(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
الاعتبار وأعقاب السرور لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الاعتبار وأعقاب السرور والأحزان

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: د. نجم عبد الرحمن خلف

الناشر: دار البشير - عمان

الطبعة: الأولى، 1413 - 1993

عدد الصفحات: 89

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়ার আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর ওয়াল আহযান

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

সম্পাদক: ড. নাজম আবদুর রহমান খালাফ

প্রকাশক: দারুল বশীর - আম্মান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ - ১৯৯৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أَخْبَرَنِي الْمُسْنِدُ شَيْخِي الْجَلَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيٍّ ابْنِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ ، رَبُّ التَّصَانِيفِ النَّافِعَةِ الْمُفِيدَةِ أَبُو جَعْفَرٍ عُمَرُ ابْنُ النَّحْوِيِّ شُهِرَ بِابْنِ الْمُلَقِّنِ الشَّافِعِيِّ رحمه الله رِوَايَةً ، أَخْبَرَنِي جَدِّي الْمَذْكُورُ إِجَازَةً رحمه الله ، أَخْبَرَنِي شَيْخِي الْحَافِظُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ ابْنُ سَيَّدِ النَّاسِ الْيَعْمُرِيُّ رحمه الله سَمَاعًا لَهُ وَمِنْ خَطِّهِ أَنْقِلُ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ جَمَالَ الْإِسْلَامِ ، شَيْخُ الْعِرَاقِ عِزُّ الدِّينِ أَبْو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ ابْنُ الْإِمَامِ الْأَوْحَدِ مُفْتِي الْفِرَقِ مُحْيِي الدِّينِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَيْرِ بْنِ ⦗ص: 26⦘ الْفَرَجِ الْفَارُوثِيِّ الْوَاسِطِيِّ بِدِمَشْقَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ كَرَمِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الدِّينَوَرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِبَغْدَادَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ نَصْرُ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يُونُسَ الْعُكْبَرِيُّ الْوَاعِظُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي رَجَبٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ:

⦗ص: 27⦘

 

1 - حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْأَزْدِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْخُشَنِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ رَبِّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى وَادِي الْعَقِيقِ، فَقَالَ: " يَا أَنَسُ، خُذْ هَذِهِ الْمَطْهَرَةَ امْلَأْهَا مِنْ هَذَا الْوَادِي، فَإِنَّهُ وَادٍ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ، فَأَخَذْتُهَا فَمَلَأْتُهَا، وَعَجِلْتُ وَلَحِقْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِ عَلِيٍّ، فَلَمَّا أَنْ سَمِعَ حِسِّي الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ: «يَا أَنَسُ، فَعَلْتَ مَا أَمَرْتُكَ بِهِ؟» قُلْتُ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ فَقَالَ: «يَا عَلِيُّ،‌‌ مَا مِنْ حَبْرَةٍ إِلَّا سَتَتْبَعُهَا عَبْرَةٌ، يَا عَلِيُّ، كُلُّ هَمٍّ مُنْقَطِعٌ إِلَّا هَمَّ النَّارِ، يَا عَلِيُّ كُلُّ نُعَيْمٍ يَزُولُ إِلَّا نَعِيمَ الْجَنَّةِ»
আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-মুসনিদ, আমার শাইখ আল-জালাল আবদুর রহমান ইবনে আশ-শাইখ আবি আল-হাসান আলী ইবনে শাইখুল ইসলাম; যিনি বহু উপকারী ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের প্রণেতা আবু জাফর উমর ইবনুন নাহভী, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নামে প্রসিদ্ধ, বর্ণনার মাধ্যমে। আমার উল্লেখিত পিতামহ আমাকে ইজাজাহ (অনুমতি) সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার শাইখ আল-হাফিজ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে সাইয়্যেদিন নাস আল-ইয়মুরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর নিকট শ্রবণ করার মাধ্যমে এবং আমি তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করছি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আল্লামা জামালুল ইসলাম, শাইখুল ইরাক ইজ্জুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল ইমাম আল-আওহাদ মুফতিউল ফিরাক মুহিউদ্দিন ইব্রাহিম বিন উমায়ের বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আল-ফারাজ আল-ফারুসী আল-ওয়াসিতী দিমাশকে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন করম বিন আবিল হাসান আদ-দিনাওয়ারী তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, এমতাবস্থায় আমি বাগদাদে তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম নাসর বিন নাসর বিন আলী বিন ইউনুস আল-উকবারী আল-ওয়ায়েজ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ, ৩৩৯ হিজরি সনের রজব মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া, তিনি বলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘

 

১ - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-আযদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম বিন খালিদ আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-خুশানী, আবু আবদে রাব্বিহি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) সাথে আকীক উপত্যকার দিকে বের হলাম। তখন তিনি বললেন: "হে আনাস, এই পবিত্রতা অর্জনের পাত্রটি নাও এবং এই উপত্যকা থেকে পানি পূর্ণ করো; কারণ এটি এমন একটি উপত্যকা যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও একে ভালোবাসি।" অতঃপর আমি সেটি নিলাম এবং পূর্ণ করলাম, এরপর দ্রুত ফিরে এসে আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) সাথে মিলিত হলাম; তখন তিনি আলীর হাত ধরে ছিলেন। যখন তিনি আমার সাড়া পেলেন, তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "হে আনাস, আমি তোমাকে যা করার আদেশ দিয়েছিলাম তা কি করেছো?" আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি আলীর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: "হে আলী, এমন কোনো সুখ নেই যার পিছু পিছু অশ্রু আসবে না; হে আলী, জাহান্নামের চিন্তা ব্যতীত প্রতিটি দুশ্চিন্তাই অবসানযোগ্য; হে আলী, জান্নাতের নেয়ামত ব্যতীত প্রতিটি নেয়ামতই বিলীন হয়ে যায়—কেবল জান্নাতের নেয়ামত।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْأَشْعَثِ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ "‌‌ مَا مِنْ قَوْمٍ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ: طُوبَى، إِلَّا خَبَّأَ لَهُمُ الدَّهْرُ يَوْمًا يَسُوءُهُمْ "
২ - মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনুল আশ’আছ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ফুযাইল ইবনে ইয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সায়েব থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ এমন কোনো জাতি নেই যাদেরকে মানুষ বলে: ‘তোমাদের জন্য সুসংবাদ’, তবে কাল বা সময় তাদের জন্য এমন একদিন লুকিয়ে রেখেছে যা তাদের ব্যথিত করবে। "
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
3 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ ‌‌«لِكُلِّ فَرْحَةٍ تَرَحٌ، وَمَا مِنْ بَيْتٍ مُلِئَ فَرَحًا إِلَّا مُلِئَ تَرَحًا»
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুরারাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারীক, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক আনন্দের জন্যই বিষাদ রয়েছে, এবং এমন কোনো ঘর নেই যা আনন্দে পূর্ণ হয়েছে অথচ পরবর্তীতে তা বিষাদে পূর্ণ হয়নি।”
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ ‌‌«مَا يُنْتَظَرُ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا كُلُّ مُحْزِنٍ أَوْ فِتْنَةٍ تُنْتَظَرُ»
৪ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াকী‘ বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবু বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «দুনিয়া থেকে কেবল দুঃখদায়ক কোনো বিষয় অথবা আসন্ন কোনো ফিতনা ব্যতীত আর কিছুরই অপেক্ষা করা হয় না»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
5 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِشْكَابَ الْعَامِرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ ‌‌«مَا كَانَ ضَحِكٌ قَطُّ إِلَّا كَانَ مِنْ بَعْدِهِ بُكَاءٌ»
5 - আমাদের নিকট আলী ইবনে ইশকাব আল-আমিরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কখনোই এমন কোনো হাসি ছিল না, যার পরে কান্না আসেনি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
6 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَوْنُ بْنُ كَهْمَسٍ الْقَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ،: لَقِيَتِ ابْنَةُ النُّعْمَانِ مَسْقَلَةَ بْنَ هُبَيْرَةَ، وَقَدْ قَدِمَ مِنْ أَصْبَهَانَ بِمَالٍ، قَالَ: فَبَكَتْ، قَالَ: مَا يُبْكِيكِ، أَلَمْ نُحْسِنْ تَرْكَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى، وَلَكِنِّي بَكَيْتُ فِي غَيْرِ ذَلِكَ، قَالَ: ذَكَرْتِ مُلْكَ أَبِيكِ وَمَا كُنْتِ فِيهِ؟ قَالَتْ: لَا، قَالَ: فَمَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ «لِمَا أَرَى بِكَ مِنَ الْحَبْرَةِ،‌‌ وَلَيْسَ مِنْ حَبْرَةٍ إِلَّا سَتَتْبَعُهَا عَبْرَةٌ»
৬ - মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কুরাশী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওন ইবনে কাহমাস আল-কায়সী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুমানের কন্যা মাসকালাহ ইবনে হুবায়রাহর সাথে সাক্ষাৎ করলেন, যখন তিনি ইসফাহান থেকে ধনসম্পদ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তিনি (মাসকালাহ) বললেন: কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? আমরা কি আপনার প্রতি উত্তম আচরণ করিনি? তিনি বললেন: অবশ্যই করেছেন, কিন্তু আমি অন্য কারণে কেঁদেছি। তিনি বললেন: আপনি কি আপনার পিতার রাজত্ব এবং তাতে আপনি যে অবস্থায় ছিলেন তা স্মরণ করেছেন? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: «আপনার মাঝে যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেখছি তার কারণে, আর এমন কোনো আনন্দ নেই যার পিছু পিছু অশ্রু আসবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
7 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرَيْبٍ الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ: حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ: خَرَجَ زِيَادٌ حَتَّى أَتَى حُرَقَةَ بِنْتَ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ، وَكَانَتْ فِي حِجْرِ هَانِئِ بْنِ قَبِيصَةَ بْنِ هَانِئِ بْنِ قَبِيصَةَ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ بْنِ ذُهْلِ بْنِ شَيْبَانَ، فَقَالَ: أَخْرِجُوهَا إِلَيَّ، وَقَدْ لَبِسَتِ الْمُسُوحَ، قَالَتْ: إِنِّي ضَعِيفَةٌ، قَالَ: اسْحَبُوهَا أَوْ تَجِيءُ، قَالَ: فَخَرَجَتْ، وَقَالَ: حَدِّثِينِي عَنْ أَهْلِكِ، قَالَتْ ‌‌«أَصْبَحْنَا وَمَا فِي الْعَرَبِ أَحَدٌ إِلَّا يَرْجُونَا أَوْ يَخَافُنَا، وَأَمْسَيْنَا وَمَا فِي الْعَرَبِ أَحَدٌ إِلَّا يَرْحَمُنَا»
৭ - আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরাইব আল-আসমাঈ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমির ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিয়াদ বের হয়ে নুমান ইবনুল মুনযিরের কন্যা হুরাকার নিকট আসলেন। তিনি তখন হানি ইবনে কাবিযাহ ইবনে হানি ইবনে কাবিযাহ ইবনে আবি রাবিআহ ইবনে যুহল ইবনে শায়বানের আশ্রয়ে ছিলেন। জিয়াদ বললেন: তাকে আমার নিকট বের করে আনো। তখন তিনি মোটা পশমি বস্ত্র পরিহিত ছিলেন। তিনি বললেন: আমি অত্যন্ত দুর্বল। জিয়াদ বললেন: তাকে টেনে নিয়ে এসো নতুবা সে নিজে আসুক। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি বের হয়ে আসলেন। জিয়াদ বললেন: তোমার পরিবার সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো। তিনি বললেন: «আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম যে, সমগ্র আরবে এমন কেউ ছিল না যে আমাদের নিকট প্রত্যাশা রাখত না অথবা আমাদের ভয় করত না; আর এখন আমরা এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে, সমগ্র আরবে এমন কেউ নেই যে আমাদের প্রতি করুণা করে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
8 - أَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ الْأُمَوِيِّ، قَالَ: أَتَى إِسْحَاقُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ هِنْدًا بِنْتَ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ فَقَالَ: أَتَيْتُكِ لِتُخْبِرِينَا عَنْ مُلْكِكِ، وَمُلْكِ أَهْلِ بَيْتِكِ، قَالَتْ "‌‌ لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَنَحْنُ مِنْ أَعَزِّ النَّاسِ وَأَشَدِّهِ مُلْكًا، ثُمَّ مَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى رَأَيْتُنَا مِنْ أَذَلِّ النَّاسِ، وَإِنِّي أُخْبِرُكَ أَنَّهُ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ لَا يَمْلَأُ دَارًا حَبْرَةً إِلَّا مَلَأَهَا عَبْرَةً، وَقَدْ كَانَ كِسْرَى غَضِبَ عَلَى النُّعْمَانِ غَضْبَةً نَفَرْتُ مِنْهَا فِي بِلَادِ الْعَرَبِ، ثُمَّ رَضِيَ عَنْهُ فَرَدَّ إِلَيْهِ مُلْكَهُ، فَقَالَتْ أُخْتُ النُّعْمَانِ حِينَ رَجَعَ إِلَيْهِ مُلْكُهُ: يَا أَخِي، قَدْ رَدَّ اللَّهُ إِلَيْنَا مُلْكَنَا، وَرَجَعَ إِلَيْنَا حُسْنُ حَالِنَا، وَإِنِّي لَأَرْثِي لَكَ وَلِي، مِمَّا الدَّهْرُ مُطَّلِعٌ بِهِ عَلَيْنَا "
8 - আব্বাস ইবনে হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে সাঈদ আল-উমাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ আন-নুমান ইবনুল মুনযিরের কন্যা হিন্দের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি আপনার নিকট এসেছি যাতে আপনি আমাদের আপনার রাজত্ব এবং আপনার পরিবারের রাজত্ব সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি বললেন, "‌‌অবশ্যই আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যখন আমরা ছিলাম মানুষের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত এবং রাজত্বে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী, অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই আমি আমাদের সবচেয়ে লাঞ্ছিত মানুষের অন্তর্ভুক্ত হতে দেখলাম। আর নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি যে, আল্লাহর উপর এটি অবধারিত যে, তিনি কোনো গৃহকে সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করেন না, যতক্ষণ না তিনি সেটিকে চোখের পানিতেও সিক্ত করেন। আর কিসরা নুমানের প্রতি এমন ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন যে, আমি তার ভয়ে আরব দেশসমূহে পালিয়ে গিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর রাজত্ব ফিরিয়ে দিলেন। যখন নুমানের রাজত্ব ফিরে এল তখন তাঁর বোন বলল: হে আমার ভাই! আল্লাহ আমাদের রাজত্ব আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাদের উত্তম অবস্থা ফিরে এসেছে; তবে কালচক্র আমাদের সামনে কী নিয়ে হাজির হবে, সেজন্য আমি তোমার ও নিজের জন্য করুণা বোধ করছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
9 - حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ أَبِي يَحْيَى السُّلَمِيُّ، عَنِ الْأَصْمَعِيِّ، أَنَّ هَانِئَ بْنَ أَبِي قَبِيصَةَ، رَأَى حُرَقَةَ بِنْتَ النُّعْمَانِ تَبْكِي فَقَالَ لَهَا: "‌‌ لَعَلَّ أَحَدًا آذَاكِ؟ قَالَتْ: لَا، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ غَضَارَةً فِي أَهْلِكُمْ، وَقَلَّ مَا امْتَلَأَتْ دَارٌ سُرُورًا إِلَّا امْتَلَأَتْ حُزْنًا "
৯ - হারুন ইবন আবি ইয়াহইয়া আস-সুলামী আল-আসমাঈ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হানি ইবন আবি কাবিছাহ হুরকাহ বিনতে আন-নুমানকে কাঁদতে দেখলেন এবং তাকে বললেন: "‌‌ সম্ভবত কেউ কি আপনাকে কষ্ট দিয়েছে? তিনি বললেন: না, বরং আমি আপনাদের পরিবারের মাঝে সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য দেখেছি; আর খুব কমই এমন ঘর আছে যা আনন্দে পূর্ণ হয়েছে অথচ তা পূর্ণ হয়নি বিষাদে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
10 - أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ بُكَيْرٍ، أَنَّ زِيَادًا، وَقَفَ عَلَى هِنْدَ بِنْتِ النُّعْمَانِ، فَسَأَلَهَا أَنْ تُحَدِّثَهُ، فَقَالَتْ ‌‌«أَصْبَحْنَا ذَا صَبَاحٍ وَمَا فِي الْعَرَبِ أَحَدٌ إِلَّا يَرْجُونَا، ثُمَّ أَمْسَيْنَا وَمَا فِي الْعَرَبِ أَحَدٌ إِلَّا يَرْحَمُنَا»
১০ - উমর ইবনে বুকাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যিয়াদ হিন্দ বিনতে নু'মানের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাকে কিছু কথা বলার অনুরোধ করলেন। তখন তিনি বললেন: “আমরা এমন এক সকালে উপনীত হয়েছিলাম যখন আরবদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে আমাদের নিকট প্রত্যাশা রাখত না; এরপর আমরা এমন এক সন্ধ্যায় উপনীত হলাম যখন আরবদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করে না।”
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
11 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى الْعُكْلِيُّ، قَالَ: دَخَلَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي أُمَيَّةَ عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيِّ، فَلَمَّا رَأَتْ مَا هُمْ فِيهِ بَكَتْ بُكَاءً، فَقَالَ لَهَا: مَا يُبْكِيكِ، أَذَكَرْتِ مُلْكَ أَهْلِ بَيْتِكِ؟ قَالَتْ: لَا،‌‌ وَلَكِنَّ كُلَّ قَوْمٍ رَهْنٌ بِمَا يَسُوءُهُمْ "
১১ - মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ ইবন মুসা আল-উকলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু উমাইয়্যার এক নারী সুলায়মান ইবন আলী আল-হাশিমীর নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর যখন তিনি তাদের অবস্থা দেখলেন তখন রোদন করলেন। তখন তিনি (সুলায়মান) তাকে বললেন: আপনি কেন কাঁদছেন? আপনি কি আপনার পরিবারের রাজত্বের কথা স্মরণ করেছেন? তিনি বললেন: না,‌‌ বরং প্রতিটি জাতিই তাদের মন্দ পরিণতির নিকট দায়বদ্ধ।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
12 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الصَّلْتُ بْنُ حَكِيمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْبُوبٌ الْعَابِدُ، قَالَ: مَرَرْتُ بِدَارٍ مِنْ دُورِ الْكُوفَةِ غَدَاةً، فَسَمِعْتُ جَارِيَةً تُنَادِي مِنْ دَاخِلِ الدَّارِ:

[البحر الوافر]

أَلَا يَا دَارُ لَا يَدْخُلْكِ حُزْنٌ … وَلَا يَذْهَبْ بِسَاكِنِكِ الزَّمَانُ

ثُمَّ مَرَرْتُ بِالدَّارِ فَإِذَا الْبَابُ وَقَدْ عَلَتْهُ كَآبَةٌ وَوَحْشَةٌ، فَقُلْتُ: مَا شَأْنُهُمْ؟ قَالُوا: مَاتَ سَيِّدُهُمْ، مَاتَ رَبُّ الدَّارِ، فَوَقَفْتُ عَلَى بَابِ الدَّارِ فَقَرَعْتُهُ وَقُلْتُ: إِنِّي سَمِعْتُ مِنْ هَاهُنَا صَوْتَ جَارِيَةٍ تَقُولُ:

أَلَا يَا دَارُ لَا يَدْخُلْكِ حُزْنٌ … وَلَا يَذْهَبْ بِسَاكِنِكِ الزَّمَانُ

فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الدَّارِ وَبَكَتْ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى يُغَيِّرُ وَلَا يُغَيَّرُ، وَالْمَوْتُ غَايَةُ كُلِّ مَخْلُوقٍ، فَرَجَعْتُ وَاللَّهِ مِنْ عِنْدِهِمْ بَاكِيًا "
১২ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আস-সালত ইবনে হাকিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহবুব আল-আবিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একদিন ভোরে কুফার ঘরগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি ঘরের ভেতর থেকে এক কিশোরীকে উচ্চস্বরে বলতে শুনলাম:

[আল-ওয়াফির ছন্দ]

ওহে ঘর! তোমার মাঝে যেন দুঃখ প্রবেশ না করে … আর কাল যেন তোমার বাসিন্দাদের ছিনিয়ে না নিয়ে যায়।

অতঃপর আমি সেই ঘরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং দেখলাম যে, তার দরজায় বিষণ্ণতা ও জনশূন্যতা ছেয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তাদের কী হয়েছে? তারা বলল: তাদের কর্তা মারা গেছেন, গৃহকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তখন আমি ঘরের দরজার সামনে দাঁড়ালাম এবং তাতে করাঘাত করে বললাম: আমি এখান থেকে এক কিশোরীর কণ্ঠস্বর শুনেছিলাম যে বলছিল:

ওহে ঘর! তোমার মাঝে যেন দুঃখ প্রবেশ না করে … আর কাল যেন তোমার বাসিন্দাদের ছিনিয়ে না নিয়ে যায়।

তখন ঘরের ভেতর থেকে এক নারী কেঁদে উঠে বলল: হে আল্লাহর বান্দা, নিশ্চয়ই‌‌ আল্লাহ তাআলা পরিবর্তন ঘটান কিন্তু তাঁর কোনো পরিবর্তন হয় না, আর মৃত্যু প্রতিটি সৃষ্টিরই শেষ গন্তব্য। আল্লাহর কসম, আমি তাদের ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলাম। "
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
13 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ مُنْقِذٍ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ الْحَسَنِ إِلَى السُّوقِ، فَإِذَا جَارِيَةٌ تَقُولُ: يَا أَبَتَاهُ، مِثْلُ يَوْمِكَ لَا أَرَى، قَالَ الْحَسَنُ: وَأَبُوكِ مِثْلُ يَوْمِهِ مَا رَأَى، يَا بُنَيَّةُ دُلِّينِي عَلَى مَنْزِلِكِ، فَانْطَلَقَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَانْطَلَقَ الْحَسَنُ وَنَحْنُ مَعَهُ حَتَّى وَقَفَ عَلَى بَابِ الدَّارِ، فَنَادَى: يَا أَهْلَ هَذِهِ الدَّارِ،‌‌ مَا لِي أَرَى هَذَا الْبَابَ مَهْجُورًا بَعْدَ أَنْ كَانَ مَعْمُورًا؟ قَالَ: فَنَادَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ دَاخِلِ الدَّارِ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، هَكَذَا أَبْوَابُ الْأَرَامِلِ وَالْيَتَامَى، فَانْصَرَفَ الْحَسَنُ بَاكِيًا
১৩ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনু মুসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, বাকার ইবনু মুনকিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হাসানের সাথে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলাম। সেখানে এক কিশোরী বলছিল: হে আব্বাজান! আপনার (মৃত্যুর) দিনের মতো দিন আমি আর দেখিনি। হাসান বললেন: আর তোমার পিতাও তাঁর এই দিনের মতো দিন কখনো দেখেননি। হে বৎসা! আমাকে তোমার বাড়ির পথ দেখিয়ে দাও। অতঃপর সে তাঁর সম্মুখে চলতে লাগল এবং হাসানও চললেন আর আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম, যতক্ষণ না তিনি ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তিনি ডেকে বললেন: হে এই গৃহের অধিবাসীগণ! কী হলো যে, আমি এই দরজাকে আবাদ থাকার পর এখন জনশূন্য দেখছি? বর্ণনাকারী বলেন: তখন ঘরের ভেতর থেকে এক নারী তাঁকে ডেকে বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, বিধবা ও এতিমদের দরজা এমনই হয়ে থাকে। অতঃপর হাসান কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
14 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى حُرَقَةَ بِنْتِ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ وَقَدْ تَرَهَّبَتْ فِي دَيْرٍ لَهَا بِالْحِيرَةِ، وَهِيَ فِي ثَلَاثِينَ جَارِيَةً لَمْ يُرَ مِثْلُ حُسْنِهِنَّ قَطُّ، فَقُلْتُ لَهَا: يَا حُرَقَةُ، كَيْفَ رَأَيْتِ خَيْرَاتِ الْمُلْكِ؟ قَالَتْ: مَا نَحْنُ فِيهِ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِمَّا كُنَّا فِيهِ أَمْسِ، إِنَّا نَجِدُ فِي الْكُتُبِ:‌‌ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ يَعِيشُونَ فِي حَبْرَةٍ إِلَّا سَيُعْقَبُونَ بَعْدَهَا عَبْرَةً، إِنَّ الدَّهْرَ لَمْ يَظْهَرْ لِقَوْمٍ بِيَوْمٍ يُحِبُّونَهُ إِلَّا بَطَنَ لَهُمْ بِيَوْمٍ يَكْرَهُونَهُ، وَإِنِّي قَدْ قُلْتُ فِي ذَلِكَ قَوْلًا، قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَتْ:

[البحر الطويل]

بَيْنَا نَسُوسُ النَّاسَ وَالْأَمْرُ أَمْرُنَا … إِذَا نَحْنُ مِنْهُمْ سُوقَةٌ نَتَنَصَّفُ

فَأُفٍ لِدُنْيَا لَا يَدُومُ نَعِيمُهَا … تَقَلَّبُ تَارَاتٍ بِنَا وَتَصَرَّفُ
১৪ - আহমাদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে আবান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হারমালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি নু'মান ইবনে আল-মুনযিরের কন্যা হুরকাহর নিকট প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় তিনি হীরাহতে তাঁর একটি মঠে বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ত্রিশজন দাসীর মাঝে, যাদের সৌন্দর্যের মতো সৌন্দর্য কখনও দেখা যায়নি। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: হে হুরকাহ, রাজকীয় নেয়ামতসমূহকে আপনি কেমন দেখলেন? তিনি বললেন: আজ আমরা যে অবস্থায় আছি তা গতকাল আমরা যে অবস্থায় ছিলাম তার চেয়ে উত্তম। নিশ্চয়ই আমরা কিতাবসমূহে পাই:‌‌ এমন কোনো পরিবার নেই যারা পরম সুখে জীবনযাপন করে, কিন্তু অচিরেই তাদের এর পরে অশ্রু বিসর্জন দিতে হবে। কাল বা সময় কোনো জাতির সামনে এমন কোনো দিন প্রকাশ করে না যা তারা পছন্দ করে, তবে তাদের জন্য এমন একটি দিনও লুকিয়ে রাখে যা তারা অপছন্দ করে। আর আমি এ বিষয়ে কিছু পঙক্তি বলেছি। তিনি বললেন: সেটা কী? তিনি বললেন:

[বাহরুত তবিল]

যখন আমরা মানুষের ওপর শাসন চালাতাম এবং কর্তৃত্ব ছিল আমাদেরই হাতে … হঠাৎ আমরা তাদের প্রজায় পরিণত হলাম যাদের সেবা করতে হয়

ধিক এই দুনিয়াকে যার সুখ-শান্তি চিরস্থায়ী নয় … এটি সময়ের আবর্তনে আমাদের সাথে বারবার পরিবর্তিত ও আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
15 - حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَانِئٍ قَالَ: حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُكَّاشَةَ بِنْتِ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: كَلَّمْتُ بِنْتَ مَلِكٍ مِنَ الْمُلُوكِ، مُلُوكِ الشَّامِ، شَبَّبَ بِهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَدْ كَانَ رَآهَا فِيمَا يُقْدِمُ الشَّامَ، فَلَمَّا فَتْحَ اللَّهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَقُتِلَ أَبُوهَا أَصَابُوهَا، فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ لِأَبِي بَكْرٍ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ أَعْطِ هَذِهِ الْجَارِيَةَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ، قَدْ سَلَّمْنَاهَا لَهُ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: كُلُّكُمْ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالُوا: نَعَمْ، فَأَعْطَاهَا لَهُ، وَكَانَ لَهَا بِسَاطٌ فِي بِلَادِهَا لَا تَذْهَبُ إِلَى الْكَنِيفِ، وَلَا إِلَى حَاجَةٍ إِلَّا بُسِطَ لَهَا، وَرُمِيَ بَيْنَ يَدَيْهَا رُمَّانَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ تَتَلَهَّى بِهِمَا، قَالَ: وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ إِذَا خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهَا رَأَى فِي عَيْنَيْهَا أَثَرَ الْبُكَاءِ، فَيَقُولُ: مَا يُبْكِيكِ؟ اخْتَارِي خِصَالًا أَيُّهَا شِئْتِ: إِمَّا أَنْ أُعْتِقَكِ وَأَنْكِحَكِ؟ قَالَتْ: لَا أَبْتَغِيهِ، وَإِنْ أَحْبَبْتِ أَنْ أَرُدَّكِ إِلَى قَوْمِكِ؟ قَالَتْ: لَا أُرِيدُ، وَإِنْ أَحْبَبْتِ رَدَدْتُكِ عَلَى الْمُسْلِمِينَ؟ قَالَتْ: لَا أُرِيدُ، قَالَ: فَأَخْبِرِينِي مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ:‌‌ أَبْكِي لِلْمَلِكِ مِنْ يَوْمِ الْبُؤْسِ "
১৫ - আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হানি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ বিন মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালিহ আমাকে ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুসআব বিন সাবিত বিন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের থেকে, তিনি উক্কাহশাহ বিনতে মুসআব বিন যুবায়ের থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শামের রাজাদের মধ্য হতে এক রাজার কন্যার সাথে কথা বলেছি, যার রূপ-সৌন্দর্যের প্রশংসা করে আব্দুর রহমান বিন আবু বকর কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন; তিনি যখন শামে যেতেন তখন তাকে দেখেছিলেন। অতঃপর যখন আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করলেন এবং তার পিতা নিহত হলেন, তখন তারা তাকে বন্দী হিসেবে পেলেন। তখন মুসলিমরা আবু বকরকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! এই দাসীটিকে আব্দুর রহমানকে দিয়ে দিন, আমরা এটি তার জন্য সমর্পণ করলাম। আবু বকর বললেন: তোমরা কি সবাই এ বিষয়ে একমত? তারা বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাকে সেটি দিয়ে দিলেন। নিজ দেশে তার অবস্থা এমন ছিল যে, তার জন্য গালিচা বিছানো থাকতো; তিনি শৌচাগারে বা কোনো প্রয়োজনে গেলেও তার জন্য গালিচা বিছানো হতো এবং তার সামনে বিনোদনের জন্য স্বর্ণের দুটি ডালিম রাখা থাকতো। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান যখন তার নিকট থেকে বের হয়ে আবার ফিরে আসতেন, তখন তার চোখে কান্নার চিহ্ন দেখতে পেতেন। তিনি বলতেন: কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তুমি চাইলে নিচের যেকোনো একটি বিষয় বেছে নাও: আমি কি তোমাকে মুক্ত করে দেব এবং তোমাকে বিয়ে করব? তিনি বললেন: আমি তা চাই না। তিনি বললেন: আর তুমি যদি চাও তবে আমি তোমাকে তোমার কওমের কাছে ফিরিয়ে দেব? তিনি বললেন: আমি চাই না। তিনি বললেন: আর যদি চাও তবে আমি তোমাকে মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দেব? তিনি বললেন: আমি চাই না। তিনি বললেন: তবে আমাকে বলো কেন তুমি কাঁদছ? তিনি বললেন:‌‌ আমি রাজার জন্য এই দুর্দশার দিনে কাঁদছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
16 - حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ حَاتِمَ بْنَ عُطَارِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْأَبْطَالِ، قَالَ: بُعِثْتُ إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَمَعِي سِتَّةُ أَحْمَالِ مِسْكٍ، فَمَرَرْتُ بِدَارِ أَيُّوبَ بْنِ سُلَيْمَانَ، فَأُدْخِلْتُ عَلَيْهِ، فَمَرَرْتُ بِدَارٍ مَا فِيهَا مِنَ الثِّيَابِ وَالنَّجْدِ بَيَاضٌ، ثُمَّ أُدْخِلْتُ مِنْهَا إِلَى دَارٍ أُخْرَى صَفْرَاءَ، وَمَا فِيهَا كَذَلِكَ، ثُمَّ أُدْخِلْتُ مِنْهَا إِلَى دَارٍ حَمْرَاءَ وَمَا فِيهَا كَذَلِكَ، ثُمَّ أُدْخِلْتُ إِلَى دَارٍ خَضْرَاءَ، وَمَا فِيهَا كَذَلِكَ، فَإِذَا أَنَا بِأَيُّوبَ وَجَارِيَةٍ لَهُ عَلَى سَرِيرٍ مَا أَعْرِفُهُ مِنَ الْجَارِيَةِ، قَالَ: وَلَحِقَنِي مَنْ كَانَ فِي تِلْكَ الدُّورِ فَانْتَهَبُوا مَا مَعِي مِنَ الْمِسْكِ، ثُمَّ خَرَجْتُ مِنْهَا، فَلَمَّا صِرْتُ إِلَى سُلَيْمَانَ صَلَّيْتُ الْعَصْرَ فِي مَسْجِدِهِ، فَقُلْتُ لِرَجُلٍ إِلَى جَنْبِي: هَلْ شَهِدَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ الصَّلَاةَ؟ فَأَشَارَ إِلَى سُلَيْمَانَ فَأَتَيْتُهُ فَكَلَّمْتُهُ، فَقَالَ:‌‌ أَنْتَ صَاحِبُ الْمِسْكِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: اكْتُبُوا لَهُ بِالْمُوَافَاةِ، قَالَ: ثُمَّ مَرَرْتُ بِدَارِ أَيُّوبَ بَعْدَ سَبْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا، فَإِذَا الدَّارُ بَلَاقِعُ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالُوا: طَاعُونٌ أَصَابَهُمْ "
১৬ - আবু সলিহ আল-মারওয়াজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাতিম ইবনে উতারিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবুল আবতাল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিকের নিকট পাঠানো হয়েছিল এবং আমার সাথে ছয়টি মিশকের (কস্তুরী) বোঝা ছিল। এরপর আমি আইয়ুব ইবনে সুলায়মানের বাড়ির পাশ দিয়ে গেলাম এবং আমাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি এমন এক গৃহ অতিক্রম করলাম যেখানে আসবাবপত্র ও সাজসজ্জার মাঝে শুভ্রতা ছাড়া আর কিছু ছিল না। এরপর সেখান থেকে অন্য এক পীত (হলুদ) বর্ণের গৃহে আমাকে প্রবেশ করানো হলো এবং সেখানেও তদ্রূপ ছিল। এরপর সেখান থেকে এক লোহিত (লাল) বর্ণের গৃহে প্রবেশ করানো হলো এবং সেখানেও তদ্রূপ ছিল। এরপর এক হরিৎ (সবুজ) বর্ণের গৃহে প্রবেশ করানো হলো এবং সেখানেও তদ্রূপ ছিল। সেখানে আমি আইয়ুবকে এবং তার এক দাসীকে একটি খাটের উপর দেখতে পেলাম; দাসীটির সৌন্দর্যের আধিক্যের কারণে আমি তাকে চিনতে পারছিলাম না। তিনি বলেন: ওই গৃহগুলোতে যারা ছিল তারা আমার পিছু নিল এবং আমার সাথে থাকা মিশকগুলো লুট করে নিল। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম। যখন আমি সুলায়মানের নিকট পৌঁছালাম, তখন তার মসজিদে আসরের সালাত আদায় করলাম। আমি আমার পাশে বসা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমিরুল মুমিনীন কি সালাতে উপস্থিত হয়েছেন? তিনি সুলায়মানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং তার সাথে কথা বললাম। তিনি বললেন: আপনি কি সেই মিশকের মালিক? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তার জন্য একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র লিখে দাও। তিনি বলেন: এরপর সতেরো দিন পর আমি আইয়ুবের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম বাড়িটি জনশূন্য বিরাণ হয়ে পড়ে আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এ কী ব্যাপার? তারা বলল: মহামারি তাদের গ্রাস করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ أَيُّوبُ وَلِي عَبْدِ اللَّهِ مِنْ بَعْدِهِ، قَدْ رَشَّحَهُ لِلْخِلَافَةِ، فَأَصَابَهُ الطَّاعُونُ، فَلَمَّا نَزَلَ بِهِ الْمَوْتُ دَخَلَ عَلَيْهِ سُلَيْمَانُ، فَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الْمَازِنِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ أَبُو عُثْمَانَ، ثِقَةٌ مِنْ ⦗ص: 41⦘ أَهْلِ الْعِلْمِ، قَالَ: لَمَّا احْتُضِرَ أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ دَخَلَ عَلَيْهِ أَبُوهُ وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ، وَمَعَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَسَعْدُ بْنُ عُقْبَةَ، وَرَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ، فَخَنَقَتْهُ الْعَبْرَةُ، وَقَالَ: مَا يَمْلِكُ الْعَبْدُ أَنْ يَسْبِقَ إِلَى قَلْبِهِ الْوَجْدُ، وَلَيْسَتْ مِنْكُمْ وَحْشَةٌ، وَإِنِّي أَجِدُ فِي قَلْبِي لَوْعَةً إِنْ لَمْ أُسَكِّنْهُ بَعَبْرَةٍ انْصَدَعَتْ كَبِدِي كَمَدًا وَأَسَفًا، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، الصَّبْرُ أَوْلَى بِكَ، فَنَظَرَ إِلَى سَعْدٍ وَرَجَاءٍ نَظْرَةَ مُسْتَغِيثٍ، فَقَالَ لَهُ رَجَاءٌ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، افْعَلْ مَا لَمْ تَأْتِ الْأَمْرَ الْمُفْرِطَ، فَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ عَلَى ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ ‌‌«تَدْمَعُ الْعَيْنُ، وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ، وَلَا نَقُولُ مَا يُسْخِطُ الرَّبَّ» فَبَكَى سُلَيْمَانُ بُكَاءً شَدِيدًا، ثُمَّ رَقَأَتْ عَبْرَتُهُ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ، ثُمَّ مَاتَ أَيُّوبُ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ دَفْنِهِ وَقَفَ عَلَى قَبْرِهِ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ:

[البحر الطويل]

وُقُوفٌ عَلَى قَبْرٍ مُقِيمٍ بِقَفْرَةٍ … مَتَاعٌ قَلِيلٌ مِنْ حَبِيبٍ مَفَارِقِ

ثُمَّ قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَيُّوبُ، ثُمَّ قَالَ:

[البحر السريع]

كُنْتَ لَنَا أُنْسًا فَفَارَقْتَنَا … فَالْعَيْشُ مِنْ بَعْدِكَ مُرُّ الْمَذَاقِ

وَقُرِّبَتْ إِلَيْهِ دَابَّتُهُ فَرَكِبَ، ثُمَّ عَطَفَ إِلَى الْقَبْرِ، فَقَالَ:

[البحر البسيط]

فَإِنْ صَبَرْتُ فَلَمْ أَلْفِظْكَ مِنْ شِبَعٍ … وَإِنْ جَزِعْتُ فَعِلْقٌ مُنْفِسٌ ذَهَبَا

⦗ص: 42⦘

 

18 - حَدَّثَنِي غَيْرُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ لَهُ: «يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، بَلِ الصَّبْرُ، فَإِنَّهُ أَقْرَبُ إِلَى اللَّهِ وَسِيلَةً، وَلَيْسَ الْجَزَعُ بِمُحْيٍ مَنْ مَاتَ، وَلَا بَرَادٍّ مَا فَاتَ» ، فَقَالَ سُلَيْمَانُ: صَدَقْتَ، وَبِاللَّهِ الْعِصْمَةُ وَالتَّوْفِيقُ "
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব (ইবনে সুলাইমান) আবদুল্লাহর পর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অধিকারী ছিলেন, সুলাইমান তাকে খিলাফতের জন্য মনোনীত করেছিলেন। অতঃপর তিনি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হলেন। যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সুলাইমান তার কাছে প্রবেশ করলেন। মুহাম্মদ ইবনুল মুগীরাহ আল-মাজিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আবু উসমান—যিনি ইলম অন্বেষণকারীগণের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের পুত্র আইয়ুবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তার পিতা তার নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় যে আইয়ুব অন্তিম শ্বাস নিচ্ছিলেন। তার সাথে ছিলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, সাদ ইবনে উকবা এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ। তখন সুলাইমানের কণ্ঠাশ্রু রুদ্ধ হয়ে এল এবং তিনি বললেন: "বান্দার হৃদয়ে যে শোকের উদয় হয় তা সে রুখতে পারে না, আর তোমাদের প্রতি কোনো উদাসীনতা থেকেও এটি নয়। তবে আমি আমার হৃদয়ে এমন এক দহন অনুভব করছি যে, যদি আমি অশ্রু বিসর্জনের মাধ্যমে তা প্রশমিত না করি, তবে গভীর ক্ষোভ ও দুঃখে আমার কলিজা বিদীর্ণ হয়ে যাবে।" তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, ধৈর্য ধারণ করাই আপনার জন্য উত্তম।" তখন সুলাইমান এক সাহায্যপ্রার্থীর দৃষ্টিতে সাদ ও রাজার দিকে তাকালেন। রাজা তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি সীমা লঙ্ঘন না করে যা করার করুন। কারণ আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের জন্য ব্যথিত হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দেয়, অন্তর ব্যথিত হয়, তবে আমরা মুখে এমন কিছু উচ্চারণ করি না যা প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করে।’ অতঃপর সুলাইমান ভীষণভাবে ক্রন্দন করলেন, এরপর তার অশ্রু থেমে গেল এবং তিনি তার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর আইয়ুব মৃত্যুবরণ করলেন। যখন তাকে দাফন করা শেষ হলো, সুলাইমান তার কবরের পাশে দাঁড়ালেন, সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন:

[আল-বাহর আত-তাবিল]

এক বিরাণ প্রান্তরে এক চিরস্থায়ী কবরের পাশে অবস্থান... এক চিরবিদায়ী প্রিয়জনের নিকট হতে প্রাপ্ত সামান্য পাথেয় মাত্র।

অতঃপর তিনি বললেন: "হে আইয়ুব, তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।" এরপর তিনি বললেন:

[আল-বাহর আস-সারী]

তুমি আমাদের জন্য ছিলে এক প্রশান্তি, এখন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে... তোমার পরে জীবন এখন তিক্ত স্বাদের।

অতঃপর তার সওয়ারি আনা হলে তিনি তাতে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি কবরের দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন:

[আল-বাহর আল-বাসীত]

যদি আমি ধৈর্য ধরি, তবে তার অর্থ এই নয় যে আমি তোমার থেকে তৃপ্ত হয়ে তোমাকে ত্যাগ করেছি... আর যদি আমি বিলাপ করি, তবে তা এক অতি মূল্যবান সম্পদ হারানোর শোকের কারণে।

⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘

 

১৮ - মুহাম্মদ ইবনুল মুগীরাহ ব্যতীত অন্য একজন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ সুলাইমানকে বলেছিলেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, বরং ধৈর্যই ধারণ করুন, কারণ তা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আর বিলাপ কোনো মৃতকে জীবিত করতে পারে না এবং যা গত হয়ে গেছে তা ফিরিয়ে আনতে পারে না।" সুলাইমান বললেন: "তুমি সত্য বলেছ, আর আল্লাহর কাছেই সুরক্ষা ও তৌফিক প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
19 - حَدَّثَنِي زَكَرِيَّا بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيَّ، حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عِنْدَ مَوْتِ ابْنِهِ: أَيَصْبِرُ الْمُؤْمِنُ حَتَّى لَا يَجِدَ لِمُصِيبَتِهِ أَلَمًا؟ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ،‌‌ لَا يَسْتَوِي عِنْدَكَ مَا تُحِبُّ وَمَا تَكْرَهُ، وَلَكِنَّ الصَّبْرَ مُعَوَّلُ الْمُؤْمِنِ "
১৯ - জাকারিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তামিমী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁর পুত্রের মৃত্যুর সময় উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে বলেছিলেন: মুমিন কি এমন ধৈর্য ধারণ করতে পারে যে সে তার বিপদের কোনো যাতনা অনুভব করবে না? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনার নিকট যা প্রিয় এবং যা অপ্রিয় তা সমান হতে পারে না, তবে ধৈর্যই হলো মুমিনের প্রধান অবলম্বন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
20 - وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ أَبِي يَحْيَى السُّلَمِيُّ، عَنِ الْأَصْمَعِيِّ، قَالَ: اشْتَدَّ جَزَعُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَلَى ابْنِهِ أَيُّوبَ، أَتَى إِلَيْهِ الْمُعَزُّونَ مِنَ الْآفَاقِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ: ‌‌«إِنَّ امْرَأً حَدَّثَ نَفْسَهُ بِالْبَقَاءِ فِي الدُّنْيَا، ثُمَّ ظَنَّ أَنَّ الْمَصَائِبَ لَا تُصِيبُهُ فِيهَا لَغَيْرُ جَيِّدِ الرَّأْيِ»
২০ - হারুন ইবনে আবি ইয়াহইয়া আস-সুলামি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আসমাঈ থেকে, তিনি বলেন: সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিক তার পুত্র আইয়ুবের মৃত্যুতে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়লেন। বিভিন্ন দিগন্ত থেকে শোক প্রকাশকারীরা তার নিকট আসলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি দুনিয়াতে চিরকাল বেঁচে থাকার কল্পনা করে, অতঃপর ধারণা করে যে তাকে কোনো বিপদ-আপদ স্পর্শ করবে না, সে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনাবোধের অধিকারী।»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
21 - وَأَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ قُرَيْشٍ، قَالَ: قَامَ إِلَى سُلَيْمَانَ زِيَادُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ زِيَادٍ لَمَّا تُوُفِّيَ ابْنُهُ أَيُّوبُ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ كَانَ يَقُولُ ‌‌«مَنْ أَحَبَّ الْبَقَاءَ فَلْيُوَطِّنْ نَفْسَهُ عَلَى الْمَصَائِبِ»
২১ - উমর ইবনে বুকাইর কুরাইশ গোত্রের একজন শায়খের সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমানের পুত্র আইয়ুব যখন ইন্তেকাল করেন, তখন যিয়াদ ইবনে উসমান ইবনে যিয়াদ তাঁর নিকট দণ্ডায়মান হয়ে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, নিশ্চয়ই আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা বলতেন: «যে ব্যক্তি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পছন্দ করে, সে যেন নিজেকে বিপদ-আপদের জন্য প্রস্তুত করে নেয়»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
22 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ وَاقِعٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ كِنْدِيرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ: عَزَّى أَيُّوبُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ كَعْبٍ سُلَيْمَانَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنِ ابْنِهِ، فَقَالَ ‌‌«آجَرَكَ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْبَاقِي، وَبَارَكَ لَكَ فِي الْفَانِي»
২২ - মুহাম্মদ ইবনু সাহল আত-তামিমী আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনু ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দামরাহ ইবনু রাবি'আহ থেকে, তিনি কিনদীর ইবনু সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনু বাশীর ইবনু কা'ব সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিকের পুত্রের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন: «হে আমীরুল মু'মিনীন! আল্লাহ আপনাকে যা অবশিষ্ট আছে তাতে প্রতিদান দান করুন এবং যা নশ্বর (চলে গেছে) তাতে বরকত দান করুন»
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
23 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ حَفْصٍ الْمَرْوَزِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي كِنَانَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي بَرِيدٌ لِيَزِيدَ بْنِ الْمُهَلَّبِ قَالَ: "‌‌ حَمَلْتُ حِمْلَيْنِ مِسْكٍ مِنْ خُرَاسَانَ إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى بَابِ ابْنِهِ أَيُّوبَ - وَهُوَ وَلِيُّ الْعَهْدِ - فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا دَارٌ مُجَصَّصَةٌ حِيطَانُهَا وَسُقُوفُهَا، وَإِذَا فِيهَا وُصَفَاءُ وَوَصَائِفُ، عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ صُفْرَةٌ، وَحُلِيُّ الذَّهَبِ، ثُمَّ أُدْخِلْتُ دَارًا أُخْرَى، فَإِذَا حِيطَانُهَا وَسُقُوفُهَا خَضْرٌ، وَإِذَا وُصَفَاءُ وَوَصَائِفُ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ خَضْرٌ، وَحُلِيُّ الزُّمُرُّدِ، قَالَ: فَوَضَعْتُ الْحِمْلَيْنِ بَيْنَ يَدَيْ أَيُّوبَ وَهُوَ قَاعِدٌ عَلَى سَرِيرٍ مَعَهُ امْرَأَتُهُ، لَمْ أَعْرِفْ أَحَدَهُمَا مِنْ صَاحِبِهِ، فَانْتُهِبَ الْمِسْكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ، فَقُلْتُ لَهُ: أَيُّهَا الْأَمِيرُ، اكْتُبْ لِي بَرَاءَةً، فَزَبَرَنِي، فَخَرَجْتُ فَأَتَيْتُ سُلَيْمَانَ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا كَانَ، فَقَالَ: قَدْ عَرَفْنَا قِصَّتَكَ، فَكَتَبَ لِي بَرَاءَةً، ثُمَّ عُدْتُ بَعْدَ أَحَدَ عَشَرَ يَوْمًا، فَإِذَا أَيُّوبُ وَجَمِيعُ مَنْ كَانَ مَعَهُ فِي دَارِهِ قَدْ مَاتُوا، أَصَابَهُمُ الطَّاعُونُ "
২৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আল-বালখী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস আত-তামিমী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে হাফস আল-মারওয়াযী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে শাকীক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুবারক থেকে, তিনি আবু কিনানাহ থেকে, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে আল-মুহাল্লাবের বার্তাবাহক বারীদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "‌‌ আমি খুরাসান থেকে সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট দুই বোঝা কস্তুরী বহন করে নিয়ে এসেছিলাম। অতঃপর আমি তাঁর পুত্র আইয়ুবের প্রাসাদে পৌঁছালাম - আর তিনি ছিলেন মনোনীত উত্তরাধিকারী - এরপর আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। দেখলাম এক পলেস্তারা করা গৃহ যার দেয়াল ও ছাদসমূহ সুসজ্জিত। আর সেখানে ছিল কিশোর ও কিশোরী ভৃত্যগণ, যাদের পরিধানে ছিল পীতবর্ণের পোশাক এবং স্বর্ণালংকার। অতঃপর আমাকে অন্য একটি গৃহে প্রবেশ করানো হলো, যার দেয়াল ও ছাদসমূহ ছিল সবুজ রঙের। সেখানেও ছিল কিশোর ও কিশোরী ভৃত্যগণ যাদের পরিধানে ছিল সবুজ পোশাক এবং পান্নার অলংকার। তিনি বলেন: আইয়ুব একটি সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রীও ছিল। আমি আইয়ুবের সম্মুখে দুই বোঝা কস্তুরী রাখলাম। (তাদের চাকচিক্যের কারণে) আমি তাঁদের একজনকে অন্যজন থেকে পৃথক করে চিনতে পারছিলাম না। এরপর তাঁর সম্মুখ থেকে কস্তুরীগুলো দ্রুত গ্রহণ করা হলো। আমি তাঁকে বললাম: হে আমির! আমাকে একটি খালাসনামা (প্রাপ্তিস্বীকার পত্র) লিখে দিন। কিন্তু তিনি আমাকে ধমক দিলেন। ফলে আমি বেরিয়ে এলাম এবং সুলায়মানের নিকট গিয়ে যা ঘটেছিল তা ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন: আমরা তোমার ঘটনা জেনেছি। অতঃপর তিনি আমাকে একটি খালাসনামা লিখে দিলেন। এরপর এগারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি পুনরায় ফিরে এলাম এবং দেখলাম যে, আইয়ুব এবং তাঁর প্রাসাদে তাঁর সাথে থাকা সকলেই মৃত্যুবরণ করেছেন; প্লেগ মহামারি তাঁদের আক্রান্ত করেছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٥)
24 - حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ لَاحِقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: " قَدِمْتُ الْبَحْرَيْنَ فِي تِجَارَةٍ، فَنَزَلَتْ ⦗ص: 46⦘ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَقُومُونَ بِأُمُورِ النَّاسِ كَالسَّمَاسِرَةِ، فَإِذَا إِخْوَةٌ وَعَبِيدٌ وَتِجَارَةٌ، وَغِنًى ظَاهِرٌ، وَحَالٌ حَسَنَةٌ، وَالنَّاسُ إِلَيْهِمْ عُنُقٌ وَاحِدٌ مُقْبِلِينَ وَمُدْبِرِينَ، وَلَهُمْ أُمٌّ فِي مَسْجِدٍ لَهَا مُقْبِلٌ عَلَيْهَا بَثُّهَا حَزِينَةٌ، فَلَمَّا قَضَيْتُ حَاجَتِي، وَأَرَدْتُ الِانْحِدَارَ دَنَوْتُ مِنْهَا، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهَا وَعَرَضْتُ عَلَيْهَا الْحَاجَةَ، فَقَالَتْ: حَاجَتِي‌‌ إِنْ عُدْتَ إِلَى بِلَادِنَا أَنْ تَأْتِيَنَا وَتُلِمَّ بِنَا، قَالَ: فَقَدِمْتُ الْبَصْرَةَ، فَمَا لَبِثْتُ إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى خَرَجْتُ إِلَى الْبَحْرَيْنِ، فَذَكَرْتُ قَوْلَهَا فَمَضَيْتُ نَحْوَهُمْ، حَتَّى دَنَوْتُ إِلَى بَابِهِمْ، وَمَا أُثْبِتُهُ، فَاسْتَأْذَنْتُ فَخَرَجَتْ إِلَيَّ خَادِمٌ أَوْ مُحَرَّرَةٌ، فَقُلْتُ لَهَا: هَذَا مَنْزِلُ بَنِي فُلَانٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قُلْتُ: مَا فَعَلُوا؟ قَالَتْ: مَاتُوا، وَإِذَا ضَحِكٌ فِي الدَّارِ، قُلْتُ: مَا فَعَلَتْ أُمُّهُمْ؟ قَالَتْ: هَذَا ضَحِكُهَا، مَا فِي الدَّارِ غَيْرِي وَغَيْرُهَا، قُلْتُ: اسْتَأْذِنِي لِي عَلَيْهَا، فَدَخَلْتُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهَا، وَجَعَلْتُ أُقَلِّبُ طَرَفِي فِي الدَّارِ فَلَا أَرَى مِمَّا كُنْتُ عَهِدْتُ شَيْئًا، قَالَتْ: كَأَنَّكَ مُنْكِرٌ؟ قُلْتُ: إِي وَاللَّهِ، وَإِنِّي لَأَعْجَبُ إِنَّمَا فَارَقْتُكُمْ حَدِيثًا، قَالَتْ: فَإِنْ لَمْ نَعْدُ إِنْ فَارَقْتَنَا فَأَقْبَلَ قِبَلَنَا، فَمَا وَجَّهْنَا شَيْئًا بَحْرًا إِلَّا ذَهَبَ، وَمَا وَجَّهْنَا شَيْئًا بَرًّا إِلَّا ذَهَبَ، وَذَهَبَ بَنِيَّ الَّذِي رَأَيْتَ وَعَبِيدِي، قُلْتُ: فَأَخْبِرِينِي عَنْ ضَحِكِكِ الْيَوْمَ، وَحُزْنِكِ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَتْ: كُنْتُ أَخَافُ أَنْ لَا يَكُونَ لَنَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ، فَأَنَا الْيَوْمَ أَرْجُو، قَالَ: فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيتُ ابْنَ عُمَرَ، فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثَهَا، فَقَالَ: مَا سَبَقَهَا أَيُّوبُ عليه السلام إِلَى الْجَنَّةِ إِلَّا زَحْفًا، لَكِنَّ ابْنَ عُمَرَ ذَهَبَتْ خَمِيصَتُهُ فَأَسِيَ عَلَيْهَا فَغَمَّهُ ذَلِكَ "
২৪ - বিশর ইবন মুআয আল-আকাদী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন আব্দুল হামীদ ইবন লাহিক থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুসলিম ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাহরাইনে গেলাম। এরপর আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ এমন একটি পরিবারের নিকট অবস্থান করলাম যারা মানুষের কাজকর্মে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। সেখানে অনেক ভাই, দাস-দাসী, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রকাশ্য সচ্ছলতা ও উন্নত অবস্থা বিদ্যমান ছিল। মানুষ একযোগে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করত। তাদের এক জননী ছিলেন যিনি একটি মসজিদে (ইবাদতখানায়) অবস্থান করতেন, তার দুঃখ-বেদনা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখত এবং তিনি বিষণ্ণ থাকতেন। যখন আমি আমার প্রয়োজন সম্পন্ন করলাম এবং ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম এবং তার কোনো প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলাম। তিনি বললেন: আমার প্রয়োজন হলো যদি তুমি পুনরায় আমাদের এই দেশে ফিরে আসো, তবে আমাদের এখানে আসবে এবং আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি বসরায় ফিরে এলাম। অল্প কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি পুনরায় বাহরাইনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। তখন আমার সেই বৃদ্ধার কথা মনে পড়ল এবং আমি তাদের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলাম। এমনকি আমি তাদের দরজার নিকট পৌঁছালাম, তবে আমি সেটি ঠিকঠাক চিনতে পারছিলাম না। আমি অনুমতি প্রার্থনা করলাম, তখন একজন পরিচারিকা বা মুক্ত নারী বের হয়ে এল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: এটি কি অমুক পরিবারের বাসস্থান? সে বলল: হ্যাঁ। আমি বললাম: তারা কী করেছে? সে বলল: তারা সকলে মারা গেছে। এমতাবস্থায় আমি ঘরের ভেতর থেকে হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। আমি বললাম: তাদের মায়ের কী হয়েছে? সে বলল: এটি তারই হাসি, এই ঘরে আমি এবং তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই। আমি বললাম: তার নিকট প্রবেশের জন্য আমাকে অনুমতি দাও। আমি প্রবেশ করে তাকে সালাম দিলাম এবং ঘরের ভেতর দৃষ্টিপাত করতে লাগলাম, কিন্তু আমি পূর্বে যা দেখেছিলাম তার কিছুই সেখানে দেখতে পেলাম না। তিনি বললেন: মনে হচ্ছে তুমি বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করছ? আমি বললাম: হ্যাঁ আল্লাহর কসম! আমি বিস্মিত হচ্ছি কারণ আমি তো খুব অল্প সময় আগেই আপনাদের ছেড়ে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন: তুমি আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই একের পর এক বিপদ আসতে শুরু করে। আমরা সমুদ্রপথে যা কিছু প্রেরণ করেছি তা-ই বিনষ্ট হয়েছে এবং স্থলপথে যা প্রেরণ করেছি তা-ই ধ্বংস হয়েছে। আর তুমি আমার যেসব সন্তানদের এবং দাসদের দেখেছিলে তারা সকলেই চলে গেছে। আমি বললাম: তবে আপনার সেদিনের সেই বিষণ্ণতা এবং আজকের এই হাসির কারণ সম্পর্কে আমাকে বলুন? তিনি বললেন: সেদিন আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে আল্লাহর নিকট হয়তো আমাদের জন্য কোনো কল্যাণ নেই, আর আজ আমি (পুরস্কারের) আশা পোষণ করছি। মুসলিম ইবন ইয়াসার বলেন: এরপর আমি মদিনায় এসে ইবন উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে এই মহিলার কাহিনী শোনালাম। তখন তিনি বললেন: আইয়ুব আলাইহিস সালাম জান্নাতের পথে তার চেয়ে কেবল সামান্যই অগ্রগামী হতে পেরেছেন। অথচ ইবন উমরের একটি চাদর হারিয়ে যাওয়ায় তিনি তার জন্য ব্যথিত হয়েছিলেন এবং সেটি তাকে চিন্তিত করেছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
25 - حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ السَّدُوسِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطَّائِيِّ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: "‌‌ وَفَدَنِي أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فِي عَشَرَةٍ مِنَ الْعَرَبِ إِلَى الْيَمَنِ، فَبَيْنَا نَحْنُ ذَاتَ يَوْمٍ نَسِيرُ إِذْ مَرَرْنَا إِلَى جَانِبِ قَرْيَةٍ أَعْجَبَنَا عِمَارَتُهَا، فَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا: لَوْ مِلْنَا إِلَيْهَا، فَدَخَلْنَا، فَإِذَا هِيَ قَرْيَةٌ أَحْسَنُ مَا رَأَيْتُ، كَأَنَّهَا زَخَائِفُ الرَّقْمِ، وَإِذَا قَصْرٌ أَبْيَضُ بِفِنَائِهِ شِيبٌ وَشُبَّانٌ، وَإِذَا جَوَارٍ نَوَاهِدُ أَبْكَارٌ، قَدْ أَحْجَمَ الثَّدْيُ عَلَى نُحُورِهِنَّ، قَدْ أَخَذْنَ الْمِهْزَامَ وَهُنَّ يُدِرْنَ، وَسَطَهُنَّ جَارِيَةٌ قَدْ عَلَتْهُنَّ جَمَالًا، بِيَدِهَا دُفٌّ تَضْرِبُهُ وَتَقُولُ:

[البحر الرجز]

مَعْشَرَ الْحُسَّادِ مُوتُوا كَمَدَا … كَذَا نَكُونُ مَا بَقِينَا أَبَدَا

غَيَّبَ عَنَّا مَا نَعَانَا حَسَدَا … وَكَانَ جَدُّهُ الشَّقِيَّ الْأَنْكَدَا

وَإِذَا غَدِيرٌ مِنْ مَاءٍ، وَإِذَا سَرْجٌ مَمْدُودٌ كَثِيرُ الْمَوَاشِي وَالْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْخَيْلِ وَالْأَفْلَاءِ، وَإِذَا قُصُورٌ مُسْتَدِيرَةٌ، فَقُلْتُ لِأَصْحَابِنَا: لَوْ وَضَعْنَا رِحَالَنَا فَتَأْخُذُ الْعُيُونُ مِمَّا تَرَى حَظًّا، وَتَقْضِي ⦗ص: 48⦘ النُّفُوسُ مِنْهُ وَطَرًا، فَبَيْنَا نَضَعُ رِحَالَنَا إِذْ أَقْبَلَ قَوْمٌ مِنْ قِبَلِ الْقَصْرِ الْأَبْيَضِ، عَلَى أَعْنَاقِهِمُ الْبُسُطُ، فَبَسَطُوا لَنَا ثُمَّ مَالُوا عَلَيْنَا بِأَطَايِبِ الطَّعَامِ، وَأَلْوَانِ الْأَشْرِبَةِ، فَاسْتَرَحْنَا وَأَرَحْنَا، ثُمَّ نَهَضْنَا لِلرِّحْلَةِ، فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ وَقَالُوا: إِنَّ سَيِّدَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ يُقْرِئُكُمُ السَّلَامَ، وَيَقُولُ: اعْذُرُونِي عَلَى تَقْصِيرٍ إِنْ كَانَ مِنِّي، فَإِنِّي مَشْغُولٌ بِعُرْسٍ لَنَا، وَإِنْ أَحْبَبْتُمْ. .، فَدَعَوْنَا لَهُمْ وَبَرَّكْنَا، فَعَمَدُوا إِلَى مَا بَقِيَ مِنْ ذَلِكَ الطَّعَامِ فَمَلَؤُوا مِنْهُ سَفَرَنَا، فَقَضَيْتُ سَفَرِي وَرَجَعْتُ مُتَنَكِّبًا لِذَلِكَ الطَّرِيقِ، فَغَبَرَتْ بُرْهَةٌ مِنَ الدَّهْرِ، ثُمَّ وَفَدَنِي مُعَاوِيَةُ فِي عَشَرَةٍ مِنَ الْعَرَبِ، لَيْسَ مَعِي أَحَدٌ مِمَّنْ كَانَ فِي الْوَفْدِ، فَبَيْنَا أُحَدِّثُهُمْ بِحَدِيثِ الْقَرْيَةِ وَأَهْلِهَا إِذْ قَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ: أَلَيْسَ هَذَا الطَّرِيقُ الْآخِذُ إِلَيْهَا؟ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهَا فَإِذَا هِيَ دَكَادِكُ وَتُلُولٌ، وَأَمَّا الْقُصُورُ فَخَرَابٌ مَا يَبِينُ مِنْهَا إِلَّا الرُّسُومُ، وَأَمَّا الْغَدِيرُ فَلَيْسَ فِيهِ قَطْرَةٌ مِنَ الْمَاءِ، وَأَمَّا السَّرْجُ فَقَدْ عَفَا وَدَثَرَ أَمْرُهُ، فَبَيْنَا نَحْنُ وُقُوفٌ مُتَعَجِّبُونَ إِذْ لَاحَ لَنَا شَخَصٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْقَصْرِ الْأَبْيَضِ، فَقُلْتُ لِبَعْضِ الْغِلْمَانِ: انْطَلِقْ حَتَّى نَسْتَبْرِئَ ذَلِكَ الشَّخْصَ، فَقَال لَبِثَ أَنْ عَادَ مَرْعُوبًا، فَقُلْتُ لَهُ: مَا وَرَاءَكَ؟ فَقَالَ: أَتَيْتُ ذَلِكَ الشَّخْصَ فَإِذَا عَجُوزٌ عَمْيَاءُ فَرَاعَتْنِي، فَلَمَّا سَمِعَتْ حِسِّي قَالَتْ: أَسْأَلُكَ بِالَّذِي بَلَّغَكَ سَالِمًا إِلَّا أَخَذْتَ عَلَى عَيْنِكَ وَرُحْتَ حَتَّى دَخَلْتَ فِي التَّلِّ، ثُمَّ قَالَتْ: سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ، فَقُلْتُ: أَيَّتُهَا الْعَجُوزُ الْغَابِرَةُ، مَنْ أَنْتِ؟ وَمِمَّنْ أَنْتِ؟ ⦗ص: 49⦘ فَأَجَابَتْنِي بِصَوْتٍ مَا يُبِينُ، أَنَا عَمِيرَةُ بِنْتُ دَوْبَلٍ سَيِّدِ أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ فِي الزَّمَنِ الْأَوَّلِ:

[البحر الطويل]

أَنَا ابْنَةُ مَنْ قَدْ كَانَ يُقْرِي وَيُنْزِلُ … وَيَحْنُو عَلَى الضِّيفَانِ وَاللَّيْلُ أَلْيَلُ

مِنْ مَعْشَرٍ صَارُوا رَمِيمًا أَبُوهُمُ … أَبُو الْجَحَّافِ بِالْخَيْرِ دَوْبَلُ

قُلْتُ: مَا فَعَلَ أَبُوكِ وَقَوْمُكِ؟ قَالَتْ: أَفْنَاهُمُ الزَّمَانُ، وَأَبَادَتْهُمُ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامُ، وَبَقِيتُ بَعْدَهُمْ كَالْمَزْجِ بَوَّأَهُ الْوَكْرُ، قُلْتُ: هَلْ تَذْكُرِينَ زَمَانًا كَانَ لَكُمْ فِي عُرْسٌ، وَإِذَا جِوَارٍ أَخَذْنَ الْمِهْزَامَ، وَسْطَهُنَّ جَارِيَةٌ بِيَدِهَا دُفٌّ تَضْرِبُ بِهِ، وَتَقُولُ:

أَيُّهَا الْحُسَّادُ مُوتُوا كَمَدَا؟

فَشَهِقَتْ وَاسْتَعْبَرَتْ وَقَالَتْ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأَذْكُرُ ذَلِكَ الْعَامَ وَالشَّهْرَ وَالْيَوْمَ وَالْعَرُسُ، كَانَتْ أُخْتِي، وَأَنَا صَاحِبَةُ الدُّفِّ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهَا: هَلْ لَكِ أَنْ نَحْمِلَكِ عَلَى أَوْطَاءِ دَوَابِّنَا وَنَغْذُوكِ بِغِذَاءِ أَهْلِهَا؟ قَالَتْ: كَلَّا، عَزِيزٌ عَلَيَّ أَنْ أُفَارِقَ هَذِهِ الْأَعْظُمَ حَتَّى أَؤولُ إِلَى مَا آلُوا إِلَيْهِ، قُلْتُ: مِنْ أَيْنَ طَعَامُكِ؟ قَالَتْ: يَمُرُّ بِيَ الرَّكْبُ فِي الْقِرْطِ فَيُلْقُونَ إِلَيَّ مِنَ الطَّعَامِ مَا يَكْفِينِي، وَالَّذِي أَكْتَفِي بِهِ يَسِيرٌ، وَهَذَا الْكُوزُ مَمْلُوءٌ مَاءً، مَا أَدْرِي مَا يَأْتِينِي بِهِ، وَلَكِنْ أَيُّهَا الرَّكْبُ مَعَكُمُ امْرَأَةٌ؟ قُلْنَا: لَا، قَالَتُ: فمَعَكُمْ مِنَ الثِّيَابِ الْبَيَاضِ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، وَأَلْقَيْنَا إِلَيْهَا ثَوْبَيْنِ جَدِيدَيْنِ، فَتَجَلَّلَتْ بِهِمَا، وَقَالَتْ: رَأَيْتُ الْبَارِحَةَ كَأَنِّي عَرُوسٌ أَتَهَادَى مِنْ بَيْتٍ إِلَى بَيْتٍ، وَقَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ هَذَا يَوْمٌ أَمُوتُ فِيهِ، فَأَرَدْتُ امْرَأَةً تَلِي أَمْرِي، فَلَمْ تَزَلْ تُحَدِّثُنَا حَتَّى مَالَتْ فَنَزَعَتْ نَزْعًا يَسِيرًا وَمَاتَتْ، فَيَمَّمْنَاهَا وَصَلَّيْنَا عَلَيْهَا وَدَفَنَّاهَا، فَلَمَّا قَدِمْتُ عَلَى مُعَاوِيَةَ حَدَّثْتُهُ بِالْحَدِيثِ فَبَكَى، ثُمَّ قَالَ: لَوْ كُنْتُ مَكَانَكُمْ لَحَمَلْتُهَا، ثُمَّ قَالَ: وَلَكِنْ سَبَقَ الْقَدَرُ "
২৫ - আবু আবদুল্লাহ আস-সাদুসী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আবদুর রহমান আত-তায়ী থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি নুমান বিন বশির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) আমাকে দশজন আরোহীর সাথে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন। একদিন আমরা পথ চলছিলাম, এমন সময় আমরা একটি জনপদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যার নির্মাণশৈলী আমাদের মুগ্ধ করল। আমাদের কিছু সঙ্গী বললেন: আমরা যদি সেখানে একটু যেতাম। আমরা সেখানে প্রবেশ করলাম, দেখলাম সেটি আমার দেখা শ্রেষ্ঠ একটি গ্রাম, যেন কারুকার্যখচিত নকশা। সেখানে একটি শ্বেত প্রাসাদ ছিল, যার প্রাঙ্গণে বৃদ্ধ ও যুবক লোক ছিল। সেখানে নবযৌবনা কুমারী কন্যারা ছিল, যাদের বক্ষদেশ উন্নত ছিল। তারা বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরছিল। তাদের মাঝে এমন এক তরুণী ছিল যে সৌন্দর্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার হাতে একটি দফ ছিল যা সে বাজাচ্ছিল এবং বলছিল:

[রাজায ছন্দ]

হে ঈর্ষাপরায়ণ দল! তোমরা দুঃখে মরো … আমরা চিরকাল এভাবেই থাকব।

ঈর্ষা বশত আমাদের যে নিন্দা করা হতো তা আমাদের থেকে দূরে সরে গেছে … আর তার ভাগ্য ছিল দুর্ভাগা ও অত্যন্ত কষ্টকর।

সেখানে ছিল পানির জলাশয়, এবং বিস্তৃত চারণভূমি যেখানে প্রচুর গবাদিপশু, উট, গরু, ঘোড়া ও শাবক ছিল। চারপাশে গোলাকার প্রাসাদগুলো ছিল। আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: যদি আমরা আমাদের আসবাবপত্র নামাতাম তবে চোখগুলো এই দৃশ্য দেখে তৃপ্ত হতো এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ প্রাণগুলো তার বাসনা পূরণ করত। আমরা যখন আমাদের মালপত্র নামাচ্ছিলাম, তখন শ্বেত প্রাসাদের দিক থেকে একদল লোক এল, তাদের কাঁধে ছিল গালিচা। তারা আমাদের জন্য গালিচা বিছিয়ে দিল এবং আমাদের সামনে উপাদেয় খাবার ও হরেক রকমের পানীয় নিয়ে এল। আমরা বিশ্রাম নিলাম এবং আরাম করলাম। এরপর যখন আমরা যাত্রার জন্য উঠলাম, তখন সেই লোকেরা এল এবং বলল: এই জনপদের অধিপতি আপনাদের সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন: যদি আমার কোনো ত্রুটি হয়ে থাকে তবে আমাকে ক্ষমা করবেন, কারণ আমি আমাদের একটি বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত আছি, আর যদি আপনারা পছন্দ করেন...। আমরা তাদের জন্য দোয়া করলাম এবং বরকত কামনা করলাম। এরপর তারা অবশিষ্ট খাবার নিয়ে আমাদের সফরের পাথেয় পূর্ণ করে দিল। আমি আমার সফর শেষ করে সেই পথ এড়িয়ে ফিরে এলাম। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেল। এরপর মুয়াবিয়া (রা.) আমাকে দশজন আরোহীর সাথে পাঠালেন, কিন্তু পূর্বের দলের কেউ আমার সাথে ছিল না। আমি যখন তাদের সেই জনপদ এবং তার অধিবাসীদের গল্প শোনাচ্ছিলাম, তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: এটিই কি সেই পথ নয় যা সেখানে নিয়ে যায়? আমরা সেখানে পৌঁছলাম কিন্তু দেখলাম তা কেবল টিলা ও বালুর স্তূপ হয়ে আছে। আর প্রাসাদগুলো ছিল ধ্বংসাবশেষ, যার চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জলাশয়টিতে এক ফোঁটা পানিও নেই। চারণভূমি বিলীন হয়ে গেছে এবং তার অস্তিত্ব মুছে গেছে। আমরা যখন অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন শ্বেত প্রাসাদের দিক থেকে একটি অবয়ব আমাদের নজরে এল। আমি এক যুবককে বললাম: যাও, দেখে এসো সেই ব্যক্তিটি কে। সে ফিরে এল আতঙ্কিত হয়ে। আমি তাকে বললাম: কী হয়েছে? সে বলল: আমি সেই অবয়বের কাছে গিয়ে দেখলাম এক অন্ধ বৃদ্ধা, যাকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গেছি। সে যখন আমার পদধ্বনি শুনল, তখন বলল: যিনি তোমাকে নিরাপদে এখানে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, তুমি চোখ বন্ধ করো এবং টিলার ভেতরে প্রবেশ করো। এরপর সে বলল: তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞাসা করো। আমি বললাম: হে অবশিষ্ট বৃদ্ধা! তুমি কে? এবং তুমি কাদের অন্তর্ভুক্ত? ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ সে অস্পষ্ট স্বরে আমাকে জবাব দিল: আমি আমীরা বিনতে দাওবাল, প্রাচীনকালে এই জনপদের অধিপতির কন্যা:

[তবীল ছন্দ]

আমি সেই ব্যক্তির কন্যা যে মেহমানদারি করত এবং আশ্রয় দিত … এবং ঘোর অন্ধকারেও মেহমানদের প্রতি দয়ালু ছিল।

এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যারা এখন জীর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, যাদের পিতা … ছিল কল্যাণের অধিকারী আবুল জাহহাফ দাওবাল।

আমি বললাম: তোমার বাবা এবং তোমার কওমের কী হলো? সে বলল: কালচক্র তাদের ধ্বংস করে দিয়েছে, এবং দিন-রাত তাদের বিলীন করে দিয়েছে। আমি তাদের পরে এমনভাবে রয়ে গেছি যেন এক পরিত্যক্ত নীড়। আমি বললাম: তোমার কি সেই সময়ের কথা মনে আছে যখন তোমাদের এখানে একটি বিয়ে হয়েছিল, আর কিশোরীরা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘুরছিল, তাদের মাঝে এক তরুণী হাতে দফ নিয়ে বাজাচ্ছিল এবং বলছিল:

হে ঈর্ষাপরায়ণরা! তোমরা দুঃখে মরো?

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং কেঁদে ফেলল। সে বলল: আল্লাহর কসম! আমার সেই বছর, মাস ও দিনের কথা মনে আছে। সেই কনে ছিল আমার বোন, আর আমিই ছিলাম দফ হাতে সেই তরুণী। তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: তুমি কি চাও আমরা তোমাকে আমাদের বাহনে চড়িয়ে নিয়ে যাই এবং তোমাকে উন্নত খাবার খাওয়াই? সে বলল: কখনোই না। আমার কাছে এই হাড়গুলো ছেড়ে যাওয়া খুব কষ্টের, যতক্ষণ না আমি তাদের মতো হয়ে যাই। আমি বললাম: তোমার খাবার আসে কোথা থেকে? সে বলল: কাফেলাগুলো যখন এই পথে যায়, তখন তারা আমার জন্য পর্যাপ্ত খাবার রেখে যায়। আমার যা প্রয়োজন তা খুব সামান্য। আর এই কুঁজোটি পানিতে পূর্ণ, জানি না কে এটি আমার কাছে নিয়ে আসে। কিন্তু হে কাফেলা! তোমাদের সাথে কি কোনো মহিলা আছে? আমরা বললাম: না। সে বলল: তোমাদের কাছে কি কোনো সাদা কাপড় আছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। আমরা তাকে দুটি নতুন কাপড় দিলাম, সে সেগুলো দিয়ে নিজেকে আবৃত করল। সে বলল: গতরাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি একজন কনে, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাচ্ছি। আমার ধারণা আজই আমার মৃত্যুর দিন। তাই আমি একজন মহিলা চেয়েছিলাম যে আমার শেষ কাজগুলো সম্পন্ন করবে। সে আমাদের সাথে কথা বলতে থাকল, হঠাৎ সে কাত হয়ে পড়ল এবং সামান্য কষ্টের পর মৃত্যুবরণ করল। আমরা তাকে তায়াম্মুম করালাম, তার জানাজা পড়লাম এবং তাকে দাফন করলাম। যখন আমি মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে এলাম এবং তাকে এই ঘটনা শোনালাম, তিনি কেঁদে ফেললেন। এরপর বললেন: আমি যদি তোমাদের জায়গায় থাকতাম তবে অবশ্যই তাকে সাথে করে নিয়ে আসতাম। তারপর বললেন: কিন্তু তাকদির আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
26 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: دَخَلَ مُحَمَّدُ بْنُ زِيدَانَ الْكَاتِبُ يَوْمًا عَلَى يَحْيَى بْنِ خَالِدِ بْنِ بَرْمَكَ فَرَآهُ مَهْمُومًا مُفَكِّرًا، يَنْكُتُ فِي الْأَرْضِ، فَقَالَ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ، قَدْ ⦗ص: 51⦘ طَالَ فِكْرُكَ فَفِيمَ ذَاكَ، هَذَا ابْنُكَ الْفَضْلُ عَلَى خُرَاسَانَ، وَجَعْفَرٌ عَلَى الْعِرَاقِ، وَمُحَمَّدٌ عَلَى الْيَمَنِ، وَمُوسَى عَلَى الْجِبَالِ، وَأَنْتَ فِيمَا أَنْتَ فِيهِ؟ فَقَالَ: وَيْحَكَ، فَفِي هَذَا كَانَ فِكْرِي، وَلِمَا نَحْنُ فِيهِ كَثُرَ هَمِّي، أَنَا‌‌ عَلِمْتُ أَنَّ جَدِّي بَرْمَكَ كَانَ يَنْزِلُ النُّوبَهَارَ، وَكَانَ يَقْدُمُ فِي كُلِّ سَنَةٍ عَلَى هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَكَانَ يَأْلَفُ دِهْقَانًا بِالْجَبَلِ يَنْزِلُ عَلَيْهِ ذَاهِبًا، وَيُنَزِّلُ عَلَيْهِ رَاجِعًا، وَكَانَ فِي دُنْيَا عَرِيضَةٍ، وَأَمْرٍ وَاسِعٍ جِدًّا، فَقَالَ لَهُ جَدِّي مَرَّةً فِي بَعْضِ نُزُولِهِ عَلَيْهِ: إِنَّكَ مِنَ الدُّنْيَا لَفِي أَمْرٍ وَاسِعٍ، وَخَيْرٍ كَثِيرٍ، هَؤُلَاءِ وَلَدُكَ قَدْ سَاوَوْكَ، وَأَمْوَالُكَ مُنْتَشِرَةٌ، وِجَاهُكَ عَرِيضٌ، قَالَ: وَمَا يَنْفَعُنِي مِنْ ذَلِكَ وَقَدْ تَكَدَّرَ عَلَيَّ كُلُّ مَا أَنَا فِيهِ بِصَاحِبَتِي أُمِّ أَوْلَادِي، هِيَ الدَّهْرَ بَاكِيَةٌ لَيْلَهَا وَنَهَارَهَا، فَمَا أَتَهَنَّى بِشَيْءٍ مِمَّا أَنَا فِيهِ، وَلَا أَعْلَمُ مَا سَبَبُ بُكَائِهَا، وَلَا تُخْبِرُنِي بِهِ، قُلْتُ: أَفَتَأْذَنُ لِي فِي كَلَامِهَا؟ قَالَ: نَعَمْ، شَأْنُكَ وَذَاكَ، فَقُلْتُ: يَا هَذِهِ، إِنَّكُمْ مِنَ الدُّنْيَا فِي سَعَةٍ، وَمِنَ الْعَيْشِ فِيمَا أَنْتُمْ فِيهِ، وَقَدْ أَفْسَدْتِ ذَاكَ عَلَى صَاحِبِكَ بِطُولِ بُكَائِكِ، وَدَوَامِ حُزْنُكِ، فَمِمَّ ذَاكَ؟ قَالَتْ: أَمَا إِنَّهُ يُسَائِلُنِي عَنْ ذَاكَ مُنْذُ مُدَّةٍ فَمَا أُخْبِرُهُ، نَحْنُ أَهْلُ بَيْتٍ لَمْ نُصَبْ بِمُصِيبَةٍ، وَلَمْ تَنْزِلْ بِنَا جَائِحَةٌ، وَلَمْ نَثْكِلْ وَلَدًا، فَقَدْ عَلِمْتُ أَنَّ هَذَا لَا يَتِمُّ ⦗ص: 52⦘ عَلَى مَا أَرَى، وَنَفْسِي مُتَوَقِّعَةٌ أَمْرًا يَنْزِلُ بِنَا، فَطُولُ بُكَائِي، وَدَوَامُ حُزْنِي لِذَلِكَ، فَقُلْتُ لَهَا: فَلِمَ تُعَجِّلِينَ الْبُكَاءَ، دِعِي الْأَمْرَ حَتَّى يَقَعَ، قَالَتْ: إِنَّ نَفْسِي تَأْبَى أَنْ تَسْكُنَ مَعَ تَغَيُّرِ مَا تَعْلَمُ، قَالَ: فَارْتَحَلْتُ مِنْ عِنْدِهِمْ إِلَى هِشَامٍ، ثُمَّ رَجَعْتُ فَمَرَرْتُ بِهِمْ، فَإِذَا الْأَعْرَابُ وَالْأَكْرَادُ قَدْ أَغَارُوا عَلَيْهِمْ، فَقَتَلُوا الدِّهْقَانَ وَوَلَدَهُ، وَأَخَذُوا أَمْوَالَهُمْ، وَأَخْرَبُوا ضِيَاعَهُمْ، فَأَتَيْتُ الْمَرْأَةَ فَتَوَجَّعْتُ لَهَا مِمَّا نَزَلَ بِهِمْ، فَقَالَتْ: أَبَا فُلَانٍ، قَدْ حَلَّ بِنَا مَا كُنَّا نَتَوَقَّعُ، فَهَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَيْءٍ؟ فَقَالَ يَحْيَى بْنُ خَالِدٍ: وَيْحَكَ، فَإِنَّمَا طَالَ فِكْرِي لِلْأَمْرِ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ، قَالَ: فَمَا لَبِثُوا أَنْ حَلَّ بِهِمْ مَا حَلَّ "
২৬ - বনু হাশেমের মুক্ত দাস মুহাম্মাদ ইবনে আবি রাজা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে দিনার আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লেখক মুহাম্মাদ ইবনে যাইদান একদিন ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাকের কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাকে অত্যন্ত চিন্তিত ও বিমর্ষ অবস্থায় মাটির ওপর কিছু একটা আঁচড় কাটতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ আপনার চিন্তা তো দীর্ঘ হচ্ছে, এর কারণ কী? আপনার এই পুত্র ফজল খোরাসানের দায়িত্বে, জাফর ইরাকের দায়িত্বে, মুহাম্মাদ ইয়ামেনের দায়িত্বে এবং মুসা জিবাল অঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে, আর আপনিও আপনার বর্তমান সুউচ্চ অবস্থানে আসীন আছেন। তখন তিনি বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! মূলত এই বিষয়টি নিয়েই আমার চিন্তা ছিল, আর আমরা যে সচ্ছল অবস্থার মধ্যে আছি তার কারণেই আমার দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে। আমি জানি যে, আমার দাদা বারমাক 'নওবিহার'-এ বসবাস করতেন এবং তিনি প্রতি বছর হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে আসতেন। যাওয়ার সময় এবং ফেরার পথে তিনি পাহাড়ের এক দিহকানের (জমিদারের) কাছে আতিথ্য গ্রহণ করতেন। সেই ব্যক্তিটি অত্যন্ত সচ্ছল এবং অত্যন্ত বিস্তৃত ধন-সম্পদের অধিকারী ছিল। আমার দাদা একবার তার কাছে অবস্থানের সময় তাকে বলেছিলেন: আপনি তো দুনিয়াবি দিক থেকে অত্যন্ত সচ্ছলতা ও প্রচুর কল্যাণের মাঝে আছেন। আপনার এই সন্তানরা আপনার সমান মর্যাদা লাভ করেছে, আপনার সম্পদ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এবং আপনার প্রতিপত্তিও সুদূরপ্রসারী। সে উত্তর দিল: এসবে আমার কী লাভ যখন আমার স্ত্রী তথা সন্তানদের মায়ের কারণে আমার বর্তমান এই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। সে দিন-রাত সারাক্ষণ কাঁদছে, ফলে আমি যা কিছুর মধ্যে আছি তার কোনো কিছুতেই আমি তৃপ্তি পাচ্ছি না। আর আমি তার কান্নার কারণও জানি না এবং সে আমাকে তা বলছেও না। আমি (দাদা) বললাম: আপনি কি আমাকে তার সাথে কথা বলার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আপনি বলতে পারেন। তখন আমি বললাম: হে নারী, আপনারা তো দুনিয়াবি সচ্ছলতা ও প্রাচুর্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন, অথচ আপনি আপনার স্বামীর আনন্দকে দীর্ঘ কান্না এবং অবিরাম শোকের মাধ্যমে নষ্ট করে দিচ্ছেন। এর কারণ কী? তিনি বললেন: আমার স্বামী অনেক দিন ধরেই আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন কিন্তু আমি তাকে কিছু বলিনি। মূলত আমরা এমন এক পরিবার যারা কখনো কোনো বিপদে পড়িনি, কোনো বড় বিপর্যয় আমাদের ওপর নেমে আসেনি এবং আমরা কখনো কোনো সন্তানও হারাইনি। তাই আমি বুঝতে পারছি যে, আমি যা দেখছি তা এভাবে পূর্ণতা ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ পাবে না, আর আমার মন আশঙ্কা করছে যে শীঘ্রই আমাদের ওপর কোনো বিপদ নেমে আসবে। মূলত আমার এই দীর্ঘ কান্না এবং অবিরাম শোক সেই আশঙ্কার কারণেই। তখন আমি তাকে বললাম: তাহলে আপনি কেন বিপদ আসার আগেই কান্নায় ত্বরান্বিত হচ্ছেন? বিষয়টি ঘটা পর্যন্ত তা স্থগিত রাখুন। তিনি বললেন: যা পরিবর্তন হতে পারে সে সম্পর্কে জেনেও আমার মন শান্ত হতে অস্বীকার করছে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি তাদের কাছ থেকে হিশামের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পরে ফিরে আসার সময় যখন তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম যে বেদুইন এবং কুর্দিরা তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। তারা সেই দিহকান এবং তার সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের ধন-সম্পদ লুট করেছে এবং তাদের ভূসম্পত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। তখন আমি সেই মহিলার কাছে গেলাম এবং তাদের ওপর যে বিপদ নেমে এসেছে তার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন: হে অমুকের বাবা, আমরা যার আশঙ্কা করছিলাম তাই আমাদের ওপর আপতিত হয়েছে। এখন কি আপনার কাছে এর কোনো সমাধান আছে? তখন ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! মূলত আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, সেই পরিণতির কথা ভেবেই আমার চিন্তা দীর্ঘ হচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর খুব বেশি সময় পার হয়নি যখন তাদের ওপরও সেই বিপদ আপতিত হলো যা হওয়ার ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٣)
27 - قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْخٍ: حَدَّثَنِي نَابِلُ بْنُ نَجِيحٍ، قَالَ: "‌‌ كَانَ بِالْيَمَامَةِ رَجُلَانِ ابْنَا عَمٍّ، فَكَثُرَ مَالُهُمَا، فَوَقَعَ بَيْنَهُمَا مَا يَقَعُ بَيْنَ النَّاسِ، فَرَحَلَ أَحَدُهُمَا عَنْ صَاحِبِهِ قَالَ: فَإِنِّي لَيْلَةً قَدْ ضَجِرْتُ بِرُغَاءِ الْإِبِلِ وَالْغَنَمِ وَالْكَثْرَةِ إِذْ أَخَذْتُ بِيَدِ صَبِيٍّ لِي وَعَلَوْتُ فِي الْجَبَلِ، فَأَنَا كَذَلِكَ إِذْ أَقْبَلَ السَّيْلُ، فَجَعَلَ مَالِي يَمُرُّ بِي وَلَا أَمْلِكُ مِنْهُ شَيْئًا، حَتَّى رَأَيْتُ نَاقَةً لِي قَدْ عَلِقَ خِطَامُهَا بِشَجَرَةٍ، فَقُلْتُ: لَوْ نَزَلْتُ إِلَى هَذِهِ فَأَخَذْتُهَا لَعَلِّي أَنْجُو عَلَيْهَا أَنَا وَبُنَيَّ هَذَا، فَنَزَلْتُ فَأَخَذْتُ الْخِطَامَ وَجَذَبَهَا السَّيْلُ، فَرَجَعَ عَلَيَّ غُصْنُ الشَّجَرَةِ فَذَهَبَ مَاءُ إِحْدَى عَيْنَيَّ، وَأَفْلَتَ الْخِطَامُ مِنْ يَدِي، فَذَهَبَتِ النَّاقَةُ، وَرَجَعْتُ إِلَى الصَّبِيِّ فَوَجَدْتُهُ قَدْ أَكَلَهُ الذِّئْبُ، فَأَصْبَحْتُ لَا أَمْلِكُ شَيْئًا، فَقُلْتُ: لَوْ ذَهَبْتُ إِلَى ابْنِ عَمِّي لَعَلَّهُ يُعْطِينِي شَيْئًا، فَمَضَيْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ لِي: قَدْ بَلَغَنِي مَا أَصَابَكَ، وَاللَّهِ مَا أَحْبَبْتُ أَنَّهُ قَدْ أَخْطَأَكَ، فَكَانَ ذَلِكَ أَشَدَّ مِمَّا أَصَابَنِي، فَقُلْتُ: أَمْضِي إِلَى الشَّامِ فَأَطْلُبُ، فَلَمَّا دَخَلْتُ إِلَى دِمَشْقَ إِذَا النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ أُصِيبَ بِابْنٍ لَهُ، فَاشْتَدَّ حُزْنُهُ عَلَيْهِ، فَأَتَيْتُ الْحَاجِبَ فَقُلْتُ: إِنِّي أُحَدِّثُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بِحَدِيثٍ يُعَزِّيهِ عَنْ مُصِيبَتِهِ هَذِهِ، فَقَالَ: أَذْكُرُ ذَلِكَ لَهُ، وَذَكَرَهُ فَقَالَ: أَدْخِلْهُ، فَأَدْخَلَنِي فَحَدَّثْتُهُ بِمُصِيبَتِي، فَقَالَ: قَدْ عَزَّيْتَنِي بِمُصِيبَتِكَ عَنْ مُصِيبَتِي، وَأَمَرَ لِي بِمَالٍ فَعُدْتُ وَتَرَاجَعَتْ حَالِي "
27 - সুলাইমান ইবনে আবি শাইখ বলেছেন: নাবিল ইবনে নাজিহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ইয়ামামায় দুই ব্যক্তি ছিল যারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই ছিল। তাদের ধন-সম্পদ প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপর তাদের মাঝে এমন কিছু (বিবাদ) ঘটল যা সাধারণত মানুষের মাঝে ঘটে থাকে। ফলে তাদের একজন তার সঙ্গীর কাছ থেকে পৃথক হয়ে চলে গেল। সে বলল: এক রাতে আমি উট ও বকরির ডাক এবং তাদের আধিক্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লাম। তখন আমি আমার এক শিশু সন্তানের হাত ধরলাম এবং পাহাড়ের উপরে আরোহণ করলাম। আমি এমতাবস্থায় ছিলাম যখন হঠাৎ পাহাড়ি ঢল আসল। আমার সমস্ত সম্পদ আমার সামনে দিয়ে ভেসে যেতে লাগল অথচ আমি তার কিছুই রক্ষা করতে পারছিলাম না। অবশেষে আমি আমার একটি উষ্ট্রীকে দেখলাম যার লাগাম একটি গাছের সাথে আটকে গিয়েছে। আমি মনে মনে বললাম: আমি যদি নিচে নেমে এটি ধরতাম, তবে হয়তো আমি এবং আমার এই ছোট ছেলেটি এর ওপর চড়ে রক্ষা পেতাম। ফলে আমি নিচে নামলাম এবং লাগামটি ধরলাম, কিন্তু পানির স্রোত সেটিকে সজোরে টেনে নিল। তখন গাছের একটি ডাল ছিটকে এসে আমার চোখে লাগল এবং আমার এক চোখের দৃষ্টি চলে গেল। আর লাগামটিও আমার হাত থেকে ছুটে গেল এবং উষ্ট্রীটি চলে গেল। এরপর আমি শিশুটির কাছে ফিরে এলাম এবং দেখলাম যে তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। আমি এমন অবস্থায় সকাল করলাম যে আমার মালিকানায় আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি ভাবলাম: আমি যদি আমার সেই চাচাতো ভাইয়ের কাছে যাই, তবে হয়তো সে আমাকে কিছু দেবে। আমি তার কাছে গেলাম। সে আমাকে বলল: তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আমি শুনেছি। আল্লাহর কসম, আমি মোটেও চাইনি যে বিপদ তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করুক (অর্থাৎ আমি এটাই চেয়েছিলাম)। তার এই কথা আমার ওপর ঘটে যাওয়া মুসিবতের চেয়েও বেশি কঠিন মনে হলো। আমি বললাম: আমি শামে (সিরিয়া) চলে যাব এবং সেখানে কিছু তালাশ করব। যখন আমি দামেস্কে প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম মানুষজন বলাবলি করছে যে, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার এক পুত্রকে হারিয়েছেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত শোকাহত। আমি দ্বাররক্ষীর কাছে এসে বললাম: আমি আমিরুল মুমিনীনকে এমন একটি কাহিনী শোনাব যা তাকে তার এই বিপদে সান্ত্বনা দেবে। সে বলল: আমি তার কাছে এটি উল্লেখ করব। সে তা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: তাকে ভেতরে প্রবেশ করাও। সে আমাকে ভেতরে নিয়ে গেল এবং আমি তাকে আমার বিপদের কাহিনী শোনালাম। তখন তিনি বললেন: তুমি তোমার বিপদের কাহিনী দ্বারা আমাকে আমার বিপদে সান্ত্বনা দিয়েছ। এরপর তিনি আমার জন্য সম্পদের নির্দেশ দিলেন। ফলে আমি ফিরে এলাম এবং আমার সচ্ছলতা ফিরে এল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٤)
28 - أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ "‌‌ قَدِمَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَى الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ وَمَعَهُ ابْنُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عُرْوَةَ، فَدَخَلَ مُحَمَّدُ بْنُ عُرْوَةَ دَارَ الدَّوَابِّ فَضَرَبَتْهُ دَابَّةٌ فَمَاتَ، وَوَقَعَتْ فِي رِجْلِ عُرْوَةَ الْآكِلَةُ، فَقَالَ لَهُ الْوَلِيدُ: اقْطَعْهَا، قَالَ: لَا، فَتَرَقَّتْ إِلَى سَاقِهِ، فَقَالَ الْوَلِيدُ: اقْطَعْهَا وَإِلَّا أَفْسَدَتْ جَسَدَكَ، فَقُطِعَتْ بِالْمِنْشَارِ وَهُوَ يُسَبِّحُ لَمْ يُمْسِكْهُ أَحَدٌ، فَقَالَ: {لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا} [الكهف: 62] وَلَمْ يَدَعْ وِرْدَهُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ "
২৮ - উমর ইবন বুকাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, কুরাইশ বংশের এক শায়খ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "উরওয়াহ ইবনুত জুবাইর ওয়ালিদ ইবন আব্দুল মালিকের নিকট আসলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে উরওয়াহ ছিলেন। অতঃপর মুহাম্মাদ ইবনে উরওয়াহ আস্তাবলে প্রবেশ করলে একটি পশু তাঁকে আঘাত করল, ফলে তিনি মারা গেলেন। আর উরওয়াহ-এর পায়ে পচন রোগ দেখা দিল। তখন ওয়ালিদ তাঁকে বললেন: এটি কেটে ফেলুন। তিনি বললেন: না। অতঃপর তা তাঁর পায়ের নলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। তখন ওয়ালিদ বললেন: এটি কেটে ফেলুন, অন্যথায় এটি আপনার পুরো দেহ নষ্ট করে দেবে। এরপর করাত দিয়ে তা কাটা হলো, এমতাবস্থায় তিনি তাসবীহ পাঠ করছিলেন এবং কেউ তাঁকে ধরে রাখেনি। অতঃপর তিনি বললেন: {অবশ্যই আমরা আমাদের এই সফরে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি} [আল-কাহফ: ৬২]। আর তিনি সেই রাতে তাঁর নিয়মিত ওযীফা বর্জন করেননি।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٦)
29 - قَالَ "‌‌ وَقَدِمَ عَلَى الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ ذَلِكَ الْيَوْمَ قَوْمٌ مِنْ بَنِي عَبْسٍ، فِيهِمْ رَجُلٌ ضَرِيرٌ، فَسَأَلَهُ عَنْ عَيْنَيْهِ، فَقَالَ لَهُ: بِتُّ لَيْلَةً فِي بَطْنِ وَادٍ وَلَا أَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ عَبْسِيًّا يَزِيدُ مَالُهُ عَلَى مَالِي، فَطَرَقَنَا سَيْلٌ فَذَهَبَ مَا كَانَ لِي مِنْ أَهْلٍ وَوَلَدٍ وَمَالٍ، غَيْرَ صَبِيٍّ مَوْلُودٍ وَبَعِيرٍ، وَكَانَ الْبَعِيرُ صَعْبًا فَنَدَّ، فَوَضَعْتُ الصَّبِيَّ وَاتَّبَعْتُ الْبَعِيرَ فَلَمْ أُجَاوِزْهُ حَتَّى سَمِعْتُ صَيْحَةَ الصَّبِيِّ، فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ وَرَأْسُ الذِّئْبِ فِي بَطْنِهِ يَأْكُلُهُ، وَاسْتَدْبَرْتُ الْبَعِيرَ لِأَحْبِسَهُ فَنَفَحَنِي بِرِجْلِهِ فَأَصَابَ وَجْهِيَ فَحَطَمَهُ، وَذَهَبَتْ عَيْنَايَ، فَأَصْبَحْتُ لَا أَهْلَ وَلَا مَالَ وَلَا وَلَدَ، فَقَالَ الْوَلِيدُ: انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى عُرْوَةَ فَيُخْبِرُهُ خَبَرَهُ، لِيَعْلَمَ أَنَّ فِي النَّاسِ مَنْ هُوَ أَعْظَمُ مِنْهُ بَلَاءً "
২৯ - তিনি বললেন "‌‌সেদিন বনী আবসের একদল লোক ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট উপস্থিত হলো। তাদের মধ্যে একজন অন্ধ লোক ছিল। অতঃপর তিনি তাকে তার চোখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, সে তাকে বলল: আমি এক রাতে একটি উপত্যকার অভ্যন্তরে ছিলাম। আমার জানামতে পৃথিবীতে বনী আবসের এমন কোনো ব্যক্তি ছিল না যার সম্পদ আমার চেয়ে বেশি ছিল। অতঃপর হঠাৎ আমাদের ওপর এক প্লাবন আঘাত করল, ফলে আমার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি এবং ধন-সম্পদ যা কিছু ছিল সব চলে গেল; শুধু একটি নবজাতক শিশু এবং একটি উট ছাড়া। উটটি ছিল অবাধ্য, তাই সেটি পালিয়ে গেল। আমি শিশুটিকে রেখে উটটির পিছু নিলাম। আমি উটটির নাগাল পাওয়ার আগেই শিশুটির চিৎকার শুনতে পেলাম। আমি তার কাছে ফিরে এলাম এবং দেখলাম যে, একটি নেকড়ের মাথা শিশুটির পেটের ভেতরে এবং সেটি তাকে খাচ্ছে। এরপর আমি উটটিকে আটকানোর জন্য সেটির পিছন দিক থেকে গেলাম, তখন সেটি তার পা দিয়ে আমাকে সজোরে আঘাত করল। সেই আঘাত আমার মুখে লাগায় তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল এবং আমার চোখ দুটি অন্ধ হয়ে গেল। এভাবে আমার কোনো পরিবার, ধন-সম্পদ বা সন্তান কিছুই অবশিষ্ট রইল না। তখন ওয়ালীদ বললেন: একে উরওয়ার নিকট নিয়ে যাও, সে যেন তাকে তার ঘটনাটি শোনায়; যাতে তিনি জানতে পারেন যে, মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যার বিপদ তার চেয়েও বেশি গুরুতর।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ওয়া আকাবুস সুরূর লিবনি আবীদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٥٦)
30 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الْمَازِنِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ أَبُو عُثْمَانَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ثِقَةٌ، قَالَ: نَظَرَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَذَا الْحُسْنِ، وَهَذِهِ النَّضَارَةِ، وَمَا ذَاكَ إِلَّا مِنْ قِلَّةِ الْحُزْنِ، فَقَالَتْ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، وَاللَّهِ إِنِّي لَيَذْبَحُنِي الْحُزْنُ مَا يُشْرِكُنِي فِيهِ أَحَدٌ، قَالَ: وَكَيْفَ؟ قَالَتْ:‌‌ ذَبَحَ زَوْجِي شَاةً مُضَحِّيًا، وَلِي صَبِيَّانِ يَلْعَبَانِ، فَقَالَ أَكْبَرُهُمَا لِلْأَصْغَرِ: أُرِيكَ كَيْفَ صَنَعَ أَبِي بِالشَّاةِ؟ فَعَقَلَهُ فَذَبَحَهُ، فَمَا شَعُرْنَا بِهِ إِلَّا مُتَشَحِّطًا، فَلَمَّا اسْتَهَلَّتِ الصَّيْحَةُ هَرَبَ الْغُلَامُ نَاحِيَةَ الْجَبَلِ فَرَهَقَهُ ذِئْبٌ فَأَكَلَهُ، وَنَحْنُ لَا نَعْلَمُ، وَقَدِ اتَّبَعَهُ أَبُوهُ يَطْلُبُهُ فَمَاتَ عَطَشًا، فَأَفْرَدَنِي الدَّهْرُ، قَالَ: فَكَيْفَ صَبْرُكِ؟ فَقَالَتْ: لَوْ رَأَيْتُ فِي الْجَزَعِ دَرَكًا مَا اخْتَرْتُ عَلَيْهِ "
৩০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুগীরা আল-মাযিনী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ আবু উসমান, যিনি বিদ্বানদের অন্তর্ভুক্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকালেন এবং বললেন: আমি ইতিপূর্বে এমন সৌন্দর্য ও সজীবতা কখনও দেখিনি, আর এটি কেবল দুঃখ-কষ্টের অনুপস্থিতির কারণেই। তখন স্ত্রী বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর কসম, দুঃখ আমাকে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করছে যাতে আমার সাথে আর কেউ অংশীদার নেই। তিনি বললেন: সেটি কীভাবে? তিনি বললেন: আমার স্বামী কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি বকরি জবাই করেছিলেন, আর আমার দুটি ছোট ছেলে খেলা করছিল। তাদের মধ্যে বড়টি ছোটটিকে বলল: আমি কি তোমাকে দেখাব বাবা বকরিটির সাথে কী করেছিলেন? অতঃপর সে তাকে বাঁধল এবং জবাই করে ফেলল। আমরা তা টের পাওয়ার আগেই সে রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল। যখন চিৎকার শুরু হলো, বড় ছেলেটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেল এবং একটি নেকড়ে তাকে আক্রমণ করে খেয়ে ফেলল, অথচ আমরা তা জানতাম না। তার পিতা তাকে খুঁজতে গিয়ে তৃষ্ণায় মারা গেলেন। এভাবেই কালপ্রবাহ আমাকে একাকী করে দিয়েছে। তিনি বললেন: তবে তোমার ধৈর্য কেমন? তিনি বললেন: যদি আমি অস্থিরতা ও বিলাপের মাঝে কোনো প্রতিকার দেখতে পেতাম, তবে আমি তা ছাড়া অন্য কিছু বেছে নিতাম না।