(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
المسودة في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: المسودة في أصول الفقه
المؤلف: آل تيمية [بدأ بتصنيفها الجدّ: مجد الدين أبو البركات عبد السلام بن تيمية (ت 652 هـ)، وأضاف إليها الأب،: شهاب الدين عبد الحليم بن تيمية (ت 682 هـ)، ثم أكملها الابن الحفيد: شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن تيمية (728 هـ)]
جمعها وبيضها: أحمد بن محمد بن أحمد بن عبد الغني الحراني الدمشقي (ت 745 هـ)
تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]
الناشر: مطبعة المدني (وصورته دار الكتاب العربي)
عدد الصفحات: 579
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুসাউওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-মুসাউওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
লেখক: আল তাইমিয়্যাহ পরিবার [এটি সংকলন করা শুরু করেছিলেন পিতামহ: মাজদুদ্দিন আবুল বারাকাত আবদুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৬৫২ হিজরি), এরপর এতে সংযোজন করেন পিতা: শিহাবুদ্দিন আবদুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৬৮২ হিজরি), তারপর এটি সম্পন্ন করেন নাতি: শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ (৭২৮ হিজরি)]
সংগ্রহ ও পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল গনি আল-হাররানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি)
সম্পাদনা: মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আবদুল হামীদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: মাতবাআতুল মাদানি (এবং এর অনুলিপি প্রকাশ করেছে দারুল কিতাব আল-আরাবি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مسائل الأوامر: إذا وردت صيغة أفعل من الأعلى…مسائل الأوامر*
مسألة: إذا وردت صيغة "أفعل" من الأعلى
إلى من هو دونه متجردة عن القرائن فهي أمر وقالت المعتزلة1 لا يكون أمرا إلا بإرادته الفعل2 وقالت الأشعرية ليست3 للأمر صيغة وصيغة أفعل لا تدل عليه إلا بقرينة وإنما الأمر معنى قائم بالنفس4.
وقال ابن برهان إرادة المتكلم بالصيغة لا خلاف في اعتبارها حتى لو صدرت من مجنون أو نائم أو [ساه] 5 لم يكن أمرا [وأما إرادة كونها أمرا] 6 فاعتبره المتكلمون من أصحابنا ليصرف [اللفظ بها] عنها من جهة الأعذار والإنذار والتعجيز والتكوين [أو يعبر بها] عن المعنى القائم بالنفس.
قال وقال الفقهاء من أصحابنا لا يشترط ذلك بل اللفظ بإطلاقه وتجرده عن القرائن يصرف إلى الأمر ولا يصرف إلى غيره إلا بقرينة "ز هـ"
--------------------------------------------
আদেশের মাসআলাসমূহ: যখন উচ্চতর পর্যায় থেকে "আফআল" (তুমি করো) রূপটি আসে...আদেশের মাসআলাসমূহ*
মাসআলা: যখন উচ্চতর পর্যায় থেকে তার নিম্নবর্তী কারো প্রতি কোনো রূপক বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ব্যতিরেকে "আফআল" (তুমি করো) রূপটি ব্যবহৃত হয়, তখন তা আদেশ হিসেবে গণ্য হয়। মুতাজিলারা বলেছে, আদিষ্ট কাজটির প্রতি (আদেশদাতার) ইচ্ছা থাকা ছাড়া তা আদেশ হবে না। আশআরিগণ বলেছে, আদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দরূপ নেই এবং "আফআল" রূপটি কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ছাড়া আদেশের অর্থ প্রকাশ করে না; বরং আদেশ হলো মনের মধ্যে বিদ্যমান একটি অর্থ।
ইবনে বুরহান বলেছেন, শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে বক্তার ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচ্য হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই; এমনকি যদি তা কোনো পাগল, ঘুমন্ত ব্যক্তি বা বিস্মৃত ব্যক্তির থেকে প্রকাশ পায়, তবে তা আদেশ হবে না। আর একে আদেশ হিসেবে গণ্য করার ইচ্ছা পোষণের বিষয়টি আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ বিবেচনা করেছেন, যাতে ওজর পেশ করা, সতর্ক করা, অপারগ করা এবং সৃষ্টি করা সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলো থেকে শব্দটিকে সরিয়ে আনা যায়, অথবা এর মাধ্যমে মনে বিদ্যমান অর্থের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো যায়।
তিনি বলেন, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে ফকিহগণ বলেছেন, এটি শর্ত নয়; বরং শব্দটি নিঃশর্তভাবে এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থেকে মুক্ত অবস্থায় আদেশের দিকেই ধাবিত হয় এবং কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয় না। "যা হ"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فصل:
الأمر بالأمر بالشيء ليس آمرا به مع عدم الدليل عليه ذكره الرازي والمقدسي.
অনুচ্ছেদ:
কোনো বিষয়ে আদেশ করার জন্য আদেশ প্রদান করা সেই বিষয়ের আদেশদাতা হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে না যদি এর স্বপক্ষে কোনো দলিল না থাকে। এটি আল-রাজি এবং আল-মাকদিসি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مسألة: الأصل في الأمر الوجوبنص عليه في مواضع وبه قال عامة المالكية وجمهور الفقهاء والشافعي وغيره وقالت المعتزلة وبعض الشافعية: الأصل فيه الندب وقال أكثر الأشعرية وشيخهم هو على الوقف بينهما إذا ثبت الاستدعاء وقال قوم الأصل في صيغة الأمر مجردة الإباحة وقد نقل الميمون عن أحمد أنه قال: الأمر أسهل من النهي ونقل عنه علي بن سعيد ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم عندي [أسهل مما] 1 نهي عنه فيحتمل أنه أراد أنه على الندب [وهو بعيد لمخالفته] منصوص الكثيرة ويحتمل وهو الأظهر أنه قصد أنه [أسهل] بمعنى أن جماعة من الفقهاء قالوا بالتفرقة بأن الأمر للندب والنهي للتحريم والنهي على الدوام والأمر لا يقتضي [التكرار وزعم] أبو الخطاب أن هذا يدل على [أن] إطلاق الأمر يقتضي الندب قال والد شيخنا: وقد ذكر أصحابنا رواية الميمون وعلي بن سعيد [عن الإمام أحمد رحمه الله] بأن الأمر أسهل من النهي فهل يجوز جعلها رواية [عنه ينبني] ذلك على أصلين من أصول المذهب على ما هو مقرر في موضعه أحدهما أن الإمام إذا سئل عن مسألة فأجاب فيها بحظر أو إباحة ثم سئل عن غيرها فقال ذلك أسهل وذلك أشد أو قال: كذا أسهل من كذا فهل يقتضي ذلك المساواة بينهما في الحكم أم الاختلاف اختلف في ذلك الأصحاب فذهب أبو بكر غلام الخلال إلى المساواة [بينهما] في الحكم وقال أبو عبد الله بن حامد يقتضي ذلك الاختلاف [لا المساواة] الأصل الثاني إذا رويت عنه رواية تخالف أكثر منصوص فهل يجوز جعلها مذهبا له [أم لا] ؟ فذكر أبو بكر2 الخلال وصاحبه عبد [العزيز إلى] أنها ليست
--------------------------------------------
মাসআলা: নির্দেশের মূল ভিত্তি হলো ওয়াজিব হওয়াতিনি (ইমাম আহমদ) বহু স্থানে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং সাধারণ মালিকিগণ, জমহুর ফকিহগণ, শাফেয়ি ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন। আর মুতাজিলাগণ এবং কিছু শাফেয়ি বলেছেন: নির্দেশের মূল ভিত্তি হলো মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হওয়া। অধিকাংশ আশআরি এবং তাদের শাইখ বলেছেন যে, যদি কোনো কিছুর তলব বা আহ্বান প্রমাণিত হয় তবে এটি এই উভয়ের (ওয়াজিব ও মুস্তাহাব) মাঝে স্থগিত (ওয়াকফ) থাকবে। একদল বলেছেন যে, নির্দেশের শব্দগত রূপটি কোনো বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা ছাড়া কেবল বৈধতা (ইবাহাত) বোঝায়। মায়মুন আহমদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "নির্দেশ পালনের বিষয়টি নিষেধের চেয়ে সহজ।" আর আলী বিন সাঈদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন তা আমার কাছে তিনি যা নিষেধ করেছেন তার [চেয়ে সহজ]।" তাই সম্ভাবনা আছে যে তিনি এর দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য করেছেন, [তবে এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা কারণ এটি তাঁর অসংখ্য] সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধী। এবং যা অধিকতর সুস্পষ্ট সম্ভাবনা তা হলো তিনি [সহজ] বলতে এই অর্থ বুঝিয়েছেন যে একদল ফকিহ নির্দেশ ও নিষেধের মাঝে পার্থক্য করেছেন এই বলে যে, নির্দেশ মুস্তাহাবের জন্য এবং নিষেধ হারামের জন্য; আর নিষেধ সর্বদা কার্যকর থাকে কিন্তু নির্দেশ [পুনরাবৃত্তির] দাবি রাখে না। আর আবু আল-খাত্তাব [দাবি করেছেন] যে এটি নির্দেশ করে [যে], নির্দেশের সাধারণ ব্যবহার মুস্তাহাব হওয়াকে আবশ্যক করে। আমাদের শাইখের পিতা বলেছেন: আমাদের সাথীগণ (হাম্বলিগণ) [ইমাম আহমদ রহ.-এর পক্ষ থেকে] মায়মুন ও আলী বিন সাঈদের বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন যে নির্দেশ নিষেধের চেয়ে সহজ; সুতরাং এটিকে কি তাঁর পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা [হিসেবে গণ্য করা] জায়েজ হবে? এটি মাযহাবের মূলনীতিসমূহের দুটি ভিত্তির ওপর [নির্ভরশীল], যা তার স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তার একটি হলো, ইমামকে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তিনি সেখানে নিষিদ্ধ বা বৈধ হওয়ার উত্তর দেন, অতঃপর অন্য মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন—ওটি সহজ বা ওটি কঠিন, অথবা তিনি বলেন: অমুক কাজ তমুক কাজের চেয়ে সহজ; এমতাবস্থায় এটি কি হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সমতা দাবি করে নাকি ভিন্নতা? এ বিষয়ে আমাদের সাথীগণ মতভেদ করেছেন। ফলে আবু বকর গুলাম আল-খাল্লাল [উভয়ের মাঝে] হুকুমের ক্ষেত্রে সমতার দিকে গিয়েছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ বলেছেন যে এটি ভিন্নতা দাবি করে, [সমতা নয়]। দ্বিতীয় মূলনীতি হলো, যখন তাঁর থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় যা তাঁর অধিকাংশ সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধী, তখন কি সেটাকে তাঁর মাযহাব হিসেবে গণ্য করা বৈধ হবে [নাকি হবে না]? ফলে আবু বকর আল-খাল্লাল এবং তাঁর সাথী আব্দুল [আজিজ উল্লেখ করেছেন] যে এটি তাঁর মাযহাব নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مذهبا [له] 1 وذهب ابن حامد إلى أنه لا يطلق ذلك وإن كان دليلها أقوى قدمت.
فتحرر من ذلك أن لأصحابنا في إثباتها رواية أعني رواية الميمون وعلى ابن سعيد في الأمر طريقين [فطريقة أبي بكر نفيها في الأصلين وهو الأولى2] في مسألة الأمر [خصوصها3] لضعف دليلها ومخالفتها لأكثر العلماء وأكثر منصوص وطريقة ابن حامد إثباتها4 في الأصلين وهو حسن والله أعلم.
وذهب أبو الحسين البصري وجماعة [من] المعتزلة إلى أنها للوجوب كقولنا قال ابن برهان: هو قول الفقهاء قاطبة.
--------------------------------------------
[তাঁর জন্য] একটি মাযহাব হিসেবে ১ এবং ইবনে হামিদ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হবে না, যদিও এর দলিল যদি অধিক শক্তিশালী হয় তবে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, আমাদের মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে এটি সাব্যস্ত করার বিষয়ে একটি বর্ণনা রয়েছে, অর্থাৎ আল-মাইমুন ও আলী ইবনে সাঈদের বর্ণনা অনুযায়ী নির্দেশের (আদেশের) ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে। [আবু বকরের পদ্ধতি হলো উভয় মূলনীতিতে একে অস্বীকার করা এবং এটিই অধিকতর উত্তম ২] আদেশের মাসআলায় [বিশেষ করে ৩], যেহেতু এর দলিল দুর্বল এবং এটি অধিকাংশ আলিম ও অধিকাংশ অকাট্য দলিলের (মানসুস) পরিপন্থী। আর ইবনে হামিদের পদ্ধতি হলো উভয় মূলনীতিতে এটি সাব্যস্ত করা ৪ এবং এটি উত্তম। আল্লাহই ভালো জানেন।
আবুল হুসাইন আল-বাসরী এবং মুতাজিলাদের একটি দল এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি ওয়াজিব বা আবশ্যকতা বুঝানোর জন্য, যেমনটি আমাদের বক্তব্য। ইবনে বুরহান বলেছেন: এটি সকল ফকিহদের সর্বসম্মত অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مسألة: لفظ الأمر إذا أريد به الندبفهو حقيقة فيه على ظاهر كلامه واختار أكثر أصحابنا القاضي وابن عقيل وهو نص الشافعي حكاه أبو الطيب وقال هو الصحيح من مذهبه وقالت الحنفية الكري والرازي هو مجاز واختاره عبد الرحمن الحلواني من أصحابنا وعن الشافعي كالمذهبين "ز" وللمالكية وجهان والثاني اختيار أبي الطيب لما أفرد المسألة وحكاه أبو الطيب في أوائل كتابه عن نص الشافعي أنه مأمور به بخلاف قوله: لما أفرده مسألة واختاره ابن عقيل وقال هو قول أكثر أهل العلم [من] الأصوليين والفقهاء.
মাসআলা: আদেশের শব্দ দ্বারা যখন মুস্তাহাব (নাদব) উদ্দেশ্য হয়তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম অনুযায়ী এটি তার ক্ষেত্রে হাকীকত (প্রকৃত অর্থ)। আমাদের অধিকাংশ সাথী এটিই পছন্দ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাদী এবং ইবনে আকীল। এটিই ইমাম শাফিঈর সুস্পষ্ট বক্তব্য (নস) যা আবু তাইয়িব বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এটিই তাঁর মাযহাবের সঠিক মত। হানাফী আল-কারখী এবং আর-রাযী বলেছেন এটি মাজায (রূপক)। আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আব্দুর রহমান আল-হালওয়ানী এটিই পছন্দ করেছেন। শাফিঈর পক্ষ থেকে উভয় মতের অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। মালিকীদের নিকট এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি আবু তাইয়িবের পছন্দ যখন তিনি মাসআলাটিকে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন। আবু তাইয়িব তাঁর কিতাবের শুরুর দিকে ইমাম শাফিঈর সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি ‘মামুর বিহি’ (আদিষ্ট বিষয়), যা তাঁর ওই বক্তব্যের বিপরীত যেখানে তিনি বিষয়টিকে স্বতন্ত্র মাসআলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আকীল এটি পছন্দ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটিই উসূলবিদ ও ফকীহগণের মধ্যে অধিকাংশ আলিমের অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مسألة: وإن أريد به الإباحةفعندي أنه مجاز وهو قول الحنفية والمقدسي واختيار1 ابن عقيل وقال هو قول أكثر أهل العلم من الأصوليين وذكر أبو الخطاب أن هذه المسألة من فوائد الأمر هل هو حقيقة في الندب فيجيء
--------------------------------------------
মাসআলা: যদি এর দ্বারা অনুমতি (ইবাহাত) উদ্দেশ্য হয়তবে আমার নিকট এটি রূপক (মাজায), এবং এটি হানাফীগণ ও আল-মাকদিসীর অভিমত এবং ইবন আকীলের পছন্দ১। তিনি বলেন, এটি উসুলবিদগণের মধ্যে অধিকাংশ আলেমের অভিমত। আর আবু আল-খাত্তাব উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলাটি ‘আদেশ’ (আম্র)-এর আনুষঙ্গিক ফলাফলসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে, তা কি সুপারিশ (নদ্ব)-এর ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ প্রদান করে, যার ফলে আসবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فيها1 الوجهان لنا وقال القاضي [يكون حقيقة] أيضا وحكي عن الشافعية كالمذهبين وهو مقتضى كلام القاضي في مسألة الأمر بعد الحظر وحكي ابن عقيل أن الإباحة أمر وأن المباح مأمور به عن البلخي وأصحابه والأول أصح وهو للمقدسي في أوائله في [قسمة] المباح.
فصل:
التحقيق في مسألة أمر الندب مع قولنا إن الأمر المطلق يفيد الإيجاب أن يقال الأمر المطلق لا يكون إلا إيجابا وأما المندوب إليه فهو مأمور به أمرا مقيدا لا مطلقا فيدخل في مطلق الأمر لا في الأمر المطلق يبقى أن يقال فهل يكون حقيقة أو مجازا فهذا بحث [اصطلاحي] .
وقد أجاب عنه أبو محمد البغدادي بأنه مشكك كالوجود والبياض.
وأجاب القاضي بأن الندب يقتضي الوجوب فهو كدلالة العلم على بعضه2 وهو عنده ليس مجازا3 وإنما المجاز دلالته على غيره.
قال شيخنا رضي الله عنه قلت: الندب الذي [هو الطلب] غير الجازم [جزء من] الطلب [الجازم] فتكون [فيه الأقوال الثلاثة التي هي في العام] يفرق في الثالثة بين القرينة4 اللفظية المتصلة كقولك من فعل فقد [أحسن] وبين غيرها
فصل:
ذكر القاضي وغيره في ضمن المسألة أن المندوب5 طاعة فوجب أن يكون
--------------------------------------------
এতে আমাদের জন্য দুটি অভিমত রয়েছে। কাজী বলেন [এটি হাকিকত বা প্রকৃত অর্থও হবে]। শাফিঈদের থেকেও দুই মাযহাবের মতো বর্ণিত আছে। আর এটাই নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের মাসআলায় কাজীর কথার দাবি। ইবনে আকিল বর্ণনা করেছেন যে, 'ইবাহাত' (বৈধতা) হলো একটি আদেশ এবং 'মুবাহ' (বৈধ কাজ) হচ্ছে আদিষ্ট কাজ - এটি বালখি ও তার সাথীদের থেকে বর্ণিত। প্রথমটিই অধিক সঠিক এবং এটি মাকদিসির তার শুরুর দিকে মুবাহ এর [বিভাজন] সংক্রান্ত আলোচনায়।
পরিচ্ছেদ:
'মানদুব' (পছন্দনীয় কাজ)-এর আদেশের মাসআলায় আমাদের বক্তব্যের সাথে সঠিক পর্যালোচনা হলো - যেখানে আমরা বলি যে 'আমরে মুতলাক' (নিরঙ্কুশ আদেশ) ওয়াজিব হওয়ার বিধান দেয় - তা হলো: 'আমরে মুতলাক' কেবল ওয়াজিবের জন্যই হয়। আর যার প্রতি 'নাদব' (সুপারিশ) করা হয়েছে, তা হলো শর্তযুক্ত আদেশ, নিরঙ্কুশ নয়। সুতরাং তা 'মুতলাকুল আমর' (আদেশের সাধারণ অর্থ)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে, 'আল-আমরুল মুতলাক' (নিরঙ্কুশ আদেশ)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এখন প্রশ্ন থাকে যে, এটি কি হাকিকত (প্রকৃত) নাকি মাজায (রূপক)? এটি একটি [পারিভাষিক] আলোচনা।
আবু মুহাম্মদ আল-বাগদাদী এর উত্তর দিয়েছেন যে, এটি 'মুশাক্কিক' (আপেক্ষিক বা তারতম্যযোগ্য), যেমন অস্তিত্ব এবং শুভ্রতা।
কাজী উত্তর দিয়েছেন যে, 'নাদব' ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখে। তাই এটি একটি সংজ্ঞাবাচক নামের তার অংশের ওপর প্রমাণ করার মতো। আর তার নিকট এটি মাজায নয়; বরং মাজায হলো তা যা অন্য কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ করে।
আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, আমি বলি: 'নাদব' যা হলো অদৃঢ় [চাহিদা], তা দৃঢ় চাহিদার [অংশ]। সুতরাং [এতে ঐ তিনটি অভিমত প্রযোজ্য হবে যা 'আম' বা সাধারণ শব্দের ক্ষেত্রে রয়েছে]। তৃতীয় অভিমতে সংযুক্ত শাব্দিক করিনা বা লক্ষণের মধ্যে পার্থক্য করা হবে, যেমন তোমার কথা: "যে এটি করেছে সে [ভালো] করেছে" এবং অন্যগুলোর মধ্যে।
পরিচ্ছেদ:
কাজী ও অন্যান্যরা এই মাসআলার অধীনে উল্লেখ করেছেন যে, 'মানদুব' বা পছন্দনীয় কাজ হলো একটি আনুগত্য, তাই আবশ্যক যে এটি হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مأمورا به كالواجب وسائر كلامه في المسألة يقتضي أن كل مندوب إليه فهو مأمور به حقيقة وهذا قول أبي محمد وهو غير قولنا المأمور به ندبا مأمور به حقيقة فإن هذا [أخص من] 1 الأول وكلام [الإمام] أحمد في إطلاق الأمر على [ما أمر] به النبي صلى الله عليه وسلم أمر ندب دليل على أنه ليس كل ما بعد قربة فقد أمر به حقيقة وهذا أصح فيصير في المسألتين ثلاثة أقوال وقد ذكر القاضي أيضا في موضع [آخر] أن المرغب فيه لا يكون مأمورا به وإن كان طاعة فصار أيضا في المرغب فيه من غير أمر هل يسمى طاعة وأمرا حقيقة ثلاثة أقوال الثالث أنه طاعة وليس بمأمور به.
فصل:
قال القاضي كون الفعل حسنا ومرادا على الوجوب ما لم يدل دليل على التخيير وفي النوافل والمباحات قد ذكر الدليل فلهذا لم يقتض الوجوب قال: وجواب آخر أنا لا نسلم أن الأمر يدل على حسن المأمور به وإنما يدل على طلب الفعل واستدعائه من الوجه الذي بينا وذلك يقتضي الوجوب وهذا هو [الجواب] 2 المعول عليه.
قال شيخنا قلت: فيه فائدتان إحداهما نفي الأول والثانية قوله: "يدل على الطلب والاستدعاء" فجعله مدلول الأمر لا غير [الأمر] 3 "زد".
فصل:
قال الرازي ليس من شرط الوجوب تحقق العقاب على الترك هذا هو المختار وهو قول القاضي أبي بكر خلافا للمعتزلة4.
--------------------------------------------
আদিষ্ট বিষয় হিসেবে ওয়াজিবের ন্যায়, এবং এ মাসআলায় তাঁর অপরাপর বক্তব্যের দাবি হলো যে, প্রতিটি সুপারিশকৃত (মানদুব) বিষয়ই প্রকৃতপক্ষে আদিষ্ট। এটি আবু মুহাম্মাদ-এর অভিমত। তবে এটি আমাদের এই উক্তির চেয়ে ভিন্ন যে, 'মুস্তাহাব হিসেবে আদিষ্ট বিষয়সমূহ প্রকৃতপক্ষে আদিষ্ট'। কেননা এটি প্রথমটির চেয়ে [অধিকতর সুনির্দিষ্ট] ১। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা মুস্তাহাব হিসেবে [নির্দেশ দিয়েছেন], সে ক্ষেত্রে [ইমাম] আহমাদ কর্তৃক 'নির্দেশ' (আমর) শব্দের প্রয়োগ প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নৈকট্যমূলক প্রতিটি কাজই প্রকৃতপক্ষে আদিষ্ট নয়। আর এটিই অধিকতর সঠিক। ফলে এই দুটি মাসআলায় তিনটি করে অভিমত দাঁড়াচ্ছে। কাযী অন্য এক [স্থানে] আরও উল্লেখ করেছেন যে, যে কাজের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে (মুরগাব ফিহি), তা আদিষ্ট বিষয় হবে না, যদিও তা আনুগত্যের (তা’আত) অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং নির্দেশের অতিরিক্ত কেবল উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে সেটিকে কি প্রকৃতপক্ষে 'আনুগত্য' ও 'নির্দেশ' বলা হবে কি না—এ বিষয়েও তিনটি অভিমত রয়েছে। তৃতীয়টি হলো: এটি আনুগত্য, কিন্তু আদিষ্ট বিষয় নয়।
পরিচ্ছেদ:
কাযী বলেন: কোনো কাজ ভালো হওয়া এবং তা আবশ্যকীয় হওয়া ওয়াজিবের ওপরই বর্তাবে, যতক্ষণ না ঐচ্ছিকতার কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর নফল ও মুবাহ কার্যাবলির ক্ষেত্রে দলিল বর্ণিত হয়েছে, ফলে তা ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে না। তিনি বলেন: অন্য একটি উত্তর হলো, আমরা এটি স্বীকার করি না যে, নির্দেশ (আমর) আদিষ্ট বিষয়ের উত্তম হওয়ার প্রমাণ দেয়; বরং তা কেবল আমাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে কাজটির তলব (চাহিদা) এবং আহ্বানের প্রমাণ দেয়। আর এটি ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। এটিই হলো [উত্তর] ২ যার ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
আমাদের শাইখ বলেন, আমি বলি: এতে দুটি ফায়দা রয়েছে; প্রথমটি হলো প্রথমটির অপনোদন এবং দ্বিতীয়টি হলো তাঁর এই উক্তি: "এটি তলব ও আহ্বানের প্রমাণ দেয়", ফলে তিনি একেই নির্দেশের (আমর) অর্থ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এছাড়া অন্য কিছু নয় [নির্দেশ] ৩ "বৃদ্ধি করুন"।
পরিচ্ছেদ:
রাযী বলেন, ওয়াজিব হওয়ার শর্ত এটি নয় যে, তা বর্জন করলে শাস্তি কার্যকর হওয়া নিশ্চিত হতে হবে। এটিই মনোনীত মত এবং এটি কাযী আবু বকরের অভিমত, যা মুতাযিলাদের ৪ পরিপন্থী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مسألة: في أن للأمر صيغة [حقق الجويني]صحة هذه العبارة على كلا
মাসআলা: নির্দেশের একটি সুনির্দিষ্ট রূপ থাকা প্রসঙ্গে [জুওয়াইনী কর্তৃক প্রতিপাদিত]উভয় দিক থেকেই এই বক্তব্যের বিশুদ্ধতা
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المذهبين مذهب [مثبتي] كلام [النفس] ومذهب نفاته فقولنا صيغة الأمر عند من أثبته فمعناه أن لهذا المعنى صيغة عبارة تشعر به وأما من نفاه فقولهم صيغة الأمر كقولك1 ذات الشيء ونفسه وآيات القرآن وأن الأشعرية القائلين بالوقف اختلفوا في تنزيل مذهبه فمنهم من قال: الصيغة مشتركة وضعا ومنهم من قال: المعنى بالوقف أنا لا ندري على أي وضع جرى قول القائل "افعل" في اللسان فهو إذا مشكوك فيه "ز" ومنع ابن عقيل أن يقال للأمر والنهي صيغة أو أن يقال هي دالة عليه بل الصيغة نفسها هي الأمر والنهي2 والشيء لا يدل على نفسه قال: وإنما يصح هذا على قول المعتزلة الذين يقولون الأمر والنهي والإرادة والكراهة والأشاعرة الذين يقولون هما معنى قائم في النفس والصيغة دالة على ذلك المعنى وحكاه عنه وأما أصحابنا فإني تأملت المذهب فإذا به يحكم بأن الصيغتين أمر ونهي قال: فقول شيخنا الصيغة دالة بنفسها على الأمر والنهي اتباع لقول المتكلمين وإلا فليس لنا أمر ونهي غير الصيغة بل ذلك قول وصيغة والشيء لا يدل على نفسه
[قال شيخنا أبو العباس حفيد المصنف] قلت: قول القاضي وموافقيه صحيح من وجهين أحدهما أن الأمر مجموع اللفظ والمعنى فاللفظ دال على التركيب وليس هو عين المدلول3 الثاني أن اللفظ دال على صيغته التي هي الأمر به كما يقال يدل [على] كونه أمرا ولم يقل على الأمر
فصل:
حقق ابن عقيل صيغة الأمر على مذهب أهل السنة ومذهب الأشعرية في
--------------------------------------------
দুই মতবাদ; একটি হলো [মনের অভ্যন্তরে বিদ্যমান] কালাম [সাব্যস্তকারীদের] মতবাদ এবং অন্যটি হলো তা অস্বীকারকারীদের মতবাদ। সুতরাং যারা এটি সাব্যস্ত করেছেন তাদের মতে আদেশের কাঠামোর অর্থ হলো যে, এই অর্থের জন্য এমন একটি শব্দগত কাঠামো রয়েছে যা এই অর্থটি বুঝিয়ে দেয়। আর যারা এটি অস্বীকার করেছেন, তাদের বক্তব্য হলো আদেশের কাঠামো হলো যেমন আপনার কথা—বস্তুর সত্তা ও তার নিজ এবং কুরআনের আয়াতসমূহ। আর 'ওয়াকফ' (স্থগিতকরণ) এর প্রবক্তা আশআরিগণ তার মতবাদ প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: কাঠামোটি ভাষাগতভাবে 'মুশতারাক' (সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক)। আবার কেউ কেউ বলেছেন: 'ওয়াকফ' এর অর্থ হলো আমরা জানি না ভাষায় 'তুমি করো' কথাটি কোন প্রয়োগের ভিত্তিতে প্রচলিত হয়েছে, ফলে এটি সন্দেহযুক্ত "যায়িদ"। ইবনে আকিল আদেশ ও নিষেধের জন্য কোনো 'কাঠামো' আছে বলা বা এটি আদেশের নির্দেশক হওয়াকে অস্বীকার করেছেন; বরং কাঠামোটি নিজেই হলো আদেশ ও নিষেধ। কারণ কোনো বস্তু নিজের নির্দেশক হয় না। তিনি বলেন: এটি কেবল মুতাযিলাদের বক্তব্য অনুযায়ী সঠিক হতে পারে যারা আদেশ, নিষেধ, ইচ্ছা ও অপছন্দের কথা বলে, এবং আশআরিদের মতে যারা বলে যে এই দুটি (আদেশ ও নিষেধ) মনের অভ্যন্তরে বিদ্যমান এক অর্থ এবং কাঠামোটি সেই অর্থের নির্দেশক। তিনি এটি তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমাদের সাথীদের ক্ষেত্রে আমি এই মাযহাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, ফলে দেখা যায় যে মাযহাবটি এই ফয়সালা দেয় যে কাঠামো দুটিই হলো আদেশ ও নিষেধ। তিনি বলেন: আমাদের শায়খের উক্তি 'কাঠামোটি নিজেই আদেশ ও নিষেধের নির্দেশক' মূলত মুতাকাল্লিমদের মতবাদের অনুসরণ; নতুবা কাঠামো ছাড়া আমাদের কাছে কোনো আদেশ ও নিষেধ নেই, বরং সেটি হলো উক্তি ও কাঠামো, আর কোনো বস্তু নিজের নির্দেশক হয় না।
[আমাদের শায়খ আবুল আব্বাস, গ্রন্থকারের নাতি বলেন] আমি বলছি: কাজী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীদের উক্তি দুটি দিক থেকে সঠিক; তার একটি হলো—আদেশ হলো শব্দ ও অর্থের সমষ্টি, সুতরাং শব্দটি এই কাঠামোর নির্দেশক, সেটি নির্দেশিত বিষয়ের হুবহু সত্তা নয়। দ্বিতীয়ত—শব্দটি তার কাঠামোর নির্দেশক যা দ্বারা আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি বলা হয় এটি 'আদেশ হওয়ার' ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে, সরাসরি 'আদেশের' ওপর নয়।
পরিচ্ছেদ:
ইবনে আকিল আহলে সুন্নাতের মাযহাব এবং আশআরিয়াদের মাযহাব অনুযায়ী আদেশের কাঠামোর স্বরূপ বিশ্লেষণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أول كتابه في الحدود وفي مسائل الخلاف وقال الفخر إسماعيل في حد الأمر انه خطاب أصلي يستدعي به الأعلى من الأدنى فعلا وذكر لاشتراط الأصالة فوائد فلينظر.
وحاصل قول ابن عقيل أن نفس الإيجاب الذي هو استدعاء الأعلى من الأدنى على وجه الحتم والتضييق لا يقبل التزايد والتفاضل كسائغ وجائز ولازم وقولنا في الخبر صادق وكاذب وفي الصفات عالم فإن ذلك كله لما انتظم حد واحد وكان حقيقة واحدة فلا يقال أعلم وأصدق وأكذب وكما لا يمكن أن تكون معرفة المعلوم على ما هو به أمرا يتزايد كذلك الاستدعاء ونسلم اختلافه بحسب الثواب والعقاب لتعدد المحل كاختلاف العلم بالنسبة إلى المعلومات وسلم له العماد أن الصدق على الشيء الواحد أو الكذب لا يتفاوت ومنعه في العلم والمعرفة بناء على مسألة الإيمان وذكر في حجة المخالفة صحة التفاضل بقولهم أحب وأحسن وأبغض وأقبح وأنه لا خلاف أنه يحسن أن يقال الظلم صفة أقبح الزيادة1 وادعى أيضا أن حقيقة الطهارة والسكون وكون الشيء سنة2 لا تقبل الزيادة بخلاف [الحموضة] والحلاوة وأما التزايد بحسب المفعول أو الأمر وهو التعلق [فلا خلاف فيه] وقد يسلم قولهم أصدق [باعتبار خبرين] وكثرة الصدق [وقلته] ويسلم أيضا أوجب بمعنى زيادة الثواب والعقاب وهو يمنع التفاضل في نفس الصفة المتعلقة وتسمية التعلق وهذا ضعيف والصواب أن جميع الصفات المشروطة بالحياة تقبل التزايد وكذلك غير المشروطة بالحياة تقبل التزايد ولنا في المعرفة الحاصلة في القلب في الإيمان هل تقبل الزيادة والنقص روايتان والصحيح [في] مذهبنا ومذهب جمهور أهل السنة إمكان الزيادة في جميع هذا الباب وذلك أمر يجده الإنسان من نفسه عند التأمل.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর গ্রন্থের শুরুতে সংজ্ঞা (হুদুদ) এবং মতপার্থক্যমূলক মাসআলাসমূহ আলোচনা করেছেন। ফখর ইসমাঈল 'আদেশ' (আমর)-এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি এমন এক মৌলিক সম্বোধন যার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন সত্তা অধস্তন সত্তার নিকট থেকে কোনো কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেন। তিনি 'মৌলিকতা'র (আসালাত) শর্তারোপের সপক্ষে কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন, যা সেখানে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
ইবনে আকীলের বক্তব্যের সারকথা হলো, 'ইজাব' (অপরিহার্য করা) যা মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অধস্তনের কাছে আবশ্যিক ও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু তলব করা—তা হ্রাস-বৃদ্ধি বা তারতম্য গ্রহণ করে না; যেমনটি 'সিদ্ধ' (সায়েগ), 'বৈধ' (জায়েজ) বা 'আবশ্যক' (লাজিম)-এর ক্ষেত্রে হয়। একইভাবে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের 'সত্যবাদী' ও 'মিথ্যাবাদী' বলা এবং গুণাবলির ক্ষেত্রে 'আলিম' (জ্ঞানী) বলা—এ সবই যেহেতু একটি সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এবং একটিই বাস্তবতা, তাই 'অধিক জ্ঞানী', 'অধিক সত্যবাদী' বা 'অধিক মিথ্যাবাদী' বলা যায় না। কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তা যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে জানার ক্ষেত্রে যেমন হ্রাস-বৃদ্ধি সম্ভব নয়, তলব বা আহ্বানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। তবে আমরা পাত্রভেদে সওয়াব ও আজাবের পার্থক্যের কারণে এর ভিন্নতা স্বীকার করি, যেমনটি তথ্যের ভিন্নতার কারণে জ্ঞানের ভিন্নতা হয়ে থাকে। আল-ইমাদ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে সত্যতা বা মিথ্যাচারের কোনো তারতম্য হয় না। তবে ঈমানের মাসআলার ওপর ভিত্তি করে তিনি ইলম (জ্ঞান) ও মা’রিফাতের (পরিচয়) ক্ষেত্রে এই তারতম্যকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বিপক্ষ দলের প্রমাণ হিসেবে 'অধিক প্রিয়', 'অধিক উত্তম', 'অধিক ঘৃণ্য' এবং 'অধিক নিকৃষ্ট' বলার মাধ্যমে তারতম্য হওয়ার শুদ্ধতা উল্লেখ করেছেন। আর এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, 'জুলুম একটি অধিক নিকৃষ্ট গুণ' ১—এমনটি বলা সঠিক। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, পবিত্রতা, স্থিরতা এবং কোনো বিষয় সুন্নাত হওয়া ২-এর মূল বাস্তবতা (হাকিকত) হ্রাস-বৃদ্ধি গ্রহণ করে না, যা অম্লতা ও মিষ্টতার বিপরীত। আর মাফ'উল (যাতে কাজ করা হয়েছে) বা আদেশের সম্পর্কের (তা’আল্লুক) বিচারে হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই। দুটি সংবাদের বিচারে অথবা সত্যের আধিক্য ও স্বল্পতার বিচারে তাঁদের 'অধিক সত্যবাদী' বলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যেতে পারে। সওয়াব ও আজাবের বৃদ্ধির অর্থে 'অধিক ওয়াজিব' বলাকেও মেনে নেওয়া যায়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট মূল গুণের ক্ষেত্রে এবং সম্পর্কের নামকরণের ক্ষেত্রে তারতম্য হওয়াকে অস্বীকার করেছেন, যা একটি দুর্বল মত। সঠিক মত হলো, জীবনের সাথে শর্তযুক্ত সমস্ত গুণাবলি হ্রাস-বৃদ্ধি গ্রহণ করে এবং জীবনের সাথে শর্তযুক্ত নয় এমন গুণাবলিও হ্রাস-বৃদ্ধি গ্রহণ করে। ঈমানের ক্ষেত্রে অন্তরে অর্জিত মা’রিফাত বা পরিচয় হ্রাস-বৃদ্ধি পায় কি না, সে বিষয়ে আমাদের মাযহাবে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আমাদের মাযহাব এবং আহলে সুন্নাতের জমহুর বা অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে সঠিক হলো, এই পুরো অধ্যায়েই হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটা সম্ভব। এটি এমন এক বিষয় যা মানুষ গভীরভাবে চিন্তা করলে নিজের মধ্যেই অনুভব করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصل:
ولا بد في أصل الصيغة المطلقة من اقترانها بما يفهم منه [المأمور] 1 أن مطلقها ليس بحاك عن غيره ولا هو2 كالنائم ونحوه
فصل:
ذكر القاضي في كتاب الروايتين والوجهين خلافا في الوقف في الظواهر [في المذهب] 3 فقال هل للأمر صيغة له مبينه في اللغة تدل بمجردها على كونه أمرا إذا تعرت4 عن القرائن أم لا نقل عبد الله عنه في الآية إذا جاءت عامة مثل: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} 5 وأن قوما قالوا: يتوقف فيها فقال أحمد قال الله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ} 6 فكنا نقف لا نورث حتى ينزل أن لا يرث قاتل ولا مشرك ونقل صالح أيضا في كتاب طاعة الرسول قال: وقال: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} 5 فالظاهر يدل على أن من وقع عليه اسم سارق وإن قل وجب عليه القطع حتى بين النبي صلى الله عليه وسلم القطع في ربع دينار وثمن المجن فقد صرح بالأخذ بمجرد اللفظ ومنع من الوقف فيه وهذا يدل على أن له صيغة تدل بمجردها7 على كونه أمرا وقال في رواية أبي عبد الرحيم الجوزجاني من تأول القرآن على ظاهره بلا أدلة من الرسول ولا أحد من الصحابة فهو تأويل أهل البدع لأن الآية قد تكون عامة قصدت لشيء بعينه ورسول الله
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ:
শব্দের মূলগত ও নিঃশর্ত রূপের ক্ষেত্রে এমন কিছুর সংযোগ থাকা আবশ্যক, যা থেকে [যাকে আদেশ করা হয়েছে] সে বুঝতে পারে যে, এর প্রবক্তা অন্য কারও কথা বর্ণনা করছেন না এবং তিনি ঘুমন্ত ব্যক্তি বা অনুরূপ কারও মতোও নন।
পরিচ্ছেদ:
আল-কাজী তাঁর 'কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন' গ্রন্থে [মাযহাবের অভ্যন্তরে] জাহির বা বাহ্যিক অর্থসমূহের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার (তওয়াক্কুফ) বিষয়ে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভাষার দিক থেকে আদেশের কি এমন কোনো নির্দিষ্ট রূপ আছে, যা কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ছাড়াই কেবল তার গঠনের মাধ্যমেই আদেশ হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, নাকি নেই? আব্দুল্লাহ তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে সেই সব আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যা সাধারণ (আম) অর্থে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন: {পুরুষ চোর ও নারী চোর, তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও} এবং একদল লোক বলেছেন যে, এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে। তখন আহমাদ বললেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}। ফলে আমরা উত্তরাধিকার বণ্টন না করে থেমে থাকতাম, যতক্ষণ না অবতীর্ণ হলো যে হত্যাকারী এবং মুশরিক উত্তরাধিকার পাবে না। সালেহও 'তাআতুর রাসূল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আহমাদ) বলেছেন: {পুরুষ চোর ও নারী চোর, তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও}—এখানে বাহ্যিক অর্থ প্রমাণ করে যে, যার ওপর চোর শব্দ প্রযুক্ত হবে, চুরির পরিমাণ কম হলেও তার হাত কাটা ওয়াজিব হবে। শেষ পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক চতুর্থাংশ দিনার অথবা একটি ঢালের মূল্যের সমপরিমাণ চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং তিনি কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপ গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা থেকে নিষেধ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, আদেশের এমন একটি রূপ রয়েছে যা কেবল তার গঠনের মাধ্যমেই আদেশ হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। তিনি আবু আব্দুর রহীম আল-জাওযাজানির বর্ণনায় বলেন: যে ব্যক্তি রাসূল বা সাহাবীদের কোনো প্রমাণ ছাড়া কুরআনের বাহ্যিক অর্থ থেকে ব্যাখ্যা করে, তা বিদআতিদের ব্যাখ্যা। কারণ আয়াতটি হয়তো সাধারণ শব্দে এসেছে কিন্তু তার দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো কিছু উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
صلى الله عليه وسلم هو المعبر عن كتاب الله تعالى [وقال] فقد منع من الأخذ بظاهر الآية حتى يقترن ببيان الرسول فظاهر هذا أنه لا صيغة له تدل بمجردها على كونه أمرا بل هو على الوقف حتى يدل الدليل على المراد بها من وجوب أو ندب والمذهب هو الأول وأن له صيغة تدل بمجردها على كونه أمرا ولا يجب الوقف وقد صرح به في مواضع كثيرة من كلامه في مسائل الفروع.
قلت قال الشيخ: أولا نصوص أحمد إنما هي في العموم لا في الأمر لكن القاضي اعتبر جنس الظواهر من الأمر والعموم وغيرهما وهو اعتبار جيد من هذا الوجه فيبقى أنه قد حكى عن أحمد رواية بمنع التمسك بالظواهر المجردة [كما حكى عنه رواية بالقياس بمنع التمسك بالمعاني المجردة] وقد جمعهما في قوله: ينبغي للمتكلم [في أمر] 1 الفقه أن يجتنب2 هذين الأصلين المجمل والقياس ومن أصحابنا من يدفع هاتين الروايتين ويفسرهما بما يوافق سائر كلامه فيكون مقصوده أحد شيئين إما منع التمسك بالظواهر3 حتى تطلب المفسرات لها من السنة والإجماع كما هو إحدى الروايتين المعروفتين وأما منع إلا كتفاء بها وحدها4 مع معارضة السنة5 [والإجماع كما هو طريقة كثير من أهل الكلام والرأي أنهم يدفعون السنة والأثر] بمخالفة ظاهر القرآن ولهذا صنف رسالته المشهورة في الرد على من اتبع الظاهر وإن خالف السنة والأثر وهذا المعنى لا ريب أنه أراده فإنه كثير في كلامه وقد قصد إليه بوضع كتاب والمعنى الذي قبله قريب من كلامه فيحكى6 حينئذ في اتباع الظواهر ثلاث روايات إحداهن اتباعها [مطلقا] 7
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী। [এবং তিনি বলেছেন] আয়াতে বর্ণিত বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে যতক্ষণ না তা রাসূলের বর্ণনার সাথে যুক্ত হয়। এর বাহ্যিক দিক হলো, নিছক শব্দের গঠন দ্বারাই এটি নির্দেশ (আমর) হিসেবে প্রমাণিত হয় না, বরং তা স্থগিতাবস্থায় (ওয়াকফ) থাকবে যতক্ষণ না ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর কোনো দলিল পাওয়া যায়। তবে মাযহাবের (প্রধান) মত হলো প্রথমটি, আর তা হলো—নিছক শব্দের গঠন দ্বারাই তা নির্দেশ (আমর) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে এবং স্থগিত রাখা (ওয়াকফ) ওয়াজিব নয়। তিনি (ইমাম আহমাদ) তাঁর ফিকহি মাসআলাসমূহের অনেক স্থানেই এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
আমি বলি, শায়খ বলেছেন: প্রথমত, আহমাদের বক্তব্যসমূহ মূলত 'আম' (সাধারণ অর্থ) প্রসঙ্গে, নির্দেশ (আমর) প্রসঙ্গে নয়। তবে আল-কাজী বাহ্যিক অর্থ বা জাহিরের প্রকরণগুলোকে নির্দেশ, আম এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও গণ্য করেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি উত্তম বিবেচনা। ফলে ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা অবশিষ্ট থাকে যে, তিনি কেবল বাহ্যিক অর্থের (জাহির) ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করেছেন [যেমন তাঁর থেকে কিয়াসের ক্ষেত্রেও একটি বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কেবল বিমূর্ত অর্থের ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করেছেন]। তিনি তাঁর এই উক্তিতে উভয়টিকে একত্রিত করেছেন: ফিকহ [বিষয়ে] আলোচনাকারীর উচিত এই দুটি মূলনীতি বর্জন করা—মুজমাল (অস্পষ্ট) এবং কিয়াস (অনুমান বা তুলনা)। আমাদের সাথীদের (মাযহাবের আলিমদের) মধ্যে কেউ কেউ এই দুটি বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সেগুলোর এমন ব্যাখ্যা করেন যা তাঁর অন্যান্য বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তখন তাঁর উদ্দেশ্য দুটির একটি হতে পারে: হয় সুন্নাহ ও ইজমা থেকে ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করার আগে কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করা, যেমনটি দুটি প্রসিদ্ধ বর্ণনার একটিতে রয়েছে; অথবা সুন্নাহর [ও ইজমার] বিরোধিতার ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্ভর করাকে যথেষ্ট মনে করতে নিষেধ করা [যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদ ও রায়পন্থীদের অনেকের পদ্ধতি যে, তারা সুন্নাহ ও আসারকে প্রত্যাখ্যান করে] কুরআনের বাহ্যিক অর্থের বিরোধিতার অজুহাতে। এই কারণেই তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালাটি (পুস্তিকা) রচনা করেছেন তাদের প্রতিবাদে যারা সুন্নাহ ও আসারের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ করে। এই অর্থটি যে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ এটি তাঁর বক্তব্যে প্রচুর পাওয়া যায় এবং তিনি একটি কিতাব রচনার মাধ্যমে এর সংকল্প করেছেন। এর আগের অর্থটিও তাঁর বক্তব্যের নিকটবর্তী। এমতাবস্থায়, বাহ্যিক অর্থের (জাহির) অনুকরণের বিষয়ে তিনটি বর্ণনা বর্ণিত হয়, যার একটি হলো—তা [নিঃশর্তভাবে] অনুসরণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ابتداء إلا أن يعلم ما يخالفها ويبين المراد بها والثاني لا تتبع حتى يعلم ما يفسرها وهو الوقف المطلق ولا أبعد أنه قول طائفة من المحدثين كما في القياس وكذلك حكى أبو حاتم في اللامع أن أكثر ظواهر القرآن تدل على الأشياء بأنفسها [ومن الناس] من قال: كل شيء منه محتاج إلى تفسير الرسول والأئمة1 التي أخذت عن الرسول والثالث وهو الأشبه بأصوله وعليه [أكثر أجوبته] أنه يتوقف فيها إلى أن يبحث عن المعارض فإذا لم يوجد المعارض عمل بها وهذا هو الصواب إن شاء الله كما اختاره أبو الخطاب2.
ثم إن هنا لطيفة وهي أن أحمد لم يقف لأجل الشك في اللغة كما هو مذهب الواقفة في الأمر والعموم وقد سلم الظهور في اللغة ولكن هل يجوز العمل بالظن المستفاد من الظواهر الأقيسة هذا مورد كلامه فتدبره ففرق بين وقف لتكافؤ الاحتمالات عنده وإن سلم ظهور بعضها في اللغة لكن لأن التفسير والبيان قد جاء كثيرا بخلاف الظهور اللغوي إما لوضع شرعي أو عرفي أو لقرائن متصلة أو منفصلة فصاحب هذه الرواية يقف وقفا شرعيا والمحكى خلافهم في الأصول يقفون وقفا لغويا.
ثم قال:
--------------------------------------------
প্রাথমিকভাবে, যদি না এর বিপরীত কিছু জানা যায় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়। দ্বিতীয় মতটি হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী কিছু জানা না যায় ততক্ষণ এটি অনুসরণ করা যাবে না, যা মূলত নিরঙ্কুশ স্থগিতকরণ (ওয়াকফে মুতলাক)। আমি একে মুহাদ্দিসগণের একটি দলের অভিমত হওয়া থেকে অসম্ভব মনে করি না, যেমনটি কিয়াসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। একইভাবে আবু হাতিম 'আল-লামি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের অধিকাংশ বাহ্যিক অর্থ বস্তুসমূহের স্বয়ংসম্পূর্ণতা নির্দেশ করে। [মানুষের মধ্যে] কেউ কেউ বলেছেন: এর প্রতিটি বিষয়ই রাসূল এবং রাসূলের নিকট থেকে প্রাপ্ত ইমামগণের১ ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। তৃতীয় মতটি—যা ইমাম আহমদের মূলনীতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যার ওপর তাঁর [অধিকাংশ উত্তর] নির্ভরশীল—তা হলো: এই বিষয়গুলোতে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে যতক্ষণ না এর কোনো বিপরীত দলীল অনুসন্ধান করা হয়; অতঃপর যদি কোনো বিপরীত দলীল পাওয়া না যায় তবে সে অনুযায়ী আমল করা হবে। ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক অভিমত, যেমনটি আবু আল-খাত্তাব২ পছন্দ করেছেন।
অতঃপর এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, তা হলো—ইমাম আহমদ ভাষার ব্যাপারে সন্দেহের কারণে স্থগিত থাকেননি, যেমনটি আদেশ ও ব্যাপকতার ক্ষেত্রে 'ওয়াকিফাহ' সম্প্রদায়ের মাজহাব। তিনি ভাষাগতভাবে অর্থের স্পষ্টতাকে স্বীকার করেছেন। কিন্তু বাহ্যিক প্রকাশভঙ্গি ও কিয়াস থেকে লব্ধ ধারণার ওপর আমল করা বৈধ কি না—এটাই হলো তাঁর আলোচনার প্রতিপাদ্য, সুতরাং এটি অনুধাবন করুন। তাই সম্ভাব্যতাগুলোর সমপর্যায়ে থাকার কারণে স্থগিত থাকা—যদিও তিনি এগুলোর কোনো কোনোটির ভাষাগত স্পষ্টতা স্বীকার করেন—তার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কারণ, প্রায়শই ব্যাখ্যা ও বর্ণনা ভাষাগত বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে এসে থাকে; হয় শরয়ি বা প্রথাগত সংজ্ঞায়নের কারণে, অথবা কোনো সংযুক্ত বা বিযুক্ত অনুষঙ্গের কারণে। সুতরাং এই বর্ণনার প্রবক্তা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে স্থগিত থাকেন, আর উসূল শাস্ত্রে যাদের বিরোধের কথা বর্ণিত হয়েছে তারা ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে স্থগিত থাকেন।
অতঃপর তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مسألة: إذا ثبت أن له صيغة مبنية لهتدل بمجردها على كونه أمرا فهل يدل إطلاقها على الوجوب أم لا نقل عنه أبو الحارث إذا ثبت الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم وجب العمل به فظاهر هذا أنه يقتضي الوجوب.
قلت يقتضي وجوب العمل به على ما اقتضاه من إيجاب أو استحباب أو تحريم
মাসয়ালা: যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট শব্দগত গঠন রয়েছেযা কেবল তার রূপের মাধ্যমেই সেটি আদেশ হওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে, তবে কি এর সাধারণ প্রয়োগ ওয়াজিব হওয়ার ওপর নির্দেশ করবে কি না? আবু আল-হারিস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস প্রমাণিত হবে, তখন তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হবে। সুতরাং এর বাহ্যিক দিক হলো এটি ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।
আমি বলি, তা যে বিষয়ের দাবি রাখে—চাই সেটি ওয়াজিব হওয়া, মুস্তাহাব হওয়া কিংবা হারাম হওয়া হোক—সেই অনুযায়ী তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়াকেই এটি দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال: وكذلك نقل صالح عنه فيمن صلى خلف الصف وحده قال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم رجلا صلى خلف الصف أن يعيد الصلاة وكذلك نقل عنه إبراهيم بن الحارث إذا أخرج القيمة في الزكاة أخشى إلا يجزئه لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بكذا ونقل صالح في كتاب طاعة الرسول في قوله: {وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ} 1 بالظاهر يدل على أنه إذا ابتاع شيئا أشهد عليه فلما تبايع الناس وتركوا الإشهاد استقر حكم الآية على ذلك ونقل الميمون عنه وقد سئل عن قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم وما نهيتكم عنه فانتهوا" فقال الأمر أسهل من النهي وكذلك نقل علي بن سعيد قال: ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم فهو عندي أسهل مما نهي عنه فقال فقد غلظ في النهي وسهل في الأمر وظاهر هذا يمنع من الوجوب وأنه على الندب.
قلت بل يقتضي أن الأمر بالشيء ليس نهيا عن ضده وذكر القاضي النهي محل وفاق في المذهب في اقتضائه التحريم.
فصل:
وذكر القاضي أن الكتابة والإشارة لا تسمى أمرا يعنى حقيقة ذكره محل وفاق وقد ذكر في موضع آخر أن الكتابة عندنا كلام حقيقة وأظنه في مسألة الطلاق بالكتابة.
فصل:
وذكر القاضي هل يجيء الاستفهام عن الأمر المجرد هل هو واجب أو مستحب فيه منع وتسليم.
--------------------------------------------
তিনি বলেন: সালিহ একইভাবে তাঁর থেকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে একাকী কাতারের পেছনে সালাত আদায় করেছে; তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাতারের পেছনে একাকী সালাত আদায়কারী এক ব্যক্তিকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন কেউ জাকাতের ক্ষেত্রে (পণ্যের বদলে) মূল্য প্রদান করে তখন আমি আশঙ্কা করি যে তা যথেষ্ট হবে না, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এইরূপ নির্দেশ দিয়েছেন। সালিহ ‘কিতাবু ত্বাআতিল রাসুল’-এ তাঁর থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা যখন পরস্পর কেনাবেচা করো তখন সাক্ষী রেখো।" এর বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, যখন কেউ কোনো কিছু ক্রয় করবে তখন সে যেন তার ওপর সাক্ষী রাখে। অতঃপর যখন মানুষ কেনাবেচা শুরু করল এবং সাক্ষ্য রাখা বর্জন করল, তখন আয়াতের বিধান এর ওপর স্থির হলো। মায়মুন তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যখন তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "যখন আমি তোমাদের কোনো নির্দেশ প্রদান করি তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করি তা বর্জন করো।" তখন তিনি বলেছিলেন: নির্দেশের বিষয়টি নিষেধের চেয়ে সহজ। একইভাবে আলী ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন তা আমার নিকট তিনি যা নিষেধ করেছেন তার চেয়ে সহজ। তিনি নিষেধের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং নির্দেশের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। আর এর বাহ্যিক দিকটি ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে এবং এটি মুস্তাহাব হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়।
আমি বলি, বরং এটি দাবি করে যে, কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া তার বিপরীত বিষয়ের প্রতি নিষেধ করা নয়। আল-কাজি উল্লেখ করেছেন যে, নিষেধ দ্বারা হারাম হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি মাজহাবের একটি ঐকমত্যপূর্ণ স্থান।
পরিচ্ছেদ:
আল-কাজি উল্লেখ করেছেন যে, লিখন এবং ইশারাকে প্রকৃত অর্থে 'নির্দেশ' বলা হয় না; তিনি এটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের নিকট লিখন প্রকৃত অর্থেই 'কথা' হিসেবে গণ্য, এবং আমার ধারণা এটি লিখিত তালাকের মাসআলার ক্ষেত্রে।
পরিচ্ছেদ:
আল-কাজি উল্লেখ করেছেন যে, কেবল সাধারণ নির্দেশের ক্ষেত্রে কি এমন জিজ্ঞাসা আসার সুযোগ আছে যে এটি ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব? এ বিষয়ে অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতি উভয়ই রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل:
ذكر القاضي من ألفاظ أحمد التي أخذ منها أن الأمر عنده على الوجوب قال في رواية أبي الحارث: إذا ثبت الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم وجب العمل به.
قلت دلالة هذا ضعيفة.
وقال في رواية مهنا وذكر له قول مالك في الكلب يلغ في الإناء لا بأس به فقال ما أقبح هذا من قوله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يغسل سؤر الكلب سبع مرات" ونقل صالح عنه فيمن صلى خلف الصف وحده أن يعيد الصلاة أمر النبي صلى الله عليه وسلم رجلا صلى خلف الصف وحده أن يعيد الصلاة وهذا كثير في كلامه وقال في كتاب طاعة الرسول: {وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ} فالظاهر يدل على أنه إذا ابتاع شيئا أشهد فلما تأول قوم من العلماء: {فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضاً} 1 استقر حكم الآية على ذلك.
قلت: هذه الرواية نص في أن ظاهر افعل هو الأمر.
وقال مسألة الأمر إذا لم يرد به الإيجاب وإنما أريد به الندب فهو حقيقة في الندب كما هو حقيقة في الإيجاب نص عليه أحمد في رواية ابن إبراهيم فقال آمين أمر من النبي صلى الله عليه وسلم: "فإذا أمن القارئ فأمنوا" فهو أمر من النبي صلى الله عليه وسلم وكذلك نقل الميمون عنه إذا زنت الأمة الرابعة قال: عليه أن يبيعها وإلا كان تاركا لأمر النبي صلى الله عليه وسلم وكذلك نقل حنبل عنه يقاد إلى المذبح قودا رفيقا وتورى السكين ولا تظهر عند الذبح أمر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت أما رواية الميمون فدلالتها] 2 على أن الأمر عنده للوجوب أظهر فإن فتياه تدل على أنه أوجب البيع لأجل الأمر.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ:
আল-কাদি [আবু ইয়ালা] ইমাম আহমাদের সেই সকল উক্তি উল্লেখ করেছেন যেখান থেকে তিনি গ্রহণ করেছেন যে, তাঁর নিকট 'আদেশ' (আমর) আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার অর্থ প্রদান করে। তিনি আবুল হারিসের বর্ণনায় বলেছেন: "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সংবাদ (হাদিস) প্রমাণিত হয়, তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়।"
আমি (লেখক) বলছি, এর প্রমাণ উপস্থাপনা দুর্বল।
তিনি মুহান্নার বর্ণনায় আরও বলেছেন—সেখানে ইমাম মালিকের একটি উক্তি উল্লেখ করা হয়েছিল যে, কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তাতে কোনো সমস্যা নেই—তখন তিনি বললেন: "তাঁর এই কথাটি কতই না জঘন্য! অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'কুকুরের উচ্ছিষ্ট (পাত্র) সাতবার ধৌত করতে হবে'।" সালিহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় করে, সে যেন সালাত পুনরায় আদায় করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের পেছনে একা সালাত আদায়কারী এক ব্যক্তিকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর (ইমাম আহমাদের) বক্তব্যে এরূপ প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। তিনি 'তাতুর রাসূল' কিতাবে বলেছেন: "এবং যখন তোমরা বেচাকেনা করো, তখন সাক্ষী রাখো" (সূরা বাকারা: ২৮২) - এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, যখন কেউ কিছু ক্রয় করবে তখন সে যেন সাক্ষী রাখে। কিন্তু যখন একদল আলেম "যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করো"১ আয়াতটির ব্যাখ্যা করলেন, তখন আয়াতের বিধানটি সেভাবেই স্থির হলো।
আমি বলছি: এই বর্ণনাটি একটি অকাট্য দলীল যে, 'ইফআল' (করো) এর বাহ্যিক রূপ হলো 'আদেশ' (আমর)।
তিনি বলেছেন, আদেশের মাসআলাটি হলো—যদি তা দ্বারা আবশ্যকতা (ইজাব) উদ্দেশ্য না হয়ে বরং মুস্তাহাব (নাবদ) উদ্দেশ্য হয়, তবে সেটি যেমন আবশ্যকতার ক্ষেত্রে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ), তেমনি মুস্তাহাবের ক্ষেত্রেও হাকিকত। ইবনে ইব্রাহিমের বর্ণনায় আহমদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: 'আমীন' বলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নির্দেশ; "যখন ক্বারী আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলো"। সুতরাং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ। একইভাবে আল-মাইমুন তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দাসী যদি চতুর্থবার ব্যভিচার করে, তবে তিনি বলেছেন: তাকে বিক্রি করে দেওয়া তার জন্য আবশ্যক, অন্যথায় সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পরিত্যাগকারী হিসেবে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে হাম্বল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (পশুকে) জবাইখানায় নম্রভাবে নিয়ে যেতে হবে এবং ছুরিটি লুকিয়ে রাখতে হবে, জবাইয়ের সময় তা প্রকাশ করা যাবে না; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন।
আমি বলছি, আল-মাইমুনের বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর (ইমাম আহমদের) নিকট 'আদেশ' (আমর) যে আবশ্যকতা (ওয়াজিব) বোঝায়, তা অধিকতর স্পষ্ট হয়। কারণ তাঁর ফতোয়া নির্দেশ করে যে, তিনি আদেশের কারণেই বিক্রি করাকে ওয়াজিব করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مسألة: وإذا صرف الأمر عن الوجوب جاز أن يحتج بهعلى الندب أو الإباحة وبه قال بعض الحنفية وبعض الشافعية "ز" ومنهم الرازي وبعضهم قال: لا يحتج به كذا حكاه القاضي وكذلك اختاره ابن برهان ولفظه الأمر إذا دل على وجوب فعل ثم نسخ وجوبه لا يبقى دليلا على الجواز بل يرجع إلى ما كان عليه خلافا للحنفية وكذلك [اختاره] أبو الطيب الطبري ولفظه إذا صرف الأمر عن الوجوب لم يجز أن يحتج به على الجواز قال: لأن اللفظ موضوع لإفادة الوجوب دون الجواز وإنما الجواز تبع للوجوب إذ لا يجوز أن يكون واجبا ولا يجوز فعله فإذا سقط الوجوب يسقط التابع له1 "ز" وهذا الذي ذكره أبو محمد التميمي من أصحابنا "ز د" وذكر أبو الخطاب [أن] هذه المسألة من فوائد الأمر هل هو حقيقة في الندب فيجيء فيها الوجهان "ح" وكذلك ذكر القاضي في مسألة الأمر بعد الحظر.
--------------------------------------------
মাসআলা: যখন কোনো আদেশকে ওয়াজিব (আবশ্যকতা) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন তা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজমুস্তাহাব (পছন্দনীয়) অথবা ইবাহাত (বৈধতা) এর সপক্ষে; এবং এটিই বলেছেন কিছু হানাফি এবং কিছু শাফেয়ি আলেম "য", এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজি। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তা দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না, যেমনটি আল-কাজি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে এটিই পছন্দ করেছেন ইবনে বুরহান। তাঁর ভাষ্য হলো: আদেশ যখন কোনো কাজের ওয়াজিব হওয়ার ওপর দালালত (প্রমাণ) করে, অতঃপর তার ওয়াজিব হওয়ার বিধান মানসুখ (রহিত) হয়ে যায়, তখন তা আর জায়েজ হওয়ার দলিল হিসেবে অবশিষ্ট থাকে না; বরং হানাফিদের মতের বিপরীতে বিষয়টি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। অনুরূপভাবে এটি [পছন্দ করেছেন] আবু তাইয়িব আত-তাবারী। তাঁর ভাষ্য হলো: যখন আদেশকে ওয়াজিব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন জায়েজ হওয়ার সপক্ষে তা দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ হবে না। তিনি বলেন: কারণ শব্দটি ওয়াজিবের অর্থ প্রদানের জন্যই গঠিত, জায়েজ হওয়ার জন্য নয়। মূলত জায়েজ হওয়া তো ওয়াজিবের অনুগামী; যেহেতু কোনো কাজ ওয়াজিব অথচ তা করা জায়েজ নয়—এমন হওয়া সম্ভব নয়। তাই যখন ওয়াজিবের বিধান বিলুপ্ত হয়, তখন তার অনুগামী বিধানটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়।১ "য" আর এটিই আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু মুহাম্মদ আত-তামিমি উল্লেখ করেছেন। "য দ" আর আবুল খাত্তাব উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলাটি আদেশের অন্যতম ফায়দা (এর অন্তর্ভুক্ত)—তা কি প্রকৃতপক্ষে মুস্তাহাব হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে? ফলে এক্ষেত্রেও দুটি মত আসবে। "হ" অনুরূপভাবে আল-কাজি 'নিষেধের পরের আদেশ' সংক্রান্ত মাসআলাতেও এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مسألة: الفعل لا يسمى أمرا حقيقة بل مجازا
في قول إمامنا وأصحابه والجمهور "ح" وأكثر المالكية وقال بعض متأخري الشافعية يسمى أمرا حقيقة "د" وذهب أبو الحسين البصري والقاضي أبو يعلى في الكفاية إلى أن1 لفظ الأمر مشترك بين القول وبين البيان والطريقة وما أشبه ذلك وهذا هو الصحيح لمن أنصف "د" ونصره ابن برهان وأبو الطيب وهو مذهب بعض المالكية أعنى أن الفعل يسمى أمرا حقيقة.
--------------------------------------------
মাসআলা: কর্মকে প্রকৃত অর্থে আদেশ বলা হয় না, বরং রূপক অর্থে বলা হয়।
এটি আমাদের ইমাম, তাঁর অনুসারীবৃন্দ, জমহুর এবং অধিকাংশ মালিকীগণের অভিমত "হা"। শাফিয়ী মাযহাবের পরবর্তী যুগের কিছু আলেম বলেছেন যে একে প্রকৃত অর্থেই আদেশ বলা হয় "দাল"। আবুল হুসাইন আল-বসরী এবং কাযী আবু ইয়ালা 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, 'আমর' শব্দটি কথা, বর্ণনা, পদ্ধতি এবং অনুরূপ অর্থসমূহের মধ্যে একটি মুশতারাক (উভয়ার্থক) শব্দ। আর যারা ইনসাফ করেন তাদের নিকট এটিই সঠিক মত "দাল"। ইবনে বুরহান এবং আবু তৈয়ব এই মতকে সমর্থন করেছেন এবং এটি কিছু মালিকীগণেরও মাযহাব; অর্থাৎ কর্মকে প্রকৃতগতভাবেই আদেশ বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مسألة صيغة الأمر بعد الحظر
لا تفيد إلا مجرد الإباحة عند أصحابنا "د" وهو قول مالك وأصحابه "هـ" وهو ظاهر قول الشافعي وبعض الحنفية وحكاه ابن برهان وقال أكثر الفقهاء حكمها حكم ورودها ابتداء "ز" وحكي عن بعض أصحابنا وللشافعية فيه وجهان والثاني اختيار أبي الطيب وذكر أن القول
নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের রূপ সংক্রান্ত মাসআলা
আমাদের সঙ্গীদের মতে এটি কেবল নিছক বৈধতা প্রদান করা ছাড়া আর কিছু বুঝায় না "দা", এবং এটি ইমাম মালিক ও তাঁর সঙ্গীদের অভিমত "হা"; ইমাম শাফিয়ী ও কতিপয় হানাফী আলিমের প্রকাশ্য অভিমতও এটি এবং ইবনে বুরহান এটি বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ ফকিহ বলেছেন, এর বিধান হচ্ছে প্রারম্ভিকভাবে বর্ণিত আদেশের বিধানের ন্যায় "যা"। আমাদের কিছু সঙ্গীদের থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং শাফিয়ীদের এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; দ্বিতীয়টি আবু তায়্যিবের পছন্দকৃত মত এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে অভিমতটি হলো
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بالإباحة1 ظاهر المذهب قال: وإليه ذهب أكثر من تكلم في أصول الفقه
قلت واختار الجويني في لفظ الأمر بعد الحظر أنه على الوقف بين الإباحة والوجوب مع كونه أبطل الوقف في لفظه ابتداء من غير سابقة حظر وحكي عن أبي إسحاق الاسفرائينى أن النهي بعد الأمر على الحظر بالإجماع ثم قالت ولست أرى مسلما له أما أنا فأسحب ذيل الوقف عليه وما أرى المخالفين في الأمر بعد الحظر يسلمون ذلك
قلت ولقد أصاب في ذلك فإن القاضي أبا يعلى ذكر فيها وجهين وكذلك المقدسي "ح" أحدهما التنزيه والآخر التحريم واختار ابن عقيل قولا ثالثا غيرهما وذكر بعض أصحابنا في مسألتي الأمر بعد الحظر والنهي بعد الأمر ثلاثة أوجه أحدها حملهما على موجبهما ابتداء من الإيجاب والتحريم والثاني حملهما على الإباحة والثالث حمل الأمر على إباحة الفعل والنهي على إباحة الترك
فصل:
قال القاضي صيغة الأمر إذا وردت بعد الحظر اقتضت الإباحة وإطلاق محظور ولا يكون أمرا وهذا من القاضي يقتضي أن المباح ليس مأمورا به لأن حقيقة الأمر لو وجدت بعد الحظر كانت على بابها وقد نص أحمد في رواية صالح وعبد الله في قوله تعالى: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا} 2 {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ} 3 فقال أكثر من سمعنا إن شاء فعل وإن شاء لم يفعل كأنهم ذهبوا إلى أنه ليس بواجب وليس هما على ظاهرهما
قلت هذا اللفظ يقتضي أن ظاهرهما الوجوب وأنه من المواضع المعدولة عن الظاهر لدليل ولذلك ذكره في الرد على المتمسك بالظاهر معرضا عما يفسره وقد مثل القاضي في هذه المسألة بقوله: {فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا} 4 وليس من هذا لكن
--------------------------------------------
বৈধ্যতা১ (ইবাহাত)-র পক্ষে মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত। তিনি বলেন: উসূলে ফিকহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এমন অধিকাংশ আলিম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।
আমি বলছি, জুওয়াইনী নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের শব্দের ক্ষেত্রে এই মতটি পছন্দ করেছেন যে, এটি বৈধতা (ইবাহাত) এবং ওয়াজিব হওয়ার মাঝে স্থগিত (ওয়াকফ) থাকবে; যদিও তিনি ইতিপূর্বে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা অবস্থায় কেবল আদেশের শব্দের ক্ষেত্রে স্থগিতের বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছেন। আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আদেশের পর নিষেধাজ্ঞা আসা ইজমা অনুযায়ী হারামের অর্থ প্রকাশ করে। এরপর তিনি বলেছেন: আমি এটি তার জন্য স্বীকৃত বলে মনে করি না। আর আমি এর উপর স্থগিতের (ওয়াকফ) নীতি অনুসরণ করি, আর আমি মনে করি না যে নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীরা এটি মেনে নেবেন।
আমি বলছি, তিনি এ ক্ষেত্রে সঠিক বলেছেন। কারণ কাযী আবু ইয়ালা এই বিষয়ে দুটি মত উল্লেখ করেছেন এবং মাকদিসিও (আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন) অনুরূপ করেছেন; একটি হলো মাকরূহ (তানযিহ) এবং অন্যটি হলো হারাম (তাহরিম)। ইবনে আকীল এই দুটি ছাড়া তৃতীয় একটি মত পছন্দ করেছেন। আমাদের মাযহাবের কিছু অনুসারী নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ এবং আদেশের পর নিষেধাজ্ঞার মাসআলায় তিনটি মত উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি হলো, উভয়কে তাদের প্রাথমিক হুকুম অর্থাৎ ওয়াজিব এবং হারাম হিসেবে গণ্য করা। দ্বিতীয়টি হলো, উভয়কে বৈধতা (ইবাহাত)-র অর্থে গ্রহণ করা। তৃতীয়টি হলো, আদেশকে কাজটি করার বৈধতা এবং নিষেধাজ্ঞাকে কাজটি বর্জন করার বৈধতা হিসেবে গ্রহণ করা।
পরিচ্ছেদ:
কাযী বলেন, আদেশের শব্দ যখন নিষেধাজ্ঞার পর আসে, তখন তা বৈধতা এবং নিষিদ্ধ বিষয়কে মুক্ত করে দেওয়ার অর্থ প্রদান করে এবং তা আর আদেশ (ওয়াজিব) থাকে না। কাযীর এই বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুবাহ (বৈধ) বিষয় আদিষ্ট বিষয় নয়; কারণ আদেশের প্রকৃত অর্থ যদি নিষেধাজ্ঞার পর পাওয়া যেত, তবে তা তার মূল অর্থেই থাকত। ইমাম আহমাদ সালেহ ও আবদুল্লাহর বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন শিকার করো} ২ {অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো} ৩ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলেছেন। যারা আমাদের কথা শুনেছেন তাদের অধিকাংশই বলেছেন, চাইলে সে করতে পারে আর চাইলে না করতে পারে। যেন তারা এই মত গ্রহণ করেছেন যে এটি ওয়াজিব নয় এবং এই আয়াত দুটি তাদের শাব্দিক অর্থের (ওয়াজিব) উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
আমি বলছি, এই শব্দগুলো দাবি করে যে এগুলোর বাহ্যিক অর্থ ওয়াজিব, কিন্তু দলিলের কারণে এগুলো বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। একারণেই তিনি যারা বাহ্যিক অর্থ আঁকড়ে ধরে তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা থেকে বিমুখ হয়েছেন। কাযী এই মাসআলায় আল্লাহর এই বাণী দিয়ে উদাহরণ পেশ করেছেন: {অতঃপর যখন তোমরা আহার শেষ করবে, তখন তোমরা চলে যাবে} ৪ যদিও এটি এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من أمثلتها التي ذكرها المزني قوله: {فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْساً فَكُلُوهُ هَنِيئاً مَرِيئاً} 1 وقوله: {فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ} 2.
والتحقيق أن يقال صيغة أفعل بعد الحظر لرفع ذلك الحظر وإعادة حال الفعل إلى ما كان قبل الحظر فإن كان مباحا كان مباحا وإن كان واجبا أو مستحبا كان كذلك وعلى هذا يخرج قوله: {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} 3 فإن الصيغة رفعت الحظر وأعادته إلى ما كان أولا وقد كان واجبا وقد قرر المزني هذا المعنى.
--------------------------------------------
আল-মুযানী যে উদাহরণগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর বাণী: "তবে তারা যদি খুশিমনে তোমাদের জন্য তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তিসহকারে খাও।" ১ এবং আল্লাহর বাণী: "কাজেই তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে তা থেকে খাও।" ২।
আর সঠিক পর্যবেক্ষণ হলো এটি বলা যে, নিষেধাজ্ঞার পর 'আফআল' (আদেশসূচক) রূপটি সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য এবং কাজের অবস্থাকে নিষেধাজ্ঞার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আসে। সুতরাং বিষয়টি যদি আগে মুবাহ (বৈধ) থাকে তবে তা মুবাহ হবে, আর যদি ওয়াজিব (আবশ্যক) বা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) থাকে তবে তা তেমনই হবে। এর ভিত্তিতেই আল্লাহর এই বাণীটি ব্যাখ্যা করা হয়: "অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তখন তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো।" ৩ কেননা এই শব্দরূপটি নিষেধাজ্ঞাকে তুলে নিয়েছে এবং একে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছে, আর এটি আগে থেকেই ওয়াজিব ছিল। আল-মুযানী এই অর্থটিই সাব্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مسألة: صيغة الأمر بعد الحظر تنقسم إلى حظر من جهة لمخاطب بصيغة افعل…مسألة1: صيغة الأمر بعد الحظر تنقسم إلى حظر من جهة المخاطب بصيغة افعل
فيكون قوله: افعل إذنا ورفعا لذلك الحظر والى حظر ثابت من جهة غيره فلا يكون أباحة بل أمرا مبتدأ ذكره القاضي في ضمن المسألة وكذلك ابن عقيل وفي كلام القاضي ما يقتضي التسوية وينبني على ذلك أن رفع الأول نسخ دون الثاني وهذا كما قسمت الوجوب إلى معنيين كما يجيء.
فصل:
ولو نهاه عن شيء فاستأذن العبد في فعله فقال "افعل" فقال القاضي هذا لا يقتضي الوجوب بلا خلاف وذكر بعد هذا إذا استأذنه في فعل شيء فقال "افعل" حمل على الإباحة بالاستئذان والإذن جميعا جعله محل وفاق.
فصل:
الأمر بعد الحظر قسمان لأن الحظر إما أن يكون نهيا من الأمر أو يكون محظورا يعنى نهيا من [غير] الآمر2 فذكر من جملة الصور التي تفيد في العرف
--------------------------------------------
মাসআলা: নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের রূপটি সম্বোধিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে 'ইফআল' (করো) রূপের নিষেধাজ্ঞার দিকে বিভক্ত হয়...মাসআলা ১: নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের রূপটি সম্বোধিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে 'ইফআল' রূপের নিষেধাজ্ঞার দিকে বিভক্ত হয়।
ফলে তার উক্তি: 'ইফআল' (করো) হবে সেই নিষেধাজ্ঞার জন্য অনুমতি এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া। আর যদি অন্য কারো পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত থাকে, তবে তা বৈধতা (ইবাহাত) হবে না বরং তা হবে একটি নতুন আদেশ। কাজী এটি মাসআলার অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আকীলও তাই করেছেন। কাজীর কথায় সমতার দাবি রয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে যে, প্রথমটি তুলে দেওয়া হবে মানসুখ (রহিতকরণ), দ্বিতীয়টি নয়। এটি ঠিক তেমনি যেমন আমি ওয়াজিবকে দুটি অর্থে বিভক্ত করেছি যেমন সামনে আসবে।
পরিচ্ছেদ:
যদি তিনি তাকে কোনো বিষয়ে নিষেধ করেন, অতঃপর দাস সেটি করার জন্য অনুমতি চায় এবং তিনি বলেন "করো", তবে কাজী বলেন এটি কোনো দ্বিমত ছাড়াই আবশ্যকতা (ওয়াজিব) দাবি করে না। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে কোনো কাজ করার জন্য অনুমতি চায় এবং তিনি বলেন "করো", তবে অনুমতি চাওয়া এবং অনুমতি প্রদান উভয়টির কারণে একে বৈধতা (ইবাহাত) হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি একে ঐকমত্যের বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন।
পরিচ্ছেদ:
নিষেধজ্ঞার পর আদেশ দুই প্রকার। কারণ নিষেধাজ্ঞা হয় আদেশদাতার পক্ষ থেকে নিষেধ হবে, অথবা এমন নিষিদ্ধ বিষয় হবে যা [অন্য কারো] পক্ষ থেকে নিষেধ। তিনি সেই সব অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন যা লোকরীতিতে অর্থ প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الإذن ما يشمل القسمين وهو ما إذا قال "لا تدخل بستان فلان ولا تحضر دعوته ولا تغسل ثيابك" ثم قال له بعد ذلك: ادخل واحضر واغسل ثيابك قال: وكذلك قول الرجل لضيفه كل ولمن دخل داره ادخل فقيل له غير هذا إلا ترى أنه يقول لعبده لا تقتل زيدا فيكون حظرا فإذا قال: اقتله بعد هذا كان حظرا على الوجوب1 قال: لأن الأصل حظر قتل زيد فقوله لا تقتل زيدا توكيد للحظر المتقدم لا لأنه مستفاد به حظر وفي مسألتنا وقع النهي ثم رفع النهي فيجب أن يعود إلى ما كان إليه2.
قلت وهذا تصريح بأن الخلاف إنما هو في حظر أفاده النهي لا في حظر غيره وأن ذلك النهي
… 3 فصار قولان.
ثم حظر النهي منه ما يكون مغي كقوله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ} 4 ومنه ما يكون في معنى المغي كالنهي عن الصيد والانتشار5 ومنه ما يكون نسخا كالحديث ونازع القاضي في قوله: {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} 6 فقال لا نسلم أن وجوب قتل المشركين استفيد بهذه الآية بل بقوله تعالى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ} 7 ونحوها مما لم يتقدمه حظر.
قلت وهذا ضعيف بل الأمر بعد الحظر يرفع الحظر ويكون كما قبل الحظر والأمر في هذه الآية كذلك وقد قرر القاضي أن الأمر بعد الحظر بمنزلة الغاية فيفيد
--------------------------------------------
অনুমতি উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো যখন কেউ বলে, "অমুকের বাগানে প্রবেশ করো না, তার দাওয়াতে উপস্থিত হয়ো না এবং তোমার কাপড় ধুইয়ো না", অতঃপর এর পরে তাকে বলল: "প্রবেশ করো, উপস্থিত হও এবং তোমার কাপড় ধোও"। তিনি বলেন: অনুরূপভাবে একজন ব্যক্তির তার মেহমানকে বলা "খাও" এবং যে তার ঘরে প্রবেশ করেছে তাকে বলা "প্রবেশ করো"। তাকে এর বিপরীত কিছু বলা হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, সে তার গোলামকে বলে "যায়িদকে হত্যা করো না", ফলে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর যদি সে বলে: "তাকে হত্যা করো", তবে এটি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার (স্থলে) ছিল।১ তিনি বলেন: কারণ যায়িদকে হত্যা করা মূলত নিষিদ্ধ। সুতরাং তার কথা "যায়িদকে হত্যা করো না" পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞারই তাকিদ (দৃঢ়করণ), এটি নয় যে এর মাধ্যমে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা লাভ করা হয়েছে। আর আমাদের মাসআলায় প্রথমে নিষেধ এসেছে, অতঃপর নিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে, তাই সেটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া ওয়াজিব হবে।২
আমি বলি, এটি একটি স্পষ্ট বক্তব্য যে, মতপার্থক্যটি কেবল সেই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে যা 'নাহি' (নিষেধসূচক বাক্য) থেকে অর্জিত হয়েছে, অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে নয়। আর সেই নিষেধটি … ৩ ফলে দুটি মত সাব্যস্ত হয়েছে।
অতঃপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যে বিধিনিষেধ আসে, তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা একটি সীমা পর্যন্ত নির্ধারিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের নিকট যাও} ৪ আবার তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা নির্ধারিত সীমার অর্থ বহন করে, যেমন শিকার করা এবং ছড়িয়ে পড়া থেকে নিষেধ করা।৫ আবার তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা মানসুখ (রহিতকারী), যেমন হাদীসের ক্ষেত্রে। এবং কাজী (আবু ইয়ালা) মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো} ৬ তিনি বলেন, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, মুশরিকদের হত্যা করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি এই আয়াত থেকে অর্জিত হয়েছে; বরং তা মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা ঈমান আনে না} ৭ এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যেগুলোর পূর্বে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
আমি বলি, এটি দুর্বল (মত)। বরং নিষেধাজ্ঞার পর নির্দেশ সেই নিষেধাজ্ঞাকে তুলে দেয় এবং সেটি নিষেধাজ্ঞার পূর্বের অবস্থার মতো হয়ে যায়। এই আয়াতেও নির্দেশটি অনুরূপ। আর কাজী নিজেই সাব্যস্ত করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার পর নির্দেশ আসা হলো সীমার সমতুল্য, ফলে তা ফায়দা দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
زوال الحكم عند انقضائها وهذا يؤيد ما ذكرته واحتج بقوله: {وَلا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ} 1 ولا حجة فيه.
فصل:
فإذا كان بعد الحظر أمر صريح بلفظه كما لو قال: أمرتكم بالصيد إذا حللتم فحكي المقدسي عن قوم أنه يقتضي الوجوب بخلاف صيغة أفعل بعد ما صدر الكلام في المسألة السابقة بكلام مطلق يقتضي التسوية بينهما عنده وعندي أن هذا التفضيل هو كل المذهب وكلام القاضي وغيره يدل عليه فإنه سرح بأن هذا ليس بأمر إنما صيغته صيغة الأمر وإنما هو إطلاق فظاهر كلام ابن عقيل في الأدلة يعطي أنه إذا جاء خطاب بلفظ الأمر أو الوجوب اقتضى الوجوب وإن جاء بصيغة الأمر فإنه لا يكون أمرا بل مجرد إذن وهذا لا يتأتى في لفظ الأمر.
--------------------------------------------
সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে বিধানের বিলুপ্তি ঘটা; আর এটি আমার বর্ণিত বিষয়টিকে সমর্থন করে। তিনি তাঁর স্বপক্ষে আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "এবং তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না, যতক্ষণ না হাদি (কুরবানির পশু) তার গন্তব্যে পৌঁছে যায়।" ১ তবে এতে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই।
পরিচ্ছেদ:
নিষেধাজ্ঞার পর যদি শব্দগতভাবে কোনো স্পষ্ট আদেশ আসে, যেমন তিনি যদি বলেন: "আমি তোমাদের এহরাম পরবর্তী হালাল অবস্থায় শিকার করার নির্দেশ দিচ্ছি," তবে আল-মাকদিসি একদল আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি ওয়াজিব বা আবশ্যকতা দাবি করে। এটি 'আফআল' (করো) ক্রিয়ারূপের বিপরীত, যেখানে পূর্ববর্তী মাসআলায় নিঃশর্ত আলোচনার মাধ্যমে তাঁর নিকট উভয় বিষয়ের মধ্যে সমতা প্রতীয়মান হয়েছিল। আর আমার নিকট এই বিস্তারিত বিশ্লেষণই মাযহাবের মূল অবস্থান এবং আল-কাদি ও অন্যদের বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে। কেননা তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি প্রকৃত আদেশ নয়, বরং এর গঠনভঙ্গি আদেশের মতো এবং এটি কেবল একটি অনুমতি বা অবকাশ। 'আল-আদিল্লাহ' গ্রন্থে ইবনে আকিলের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক এটাই নির্দেশ করে যে, যখন কোনো সম্বোধন 'আদেশ' বা 'ওয়াজিব' শব্দ দ্বারা আসে, তখন তা আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়াকে দাবি করে। কিন্তু যদি তা কেবল আদেশের ক্রিয়ারূপে আসে, তবে সেটি আদেশ হবে না বরং নিছক অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে। আর এটি 'আদেশ' শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مسألة: الأمر المطلق يقتضي التكرار والدوامحسب الطاقة عند أكثر أصحابنا وبعض الشافعية وهو أبو إسحاق الاسفرائينى والجويني وقال أكثر الفقهاء والمتكلمين لا يقتضيه ولم يذكر القاضي عن أحمد إلا كلامه في الوجوب كما يأتي بل يكون ممتثلا بالمرة واختاره أبو الخطاب والمقدسي وهو الذي ذكره أبو محمد المقدسي وقالت الأشعرية هو على الوقف وقال بعض الحنفية وبعض الشافعية إن كان معلقا بشرط يتكرر اقتضى التكرار وإلا فلا وهو أصح عندي وقال القاضي في المقدمة التي في أصول الفقه في آخر المجرد وإذا ورد الأمر مقيدا بوقت اقتضى التكرار وإن ورد مطلقا ففال شيخنا يقتضي التكرار وقال غيره لاقتضى التكرار وحكي ابن برهان أن بالقول بالتكرار قال أصحاب
মাসআলা: নিঃশর্ত আদেশ পুনরাবৃত্তি ও স্থায়িত্ব দাবি করেআমাদের অধিকাংশ সাথী (হাম্বলী) এবং কিছু শাফেয়ীর মতে সাধ্যানুযায়ী এটি (পুনরাবৃত্তি) আবশ্যক, আর তারা হলেন আবু ইসহাক আল-ইসফারাইনী ও আল-জুওয়াইনী। অধিকাংশ ফকীহ ও কালামবিদ বলেছেন যে, এটি তা দাবি করে না। ইমাম আহমদ থেকে কাজী কেবল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যেমনটি সামনে আসবে, বরং একবার পালনের মাধ্যমেই আদেশটি পালিত হবে; এবং এটিই পছন্দ করেছেন আবুল খাত্তাব ও আল-মাকদিসী, আর এটিই আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসী উল্লেখ করেছেন। আশআরীগণ বলেছেন এটি স্থগিত রাখার (তাকুফ) অন্তর্ভুক্ত। কিছু হানাফী ও কিছু শাফেয়ী বলেছেন, যদি আদেশটি এমন কোনো শর্তের সাথে যুক্ত থাকে যা পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তা পুনরাবৃত্তি দাবি করবে, অন্যথায় নয়; আর এটিই আমার কাছে অধিকতর সঠিক। কাজী আল-মুজাররাদ-এর শেষে উসূলে ফিকহের ভূমিকায় বলেছেন, "যদি আদেশটি সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে আসে তবে তা পুনরাবৃত্তি দাবি করে, আর যদি তা নিঃশর্তভাবে আসে তবে আমাদের শায়খ বলেছেন এটি পুনরাবৃত্তি দাবি করে, আর অন্যরা বলেছেন এটি পুনরাবৃত্তি দাবি করে না।" ইবনুল বুরহান বর্ণনা করেছেন যে, পুনরাবৃত্তির এই মতটি পোষণ করেছেন সাথীরা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أبي حنفية والمتكلمون: ونصر الجويني القول بالوقف فيما زاد على المرة الواحدة وقال لست أنفيه ولا أثبته مع كوني أبطل قول الوقف في مسألة الوجوب والندب ويحقق ذلك عندي أنه يرجع إلى قول من قال: لا يقتضى التكرار.
قال القاضي في كتاب اختلاف الروايتين والوجهين مسألة الأمر إذا ورد مطلقا من غير تقييد بوقت هل يقتضى التكرار أم لا قال شيخنا أبو عبد الله: يقتضى التكرار كما لو ورد مقيدا بوقت وقد نص أحمد في رواية صالح في إيجاب طاعة الرسول على الأمر المقيد بوقت أنه يقتضى التكرار فقال: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا} فالظاهر يدل على أنه إذا قام إلى الصلاة فعليه ما وصف فلما كان يوم الفتح صلى النبي صلى الله عليه وسلم بوضوء واحد قال: وعندي أنه لا يقتضى التكرار وقد قال في رواية صالح ويعقوب بن بختان: إذا أذن له سيده بتزوج قال: واحدة وإن أراد أن يتزوج الأخرى استأذنه وقال أيضا إذا خير زوجته لم يجز لها أن تطلق نفسها إلا طلقة واحدة وسلم أن قوله: [كل] أمر بالأكل مرتين.
قلت المذهب في قوله: "طلقي نفسك" مع الإطلاق هل تملك به الثلاث وهي مكتوبة في موضعها لكن طلقي وتزوجي واختاري كل هذا ليس بأمر وإنما هو إذن وإباحة فإن كانت صيغة أفعل إذا أريد بها الإباحة كقوله: {كُلُوا وَاشْرَبُوا} تختلف في إفادتها التكرار كما في ما أريد بها الأمر فما هو ببعيد ومسألة طلقي نفسك كأن قد كثر منها في1 العدة والتزم "طلقي نفسك بألف" وقوله لوكيله طلق فلانة فقال والجواب أن مهنا نقل عن أحمد إذا قال: طلقي نفسك فقالت طلقت نفسي ثلاثا هي ثلاث فظاهر هذا أنه اعتبر عموم اللفظ ثم ضرب على هذا واعتذر بأن هذا ثبت بالشرع والخلاف في موجب اللغة وأما ما ذكروه من نص أحمد في المعلق بشرط فيحتمل أن يكون التكرار حصل من صيغة إذا فإن أصحابنا وإن فرقوا بينها وبين
--------------------------------------------
আবু হানিফা এবং মুতাকাল্লিমগণ: আর আল-জুওয়াইনি একবারের অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়ে 'ওয়াকফ' (স্থির থাকা) এর মতকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন, আমি এটি অস্বীকারও করি না আবার সাব্যস্তও করি না, যদিও আমি ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব হওয়ার মাসআলায় ওয়াকফ-এর মতকে বাতিল মনে করি। আমার নিকট এটি সেই ব্যক্তির কথার দিকেই ফিরে যায় যে বলে: এটি পুনরাবৃত্তি (তাকরার) দাবি করে না।
কাযী 'ইখতিলাফুর রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন' কিতাবে বলেছেন: আদেশের মাসআলা, যখন তা কোনো সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ না হয়ে সাধারণভাবে আসে, তখন তা কি পুনরাবৃত্তি দাবি করে কি না? আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: তা পুনরাবৃত্তি দাবি করে, যেমনটা সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে আসলে করে। আর ইমাম আহমাদ সালেহ-এর বর্ণনায় রাসূলের আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ আদেশের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তা পুনরাবৃত্তি দাবি করে। তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা নামাযের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমরা (মুখমণ্ডল ও হাত) ধৌত করো।" জাহিরি অর্থ এটিই নির্দেশ করে যে, যখনই সে নামাযের জন্য দাঁড়াবে, তার উপর বর্ণিত বিষয়টি (ওযু) আবশ্যক হবে। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ওযু দিয়ে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছিলেন। তিনি (কাযী) বলেন: আমার নিকট এটি (আদেশ) পুনরাবৃত্তি দাবি করে না। আর সালেহ ও ইয়াকুব ইবনে বাখতানের বর্ণনায় তিনি (আহমাদ) বলেছেন: যদি কোনো দাসকে তার মুনিব বিয়ের অনুমতি দেয়, তবে সে একটি বিয়ে করতে পারবে; আর যদি সে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, তবে পুনরায় অনুমতি নিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন: যদি স্বামী তার স্ত্রীকে (তালাকের) এখতিয়ার দেয়, তবে স্ত্রীর জন্য একটির বেশি তালাক দেওয়ার সুযোগ নেই। আর তিনি এটি মেনে নিয়েছেন যে, "প্রত্যেক" আদেশের ক্ষেত্রে খাওয়ার বিষয়টি দুইবার খাওয়ার আদেশ হিসেবে গণ্য।
আমি বলি, "তুমি নিজেকে তালাক দাও" - এই কথার ক্ষেত্রে মাযহাবের বক্তব্য হলো: সাধারণভাবে বললে সে কি তিন তালাকের মালিক হবে? এটি তার স্ব স্ব স্থানে লিখিত আছে। কিন্তু 'তালাক দাও', 'বিয়ে করো' এবং 'পছন্দ করো' - এর কোনটিই (বাধ্যতামূলক) আদেশ নয়, বরং তা অনুমতি ও বৈধতা দান। সুতরাং 'আফআল' (করো) রূপের ক্রিয়াটি যদি বৈধতা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: "তোমরা খাও এবং পান করো", তবে তা পুনরাবৃত্তির ফায়দা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতর হতে পারে, যেমনটি নির্দেশ বা আদেশের ক্ষেত্রে হয়; তাই এটি অসম্ভব নয়। আর "নিজেকে তালাক দাও" মাসআলাটি যেন ইদ্দতের মধ্যে বারবার ঘটেছে এবং "এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে নিজেকে তালাক দাও" কথাটি সে আবশ্যক করে নিয়েছে। আর উকিলকে তার বলা যে "অমুককে তালাক দাও", তখন উত্তর হলো: মুহান্না ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন স্বামী বলে: "তুমি নিজেকে তালাক দাও", আর স্ত্রী বলে: "আমি নিজেকে তিন তালাক দিলাম", তবে তা তিন তালাকই হবে। এর বাহ্যিক দিক হলো তিনি শব্দের ব্যাপকতাকে (উমুম) বিবেচনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি বর্জন করেন এবং ওজর পেশ করেন যে, এটি শরীয়তের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, আর বিবাদটি হলো ভাষার দাবির ক্ষেত্রে। আর শর্তযুক্ত (মুআল্লাক) বিষয়ে আহমাদের যে নসের (পাঠে) কথা তারা উল্লেখ করেছেন, সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে পুনরাবৃত্তিটি "ইযা" (যখন) শব্দ থেকে এসেছে। কেননা আমাদের সাথীরা যদিও এর এবং তার মধ্যে পার্থক্য করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
متى فجعلوا في متى وجهين بخلاف إذا ففي الفرق نظر ويحتمل أنه من عموم لفظ الصلاة كأنه قال: إذا قمتم إلى أي فرد من أفراد الصلاة فاغسلوا وكذلك يحتمل أن يقال هذا في قوله: {لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} أي عند كل فرد من أفراد دلوك الشمس وهذا الباب متعلق بأدوات الشروط في الإيقاعات كالطلاق ونحوه وللأوامر والوعد والوعيد وقد أفرط القاضي حتى منع حسن الاستفهام عن التكرار ثم سلم وأجازه في الوجوب وهذا بارد مخالف للحديث الصحيح وأما في مسألة الفور فقال إذا كان الأمر ممن لا يضع الشيء في غير موضعه لم يحسن منه الاستفهام فلم يتردد وسلم أن اليمين لا فور فيها لأنها غير موجبه وأما الندب فقال لا يمتنع أن يقول يجب على الفور وقال لا يمتنع أن يقول يختص بالمكان الذي أمر بالفعل فيه لأنه على الفور.
وذكر أبو محمد التميمي مسائل الأوامر عن أحمد أن الأمر عنده للوجوب وهو عنده على الفور وكان يذهب إلى أنه لا يقتضى التكرار إلا بقرينة ومتى تكرر الأمر فهو توكيد المأمور وإذا ورد بعد تقدم نهي دل على الإباحة ومتى خير المأمور بين أشياء ليفعلها فالواجب واحد لا بعينه ومتى قام الدليل على أنه لم يرد به الوجوب لم يدل على الجواز والمندوب إليه داخل تحت الأمر والأمر بالشيء نهي عن ضده ولا تدخل الأمة في الأمر المطلق ويدخل العبيد عنده في الأمر المطلق ولا تدخل النساء في خطاب الذكور والزيادة على المأمور به ليس بواجب ولا يقع الأمر من الأمر على وجه مكروه وكان يقول إن النهي بدل على فساد المنهي عنه وله عنده صيغة وإذا ورد الأمر وفيه استثناء من غير جنسه لم يكن استثناء صحيحا عنده قال: وقد اختلف في جميع ذلك أصحابه وذكر السرخسي أن الصحيح من قول علمائهم أن صيغة الأمر لا توجب التكرار ولا تحتمله ولكن الأمر بالفعل يقتضى أدنى ما يكون من جنسه على احتمال الكل إلا بدليل وقال بعضهم هذا إذا لم يكن معلقا بشرط ولا مقيدا
'মাতা' (কখন/যখন) শব্দে তারা দুটি দিক নির্ধারণ করেছেন, যা 'ইযা' (যখন) শব্দের বিপরীত। এই পার্থক্যের বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সম্ভাবনা আছে যে এটি 'সালাত' শব্দের ব্যাপকতা থেকে এসেছে, যেন তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের যেকোনো প্রকারের জন্য দাঁড়াবে, তখন ধৌত করো।" তেমনিভাবে এটিও বলা সম্ভব আল্লাহর এই বাণীতে: "সূর্য ঢলে পড়ার সময়", অর্থাৎ সূর্য ঢলে পড়ার প্রতিটি একক সময়ের ক্ষেত্রে। এবং এই পরিচ্ছেদটি তালাক বা তদ্রূপ বিষয়সমূহের বাস্তবায়ন, আদেশ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর ক্ষেত্রে শর্তবাচক শব্দসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল-কাজী এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন, এমনকি তিনি পুনরাবৃত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করার প্রাসঙ্গিকতাকে অস্বীকার করেছেন; অতঃপর তিনি নতি স্বীকার করেছেন এবং ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে একে বৈধ বলেছেন। আর এটি একটি অসার কথা যা সহীহ হাদীসের বিরোধী। আর অবিলম্বে পালনের (ফাওর) মাসআলায় তিনি বলেছেন, যখন আদেশটি এমন সত্তার পক্ষ থেকে হয় যিনি কোনো কিছুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখেন না, তখন তাঁর কাছে প্রশ্ন করা শোভন নয়। ফলে তিনি দ্বিধা করেননি এবং মেনে নিয়েছেন যে কসম অবিলম্বে পূরণ করা আবশ্যক নয়, কারণ এটি ওয়াজিবকারী নয়। আর মুস্তাহাব কাজের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, এটি বলা অসম্ভব নয় যে তা অবিলম্বে পালন করা ওয়াজিব। তিনি আরও বলেছেন যে, এটি বলা অসম্ভব নয় যে তা সেই স্থানের সাথেই নির্দিষ্ট হবে যেখানে কাজটি করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ তা অবিলম্বে পালনীয়।
আবু মুহাম্মদ আত-তামীমী ইমাম আহমাদ থেকে আদেশের মাসআলাগুলো উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিকট আদেশ ওয়াজিব হওয়ার বিধান প্রদান করে এবং তা অবিলম্বে পালনীয়। তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, কোনো আলামত বা প্রমাণ ছাড়া আদেশ পুনরাবৃত্তি দাবি করে না। আর যখন আদেশের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তখন তা আদিষ্ট বিষয়টিকে তাকিদ বা জোর প্রদানের জন্য হয়। আর যদি পূর্ববর্তী কোনো নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ আসে, তবে তা বৈধতা (ইবাহাত) নির্দেশ করে। আর যখন আদিষ্ট ব্যক্তিকে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি করার এখতিয়ার দেওয়া হয়, তখন ওয়াজিব হলো অনির্দিষ্টভাবে যেকোনো একটি। যখন এই মর্মে দলিল পাওয়া যায় যে এর দ্বারা ওয়াজিব উদ্দেশ্য নয়, তখন তা বৈধতা প্রমাণ করে না। আর পছন্দনীয় (মানদুব) বিষয়সমূহ আদেশের অন্তর্ভুক্ত। কোনো বিষয়ের আদেশ তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করাকে বোঝায়। সাধারণ আদেশের অন্তর্ভুক্ত উম্মত বা সাধারণ জনসমষ্টি হবে না, তবে তাঁর মতে কৃতদাসরা সাধারণ আদেশের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর পুরুষবাচক সম্বোধনে নারীরা অন্তর্ভুক্ত হবে না। আদিষ্ট বিষয়ের অতিরিক্ত অংশ পালন করা ওয়াজিব নয়। আর আদেশদাতার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ অপছন্দনীয় (মাকরূহ) পন্থায় প্রদান করা হয় না। তিনি বলতেন যে, কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করা সেই নিষিদ্ধ বিষয়টি বাতিল বা ফাসাদ হওয়ার দলিল এবং তাঁর নিকট এর নির্দিষ্ট শব্দ বা রূপ রয়েছে। যখন কোনো আদেশ আসে এবং তাতে ভিন্ন জাতীয় কোনো বিষয়ের ব্যতিক্রম থাকে, তখন সেটি তাঁর কাছে সঠিক ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি বলেন: এই সব বিষয়ে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আস-সারাখসী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের আলেমদের সঠিক মতানুসারে আদেশের শব্দ বা রূপ পুনরাবৃত্তি ওয়াজিব করে না এবং এর সম্ভাবনাও রাখে না; বরং কোনো কাজের আদেশ তার স্বজাতীয় বিষয়ের মধ্যে সর্বনিম্নটুকু সম্পন্ন করা দাবি করে, দলীল ব্যতীত তা পূর্ণটির সম্ভাবনা রাখে না। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তা কোনো শর্তের সাথে যুক্ত বা সীমাবদ্ধ না থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাওয়াদাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بوصف فإن كان فمقتضاه التكرار بتكرار ما قيد به قال: وعلى قول الشافعي مطلقة لا يوجب التكرار ولكنه يحتمله والعدد أيضا إذا اقترن به دليل وقال بعضهم مطلقة يوجب التكرار إلا أن يقوم دليل يمنع منه ويحكى هذا عن المزني.
যদি কোনো গুণের মাধ্যমে হয়, তবে এর দাবি হলো যা দ্বারা একে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হুকুমেরও পুনরাবৃত্তি হওয়া। তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ীর অভিমত অনুযায়ী, নিঃশর্ত নির্দেশ পুনরাবৃত্তি আবশ্যক করে না, তবে এটি তার সম্ভাবনা রাখে। আর সংখ্যার বিষয়টিও অনুরূপ, যখন তার সাথে কোনো দলীল যুক্ত হয়। কেউ কেউ বলেন, নিঃশর্ত নির্দেশ পুনরাবৃত্তি আবশ্যক করে, যতক্ষণ না এমন কোনো দলীল উপস্থিত হয় যা তা থেকে বিরত রাখে; আর এটি আল-মুযানী থেকে বর্ণিত হয়েছে।