(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الكواكب الدرية على المنظومة البيقونية القسم: علوم الحديث
الكتاب: الكواكب الدرّية على المنظومة البيقونية
المؤلف: سليمان بن خالد الحربي
[الكتاب مرقم آليا، وهو دروس مفرغة]
عدد الصفحات: 127
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়াহ আলা আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়াহ আলা আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ
লেখক: সুলাইমান বিন খালিদ আল-হারবি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত এবং এটি অনুলিখিত পাঠের সমষ্টি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
{بسم الله الرحمن الرحيم}
مقدِّمة الشارح الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله
… وبعد:-
فقد منّ الله ـ جلّ وعلا ـ ووفق لشرح (المنظومة البيقونيّة) ، ضمن الدورة التي نظمها مكتب الدعوة والإرشاد في محافظة الزلفي لعام 1429هـ.
في مسجد " بن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ "، وقد شُرحت في أحد عشر مجلساً، وقد كانت إملاءً، فرغب الأخ / عبد العزيز المسعود، بكتابتها وإخراجها لينتفع بها ـ إن كان فيها من فائدة ـ، وقد اقترح تسميتها بـ " الكواكب الدرّية على المنظومة البيقونيّة ".
هذا وأسأل الله عز وجل أن يجعل فيها خيراً، ومن رأى فيها خللاً أو خطأً فليصلحه ويقوّمه، والله يجزيه الجزاء الأوفى.
وصلى الله وسلم على نبيّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
مقدِّمة المعتني بالشرح
الحمد لله الذي هدانا للإسلام، وعلمنا الحكمة والقرآن، وجعل ديننا من خير الأديان، فله الحمد أولاً وآخراً وظاهراً وباطناً، أحمده حمداً لست أحصي له عدّاً هو كما أثنى على نفسه.
لك الحمد مولانا على كل نعمة
… ومن جملة النعماء قولي لك الحمد
فلا حمد إلا أن تمن بنعمة
… فسبحانك لا يقوى على حمدك العبد
والصلاة والسلام الأتمّان الأكملان على من بعثه الله رحمة للعالمين، هادياً وبشيراً وداعياً إلى الله بإذنه وسراجاً منيراً.
… وبعد:
فإليك أخي القارئ، " الكواكب الدرّية على المنظومة البيقونية "، وهي شرحٌ لشيخنا الفاضل / سليمان بن خالد الحربي، حفظه الله، وجعل الجنّة مثواه، وسدّده في دنياه وأخرآه.
رأيت إخراجه إلى النور ليستفيد منه القراء، بعد أخذ الأذن منه، لعلّه أن يكون أساساً وسلّماً يرتقي من خلاله طالب العلم لعلم المصطلح، ومما يمتاز به شرح شيخنا التحرير في المسائل، وقد جاء على وفق منهج المتقدمين وتحريرات المتأخرين.
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।}
ব্যাখ্যাকারের ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর
… অতঃপর:-
মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা (شرح) করার তাওফিক দান করেছেন, যা ১৪২৯ হিজরি সনে জুলফি প্রদেশের দাওয়াহ ও ইরশাদ দপ্তরের আয়োজিত একটি কোর্সের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
"ইবনুল কাইয়্যিম —রাহিমাহুল্লাহ—" মসজিদে এগারোটি মজলিসে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি ছিল শ্রুতিলিখন (إملاء) পদ্ধতির; অতঃপর ভাই আব্দুল আজিজ আল-মাসউদ এটি লিপিবদ্ধ ও প্রকাশ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন যাতে মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে —যদি এতে কোনো কল্যাণ থেকে থাকে—। তিনি এর নাম "আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ আলাল মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ" রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত রাখেন। যদি কেউ এতে কোনো ত্রুটি বা ভুল দেখতে পান, তবে তিনি যেন তা সংশোধন ও পরিমার্জন করে দেন; আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করবেন।
এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।
সংকলকের ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছেন, আমাদের হিকমাহ ও কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের দীনকে শ্রেষ্ঠ দীন করেছেন। তাঁরই প্রশংসা প্রথমে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা গণনা করে শেষ করা যায় না; তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন।
হে আমাদের প্রতিপালক! সকল নিআমতের জন্য আপনারই প্রশংসা
… আর আপনার প্রশংসা করতে পারাটাও নিআমতসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত।
আপনার নিআমত দান ব্যতীত কোনো প্রশংসা সম্ভব নয়
… আপনি পবিত্র! বান্দা আপনার যথাযথ প্রশংসা করতে সক্ষম নয়।
পূর্ণাঙ্গতম ও শ্রেষ্ঠতম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁকে আল্লাহ বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে, পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন।
… অতঃপর:
প্রিয় পাঠক ভাই, আপনার সম্মুখে পেশ করছি "আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ আলাল মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ", যা আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ সুলাইমান ইবনে খালিদ আল-হারবী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর একটি ব্যাখ্যা (شرح)। আল্লাহ তাঁর আবাস জান্নাতে করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
আমি এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে পাঠকরা উপকৃত হতে পারেন, তাঁর থেকে অনুমতি গ্রহণের পর। সম্ভবত এটি হাদিসের পরিভাষা বিদ্যার (علم المصطلح) ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষীদের জন্য একটি ভিত্তি ও সোপান হবে। আমাদের শাইখের ব্যাখ্যার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحرير), যা পূর্ববর্তী ইমামদের (متقدمين) মানহাজ এবং পরবর্তী আলেমদের (متأخرين) সূক্ষ্ম গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণের (تحريرات) সমন্বয়ে প্রণীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
فاستعنت بالله على إخراجه، فأعان وأتم، وقد رغب بعض الأفاضل في إخراجه مبكراً، لينتفع به القراء في هذه الإجازة، وإلا فإن رغبتي في إخراجه أفضل مما هو عليه الآن في عزو المسائل والأقوال وغير ذلك من التحرير والتدقيق، فإن كان من صواب فمن الله وحده فله الحمد أولاً وآخراً، وقد تجد أخي القارئ بين ثنايا السطور أخطاءً، إما مطبعيّة أو غيرها، فلا غرو إذ الأصل فيمن خلق من عجل الخطأ والزلل.
إن تجد عيباً فسد الخللا
… جلّ من لا عيب فيه وعلا
واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل المتواضع خالصاً لوجهه الكريم.
وصلى الله وسلم على نبيّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
متن المنظومة البيقونية(بسم الله الرحمن الرحيم)
أبدأُ بالحمدِ مُصَلِّياً على
… مُحمَّدٍ خَيِر نبيْ أُرسلا
وذِي مِنَ أقسَامِ الحديث عدَّة
… وكُلُّ واحدٍ أتى وحدَّه
أوَّلُها "الصحيحُ" وهوَ ما اتَّصَلْ
… إسنادُهُ ولْم يَشُِذّ أو يُعلّ
يَرْويهِ عَدْلٌ ضَابِطٌ عَنْ مِثْلِهِ
… مُعْتَمَدٌ في ضَبْطِهِ ونَقْلهِ
وَ"الَحسَنُ" الَمعْرُوفُ طُرْقاً وغَدَتْ
… رِجَالُهُ لا كالصّحيحِ اشْتَهَرَتْ
وكُلُّ ما عَنْ رُتبةِ الُحسْنِ قَصُر
… فَهْوَ"الضعيفُ"وهوَ أقْسَاماً كُثُرْ
وما أُضيفَ للنبي " الَمرْفوعُ "
… وما لتَابِعٍ هُوَ " المقْطوعُ "
وَ"الُمسْنَدُ" الُمتَّصِلُ الإسنادِ مِنْ
… رَاويهِ حتَّى الُمصْطفى ولْم يَبنْ
ومَا بِسَمْعِ كُلِّ رَاوٍ يَتَّصِل
… إسْنَادُهُ للمُصْطَفى فَ"الُمتَّصلْ"
"مُسَلْسَلٌ" قُلْ مَا عَلَى وَصْفٍ أتَى
… مِثْلُ أمَا والله أنْبأنِي الفتى
كذَاكَ قَدْ حَدَّثَنِيهِ قائِماً
… أوْ بَعْدَ أنْ حَدَّثَنِي تَبَسَّمَا
" عَزيزٌ " مَروِيُّ اثنَيِن أوْ ثَلاثهْ
… "مَشْهورٌ" مَرْوِيُّ فَوْقَ ما ثَلاثهْ
"مَعَنْعَنٌ " كَعَن سَعيدٍ عَنْ كَرَمْ
… "وَمُبهَمٌ " مَا فيهِ رَاوٍ لْم يُسَمْ
আমি এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি সাহায্য করেছেন এবং এটি সম্পন্ন হয়েছে। কতিপয় গুণী ব্যক্তিত্ব এটি দ্রুত প্রকাশের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন, যাতে এই অবকাশকালীন সময়ে পাঠকগণ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। অন্যথায়, মাসআলা এবং উক্তিগুলোর উৎস নির্দেশ এবং অন্যান্য সম্পাদনা ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বর্তমানের চেয়ে আরও নিখুঁতভাবে প্রকাশের ইচ্ছা আমার ছিল। যদি এতে সঠিক কিছু থাকে তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, সুতরাং আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। প্রিয় পাঠক, পঙ্ক্তিগুলোর মাঝে আপনি হয়তো মুদ্রণজনিত বা অন্য কোনো ভুল খুঁজে পেতে পারেন; এটি আশ্চর্যজনক নয়, কারণ যাকে তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি করা হয়েছে (মানুষ), তার ক্ষেত্রে ভুল ও চ্যুতি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সে শূন্যস্থান পূরণ করে দিন
… মহান তিনি, যাঁর মাঝে কোনো খুঁত নেই এবং যিনি সর্বোচ্চ।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বিনম্র কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মানজুমা আল-বাইকুনিইয়্যাহর মূল পাঠ(পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)
আমি আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করছি এবং প্রেরিত নবীদের মাঝে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পেশ করছি।
এটি হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের একটি সংকলন, যার প্রতিটি প্রকার স্বীয় সংজ্ঞাসহ বর্ণিত হয়েছে।
এর প্রথম প্রকার হলো ‘বিশুদ্ধ (صحيح)’, আর তা হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন এবং যা ‘বিচ্যুত (شاذ)’ বা ‘ত্রুটিযুক্ত (معلل)’ নয়।
এটি বর্ণনা করেন একজন ‘ন্যায়পরায়ণ (عدل)’ ও ‘প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط)’ বর্ণনাকারী তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী থেকে, যার হেফজ ও বর্ণনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায়।
আর ‘গ্রহণযোগ্য (حسن)’ হলো সেই হাদিস যার সূত্রসমূহ পরিচিত, কিন্তু এর বর্ণনাকারীবৃন্দ ‘বিশুদ্ধ (صحيح)’ হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো প্রসিদ্ধ নন।
যা কিছু ‘গ্রহণযোগ্য (حسن)’ হওয়ার স্তর থেকে নিচে অবস্থান করে, সেটিই হলো ‘দুর্বল (ضعيف)’ এবং এর অনেকগুলো প্রকার রয়েছে।
যা নবীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা হলো ‘মারফু (مرفوع)’ এবং যা কোনো তাবেয়ীর সাথে সম্পর্কিত তা হলো ‘মাকতু (مقطوع)’।
আর ‘মুসনাদ (مسند)’ হলো বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে মনোনীত নবী পর্যন্ত এমন ‘নিরবচ্ছিন্ন (متصل)’ সনদ (إسناد), যাতে কোনো ছেদ পড়েনি।
প্রত্যেক বর্ণনাকারীর শ্রবণের মাধ্যমে যা মনোনীত নবী পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং যার সনদ (إسناد) যুক্ত রয়েছে, তা-ই ‘নিরবচ্ছিন্ন (متصل)’।
‘ধারাবাহিক (مسلسل)’ হলো সেই বর্ণনা যা কোনো একটি বিশেষ পদ্ধতিতে এসেছে, যেমন—"আল্লাহর কসম, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন"।
তদ্রূপ তিনি দাঁড়িয়ে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, অথবা বর্ণনা করার পর তিনি মুচকি হেসেছেন।
‘দুর্লভ (عزيز)’ হলো দুজন বা তিনজনের বর্ণিত হাদিস, আর ‘প্রসিদ্ধ (مشهور)’ হলো তিনজনের অধিক বর্ণনাকারীর বর্ণনা।
‘আন-আন সম্বলিত (معنعن)’ হলো যেমন সাঈদ থেকে ও কারাম থেকে বর্ণিত হাদিস। আর ‘অস্পষ্ট (مبهم)’ হলো যাতে কোনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
وكُلُّ مَا قَلَّت رِجَالُهُ " عَلا "
… وضِدُّهُ ذَاكَ الذِي قَدْ "نَزَلا "
ومَا أضَفْتَهُ إلى الأصْحَابِ مِن
… قَوْلٍ وفعْلٍ فهْوَ "مَوْقُوفٌ" زُكنْ
"وَمُرْسلٌ " مِنهُ الصَّحَابُّي سَقَطْ
… وقُلْ "غَريبٌ" ما رَوَى رَاوٍ فَقطْ
وكلُّ مَا لْم يَتَّصِلْ بِحَال
… إسْنَادُهُ "مُنْقَطِعُ " الأوْصالِ
"والُمعْضَلُ " السَّاقِطُ مِنْهُ اثْنَان
… ومَا أتى "مُدَلَّساً " نَوعانِ
الأوَّل الإسْقاطُ للشَّيخِ وأنْ
… يَنْقُلَ مَّمنْ فَوْقَهُ بعنْ وأنْ
والثَّانِ لا يُسْقِطُهُ لكنْ يَصِفْ
… أوْصَافَهُ بما بهِ لا يَنْعرِفْ
ومَا يَخالِفُ ثِقةٌ فيهِ الَملا
… فالشَّاذُّ والَمقْلوبُ قِسْمَانِ تَلا
إبْدَالُ راوٍ ما بِرَاوٍ قِسْمُ
… وقَلْبُ إسْنَادٍ لمتنٍ قِسمُ
وَ" الفَرَدُ " ما قَيَّدْتَهُ بثِقَةِ
… أوْ جْمعٍ أوْ قَصِر على روايةِ
ومَا بعِلَّةٍ غُمُوضٍ أوْ خَفَا
… " مُعَلَّلٌ " عِنْدَهُمُ قَدْ عُرِفَا
وذُو اخْتِلافِ سنَدٍ أو مَتْنٍ
… " مُضْطربٌ " عِنْدَ أهيْلِ الفَنِّ
وَ"الُمدْرَجاتُ" في الحديثِ ما أتَتْ
… مِنْ بَعْضِ ألفاظِ الرُّوَاةِ اتَّصَلَتْ
ومَا رَوى كلُّ قَرِينٍ عنْ أخهْ
… " مُدَبَّجٌ" فَاعْرِفْهُ حَقًّا وانْتَخهْ
مُتَّفِقٌ لَفْظاً وخطاً " مُتَّفقْ "
… وضِدُّهُ فيما ذَكَرْنَا " الُمفْترقْ "
" مُؤْتَلِفٌ " مُتَّفِقُ الخطِّ فَقَطْ
… وضِدُّهُ "مُختَلِفٌ" فَاخْشَ الغَلَطْ
"والُمنْكَرُ" الفَردُ بهِ رَاوٍ غَدَا
… تَعْدِيلُهُ لا يْحمِلُ التَّفَرُّدَا
"مَتُروكُهُ" مَا وَاحِدٌ بهِ انفَردْ
… وأجَمعُوا لضَعْفِه فَهُوَ كرَدّ
والكذِبُ الُمخْتَلَقُ المصنُوعُ
… علَى النَّبيِّ فذَلِكَ " الموْضوعُ "
وقَدْ أتَتْ كالَجوْهَرِ المكْنُونِ
… سَمَّيْتُهَا: (مَنْظُومَةَ البَيْقُوني)
فَوْقَ الثَّلاثيَن بأرْبَعٍ أتَت
… أقْسامُهَا ثمَّ بخيٍر خُتِمتْ
شرح المنظومة البيقونيّة
এবং যার বর্ণনাকারী সংখ্যা কম তাকে 'উচ্চ' (عالي) বলা হয়
… আর এর বিপরীত হলো যা 'নিম্ন' (نازل)
আর সাহাবীদের দিকে যা তুমি নিসবত করো, চাই তা কথা
… বা কাজ হোক, তাকে 'মাওকুফ' (موقوف) হিসেবে চেনা হয়
আর 'মুরসাল' (مرسل) হলো যাতে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে
… এবং তাকে 'গরিব' (غريب) বলো যা কেবল একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন
আর যে হাদিসের সনদ কোনো অবস্থাতেই যুক্ত নয়
… তার যোগসূত্রগুলো বিচ্ছিন্ন বা 'মুনকাতি' (منقطع)
আর 'মু'দাল' (معضل) হলো যার সনদ হতে (ধারাবাহিকভাবে) দুইজন বাদ পড়েছে
… আর যা 'মুদাল্লাস' (مدلس) হিসেবে আসে তা দুই প্রকার
প্রথম প্রকার হলো শাইখকে বাদ দেওয়া এবং তার
… উপরের স্তরের রাবীর পক্ষ হতে 'আন' এবং 'আন্না' শব্দযোগে বর্ণনা করা
আর দ্বিতীয় প্রকার হলো তাকে বাদ না দেওয়া, তবে তাকে এমন
… বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত করা যা দিয়ে তাকে চেনা যায় না
আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরোধিতা করেন
… তখন তা 'শায' (شاذ); এরপর 'মাকলুব' (مقلوب) দুই প্রকার
এক বর্ণনাকারীকে অন্য বর্ণনাকারী দিয়ে বদলে দেওয়া এক প্রকার
… আর মতনের জন্য সনদকে উল্টে দেওয়া অন্য প্রকার
আর 'ফারদ' (فرد) হলো যা তুমি সীমাবদ্ধ করো কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সাথে
… অথবা নির্দিষ্ট কোনো সমষ্টি বা নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনার সাথে
আর যে হাদিসে কোনো অস্পষ্ট বা সূক্ষ্ম ত্রুটি রয়েছে
… তা তাদের (মুহাদ্দিসদের) নিকট 'মুআল্লাল' (معلل) হিসেবে পরিচিত
আর সনদ অথবা মতনের মধ্যে বৈচিত্র্যপূর্ণ মতভেদ থাকলে
… তা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে 'মুদতারিব' (مضطرب)
আর হাদিসের মধ্যে 'মুদরাজ' (مدرج) হলো বর্ণনাকারীদের
… কিছু শব্দ যা মূল হাদিসের সাথে মিলেমিশে গেছে
আর সমসাময়িক দুই বর্ণনাকারী যখন একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন
… তখন তা 'মুদাব্বাজ' (مدبج); এটি সঠিকভাবে জেনে নাও এবং মনে রেখো
উচ্চারণে এবং লেখায় এক হওয়াকে 'মুত্তাফিক' (متفق) বলে
… আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বিপরীত হলো 'মুফতারিক' (مفترق)
'মু'তালিফ' (مؤتلف) হলো যা কেবল লেখায় এক হয়
… আর তার বিপরীত হলো 'মুখতালিফ' (مختلف); সুতরাং ভুল করা হতে সতর্ক থাকো
আর 'মুনকার' (منكر) হলো এমন একক বর্ণনা যার বর্ণনাকারী এমন
… পর্যায়ের যে তার একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্যতা পায় না
'মাতরুক' (متروك) হলো যা বর্ণনায় একজন একক হয়ে গেছেন
… এবং সকলে তার দুর্বলতার (ضعف) ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তাই তা প্রত্যাখ্যাত
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যে মিথ্যা মনগড়া ও বানোয়াট বিষয়
… বর্ণনা করা হয়, তা-ই হলো 'মাওদু' (موضوع)
আর এটি এসেছে সুপ্ত মুক্তার ন্যায়
… আমি এর নাম রেখেছি: (মানজুমা আল-বাইকুনি)
এর পঙক্তিগুলো চৌত্রিশটি (৩৪) হয়ে এসেছে
… অতঃপর কল্যাণের সাথে এটি সমাপ্ত হলো
শরহ আল-মানজুমা আল-বাইকুনি
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
{بسم الله الرحمن الرحيم}
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على آله وصحبه ومن اهتدى بهداه إلى يوم الدين
(المنظومة البيقونية)
اعتنى أهل العلم في نظم العلم وتيسيره للطلبة اعتناء شديداً، لأنهم وجدوا أن النظم يسهل التحصيل، ويسرع في فهم الطالب ويكون هذا العلم مستقرا في عقله وذهنه من خلال حفظه لهذه المنظومة، والأمام البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ، لم تسعف التراجم في ترجمة أو التعريف به فلا يكاد يوجد له ترجمة كما هي في تراجم غيره ممن ألف ونظم حتى إنهم رحمهم الله اختلفوا في اسمه والاختلاف هذا أيضا ليس عن يقين منهم من قال أن اسمه طه بن محمد ومنهم من قال أنه عمر بن محمد، وأنه موجود في القرن الحادي عشر في عام 1080هـ، معلومات فقط هكذا، ليس هناك معلومات واضحة عن هذا الإمام وقد اجتهد بعض أهل العلم بقوله، بأن الأمام البيقوني حرص أن يخفي نفسه وألا يعرف بنفسه.
وهذا غير صحيح، وإن ذكره أكابر الشراح إلا أن هذا غير صحيح أن العالم يحاول أن يخفي نفسه فلا يعرف، العلم دين كيف يخفي نفسه؟! ولكن قدر الله جل وعلا هو ألا يوجد له ترجمة وألا يعرّف به وكثير من أهل العلم تراجمهم قليلة فليس هذا مقصد من الإمام البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ أن يخفي نفسه، هذا لا يمكن أن يكون غرضاً لهذا الإمام، ومن أظهر نفسه غير مخالف للإخلاص ليس معنى أن يعرّف نفسه أو يكتب ترجمة أن هذا مخالف للإخلاص كلا بل إنه يظهر نفسه من أجل أن يعرف، ويعرف عمن أخذ العلم، لكن هذا هو قدر الله.
وهذا فيه عدة فوائد نستفيدها من كوننا لا نعرف البيقوني:-
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।}
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত হিদায়াতের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
(আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়াহ)
আলেম সমাজ ইলমকে ছন্দবদ্ধ (نظم) করতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তা সহজ করতে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ তাঁরা অনুধাবন করেছেন যে, ছন্দবদ্ধ রূপ (نظم) ইলম অর্জনকে সহজতর করে, শিক্ষার্থীর বোধগম্যতা দ্রুততর করে এবং এই ছন্দ মুখস্থ করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইলমটি তার মস্তিষ্ক ও স্মৃতিতে সুদৃঢ় হয়। ইমাম বাইকুনি (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী সম্পর্কে জীবনবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থসমূহ (تراجم) পর্যাপ্ত তথ্য প্রদানে সক্ষম হয়নি। যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন বা ইলমকে ছন্দবদ্ধ করেছেন, অন্যদের জীবনী (ترجمة) যেভাবে পাওয়া যায়, তাঁর ক্ষেত্রে তেমনটি পাওয়া দুষ্কর। এমনকি আলেমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) তাঁর নামের ব্যাপারেও মতভেদ করেছেন এবং এই মতভেদও কোনো সুনিশ্চিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। তাঁদের কেউ বলেছেন তাঁর নাম ত্বহা ইবনে মুহাম্মাদ, আবার কেউ বলেছেন উমর ইবনে মুহাম্মাদ। তিনি একাদশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১০৮০ হিজরি সনের দিকে বিদ্যমান ছিলেন— কেবল এই সামান্য তথ্যটুকুই পাওয়া যায়। এই ইমাম সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই। কোনো কোনো আলেম ইজতিহাদ করে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ইমাম বাইকুনি নিজেই নিজেকে আত্মগোপন করে রাখতে এবং আত্মপরিচয় প্রকাশ না করতে সচেষ্ট ছিলেন।
তবে এই কথাটি সঠিক নয়। যদিও বড় বড় ব্যাখ্যাকারগণ এটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কোনো আলেম নিজেকে এমনভাবে গোপন রাখার চেষ্টা করবেন যাতে তিনি পরিচিত না হন—তা সঠিক হতে পারে না। ইলম তো দ্বীন, এমতাবস্থায় তিনি নিজেকে আড়াল করবেন কীভাবে? মূলত এটি মহান আল্লাহরই ফয়সালা যে তাঁর কোনো বিস্তারিত জীবনী (ترجمة) পাওয়া যায় না এবং তিনি সুপরিচিত হননি। অনেক বড় বড় আলেমের জীবনীও (ترجمة) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাই বলে নিজেকে গোপন রাখা ইমাম বাইকুনি (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য ছিল—এমনটি হওয়া সম্ভব নয়। আর নিজেকে প্রকাশ করা ইখলাসের পরিপন্থী নয়। নিজের পরিচয় দেওয়া বা জীবনী (ترجمة) লিপিবদ্ধ করা মানেই তা ইখলাসের পরিপন্থী হওয়া নয়; বরং আলেমগণ নিজেকে প্রকাশ করেন যাতে তাঁদের চেনা যায় এবং তাঁরা কার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন তা জানা যায়। তবে এটি ছিল কেবল আল্লাহরই ফয়সালা।
বাইকুনির জীবনী সম্পর্কে আমাদের এই অস্পষ্টতার মাঝে বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যা আমরা অর্জন করতে পারি:-
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفائدة الأولى: أن طالب العلم لا يحتقر نفسه ولا عمله، فالإمام البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ ليس له من العلم إلا أنه نظم بضعة وثلاثين بيتا في علم المصطلح، فقيض الله جل وعلا لها انشراح، فالشراح أكثروا من شرحها، سواء من القدماء أو من المعاصرين، لا أكاد أعلم أحد يهتم بعلم الحديث في هذا الوقت المعاصر إلا وشرح هذه المنظومة، أكاد أجزم بهذا الأمر أن كل من يهتم بعلم الحديث أن يكون قد مرّ على هذه المنظومة وشرحها لطلابه وهذا تيسير، فكم من الحسنات تجري لهذا الإمام الذي توفي ولا يعرف فلا يحتقر الإنسان نفسه لا يقول هذا الموضوع فيه عشرات الكتب، فالمنظومات كثيرة في علم المصطلح فالبيقوني لم يحتقر نفسه ولا شك أن عنده الاستطاعة كما في هذا النظم العظيم ومع ذلك انظر كيف طرح الله البركة فيها، فشرحها جمع غفير.
الفائدة الثانية: أن طالب العلم عليه أن ينوع في طريقة إيصال العلم، هذا الإمام البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ نظمه يدل على أنه يستطيع أن يؤلف مسألة حديثيّة وأن يؤلف مسألة فقهية وأن يؤلف مسألة أصولية من ظاهر نظمه.
فعلى طالب العلم أن ينوع، فاختصار الكتب علم، فتأتي إلى كتاب لابن تيمية أو كتاب للشيخ ابن عثيمين أو كتاب للشيخ عبد العزيز بن باز ـ رحمهم الله تعالى ـ أو كتاب للإمام الشافعي أو كتاب للإمام مالك أو أي مؤلف كتب الله له القبول لمؤلِّفه ومؤلَّفه، تأتي إليه فاختصره، كم من كتاب بقي لنا الآن المختصر ولم يبق لنا الأصل.
প্রথম উপকারিতা (فائدة): ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) যেন নিজেকে এবং নিজের কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান না করেন। ইমাম আল-বাইকুনি —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— সম্পর্কে তেমন কোনো ইলমি পরিচয় পাওয়া যায় না, কেবল হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানে (علم المصطلح) তাঁর রচিত ত্রিশের অধিক চরণের একটি পদ্য (نظم) ছাড়া। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এতে এমন ব্যাপকতা দান করেছেন যে, প্রাচীন (قدماء) থেকে শুরু করে সমকালীন (معاصرين) ব্যাখ্যাকারকগণ এর অসংখ্য ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন। বর্তমান সময়ে হাদিস নিয়ে যারা চর্চা করেন, তাদের মধ্যে প্রায় এমন কাউকেই আমি জানি না যিনি এই কাব্যগ্রন্থটি (منظومة) ব্যাখ্যা করেননি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, হাদিস নিয়ে আগ্রহী প্রত্যেকেই এই কাব্যগ্রন্থটি (منظومة) অধ্যয়ন করেছেন এবং নিজের ছাত্রদের কাছে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; আর এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সহজীকরণ। এই ইমাম ইন্তেকাল করেছেন অথচ তিনি (ব্যক্তি হিসেবে তেমন) পরিচিত নন, কিন্তু তাঁর আমলনামায় কত নেকিই না যুক্ত হচ্ছে! সুতরাং মানুষ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে না করে এবং এমনটা না বলে যে— এই বিষয়ে তো ইতিমধ্যে কয়েক ডজন বই রচিত হয়েছে। হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানে (علم المصطلح) পদ্যের (منظومات) সংখ্যা অনেক, তবে আল-বাইকুনি নিজেকে ছোট মনে করেননি। নিঃসন্দেহে তাঁর সেই সক্ষমতা ছিল যা এই মহান পদ্য (نظم) থেকে প্রকাশ পায়, তবুও দেখুন আল্লাহ এতে কেমন বরকত দান করেছেন যে, এক বিশাল জামাত এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন।
দ্বিতীয় উপকারিতা (فائدة): ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) উচিত ইলম পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা। এই ইমাম আল-বাইকুনি —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— এর পদ্য (نظم) একথার প্রমাণ দেয় যে, পদ্যের গঠনশৈলী অনুযায়ী তিনি হাদিস শাস্ত্রীয় (حديثية), ফিকহ শাস্ত্রীয় (فقهية) এবং উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রীয় (أصولية) মাসআলা নিয়ে গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম ছিলেন।
তাই ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) উচিত পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা; কিতাব সংক্ষেপ করাও একটি ইলম। আপনি যদি ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, শায়খ ইবনে উসাইমিন, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— কিংবা ইমাম শাফিঈ বা ইমাম মালিক অথবা এমন কোনো লেখকের কিতাব হাতে নেন যাঁর লেখক এবং গ্রন্থকে আল্লাহ কবুলিয়ত দান করেছেন, এবং তা সংক্ষেপ করেন; (তবে জেনে রাখুন) আমাদের কাছে বর্তমানে এমন অনেক কিতাব অবশিষ্ট আছে যেগুলোর কেবল সংক্ষিপ্ত রূপটিই (مختصر) টিকে আছে কিন্তু মূল গ্রন্থটি (أصل) আর পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أرأيتم ذلك المختصِر لكتاب " اختلاف العلماء " للطحاوي ـ رحمه الله تعالى ـ من أعظم كتب الإسلام جاء عالم في القرن الرابع وهو أبو بكر الجصّاص الرّازي ـ رحمه الله تعالى ـ فاختصره، فلو أنه قال لنفسه وماذا يفيد اختصاري والناس تريد المطولات، فقد ضاع الكتاب الأصل، ولا يعرف ولا توجد له مخطوطة سنين طويلة، ولم يتناقل إلا هذا المختصَر فهذا شرف لهذا المختصر ويجري له حسنات كما يجري لصاحب الأصل، والأشبيلي اختصر كتاب الخلافيات للإمام البيهقي، ولم يوجد منه إلا قطعة قليلة بعض أحكام العبادات، والأصل ضاع، فجاء الإشبيلي واختصر هذا الأصل فأبقى الله مختصر الإشبيلي ولم يبقِ هذا الأصل.
ولهذا أنصح بعض الأخوة عندما يأتي لبعض الكتب الكبيرة للعلماء الكبار تجد بعض الناس لا تقوى رغبته أن يقرأ هذا الكتاب، فإذا لم يجد مختصرا له سيقرؤه.
ولهذا أكثر كتب بن تيمية مختصرة منها:-
1) منهاج السنة مختصر في أكثر من مختصر.
2) كتاب النبوات مختصر.
3) كتاب اقتضاء الصراط المستقيم.
4) كتاب الفتاوى مختصرة، وكتب كثيرة.
وابن القيم – رحمه الله تعالى – له كتب مختصرة. فلماذا العلماء يختصرون الكتب؟ من أجل أن العلماء عرفوا أن طالب العلم أحيانا قد يكسل.
فالعقيدة السفّارينيّه لابن عثيمين 700 صفحة لو جاء طالب واختصر هذه العقيدة، قد يكسل بعض الناس أن يقرأ السفارينيه، وهي لإمام موثوق، فلو جاء شخص واختصر هذا الكتاب لنفع الله به، الشاهد أن نأخذ فوائد في أن طالب العلم لا يحتقر نفسه في طريقة التأليف.
((تمهيد))
قبل أن نبدأ في هذا العلم هناك عشرة مبادئ لكل علم لابد من معرفتها، عندما تريد أن تدخل في كل علم لابد أن تعرف مبادئ العلم، جمعها الأخضري رحمه الله في قوله:
إن مبادي كل علم عشرة
… الحد والموضوع ثم الثمرة
ونسبةٌ وفضله والواضع
… والاسم الاستمداد حكم الشارع
ইমাম ত্বহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘ইখতিলাফ আল-উলামা’ কিতাবটির সেই সংক্ষিপ্তসার (مختصر) কি আপনারা দেখেছেন? এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি কিতাব। চতুর্থ শতাব্দীতে আবু বকর আল-জাসসাস আর-রাজি (রাহিমাহুল্লাহ) নামক একজন আলেম আবির্ভূত হয়ে এটি সংক্ষেপ করেন। তিনি যদি মনে মনে বলতেন, ‘আমার এই সংক্ষিপ্তসার (مختصر) কী উপকারে আসবে যেখানে মানুষ দীর্ঘ কিতাবই পড়তে চায়?’ তবে জেনে রাখুন, মূল কিতাবটি হারিয়ে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল যাবত এর কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি। কেবল এই সংক্ষিপ্তসারটিই (مختصر) প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছেছে। এটি এই সংক্ষিপ্তসারটির (مختصر) জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা এবং মূল লেখকের ন্যায় এর সংক্ষেপকারীর আমলনামাতেও সওয়াব জারি থাকে। তদ্রূপ আল-ইশবিলি ইমাম বায়হাক্বী রচিত ‘আল-খিলাফিয়াত’ কিতাবটির সারসংক্ষেপ করেছেন; বর্তমানে এর সামান্য ইবাদত সংক্রান্ত অংশ ব্যতীত মূল কিতাবটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আল-ইশবিলি মূল কিতাবটির সারসংক্ষেপ করার ফলে আল্লাহ তাআলা ইশবিলির সংক্ষিপ্তসারটি (مختصر) টিকিয়ে রেখেছেন অথচ মূল কিতাবটি আর অবশিষ্ট নেই।
এজন্য আমি কিছু ভাইদের পরামর্শ দেই যে, যখন বড় বড় আলেমদের বিশাল কিতাবগুলো সামনে আসে, তখন দেখা যায় কিছু মানুষের সেগুলো পড়ার আগ্রহ বা সামর্থ্য থাকে না। কিন্তু যদি সেগুলোর সংক্ষিপ্তসার (مختصر) পাওয়া যায়, তবে তারা তা পাঠ করবে।
একারণেই ইবনে তাইমিয়্যাহর অধিকাংশ কিতাবই সংক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:-
১) মিনহাজুস সুন্নাহ—এর একাধিক সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রয়েছে।
২) কিতাবুন নুবুওয়াত-এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)।
৩) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম।
৪) ফাতাওয়া কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার (مختصر) সহ আরও অনেক কিতাব।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এরও কিছু সংক্ষিপ্ত (مختصر) কিতাব রয়েছে। কেন উলামায়ে কিরাম কিতাবসমূহ সংক্ষেপ করেন? কারণ তারা জানতেন যে ইলম অন্বেষণকারী ছাত্ররা অনেক সময় অলসতা করতে পারে।
যেমন ইবনে উসাইমীনের ‘আল-আক্বিদাহ আস-সাফফারিনিয়্যাহ’ ৭০০ পৃষ্ঠার; কোনো ছাত্র যদি এই আক্বিদাহর কিতাবটি সংক্ষেপ করে, তবে তা মানুষের উপকারে আসবে। কেননা সাফফারিনিয়্যাহ পড়তে অনেকের অলস্য আসতে পারে, অথচ এটি একজন নির্ভরযোগ্য (موثوق) ইমামের কিতাব। কোনো ব্যক্তি যদি এই কিতাবটি সংক্ষেপ করে তবে আল্লাহ এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করবেন। মূল কথা হলো, ইলম অন্বেষণকারী ছাত্র যেন কিতাব রচনার ক্ষেত্রে নিজেকে তুচ্ছ মনে না করে।
((উপক্রমণিকা))
এই ইলম শুরু করার আগে প্রতিটি শাস্ত্রের দশটি মূলনীতি জানা আবশ্যক। যখনই আপনি কোনো শাস্ত্রে প্রবেশ করতে চাইবেন, তখন সেই ইলমের মূলনীতিগুলো জানা প্রয়োজন। আল-আখদারি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কবিতায় এগুলোকে এভাবে সংকলন করেছেন:
“নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো দশটি
… সংজ্ঞা (حد), আলোচ্য বিষয় (موضوع) অতঃপর এর ফল (ثمرة)।
পারস্পরিক সম্পর্ক (نسبة), শ্রেষ্ঠত্ব (فضل), প্রবর্তক (واضع)
… নাম (اسم), উৎস (استمداد) এবং শারী‘আহ প্রণেতার বিধান (حكم الشارع)।”
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مسائل والبعض بالبعض اكتفى
… ومن درى الجميع حاز الشرفا
فكل علم نريد أن ندخل عليه لابد أن نذكر هذه الأبيات هذا موضوع العلم كأنه الفهرس لهذا العلم.
قال الأخضري رحمه الله:-
إن مبادي كل علم عشرة
… الحد والموضوع ثم الثمرة
الحد: أي تعريفه، ما هو تعريف هذا العلم؟
فما هو علم الحديث؟ وما هو حده؟ هو علم بقوانين يعرف من خلالها حال الراوي والمروي، أو إن شئت قل: حال السند والمتن، فمن دخل في هذا العلم سيعرف حال الراوي والمروي.
قال والموضوع: هو السند والمتن.
قال ثم الثمرة: ثمرة هذا العلم تمييز كلام رسول الله وتمحيصه.
ثم قال الأخضري ـ رحمه الله تعالى ـ:-
ونسبةٌ وفضله والواضع
… والاسم الاستمداد حكم الشارع
قال ونسبة:
ما هو نسبة علم الحديث إلى العلوم الأخرى؟
هو جزء منه، ما مقدار هذا الجزء، والعلاقة بينهما تباين من وجه وتضمن من وجه آخر.
فتباين: من حيث أن هذا علم له أبواب مختلفة عن علم الأصول وعن علم الفقه.
وتضمن: من حيث أن الإنسان لا يمكن أن يكون عالما حتى يعرف هذا العلم من العلوم.
ثم قال وفضله:
لاشك أنه من أشرف العلوم لتعلقه بكلام رسول الله صلى الله عليه وسلم، فالتجويد نقول عنه هو من أشرف العلوم لتعلقه بكلام الله جل وعلا.
ثم قال والواضع:
من الذي وضع هذا العلم؟ هم الأئمة الأعلام كالإمام الشافعي والإمام مالك ـ رحمهم الله تعالى ـ وغيرهم فهؤلاء كلهم تكلموا في هذا العلم.
ثم قال والاسم:
ما هو اسمه؟ اسمه علم مصطلح الحديث أو علم الحديث أو علم الرواية هذه كلها من الأسماء.
ثم قال الاستمداد:
من أين يستمد هذا العلم؟ يستمد من كلام الأئمة من كلام أهل العلم، وليس من كلام اللغويين أو من كلام أهل الطب، وإنما يؤخذ من كلام أهل العلم.
ثم قال حكم الشارع:
বিষয়াবলি এবং কেউ কেউ কিছু অংশের ওপরই সন্তুষ্ট থাকেন
… আর যিনি সবকিছুই জানেন, তিনি মর্যাদা লাভ করেন।
সুতরাং যে কোনো বিদ্যায় আমরা প্রবেশ করতে চাই না কেন, আমাদের অবশ্যই এই পঙক্তিগুলো উল্লেখ করতে হবে; এটি সেই বিদ্যার আলোচ্য বিষয় (الموضوع), যা অনেকটা সেই বিদ্যার সূচিপত্র স্বরূপ।
আল-আখদারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:-
প্রত্যেক বিদ্যার মৌলিক ভিত্তি দশটি
… সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع) এবং ফলাফল (الثمرة)
সংজ্ঞা (الحد): অর্থাৎ এর পরিচয়; এই বিদ্যার সংজ্ঞা কী?
তাহলে হাদিস শাস্ত্র কী? আর এর সংজ্ঞা (الحد) কী? এটি এমন কিছু মূলনীতি (قوانين) সংক্রান্ত বিদ্যা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা জানা যায়। অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: সনদ (السند) এবং মতনের (المتن) অবস্থা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিদ্যায় প্রবেশ করবে, সে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা জানতে পারবে।
তিনি বলেন, আলোচ্য বিষয় (الموضوع): তা হলো সনদ (السند) এবং মতন (المتن)।
তিনি বলেন, এরপর ফলাফল (الثمرة): এই বিদ্যার ফলাফল হলো আল্লাহর রাসূলের বাণীসমূহকে পৃথক করা এবং তা যাচাই-বাছাই করা।
এরপর আল-আখদারি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন:-
সম্পর্ক (نسبة), মর্যাদা (فضله), প্রবর্তক (الواضع)
… নাম (الاسم), উৎসমূল (الاستمداد) এবং শরয়ি বিধান (حكم الشارع)
তিনি বলেন, সম্পর্ক (نسبة):
অন্যান্য বিদ্যার সাথে হাদিস শাস্ত্রের সম্পর্ক কী?
এটি তার একটি অংশ। এই অংশের পরিমাণ কতটুকু? এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক একদিক থেকে ভিন্নতা (تباين) এবং অন্যদিক থেকে অন্তর্ভুক্তি (تضمن)।
ভিন্নতা (تباين): এই দিক থেকে যে, উসুল শাস্ত্র এবং ফিকহ শাস্ত্র থেকে এই বিদ্যার অধ্যায়গুলো স্বতন্ত্র।
অন্তর্ভুক্তি (تضمن): এই দিক থেকে যে, কোনো মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হতে পারে না যতক্ষণ না সে এই বিভিন্ন বিদ্যার মধ্য থেকে এই বিদ্যাটি সম্পর্কে অবগত হয়।
এরপর তিনি বলেন, মর্যাদা (فضله):
নিঃসন্দেহে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যা যেহেতু এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন তাজবিদ শাস্ত্র সম্পর্কে আমরা বলি যে, তা অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যা যেহেতু তা আল্লাহ তাআলার বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট।
এরপর তিনি বলেন, প্রবর্তক (الواضع):
এই শাস্ত্রের ভিত্তি কে স্থাপন করেছেন? তাঁরা হলেন ইমাম শাফিঈ ও ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর মতো প্রখ্যাত ইমামগণ এবং অন্যান্যরা। তাঁরা সকলেই এই বিদ্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এরপর তিনি বলেন, নাম (الاسم):
এর নাম কী? এর নাম ইলম মুসতালাহুল হাদিস অথবা ইলমুল হাদিস অথবা বর্ণনাবিদ্যা (علم الرواية); এগুলো সবই এর নাম।
এরপর তিনি বলেন, উৎসমূল (الاستمداد):
এই বিদ্যা কোথা থেকে আহরণ করা হয়? এটি ইমামদের বাণী এবং জ্ঞানীদের (আহলুল ইলম) বক্তব্য থেকে আহরিত হয়; ভাষাবিদ বা চিকিৎসকদের বক্তব্য থেকে নয়, বরং এটি কেবল জ্ঞানীদের (আহলুল ইলম) বক্তব্য থেকেই গ্রহণ করা হয়।
এরপর তিনি বলেন, শরয়ি বিধান (حكم الشارع):
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ما حكم تعلم علم المصطلح؟ حكم تعلمه فرض كفاية، لأنه لا يمكن أن يمحص كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يعرف هذا العلم.
ثم قال الأخضري ـ رحمه الله تعالى ـ:
مسائل والبعض بالبعض اكتفى
… ومن درى الجميع حاز الشرفا
قال مسائل:
فمسائله تتعلق بالإسناد من حيث الاتصال والانقطاع والتدليس وما شابع ذلك، وتتعلق بالمتن من حيث القلب والشذوذ وهكذا.
ثم قال: والبعض بالبعض اكتفى: فبعض أهل العلم اكتفى عند تعريفه للعلم ببعض المسائل وقال بعضها يغني عن بعض.
ثم قال: ومن درى الجميع: أي من درى هذه الأشياء كلها وضبط المسائل.
قال: حاز الشرفا، والألف للإطلاق.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
{بسم الله الرحمن الرحيم}
الباء: حرف جر. والاسم: اسم مجرور، والجار والمجرور له متعلَّق محذوف مقدر: تقديره أبدأ أو أنظم، أنظم هذا النظم بسم الله.
وقولنا " أنظم " أفضل من أبدأ، لأن المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ قال: أبدأ بالحمد
فلا نستطيع أن نقول الآن، أبدأ بسم الله، ثم يأتينا مرة ثانية فيقول: أبدأ بالحمد.
فنقول: أبدأ بالنظم، أو أبدأ بفعلي ببسم الله الرحمن الرحيم، ثم أبدأ النظم بالحمد، ولهذا بعض الشراح قال إنه لم يبسمل ـ رحمه الله تعالى ـ لأنه قال أبدأ بالحمد.
الله: لفظ الجلالة مشتق عند أهل السنة، بمعنى المألوه المحبوب المعبود، وأصل الله الإله، فحذفت الهمزة تخفيفا لأن العرب كلما أكثروا من كلمة وفيها همزة يحذفونها للتخفيف، فعندهم الهمزة ثقيلة وهي من حروف الشدة " أجد قط بكت "، فالهمزة شديدة، فحذفنا الهمزة فبقي الله ـ بتخفيف اللام ـ وعندنا قاعدة: أن لفظ الجلالة إذا سبقت اللام فيه بمفتوح تفخم اللام.
قال بن الجزري ـ رحمه الله تعالى ـ:
"وفخِّم اللام من اسم الله "
… .........................
فصارت الله ـ بتفخيم اللام ـ.
উসূল আল-হাদিস (علم المصطلح) শিক্ষা করার বিধান কী? এটি শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), কারণ এই জ্ঞান অর্জন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহ যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়।
অতপর আল-আখদারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
বিষয়সমূহ এবং কেউ কেউ কিছু অংশের ওপর নির্ভর করেছেন
… আর যিনি সবকিছুর জ্ঞান রাখেন, তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
তিনি বিষয়াবলি (مسائل) সম্পর্কে বলেছেন:
এর বিষয়াবলি সংশ্লিষ্ট হলো সনদ (الإسناد) এর ধারাবাহিকতা (الاتصال), বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع), লুকায়িত ত্রুটি (التدليس) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদির সাথে; আর মতন (المتن) এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হলো শব্দ বা অর্থের পরিবর্তন (القلب), অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) ইত্যাদি।
অতপর তিনি বলেছেন: "কেউ কেউ কিছু অংশের ওপর নির্ভর করেছেন": অর্থাৎ কতিপয় আলেম এই শাস্ত্রের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন এবং বলেছেন যে, একটি অপরটির জন্য যথেষ্ট।
এরপর তিনি বলেছেন: "আর যিনি সবকিছুর জ্ঞান রাখেন": অর্থাৎ যিনি এই সমস্ত বিষয় অবগত হয়েছেন এবং মাসআলাগুলো আয়ত্ত করেছেন।
তিনি বলেছেন: "শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন", এখানে শেষ অক্ষর আলিফটি ছন্দের পূর্ণতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি}
'বা' (الباء) হলো অব্যয়। 'ইসম' (الاسم) হলো এর পরবর্তী শব্দ। এই অব্যয় ও বিশেষ্যের একটি উহ্য সম্পর্কযুক্ত শব্দ রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: আমি শুরু করছি অথবা আমি রচনা করছি; অর্থাৎ আমি আল্লাহর নামে এই কাব্যটি রচনা করছি।
আর আমাদের 'আমি রচনা করছি' বলাটি 'আমি শুরু করছি' বলার চেয়ে উত্তম। কারণ লেখক (রহিমাহুল্লাহ) পরবর্তীতে বলেছেন: "আমি হামদ বা প্রশংসা দ্বারা শুরু করছি"
তাই আমরা এখন বলতে পারি না যে, "আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি", কারণ তিনি পুনরায় এসে বলবেন: "আমি হামদ বা প্রশংসা দ্বারা শুরু করছি"।
সুতরাং আমরা বলি: "আমি আল্লাহর নামে এই কাব্য রচনা শুরু করছি" অথবা "আমি আল্লাহর নামে আমার কাজ শুরু করছি", অতপর হামদ পাঠের মাধ্যমে কাব্যটি শুরু করছি। এজন্যই কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেছেন যে, তিনি 'বিসমিল্লাহ' পাঠ করেননি, কারণ তিনি বলেছেন: "আমি হামদ দ্বারা শুরু করছি"।
'আল্লাহ': এটি মহান রবের নাম, যা আহলুস সুন্নাহর নিকট একটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) শব্দ; যার অর্থ হলো অত্যন্ত প্রিয় মাবুদ বা উপাস্য। 'আল্লাহ' শব্দের মূল হলো 'আল-ইলাহ', অতপর উচ্চারণের সহজতার জন্য হামযাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কারণ আরবরা যখন কোনো শব্দ অধিক ব্যবহার করে এবং তাতে হামযা থাকে, তখন তারা সহজীকরণের জন্য তা বিলুপ্ত করে দেয়। তাদের নিকট হামযা একটি ভারী বর্ণ এবং এটি কঠিন্যপূর্ণ বর্ণের (حروف الشدة) অন্তর্ভুক্ত, যেমন "আজাদ ক্বাতিন বাকার্ত" বাক্যে রয়েছে। সুতরাং হামযাটি কঠিন হওয়ায় আমরা তা বিলুপ্ত করেছি এবং লাম-এর ওপর হালকা উচ্চারণসহ 'আল্লাহ' অবশিষ্ট রয়েছে। আমাদের নিকট একটি নিয়ম রয়েছে যে: 'আল্লাহ' শব্দের লামের পূর্বের বর্ণে যদি জবর থাকে, তবে লামটি মোটা করে পড়তে হয়।
ইবনুল জাযারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"আর আল্লাহর নামের লামকে মোটা করে পড়ো"
… .........................
এর ফলে এটি লামের পুরুত্বের সাথে 'আল্লাহ' শব্দে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهنا نكته في قوله " بسم الله ": فبعض الناس يظن أن الاسم هنا خاص، وعندنا قاعدة في علم الأصول: بأن الإضافة تفيد العموم، فقولنا بسم الله: أي أبدأ بأسماء الله كلها متبركا بها، لأن أسماء الله جل وعلا كلها مباركة، فما ذكر عند ذبيحة إلا أصبحت مباركة، ولا ذكر عند شرب إلا أصبح مباركا، ولا ذكر عند جماع إلا أصبح مباركا وهكذا.
الرحمن الرحيم: اسمان مشتقان لله جل وعلا، فالرحمن بمعنى الرحمة العامة، والرحيم بمعنى الرحمة الخاصة أو الواصلة.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
أبدأ بالحمد مصليا على
… محمد خير نبي أرسلا
أبدأ بالحمد: يقول المؤلف رحمه الله تعالى سأبدأ هذه المنظومة بالحمد أي أحمد الله فالحمد لله ليس لغيره.
والحمد: هو وصف المحمود بالكمال محبة وتعظيما.
مصليا: حال، أي أبدأ وحالي مصليا، والصلاة هي: ثناء الله جل وعلا على عبده في الملأ الأعلى، كما قال أبو العالية ـ رحمه الله تعالى ـ في صحيح البخاري.
والمعروف عند أهل اللغة أن الصلاة بمعنى الرحمة ولهذا قالوا الصلاة من الله بمعنى الرحمة ومن الملائكة بمعنى الاستغفار، ومن المؤمنين بمعنى الدعاء.
وعندنا أن هناك إشكالا في قولهم " الصلاة من المؤمنين بمعنى الدعاء " وهو أن الدعاء لا يتعدى بعلى إلا عند الدعاء عليه فلا تقول مصليا على أي أدعو على ما يأتي وإنما أدعو لِـ، فتتعدى باللام وليست تتعدى بعلى.
هذا إشكال في قولهم بأن الصلاة بمعنى الدعاء وهناك إشكال على قول أبي العالية وهو أن قول أبي العالية قول لا يأتي إلا عن طريق الوحي فكونه يقول أن الصلاة بمعنى الثناء من الله على عبده بالملأ الأعلى، هذا يحتاج إلى دليل توقيفي، وأبو العالية لم ينسبه إلى الرسول، فهذا هو الإشكال وإن كان هذا رجحه بن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ.
قال: محمد خير نبي أرسلا
এখানে 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে) বাক্যাংশের ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে: কিছু মানুষ মনে করেন যে এখানে 'ইসম' (নাম) শব্দটি সুনির্দিষ্ট, কিন্তু উসুল শাস্ত্রের (علم الأصول) একটি নিয়ম হলো: সম্বন্ধযুক্ত পদ (الإضافة) ব্যাপকতা (العموم) প্রকাশ করে। সুতরাং, 'বিসমিল্লাহ' বলার অর্থ হলো: আমি আল্লাহর সকল নামের মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে শুরু করছি; কারণ মহিমান্বিত আল্লাহর সকল নামই বরকতময়। তাই যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হলে তা বরকতময় হয়ে যায়, পান করার সময় তা উল্লেখ করা হলে তা বরকতময় হয়ে যায়, এবং স্ত্রী সহবাসের সময় তা উল্লেখ করা হলেও তা বরকতময় হয়ে যায়—এভাবেই সবকিছু বরকতময় হয়।
'আর-রহমান' ও 'আর-রাহিম': মহিমান্বিত আল্লাহর দুটি ব্যুৎপন্ন নাম। 'আর-রহমান' এর অর্থ হলো সাধারণ রহমত বা দয়া, আর 'আর-রাহিম' এর অর্থ হলো বিশেষ রহমত বা যা বান্দার নিকট পৌঁছায়।
লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:
আমি প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করছি এবং দরুদ পাঠ করছি
… মুহাম্মদের ওপর, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
'আমি প্রশংসা দ্বারা শুরু করছি': লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলছেন যে, তিনি এই কাব্যগ্রন্থটি প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু করবেন, অর্থাৎ আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি; কারণ প্রকৃত প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য, অন্য কারো নয়।
আর 'হামদ' (প্রশংসা) হলো: ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সাথে প্রশংসিত সত্তার পূর্ণ গুণাবলি বর্ণনা করা।
'দরুদ পাঠরত অবস্থায়' (مصليا): এটি একটি হাল বা অবস্থা বর্ণনা, অর্থাৎ আমি শুরু করছি এমতাবস্থায় যে আমি দরুদ পাঠ করছি। আর 'সালাত' বা দরুদ হলো: উচ্চ পরিষদে (الملأ الأعلى) মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা, যেমনটি আবু আল-আলিয়াহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সহিহ বুখারিতে উল্লেখ করেছেন।
ভাষাবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো, সালাত অর্থ রহমত। এই কারণেই তাঁরা বলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত অর্থ রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা (استغفار) এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে সালাত অর্থ দোয়া (دعاء)।
আমাদের মতে, তাঁদের এই বক্তব্যে একটি আপত্তি রয়েছে যে 'মুমিনদের পক্ষ থেকে সালাত অর্থ দোয়া'। বিষয়টি হলো, 'দোয়া' (دعاء) শব্দটি 'আলা' (على) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় না, কেবল তখনই হয় যখন কারো বিরুদ্ধে অভিশাপ বা বদদোয়া দেওয়া হয়। সুতরাং আপনি 'মুসাল্লিয়ান আলা' বলে এটি বুঝাতে পারেন না যে 'আমি পরবর্তী ব্যক্তির ওপর বদদোয়া করছি', বরং বলা হয় 'আমি কারো জন্য দোয়া করছি' (আদ'উ লি...), অর্থাৎ এক্ষেত্রে 'লাম' (لـ) অব্যয় ব্যবহৃত হয়, 'আলা' (على) নয়।
এটি তাঁদের ওই বক্তব্যের ক্ষেত্রে একটি আপত্তি যেখানে বলা হয়েছে সালাত অর্থ দোয়া। আবার আবু আল-আলিয়াহর বক্তব্যের ওপরও একটি আপত্তি রয়েছে, আর তা হলো—আবু আল-আলিয়াহর বক্তব্যটি এমন যা কেবল ওহির মাধ্যমেই জানা সম্ভব। তাঁর এই কথা যে, সালাত মানে উচ্চ পরিষদে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রশংসা করা, এর জন্য অকাট্য দলিলের (دليل توقيفي) প্রয়োজন। অথচ আবু আল-আলিয়াহ একে রাসুলের দিকে সম্বন্ধ করেননি। এটাই হলো আপত্তি, যদিও ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
نعم محمد هو خير الرسل وأفضلهم على الإطلاق وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال (أنا سيد ولد آدم) وإن كان هو نهى – تواضعاً – فقال (لا تفضلوني على الأنبياء) وفي رواية (لا تخيروني) وهذا منه تواضعا صلى الله عليه وسلم، وإلا فإن الله عز وجل قال: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} الشرح4.
فهذا خير الرسل ـ صلى الله عيه وسلم ـ، وهو التي تكون له الشفاعة العظمى صلى الله عليه وسلم عندما لا يقبلها جميع الرسل.
قال: خير نبي أرسلا.
جمع بين النبوة والرسالة، وهل بينها فرق؟ خلاف بين أهل العلم.
القول الأول: بأنه ليس بينهما فرق، فالنبوة هي والرسالة هي النبوة وهو قول طائفة من المفسرين فليس ضعيفا هذا القول.
القول الثاني:أن النبوة من أوحي إليه ولم يأمر بالتبليغ،والرسول من أوحي إليه وأمر بالتبليغ.
القول الثالث: أن النبي هو من لم يوحى إليه بشرع جديد، والرسول هو من أوحي إليه بشرع جديد، إذا يجتمعان في التبليغ والوحي ويختلفان في الشرعة هذا شريعته جديده وهذا تجديد وهذا يشهد له، قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ} الحج52.
فقال: {وَمَا أَرْسَلْنَا} .
القول الرابع: وكأن شيخ الإسلام يميل إليه أن النبي من أرسل إلى قوم موافقين هناك من يوافقه على شريعته من قبله كأنبياء بني إسرائيل،والرسول هو من أرسل إلى قوم مخالفين كنوح عليه السلام هو أول الرسل لأن كل الناس في جاهلية جهلاء والرسول صلى الله عليه وسلم أرسل إلى جاهلية جهلاء فيرسل إلى قوم مخالفين، وهذا فيه إشكال أيضا في قول النبي صلى الله عليه وسلم " يأتي النبي وليس معه أحد ".
قال أرسلا: الألف هنا تسمى ألف الإطلاق، وهذا يكثر في النظم انتبهوا له، وقد جاءت في القرآن.
হ্যাঁ, মুহাম্মদ হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল এবং নিরঙ্কুশভাবে তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম। এটি প্রমাণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমি আদম-সন্তানদের নেতা।" যদিও তিনি বিনয়বশত নিষেধ করে বলেছেন, "তোমরা আমাকে নবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না" এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে, "আমাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বেছে নিও না।" এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে বিনয় প্রকাশ মাত্র; অন্যথায় আল্লাহ মহান বলেছেন: "আমি আপনার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।" (সূরা আল-ইনশিরাহ: ৪)।
সুতরাং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং তিনিই সেই সত্তা যাঁর জন্য 'শাফায়াতে উজমা' (সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশ) নির্ধারিত থাকবে, যখন অন্য সকল রাসূল তা গ্রহণ করতে অপরাগতা প্রকাশ করবেন।
তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বোত্তম।
এখানে নবুওয়াত ও রিসালাতকে একত্রিত করা হয়েছে। এ দুইয়ের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
প্রথম মত: এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; নবুওয়াতই হলো রিসালাত এবং রিসালাতই হলো নবুওয়াত। এটি একদল মুফাসসিরের অভিমত, তাই এই মতটি দুর্বল (ضعيف) নয়।
দ্বিতীয় মত: নবী হলেন তিনি যাঁকে ওহী প্রদান করা হয়েছে কিন্তু প্রচারের আদেশ দেওয়া হয়নি; আর রাসূল হলেন তিনি যাঁকে ওহী প্রদান করা হয়েছে এবং প্রচারের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
তীয় মত: নবী হলেন তিনি যাঁর প্রতি নতুন কোনো শরীয়ত অবতীর্ণ হয়নি, আর রাসূল হলেন তিনি যাঁর প্রতি নতুন শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, তাঁরা প্রচার ও ওহী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একমত, কিন্তু শরীয়তের ক্ষেত্রে ভিন্ন। একজনের শরীয়ত নতুন, আর অন্যজন (পূর্ববর্তী শরীয়তকে) পুনরুজ্জীবিত করেন। আল্লাহর বাণী এর সাক্ষ্য দেয়: "আপনার পূর্বে আমি যে রাসূল কিংবা নবীই প্রেরণ করেছি..." (সূরা আল-হজ: ৫২)।
কারণ তিনি বলেছেন: "আমি প্রেরণ করেছি"।
চতুর্থ মত: শাইখুল ইসলাম (ইবনে তাইমিয়া) সম্ভবত এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন যে, নবী হলেন তিনি যাঁকে এমন এক কওমের কাছে পাঠানো হয়েছে যারা তাঁর শরীয়তের সাথে একমত, যেখানে তাঁর পূর্ববর্তী শরীয়তের অনুসারী কেউ বিদ্যমান থাকে, যেমন বনী ইসরাঈলের নবীগণ। পক্ষান্তরে, রাসূল হলেন তিনি যাঁকে এক বিরোধী কওমের নিকট পাঠানো হয়েছে, যেমন নূহ (আলাইহিস সালাম); তিনি হলেন প্রথম রাসূল, কারণ তখন সমস্ত মানুষ ঘোর জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও ঘোর জাহেলিয়াতের যুগে এক বিরোধী জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে এই মতে একটি জটিলতা (إشكال) রয়েছে নবীর এই বাণীর কারণে— "কিয়ামতের দিন এমন নবীর আগমন ঘটবে যাঁর সাথে কেউ থাকবে না।"
তিনি বলেছেন 'আরসালা' (أرسلا): এখানে আলিফটিকে 'আলিফ আল-ইতলাক' বলা হয়। কবিতায় এর ব্যবহার অনেক বেশি, এ ব্যাপারে মনোযোগী হোন; এটি কুরআনেও এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال تعالى: {وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا} الأحزاب10، وقوله: {يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا} الأحزاب66، وقوله: {عَيْناً فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً} الإنسان18، فهذه الألف تسمى ألف الإطلاق، والنحويون يسمونها تنوين الترنم - يعني يعطي صوتاً.
أقلي اللوم عاذل والعتابا
… وقولي إن أصبت لقد أصابا
وأقسام التنوين عشرة، جمعها بعضهم في قوله:
أقسام تنوينهم عشر عليك بها
… فإن تحصيلها من خير ما حرزا
مكّن وعوّض وقابل والمنكّر زد
… رنّم أو احك اضطرر غالٍ وما همزا
فالترنم نوع من أنواع التنوين.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
وذي من أقسام الحديث عده
… وكل واحدا أتى وحده
وذي: اسم إشارة.
قال بن مالك ـ رحمه الله تعالى ـ:
بذا لمفرد مذكر أشر
… وذي وذه تي تا على الأنثى اقتصر
فهذه كلها ألفاظ إشارة.
فقوله ذي: اسم إشارة، طيب أين الآن المشار إليه، لنتخيل أن البيقوني الآن ينظم فيقول وذي من أقسام الحديث عده.
فهل أمامه شيء؟ ، فنحن نقول ذي يشير للمكتوب لكن هو يوم يكتب ماذا يشير عليه؟
يشير إلى معهود ذهني في عقله.
وعندي لو قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ: إليك أقسام الحديث عدّه، لأجل أن يخرج من الإشكالات، لأن كل شارح لابد أن يعترض على الناظم.أما إليك فلا يأتي عليها إشكال.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
وذي من أقسام الحديث عدّه
… ............................
أي هذه الذي سأتلو عليك من أقسام الحديث "ومن" تبعيضية أوبيانية، والأقرب أنها تبعيضية لأنه لم يذكر إلا 32 نوعا من أقسام الحديث، بينما ابن الصلاح ـ رحمه الله تعالى ـ ذكر بضعة وستين نوعا من أقسام الحديث فالمؤلف قد ترك النصف.
فقوله: وذي من أقسام الحديث عده، "مِنْ" تبعيضية، و" مِنْ " لها اثنا عشر، جمعها بعضهم في قوله:
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা ধারণা পোষণ করছিলে} (আল-আহযাব: ১০), এবং তাঁর বাণী: {তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আমাদের নেতৃবর্গ ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম} (আল-আহযাব: ৬৬), এবং তাঁর বাণী: {সেখানে একটি প্রস্রবণ রয়েছে, যার নাম সালসাবীল} (আল-ইনসান: ১৮)। এখানে এই আলিফকে 'আলিফ আল-ইতলাক' (ألف الإطلاق) বলা হয় এবং ব্যাকরণবিদরা একে 'তানউইন আল-তারাননুম' (تنوين الترنم) নামে অভিহিত করেন— যার অর্থ হলো এটি একটি সুর বা ধ্বনি প্রদান করে।
হে তিরস্কারকারিণী, তিরস্কার ও ভর্ৎসনা কম করো... এবং বলো যদি আমি সঠিক কাজ করি, তবে আমি সঠিকই করেছি।
তানউইনের প্রকারভেদ দশটি, কেউ কেউ তা নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিতে সংকলিত করেছেন:
তাদের তানউইনের প্রকার দশটি যা তোমার জানা আবশ্যক... কারণ তা অর্জন করা সর্বোত্তম সঞ্চয়।
তামকিন (تمكين), ইওয়াদ (عوض), মুকাবালাহ (مقابلة) এবং মুনাক্কার (تنكير) বৃদ্ধি করো... তারাননুম (ترنم), হিকায়াহ (حكاية), ইদতিরার (اضطرار), গালি (غالٍ) এবং যাতে হামজা নেই।
সুতরাং তারাননুম হলো তানউইনের প্রকারসমূহের একটি প্রকার।
লেখক—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন:
এটি হাদিসের প্রকারসমূহের (أقسام الحديث) গণনা... এবং প্রতিটি প্রকার স্বতন্ত্রভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আর "যী" (ذي) হলো একটি ইশারা সূচক বিশেষ্য (اسم إشارة)।
ইবনে মালিক—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন:
একবচন পুরুষবাচকের জন্য 'যা' (ذا) দিয়ে ইশারা করো... আর নারীবাচকের জন্য 'যী' (ذي), 'যিহি' (ذه), 'তী' (تي), 'তা' (تا) এ সীমাবদ্ধ থাকো।
সুতরাং এগুলো সবই ইশারা সূচক শব্দ।
তাঁর কথা "যী" (ذي): এটি একটি ইশারা সূচক বিশেষ্য (اسم إشارة)। ঠিক আছে, এখন নির্দেশিত বিষয়টি (المشار إليه) কোথায়? আমরা কল্পনা করি যে বায়কুনী এখন কবিতা রচনা করছেন এবং বলছেন "এটি হাদিসের প্রকারসমূহের একটি গণনা"।
তাঁর সামনে কি কিছু আছে? আমরা বলি যে "যী" (ذي) দ্বারা লিখিত বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হচ্ছে, কিন্তু তিনি যখন লিখছিলেন তখন কিসের দিকে ইশারা করছিলেন?
তিনি তাঁর মস্তিষ্কে বিদ্যমান ধারণার (معهود ذهني) দিকে ইশারা করছেন।
আমার মতে, লেখক—রাহিমাহুল্লাহ—যদি বলতেন: "হাদিসের প্রকারসমূহের গণনা তোমার প্রতি নিবেদিত", তবে তা সকল জটিলতা থেকে মুক্ত হতো। কারণ প্রত্যেক ব্যাখ্যাকারককেই কাব্য রচয়িতার ওপর আপত্তি উত্থাপন করতে হয়। কিন্তু "তোমার প্রতি" (ইলাইকা) বললে কোনো সংশয় থাকে না।
লেখক—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন:
এটি হাদিসের প্রকারসমূহের (أقسام الحديث) গণনা... ............................
অর্থাৎ, এগুলোই যা আমি তোমার কাছে হাদিসের প্রকারসমূহ (أقسام الحديث) থেকে পাঠ করব। এখানে 'মিন' (من) অব্যয়টি অংশবাচক (تبعيضية) অথবা ব্যাখ্যামূলক (بيانية)। তবে এটি অংশবাচক (تبعيضية) হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ তিনি হাদিসের প্রকারসমূহের মধ্য থেকে মাত্র ৩২টি প্রকার উল্লেখ করেছেন, যেখানে ইবনুস সালাহ—রাহিমাহুল্লাহ—হাদিসের ষাটের অধিক প্রকার উল্লেখ করেছেন। ফলে লেখক প্রায় অর্ধেক ছেড়ে দিয়েছেন।
সুতরাং তাঁর কথা: "এটি হাদিসের প্রকারসমূহের গণনা", এখানে 'মিন' (من) অংশবাচক (تبعيضية)। আর 'মিন' (من) এর বারোটি অর্থ রয়েছে, যা কেউ কেউ নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিতে সংকলিত করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أتتنا " مِنْ " لتبيينٍ وبعضٍ
… وتعليلٍ وبدءٍ وانتهاءِ
وإبدال وزائدة وفصل
… ومعنى عن وفي وعلى وباء
… قوله أقسام الحديث: أي أسماء وأوصاف الحديث عند أهل الفن فالأقسام هنا على تقسيم أهل الفن ليس على تقسيم الناس.
قال عدّه: أي كثيرة جدا.
قال: وكل واحد أتى وحدّه: أي كل واحد من هذه الأقسام أتى ـ أي سيأتي ـ فالماضي هنا بمعنى الفعل المضارع، قال تعالى: {أَتَى أَمْرُ اللهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ} النحل1، فقال: {أَتَى} ، وهو لم يأت إلى الآن، إذاً لماذا يستخدم العرب الفعل الماضي بمعنى الفعل المضارع؟ من أجل سرعة الوقوع أي سيقع قريباً.
قال وحدّه: إعراب "حدّه ": مفعول معه، أي أتى مع حدّه، فكل واحد يأتي، سيأتي مع حدّه، فإذا جاء الصحيح سيأتي بحدّه وإذا جاء المنقطع سيأتي بحدّه وإذا جاء المرسل سيأتي مع حدّه.
قال بن مالك ـ رحمه الله تعالى ـ:
ينصب تالي الواو مفعولا معه
… بنحو سيري والطريق مسرعه
إذا قوله: وكل واحد أتى وحدّه، أي سيأتي كل قسم مع التعريف.
" الحد " ما هو؟ الحد لغة: المنع.
واصطلاحاً: هو الجامع المانع.
حد الشيء: أي ماهية الشيء، فالحد هو الجامع المانع: الجامع لأوصاف الماهية، المانع لأن يدخل غيره فيه.
فإذا قلت: الإنسان " حيوان ناطق"، لم يدخل المعز لأنه حيوان غير ناطق.
فالجامع المانع: جامع لأوصاف المحدود برسمه وذاته، مانع في أن يدخل ماليس من جنسه.
قال الناظم:
الجامع المانع حد الحد
… أوذو انعكاس إن تشأ والطرد
يعني ينعكس ويطرد، فإذا وجدت هذه الأوصاف فهو المحدود وإذا لم توجد فليس المحدود، فإذا وجدت شيئا في غير حدك وينطبق عليه الماهية فمعناه أنه ليس بحد، فلو قلت: الإنسان رجل ذكر، فجئت للمرأة فهي إنسان، إذا هل هذا منعكس ومطرد؟ لا،لأنه وجد شيئا ليس في الحد.
আমাদের নিকট "মিন" (مِن) এসেছে বর্ণনা, আংশিকতা
… কারণ দর্শানো, সূচনা এবং সমাপ্তির অর্থে।
এবং বিনিময়, অতিরিক্ত ও পৃথকীকরণ
… এবং 'আন', 'ফি', 'আলা' ও 'বা'-এর অর্থে।
… গ্রন্থকারের উক্তি হাদিসের প্রকারভেদসমূহ: অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট হাদিসের নাম ও বৈশিষ্ট্যসমূহ। সুতরাং এখানে প্রকারভেদ বলতে শাস্ত্রজ্ঞদের বিভাজনকে বোঝানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের বিভাজন নয়।
তিনি বলেছেন 'তার সংখ্যা': অর্থাৎ যা অত্যন্ত অধিক।
তিনি বলেছেন: 'এবং প্রত্যেকটি এসেছে তার সংজ্ঞাসহ': অর্থাৎ এই প্রকারভেদগুলোর প্রত্যেকটি এসেছে — অর্থাৎ আসবে। এখানে অতীতকাল এখানে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে (أتى), সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না" (সূরা আন-নাহল: ১)। এখানে তিনি বলেছেন "এসে গেছে", অথচ তা এখন পর্যন্ত আসেনি। তাহলে আরবরা কেন অতীতকালকে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল অর্থে ব্যবহার করে? কোনো বিষয় দ্রুত ঘটার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য, অর্থাৎ তা অতি শীঘ্রই ঘটবে।
তিনি বলেছেন 'তার সংজ্ঞাসহ': 'তার সংজ্ঞা (حد)'-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো এটি 'মাফউলে মা’আহু', অর্থাৎ তা তার সংজ্ঞাসহ আসবে। সুতরাং প্রতিটি প্রকার আসবে এবং তা তার সংজ্ঞাসহ আসবে। যখন বিশুদ্ধ (صحيح) আসবে, তখন তা তার সংজ্ঞা (حد) সহ আসবে; যখন বিচ্ছিন্ন (منقطع) আসবে তখন তা তার সংজ্ঞা (حد) সহ আসবে; এবং যখন মুরসাল (مرسل) আসবে তখন তা তার সংজ্ঞা (حد) সহ আসবে।
ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
'ওয়াও'-এর পরবর্তী পদকে মাফউলে মা’আহু হিসেবে নসব প্রদান করা হয়
… যেমন: 'রাস্তাকে সাথে নিয়ে দ্রুত চলো'।
সুতরাং তাঁর উক্তি: "এবং প্রত্যেকটি এসেছে তার সংজ্ঞাসহ", এর অর্থ হলো প্রতিটি প্রকার তার সংজ্ঞা বা পরিচয়সহ উপস্থাপিত হবে।
"সংজ্ঞা (حد)" কী? শাব্দিক অর্থে সংজ্ঞা (حد) হলো: বাধা প্রদান করা।
এবং পারিভাষিক অর্থে: তা হলো সামগ্রিক ও স্বতন্ত্র (الجامع المانع)।
কোনো বস্তুর সংজ্ঞা (حد): অর্থাৎ সেই বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ। সুতরাং সংজ্ঞা (حد) হলো সামগ্রিক ও স্বতন্ত্র (الجامع المانع): যা ওই স্বরূপের সমস্ত বৈশিষ্ট্যকে একত্র করে এবং অন্য কোনো বিষয়কে তাতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বলেন: মানুষ হলো "বাকশক্তিসম্পন্ন জীব", তবে এতে ছাগল অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ এটি বাকশক্তিহীন জীব।
অতএব, সামগ্রিক ও স্বতন্ত্র (الجامع المانع) হলো যা সংজ্ঞায়িত বস্তুর বাহ্যিক ও সত্তাগত বৈশিষ্ট্যসমূহকে একত্র করে এবং যা তার সমজাতীয় নয় তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
নাযিম (কবিতা রচয়িতা) বলেছেন:
সামগ্রিক ও স্বতন্ত্র হওয়াই হলো সংজ্ঞার সংজ্ঞা
… অথবা আপনি চাইলে একে পরিবর্তনশীল ও অনুগামী বলতে পারেন।
অর্থাৎ এটি পরিবর্তনশীল এবং অনুগামী হয়। যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়, তবেই তা সংজ্ঞায়িত বস্তু, আর যদি না পাওয়া যায় তবে তা সংজ্ঞায়িত বস্তু নয়। যদি আপনি আপনার সংজ্ঞার বাইরে এমন কিছু পান যাতে ওই সত্তার স্বরূপ বিদ্যমান, তবে তার অর্থ হলো সেটি সঠিক সংজ্ঞা (حد) নয়। আপনি যদি বলেন: "মানুষ হলো একজন পুরুষ ব্যক্তি", এরপর আপনি একজন মহিলার নিকট আসলেন—তিনিও তো মানুষ; তাহলে এটি কি পরিবর্তনশীল ও অনুগামী হয়েছে? না, কারণ আপনি সংজ্ঞার বাইরে এমন কিছু পেয়েছেন যা সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد اختلف الأصوليون هل يمكن أن يحدّ شيء؟ هل يوجد حد لذات ما أو لشيء ما؟ هناك خلاف طويل بين الأصوليون.
(الحديث الصحيح) قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
أولها الصحيح وهو ما اتصل
… إسناده ولم يَشُِذّ أو يعل
ابتدأ المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ بأول أقسام الحديث، وهو (الحديث الصحيح) .
فأهل الفن قسموا الحديث باعتبار القبول والرد إلى قسمين: مقبول، ومردود.
وأنا ذكرت لكم في درس سابق بأن التقسيم بالاعتبار فأسألك ماهو اعتبارك عندما تسألني ما أقسام الحديث؟ فتقول باعتبار القبول والرد.
فأقول باعتبار القبول قسمين: صحيح، وحسن.
أو تقسيمه باعتبار الطرق ينقسم إلى ثلاثة أقسام: متواتر، ومشهور، وآحاد.
وباعتبار الرد إلى عدة أقسام، فأهل العلم قسموا الحديث إلى ثلاثة أقسام: الصحيح والحسن والضعيف، باعتبار القبول والرد.
والإمام البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ، عرف الصحيح بشروطه وأوصافه، وهذا نوع من أنواع الحدود، أن يذكر التعريف بذكر الشروط، وأحيانا يكون التعريف بالمثال، وأحيانا يكون التعريف بالماهية، وكلها صحيحة في تقريب العلم.
الصحيح: لغة: هو ضد المريض.
اصطلاحا: عرفه المؤلف بقوله:
أولها الصحيح وهو مااتصل
… إسناده ولم يشُِذّ أو يعل
يرويه عدل ضابط عن مثله
… ..........................
قال وهو: ما اتصل.
الاتصال هو أول أوصاف للصحيح وأول رسم له، وهو أن يكون متصلا، يخرج ما انقطع.
ما معنى الاتصال؟ هو أن يروي كل راوٍ عمن سمعه.
يخرج: أن يروي عمن لم يسمعه منه مطلقا بأي نوع من عدم السماع.
إذا يخرج المنقطعات بأنواعها كما سيأتي، فمن أنواع المنقطعات: المنقطع، والمرسل، والمدلَّس، والمعضل، والمعلق، فهذه كلها منقطعات فليست متصلة.
ثم قال إسناده:
الإسناد: هو جملة الطريق الموصلة إلى الحديث. فكل طريق توصلك إلى الحديث يسمى إسنادا.
উসুল শাস্ত্রবিদগণ (الأصوليون) দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, কোনো কিছুকে কি সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব? কোনো সত্তা বা কোনো বিষয়ের কি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব? উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘ মতভেদ রয়েছে।
(সহিহ (الصحيح) হাদিস) লেখক —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— বলেছেন:
এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সহিহ (الصحيح), আর তা হলো যার সনদ (إسناد) অবিচ্ছিন্ন (متصل)
… এবং তা শায (شاذ) নয় কিংবা তাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) নেই।
লেখক —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে প্রথম প্রকার অর্থাৎ (সহিহ (الصحيح) হাদিস) দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের বিবেচনায় হাদিসকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (مردود)।
আমি পূর্ববর্তী পাঠে আপনাদের উল্লেখ করেছি যে, কোনো কিছুর প্রকারভেদ করা হয় প্রেক্ষিতের ভিত্তিতে। তাই আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি, আপনি যখন আমাকে প্রশ্ন করেন হাদিসের প্রকারভেদগুলো কী, তখন আপনার ভিত্তি বা প্রেক্ষিত কী? আপনি বলবেন: গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের ভিত্তিতে।
তখন আমি বলব, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে হাদিস দুই প্রকার: সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن)।
অথবা বর্ণনার সূত্রের (طرق) ভিত্তিতে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: মুতাওয়াতির (متواتر), মাশহুর (مشهور) এবং আহাদ (آحاد)।
আবার বর্জনের প্রেক্ষিতে একে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। তবে জ্ঞান তাপসগণ গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের বিবেচনায় হাদিসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছেন: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জঈফ বা দুর্বল (ضعيف)।
ইমাম বাইকুনি —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন এর শর্তাবলি ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। এটি সংজ্ঞায়নের অন্যতম একটি পদ্ধতি যে, শর্তাবলি উল্লেখ করে সংজ্ঞা প্রদান করা। কখনো কখনো উদাহরণ দিয়ে সংজ্ঞা দেওয়া হয়, আবার কখনো মূল সত্তার বর্ণনার মাধ্যমে সংজ্ঞা দেওয়া হয়। জ্ঞানকে সহজবোধ্য করার জন্য এর সবগুলো পদ্ধতিই সঠিক।
সহিহ (الصحيح): শাব্দিক অর্থ: এটি অসুস্থ বা রুগ্ন এর বিপরীত।
পারিভাষিক অর্থ: লেখক এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন:
এগুলোর প্রথমটি হলো সহিহ (الصحيح), আর তা হলো যার সনদ (إسناد) অবিচ্ছিন্ন (متصل)
… এবং যা শায (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (علة) নয়।
এটি একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ব্যক্তির কাছ থেকে বর্ণনা করবেন
… ..........................
তিনি বলেছেন— আর তা হলো: যা অবিচ্ছিন্ন (متصل)।
অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) হলো সহিহ (الصحيح) হাদিসের প্রথম বৈশিষ্ট্য ও প্রথম পরিচয়; অর্থাৎ সনদটি অবিচ্ছিন্ন হওয়া। এর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস বাদ পড়ে যায়।
অবিচ্ছিন্নতার (الاتصال) অর্থ কী? তা হলো প্রত্যেক বর্ণনাকারী (راو) তার সরাসরি উপরের এমন শিক্ষক থেকে বর্ণনা করবেন যার থেকে তিনি এটি শুনেছেন।
এর মাধ্যমে সেই হাদিস বাদ পড়ে যায়, যেখানে বর্ণনাকারী এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যার থেকে তিনি সেটি শোনেননি, চাই তা যে কোনো ধরনের শ্রবণ না করার মাধ্যমে হোক।
ফলে সব ধরনের বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসগুলো বাদ পড়ে যাবে যা সামনে বিস্তারিত আসবে। বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসের প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে: মুনকাতি (المنقطع), মুরসাল (المرسل), মুদাল্লাস (المدلس), মুয়াদাল (المعضل) এবং মুআল্লাক (المعلق)। এ সবগুলোই বিচ্ছিন্ন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তাই এগুলো অবিচ্ছিন্ন (متصل) নয়।
এরপর তিনি বলেছেন— তার সনদ বা সূত্র (إسناده):
সনদ বা ইসনাদ (الإسناد) হলো: হাদিসের মূল পাঠ পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারীদের সমষ্টি বা মাধ্যম। যে পথ বা মাধ্যম আপনাকে হাদিস পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, তাকেই সনদ (إسناد) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والإسناد عند أهل الحديث يطلق على عدة إطلاقات:-
الإطلاق الأول: ما رفع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فكل حديث يروى بإسناد إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فإنه مسند، فإذا كان يروى بإسناد إلى أبي هريرة فليس بمسند، وإذا كان يروى بإسناد إلى بن سيرين فليس بمسند.
الإطلاق الثاني: كل طريق يوصلك إلى حديث مرفوع أو موقوف، وهذا ذكره ابن الصلاح ـ رحمه الله تعالى ـ.
الإطلاق الثالث: كل حديث يوصلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم ويكون متصلا، وهذا رجحه الحاكم، فلا بد أن يكون إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ويكون متصلاً، فالمرسلات ليست مسنده على هذا القول.
الإطلاق الرابع: المسند كل طريق يروى بطريق التحمل، فلو جاءنا مثلا الإمام أحمد ويروي عن الزهري وبينهما راوٍ فهذا يسمى مسنداً، فتقول روى الإمام أحمد بالإسناد أو تقول رواه أحمد مسندا إلى الزهري، وهذا الإطلاق أعم وأشمل وهو أكثر في الإطلاق.
ثم قال المؤلف: ولم يَشُِذّ.
يصح أن تقول يَشُذّ أو يَشِذّ، شذّ يَشُذّ يَشِذّ فقط، من باب فَعِلَ يأتي منها يَفْعِلُ ويَفْعُل هذا قياسي، وأما يَفْعَل فهو سماعي ليس على القياس.
ورأيت في بعض النسخ: ولم يُشَذّ، وعندي أنها ضعيفة ـ ضعيف هذا الضبط ـ فليس هناك داعياً في أن نجعلها مبنية للمجهول.
قال المؤلف: ولم يشُِذّ.
هذا هو الوصف الثاني للحديث الصحيح، ولم يشُِذّ: أي أن هذا الإسناد لم يكن شاذا، والشذوذ هو المخالفة أو هو الإنفراد، وسيأتي زيادة بيان ـ إن شاء الله ـ على معنى الشذوذ، عند قول المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:-
وما يخالف ثقة به الملا
… فالشاذ.....................
فالشذوذ عند أهل اللغة: الإنفراد، وقال بعضهم إن الشذوذ هو المخالفة، وهذا الخلاف سينبني عليه الخلاف العظيم في معنى الشذوذ.
هل الشاذ هو المخالف أو هو المنفرد؟
হাদিস বিশারদগণের নিকট 'ইসনান' বা সনদ (إسناد) শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:-
প্রথম অর্থ: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে (مرفوع)। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বর্ণিত প্রত্যেকটি হাদিসই মুসনাদ। আর যদি কোনো বর্ণনা কেবল আবু হুরায়রা (রা.) পর্যন্ত বর্ণিত হয় তবে তা মুসনাদ নয়, এবং যদি তা ইবনে সিরিন পর্যন্ত বর্ণিত হয় তবে তাও মুসনাদ নয়।
দ্বিতীয় অর্থ: রাসূলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) কিংবা সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (موقوف) হাদিস পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি মাধ্যম। এটি ইবনুস সালাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় অর্থ: এমন প্রত্যেক হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং যা নিরবিচ্ছিন্ন (متصل)। ইমাম হাকিম একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সুতরাং তা অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে এবং নিরবিচ্ছিন্ন (متصل) হতে হবে। এই মত অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাগুলো মুসনাদ হিসেবে গণ্য হবে না।
চতুর্থ অর্থ: হাদিস গ্রহণের পদ্ধতির (طريق التحمل) মাধ্যমে বর্ণিত প্রতিটি পথই মুসনাদ। উদাহরণস্বরূপ, যদি ইমাম আহমাদ ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁদের মাঝে একজন বর্ণনাকারী থাকেন, তবে একে মুসনাদ বলা হবে। আপনি বলতে পারেন ইমাম আহমাদ সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন অথবা আহমাদ এটি যুহরী পর্যন্ত মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অর্থটি অধিকতর ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং এর ব্যবহারও বেশি।
অতঃপর লেখক বলেছেন: "এবং তা শায বা ব্যতিক্রম (شذ) হবে না।"
'ইয়াশুজু' (يَشُذّ) অথবা 'ইয়াশিজ্জু' (يَشِذّ) উভয়ভাবেই পড়া সঠিক। 'শাযযা' (شذّ) ক্রিয়াপদ থেকে 'ইয়াশুজু' ও 'ইয়াশিজ্জু' হয়। 'ফা'ইলা' (فَعِلَ) বাব থেকে 'ইয়াফ'ইলু' (يَفْعِلُ) এবং 'ইয়াফ'উলু' (يَفْعُلُ) আসাটা ব্যাকরণগত নিয়মসিদ্ধ (قياسي)। তবে 'ইয়াফ'আলু' (يَفْعَلُ) আসাটা শ্রুতিজাত (سماعي), নিয়মসিদ্ধ নয়।
আমি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়া লাম ইউশা্যযা' (ولم يُشَذّ) দেখেছি, তবে আমার মতে এটি দুর্বল (ضعيف) -অর্থাৎ এই হরকত প্রদানটি দুর্বল- একে কর্মবাচ্য (مبنية للمجهول) করার কোনো প্রয়োজন নেই।
লেখক বলেছেন: "এবং তা শায বা ব্যতিক্রম (شذ) হবে না।"
এটি সহিহ হাদিসের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য। 'শায (شذ) হবে না' এর অর্থ হলো এই সনদ (إسناد) টি শায (شاذ) নয়। শায হওয়া (شذوذ) বলতে বিরোধপূর্ণ হওয়া (مخالفة) বা একক হওয়া (انفراد) বোঝায়। শায হওয়ার অর্থের ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে যখন লেখক (রহ.) বলবেন:-
"যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অধিকাংশের বিপরীতে বর্ণনা করেন... সেটিই শায (شاذ)...".....................
ভাষাবিদদের নিকট শায হওয়া (شذوذ) এর অর্থ হলো একক হওয়া (انفراد)। আবার কেউ কেউ বলেছেন, শায হওয়া (شذوذ) মানে হলো বিরোধপূর্ণ হওয়া (مخالفة)। এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করেই শায (شاذ) এর সংজ্ঞায় বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়।
শায (شاذ) কি কেবল বিরোধপূর্ণ হওয়া নাকি কেবল এককভাবে বর্ণনা করা?
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بناءً على اختيارنا سينشأ الخلاف، فلو جاء حديث لم يخالف، لكنه مفرد، فإنه يكون شاذاً إذا قلنا أن بأن الشاذ هو التفرد.
قال الحافظ العراقي ـ رحمه الله تعالى ـ:-
والحاكم الخلاف فيه ما اشترط
… وللخليلي مفرد الراوي فقط
فالخليلي انتزع معنى الإنفراد من اللغة، فقال الشاذ هو المفرد، فعنده يلزم أن يكون حديث (إنما الأعمال بالنيات) حديث شاذاً.
جاء الإمام الشافعي وقال: الشاذ هو المخالف، وهو له أصل في اللغة، فيلزم من التفرد المخالفة هكذا قال، فلا يطلق على الإنسان أنه تفرد إلا إذا تميز ولا يتميز إلا إذا روى شيئا لم يروه غيره أو خالفهم، إما بمتن أو إسناد، وسيأتي تحرير الكلام ـ إن شاء الله ـ في معنى الشذوذ.
إذا نقول الشاذ: قيل بأنه التفرد وهذا رجحه الخليلي، وقيل بأنه المخالفة وهذا رجحه الشافعي ـ رحمه الله تعالى ـ، والحاكم ـ رحمه الله تعالى ـ لم يشترط المخالفة أيضا.
قال الحافظ العراقي ـ رحمه الله تعالى ـ:
والحاكم الخلاف فيه ما اشترط
… ..............................
مثال على الشذوذ:
روى الإمام البخاري ـ رحمه الله تعالى ـ في صحيحه من حديث سفيان عن عون بن أبي جحيفة عن أبيه " أنه رأى بلالاً يؤذن فتتبع فاه وجلس يلتفت يميناً وشمالاً في الحيعلتين ". رواه عن سفيان جماعة منهم بن المبارك ووكيع وجماعة كثيرة من الأئمة فكل طبقة سفيان يروون هذا الحديث كل تلاميذ سفيان الثوري يروون هذا الحديث، وهي رواية البخاري، جاء عبد الرزاق وهو إمام من الأئمة فزاد " ووضع أصبعيه في أذنيه " فعبد الرزاق ذكر هذه اللفظة وعشرة لم يذكروها عن سفيان، فنحن الآن بين روايتين، رواية جماعة لم يذكروا " ووضع أصبعيه في أذنيه " ورواية عبد الرزاق ذكر" ووضع أصبعيه في أذنيه " فنحن الآن أمام زيادة وتفرد وأمام مخالفة.
আমাদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করেই মতপার্থক্যের সৃষ্টি হবে। সুতরাং, যদি এমন কোনো হাদিস আসে যা বিরোধপূর্ণ নয়, কিন্তু তা একক (مفرد), তবে আমরা যদি বলি যে ‘শাজ’ (شاذ) মানেই হলো ‘একক বর্ণনা’ (التفرد), তবে সেটি ‘শাজ’ (شاذ) হিসেবে গণ্য হবে।
হাফিজ আল-ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:-
এবং আল-হাকিম এতে (শাজ হওয়ার জন্য) বিরোধিতার (الخلاف) শর্ত করেননি
… আর আল-খালিলির নিকট এটি কেবল রাবির একক বর্ণনা (مفرد)
সুতারং আল-খালিলি ভাষা থেকে একক হওয়ার (الإنفراد) অর্থটি চয়ন করেছেন এবং বলেছেন যে, ‘শাজ’ (شاذ) হলো ‘একক বর্ণনা’ (المفرد)। তাঁর নিকট এ কারণে "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি একটি ‘শাজ’ (شاذ) হাদিস হিসেবে গণ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
ইমাম শাফিঈ এসে বলেছেন: ‘শাজ’ (شاذ) হলো ‘বিরোধপূর্ণ’ (المخالف), এবং ভাষার মধ্যেও এর মূল ভিত্তি রয়েছে। তিনি বলেছেন যে, একক বর্ণনা (التفرد) থেকে আবশ্যিকভাবেই বিরোধিতা বা বৈসাদৃশ্য তৈরি হয়। কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ ‘একক’ বলা যায় না যতক্ষণ না সে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়, আর সে তখনই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় যখন সে এমন কিছু বর্ণনা করে যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি অথবা সে তাদের বিরোধিতা করে—চাই তা মূল পাঠের (متن) ক্ষেত্রে হোক বা সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে। ‘শাজ’ হওয়া (الشذوذ) এর অর্থের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
অতএব আমরা বলছি, ‘শাজ’ (شاذ): বলা হয়েছে যে এটি হলো ‘একক বর্ণনা’ (التفرد) এবং আল-খালিলি এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন; আবার বলা হয়েছে যে এটি হলো ‘বিরোধিতা’ (المخالفة) এবং ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইমাম আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ)-ও এতে বিরোধিতার শর্ত করেননি।
হাফিজ আল-ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
এবং আল-হাকিম এতে (শাজ হওয়ার জন্য) বিরোধিতার (الخلاف) শর্ত করেননি
… ..............................
‘শাজ’ হওয়া (الشذوذ) এর একটি উদাহরণ:
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ বুখারি-তে সুফিয়ান থেকে, তিনি আউন ইবনে আবি জুহাইফাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি বিলালকে আজান দিতে দেখেছেন; তিনি বিলালের মুখের নড়াচড়া অনুসরণ করছিলেন এবং বিলাল ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় ডানে ও বামে মুখ ফিরাচ্ছিলেন।" সুফিয়ান থেকে এটি একদল রাবি বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ইবনুল মুবারক ও অকি’ রয়েছেন এবং ইমামদের এক বিশাল দল রয়েছেন। সুফিয়ানের স্তরের সকলে এবং সুফিয়ান সাওরির সকল ছাত্র এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই বুখারি-র বর্ণনা। এমতাবস্থায় আব্দুর রাজ্জাক, যিনি ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম, তিনি অতিরিক্ত তথ্য (زاد) উল্লেখ করেছেন যে: "এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল দুই কানে রেখেছিলেন।" আব্দুর রাজ্জাক এই শব্দটি উল্লেখ করেছেন অথচ অন্য দশজন রাবি সুফিয়ান থেকে তা উল্লেখ করেননি। সুতরাং আমরা এখন দুটি বর্ণনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি: একটি হলো সেই দলটির বর্ণনা যারা "দুই আঙুল দুই কানে রাখা"র কথা উল্লেখ করেননি, আর অন্যটি হলো আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনা যেখানে তিনি "দুই আঙুল দুই কানে রাখা"র কথা উল্লেখ করেছেন। এখন আমরা একটি অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) ও একক বর্ণনা (تفرد) এবং একই সাথে একটি বিরোধিতার (مخالفة) সম্মুখীন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقولنا " أمام مخالفة " هنا معترك النقاش الذي سنذكره ـ إن شاء الله ـ هل هو خالف؟ بعضهم هو خالف وبعضهم يقول هو لم يخالف بل زاد، فيقول بعضهم لا هو زاد فهذا يترجم الزيادة بالتفرد، وهذا يقول لكنه خالف فهذا يترجم الزيادة بالمخالفة.
فإذا قلنا بأن الشذوذ هو المخالفة: فإننا سنصنف زيادة عبد الرزاق بالشذوذ، وسيأتي زيادة بيان عند مسألة زيادة الثقة، وأن زيادة الثقة وأن الشذوذ وأن المخالفة كلها تدور في باب واحد.
قال الحافظ العراقي ـ رحمه الله تعالى ـ:
وذو الشذوذ ما يخالف الثقة
… فيه الملا فالشافعي حققه
فعبد الرزاق خالف الملا، وكيع وبن المبارك وغيرهم فهؤلاء أئمة، وعبد الرزاق لنا فيه نظر آخر وهو أنه فقيه فلما يتكلم تؤثر فيه لغة الفقهاء، فليس هو فقط حافظ بل يسمع كلاماً للتابعي "بأنه وضع أصبعه في أذنيه "، ويسمع كلاماً للإمام " بأنه وضع أصبعه في أذنيه " فيتأثر، ولهذا رواية الفقهاء المحدثين تختلف عن رواية المحدثين الخلّص، فرواية المحدثين الخلّص أحيانا قد تكون أقوى من رواية الفقهاء المحدثين، وأحيانا تكون رواية الفقهاء المحدثين أقوى من رواية المحدثين الخلّص.
فمتى تكون رواية الفقيه المحدث أقوى؟ ومتى تكون رواية المحدث الخالص أقوى؟
تكون رواية الفقيه المحدث أقوى عندما يكون الخلاف في مسألة تنبني على مسألة فقهية في اللفظ، فإن الفقيه يكون حذِرا عند ذكره للرواية فيعرف ما الذي يلزم منها إذا قال كذا فيلزم منها كذا، فيلتزم بالرواية بالنص، أما المحدثين الخلص يتوسعون في الرواية بالمعنى أحيانا المحدث لا يبالي فيظن اللفظة هذه مثل اللفظة هذه، فيروي الحديث كما يفهمه من الحديث فقط، فهنا تكون رواية الفقيه أقوى.
আমাদের কথা "বিরোধিতার (مخالفة) সম্মুখীন হওয়া" এখানেই সেই বিতর্কের মূল ক্ষেত্র যা আমরা ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করব—তিনি কি বিরোধিতা করেছেন? কেউ কেউ বলেন তিনি বিরোধিতা করেছেন, আবার কেউ বলেন তিনি বিরোধিতা করেননি বরং অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) করেছেন। ফলে কেউ একে অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) হওয়ার কারণে 'একক বর্ণনা' (تفرد) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, আবার কেউ বলেন যে তিনি বিরোধিতা করেছেন, তাই তারা একে 'বিরোধিতা' (مخالفة) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সুতরাং আমরা যদি বলি যে অস্বাভাবিকতা (شذوذ) মানেই হলো বিরোধিতা (مخالفة), তবে আমরা আব্দুর রাজ্জাকের অতিরিক্ত বর্ণনাটিকে (زيادة) অস্বাভাবিকতা (شذوذ) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করব। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনার (زيادة الثقة) মাসআলায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে। মূলত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), অস্বাভাবিকতা (شذوذ) এবং বিরোধিতা (مخالفة)—এই সবগুলি বিষয় একই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
হাফেজ ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন:
অস্বাভাবিক (شذوذ) হলো তা-ই, যাতে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী … সংখ্যাগুরু বর্ণনাকারীদের (الملا) বিরোধিতা (مخالفة) করেন; ইমাম শাফিঈ এটিই নিশ্চিত করেছেন।
এখানে আব্দুর রাজ্জাক সংখ্যাগুরু বর্ণনাকারীদের (الملا) বিরোধিতা করেছেন, যেমন ওকি এবং ইবনুল মুবারক প্রমুখ; তারা সকলেই ইমাম ছিলেন। তবে আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাপারে আমাদের অন্য একটি পর্যবেক্ষণ আছে, আর তা হলো তিনি একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন। তাই যখন তিনি কথা বলেন, ফকিহদের পরিভাষা তাঁর ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি কেবল একজন হাফেজ (حافظ) ছিলেন না, বরং তিনি যখন কোনো তাবেঈ (تابعي) থেকে শোনেন যে "তিনি তাঁর কানে আঙ্গুল রেখেছিলেন", অথবা কোনো ইমামের থেকে শোনেন যে "তিনি তাঁর কানে আঙ্গুল রেখেছিলেন", তখন তিনি তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন। এই কারণেই ফকিহ-মুহাদ্দিসদের বর্ণনা বিশুদ্ধ মুহাদ্দিসদের বর্ণনা থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। কখনো কখনো বিশুদ্ধ মুহাদ্দিসদের বর্ণনা ফকিহ-মুহাদ্দিসদের বর্ণনার চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে, আবার কখনো ফকিহ-মুহাদ্দিসদের বর্ণনা বিশুদ্ধ মুহাদ্দিসদের বর্ণনার চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে।
তাহলে কখন একজন ফকিহ-মুহাদ্দিসের বর্ণনা অধিক শক্তিশালী হয়? আর কখন একজন বিশুদ্ধ মুহাদ্দিসের বর্ণনা অধিক শক্তিশালী হয়?
একজন ফকিহ-মুহাদ্দিসের বর্ণনা তখন শক্তিশালী হয় যখন মতপার্থক্যটি শব্দের এমন কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয় যা একটি ফিকহি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ একজন ফকিহ হাদিস বর্ণনা করার সময় অধিক সতর্ক থাকেন এবং তিনি জানেন যে, এভাবে বললে এর দ্বারা কী সাব্যস্ত হবে, তাই তিনি মূল পাঠ অনুযায়ী আক্ষরিক বর্ণনার (الرواية بالنص) প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন। পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ মুহাদ্দিসগণ অনেক সময় ভাবার্থের বর্ণনার (الرواية بالمعنى) ক্ষেত্রে কিছুটা প্রশস্ততা অবলম্বন করেন। অনেক সময় মুহাদ্দিস বিষয়টি নিয়ে অতটা গুরুত্ব দেন না এবং মনে করেন যে এই শব্দটিও ওই শব্দটির মতোই, ফলে তিনি হাদিসটি যেভাবে বুঝেছেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেন। এমতাবস্থায় ফকিহর বর্ণনাটিই অধিক শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وتكون رواية المحدث أقوى من الفقيه المحدث في مثل المثال المذكور ـ زيادة عبد الرزاق ـ فإذا وجدنا أن المحدثين رووى هذا اللفظ ولم يذكروا زيادة فقهية بينما هذا الفقيه زاد لفظة فقهية فتقول اقتبسها من فقهه ولم يقتبسها من الحديث فهنا تكون رواية المحدث الخالص أقوى.
قال المؤلف: ولم يُعلّ.
هذا هو الوصف الثالث للحديث الصحيح أن لا يكون معلّلاً.
العلة: الأصل هي المرض.
اصطلاحاً: هي " وصف يقع في الإسناد أو المتن لا يدركه إلا جِلّة ـ أي خواص ـ المحدثين "، فليست العلة سهلة واضحة، فليست العلة هي الانقطاع فقط، ما يقصدون هذا مع أن الانقطاع جزء من أجزاء العلة لكن هم لا يقصدون هذا، هم يقصدون العلة الخفية.
فمثلاً يقولون فلان لم يسمع من فلان هذا الحديث، أو فلان يخالف هذا الحديث، أو فلان أدخل متناً في متن، فهذا كيف نعرفه.
نضرب مثالاً: لو أتينا لحديث سفيان بن حسين عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه ـ كما عند أبي داود ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من أدخل فرسا بين فرسين " ـ يعني وهو لا يُؤمن أن يُسْبَق ـ " فليس بقمار، ومن أدخل فرساً بين فرسين وقد أمِنَ أن يُسْبَق فهو قمار " فهذا من حديث السبق.
فهذا إسناد ظاهره الصحة، وسلسلة الزهري هذه رواها البخاري ومسلم ـ رحمهما الله تعالى ـ، وسفيان هذا من رجال مسلم، جاء أبو حاتم الرازي ـ رحمه الله تعالى ـ وأعلّ هذا الحديث بطريقة عجيبة فقال: " لا يشبه أن يكون عن النبي صلى الله عليه وسلم وأحسن أحواله أن يكون من كلام سعيد ".
فسفيان ماذا فعل قد تداخلت الأسانيد عليه فأدخل هذا الإسناد لهذا المتن، هذا رأي أبو حاتم الرازي ـ رحمه الله تعالى ـ.
وقال أبو داود ـ رحمه الله تعالى ـ: رواه معمر وشعيب وعقيل، عن الزهري، عن رجال من أهل العلم، وهذا أصح عندنا.
উল্লিখিত উদাহরণের মতো—আবদুর রাজ্জাকের বর্ধিত অংশ (زيادة)—ক্ষেত্রে ফকিহ মুহাদ্দিসের তুলনায় নির্ভেজাল মুহাদ্দিসের বর্ণনা অধিক শক্তিশালী হয়। যখন আমরা দেখি যে মুহাদ্দিসগণ এই শব্দগুলো বর্ণনা করেছেন কিন্তু কোনো ফিকহি অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেননি, অথচ জনৈক ফকিহ একটি ফিকহি শব্দ বৃদ্ধি করেছেন, তখন বলা হবে যে তিনি এটি তাঁর ফিকহি জ্ঞান থেকে গ্রহণ করেছেন, হাদিস থেকে নয়। এমতাবস্থায় কেবল নির্ভেজাল মুহাদ্দিসের বর্ণনা অধিক শক্তিশালী হবে।
লেখক বলেছেন: এবং তা দোষযুক্ত (معلل) না হওয়া।
এটি সহিহ (صحيح) হাদিসের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য যে, সেটি ত্রুটিযুক্ত (معلل) হবে না।
ত্রুটি (العلة): শাব্দিকভাবে এর অর্থ হলো অসুস্থতা।
পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন এক "বৈশিষ্ট্য যা সনদ (إسناد) বা মতন (متন)-এ ঘটে থাকে, যা কেবল বিশেষজ্ঞ—অর্থাৎ বিশিষ্ট—মুহাদ্দিসগণই অনুধাবন করতে পারেন।" সুতরাং ত্রুটি (العلة) কোনো সহজ বা স্পষ্ট বিষয় নয়। ত্রুটি (العلة) বলতে কেবল বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বোঝায় না; যদিও বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ত্রুটিরই একটি অংশ, কিন্তু তাঁরা কেবল এটি বোঝাতে চান না, বরং তাঁরা সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة الخفية) বোঝাতে চান।
যেমন উদাহরণস্বরূপ তাঁরা বলেন, অমুক ব্যক্তি অমুকের নিকট থেকে এই হাদিসটি শোনেননি, অথবা অমুক ব্যক্তি এই হাদিসের বিরোধিতা করেছেন, অথবা অমুক ব্যক্তি এক মতন (متন)-কে অন্য মতন (متন)-এর ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আমরা এটি কীভাবে জানতে পারব?
আমরা একটি উদাহরণ দিই: যদি আমরা সুফিয়ান ইবনে হুসাইন-এর হাদিসটি দেখি যা জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুটি ঘোড়ার মাঝে একটি ঘোড়া প্রবেশ করাল—অর্থাৎ যখন সে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়—সেটি জুয়া নয়। আর যে ব্যক্তি দুটি ঘোড়ার মাঝে একটি ঘোড়া প্রবেশ করাল এমতাবস্থায় যে সে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত, তবে তা জুয়া।" এটি প্রতিযোগিতার হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
এই সনদ (إسناد)-টির বাহ্যিক অবস্থা বিশুদ্ধ (صحيح)। জুহরির এই বর্ণনা সূত্রটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর এই সুফিয়ান ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের (رجال) অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতেম আর-রাজি উপস্থিত হলেন এবং এই হাদিসটিকে এক বিস্ময়কর পদ্ধতিতে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করে বললেন: "এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হওয়া সদৃশ নয় এবং এর উত্তম অবস্থা হলো এটি সাঈদ-এর বক্তব্য হওয়া।"
সুফিয়ান এখানে কী করেছেন? তাঁর কাছে বিভিন্ন সনদ (أسانيد) ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি এই মতন (متন)-এর জন্য এই সনদ (إسناد) ব্যবহার করেছেন। এটি আবু হাতেম আর-রাজি-এর অভিমত।
ইমাম আবু দাউদ বলেছেন: মা’মার, শুআইব এবং উকাইল এটি জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলেমদের এক দলের নিকট থেকে। আর এটিই আমাদের নিকট অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال يحيى بن معين ـ رحمه الله تعالى ـ عن هذا الحديث: باطل وخطأ على أبي هريرة رضي الله عنه.
فهؤلاء لم يجلسوا مع بعض ولم يتفقوا، فهذه علّة خفيّة وليست واضحة، فهذه ليست ميسّرة لنا أبداً.
ولهذا بن مهدي ـ رحمه الله تعالى ـ يقول: " كلامنا على الأحاديث عند الجهال كهانة "، هذا طبعاً إذا حسنوا اللفظ ولم يقولوا تخرصاً، وقال بعض الحفاظ: " معرفتنا بهذا كهانة عند الجاهل ".
إذاً نقول العلة المقصود بها: العلة الخفية وليست العلة الظاهرة، وهناك احتراز آخر وهو: أن تكون العلة قادحة، فليست أي علة تقدح في الحديث، فقد يكون الحديث فيه علة ولكنه ليس ضعيفا بل صحيحا، فمثلا فلان يروي عن فلان وأحاديثه ضعيفة، لكن هذا الحديث جزم أهل العلم بأن هذا الراوي قد سمع من شيخه هذا الذي كان ضعيفا فيه وضبط هذا المتن.
إذاً نجعل وصفين لقوله " أويعل ":
الوصف الأول: أن تكون علة خفية.
الوصف الثاني: أن تكون علة قادحة.
مسألة:
بين العلة والشذوذ عموم وخصوص مطلق، فكل شذوذ علة وليس كل علة شذوذاً، إذا الشذوذ نوع من أنواع العلة، فليست كل علة شذوذ.
قد يقول قائل: لماذا المؤلف جاء بهذا الوصف " الشاذ " مادام أن الشاذ داخل في العلة، وجزء من أجزائها؟
نعم، هذا اعتراض قال به بعض أهل العلم وله وجاهته، ولكن من قال به أجاب عن هذا الإيراد بقوله: ذكر الشذوذ بسبب ارتباطه في الإسناد والمتن، لأجل ذلك ذكره المؤلف وأفرده، فإذا وجد شذوذ في المتن لابد أن يكون هناك شذوذ في الإسناد، وإذا وجد شذوذ في الإسناد لابد أن يكون هناك شذوذ في المتن، هكذا أجاب.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
يرويه عدل ضابط عن مثله
… معتمد في ضبطه ونقله
ذكر المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ الوصف الرابع للحديث الصحيح وهو " أن يكون عدلاً ".
قال عدل: العدالة هي صفة تبعث صاحبَها على ملازمة التقوى والمروءة.
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: এটি বাতিল (باطل) এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আরোপিত একটি ভুল (خطأ)।
তাঁরা একে অপরের সাথে বসেননি এবং একমতও হননি; সুতরাং এটি একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علّة خفيّة), যা স্পষ্ট নয়। এটি আমাদের জন্য মোটেও সহজসাধ্য নয়।
এজন্যই ইবনে মাহদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মূর্খদের নিকট হাদিস সম্পর্কে আমাদের আলোচনা জ্যোতিষীদের গণনার মতো।" এটি অবশ্যই তখন প্রযোজ্য যখন তাঁরা শব্দপ্রয়োগকে সুন্দর করেন এবং কোনো অনুমান নির্ভর কথা না বলেন। কতিপয় হাফেজ (حفاظ) বলেছেন: "এই বিষয়ে আমাদের জ্ঞান মূর্খদের নিকট জ্যোতিষীদের গণনার মতো মনে হয়।"
অতএব আমরা বলতে পারি, এখানে ত্রুটি (العلة) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة الخفية), প্রকাশ্য ত্রুটি (العلة الظاهرة) নয়। আর এখানে আরেকটি সতর্কতা রয়েছে, তা হলো: ত্রুটিটি হতে হবে দোষযুক্ত বা ক্ষতিকর (قادحة)। কারণ যে কোনো ত্রুটিই হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে না। কোনো হাদিসে ত্রুটি (علة) থাকা সত্ত্বেও সেটি দুর্বল (ضعيف) না হয়ে বরং সঠিক (صحيح) হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তাঁর হাদিসসমূহ দুর্বল (ضعيفة); কিন্তু আলেমগণ এই নির্দিষ্ট হাদিসটির ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন যে, এই বর্ণনাকারী (الراوي) তাঁর ঐ উস্তাদ থেকে এটি শ্রবণ করেছেন যাঁর বর্ণনায় তিনি দুর্বল (ضعيف) ছিলেন, তবে তিনি এই মূল পাঠটি (المتن) যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করেছেন।
সুতরাং "অইল্লা" (বা ত্রুটিযুক্ত হওয়া) কথাটির জন্য আমরা দুটি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করি:
প্রথম বৈশিষ্ট্য: এটি যেন সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة خفية) হয়।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি যেন দোষযুক্ত বা ক্ষতিকর (علة قادحة) হয়।
মাসআলা:
ত্রুটি (العلة) এবং ব্যতিক্রমধর্মিতা (الشذوذ)-এর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষত্বের (আম ও খাস) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক ব্যতিক্রমধর্মী বর্ণনাই (شذوذ) একটি ত্রুটি (علة), কিন্তু প্রতিটি ত্রুটিই (علة) ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذاً) নয়। অতএব, ব্যতিক্রমধর্মিতা (الشذوذ) হলো ত্রুটির (العلة) প্রকারসমূহের একটি প্রকার; সব ত্রুটিই ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ) নয়।
কেউ বলতে পারেন: লেখক কেন এই বৈশিষ্ট্য "ব্যতিক্রমী (الشاذ)" কথাটি উল্লেখ করলেন, যেখানে ব্যতিক্রমী (الشاذ) বিষয়টি ত্রুটির (العلة) অন্তর্ভুক্ত এবং তার একটি অংশ?
হ্যাঁ, এটি একটি আপত্তি যা কতিপয় আলেম উত্থাপন করেছেন এবং এর যৌক্তিকতাও রয়েছে। তবে যাঁরা এটি উল্লেখ করেছেন তাঁরা এই আপত্তির জবাবে বলেছেন: সনদ (الإسناد) এবং মূল পাঠের (المتن) সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণেই লেখক স্বতন্ত্রভাবে ব্যতিক্রমধর্মিতা (الشذوذ) বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। যদি মূল পাঠে (المتن) কোনো ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ) পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই সনদেও (الإسناد) ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ) থাকতে হবে। আর যদি সনদে (الإسناد) ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ) থাকে, তবে অবশ্যই মূল পাঠেও (المتن) ব্যতিক্রমধর্মিতা (شذوذ) থাকবে—এভাবেই তিনি উত্তর দিয়েছেন।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
এটি বর্ণনা করবেন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও তুখোড় স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তাঁর মতো একজনের থেকে
… যিনি তাঁর সংরক্ষণ (ضبط) ও বর্ণনার (نقله) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ হাদিসের চতুর্থ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো: "ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) হওয়া"।
তিনি বলেছেন 'আদল' (ন্যায়পরায়ণতা): ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো এমন একটি গুণ যা এর অধিকারীকে তাকওয়া এবং মনুষ্যত্ব (المروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقولنا " ملازمة التقوى ": يخرج الكافر فهو ليس بعدل إذا من شروط الرواية أن يكون مسلما، وبعض الناس يقول أين اشتراط الإسلام؟ نقول يؤخذ من صفة العدالة.
وقولنا " المروءة ": يخرج من تنخرم مروءته بفعل معصية أو بمخالفة عرف، هكذا عند المحدثين.
فإن قلّت هذه العدالة قلّت درجة الصحة، فإذا كان الراوي غير ملازم للتقوى تماما لكنه مسلم ويفعل الطاعات ويترك بعض المحرمات لكنه يقارف بعضها، نقول تقلّ درجة العدالة الآن فتقلّ درجة صحة حديثه، لا ينزل إلى مرتبة الرد ولا يرتفع إلى درجة الصحة التامة بحيث يكون حديثه صحيح تام.
ثم قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ: ضابط، هذا هو الوصف الخامس للحديث الصحيح وهو" أن يكون ضابطاً ".
الضبط: " هو إيصال الحديث كما سمعه من شيخه "، فإذا روى الراوي بمثل ما رواه شيخه فإنه يكون ضابطاً.
وصفة الضبط لها طريقان:-
الطريق الأول: أن يكون ضابطا ضبط الفؤاد " ضبط الصدر "، فما سمعه يحفظه ويتقنه فلا يعرف عنه أنه كثير الخلل في مروياته، وقولنا " ضبط الصدر": ليس معناه أنه لا يخطئ فليس هناك أحد ما يخطئ، كل الأئمة حفظ عنهم الخطأ، ولكن الخطأ عنده قليل.
الطريق الثاني: ضبط كتاب، وهذا هو أقوى الضبط.
وصفة ضبط الكتاب: هو أن يحمي كتابه من أن يحرّف وقلمه من أن يغيّر، فكتابه مضبوط، ما عرف عنه أن كل من أتاه يطلب كتابه أعطاه إياه، سواء كان عدلا أم لا، وللأئمة كلام كثير في ضبط الكتاب.
قال بن حبان ـ رحمه الله تعالى ـ: كاتب الليث منكر الحديث جداً يروي عن الأثبات ما ليس من حديث الثقات وكان صدوقاً في نفسه وإنما وقعت المناكير في حديثه من قبل جارٍ له كان يضع الحديث على شيخ عبد الله بن صالح ويكتب بخط يشبه خط عبد الله ويرميه في داره بين كتبه فيتوهم عبد الله أنه خطه فيحدث به.
فإذا لابد أن يكون هناك ضبط كتاب أو ضبط صدر.
আমাদের বক্তব্য "তাকওয়া অবলম্বন (ملازمة التقوى)": এর মাধ্যমে কাফির ব্যক্তি বহির্ভূত হয়ে যায়; কেননা সে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়। যেহেতু হাদিস বর্ণনার শর্তাবলি (شروط الرواية) হলো বর্ণনাকারীকে অবশ্যই মুসলিম (مسلم) হতে হবে। কেউ কেউ বলতে পারেন, ইসলাম (إسلام) শর্ত হওয়ার কথা কোথায় উল্লেখ আছে? আমরা বলব, এটি ন্যায়পরায়ণতার গুণ (صفة العدالة) থেকেই গৃহীত হয়েছে।
আর আমাদের বক্তব্য "মানবিকতা বা শিষ্টাচার (المروءة)": এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তি বহির্ভূত হয়ে যায় যার শিষ্টাচার ক্ষুণ্ণ হয়েছে (تنخرم مروءته) কোনো পাপাচার (معصية) বা সামাজিক রীতিনীতি (عرف) বিরোধী কাজের মাধ্যমে। মুহাদ্দিসগণের (المحدثون) নিকট বিষয়টি এমনই।
যদি এই ন্যায়পরায়ণতা কমে যায়, তবে বিশুদ্ধতার (صحة) মানও কমে যায়। সুতরাং বর্ণনাকারী (راوي) যদি পুরোপুরি তাকওয়া অবলম্বনকারী না হন, তবে তিনি যদি মুসলিম হন এবং আনুগত্যমূলক কাজ (طاعات) সম্পাদন করেন ও কিছু নিষিদ্ধ বিষয় (محرمات) বর্জন করেন কিন্তু আবার কিছু পাপাচারে লিপ্ত হন, তবে আমরা বলব যে এখন ন্যায়পরায়ণতার মান কমে গেছে, ফলে তার হাদিসের বিশুদ্ধতার মানও কমে যাবে। এটি একেবারে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার স্তরে (مرتبة الرد) নেমে যাবে না, আবার পূর্ণাঙ্গ বিশুদ্ধতার (صحة) স্তরেও উন্নীত হবে না যে তার হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ সহিহ (صحيح تام) হবে।
অতঃপর লেখক —রাহিমাহুল্লাহ— বলেছেন: স্মৃতিশক্তিতে প্রখর (ضابط); এটি সহিহ হাদিসের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য, আর তা হলো "স্মৃতিশক্তিতে প্রখর বা নির্ভুল (ضابط) হওয়া"।
নির্ভরযোগ্যতা বা নির্ভুলতা (الضبط): "তা হলো হাদিসকে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দেওয়া যেভাবে তিনি তার উস্তাদের নিকট থেকে শুনেছেন"। সুতরাং বর্ণনাকারী যদি তার উস্তাদ যেভাবে বর্ণনা করেছেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেন, তবে তিনি নির্ভুল (ضابط) হিসেবে গণ্য হবেন।
নির্ভরযোগ্যতা বা নির্ভুলতার (ضبط) গুণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে:-
প্রথম পদ্ধতি: মুখস্থ শক্তির নির্ভুলতা (ضبط الصدر)। অর্থাৎ তিনি যা শুনেছেন তা মুখস্থ করবেন এবং নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করবেন, যাতে তার বর্ণনাগুলোর মধ্যে অধিক ভুল বা ত্রুটি (خلل) পরিলক্ষিত না হয়। আমাদের কথা "মুখস্থ শক্তির নির্ভুলতা (ضبط الصدر)" এর অর্থ এই নয় যে তিনি মোটেও ভুল করবেন না, কারণ ভুল করে না এমন কেউ নেই। সকল ইমামগণের (أئمة) পক্ষ থেকেই কিছু ভুলের কথা সংরক্ষিত আছে, তবে তার ক্ষেত্রে ভুলের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: লিখিত পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা (ضبط الكتاب); আর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী নির্ভুলতা (أقوى الضبط)।
লিখিত পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতার (ضبط الكتاب) বৈশিষ্ট্য হলো: তিনি তার কিতাবকে বিকৃতি থেকে এবং তার কলমকে পরিবর্তন হওয়া থেকে রক্ষা করবেন। অর্থাৎ তার কিতাবটি নির্ভুল থাকবে। তার ব্যাপারে এমনটি জানা যাবে না যে, যে কেউ তার কাছে কিতাবটি চাইলেই তিনি তাকে তা দিয়ে দিতেন, সে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হোক বা না হোক। কিতাব সংরক্ষণের বিষয়ে ইমামগণের অনেক বক্তব্য রয়েছে।
ইবনে হিব্বান —রাহিমাহুল্লাহ— বলেছেন: লাইস-এর লেখক চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। তিনি নির্ভরযোগ্য ইমামগণের (الأثبات) সূত্রে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী (صدوق) ছিলেন, কিন্তু তার হাদিসে অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা (مناكير) অনুপ্রবেশের কারণ ছিল তার এক প্রতিবেশী। সেই প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ-এর উস্তাদের নামে হাদিস জাল করত এবং আব্দুল্লাহর হস্তাক্ষরের সাথে মিল রেখে তা লিখে তার ঘরের কিতাবপত্রের মাঝে ফেলে রাখত। আব্দুল্লাহ মনে করতেন এটি তারই হাতের লেখা এবং তিনি তা বর্ণনা করে দিতেন।
অতএব, অবশ্যই লিখিত পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা (ضبط الكتاب) অথবা মুখস্থ শক্তির নির্ভুলতা (ضبط الصدر) থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إذا تحصل لنا خمسة شروط للحديث الصحيح كما ذكرها المؤلف قال:
" ما اتصل " الاتصال. 1)
. " لم يَشُذ " عدم الشذوذ 2)
. " لم يعل " عدم العلة 3)
" يرويه عدل " أن يكون الراوي عدلا. 4)
" ضابط " أن يكون الراوي ضابطا. 5)
:
… ونستطيع أن نرتبها ترتيبا أحسن من هذا فنقول
الحديث الصحيح هو: " ما اتصل إسناده برواية عدل تام الضبط من غير شذوذ ولا علة قادحة "، هذا هو أكثر ما يعرف به العلماء، ولكن مع النظم أحيانا لا تستطيع أن ترتب.
مسألة: أين توجد هذه الأحاديث الصحيحة بهذه الأوصاف؟
هذه الأوصاف توجد فيما حكم عليه الأئمة بالصحة، فكل ما حكم عليه الأئمة بالصحة، فإن هذه الأوصاف فيه ومظانها في الصحيحين.
مسألة: هل استوعب الصحيحان الأحاديث الصحيحة؟ كلا، لجوابين:
1) أن البخاري ـ رحمه الله تعالى ـ هو نفسه ذكر بأنه لم يتعهد بأن يذكر كل الأحاديث الصحيحة في هذا الكتاب.
2) أن البخاري ـ رحمه الله تعالى ـ نفسه سئل عن عشرات من الأحاديث فيقول " صحيح "، وهو غير موجود في الصحيح، فلو قلبت سنن الترمذي مثلا لوجدت أن البخاري يُسأل عن كثير من الأحاديث فيقول " صحيح " وهو غير موجود في الصحيحين.
إذاً اعتراض بن عبد البر ـ رحمه الله تعالى ـ الكثير ـ حقيقة ـ على البخاري في قوله عن بعض الأحاديث حينما يسأل عنها وهي غير موجودة في الصحيحين " هو حديث صحيح " فيقول الإمام بن عبد البر، ولماذا لم يذكره في صحيحه إذاً، فهذا إلزام غير لازم، لأن البخاري نفسه قال أنا لم أتعهد أن أذكر كل الأحاديث الصحيحة، فهذا ملحظ مهم جداً، فمظان الأحاديث الصحيحة في الصحيحين لكنها غير حاصرة فتجد أحياناً الصحيح في سنن أبي داود وعند الترمذي وعند الحاكم وعند أحمد وعند بن ماجة وغيرهم، لكن مظانها الأكثر في الصحيحين، فهذا أمر مهم يجب أن ننتبه له.
সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য আমাদের সামনে পাঁচটি শর্ত স্পষ্ট হয়েছে, যেমনটি লেখক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
১) "যা নিরবচ্ছিন্ন (اتصل)" অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال)।
২) "যা বিচ্যুতিমুক্ত (لم يَشُذ)" অর্থাৎ বিচ্যুতির (شذوذ) অনুপস্থিতি।
৩) "যা ত্রুটিমুক্ত (لم يعل)" অর্থাৎ গোপন ত্রুটির (علة) অনুপস্থিতি।
৪) "ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি বর্ণনা করবেন (يرويه عدل)" অর্থাৎ বর্ণনাকারীকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে।
৫) "স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط)" অর্থাৎ বর্ণনাকারীকে স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হতে হবে।
:
… এবং আমরা এগুলোকে এর চেয়েও উত্তম বিন্যাসে সাজাতে পারি, আমরা বলতে পারি:
সহিহ (صحيح) হাদিস হলো: "যার সূত্র (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (اتصال), যা বর্ণিত হয়েছে এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) বর্ণনাকারী দ্বারা যাতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) নেই এবং কোনো ক্ষতিকর গোপন ত্রুটি (علة قادحة) নেই।" আলিমগণের নিকট এটিই সবচেয়ে পরিচিত সংজ্ঞা, তবে পদ্যের ছন্দে অনেক সময় ক্রমানুসারে সাজানো সম্ভব হয় না।
মাসআলা: এই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো কোথায় পাওয়া যায়?
এই বৈশিষ্ট্যগুলো সেই সব হাদিসে পাওয়া যায় যেগুলোকে ইমামগণ সহিহ (صحيح) বলে রায় দিয়েছেন। সুতরাং ইমামগণ যে হাদিসকেই সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, তাতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে এবং সেগুলোর প্রধান উৎসস্থল হলো সহিহাইন।
মাসআলা: সহিহাইন কি সকল সহিহ (صحيح) হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে? কখনোই নয়, এর কারণ দুটি:
১) ইমাম বুখারি —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই গ্রন্থে সমস্ত সহিহ (صحيح) হাদিস উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দেননি।
২) ইমাম বুখারি —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— স্বয়ং বহু হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে সেগুলোকে "সহিহ (صحيح)" বলেছেন, অথচ সেগুলো তাঁর সহিহ গ্রন্থে নেই। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি সুনান তিরমিজি উল্টান, তবে দেখবেন অনেক হাদিস সম্পর্কে ইমাম বুখারিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং তিনি সেগুলোকে "সহিহ (صحيح)" বলেছেন, অথচ সেগুলো সহিহাইনে বিদ্যমান নেই।
সুতরাং ইবনে আবদিল বার —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— ইমাম বুখারির ওপর যে বহু আপত্তি তুলেছেন—মূলত যখন ইমাম বুখারিকে এমন কিছু হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো যা সহিহাইনে নেই এবং তিনি বলতেন "এটি সহিহ (صحيح) হাদিস", তখন ইমাম ইবনে আবদিল বার বলতেন: "তাহলে তিনি কেন এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি?" এটি একটি অপ্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা আরোপ; কারণ ইমাম বুখারি নিজেই বলেছেন যে তিনি সমস্ত সহিহ (صحيح) হাদিস উল্লেখ করার অঙ্গীকার করেননি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সহিহ (صحيহ) হাদিসের প্রধান উৎসস্থল হলো সহিহাইন, তবে তা কেবল এ দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাই আপনি কখনো কখনো সহিহ (صحيح) হাদিস সুনান আবু দাউদ, তিরমিজি, মুস্তাদরাক আল-হাকিম, মুসনাদ আহমদ, সুনান ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যদের কিতাবে পাবেন। তবে এগুলোর অধিকাংশের উৎসস্থল হলো সহিহাইন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مسألة: الصحيحين لم يستوعبا الأحكام الشرعية، ذهب بعض الأفاضل إلى أن الصحيحن استوعبا أصول الأحكام، وهذا غير صالح في نظري، فهناك أشياء كثيرة من الأحكام، وهي من الأصول لم تُذكر في الصحيحين، وأما قول بعض الأئمة كابن رجب أو بن عبد البر ـ رحمهما الله تعالى ـ أوغيرهما، فهي عبارات أغلبية يقولون: فيها معظم أو أكثر، وتجوّز المعاصرون فجعلوها قواعد كليّة.
تنبيه:
علينا أن ننتبه لبعض عبارات الأئمة في بعض أصولهم في إطلاق الصحة، وفي إطلاق أصله، فبعض الأئمة كالإمام البغوي ـ رحمه الله تعالى ـ في المصابيح جعل له أصلا في وصفه للصحة ووصفه للحسن قال " الصحاح كل ما كان في الصحيحين، والحسان كل ما كان في السنن "، فهو أراد أن يجعل له اصطلاحا فقط فهو وما أراد، بدليل أن البغوي في شرح السنة يذكر حديث لأبي داود ويقول هذا حديث صحيح.
مثال لحديث اتصف بالشروط الخمسة للحديث الصحيح: الأحاديث كثيرة، ولكن نأخذ إسناداً كالشمس: قال الإمام أحمد حدثني الشافعي حدثني مالك حدثني نافع حدثني بن عمر. فهذا إسناد ذهبي إمامي مشرق، ولم يأت هذا الإسناد على هذا النسق إلا في أربعة أحاديث جمعها الإمام أحمد ـ رحمه الله تعالى ـ في موضع واحد، وساقها مساق حديث واحد.
فقال: ثنا محمد بن إدريس الشافعي أنا مالك عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لا يبيع بعضكم على بيع بعض ونهى عن النجش ونهى عن بيع حَبَلِ الْحَبَلَة ونهى عن المزابنة. والمزابنة بيع التمر بالثمر كيلا وبيع الكرم بالزبيب كيلاً) .
فنقول عن هذا الإسناد " إسناد صحيح ".
قس على ذلك حديث البخاري حدثنا الحميدي حدثنا سفيان حدثنا محمد بن إبراهيم التيمي عن علقمة بن وقاص عن عمر، فهذ إسناد بهذا الأوصاف التي ذكرت.
মাসআলা: সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) সমস্ত শরয়ী বিধানকে (الأحكام الشرعية) অন্তর্ভুক্ত করেনি। জনৈক গুণী ব্যক্তি মনে করেন যে, সহীহাইন শরয়ী বিধানের মূলনীতিগুলোকে (أصول الأحكام) অন্তর্ভুক্ত করেছে, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি সঠিক নয়। কেননা বিধানের এমন অনেক বিষয় রয়েছে—যা মৌলিক হওয়া সত্ত্বেও—সহীহাইনে উল্লিখিত হয়নি। আর ইবনে রজব বা ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর মতো আইম্মায়ে কেরামের যে বক্তব্য রয়েছে, তা মূলত আধিক্য বা অধিকাংশ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; যেখানে তাঁরা 'অধিকাংশ' বা 'বেশিরভাগ' শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সমসাময়িকগণ একে শিথিলভাবে গ্রহণ করে একটি সর্বজনীন নীতিতে (قواعد كليّة) রূপান্তর করেছেন।
সতর্কবার্তা:
কতিপয় ইমামের মূলনীতিতে সহিহ (الصحة) হওয়ার প্রয়োগ এবং এর মূল প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর প্রতি আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। যেমন ইমাম বাগাভী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থে সহিহ (الصحة) ও হাসান (الحسن) গুণের বর্ণনায় নিজস্ব একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "সহিহ (الصحاح) হলো তা-ই যা সহীহাইনে আছে, আর হাসান (الحسان) হলো তা-ই যা সুনান গ্রন্থসমূহে আছে।" তিনি মূলত কেবল নিজস্ব একটি পরিভাষা (اصطلاحا) তৈরি করতে চেয়েছেন এবং যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন। এর প্রমাণ হলো, ইমাম বাগাভী 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে আবু দাউদের একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।
সহিহ হাদিসের পাঁচটি শর্ত (الشروط الخمسة للحديث الصحيح) পূরণকারী একটি হাদিসের উদাহরণ: এ ধরনের হাদিস অনেক রয়েছে, তবে আমরা সূর্যের মতো উজ্জ্বল একটি সনদ (إسناداً) গ্রহণ করি। ইমাম আহমদ বলেন, শাফেয়ী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মালেক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে’ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। এটি একটি উজ্জ্বল ও ইমামত-সমৃদ্ধ সোনালী সনদ (إسناد ذهبي)। এই বিন্যাসে এই সনদটি কেবল চারটি হাদিসে এসেছে, যা ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) এক স্থানে সংকলন করেছেন এবং সেগুলোকে একটি হাদিস হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস শাফেয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালেক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফে’র সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের কেউ যেন অপরের কেনাবেচার ওপর কেনাবেচা না করে; তিনি দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি (النجش) করা থেকে নিষেধ করেছেন, গর্ভস্থ পশুর ভ্রূণের গর্ভস্থ সন্তান (بيع حَبَلِ الْحَبَلَة) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং মুযাবানাহ (المزابنة) বিক্রি থেকে নিষেধ করেছেন। আর মুযাবানাহ হলো গাছের ওপরের শুকনা খেজুরকে মেপে পাড়া শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা এবং আঙুরকে মেপে কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রি করা)।
সুতরাং আমরা এই সনদ (إسناد) সম্পর্কে বলি: "সহিহ সনদ (إسناد صحيح)"।
একইভাবে বুখারির সেই হাদিসটিকেও তুলনা করুন, যেখানে তিনি বলেছেন: আল-হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমী আলক্বামা ইবনে ওয়াক্কাস থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; এটিও উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একটি সনদ (إسناد)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقول المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ: " معتمد في ضبطه ونقله ": هذا من تكميل البيت وإلا فقد انتهت الأوصاف وهذا كثير جداً تجده في المنظومات يريد أن يبدأ ببيت جديد أوبمسألة جديدة فيحتاج إلى إكمال وأحيانا يذكر مثال ويتممه بمثال آخر.
انتهينا الآن من الحديث الصحيح، وقد ذكر أهل العلم مسائل كثيرة في هذا الباب منها:-
مسألة: ما أصح الأسانيد؟
نقول ليس هناك إسناد نقول عنه إنه أصح الأسانيد، فمن الذي يحكم بأنه أصح الأسانيد.
فلما آتي لمالك عن نافع عن بن عمر رضي الله عنه، ولما آتي للزهري عن سعيد عن أبي هريرة رضي الله عنه، كيف أرجح؟ فكلا رجال هذين الإسنادين أئمة عدول ثقات ضابطون، فالاختيار لأحد الإسنادين تحكّم، لكن أهل العلم اصطلحوا اصطلاحاً أجود من هذا الكلام وهو قولهم " أصح الأسانيد بالنسبة لصحابي ما " فهذا جيد.
فلما آتي لابن عمر رضي الله عنهما فله إسنادان من أفضل الأسانيد:-
1) مالك عن نافع عن بن عمر، هذا من أفضل الأسانيد.
2) الزهري عن سالم مولى بن عمر عن بن عمر، فهذا إسناد لابن عمر كالشمس.
ولما آتي لأبي هريرة رضي الله عنه هناك أسانيد كثيرة:-
1) معمر عن همام بن المنبه عن أبي هريرة، فهذه سلسلة ذهبية روى لها البخاري ومسلم كثيراً.
2) أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة، فهذا أيضا إسناد لأبي هريرة كالشمس.
3) الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة.
ولما آتي لابن مسعود رضي الله عنه أقول مثلاً:-
- منصور عن إبراهيم النخعي عن علقمة عن بن مسعود، هذا إسناد ذهبي.
هذا جيد أن الإنسان يحفظ هذه السلاسل، ولهذا جعل أهل العلم السلاسل معرفة لمن أراد أن يحفظ ويعرف الرجال.
قد يقول قائل: كيف أعرف السلاسل المطوّلة التي تدور عليها الأسانيد، فهناك أسانيد تدور عليها الأحاديث، فإذا حفظها الإنسان سقط عنه ثلاثة أرباع الأسانيد.
লেখক -আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন- এর বক্তব্য: "তার সংরক্ষণ (ضبط) ও বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (معتمد)": এটি মূলত কাব্য পংক্তি পূর্ণ করার জন্য, অন্যথায় গুণাবলি বর্ণনা এখানেই শেষ হয়ে গেছে। কাব্যিক গ্রন্থগুলোতে এমনটি প্রচুর দেখা যায়; লেখক যখন নতুন কোনো পংক্তি বা নতুন কোনো মাসআলা শুরু করতে চান, তখন পূর্বের পংক্তিটি পূর্ণ করার প্রয়োজন হয়, আবার কখনও তিনি একটি উদাহরণ উল্লেখ করেন এবং অন্য একটি উদাহরণের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেন।
আমরা এখন সহিহ (صحيح) হাদিস সংক্রান্ত আলোচনা শেষ করেছি। আলেমগণ এই অধ্যায়ে অনেক মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:-
মাসআলা: সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) কোনটি?
আমরা বলি, এমন কোনো নির্দিষ্ট সনদ (إسناد) নেই যাকে আমরা পরমভাবে 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ' বলতে পারি; কারণ কে এই ফয়সালা করবে যে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ?
আমি যখন মালিক থেকে নাফে' হয়ে ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত সনদ দেখি, আবার যখন জুহরি থেকে সাঈদ হয়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত সনদ দেখি, তখন কীভাবে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেব? এই উভয় সনদের সকল বর্ণনাকারীই ইমাম, ন্যায়পরায়ণ (عدول), নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابطون)। সুতরাং যে কোনো একটি সনদকে পছন্দ করে নেওয়াটা হবে স্বেচ্ছাচারিতা। তবে আলেমগণ এই বিষয়ের চেয়ে উত্তম একটি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, আর তা হলো তাদের এই কথা: "কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد)"—এটিই সঠিক পদ্ধতি।
আমি যখন ইবনে উমর (রা.)-এর ক্ষেত্রে আসব, তখন তাঁর শ্রেষ্ঠ সনদগুলোর মধ্যে দুটি সনদ রয়েছে:-
১) মালিক থেকে নাফে' হয়ে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত; এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সনদ (الأسانيد)।
২) জুহরি থেকে ইবনে উমরের মুক্তদাসা সালিম হয়ে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত; ইবনে উমরের জন্য এটি সূর্যের মতো স্পষ্ট একটি সনদ (إسناد)।
আর যখন আবু হুরায়রা (রা.)-এর ক্ষেত্রে আসব, সেখানে অনেকগুলো সনদ (أسانيد) রয়েছে:-
১) মামার থেকে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ হয়ে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত; এটি একটি স্বর্ণশৃঙ্খল (سلسلة ذهبية), যে সূত্র থেকে সাহিহ বুখারি ও সাহিহ মুসলিম-এ প্রচুর হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
২) আবুয যিনাদ থেকে আল-আ'রাজ হয়ে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত; এটিও আবু হুরায়রার জন্য সূর্যের মতো স্পষ্ট একটি সনদ (إسناد)।
৩) জুহরি থেকে আবু সালামাহ হয়ে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
আর যখন ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ক্ষেত্রে আসব, তখন উদাহরণস্বরূপ বলব:-
- মানসুর থেকে ইব্রাহিম নাখয়ি হয়ে আলকামাহ থেকে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত; এটি একটি স্বর্ণালি সনদ (إسناد ذهبي)।
মানুষের জন্য এই শৃঙ্খলগুলো (السلاسل) মুখস্থ রাখা উত্তম, আর একারণেই আলেমগণ বর্ণনাকারী বা রিজাল (الرجال) সম্পর্কে জানতে ও মুখস্থ রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এই শৃঙ্খলগুলোর (السلاسل) পরিচিতি প্রদান করেছেন।
কেউ বলতে পারেন: আমি এই দীর্ঘ শৃঙ্খলগুলো (السلاسل) কীভাবে জানব যেগুলোর ওপর সনদগুলো (الأسانيد) আবর্তিত হয়? কেননা এমন কিছু সনদ (أسانيد) আছে যেগুলোর ওপর হাদিসগুলো আবর্তিত হয়; যদি কেউ সেগুলো মুখস্থ করে নেয়, তবে তার জন্য সনদসমূহের তিন-চতুর্থাংশ জানার কাজ সহজ হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كيف أعرف مظان هذه الأسانيد؟ أفضل ما أرى في معرفة هذه السلاسل هو أن يعتمد الإنسان على كتاب المزي ـ رحمه الله تعالى ـ في " تحفة الأشراف " في أطراف الكتب الستة أطراف المسانيد.
فالمزي ـ رحمه الله تعالى ـ يرتّب الأسانيد حسب الترتيب الهجائي، فإذا جاء لأحد الصحابة كأبي هريرة رضي الله عنه، جعل له ترتيباً جديداً هجائياً، فمثلاً لما يأتي إلى سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه، تجد أن سعيداً مكثراً من الرواية عن أبي هريرة رضي الله عنه، فيقوم بترتيب الرواة عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه، فيبدأ ببكير بن عبد الله الأشج وهكذا هجائياً، فإذا وصل إلى محمد بن شهاب الزهري، وجد أنه مكثراً من الرواية عن سعيد بن المسيب، فيرتب الرواة عن الزهري ترتيباً هجائياً، فيبدأ بإبراهيم بن سعد وهكذا هجائياً مرةً أخرى.
إذاً أصبح عندي سلسلة وهي: عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه.
(الحديث الحسن) قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:
والحسن المعروف طرقا وغدت
… رجاله لا كالصحيح اشتهرت
انتقل المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ إلى القسم الثاني وهو (الحديث الحسن) .
طرقا: ضبطت بإسكان الراء " طرْقا "، وهو ضرورة شعرية وليست أصل لغوي صرفي لأن طرْقا ليست من الطريق وإنما طرُق جمع طريق، وإن كان العرب أجازوا تسكين الحرف للتخفيف، وعلى هذا نزل القرآن في قراءة أبي عمرو البصري، في مثل: {يُشْعرْكم} ، {يأمرْكم} ، {تأمرْهم} ، بإسكان الراء.
قوله " المعروف ": هل هي نعت للحسن أو هي نعت سبق منعوته؟
الجواب هناك توجيهان لهذا:
আমি এই সনদগুলোর (الأسانيد) উৎসস্থল কীভাবে জানব? এই সিলসিলাগুলো (السلاسل) চেনার বিষয়ে আমার দৃষ্টিতে সর্বোত্তম হলো মানুষ যেন ইমাম মিযযি (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'তুহফাতুল আশরাফ'—যা কুতুবে সিত্তা ও মুসনাদসমূহের আতরাফের (أطراف) সংকলন—তার ওপর নির্ভর করে।
ইমাম মিযযি (রহিমাহুল্লাহ) সনদগুলোকে (الأسانيد) বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। যখন তিনি কোনো সাহাবীর (الصحابة) যেমন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর প্রসঙ্গে আসেন, তখন তিনি তার জন্য একটি নতুন বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস নির্ধারণ করেন। উদাহরণস্বরূপ, যখন তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের বর্ণনার কাছে আসেন, আপনি দেখতে পাবেন যে সাঈদ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনেক বেশি বর্ণনা করেছেন। তখন তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজান, যেমন বুকায়র ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আশাজ্জ থেকে শুরু করেন এবং এভাবে বর্ণানুক্রমিকভাবে চলেন। যখন তিনি মুহাম্মাদ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি পর্যন্ত পৌঁছান এবং দেখেন যে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে অনেক বেশি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি জুহরি থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) পুনরায় বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজান, যেমন ইবরাহীম ইবনে সা'দ থেকে শুরু করেন এবং পুনরায় বর্ণানুক্রমিকভাবে এগোতে থাকেন।
সুতরাং আমার কাছে একটি সিলসিলা (سلسلة) তৈরি হলো আর তা হলো: জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
(হাসান (الحسن) হাদিস) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
আর হাসান (الحسن) তা-ই যা স্বীয় সূত্রের (طرقا) কারণে পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীরা সহিহ (الصحيح) হাদিসের ন্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) দ্বিতীয় প্রকারের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, আর তা হলো হাসান (الحسن) হাদিস।
'তুরকান' (طرقا): এখানে 'রা' বর্ণটি সুকুন দিয়ে অর্থাৎ 'ত্বরকান' (طرْقا) হিসেবে পড়া হয়েছে। এটি কাব্যের ছন্দ রক্ষার প্রয়োজনে (ضرورة شعرية) করা হয়েছে, শাব্দিক বা রূপতাত্ত্বিক মূল কারণ নয়। কেননা 'ত্বরকান' (طرْقا) শব্দটি 'ত্বরীক' (طريق) থেকে আসেনি, বরং 'ত্বরীক'-এর বহুবচন হলো 'তুরুক' (طرُق)। যদিও আরবরা উচ্চারণের সহজতার জন্য বর্ণে সুকুন ব্যবহার করাকে বৈধ মনে করেন, এবং এই নিয়মেই ইমাম আবু আমর আল-বসরি এর কিরাতে কুরআনের {ইউশইরকম}, {ইয়ামুরকুম}, {তামুরহুম} শব্দগুলোতে 'রা' বর্ণকে সুকুন দিয়ে তিলাওয়াত করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য "আল-মা’রুফ": এটি কি হাসান (الحسن)-এর জন্য বিশেষণ (نعت) নাকি এটি এমন বিশেষণ (نعت) যা তার বিশেষ্যের (منعوته) আগে এসেছে?
উত্তর: এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التوجيه الأول: أنه نعت للحسن، لأنه يحتمل أن يقول المؤلف " الحسن المعروف " احترازا من حديث غير معروف، فقد يأتيك إسناد حسن لكن أصله غير معروف، فهذا لا يدخل في الحسن على رأي المؤلف، وهذا قال به بعض أهل العلم، قال لا بد أن يكون المتن معروفا.
التوجيه الثاني: أنه نعت سبق منعوته، وهو نعت للطرق أي الطرق المعروفة
فالحسن: ما عرفت طرقه ـ عرف باتصاله ـ وهذا أوجه من حيث نظر المؤلف.
والحديث " الحسن " نوع من أنواع الحديث المقبول، وقد اختلف أهل العلم في تعريفه اختلافاً طويلاً، نأخذ بعض التعاريف حتى نبيّن صعوبة الحدّ عند أهل العلم.
التعريف الأول:
المؤلف يقول " الحسن المعروف طرقا وغدت رجاله لا كالصحيح اشتهرت ".
إذاً المؤلف عرّف الحديث الحسن بأنه " ما عرف طريقه واشتهر رجاله "، فكل حديث عرف
مخرجه فهو حسن، فهذا الراوي يروي عن هذا الراوي، إذاً هو يومئ إلى الاتصال.
إذاً نقول: الحسن هو: ما عرف طريقه ـ أي عرف مخرجه ـ كيف عرف مخرجه، عرفنا أن هذا الشخص يروي عن هذا الراوي إذاً هذا هو شرط الاتصال.
قال المؤلف ـ رحمه الله تعالى ـ:-
............................ وغدت
… رجاله لا كالصحيح اشتهرت
أي أن رجال هذا الإسناد مشتهرين لكن لا كالصحيح، فرجاله ليسوا بتامّي الضبط.
فالمؤلف ذكر شرطين للحسن:
1) أن يكون متصل الإسناد،أخذنا هذا الشرط من قوله " والحسن المعروف طرقا ".
2) أن يكون رجال الإسناد خفيفي الضبط، أخذنا هذا الشرط من قوله " وغدت رجاله لا كالصحيح "، وهذا هو تعريف الإمام الخطابي ـ رحمه الله تعالى ـ، واختاره البيقوني ـ رحمه الله تعالى ـ.
يعترض على هذا التعريف: أنه لم يذكر الشذوذ ولا العلة.
التعريف الثاني:
প্রথম বিশ্লেষণ (التوجيه): এটি হাসান (حسن) এর বিশেষণ, কারণ হতে পারে লেখক "হাসান পরিচিত (المعروف)" বলেছেন অপরিচিত হাদিস থেকে সতর্ক থাকার জন্য। আপনার কাছে একটি হাসান (حسن) সনদ (إسناد) আসতে পারে কিন্তু তার মূল উৎস অপরিচিত। লেখকের মতে এটি হাসান (حسن) এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কোনো কোনো আলেম এটি বলেছেন; তিনি বলেছেন যে মতন (متن) অবশ্যই পরিচিত (معروف) হতে হবে।
দ্বিতীয় বিশ্লেষণ (التوجيه): এটি এমন একটি বিশেষণ যা বিশেষ্যের পূর্বে এসেছে, আর এটি হলো সূত্রগুলোর (طرق) বিশেষণ অর্থাৎ পরিচিত সূত্রসমূহ (الطرق المعروفة)।
সুতরাং হাসান (حسن) হলো: যার সূত্রসমূহ জানা যায়—তার নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) মাধ্যমে জানা যায়—আর লেখকের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটিই অধিকতর সঠিক।
আর হাসান (حسن) হাদিস হলো গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের একটি প্রকার। আলেমগণ এর সংজ্ঞায় দীর্ঘ মতভেদ করেছেন। আমরা কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করছি যাতে আলেমদের নিকট এর সংজ্ঞা (حد) নির্ধারণের কাঠিন্য স্পষ্ট হয়।
প্রথম সংজ্ঞা:
লেখক বলেন "হাসান (حسن) হলো যার সূত্রসমূহ পরিচিত এবং যার রাবিগণ (رجال) সহিহ (صحيح) এর মতো প্রসিদ্ধ নন।"
সুতরাং লেখক হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, "যার সূত্র পরিচিত এবং যার রাবিগণ (رجال) প্রসিদ্ধ", অতএব প্রতিটি হাদিস যার উৎস (مخرج) জানা যায় তা-ই হাসান (حسن)। এই রাবি (راوي) ওই রাবি (راوي) থেকে বর্ণনা করছেন, সুতরাং এটি নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) দিকেই ইঙ্গিত করে।
সুতরাং আমরা বলি: হাসান (حسن) হলো: যার সূত্র বা পথ জানা যায়—অর্থাৎ যার উৎস (مخرج) জানা যায়—উৎস কীভাবে জানা যায়? আমরা জানতে পারি যে এই ব্যক্তি ওই রাবি (راوي) থেকে বর্ণনা করছেন, সুতরাং এটিই হলো নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) শর্ত।
লেখক—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—বলেছেন:-
............................ এবং তার
… রাবিগণ (رجال) সহিহ (صحيح) এর মতো প্রসিদ্ধ নন।
অর্থাৎ এই সনদের (إسناد) রাবিগণ প্রসিদ্ধ কিন্তু সহিহ (صحيح) এর মতো নয়, কারণ এর রাবিগণ পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (تامي الضبط) অধিকারী নন।
সুতরাং লেখক হাসান (حسن) এর জন্য দুটি শর্ত উল্লেখ করেছেন:
১) সনদটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হওয়া; আমরা এই শর্তটি তাঁর "হাসান (حسن) যার সূত্রগুলো পরিচিত" কথাটি থেকে গ্রহণ করেছি।
২) সনদের রাবিগণ (رجال) স্বল্প স্মৃতিশক্তির (خفيفي الضبط) অধিকারী হওয়া; আমরা এই শর্তটি তাঁর "এবং তার রাবিগণ সহিহ (صحيح) এর মতো নন" কথাটি থেকে গ্রহণ করেছি। আর এটিই হলো ইমাম খাত্তাবি—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—এর সংজ্ঞা, এবং বাইকুনি—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—এটিই পছন্দ করেছেন।
এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি করা হয় যে: এতে শায (شذوذ) বা ইল্লত (علة) এর কথা উল্লেখ করা হয়নি।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحسن: هو " ما اتصل إسناده ورواه عدل خفيف الضبط ـ في محل القبول ـ عن مثله من غير شذوذ ولا علة "، فتلاحظ على هذا التعريف أنه كتعريف الصحيح إلا في الضبط، وهذا اختيار الحافظ بن حجر ـ رحمه الله تعالى ـ كما في النخبة.
التعريف الثالث:
الحسن: " كل حديث يروى لا يكون في إسناده من يتّهم بالكذب، ولا يكون الحديث شاذًّا، ويروى من غير وجه نحو ذلك " أو إن شئت قل: " ما رواه راوٍ ليس بمتهم بالكذب وتعددت طرقه من غير شذوذ "، وهذا تعريف الإمام الترمذي ـ رحمه الله تعالى ـ.
يعترض على هذا التعريف بما يلي:
1) ترك العلة.
2) لم يذكر الاتصال.
3) نزل بنا إلى الكذاب فقط، فالمتروك سيدخل في الحسن إذاً، والراوي المخطئ كثيراً سيدخل في الحسن.
التعريف الرابع:
الحسن: " ما فيه ضُعفٌ قريب محتمل "، وهذا تعريف ابن الجوزي ـ رحمه الله تعالى ـ.
التعريف الخامس:
جاء ابن الصلاح ـ رحمه الله تعالى ـ وقسم الحسن إلى قسمين، ولكل قسم تعريف:
القسم الأول:
الحسن لذاته " هو ما رواه العدل خفيف الضبط مع اتصال السند "، ولكن ترك الشذوذ والعلة القادحة.
القسم الثاني:
الحسن لغيره " هو ما رواه الضعيف إذا كثرت مخارج أسانيده، وتعددت طرق حديثه "، فإذا جاء إسناد فيه راوٍ ضعيف، وإسناد ثاني فيه راوٍ ضعيف، وإسناد ثالث فيه راوٍ ضعيف، وإسناد رابع فيه راوٍ ضعيف، فكلهم الآن ضعاف، وتعددت مخارجه وكثرت أسانيده، فيقول ابن الصلاح هذا حديث حسن، ولكن ها التعريف غير جيد.
হাসান (حسن): এটি হলো "যার সূত্র নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং যাকে এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার স্মৃতিশক্তি কিঞ্চিৎ দুর্বল (خفيف الضبط) — যা গ্রহণের পর্যায়ে পড়ে — তিনি তার অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, কোনো প্রকার শায (شذوذ) বা গোপন ত্রুটি (علة) ছাড়াই।" আপনি লক্ষ্য করবেন যে, এই সংজ্ঞাটি সহিহ (صحيح)-এর সংজ্ঞার মতোই, কেবল স্মৃতিশক্তির (ضبط) ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। আর এটিই হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর মনোনীত মত, যেমনটি নুখবাতুল ফিকার গ্রন্থে রয়েছে।
তৃতীয় সংজ্ঞা:
হাসান (حسن): "এমন প্রতিটি হাদিস যা বর্ণিত হয় এবং যার সনদে (إسناد) এমন কেউ নেই যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب), এবং হাদিসটি শায (شاذ) নয়, আর এটি অনুরূপ একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়।" অথবা আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: "যাকে এমন কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যিনি মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) নন এবং কোনো প্রকার শায (شذوذ) ছাড়াই যার একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে।" এটি ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞা।
এই সংজ্ঞার ওপর নিম্নোক্ত আপত্তিগুলো করা হয়:
১) এতে গোপন ত্রুটি (علة) উল্লেখ করা বর্জন করা হয়েছে।
২) এতে নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) কথা উল্লেখ করা হয়নি।
৩) এটি আমাদের কেবল মিথ্যাবাদী (كذاب) পর্যন্ত নামিয়ে এনেছে; ফলে পরিত্যক্ত (متروك) বর্ণনাকারীও হাসানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, আর যে বর্ণনাকারী অত্যধিক ভুল করেন তিনিও হাসানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বেন।
চতুর্থ সংজ্ঞা:
হাসান (حسن): "যার মধ্যে এমন নিকটবর্তী দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে যা সহনীয়।" এটি ইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞা।
পঞ্চম সংজ্ঞা:
ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) হাসান (حسن)-কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি ভাগের সংজ্ঞা দিয়েছেন:
প্রথম ভাগ:
হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته): "যাকে কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার স্মৃতিশক্তি কিঞ্চিৎ দুর্বল (خفيف الضبط), এবং যার সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) রয়েছে," তবে এখানে শায (شذوذ) ও ক্ষতিকারক গোপন ত্রুটি (علة) উল্লেখ করা বাদ পড়েছে।
দ্বিতীয় ভাগ:
হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره): "যাকে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যখন তার সনদের উৎসসমূহ অধিক হয় এবং হাদিসটির বর্ণনার পথ বা সূত্র (طرق) একাধিক হয়।" সুতরাং যদি এমন একটি সনদ (إسناد) আসে যাতে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী আছেন, দ্বিতীয় আরেকটি সনদ যাতে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী আছেন, তৃতীয় একটি সনদ যাতে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী আছেন এবং চতুর্থ একটি সনদ যাতে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী আছেন—ফলে তারা সবাই এখন দুর্বল (ضعاف)—এবং এর উৎসসমূহ ও সনদসমূহ (أسانيد) একাধিক হয়, তখন ইবনুস সালাহ একে হাসান (حسن) হাদিস বলেন। তবে এই সংজ্ঞাটি যথাযথ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إذاً كيف نحد الحديث الحسن، قال الإمام الذهبي ـ رحمه الله تعالى ـ والذهبي اسما ومعنى ـ قال " وفي تحرير معنى الحديث الحسن اضطراب، ولا تطمع بأن للحسن قاعدة تندرج كل الأحاديث الحسان فيها، فأنا على إياس من ذلك "، هذا ما يقوله أنا ولا أنت هذا يقوله الإمام الذهبي، وليس كلام الذهبي هذا معناه إغلاقٌ لباب الاجتهاد فيه، ولكن معناه أنه ليس هناك قاعدة أحكم من خلالها أن الحديث حسن، فقد آتي لحديث فيه من الأئمة الثقات لكن أجد المتن ليس معتضداً تمام الاعتضاد فأحكم عليه بأنه حسن.
فكلام الذهبي ـ رحمه الله تعالى ـ صحيح هو وأنا على إياس، لكن كوننا مبتدئين سنعتمد تعريف الحافظ بن حجر رحمه الله، وإلا فكلام الذهبي صحيح بدليل أني أجد عند مسلم أسانيد تنطبق عليها الحديث الحسن، ومع ذلك فهو يصححه، فقد روى لأناس خفيفي الضبط، ولكن نقول ليس هذا هو الحديث الحسن، فالحكم على الحديث الصحيح لنا فيه عدة أوصاف:-
1) متنه.
2) شهرته.
3) الأصل الذي هو فيه هل هو مشتهر وهل هو مقبول عند أهل العلم، ولذلك بعض أهل العلم زاد شرطاً سادسا للحديث الصحيح وهو " قبوله عند أهل العلم ".
مسألة: حجية الحديث الحسن.
الحديث الحسن لذاته على تعريف المؤلف وابن حجر ـ رحمهما الله تعالى ـ لا إشكال في حجيته عند أهل الشان.
قال الحافظ العراقي ـ رحمه الله تعالى ـ:
والفقهاء كلهم يستعمله
… والعلماء الجلّ منهم يقبله
وهناك من أهل العلم المعاصرين من ينازع في هذا الكلام، وهذا غلط فكل حديث حسن جرى عليه تعريف ابن حجر ـ رحمه الله تعالى ـ فهو حجة واحتج به الأئمة، فمن نازع فقد نقض الإجماع وخالف الأئمة.
مسألة: هل ورد في البخاري أحاديث من قبيل الحديث الحسن؟
أولاً: اختلف أهل العلم في أحاديث الصحيحين في صحتها:
القول الأول: أنها مجمع على صحتها إجماعاً قطعياً، ورجح هذا الحافظ بن كثير ـ رحمه الله تعالى ـ.
তাহলে আমরা হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞা কীভাবে নিরূপণ করব? ইমাম যাহাবি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) —যিনি নাম ও গুণের বিচারে ‘যাহাবি’ (স্বর্ণালি)— বলেছেন, “হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞার বিশ্লেষণে অস্থিরতা (اضطراب) বিদ্যমান। হাসান (حسن) হাদিসের জন্য এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম পাওয়ার আশা কোরো না যার অধীনে হাসান (حسن) পর্যায়ের সকল হাদিস অন্তর্ভুক্ত হবে, কেননা এ ব্যাপারে আমি নিরাশ (إياس)।” এই কথা আমি বা আপনি বলছি না, বরং ইমাম যাহাবি বলছেন। যাহাবির এই কথার অর্থ এই নয় যে, এ বিষয়ে গবেষণার বা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে; বরং এর অর্থ হলো, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই যার মাধ্যমে আমি কোনো হাদিস হাসান (حسن) হওয়ার চূড়ান্ত ফয়সালা দেব। এমন হতে পারে যে, আমি একটি হাদিস পেলাম যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ইমামগণ, কিন্তু আমি দেখলাম যে এর মূলপাঠ বা মতন (متن) পুরোপুরি সমর্থিত নয়, তখন আমি সেটিকে হাসান (حسن) হিসেবে হুকুম প্রদান করি।
সুতরাং ইমাম যাহাবি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কথা সঠিক যে, তিনিও নিরাশ এবং আমিও। কিন্তু যেহেতু আমরা শিক্ষানবিশ, তাই আমরা হাফেজ ইবনে হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করব। অন্যথায় যাহাবির কথাটি সঠিক, যার প্রমাণ হলো আমি সহিহ মুসলিমে এমন কিছু সনদ (أسانيد) পাই যেগুলোর ওপর হাসান (حسن) হাদিসের বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য হয়, তা সত্ত্বেও তিনি সেটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করেন। তিনি এমন কিছু বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাদের স্মৃতিশক্তি বা হেফজ কিছুটা দুর্বল (خفيف الضبط)। তবে আমরা বলব যে, এটি কেবল হাসান (حسن) হাদিস নয়, বরং কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে আরও কিছু মানদণ্ড রয়েছে:-
১) এর মতন (متن) বা মূলপাঠ।
২) এর প্রসিদ্ধি (شهرة)।
৩) এর উৎস; সেটি কি প্রসিদ্ধ এবং এটি কি আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য? এই কারণেই কিছু আলেম সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য ষষ্ঠ একটি শর্ত যুক্ত করেছেন, আর তা হলো “আলেমদের নিকট এর গ্রহণযোগ্যতা (قبوله عند أهل العلم)”।
মাসআলা: হাসান (حسن) হাদিসের প্রামাণিকতা (حجية)।
লেখক এবং ইবনে হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته) হাদিসটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংশয় নেই।
হাফেজ ইরাকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
এবং ফকিহ (فقهاء) গণ সকলেই এটি ব্যবহার করেন
… এবং অধিকাংশ আলেম এটি গ্রহণ করেন।
সমকালীন আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ এই কথার বিরোধিতা করেন, তবে এটি ভুল। কারণ ইবনে হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী যে হাদিসই হাসান (حسن) প্রমাণিত হয়, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য এবং ইমামগণ এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে মূলত ঐক্যমত্য (إجماع) ভঙ্গ করল এবং ইমামদের বিরুদ্ধাচরণ করল।
মাসআলা: সহিহ বুখারিতে কি হাসান (حسن) পর্যায়ের হাদিস বর্ণিত হয়েছে?
প্রথমত: সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)-এর হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন:
প্রথম মত: এগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর অকাট্য ঐক্যমত্য (إجماع قطعي) রয়েছে। হাফেজ ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মতটিকেই প্রধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
القول الثاني: أنها مجمع على صحتها إجماعاً ظنياً.
القول الثالث: أنها تشتمل على الأحاديث الصحيحة والضعيفة.
القول الرابع: أنها كلها صحيحة وفيها ألفاظ ضعيفة.
الصحيح من كلام أهل العلم أن أحاديث البخاري ومسلم كلها صحيحة إلا ما استثني من الأئمة، فلا يمكن أن يأتينا شخص في هذا القرن ويقول بحثت إسناداً في البخاري فوجدته ضعيفا، قد يقول إن لفظة فيه ضعيفة أردّها في هذا الحديث فهذا يقبل وإن كان على قِلّه، لكن أن يردّ أصل الحديث هذا لا يمكن في هذا الزمان، فإذا وجد حديث حكم عليه الدارقطني أو مسلم أو الإمام أحمد ـ رحمهم الله تعالى ـ بالضعف نرى هل كلامه صحيح أو لا، لأن الآن تعارض كلام الإمام أحمد والبخاري مثلاً، فنجري القواعد ونرى من الذي كلامه صحيحاً، فليس كلام أحمد مقبول على إطلاقه، وليس كلام البخاري مقبول على إطلاقه مادام أنهما اختلفا، يبقى عندنا ما لم يضعفوه وسكت عنه الأئمة كلهم والأئمة يتناقلونه في صحيح البخاري ويقبلونه ثم يأتي شخص في هذا القرن ويضعف، هذا لا يمكن والمشكل أنه يضعف بشبهة تدليس أو أن أحد الأئمة قال فيه كذا.
مسالة: الحسن عند المتقدمين.
بعض الناس يظن أن الحافظ الترمذي هو أول من أطلق الحسن في أحكامه، وهذا غلط فهذا قد تداخلت عنده المعلومات، الترمذي هو أول من حدّ الحسن بحدّ، ففرق بين أول من استخدم المصطلح وبين أول من حدّ المصطلح، فلم يعرّف أحد قبل الإمام الترمذي " الحسن "، لكن الإمام البخاري والإمام أحمد والإمام أبو حاتم الرازي ـ رجمهم الله تعالى ـ هؤلاء كلهم استخدموا " الحسن " فحكموا على أحاديث بأنها حسان، لكنهم لم يحدّوها.
إذاً الأولية للترمذي بالتعريف والحدّ، فقد عرفه ـ رحمه الله تعالى ـ في آخر كتابه " الجامع الصغير" بالتعريف الذي سبق ذكره.
দ্বিতীয় মত: এটি সহিহ (صحيحة) হওয়ার ব্যাপারে একটি ধারণাপ্রসূত ঐক্যমত (إجماع ظني) রয়েছে।
তৃতীয় মত: এটি সহিহ (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف) উভয় প্রকারের হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে।
চতুর্থ মত: এর সবগুলোই সহিহ (صحيح), তবে এতে কিছু দুর্বল শব্দ (ألفاظ ضعيفة) রয়েছে।
আলেমগণের বক্তব্যের মধ্যে সঠিক হলো এই যে, বুখারি ও মুসলিমের সকল হাদিসই সহিহ (صحيح), তবে ইমামগণ যেগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন সেগুলো ব্যতীত। সুতরাং এই যুগে এসে কোনো ব্যক্তির পক্ষে এটি বলা সম্ভব নয় যে, আমি বুখারির একটি সনদ (إسناد) নিয়ে গবেষণা করেছি এবং সেটিকে দুর্বল (ضعيف) পেয়েছি। তিনি হয়তো বলতে পারেন যে, এর একটি শব্দ দুর্বল (ضعيفة), যা আমি এই হাদিসের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করছি; তবে এটি বিরল হলেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু হাদিসের মূল ভিত্তিকেই প্রত্যাখ্যান করা—এটি বর্তমান যুগে সম্ভব নয়। অতএব, যদি এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় যা সম্পর্কে দারাকুতনি, মুসলিম অথবা ইমাম আহমাদ (রহিমাহুমুল্লাহু তাআলা) দুর্বলতার (ضعف) হুকুম দিয়েছেন, তবে আমরা দেখব তাঁদের বক্তব্য সঠিক কি না। কারণ, এখন উদাহরণস্বরূপ ইমাম আহমাদ ও বুখারির বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে; এমতাবস্থায় আমরা মূলনীতিসমূহ প্রয়োগ করব এবং দেখব কার কথাটি সঠিক। সুতরাং ইমাম আহমাদের কথা যেমন ঢালাওভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি ইমাম বুখারির কথাও ঢালাওভাবে গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁরা উভয়ে কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। এখন আমাদের কাছে যা অবশিষ্ট থাকে, তা হলো এমন হাদিস যেগুলোকে তাঁরা দুর্বল বলেননি এবং যেগুলোর ব্যাপারে সকল ইমাম নীরব থেকেছেন এবং ইমামগণ বুখারি থেকে সেগুলো বর্ণনা করেছেন ও গ্রহণ করেছেন। এরপর এই শতাব্দীতে এসে কোনো ব্যক্তি যদি সেগুলোকে দুর্বল (يضعف) বলে, তবে তা সম্ভব নয়। সমস্যা হলো, সে হয়তো এটি দুর্বল (يضعف) বলছে তাদলিসের (تدليس) সন্দেহে অথবা কোনো ইমাম এই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে এমনটি বলেছেন—এই অজুহাতে।
মাসআলা: পূর্বসূরিদের (متقدمين) নিকট হাসান (حسن)।
কিছু মানুষ মনে করে যে, হাফেজ তিরমিযিই সর্বপ্রথম তাঁর বিচার-বিশ্লেষণে হাসান (حسن) শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। এটি ভুল ধারণা; মূলত তথ্যগত সংমিশ্রণের কারণে এমনটি হয়েছে। তিরমিযি হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞা (حد) প্রদান করেছেন। সুতরাং পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করা এবং পরিভাষাটির প্রথম সংজ্ঞা (حد) প্রদান করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইমাম তিরমিযির আগে কেউ হাসানের (الحسن) সংজ্ঞা দেননি; তবে ইমাম বুখারি, ইমাম আহমাদ এবং ইমাম আবু হাতিম আল-রাজি (রহিমাহুমুল্লাহু তাআলা)—তাঁরা সবাই হাসান (الحسن) শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং বিভিন্ন হাদিসকে হাসান (حسان) হিসেবে হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা সেটির কোনো সংজ্ঞা (يحدوها) প্রদান করেননি।
অতএব, সংজ্ঞা এবং সীমা (الحد) নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিরমিযিই প্রথম। তিনি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর কিতাব ‘জামে আস-সগির’-এর শেষে পূর্বে উল্লিখিত সংজ্ঞার মাধ্যমে এর পরিচয় প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عندئذ اختلف الشراح وأهل المصطلح بتفسير كلام الأئمة ـ أي الذين استخدموا الحسن ـ وإذا قلنا اختلفوا فإننا نعني بذلك أننا لابد أن نعرف ما هو مقصودهم، ولن نرجح الآن نقول إن استخدام فلان هو الصحيح واستخدام فلان هو الغلط، لكن نريد أن نعرف مقصودهم، فلن نحاكمهم على مصطلحاتهم فبعض الناس يأتي ويقول والراجح أن الحسن عند المتقدمين هو كذا، وهذا لا يحق له، لأن البخاري استخدمه في معنى،ولإمام أحمد استخدمه في معنى آخر.
فلو جئنا بكلمة تكلم بها العرب فوجدنا عربياً تكلم بها بهذا المعنى وعربي تكلم بها بهذا المعنى، فليس لي أن أقول الراجح معناها كذا.
مسألة: معاني الحسن عند الأئمة:
استخدم الأئمة الحسن بعدة معانٍ:-
المعنى الأول:
أن " الحسن " بمعنى الحُسْن الذي نحن فيه، بأنه حجة وصحيح، كالإمام الترمذي مثلاً أو الإمام أبو حاتم أو الإمام البخاري ـ رحمهم الله تعالى ـفإنهم استخدموا " الحَسَن " بمعنى الحُسْن، فهو حجة.
المعنى الثاني:
أن "الحسن" بمعنى الغرائب، فليست صحيحة وإنما هي غريبة، ولهذا قيل للإمام شعبة ـ رحمه الله تعالى ـ مالك لا تروي عن عبد الملك بن أبي سليمان العَرْزَمي ـ في طبقة الإمام شعبة ـ فهو حسن الحديث؟ فقال شعبة ـ رحمه الله تعالى ـ: " من حسنها فررت ".
إذاً ما معنى " الحسن" عند شعبة الآن معناه " الغريب" فكيف يتفرد العَرْزَمي بهذه الأصول التي لا يرويها إلا هو وليس في طبقة الحفاظ الكبار.
ومثله ما قاله الإمام أبو حاتم الرازي ـ رحمه الله تعالى ـ في " العلل "، عندما سئل عن حديث فقال: إسناده حسن. فقلت: يحتجّ به؟ فقال: لا.
فالحسن عند الإمام أبو حاتم في هذا الحديث ـ رحمه الله تعالى ـ بمعنى " الغريب ".
وكذلك قوله ـ رحمه الله تعالى ـ في ترجمة عبد العزيز بن عبيد الله بن حمزة: " هو عندي عجيب ضغيف منكر الحديث، ينكر حديثه، ويروي أحاديث مناكير، ويروي أحاديث حساناً ".
एमতাবস্থায় ব্যাখ্যাকারগণ এবং হাদিস পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ (أهل المصطلح) ইমামগণের—অর্থাৎ যারা 'হাসান' (حسن) শব্দ ব্যবহার করেছেন তাদের—বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। আর যখন আমরা বলি যে তারা মতভেদ করেছেন, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো এটি জানা যে তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল। আমরা এখন এটি প্রাধান্য দেব না যে, অমুকের ব্যবহার সঠিক (صحيح) এবং অমুকের ব্যবহার ভুল; বরং আমরা তাদের উদ্দেশ্য জানতে চাই। আমরা তাদের পরিভাষার ওপর ভিত্তি করে তাদের বিচার করব না। কারণ কিছু মানুষ এসে বলে থাকে যে, মুতাকাদ্দিমীন বা পূর্ববর্তী ইমামগণের (متقدمين) নিকট 'হাসান' (حسن) এর প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) অর্থ হলো এমন। আর এটি বলার অধিকার কারো নেই, কারণ ইমাম বুখারি এটি এক অর্থে ব্যবহার করেছেন এবং ইমাম আহমাদ এটি অন্য অর্থে ব্যবহার করেছেন।
যদি আমরা এমন একটি শব্দ পাই যা আরবরা ব্যবহার করত এবং দেখি যে একজন আরব তা এক অর্থে ব্যবহার করেছেন এবং অন্য একজন আরব তা অন্য অর্থে ব্যবহার করেছেন, তবে আমার জন্য এটি বলা সংগত নয় যে এর প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) অর্থ হলো অমুক।
মাসআলা: ইমামগণের নিকট 'হাসান' (حسن) এর অর্থসমূহ:
ইমামগণ 'হাসান' (حسن) শব্দটিকে কয়েকটি অর্থে ব্যবহার করেছেন:-
প্রথম অর্থ:
এটি যে 'হাসান' (حسن) শব্দটি সেই ভালো বা গ্রহণযোগ্যতা অর্থে ব্যবহৃত হওয়া যার ওপর আমরা বর্তমান রয়েছি; অর্থাৎ এটি দলিল (حجة) এবং সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য। যেমন ইমাম তিরমিজি, ইমাম আবু হাতিম অথবা ইমাম বুখারি—রাহিমাহুমুল্লাহ—তারা 'হাসান' (حسن) শব্দটিকে গ্রহণযোগ্যতা অর্থে ব্যবহার করেছেন, যা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
দ্বিতীয় অর্থ:
এটি যে 'হাসান' (حسن) শব্দটি গারাইব বা অদ্ভুত (غرائب) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। অর্থাৎ তা সহিহ (صحيহ) নয় বরং তা অদ্ভুত বা একক বর্ণনা (غريبة)। এইজন্যই ইমাম শুবা—রাহিমাহুল্লাহ—কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আপনার কী হলো যে আপনি আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান আল-আরযামি থেকে বর্ণনা করেন না—যিনি ইমাম শুবার সমসাময়িক স্তরের ছিলেন—তিনি তো 'হাসানুল হাদিস' (حسن الحديث)? তখন ইমাম শুবা—রাহিমাহুল্লাহ—বললেন: "তার হাদিসের এই হাসান (উত্তম) হওয়ার কারণেই আমি তা থেকে পলায়ন করেছি (উপেক্ষা করেছি)।"
সুতরাং এখানে ইমাম শুবার নিকট 'হাসান' (حسن) এর অর্থ কী? এর অর্থ হলো 'গারিব' বা অদ্ভুত (غريب)। আল-আরযামি কীভাবে এমন সব মূলনীতি নিয়ে এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করতে পারেন যা তিনি ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেন না, অথচ তিনি বড় হাফেজদের (حفاظ) স্তরের অন্তর্ভুক্ত নন?
এর অনুরূপ হলো যা ইমাম আবু হাতিম আল-রাজি—রাহিমাহুল্লাহ—'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন। যখন তাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: "এর সনদ (إسناده) হাসান (حسن)"। আমি জিজ্ঞেস করলাম: "এটি কি দলিল হিসেবে পেশ করা যায় (يحتج به)?" তিনি বললেন: "না"।।
সুতরাং এই হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হাতিম—রাহিমাহুল্লাহ—এর নিকট 'হাসান' (حسن) এর অর্থ হলো 'গারিব' বা অদ্ভুত (غريب)।
একইভাবে আব্দুল আজিজ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে হামজার জীবনীতে (ترجمة) তার বক্তব্য হলো: "সে আমার নিকট আশ্চর্যজনক, সে দুর্বল (ضعيف) এবং মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)। তার হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং সে অনেক মুনকার বা অস্বীকৃত বর্ণনা (مناكير) বর্ণনা করে থাকে, আবার সে কিছু 'হাসান' (حساناً - হাসান এর বহুবচন) হাদিসও বর্ণনা করে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ আলাল মানজুমাতিল বাইকুনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولهذا عهد عن إبراهيم النخعي ـ رحمه الله تعالى ـ أنه كان يقول: " كانوا يكرهون إذا اجتمعوا أن يخرج الرجل أحسن حديثه "، قال الخطيب البغدادي ـ رحمه الله تعالى ـ: عَنى بالأحسن الغريب.
لماذا لا يحدث بها، لأمرين:-
الأول: لأن الناس سيتركونه، فهو سيوقع نفسه في التهمة بأنه يروي أحاديث حسان لا يرويها إلا هو فهو بين أمرين إما أنه يكذب وإما أنه لا يضبط، ولهذا سفيان ـ رحمه الله تعالى ـ كان يقال له: حدثنا بحديث فلان، فيقول " لا أحدثكم بها "، لأنها تهمة عليه ينقص من قدره إذا حدث بهذا الحديث.
الثاني: أنه قد يضر الناس، فليس كل أحد يستطيع أن يعرف النكارة التي في هذا الإسناد.
إذاً هذا معنى للحسن وهو الغريب، وبإمكاننا أن نقول هم يقسمون الغريب في استخدامهم للحسن إلى قسمين:
- أن يكون الحسن في الإسناد، أي حسن لغرابة إسناده، فقد يأتي الحُسن في الإسناد: فيروي أحد عن الزهري حديثا لم يروه غيره عن الزهري، فيقال هذا حسن إسناده أي غريب، كيف يتفرد به فلان عن الزهري بهذا الأصل، أين طلاب الزهري المئات!؟ .
- أن يكون الحسن في المتن، أي حسن لغرابة متنه، فقد يأتي الحسن في المتن، فقد يأتي إسناد بمتن غريب أصله، لم يأت ما يعضده، فلم يأت بهذا الأصل إلا هذا المتن.
المعنى الثالث:
أن " الحسن " بمعنى الضعيف، فهو ليس صحيحاً لكنهم يحتجون به، فيجعلون المتن حجة، لأتهم وجدوا عندهم ما يعضد هذا المتن إما بعموم كتاب أو أحاديث مرسلة أو أحاديث موقوفة، فيقولون هذا حسن لأنه عضد عندنا هذا الأصل الذي نحفظه من الكتاب أو السنة، وإن كان هو إسناداً ضعيفاً، فهو حجة لا صحيح، وهذا يستخدمه الأئمة يضعفون الحديث ويحتجون بمتونها كالإمام أحمد والإمام أبو حاتم الرازي ـ رحمهم الله تعالى ـ وغيرهم.
وتعرفون أن من أصول مذهب أحمد ـ رحمه الله تعالى ـ الاحتجاج بالحديث الضعيف.
এজন্যই ইব্রাহিম আন-নাখায়ি —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: "তারা (সালাফগণ) যখন একত্রিত হতেন, তখন কোনো ব্যক্তির তার চমৎকার (أحسن) হাদিসগুলো পেশ করাকে অপছন্দ করতেন।" খতিব আল-বাগদাদি —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— বলেন: তিনি 'চমৎকার' দ্বারা অদ্ভুত বা অপরিচিত (غريب) হাদিস উদ্দেশ্য করেছেন।
কেন তারা এগুলো বর্ণনা করতেন না? তার কারণ দুটি:-
প্রথমত: কারণ মানুষ তাকে বর্জন করবে। সে নিজেকে এমন অপবাদের মুখে ফেলবে যে সে এমন হাসান (حسان) হাদিস বর্ণনা করছে যা কেবল সে একাই বর্ণনা করে। ফলে সে দুটি বিষয়ের সম্মুখীন হবে: হয় সে মিথ্যা (كذب) বলছে অথবা সে যথাযথভাবে মুখস্থ রাখতে (ضبط) সক্ষম নয়। এজন্যই সুফিয়ান —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— কে যখন বলা হতো: 'অমুক ব্যক্তির হাদিস আমাদের কাছে বর্ণনা করুন', তখন তিনি বলতেন, "আমি তা তোমাদের কাছে বর্ণনা করব না।" কারণ এটি তার জন্য একটি অপবাদ হতে পারে যা তার মর্যাদা কমিয়ে দেয় যদি সে এই হাদিসটি বর্ণনা করে।
দ্বিতীয়ত: এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ প্রত্যেকের পক্ষে এই সনদ (إسناد)-এর মধ্যে থাকা অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة) অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
সুতরাং এটি হাসান (حسن)-এর একটি অর্থ আর তা হলো অদ্ভুত বা অপরিচিত (غريب)। আমরা বলতে পারি যে, হাসান (حسن) শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা অদ্ভুত বা অপরিচিত (غريب) হাদিসকে দুই ভাগে ভাগ করেন:
- হাসান (حسن) সনদের (إسناد) মধ্যে হওয়া, অর্থাৎ সনদের অদ্ভুত হওয়ার কারণে তাকে হাসান বলা। কখনো কখনো সনদের মধ্যে হাসান (حسن) বৈশিষ্ট্য আসে: যেমন কেউ ইমাম জুহরি থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করল যা জুহরি থেকে অন্য কেউ বর্ণনা করেনি। তখন বলা হয় এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن) অর্থাৎ অদ্ভুত বা অপরিচিত (غريب)। কীভাবে অমুক ব্যক্তি জুহরি থেকে এই মূল পাঠ বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে গেল, যেখানে জুহরির শত শত ছাত্র বিদ্যমান ছিল!?
- হাসান (حسن) মতন (متن)-এর মধ্যে হওয়া, অর্থাৎ মতন বা মূল পাঠের অদ্ভুত হওয়ার কারণে তাকে হাসান বলা। কখনো কখনো মতনের মধ্যে হাসান (حسن) বৈশিষ্ট্য আসে। কোনো একটি সনদ (إسناد) এমন একটি অদ্ভুত মতন (متن) নিয়ে আসতে পারে যার কোনো সমর্থিত ভিত্তি নেই। এই মতনটি ছাড়া এই বিষয়ের সপক্ষে আর কোনো বর্ণনা আসেনি।
তৃতীয় অর্থ:
হাসান (حسن) শব্দটি দুর্বল (ضعيف) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। অর্থাৎ এটি সহিহ (صحيح) নয়, তবে তারা এর দ্বারা দলিল গ্রহণ (احتجاج) করেন। তারা মতন (متن)-কে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেন কারণ তারা এর সপক্ষে অন্য এমন কিছু পেয়েছেন যা একে শক্তিশালী করে; হোক তা পবিত্র কুরআনের কোনো সাধারণ বক্তব্য অথবা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস কিংবা সাহাবির বক্তব্য (موقوف) সম্বলিত বর্ণনা। তখন তারা বলেন এটি হাসান (حسن), কারণ এটি আমাদের নিকট সংরক্ষিত কুরআন বা সুন্নাহর মূল ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে, যদিও সনদের দিক থেকে এটি দুর্বল (ضعيف)। এটি একটি দলিল (حجة), সহিহ (صحيح) নয়। ইমামগণ এমনটি ব্যবহার করেন; তারা হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেন এবং এর মতন (متن) দ্বারা দলিল গ্রহণ (احتجاج) করেন। যেমন ইমাম আহমাদ এবং ইমাম আবু হাতিম আল-রাজি —রাহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা— ও অন্যান্যগণ।
আর আপনারা জানেন যে, ইমাম আহমাদ —রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা— এর মাযহাবের অন্যতম মূলনীতি (أصول) হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ (احتجاج) করা।