(খণ্ড: ১) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية كما جاءت في الأحاديث الصحيحة   (محمد الصوياني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية كما جاءت في الأحاديث الصحيحة

(قراءة جديدة)

المؤلف: محمد الصوياني

الناشر: مكتبة العبيكان، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى (لمكتبة العبيكان)، 1424 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435

সহীহ হাদীসের আলোকে সীরাতুন্নবী (সা.)   (মুহাম্মদ আস-সুওয়ায়ানি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী (সা.)


গ্রন্থ: সহীহ হাদীসের আলোকে সীরাতুন্নবী (সা.)

(একটি নতুন পাঠ)

লেখক: মুহাম্মদ আস-সুওয়ায়ানি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম (মাকতাবাতুল ওবাইকানের সংস্করণ), ১৪২৪ হিজরী - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ই রজব ১৪৩৫ হিজরী

(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١)
السيرة النبوية كما جاءت في الأحاديث الصحيحة

(قراءة جديدة)

محمد الصوياني

 

الجزء الأول

مكتبة العبيكان
সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত সীরাতুন্নবী

(একটি নতুন পাঠ)

মুহাম্মদ আল-সুওয়াইয়ানি

 

প্রথম খণ্ড

মাকতাবাতুল উবাইকান
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
(ح) مكتبة العبيكان، 1424هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

الصوياني محمَّد

السيرة النبوية كما جاءت في الأحاديث الصحيحة. / محمَّد الصوياني

- الرياض، 1424 هـ

286 ص، 16.5 × 24 سم

ردمك: 0 - 375 - 40 - 9960 (مجموعة)

9 - 376 - 40 - 9960 (ج1)

1 - السيرة النبوية 2 - الحديث- مباحث عامة أ. العنوان

ديوى 239

2878/ 1424

ردمك:0 - 375 - 40 - 9960 (مجموعة) رقم الإيداع: 2878/ 1424

9 - 376 - 40 - 9960 (ج1)

الطبعة الأولى الخاصة بمكتبة العبيكان

1424هـ/2004 م

حقوق الطباعة والنشر محفوظة للناشر

الناشر

مكتبة العبيكان

الرياض- العليا- تقاطع طريق الملك فهد مع شارع العروبة

ص. ب: 62807 - الرمز: 11595

هاتف:4654424 - فاكس: 4650129
(স্বত্ব) ওবিকান লাইব্রেরি, ১৪২৪ হিজরি

প্রকাশের প্রাক্কালে বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং

আস-সুওয়ায়ানি, মুহাম্মদ

সহিহ হাদিসে বর্ণিত সিরাতুন নবী (নবীজির জীবনী)। / মুহাম্মদ আস-সুওয়ায়ানি

- রিয়াদ, ১৪২৪ হিজরি

২৮৬ পৃষ্ঠা, ১৬.৫ × ২৪ সেমি

আইএসবিএন: ০ - ৩৭৫ - ৪০ - ৯৯৬০ (সমগ্র)

৯ - ৩৭৬ - ৪০ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)

১ - সিরাতুন নবী ২ - হাদিস - সাধারণ আলোচনা ক. শিরোনাম

ডিউই ২৩৯

২৮৭৮/ ১৪২৪

আইএসবিএন: ০ - ৩৭৫ - ৪০ - ৯৯৬০ (সমগ্র) জমা নম্বর: ২৮৭৮/ ১৪২৪

৯ - ৩৭৬ - ৪০ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)

ওবিকান লাইব্রেরির বিশেষ প্রথম সংস্করণ

১৪২৪ হিজরি / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

মুদ্রণ ও প্রকাশনার সকল স্বত্ব প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত

প্রকাশক

ওবিকান লাইব্রেরি

রিয়াদ - আল-উলয়া - বাদশাহ ফাহাদ সড়ক ও আল-আরুবা সড়কের সংযোগস্থল

পি.ও. বক্স: ৬২৮০৭ - পোস্টাল কোড: ১১৫৯৫

টেলিফোন: ৪৬৫৪৪২৪ - ফ্যাক্স: ৪৬৫০১২৯
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
الحمد لله رب العالمين .. والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين ..
যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য .. এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর ..
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌هذه القصة

قصة طفل طهور كالبرد .. ولد يتيمًا .. واستمر اليتم يلاحقه ويلاحق طفولته في طرقات مكة ودروبها .. يذيقه المرارة .. يفجعه بأهله وأحبابه ..

ويكبر محمَّد صلى الله عليه وسلم .. وتكبر غربته .. ويكتشف في دروب الحياة يتمًا أكبر من يتمه .. وهمًّا أثقل من همِّه .. فالأرض كلها يتم .. والبشرية تئن همًا وحزنًا يعصر قلبها ..

الجزيرة العربية كانت غابةً من الأصنام .. وأوديةً تسيل دماء بريئة .. تسيل عادات بالية وتقاليد محيرة ..

ماذا يفعل أمامها .. وماذا بيديه حيالها .. ماذا يفعل سوى الغربة مهربًا وملاذًا .. يناجي بها ربه ويعج إليه بالتوحيد والدعاء .. وفي غربته الشعورية تلك تهبط عليه الرسالة .. فيحمل الأمانة وينحدر بها نحو مكة .. نحو أمته فينطق بها بهجة وبشرى لهم .. وينتظر الإجابة .. وتأتي الإجابة على غير ما يتمنى ويحب .. تأتى الإجابة سياطًا وشتائم وتكذيبًا له وهو الذي يلقب بالأمين.

فماذا فعل الأمين صلى الله عليه وسلم مع هؤلاء؟

الإجابة كانت أكثر من خمسين عامًا من فنِّ التعامل مع الغير .. نقشها صلى الله عليه وسلم في قلوب من حوله وقلوب غيرهم ممّن دبَّ على هذه الأرض إلى قيام الساعة.

الإجابة سيرة لم تكن ماضيًا أبدًا .. بل شعلة توقد شموس الحياة .. ودماء تتدفق في عروق المستقبل والأجيال.
এই কাহিনী

তুষারের ন্যায় পবিত্র এক শিশুর কাহিনী... এক এতিম হয়ে জন্মানো বালকের কথা... শৈশবজুড়ে মক্কার অলিতে-গলিতে পিতৃহীনতার সেই রিক্ততা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে... তাকে আস্বাদন করিয়েছে তিক্ততা... আপনজন ও প্রিয়জনদের বিয়োগব্যথায় তাকে করেছে মুহ্যমান।

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বড় হতে থাকেন... সেই সাথে বাড়তে থাকে তাঁর নিঃসঙ্গতা... জীবনের পথে চলতে গিয়ে তিনি নিজের এতিম অবস্থার চেয়েও বড় এক রিক্ততা আবিষ্কার করেন... এবং নিজের চিন্তার চেয়েও ভারী এক উদ্বেগের মুখোমুখি হন। কেননা সমগ্র পৃথিবীটাই তখন পিতৃহীনতায় (আধ্যাত্মিক অভিভাবকহীনতায়) নিমজ্জিত ছিল... আর মানবতা এক গভীর দুঃখ ও উদ্বেগে আর্তনাদ করছিল যা তাদের হৃদয়কে নিংড়ে দিচ্ছিল।

আরব উপদ্বীপ তখন ছিল মূর্তির এক অরণ্য... আর এমন সব উপত্যকা, যেখানে প্রবাহিত হতো নিরপরাধের রক্ত; বয়ে চলত জরাজীর্ণ কুসংস্কার আর বিভ্রান্তিকর সব প্রথা।

এই পরিস্থিতির সম্মুখে তিনি কী-ই বা করতে পারতেন? এর প্রতিকারে তাঁর হাতেই বা কী উপায় ছিল? নির্জনতাকে আশ্রয় ও মুক্তি হিসেবে বেছে নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কী-ই বা করার ছিল? সেই নির্জনতায় তিনি তাঁর প্রতিপালকের সাথে নিভৃতে সংলাপে মগ্ন হতেন এবং একত্ববাদ (তাওহিদ) ও প্রার্থনায় তাঁর সমীপে আকুতি জানাতেন। তাঁর সেই আত্মিক নির্জনতার মাঝেই অবতীর্ণ হয় খোদায়ী বার্তা (রিসালাত)। অতঃপর তিনি সেই আমানত কাঁধে নিয়ে মক্কার পানে, আপন জাতির পানে অগ্রসর হন; তাদের জন্য আনন্দ ও সুসংবাদ হিসেবে তা প্রচার করেন। তিনি ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায় ছিলেন... কিন্তু উত্তর এলো তাঁর ইচ্ছা ও পছন্দের বিপরীত। উত্তর এলো চাবুকের আঘাত, গালিগালাজ আর মিথ্যারোপের মাধ্যমে; অথচ তিনিই ছিলেন 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত।

সেই বিশ্বস্ত আল-আমিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন?

উত্তরটি নিহিত ছিল অন্য মানুষের সাথে আচরণের সেই শিল্পকলার মাঝে, যা তিনি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চর্চা করেছিলেন। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই আদর্শকে খোদাই করে দিয়েছিলেন তাঁর চারপাশের মানুষের হৃদয়ে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই পৃথিবীতে বিচরণকারী প্রতিটি মানুষের অন্তরে।

এই উত্তরটি এমন এক সীরাত (জীবনচরিত) যা কখনোই নিছক অতীত নয়; বরং এটি জীবনের সূর্যগুলোকে প্রজ্জ্বলিত করার এক শিখা... এবং ভবিষ্যৎ ও অনাগত প্রজন্মের ধমনীতে প্রবাহিত প্রাণশক্তি।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
سيرته صلى الله عليه وسلم في مكة هي واقع هذه الصحوة التى تهز أركان الأرض من أقصاها إلى أقصاها .. ولا بد لهذه الصحوة من أن تشرب من النبع الذي شربت منه في مكة .. لا بد لها من أن تتقد بشعلتها الخالدة وإلا تحولت إلى رماد تذروها الرياح والأهواء.

أحاول في هذه السيرة- القصة أن أبسط ما أمكن .. أن أجعل هذه الأحداث سهلة في متناول الجميع خاصة من لا يبحثون عن التعقيد أو التفريع .. لذلك صغتها وربطت بين أحاديثها الصحيحة لتكون قصة لا روايات أحداث متفرقة فقط.

فالحمد لله حمدًا يليق بجلاله وعظمته إن كنت قد وفقت في ذلك ..

وأرجوه الصفح والغفران إن كنت قد زللت ..
মক্কায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত মূলত সেই জাগরণেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি, যা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সকল স্তম্ভকে প্রকম্পিত করে দিচ্ছে। এই জাগরণকে অবশ্যই সেই শাশ্বত উৎসধারা থেকে সিক্ত হতে হবে, যা থেকে মক্কায় সিক্ত হয়েছিল। একে অবশ্যই তার চিরন্তন শিখায় উদ্ভাসিত থাকতে হবে, অন্যথায় এটি এমন ভস্মে পরিণত হবে যা প্রবল বাতাস ও মানুষের খেয়ালখুশি উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

আমি এই সীরাত-আখ্যানকে যথাসম্ভব সহজবোধ্য করার প্রয়াস পেয়েছি, যাতে এই ঘটনাবলি সকলের জন্য সহজলভ্য হয়; বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা তাত্ত্বিক জটিলতা বা অতিরিক্ত শাখা-প্রশাখা অনুসন্ধান করেন না। এই উদ্দেশ্যে আমি একে সুবিন্যস্ত করেছি এবং এর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছি, যাতে এটি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনার বর্ণনা না হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনকাহিনী হিসেবে ফুটে ওঠে।

আমি যদি এতে সফল হয়ে থাকি, তবে আল্লাহর নিমিত্তেই সকল প্রশংসা—এমন প্রশংসা যা তাঁর মহিমা ও গাম্ভীর্যের জন্য উপযুক্ত।

আর যদি আমার কোনো পদস্খলন হয়ে থাকে, তবে আমি তাঁর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌جده عبد المطلب

لا أدري من أين أتى ..

ربما صعد جبلًا أو منه انحدر ..

ربما هبط واديًا؛ أو كان يرعى الغنم ..

لا أدري ..

لكنه كان متعبًا يقتلع خطاه ..

يسحب جسده الثقيل نحو الكعبة ..

حيث ألقى بذلك الجسد في الحجر ..

وتردى في هوة سحيقة من النوم ..

ليجد في قعرها هاتفًا يطالبه بعمق أكثر ..

فيقول له: (احفر طيبة) (1) ..

لم يمهله عبد المطلب ..

لقد عاجله قائلًا: وما طيبة؟

ولم تأت إجابة .. وأطبق الصمت، والهاتف اختفى ولم يرد. وفي الغد .. رجع عبد المطلب إلى مرقده ذلك عله يجد لذلك الحلم تفسيرًا. وما إن غاص في سباته حتى سمع ذلك الصوت الخفي يناديه مرة أخرى: (احفر بره) (2).
(1) اسم من أسماء زمزم.

(2) اسم من أسماء زمزم.
তাঁর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব

আমি জানি না তিনি কোথা থেকে এসেছেন...

হয়তো তিনি কোনো পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন অথবা সেখান থেকে নিচে নেমেছিলেন...

হয়তো তিনি কোনো উপত্যকায় নেমেছিলেন; অথবা মেষ চরাচ্ছিলেন...

আমি জানি না...

কিন্তু তিনি ক্লান্ত ছিলেন, অত্যন্ত কষ্টে কদম ফেলছিলেন...

তিনি তাঁর ভারী দেহটিকে কাবার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন...

যেখানে তিনি হিজরে (হাতীমে) সেই দেহটি এলিয়ে দিলেন...

এবং ঘুমের এক গভীর অতলে তলিয়ে গেলেন...

যাতে তিনি এর গভীর তলদেশে এক অদৃশ্য আহ্বানকারীর দেখা পান, যিনি তাঁর কাছে আরও নিবিড় কিছু দাবি করছিলেন...

অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: (তাইবা খনন করো) (১)...

আবদুল মুত্তালিব তাঁকে অবকাশ দিলেন না...

তিনি ত্বরিতে প্রশ্ন করলেন: আর তাইবা কী?

কিন্তু কোনো উত্তর এলো না... নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেল, অদৃশ্য আহ্বানকারী অদৃশ্য হয়ে গেল এবং কোনো প্রতিউত্তর করল না। পরদিন... আবদুল মুত্তালিব পুনরায় তাঁর সেই শয্যাস্থলে ফিরে গেলেন এই আশায় যে, হয়তো সেই স্বপ্নের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাবেন। যেইমাত্র তিনি গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন, অমনি সেই গোপন আওয়াজটি তাঁকে পুনরায় ডেকে বলল: (বাররাহ খনন করো) (২)।
(১) যমযম কূপের নামসমূহের একটি নাম।

(২) যমযম কূপের নামসমূহের একটি নাম।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
(يقول عبد المطلب: قلت: وما بره؟ ثم ذهب عني، فلما كان الغد رجعت إلى مضجعي فنمت فيه .. فجاءني فقال:

احفر زمزم.

قلت: وما زمزم؟

قال: لا تترف أبدًا ولا تذم، تسقي الحجيج الأعظم، وهي بين الفرث والدم، عند نقرة الغراب الأعصم، عند قرية النمل ..

فلما بيّن لعبد المطلب شأنها، ودل على موضعها وعرف أنه قد صدق، غدا بمِعْوَلِه ومعه ابنه الحارث بن عبد المطلب، وليس له يومئذ وليد غيره .. فحفر فيها، فلما بدا لعبد المطلب الطي (1) كبَّر (2). فعرفت قريش أنه قد أدرك حاجته .. فقاموا إليه.

فقالوا: يا عبد المطلب، إنها بئر أبينا إسماعيل، وإن لنا فيها حقًا .. فأشركنا معك فيها.

فقال عبد المطلب: ما أنا بفاعل، إن هذا الأمر قد خصصت به دونكم وأُعطيتُه من بينكم.

فقالوا: أنْصفنا فإنّا غير تاركيك حتى نخاصمك فيها.

قال عبد المطلب: فاجعلوا بيني وبينكم من شئتم أحاكمكم إليه.

قالوا: كاهنة بني سعد هذبم.

قال عبد المطلب: نعم.
(1) طي البئر وهو من الحجارة.

(2) قال: الله أكبر.
আব্দুল মুত্তালিব বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তার কল্যাণ কী? তারপর তিনি আমার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন। পরদিন যখন আমি পুনরায় আমার শয্যায় ফিরে ঘুমালাম... তখন তিনি আমার নিকট এসে বললেন:

জমজম খনন করো।

আমি বললাম: জমজম কী?

তিনি বললেন: যা কখনো নিঃশেষ হবে না এবং নিন্দিত হবে না, যা মহান হাজীদের তৃষ্ণা নিবারণ করবে; এটি গোবর ও রক্তের মধ্যস্থলে, সাদা পা-বিশিষ্ট কাকের ঠোকরানোর জায়গায় এবং পিঁপড়ার বাসার নিকটে অবস্থিত...

যখন আব্দুল মুত্তালিবের নিকট এর স্বরূপ স্পষ্ট করা হলো এবং এর স্থান নির্দেশ করা হলো এবং তিনি নিশ্চিত হলেন যে বিষয়টি সত্য, তখন পরদিন ভোরে তিনি তার খনন যন্ত্র এবং তার পুত্র হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে নিয়ে বের হলেন। সে সময় তিনি ছাড়া তার আর কোনো সন্তান ছিল না। তিনি সেখানে খনন কাজ শুরু করলেন; যখন আব্দুল মুত্তালিবের সামনে কুয়ার পাথুরে গাঁথুনি (১) দৃশ্যমান হলো, তখন তিনি তাকবীর (২) ধ্বনি দিলেন। ফলে কুরাইশরা বুঝতে পারল যে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়ে গেছেন... তখন তারা তার নিকট উপস্থিত হলো।

তারা বলল: হে আব্দুল মুত্তালিব, এটি আমাদের পিতা ইসমাইলের কুয়া, আর এতে আমাদেরও অধিকার রয়েছে... সুতরাং আমাদেরকেও আপনার সাথে এতে অংশীদার করুন।

আব্দুল মুত্তালিব বললেন: আমি তা করব না। এই বিষয়টি অন্যদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে আমাকেই দেওয়া হয়েছে এবং তোমাদের মধ্য থেকে আমাকেই এটি দান করা হয়েছে।

তারা বলল: আমাদের প্রতি সুবিচার করুন, অন্যথায় এ বিষয়ে আপনার সাথে চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আপনাকে ছাড়ব না।

আব্দুল মুত্তালিব বললেন: তবে আমার ও তোমাদের মাঝে বিচারক হিসেবে যাকে চাও নির্ধারণ করো, আমি তার কাছে বিচারের জন্য যেতে প্রস্তুত।

তারা বলল: বনু সাদ হুযাইম গোত্রের নারী গণক।

আব্দুল মুত্তালিব বললেন: ঠিক আছে।
(১) কুয়ার পাথুরে গাঁথুনি।

(২) তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
وكانت -هذه الكاهنة- بأشراف الشام. فركب عبد المطلب، ومعه نفر من بني أمية، وركب من كل قبيلة من قريش نفر، فخرجوا والأرض إذ ذاك مفاوز (1)، حتى إذا كانوا ببعضها نفذ ماء عبد المطلب وأصحابه، فعطشوا حتى استيقنوا بالهلكة فاستسقوا من معهم، فأبوا عليهم.

وقالوا: إنا بمفاوز .. وإنا نخشى على أنفسنا مثل ما أصابكم.

فقال عبد المطلب: إني أرى أن يحفر كل رجل منكم حفرته لنفسه بما لكم الآن من القوة، فكلما مات رجل، دفعه أصحابه في حفرته، ثم واروه، حتى يكون آخرهم رجلًا واحدًا، فضيعة رجل واحد أيسر من ضيعة ركب جميعه. فقالوا: نِعْمَ ما أمرت به.

فحفر كل رجل لنفسه حفرة، ثم قعدوا ينتظرون الموت عطشًا) (2)

لقد كان ذلك الرأي سقيمًا، إنه انتحار بطىء سببه تلك الخصومة والضيق الذي لا مبرر له إلا حب الرياسة والشرف عند أولئك العرب، لقد أحس عبد المطلب بفساد ذلك الرأي فصاح في تلك الجثث الملقاة في اللُّحُود: (والله إن إلقاءنا بأيدينا هكذا للموت لا نضرب في الأرض، ولا نبتغى لأنفسنا؛ لَعَجْزٌ .. فعسى الله أن يرزقنا ماءً ببعض البلاد: ارْتَحِلُوا.

فارتحلوا، حتى إذا بعث (3) عبد المطلب راحلته انفجرت من تحت خفها عين ماء عذب، فكبر عبد المطلب، وكبر أصحابه، ثم نزل فشرب
(1) سميت بذلك لأنها مهلكة.

(2) ما بين الأقواس خبر صحيح الإسناد، انظر ما بعده.

(3) دفعها للنهوض.
সেই অতীন্দ্রিয়বাদিনী নারী সিরিয়ার উচ্চভূমি অঞ্চলে বসবাস করতেন। আব্দুল মুত্তালিব বনু উমাইয়ার একটি দল নিয়ে যাত্রা করলেন এবং কুরাইশের প্রতিটি গোত্র থেকেও একটি করে দল অংশগ্রহণ করল। তারা বেরিয়ে পড়লেন, অথচ তৎকালীন সময়ে সেই পথটি ছিল জনমানবহীন মরুপ্রান্তর (১)। যখন তারা মরুভূমির অভ্যন্তরে পৌঁছালেন, তখন আব্দুল মুত্তালিব ও তাঁর সঙ্গীদের পানি শেষ হয়ে গেল। তারা এতটাই তৃষ্ণার্ত হলেন যে নিজেদের ধ্বংসের ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন। তারা তাদের সাথে থাকা অন্যান্যদের কাছে পানি চাইলেন, কিন্তু তারা পানি দিতে অস্বীকার করল।

তারা বলল: "আমরাও নির্জন মরু প্রান্তরে আছি.. এবং আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের ব্যাপারেও সেই একই আশঙ্কা করছি যা তোমাদের ওপর আপতিত হয়েছে।"

তখন আব্দুল মুত্তালিব বললেন: "আমি মনে করি, তোমাদের প্রত্যেকের মাঝে এখন যেটুকু শক্তি অবশিষ্ট আছে তা দিয়ে নিজের জন্য একটি করে গর্ত খনন করা উচিত। যখন কেউ মারা যাবে, তার সঙ্গীরা তাকে তার কবরে শায়িত করবে এবং মাটি চাপা দিয়ে ঢেকে দেবে। এভাবে শেষ পর্যন্ত কেবল একজন লোক অবশিষ্ট থাকবে। কেননা একজন ব্যক্তির নিঃশেষ হয়ে যাওয়া পুরো কাফেলার ধ্বংস হওয়ার চেয়ে অনেক সহজ।" তারা বলল: "আপনি চমৎকার নির্দেশ দিয়েছেন।"

অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের জন্য একটি করে গর্ত খুঁড়ল এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মৃত্যুর প্রতীক্ষা করতে থাকল। (২)

প্রকৃতপক্ষে সেই সিদ্ধান্তটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এটি ছিল এক মন্থর আত্মহত্যার নামান্তর, যার নেপথ্যে ছিল সেই বিবাদ ও সংকীর্ণতা যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছিল না—কেবল তৎকালীন আরবদের আভিজাত্য ও নেতৃত্বের মোহ ছাড়া। আব্দুল মুত্তালিব সেই সিদ্ধান্তের অসারতা উপলব্ধি করতে পারলেন এবং কবরের গর্তে (লুহুদ) শায়িত সেই দেহগুলোর উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে বললেন: "আল্লাহর কসম! এভাবে জমিনে বিচরণ না করে এবং বাঁচার কোনো চেষ্টা না চালিয়ে নিজেদেরকে মৃত্যুর মুখে সঁপে দেওয়া চরম অক্ষমতা.. সম্ভবত আল্লাহ কোনো ভূখণ্ডে আমাদের জন্য পানির ব্যবস্থা করবেন। তোমরা যাত্রা শুরু করো।"

অতঃপর তারা যাত্রা শুরু করলেন। আব্দুল মুত্তালিব যখন তাঁর সওয়ারিকে ওঠালেন (৩), তখন উটের পায়ের খুরের নিচ থেকে একটি সুপেয় পানির ঝর্ণা উৎসারিত হলো। আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর মহিমা ঘোষণা (তাকবির) করলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর তিনি নিচে নামলেন এবং পানি পান করলেন।
(১) একে এই নামে (মফাযাহ) অভিহিত করা হয় কারণ এটি ধ্বংসের স্থান।

(২) বন্ধনীর মধ্যবর্তী অংশটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসূত্র (সহিহ ইসনাদ) সম্বলিত সংবাদ, এর পরবর্তী অংশ দেখুন।

(৩) উটকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য চালিত করা।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وشرب أصحابه، واستسقوا حتى ملأوا أسقيتهم. ثم دعا قبائل قريش، وهم ينظرون إليهم في جميع هذه الأحوال.

فقال: هلموا إلى الماء، فقد سقانا الله، فجاءوا فشربوا واستقوا كلهم. ثم قالوا: قد والله قضي لك علينا، والله ما نخاصمك في زمزم أبدًا، إن الذي سقاك هذا الماء بهذه الفلاة (1) هو الذي سقاك زمزم، فارجع إلى سقايتك راشدًا، فرجع ورجعوا معه، ولم يصلوا إلى الكاهنة، وخلوا بينه وبين زمزم) (2).

رجع عبد المطلب بقسمة الله لا بقسمة الكاهنة وتمتماتها .. وأرجع الله بنبع الماء البارد الحياة إلى جثث التحفت بقبورها .. وقادتهم ناقة عبد المطلب إلى مكة يحملون على عيسهم بعض الماء والتسليم بحق عبد المطلب وزعامته. إنه الآن يتولى سقاية زمزم .. بئر جده إسماعيل عليه السلام.
(1) الأرض التي لا ماء فيها.

(2) ما بين الأقواس خبر صحيح الإسناد إلى علي بن أبي طالب، رواه لنا ابن إسحاق فقال: حدثي يزيد بن أبي حبيب عن مرثد بن عبد الله اليزني، عن عبد الله بن زرير، إنه سمع علي ابن أبي طالب رضي الله عنه، قال: قال عبد المطلب بن هاشم: إني لنائم في الحجر، إذ أتاني آت فقال لي: احفر طيبة. قلت: وما طيبة؟ ثم ذهب عني، فلما كان الغد رجعت إلي مضجعي فنمت فيه فجاءني فقال: احفر المضنونة. قلت: وما المضنونة … إلخ. انظر سيرة ابن كثير (1/ 167) ودلائل النبوة (1/ 93). وإسناد ابن إسحاق قوي: يزيد بن أبي حبيب شيخ ابن إسحاق: ثقة فقيه من رجال الشيخين، انظر تقريب التهذيب (2/ 363). ومرثد بن عبد الله اليزني شيخ ليزيد، انظر التهذيب (10/ 82) وهو ثقة أيضًا وفقيه. انظر تقريب التهذيب (2/ 236). وأما عبد الله بن زرير فهو تابعي ثقة، انظر التقريب (1/ 415) والتهذيب (10/ 82) والتهذيب أيضًا (5/ 216) علي رضي الله عنه لم يدرك جده فهو مرسل سمعه من أحد أعمامه أو غيرهم.
তাঁর সঙ্গীরা পান করলেন এবং তারা পানি সংগ্রহ করলেন যাতে তাদের মশকগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি কুরাইশ গোত্রগুলোকে আহ্বান করলেন, আর তারা এই পুরো সময়টা তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।

তিনি বললেন: "পানির দিকে এসো, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের পান করিয়েছেন।" ফলে তারা এল এবং সবাই পান করল ও পানি সংগ্রহ করল। এরপর তারা বলল: "আল্লাহর কসম, আমাদের ওপর আপনার শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, আমরা আর কখনোই আপনার সাথে জমজম নিয়ে বিবাদ করব না। নিশ্চয়ই যিনি আপনাকে এই নির্জন মরুপ্রান্তরে (১) পানি পান করিয়েছেন, তিনিই আপনাকে জমজম দান করেছেন। সুতরাং আপনি সঠিক পথে আপনার পানীয় সরবরাহের দায়িত্বে ফিরে যান।" এরপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তারাও তাঁর সাথে ফিরে এল। তারা সেই গণক মহিলার কাছে পৌঁছায়নি এবং তারা তাঁর ও জমজমের মধ্যবর্তী বাধা সরিয়ে দিল। (২)

আব্দুল মুত্তালিব ফিরে এলেন আল্লাহর বণ্টনের মাধ্যমে, কোনো গণক মহিলার বণ্টন বা তার অস্পষ্ট মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নয়... আর আল্লাহ ঠান্ডা পানির প্রস্রবণের মাধ্যমে সেই দেহগুলোতে প্রাণের সঞ্চার করলেন যা কবরের চাদর মুড়ি দিয়েছিল... আব্দুল মুত্তালিবের উষ্ট্রী তাদের মক্কার দিকে নিয়ে চলল; তারা তাদের ধূসর বর্ণের উটের পিঠে বহন করছিল কিছু পানি এবং আব্দুল মুত্তালিবের অধিকার ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য। তিনি এখন থেকে জমজমের পানি পানের দায়িত্বে নিয়োজিত হলেন... যা ছিল তাঁর পিতামহ ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর কূপ।
(১) এমন ভূমি যেখানে কোনো পানি নেই।

(২) বন্ধনীর মধ্যবর্তী অংশটি আলী ইবনে আবি তালিব পর্যন্ত সহীহ সূত্রে বর্ণিত একটি তথ্য। ইবনে ইসহাক এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমার কাছে মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জুরার থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে, আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম বলেছেন: "আমি হিজরে (হাতীমে) ঘুমাচ্ছিলাম, তখন এক আগন্তুক আমার কাছে এসে বললেন: 'ত্বয়্যিবা' খনন করো। আমি বললাম: ত্বয়্যিবা কী? তারপর তিনি চলে গেলেন। পরের দিন আমি যখন পুনরায় আমার শয্যায় ফিরে ঘুমালাম, তিনি আবার এলেন এবং বললেন: 'মাদনূনা' খনন করো। আমি বললাম: মাদনূনা কী? ... ইত্যাদি।" দেখুন সীরাতে ইবনে কাসীর (১/১৬৭) এবং দালায়েলুন নুবুওয়াহ (১/৯৩)। ইবনে ইসহাকের এই সনদটি শক্তিশালী: ইবনে ইসহাকের শিক্ষক ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ফকিহ এবং শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত, দেখুন তাকরীবুত তাহযীব (২/৩৬৩)। ইয়াজিদের শিক্ষক মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানীও একজন নির্ভরযোগ্য ও ফকিহ ব্যক্তি, দেখুন আত-তাহযীব (১০/৮২) এবং তাকরীবুত তাহযীব (২/২৩৬)। আর আব্দুল্লাহ ইবনে জুরার একজন নির্ভরযোগ্য তাবিঈ, দেখুন তাকরীব (১/৪১৫) এবং আত-তাহযীব (১০/৮২, ৫/২১৬)। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দাদাকে সরাসরি পাননি, তাই এটি একটি মুরসাল বর্ণনা যা তিনি তাঁর কোনো চাচা বা অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
جده إسماعيل صاحب البئر .. وأول من شرب منها رغم أنه لم يحفرها لكنها من أجله تفجرت.

جده إسماعيل هو أول من جاء مكة من أجداد عبد الطلب .. بل هو أول من سكن مكة ..

عندما وصل إليها كان طفلًا محمولًا .. كان رضيعًا .. لكن مكة كانت أكثر طفولة …

كانت أرضًا عراء .. جدرانها جبال .. كانت واديًا بلا شجر بلا حياة .. بلا بشر .. تمر بها القوافل فلا تتوقف .. والرياح أيضًا كانت تمر فلا تتوقف ..

لكن رفقة طيبة توقفت .. رفقة طاهرة قادمة من البعيد البعيد .. تعلو مع الدروب وتنخفض .. تعبر الفيافي والقفار .. تعبر المفاوز والرمال وتشق أمواج السراب.

امرأة طاهرة .. اسمها: هاجر .. جاء بها زوجها الخليل عليه السلام.

[جاء بها إبراهيم وبابنها إسماعيل وهي ترضعه حتى وضعهما عند البيت (1) عند دوحة (2) فوق زمزم في أعلى المسجد وليس بمكة يومئذ أحد وليس بها ماء فوضعهما هنالك ووضع عندهما جرابًا فيه تمر وسِقاء فيه ماء، ثم قفى إبراهيم منطلقًا، فتبعته أم إسماعيل؛ فقالت: يا إبراهيم، أين تذهب وتتركنا بهذا الوادي الذي ليس به أنيس ولا شيء؟ فقالت له ذلك مرارًا وجعل لا يلتفت إليها .. فقالت له: الله أمرك بهذا؟ قال: نعم. قالت: إذًا لا يضيعنا. ثم رجعت. فانطلق إبراهيم حتى إذا كان عند
(1) قبل أن يبنى. والمقصود هنا موقع البيت الحرام- الكعبة.

(2) الدوحة: الشجرة العظيمة.
তাঁর পিতামহ ইসমাইল সেই কূপের অধিকারী... এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তা থেকে পান করেছিলেন, যদিও তিনি তা খনন করেননি কিন্তু সেটি তাঁর কল্যাণেই উৎসারিত হয়েছিল।

তাঁর পিতামহ ইসমাইলই ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের পূর্বপুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম মক্কায় আগমনকারী... বরং তিনিই ছিলেন মক্কার প্রথম আদিবাসী...

যখন তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন কোলঘেঁষা এক শিশু... তিনি ছিলেন এক দুগ্ধপোষ্য শিশু... কিন্তু মক্কা তখন আরও বেশি নবীন ছিল …

সেটি ছিল এক জনশূন্য ঊষর ভূমি... যার প্রাচীর ছিল পাহাড়সমূহ... সেটি ছিল এক বৃক্ষহীন, জীবনহীন উপত্যকা... জনমানবহীন... কাফেলাগুলো সেখান দিয়ে পার হয়ে যেত কিন্তু থামত না... বাতাসও প্রবাহিত হয়ে চলে যেত কিন্তু কোথাও থমকাত না...

কিন্তু এক পুণ্যবান কাফেলা সেখানে থেমেছিল... এক পবিত্র যাত্রীদল যারা সুদূর থেকে এসেছিল... যারা বন্ধুর পথ ধরে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসছিল... যারা মরুপ্রান্তর ও নির্জন ভূমি পাড়ি দিচ্ছিল... যারা প্রান্তর ও বালুকাভূমি অতিক্রম করে মরীচিকার তরঙ্গ ভেদ করে অগ্রসর হচ্ছিল।

এক পবিত্র নারী... তাঁর নাম: হাজেরা... তাঁর স্বামী খলীল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন।

[ইব্রাহিম তাঁকে এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে এলেন, এমতাবস্থায় যে মা তাঁকে স্তন্যদান করাচ্ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে (কা'বা) ঘরের (১) কাছে একটি বিশাল বৃক্ষের (২) পাশে জমজম কূপের উপরে মসজিদের উঁচু স্থানে রেখে দিলেন। তখন মক্কায় কোনো মানুষ ছিল না এবং সেখানে কোনো পানিও ছিল না। তিনি তাঁদের সেখানে রেখে দিলেন এবং তাঁদের পাশে একটি খেজুরভর্তি চামড়ার থলে এবং পানিভর্তি একটি মশক রেখে দিলেন। অতঃপর ইব্রাহিম প্রস্থান করার জন্য ফিরে চললেন, তখন ইসমাইলের মা তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন: হে ইব্রাহিম, আপনি আমাদের এই জনমানবহীন ও নির্জন উপত্যকায় রেখে কোথায় চলে যাচ্ছেন? তিনি তাঁকে বারবার এ কথা বললেন, কিন্তু ইব্রাহিম তাঁর দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন না। তখন হাজেরা তাঁকে বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাজেরা বললেন: তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন। ইব্রাহিম চলতে থাকলেন এবং যখন তিনি পাহাড়ের মোড়ের কাছে পৌঁছালেন...
(১) নির্মাণের পূর্বে। এখানে পবিত্র ঘর তথা কা'বার স্থান বোঝানো হয়েছে।

(২) দাওহা (Dawha): বিশাল বড় বৃক্ষ।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
الثنية حيث لا يرونه استقبل بوجهه البيت ثم دعا بهؤلاء الدعوات ورفع يديه فقال: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ} (1).

وجعلت أم إسماعيل ترضع إسماعيل وتشرب من ذلك الماء، حتى إذا نفذ ما في السقاء عطشت وعطش ابنها، وجعلت تنظر إليه، يتلوى، يتلبط، فانطلقت كراهية أن تنظر إليه فوجدت (الصفا) (2) أقرب جبل في الأرض يليها فقامت عليه، ثم استقبلت الوادي تنظر هل ترى أحدًا، فلم تر أحدًا. فهبطت من الصفا حتى إذا بلغت بطن الوادي (3) رفعت درعها (4) ثم سعت سعي الإنسان المجهود، حتى جاوزت الوادي ثم أتت (المروة) (5) فقامت عليها ونظرت هل ترى أحدًا، فلم تر أحدًا، فعلت ذلك سبع مرات.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: "فلذلك سعى الناس بينهما".

فلما أشرفت على المروة سمعت صوتًا فقالت: صه .. فإذا هي بالملك عند موضع زمزم، فبحث بعقبه -أو بجناحه- حتى ظهر الماء، فجعلت تحوضه (6)، وتقول بيدها هكذا .. وجعلت تغرف من الماء في سقائها وهو يفور بعد ما تغرف.
(1) سورة إبراهيم: الآية 37.

(2) هو جبل الصفا الذي يبدأ الحاج منه السعي.

(3) وهو ما بين العلامات الخضر الموجودة داخل المسعى الآن.

(4) درع المرأة هو قميصها.

(5) جبل أخر.

(6) تجمعه.
যখন তিনি পাহাড়ের বাঁকে পৌঁছালেন যেখানে তারা তাঁকে আর দেখতে পাচ্ছিল না, তখন তিনি বায়তুল্লাহর দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর উভয় হাত তুলে এই প্রার্থনাগুলো করলেন: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে তোমার পবিত্র ঘরের নিকট এক শস্যহীন উপত্যকায় বসতি স্থাপন করালাম; হে আমাদের প্রতিপালক! যেন তারা সালাত (নামাজ) কায়েম করে। অতএব তুমি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং তাদেরকে ফলমূল দ্বারা রিজিক দান করো, যেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।" (১)।

ইসমাইলের মাতা তাকে দুধ পান করাতে লাগলেন এবং নিজে সেই পানি পান করতে থাকলেন। অবশেষে মশকের পানি শেষ হয়ে গেলে তিনি পিপাসার্ত হলেন এবং তাঁর পুত্রটিও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। তিনি পুত্রের দিকে তাকাচ্ছিলেন, শিশুটি তৃষ্ণায় ছটফট করছিল। এ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন এবং সাফা পাহাড়কে (২) তাঁর নিকটতম পাহাড় হিসেবে পেয়ে তার ওপর আরোহণ করলেন। অতঃপর তিনি উপত্যকার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলেন কাউকে দেখা যায় কি না, কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন তিনি সাফা থেকে নামলেন এবং যখন উপত্যকার নিম্নভূমিতে (৩) পৌঁছালেন, তখন নিজের কামিজের (৪) আঁচল তুলে ধরলেন এবং একজন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত মানুষের ন্যায় দৌড়াতে লাগলেন। উপত্যকাটি অতিক্রম করে তিনি মারওয়া পাহাড়ে (৫) আরোহণ করলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি কাউকে দেখা যায় কি না তা দেখার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এভাবে তিনি সাতবার দৌড়ঝাঁপ করলেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই কারণেই মানুষ এই পাহাড় দুটির মাঝে সায়ি (দৌড়াদৌড়ি) করে থাকে।"

যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ের ওপর উঠলেন, তখন একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি নিজেকে বললেন: "চুপ করো!" অমনি তিনি জমজমের স্থানে একজন ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি—অথবা ডানা—দিয়ে মাটি খুঁড়লেন, ফলে পানি দৃশ্যমান হলো। তিনি পানিকে চারদিক থেকে ঘিরে বাঁধ দিতে লাগলেন (৬) এবং হাতের ইশারায় তা নির্দেশ করলেন। তিনি অঞ্জলি ভরে মশকে পানি ভরতে লাগলেন, আর পানি তোলার সাথে সাথেই তা পুনরায় উথলে উঠতে লাগল।
(১) সূরা ইব্রাহিম: আয়াত ৩৭।

(২) এটি সাফা পাহাড় যেখান থেকে হাজিগণ সায়ি শুরু করেন।

(৩) এটি বর্তমানে সায়ি করার স্থানের (মাসআ) ভেতরে অবস্থিত সবুজ চিহ্নের মধ্যবর্তী অংশ।

(৪) নারীর 'দির' বলতে তার কামিজ বা জামাকে বোঝায়।

(৫) অপর একটি পাহাড়।

(৬) পানিকে একত্র করা।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يرحم الله أم إسماعيل، لو تركت زمزم -لو لم تغرف من الماء- لكانت زمزم عينًا معينًا".

فشربت وأرضعت ولدها. فقال لها الملك: لا تخافي الضيعة فإن ها هنا بيتًا لله، يبنيه هذا الغلام وأبوه، وإن الله لا يضيع أهله.

وكان البيت مرتفعًا من الأرض كالرابية، تأتيه السيول فتأخذ عن يمينه وعن شماله .. فكانت كذلك حتى مرت بهم رِفْقَةٌ من جُرْهُم، أو أهل بيت من جرهم (1)، مقبلين من طريق كداء، فنزلوا في أسفل مكة، فرأوا طائرًا عائفًا فقالوا: إن هذا الطير ليدور على ماء، لعهدنا بهذا الوادي وما فيه ماء، فأرسلوا جريًا أو جريين (2)، فإذا هم بالماء فرجعوا فأخبروهم بالماء فأقبلوا. وأم إسماعيل عند الماء، فقالوا: أتأذنين لنا أن ننزل عندك؟ قالت: نعم .. ولكن لا حق لكم في الماء عندنا. قالوا: نعم.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: "فألفى ذلك أم إسماعيل وهي تحب الأنس، فنزلوا وأرسلوا إلى أهليهم فنزلوا معهم، حتى إذا كان بها أهل أبيات منهم". وشب الغلام وتعلم العربية منهم، وأنفسهم، وأعجبهم حين شب، فلما أدرك زوجوه امرأة منهم.

وماتت أم إسماعيل، فجاء إبراهيم بعد ما تزوج إسماعيل يطالع تركته، فلم يجد إسماعيل، فسأل امرأته عنه، فقالت: خرج يبتغي لنا. ثم سألها عن عيشتهم وهيئتهم، فقالت: نحن بِشرٍ، نحن في ضيق وشدة وشكت إليه. قال: فإذا جاء زوجك فاقرئي عليه السلام وقولي له يغير عتبة بابه.
(1) جرهم حي من اليمن نزلوا مكة تزوج فيها إسماعيل، ومع مرور السنين ألحدوا فأبادهم الله (لسان العرب).

(2) الجري هو الرسول.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ইসমাঈলের মাতার প্রতি রহম করুন; তিনি যদি যমযমকে ছেড়ে দিতেন—অর্থাৎ যদি তিনি পানি সেঁচে না নিতেন—তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝরনায় পরিণত হতো।"

অতঃপর তিনি পান করলেন এবং তাঁর সন্তানকে দুগ্ধপান করালেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেন: আপনারা ধ্বংস হওয়ার ভয় করবেন না, কেননা এখানে আল্লাহর একটি ঘর রয়েছে যা এই বালক এবং তাঁর পিতা নির্মাণ করবেন; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আপনজনদের ধ্বংস করেন না।

সেই ঘরের স্থানটি ভূমি থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিল, প্লাবন এলে তা এর ডানে ও বামে দিয়ে প্রবাহিত হতো। অবস্থা এভাবেই চলছিল, পরিশেষে জুরহুম গোত্রের একদল যাত্রী অথবা জুরহুমের একটি পরিবার (১) ‘কাদা’ নামক পথ দিয়ে আসার সময় তাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করল। তারা মক্কার নিচু উপত্যকায় অবতরণ করল। সেখানে তারা একটি পাখিকে চক্রাকারে উড়তে দেখে বলল: এই পাখিটি নিশ্চয়ই পানির ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে, অথচ আমাদের জানামতে এই উপত্যকায় কোনো পানি নেই। তখন তারা একজন বা দুইজন বার্তাবাহক (২) পাঠাল। তারা সেখানে গিয়ে পানির সন্ধান পেল এবং ফিরে এসে তাদের সংবাদ দিল। তখন তারা অগ্রসর হলো। সেই সময় ইসমাঈলের মাতা পানির নিকট অবস্থান করছিলেন। তারা বলল: আপনি কি আমাদের আপনার সান্নিধ্যে অবস্থান করার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে এই পানির ওপর তোমাদের কোনো মালিকানা স্বত্ব থাকবে না। তারা বলল: আমরা তাতে সম্মত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই বিষয়টি ইসমাঈলের মাতার নিকট কাঙ্ক্ষিত ছিল, কারণ তিনি মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করতেন। তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের স্বজনদের নিকট সংবাদ পাঠাল, ফলে তারাও তাদের সাথে এসে বসবাস শুরু করল। এমনকি সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবারের বসতি গড়ে উঠল।" বালকটি বড় হলেন এবং তাদের নিকট থেকে আরবি ভাষা শিখলেন। তিনি যৌবনে পদার্পণ করলে তাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেন। অতঃপর তিনি যখন পূর্ণ বয়সে উপনীত হলেন, তখন তারা তাদের গোত্রের একটি মেয়ের সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করল।

ইতোমধ্যে ইসমাঈলের মাতার মৃত্যু হলো। ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বিবাহের পর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর রেখে আসা পরিবারের অবস্থা দেখতে আসলেন। তিনি ইসমাঈলকে পেলেন না, তাই তাঁর স্ত্রীর নিকট তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলেন। স্ত্রী বললেন: তিনি আমাদের জন্য জীবিকার সন্ধানে বের হয়েছেন। এরপর ইব্রাহিম তাদের জীবনযাপন ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে স্ত্রী বললেন: আমরা অতি কষ্টে আছি, আমরা অনটন ও সংকটের মধ্যে রয়েছি—এভাবে তিনি তাঁর নিকট অভিযোগ পেশ করলেন। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন: তোমার স্বামী যখন ফিরবে, তখন তাকে আমার সালাম জানিও এবং তাকে বলো সে যেন তার ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন করে ফেলে।
(১) জুরহুম হলো ইয়ামেনের একটি গোত্র যারা মক্কায় বসতি স্থাপন করেছিল এবং ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) তাদের মধ্যে বিবাহ করেছিলেন। কালক্রমে তারা সত্যবিচ্যুত হলে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেন (লিসানুল আরব)।

(২) ‘জারি’ (Jari) অর্থ হলো বার্তাবাহক বা দূত।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
فلما جاء إسماعيل كأنه آنس شيئًا فقال: هل جاءكم من أحد؟ فقالت: نعم جاءنا شيخ كذا وكذا، فسألنا عنك فأخبرته، وسألني: كيف عيشنا؟ فأخبرته أنا في جهد وشدة. قال: فهل أوصاك بشىء؟ قالت: نعم .. أمرني أن أقرأ عليك السلام، ويقول لك: غيِّرْ عتبة بابك. قال: ذاك أبي .. وقد أمرني أن أفارقك فالحقي بأهلك، وطلقها وتزوج منهم أخرى.

ولبث عنهم إبراهيم ما شاء الله، ثم أتاهم بعد فلم يجده، فدخل على امرأته فسألها عنه: فقالت: خرج يبتغي لنا. قال: كيف أنتم؟ وسألها عن عيشهم وهيئتهم .. فقالت: نحن بخير وسَعَة، وأثنت على الله عز وجل، فقال: ما طعامكم؟ قالت: اللحم. قال: ما شرابكم؟ قالت: الماء. قال: اللَّهم بارك لهم في اللحم والماء.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: "ولم يكن لهم يومئذ حَبٌّ .. ولو كان لهم حب لدعا لهم فيه".

قال ابن عباس: فهما لا يخلو عليهما (1) أحد بغير مكة إلا لم يوافقاه.

قال إبراهيم عليه السلام: فإذا جاء زوجك فاقرئي عليه السلام ومريه: يثبت عتبة بابه. فلما جاء إسماعيل قال: هل أتاكم من أحد؟ قالت: نعم. أتانا شيخ حسن الهيئة -وأثنت عليه- فسألني عنك فأخبرته .. فسألى: كيف عيشنا؟ فأخبرته أنَّا بخير. قال: فأوصاك بشيء؟ قالت: نعم. وهو يقرأ عليك السلام. ويأمرك أن تثبت عتبة بابك. قال: ذاك أبي، وأنت العتبة .. أمرني أن أمسكك.
(1) أي اللحم والماء.
অতঃপর যখন ইসমাইল আসলেন, তিনি যেন কিছু একটা অনুভব করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল?” স্ত্রী বললেন: “হ্যাঁ, আমাদের কাছে অমুক অমুক আকৃতির এক বৃদ্ধ এসেছিলেন। তিনি আপনার সম্পর্কে আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তাঁকে জানালাম। এরপর তিনি আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তাঁকে জানালাম যে আমরা অনেক কষ্টে ও অভাবের মধ্যে আছি।” ইসমাইল জিজ্ঞেস করলেন: “তিনি কি তোমাকে কোনো উপদেশ দিয়েছেন?” স্ত্রী বললেন: “হ্যাঁ, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আপনাকে সালাম পৌঁছাতে এবং আপনাকে বলতে যে—আপনি যেন আপনার ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন করেন।” ইসমাইল বললেন: “তিনি আমার পিতা। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে ত্যাগ করতে। সুতরাং তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও।” অতঃপর তিনি তাঁকে তালাক দিলেন এবং সেই গোত্র থেকেই অন্য একজনকে বিবাহ করলেন।

এরপর ইব্রাহিম তাঁদের থেকে দূরে থাকলেন যতক্ষণ আল্লাহ চাইলেন। তারপর তিনি পুনরায় তাঁদের কাছে আসলেন কিন্তু ইসমাইলকে পেলেন না। তিনি তাঁর (ইসমাইলের) স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী বললেন: “তিনি আমাদের জন্য জীবিকার সন্ধানে বের হয়েছেন।” ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা কেমন আছো?” তিনি তাঁদের জীবনযাপন ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। স্ত্রী বললেন: “আমরা কল্যাণ ও সচ্ছলতার মধ্যে আছি” এবং তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন। ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের প্রধান খাদ্য কী?” তিনি বললেন: “মাংস।” ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের পানীয় কী?” তিনি বললেন: “পানি।” তখন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) দোয়া করলেন: “হে আল্লাহ! তাঁদের মাংস ও পানিতে বরকত দান করুন।”

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সে সময়ে তাঁদের নিকট কোনো শস্যদানা ছিল না। যদি তাঁদের নিকট শস্যদানা থাকতো, তবে তিনি সেটিতেও বরকতের দোয়া করতেন।”

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: মক্কা ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে কেউ কেবল এই দুটির (১) ওপর নির্ভর করলে তা তার স্বাস্থ্যের অনুকূল হবে না।

ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন: “যখন তোমার স্বামী আসবে, তাকে আমার সালাম জানাবে এবং তাকে নির্দেশ দিবে যেন সে তার ঘরের চৌকাঠ অটুট রাখে।” অতঃপর যখন ইসমাইল আসলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল?” স্ত্রী বললেন: “হ্যাঁ, আমাদের কাছে অত্যন্ত সুন্দর অবয়বের একজন বৃদ্ধ এসেছিলেন—এবং স্ত্রী তাঁর প্রশংসা করলেন—তিনি আমার কাছে আপনার সম্পর্কে জানতে চাইলেন, আমি তাঁকে জানালাম। এরপর তিনি আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানালাম যে আমরা ভালো আছি।” ইসমাইল জিজ্ঞেস করলেন: “তিনি কি তোমাকে কোনো উপদেশ দিয়েছেন?” স্ত্রী বললেন: “হ্যাঁ, তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন আপনার ঘরের চৌকাঠ অটুট রাখতে।” ইসমাইল বললেন: “তিনি আমার পিতা, আর তুমিই সেই চৌকাঠ। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে নিজ বিবাহ বন্ধনে রেখে দিতে।”
(১) অর্থাৎ মাংস ও পানি।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
ثم لبث عنهم ما شاء الله .. ثم جاء بعد ذلك وإسماعيل يبري نبلًا له تحت دوحة قريبًا من زمزم .. فلما رآه قام إليه، فصنعا كما يصنع الوالد بالولد، والولد بالوالد. ثم قال: يا إسماعيل .. إن الله أمرني بأمر. قال: فاصنع ما أمرك به ربك. قال: وتعينني؟ قال: وأعينك. قال: "فإن الله أمرني أن أبني ها هنا بيتًا .. وأشار إلى أكمة (1) مرتفعة على ما حولها".

فعند ذلك رفعا القواعد من البيت، فجعل إسماعيل يأتي بالحجارة وإبراهيم يبني، حتى إذا ارتفع البناء جاء بهذا الحجر فوضعه له .. فقام عليه وهو يبني .. وإسماعيل يناوله الحجارة وهما يقولان:

"ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العلم"

فجعلا يبنيان حتى يدورا حول البيت .. وهما يقولان:

"ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العلم"] (2)

هذه هي قصة قدوم إبراهيم وهاجر وابنهما إسماعيل عليهم الصلاة والسلام .. وهذه هي بداية الكعبة المشرفة التي أمر الله ببنائها. وفي ذلك يقول سبحانه وتعالى: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125) وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ (126) وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (127) رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا
(1) الأكمة الموضع الذي هو أشد ارتفاعًا مما حوله.

(2) رواه البخاري عن ابن عباس.
অতঃপর তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুকাল তাঁদের থেকে দূরে থাকলেন। এরপর তিনি পুনরায় আসলেন, তখন ইসমাইল জমজমের নিকটবর্তী একটি বিশাল বৃক্ষের নিচে বসে তাঁর একটি তীর মেরামত করছিলেন। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁরা উভয়ে তেমন আচরণ করলেন যেমনটি একজন পিতা তাঁর পুত্রের সাথে এবং একজন পুত্র তাঁর পিতার সাথে করে থাকে। অতঃপর তিনি বললেন: হে ইসমাইল, আল্লাহ আমাকে একটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আপনার রব আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করুন। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে সাহায্য করব। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে এখানে একটি গৃহ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন... এবং তিনি পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে উঁচু একটি ঢিবির (১) দিকে ইশারা করলেন।"

সেই মুহূর্তে তাঁরা গৃহের ভিত্তি উত্তোলন করতে লাগলেন; ইসমাইল পাথর নিয়ে আসতেন এবং ইবরাহিম নির্মাণ করতেন। যখন নির্মাণ কাজ উঁচুতে পৌঁছাল, তখন তিনি এই পাথরটি নিয়ে আসলেন এবং তাঁর জন্য সেটি স্থাপন করলেন। তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ করতে থাকলেন এবং ইসমাইল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন তাঁরা উভয়েই বলছিলেন:

"হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"

তাঁরা নির্মাণ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁরা গৃহের চারপাশ প্রদক্ষিণ করলেন এবং তাঁরা বলছিলেন:

"হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" (২)

এটি হলো ইবরাহিম, হাজেরা এবং তাঁদের পুত্র ইসমাইল (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর আগমনের কাহিনী। আর এটিই হলো মহিমান্বিত কাবার সূচনা যা নির্মাণের নির্দেশ আল্লাহ প্রদান করেছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো, যখন আমি এই গৃহকে মানুষের জন্য বারবার ফিরে আসার স্থান ও নিরাপত্তার আলয় করলাম এবং তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে (মাকামে ইবরাহিম) নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। (১২৫) এবং যখন ইবরাহিম বলেছিল: হে আমার রব, একে আপনি এক নিরাপদ শহর বানান এবং এর অধিবাসীদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তাদেরকে ফলমূলের রিজিক দান করুন। তিনি (আল্লাহ) বললেন: আর যে কুফরি করবে আমি তাকেও সামান্য জীবনোপকরণ দেব, অতঃপর তাকে জাহান্নামের আজাবে বাধ্য করব এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। (১২৬) এবং যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল গৃহের ভিত্তি উত্তোলন করছিল (তখন তারা দোয়া করছিল): হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১২৭) হে আমাদের রব, আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত সৃষ্টি করুন এবং আমাদের (ইবাদতের) নিয়মাবলি দেখিয়ে দিন...
(১) ‘আকামাহ’ (অকমা) হলো এমন স্থান যা তার চারপাশের তুলনায় অধিক উঁচু।

(২) ইবনে আব্বাস থেকে ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (128) رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (1).

وكان لإبراهيم وابنه إسماعيل عليهما السلام قصة أخرى .. ليس فيها بناء .. بل فيها الصبر والدماء .. فقد رأى إبراهيم في منامه أنه يذبح ابنه .. ورؤيا الأنبياء وحي من الله .. فكانت هذه الأحداث التي يقول الله عنها: {فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (102) فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ (103) وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ (104) قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (105) إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ (106) وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ (107)}. (2)

وكان هذا الذبح كبشًا افتدى الله به نبيه إسماعيل .. وحفظ به نسله من الانقطاع.

سافر إبراهيم .. وماتت هاجر .. وبقي إسماعيل في مكة حتى مات .. ودفن هناك .. ومرت الأيام على بيت الله وكعبته، وسلالة إسماعيل تحيط بها وتوحد الله .. وتحج بيته الحرام لا تشرك به شيئًا.

نعم لا تشرك به شيئًا .. حتى خرج ذلك المخرب .. ذلك الشيطان المسمى بـ: عمرو بن لحي .. فأعاد غرس الشك في أرض مكة وقلوب أهلها .. وانحرف بهم وبغيرهم عن توحيد الله الذي من أجله بعثت كل الرسل .. وأنزلت كل الكتب السماوية ..

(عمرو بن لحي بن عامر الخزاعي، يجر قصبه في النار .. وكان أول
(1) سورة البقرة: الآيات 125 - 129.

(2) سورة الصافات: الآية 107.
...আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি (মানাসিক) এবং আমাদের তওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (১২৮) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (১)।

ইব্রাহিম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর আরেকটি কাহিনী ছিল... যাতে কোনো নির্মাণ ছিল না... বরং ছিল ধৈর্য এবং রক্ত (কোরবানি)... ইব্রাহিম স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাঁর পুত্রকে জবাই করছেন... আর নবীদের স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাদেশ (ওহি) হয়ে থাকে... সুতরাং এভাবেই সেই ঘটনাগুলো আবর্তিত হয়েছিল যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যখন সে তাঁর সাথে কাজ করার বয়সে উপনীত হলো, তখন তিনি বললেন, 'হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে আমি তোমাকে জবাই করছি, এখন তুমি ভেবে দেখ তোমার অভিমত কী?' সে বলল, 'হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই পালন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।' (১০২) যখন তারা উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং তিনি তাকে ললাটে (শুয়ানোর জন্য) কাত করলেন (১০৩), তখন আমরা তাঁকে সম্বোধন করে বললাম, 'হে ইব্রাহিম! (১০৪) তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ।' এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। (১০৫) নিশ্চয়ই এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। (১০৬) আর আমরা এক মহান কোরবানির বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। (১০৭)}। (২)

আর এই কোরবানিটি ছিল একটি দুম্বা, যার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁর নবী ইসমাইলকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁর বংশধারাকে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন।

ইব্রাহিম ভ্রমণ করলেন... হাজেরা ইন্তেকাল করলেন... এবং ইসমাইল তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করলেন... সেখানেই তাঁকে দাফন করা হলো... আল্লাহর ঘর এবং তাঁর কাবার উপর দিয়ে দিন অতিবাহিত হতে লাগল, আর ইসমাইলের বংশধরগণ একে ঘিরে থাকল এবং আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করতে থাকল... তারা তাঁর পবিত্র ঘরের হজ পালন করত এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করত না।

হ্যাঁ, তারা কোনো কিছুর শরিক করত না... যতক্ষণ না সেই ধ্বংসকারী আবির্ভূত হলো... সেই শয়তান যার নাম: আমর বিন লুহাই... সে মক্কার জমিনে এবং সেখানকার অধিবাসীদের অন্তরে পুনরায় সন্দেহের বীজ বপন করল... সে তাদের এবং অন্যান্যদের আল্লাহর সেই তাওহিদ (একত্ববাদ) থেকে বিচ্যুত করল যার জন্য সকল রাসূল প্রেরিত হয়েছিলেন... এবং সকল আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল...

(আমর বিন লুহাই বিন আমির আল-খুজায়ি জাহান্নামের আগুনে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে বেড়াবে... এবং সে-ই প্রথম ব্যক্তি ছিল যে...
(১) সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১২৫ - ১২৯।

(২) সূরা আস-সাফফাত: আয়াত ১০৭।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
من سيب السوائب وبحر البحيرة) (1) وهي شياه وبهائم تترك للآلهة لا تُمَسُّ ولا تُحْلَب ..

غصَّت مكة بالشرك والأصنام .. وشكت الكعبة مما نصب على ظهرها .. وانحرف بنو إسماعيل عن توحيد ربهم الواحد الأحد وعن ملة أبيهم إبراهيم .. وكان آخرهم: عبد المطلب الذي حاز الزعامة والشرف .. وحاز بئر زمزم .. ولكنه لم يحز بعد كل أحلامه .. لقد كان يحلم وينذر ..

 

‌‌كان يحلم بعشرة وذبيح

تَلَفَّت عبد المطلب فوجد الناس تنظر إليه .. تحبه وتجله وتحمله في قلوبها .. وتَلَفَّت ثانية وثالثة .. ونظر وراءه فلم يجد خلفه إلا ابنه الحارث .. فرفع رأسه إلى السماء يخاطب خالقها الكريم الذي ساق له المجد .. أن يقر عينه بأخوةٍ للحارث، وظل يدعو ويدعو .. يخاطب الناس حوله .. يشهدهم ويقول لهم إنه (قد نذر إن توافى له عشرة رهط (2) أن ينحر أحدهم، فحقق الله له ما أراد، ولما توافى العشرة أقرع بينهم أيهم ينحر، فطارت القرعة على عبد الله بن عبد المطلب - وكان أحب الناس إلى عبد المطلب.

فقال عبد المطلب: اللَّهم هو أو مائة من الإبل.

ثم أقرع بينه وبن الإبل، فطارت القرعة على المائة من الإبل) (3)
(1) حديث صحيح رواه البخاري ومسلمٌ. انظر صحيح الجامع الصغير للإ مام الألباني (653).

(2) أي رزقه بعشرة أبناء.

(3) إسناده حسن، ورواه ابن جرير في تاريخه (2/ 239): حدثي يونس بن عبد الأعلى قال: أخبرنا ابن وهب، قال: أخبرنا يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، عن قبيصة بن ذؤيب أنه =
(যে ‘সাওয়াইব’ প্রথা চালু করেছিল এবং ‘বাহীরা’ উৎসর্গ করেছিল) (১) এগুলো ছিল এমন সব মেষ ও গবাদি পশু যা দেবদেবীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হতো, যেগুলোকে কেউ স্পর্শ করত না এবং যেগুলোর দুধ দোহন করা হতো না...

মক্কা শিরক ও মূর্তিপূজায় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল... কাবা তার পিঠের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মূর্তিসমূহ নিয়ে ফরিয়াদ করছিল... ইসমাইলের বংশধরেরা তাদের একক ও অদ্বিতীয় রবের তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং তাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ (মিল্লাত) থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল... তাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন আব্দুল মুত্তালিব, যিনি নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন... তিনি যমযম কূপের কর্তৃত্ব পেয়েছিলেন... কিন্তু তার সকল স্বপ্ন তখনও সার্থক হয়নি... তিনি স্বপ্ন দেখতেন এবং মানত করতেন...

 

‌‌তিনি দশজন পুত্র এবং এক কুরবানির স্বপ্ন দেখতেন

আব্দুল মুত্তালিব চারদিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলেন লোকেরা তার দিকে তাকিয়ে আছে... তারা তাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে এবং অন্তরে স্থান দেয়... তিনি দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বার চারপাশে তাকালেন... নিজের পেছনে তাকিয়ে দেখলেন তার পুত্র হারিস ছাড়া আর কেউ নেই... তখন তিনি আকাশের দিকে মস্তক উত্তোলন করে মহান স্রষ্টার কাছে আরজি পেশ করলেন—যিনি তাকে এই গৌরব দান করেছেন—যাতে তিনি হারিসের জন্য কিছু ভাই দান করে তার চক্ষু শীতল করেন। তিনি অনবরত প্রার্থনা করতে থাকলেন... চারপাশের মানুষদের সম্বোধন করলেন... তাদের সাক্ষী রেখে বললেন যে, (তিনি মানত করেছেন যে যদি তার দশজন পুত্র [রাহত] (২) পূর্ণ হয় তবে তিনি তাদের একজনকে জবেহ করবেন)। আল্লাহ তাকে তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করলেন। যখন দশজন পুত্র পূর্ণ হলো, তখন তাদের মধ্যে কাকে জবেহ করা হবে তা নির্ধারণ করতে তিনি লটারি (কুরাহ) করলেন। লটারি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের নামে উঠল—যিনি ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

তখন আব্দুল মুত্তালিব বললেন: হে আল্লাহ! হয় তাকে (জবেহ করা হবে), অথবা একশত উট (উৎসর্গ করা হবে)।

এরপর তিনি আব্দুল্লাহ এবং উটগুলোর মধ্যে লটারি করলেন, তখন লটারি একশত উটের পক্ষে পড়ল) (৩)
(১) এটি একটি সহিহ হাদিস যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ইমাম আলবানী রহ.-এর সহিহুল জামিউস সাগির (৬৫৩)।

(২) অর্থাৎ আল্লাহ তাকে দশজন পুত্র সন্তান দান করেছেন।

(৩) এর বর্ণনাসূত্র (ইসনাদ) হাসান। ইবনে জারির তার ইতিহাসে এটি বর্ণনা করেছেন (২/২৩৯): ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাদের ইবনে শিহাবের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি কাবিসা ইবনে যুইয়াইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
إن الله يعطى بلا ثمن .. يرزق من يشاء بغير حساب .. ليس بحاجة لدماء ذلك الطفل الصغير .. لكن والده شدد فشدد الله عليه .. فأصابه بأغلى ولده فلم ينجه من ورطته إلا مائة من الإبل .. انتشلت ذلك الصغير من السكين ليعيش بقية عمر قصير .. منقوشًا في التاريخ ما بقيت الجبال على ثباتها والأرض على استقرارها.

 

‌‌الزواج

تربى عبد الله ذلك الطفل الوديع في قلب عبد المطلب .. وتربع فيه .. وبلغ مبلغ الرجال دون أن يعرفه قومه بطيش أو سفه .. كأني به هادئ كثير الصمت والتأمل .. مليء بالانتظار .. ليس في حياته ما يثير .. كان كالعالم من حوله ينتظر وينتظر .. ويبحث عن زوجة له في بيوتات مكة ويسأل .. فكانت آمنة بنت وهب بن عبد مناف هي الحبيبة .. وهي الاجابة.

تزوجا .. فكان الحب .. وامتلأ بيتهما الصغير بالبهجة .. وبالشباب الغض الحالم بحياة بيضاء فسيحة .. مليئة بالربيع والأطفال والجمال ..
= أخبره أن امرأة نذرت أن تنحر ابنها عند الكعبة …

شيخ ابن جرير يونس بن عبد الأعلى الصدفي ثقة من رجال مسلم، وشيخه عبد الله بن وهب، أبو محمَّد المصري: ثقة حافظ عابد، انظر التقريب (1/ 460). أما يونس بن يزيد ابن أبي النجار، فهو ثقة، لكن هناك اختلاف في روايته عن الزهرى عند النقاد، فالأغلب يجعله أوثق الناس فيه وبعضهم يرى في رواياته عنه وهمًا، لكن الأرجح ما مال إليه الحافظ ابن حجر في التقريب من أن في روايته وهمًا قليلًا. لا يسقط حديثه بل يجعله حسنًا لذاته ما لم يخالف، وهذا ليس من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم بل هو رواية تاريخية. انظر التهذيب (11/ 447، 448، 449) والتقريب (2/ 381).
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বিনিময় ছাড়াই দান করেন... তিনি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন... সেই ছোট্ট শিশুটির রক্তের তাঁর কোনো প্রয়োজন ছিল না... কিন্তু তার পিতা কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন, তাই আল্লাহও তার ওপর কঠোরতা আরোপ করলেন... ফলে তিনি তাকে তার সবচেয়ে প্রিয় সন্তানের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেললেন। একশটি উট ছাড়া অন্য কিছু তাকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারেনি... যা সেই শিশুকে ছুরির নিচ থেকে রক্ষা করেছিল, যাতে সে তার সংক্ষিপ্ত জীবনের বাকি সময়টুকু বেঁচে থাকতে পারে... যা ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে যতদিন পাহাড়গুলো অটল এবং পৃথিবী স্থিতিশীল থাকবে।

 

‌‌বিবাহ

সেই শান্ত স্বভাবের শিশু আবদুল্লাহ আবদুল মুত্তালিবের হৃদয়ে লালিত-পালিত হয়েছিলেন... এবং সেখানে এক বিশেষ স্থান দখল করেছিলেন। তিনি যৌবনে পদার্পণ করেছিলেন এমনভাবে যে, তাঁর কওম তাঁকে কোনো চপলতা বা নির্বুদ্ধিতার জন্য চিনত না... আমার দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন শান্ত, অধিক নীরব এবং চিন্তাশীল... তিনি যেন এক প্রতীক্ষায় বিভোর ছিলেন... তাঁর জীবনে উত্তেজনাকর তেমন কিছু ছিল না... তিনি যেন তাঁর চারপাশের জগতের মতোই কেবল প্রতীক্ষা করছিলেন... তিনি মক্কার ঘরগুলোতে নিজের জন্য জীবনসঙ্গিনী খুঁজছিলেন এবং খোঁজ নিচ্ছিলেন... অবশেষে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফের কন্যা আমিনা হলেন তাঁর প্রিয়তমা... এবং তাঁর হৃদয়ের কাঙ্ক্ষিত উত্তর।

তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন... সেখানে ভালোবাসার সঞ্চার হলো... তাঁদের ছোট্ট ঘরটি আনন্দ এবং এক শুভ্র ও প্রশস্ত জীবনের স্বপ্নে বিভোর তারুণ্যে ভরে উঠল... যা ছিল বসন্ত, সন্তানাদি এবং সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ...
= তাঁকে জানানো হলো যে, এক নারী কাবার নিকট তার পুত্রকে জবাই করার মানত করেছিল …

ইবনে জারীরের শিক্ষক ইউনুস বিন আবদিল আ'লা আল-সাদাফী নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), যিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণিত বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর তাঁর শিক্ষক আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আবু মুহাম্মদ আল-মিসরী হলেন নির্ভরযোগ্য হাফেজ ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি; দেখুন: আত-তাকরীব (১/৪৬০)। আর ইউনুস বিন ইয়াযিদ ইবনে আবিল নাজ্জার নির্ভরযোগ্য হলেও ইমাম যুহরী থেকে তাঁর বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে তিনি তাঁর বর্ণনায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত, আবার কেউ কেউ তাঁর বর্ণনায় বিভ্রান্তি (ওয়াহম) লক্ষ্য করেছেন। তবে হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে যে মতটির দিকে ঝুঁকেছেন সেটিই অধিক যুক্তিযুক্ত যে, তাঁর বর্ণনায় সামান্য বিভ্রান্তি রয়েছে। এর ফলে তাঁর বর্ণিত হাদিস বর্জনীয় হয় না, বরং অন্য বর্ণনার বিরোধী না হওয়া পর্যন্ত তা হাসান লি-যাতিহি হিসেবে গণ্য হয়। আর এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো হাদিস নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা। দেখুন: আত-তাহযীব (১১/৪৪৭, ৪৪৮, ৪৪৯) এবং আত-তাকরীব (২/৩৮১)।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ولم يكن هذا الشاب يدري أن القضاء أقوى منه .. ومن فدية أبيه .. لم يكن يدري أن تلك الأحلام الراقصة في مخيلته كانت لغيره .. إنها للعالم أجمع .. أما هو فتوشك أن تدلف بيته الصغير سحابة سوداء .. مشبعة بالحزن والدموع والنواح .. فعبد الله الذي فر من الموت بمائة من الإبل يسعى إلى حياضه على واحد منها .. امتطى راحلته وتوجه نحو يثرب .. حيث كان الموت في انتظاره ليسكنه في أحد مقابرها .. بعيدًا عن عبد المطلب .. بعيدًا عن مكة .. بعيدًا عن آمنة الحزينة .. التي كانت تحمل أمانة عبد الله وأحلام عبد الله .. جنينًا يتيم قبل أن يرى هذه الدنيا.

كانت مكة تتساءل: أحقًا مات عبد الله؟

كأني بعبد المطلب والفاجعة أفقدته صوابه يسأل القادمين من يثرب فردًا فردًا .. يعترض قوافلهم .. يتعلق بأزمة مطاياهم .. علّه يسمع تكذيبًا لما سمع .. علّ أحد المسافرين يصيح بوجهه فيقول: أبشر فعبد الله لم يمت ما زال حيًا .. وهو قادم إليك ..

لكن صمت القوافل كان يحمل أنفاس عبد الله الأخيرة تودع هذه الدنيا .. وتودع عبد الطلب .. لينثني ذلك الشيخ الكظيم طاويًا حرقته بين أضلاعه .. يحاول دفع ما به من حزن فتفضحه عيناه أمام آمنة المفجوعة .. فتبكي حبيبها الذي قبض بعيدًا عنها .. وفارقها في وقت كانت تحترق لعودته .. تشتاق لرجوعه محملًا بالحب والهدايا وحكايات السفر.

الحيرة والوجوم يملآن مكة لهفًا على عبد الله .. لكن ذلك لم يدم طويلًا فقد جاء:
এই যুবক জানতেন না যে নিয়তি তাঁর চেয়ে এবং তাঁর পিতার দেওয়া মুক্তিপণের চেয়েও অধিক শক্তিশালী। তিনি জানতেন না যে তাঁর কল্পনায় দোলায়মান সেই স্বপ্নগুলো অন্য কারো জন্য ছিল; সেগুলো ছিল সমগ্র বিশ্বজাহানের জন্য। আর তাঁর সেই ক্ষুদ্র গৃহটিতে তখন এক কৃষ্ণ মেঘ ঘনিয়ে আসছিল, যা শোক, অশ্রু আর বিলাপের ভারে ছিল পরিপূর্ণ। আব্দুল্লাহ, যিনি একশত উটের বিনিময়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, তিনি নিজেই একটি উটে চড়ে মৃত্যুর অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করে ইয়াসরিবের পানে যাত্রা করলেন, যেখানে মৃত্যু তাঁর অপেক্ষায় ছিল তাঁকে সেখানকার কোনো এক সমাধিপ্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে। আব্দুল মুত্তালিব থেকে দূরে, মক্কা থেকে দূরে, আর সেই ব্যথিত আমিনা থেকে দূরে—যিনি আব্দুল্লাহর আমানত ও তাঁর স্বপ্নসমূহ জঠরে ধারণ করেছিলেন এক পিতৃহীন ভ্রূণ হিসেবে, যে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই এতিম হয়ে গিয়েছিল।

মক্কাবাসী বিস্ময়ে প্রশ্ন করছিল: আব্দুল্লাহ কি সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন?

শোকাতুর আব্দুল মুত্তালিব যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ইয়াসরিব থেকে আগত প্রত্যেককে এক এক করে জিজ্ঞেস করছিলেন। তিনি কাফেলাগুলোর গতিরোধ করছিলেন, তাদের উটের লাগাম আঁকড়ে ধরছিলেন; এই আশায় যে, যা শুনেছেন তার কোনো বিপরীত সংবাদ হয়তো শুনতে পাবেন। হয়তো কোনো মুসাফির তাঁর সামনে উচ্চস্বরে বলবে: সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আব্দুল্লাহ মারা যাননি, তিনি এখনো জীবিত এবং আপনার কাছেই ফিরে আসছেন।

কিন্তু কাফেলাগুলোর নীরবতা আব্দুল্লাহর শেষ নিঃশ্বাসের বার্তা বহন করছিল, যা এই দুনিয়া এবং আব্দুল মুত্তালিবকে বিদায় জানাচ্ছিল। শোকাতুর সেই বৃদ্ধ নিজের হৃদয়ের দহন চেপে ধরে নুয়ে পড়লেন। তিনি নিজের বিষাদ সংবরণ করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু শোকসন্তপ্ত আমিনার সামনে তাঁর অশ্রুসজল চোখ দুটি সব সত্য প্রকাশ করে দিচ্ছিল। ফলে আমিনা তাঁর সেই প্রিয়তমের বিরহে রোদন করতে লাগলেন, যাঁর রূহ তাঁর থেকে বহু দূরে কবজ করা হয়েছে। তিনি এমন এক সময়ে তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করলেন যখন আমিনা তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় ব্যাকুল ছিলেন এবং ভালোবাসা, উপহার ও সফরের গল্প নিয়ে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়েছিলেন।

আব্দুল্লাহর বিরহব্যথায় সমগ্র মক্কায় এক কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও বিষণ্ণতা ছেয়ে গিয়েছিল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হলো না, কারণ শীঘ্রই একটি সংবাদ এলো:
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌الفيل يمزق السكون

لم يطل ذلك الوجوم في مكة .. فسرعان ما تفجر الخوف من جبالها .. وانتفضت بطحاؤها هلعًا .. فمكة اليوم تئن تحت أقدام فيل مخيف .. وحراب جيش ضخم زاحف لهدم بيت الله الحرام وطحنه .. كان ذلك الجيش يرج مكة من أقصاها إلى أقصاها .. ومن عبيدها إلى ساداتها .. كأنما كان يدحرج أمامه جبال اليمن وسد مأرب معها. فتطاير أهل مكة فوق ذرى الجبال .. وتفرقوا بين الشعاب .. فالأمر فوق ما يحتملون .. ولكن سيد قريش عبد المطلب لم يهرب .. لقد ثبت لهم .. وحمل روحه بين كفيه لمساءلتهم. فقال لملكهم (1):

(ما جاء بك إلينا، ما عناك يا ربنا، ألا بعثت فنأتيك بكل شيء أردت؟ فقال الملك:

أخبرت بهذا البيت الذي لا يدخله أحد إلا آمن، فجئت أخيف أهله. فقال عبد المطلب:

إنا نأتيك بكل شيء فارجع. فأبى إلا أن يدخله، وانطلق يسير نحوه، وتخلف عبد المطلب، فقام على جبل فقال: لا أشهد مهلك هذا البيت. وأَهَلَّ ثم قال:

اللَّهم إن لكل إله … حلال فامنع حلالك

لا يغلبن محالهم … أبدًا محالك
(1) لم ترد تسمية هذا الملك ربما كان أبرهة كما جاء في بعض الروايات الضعيفة عند ابن إسحاق، وأبي نعيم في الدلائل (144) وغيرهما، وقيل: إن أبرهة بعث رجلًا اسمه سمبر مصفود على عشرين ألفًا …

ليس لدي ما يرجح رواية على رواية.
নিস্তব্ধতা চূর্ণকারী হস্তী বাহিনী

মক্কার সেই বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্রুতই এর পাহাড়গুলো থেকে ভীতি ছড়িয়ে পড়ল এবং এর উপত্যকাগুলো আতঙ্কে কেঁপে উঠল। আজ মক্কা এক ভয়ংকর হস্তীর পদতলে এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর (বায়তুল্লাহ) ধ্বংস ও চূর্ণবিচূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ধাবমান এক বিশাল বাহিনীর বর্শার নিচে আর্তনাদ করছে। সেই সেনাবাহিনী মক্কার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এবং এর দাস থেকে শুরু করে মনিব পর্যন্ত সবাইকে প্রকম্পিত করে তুলছিল; যেন তারা তাদের সামনে ইয়েমেনের পাহাড় এবং সেই সাথে মা’রিব বাঁধকে ঠেলে নিয়ে আসছিল। মক্কাবাসী পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিল এবং গিরিপথগুলোতে ছড়িয়ে পড়ল; কারণ পরিস্থিতি ছিল তাদের সহ্যক্ষমতার ঊর্ধ্বে। কিন্তু কুরাইশ নেতা আবদুল মুত্তালিব পালিয়ে যাননি। তিনি তাদের সামনে অটল থাকলেন এবং তাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করলেন। তিনি তাদের রাজাকে বললেন (১):

“আমাদের কাছে আপনার আগমনের কারণ কী? হে আমাদের অধিপতি, আপনার উদ্দেশ্য কী? আপনি সংবাদ পাঠালে আমরা তো আপনার কাঙ্ক্ষিত সবকিছু নিয়ে আপনার কাছে উপস্থিত হতাম।” রাজা বললেন:

“আমাকে এই ঘরের কথা জানানো হয়েছে যেখানে প্রবেশকারী সকলেই নিরাপদ থাকে; তাই আমি এর অধিবাসীদের আতঙ্কিত করতে এসেছি।” আবদুল মুত্তালিব বললেন:

“আমরা আপনাকে সবকিছু প্রদান করছি, আপনি ফিরে যান।” কিন্তু রাজা সে ঘরে প্রবেশ করতে অনড় থাকলেন এবং সেদিকে অগ্রসর হতে শুরু করলেন। আবদুল মুত্তালিব সরে দাঁড়ালেন এবং একটি পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: “আমি এই ঘরের ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করব না।” এরপর তিনি উচ্চৈঃস্বরে প্রার্থনা করে বললেন:

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক অধিপতি (ইলাহ) … তার সম্পদ রক্ষা করে, সুতরাং আপনি আপনার সম্পদ রক্ষা করুন।

তাদের চক্রান্ত যেন আপনার কৌশলের ওপর … কখনো প্রবল হতে না পারে।
(১) এই রাজার নাম উল্লেখ করা হয়নি; সম্ভবত তিনি ছিলেন আবরাহা, যেমনটি ইবনে ইসহাক এবং আবু নুআইমের ‘দালাইল’ (১৪৪) ও অন্যান্যদের বর্ণিত কিছু দুর্বল বর্ণনায় এসেছে। আবার বলা হয়েছে: আবরাহা ‘সামবার’ নামক এক ব্যক্তিকে বিশ হাজার সৈন্যসহ পাঠিয়েছিলেন …

এক বর্ণনার ওপর অন্য বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের কোনো ভিত্তি আমার কাছে নেই।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
اللَّهم فإن فعلت … فأمر ما بدالك

فأقبلت مثل السحابة من نحو البحر، حتى أظلتهم طيرٌ أبابيل، التي قال الله تعالى: {تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ} (1). فجعل الفيل يعج (2) عجًا .. فجعلهم .. كعصف (3) مأكول) (4).

كانت حجارة حقيقية .. وكان عذابًا سماويًا محرقًا ومبيدًا لطاغوت من الطواغيت.

كان هناك من لم يستطع الهرب .. كانت هناك آمنة تعاني من آلام الوضع .. ترى هل أقعدتها تلك الآلام .. ترى هل تركها أهلها وحدها لتلد
(1) حجارة من طين.

(2) العج: رفع الصوت.

(3) العصف هو الورق اليابس على ساق الزرع فيتفتت.

(4) كما ذكرت وردت روايات عديدة ضعيفة لا تتسق مع منهج الكتاب، ولا أستطيع الجزم بصحتها فاكتفيت بما كان قوي الإسناد كهذه الرواية، التي رواها الحاكم (2/ 535) وهي من طريق إسحاق بن راهويه، أنبأنا جرير، عن قابوس بن أبي ظبيان عن أبيه عن ابن عباس، قال رضي الله عنه: (أقبل أصحاب الفيل حتى إذا دنوا من مكة استقبلهم عبد المطلب، فقال لملكهم: … ورجال هذا الإسناد: إسحاق بن إبراهيم بن مخلد الحنظلى، أبو محمَّد بن راهويه وهو أحد الأئمة الثقات الحفاظ المجتهدين، قرين ابن حنبل (التقريب 1/ 54) شيخه جرير بن عبد الحميد بن قرط ثقة كذلك: التهذيب (2/ 57) وقابوس حسن الحديث إذا لم يخالف رغم قول الحافظ: فيه لين، فجرح الرجل غير مفسر، إلا بقول ابن معين: ثقة جايز الحديث إلا أن ابن أبي ليلى جلده الحد، وبقول الساجي: ليس بثبت، يقدم عليًا على عثمان، جاء إلى ابن أبي ليلى فشهد عليه عنده في قضية تحمل عليه ابن أبي ليلى فضربه. وهذا جرح غير قادح. فقد قال ابن معين كما سبق أنه ثقة جايز الحديث رغم ذكره لسبب الجرح، وقال يعقوب بن سفيان: ثقة، وقال ابن عدى: لا بأس به، وقال العجبي: كوفي لا بأس به. وللخبر شواهد تقويه.
হে আল্লাহ, যদি আপনি এটি করেন … তবে আপনার যা ইচ্ছা তা-ই করুন।

অতঃপর সমুদ্রের দিক থেকে মেঘের ন্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি আসতে লাগল এবং তাদের ওপর ছায়া বিস্তার করল, যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করছিল} (১)। তখন হাতিটি আর্তচিৎকার (২) শুরু করল... অতঃপর তিনি তাদের... ভক্ষিত তৃণের (৩) মতো করে দিলেন (৪)।

সেগুলো ছিল প্রকৃত পাথর... আর তা ছিল এক খোদাদ্রোহী স্বৈরাচারের জন্য আকাশ থেকে অবতীর্ণ দহনকারী ও বিনাশকারী আযাব।

সেখানে এমনও কেউ ছিল যারা পলায়ন করতে সক্ষম হয়নি... সেখানে আমিনা প্রসববেদনায় কাতর ছিলেন... জানি না সেই তীব্র ব্যথা কি তাকে স্থবির করে দিয়েছিল? জানি না তার স্বজনরা কি প্রসবের সময় তাকে একাকী ফেলে চলে গিয়েছিল?
(১) কাদা বা মাটি থেকে তৈরি পাথর।

(২) আল-আজ (العج): উচ্চস্বরে আওয়াজ করা বা চিৎকার করা।

(৩) আল-আসফ (العصف) হলো শস্যের কাণ্ডের ওপরের শুকনো পাতা যা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

(৪) আমি ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, এ বিষয়ে অনেকগুলো দুর্বল বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে যা এই গ্রন্থের মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। ফলে আমি কেবল শক্তিশালী সনদযুক্ত বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছি, যেমন এই বর্ণনাটি ইমাম হাকীম (২/৫৩৫) সংকলন করেছেন। এটি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি সংবাদ দিয়েছেন জারীর থেকে, তিনি কাবুস ইবনে আবি যাবইয়ান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (হাতিওয়ালারা যখন অগ্রসর হয়ে মক্কার নিকটবর্তী হলো, তখন আবদুল মুত্তালিব তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে তাদের রাজাকে বললেন: … এই সনদের বর্ণনাকারীগণ হলেন: ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে মাখলাদ আল-হানযালী, আবু মুহাম্মদ ইবনে রাহওয়াইহ; তিনি অন্যতম নির্ভরযোগ্য ইমাম, হাফিয ও মুজতাহিদ এবং ইমাম ইবনে হাম্বলের সমসাময়িক (আত-তাকরীব ১/৫৪)। তাঁর উস্তাদ জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ ইবনে কুরতও একইভাবে নির্ভরযোগ্য: আত-তাহযীব (২/৫৭)। আর কাবুস-এর হাদীস 'হাসান' পর্যায়ের যদি তা অন্য বর্ণনার বিরোধী না হয়, যদিও হাফিয ইবনে হাজার তাকে সামান্য দুর্বল (লাইয়িন) বলেছেন। তবে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত সমালোচনাটি সুস্পষ্ট নয়, কেবল ইবনে মাঈনের সেই বক্তব্য ছাড়া যেখানে তিনি বলেছেন: 'তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাদীস গ্রহণের উপযুক্ত, তবে ইবনে আবি লায়লা তাঁকে হদ্দ বা বেত্রাঘাত করেছিলেন।' এছাড়া সাজী বলেছেন: 'তিনি সুদৃঢ় নন, তিনি উসমান (রা.)-এর ওপর আলী (রা.)-কে প্রধান্য দিতেন।' তিনি ইবনে আবি লায়লার কাছে এসে একজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যা ইবনে আবি লায়লা সহ্য করতে পারেননি এবং তাঁকে প্রহার করেছিলেন। এটি এমন কোনো ত্রুটি নয় যা বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে। কারণ ইবনে মাঈন ইতিপূর্বেই বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাদীস গ্রহণের উপযুক্ত, যদিও তিনি সমালোচনার কারণ উল্লেখ করেছেন। ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে আদী বলেছেন: তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই। আল-আজলি বলেছেন: তিনি কুফাবাসী, তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই। অধিকন্তু, এই সংবাদের স্বপক্ষে অন্যান্য শক্তিশালী প্রমাণ (শাওয়াহিদ) বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ابنها (في يوم الفيل) (1) .. وحيدًا .. تفرق قومه .. ومات أبوه .. والموت سيوف تحيط ببلده .. لا أدري ربما .. لكن الذي حدث أنما ولدت طفلًا .. ولدت حياة للعالم .. وموتًا للهمجية والضلال .. ولد محمَّد .. ومات أصحاب الفيل .. وعادت قريش لتجد البيت آمنًا .. تحميه الملائكة .. وأسراب الطيور ..

(ولدت آمنة هذا اليتيم بعدما توفي أبوه) (2) لكن كم كان بين وفاة والده ومولده؟ ليس هناك ما يعول عليه (3) .. وكانت ولادته .. (يوم الاثنين) (4) أحد أيام (شهر ربيع الأول) (5) من عام الفيل .. وذلك قبل الهجرة بـ (53) عامًا.
(1) حديث جيد الإسناد رواه ابن سعد (1/ 101) من طريق ابن معين أخبرنا ححاج، أخبرنا يونس بن أبي إسحاق عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: (ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفيل)، ورجال هذا الإسناد ثقات، ويونس بن أبي إسحاق السبيعي حديثه حسن. انظر الكاشف (2/ 303) وحجاج كذلك أما سعيد بن جبير وابن معين فأعلام معروفون.

(2) رواه مسلم (3/ 1392) وهذا الجزء من الحديث مرسل لكن له شواهد تقويه.

(3) الأحاديث التى وصلت في ذلك ضعيفة الإسناد متضاربة فأعرضت عنها.

(4) حديث صحيح. رواه مسلم (2/ 819) بلفظ: قال أعرابي: يا رسول الله ما تقول في صوم الاثنين، فقال صلى الله عليه وسلم: "ذاك يوم ولدت فيه" ..

(5) كونه ولد في شهر ربيع الأول هو الصحيح، فقد ورد في ذلك حديثان يقوي بعضهما بعضًا، الأول: عند ابن أبي شيبة وفيه انقطاع (سيرة ابن كثير 1/ 199) والآخر: رواه مالك وعقيل ويونس وهو مرسل محمَّد بن جبير بن قطع (سيرة ابن كثير 1/ 199) لكن تحديد أي يوم هل هو الثامن أو الثاني عشر من ربيع، فلم أعثر على خبر صحيح يحدده، لكن ابن كثير يقول: إن جمهور العلماء يرجحون يوم (12) لكن ترجيحهم يبقى دون سند صحيح.
তার পুত্রকে (হস্তিবাহিনীর দিনে) (১) .. একাকী .. তার স্বজনরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল .. তার পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন .. আর মৃত্যু ছিল তার ভূখণ্ডকে ঘিরে থাকা তরবারির মতো .. আমি জানি না সম্ভবত .. কিন্তু যা ঘটেছিল তা হলো, তিনি এক শিশুকে জন্ম দিয়েছিলেন .. তিনি বিশ্বের জন্য এক নতুন জীবনের জন্ম দিয়েছিলেন .. আর বর্বরতা ও পথভ্রষ্টতার মৃত্যু ঘটিয়েছিলেন .. মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করলেন .. আর হস্তিবাহিনীর অধিপতিরা ধ্বংস হলো .. কুরাইশরা ফিরে এসে দেখল (কাবা) ঘরটি নিরাপদ .. ফেরেশতারা এবং পাখির ঝাঁক একে রক্ষা করছে ..

(তার পিতার ইন্তেকালের পর আমিনা এই এতিম শিশুকে জন্ম দেন) (২) তবে তার পিতার মৃত্যু এবং তার জন্মের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু নেই (৩) .. আর তার জন্ম হয়েছিল .. (সোমবার) (৪) হস্তিবর্ষের (রবিউল আউয়াল মাসের) (৫) কোনো একদিনে .. আর তা ছিল হিজরতের (৫৩) বছর আগে।
(১) উত্তম সনদ বিশিষ্ট হাদীস যা ইবনে সাদ (১/ ১০১) ইবনে মুঈনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষের দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন", আর এই সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, এবং ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক আস-সাবিঈর হাদীস হাসান পর্যায়ের। দেখুন: আল-কাশিফ (২/ ৩০৩); হাজ্জাজও তদ্রূপ নির্ভরযোগ্য, আর সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও ইবনে মুঈন তো সুপরিচিত ইমাম।

(২) মুসলিম (৩/ ১৩৯২) এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের এই অংশটি মুরসাল (যাতে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে), তবে এর কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে।

(৩) এ বিষয়ে যেসব হাদীস পৌঁছেছে সেগুলোর সনদ দুর্বল এবং পরস্পর বিরোধী, তাই আমি সেগুলো এড়িয়ে গিয়েছি।

(৪) সহীহ হাদীস। মুসলিম (২/ ৮১৯) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: একজন বেদুইন বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সোমবারের রোজা সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি" ..

(৫) তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন এটিই বিশুদ্ধ মত, এ বিষয়ে দুটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। প্রথমটি: ইবনে আবি শাইবার কাছে বর্ণিত যাতে বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) রয়েছে (সীরাতে ইবনে কাসীর ১/ ১৯৯) এবং অন্যটি: মালিক, উকাইল ও ইউনুস কর্তৃক বর্ণিত এবং এটি মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুত-ইম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত (সীরাতে ইবনে কাসীর ১/ ১৯৯)। তবে তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে, সেটি কি রবিউলের আট তারিখ নাকি বারো তারিখ, আমি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সহীহ বর্ণনা পাইনি। তবে ইবনে কাসীর বলেন: অধিকাংশ আলেম (১২) তারিখকে প্রাধান্য দেন, কিন্তু তাদের এই অগ্রাধিকার কোনো সহীহ সনদ ছাড়াই রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌أساطير ومولد

مولد محمَّد صلى الله عليه وسلم حدث ما زال يهز الدنيا .. هو بشرى للقلوب وفرحة للأرواح .. وبداية الإنقاذ لهذه البشرية من تيه الرمضاء المهلكة .. وتحويل هذه الجموع العطشى وردها إلى النبع الذي أضاعته وفرطت فيه .. لكن ذلك لا يعني أن تتشقق المحبة في القلوب عن أساطير تتنامى وتتنامى حتى تعمى الأبصار وتحطم العقول.

لقد أعمى الحب بعض السذج .. فصاروا يسقون حدث المولود بأمطار الأكاذيب .. فنشأت حوله الأساطير والخرافات.

وجاءت الروايات الملفقة تشوه سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم تشويهًا كاد يطيح بأحداث السيرة (1).

لقد حدثنا أولئك الكذابون عنه صلى الله عليه وسلم وهو طفل رضيع .. وأنه كان يناغي القمر فحيثما أشار إليه اتجه .. كان يلعب به في مساحات الليل والفضاء. وكذبوا علينا فقالوا: إن النجوم دنت من الأرض عند مولده .. وكذبوا وكذبوا فقالوا: إنه كان هناك لوح من الذهب كتبت عليها أشعار عند رأس أمه يوم مولده. لقد أسرف أولئك وتجنوا على الأجيال التي تنتظر الحقيقة .. تنتظر الحدث كما حدث .. لقد ركبوا موجة التهويل والعواطف التي لا لجام لها .. فكان ذلك الشرخ العظيم في حياة الأمة وبَعْثَرة طاقاتها وأموالها في احتفالات لا سند لها إلا تلال الأكاذيب
(1) لولا فتح الله لعباقرة هذه الأمة وأساتذتها بمنهج النقد العلمى للروايات والأسانيد … وتمييز الغث من السمين والسقيم من الصحيح. حاولت جمع تلك الأساطير والأكاذيب في موسرعة السيرة.
‌উপকথা ও জন্মবৃত্তান্ত

মুহাম্মাদ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জন্ম এমন এক ঘটনা যা আজও বিশ্বকে আন্দোলিত করে.. এটি হৃদয়ের জন্য সুসংবাদ এবং আত্মার জন্য আনন্দ.. এবং ধ্বংসাত্মক তপ্ত মরুভূমির বিভ্রান্তি থেকে এই মানবতাকে উদ্ধারের সূচনা.. আর এই তৃষ্ণার্ত জনতাকে সেই উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যা তারা হারিয়ে ফেলেছিল এবং যার প্রতি অবহেলা করেছিল.. তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্তরের ভালোবাসা থেকে এমন সব উপকথা বিচ্ছুরিত হবে যা ক্রমে বৃদ্ধি পেতে পেতে দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেবে এবং বিবেককে চূর্ণ করে ফেলবে।

ভালোবাসা কিছু সরলমনা মানুষকে অন্ধ করে দিয়েছে.. ফলে তারা নবজাতকের জন্মের ঘটনাকে মিথ্যার বৃষ্টি দিয়ে সিক্ত করতে শুরু করেছে.. এভাবেই তাঁকে কেন্দ্র করে নানা উপকথা ও কুসংস্কারের জন্ম হয়েছে।

আর এমন সব বানোয়াট বর্ণনা এসেছে যা আল্লাহর মনোনীত (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নবীর জীবনচরিতকে এমনভাবে বিকৃত করেছে যা জীবনচরিতের (সীরাত) প্রকৃত ঘটনাবলিকে প্রায় নস্যাৎ করে দেওয়ার উপক্রম করেছিল (১)।

সেই চরম মিথ্যুকরা আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছে যখন তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন.. যে তিনি চাঁদের সাথে আদুরে স্বরে কথা বলতেন, তিনি যেদিকে ইশারা করতেন চাঁদ সেদিকেই হেলে পড়ত.. তিনি রাতের আকাশ ও মহাশূন্যে চাঁদ নিয়ে খেলা করতেন। তারা আমাদের কাছে মিথ্যা বলেছে যে: তাঁর জন্মের সময় নক্ষত্ররাজি পৃথিবীর নিকটবর্তী হয়েছিল.. তারা বারবার মিথ্যা বলেছে যে: তাঁর জন্মের দিন তাঁর মায়ের শিয়রে একটি স্বর্ণের ফলক ছিল যাতে কিছু কবিতা খোদাই করা ছিল। তারা সীমালঙ্ঘন করেছে এবং সত্যের প্রত্যাশী আগামী প্রজন্মের ওপর অবিচার করেছে.. যারা ঘটনাটি ঠিক যেভাবে ঘটেছিল সেভাবেই জানতে চায়.. তারা অতিরঞ্জন এবং লাগামহীন আবেগের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল.. ফলে উম্মাহর জীবনে এক বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের শক্তি ও সম্পদ এমন সব উৎসবে অপচয় হয়েছে যার ভিত্তি মিথ্যার পাহাড় ছাড়া আর কিছুই নয়।
(১) যদি আল্লাহ এই উম্মাহর মনীষী ও পণ্ডিতবর্গের জন্য বর্ণনা ও সূত্রের (আসানিদ) বৈজ্ঞানিক সমালোচনাপদ্ধতির দ্বার উন্মোচন না করতেন … এবং অসার থেকে সারবস্তু ও অশুদ্ধ থেকে শুদ্ধকে পৃথক করার পথ না দেখাতেন। আমি জীবনচরিতের (সীরাত) বিশ্বকোষে সেই সব উপকথা ও মিথ্যাচারগুলো একত্রিত করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
والأساطير المختلفة تنحدر منها البدع .. ينحدر منها العفن فتشوه ذلك النبع وتلك العقيدة التي تركها صلى الله عليه وسلم صافية مثل البيضاء.

إن تلك الغيوم الأسطورية لم تستطع أن تحجب شمس الحقيقة .. فلقد بقيت الأحداث الحقيقية كما هي دون تحريف .. دون مساس .. وكان منها:

 

‌‌طلوع نجم أحمد

هناك رآه بعض المنتظرين بشوق .. هناك في يثرب حيث يرقد عبد الله تحت أطباق الثرى .. وقف رجل يتأمل السماء .. يتأمل النجوم .. كان يهوديًا .. وربما كان فلكيًا .. صرخ الرجل بقومه قائلًا:

(يا معشر اليهود:

فاجتمعوا إليه. قالوا: ويلك مالك؟ قال:

طلع نجم أحمد الذي ولد به في هذه الليلة) (1).

كادت تلك الصرخة اليهودية أن تتلاشى بين النجوم .. كادت أن تختفي في سراديب اليهود المظلمة .. لولا وجود طفل في السابعة أو الثامنة من عمره ساقه الله إليه وساقته أقدامه إلى موقع الحدث لينقله لنا بعد أن
(1) حديثٌ حسنٌ، رواه ابن إسحاق (سيرة ابن كثير 1/ 213) سماعًا من صالح بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف عن يحيى بن عبد الله بن عبد الرحمن بن سعد بن زرارة قال: حدثني من شئت من رجال قومي ممّن لا أهتم عن حسان بن ثابت قال: (إني لغلام يفعه ابن سبع سنين أو ثمان أعقل ما رأيت وسمعت إذا بيهودي في يثرب يصرخ ذات غدات …) وهذا الإسناد قابل للتحسين، فصالح ويحيى ثقتان، وابن إسحاق لم يدلس، والتابعرن لم يتهموا وربما كانوا صحابة وللحديث شواهد تقويه منها ما رواه ابن إسحاق عن هشام عن أبيه عن عائشة لكن ابن إسحاق عنعن ومنها ما بعده وغيره أيضًا.
বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী ও লোকগাঁথা থেকে জন্ম নেয় বিদআত (ধর্মীয় উদ্ভাবন)... এগুলো থেকে জন্ম নেয় পঙ্কিলতা, যা সেই স্বচ্ছ ঝরনাধারা এবং সেই আকিদাকে (বিশ্বাস) কলুষিত করে, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উজ্জ্বল শ্বেতশুভ্র ও স্বচ্ছ অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন।

তবে সেই পৌরাণিক কুয়াশাগুলো সত্যের সূর্যকে আড়াল করতে পারেনি... প্রকৃত ঘটনাবলি কোনো বিকৃতি বা স্পর্শ ছাড়াই আগের মতোই অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো:

 

‌‌আহমাদ-এর নক্ষত্রের উদয়

সেখানে কতিপয় প্রতীক্ষমাণ ব্যক্তি ব্যাকুলভাবে তা প্রত্যক্ষ করছিলেন... সেখানে ইয়াসরিবে, যেখানে আবদুল্লাহ মাটির সুগভীর স্তরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন... এক ব্যক্তি আকাশের পানে চেয়ে গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন... তিনি নক্ষত্রপুঞ্জ পর্যবেক্ষণ করছিলেন... তিনি ছিলেন একজন ইহুদি... সম্ভবত একজন জ্যোতির্বিদ... সেই ব্যক্তি নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের সম্বোধন করে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন:

(হে ইহুদি সম্প্রদায়!

তখন তারা তাঁর কাছে সমবেত হলো। তারা বলল: তোমার দুর্ভোগ হোক! তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন:

আহমাদ-এর সেই নক্ষত্র উদিত হয়েছে, যে নক্ষত্র উদয়ের লগ্নে আজ রাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন) (১)।

ইহুদি সেই ব্যক্তির আর্তচিৎকার নক্ষত্ররাজির মাঝে বিলীন হয়ে যেতে পারত... কিংবা তা ইহুদিদের অন্ধকার সুড়ঙ্গে হারিয়ে যেতে পারত... যদি না সেখানে সাত বা আট বছর বয়সী এক বালক থাকত, যাকে আল্লাহ সেই ঘটনার দিকে পরিচালিত করেছিলেন এবং তার পা তাকে সেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল, যাতে সে তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
(১) হাদিসটি হাসান (উত্তম)। এটি ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন (সীরাতে ইবনে কাসির ১/ ২১৩)। তিনি সালিহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাদ ইবনে যুরারাহ থেকে শুনেছেন, যিনি বলেন: আমার সম্প্রদায়ের এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যাঁদের সততা সম্পর্কে আমার কোনো সন্দেহ নেই, তাঁরা হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (আমি তখন সাত বা আট বছরের এক চঞ্চল বালক, যা দেখতাম বা শুনতাম তা বুঝতে পারতাম। এক ভোরে ইয়াসরিবে এক ইহুদিকে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে শুনলাম ...)। এই সনদটি হাসান স্তরে উন্নীত করার যোগ্য, কারণ সালিহ এবং ইয়াহইয়া উভয়ই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। আর ইবনে ইসহাক এখানে সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন (তাদলিস করেননি)। বর্ণনাকারী তাবিঈদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তাঁরা সম্ভবত সাহাবী ছিলেন। এই হাদিসটিকে শক্তিশালী করার মতো আরও সাক্ষী (শাওয়াহিদ) রয়েছে, যেমন ইবনে ইসহাক হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে ইসহাক এখানে ‘আন’ (عن) শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও পরবর্তী অংশ এবং অন্যান্য বর্ণনায় এর সমর্থন পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
كبر وشاخ .. ذلك الغلام هو مبدع الإِسلام وشاعره العظيم حسان بن ثابت .. إذًا فاليهود كان لديهم علم بمخرج نبي .. وكانوا يعرفون تاريخ مولده مقرونًا بحدث فلكي يظهر في السماء.

ولم يكن هذا اليهودي هو الوحيد الذي رأى هذا النجم .. ففي مكة رجل حيران .. يقال له: زيد بن عمرو بن نفيل .. كان يحدق في الأصنام يتأملها وهي منصوبة فوق بيت الله .. فلا تزيده الأيام إلا اقتناعًا بتفاهتها وتخلف عقول أتباعها وعابديها .. إنها في نظره لا تعدو كونها حجارة صماء بكماء خرساء لا تقدم ولا تؤخر .. ضاقت بها مكة وضاق زيد بها .. فبحث له عن فسحة بين الفيافي والبطاح .. يتنفس فيها الحرية والتوحيد .. يبحث عن الحقيقة .. يفتش عنها أديرة العباد وصوامع الرهبان .. يسأل ويسأل ولا يكف عن السؤال … حتى قذف به الطريق بين يدي حبر من أهل الشام .. فأمره بالعودة إلى مكة وقال: (قد خرج في بلدك نبي أو هو خارج، قد خرج نجمه، فارجع وصدقه واتبعه) (1).

وهذا زيد بن ثابت يحدثنا فيقول:

(كان أحبار يهود بني قريظة والنضير يذكرون صفة النبي صلى الله عليه وسلم، فلما طلع الكوكب الأحمر أخبروا أنه نبي، وأنه لا نبي بعده، واسمه أحمد،
(1) إسناده حسن، رواه محمَّد بن حبان وأبو نعيم (سيرة ابن كثير 1/ 212)، قالا: حدثنا أبو بكر بن أبي عاصم، حدثنا وهب بن بقية، حدثنا خالد عن محمَّد عن عمرو عن أبي سلمة، ويحيى بن عبد الرحمن بن حاطب عن أسامة بن زيد، عن زيد بن عمرو قال: قال لي حبر من أحبار الشام: … وهذا الإسناد صحيح، وهب بن بقية ثقة. انظر التهذيب (11/ 159) وخالد هو ابن عبد الله الطحان وهو ثقة. انظر التهذيب أيضًا (3/ 100) ومحمَّد بن عمرو حسن الحديث، ويحيى تابعي ثقة وللحديث شاهد عن البيهقي في الدلائل (1/ 91) بسند جيد.
তিনি বড় হলেন এবং বার্ধক্যে উপনীত হলেন... সেই বালকটিই ছিলেন ইসলামের রূপকার এবং এর মহান কবি হাসান বিন সাবিত... সুতরাং, ইহুদিদের নিকট একজন নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে জ্ঞান ছিল... এবং তারা আকাশে উদিত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে তাঁর জন্মের তারিখ জানতেন।

আর এই ইহুদি ব্যক্তিটিই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না যিনি এই নক্ষত্রটি দেখেছিলেন... মক্কায় এক সত্যপিপাসু ও ব্যাকুল ব্যক্তি ছিলেন... যাঁকে বলা হতো: যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল... তিনি আল্লাহর ঘরের (কাবা) ওপর স্থাপিত মূর্তিগুলোর দিকে একপলকে তাকিয়ে গভীর ভাবনায় নিমগ্ন হতেন... দিন যত অতিবাহিত হতো, এই মূর্তিগুলোর অসারতা এবং এদের অনুসারী ও পূজারিদের বুদ্ধিবৃত্তিক অনগ্রসরতা সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস কেবল দৃঢ়তরই হতো... তাঁর দৃষ্টিতে এগুলো নিছক বধির, বোবা ও মূক পাথর ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যা কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না... মক্কা এগুলোর কারণে তাঁর কাছে সংকীর্ণ হয়ে উঠল এবং যায়িদও মক্কার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লেন... অতঃপর তিনি মরুপ্রান্তর ও প্রান্তরসমূহের মাঝে নিজের জন্য একটু প্রশস্ততা খুঁজলেন... যেখানে তিনি স্বাধীনতা ও তাওহীদের (একত্ববাদ) নিঃশ্বাস নিতে পারবেন... তিনি সত্যের সন্ধান করছিলেন... ইবাদতকারীদের মঠ ও সন্ন্যাসীদের নির্জন উপাসনালয়গুলোতে তিনি তা খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন... তিনি প্রশ্ন করতেন এবং বারবার প্রশ্ন করতেন, কখনও প্রশ্ন করা থেকে বিরত হতেন না … শেষ পর্যন্ত পথ তাঁকে সিরিয়ার (শাম) এক বিদগ্ধ পণ্ডিতের সান্নিধ্যে নিয়ে গেল... অতঃপর সেই পণ্ডিত তাঁকে মক্কায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: (তোমার দেশে একজন নবীর আবির্ভাব হয়েছে অথবা তিনি আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন, তাঁর নক্ষত্র উদিত হয়েছে, সুতরাং তুমি ফিরে যাও, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করো এবং তাঁর অনুসরণ করো) (১)।

আর যায়িদ বিন সাবিত আমাদের কাছে বর্ণনা করে বলেন:

(বনু কুরাইজা ও বনু নাযির গোত্রের ইহুদি পণ্ডিতগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যাবলি উল্লেখ করতেন। অতঃপর যখন লাল নক্ষত্রটি উদিত হলো, তখন তারা সংবাদ দিল যে, ইনিই সেই নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, আর তাঁর নাম আহমদ,
(১) এর সনদ হাসান (উত্তম), এটি মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান ও আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন (সীরাতে ইবনে কাসির ১/ ২১২)। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খালিদ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব উসামা বিন যায়িদ থেকে, তিনি যায়িদ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সিরিয়ার পণ্ডিতদের মধ্য থেকে একজন পণ্ডিত আমাকে বলেছিলেন: … আর এই সনদটি সহিহ (বিশুদ্ধ), ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী। দেখুন: আত-তাহযীব (১১/ ১৫৯) এবং খালিদ হলেন ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাহহান এবং তিনি নির্ভরযোগ্য। আরও দেখুন: আত-তাহযীব (৩/ ১০০) এবং মুহাম্মদ বিন আমর উত্তম হাদিস বর্ণনাকারী (হাসানুল হাদিস), আর ইয়াহইয়া একজন নির্ভরযোগ্য তাবিঈ এবং এই হাদিসটির একটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (শাহিদ) বাইহাকি থেকে আদ-দালাইল (১/ ৯১) গ্রন্থে চমৎকার সনদে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
مهاجره يثرب، فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أنكروا وحسدوا وكفروا) (1) إن اليهود يحملون علمًا غزيرًا وعظيمًا .. لكنهم لا يمررون منه إلا ما يخدمهم ويحكم قبضتهم .. وما سوى ذلك يخفونه خلف ألف قفل وباب. وقد حاولوا طمس نجم أحمد وإخماده لكنهم لم يفلحوا.

 

‌‌التسمية

قبل عبد الله .. وقبل عبد المطلب .. وقبل مئات السنين كان هذا المولد حروفًا .. وعدًا يتلفظ به الأنبياء يوصون به أممهم .. ويبشرون به .. عيسى بن مريم جاء إلى خراف بني إسرائيل الضالة ليهديهم .. ويقول لهم: {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ}. (2)

كشف الله هذا الغيب وبشر به .. وذكر اسمه في الإنجيل .. وفي التوراة من قبل الإنجيل .. ولهذا يقول صلى الله عليه وسلم:"سميت أحمد" (3) .. ولا أدري من هو
(1) حسن بشواهده وسنده ضعيف فقد رواه أبو نعيم (سيرة ابن كثير (1/ 214) من طريق النضر بن سلمة وهو ضعيف، عن إسماعيل بن قيس بن سليمان بن زيد بن ثابت وهو ضعيف أيضًا. انظر اللسان (1/ 429)، لكن الحديث يشهد له ما سبق، ويشهد له ما سبق ذكره عند البيهقي في الدلائل (1/ 91) وما عند البيهقي أيضًا (1/ 89) وهو قوي بها لا سيما وأن الأول جيد الإسناد، والثاني علته عنعنة ابن إسحاق ورجاله ثقات.

(2) سورة الصف.

(3) رواه ابن سعد (1/ 104) بإسناد حسن من طريق أبى عامر العقدي وهو ثقة واسمه: عبد الله بن عامر القيسي. انظر التهذيب، وقد حدثه هذا الحديث شيخه زهير بن محمَّد التميمي وهو حسن الحديث إذا روى عنه غير شامى. وهذه رواية بصرى وهي مستقيمة كما قال ذلك الأمام أحمد. انظر التهذيب (2/ 348) وشيخه عبد الله بن محمَّد بن عقيل وهو ثقة وشيخ هذا هو محمَّد بن علي بن أبي طالب، عن والده.
(তাঁর) হিজরতের স্থান ইয়াসরিব; অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমন করলেন, তারা তাঁকে অস্বীকার করল, ঈর্ষা করল এবং কুফরি করল। (১) নিশ্চয়ই ইহুদিরা প্রচুর ও অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিল... কিন্তু তারা তার মধ্য থেকে কেবল সেটুকুই প্রকাশ করত যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করত এবং তাদের কর্তৃত্ব সুসংহত করত... এ ব্যতীত অন্য সবকিছুকে তারা হাজারও তালা ও দরজার পেছনে লুকিয়ে রাখত। তারা আহমদের (আহমদ নক্ষত্র বা তাঁর আগমনবার্তা) জ্যোতি মুছে ফেলতে এবং তা নির্বাপিত করতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি।

 

‌‌নামকরণ

আব্দুল্লাহর পূর্বে... আব্দুল মুত্তালিবের পূর্বে... এমনকি শত শত বছর পূর্বে এই জন্মবৃত্তান্ত ছিল কতিপয় অক্ষর মাত্র... একটি প্রতিশ্রুতি যা নবীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হতো এবং তাঁরা নিজ নিজ উম্মতকে এ বিষয়ে অসিয়ত করতেন... আর তাঁরা এর সুসংবাদ প্রদান করতেন... মারইয়াম-তনয় ঈসা বনী ইসরাঈলের পথভ্রষ্ট মেষপালদের (মানুষদের) নিকট তাদের পথ দেখাতে আগমন করেছিলেন... এবং তাদের বলেছিলেন: "হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা।" (২)

আল্লাহ এই অদৃশ্যের সংবাদ উন্মোচন করেছেন এবং এর সুসংবাদ দিয়েছেন... তাঁর নাম ইনজিলে উল্লেখ করেছেন... এবং ইনজিলের পূর্বে তাওরাতেও উল্লেখ করেছেন... এই কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "আমার নামকরণ করা হয়েছে আহমদ" (৩)... আর আমি জানি না তিনি কে।
(১) এর শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) সমূহের কারণে এটি হাসান, তবে এর সনদ (সূত্র) যঈফ (দুর্বল)। কেননা এটি আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন (সীরাতে ইবনে কাসীর ১/২১৪), নযর ইবনে সালামাহর সূত্রে যিনি যঈফ; ইসমাঈল ইবনে কায়স ইবনে সুলায়মান ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিতের বরাতে যিনি তিনিও যঈফ। দেখুন: আল-লিসান (১/৪২৯)। তবে হাদীসটির সমর্থনে ইতিপূর্বে বর্ণিত বর্ণনাগুলো রয়েছে এবং বাইহাকীর আদ-দালাইল (১/৯১) ও বাইহাকীর অন্য একটি বর্ণনায় (১/৮৯) যা উল্লেখ করা হয়েছে তা এর সাক্ষী হিসেবে কাজ করে। ফলে এটি শক্তিশালী স্তরে উপনীত হয়, বিশেষ করে প্রথমটির সনদ উত্তম এবং দ্বিতীয়টির ইল্লত (ত্রুটি) হলো ইবনে ইসহাকের 'আনআনা' (عنعنة) এবং এর রাবীগণ (বর্ণনাকারীগণ) নির্ভরযোগ্য।

(২) সূরা আস-সাফ।

(৩) এটি ইবনে সাদ (১/১০৪) হাসান সনদে আবু আমির আল-আকাদীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে আমির আল-কায়সী। দেখুন: আত-তাহযীব। তাঁর উস্তাদ যুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ আত-তামিমী তাঁকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যিনি শাম (সিরিয়া) দেশীয় বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্যের নিকট থেকে বর্ণিত হলে হাসান পর্যায়ের হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য হন। আর এটি একটি বসরী রিওয়ায়াত (বর্ণনা) এবং তা সঠিক, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন। দেখুন: আত-তাহযীব (২/৩৪৮)। আর তাঁর উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর উস্তাদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الذي حقق هذا الغيب ووفقه الله لهذا الأمر .. أهو جده عبد المطلب أم أمه آمنة بنت وهب .. ربما كان هاتفًا من السماء هتف باسمه لأمه ربما. ولكنه في النهاية سمي محمدًا .. أما:

 

‌‌رضاعه وحضانته

فكانت أمه آمنة هي أول من أرضع ابنها اليتيم .. تشاركها حضانته امرأة تدعى: أم أيمن، واسمها: بركة بنت ثعلبة بن عمرو .. وهناك امرأة ثالثة شاركت في رضاعه وهي أمَةٌ لعمه أبي لهب، واسمها: ثويبة. وقد (أرضعت ثويبة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأرضعت معه أبا سلمة بن عبد الأسد المخزومي) (1).

هذا في بداية الأمر .. وبعد فترة من الزمن غشيت مكة مجموعة من نساء البادية يلتمسن الرزق عن طريق إرضاع أطفال قريش .. وكانت أقدامهن تتزاحم على أبواب من يبسط يديه بالعطاء الأكثر .. وربما كان باب عبد المطلب من الأبواب السخية التي تملأ الأكف بالدراهم .. وربما كان فقيرًا لا يستطيع منافسة غيره في حرية الانتقاء والاختيار لحفيده من بين تلك المرضعات .. ربما لم يكن في بيت آمنة ما يغري المرضعات على التوجه نحوه .. فيجتمع لهذا الصغير يتم مرير وفقر موجع (2).
(1) متفق عليه بغير هذا اللفظ.

(2) الذي يجعلني لا أجزم بفقر محمَّد صلى الله عليه وسلم أو غناه هو تضارب الروايات بالإضافة إلى ضعف إسنادها، والضعف سبب الرد فكيف بالتضارب، هناك رواية تقول: إن حليمة لم تجد طفلًا سوى محمَّد صلى الله عليه وسلم ولو عدنا إلى بعض روايات الفيل الضعيفة لوجدنا عبد المطب غنيًا يملك قطيعًا من الإبل، كما مر معنا رواية صحيحة تقول: إن عبد المطلب ذبح مائة من الإبل فداءً لابنه عبد الله بعد أن وقع عليه النذر، فهل كانت تلك الإبل هي كل ما يملكه؟!
যিনি এই অদৃশ্য বিষয়টি বাস্তবায়িত করেছেন এবং আল্লাহ যাকে এই কাজের তাওফিক দিয়েছেন—তিনি কি তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব ছিলেন নাকি তাঁর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব? সম্ভবত আকাশ থেকে আসা কোনো গায়বি আহ্বানকারী তাঁর মাতার কাছে এই নামটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরিশেষে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল মুহাম্মদ। আর:

 

‌‌তাঁর দুগ্ধপান ও লালন-পালন

মাতা আমিনাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর এতিম সন্তানকে দুগ্ধপান করিয়েছিলেন। তাঁর লালন-পালনে শরিক ছিলেন উম্মে আয়মান নামক এক নারী, যাঁর নাম ছিল বারাকাহ বিনতে সা'লাবা বিন আমর। সেখানে তৃতীয় আরেকজন নারীও ছিলেন যিনি তাঁকে স্তন্যদান করেছিলেন, তিনি তাঁর চাচা আবু লাহাবের দাসী ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল সুওয়াইবাহ। আর (সুওয়াইবাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্তন্যদান করেছিলেন এবং তাঁর সাথে আবু সালামাহ বিন আবদিল আসাদ আল-মাখজুমিকেও দুগ্ধপান করিয়েছিলেন) (১)।

এটি ছিল শুরুর দিকের কথা। এরপর কিছু সময় অতিক্রান্ত হলে মক্কায় মরুবাসী একদল নারী আসেন, যারা কুরাইশদের শিশুদের স্তন্যদানের বিনিময়ে জীবিকা অন্বেষণ করতেন। যারা অধিক দান করতেন তাদের দরজায় এই নারীরা ভিড় জমাতেন। সম্ভবত আবদুল মুত্তালিবের দ্বার ছিল সেই দাতা দ্বারগুলোর একটি যা অঞ্জলি ভরে দিরহাম দান করত। আবার হতে পারে তিনি দরিদ্র ছিলেন বিধায় সেই ধাত্রীদের মধ্য থেকে নিজ নাতির জন্য কাঙ্ক্ষিত কাউকে বেছে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় অন্যদের সাথে পেরে উঠছিলেন না। সম্ভবত আমিনার ঘরে এমন কিছু ছিল না যা ধাত্রীদের সেখানে যেতে প্রলুব্ধ করতে পারে। ফলে এই শিশুর ক্ষেত্রে করুণ পিতৃহীনতা এবং যন্ত্রণাদায়ক দারিদ্র্যের সমন্বয় ঘটেছিল (২)।
(১) এই শব্দগুলো ছাড়া হাদিসটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

(২) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দারিদ্র্য বা সচ্ছলতা সম্পর্কে যে বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত হতে দিচ্ছে না তা হলো বর্ণনাগুলোর মধ্যকার বৈপরীত্য এবং সেই সাথে বর্ণনাসূত্রের (ইসনদ) দুর্বলতা। দুর্বলতাই যেখানে বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ, সেখানে বৈপরীত্যের গুরুত্ব আরও অধিক। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, হালিমা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো শিশু খুঁজে পাননি। আবার আমরা যদি হস্তীবাহিনীর ঘটনার কিছু দুর্বল বর্ণনার দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব যে আবদুল মুত্তালিব অত্যন্ত সচ্ছল ছিলেন এবং উটের বিশাল পালের মালিক ছিলেন। যেমনটি আমরা পূর্বে একটি সহিহ বর্ণনায় দেখেছি যে, আবদুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করার পর মুক্তিপণ হিসেবে একশত উট জবেহ করেছিলেন। তবে কি সেই উটগুলোই ছিল তাঁর সর্বস্ব?!
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وأخيرًا استقر محمَّد اليتيم في أحضان (حليمة السعدية) .. شغفها حبًا وحملته على راحلتها ليسترضع في مضارب (بني سعد بن بكر) (1) قوم حليمة وأهلها .. وفي تلك المضارب بدأ محمَّد الصغير بالحبو .. ثم الوقوف على قدميه الصغيرتين .. وبدأ يلثغ ببعض الحروف والكلمات .. ويتعثر في بعضها بطريقة محبوبة .. ثم صار يمشي ويتحدث ويرعى الغنم .. كان طفلًا طاهرًا كأنفاس الصباح .. كحبات المطر .. اعتاد الخروج مع أخيه يسوقان الغنمات ويمرحان ويلعبان .. وعندما يقرصهما الجوع يُخرجان ما أعدته أمهما حليمة من زاد ليأكلانه فيسكن ما بهما من جوع .. كانت أيامًا تشع بالبراءة والجمال والبهجة .. لم يعكر صفوها سوى صراخ أخيه الصغير ذات صباح قائلًا:

 

‌‌إن محمدًا قد قُتِل

فما الذي حدث .. ولماذا يقتل طفل .. من الذي يستطيع اغتيال تلك البراءة في مرعى الغنم الأخضر؟

ما حدث هو أن الصباح أيقظ الطفلين .. فخرجا من الخباء خلف أغنامهما .. ولم يذكرا أنهما بلا زاد إلا عند وصولهما إلى المرعى .. وهناك التفت محمَّد الصغير صلى الله عليه وسلم إلى أخيه فقال لأخيه: (يا أخي اذهب فأتنا بزاد من عند أمنا، فانطلق أخي ومكثت عند البهم) (2).
(1) حديث صحيح. رواه ابن إسحاق (ابن كثير 1/ 228).

(2) حديثٌ حسنٌ بالشواهد وإسناده فيه ضعف لجهالة: عبد الرحمن السلمي، وقد رواه أحمد وأبو نعيم. انظر (سيرة ابن كثير 1/ 229) والحديث يشهد له ما بعده. وفيه أي حديث أحمد وأبي نعيم بعض الألفاظ الضعيفة التي تخالف الصحيح، لكنه بعمومه يشهد له ما بعده.
অবশেষে এতিম মুহাম্মদ (হালিমা আস-সাদিয়া)-র কোলে স্থির হলেন। তিনি তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন এবং তাঁকে নিজের সওয়ারিতে চড়িয়ে (বনু সাদ ইবনে বকর)-এর বসতিতে নিয়ে গেলেন যাতে তিনি সেখানে দুগ্ধপান করতে পারেন। এটি ছিল হালিমার গোত্র ও তাঁর আপনজনদের এলাকা। সেই বসতিগুলোতেই শিশু মুহাম্মদ হামাগুড়ি দিতে শুরু করেন। এরপর তিনি নিজের ছোট ছোট দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে শিখলেন। তিনি আধো আধো কণ্ঠে কিছু বর্ণ ও শব্দ উচ্চারণ করতে শুরু করলেন এবং এক প্রিয় ঢঙে সেগুলোতে হোঁচট খেতেন। এরপর তিনি হাঁটতে, কথা বলতে এবং ভেড়া চড়াতে শুরু করলেন। তিনি ছিলেন সকালের নিঃশ্বাসের মতো, বৃষ্টির বিন্দুর মতো এক পবিত্র শিশু। তিনি তাঁর (দুধ) ভাইয়ের সাথে বের হতে অভ্যস্ত ছিলেন; তাঁরা ভেড়াগুলো হাঁকিয়ে নিতেন, আনন্দ করতেন ও খেলাধুলা করতেন। যখন তাঁদের ক্ষুধা লাগত, তখন তাঁদের মা হালিমা যা তৈরি করে দিতেন তা বের করে খেতেন এবং তাতে তাঁদের ক্ষুধা নিবারণ হতো। দিনগুলো ছিল সারল্য, সৌন্দর্য ও আনন্দে উদ্ভাসিত। একদিন সকালে তাঁর ছোট ভাইয়ের আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই সেই প্রশান্তিতে ব্যাঘাত ঘটায়নি; সে বলছিল:

 

‌‌নিশ্চয়ই মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে

তবে কী ঘটেছিল? কেন একটি শিশুকে হত্যা করা হবে? সেই সবুজ চারণভূমিতে এমন নিষ্পাপ শিশুকে কে হত্যা করতে পারে?

যা ঘটেছিল তা হলো, সকালবেলা দুই শিশুকে জাগিয়ে তুলল। তাঁরা তাঁবু থেকে তাঁদের ভেড়াগুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। চারণভূমিতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের মনে পড়েনি যে তাঁদের সাথে কোনো খাবার নেই। সেখানে পৌঁছে ছোট মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর ভাইয়ের দিকে ফিরে বললেন: (হে আমার ভাই, যাও এবং আমাদের মায়ের কাছ থেকে আমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসো। তখন আমার ভাই চলে গেল এবং আমি ছোট পশুপালের কাছে অবস্থান করলাম) (২)।
(১) হাদিসটি সহিহ। এটি ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন (ইবনে কাসির ১/ ২২৮)।

(২) এটি সমর্থনমূলক বর্ণনার (শাওয়াহিদ) ভিত্তিতে হাসান পর্যায়ের হাদিস, তবে এর বর্ণনাসূত্রে আবদুর রহমান আস-সুলামি নামক বর্ণনাকারী অপরিচিত হওয়ার কারণে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। আহমদ এবং আবু নুআইম এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন (সিরাত ইবনে কাসির ১/ ২২৯); পরবর্তী বর্ণনাগুলো এই হাদিসের বিষয়বস্তুকে সমর্থন করে। আহমদ এবং আবু নুআইমের বর্ণনায় এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা দুর্বল এবং সহিহ বর্ণনার বিপরীত, তবে সামগ্রিকভাবে এর মূল বিষয়বস্তু পরবর্তী বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত।
(খণ্ড: ١) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ কামা জাআত ফিল আহাদীসিস সহীহাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
لقد أصبح هذا اليتيم بين البهم وحيدًا في الصحراء فهل حدث له شىء؟

 

‌‌نعم شُقَّ صدره

لقد جرى لهذا اليتيم شيء لا يجري لغيره .. دعونا نستمع إليه وهو يحدثنا فيقول: (فبينا أنا في بهم لنا أتاني رجلان، عليهما ثياب بيض، معهما طست من ذهب مملوء ثلجًا، فأضجعاني فشقا بطني، ثم استخرجا قلبي فشقاه، فأخرجا منه علقة سوداء، فألقياها، ثم غسلا قلبي وبطني بذلك الثلج، حتى إذا أنقياه رداه كما كان، ثم قال أحدهما لصاحبه:

زنه بعشرة من أمته. فوزننى فوزنتهم.

ثم قال:

زنه بمائة من أمته. فوزنى بمائة فوزنتهم.

ثم قال:

زنه بألف من أمته. فوزنني بألف فوزنتهم.

فقال: دعه عنك، لو وزنته بأمته لوزنهم) (1).

لقد شُقَّ صدر هذا الصغير بين غنماته حقًا .. بينما هو ينظر ما يفعله هذان الملكان به .. ولقد رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه موضع الشق بعد النبوة. مما يؤكد أن هذه الحادثة حقيقة مادية .. كانت الطريقة التي تمت بها فوق إمكانات البشر وطاقاتهم وتصوراتهم .. يقول أنس بن مالك رضي
(1) هذا الحديث صحيح وقد مر معنا، عند الحديث عن استرضاع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بني سعد بن بكر، وعند الحديث عن المولد والأساطير بصيغة أخرى وهي في الحديث التالي.
এই এতিম শিশুটি মরুভূমিতে পশুদের মাঝে একা হয়ে পড়েছিলেন, তবে তাঁর সাথে কি কিছু ঘটেছিল?

 

‌‌হ্যাঁ, তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছিল

এই এতিম শিশুটির সাথে এমন কিছু ঘটেছিল যা অন্য কারো সাথে ঘটে না... আসুন আমরা তাঁর নিজের জবানিতেই তা শুনি, তিনি বলছেন: (একদা আমি আমাদের পশুগুলোর মাঝে ছিলাম, তখন আমার নিকট দুজন ব্যক্তি আসলেন, যাঁদের পরিধানে ছিল সাদা পোশাক। তাঁদের নিকট বরফে পূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র ছিল। তাঁরা আমাকে শুইয়ে দিলেন এবং আমার পেট বিদীর্ণ করলেন। এরপর তাঁরা আমার হৃৎপিণ্ড বের করলেন এবং তা বিদীর্ণ করলেন। তাঁরা সেখান থেকে একটি কালো রক্তপিণ্ড বের করে ফেলে দিলেন। অতঃপর তাঁরা আমার হৃৎপিণ্ড ও পেট সেই বরফ দিয়ে ধৌত করলেন, এমনকি যখন তাঁরা তা পবিত্র ও পরিষ্কার করলেন, তখন সেটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন:

তাঁকে তাঁর উম্মতের দশজনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়ে ভারী হলাম।

অতঃপর তিনি বললেন:

তাঁকে তাঁর উম্মতের একশত জনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে একশত জনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম।

অতঃপর তিনি বললেন:

তাঁকে তাঁর উম্মতের এক হাজার জনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে এক হাজার জনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম।

তখন তিনি বললেন: তাঁকে ছেড়ে দাও, যদি তুমি তাঁকে তাঁর পুরো উম্মতের সাথেও ওজন করো, তবুও তিনি তাঁদের সবার চেয়ে ভারী হবেন।) (১)।

প্রকৃতপক্ষে এই শিশুটির বক্ষ তাঁর মেষগুলোর মাঝেই বিদীর্ণ করা হয়েছিল... যখন তিনি দেখছিলেন এই দুই ফেরেশতা তাঁর সাথে কী করছেন... রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ নবুয়তের পরেও তাঁর বক্ষে সেই বিদীর্ণ করার চিহ্ন দেখেছিলেন। যা নিশ্চিত করে যে, এই ঘটনাটি একটি বস্তুগত বাস্তবতা ছিল... যে পদ্ধতিতে এটি সম্পন্ন হয়েছিল তা ছিল মানুষের সক্ষমতা, শক্তি এবং কল্পনার ঊর্ধ্বে... আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন
(১) এই হাদিসটি সহিহ এবং এটি পূর্বে আমাদের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে, যখন বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্তন্যপানের বিষয়টি আলোচিত হয়েছিল এবং জন্ম ও উপকথা বিষয়ক আলোচনায় অন্য একটি শব্দবিন্যাসে এটি এসেছে, যা পরবর্তী হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।