(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: -)
منازل الأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: منازل الأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد
المؤلف: أبو زكريا يحيى بن إبراهيم بن أحمد بن محمد أبو بكر بن أبي طاهر الأزدي السلماسي (ت 550هـ)
المحقق: محمود بن عبد الرحمن قدح
الناشر: بدون ناشر (فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية - الرياض)
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م
عدد الصفحات: 280
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
চার ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমদের মর্যাদা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: চার ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমদের মর্যাদা
লেখক: আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আবু বকর ইবনে আবু তাহের আল-আজদি আল-সালমাসি (মৃত ৫৫০ হিজরি)
সম্পাদক: মাহমুদ ইবনে আবদুর রহমান কদাহ
প্রকাশক: কোনো প্রকাশক নেই (কিং ফাহদ জাতীয় গ্রন্থাগার ক্যাটালগিং - রিয়াদ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
منازل الأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد
تأليف: أبو زكريا يحيى بن إبراهيم السلماسي
تحقيق: محمود عبد الرحمن قدح
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد: فإن الله عز وجل قد تكفل بحفظ هذا الدين الذي أنزله على خاتم أنبيائه ورسله نبينا محمد صلى الله عليه وسلم فقال تعالى {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1 فهيّأ الله عز وجل لنبيه صلى الله عليه وسلم أصحاباً - هم صفوة الخلق وخيرته بعد الأنبياء - وجعلهم وزراء له وأنصارا وأتباعاً، فحملوا الأمانة من بعده صلى الله عليه وسلم، فأدّوها ورعوها حق رعايتها، وجاهدوا في الله حق جهاده، وسار التابعون لهم بإحسان على طريقتهم ومنهجهم إلى يوم الدين.
ولما نشأت البدع وظهرت الفرق التي حذرنا منها النبي صلى الله عليه وسلم وأمرنا بالتمسك بما كان عليه صلى الله عليه وسلم وصحابته من بعده، فقد سخر الله من عباده الصالحين في كل مكان وزمان من يدعون إلى السنة ويبينونها للناس، ويردون على البدعة ويحذرون منها.
--------------------------------------------
চার ইমাম—আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং আহমাদ-এর মর্যাদা
রচনায়: আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম আস-সালমাসি
সম্পাদনা ও টীকা: মাহমুদ আব্দুর রহমান কাদাহ
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন যা তিনি তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, {নিশ্চয়ই আমিই এই জিকির (কুরআন) নাজিল করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী} ১ তাই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এমন কিছু সাহাবীকে মনোনীত করেছেন—যারা নবীদের পরে সৃষ্টির সেরা ও মনোনীত মানুষ—এবং তাদের তাঁর সহযোগী, সাহায্যকারী ও অনুসারী বানিয়েছেন। ফলে তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে আমানত বহন করেছেন এবং তারা তা যথাযথভাবে আদায় করেছেন ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। তারা আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন। আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী হয়েছে তারা তাদের পথ ও মানহাজের ওপর চলেছে।
আর যখন বিদআত সৃষ্টি হলো এবং সেই সব দলের উদ্ভব ঘটল যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সতর্ক করেছিলেন এবং তিনি ও তাঁর পরে তাঁর সাহাবীরা যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের মধ্য থেকে প্রতিটি স্থানে ও সময়ে এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন যারা সুন্নাহর দিকে আহ্বান করেন এবং মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরেন, আর তারা বিদআতের প্রতিবাদ করেন এবং তা থেকে সতর্ক করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
قال الإمام أبو القاسم اللالكائي: ثم إنه لم يزل في كل عصر من الأعصار إمام من سلف أو عالم من خلف قايم لله بحقه وناصح لدينه فيها، يصرف همته إلى جمع اعتقاد أهل الحديث على سنن كتاب الله ورسوله وآثار صحابته، ويجتهد في تصنيفه، ويتعب نفسه في تهذيبه رغبة منه في إحياء سنته وتجديد شريعته، وتطرية ذكرهما على أسماع المتمسكين بهما من أهل ملته، أو لزجر غال في بدعته، أو مستغرق يدعو إلى ضلالته، أو مفتتن بجهالته لقلة بصيرته اهـ1.
ومن هؤلاء العلماء الذين بذلوا مهجهم ونذروا أوقاتهم لهذا الواجب العظيم، الإمام الواعظ أبو زكريا يحيى بن إبراهيم الأزدي السلماسي الذي بيّن في كتابه – الذي بين أيدينا- منازل الأئمة الأربعة، أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد رضي الله عنهم أجمعين - اتفاق المعتقد عند الأئمة الأربعة الكرام، المقتدى بهم في الإسلام، والمعتمد على أقوالهم وفقههم بين الأنام.
فإن اعتقاد هؤلاء الأئمة الأربعة وغيرهم من الأئمة الأعلام هو ما نطق به الكتاب والسنة، وما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان، ولم يكن بين هؤلاء الأئمة - ولله الحمد والمنة - خلاف في المعتقد وأصول الدين، وإنما وقع الخلاف بينهم في بعض فروع الشريعة وجزئياتها.
وقد سئل شيخ الإسلام ابن تيمية عن اعتقاد الشافعي فأجاب - رحمه
--------------------------------------------
ইমাম আবুল কাসিম আল-লালকায়ী বলেন: অতঃপর যুগে যুগে সর্বদা সালাফদের মধ্য থেকে এমন কোনো ইমাম অথবা উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে এমন কোনো আলেম বিদ্যমান ছিলেন, যিনি আল্লাহর হক আদায়ে সচেষ্ট এবং তাঁর দ্বীনের বিষয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তিনি তাঁর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুযায়ী আহলে হাদিসের আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ সংকলন করার প্রতি। তিনি এটি সংকলনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং একে সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন—সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার, শরীয়তকে নবায়ন করার এবং তাঁর মিল্লাতের যারা এই দুইটিকে আঁকড়ে ধরেছেন তাদের কর্ণে এই দুইটির আলোচনাকে সতেজ রাখার আকাঙ্ক্ষায়; অথবা বিদআতে চরমপন্থীকে নিবৃত্ত করার জন্য, কিংবা নিজ গোমরাহীতে নিমগ্ন কোনো আহ্বানকারীকে বাধা দেওয়ার জন্য, অথবা সঠিক অন্তর্দৃষ্টির অভাবে নিজ অজ্ঞতায় মোহাবিষ্ট ব্যক্তিকে সচেতন করার জন্য। ১
আর সেই সকল ওলামায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত হলেন—যারা এই মহান কর্তব্যের জন্য নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং সময়কে উৎসর্গ করেছেন—উপদেশদাতা ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আল-আজদি আস-সালমাসি। তিনি তাঁর কিতাবে—যা আমাদের সম্মুখে রয়েছে—চার ইমাম অর্থাৎ আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং আহমাদ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে ইসলামে অনুসরণীয় এবং মানুষের মাঝে যাদের বক্তব্য ও ফিকহের ওপর নির্ভর করা হয়, সেই চার সম্মানিত ইমামের আকিদা বা বিশ্বাসের অভিন্নতা বর্ণনা করেছেন।
কেননা এই চার ইমাম এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ইমামগণের আকিদা সেটিই যা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে এবং যার ওপর সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এই ইমামদের মধ্যে—আল্লাহরই যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ—আকিদা ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে কোনো মতভেদ ছিল না। তাঁদের মধ্যে মতভেদ কেবল শরীয়তের কিছু শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয়সমূহে সংঘটিত হয়েছিল।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে ইমাম শাফেয়ির আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
الله - بقوله: اعتقاد الشافعي رضي الله عنه، واعتقاد سلف الإسلام، كمالك، والثوري، والأوزاعي، وابن المبارك، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، هو اعتقاد المشايخ المقتدى بهم، كالفضيل بن عياض، وأببي سليمان الدارمي، وسهل بن عبد الله التستري، وغيرهم، فإنه ليس بين هؤلاء الأئمة وأمثالهم نزاع في أصول الدين، وكذلك أبو حنيفة رحمه الله، فإن الاعتقاد الثابت عنه في التوحيد والقدر ونحو ذلك، موافق لاعتقاد هؤلاء، واعتقاد هؤلاء هو ما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان، وهو ما نطق به الكتاب والسنة اهـ1.
وإن في بيان وحدة معتقد الأئمة الأربعة، وإيضاح مجمل اعتقادهم وموافقته للسنة والمأثور عن سلف الأمة، إقامة للحجة على كل من يتبع مذاهب هؤلاء وهو على غير طريقتهم. وأمر آخر هو أن بيان معتقد هؤلاء الأئمة الأعلام من مصادرها المعتبرة هو تزييف وإبطال للآراء المنسوبة للإمام وهو منها بريء2.
هذا هو موضوع الكتاب الذي بين أيدينا والذي عقدت العزم - مستعينا بالله - على تحقيقه ودراسته والتعليق عليه وإخراجه، بحول الله وقدرته وتوفيقه.
وقد قسمت البحث في دراسة الكتاب وتحقيقه إلى قسمين كالآتي:
--------------------------------------------
আল্লাহ - তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর আকিদা এবং ইসলামের সালাফগণের আকিদা—যেমন মালিক, সাওরি, আওযায়ি, ইবনুল মুবারক, আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক বিন রাহাওয়াই—তা-ই হলো সেই সকল অনুসরণীয় মাশায়েখদের আকিদা, যেমন ফুদাইল বিন ইয়াদ, আবু সুলায়মান আদ-দারিমি, সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি এবং অন্যান্যদের। কেননা এই সকল ইমাম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে দীনের মূলনীতিসমূহের (উসুলুদ্দীন) ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর ক্ষেত্রেও তাই; কেননা তাওহিদ, তাকদির এবং এই জাতীয় বিষয়ে তাঁর থেকে সাব্যস্ত আকিদা এঁদের আকিদার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর তাঁদের এই আকিদা হলো সেই পথ যার ওপর সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং যা কুরআন ও সুন্নাহ ব্যক্ত করেছে। (সমাপ্ত) ১।
নিশ্চয়ই চার ইমামের আকিদার অভিন্নতা বর্ণনা করা এবং তাঁদের সামগ্রিক আকিদা এবং সুন্নাহ ও উম্মাহর সালাফ থেকে বর্ণিত আছারের সাথে এর সামঞ্জস্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে সেই সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা এই ইমামদের মাযহাব অনুসরণ করে অথচ তাঁদের পদ্ধতির ওপর নেই। আরেকটি বিষয় হলো, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এই প্রখ্যাত ইমামগণের আকিদা বর্ণনা করা ইমামের সাথে সম্পৃক্ত সেই সকল মতামতের অসারতা ও অকার্যকরতা প্রমাণ করে যা থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন। ২।
এটিই হলো সেই বইয়ের বিষয়বস্তু যা আমাদের হাতে রয়েছে এবং যা আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আমি তাহকিক, অধ্যয়ন, টীকা প্রদান ও প্রকাশের সংকল্প করেছি—আল্লাহর শক্তি, ক্ষমতা ও তৌফিকের মাধ্যমে।
আমি এই বইটির গবেষণা ও তাহকিককে নিম্নোক্ত দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
القسم الأول: دراسة المؤلف وكتابه، ويشتمل على ثلاثة مباحث هي:
المبحث الأول: التعريف بالمؤلف
المبحث الثاني: دراسة الكتاب
المبحث الثالث: منهجي في التحقيق
القسم الثاني: نص الكتاب المحقق.
ثم وضعت فهارس متنوعة للبحث إعانةً لقارئيه، سائلا الله العظيم أن يتقبل مني هذا العمل، وسائر أعمالي وأن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، وألا يحرمني ووالدي أجرها إنه سميع مجيب. وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. والحمد لله رب العالمين.
وكتبه
محمود بن عبد الرحمن قدح
প্রথম অংশ: লেখক ও তাঁর কিতাব নিয়ে গবেষণা, এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয়
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবটির গবেষণা
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আমার তাহকিক বা সম্পাদনা পদ্ধতি
দ্বিতীয় অংশ: কিতাবটির সম্পাদিত মূল পাঠ।
অতঃপর পাঠকদের সুবিধার্থে আমি গবেষণার জন্য বিভিন্ন নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এই আমল এবং আমার অন্যান্য সকল আমল কবুল করেন এবং এগুলোকে কেবল তাঁর মহান চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য নিবেদিত হিসেবে গণ্য করেন, আর আমাকে ও আমার পিতামাতাকে এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান কাদাহ্
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
القسم الأول: دراسة المؤلف والكتاب
المبحث الأول: ترجمة المؤلف…المبحث الأول: التعريف بالمؤلف
اسمه ونسبه ونسبته:
هو يحيى بن أبي طاهر إبراهيم بن أحمد بن محمد الأزدي السَّلَمَاسي. فأمَّا نسبته (الأزدي) فهي نسبة إلى قبيلة (الأزَدْ) من أعظم قبائل العرب وأشهرها
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী...প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক পরিচিতি
তাঁর নাম, বংশধারা ও নিসবাত (সম্বন্ধ):
তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তাহির ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আযদি আস-সালামাসি। তাঁর নিসবাত (আল-আযদি) হলো আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুপ্রসিদ্ধ 'আযদ' গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
، تنتسب إلى الأزد بن الغوث بن نَبْت بن مالك بن كهلان من القحطانية1.
وأما (السلماسي) فهي نسبة إلى مدينة (سَلَماس) - بفتح أوله وثانيه - وهي مدينة مشهورة بأذربيجان2، خرج منها جماعة من العلماء منهم:
- موسى بن عمران بن موسى بن هلال أبو عمران3.
- أبو القاسم حريز بن أحمد بن حريز السلماسي، أحد الأئمة المشهورين بالفضل، وكان حسن الاعتقاد، فصيح اللسان، مات في شوال سنة 436هـ4.
- أبو حفص عمر بن يوسف بن الحسن السلماسي.
- أبو الحسن المظفر بن الحسن بن المهند السلماسي.
--------------------------------------------
... এটি কাহতানি গোত্রের অন্তর্গত আযদ বিন গাওস বিন নাবত বিন মালিক বিন কাহলান গোত্রের সাথে সম্পর্কিত১।
আর (আস-সালমাসি) শব্দটি সালমাস শহরের সাথে সম্পর্কিত - যার প্রথম এবং দ্বিতীয় অক্ষরে ফাতহাহ (যবর) রয়েছে - এটি আজারবাইজানের একটি প্রসিদ্ধ শহর, যেখান থেকে একদল আলেম বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- মূসা বিন ইমরান বিন মূসা বিন হিলাল আবু ইমরান৩।
- আবুল কাসিম হারীয বিন আহমাদ বিন হারীয আস-সালমাসি, তিনি শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুপরিচিত ইমামদের একজন ছিলেন, তাঁর আকিদা ছিল সুন্দর, তিনি ছিলেন বাগ্মী এবং ৪৩৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন৪।
- আবু হাফস উমর বিন ইউসুফ বিন আল-হাসান আস-সালমাসি।
- আবুল হাসান আল-মুজাফফর বিন আল-হাসান বিন আল-মুহান্নাদ আস-সালমাসি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
- أبو محمد الحسن بن جعفر بن داود السلماسي، توفي سنة 419هـ.
- أبو عبد الله الحسين بن جعفر بن محمد بن جعفر بن داود ابن الحسن السلماسي، كان ثقة، توفي سنة 446هـ.
- أبو نصر محمد بن الحسن بن محمد بن جعفر بن داود السلماسي، ابن عم أبي عبد الله بن السلماسي، كان صدوقا، مات سنة 444هـ.
- أبو طاهر المحسن بن جعفر بن محمد بن جعفر بن داود ابن الحسن السلماسي، كان ثقةً، مات سنة 436هـ1.
2- كنيته ولقبه:
أجمعت المصادر التي ذكرت المؤلف على أن كنيته (أبو زكريا) ، ولكن لم تذكر تلك المصادر أسماء أو عدد أولاده.
وقد اشتهر المؤلف بلقب (الواعظ) 2 لأنه كان يعقد مجلس الو عظ والتذكير في دمشق وبغداد، وكان له القبول التام3، ولعلَّ المؤلف رحمه الله كان مأذونا له بالوعظ من قبل الخليفة أو الولاة، "فقد كان معه علمان أسودان من أعلام الخليفة، ينصبهما على كرسيه وقت وعظه"4.
--------------------------------------------
- আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে জাফর ইবনে দাউদ আস-সালমাসি, ৪১৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
- আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে দাউদ ইবনুল হাসান আস-সালমাসি, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, ৪৪৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
- আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে দাউদ আস-সালমাসি, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সালমাসির চাচাতো ভাই, তিনি সত্যবাদী ছিলেন, ৪৪৪ হিজরি সনে মারা যান।
- আবু তাহের আল-মুহসিন ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে দাউদ ইবনুল হাসান আস-সালমাসি, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, ৪৩৬ হিজরি সনে মারা যান ১।
২- তাঁর উপনাম ও উপাধি:
লেখককে উল্লেখ করেছেন এমন সকল উৎস এ বিষয়ে একমত যে তাঁর উপনাম ছিল (আবু জাকারিয়া), কিন্তু সেই উৎসগুলো তাঁর সন্তানদের নাম বা সংখ্যা উল্লেখ করেনি।
লেখক (আল-ওয়ায়েজ) ২ উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন কারণ তিনি দামেস্ক ও বাগদাদে ওয়াজ ও নসিহতের মাহফিল পরিচালনা করতেন এবং তাঁর পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা ৩ ছিল। সম্ভবত লেখক (রহিমাহুল্লাহ) খলিফা বা গভর্নরদের পক্ষ থেকে ওয়াজ করার অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন, "কেননা তাঁর সাথে খলিফার দুটি কালো পতাকা থাকত, যা তিনি ওয়াজ করার সময় তাঁর মিম্বরের ওপর স্থাপন করতেন" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
3- ولادته ونشأته:
قال الحافظ ابن عساكر عن المؤلف - رحمهما الله -: وكان مولده في ما ذكر سنة أربع وسبعين وأربعمائة1، وبدأ بسماع الحديث سنة إحدى وثمانين2، واستجاز له أبوه من مشايخ بغداد سنة نيف وثمانين 3اهـ.
ويبدو لنا من ترجمة المؤلف وسيرته ورحلاته - فيما سيأتي - أن ولادة المؤلف ونشأته كانت في مدينة (سلماس) التي ينتسب إليها.
4- طلبه للعلم ورحلاته فيه:
لقد كانت أسرة المؤلف - فيما يبدو لنا - أسرة خير وفضل، وبيته بيت علم وصلاح، فأبوه من المهتمين بالحديث وروايته، مما ساهم في نشأته العلمية وتكوينه في وقت مبكّر، فحببته أسرته في العلم والعلماء، ودفعت به إلى حلق العلم، فأقرأته القرآن، وحثته على سماع الحديث وكتابته وتحمله، "فبدأ المؤلف في
--------------------------------------------
৩- তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:
হাফিজ ইবনে আসাকির লেখক —আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন— সম্পর্কে বলেন: "তাঁর জন্ম (যেমনটি বর্ণিত হয়েছে) চারশত চুয়াত্তর হিজরি সনে।১ তিনি চারশত একাশি সনে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন।২ আর তাঁর পিতা আশি পরবর্তী কোনো এক বছরে বাগদাদের শায়খদের নিকট থেকে তাঁর জন্য অনুমতি (ইজাজাহ) গ্রহণ করেছিলেন।"৩ (ইতি)।
লেখকের জীবনী, জীবনচরিত এবং তাঁর সফরসমূহ থেকে—যা সামনে আলোচিত হবে—আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, লেখকের জন্ম ও লালন-পালন হয়েছিল 'সালমাস' শহরে, যার দিকে তিনি সম্বন্ধযুক্ত।
৪- তাঁর ইলম অন্বেষণ ও এ উদ্দেশ্যে সফরসমূহ:
আমাদের নিকট যেমনটি স্পষ্ট হয়, লেখকের পরিবার ছিল কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং তাঁর ঘর ছিল ইলম ও নেককারিতার আধার। তাঁর পিতা হাদিস ও এর বর্ণনার প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা প্রাথমিক জীবনে লেখকের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ ও গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর পরিবার তাঁর অন্তরে ইলম ও উলামাদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিল এবং তাঁকে ইলমি মজলিসগুলোতে পাঠিয়েছিল। তাঁরা তাঁকে কুরআন পাঠ করিয়েছেন এবং হাদিস শ্রবণ, লিখন ও তা সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। "অতঃপর লেখক শুরু করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
سماع الحديث سنة إحدى وثمانين وأربعمائة، وكان في السابعة من عمره حينئذ1، واستجاز له أبوه من مشايخ بغداد سنة نيف وثمانين) ، حيث ذكر ذلك الحافظ ابن عساكر في تاريخه من مناقب المؤلف رحمه الله -2.وبهذه العناية المبكرة من والد المؤلف، وبما كان له من الهمة والإقبال الكبير والجد والاجتهاد في طلب العلم، فإنه لم يكتف بالأخذ عن مشايخ بلده أو ممن استجاز له والده، وإنما جدّ في السعي والرحلة لطلب العلم، فانتقل من بلده وفارق أهله، وهجر مصالحه ومنافعه رغبة في التزود من معين العلم والمعرفة، والسماع عن ثقات المشايخ وأئمة العلم في مختلف البلدان.
فذكر الحافظ ابن عساكر3 أن المؤلف ارتحل لطلب العلم وسماع الحديث إلى الموصل4 وإلى خُوَيّ5، وإلى مَرَنْد6.
--------------------------------------------
৪৮১ হিজরি সালে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর১, এবং তাঁর পিতা চারশ আশি ও কিছু সালে বাগদাদের শাইখদের নিকট থেকে তাঁর জন্য ইজাজত (অনুমতি) গ্রহণ করেছিলেন। হাফেজ ইবন আসাকির তাঁর ইতিহাসে লেখকের গুণাবলির বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন (আল্লাহ লেখকের ওপর রহম করুন)২। লেখকের পিতার এই শৈশবকালীন যত্ন এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রবল আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি কেবল নিজ শহরের শাইখদের নিকট থেকে অথবা তাঁর পিতা যাঁদের কাছ থেকে ইজাজত নিয়েছিলেন তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট হননি। বরং তিনি জ্ঞান অন্বেষণে প্রচেষ্টা ও দেশ ভ্রমণে মনোযোগী হন; তিনি নিজ শহর ত্যাগ করেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঝরনাধারা থেকে পাথেয় সংগ্রহের লালসায় নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা বিসর্জন দেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নির্ভরযোগ্য শাইখ ও ইলমে দ্বীনের ইমামদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
হাফেজ ইবন আসাকির৩ উল্লেখ করেছেন যে, লেখক জ্ঞান অন্বেষণ ও হাদিস শ্রবণের জন্য মোসেল৪, খুওয়াই৫ এবং মারান্দে৬ সফর করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
5- شيوخه وتلاميذه:
بينّا فيما سبق أن المؤلف قد طلب العلم في سن مبكرة، وسافر وارتحل لطلب العلم والسماع من المشايخ، ومن كانت هذه حالته وهمته العالية لا بُدَّ أن يتتلمذ على عدد كبير من المشايخ وعلماء عصره، وقد أورد الحافظ ابن عساكر بعض شيوخ المؤلف وهم:
- سمع من أبيه أبي طاهر إبراهيم بن أحمد السلماسي.
- وسمع من أبي الوفاء خليل بن شعبان بن إبراهيم
- وسمع بالموصل من أبي بكر محمد بن القاسم بن الشهرزوري، وهو من مشايخ ابن عساكر.
- ومن أبي القاسم نصر بن محمد بن أحمد بن صفوان الموصلي.
- وسمع بخُوَيّ من أبي عبد الله محمد بن الهادي بن أحمد بن بعون الدقوقي.
- وسمع بمرند من أبي الفضل نعمة الله بن محمد العبدوي المرندي، من مشايخ ابن عساكر.
- وسمع من جماعة من شيوخ أذربيجان، وغيرهم1.
أما عن تلاميذه فقد تتلمذ عليه وسمع منه عدد من العلماء الأجلاء ومنهم:
- الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن الشافعي المعروف بابن عساكر
--------------------------------------------
৫- তাঁর উস্তাদগণ এবং ছাত্রগণ:
আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, লেখক অল্প বয়সেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছিলেন এবং জ্ঞান অর্জন ও মাশায়েখদের থেকে হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ ও সফর করেছিলেন। আর যার অবস্থা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা এমন হয়, তাকে অবশ্যই সমসাময়িক বহু সংখ্যক উস্তাদ এবং আলেমদের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করতে হয়। হাফেজ ইবনে আসাকির লেখকের কতিপয় উস্তাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন:
- তিনি তাঁর পিতা আবু তাহের ইবরাহিম বিন আহমদ আল-সালমাসির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
- এবং আবুল ওয়াফা খলিল বিন শাবান বিন ইবরাহিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
- এবং মসুলে আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন আল-শাহরাযুরির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যিনি ইবনে আসাকিরের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এবং আবুল কাসিম নাসর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাফওয়ান আল-মউসিলির নিকট থেকে।
- এবং খুওয়াই অঞ্চলে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হাদি বিন আহমদ বিন বাউন আদ-দাকুকির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
- এবং মারান্দ অঞ্চলে আবুল ফজল নেয়ামতউল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আবদুয়ি আল-মারান্দির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যিনি ইবনে আসাকিরের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এবং তিনি আজারবাইজানের একদল উস্তাদ ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।১
তাঁর ছাত্রদের প্রসঙ্গে বলা যায় যে, একদল বিশিষ্ট আলেম তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- হাফেজ আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান আশ-শাফেয়ি, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المتوفى سنة 571هـ، الذي قال عنه: سمعت منه جزءاً خَرَّج له عن شيوخه، ولم أجد نسخته عندي، وعلقت عنه أشياء يسيرة، ثم أخرج الحافظ ابن عساكر حديثاً سمعه من المؤلف بإسناده، وقال عقب الحديث: هذا إسناد مظلم، وحديثه منكر1.
- الحافظ أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد بن الجوزي المتوفى سنة 597هـ، وقد أورده ابن الجوزي في مشيخته الذي ضمّ تراجم شيوخه الذين تتلمذ عليهم، وقد سمع منه ابن الجوزي شيئاً من الحديث بقراءة ابن ناصر، وأخرج له ابن الجوزي حديثاً سمعه من المؤلف بإسناده في يوم الثلاثاء ثالث ذي القعدة من سنة ثمان وأربعين وخمسمائة2.
- الإمام المحدّث الحافظ، أبو الفضل محمد بن ناصر بن محمد ابن علي بن عمر السَّلَاميُّ البغدادي، المعروف بابن ناصر، المتوفى سنة 550هـ3، وهو المراد في كلام ابن الجوزي السابق أنه سمع من المؤلف شيئاً من الحديث بقراءة ابن ناصر.
- أبو الحسن بن المُقير، وهو آخر من روى عن المؤلف السلماسي بالإجازة4.
--------------------------------------------
তিনি ৫৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, যাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন: আমি তাঁর কাছ থেকে একটি অংশ শুনেছি যা তিনি তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু আমি আমার কাছে তাঁর পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পাইনি এবং আমি তাঁর কাছ থেকে সামান্য কিছু লিখে নিয়েছিলাম। অতঃপর হাফিজ ইবনে আসাকির একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তিনি লেখকের কাছ থেকে তাঁর সনদে শুনেছিলেন এবং হাদিসের পর তিনি বলেছিলেন: এটি একটি অন্ধকার সনদ এবং তাঁর হাদিসটি মুনকার।
- হাফিজ আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ ইবনুল জাওযী, যিনি ৫৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল জাওযী তাঁকে তাঁর মাশইয়াখাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যা তাঁর সেসব শায়খদের জীবনী সংবলিত যাঁদের কাছে তিনি শিক্ষালাভ করেছিলেন। ইবনুল জাওযী ইবনে নাসিরের পাঠের মাধ্যমে লেখকের কাছ থেকে কিছু হাদিস শুনেছিলেন এবং ইবনুল জাওযী লেখকের কাছ থেকে তাঁর সনদে ৫৪৮ হিজরির ৩রা জিলকদ মঙ্গলবার একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তিনি লেখকের কাছ থেকে শুনেছিলেন।
- ইমাম মুহাদ্দিস হাফিজ, আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন নাসির বিন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে উমর আস-সালামী আল-বাগদাদী, যিনি ইবনে নাসির নামে পরিচিত, ৫৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল জাওযীর পূর্ববর্তী বক্তব্যে তিনিই উদ্দেশ্য, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ইবনে নাসিরের পাঠের মাধ্যমে লেখকের কাছ থেকে কিছু হাদিস শুনেছিলেন।
- আবুল হাসান বিন আল-মুকায়ির, যিনি ইজাজতের মাধ্যমে লেখক সিলমাসি থেকে হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
6- مؤلفاته وأقوال العلماء فيه:
ذكر الحافظ ابن عساكر أن المؤلف صنف كتابين هما:
- الكتاب الأول سماه (باب المدينة) .
قال الحافظ ابن عساكر عن هذا الكتاب: وصنف كتاباً سماه (باب المدينة) افتتحه يحيى بن إبراهيم، ذكر فيه أحاديث في فضل علي لم يسمع، تقرَّب بذلك إلى الرئيس أبي الفوارس بن الصوفي ونفق1 عنده بذلك، وقفت على ذلك الكتاب فأبان عن قلة معرفة منه بالحديث، وكثرة نفاق في الاعتقاد2 اهـ.
وبسبب هذا الكتاب ونقد الحافظ ابن عساكر له ولمؤلفه، فإن المؤرخين والعلماء الذين ترجموا للمؤلف في كتبهم - كالإمام الذهبي والحافظ ابن حجر - قد تابعوا ابن عساكر في نقده ذلك، ما عدا ابن الجوزي - الذي كان معاصرا لابن عساكر - وابن الدبيثي في تاريخه، حيث لم يشيرا إلى الكتاب المذكور في ترجمتهما للمؤلف، فقد قال الإمام الذهبي تبعا لابن عساكر في كتابه (المغني في الضعفاء) : يحيى بن إبراهيم السلماسي، معروف، صنف في مناقب علي كتاب (باب المدينة) أبان فيه عن جهل وهوى3 اهـ.
--------------------------------------------
৬- তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের উক্তি:
হাফেজ ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন যে, লেখক দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, সেগুলো হলো:
- প্রথম গ্রন্থটির নাম তিনি দিয়েছেন (বাবুল মাদিনা)।
হাফেজ ইবনে আসাকির এই গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেছেন: তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন (বাবুল মাদিনা), যা ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম শুরু করেছেন। সেখানে তিনি আলীর মর্যাদা সম্পর্কে এমন সব হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ইতিপূর্বে শোনা যায়নি। এর মাধ্যমে তিনি প্রধান আবু ফাওয়ারিস বিন সুফির নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর নিকট সমাদৃত হন১। আমি সেই গ্রন্থটি প্রত্যক্ষ করেছি, যা হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা এবং আকিদাগত বিষয়ে তাঁর কপটতার আধিক্য প্রকাশ করে২। সমাপ্ত।
এই কিতাবের কারণে এবং হাফেজ ইবনে আসাকির কর্তৃক এর ও এর লেখকের সমালোচনার ফলে, সেই সব ঐতিহাসিক ও আলেমগণ যারা নিজ নিজ গ্রন্থে লেখকের জীবনী আলোচনা করেছেন—যেমন ইমাম যাহাবি এবং হাফেজ ইবনে হাজার—তাঁরা এই সমালোচনায় ইবনে আসাকিরের অনুসারী হয়েছেন। ব্যতিক্রম হলেন ইবনে আল-জাওজি—যিনি ইবনে আসাকিরের সমসাময়িক ছিলেন—এবং ইবনে আদ-দুবাইসি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে; তাঁরা লেখকের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উক্ত কিতাবটির কোনো উল্লেখ করেননি। ইমাম যাহাবি ইবনে আসাকিরের অনুসরণে তাঁর (আল-মুগনি ফিজ যুয়াফা) গ্রন্থে বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম আস-সালমাসি, সুপরিচিত, তিনি আলীর গুণাবলি নিয়ে (বাবুল মাদিনা) নামক কিতাব রচনা করেছেন, যাতে তাঁর মূর্খতা ও কুপ্রবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে৩। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وأعاد الإمام الذهبي ترجمة المؤلف في كتابه (ميزان الاعتدال في نقد الرجال) مضيفاً بأنه روى عنه - أي المؤلف - أبو القاسم ابن عساكر وغيره1.
وقال الحافظ ابن حجر تبعاً للذهبي وابن عساكر في كتابه (لسان الميزان) : يحيى بن إبراهيم السلماسي، شيخ معروف متأخر، له مصنف في مناقب علي رضي الله عنه، أبان فيه عن جهل وهوى، روى عنه أبو القاسم ابن عساكر وغيره اهـ2.
قلت: لم أقف على الكتاب المذكور فيما بحثت فيه من فهارس المخطوطات والمكتبات المعروفة، ولعل المؤلف - عفا الله عنا وعنه - قد كتب هذا الكتاب في بداية حياته العلمية، أو تحت ظروف قاهرة ألجأته إلى ذلك، مع أن ذلك ليس عذراً للمؤلف فيما كتبه وأخطأ فيه في كتابه (باب المدينة) حسب قول ابن عساكر، ولكن الذي يهمنا معرفته أن المؤلف - عفا الله عنا وعنه - قد رجع عن خطئه ذلك، وأعلن أن اعتقاده في الصحابة جميعا وفي علي خاصة رضي الله عنهم خاصة هو اعتقاد السلف أهل السنة والجماعة من الصحابة والتابعين لهم بإحسان، والأئمة العلماء ومنهم الأئمة الأربعة الأعلام، فقد صرّح بذلك في كتابه الثاني -الذي بين أيدينا- حيث يقول المؤلف السلماسي: وأفضل الصحابة المهاجرين العشرة الذين شهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة، وأفضل العشرة الخلفاء الأئمة الأربعة، وأفضلهم أبوبكر الصديق،
--------------------------------------------
ইমাম যাহাবী তার গ্রন্থ (মিজানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল)-এ লেখকের জীবনী পুনরায় উল্লেখ করেছেন এবং যোগ করেছেন যে, তার থেকে—অর্থাৎ লেখকের থেকে—আবুল কাসেম ইবনে আসাকির এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।১
হাফেজ ইবনে হাজার যাহাবী এবং ইবনে আসাকিরকে অনুসরণ করে তার গ্রন্থ (লিসানুল মিজান)-এ বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আস-সালমাসি, একজন সুপরিচিত পরবর্তী যুগের শাইখ, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সম্পর্কে তার একটি সংকলন রয়েছে, যেখানে তিনি মূর্খতা ও খেয়ালখুশির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন; তার থেকে আবুল কাসেম ইবনে আসাকির এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]২
আমি বলি: আমি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ এবং পরিচিত লাইব্রেরিগুলোতে অনুসন্ধান করে উল্লিখিত গ্রন্থটি খুঁজে পাইনি। সম্ভবত লেখক—আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন—এই গ্রন্থটি তার ইলমি জীবনের শুরুতে লিখেছিলেন, অথবা এমন কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যা তাকে এটি করতে বাধ্য করেছিল; যদিও ইবনে আসাকিরের বর্ণনা অনুযায়ী তার (বাবুল মদিনা) নামক গ্রন্থে যা লিখেছেন এবং তাতে যে ভুল করেছেন, সেজন্য তা কোনো ওজর হতে পারে না। তবে আমাদের জন্য যা জানা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, লেখক—আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন—তার সেই ভুল থেকে ফিরে এসেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, সকল সাহাবী এবং বিশেষ করে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ব্যাপারে তার বিশ্বাস হলো সাহাবী ও ইহসানের সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস এবং ইমাম আলেমগণের—যাদের মধ্যে চার প্রখ্যাত ইমামও রয়েছেন—বিশ্বাস। তিনি তার দ্বিতীয় গ্রন্থে—যা আমাদের হাতে রয়েছে—তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে লেখক আস-সালমাসি বলেছেন: সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন সেই দশজন মুহাজির যাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন, আর এই দশজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন চার খলিফা ইমাম, এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর সিদ্দিক,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين، ثم علي المرتضى رضي الله عنهم.
قال الله تعالى: {لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ
…} نزلت الآية في أبي بكر الصديق رضي الله عنه حيث أنفق ماله بمكة، ونصر النبي صلى الله عليه وسلم وهو أول من آمن من الرجال، وقد وردت في فضائل الأربعة الآيات الكثيرة، قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُم
… } ثم ذكر المؤلف بعض الآيات والأحاديث الواردة في فضائل الصحابة - ثم قال: وأجمعوا على الكف عما شجر بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد قال صلى الله عليه وسلم: "إذا ذكر القدر فأمسكوا، وإذا ذكر النجوم فأمسكوا، وإذا ذكر أصحابي فأمسكوا"، وروى عن أبي سعيد أنه قال: مثل أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل العيون، ودواء العيون ترك مسها.
وينتهون إلى ما روي عن عمر بن عبد العزيز وقد سئل عما شجر بينهم فقال: تلك أمة قد خلت لها ما كسبت ولكم ما كسبتم ولا تسألون عما كانوا يعملون.
وسئل بعض العلماء من التابعين عن ذلك، فقال: أقول ما قال موسى عليه السلام لفرعون حين قال له {قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الأُولَى قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لا يَضِلُّ رَبِّي وَلا يَنْسَى} ثم قال المؤلف: فنترحم على جميع الصحابة، ونحبهم وننتهي إلى قول الله عز وجل: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} ثم قال المؤلف أبو زكريا السلماسي - وقد شهد رسول الله صلى الله عليه وسلم لعشرة من أصحابه بالجنة، هم خير الناس، وأفضلهم الخلفاء الراشدون، ويجب على المسلمين
এরপর ওমর আল-ফারুক, এরপর উসমান যু-নূরাইন, এরপর আলী আল-মুরতাজা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং লড়াই করেছে তারা সমান নয়
…} এই আয়াতটি আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন তিনি মক্কায় তাঁর সম্পদ ব্যয় করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাহায্য করেছিলেন; আর তিনি ছিলেন পুরুষদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নকারী। চার খলিফার ফযীলত সম্পর্কে বহু আয়াত বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু
… } এরপর লেখক সাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত কিছু আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করেছেন - তারপর তিনি বলেছেন: আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে যে বিবাদ হয়েছিল সে বিষয়ে নীরব থাকার ব্যাপারে তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তাকদীর নিয়ে আলোচনা করা হয় তখন তোমরা বিরত থাকো, যখন নক্ষত্র নিয়ে আলোচনা করা হয় তখন তোমরা বিরত থাকো এবং যখন আমার সাহাবীদের নিয়ে আলোচনা করা হয় তখন তোমরা বিরত থাকো।" আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের উপমা হলো চোখের মতো, আর চোখের চিকিৎসা হলো তাতে স্পর্শ না করা।
এবং তাঁরা ওমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত উক্তির ওপর শেষ করেন, যখন তাঁকে তাঁদের মধ্যবর্তী বিবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: তারা ছিল এমন এক জাতি যারা গত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য; তারা যা করত সে বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না।
এবং তাবেঈনদের মধ্য থেকে কোনো কোনো আলেমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি তাই বলি যা মুসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনকে বলেছিলেন যখন সে তাকে বলেছিল: {সে বলল, তাহলে পূর্ববর্তী যুগের লোকদের অবস্থা কী? তিনি বললেন, তাদের জ্ঞান আমার রবের কাছে কিতাবে সংরক্ষিত আছে। আমার রব ভুল করেন না এবং বিস্মৃত হন না।} এরপর লেখক বলেন: অতএব আমরা সমস্ত সাহাবীর জন্য রহমতের দোয়া করি, তাঁদের ভালোবাসি এবং মহান আল্লাহর বাণীর ওপর শেষ করি: {আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।} এরপর লেখক আবু যাকারিয়া আস-সালমাসি বলেন - রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দশজন সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তাঁরাই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন খোলাফায়ে রাশেদীন, আর মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হলো
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
مدحهم والثناء عليهم، والدعاء لهم ولجميع الصحابة لما بذلوه من وسع النفس والمال في إقامة الحق، ونصرة الدين رضي الله عنهم أجمعين اهـ.
وقال المؤلف في نهاية ذكره لجمل الاعتقاد: هذا دينهم واعتقادهم - أي الصحابة والتابعون وأئمة الأمصار من الفقهاء وأصحاب الحديث في كل زمان ومكان - ذكرته على وجه الاختصار وحذفت الأسانيد كراهية الإكثار اهـ1.
وبهذا يتبين أن المؤلف - غفر الله لنا وله- قد رجع إلى الحق والصواب، وعقيدة السلف خاصة في الصحابة وفي علي رضي الله عنهم، وأن المؤلف لا يقول في علي إلا ما قاله الصحابة والتابعون والأئمة فيه رضي الله عنه.
بقي أن نشير إلى أن تلك الملحوظة التي ذكرها ابن عساكر لا تحط من مكانة المؤلف، ولا تقلل من شأنه، ولا تمنع من الاستفادة من علمه في الجوانب والكتب الأخرى للمؤلف - كما فعل ابن عساكر نفسه في التتلمذ والأخذ عن المؤلف مع نقده إياه - وقلَّ أن نجد عالماً لا يخطئ، فكما قال الإمام مالك - إمام دار الهجرة -: كلٌّ يؤخذ من كلامه ويرد عليه، إلا صاحب هذا القبر، وأشار إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم2.
أما الكتاب الثاني للمؤلف فهو منازل الأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد رضي الله عنهم أجمعين، وهو الكتاب الذي بين أيدينا وقمنا بتحقيقه ودراسته - ولله الحمد والمنة. وقد قال الحافظ ابن عساكر عن هذا الكتاب الثاني: ووقعت له على كتاب صنفه في فضل الأئمة الأربعة: أبي حنيفة،
--------------------------------------------
তাদের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা, এবং তাঁদের জন্য ও সকল সাহাবীর জন্য দুআ করা; কেননা তাঁরা সত্য প্রতিষ্ঠা ও দ্বীনের সাহায্যের জন্য জান ও মালের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। উক্তি সমাপ্ত।
লেখক তাঁর আকিদার সারসংক্ষেপ বর্ণনার শেষে বলেছেন: এটিই তাঁদের দ্বীন ও আকিদা—অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ এবং প্রতিটি সময় ও স্থানের ফকিহ ও হাদিস বিশারদ শহরসমূহের ইমামগণের—আমি এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের জন্য সনদসমূহ বাদ দিয়েছি। উক্তি সমাপ্ত।১
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, লেখক—আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন—হক ও সঠিক পথের দিকে এবং বিশেষ করে সাহাবীগণ ও আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে সালাফদের আকিদার দিকে ফিরে এসেছেন। আর লেখক আলী সম্পর্কে তা-ই বলেন যা সাহাবী, তাবিঈ এবং ইমামগণ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন।
এখন এই ইঙ্গিত দেওয়া বাকি থাকে যে, ইবনে আসাকির যে পর্যবেক্ষণটি উল্লেখ করেছেন তা লেখকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে না, তাঁর সম্মান কমায় না এবং লেখকের অন্যান্য দিক ও বইসমূহ থেকে জ্ঞান অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে না—যেমনটি ইবনে আসাকির নিজেও করেছেন লেখকের সমালোচনা করা সত্ত্বেও তাঁর কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ ও জ্ঞান আহরণ করার মাধ্যমে। আর এমন আলেম খুব কমই পাওয়া যায় যার কোনো ভুল নেই। যেমন ইমাম মালিক—ইমামে দারুল হিজরাহ—বলেছেন: প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার প্রত্যাখ্যানও করা যেতে পারে, কেবল এই কবরের অধিবাসী ব্যতীত; আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে ইঙ্গিত করলেন।২
লেখকের দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো 'মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ' (চার ইমামের মর্যাদা): আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ রাযিয়াল্লাহু আনহুম, এটিই সেই গ্রন্থ যা আমাদের সামনে রয়েছে এবং আমরা এর তাহকীক ও অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছি—আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হাফেজ ইবনে আসাকির এই দ্বিতীয় গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তাঁর রচিত একটি গ্রন্থ পেয়েছি যা চার ইমামের ফজিলত সম্পর্কে লেখা: আবু হানিফা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ومالك، والشافعي، وأحمد، ما به بأس1.
ويظهر لنا - والله أعلم - من ترتيب كلام ابن عساكر عن كتابي المؤلف، أن كتاب (باب المدينة) ألفه أبو زكريا السلماسي أولاً، ثم ألف من بعده كتابه الثاني وهو (منازل الأئمة الأربعة) ، وهذا يؤكد ما ذكرناه من قبل في رجوع المؤلف إلى عقيدة السلف وثباته عليها ودفاعه عنها والدعوة إليها، ويؤيد ذلك أيضا ما ذكره الحافظ ابن عساكر في نهاية ترجمة المؤلف بأنه كان يذهب مذهب أحمد بن حنبل في الأصول، وينتحل مذهب الشافعي في الفروع وتلك شهادة مهمة وتزكية عالية من الحافظ ابن عساكر لشيخه السلماسي، ونسأل الله عز وجل للجميع الرحمة والمغفرة في الدنيا والآخرة.
7- أقوال العلماء الأخرى فيه:
- قال عنه الحافظ ابن عساكر: قدم دمشق سنة ثمان وأربعين وخمسمائة، ونزل دويرة السميساطني، وعقد مجلس التذكير،
… وكانت معه كتب كثيرة، وسماعه فيها قليل2، وكان له نظم ونثر، وكان ذا ثروة3.
--------------------------------------------
এবং মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ; এতে কোনো দোষ নেই ১।
এবং ইবনে আসাকিরের গ্রন্থকার সম্পর্কে তাঁর দুই কিতাবের বক্তব্যের বিন্যাস থেকে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যে, আবু যাকারিয়া আস-সালমাসি প্রথমে 'বাবুল মদিনা' কিতাবটি রচনা করেন, এরপর তিনি তাঁর দ্বিতীয় কিতাবটি রচনা করেন, আর তা হলো 'মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবা'আ' (চার ইমামের মর্যাদা)। এটি আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তাকেই নিশ্চিত করে যে, লেখক সালাফদের আকিদাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং এর ওপর অবিচল থেকে তা রক্ষা করেছেন ও এর দিকে আহ্বান করেছেন। হাফেজ ইবনে আসাকির লেখকের জীবনীর শেষে যা উল্লেখ করেছেন তাও একে সমর্থন করে যে, তিনি উসূল বা মূলনীতির ক্ষেত্রে আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং ফুরু বা শাখা-প্রশাখার মাসআলায় শাফিঈ মাযহাব গ্রহণ করতেন। আর এটি হাফেজ ইবনে আসাকিরের পক্ষ থেকে তাঁর উস্তাদ আস-সালমাসির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং উচ্চমানের প্রশংসা। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে সকলের জন্য রহমত ও মাগফিরাত কামনা করি।
৭- তাঁর সম্পর্কে অন্যান্য আলেমদের মন্তব্য:
- হাফেজ ইবনে আসাকির তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি পাঁচশত আটচল্লিশ হিজরি সনে দামেশকে আসেন এবং সুমাইসাতনি খানকাহে অবস্থান করেন এবং নসিহতের মজলিস কায়েম করেন,
… তাঁর সাথে অনেক কিতাব ছিল, তবে সেগুলোতে তাঁর শ্রবণ (উস্তাদ থেকে শোনা) ছিল সামান্য ২, তাঁর কবিতা ও গদ্য রচনা ছিল এবং তিনি সম্পদশালী ছিলেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
- وقال عنه الحافظ ابن الجوزي: أبو زكريا الواعظ السلماسي، سمع الحديث، وقدم إلى بغداد، فوعظ بها، ووقع له القبول التام، ثم غاب عنها نحوا من أربعين سنة، ثم قدم بعد الأربعين وخمسمائة، فطلب أن يفتح له الجامع ليعظ فلم يجب إلى ذلك، فسمعنا منه شيئاً من الحديث، ثم رحل عن بغداد1.
- قال عنه الحافظ الذهبي: والواعظ الكبير أبو زكريا يحيى بن إبراهيم السلماسي2.
8- عقيدته ومذهبه الفقهي:
لقد كان المؤلف أبو زكريا السلماسي رحمه الله على عقيدة أهل السنة والجماعة، عقيدة السلف من الصحابة والتابعين لهم بإحسان، التي تلقوها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا أدل على ذلك من كتابه الذي بين أيدينا، الذي أوضح فيه عقيدة السلف الصالح بأدلتها من الكتاب والسنة وأقوال السلف رحمهم الله تعالى.
ومما يؤكد سلامة عقيدة المؤلف رحمه الله شهادة تلميذه الإمام الحافظ ابن عساكر بقوله عن المؤلف: وكان يذهب مذهب أحمد بن حنبل في الأصول، وينتحل مذهب الشافعي في الفروع. اهـ3.
--------------------------------------------
- হাফেজ ইবনুল জাওযী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আবু যাকারিয়া আল-ওয়ায়েজ আস-সালমাসী, তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং বাগদাদে আগমন করেছেন। সেখানে তিনি ওয়াজ-নসিহত করেন এবং তাঁর প্রতি মানুষের পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। এরপর তিনি প্রায় চল্লিশ বছর সেখান থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি পাঁচশত চল্লিশ হিজরীর পর পুনরায় আগমন করেন এবং ওয়াজ করার জন্য জামে মসজিদ খুলে দেওয়ার আবেদন করেন, কিন্তু তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়নি। আমরা তাঁর নিকট থেকে হাদীসের কিছু অংশ শ্রবণ করেছি, এরপর তিনি বাগদাদ থেকে প্রস্থান করেন।১
- হাফেজ আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: মহান ওয়ায়েজ আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহীম আস-সালমাসী।২
৮- তাঁর আকিদাহ ও ফিকহী মাযহাব:
নিশ্চয়ই লেখক আবু যাকারিয়া আস-সালমাসী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন; যা সাহাবী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সেই সালফদের আকিদাহ। তাঁরা এই আকিদাহ লাভ করেছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে। আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান তাঁর এই কিতাবটিই এর সর্বোত্তম প্রমাণ, যেখানে তিনি সালফে সালেহীনের আকিদাহকে কিতাব, সুন্নাহ এবং সালফদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বাণীর দলীলসহ ব্যাখ্যা করেছেন।
লেখকের আকিদাহর বিশুদ্ধতাকে যা সুনিশ্চিত করে তা হলো তাঁর ছাত্র ইমাম হাফেজ ইবনে আসাকিরের সাক্ষ্য; তিনি লেখক সম্পর্কে বলেন: তিনি উসূলের (আকিদাহর) ক্ষেত্রে আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং ফুরু (ফিকহ)-এর ক্ষেত্রে শাফেয়ী মাযহাব গ্রহণ করতেন। সমাপ্ত।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فالانتساب إلى الإمام أحمد في الأصول هو انتساب إلى السنة1، فالإمام أحمد بن حنبل إمام أهل السنة بلا منازع2.
وانتساب المؤلف في الفروع الفقهية إلى الإمام الشافعي تأكيد على اتفاق الأئمة الأربعة في العقيدة وأصول الدين وإجماعهم عليها، وأن اختلافهم لم يكن إلا في أمور محدودة من فروع الشريعة لا في أصولها.
وفاته:
عاش المؤلف ستة وسبعين عاماً قضاها في طلب العلم والرحلة إليه ثم تعليمه، ووعظ الناس وتذكيرهم ونصحهم وإرشادهم وتبصيرهم بأمور دينهم، وفي رواية الحديث، في بغداد ودمشق وسلماس وغيرها.
--------------------------------------------
উসূলে (মৌলিক বিশ্বাসে) ইমাম আহমাদের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়া মানে সুন্নাহর প্রতি সম্পৃক্ত হওয়া১, কেননা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল হলেন আহলে সুন্নাহর অবিসংবাদিত ইমাম২।
ফুরু' তথা ফিকহী শাখা-প্রশাখায় লেখকের ইমাম শাফি'ঈর প্রতি সম্পৃক্ত হওয়া এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে যে, চার ইমাম আকীদা ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে একমত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের ঐকমত্য (ইজমা) ছিল। তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য কেবল শরীয়তের সীমিত কিছু শাখা-প্রশাখায় ছিল, দ্বীনের মূলনীতিতে নয়।
তাঁর মৃত্যু:
লেখক ছিয়াত্তর বছর জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময় তিনি ইলম অন্বেষণ ও ইলমের উদ্দেশ্যে সফর এবং পরবর্তীতে শিক্ষাদান, মানুষকে ওয়াজ-নসীহত, উপদেশ প্রদান, দিকনির্দেশনা এবং তাঁদেরকে দ্বীনি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান দান করার কাজে অতিবাহিত করেছেন। এছাড়াও তিনি বাগদাদ, দামেস্ক, সালমাসসহ অন্যান্য স্থানে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقد مات المؤلف بعد رجوعه إلى بلده سلماس بيسير1، حيث توفي في شهر شعبان2 سنة خمسين وخمسمائة من الهجرة النبوية3، رحمه الله رحمة واسعة، وأدخله فسيح جناته، وشملنا وإياه بمغفرته ورضوانه آمين.
--------------------------------------------
লেখক তাঁর নিজ শহর সালমাসে ফিরে আসার অল্পকাল পরেই মৃত্যুবরণ করেন১, সেখানে তিনি হিজরি ৫৫০ সনের শাবান মাসে২ ইন্তেকাল করেন৩। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন, তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করান এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المبحث الثاني: دراسة الكتاب(1) اسم الكتاب:
الاسم المثبت على غلاف الكتاب هو (منازل1 الأئمة الأربعة أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد رضي الله عنهم أجمعين) .
(2) توثيق نسبة الكتاب إلى المؤلف:
إن نسبة الكتاب للمؤلف - رحمه الله تعالى - ثابتة قطعا بأدلة عدة:
- أن الحافظ ابن عساكر - وهو من تلاميذ المؤلف كما ذكرنا - قد اطلع عليه وقرأه ونسبه للمؤلف، قال الحافظ ابن عساكر: "ووقعت له على كتاب صنفه في فضل الأئمة الأربعة أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، ما به بأس. اهـ.2
- ذكر اسم المؤلف على غلاف الكتاب مقرونا باسم الكتاب.
- تصريح المؤلف باسمه ونسبه في مقدمة الكتاب.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পর্যালোচনা(১) গ্রন্থের নাম:
গ্রন্থের প্রচ্ছদে নির্ধারিত নামটি হলো (চার ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ—আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মানাজিল১)।
(২) লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা:
লেখকের—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ কতিপয় দলিলের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত:
- হাফিজ ইবনে আসাকির—যিনি আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি যে লেখকের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি এটি দেখেছেন, পাঠ করেছেন এবং লেখকের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন। হাফিজ ইবনে আসাকির বলেন: "আমি তাঁর সংকলিত চার ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদের মর্যাদা সম্পর্কে একটি গ্রন্থ পেয়েছি, যা বেশ ভালো।" ২
- গ্রন্থের প্রচ্ছদে গ্রন্থের নামের সাথে লেখকের নাম যুক্ত থাকা।
- গ্রন্থের ভূমিকায় লেখকের নিজ নাম ও বংশপরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
- إن الشيوخ الذين روى عنهم المؤلف في الكتاب هم من شيوخه الذين ذكروا في ترجمته عند الحافظ ابن عساكر في تاريخه، وأبي الفرج ابن الجوزي في مشيخته، وتوضيح ذلك بالآتي:
قال المؤلف في الكتاب1: ولقد أخبرني أبي رضي الله عنه قال: أنبا القاضي أبو الحسين بندار بن علي بن أحمد قرأه عليه بتببريز في داره، قال: نبا علي بن الحسن بن خارجة بن أحمد
… الخ.
ويتفق هذا الإسناد مع ما رواه الحافظ ابن عساكر عن المؤلف فقال: حدثنا أبوبكر السلماسي أنا أبي أبو طاهر، أنا القاضي أبو الحسين بندار بن علي البيروتي، نا أبو الحسن علي بن خارجة
… الخ2.
كما يتفق مع الإسناد الذي ذكره الحافظ ابن الجوزي فقال: أخبرنا أبو زكريا يحيى بن إبراهيم بن أحمد السَّلَمَاسي، من لفظه في يوم الثلاثاء ثالث ذي القعدة من سنة ثمان وأربعين وخمسمائة، قال: أخبرني أبي، قال أنا أبو نصر أحمد بن محمد القارئ
… الخ3.
(3) موضوع الكتاب:
لقد أوضح المؤلف في مقدمته موضوع كتابه فقال: فرأيت من
--------------------------------------------
লেখক এই গ্রন্থে যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা তাঁর সেই সকল শায়খদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের কথা হাফেজ ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এবং আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি তাঁর 'মাশয়াখা' গ্রন্থে তাঁর জীবনীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি নিম্নরূপ:
লেখক গ্রন্থে ১ বলেছেন: আমার পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: বিচারক আবু আল-হুসাইন বুন্দার ইবন আলী ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাবরিজে তাঁর নিজ বাসভবনে এটি তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল, তিনি বলেন: আলী ইবন আল-হাসান ইবন খারিজাহ ইবন আহমদ
... ইত্যাদি।
এই সনদটি হাফেজ ইবনে আসাকির কর্তৃক লেখকের মাধ্যমে বর্ণিত বর্ণনার সাথে মিলে যায়। তিনি বলেছেন: আবু বকর আস-সালমাসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আবু তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিচারক আবু আল-হুসাইন বুন্দার ইবন আলী আল-বাইরুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলী ইবন খারিজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
... ইত্যাদি ২।
অনুরূপভাবে এটি হাফেজ ইবনুল জাওজি কর্তৃক উল্লিখিত সনদের সাথেও মিলে যায়। তিনি বলেন: আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন ইবরাহিম ইবন আহমদ আস-সালমাসি পাঁচশত আটচল্লিশ হিজরি সালের জিলকদ মাসের তিন তারিখ মঙ্গলবার তাঁর নিজ মুখে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নাসর আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
... ইত্যাদি ৩।
(৩) গ্রন্থের বিষয়বস্তু:
লেখক তাঁর ভূমিকার মধ্যে তাঁর গ্রন্থের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করেছেন, তিনি বলেছেন: সুতরাং আমি দেখলাম যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الواجب أن أذكر من اتفاقهم - يعني الأئمة الأربعة - في المعتقد فصولاً، وأورد من ذلك فصوصاً ونصوصاً، وأبيِّن عموماً وخصوصاً، وأنشر طرفاً من طرف مطارفهم، وأذكر نتفاً من تحف مآثرهم ومعارفهم.
فالموضوع الأساسي للكتاب هو بيان عقيدة الأئمة الأربعة: أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد رضي الله عنهم واتفاقهم على هذه العقيدة، مع ذكر نبذة من سيرتهم ومناقبهم وفضائلهم.
وقد قسَّم المؤلف رحمه الله كتابه إلى أربعة أقسام كالآتي:
القسم الأول: في بيان حجج الشريعة. وجعل تحته أربعة فصول هي:
الفصل الأول: نص الكتاب المنزل.
الفصل الثاني: نص السنة الصحيحة.
الفصل الثالث: الإجماع.
الفصل الرابع: القياس.
وقد بيَّن المؤلف في هذه الفصول المراد بأركان الشريعة الأربعة وحجيتها من الكتاب والسنة وأقوال السالف الصالح.
القسم الثاني: في ذكر مقدمات يحتاج الناظر في هذا المختصر إليها. وجعل تحته أربعة فصول هي:
الفصل الأول: في بيان الأمة.
الفصل الثاني: في ذكر الأئمة.
الفصل الثالث: في بيان الاتباع وترك الابتداع.
আমার জন্য আবশ্যক হলো আকিদাগত বিষয়ে তাদের—অর্থাৎ চার ইমামের—ঐকমত্যের ওপর কিছু পরিচ্ছেদ উল্লেখ করা এবং এ সম্পর্কিত কিছু সারনির্যাস ও প্রামাণ্য পাঠ উপস্থাপন করা, এবং এর সাধারণ ও বিশেষ বিষয়াবলি স্পষ্ট করা, আর তাদের শ্রেষ্ঠ অবদানের কিয়দাংশ প্রচার করা এবং তাদের মীরাস ও জ্ঞানের মূল্যবান ভাণ্ডার থেকে কিছু অংশ বর্ণনা করা।
সুতরাং গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু হলো চার ইমাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আকিদা বর্ণনা করা এবং এই আকিদার ওপর তাদের ঐক্যমত্যের বিষয়টি স্পষ্ট করা, সাথে সাথে তাদের জীবনী, মর্যাদা ও গুণাবলির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তার গ্রন্থটিকে নিম্নোক্ত চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম বিভাগ: শরয়ি দলিলসমূহের বর্ণনায়। এর অধীনে তিনি চারটি পরিচ্ছেদ রেখেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অবতীর্ণ কিতাবের পাঠ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহিহ সুন্নাহর পাঠ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইজমা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কিয়াস।
লেখক এই পরিচ্ছেদগুলোতে শরয়ি বিধানের মূল চারটি স্তম্ভের উদ্দেশ্য এবং কুরআন, সুন্নাহ ও পূর্বসূরি নেককারদের (সালাফে সালেহিন) উক্তির আলোকে সেগুলোর প্রামাণিকতা বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় বিভাগ: এমন কিছু ভূমিকা বর্ণনায় যা এই সংক্ষিপ্তসার পাঠকারীর প্রয়োজন হবে। এর অধীনে তিনি চারটি পরিচ্ছেদ রেখেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: উম্মতের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামগণের বর্ণনায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অনুসরণ এবং নব উদ্ভাবন (বিদআত) বর্জনের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الفصل الرابع: في ذكر كمال الدين وحقائق اليقين.
وقد أوضح المؤلف في هذه الفصول بإيجاز معنى كلمة "الأمة" وأنها تنقسم إلى ثلاثة أقسام: أمة الدعوة، وأمة الإجابة، وأمة الاتباع.
ثم بيّن رحمه الله تعريف الإمامة، وأن الأئمة على قسمين: أئمة الهدى والدلالة، وأئمة الردى والضلالة، وذكر علامات كل نوع من الأئمة وصفاتهم، وما يُمَيِّز بعضهم عن بعض بأدلة الكتاب والسنة وأقوال السلف الصالح.
وفي الفصل الثالث الحث على التمسك بالسنة واجتناب البدعة، وبيَّن المؤلف أن النقل الصحيح والعقل الصريح لا يتعارضان، بل هما (أي النقل والعقل) متصادقان، متعاضدان، متناصران، يصدق أحدهما الآخر، ويشهد أحدهما بصحة الآخر، كما وضح المؤلف الفرق بين الاتباع والتقليد.
وفي الفصل الرابع ذكر بعض الأدلة من الكتاب والسنة على كمال هذا الدين وشموله لما يحتاج إليه الناس في أمر دينهم ودنياهم.
القسم الثالث: في جمل الاعتقاد. وجعل تحته أربعة فصول هي:
الفصل الأول: في إثبات العلم بالذات والأسماء والصفات.
الفصل الثاني: في ذكر الأفعال وما جاء من الوعد والوعيد في المآل.
الفصل الثالث: في بيان الرسالة والنبوة.
الفصل الرابع: في ذكر الإمامة والخلافة والأئمة والخلفاء.
وقد أبان المؤلف رحمه الله في هذه الفصول الأربعة عقيدة أهل السنة
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দ্বীনের পূর্ণতা ও ইয়াকীনের হাকীকত প্রসঙ্গে।
লেখক এই পরিচ্ছেদগুলোতে সংক্ষেপে 'উম্মত' শব্দের অর্থ স্পষ্ট করেছেন এবং এটি যে তিনটি ভাগে বিভক্ত তাও উল্লেখ করেছেন: দাওয়াতের উম্মত, ইজাবতের উম্মত এবং ইত্তিবা বা অনুকরণের উম্মত।
এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইমামতের সংজ্ঞা বর্ণনা করেছেন এবং ইমামগণ যে দুই প্রকার তাও উল্লেখ করেছেন: হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশারী ইমাম এবং ধ্বংস ও গোমরাহীর ইমাম। তিনি কিতাব, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক প্রকার ইমামের আলামত ও গুণাবলী এবং তাঁদের একে অপরের থেকে আলাদা করার বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত বর্জন করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। লেখক বর্ণনা করেছেন যে, সহীহ নকল (বর্ণনা) এবং স্পষ্ট আকল (বিবেচনা) একে অপরের বিরোধী নয়; বরং তারা (অর্থাৎ নকল ও আকল) উভয়েই সত্যায়নকারী, পরস্পর সহযোগী ও সাহায্যকারী। একটি অপরটিকে সত্য বলে ঘোষণা করে এবং একটি অন্যটির সঠিকতার সাক্ষ্য দেয়। এছাড়াও লেখক ইত্তিবা (অনুসরণ) এবং তাকলীদের (অন্ধ অনুসরণ) মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে এই দ্বীনের পূর্ণতা এবং মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুর ওপর এই দ্বীনের ব্যাপকতা বা শামিল হওয়ার বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কিছু দলীল উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় অংশ: আকিদার মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে। এর অধীনে তিনি চারটি পরিচ্ছেদ রেখেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সত্তা, নাম ও গুণাবলীর জ্ঞান সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কার্যাবলী এবং পরিণাম বা পরকাল বিষয়ে আগত প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রিসালাত ও নবুওয়াত বর্ণনা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমামত, খিলাফত, ইমাম ও খলীফাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই চারটি পরিচ্ছেদে আহলুস সুন্নাহর আকিদা স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
والجماعة، عقيدة السلف التي أجمع عليها الصحابة رضي الله عنهم ونقلها عنهم التابعون لهم بإحسان من الأئمة والعلماء في جميع البلدان، هذه العقيدة الصحيحة التي عرضها المؤلف ببعض أدلتها من الكتاب والسنة وآثار السلف الصالح قد شملت أصول العقيدة الإسلامية وهي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وما يتعلق بهذه الأصول من مسائل الإمامة، والتفضيل بين الصحابة رضي الله عنهم، ومعرفة ما لهم من الحقوق، والكف عما شجر بينهم رضي الله عنهم، مما يتميز به أهل السنة والجماعة عن غيرهم من أهل البدعة والفرقة.
القسم الرابع: في ذكر الأئمة. وجعل تحته أربعة فصول هي:
فصل: في ذكر أبي حنيفة رحمه الله تعالى
فصل: في ذكر مالك رحمه الله تعالى
فصل: في ذكر الشافعي رحمه الله تعالى
فصل: في ذكر أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى.
وقد أورد المؤلف لكل واحد من الأئمة الأربعة ذكر مولده ونسبه وحليته ووفاته، ثم ذكر علمه وورعه وزهده، ثم ذكر ما جاء في مدح الأئمة له والثناء عليه، ثم في ذكر أصحابه، وطرف من محنته على سبيل الاختصار دون الإكثار.
(4) سبب تأليف الكتاب:
لقد أشار المؤلف رحمه الله إلى سببين لتأليف كتابه وهما:
أ- انتشار البدع والانحراف في العقيدة بسبب جهل بعض الوعاظ
এবং জামাআত; এটি সালাফদের সেই আকিদা যার ওপর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং সকল দেশের ইমাম ও আলেমগণ তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারী তাবেঈগণের মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন। এই বিশুদ্ধ আকিদাটি—যা লেখক কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফ আস-সালেহীনের কতিপয় দলীলসহ উপস্থাপন করেছেন—তা ইসলামী আকিদার মূল ভিত্তিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর সেগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস। এছাড়া এই মূলনীতিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন—নেতৃত্বের (ইমামত) মাসআলা, সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য, তাঁদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাঁদের মাঝে সংঘটিত বিবাদসমূহ থেকে বিরত থাকা (চুপ থাকা); যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতকে অন্যান্য বিদআতী ও বিভেদ সৃষ্টিকারী দলগুলো থেকে স্বতন্ত্র করে।
চতুর্থ অংশ: ইমামগণের আলোচনায়। তিনি এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রেখেছেন, সেগুলো হলো:
পরিচ্ছেদ: আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর আলোচনায়
পরিচ্ছেদ: মালেক (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর আলোচনায়
পরিচ্ছেদ: শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর আলোচনায়
পরিচ্ছেদ: আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর আলোচনায়।
লেখক চার ইমামের প্রত্যেকের জন্ম, বংশ পরিচয়, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং মৃত্যু উল্লেখ করেছেন। এরপর তাঁদের জ্ঞান, পরহেযগারী এবং দুনিয়াবিমুখতা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাঁদের প্রশংসায় অন্যান্য ইমামদের বক্তব্যসমূহ এবং তাঁদের সাথীদের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তাঁদের ওপর আপতিত পরীক্ষার (ফিতনার) কিছু অংশ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, অতি দীর্ঘ না করে।
(৪) গ্রন্থ রচনার কারণ:
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থ রচনার দুটি কারণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো:
ক- কিছু বক্তার মূর্খতার কারণে আকিদার ক্ষেত্রে বিদআত ও বিচ্যুতির বিস্তার।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
والمذكرين وبُعْدِهِمْ عن الكتاب والسنة، وتكالبهم على متاع الدنيا، وإثارتهم للفتن بين الناس - حيث زعموا أن بين الأئمة خلافاً في المعتقد والأصول - طلباً منهم للتقدم والرياسة وادّعاء الفهم والكياسة.
ب - الدفاع عن الأئمة الأربعة وبيان اتفاقهم وإجماعهم في العقيدة، وأنهم لم يختلفوا في الأصول، وإنما وقع الخلاف بينهم في فروع الشريعة لا في أحكامه وأصوله، لينتهي الناس عن ذكر الأئمة بما ليس فيهم وليتيقنوا أن الدين عند الله الإسلام وهو دين واحد.
(5) منهج المؤلف في الكتاب وأسلوبه:
أ- إن المؤلف التزم في كتابه الإيجاز والاختصار، وحذف الأسانيد للأخبار، كراهية الإكثار.
ب - اعتماده على الكتاب والسنة وآثار الصحابة وأقوال الأئمة في الاستدلال على المسائل والأمور التي يوردها في كتابه، وخاصة في مسائل العقيدة.
ج- استوفى المؤلف في عرضه لعقيدة الأئمة الأربعة جميع مسائل العقيدة في التوحيد والإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، والصحابة، والإمامة، وغيرها.
د- اقتصر المؤلف على ذكر سيرة الأئمة الأربعة ومناقبهم لشهرتهم وانتشار مذهبهم وكثرة أتباعهم، وبيان أن عقيدتهم هي عقيدة الصحابة رضي الله عنهم والتابعين لهم بإحسان من الأئمة في جميع البلدان.
এবং উপদেশদানকারীদের কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দূরত্ব, পার্থিব সম্পদের প্রতি তাদের লোভ এবং মানুষের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করা—যেহেতু তারা দাবি করেছিল যে ইমামগণের মধ্যে আকিদাহ ও মূলনীতিতে বিরোধ রয়েছে—তাদের পক্ষ থেকে অগ্রগামিতা ও নেতৃত্ব অন্বেষণ এবং জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার দাবির উদ্দেশ্যে।
খ - চার ইমামের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা এবং আকিদার বিষয়ে তাদের ঐকমত্য ও ইজমা বর্ণনা করা, এবং এটি স্পষ্ট করা যে তারা মূলনীতিতে (উসুল) কোনো বিরোধ করেননি। তাদের মধ্যে বিরোধ কেবল শরীয়তের শাখা-প্রশাখায় (ফুরু) সংঘটিত হয়েছে, এর বিধান ও মূলনীতিতে নয়। যাতে মানুষ ইমামদের সম্পর্কে এমন বিষয় উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকে যা তাদের মধ্যে নেই এবং তারা যেন নিশ্চিত হতে পারে যে আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো ইসলাম এবং তা একটিই দ্বীন।
(৫) কিতাবটিতে লেখকের কর্মপদ্ধতি ও শৈলী:
ক- লেখক তার কিতাবে সংক্ষিপ্তসার ও সারসংক্ষেপ অনুসরণ করেছেন এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করার লক্ষ্যে বর্ণনাগুলোর সনদসমূহ বাদ দিয়েছেন।
খ - কিতাবে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিষয় ও মাসআলাসমূহের দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ, সাহাবীগণের আছার এবং ইমামগণের বাণীর ওপর তার নির্ভরতা, বিশেষ করে আকিদাহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে।
গ- চার ইমামের আকিদাহ বর্ণনায় লেখক আকিদাহর সকল বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করেছেন; যেমন—তাওহীদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল, ভাগ্যের ভালো ও মন্দ, সাহাবীগণ, ইমামত এবং অন্যান্য বিষয়।
ঘ- লেখক কেবল চার ইমামের জীবনী ও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন তাদের প্রসিদ্ধি, তাদের মাযহাবের ব্যাপক প্রসার ও অনুসারীদের আধিক্যের কারণে; এবং এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, তাদের আকিদাহ হলো সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং সকল দেশের নিষ্ঠাবান অনুসারী ইমামগণের আকিদাহ।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
هـ- ذكر المؤلف أنه راعى في ترتيب الأئمة - في كتابه - ترتيب زمانهم، لا تقديم الأفضل، فأبو حنيفة أدرك الصحابة رضي الله عنهم فهو من التابعين، ومالك كان بعده وأدركه، والشافعي أدرك مالكاً، وأحمد أدرك الشافعي رضي الله عنهم أجمعين1.
(6) أسلوب المؤلف في الكتاب:
إن أسلوب المؤلف يغلب عليه طابع السجع في أسلوب سهل غيرمعقد مع ما فيه من جزالة في الألفاظ وإحكام في الصياغة.
مصادر المؤلف في الكتاب:
لقد ذكر المؤلف بعض المصادر والمراجع التي اعتمد عليها في كتابه، وتلك من المميزات التي تذكر له فتُشكر، وقد أورد تلك المراجع بعد إتمام كتابه فقال المؤلف:
فصل في ذكر سفيان الثوري رضي الله عنه.
فأما سفيان الثوري فكان مفتي عصره، وإمام أئمة مصره، علماً وورعاً وزهداً، وفصاحة ورجاحة وتقوى، وتفننا في جميع علوم الشرع رضي الله عنه إلا أنه لم يبق الآن من ينتسب إليه وإلى مذهبه ويناظر فيه.
فاقتصرت على ذكر هؤلاء الأربعة المشهورين رضي الله عنهم
--------------------------------------------
ঙ- লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে ইমামদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁদের সময়ের অনুক্রম রক্ষা করেছেন, শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম নয়। ফলে আবু হানিফা সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাক্ষাৎ পেয়েছেন, তাই তিনি তাবেঈগণের অন্তর্ভুক্ত। মালেক তাঁর পরবর্তী ছিলেন এবং তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন, শাফেয়ী মালেকের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং আহমদ শাফেয়ীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।১
(৬) গ্রন্থে লেখকের রচনাশৈলী:
লেখকের রচনাশৈলীতে সহজ ও জটিলতাহীন পদ্ধতিতে অনুপ্রাসের প্রভাব প্রবল, যার পাশাপাশি শব্দচয়নে গাম্ভীর্য এবং বাক্য গঠনে দৃঢ়তা বিদ্যমান।
গ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহ:
লেখক তাঁর গ্রন্থে যেসকল উৎস ও সূত্রের ওপর নির্ভর করেছেন তার কয়েকটির উল্লেখ করেছেন। এটি তাঁর এমন এক বৈশিষ্ট্য যা প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রন্থটি সমাপ্ত করার পর তিনি সেই সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছেন। লেখক বলেছেন:
সুফিয়ান আস-সাওরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ।
সুফিয়ান আস-সাওরী ছিলেন তাঁর যুগের মুফতি এবং তাঁর অঞ্চলের ইমামদের ইমাম; ইলম, পরহেযগারী, দুনিয়াবিমুখতা, বাগ্মিতা, মেধা, তাকওয়া এবং শরীয়তের সকল বিদ্যায় পারদর্শিতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তবে বর্তমানে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যারা তাঁর এবং তাঁর মাযহাবের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে।
তাই আমি এই চারজন প্রসিদ্ধ ইমামের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
أجمعين -، وما أوردته في هذا المختصر من الأخبار والآثار فمن: كتاب (الموطأ) لمالك، ومن (مسند الشافعي) ، ومن (مسند أحمد بن حنبل) ، ومن الجامعين الصحيحين (البخاري) و (مسلم) ، ومن (سنن أبي داود) ، و (جامع أبي عيسى الترمذي) ، و (سنن النسائي) ، وما فيه من مناقب الأئمة الأخيار. فمن الكتب المصنفة في مناقبهم من تصانيف عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي، ومن (تاريخ بغداد) للخطيب أبي بكر بن ثابت، ومن (حلية الأولياء) للحافظ أبي نعيم، ومن (شعار الصالحين) لأبي سعد، ومن (تاريخ نيسابور) للحاكم، ومن (رسالة الأستاذ أبي القاسم القشيري) ، وغير ذلك من الكتب المشهورة، ومن (تصانيف أبي عبد الرحمن السُّلمي) ، (وأبي بكر البيهقي) ، ومن غير ذلك، وكلها مسموعة لي، وإنما تركت ذكر إسنادها إيثاراً للاختصار، وراعيت في ترتيب الأئمة ترتيب زمانهم، لا تقديم الأفضل، فأبو حنيفة أدرك الصحابة رضي الله عنهم فهو من التابعين، ومالك كان بعده وأدركه، والشافعي أدرك مالكاً، وأحمد أدرك الشافعي رضي الله عنهم أجمعين، والحمد لله رب العالمين. وصلى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين وعلى آله وصحبه أجمعين وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين. اهـ1
تلك بعض المصادر التي ذكرها المؤلف بعد تمام كتابه، وهناك مصادر أخرى اعتمد عليها المؤلف وذكرها في ثنايا كتابه وهي:
--------------------------------------------
সবার ওপর—। এই সংক্ষেপে আমি যেসব সংবাদ ও বর্ণনা উল্লেখ করেছি তা: মালিকের কিতাব (মুয়াত্তা), (মুসনাদে শাফেয়ী), (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল), সহীহ বুখারী ও মুসলিম, (সুনানে আবু দাউদ), আবু ঈসা তিরমিযীর (জামে), এবং (সুনানে নাসায়ী) থেকে নেওয়া হয়েছে, এবং এতে পুণ্যবান ইমামদের যেসব গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাদের গুণাবলি সম্পর্কে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজীর রচনাবলি, খতিব আবু বকর ইবনে সাবিতের (তারিখে বাগদাদ), হাফেজ আবু নুআইমের (হিলইয়াতুল আউলিয়া), আবু সা’দের (শিআরুস সলিহীন), হাকেমের (তারিখে নিশাপুর), উস্তাদ আবুল কাসেম আল-কুশাইরীর (রিসালাহ) এবং এ ছাড়াও অন্যান্য প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ এবং আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী ও আবু বকর আল-বায়হাকীর রচনাবলি ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত। এই সবগুলিই আমার শ্রবণকৃত (উস্তাদদের নিকট থেকে প্রাপ্ত)। সংক্ষেপ করার তাগিদে আমি এগুলোর সনদ উল্লেখ করা বর্জন করেছি। ইমামদের ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি তাদের সময়ের অনুক্রম অনুসরণ করেছি, শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে নয়। আবু হানিফা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, তাই তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। মালিক ছিলেন তাঁর পরবর্তী সময়ের এবং তিনি তাঁকে পেয়েছিলেন। শাফেয়ী মালিককে পেয়েছিলেন এবং আহমদ শাফেয়ীকে পেয়েছিলেন (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)। সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ সালাত ও প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ—যিনি শেষ নবী—এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত। সমাপ্ত—১।
এগুলো হলো সেসব উৎসের কিছু অংশ যা লেখক তাঁর কিতাব সমাপ্ত করার পর উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও আরও কিছু উৎস রয়েছে যেগুলোর ওপর লেখক নির্ভর করেছেন এবং কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
1- أخبار أبي حنيفة وأصحابه - للقاضي أبي عبد الله الحسين بن علي بن جعفر الصيمري.
2- طبقات الفقهاء - للإمام أبي إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي الفيروزآبادي.
3- نسب قريش وأخبارها - للعلامة الزبير بن بكار بن عبد الله الزبيري القرشي المكي.
4- تصانيف الإمام الحافظ أبي القاسم هبة الله بن الحسن بن منصور الطبري اللالكائي، ومن تلك المصنفات: (شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة) ، و (السنن) .
وقد نقل المؤلف من أقوال الإمام اللالكائي ومصنفاته في مواضع متعددة من كتابه.
5- الأحاديث والآثار والأخبار التي يرويها المؤلف بإسناده عن أبيه أبي طاهر إبراهيم بن أحمد السلماسي غالباً، أو عن غيره من العلماء والمحدثين من شيوخه.
قيمة الكتاب العلمية:
تبرز أهمية الكتاب وقيمته العلمية من خلال موضوعه الذي يوضح عقيدة الأئمة الأربعة، وهي عقيدة السلف التي أجمع عليها الصحابة رضي الله عنهم، والتابعون لهم بإحسان من الأئمة الأعلام، فإن الأئمة الأربعة قد علا شأنهم، وعظم مقامهم، واشتهر إخلاصهم واجتهادهم في فقه الكتاب والسنة، فأصبحوا
১- আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি (আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের সংবাদ) - কাযী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন জাফর আস-সাইমারী কর্তৃক।
২- তাবাকাতুল ফুকাহা (ফুকাহাদের জীবনীগ্রন্থ) - ইমাম আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলী বিন ইউসুফ আশ-শিরাজী আল-ফিরোজাবাদী কর্তৃক।
৩- নাসাবু কুরাইশ ওয়া আখবারুহা (কুরাইশদের বংশপরিচয় ও সংবাদ) - আল্লামা আয-যুবাইর বিন বাক্কার বিন আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী আল-কুরাইশী আল-মক্কী কর্তৃক।
৪- ইমাম হাফেজ আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মানসুর আত-তাবারী আল-লালকাঈ-এর রচনাবলি; এবং সেসব রচনার অন্তর্ভুক্ত হলো: (শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ) এবং (আস-সুনান)।
লেখক তাঁর বইয়ের বিভিন্ন স্থানে ইমাম আল-লালকাঈ-এর বাণী ও তাঁর রচনাবলি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
৫- সেসব হাদিস, আসার এবং সংবাদ যা লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর পিতা আবু তাহের ইবরাহিম বিন আহমদ আস-সালমাসী থেকে অথবা তাঁর শিক্ষকদের মধ্য থেকে অন্যান্য আলেম ও মুহাদ্দিসদের থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন।
বইটির ইলমী গুরুত্ব:
বইটির গুরুত্ব এবং এর তাত্ত্বিক মান এর আলোচ্য বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যা চার ইমামের আকিদাহ স্পষ্ট করে। এটিই হলো সালাফদের আকিদাহ যার ওপর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী বরেণ্য ইমামগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। কেননা এই চার ইমামের মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে, তাঁদের অবস্থান সুমহান হয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ গবেষণায় তাঁদের নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টা সুখ্যাতি লাভ করেছে, ফলে তাঁরা হয়ে উঠেছেন...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল আইম্মাতিল আরবাআহ আবী হানীফাহ ওয়া মালিক ওয়াশ শাফিঈ ওয়া আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
المقتدى بهم في الإسلام، والمعتمد على أقوالهم وفقههم بين الأنام، واعترفت الأمة لهم بالعلم والفضل والإمامة، فانتشر مذهبهم في سائر المعمورة.
وإن في بيان وحدة معتقدهم، وإيضاح مجمل اعتقادهم وموافقته للكتاب والسنة والمأثور عن سلف الأمة: إقامة للحجة على كل من يتبع مذاهب هؤلاء الأئمة وهو مخالف لهم في العقيدة.
"فمن قال: أنا شافعي الشرع، أشعري الاعتقاد، قلنا له: هذا من الأضداد لا بل من الارتداد، إذ لم يكن الشافعي أشعري الاعتقاد، ومن قال: أنا حنبلي في الفروع، معتزلي في الأصول، قلنا: قد ضللت إذًا عن سواء السبيل فيما تزعمه، إذ لم يكن أحمد معتزلي الدين والاجتهاد"1.
كما أن بيان معتقدهم فيه إبطال للآراء المكذوبة المنسوبة إلى هؤلاء الأئمة أو أحدهم، وفيه رد على من زعم أن العقيدة السلفية ابتدعها ابن تيمية وابن القيم ومحمد بن عبد الوهاب رحمهم الله، بل إن العقيدة السلفية هي عقيدة الصحابة والتابعين لهم بإحسان من الأئمة الأربعة وغيرهم من العلماء والأئمة المعتبرين.
ولم يسبق أحد من العلماء المؤلف في كتابته في هذا الموضوع المهم، وهو جمع عقيدة الأئمة الأربعة خاصة - فيما أعلم، والله أعلم.
--------------------------------------------
ইসলামে যারা অনুসরণীয়, যাদের কথা এবং ফিকহের ওপর মানুষের মাঝে নির্ভর করা হয় এবং উম্মত যাদের জ্ঞান, শ্রেষ্ঠত্ব ও ইমামতের স্বীকৃতি দিয়েছে, ফলে সারা বিশ্বে তাদের মাযহাব ছড়িয়ে পড়েছে।
তাদের আকিদার ঐক্য বর্ণনা করা এবং তাদের সামগ্রিক আকিদার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা—যা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের অনুকূলে—তা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে গণ্য হবে, যে এই ইমামদের মাযহাব অনুসরণ করে অথচ আকিদার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করে।
"সুতরাং যে ব্যক্তি বলে: আমি শরিয়তের ক্ষেত্রে শাফেয়ী এবং আকিদার ক্ষেত্রে আশআরি, আমরা তাকে বলি: এটি পরস্পরবিরোধী বিষয়, বরং এটি সত্য বিচ্যুতি; কারণ ইমাম শাফেয়ী আকিদার ক্ষেত্রে আশআরি ছিলেন না। আর যে ব্যক্তি বলে: আমি শাখা-প্রশাখায় হাম্বলী কিন্তু মূলনীতিতে মুতাযিলি, আমরা বলি: তুমি যা দাবি করছ তাতে তুমি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছ; কারণ ইমাম আহমাদ দ্বীন ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে মুতাযিলি ছিলেন না।" ১।
একইভাবে তাদের আকিদার বর্ণনা এই ইমামদের দিকে অথবা তাদের কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত মিথ্যা মতবাদগুলোকে বাতিল করে দেয়। আর এটি সেই ব্যক্তিরও প্রতিবাদ করে যে দাবি করে যে, সালাফি আকিদা ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) উদ্ভাবন করেছেন। বরং সালাফি আকিদা হলো সাহাবায়ে কেরাম এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী চার ইমাম ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য আলেম ও ইমামগণের আকিদা।
আমার জানা মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অর্থাৎ বিশেষভাবে চার ইমামের আকিদা একত্রে সংকলন করার ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে কোনো আলেম বা লেখক গ্রন্থ রচনা করেননি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------