(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: -)
تشنيف المسامع بجمع الجوامع القسم: أصول الفقه
الكتاب: تشنيف المسامع بجمع الجوامع لتاج الدين السبكي
المؤلف: بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر بن عبد الله الزركشي (ت 794 هـ)
دراسة وتحقيق: د سيد عبد العزيز - د عبد الله ربيع، المدرسان بكلية الدراسات الإسلامية والعربية بجامعة الأزهر
الناشر: مكتبة قرطبة للبحث العلمي وإحياء التراث - توزيع المكتبة المكية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1435
তাশনিফুল মাসামি' বি জামইল জাওয়ামি' বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: তাজউদ্দীন আস-সুবকীর জামউল জাওয়ামি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাশনিফুল মাসামি'
লেখক: বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. সাইয়্যেদ আব্দুল আযীয - ড. আব্দুল্লাহ রাবী, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদের শিক্ষকদ্বয়
প্রকাশক: মাকতাবাতু কুরতুবা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ - পরিবেশনায় মাকতাবাতুল মাক্কিয়াহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরা ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১)
تَشْنِيفُ المَسَامِعِ
بِجَمْعِ الجَوَامِعِ
لِتَاجِ الدِّينِ السُّبْكِيِّ
المُتَوَفَّى 771 هِجْرِيَّةً
تأليفُ
الإمامِ بَدْرِ الدِّينِ مُحَمَّدِ بنِ بَهَادِرَ بنِ عبدِ اللهِ الزَّرْكَشِيِّ
(المُتَوَفَّى 794 هـ)
শ্রবণেন্দ্রিয়ের তৃপ্তিসাধন
জামউল জাওয়ামির বর্ণনায়
তাজউদ্দীন আস-সুবকীর (মূল গ্রন্থের ওপর)
মৃত্যু: ৭৭১ হিজরি
রচনায়
ইমাম বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশী
(মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمْدُ للهِ ربِّ العالمينَ، حَمْداً يَلِيقُ بِجَلالِهِ، والصلاةُ والتسليمُ الأَتَمَّانِ الأَكْمَلَانِ على سَيِّدِنا مُحَمَّدٍ وآلِهِ.
أمَّا بعدُ:
فلَمَّا كانَ كِتَابُ (جَمْعِ الجوامعِ) في أُصُولِ الفِقْهِ لِقَاضِي القُضَاةِ أبي نَصْرٍ عبدِ الوَهَّابِ بنِ الشيخِ الإمامِ أبي الحَسَنِ السُّبْكِيِّ - بَرَّدَ اللهُ مَضْجَعَهُ - مِن الكُتُبِ التي دَقَّتْ مَسَالِكُها، ورَقَّتْ مَدَارِكُها؛ لِمَا اشْتَمَلَ عليه مِن النُّقُولِ الغريبةِ، والمسائلِ العجيبةِ، والحدودِ المنيعةِ، والموضوعاتِ البديعةِ، معَ كثرةِ العِلْمِ، ووَجَازَةِ النَّظْمِ، قد عَلَا بَحْرُهُ الزاخِرُ، وأَصْبَحَ اللاحِقُ يقولُ: كم تَرَكَ الأوَّلُ للآخِرِ؟ - قد اضْطُرَّ الناسُ إلى حَلِّ مَعَاقِدِهِ، وبيانِ مقاصدِهِ، والوقوفِ على كُنُوزِهِ، ومَعْرِفَةِ رُمُوزِهِ، وليسَ عليه ما نَمَى بهذه المسالِكِ، بَيْدَ أنَّ مُؤَلِّفَه أجابَ عن مواضعَ قليلةٍ مِن ذلكَ، فاسْتَخَرْتُ اللهَ تعالَى في تعليقٍ نافعٍ عليه، يَفْتَحُ مُقْفَلَه، ويُوَضِّحُ مُشْكِلَه، ويُشْهِرُ غَرَائِبَه، ويُظْهِرُ عَجَائِبَه، مُرْتَفِعاً عن الإقلالِ المُخِلِّ، مُنْحَطًّا عن الإطنابِ المُمِلِّ، واللهَ أَسْأَلُ أنْ يَجْعَلَهُ خَالِصاً لِوَجْهِهِ الكريمِ، مُقَرِّباً للفوزِ بجَنَّاتِ النعيمِ، وسَمَّيْتُهُ (تَشْنِيفَ المَسَامِعِ بِجَمْعِ الجَوَامِعِ).
ص (نَحْمَدُكَ اللَّهُمَّ على نِعَمٍ يُؤْذِنُ الحمدُ بازْدِيَادِها).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর মহিমার উপযুক্ত। এবং পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁততম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর।
অতঃপর:
যেহেতু উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ 'জমউল জাওয়ামি'—যা প্রধান বিচারপতি আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে শায়খ ইমাম আবুল হাসান আস-সুবকী (আল্লাহ তাঁর কবরের বিশ্রামস্থল শীতল করুন) কর্তৃক রচিত—এমন কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার পথগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং যার উপলব্ধিসমূহ অতি মার্জিত; কারণ এতে রয়েছে বিরল উদ্ধৃতি, আশ্চর্যজনক মাসআলা, সুদৃঢ় সংজ্ঞা এবং চমৎকার সব বিষয়বস্তু; সাথে সাথে এতে রয়েছে জ্ঞানের প্রাচুর্য ও শব্দশৈলীর সংক্ষিপ্ততা। এর উত্তাল সমুদ্র সুউচ্চ হয়েছে এবং উত্তরসূরিরা বলতে শুরু করেছে: 'পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না অবশিষ্ট রেখে গেছেন!' তাই মানুষ এর জটিল গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করতে, এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করতে, এর গুপ্তধনগুলো উদ্ধার করতে এবং এর সংকেতসমূহ অনুধাবন করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই ধারায় এর ওপর কোনো কাজ তেমন অগ্রসর হয়নি, তবে এর গ্রন্থকার নিজেই এর অল্প কিছু স্থানের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এমতাবস্থায় আমি এর ওপর একটি উপকারী টীকা রচনার ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি, যা এর বদ্ধ বিষয়গুলো উন্মুক্ত করবে, এর জটিলতাগুলো স্পষ্ট করবে, এর বিরল বিষয়গুলোকে প্রসিদ্ধ করবে এবং এর আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোকে প্রকাশ করবে। যা ক্ষতিকর সংক্ষিপ্ততা থেকে ঊর্ধ্বে এবং বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত থাকবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কেবল তাঁর মহান সত্তার জন্য কবুল করেন এবং নিআমতপূর্ণ জান্নাতের সফলতা লাভে নিকটবর্তী করেন। আমি এর নাম রেখেছি 'তাশনীফুল মাসামি বি-জময়িল জাওয়ামি'।
মূল পাঠ: (হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করি এমন সব নিআমতের ওপর, যার প্রশংসা নিআমত বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়)।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
ش: الحمدُ: الثَّنَاءُ بالوصفِ الجميلِ على جِهَةِ التعظيمِ. هذا أحسنُ حُدُودِهِ، فـ (الثَّنَاءُ) جِنْسٌ، وبـ (الجميلِ) فَصْلٌ يُخْرِجُ إطلاقَه على غيرِهِ، ومِنه (فَأَثْنَوْا عليها شرًّا)، والفصلُ الثاني يُخْرِجُ التَّهَكُّمَ، نحوُ: {ذُقْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ}.
وافْتَتَحَ المصنِّفُ بالجملةِ الفعليَّةِ دونَ الاسميَّةِ؛ لِدَلالَةِ الفعليَّةِ على التجَدُّدِ والحُدُوثِ، بخلافِ الاسميَّةِ؛ فإنَّها مَسْلُوبَةُ الدَّلالةِ على الحُدُوثِ وَضْعاً. ولَمَّا كانَ هذا الكِتابُ مِن النِّعَمِ المُتَجَدِّدَةِ، نَاسَبَ أنْ يُؤْتَى بِمَا يَدُلُّ على التجدُّدِ، وانْفَصَلَ المؤلِّفُ بهذا عن سؤالِ عدمِ تَأَسِّيهِ بالقرآنِ في الافتتاحِ بالجملةِ الاسميَّةِ؛ فإنَّه قديمٌ لم يَحْدُثْ ولم يَتَجَدَّدْ، فالاسميَّةُ به أنسبُ، قالَ: وهذا معنًى لطيفٌ اسْتَنْبَطْتُه،
ব্যাখ্যা: হামদ হলো: মহিমা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে গুণগান করা। এটি এর সর্বোত্তম সংজ্ঞা। এখানে ‘গুণগান’ হলো সাধারণ শ্রেণি (জিনস), আর ‘সুন্দর’ হলো পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য (ফাসল) যা এর ক্ষেত্র থেকে অন্য বিষয়কে বের করে দেয়, যেমন: “তারা তার মন্দ গুণগান করল।” আর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি বিদ্রূপকে বাদ দেয়, যেমন: “স্বাদ গ্রহণ করো! নিশ্চয়ই তুমিই তো সেই শক্তিশালী, সম্মানিত।”
গ্রন্থকার বিশেষ্যবাচক বাক্যের পরিবর্তে ক্রিয়াবাচক বাক্য দিয়ে শুরু করেছেন; কারণ ক্রিয়াবাচক বাক্য নবায়ন ও নতুন করে ঘটার প্রমাণ বহন করে, যা বিশেষ্যবাচক বাক্যের বিপরীত; কেননা বিশেষ্যবাচক বাক্য ভাষাতাত্ত্বিকভাবেই নতুন করে ঘটার অর্থ প্রদান করে না। যেহেতু এই কিতাবটি নতুন নিয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই যা নবায়নের অর্থ প্রদান করে তা ব্যবহার করা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রন্থকার আল-কুরআনের অনুসরণে বিশেষ্যবাচক বাক্য দিয়ে শুরু না করার প্রশ্নের সমাধান দিয়েছেন; কারণ কুরআন অনাদি, তা নবসৃষ্ট নয় এবং নতুন করে ঘটেনি, তাই বিশেষ্যবাচক বাক্যই এর জন্য অধিক উপযুক্ত। তিনি বলেন: এটি একটি সূক্ষ্ম অর্থ যা আমি উদ্ভাবন করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وبه يَعْتَضِدُ مَنِ افْتَتَحَ كتابَه بالجملةِ الفعليَّةِ؛ كالغَزَالِيِّ والرَّافِعِيِّ.
قلتُ: وحينَئذٍ فكانَ حَقُّه التعبيرَ بالصيغةِ المُتَعَيَّنَةِ للإفرادِ، وهي: (أَحْمَدُكَ)، لا (نَحْمَدُكَ)؛ لأنَّ النونَ لا تَصْلُحُ هنا للجماعةِ؛ فإنَّ تصنيفَ الكتابِ خاصٌّ به، وهي إنَّما تكونُ للمتكلِّمِ وَحْدَهُ إذا كانَ مُعَظِّماً نفسَه، وهو غيرُ لائقٍ هنا، وقد يَلْتَزِمُ الأَوَّلَ ويَدَّعِي شُمُولَ النِّعْمَةِ بذلكَ له ولغيرِهِ بالانتفاعِ، أو يكونُ الجَمْعُ باعتبارِ التجريدِ البيانِيِّ، لكِنْ يَمْنَعُ من هذا قولُه فيما بعدُ: ونَضْرَعُ إليكَ في منعِ الموانِعِ عن إكمالِ (جمعِ الجوامعِ). فإنَّ هذا خاصٌّ به، وقد حَكَى الحَرِيرِيُّ في (شرحِ المُلْحَةِ)
এবং এর দ্বারা তারা সমর্থন লাভ করেন যারা তাদের গ্রন্থকে ক্রিয়াবাচক বাক্য দিয়ে শুরু করেছেন; যেমন ইমাম গাযালী এবং রাফেয়ী।
আমি বলি: এমতাবস্থায় একবচনের জন্য নির্ধারিত শব্দরূপ ব্যবহার করাই তাঁর জন্য সমীচীন ছিল, আর তা হলো: (আমি আপনার প্রশংসা করছি), (আমরা আপনার প্রশংসা করছি) নয়; কারণ এখানে ‘নুন’ অক্ষরটি বহুবচনের জন্য উপযুক্ত নয়; যেহেতু গ্রন্থ সংকলনের বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত কাজ। আর এই ‘নুন’ কেবল তখনই একজন বক্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন তিনি নিজের মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন, যা এখানে অনুচিত। তবে তিনি প্রথম বিষয়টি গ্রহণ করতে পারেন এবং দাবি করতে পারেন যে, এর মাধ্যমে অর্জিত নিআমতটি উপকারের বিচারে তাঁর ও অন্য সকলের জন্য ব্যাপক হয়েছে। অথবা এই বহুবচনটি আলঙ্কারিক বিমূর্তকরণের বিবেচনায় হতে পারে, কিন্তু তাঁর পরবর্তী এই উক্তিটি এর পরিপন্থী: "এবং আমরা আপনার নিকট বিনয়াবনত প্রার্থনা করছি যেন ‘জামউল জাওয়ামি’ সম্পন্ন করার পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর হয়।" কেননা এই বিষয়টি কেবল তাঁর সাথেই নির্দিষ্ট। আর হারীরী ‘শারহুল মুলহাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০০)
خِلافاً في عِلَّةِ نونِ الجمعِ في كلامِ اللهِ تعالَى، فقِيلَ: للعَظَمَةِ، وليسَ لمخلوقٍ أنْ يُنَازِعَه فيها، فعلى هذا يُكْرَهُ استعمالُ الملوكِ لها في قَوْلِهِم: نحنُ نَفْعَلُ.
وقِيلَ في عِلَّتِها: لَمَّا كانَتْ تَصَارِيفُ أَقْضِيَتِه تعالَى تَجْرِي على أَيْدِي خَلْقِهِ، نَزَلَتْ أفعالُهم مَنْزِلَةَ فِعْلِه؛ فلذلك وَرَدَ الكلامُ مَوَارِدَ الجمعِ، فعلى هذا القولِ يَجُوزُ أنْ يَسْتَعْمِلَ (النونَ) كلُّ مَن لا يُبَاشِرُ العملَ بنفسِه، فأمَّا قولُ العالِمِ: نحنُ نَشْرَحُ، ونحنُ نُبَيِّنُ. فمفسوحٌ له؛ لأنَّه يُخْبِرُ بنونِ الجمعِ عن نفسِه وأهلِ مقالتِه. انْتَهَى.
وذكَرَ ابنُ السيِّدِ في (الاقتضابِ) نحوَه، وزادَ فيه وَجْهاً آخرَ، وهو أنَّ الرجلَ الجليلَ القَدْرِ يَنُوبُ وَحْدَهُ مَنَابَ جماعةٍ، ويَنْزِلُ مَنْزِلَةَ عَدَدٍ كثيرٍ في فَضْلِهِ وعِلْمِهِ؛ ولهذا قالَ صلى الله عليه وسلم لأبي سُفْيَانَ:
মহান আল্লাহর বাণীতে বহুবচনের 'নুন' ব্যবহারের কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: এটি মহানত্বের পরিচায়ক, আর কোনো সৃষ্টির পক্ষে এই মহানত্ব নিয়ে আল্লাহর সাথে বিবাদ করার অধিকার নেই। এই মতানুসারে, বাদশাহদের পক্ষে তাঁদের বক্তব্যে 'আমরা করছি' বলা অপছন্দনীয়।
এর কারণ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে: যেহেতু মহান আল্লাহর ফয়সালাসমূহ তাঁর সৃষ্টির হাতের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়, তাই তাদের কর্মগুলো আল্লাহরই কর্মের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; একারণেই বক্তব্যটি বহুবচনের ধারায় এসেছে। এই মতানুসারে, যে ব্যক্তি নিজে সরাসরি কোনো কাজ করে না, তার পক্ষে এই 'নুন' ব্যবহার করা বৈধ। আর কোনো আলেমের উক্তি: 'আমরা ব্যাখ্যা করছি' এবং 'আমরা বর্ণনা করছি'—এর সুযোগ তাঁর জন্য রয়েছে; কারণ তিনি বহুবচনের 'নুন' দ্বারা নিজের এবং তাঁর মতাদর্শের অনুসারীদের কথা ব্যক্ত করেন। সমাপ্ত।
ইবনুল সাইয়্যেদ 'আল-ইকতিদাব' গ্রন্থে অনুরূপ আলোচনা করেছেন এবং এতে আরও একটি দিক যুক্ত করেছেন। তা হলো, একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি একাই একটি দলের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তাঁর মর্যাদা ও ইলমের কারণে তিনি বহু সংখ্যক লোকের সমতুল্য গণ্য হন। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু সুফিয়ানকে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০১)
((كُلِ الصَّيْدَ فِي جَوْفِ الْفَرَا)).
والزَّمَخْشَرِيُّ اسْتَفْتَحَ (المُفَصَّلَ) بالجملةِ الفعليَّةِ، و (الكَشَّافَ) بالاسميَّةِ؛ لأنَّ النعمةَ التي ذَكَرَها في (المُفَصَّلِ) خاصَّةٌ به، وفي (الكَشَّافِ) عامَّةٌ، وفي التعبيرِ بالمُضَارِعِ فائدةٌ أُخْرَى؛ فإنَّ التجَدُّدَ في الماضي معناه الحُصولُ، وفي المضارِعِ معناه الاستمرارُ، يعني: أنَّ مِن شأنِهِ أنْ يَتَكَرَّرَ ويَقَعَ مَرَّةً بعدَ أُخْرَى، كما قالَه الزَّمَخْشَرِيُّ عندَ قولِهِ تعالَى: {اللهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ}.
((সব শিকারই বন্য গাধার পেটে))।
আর যামাখশারী (আল-মুফাসসাল) গ্রন্থটি ক্রিয়াবাচক বাক্যের মাধ্যমে এবং (আল-কাশশাফ) বিশেষ্যবাচক বাক্যের মাধ্যমে শুরু করেছেন; কারণ (আল-মুফাসসাল) গ্রন্থে তিনি যে নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, আর (আল-কাশশাফ) গ্রন্থে তা সাধারণ। আর মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল) ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য একটি উপকারিতাও রয়েছে; কেননা অতীতকালের ক্ষেত্রে নবায়ন বা নতুনত্বের অর্থ হলো কেবল সংঘটিত হওয়া, আর মুদারে-এর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ: এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়া এবং একের পর এক সংঘটিত হওয়া, যেমনটি যামাখশারী মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন}।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وأمَّا (اللَّهُمَّ) فلا خِلافَ - كما قالَه ابنُ السيِّدِ - أنَّ المرادَ به: يا اللهُ، وأنَّ الميمَ زائدةٌ، لَيْسَتْ بأصلٍ في الجملةِ. ثمَّ اخْتَلَفُوا بعدَ ذلكَ في هذه (الميمِ) على ثلاثةِ مذاهِبَ: فذَهَبَ سِيبَوَيْهِ والبَصْرِيُّونَ إلى أنَّهم زَادُوا (المِيمَ) في آخِرِهِ عِوَضاً عن حرفِ النداءِ؛ ولهذا لا يُجْمَعُ بينَهما؛ لِمَا فيه مِن الجمعِ بينَ العِوَضِ والمُعَوَّضِ.
وقالَ الكُوفِيُّونَ: (الميمُ) عِوَضٌ عن جملةٍ محذوفةٍ، والتقديرُ: يا اللهُ أُمَّنَا بخيرٍ؛ أي: اقْصِدْنَا، ثمَّ حُذِفَ للاختصارِ، ولكثرةِ الاستعمالِ وَرَدَ بعدمِ اطِّرَادِ هذا التقديرِ في أكثرِ المواضِعِ؛ قالَ تعالَى: {وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ}. ولو كانَتِ (الميمُ) عِوَضَ (أُمَّنَا) لَمَا احتاجَ الشرطُ إلى جوابٍ؛ لأنَّ الفعلَ يكونُ الجوابَ، وهو أُمَّنَا.
والثالثُ: أنَّ (الميمَ) زائدةٌ للتعظيمِ والتفخيمِ؛ لِدَلَالَتِها على معنَى الجمعِ، كما زِيدَتْ في: زُرْقُمٍ؛ لِشِدَّةِ الزُّرْقَةِ، وابْنُمٍ في الابنِ، قالَ ابنُ السيِّدِ: وهذا غيرُ خارجٍ عن مذهَبِ سِيبَوَيْهِ؛ لأنَّه لا يَمْنَعُ أنْ تكونَ للتعظيمِ، وأنْ تكونَ عِوَضاً عن
আর 'আল্লাহুম্মা' এর ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই—যেমনটি ইবনে আল-সাইয়িদ বলেছেন—যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: 'হে আল্লাহ', এবং 'মিম' বর্ণটি অতিরিক্ত, এটি বাক্যের মূল অংশ নয়। এরপর তারা এই 'মিম'-এর ব্যাপারে তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: সিবওয়াইহি এবং বসরার ভাষাবিদগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, তারা আহ্বানের অব্যয় (হরফে নিদা)-এর পরিবর্তে এর শেষে 'মিম' যুক্ত করেছেন; এই কারণে এ দুটিকে একত্রে ব্যবহার করা হয় না; কারণ এতে বিনিময় এবং যার বিনিময়ে আনা হয়েছে, উভয়কে একত্রিত করার আবশ্যকতা দেখা দেয়।
কুফার ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'মিম' হলো একটি উহ্য বাক্যের পরিবর্তে এসেছে, যার অনুমিত রূপ হলো: 'হে আল্লাহ, আমাদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করুন'; অর্থাৎ: আমাদের প্রতি সংকল্প করুন। অতঃপর সংক্ষিপ্ত করার জন্য এবং অধিক ব্যবহারের কারণে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অনুমিত রূপটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং স্মরণ করুন যখন তারা বলেছিল, 'হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন কিংবা আমাদের কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিন'।" আর যদি 'মিম' বর্ণটি 'উম্মানা' শব্দের পরিবর্তে হতো, তবে শর্তটির কোনো জওয়াবের (ফলাফল) প্রয়োজন হতো না; কারণ এই ক্রিয়াটিই জওয়াব হিসেবে গণ্য হতো, আর তা হলো 'উম্মানা'।
তৃতীয় মতটি হলো: 'মিম' বর্ণটি সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে; কারণ এটি পূর্ণতা বা সমষ্টির অর্থের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে, যেমনটি 'যুরকুম' শব্দে গাঢ় নীল বোঝাতে এবং 'ইবনাম' শব্দে 'ইবন' (পুত্র) বোঝাতে অতিরিক্ত মিম যুক্ত করা হয়েছে। ইবনে আল-সাইয়িদ বলেন: এটি সিবওয়াইহির মতের বহির্ভূত নয়; কারণ এটি একইসাথে সম্মান প্রদর্শন এবং কোনো কিছুর পরিবর্তে হওয়া—উভয় বিষয়কেই তিনি অসমর্থন করেন না।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
حَرْفِ النداءِ، كما أنَّ (التاءَ) في قَوْلِنا: تَاللهِ. بَدَلٌ مِن (الباءِ)، وفيها زيادةُ معنى التعجُّبِ. قالَ: وهذا القولُ أحسنُ الأقوالِ.
وذَكَرَ ابنُ ظَفَرٍ في أوَّلِ (شَرْحِ المُقَامَاتِ)، أنَّ (اللهَ) للذَّاتِ، و (الميمَ) للصفاتِ، فجَمَعَ بينَهما؛ إيذاناً بالسؤالِ بجميعِ أسمائِهِ وصفاتِهِ. وقَوَّاهُ بعضُهم واحْتَجَّ بقولِ الحَسَنِ البَصْرِيِّ: اللَّهُمَّ مُجَمِّعَ الدعاءِ. وقولِ النَّضْرِ بنِ شُمَيْلٍ: مَن قالَ: اللَّهُمَّ فقد دَعَا اللهَ بجميعِ أسمائِهِ، وكأنَّه قالَ: يا اللهُ الذي له الأسماءُ الحسنَى. ولهذا قيلَ: إنَّه اسمُ اللهِ الأعظمُ. وبذلك يَظْهَرُ أيضاًً حُسْنُ ابتداءِ المصنِّف بها.
وقولُه: (على نِعَمٍ) التنكيرُ فيها للتعظيمِ؛ بدليلِ الوصفِ. و (على) إمَّا للتعليلِ على رأيِ الكُوفِيِّينَ، أو على بابِها للاستعلاءِ؛ لِمَا فيه مِن الإشارةِ إلى تفخيمِ الحمدِ،
সম্বোধনসূচক অব্যয়, যেমনটি আমাদের উক্তি: 'তাল্লাহি' (আল্লাহর কসম)-এর মধ্যে 'তা' বর্ণটি 'বা' বর্ণের স্থলাভিষিক্ত এবং এতে বিস্ময়সূচক অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যমান। তিনি বলেন: এটিই অভিমতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম।
ইবনে জাফার 'শারহুল মাকামাত'-এর প্রারম্ভে উল্লেখ করেছেন যে, 'আল্লাহ' শব্দটি সত্তার জন্য এবং 'মীম' বর্ণটি গুণাবলির জন্য। অতএব, আল্লাহর সকল নাম ও গুণের অসিলায় প্রার্থনার ঘোষণা প্রদানের লক্ষ্যে এই দুটির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। কেউ কেউ এই মতকে শক্তিশালী করেছেন এবং হাসান বসরীর এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: 'আল্লাহুম্মা' হলো দোয়ার সংকলক। অনুরূপভাবে নযর বিন শুমাইলের উক্তি: যে ব্যক্তি 'আল্লাহুম্মা' বলল, সে আল্লাহকে তাঁর সকল নামের মাধ্যমে আহ্বান করল; যেন সে বলল: হে আল্লাহ! যাঁর রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ। এই কারণেই বলা হয়েছে: এটিই আল্লাহর ইসমে আজম (মহানতম নাম)। এর মাধ্যমে গ্রন্থকারের কিতাবটি এটি দিয়ে শুরু করার চমৎকারিত্বও পরিস্ফুট হয়।
এবং তাঁর উক্তি: (নেয়ামতসমূহের উপর)-এ অনির্দিষ্টকরণ করা হয়েছে মহত্ত্ব প্রকাশের জন্য; যার প্রমাণ হলো এর বিশেষণ। আর 'আলা' অব্যয়টি কুফাবাসীদের অভিমত অনুযায়ী হয় কারণ দর্শানোর জন্য, নতুবা এটি তার মূল অর্থ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্ব জ্ঞাপনের জন্য; যার মধ্যে প্রশংসার ব্যাপকতা ও গুরুত্বারোপের ইঙ্গিত নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
لكِنَّ الاستعلاءَ على النعمةِ غيرُ مُنَاسِبٍ، وكانَ الأحسنُ تَجَنُّبَها هنا؛ فإنَّها إنما تُسْتَعْمَلُ في جانبِ النِّقْمَةِ، وتُتْرَكُ في جانبِ النعمةِ، واستعمالاتُ القرآنِ والسنَّةِ على ذلك، وفي الحديثِ: كانَ إذا رَأَى ما يَكْرَهُ قالَ: ((الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ))، وإذا رَأَى ما يُعْجِبُهُ قالَ: ((الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ)).
وأمَّا قولُه تعالَى: {وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ}. فلِمَا كانَ في ذلك المَحَلِّ مِن استعلاءِ التكبيرِ برفعِ الصوتِ.
و (النِّعَمُ) جمعُ نعمةٍ، وهي اليدُ والصَّنِيعَةُ والمِنَّةُ، وما أَنْعَمَ به عليكَ؛ قالَه الجَوْهَرِيُّ، والمرادُ هنا الجميعُ.
و (يُؤْذِنُ) بمعنَى يُعْلِمُ، يُقالُ: آذَنْتُكَ بالشيءِ، أَعْلَمْتُكَهُ، وفَسَّرَهُ الراغبُ بالعلمِ الذي يُتَوَصَّلُ إليه بالسماعِ، لا مُطْلَقِ العلمِ.
কিন্তু নিয়ামতের ক্ষেত্রে 'আলা' (উপর) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাধান্য প্রকাশ করা অনুপযুক্ত, এবং এখানে তা পরিহার করাই উত্তম ছিল; কেননা এটি কেবল বিপদের প্রেক্ষাপটেই ব্যবহৃত হয় এবং নিয়ামতের প্রেক্ষাপটে বর্জন করা হয়। কুরআন ও সুন্নাহর ব্যবহারসমূহ এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত। হাদীসে এসেছে: তিনি যখন অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন তখন বলতেন: "সর্বাবস্থায় আল্লাহরই প্রশংসা", আর যখন পছন্দনীয় কিছু দেখতেন তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যাঁর নিয়ামতের মাধ্যমে সকল সৎকাজ পূর্ণতা পায়।"
আর মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো একারণে যে তিনি তোমাদের হিদায়াত দিয়েছেন।" এখানে 'আলা' ব্যবহারের কারণ হলো সেই স্থানে উচ্চস্বরে তাকবীর বলার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পাওয়া।
এবং 'নিয়াম' হলো 'নিয়ামাহ' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো হাত, সদ্ব্যবহার ও অনুগ্রহ এবং যা কিছু তিনি আপনাকে নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন; আল-জাওহারী এমনটাই বলেছেন, আর এখানে সবগুলোই উদ্দেশ্য।
এবং 'ইউযিনু' অর্থ হলো জানানো বা অবহিত করা। বলা হয়: 'আমি তোমাকে বিষয়টি জানিয়েছি', অর্থাৎ আমি তোমাকে তা অবগত করেছি। আর-রাগিব একে এমন জ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন যা শ্রবণের মাধ্যমে অর্জিত হয়, সাধারণ কোনো জ্ঞান নয়।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
و (الازْدِيَادُ) أَبْلَغُ من الزيادةِ، كما أنَّ الاكتسابَ أَبْلَغُ مِن الكَسْبِ، وهو أخذُ الشيءِ بعدَ الشيءِ. و (الدالُ) بدلٌ عن (التاءِ)، وأصلُه ازْتِيَادٌ، أَبْدَلَ من التاءِ دالاً؛ لِتَوَافُقِ الزايِ والدالِ في الجَهْرِ؛ لِيَتَشَاكَلَ اللفظُ، وهو مأخوذٌ من قولِهِ تعالَى: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ}.
ص: (ونُصَلِّي على نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ هادِي الأُمَّةِ لِرَشَادِها).
ش: الصيغةُ صِيغَةُ خَبَرٍ، والمقصودُ الطَّلَبُ؛ لِيَكُونَ امْتِثَالاً لقولِهِ تعالَى: {صَلُّوا عَلَيْهِ}، وهو مِن عَطْفِ الإنشاءِ على الإنشاءِ؛ إذ لو قُدِّرَ خَبَراً لَزِمَ عَطْفُ الخبرِ على الإنشاءِ، وهو مُمْتَنِعٌ عندَ البَيَانِيِّينَ، ولو قُدِّرَ هنا إرادتُهما لم يَبْعُدْ، وفَسَّرُوا الصلاةَ مِن اللهِ عز وجل بالرحمةِ، ومن الآدَمِيِّ بالدعاءِ.
ورُدَّ الأوَّلُ بأنَّ الرحمةَ فِعْلُها مُتَعَدٍّ، والصلاةَ فِعْلُها قاصِرٌ، ولا يَحْسُنُ تفسيرُ القَاصِرِ بالمُتَعَدِّي، وبأنَّه يَلْزَمُ جوازُ رحمةِ اللهِ عليه والتَّكْرَارُ في قَوْلِهِ تعالَى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ}. ولهذا فَسَّرَها بعضُهم من اللهِ بالمغفرةِ؛ لأجلِ ذِكْرِ الرحمةِ بعدَها.
ورُدَّ الثاني بأنَّه يَلْزَمُ جوازُ: دَعَا عليه، وأُجيب بأنَّها لَمَّا ضُمِّنَتْ معنى العطفِ والتحَنُّنِ عُدِّيَتْ بـ (على)، والأحسنُ ما قاله الغَزَالِيُّ وغيرُه: إِنَّ الصلاةَ موضوعةٌ للقَدْرِ المشترَكِ، وهو الاعتناءُ بالمُصَلَّى عليه.
و (النبيُّ) اخْتُلِفَ في لفظِه ومعناه: أمَّا لفظُه فاختُلِفَ في أنه مهموزٌ أم لا؟ فقيلَ: ليسَ بمهموزٍ، مِن النَّبْوَةِ: وهو ما
এবং (ইযদিয়াদ) শব্দটি (যিয়াদাহ) অপেক্ষা অধিকতর অর্থবহ, যেমনটি (ইকতিসাব) শব্দটি (কাসব) অপেক্ষা অধিকতর অর্থবহ; আর তা হলো একের পর এক কোনো কিছু গ্রহণ করা। এখানে (দাল) বর্ণটি (তা) বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, এর মূল রূপ ছিল 'ইযতিয়াদ'। এখানে 'তা' বর্ণকে 'দাল' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে 'যা' ও 'দাল' বর্ণের উচ্চকণ্ঠের (জহর) সাদৃশ্যের কারণে শব্দগত সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত হয়েছে: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব}।
স: (এবং আমরা আপনার নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর সালাত পাঠ করছি, যিনি উম্মতকে সঠিক পথের দিশা দানকারী)।
শ: এই বাক্যটির রূপ বর্ণনামূলক হলেও এর দ্বারা প্রার্থনা উদ্দেশ্য করা হয়েছে; যাতে মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য প্রকাশ পায়: {তোমরা তাঁর ওপর সালাত পাঠ করো}। এটি একটি আলঙ্কারিক বাক্যকে অপর একটি আলঙ্কারিক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করার পর্যায়ভুক্ত। কারণ, একে যদি বর্ণনামূলক হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে বর্ণনামূলক বাক্যকে আলঙ্কারিক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট নিষিদ্ধ। আর এখানে যদি উভয় অর্থই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে তা অসম্ভব নয়। আলেমগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে 'সালাত'-এর অর্থ 'রহমত' বা দয়া এবং মানুষের পক্ষ থেকে এর অর্থ 'দোয়া' বা প্রার্থনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথম মতটি (রহমত) এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয়েছে যে, রহমত হলো একটি সকর্মক ক্রিয়া, আর সালাত হলো একটি অকর্মক ক্রিয়া; আর অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যা করা সমীচীন নয়। তাছাড়া এর ফলে মহান আল্লাহর এই বাণীতে শব্দের পুনরাবৃত্তি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে: {তারা তারাই, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত এবং রহমত বর্ষিত হয়}। এ কারণেই কেউ কেউ আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের অর্থ 'ক্ষমা' করেছেন, যেহেতু এর পরেই রহমতের উল্লেখ রয়েছে।
দ্বিতীয় মতটি (দোয়া) এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয়েছে যে, এর ফলে 'কারো বিরুদ্ধে বদদোয়া করা' অর্থেও শব্দটির ব্যবহার বৈধ হয়ে যাওয়ার কথা। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, যখন এর মধ্যে অনুগ্রহ ও মমত্বের অর্থ অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন এটি 'আলা' (উপরে) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়। ইমাম গাজালী ও অন্যান্যদের অভিমতটিই এখানে সর্বাপেক্ষা উত্তম। তারা বলেছেন: সালাত শব্দটি একটি সাধারণ অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আর তা হলো যার ওপর সালাত পাঠ করা হচ্ছে তার প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করা।
'নবী' শব্দটির গঠন ও অর্থের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। শব্দের গঠনের ক্ষেত্রে এটি 'হামযাহ' যুক্ত কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বলা হয়েছে যে, এটি 'হামযাহ' যুক্ত নয়, বরং এটি 'নাবওয়াহ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
ارْتَفَعَ من الأرضِ، سُمِّيَ نَبِيًّا؛ لارتفاعِهِ وشَرَفِهِ، ولهذا ذَكَرَه الجَوْهَرِيُّ في بابِ المُعْتَلِّ، واحْتَجَّ عليه الأخفشُ بقولِهِ تعالَى: {وَيَقْتُلُونَ الأَنْبِيَاءَ}. قالَ: فهذا جمعُ غيرِ المهموزِ؛ كصَفِيٍّ وأَصْفِيَاءَ، ولو كانَ مهموزاً لقيلَ: نُبَآءُ؛ ككَريمٍ وكُرَمَاءَ. وقيلَ: مهموزٌ مِن النَّبَأِ بمعنى الخبرِ، واحْتَجُّوا بقراءةِ نافعٍ: النَّبِيْء والأَنْبِياء والنُّبُوءَة في جميعِ القرآنِ بالهمزِ، إلَاّ في موضعيْنِ: {إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ}، و {لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ}.
وفي (مُسْتَدْرَكِ الحاكِمِ) أنَّ أعرابيًّا قالَ: يا نَبِيءَ اللهِ.
জমিন থেকে উন্নীত হওয়া; তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁকে 'নবী' নামকরণ করা হয়েছে, আর এ কারণেই জাওহারি একে 'মু'তাল' (দুর্বল বর্ণবিশিষ্ট শব্দ) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। আখফাশ এর সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {এবং তারা নবীগণকে হত্যা করত}। তিনি বলেন: এটি হামযাহবিহীন শব্দের বহুবচন; যেমন 'সাফি' থেকে 'আসফিয়া', আর যদি এটি হামযাহযুক্ত হতো তবে 'নুবায়া' বলা হতো; যেমন 'কারিম' থেকে 'কুরামা'। আবার বলা হয়েছে: এটি 'নাবা' (সংবাদ) থেকে উদ্ভূত হামযাহযুক্ত শব্দ, যার অর্থ সংবাদ। এর সপক্ষে তাঁরা নাফে'-এর কিরাআত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে পুরো কুরআনে 'আন-নাবিয়্যু', 'আল-আম্বিয়া' এবং 'আন-নুবুওয়াহ' শব্দগুলো হামযাহসহ পাঠ করা হয়েছে, কেবল দুটি স্থান ব্যতীত: {যদি সে নিজেকে নবীর নিকট অর্পণ করে}, এবং {তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না}।
এবং 'মুসতাদরাক আল-হাকিম'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, এক গ্রাম্য আরব বলেছিল: হে আল্লাহর নবী (হামযাহসহ)।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
فقالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَا تُغَيِّرِ اسْمِي)).
وقالَ الجَوْهَرِيُّ: نَهَى عن ذلك؛ لأنَّه يُقالُ: نَبَاتُ من أرضٍ إلى أرضٍ؛ إذا خَرَجْتَ مِنها إلى أُخْرَى، وهذا المعنى أرادَ الأعرابيُّ بقولِهِ: يا نَبِيءَ اللهِ. أي: يا مَن خَرَجَ من مكَّةَ إلى المدينةِ.
وقالَ الزَّمَخْشَرِيُّ: هو مِن النَّبْوَةِ بمعنى الرفعةِ، فهو أبلغُ من الهمزِ؛ لأنَّه ليسَ كلُّ مُنْبِئٍ رَفِيعَ المَحَلِّ؛ ولهذا نَهَى عن الهمزِ.
وقالَ ابنُ خَرُوفٍ في (شَرْحِ الكِتابِ): إنَّما نَهَى مَن خَفَّفَهُ من أهلِ التحقيقِ، وهم قليلٌ، وجماعةٌ من العربِ من أهلِ التحقيقِ، والتحقيقُ على البدلِ، والقراءةُ بالتحقيقِ ضعيفةٌ، لم يَقْرَا بها في السبعِ غيرُ المَدَنِيِّ. انتهَى.
وكذا قالَ ابنُ دَرَسْتَوَيْهِ: كلُّ ما لَزِمَ من البدلِ فإنَّه لا يَجُوزُ رَدُّه إلى الأصلِ، إلَاّ في ضرورةٍ؛ فلذلك أَنْكَرَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم الهمزةَ، وإنْ كانَ هو الأصلَ. قالَ: وقد حَمَلَ هذا الحديثَ قومٌ مِن الجُهَّالِ باللغةِ، حتَّى زَعَمُوا أنَّ النبيَّ مُشْتَقٌّ مِن النَّبْوَةِ، وهذه فِرْيَةٌ على الأنبياءِ؛ لأنَّ النَّبْوَةَ ليسَتْ بالارتفاعِ كما ظَنُّوا، وإنما يُقالُ للسيفِ: نَبَا فهو نابٍ، وللفرسِ: النابِي، وكذلك النابِي من الأرضِ؛ لِمَا غَلُظَ وشَقَّ على سالِكِهِ، فامْتَنَعَ منه الناسُ، وليسَ هو ارتفاعاً فقطْ، بل هو وَصْفٌ له معَ ذَمٍّ.
وقالَ الفَارِسِيُّ في كتابِ (الحُجَّةِ): مَن حَقَّقَ الهمزَ في
অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমার নাম পরিবর্তন করো না।"
জাওহারী বলেন: তিনি তা করতে নিষেধ করেছেন; কারণ বলা হয়: 'নাবাতু মিন আরদিন ইলা আরদিন' (এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে চলে যাওয়া); যখন আপনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বেরিয়ে যান। আর এই অর্থই সেই বেদুইন তার "হে আল্লাহর নাবী (হামজা সহ)" উক্তিটির মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছিল। অর্থাৎ: হে ঐ ব্যক্তি যিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে এসেছেন।
যামাখশারী বলেন: এটি উচ্চতা অর্থে 'নাবওয়াহ' শব্দ থেকে গৃহীত। সুতরাং এটি হামজা সহযোগে পড়ার চেয়ে অধিক অর্থবহ; কারণ সংবাদ প্রদানকারী মাত্রই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয় না; একারণেই তিনি হামজা সহযোগে পড়তে নিষেধ করেছেন।
ইবনে খারূফ 'শারহুল কিতাব'-এ বলেন: তিনি কেবল তাদেরই নিষেধ করেছেন যারা তাহক্বীককারীদের (হামজা উচ্চারণকারীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়েও শব্দটিকে সহজ (হামজা ছাড়া) করে পড়তেন, আর তাদের সংখ্যা সামান্য। আর আরবদের একটি গোষ্ঠী ছিল তাহক্বীককারী (হামজা উচ্চারণকারী), আর এখানে তাহক্বীক মূলত বদল বা পরিবর্তনের স্থলে। তাহক্বীক বা হামজা সহযোগে কিরাতটি দুর্বল, সাতটি প্রসিদ্ধ কিরাতের মধ্যে মাদানী কিরাত ব্যতীত অন্য কেউ এভাবে পাঠ করেননি। সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে ইবনে দারাস্তাওয়াইহ বলেন: বদল বা পরিবর্তন যখন অপরিহার্য হয়ে যায়, তখন জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত তাকে মূলে ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়; একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামজাযুক্ত উচ্চারণকে অপছন্দ করেছেন, যদিও এটিই ছিল মূল রূপ। তিনি বলেন: ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ একদল লোক এই হাদীসটিকে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যে, তারা দাবি করে বসেছে যে 'নবী' শব্দটি 'নাবওয়াহ' থেকে উদ্ভূত। এটি নবীদের ওপর একটি অপবাদ; কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী 'নাবওয়াহ' কেবল উচ্চতা নয়। বরং তরবারির ক্ষেত্রে বলা হয় 'নাবা' (লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া), সুতরাং সেটি 'নাবিন'। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও 'নাবি' বলা হয়। অনুরূপভাবে ভূমির ক্ষেত্রেও 'নাবি' বলা হয় যখন তা কর্কশ এবং পথিকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়, ফলে মানুষ তা এড়িয়ে চলে। এটি কেবল উচ্চতা নয়, বরং এটি নিন্দাসূচক একটি গুণ।
ফারিসী 'আল-হুজ্জাহ' কিতাবে বলেন: যারা হামজাকে যথাযথভাবে উচ্চারণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
النبيِّ، صارَ كأنَّه رَدَّ الشيءَ إلى أصلِهِ المرفوضِ استعمالُه؛ كوَذَرَ ووَدَعَ، فمِن ثَمَّ كانَ الأمرُ فيه التخفيفَ؛ ولذلك قالَ سِيبَوَيْهِ: بَلَغَنَا أنَّ قَوْماً من أهلِ الحِجازِ من أهلِ التحقيقِ يُحَقِّقُونَ (نَبِيّ وبَرِيَّة). قالَ: وذلك رَدِيءٌ، وإنَّمَا اسْتَرْدَأَهُ؛ لأنَّ الغالبَ في مِثْلِهِ التخفيفُ على وجهِ البدلِ من الهمزِ، وذلك الأصلُ كالمرفوضِ، فضَعْفُه عندَهم لاستعمالِهِم فيه الأصلَ الذي قد تَرَكَه سائِرُهم، لا لأنَّ النبيَّ الهمزُ فيه غيرُ الأصلِ.
قالَ الفَارِسِيُّ: أمَّا ما رُوِيَ من إنكارِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم الهمزَ، فأَظُنُّ أنَّ مِن أهلِ النقلِ مَن ضَعَّفَ إسنادَه. قالَ: ومِمَّا يُقَوِّي تضعيفَه أنَّ مَن مَدَحَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فقالَ: يا خَاتَمَ النُّبَآءِ. لم يُؤْثَرْ فيه إنكارٌ عليه، ولو كانَ في واحدِهِ نَكِيرٌ لَكَانَ الجمعُ كالواحدِ، وأيضاًً فلم يُعْلَمْ أنَّه عليه الصلاة والسلام أَنْكَرَ على الناسِ أنْ يَتَكَلَّمُوا بِلُغَاتِهِم.
وأمَّا معناه: فقيلَ: هو والرسولُ بمعنًى واحدٍ. والصوابُ تَغَايُرُهما، واخْتُلِفَ في التمييزِ بينَهما، والمُعْتَمَدُ ما قالَه الحَلِيمِيُّ وغيرُه؛ مِن أنَّ النبيَّ مُشْتَقٌّ مِن النَّبَأِ، وهو الخبرُ، إلَاّ أنَّ المُرَادَ هنا خَبَرٌ خاصٌّ عمَّن يُكْرِمُه اللهُ تعالَى بأنْ يُوقِفَه على شَرِيعَتِهِ، فإنِ انْضَافَ إلى هذا التوقيفِ أَمْرٌ بتبليغِهِ الناسَ ودُعَائِهِم إليه كانَ نَبِيًّا ورسولاً، وإلَاّ
নবী শব্দটির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হয়েছে যেন একে তার সেই মূলরূপে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে যার ব্যবহার বর্জিত; যেমন ‘ওয়াজারা’ এবং ‘ওয়াদাআ’ (এরকম পরিত্যক্ত ধাতুরূপ)। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োগটি ছিল সহজীকরণ; এ কারণেই সীবাওয়াইহ বলেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, হিজাযের একদল লোক যারা ভাষাগত সূক্ষ্মতা বজায় রাখেন, তারা ‘নাবী’ এবং ‘বারিয়্যাহ’ শব্দদ্বয় হামযাহসহ উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন: এটি ত্রুটিপূর্ণ। আর তিনি এটিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেছেন কারণ এ জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে হামযাহ পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজীকরণ করাই প্রচলিত নিয়ম, আর সেই মূল রূপটি বর্জিত বিষয়ের মতো। সুতরাং তাদের নিকট এর দুর্বলতার কারণ হলো তারা এমন এক মূল রূপ ব্যবহার করেছেন যা অবশিষ্ট সকলে বর্জন করেছে; বিষয়টি এমন নয় যে ‘নবী’ শব্দে হামযাহ থাকাটা মূল বহির্ভূত।
ফারিসী বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হামযাহর ব্যবহার প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, আমার ধারণা বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। তিনি বলেন: এর দুর্বলতাকে যা জোরালো করে তা হলো, জনৈক ব্যক্তি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করে বলেছিলেন: ‘হে নবীদের মোহর (খাতামান নুবায়া)’, তখন তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অসম্মতি বর্ণিত হয়নি। যদি এর একবচনে কোনো আপত্তি থাকতো, তবে বহুবচনও একবচনের মতোই হতো। এছাড়া এটিও জানা নেই যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মানুষকে তাদের নিজ নিজ উপভাষায় কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
আর এর অর্থের ব্যাপারে বলা হয়েছে: নবী এবং রাসূল একই অর্থবোধক। তবে সঠিক মত হলো তারা ভিন্ন, এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণে মতভেদ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য মত হলো যা হালীমী ও অন্যরা বলেছেন: ‘নবী’ শব্দটি ‘নাবা’ (সংবাদ) থেকে উদ্ভূত, তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন বিশেষ সংবাদ যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা তাঁর শরীয়ত সম্পর্কে অবহিত করে সম্মানিত করেন। যদি এই অবহিতকরণের সাথে মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার এবং তাদের সেদিকে আহ্বান করার নির্দেশ যুক্ত হয়, তবে তিনি নবী ও রাসূল উভয়ই হবেন, অন্যথায়...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
كانَ نبيًّا غيرَ رسولٍ. ثمَّ ذَكَرَ سِتَّةً وأربعينَ خَصْلَةً يَخْتَصُّ بها النبيُّ صلى الله عليه وسلم.
وحاصِلُه أنَّ النبيَّ هو مَن أُوحِيَ إليه، فإنِ انْضَافَ إليه الأمرُ بالتبليغِ كانَ رسولاً ونبيًّا، وإلَاّ كانَ نبيًّا لا رسولاً، فالنبيُّ أعمُّ، فكلُّ رسولٍ نَبِيٌّ ولا يَنْعَكِسُ. وفي كلامِ الحَلِيمِيِّ فائدةٌ، وهي: تقييدُ الوحيِ بالشريعةِ، فإنْ صَحَّ هذا خَرَجَ وَحْيُهُ إلى مَرْيَمَ وأُمِّ مُوسَى عليهم السلام، ولَعَلَّه بَنَاهُ على عَدَمِ ثُبُوتِهِما، وفيه خِلافٌ ذَكَرْتُهُ في أُصُولِ الدِّينِ مِن هذا الشرحِ.
فظَهَرَ بما ذَكَرْنَاهُ أفضلِيَّةُ الرسالةِ على النُّبُوَّةِ، وتَخْرُجُ منه مُنَازَعَةُ المُصَنِّفِ في إِيثَارِهِ هنا صِفَةَ النُّبُوَّةِ على الرسالةِ، ولَعَلَّه لَحَظَ ما صارَ إليه الشيخُ عِزُّ الدِّينِ من تفضيلِ النبوَّةِ على الرسالةِ مِن جِهَةِ شَرَفِ التعلُّقِ، والراجِحُ خِلافُه، وعليه نَقْدٌ آخَرُ، وهو: عَدَمُ تَسْلِيمِهِ، وقد قالَ العلماءُ: يُكْرَهُ إفرادُ الصلاةِ عن التسليمِ.
وقولُه: (هَادِي الأُمَّةِ) مأخوذٌ من قولِهِ تعالَى: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ
তিনি একজন নবী ছিলেন, রাসূল ছিলেন না। অতঃপর তিনি ছেচল্লিশটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট।
এর সারমর্ম হলো, নবী হলেন তিনি যার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। যদি এর সাথে প্রচারের নির্দেশ যুক্ত হয় তবে তিনি রাসূল ও নবী উভয়ই, অন্যথায় তিনি নবী, রাসূল নন। সুতরাং নবী শব্দটি সাধারণ ও ব্যাপক; ফলে প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। আল-হালিমীর বক্তব্যে একটি তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে, তা হলো: ওহীকে শরীয়তের সাথে সীমাবদ্ধ করা। এটি সঠিক হলে মারইয়াম ও মূসার জননী (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রতি ওহী প্রেরণের বিষয়টি এর বাইরে চলে যাবে। সম্ভবত তিনি বিষয়টি তাঁদের নবুওয়াত সাব্যস্ত না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে বলেছেন। এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যা আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ‘উসূলে দ্বীন’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।
আমাদের আলোচিত বিষয় হতে নবুওয়াতের ওপর রিসালাতের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হলো। এর দ্বারা গ্রন্থকারের সেই আপত্তিরও নিরসন হয় যেখানে তিনি এখানে রিসালাত গুণের পরিবর্তে নবুওয়াত গুণটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সম্ভবত তিনি শায়খ ইযযুদ্দীনের সেই অভিমত লক্ষ্য করেছেন যেখানে তিনি আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কের সম্মানের দিক থেকে রিসালাতের ওপর নবুওয়াতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন। তবে বিশুদ্ধ মত হলো এর বিপরীত। এর ওপর আরও একটি সমালোচনা রয়েছে, তা হলো: সালাম ব্যতীত এককভাবে সালাত (দরুদ) পাঠ করা। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: সালাম ব্যতীত এককভাবে কেবল সালাত পাঠ করা অপছন্দনীয়।
এবং তাঁর উক্তি: (উম্মতের পথপ্রদর্শক) মহান আল্লাহর এই বাণী হতে গৃহীত: "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে..."
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১০)
مُسْتَقِيمٍ}. وفَسَّرَ الراغِبُ الهِدَايَةَ بالدَّلالةِ بِلُطْفٍ، قالَ: وأمَّا قولُه تعالَى: {فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ}. فهو على التهَكُّمِ.
وفي الحديثِ: ((يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ)). قالَ الرَّازِيُّ: الكثيرُ ضَمُّ (الميمِ)، بمعنى أنَّ اللهَ تعالَى أَهْدَاهُ إلى الناسِ، وكانَ ابنُ البرْقِيُّ يقولُ: بكسرِ (الميمِ) مِن الهِدَايَةِ. وكان ضابِطاً فَهِماً مُتَصَرِّفاً في الفِقْهِ واللُّغةِ، والذي قالَه أجودُ؛ لأنَّه بُعِثَ للهِ هَادِياً؛ كما قالَ تعالَى: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ}. و (الرَّشَادُ) ضِدُّ الغَيِّ.
সরল পথ।} আর রাগিব হিদায়াতকে কোমলতার সাথে নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: আর মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে জাহান্নামের পথের দিকে পরিচালিত করো} — এটি বিদ্রূপের ছলে বলা হয়েছে।
এবং হাদিসে এসেছে: ((হে লোকসকল, আমি তো কেবল একজন উপহারস্বরূপ রহমত))। রাযী বলেন: অধিকাংশ ক্ষেত্রে (মীম) অক্ষরে পেশ দিয়ে পড়া হয়, যার অর্থ হলো মহান আল্লাহ তাঁকে মানুষের প্রতি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর ইবনুল বারকী বলতেন: (মীম) অক্ষরে যের দিয়ে, যা হিদায়াত (পথপ্রদর্শন) থেকে উদ্ভূত। তিনি অত্যন্ত নির্ভুল ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন এবং ফিকহ ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর গভীর বুৎপত্তি ছিল। তাঁর বক্তব্যটিই অধিকতর উত্তম; কারণ তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি অবশ্যই সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন}। আর (রাশাদ) হলো পথভ্রষ্টতার বিপরীত।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১১)
ص: (صَلَّى اللهُ عليه وعلى آلِهِ وأصحابِه، ما قَامَتِ الطُّرُوسُ والسطورُ لِعُيُونِ الألفاظِ مَقَامَ بَيَاضِها وسَوَادِها).
ش: كانَ الأَوْلَى إضافةَ الآلِ إلى الظاهرِ؛ لأنَّه الوارِدُ في السنَّةِ، وللخروجِ من خِلافٍ مِن مَنْعِ إضافتِهِ إلى الضميرِ؛ كالكِسَائِيِّ والنَّحَّاسِ والزُّبَيْدِيِّ، قالَ ابنُ
মূল পাঠ: (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যতক্ষণ পর্যন্ত শব্দসমূহের দর্শনের জন্য কাগজ ও পঙক্তিমালা তাদের শুভ্রতা ও কৃষ্ণতার স্থলাভিষিক্ত থাকে।)
ব্যাখ্যা: 'আল' (পরিবার) শব্দটিকে প্রকাশ্য বিশেষ্যের (ইসম জাহির) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করাই অধিকতর উত্তম ছিল; কারণ সুন্নাহতে এটিই বর্ণিত হয়েছে, এবং সর্বনামের (দমির) দিকে এর সম্বন্ধ করাকে যারা নিষিদ্ধ মনে করেন—যেমন কিসাঈ, নাহহাস ও জুবায়দী—তাদের মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। ইবনে... বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১২)
مالِكٍ: وقد ثَبَتَتْ إِضَافَتُه إلى مُضْمَرٍ. وقيلَ لرسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَن آلُكَ يا رسولَ اللهِ؟ قالَ: ((آلِي كُلُّ تَقِيٍّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ)). أَخْرَجَهُ تَمَّامٌ في فَوَائِدِهِ. وقيلَ: إنَّه اسمُ جمعٍ لا واحدَ له من لفظِه، وفَسَّرَهُ سِيبَوَيْهِ فيما حَكَاهُ ابنُ عَطِيَّةَ: بالقومِ
মালিক: এবং সর্বনামের প্রতি এর সম্বন্ধ সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ‘আল’ (পরিবার/অনুসারী) কারা? তিনি বললেন: “কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তিই আমার ‘আল’।” তাম্মাম তাঁর ‘ফাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং বলা হয়েছে: এটি এমন একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য যার নিজস্ব শব্দমূল থেকে কোনো একবচন নেই; এবং ইবনে আতিয়্যাহ যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী সিবওয়াইহ এর অর্থ করেছেন ‘জাতি’ হিসেবে।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
الذين يَؤُولُ أَمْرُهُم إلى المضافِ إليه، وهو نَصٌّ في أنَّ (آل) ليسَ أصلُه أَهْلاً كما زَعَمَ النحَّاسُ، وقالَ الإمامُ في تفسيرِ سورةِ مَرْيَمَ: الآلُ: خاصَّةُ الرجُلِ الذين يَؤُولُ أَمْرُهُم إليه، ثُمَّ قد يَؤُولُ أَمْرُهُم إليه للقَرَابَةِ تَارَةً وللصُّحْبَةِ أُخْرَى؛ كآلِ فِرْعَوْنَ، وللموافقةِ في الدِّينِ؛ كآلِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم. انْتَهَى.
وهو حَسَنٌ يَجْمَعُ الأقوالَ ويَقْتَضِي أنَّه مُشْتَرَكٌ، ولا يُسْتَعْمَلُ إلَاّ في التعظيمِ، وآلُهُ بنو هَاشِمٍ والمُطَّلِبِ، وقيلَ: جميعُ الأُمَّةِ. وقيلَ: أولادُ فاطمةَ رضي الله عنها. والأصحابُ: جمعُ صاحبٍ، وهو كلُّ مُسْلِمٍ رَأَى النبيَّ صلى الله عليه وسلم. وقَدَّمَ الآلَ لِشَرَفِهِم، وعَطَفَ الأصحابَ عليهم؛ لأنَّ بينَهما عُمُوماً وخُصُوصاً مِن وَجْهٍ؛ لأنَّ التابعيَّ الذي هو من بني هاشمٍ وبني المطَّلِبِ من
যাদের বিষয়াদি সম্বন্ধযুক্ত পদের (মুদাফ ইলাইহি) দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এটি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ভাষ্য যে, 'আল' শব্দের মূল উৎস 'আহল' নয়, যেমনটি নাহহাস দাবি করেছেন। ইমাম সূরা মারইয়ামের তাফসীরে বলেছেন: 'আল' হলো কোনো ব্যক্তির এমন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ যাদের বিষয়াদি তার দিকে ফিরে যায়। অতঃপর কখনো তাদের বিষয়াদি তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে আত্মীয়তার কারণে, আবার কখনো সাহচর্যের কারণে; যেমন ফেরাউনের পরিবার। আবার কখনো দ্বীনি আদর্শের মিল থাকার কারণে; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিজন। সমাপ্ত।
এটি একটি উত্তম ব্যাখ্যা যা বিভিন্ন মতকে একত্রিত করে এবং এটি দাবি করে যে শব্দটি একাধিক অর্থবোধক, আর এটি কেবল সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তাঁর 'আল' হলো বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিব, এবং বলা হয়েছে: সমগ্র উম্মত। আবার বলা হয়েছে: ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার সন্তানগণ। আর 'আসহাব' হলো 'সাহিব' শব্দের বহুবচন, আর তিনি হলেন সেই প্রত্যেক মুসলিম যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন। তিনি 'আল' শব্দকে তাদের মর্যাদার কারণে আগে উল্লেখ করেছেন এবং 'আসহাব' শব্দটিকে তাদের ওপর সংযোজিত করেছেন; কারণ তাদের উভয়ের মধ্যে এক প্রকার সাধারণ ও বিশেষের (উমুম ও খুসুস) সম্পর্ক রয়েছে; কারণ বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিব বংশের যে তাবিঈ তিনি...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
الآلِ، وليسَ من الصحابةِ، وسَلْمَانُ - مثلاً - بالعكسِ، وعليٌّ - مثلاً - صَحَابِيٌّ وآلٌ.
وقولُه: (ما قَامَتْ) ما: في وَضعِ الظرفِ؛ أي: مُدَّةَ. و (الطُّرُوسُ): جَمْعُ طِرْسٍ، بكسرِ الطاءِ، فَسَّرَهُ الجَوْهَرِيُّ بالصَّحِيفَةِ، ثمَّ قالَ: ويُقالُ: هي التي مُحِيَتْ ثمَّ كُتِبَتْ. وعلى هذا اقْتَصَرَ في (المُحْكَمِ)، وحكَى فيها لغةً أُخْرَى: طِلْسٌ، باللامِ بدلَ الراءِ، وقالَ الفَرَّاءُ في (الجامِعِ): الطِّرْسُ: الكتابُ الذي قد مُحِيَ ما فيه ثمَّ كُتِبَ. وقيل: هو الصحيفةُ بعينِها، وإنما يُقالُ للذي مُحِيَ: طُلِسَ، وحُكِيَ فيها: طِرْسٌ وطِرْصٌ، بالسينِ والصادِ، واستعمالُ المصنِّفِ (عُيُونَ الألفاظِ) استعارةٌ بليغةٌ، ورَشَّحَها بالبياضِ والسوادِ؛ فإنَّهما من لَوَازِمِ العيونِ، وفيه لَفٌّ ونَشْرٌ مُرَتَّبٌ، فالبَياضُ للطُّرُوسِ، والسوادُ للسطورِ، وفيه استعمالُ الطُّرُوسِ للصحيفةِ البَيضاءِ، وفيه ما سَبَقَ، وفي الطُّرُوسِ والسُّطُورِ جِناسُ القَلْبِ؛ لاخْتِلافِهِما في ترتيبِ الحروفِ، فهو نظيرُ: (اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وآمِنْ رَوْعَاتِنا) .. ومقصودُ المُصَنِّفِ تَابِيدُ الصلاةِ عليه على الدوامِ؛ إذ لا تَزَالُ طائفةٌ مِن الأُمَّةِ على الحقِّ
পরিবারভুক্ত, কিন্তু সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত নন; উদাহরণস্বরূপ সালমান—এর বিপরীত (অর্থাৎ সাহাবী কিন্তু পরিবারভুক্ত নন), আবার আলী—উদাহরণস্বরূপ—একইসাথে সাহাবী এবং পরিবারভুক্ত।
এবং তাঁর বক্তব্য: (যতক্ষণ স্থায়ী হবে), এখানে 'মা' অব্যয়টি সময়ের ব্যাপ্তিকাল বা জ়রফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ যতক্ষণ সময়কাল পর্যন্ত। এবং 'তুতুরুস' শব্দটি 'তির্স' এর বহুবচন, যা 'ত' অক্ষরে জের দিয়ে পড়তে হয়। জাওহারী এর ব্যাখ্যা করেছেন 'পৃষ্ঠা' হিসেবে। এরপর তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, এটি এমন পৃষ্ঠা যা মুছে ফেলার পর পুনরায় লেখা হয়েছে। 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে কেবল এই অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে। আর তিনি এতে ভিন্ন একটি ভাষাগত রূপও বর্ণনা করেছেন, যা হলো 'তিলস'—এখানে 'র' অক্ষরের স্থলে 'ল' হবে। ফাররা 'আল-জামি' গ্রন্থে বলেছেন: 'তির্স' হলো এমন পাণ্ডুলিপি যার পূর্বের লেখা মুছে ফেলে নতুন করে লেখা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এটি সরাসরি পৃষ্ঠাকেই বোঝায়, আর যা মুছে ফেলা হয়েছে কেবল তাকেই 'তুলিসা' বলা হয়। এই শব্দের ক্ষেত্রে সীন এবং সোয়াদ উভয় অক্ষর দিয়েই উচ্চারণ বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থকারের 'শব্দাবলির চক্ষুসমূহ' প্রয়োগটি একটি উচ্চাঙ্গের আলঙ্কারিক রূপক। তিনি একে সাদা ও কালোর বিশেষণে সুসজ্জিত করেছেন, কেননা এই উভয় বর্ণ চোখের জন্য অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এখানে সুশৃঙ্খল 'লাফ্ফ ওয়া নাশর' অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ 'সাদা' গুণটি কাগজের জন্য এবং 'কালো' গুণটি পঙ্ক্তির জন্য প্রযোজ্য। এতে 'তুতুরুস' শব্দটিকে সাদা পৃষ্ঠার অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পূর্বে যা উল্লিখিত হয়েছে তা এখানে বিদ্যমান। 'তুতুরুস' এবং 'সুতুর' শব্দ দুটির মধ্যে অক্ষর-বিপর্যাসজনিত শব্দালঙ্কার রয়েছে; কারণ এদের অক্ষর বিন্যাস ভিন্ন। এটি নিম্নোক্ত দোয়ার সদৃশ: "হে আল্লাহ! আমাদের গোপন ত্রুটিগুলো আবৃত রাখুন এবং আমাদের ভীতিগুলোকে নিরাপত্তায় রূপান্তর করুন।" গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো তাঁর ওপর সর্বদা দরুদ পাঠের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; কেননা এই উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
حتَّى تَقُومَ الساعةُ، ووجودُ الطُّرُوسِ مِن لَوَازِمِ بَقَائِها، فعَبَّرَ باللازِمِ وأرادَ الملزومَ، وخَصَّ التعليقَ على ذلك دُونَ غيرِهِ مِن الأشياءِ المُؤَبَّدَةِ؛ لِشَرَفِ العلمِ المبعوثِ به النبيُّ الكريمُ صَلَّى اللهُ تعالَى عليه وسَلَّمَ.
ص: (ونَضْرَعُ إليكَ في مَنْعِ الموانعِ عن إكمالِ جمعِ الجوامِعِ، الآتي مِن فَنَّيِ الأصولِ بالقواعدِ القواطِعِ، البالِغِ مِن الإحاطةِ بالأصليْنِ مَبْلَغَ ذَوِي الجِدِّ والتَّشْمِيرِ، والوارِدِ مِن زُهَاءِ مِائَةِ مُصَنَّفٍ مَنْهَلاً يُرْوِي ويَمِيرُ، المُحِيطِ بِزُبْدَةِ ما في شَرْحِي على المُخْتَصَرِ والمِنْهَاجِ معَ مَزِيدِ كَثِيرٍ).
ش: ضَرَعَ الرجُلُ ضَرَاعَةً؛ خَضَعَ وذَلَّ، قالَ الفَرَّاءُ: يُقالُ: جاءَ فلانٌ يَتَضَرَّعُ ويَتَعَرَّضُ: بمعنَى إذا جاءَ يَطْلُبُ إليكَ الحاجةَ. ولا شكَّ أنَّ التضَرُّعَ أبلغُ؛ فإنَّه نهايةُ السؤالِ؛ فلهذا آثَرَهُ المصنِّفُ.
و (في مَنْعِ) مُتَعَلِّقٌ بِنَضْرَعُ، و (عن) مُتَعَلِّقٌ بِمَنْعِ، وحذفُ تاءِ المضارعةِ فيه تَسْهِيلاً، وأصلُه نَتَضَرَّعُ، ثمَّ أُدْغِمَ. وكأنَّه طَلَبَ مِن اللهِ تَعَالَى دَفْعَ الموانِعِ العائقةِ له عن إكمالِ هذا الكتابِ، وذلك يَسْتَلْزِمُ
কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত; আর পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব টিকে থাকা তার স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য। তাই তিনি অপরিহার্য বিষয়ের মাধ্যমে মূল বিষয়কে বুঝিয়েছেন। আর অন্যান্য শাশ্বত বিষয়ের পরিবর্তে বিশেষভাবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন সেই ইলম বা জ্ঞানের মর্যাদার কারণে, যা নিয়ে সম্মানিত নবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) প্রেরিত হয়েছেন।
মূল পাঠ: (এবং আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ‘জামউল জাওয়ামি’ পূর্ণ করার পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য; যা উসূলের উভয় শাস্ত্র থেকে অকাট্য মূলনীতিসমূহ নিয়ে এসেছে, যা উভয় উসূল পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রমী ও সচেষ্ট ব্যক্তিদের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবং যা প্রায় একশত কিতাব থেকে এমন এক ঝরনাধারা হিসেবে এসেছে যা তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং খাদ্য সরবরাহ করে। এটি ‘আল-মুখতাসার’ ও ‘আল-মিনহাজ’-এর ওপর আমার লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ে যা আছে তার সারসংক্ষেপ এবং আরও অনেক অতিরিক্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্তকারী)।
ব্যাখ্যা: কোনো ব্যক্তি বিনতি করার অর্থ হলো সে বিনীত ও নত হলো। আল-ফাররা বলেন: বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি কাকুতি-মিনতি ও নিবেদন করতে করতে এসেছে; অর্থাৎ যখন কেউ আপনার কাছে কোনো প্রয়োজন নিয়ে আসে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাকুতি-মিনতি বা ‘তাদাররু’ শব্দটি অধিক অর্থবোধক; কেননা এটি প্রার্থনার চূড়ান্ত পর্যায়। একারণেই গ্রন্থকার এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
আর ‘প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে’ অংশটি ‘আমরা বিনতি করি’ ক্রিয়াটির সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং ‘হতে’ অব্যয়টি ‘দূরীকরণ’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। সহজকরণের উদ্দেশ্যে এখানে বর্তমান কালের আলামত ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে, এর মূল রূপ ছিল ‘আমরা বিনতি করি’, অতঃপর তা সংযুক্ত বা ইদগাম করা হয়েছে। যেন তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে এই কিতাবটি পূর্ণ করার পথে বাধা সৃষ্টিকারী প্রতিবন্ধকসমূহ দূর করার প্রার্থনা করেছেন, আর এটি দাবি করে...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
طَلَبَ كمالِهِ، وكأنَّه إنَّما لم يَطْلُبْهُ ابتداءً؛ لأنَّه قد يَصْحَبُهُ مانِعٌ، فسَأَلَ رَفْعَ الموانِعِ أصلاً ورأساً.
و (الآتي): صِفَةٌ لجمعِ الجوامِعِ، وهو اسمُ فاعلٍ مِن أَتَى بمعنى جاءَ، ومنه قولُهم: ما أَقْرَبَ ما هو آتٍِ.
و (بالقواعدِ) مُتَعَلِّقٌ به، و (مِن فَنَّيِ الأصولِ) متعلِّقٌ بالقواعِدِ، و (مِن) للبيانِ، والفَنُّ: النوعُ، قالَ الجَوْهَرِيُّ: فَنَّ الرجُلُ؛ كَثُرَ تَفَنُّنُه في الأمورِ؛ أي: تَنَوُّعُهُ. والفُنُونُ: الأنواعُ. والأفانِينُ: الأساليبُ. والألفُ واللامُ في (الأُصُولِ) للاستغراقِ؛ لِيَعُمَّ أصولَ الفقهِ وأصولَ الدِّينِ؛ بدليلِ تَثْنِيَةِ فَنٍّ، وقولِهِ بعدَه: من الإحاطةِ بالأصليْنِ.
وفي (القواعِدِ) و (القواطِعِ) الجناسُ اللاحِقُ؛ لاتِّفَاقِ الكَلِمَتَيْنِ في عددِ الحروفِ والهيئاتِ، واخْتِلَافِهما في الآخِرِ، فهو نظيرُ قولِهِ تعالَى: {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأَمْنِ}.
وفي التعبيرِ بـ (البالِغِ) و (الإحاطةِ) من النهايةِ في الاطِّلاعِ على الأصليْنِ ما لا يَخْفَى.
و (مَبْلَغَ) منصوبٌ بالبالِغِ. و (الجِدُّ) بكسرِ الجيمِ: الجَهْدُ. (وزُهَاءَ مائةٍ) أي: قَدْرَ مائةٍ، هذا مدلولُه لُغَةً، وكلامُ الفُقَهَاءِ في بابِ الوصيَّةِ يُخَالِفُه، ثُمَّ كلامُ الأخفشِ يَقْتَضِي أنَّها ممدودةٌ؛ فإنَّه ذَكَرَها في بابِ ما يُمَدُّ، ولكِنَّ صَاحِبَ (الصِّحَاحِ) ذَكَرَها في المُعْتَلِّ، وعلى المدِّ اقْتَصَرَ صاحِبُ (المَشَارِقِ)، قالَ: ويُقالُ: لُهَاء، باللامِ بَدَلَ الزايِ.
و (يُرْوِي) بضمِّ أَوَّلِهِ: من الرِّيِّ، وهو الشِّبَعُ من الماءِ، يقالُ منه: رَوِيتُ، بكسرِ الواوِ، أَرْوَى رَيًّا ورِيًّا، وفي الحديثِ: (رَوَيتُ) بالفتحِ، وما أحسنَ قولَ بعضِهم: رَوَيْتُ وما رَوِيتُ من الروايةِ.
و (يَمِيرُ): بفتحِ أوَّلِهِ، ويَجُوزُ ضَمُّها؛ لأنَّه يقالُ: مارَ وأمارَ بمعنًى، من قولِهم: مارَ أهلَه يَمِيرُهُم؛ إذا حَمَلَ لهم المِيرَةَ، وهو الطعامُ، ومنه قولُهم: ما عندَهم خيرٌ ولا مَيْرٌ.
তিনি এর পূর্ণতা অন্বেষণ করেছেন। মনে হয় তিনি মূলত এটি অন্বেষণ করেননি; কারণ এর সাথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারত, তাই তিনি একেবারে গোড়া থেকেই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রার্থনা করেছেন।
এবং (আল-আতি): এটি 'জামউল জাওয়ামি'-এর একটি বিশেষণ। এটি 'আতা' থেকে গঠিত ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), যা 'জা-আ' (আসা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ থেকেই তাদের উক্তি: "যা আসছে তা কতই না নিকটবর্তী!"
এবং (বিল-কাওয়াইদ) অংশটি এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর (মিন ফান্নায়িল উসুল) অংশটি 'কাওয়াইদ'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে 'মিন' ব্যাখ্যার জন্য এসেছে। 'ফান' অর্থ হলো প্রকার। জাওহারী বলেন: 'ফান্নার রাজুল' অর্থাৎ কোনো বিষয়ে তার বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে; তথা বহুমুখী হয়েছে। 'ফুনুন' অর্থ প্রকারভেদ। আর 'আফানীন' অর্থ হলো শৈলী বা পদ্ধতিসমূহ। 'আল-উসুল' শব্দের আলিফ এবং লাম 'ইস্তিফরাক' বা ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য এসেছে; যাতে এটি উসুলুল ফিকহ এবং উসুলুদ দ্বীন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রমাণ হলো 'ফান' শব্দটিকে দ্বিবচন করা এবং পরবর্তীতে তার এই উক্তি: "উভয় মূলনীতিকে পরিবেষ্টন করা"।
এবং (আল-কাওয়াইদ) ও (আল-কাওয়াতি) শব্দদ্বয়ের মধ্যে 'জিনাছে লাহিক' (অন্ত্য-অনুপ্রাস) রয়েছে; কারণ শব্দ দুটি বর্ণের সংখ্যা ও বিন্যাসে এক হওয়া সত্ত্বেও শেষ বর্ণে ভিন্ন। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সদৃশ: "আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তার কোনো সংবাদ আসে"।
এবং (আল-বালিগ) ও (আল-ইহাতা) শব্দ দুটি ব্যবহারের মাধ্যমে উভয় মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞানের যে চূড়ান্ত সীমানা বুঝানো হয়েছে, তা আর অস্পষ্ট নয়।
এবং (মাবলাগা) শব্দটি 'বালিগ' দ্বারা মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে। আর (আল-জিদ্দু) জীমে যেরসহ এর অর্থ হলো প্রচেষ্টা। (যুহাআ মিআতিন) অর্থাৎ প্রায় একশত; এটি এর আভিধানিক অর্থ। তবে অসিয়ত অধ্যায়ে ফকিহগণের পরিভাষা এর বিপরীত। অতঃপর আখফাশের বক্তব্য অনুযায়ী এটি 'মামদুদা' (দীর্ঘায়িত আলিফযুক্ত) হওয়া আবশ্যক; কেননা তিনি একে দীর্ঘায়িত বর্ণের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু 'সিহাহ' গ্রন্থের লেখক একে 'মু'তাল' (দুর্বল বর্ণবিশিষ্ট) অংশে উল্লেখ করেছেন। 'মাশারিক' গ্রন্থের লেখক একে কেবল দীর্ঘায়িত রূপেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন এবং বলেছেন: 'যা'-এর পরিবর্তে 'লাম' দিয়ে একে 'লুহাআ'ও বলা হয়।
এবং (ইউরওয়ী) প্রথম বর্ণে পেশসহ: এটি 'রিই' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পানি পান করে তৃপ্ত হওয়া। এখান থেকে বলা হয়: 'রাওয়িতু' ওয়াও বর্ণে যেরসহ, অর্থাৎ আমি তৃপ্ত হয়েছি। হাদিসে 'রাওয়াইতু' যবরসহ এসেছে। জনৈক ব্যক্তির এই উক্তিটি কতই না চমৎকার: "আমি বর্ণনা করেছি (রাওয়াইতু) কিন্তু বর্ণনার (রিওয়ায়াত) দ্বারা আমি তৃপ্ত হইনি (রাওয়িতু)।"
এবং (ইয়ামীরু): প্রথম বর্ণে যবরসহ, তবে এতে পেশ দেওয়াও বৈধ; কারণ 'মারা' এবং 'আমারা' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি তাদের এই উক্তি থেকে গৃহীত: 'মারা আহলাহু ইয়ামীরুহুম'; যখন সে তাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী (আল-মিরাহ) বহন করে নিয়ে আসে, আর 'মিরাহ' মানে হলো খাদ্য। এ থেকেই তাদের প্রবাদ: "তাদের কাছে কোনো কল্যাণও নেই, কোনো খাদ্যসামগ্রীও নেই।"
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
ص: (ويَنْحَصِرُ في مُقَدِّمَاتٍ وسَبْعَةِ كُتُبٍ).
ش: الانحصارُ مُطَاوِعُ حَصَرَ، وحقُّ انْفَعَلَ أنْ يُطَاوِعَ مِثلَ الثلاثيِّ، نحوُ: ضَرَبْتُهُ فانْضَرَبَ، ويَقِلُّ في الرُّبَاعِيِّ: أَزْعَجْتُهُ فانْزَعَجَ، قالَ أبو السَّعَادَاتِ: والحَصْرُ: التَّضْيِيقُ، قالَ تعالَى: {وَاحْصُرُوهُمْ}، وانْحِصَارُ الشيءِ في أشياءَ يكونُ على وجهيْنِ:
أَحَدُهما: انحصارُه في جُزْئِيَّاتِه؛ كانحصارِ الكَلِمَةِ في الاسمِ والفعلِ والحرفِ.
الثاني: انْحِصَارُه في أجزائِهِ؛ كانحصارِ الكلامِ في الاسمِ والفعلِ والحرفِ أيضاًً.
والفرقُ بينَهما أنَّ اسمَ المحصورِ في الأوَّلِ يكونُ صَادِقاً على كلِّ واحدٍ مِن الأشياءِ المحصورِ فيها هو، بخلافِ الثاني، والضميرُ في قَوْلِهِ: (ويَنْحَصِرُ) إمَّا أنْ يعودَ على هذا المُخْتَصَرِ، أو إلى أُصُولِ الفِقْهِ، لا جائزَ أنْ يعودَ على المُخْتَصَرِ المدلولِ عليه بقولِهِ في الخُطْبَةِ: (جَمْعِ الجوامِعِ الآتي من فَنَّيِ الأصولِ بالقواعدِ القواطِعِ)؛ فإنَّ (جمعَ الجوامِعِ) يَشْتَمِلُ على غيرِ المقدِّمَةِ والسبعةِ كُتُبٍ، من علمِ أصولِ الدينِ وخاتمةِ التصوُّفِ، فلا انْحِصَارَ، وإمَّا أنْ يعودَ إلى أصولِ الفِقْهِ المدلولِ عليه بقولِهِ في الخُطْبَةِ: (المُحِيطِ بِزُبْدَةِ ما في شَرْحِي على (المُخْتَصَرِ) و (المِنْهَاجِ) معَ مَزِيدِ كثيرٍ)، وليسَ المذكورُ في الشرحيْنِ غيرَ أصولِ الفقهِ، فيقالُ عليه: إنَّ مِن جملةِ المُقَدِّمَاتِ حَدَّ أُصُولِ الفقهِ وغيرِه مِن قواعدِ المَنْطِقِ، ونَحْوِها مِمَّا لا يُعَدُّ مِن أُصُولِ الفِقْهِ، فلا يكونُ جُزْءاً منه؛ لِخُرُوجِها عنه اصطلاحاً، وقد يُجابُ بأنَّه لَمَّا تَوَقَّفَ الأصولُ عليها، جَعَلَها جُزْءاً منه على طريقِ التغليبِ، ووجهُ الانحصارِ فيما ذَكَرَه أنَّ ما تَضَمَّنُه الأصولُ إمَّا مقصودٌ بالذاتِ، أو لا، والثاني: المُقَدِّمَاتُ؛ إذ لا بُدَّ أنْ يَتَوَقَّفَ عليهِ المقصودُ، وإلَاّ لم يُحْتَجْ إليه، والأوَّلُ: إنْ كانَ الغرضُ مِنه استنباطَ الأحكامِ، فالبحثُ إمَّا عن نفسِ الاستنباطِ، وهو الاجتهادُ، وإمَّا عمَّا تُسْتَنْبَطُ هي مِنه، إمَّا عندَ تَعَارُضِها، وهو الترجيحُ، أو لا، وهو الأدِلَّةُ والاستدلالُ.
মূল পাঠ: (এবং এটি সংকুচিত হয়েছে কিছু ভূমিকা এবং সাতটি কিতাবের মধ্যে)।
ব্যাখ্যা: 'আল-ইনহিসার' (সংকুচিত বা সীমাবদ্ধ হওয়া) শব্দটি 'হাসারা' ক্রিয়ার অনুগামী রূপ। 'ইনফাআলা' ছাঁচের বৈশিষ্ট্য হলো এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার অনুগামী হওয়া, যেমন: 'আমি তাকে আঘাত করলাম ফলে সে আঘাতপ্রাপ্ত হলো'। চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার কম, যেমন: 'আমি তাকে বিচলিত করলাম ফলে সে বিচলিত হলো'। আবুস সাআদাত বলেছেন: 'আল-হাসর' অর্থ হলো সংকীর্ণ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তোমরা তাদেরকে অবরুদ্ধ করো।" কোনো বস্তুর কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া দুই প্রকার হতে পারে:
প্রথমটি: কোনো বিষয়ের তার উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া; যেমন 'কালিমা' বা শব্দের সীমাবদ্ধ হওয়া বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের মধ্যে।
দ্বিতীয়টি: কোনো বিষয়ের তার অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া; যেমন 'কালাম' বা বাক্যের সীমাবদ্ধ হওয়া বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের মধ্যে।
এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ বিষয়টির নাম সীমাবদ্ধকারী বিষয়গুলোর প্রত্যেকটির ওপর সত্য বলে প্রযোজ্য হয়। দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। লেখকের বক্তব্য 'এবং এটি সীমাবদ্ধ হয়েছে'-এর মধ্যে যে সর্বনামটি রয়েছে, তা হয় এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির দিকে ফিরবে, অথবা উসূলুল ফিকহের দিকে। এটি সেই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের দিকে ফেরা জায়েজ নয় যা খুতবায় লেখকের এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে: 'জমউল জাওয়ামি যা অকাট্য নীতিমালার মাধ্যমে উসূলের দুই শাখা থেকে সংগৃহীত হতে যাচ্ছে'; কারণ 'জমউল জাওয়ামি' গ্রন্থটি ভূমিকা এবং সাতটি কিতাব ছাড়াও উসূলুদ দ্বীন (আকিদা) এবং তাসাউফের উপসংহারকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে সেখানে (শুধুমাত্র এই সাতটি বিষয়ে) সীমাবদ্ধতা থাকে না। অথবা সর্বনামটি উসূলুল ফিকহের দিকে ফিরবে, যা খুতবায় তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্দেশিত: 'যা আমার মুখতাসার ও মিনহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা আছে তার নির্যাস এবং আরও অনেক অতিরিক্ত বিষয়ের সমষ্টি'। এই দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা উসূলুল ফিকহ ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে যে, ভূমিকাগুলোর মধ্যে উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞা এবং যুক্তিশাস্ত্রের অন্যান্য নিয়মাবলি রয়েছে, যা উসূলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে পারিভাষিকভাবে এগুলো উসূলের বহির্ভূত হওয়ায় তার অংশ হতে পারে না। এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, যেহেতু উসূলুল ফিকহ এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে এগুলোকে উসূলের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার সীমাবদ্ধতার যৌক্তিক কারণ হলো: উসূল যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করে তা হয় মৌলিকভাবে উদ্দেশ্য, অথবা নয়। দ্বিতীয়টি হলো ভূমিকাগুলো; কারণ মূল উদ্দেশ্য অর্জনে এগুলো অপরিহার্য, অন্যথায় এগুলোর প্রয়োজন হতো না। আর প্রথমটি (যা মৌলিকভাবে উদ্দেশ্য): যদি এর লক্ষ্য হয় বিধান আহরণ করা, তবে আলোচনা হবে হয় সরাসরি আহরণ প্রক্রিয়া নিয়ে, যা হলো ইজতিহাদ; অথবা যে উৎস থেকে বিধান আহরণ করা হয় তা নিয়ে। এটি হয় দলিলের পারস্পরিক বিরোধের সময় হবে, যা হলো তারজীহ বা প্রাধান্য দান; অন্যথায় তা হবে দলিল এবং দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি (ইস্তিদলাল) সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
ص:
(الكلامُ في المُقَدِّمَاتِ).
ش: المُقَدِّمَاتُ: جمعُ مُقَدِّمَةٍ، وهي في اصطلاحِ الحكماءِ: القَضِيَّةُ المَجْعُولَةُ جُزْءَ الدليلِ؛ كقولِنا: العالِمُ مُمْكِنٌ، وكلُّ مُمْكِنٍ له سببٌ، فيَنْتُجُ: أنَّ العالِمَ له سَبَبٌ، فكلُّ وَاحِدَةٍ من هذه تُسَمَّى مُقَدِّمَةً، وأمَّا عندَ المُتَكَلِّمِينَ: فما يَتَوَقَّفُ عليه حُصُولُ أمرٍ آخرَ، وهو مرادُ المصنِّفِ، وهي أعمُّ مِن الأُولَى، فالمقدِّمَةُ لبيانِ السوابِقِ، والفصولُ المُعَبَّرُ عنها هنا بالكتبِ لبيانِ المقاصِدِ، وهي مأخوذةٌ مِن مُقَدِّمَةِ العَسْكَرِ، وهو أوَّلُ ما يَبْدُو، وفيها لغتانِ: فتحُ الدالِ، باعتبارِ المفعوليَّةِ، بمعنى قُدِّمَتْ على المقصودِ إعانةً على فَهْمِهِ، وكَسْرُها، باعتبارِ الفاعليَّةِ، بمعنى مُتَقَدِّمَةٍ، من قولِه تعالَى: {لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِهِ}. قيلَ: والكسرُ أشهرُ. وكأنَّهم لَحَظُوا أنَّه لَمَّا وَجَبَ تَقَدُّمُها بالذاتِ؛ لابتناءِ ما بعدَها عليه، رَجَحَ تقديرُ الفاعليَّةِ فيها؛ للإشعارِ بأنَّها تَقَدَّمَتْ بنفسِها، بخلافِ الفتحِ.
ص: (أُصُولُ الفِقْهِ: دلائلُ الفِقْهِ الإجماليَّةُ، وقيلَ: مَعْرِفَتُها).
ش: الدلائلُ جِنْسٌ،
ص:
(প্রারম্ভিক আলোচনা প্রসঙ্গে).
শ: ‘মুকাদ্দিমাত’ হলো ‘মুকাদ্দিমাহ’ শব্দের বহুবচন। এটি দার্শনিকদের পরিভাষায় হলো: এমন একটি প্রস্তাবনা যা প্রমাণের অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়; যেমন আমাদের কথা: জগৎ সম্ভাব্য, এবং প্রত্যেক সম্ভাব্য বিষয়ের একটি কারণ থাকে, ফলে এই সিদ্ধান্ত আসে যে: জগতের একটি কারণ আছে। সুতরাং এগুলোর প্রত্যেকটিকেই একেকটি ‘মুকাদ্দিমাহ’ বা ভূমিকা বলা হয়। তবে কালাম শাস্ত্রবিদদের মতে এটি হলো: যার ওপর অন্য কোনো বিষয় অর্জিত হওয়া নির্ভর করে। গ্রন্থকারের উদ্দেশ্যও এটিই এবং এই সংজ্ঞাটি প্রথমটির তুলনায় অধিক ব্যাপক। সুতরাং ‘মুকাদ্দিমাহ’ বা ভূমিকা হলো পূর্ববর্তী বিষয়াবলি বর্ণনার জন্য, আর পরিচ্ছেদসমূহ—যাকে এখানে ‘কিতাব’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে—তা হলো মূল উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনার জন্য। এটি সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দল থেকে গৃহীত হয়েছে, যা সবার আগে প্রকাশ পায়। শব্দটিতে দুভাবে পাঠরীতি রয়েছে: ‘দাল’ বর্ণে জবর সহকারে কর্মবাচ্যের অর্থে, যার অর্থ হলো—যাকে মূল বিষয়ের আগে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তা বুঝতে সাহায্য করে। আর ‘দাল’ বর্ণে যের সহকারে কর্তৃবাচ্যের অর্থে, অর্থাৎ অগ্রবর্তী হওয়া; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না।” বলা হয়ে থাকে যে, যের দিয়ে পড়াই অধিক প্রসিদ্ধ। সম্ভবত তারা লক্ষ্য করেছেন যে, যেহেতু এর অগ্রগামিতা সত্ত্বগতভাবে আবশ্যক—কারণ এর পরবর্তী বিষয়সমূহ এরই ওপর গড়ে ওঠে—তাই এতে কর্তৃবাচ্যের সম্ভাবনাটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; যাতে এটি নির্দেশ করা যায় যে এটি নিজ থেকেই অগ্রবর্তী হয়েছে, যা জবর দিয়ে পড়ার বিপরীত।
ص: (উসুলুল ফিকহ হলো: ফিকহের সামগ্রিক প্রমাণাদি; আর কেউ কেউ বলেছেন: সেই প্রমাণাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা)।
শ: ‘প্রমাণাদি’ শব্দটি একটি সাধারণ শ্রেণী,
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
والإجماليَّةُ فَصْلٌ أَخْرَجَ به الأدِلَّةَ التفصيليَّةَ بحَسَبِ مسألةٍ مسألةٍ، وهو الفِقْهُ،
এবং ‘সামষ্টিক’ শব্দটি একটি ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে প্রতিটি মাসআলা অনুযায়ী বিস্তারিত দলিলসমূহকে বর্জন করা হয়েছে; আর সেটি হলো ফিকহ,
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১২০)
ومعنى الإجماليَّةِ كما قالَ أبو الحُسينِ في المُعْتَمَدِ: إِنَّها غيرُ مُعَيَّنَةٍ، ألَا تَرَى أنَّا إذا تَكَلَّمْنَا في أنَّ الأمرَ للوجوبِ، لم نُشِرْ إلى أَمْرٍ مُعَيَّنٍ، وكذلك النهيُ والإجماعُ والقياسُ، وليسَ كذلك أَدِلَّةُ الفِقْهِ؛ لأنَّها مُعَيَّنَةٌ، نحوُ قولِهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ)). قالَ: ولهذا كانَ قولُ مَن قالَ: أصولُ الفقهِ كلامٌ في أَدِلَّةِ الفقهِ - يَلْزَمُ عليه أنْ يكونَ كلامُ الفقهاءِ في أدلَّةِ الفقهِ المعيَّنَةِ كلاماً في أصولِ الفِقْهِ؛ فلهذا قَيَّدْنَا الأدِلَّةَ الإجماليَّةَ. انْتَهَى.
وهذا هو المُخْتَارُ في تَعْرِيفِهِ، أعنِي أنَّ الأصولَ نَفْسُ
আর সামগ্রিকতার অর্থ হলো—যেমনটি আবুল হুসাইন ‘আল-মুতামাদ’ গ্রন্থে বলেছেন: তা অনির্দিষ্ট; আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আমরা আলোচনা করি যে ‘আদেশ’ ওয়াজিব হওয়ার বিধান দেয়, তখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট আদেশের প্রতি ইঙ্গিত করি না? এবং অনুরূপভাবে নিষেধ, ইজমা ও কিয়াসের ক্ষেত্রেও একই কথা। কিন্তু ফিকহের দলীলসমূহ এমন নয়; কেননা সেগুলো নির্দিষ্ট, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’। তিনি বলেন: এ কারণেই যারা বলেন—‘উসুলুল ফিকহ হলো ফিকহের দলীলসমূহ সংক্রান্ত আলোচনা’—তাদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, নির্দিষ্ট ফিকহি দলীলসমূহ নিয়ে ফকিহদের আলোচনাও যেন উসুলুল ফিকহের আলোচনা হিসেবে গণ্য হয়; তাই আমরা একে ‘সামগ্রিক দলীল’ দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছি। সমাপ্ত।
আর এটিই এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মনোনীত মত, অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি যে উসুল নিজেই
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الأدِلَّةِ، لا مَعْرِفَتُها؛ لأنَّ الأدِلَّةَ إذا لم تُعْلَمْ لا تَخْرُجُ عن كَوْنِها أُصُولاً، وهو الذي ذَكَرَه الحُذَّاقُ؛ كالقاضي أبي بكرٍ، وإمامِ الحَرَمَيْنِ، والرَّازِيِّ والآمِدِيِّ
দলিলসমূহ, সেগুলোর জ্ঞান নয়; কারণ দলিলসমূহ যদি অজ্ঞাতও থাকে, তবুও সেগুলো ‘উসুল’ (মূলনীতি) হওয়া থেকে বিচ্যুত হয় না। আর এটিই বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন; যেমন কাযী আবু বকর, ইমামুল হারামাইন, আর-রাযী এবং আল-আমিদী।
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১২২)
وغيرِهم، واختارَهُ الشيخُ تَقِيُّ الدينِ بنُ دَقِيقِ العِيدِ.
وقيلَ: بل أصولُ الفقهِ مَعْرِفَةُ الأدِلَّةِ. وعليه جَرَى في (المِنْهَاجِ).
وكذا ابنُ الحاجِبِ، إلَاّ أنَّه عَبَّرَ بالعلمِ بها، ووَجَّهَهُ بعضُهم بأنَّ العِلْمَ
এবং অন্যান্যরা; আর শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ এটিই পছন্দ করেছেন।
এবং বলা হয়েছে: বরং উসূলুল ফিকহ হলো দলীলসমূহের পরিচিতি। আর 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে এর ওপরই ভিত্তি করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে ইবনে হাজিবও (একই মত গ্রহণ করেছেন), তবে তিনি তা সেগুলোর 'জ্ঞান' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ একে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, নিশ্চয়ই জ্ঞান
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
بالأدِلَّةِ مُوصِلٌ إلى المَدْلُولِ، والأدِلَّةُ لا تُوصِلُ إلى المدلولِ إلا بواسطةِ العِلْمِ بها.
والحاصلُ: أنَّ الأدِلَّةَ لها حقائِقُ في أَنْفُسِها من حيثُ دَلَالَتُها، ومِن حيثُ تَعَلُّقُ العِلْمِ بها، فهل موضوعُ أصولِ الفقهِ تلكَ الحقائقُ أو العِلْمُ بها؟ والمختارُ الأوَّلُ؛ لأنَّ أهلَ العُرْفِ لا يُسَمُّونَ العلومَ أُصُولاً، ويقولُ: هذا كتابُ أُصُولٍ، ولأنَّ الأصولَ لُغَةً: الأدِلَّةُ، فجَعْلُه اصطلاحاً نفسَ الأدِلَّةِ أقربُ إلى المدلولِ اللُّغَوِيِّ، ومِن هنا جَعَلَ المصنِّفُ وغيرُه الفِقْهَ: العلمَ بالأحكامِ، لا نَفْسَها؛ لأنَّه أقربُ إلى الاستعمالِ اللُّغَوِيِّ؛ إذ الفِقْهُ لغةً: الفَهْمُ، وليسَ كذلك الأصولُ، وبهذا يَنْفَصِلُ عن سؤالِ جَعْلِ الأصولِ الأدِلَّةَ، والفِقْهِ العِلْمَ بالأحكامِ.
هذا تقريرُ كلامِ المصنِّفِ، وفيه كَلِمَاتٌ:
الأُولَى: أَنَّه إنَّما يُحَدُّ اللَّقَبِيُّ، لا الإضافيُّ؛ بدليلِ أنَّه لم يُعَرِّفِ الأصولَ بمفردِهِ، وحينَئذٍ فكيفَ يَصِحُّ جَعْلُه نفسَ الأدِلَّةِ؟! فإنَّ اللَّقَبِيَّ هو ما نُقِلَ عن الإضافةِ وجُعِلَ عَلَماً على الفَنِّ، أو صارَ عَلَماً بالغَلَبَةِ، لا نَقْلَ فيه.
وكيفَ يَصِحُّ أنْ يَحْكِيَ فيه قَوْلاً: إنَّه معرفةُ الأدِلَّةِ، وليسَ ذلك خِلافاً مُتَوَارِداً على مَحَلٍّ واحدٍ، بل هما طريقانِ لمقصوديْنِ مُتَغَايِرَيْنِ، فمَن قَصَدَ الإضافِيَّ فَسَّرَهُ بالأدِلَّةِ، ومَن قَصَدَ اللَّقَبِيَّ فَسَّرَهُ بالعِلْمِ بها؛ ولهذا لَمَّا جَمَعَ ابنُ الحاجِبِ بينَهما عَرَّفَ اللَّقَبِيَّ بالعِلْمِ، والإضافِيَّ بالأدِلَّةِ، ومَن أَوْرَدَ عليه أنَّ أصولَ الفقهِ نفسُ تلكَ القواعدِ، لا العِلْمُ بها؛ لِثُبُوتِها في نفسِ الأمرِ، عَلِمَ بها أم لا - فقد غَفَلَ عن هذا المعنَى، ولم يَقَعْ على مُرَادِهِ؛ فإنَّه قبلَ العِلْمِيَّةِ بمعنى الأدِلَّةِ، وأمَّا بعدَه فصارَ معنى
দলিলের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত করা হয় (মাদলুল) সে পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, আর দলিলসমূহ সেই মাদলুল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না তবে সেগুলোর ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমেই কেবল তা সম্ভব।
সারকথা হলো: দলিলসমূহের নিজস্ব কিছু বাস্তবতা রয়েছে তাদের দালালাত বা নির্দেশনার দিক থেকে এবং তাদের সাথে ইলম বা জ্ঞানের সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে। সুতরাং উসুলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয় কি সেই বাস্তবতাগুলো নাকি সেগুলোর ইলম বা জ্ঞান? এ ক্ষেত্রে প্রথম মতটিই পছন্দনীয়; কারণ বিদগ্ধ সমাজ জ্ঞানসমূহকে 'উসুল' নামে অভিহিত করেন না, বরং তারা বলেন: 'এটি উসুলের কিতাব'। আর যেহেতু আভিধানিক অর্থে 'উসুল' মানে হলো 'দলিলসমূহ', তাই পারিভাষিকভাবে একে খোদ দলিল হিসেবে গণ্য করা আভিধানিক অর্থের অধিক নিকটবর্তী। এখান থেকেই গ্রন্থকার ও অন্যান্যরা ফিকহকে আহকাম বা বিধানের ইলম হিসেবে গণ্য করেছেন, খোদ আহকাম হিসেবে নয়; কারণ এটি আভিধানিক ব্যবহারের অধিক নিকটবর্তী। কেননা আভিধানিক অর্থে ফিকহ মানে হলো 'উপলব্ধি করা', কিন্তু উসুলের বিষয়টি তেমন নয়। এর মাধ্যমেই উসুলকে দলিল এবং ফিকহকে বিধানের ইলম হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রশ্নটি নিরসন হয়।
এটি গ্রন্থকারের বক্তব্যের বিবরণ, এবং এতে কয়েকটি কথা রয়েছে:
প্রথমত: কেবল লাকাবি (পারিভাষিক নাম) সংজ্ঞা প্রদান করা হয়, ইজাফি (সমাসবদ্ধ নাম) নয়; এর প্রমাণ হলো তিনি 'উসুল' শব্দটিকে এককভাবে সংজ্ঞায়িত করেননি। এমন অবস্থায় একে খোদ দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করা কীভাবে সঠিক হতে পারে?! কেননা লাকাবি বা পারিভাষিক নাম হলো সেটিই যা ইজাফি বা সম্বন্ধযুক্ত রূপ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে কোনো বিষয়ের ওপর নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, অথবা যা অধিক ব্যবহারের কারণে নাম হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছে, যেখানে কোনো রূপান্তর ঘটেনি।
এবং কীভাবে সেখানে এমন একটি উক্তি বর্ণনা করা সঠিক হতে পারে যে: 'তা হলো দলিলসমূহের পরিচয়'? অথচ এটি একই বিষয়ের ওপর আসা কোনো বিরোধ নয়, বরং এগুলো ভিন্ন দুটি উদ্দেশ্যের জন্য দুটি ভিন্ন পথ। সুতরাং যিনি ইজাফি বা সম্বন্ধযুক্ত অর্থের ইচ্ছা পোষণ করেন, তিনি এর ব্যাখ্যা করেন দলিল হিসেবে; আর যিনি লাকাবি বা পারিভাষিক নামের ইচ্ছা পোষণ করেন, তিনি এর ব্যাখ্যা করেন দলিলসমূহের ইলম বা জ্ঞান হিসেবে। এই কারণেই ইবনুল হাজিব যখন এই দুইটিকে একত্রিত করেছেন, তখন তিনি লাকাবি বা পারিভাষিক নামের সংজ্ঞা দিয়েছেন 'ইলম' দ্বারা এবং ইজাফি বা সম্বন্ধযুক্ত নামের সংজ্ঞা দিয়েছেন 'দলিলসমূহ' দ্বারা। আর যিনি তার ওপর এই আপত্তি তোলেন যে, উসুলুল ফিকহ হলো খোদ সেই সব নীতিমালার নাম, সেগুলোর ইলম বা জ্ঞান নয়—কেননা বাস্তবতায় সেগুলো সাব্যস্ত থাকে, কেউ তা জানুক বা না জানুক—তিনি মূলত এই গূঢ় অর্থ সম্পর্কে গাফেল ছিলেন এবং তার উদ্দেশ্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ পারিভাষিক রূপ পরিগ্রহ করার পূর্বে এটি ছিল 'দলিলসমূহ' অর্থে, কিন্তু এরপর এর অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তাশনীফুল মাসামি বিজাময়িল জাওয়ামি
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
أصولِ الفقهِ عِلْمَ أُصُولِهِ، كما يُقالُ: سورةُ البقرةِ، ثمَّ يقالُ: البقرةُ؛ باعتبارِ النقلِ إلى عِلْمِ السورةِ.
وإمامُ الحَرَمَيْنِ لَمَّا عَرَّفَه في (البُرْهَانِ) بالأدلَّةِ قالَ شَارِحُه الإبياريُّ: أرادَ الإضافِيَّ. نَعَم المصنِّفُ تابَعَ والدَه الشيخَ الإمامَ، فإنَّه اقْتَنَصَ ذلك مِن تَخَالُفِ عبارةِ (المِنْهَاجِ) (والمحصولِ)، معَ أنَّ كُلاًّ مِنهما حَدَّ اللَّقَبِيِّ، فالبَيْضَاوِيُّ جَعَلَه العِلْمَ بالأدلَّةِ والكَيْفِيَّتَيْنِ، والإمامُ جَعَلَه عبارةً عن
উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহের জ্ঞান, যেমনটি বলা হয়: সূরা আল-বাকারাহ, অতঃপর কেবল ‘আল-বাকারাহ’ বলা হয়; সূরার সংজ্ঞায় স্থানান্তরের বিবেচনায়।
আর ইমামুল হারামাইন যখন ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থে একে দলীলসমূহের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তখন এর ব্যাখ্যাকার আল-ইবিয়ারি বলেছেন: তিনি সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফি) অর্থটি উদ্দেশ্য করেছেন। হ্যাঁ, গ্রন্থকার তাঁর পিতা শায়খ ইমামকে অনুসরণ করেছেন; কেননা তিনি এটি ‘আল-মিনহাজ’ ও ‘আল-মাহসুল’-এর বক্তব্যের ভিন্নতা থেকে আহরণ করেছেন, যদিও তাদের উভয়টিই পারিভাষিক (লাকাবি) সংজ্ঞা ছিল। ফলে বায়যাভী একে দলীলসমূহ ও পদ্ধতিদ্বয় সংক্রান্ত জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন, আর ইমাম একে ব্যক্ত করেছেন যে...