلُّونَ]

وَالْبَاقُونَ مِنْهُمْ مُقِلُّونَ فِي الْفُتْيَا، لَا يُرْوَى عَنْ الْوَاحِدِ مِنْهُمْ إلَّا الْمَسْأَلَةُ وَالْمَسْأَلَتَانِ، وَالزِّيَادَةُ الْيَسِيرَةُ عَلَى ذَلِكَ يُمْكِنُ أَنْ يُجْمَعَ مِنْ فُتْيَا جَمِيعِهِمْ جُزْءٌ صَغِيرٌ فَقَطْ بَعْدَ التَّقَصِّي وَالْبَحْثِ، وَهُمْ: أَبُو الدَّرْدَاءِ، وَأَبُو الْيُسْرِ، وَأَبُو سَلَمَةَ الْمَخْزُومِيُّ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ ابْنَا عَلِيٍّ، وَالنُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ، وَأَبُو مَسْعُودٍ، وَأُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ، وَأَبُو أَيُّوبَ، وَأَبُو طَلْحَةَ، وَأَبُو ذَرٍّ، وَأُمُّ عَطِيَّةَ، وَصَفِيَّةُ أُمّ الْمُؤْمِنِينَ، وَحَفْصَةُ، وَأُمُّ حَبِيبَةَ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، وَجَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَالْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ، وَقَرَظَةُ بْنُ كَعْبٍ، وَنَافِعُ أَخُو أَبِي بَكْرَةَ لِأُمِّهِ، وَالْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ، وَأَبُو السَّنَابِلِ، وَالْجَارُودُ، وَالْعَبْدِيُّ، وَلَيْلَى بِنْتُ قانف
পরম করুণাময় আল্লাহর (প্রিয়পাত্র), তাঁরা হলেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ। তাঁরা এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কোমল, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে কম, বর্ণনাভঙ্গিতে সবচেয়ে সুন্দর, ঈমানে সবচেয়ে সত্যবাদী, উপদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যাপক এবং আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার উপায়ের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটতম। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন আধিক্যধারী, কেউ স্বল্প দানকারী এবং কেউ ছিলেন মধ্যমপন্থী।

[সাহাবীদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানে আধিক্যধারীগণ]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে যাঁদের থেকে ফতোয়া সংরক্ষিত হয়েছে, তাঁরা হলেন পুরুষ ও নারী মিলিয়ে একশ ত্রিশের কিছু বেশি জন। তাঁদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানে আধিক্যধারী ছিলেন সাতজন: উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুমিন জননী আয়েশা, জায়েদ ইবনে সাবিত, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর।

আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: তাঁদের প্রত্যেকের ফতোয়া দ্বারা একেকটি বিশাল গ্রন্থ সংকলন করা সম্ভব। তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে ইয়াকুব ইবনে আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর ফতোয়াসমূহ বিশটি খণ্ডে সংকলন করেছেন। উল্লিখিত আবু বকর মুহাম্মদ হলেন ইলম ও হাদিসের ক্ষেত্রে ইসলামের অন্যতম ইমাম।

[তাঁদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানে মধ্যমপন্থীগণ]

আবু মুহাম্মদ বলেন: বর্ণিত ফতোয়ার ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে মধ্যমপন্থী ছিলেন: আবু বকর সিদ্দিক, উম্মে সালামা, আনাস ইবনে মালিক, আবু সাঈদ খুদরী, আবু হুরায়রা, উসমান ইবনে আফফান, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের, আবু মুসা আশআরী, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সালমান ফারসী, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল। এই তেরো জন, যাঁদের প্রত্যেকের ফতোয়া দ্বারা একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ সংকলন করা সম্ভব। তাঁদের সাথে আরও যুক্ত করা হয়: তালহা, জুবায়ের, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, ইমরান ইবনে হুসাইন, আবু বাকরাহ, উবাদাহ ইবনে সামিত এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান।

[স্বল্প ফতোয়া প্রদানকারীগণ]

এবং অবশিষ্টগণ ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ছিলেন স্বল্প দানকারী; তাঁদের প্রত্যেকের থেকে মাত্র একটি বা দুটি মাসআলা বা তার চেয়ে সামান্য বেশি বর্ণিত হয়েছে। গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণার পর তাঁদের সকলের ফতোয়া একত্রিত করলে মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ সংকলন করা সম্ভব হতে পারে। তাঁরা হলেন: আবু দারদা, আবু ইয়াসার, আবু সালামা মাখজুমি, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ, সাঈদ ইবনে জায়েদ, আলীর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন, নুমান ইবনে বশীর, আবু মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, আবু আইয়ুব, আবু তালহা, আবু যার, উম্মে আতিয়্যাহ, মুমিন জননী সাফিয়্যাহ, হাফসাহ, উম্মে হাবীবা, উসামা ইবনে জায়েদ, জাফর ইবনে আবি তালিব, বারা ইবনে আজিব, কারাজা ইবনে কাব, আবু বাকরাহ-এর বৈমাত্রেয় ভাই নাফে, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ, আবু সানাবিল, আল-জারুদ, আল-আবদী এবং লায়লা বিনতে কানিফ।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَأَبُو مَحْذُورَةَ، وَأَبُو شُرَيْحٍ الْكَعْبِيُّ، وَأَبُو بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيُّ، وَأَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ، وَأُمُّ شَرِيكٍ وَالْحَوْلَاءُ بِنْتُ تُوَيْتٍ، وَأُسَيْدُ بْنُ الْحُضَيْرِ، وَالضَّحَّاكُ بْنُ قَيْسٍ، وَحَبِيبُ بْنُ مَسْلَمَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ، وَحُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ، وَثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ، وَعَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ، وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، وَأَبُو الْغَادِيَةِ السُّلَمِيُّ، وَأُمُّ الدَّرْدَاءِ الْكُبْرَى، وَالضَّحَّاكُ بْنُ خَلِيفَةَ الْمَازِنِيُّ، وَالْحَكَمُ بْنُ عَمْرٍو الْغِفَارِيُّ، وَوَابِصَةُ بْنُ مَعْبَدٍ الْأَسَدِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْبَرْمَكِيُّ، وَعَوْفُ بْنُ مَالِكٍ وَعَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَوْفَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ، وَعَتَّابُ بْنُ أُسَيْدٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاصِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَرْجِسَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، وَعَقِيلُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَعَائِذُ بْنُ عَمْرٍو، وَأَبُو قَتَادَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَعْمَرٍ الْعَدَوِيُّ، وَعُمَيُّ بْنُ سَعْلَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ أَخُوهُ، وَعَاتِكَةُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ عَمْرٍو، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ، وَسَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ، وَسَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، وَأَبُو مُنِيبٍ، وَقَيْسُ بْنُ سَعْدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، وَسَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ

وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ مُقْرِنٍ، وَسُوَيْدُ بْنُ مُقْرِنٍ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ الْحَكَمِ، وَسَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ، وَأَبُو حُذَيْفَةَ بْنُ عُتْبَةَ، وَسَلَمَةُ بْنُ الْأَكْوَعِ، وَزَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، وَجَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ، وَجَابِرُ بْنُ سَلَمَةَ، وَجُوَيْرِيَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ، وَحَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ، وَحَبِيبُ بْنُ عَدِيٍّ، وَقُدَامَةُ بْنُ مَظْعُونٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، وَمَيْمُونَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ، وَمَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ، وَأَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، وَخَبَّابُ بْنُ الْأَرَتِّ، وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَضَمْرَةُ بْنُ الْفَيْضِ، وَطَارِقُ بْنُ شِهَابٍ، وَظَهِيرُ بْنُ رَافِعٍ، وَرَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ، وَسَيِّدَةُ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ

وَهِشَامُ بْنُ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، وَأَبُوهُ حَكِيمُ بْنُ حِزَامٍ، وَشُرَحْبِيلُ بْنُ السَّمْطِ، وَأُمُّ سَلَمَةَ، وَدِحْيَةُ بْنُ خَلِيفَةَ الْكَلْبِيُّ، وَثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ الشَّمَّاسُ وَثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، وَبُرَيْدَةُ بْنُ الْحُصَيْبِ الْأَسْلَمِيُّ، وَرُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ، وَأَبُو حُمَيْدٍ، وَأَبُو أُسَيْدَ، وَفَضَالَةُ بْنُ عُبَيْدٍ.

وَأَبُو مُحَمَّدٍ رَوَيْنَا عَنْهُ وُجُوبَ الْوِتْرِ قُلْت: أَبُو مُحَمَّدٍ هُوَ - مَسْعُودُ بْنُ أَوْسٍ الْأَنْصَارِيُّ نَجَّارِيُّ بَدْرِيُّ - وَزَيْنَبُ بِنْتُ أُمِّ سَلَمَةَ، وَعُتْبَةُ بْنُ مَسْعُودٍ، وَبِلَالٌ الْمُؤَذِّنُ، وَعُرْوَةُ بْنُ الْحَارِثِ، وَسِيَاهُ بْنُ رَوْحٍ أَوْ رَوْحُ بْنُ سِيَاهٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الْمُعَلَّى، وَالْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَبِشْرُ بْنُ أَرْطَاةَ، وَصُهَيْبُ بْنُ سِنَانٍ، وَأُمُّ أَيْمَنَ، وَأُمُّ يُوسُفَ، وَالْغَامِدِيَّةُ، وَمَاعِزٌ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ.

فَهَؤُلَاءِ مِنْ نُقِلَتْ عَنْهُمْ الْفَتْوَى مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَا أَدْرِي بِأَيِّ طَرِيقٍ عَدَّ مَعَهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ الْغَامِدِيَّةَ وَمَاعِزًا، وَلَعَلَّهُ تَخَيَّلَ أَنَّ إقْدَامَهُمَا عَلَى جَوَازِ الْإِقْرَارِ بِالزِّنَا مِنْ غَيْرِ
আবু মাহজুরা, আবু শুরাইহ আল-কাবি, আবু বারযা আল-আসলামি, আসমা বিনতে আবু বকর, উম্মু শারিক, হাওলা বিনতে তুওয়াইত, উসাইদ ইবনুল হুদাইর, যাহহাক ইবনে কায়েস, হাবীব ইবনে মাসলামা, আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস, হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান, সুমামা ইবনে উসাল, আম্মার ইবনে ইয়াসির, আমর ইবনুল আস, আবু গাদিয়া আস-সুলামি, উম্মুদ দারদা আল-কুবরা, যাহহাক ইবনে খলিফা আল-মাযিনি, হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারি, ওয়াবিসা ইবনে মাবাদ আল-আসাদি, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-বারমাকি, আউফ ইবনে মালিক, আদি ইবনে হাতিম, আবদুল্লাহ ইবনে আউফা, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, আমর ইবনে আবাসা, আত্তাব ইবনে উসাইদ, উসমান ইবনে আবু আস, আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, আকিল ইবনে আবু তালিব, আইয ইবনে আমর, আবু কাতাদা আবদুল্লাহ ইবনে মা'মার আল-আদাউয়ি, উমাই ইবনে সা'লা, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর আস-সিদ্দিক এবং তাঁর ভাই আবদুর রহমান, আতিকা বিনতে যাইদ ইবনে আমর, আবদুল্লাহ ইবনে আউফ আয-যুহরি, সাদ ইবনে মুয়ায, সাদ ইবনে উবাদা, আবু মুনীব, কায়েস ইবনে সাদ, আবদুর রহমান ইবনে সাহল এবং সামুরা ইবনে জুনদুব।

সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদি, আমর ইবনে মুকাররিন, সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন, মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম, সাহলা বিনতে সুহাইল, আবু হুজাইফা ইবনে উতবা, সালামা ইবনুল আকওয়া, যাইদ ইবনে আরকাম, জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি, জাবির ইবনে সালামা, উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া, হাসসান ইবনে সাবিত, হাবীব ইবনে আদি, কুদামা ইবনে মাজউন, উসমান ইবনে মাজউন, উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা, মালিক ইবনুল হুয়াইরিস, আবু উমামা আল-বাহিলি, মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা, খাব্বাব ইবনুল আরত্ত, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, যামরা ইবনুল ফায়দ, তারিক ইবনে শিহাব, যাহীর ইবনে রাফে, রাফে ইবনে খাদীজ এবং বিশ্বজাহানের নারীজাতির নেত্রী আল্লাহর রাসূলের কন্যা ফাতিমা (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) এবং ফাতিমা বিনতে কায়েস।

হিশাম ইবনে হাকিম ইবনে হিযাম এবং তাঁর পিতা হাকিম ইবনে হিযাম, শুরাহবীল ইবনুল সামত, উম্মু সালামা, দিহিয়া ইবনে খলিফা আল-কালবি, সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস, আল্লাহর রাসূলের মুক্তদাস সাওবান (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক), মুগীরা ইবনে শুবা, বুরাইদা ইবনুল হুসাইব আল-আসলামি, রুওয়াইফি ইবনে সাবিত, আবু হুমাইদ, আবু উসাইদ এবং ফাদালা ইবনে উবাইদ।

আর আবু মুহাম্মদ; যাঁর থেকে আমরা বিতর সালাত ওয়াজিব হওয়ার কথা বর্ণনা করেছি। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই আবু মুহাম্মদ হলেন—মাসউদ ইবনে আওস আল-আনসারি নাজ্জারি বদরি—এবং উম্মু সালামার কন্যা যাইনব, উতবা ইবনে মাসউদ, বিলাল মুয়াজ্জিন, উরওয়া ইবনুল হারিস, সিয়াহ ইবনে রাওহ অথবা রাওহ ইবনে সিয়াহ, আবু সাঈদ আল-মুআল্লা, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব, বিশর ইবনে আরতাহ, সুহাইব ইবনে সিনান, উম্মু আয়মান, উম্মু ইউসুফ, গামিদীয়া গোত্রের সেই নারী, মায়িজ এবং আবু আবদুল্লাহ আল-বাসরি।

এঁরা হলেন আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সেই সকল সাহাবী, যাঁদের থেকে ফতোয়া বর্ণিত হয়েছে। আমি জানি না আবু মুহাম্মদ কোন পন্থায় গামিদীয়া ও মায়িজকে তাঁদের সাথে গণ্য করেছেন; সম্ভবত তিনি ধারণা করেছেন যে, ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি প্রদানের বৈধতার ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রসর হওয়া কোনো প্রকার (আইনি সিদ্ধান্ত ব্যতীতই ছিল)...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
اسْتِئْذَانٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ هُوَ فَتْوَى لِأَنْفُسِهِمَا بِجَوَازِ الْإِقْرَارِ، وَقَدْ أَقَرَّا عَلَيْهَا، فَإِنْ كَانَ تَخَيَّلَ هَذَا فَمَا أَبْعَدَهُ مِنْ خَيَالٍ، أَوْ لَعَلَّهُ ظَفِرَ عَنْهُمَا بِفَتْوَى فِي شَيْءٍ مِنْ الْأَحْكَامِ.

فَصْلٌ [الصَّحَابَةُ سَادَةُ أَهْلِ الْفَتْوَى]

وَكَمَا أَنَّ الصَّحَابَةَ سَادَةُ الْأُمَّةِ وَأَئِمَّتُهَا وَقَادَتُهَا فَهُمْ سَادَاتُ الْمُفْتِينَ وَالْعُلَمَاءِ.

قَالَ اللَّيْثُ عَنْ مُجَاهِدٍ: الْعُلَمَاءُ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ فِي قَوْله تَعَالَى: {وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ} [سبأ: 6] قَالَ: أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ عُمَيْرٍ: لَمَّا حَضَرَ مُعَاذَ بْنُ جَبَلٍ الْمَوْتُ قِيلَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَوْصِنَا، قَالَ أَجْلِسُونِي، إنَّ الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ مَكَانُهُمَا مَنْ ابْتَغَاهُمَا وَجَدَهُمَا، يَقُولُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، الْتَمِسْ الْعِلْمَ عِنْدَ أَرْبَعَةِ رَهْطٍ: عِنْدَ عُوَيْمِرِ بْنِ أَبِي الدَّرْدَاءِ، وَعِنْدَ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، وَعِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَعِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ.

وَقَالَ مَالِكُ بْنُ يَخَامُرَ: لَمَّا حَضَرَتْ مُعَاذًا الْوَفَاةُ بَكَيْتُ، فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ؟ قُلْت: وَاَللَّهِ مَا أَبْكِي عَلَى دُنْيَا كُنْتُ أُصِيبُهَا مِنْك، وَلَكِنْ أَبْكِي عَلَى الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ اللَّذَيْنِ كُنْتُ أَتَعَلَّمُهُمَا مِنْك، فَقَالَ: إنَّ الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ مَكَانُهُمَا، مَنْ ابْتَغَاهُمَا وَجَدَهُمَا، اُطْلُبْ الْعِلْمَ عِنْدَ أَرْبَعَةٍ، فَذَكَرَ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةَ، ثُمَّ قَالَ: فَإِنْ عَجَزَ عَنْهُ هَؤُلَاءِ فَسَائِرُ أَهْلِ الْأَرْضِ عَنْهُ أَعْجَزُ، فَعَلَيْك بِمُعَلِّمِ إبْرَاهِيمَ، قَالَ: فَمَا نَزَلَتْ بِي مَسْأَلَةٌ عَجَزْت عَنْهَا إلَّا قُلْت: يَا مُعَلِّمَ إبْرَاهِيمَ.

وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: عُلَمَاءُ الْأَرْضِ ثَلَاثَةٌ، فَرَجُلٌ بِالشَّامِ، وَآخَرُ بِالْكُوفَةِ، وَآخَرُ بِالْمَدِينَةِ، فَأَمَّا هَذَانِ فَيَسْأَلَانِ الَّذِي بِالْمَدِينَةِ، وَاَلَّذِي بِالْمَدِينَةِ لَا يَسْأَلُهُمَا عَنْ شَيْءٍ.

وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: ثَلَاثَةٌ يَسْتَفْتِي بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ: فَكَانَ عُمَرُ وَعَبْدُ اللَّهِ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ يَسْتَفْتِي بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ، وَكَانَ عَلِيٌّ وَأُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ يَسْتَفْتِي بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ، قَالَ الشَّيْبَانِيُّ: فَقُلْت لِلشَّعْبِيِّ: وَكَانَ أَبُو مُوسَى بِذَاكَ؟ فَقَالَ: مَا كَانَ أَعْلَمَهُ، قُلْت: فَأَيْنَ مُعَاذٌ؟ فَقَالَ: هَلَكَ قَبْلَ ذَلِكَ.

وَقَالَ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ: قِيلَ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: حَدِّثْنَا عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،
এ বিষয়ে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট অনুমতি প্রার্থনা করা মূলত স্বীকৃতির বৈধতা বিষয়ে তাদের নিজেদের জন্য একটি ফাতওয়া ছিল, এবং তারা উভয়েই তা স্বীকার করেছিলেন। যদি কেউ এমনটি কল্পনা করে থাকে, তবে তা কতই না অবাস্তব কল্পনা! অথবা হতে পারে তিনি তাদের নিকট থেকে কোনো আহকাম বা বিধানের ব্যাপারে ফাতওয়া লাভ করেছিলেন।

পরিচ্ছেদ [সাহাবীগণ ফাতওয়া প্রদানকারীদের নেতা]

সাহাবীগণ যেভাবে উম্মতের নেতা, ইমাম ও পথপ্রদর্শক, তেমনি তাঁরা মুফতি ও আলেমদেরও নেতা।

লায়স মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন: আলেমগণ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ। সাঈদ কাতাদাহ থেকে আল্লাহর এই বাণী— "যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখতে পায় যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য" [সাবা: ৬]—এর ব্যাখ্যায় বলেন: তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ। ইয়াযিদ ইবনে উমায়ের বলেন: যখন মুআয ইবনে জাবালের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন বলা হলো: হে আবু আবদুর রহমান, আমাদের উপদেশ দিন। তিনি বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। নিশ্চয়ই ইলম ও ঈমান নিজ নিজ স্থানে রয়েছে; যে তা খুঁজবে সে তা পাবে—একথা তিনি তিনবার বললেন। তোমরা চারজন ব্যক্তির নিকট ইলম তালাশ করো: উওয়াইমির ইবনে আবুদ্দারদা, সালমান আল-ফারিসী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালামের নিকট।

মালিক ইবনে ইখামির বলেন: যখন মুআযের মৃত্যুর সময় হলো আমি কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন: তুমি কেন কাঁদছ? আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি আপনার থেকে প্রাপ্ত কোনো পার্থিব স্বার্থের জন্য কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি সেই ইলম ও ঈমানের জন্য যা আমি আপনার নিকট থেকে শিখতাম। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ইলম ও ঈমান তাদের নিজ স্থানেই আছে, যে তা খুঁজবে সে তা পাবে। তোমরা চারজনের কাছে ইলম অন্বেষণ করো—অতঃপর তিনি ঐ চারজনের নাম উল্লেখ করলেন। তারপর তিনি বললেন: যদি তারা অক্ষম হয়, তবে পৃথিবীর অন্য সকল মানুষ আরও বেশি অক্ষম হবে। এমতাবস্থায় তুমি ইবরাহীমের শিক্ষাদাতার স্মরণাপন্ন হয়ো। মালিক বলেন: যখনই আমার নিকট কোনো কঠিন সমস্যা উপস্থিত হয়েছে আর আমি তার সমাধান করতে অক্ষম হয়েছি, তখনই আমি বলেছি: হে ইবরাহীমের শিক্ষাদাতা!

আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ বলেন: পৃথিবীর আলেম হলেন তিনজন—একজন শামে, একজন কুফায় এবং অন্যজন মদিনায়। শামের ও কুফার এই দুই আলেম মদিনার আলেমের নিকট মাসআলা জিজ্ঞাসা করেন, কিন্তু মদিনার আলেম তাদের নিকট কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন না।

শাবী বলেন: এমন তিনজন করে ব্যক্তি ছিলেন যারা একে অপরের নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করতেন। উমর, আবদুল্লাহ ও যায়িদ ইবনে সাবিত একে অপরের নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করতেন। আবার আলী, উবাই ইবনে কাব ও আবু মুসা আল-আশআরী একে অপরের নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করতেন। শায়বানী বলেন: আমি শাবীকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু মুসাও কি সেই পর্যায়ের ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি কতই না বড় আলেম ছিলেন! আমি বললাম: মুআয কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি তার আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন।

আবুল বাখতারী বলেন: আলী ইবনে আবু তালিবকে বলা হলো: আমাদের নিকট আল্লাহর রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ সম্পর্কে কিছু বলুন,
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ: عَنْ أَيِّهِمْ؟ قَالَ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَرَأَ الْقُرْآنَ، وَعَلِمَ السُّنَّةَ، ثُمَّ انْتَهَى، وَكَفَاهُ بِذَلِكَ؛ قَالَ: فَحَدِّثْنَا عَنْ حُذَيْفَةَ؛ قَالَ: أَعْلَمُ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ بِالْمُنَافِقِينَ، قَالُوا: فَأَبُو ذَرٍّ، قَالَ: كُنَيْفٌ مَلِيءٌ عِلْمًا عَجَزَ فِيهِ، قَالُوا: فَعَمَّارٌ، قَالَ: مُؤْمِنٌ نَسِيَ إذَا ذَكَّرْتَهُ ذَكَرَ، خَلَطَ اللَّهُ الْإِيمَانَ بِلَحْمِهِ وَدَمِهِ، لَيْسَ لِلنَّارِ فِيهِ نَصِيبٌ، قَالُوا: فَأَبُو مُوسَى، قَالَ: صَبَغَ فِي الْعِلْمِ صِبْغَةً، قَالُوا: فَسَلْمَانُ، قَالَ: عَلِمَ الْعِلْمَ الْأَوَّلَ وَالْآخِرَ، بَحْرٌ لَا يَنْزَحُ، مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ، قَالُوا: فَحَدِّثْنَا عَنْ نَفْسِك يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: إيَّاهَا أَرَدْتُمْ، كُنْت إذَا سُئِلْتُ أَعْطَيْتُ، وَإِذَا سَكَتُّ اُبْتُدِيتُ وَقَالَ مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوقٍ: شَامَمْتُ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم؛ فَوَجَدْتُ عِلْمَهُمْ يَنْتَهِي إلَى سِتَّةٍ: إلَى عَلِيٍّ، وَعَبْدِ اللَّهِ، وَعُمَرَ، وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَأُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ، ثُمَّ شَامَمْتُ السِّتَّةَ فَوَجَدْت عِلْمَهُمْ انْتَهَى إلَى عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ.

وَقَالَ مَسْرُوقٌ أَيْضًا: جَالَسْتُ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَكَانُوا كَالْإِخَاذِ: الْإِخَاذَةُ تَرْوِي الرَّاكِبَ، وَالْإِخَاذَةُ تَرْوِي الرَّاكِبَيْنِ وَالْإِخَاذَةُ تَرْوِي الْعَشَرَةَ، وَالْإِخَاذَةُ لَوْ نَزَلَ بِهَا أَهْلُ الْأَرْضِ لَأَصْدَرْتُهُمْ، وَإِنَّ عَبْدَ اللَّهِ مِنْ تِلْكَ الْإِخَاذِ.

وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: إذَا اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي شَيْءٍ فَخُذُوا بِمَا قَالَ عُمَرُ وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: إنِّي لَأَحْسَبُ عُمَرَ ذَهَبَ بِتِسْعَةِ أَعْشَارِ الْعِلْمِ وَقَالَ أَيْضًا: لَوْ أَنَّ عِلْمَ عُمَرَ وُضِعَ فِي كِفَّةِ الْمِيزَانِ وَوُضِعَ عِلْمُ أَهْلِ الْأَرْضِ فِي كِفَّةٍ لَرَجَحَ عِلْمُ عُمَرَ.

وَقَالَ حُذَيْفَةُ: كَأَنَّ عِلْمَ النَّاسِ مَعَ عِلْمِ عُمَرَ دُسَّ فِي حَجَرٍ.

وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: قُضَاةُ هَذِهِ الْأُمَّةِ: عُمَرُ، وَعَلِيٌّ، وَزَيْدٌ، وَأَبُو مُوسَى.

وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ: كَانَ عُمَرُ يَتَعَوَّذُ بِاَللَّهِ مِنْ مُعْضِلَةٍ لَيْسَ لَهَا أَبُو حَسَنٍ «وَشَهِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ بِأَنَّهُ عَلِيمٌ مُعَلِّمٌ» ، وَبَدَأَ بِهِ فِي قَوْلِهِ: «خُذُوا
তিনি বললেন: তাঁদের মধ্যে কার সম্পর্কে? তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ সম্পর্কে। তিনি বললেন: তিনি কুরআন পাঠ করেছেন এবং সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করেছেন, এরপর তিনি পূর্ণতা লাভ করেছেন এবং এটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট। তারা বলল: তবে আমাদের কাছে হুযাইফাহ সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বললেন: তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে মুনাফিকদের বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন। তারা বলল: তবে আবু যার? তিনি বললেন: তিনি জ্ঞানের একটি ক্ষুদ্র আধার ছিলেন যা জ্ঞানে পরিপূর্ণ ছিল কিন্তু তিনি তা প্রকাশে অক্ষম ছিলেন। তারা বলল: তবে আম্মার? তিনি বললেন: তিনি এমন এক মুমিন যে, ভুলে গেলে আপনি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি মনে রাখেন; আল্লাহ তাঁর রক্ত ও মাংসের সাথে ঈমানকে মিশিয়ে দিয়েছেন, জাহান্নামের আগুনের জন্য তাঁর মাঝে কোনো অংশ নেই। তারা বলল: তবে আবু মুসা? তিনি বললেন: তিনি জ্ঞানের রঙে রঞ্জিত হয়েছেন। তারা বলল: তবে সালমান? তিনি বললেন: তিনি আদি ও অন্তের জ্ঞান অর্জন করেছেন, তিনি এক নিঃশেষহীন সমুদ্র, তিনি আমাদের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। তারা বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, এবার আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদের বলুন। তিনি বললেন: তোমরা এটিই জানতে চেয়েছিলে; আমাকে যখন কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হতো আমি উত্তর দিতাম, আর যখন আমি নীরব থাকতাম তখন আমার নিকট থেকে জ্ঞানের সূচনা করা হতো। আর মুসলিম মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাহচর্যে গিয়েছি; আমি দেখেছি তাঁদের জ্ঞান ছয়জনের কাছে গিয়ে শেষ হয়: আলী, আব্দুল্লাহ, উমর, যায়িদ বিন সাবিত, আবু দারদা এবং উবাই বিন কাব। এরপর আমি এই ছয়জনকে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি তাঁদের জ্ঞান আলী ও আব্দুল্লাহর নিকট গিয়ে শেষ হয়েছে।

মাসরুক আরও বলেন: আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাথে বসেছি, তাঁরা ছিলেন জলাশয়ের ন্যায়: কোনো জলাশয় একজন আরোহীকে তৃপ্ত করে, কোনো জলাশয় দুইজন আরোহীকে তৃপ্ত করে, কোনো জলাশয় দশজনকে তৃপ্ত করে, আর কোনো জলাশয় এমন ছিল যে যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ তাতে অবতরণ করত তবে তিনি তাদের তৃপ্ত করে বিদায় দিতেন; আর আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ছিলেন সেই সব জলাশয়ের অন্তর্ভুক্ত।

শাবী বলেন: যখন মানুষ কোনো বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয় তখন উমর যা বলেছেন তা গ্রহণ করো। ইবনে মাসউদ বলেন: আমি মনে করি উমর জ্ঞানের দশ ভাগের নয় ভাগ নিয়ে প্রস্থান করেছেন। তিনি আরও বলেন: যদি উমরের জ্ঞানকে পাল্লা্র এক পাশে রাখা হয় আর পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জ্ঞানকে অন্য পাশে রাখা হয় তবে উমরের জ্ঞানের পাল্লাটিই ভারী হবে।

হুযাইফাহ বলেন: উমরের জ্ঞানের তুলনায় অন্য মানুষের জ্ঞান যেন একটি পাথরের নিচে লুকায়িত আছে।

শাবী বলেন: এই উম্মতের বিচারক হলেন: উমর, আলী, যায়িদ এবং আবু মুসা।

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: উমর এমন কোনো জটিল সমস্যা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন যার সমাধানের জন্য আবুল হাসান (আলী) উপস্থিত থাকতেন না। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ও শিক্ষক; এবং তাঁর এই বাণীতে তিনি তাঁকে দিয়ে শুরু করেছেন: "তোমরা গ্রহণ করো...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ: مِنْ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ، وَمِنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَمِنْ سَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، وَمِنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ» وَلَمَّا وَرَدَ أَهْلُ الْكُوفَةِ عَلَى عُمَرَ أَجَازَهُمْ، وَفَضَّلَ أَهْلَ الشَّامِ عَلَيْهِمْ فِي الْجَائِزَةِ، فَقَالُوا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ تُفَضِّلُ أَهْلَ الشَّامِ عَلَيْنَا؟ فَقَالَ: يَا أَهْلَ الْكُوفَةِ أَجَزَعْتُمْ أَنْ فَضَّلْتُ أَهْلَ الشَّامِ عَلَيْكُمْ لِبُعْدِ شُقَّتِهِمْ وَقَدْ آثَرْتُكُمْ بِابْنِ أُمِّ عَبْدٍ؟ .

وَقَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو: مَا أَرَى أَحَدًا أَعْلَمَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: إنْ تَقُلْ ذَلِكَ فَإِنَّهُ كَانَ يَسْمَعُ حِينَ لَا نَسْمَعُ، وَيَدْخُلُ حِينَ لَا نَدْخُلُ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ إلَّا وَأَنَا أَعْلَمُ فِيمَ أُنْزِلَتْ، وَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنْ رَجُلًا أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ مِنِّي تَبْلُغُهُ الْإِبِلُ لَأَتَيْتُهُ

وَقَالَ زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ: كُنْت جَالِسًا عِنْدَ عُمَرَ فَأَقْبَلَ عَبْدُ اللَّهِ فَدَنَا مِنْهُ، فَأَكَبَّ عَلَيْهِ وَكَلَّمَهُ بِشَيْءٍ، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَقَالَ عُمَرُ: كُنَيْفٌ مَلِيءٌ عِلْمًا.

وَقَالَ الْأَعْمَشُ عَنْ إبْرَاهِيمَ: إنَّهُ كَانَ لَا يَعْدِلُ بِقَوْلِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ إذَا اجْتَمَعَا، فَإِذَا اخْتَلَفَا كَانَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ أَعْجَبَ إلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ كَانَ أَلْطَفَ وَقَالَ أَبُو مُوسَى: لِمَجْلِسٍ كُنْت أُجَالِسُهُ عَبْدُ اللَّهِ أَوْثَقُ فِي نَفْسِي مِنْ عَمَلِ سَنَةٍ

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ فِي قَوْله تَعَالَى: {حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا} [محمد: 16] قَالَ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَقِيلَ لِمَسْرُوقٍ: كَانَتْ عَائِشَةُ تُحْسِنُ الْفَرَائِضَ؟ قَالَ: وَاَللَّهِ لَقَدْ رَأَيْت الْأَحْبَارَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُونَهَا عَنْ الْفَرَائِضِ.

وَقَالَ أَبُو مُوسَى: مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَاهُ عَائِشَةَ إلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ: كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ أَعْلَمَهُمْ بِالْمَنَاسِكِ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، ثُمَّ ابْنُ عُمَرَ بَعْدَهُ.

وَقَالَ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إذَا تَحَدَّثُوا وَفِيهِمْ مُعَاذٌ نَظَرُوا إلَيْهِ هَيْبَةً لَهُ
"তোমরা চার ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করো: ইবনে উম্মে আবদ, উবাই ইবনে কাব, আবু হুজাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল।" যখন কুফাবাসী উমরের নিকট আসলেন, তিনি তাদের পুরস্কৃত করলেন এবং পুরস্কারের ক্ষেত্রে সিরীয়াবাসীদের তাদের ওপর অগ্রাধিকার দিলেন। তারা বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি আমাদের ওপর সিরীয়াবাসীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন? তিনি বললেন: হে কুফাবাসী! তাদের দূরবর্তী সফরের কারণে আমি তাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি বলে কি তোমরা অস্থির হয়ে পড়লে? অথচ আমি তোমাদের ইবনে উম্মে আবদকে প্রদান করে তোমাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।

উকবা ইবনে আমর বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে আবদুল্লাহর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে আমি দেখি না। তখন আবু মুসা বললেন: আপনি যদি একথা বলেন, তবে (তা সত্য), কারণ যখন আমাদের শোনার সুযোগ ছিল না তখন তিনি শুনতেন এবং যখন আমাদের প্রবেশের অনুমতি ছিল না তখন তিনি প্রবেশ করতেন। আবদুল্লাহ বলেন: এমন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়নি যা সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কেন অবতীর্ণ হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কোনো ব্যক্তি এমন স্থানে রয়েছেন যেখানে উট পৌঁছাতে পারে, তবে অবশ্যই আমি তার কাছে যেতাম।

যায়েদ ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি উমরের কাছে বসা ছিলাম, তখন আবদুল্লাহ আসলেন এবং তার নিকটবর্তী হলেন। উমর তার দিকে ঝুঁকলেন এবং তার সাথে নিভৃতে কথা বললেন। অতঃপর তিনি চলে গেলে উমর বললেন: এই ছোট পাত্রটি জ্ঞানে পরিপূর্ণ।

আমাশ ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন: উমর ও আবদুল্লাহ যখন কোনো বিষয়ে একমত হতেন, তখন তিনি তাদের মতের বিপরীতে কাউকে প্রাধান্য দিতেন না। আর যখন তারা মতভেদ করতেন, তখন আবদুল্লাহর মতটি তার কাছে অধিক পছন্দনীয় হতো; কারণ তিনি ছিলেন অধিক সূক্ষ্মদর্শী। আবু মুসা বলেন: আবদুল্লাহর সাথে আমার একটি মজলিস আমার কাছে এক বছরের আমল অপেক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য।

আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা মহান আল্লাহর বাণী: {অবশেষে যখন তারা আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যায়, তখন তারা যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের বলে: তিনি এইমাত্র কী বললেন?} [মুহাম্মদ: ১৬] এর ব্যাখ্যায় বলেন: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। মাসরুককে জিজ্ঞাসা করা হলো: আয়েশা কি ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের বড় বড় পণ্ডিতদের দেখেছি যে তারা তাকে ফরায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন।

আবু মুসা বলেন: আমরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যখনই কোনো হাদিস নিয়ে সমস্যায় পড়েছি এবং আয়েশাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তখনই আমরা তার নিকট সেই সংক্রান্ত জ্ঞান পেয়েছি। ইবনে সিরিন বলেন: তাঁরা মনে করতেন যে তাঁদের মধ্যে হজের বিধানাবলি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী উসমান ইবনে আফফান, তারপর ইবনে উমর।

শাহর ইবনে হাওশাব বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যখন কথা বলতেন এবং তাদের মধ্যে মুয়াজ উপস্থিত থাকতেন, তখন তারা তার গাম্ভীর্যের কারণে তার দিকে সশ্রদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাতেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَقَالَ: عَلِيٌّ: أَبُو ذَرٍّ أَوْعَى عِلْمًا ثُمَّ أَوْكَى عَلَيْهِ فَلَمْ يُخْرِجْ مِنْهُ شَيْئًا حَتَّى قُبِضَ.

وَقَالَ مَسْرُوقٌ: قَدِمْت الْمَدِينَةَ فَوَجَدْت زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ مِنْ الرَّاسِخِينَ فِي الْعِلْمِ وَقَالَ الْجَرِيرِيُّ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ: قَدِمْنَا الشَّامَ فَإِذَا النَّاسُ مُجْتَمِعُونَ يُطِيفُونَ بِرَجُلٍ، قَالَ: قُلْت: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: هَذَا أَفْقَهُ مَنْ بَقِيَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، هَذَا عَمْرٌو الْبِكَالِيُّ.

وَقَالَ سَعِيدٌ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى قَبْرِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: هَكَذَا يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَكَانَ مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ إذَا ذُكِرَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عُمَرَ عِنْدَهُ يَقُولُ: ابْنُ عُمَرَ أَوْرَعُهُمَا، وَابْنُ عَبَّاسٍ أَعْلَمُهُمَا وَقَالَ أَيْضًا: مَا رَأَيْت أَفْقَهَ مِنْ ابْنِ عُمَرَ، وَلَا أَعْلَمَ مِنْ ابْنِ عَبَّاسٍ.

وَكَانَ ابْنُ سِيرِينَ يَقُولُ: " اللَّهُمَّ أَبْقِنِي مَا أَبْقَيْت ابْنَ عُمَرَ أَقْتَدِي بِهِ ".

«وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ضَمَّنِي رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْحِكْمَةَ وَقَالَ أَيْضًا: دَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِي، وَقَالَ: اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْحِكْمَةَ وَتَأْوِيلَ الْكِتَابِ» وَلَمَّا مَاتَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَنَفِيَّةِ: مَاتَ رَبَّانِيُّ هَذِهِ الْأُمَّةِ.

وَقَالَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ: مَا رَأَيْت أَحَدًا أَعْلَمَ بِالسُّنَّةِ، وَلَا أُجْلَدَ رَأْيًا، وَلَا أَثَقْبَ نَظَرًا حِينَ يَنْظُرُ مِثْلَ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَإِنْ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَيَقُولُ لَهُ: قَدْ طَرَأَتْ عَلَيْنَا عُضَلُ أَقْضِيَةٍ أَنْتَ لَهَا وَلِأَمْثَالِهَا.

وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ: مَا رَأَيْتُ مَجْلِسًا قَطُّ أَكْرَمَ مِنْ مَجْلِسِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَكْثَرَ فِقْهًا وَأَعْظَمَ، إنَّ أَصْحَابَ الْفِقْهِ عِنْدَهُ أَصْحَابُ الْقُرْآنِ وَأَصْحَابُ الشِّعْرِ عِنْدَهُ يُصْدِرُهُمْ كُلَّهُمْ فِي وَادٍ وَاسِعٍ.

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسْأَلُنِي مَعَ الْأَكَابِرِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: لَوْ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَدْرَكَ أَسْنَانَنَا مَا عَسَرَهُ مِنَّا رَجُلٌ.

وَقَالَ مَكْحُولٌ: قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّى أَصَبْت هَذَا الْعِلْمَ؟ قَالَ: بِلِسَانٍ سَئُولٍ وَقَلْبٍ عَقُولٍ.

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُسَمَّى الْبَحْرُ مِنْ كَثْرَةِ عِلْمِهِ
আলী (রা.) বলেন: আবু যার (রা.) জ্ঞান সংরক্ষণ করেছিলেন, অতঃপর তিনি তা আবদ্ধ করে রেখেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তা থেকে কিছুই প্রকাশ করেননি।

মাসরুক (রহ.) বলেন: আমি মদিনায় আসলাম এবং যায়েদ বিন সাবিত (রা.)-কে জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত পেলাম। জারীরি আবু তামীমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা সিরিয়ায় আসলাম এবং দেখলাম যে মানুষ একত্রিত হয়ে এক ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছে। তিনি বলেন: আমি বললাম, ইনি কে? তারা বলল: ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে অবশিষ্ট থাকা সবচেয়ে বড় ফকীহ, ইনি আমর আল-বিকালি।

সাঈদ (রহ.) বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) যায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: এভাবেই জ্ঞান বিদায় নেয়। মায়মুন বিন মিহরান (রহ.)-এর নিকট যখন ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রা.)-এর আলোচনা হতো, তখন তিনি বলতেন: ইবনে উমর তাদের দুজনের মধ্যে অধিক পরহেজগার এবং ইবনে আব্বাস তাদের দুজনের মধ্যে অধিক জ্ঞানী। তিনি আরও বলতেন: আমি ইবনে উমরের চেয়ে বড় ফকীহ এবং ইবনে আব্বাসের চেয়ে বড় আলেম দেখিনি।

ইবনে সীরীন (রহ.) বলতেন: "হে আল্লাহ, আপনি ইবনে উমরকে যতদিন জীবিত রাখেন আমাকেও ততদিন জীবিত রাখুন, যাতে আমি তাকে অনুসরণ করতে পারি।"

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আলিঙ্গন করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, আপনি তাকে হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দিন। তিনি আরও বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং আমার কপালের চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন ও বললেন: হে আল্লাহ, আপনি তাকে হিকমত এবং কিতাবের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন। যখন ইবনে আব্বাস (রা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ (রহ.) বললেন: এই উম্মতের রাব্বানি (মহাজ্ঞানী) আজ মৃত্যুবরণ করলেন।

উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ (রহ.) বলেন: আমি সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী, অধিক দৃঢ় মত পোষণকারী এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন ইবনে আব্বাসের মতো আর কাউকে দেখিনি। এমনকি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাকে বলতেন: আমাদের সামনে এমন কিছু জটিল বিচার্য বিষয় উপস্থিত হয়েছে, যা কেবল তোমার এবং তোমার মতো মেধাবীদের সমাধানের যোগ্য।

আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.) বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের মজলিসের চেয়ে অধিক সম্মানজনক, অধিক ফিকহ সমৃদ্ধ ও মহান কোনো মজলিস কখনও দেখিনি। তাঁর নিকট ফিকহবিদগণ, কুরআন বিশেষজ্ঞগণ এবং কবিতা বিশেষজ্ঞগণ আসতেন; তিনি তাদের প্রত্যেককে এক বিশাল জ্ঞানসমুদ্র থেকে তৃপ্ত করে বিদায় দিতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবীদের উপস্থিতিতে আমাকে প্রশ্ন করতেন।

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: ইবনে আব্বাস যদি আমাদের সমবয়সী হতেন, তবে আমাদের কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারত না।

মাকহুল (রহ.) বলেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে এই জ্ঞান অর্জন করলেন? তিনি বললেন: প্রশ্নকারী জিহ্বা এবং অনুধাবনকারী হৃদয়ের মাধ্যমে।

মুজাহিদ (রহ.) বলেন: ইবনে আব্বাসকে তাঁর জ্ঞানের আধিক্যের কারণে 'সমুদ্র' বলা হতো।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَقَالَ طَاوُسٌ: أَدْرَكْت نَحْوًا مِنْ خَمْسِينَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذَا ذَكَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ شَيْئًا فَخَالَفُوهُ لَمْ يَزَلْ بِهِمْ حَتَّى يُقَرِّرَهُمْ.

وَقِيلَ لِطَاوُسٍ: أَدْرَكْت أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْقَطَعْتُ إلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: أَدْرَكْت سَبْعِينَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إذَا تَدَارَءُوا فِي شَيْءٍ انْتَهَوْا إلَى قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ.

وَقَالَ ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ: كَانَ أَصْحَابُ ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُونَ: ابْنُ عَبَّاسٍ أَعْلَمُ مِنْ عُمَرَ وَمِنْ عَلِيٍّ وَمِنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَيُعِدُّونَ نَاسًا، فَيَثِبُ عَلَيْهِمْ النَّاسُ، فَيَقُولُونَ: لَا تَعْجَلُوا عَلَيْنَا، إنَّهُ لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ هَؤُلَاءِ إلَّا وَعِنْدَهُ مِنْ الْعِلْمِ مَا لَيْسَ عِنْدَ صَاحِبِهِ، وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ جَمَعَهُ كُلَّهُ.

وَقَالَ الْأَعْمَشُ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ إذَا رَأَيْتَهُ قُلْت: أَجْمَلُ النَّاسِ فَإِذَا تَكَلَّمَ قُلْت: أَفْصَحُ النَّاسِ، فَإِذَا حَدَّثَ قُلْت: أَعْلَمُ النَّاسِ.

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ إذَا فَسَّرَ الشَّيْءَ رَأَيْتَ عَلَيْهِ النُّورَ.

فَصْلٌ.

[عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ]

قَالَ الشَّعْبِيُّ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَأْخُذَ بِالْوَثِيقَةِ فِي الْقَضَاءِ فَيَأْخُذْ بِقَوْلِ عُمَرَ.

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: إذَا اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي شَيْءٍ فَانْظُرُوا مَا صَنَعَ عُمَرُ فَخُذُوا بِهِ.

وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ: مَا أَعْلَمُ أَحَدًا بَعْدَ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم أَعْلَمَ مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَقَالَ أَيْضًا: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَقُولُ: لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا وَسَلَكَ عُمَرُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْت وَادِي عُمَرَ وَشِعْبَهُ.

وَقَالَ بَعْضُ التَّابِعِينَ: دَفَعْت إلَى عُمَرَ فَإِذَا الْفُقَهَاءُ عِنْدَهُ مِثْلُ الصِّبْيَانِ، قَدْ اسْتَعْلَى عَلَيْهِمْ فِي فِقْهِهِ وَعِلْمِهِ وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرٍ: لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ لَهُ أَصْحَابٌ مَعْرُوفُونَ حَرَّرُوا فُتْيَاهُ وَمَذَاهِبَهُ فِي الْفِقْهِ غَيْرَ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَكَانَ يَتْرُكُ مَذْهَبَهُ وَقَوْلَهُ لِقَوْلِ عُمَرَ، وَكَانَ لَا يَكَادُ يُخَالِفُهُ فِي شَيْءٍ مِنْ مَذَاهِبِهِ، وَيَرْجِعُ مِنْ قَوْلِهِ إلَى قَوْلِهِ.

وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ لَا يَقْنُتُ، وَقَالَ: وَلَوْ قَنَتَ عُمَرُ لَقَنَتَ عَبْدُ اللَّهِ
তাউস বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রায় পঞ্চাশজন সাহাবীকে পেয়েছি; ইবনে আব্বাস যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করতেন আর তাঁরা তাঁর বিরোধিতা করতেন, তখন তিনি তাঁদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদেরকে তাঁর মতের স্বপক্ষে স্বীকৃত করাতেন।

তাউসকে বলা হলো: আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, অতঃপর আপনি কেবল ইবনে আব্বাসের প্রতি নিবিষ্ট হলেন? তিনি বললেন: আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তরজন সাহাবীকে পেয়েছি, তাঁরা যখন কোনো বিষয়ে মতভেদ করতেন, তখন ইবনে আব্বাসের মতের ওপর এসে উপনীত হতেন।

ইবনে আবি নাজহি বলেন: ইবনে আব্বাসের ছাত্ররা বলতেন: ইবনে আব্বাস ওমর, আলী এবং আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর চেয়েও অধিক জ্ঞানী। তাঁরা আরও অনেককে গণ্য করতেন। এতে মানুষ তাঁদের ওপর চড়াও হতো। তখন তাঁরা বলতেন: আমাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না; মূল বিষয় হলো তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই এমন জ্ঞান ছিল যা অন্যের কাছে ছিল না, আর ইবনে আব্বাস সেই সমস্ত জ্ঞান একত্রিত করেছিলেন।

আমাশ বলেন: ইবনে আব্বাসকে যখন আপনি দেখতেন, তখন বলতেন: তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন আপনি বলতেন: তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বাগ্মী। আর তিনি যখন হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন আপনি বলতেন: তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী।

মুজাহিদ বলেন: ইবনে আব্বাস যখন কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতেন, তখন আপনি তাঁর ওপর নূর দেখতে পেতেন।

পরিচ্ছেদ।

[ওমর ইবনুল খাত্তাব]

শাবি বলেন: বিচারকার্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মতটি গ্রহণ করতে আগ্রহী, সে যেন ওমরের কথা গ্রহণ করে।

মুজাহিদ বলেন: যখন মানুষ কোনো বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়, তখন তোমরা দেখ ওমর কী করেছেন, অতঃপর তা গ্রহণ করো।

ইবনুল মুসাইয়িব বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর ওমর ইবনুল খাত্তাবের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে আমি জানি না। তিনি আরও বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলতেন: মানুষ যদি এক উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে আর ওমর অন্য কোনো উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলেন, তবে আমি ওমরের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব।

জনৈক তাবেয়ী বলেন: আমি ওমরের কাছে উপস্থিত হলাম, এমতাবস্থায় ফকীহগণ তাঁর নিকট বালকদের মতো ছিলেন; তিনি তাঁর ফিকহ ও ইলম দ্বারা তাঁদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। মুহাম্মদ বিন জারির বলেন: ইবনে মাসউদ ব্যতীত আর এমন কেউ ছিল না যার সুপরিচিত ছাত্ররা তাঁর ফতোয়া ও ফিকহি মাযহাবগুলো সুবিন্যস্ত করেছেন; আর তিনি ওমরের কথার কারণে নিজের মাযহাব ও মত ত্যাগ করতেন। তিনি তাঁর (ওমরের) কোনো মাযহাবের বিরোধিতা প্রায় করতেনই না এবং নিজের মত থেকে ফিরে তাঁর মতের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন।

শাবি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুনুত পড়তেন না। তিনি আরও বলেন: যদি ওমর কুনুত পড়তেন, তবে আবদুল্লাহও কুনুত পড়তেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَصْلٌ:

[عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ]

وَكَانَ مِنْ الْمُفْتِينَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْحَابٌ يُعْرَفُونَ، وَالْمُبَلِّغُونَ عَنْ عُمَرَ فُتْيَاهُ وَمَذَاهِبَهُ وَأَحْكَامَهُ فِي الدِّينِ بَعْدَهُ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ الْمُبَلَّغِينَ عَنْ عُثْمَانَ وَالْمُؤَدِّينَ عَنْهُ.

[عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ]

وَأَمَّا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام فَانْتَشَرَتْ أَحْكَامُهُ وَفَتَاوِيهِ، وَلَكِنْ قَاتَلَ اللَّهُ الشِّيعَةَ فَإِنَّهُمْ أَفْسَدُوا كَثِيرًا مِنْ عِلْمِهِ بِالْكَذِبِ عَلَيْهِ، وَلِهَذَا تَجِدُ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ مِنْ أَهْلِ الصَّحِيحِ لَا يَعْتَمِدُونَ مِنْ حَدِيثِهِ وَفَتْوَاهُ إلَّا مَا كَانَ مِنْ طَرِيقِ أَهْلِ بَيْتِهِ وَأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ كَعَبِيدَةَ السَّلْمَانِيِّ وَشُرَيْحٍ وَأَبِي وَائِلٍ وَنَحْوِهِمْ، وَكَانَ رضي الله عنه وَكَرَّمَ وَجْهَهُ يَشْكُو عَدَمَ حَمْلَةِ الْعِلْمَ الَّذِي أَوْدَعَهُ كَمَا قَالَ: إنَّ هَهُنَا عِلْمًا لَوْ أَصَبْت لَهُ حَمَلَةً

 

‌‌[فَصْلٌ عَمَّنْ انْتَشَرَ الدِّينُ وَالْفِقْهُ]

وَالدِّينُ وَالْفِقْهُ وَالْعِلْمُ انْتَشَرَ فِي الْأُمَّةِ عَنْ أَصْحَابِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَأَصْحَابِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، وَأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ فَعَلِمَ النَّاسُ عَامَّتَهُ عَنْ أَصْحَابِ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ؛ فَأَمَّا أَهْلُ الْمَدِينَةِ فَعِلْمُهُمْ عَنْ أَصْحَابِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَمَّا أَهْلُ مَكَّةَ فَعِلْمُهُمْ عَنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، وَأَمَّا أَهْلُ الْعِرَاقِ فَعِلْمُهُمْ عَنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ.

قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: وَقَدْ قِيلَ: إنَّ ابْنَ عُمَرَ وَجَمَاعَةً مِمَّنْ عَاشَ بَعْدَهُ بِالْمَدِينَةِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إنَّمَا كَانُوا يُفْتُونَ بِمَذَاهِبِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَمَا كَانُوا أَخَذُوا عَنْهُ، مِمَّا لَمْ يَكُونُوا حَفِظُوا فِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلًا.

وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ اللَّخْمِيُّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَطَبَ النَّاسَ بِالْجَابِيَةِ فَقَالَ: مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ الْفَرَائِضِ فَلِيَأْتِ زَيْدَ بْنِ ثَابِتٍ، وَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ الْفِقْهِ فَلِيَأْتِ مُعَاذَ بْنُ جَبَلٍ، وَمَنْ أَرَادَ الْمَالَ فَلِيَأْتِنِي. وَأَمَّا عَائِشَةُ فَكَانَتْ مُقَدَّمَةً فِي الْعِلْمِ وَالْفَرَائِضِ وَالْأَحْكَامِ وَالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، وَكَانَ مِنْ
পরিচ্ছেদ:

[উসমান ইবনে আফফান]

মুফতিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন উসমান ইবনে আফফান। ইবনে জারির বলেন: তবে তাঁর পরিচিত কোনো (নির্দিষ্ট) ছাত্রগোষ্ঠী ছিল না। আর উমরের পরে তাঁর (উমরের) ফতোয়া, মাযহাব এবং দ্বীনি বিধান প্রচারকারীগণ উসমানের পক্ষ থেকে প্রচারকারী ও বর্ণনাকারীদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক ছিল।

[আলী ইবনে আবি তালিব]

পক্ষান্তরে আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর বিধানসমূহ এবং ফতোয়াগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আল্লাহ শিয়াদের ধ্বংস করুন, কেননা তারা তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করার মাধ্যমে তাঁর ইলমের অনেক কিছুই নষ্ট করে ফেলেছে। এ কারণেই আপনি দেখবেন যে, ‘আহলুস সহীহ’ তথা হাদিস বিশারদগণ তাঁর হাদিস ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে কেবল তাঁর আহলে বাইত এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্র যেমন—আবিদা আস-সালমানি, শুরাইহ, আবু ওয়ায়েল এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বর্ণিত বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেন। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া কাররামান্লাহু ওয়াজহাহু) তাঁর নিকট গচ্ছিত ইলমের যোগ্য বাহকের অভাব নিয়ে আক্ষেপ করতেন, যেমনটি তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই এখানে প্রচুর ইলম রয়েছে, যদি আমি এর যোগ্য বাহক খুঁজে পেতাম!"

 

‌[যাদের মাধ্যমে দ্বীন ও ফিকহ প্রসারিত হয়েছে সেই সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]

উম্মতের মাঝে দ্বীন, ফিকহ ও ইলম প্রসারিত হয়েছে ইবনে মাসউদের ছাত্রগণ, যায়েদ ইবনে সাবিতের ছাত্রগণ, আবদুল্লাহ ইবনে উমরের ছাত্রগণ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ছাত্রগণের মাধ্যম থেকে। ফলে সাধারণ মানুষ এই চারজনের ছাত্রদের মাধ্যমেই ইলমের অধিকাংশ বিষয় অবগত হয়েছে। মদিনাবাসীদের ইলম অর্জিত হয়েছে যায়েদ ইবনে সাবিত ও আবদুল্লাহ ইবনে উমরের ছাত্রদের থেকে। মক্কাবাসীদের ইলম অর্জিত হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ছাত্রদের থেকে। আর ইরাকবাসীদের ইলম অর্জিত হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্রদের থেকে।

ইবনে জারির বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে উমর এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে যারা তাঁর পরে মদিনায় জীবিত ছিলেন, তাঁরা যায়েদ ইবনে সাবিতের মাযহাব এবং তাঁর থেকে যা কিছু তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন সে অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন—যে সকল বিষয়ে তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য মুখস্থ রাখতেন না।

ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুসা ইবনে আলী আল-লাখমি তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব জাবিয়াহ নামক স্থানে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দানকালে বলেন: "যে ব্যক্তি ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চায়, সে যেন যায়েদ ইবনে সাবিতের নিকট আসে। আর যে ব্যক্তি ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চায়, সে যেন মুয়াজ ইবনে জাবালের নিকট আসে। আর যে ব্যক্তি সম্পদ চায়, সে যেন আমার নিকট আসে।" আর আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ইলম, ফরায়েজ, বিধিবিধান এবং হালাল ও হারামের জ্ঞানে অত্যন্ত অগ্রগণ্য ছিলেন। এবং তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْآخِذِينَ عَنْهَا - الَّذِينَ لَا يَكَادُونَ يَتَجَاوَزُونَ قَوْلَهَا، الْمُتَفَقِّهِينَ بِهَا - الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ ابْنُ أَخِيهَا، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ ابْنُ أُخْتِهَا أَسْمَاءَ.

قَالَ مَسْرُوقٌ: لَقَدْ رَأَيْت مَشْيَخَةَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُونَهَا عَنْ الْفَرَائِضِ.

وَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ: مَا جَالَسْت أَحَدًا قَطُّ كَانَ أَعْلَمَ بِقَضَاءٍ وَلَا بِحَدِيثٍ بِالْجَاهِلِيَّةِ وَلَا أَرْوَى لِلشَّعْرِ وَلَا أَعْلَمَ بِفَرِيضَةٍ وَلَا طِبٍّ مِنْ عَائِشَةَ

 

‌‌[فَصْلٌ مَنْ صَارَتْ إلَيْهِ الْفَتْوَى مِنْ التَّابِعِينَ]

ثُمَّ صَارَتْ الْفَتْوَى فِي أَصْحَابِ هَؤُلَاءِ كَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رَاوِيَةِ عُمَرَ وَحَامِلِ عِلْمِهِ، قَالَ جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ: قُلْت لِعِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ: مَنْ أَفْقَهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ؟ قَالَ: أَمَّا أَفْقَهُهُمْ فِقْهًا وَأَعْلَمُهُمْ بِقَضَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَضَايَا أَبِي بَكْرٍ وَقَضَايَا عُمَرَ وَقَضَايَا عُثْمَانَ وَأَعْلَمُهُمْ بِمَا مَضَى عَلَيْهِ النَّاسُ فَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ؛ وَأَمَّا أَغْزَرُهُمْ حَدِيثًا فَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَلَا تَشَاءُ أَنْ تَفْجُرَ مِنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بَحْرًا إلَّا فَجَّرْتَهُ قَالَ عِرَاكٌ: وَأَفْقَهُهُمْ عِنْدِي ابْنُ شِهَابٍ؛ لِأَنَّهُ جَمَعَ عِلْمَهُمْ إلَى عِلْمِهِ.

وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: كُنْت أَطْلُبُ الْعِلْمَ مِنْ ثَلَاثَةٍ: سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَكَانَ أَفْقَهَ النَّاسِ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَكَانَ بَحْرًا لَا تُكَدِّرُهُ الدِّلَاءُ، وَكُنْت لَا تَشَاءُ أَنْ تَجِدَ عِنْدَ عُبَيْدِ اللَّهِ طَرِيقَةً مِنْ عِلْمٍ لَا تَجِدُهَا عِنْدَ غَيْرِهِ إلَّا وَجَدْت.

وَقَالَ الْأَعْمَشُ: فُقَهَاءُ الْمَدِينَةِ أَرْبَعَةٌ: سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَعُرْوَةُ، وَقَبِيصَةُ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ.

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ: لَمَّا مَاتَ الْعَبَادِلَةُ - عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ -؛ صَارَ الْفِقْهُ فِي جَمِيعِ الْبُلْدَانِ إلَى الْمَوَالِي؛ فَكَانَ فَقِيهُ أَهْلِ مَكَّةَ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ، وَفَقِيهُ أَهْلِ الْيَمَنِ طَاوُسٌ، وَفَقِيهُ أَهْلِ الْيَمَامَةِ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، وَفَقِيهُ أَهْلِ الْكُوفَةِ إبْرَاهِيمُ، وَفَقِيهُ أَهْلِ الْبَصْرَةِ الْحَسَنُ، وَفَقِيهُ أَهْلِ الشَّامِ مَكْحُولٌ، وَفَقِيهُ أَهْلِ خُرَاسَانَ عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، إلَّا الْمَدِينَةَ فَإِنَّ اللَّهَ خَصَّهَا بِقُرَشِيٍّ، فَكَانَ فَقِيهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ غَيْرَ مُدَافَعٍ.

وَقَالَ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ: مَرَرْت بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، فَسَلَّمْت عَلَيْهِ وَمَضَيْت، قَالَ: فَالْتَفَتَ إلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ: لَوْ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا لَسَرَّهُ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ جِدًّا وَأَشَارَ بِيَدِهِ إلَى السَّمَاءِ. وَكَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ صِهْرَ أَبِي هُرَيْرَةَ، زَوَّجَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ ابْنَتَهُ، وَكَانَ إذَا رَآهُ قَالَ: أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَك فِي سُوقِ الْجَنَّةِ، وَلِهَذَا أَكْثَرَ عَنْهُ مِنْ الرِّوَايَةِ.
তাঁর থেকে ইলম অর্জনকারী—যাঁরা তাঁর কথা অতিক্রম করতেন না এবং তাঁর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করেছেন—তাঁরা হলেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর এবং তাঁর বোন আসমার পুত্র উরওয়াহ ইবনে যুবাইর।

মাসরুক বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবীদের দেখেছি যে, তাঁরা তাঁকে উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন।

উরওয়াহ ইবনে যুবাইর বলেন: আমি এমন কারো সংশ্রব পাইনি যিনি বিচারব্যবস্থা, জাহিলি যুগের ইতিহাস, কাব্যচর্চা, উত্তরাধিকার আইন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে আয়েশা অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী ছিলেন।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: তাবেয়ীদের মধ্যে যাদের কাছে ফতোয়ার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল]

অতঃপর ফতোয়ার দায়িত্ব তাঁদের অনুসারীদের নিকট চলে আসে, যেমন উমরের বর্ণনাকারী ও তাঁর ইলমের ধারক সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব। জাফর ইবনে রাবিয়া বলেন: আমি ইরিক ইবনে মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম, মদিনাবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ কে? তিনি বললেন: ফিকহের গভীরতায় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালাসমূহ, আবু বকর, উমর ও উসমানের ফয়সালাসমূহ সম্পর্কে এবং পূর্ববর্তী লোকদের অনুসৃত পথ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী হলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব। আর হাদিসের প্রাচুর্যের দিক থেকে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর। আর উবাইদুল্লাহর নিকট জ্ঞানের যে প্রবাহই তুমি প্রবাহিত করতে চাইতে, তা-ই করতে পারতে। ইরিক বলেন: আমার মতে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ হলেন ইবনে শিহাব; কেননা তিনি তাঁদের সবার ইলমকে নিজের ইলমের সাথে সমন্বিত করেছিলেন।

জুহরি বলেন: আমি তিনজনের নিকট ইলম অন্বেষণ করতাম: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, যিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ; উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, যিনি ছিলেন এমন এক সাগর যাকে কোনো বালতি ঘোলা করতে পারে না; আর উবাইদুল্লাহর নিকট ইলমের এমন কোনো বিশেষত্ব ছিল না যা অন্যের কাছে পাওয়া যেত কিন্তু তাঁর কাছে নেই।

আমাশ বলেন: মদিনার ফকিহ ছিলেন চারজন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উরওয়াহ, কাবিছাহ এবং আবদুল মালিক।

আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আসলাম বলেন: যখন 'আবদুল্লাহ'গণ—অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস—ইন্তেকাল করলেন, তখন সমস্ত জনপদের ফিকহ বা আইনতত্ত্বের নেতৃত্ব মাওয়ালিদের হাতে চলে গেল। মক্কাবাসীদের ফকিহ ছিলেন আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইয়েমেনে তাউস, ইয়ামামায় ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, কুফায় ইবরাহিম, বসরায় হাসান, শামে মাকহুল এবং খোরাসানে আতা আল-খোরাসানি। তবে মদিনার বিষয়টি ছিল স্বতন্ত্র, কারণ আল্লাহ একে একজন কুরাইশ বংশীয় ব্যক্তির মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিলেন; তিনি হলেন মদিনাবাসীদের অবিসংবাদিত ফকিহ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব।

মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিয়ে চলে গেলাম। তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি একে দেখতেন তবে তিনি আনন্দিত হতেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত দুটি অনেক উঁচুতে তুললেন এবং তাঁর হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ছিলেন আবু হুরায়রার জামাতা; আবু হুরায়রা তাঁর নিকট নিজ কন্যাকে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি যখনই তাঁকে দেখতেন বলতেন: আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি জান্নাতের বাজারে আমাকে ও তোমাকে একত্রিত করেন। আর এ কারণেই সাঈদ তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[فَصْلٌ فُقَهَاءُ الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ]

وَكَانَ الْمُفْتُونَ بِالْمَدِينَةٍ مِنْ التَّابِعِينَ: ابْنَ الْمُسَيِّبِ، وَعُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَالْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَخَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ، وَأَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، وَعُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، وَهَؤُلَاءِ هُمْ الْفُقَهَاءُ، وَقَدْ نَظَمَهُمْ الْقَائِلُ فَقَالَ:

إذَا قِيلَ مَنْ فِي الْعِلْمِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ … رِوَايَتُهُمْ لَيْسَتْ عَنْ الْعِلْمِ خَارِجَهْ

فَقُلْ هُمْ عُبَيْدُ اللَّهِ عُرْوَةُ قَاسِمٌ … سَعِيدٌ أَبُو بَكْرٍ سُلَيْمَانُ خَارِجَهْ

وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْفَتْوَى أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ، وَسَالِمٌ، وَنَافِعٌ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ.

وَبَعْدَ هَؤُلَاءِ أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، وَابْنَاهُ مُحَمَّدٌ وَعَبْدُ اللَّهِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ وَابْنُهُ مُحَمَّدٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ وَالْحُسَيْنُ ابْنَا مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، وَجَمَعَ مُحَمَّدُ بْنُ نُوحٍ فَتَاوِيَهِ فِي ثَلَاثَةِ أَسْفَارٍ ضَخْمَةٍ عَلَى أَبْوَابِ الْفِقْهِ، وَخَلْقٌ سِوَى هَؤُلَاءِ

 

‌‌[فَصْلٌ فُقَهَاءُ مَكَّةَ]

وَكَانَ الْمُفْتُونَ بِمَكَّةَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، وَطَاوُسُ بْنُ كَيْسَانَ، وَمُجَاهِدُ بْنُ جَبْرٍ، وَعُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ، وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، وَعِكْرِمَةُ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ أَبُو الزُّبَيْرِ الْمَكِّيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ أُسَيْدَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَكَانَ أَكْثَرُ فَتْوَاهُمْ فِي الْمَنَاسِكِ، وَكَانَ يَتَوَقَّفُ فِي الطَّلَاقِ.

وَبَعْدَهُمْ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزِّنْجِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ سَالِمٍ الْقَدَّاحُ.

وَبَعْدَهُمَا الْإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسِ الشَّافِعِيُّ، ثُمَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ ابْنُ عَمِّ مُحَمَّدٍ، وَمُوسَى بْنُ أَبِي الْجَارُودِ، وَغَيْرُهُمْ.
[পরিচ্ছেদ: মদিনা মুনাওয়ারার ফকিহগণ]

তাবেয়ীদের মধ্যে মদিনার মুফতিগণ ছিলেন: ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ বিন যুবাইর, কাসিম বিন মুহাম্মদ, খারিজাহ বিন যায়েদ, আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন হারিস বিন হিশাম, সুলাইমান বিন ইয়াসার এবং উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ। এরাই হলেন সেই প্রখ্যাত ফকিহগণ, যাদের সম্পর্কে জনৈক কবি পঙ্ক্তি রচনা করে বলেছেন:

যখন জিজ্ঞাসা করা হয় ইলমের সাত সমুদ্র কারা, … যাদের বর্ণনা ইলমের পরিমণ্ডল থেকে বাইরে নয়;

তবে বলে দিন তারা হলেন: উবায়দুল্লাহ, উরওয়াহ, কাসিম, … সাঈদ, আবু বকর, সুলাইমান এবং খারিজাহ।

ফতোয়া প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত আরও ছিলেন আবান বিন উসমান, সালিম, নাফে, আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আলী বিন আল-হুসাইন।

তাদের পরে ছিলেন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযম এবং তাঁর দুই পুত্র মুহাম্মদ ও আবদুল্লাহ; আবদুল্লাহ বিন উমর বিন উসমান এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ; মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়ার দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও আল-হুসাইন; জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী; আবদুর রহমান বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর; মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির এবং মুহাম্মদ বিন শিহাব আজ-জুহরি। মুহাম্মদ বিন নূহ ফিকহের অধ্যায় বিন্যাস অনুযায়ী তাঁর ফতোয়াগুলো তিনটি বিশাল খণ্ডে সংকলন করেছেন। এছাড়াও তাঁদের বাইরে আরও বহু ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

 

[পরিচ্ছেদ: মক্কার ফকিহগণ]

মক্কায় মুফতিগণ ছিলেন আতা বিন আবু রাবাহ, তাউস বিন কায়সান, মুজাহিদ বিন জাবর, উবায়েদ বিন উমাইর, আমর বিন দিনার, আবদুল্লাহ বিন আবু মুলাইকাহ, আবদুর রহমান বিন সাবিত এবং ইকরামা।

অতঃপর তাঁদের পরে ছিলেন আবুয যুবাইর আল-মাক্কি, আবদুল্লাহ বিন খালিদ বিন উসাইদ এবং আবদুল্লাহ বিন তাউস।

অতঃপর তাঁদের পরে ছিলেন আবদুল মালিক বিন আবদুল আজিজ বিন জুরাইজ এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ। তাঁদের অধিকাংশ ফতোয়া ছিল হজের বিধিবিধান সম্পর্কে, আর তিনি (সুফিয়ান) তালাকের বিষয়ে ফতোয়া দিতে বিরত থাকতেন।

তাঁদের পরে ছিলেন মুসলিম বিন খালিদ আয-যানজি এবং সাঈদ বিন সালিম আল-কাদ্দাহ।

তাঁদের দুইজনের পরে ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ, অতঃপর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর আল-হুমাইদি, ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ (যিনি মুহাম্মদের চাচাতো ভাই), মুসা বিন আবু আল-জারুদ এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[فَصْلٌ فُقَهَاءُ الْبَصْرَةِ]

وَكَانَ مِنْ الْمُفْتِينَ بِالْبَصْرَةِ عَمْرُو بْنُ سَلَمَةَ الْجَرْمِيُّ، وَأَبُو مَرْيَمَ الْحَنَفِيُّ، وَكَعْبُ بْنُ سُورٍ، وَالْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ، وَأَدْرَكَ خَمْسَ مِائَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ، وَقَدْ جَمَعَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ فَتَاوِيهِ فِي سَبْعَةِ أَسْفَارٍ ضَخْمَةٍ قَالَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَزْمٍ: وَأَبُو الشَّعْثَاءِ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، وَأَبُو قِلَابَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشِّخِّيرُ، وَزُرَارَةُ بْنُ أَبِي أَوْفَى، وَأَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ أَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ، وَسُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْفٍ، وَيُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، وَالْقَاسِمُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَخَالِدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ، وَأَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحُمْرَانِيُّ، وَقَتَادَةُ، وَحَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَإِيَاسُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْقَاضِي.

وَبَعْدَهُمْ سَوَّارٌ الْقَاضِي، وَأَبُو بَكْرٍ الْعَتَكِيُّ، وَعُثْمَانُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبَتِّيُّ، وَطَلْحَةُ بْنُ إيَاسٍ الْقَاضِي، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الْعَنْبَرِيُّ، وَأَشْعَثُ بْنُ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ.

ثُمَّ بَعْدَ هَؤُلَاءِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُد الْحَرَشِيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ، وَبِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، وَمُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَمَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، وَالضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ.

فَصْلٌ.

[فُقَهَاءُ الْكُوفَةِ]

وَكَانَ مِنْ الْمُفْتِينَ بِالْكُوفَةِ عَلْقَمَةُ بْنُ قَيْسٍ النَّخَعِيُّ، وَالْأَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ النَّخَعِيُّ وَهُوَ عَمُّ عَلْقَمَةَ، وَعَمْرُو بْنِ شُرَحْبِيلَ الْهَمْدَانِيِّ، وَمَسْرُوقُ بْنُ الْأَجْدَعِ الْهَمْدَانِيُّ، وَعَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ، وَشُرَيْحُ بْنُ الْحَارِثِ الْقَاضِي، وَسُلَيْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ الْبَاهِلِيُّ، وَزَيْدُ بْنُ صُوحَانَ، وَسُوَيْدُ بْنُ غَفَلَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ قَيْسٍ الْجُعْفِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ النَّخَعِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الْقَاضِي، وَخَيْثَمَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَسَلَمَةُ بْنُ صُهَيْبٍ، وَمَالِكُ بْنُ عَامِرٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَخْبَرَةَ، وَزِرُّ بْنُ حُبَيْشٍ، وَخِلَاسُ بْنُ عَمْرٍو، وَعَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ الْأَوْدِيُّ، وَهَمَّامُ بْنُ الْحَارِثِ، وَالْحَارِثُ بْنُ سُوَيْد، وَيَزِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ النَّخَعِيُّ،
[পরিচ্ছেদ: বসরার ফকিহগণ]

বসরার মুফতিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আমর ইবনে সালামা আল-জারমি, আবু মারইয়াম আল-হানাফি, কাব ইবনে সুর এবং হাসান বসরী; তিনি পাঁচশ জন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং কোনো কোনো আলেম তাঁর ফতোয়াসমূহ সাতটি বিশাল খণ্ডে সংকলন করেছেন। আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: (আরো ছিলেন) আবুশ শা'সা জাবির ইবনে যায়েদ, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, আবু কিলাবা আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ আল-জারমি, মুসলিম ইবনে ইয়াসার, আবুল আলিয়া, হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান, মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শিখখীর, জুরারা ইবনে আবি আওফা এবং আবু বুরদা ইবনে আবি মুসা।

অতঃপর তাঁদের পরে আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি, সুলাইমান আত-তাইমি, আবদুল্লাহ ইবনে আওফ, ইউনুস ইবনে উবাইদ, আল-কাসিম ইবনে রাবিয়া, খালিদ ইবনে আবি ইমরান, আশআস ইবনে আবদুল মালিক আল-হুমরানি, কাতাদাহ, হাফস ইবনে সুলাইমান এবং বিচারক ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া।

তাঁদের পরে বিচারক সাউওয়ার, আবু বকর আল-আতাকি, উসমান ইবনে সুলাইমান আল-বাত্তি, বিচারক তালহা ইবনে ইয়াস, উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আল-আনবারি এবং আশআস ইবনে জাবির ইবনে যায়েদ।

অতঃপর এদের পরে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল মজিদ আস-সাকাফি, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা, হাম্মাদ ইবনে সালামা, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-হারাশি, ইসমাইল ইবনে উলাইয়া, বিশর ইবনে মুফাদ্দাল, মুয়াজ ইবনে মুয়াজ আল-আনবারি, মা'মার ইবনে রাশিদ, আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি।

পরিচ্ছেদ।

[কুফার ফকিহগণ]

কুফার মুফতিদের মধ্যে ছিলেন আলকামা ইবনে কায়েস আন-নাখয়ী, আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ আন-নাখয়ী—যিনি আলকামার চাচা ছিলেন, আমর ইবনে শুরাহবিল আল-হামদানি, মাসরুক ইবনে আল-আজদা আল-হামদানি, আবিদা আস-সালমানি, বিচারক শুরাইহ ইবনে আল-হারিস, সুলাইমান ইবনে রাবিয়া আল-বাহিলি, যায়েদ ইবনে সুহান, সুওয়াইদ ইবনে গাফালা, আল-হারিস ইবনে কায়েস আল-জু'ফি, আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ আন-নাখয়ী, বিচারক আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ, খাইসামা ইবনে আবদুর রহমান, সালামা ইবনে সুহাইব, মালিক ইবনে আমির, আবদুল্লাহ ইবনে সাখবারা, জির ইবনে হুবাইশ, খিলাস ইবনে আমর, আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি, হাম্মাম ইবনে আল-হারিস, আল-হারিস ইবনে সুওয়াইদ এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া আন-নাখয়ী।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَالرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ وَعُتْبَةُ بْنُ فَرْقَدٍ، وَصِلَةُ بْنُ زُفَرَ، وَشَرِيكُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَأَبُو وَائِلٍ شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ، وَعُبَيْدُ بْنُ نَضْلَةَ وَهَؤُلَاءِ أَصْحَابُ عَلِيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ.

وَأَكَابِرُ التَّابِعِينَ كَانُوا يُفْتُونَ فِي الدِّينِ، وَيَسْتَفْتِيهِمْ النَّاسُ، وَأَكَابِرُ الصَّحَابَةِ حَاضِرُونَ يُجَوِّزُونَ لَهُمْ ذَلِكَ، وَأَكْثَرُهُمْ أَخَذَ عَنْ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَعَلِيٍّ، وَلَقِيَ عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ الْأَوْدِيُّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، وَصَحِبَهُ، وَأَخَذَ عَنْهُ، وَأَوْصَاهُ مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ أَنْ يَلْحَقَ بِابْنِ مَسْعُودٍ فَيَصْحَبَهُ وَيَطْلُبَ الْعِلْمَ عِنْدَهُ، فَفَعَلَ ذَلِكَ.

وَيُضَافُ إلَى هَؤُلَاءِ أَبُو عُبَيْدَةَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى، وَأَخَذَ عَنْ مِائَةٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الصَّحَابَةِ، وَمَيْسَرَةُ، وَزَاذَانُ، وَالضَّحَّاكُ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ إبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ، وَعَامِرٌ الشَّعْبِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَالْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، وَمُحَارِبُ بْنُ دِثَارٍ، وَالْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ، وَجَبَلَةُ بْنُ سُحَيْمٍ وَصَحِبَ ابْنَ عُمَرَ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ، وَسُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، وَمِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ شُبْرُمَةَ، وَسَعِيدُ بْنُ أَشْوَعَ، وَشَرِيكٌ الْقَاضِي، وَالْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَأَبُو حَنِيفَةَ، وَالْحَسَنُ بْنُ صَالِحِ بْنِ حَيٍّ.

ثُمَّ بَعْدَهُمْ حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَأَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ كَأَبِي يُوسُفَ الْقَاضِي، وَزُفَرَ بْنِ الْهُذَيْلِ، وَحَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ اللُّؤْلُؤِيِّ الْقَاضِي، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ قَاضِي الرَّقَّةِ، وَعَافِيَةِ الْقَاضِي، وَأَسَدِ بْنُ عَمْرٍو، وَنُوحِ بْنِ دَرَّاجٍ الْقَاضِي، وَأَصْحَابُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ كَالْأَشْجَعِيِّ وَالْمُعَافَى بْنِ عِمْرَانَ، وَصَاحِبَيْ الْحَسَنِ بْنِ حَيٍّ الزَّوْلِيِّ، وَيَحْيَى بْنُ آدَمَ.

فَصْلٌ.

[فُقَهَاءُ الشَّامِ]

وَكَانَ مِنْ الْمُفْتِينَ بِالشَّامِ أَبُو إدْرِيسَ الْخَوْلَانِيُّ، وَشُرَحْبِيلُ بْنُ السَّمْطِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا الْخُزَاعِيُّ، وَقَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ الْخُزَاعِيُّ، وَحِبَّانُ بْنُ أُمَيَّةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَبِيبٍ الْمُحَارِبِيُّ، وَالْحَارِثُ بْنُ عُمَيْرٍ الزُّبَيْدِيُّ، وَخَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ الْأَشْعَرِيُّ، وَجُبَيْرُ بْنُ نُفَيْرٍ
রাবী ইবনে খুসাইম, উতবা ইবনে ফারকাদ, সিলাহ ইবনে যুফার, শারীক ইবনে হাম্বল, আবু ওয়ায়েল শাকীক ইবনে সালামা এবং উবাইদ ইবনে নাদলাহ; এঁরা সকলেই আলী ও ইবনে মাসউদের সাথী ছিলেন।

প্রবীণ তাবেয়ীগণ দ্বীনের বিষয়ে ফতোয়া দিতেন এবং মানুষ তাঁদের কাছে ফতোয়া প্রার্থনা করত। সে সময় বড় বড় সাহাবীগণ উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁরা তাঁদের ফতোয়া দেওয়াকে বৈধ মনে করতেন। তাঁদের অধিকাংশ উমর, আয়েশা এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে ইলম অর্জন করেছেন। আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদী মুয়ায ইবনে জাবালের সাক্ষাৎ লাভ করেন, তাঁর সাহচর্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম শিক্ষা করেন। মুয়ায তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁকে অসিয়ত করেন যেন তিনি ইবনে মাসউদের সাথে যুক্ত হন, তাঁর সাহচর্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর কাছে ইলম অন্বেষণ করেন; তিনি তা-ই করেছিলেন।

এঁদের সাথে আরও যুক্ত হবেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের দুই পুত্র আবু উবায়দাহ ও আবদুর রহমান, আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (যিনি একশ বিশ জন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন), মাইসারা, যাদান এবং যাহহাক।

অতঃপর তাঁদের পরে রয়েছেন ইব্রাহীম আল-নাখায়ী, আমির আল-শা'বী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু বকর ইবনে আবি মুসা, মুহারিব ইবনে দিসার, আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ এবং জাবালা ইবনে সুহাইম যিনি ইবনে উমরের সাহচর্য পেয়েছিলেন।

অতঃপর তাঁদের পরে হাম্মাদ ইবনে আবি সুলায়মান, সুলায়মান ইবনে আল-মু'তামির, সুলায়মান আল-আ'মাশ এবং মিসআর ইবনে কিদাম।

অতঃপর তাঁদের পরে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমা, সাঈদ ইবনে আশওয়া, শারীক আল-কাদী, আল-কাসিম ইবনে মা'ন, সুফিয়ান আল-সাওরী, আবু হানিফা এবং হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই।

অতঃপর তাঁদের পরে হাফস ইবনে গিয়াস, ওয়াকী ইবনে আল-জাররাহ এবং আবু হানিফার অনুসারীগণ যেমন: কাজী আবু ইউসুফ, যুফার ইবনে আল-হুযাইল, হাম্মাদ ইবনে আবি হানিফা, কাজী আল-হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লু’লুয়ি, রাক্কার কাজী মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান, কাজী আফিয়াহ, আসাদ ইবনে আমর, কাজী নূহ ইবনে দাররাজ এবং সুফিয়ান আল-সাওরীর অনুসারীগণ যেমন আল-আশজায়ি ও মুয়াফা ইবনে ইমরান, হাসান ইবনে হাই-এর দুই সঙ্গী আল-যাওলি এবং ইয়াহইয়া ইবনে আদম।

পরিচ্ছেদ।

[শামের ফকীহগণ]

আর শামে ফতোয়া দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী, শুরাহবিল ইবনে আল-সামত, আবদুল্লাহ ইবনে আবি জাকারিয়া আল-খুযায়ী, কাবিযা ইবনে যুআইব আল-খুযায়ী, হিব্বান ইবনে উমাইয়াহ, সুলায়মান ইবনে হাবিব আল-মুহারিবি, আল-হারিস ইবনে উমাইর আল-যুবাইদি, খালিদ ইবনে মা’দান, আবদুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরি এবং জুবায়ের ইবনে নুফায়ের।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ثُمَّ كَانَ بَعْدَهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، وَمَكْحُولٌ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَرَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ، وَكَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ يُعَدُّ فِي الْمُفْتِينَ قَبْلَ أَنْ يَلِيَ مَا وَلِيَ، وَحُدَيْرُ بْنُ كُرَيْبٌ.

ثُمَّ كَانَ بَعْدَهُمْ يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ الْقَاضِي، وَأَبُو عَامِرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْمُهَاجِرِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى الْأُمَوِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثُمَّ مَخْلَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَالْعَبَّاسُ بْنُ يَزِيدَ صَاحِبُ الْأَوْزَاعِيِّ، وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ صَاحِبُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَأَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيّ صَاحِبُ ابْنِ الْمُبَارَكِ.

فَصْلٌ.

[فُقَهَاءُ مِصْرَ]

فِي الْمُفْتِينَ مِنْ أَهْلِ مِصْرَ: يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، وَبُكَيْر بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ، وَبَعْدَهُمَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ.

وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ: لَوْ عَاشَ لَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ مَا احْتَجْنَا مَعَهُ إلَى مَالِكٍ وَلَا إلَى غَيْرِهِ - وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ.

وَبَعْدَهُمْ أَصْحَابُ مَالِكٍ كَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ كِنَانَةَ، وَأَشْهَبُ، وَابْنُ الْقَاسِمِ عَلَى غَلَبَةِ تَقْلِيدِهِ لِمَالِكٍ إلَّا فِي الْأَقَلِّ، ثُمَّ أَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ كَالْمُزَنِيِّ وَالْبُوَيْطِيِّ وَابْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، ثُمَّ غَلَبَ عَلَيْهِمْ تَقْلِيدُ مَالِكٍ وَتَقْلِيدُ الشَّافِعِيِّ، إلَّا قَوْمًا قَلِيلًا لَهُمْ اخْتِيَارَاتٌ كَمُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ، وَأَبِي جَعْفَرٍ الطَّحَاوِيِّ.

[فُقَهَاءُ الْقَيْرَوَانِ]

وَكَانَ بِالْقَيْرَوَانِ سَحْنُونُ بْنُ سَعِيدٍ، وَلَهُ كَثِيرٌ مِنْ الِاخْتِيَارِ، وَسَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَدَّادُ.

[فُقَهَاءُ الْأَنْدَلُسِ]

وَكَانَ بِالْأَنْدَلُسِ مِمَّنْ لَهُ شَيْءٌ مِنْ الِاخْتِيَارِ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ، وَبَقِيُّ بْنُ مَخْلَدٍ، وَقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ صَاحِبُ الْوَثَائِقِ، تُحْفَظُ لَهُمْ فَتَاوٍ يَسِيرَةٌ، وَكَذَلِكَ مَسْلَمَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْقَاضِي، وَمُنْذِرُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَزْمٍ: وَمِمَّنْ أَدْرَكْنَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى الصِّفَةِ الَّتِي مَنْ بَلَغَهَا اسْتَحَقَّ الِاعْتِدَادَ بِهِ فِي الِاخْتِلَافِ مَسْعُودُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَيُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ
এরপর তাদের পরে ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের, মাকহুল, উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ। আর আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে মুফতিদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো। এছাড়া ছিলেন হুদায়ের ইবনে কুরাইব।

এরপর তাদের পরে ছিলেন বিচারক ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ, আবু আমির আবদুর রহমান ইবনে আমর আল-আওযায়ী, ইসমাইল ইবনে আবি আল-মুহাজির, সুলাইমান ইবনে মুসা আল-উমায়ি এবং সাঈদ ইবনে আবদুল আজিজ। এরপর মাখলাদ ইবনে আল-হুসাইন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, আল-আওযায়ীর ছাত্র আব্বাস ইবনে ইয়াযিদ, আবু হানিফার ছাত্র শুআইব ইবনে ইসহাক এবং ইবনুল মুবারকের ছাত্র আবু ইসহাক আল-ফাযারি।

পরিচ্ছেদ।

[মিসরের ফকিহগণ]

মিসরের মুফতিদের মধ্যে ছিলেন: ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব এবং বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আশাজ্জ, আর তাদের দুজনের পরে ছিলেন আমর ইবনুল হারিস।

ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমর ইবনুল হারিস যদি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তবে তার উপস্থিতিতে আমাদের ইমাম মালিক কিংবা অন্য কারো প্রয়োজন হতো না। এছাড়া ছিলেন লাইস ইবনে সাদ এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর।

তাদের পরে ছিলেন ইমাম মালিকের অনুসারীগণ, যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, উসমান ইবনে কিনানাহ, আশহাব এবং ইবনুল কাসিম; শেষোক্ত ব্যক্তি অতি সামান্য বিষয় ব্যতীত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমাম মালিকেরই অনুসারী ছিলেন। এরপর ইমাম শাফিয়ির অনুসারীগণ, যেমন: মুযানী, বুওয়াইতি এবং ইবনে আবদুল হাকাম। অতঃপর তাদের মাঝে ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিয়ির অন্ধ অনুসরণ প্রবল হয়ে যায়, তবে অল্প কিছু লোক ছিলেন যাদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ পছন্দনীয় মত ছিল, যেমন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ এবং আবু জাফর আত-তাহাবি।

[কায়রাওয়ানের ফকিহগণ]

কায়রাওয়ানে ছিলেন সাহনুন ইবনে সাঈদ, তাঁর নিজস্ব অনেক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ছিলেন সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ।

[আন্দালুসের ফকিহগণ]

আন্দালুসে যাদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ মতামত ছিল তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আবদুল মালিক ইবনে হাবিব, বাকি ইবনে মাখলাদ এবং 'আল-ওয়াসাইক' গ্রন্থের প্রণেতা কাসিম ইবনে মুহাম্মদ; তাদের অল্প কিছু ফতোয়া সংরক্ষিত আছে। একইভাবে বিচারক মাসলামাহ ইবনে আবদুল আজিজ এবং মুনযির ইবনে সাঈদ। আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: আমরা আলেমদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিকে পেয়েছি যাদের জ্ঞান এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে, মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে তাদের ধর্তব্য হওয়ার যোগ্যতা ছিল; তারা হলেন মাসউদ ইবনে সুলাইমান এবং ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বার।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَصْلٌ.

[فُقَهَاءُ الْيَمَنِ]

وَكَانَ بِالْيَمَنِ مُطَرِّفُ بْنُ مَازِنٍ قَاضِي صَنْعَاءَ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، وَهِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، وَسِمَاكُ بْنُ الْفَضْلِ.

فَصْلٌ.

[فُقَهَاءُ بَغْدَادَ]

وَكَانَ بِمَدِينَةِ السَّلَامِ مِنْ الْمُفْتِينَ خَلْقٌ كَثِيرٌ، وَلَمَّا بَنَاهَا الْمَنْصُورُ أَقْدَمَ إلَيْهَا مِنْ الْأَئِمَّةِ وَالْفُقَهَاءِ وَالْمُحَدِّثِينَ بَشَرًا كَثِيرًا، فَكَانَ مِنْ أَعْيَانِ الْمُفْتِينَ بِهَا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ، وَكَانَ جَبَلًا نَفَخَ فِيهِ الرُّوحَ عِلْمًا وَجَلَالَةً وَنُبْلًا وَأَدَبًا، وَكَانَ مِنْهُمْ أَبُو ثَوْرٍ إبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الْكَلْبِيُّ صَاحِبُ الشَّافِعِيِّ وَكَانَ قَدْ جَالَسَ الشَّافِعِيَّ وَأَخَذَ عَنْهُ، وَكَانَ أَحْمَدُ يُعَظِّمُهُ وَيَقُولُ: هُوَ فِي سِلَاحِ الثَّوْرِيِّ

 

‌‌[أُصُولُ فَتَاوَى أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ]

. [الْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ]

وَكَانَ بِهَا إمَامُ أَهْلِ السُّنَّةِ عَلَى الْإِطْلَاقِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ الَّذِي مَلَأَ الْأَرْضَ عِلْمًا وَحَدِيثًا وَسُنَّةً، حَتَّى إنَّ أَئِمَّةَ الْحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ بَعْدَهُ هُمْ أَتْبَاعُهُ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكَانَ رضي الله عنه شَدِيدَ الْكَرَاهَةِ لِتَصْنِيفِ الْكُتُبِ، وَكَانَ يُحِبُّ تَجْرِيدَ الْحَدِيثِ، وَيَكْرَهُ أَنْ يَكْتُبَ كَلَامَهُ، وَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ جِدًّا، فَعَلِمَ اللَّهُ حُسْنَ نِيَّتِهِ وَقَصْدِهِ فَكُتِبَ مِنْ كَلَامِهِ وَفَتْوَاهُ أَكْثَرُ مِنْ ثَلَاثِينَ سِفْرًا، وَمَنَّ اللَّهُ سُبْحَانَهُ عَلَيْنَا بِأَكْثَرِهَا فَلَمْ يَفُتْنَا مِنْهَا إلَّا الْقَلِيلُ، وَجَمَعَ الْخَلَّالُ نُصُوصَهُ فِي الْجَامِعِ الْكَبِيرِ فَبَلَغَ نَحْوَ عِشْرِينَ سِفْرًا أَوْ أَكْثَرَ، وَرُوِيَتْ فَتَاوِيهِ وَمَسَائِلُهُ وَحُدِّثَ بِهَا قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ فَصَارَتْ إمَامًا وَقُدْوَةً لِأَهْلِ السُّنَّةِ عَلَى اخْتِلَافِ طَبَقَاتِهِمْ، حَتَّى إنَّ الْمُخَالِفِينَ لِمَذْهَبِهِ بِالِاجْتِهَادِ وَالْمُقَلِّدِينَ لِغَيْرِهِ لَيُعَظِّمُونَ نُصُوصَهُ وَفَتَاوَاهُ، وَيَعْرِفُونَ لَهَا حَقَّهَا وَقُرْبَهَا مِنْ النُّصُوصِ وَفَتَاوَى الصَّحَابَةِ، وَمَنْ تَأَمَّلَ فَتَاوَاهُ وَفَتَاوَى الصَّحَابَةِ رَأَى مُطَابَقَةَ كُلٍّ مِنْهُمَا عَلَى الْأُخْرَى، وَرَأَى الْجَمِيعَ كَأَنَّهَا تَخْرُجُ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ، حَتَّى إنَّ الصَّحَابَةَ إذَا اخْتَلَفُوا عَلَى قَوْلَيْنِ جَاءَ عَنْهُ فِي الْمَسْأَلَةِ رِوَايَتَانِ، وَكَانَ تَحَرِّيهِ لِفَتَاوَى الصَّحَابَةِ كَتَحَرِّي أَصْحَابِهِ لِفَتَاوِيهِ وَنُصُوصِهِ، بَلْ أَعْظَمَ، حَتَّى إنَّهُ لَيُقَدِّمُ فَتَاوَاهُمْ عَلَى الْحَدِيثِ الْمُرْسَلِ، قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ هَانِئٍ فِي مَسَائِلِهِ: قُلْت لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ: حَدِيثٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ بِرِجَالٍ ثَبَتَ أَحَبُّ إلَيْك أَوْ حَدِيثٌ عَنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ مُتَّصِلٌ بِرِجَالٍ ثَبَتَ؟ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله: عَنْ الصَّحَابَةِ أَعْجَبُ إلَيَّ
পরিচ্ছেদ।

[ইয়েমেনের ফকিহগণ]

ইয়েমেনে ছিলেন সানআর বিচারপতি মুতাররিফ ইবনে মাজিন, আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম, হিশাম ইবনে ইউসুফ, মুহাম্মদ ইবনে সাওর এবং সিমাক ইবনুল ফাদল।

পরিচ্ছেদ।

[বাগদাদের ফকিহগণ]

মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) বিপুল সংখ্যক মুফতি ছিলেন। যখন আল-মনসুর এটি নির্মাণ করেন, তখন তিনি সেখানে বিপুল সংখ্যক ইমাম, ফকিহ এবং মুহাদ্দিসকে সমবেত করেন। সেখানকার বিশিষ্ট মুফতিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম। তিনি ছিলেন একটি পাহাড়ের ন্যায়, যার মধ্যে ইলম, মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও শিষ্টাচার দ্বারা প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন শাফেয়ীর সহচর আবু সাওর ইব্রাহিম ইবনে খালিদ আল-কালবি; তিনি শাফেয়ীর সান্নিধ্যে বসেছেন এবং তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। ইমাম আহমাদ তাঁকে সম্মান করতেন এবং বলতেন: তিনি সমরাস্ত্রের দিক থেকে সাওরির সমতুল্য।

 

‌‌[আহমাদ ইবনে হাম্বলের ফতোয়ার মূলনীতিসমূহ]

. [ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল]

সেখানে ছিলেন আহলে সুন্নাতের নিরঙ্কুশ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, যিনি পৃথিবীকে ইলম, হাদিস এবং সুন্নাহ দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন; এমনকি তাঁর পরবর্তী হাদিস ও সুন্নাহর ইমামগণ কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরই অনুসারী। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) গ্রন্থ রচনা করাকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন। তিনি কেবল হাদিস সংকলন করা পছন্দ করতেন এবং নিজের কথা লিখে রাখা অপছন্দ করতেন, এমনকি এ ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর উত্তম নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন, ফলে তাঁর কথা ও ফতোয়া থেকে ত্রিশটিরও বেশি খণ্ড সংকলিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, সেগুলোর অধিকাংশ আমরা লাভ করেছি এবং খুব সামান্যই আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। আল-খল্লাল তাঁর বর্ণিত ভাষ্যসমূহ 'আল-জামেউল কাবীর'-এ একত্রিত করেছেন, যা প্রায় বিশ খণ্ড বা তারও বেশি। তাঁর ফতোয়া ও মাসআলাসমূহ যুগ যুগ ধরে বর্ণিত ও পঠিত হয়ে আসছে, ফলে তা সকল স্তরের আহলে সুন্নাতের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এমনকি যারা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের বিরোধী এবং যারা অন্যের অনুসারী, তারাও তাঁর বক্তব্য ও ফতোয়াকে সম্মান করে এবং সেগুলোর যথাযথ মর্যাদা এবং কুরআন-সুন্নাহর মূল পাঠ ও সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়ার সাথে সেগুলোর নৈকট্য স্বীকার করে। যে ব্যক্তি তাঁর ফতোয়া এবং সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া নিয়ে চিন্তা করবে, সে উভয়ের মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য দেখতে পাবে এবং মনে হবে যেন সব একই আলোকবর্তিকা থেকে নির্গত হয়েছে। এমনকি সাহাবায়ে কিরাম যখন কোনো বিষয়ে দুটি মত পোষণ করতেন, তখন তাঁর থেকেও সেই মাসআলায় দুটি বর্ণনা পাওয়া যেত। সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া অনুসরণে তাঁর সতর্কতা ছিল ঠিক তেমনি, যেমনটি তাঁর অনুসারীরা তাঁর ফতোয়া ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে অবলম্বন করত; বরং তার চেয়েও বেশি। এমনকি তিনি সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়াকে মুরসাল হাদিসের ওপর প্রাধান্য দিতেন। ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হানি তাঁর সংকলিত মাসায়েল গ্রন্থে বলেছেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) জিজ্ঞেস করলাম, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো মুরসাল হাদিস আপনার কাছে বেশি প্রিয়, নাকি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত কোনো মুত্তাসিল হাদিস? আবু আবদুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: সাহাবায়ে কিরামের বর্ণনা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَكَانَ فَتَاوِيهِ مَبْنِيَّةً عَلَى خَمْسَةِ أُصُولٍ: [أُصُولُ فَتَاوَى أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ] أَحَدُهَا: النُّصُوصُ، فَإِذَا وَجَدَ النَّصَّ أَفْتَى بِمُوجَبِهِ، وَلَمْ يَلْتَفِتْ إلَى مَا خَالَفَهُ وَلَا مَنْ خَالَفَهُ كَائِنًا مَنْ كَانَ، وَلِهَذَا لَمْ يَلْتَفِتْ إلَى خِلَافِ عُمَرَ فِي الْمَبْتُوتَةِ لِحَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، وَلَا إلَى خِلَافِهِ فِي التَّيَمُّمِ لِلْجُنُبِ لِحَدِيثِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، وَلَا خِلَافِ فِي اسْتِدَامَةِ الْمُحْرِمِ الطِّيبَ الَّذِي تَطَيَّبَ بِهِ قَبْلَ إحْرَامِهِ لِصِحَّةِ حَدِيثِ عَائِشَةَ فِي ذَلِكَ، وَلَا خِلَافِهِ فِي مَنْعِ الْمُفْرِدِ وَالْقَارِنِ مِنْ الْفَسْخِ إلَى التَّمَتُّعِ لِصِحَّةِ أَحَادِيثِ الْفَسْخِ، وَكَذَلِكَ لَمْ يَلْتَفِتْ إلَى قَوْلِ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ وَطَلْحَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ فِي الْغُسْلِ مِنْ الْإِكْسَالِ لِصِحَّةِ حَدِيثِ عَائِشَةَ أَنَّهَا فَعَلَتْهُ هِيَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاغْتَسَلَا، وَلَمْ يَلْتَفِتْ إلَى قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَإِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ عِدَّةَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا الْحَامِلُ أَقْصَى الْأَجَلَيْنِ؛ لِصِحَّةِ حَدِيثِ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةِ، وَلَمْ يَلْتَفِتْ إلَى قَوْلِ مُعَاذٍ وَمُعَاوِيَةَ فِي تَوْرِيثِ الْمُسْلِمِ مِنْ الْكَافِرِ لِصِحَّةِ الْحَدِيثِ الْمَانِعِ مِنْ التَّوَارُثِ بَيْنَهُمَا، وَلَمْ يَلْتَفِتْ إلَى قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الصَّرْفِ لِصِحَّةِ الْحَدِيثِ بِخِلَافِهِ، وَلَا إلَى قَوْلِهِ بِإِبَاحَةِ لُحُومِ الْحُمُرِ كَذَلِكَ، وَهَذَا كَثِيرٌ جِدًّا، وَلَمْ يَكُنْ يُقَدِّمُ عَلَى الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ عَمَلًا وَلَا رَأْيًا وَلَا قِيَاسًا وَلَا قَوْلَ صَاحِبٍ وَلَا عَدَمَ عِلْمِهِ بِالْمُخَالِفِ الَّذِي يُسَمِّيهِ كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ إجْمَاعًا وَيُقَدِّمُونَهُ عَلَى الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَقَدْ كَذَّبَ أَحْمَدُ مَنْ ادَّعَى هَذَا الْإِجْمَاعَ، وَلَمْ يَسِغْ تَقْدِيمَهُ عَلَى الْحَدِيثِ الثَّابِتِ، وَكَذَلِكَ الشَّافِعِيُّ أَيْضًا نَصَّ فِي رِسَالَتِهِ الْجَدِيدَةِ عَلَى أَنَّ مَا لَا يُعْلَمُ فِيهِ بِخِلَافٍ لَا يُقَال لَهُ إجْمَاعٌ، وَلَفْظُهُ: مَا لَا يُعْلَمُ فِيهِ خِلَافٌ فَلَيْسَ إجْمَاعًا.

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: سَمِعْت أَبِي يَقُولُ: مَا يَدَّعِي فِيهِ الرَّجُلُ الْإِجْمَاعَ فَهُوَ كَذِبٌ، مَنْ ادَّعَى الْإِجْمَاعَ فَهُوَ كَاذِبٌ، لَعَلَّ النَّاسَ اخْتَلَفُوا، مَا يُدْرِيهِ، وَلَمْ يَنْتَهِ إلَيْهِ؟ فَلْيَقُلْ: لَا نَعْلَمُ النَّاسَ اخْتَلَفُوا، هَذِهِ دَعْوَى بِشْرٍ الْمَرِيسِيِّ وَالْأَصَمِّ، وَلَكِنَّهُ يَقُولُ: لَا نَعْلَمُ النَّاسَ اخْتَلَفُوا، أَوْ لَمْ يَبْلُغْنِي ذَلِكَ، هَذَا لَفْظُهُ

وَنُصُوصُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجَلُّ عِنْدَ الْإِمَامِ أَحْمَدَ وَسَائِرِ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ مِنْ أَنْ يُقَدِّمُوا عَلَيْهَا تَوَهُّمَ إجْمَاعٍ مَضْمُونُهُ عَدَمُ الْعِلْمِ بِالْمُخَالِفِ، وَلَوْ سَاغَ لَتَعَطَّلَتْ النُّصُوصُ، وَسَاغَ لِكُلِّ مَنْ لَمْ يَعْلَمْ مُخَالِفًا فِي حُكْمِ مَسْأَلَةٍ أَنْ يُقَدِّمَ جَهْلُهُ بِالْمُخَالِفِ عَلَى النُّصُوصِ؛ فَهَذَا هُوَ الَّذِي أَنْكَرَهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَالشَّافِعِيُّ مِنْ دَعْوَى الْإِجْمَاعِ، لَا مَا يَظُنُّهُ بَعْضُ النَّاسِ أَنَّهُ اسْتِبْعَادٌ لِوُجُودِهِ
তাঁর ফতোয়াসমূহ পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল: [আহমাদ বিন হাম্বলের ফতোয়ার মূলনীতিসমূহ] তার মধ্যে প্রথমটি হলো: অকাট্য দলিলসমূহ (নুসুস)। যখনই তিনি কোনো অকাট্য দলিল পেতেন, সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন; এবং এর পরিপন্থী কোনো কিছুর দিকে অথবা যে কেউ এর বিরোধিতা করুক না কেন, তাঁর দিকে তিনি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। এই কারণেই তিনি ফাতিমা বিনতে কাইসের হাদিসের ভিত্তিতে তালাকপ্রাপ্তা নারীর (বাসস্থান ও খোরপোষের) ব্যাপারে উমরের ভিন্ন মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। তেমনিভাবে আম্মার বিন ইয়াসিরের হাদিসের কারণে অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির তায়াম্মুমের ব্যাপারে তাঁর (উমরের) ভিন্ন মতের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করেননি। আর ইহরামের পূর্বে মাখা সুগন্ধি ইহরাম অবস্থায় স্থায়ী রাখার ব্যাপারেও কারোর ভিন্ন মতের পরোয়া করেননি, কারণ এ বিষয়ে আয়েশার হাদিসটি সহিহ ছিল। তেমনিভাবে হজ-ই-মুফরিদ ও হজ-ই-কিরান পালনকারীকে তা পরিবর্তন করে হজ-ই-তামাত্তু করতে নিষেধকারীদের ভিন্ন মতের দিকেও ভ্রুক্ষেপ করেননি, কারণ ইহরাম ভঙ্গের (ফাসখ) হাদিসসমূহ সহিহ ছিল। অনুরূপভাবে বীর্যপাতহীন সঙ্গমের (ইক্সাল) ফলে গোসল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে তিনি আলী, উসমান, তালহা, আবু আইয়ুব ও উবাই বিন কাবের মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি, কারণ আয়েশার হাদিসটি সহিহ ছিল যে, তিনি ও আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেছেন এবং এরপর উভয়ে গোসল করেছেন। গর্ভবতী বিধবা নারীর ইদ্দত দুই মেয়াদের দীর্ঘতরটি হওয়ার ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের মত এবং আলীর একটি বর্ণনার দিকেও তিনি লক্ষ্য করেননি; কারণ সুবাইয়াহ আল-আসলামিয়্যাহর হাদিসটি সহিহ ছিল। তিনি কাফিরের উত্তরাধিকারী মুসলিম হওয়ার ব্যাপারে মুয়াজ ও মুয়াবিয়ার মতের দিকেও ভ্রুক্ষেপ করেননি, কারণ তাঁদের উভয়ের মধ্যে উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিসটি সহিহ ছিল। মুদ্রা বিনিময়ের (সারফ) ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের মতের দিকে লক্ষ্য করেননি, কারণ এর বিপরীতে হাদিস সহিহ ছিল; তেমনিভাবে গৃহপালিত গাধার গোশত বৈধ হওয়ার ব্যাপারে তাঁর (ইবনে আব্বাসের) মতের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করেননি। আর এ জাতীয় উদাহরণ অত্যন্ত বেশি। তিনি সহিহ হাদিসের ওপর কোনো আমল, ব্যক্তিগত রায়, কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান), সাহাবীর উক্তি কিংবা কোনো বিরোধী মতের কথা জানা না থাকাকে অগ্রাধিকার দিতেন না; যা (বিরোধী মতের কথা না জানা) অনেক লোক 'ইজমা' বা ঐক্যমত বলে নামকরণ করে এবং সহিহ হাদিসের ওপর তাকে প্রাধান্য দেয়। ইমাম আহমাদ এই ধরনের ইজমার দাবিদারকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন এবং প্রমাণিত হাদিসের ওপর একে প্রাধান্য দেওয়াকে বৈধ মনে করেননি। অনুরূপভাবে ইমাম শাফিয়িও তাঁর নতুন কিতাব 'আর-রিসালাহ'-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই তাকে 'ইজমা' বলা যাবে না। তাঁর ভাষা ছিল: "যে বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই, তা ইজমা নয়।"

আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তি ইজমার যে দাবি করে তা মিথ্যা। যে ব্যক্তি ইজমার দাবি করে সে মিথ্যাবাদী। সম্ভবত মানুষেরা মতভেদ করেছে, সে তা কীভাবে জানবে? হয়তো সেই ভিন্ন মত তার কাছে পৌঁছেনি। বরং তার বলা উচিত: 'আমরা জানি না যে মানুষ মতভেদ করেছে'। এটি ছিল বিশর আল-মারিসি এবং আল-আসাস্মের দাবি (যে কোনো কিছু না জানলেই তাকে ইজমা বলা)। কিন্তু তিনি বলতেন: 'আমরা জানি না যে মানুষ মতভেদ করেছে' অথবা 'আমার কাছে তা পৌঁছেনি'। এটিই ছিল তাঁর উক্তি।

ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদ ইমামগণের নিকট আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীসমূহ এতই মহান ছিল যে, তারা এর ওপর এমন কোনো কাল্পনিক ইজমার দাবিকে প্রাধান্য দিতেন না যার সারকথা হলো কেবল কোনো বিরোধী মতের কথা না জানা। যদি এটি বৈধ হতো তবে দলিলসমূহ অকার্যকর হয়ে যেত এবং যে ব্যক্তি কোনো মাসআলার হুকুমে কোনো বিরোধী মত সম্পর্কে জানে না, তার জন্য সেই অকাট্য দলিলের ওপর নিজের অজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হয়ে যেত। সুতরাং এটিই সেই ইজমার দাবি যা ইমাম আহমাদ ও ইমাম শাফিয়ি অস্বীকার করেছেন; বিষয়টি এমন নয় যা কিছু মানুষ মনে করে যে, তাঁরা ইজমার অস্তিত্বকেই অসম্ভব মনে করতেন।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فَصْلٌ.

[الْأَصْلُ الثَّانِي فَتَاوَى الصَّحَابَةِ]

الْأَصْلُ الثَّانِي مِنْ أَصْلِ فَتَاوَى الْإِمَامِ أَحْمَدَ: مَا أَفْتَى بِهِ الصَّحَابَةُ، فَإِنَّهُ إذَا وَجَدَ لِبَعْضِهِمْ فَتْوَى لَا يُعْرَفُ لَهُ مُخَالِفٌ مِنْهُمْ فِيهَا لَمْ يَعُدْهَا إلَى غَيْرِهَا، وَلَمْ يَقُلْ إنَّ ذَلِكَ إجْمَاعٌ، بَلْ مِنْ وَرَعِهِ فِي الْعِبَارَةِ يَقُولُ: لَا أَعْلَمُ شَيْئًا يَدْفَعُهُ، أَوْ نَحْوَ هَذَا، كَمَا قَالَ فِي رِوَايَةِ أَبِي طَالِبٍ لَا أَعْلَمُ شَيْئًا يَدْفَعُ قَوْلَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَحَدَ عَشَرَ مِنْ التَّابِعِينَ عَطَاءٍ وَمُجَاهِدٍ وَأَهْلِ الْمَدِينَةِ عَلَى تَسَرِّي الْعَبْدِ، وَهَكَذَا قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: لَا أَعْلَمُ أَحَدًا رَدَّ شَهَادَةَ الْعَبْدِ، حَكَاهُ عَنْهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ، وَإِذَا وَجَدَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ هَذَا النَّوْعَ عَنْ الصَّحَابَةِ لَمْ يُقَدِّمْ عَلَيْهِ عَمَلًا وَلَا رَأْيًا وَلَا قِيَاسًا.

فَصْلٌ [الثَّالِثُ الِاخْتِيَارُ مِنْ فَتَاوَى الصَّحَابَةِ إذَا اخْتَلَفُوا]

الْأَصْلُ الثَّالِثُ مِنْ أُصُولِهِ: إذَا اخْتَلَفَ الصَّحَابَةُ تَخَيَّرَ مِنْ أَقْوَالِهِمْ مَا كَانَ أَقْرَبَهَا إلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَلَمْ يَخْرُجْ عَنْ أَقْوَالِهِمْ، فَإِنْ لَمْ يَتَبَيَّنْ لَهُ مُوَافَقَةُ أَحَدِ الْأَقْوَالِ حَكَى الْخِلَافَ فِيهَا وَلَمْ يَجْزِمْ بِقَوْلٍ.

قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ هَانِئٍ فِي مَسَائِلِهِ: قِيلَ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ: يَكُونُ الرَّجُلُ فِي قَوْمِهِ فَيَسْأَلُ عَنْ الشَّيْءِ فِيهِ اخْتِلَافٌ، قَالَ: يُفْتِي بِمَا وَافَقَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ، وَمَا لَمْ يُوَافِقْ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ أَمْسَكَ عَنْهُ، قِيلَ لَهُ: أَفَيُجَابُ عَلَيْهِ؟ قِيلَ: لَا.

فَصْلٌ [الرَّابِعُ الْمُرْسَلُ مِنْ الْحَدِيثِ]

الْأَصْلُ الرَّابِعُ: الْأَخْذُ بِالْمُرْسَلِ وَالْحَدِيثِ الضَّعِيفِ، إذَا لَمْ يَكُنْ فِي الْبَابِ شَيْءٌ يَدْفَعُهُ، وَهُوَ الَّذِي رَجَّحَهُ عَلَى الْقِيَاسِ، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِالضَّعِيفِ عِنْدَهُ الْبَاطِلَ وَلَا الْمُنْكَرَ وَلَا مَا فِي رِوَايَتِهِ مُتَّهَمٌ بِحَيْثُ لَا يَسُوغُ الذَّهَابُ إلَيْهِ فَالْعَمَلُ بِهِ؛ بَلْ الْحَدِيثُ الضَّعِيفُ عِنْدَهُ قَسِيمُ الصَّحِيحِ وَقِسْمٌ مِنْ أَقْسَامِ الْحَسَنِ، وَلَمْ يَكُنْ يُقَسِّمُ الْحَدِيثَ إلَى صَحِيحٍ وَحَسَنٍ وَضَعِيفٍ، بَلْ إلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ، وَلِلضَّعِيفِ عِنْدَهُ مَرَاتِبُ، فَإِذَا لَمْ يَجِدْ فِي الْبَابِ أَثَرًا يَدْفَعُهُ وَلَا قَوْلَ صَاحِبٍ، وَلَا إجْمَاعَ عَلَى خِلَافِهِ كَانَ الْعَمَلُ بِهِ عِنْدَهُ أَوْلَى مِنْ الْقِيَاسِ
পরিচ্ছেদ।

[দ্বিতীয় মূলনীতি: সাহাবায়ে কেরামের ফতোয়া]

ইমাম আহমাদের ফতোয়া প্রদানের দ্বিতীয় মূলনীতি হলো: সাহাবীগণের প্রদানকৃত ফতোয়া। যদি তিনি তাঁদের কারো পক্ষ থেকে এমন কোনো ফতোয়া পেতেন যার কোনো বিরোধিতাকারী তাঁদের মাঝে পাওয়া যায় না, তবে তিনি তা ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে যেতেন না। তিনি একে 'ইজমা' (সর্বসম্মত ঐক্য) বলতেন না, বরং শব্দ প্রয়োগে তাঁর সতর্কতা ও পরহেজগারির কারণে বলতেন: 'আমি এমন কিছু জানি না যা একে খণ্ডন করে', অথবা এই জাতীয় কথা। যেমন তিনি আবু তালিবের বর্ণনায় বলেছেন: 'আমি এমন কিছু জানি না যা দাসের উপপত্নী রাখা (তাসাররি) বিষয়ে ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর এবং আতা, মুজাহিদ ও মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে এগারোজন তাবেয়ীর বক্তব্যকে খণ্ডন করে।' একইভাবে আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: 'আমি এমন কাউকে জানি না যে দাসের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছে,' ইমাম আহমাদ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ যখন সাহাবীগণের থেকে এই ধরনের বর্ণনা পেতেন, তখন এর ওপর কোনো আমল, রায় (মতামত) বা কিয়াসকে (যুক্তি) প্রাধান্য দিতেন না।

পরিচ্ছেদ [তৃতীয়: সাহাবীগণ মতভেদ করলে তাঁদের ফতোয়া থেকে চয়ন করা]

তাঁর মূলনীতিসমূহের মধ্যে তৃতীয় মূলনীতি হলো: যখন সাহাবীগণ মতভেদ করতেন, তখন তিনি তাঁদের বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে সেটিকেই চয়ন করতেন যা কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হতো, এবং তিনি তাঁদের বক্তব্যের বাইরে যেতেন না। আর যদি কোনো একটি বক্তব্যের (কিতাব ও সুন্নাহর সাথে) সঙ্গতি তাঁর কাছে স্পষ্ট না হতো, তবে তিনি সে বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদ বর্ণনা করতেন এবং কোনো একটি বক্তব্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতেন না।

ইসরাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে হানি তাঁর 'মাসাইল'-এ বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে আছেন এবং তাঁকে এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলো যাতে মতভেদ রয়েছে, তখন তিনি কী করবেন? তিনি বললেন: তিনি কিতাব ও সুন্নাহর সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দিয়ে ফতোয়া দেবেন, আর যা কিতাব ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তা থেকে বিরত থাকবেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে কি তাঁর বিপরীতে জবাব দেওয়া হবে? বলা হলো: না।

পরিচ্ছেদ [চতুর্থ: মুরসাল হাদিস]

চতুর্থ মূলনীতি: মুরসাল এবং জয়িফ (দুর্বল) হাদিস গ্রহণ করা, যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একে খণ্ডন করার মতো কিছু না থাকে। আর এটিকেই তিনি কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর নিকট জয়িফ বলতে বাতিল বা মুনকার হাদিস উদ্দেশ্য নয়, কিংবা এমন বর্ণনাকারী যার বর্ণনার ওপর নির্ভর করা বা আমল করা বৈধ নয়; বরং জয়িফ হাদিস তাঁর নিকট সহিহ হাদিসেরই অংশ এবং এটি হাসানের একটি প্রকার। তিনি হাদিসকে সহিহ, হাসান ও জয়িফ—এই তিন ভাগে ভাগ করতেন না, বরং সহিহ ও জয়িফ—এই দুই ভাগে ভাগ করতেন। তাঁর নিকট জয়িফেরও বিভিন্ন স্তর ছিল। সুতরাং যখন তিনি উক্ত বিষয়ে একে খণ্ডনকারী কোনো আছার (সাহাবীর বাণী), কোনো সাহাবীর বক্তব্য কিংবা এর বিপরীতে কোনো ইজমা পেতেন না, তখন এর ওপর আমল করা তাঁর নিকট কিয়াসের চেয়েও অধিক উত্তম ছিল।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ الْأَئِمَّةِ إلَّا وَهُوَ مُوَافِقُهُ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ مِنْ حَيْثُ الْجُمْلَةُ، فَإِنَّهُ مَا مِنْهُمْ أَحَدٌ إلَّا وَقَدْ قَدَّمَ الْحَدِيثَ الضَّعِيفَ عَلَى الْقِيَاسِ.

فَقَدَّمَ أَبُو حَنِيفَةَ حَدِيثَ الْقَهْقَهَةِ فِي الصَّلَاةِ عَلَى مَحْضِ الْقِيَاسِ، وَأَجْمَعَ أَهْلُ الْحَدِيثِ عَلَى ضَعْفِهِ، وَقَدَّمَ حَدِيثَ الْوُضُوءِ بِنَبِيذِ التَّمْرِ عَلَى الْقِيَاسِ، وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْحَدِيثِ يُضَعِّفُهُ، وَقَدَّمَ حَدِيثَ " أَكْثَرُ الْحَيْضِ عَشَرَةُ أَيَّامٍ " وَهُوَ ضَعِيفٌ بِاتِّفَاقِهِمْ عَلَى مَحْضِ الْقِيَاسِ؛ فَإِنَّ الَّذِي تَرَاهُ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثَ عَشَرَ مُسَاوٍ فِي الْحَدِّ وَالْحَقِيقَةِ وَالصِّفَةِ لِدَمِ الْيَوْمِ الْعَاشِرِ، وَقَدَّمَ حَدِيثَ «لَا مَهْرَ أَقَلُّ مِنْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ» - وَأَجْمَعُوا عَلَى ضَعْفِهِ، بَلْ بُطْلَانِهِ - عَلَى مَحْضِ الْقِيَاسِ، فَإِنَّ بَذْلَ الصَّدَاقِ مُعَاوَضَةٌ فِي مُقَابَلَةِ بَذْلِ الْبُضْعِ، فَمَا تَرَاضَيَا عَلَيْهِ جَازَ قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا.

وَقَدَّمَ الشَّافِعِيُّ خَبَرَ تَحْرِيمِ صَيْدِ وَجٍّ مَعَ ضَعْفِهِ عَلَى الْقِيَاسِ، وَقَدَّمَ خَبَرَ جَوَازِ الصَّلَاةِ بِمَكَّةَ فِي وَقْتِ النَّهْيِ مَعَ ضَعْفِهِ وَمُخَالَفَتِهِ لِقِيَاسِ غَيْرِهَا مِنْ الْبِلَادِ، وَقَدَّمَ فِي أَحَدِ قَوْلَيْهِ حَدِيثَ «مَنْ قَاءَ أَوْ رَعَفَ فَلِيَتَوَضَّأْ وَلِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ» عَلَى الْقِيَاسِ مَعَ ضَعْفِ الْخَبَرِ وَإِرْسَالِهِ.

وَأَمَّا مَالِكٌ فَإِنَّهُ يُقَدِّمُ الْحَدِيثَ الْمُرْسَلَ وَالْمُنْقَطِعَ وَالْبَلَاغَاتِ وَقَوْلَ الصَّحَابِيِّ عَلَى الْقِيَاسِ.

[الْخَامِسُ الْقِيَاسُ لِلضَّرُورَةِ]

فَإِذَا لَمْ يَكُنْ عِنْدَ الْإِمَامِ أَحْمَدَ فِي الْمَسْأَلَةِ نَصٌّ وَلَا قَوْلُ الصَّحَابَةِ أَوْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ وَلَا أَثَرٌ مُرْسَلٌ أَوْ ضَعِيفٌ عَدَلَ إلَى الْأَصْلِ الْخَامِسِ - وَهُوَ الْقِيَاسُ - فَاسْتَعْمَلَهُ لِلضَّرُورَةِ، وَقَدْ قَالَ فِي كِتَابِ الْخَلَّالِ، سَأَلْت الشَّافِعِيَّ عَنْ الْقِيَاسِ، فَقَالَ: إنَّمَا يُصَارُ إلَيْهِ عِنْدَ الضَّرُورَةِ، أَوْ مَا هَذَا مَعْنَاهُ فَهَذِهِ الْأُصُولُ الْخَمْسَةُ مِنْ أُصُولِ فَتَاوِيهِ، وَعَلَيْهَا مَدَارُهَا، وَقَدْ يَتَوَقَّفُ فِي الْفَتْوَى؛ لِتَعَارُضِ الْأَدِلَّةِ عِنْدَهُ، أَوْ لِاخْتِلَافِ الصَّحَابَةِ فِيهَا، أَوْ لِعَدَمِ اطِّلَاعِهِ فِيهَا عَلَى أَثَرٍ أَوْ قَوْلِ أَحَدٍ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ
ইমামদের মধ্যে এমন কেউই নেই যিনি সামগ্রিকভাবে এই মূলনীতির সাথে একমত নন; কারণ তাঁদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কিয়াসের ওপর দুর্বল হাদিসকে অগ্রাধিকার দেননি।

ইমাম আবু হানিফা নিছক কিয়াসের বিপরীতে সালাতে অট্টহাসি সংক্রান্ত হাদিসকে প্রাধান্য দিয়েছেন, অথচ হাদিস বিশারদগণ এর দুর্বলতার বিষয়ে একমত। তিনি কিয়াসের ওপর খেজুরের নাবীয দিয়ে ওযু করার হাদিসকেও প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও অধিকাংশ হাদিস বিশারদ একে দুর্বল বলেন। তিনি "হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা দশ দিন" সংক্রান্ত হাদিসকে নিছক কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন, অথচ তাঁদের ঐকমত্যে এটি দুর্বল; কেননা তেরোতম দিনে যে রক্ত দেখা যায় তা সীমা, বাস্তবতা ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দশম দিনের রক্তের মতোই। তিনি "দশ দিরহামের কম কোনো মহর নেই" সংক্রান্ত হাদিসটিকে নিছক কিয়াসের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন—অথচ তাঁরা এর দুর্বলতা বরং অসারতার ব্যাপারে একমত—কারণ মহর প্রদান করা হলো লজ্জাস্থান ব্যবহারের বিপরীতে একটি বিনিময় চুক্তি, তাই তাঁরা যে অল্প বা অধিক পরিমাণে সম্মত হতো তা-ই (কিয়াস অনুযায়ী) বৈধ হওয়ার কথা ছিল।

ইমাম শাফেয়ী দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও 'ওয়াজ' উপত্যকায় শিকার হারামের বর্ণনাকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মক্কায় নিষিদ্ধ সময়ে সালাত জায়েয হওয়ার বর্ণনাটিকে এর দুর্বলতা এবং অন্যান্য শহরের কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি তাঁর দুটি মতের একটিতে "যার বমি হয় বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ে সে যেন ওযু করে এবং তার সালাত পূর্ণ করে" হাদিসটিকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও বর্ণনাটি দুর্বল ও মুরসাল।

আর ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, তিনি মুরসাল, মুনকাতি‘, বালাগাত এবং সাহাবীর বক্তব্যকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দেন।

[পঞ্চম: বিশেষ প্রয়োজনে কিয়াস]

যখন ইমাম আহমদের নিকট কোনো মাসআলায় সরাসরি দলিল (নস), সাহাবীদের বক্তব্য বা তাঁদের কারো উক্তি, কিংবা কোনো মুরসাল বা দুর্বল আসার (বর্ণনা) থাকত না, তখন তিনি পঞ্চম মূলনীতির দিকে ফিরে যেতেন—আর তা হলো কিয়াস। তিনি এটি বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন। খাল্লালের কিতাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইমাম শাফেয়ীকে কিয়াস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "অত্যন্ত প্রয়োজনেই কেবল এর আশ্রয় নেওয়া হয়" অথবা এই অর্থবোধক কোনো কথা। এগুলিই হলো তাঁর ফতোয়া প্রদানের পাঁচটি মূলনীতি এবং এগুলোর ওপরই তা আবর্তিত হয়। কখনো কখনো তিনি ফতোয়া প্রদানে বিরত থাকতেন; কারণ তাঁর কাছে দলিলসমূহ পরস্পরবিরোধী মনে হতো, অথবা সেই বিষয়ে সাহাবীদের মাঝে মতভেদ থাকত, কিংবা সেই বিষয়ে কোনো আসার অথবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের কোনো উক্তি তাঁর জানা থাকত না।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَكَانَ شَدِيدَ الْكَرَاهَةِ وَالْمَنْعِ لِلْإِفْتَاءِ بِمَسْأَلَةٍ لَيْسَ فِيهَا أَثَرٌ عَنْ السَّلَفِ، كَمَا قَالَ لِبَعْضِ أَصْحَابِهِ: إيَّاكَ أَنْ تَتَكَلَّمَ فِي مَسْأَلَةٍ لَيْسَ لَك فِيهَا إمَامٌ.

وَكَانَ يُسَوِّغُ اسْتِفْتَاءَ فُقَهَاءِ الْحَدِيثِ وَأَصْحَابِ مَالِكٍ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِمْ، وَيَمْنَعُ مِنْ اسْتِفْتَاءِ مَنْ يُعْرِضُ عَنْ الْحَدِيثِ، وَلَا يَبْنِي مَذْهَبَهُ عَلَيْهِ، وَلَا يُسَوِّغُ الْعَمَلَ بِفَتْوَاهُ.

قَالَ ابْنُ هَانِئٍ: سَأَلْت أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الَّذِي جَاءَ فِي الْحَدِيثِ «أَجْرَؤُكُمْ عَلَى الْفُتْيَا أَجْرَؤُكُمْ عَلَى النَّارِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله: يُفْتِي بِمَا لَمْ يَسْمَعْ، قَالَ: وَسَأَلْتُهُ عَمَّنْ أَفْتَى بِفُتْيَا يَعِي فِيهَا قَالَ: فَإِثْمُهَا عَلَى مَنْ أَفْتَاهَا، قُلْت: عَلَى أَيِّ وَجْهٍ يُفْتِي حَتَّى يَعْلَمَ مَا فِيهَا؟ قَالَ: يُفْتِي بِالْبَحْثِ، لَا يَدْرِي أَيْشٍ أَصْلُهَا.

وَقَالَ أَبُو دَاوُد فِي مَسَائِلِهِ: مَا أُحْصِي مَا سَمِعْتُ أَحْمَدَ سُئِلَ عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا فِيهِ الِاخْتِلَافُ فِي الْعِلْمِ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، قَالَ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: مَا رَأَيْت مِثْلَ ابْنِ عُيَيْنَةَ فِي الْفَتْوَى أَحْسَنَ فُتْيَا مِنْهُ، كَانَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ أَنْ يَقُولَ: لَا أَدْرِي.

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ فِي مَسَائِلِهِ: سَمِعْت أَبِي يَقُولُ: وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ سَأَلَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْغَرْبِ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنْ مَسْأَلَةٍ فَقَالَ: لَا أَدْرِي فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ لَا أَدْرِي؟ قَالَ: نَعَمْ، فَأَبْلِغْ مَنْ وَرَاءَك أَنِّي لَا أَدْرِي.

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: كُنْت أَسْمَعُ أَبِي كَثِيرًا يُسْأَلُ عَنْ الْمَسَائِلِ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي وَيَقِفُ إذَا كَانَتْ مَسْأَلَةٌ فِيهَا اخْتِلَافٌ، وَكَثِيرًا مَا كَانَ يَقُولُ: سَلْ غَيْرِي، فَإِنْ قِيلَ لَهُ: مَنْ نَسْأَلُ؟ قَالَ: سَلُوا الْعُلَمَاءَ، وَلَا يَكَادُ يُسَمِّي رَجُلًا بِعَيْنِهِ قَالَ: وَسَمِعْت أَبِي يَقُولُ: كَانَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَا يُفْتِي فِي الطَّلَاقِ، وَيَقُولُ: مَنْ يُحْسِنُ هَذَا؟ ،

 

‌‌[فَصْلٌ كَرَاهَةُ الْعُلَمَاءِ التَّسَرُّعَ فِي الْفَتْوَى]

] وَكَانَ السَّلَفُ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ يَكْرَهُونَ التَّسَرُّعَ فِي الْفَتْوَى، وَيَوَدُّ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَنْ يَكْفِيَهُ إيَّاهَا غَيْرُهُ: فَإِذَا رَأَى بِهَا قَدْ تَعَيَّنَتْ عَلَيْهِ بَذَلَ

اجْتِهَادَهُ فِي مَعْرِفَةِ حُكْمِهَا مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ أَوْ قَوْلِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ ثُمَّ أَفْتَى. وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: أَدْرَكْت عِشْرِينَ وَمِائَةً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَرَاهُ قَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَمَا كَانَ مِنْهُمْ مُحَدِّثٌ إلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ الْحَدِيثَ، وَلَا مُفْتٍ إلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ الْفُتْيَا
তিনি এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান অত্যন্ত অপছন্দ করতেন এবং নিষেধ করতেন যাতে সালফদের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা নেই। যেমন তিনি তাঁর কোনো এক সাথীকে বলেছিলেন: "সাবধান! এমন কোনো বিষয়ে কথা বলো না যাতে তোমার কোনো ইমাম নেই।"

তিনি ফুকাহায়ে হাদিস এবং ইমাম মালিকের অনুসারীদের থেকে ফতোয়া চাওয়া বৈধ মনে করতেন এবং তাঁদের কাছে যাওয়ার পথনির্দেশ করতেন। পক্ষান্তরে যারা হাদিস থেকে বিমুখ হয় এবং হাদিসের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের মাজহাব গড়ে তোলে না, তাদের থেকে ফতোয়া চাওয়া তিনি নিষেধ করতেন এবং তাদের ফতোয়া অনুযায়ী আমল করা বৈধ মনে করতেন না।

ইবনে হানি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে সেই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে এসেছে যে, "তোমাদের মধ্যে যে ফতোয়া প্রদানে সবথেকে বেশি সাহসী, সে জাহান্নামের আগুনের প্রতি সবথেকে বেশি সাহসী।" আবু আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বললেন: এর অর্থ হলো সে ব্যক্তি এমন বিষয়ে ফতোয়া দেয় যা সে (আলেমদের থেকে) শোনেনি। তিনি বলেন: আমি তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে ভুল জেনেও ফতোয়া দেয়। তিনি বললেন: এর পাপ তাকে ফতোয়া প্রদানকারীর ওপর বর্তাবে। আমি বললাম: সে কীভাবে ফতোয়া দিবে যাতে সে বিষয়টি জানতে পারে? তিনি বললেন: সে যেন গবেষণার মাধ্যমে ফতোয়া দেয়, অথচ সে জানে না এর মূল ভিত্তি কী।

আবু দাউদ তাঁর 'মাসাইল'-এ বলেছেন: আমি অগণিতবার আহমদকে ইলমের ইখতিলাফপূর্ণ বহু বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি যেখানে তিনি বলতেন: "আমি জানি না।" তিনি আরও বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি ইবনে উয়াইনার মতো উত্তম ফতোয়া প্রদানকারী আর দেখিনি, তাঁর কাছে 'আমি জানি না' বলাটা ছিল অত্যন্ত সহজ।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ তাঁর 'মাসাইল'-এ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: পশ্চিম অঞ্চলের একজন লোক মালিক ইবনে আনাসকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি জানি না।" লোকটি বলল: "হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি বলছেন যে আপনি জানেন না?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমার পেছনে যারা আছে তাদের জানিয়ে দিও যে আমি জানি না।"

আব্দুল্লাহ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে প্রায়ই মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনতাম এবং তিনি বলতেন: "আমি জানি না।" ইখতিলাফপূর্ণ মাসআলা হলে তিনি থেমে যেতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন: "অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করো।" তাঁকে যদি বলা হতো: "কাকে জিজ্ঞাসা করব?" তিনি বলতেন: "আলেমদের জিজ্ঞাসা করো।" তিনি সচরাচর নির্দিষ্ট কারো নাম নিতেন না। তিনি আরও বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে উয়াইনা তালাকের বিষয়ে ফতোয়া দিতেন না এবং বলতেন: "এ বিষয়ে পারদর্শী কে আছে?"

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করা আলেমদের নিকট অপছন্দনীয়]

সাহাবা ও তাবেয়ীদের মধ্য থেকে সালফগণ ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করা অপছন্দ করতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই চাইতেন যেন অন্য কেউ তাঁর পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালন করে দেয়। কিন্তু যখন তিনি দেখতেন যে বিষয়টি তাঁর ওপরই অর্পিত হয়েছে, তখন তিনি কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ অথবা খুলাফায়ে রাশিদীনের বাণী থেকে তার হুকুম জানার জন্য যথাসাধ্য ইজতিহাদ করতেন এবং এরপর ফতোয়া প্রদান করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: সুফিয়ান আমাদের কাছে আতা বিন সাইব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একশত বিশজন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি—আমার মনে হয় তিনি মসজিদের কথা বলেছিলেন—তাঁদের মধ্যে এমন কোনো হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না যিনি মনে-প্রাণে কামনা করতেন না যে, যদি তাঁর অন্য কোনো ভাই তাঁর পরিবর্তে হাদিসটি বর্ণনা করে দিত! এবং এমন কোনো ফতোয়া প্রদানকারী ছিলেন না যিনি চাইতেন না যে, তাঁর অন্য কোনো ভাই তাঁর পরিবর্তে ফতোয়াটি দিয়ে দিত।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: أَدْرَكْت عِشْرِينَ وَمِائَةً مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ يُسْأَلُ عَنْ شَيْءٍ إلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ، وَلَا يُحَدِّثُ حَدِيثًا إلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ.

وَقَالَ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ إنَّ بُكَيْر بْنَ الْأَشَجِّ أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، فَجَاءَهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ فَقَالَ: إنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا فَمَاذَا تَرَيَانِ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ: إنَّ هَذَا الْأَمْرَ مَا لَنَا فِيهِ قَوْلٌ، فَاذْهَبْ إلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ ائْتِنَا فَأَخْبِرْنَا، فَذَهَبْت فَسَأَلْتُهُمَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِأَبِي هُرَيْرَةَ: أَفْتِهِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ جَاءَتْك مُعْضِلَةٌ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا، وَالثَّلَاثُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ.

وَقَالَ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إنَّ كُلَّ مَنْ أَفْتَى النَّاسَ فِي كُلِّ مَا يَسْأَلُونَهُ عَنْهُ لَمَجْنُونٌ، قَالَ مَالِكٌ: وَبَلَغَنِي عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ مِثْلُ ذَلِكَ، رَوَاهُ ابْنُ وَضَّاحٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ عَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَرَوَاهُ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ.

وَقَالَ سَحْنُونُ بْنُ سَعِيدٍ: أَجْسَرُ النَّاسِ عَلَى الْفُتْيَا أَقَلُّهُمْ عِلْمًا، يَكُونُ عِنْدَ الرَّجُلِ الْبَابُ الْوَاحِدُ مِنْ الْعِلْمِ يَظُنُّ أَنَّ الْحَقَّ كُلَّهُ فِيهِ.

قُلْت: الْجُرْأَةُ عَلَى الْفُتْيَا تَكُونُ مِنْ قِلَّةِ الْعِلْمِ وَمِنْ غَزَارَتِهِ وَسِعَتِهِ، فَإِذَا قَلَّ عِلْمُهُ أَفْتَى عَنْ كُلِّ مَا يُسْأَلُ عَنْهُ بِغَيْرِ عِلْمٍ، وَإِذَا اتَّسَعَ عِلْمُهُ اتَّسَعَتْ فُتْيَاهُ، وَلِهَذَا كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ أَوْسَعِ الصَّحَابَةِ فُتْيَا، وَقَدْ تَقَدَّمَ أَنَّ فَتَاوَاهُ جُمِعَتْ فِي عِشْرِينَ سِفْرًا، وَكَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ أَيْضًا، وَاسِعَ الْفُتْيَا، وَكَانُوا يُسَمُّونَهُ كَمَا ذَكَرَ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمَرَادِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: كُنْت أَرَى الرَّجُلَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ وَإِنَّهُ لَيَدْخُلُ يَسْأَلُ عَنْ الشَّيْءِ فَيَدْفَعُهُ النَّاسُ عَنْ مَجْلِسٍ إلَى مَجْلِسٍ حَتَّى يُدْفَعَ إلَى مَجْلِسِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ كَرَاهِيَةً لِلْفُتْيَا، قَالَ: وَكَانُوا يَدْعُونَهُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ الْجَرِيءَ.

وَقَالَ سَحْنُونٌ: إنِّي لَأَحْفَظُ مَسَائِلَ مِنْهَا مَا فِيهِ ثَمَانِيَةُ أَقْوَالٍ مِنْ ثَمَانِيَةِ أَئِمَّةٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ، فَكَيْف يَنْبَغِي أَنْ أَعْجَلَ بِالْجَوَابِ قَبْلَ الْخَبَرِ؟ فَلِمَ أُلَامُ عَلَى حَبْسِ الْجَوَابِ؟ وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ: حَدَّثَنَا أَشْهَلُ بْنُ حَاتِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: إنَّمَا يُفْتِي النَّاسَ أَحَدُ ثَلَاثَةٍ: مَنْ يَعْلَمُ مَا نُسِخَ مِنْ الْقُرْآنِ، أَوْ أَمِيرٌ لَا يَجِدُ بُدًّا، أَوْ أَحْمَقُ مُتَكَلِّفٌ، قَالَ: فَرُبَّمَا قَالَ ابْنُ سِيرِينَ: فَلَسْت بِوَاحِدٍ مِنْ هَذَيْنِ، وَلَا أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ الثَّالِثَ
ইমাম আহমাদ বলেছেন: জারীর আমাদের নিকট আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একশত বিশ জন আনসারী সাহাবীকে দেখেছি, যাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না যাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এটা কামনা না করতেন যে, তাঁর ভাই যেন তাঁর পক্ষ থেকে এর উত্তর দিয়ে তাকে রেহাই দেন। আর তিনি কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন না যদি না তিনি কামনা করতেন যে তাঁর ভাই যেন তাঁর পক্ষ থেকে তা বর্ণনা করে দেন।

মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ তাকে মুয়াবিয়া ইবনে আবি আইয়্যাশ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর এবং আসেম ইবনে উমরের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। তখন তাঁদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস ইবনুল বুকাইর এসে বললেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত কী? আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর বললেন: এই বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তুমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবু হুরাইরার নিকট যাও, কারণ আমি তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশার নিকট রেখে এসেছি। অতঃপর তাঁদের বক্তব্য জেনে আমাদের নিকট ফিরে এসে সংবাদ দিও। আমি গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা করলাম। ইবনে আব্বাস আবু হুরাইরাকে বললেন: হে আবু হুরাইরা, আপনি তাকে ফতোয়া দিন, কারণ আপনার নিকট একটি জটিল সমস্যা এসেছে। আবু হুরাইরা বললেন: এক তালাক স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, আর তিন তালাক তাকে তাঁর জন্য হারাম করে দেয় যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে।

মালিক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষকে তাদের জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে একজন উন্মাদ। মালিক বলেন: ইবনে মাসউদ থেকেও আমার নিকট অনুরূপ বক্তব্য পৌঁছেছে। ইবনে ওয়াদ্দাহ এটি ইউসুফ ইবনে আদি থেকে, তিনি আবদ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাবীব ইবনে আবি সাবিত এটি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

সাসনুন ইবনে সাঈদ বলেছেন: মানুষের মধ্যে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিই অধিক সাহসী যার জ্ঞান সবচেয়ে কম। কোনো ব্যক্তির নিকট ইলমের কেবল একটি অধ্যায় থাকে আর সে মনে করে যে সমস্ত সত্য এরই মধ্যে নিহিত।

আমি বলছি: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এই সাহসিকতা জ্ঞানের স্বল্পতা থেকেও হতে পারে আবার জ্ঞানের প্রাচুর্য ও বিশালতা থেকেও হতে পারে। যখন কোনো ব্যক্তির জ্ঞান অল্প হয়, তখন সে না জেনেই জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়ে ফতোয়া দিয়ে দেয়। আর যখন তার জ্ঞান সুবিস্তৃত হয়, তখন তার ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়। একারণেই ইবনে আব্বাস ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক ফতোয়া প্রদানকারীগণের অন্যতম। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর ফতোয়াসমূহ বিশটি বড় খণ্ডে সংগৃহীত হয়েছে। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবও প্রচুর ফতোয়া প্রদান করতেন। ইবনে ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদী থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে যেমনটি বর্ণনা করেছেন, লোকেরা তাকে সে নামেই ডাকত। আবু ইসহাক বলেন: আমি সেই যুগে কোনো ব্যক্তিকে দেখতাম যে সে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য আসত, আর ফতোয়া প্রদানের প্রতি অনীহার কারণে লোকেরা তাকে এক মজলিস থেকে অন্য মজলিসে পাঠিয়ে দিত, শেষ পর্যন্ত তাকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মজলিসে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তিনি বলেন: তারা তাকে 'সাহসী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব' বলে ডাকত।

সাসনুন বলেছেন: আমি এমন সব মাসআলা স্মরণ রাখি যাতে বিজ্ঞ আলেমদের আটজন ইমামের আটটি ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। এমতাবস্থায় সম্যক অবগত হওয়ার পূর্বেই উত্তর প্রদানে আমি কীভাবে তাড়াহুড়ো করতে পারি? তবে কেন আমাকে উত্তর স্থগিত রাখার জন্য তিরস্কার করা হবে? ইবনে ওয়াহাব বলেন: আশহাল ইবনে হাতিম আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আওন থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুযাইফা বলেছেন: কেবল তিন প্রকারের ব্যক্তি মানুষকে ফতোয়া প্রদান করে: যে ব্যক্তি কুরআনের রহিত বিধান সম্পর্কে অবগত, অথবা এমন শাসক যার ফতোয়া দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, অথবা এমন নির্বোধ যে অনর্থক কষ্টের বোঝা ঘাড়ে নেয়। তিনি বলেন: ইবনে সিরীন সম্ভবত বলতেন: আমি প্রথম দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নই, আর তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমি পছন্দ করি না।
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[الْمُرَادُ بِالنَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ]

قُلْت: مُرَادُهُ وَمُرَادُ عَامَّةِ السَّلَفِ بِالنَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ رَفْعُ الْحُكْمِ بِجُمْلَتِهِ تَارَةً وَهُوَ اصْطِلَاحُ الْمُتَأَخِّرِينَ، وَرَفْعُ دَلَالَةِ الْعَامِّ وَالْمُطْلَقِ وَالظَّاهِرِ وَغَيْرِهَا تَارَةً، إمَّا بِتَخْصِيصٍ أَوْ تَقْيِيدٍ أَوْ حَمْلِ مُطْلَقٍ عَلَى مُقَيَّدٍ وَتَفْسِيرِهِ وَتَبْيِينِهِ حَتَّى إنَّهُمْ يُسَمُّونَ الِاسْتِثْنَاءَ وَالشَّرْطَ وَالصِّفَةَ نَسْخًا لِتَضَمُّنِ ذَلِكَ رَفْعَ دَلَالَةِ الظَّاهِرِ وَبَيَانَ الْمُرَادِ، فَالنَّسْخُ عِنْدَهُمْ وَفِي لِسَانِهِمْ هُوَ بَيَانُ الْمُرَادِ بِغَيْرِ ذَلِكَ اللَّفْظِ، بَلْ بِأَمْرٍ خَارِجٍ عَنْهُ، وَمَنْ تَأَمَّلَ كَلَامَهُمْ رَأَى مِنْ ذَلِكَ فِيهِ مَا لَا يُحْصَى، وَزَالَ عَنْهُ بِهِ إشْكَالَاتٌ أَوْجَبَهَا حَمْلُ كَلَامِهِمْ عَلَى الِاصْطِلَاحِ الْحَادِثِ الْمُتَأَخِّرِ.

وَقَالَ هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: إنَّمَا يُفْتِي النَّاسَ أَحَدُ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٌ يَعْلَمُ نَاسِخَ الْقُرْآنِ وَمَنْسُوخَهُ، وَأَمِيرٌ لَا يَجِدُ بُدًّا، وَأَحْمَقُ مُتَكَلِّفٌ، قَالَ ابْنُ سِيرِينَ: فَأَنَا لَسْت أَحَدُ هَذَيْنِ، وَأَرْجُو أَنْ لَا أَكُونَ أَحْمَقَ مُتَكَلِّفًا.

وَقَالَ أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي كِتَابِ " جَامِعِ فَضْلِ الْعِلْمِ ": حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْقَاسِمِ ثنا يَحْيَى بْنُ الرَّبِيعِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الْمِصِّيصِيُّ ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ وَاقِدٍ ثنا الْمُطَّلِبُ بْنُ زِيَادٍ قَالَ: حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ حُسَيْنٍ إمَامُنَا قَالَ: رَأَيْت أَبَا حَنِيفَةَ فِي النَّوْمِ، فَقُلْت: مَا فَعَلَ اللَّهُ بِك يَا أَبَا حَنِيفَةَ؟ قَالَ: غَفَرَ لِي، فَقُلْت لَهُ: بِالْعِلْمِ؟ فَقَالَ: مَا أَضَرَّ الْفُتْيَا عَلَى أَهْلِهَا، فَقُلْت: فَبِمَ؟ قَالَ: بِقَوْلِ النَّاسِ فِي مَا لَمْ يَعْلَمْ اللَّهُ أَنَّهُ مِنِّي، قَالَ أَبُو عُمَرَ: وَقَالَ سَحْنُونٌ يَوْمًا: إنَّا لِلَّهِ، مَا أَشْقَى الْمُفْتِي وَالْحَاكِمِ، ثُمَّ قَالَ: هَا أَنَا ذَا يُتَعَلَّمُ مِنِّي مَا تُضْرَبُ بِهِ الرِّقَابُ وَتُوطَأُ بِهِ الْفُرُوجُ وَتُؤْخَذُ بِهِ الْحُقُوقُ، أَمَا كُنْت عَنْ هَذَا غَنِيًّا، قَالَ أَبُو عُمَرَ: وَقَالَ أَبُو عُثْمَانَ الْحَدَّادُ: الْقَاضِي أَيْسَرُ مَأْثَمًا وَأَقْرَبُ إلَى السَّلَامَةِ مِنْ الْفَقِيهِ - يُرِيدُ الْمُفْتِي؛ لِأَنَّ الْفَقِيهَ مِنْ شَأْنِهِ إصْدَارُ مَا يَرِدُ عَلَيْهِ مِنْ سَاعَتِهِ بِمَا حَصَرَهُ مِنْ الْقَوْلِ، وَالْقَاضِي شَأْنُهُ الْأَنَاةُ وَالتَّثَبُّتُ وَمَنْ تَأَنَّى وَتَثَبَّتَ تَهَيَّأَ لَهُ مِنْ الصَّوَابِ مَا لَا يَتَهَيَّأُ لِصَاحِبِ الْبَدِيهَةِ، انْتَهَى.

وَقَالَ غَيْرُهُ: الْمُفْتِي أَقْرَبُ إلَى السَّلَامَةِ مِنْ الْقَاضِي؛ لِأَنَّهُ لَا يُلْزِمُ بِفَتْوَاهُ، وَإِنَّمَا يُخْبِرُ بِهَا مِنْ اسْتَفْتَاهُ، فَإِنْ شَاءَ قَبِلَ قَوْلَهُ، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهُ وَأَمَّا الْقَاضِي فَإِنَّهُ يُلْزِمُ بِقَوْلِهِ، فَيَشْتَرِك هُوَ وَالْمُفْتِي فِي الْإِخْبَارِ عَنْ الْحُكْمِ، وَيَتَمَيَّزُ الْقَاضِي بِالْإِلْزَامِ وَالْقَضَاءِ؛ فَهُوَ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ خَطَرُهُ أَشَدُّ

 

‌‌[خَطَرُ تَوَلِّي الْقَضَاءِ]

وَلِهَذَا جَاءَ فِي الْقَاضِي مِنْ الْوَعِيدِ وَالتَّخْوِيفِ مَا لَمْ يَأْتِ نَظِيرُهُ فِي الْمُفْتِي، كَمَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيُّ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا ذُكِرَ عِنْدَهَا الْقُضَاةُ فَقَالَتْ: سَمِعْت
[নাসেখ ও মানসুখ দ্বারা যা উদ্দেশ্য]

আমি বলি: তাঁর এবং অধিকাংশ সালাফের (পূর্বসূরিদের) নিকট ‘নাসেখ’ ও ‘মানসুখ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—কখনো কোনো বিধানকে পুরোপুরি রহিত করা, যা পরবর্তী যুগের আলেমদের পরিভাষা। আবার কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আম (সাধারণ), মুতলাক (শর্তহীন) ও জাহির (সুস্পষ্ট) দলিলের ব্যাপকতাকে রহিত করা; তা তখসিস (বিশেষিত করা), তাকিয়িদ (শর্তযুক্ত করা) কিংবা মুতলাককে মুকাইয়াদের ওপর প্রয়োগ করা অথবা তার ব্যাখ্যা ও বর্ণনার মাধ্যমে। এমনকি তারা ‘ইস্তিসনা’ (ব্যতিক্রম), ‘শর্ত’ ও ‘সিফাত’ (গুণ)-কেও নাসখ বা রহিতকরণ বলে অভিহিত করতেন। কারণ এগুলো বাহ্যিক অর্থের ব্যাপকতাকে রহিত করে এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়। সুতরাং তাদের নিকট এবং তাদের পরিভাষায় ‘নাসখ’ হলো মূল শব্দ ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বা বাহ্যিক কোনো বিষয়ের মাধ্যমে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা। যে ব্যক্তি তাদের বক্তব্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে সেখানে এর অসংখ্য উদাহরণ দেখতে পাবে। এর ফলে সেই সব সংশয় দূর হয়ে যাবে, যা তাদের বক্তব্যকে পরবর্তী যুগের নবসৃষ্ট পরিভাষার ওপর প্রয়োগ করার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।

হিশাম ইবনে হাসান মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “মানুষকে ফতোয়া কেবল তিন ধরনের ব্যক্তি দেয়: সেই ব্যক্তি যে কুরআনের নাসেখ ও মানসুখ সম্পর্কে জানে, অথবা এমন আমির (শাসক) যার ফতোয়া দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, আর এমন আহমক যে সাধ্যের অতীত বোঝা কাঁধে নেয়।” ইবনে সিরিন বলেন, “আমি প্রথম দুইজনের কেউ নই, আর আমি আশা করি যে আমি সেই আহমক ও অনধিকারচর্চাকারী হব না।”

আবু ওমর ইবনে আবদিল বার তাঁর “জামি’ ফাদলিল ইলম” কিতাবে বলেন: আমাদের নিকট খালফ ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুর রবি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আল-মিসসিসি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের ইমাম জাফর ইবনে হুসাইন আমাকে বলেছেন: আমি স্বপ্নে আবু হানিফাকে দেখলাম, তখন আমি বললাম: হে আবু হানিফা! আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: ইলমের কারণে? তিনি বললেন: ফতোয়া প্রদান করা ফতোয়াদানকারীর জন্য কতই না ক্ষতিকর! আমি বললাম: তবে কীসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: আমার সম্পর্কে মানুষের এমন সব প্রশংসাবাক্যের কারণে যা আল্লাহ জানেন যে আমার পক্ষ থেকে ছিল না। আবু ওমর বলেন: সাহনুন একদিন বললেন: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন, মুফতি ও বিচারক কতই না দুর্ভাগা! এরপর তিনি বললেন: এই তো আমি, আমার কাছ থেকে এমন সব বিষয় শেখা হচ্ছে যার দ্বারা গর্দান উড়ানো হয় (প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়), লজ্জাস্থান হালাল করা হয় এবং মানুষের হক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আমি কি এ থেকে মুক্ত থাকতে পারতাম না! আবু ওমর বলেন: আবু উসমান আল-হাদ্দাদ বলেছেন: বিচারক ফকিহর (মুফতির) চেয়ে পাপের দিক থেকে হালকা এবং নিরাপত্তার অধিক নিকটবর্তী। কারণ ফকিহর কাজ হলো তৎক্ষণাৎ তার নিকট আসা বিষয়ের সমাধান দেওয়া, আর বিচারকের কাজ হলো ধীরস্থিরভাবে যাচাই-বাছাই করা। আর যে ব্যক্তি ধীরস্থিরভাবে যাচাই করে, তার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যতটা সহজ হয়, উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সমাধানকারীর জন্য তা ততটা সহজ হয় না। সমাপ্ত।

আবার অন্য কেউ বলেছেন: মুফতি বিচারকের চেয়ে নিরাপত্তার অধিক নিকটবর্তী। কারণ মুফতি তার ফতোয়া মানতে বাধ্য করেন না; তিনি কেবল প্রশ্নকারীকে বিধান সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রশ্নকারী চাইলে তা গ্রহণ করতে পারে অথবা বর্জন করতে পারে। কিন্তু বিচারক তার রায়ের মাধ্যমে বাধ্য করেন। সুতরাং মুফতি ও বিচারক উভয়েই বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে অংশীদার হলেও বিচারক রায় কার্যকর ও বাধ্য করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। এই দিক থেকে বিচারকের ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

[বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের ঝুঁকি]

এ কারণেই বিচারক সম্পর্কে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি ও ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যা মুফতির ক্ষেত্রে আসেনি। যেমন আবু দাউদ আল-তায়ালিসি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সামনে বিচারকদের কথা আলোচনা করা হলে তিনি বলেন: আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يُؤْتَى بِالْقَاضِي الْعَدْلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَلْقَى مِنْ شِدَّةِ الْحِسَابِ مَا يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ فِي تَمْرَةٍ قَطُّ» وَرَوَى الشَّعْبِيُّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَرْفَعُهُ: «مَا مِنْ حَاكِمٍ يَحْكُمُ بَيْنَ النَّاسِ إلَّا وُكِّلَ بِهِ مَلَكٌ آخِذٌ بِقَفَاهُ حَتَّى يَقِفَ بِهِ عَلَى شَفِيرِ جَهَنَّمَ، فَيَرْفَعَ رَأْسَهُ إلَى اللَّهِ فَإِنْ أَمَرَهُ أَنْ يَقْذِفَهُ قَذَفَهُ فِي مَهْوَى أَرْبَعِينَ خَرِيفًا» وَفِي السُّنَنِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ، اثْنَانِ فِي النَّارِ وَوَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ: رَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ، وَرَجُلٌ قَضَى بَيْنَ النَّاسِ بِالْجَهْلِ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فَهُوَ فِي النَّارِ» .

وَقَالَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: وَيْلٌ لِدَيَّانِ مَنْ فِي الْأَرْضِ مِنْ دَيَّانِ مَنْ فِي السَّمَاءِ، يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ، إلَّا مَنْ أَمَرَ بِالْعَدْلِ، وَقَضَى بِالْحَقِّ، وَلَمْ يَقْضِ عَلَى هَوًى، وَلَا عَلَى قَرَابَةٍ، وَلَا عَلَى رَغَبٍ وَلَا رَهَبٍ، وَجَعَلَ كِتَابَ اللَّهِ مِرْآةً بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَفِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ طَلَبَ قَضَاءَ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَنَالَهُ ثُمَّ غَلَبَ عَدْلُهُ جَوْرَهُ فَلَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ غَلَبَ جَوْرُهُ عَدْلَهُ فَلَهُ النَّارُ» وَفِي سُنَنِ الْبَيْهَقِيّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرْ، فَإِذَا جَارَ بَرِئَ اللَّهُ مِنْهُ وَلَزِمَهُ الشَّيْطَانُ» وَفِيهِ مِنْ حَدِيثِ حُسَيْنِ الْمُعَلِّمِ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ ابْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ اللَّهَ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرْ، فَإِذَا جَارَ وَكَّلَهُ إلَى نَفْسِهِ» .

وَفِي السُّنَنِ الْأَرْبَعَةِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَعَّدَ قَاضِيًا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَقَدْ ذَبَحَ نَفْسَهُ بِغَيْرِ سِكِّينٍ» وَفِي سُنَنِ الْبَيْهَقِيّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَيْلٌ لِلْأُمَرَاءِ، وَوَيْلٌ لِلْعُرَفَاءِ، وَوَيْلٌ لِلْأُمَنَاءِ، لَيَتَمَنَّيَنَّ أَقْوَامٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَّ نَوَاصِيَهُمْ كَانَتْ مُعَلَّقَةً بِالثُّرَيَّا يَتَجَلْجَلُونَ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَأَنَّهُمْ لَمْ يَلُوا عَمَلًا» .

[الْوَعِيدُ عَلَى الْإِفْتَاءِ]

وَأَمَّا الْمُفْتِي فَفِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد مِنْ حَدِيثِ مُسْلِمِ بْنِ يَسَّارٍ قَالَ: سَمِعْت أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي جَهَنَّمَ، وَمَنْ أَفْتَى بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ وَمَنْ أَشَارَ عَلَى أَخِيهِ بِأَمْرٍ يَعْلَمُ الرُّشْدَ فِي غَيْرِهِ فَقَدْ خَانَهُ» فَكُلُّ خَطَرٍ عَلَى الْمُفْتِي فَهُوَ عَلَى الْقَاضِي، وَعَلَيْهِ مِنْ زِيَادَةِ الْخَطَرِ مَا يَخْتَصُّ بِهِ، وَلَكِنْ خَطَرُ الْمُفْتِي أَعْظَمُ مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى؛ فَإِنَّ فَتْوَاهُ شَرِيعَةٌ عَامَّةٌ تَتَعَلَّقُ بِالْمُسْتَفْتِي وَغَيْرِهِ وَأَمَّا الْحَاكِمُ فَحُكْمُهُ جُزْئِيٌّ خَاصٌّ لَا يَتَعَدَّى إلَى غَيْرِ الْمَحْكُومِ عَلَيْهِ وَلَهُ؛ فَالْمُفْتِي يُفْتِي حُكْمًا عَامًّا كُلِّيًّا أَنَّ مَنْ فَعَلَ كَذَا تَرَتَّبَ عَلَيْهِ كَذَا، وَمَنْ قَالَ كَذَا لَزِمَهُ كَذَا، وَالْقَاضِي
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «কিয়ামতের দিন ন্যায়পরায়ণ বিচারককে উপস্থিত করা হবে, তখন সে হিসাবের কঠোরতার কারণে কামনা করবে যে, যদি সে কখনও দুই ব্যক্তির মধ্যে একটি খেজুরের ব্যাপারেও ফয়সালা না করত» এবং শা'বি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «মানুষের মধ্যে বিচার করে এমন কোনো শাসক নেই যাকে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে তার ঘাড় ধরে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করাবে না; অতঃপর সে (ফেরেশতা) তার মাথা আল্লাহর দিকে তুলবে, যদি তিনি তাকে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন, তবে সে তাকে চল্লিশ বছরের গভীরতায় নিক্ষেপ করবে» এবং সুনান গ্রন্থে ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকার জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে: যে ব্যক্তি সত্যকে জেনেছে এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করেছে, সে জান্নাতি; আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেছে, সে জাহান্নামী; এবং যে ব্যক্তি সত্য জেনেও অন্যায় করেছে, সে জাহান্নামী»।

এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: জমিনের বিচারকদের জন্য আকাশের বিচারকের পক্ষ থেকে ধ্বংস অনিবার্য যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ন্যায়ের আদেশ দিয়েছে, সত্য অনুযায়ী ফয়সালা করেছে এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কিংবা আত্মীয়তার খাতিরে অথবা কোনো লোভ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে ফয়সালা করেনি এবং আল্লাহর কিতাবকে তার চোখের সামনে আয়না স্বরূপ রেখেছে। এবং সুনানে আবু দাউদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিচারকের পদ প্রার্থনা করল এবং তা লাভ করল, অতঃপর তার ন্যায়বিচার তার অন্যায়ের ওপর প্রবল হলো, তার জন্য জান্নাত। আর যার অন্যায় তার ন্যায়বিচারের ওপর প্রবল হলো, তার জন্য জাহান্নাম» এবং সুনানে বাইহাকিতে ইবনে জুরাইজ থেকে আতা এর মাধ্যমে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ বিচারকের সাথে থাকেন যতক্ষণ সে জুলুম না করে। যখন সে জুলুম করে, আল্লাহ তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং শয়তান তাকে আঁকড়ে ধরে» এবং তাতে হুসাইন আল-মুআল্লিম থেকে শায়বানির মাধ্যমে এবং তিনি ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বিচারকের সাথে থাকেন যতক্ষণ সে জুলুম না করে। যখন সে জুলুম করে, আল্লাহ তাকে তার নিজের ওপর ছেড়ে দেন»।

এবং সুনানে আরবাআ’য় আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «যাকে মুসলিমদের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো» এবং সুনানে বাইহাকিতে আবু হাযিম থেকে আবু হুরায়রা এর সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ধ্বংস আমিরদের জন্য, ধ্বংস তদারককারীদের জন্য এবং ধ্বংস আমানতদারদের জন্য। কিয়ামতের দিন কিছু লোক অবশ্যই কামনা করবে যে, যদি তাদের কপালের চুল সুরাইয়া নক্ষত্রের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হতো এবং তারা আসমান ও জমিনের মাঝখানে দুলতে থাকত, তবুও যেন তারা কোনো দায়িত্ব পালন না করত»।

[ফতোয়া প্রদানের ভীতিপ্রদর্শন]

আর মুফতির ব্যাপারে সুনানে আবু দাউদে মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঘর বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিল, তার গুনাহ সেই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে যে তাকে ফতোয়া দিয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে এমন কোনো পরামর্শ দিল যার সঠিক পথ অন্যটিতে আছে বলে সে জানে, তবে সে তার সাথে খিয়ানত করল»। সুতরাং মুফতির জন্য যে বিপদ রয়েছে তা বিচারকের জন্যও প্রযোজ্য, উপরন্তু বিচারকের জন্য অতিরিক্ত সেই বিপদগুলোও রয়েছে যা কেবল তার সাথেই সংশ্লিষ্ট। তবে মুফতির বিপদ অন্য দিক থেকে অনেক বড়; কারণ তার ফতোয়া হলো একটি সাধারণ শরীয়ত যা ফতোয়া গ্রহণকারী এবং অন্যদের সাথেও সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে বিচারকের ফয়সালা হলো আংশিক ও বিশেষ যা দণ্ডপ্রাপ্ত এবং যার পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ। মুফতি সাধারণ ও সামগ্রিক বিধান প্রদান করেন যে, যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে তার ওপর এমন বিধান বর্তাবে এবং যে এমন কথা বলবে তার ওপর এটি আবশ্যক হবে, কিন্তু বিচারক...
(খণ্ড: ১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামীন - তিল ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يَقْضِي قَضَاءً مُعَيَّنًا عَلَى شَخْصٍ مُعَيَّنٍ، فَقَضَاؤُهُ خَاصٌّ مُلْزِمٌ، وَفَتْوَى الْعَالِمِ عَامَّةٌ غَيْرُ مُلْزِمَةٍ، فَكِلَاهُمَا أَجْرُهُ عَظِيمٌ، وَخَطَرُهُ كَبِيرٌ

 

‌‌[فَصْلٌ الْمُحَرَّمَاتُ عَلَى أَرْبَعِ مَرَاتِبَ]

وَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ الْقَوْلَ عَلَيْهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فِي الْفُتْيَا وَالْقَضَاءِ، وَجَعَلَهُ مِنْ أَعْظَمِ الْمُحَرَّمَاتِ، بَلْ جَعَلَهُ فِي الْمَرْتَبَةِ الْعُلْيَا مِنْهَا، فَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] فَرَتَّبَ الْمُحَرَّمَاتِ أَرْبَعَ مَرَاتِبَ، وَبَدَأَ بِأَسْهَلِهَا وَهُوَ الْفَوَاحِشُ، ثُمَّ ثَنَّى بِمَا هُوَ أَشَدُّ تَحْرِيمًا مِنْهُ وَهُوَ الْإِثْمُ وَالظُّلْمُ، ثُمَّ ثَلَّثَ بِمَا هُوَ أَعْظَمُ تَحْرِيمًا مِنْهُمَا وَهُوَ الشِّرْكُ بِهِ سُبْحَانَهُ، ثُمَّ رَبَّعَ بِمَا هُوَ أَشَدُّ تَحْرِيمًا مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ وَهُوَ الْقَوْلُ عَلَيْهِ بِلَا عِلْمٍ، وَهَذَا يَعُمُّ الْقَوْلَ عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ بِلَا عِلْمٍ فِي أَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ وَفِي دِينِهِ وَشَرْعِهِ وَقَالَ تَعَالَى: {وَلا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ} [النحل: 116] {مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النحل: 117] فَتَقَدَّمَ إلَيْهِمْ سُبْحَانَهُ بِالْوَعِيدِ عَلَى الْكَذِبِ عَلَيْهِ فِي أَحْكَامِهِ، وَقَوْلِهِمْ لِمَا لَمْ يُحَرِّمْهُ: هَذَا حَرَامٌ، وَلِمَا لَمْ يَحِلَّهُ: هَذَا حَلَالٌ، وَهَذَا بَيَانٌ مِنْهُ سُبْحَانَهُ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لِلْعَبْدِ أَنْ يَقُولَ: هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ إلَّا بِمَا عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ أَحَلَّهُ وَحَرَّمَهُ.

وَقَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: لِيَتَّقِ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقُولَ: أَحَلَّ اللَّهُ كَذَا، وَحَرَّمَ كَذَا، فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ: كَذَبْت، لَمْ أُحِلَّ كَذَا، وَلَمْ أُحَرِّمْ كَذَا؛ فَلَا يَنْبَغِي أَنْ يَقُولَ لِمَا لَا يَعْلَمُ وُرُودَ الْوَحْيِ الْمُبِينِ بِتَحْلِيلِهِ وَتَحْرِيمِهِ أَحَلَّهُ اللَّهُ وَرَحِمَهُ اللَّهُ لِمُجَرَّدِ التَّقْلِيدِ أَوْ بِالتَّأْوِيلِ

 

‌‌[النَّهْيُ عَنْ أَنْ يُقَالَ هَذَا حُكْمُ اللَّهِ]

«وَقَدْ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ أَمِيرَهُ بُرَيْدَةَ أَنْ يُنَزِّلَ عَدُوَّهُ إذَا حَاصَرَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، وَقَالَ: فَإِنَّك لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا، وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِك وَحُكْمِ أَصْحَابِك» فَتَأَمَّلْ كَيْف فَرَّقَ بَيْنَ حُكْمِ اللَّهِ وَحُكْمِ الْأَمِيرِ الْمُجْتَهِدِ، وَنَهَى أَنْ يُسَمَّى حُكْمُ الْمُجْتَهِدِينَ حُكْمَ اللَّهِ.

وَمِنْ هَذَا لَمَّا كَتَبَ الْكَاتِبُ بَيْنَ يَدَيْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه -
তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্দিষ্ট ফয়সালা প্রদান করেন, ফলে তাঁর ফয়সালা বিশেষ ও বাধ্যতামূলক হয়। আর আলেমের ফতোয়া সাধারণ এবং বাধ্যতামূলক নয়। উভয়ের সওয়াব যেমন মহান, তেমনি এর ঝুঁকিও অনেক বড়।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: হারাম বিষয়সমূহ চার স্তরের]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ফতোয়া ও বিচারের ক্ষেত্রে ইলম ছাড়া তাঁর সম্পর্কে কোনো কথা বলা হারাম করেছেন এবং একে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হারাম কাজ হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং একে হারাম বিষয়সমূহের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন—এবং পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহকে হারাম করেছেন, আর আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করাকে (হারাম করেছেন) যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর সম্পর্কে এমন কিছু বলাকে যা তোমরা জানো না।} [আল-আ'রাফ: ৩৩] সুতরাং তিনি হারাম বিষয়গুলোকে চারটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন এবং সবচেয়ে সহজটি দিয়ে শুরু করেছেন, যা হলো অশ্লীলতা। এরপর দ্বিতীয় স্তরে এমন বিষয়কে রেখেছেন যা এর চেয়েও কঠিনভাবে হারাম, তা হলো পাপ ও জুলুম। এরপর তৃতীয় স্তরে এমন বিষয়কে রেখেছেন যা এই দুটির চেয়েও বড় হারাম, তা হলো সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে শরিক করা। এরপর চতুর্থ স্তরে এমন বিষয়কে রেখেছেন যা এসবের চেয়েও কঠিনভাবে হারাম, আর তা হলো ইলম ছাড়া তাঁর সম্পর্কে কথা বলা। এটি সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কার্যাবলি এবং তাঁর দ্বীন ও শরিয়ত সম্পর্কে ইলম ছাড়া কথা বলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {তোমাদের জিহ্বা থেকে যে মিথ্যা কথা বের হয়, তার ভিত্তিতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য বলবে না যে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’। নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফল হবে না।} [আন-নাহল: ১১৬] {এ তো সামান্য ভোগমাত্র, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [আন-নাহল: ১১৭] সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর আহকাম বা বিধানাবলি সম্পর্কে তাঁর ওপর মিথ্যা বলার ব্যাপারে এবং তারা এমন বিষয়কে যা তিনি হারাম করেননি—হারাম বলা এবং যা তিনি হালাল করেননি—তাকে হালাল বলার ব্যাপারে আগেভাগেই সতর্কবাণী প্রদান করেছেন। এটি সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা যে, কোনো বান্দার জন্য 'এটি হালাল' ও 'এটি হারাম' বলা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না সে জানতে পারে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তা হালাল বা হারাম করেছেন।

জনৈক সালাফ বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন 'আল্লাহ একে হালাল করেছেন' বা 'আল্লাহ একে হারাম করেছেন' বলতে ভয় পায়, অন্যথায় আল্লাহ তাকে বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ, আমি একে হালাল করিনি এবং একে হারাম করিনি।' অতএব, যে বিষয়ে স্পষ্ট ওহি দ্বারা হালাল বা হারাম হওয়ার বিষয়টি জানা নেই, শুধুমাত্র তাকলিদ বা অপব্যাখ্যার কারণে সে সম্পর্কে যেন 'আল্লাহ একে হালাল করেছেন' বা 'আল্লাহ একে হারাম করেছেন' না বলে।

 

‌‌[একে 'আল্লাহর বিধান' বলতে নিষেধ করার অধ্যায়]

«নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহিহ হাদিসে তাঁর সেনাপতি বুরাইদাহকে নিষেধ করেছেন যেন তিনি শত্রুপক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর তাদেরকে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সমর্পণ না করেন। তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি জানো না যে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা তুমি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবে কি না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার ফয়সালা ও তোমার সাথীদের ফয়সালার ওপর অবনত করো।"» লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে আল্লাহর বিধান এবং মুজতাহিদ সেনাপতির বিধানের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং মুজতাহিদদের বিধানকে 'আল্লাহর বিধান' নামে অভিহিত করতে নিষেধ করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায়, যখন আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সামনে জনৈক লেখক লিখলেন—