(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: -)
منهاج الطالبين وعمدة المفتين في الفقه   (النووي)

القسم: الفقه الشافعي


الكتاب: منهاج الطالبين وعمدة المفتين في الفقه

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)

المحقق: عوض قاسم أحمد عوض

الناشر: دار الفكر

الطبعة: الأولى، 1425هـ/2005م

عدد الصفحات: 370

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ   (আন-নববী)

বিভাগ: শাফেয়ী ফিকহ


কিতাব: মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ

লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শরফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি)

সম্পাদক: আওয়াদ কাসেম আহমদ আওয়াদ

প্রকাশক: দারুল ফিকর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি/২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭০

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المؤلف

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله البر الجواد الذي جلت نعمه عن الإحصاء بالأعداد المان باللطف والإرشاد الهادي إلى سبيل الرشاد الموفق للتفقه في الدين من لطف به واختاره من العباد أحمده أبلغ حمد وأكمله وأزكاه وأشمله وأشهد أن لا إله إلا الله الواحد الغفار وأشهد أن محمدا عبده ورسوله المصطفى المختار صلى الله عليه وسلم وزاده فضلا وشرفا لديه.

أما بعد فإن الاشتغال بالعلم من أفضل الطاعات وأولى ما أنفقت فيه نفائس الأوقات وقد أكثر أصحابنا رحمهم الله من التصنيف من المبسوطات والمختصرات وأتقن مختصر المحرر للإمام أبي القاسم الرافعي رحمه الله تعالى ذي التحقيقات وهو كثير الفوائد عمدة في تحقيق المذهب معتمد للمفتي وغيره من أولى الرغبات وقد التزم مصنفه رحمه الله أن ينص على ما صححه معظم الأصحاب ووفى بما التزمه وهو من أهم أو أهم المطلوبات لكن في حجمه كبر يعجز عن حفظه أكثر أهل العصر إلا بعض أهل العنايات فرأيت اختصاره في نحو نصف حجمه ليسهل حفظه مع ما أضمه إليه إن شاء الله تعالى من النفائس المستجدات منها التنبيه على قيود في بعض المسائل هي من الأصل محذوفات ومنها مواضع يسيرة ذكرها في المحرر على خلاف المختار في المذهب كما ستراها إن شاء الله تعالى واضحات ومنها إبدال ما كان من ألفاظه غريبا أو موهما خلاف الصواب بأوضح وأخصر منه بعبارات جليات ومنها بيان القولين والوجهين والطريقين والنص ومراتب
লেখকের ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরম কল্যাণময় ও অতিশয় দাতা; যাঁর নিয়ামতসমূহ গণনার ঊর্ধ্বে। যিনি কৃপা ও নির্দেশনার মাধ্যমে অনুগ্রহকারী এবং সঠিক পথের দিশারী। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং যাঁকে মনোনীত করেন, তাঁকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের তাওফীক দান করেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি—সর্বোত্তম, পরিপূর্ণ, পবিত্রতম এবং সর্বব্যাপী প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক ও অতিশয় ক্ষমাশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও মনোনীত রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর নিকট তাঁর মর্যাদা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন।

অতঃপর, জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং মূল্যবান সময় ব্যয় করার সর্বোত্তম ক্ষেত্র। আমাদের মাযহাবের ফকীহগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত কিতাব রচনায় অনেক কাজ করেছেন। গবেষণালব্ধ জ্ঞানের অধিকারী ইমাম আবুল কাসিম আর-রাফিঈ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি) রচিত 'আল-মুহাররার' নামক সংক্ষিপ্ত কিতাবটি অত্যন্ত নিখুঁত। এটি অনেক উপকারে ভরপুর, মাযহাবের সঠিক মত নির্ধারণের মূল ভিত্তি এবং মুফতি ও অন্যান্য জ্ঞানপিপাসুদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস। এর লেখক (রহ.) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, অধিকাংশ ফকীহ যে মতটিকে সঠিক বলেছেন তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন এবং তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু এর কলেবর বড় হওয়ার কারণে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষই এটি মুখস্থ করতে অক্ষম, কেবল বিশেষ যত্নশীল ব্যক্তিরা ছাড়া। তাই আমি এটিকে প্রায় অর্ধেক আয়তনে সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে এটি মুখস্থ করা সহজ হয়। পাশাপাশি এতে আমি ইনশাআল্লাহ নতুন কিছু মূল্যবান বিষয় যোগ করব। তার মধ্যে রয়েছে কিছু মাসআলায় এমন কিছু শর্তের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যা মূল কিতাব থেকে বাদ পড়েছিল। এছাড়াও এমন কিছু সামান্য স্থান রয়েছে যা 'মুহাররার'-এ মাযহাবের মনোনীত মতের বিপরীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আপনি ইনশাআল্লাহ স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। এবং এর মধ্যে রয়েছে এমন সব শব্দের পরিবর্তন যা দুর্বোধ্য ছিল অথবা যা সঠিক বিষয়ের বিপরীতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত; সেগুলোকে আমি আরও স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করেছি। আরও রয়েছে ইমামের দুই বক্তব্য, অনুসারীদের দুই অভিমত, বর্ণনার দুই ধারা, ইমামের স্পষ্ট উক্তি এবং এগুলোর স্তরসমূহ স্পষ্ট করা।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الخلاف في جميع الحالات فحيث أقول في الأظهر أو المشهور فمن القولين أو الأقوال فإن قوى الخلاف قلت: الأظهر وإلا فالمشهور وحيث أقول الأصح أو الصحيح فمن الوجهين أو الأوجه فإن قوى الخلاف. قلت: الأصح، وإلا فالصحيح وحيث أقول المذهب فمن الطريقين أو الطرق وحيث أقول النص فهو نص الشافعي رحمه الله ويكون هناك وجه ضعيف أو قول مخرج وحيث أقول الجديد فالقديم خلافه أو القديم أو في قول قديم فالجديد خلافه وحيث أقول وقيل: كذا فهو وجه ضعيف والصحيح أو الأصح خلافه وحيث أقول وفي قول كذا فالراجح خلافه ومنها مسائل نفيسة أضمها إليه ينبغي أن لا يخلى الكتاب منها وأقول في أولها:

قلت: وفي آخرها والله أعلم وما وجدته من زيادة لفظة ونحوها على ما في المحرر فاعتمدها فلا بد منها وكذا ما وجدته من الأذكار مخالفا لما في المحرر وغيرة من كتب الفقه فاعتمده فإني حققته من كتب الحديث المعتمدة وقد أقدم بعض مسائل الفصل لمناسبة أو اختصار وربما قدمت فصلا للمناسبة وأرجو إن تم هذا المختصر أن يكون في معنى الشرح للمحرر فإني لا أحذف منه شيئا من الأحكام أصلا ولا من الخلاف ولو كان واهيا مع ما أشرت إليه من النفائس وقد شرعت في جمع جزء لطيف على صورة الشرح لدقائق هذا المختصر ومقصودي به التنبيه على الحكمة في العدول عن عبارة المحرر وفي إلحاق قيد أو حرف أو شرط للمسألة ونحو ذلك وأكثر ذلك من الضروريات التي لا بد منها وعلى الله الكريم إعتمادي وإليه تفويضي واستنادي وأسأله النفع به لي ولسائر المسلمين ورضوان عني وعن أحبائي وجميع المؤمنين.
সবক্ষেত্রে মতপার্থক্যের বিষয়ে আমি যেখানে ‘আল-আযহার’ বা ‘আল-মাশহুর’ বলব, তা হবে ইমামের দুই বা ততোধিক মতের মধ্য থেকে। যদি মতভেদ জোরালো হয় তবে আমি বলব: ‘আল-আযহার’, অন্যথায় ‘আল-মাশহুর’। যেখানে আমি ‘আল-আস্সাহ’ বা ‘আস-সহীহ’ বলব, তা হবে দুই বা ততোধিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য থেকে। যদি মতভেদ জোরালো হয়, তবে আমি বলব: ‘আল-আস্সাহ’, অন্যথায় ‘আস-সহীহ’। যেখানে আমি ‘আল-মাযহাব’ বলব, তা হবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাসূত্রের মধ্য থেকে। যেখানে আমি ‘আন-নাস’ বলব, সেটি ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজস্ব উক্তি, যেখানে কোনো দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গি বা অন্য কোনো আহরিত মত থাকতে পারে। যেখানে আমি ‘আল-জাদীদ’ (নতুন মত) বলব, তার বিপরীতে থাকবে ‘আল-কাদিম’ (পুরানো মত); অথবা ‘আল-কাদিম’ বা ‘একটি পুরানো মতে’ বললে তার বিপরীতে থাকবে ‘আল-জাদীদ’। যেখানে আমি ‘বলা হয়েছে’ বলব, সেটি একটি দুর্বল দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘আস-সহীহ’ বা ‘আল-আস্সাহ’ হবে তার বিপরীত। যেখানে আমি ‘একটি মতে’ বলব, তবে তার বিপরীত মতটি হবে অগ্রগণ্য। এতে কিছু মূল্যবান মাসআলা রয়েছে যা আমি এতে যুক্ত করেছি এবং কিতাবটি তা থেকে শূন্য থাকা উচিত নয়। আমি সেগুলোর শুরুতে বলব:

আমি বলছি: এবং সেগুলোর শেষে বলব ‘আল্লাহই ভালো জানেন’। আল-মুহাররার গ্রন্থের অতিরিক্ত কোনো শব্দ বা অনুরূপ কিছু যা আপনি এতে পাবেন, তার ওপর নির্ভর করবেন, কারণ তা অপরিহার্য। একইভাবে আল-মুহাররার ও অন্যান্য ফিকহ গ্রন্থের বিপরীতে যদি কোনো যিকির পাওয়া যায়, তবে তার ওপর নির্ভর করবেন, কারণ আমি নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে তা যাচাই করেছি। আমি কখনো কোনো পরিচ্ছেদের মাসআলাসমূহকে প্রাসঙ্গিকতা বা সংক্ষেপ করার প্রয়োজনে আগে নিয়ে এসেছি, আবার কখনো কোনো পরিচ্ছেদকেও প্রাসঙ্গিকতার কারণে আগে উল্লেখ করেছি। আমি আশা করি এই সংক্ষিপ্তসারটি পূর্ণ হলে তা আল-মুহাররার গ্রন্থের ব্যাখ্যার ন্যায় হবে, কারণ আমি এতে কোনো বিধান বা মতপার্থক্য বাদ দেইনি যদিও তা অত্যন্ত দুর্বল হয়, সেই সঙ্গে কিছু মূল্যবান বিষয়ও যোগ করেছি। আমি এই সংক্ষিপ্তসারের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা হিসেবে একটি ছোট অংশ সংকলন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো আল-মুহাররার-এর শব্দশৈলী পরিবর্তনের হিকমত এবং মাসআলায় কোনো শর্ত, বর্ণ বা সীমা যুক্ত করার কারণ বর্ণনা করা। এর অধিকাংশই অত্যন্ত জরুরি বিষয়। মহান আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই নিকট আমার সমর্পণ ও আশ্রয়। আমি তাঁর নিকট নিজের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফীক চাচ্ছি এবং আমার, আমার প্রিয়জনদের ও সকল মুমিনের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌كتاب الطهارة

‌‌مدخل

…

كتاب الطهارة

قال الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُوراً} 1 يشترط لرفع الحدث والنجس ماء مطلق وهو ما يقع عليه اسم ماء بلا قيد فالمتغير بمستغنى عنه كزعفران تغيرا يمنع إطلاق اسم الماء غير طهور ولا يضر تغير لا يمنع الاسم ولا متغير بمكث وطين وطحلب وما في مقره وممره وكذا متغير بمجاور كعود ودهن أو بتراب طرح فيه في الأظهر ويكره المشمس والمستعمل في فرض الطهارة قيل: ونفلها غير طهور في الجديد فإن جمع قلتين فطهور في الأصح ولا تنجس قلتا الماء بملاقاة نجس فإن غيره فنجس فإن زال تغيره بنفسه أو بماء طهر أو بمسك وزعفران فلا وكذا تراب وخف في الأظهر ودونهما ينجس بالملاقاة فإن بلغهما بماء ولا تغير به فطهور فلو كوثر بإيراد طهور فلم يبلغهما لم يطهر وقيل: طاهر لا طهور ويستثنى ميتة لا دم لها سائل فلا تنجس مائعا على المشهور وكذا في قول نجس لا يدركه طرف.

--------------------------------------------

1 سورة الفرقان، آية:48.
পবিত্রতা অধ্যায়

ভূমিকা

...

পবিত্রতা অধ্যায়

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} ১। হাদাস (অশুচিতা) ও নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করার জন্য নিঃশর্ত পানি হওয়া শর্ত; আর তা হচ্ছে এমন পানি যা কোনো বিশেষ কয়েদ বা শর্ত ছাড়াই 'পানি' নামে অভিহিত হয়। সুতরাং যা থেকে মুক্ত থাকা পানির পক্ষে সম্ভব, এমন কোনো বস্তু যেমন জাফরান দ্বারা যদি পানির এমন পরিবর্তন ঘটে যা তাকে সাধারণভাবে 'পানি' বলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে তা আর 'পবিত্রকারী' (তাহুর) থাকে না। তবে এমন পরিবর্তন যা তাকে 'পানি' বলা থেকে বিরত রাখে না, তা কোনো ক্ষতি করে না। তেমনি দীর্ঘ সময় এক স্থানে থাকা, কাদা, শৈবাল এবং পানির অবস্থানস্থল বা প্রবাহপথে থাকা বস্তুর কারণে ঘটা পরিবর্তনও ক্ষতিকর নয়। একইভাবে পার্শ্ববর্তী কোনো বস্তু যেমন আগর কাঠ ও তেল অথবা এতে নিক্ষিপ্ত মাটির কারণে ঘটা পরিবর্তনও (পানির পবিত্রতার ক্ষতি করে না)—এটিই অধিকতর সুস্পষ্ট মত। রোদে গরম করা পানি ব্যবহার করা মাকরূহ। ফরয পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত পানি—কারো মতে নফল পবিত্রতায় ব্যবহৃত পানিও—নতুন মাযহাব (জাদিদ) অনুযায়ী পবিত্রকারী নয়। তবে এই পানি যদি দুই কুল্লাহ পরিমাণ একত্রিত হয়, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তা পবিত্রকারী হবে। দুই কুল্লাহ পরিমাণ পানি কেবল অপবিত্র বস্তুর সংস্পর্শে এলেই অপবিত্র হয় না; তবে অপবিত্র বস্তু যদি পানির কোনো গুণ পরিবর্তন করে ফেলে, তবে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। যদি সেই পরিবর্তন নিজে নিজেই দূর হয়ে যায় অথবা পানি যোগ করার ফলে দূর হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কস্তুরী বা জাফরান মিশিয়ে পরিবর্তন দূর করা হয়, তবে তা পবিত্র হবে না। একইভাবে মাটি বা চামড়ার মোজা ব্যবহার করে পরিবর্তন দূর করার ক্ষেত্রেও একই বিধান—এটিই অধিকতর সুস্পষ্ট মত। আর দুই কুল্লাহর কম পানি হলে তা অপবিত্র বস্তুর সংস্পর্শ পাওয়ার মাধ্যমেই অপবিত্র হয়ে যায়। অতঃপর যদি তাতে পানি যোগ করার মাধ্যমে তা দুই কুল্লাহর পরিমাণে পৌঁছায় এবং তাতে কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত না হয়, তবে তা পবিত্রকারী হয়ে যাবে। কিন্তু যদি এতে পবিত্র পানি যোগ করে পরিমাণ বাড়ানো হয় অথচ তা দুই কুল্লাহর পরিমাণে না পৌঁছায়, তবে তা পবিত্র হবে না। কারো মতে: এটি পবিত্র, কিন্তু পবিত্রকারী নয়। প্রবাহিত রক্ত নেই এমন মৃত প্রাণী এর ব্যতিক্রম; প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা তরল পদার্থকে অপবিত্র করে না। একইভাবে একটি মত অনুযায়ী, এমন সূক্ষ্ম অপবিত্রতাও অপবিত্র করবে না যা সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৪৮।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قلت: ذا القول أظهر والله أعلم والجاري كراكد وفي القديم لا ينجس بلا تغير والقلتان خمسمائة رطل بغدادي تقريبا في الأصح والتغير المؤثر بطاهر أو نجس طعم أو لون أو ريح ولو اشتبه ماء طاهر بنجس اجتهد وتطهر بما ظن طهارته وقيل: إن قدر على طاهر بيقين فلا والأعمى كبصير في الأظهر أو ماء وبول لم يجتهد على الصحيح بل يخلطان ثم يتيمم أو ماء ورد توضأ بكل مرة وقيل: له الاجتهاد وإذا استعمل ما ظنه أراق الآخر فإن تركه وتغير ظنه لم يعمل بالثاني على النص بل يتيمم بلا إعادة في الأصح ولو أخبره بتنجسه مقبول الرواية وبين السبب أو كان فقيها موافقا اعتمده ويحل استعمال كل إناء طاهر إلا ذهبا وفضة فيحرم وكذا اتخاذه في الأصح ويحل المموه في الأصح والنفيس كياقوت في الأظهر وما ضبب بذهب أو فضة ضبة كبيرة لزينة حرم أو صغيرة بقدر الحاجة فلا أو صغيرة لزينة أو كبيرة لحاجة جاز في الأصح وضبة موضع الاستعمال كغيره في الأصح.

قلت: المذهب تحريم ضبة الذهب مطلقا والله أعلم.
আমি বলছি: এই মতটিই অধিকতর সুস্পষ্ট এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। প্রবাহিত পানি স্থির পানির মতোই। আর ‘কাদীম’ (ইমাম শাফি'য়ীর পূর্ববর্তী) মতানুসারে, পরিবর্তন হওয়া ব্যতীত তা অপবিত্র হয় না। অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী দুই কুল্লা হলো প্রায় পাঁচশত বাগদাদী রতল। পবিত্র বা অপবিত্র বস্তু দ্বারা স্বাদ, বর্ণ বা ঘ্রাণে যে পরিবর্তন ঘটে, তা-ই প্রভাব বিস্তারকারী পরিবর্তন। যদি পবিত্র পানি অপবিত্র পানির সাথে মিশে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে সে ইজতিহাদ (বিবেচনা) করবে এবং যাকে পবিত্র বলে প্রবল ধারণা হবে, তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। এবং বলা হয়েছে: যদি নিশ্চিতভাবে পবিত্র পানি ব্যবহারের সামর্থ্য থাকে, তবে ইজতিহাদ করবে না। অধিকতর সুস্পষ্ট মতানুসারে অন্ধ ব্যক্তি এক্ষেত্রে চক্ষুষ্মান ব্যক্তির মতোই। অথবা যদি পানি ও প্রস্রাব হয়, তবে সঠিক মত অনুযায়ী সে ইজতিহাদ করবে না, বরং উভয়টি মিশ্রিত করবে এবং অতঃপর তায়াম্মুম করবে। অথবা যদি পানি ও গোলাপজল হয়, তবে প্রতিবার উভয়টি দিয়ে অজু করবে; এবং বলা হয়েছে: তার জন্য ইজতিহাদ করার অবকাশ আছে। যখন সে তার প্রবল ধারণাকৃত পানি ব্যবহার করবে, তখন অন্যটি ঢেলে দেবে। যদি সে তা রেখে দেয় এবং তার ধারণা পরিবর্তিত হয়, তবে ‘নস’ (মূল পাঠ) অনুযায়ী সে দ্বিতীয় ধারণা অনুযায়ী আমল করবে না, বরং অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী পুনরায় সালাত আদায় করা ছাড়াই তায়াম্মুম করবে। যদি এমন কোনো ব্যক্তি যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য, পানিটি অপবিত্র হওয়ার খবর দেয় এবং কারণ বর্ণনা করে, অথবা সে যদি সমমনা ফকীহ হয়, তবে তার ওপর নির্ভর করবে। প্রতিটি পবিত্র পাত্র ব্যবহার করা বৈধ, তবে সোনা ও রূপার পাত্র হারাম। অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা সংগ্রহে রাখাও হারাম। অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী সোনা বা রূপার প্রলেপযুক্ত পাত্র বৈধ। অধিকতর সুস্পষ্ট মত অনুযায়ী মূল্যবান রত্ন যেমন ইয়াকুত (এর পাত্র) বৈধ। যে পাত্র সোনা বা রূপার পাত দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে, যদি সেই জোড়াটি সৌন্দর্যের জন্য বড় আকারের হয়, তবে তা হারাম। আর যদি তা প্রয়োজনে ছোট আকারের হয়, তবে তা হারাম নয়। অথবা যদি সৌন্দর্যের জন্য ছোট হয় কিংবা প্রয়োজনের খাতিরে বড় হয়, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা বৈধ। অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী ব্যবহারের স্থানে লাগানো জোড়া অন্য স্থানের মতোই গণ্য।

আমি বলছি: মাযহাবের মত হলো সোনার জোড়া লাগানো পাত্র ব্যবহার করা ঢালাওভাবে হারাম, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌باب أسباب الحدث

هي أربعة: أحدها: خروج شيء من قبله أو دبره إلا المنى ولو انسد مخرجه وانفتح تحت معدته فخرج المعتاد نقض وكذا نادر كدود في الأظهر أو فوقها وهو منسد أو تحتها وهو منفتح فلا في الأظهر الثاني: زوال العقل إلا نوم ممكن مقعده الثالث: التقاء بشرتي الرجل والمرأة إلا محرما في الأظهر والملموس كلامس في الأظهر ولا تنقض صغيرة وشعر وسن وظفر في الأصح الرابع: مس قبل الآدمي ببطن الكف وكذا في الجديد حلقة دبره
অপবিত্রতার কারণসমূহের অধ্যায়

সেগুলো চারটি: প্রথমটি: সম্মুখ বা পশ্চাৎপথ দিয়ে কোনো কিছু নির্গত হওয়া, তবে বীর্য ব্যতীত। যদি মূল নির্গমন পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং পাকস্থলীর নিচে কোনো পথ উন্মুক্ত হয়, অতঃপর তা দিয়ে স্বাভাবিক নির্গত বস্তু বের হয় তবে তা পবিত্রতা ভঙ্গ করবে; আর দুর্লভ বস্তু যেমন কৃমি বের হলেও ‘আযহার’ (অধিকতর সুস্পষ্ট) মতানুসারে তা পবিত্রতা ভঙ্গকারী হবে। আর যদি পাকস্থলীর উপরে হয় এবং মূল পথ রুদ্ধ থাকে, অথবা পাকস্থলীর নিচে হয় অথচ মূল পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে ‘আযহার’ মতানুসারে পবিত্রতা ভঙ্গ হবে না। দ্বিতীয়টি: বুদ্ধিবৃত্তি বা চেতনার বিলোপ ঘটা, তবে যারা যথাযথভাবে নিতম্ব স্থির রেখে উপবিষ্ট অবস্থায় ঘুমায় তারা ব্যতীত। তৃতীয়টি: পুরুষ ও নারীর ত্বকের পারস্পরিক স্পর্শ লাগা, তবে ‘আযহার’ মতানুসারে মাহরামের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। যাকে স্পর্শ করা হয়েছে সেও স্পর্শকারীর ন্যায় ‘আযহার’ মতানুসারে। আর ‘আসাহ’ (সর্বাধিক সঠিক) মতানুসারে ছোট শিশু, চুল, দাঁত ও নখের স্পর্শে পবিত্রতা ভঙ্গ হবে না। চতুর্থটি: হাতের তালুর অভ্যন্তরীণ অংশ দিয়ে মানুষের সম্মুখ লিঙ্গ স্পর্শ করা। অনুরূপভাবে ‘জাদীদ’ মতানুসারে মলদ্বার স্পর্শ করাও পবিত্রতা ভঙ্গকারী।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১১)
إلا فرج بهيمة وينقض فرج الميت والصغير ومحل الجب والذكر الأشل وباليد الشلاء في الأصح ولا ينقض رأس الأصابع وما بينها ويحرم بالحدث الصلاة والطواف وحمل المصحف ومس ورقه وكذا جلده على الصحيح وخريطة وصندوق فيهما مصحف وما كتب لدرس قرآن كلوح في الأصح والأصح حل حمله في أمتعة وتفسير ودنانير لا قلب ورقه بعود وأن الصبي المحدث لا يمنع.

قلت: الأصح حل قلب ورقه بعود وبه قطع العراقيون والله أعلم ومن تيقن طهرا أو حدثا وشك في ضده عمل بيقينه فلو تيقنهما وجهل السابق فضد ما قبلهما في الأصح.

فصل

يقدم داخل الخلاء يساره والخارج يمينه ولا يحمل ذكر الله تعالى ويعتمد جالسا يساره ولا يستقبل القبلة ولا يستدبرها ويحرمان بالصحراء ويبعد ويستتر ولا يبول في ماء راكد وجحر ومهب ريح ومتحدث وطريق وتحت مثمرة ولا يتكلم ولا يستنجي بماء في مجلسه ويستبرىء من البول ويقول عند دخوله بسم الله اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث وعند خروجه غفرانك الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني ويجب الاستنجاء بماء أو حجر وجمعهما أفضل وفي معنى الحجر كل جامد طاهر قالع غير محترم وجلد دبغ دون غيره في الأظهر وشرط الحجر أن لا يجف النجس ولا ينتقل ولا يطرأ أجنبي ولو ندر أو انتشر فوق العادة ولم يجاوز صفحته وحشفته جاز الحجر في الأظهر ويجب
...ব্যতীত পশুর যৌনাঙ্গ। আর মৃতদেহ ও শিশুর যৌনাঙ্গ এবং কর্তিত লিঙ্গের অবশিষ্টাংশ ও অবশ লিঙ্গ স্পর্শ করা ওযু ভঙ্গ করে। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে অবশ হাত দিয়ে স্পর্শ করলেও ওযু ভঙ্গ হবে। তবে আঙ্গুলের অগ্রভাগ এবং আঙ্গুলসমূহের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে স্পর্শ করলে ওযু ভঙ্গ হবে না। অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায়, তাওয়াফ করা, মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) বহন করা এবং এর পাতা স্পর্শ করা হারাম। তেমনিভাবে সঠিক মতানুসারে এর জিলদ, এবং যে থলে বা বাক্সে মুসহাফ রয়েছে তা বহন করাও হারাম। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে কুরআন পাঠের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ফলক (লওহ) স্পর্শ করাও হারাম। তবে বিশুদ্ধতর মত হলো, আসবাবপত্র, তাফসীর গ্রন্থ ও মুদ্রার সাথে মুসহাফ বহন করা হালাল। তবে কাঠি দিয়ে মুসহাফের পাতা উল্টানো বৈধ নয়। আর অপবিত্র শিশুকে (মুসহাফ স্পর্শ করা থেকে) বাধা দেওয়া হবে না।

আমি বলছি: বিশুদ্ধতর মত হলো কাঠি দিয়ে পাতা উল্টানো বৈধ, আর ইরাকি ফকীহগণ এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যে ব্যক্তি পবিত্রতা বা অপবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত হয় এবং এর বিপরীতটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে, সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর আমল করবে। আর যদি উভয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় কিন্তু কোনটি আগে ঘটেছে তা ভুলে যায়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে সে তার পূর্ববর্তী অবস্থার বিপরীতটি গ্রহণ করবে।

পরিচ্ছেদ

শৌচাগারে প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেবে এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেবে। আল্লাহর জিকির সম্বলিত কোনো কিছু বহন করবে না এবং বসার সময় বাম দিকের ওপর ভর দিয়ে বসবে। কিবলার দিকে মুখ করে অথবা পিঠ দিয়ে বসবে না। উন্মুক্ত মরুভূমিতে এ কাজ করা হারাম। লোকচক্ষু থেকে দূরে যাবে এবং আড়ালে বসবে। আবদ্ধ পানি, গর্ত, বায়ু প্রবাহের স্থান, মানুষের আড্ডার জায়গা, রাস্তা এবং ফলবতী গাছের নিচে প্রস্রাব করবে না। কথা বলবে না এবং বসার স্থানে পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করবে না। প্রস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করবে। প্রবেশের সময় বলবে: আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। বের হওয়ার সময় বলবে: আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন। পানি অথবা পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব, তবে উভয়টির একত্রে ব্যবহার করা উত্তম। পাথরের স্থলাভিষিক্ত হলো প্রতিটি কঠিন, পবিত্র, ময়লা পরিষ্কারকারী এবং (শরীয়তের দৃষ্টিতে) অসম্মানিত বস্তু। আর অধিকতর স্পষ্ট মতানুসারে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া এর অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যগুলো নয়। পাথর ব্যবহারের শর্ত হলো—নাজাসাত শুকিয়ে না যাওয়া, মূল স্থান থেকে সরে না যাওয়া এবং বাইরে থেকে অন্য কোনো বস্তু যুক্ত না হওয়া। যদিও তা বিরল হয় কিংবা স্বভাবজাত সীমার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, যতক্ষণ না তা নিতম্বের উপরিভাগ এবং লিঙ্গমুণ্ডের সীমানা অতিক্রম করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অধিকতর স্পষ্ট মতানুসারে পাথর ব্যবহার করা জায়েজ। এবং ওয়াজিব...
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ثلاث مسحات ولو بأطراف حجر فإن لم ينق وجب الإنقاء وسن الإيثار وكل حجر لكل محله وقيل: يوزعن لجانبيه والوسط ويسن الاستنجاء بيساره ولا استنجاء لدود وبعر بلا لوث في الأظهر.

তিনবার মুছা আবশ্যক, যদিও তা একটি পাথরের বিভিন্ন প্রান্ত দ্বারা হয়। যদি তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জিত না হয়, তবে পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা ওয়াজিব। আর বেজোড় সংখ্যা রক্ষা করা সুন্নাত। প্রত্যেকটি পাথর পুরো স্থানের জন্য প্রযোজ্য হবে; মতান্তরে বলা হয়েছে: সেগুলোকে দুই পার্শ্ব ও মধ্যভাগের জন্য বণ্টন করা হবে। বাম হাত দ্বারা ইস্তিনজা করা সুন্নাত। অধিকতর স্পষ্ট (আজহার) মতানুযায়ী, কৃমি এবং লেপনহীন শুষ্ক গোবর নির্গত হলে ইস্তিনজা করার প্রয়োজন নেই।

(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌باب الوضوء

فروضه ستة أحدها: نية رفع حدث أو استباحة مفتقر إلى طهر أو أداء فرض الوضوء ومن دام حدثه كمستحاضة كفاه نية الاستباحة دون الرفع على الصحيح فيهما ومن نوى تبردا مع نية معتبرة جاز على الصحيح أو ما يندب له وضوء كقراءة فلا في الأصح ويجب قرنها بأول الوجه وقيل: يكفي بسنة قبله وله تفريقها على أعضائه في الأصح.

الثاني: غسل وجهه وهو ما بين منابت رأسه غالبا ومنتهى لحييه وما بين أذنيه فمنه موضع الغمم وكذا التحذيف في الأصح لا النزعتان وهما بياضان يكتنفان الناصية.

قلت: صحح الجمهور أن موضع التحذيف من الرأس والله أعلم ويجب غسل كل هدب وحاجب وعذار وشارب وخد وعنفقة شعرا وبشرا وقيل: لا يجب باطن عنفقة كثيفة واللحية إن خفت كهدب وإلا فليغسل ظاهرها وفي قول لا يجب غسل خارج عن الوجه.

الثالث: غسل يديه مع مرفقيه فإن قطع بعضه وجب غسل ما بقي أو من مرفقيه فرأس عظم العضد على المشهور أو فوقه ندب باقي عضد.

الرابع: مسمى مسح لبشرة رأسه أو شعر في حده والأصل جواز غسله ووضع اليد بلا مد.
অজুর অধ্যায়

এর ফরয ছয়টি। প্রথমটি: অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা অথবা এমন কাজের বৈধতা অর্জন করা যার জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন, কিংবা অজুর ফরয আদায়ের নিয়ত করা। যার অপবিত্রতা সর্বদা জারি থাকে (যেমন: ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী), তার ক্ষেত্রে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত না করে কেবল বৈধতা অর্জনের নিয়ত করাই যথেষ্ট—উভয় মাসআলার ক্ষেত্রে এটিই সঠিক মত। যে ব্যক্তি কোনো গ্রহণযোগ্য নিয়তের সাথে শরীর শীতল করার নিয়ত করে, সঠিক মতানুসারে তা জায়েজ। অথবা যে কাজের জন্য অজু করা মুস্তাহাব (যেমন: কোরআন তেলাওয়াত), তার নিয়ত করলে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী (ফরয অজুর জন্য) যথেষ্ট হবে না। মুখমণ্ডল ধৌত করার শুরুর সাথে নিয়তকে যুক্ত করা ওয়াজিব। বলা হয়েছে: এর পূর্ববর্তী সুন্নাত আমলের সময় নিয়ত করাই যথেষ্ট। আর অধিকতর সঠিক মতানুসারে সে অজুর অঙ্গগুলোর ওপর নিয়তকে বিভক্ত করতে পারে।

দ্বিতীয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা। মুখমণ্ডলের সীমানা হলো সাধারণত মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপাদনস্থল থেকে দুই চোয়ালের শেষ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত। সুতরাং কপালে ঘন হয়ে আসা চুলের স্থান মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে অধিকতর সঠিক মতানুসারে 'তাহজিফ' (কপালে চুল কামানোর জায়গা) মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু 'নাজআতাইন' মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়; আর তা হলো কপালের দুই পাশের দুটি সাদা অংশ যা ললাটকে বেষ্টন করে থাকে।

আমি (ইমাম নববী) বলছি: জমহুর উলামাগণ একে সঠিক বলে গণ্য করেছেন যে, 'তাহজিফ'-এর স্থান মাথার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এবং প্রতিটি চোখের পাতা, ভ্রু, কানের পাশের চুল, গোঁফ, গাল এবং নিচের ঠোঁটের নিচের চুল (আনফাকাহ)-এর চুল ও চামড়া ধৌত করা ওয়াজিব। বলা হয়েছে: ঘন 'আনফাকাহ'-এর ভেতরের অংশ ধৌত করা ওয়াজিব নয়। আর দাড়ি যদি পাতলা হয় (যেমন চোখের পাতার চুল), তবে তা (চামড়াসহ) ধৌত করা ওয়াজিব, অন্যথায় কেবল এর উপরিভাগ ধৌত করলেই চলবে। এক মতে বলা হয়েছে, মুখমণ্ডলের সীমানার বাইরে ঝুলে থাকা দাড়ি ধৌত করা ওয়াজিব নয়।

第三টি: উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করা। যদি হাতের কিছু অংশ কাটা থাকে, তবে অবশিষ্ট অংশ ধৌত করা ওয়াজিব। আর যদি কনুই থেকে কাটা থাকে, তবে প্রসিদ্ধ মতানুসারে বাহুর হাড়ের মাথা ধৌত করা ওয়াজিব। আর যদি কনুইয়ের উপর থেকে কাটা হয়, তবে বাহুর অবশিষ্ট অংশ ধৌত করা মুস্তাহাব।

চতুর্থটি: মাথার চামড়া অথবা সীমানার মধ্যে থাকা চুল যৎসামান্য মাসেহ করা। আর মূল নিয়ম হলো, মাথা ধৌত করা এবং হাত না বুলিয়ে শুধু মাথায় হাত রাখাও জায়েজ।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الخامس: غسل رجليه مع كعبيه.

السادس: ترتيبه هكذا فلو اغتسل محدث فالأصح أنه إن أمكن تقدير ترتيب بأن غطس ومكث صح وإلا فلا.

قلت: الأصح الصحة بلا مكث والله أعلم وسننه السواك عرضا بكل خشن لا أصبعه في الأصح ويسن للصلاة وتغير الفم ولا يكره إلا للصائم بعد الزوال والتسمية أوله فإن ترك ففي أثنائه وغسل كفيه فإن لم يتيقن طهرهما كره غمسهما في الإناء قبل غسلهما والمضمضة والاستنشاق والأظهر أن فصلهما أفضل ثم الأصح يتمضمض بغرفة ثلاثا ثم يستنشق بأخرى ثلاثا ويبالغ فيهما غير الصائم.

قلت: الأظهر تفضيل الجمع بثلاث غرف يتمضمض من كل ثم يستنشق والله أعلم وتثليث الغسل والمسح ويأخذ الشاك باليقين ومسح كل رأسه ثم أذنيه فإن عسر رفع العمامة كمل بالمسح عليها وتخليل اللحية الكثة وأصابعه وتقديم اليمنى وإطالة غرته وتحجيله والموالاة وأوجبها القديم وترك الاستعانة والنفض وكذا التنشيف في الأصح ويقول بعده: أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمد عبده ورسوله اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك وحذفت دعاء الأعضاء إذ لا أصل له.
পঞ্চম: টাখনুসহ দুই পা ধৌত করা।

ষষ্ঠ: এভাবে ক্রমানুসারে ওযু সম্পন্ন করা। যদি অপবিত্র (হাদাসযুক্ত) ব্যক্তি গোসল করে, তবে বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী যদি তাতে ক্রমানুসার কল্পনা করা সম্ভব হয়—যেমন সে পানিতে ডুব দিল এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করল—তবে তা সহিহ হবে, অন্যথায় নয়।

আমি (ইমাম নববী) বলছি: বিশুদ্ধতর মত হলো কিছুক্ষণ অবস্থান করা ছাড়াই তা সহিহ হবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। ওযুর সুন্নতসমূহ হলো: যেকোনো খসখসে বস্তু দিয়ে আড়াআড়িভাবে মেসওয়াক করা, বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী কেবল আঙ্গুল দিয়ে মেসওয়াক করলে হবে না। নামাজের জন্য এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তনের সময় মেসওয়াক করা সুন্নত। তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলার (জাওয়াল) পর এটি মাকরূহ। ওযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা; যদি শুরুতে ভুলে যায় তবে ওযুর মাঝখানে বলবে। দুই কবজি ধৌত করা; যদি সেগুলোর পবিত্রতা নিশ্চিত না থাকে তবে পাত্রে চুবানোর আগে সেগুলো ধৌত করা। কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া; এবং স্পষ্টতর মতানুযায়ী এই দুটি কাজ পৃথকভাবে করা উত্তম। অতঃপর বিশুদ্ধতর মত হলো, এক আজল পানি দিয়ে তিনবার কুলি করবে, এরপর আরেক আজল দিয়ে তিনবার নাকে পানি দেবে। রোজা পালনকারী না হলে এই দুই কাজে গভীরভাবে পানি পৌঁছাবে।

আমি (ইমাম নববী) বলছি: স্পষ্টতর মত হলো তিন আজল পানি দিয়ে কুলি ও নাকে পানি দেওয়াকে একত্র করা উত্তম—প্রতিটি আজল থেকে কুলি করবে এবং এরপর নাকে পানি দেবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। ধৌত করা ও মাসেহ করার কাজ তিনবার করে করা। ওযুর কাজে সন্দেহ হলে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে। পুরো মাথা মাসেহ করা, এরপর দুই কান মাসেহ করা। যদি পাগড়ি খোলা কষ্টকর হয় তবে পাগড়ির ওপর মাসেহ করে তা পূর্ণ করবে। ঘন দাড়ি ও আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। ডান অঙ্গ আগে ধৌত করা। ওযুর অঙ্গসমূহের (চেহারা ও হাত-পা) নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অংশ ধৌত করা। বিরতিহীনভাবে ওযু করা, আর ইমাম শাফেয়ীর পুরাতন (কাদিম) মতানুযায়ী এটি ওয়াজিব। ওযুর কাজে অন্যের সাহায্য না নেওয়া এবং পানি ঝেড়ে না ফেলা, তেমনি বিশুদ্ধতর মতানুযায়ী ওযুর অঙ্গসমূহ মুছে না ফেলা। ওযুর পর বলবে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ, আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ, আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি।" আমি ওযুর প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার দোয়াগুলো বাদ দিয়েছি, কারণ সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌باب مسح الخف

يجوز في الوضوء للمقيم يوما وليلة وللمسافر ثلاثة بلياليها من الحدث بعد لبس فإن
মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়

ওজুর ক্ষেত্রে মুকিম ব্যক্তির জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত (মাসেহ করা) জায়েজ; যা মোজা পরিধান করার পর অপবিত্রতা (হাদাস) প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে (গণনা করা হবে)। যদি
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مسح حضرا ثم سافر أو عكس لم يستوف مدة سفر وشرطه أن يلبس بعد كمال طهر ساترا محل فرضه طاهرا يمكن تباع المشي فيه لتردد مسافر لحاجاته قيل: وحلالا ولا يجزىء منسوج لا يمنع ماء في الأصح ولا جرموقان في الأظهر ويجوز مشقوق قدم شد في الأصح ويسن مسح أعلاه وأسفله خطوطا ويكفي مسمى مسح يحاذي الفرض إلا أسفل الرجل وعقبها فلا على المذهب.

قلت: حرفه كأسفله والله أعلم ولا مسح لشاك في بقاء المدة فإن أجنب وجب تجديد لبس ومن نزع وهو بطهر المسح غسل قدميه وفي قول يتوضأ.
যদি কেউ আবাসিক অবস্থায় মাসাহ শুরু করে পরে সফরে বের হয় অথবা এর বিপরীত ঘটে, তবে সে সফরের মেয়াদ পূর্ণ করবে না। এর শর্ত হলো—পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর এমন মোজা পরিধান করা যা ফরযের স্থানকে আবৃত করে এবং যা পবিত্র। এছাড়া মুসাফিরের প্রয়োজনে তাতে ক্রমাগত চলাফেরা করা সম্ভব হতে হবে। বলা হয়েছে: তা হালালও হতে হবে। বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী, এমন বুননকৃত মোজা যথেষ্ট নয় যা পানি আটকাতে পারে না। আর প্রকাশ্যতর মত অনুযায়ী, জুরমুকান (মোজার ওপর পরিহিত অন্য মোজা) যথেষ্ট নয়। বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী, পায়ের দিকে চেরা মোজা যা বেঁধে রাখা হয়েছে তার ওপর মাসাহ বৈধ। মোজার উপরিভাগ ও নিম্নভাগ রেখা টেনে মাসাহ করা সুন্নাত। ফরয সীমানার বরাবর সামান্যতম মাসাহ করাই যথেষ্ট, তবে পায়ের তলা ও গোড়ালির ক্ষেত্রে মাযহাব অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়।

আমি বলছি: মোজার পার্শ্বদেশ বা কিনারাও পায়ের তলার মতোই, আর আল্লাহই ভালো জানেন। মেয়াদের স্থায়িত্বের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণকারীর জন্য মাসাহ করা বৈধ নয়। যদি কেউ জানাবাতগ্রস্ত হয়, তবে পুনরায় পরিধান করা ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি মাসাহর মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতা থাকাবস্থায় মোজা খুলে ফেলে, সে তার দুই পা ধৌত করবে; এক মত অনুযায়ী সে পুনরায় ওযু করবে।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌باب الغسل

موجبه موت وحيض ونفاس وكذا ولادة بلا بلل في الأصح وجنابة بدخول حشفة أو قدرها فرجا وبخروج منى من طريقه المعتاد وغيره ويعرف بتدفقه أو لذة بخروجه أو ريح عجين رطبا أو بياض بيض جافا فإن فقدت الصفات فلا غسل والمرأة كرجل ويحرم بها ما حرم بالحدث والمكث بالمسجد لا عبوره والقرآن وتحل أذكاره لا بقصد قرآن وأقله نية رفع جنابة أو استباحة مفتقر إليه أو أداء فرض الغسل مقرونة بأول فرض وتعميم شعره وبشره ولا تجب مضمضة واستنشاق وأكمله إزالة القذر ثم الوضوء وفي قول يؤخر غسل قدميه،
গোসলের অধ্যায়

এর ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ হলো—মৃত্যু, হায়েজ (ঋতুস্রাব), নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) এবং বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী কোনো প্রকার আর্দ্রতা ছাড়াই সন্তান প্রসব। তদ্রূপ জানাবাত (অপবিত্রতা)—যা লিঙ্গাগ্র বা তার সমপরিমাণ অংশ লজ্জাস্থানে প্রবেশের মাধ্যমে ঘটে, এবং বীর্য স্বাভাবিক বা অন্য কোনো পথে নির্গত হওয়ার মাধ্যমে ঘটে। বীর্য চেনা যায় সজোরে নির্গত হওয়া, অথবা নির্গমনের সময় তৃপ্তি লাভ করা, অথবা সিক্ত অবস্থায় খামিরের গন্ধ পাওয়া বা শুষ্ক অবস্থায় ডিমের শুভ্র অংশের গন্ধ পাওয়ার মাধ্যমে। যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো না পাওয়া যায় তবে গোসল ওয়াজিব হবে না। এ ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মতোই। জানাবাতের কারণে সেসব কাজ নিষিদ্ধ হয় যা অশুচি অবস্থায় নিষিদ্ধ, তদুপরি মসজিদে অবস্থান করা—তবে যাতায়াত নয়—এবং কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য ব্যতীত জিকিরসমূহ পাঠ করা জায়েজ। গোসলের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো—জানাবাত দূর করার নিয়ত করা, অথবা যার জন্য গোসল অপরিহার্য তার বৈধতা অর্জনের নিয়ত করা, অথবা গোসলের ফরজ আদায়ের নিয়ত করা, যা ধোয়ার প্রথম অংশের সাথে যুক্ত থাকবে; এবং সমস্ত চুল ও ত্বকে পানি পৌঁছানো। কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। আর গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো—প্রথমে অপবিত্রতা দূর করা, অতঃপর ওজু করা; এবং এক অভিমত অনুযায়ী দুই পা ধোয়া বিলম্বিত করা।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم تعهد معاطفه ثم يفيض الماء على رأسه ويخلله ثم شقه الأيمن ثم الأيسر ويدلك ويثلث وتتبع لحيض أثره مسكا وإلا فنحوه ولا يسن تجديده بخلاف الوضوء ويسن أن لا ينقص ماء الوضوء عن مد والغسل عن صاع ولا حد له ومن به نجس يغسله ثم يغتسل ولا تكفي لهما غسلة وكذا في الوضوء.

قلت: الأصح تكفيه والله أعلم ومن اغتسل لجنابة وجمعة حصلا أو لأحدهما حصل فقط قلت: ولو أحدث ثم أجنب أو عكسه كفى الغسل على المذهب والله أعلم.
অতঃপর শরীরের ভাঁজসমূহের প্রতি যত্নবান হবেন (সেখানে পানি পৌঁছাবেন), তারপর মস্তকে পানি ঢালবেন ও খেলাল করবেন, এরপর শরীরের ডান পার্শ্ব ও তারপর বাম পার্শ্ব ধৌত করবেন; এবং অঙ্গসমূহ মলন করবেন ও তিনবার করে ধৌত করবেন। আর ঋতুবতী নারী রক্তের চিহ্নের স্থানে কস্তুরী ব্যবহার করবেন, নতুবা তদনুরূপ কোনো সুগন্ধি। আর ওযুর বিপরীতে গোসল পুনরায় করা সুন্নাহ নয়। সুন্নাহ হলো ওযুর পানি এক মুদ এবং গোসলের পানি এক সা-এর কম না হওয়া; যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। আর যার শরীরে নাপাকি লেগে আছে, সে প্রথমে তা ধৌত করবে এবং অতঃপর গোসল করবে; উভয়ের জন্য একবার ধৌত করা যথেষ্ট নয়। ওযুর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান।

আমি বলছি: অধিকতর সঠিক মত হলো এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আর যে ব্যক্তি জানাবাত ও জুমার উদ্দেশ্যে গোসল করবে, তবে উভয়টিই অর্জিত হবে; আর যদি কেবল একটির নিয়তে করে তবে কেবল সেটিই অর্জিত হবে। আমি বলছি: যদি কেউ ওযু ভঙ্গ হওয়ার পর জানাবাতগ্রস্ত হয় কিংবা এর বিপরীতটি ঘটে, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি গোসলই যথেষ্ট, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب النجاسة

هي كل مسكر مائع وكلب وخنزير وفرعهما وميتة غير الآدمي والسمك والجراد ودم وقيح قيء وروث وبول ومذي وودي وكذا منى غير الآدمي في الأصح.

قلت: الأصح طهارة منى غير الكلب والخنزير وفرع أحدهما والله أعلم ولبن ما لا يؤكل غير الآدمي والجزء المنفصل من الحي كميتته إلا شعر المأكول فطاهر وليست العقلة والمضغة ورطوبة الفرج بنجس في الأصح ولا يطهر نجس العين إلا خمر تخللت وكذا إن نقلت من شمس إلى ظل وعكسه في الأصح فإن خللت بطرح شيء فلا وجلد نجس بالموت فيطهر بدبغه ظاهره وكذا باطنه على المشهور والدبغ نزع فضوله بحريف لا شمس وتراب ولا يجب الماء في أثنائه في الأصح والمدبوغ كثوب نجس وما نجس بملاقاة شيء من كلب غسل سبعا إحداها بتراب والأظهر تعين التراب وأن الخنزير
নাপাকি পরিচ্ছেদ

তা (নাপাকি) হলো প্রতিটি তরল মাদকদ্রব্য, কুকুর, শূকর এবং এই দুটির কোনো একটি থেকে জন্ম নেওয়া যে কোনো প্রাণী, মানুষ, মাছ ও পঙ্গপাল ব্যতীত অন্যান্য মৃত প্রাণী, রক্ত, পুঁজ, বমি, মল, প্রস্রাব, মজি ও ওদি এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীর বীর্যও এর অন্তর্ভুক্ত।

আমি বলছি: অধিকতর সঠিক মত হলো কুকুর, শূকর এবং এই দুটির কোনো একটি থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণী ব্যতীত অন্য সব প্রাণীর বীর্য পবিত্র; আর আল্লাহই ভালো জানেন। মানুষ ব্যতীত অন্য যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ নয় তাদের দুধ এবং জীবিত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন অংশ তার মৃতদেহের মতোই (নাপাক), তবে ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর পশম পবিত্র। অধিকতর সঠিক মতানুসারে রক্তপিণ্ড, গোশতপিণ্ড এবং লজ্জাস্থানের আর্দ্রতা নাপাক নয়। সত্তাগতভাবে নাপাক বস্তু পবিত্র হয় না, তবে মদ যদি (নিজে নিজে) সিরকায় পরিণত হয় তবে তা পবিত্র হবে। অনুরূপভাবে সিরকায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় মদকে যদি রোদ থেকে ছায়ায় বা ছায়া থেকে রোদে স্থানান্তর করা হয়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তা পবিত্র হবে। কিন্তু যদি তাতে কোনো কিছু নিক্ষেপ করার মাধ্যমে সিরকায় পরিণত করা হয়, তবে তা পবিত্র হবে না। মৃত্যুর কারণে নাপাক হওয়া চামড়া দাবাগাত (প্রক্রিয়াকরণ) করলে তার উপরিভাগ পবিত্র হয় এবং প্রসিদ্ধ মতানুসারে তার অভ্যন্তরীণ ভাগও পবিত্র হয়। দাবাগাত হলো ঝাঁঝালো কোনো বস্তুর মাধ্যমে চামড়ার পচনশীল বাড়তি অংশ দূর করা; কেবল রোদ বা মাটি দিয়ে তা হবে না। বিশুদ্ধ মতানুসারে দাবাগাত করার প্রক্রিয়ার মাঝে পানি ব্যবহার করা ওয়াজিব নয়। দাবাগাতকৃত চামড়া (ব্যবহারের পূর্বে) নাপাক কাপড়ের ন্যায়। কুকুরের কোনো কিছুর সংস্পর্শে যা নাপাক হয় তা সাতবার ধৌত করতে হবে যার মধ্যে একবার মাটি দ্বারা হতে হবে। অধিকতর প্রকাশ্য মতানুসারে মাটি ব্যবহার করা সুনির্ধারিত এবং শূকরও...
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ككلب ولا يكفي تراب نجس ولا ممزوج بمائع في الأصح وما نجس ببول صبي لم يطعم غير لبن نضح وما نجس بغيرهما إن لم تكن عين كفى جرى الماء وإن كانت وجب إزالة الطعم ولا يضر بقاء لون أو ريح عسر زواله وفي الريح قول.

قلت: فإن بقيا معا ضرا على الصحيح والله أعلم ويشترط ورود الماء لا العصر في الأصح والأظهر طهارة غسالة تنفصل بلا تغير وقد طهر المحل ولو نجس مائع تعذر تطهيره وقيل: يطهر الدهن بغسله.
যেমন কুকুরের ক্ষেত্রে; আর বিশুদ্ধতর অভিমত অনুযায়ী অপবিত্র মাটি কিংবা তরল মিশ্রিত মাটি যথেষ্ট নয়। আর যে বস্তু এমন শিশু বালকের প্রস্রাব দ্বারা অপবিত্র হয়েছে যে দুধ ছাড়া অন্য কিছু খায়নি, তা পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। আর এই দুটি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা যা অপবিত্র হয়েছে, তাতে যদি কোনো দৃশ্যমান বস্তু না থাকে তবে পানি প্রবাহিত করাই যথেষ্ট। আর যদি দৃশ্যমান বস্তু থাকে তবে তার স্বাদ দূর করা আবশ্যক। তবে যে রঙ কিংবা গন্ধ দূর করা কষ্টসাধ্য, তা অবশিষ্ট থাকলে কোনো ক্ষতি নেই এবং গন্ধের বিষয়ে একটি ভিন্ন অভিমত রয়েছে।

আমি বলছি: যদি উভয়টি (রঙ ও গন্ধ) একত্রে অবশিষ্ট থেকে যায়, তবে সঠিক অভিমত অনুযায়ী তা ক্ষতিকর হবে (অর্থাৎ স্থানটি অপবিত্র থেকে যাবে), আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। বিশুদ্ধতর অভিমত অনুযায়ী পানি (অপবিত্র স্থানে) পৌঁছানো শর্ত, নিংড়ানো নয়। আর সুস্পষ্টতর অভিমত হলো, ধৌত করার পর যে পানি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পৃথক হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানটি পবিত্র হয়ে গেছে, সেই ধৌত পানি পবিত্র। যদি কোনো তরল পদার্থ অপবিত্র হয়, তবে তা পবিত্র করা অসম্ভব। আর বলা হয়ে থাকে: তৈলাক্ত পদার্থ ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌باب التيمم

يتيمم المحدث والجنب لأسباب أحدها: فقد الماء فإن تيقن المسافر فقده تيمم بلا طلب وإن توهمه طلبه من رحله ورفقته ونظر حواليه إن كان بمستو فإن احتاج إلى تردد تردد قدر نظره فإن لم يجد تيمم فلو مكث موضعه فالأصح وجوب الطلب لما يطرأ فلو علم ماء يصله المسافر لحاجته وجب قصده إن لم يخف ضرر نفس أو مال فإن كان فوق ذلك تيمم ولو تيقنه آخر الوقت فانتظاره أفضل أو ظنه فتعجيل التيمم أفضل في الأظهر ولو وجد ماء لا يكفيه فالأظهر وجوب استعماله ويكون قبل التيمم ويجب شراؤه بثمن مثله إلا أن يحتاج إليه لدين مستغرق أو مؤنة سفره أو نفقة حيوان محترم ولو وهب له ماء أو أعير دلوا وجب القبول في الأصح ولو وهب ثمنه فلا ولو نسيه في رحله أو أضله فيه فلم يجده بعد الطلب فتيمم قضى في الأظهر ولو أضل رحله في رحال فلا يقضي.
তায়াম্মুমের অধ্যায়

অযুহীন এবং জুনুবী ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে তায়াম্মুম করবেন, যার অন্যতম হলো: পানির অভাব। যদি মুসাফির ব্যক্তি পানির অনুপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন, তবে তিনি অন্বেষণ ছাড়াই তায়াম্মুম করবেন। আর যদি পানির সম্ভাবনা ধারণা করেন, তবে তিনি তার আসবাবপত্র ও সঙ্গীদের মাঝে তা খুঁজবেন এবং ভূমি সমতল হলে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি এদিক-সেদিক যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করবেন। অতঃপর পানি না পেলে তায়াম্মুম করবেন। যদি তিনি নিজ স্থানে অবস্থান করেন, তবে অধিকতর সঠিক (আসাহ্) মতানুসারে নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে পুনরায় পানি অন্বেষণ করা ওয়াজিব। যদি তিনি এমন পানির অবস্থান জানেন যেখানে একজন মুসাফির তার প্রয়োজনে পৌঁছাতে পারেন, তবে সেখানে যাওয়া ওয়াজিব, যদি জান বা মালের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে। আর যদি তা (দূরত্ব) এর চেয়ে বেশি হয়, তবে তায়াম্মুম করবেন। যদি ওয়াক্তের শেষ দিকে পানি পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হন, তবে অপেক্ষা করা উত্তম। আর যদি পানি পাওয়ার প্রবল ধারণা থাকে, তবে 'আযহার' (অধিকতর প্রসিদ্ধ) মতানুসারে দ্রুত তায়াম্মুম সম্পন্ন করা উত্তম। যদি তিনি এমন পানি পান যা (পূর্ণ পবিত্রতার জন্য) পর্যাপ্ত নয়, তবে আযহার মতানুসারে তা ব্যবহার করা ওয়াজিব এবং তা তায়াম্মুমের পূর্বেই হতে হবে। পানির সমমূল্যে তা ক্রয় করা ওয়াজিব; তবে সেই অর্থ যদি এমন ঋণের জন্য প্রয়োজন হয় যা তার সম্পদকে পরিবেষ্টন করে আছে, অথবা সফরের খরচ কিংবা কোনো সম্মানিত প্রাণীর ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজন হয় (তবে ক্রয় করা ওয়াজিব নয়)। যদি তাকে পানি দান করা হয় অথবা বালতি ধার দেওয়া হয়, তবে আসাহ্ মতানুসারে তা গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর যদি পানি ক্রয়ের মূল্য দান করা হয়, তবে তা গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়। যদি কেউ তার আসবাবপত্রের মধ্যে পানি থাকার কথা ভুলে যান অথবা সেখানে তা হারিয়ে ফেলেন এবং খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে তায়াম্মুম করেন, তবে আযহার মতানুসারে তাকে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। আর যদি অনেক আসবাবপত্রের মাঝে নিজের আসবাবপত্রটিই হারিয়ে ফেলেন (এবং পানি না পেয়ে তায়াম্মুম করেন), তবে তাকে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الثاني: أن يحتاج إليه لعطش محترم ولو مآلا.

الثالث: مرض يخاف معه من استعماله على منفعة عضو وكذا بطء البرء أو الشين الفاحش في عضو ظاهر في الأظهر وشدة البرد كمرض وإذا امتنع استعماله في عضو إن لم يكن عليه ساتر وجب التيمم وكذا غسل الصحيح على المذهب ولا ترتيب بينهما للجنب فإن كان محدثا فالأصح اشتراط التيمم وقت غسل العليل فإن جرح عضواه فتيممان وإن كان كجبيرة لا يمكن نزعها غسل الصحيح وتيمم كما سبق ويجب مع ذلك مسح كل جبيرته بماء وقيل: بعضها فإذا تيمم لفرض ثان ولم يحدث لم يعد الجنب غسلا ويعيد المحدث ما بعد عليله وقيل: يستأنفان وقيل: المحدث كجنب قلت: هذا الثالث: أصح والله أعلم.

فصل

يتيمم بكل تراب طاهر حتى ما يداوى به وبرمل فيه غبار لاما بمعدن وسحاقة خزف ومختلط بدقيق ونحوه وقيل: إن قل الخليط جاز ولا بمستعمل على الصحيح وهو ما بقي بعضوه وكذا ما تناثر في الأصح ويشترط فصده فلو سفته ريح عليه فردده ونوى لم يجزىء ولو يمم بإذنه جاز وقيل: يشترط عذر.

وأركانه: نقل التراب فلو نقل من وجه إلى يد أو عكس كفى في الأصح ونية استباحة الصلاة لا رفع الحدث ولو نوى فرض التيمم لم يكف في الأصح ويجب قرنها بالنقل وكذا استدامتها إلى مسح شيء من الوجه على الصحيح فإن نوى فرضا ونفلا أبيحا أو فرضا فله النفل على المذهب أو نفلا أو الصلاة تنفل لا الفرض على المذهب ومسح وجهه ثم يديه
দ্বিতীয়: এমনকি ভবিষ্যতে হলেও সম্মানিত কোনো প্রাণের তৃষ্ণা নিবারণে পানির প্রয়োজন হওয়া।

তৃতীয়: এমন রোগ যেখানে পানি ব্যবহার করলে কোনো অঙ্গের উপযোগিতা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে, তেমনিভাবে আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়া অথবা প্রকাশ্য কোনো অঙ্গে কুৎসিত দাগ পড়ার ভয় থাকা ‘আযহার’ (অধিকতর স্পষ্ট) মতানুসারে। প্রচণ্ড শীতও রোগের মতোই গণ্য। যদি কোনো অঙ্গে আবরণ ছাড়া পানি ব্যবহার অসম্ভব হয়, তবে তায়াম্মুম করা ওয়াজিব এবং ‘মাযহাব’ অনুযায়ী সুস্থ অংশ ধৌত করাও ওয়াজিব। জুনুব ব্যক্তির (বড় নাপাকি অবস্থায়) ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মাঝে কোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি নয়। আর যদি সে ছোট নাপাকি অবস্থায় থাকে, তবে ‘আসাহ’ (অধিকতর সঠিক) মতানুসারে রুগ্ন অঙ্গ ধোয়ার সময় তায়াম্মুম করা শর্ত। যদি দুটি অঙ্গ যখম হয় তবে দুটি তায়াম্মুম করতে হবে। আর যদি এমন পট্টি থাকে যা খোলা সম্ভব নয়, তবে সুস্থ অংশ ধৌত করবে এবং পূর্বে বর্ণিত নিয়মে তায়াম্মুম করবে। এর সাথে পুরো পট্টির ওপর পানি দিয়ে মাসেহ করা ওয়াজিব। কেউ কেউ বলেছেন: কিয়দাংশ মাসেহ করাই যথেষ্ট। যখন দ্বিতীয় কোনো ফরয নামাযের জন্য তায়াম্মুম করবে এবং পবিত্রতা ভঙ্গ না হয়, তখন জুনুব ব্যক্তিকে পুনরায় ধৌত করতে হবে না, তবে ছোট নাপাকি অবস্থায় থাকা ব্যক্তি রুগ্ন অঙ্গের পরবর্তী অংশগুলো পুনরায় ধৌত করবে। কেউ কেউ বলেছেন: উভয়কেই নতুন করে শুরু করতে হবে। আবার কেউ বলেছেন: ছোট নাপাকি অবস্থায় থাকা ব্যক্তি জুনুবের মতোই। আমি বলছি: এই তৃতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

পরিচ্ছেদ

প্রতিটি পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা যাবে, এমনকি যা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা দিয়েও। এছাড়া ধূলিযুক্ত বালু দিয়েও তায়াম্মুম করা যাবে। খনিজ দ্রব্য, মাটির পাত্রের চূর্ণ এবং আটা বা সদৃশ বস্তুর মিশ্রণ রয়েছে এমন কিছু দিয়ে তায়াম্মুম করা যাবে না। বলা হয়েছে: যদি মিশ্রণ সামান্য হয় তবে জায়েয। ‘সহীহ’ মতানুসারে ব্যবহৃত মাটি দিয়ে তায়াম্মুম বৈধ নয়, আর ব্যবহৃত মাটি হলো যা অঙ্গের সাথে লেগে থাকে; তেমনিভাবে যা ঝরে পড়ে তাও ‘আসাহ’ মতানুসারে ব্যবহৃত মাটি হিসেবে গণ্য। মাটি নিজ থেকে সংগ্রহ করা শর্ত, সুতরাং বাতাস যদি তার ওপর ধূলি উড়িয়ে আনে এবং সে তা নাড়াচাড়া করে নিয়ত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না। যদি অন্য কেউ তার অনুমতি নিয়ে তাকে তায়াম্মুম করিয়ে দেয় তবে তা জায়েয হবে, তবে কেউ কেউ বলেছেন: এর জন্য উপযুক্ত ওযর থাকা শর্ত।

এর রোকনসমূহ হলো: মাটি স্থানান্তর করা, সুতরাং যদি মুখমণ্ডল থেকে হাতে অথবা হাত থেকে মুখমণ্ডলে স্থানান্তর করে তবে ‘আসাহ’ মতানুসারে তা যথেষ্ট হবে। এবং নামায বৈধ হওয়ার নিয়ত করা, নাপাকি দূর করার নিয়ত নয়। যদি কেউ কেবল ‘তায়াম্মুমের ফরয’ পালনের নিয়ত করে তবে ‘আসাহ’ মতানুসারে তা যথেষ্ট হবে না। মাটি স্থানান্তরের সময় নিয়ত করা ওয়াজিব এবং ‘সহীহ’ মতানুসারে মুখমণ্ডলের কিছু অংশ মাসেহ করা পর্যন্ত নিয়ত বজায় রাখা আবশ্যক। যদি ফরয ও নফল উভয়ের নিয়ত করে তবে উভয়টিই তার জন্য বৈধ হবে। আর যদি শুধু ফরযের নিয়ত করে তবে ‘মাযহাব’ অনুযায়ী সে নফলও আদায় করতে পারবে। আর যদি শুধু নফল বা কেবল নামাযের নিয়ত করে তবে ‘মাযহাব’ অনুযায়ী নফল পড়তে পারবে কিন্তু ফরয নয়। এরপর মুখমণ্ডল মাসেহ করা এবং তারপর উভয় হাত মাসেহ করা।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
مع مرفقيه ولا يجب إيصاله منبت الشعر الخفيف ولا ترتيب في نقله في الأصح فلو ضرب بيديه ومسح بيمينه وجهه وبيساره يمينه جاز وتندب التسمية ومسح وجهه ويديه بضربتين

قلت: الأصح المنصوص وجوب ضربتين وإن أمكن بضربة بخرقة ونحوها والله أعلم ويقدم يمينه وأعلى وجهه ويخفف الغبار وموالاة التيمم كالوضوء.

قلت: وكذا الغسل ويندب تفريق أصابعه أولا ويجب نزع خاتمه في الثانية والله أعلم ومن تيمم لفقد ماء فوجده إن لم يكن في صلاة بطل إن لم يقترن بمانع كعطش أو في صلاة لا تسقط به بطلت على المشهور وإن أسقطها فلا وقيل: يبطل النفل والأصح أن قطعها ليتوضأ أفضل وأن المتنفل لا يجاوز ركعتين إلا من نوى عددا فيتمه ولا يصلي بتيمم غير فرض ويتنفل ما شاء والنذر كفرض في الأظهر والأصح صحة جنائز مع فرض وأن من نسي إحدى الخمس كفاه تيمم لهن وإن نسي مختلفتين صلى كل صلاة بتيمم وإن شاء تيمم مرتين وصلى بالأول أربعا ولاء وبالثاني أربعا ليس منها التي بدأ بها أو متفقتين صلى الخمس مرتين بتيممين ولا يتيمم لفرض قبل وقت فعله وكذا النفل المؤقت في الأصح ومن لم يجد ماء ولا ترابا لزمه في الجديد أن يصلي الفرض ويعيد ويقضي المقيم المتيمم لفقد الماء لا المسافر إلا العاصي بسفره في الأصح ومن تيمم لبرد قضى في الأظهر أو لمرض يمنع الماء مطلقا أو في عضو ولا ساتر فلا إلا أن يكون بجرحه دم كثير وإن كان ساتر لم يقض في الأظهر إن وضع على طهر فإن وضع على حدث وجب نزعه فإن تعذر قضى على المشهور.
কনুইসহ (হাত মাসাহ করা) এবং পাতলা চুলের গোড়ায় ধুলো পৌঁছানো ওয়াজিব নয়। বিশুদ্ধতম (আসাহ) মতানুসারে মাটি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো তারতিব বা ধারাবাহিকতা ওয়াজিব নয়। সুতরাং যদি কেউ তার উভয় হাত মাটিতে আঘাত করে এবং ডান হাত দিয়ে মুখমণ্ডল ও বাম হাত দিয়ে তার ডান হাত মাসাহ করে, তবে তা বৈধ হবে। তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) পাঠ করা এবং দুইবার হাত আঘাত করার মাধ্যমে মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ করা মুস্তাহাব।

আমি বলছি: কিতাবে বর্ণিত বিশুদ্ধতম মতটি হলো দুইবার মাটিতে হাত আঘাত করা ওয়াজিব, যদিও কোনো কাপড় বা অনুরূপ কিছুর সাহায্যে একবারের আঘাতেই মাসাহ করা সম্ভব হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। মাসাহ করার সময় ডান দিক এবং মুখমণ্ডলের উপরের অংশকে প্রাধান্য দেবে। ধুলোবালি হালকা করে নেবে এবং তায়াম্মুমের কার্যাবলীর মাঝে ধারাবাহিকতা (মুওয়ালাত) বজায় রাখা ওযুর মতোই।

আমি বলছি: গোসলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। প্রথমবার হাত আঘাতের সময় আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখা মুস্তাহাব এবং দ্বিতীয়বার হাত আঘাতের সময় আংটি খুলে ফেলা ওয়াজিব। আল্লাহই ভালো জানেন। যে ব্যক্তি পানির অভাবে তায়াম্মুম করল, অতঃপর পানি পেয়ে গেল—যদি সে নামাজের মধ্যে না থাকে তবে তার তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যাবে, যদি তৃষ্ণার মতো কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। আর যদি সে এমন নামাজের মধ্যে থাকে যা এই তায়াম্মুমের দ্বারা আদায় করলে পুনরায় কাজা করতে হবে, তবে মাশহুর মতানুসারে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি পুনরায় কাজা করতে না হয়, তবে বাতিল হবে না। কেউ কেউ বলেছেন: নফল নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, ওযু করার জন্য নামাজ ছেড়ে দেওয়া উত্তম। নফল নামাজ আদায়কারী দুই রাকাতের বেশি পড়বে না, তবে যদি সে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাতের নিয়ত করে থাকে তবে তা পূর্ণ করবে। এক তায়াম্মুম দিয়ে একটির বেশি ফরজ নামাজ পড়া যাবে না, তবে নফল যত ইচ্ছা পড়া যাবে। আযহার মতানুসারে মানত করা নামাজ ফরজের মতোই। আসাহ বা বিশুদ্ধতম মতানুসারে ফরজের সাথে জানাজার নামাজ পড়া বৈধ। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্তের কোনো এক ওয়াক্তের নামাজ ভুলে গেছে, তার জন্য একটি তায়াম্মুমই যথেষ্ট। আর যদি ভিন্ন ভিন্ন দুই ওয়াক্তের নামাজ ভুলে যায়, তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য আলাদা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বে। চাইলে সে দুইবার তায়াম্মুম করতে পারে; প্রথম তায়াম্মুম দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চারটি নামাজ পড়বে এবং দ্বিতীয় তায়াম্মুম দিয়ে আরও চারটি নামাজ পড়বে যার মধ্যে প্রথম শুরু করা নামাজটি থাকবে না। আর যদি একই ওয়াক্তের দুই দিনের নামাজ হয়, তবে দুই তায়াম্মুমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ দুইবার করে পড়বে। ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে ফরজের জন্য তায়াম্মুম করা যাবে না। আসাহ বা অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে নির্দিষ্ট সময়ের নফলের ক্ষেত্রেও একই বিধান। যে ব্যক্তি পানি এবং মাটি কোনোটিই পেল না, জাদিদ মতানুসারে তার ওপর ফরজ নামাজ আদায় করা এবং পরবর্তীতে তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক। পানির অভাবে তায়াম্মুমকারী মুকিম ব্যক্তি নামাজ কাজা করবে, কিন্তু মুসাফির করবে না; তবে আসাহ মতানুসারে গোনাহের সফরকারী মুসাফিরের ক্ষেত্রে কাজা করতে হবে। আযহার মতানুসারে প্রচণ্ড শীতের কারণে তায়াম্মুম করলে নামাজ কাজা করতে হবে। আর যদি এমন রোগের কারণে হয় যা পানি ব্যবহারে পুরোপুরি বাধা দেয় অথবা শরীরের কোনো অঙ্গে পানি ব্যবহার অসম্ভব হয় এবং সেখানে কোনো আবরণ না থাকে, তবে কাজা করতে হবে না—যদি না ক্ষতে অধিক রক্ত থাকে। যদি আবরণ থাকে তবে আযহার মতানুসারে কাজা করতে হবে না যদি তা পবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়ে থাকে। কিন্তু যদি অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয় তবে তা খুলে ফেলা ওয়াজিব। যদি তা খোলা অসম্ভব হয়, তবে মাশহুর মতানুসারে নামাজ কাজা করতে হবে।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب الحيض

أقل سنه تسع سنين وأقله يوم وليلة وأكثره خمسة عشر بلياليها وأقل طهر بين الحيضتين خمسة عشر ولا حد لأكثره ويحرم به ما حرم بالجنابة وعبور المسجد إن خافت تلويثه والصوم ويجب قضاؤه بخلاف الصلاة وما بين سرتها وركبتها وقيل: لا يحرم غير الوطء فإذا انقطع لم يحل قبل الغسل غير الصوم والطلاق والاستحاضة حدث دائم كالسلس فلا تمنع الصوم والصلاة فتغسل المستحاضة فرجها وتعصبه وتتوضأ وقت الصلاة وتبادر بها فلو أخرت لمصلحة الصلاة كستر وانتظار جماعة لم يضر وإلا فيضر على الصحيح ويجب الوضوء لكل فرض وكذا تجديد العصابة في الأصح ولو انقطع دمها بعد الوضوء ولم تعتد انقطاعه وعوده أو اعتادت ووسع زمن الإنقطاع وضوء الصلاة وجب الوضوء.

فصل

رأت لسن الحيض أقله ولم يعبر أكثره فكله حيض والصفرة والكدرة حيض في الأصح فإن عبره فإن كانت مبتدأة مميزة بأن ترى قويا وضعيفا فالضعيف استحاضة والقوي حيض إن لم ينقص عن أقله ولا عبر أكثره ولا نقص الضعيف عن أقل الطهر أو مبتدأة لا مميزة بأن رأته بصفة أو فقدت شرط تمييز فالأظهر أن حيضها يوم وليلة
ঋতুস্রাব পরিচ্ছেদ

ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন বয়স নয় বছর। এর সর্বনিম্ন সময়সীমা একদিন ও একরাত এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা দিনসহ পনেরো রাত। আর দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন পবিত্রতার সময়কাল পনেরো দিন, আর এর সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্ধারিত সময় নেই। বড় নাপাকির (জানাবাত) কারণে যা যা হারাম হয়, ঋতুস্রাবের কারণেও তা হারাম হয়। এ ছাড়া অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মসজিদে প্রবেশ করা এবং রোজা রাখা হারাম; তবে নামাজের বিপরীতে রোজা কাজা করা ওয়াজিব। আর স্ত্রীর নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অঙ্গসমূহ উপভোগ করা হারাম; যদিও একটি মতানুসারে সহবাস ব্যতীত অন্য কিছু হারাম নয়। সুতরাং যখন রক্ত বন্ধ হবে, তখন গোসল করার আগে রোজা ও তালাক ব্যতীত অন্য কিছু হালাল হবে না। আর ইস্তিহাযা হলো প্রস্রাব ঝরার মতো একটি স্থায়ী অপবিত্রতা, তাই এটি রোজা ও নামাজ আদায়ে বাধা প্রদান করে না। অতএব ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী তার লজ্জাস্থান ধৌত করবেন, তা পট্টি দিয়ে বেঁধে রাখবেন এবং নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার পর অজু করবেন ও দ্রুত নামাজ আদায় করবেন। যদি নামাজের কোনো প্রয়োজনে যেমন সতর ঢাকা বা জামায়াতের জন্য অপেক্ষা করার কারণে বিলম্ব হয়, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; অন্যথায় বিশুদ্ধ মতানুসারে তা ক্ষতিকর হবে (অজু নষ্ট হবে)। প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য পৃথকভাবে অজু করা ওয়াজিব এবং অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে একইভাবে পট্টি পরিবর্তন করাও ওয়াজিব। যদি অজুর পর রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত থেমে থাকা ও পুনরায় আসার ব্যাপারে তার কোনো সাধারণ অভ্যাস না থাকে, অথবা অভ্যাস থাকে এবং রক্ত বন্ধ থাকার সময়কাল অজু ও নামাজ আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত হয়, তবে অজু করা ওয়াজিব হবে।

পরিচ্ছেদ

যদি কেউ ঋতুস্রাবের বয়সে রক্ত দেখে এবং তা সর্বনিম্ন মেয়াদের হয় কিন্তু সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম না করে, তবে পুরোটাই ঋতুস্রাব। অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে হলুদ ও ঘোলাটে স্রাবও ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য। আর যদি রক্ত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে এবং নারীটি যদি প্রথমবার ঋতুগ্রস্ত ও রক্ত শনাক্তকারী (মুবতাদিয়া মুমাইয়িযা) হয়—অর্থাৎ সে শক্তিশালী ও দুর্বল রক্তের পার্থক্য করতে পারে—তবে দুর্বল রক্ত ইস্তিহাযা এবং শক্তিশালী রক্ত ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে; শর্ত হলো শক্তিশালী রক্ত যেন সর্বনিম্ন মেয়াদের কম না হয় ও সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম না করে এবং দুর্বল রক্ত যেন সর্বনিম্ন পবিত্রতার মেয়াদের কম না হয়। আর যদি সে শনাক্ত করতে অক্ষম (মুবতাদিয়া গয়রে মুমাইয়িযা) হয়—অর্থাৎ সে অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের রক্ত দেখে অথবা শনাক্তকরণের শর্তসমূহ বিদ্যমান না থাকে—তবে সুস্পষ্ট মতানুসারে তার ঋতুস্রাবের সময়কাল একদিন ও একরাত।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وطهرها تسع وعشرون أو معتادة بأن سبق لها حيض وطهر فترد إليهما قدرا ووقتا وتثبت بمرة في الأصح ويحكم للمعتادة المميزة بالتمييز لا العادة في الأصح أو متحيرة بأن نسيت عادتها قدرا ووقتا ففي قول كمبتدأة والمشهور وجوب الاحتياط فيحرم الوطء ومس المصحف والقراءة في غير الصلاة وتصلي الفرائض أبدا وكذا النفل في الأصح وتغتسل لكل فرض وتصوم رمضان ثم شهرا كاملين فيحصل من كل أربعة عشر ثم تصوم من ثمانية عشر ثلاثة أولها وثلاثة آخرها فيحصل اليومان الباقيان ويمكن قضاء يوم بصوم يوم ثم الثالث: والسابع عشر وإن حفظت شيئا فلليقين حكمه وهي في المحتمل كحائض في الوطء وطاهر في العبادة وإن احتمل انقطاعا وجب الغسل لكل فرض والأظهر أن دم الحامل والنقاء بين أقل الحيض حيض وأقل النفاس لحظة وأكثره ستون وغالبه أربعون ويحرم به ما حرم بالحيض وعبوره ستين كعبوره أكثره.

আর তার পবিত্রতার সময়কাল হলো ঊনট্রিশ দিন। অথবা সে অভ্যাসধারী (মু'তাদা) নারী, যার পূর্বে ঋতুস্রাব ও পবিত্রতার নির্দিষ্ট অভ্যাস ছিল; এমতাবস্থায় সে পরিমাণ ও সময়ের ক্ষেত্রে সেই পূর্ববর্তী অভ্যাসের দিকেই ফিরে যাবে। আর বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী একবারের মাধ্যমেই অভ্যাস সাব্যস্ত হয়ে যায়। বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী, অভ্যাসধারী অথচ রক্ত দেখে পার্থক্য করতে সক্ষম (মুমাইয়িযা) নারীর ক্ষেত্রে পার্থক্যের (তাময়ীয) মাধ্যমেই বিধান নির্ধারিত হবে, অভ্যাসের মাধ্যমে নয়। অথবা সে বিভ্রান্ত নারী (মুতাহাইয়্যিরা), যে তার অভ্যাসের পরিমাণ ও সময় উভয়ই ভুলে গেছে; এক্ষেত্রে এক মতানুসারে সে নবাগত ঋতুবতীর (মুবতাদিয়া) ন্যায় গণ্য হবে, তবে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব। ফলে তার জন্য সহবাস, কুরআন স্পর্শ করা এবং নামাযের বাইরে কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম। সে সর্বদা ফরয নামায আদায় করবে এবং বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী নফল নামাযও পড়বে। সে প্রতিটি ফরয নামাযের জন্য গোসল করবে। সে রমযানের রোযা রাখবে, অতঃপর পূর্ণ দুই মাস রোযা রাখবে; ফলে প্রতি মাস থেকে চৌদ্দটি করে রোযা অর্জিত হবে। এরপর সে আঠারো দিনের মধ্যে প্রথম তিন দিন এবং শেষ তিন দিন রোযা রাখবে; এতে করে অবশিষ্ট দুই দিনের রোযা অর্জিত হয়ে যাবে। আর একদিনের কাযা আদায় করা সম্ভব একদিন রোযা রেখে পুনরায় তৃতীয় ও সপ্তদশ দিনে রোযা রাখার মাধ্যমে। আর সে যদি অভ্যাসের কোনো অংশ স্মরণ রাখতে পারে, তবে সেই নিশ্চিত বিষয়ের ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিধানই কার্যকর হবে। আর সম্ভাব্য সময়ের ক্ষেত্রে সে সহবাসের হুকুমে ঋতুবতীর ন্যায় এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে পবিত্রা নারীর ন্যায় গণ্য হবে। আর যদি রক্ত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে প্রত্যেক ফরয নামাযের জন্য গোসল করা ওয়াজিব। অধিকতর স্পষ্ট মত অনুযায়ী গর্ভবতীর রক্ত এবং ঋতুস্রাবের ন্যূনতম মেয়াদের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সময়টুকু ঋতুস্রাব হিসেবেই গণ্য। নেফাসের (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্ত) সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো এক মুহূর্ত, সর্বোচ্চ ষাট দিন এবং সাধারণত চল্লিশ দিন হয়ে থাকে। ঋতুস্রাবের কারণে যা যা হারাম হয়, নেফাসের কারণেও তা হারাম হবে। আর রক্ত ষাট দিন অতিক্রম করলে তা ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রম করার মতোই গণ্য হবে।

(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌كتاب الصلاة

‌‌مدخل

…

كتاب الصلاة

المكتوبات خمس الظهر وأول وقته زوال الشمس وآخره مصير ظل الشيء مثله سوى ظل استواء الشمس وهو أول وقت العصر ويبقى حتى تغرب والاختيار أن لا تؤخر عن مصير الظل مثلين والمغرب بالغروب ويبقى حتى يغيب الشفق الأحمر في القديم وفي الجديد ينقضي بمضي قدر وضوء وستر عورة وأذان وإقامة وخمس ركعات ولو شرع في الوقت ومد حتى غاب الشفق الأحمر جاز على الصحيح.

قلت: القديم أظهر والله أعلم والعشاء بمغيب الشفق ويبقى إلى الفجر والاختيار أن لا تؤخر عن ثلث الليل وفي قول نصفه والصبح بالفجر الصادق وهو المنتشر ضوؤه معترضا بالأفق ويبقى حتى تطلع الشمس والاختيار أن لا تؤخر عن الإسفار.

قلت: يكره تسمية المغرب عشاء والعشاء عتمة والنوم قبلها والحديث بعدها إلا في خير والله أعلم ويسن تعجيل الصلاة لأول الوقت وفي قول تأخير العشاء أفضل ويسن الإبراد بالظهر في شدة الحر والأصح اختصاصه ببلد حار وجماعة مسجد يقصدونه من بعد ومن وقع بعض صلاته في الوقت فالأصح أنه إن وقع ركعة فالجميع أداء وإلا فقضاء ومن جهل الوقت اجتهد بورد ونحوه فإن تيقن صلاته قبل الوقت قضى
নামাযের কিতাব

ভূমিকা

…

নামাযের কিতাব

ফরয নামায পাঁচটি; যুহর: এর ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য ঢলে পড়ার মাধ্যমে এবং এর শেষ সীমা হলো কোনো বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া, সূর্যের আকাশে উঠার সময়কার ছায়া ব্যতীত। আর এটিই আসরের ওয়াক্তের শুরু এবং তা সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পছন্দনীয় মত হলো আসরকে বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব না করা। মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্যাস্তের মাধ্যমে এবং কদীম (পুরাতন) মতানুযায়ী লাল আভা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকে। আর জাদীদ (নতুন) মতানুযায়ী ওযু করা, সতর ঢাকা, আযান ও ইকামত দেওয়া এবং পাঁচ রাকাত নামায পড়ার সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমেই মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। তবে সঠিক মতানুযায়ী, যদি কেউ ওয়াক্তের মধ্যে নামায শুরু করে এবং লাল আভা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত তা দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বৈধ।

আমি বলছি: কদীম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এশার ওয়াক্ত শুরু হয় লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার পর থেকে এবং ফজর পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকে। পছন্দনীয় মত হলো রাতের এক-তৃতীয়াংশের পর আর বিলম্ব না করা, মতান্তরে মধ্যরাত পর্যন্ত। আর সুবহে সাদিকের মাধ্যমে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়—যা দিগন্তে বিস্তৃত আলো—এবং তা সূর্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পছন্দনীয় মত হলো আকাশ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব না করা।

আমি বলছি: মাগরিবকে 'এশা' এবং এশাকে 'আতামাহ' নামকরণ করা মাকরূহ। এশার আগে ঘুমানো এবং এরপর কথা বলা মাকরূহ, তবে ভালো কাজের উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ওয়াক্তের শুরুতেই নামায পড়া সুন্নাত; মতান্তরে এশা বিলম্ব করে পড়া উত্তম। প্রচণ্ড গরমে যুহর শীতল করে (দেরি করে) পড়া সুন্নাত এবং অধিকতর সঠিক মতানুযায়ী এটি কেবল গরম প্রধান দেশ এবং মসজিদের ঐ জামাতের জন্য প্রযোজ্য যারা দূর থেকে যাতায়াত করেন। যার নামাযের কিয়দাংশ ওয়াক্তের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, অধিকতর সঠিক মতানুযায়ী যদি অন্তত এক রাকাত ওয়াক্তের মধ্যে হয়ে থাকে তবে পুরো নামাযই 'আদা' হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় তা 'কাদা' হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্ত সম্পর্কে অবগত নয়, সে নিয়মিত অজিফা বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে সময় নির্ধারণের চেষ্টা করবে। অতঃপর যদি সে নিশ্চিত হয় যে সে ওয়াক্ত হওয়ার আগেই নামায পড়ে ফেলেছে, তবে তা পুনরায় আদায় (কাদা) করতে হবে।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২২)
في الأظهر وإلا فلا ويبادر بالفائت ويسن ترتيبه وتقديمه على الحاضرة التي لا يخاف فوتها وتكره الصلاة عند الاستواء إلا يوم الجمعة وبعد الصبح حتى ترتفع الشمس كرمح والعصر حتى تغرب إلا لسبب كفائته وكسوف وتحية وسجدة شكر وإلا في حرم مكة على الصحيح.

فصل

إنما تجب الصلاة على كل مسلم بالغ عاقل طاهر ولا قضاء على كافر إلا المرتد ولا الصبي ويؤمر بها لسبع ويضرب عليها لعشر ولا ذي حيض أو جنون أو إغماء بخلاف السكر ولو زالت هذه الأسباب وبقي من الوقت تكبيرة وجبت الصلاة وفي قول يشترط ركعة والأظهر وجوب الظهر بإدراك تكبيرة آخر العصر والمغرب آخر العشاء ولو بلغ فيها أتمها وأجزأته على الصحيح أو بعدها فلا إعادة على الصحيح ولو حاضت أو جن أول الوقت وجبت تلك إن أدرك قدر الفرض وإلا فلا.

فصل

الأذان والإقامة سنة وقيل فرض كفاية وإنما يشرعان لمكتوبة ويقال في العيد
প্রকাশ্য মতানুসারে; অন্যথায় নয়। আর ছুটে যাওয়া সালাত দ্রুত আদায় করতে হবে। ছুটে যাওয়া সালাতগুলো ক্রমানুসারে আদায় করা এবং সেগুলোকে বর্তমান ওয়াক্তের সালাতের পূর্বে আদায় করা সুন্নাত, যদি বর্তমান ওয়াক্তের সালাতটি ছুটে যাওয়ার ভয় না থাকে। (সূর্য ঠিক মাথার ওপর) উঠার সময় সালাত আদায় করা মাকরূহ, তবে জুমুআর দিন ব্যতীত। তদ্রূপ সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উপরে ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করা মাকরূহ; তবে কারণবিশিষ্ট সালাত—যেমন ছুটে যাওয়া সালাত, কুসূফ (সূর্যগ্রহণ), তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ও শুকরিয়ার সাজদাহ হলে ভিন্ন কথা। আর সঠিক মতানুসারে মক্কার হারামেও (এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়)।

পরিচ্ছেদ

সালাত কেবল প্রত্যেক মুসলিম, বালেগ, বুদ্ধিমান ও পবিত্র ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। মুরতাদ ব্যতীত কোনো কাফিরের ওপর কাজা নেই এবং শিশুর ওপরও নয়। তবে সাত বছর বয়সে শিশুকে সালাতের আদেশ দেওয়া হবে এবং দশ বছর বয়সে (সালাত না পড়লে) প্রহার করা হবে। ঋতুবতী, পাগল কিংবা বেহুঁশ ব্যক্তির ওপর সালাত ওয়াজিব নয়; তবে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন। যদি এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায় এবং ওয়াক্তের কেবল এক তাকবির পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে, তবে সালাত ওয়াজিব হবে। এক মতে, এক রাকাআত পরিমাণ সময় শর্ত। আর প্রকাশ্য মতানুসারে, আসরের শেষ সময়ে এক তাকবির পরিমাণ সময় পেলে যোহরের সালাত এবং এশার শেষ সময়ে (এক তাকবির পরিমাণ সময় পেলে) মাগরিবের সালাত ওয়াজিব হবে। যদি সালাতরত অবস্থায় কেউ বালেগ হয়, তবে সে তা পূর্ণ করবে এবং সঠিক মতানুসারে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি সালাত আদায়ের পর বালেগ হয়, তবে সঠিক মতানুসারে পুনরায় আদায় করতে হবে না। যদি ওয়াক্তের শুরুতে কারো ঋতুস্রাব শুরু হয় কিংবা কেউ পাগল হয়ে যায়, তবে ফরজের সমপরিমাণ সময় পেয়ে থাকলে সেই সালাত ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়।

পরিচ্ছেদ

আজান ও ইকামত সুন্নাত; মতান্তরে ফরজে কিফায়া। এগুলো কেবল ফরজ সালাতের জন্যই বিধিবদ্ধ। আর ঈদের সালাতে বলা হবে...
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ونحوه الصلاة جامعة والجديد ندبه للمنفرد ويرفع صوته لا بمسجد وقعت فيه جماعة ويقيم للفائتة ولا يؤذن في الجديد.

قلت: القديم أظهر والله أعلم فإن كان فوائت لم يؤذن لغير الأولى ويندب لجماعة النساء الإقامة لا الأذان على المشهور والأذان مثنى والإقامة فرادى إلا لفظ الإقامة ويسن إدراجها وترتيله والترجيع فيه والتثويب في الصبح وأن يؤذن قائما للقبلة ويشترط ترتيبه وموالاته وفي قول لا يضر كلام وسكوت طويلان وشرط المؤذن الإسلام والتمييز والذكورة ويكره للمحدث وللجنب أشد والإقامة أغلظ ويسن صيت حسن الصوت عدل والإمامة أفضل منه في الأصح.

قلت: الأصح انه أفضل منها والله أعلم وشرطه الوقت إلا الصبح فمن نصف الليل ويسن مؤذنان للمسجد يؤذن واحد قبل الفجر وآخر بعده ويسن لسامعه مثل قوله لا في حيعلاته فيقول لا حول ولا قوة إلا بالله.

قلت: وإلا في التثويب فيقول صدقت وبررت والله أعلم ولكل أن يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم بعد فراغه ثم اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة آت محمدا الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته.
এবং এর অনুরূপ হলো ‘আস-সালাতু জামিআহ’ বলা। নতুন অভিমত অনুযায়ী একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্যও এটি মুস্তাহাব এবং সে তার আওয়াজ উচ্চ করবে, তবে এমন মসজিদে নয় যেখানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য সে ইকামাত দিবে, তবে নতুন অভিমত অনুযায়ী আজান দিবে না।

আমি বলছি: পুরাতন অভিমতটিই অধিক স্পষ্ট এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যদি একাধিক নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তবে প্রথমটি ছাড়া অন্যগুলোর জন্য আজান দেওয়া হবে না। নারীদের জামাতের জন্য ইকামাত দেওয়া মুস্তাহাব, তবে প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী আজান দেওয়া মুস্তাহাব নয়। আজানের শব্দসমূহ দুইবার করে এবং ইকামাতের শব্দসমূহ একবার করে বলতে হয়, তবে ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ বাক্যটি ব্যতীত। ইকামাত দ্রুত পাঠ করা এবং আজান ধীরস্থিরভাবে পাঠ করা সুন্নাত, সেই সাথে আজানে তারজি‘ করা (শাহাদাতাইন নিচু স্বরে বলার পর উচ্চস্বরে বলা), ফজরের আজানে তাসউইব করা এবং কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আজান দেওয়া সুন্নাত। আজানের শব্দসমূহের ক্রমধারা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে তা সম্পন্ন করা শর্ত। একটি অভিমত অনুযায়ী, আজানের মাঝে দীর্ঘ কথা বা দীর্ঘ নীরবতা ক্ষতির কারণ হয় না। মুয়াজ্জিনের জন্য মুসলিম হওয়া, বোধশক্তিসম্পন্ন হওয়া এবং পুরুষ হওয়া শর্ত। অজুহীন অবস্থায় আজান দেওয়া অপছন্দনীয় (মাকরূহ), আর জুনুবি অবস্থায় তা আরও বেশি অপছন্দনীয় এবং ইকামাতের ক্ষেত্রে তা আরও কঠোরভাবে অপছন্দনীয়। মুয়াজ্জিন উচ্চকণ্ঠী, সুকণ্ঠের অধিকারী ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া সুন্নাত। সবচাইতে বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী, ইমামতি করা মুয়াজ্জিন হওয়ার চেয়ে উত্তম।

আমি বলছি: সবচাইতে বিশুদ্ধ অভিমত হলো আজান দেওয়া ইমামতির চেয়ে উত্তম, এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আজানের জন্য ওয়াক্ত হওয়া শর্ত, তবে ফজরের ক্ষেত্রে মধ্যরাতের পর থেকেই আজান দেওয়া যায়। মসজিদের জন্য দুইজন মুয়াজ্জিন রাখা সুন্নাত; একজন ফজর উদিত হওয়ার আগে আজান দিবেন এবং অন্যজন ফজর উদিত হওয়ার পর। আজান শ্রবণকারীর জন্য মুয়াজ্জিন যা বলেন অনুরূপ বলা সুন্নাত, তবে ‘হাইয়া আলাস-সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল-ফালাহ’-এর ক্ষেত্রে সে বলবে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে বাঁচার এবং ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই)।

আমি বলছি: এবং তাসউইব-এর ক্ষেত্রেও সে বলবে ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’ (আপনি সত্য বলেছেন এবং উত্তম কাজ করেছেন), এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আজান সমাপ্ত হওয়ার পর প্রত্যেকের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা সুন্নাত, অতঃপর বলবে: ‘হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ওয়াসিলা ও সুমহান মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন’।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فصل

استقبال القبلة شرط لصلاة القادر إلا في شدة الخوف ونفل السفر فللمسافر التنفل راكبا وماشيا ولا يشترط طول سفره على المشهور فإن أمكن استقبال الراكب في مرقد وإتمام ركوعه وسجوده لزمه وإلا فالأصح أنه إن سهل الاستقبال وجب وإلا فلا ويختص بالتحرم وقيل: يشترط في السلام أيضا ويحرم انحرافه عن طريقه إلا إلى القبلة ويوميء بركوعه وسجوده أخفض والأظهر أن الماشي يتم ركوعه وسجوده ويستقبل فيهما وفي إحرامه ولا يمشي إلا في قيامه وتشهده ولو صلى فرضا على دابة واستقبل وأتم ركوعه وسجوده وهي واقفة جاز أو سائرة فلا ومن صلى في الكعبة واستقبل جدارها أو بابها مردودا أو مفتوحا مع ارتفاع عتبته ثلثي ذراع أو على سطحها مستقبلا من بنائها ما سبق جاز ومن أمكنه علم القبلة حرم عليه التقليد والاجتهاد وإلا أخذ بقول ثقة يخبر عن علم فإن فقد وأمكن الاجتهاد حرم التقليد فإن تحير لم يقلد في الأظهر وصلى كيف كان ويقضي ويجب تجديد الاجتهاد لكل صلاة تحضر على الصحيح ومن عجز عن الاجتهاد وتعلم كأدلة لأعمى قلد ثقة عارفا وإن قدر فالأصح وجوب التعلم فيحرم التقليد ومن صلى بالاجتهاد فتيقن الخطأ قصى في الأظهر فلو تيقنه فيها وجب استثنافها وإن تغير اجتهاده عمل بالثاني ولا قضاء حتى لو صلى أربع ركعات لأربع جهات بالاجتهاد فلا قضاء.
পরিচ্ছেদ

সক্ষম ব্যক্তির নামাজের জন্য কিবলামুখী হওয়া একটি শর্ত, তবে চরম ভীতিপূর্ণ যুদ্ধাবস্থায় এবং সফরের নফল নামাজের ক্ষেত্রে এটি শিথিলযোগ্য। সুতরাং মুসাফিরের জন্য আরোহী বা পদব্রজ অবস্থায় নফল নামাজ পড়া বৈধ। প্রসিদ্ধ মতানুসারে সফরের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়া শর্ত নয়। যদি আরোহীর জন্য তার আসনে কিবলামুখী হওয়া এবং রুকু ও সেজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করা সম্ভব হয়, তবে তা করা তার জন্য আবশ্যক। অন্যথায় অধিকতর সঠিক মত হলো, যদি কিবলামুখী হওয়া সহজ হয় তবে তা ওয়াজিব, অন্যথায় নয়; এবং এই বাধ্যবাধকতা কেবল তাকবীরে তাহরীমার সময়ের জন্য। কেউ কেউ বলেছেন: সালামের সময়ও কিবলামুখী হওয়া শর্ত। কিবলা ছাড়া অন্য কোনো দিকে নিজের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া তার জন্য হারাম। সে রুকু ও সেজদার জন্য ইশারা করবে এবং সেজদাকে রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবে। স্পষ্টতর মতানুসারে, পদব্রজে চলা ব্যক্তি তার রুকু ও সেজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করবে এবং এই দুই অবস্থায় ও তাকবীরে তাহরীমার সময় কিবলামুখী হবে; আর সে কেবল দাঁড়ানো ও তাশাহহুদের সময় হাঁটবে। যদি কেউ কোনো পশুর ওপর ফরয নামাজ পড়ে এবং কিবলামুখী হয়ে রুকু-সেজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে, এমতাবস্থায় পশুটি স্থির থাকলে নামাজ বৈধ হবে, কিন্তু পশুটি চলন্ত থাকলে তা বৈধ হবে না। যে ব্যক্তি কাবার ভেতরে নামাজ পড়ে এবং এর দেয়ালের দিকে মুখ করে, অথবা এর বন্ধ দরজার দিকে অথবা এমন খোলা দরজার দিকে মুখ করে যার চৌকাঠের উচ্চতা অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ হাত পরিমাণ হয়, অথবা কাবার ছাদে এর নির্মাণের উল্লিখিত পরিমাণ অংশের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে, তবে তা বৈধ হবে। যার পক্ষে নিশ্চিতভাবে কিবলা সম্পর্কে জানা সম্ভব, তার জন্য অন্যকে অনুসরণ করা (তাকলীদ) এবং ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করা (ইজতিহাদ) হারাম। অন্যথায় সে এমন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কথা গ্রহণ করবে যিনি নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে তথ্য প্রদান করেন। যদি এমন ব্যক্তি না পাওয়া যায় এবং ইজতিহাদ করা সম্ভব হয়, তবে তাকলীদ করা হারাম। যদি সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে স্পষ্টতর মতানুসারে সে তাকলীদ করবে না, বরং যেভাবে সম্ভব নামাজ পড়ে নেবে এবং পরে তা পুনরায় পড়বে। সহীহ মতানুসারে, প্রতিটি নামাজের সময় উপস্থিত হলে নতুন করে ইজতিহাদ করা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করতে এবং এর নিদর্শনাবলি শিখতে অক্ষম, যেমন অন্ধ ব্যক্তি, সে একজন অভিজ্ঞ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির অনুসরণ করবে। আর যদি সে শিখতে সক্ষম হয়, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা শিক্ষা করা ওয়াজিব, এমতাবস্থায় তাকলীদ করা হারাম। যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করে নামাজ পড়ার পর ভুল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে, স্পষ্টতর মতানুসারে সে নামাজ পুনরায় পড়বে। যদি নামাজের ভেতরেই ভুলটি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে, তবে নতুন করে নামাজ শুরু করা ওয়াজিব। যদি তার ইজতিহাদ পরিবর্তিত হয়, তবে সে দ্বিতীয় ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করবে এবং এতে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে না। এমনকি যদি সে ইজতিহাদের ভিত্তিতে চার রাকাত নামাজ চার দিকে মুখ করে পড়ে, তবুও তাকে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌باب صفة الصلاة

أركانها ثلاثة عشر: النية: فإن صلى فرضا وجب قصد فعله وتعيينه والأصح وجوب نية الفرضية دون الإضافة إلى الله تعالى وأنه يصح الأداء بنية القضاء وعكسه والنفل ذو الوقت أو السبب كالفرض فيما سبق وفي نية النفلية وجهان:

قلت: الصحيح لا تشترط نية النفلية والله أعلم ويكفي في النفل المطلق نية فعل الصلاة والنية بالقلب ويندب النطق قبل التكبير.

الثاني: تكبيرة الإحرام ويتعين على القادر الله أكبر ولا تضر زيادة لا تمنع الاسم كالله الأكبر وكذا الله الجليل أكبر في الأصح لا أكبر الله على الصحيح ومن عجز ترجم ووجب التعلم إن قدر ويسن رفع يديه في تكبيره حذو منكبيه والأصح رفعه مع ابتدائه ويجب قرن النية بالتكبيرة وقيل: يكفي بأوله.

الثالث: القيام في فرض القادر وشرطه نصب فقاره فإن وقف منحنيا أو مائلا بحيث لا يسمى قائما لم يصح فإن لم يطق انتصابا وصار كراكع فالصحيح أنه يقف كذلك ويزيد انحناءه لركوعه إن قدر ولو أمكنه القيام دون الركوع والسجود قام وفعلهما بقدر إمكانه ولو عجز عن القيام قعد كيف شاء وافتراشه أفضل من تربعه في الأظهر ويكره الإقعاء بأن يجلس على وركيه ناصبا ركبتيه ثم ينحني لركوعه بحيث تحاذي جبهته ما قدام ركبته والأكمل أن يحاذي موضع سجوده فإن عجز عن القعود صلى لجنبه الأيمن فإن عجز فمستلقيا وللقادر التنفل قاعدا وكذا مضطجعا في الأصح.
সালাতের বিবরণ অধ্যায়

এর রুকনসমূহ তেরটি: নিয়ত: যদি কেউ ফরয সালাত আদায় করে, তবে তা আদায়ের সংকল্প করা এবং তা নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ফরয হওয়ার নিয়ত করা ওয়াজিব, তবে আল্লাহ তা'আলার প্রতি সম্পৃক্ত করা আবশ্যক নয়। আর কাযার নিয়তে আদা এবং এর বিপরীতটি সহীহ হবে। সময় বা কারণ সংশ্লিষ্ট নফল সালাতগুলো পূর্বোক্ত ফরযের মতোই। নফল হওয়ার নিয়ত করার ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে:

আমি বলছি: বিশুদ্ধ মত হলো নফল হওয়ার নিয়ত করা শর্ত নয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সাধারণ নফলের ক্ষেত্রে সালাত আদায়ের নিয়ত করাই যথেষ্ট। নিয়ত হলো অন্তরের বিষয় এবং তাকবীরের পূর্বে তা মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব।

দ্বিতীয়: তাকবীরে তাহরীমা। সক্ষম ব্যক্তির জন্য 'আল্লাহু আকবার' বলা নির্ধারিত। এমন অতিরিক্ত শব্দ যা এর মূল রূপকে ক্ষুণ্ণ করে না তা কোনো ক্ষতি করবে না, যেমন 'আল্লাহুল আকবার'। একইভাবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী 'আল্লাহুল জালীলু আকবার' বলাও সঠিক, তবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী 'আকবারুল্লাহ' বললে হবে না। যে ব্যক্তি অক্ষম সে অনুবাদ করবে এবং সক্ষম হলে তা শিখে নেওয়া ওয়াজিব। তাকবীরের সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর তোলা সুন্নত। অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো তাকবীরের প্রারম্ভেই হাত তোলা। তাকবীরের সাথে নিয়তকে যুক্ত করা ওয়াজিব; কেউ কেউ বলেছেন: তাকবীরের শুরুতেই নিয়ত থাকা যথেষ্ট।

তৃতীয়: সক্ষম ব্যক্তির জন্য ফরয সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া। এর শর্ত হলো মেরুদণ্ড সোজা রাখা। যদি কেউ এমনভাবে ঝুঁকে বা হেলে দাঁড়ায় যাতে তাকে দণ্ডায়মান বলা যায় না, তবে তা সহীহ হবে না। যদি কেউ সোজা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম না হয় এবং রুকুকারীর মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়, তবে বিশুদ্ধ মত হলো সে ওইভাবেই দাঁড়াবে এবং সক্ষম হলে রুকুর জন্য ঝুঁকে পড়ার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করবে। যদি তার পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভব হয় কিন্তু রুকু ও সিজদা সম্ভব না হয়, তবে সে দাঁড়াবে এবং রুকু-সিজদা তার সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করবে। যদি দাঁড়াতে অক্ষম হয় তবে যেভাবে ইচ্ছা বসবে; অধিকতর স্পষ্ট মত অনুযায়ী 'ইফতিরাশ' পদ্ধতিতে বসা 'তারাব্বু' অপেক্ষা উত্তম। 'ইক'আ' অর্থাৎ দুই নিতম্বের ওপর বসে হাঁটু খাড়া রাখা মাকরুহ। এরপর সে রুকুর জন্য এমনভাবে ঝুঁকবে যেন তার কপাল হাঁটুর অগ্রবর্তী স্থানের সমান্তরাল হয়। আর পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো সিজদার স্থানের সমান্তরাল হওয়া। যদি বসতে অক্ষম হয় তবে ডান পাশে কাত হয়ে সালাত আদায় করবে, আর এতেও অক্ষম হলে চিৎ হয়ে শুয়ে আদায় করবে। সক্ষম ব্যক্তির জন্য বসে নফল আদায় করা জায়েয, একইভাবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী শুয়েও তা আদায় করা জায়েয।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الرابع: القراءة ويسن بعد التحرم دعاء الافتتاح ثم التعوذ ويسرهما ويتعوذ في كل ركعة على المذهب والأولى آكد وتتعين الفاتحة كل ركعة لا ركعة مسبوق والبسملة منها وتشديداتها ولو أبدل ضادا بظاء لم تصح في الأصح ويجب ترتيبها وموالاتها فإن تخلل ذكر قطع الموالاة فإن تعلق بالصلاة كتأمينه لقراءة إمامه وفتحه عليه فلا في الأصح ويقطع السكوت الطويل وكذا يسير قصد به قطع القراءة في الأصح فإن جهل الفاتحة فسبع آيات متوالية فإن عجز فمتفرقة.

قلت: الأصح المنصوص جواز المتفرقة مع حفظه متوالية والله أعلم فإن عجز أتى بذكر ولا يجوز نقص حروف البدل عن الفاتحة في الأصح فإن لم يحسن شيئا وقف قدر الفاتحة ويسن عقب الفاتحة آمين خفيفة الميم بالمد ويجوز القصر ويؤمن مع تأمين إمامه ويجهر به في الأظهر وتسن سورة بعد الفاتحة إلا في الثالثة والرابعة في الأظهر.

قلت: فإن سبق بهما قرأها فيهما على النص والله أعلم ولا سورة للمأموم بل يستمع فإن بعد أو كانت سرية قرأ في الأصح ويسن للصبح والظهر طوال المفصل وللعصر والعشاء أوساطه وللمغرب قصاره ولصبح الجمعة في الأولى {ألم تنزيل} وفي الثانية {هَلْ أَتَى}

الخامس: الركوع وأقله أن ينحني قدر بلوغ راحتيه ركبتيه بطمأنينة بحيث ينفصل رفعه عن هويه ولا يقصد به غيره فلو هوى لتلاوة فجعله ركوعا لم يكف وأكمله تسوية ظهره وعنقه ونصب ساقيه وأخذ ركبتيه بيديه وتفرقة أصابعه للقبلة ويكبر في ابتداء
চতুর্থ: কিরাত বা পাঠ। ইহরাম বা নামাজ শুরুর তাকবিরের পর প্রারম্ভিক দোয়া (দোয়া ইফতিতাহ) এবং এরপর আউযুবিল্লাহ (তাআউউয) পাঠ করা সুন্নাত। উভয়টি নীরবে পড়তে হয়। মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী প্রতি রাকাতে তাআউউয পাঠ করতে হয়, তবে প্রথম রাকাতের গুরুত্ব অধিক। প্রতি রাকাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যিক, তবে মাসবূকের (বিলম্বে নামাজে যোগ দেওয়া ব্যক্তি) সেই রাকাত ব্যতীত যে রাকাতে সে ইমামকে রুকুতে পায়। বিসমিল্লাহ ফাতিহারই একটি আয়াত এবং এর তাসদীদসমূহও (দ্বিত্ব বর্ণ) পাঠ করতে হবে। যদি কেউ 'দোয়াদ' (ض) বর্ণের স্থলে 'যোয়া' (ظ) উচ্চারণ করে, তবে বিশুদ্ধতর মতানুসারে নামাজ সহীহ হবে না। ফাতিহার আয়াতগুলোর ক্রম বজায় রাখা (তারতীব) এবং বিরতিহীনভাবে পাঠ করা (মুওয়ালত) ওয়াজিব। যদি পাঠের মাঝে অন্য কোনো জিকির প্রবেশ করে, তবে তা ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তবে যদি সেই জিকির নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন ইমামের কিরাতের পর আমীন বলা অথবা ইমামকে লোকমা দেওয়া (ভুল সংশোধন করে দেওয়া), তবে বিশুদ্ধতর মতানুসারে ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে না। দীর্ঘ নীরবতা এবং কিরাত বন্ধের নিয়তে করা স্বল্প নীরবতাও বিশুদ্ধতর মতানুসারে ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যদি কেউ সূরা ফাতিহা না জানে, তবে তাকে সাতটি ধারাবাহিক আয়াত পাঠ করতে হবে। যদি তাতেও অক্ষম হয়, তবে সাতটি বিচ্ছিন্ন আয়াত পাঠ করবে।

আমি (ইমাম নববী) বলছি: মূল ভাষ্যের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতর মত হলো, ধারাবাহিক সাত আয়াত মুখস্থ থাকা সত্ত্বেও বিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করা বৈধ; আর আল্লাহই ভালো জানেন। যদি আয়াত পাঠে অক্ষম হয় তবে জিকির করবে। বিশুদ্ধতর মতানুসারে এই বিকল্প জিকিরের অক্ষর সংখ্যা যেন ফাতিহার অক্ষর সংখ্যার চেয়ে কম না হয়। যদি কোনো কিছুই পাঠ করতে সক্ষম না হয়, তবে ফাতিহা পাঠ করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। ফাতিহার পর মীমে তাশদীদ ছাড়া দীর্ঘ স্বরসহ 'আমীন' বলা সুন্নাত, তবে হ্রস্ব স্বরে বলাও জায়েয। ইমামের আমীন বলার সাথে সাথে মুক্তাদীও আমীন বলবে এবং প্রকাশ্য কিরাতের নামাজে এটি উচ্চৈঃস্বরে বলবে—এটিই অধিকতর স্পষ্ট মত। ফাতিহার পর একটি সূরা পাঠ করা সুন্নাত, তবে অধিকতর স্পষ্ট মত অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা পাঠ করবে না।

আমি বলছি: যদি কেউ প্রথম দুই রাকাত না পায় (মাসবূক হয়), তবে সে তার অবশিষ্টাংশে (তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে) মূল ভাষ্যের ভিত্তিতে সূরা পাঠ করবে; আর আল্লাহই ভালো জানেন। মুক্তাদীর জন্য সূরা পাঠের প্রয়োজন নেই বরং সে ইমামের কিরাত শ্রবণ করবে। তবে মুক্তাদী যদি দূরে হওয়ার কারণে ইমামের শব্দ শুনতে না পায় অথবা নামাজ যদি সিররী (নীরব কিরাতের নামাজ) হয়, তবে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী সে সূরা পাঠ করবে। ফজর ও যোহরের নামাজে মুফাসসাল সূরাগুলোর দীর্ঘ অংশ, আসর ও এশায় মধ্যম অংশ এবং মাগরিবে সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করা সুন্নাত। জুমার দিনের ফজরে প্রথম রাকাতে 'আলিফ-লাম-মীম তানযীল' (সূরা সাজদাহ) এবং দ্বিতীয় রাকাতে 'হাল আতা' (সূরা ইনসান) পাঠ করা সুন্নাত।

পঞ্চম: রুকু। রুকুর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো স্থিরতার (তুমানীনাহ) সাথে এতটা অবনত হওয়া যেন উভয় হাতের তালু হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এই অবনত হওয়া যেন এমনভাবে হয় যে তার উঠা এবং নামার মাঝে পার্থক্য ফুটে ওঠে। রুকু ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অবনত হওয়া চলবে না। সুতরাং কেউ যদি সিজদায়ে তিলাওয়াতের জন্য অবনত হয় এবং এরপর তাকেই রুকু হিসেবে গণ্য করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না। রুকুর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো—পিঠ ও ঘাড় সমান রাখা, দুই পা সোজা রাখা, দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু আঁকড়ে ধরা এবং আঙ্গুলসমূহ কিবলার দিকে প্রসারিত রাখা। রুকু শুরু করার সময় তাকবির দিবে।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
هويه ويرفع يديه كإحرامه ويقول سبحان ربي العظيم ثلاثا ولا يزيد الإمام ويزيد المنفرد اللهم لك ركعت وبك آمنت ولك أسلمت خشع لك سمعي وبصري ومخي وعظمي وعصبي وما استقلت: به قدمي.

السادس: الاعتدال قائما مطمئنا ولا يقصد غيره فلو رفع فزعا من شيء لم يكف ويسن رفع يديه مع ابتداء رفع رأسه قائلا سمع الله لمن حمده فإذا انتصب قال ربنا لك الحمد ملء السموات وملء الأرض وملء ما شئت من شيء بعد ويزيد المنفرد أهل الثناء والمجد أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد ويسن القنوت في اعتدال ثانية الصبح وهو اللهم اهدني فيمن هديت إلى آخره والإمام بلفظ الجمع والصحيح سن الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم في آخره ورفع يديه ولا يمسح وجهه وأن الإمام يجهر به وأنه يؤمن المأموم للدعاء ويقول الثناء فإن لم يسمعه قنت ويشرع القنوت في سائر المكتوبات للنازلة لا مطلقا على المشهور.

السابع: السجود وأقله مباشرة بعض جبهته مصلاه فإن سجد على متصل به جاز إن لم يتحرك بحركته ولا يجب وضع يديه وركبتيه وقدميه في الأظهر.

قلت: الأظهر وجوبه والله أعلم ويجب أن يطمئن وينال مسجده ثقل رأسه وأن لا يهوى لغيره فلو سقط لوجهه وجب العود إلى الاعتدال وأن ترتفع أسافله على أعاليه في الأصح وأكمله يكبر لهويه بلا رفع ويضع ركبتيه ثم يديه ثم جبهته وأنفه ويقول: سبحان
সে অবনত হবে এবং তার ইহরামের (তাকবিরে তাহরিমা) মতো দুই হাত তুলবে এবং তিনবার বলবে "আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি" এবং ইমাম এর চেয়ে বৃদ্ধি করবেন না, তবে একাকী নামাজ আদায়কারী বৃদ্ধি করে বলবে: "হে আল্লাহ! আপনার জন্যই আমি রুকু করেছি, আপনার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি; আপনার সমীপে অবনত হয়েছে আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাড়, আমার স্নায়ু এবং যা আমার পা বহন করে।"

ষষ্ঠ: স্থিরতার সাথে সটান দাঁড়িয়ে ই’তিদাল করা এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্য না করা। যদি সে কোনো কিছুর ভয়ে মাথা তোলে তবে তা যথেষ্ট হবে না। মাথা তোলা শুরুর সময় 'আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর কথা শোনেন' (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ) বলে দুই হাত তোলা সুন্নত। যখন সে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তখন বলবে: "হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা; যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, যা জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে।" একাকী নামাজ আদায়কারী আরও বৃদ্ধি করবে: "হে প্রশংসা ও গৌরবের অধিকারী! বান্দা যা বলে তার মধ্যে সবচেয়ে সত্য কথা হলো—আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা—আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই এবং কোনো ধনবানের ধন আপনার পাকড়াও থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে না।" ফজরের দ্বিতীয় রাকাতের ই’তিদালে কুনুত পড়া সুন্নত, আর তা হলো: "হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাকেও হিদায়াত দান করুন..." শেষ পর্যন্ত। ইমাম বহুবচন শব্দে এটি পাঠ করবেন। সঠিক মত হলো, এর শেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দুই হাত তোলা সুন্নত, তবে মুখমণ্ডল মুছবে না। ইমাম উচ্চস্বরে এটি পাঠ করবেন এবং মুক্তাদি দোয়ার ক্ষেত্রে 'আমীন' বলবে ও প্রশংসামূলক বাক্যে (সানা) অংশগ্রহণ করবে। যদি সে (ইমামের কিরাত) শুনতে না পায় তবে সে নিজেই কুনুত পড়বে। প্রসিদ্ধ মতানুসারে, সাধারণ অবস্থায় নয় বরং কোনো বিপদের (নাযিলাহ) সময় অন্যান্য ফরজ নামাজেও কুনুত পড়া শরীয়তসম্মত।

সপ্তম: সিজদাহ। এর সর্বনিম্ন মাত্রা হলো কপালে কিছুটা অংশ সিজদাহর জায়গার সাথে লাগানো। যদি সে নিজের সাথে লেগে থাকা কোনো কিছুর ওপর সিজদাহ করে তবে তা জায়েজ হবে যদি না সেটি তার নড়াচড়ার সাথে নড়ে। 'আযহার' (অধিকতর স্পষ্ট) মতানুসারে, হাত, হাঁটু এবং পা রাখা ওয়াজিব নয়।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আযহার মত হলো এটি ওয়াজিব হওয়া, আর আল্লাহই ভালো জানেন। স্থিরতা অবলম্বন করা ওয়াজিব এবং সিজদাহর স্থানে মাথার ভার অনুভূত হতে হবে এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অবনত হওয়া যাবে না। যদি সে উপুড় হয়ে পড়ে যায়, তবে পুনরায় ই’তিদালে ফিরে আসা ওয়াজিব। সবচেয়ে সহীহ মতানুসারে শরীরের নিচের অংশ উপরের অংশের চেয়ে উঁচুতে থাকতে হবে। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো, হাত না তুলে অবনত হওয়ার সময় তাকবীর বলা এবং প্রথমে হাঁটু, এরপর হাত, তারপর কপাল ও নাক রাখা এবং বলা: "পবিত্রতা ঘোষণা করছি..."
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ربي الأعلى ثلاثا ويزيد المنفرد اللهم لك سجدت وبك آمنت ولك أسلمت سجد وجهي للذي خلقه وصوره وشق سمعه وبصره تبارك الله أحسن الخالقين ويضع يديه حذو منكبيه وينشر أصابعه مضمومة للقبلة ويفرق ركبتيه ويرفع بطنه عن فخذيه ومرفقيه عن جنبيه في ركوعه وسجوده وتضم المرأة والخنثى.

الثامن: الجلوس بين سجدتيه مطمئنا ويجب أن لا يقصد برفعه غيره وأن لا يطوله ولا لاعتدال وأكمله يكبر ويجلس مفترشا واضعا يديه قريبا من ركبتيه وينشر أصابعه قائلا رب اغفر لي وارحمني واجبرني وارفعني وارزقني واهدني وعافني ثم يسجد الثانية كالأولى والمشهور من جلسة خفيفة بعد السجدة الثانية في كل ركعة يقوم عنها.

التاسع والعاشر والحادي عشر: التشهد وقعوده والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فالتشهد وقعوده إن عقبهما سلام ركنان وإلا فسنتان وكيف قعد جاز ويسن في الأول افتراش فيجلس على كعب يسراه وينصب يمناه ويضع أطراف أصابعه للقبلة وفي الآخر التورك وهو كالافتراش لكن يخرج يسراه من جهة يمينه ويلصق وركه بالأرض والأصح يفترش المسبوق والساهي ويضع فيهما يسراه على طرف ركبتيه منشورة الأصابع بلا ضم.

قلت: الأصح الضم والله أعلم ويقبض من يمناه الخنصر والبنصر وكذا الوسطى في الأظهر ويرسل المسبحة ويرفعها عند قوله إلا الله ولا يحركها والأظهر ضم الإبهام
"আমার মহান রব অতি পবিত্র" তিনবার বলবে এবং একাকী সালাত আদায়কারী এর চেয়েও বৃদ্ধি করবে। হে আল্লাহ, আপনার জন্যই আমি সিজদা করলাম, আপনার প্রতিই ঈমান আনলাম এবং আপনার নিকটই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার মুখমণ্ডল সিজদাবনত হলো তাঁরই জন্য যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং এর আকৃতি দান করেছেন, আর এর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মোচিত করেছেন। বরকতময় আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। সে তার হাত দুটি কাঁধ বরাবর রাখবে এবং আঙুলগুলো ছড়িয়ে কিবলার দিকে মিলিয়ে রাখবে। সে তার হাঁটু দুটি পৃথক রাখবে এবং রুকু ও সিজদার সময় পেট উরু থেকে এবং কনুই দুই পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবে; তবে নারী ও উভয়লিঙ্গ বিশিষ্ট ব্যক্তি (অঙ্গগুলো) গুটিয়ে রাখবে।

অষ্টম: দুই সিজদার মাঝখানে স্থিরভাবে বসা। শর্ত হলো সিজদা থেকে উঠার সময় অন্য কোনো উদ্দেশ্য না রাখা এবং এই বসাকে দীর্ঘ না করা, এমনকি ই’তিদালের ন্যায়ও নয়। এর পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হলো তাকবীর দিয়ে ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসবে এবং হাত দুটি হাঁটুর কাছাকাছি রাখবে ও আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বলবে: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমার অভাব মোচন করুন, আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমাকে রিযিক দিন, আমাকে হিদায়াত দিন এবং আমাকে সুস্থতা দান করুন। অতঃপর প্রথম সিজদার ন্যায় দ্বিতীয় সিজদা করবে। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, যে রাকাআত থেকে সে উঠে দাঁড়াবে, সেই রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদার পর সামান্য সময় বসা সুন্নাত।

নবম, দশম ও একাদশ: তাশাহহুদ, তাশাহহুদের জন্য বসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ করা। যদি তাশাহহুদ ও বসার পর সালাম থাকে, তবে এই দুটি রুকন; অন্যথায় তা সুন্নাত। যে কোনোভাবে বসাই জায়েয, তবে প্রথম তাশাহহুদে ইফতিরাশ করা সুন্নাত। সে তার বাম পায়ের গোড়ালির ওপর বসবে, ডান পা খাড়া রাখবে এবং আঙুলের অগ্রভাগ কিবলার দিকে রাখবে। আর শেষ তাশাহহুদে তাওয়াররুক করবে, যা ইফতিরাশের মতোই, তবে বাম পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেবে এবং নিতম্ব জমিনের সাথে মিলিয়ে রাখবে। অধিকতর সঠিক মত হলো, মাসবূক ও সাহু সিজদাকারী ব্যক্তি ইফতিরাশ করবে। উভয় তাশাহহুদেই সে তার বাম হাত হাঁটুর প্রান্তভাগে আঙুলগুলো না মিলিয়ে ছড়িয়ে রাখবে।

আমি বলছি: অধিকতর সঠিক মত হলো আঙুলগুলো মিলিয়ে রাখা, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা মুষ্টিবদ্ধ করবে, অধিকতর স্পষ্ট মতানুযায়ী মধ্যমাও। আর তর্জনীটি ছেড়ে দেবে এবং 'ইল্লাল্লাহ' বলার সময় তা উঁচু করবে, তবে তা নাড়াবে না। আর অধিকতর স্পষ্ট মত হলো বৃদ্ধাঙ্গুলি মিলিয়ে রাখা।
(খণ্ড: ১) মিনহাজুত তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন ফিল ফিকহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
إليها كعاقد ثلاثة وخمسين والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فرض في التشهد الأخير والأظهر سنها في الأول ولا تسن على الآل في الأول على الصحيح وتسن في الآخرة وقيل: تجب وأكمل التشهد مشهور وأقله التحيات لله سلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته سلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله وقيل: يحذف وبركاته والصالحين ويقول: وأن محمدا رسوله.

قلت: الأصح وأن محمدا رسول الله وثبت في صحيح مسلم والله أعلم وأقل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وآله اللهم صل على محمد وآله والزيادة إلى حميد مجيد سنة في الآخر وكذا الدعاء بعده ومأثوره أفضل ومنه اللهم اغفر لي ما قدمت وما أخرت الخ ويسن أن لا يزيد على قدر التشهد والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ومن عجز عنهما ترجم ويترجم للدعاء والذكر المندوب العاجز لا القادر في الأصح.

الثاني عشر: السلام وأقله السلام عليكم والأصح جواز سلام عليكم قلت: الأصح المنصوص لا يجزئه والله أعلم وأنه لا تجب نية الخروج وأكمله السلام عليكم ورحمة الله مرتين يمينا وشمالا ملتفتا في الأولى حتى يرى خده الأيمن وفي الثانية الأيسر ناويا السلام على من عن يمينه ويساره من ملائكة وإنس وجن وينوي الإمام السلام على المقتدين وهم الرد عليه.

الثالث عشر: ترتيب الأركان كما ذكرنا فإن تركه عمدا بأن سجد قبل ركوعه بطلت صلاته وإن سها فما بعد المتروك لغو فإن تذكر قبل بلوغ مثله فعله وإلا تمت به ركعته
৫৩ সংখ্যার ন্যায় আঙ্গুল বাঁকিয়ে তর্জনীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা। শেষ তাশাহহুদে নবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষণের প্রার্থনা (দরুদ) করা ফরজ। অধিকতর স্পষ্ট মতানুসারে প্রথম তাশাহহুদে এটি সুন্নাত। সঠিক মত অনুযায়ী প্রথম তাশাহহুদে তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নাত নয়, তবে শেষ তাশাহহুদে তা সুন্নাত। কারো মতে এটি ওয়াজিব। পূর্ণাঙ্গ তাশাহহুদ প্রসিদ্ধ, আর এর নূন্যতম হলো: আল্লাহর জন্য যাবতীয় অভিবাদন, হে নবী আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক, আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। কারো মতে: 'বরকত' এবং 'নেক বান্দাগণ' শব্দগুলো বাদ দিয়ে বলবে: 'এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ তাঁর রাসুল'।

আমি বলছি: অধিকতর সঠিক হলো "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" বলা এবং এটি সহিহ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। নবী ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠের নূন্যতম রূপ হলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। শেষ তাশাহহুদে "প্রশংসিত ও মহিমান্বিত" পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সুন্নাত। অনুরূপভাবে এর পরের দোয়াও সুন্নাত এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোই শ্রেষ্ঠ। তার মধ্যে রয়েছে: হে আল্লাহ! আপনি আমার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন... ইত্যাদি। সুন্নাত হলো তাশাহহুদ ও দরুদের পরিমাণের চেয়ে দোয়া দীর্ঘ না করা। যে ব্যক্তি এ দুটি পাঠ করতে অক্ষম সে তার অনুবাদ পড়বে। অক্ষম ব্যক্তি মুস্তাহাব দোয়া ও জিকিরের অনুবাদ করবে, তবে সক্ষম ব্যক্তি করবে না—এটাই অধিকতর সঠিক মত।

দ্বাদশ রুকন: সালাম। এর নূন্যতম হলো "আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"। অধিকতর সঠিক মতে "শান্তি বর্ষিত হোক আপনাদের ওপর" (নির্দিষ্টকারক অব্যয় ছাড়া) বলাও জায়েজ। আমি বলছি: অধিকতর সঠিক এবং দালিলিক বর্ণনা অনুযায়ী এটি যথেষ্ট হবে না, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সালাত থেকে বের হওয়ার নিয়ত করা ওয়াজিব নয়। সালামের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ডানে ও বামে দুইবার "আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক" বলা। প্রথমবার ডানে ফেরার সময় এমনভাবে মাথা ঘুরাবে যাতে তার ডান গাল দেখা যায় এবং দ্বিতীয়বার বাম গাল দেখা যায়। সে সময় তার ডানে ও বামে থাকা ফেরেশতা, মানুষ ও জিনদের সালাম দেওয়ার নিয়ত করবে। ইমাম মুসল্লিদের ওপর সালামের নিয়ত করবেন এবং মুসল্লিগণ ইমামের সালামের জবাব দেওয়ার নিয়ত করবে।

ত্রয়োদশ রুকন: রুকনসমূহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি লঙ্ঘন করে, যেমন রুকু করার আগেই সেজদা করে ফেলে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলবশত হয়, তবে বাদ পড়া রুকনের পরবর্তী অংশগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি সে পরবর্তী রাকাতে সমপর্যায়ের রুকনে পৌঁছানোর আগেই তা স্মরণ করতে পারে তবে তা সম্পাদন করবে, অন্যথায় ঐ (পরবর্তী) রুকনের মাধ্যমেই তার রাকাত পূর্ণ হবে।