(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: -)
بلاغات ابن شهاب الزهري وإدراجاته في الكتب الستة   (عبد الحميد شيخون)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: بلاغات ابن شهاب الزُّهْرِيّ وإدراجاته في الكتب الستة

إعداد الباحث: عبد الحميد عبد الرازق شيخون محمد

رسالة: دكتوراه، قسم اللغة العربية وآدابها شعبة الدراسات الإسلامية كلية الآداب، جامعة الإسكندرية - مصر

إشراف: أ. د/ ناهد أحمد الشعراوي، د/ ماجدة أحمد سليمان

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 231

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440

কুতুবুস সিত্তা-তে ইবনে শিহাব আজ-জুহরি-র বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (بلاغات) এবং তাঁর অনুপ্রবেশ (إدراج) সমূহ   (আব্দুল হামিদ শেখুন)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: কুতুবুস সিত্তা-তে ইবনে শিহাব আজ-জুহরি-র বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (بلاغات) এবং তাঁর অনুপ্রবেশ (إدراج) সমূহ

গবেষক: আব্দুল হামিদ আব্দুল রাজ্জাক শেখুন মুহাম্মদ

থিসিস: পিএইচডি، আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামি শিক্ষা শাখা, কলা অনুষদ، আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় - মিসর

তত্ত্বাবধান: প্রফেসর ড/ নাহেদ আহমদ আশ-শা'রাওয়ী، ড/ মাজেদা আহমদ সুলাইমান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الإسكندرية

كلية الآداب

قسم اللغة العربية وآدابها

شعبة الدراسات الإسلامية

 

بلاغات ابن شهاب الزُّهْرِيّ وإدراجاته في الكتب الستة

"جمع وتخريج ودراسة"

بحث مقدم لاستكمال متطلبات الحصول على درجة دكتوراه الفلسفة في الآداب تخصص دراسات إسلامية

 

information of Ibn Shihab el-Zohri and his inputs in the six books

Collecting - documentating - study

إعداد الباحث/ عبد الحميد عبد الرازق شيخون محمد

 

تحت إشراف

 

أ. د/ ناهد أحمد الشعراوي

د/ ماجدة أحمد سليمان

 

1438 هـ - 2017 م
আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

কলা অনুষদ

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

ইসলামি শিক্ষা শাখা

 

ইবনে শিহাব আল-জুহরির অপ্রাপ্ত সনদযুক্ত বর্ণনা (بلاغات) এবং কুতুবে সিত্তায় তাঁর প্রক্ষিপ্ত বক্তব্য (إدراجات) সমূহ

"সংগ্রহ, উৎস নির্ণয় ও বিশ্লেষণ (تخريج) এবং পর্যালোচনা"

কলা অনুষদের অধীনে ইসলামি শিক্ষা বিষয়ে ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণের লক্ষ্যে দাখিলকৃত গবেষণাপত্র

 

ইবনে শিহাব আল-জুহরির বর্ণনা এবং কুতুবে সিত্তায় তাঁর প্রক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ

সংগ্রহ - উৎস নির্ণয় ও বিশ্লেষণ (تخريج) - পর্যালোচনা

গবেষক: আবদুল হামিদ আবদুল রাজ্জাক শাইখুন মুহাম্মাদ

 

তত্ত্বাবধানে

 

প্রফেসর ড. নাহিদ আহমদ আল-শা’রাউয়ি

ড. মাজিদা আহমদ সুলায়মান

 

১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد:

فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "مَن يُرد اللَّه به خيرًا يُفَقِّهه في الدِّين" (1)؛ فجعل النبي صلى الله عليه وسلم الخيرية في التفقه في الدين ليتسابق إليه الخيرون، وجعلهم ورثة الأنبياء، وجعلهم من أوفر الناس حظًا؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن العلماء ورثة الأنبياء، إن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهمًا، إنما ورثوا العلم، فمن أخذ به أخذ بحظ وافر" (2).

ومن بركات هذا العلم: أنه يلحق العامل به من عمله وحسناته بعد موته؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته علمًا علمه ونشره ..... الحديث" (3).

أسأل الله العظيم أن يجعلني وإياكم من هؤلاء المهتمين بتعلم العلم ونشره ابتغاء مرضاة الله عز وجل.

ولما كان الأمر كذلك صار حريًا أن ننهض للعلم وطلبه والسعي إليه، ونبذل الغالي والنفيس من أجله.

ومما لا شك فيه أن علم الحديث النبوي الشريف من أعظم العلوم الشرعية قدرًا وشرفًا؛ لما له من مكانة في التشريع الإسلامي، ولتعلقه المباشر بالدفاع عن النبي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) البخاري، الجامع المسند الصحيح (المعروف بصحيح البخاري)] طـ دار طوق النجاة، ط 1، 1422 هـ[: كتاب العلم، باب من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين، رقم (71)، 1/ 25.

(2) التِّرْمِذِيّ، سنن التِّرْمِذِيّ، تحقيق: أحمد محمد شاكر وآخرون] دار إحياء التراث العربي، بيروت، د. ط، د. ت [: كتاب العلم، باب ما جاء في فضل الفقه على العبادة، رقم (2682)، 5/ 48، وصححه الألباني في مشكاة المصابيح] المكتب الإسلامي، بيروت، ط 3، 1985 م [: رقم (212)، 1/ 74.

(3) ابن ماجة، سنن ابن ماجة، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي] دار الفكر، بيروت، د. ط، د. ت [: في افتتاح الكتاب، باب ثواب معلم الناس الخير، رقم (242)، 1/ 88، وصححه الألباني في مشكاة المصابيح: رقم (254)، 1/ 84.
‌ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর:

নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" (১); ফলে নবী (সা.) দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনকে কল্যাণের মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যাতে পুণ্যবান ব্যক্তিরা এর দিকে ধাবিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। তিনি তাঁদেরকে নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন এবং তাঁদেরকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান সাব্যস্ত করেছেন; কারণ নবী (সা.) এর বাণী: "নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন কেবল ইলম (জ্ঞান)। অতএব যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে পূর্ণ অংশ লাভ করল" (২)।

আর এই ইলমের বরকতসমূহের একটি হলো: এটি আমলকারীর মৃত্যুর পরেও তার আমল ও সওয়াব থেকে তার সাথে যুক্ত হতে থাকে; নবী (সা.) এর বাণীর কারণে: "মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজ থেকে যা তার সাথে যুক্ত হয় তার মধ্যে রয়েছে এমন ইলম যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে ..... হাদিস" (৩)।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন ও তা প্রচারের বিষয়ে যত্নশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

আর বিষয়টি যখন এমন, তখন ইলম অর্জন, তার অন্বেষণ ও অনুসন্ধানে সচেষ্ট হওয়া এবং এর জন্য মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ ব্যয় করা আমাদের জন্য সমীচীন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলমে হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি শরয়ি বিজ্ঞান; ইসলামি শরিয়তে এর সুউচ্চ অবস্থান এবং সরাসরি নবী (সা.) এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষার সাথে এর সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে।

--------------------------------------------

(১) আল-বুখারি, আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ (সহিহ বুখারি হিসেবে পরিচিত) [প্রকাশনী: দার তুগুন নাজাত, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরি]: কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন, হাদিস নং (৭১), ১/ ২৫।

(২) আত-তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আহমদ মুহাম্মদ শাকির ও অন্যান্য [প্রকাশনী: দার ইহয়া আত-তুরাছ আল-আরাবি, বৈরুত]: কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: ইবাদতের ওপর ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং (২৬৮২), ৫/ ৪৮; এবং আলবানি মিশকাতুল মাসাবিহ-এ একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন [প্রকাশনী: আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.]: হাদিস নং (২১২), ১/ ৭৪।

(৩) ইবনে মাজাহ, সুনান ইবনে মাজাহ, তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি [প্রকাশনী: দারুল ফিকর, বৈরুত]: কিতাবের শুরুতে, পরিচ্ছেদ: মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দানকারীর সওয়াব, হাদিস নং (২৪২), ১/ ৮৮; এবং আলবানি একে মিশকাতুল মাসাবিহ-এ সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন: হাদিস নং (২৫৪), ১/ ৮৪।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وسنته المباركة؛ كل هذا وغيره جعلني أوثر هذا العلم الشريف، وأختاره تخصصًا في دراستي، وقد وقع اختياري على موضوع " بلاغات ابن شهاب الزُّهْرِيّ وإدراجاته في الكتب الستة"؛ وذلك بجمع بلاغات الزُّهْرِيّ وإدراجاته من الكتب الستة ودراستها، وتمييز قوله من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبيان أسباب الإرسال ودوافع الإدراج عنده.

 

‌‌أولًا: أهمية الموضوع، وبواعث اختياره:

العلم بالحديث من أجل العلوم وأشرفها؛ حيث لا يمكن معرفة وفهم وتدبر القرآن إلا بمعرفة الحديث الشريف المبيّن، والمخصص، والمفسّر له، وعليه صار لا بُدّ من تمييز صحيح الحديث من سقيمه؛ لذا وقع اختياري على موضوع "بلاغات ابن شهاب الزُّهْرِيّ وإدراجاته في الكتب الستة"، وذلك للمساهمة في خدمة السنة النبوية المشرفة، من خلال بيان مواضع بلاغات وإدراجات الزُّهْرِيّ في أحاديث الكتب الستة، مما قد يكون ضعيفًا، ويرويه العامة والخاصة على اعتبار أنه صحيح.

ومما دعاني لاختيار هذا الموضوع ما يلي:

1 - رغبتي في التوسع وزيادة التمكن من علم الحديث.

2 - رغبتي في اختيار موضوع يفيدني، وطلاب العلم.

3 - تقديم دراسة تستوفي جوانب حياة الإمام الزُّهْرِيّ.

4 - وصل ما اتصل من بلاغات الإمام الزُّهْرِيّ.

5 - تمييز كلام النبي صلى الله عليه وسلم من كلام الزُّهْرِيّ في الكتب الستة، وبيان أسباب الإرسال ودوافع الإدراج عنده.

 

‌‌ثانيًا: أهداف البحث:

1 - التعريف بالإمام ابن شهاب الزُّهْرِيّ وبمكانته العلمية.

2 - معرفة الأحاديث التي بها بلاغ أو إدراج من الزُّهْرِيّ في الكتب الستة وتمييز كلام الزُّهْرِيّ من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.

3 - دراسة هذه الأحاديث؛ لبيان الصحيح منها من الضعيف.

4 - بيان أسباب الإرسال ودوافع الإدراج عند الزُّهْرِيّ.
এবং তাঁর বরকতময় সুন্নাহ; এসব কিছু এবং আরও অনেক কারণ আমাকে এই মহৎ ইলমকে অগ্রাধিকার দিতে এবং আমার অধ্যয়নের বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে এটি নির্বাচন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর আমার নির্বাচনের বিষয় হলো "কুতুবুস সিত্তাহ-এ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি-এর অসমর্থিত বর্ণনা (بلاغات) এবং সংযোজনসমূহ (إدراجات)"; এর মাধ্যমে কুতুবুস সিত্তাহ থেকে জুহরির বর্ণিত অসমর্থিত বর্ণনা (بلاغات) ও সংযোজনসমূহ (إدراجات) সংগ্রহ করে সেগুলো নিয়ে গবেষণা করা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সাথে তাঁর বাণীর পার্থক্য নিরূপণ করা এবং তাঁর ক্ষেত্রে সূত্রবিচ্ছিন্নতার (الإرسال) কারণসমূহ ও সংযোজনের (الإدراج) নেপথ্য কারণগুলো স্পষ্ট করা।

 

‌‌প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:

হাদিস শাস্ত্রের ইলম অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান; কারণ হাদিস শরিফের জ্ঞান ছাড়া কুরআন মাজিদের মর্ম উপলব্ধি, অনুধাবন এবং এর গবেষণা সম্ভব নয়, যা কুরআনের ব্যাখ্যাদানকারী, নির্দিষ্টকারী এবং বিশ্লেষণকারী হিসেবে কাজ করে। ফলে হাদিসের সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি "কুতুবুস সিত্তাহ-এ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি-এর অসমর্থিত বর্ণনা (بلاغات) এবং সংযোজনসমূহ (إدراجات)" বিষয়টি নির্বাচন করেছি, যাতে কুতুবুস সিত্তাহর হাদিসসমূহে জুহরির বর্ণিত অসমর্থিত বর্ণনা (بلاغات) ও সংযোজনগুলোর (إدراجات) প্রেক্ষিত স্পষ্ট করার মাধ্যমে সুন্নাহর সেবায় অবদান রাখা যায়। কেননা এর মধ্যে এমন কিছু বর্ণনা থাকতে পারে যা দুর্বল (ضعيف), অথচ সাধারণ এবং বিশিষ্ট সকলে তা সঠিক (صحيح) মনে করে বর্ণনা করে থাকেন।

এই বিষয়টি নির্বাচনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো:

১ - হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।

২ - এমন একটি বিষয় নির্বাচন করার ইচ্ছা যা আমার এবং জ্ঞান অন্বেষীদের উপকারে আসবে।

৩ - ইমাম জুহরির জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা উপস্থাপন করা।

৪ - ইমাম জুহরির অসমর্থিত বর্ণনাগুলোর (بلاغات) সনদ বা ধারাবাহিকতা খুঁজে বের করা।

৫ - কুতুবুস সিত্তাহ-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সাথে জুহরির নিজস্ব কথার পার্থক্য নির্ণয় করা এবং তাঁর বর্ণনায় সূত্রবিচ্ছিন্নতা (الإرسال) ও সংযোজনের (الإدراج) কারণসমূহ স্পষ্ট করা।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

১ - ইমাম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি এবং তাঁর ইলমি মাকাম বা পাণ্ডিত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

২ - কুতুবুস সিত্তাহ-এর যেসব হাদিসে জুহরি থেকে প্রাপ্ত অসমর্থিত বর্ণনা (بلاغ) বা সংযোজন (إدراج) রয়েছে তা শনাক্ত করা এবং জুহরির বাণীর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর পার্থক্য নির্ণয় করা।

৩ - এই হাদিসগুলো নিয়ে গবেষণা করা; যেন তার মধ্য থেকে সঠিক (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাগুলোকে আলাদা করা যায়।

৪ - জুহরির বর্ণনায় সূত্রবিচ্ছিন্নতা (الإرسال) এবং সংযোজনের (الإدراج) কারণসমূহ বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ثالثًا: صعوبات الدراسة:

من أهم الصعوبات التي واجهتني لإتمام هذه الدراسة هو منهجها الاستقرائي، حيث يوجّب عليّ هذا المنهج استقراء متون الكتب الستة، وكل ما يميط اللّثام عن مواضع الإدراج في هذه المتون: ككتب الشروح، وعلل الحديث، وغيرها، ولا شك في أن قراءة كل هذه الكتب للاهتداء لمواضع الإدراج فيها يحتاج إلى أضعاف الوقت المقرر لمثل هذه الدراسة.

وعليه فقد قمت بقراءة بعض الكتب قراءة كاملة، ككتاب: الفصل للوصل المدرج في النقل للخطيب البغدادي (ت: 463 هـ)، وكتاب: المدرج إلى المدرج للسيوطي (ت: 911 هـ)، ثم استعنت بالبحث الحاسوبي عن "لفظة" مدرج ومشتقاتها في استقراء الكتب الأخرى.

 

‌‌رابعا: الدراسات السابقة:

وقفتُ على بحث مصغر نشرته مجلة الجامعة الإسلامية في العدد الثاني (يونيو 2011 م) بعنوان: "بلاغات الإمام الزُّهْرِيّ وإدراجاته في صحيح البخاري" للباحثة سميحة حسن الأسود، وتناول هذا البحث المواضع التي فيها بلاغات وإدراجات الزُّهْرِيّ في صحيح البخاري دون النظر لأسانيد تلك البلاغات أو الحكم عليها أو تخريجها وبيان ما اتصل منها، أو تخريج الأحاديث التي اشتملت على الإدراج، ودون التوسع في دراسة بلاغات الزُّهْرِيّ وإدراجاته، كما أن الباحثة لم تستوعب في حصرها جميع بلاغات (1) الزُّهْرِيّ وإدراجاته (2) التي وقعت في صحيح البخاري؛ لذا فإني سأتناول بلاغات الزُّهْرِيّ وإدراجاته في الكتب الستة بما في ذلك صحيح البخاري ودراستها دراسة موسعة للوصول إلى حكم علمي على هذه البلاغات والإدراجات.

--------------------------------------------

(1) عدد البلاغات التي جمعتها الباحثة في بحثها أربعة بلاغات، اتفقتُ معها في ثلاثة بلاغات، واستبعدتُ واحدًا لم ينطبق عليه مفهوم البلاغ، ثم زدت ثلاثة لم تذكرها الباحثة؛ ليصبح العدد في هذه الدراسة ستة بلاغات.

(2) عدد الأحاديث المدرجة التي جمعتها الباحثة ستة وثلاثون حديثًا مدرجًا، اتفقت معها في اثنتين وثلاثين، واستبعدت أربعًا؛ لعدم دخول هؤلاء الأربع تحت مفهوم المدرج، ليصبح العدد في هذه الدراسة اثنتين وثلاثين حديثًا مدرجًا.
‌‌তৃতীয়: গবেষণার সীমাবদ্ধতা:

এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমি যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো এর আরোহী পদ্ধতি (منهج استقرائي)। কেননা এই পদ্ধতিটি আমাকে কুতুবুস সিত্তাহ-এর মূলপাঠসমূহ (متون) এবং এই মূলপাঠগুলোর মধ্যে অনুপ্রবেশের (الإدراج) স্থানসমূহ উন্মোচনকারী সকল কিতাব—যেমন: ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, হাদিসের গূঢ় ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) এবং অন্যান্য কিতাব—গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে বাধ্য করে। নিঃসন্দেহে এই ধরণের গবেষণার জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনুপ্রবেশের (الإدراج) স্থানসমূহ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে এই সমস্ত কিতাব অধ্যয়ন করার জন্য কয়েক গুণ বেশি সময়ের প্রয়োজন ছিল।

ফলশ্রুতিতে, আমি কিছু কিতাব আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি, যেমন: খতিব বাগদাদী (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) রচিত 'আল-ফাসল লিল ওয়াসল আল-মুদরাজ ফিন নাকল' এবং সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) রচিত 'আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ'। এরপর অন্যান্য কিতাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রে 'অনুপ্রবেশকৃত (مدرج)' শব্দ এবং এর ব্যুৎপন্ন রূপগুলো খুঁজে বের করার জন্য আমি কম্পিউটার সার্চের সাহায্য নিয়েছি।

 

‌‌চতুর্থ: পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকীর দ্বিতীয় সংখ্যায় (জুন ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ) প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্র পেয়েছি, যার শিরোনাম ছিল গবেষিকা সামিহা হাসান আল-আসওয়াদ কর্তৃক লিখিত: "সহিহ বুখারি-তে ইমাম যুহরীর উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) এবং তাঁর অনুপ্রবেশসমূহ (إدراجات)"। এই গবেষণাপত্রটিতে সহিহ বুখারি-তে যুহরীর উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) এবং অনুপ্রবেশ (إدراج) সংক্রান্ত স্থানগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; তবে এতে সেই উহ্যসূত্র বর্ণনাগুলোর (بلاغات) সনদসমূহ (أسانيد) বিবেচনা করা হয়নি, সেগুলোর ওপর কোনো হুকুম (حکم) প্রদান করা হয়নি, কিংবা সেগুলোর হাদিসের সূত্র উৎসধারা অনুসন্ধান (تخরিج) ও সেগুলোর মধ্যে যা সংযুক্ত (متصل) তার বর্ণনা দেওয়া হয়নি। এছাড়া অনুপ্রবেশ (إدراج) সম্বলিত হাদিসগুলোর সূত্র উৎসধারা অনুসন্ধান (تخريج) করা হয়নি এবং যুহরীর উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) ও অনুপ্রবেশ (إدراج) নিয়ে বিস্তারিত কোনো অধ্যয়নও করা হয়নি। একইভাবে গবেষিকা সহিহ বুখারি-তে বিদ্যমান যুহরীর সমস্ত উহ্যসূত্র বর্ণনা (১) (بلاغات) এবং অনুপ্রবেশ (২) (إدراجات) অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। অতএব, আমি কুতুবুস সিত্তাহ-তে (সহিহ বুখারি-সহ) যুহরীর উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) ও অনুপ্রবেশসমূহ (إدراجات) নিয়ে আলোচনা করব এবং এই উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) ও অনুপ্রবেশগুলোর (إدراجات) ওপর একটি তাত্ত্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করব।

--------------------------------------------

(১) গবেষিকা তাঁর গবেষণায় যে সংখ্যক উহ্যসূত্র বর্ণনা (بلاغات) সংগ্রহ করেছিলেন তার সংখ্যা ছিল চারটি। আমি তাঁর সাথে তিনটি বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত হয়েছি এবং একটিকে বর্জন করেছি কারণ সেটি উহ্যসূত্র বর্ণনার (بلاغ) সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় না। অতঃপর আমি আরও তিনটি বর্ণনা যোগ করেছি যা গবেষিকা উল্লেখ করেননি; ফলে এই গবেষণায় মোট উহ্যসূত্র বর্ণনার (بلاغات) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টি।

(২) গবেষিকা কর্তৃক সংগৃহীত অনুপ্রবেশকৃত (مدرج) হাদিসের সংখ্যা ছিল ছত্রিশটি। আমি তাঁর সাথে বত্রিশটির বিষয়ে একমত হয়েছি এবং চারটিকে বর্জন করেছি; কারণ এই চারটি অনুপ্রবেশকৃত (المدرج) সংজ্ঞার অধীনে পড়ে না। ফলে এই গবেষণায় মোট অনুপ্রবেশকৃত (مدرج) হাদিসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বত্রিশটি।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌خامسًا: منهج البحث:

اعتمدت في هذا البحث على المنهج الاستقرائي، حيث قمت بما يلي:

1 - تتبعت الأحاديث التي فيها بلاغ أو إدراج للإمام الزُّهْرِيّ في الكتب الستة فجمعتها.

2 - خرجت هذه الأحاديث تخريجًا يساعد في معرفة درجة الحديث والحكم عليه.

3 - تتبعت الطرق التي تتصل بها بلاغات الإمام الزُّهْرِيّ، فوصلتها إلا القليل.

4 - ميزت الكلام المدرج، بوضع خط تحته في موضعه من متن الحديث.

5 - بينت ما يثبت به الإدراج: إما بنص بعض الرواة على الإدراج، أو بنقل أقوال العلماء في ذلك، أو بيان من أخرج الحديث دون إدراج.

6 - قمت بدراسة الإسناد في الأحاديث التي لم ترد في الصحيحين، أو في أحدهما.

7 - ترجمت لرجال الإسناد في الأحاديث التي تناولتُ دراسة أسانيدها: وذلك بذكر اسم الراوي، وكنيته، وسنة وفاته.

8 - لم أترجم للصحابة، إلا المختلف فيهم، وغير المشهورين.

9 - جمعت أقوال أئمة الجرح والتعديل في الرواة المختلف فيهم للاجتهاد في الوصول إلى خلاصة القول فيهم.

10 - الرواة المتفق عليهم جرحًا أو تعديلًا ترجمت لهم ترجمة مجملة، مع الإشارة إلى مواضع الترجمة، واكتفيت بقولي فلان ثقة، أو أجمعوا على توثيقه، أو ضعيف.

11 - من لم أجد له ذكر في كتب التراجم، بينت ذلك بقولي: لم أجده.

12 - نقلت أحكام العلماء - المتقدمين والمتأخرين - على الأحاديث التي تناولتُ دراسة أسانيدها بحسب الحاجة، مع بيان حكمي الخاص بذلك ما استطعت.

13 - ما اتفق عليه البخاري ومسلم أقول فيه: صحيح؛ اتفق على إخراجه الشيخان.

14 - ترجمت للأعلام والأنساب والألقاب، وعرفت بالأماكن والبلدان.

15 - قمت بعمل فهارس للآيات والأحاديث والرواة والمصادر والمراجع والموضوعات.

16 - اخترت المراجع الحديثة المحققة قدر الإمكان، والمذيلة بأحكام المحققين؛ وذلك لتسهيل نقل أحكام المحققين دون الحاجة إلى تكرار العزو.

17 - التزمت بالمنهجية العلمية المتعلقة بكتابة البحوث العلمية في مثل هذا البحث
‌‌পঞ্চম: গবেষণার পদ্ধতি:

এই গবেষণায় আমি আরোহী পদ্ধতির (المنহج الاستقرائي) ওপর নির্ভর করেছি, যেখানে আমি নিম্নোক্ত কাজগুলো করেছি:

1 - আমি কুতুবুস সিত্তা-তে ইমাম যুহরী-র বর্ণিত এমন হাদিসসমূহ অনুসন্ধান করেছি যেখানে সনদবিহীন বর্ণনা (بلاغ) অথবা অনুপ্রবেশ (إدراج) রয়েছে এবং সেগুলো সংগ্রহ করেছি।

2 - আমি এই হাদিসসমূহ এমনভাবে বিশ্লেষণ (تخريج) করেছি যা হাদিসের মান (درجة الحديث) ও সে সম্পর্কে হুকুম (حكم) প্রদান করতে সহায়ক হয়।

3 - ইমাম যুহরী-র সনদবিহীন বর্ণনা (بلاغ) যে সূত্রগুলোর (طرق) মাধ্যমে সংযুক্ত হয় সেগুলো আমি অনুসন্ধান করেছি এবং অল্প কিছু বাদে সবগুলোকে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

4 - হাদিসের মূল পাঠের (متن الحديث) যেখানে অনুপ্রবেশকৃত বক্তব্য (مدرج) রয়েছে, তার নিচে দাগ দেওয়ার মাধ্যমে আমি সেটিকে পৃথক করেছি।

5 - কিসের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশ (إدراج) প্রমাণিত হয়েছে তা আমি বর্ণনা করেছি: হয় কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (راوي) বক্তব্যের মাধ্যমে, অথবা এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের উক্তি উদ্ধৃত করে, অথবা যারা অনুপ্রবেশ (إدراج) ছাড়াই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণনা উল্লেখ করে।

6 - আমি ঐ সকল হাদিসের সনদ (إسناد) নিয়ে গবেষণা করেছি যা সহীহাইন বা তাদের কোনো একটিতে বর্ণিত হয়নি।

7 - আমি যে সকল হাদিসের সনদ নিয়ে আলোচনা করেছি, তাদের বর্ণনাকারীদের (رجال الإسناد) জীবনী উল্লেখ করেছি: যেখানে বর্ণনাকারীর (راوي) নাম, উপনাম (كنية) এবং মৃত্যু সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

8 - আমি সাহাবীগণের জীবনী উল্লেখ করিনি, তবে যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং যারা প্রসিদ্ধ নন, তাদের কথা ভিন্ন।

9 - বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের (راوي) ব্যাপারে জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل)-এর ইমামদের উক্তিগুলো আমি একত্রিত করেছি যাতে তাদের সম্পর্কে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য গবেষণা (اجتهاد) করা যায়।

10 - যাদের নির্ভরযোগ্যতা বা অযোগ্যতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তাদের জীবনী আমি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং মূল জীবনীর উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এক্ষেত্রে আমি কেবল অমুক নির্ভরযোগ্য (ثقة), অথবা তার নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (توثيق) ব্যাপারে সকলে একমত, অথবা দুর্বল (ضعيف) - এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছি।

11 - জীবনী গ্রন্থে (كتب التراجم) যাদের উল্লেখ আমি পাইনি, তাদের ব্যাপারে বলেছি: "আমি তাকে খুঁজে পাইনি (لم أجده)"।

12 - যে সকল হাদিসের সনদ (إسناد) আমি অধ্যয়ন করেছি, সেগুলোর ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের হুকুম (حكم) প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধৃত করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী সে বিষয়ে আমার নিজস্ব সিদ্ধান্তও স্পষ্ট করেছি।

13 - বুখারী ও মুসলিম যে হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, সে সম্পর্কে আমি বলেছি: সহীহ (صحيح); শাইখাইন এটি বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

14 - আমি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (أعلام), বংশপরিচয় (أنساب) এবং উপাধিগুলোর (ألقاب) পরিচয় প্রদান করেছি এবং বিভিন্ন স্থান ও জনপদ সম্পর্কে পরিচিতি দিয়েছি।

15 - আমি আয়াত, হাদিস, বর্ণনাকারী (راوي), মূল উৎস, তথ্যসূত্র এবং বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট (فهارس) তৈরি করেছি।

16 - আমি যথাসম্ভব আধুনিক সম্পাদিত (محقق) তথ্যসূত্রগুলো বেছে নিয়েছি, যেগুলোতে গবেষকদের হুকুম (حكم) যুক্ত রয়েছে; যাতে বারবার উদ্ধৃতি (عزو) না দিয়ে সরাসরি মুহাক্কিকদের সিদ্ধান্তগুলো প্রদান করা সহজ হয়।

17 - এই ধরনের গবেষণাপত্র রচনার ক্ষেত্রে আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি (المنهجية العلمية) অনুসরণ করেছি।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
العلمي: كالتبويب، وعلامات الترقيم، والحواشي، والفهارس، ونحوها.

 

‌‌سادسًا: تقسيمات البحث:

وتشتمل على مقدمة وفصل تمهيدي وأربعة فصول وخاتمة.

تشتمل المقدمة على: أهمية الموضوع وبواعث اختياره وأهداف البحث، وصعوبات الدراسة، والدراسات السابقة، ومنهج البحث وطبيعة العمل، وتقسيمات البحث.

• فصل تمهيدي: في مقدمات عامة بين يدي البحث، وفيه مبحثان:

o المبحث الأول: البلاغات.

o المبحث الثاني: الحديث المدرج.

• الفصل الأول: سيرة الإمام ابن شهاب الزُّهْرِيّ، وفيه أربعة مباحث:

o المبحث الأول: ترجمة الإمام الزُّهْرِيّ.

o المبحث الثاني: عقيدته.

o المبحث الثالث: مكانته العلمية.

o المبحث الرابع: مراسيله ونسبة التدليس إليه.

• الفصل الثاني: بلاغات الزُّهْرِيّ في الكتب الستة، وفيه ستة مباحث:

o المبحث الأول: بلاغات الزُّهْرِيّ في صحيح البخاري.

o المبحث الثاني: بلاغات الزُّهْرِيّ في صحيح مسلم.

o المبحث الثالث: بلاغات الزُّهْرِيّ في سنن أبي داود.

o المبحث الرابع: بلاغات الزُّهْرِيّ في سنن التِّرْمِذِيّ.

o المبحث الخامس: بلاغات الزُّهْرِيّ في سنن النّسائي.

o المبحث السادس: بلاغات الزُّهْرِيّ في سنن ابن ماجة.

• الفصل الثالث: إدراجات الزُّهْرِيّ في الكتب الستة، وفيه ستة مباحث:

o المبحث الأول: إدراجات الزُّهْرِيّ في صحيح البخاري.

o المبحث الثاني: إدراجات الزُّهْرِيّ في صحيح مسلم.

o المبحث الثالث: إدراجات الزُّهْرِيّ في سنن أبي داود.

o المبحث الرابع: إدراجات الزُّهْرِيّ في سنن التِّرْمِذِيّ.
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: যেমন অধ্যায় বিন্যাস, বিরামচিহ্ন, পাদটীকা, নির্ঘণ্ট এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি।

 

‌‌ষষ্ঠত: গবেষণার বিভাজনসমূহ:

এটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিক অধ্যায়, চারটি মূল অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত: বিষয়ের গুরুত্ব, নির্বাচনের কারণ ও গবেষণার লক্ষ্যসমূহ, অধ্যয়নকালীন প্রতিকূলতা, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পদ্ধতি ও কাজের ধরন এবং গবেষণার বিভাজনসমূহ।

• প্রারম্ভিক অধ্যায়: গবেষণার পূর্বকথা সংক্রান্ত সাধারণ আলোচনার ভূমিকা, যাতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o ১ম পরিচ্ছেদ: বালাঘাত (البلاغات)।

o ২য় পরিচ্ছেদ: মুদরাজ হাদিস (الحديث المدرج)।

• প্রথম অধ্যায়: ইমাম ইবনে শিহাব আল-জুহরীর জীবনী, যাতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o ১ম পরিচ্ছেদ: ইমাম জুহরীর জীবনী।

o ২য় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা (বিশ্বাস)।

o ৩য় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মাকাম (বিদ্বৎমর্যাদা)।

o ৪র্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর মুরসাল (مراسيل) বর্ণনাসমূহ এবং তাঁর প্রতি তাদলীস (التدليس)-এর সম্পৃক্ততা।

• দ্বিতীয় অধ্যায়: কুতুবে সিত্তাহ-তে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات), যাতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o ১ম পরিচ্ছেদ: সহিহ বুখারীতে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

o ২য় পরিচ্ছেদ: সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

o ৩য় পরিচ্ছেদ: সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

o ৪র্থ পরিচ্ছেদ: সুনানে তিরমিজীতে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

o ৫ম পরিচ্ছেদ: সুনানে নাসাঈতে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

o ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত জুহরীর বালাঘাত (بلاغات)।

• তৃতীয় অধ্যায়: কুতুবে সিত্তাহ-তে বর্ণিত জুহরীর ইদরাজ (إدراجات), যাতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o ১ম পরিচ্ছেদ: সহিহ বুখারীতে বর্ণিত জুহরীর ইদরাজ (إدراجات)।

o ২য় পরিচ্ছেদ: সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত জুহরীর ইদরাজ (إدراجات)।

o ৩য় পরিচ্ছেদ: সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত জুহরীর ইদরাজ (إدراجات)।

o ৪র্থ পরিচ্ছেদ: সুনানে তিরমিজীতে বর্ণিত জুহরীর ইদরাজ (إدراجات)।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
o المبحث الخامس: إدراجات الزُّهْرِيّ في سنن النسائي.

o المبحث السادس: إدراجات الزُّهْرِيّ في سنن ابن ماجة.

• الفصل الرابع: أسباب الإرسال ودوافع الإدراج عند الزُّهْرِيّ، وفيه مبحثان:

o المبحث الأول: أسباب الإرسال عند الزُّهْرِيّ.

o المبحث الثاني: دوافع الإدراج عند الزُّهْرِيّ.

• الخاتمة: وتشتمل على أهم النتائج.

• الفهارس: وتشتمل على:

o فهرس الآيات القرآنية

o فهرس البلاغات

o فهرس الأحاديث المدرجة

o فهرس الصحابة المُتَرْجَم لهم

o فهرس الأعلام المُتَرْجَم لهم

o فهرس الرواة المُتَرْجَم لهم

o فهرس المصادر والمراجع

o فهرس الموضوعات
o পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সুনান আন-নাসায়ী-তে ইমাম যুহরীর প্রক্ষিপ্ত বর্ণনা (إدراجات) সমূহ।

o ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সুনান ইবনে মাজাহ-তে ইমাম যুহরীর প্রক্ষিপ্ত বর্ণনা (إدراجات) সমূহ।

• চতুর্থ অধ্যায়: ইমাম যুহরীর নিকট বিচ্ছিন্নতা (إرسال)-এর কারণ এবং প্রক্ষিপ্ত বর্ণনাকরণ (إدراج)-এর নেপথ্য কারণসমূহ; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম যুহরীর নিকট বিচ্ছিন্নতা (إرسال)-এর কারণসমূহ।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম যুহরীর নিকট প্রক্ষিপ্ত বর্ণনাকরণ (إدراج)-এর নেপথ্য কারণসমূহ।

• উপসংহার: এতে প্রধান ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

• নির্ঘণ্টসমূহ: যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

o কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট

o বালাঘাত (بلاغات)-এর নির্ঘণ্ট

o প্রক্ষিপ্ত (مدرجة) হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট

o জীবনীসংবলিত সাহাবীগণের নির্ঘণ্ট

o জীবনীসংবলিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট

o জীবনীসংবলিত বর্ণনাকারী (رواة)-গণের নির্ঘণ্ট

o তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্ট

o বিষয়সূচি
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
•‌‌ فصل تمهيدي: في مقدمات عامة بين يدي البحث:

o المبحث الأول: البلاغات

o المبحث الثاني: الحديث المدرج
•‌‌প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ: গবেষণার প্রাক্কালে সাধারণ ভূমিকা প্রসঙ্গে:

o প্রথম আলোচনা: সনদবিহীন বর্ণনা (البلاغات)

o দ্বিতীয় আলোচনা: অনুপ্রবিষ্ট (مدرج) হাদিস
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الأول: البلاغات

‌‌أولا: تعريف البلاغات

•‌‌ البلاغ في اللغة:

يقول ابن فارس: "الباء واللَّام والغين أصل واحد، وهو الوصول إلى الشَّيء. تقول بلغت المكان، إذَا وصلتَ إليه (1)، "والبُلُوغ والإبلاغ: الانتهاء إلى أقصى المَقْصد والمُنْتَهى، مكانًا كان، أَو زمانًا، أَو أمرًا من الأمور المُقَدَّرَة" (2)، يُقَالُ: أبْلَغَهُ الخَبَرَ إبْلاغًا، وبَلَّغَهُ تَبْلِيغًا (3)، "والبَلاغ: ما يُتَبَلَّغ بِه ويُتَوَصَّل إلى الشَّيء الْمَطْلُوب، والبَلاغ: ما بَلَغَك، .. والبَلاغ: الإِبْلاغ، والإِبلاغ: الإِيصال، وَكذلك التبْلِيغ" (4).

مما تقدم يتبيّن أن البلاغ هو: إيصال الخبر ونحوه، وقول القائل: بلغني، أي: وصل إليّ.

 

•‌‌ البلاغ في الاصطلاح:

لم أجد من المُحدِّثين من حد البلاغ باصطلاح معين، ولكن خص بعض أهل اللغة البلاغ في بعض معانيه بأنه: "ما بَلَغ من الْقُرْآن وَالسُّنَن" (5)، أي: ما رواه الراوي بصيغة بلغني عن فلان، وقد اشتهر في هذا الباب بلاغات مالك التي رواها في الموطأ، وقد استخدم ابن عبد البر "البلاغات" بهذا المعنى في التمهيد، حيث عقد بابًا في بلاغات مالك ومرسلاته (6)، وصلها إلا أربعة بلاغات، لم يجد لها إسنادًا، وقد وصلها ابن الصلاح

--------------------------------------------

(1) ابن فارس، معجم مقاييس اللغة، تحقيق: عبد السلام محمد هارون] دار الفكر، د. ط.، 1399 هـ[، مادة (بلغ).

(2) مرتضى الزبيدي، تاج العروس من جواهر القاموس، تحقيق: مجموعة من المحققين] دار الهداية، د. ط.، د. ت. [، مادة (بلغ).

(3) المصدر نفسه، مادة (بلغ).

(4) ابن منظور، لسان العرب] دار صادر، بيروت، ط 1، د. ت. [، مادة (بلغ).

(5) المصدر نفسه، مادة (بلغ).

(6) ابن عبد البر، التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد] وزارة عموم الأوقاف والشؤون الإسلامية، المغرب، د. ط.، 1387 هـ[، 24/ 161.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বালাগাত (بلاغات)

প্রথমত: বালাগাত (بلاغات)-এর সংজ্ঞা

• আভিধানিক অর্থে বালাগ (بلاغ):

ইবনে ফারিস বলেন: "বা (ب), লাম (ل) এবং গাইন (غ) একটিই মূল উৎস, যার অর্থ হলো কোনো কিছুতে পৌঁছানো। আপনি যখন কোনো স্থানে পৌঁছান, তখন বলা হয় 'বালাগতু আল-মাকান' (১)। 'বুলুগ' ও 'ইবলাগ' অর্থ হলো গন্তব্যের শেষ সীমানায় পৌঁছানো, তা স্থান হোক, কাল হোক অথবা কোনো নির্ধারিত বিষয় হোক (২)। বলা হয়: তাকে সংবাদটি পৌঁছানো (ইবলাগ) হয়েছে এবং তাকে তা পৌঁছে দেওয়া (তাবলিগ) হয়েছে (৩)। 'বালাগ' হলো এমন কিছু যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। 'বালাগ' অর্থ যা আপনার নিকট পৌঁছেছে... 'বালাগ' অর্থ পৌঁছে দেওয়া (ইবলাগ), আর 'ইবলাগ' অর্থ হলো পৌঁছানো (ইসাল), তদ্রূপ 'তাবলিগ' শব্দের অর্থও পৌঁছে দেওয়া (৪)।"

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, 'বালাগ' হলো: সংবাদ বা অনুরূপ কিছু পৌঁছে দেওয়া। আর বক্তার উক্তি: 'আমার নিকট পৌঁছেছে' (بلغني) এর অর্থ হলো: এটি আমার নিকট পৌঁছেছে।

 

• পারিভাষিক অর্থে বালাগ (بلاغ):

আমি হাদিস বিশারদগণের (محدثون) মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি বালাগ-কে সুনির্দিষ্ট কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন। তবে কতিপয় ভাষাবিদ 'বালাগ'-এর কোনো কোনো অর্থকে নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, তা হলো: "কুরআন ও সুন্নাহর যা কিছু বর্ণিত হয়েছে (৫)।" অর্থাৎ, বর্ণনাকারী যা 'অমুক থেকে আমার নিকট পৌঁছেছে' (بلغني عن فلان) শব্দযোগে বর্ণনা করেন। এই বিষয়ে ইমাম মালিকের বালাগাত (بلاغات) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যা তিনি মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে বালাগাত (بلاغات) শব্দটিকে এই অর্থেই ব্যবহার করেছেন, যেখানে তিনি ইমাম মালিকের বালাগাত (بلاغات) ও বিচ্ছিন্ন (مرسلات) বর্ণনাগুলোর ওপর একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন (৬)। তিনি চারটি বালাগাত (بلاغات) ব্যতীত বাকি সবগুলোর সূত্র সংযুক্ত করেছেন (وصل), যে চারটির কোনো সনদ (إسناد) তিনি পাননি; পরবর্তীতে ইবনে আস-সালাহ সেগুলোও সংযুক্ত করে (وصل) দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফারিস, মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ, সম্পাদনা: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন [দারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, ১৩৯৯ হি.], মূল শব্দ (بلغ)।

(২) মুরতাদা আজ-জাবিদি, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, সম্পাদনা: একদল গবেষক [দারুল হিদায়াহ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন], মূল শব্দ (بلغ)।

(৩) একই উৎস, মূল শব্দ (بلغ)।

(৪) ইবনে মঞ্জুর, লিসানুল আরব [দার সাদির, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, তারিখ বিহীন], মূল শব্দ (بلغ)।

(৫) একই উৎস, মূল শব্দ (بلغ)।

(৬) ইবনে আবদিল বার, আত-তামহিদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ [মন্ত্রণালয়, মরক্কো, সংস্করণ বিহীন, ১৩৮৭ হি.], ২৪/ ১৬১।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
في رسالة سماها "وصل بلاغات الموطأ" وقد استخدم أيضًا "البلاغات" بالمعنى المشار إليه.

ومن المعنى اللغوي للبلاغ واستخداماته عند المُحدِّثين يمكن القول إن البلاغ في مصطلح الحديث يعني: ما يرويه الراوي من أحاديث وآثار بصيغة بلغني عن فلان أو نحوها كذُكر لي أو رُوينا عن فلان، دون ذكر الواسطة بينه وبين قائل هذا الأثر أو فاعله.

 

‌‌ثانيًّا: علاقة البلاغات بالمعضل والمرسل

تعد البلاغات في عرف المُحدِّثين من المُعْضَل، قال ابن الصلاح: "وذكر أبو نصر السِّجْزِيّ (1) الحافظ قول الراوي: "بلغني" نحو قول مالك: بلغني عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: للمملوك طعامه وكسوته .... الحديث (2)، وقال: أصحاب الحديث يسمونه المعضل" (3). "والمُعْضَل: ما سقط من إسناده اثنان فأكثر على التوالي" (4)، "والمعضل من قسم الضَّعِيف" (5).

والإمام الزُّهْرِيّ من صغار التابعين، وبلاغاته التي رواها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي فيما أُرى من المرسل، وصورة المرسل عند المُحدِّثين: "أن يقول التابعيّ -سواء كانَ كبيرًا

--------------------------------------------

(1) الإمام العالم الحافظ المُجَوِّد شيخ السنّة، أبو نصر، عبيد الله بن سعيد بن حاتم بن أحمد الوَائِلِيّ، البَكْرِيّ، السِّجِسْتَانِيّ، شيخ الحرم، المتوفى في سنة 444 هـ (انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء للذهبي] مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 3، 1405 هـ[، 17/ 654).

(2) الحديث أخرجه الإمام مالك في الموطأ، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي] دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1406 هـ[، 1/ 64، ونصه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لِلْمَمْلُوكِ طَعَامُهُ وَكِسْوَتُهُ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَا يُكَلَّفُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَاّ مَا يُطِيقُ".

(3) ابن الصلاح، أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)] دار الفكر، بيروت، د. ط.، 1406 هـ[، ص 60.

(4) السَّخاوي، التوضيح الأبهر لتذكرة ابن الملقن في علم الأثر] مكتبة أضواء السلف، ط 1، 1418 هـ[، ص 44.

(5) ابن جماعة، المنهل الروي في مختصر علوم الحديث النبوي، تحقيق: د. محيي الدين عبد الرحمن رمضان] دار الفكر، دمشق، ط 2، 1406 هـ[، ص 47.
"وصل بلاغات الموطأ" (ওয়াসলু বালাগাতিল মুওয়াত্তা) নামক এক রিসালায় তিনি 'বালাগাত' শব্দটি উল্লেখিত অর্থেই ব্যবহার করেছেন।

বালাগ (সংবাদ পৌঁছানো)-এর শাব্দিক অর্থ এবং মুহাদ্দিসগণের নিকট এর ব্যবহার থেকে বলা যায় যে, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় বালাগ (البلاغ) অর্থ হলো: কোনো বর্ণনাকারী কর্তৃক এমন কোনো হাদিস বা আছর বর্ণনা করা যেখানে 'আমার নিকট অমুক থেকে সংবাদ পৌঁছেছে' বা এই জাতীয় শব্দ যেমন 'আমার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে' বা 'আমাদের নিকট অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে' শব্দ ব্যবহার করা হয়, অথচ বর্ণনাকারী এবং উক্ত আছরের প্রবক্তা বা কর্তার মধ্যবর্তী মাধ্যম উল্লেখ করা হয় না।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: বালাগাত-এর সাথে মু'দাল (المعضل) এবং মুরসাল (المرسل)-এর সম্পর্ক

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় বালাগাতসমূহকে মু'দাল (المعضل)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। ইবনুস সালাহ বলেন: "হাফিজ (الحافظ) আবু নাসর আস-সিজজি (১) বর্ণনাকারীর উক্তি 'আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে'—যেমন ইমাম মালিকের উক্তি: 'আবু হুরায়রা থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাসের জন্য তার খাদ্য ও পরিধেয় বস্ত্র...' হাদিস (২)—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ একে মু'দাল (المعضل) বলে অভিহিত করেন" (৩)। "আর মু'দাল (المعضل) হলো: যার সনদ থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে গেছে" (৪), "এবং মু'দাল (المعضل) হলো দুর্বল (الضعيف) হাদিসের একটি প্রকার" (৫)।

আর ইমাম যুহরি হলেন ছোট তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনি যে বালাগাতসমূহ বর্ণনা করেছেন, আমার দৃষ্টিতে সেগুলো মুরসাল (المرسل)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর মুহাদ্দিসগণের নিকট মুরসাল (المرسل)-এর রূপ হলো: "তাবেয়ি কর্তৃক এমন বলা—তিনি বড় তাবেয়ি হোন বা...

--------------------------------------------

(১) ইমাম, আলিম, হাফিজ (الحافظ), মুজাওয়িদ, সুন্নাহর শাইখ আবু নাসর উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে হাতিম ইবনে আহমাদ আল-ওয়াইলি আল-বাকরি আস-সিজজিস্তানি। তিনি হারামের শাইখ ছিলেন এবং ৪৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (দ্রষ্টব্য: আয-যাহাবির 'সিয়ারু আলামিন নুবালা', মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৫ হি., ১৭/৬৫৪)।

(২) হাদিসটি ইমাম মালিক মুওয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন, তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, দারু ইহইয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১৪০৬ হি., ১/৬৪। এর পাঠ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দাসের জন্য তার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য ও পোশাক প্রাপ্য, আর তাকে সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।"

(৩) ইবনুস সালাহ, আনওয়াউ উলুমিল হাদিস (যা মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত), দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪০৬ হি., পৃষ্ঠা ৬০।

(৪) আস-সাখাভি, আত-তাওদিহুল আবহার লি-তাযকিরাতি ইবনিল মুলাক্কিন ফি ইলমিল আসার, মাকতাবাতু আদওয়ায়িস সালাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হি., পৃষ্ঠা ৪৪।

(৫) ইবনু জামাআহ, আল-মানহালুর রাওয়ি ফি মুখতাসার উলুমিল হাদিসিন নাবাউয়ি, তাহকিক: ড. মুহিউদ্দিন আব্দুর রহমান রামাদান, দারুল ফিকর, দামেস্ক, ২য় সংস্করণ, ১৪০৬ হি., পৃষ্ঠা ৪৭।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أم صغيرًا-: قال رسول صلى الله عليه وسلم كذا، أو فعل كذا، أو فُعِل بحضرته كذا، ونحو ذلك" (1)، "فإِن المَرَاسِيل للتابعين دون غَيرهم" (2)، وأما ما سقط من رُوَاته قبل التَّابِعِيّ واحد أَو أَكثر فيسمى معضلًا (3).

وعليه فإن البلاغ قد يُعبر عنه بالمعضل إذا سقط من رُوَاته قبل التَّابِعِيّ واحد أَو أَكثر، وقد يُعبر عنه بالمرسل إذا صدر من التّابعيّ.

--------------------------------------------

(1) ابن حجر، نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر، تحقيق: عبد الله بن ضيف الله الرحيلي] مطبعة سفير، الرياض، ط 1، 1422 هـ[، ص 101.

(2) طاهر الجزائري، توجيه النظر إلى أصول الأثر، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة] مكتبة المطبوعات الإسلامية، حلب، ط 1، 1416 هـ[، 2/ 405.

(3) انظر: قفو الأثر في صفوة علوم الأثر لرضي الدين ابن الحنبلي، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة] مكتبة المطبوعات الإسلامية، حلب، ط 2، 1408 هـ[، 2/ 405.
—অথবা ছোট (তাবেয়ি)—বললেন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ বলেছেন, অথবা এরূপ করেছেন, অথবা তাঁর উপস্থিতিতে এরূপ করা হয়েছে, বা এই জাতীয়" (১), "কেননা মুরসাল (المراسيل) বর্ণনাগুলো তাবেয়িদের জন্য নির্দিষ্ট, অন্য কারো জন্য নয়" (২), আর তাবেয়ির আগে বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যদি একজন বা একাধিক জন বাদ পড়ে তবে তাকে মুদাল (معضل) বলা হয় (৩)।

এর ভিত্তিতে, বালাগ (البلاغ) পরিভাষাটি মুদাল (معضل) হিসেবে প্রকাশ করা হতে পারে যদি তাবেয়ির আগে বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে একজন বা একাধিক জন বাদ পড়ে, আর যদি এটি তাবেয়ি থেকে বর্ণিত হয় তবে তাকে মুরসাল (مرسل) হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার, নুজহাতুন নজর ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার, তাহকিক: আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আল-রুহাইলি, মাতবাআতু সাফির, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরি, পৃষ্ঠা ১০১।

(২) তাহের আল-জাজায়েরি, তাওজিহুন নজর ইলা উসুলিল আসার, তাহকিক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো, ১ম সংস্করণ, ১৪১৬ হিজরি, ২/ ৪০৫।

(৩) দেখুন: কাফউল আসার ফি সাফওয়াতি উলুমিল আসার, রাদিউদ্দিন ইবনুল হাম্বালি কৃত, তাহকিক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো, ২য় সংস্করণ, ১৪০৮ হিজরি, ২/ ৪০৫।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الثاني: الحديث المدرج

‌‌أولًا: تعريف الحديث المدرج

•‌‌ المدرج لغة

المُدرَج بضم الميم وسكون الدال وفتح الراء: اسم مفعول من أدرج.

والإِدْراج: لَفّ الشَّيْء في الشَّيْء. يُقَالُ: دَرَجْتُه وأَدْرَجْتُه ودَرَّجْتُه، وَالرُّبَاعِيُّ أَفصحها. ودَرَجَ الشيءَ فِي الشَّيْء يَدْرُجُه دَرْجًا، وأَدْرَجَه: طَوَاه وأَدخله (1)، ودَرَجَ الشيءَ فِي الشَّيْء: أدخلهُ فِي ثناياه (2).

فالإِدْراج لغة: الإدخال، والمُدرَج، ما وقع فيه الإدراج.

 

•‌‌ المدرج اصطلاحًا

لم أقف على تعريف جامع للمدرج يشمل قسميه -مدرج الإسناد ومدرج المتن- فيما رجعت إليه من مصادر المتقدمين في علوم الحديث، فمنهم من قصر التعريف على مدرج المتن، ومنهم من عرّف كل قسم على حدة.

فمن التعريفات التي اقتصرت على مدرج المتن ما يلي:

عرفه ابن دقيق العيد بقوله: "أَلْفَاظ تقع مع بعض الروَاة مُتَّصِلَة بِلَفْظ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَيكون ظَاهرهَا أَنَّهَا من لَفظه فَيدل دَلِيل على أَنه من لفظ الرَّاوِي" (3).

وعرفه الذهبي بقوله: "ألفاظٌ تقع من بعض الرواة متصلةً بالمَتْن، لا يبِينُ للسامع إلا أنها من صُلْب الحديث" (4).

--------------------------------------------

(1) ابن منظور، لسان العرب، مادة (درج).

(2) انظر: المعجم الوسيط، مجمع اللغة العربية بالقاهرة] دار الدعوة، د. ط.، د. ت. [، مادة (درج).

(3) ابن دقيق العيد، الاقتراح في بيان الاصطلاح] دار الكتب العلمية، بيروت، د. ط.، د. ت. [، ص 23.

(4) الذهبي، الموقظة في علم مصطلح الحديث، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة] مكتبة المطبوعات الإسلامية، حلب، ط 2، 1412 هـ[، ص 53.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংযোজিত (المدرج) হাদিস

প্রথমত: সংযোজিত (المدرج) হাদিসের সংজ্ঞা

•আভিধানিক অর্থে মুদরাজ

আল-মুদরাজ (المُدرَج) মিম বর্ণে পেশ, দাল-এ সাকিন এবং র-এ জবরসহ: এটি ‘আদরাজা’ (أدرج) ক্রিয়ামূল থেকে ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)।

আর ইদরাজ (الإِدْراج) অর্থ: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে জড়িয়ে দেওয়া। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি একে জড়িয়ে দিয়েছি বা প্রবেশ করিয়েছি’ (درجته, وأدرجته, ودَرَّجته); এর মধ্যে চার অক্ষরবিশিষ্ট রূপটিই (أدرجت) অধিক বিশুদ্ধ। কোনো কিছুকে কোনো কিছুর মধ্যে ‘ইদরাজ’ করার অর্থ হলো তা ভাঁজ করা এবং ভেতরে প্রবেশ করানো (১), আর কোনো কিছুকে কোনো কিছুর মধ্যে ‘ইদরাজ’ করার অর্থ হলো তার ভাঁজে ভাঁজে তা ঢুকিয়ে দেওয়া (২)।

সুতরাং আভিধানিক অর্থে ইদরাজ হলো প্রবেশ করানো, আর মুদরাজ হলো এমন বিষয় যার মধ্যে অন্য কিছু প্রবেশ করানো হয়েছে।

 

•পারিভাষিক অর্থে মুদরাজ

আমি হাদিস শাস্ত্রের প্রাচীন পণ্ডিতদের (متقدمين) কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করে ‘মুদরাজ’-এর এমন কোনো সংকলিত সংজ্ঞা পাইনি যা এর উভয় প্রকারকে—অর্থাৎ সনদের সংযোজন (مدرج الإسناد) এবং মূলপাঠের সংযোজন (مدرج المتن)—একত্রে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সংজ্ঞাকে কেবল মূলপাঠের সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, আবার কেউ কেউ প্রতিটি প্রকারকে আলাদা আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

যেসব সংজ্ঞা কেবল মূলপাঠের সংযোজনের (مدرج المتন) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলো নিম্নরূপ:

ইবন দাকীক আল-ঈদ এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এমন কিছু শব্দ যা কোনো কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সাথে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে তা তাঁরই বাণী; কিন্তু কোনো প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে তা আসলে বর্ণনাকারীর নিজস্ব শব্দ" (৩)।

ইমাম যাহাবী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এমন কিছু শব্দ যা কোনো কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে মূলপাটের (متن) সাথে মিশে যায়, ফলে শ্রোতার কাছে তা হাদিসের মূল অংশ ব্যতীত অন্য কিছু মনে হয় না" (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবন মানজুর, লিসানুল আরব, ‘দরজ’ (درج) শব্দমূল।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-মু’জাম আল-ওয়াসীত, মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ, কায়রো, দারুদ দাওয়াহ, সংস্করণ ও প্রকাশকাল বিহীন, ‘দরজ’ (درج) শব্দমূল।

(৩) ইবন দাকীক আল-ঈদ, আল-ইকতিরাহ ফী বায়ানিল ইসতিলাহ, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, সংস্করণ ও প্রকাশকাল বিহীন, পৃষ্ঠা ২৩।

(৪) ইমাম যাহাবী, আল-মুাকিজাহ ফী ইলমি মুসতালাহিল হাদিস, তাহকীক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, মাকতাবাতুল মাতবুয়াত আল-ইসলামিয়্যাহ, হালাব, ২য় সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি, পৃষ্ঠা ৫৩।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وعرفه ابن كثير بقوله: "أن تزاد لفظة في متن الحديث من كلام الراوي، فحسبها من يسمعها مرفوعة في الحديث، فيرويها كذلك" (1).

فهذه التعريفات اقتصرت على تعريف المدرج في المتن، والأولى أن يشمل التعريف المدرج بقسميه.

ومن التعريفات التي عرفت كل قسم على حدة:

تعريف ابن الصلاح، حيث عرفه بقوله: "وهو أقسام: منها ما أُدرِج في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من كلام بعض راوته، بأن يذكر الصحابيّ أو من بَعْدَه، عَقِبَ ما يرويه من الحديث، كلامًا من عند نفسه، فيرويه مَنْ بعدَه موصولًا غيرَ فاصلٍ بينهما بذكر قائله، فيلتبس الأمر فيه على من لا يعلم حقيقة الحال، ويتوهم أن الجميع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم " (2)، ثم ذكر أنواعًا من مدرج الإسناد.

وتبع ابن الصلاح في هذا التعريف كثير ممن اختصر كتابه أو شرحه أو علق عليه، كالنووي (3) والعراقي (4) والسيوطي (5)، وغيرهم.

ويؤخذ على هذا التعريف ما يلي:

1 - أنه عرف الشيء بنفسه، فقال: المدرج: ما أُدرج.

2 - أنه تعريف طويل، والأصل في التعريفات أن تكون وجيزة.

--------------------------------------------

(1) ابن كثير، الباعث الحثيث في اختصار علوم الحديث، تحقيق: أحمد محمد شاكر] دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، د. ت. [، ص 73.

(2) ابن الصلاح، أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)، ص 95.

(3) انظر: التقريب والتيسير لمعرفة سنن البشير النذير في أصول الحديث للنووي] دار الكتاب العربي، بيروت، ط 1، 1405 هـ[، ص 46.

(4) انظر: التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح للعراقي] المكتبة السلفية، المدينة المنورة، ط 1، 1389 هـ[، ص 127.

(5) انظر: تدريب الراوي في شرح تقريب النووي للسيوطي] مكتبة طيبة، بدون بيانات [، 1/ 314.
ইবনে কাসীর একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "হাদিসের মূল পাঠে (متن) বর্ণনাকারীর (راوي) কথা থেকে কোনো শব্দ যুক্ত হওয়া, ফলে যা শুনে শ্রোতা সেটাকে হাদিসের মারফূ (مرفوع) অংশ মনে করেন এবং সেভাবেই বর্ণনা করেন" (১)।

এই সংজ্ঞাগুলো কেবল মূল পাঠে (متن) হওয়া মুদরাজ (مدرج) এর সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ, অথচ সংজ্ঞায় মুদরাজের উভয় প্রকার অন্তর্ভুক্ত থাকাই শ্রেয়।

প্রতিটি প্রকারকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞা, যেখানে তিনি একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "এটি কয়েক প্রকার: তার মধ্যে একটি হলো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে তাঁর কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (راوي) কথা থেকে অনুপ্রবিষ্ট (أدرج) করানো হয়; এভাবে যে, সাহাবী বা তাঁর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারী তাঁর বর্ণিত হাদিসের শেষে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা উল্লেখ করেন, অতঃপর তাঁর পরবর্তী বর্ণনাকারী বক্তার নাম উল্লেখ না করে সেটি নিরবচ্ছিন্নভাবে (موصول) বর্ণনা করেন। ফলে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যারা অবগত নন তাদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তারা ধারণা করেন যে পুরো কথাটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত" (২)। এরপর তিনি সনদে মুদরাজ (مدرج الإسناد)-এর বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করেছেন।

এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ইবনে আস-সালাহ-কে এমন অনেকেই অনুসরণ করেছেন যারা তাঁর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন অথবা তার ওপর টীকা লিখেছেন; যেমন আন-নববী (৩), আল-ইরাকি (৪), আস-সুয়ূতি (৫) এবং অন্যান্যরা।

এই সংজ্ঞার ওপর নিম্নোক্ত আপত্তিগুলো করা হয়:

১ - তিনি কোনো বিষয়কে সেই বিষয়ের মাধ্যমেই সংজ্ঞায়িত করেছেন, কেননা তিনি বলেছেন: মুদরাজ (مدرج) হলো যা অনুপ্রবিষ্ট (أدرج) করা হয়েছে।

২ - এটি একটি দীর্ঘ সংজ্ঞা, অথচ সংজ্ঞার মূল ব্যাকরণ হলো তা সংক্ষিপ্ত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর, আল-বাইসুল হাসীস ফী ইখতিসার উলূমিল হাদিস, তাহকীক: আহমাদ মুহাম্মদ শাকির [দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, বি.দ্র.], পৃ. ৭৩।

(২) ইবনে আস-সালাহ, আনওয়াউ উলূমিল হাদিস (যা মুকাদ্দিমাহ ইবনে আস-সালাহ নামে পরিচিত), পৃ. ৯৫।

(৩) দেখুন: আন-নববী রচিত আত-তাকরীব ওয়াত-তায়সীর লি-মা'রিফাতি সুনানিল বাশীরিন নাযীর ফী উসূলিল হাদিস [দারুল কিতাবিল আরাবী, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি], পৃ. ৪৬।

(৪) দেখুন: আল-ইরাকি রচিত আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ [আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারা, ১ম সংস্করণ, ১৩৮৯ হিজরি], পৃ. ১২৭।

(৫) দেখুন: আস-সুয়ূতি রচিত তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নববী [মাকতাবাতু তাইয়্যেবা, তথ্যবিহীন], ১/৩১৪।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - أنه لا يشمل مدرج الإسناد، حيث بيّن أقسام مدرج الإسناد وعرف كل نوع على حدة بعد تعريفه لمدرج المتن والتمثيل له.

4 - أنه قصر الإدراج على آخر الحديث، فلم يشمل الإدراج في أول الحديث أو وسطه.

كما اعترض البقاعي على هذا التعريف بقوله: "فإنَّه يُوهِم أنّ التسمية خاصة بالمرفوع وليس كذلك، فليس المرفوع شرطًا فيها" (1)، وهذا اعتراض منهجي سديد؛ فالإدراج يقع في المرفوع وكذلك في الموقوف، فالأولى الإطلاق في العبارة لتكون أسلم من الاعتراض.

 

‌‌التعريف المختار

ولعل أقرب التعريفات إلى الدقة فيما أُرى أن نقول في تعريف المدرج: ما أُدخلت فيه زيادة ليست منه، على وجه يوهم أنها منه.

 

‌‌ثانيًا: أقسام المدرج

ينقسم الحديث المدرج إلى قسمين: مدرج المتن ومدرج الإسناد، وكل قسم ينسلخ منه أنواع أبينها فيما يلي:

أمُدْرَج المَتْن: "فهو أن يَقَع في المتن كلام ليس منه" (2).

ومثاله ما أخرجه مسلم (3) من طريق مَعْمَر، عن الزُّهْرِيّ، عن أَبِي سَلَمَة، عن جَابِرٍ، قال: " إِنَّمَا الْعُمْرَى الَّتِي أَجَازَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُولَ: هِيَ لَكَ وَلِعَقِبِكَ، فَأَمَّا إِذَا قَالَ: هِيَ لَكَ مَا عِشْتَ، فَإِنَّهَا تَرْجِعُ إِلَى صَاحِبِهَا".

--------------------------------------------

(1) البقاعي، النكت الوفية بما في شرح الألفية] مكتبة الرشد، ط 1، 1428 هـ[، 1/ 536.

(2) ابن حجر، نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر، ص 226.

(3) مسلم، المسند الصحيح المختصر بنقل العدل عن العدل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم (المعروف بصحيح مسلم)، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي] دار إحياء التراث العربي، بيروت، د. ط.، د. ت. [، كتاب الهِبات، باب الْعُمْرَى، رقم (1625)، 3/ 1245.
৩ - এটি বর্ণনাসূত্রে প্রক্ষিপ্ত (مدرج الإسناد)-কে অন্তর্ভুক্ত করে না; কারণ তিনি মূলপাঠে প্রক্ষিপ্ত (مدرج المتن)-এর সংজ্ঞা প্রদান ও তার উদাহরণ পেশ করার পর বর্ণনাসূত্রে প্রক্ষিপ্ত (مدرج الإسناد)-এর প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের পৃথক সংজ্ঞা দিয়েছেন।

৪ - তিনি প্রক্ষেপ (الإدراج)-কে হাদিসের শেষাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, ফলে এটি হাদিসের শুরু বা মধ্যভাগের প্রক্ষেপ (الإدراج)-কে অন্তর্ভুক্ত করেনি।

তেমনি আল-বিকাঈ এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: "এটি এমন একটি সংশয় তৈরি করে যেন এই নামকরণটি কেবল মারফু (مرفوع) হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; কারণ মারফু (مرفوع) হওয়া এর জন্য শর্ত নয়" (১)। এটি একটি যথার্থ পদ্ধতিগত আপত্তি; কেননা প্রক্ষেপ (الإدراج) যেমন মারফু (مرفوع) বর্ণনায় ঘটে, তেমনি মাওকুফ (موقوف) বর্ণনায়ও ঘটে। অতএব, আপত্তিমুক্ত থাকার জন্য বাক্যটিতে সাধারণ শব্দ ব্যবহার করাই শ্রেয়।

 

‌‌পছন্দনীয় সংজ্ঞা

আমার দৃষ্টিতে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সঠিকতার সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো মুদরাজ বা প্রক্ষিপ্ত (مدرج)-এর সংজ্ঞায় এটি বলা যে: যাতে এমন কোনো অতিরিক্ত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা তার অংশ নয়, এমনভাবে যা এটি তারই অংশ হওয়ার বিভ্রম সৃষ্টি করে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মুদরাজ বা প্রক্ষিপ্তের প্রকারভেদ

মুদরাজ (مدرج) হাদিস দুই ভাগে বিভক্ত: মূলপাঠে প্রক্ষিপ্ত (مدرج المتن) এবং বর্ণনাসূত্রে প্রক্ষিপ্ত (مدرج الإسناد)। প্রতিটি প্রকার থেকে আবার কিছু উপ-প্রকার বের হয় যা আমি নিম্নে বর্ণনা করছি:

মূলপাঠে প্রক্ষিপ্ত (مدرج المتন): "তা হলো মূলপাঠে এমন কোনো কথা আসা যা তার অংশ নয়" (২)।

এর উদাহরণ হলো যা মুসলিম (৩) মা’মার-এর সূত্রে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উমরা (আজীবন দান)-কে বৈধ করেছেন তা হলো দাতার এ কথা বলা যে: এটি তোমার জন্য এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের জন্য। আর যদি সে বলে: এটি তোমার জন্য যতদিন তুমি জীবিত থাকবে, তবে তা (গ্রহীতার মৃত্যুর পর) দাতার কাছে ফিরে আসবে।"

--------------------------------------------

(১) আল-বিকাঈ, আন-নুকাত আল-ওয়াফিয়াহ বিমা ফি শারহিল আলফিয়্যাহ, মাকতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরী, ১/ ৫৩৬।

(২) ইবনে হাজার, নুযহাতুন নাযার ফি তাউদিহি নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার, পৃ. ২২৬।

(৩) মুসলিম, আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিনান নাকলিল আদলি ইলাল আদলি ইলা রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যা সহিহ মুসলিম নামে পরিচিত), তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, কিতাবুল হিবাত, বাবু আল-উমরা, হাদিস নং (১৬২৫), ৩/ ১২৪৫।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال مُحَمَّد بن يَحْيَى الذُّهْلِيّ: "حديث مَعْمَر هذا إنَّما منتهاه إلى قوله هي لك وَلِعَقِبِك وما بعده عندنا من كلام الزُّهْرِيّ" (1).

• أنواع الإدراج في المتن (2):

1 - إدراج يكون في أوّل الحديث.

2 - إدراج يكون في أثنائه.

3 - إدراج يكون في آخِره.

ب مُدْرَج الإسناد: وهو على خمسة أقسام (3)، الثلاثة الأول ذكرها ابن الصلاح في مقدمته (4).

1 - أن يروي جماعة الحديث بأَسانيد مختلفة، فيرويه عنهم راوٍ فيَجمع الكلّ على إسنادٍ واحدٍ من تلك الأسانيد ولا يُبَيِّن الاختلاف.

ومثاله: ما رواه الإمام أحمد (5): عن عبد الرَّحْمَن بن مَهدي، عن سُفْيَانَ، عن مَنْصُورٍ، وَالْأَعْمَشُ، وَوَاصِلٌ، عن أَبِي وَائِلٍ، عن عَمْرِو بن شُرَحْبِيلَ، عن عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: «أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ عز وجل نِدًّا، وَهُوَ خَلَقَكَ»، قَالَ: قُلْتُ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ طَعَامِكَ» - وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَرَّةً: «أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ» -، قال: ثمّ قُلْتُ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «أَنْ تُزَانِيَ بِحَلِيلَةِ جَارِكَ».

ورواية وَاصِل هنا مُدْرَجة على رواية مَنْصُور وَالْأَعْمَش؛ لأَن واصلًا لم يذكر فيه

--------------------------------------------

(1) ابن عبد البر، التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد، 7/ 112.

(2) انظر: المصدر نفسه، الصفحة نفسها.

(3) انظر: المصدر نفسه، الصفحة نفسها، وانظر: النكت على كتاب ابن الصلاح لابن حجر، 2/ 832.

(4) ابن الصلاح، أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)، ص 95، 96.

(5) الإمام أحمد، المسند، تحقيق: شعيب الأرنؤوط، وآخرون] مؤسسة الرسالة، ط 1، 1421 هـ[: مسند عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، رقم (4131)، 7/ 200.
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলী বলেছেন: "মা’মারের এই হাদিসটির শেষ সীমা হলো তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত যে, ‘এটি আপনার এবং আপনার পরবর্তী বংশধরদের জন্য’, আর এর পরবর্তী অংশটুকু আমাদের নিকট যুহরীর বক্তব্য।" (১)।

• মূল পাঠে (متن) প্রক্ষেপণের (إدراج) প্রকারভেদ (২):

১ - এমন প্রক্ষেপণ (إدراج) যা হাদিসের শুরুতে হয়।

২ - এমন প্রক্ষেপণ (إدراج) যা এর মধ্যভাগে হয়।

৩ - এমন প্রক্ষেপণ (إدراج) যা এর শেষে হয়।

খ. সনদে প্রক্ষেপণ (مدرج الإسناد): এটি পাঁচ প্রকার (৩), যার প্রথম তিন প্রকার ইবনে আস-সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমায় উল্লেখ করেছেন (৪)।

১ - একদল রাবি ভিন্ন ভিন্ন সনদের (إسناد) মাধ্যমে একটি হাদিস বর্ণনা করেন, অতঃপর একজন বর্ণনাকারী তাঁদের থেকে বর্ণনা করার সময় ওই সনদগুলোর (إسناد) মধ্যে যেকোনো একটি সনদের (إسناد) ওপর ভিত্তি করে সবগুলোকে একত্রিত করে ফেলেন এবং পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করেন না।

এর উদাহরণ হলো: যা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৫): আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর, আমাশ ও ওয়াসিল থেকে, তাঁরা আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবীল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহর নিকট কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে সে তোমার অন্ন গ্রহণ করবে।" —আবদুর রহমান একবার বলেছেন: "সে তোমার সাথে আহার করবে"—। তিনি বলেন, আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।"

এখানে ওয়াসিলের বর্ণনাটি মানসুর ও আমাশের বর্ণনার ওপর প্রক্ষিপ্ত (مدرج); কারণ ওয়াসিল এতে উল্লেখ করেননি...

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবদিল বার্র, আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্ত্বা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ, ৭/১১২।

(২) দেখুন: একই উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৩) দেখুন: একই উৎস, একই পৃষ্ঠা; এবং দেখুন: ইবনে হাজার রচিত আন-নুকাউ আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, ২/৮৩২।

(৪) ইবনে আস-সালাহ, আনওয়াউ উলুমিল হাদিস (যা মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত), পৃ. ৯৫, ৯৬।

(৫) ইমাম আহমাদ, মুসনাদ, তাহকিক: শুআইব আল-আরনাউত ও অন্যান্য, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি: মুসনাদু আবদিল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, নম্বর (৪১৩১), ৭/২০০।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عمرًا بن شُرَحْبِيل، بل يرويه عن أبي وَائِل، عن عبد الله، .. وَقد بَيّن الإسنادين مَعًا يحيى الْقطَّان فِي رِوَايَته عن الثَّوْريّ، وفصل أحدها عن الآخر، كما رواه البُخَارِيّ (1): عن: عَمْرو بن عَليّ، عَن يحيى، عَن سُفْيَان، عَن مَنْصُور وَالْأَعْمَش، كِلَاهُمَا عَن أبي وَائِل، عَن عَمْرو. وعن: سُفْيَان، عَن وَاصل، عَن أبي وَائِل، عَن عبد الله، من غير ذكر عَمْرو بن شُرَحْبيل (2).

2 - أن يكون المتن عند راوٍ إِلاّ طرفًا منه فإِنَّه عنده بإسنادٍ آخر، فيرويه راوٍ عنه تامًّا بالإِسناد الأوَّل.

ومثاله (3): "رواية سَعِيدِ بْن أَبِي مَرْيَمَ، عن مَالِكٍ، عن الزُّهْرِيّ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا تَنَافَسُوا … الحديث" (4)،

فَقَوْلُهُ: "لَا تَنَافَسُوا" أَدْرَجَهُ ابن أَبِي مَرْيَمَ من مَتْنِ حَدِيثٍ آخَرَ، رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عن الْأَعْرَجِ عن أَبِي هُرَيْرَةَ فِيهِ: "لَا تَجَسَّسُوا، وَلَا تَحَسَّسُوا، وَلَا تَنَافَسُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا" (5).

3 - أَن يكون عند الرَّاوي متنان مختلفان بإسنادين مختلفين، فيرويهما راوٍ

--------------------------------------------

(1) البخاري، الجامع المسند الصحيح: كتاب الحدود، باب إثم الزناة، رقم (6811)، 8/ 164.

(2) انظر: شرح نخبة الفكر في مصطلحات أهل الأثر للقاري] دار الأرقم، بيروت، د. ط.، د. ت. [، 1/ 464.

(3) انظر: أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)، ص 97.

(4) الحديث أخرجه البخاري في صحيحه دون قوله "وَلَا تَنَافَسُوا": كتاب الأدب، باب ما ينهى عن التّحاسد والتّدابر، والتنافس، والتناجش ونحوها، رقم (6065)، 8/ 19، قال: حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا، وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ»، سائر الرواة عن الإمام مالك رووا هذا الحديث عنه بهذا اللفظ، وزاد سعيد بن أبي مريم في هذا الحديث عن مالك: "ولا تنافسوا" قال حمزة بن محمَّد الكناني: "لا أعلم أحدا قال في هذا الحديث عن مالك "ولا تنافسوا" غير سعيد بن أبي مريم (انظر: التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد لابن عبد البر، 6/ 116) ..

(5) حديث أخرجه مسلم في صحيحه: كتاب البّر والصّلة والآداب، باب تحريم الظّن، والتجسّس، والتنافس، والتناجش ونحوها، رقم (2563)، 4/ 1985، قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، وَلَا تَحَسَّسُوا، وَلَا تَجَسَّسُوا، وَلَا تَنَافَسُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا».
আমর ইবনে শুরাহবিল, বরং তিনি এটি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন... ইয়াহইয়া আল-কাত্তান সাওরি থেকে তাঁর বর্ণনায় উভয় সনদকে (الإسنادين) একসাথে স্পষ্ট করেছেন এবং একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করেছেন, যেমনটি বুখারি (১) বর্ণনা করেছেন: আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর ও আমাশ থেকে, তাঁরা উভয়েই আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আমর থেকে। এবং সুফিয়ান থেকে, তিনি ওয়াসিল থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, আমর ইবনে শুরাহবিলের উল্লেখ ব্যতিরেকে (২)।

২ - মূলপাঠটি (المتن) কোনো বর্ণনাকারীর (راوٍ) নিকট থাকা, তবে তার একটি অংশ ছাড়া, যা তার নিকট অন্য একটি সনদে (إسناد) রয়েছে; এরপর অন্য একজন বর্ণনাকারী (راوٍ) তাঁর থেকে প্রথম সনদটির (الإسناد) মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন।

এর উদাহরণ (৩): "সাঈদ ইবনে আবু মারইয়ামের বর্ণনা (رواية), মালেক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, একে অপরের পেছনে পোড়ো না এবং একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো না... হাদিস" (৪),

সুতরাং তাঁর কথা: "তোমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো না" অংশটি ইবনে আবু মারইয়াম অন্য একটি হাদিসের মূলপাঠ (متن) থেকে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন (أدرجه), যা মালেক আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "তোমরা অন্যের দোষ তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, প্রতিযোগিতা করো না এবং হিংসা করো না" (৫)।

৩ - বর্ণনাকারীর (الراوي) নিকট দুটি ভিন্ন সনদে (إسنادين) দুটি ভিন্ন মূলপাঠ (متنان) থাকা, অতঃপর একজন বর্ণনাকারী (راوٍ) তা বর্ণনা করেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, আল-জামিউল মুসনাদুস সহিহ: কিতাবুল হুদুদ, বাবু ইসমিল জুনাহ, নং (৬৮১১), ৮/ ১৬৪।

(২) দেখুন: শারহু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আছার লিল কারী [দারুল আরকাম, বৈরুত, মুদ্রণ ও সন অনুল্লিখিত], ১/ ৪৬৪।

(৩) দেখুন: আনওয়াউ উলূমিল হাদিস (ইবনে সালাহ-এর মুকাদ্দিমাহ হিসেবে পরিচিত), পৃষ্ঠা ৯৭।

(৪) হাদিসটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে "তোমরা প্রতিযোগিতা করো না" অংশটি ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল আদব, বাবু মা ইউনহা আনিত তাহাসুদি ওয়াত তাদাবুর... নং (৬০৬৫), ৮/ ১৯। তিনি বলেন: আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব যুহরি থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালেক (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, একে অপরের পেছনে পোড়ো না; বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় কথাবার্তা বন্ধ রাখা বৈধ নয়», ইমাম মালেক থেকে অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ (الرواة) এই হাদিসটি তাঁর থেকে এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন। তবে সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম মালেকের সূত্রে এই হাদিসে "তোমরা প্রতিযোগিতা করো না" শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন। হামজা ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি বলেন: "সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম ছাড়া মালেকের সূত্রে এই হাদিসে আর কেউ 'তোমরা প্রতিযোগিতা করো না' কথাটি বলেছেন বলে আমার জানা নেই" (দেখুন: ইবনে আবদিল বার রচিত আত-তামহীদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ, ৬/ ১১৬)।

(৫) হাদিসটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, বাবু তাহরিমিল জান্নি ওয়াত তাজাসসুস... নং (২৫৬৩), ৪/ ১৯৮৫। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালেকের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা কুধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কুধারণা হলো মিথ্যাতম কথা। তোমরা অন্যের কথা আড়ি পেতে শুনো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, প্রতিযোগিতা করো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের পেছনে পোড়ো না; বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো»।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عنه مُقتصرًا على أحد الإسنادين، أو يروي أحد الحديثين بإسناده الخاصّ به، لكن، يزيد فيه من المتن الآخَر ما ليس في الأول.

ومثاله: ما رواه الخطيب (1) من طريق عَبْد الرَّزَّاق، قال: أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيّ، عَنْ عَلِيِّ بن الحسين، عن عمرو ابن عُثْمَان، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيْنَ تَنْزِلُ غَدًا؟ ـ وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: لا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ، ثُمَّ قَالَ: نَحْنُ نَازِلُونَ غَدًا بِخَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ حَيْثُ قَاسَمَتْ قُرَيْشٌ على الكفر -يعني بِخَيْفِ الأَبْطَحِ- قَالَ الزُّهْرِيّ: وَالْخَيْفُ الْوَادِي، قَالَ: وَذَلِكَ أَنَّ قُرَيْشًا حَالَفُوا بَنِي بَكْرٍ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ أَنْ لا يُجَالِسُوهُمْ، وَلا يُنَاكِحُوهُمْ، وَلا يُبَايِعُوهُمْ، وَلا يُؤْوُوهُمْ".

قال الخطيب: "روى مَعْمَر عن الزُّهْرِيّ هذا الحديث هكذا سياقة واحدة بإسناد واحد ووهم في ذلك، لأنه حديثان بإسنادين مختلفين، فمن أوله إلى آخر قوله: "لا يرث المسلم الكافر، ولا الكافر المسلم" يرويه الزُّهْرِيّ عن علي بن الحسين بالإسناد الذي ذكرناه. وما بعد ذلك إلى آخر الحديث إنما هو عند الزُّهْرِيّ عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، عن أبي هريرة" (2).

4 - أن يسمع الحديث من شيخه إلا طرفًا منه فيسمعه عن شيخه بواسطة، فيرويه راوٍ عنه تمامًا بحذف الواسطة.

ومثاله (3): حَدِيث إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر عَن حميد عَن أنس في قصَّة العرنيين وأن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُم: "لَو خَرجْتُمْ إِلَى إبلنا فشربتم من أَلْبَانهَا وَأَبْوَالهَا" فَإِن لَفْظَة "وَأَبْوَالهَا" (4)

--------------------------------------------

(1) الخطيب البغدادي، الفصل للوصل المدرج في النقل، تحقيق: محمد بن مطر الزهراني] دار الهجرة، ط 1، 1418 هـ[، 2/ 689.

(2) المصدر نفسه، 2/ 690.

(3) طاهر الجزائري، توجيه النظر إلى أصول الأثر، 1/ 413.

(4) أخرج النسائي الروايتين في المجتبى، كتاب تحريم الدم، باب ذكر اختلاف الناقلين لخبر حميد، عن أنس بن مالك، فيه، رقم (4029)، 7/ 96، فمن رواية إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر، قال: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُنَاسٌ مِنْ عُرَيْنَةَ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ خَرَجْتُمْ إِلَى ذَوْدِنَا فَكُنْتُمْ فِيهَا، فَشَرِبْتُمْ مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا» فَفَعَلُوا، فَلَمَّا صَحُّوا، قَامُوا إِلَى رَاعِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَتَلُوهُ، وَرَجَعُوا كُفَّارًا، وَاسْتَاقُوا ذَوْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَرْسَلَ فِي طَلَبِهِمْ، فَأُتِيَ بِهِمْ فَقَطَّعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ، ومن رواية ابن أبي عدي رقم (4031)، 7/ 96، قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: أَسْلَمَ أُنَاسٌ مِنْ عُرَيْنَةَ، فَاجْتَوَوْا الْمَدِينَةَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ خَرَجْتُمْ إِلَى ذَوْدٍ لَنَا، فَشَرِبْتُمْ مِنْ أَلْبَانِهَا» قَالَ حُمَيْدٌ وَقَالَ قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ: «وَأَبْوَالِهَا»، فَفَعَلُوا ..... الحديث ..
তিনি তার থেকে দুই সনদের (إسناد) একটিতে সীমাবদ্ধ থাকেন, অথবা দুটি হাদিসের একটিকে তার নিজস্ব সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেন, কিন্তু তাতে অপর হাদিসের মতন (متن) থেকে এমন কিছু বৃদ্ধি করেন যা প্রথমটিতে ছিল না।

এর উদাহরণ: খতিব (১) আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরি থেকে, তিনি আলি ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? — আর এটি ছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ্জের সময়। অতঃপর তিনি বললেন: আকিল বিন আবি তালিব কি আমাদের জন্য কিছু অবশিষ্ট রেখেছে? এরপর তিনি বললেন: কোনো মুসলিম কোনো কাফিরের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো কাফির কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না। এরপর তিনি বললেন: আমরা আগামীকাল বনু কিনানার খায়ফ-এ অবস্থান করব যেখানে কুরাইশরা কুফরের ওপর শপথ করেছিল — অর্থাৎ খায়ফ আল-আবতাহ-তে। যুহরি বলেন: আল-খায়ফ হলো উপত্যকা। তিনি বলেন: আর তা এ কারণে যে, কুরাইশরা বনু হাশিমের বিরুদ্ধে বনু বকরের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে, তারা তাদের সাথে একত্রে বসবে না, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক করবে না, তাদের কাছে কিছু বিক্রি করবে না এবং তাদের আশ্রয় দিবে না।

খতিব বলেন: "মা’মার যুহরি থেকে এই হাদিসটি এভাবে একটি বর্ণনাক্রম হিসেবে একক সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি ভুল (وهم) করেছেন। কারণ এটি ভিন্ন ভিন্ন দুটি সনদে (إسناد) বর্ণিত দুটি হাদিস। এর শুরু থেকে তার এই উক্তি পর্যন্ত: 'কোনো মুসলিম কোনো কাফিরের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো কাফির কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না' — এটি যুহরি আলি ইবনুল হুসাইন থেকে আমাদের উল্লিখিত সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন। আর এরপর থেকে হাদিসের শেষ পর্যন্ত অংশটি মূলত যুহরি আবু সালামা বিন আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন" (২)।

৪ - শায়খের থেকে হাদিসের সামান্য অংশ ব্যতীত বাকিটা শোনা, আর সেই অংশটি শায়খের থেকে কোনো মাধ্যমের (واسطة) সাহায্যে শোনা। অতঃপর কোনো বর্ণনাকারী তা পূর্ণাঙ্গভাবে মাধ্যম (واسطة) বাদ দিয়ে তার থেকে বর্ণনা করে।

এর উদাহরণ (৩): উরাইনাবাসীদের ঘটনায় হুমাইদ থেকে আনাস কর্তৃক বর্ণিত ইসমাইল বিন জাফরের হাদিস। এতে আছে যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেছিলেন: "তোমরা যদি আমাদের উটগুলোর কাছে যেতে এবং সেগুলোর দুধ ও প্রস্রাব পান করতে।" এতে "সেগুলোর প্রস্রাব" (৪) শব্দটি...

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদি, আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল, তাহকিক: মুহাম্মাদ বিন মাতার আজ-জাহরানি, দারুল হিজরাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, ২/৬৮৯।

(২) একই উৎস, ২/৬৯০।

(৩) তাহির আল-জাযাইরি, তাওজিহুন নাযার ইলা উসুলিল আসার, ১/৪১৩।

(৪) নাসায়ি সুনানুল মুজতাবা-তে উভয় বর্ণনা সংকলন করেছেন, কিতাবুত তাহরিমুদ দাম, হুমাইদ থেকে আনাস বিন মালিকের বর্ণনা বহনকারীদের মতভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৪০২৯), ৭/৯৬। ইসমাইল বিন জাফরের বর্ণনা থেকে তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন হুজর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উরাইনা গোত্রের কিছু লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: «তোমরা যদি আমাদের উটগুলোর কাছে যেতে এবং সেখানে থাকতে, আর সেগুলোর দুধ ও প্রস্রাব পান করতে»। তারা তাই করল। যখন তারা সুস্থ হলো, তখন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাখালের ওপর চড়াও হলো এবং তাকে হত্যা করল, আর কাফির হয়ে ফিরে গেল এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। তিনি তাদের সন্ধানে লোক পাঠালেন, তাদের ধরে আনা হলো। এরপর তিনি তাদের হাত-পা কেটে দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন। ইবনে আবি আদির বর্ণনা থেকে (নং ৪০৩১, ৭/৯৬) তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবি আদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, আনাস থেকে, তিনি বলেন: উরাইনা গোত্রের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করল, অতঃপর মদিনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: «তোমরা যদি আমাদের উটগুলোর কাছে যেতে এবং সেগুলোর দুধ পান করতে»। হুমাইদ বলেন এবং কাতাদাহ আনাস থেকে বর্ণনা করেন: «এবং সেগুলোর প্রস্রাব», তারা তাই করল... হাদিস।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إِنَّمَا سمعها حميد من قَتَادَة عَن أنس، كما بينه مُحَمَّد بن أبي عدي ومروان بن مُعَاوِيَة وَيزِيد بن هَارُون وَغَيرهم، إِذْ رَوَوْهُ عَن حميد عَن أنس بِلَفْظ فشربتم من أَلْبَانهَا وَعِنْدهم قَالَ حميد قَالَ قَتَادَة عَن أنس وَأَبْوَالهَا؛ فرواية إِسْمَاعِيل على هَذَا فِيهَا إدراج.

5 - أن يسوق الإسناد فيعرض له عارض، فيقول كلامًا من قبل نفسه، فيظن بعض من سمعه أَنَّ ذلك الكلام هو متن ذلك الإسناد؛ فيرويه عنه كذلك.

مثاله: حديث رواه ثابت بن موسى الزاهد عن شريك عن الأَعْمَشِ عن أَبِي سُفْيَانَ عن جَابِرٍ عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " من كثرت صلاته بالليل حسن وجهه بالنهار" (1).

وهذا قول شريك، قاله في عقب حديث الأَعْمَش عن أَبِي سُفْيَانَ عن جابر: "يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم ثلاث عقد" فأدرجه ثابت في الخبر وجعل قول شريك مِنْ كَلامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثم سرق هذا جماعة من الضعفاء من ثابت وحدثوا به عن شريك (2).

وأصل القصة: أن ثابت بن موسى، دخل على شريك بن عبد الله القاضي وهو يملي ويقول: "حدثنا الأعمش، عن أبي سفيان، عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم … "، وسكت ليكتب المستملي، فلما نظر إلى ثابت قال: "من كثرت صلاته بالليل حسن وجهه بالنهار"، وقصد بذلك ثابتًا لزهده وورعه، فظن ثابت أنه متن ذلك الإسناد، فكان يحدث به

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجة في السنن: كتاب إقامة الصلاة، والسنة فيها، باب ما جاء في قيام اللّيل، رقم (1333)، 1/ 422.

(2) ابن حِبّان، المجروحين من المحدثين والضعفاء والمتروكين، تحقيق: محمود إبراهيم زايد] دار الوعي، حلب، ط 1، 1396 هـ[، 1/ 207.
বস্তুত হুমাইদ এটি আনাস (রা.)-এর সূত্রে কাতাদাহ থেকে শুনেছেন, যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে আবি আদি, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া, ইয়াযিদ ইবনে হারুন এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। যখন তাঁরা হুমাইদ থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে 'তোমরা তাদের দুধ পান করেছিলে' শব্দে বর্ণনা করেছেন, তখন তাঁদের নিকট হুমাইদ বলেছেন যে কাতাদাহ আনাস (রা.)-এর সূত্রে 'এবং তাদের প্রস্রাব' শব্দটিও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইসমাইলের বর্ণনাটি এর ভিত্তিতে সংযোজন (إدراج) হিসেবে গণ্য হবে।

৫ - সনদ (إسناد) বর্ণনা করার সময় কোনো কারণবশত বর্ণনাকারী নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন, ফলে শ্রবণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে সেই কথাটিই ঐ সনদের মূল পাঠ (متن); ফলে তিনি সেভাবেই তা বর্ণনা করেন।

এর উদাহরণ: সাবিত ইবনে মুসা আজ-জাহিদ কর্তৃক শারিক-এর সূত্রে, তিনি আমাশ-এর সূত্রে, তিনি আবু সুফিয়ান-এর সূত্রে, তিনি জাবির (রা.)-এর সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস, তিনি বলেন: "যার রাতে সালাত বেশি হয়, দিনে তার চেহারা সুন্দর হয়।" (১)।

অথচ এটি হলো শারিক-এর কথা, যা তিনি আমাশ-এর সূত্রে আবু সুফিয়ান-এর মাধ্যমে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত 'শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের মাথার শেষ অংশে তিনটি গিট দেয়' হাদিসটির শেষে বলেছিলেন। কিন্তু সাবিত একে সংবাদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেন এবং শারিক-এর কথাটিকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হিসেবে সাব্যস্ত করেন। পরবর্তীতে একদল দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী সাবিত-এর নিকট থেকে এটি চুরি করেন এবং শারিক-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেন (২)।

ঘটনার মূল বিবরণ হলো: সাবিত ইবনে মুসা কাজী শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ-এর নিকট প্রবেশ করেন যখন তিনি হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিখনের নির্দেশ) দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "আমাদের নিকট আমাশ আবু সুফিয়ান-এর সূত্রে এবং তিনি জাবির (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন … ", এরপর তিনি লেখক লেখার জন্য চুপ হলেন। তখন সাবিতের দিকে তাকিয়ে তাঁর নির্লোভতা ও খোদাভীতির কারণে তিনি বলেন: "যার রাতে সালাত বেশি হয়, দিনে তার চেহারা সুন্দর হয়।" সাবিত মনে করেন যে এটিই ঐ সনদের মূল পাঠ (متن), ফলে তিনি তা বর্ণনা করতে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ এটি তাঁর সুনান-এ বর্ণনা করেছেন: কিতাব ইক্বামাতিস সালাত ওয়াস সুন্নাতু ফিহা, বাব মা জাআ ফি কিয়ামিল লাইল, নম্বর (১৩৩৩), ১/ ৪২২।

(২) ইবনে হিব্বান, আল-মাজরুহিন মিনাল মুহাদ্দিসিন ওয়াদ দুয়াফা (ضعيف) ওয়াল মাত্রুকিন (متروك), তাহকিক: মাহমুদ ইবরাহিম জায়েদ, দারুল ওয়াঈ, আলেপ্পো, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৬ হিজরি, ১/ ২০৭।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كذلك، فعلى هذا هو من أقسام المدرج (1).

 

‌‌ثالثًا: وجوه معرفة المدرج

يمكن معرفة المدرج من خلال ما يلي (2):

1 - أن يستحيل إضافة ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

ومثاله: ما أخرجه البخاري عن بِشْر بن مُحَمَّد، قال: أَخْبَرَنَا عَبْد اللَّه بن المبارك، أَخْبَرَنَا يُونُس بن يزيد، عن الزُّهْرِيّ، قال، سَمِعْتُ سَعِيدَ بن المُسَيِّبِ، يَقُول: قَال أبو هُرَيْرَة رضي الله عنه: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لِلْعَبْدِ المَمْلُوكِ الصَّالِحِ أَجْرَانِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلَا الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالحَجُّ وَبِرُّ أُمِّي، لَأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوتَ وَأَنَا مَمْلُوكٌ» (3).

فهذا الفصل الذي في آخر الحديث لا يجوز أن يكون من قول النبي صلى الله عليه وسلم إذ يمتنع عليه صلى الله عليه وسلم أن يتمنى أن يصير مملوكا، وأيضا فلم يكن له أمّ يبرها، بل هذا من قول أبي هريرة رضي الله عنه أدرج في المتن (4).

وقد رواه مسلم (5) من طريق ابن وهب عن يونس، فساق الحديث إلى قوله "أجران" فقال فيه: "والذي نفس أبي هريرة بيده .. " إلى آخره.

2 - أن يصرح الصحابي بأنه لم يسمع تلك الجملة من النبي صلى الله عليه وسلم.

ومثاله ما أخرجه ابن الأعرابي، قال: نا أَحْمَد بن عَبْد الْجَبَّارِ، نا أَبُو بَكْرِ بن عَيَّاشٍ، عن عَاصِم، عن زِرٍّ عن عَبْد اللَّه بن مَسْعُودٍ رضي الله عنه قال: سمعت النبي رضي الله عنه يقول: "مَنْ مَاتَ وَهُوَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ دَخَلَ النَّارَ، وَمَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ" (6).

--------------------------------------------

(1) انظر توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار للصنعاني] دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1، 1417 هـ[، 2/ 67.

(2) انظر: النكت على كتاب ابن الصلاح لابن حجر، 2/ 812.

(3) البخاري، الجامع المسند الصحيح: كتاب العتق، باب العبد إذا أحسن عبادة ربّه ونصح سيده، رقم (2548)، 3/ 149.

(4) ابن حجر، النكت على كتاب ابن الصلاح، 2/ 811.

(5) مسلم، المسند الصحيح المختصر: كتاب الإيمان، باب ثواب العبد وأجره إذا نصح لسيده وأحسن عبادة الله، رقم (1665)، 3/ 1284.

(6) ابن الأعرابي، معجم ابن الأعرابي، تحقيق: عبد المحسن بن إبراهيم بن أحمد الحسيني] دار ابن الجوزي، الرياض، ط 1، 1418 هـ[، رقم (840)، 2/ 231.
একইভাবে, এই ভিত্তিতে এটি প্রক্ষিপ্ত (مدرج) এর প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত (১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: প্রক্ষিপ্ত (مدرج) শনাক্ত করার উপায়সমূহ

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) শনাক্ত করা সম্ভব (২):

১ - সেই কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্পর্কিত হওয়া অসম্ভব হওয়া।

উদাহরণস্বরূপ: বুখারি বিশর ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবন ইয়াজিদ, যুহরি থেকে, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সৎ ক্রীতদাসের জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, যদি আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ এবং আমার মায়ের সেবা করার বিষয় না থাকত, তবে আমি একজন ক্রীতদাস হিসেবে মৃত্যুবরণ করা পছন্দ করতাম» (৩)।

হাদিসের শেষের এই অংশটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা হওয়া সম্ভব নয়, কারণ তাঁর পক্ষে ক্রীতদাস হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা অসম্ভব। তাছাড়া তাঁর এমন কোনো মা জীবিত ছিলেন না যাঁর তিনি সেবা করবেন; বরং এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি যা মূল পাঠে (متن) প্রক্ষিপ্ত (أدرج) হয়েছে (৪)।

আর মুসলিম (৫) এটি ইবন ওয়াহাব-এর সূত্রে ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি 'দুটি পুরস্কার' কথাটি পর্যন্ত হাদিসটি বর্ণনা করে সেখানে বলেছেন: "যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ তাঁর শপথ..." শেষ পর্যন্ত।

২ - সাহাবী স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা যে, তিনি ওই বাক্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শোনেননি।

উদাহরণস্বরূপ: যা ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন আব্দুল জাব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আইয়্যাশ, আসিম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক না করা অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সানআনি প্রণীত তাওদিহুল আফকার লি-মাআনি তানকিহিল আনজার [দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি], ২/৬৭।

(২) দেখুন: ইবন হাজার প্রণীত আন-নুকাাতু আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, ২/৮১২।

(৩) বুখারি, আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ: কিতাবুল ইতক্ব, অনুচ্ছেদ: গোলাম যখন তার রবের ইবাদত সুন্দরভাবে পালন করে এবং তার মুনীবের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী হয়, নম্বর (২৫৪৮), ৩/১৪৯।

(৪) ইবন হাজার, আন-নুকাাতু আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, ২/৮১১।

(৫) মুসলিম, আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার: কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ক্রীতদাসের সওয়াব ও প্রতিদান যখন সে তার মুনীবের কল্যাণ কামনা করে এবং আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে করে, নম্বর (১৬৬৫), ৩/১২৮৪।

(৬) ইবনুল আরাবি, মুজাম ইবনিল আরাবি, তাহকিক: আবদুল মুহসিন বিন ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-হুসাইনি [দার ইবনিল জাওযি, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি], নম্বর (৮৪০), ২/২৩১।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
"هكذا رواه أحمد بن عبد الجبار العطاردي (1)، عن أبي بكر بن عياش بإسناده ووهم فيه" (2)، والحديث أخرجه البخاري من غير هذا الوجه عن ابن مسعود رضي الله عنه، وروايته تفصل قول ابن مسعود رضي الله عنه عن قول رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال البخاري: حَدَّثَنَا عُمَر بن حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ» وَقُلْتُ أَنَا: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الجَنَّةَ» (3).

3 - أن يصرح بعض الرواة بفصل الجملة المدرجة فيه عن المتن المرفوع فيه، بأن يضيف الكلام إلى قائله.

ومثاله ما أخرجه الإمام أحمد عن يَحْيَى بن آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْر، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بن الْحُرّ، قال: حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بن مُخَيْمِرَةَ، قَالَ: أَخَذَ عَلْقَمَةُ، بِيَدِي وَحَدَّثَنِي، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ، أَخَذَ بِيَدِهِ، وَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِ عَبْدِ اللهِ، فَعَلَّمَهُ التَّشَهُّدَ فِي الصَّلَاةِ، قَالَ: " قُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ - قَالَ زُهَيْرٌ: حَفِظْتُ عَنْهُ إِنْ شَاءَ اللهُ - أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "، قَالَ: فَإِذَا قَضَيْتَ هَذَا، أَوْ قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتَ هَذَا، فَقَدْ قَضَيْتَ صَلَاتَكَ، إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ (4).

قال ابن الصلاح: "هكذا رواه أبو خيثمة عن الحسن بن الحرّ، فأدرج في الحديث قوله: فإذا قلت هذا إلى آخره، وإنما هذا من كلام ابن مسعود، لا من كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن الدليل عليه أن الثقة الزاهد عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان رواه عن رواية الحسن

--------------------------------------------

(1) هو: أحمد بن عبد الجبار بن محمد العطاردي أبو عمر الكوفي، ضعيف وسماعه للسيرة صحيح (انظر: تقريب التهذيب لابن حجر، ص 81).

(2) ابن حجر، النكت على كتاب ابن الصلاح، 2/ 813.

(3) البخاري، الجامع المسند الصحيح: كتاب الجنائز، باب ما جاء في الجنائز، ومن كان آخر كلامه: لا إله إلا الله، رقم (1238)، 2/ 71.

(4) الإمام أحمد، المسند: مسند عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، رقم (4006)، 7/ 108.
“আহমদ ইবন আব্দুল জব্বার আল-আত্তারদী (১) আবু বকর ইবন আইয়াশ থেকে তাঁর সনদে (إسناد) এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি ভ্রম (وهم) করেছেন (২)। আর হাদিসটি ইমাম বুখারি ইবন মাসউদ (রা.) থেকে এই সূত্র ব্যতীত ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁর রেওয়ায়াতটি (رواية) ইবন মাসউদ (রা.)-এর বক্তব্যকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী থেকে পৃথক করে। ইমাম বুখারি বলেন: উমর ইবন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাকিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ আর আমি (ইবন মাসউদ) বলেছি: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (৩)।”

৩ - কোনো কোনো বর্ণনাকারী (راو) এতে অনুপ্রবেশকৃত বাক্যটিকে (الجملة المدرجة) হাদিসের মারফু (مرفوع) মতন (متن) থেকে পৃথক করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এভাবে যে তিনি কথাটিকে তার প্রকৃত বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন।

এর উদাহরণ হলো যা ইমাম আহমদ ইয়াহইয়া ইবন আদম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহাইর থেকে, তিনি আল-হাসান ইবনুল হুর থেকে, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবন মুখাইমিরাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলকামা আমার হাত ধরলেন এবং আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) তাঁর হাত ধরেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) আব্দুল্লাহর হাত ধরেছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে সালাতের তাশাহহুদ শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন: "বলো: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-তাইয়্যিবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান-নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস-সালিহীন—যুহাইর বলেন: আমি তাঁর থেকে ইনশাআল্লাহ মুখস্থ করেছি—আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।" তিনি (ইবন মাসউদ) বললেন: "যখন তুমি এটি শেষ করবে—অথবা বললেন: যখন তুমি এটি করবে—তখন তোমার সালাত পূর্ণ হয়ে গেল। তুমি চাইলে এখন উঠে যেতে পারো, আর চাইলে বসে থাকতে পারো" (৪)।

ইবনুল সালাহ বলেন: "আবু খাইসামা আল-হাসান ইবনুল হুর থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ফলে তিনি হাদিসের মধ্যে তাঁর এই কথাটি অনুপ্রবেশ (أدرج) করিয়েছেন: 'যখন তুমি এটি বলবে...' শেষ পর্যন্ত। অথচ এটি মূলত ইবন মাসউদের কথা, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা নয়। এর প্রমাণ হলো যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও জাহিদ আব্দুর রহমান ইবন সাবিত ইবন সাওবান এটি হাসানের রেওয়ায়াত (رواية) থেকে বর্ণনা করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আহমদ ইবন আব্দুল জব্বার ইবন মুহাম্মদ আল-আত্তারদী আবু উমর আল-কুফি; তিনি দুর্বল (ضعيف), তবে সিরাত বিষয়ে তাঁর শ্রবণ (سماع) বিশুদ্ধ (صحيح)। (দেখুন: ইবন হাজারের তাকরিবুত তাহজিব, পৃ. ৮১)।

(২) ইবন হাজার, আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, ২/ ৮১৩।

(৩) বুখারি, আল-জামিউল মুসনাদুস সহিহ: কিতাবুল জানাইয, জানাজা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ, এবং যার শেষ কথা ছিল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নং (১২৩৮), ২/ ৭১।

(৪) ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.), নং (৪০০৬), ৭/ ১০৮।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ابن الحرّ كذلك، واتفق حسين الْجُعْفِيّ وابن عجلان وغيرهما في روايتهم عن الحسن بن الحرّ على ترك ذكر هذا الكلام في آخر الحديث، مع اتفاق كل من روى التشهد عن علقمة وعن غيره، عن ابن مسعود على ذلك، ورواه شَبَابَة عن أبي خَيْثَمَة ففصله أيضًا" (1).

 

‌‌رابعًا: أسباب الإدراج

أسباب الإدراج ودواعيه الحاملة عليه كثيرة، منها (2):

1 - استنباط الراوي حكمًا من الحديث قبل أن يتم فيدرجه.

ومثاله ما رواه الدَّارَقُطْنِيّ (3) من رِوَايَة عَبْد الْحَمِيدِ بن جَعْفَرٍ، عن هِشَامٍ، عن عُرْوَةَ، عن أَبِيهِ، عن بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ، أَوْ أُنْثَيَيْهِ، أَوْ رُفْغَيْهِ فَلْيَتَوَضَّأْ»

قال الدَّارَقُطْنِيّ عقبه: كذا رواهُ عبد الْحَمِيد بن جَعْفَر، عن هِشَام، وَوَهِمَ في ذكر الْأُنْثَيَيْنِ وَالرَّفْغِ وَإِدْرَاجِهِ ذَلِكَ فِي حَدِيثِ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَالْمَحْفُوظ أَنّ ذلك من قول عُرْوَة، غير مرفوع، وكذا رواهُ الثِّقَات، عن هِشَام: منهم أَيُّوب، وَحَمَّاد بن زَيْد، وَغيرهما، ثُمّ رواهُ من طريق أَيُّوب بلفظ: «مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ، فَلْيَتَوَضَّأْ»، قَالَ: وَكَانَ عُرْوَةُ يَقُولُ: إِذَا مَسَّ رُفْغَيْهِ أَوْ أُنْثَيَيْهِ أَوْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ (4).

فعُرْوَة لمّا فهم من لفظ الخبر أنّ سبب نقض الوضوء مظنة الشهوة، جعل حكم ما قرب من الذكر كذلك، فقال ذلك، فظن بعض الرواة، أنّه من صلب الخبر، فنقله مدرجًا فيه، وفهم الآخرون حقيقة الحال ففصلوا (5).

--------------------------------------------

(1) ابن الصلاح، أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)، ص 96.

(2) انظر: تدريب الراوي في شرح تقريب النووي للسيوطي، 1/ 318، وانظر: النكت الوفية بما في شرح الألفية للبقاعي، 1/ 536.

(3) الدَّارَقُطْنِيّ، سنن الدَّارَقُطْنِيّ، تحقيق: شعيب الأرناؤوط] مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 1، 1424 هـ[، كتاب الطهارة، باب ما روي في لمس القبل والدبر والذكر والحكم في ذلك، رقم (536)، 1/ 269.

(4) المصدر نفسه، 1/ 270.

(5) السيوطي، تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي، 1/ 318.
ইবনুল হুরর-ও তদ্রূপ। হুসাইন আল-জু’ফী, ইবনে আজলান এবং অন্যান্যরা আল-হাসান ইবনুল হুরর থেকে তাদের বর্ণনায় হাদিসের শেষে এই বক্তব্যটি উল্লেখ না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আলক্বামা ও অন্যদের মাধ্যমে ইবনে মাসউদ থেকে যারা তাশাহহুদ বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই এর ওপর একমত। শাবাবাহ একে আবু খাইসামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনিও একে পৃথক করে দেখিয়েছেন (১)।

 

‌‌চতুর্থ: সংমিশ্রণের (الإدراج) কারণসমূহ

সংমিশ্রণের (الإدراج) কারণ ও এর পেছনের প্রভাবকসমূহ অনেক, তার মধ্যে রয়েছে (২):

১ - বর্ণনাকারী (الراوي) কর্তৃক হাদিস সমাপ্ত হওয়ার পূর্বেই তা থেকে কোনো বিধান আহরণ করা এবং অতঃপর তা হাদিসের ভেতরে প্রবিষ্ট (الإدراج) করে দেওয়া।

এর উদাহরণ হলো যা দারা কুতনী (৩) আব্দুল হামিদ বিন জাফর থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি বুসরা বিনতে সাফওয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি তার পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষদ্বয় কিংবা কুঁচকি স্পর্শ করে, সে যেন অজু করে»

দারা কুতনী এর পরপরই বলেছেন: আব্দুল হামিদ বিন জাফর হিশাম থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তিনি অণ্ডকোষদ্বয় ও কুঁচকির কথা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বুসরার হাদিসে তা প্রবিষ্ট (إدراج) করার ক্ষেত্রে ভ্রমের (وهم) শিকার হয়েছেন। সংরক্ষিত (المحفوظ) তথ্য হলো, এটি উরওয়াহ-র নিজস্ব বক্তব্য, যা মারফূ (مرفوع) নয়। একইভাবে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীরা হিশাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আইয়ুব, হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং অন্যান্যরা রয়েছেন। অতঃপর তিনি আইয়ুবের সূত্র থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন অজু করে», তিনি বলেন: উরওয়াহ বলতেন: যখন কেউ তার কুঁচকি বা অণ্ডকোষদ্বয় কিংবা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তখন সে যেন অজু করে (৪)।

সুতরাং উরওয়াহ যখন খবরের ভাষা থেকে বুঝতে পারলেন যে, অজু ভঙ্গের কারণ হলো কামভাব জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা, তখন তিনি পুরুষাঙ্গের নিকটবর্তী অঙ্গগুলোর বিধানকেও তদ্রূপ মনে করলেন এবং তা ব্যক্ত করলেন। ফলে কোনো কোনো বর্ণনাকারী ধারণা করেছিলেন যে এটি মূল খবরের অংশ, তাই তারা একে সংমিশ্রিত (مدرج) অবস্থায় বর্ণনা করেছেন। আর অন্যরা প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তা পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল সালাহ, উলূমুল হাদিস (যা মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত), পৃ. ৯৬।

(২) দেখুন: সুয়ূতী রচিত তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী, ১/ ৩১৮; এবং দেখুন: আল-বিক্বায়ী রচিত আন-নুকাফুল ওয়াফিয়াহ বিমা ফী শারহিল আলফিয়্যাহ, ১/ ৫৩৬।

(৩) দারা কুতনী, সুনানুদ দারা কুতনী, তাহকীক: শুআইব আল-আরনাউত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪২৪ হিজরী, কিতাবুত তাহারাহ, লজ্জাস্থান স্পর্শ করা এবং এ সংক্রান্ত বিধানের অধ্যায়, নং (৫৩৬), ১/ ২৬৯।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস, ১/ ২৭০।

(৫) সুয়ূতী, তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী, ১/ ৩১৮।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - تفسير بعض الألفاظ الغريبة في الحديث النبوي.

ومثاله حديث عائشة في بَدْء الوحي: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَحَنَّثُ فِي غَارِ حِرَاءَ - وهو التَّعَبُّد - اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ» (1)، فقوله: وهو التَّعَبُّد، مُدْرَج من قول الزُّهْرِيّ (2).

3 - وقد يكون الإدراج نتيجة لوَهْم (3) الراوي وخطئه.

ومثاله ما أخرجه البيهقي (4) من طريق أبي عاصم الضحاك بن مخلد، قال: ثنا قُرَّة بن خالد، ثنا مُحَمَّد بن سِيرِين، عن أبي هُرَيْرَة، قال: قال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "طَهُورُ الْإِنَاءِ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِيهِ أَنْ يُغْسَلَ سَبْعَ مَرَّاتٍ، الْأُولَى بِالتُّرَابِ، وَالْهِرَّةُ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ" قُرَّة يَشُكّ.

قال البيهقي (5): "وأبو عاصم الضحاك بن مخلد ثقة إلا أنه أخطأ (6) في إدراج قول أبي هريرة في الهرّة في الحديث المرفوع في الكلب، وقد رواه علي بن نصر الجَهْضَمِيّ، عن قرة فبينه بيانًا شافيًا"، وقال أيضًا في معرفة السنن والآثار (7): "وأما حديث محمد بن سيرين، عن أبي هريرة: «إذا ولغ الهرّ غسل مرة» فقد أدرجه بعض الرواة في حديثه، عن النبي صلى الله عليه وسلم في ولوغ الكلب ووهموا فيه، الصحيح أنه في ولوغ الكلب مرفوع، وفي ولوغ الهر موقوف، ميزه علي بن نصر الجَهْضَمِيّ، عن قرة بن خالد، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، ووافقه عليه جماعة من الثقات".

--------------------------------------------

(1) البخاري، الجامع المسند الصحيح: كتاب التّعبير، باب أوَّل مَا بُدِئَ به رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم من الوحي الرُّؤيا الصَّالِحَة، رقم (6982)، 9/ 29.

(2) السيوطي، تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي، 1/ 318.

(3) الوَهْم بسكون الهاء: وهم القَلْب، والجمع: أوهامٌ .. وتوهّمت في كذا، وأَوْهَمْتَه، أي: أغفلته، ووَهِم يَوْهَمُ وهمًا، أي: غلط، ووهمت، إذا ذهب قلبك إلى شيء وأنت تريد غيره، ومعنى هذا أنك تريد الصواب فتسلك مسلكًا غيره وأنت لم تقصده (انظر: معجم مقاييس اللغة لابن فارس، 1/ 301).

(4) البيهقي، السنن الكبرى، تحقيق: محمد عبد القادر عطا] دار الكتب العلمية، بيروت، ط 3، 1424 هـ[، كتاب الطهارة، باب سُؤْر الهِرَّة، رقم (1168)، 1/ 939.

(5) المصدر نفسه، الصفحة نفسها.

(6) استخدم بعض المحدّثين الوهم بمعنى الخطأ والعكس، فعبروا عن الوهم بلفظ الخطأ، وعبروا عن الخطأ بلفظ الوهم، يتبين ذلك من المثال السابق.

(7) البيهقي، معرفة السنن والآثار، تحقيق: عبد المعطي أمين قلعجي] جامعة الدراسات الإسلامية، باكستان، ط 1، 1412 هـ[، 2/ 69.
২ - নববী হাদিসের কিছু অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা।

এর উদাহরণ হলো ওহী শুরুর বিষয়ে আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস: «নবী صلى الله عليه وسلم হেরা গুহায় ‘তাহান্নুছ’ করতেন—আর তা হলো ইবাদত—বেশ কিছু রাত পর্যন্ত» (১)। এখানে ‘আর তা হলো ইবাদত’ কথাটি ইমাম যুহরী (র.)-এর পক্ষ থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) (২)।

৩ - কখনো কখনো বর্ণনাকারীর বিভ্রম (وهم) (৩) ও ভুলের কারণেও প্রক্ষেপণ (الإدراج) হয়ে থাকে।

এর উদাহরণ হলো যা বায়হাকি (৪) আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে খালিদ, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন: "কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তা পবিত্র করার নিয়ম হলো সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে; আর বিড়ালের ক্ষেত্রে একবার বা দুইবার।" কুররাহ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

বায়হাকি (৫) বলেন: "আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তিনি কুকুর সংক্রান্ত মারফু (مرفوع) হাদিসে বিড়াল সম্পর্কে আবু হুরায়রার উক্তি প্রক্ষিপ্ত (إدراج) করার ক্ষেত্রে ভুল (أخطأ) (৬) করেছেন। আলী ইবনে নাসর আল-জাহদামি কুররাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।" তিনি 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' (৭) গ্রন্থে আরও বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন কর্তৃক আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: «বিড়াল মুখ দিলে একবার ধৌত করতে হবে»—কিছু বর্ণনাকারী কুকুর মুখ দেওয়া সংক্রান্ত নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাদিসের সাথে এটিকে প্রক্ষিপ্ত (أدرجه) করেছেন এবং এতে বিভ্রান্ত (وهموا) হয়েছেন। সঠিক (الصحيح) হলো, কুকুরের বিষয়টি মারফু (مرفوع) আর বিড়ালের বিষয়টি মাওকুফ (موقوف)। আলী ইবনে নাসর আল-জাহদামি কুররাহ ইবনে খালিদ, ইবনে সিরিন ও আবু হুরায়রার সূত্রে এটি পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং একদল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারী তার সাথে একমত হয়েছেন।"

--------------------------------------------

(১) বুখারি, আল-জামিউল মুসনাদ আস-সহিহ: কিতাবুত তাবির, বাবু আওলায়ি মা বুদিয়া বিহি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মিনাল ওয়াহয়ি আর-রুইয়া আস-সালিহা, নম্বর (৬৯৮২), ৯/ ২৯।

(২) সুয়ূতী, তদরীফুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী, ১/ ৩১৮।

(৩) ‘ওয়াহম’ (الوَهْم) হ-এর সুকুন যোগে: এর অর্থ মনের কল্পনা বা বিভ্রম, বহুবচন: অওহাম। ... ‘তাওয়াহহামতু ফী কাযা’ এবং ‘আওহামতুহু’ অর্থ: আমি তা অবহেলা করেছি বা ভুলে গেছি। ‘ওয়াহিমা ইয়াওহামু ওয়াহমান’ অর্থ: সে ভুল করেছে। ‘ওয়াহিমতা’ অর্থ: যখন তোমার মন কোনো বিষয়ের দিকে চলে যায় অথচ তুমি অন্য কিছু চাচ্ছিলে। এর অর্থ হলো তুমি সঠিক বিষয়ের ইচ্ছা পোষণ করা সত্ত্বেও ভুল পথে পরিচালিত হওয়া যা তোমার কাম্য ছিল না (দেখুন: মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ লি ইবনি ফারিস, ১/ ৩০১)।

(৪) বায়হাকি, আস-সুনান আল-কুবরা, তাহকীক: মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির আতা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪২৪ হিজরি, কিতাবুত তাহারাহ, বাবু সু’রিল হিররাহ, নম্বর (১১৬৮), ১/ ৯৩৯।

(৫) একই উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৬) কোনো কোনো মুহাদ্দিস বিভ্রম (الوهم) শব্দটিকে ভুল (الخطأ) অর্থে এবং এর বিপরীত অর্থেও ব্যবহার করেছেন। তারা বিভ্রমকে ভুলের শব্দ দিয়ে এবং ভুলকে বিভ্রমের শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছেন, যা পূর্বের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট হয়।

(৭) বায়হাকি, মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, তাহকীক: আব্দুল মু'তি আমিন কালআজি, জামিয়াতুদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ, পাকিস্তান, ১ম সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি, ২/ ৬৯।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌خامسًا: حكم الإدراج

تَعَمُّد شيء من الإدراج في رأي جمهور علماء الحديث أمر محرم:

قال الجَعْبَري: "وهو حرَام للتلبيس، إِلَّا أَن يبين" (1).

وقال العراقي: "واعلم: أنه لا يجوز تعمد شيء من الإدراج" (2).

وقال السخاوي: تَعَمُّد الإدراج حرام; لما يتضمّن من عزو الشيء لغير قائله، وأسوأه ما كان في المرفوع مما لا دخل له في الغريب المتسامح في خلطه، أو الاستنباط (3).

أما عز الدين الصنعاني، المعروف بالأمير (ت: 1182 هـ) فإنه يرى التفصيل في ذلك:

حيث قال: "إدراج ما هو من تفاسير الألفاظ لا يحرم، وإدراج ما هو من غيرها مما فيه حكم شرعي وإيهام أنه مرفوع هو الذي لا يجوز" (4).

 

‌‌سادسًا: المؤلفات في المدرج

أول من ألف في المدرج الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت، الخطيب البغدادي (ت: 463 هـ) حيث ألف كتابه: "الفصل للوصل المدرج في النقل"، قال ابن الصلاح: "وهذا النّوع قد صَنَّف فيه الخطيب أبو بكرٍ كتابه المَوْسُوم "بالفصل للوصل الْمُدْرَج في النَّقْل" فشفى وكفى" (5).

وقد لخّص الحافظ ابن حجر العسقلاني (ت: 852 هـ) كتاب الخطيب: ورتبه على الأبواب والمسانيد، ثم استدرك عليه ما فاته من الأحاديث المدرجة، وبلغت قدره مرتين أو أكثر، يقول ابن حجر في ذلك: "وقد لخصته -أي كتاب الخطيب- ورتبته على الأبواب

--------------------------------------------

(1) الْجَعْبَري، رسوم التحديث في علوم الحديث] دار ابن حزم، لبنان، ط 1، 1427 هـ[، ص 91.

(2) العراقي، التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح، ص 130.

(3) السخاوي، فتح المغيث بشرح الفية الحديث للعراقي] مكتبة السنة، مصر، ط 1، 1424 هـ[، 1/ 308.

(4) الصنعاني، توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار، 2/ 51.

(5) ابن الصلاح، أنواع علوم الحديث (المعروف بمقدمة ابن الصلاح)، ص 98.
পঞ্চম: ইদরাজ (الإدراج) এর বিধান

অধিকাংশ হাদিস বিশারদের মতে বর্ণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু অনুপ্রবেশ (الإدراج) ঘটানো হারাম বা নিষিদ্ধ:

আল-জা'বারি বলেছেন: "বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কার কারণে এটি হারাম, তবে যদি বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয় (তবে ভিন্ন কথা)" (১)।

আল-ইরাকি বলেছেন: "জেনে রাখুন: ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু ইদরাজ (الإدراج) করা বা অনুপ্রবেশ ঘটানো জায়েজ নয়" (২)।

আস-সাখাভি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে ইদরাজ (الإدরাজ) করা হারাম; কারণ এতে কোনো কথাকে তার প্রকৃত বক্তা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আর এর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য হলো মারফু (المرفوع) হাদিসের মধ্যে এমন কিছু অনুপ্রবেশ ঘটানো যা বিরল (الغريب) শব্দের ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়—যেখানে সংমিশ্রণকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়—কিংবা যা বিধান আহরণ (الاستنباط) সংক্রান্ত নয় (৩)।

আর আল-আমির নামে পরিচিত ইযযুদ্দিন আস-সানআনি (মৃত্যু: ১১৮২ হি.) এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার পক্ষপাতী:

যেখানে তিনি বলেছেন: "শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে যা অনুপ্রবেশ (الإدراج) করা হয় তা হারাম নয়। তবে এছাড়া অন্য কিছু যাতে কোনো শরয়ি বিধান রয়েছে এবং যা মারফু (المرفوع) হাদিসের অংশ বলে ভ্রম সৃষ্টি করে, তা জায়েজ নয়" (৪)।

 

ষষ্ঠ: মুদরাজ (المدرج) বিষয়ক গ্রন্থাবলি

মুদরাজ (المدرج) বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত, আল-খাতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হি.); তিনি "আল-ফাসল লিল ওয়াসল আল-মুদরাজ ফি আন-নাকল" নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: "এই প্রকারের হাদিস নিয়ে আল-খাতিব আবু বকর তার 'আল-ফাসল লিল ওয়াসল আল-মুদরাজ ফি আন-নাকল' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যা এই বিষয়ে যথেষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ" (৫)।

হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) খাতিব বাগদাদির গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন এবং একে বিভিন্ন অধ্যায় ও মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এরপর তিনি সেখানে বাদ পড়া মুদরাজ (المدرج) হাদিসগুলো সংযোজন করেছেন, যার পরিমাণ মূল গ্রন্থের দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনে হাজার বলেন: "আমি তা (অর্থাৎ খাতিব বাগদাদির গ্রন্থটি) সংক্ষেপ করেছি এবং অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি..."

--------------------------------------------

(১) আল-জা'বারি, রুসুমুত তাহদিস ফি উলুমিল হাদিস [দার ইবনে হাজম, লেবানন, ১ম সংস্করণ, ১৪২৭ হি.], পৃষ্ঠা ৯১।

(২) আল-ইরাকি, আত-তাকিদ ওয়াল ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাতিবনিস সালাহ, পৃষ্ঠা ১৩০।

(৩) আস-সাখাভি, ফাতহুল মুগিস বি-শারহি আলফিয়াতিল হাদিস লিল ইরাকি [মাকতাবাতুস সুন্নাহ, মিশর, ১ম সংস্করণ, ১৪২৪ হি.], ১/৩০৮।

(৪) আস-সানআনি, তাওদিহুল আফকার লি-মাআনি তানকিহিল আনজার, ২/৫১।

(৫) ইবনে আস-সালাহ, আনওয়াউ উলুমিল হাদিস (মুকাদ্দিমা ইবনে আস-সালাহ নামে পরিচিত), পৃষ্ঠা ৯৮।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والمسانيد، وزدت على ما ذكره الخطيب أكثر من القدر الذي ذكره" (1)، وقال: "واسمه تقريب المنهج بترتيب المدرج أعان الله على تكميله وتبيضه إنه على كل شيء قدير" (2).

وقد أشار إلى كتاب ابن حجر هذا الإمام السَّخاوي في شرحه لألفية العراقي، فقال: "وقد صنف الخطيب في هذا النوع كتابا سماه (الفصل للوصل المدرج في النقل) ولخصه شيخنا مع ترتيبه له على الأبواب، وزيادة لعللٍ وعزوٍ، وسماه (تقريب المنهج بترتيب المدرج) " (3)، ولم أجد هذا الكتاب بين المطبوع من كتب علوم الحديث.

ثم جاء الحافظ جلال الدين السيوطي (ت: 911 هـ) فلخص كتاب الحافظ ابن حجر، يقول في مقدمة كتابه: " هذا جزء لطيف سميته المَدرج بفتح الميم - إلى المُدرج - بضم الميم -، لخصته من تقريب المنهج بترتيب المدرج لشيخ الإسلام الحافظ ابن حجر، إلَّا أنِّي اقتصرت فيه على مدرج الْمَتْن دون مدرج الإسناد؛ لِأَن العنايَة بتمييز كلام الرواة من كلام النُّبُوَّة أهم، وعوضته من مدرج الإسناد زوائِد مهمة من مدرجات المُتُون خلى عنها كتابه وهي مسطورة في كتب النقاد والله الْمُوفق" (4).

 

‌‌سابعًا: الفرق بين المدرج وزيادة الثقة

لكي يتضح الفرق بين المدرج وزيادة الثقة فلا بّد من بيان معناهما.

تعريف زيادة الثقة:

عرفها الحاكم النيسابوري بقوله: "معرفة زيادات ألفاظ فقهية في أحاديث، ينفرد بالزيادة راوٍ واحد" (5).

ويؤخذ على هذا التعريف ما يلي:

1 - قصر الزيادة على الزيادة على المتن، وزيادة الثقة قد تكون في السند وقد

--------------------------------------------

(1) ابن حجر، النكت على كتاب ابن الصلاح، 2/ 811.

(2) المصدر نفسه، 2/ 829.

(3) السخاوي، فتح المغيث بشرح الفية الحديث للعراقي، 1/ 308.

(4) السيوطي، المدرج إلى المدرج] الدار السلفية، الكويت، د. ط.، د. ت. [، ص 17.

(5) انظر: معرفة علوم الحديث للحاكم] دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 1397 هـ[، ص 130.
এবং মুসনাদসমূহ; আর আমি খতিব যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়েও অধিক অংশ এতে যোগ করেছি" (১), এবং তিনি বলেন: "আর এর নাম হলো তাকরীবুল মানহাজ বিতরতীবিিল মুদরাজ, আল্লাহ এটি সম্পন্ন এবং পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে সহায়তা করুন, নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান" (২)।

ইমাম সাখাওয়ী ইরাকীর আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে হাজারের এই বইটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "খতিব এই প্রকারের (النوع) ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল' এবং আমাদের শায়খ এটিকে পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করার পাশাপাশি এতে ত্রুটি (علل) এবং উদ্ধৃতি (عزو) যোগ করে সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'তাকরীবুল মানহাজ বিতরতীবিিল মুদরাজ'" (৩), আর আমি হাদিস শাস্ত্রের মুদ্রিত বইগুলোর মধ্যে এই বইটি খুঁজে পাইনি।

অতঃপর হাফিজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত: ৯১১ হিজরী) আগমন করেন এবং তিনি হাফিজ ইবনে হাজারের বইটি সংক্ষেপ করেন। তিনি তার বইয়ের ভূমিকায় বলেন: "এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যার নাম আমি দিয়েছি 'আল-মাদরাজ ইলাল মুদরাজ', যা আমি শায়খুল ইসলাম হাফিজ ইবনে হাজারের 'তাকরীবুল মানহাজ বিতরতীবিিল মুদরাজ' থেকে সংক্ষেপ করেছি। তবে আমি এতে মূল পাঠের অনুপ্রবেশের (مدرج المتن) মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং সনদের অনুপ্রবেশ (مدرج الإسناد) বাদ দিয়েছি; কারণ নবুওয়তের বাণী থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) কথা পৃথক করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সনদের অনুপ্রবেশের পরিবর্তে মূল পাঠের অনুপ্রবেশের (مدرجات المتون) কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছি যা তার বইয়ে ছিল না এবং সেগুলো সমালোচকদের (النقاد) কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে, আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী" (৪)।

 

‌‌সপ্তম: অনুপ্রবেশকৃত (المدرج) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশের (زيادة الثقة) মধ্যে পার্থক্য

অনুপ্রবেশকৃত (المدرج) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশের (زيادة الثقة) মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য এই দুইটির অর্থ বর্ণনা করা আবশ্যক।

নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশের (زيادة الثقة) সংজ্ঞা:

হাকিম নিশাপুরী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "হাদিসের মধ্যে এমন ফিকহী শব্দাবলির অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কে জানা, যা বর্ণনায় একজন বর্ণনাকারী (راوٍ) এককভাবে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন" (৫)।

এই সংজ্ঞার ওপর নিম্নোক্ত আপত্তিগুলো করা হয়:

১ - অতিরিক্ত অংশকে কেবল মূল পাঠের (المتن) অতিরিক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, অথচ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) কখনও সনদের (السند) মধ্যে হতে পারে এবং...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার, আন-নুকাত আলা কিতাবিবনিস সালাহ, ২/ ৮১১।

(২) একই উৎস, ২/ ৮২৯।

(৩) সাখাওয়ী, ফাতহুল মুগীস বিশারহি আলফিয়াতিল হাদিস লিল ইরাকী, ১/ ৩০৮।

(৪) সুয়ূতী, আল-মাদরাজ ইলাল মুদরাজ [দারুস সালাফিয়্যাহ, কুয়েত, প্রকাশনা নং বিহীন, তারিখ বিহীন], পৃ. ১৭।

(৫) দেখুন: মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস লিল হাকিম [দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ১৩৯৭ হিজরী], পৃ. ১৩০।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
تكون في المتن.

2 - قصر الزيادة على الألفاظ الفقهية، والأولى أن تكون مطلقة.

وعرفها ابن رجب ببيان صورتها فقال: "وصورتها أن يروي جماعة حديثاً واحداً بإسناد واحد، ومتن واحد فيزيد بعض الرواة فيه زيادة، لم يذكرها بقية الرواة" (1).

وعرفها ابن كثير بقوله: "بأنها ما تفرّد به الراوي بزيادة في الحديث عن بقية الرواة، عن شيخ لهم" (2).

ولعل أقرب التعريفات إلى الدقة تعريف ابن كثير؛ حيث جعل الزيادة مطلقة في الألفاظ الفقهية وفي غيرها، كما أنه شمل الزيادة في السند والزيادة في المتن معًا.

ولقد سبق أن عرفت المدرج بأنه: "ما أُدخلت فيه زيادة ليست منه، على وجه يُوهم أنها منه".

ومن تعريف زيادة الثقة وتعريف المدرج يمكن تحديد الفرق بينهما:

أولًا: الفرق بينهما في المتن، ويتبين فيما يلي:

1 - أن زيادة الثقة هي جزء من الحديث روي من بعض الطرق ولم يرو من بعضها الآخر، ولم يثبت دليل على أنها مزيدة من غير قول النبي صلى الله عليه وسلم، بينما المدرج زيادة ثبت بالأدلة أنها ليست من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، فـ"الأصل ما كان في الخبر فهو منه حتى يقوم دليل على خلافه" (3).

2 - ومن جهة الحكم والعمل فيختلف المدرج عن زيادة الثقة في أن: زيادة الثقة متى ثبتت وصحت صارت حجة ولزم العمل بها (4). أما المدرج ففيه بعض

--------------------------------------------

(1) ابن رجب، شرح علل الترمذي، تحقيق: د. همام عبد الرحيم سعيد] مكتبة المنار، الأردن، ط 1، 1407 هـ[، 2/ 635.

(2) ابن كثير، الباعث الحثيث في اختصار علوم الحديث، ص 61.

(3) ابن حجر، فتح الباري شرح صحيح البخاري] دار المعرفة، بيروت، د.، ط.، 1379 هـ[، 2/ 83.

(4) انظر: الشذا الفياح من علوم ابن الصلاح الأبناسي] مكتبه الرشد، مصر، ط 1، 1418 هـ[، 1/ 194.
তা মূল পাঠে (متن) হয়ে থাকে।

২ - অতিরিক্ত অংশকে (زيادة) ফিকহী শব্দাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, তবে এটি সাধারণ বা শর্তহীন হওয়াই অধিক উত্তম।

ইবনে রজব এর প্রয়োগ পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন, তিনি বলেন: "এর সুরত হলো একদল বর্ণনাকারী একটি হাদিসকে একই সনদ (إسناد) এবং একই মূল পাঠের (متن) মাধ্যমে বর্ণনা করেন, কিন্তু বর্ণনাকারীদের (راوي) কেউ কেউ তাতে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ (زيادة) বৃদ্ধি করেন যা অন্য বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেননি" (১)।

ইবনে কাসীর এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এটি হলো সেই অতিরিক্ত অংশ যা কোনো বর্ণনাকারী (راوي) তাদের সাধারণ শাইখ (شيخ) থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অন্যান্য বর্ণনাকারীদের তুলনায় একাকী (تفرّد) বর্ণনা করেছেন" (২)।

সম্ভবত সূক্ষ্মতার দিক থেকে ইবনে কাসীরের সংজ্ঞাই অধিকতর সঠিক; যেহেতু তিনি অতিরিক্ত অংশকে (زيادة) ফিকহী শব্দাবলি ও এর বাইরে সাধারণ হিসেবে গণ্য করেছেন, তদুপরি এটি সনদ (سند) এবং মূল পাঠ (متন) উভয়ের অতিরিক্ত অংশকে একত্রে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইতিপূর্বে আপনি প্রক্ষিপ্ত (مدرج) এর সংজ্ঞা জেনেছেন যে: "যাতে এমন কোনো অতিরিক্ত অংশ (زيادة) অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা তার অংশ নয়, এমনভাবে যা ধারণা দেয় যে এটি তার অন্তর্ভুক্ত।"

নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) এবং প্রক্ষিপ্ত (مدرج) এর সংজ্ঞা থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব:

প্রথমত: মূল পাঠের (متن) ক্ষেত্রে এ দুটির পার্থক্য নিম্নরূপ:

১ - নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) হলো হাদিসের একটি অংশ যা কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং অন্য কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়নি। আর এটি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী ব্যতিরেকে অতিরিক্ত কোনো অংশ, তার কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) হলো এমন অতিরিক্ত অংশ যা দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথা নয়। কারণ "মূলনীতি হলো খবরের মধ্যে যা আছে তা তারই অংশ হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়" (৩)।

২ - বিধান এবং আমলের দিক থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج) ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) এর মধ্যে পার্থক্য হলো: যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) সাব্যস্ত ও বিশুদ্ধ (صحيح) হবে, তখন তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হবে (৪)। আর প্রক্ষিপ্তের (مدرج) ক্ষেত্রে কিছু...

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব, শরহ ইলাল আত-তিরমিজি, তাহকিক: ড. হুম্মাম আবদুর রহিম সাঈদ [মাকতাবাতুল মানার, জর্ডান, ১ম প্রকাশ, ১৪০৭ হিজরি], ২/ ৬৩৫।

(২) ইবনে কাসীর, আল-বাঈস আল-হাছীস ফী ইখতিসার উলূম আল-হাদিস, পৃষ্ঠা ৬১।

(৩) ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী শরহ সহীহ বুখারী [দারুল মা’রিফাহ, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি], ২/ ৮৩।

(৪) দেখুন: আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূম ইবনুস সালাহ আল-আবনাসী [মাকতাবাতুর রুশদ, মিশর, ১ম প্রকাশ, ১৪১৮ হিজরি], ১/ ১৯৪।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
التفصيل: فإن ثبت أنه من قول النبي صلى الله عليه وسلم وصح من طريق آخر فهو حجة صحيح من حيث الحكم، ولكنه غير صحيح من حيث الرواية المدرجة، وإن كان المدرج من قول الصحابي فهو موقوف، وإن كان من قول التابعي فهو مقطوع.

ثانيًا: الفرق بينهما في السند، ويتبين فيما يلي:

1 - في زيادة الثقة يكون الإسناد واحد والمتن واحد، فيزيد عليه الثقة، بينما المدرج غير ذلك، فربما أدرج الراوي في الحديث كلامًا للنبي صلى الله عليه وسلم ثبت بإسناد آخر، ويكون المتن مختلفًا أيضًا.

2 - وفرق آخر هو أن زيادة الثقة مقيدة بما يزيده راوي ثقة، أما ما يزيده الضعيف فهو زيادة ضعيف، بينما المدرج فيشمل ما يدرجه الثقة وما يدرجه الضعيف.
বিস্তারিত: যদি এটি প্রমাণিত হয় যে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী এবং অন্য কোনো সূত্রে সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়, তবে বিধানগত দিক থেকে এটি সহিহ (صحيح) ও দলিলযোগ্য (حجة); কিন্তু সন্নিবেশিত বর্ণনার (رواية مدرجة) দিক থেকে এটি সহিহ (صحيح) নয়। আর যদি সন্নিবেশিত বিষয়টি (المدرج) কোনো সাহাবীর কথা হয় তবে তা মাওকুফ (موقوف), আর যদি কোনো তাবেয়ীর কথা হয় তবে তা মাকতু (مقطوع)।

দ্বিতীয়ত: সনদের (سند) ক্ষেত্রে এই দুটির মধ্যকার পার্থক্য নিম্নরূপ:

১ - নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বিবরণের (زيادة الثقة) ক্ষেত্রে সনদ (إسناد) ও মতন (متن) অভিন্ন থাকে এবং সেখানে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কিছু বাড়িয়ে বলেন। অন্যদিকে মুদরাজ (مدرج) বা সন্নিবেশিত বর্ণনা এর ব্যতিক্রম; হতে পারে বর্ণনাকারী (راوي) হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এমন কোনো কথা সন্নিবেশিত (أدرج) করেছেন যা অন্য সনদের (إسناد) মাধ্যমে প্রমাণিত এবং যার মতনও (متن) ভিন্ন।

২ - আরেকটি পার্থক্য হলো, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বিবরণ (زيادة الثقة) কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ধিত বর্ণনার সাথেই সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী যা বৃদ্ধি করেন তা দুর্বল বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة ضعيف) হিসেবে গণ্য। তবে মুদরাজ (مدرج) বা সন্নিবেশিত বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং দুর্বল (ضعيف) উভয় প্রকার বর্ণনাকারীর সংযোজনই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
•‌‌ الفصل الأول: سيرة الإمام ابن شهاب الزُّهْرِيّ

o المبحث الأول: ترجمة الإمام الزُّهْرِيّ.

o المبحث الثاني: عقيدته.

o المبحث الثالث: مكانته العلمية.

o المبحث الرابع: مراسيله ونسبة التدليس إليه.
প্রথম অধ্যায়: ইমাম ইবনে শিহাব আল-জুহরি-র জীবনী

o প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-জুহরি-র জীবনবৃত্তান্ত।

o দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা।

o তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা।

o চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাসমূহ এবং তাঁর প্রতি তাদলিস (تدليس) আরোপের বিষয়টি।
(খণ্ড: ১) বালাঘাতু ইবনি শিহাব আয-যুহরী ওয়া ইদরাজাতুহু ফিল কুতুবিস সিত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الأول: ترجمة الإمام الزُّهْرِيّ.

‌‌أولًا: اسمه ونسبه وكنيته

هو محمد بن مسلم بن عبيد الله بن عبد الله الأصغر بن شهاب بن عبد الله بن الحارث بن زهرة بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب، القرشي، الزُّهْرِيّ (1).

والزُّهْرِيّ: نِسْبَة إِلَى زهرَة بن كلاب بن مرّة، جد النَّبِي صلى الله عليه وسلم لأمه (2).

واختُلف في نسب أمه:

فقال خليفة بن خياط: أمه ابنة أهبان بن أفصى بن عروة بن صخر بن يعمر بن قدامة بن عدي بن الديل بن بكر بن عبد مناة بن كنانة (3).

وقال مُحَمَّد بن سعد: أمه عائشة بنت عبد اللَّه الأكبر بن شهاب (4).

كنيته: أبو بكر (5).

 

‌‌ثانيًا: مولده

اختلفت الروايات في تحديد عام ولادته على أقوال:

قال أَبُو زُرْعَة الدمشقي عن عبد الرحمن بن إِبْرَاهِيم، وأَحْمَد بن صالح المِصْرِي: مولده سنة خمسين (6).

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: تهذيب الكمال في أسماء الرجال للمزي، تحقيق: د. بشار عواد معروف] مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 1، 1400 هـ[، 26/ 419، والطبقات الكبرى لابن سعد، تحقيق: محمد عبد القادر عطا] دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1، 1410 هـ[، 2/ 388، سير أعلام النبلاء للذهبي، 5/ 326، تهذيب التهذيب لابن حجر] مطبعة دائرة المعارف النظامية، الهند، ط 1، 1326 هـ[، 9/ 445، ونسب قريش للزبيري] دار المعارف، القاهرة، ط 3، د. ت. [، ص 274، وغيرهم.

(2) خليفة بن خياط، طبقانه، تحقيق: د. سهيل زكار] دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت، د. ط.، 1414 هـ[، ص 454.

(3) ابن ناصر الدين الدمشقي، توضيح المشتبه في ضبط أسماء الرواة وأنسابهم وألقابهم وكناهم، تحقيق: د. سهيل زكار] مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 1، 1993 م [، 4/ 319.

(4) ابن سعد، الطبقات الكبرى، 5/ 348.

(5) المصدر نفسه، الصفحة نفسها.

(6) أبو زرعة الدمشقي، تاريخه (رواية: أبي الميمون بن راشد)، تحقيق: شكر الله نعمة الله القوجاني] مجمع اللغة العربية، دمشق، د. ط.، د. ت. [، ص 584.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম যুহরী-এর জীবনী (ترجمة).

প্রথমত: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম (كنية)

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল-আসগার বিন শিহাব বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন যুহরা বিন কিলাব বিন মুররা বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব, আল-কুরাশি, আয-যুহরী (১)।

আর 'যুহরী' শব্দটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতামহ যুহরা বিন কিলাব বিন মুররার সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত (نسبة) (২)।

তাঁর মায়ের বংশপরিচয়ের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে:

খলিফা বিন খইয়াত বলেছেন: তাঁর মা হলেন আউবান বিন আফসা বিন উরওয়া বিন সাখর বিন ইয়ামুর বিন কুদামা বিন আদি বিন আদ-দাইল বিন বকর বিন আবদে মানাত বিন কিনানার কন্যা (৩)।

মুহাম্মদ বিন সাদ বলেছেন: তাঁর মা হলেন আয়েশা বিনতে আবদুল্লাহ আল-আকবার বিন শিহাব (৪)।

তাঁর উপনাম (كنية): আবু বকর (৫)।

 

দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম

তাঁর জন্মসাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্ণনাসমূহের (روايات) মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে:

আবু যুরআ আদ-দিমাশকি আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম ও আহমদ বিন সালিহ আল-মিসরি হতে বর্ণনা করেছেন: তাঁর জন্ম হয়েছে পঞ্চাশ হিজরি সনে (৬)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: আল-মিযযি রচিত তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, সম্পাদনা: ড. বাশার আওয়াদ মারুফ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০০ হিজরি, ২৬/৪১৯; এবং ইবনে সাদ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবদুল কাদির আতা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি, ২/৩৮৮; আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩২৬; ইবনে হাজার রচিত তাহযীবুত তাহযীব, মাতবায়াতু দাইরাতিল মাআরিফ আন-নিযামিয়্যাহ, ভারত, ১ম সংস্করণ, ১৩২৬ হিজরি, ৯/৪৪৫; এবং আয-যুবাইরি রচিত নাসাবু কুরাইশ, দারুল মাআরিফ, কায়রো, ৩য় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৭৪; এবং অন্যান্য।

(২) খলিফা বিন খইয়াত, তাবাকাতুহু, সম্পাদনা: ড. সুহাইল যাকার, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪১৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪৫৪।

(৩) ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি, তাওদিহুল মুশতাবিহ ফি দাবতি আসমাইর রুওয়াত ওয়া আনসাবিহিম ওয়া আলকাবিহিম ওয়া কুনা-হুম, সম্পাদনা: ড. সুহাইল যাকার, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ, ৪/৩১৯।

(৪) ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৫/৩৪৮।

(৫) একই উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৬) আবু যুরআ আদ-দিমাশকি, তারিখুহু (আবু মায়মুন বিন রাশিদ-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী), সম্পাদনা: শুকরুল্লাহ নেমাতুল্লাহ আল-কুজানি, মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, দামেস্ক, পৃষ্ঠা ৫৮৪।