(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: -)
الولاية في النكاح   (عوض بن رجاء العوفي)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: الولاية في النكاح

المؤلف: عوض بن رجاء بن فريج العوفي

أصل الكتاب: رسالة ماجستير - الجامعة الاسلامية، 1403 هـ

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1423 هـ/2002 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিবাহে অভিভাবকত্ব (আল-ওয়ালায়াহ ফিন নিকাহ)   (আওয়াদ বিন রাজা আল-আওফী)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল

কিতাব: আল-ওয়ালায়াহ ফিন নিকাহ (বিবাহে অভিভাবকত্ব)

লেখক: আওয়াদ বিন রাজা বিন ফারীজ আল-আওফী

কিতাবের উৎস: মাস্টার্স থিসিস - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়، ১৪০৩ হিজরী

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়، মদীনা মুনাওয়ারা، সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الولاية في النكاح]ـ

أصل الكتاب: رسالة (ماجستير) - الجامعة الاسلامية، 1403 هـ

المؤلف: عوض بن رجاء بن فريج العوفي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1423هـ/2002م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
—[নিকাহে অভিভাবকত্ব]—

গ্রন্থের মূল উৎস: গবেষণাপত্র (মাস্টার্স) - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪০৩ হিজরী

লেখক: আওয়াদ বিন রাজা বিন ফুরাইজ আল-আওফী

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المجلد الأول

‌‌مقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمَّداً عبده ورسوله، أرسله الله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كلّه ولو كره المشركون، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه واتبع سنته إلى يوم الدين.

أمّا بعد: فإنّ الفقه في دين الله من أعظم وأجلِّ نعم الله على عبده، وَحَسْبُ طالب الفقه بشرى قول المصطفى صلى الله عليه وسلم "من يرد الله به خيرًا يفقّهه في الدين". متفق عليه1.

--------------------------------------------

1 قال البخاري رحمه الله: "حدثنا سعيد بن عفير، قال: حدثنا ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، قال: قال حميد بن عبد الرحمن سمعت معاوية رضي الله عنه خطيباً يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من يرد الله به خيرًا يفقّهه في الدين، وإنما أنا قاسم والله يعطي، ولن تزال هذه الأمة قائمةً على أمر الله لا يضرّهم من خالفهم حتى يأتي أمر الله". انتهى.

(البخاري 1/164 مع فتح الباري) كتاب العلم باب من يرد الله به خيرًا يفقّهه في الدين. وفي مواضع أخر من الصّحيح، وقد نبّه محققه على أطرافه في هذه الموضع.

ورواه الإمام مسلم في صحيحه في كتاب الإمارة (13/67 مع شرح النووي) "باب لا تزال طائفة من أمَّتي ظاهرين لا يضرُّهم من خالفهم".
প্রথম খণ্ড

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আদর্শের অনুসারী হবে ও তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এরপর: নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করা বান্দার প্রতি আল্লাহর মহান ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য সুসংবাদ হিসেবে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীই যথেষ্ট: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।" (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত হাদীস)১।

--------------------------------------------

১ ইমাম বুখারী রহিমানুল্লাহ বলেছেন: "সাঈদ ইবনে উফাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান বলেছেন, আমি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খুতবা প্রদানকালে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, আর আল্লাহ দাতা। আর এই উম্মত সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসবে'।" সমাপ্ত।

(বুখারী ১/১৬৪, ফাতহুল বারী সহ) ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। সহীহ বুখারীর অন্যান্য স্থানেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এর গবেষক উক্ত স্থানে এর অন্যান্য সূত্র সম্পর্কে নির্দেশ করেছেন।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের কিতাবুল ইমারাহ-তে (১৩/৬৭, শরহুন নববী সহ) এটি বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فأنعم بها من بشرى! وأنعم بها من أمنية لطالب العلم! أن يكون من أهلها.

ولقد كان من فضل الله تعالى على كاتب هذه السطور أن يكون أحد طلاّب الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.، في "شعبة الفقه" من كلية الشريعة، ورغم معرفته -مسبقاً- بعجزه وتقصيره، إلا أن رجاءه في الله عظيم أن يكون من قوم لا يشقى جليسهم.

ولما كان منهج الدراسات العليا بهذه الجامعة مبنيًّا على نظام كتابة الرسائل العلميّة في فروع التخصص للحصول على درجة "الماجستير، فالدكتوراه"، فقد جال بخاطري بعض مسائل الفقه التي لم يكن بعضها- عندي- بأولى من بعض، فعرضتها على ذوي النّصح والخبرة، فكان موضوع "الولاية في النِّكاح" أحظاها قبولاً، وأسعدها بالحثِّ والتشجيع على الكتابة فيه.

وقد وافق أنَّ لي مع هذا الموضوع- خاصة - ذكرى أحتفظ بها عن كتابين منهجيين صحباني أربع سنين، هي مدة دراستي في كلية الشريعة بهذه الجامعة، وهذان الكتابان هما: بداية المجتهد لابن رشد الحفيد، وسبل
কতই না চমৎকার এই সুসংবাদ! ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এটি কতই না বড় এক আকাঙ্ক্ষা যে, সে যেন এই ইলমের ধারক-বাহকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে!

এই পঙক্তিগুলোর লেখকের প্রতি মহান আল্লাহর সুমহান অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা অনুষদের শরিয়াহ ফ্যাকাল্টির 'ফিকহ বিভাগের' একজন ছাত্র হতে পেরেছেন। যদিও নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই সম্যক অবগত ছিলেন, তথাপি আল্লাহর প্রতি তাঁর সুউচ্চ আশা এই যে, তিনি এমন এক কওমের অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদের মজলিসে বসা কোনো ব্যক্তিই দুর্ভাগা হয় না।

যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বা পোস্ট-গ্রাজুয়েট পাঠ্যক্রমটি নির্দিষ্ট বিশেষায়িত বিষয়ে 'মাস্টার্স' ও 'পিএইচডি' ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে গবেষণা প্রবন্ধ (থিসিস) রচনার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তাই আমার মনে ফিকহ শাস্ত্রের বেশ কিছু মাসআলা উঁকি দিচ্ছিল, যাদের মধ্যে কোনটি অন্যটির চেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য—তা নির্ধারণ করা আমার কাছে সহজ ছিল না। অতঃপর আমি মাসআলাগুলো বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের কাছে পেশ করলাম। তখন "নিকাহ বা বিবাহে অভিভাবকত্ব (ওয়ালায়াহ)" বিষয়টিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং এই বিষয়ে লেখার ব্যাপারে তাঁদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ প্রেরণা ও উৎসাহ পাওয়া যায়।

কাকতালীয়ভাবে এই বিষয়ের সাথে আমার একটি বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যা আমি দুটি পাঠ্যবই থেকে ধারণ করে রেখেছি। এই বই দুটি আমার শরিয়াহ ফ্যাকাল্টিতে অধ্যয়নের দীর্ঘ চার বছর আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। আর সেই কিতাব দুটি হলো: ইবনে রুশদ আল-হাফিদ রচিত 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' এবং 'সুবুল'...
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
السلام للمحدّث الأمير الصنعاني، وفي كلٍّ منهما وجهتان متعارضتان في تقرير الرَّاجح في هذه المسألة، فقد ذهب الأول إلى أنَّه لا يوجد لهذه المسألة دليل ظاهر الدلالة فضلاً عن أن يكون هناك نص في الموضوع، وتعقبه الثَّاني واصفًا بعض كلامه بالضعف والسقوط، وأجاب عن بعضه باختصار يقتضيه المقام1.

فكان في النفس ما فيها؛ لاستبانة وجه الحقِّ في هذه المسألة الهامّة في حياة كلّ مسلم؛ لتعلُّقها بصَّحة أو بطلان العقد الذي عليه بناء الأسرة المسلمة.

ومما زادني عزمًا على الكتابة فيه أنّ كلَّ ما أمكنني الوقوف عليه في مكتباتنا- ممّا كتب حديثاً في الأحوال الشخصية2- تجمع على أنَّ الولاية في النِّكاح شرط في حقِّ العاجزين من الصِّغار والمجانين، دون الحرائر المكلّفات من النِّساء، ولسان حالهم يردّد ما قاله ابن رشد الحفيد، إن لم يصرّحوا بذلك، فكان السؤال الذي يطلب جواباً: أحقيقة ما يقول هؤلاء؟ أم أنه أثر من آثار التغيير الاجتماعي للأخذ بالذي هو أدنى وترك الذي هو خير؟

--------------------------------------------

1 انظر: بداية المجتهد (2/7 وما بعدها) ، وسبل السلام (3/ 121) .

2 انظر المراد بهذا الاصطلاح (ص 27 ت 1) .
মুহাদ্দিস আল-আমীর আস-সান‘আনী রচিত সুবুলুস সালাম; এ দুটির প্রত্যেকটিতে এই মাসআলার অগ্রগণ্য অভিমত নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রথমজন মনে করেন যে, এই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দলিল নেই, সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নস থাকা তো দূরের কথা। দ্বিতীয়জন তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর কিছু কথাকে দুর্বল ও অসার বলে বর্ণনা করেছেন এবং প্রাসঙ্গিকতার দাবিতে সংক্ষেপে এর কিছু উত্তর দিয়েছেন১।

তাই প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এই মাসআলার প্রকৃত রূপ স্পষ্ট করার জন্য মনের ভেতর এক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো; কারণ এটি মুসলিম পরিবার গঠনের ভিত্তি হিসেবে গণ্য নিকাহ বা বিয়ের চুক্তির শুদ্ধতা বা অসারতার সাথে সম্পৃক্ত।

এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে আমার সংকল্প আরও দৃঢ় হওয়ার কারণ হলো, আমাদের লাইব্রেরিগুলোতে সমসাময়িক ব্যক্তিগত আইন সম্পর্কে রচিত যে সকল বই আমি দেখার সুযোগ পেয়েছি, সেখানে একমত হয়ে বলা হয়েছে যে, বিবাহে অভিভাবকত্ব কেবল অপ্রাপ্তবয়স্ক ও উন্মাদের মতো অক্ষমদের ক্ষেত্রে শর্ত, প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাধীন নারীদের ক্ষেত্রে নয়। তাদের অবস্থা ইবনে রুশদ আল-হাফীদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করছে, যদি তারা তা স্পষ্টভাবে নাও বলেন। এমতাবস্থায় যে প্রশ্নটি উত্তর দাবি করে তা হলো: তারা যা বলছেন তা কি আসলেই সত্য? নাকি এটি সামাজিক পরিবর্তনের সেই প্রভাবের অংশ, যেখানে উত্তমের পরিবর্তে যা নিম্নতর তা গ্রহণ করা হয়েছে?

--------------------------------------------

১. দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ (২/৭ এবং পরবর্তী অংশ), এবং সুবুলুস সালাম (৩/ ১২১)।

২. এই পরিভাষার অর্থ বোঝার জন্য দেখুন (পৃষ্ঠা ২৭, টীকা ১)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
لهذا استخرت الله تعالى في الكتابة في هذا الموضوع، طالما أنَّه لزاماً على طالب الدراسات العليا كتابة بحث في فرع تخصصه، مستمدًّا من الله العون والتوفيق.

وذلك لأنَّ وراء هذا الموضوع قيماً عاليةً من الشهامة والإباء، والحصانة والحياء، والعفاف والوفاء، وغير ذلك من صفات الفضيلة والكمال، التي يعرفها الرجال والنساء، ممّا تصان به الأعراض، وتحفظ به الأنساب، ممّا ميَّز الله به أهل الإسلام على غيرهم، وجعله عنواناً لعزِّهم، وظهورهم، وميزة لأبناء الإسلام الأوفياء حين يتخلَّى عنها الأدعياء.

ولأنَّ رياح التغيير الاجتماعي التي هبَّت على ديار الإسلام من الغرب الحاقد، والشرق الملحد، بالأفكار الغريبة المسمومة، قد تركت في كثير من البيوت الإسلامية تساؤلات عن أمور كانت من قبل من المسلَّمات، فشكَّكت فيما لا يقبل التشكيك، وهوَّنت مما لا يستهان به، فعرف بعض النّاس ما كانوا ينكرون، وتنكَّروا لما كانوا يعرفون، وظهرت علامات استفهام مظلمة أمام التمسك بالفضيلة، أو الخوف من التردِّي في الرذيلة؟.

وخاصّة إذا كان الأمر مما يتميَّز به الرِّجال على النِّساء، فالمساواة بين الذكور والإناث في الإرث والنِّكاح والطلاق قد أصبح مطلباً، وحجاب المرأة وحياؤها قد أصبح تأخُّرًا وبلادة، بل توحّشاً! وقرارها في
এজন্য আমি এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি; যেহেতু উচ্চতর গবেষণার একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার বিশেষায়িত শাখায় একটি গবেষণা প্রবন্ধ রচনা করা আবশ্যক, আর আল্লাহর নিকটই আমি সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।

আর এর কারণ এই যে, এই প্রসঙ্গের অন্তরালে লুকিয়ে আছে বীরত্ব ও আত্মমর্যাদা, সুরক্ষা ও লজ্জা, পবিত্রতা ও বিশ্বস্ততা এবং এই জাতীয় আরও বহু শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার গুণাবলি, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই জানা। এর মাধ্যমেই ইজ্জত-সম্মান সংরক্ষিত হয় এবং বংশপরম্পরা হেফাযত করা হয়; যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের অন্যদের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং একে তাদের সম্মান ও বিজয়ের পরিচায়ক করেছেন। এটি ইসলামের অনুগত সন্তানদের জন্য এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যখন ভণ্ডরা একে বর্জন করে চলে।

আর যেহেতু সামাজিক পরিবর্তনের যে হাওয়া বিদ্বেষপরায়ণ পাশ্চাত্য এবং নাস্তিক্যবাদী প্রাচ্য হতে বিষাক্ত ও বিজাতীয় চিন্তাধারা নিয়ে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবাহিত হয়েছে, তা বহু মুসলিম পরিবারে এমন কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে যা ইতিপূর্বে স্বতসিদ্ধ ও প্রশ্নাতীত ছিল। ফলে যা সন্দেহাতীত ছিল সে বিষয়ে সংশয় তৈরি করা হয়েছে এবং যা মোটেও অবহেলার যোগ্য নয় তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছে। এর ফলে কিছু মানুষ এমন বিষয়কে গ্রহণ করেছে যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করত এবং যা আগে তারা সত্য বলে জানত আজ তা অস্বীকার করছে। আর সচ্চরিত্রতা অবলম্বন কিংবা পাপে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কার বিপরীতে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রশ্নবোধক চিহ্ন উদিত হয়েছে।

বিশেষ করে বিষয়টি যখন এমন হয় যাতে পুরুষরা নারীদের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তখন উত্তরাধিকার, বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা এক দাবিতে পরিণত হয়েছে। আর নারীর পর্দা ও তার লজ্জাশীলতাকে পশ্চাৎপদতা, স্থবিরতা এমনকি বর্বরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে! এবং তার নিজ গৃহে অবস্থান...
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بيتها أصبح إقامةً جبرًا! إلى غير ذلك من الأفكار التي تهدّ الفضيلة هدًّا، وتدعو إلى الرذيلة عمدًا، والمستهدف بها أولاً وآخراً هي: الأسرة المسلمة.

ومن تلك التساؤلات المريبة ما يدور حول ثبوت الولاية في النِّكاح على الحرَّة المكلّفة، والتقليل من أهمّيتها في حياة المسلمين الاجتماعية، ولم تكن تلك التساؤلات المريبة، والنعوت المشبوهة من أعداء الإسلام والفضيلة، لم تكن لتثير اهتمامي بهذا الموضوع لولا أنة قد أصبح لها صداها في كثير من المجتمعات الإسلامية، وكثيرًا ما يتعلّل أولئك أو يتستَّرون تحت مظلّة الخلاف الفقهيّ، جاهلين أو متجاهلين أنَّ الخلاف الفقهيّ لم يكن مبرِّرًا للتهاون في أمر مجمع على فضيلته وأهميَّته في حياة المسلمين الاجتماعية المتميِّزة بأصالتها وكمالها، فالفضائل في منأى عن الخلاف، ودرء المفاسد مقدَّم على جلب المصالح، والناصح لنفسه ولمجتمعه هو من يلتزم بالفضائل، ويدعو إليها في أسمى معانيها، لا من يهوِّن من شأنها وكأنَّه موكَّل بإزالتها.

لهذا كان اهتمامي كلُّه منصبًّا على تتبُّع آثار من سلف ودليلهم، ممن لم يكن الخلاف بينهم لهوى في أنفسهم، وإنما طلباً للحقِّ بدليله، بعلم لوجه الله طلبوه، وبصدق نيَّة لله أخلصوها، فحرصت على تتبُّع آثارهم، في مصادرها الأصليَّة، باذلاً جهدي في فهم نصوصهم وتوثيق أدلتهم، معتذراً عما كتب حديثاً حول هذا الموضوع؛ لأنَّني لم أجد - فيما عثرت عليه- ما يمكن أن يبنى عليه غيره؛ لذلك لم أجد الطريق أمامي ممهَّداً - كما صوّره لي بعض الناصحين- وإنَّما وجدته يحتاج إلى خبرة
তার ঘর যেন হয়ে পড়েছে এক বাধ্যতামূলক কারাবাস! এই জাতীয় নানা চিন্তা যা সচ্চরিত্রতাকে সমূলে ধ্বংস করে দেয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনৈতিকতার দিকে আহ্বান জানায়। আর এসকল কিছুর প্রথম ও শেষ লক্ষ্য হলো: মুসলিম পরিবার।

সেই সব সন্দেহজনক প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো বয়ঃপ্রাপ্ত স্বাধীন নারীর বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবকত্বের (ওয়ালায়া) আবশ্যকতা এবং মুসলিমদের সামাজিক জীবনে এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখা। ইসলাম ও সচ্চরিত্রতার শত্রুদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই সন্দেহজনক প্রশ্ন ও আপত্তিকর বিশেষণগুলো এই বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ জাগিয়ে তুলত না, যদি না তা অনেক মুসলিম সমাজে প্রতিধ্বনিত হতে শুরু করত। প্রায়শই তারা ফিকহী মতপার্থক্যের ছত্রছায়ায় অজুহাত দেখায় বা আত্মগোপন করে; অথচ তারা জানে না অথবা জেনেও না জানার ভান করে যে, মুসলিমদের সামাজিক জীবনে যে বিষয়টির শ্রেষ্ঠত্ব ও গুরুত্বের ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত—যা এর মৌলিকত্ব ও পূর্ণতার দ্বারা স্বতন্ত্র—সেখানে শিথিলতা প্রদর্শনের জন্য ফিকহী মতপার্থক্য কোনো অজুহাত হতে পারে না। কেননা সচ্চরিত্রতা ও গুণাবলি মতভেদের ঊর্ধ্বে, আর অনিষ্ট রোধ করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য। নিজের ও সমাজের কল্যাণকামী তো সেই ব্যক্তি, যে সচ্চরিত্রতার আদর্শকে আঁকড়ে ধরে এবং তার সর্বোচ্চ অর্থের দিকে আহ্বান জানায়; সেই ব্যক্তি নয়, যে এর গুরুত্বকে তুচ্ছ করে দেখে যেন একে নির্মূল করার দায়িত্ব তাকেই দেওয়া হয়েছে।

এ কারণেই আমার যাবতীয় মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) রেখে যাওয়া বাণী ও তাদের দলিলের অনুসরণের ওপর, যাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য প্রবৃত্তির তাড়নায় ছিল না; বরং তা ছিল দলিলের মাধ্যমে সত্য অন্বেষণের জন্য, এমন ইলমের মাধ্যমে যা তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অন্বেষণ করেছিলেন এবং এমন নিয়তের মাধ্যমে যা তাঁরা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেছিলেন। সুতরাং আমি তাঁদের মূল উৎসগুলোতে সেই নিদর্শনগুলো অনুসরণে সচেষ্ট হয়েছি, তাঁদের মূল পাঠসমূহ (নসুস) অনুধাবনে ও তাঁদের দলিলসমূহ প্রমাণীকরণে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এই বিষয়ে আধুনিককালে যা কিছু লেখা হয়েছে তা গ্রহণ করতে না পারায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি; কারণ—আমি যা পেয়েছি তার মধ্যে—এমন কিছু পাইনি যা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হতে পারে। ফলে আমার সামনের পথটি প্রশস্ত বা মসৃণ ছিল না—যেমনটি কিছু হিতাকাঙ্ক্ষী আমার কাছে চিত্রিত করেছিলেন—বরং আমি একে এমন এক পথ হিসেবে পেয়েছি যার জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بمسالكه، وعزم على تجشّم صعابه، وكلّها مما يقصر دونها عزمي، وتقلّ بها معرفتي، ولكن على العامل بذل جهده، وصدق توكّله، وعلى الله عونه.

وقد التزمت في هذا البحث بالمنهج التالي:

أولاً: اعتماد المذاهب الأربعة في هذه الرسالة؛ لاعتمادها عند أهل الحقِّ من المسلمين، ولندرة ما يفوت أنصارها من الحقِّ المبين، ومع هذا فإنَّني أذكر بعض أقوال أهل الظاهر وغيرهم من العلماء المشهورين إذا كان قولهم مما اشتهر ذكره في كتب الخلاف.

ثانياً: بيان مدلول عناوين مباحثه من حيث اللّغة، والشرع أو الاصطلاح.

ثالثاً: إذا كانت المسألة محلَّ اتفاق فأذكر أظهر أدلّتها وتوجيهًا مختصرًا لها مع ذكر عمدة مصادرها وكفى.

وأمّا إن كانت محلَّ خلاف فأحرِّر موضع الخلاف أولاً، ثم أذكر الأقوال فيها إجمالاً، ثم أتبعها بالتفصيل بذكر كلِّ قول وعزوه لأشهر قائليه من مختلف المذاهب، ثم دليل كلِّ قول ومناقشة كلِّ دليل- حين يوجد ما يدعو إلى المناقشة- ثم بيان الرَّاجح في خاتمة تلك المسألة ما أمكن.

وقد أعدل عن ذكر كلِّ قول مع مثيله إلى ذكر كلِّ مذهب من المذاهب الأربعة استقلالاً، وبيان ما فيه من تفصيل وتوجيه، -وهذا قليل
এর পথসমূহ সম্পর্কে এবং এর প্রতিকূলতাগুলো বরণের সংকল্প করেছি, যার সবকিছুর সামনে আমার সংকল্প অত্যন্ত নগণ্য এবং আমার জ্ঞান সীমিত। তবে একজন কর্মীর কর্তব্য হলো তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং নিষ্ঠার সাথে তাওয়াক্কুল করা, আর আল্লাহর পক্ষ হতেই সাহায্য আসে।

আমি এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

প্রথমত: এই অভিসন্দর্ভে চারটি মাযহাবের ওপর নির্ভর করা হয়েছে; কারণ মুসলিমদের মধ্যে যারা সত্যপন্থী তাদের নিকট এগুলো নির্ভরযোগ্য এবং এই মাযহাবগুলোর অনুসারীদের নিকট হতে সুস্পষ্ট সত্যের খুব সামান্য বিষয়ই অগোচরে থাকে। এর পাশাপাশি, আমি জাহেরি মাযহাবের অনুসারী এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ আলেমদের কিছু উক্তিও উল্লেখ করেছি, যদি তাদের সেই বক্তব্যটি মতভেদ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে প্রসিদ্ধি লাভ করে থাকে।

দ্বিতীয়ত: গবেষণার আলোচনার শিরোনামগুলোর শাব্দিক, শারয়ি বা পারিভাষিক অর্থ বর্ণনা করা।

তৃতীয়ত: যদি বিষয়টি ঐকমত্যের স্থল হয়, তবে এর সর্বাধিক স্পষ্ট দলিলসমূহ এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রধান উৎসগুলোর উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

পক্ষান্তরে যদি বিষয়টি মতভেদের স্থল হয়, তবে প্রথমে আমি মতভেদের ক্ষেত্রটি বিশ্লেষণ করেছি, এরপর সংশ্লিষ্ট মতসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। অতঃপর বিস্তারিত আলোচনায় প্রতিটি মত বর্ণনা করে বিভিন্ন মাযহাবের প্রসিদ্ধ প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করেছি। এরপর প্রতিটি মতের স্বপক্ষে দলিল এবং দলিলাদির পর্যালোচনা—যেখানে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে—পেশ করেছি এবং পরিশেষে যথাসম্ভব সেই বিষয়ের অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করেছি।

কখনো কখনো সমজাতীয় মতগুলো একসাথে উল্লেখ না করে চারটি মাযহাবের প্রত্যেকটি আলাদাভাবে উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছি—তবে এটি খুব অল্প ক্ষেত্রেই হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في هذه الرسالة- وإنَّما أعدل إلى ذلك حين يكون هذا المنهج أكثر اختصاراً ووضوحاً ممّا يغني عن كثرة التقاسيم بلا جدوى حقيقية منها، وحينئذ أذكر المذاهب الأربعة على ترتيبها الزمني.

رابعاً: العمدة في عزو كلّ قول وتوجيهه هو كتب المذاهب الأربعة المعتبرة عند أصحابها أولاً، ثم الكتب المساعدة من كتب الخلاف والتفسير وشروح الحديث ثانياً، محاولاً قدر الإمكان اختيار أحسنها توجيهًا وتحريراً.

خامساً: توثيق الأدلّة -ما أمكن- وهذا -في نظري- من أهمّ مميّزات هذه الرسالة، وأحبّ عمل لي فيها، فإن كان الدليل من الكتاب العزيز فهو غنيّ عن التوثيق، فالبحث في دلالته لا في ثبوته، وإنما أذكر اسم السورة ورقم الآية للأمن من تحريفها، ولسهولة الرجوع إليها.

وأمَّا إن كان الدليل من الأحاديث النبويَّة أو الآثار المرويّة عن الصحابة فقد التزمت فيها بقاعدة "الحكم فرع عن دليله"، والبحث في توثيقها ذو وجهين هما:

‌‌1- توثيق نسبته إلى من خرّجه.

‌‌2- توثيق إسناده.

فأمَّا الوجه الأوَّل: وهو توثيق نسبة الحديث أو الأثر إلى من خرّجه من الأئمة فأرجو أن يكون قد تم على أحسن حال، وكان عملي فيه على النحو التالي:
এই রিসালায়— আমি কেবল তখনই এই পদ্ধতির অনুসরণ করেছি যখন এটি অধিকতর সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট হয়, যা কোনো বাস্তব সুফলহীন অতিরিক্ত শ্রেণিবিভাগের প্রয়োজনীয়তা নিরসন করে। এমতাবস্থায় আমি চার মাজহাবকে তাদের কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী উল্লেখ করেছি।

চতুর্থত: প্রতিটি মতের সূত্র প্রদান ও সেগুলোর ব্যাখ্যা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মূল নির্ভরতা হলো প্রথমত চার মাজহাবের অনুসারীদের নিকট নির্ভরযোগ্য তাদের স্ব-স্ব কিতাবসমূহ; এরপর দ্বিতীয়ত সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে তুলনামূলক ফিকহ, তাফসির এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ। এক্ষেত্রে যথাসম্ভব সর্বোত্তম ব্যাখ্যা ও পরিমার্জন সম্বলিত কিতাবগুলো নির্বাচনের চেষ্টা করা হয়েছে।

পঞ্চমত: দলিলের প্রামাণিকতা যাচাই —যথাসম্ভব— এবং এটি আমার দৃষ্টিতে এই রিসালার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয় কাজ। দলিল যদি মহাগ্রন্থ কুরআন থেকে হয়, তবে তা সত্যতা প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়; সেক্ষেত্রে গবেষণা কেবল এর অর্থগত নির্দেশনার ওপর হবে, এর প্রমাণের ওপর নয়। আমি কেবল বিকৃতি থেকে সুরক্ষা এবং সহজে তথ্যসূত্র খুঁজে পাওয়ার নিমিত্তে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

আর দলিল যদি নববী হাদিস কিংবা সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণিত আসার হয়, তবে সেক্ষেত্রে আমি "বিধান হলো তার দলিলের শাখা" —এই মূলনীতি অনুসরণ করেছি। আর এগুলোর প্রামাণিকতা অনুসন্ধানের বিষয়টি দুটি দিক সংশ্লিষ্ট:

‌‌১- হাদিসটি যিনি সংকলন করেছেন, তাঁর দিকে এর সম্বন্ধের সত্যতা যাচাই।

‌‌২- এর সনদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই।

প্রথম দিকটি হলো: হাদিস বা আসারটি যে ইমাম সংকলন করেছেন, তাঁর দিকে এর সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই। আশা করি এটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أ- استيفاء تخريج الحديث أو الأثر إذا ورد للاستدلال أصالة، ولو كان في الصحيحين أو أحدهما؛ لتوحيد التخريج أولاً، ولما في تعدّد طرق التخريج من القوة التي ينجبر بها الضعيف، ويقوى بها القويّ، وأما إن كان ورود الحديث أو الأثر استشهادًا أو استطرادًا فأكتفي بما يدل على ثبوته مع الإحالة على تخريجه في كتب التخريج المعروفة إن وجد فيها.

ب- الرجوع إلى المصدر الأصليّ لعزوه إليه بدون وساطة ما أمكن.

ج- أصرّح بنسبة اللفظ المختار منها إلى من خرّجه؛ لاختلاف الألفاظ وتعذُّر ذكرها، ولسهولة الرجوع إلى اللفظ في مصدره.

د- أذكر في حواشي الرسالة الجزء والصفحة، ثم الكتاب فالباب؛ لسهولة مراجعته حين تختلف الأجزاء والصفحات؛ لاختلاف طبعاتها. والمصادر المعتمدة في هذا التخريج هي: موطأ الإمام مالك، ومسند الإمام أحمد، وصحيح البخاري، وصحيح مسلم، وسنن أبي داود، وجامع الترمذي، وسنن النسائي، وسنن ابن ماجه، وسنن الدارمي، والمنتقى لابن الجارود، وشرح معاني الآثار للطحاوي، وسنن الدارقطني، ومستدرك الحاكم، والسنن الكبرى للبيهقي، وقد أضيف إليها شيئًا من مصنّف عبد الرزاق، وسنن سعيد بن منصور، ومسند الطيالسيّ، وموارد الظمآن إلى صحيح ابن حبان.
ক- হাদীস বা আসারের পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা যখন তা মৌলিকভাবে দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যদিও তা সহীহাইন বা তাদের কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে; প্রথমত তাখরীজের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এবং দ্বিতীয়ত তাখরীজের একাধিক সূত্রের মাধ্যমে যে শক্তি অর্জিত হয় যা দ্বারা দুর্বল বর্ণনা সবল হয় এবং সবল বর্ণনা আরও শক্তিশালী হয়। আর যদি হাদীস বা আসারটি সমর্থনসূচক বা প্রাসঙ্গিক হিসেবে আসে, তবে আমি তার প্রামাণিকতা নির্দেশকারী তথ্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি এবং প্রসিদ্ধ তাখরীজ গ্রন্থসমূহে তার রেফারেন্স প্রদান করি যদি তাতে তা পাওয়া যায়।

খ- সাধ্যানুযায়ী কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তার উদ্ধৃতি প্রদান করা।

গ- নির্বাচিত শব্দগুচ্ছকে তার সংকলকের দিকে স্পষ্টভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা; কারণ শব্দের ভিন্নতা থাকে এবং সব বর্ণনা উল্লেখ করা দুঃসাধ্য, আর মূল উৎসে শব্দটি খুঁজে পাওয়া সহজ করার জন্য এটি করা হয়েছে।

ঘ- আমি গবেষণাপত্রের পাদটীকায় খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর, এরপর কিতাব ও অধ্যায় উল্লেখ করি; যাতে বিভিন্ন সংস্করণের কারণে খণ্ড ও পৃষ্ঠা ভিন্ন হলেও তা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এই তাখরীজের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ হলো: ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, ইমাম আহমদের মুসনাদ, সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে দারেমী, ইবনুল জারূদের আল-মুনতাকা, ত্বহাবী রহ.-এর শারহু মাআনিল আসার, সুনানে দারা কুতনী, হাকেমের মুস্তাদরাক এবং বায়হাকীর আস-সুনানুল কুবরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আব্দুর রাজ্জাকের মুসান্নাফ, সাঈদ বিন মানসুরের সুনান, তায়ালিসীর মুসনাদ এবং সহীহ ইবনে হিব্বানের মাওয়ারিদুজ জামআন থেকেও সংযোজন করি।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
هـ- أذيِّل هذا التخريج بالإحالة أيضاً على كتب تخريج أدلّة المذاهب -إن وجد الحديث أو الأثر في شيء منها- كنصب الرَّاية للزيلعي في أدلّة مذهب الحنفية، والتلخيص الحبير لابن حجر العسقلاني في أدلّة مذهب الشافعية، وإرواء الغليل للألباني في أدلّة مذهب الحنابلة.

وأمَّا الوجه الثَّاني من توثيق الأدلَّة -وهو توثيق أسانيدها- فقد كان عملي فيه بقدر ما تستوعبه المباحث الفقهية من معرفة صحّة الدّليل بأيسر طريق، فإنّ بسط القول في توثيق جميع رواة الإسناد يتطلّب إفراد أكثر الأسانيد برسالة مستقلّة، ولهذا كان عملي فيه على النحو التالي:

أ- إن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما فإسناده غنيٌّ عن

التصحيح، إلا إذا كانت له علّة مشهورة، فأذكرها مع الجواب عنها، مثل ما جاء في حديث ابن عبّاس رضي الله عنهما مرفوعاً "الأيمّ أحق بنفسها من وليّها، والبكر تستأذن في نفسها، وإذنها صماتها". فقد رواه الإمام مسلم وغيره بهذا اللفظ، وبلفظ آخر عن سفيان بن عيينة بزيادة "والبكر يستأذنها أبوها"، ولهذا طعن في هذه الزيادة من أثبت للأب إجبار البكر.

ب- وإن كان الحديث خارجاً عن الصحيحين فالبحث في بيان علله من حيث الرفعُ والوقف والوصل والقطع والإرسال أو ضعف راويه خاصةً إذا كانت العلّة مشهورة ويتوقف عليها بيان الرَّاجح.

ج- ترجمة موجزة لمن دعت الحاجة إلى معرفتهم من رجال الإسناد - محلّ البحث- وقد جاريت في التعريف بهم الحافظ ابن حجر في
ঙ- আমি এই তাখরিজ বা উৎস নির্দেশনায় মাযহাবসমূহের দলিলগুলোর তাখরিজ গ্রন্থের দিকেও ইঙ্গিত করেছি—যদি সেসব গ্রন্থে হাদিস বা আসার পাওয়া যায়—যেমন হানাফি মাযহাবের দলিল সম্পর্কে যাইলায়ির 'নাসবুর রায়াহ', শাফেয়ি মাযহাবের দলিল সম্পর্কে ইবনে হাজার আল-আসকালানির 'আত-তালখিস আল-হাবীর' এবং হাম্বলি মাযহাবের দলিল সম্পর্কে আলবানির 'ইরওয়াউল গালীল'।

দলিলসমূহ নির্ভরযোগ্য করার দ্বিতীয় দিকটি হলো—এগুলোর সনদ বা বর্ণনাপরম্পরা নির্ভরযোগ্য করা। এ ক্ষেত্রে আমার কাজ ছিল ফিকহি আলোচনার পরিসরে যতটা সম্ভব সহজ উপায়ে দলিলের বিশুদ্ধতা জানা। কেননা, সনদের সকল বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে অধিকাংশ সনদের জন্য পৃথক স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রয়োজন হতো। এ কারণে এ বিষয়ে আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:

ক- হাদিসটি যদি সহীহাইন বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে এর সনদ নতুন করে যাচাই করার

প্রয়োজন নেই। তবে যদি তাতে কোনো প্রসিদ্ধ ত্রুটি থাকে, তবে আমি তা উত্তরসহ উল্লেখ করেছি। যেমন ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত মারফু হাদিসে এসেছে: "অভিভাবকের তুলনায় বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার, আর কুমারী কন্যার নিকট তার ব্যাপারে অনুমতি চাওয়া হবে এবং তার নীরবতাই তার অনুমতি।" ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, আর সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে অন্য শব্দে "এবং কুমারী কন্যার নিকট তার পিতা অনুমতি চাইবেন" অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণিত হয়েছে। এই কারণে যারা কুমারী কন্যাকে বিবাহে বাধ্য করার বিষয়ে পিতার অধিকার সাব্যস্ত করেন, তারা এই অতিরিক্ত অংশটির সমালোচনা করেছেন।

খ- হাদিসটি যদি সহীহাইনের বাইরে হয়, তবে গবেষণার বিষয়বস্তু হলো এর মারফু, মাওকুফ, মাওসুল, মাকতু ও মুরসাল হওয়া বা বর্ণনাকারীর দুর্বলতা সংক্রান্ত ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করা; বিশেষ করে যদি ত্রুটিটি প্রসিদ্ধ হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি এর ওপর নির্ভর করে।

গ- সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যাদের সম্পর্কে জানা প্রয়োজন—যা গবেষণার আওতাভুক্ত—তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী; আর তাদের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি হাফিজ ইবনে হাজারকে অনুসরণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
"تقريب التهذيب" فنقلت عبارته مع تصرّف يسير باختصارها أو حلّ رموزها باللَّفظ الصريح، ثم أحيل على "تهذيب التهذيب" لمن رغب المزيد، وقد أضيف إليهما "ميزان الاعتدال" للذهبي، أو "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم لزيادة فيهما، وأعتمدهما عندما لا أجد للرّاوي ترجمة في "التقريب" و "التهذيب".

د- أحاول- قدر الإمكان- إبداء رأيي في صحّة الإسناد، أو ضعفه، بما سيراه القارئ لهذه الرسالة بعون الله تعالى.

سادساً: المصطلحات والرموز:

لقد حاولت قدر الإمكان إخلاء هذه الرسالة من المصطلحات والرموز التي كثيراً ما شَغَلَتِ الذّهن، وأوقعت في الوهم، وصدّت عن المراد، حتى كانت جنايتها على بعض الكتب لا تقارن بفائدة الاختصار المقصودة منها، إلا أنه ورد في تخريج أحاديث هذه الرسالة بعض المصطلحات التي جاريت فيها غيري، لأن شهرتها أو وضوحها تغني القارئ عن تكرار المراد منها ومن ذلك:

أ- "رواه الستة": أو "حديثه عند أصحاب الكتب الستة":

فالمراد بذلك: البخاري ومسلم في صحيحيهما، وأبو داود في

سننه، والترمذي في جامعه، والنسائي في سننه، وابن ماجه في سننه.

ب- "متفق عليه": أي عند البخاري ومسلم.
"তাকরীবুত তাহযীব" থেকে আমি এর বক্তব্য সামান্য পরিবর্তনসহ সংক্ষিপ্ত আকারে অথবা এর সংকেতগুলোকে স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে উদ্ধৃত করেছি। এরপর যে ব্যক্তি আরও বেশি জানতে আগ্রহী তার জন্য "তাহযীবুত তাহযীব"-এর প্রতি নির্দেশ করেছি। অনেক সময় এ দুটির সাথে আয-যাহাবীর "মীযানুল ইতিদাল" অথবা ইবনে আবি হাতিমের "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যোগ করা হয়েছে। আর যখন আমি "তাকরীব" এবং "তাহযীব"-এ কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী পাই না, তখন আমি এ দুটির ওপর নির্ভর করি।

৪- আমি যথাসম্ভব সনদের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে আমার মতামত প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি, যা এই সন্দর্ভটির পাঠক আল্লাহর সাহায্যে দেখতে পাবেন।

ষষ্ঠ: পরিভাষা এবং সংকেতসমূহ:

আমি যথাসম্ভব এই গবেষণাপত্রটিকে এমন সব পরিভাষা ও সংকেত থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি যা প্রায়শই মনকে বিভ্রান্ত করে, সংশয়ে নিপতিত করে এবং উদ্দিষ্ট অর্থ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এমনকি কিছু কিতাবের ক্ষেত্রে এগুলোর ক্ষতি সংক্ষিপ্তকরণের কাঙ্ক্ষিত উপকারের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই গবেষণাপত্রের হাদিসসমূহের তাখরীজের ক্ষেত্রে এমন কিছু পরিভাষা এসেছে যেগুলোতে আমি অন্যদের অনুসরণ করেছি; কারণ সেগুলোর প্রসিদ্ধি বা স্পষ্টতা পাঠককে সেগুলোর অর্থের পুনরাবৃত্তি থেকে অমুখাপেক্ষী রাখে। তার মধ্যে রয়েছে:

ক- "ছয়জন এটি বর্ণনা করেছেন": অথবা "তার হাদিস কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের নিকট রয়েছে":

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহদ্বয়ে, আবু দাউদ তার সুনানে, তিরমিযী তার জামে'-তে, নাসাঈ তার সুনানে এবং ইবনে মাজাহ তার সুনানে।

খ- "মুত্তাফাকুন আলাইহি": অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমের নিকট।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ج- "رواه الأربعة": هم أصحاب الكتب الستة عدا البخاري ومسلم.

د- الاستغناء بذكر شهرة أصحاب تلك الكتب عن التصريح باسم الكتاب الحقيقي.

هـ- أذكر في هوامش الرسالة الجزء والصفحة ثم الكتاب فالباب، إلأ أنني كثيرًا ما أحذف لفظ "كتاب" وأختصر اسم الشرح المصاحب له لوضوحه، وإليك مثالاً يتضح به المراد بالمصطلحين الأخيرين:

فمثلاً قولي: "الترمذي: (4/ 226 تحفة) نكاح، باب ما جاء في الولي": أي رواه الترمذي في جامعه، الجزء الرابع في الصفحة السادسة والعشرين بعد المائتين مع شرحه تحفة الأحوذي للمحدِّث (المباركفوري) في "كتاب النِّكاح، باب ما جاء في الوليّ".

و حيث ورد اسم الحافظ مطلقاً، فالمراد به "الإمام الحافظ أحمدبن علي بن حجر العسقلاني صاحب فتح الباري".
গ- "চারজন বর্ণনা করেছেন": তাঁরা হলেন বুখারী ও মুসলিম ব্যতীত কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) অন্য চারজন রচয়িতা।

ঘ- কিতাবের প্রকৃত নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সকল কিতাবের রচয়িতাদের প্রসিদ্ধি উল্লেখ করার ওপর নির্ভর করা।

ঙ- আমি এই গবেষণাপত্রের টীকায় খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর, তারপর কিতাব ও পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছি; তবে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে আমি প্রায়ই "কিতাব" শব্দটি বাদ দিয়েছি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম সংক্ষিপ্ত করেছি। শেষোক্ত পরিভাষা দুটি স্পষ্ট করার জন্য এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

উদাহরণস্বরূপ আমার উক্তি: "তিরমিযী: (৪/ ২২৬ তুহফাহ) নিকাহ, বাব মা জাআ ফিল ওয়ালী": অর্থাৎ এটি ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যা মুহাদ্দিস (মুবারকপুরী) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তুহফাতুল আহওয়াযী' সহ চতুর্থ খণ্ডের ২২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় "বিবাহ অধ্যায়, অভিভাবক বিষয়ক অনুচ্ছেদে" রয়েছে।

চ- যেখানেই সাধারণভাবে "আল-হাফিয" নামটি উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থের লেখক "ইমাম হাফিয আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী"।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
خطة البحث:

وأمّا خطّة البحث في هذه الرسالة فهي تتكون من: مقدِّمة وتسعة فصول:

وقد اشتملت المقدِّمة على: الافتتاحية، وسبب الاختيار، وأهميَّة الموضوع، ومنهج البحث.

وأمَّا الفصول التسعة فهي كالتالي:

الفصل الأول: تمهيد، ويتكون من أربعة مباحث:

المبحث الأول: في معنى الولاية.

المبحث الثاني: في معنى النِّكاح.

المبحث الثالث: في مشروعية النِّكاح وحكمته.

المبحث الرابع: في مشروعيّة الولاية في النِّكاح وحكمتها.

الفصل الثّاني: في الولاية في النِّكاح على الحرّة المكلَّفة:

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تمهيد في بيان الأسباب الموجبة للولاية على النفس عموماً.

المبحث الثاني: بيان مذاهب الفقهاء وأدلَّتها في ولاية النِّكاح على الحرَّة المكلّفة.

الفصل الثالث: في استئذان الوليّ للحرة المكلّفة في نكاحها.

وفيه مبحثان وخاتمة:
গবেষণার পরিকল্পনা:

আর এই গবেষণাপত্রের গবেষণার পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা ও নয়টি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

ভূমিকাটি প্রারম্ভিকা, নির্বাচনের কারণ, বিষয়ের গুরুত্ব এবং গবেষণা পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত।

আর নয়টি অধ্যায় নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়: ভূমিকা, যা চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অভিভাবকত্বের অর্থ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের অর্থ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের শরয়ি বিধান ও এর হিকমত প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবাহে অভিভাবকত্বের শরয়ি বিধান ও এর হিকমত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: স্বাধীন ও মুকাল্লাফ নারীর বিবাহে অভিভাবকত্ব প্রসঙ্গে:

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে ব্যক্তির ওপর অভিভাবকত্ব আবশ্যক হওয়ার কারণসমূহের বর্ণনায় ভূমিকা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বাধীন ও মুকাল্লাফ নারীর বিবাহে অভিভাবকত্ব বিষয়ে ফকিহগণের মাযহাব ও তাঁদের দলীলসমূহের বর্ণনা।

তৃতীয় অধ্যায়: স্বাধীন ও মুকাল্লাফ নারীর বিবাহের ক্ষেত্রে অভিভাবক কর্তৃক অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে।

এতে দুটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহার রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: في استئذان البكر البالغ.

المبحث الثَّاني: في استئذان الثيّب البالغ.

والخاتمة: إذا أُنكحت من يعتبر إذنها بدون إذنها فما الحكم؟

الفصل الرابع: في الولاية على الصغار في النِّكاح:

ويشتمل على ثلاثة مباحث.

المبحث الأول: في ثبوت الولاية على الصغار في النِّكاح.

المبحث الثَّاني: في إنكاح الصغار أنفسهم.

المبحث الثَّالث: في تزويج الأولياء للصغار.

الفصل الخامس: الولاية في النِّكاح على المجانين.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: في ثبوت الولاية على المجانين في النِّكاح.

المبحث الثَّاني: في تزويج الأولياء لهم.

الفصل السادس: الولاية في النِّكاح على السفيه:

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: في معنى السّفه لغة واصطلاحاً.

المبحث الثَّاني: في المقصود بالسفيه في هذا المبحث.

المبحث الثَّالث: الولاية على السّفيه في ماله.

المبحث الرَّابع: الولاية على السفيه في نكاحه.

الفصل السابع: في الولاية على الأرقاء في النِّكاح.

ويشتمل على خمسة مباحث:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাপ্তবয়স্কা অকুমারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে।

উপসংহার: যার অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক, তাকে যদি তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার বিধান কী?

চতুর্থ অধ্যায়: বিবাহে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অভিভাবকত্ব প্রসঙ্গে:

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বয়ং বিয়ে করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অভিভাবকদের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: বিবাহে পাগলদের ওপর অভিভাবকত্ব।

এটি দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহে পাগলদের ওপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অভিভাবকদের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: বিবাহে নির্বোধ ব্যক্তির ওপর অভিভাবকত্ব:

এটি চারটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে নির্বুদ্ধিতার (সাফাহ) পরিচয় প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই আলোচনায় নির্বোধ (সাফিহ) ব্যক্তি দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নির্বোধ ব্যক্তির সম্পদের ওপর অভিভাবকত্ব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নির্বোধ ব্যক্তির বিবাহে অভিভাবকত্ব।

সপ্তম অধ্যায়: বিবাহে দাস-দাসীদের ওপর অভিভাবকত্ব প্রসঙ্গে।

এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الأول: في ثبوت الولاية عليهم في النِّكاح.

المبحث الثَّاني: في تزويج الأسياد أرقاءهم.

المبحث الثَّالث: في تزويج الأرقاء لأنفسهم.

المبحث الرَّابع: في إجبار الأرقاء على النِّكاح.

المبحث الخامس: في خيار الأمة إذا أعتقت تحت زوج.

الفصل الثامن: في أسباب الولاية في النِّكاح.

ويشتمل على تمهيد وسبعة مباحث:

فالتمهيد: في بيان المقصود بأسباب الولاية في هذا الفصل.

والمبحث الأول: في سبب الولاية بالقرابة.

والمبحث الثاني: في سبب الولاية بالولاء.

والمبحث الثالث: في سبب الولاية بالإمامة أو "السلطنة".

والمبحث الرابع: في سبب الولاية بالكفالة.

والمبحث الخامس: في سبب الولاية بالإسلام.

والمبحث السادس: في سبب الولاية بالوكالة عن الوليّ.

والمبحث السابع: في سبب الولاية بالوصيّة من الوليّ.

الفصل التاسع: في شروط الوليّ في النِّكاح.

ويشتمل على تمهيد وثمانية مباحث:

التمهيد: في بيان المراد بشروط الوليّ في النِّكاح، وتعريف لكلّ

من الشرط والمانع.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহে তাদের ওপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মনিবদের পক্ষ থেকে তাদের দাস-দাসীদের বিবাহ দেওয়া প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দাস-দাসীদের নিজেদের বিবাহের উদ্যোগ গ্রহণ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দাস-দাসীদের বিবাহে বাধ্য করা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিবাহিত অবস্থায় দাসী মুক্ত হলে তার ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকার প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: বিবাহে অভিভাবকত্বের কারণসমূহ প্রসঙ্গে।

এটি একটি ভূমিকা এবং সাতটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

ভূমিকা: এই অধ্যায়ে অভিভাবকত্বের কারণসমূহ দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তার বর্ণনা প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আত্মীয়তার সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘ওয়ালা’ (দাসমুক্ত করার সম্পর্ক)-এর সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘ইমামত’ বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ‘কাফালাত’ বা লালন-পালনের সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইসলামের সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অভিভাবকের পক্ষ থেকে ওকালতি বা প্রতিনিধিত্বের সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: অভিভাবকের পক্ষ থেকে অসিয়ত বা উপদেশের সূত্রে অভিভাবকত্ব লাভের কারণ প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: বিবাহে অভিভাবকের শর্তাবলি প্রসঙ্গে।

এটি একটি ভূমিকা এবং আটটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

ভূমিকা: বিবাহে অভিভাবকের শর্তাবলি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তার বর্ণনা, এবং ‘শর্ত’ (শর্ত) ও ‘মানে’ (প্রতিবন্ধক)-এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والمبحث الأول: في اشتراط الذّكوريّة في ولي النِّكاح.

والمبحث الثاني: في اشتراط البلوغ.

والمبحث الثالث: في اشتراط العقل.

والمبحث الرابع: في اشتراط الحرّية.

والمبحث الخامس: في اشتراط الإسلام.

والمبحث السادس: في اشتراط العدالة.

والمبحث السابع: في اشتراط الرّشد.

والمبحث الثامن: في اشتراط عدم الإحرام بحج أوعمرة.

الفهارس: وقد ألحقت بهذه الرسالة ثمانية فهارس، هي:

الفهرس الأوَّل: للآيات القرآنية الكريمة مرتبة على السور فالآيات.

الفهرس الثَّاني: للأحاديث النبويّة مرتّبة على الحروف مع الإحالة على صفحة التخريج.

الفهرس الثّالث: للآثار عن الصحابة.

الفهرس الرابع: للأبيات الشِّعريّة.

الفهرس الخامس: لغريب اللغة والمصطلحات العلميّة.

الفهرس السّادس: للأعلام الذين أمكن التعريف بهم على ترتيب الحروف.

الفهرس السّابع: للمصادر والمراجع مرتبة على أسامي الفنون ثم الحروف.

الفهرس الثامن: للموضوعات.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহের অভিভাবকের ক্ষেত্রে পুরুষ হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাবালক হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবেকসম্পন্ন হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্বাধীন হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুসলিম হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ন্যায়পরায়ণতার শর্ত প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিচক্ষণতা বা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: হজ বা ওমরাহ’র ইহরাম অবস্থায় না থাকার শর্ত প্রসঙ্গে।

সূচিপত্রসমূহ: এই অভিসন্দর্ভের সাথে আটটি সূচিপত্র যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম সূচিপত্র: পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের, যা সূরা ও আয়াতের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।

দ্বিতীয় সূচিপত্র: নববী হাদিসসমূহের, যা বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত এবং এর সাথে তাখরিজ বা উৎস নির্দেশিত পৃষ্ঠার উদ্ধৃতিসহ।

তৃতীয় সূচিপত্র: সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত আছার বা বাণীর।

চতুর্থ সূচিপত্র: কাব্য পঙ্‌ক্তিসমূহের।

পঞ্চম সূচিপত্র: অপ্রচলিত শব্দাবলি এবং শাস্ত্রীয় পরিভাষাসমূহের।

ষষ্ঠ সূচিপত্র: প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের যাদের পরিচয় প্রদান করা সম্ভব হয়েছে, বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে।

সপ্তম সূচিপত্র: উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের, যা বিষয়ের ধরন ও পরবর্তীতে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত।

অষ্টম সূচিপত্র: বিষয়বস্তুসমূহের।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
شكر وتقدير.

إنَّ الشكر لله عز وجل أولاً وآخراً، فله الحمد كلُّه، وله الشكر كلُّه، لا نحصي نعمه، ولا نحصى ثناء عليه، ما أراده كان، وما لم يرده غير كائن، خلق الإنسان من عدم، وعلّمه ما لم يعلم، وأسبغ عليه نعمه ظاهرة وباطنة، فله الحمد والمنَّة.

ثم الشكر والتقدير والعرفان بالجميل لذوي الفضل والإحسان من علماء إجلاء، وإخوة أوفياء، كانت لهم أياد بيضٌ لم تبخل على هذه الرسالة بلمسات صدق ووفاء، فتحسّست منها مواطن ضعف فقوّته، وخطأ فأصلحته، ونقصاً فأتمَّته، وأخصّ منهم بالذكر فضيلة الدكتور/ محمد عبد الرحمن مندور- رئيس شعبة الفقه بقسم الدراسات العليا بالجامعة الذي أشرف على هذه الرسالة منذ أول لحظاتها، وفي مختلف أطوارها، فأمدَّها بعلمه وتوجيهه وخبرته الطويلة حتى بلغت غايتها، واطمأنت نفسه لتقديمها للحكم لها أوعليها، فجزاه الله عنِّي خير الجزاء، وجزى الله عني خيرًا تلك البقية الباقية من أفاضل العلماء، وكرام الزملاء، الذين آنسوني بحسن التوجيه، وصدق المودّة، ولئن أمسكت عن ذكرهم فليس غضًّا من أقدارهم، ولا زهدًا في معروفهم، ولكنه إكرام لهم بما يحبّون، فجزاهم الله عنِّي خير الجزاء.

والحمد لله أولاً وآخرًا، والصّلاة والسّلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি।

নিশ্চয়ই আদিতে ও অন্তে সকল কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর জন্য; সকল প্রশংসা তাঁরই এবং সকল শুকরিয়া তাঁরই প্রাপ্য। আমরা তাঁর নিয়ামতসমূহ গণনা করতে পারি না এবং তাঁর স্তুতি বর্ণনা করেও শেষ করতে পারি না। তিনি যা ইচ্ছা করেছেন তা-ই হয়েছে, আর যা তিনি ইচ্ছা করেননি তা সংঘটিত হয়নি। তিনি মানুষকে অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। তিনি তার ওপর স্বীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন। সুতরাং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ একান্তই তাঁর জন্য।

অতঃপর সেই সকল বরেণ্য আলিম ও অনুগত ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধতা প্রকাশ করছি, যারা শ্রেষ্ঠত্ব ও সদাশয়তার অধিকারী। এই অভিসন্দর্ভের (থিসিস) ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতার হাতগুলো ছিল অকৃপণ; তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এর দুর্বল দিকগুলো সবল করেছেন, ভুলগুলো সংশোধন করেছেন এবং অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দান করেছেন। আমি তাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে বরেণ্য ডক্টর মুহাম্মদ আবদুর রহমান মান্দুর—বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের ফিকহ শাখার প্রধান—এর নাম উল্লেখ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের একদম শুরু থেকে এর বিভিন্ন পর্যায়ে তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি তাঁর জ্ঞান, দিকনির্দেশনা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে একে সমৃদ্ধ করেছেন যতক্ষণ না এটি চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছে এবং তিনি একে মূল্যায়নের জন্য পেশ করতে আশ্বস্ত হয়েছেন। আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ আরও উত্তম প্রতিদান দান করুন সেই বরেণ্য আলিম ও সম্মানিত সহকর্মীদের, যারা উত্তম দিকনির্দেশনা এবং অকৃত্রিম হৃদ্যতা দিয়ে আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন। আমি যদি তাদের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকি, তবে তা তাদের মর্যাদাকে খাটো করার জন্য নয় কিংবা তাদের উপকারের প্রতি অনাগ্রহ থেকেও নয়; বরং তারা যা পছন্দ করেন সে অনুযায়ী তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন স্বরূপ। আল্লাহ তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الأول: تمهيد في معنى الولاية والنكاح وحكمة مشروعيتهما

‌‌المبحث الأوَّل: معنى الولاية

الوِلاية -بكسر الواو- هي الخِطَّة1، والإمارة، والسُّلطان2. والوِلاية3 - بكسر الواو وفتحها- النصرة4.

قال سيبوبه: الوَلاية "أي بالفتح" المصدر، والوِلاية "أي بالكسر" الاسم مثل الإمارة والنِّقابة، لأنَّه اسم لما توليته وقمت به، فإذا أرادوا المصدر فتحوا5.

وقال ابن الأثير: "وكأنَّ الوِلاية "أي بالكسر" تشعر بالتَّدبير والقدرة

--------------------------------------------

1 بكسر الخاء المعجمة وتشديد الطاء المهملة- وهي الأرض يختطها المرء لنفسه ليعلم أنه قد اختارها وتحجّرها للبناء فيها ونحوه.

انظر مادة "خطّ" الصحاح (3/1123) ، مقاييس اللغة (2/154) ، اللسان (7/288) .

2 أصل مادة (سلط) يدل على معنى القوة والقهر، ولذلك سمي الوالي سلطاناً.

انظر مادة (سلط) . مقاييس اللغة (3/95) ، الصحاح (3/1133) ، اللسان (7/ 321) .

3 انظر مادة ولي الصحاح (6/ 2530) ، اللسان (15/407) القاموس (4/404) ، التاج (10/399) ، المصباح المنير (2/672) .

4 نفس المصادر والصفحات.

5 الصحاح، واللسان، والتاج، نفس الصفحات.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: অভিভাবকত্ব (বিলায়াহ) ও বিবাহের অর্থ এবং এগুলোর বিধানের তাৎপর্য বিষয়ক ভূমিকা

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিভাবকত্বের (বিলায়াহ) অর্থ

বিলায়াহ—ওয়াও বর্ণে কাসরা বা ‘ই’ কার যোগে—হলো পরিকল্পনা বা অধিকারভুক্ত ভূমি, নেতৃত্ব এবং ক্ষমতা। আর বিলায়াহ—ওয়াও বর্ণে কাসরা ও ফাতহা (অর্থাৎ ‘ই’ ও ‘আ’ কার) উভয়ভাবে—এর অর্থ হলো সাহায্য।

সিবওয়াইহ বলেছেন: ওয়ালায়াহ (ফাতহা বা ‘আ’ কার দিয়ে) হলো মাসদার বা ক্রিয়ামূল, আর বিলায়াহ (কাসরা বা ‘ই’ কার দিয়ে) হলো ইমারাত (নেতৃত্ব) ও নিক্বাবাত (তত্ত্বাবধান) এর মতো ইসিম বা বিশেষ্য, কারণ এটি এমন একটি বিষয়ের নাম যা আপনি পরিচালনা করেন এবং যার দায়িত্ব আপনি গ্রহণ করেন। সুতরাং যখন তারা মাসদার বা ক্রিয়ামূলের অর্থ বোঝাতে চান, তখন ফাতহা ব্যবহার করেন।

ইবনুল আসির বলেছেন: "মনে হয় বিলায়াহ (কাসরা দিয়ে) শব্দটি ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা বা শক্তির ইঙ্গিত প্রদান করে।

--------------------------------------------

১. কাসরাযুক্ত খ- বর্ণ এবং তাশদীদযুক্ত ত- বর্ণ সহকারে—এটি এমন ভূমি যা কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয় যাতে জানা যায় যে তিনি এটি নিজের জন্য নির্বাচন করেছেন এবং সেখানে ঘর নির্মাণ বা অনুরূপ কাজের জন্য সীমানা নির্ধারণ করেছেন।

দেখুন: 'খ-ত্ব-ত্ব' শব্দমূল, আস-সিহাহ (৩/১১২৩), মাক্বায়িসুল লুগাহ (২/১৫৪), আল-লিসান (৭/২৮৮)।

২. 'স-ল-ত্ব' শব্দমূলের বুৎপত্তি শক্তি ও দমনের অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে, এই কারণেই শাসককে 'সুলতান' নামকরণ করা হয়েছে।

দেখুন: 'স-ল-ত্ব' শব্দমূল। মাক্বায়িসুল লুগাহ (৩/৯৫), আস-সিহাহ (৩/১১৩৩), আল-লিসান (৭/৩২১)।

৩. দেখুন: 'ওয়া-লা-ইয়া' শব্দমূল, আস-সিহাহ (৬/২৫৩০), আল-লিসান (১৫/৪০৭), আল-ক্বামুস (৪/৪০৪), আত-তাজ (১০/৩৯৯), আল-মিসবাহুল মুনীর (২/৬৭২)।

৪. একই উৎস ও পৃষ্ঠাসমূহ।

৫. আস-সিহাহ, আল-লিসান এবং আত-তাজ, একই পৃষ্ঠাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والفعل، وما لم يجتمع ذلك فيها لم ينطلق عليه اسم الوالي"1.

وقال ابن فارس وغيره: "كلُّ من قام بأمر شخص فهو وليّه"2.

وعلى هذا فالوِلاية بمعناها العام: هي سلطة يملك بها الإنسان القيام على شؤون غيره. وهي لا تكون سلطة شرعية: إلا إذا كانت رعاية لمصالح غيره بمقتضى الشرع.

وعلى هذا يمكن تعريفها شرعاً بأنّها: سلطة شرعيَّة يملك بها القادر على التصرف رعاية شؤون غيره.

فيدخل في هذا التعريف الولاية العامة، أعني ولاية السّلطان على الأمّة، فإنه نائب عنهم شرعاً لرعاية مصالحهم بمقتضى شريعة ربهم.

ويدخل في هذا التعريف أيضاً: أنواع الولايات الخاصة كوِلاية الرجل على أولاده لتربيتهم، وتزويجهم، وحفظ أموالهم.

والذي يهمُّنا في هذا المبحث إنَّما هو تعريف الولاية في النِّكاح في اصطلاح الفقهاء، إلا أنَّني لم أجد تعريفاً يمكن الاعتماد عليه، بل كلُّ

--------------------------------------------

1 النهاية في غريب الحديث لابن الأثير (5/227) ، وعنه ابن منظور في اللسان (15/407) .

2 مقاييس اللغة لابن فارس (6/ 141) . وانظر مادة ولي في: الصحاح (6/2529) ، واللسان (15/ 409) ، وتاج العروس (10/399) ، ومفردات الراغب (533) ، والنهاية في غريب الحديث لابن الأثير (5/228) .
এবং কাজ, আর যখন এগুলোর সমাবেশ ঘটে না তখন তাকে 'ওয়ালি' (অভিভাবক) নাম দেওয়া যায় না"১।

ইবন ফারিস এবং অন্যান্যরা বলেন: "যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, সেই তার ওয়ালি"২।

সেই অনুযায়ী সাধারণ অর্থে অভিভাবকত্ব (বিলায়াহ) হলো: এমন একটি ক্ষমতা যার মাধ্যমে মানুষ অন্যের বিষয়াদি পরিচালনার অধিকার লাভ করে। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত শরয়ি (বৈধ) ক্ষমতা হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না তা শরয়ি বিধান অনুযায়ী অন্যের স্বার্থের দেখাশোনা করার জন্য হয়।

এর ভিত্তিতে শরয়ি পরিভাষায় একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে: এটি এমন একটি শরয়ি ক্ষমতা যা বিষয়াদি পরিচালনায় সক্ষম ব্যক্তিকে অন্যের বিষয়াবলি রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার প্রদান করে।

এই সংজ্ঞার মধ্যে সাধারণ অভিভাবকত্ব অন্তর্ভুক্ত হয়, অর্থাৎ উম্মাহর ওপর সুলতানের (শাসকের) অভিভাবকত্ব। কেননা তিনি তাদের রবের শরয়ি বিধান অনুযায়ী তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য তাদের পক্ষ থেকে শরয়ি প্রতিনিধি।

এই সংজ্ঞার মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বিশেষ অভিভাবকত্বও অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন সন্তানদের লালন-পালন, তাদের বিবাহ প্রদান এবং তাদের সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সন্তানদের ওপর পিতার অভিভাবকত্ব।

এই পরিচ্ছেদে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় হলো ফকিহগণের পরিভাষায় বিবাহের অভিভাবকত্বের সংজ্ঞা। তবে আমি নির্ভরযোগ্য কোনো সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি, বরং প্রতিটি...

--------------------------------------------

১ আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ইবনুল আসির (৫/২২৭); এবং তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন ইবন মানজুর, লিসানুল আরব (১৫/৪০৭)।

২ মাকায়িসুল লুগাহ, ইবন ফারিস (৬/১৪১)। আরও দেখুন 'ওয়ালি' শব্দমূলের অধীনে: আস-সিহাহ (৬/২৫২৯), আল-লিসান (১৫/৪০৯), তাজুল আরুস (১০/৩৯৯), মুফরাদাতুর রাগিব (৫৩৩), এবং আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস, ইবনুল আসির (৫/২২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ما وجدته هو قول بعض الحنفيَّة "إن الولاية هي: تنفيذ القول على الغير شاء أم أبى"1.

واعترض على هذا التعريف بأنّه قاصر على ولاية الإجبار دون ولاية الاختيار2.

والمقصود بولاية الإجبار هي: التي لا اعتبار فيها لإذن الموليِّ3 عليه، فيزوّجه وليّه شاء أم أبى.

وأمّا وِلاية الاختيار فهي بعكسها: وهي التي يعتبر فيها إذن الموليّ عليه، فلا يزوجه وليّه حتى يستأذنه.

ومع أنَّ هذا التعريف غير مانع أيضاً، فهو شامل للولاية عموماً أي على النفس والمال4. وعلى هذا التعريف جرى كلّ من كتب5 في

--------------------------------------------

1 انظر: الدر المختار وحاشية ابن عابدين (3/55) ، والبحر الرائق (3/117) .

2 انظر حاشية ابن عابدين (3/55) ، والأحوال الشخصية لأحمد الحصري (أول صفحة) .

3 المولى -بفتح الميم وإسكان الواو وكسر اللام وتشديد الياء- ويقال أيضاً: بضم الميم وفتح الواو وتشديد اللام المفتوحة- مثل المصلَّى عليه. قاله النووي في تهذيب الأسماء واللغات (2/196 من القسم الثاني) .

4 انظر حاشية ابن عابدين (3/55) .

5 انظر مثلاً: الأحوال الشخصية لأحمد الحصري (أول صفحة) ، والأحوال الشخصية لمحمد أبي زهرة (122) ، والزواج والطلاق في الشريعة الإسلامية والقانون (143) للدكتور بدران أبو العينين، والأحوال الشخصية لمحمد زكريا البرديسي (105) ، وأحكام الأسرة في الإسلام لمحمد مصطفى شلبي (253) .
আমি যা পেয়েছি তা হলো কিছু হানাফী ফকীহদের উক্তি, "নিশ্চয়ই অভিভাবকত্ব হলো: অন্যের ওপর নিজের বক্তব্য কার্যকর করা, সে চাইল বা না চাইল"১।

এই সংজ্ঞার ওপর এই আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এটি কেবল জবরদস্তিমূলক অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ এবং স্বেচ্ছামূলক অভিভাবকত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে না২।

জবরদস্তিমূলক অভিভাবকত্ব বলতে উদ্দেশ্য হলো: যাতে যার ওপর অভিভাবকত্ব করা হচ্ছে তার অনুমতির কোনো তোয়াক্কা করা হয় না, ফলে তার অভিভাবক তাকে বিয়ে দিয়ে দেন, সে চাইল বা না চাইল৩।

আর স্বেচ্ছামূলক অভিভাবকত্ব হলো এর বিপরীত: এটি এমন এক অভিভাবকত্ব যাতে যার ওপর অভিভাবকত্ব করা হচ্ছে তার অনুমতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে বিবেচিত হয়, ফলে তার অভিভাবক তার অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেন না।

যদিও এই সংজ্ঞাটি অন্যান্য বিষয়কে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ (মানি' নয়), তবুও এটি সাধারণভাবে ব্যক্তি ও সম্পদের অভিভাবকত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে৪। এই সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই তারা চলেছেন যারা এ বিষয়ে৫ লিখেছেন...

--------------------------------------------

১ দেখুন: আদ-দুররুল মুখতার ও হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৩/৫৫), এবং আল-বাহরুর রায়েক (৩/১১৭)।

২ দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৩/৫৫), এবং আহমদ আল-হুসারীর আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ (প্রথম পৃষ্ঠা)।

৩ আল-মুওয়াল্লা —মিম-এ ফাতহাহ, ওয়াও-এ সুকুন, লাম-এ কাসরাহ এবং ইয়া-তে তাশদীদ সহযোগে— এবং এটি মিম-এ দম্মাহ, ওয়াও-এ ফাতহাহ এবং লাম-এ ফাতহাহ ও তাশদীদ সহযোগেও বলা হয়— যেমন 'আল-মুসাল্লা আলাইহি'। ইমাম নববী এটি 'তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত'-এ (২/১৯৬, দ্বিতীয় অংশ) বলেছেন।

৪ দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৩/৫৫)।

৫ উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আহমদ আল-হুসারীর আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ (প্রথম পৃষ্ঠা), মুহাম্মদ আবু জাহরার আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ (১২২), ড. বদরান আবু আইনায়নের আজ-জাওয়াজ ওয়াত তালাক ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুন (১৪৩), মুহাম্মদ জাকারিয়া আল-বারদিসীর আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ (১০৫), এবং মুহাম্মদ মুস্তফা শালবীর আহকামুল উসরাহ ফিল ইসলাম (২৫৩)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأحوال الشخصية1 ممن وقفت عليه. وذلك: إمّا لأن المقصود بالتأليف - عند أصحابها- بيان الوِلاية على المشهور من مذهب الإمام أبي حنيفة - كما هو ظاهر صنيعهم- وإمّا لأنّه الراجح في نظر الكاتبين فاعتمدوه دون تعويل على غيره.

والولاية على هذا المذهب هي في الحقيقة الولاية الإجباريّة خاصّة وهي: التي لا اعتبار فيها لإذن المولى عليه لصغره، أو جنونه، أو رقِّه.

--------------------------------------------

1 يراد بالأحوال الشخصية: الزواج وما يتعلق به من الرضاع والحضانة والنسب، وفرق الزواج وما يتعلق بها من العدة والرجعة والميراث، وقد ألحق بهذه الموضوعات الوقف والوصية. وتسمية هذه الموضوعات التي هي جزء من الفقه الإسلامي بالأحوال الشخصية اصطلاح قانوني جديد يقابل بحسب الأصل الأحوال العينية وهي: المسائل المتعلقة بالأحوال المعروفة الآن بالأحوال المدنية. وهذه التسمية لتلك الموضوعات الفقهية لم تكن معروفة لدى الفقهاء والكاتبين في الفقه القدامى، بل كانوا يذكرونها بأسمائها الخاصة بها فيعنونون كتاب النِّكاح، كتاب الرضاع، كتاب الطلاق، وهكذا سائر الموضوعات. انتهى نصًا من مذكرة الأحوال الشخصية في الشريعة الإسلامية للدكتور عبد الحميد الغفاري -المقررة على طلاب السنة المنهجية في الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية (أول صفحة) .

ولست أرى حاجة لاستخدام تلك المصطلحات القانونية، ففي فقهنا الإسلامي من مصطلحاته الأصيلة ما يغني عن التقليد مع أسباب أخرى لا تخفى على اللبيب، والله المستعان. (الباحث) .
ব্যক্তিগত আইন১ যা আমি দেখেছি। আর এটি: হয়তো রচনার উদ্দেশ্য—লেখকদের নিকট—ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী অভিভাবকত্ব বর্ণনা করা—যেমনটি তাদের কার্যাবলিতে প্রতীয়মান হয়—অথবা এটি লেখকদের দৃষ্টিতে অগ্রগণ্য মত, তাই তারা অন্য মতের ওপর নির্ভর না করে এটিকেই গ্রহণ করেছেন।

আর এই মাযহাব অনুযায়ী অভিভাবকত্ব হলো প্রকৃতপক্ষে বিশেষ বাধ্যতামূলক অভিভাবকত্ব (আল-বিলায়াতুল ইজবারিয়্যাহ); আর এটি এমন এক অভিভাবকত্ব: যেখানে নাবালকত্ব, উন্মাদনা বা দাসত্বের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতির কোনো গুরুত্ব নেই।

--------------------------------------------

১ ব্যক্তিগত আইন (আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ) বলতে উদ্দেশ্য হলো: বিবাহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট দুধপান, লালন-পালন ও বংশপরিচয়, এবং বৈবাহিক বিচ্ছেদ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইদ্দত, রাজআত (প্রত্যাবর্তন) ও উত্তরাধিকার। এই বিষয়গুলোর সাথে ওয়াকফ ও অসিয়তকেও যুক্ত করা হয়েছে। ইসলামি ফিকহ-এর অংশ এই বিষয়গুলোকে 'ব্যক্তিগত আইন' নামকরণ করা একটি নতুন আইনি পরিভাষা, যা মূলত বস্তুগত আইনের বিপরীত; আর এগুলো হলো বর্তমানে দেওয়ানি আইন হিসেবে পরিচিত বিষয়াদি সম্পর্কিত মাসআলাসমূহ। ফিকহী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এই নামকরণটি প্রাচীন ফকীহ ও লেখকদের নিকট পরিচিত ছিল না, বরং তারা এগুলোকে তাদের নিজস্ব নামে উল্লেখ করতেন। ফলে তারা শিরোনাম দিতেন 'বিবাহ অধ্যায়', 'দুধপান অধ্যায়', 'তালাক অধ্যায়'—এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলো। — ড. আব্দুল হামিদ আল-গাফফারী রচিত 'ইসলামী শরিয়তে ব্যক্তিগত আইন' (মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর স্তরের সিলেবাসভুক্ত) নোট থেকে হুবহু উদ্ধৃত (প্রথম পৃষ্ঠা)।

আর আমি এই সব আইনি পরিভাষা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন দেখি না; কারণ আমাদের ইসলামি ফিকহে এমন মৌলিক পরিভাষা রয়েছে যা অনুকরণের মুখাপেক্ষীহীন করে দেয়। এর সাথে আরও কিছু কারণ রয়েছে যা বুদ্ধিমানের কাছে স্পষ্ট, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়। (গবেষক)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأمَّا الولاية التي يعتبر فيها إذن الموليِّ عليه - على هذا المذهب-

فهي ولاية ندب واستحباب تثبت للوليّ على الحرة المكلفة بكرًا أم ثيباً؛ بمعنى: أنّ لها أن تزوِّج نفسها، ولها أن تفوِّض العقد عليها لوليِّها ندباً واستحباباً صوناً لها عن التبذّل ورميها بقلِّة الحياء.

والوليُّ هنا: عبارة عن وكيل لها. وإنّما سمِّي وليّاً لقرابته غالباً1.

وهذا بخلاف مذهب الجمهور- كما سيأتي بيانه- فإنّ الوِلاية في النِّكاح- عندهم- ثابتة على المرأة مطلقاً سواء كانت ممن يعتبر إذنها لوليِّها أم لا. ولا تلازم عندهم بين ثبوت الولاية والإجبار، فقد يثبت للوليّ حقّ الولاية في النِّكاح والإجبار معاً كما في الصغار والمجانين ذكوراً وإناثاً.

وقد تثبت له الولاية دون الإجبار، كما في الثيِّب الحرّة المكلّفة؛ إذ ليس لوليّها أن يزوِّجها بدون إذنها، ولكن ليس لها أن تتزوَّج -عندهم- إلا بعقد وليِّها لها أو نائبه أو من يقوم مقامه عند عدمه.

وهذا المعنى الذي يقصده الجمهور من الوِلاية في النِّكاح لا يكاد يفهم من التعريف السابق، والتعريف لا بدّ أن يكون جامعاً لمحلِّ الاتفاق غير متعرِّض لمحلِّ الخلاف، لذا يبدو لي من خلال ممارستي هذا البحث أن الأقرب لمراد الفقهاء بالولاية في النِّكاح يمكن تعريفه على النحو التالي:

--------------------------------------------

1 انظر الأحوال الشخصية لأحمد الحصري (أول صفحة) .
আর এই মাযহাব অনুযায়ী যে অভিভাবকত্বে অধীনস্থ ব্যক্তির অনুমতির প্রয়োজন হয়—

তা হলো মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় অভিভাবকত্ব, যা স্বাধীন ও সাবালক নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের জন্য সাব্যস্ত হয়, সে কুমারী হোক বা বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা। এর অর্থ হলো: তার নিজের বিয়ে নিজে দেওয়ার অধিকার রয়েছে, আবার নিজেকে অমর্যাদা ও লজ্জাকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে মুস্তাহাব ও উত্তম হিসেবে নিজের বিয়ের চুক্তির দায়িত্ব অভিভাবকের ওপর ন্যস্ত করারও অধিকার রয়েছে।

আর এখানে অভিভাবক বলতে তার একজন প্রতিনিধিকে বোঝানো হয়েছে। মূলত নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণেই তাকে সাধারণত অভিভাবক বলে অভিহিত করা হয়।১

এটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকীহগণের মাযহাবের পরিপন্থী—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে—কেননা তাদের মতে বিবাহের অভিভাবকত্ব নারীর ওপর সাধারণভাবে সাব্যস্ত হয়, চাই তার অভিভাবকের ক্ষেত্রে তার সম্মতির প্রয়োজন হোক বা না হোক। তাদের নিকট অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হওয়া এবং বাধ্য করার (ইজবার) ক্ষমতার মধ্যে কোনো আবশ্যিক যোগসূত্র নেই। কেননা কখনও অভিভাবকের জন্য বিবাহের অভিভাবকত্ব এবং বাধ্য করার অধিকার—উভয়টিই একসাথে সাব্যস্ত হয়, যেমনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রকৃতিস্থ নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

আবার কখনও বাধ্য করার অধিকার ছাড়াই কেবল অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হয়, যেমনটি স্বাধীন ও সাবালক বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ তার অনুমতি ছাড়া তার অভিভাবকের তাকে বিবাহ দেওয়ার অধিকার নেই, তবে তাদের মতে অভিভাবক অথবা তার প্রতিনিধি কিংবা অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত বিবাহ ছাড়া ওই নারী নিজেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

বিবাহের অভিভাবকত্ব বলতে জমহুর উলামায়ে কেরাম যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা পূর্বোক্ত সংজ্ঞা থেকে প্রায় বোঝাই যায় না। অথচ কোনো কিছুর সংজ্ঞা এমন হওয়া আবশ্যক যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সকল সর্বসম্মত দিককে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলবে। তাই এই বিষয়ে আমার গবেষণার প্রেক্ষিতে আমার নিকট মনে হয় যে, বিবাহের অভিভাবকত্ব সম্পর্কে ফকীহগণের উদ্দেশ্যের সবচেয়ে নিকটতর সংজ্ঞাটি নিম্নোক্তভাবে প্রদান করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: আহমাদ আল-হুসারী প্রণীত 'আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ' (প্রথম পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهو: أنَّ الوِلاية في النِّكاح: سلطة شرعيّة، لعصبة نسب، أومن يقوم مقامهم، يتوقَّف عليها تزويج من لم يكن أهلاً لعقده.

فقولي: "سلطة": جنس يشمل الشرعيّة وغيرها.

شرعيّة: قيد لها، يخرج غير الشرعيّة، وبيان للجهة التي يستمدُّ منها الولي ولايته أصلاً وهو الشرع. وليس من الموليّ عليه، وإن كان أحياناً لا يعقد له إلا بإذنه، وهذا هو الفرق بين الوِلاية والوكالة؛ إذ إنّ الوكيل يستمدُّ سلطته من موكِّله، فيتصرَّف بإذنه، وينعزل بعزله، وهذا بخلاف الوليّ؛ فإنَّه لا يستمدُّ ولايته من الموليّ عليه، ولا ينعزل بعزله.

وقولي: "لعصبة نسب أو من يقوم مقامه": بيان لمن يستحقّ الولاية، وإخراج لمن لا تربطه بالموليّ عليه رابطة نسب ونحوه، وإنّما قيّدتها "بعصبة النسب" لبيان القدر المتفق عليه في أقوى أسباب الولاية مشيراً بذلك إلى خلاف الشافعي رحمه الله في ولاية الابن؛ إذ لا ولاية له على أمِّه- عنده- في النِّكاح وإن كان عصبة ما لم يكن نسيباً لها- كما سيأتي في محله1.

ثم عطفت بقولي "أو من يقوم مقامهم"، لبيان بقيّة أسباب الوِلاية، سواء كانت تلك الأسباب متَّفقًا عليها، كالولاية بالعتق والسلطنة، أو

--------------------------------------------

1 انظر مبحث ولاية الابن في النِّكاح في الفصل الثامن.
এবং তা হলো: বিবাহে অভিভাবকত্ব হলো এক শরয়ি কর্তৃত্ব, যা বংশগত আসাবার জন্য অথবা তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিদের জন্য সাব্যস্ত, যার ওপর ওই ব্যক্তির বিবাহ প্রদান নির্ভর করে যে নিজে বিবাহের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য নয়।

আমার উক্তি: "কর্তৃত্ব": এটি একটি সাধারণ শব্দ যা শরয়ি এবং অন্যান্য সব ধরণের কর্তৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে।

শরয়ি: এটি একটি শর্ত, যা অ-শরয়ি কর্তৃত্বকে বহির্ভূত করে এবং এটি সেই উৎসকে স্পষ্ট করে যেখান থেকে অভিভাবক মূলত তার অভিভাবকত্ব লাভ করেন, আর তা হলো শরিয়ত। এটি অভিভাবকত্বের অধীন ব্যক্তির পক্ষ থেকে অর্জিত নয়, যদিও কখনও কখনও তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ দেওয়া হয় না। আর অভিভাবকত্ব ও ওকালতের (প্রতিনিধিত্ব) মধ্যে পার্থক্য এখানেই; কেননা প্রতিনিধি তার কর্তৃত্ব লাভ করে তার নিয়োগদাতার কাছ থেকে, ফলে সে তার অনুমতিতে কাজ করে এবং তাকে বরখাস্ত করলে সে বরখাস্ত হয়ে যায়। কিন্তু অভিভাবকের বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা সে যার ওপর অভিভাবকত্ব করছে তার থেকে অভিভাবকত্ব লাভ করে না এবং তাকে বরখাস্ত করলেই সে বরখাস্ত হয় না।

আমার উক্তি: "বংশগত আসাবার জন্য অথবা তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিদের জন্য": এটি কে অভিভাবকত্বের অধিকারী তা বর্ণনা করে এবং তাকে বাদ দেয় যার সাথে অভিভাবকত্বের অধীন ব্যক্তির কোনো বংশগত বা অনুরূপ সম্পর্ক নেই। আমি একে "বংশগত আসাবা" দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছি অভিভাবকত্বের সবচাইতে শক্তিশালী কারণগুলোর মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য, যার মাধ্যমে ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর পুত্রের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত ভিন্নমতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; কেননা তাঁর মতে—বিবাহের ক্ষেত্রে মায়ের ওপর পুত্রের কোনো অভিভাবকত্ব নেই যদিও সে আসাবাভুক্ত হয়, যতক্ষণ না সে তার অন্য কোনো বংশীয় আত্মীয় হয়—যেমনটি তার যথাস্থানে আসবে ১।

এরপর আমি "অথবা তাদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিগণ" কথাটি যুক্ত করেছি অভিভাবকত্বের অবশিষ্ট কারণগুলো স্পষ্ট করার জন্য, সেই কারণগুলো সর্বসম্মত হোক যেমন—দাসমুক্ত করার কারণে প্রাপ্ত অভিভাবকত্ব এবং রাষ্ট্রীয় অভিভাবকত্ব, অথবা...

--------------------------------------------

১ দেখুন: অষ্টম অধ্যায়ে বিবাহে পুত্রের অভিভাবকত্ব বিষয়ক আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مختلفاً فيها، كالولاية بالقرابة من غير العصبات، وبالموالاة والكفالة والإسلام والوصيّة، كما سيأتي1.

وقولي "يتوقَّف عليها" بيان لمدى هذه السلطة وهو: أنَّ الوليّ بيده عقد التزويج سواء كان الموليّ عليه ممن يعتبر إذنه أو ممن لا يعتبر. وبكلمة "تزويج"، يخرج بقيّة العقود المالية وغيرها.

وقولي "من لم يكن أهلاً لعقده": أي لعقد التزويج، وهذا بيان لمن تثبت عليهم هذه الولاية من النساء والأطفال والمجانين والأرقاء والمحجور عليهم على خلاف في بعضهم سيأتي بيانه- إن شاء الله- في محلِّه.

ولا ينتقض هذا بأنَّ بعض هؤلاء أهل لمباشرة عقد التزويج بإذن أوليائهم؛ وذلك لأنَّهم غير أهل لعقده استقلالاً عند من أثبت عليهم الوِلاية، والتعريف لمن يثبت لا لمن ينفي. والله أعلم.

--------------------------------------------

1 انظر: أسباب الولاية في النِّكاح، الفصل الثامن.
এটি মতভেদপূর্ণ, যেমন আসাবা (পিতৃপক্ষীয় নিকটাত্মীয়) ব্যতীত অন্য আত্মীয়তার মাধ্যমে অভিভাবকত্ব, এবং আনুগত্য, লালন-পালন, ইসলাম গ্রহণ এবং অসিয়তের মাধ্যমে অভিভাবকত্ব, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।১

আর আমার বক্তব্য "তার ওপর নির্ভর করে" দ্বারা এই কর্তৃত্বের সীমা বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হলো: অভিভাবকের হাতেই বিয়ের চুক্তির এখতিয়ার থাকে, চাই যার ওপর অভিভাবকত্ব চর্চা করা হচ্ছে তার অনুমতি গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক। আর "বিয়ে" শব্দটির মাধ্যমে আর্থিক ও অন্যান্য সকল চুক্তি বাদ পড়ে যায়।

এবং আমার কথা "যে ব্যক্তি চুক্তি করার যোগ্য নয়": অর্থাৎ বিয়ের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য নয়। এটি মূলত তাদের পরিচয় প্রদান করে যাদের ওপর এই অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত হয়, যেমন: নারী, শিশু, পাগল, দাস এবং যাদের ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে—এদের কারো কারো ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বর্ণিত হবে।

আর এটি এই যুক্তিতে খণ্ডিত হয় না যে, এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের অভিভাবকদের অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ের চুক্তি সরাসরি সম্পাদনের যোগ্য; কারণ যারা তাদের ওপর অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত করেন, তাদের মতে তারা স্বতন্ত্রভাবে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্য নয়। আর এই সংজ্ঞাটি তাদের জন্য যারা অভিভাবকত্ব সাব্যস্ত করেন, তাদের জন্য নয় যারা এটি অস্বীকার করেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

১ দেখুন: বিবাহের অভিভাবকত্বের কারণসমূহ, অষ্টম অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الثَّاني: معنى النِّكاح

للنِّكاح معناه لغة وشرعاً واصطلاحاً، وإليك بيان ذلك ما أمكن:

‌‌1- أمَّا معناه لغة:

فهو: اسم يقع على الوطء، وعقد التزويج.

قال الأزهري: "أصل النِّكاح في كلام العرب الوطء. وقيل للتزويج: نكاح؛ لانَّه سبب الوطء المباح" 1.

وقال ابن فارس: "نكح" النون والكاف والحاء أصل واحد وهو

البِضاع 2، ونَكَح ينكِح "أي بكسر الكاف"، وامرأة ناكح في بني فلان أي ذات زوج منهم. والنِّكاح يكون العقد دون الوطء يقال: نكحتُ: تزوَّجت. وأنكحتُ غيري "بضم تاء المتكلم فيهما"3.

وقال الجوهري: "النِّكاح الوطء. وقد يكون العقد، تقول العرب:

نكحتُها "بضم التاء" ونكحت هي أي تزوجت، وهي ناكح في بني فلان أي هي ذات زوج منهم، وقال:

--------------------------------------------

1 تهذيب اللغة للأزهري (4/103) ، وعنه اللسان (2/626) مادة (نكح) .

2 البِضاع: بكسر الباء الموحدة: هو الجماع. ومنه المثل "كمعلِّمة أمِّها البِضَاع"

يضرب لمن يعلِّم من هو أعلم منه. انظر مادة (بضع) . مقاييس اللغة (1/255-256) ، والصحاح (3/1187) .

3 مقاييس اللغة لابن فارس (5/475) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিকাহ-এর অর্থ

নিকাহ-এর আভিধানিক, শরয়ি ও পারিভাষিক অর্থ রয়েছে; নিম্নে যথাসম্ভব তার বিবরণ তুলে ধরা হলো:

‌‌১- আভিধানিক অর্থ:

এটি এমন একটি শব্দ যা যৌন মিলন এবং বিবাহ বন্ধন—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

আল-আযহারী বলেন: "আরবদের ভাষায় নিকাহ-এর মূল অর্থ হলো যৌন মিলন। আর বিবাহ বন্ধনকে নিকাহ বলা হয়; কারণ তা হলো বৈধ মিলনের মাধ্যম।" ১

ইবনে ফারিস বলেন: "নুন, কাফ এবং হা—এই তিনটি বর্ণ মূলত একটিই মূলধাতু, আর তা হলো—

যৌন মিলন ২, আর নাকাহা-ইয়ানকিহু (অর্থাৎ কাফ বর্ণে জের সহকারে)। অমুক গোত্রে অমুক নারী 'নাকিহ' হওয়ার অর্থ হলো, সে তাদের মধ্যকার একজন স্বামীপ্রাপ্ত নারী। আর নিকাহ মিলন ছাড়াই কেবল চুক্তির অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: 'নাকাহতু' অর্থাৎ আমি বিবাহ করেছি, এবং 'আনকাহতু' অর্থাৎ আমি অন্যের বিবাহ দিয়েছি (উভয় ক্ষেত্রেই উত্তম পুরুষের সর্বনাম 'তা' বর্ণে পেশ যোগে)।" ৩

আল-জাওহারী বলেন: "নিকাহ হলো যৌন মিলন। কখনো এটি চুক্তির অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আরবরা বলে থাকে:

'নাকাহতুহা' (তা বর্ণে পেশ যোগে) এবং 'নাকাহাত হিয়া' অর্থাৎ সে বিবাহ করেছে। আর সে অমুক গোত্রে 'নাকিহ' অর্থাৎ সে তাদের মাঝে একজন স্বামীপ্রাপ্ত নারী। তিনি আরও বলেন:"

--------------------------------------------

১. আল-আযহারী প্রণীত তাহযীবুল লুগাহ (৪/১০৩); এবং তা থেকে উদ্ধৃত আল-লিসান (২/৬২৬), শব্দমূল: (নাকাহা)।

২. আল-বিদা: 'বা' বর্ণে জের যোগে; এর অর্থ হলো সহবাস। এ থেকেই একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে: "যেমন তার মাকে সহবাস শেখানো নারী"—এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিকে শিক্ষা দিতে যায়। দ্রষ্টব্য: (বাদা'আ) শব্দমূল। মাকায়িসুল লুগাহ (১/২৫৫-২৫৬) এবং আস-সিহাহ (৩/১১৮৭)।

৩. ইবনে ফারিস প্রণীত মাকায়িসুল লুগাহ (৫/৪৭৫)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
لصلصلة اللِّجام برأس طِرْفٍ1 … أحبّ إليّ من أن تنكحيني واستنكحها

بمعنى نكحها، وأنكحها أي زوَّجها، ورجل نُكَحةٌ، كثير النِّكاح.

والنُّكح والنِّكح "أي: بضم النون وكسرها وإسكان الكاف فيهما" لغتان، وهي كلمة كانت العرب تتزوج بها، وكان يقال لأمِّ خارجة عند الخِطبة "بكسر الخاء" خُطْب "أي: بكسر الخاء وضمها وإسكان الطاء" فتقول: نُكْحُ "أي: بضم النون" حتى قالوا: أسرع من نكاح أمِّ خارجة2.

وقال الفيروزآبادي: النِّكاح الوطء والعقد له، نكح كمنع وضرب3.

وقال الزبيدي شارحاً تلك العبارة: النِّكاح بالكسر في كلام العرب الوطء في الأصل. وقيل هو العقد له، وهو التزويج؛ لأنَّه سبب للوطء المباح4.

--------------------------------------------

1 بكسر الطاء المهملة وإسكان الراء، هو الفرس الكريم. انظر مادة (طرف) في مقاييس اللغة (3/448) ، الصحاح (4/1393) ، القاموس (3/ 172) ، اللسان (9/ 214) .

2 الصحاح (1/413) .

3 القاموس (1/263) .

4 تاج العروس (2/242) .
একটি অভিজাত ঘোড়ার মাথায় লাগামের ঝনঝনানি ... তুমি আমাকে বিবাহ করার চেয়ে বা আমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়।

'ইস্তান্কাহা' শব্দটি 'নাকাহা' (বিবাহ করা) অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর 'আনকাহাহা' অর্থ হলো তিনি তার বিবাহ সম্পন্ন করিয়েছেন। 'নুকাহাতুন' সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে অধিক বিবাহ করে।

'নুক্হ' এবং 'নিক্হ' (উভয় ক্ষেত্রে নুন বর্ণে পেশ অথবা যের এবং কাফ বর্ণে সুকুন দিয়ে) শব্দ দুটি একই অর্থের দুটি ভিন্ন রূপ। এটি এমন একটি শব্দ যা আরবরা বিবাহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করত। বিবাহের প্রস্তাব প্রদানের সময় উম্মে খারিজা-কে বলা হতো 'খুতব' (খ বর্ণে যের অথবা পেশ এবং ত বর্ণে সুকুন দিয়ে)। উত্তরে তিনি বলতেন: 'নুক্হ' (নুন বর্ণে পেশ দিয়ে)। এমনকি (তাদের ক্ষিপ্রতার কারণে) প্রবাদে পরিণত হয়েছে: 'উম্মে খারিজার বিবাহের চেয়েও দ্রুত'।

আল-ফিরোজাবাদী বলেছেন: নিকাহ হলো সহবাস এবং বিবাহের চুক্তি। 'নাকাহা' শব্দটি 'মানাআ' এবং 'দারাবা' এর ওজনে ব্যবহৃত হয়।

আয-যুবাইদী উক্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন: আরবদের পরিভাষায় মূলত 'নিকাহ' (যের সহকারে) বলতে সহবাসকে বোঝায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো বিবাহের চুক্তি; কেননা এটিই বৈধ সহবাসের মাধ্যম।

--------------------------------------------

১ ত্ব-এর নিচে যের এবং র-এর উপর সুকুন দিয়ে 'ত্বিরফ' শব্দটি হলো অভিজাত ঘোড়া। দেখুন: মাকায়িসুল লুগাহ (৩/৪৪৮), আস-সিহাহ (৪/১৩৯৩), আল-قاموس (৩/১৭২), আল-লিসান (৯/২১৪)।

২ আস-সিহাহ (১/৪১৩)।

৩ আল-قاموس (১/২৬৩)।

৪ তাজুল আরুস (২/২৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال ابن منظور: نكح فلان امرأة ينكحها نكاحًا إذا تزوجها، ونكحها ينكحها: باضعها أيضاً. وكذلك دحمها وفجأها، وقال الأعشى في نكح بمعنى تزوَّج:

ولا تقربنَّ جارة، إنَّ سرَّها1 … عليكَ حرام فانكحنْ أو تأبَّدَا2

اهـ المقصود منه3.

هذا بعض ما قاله أهل اللغة في معنى النِّكاح، آثرت نقل جمل من

أهمها - فيما يظهر لي- لأنهم أهل الفن- وكما قيل: "أهل مكة أدرى بشعابها"، ومنها يتضح أنّ القدر المشترك بين تلك النصوص جميعاً ثبوت استعمال لفظ النِّكاح في كلٍّ من الوطء، وعقد التزويج، وهذا مما لا خلاف فيه- فيما أعلم- وشواهده من اللغة أكثر من أن تحصى. وإنما الخلاف في تعيين حقيقة الاستعمال في كلِّ من المعنيين. وفيه بحث يطول ذكره على المباحث الفقهية، ولكن نشير إلى أهم ما قيل فيه جرياً على

--------------------------------------------

1 أصل السِّر: ضد العلن، فهو اسم لكلِّ ما يكتم ويخفى، ويسمى الجماع سرًّا لإخفائه وستره. والمقصود به هنا الوطء بدون تزويج. انظر مادة (سرر) ، مقاييس اللغة (3/67) ، الصحاح (2/ 681) ، القاموس (2/48) ، اللسان (4/358) .

2 تأبَّد: أي توحَّش، أي كن منها كالوحش بالنسبة إلى الآدميات، فلا يكن منك قربان لهنَّ كما لا يقربهن، وحش. كذا في فتح القدير لابن الهمام (3/186) . وانظر مادة (أبد) في مقاييس اللغة (1/34) ، الصحاح (2/439) ، القاموس (1/283) ، اللسان (3/68-69) .

3 اللسان (2/625) .
ইবনে মনজুর বলেছেন: অমুক ব্যক্তি কোনো নারীকে নিকাহ করেছে মানে সে তাকে বিবাহ করেছে; আবার নিকাহ করেছে অর্থ সে তার সাথে সহবাস করেছে। ঠিক একইভাবে 'দাহামা' এবং 'ফাজায়া' শব্দগুলোও ব্যবহৃত হয়। আল-আশা বিবাহের অর্থে 'নিকাহ' শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন:

আর তুমি প্রতিবেশীর স্ত্রীর কাছে যেয়ো না, নিশ্চয়ই তার গোপনীয়তা (সহবাস)১ … তোমার জন্য হারাম; সুতরাং তুমি বিবাহ করো অথবা বন্য হয়ে যাও।২

এখান থেকে তার উদ্দিষ্ট অংশ সমাপ্ত।৩

'নিকাহ' শব্দের অর্থ সম্পর্কে ভাষাবিদগণ যা বলেছেন এটি তার কিঞ্চিৎ অংশ। আমি তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলো থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি—যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে—কারণ তাঁরাই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। যেমন বলা হয়েছে: "মক্কাবাসীই তাদের গিরিপথগুলো সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।" এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই সকল পাঠ্যের মধ্যে সাধারণ ও অভিন্ন দিক হলো—সহবাস এবং বিবাহ বন্ধন—উভয় অর্থেই 'নিকাহ' শব্দের ব্যবহার প্রমাণিত। আমার জানামতে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই এবং ভাষাগতভাবে এর প্রমাণাদি অগণিত। মতভেদ কেবল প্রতিটি অর্থে এই ব্যবহারের প্রকৃত ধরণ নির্ধারণে। এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে যা ফিকহ শাস্ত্রীয় প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত, তবে আমরা প্রচলিত ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রধান প্রধান বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করব।

--------------------------------------------

১. 'সির' (গোপন) শব্দের মূল অর্থ হলো প্রকাশের বিপরীত। যা কিছু গোপন ও আবৃত রাখা হয় তার প্রতিটিকেই এটি বলা হয়। সহবাসকে 'সির' বলা হয় কারণ তা গোপন ও ঢেকে রাখা হয়। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিবাহ বহির্ভূত সহবাস। দেখুন: 'সারারা' মূলধাতু, মাকায়িসুল লুগাহ (৩/৬৭), আস-সিহাহ (২/৬৮১), আল-কামুস (২/৪৮), আল-লিসান (৪/৩৫৮)।

২. 'তাআববাদা' অর্থ হলো বন্য হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ নারীদের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণীর মতো হয়ে যাওয়া, যাতে তোমার পক্ষ থেকে তাদের নিকটবর্তী হওয়া না ঘটে, যেমন বন্য প্রাণী নারীদের নিকটবর্তী হয় না। ইবনুল হুমামের ফাতহুল কাদির (৩/১৮৬) গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আরও দেখুন: 'আবাদ' মূলধাতু, মাকায়িসুল লুগাহ (১/৩৪), আস-সিহাহ (২/৪৩৯), আল-কামুস (১/২৮৩), আল-লিসান (৩/৬৮-৬৯)।

৩. আল-লিসান (২/৬২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عادة الفقهاء في بيان حقيقة معنى هذه الكلمة وأمثالها من الكلمات التي تتصدَّر أبواب الفقه؛ ليكون بيان معناها اللغوي مدخلاً للمعنى الشرعيّ أو الاصطلاحيّ؛ لذلك فإن أهم ما قيل في حقيقة النِّكاح لغة يمكن حصره في أربعة أقوال:

القول الأوَّل: أنه حقيقة في الوطء، مجاز في عقد التزويج.

وعلى هذا يدلّ كلام الأزهري السابق ذكره، وكذلك الزَّبيدي في شرحه لعبارة القاموس، وإليه تشير عبارة الجوهري فإنه قال: "وقد يكون العقد"، مشيرًا لقلَّة استعماله في التزويج بخلاف الوطء.

القول الثاني: أنَّ النِّكاح حقيقة في كلٍّ من الوطء وعقد التزويج، أي مشترك لفظي، كالعين: للباصرة والجارية.

ويدلُّ على هذا المعنى ما سبق عن الجوهري، وابن فارس، والفيروزآبادي1.

وتوجيه هذا القول: أنّه تحقَّق الاستعمال في اللغة في كلٍّ منهما، والأصل في الاستعمال الحقيقة2.

واستدلَّ بعض الفقهاء لهذا المعنى بما نقل عن أبي القاسم

--------------------------------------------

1 انظر ما تقدم عنهم ص (31،32) ، وانظر المصباح المنير (2/624) ، وتاج العروس (2/243) .

2 انظر فتح القدير لابن الهمام (3/185) .
ফকিহগণের রীতি হলো এই শব্দ এবং ফিকহের অধ্যায়ের শুরুতে আসা এই জাতীয় শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ বর্ণনা করা; যাতে আভিধানিক অর্থের বর্ণনাটি শরয়ি বা পারিভাষিক অর্থের প্রবেশদ্বার হতে পারে। তাই আভিধানিকভাবে নিকাহ শব্দের হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান বক্তব্যগুলোকে চারটি মতে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:

প্রথম মত: এটি সহবাসের ক্ষেত্রে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) এবং বিবাহের চুক্তির ক্ষেত্রে মাজায (রূপক অর্থ)।

আল-আজহারির পূর্বে উল্লেখিত বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে, তেমনিভাবে আল-ক্বামুস গ্রন্থের ব্যাখ্যায় আজ-জাবিদিও এটিই বলেছেন। আল-জাওহারির বক্তব্যও এদিকেই ইঙ্গিত করে, কারণ তিনি বলেছেন: "কখনো কখনো এটি বিয়ের চুক্তি অর্থেও হতে পারে", এর মাধ্যমে তিনি সহবাসের তুলনায় বিবাহের চুক্তির ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যবহারের স্বল্পতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

দ্বিতীয় মত: নিকাহ শব্দটি সহবাস এবং বিবাহের চুক্তি—উভয় অর্থেই হাকিকত (প্রকৃত অর্থ)। অর্থাৎ এটি একটি মুশতারাক লাফজি (উভয় অর্থের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য শব্দ), যেমন 'আইন' শব্দটি চোখ এবং ঝরনা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

জাওহারি, ইবনে ফারিস এবং ফিরোজাবাদি১ থেকে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা এই অর্থকেই সমর্থন করে।

এই মতের যুক্তি হলো: ভাষাগতভাবে উভয় অর্থেই এর ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে, আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল হলো হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ হিসেবে গণ্য হওয়া২।

কোনো কোনো ফকিহ আবুল কাসেম থেকে বর্ণিত বর্ণনার মাধ্যমে এই অর্থের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাদের সম্পর্কে পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা দেখুন পৃষ্ঠা (৩১, ৩২), আরও দেখুন আল-মিসবাহুল মুনির (২/৬২৪) এবং তাজুল আরুস (২/২৪৩)।

২ দেখুন ইবনুল হুমাম রচিত ফাতহুল কাদির (৩/১৮৫)।
(খণ্ড: ১) আল-উলায়াহ ফিন নিকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الزَّجَّاجي1 أنه قال: "النِّكاح في كلام العرب بمعنى الوطء والعقد جميعاً، وموضع "نكح" على هذا الترتيب في كلام العرب للزوم الشيء على الشيء راكباً عليه، هذا كلام العرب الصحيح، قالوا نكح فلان فلانة ينكحها نكحاً ونكاحاً أرادوا تزوّجها" 2.

ولكن ظاهر كلامه أنه جعله من "المتواطئ" فلا يتَّجه حمله على معنى الاشتراك اللفظيِّ كما هو الظاهر عند إطلاق لفظ المشترك "، وإنما يتجه على معنى الاشتراك المعنويّ؛ إذ هو المرادف لمعنى التواطؤ. والله أعلم.

وقال ابن جنِّي: "سألت أبا علي الفارسي عن قولهم "نكحها"، فقال: فرّقت العرب فرقاً لطيقاً يعرف به موضع العقد من الوطء، فإذا قالوا: "نكح فلانة" أو "بنت فلان" أرادوا تزويجها والعقد عليها، وإذا

--------------------------------------------

1 هو: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي، تتلمذ على إبراهيم بن السري الزَّجَّاج فنسب إليه. انظر ترجمته في معجم المؤلفين (5/124) ، والأعلام (4/96) ، وانظر ترجمة شيخه في معجم المؤلفين (1/33) ، والأعلام (1/33) .

وبعضهم يعزو هذا القول للزجاج، فليلاحظ الفرق بينهما.

2 شرح النووي (9/171) ، فتح الباري (9/103) ، الإنصاف (8/3) ، نيل الأوطار (6/115) .
আয-যাজ্জাজি ১ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "আরবদের কথায় 'নিকাহ' শব্দটি সহবাস এবং বিবাহচুক্তি—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর আরবদের ভাষায় এই বিন্যাসে 'নাকাহা' শব্দের মূল উৎস হলো একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর আরোহণ করে তার সাথে লেগে থাকা। এটিই শুদ্ধ আরবি ভাষা। তারা বলে 'অমুক ব্যক্তি অমুককে নিকাহ করেছে', এর দ্বারা তারা তাকে বিবাহ করা বুঝায়।" ২।

কিন্তু তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় তিনি একে 'মুতাওয়াতি' (একটি সাধারণ মূল অর্থ থেকে উৎসারিত) শব্দের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং একে 'ইশতিরাক লাফজি' (আভিধানিক সমার্থকতা) হিসেবে গণ্য করা সংগত হবে না, যেমনটি 'মুশতারাক' শব্দের সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয়। বরং একে 'ইশতিরাক মা'নাবি' (অর্থগত সাধারণত্ব) হিসেবে গণ্য করাই সংগত; কেননা এটি 'তাওয়াতু' (সমন্বয়) শব্দের সমার্থক। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইবনে জিন্নি বলেন: "আমি আবু আলী আল-ফারিসিকে তাদের উক্তি 'নাকাহাহা' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: আরবরা এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য বজায় রেখেছে যার মাধ্যমে সহবাসের প্রেক্ষিত থেকে চুক্তির প্রেক্ষিতকে আলাদাভাবে চেনা যায়। তারা যখন বলে: 'অমুক মহিলাকে' বা 'অমুকের কন্যাকে নিকাহ করেছে', তখন তারা তার সাথে বিবাহ এবং বিবাহের চুক্তির অর্থ গ্রহণ করে। আর যখন..."

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন: আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদী, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আস-সারী আয-যাজ্জাজের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত হয়েছেন। তাঁর জীবনী দেখুন: মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (৫/১২৪), আল-আ'লাম (৪/৯৬)। এবং তাঁর শিক্ষকের জীবনী দেখুন: মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (১/৩৩), আল-আ'লাম (১/৩৩)।

কেউ কেউ এই উক্তিটি সরাসরি আয-যাজ্জাজের দিকে সম্বন্ধ করেন, তাই উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যটি লক্ষ রাখা উচিত।

২ শরহু নববী (৯/১৭১), ফাতহুল বারী (৯/১০৩), আল-ইনসাফ (৮/৩), নাইলুল আওতার (৬/১১৫)।