(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية بترتيب أحداث السيرة النبوية   (أبو أسماء محمد بن طه)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية بترتيب أحداث السيرة النبوية

المؤلف: أبو أسماء محمد بن طه

تقديم: وحيد عبد السلام بالي، عبد الباري محمد الطاهر

الناشر: دار ابن حزم (القاهرة)، دار سبل السلام (الفيوم)

الطبعة: الثانية، 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 666

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1435

আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ বি-তারতিবি আহদাসিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ   (আবু আসমা মুহাম্মাদ বিন তাহা)

বিভাগ: সিরাতুন নবী


বই: আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ বি-তারতিবি আহদাসিস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ

লেখক: আবু আসমা মুহাম্মাদ বিন তাহা

উপস্থাপনা: ওয়াহিদ আব্দুস সালাম বালি, আব্দুল বারি মুহাম্মাদ আত-তাহির

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম (কায়রো), দার সুবুলুস সালাম (ফায়ুম)

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الأغصان الندية

شرح الخلاصة البهية بترتيب أحداث السيرة النبوية

تأليف

أبي أسماء محمد بن طه

تقديم فضيلة الشيخ وحيد عبد السلام بالي حفظه الله

فضيلة الشيخ الدكتور عبد الباري محمد الطاهر

أستاذ التاريخ والحضارة الإسلامية بكليه دار العلوم جامعة الفيوم

دار سبل السلام

الفيوم

دار ابن حزم

القاهرة
প্রস্ফুটিত শাখা-প্রশাখা

সীরাতুন নববীর ঘটনাবলির বিন্যাসে আল-খুলাসাতুল বাহিয়্যাহর ব্যাখ্যা

রচনায়

আবু আসমা মুহাম্মাদ বিন তাহা

উপস্থাপনায়: ফযীলাতুশ শায়খ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম বালী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)

ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর আব্দুল বারী মুহাম্মাদ আত-তাহির

অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগ, দারুল উলূম অনুষদ, ফাইয়ুম বিশ্ববিদ্যালয়

দারু সুবুলিস সালাম

ফাইয়ুম

দারু ইবনে হাযম

কায়রো
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
دار ابن حزم

للطباعة والنشر والتوزيع

القاهرة

 

الطبعة الثانية

رقم الايداع: 21184/ 2010

1433 هـ / 2012 م

دار سبل السلام

الفيوم
দার ইবনে হাজম

মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য

কায়রো

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

নথিভুক্তি নম্বর: ২১১৮৪/ ২০১০

১৪৩৩ হিজরি / ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

দার সুবুলুস সালাম

ফাইয়ুম
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة فضيلة الشيح وحيد عبد السلام بالي

الحمد لله رب العالمين وأصلي وأسلم على عبد الله ورسوله محمَّد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد:

فإن المسلم يحب رسول الله ويحاول أن يعرف كل شيء عن حياته صلى الله عليه وسلم، ولن يتسنى له ذلك إلا بدراسة سنته والتعرف على سيرته صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌أهمية متن "الخلاصة البهية":

والذي دفعني لكتابة متن "الخلاصة البهية" في ترتيب أحداث السيرة النبوية أن بعض إخواننا من طلبة العلم قد يدرس تفصيلات السيرة ولا يضبط تاريخ الحوادث كالغزوات والسرايا ونحو ذلك، فأردت أن أضع لهم مختصرًا يعينهم على التصور الكلي لمواقف وأحداث السيرة قبل الدخول في تفصيلاتها؛ وليقوم الأشبال والمبتدئون جفظها في بداية الطلب؛ لتثبت أحداثها في أذهانهم.

 

‌‌وتكمن أهمية حفظ هذا المتن في أمور منها:

1 - معرفة تاريخ التشريع.

2 - ضبط تواريخ الغزوات.

3 - ضبط تواريخ السرايا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌শ্রদ্ধেয় শাইখ ওয়াহিদ ইবনে আব্দুস সালাম বালী হাফিজাহুল্লাহ-এর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করছি। অতপর:

নিশ্চয়ই একজন মুসলিম আল্লাহর রাসূলকে ভালোবাসেন এবং তাঁর জীবনের প্রতিটি বিষয় জানার চেষ্টা করেন। আর এটি তাঁর সুন্নাহ অধ্যয়ন এবং তাঁর সীরাত (জীবনচরিত) সম্পর্কে অবগত হওয়া ব্যতীত তাঁর জন্য সম্ভব নয়।

 

‌‌"আল-খুলাসাহ আল-বাহিয়্যাহ" মতনের গুরুত্ব:

সীরাতুন নববীর ঘটনাক্রম অনুযায়ী "আল-খুলাসাহ আল-বাহিয়্যাহ" মতনটি লেখার পেছনে আমার অনুপ্রেরণা ছিল এই যে, ইলম অন্বেষী আমাদের কোনো কোনো ভাই সীরাতের বিস্তারিত বিষয়াবলি পড়লেও যুদ্ধ-বিগ্রহ (গাযওয়াহ) ও ছোট ছোট অভিযান (সারিয়্যাহ) এবং এ জাতীয় ঘটনাবলির তারিখ সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করতে পারেন না। তাই আমি তাদের জন্য এমন একটি সংক্ষিপ্তসার রচনা করতে চেয়েছি যা বিস্তারিত পর্যালোচনার পূর্বে সীরাতের ঘটনাবলি ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পেতে সহায়ক হবে; এবং যাতে ছোটরা ও নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবনের শুরুতেই এটি মুখস্থ করে নিতে পারে, ফলে এর ঘটনাবলি তাদের স্মৃতিতে দৃঢ়ভাবে গেঁথে থাকবে।

 

‌‌এই মতনটি মুখস্থ করার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে নিহিত:

১ - শরয়ি বিধান প্রবর্তনের ইতিহাস জানা।

২ - বড় যুদ্ধ-অভিযানগুলোর (গাযওয়াহ) তারিখ সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করা।

৩ - ছোট ছোট অভিযানগুলোর (সারিয়্যাহ) তারিখ সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
4 - ضبط تواريخ الوفود.

5 - معرفة كُتَّاب النبي صلى الله عليه وسلم وماذا كتبوا.

6 - معرفة أمراؤه صلى الله عليه وسلم والبلاد التي أَمَّرهم عليها.

7 - معرفة رسله إلى ملوك الأرض والأماكن التي أرسلهم إليها.

8 - معرفة مؤذنيه وأين أَذَّنوا.

9 - معوفة كل زوجة من زوجاته رضي الله عنهن وفي أي شهر تزوجها ومتى توفيت.

10 - معرفة الناسخ والمنسوخ من الأحكام الشرعية التي لا تعرف إلا بالتاريخ.

 

‌‌أهمية شرح "الخلاصة البهية":

ولما كانت الخلاصة متنًا مختصرًا احتاجت إلى شرح يوضح مشكلاتها ويشرح أحداثها، فاستأذنني فضيلة الشيخ / محمَّد بن طه بن شعبان -حفظه الله- في شرحها، فرحبت بالفكرة، فلما نظرت في شرحه "الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية" وجدته شرحًا وافيًا قد عَلَّق على الأحداث تعليقًا جيدًا وذكر من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم ما يناسب المقام، فجزاه الله جزاء المحسنين ورفع درجته في عليين.

وصلى الله على سيدنا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلم

كتبه الفقير إلى عفو ربه

وحيد بن عبد السلام بن بالي

مصر- كفر الشيخ- منشاة عباس

4/ 7/1431 هـ
৪ - প্রতিনিধি দলগুলোর আগমনের তারিখসমূহ নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা।

৫ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখকগণ এবং তাঁরা কী লিখেছিলেন সে সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৬ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিযুক্ত আমীরগণ এবং যে সকল ভূখণ্ডে তিনি তাঁদেরকে আমীর নিযুক্ত করেছিলেন সে সম্পর্কে জানা।

৭ - পৃথিবীর রাজাদের নিকট প্রেরিত তাঁর দূতগণ এবং যে সকল স্থানে তিনি তাঁদেরকে প্রেরণ করেছিলেন সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

৮ - তাঁর মুয়াজ্জিনগণ সম্পর্কে এবং তাঁরা কোথায় আযান দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে জানা।

৯ - তাঁর প্রত্যেক স্ত্রী (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) সম্পর্কে এবং কোন মাসে তিনি তাঁকে বিবাহ করেছিলেন ও কখন তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন সে সম্পর্কে জানা।

১০ - শরীয়তের বিধানসমূহের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জানা, যা ইতিহাস ব্যতীত অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

 

‌‌'আল-খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ' এর ব্যাখ্যার গুরুত্ব:

যেহেতু 'আল-খুলাসাহ' একটি সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ (মতন), তাই এটি এমন এক ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী ছিল যা এর জটিল বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করবে এবং এর ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করবে। অতঃপর সম্মানিত শাইখ মুহাম্মদ বিন ত্বহা বিন শাবান (হাফিযাহুল্লাহ) এটি ব্যাখ্যা করার জন্য আমার অনুমতি চাইলেন। আমি এই প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানালাম। যখন আমি তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ' দেখলাম, তখন আমি একে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা হিসেবে পেলাম। তিনি ঘটনাবলির ওপর চমৎকার টীকা প্রদান করেছেন এবং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে সৎকর্মশীলদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং ইল্লিয়্যিনে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বিন বালী

মিশর—কাফরুশ শাইখ—মানশাত আব্বাস

৪/৭/১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة فضيلة الأستاذ الدكتور عبد الباري محمد الطاهر

الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، والصلاة والسلام على معلم الناس الخير محمَّد بن عبد الله المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه وسلم ثم أما بعد:

فقد اطلعت على هذا المؤلَّف المعنون "الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية" للأخ محمَّد بن طه، حيث قام بالنظر المتأمل الواعي لمتن "الخلاصة البهية في ترتيب أحداث السيرة النبوية" للشيخ / وحيد بن عبد السلام بالي.

فوجدت الكتاب وافر العلم، دقيق العبارات، صائب الرؤى، مرتب الأفكار، شامل أغلب أحداث السيرة.

ومعلوم أن سيرة الرسول محمَّد صلى الله عليه وسلم مَعِينٌ لا ينضب، وخير لا ينفد، وعطاء متواصل، وأن كل قلم يتعطر بالحديث عن سيرة الحبيب محمَّد صلى الله عليه وسلم يزداد بهاء ونورًا وتشريفًا، وأن كل طالب علم يجتهد في السيرة النبوية؛ اطلاعًا، أو التزامًا، يوفَّق إلى الخير، ويقذف الله تعالى في قلبه حبه وحب رسوله صلى الله عليه وسلم قَالَ تعالى {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران: 31].

وما من شك أن الشيخ/ محمد طه قد بذل جهدًا مباركًا، أسأل الله تعالى أن يجزيه عليه خيرًا ويجزل له بهذا الجهد العطاء الوافر، والخير الزاخر.

وإن طالب علم بدايته في البحث والتأليف مع سيرة الحبيب- صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم -، لخليق أن يرقى في مدارج السالكين للحق، والقاصدين الطريق المستقيم، والقائمين بأمر الله على العبادة ببصيرة وفهم.
বিশিষ্ট উস্তাদ ডক্টর আবদুল বারি মুহাম্মাদ আত-ত্বাহিরের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে কল্যাণকর কাজসমূহ পূর্ণতা পায়। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদাতা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর প্রতি, যাঁকে জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি। অতঃপর:

আমি ভাই মুহাম্মাদ ইবনে ত্বহা বিরচিত "আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ" শিরোনামের এই গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেছি। এতে তিনি শাইখ ওয়াহিদ বিন আবদুস সালাম বালি-র "আল-খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ ফি তারতিবি আহদাসিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ" মূল পাঠটির ওপর গভীর ও সচেতন দৃষ্টিপাত করেছেন।

আমি বইটিকে ইলমে ভরপুর, সুক্ষ্ম অভিব্যক্তিসম্পন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি সংবলিত, সুশৃঙ্খল চিন্তাধারা বিশিষ্ট এবং সীরাতের অধিকাংশ ঘটনার অন্তর্ভুক্তকারী হিসেবে পেয়েছি।

এটি সুবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত হলো একটি অফুরন্ত প্রস্রবণ, এক নিঃশেষহীন কল্যাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন দান। যে কলমই প্রিয়তম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত আলোচনার মাধ্যমে সুবাসিত হয়, তা আরও সৌন্দর্য, নূর ও সম্মান লাভ করে। যে ইলম অন্বেষণকারীই সীরাতুন্নবীর ক্ষেত্রে অধ্যয়ন বা অনুসরণের মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায়, সে কল্যাণের তাওফীক পায় এবং মহান আল্লাহ তার অন্তরে নিজের ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বত ঢেলে দেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন} [আল ইমরান: ৩১]।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শাইখ মুহাম্মাদ ত্বহা এক বরকতময় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে এর উত্তম প্রতিদান দেন এবং এই প্রচেষ্টার বিনিময়ে তাকে প্রচুর দান ও অফুরন্ত কল্যাণ দান করেন।

আর যে ইলম অন্বেষণকারীর গবেষণা ও রচনার সূচনা হয় প্রিয়তমের - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম - সীরাতের মাধ্যমে, সে নিশ্চয়ই সত্যের পথে বিচরণকারীদের স্তরে, সরল পথের অভিযাত্রীদের কাতারে এবং অন্তর্দৃষ্টি ও বুঝের সাথে আল্লাহর নির্দেশে ইবাদতে নিমগ্নদের মাঝে উন্নীত হওয়ার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأسأل الله تعالى أن يبارك كل الجهود، ويحفظ كل الأقلام التي تحمي عرين الإِسلام، وتدافع عن خاتم الأنبياء والمرسلين، وتتخذه قدوة ومثالاً، قَالَ تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21].

 

كتبه

أ. د/ عبد الباري محمَّد الطاهر

أستاذ التاريخ والحضارة الإِسلامية

كلية دار العلوم- جامعة الفيوم

5/ 11/1431هـ
আর আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন সকল প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন এবং সেই সকল কলমকে হিফাজত করেন যা ইসলামের দুর্গকে রক্ষা করে, এবং শেষ নবী ও রাসূলের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করে এবং তাঁকে আদর্শ ও অনুকরণীয় হিসেবে গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে এক উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে (২১)} [আল-আহযাব: ২১]।

 

লিখেছেন

প্রফেসর ড. আব্দুল বারী মুহাম্মদ আত-তহির

ইসলামের ইতিহাস ও সভ্যতার অধ্যাপক

কুল্লিয়াতু দারুল উলুম—ফায়্যুম বিশ্ববিদ্যালয়

৫/১১/১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المؤلف

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

اللهم صل على محمَّد وعلى آل محمَّد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم بارك على محمَّد وعلى آل محمَّد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

في ظل هذه الغربة التي نعيشها، وفي ظل حالة الضعف هذه التي سيطرت على المسلمين، والتي تكالب فيها أعداء الإِسلام على الإِسلام والمسلمين كما تكالب الأكلة على قصعتها، وأصبح الإِسلام يُضرب من كل مكان حتى ممن هم من بني جلدتنا ويتكلمون بكلامنا ممن اختلطوا بالغرب وأشربوا منهم، فأصبحوا سهامًا مُصوَّبة للطعن في دين الله عز وجل ومن يحملونه، وأصبح
লেখকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল। (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]।

অতপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

আমরা বর্তমানে যে বিজাতীয় পরিবেশ ও অপরিচিত অবস্থার (গুরবাহ) মধ্যে বাস করছি এবং মুসলিমদের ওপর যে দুর্বলতা জেঁকে বসেছে, যার ফলে ইসলামের শত্রুরা ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর এমনভাবে হামলে পড়েছে যেমন ক্ষুধার্তরা তাদের খাবারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইসলাম আজ সবদিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি আমাদের স্বজাতীয় এবং আমাদের ভাষায় কথা বলে এমন লোকদের পক্ষ থেকেও যারা পশ্চিমাদের সাথে মিশে তাদের চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে তারা মহান আল্লাহর দ্বীন এবং যারা এই দ্বীনকে ধারণ করে আছে তাদের বিদ্ধ করার জন্য উদ্যত তিরে পরিণত হয়েছে। আর অবস্থা এমন হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الرويبضة يتكلم في أمر العامة، وما ذلك إلا لأنهم قُدّموا في الوقت الذي أخّر فيه العلماء العاملون الربانيون، فلا يُسمع منهم ولا يُؤئبه لهم.

ثم إنه لا سبيل للخروج مما نحن فيه إلا باتباع الأوائل، فإنه لن يصلح آخر هذه الأمة إلى ما أصلح أولها.

ولن يتأتى ذلك الاتباع إلا بالعلم والتعلم، وبذل الغالي والنفيس في سبيل ذلك.

واعلم أخي- حفظك الله- أن النبي صلى الله عليه وسلم أخبرنا أن الله عز وجل لن ينزع العلم انتزاعًا ينتزعه من صدور العلماء، إنما ينتزعه- في آخر الزمان- بقبض العلماء، حتى إذا لم يجد الناس عالمًا اتخذوا رءوسًا جهالًا فسؤلوا، فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا وهذا ما نراه الآن يحدث بين أيدينا، فإن العالم من علمائنا يموت ولا نرى من يسد فراغه، إلا بقايا من أهل العلم تركهم الله عز وجل لنا نستنير بنورهم ونهتدي بهداهم، وهؤلاء وإن كانوا قلة، إلا أن بركتهم غزيرة والحمد لله.

فعليك- أخي الكريم- أن تبادر وتسارع في طلب العلم وأخذه عن العلماء، ولا تكْسل.

ولما كان طالب العلم في حاجة إلى دراسة سيرة الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم دراسة منهجية دقيقة؛ كي يتأسى به صلى الله عليه وسلم، ويستمد من خلقه وأدبه صلى الله عليه وسلم ورحمته بالعباد، وحلمه حتى مع غير المسلم.

أقول: لما كنا في حاجة إلى ذلك كله، قام فضيلة الشيخ/ وحيد بن عبد السلام بالي -حفظه الله- بوضع متن مختصر في سيرة الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم، يعين طالب العلم على دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم دراسة تفصيلية دقيقة، بحيث إنه إذا قام بحفظ المتن حفظًا جيدًا متينًا، ثم قام بعد ذلك بدراسة شرحه دراسة متأنية دقيقة، فإنه يكون حينها قد ألمَّ بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم إلمامًا واسعًا،
তুচ্ছ মূর্খ ব্যক্তিরা জনসাধারণের বিষয়াবলী নিয়ে কথা বলছে, আর এটি কেবল এজন্যই হচ্ছে কারণ তাদেরকে এমন সময়ে সামনে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে যখন আমলকারী রব্বানী আলেমদের পেছনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের কথা শোনা হয় না এবং তাদের প্রতি গুরুত্বও দেওয়া হয় না।

অতঃপর আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পূর্বসূরিদের অনুসরণ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কেননা, এই উম্মতের শেষভাগের সংশোধন হবে না কেবল তা দিয়েই যা দিয়ে এর প্রথমভাগের সংশোধন হয়েছিল।

আর সেই অনুসরণ কেবল জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব এবং এই পথে মূল্যবান সব কিছু উৎসর্গ করার মাধ্যমে।

হে আমার ভাই—আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন—জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা আলেমদের অন্তর থেকে সরাসরি জ্ঞান কেড়ে নিয়ে তা উঠিয়ে নেবেন না। বরং শেষ যামানায় তিনি আলেমদের মৃত্যু দান করার মাধ্যমে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন মানুষ কোনো আলেম খুঁজে পাবে না, তখন তারা মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদেরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। আর এটাই আমরা বর্তমানে আমাদের চোখের সামনে ঘটতে দেখছি। আমাদের আলেমদের মধ্য থেকে কোনো আলেম যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা তাঁর শূন্যস্থান পূরণকারী কাউকে দেখতে পাই না; কেবল ইলমের অধিকারী হাতেগোনা কয়েকজন অবশিষ্ট আছেন যাদেরকে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা আমাদের জন্য রেখেছেন যেন আমরা তাঁদের আলোয় আলোকিত হই এবং তাঁদের হিদায়াত দ্বারা পথ খুঁজে পাই। আর তাঁরা সংখ্যায় কম হলেও আলহামদুলিল্লাহ তাঁদের বরকত অপরিসীম।

অতএব হে প্রিয় ভাই, আপনার কর্তব্য হলো ইলম অন্বেষণে এবং আলেমদের নিকট থেকে তা গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া ও দ্রুত অগ্রসর হওয়া, আর অলসতা না করা।

যেহেতু একজন ইলম অন্বেষীর জন্য প্রিয়তম মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত পদ্ধতিগত ও সূক্ষ্মভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন; যেন সে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে পারে এবং তাঁর চরিত্র, শিষ্টাচার, বান্দাদের প্রতি তাঁর দয়া এবং এমনকি অমুসলিমদের সাথেও তাঁর সহনশীলতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

আমি বলি: যেহেতু আমাদের এ সবকিছুরই প্রয়োজন ছিল, তাই শ্রদ্ধেয় শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—সত্যবাদী ও সত্যায়িত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ (মতন) রচনা করেছেন। এটি একজন শিক্ষার্থীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিস্তারিত ও সূক্ষ্মভাবে অধ্যয়নে সহায়তা করবে, যাতে সে যদি এই মতনটি যথাযথভাবে মুখস্থ করে এবং এরপর এর ব্যাখ্যাটি ধৈর্য ও সূক্ষ্মতার সাথে অধ্যয়ন করে, তবে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وأتقنها إتقانا كبيرًا نافعًا إن شاء الله تعالى.

 

‌‌وها هو أخي الكريم الشرح بين يديك، وإليك طريقتي في تصنيفه:

1 - قمت بشرح الحدث بما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه، بحيث إنني أبحث في كتب السنة؛ فإن وقفت على حديث يشرح الحدث ويفصله اكتفيت به، وذكرته.

2 - فإن لم يكن هذا، نظرت فيما ورد في كتب السيرة المشهورة، واتفق عليه أهل السير أو على الأقل أخذ به جمهورهم.

3 - ثم إن كان الحديث الذي أذكره في "الصحيحين" أو أحدهما اكتفيت بعزوه إليهما، وأما إن لم يكن فيهما أو في أحدهما، اجتهدت في عزوه إلى أغلب المصادر التي خرجته مع الاعتماد على تصحيح أو تحسين علماء الحديث له؛ كالشيخ الألباني، أو الشيخ أحمد شاكر - رحمهما الله تعالى.

فأسأل الله تعالى أن يتقبل مني هذا العمل وأن يجعله في ميزان حسناتي، وفي ميزان حسنات والديَّ وأهلي جميعًا وكل من ساعدني على إخراجه، فهو ولي ذلك والقادر عليه.

وإني -إن شاء الله تعالى- مرحّب بكل ملاحظة ونقد، يصدر عن رويَّة ونظر، وليس عن تعصب وهويً، وراجع عن كل خطإٍ وقعت فيه في حياتي وبعد مماتي.

 

كتبه

أبو أسماء محمد بن طه

4 من ربيع أول عام 1431هـ

الموافق 18 من فبراير عام 2010 م
এবং তিনি এটিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন যা ইনশাআল্লাহ তাআলা অনেক কল্যাণকর হবে।

 

‌‌হে আমার সম্মানিত ভাই, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আপনার সামনে উপস্থিত। আর এটি রচনায় আমার পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো:

১ - আমি কোনো ঘটনাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তার আলোকে ব্যাখ্যা করেছি। আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহে অনুসন্ধান করেছি; যদি আমি এমন কোনো হাদীস পেয়েছি যা ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বর্ণনা করে, তবে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি এবং তা উল্লেখ করেছি।

২ - যদি তা পাওয়া না যায়, তবে আমি প্রসিদ্ধ সীরাত গ্রন্থসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা লক্ষ্য করেছি এবং সীরাত বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন অথবা অন্তত তাদের অধিকাংশ যা গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেছি।

৩ - অতঃপর, আমি যে হাদীসটি উল্লেখ করি তা যদি 'সহীহাইন' অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেটির দিকেই সম্বন্ধ করে ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি তা এই দুটিতে বা এর কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি হাদীস বিশারদদের (যেমন- শাইখ আলবানী বা শাইখ আহমাদ শাকির রহিমাহুমুল্লাহ তাআলা) 'সহীহ' বা 'হাসান' হিসেবে সত্যায়ন করার ওপর নির্ভর করে অধিকাংশ মূল উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজকে কবুল করেন এবং একে আমার নেক আমলের পাল্লায়, আমার পিতা-মাতা, আমার পরিবার এবং এটি প্রকাশে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন তাদের সবার নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান।

আমি -ইনশাআল্লাহ তাআলা- গভীর চিন্তা ও বিবেচনাবোধ থেকে উৎসারিত প্রতিটি পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, যা কোনো গোঁড়ামি বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে করা হয়নি। আমি আমার জীবনে এবং মৃত্যুর পরে আমার প্রতিটি ভুল থেকে প্রত্যাবর্তনকারী।

 

এটি লিখেছেন

আবু আসমা মুহাম্মাদ ইবনে ত্বহা

৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩১ হিজরী

মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مراحل دراسة السيرة

‌‌المرحلة الأولي: مرحلة التأسيس:

يقوم الدارس فيها بحفظ متن مختصر وجامع لأحداث السيرة.

ونرشح في هذه المرحلة كتاب "الخلاصة البهية في ترتيب أحداث السيرة".

 

‌‌المرحلة الثانية: مرحلة التصور:

يقوم فيها بدراسة كتاب يهتم بالسرد التاريخي المسلسل لوقائع السيرة.

ونرشح في هذه المرحلة كتاب "الرحيق المختوم في سيرة النبي المعصوم صلى الله عليه وسلم".

 

‌‌المرحلة الثالثة: مرحلة الدراسة والتحليل:

يقوم فيها بدراسة كتاب يتناول وقائع السيرة بالتحليل والاستنباط ونرشح في هذه المرحلة هذه الكتب بالترتيب:

- "هذا الحبيب يا محب".

- "السيرة النبوية في ضوء المصادر الأصلية".

- "زاد المعاد" لابن القيم.

 

‌‌المرحلة الرابعة: مرحلة التخصص:

يقوم فيها بدراسة كل غزوة أو سرية أو واقعة على حدة بالبحث والدراسة؛ وذلك بجمع المعلومات في الحادثة الواحدة من كل ما تطوله يده من المراجع.
সীরাত অধ্যয়নের স্তরসমূহ

প্রথম স্তর: ভিত্তি স্থাপন স্তর:

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থী সীরাতের ঘটনাবলির উপর একটি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ মূলপাঠ (মাতান) মুখস্থ করবে।

আমরা এই স্তরের জন্য "আল-খুলাসাতুল বাহিয়্যাহ ফী তারতীবি আহদাতিস সীরাহ" (সীরাতের ঘটনাবলির বিন্যাসে উজ্জ্বল সারসংক্ষেপ) বইটি পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

 

দ্বিতীয় স্তর: চিত্রায়ন স্তর:

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থী এমন একটি গ্রন্থ অধ্যয়ন করবে যা সীরাতের ঘটনাবলির ধারাবাহিক ঐতিহাসিক বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।

আমরা এই স্তরের জন্য "আর-রাহীকুল মাখতূম" (নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত বিষয়ে মোহরাঙ্কিত সুধা) বইটি পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

 

তৃতীয় স্তর: পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ স্তর:

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থী এমন গ্রন্থ অধ্যয়ন করবে যা সীরাতের ঘটনাবলিকে বিশ্লেষণ ও বিধান আহরণের মাধ্যমে আলোচনা করে। আমরা এই স্তরের জন্য ক্রমানুসারে এই বইগুলোর পরামর্শ দিচ্ছি:

- "হাযাল হাবীব ইয়া মুহিব্ব" (হে প্রেমিক, এই তো সেই প্রিয়তম)।

- "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী দাউয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ" (মূল উৎসসমূহের আলোকে সীরাতুন নবী)।

- ইবনুল কাইয়্যিমের "যাদুল মাআদ"।

 

চতুর্থ স্তর: বিশেষজ্ঞ স্তর:

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থী প্রতিটি যুদ্ধ, অভিযান বা ঘটনা পৃথকভাবে গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করবে; আর তা হবে কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তার নাগালের মধ্যে থাকা সকল উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌في السيرة مثل:

1 - " مغازي الواقدي".

2 - "السيرة لابن هشام".

3 - "الطبقات الكبرى".

4 - "تاريخ الطبري".

5 - "الكامل في التاريخ".

6 - "البداية والنهاية".

7 - "سبل الهدى والرشاد في سيرة خير العباد".

وغير ذلك من المصادر التي ستجدها في هوامش هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.
সীরাতের ক্ষেত্রে যেমন:

১ - "ওয়াকিদির মাগাজি"।

২ - "ইবনে হিশামের সীরাত"।

৩ - "আত-তাবাকাতুল কুবরা"।

৪ - "তারিখুত তাবারী"।

৫ - "আল-কামিল ফিত তারিখ"।

৬ - "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"।

৭ - "সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সীরাতি খাইরিল ইবাদ"।

এবং এ জাতীয় অন্যান্য উৎসসমূহ যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি এই কিতাবের টীকাগুলোতে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌فضل النية الصالحة

إن السائر إلى الله تعالى يجتهد في ألا يعمل عملًا ولو مباحًا إلى بنية صالحة لكي يثاب عليه، فإن أكل استحضر له نية، وإن نام استحضر لذلك نية وكذلك إن باع أو اشترى، أو جالس إخوانه أو غير ذلك من الأعمال، وأعلى منه درجة من يستحضر للعمل الواحد عدة نوايا، فينال من الأجر والثواب على قدر نياته لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى" (1).

حتى وإن لم يتمكن من تنفيذ بعض هذه النوايا لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ هَمَّ بِحَسنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً" (2).

ومن هذا المنطلق ينبغي أن تستحضر عدة نوايا صالحة لدراسة السيرة النبوية العطرة، وسوف أذكر لك ما يحضرني من النوايا في ذلك، ثم أترك لك المجال لتزيد على ذلك مما يفيضه الله عليك من النوايا الصالحة، فإنني لقلة علمي وتفريطي في جنب الله، تراني مقيد اليد، عييَّ اللسان في هذا الباب، فأسأل الله الكريم أن يطلق جوارحنا في طاعته، وأن يستعملنا في مرضاته.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

(2) متفق عليه.
সৎ নিয়তের ফজিলত

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার পথের পথিক এই চেষ্টা করেন যেন তিনি কোনো কাজই—তা বৈধ বা মুবাহ কাজ হলেও—সৎ নিয়ত ব্যতীত সম্পাদন না করেন, যাতে তিনি এর সওয়াব লাভ করতে পারেন। সুতরাং তিনি যদি আহার করেন তবে তার জন্য নিয়ত উপস্থিত করেন, আর যদি ঘুমান তবে তার জন্য নিয়ত উপস্থিত করেন। অনুরূপভাবে যদি তিনি ক্রয়-বিক্রয় করেন, ভাইদের সাথে বসেন অথবা অন্য কোনো আমল করেন (তবে নিয়ত করেন)। আর তার চেয়েও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি একটি আমলের জন্য একাধিক নিয়ত উপস্থিত করেন। ফলে তিনি তাঁর নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান ও সওয়াব লাভ করেন। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে" (১)।

এমনকি যদি তিনি এই নিয়তগুলোর কোনোটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম নাও হন, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সৎ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না, আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে পূর্ণ একটি নেকি লিখে দেন" (২)।

আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে সুগন্ধিময় সীরাতুত নবী অধ্যয়নের জন্য বেশ কিছু সৎ নিয়ত উপস্থিত করা উচিত। এ বিষয়ে আমার কাছে যে সকল নিয়ত উপস্থিত আছে আমি আপনার কাছে তা উল্লেখ করব, অতঃপর আমি আপনার জন্য সুযোগ রাখব যেন আল্লাহ তাআলা আপনার অন্তরে যে সকল সৎ নিয়ত ঢেলে দেন তা থেকে আপনি আরও বৃদ্ধি করতে পারেন। কারণ আমার স্বল্প জ্ঞান এবং আল্লাহর হকের ব্যাপারে আমার অবহেলার কারণে আপনি এই বিষয়ে আমাকে আবদ্ধ হস্ত এবং জড়তাগ্রস্ত রসনা সম্পন্ন হিসেবে পাবেন। সুতরাং আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহকে তাঁর আনুগত্যের কাজে সচল করে দেন এবং আমাদের তাঁর সন্তুষ্টির কাজে নিয়োজিত করেন।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌النوايا التي ينويها المسلم عند دراسة السيرة

1 - ينوي التقرب إلى الله بدراسة هذا العلم الشرعي.

2 - ينوي معرفة أحوال الرسول صلى الله عليه وسلم ليقتدي به.

3 - ينوي معرفة مواقف الرسول صلى الله عليه وسلم ليزداد له حبًا.

4 - ينوي معرفة معجزات الرسول صلى الله عليه وسلم ليزداد إيمانًا.

5 - ينوي الاطلاع على مواقف النبي صلى الله عليه وسلم في البلاء ليزداد ثباتًا.

6 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم كداعية إلى الله.

7 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في معاملة المسلمين.

8 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم كزوج في بيته.

9 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في عبادة ربه.

10 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في حالة الغنى.

11 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في حالة الفقر.

12 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في حالة الصحة.

13 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في حالة المرض.

14 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الطهارة والصلاة للاقتداء به.

15 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الجمعة والعيدين للاقتداء به.

16 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الكسوف والاستسقاء للاقتداء به.

17 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الجنائز والدفن للاقتداء به.
সীরাত অধ্যয়নের সময় একজন মুসলিমের নিয়তসমূহ

১ - এই শরয়ি ইলম অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা।

২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা ও ঘটনাবলী জানার নিয়ত করা যাতে তাঁর অনুসরণ করা যায়।

৩ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনসংগ্রাম ও অবস্থানসমূহ জানার নিয়ত করা যাতে তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহ জানার নিয়ত করা যাতে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৫ - বিপদ-আপদের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানসমূহ অবগত হওয়ার নিয়ত করা যাতে নিজের অবিচলতা বৃদ্ধি পায়।

৬ - আল্লাহর পথে দাঈ হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

৭ - মুসলিমদের সাথে আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

৮ - নিজ পরিবারে স্বামী হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

৯ - নিজ প্রতিপালকের ইবাদতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

১০ - সচ্ছল অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

১১ - অভাব বা দারিদ্র্য অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

১২ - সুস্থ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

১৩ - অসুস্থ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের নিয়ত করা।

১৪ - পবিত্রতা ও সালাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ জানার এবং তাঁর অনুসরণের নিয়ত করা।

১৫ - জুমুআ ও দুই ঈদের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ জানার এবং তাঁর অনুসরণের নিয়ত করা।

১৬ - সূর্যগ্রহণ ও বৃষ্টি প্রার্থনার সালাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ জানার এবং তাঁর অনুসরণের নিয়ত করা।

১৭ - জানাজা ও দাফনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ জানার এবং তাঁর অনুসরণের নিয়ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
18 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء وصلاة الخوف للاقتداء به.

19 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الصيام والزكاة للاقتداء به.

20 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الحج والعمرة للاقتداء به.

21 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الهدايا والأضاحي للاقتداء به.

22 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في النكاح والطلاق للاقتداء به.

23 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الطعام والشراب للاقتداء به.

24 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في البيع والشراء للاقتداء به.

25 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الإجارة والمسابقة للاقتداء به.

26 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في العارية والوديعة للاقتداء به.

27 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في اللقطة والهبة للاقتداء به.

28 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في القصاص والديات للاقتداء به.

29 - ينوي معرفة هدي النبي صلى الله عليه وسلم في الأيمان والشهادات للاقتداء به.

30 - ينوي الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في معاملة المعاندين والمنافقين.

31 - ينوي الاقتداء بالصحابة الكرام في مواقفهم البطولية.

32 - ينوي الاقتداء بالصحابة الكرام في سرعة استجابتهم لأوامر الله تعالى.

33 - ينوي الاقتداء بالصحابة الكرام في سرعة استجابتهم لأوامر رسول الله صلى الله عليه وسلم.

34 - ينوي معرفة وقائع السيرة وما فيها من عبر وعظات.
18 - বৃষ্টির প্রার্থনা এবং ভয়ের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

19 - রোজা ও জাকাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

20 - হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

21 - হাদিয়া (উপহার) ও কুরবানির ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

22 - বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

23 - পানাহারের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

24 - ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

25 - ইজারা (ভাড়া) ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

26 - ধার এবং আমানত (গচ্ছিত রাখা)-এর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

27 - কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ও দান (হেবা)-এর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

28 - কিসাস (প্রতিশোধ) ও দিয়ত (রক্তপণ)-এর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

29 - শপথ ও সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ জানার নিয়ত করা, যাতে তাঁকে অনুসরণ করা যায়।

30 - একগুঁয়ে অবাধ্য ও মুনাফিকদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুসরণের নিয়ত করা।

31 - সাহাবায়ে কেরামের বীরত্বপূর্ণ অবস্থানসমূহে তাঁদের অনুসরণের নিয়ত করা।

32 - মহান আল্লাহর নির্দেশনাবলির প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দ্রুত সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণের নিয়ত করা।

33 - আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনাবলির প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দ্রুত সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণের নিয়ত করা।

34 - সিরাতের ঘটনাবলি এবং তাতে নিহিত শিক্ষা ও উপদেশ জানার নিয়ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
35 - ينوي معرفة حوادث السيرة وما يستنبط منها من أحكام فقهية.

36 - ينوي معرفة المتقدم والمتأخر، والناسخ والمنسوخ من الأحكام.

37 - ينوي الاطلاع على مناسبات الآيات التي نزلت في الغزوات ووقائع السيرة الأخرى.

38 - ينوي الاطلاع على أحوال السابقين الأولين في حالة الاستضعاف للاقتداء بهم إذا حدث له ما يشابه ذلك.

39 - ينوي الاطلاع على أحوال المجتمع الإِسلامي الأول من الإخاء والوفاء، والإيثار والتعاون، وصفاء القلوب … ليقتدي بهم في ذلك.

40 - ينوي الاطلاع على مواقف الصحابة الكرام في الغزوات والسرايا من الصبر والتحمل، والتضحية والفداء لهذا الدين ليقتدي بهم في ذلك.

41 - تنوي أن تزداد بهذا العلم لله خشية، لقوله تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28].

42 - تنوي أن تزداد بهذا العلم عند الله رفعة لقوله تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11].

43 - تنوي أن تحمل هذا العلم للناس، وتدعوهم للعمل بما فيه، لما رواه مسلم عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا" (1).

44 - تنوي أن تتخذ هذا العلم وسيلة لتعليم الناس الخير، فتنال بذلك ثناء الله واستغفار الملائكة، وكذلك استغفار الكائنات، فقد روى الترمذي وحسنه

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه مسلم (2674).
৩৫ - সিরাতের ঘটনাবলি এবং তা থেকে যে সকল ফিকহি বিধান উদ্ভূত হয়, তা জানার নিয়ত করা।

৩৬ - বিধানাবলির মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নিয়ত করা।

৩৭ - বিভিন্ন যুদ্ধ এবং সিরাতের অন্যান্য ঘটনাবলি সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট (শানে নুযুল) জানার নিয়ত করা।

৩৮ - দুর্বল ও নিপীড়িত অবস্থায় অগ্রবর্তী প্রথম সারির মুসলিমদের অবস্থা জানার নিয়ত করা, যাতে নিজের ক্ষেত্রে অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁদের অনুসরণ করা যায়।

৩৯ - ভ্রাতৃত্ব, আনুগত্য, আত্মত্যাগ, সহযোগিতা এবং হৃদয়ের শুভ্রতার ক্ষেত্রে প্রথম ইসলামি সমাজের অবস্থা জানার নিয়ত করা... যাতে এ সকল বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করা যায়।

৪০ - এই দ্বীনের জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা, ত্যাগ ও উৎসর্গের ক্ষেত্রে যুদ্ধ এবং ছোট ছোট অভিযানে সাহাবায়ে কেরামের বীরত্বগাথা ও ভূমিকা জানার নিয়ত করা, যাতে এ ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করা যায়।

৪১ - এই ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ভয় বৃদ্ধি করার নিয়ত করা, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।" [ফাতির: ২৮]।

৪২ - এই ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট মর্যাদা বৃদ্ধির নিয়ত করা, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নীত করবেন।" [আল-মুজাদালা: ১১]।

৪৩ - এই ইলম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং এর বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমল করার জন্য তাদের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ত করা। কেননা ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই পরিমাণ প্রতিদান রয়েছে যারা তার অনুসরণ করেছে, এতে তাদের প্রতিদানের বিন্দুমাত্র ঘাটতি হবে না।" (১)।

৪৪ - মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে এই ইলমকে গ্রহণ করার নিয়ত করা, যাতে এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা এবং ফেরেশতাকুলের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা লাভ করা যায়, আর সেই সাথে সকল সৃষ্টিজীবের পক্ষ থেকেও ক্ষমা প্রার্থনা লাভ হয়। কেননা ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) সহিহ: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৬৭৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه قَالَ: ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلَانِ: أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْآخَرُ عَالِمٌ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُم". ثُمَّ قَالَ: "إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ، وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ في جُحْرِهَا، وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ" (1).

45 - تنوي أن تتخذ السيرة وسيلة للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فتكون من المفلحين، قَالَ تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} [آل عمران: 104].

46 - تنوي أن تتعاون مع إخوانك المسلمين في نقل السيرة إلى واقع عملي في الحياة.

47 - تنوي أن تزداد حبًا للصحابة فتحشر في زمرتهم لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ" (2).

48 - تنوي أن تتقن السيرة لترد على المشككين في رسالة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم.

49 - تنوي أن تُعلّم السيرة لزوجتك وأولادك، فيزدادون لله قربًا، وبالنبي صلى الله عليه وسلم اقتداء، وللصحابة حبًا.

50 - تنوي أن تعيش بروحك ووجدانك مع الرعيل الأول: "فإنهم القوم لايشقى بهم جليسهم" (3).

--------------------------------------------

(1) حسن: أخرجه الترمذي (2685) وقال: حسن غريب صحيح.

(2) صحيح: أخرجه البخاري ومسلم.

(3) حبذا لو تقرأ هذه النوايا قبل أن تبدأ في حفظ كل درس لتجدد النية، وربما يفيض الله عليك بنيات أخرى، فيكثر ثوابُك، ويعظم أجرُك: "إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى".
আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে দুইজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো: তাদের একজন ইবাদতকারী এবং অন্যজন আলেম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তোমাদের মধ্যে সাধারণ স্তরের ব্যক্তির ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্ব।" এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা, আসমান ও যমিনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দো'আ করে যে মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয়।" (১)।

৪৫ - আপনি নিয়ত করবেন সীরাতকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার, যাতে আপনি সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম। (১০৪)} [আলে ইমরান: ১০৪]।

৪৬ - আপনি নিয়ত করবেন আপনার মুসলিম ভাইদের সাথে সীরাতকে জীবনের বাস্তবতায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার।

৪৭ - আপনি নিয়ত করবেন সাহাবীদের প্রতি আপনার ভালোবাসা বৃদ্ধি করার, যেন আপনি তাঁদের দলেই হাশরের ময়দানে পুনরুত্থিত হন। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।" (২)।

৪৮ - আপনি নিয়ত করবেন সীরাতে পারদর্শিতা অর্জন করার, যাতে রাসূলদের সরদার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টিকারীদের জবাব দেওয়া যায়।

৪৯ - আপনি নিয়ত করবেন আপনার স্ত্রী ও সন্তানদের সীরাত শিক্ষা দেওয়ার, ফলে আল্লাহর প্রতি তাদের নৈকট্য বাড়বে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে তারা সচেষ্ট হবে এবং সাহাবীদের প্রতি তাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

৫০ - আপনি নিয়ত করবেন আপনার রুহ ও চেতনা দিয়ে প্রথম প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ মানুষদের সাথে জীবন অতিবাহিত করার: "কেননা তাঁরা এমন এক জাতি যাদের মজলিশে বসা ব্যক্তি দুর্ভাগা হয় না।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাসান: তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২৬৮৫) এবং বলেছেন: হাসান গরীব সহীহ।

(২) সহীহ: বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) কতই না উত্তম হতো যদি আপনি প্রতিটি পাঠ মুখস্থ শুরু করার আগে এই নিয়তগুলো পড়ে নিয়ত নবায়ন করে নিতেন; সম্ভবত আল্লাহ আপনার ওপর আরও অনেক নিয়ত ঢেলে দেবেন, ফলে আপনার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার প্রতিদান হবে সুমহান: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে।"
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
من المولد

إلى البعث
জন্ম হতে

নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌من المولد إلى المبعث

‌‌1 - نبينا صلى الله عليه وسلم هو ابو القاسم محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معدٍّ بن عدنان.

‌‌الشرح:

‌‌قوله: أبو القاسم: هذه كنيته صلى الله عليه وسلم.

روى الحاكم في "مستدركه" أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أنا أبو القاسم، الله يعطي وأنا أقسم" (1).

والقاسم أكبر أبنائه- وقيل غير ذلك-.

قال ابن القيم:

مات طفلا، وقيل: عاش إلى أن ركب الدابة وسار على النجيبة. اهـ (2).

 

‌‌قوله محمد: وهذا اسمه صلى الله عليه وسلم.

‌‌ومن أسمائه أيضًا أحمد:

قال تعالى حاكيًا عن عيسى بن مريم: {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6].

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه الترمذي (2850)، وأحمد 2/ 433، وابن سعد 1/ 106، وأخرجه الحاكم (4243) عن أبي هريرة رضي الله عنه وقال: هذا حديث صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه، وصححه الألباني في "صحيح الجامع" (1447)، "الصحيحة" (1628).

(2) "زاد المعاد" 1/ 100، ط. الرسالة.
জন্ম হতে নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত

‌‌১ - আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।

‌‌ব্যাখ্যা:

‌‌তাঁর উক্তি: আবুল কাসিম: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপনাম।

ইমাম হাকাম তাঁর "মুস্তাদরাক" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি হলাম আবুল কাসিম, আল্লাহ দান করেন এবং আমি বণ্টন করি" (১)।

এবং কাসিম ছিলেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ—তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে—।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:

তিনি শিশু অবস্থায় মারা যান, আবার বলা হয়েছে: তিনি পশুর পিঠে চড়া এবং দ্রুতগামী উটের ওপর আরোহণ করে সফর করার বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সমাপ্ত (২)।

 

‌‌তাঁর উক্তি মুহাম্মদ: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম।

‌‌তাঁর নামসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো আহমাদ:

আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনে মারইয়ামের কথা উদ্ধৃত করে বলেন: {এবং এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা হিসেবে যিনি আমার পরে আসবেন, তাঁর নাম হবে আহমাদ} [আস-সাফ: ৬]।

--------------------------------------------

(১) সহীহ: এটি তিরমিযী (২৮৫০), আহমাদ ২/৪৩৩, ইবনে সাদ ১/১০৬ বর্ণনা করেছেন। হাকাম (৪২৪৩) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি বর্ণনা করে বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ হাদিস কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আলবানী একে "সহীহুল জামি" (১৪৪৭) ও "আস-সহীহাহ" (১৬২৮) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।

(২) "যাদুল মা'আদ" ১/১০০, আর-রিসালাহ প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌وكذلك من أسمائه:

الماحي، والحاشر، والعاقب.

عن جُبَيْرِ بن مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أَنَا محَمَّدٌ، وَأنا أَحْمَدُ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو الله بِي الْكُفْرَ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى عقبى، وَأَنَا الْعَاقِبُ" (1).

 

‌‌ومن أسمائه أيضًا صلى الله عليه وسلم -:

المقفي (2)، ونبي التوبة، ونبي الرحمة، ونبي الملحمة.

عَنْ أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يسَمِّي لَنَا نَفْسَهُ أَسْمَاءً فَقَالَ: "أَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَحْمَدُ، وَالْمُقَفِّي، وَالْحَاشِرُ، وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ، وَنَبِيُّ الرَّحْمَةِ" (3).

 

‌‌ومن أسمائه: المتوكل.

عَنْ عبد الله بن عَمْرِو بن الْعَاصِ رضي الله عنهما أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ الَّتِي في الْقُرْاَنِ: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45)} [الأحزاب: 45]. قَالَ في التَّوْرَاةِ: يَا أَيُّهَا النَّبِي إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّينَ، أَنْتَ عبدي وَرَسُولِي سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ، وَلَا سَخَّابٍ بِالْأَسْوَاقِ، وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَةَ بِالسَّيِّئَةِ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ، وَلَنْ يَقْبِضَهُ الله حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا الله، فَيَفْتَحَ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا، وَآذَانًا صُمًّا، وَقُلُوبًا

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري (3532) كتاب: المناقب، باب: ما جاء في أسمائه صلى الله عليه وسلم، ومسلم (2354) كتاب: الفضائل، باب: في أسمائه صلى الله عليه وسلم.

(2) قال النووي: فقال شمر: هو بمعنى العاقب، وقال ابن الأعرابي: هو المتبع للأنبياء، يقال قفوته أقفوه إذا اتبعته. وقافية كل شيء آخره. اهـ. "شرح مسلم".

(3) صحيح: أخرجه مسلم (2355)، وزاد الطبراني في "الأوسط" (2716)، ونبي الملحمة، وصحح الألباني هذه الزيادة "صححِح الجامع" (1473). ومعنى نبي الملحمة أي: نبي الحرب وسمي بذلك لحرصه على الجهاد.
‌‌তেমনিভাবে তাঁর নামসমূহের মধ্যে রয়েছে:

আল-মাহী, আল-হাশির এবং আল-আকিব।

জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহী (বিদূরণকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) যাঁর পশ্চাতে মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ আগমনকারী)" (১)।

 

‌‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আরও কিছু নাম হলো-:

আল-মুকাফ্ফি (২), তাওবার নবী, রহমতের নবী এবং মালহামার (মহাযুদ্ধের) নবী।

আবু মুসা আল-াশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে তাঁর নিজের বেশ কিছু নাম উল্লেখ করতেন। তিনি বলতেন: "আমি মুহাম্মদ, আহমাদ, আল-মুকাফ্ফি, আল-হাশির, তাওবার নবী এবং রহমতের নবী" (৩)।

 

‌‌তাঁর নামসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-মুতাওয়াক্কিল।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, কুরআনের এই আয়াতটি: {হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে (৪৫)} [সূরা আল-আহযাব: ৪৫]। তিনি বললেন: তাওরাতে (বলা হয়েছে): হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা এবং উম্মীদের (নিরক্ষরদের) জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম দিয়েছি আল-মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী)। আপনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং বাজারে উচ্চস্বরে চিৎকারকারীও নন। আপনি মন্দের প্রতিবাদ মন্দের মাধ্যমে করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দেবেন না যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র হয়ে যাওয়া জাতিকে এই কথা বলানোর দ্বারা সোজা করে দেন যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখগুলো, বধির কানগুলো এবং মোহরবদ্ধ অন্তরগুলো খুলে দেবেন।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী (৩৫৩২), অধ্যায়: মানাকিব (মর্যাদা), অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামসমূহ প্রসঙ্গে; এবং মুসলিম (২৩৫৪), অধ্যায়: ফাদায়িল (ফযীলতসমূহ), অনুচ্ছেদ: তাঁর নামসমূহ প্রসঙ্গে।

(২) ইমাম নববী বলেছেন: শিমর বলেন: এটি 'আল-আকিব' (সর্বশেষ) এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ইবনুল আরাবী বলেছেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নবীদের অনুসরণকারী (সবার শেষে আগমনকারী), বলা হয় 'কাফাওতুহু আকফুহু' যখন আমি কাউকে অনুসরণ করি। আর কোনো জিনিসের 'কাফিয়া' হলো তার শেষ অংশ। - [শারহ মুসলিম]।

(৩) সহীহ: এটি মুসলিম (২৩৫৫) বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানী 'আল-আওসাত' (২৭১৬) গ্রন্থে 'নাবিয়্যুল মালহামা' (মহাযুদ্ধের নবী) শব্দটুকু যোগ করেছেন। আলবানী এই অতিরিক্ত অংশটুকুকে সহীহ বলেছেন 'সহীহুল জামি' (১৪৭৩) গ্রন্থে। আর 'নাবিয়্যুল মালহামা' এর অর্থ হলো: যুদ্ধের নবী; জিহাদের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহের কারণেই তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
غُلْفًا (1).

قال ابن القيم:

وكلها نعوت ليست أعلاما محضة لمجرد التعريف بل أسماء مشتقة من صفات قائمة به توجب له المدح والكمال.

هذا وقد ذُكر للنبي-صلى الله عليه وسلم أسماء كثيرة حتى أوصلها بعضهم إلى ألف اسم، أعرضنا عنها لضعف أدلتها وعدم ثبوتها.

 

‌‌قوله: ابن عبد الله بن عبد المطلب … إلخ:

هذا القدر إلى عدنان هو المتفق عليه.

قال ابن القيم بعد ذكر نسبه صلى الله عليه وسلم إلى عدنان:

إلى ها هنا معلوم الصحة متفق عليه بين النسابين، ولا خلاف فيه البتة. اهـ (2).

ووقع الخلاف فيما بين عدنان إلى إسماعيل، ثم فيما بين إسماعيل إلى آدم عليهما السلام.

قال ابن القيم:

وما فوق عدنان مختلف فيه. اهـ (3).

وقال ابن سعد:

الأمر عندنا الإمساك عما وراء عدنان إلى إسماعيل. اهـ (4).

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه البخاري (4838) كتاب: "التفسير" تفسير سورة الفتح، باب: إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا وأحمد 2/ 174.

(2) "زاد المعاد" 1/ 70.

(3) "زاد المعاد" 1/ 70.

(4) "الطبقات" 1/ 58.
আচ্ছন্ন (হৃদয়) (১)।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন:

এসবই গুণবাচক নাম, শুধুমাত্র পরিচয়ের জন্য নিছক নাম নয়; বরং এগুলো তাঁর সত্তায় বিদ্যমান এমন সব গুণ থেকে নির্গত নাম যা তাঁর প্রশংসা ও পূর্ণতা নির্দেশ করে।

উল্লেখ্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি কেউ কেউ তা এক হাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি কারণ সেগুলোর দলিল দুর্বল এবং তা প্রমাণিত নয়।

 

‌‌তাঁর কথা: আব্দুল্লাহর পুত্র, আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র … ইত্যাদি:

আদনান পর্যন্ত এই অংশটুকু সর্বসম্মত।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. আদনান পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারা উল্লেখ করার পর বলেন:

এ পর্যন্ত বংশলতিকার বিশুদ্ধতা সুনিশ্চিত এবং বংশবিদদের মধ্যে তা সর্বসম্মত, এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সমাপ্ত (২)।

তবে আদনান থেকে ইসমাইল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত এবং ইসমাইল থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশধারার বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন:

আদনানের ঊর্ধ্বের বংশধারা নিয়ে মতভেদ আছে। সমাপ্ত (৩)।

ইবনে সাদ রহ. বলেন:

আমাদের নিকট সিদ্ধান্ত হলো, আদনান থেকে ইসমাইল পর্যন্ত এর ঊর্ধ্বের অংশ বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা। সমাপ্ত (৪)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ: বুখারী (৪৮৩৮), কিতাব: "তাফসীর", সূরা আল-ফাতহ-এর তাফসীর পরিচ্ছেদ: 'নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি' এবং আহমাদ ২/১৭৪।

(২) "যাদুল মা'আদ" ১/৭০।

(৩) "যাদুল মা'আদ" ১/৭০।

(৪) "আত-তাবাকাত" ১/৫৮।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال البغوي في "شرح السنة":

ولا يصح حفظ النسب فوق عدنان. اهـ (1).

فالذي عليه أهل التحقيق أن ما فوق عدنان ضعيف لا يثبت، والثابت فقط أنه صلى الله عليه وسلم من نسل إسماعيل عليه السلام لقوله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الله اصطَفَى كِنانةَ مِنْ وَلَدِ إِسْماعِيلَ، واصطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنانَةَ، واصطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بني هاشِمٍ، واصطَفانِي مِنْ بني هاشِمٍ" (2).

فضعف ما بين النبي صلى الله عليه وسلم إلى إسماعيل-عليه السلام لا يعني ضعف نسبه إليه، بل هو صحيح ثابت كما دلّ عليه الحديث.

 

‌‌فضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم -:

عن واثلة بن الْأَسْقَعِ رضي الله عنه قال: سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنَّ الله اصطَفَى كِنانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْماعِيلَ، واصطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنانَةَ، واصطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بني هاشِمٍ، واصطَفانِي مِنْ بني هاشِمٍ" (3).

وقد أقر أبو سفيان وهو لم يزل على الكفر بفضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم حينما سأله هرقل عن نسبه صلى الله عليه وسلم فقال: هو فينا ذو نسب (4).

 

‌‌2 - ولد صلى الله عليه وسلم يتيمًا يوم الاثنين لاثنتي عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الأول من عام الفيل.

‌‌الشرح:

ولد النبي صلى الله عليه وسلم يتيمًا فقد توفي أبوه وهو حمل صلى الله عليه وسلم وهو الراجح.

--------------------------------------------

(1) "شرح السنة " (13/ 193).

(2) صحيح: أخرجه مسلم (2276) كتاب: الفضائل، باب: فضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم وتسليم الحجر عليه قبل النبوة.

(3) السابق.

(4) متفق عليه: أخرجه البخاري (2914) كتاب: الجهاد والسير، باب: دعاء النبي الناس للإسلام، ومسلم (6982).
ইমাম বাগাভী "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে বলেছেন:

আদনানের উপরের বংশপরম্পরা মুখস্থ রাখা বা সংরক্ষণ করা বিশুদ্ধ নয়। সমাপ্ত। (১)।

গবেষক আলিমগণের নিকট সাব্যস্ত বিষয় এই যে, আদনানের উপরের বংশধারা দুর্বল ও প্রমাণিত নয়। কেবল এটিই প্রমাণিত যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশধর। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" (২)।

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত মধ্যবর্তী বংশধারা দুর্বল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁর সাথে বংশগত সম্পর্ক হওয়া দুর্বল; বরং এটি সহীহ ও প্রমাণিত, যা হাদীস দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে।

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশমর্যাদা -:<

ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" (৩)।

আর আবু সুফিয়ান কাফির থাকা অবস্থায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশমর্যাদা স্বীকার করেছিলেন, যখন হিরাক্লিয়াস তাঁকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; তখন তিনি বলেছিলেন: "আমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশজাত।" (৪)।

 

‌‌২ - তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তীবাহিনীর বছরের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার ইয়াতীম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌ব্যাখ্যা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াতীম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর পিতা তখন ইন্তেকাল করেন যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাতৃগর্ভে ছিলেন; আর এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য মত।

--------------------------------------------

(১) "শারহুস সুন্নাহ" (১৩/ ১৯৩)।

(২) সহীহ: মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২২৭৬), কিতাব: আল-ফাযাইল, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশমর্যাদা এবং নবুওয়াতের পূর্বে পাথর কর্তৃক তাঁকে সালাম প্রদান।

(৩) পূর্বোক্ত।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (২৯১৪), কিতাব: আল-জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, অনুচ্ছেদ: মানুষের প্রতি রাসূলুল্লাহর ইসলামের দাওয়াত, এবং মুসলিম (৬৯৮২)।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال ابن القيم:

واختُلِف في وفاة أبيه عبد الله، هل توفي ورسول الله صلى الله عليه وسلم حمل، أو تُوفي بعد ولادته؟ على قولين: أصحهما: أنه توفي ورسول الله صلى الله عليه وسلم حَمْلٌ (1).

وقال ابن سعد بعد ما ذكر أقوالًا كثيرة في تاريخ وفاة عبد الله:

والأول أثبت أنه توفي ورسول الله صلى الله عليه وسلم حمل. اهـ (2).

وقيل توفي عبد الله وهو في الخامسة والعشرين من عمره.

 

‌‌قوله: يوم الاثنين:

روي الإمام مسلم عَنْ أبي قَتادَةَ أن النبي صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ قالَ: "ذَلكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ، وَيوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِ" (3).

 

‌‌قوله: لاثنتي عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الأول:

قال الشيخ الألباني:

وأما تاريخ يوم الولادة، فقد ذُكر فيه وفي شهره أقوال ذكرها ابن كثير في الأصل، وكلها معلقة بدون أسانيد يمكن النظر فيها ووزنها بميزان علم مصطلح الحديث؛ إلا قول من قال: إنه في الثامن من ربيع الأوّل فإنه رواه مالك وغيره بالسند الصحيح عن محمَّد بن جبير بن مطعم، وهو تابعي جليل، ولعله لذلك صحح هذا القول أصحاب التاريخ واعتمدوه، وقطع به الحافظ

--------------------------------------------

(1) "زاد المعاد" 1/ 75.

(2) "الطبقات الكبرى" 1/ 100.

(3) صحيح: أخرجه مسلم (1162) كتاب: الصيام، باب: استحباب صيام ثلاثة أيام من كل شهر، وصوم يوم عرفة، وعاشوراء، والاثنين، والخميس.
ইবনুল কায়্যিম বলেন:

তাঁর পিতা আবদুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে মতভেদ রয়েছে; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তখন গর্ভে ছিলেন, নাকি তাঁর জন্মের পর তিনি ইন্তেকাল করেছেন? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: এর মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতটি হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভে থাকাবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (১)।

এবং ইবনে সাদ আবদুল্লাহর মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে অনেকগুলো মত উল্লেখ করার পর বলেন:

প্রথম মতটিই অধিক প্রমাণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভে থাকাবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত (২)।

এবং বলা হয়েছে যে, আবদুল্লাহ পঁচিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌তাঁর বক্তব্য: সোমবার দিন:

ইমাম মুসলিম আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: "এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমাকে নবুয়ত দেওয়া হয়েছে অথবা যেদিন আমার ওপর (ওহী) অবতীর্ণ করা হয়েছে" (৩)।

 

‌‌তাঁর বক্তব্য: রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর:

শেখ আলবানী বলেন:

আর জন্মের তারিখের ব্যাপারে যা বলা হয়, এ সম্পর্কে এবং এর মাস সম্পর্কে ইবনে কাসীর মূল গ্রন্থে কিছু মত উল্লেখ করেছেন, যার সবগুলোই সনদবিহীনভাবে উদ্ধৃত হয়েছে যা হাদীস শাস্ত্রের মানদণ্ডে বিচার-বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়; তবে যারা বলেন যে, এটি রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখে, সেটি মালেক ও অন্যান্যরা সহীহ সনদে মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি একজন মহান তাবিঈ। সম্ভবত এ কারণেই ইতিহাসবিদগণ এই মতটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর ওপর নির্ভর করেছেন, আর হাফেজ (ইবনে হাজার) এটি নিশ্চিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) "যাদুল মাআদ" ১/ ৭৫।

(২) "আত-তাবাকাতুল কুবরা" ১/ ১০০।

(৩) সহীহ: মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১১৬২), সিয়াম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, আরাফাহর দিন, আশুরা এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার মুস্তাহাব হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الكبير محمَّد ابن موسى الخوارزمي، ورجحه أبو الخطاب ابن دحية والجمهور على أنه في الثاني عشر منه. والله أعلم. اهـ (1).

 

‌‌قوله: من عام الفيل:

روى الحاكم في "مستدركه" عن ابن عباس، رضي الله عنه قال: (ولد النبي صلى الله عليه وسلم في عام الفيل) (2).

وسمي بعام الفيل لوقوع حادثة الفيل المشهورة فيه، والتي قاد فيها أبرهة الأشرم ابن الصباح الحبشي، نائب النجاشي على اليمن، بفيله العظيم جيشه العرمرم لهدم الكعبة المشرفة بيت الله الحرام. ولكن هيهات هيهات، فما قوة أبرهة بفيله العظيم وجيشه العرمرم الكبير بجوار قوة العلي القدير، إلا كقشة ضعيفة تتقاذفها أمواج عظيمة، بل هي أضعف.

فالله تعالى هو الذي خلقهم وهو الذي أعطاهم هذه القوة فهم لا يعجزونه. فما أن وصل أبرهة إلى وادي محسِّر بين مزدلفة ومني حتى برك الفيل وعجز عن الحركة إلا لوجهة أخرى غير وجهة الكعبة، وهنالك أرسل عليهم رب البيت طيرًا أبابيل ترميهم بحجارة من سجيل فجعلهم كعصف مأكول.

وحكى الله تعالى ما نزل بهم من عذاب في كتابه العزيز فقال: {أَلَمْ تَرَ

--------------------------------------------

(1) "صحيح السيرة النبوية" (13).

(2) صحيح: أخرجه الترمذي (3619) كتاب: المناقب، باب: ما جاء في ميلاد النبي صلى الله عليه وسلم عن قيس بن مخرمة والحاكم فيى "المستدرك" (4180) كتاب: تواريخ المتقدمين من الأنبياء والمرسلين، وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وابن سعد في "الطبقات" 1/ 101 وصححه الألباني في "السلسلة الصحيحة" (3152).
আল-কাবীর মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি, এবং আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহইয়াহ ও জুমহুর (অধিকাংশ আলেম) একে প্রাধান্য দিয়েছেন যে এটি তার (মাসের) বারো তারিখে ছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত। (১)।

 

‌‌তাঁর বক্তব্য: হস্তিবর্ষে:

আল-হাকিম তাঁর "মুসতাদরাক" গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন) (২)।

একে হস্তিবর্ষ বলা হয় কারণ এতে হস্তির সেই বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটেছিল, যাতে ইয়েমেনে নাজাশির প্রতিনিধি আবরাহা আল-আশরাম ইবনুল সাবাহ আল-হাবাশি তার বিশাল হাতিসহ এক সুবৃহৎ বাহিনী নিয়ে আল্লাহর পবিত্র ঘর সম্মানিত কাবা ধ্বংস করতে পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু হায় আফসোস! সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর শক্তির সামনে আবরাহার সেই বিশাল হাতি ও সুবৃহৎ বাহিনীর শক্তি কি-ই বা ছিল! এটি ছিল বিশাল ঢেউয়ের মুখে একটি দুর্বল খড়কুটোর মতো, বরং তার চেয়েও দুর্বল।

কারণ আল্লাহ তাআলাই তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাদের এই শক্তি দিয়েছিলেন, তাই তারা তাঁকে অপারগ করতে পারে না। আবরাহা যখন মুজদালিফা ও মিনার মধ্যবর্তী ওয়াদি মুহাসসিরে পৌঁছাল, তখন হাতিটি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল এবং কাবার দিক ছাড়া অন্য কোনো দিকে নড়াচড়া করতে অক্ষম হয়ে গেল। তখন সেই ঘরের রব তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠালেন, যারা তাদের উপর সিজ্জিল (পোড়ামাটি) পাথর নিক্ষেপ করছিল, ফলে তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের ন্যায় করে দিলেন।

আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাদের ওপর যে আযাব নাজিল হয়েছিল তা বর্ণনা করে বলেছেন: {আপনি কি দেখেননি

--------------------------------------------

(১) "সহীহ আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ" (১৩)।

(২) সহীহ: এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (৩৬১৯), কিতাব: আল-মানাকিব, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, কায়েস ইবনে মাখরামাহ থেকে; এবং আল-হাকিম "আল-মুসতাদরাক"-এ (৪১৮০), কিতাব: নবী ও রাসূলগণের ইতিহাস; তিনি বলেছেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ কিন্তু তারা তা বর্ণনা করেননি; এবং ইবনে সাদ "আত-তাবাকাত" ১/১০১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী "আস-সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ" (৩১৫২) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ (1) أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ (2) وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ (3) تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ (4) فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ (5)} [الفيل: 1 - 5].

وقال نُفيل بن حبيب حين نزل بهم العذاب:

أين المفر والإله الطالب … والأشرم المغلوب غير الغالب

وقد ذكر القصة كاملة الإمام الطبري في تفسير سورة الفيل.

 

‌‌3 - يقول صلى الله عليه وسلم "أنا دَعوةُ إبراهيمَ، وبشرىَ عيسَى، رأت أمِّي حين حملت بي كأن نورًا خرج منها أضاءت له قصور بصرى من أرض الشام" (1).

‌‌الشرح:

‌‌قوله: أنا دعوة إبراهيم:

حيث دعا إبراهيم عليه السلام ربه بأن يبعث في العرب رسولًا منهم فقال: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (129)} [البقرة: 129].

 

‌‌قوله: وبشرى عيسى:

وبشر به عيسى بن مريم عليه السلام فقال: {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي} [الصف: 6].

--------------------------------------------

(1) صحيح: أخرجه أحمد 5/ 262، والحاكم (4230)، وصححه الألباني في "صحيح الجامع" 1463 - 3451.
আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কী আচরণ করেছেন? (১) তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি? (২) এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছেন, (৩) যারা তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করছিল। (৪) অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের মতো করে দেন। (৫) [আল-ফীল: ১ - ৫]।

এবং নুফাইল ইবন হাবিব তাদের ওপর আজাব নাযিল হওয়ার সময় বলেন:

পালাবার জায়গা কোথায় যখন ইলাহ নিজেই অন্বেষণকারী … এবং আশরাম (আবরাহা) পরাজিত, সে বিজয়ী নয়

ইমাম তাবারী সূরা ফীলের তাফসীরে এই কাহিনীটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৩ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "আমি ইবরাহীমের দুআ, ঈসার সুসংবাদ, আর আমার মা আমাকে গর্ভে ধারণ করার সময় দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার মাধ্যমে সিরিয়া ভূখণ্ডের বুসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল" (১)।

‌‌ব্যাখ্যা:

‌‌তাঁর কথা: আমি ইবরাহীমের দুআ:

যেখানে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট আরবদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণের জন্য দুআ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: {হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (১২৯)} [আল-বাকারা: ১২৯]।

 

‌‌তাঁর কথা: এবং ঈসার সুসংবাদ:

এবং ঈসা ইবন মারইয়াম আলাইহিস সালাম তাঁর ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়ে বলেছিলেন: {এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন।} [আস-সাফ: ৬]।

--------------------------------------------

(১) সহীহ: এটি আহমাদ ৫/২৬২, হাকেম (৪২৩০) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী 'সহীহুল জামি' ১৪৬৩ - ৩৪৫১-তে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌قوله: رأت أمي حين حملت بي كأن نورًا يخرج منها أضاءت له قصور بُصرى من أرض الشام:

هذا لفظ الحاكم، وابن إسحاق، أما لفظ ابن سعد ففيه: رأت أمي كأنه خرج منها نورٌ أضاءت منه قصور الشام. ولذلك اختُلِف في وقت خروج هذا النور، أكان عند الحمل أم عند الولادة؟.

وفسر ابن رجب الحنبلي هذا النور بأنه إشارة إلى ما يجيء به من النور الذي اهتدى به أهل الأرض، وزال به ظلمة الشرك منها، كما قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (16)} [المائدة: 15، 16]. اهـ (1).

وقال ابن كثير:

وتخصيص الشام بظهور نوره إشارة إلى استقرار دينه ونبوته ببلاد الشام، ولهذا تكون الشام في آخر الزمان معقلًا للإسلام وأهله، وبها ينزل عيسى بن مريم إذا نزل بدمشق بالمنارة الشرقية البيضاء منها، ولهذا جاء في الصحيحين: "لا تَزالُ طائِفَةٌ مِنْ أمَّتِي ظاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُم ولا من خالفهم حَتَّى يَأتِيَ أَمْرُ الله وَهُمْ كَذَلِكَ" وفي "صحيح البخاري" (وهم بالشام). اهـ (2).

ومما وقع في يوم مولده أيضًا ما رواه ابن إسحاق عن حسان بن ثابت

--------------------------------------------

(1) "لطائف المعارف" (89).

(2) "تفسير القرآن العظيم" 10/ 184.
তাঁর বাণী: আমার মা যখন আমাকে গর্ভধারণ করেছিলেন তখন তিনি দেখেছিলেন যেন তাঁর থেকে একটি নূর বের হচ্ছে, যার মাধ্যমে শামের ভূমির বুসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল:

এটি হাকিম এবং ইবনে ইসহাকের বর্ণনা। তবে ইবনে সা'দের পাঠে রয়েছে: আমার মা দেখেছিলেন যেন তাঁর থেকে একটি নূর বের হয়েছে যা থেকে শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। এই কারণে এই নূর বের হওয়ার সময় নিয়ে মতভেদ হয়েছে, তা কি গর্ভধারণের সময় হয়েছিল নাকি জন্মের সময়?

ইবনে রজব আল-হাম্বলী এই নূরের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি সেই নূরের প্রতি ইঙ্গিত যা নিয়ে তিনি এসেছেন এবং যার মাধ্যমে পৃথিবীবাসী হিদায়াত লাভ করেছে ও এর মাধ্যমে শিরকের অন্ধকার বিদূরিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন (১৬)" [আল-মায়িদাহ: ১৫, ১৬]। সমাপ্ত (১)।

ইবনে কাসীর বলেন:

তাঁর নূর প্রকাশের জন্য শাম দেশকে নির্দিষ্ট করা শামের ভূখণ্ডে তাঁর দ্বীন ও নবুওয়াত সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত, আর এই কারণেই আখিরী যামানায় শাম হবে ইসলাম ও তার অনুসারীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। এখানেই ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন যখন তিনি দামেশকের পূর্ব প্রান্তের সাদা মিনারে নামবেন। একারণেই সহীহায়নে এসেছে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সহযোগিতা ছেড়ে দেয় অথবা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।" আর "সহীহ বুখারী"-তে রয়েছে (এবং তারা শাম দেশে অবস্থান করবে)। সমাপ্ত (২)।

তাঁর জন্মের দিনে যা ঘটেছিল তার মধ্যে আরও রয়েছে যা ইবনে ইসহাক হাসসান বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) "লাতায়েফুল মাআরিফ" (৮৯)।

(২) "তাফসীরুল কুরআনিল আযীম" ১০/ ১৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: والله إني لغلام يفعة (1) ابن سبع سنين أو ثمان، أعقل كل ما سمعت، إذ سمعت يهوديًا يصرخ بأعلى صوته على أطمة (2) يثرب: يا معشر يهود حتى إذا اجتمعوا إليه قالوا له: ويلك ما بك؟! قال: طلع الليلة نجم أحمد الذي ولد به (3).

هذا ما صح من الآيات التي حدثت يوم ولادته صلى الله عليه وسلم ولا يصح بعد ذلك شيء.

 

قال الألباني:

ذكر ارتجاس الإيوان، وسقوط الشرفات، وخمود النيران، ورؤيا الموبذان، وغير ذلك من الدلالات ليس فيه شيء (4).

 

‌‌4 - ومرضعته صلى الله عليه وسلم هي حليمة بنت أبي ذؤيب السعدية، ولقد ظهر بوجوده عندها من البركات ما ظهر.

‌‌الشرح:

‌‌لقد ثبت رضاع النبي صلى الله عليه وسلم من حليمة السعدية بأحاديث صحيحة منها:

ما أخرجه الحاكم في "مستدركه" عن عتبة بن عبد السلمي: أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم كيف كان شأنك يا رسول الله؟ قال: "كانَتْ حاضِنَتِي مِنْ بني سَعْدِ بن

--------------------------------------------

(1) إذا شب ولم يبلغ.

(2) أطمة -بالضم-: البناء المرتفع، وجمعها: آطام.

(3) حسن: أخرجه ابن إسحاق في "السيرة" 1/ 124، وحسنه الألباني في "صحيح السيرة" (14).

(4) "صحيح السيرة" (14).
তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, আমি তখন এক কিশোর, সাত বা আট বছর বয়স, আমি যা শুনতাম সবই বুঝতাম। তখন আমি এক ইয়াহুদিকে ইয়াসরিবের এক সুউচ্চ প্রাসাদের উপর উঠে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে শুনলাম: হে ইয়াহুদি সম্প্রদায়! অতঃপর যখন তারা তার কাছে সমবেত হলো, তারা তাকে বলল: তোমার সর্বনাশ হোক! তোমার কী হয়েছে? সে বলল: আজ রাতে আহমদের সেই তারকা উদিত হয়েছে, যাঁর সাথে তিনি ভূমিষ্ঠ হয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের দিন যেসব নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছিল, তার মধ্যে এগুলোই বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত, আর এর অতিরিক্ত অন্য কিছু সহিহ নয়।

 

আলবানি বলেন:

পারস্য সম্রাটের প্রাসাদের প্রকম্পন, অট্টালিকার চূড়া ধসে পড়া, অগ্নিপূজকদের আগুন নিভে যাওয়া, মোবেযানের স্বপ্ন এবং এ জাতীয় অন্যান্য নিদর্শনের বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই।

 

‌‌৪ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুগ্ধমাতা হলেন হালিমাহ বিনতে আবি যুয়াইব আস-সাদিয়া। তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহর উপস্থিতির কারণে বরকতের যেসব নিদর্শন প্রকাশিত হওয়ার ছিল তা প্রকাশিত হয়েছে।

‌‌ব্যাখ্যা:

‌‌সহিহ হাদিসসমূহের মাধ্যমে হালিমাহ সাদিয়ার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুধপান করার বিষয়টি প্রমাণিত, যার মধ্যে রয়েছে:

হাকেম তাঁর "মুস্তাদরাক" গ্রন্থে উতবাহ ইবনে আবদ আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার বিষয়টি কেমন ছিল? তিনি বললেন: "বনু সাদ ইবনে... গোত্রে আমার একজন ধাত্রী ছিল..."

--------------------------------------------

(১) যখন সে কিশোর হয়েছে কিন্তু এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।

(২) উতমা -পেশ যোগে-: উচ্চ অট্টালিকা বা প্রাসাদ, এর বহুবচন হলো: আতাম।

(৩) হাসান: ইবনে ইসহাক এটি "আস-সিরাত" ১/১২৪ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি "সহিহ আস-সিরাহ" (১৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

(৪) "সহিহ আস-সিরাহ" (১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بَكْرٍ … الحديث" (1) وبنو سعد بن بكر هم قوم حليمة السعدية.

وحديث عبد الله بن جعفر الذي يرويه عن حليمة السعدية والتي تحكي فيه ما ظهر من بركاته صلى الله عليه وسلم، حيث قالت: خرجت مع زوجي وابن لي صغير في نسوة من بني سعد بن بكر، نلتمس الرضعاء. قال: وذلك في سنة شهبًا (2). لم تُبصر لنا شيئًا، قالت: فخرجت على أتان لي قمراء (3) ومعنا شارف (4) لنا، والله ما تبضُّ (5) بقطرة، وما ننام ليلنا أجمع من صبينا الذي معنا، من بكائه من الجوع، ما في ثديي ما يغنيه، وما في شارفنا ما يغذيه، ولكن كنا نرجوا الغيث والفرج، فخرجت على أتاني تلك، فلقد أذمَّت (6) بالركب حتى شق ذلك عليهم، ضعفًا وعجفًا، حتى قدمنا مكة نلتمس الرضعاء، فما منا امرأة إلا وقد عُرض عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فتأباه، إذا قيل لها: إنه يتيم، وذلك أنا كنا نرجوا المعروف من أبي الصبي، فكنا نقول: يتيم، وما عسى أن تصنع أمه وجده، فكنا نكرهه لذلك، فما بقيت امرأة قدمت معي إلا أخذت رضيعًا غيري، فلما أجمعنا الانطلاق قلت لصاحبي: والله إني لأكره أن أرجع من بين صواحبي ولم آخذ رضيعًا، والله لأذهبن إلى ذلك اليتيم فلآخذنه، قال: لا عليك أن تفعلي، عسى الله أن يجعل لنا فيه بركة. قالت: فذهبت إليه وأخذته، وما حملني على أخذه إلا أني لم أجد غيره، قالت: فلما أخذته رجعت به إلى رحلي، فلما وضعته في حجري أقبل عليه ثدياي بما شاء من لبن، فشرب حتى روي، وشرب معه أخوه حتى روي، ثم ناما، وما كنا ننام معه قبل ذلك، وقام زوجي

--------------------------------------------

(1) سيأتي تخريجه.

(2) مجدبة لا خضرة فيها ولا مطر.

(3) بيضاء.

(4) الناقة المسنة.

(5) بضَّ الماء: قطر وسال قليلًا قليلًا.

(6) أبطأت وحبست.
বকর … হাদিস" (১) আর বনু সাদ ইবনে বকর হলো হালিমা আস-সাদীয়ার গোত্র।

আর আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের হাদিস যা তিনি হালিমা আস-সাদীয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যাতে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতসমূহ প্রকাশ পাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি (হালিমা) বলেন: আমি আমার স্বামী এবং আমার এক ছোট পুত্রসহ বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রের একদল মহিলার সাথে দুগ্ধপোষ্য শিশু খোঁজার উদ্দেশ্যে বের হলাম। তিনি বললেন: সেটি ছিল দুর্ভিক্ষের এক বছর (২), যা আমাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। তিনি বললেন: আমি আমার একটি সাদাটে গাধীর (৩) ওপর চড়ে বের হলাম, আর আমাদের সাথে আমাদের একটি বৃদ্ধ উষ্ট্রী (৪) ছিল। আল্লাহর শপথ, সেটি থেকে এক ফোঁটাও দুধ বের হচ্ছিল না (৫)। ক্ষুধার তাড়নায় আমাদের সাথে থাকা আমাদের শিশুটির কান্নার কারণে আমরা সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না। আমার স্তনে তাকে তৃপ্ত করার মতো কিছুই ছিল না, আর আমাদের বৃদ্ধ উষ্ট্রীর মাঝেও তাকে পুষ্টি দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। তবে আমরা বৃষ্টি ও সচ্ছলতার আশা করছিলাম। অতঃপর আমি আমার সেই গাধীর পিঠে চড়েই যাত্রা করলাম, কিন্তু সেটি কাফেলার সাথে চলতে গিয়ে এতটাই মন্থর হয়ে পড়ছিল (৬) যে, তা সবার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল এর দুর্বলতা ও কৃশতার কারণে। অবশেষে আমরা দুগ্ধপোষ্য শিশু খোঁজার জন্য মক্কায় পৌঁছলাম। আমাদের এমন কোনো মহিলা ছিল না যার সামনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেশ করা হয়নি, কিন্তু সে তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল যখনই তাকে বলা হতো: সে একজন এতিম। কারণ আমরা শিশুর পিতার কাছ থেকে সচ্ছলতা ও অনুগ্রহের আশা করতাম। তাই আমরা বলতাম: সে তো এতিম! তার মা আর দাদাই বা আমাদের জন্য কী করতে পারবে? একারণে আমরা তাকে নিতে অপছন্দ করছিলাম। আমার সাথে আসা এমন কোনো মহিলা বাকি রইল না যে আমি ছাড়া অন্য কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশু গ্রহণ করেনি। অতঃপর যখন আমরা ফিরে যাওয়ার জন্য একত্রিত হলাম, তখন আমি আমার স্বামীকে বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি আমার সাথীদের মধ্য থেকে কোনো শিশু না নিয়ে রিক্তহস্তে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করছি। আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই সেই এতিমটির কাছে যাব এবং তাকেই গ্রহণ করব। তিনি বললেন: তোমার তা করাতে কোনো বাধা নেই, হতে পারে আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাদের জন্য বরকত দান করবেন। তিনি বললেন: অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে গ্রহণ করলাম। তাকে গ্রহণ করার পেছনে এটি ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না যে, আমি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে পাইনি। তিনি বললেন: যখন আমি তাকে নিয়ে আমার ডেরায় ফিরে এলাম এবং তাকে আমার কোলে রাখলাম, তখন আমার স্তন দুটি তার জন্য পর্যাপ্ত দুধে ভরে উঠল। অতঃপর সে তৃপ্তিভরে পান করল এবং তার সাথে তার (দুধ) ভাইও তৃপ্তিভরে পান করল। তারপর তারা দুজনে ঘুমিয়ে পড়ল, অথচ ইতিপূর্বে আমরা তাকে নিয়ে ঘুমাতে পারতাম না। আর আমার স্বামী উঠে দাঁড়ালেন...

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ সামনে আসবে।

(২) দুর্ভিক্ষপীড়িত বছর যাতে কোনো সজীবতা বা বৃষ্টি নেই।

(৩) সাদা বর্ণ।

(৪) বয়স্ক উষ্ট্রী।

(৫) পানির ফোঁটা পড়া: সামান্য চুঁইয়ে পড়া এবং অল্প অল্প প্রবাহিত হওয়া।

(৬) ধীরগতি হওয়া এবং পিছিয়ে পড়া।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
إلى شارفنا تلك، فإذا هي حافل (1) فحلب منها فشرب وشربت معه حتى انتهينا ريًا وشبعًا، فبتنا بخير ليلة، قالت: يقول صاحبي حين أصبحنا: تعلمي والله يا حليمة، لقد أخذت نسمة مباركة، قالت: فقلت: والله إني لأرجو ذلك. قالت: ثم خرجنا وركبت أنا أتاني، وحملته عليها معي، فوالله لقطعت بالركب ما لا يقدر عليه شيء من حمرهم، حتى إن صواحبي ليقلن لي: يا ابنة أبي ذؤيب، ويحك! أربعي (2) علينا، أليست هذه أتانك التي كنت خرجت عليها؟ فأقول لهن: بلى والله، إنها لهي هي، فيقلن: والله إن لها شأنًا، قالت: ثم قدمنا منازلنا من بلاد بني سعد، وما أعلم أرضًا من أرض الله أجدب منها، فكانت غنمي تروح عليَّ حين قدمنا به معنا شباعًا لُبَّنًا (3) فنحلب ونشرب، وما يحلب إنسان قطرة لبن، ولا يجدها في ضرع، حتى كان الحاضرون من قومنا يقولون لرعيانهم: ويلكم، اسرحوا حيث يسرح راعي بنت أبي ذؤيب، فتروح أغنامهم جياعًا ما تبضُّ بقطرة لبن، وتروح غنمي شباعًا لبنا. فلم نزل نتعرف من الله الزيادة والخير حتى مضت سنتان وفصلته، وكان يشب شبابًا لا يشبه الغلمان، فلم يبلغ سنتيه حتى كان غلامًا جفرًا (4).

قالت: فقدمنا به على أمه ونحن أحرص على مكثه فينا، لما كنا نرى من بركته، فكلمنا أمه، وقلت لها: لو تركت ابنك عندي حتى يغلظ، فإني أخشى عليه وباء مكة، قالت: فلم نزل بها حتى ردته معنا (5).

واخُتلف في صحة هذا الحديث بين المحدثين، فمن مصحح له

ومضعف، كابن عساكر حيث قال: هذا حديث غريب جدًا وفيه ألفاظ ركيكة لا

--------------------------------------------

(1) أي: ممتلئة لبنًا.

(2) أرفقي.

(3) ممتلئة الضرع باللبن.

(4) قويًا شديدًا.

(5) أخرجه أبو يعلى (7158)، وابن هشام (124)، وفي سنده جهم بن أبي جهم مجهول.
আমাদের সেই বৃদ্ধ উটের কাছে গেলাম, দেখি সেটি দুধে পরিপূর্ণ (১)। তিনি সেখান থেকে দোহন করলেন এবং পান করলেন, আর আমিও তাঁর সাথে পান করলাম যতক্ষণ না আমরা পরিতৃপ্ত ও শান্ত হলাম। আমরা একটি সর্বোত্তম রাত কাটালাম। তিনি (হালিমা) বলেন: যখন সকাল হলো তখন আমার স্বামী বললেন, "আল্লাহর শপথ, হে হালিমা! জেনে রেখো, তুমি এক বরকতময় প্রাণকে গ্রহণ করেছ।" তিনি বলেন: আমি বললাম, "আল্লাহর শপথ, আমিও অবশ্যই সেই আশাই করছি।" তিনি বলেন: এরপর আমরা বের হলাম এবং আমি আমার মাদি গাধার ওপর আরোহণ করলাম এবং তাঁকে আমার সাথে তার ওপর বহন করলাম। আল্লাহর শপথ, সেটি কাফেলার সাথে এমন গতিতে পথ চলছিল যা তাদের কোনো গাধাই পারছিল না। এমনকি আমার সাথীরা আমাকে বলছিল: "হে আবু যুয়াইবের কন্যা, তোমার দুর্ভোগ হোক! আমাদের প্রতি সদয় হও (২), এটি কি সেই গাধা নয় যার ওপর সওয়ার হয়ে তুমি এসেছিলে?" আমি তাদের বলতাম: "হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ, এটিই সেই গাধা।" তখন তারা বলত: "আল্লাহর শপথ, এর তো বিশেষ কোনো ব্যাপার আছে।" তিনি বলেন: এরপর আমরা বনু সা’দ গোত্রের বসতিতে আমাদের ঘরে পৌঁছালাম। আল্লাহর জমিনের মধ্যে এর চেয়ে বেশি উষর বা অনাবাদী কোনো ভূমি আছে বলে আমার জানা ছিল না। কিন্তু আমরা যখন তাঁকে নিয়ে পৌঁছালাম, তখন আমার বকরিগুলো চারণভূমি থেকে পরিতৃপ্ত ও দুধে পরিপূর্ণ অবস্থায় (৩) ফিরে আসত। আমরা দোহন করতাম এবং পান করতাম, অথচ অন্য কোনো মানুষ এক ফোঁটা দুধও দোহন করতে পারত না এবং পশুর ওলানেও তা পেত না। এমনকি আমাদের কওমের উপস্থিত লোকেরা তাদের রাখালদের বলত: "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! আবু যুয়াইবের কন্যার রাখাল যেখানে চরায় তোমরাও সেখানে চরাও।" এরপরও তাদের বকরিগুলো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরে আসত, এক ফোঁটা দুধও দিত না, অথচ আমার বকরিগুলো পরিতৃপ্ত ও দুধে পরিপূর্ণ হয়ে ফিরে আসত। এভাবে আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও কল্যাণ লাভ করতে থাকলাম যতক্ষণ না দুই বছর অতিবাহিত হলো এবং আমি তাঁর দুধ ছাড়িয়ে দিলাম। তিনি এমনভাবে বেড়ে উঠছিলেন যা অন্য বালকদের মতো ছিল না। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি এক শক্তিশালী ও সুঠাম (৪) বালকে পরিণত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন: এরপর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে আসলাম, অথচ তাঁর বরকত দেখে আমরা তাঁকে আমাদের কাছে রেখে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। আমরা তাঁর মায়ের সাথে কথা বললাম এবং আমি তাঁকে বললাম: "আপনি যদি আপনার পুত্রকে আমার কাছে রেখে দিতেন যাতে তিনি আরও হৃষ্টপুষ্ট ও শক্তিশালী হতে পারেন; কারণ আমি তাঁর ব্যাপারে মক্কার মহামারীর ভয় করছি।" তিনি বলেন: আমরা তাঁর সাথে এ ব্যাপারে অনুরোধ চালিয়ে যেতে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁকে পুনরায় আমাদের সাথে ফেরত পাঠালেন (৫)।

এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে সহিহ (বিশুদ্ধ) বলেছেন আবার কেউ একে জঈফ (দুর্বল) বলেছেন, যেমন ইবনে আসাকির রহ.। তিনি বলেছেন: "এটি অত্যন্ত গরিব (অপরিচিত/অদ্ভুত) পর্যায়ের হাদিস এবং এতে এমন দুর্বল শব্দাবলি রয়েছে যা

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: দুধে পরিপূর্ণ।

(২) আমাদের প্রতি সদয় হও (ধীরে চলো)।

(৩) ওলান দুধে পরিপূর্ণ।

(৪) শক্তিশালী ও সুঠাম।

(৫) এটি আবু ইয়ালা (৭১৫৮) এবং ইবনে হিশাম (১২৪) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে জাহম ইবনে আবি জাহম নামক জনৈক বর্ণনাকারী 'মাজহুল' (অজ্ঞাত)।
(খণ্ড: ১) আল-আগসানুন নাদিয়্যাহ শারহুল খুলাসাতিল বাহিয়্যাহ বিতরতীবিল আহদাসিস সীরাতিন নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
تشبه الصواب، وكذلك أعرض عنه الألباني في "صحيح السيرة" فلم يذكره، أما الذهبي فقال: هذا حديث جيد الإسناد (1).

وقد أرضعته أيضًا صلى الله عليه وسلم ثويبة مولاة أبي لهب وكان ذلك قبل ذهابه إلى السعدية.

روي الإمام البخاريُّ: أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ رضي الله عنها قالَتْ: يا رَسُولَ الله أَنْكِح أُخْتِي بنتَ أبي سُفْيانَ، فَقالَ: "أَوَ تُحِبِّينَ ذَلِكَ؟ "، فَقُلْتُ: نَعَمْ، لَسْتُ لَكَ بِمُخْلِيَةٍ (2) وَأَحَبُّ مَنْ يشارِكُنِي في خَيْرٍ أُخْتِي قالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ ذلك لا يحل لِي"، فَقُلْتُ: فإِنّا نَحَدَّثُ أَنَّكَ تُرِيدُ أَنْ تَنْكِحَ بنتَ أبي سَلَمَةَ. قالَ: "بِنْتُ أمِّ سَلَمَةَ؟ "، فَقُلْتُ: نَعَم. فَقالَ: "واللهِ لَوْلا أَنَّها لم تكن رَبِيبَتِي في حَجْرِي ما حَلَّتْ لِي، إِنَّها لابْنَة أَخِي مِنْ الرَّضاعَةِ، أَرْضَعَتْنِي وَأَبا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ، فَلا تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بناتِكُنَّ وَلا أَخَواتِكُنَّ".

قالَ عُرْوَةُ: وثُوَيْبَةُ مَوْلاةٌ لِأبي لَهَبٍ كانَ أبو لَهَب أَعْتَقَها فَأَرْضَعَتْ النَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَلَمّا ماتَ أبو لَهَب أُرِيَهُ بَعْضُ أَهلِهِ بِشَرِّ حِيبَةٍ، قال لَهُ: ماذا لَقِيتَ؟ قالَ أبو لَهَبٍ: لَمْ أَلْقَ بَعْدَكُمْ غَيْر أَنِّي سُقِيتُ في هَذِهِ بِعَتاقَتِي ثُوَيْبَةَ (3).

 

‌‌5 - ولما بلغ صلى الله عليه وسلم أربع سنوات أتاه ملكان فشقا صدره وغسلا قلبه ثم أعاداه.

‌‌الشرح:

روى الإمام مسلم في "صحيحه": أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم أَتاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمانِ، فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ، فشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ فاسْتَخْرَجَ الْقَلْبَ، فاسْتَخْرَجَ مِنْهُ

--------------------------------------------

(1) "سير أعلام النبلاء" 1/ 42، ط. المكتبة التوفيقية.

(2) أي: لست بمنفردة بك ولا خالية من ضرة، قاله ابن حجر.

(3) متفق عليه: أخرجه البخاري (5101)، كتاب: النكاح، باب: وأمهاتكم اللاتي أرضعنكم، ومسلم (1449) كتاب: الرضاع باب: تحريم الربيبة وأخت المرأة.
সত্যের সদৃশ মনে হয়, অনুরূপভাবে আলবানী এটি থেকে বিমুখ হয়েছেন "সহীহ সীরাহ" গ্রন্থে, ফলে তিনি তা উল্লেখ করেননি। তবে আয-যাহাবী বলেছেন: এটি উত্তম সনদ সংবলিত হাদীস (১)।

আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবাও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুগ্ধপান করিয়েছিলেন, আর এটি ছিল বনী সা’দ গোত্রে তাঁর গমনের পূর্বে।

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন: উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন বিনতে আবু সুফিয়ানকে বিয়ে করুন। তিনি বললেন: "তুমি কি তা পছন্দ করো?" আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই (২), আর কল্যাণের কাজে আমার সাথে আমার বোন অংশীদার হোক—এটিই আমার কাছে অধিক প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই তা আমার জন্য হালাল নয়।" আমি বললাম: আমাদের কাছে বলা হয়েছে যে, আপনি নাকি আবু সালামার কন্যাকে বিয়ে করতে চাইছেন। তিনি বললেন: "উম্মে সালামার কন্যা?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! সে যদি আমার কোলে লালিত পালিত পালিতা কন্যা নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য হালাল হতো না। সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। আমাকে এবং আবু সালামাকে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের কন্যাদের এবং বোনদের আমার কাছে পেশ করো না।"

উরওয়াহ বলেন: সুওয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের মুক্তদাসী, আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল, এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুধ পান করায়। আবু লাহাব যখন মারা গেল, তখন তার পরিবারের কেউ তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় দেখল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে? আবু লাহাব বলল: তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি ভালো কিছু পাইনি, তবে সুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারণে আমাকে এই আঙুল দ্বারা পানি পান করানো হয় (৩)।

 

‌‌৫ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন চার বছর বয়সে পদার্পণ করলেন, তখন তাঁর নিকট দুজন ফেরেশতা আসলেন। তাঁরা তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন এবং তাঁর অন্তর ধৌত করলেন, অতঃপর তা যথাস্থানে ফিরিয়ে দিলেন।

‌‌ব্যাখ্যা:

ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জিবরাঈল আসলেন যখন তিনি বালকদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে মাটিতে শায়িত করলেন, এরপর তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর অন্তর বের করলেন এবং তা থেকে বের করলেন...

--------------------------------------------

(১) "সিয়ারু আ’লামিন নুবালা" ১/ ৪২, তওফীকিয়া লাইব্রেরি সংস্করণ।

(২) অর্থাৎ: আমি আপনার জন্য একমাত্র (স্ত্রী) নই এবং সপত্নীহীনও নই; ইবনে হাজার এটি বলেছেন।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী (৫১০১), বিবাহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: তোমাদের সে সকল মা যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছেন; এবং মুসলিম (১৪৪৯), দুগ্ধপান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পালিতা কন্যা এবং স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করা হারাম হওয়া।