(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة   (سعود بن عيد الصاعدي)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة رضوان الله تعالى عليهم جميعًا في الكتب التسعة، ومسندى أبي بكر البزار، وأبي يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبي القاسم الطبراني

المؤلف: سعود بن عيد بن عمير الصاعدي

الناشر: عمادة البحث العلمي، الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وزارة التعليم العالي، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1427 هـ

عدد الأجزاء: 12 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1443

সাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কিত বর্ণিত হাদীসসমূহ   (সাউদ বিন ঈদ আস-সাঈদী)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ

কিতাব: নয়টি কিতাব, আবু বকর আল-বাযযার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর মুসনাদদ্বয় এবং আবু কাসিম আত-তাবারানীর তিনটি মু'জাম গ্রন্থে বর্ণিত সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ

লেখক: সাউদ বিন ঈদ বিন উমাইর আস-সাঈদী

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি

খণ্ডের সংখ্যা: ১২ (সর্বশেষটি সূচিপত্র)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية

وزارة التعليم العالي

الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

عمادة البحث العلمي

رقم الإصدار (86)

الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة

رضوان الله تعالى عليهم جميعًا

في الكتب التسعة، ومسندى أبي بكر البزار، وأبي يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبي القاسم الطبراني

جمع ودراسة

كتبها

د. سعود بن عيد بن عمير الصاعدي

عضو هئية التدريس في الجامعة الإسلامية في المدينة المنورة

غفر الله له ولوالديه

المجلد الأول

المقدمة - ما ورد في فضائل البدريين

الطبعة الأولى

 

‌‌1427 - هـ
সৌদি আরব রাজ্য

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়

মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ

প্রকাশনা নম্বর (৮৬)

সাহাবিদের ফজিলত বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ

আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন

নয়টি হাদিস গ্রন্থ, আবু বকর আল-বাজ্জার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির মুসনাদদ্বয় এবং আবুল কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মুজাম হতে সংগৃহীত

সংকলন ও গবেষণা

রচনায়

ড. সাউদ বিন ঈদ বিন উমাইর আস-সাঈদী

মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য

আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন

প্রথম খণ্ড

ভূমিকা - বদরি সাহাবিদের ফজিলত সংক্রান্ত বর্ণনা

প্রথম সংস্করণ

 

‌‌১৪২৭ - হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

ربِّ اشرح لي صدري، ويسّر لي أمري

وكن لي مساندًا ومؤازرًا، وإنه لا حول ولا قوَّة إلا بك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন

এবং আপনি আমার সাহায্যকারী ও সহায়তাকারী হোন; আর নিশ্চয়ই আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة رضوان الله تعالى عليهم جميعًا

في الكتب التسعة ومسندي أبي بكر البزر، وأبي يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبي القاسم الطبراني
সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মর্যাদাবিষয়ক বর্ণিত হাদিসসমূহ

কুতুবে তিসআ (নয়টি হাদিস গ্রন্থ), আবু বকর আল-বাজার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর মুসনাদদ্বয় এবং আবুল কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মু'জাম-এর অন্তর্গত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة معالي مدير الجامعة الإسلامية

الحمد لله رب العالمين، والصّلاة والسّلام على رسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: فإن أشرف ما تتجه إليه الهمم العالية هو طلب العلم، والبحث والنظر فيه، وتنقيح مسائله، وسلوك طريقه، لأنّ ذلك هو الذي يوصل إلى السعادة كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "من سلك طريقًا يلتمس به علمًا سهل الله له به طريقًا إلى الجنة".

وقال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر من الآية: 28].

وأول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم هو وحى الله إليه بالعلم {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (5)} [العلق: 1 - 5].

وقال تعالى يخاطبه: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [محمد من الآية: 19].

وقال تعالى: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (114)} [طه من الآية: 114].

وما قامت به الحياة السعيدة في الحياة الدنيا والآخرة إلا بالعلم النافع.

ولذا كان التعليم هو الهدف الأعظم لمؤسّس المملكة العربية السعودية الملك عبد العزيز رحمه الله، ولأبنائه كذلك من بعده، ففى عهد خادم الحرمين الشريفين الملك عبد الله بن عبد العزيز بلغت مسيرة التّعليم مستوى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় পরিচালকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ, তাবিঈন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার প্রতি।

অতঃপর: নিশ্চয়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যসমূহ যার দিকে ধাবিত হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো জ্ঞান অন্বেষণ করা, তাতে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করা, এর মাসআলাসমূহ পরিমার্জন করা এবং এর পথে চলা। কারণ এটাই পরম সৌভাগ্যের দিকে পৌঁছে দেয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।"

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮ আয়াতাংশ]।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করা হয়েছিল, তা হলো জ্ঞানের বিষয়ে তাঁর প্রতি আল্লাহর ওহী: {পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (১) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তবিন্দু থেকে (২) পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক অতি দয়ালু (৩) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন (৪) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (৫)} [আল-আলাক: ১ - ৫]।

এবং মহান আল্লাহ তাঁকে সম্বোধন করে বলেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [মুহাম্মদ: ১৯ আয়াতাংশ]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন (১১৪)} [ত্বহা: ১১৪ আয়াতাংশ]।

আর ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যময় জীবন একমাত্র উপকারী জ্ঞান দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এজন্যই শিক্ষা ছিল সৌদি আরব রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর পরবর্তী সন্তানদেরও মহত্তম লক্ষ্য। ফলে খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের যুগে শিক্ষা কার্যক্রম এক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
عاليًا وازدهر التّعليم العالي وارتقت الجامعات، ومن هذه الجامعات العملاقة، الجامعة الإسلاميّة بالمدينة النّبويّة، فهي صرح شامخ، يشرف بأن يكون إحدى المؤسّسات العلميّة والثّقافية، التي تعمل على هدى الشّريعة الإسلاميّة، وتقوم بتنفيذ السّياسة التّعليميّة بتوفير التّعليم الجامعيّ والدّراسات العليا، والنّهوض بالبحث العلمي والقيام بالتّأليف والتّرجة والنّشر، وخدمة المجتمع في نطاق اختصاصها.

ومن هنا، فعمادة البحث العلمي بالجامعة تضطلع بنشر البحوث العلمية، ضمن واجباتها، إلى تمثل جانبًا هامًّا من جوانب رسالة الجامعة ألا وهو النّهوض بالبحث العلمي والقيام بالتّأليف والتّرجة والنّشر.

ومن ذلك الكتاب: " [الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة - رضى الله عنهم - في الكتب التسعة، ومسندي أبى بكر البزار، وأبى يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبى القاسم الطبراني] جمع ودراسة: سعود بن عيد بن عمير الجربوعى الصاعدي.

نفع الله بذلك ونسأله سبحانه أن يرزقنا العلم النّافع والعمل الصّالح، وصلّى الله وسلّم وبارك على عبده ورسوله محمَّد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدِّين.

معالي مدير الجامعة الإسلاميّة

د/ صالح بن عبد الله العبود
উচ্চশিক্ষা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ উন্নত হয়েছে। আর এই বিশালকায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অন্যতম হলো মদিনা নববীয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি সুউচ্চ মিনার, যা ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনায় পরিচালিত অন্যতম ইলমি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব লাভ করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ও উচ্চতর শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করে থাকে, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়ন, গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা এবং নিজ এখতিয়ারের মধ্যে থেকে সমাজসেবার দায়িত্ব পালন করে।

এখান থেকেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ' তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশের ভার বহন করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে প্রতিফলিত করে; আর তা হলো বৈজ্ঞানিক গবেষণার উন্নতি সাধন এবং গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করা।

তারই অন্তর্ভুক্ত হলো এই গ্রন্থ: "[নয়টি কিতাব, আবু বকর আল-বাজার ও আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলির দুই মুসনাদ এবং আবু আল-কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মু'জামে বর্ণিত সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ফযিলত বিষয়ক হাদিসসমূহ] সংকলন ও গবেষণা: সাউদ বিন ঈদ বিন উমাইর আল-জারবুয়ী আস-সাঈদী।"

আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা উপকার দান করুন। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কল্যাণকর জ্ঞান ও নেক আমল দান করেন। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কিরাম ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর।

মাননীয় চ্যান্সেলর, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

ড. সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আব্বুদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الحمدُ لله يخلق ما يشاء ويختار اختيارا، خلق الإنسان وأوسعه جودًا وإكراما، وفضله على كثير من المخلوقات عدلا واقتدارا، قال جل من قائل تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا}‌‌(1)، وفاضل بين بني آدم فجعلهم رتبا وأقدارا، قال جل من قائل عليما: {انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَلْآخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلًا}‌‌(2)، وجعل رسله وأنبياءه أفضلهم درجة وارتقاء، وفاضل بينهم بحكمته انتخابًا وانتقاء، قال تبارك وتعالى: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ}‌‌(3). وصلى الله، وسلم على نبينا محمد، صلاةً وسلامًا تستمد الشمس ظاهر سناهما، ويستعير المسك عاطر شذاهما، أسمى الأنبياء درجة وأكثرهم أتباعا، وأفضلهم وأشرفهم أصحابا، هدى الله من تقدم من الأمة بخُبره، ومن تأخر بخَبره، ميمون النقيبة، مبارك الصحبة، عدّ الله - تعالى - أصحابه أفضل الخلق بعد الأنبياء والرسل استخلاصًا واصطفاء، قال - تعالى -: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا}‌‌(4)، وقال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ

--------------------------------------------

‌‌(1) الآية: (70)، من سورة: الإسراء.

‌‌(2) الآية: (21)، من السورة المتقدمة نفسها.

‌‌(3) من الآية: (253)، من سورة: البقرة.

‌‌(4) من الآية: (32)، من سورة: فاطر.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে অনুগ্রহ ও সম্মানে ভূষিত করেছেন। তিনি স্বীয় ইনসাফ ও সামর্থ্যে তাকে অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং আমি তাদের স্থলে ও জলে বহন করে নিয়েছি এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক দিয়েছি আর আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদেরকে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি}‌‌(১)। তিনি আদম সন্তানদের মধ্যেও পারস্পরিক তারতম্য রেখেছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন স্তর ও মর্যাদায় বিভক্ত করেছেন। সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ বলেন: {দেখুন, আমি তাদের একে অপরের ওপর কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। আর পরকাল তো অবশ্যই মর্তবায় বড় এবং শ্রেষ্ঠত্বেও বড়}‌‌(২)। তিনি তাঁর রাসূল ও নবীদের মর্যাদা ও উচ্চতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ করেছেন। তিনি আপন হিকমতে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের মাঝেও তারতম্য রেখেছেন। বরকতময় ও মহান আল্লাহ বলেন: {এই রাসূলগণ, আমি তাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাঁর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন}‌‌(৩)। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এমন রহমত ও শান্তি যা থেকে সূর্য তার উজ্জ্বল প্রভা লাভ করে এবং মৃগনাভি তার সুগন্ধি ধার নেয়। তিনি নবীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং সর্বাধিক অনুসারীপ্রাপ্ত। তাঁর সাহাবীগণ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। আল্লাহ তাঁর নবুওয়াতের প্রত্যক্ষ প্রভাবের মাধ্যমে পূর্ববর্তীদের পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে পরবর্তীদের পথ দেখিয়েছেন। তিনি শুভ স্বভাবের অধিকারী এবং বরকতময় সাহচর্যের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাহাবীগণকে নবী ও রাসূলদের পর বিশেষ মনোনয়নের মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি}‌‌(৪)। এবং তিনি বলেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো...

--------------------------------------------

‌‌(১) আয়াত: (৭০), সূরা: আল-ইসরা।

‌‌(২) আয়াত: (২১), পূর্বোক্ত একই সূরা থেকে।

‌‌(৩) আয়াত: (২৫৩) এর অংশবিশেষ, সূরা: আল-বাকারাহ।

‌‌(৪) আয়াত: (৩২) এর অংশবিশেষ, সূরা: ফাতির।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ}‌‌(1)، وفاضل بحكمته بينهم منوهًا ومشيدا، فقال جل من قائل خبيرا: {لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ}‌‌(2) … أما بعد:

فيقول الصحابي الجليل عبد الله بن مسعود الهذلي - رضى الله عنه -‌‌(3): (إن الله نظر في قلوب العباد، فوجد قلب محمد صلى الله عليه وسلم خير قلوب العباد، فاصطفاه لنفسه، فابتعثه برسالته. ثم نظر في قلوب العباد بعد قلب محمد، فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فجعلهم وزراء نبيه، يقاتلون على دينه) اهـ.

وقال - مرة -‌‌(4): (لا يقلدنّ أحدكم دينه رجلًا فإن آمن آمن، وإن كفر كفر. وإن كنتم لا بد مقتدين فاقتدوا بالميت؛ فإن الحي لا يؤمن عليه الفتنة) اهـ.

--------------------------------------------

‌‌(1) من الآية: (110)، من سورة: آل عمران.

‌‌(2) من الآية: (10)، من سورة: الحديد.

‌‌(3) هذا مختصر من أثر رواه جماعة، منهم: الإمام أحمد (6/ 84) ورقمه / 3600 عن أبى بكر عن عاصم عن زر بن حبيش عن ابن مسعود به … وهذا إسناد حسن؛ فيه عاصم (وهو: ابن أبى النجود) حسن الحديث (انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 6/ 320 - 321، وتهذيب الكمال 13/ 473 ت / 3002). وأبو بكر في الإسناد هو: ابن عياش.

‌‌(4) رواه جماعة منهم: الطبراني في معجمه الكبير (9/ 152) ورقمه/ 8764 - واللفظ له -، واللالكائى في شرح أصول الاعتقاد (1/ 93) ورقمه/ 130 بسنديهما عن أبى الأحوص (واسمه: عوف بن مالك)، واللالكائي - مرة اخرى - (ورقمه/ 131) بسنده =
অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।}‌‌(১), এবং তিনি তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাদের প্রশংসা ও উচ্চ মর্যাদা ঘোষণা করে মহান ও মহাজ্ঞানী সত্তা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। আর আল্লাহ প্রত্যেকের সাথে কল্যাণের ওয়াদা করেছেন এবং তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।}‌‌(২) … অতঃপর:

মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন‌‌(৩): (নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাকে তাঁর রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এরপর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অন্তরসমূহকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম পেয়েছেন। ফলে তিনি তাদের তাঁর নবীর উজির (সহকারী) বানিয়েছেন, যারা তাঁর দ্বীনের জন্য যুদ্ধ করেন।) সমাপ্ত।

তিনি আরও একবার বলেছেন‌‌(৪): (তোমাদের কেউ যেন তার দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণ না করে, যাতে সে ঈমান আনলে এ-ও ঈমান আনে, আর সে কুফরি করলে এ-ও কুফরি করে। আর যদি তোমাদের অনুকরণ করতেই হয়, তবে মৃতদের অনুকরণ করো; কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়।) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

‌‌(১) সূরা আল-ইমরান-এর ১১০ নম্বর আয়াতের অংশ।

‌‌(২) সূরা আল-হাদীদ-এর ১০ নম্বর আয়াতের অংশ।

‌‌(৩) এটি একটি বর্ণনার (আসার) সংক্ষিপ্ত রূপ যা একদল বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আহমাদ (৬/ ৮৪) এবং হাদীস নম্বর ৩৬০০; আবু বকর থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে ... এবং এর সনদ হাসান; এতে আসিম (যিনি ইবনে আবি নাজুদা) রয়েছেন, তিনি হাসানুল হাদীস (দেখুন: ইবনে সা’দ-এর আত-তাবাকাতুল কুবরা ৬/ ৩২০-৩২১ এবং তাহযীবুল কামাল ১৩/ ৪৭৩, ৩০০২)। সনদে উল্লিখিত আবু বকর হলেন ইবনে আইয়াশ।

‌‌(৪) এটি একদল বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: তাবারানি তাঁর মু’জামুল কবীরে (৯/ ১৫২) এবং হাদীস নম্বর ৮৭৬৪ - শব্দগুলো তাঁরই -, এবং লালকায়ী শরহু উসুলিল ইতি’কাদে (১/ ৯৩) এবং হাদীস নম্বর ১৩০; তাঁদের উভয় সনদে আবু আহওয়াস (যার নাম আউফ ইবনে মালিক) থেকে। এবং লালকায়ী - আরও একবার - (নম্বর ১৩১) তাঁর সনদে =
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال - مرة -‌‌(1): (من كان مُستنًا فليستن بمن قد مات؛ فإن الحي لا تُؤمن عليه الفتنة. أولئك أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا خير هذه الأمة، وأبرها قلوبًا، وأقلها تكلفًا. قوم اختارهم الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم، وإقامة دينه. فاعرفوا لهم فضلهم، واتبعوهم في آثارهم، وتمسكوا بما استطعتم من أخلاقهم وسيرهم؛ فإنهم كانوا على الهدى المستقيم) اهـ.

وقال ابن عباس - رضى الله عنهما -‌‌(2): (أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا على أحسن طريقة، وأقصد هداية. معدن العلم، وكنز الايمان، وجُند الرحمن) ا هـ.

--------------------------------------------

= عن مسروق، وابن حزم في الأحكام (6/ 255)، والبيهقي في السنن الكبرى (10/ 116) بسنديهما عن عبدة بن أبى لبابة، وابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله (2/ 947) ورقمه / 1810 بسنده عن قتادة، جميعًا عن ابن مسعود به. وهو صحيح عن ابن مسعود، ذكره الهيثمى في مجمع الزوائد (1/ 180) عن الطبراني، ثم قال: (ورجاله رجال الصحيح) اهـ.

‌‌(1) ذكره عنه جماعة كثيرة من أهل العلم كالبغوى في تفسيره (2/ 504)، وشيخ الإسلام (كما في: مجموع الفتاوى 3/ 126)، وابن القيم في إغاثة اللهفان (1/ 159).

ورواه: أبو نعيم في الحلية (1/ 305) بسنده عن عمر بن نبهان عن الحسن عن ابن عمر به، بنحوه. وعمر بن نبهان ضعيف (انظر: المجروحين 2/ 90، وتهذيب الكمال 2/ 515 ت / 4313). والحسن هو: البصرى، لم يسمع ابن عمر (انظر: جامع التحصيل ص / 163). والأشبه أن نحوه من قول الحسن نفسه، رواه ابن عبد البر في جامع بيان العلم (2/ 946) ورقمه / 1807 بسنده عنه به.

‌‌(2) ذكره عنه: البغوى في تفسيره (2/ 504).
এবং তিনি একবার বলেছিলেন‌‌(১): (যে কেউ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন; কারণ জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফিতনার (বিপথগামিতার) আশঙ্কা থেকে নিরাপদ হওয়া যায় না। তারা হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম, অন্তরের দিক থেকে সবচাইতে পুণ্যবান এবং কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচাইতে কম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং আপনারা তাদের মর্যাদা উপলব্ধি করুন, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করুন এবং সাধ্যমতো তাদের চরিত্র ও জীবনপদ্ধতি আঁকড়ে ধরুন; কারণ তারা সঠিক হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন) ইতি।

এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন‌‌(২): (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সর্বোত্তম পথের ওপর এবং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হেদায়েতের ওপর ছিলেন। তারা ইলমের আধার, ঈমানের ভাণ্ডার এবং রহমানের (পরম করুণাময়ের) সৈন্যবাহিনী।) ইতি।

--------------------------------------------

= মাসরূক থেকে বর্ণিত, এবং ইবনে হাজম তাঁর 'আল-আহকাম' (৬/২৫৫) গ্রন্থে, আল-বায়হাকী তাঁর 'আস-সুনান আল-কুবরা' (১০/১১৬) গ্রন্থে তাদের নিজ নিজ সনদে আবদাহ বিন আবি লুবাবাহ থেকে, এবং ইবনে আবদিল বার তাঁর 'জামি'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' (২/৯৪৭) গ্রন্থে যার ক্রমিক নং ১৮১০, তাঁর সনদে ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত, আল-হায়সামি তাঁর 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/১৮০) গ্রন্থে আত-তাবারানি থেকে এটি উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: (এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)। ইতি।

‌‌(১) আলেমদের একটি বড় দল তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন, যেমন আল-বাগভী তাঁর তাফসীরে (২/৫০৪), শায়খুল ইসলাম (যেমন: মাজমু' আল-ফাতাওয়া ৩/১২৬-এ), এবং ইবনুল কায়্যিম 'ইগাসাতুল লাহফান' (১/১৫৯) গ্রন্থে।

এটি বর্ণনা করেছেন: আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' (১/৩০৫) গ্রন্থে তাঁর সনদে উমর বিন নাবহান থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উমর বিন নাবহান যঈফ বা দুর্বল (দেখুন: আল-মাজরুহীন ২/৯০, এবং তাহযীবুল কামাল ২/৫১৫, নং ৪৩১৩)। আর হাসান হলেন হাসান বসরী, তিনি ইবনে উমর থেকে (সরাসরি) শোনেননি (দেখুন: জামি'উত তাহসীল পৃ. ১৬৩)। বরং অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ বা সম্ভাব্য হলো এটি স্বয়ং হাসান বসরীর বক্তব্য, ইবনে আবদিল বার এটি 'জামি'উ বায়ানিল ইলমি' (২/৯৪৬) গ্রন্থে যার ক্রমিক নং ১৮০৭, তাঁর সনদে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌(২) আল-বাগভী তাঁর তাফসীরে (২/৫০৪) এটি তাঁর থেকে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فهؤلاء الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم - هم أعظم من حقق توحيد الله، والإيمان به، والجهاد في سبيله، والاصلاح في الأرض بعد الأنبياء والمرسلين، قاموا بذلك علمًا، وعملًا، واعتقادًا، وهم الصفوة المختارة، وخير هذه الأمة بعد نبيها صلى الله عليه وسلم، وأعلمهم به وبدينه، وأجداهم وأنفعهم للدين، اختارهم الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم، فاقتدوا به، واهتدوا بهديه، واستنوا بسنته، وكان لهم من الإيمان واليقين ما لا يشركهم فيه أحد عقبهم‌‌(1)، ومن الفضل والشرف ما لا يعدله شيء، ولا مطمع فيه لمن جاء بعدهم، (أجمعوا حميعًا على محبة الله عز وجل، ومحبة رسوله صلى الله عليه وسلم وعلى المعاونة على نصرته، والسمع والطاعة له على العسر واليسر، والمنشط والمكره، لا تأخذهم في الله لومة لائم)‌‌(2)، رضيهم الله لنصرة نبيه صلى الله عليه وسلم، وإقامة دينه، (فأعزوا دين الله عز وجل، وأذلوا أعداء الله عز وجل، وسنوا للمُسلِمين السنن الشريفة، وكانوا بركة على جميع الأمة)‌‌(3)، ووصفهم الله في كتابه بأبهج وصف، ونعتهم بأبهى نعت، فهم ليوث الشرى، وغيوث الندى، ومصابيح الدجى، وغيظ العدى، يبتغون فضلًا من الله ورضوانا، أدوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أدى إليهم، ومضوا على منهاجه، اتبعوا كتاب الله عز وجل، وسنة

--------------------------------------------

‌‌(1) وانظر: منهاج السنة (6/ 223)، والاعتصام للشاطبي (2/ 252).

‌‌(2) الشريعة للآجري (4/ 1633).

‌‌(3) المصدر المتقدم (4/ 1637).
এই সম্মানিত সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন) — নবী ও রাসূলগণের পর তাঁরাই আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর প্রতি ঈমান, তাঁর পথে জিহাদ এবং পৃথিবীতে সংস্কারের কাজ সবচেয়ে বেশি পূর্ণতা দানকারী। তাঁরা ইলম, আমল এবং আকিদার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেছেন। তাঁরা হলেন মনোনীত শ্রেষ্ঠ দল এবং তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি। তাঁরাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং দ্বীনের জন্য সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ ও উপকারী। আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। ফলে তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন, তাঁর হেদায়েত দ্বারা পথপ্রদর্শন লাভ করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন। ঈমান ও ইয়াকীনের ক্ষেত্রে তাঁদের এমন উচ্চ মাকাম ছিল যেখানে তাঁদের পরবর্তী কেউ তাঁদের অংশীদার হতে পারবে না‌‌(১), এবং তাঁদের এমন মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ছিল যার সমকক্ষ কিছু নেই এবং তাঁদের পরবর্তী কারো পক্ষে তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষাও সম্ভব নয়। (তাঁরা সকলে মহান আল্লাহর ভালোবাসা, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসা এবং তাঁকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা, আর সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে, খুশিতে ও অনাগ্রহে তাঁর কথা শোনা ও আনুগত্য করার বিষয়ে একমত ছিলেন। আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাঁদের বিচলিত করত না)‌‌(২)। আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহায্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের জন্য মনোনীত করেছেন। (ফলে তাঁরা মহান আল্লাহর দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন, আল্লাহর শত্রুদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং মুসলিমদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ রীতিনীতি প্রবর্তন করেছেন; তাঁরা সমগ্র উম্মতের জন্য বরকত স্বরূপ ছিলেন)‌‌(৩)। আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁদের অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সর্বোত্তম বিশেষণে ভূষিত করেছেন। তাঁরা বীরত্বের ক্ষেত্রে সিংহসদৃশ, দানশীলতায় রহমতের বৃষ্টিস্বরূপ, অন্ধকারের প্রদীপ এবং শত্রুদের জন্য ক্রোধের কারণ। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের কাছে যা পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা তা (অন্যদের কাছে) পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর মানহাজের ওপর অটল ছিলেন। তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব এবং সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ (৬/২২৩), এবং শাতীবির আল-ইতিসাম (২/২৫২)।

‌‌(২) আজুররির আশ-শরীয়াহ (৪/১৬৩৩)।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৪/১৬৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
نبيه صلى الله عليه وسلم، قوم سموا إلى المكارم والمفاخر، وارتقوا في ذرى المجد، ذووا آثار رفيعة، ومعالي سامقة، ومواضع نفيسة، وأعراض نقية، وفضائل شريفة‌‌(1)، ومناقب جليلة في كتاب الله عز وجل، وفي سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وفي أقوال بعضهم في بعض، وفي أقوال التابعن، ومن تبعهم بإحسان … وهذه النصوص الدالة على فضائلهم العالية، ومناقبهم الشريفة دائمة لهم، ومستمرة في حقهم، ليست خاصة بوقت دون وقت، أو زمان دون زمان‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1) والفضائل: جمع فضيلة، وهى الخصلة الجميلة إلى يحصل لصاحبها بسببها شرف، وعلو منزلة إما عند الحق، وإما عند الخلق. والثاني لا عبرة به إلا إن أوصل إلى الأول. عن القرطبي (كما في: الفتح 7/ 41).

‌‌(2) قالِ الله - تعالى - في سورة الفتح، الآية (18): {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا}، وقالَ في سَورَة التَوبة، الآية (100): {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}، فهولاء الأصحاب أخبرنا الله عز وجل أنه علم ما في قلوبهم، وأنزل السكينة عليهم، ورضي عنهم، والرضى من الله صفة قديمة، فلا يرضى إلا عن عبد علم أنه يوافيه على موجبات الرضى، ومن رضي الله عنه لم يسخط عليه أبدا، فلا يحل لأحد التوقف في أمرهم، ولا الشك فيهم البتة. وقد بين في آية التوبة أنه رضي عن السابقين من غير اشتراط إحسان، ولم يرض عن التابعين إلا أن يتبعوهم بإحسان، وكل من أخبر الله عنه أنه رضي عنه فإنه من أهل الجنة، لا يدخل النار لتعذيب، وإن كان رضاه عنه بعد إيمانه، وعمله الصالح فإنه يذكر ذلك في معرض الثناء والمدح عليه، فلو علم أنه يتعقب ذلك ما يسخط الرب. لم يكن من أهل ذلك. وقد وعدهم سكنى الجنة، خالدين فيها أبدا {وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ} [من الآية: (20)، من سورة: الزمر]. ولقد خاب، وخسر من ردَ حكمَ ربه عز وجل، ووعده. - نظر: الفصل لابن حزم (4/ 225 - 226)، والصارم المسلول =
তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (সাথীগণ); এমন এক জাতি যারা শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের শিখরে আরোহণ করেছেন এবং মর্যাদার উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তাঁরা সুউচ্চ নিদর্শন, সমুন্নত সম্মান, মূল্যবান মর্যাদা, পরিচ্ছন্ন চরিত্র এবং সুমহান গুণাবলীর অধিকারী‌‌(১)। মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবে, তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে, তাঁদের একে অপরের সম্পর্কে উক্তিতে, তাবিঈন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্যে তাঁদের মহান মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে … তাঁদের সুউচ্চ ফযিলত ও সম্মানসূচক এই সব দলিলসমূহ তাঁদের জন্য চিরস্থায়ী এবং তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বদা প্রযোজ্য; এগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময় বা কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়‌‌(২)।

--------------------------------------------

‌‌(১) ফাযায়েল: এটি ফযিলত শব্দের বহুবচন। এটি এমন একটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য যার কারণে এর অধিকারী ব্যক্তি সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন; হয় সত্যের (আল্লাহর) নিকট, অথবা সৃষ্টির নিকট। আর দ্বিতীয়টির কোনো গুরুত্ব নেই যতক্ষণ না তা প্রথমটির দিকে পৌঁছে দেয়। কুরতুবী থেকে বর্ণিত (যেমনটি: আল-ফাতহ ৭/৪১-এ রয়েছে)।

‌‌(২) আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ফাতহ-এর ১৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। অতঃপর তাদের অন্তরে যা ছিল তিনি তা জানতেন, তাই তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয়ে পুরস্কৃত করলেন}। এবং তিনি সূরা আত-তাওবার ১০০ নম্বর আয়াতে বলেছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য}। সুতরাং এই সাহাবীগণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের অন্তরে যা আছে তা জানতেন, তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করেছেন এবং তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি হলো একটি অনাদি গুণ। তিনি কেবল সেই বান্দার ওপরই সন্তুষ্ট হন যার সম্পর্কে তিনি জানেন যে সে সন্তুষ্টির কারণসমূহের ওপরই তাঁর সাথে মিলিত হবে। আর আল্লাহ যার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, তার ওপর তিনি কখনো রাগান্বিত হন না। অতএব, তাঁদের ব্যাপারে বিরত থাকা বা তাঁদের বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করা কারো জন্য বৈধ নয়। সূরা তাওবার আয়াতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি অগ্রগামীদের ওপর কোনো শর্ত ছাড়াই সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর তাবিঈদের ওপর কেবল তখনই সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে। যার সম্পর্কেই আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত; সে শাস্তির জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যদিও তাঁর সন্তুষ্টি তাদের ঈমান ও নেক আমলের পরে হয়েছে, তবুও তিনি তা প্রশংসা ও গুণগান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি তিনি জানতেন যে এর পরে এমন কিছু ঘটবে যা রবের অসন্তুষ্টি বয়ে আনবে, তবে তারা এই প্রশংসার যোগ্য হতেন না। তিনি তাঁদের জান্নাতে বসবাসের এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার ওয়াদা দিয়েছেন: {আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না} [সূরা আয-যুমার: ২০-এর অংশ]। আর সে ব্যক্তিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত যে তার মহান রবের ফয়সালা ও তাঁর প্রতিশ্রুতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। - দেখুন: ইবনে হাজমের আল-ফাসল (৪/২২৫-২২৬), এবং আস-সারিমুল মাসলুল।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وما ورد، وتقرّر لهم من هذه الفضائل العالية المنيفة، الدالة على وجوب محبتهم وإكرامهم، وتقديرهم وإجلالهم على لسان النبي صلى الله عليه وسلم له أهميته الثمينة، ومكانته الجليلة، وقد اهتمّ به علماء السلف من وقت مبكر، وألّفوا فيه؛ فرواية فضائلهم، ونشرها من هديهم، وأمارة بارزة من أماراتهم، ومنارة نيّرة من أصول دينهم واعتقاداتهم. وهذه الأحاديث الواردة في فضائلهم كثيرة جدًّا، متفرقة في المصنفات الحديثية على اختلاف أنواعها، وأحجامها، والمطبوع منها، وغير المطبوع؛ ولذلك يصعب حصرها، ولم ينظم شملها كتاب لأحد من أهل العلم‌‌(1)، ولم يحص عددها، ولم يعرف حدها.

--------------------------------------------

= لشيخ الإسلام (3/ 1067 - 1069)، والرياض النضرة للمحب الطبرى (1/ 6)، والفوائد لابن القيم (ص / 35 - 36).

‌‌(1) قال شيخ الإسلام (كما في: مجموع الفتاوى 4/ 430) - وقد ذكر بعض الأحاديث في فضائل الصحابة -: ( … وهذه الأحاديث مستفيضة، بل متواترة في فضائل الصحابة، والثناء عليهم، وتفضيل قرنهم على من بعدهم من القرون، فالقدح فيهم قدح في القرآن، والسنة) اهـ. وقال في منهاج النبوة (8/ 251) - وقد ذكر فضائل الصحابة أيضًا -: (دلّت عليها تلك النصوص الكثيرة المتواترة)، وانظر: الوصية الكبرى له (ص / 102). وقال ابن القيم في الكبائر (ص / 403): (وأما مناقب الصحابة وفضائلهم فأكثر من أن تذكر) اهـ. وقال السخاوى في فتح المغيث (4/ 119) - وقد ذكر بعض المؤلفات في فضائل المحابة -: (والتأليف في هذا الباب لا انتهاء له) اهـ، يشير - في الأظهر - إلى كثرة الأحاديث في ذلك، وصعوبة حصرها في مؤلف واحد. وقال الأمام محمد بن عبد الوهاب في رسالته في الرد على الرافضة (ص / 26 - 27): (وقد تواتر عنه صلى الله عليه وسلم ما يدل على وجوب تعظيمهم، وإكرامهم). وقال الشوكافي في قطر الولي =
এবং তাঁদের জন্য বর্ণিত ও সাব্যস্ত হওয়া এই সুউচ্চ ও মহান মর্যাদাগুলো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানীতে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের কদর ও শ্রদ্ধা করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে, তার গুরুত্ব অত্যন্ত মূল্যবান এবং মর্যাদা অত্যন্ত মহিমান্বিত। সালাফ উলামাগণ প্রাথমিক কাল থেকেই এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। সুতরাং তাঁদের মর্যাদার বর্ণনা এবং তা প্রচার করা সালাফদের হেদায়েত বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের অন্যতম প্রধান নিদর্শন এবং তাঁদের দ্বীনের মূলনীতি ও আকিদাহর এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত এই হাদিসগুলো সংখ্যায় অত্যন্ত অধিক, যা বিভিন্ন প্রকার ও আয়তনের এবং মুদ্রিত ও অমুদ্রিত হাদিস গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে রয়েছে। আর এ কারণেই সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা অত্যন্ত কঠিন, এবং কোনো একজন আলেমের পক্ষে তাঁর কিতাবে এগুলোর পূর্ণ সংকলন করা সম্ভব হয়নি‌‌(১), সেগুলোর সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি এবং এর কোনো সীমারেখাও জানা যায়নি।

--------------------------------------------

= শায়খুল ইসলাম (৩/ ১০৬৭ - ১০৬৯), মুহিব্বুত তবারীর 'আর-রিয়াদুন্নদরাহ' (১/ ৬) এবং ইবনুল কাইয়্যিমের 'আল-ফাওয়ায়েদ' (পৃ. ৩৫ - ৩৬)।

‌‌(১) শায়খুল ইসলাম বলেছেন (যেমনটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৪/ ৪৩০-এ এসেছে)—তিনি সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদিস উল্লেখ করার পর—: ( … এই হাদিসগুলো সাহাবীদের মর্যাদা, তাঁদের প্রশংসা এবং তাঁদের প্রজন্মকে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফিয (সুপ্রসিদ্ধ), বরং মুতাওয়াতির। সুতরাং তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করা মানেই হলো কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি কটাক্ষ করা) সমাপ্ত। তিনি 'মিনহাজুন সুন্নাহ' (৮/ ২৫১) গ্রন্থেও সাহাবীদের মর্যাদা উল্লেখ করার পর বলেছেন: (সেসব অসংখ্য মুতাওয়াতির দলিল এগুলোর ওপর প্রমাণ বহন করে), দেখুন: তাঁর রচিত 'আল-ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা' (পৃ. ১০২)। ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-কাবায়ের' (পৃ. ৪০৩) গ্রন্থে বলেছেন: (আর সাহাবীদের গুণাবলী ও মর্যাদার বর্ণনা উল্লেখ করার চেয়েও অনেক বেশি) সমাপ্ত। সাখাবী 'ফাতহুল মুগীস' (৪/ ১১৯) গ্রন্থে—সাহাবীদের মর্যাদা বিষয়ে রচিত কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করে—বলেছেন: (এই অধ্যায়ে গ্রন্থ রচনার কোনো শেষ নেই) সমাপ্ত। তিনি এর মাধ্যমে—প্রকাশ্যভাবে—এই বিষয়ে হাদিসের আধিক্য এবং একক কোনো গ্রন্থে সেগুলো সীমাবদ্ধ করার কঠিন সাধ্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাফেযীদের খণ্ডনে লিখিত তাঁর রিসালায় (পৃ. ২৬ - ২৭) বলেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতিরভাবে এমন বর্ণনা এসেছে যা তাঁদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে)। শাওকানী 'কাতরুল ওয়ালী' গ্রন্থে বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد جمع بعض المتقدمين، والمتأخرين منها نزرًا يسيرًا، وغيضًا من فيض، مما وقعت لهم رواياته، أو وصل إليهم بأسانيده ومتونه، و لم يقصدوا الاستيعاب والاستقصاء، وقد أوردوا ذلك دون جمع ودراسة اختلاف ناقليه، والمختار في درجاته تبيينًا وتعليلًا، على وجه كافٍ، وشاف. ولم تخدم عند المتأخرين - فيما أرى - الخدمة الحديثية اللائقة بها، والمحتاجة إليها. ولم يتصد للمطبوع من كتب فضائل الصّحابة - فيما يبدو - أحد من المختصين في علم الحديث الشريف، ولم يُبيّن في الغالب من أحاديثها الثابت، وما لم يثبت، ولم تورد فيها الأحاديث ذوات المعاني المتعددة، أو الواحدة في فضائلهم على وجه العموم، أو على وجه الخصوص إيرادًا واحدًا. وهى جهود كلها مشكورة، وأحسب أنها أعمال مبرورة، قام بها جماعة من أهل العلم والمشتغلين به على حسب أغواضهم

--------------------------------------------

= (ص/ 294) - وقد ذكر الصحابة، رضى الله عنهم -: (الذين لهم المزايا التي لا يحيط بها حصر، ولا يحصيها حدّ، ولا عدّ) اهـ. ويقول الشيخ حافظ حكمي في سلم الوصول: (وذكرهم لي سنة المختار قد سار سير الشمس في الأقطار)، وقال في شرحه (معارج القبول بشرح سلم الوصول 3/ 1196 - 1204): ("وذكرهم" بالمناقب الجمة، والفضائل الكثيرة "في سنة المختار" محمد صلى الله عليه وسلم عمومًا، وخصوصًا، من الأحاديث الصحاح وَالحسان "قد سار" انتشر وأعلن "سير الشمس في الأقطار" تمثيلا لشهرة فضائلهم، ووضوحها، لا تحصيها الأسفار الكبار) اهـ. وقال المزى في تهذيب الكمال (15/ 284) في ترجمة أبى بكر - رضى الله عنه -: (ومناقبه، وفضائله كثيرة جدًا، مدوّنة في كتب العلماء) اهـ، وقال الإدريسى في إتحاف ذوي التشوّق (1/ 132) - وقد ذكر فضائل أبى بكر -: (قد جاء في فضله، ومناقبه ما لا يحصى).
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের কেউ কেউ এর মধ্য থেকে সামান্য অংশ এবং অগাধ জ্ঞানের একটি বিন্দু সংগ্রহ করেছেন, যা বর্ণনা হিসেবে তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে অথবা যা তাদের নিকট সনদ ও মতনসহ পৌঁছেছে। তারা একে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেষ্টন ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য পোষণ করেননি। তারা বর্ণনাকারীদের মতভেদসমূহ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ না করেই এবং যথাযথ ও পর্যাপ্তভাবে এর স্তরসমূহের স্পষ্টীকরণ ও কারণ বর্ণনা ছাড়াই তা উল্লেখ করেছেন। আমার দৃষ্টিতে, পরবর্তী আলেমদের নিকট এটি হাদিসশাস্ত্রীয় সেই যথাযথ সেবা পায়নি যার এটি উপযুক্ত এবং যার প্রয়োজন রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত বিষয়ক মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে কেউ—যতদূর প্রতীয়মান হয়—এগিয়ে আসেননি এবং এর অধিকাংশ হাদিসের ক্ষেত্রে কোনটি সাব্যস্ত আর কোনটি সাব্যস্ত নয় তা স্পষ্ট করা হয়নি। আর এতে সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত সম্পর্কে সাধারণ বা বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে একাধিক অর্থবোধক বা একক অর্থবোধক হাদিসগুলোকে সুসংহতভাবে আনয়ন করা হয়নি। এই সকল প্রচেষ্টাই প্রশংসার দাবিদার এবং আমি মনে করি এগুলো পুণ্যময় কাজ, যা একদল আলেম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী সম্পাদন করেছেন।

--------------------------------------------

= (পৃষ্ঠা/ ২৯৪) - তিনি সাহাবায়ে কেরাম—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে: (যাদের এমন সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা কোনো সীমাবদ্ধতা দিয়ে বেষ্টন করা সম্ভব নয় এবং কোনো সীমা বা সংখ্যা দ্বারা গণনা করা যায় না) সমাপ্ত। শায়খ হাফিজ হাকামি 'সুল্লামুল উসুল'-এ বলেন: (নির্বাচিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহতে তাদের উল্লেখ পৃথিবীর দিগন্তসমূহে সূর্যের গতির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে)। তিনি এর ব্যাখ্যায় ('মাআরিজুল কবুল বি শারহি সুল্লামিল উসুল' ৩/ ১১৯৬ - ১২০৪) বলেন: (সহিহ ও হাসান হাদিসসমূহ থেকে সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে "নির্বাচিত" মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহতে প্রচুর গুণাবলি ও অধিক ফজিলতসহ "তাদের উল্লেখ" "পৃথিবীর দিগন্তসমূহে সূর্যের গতির ন্যায়" ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঘোষিত হয়েছে। এটি তাদের ফজিলতের খ্যাতি ও স্পষ্টতার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বড় বড় কিতাবসমূহ গণনা করে শেষ করতে পারবে না) সমাপ্ত। মিজ্জি 'তাহজিবুল কামাল' (১৫/ ২৮৪)-এ আবু বকর—আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন—এর জীবনীতে বলেন: (তার গুণাবলি ও ফজিলত অত্যন্ত বেশি, যা আলেমদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে) সমাপ্ত। ইদ্রিসি 'ইতহাফু যাউয়িত তাশাউক' (১/ ১৩২)-এ আবু বকরের ফজিলত উল্লেখ করে বলেন: (তার ফজিলত ও গুণাবলি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা অগণিত)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومقاصدهم، ورصفوا بها الطريق لمن جاء بعدهم، وسلك مسلكهم، والله المسؤول أن يجزيهم عن الأمّة خيرًا وأن يتقبل منهم أعمالهم.

ولمّا رأيت أنه لم ينظم شملها، ولم يجمع شتاتها، ولم يدرس أسانيدها ومتوفا دراسةً حديثية علمية أحدٌ من أهل العلم بالحديث عقدت عزمي، وأبرمت أمري، وصرفت عنايتي إلى التعمق في البحث عنها، والإمعان في الفحص والتفتيش في المظان وغيرها، والنظر في أسانيدها، ومتونها، ودراستها على وفق منهج علمى دقيق مطرد، وترتيبها ترتيبًا حسنًا، وتقسيمها تقسيمًا أصيلًا؛ وما ذلك إلا لإرادة حصرها - حسب الاستطاعة -، وليكون الكلام عليها سالمًا علميًا، ومطردًا منهجيًا، وأثرها ناميًا، وتمرتها ناضجة دانية، ومطلبها سلسًا، ويأخذها الطالب من كثب.

ولكن لكثرة هذه الأحاديث، وأعدادها الجمة ولتحديد مدد الرسائل العلمية الجامعية بأزمان وقتية ابتداء وانتهاء رأيت أن أقتصر على الأحاديث الواردة في هذا المعنى في المصنفات الحديثية المشهورة، التي عليها - في الغالب - مدار حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأكثرها تداولًا، ونظرًا: الكتب التسعة، ومسندي أبي بكر البزار، وابي يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة (الكبير، والأوسط، والصغير) لأبي القاسم الطبراني.

فطالعتها، وناظرتها، وأخذت ما فيها على وجه الاستيعاب، والاستقصاء، ودرستها، وخرجتها، ورتبتها على وفق خطة علمية، ومنهج مؤصل - سيأتي تفصيلهما إن شاء الله تعالى -، وأرجو أن أكون وصلت بهما إلى حد معقول، يصلح به العمل، غير متجاوز في ذلك، ولا مقصر.
এবং তাদের উদ্দেশ্যসমূহ; তারা এর মাধ্যমে তাদের পরবর্তী যারা এসেছে এবং তাদের পথে চলেছে তাদের জন্য পথ সুগম করেছেন। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন উম্মাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাদের আমলসমূহ কবুল করেন।

যখন আমি দেখলাম যে, হাদিস বিশারদগণের মধ্যে কেউ এর বিষয়বস্তুকে সুশৃঙ্খল করেননি, এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্র করেননি এবং এর সনদ ও মতনসমূহকে হাদিস শাস্ত্রের পদ্ধতি অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিকভাবে পর্যালোচনা করেননি, তখন আমি সংকল্প করলাম, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম এবং এর নিবিড় অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করলাম। আমি সম্ভাব্য উৎসস্থল ও অন্যান্য স্থানে গভীর অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করলাম। এছাড়া এর সনদ ও মতনসমূহ পর্যবেক্ষণ করলাম এবং একটি নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সেগুলো অধ্যয়ন করলাম। আমি সেগুলোকে সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করলাম এবং মৌলিক পন্থায় বিভক্ত করলাম। এর উদ্দেশ্য কেবল সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয়গুলোকে সীমাবদ্ধ করা, যাতে এর ওপর আলোচনাটি জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত ও পদ্ধতিগতভাবে সুশৃঙ্খল হয়, এর প্রভাব হয় ক্রমবর্ধমান, এর ফল হয় পরিপক্ক ও নিকটবর্তী এবং এর অন্বেষণ হয় সাবলীল, যাতে একজন শিক্ষার্থী তা নিকট থেকেই গ্রহণ করতে পারে।

কিন্তু এই হাদিসসমূহের আধিক্য ও বিপুল সংখ্যার কারণে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভসমূহের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার কথা বিবেচনা করে আমি কেবল সেই হাদিসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। মূলত এই গ্রন্থগুলোর ওপরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস আবর্তিত হয় এবং এগুলোই সর্বাধিক প্রচলিত ও পঠিত। সেগুলো হলো: নয়টি কিতাব, আবু বকর আল-বাযযার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির দুটি মুসনাদ এবং আবুল কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মুজাম (আল-কাবীর, আল-আওসাত ও আস-সাগীর)।

অতঃপর আমি সেগুলো অধ্যয়ন করেছি, তুলনা করেছি এবং ব্যাপক অনুসন্ধান ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যা পাওয়া গেছে তা গ্রহণ করেছি। আমি সেগুলো নিয়ে গবেষণা করেছি, সেগুলোর তাখরীজ করেছি এবং একটি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও মৌলিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সেগুলো সাজিয়েছি—যার বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে আসবে। আমি আশা করি এর মাধ্যমে আমি এমন এক গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি যা ব্যবহারের উপযোগী হবে; যেখানে কোনো সীমালঙ্ঘন নেই এবং কোনো শিথিলতাও নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأسأل المولى - جل ثناؤه - أن يهيء لي أسباب التوفيق، وطرق الرشاد، وله الحمد، والمنة، هو صاحب العون، والفضل في الأول والآخر، بلغت نعمه، وآلاؤه، وأتت من وراء ما ترنوا إليه الأبصار، وتتطلع إليه الآمال.

 

‌‌(دواعي اختيار الكتابة في هذا الباب)

الدواعي التي حثتني، وهيأتني للكتابة في هذا الموضوع الجليل بعد مشيئة الله عز وجل عدّة … وأهمها:

أولًا: أني أحب إلهي، وديني، ورسولي صلى الله عليه وسلم. وكذا أحب من صحبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأخذوا عنه، وبلغوا رسالته من بعده، وأتولاهم جميعًا‌‌(1)، وآخذ بسيرتهم وطريقتهم، وأسير على سبيلهم ونهجهم، وأترحم عليهم؛ لأن (حبهم سنة، والدعاء لهم قربة، والاقتداء بهم وسيلة، والأخذ بآثارهم فضيلة)‌‌(2)، وأعرف لهم حبهم لله، ولرسوله صلى الله عليه وسلم، وحب الله ورسوله صلى الله عليه وسلم لهم، وعظيم مكانتهم في الدين، وبصيرتهم فيه، وقوقم على الدعوة إليه، وتقواهم، وبراءتهم مما يُطعن عليهم به … فهم غرس من غرس

--------------------------------------------

‌‌(1) السعيد من تولى جملتهم، ولم يفرق بين أحد منهم، واهتدى بهديهم، وتمسك بحبلهم. والشقي من تعرض للخوض فيما شجر بينهم، واقتحم خطر التفريق بينهم، وأتبع نفسه هواها في سب أحد منهم. فلله الحمد، والمنة أن أعاذنا من ذلك، ونسأله دوام نعمته، وتمامها - آمين -. عن المحب الطبري في الرياض النضرة (1/ 33).

‌‌(2) من كلام الإمام أحمد، كما في: طبقات الحنابلة (1/ 30).
আমি মহান প্রতিপালকের নিকট—তাঁর প্রশংসা অতি উচ্চ—প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার জন্য তাওফিকের উপায়সমূহ এবং হিদায়াতের পথসমূহ সুগম করে দেন। সমস্ত প্রশংসা এবং অনুগ্রহ তাঁরই জন্য; তিনিই আদি ও অন্তে সাহায্য এবং অনুগ্রহের মালিক। তাঁর নিআমত ও দানসমূহ সর্বত্র পৌঁছে গেছে এবং তা দৃষ্টির সীমা ও আশার আকাঙ্ক্ষাকে ছাড়িয়ে গেছে।

 

‌‌(এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার কারণসমূহ)

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ইচ্ছার পর যে কারণগুলো আমাকে এই মহান বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত ও প্রস্তুত করেছে, তা অনেক … এবং সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

প্রথমত: আমি আমার ইলাহকে, আমার দ্বীনকে এবং আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি। একইভাবে আমি তাঁদেরকেও ভালোবাসি যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর পরে তাঁর রিসালাত (বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন। আমি তাঁদের সকলকে বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করি, তাঁদের সীরাত ও পদ্ধতি অনুসরণ করি, তাঁদের পথ ও পন্থায় চলি এবং তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করি; কেননা (তাঁদের ভালোবাসা সুন্নাত, তাঁদের জন্য দোয়া করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, তাঁদের অনুসরণ করা একটি উসিলা এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা ফযীলত), এবং আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এবং তাঁদের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসার কথা জানি। দ্বীনের মধ্যে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা, দ্বীনের ব্যাপারে তাঁদের প্রজ্ঞা, দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের দৃঢ়তা, তাঁদের তাকওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যে সকল অপবাদ দেওয়া হয় তা থেকে তাঁদের পবিত্রতা সম্পর্কে আমি অবগত … কারণ তাঁরা হলেন রোপিত চারাগাছসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চারাগাছ...

--------------------------------------------

‌‌(১) সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে তাঁদের সকলকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করেনি, তাঁদের হিদায়াত অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং তাঁদের রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে। আর সেই ব্যক্তিই হতভাগা যে তাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ নিয়ে অহেতুক আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির বিপদে ঝাঁপ দিয়েছে এবং তাঁদের কাউকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য যে তিনি আমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমরা তাঁর কাছে তাঁর নিআমতের স্থায়িত্ব ও পূর্ণতা প্রার্থনা করছি - আমীন। আল-মুহিব্ব আত-তবারী থেকে বর্ণিত, আর-রিয়াদ আন-নাদিয়াহ (১/৩৩)।

‌‌(২) ইমাম আহমাদ-এর উক্তি থেকে, যেমনটি রয়েছে: তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يده صلى الله عليه وسلم، وسهم من كنانته، ورمح في قلوب أعدائه، كأنما نجلتهم أبوة، ونتقتهم أمومة رضي الله عنهم جميعًا -، وجمعني بهم، وسائر المُسلِمين في جنة الخلد، ودار الكرامة.

* ثانيًا: أن في جمع هذه الأحاديث، ودراستها ذبًّا عن حمى الإسلام، وعقيدة السلف الصالح، وحماية لجانب الإيمان والتوحيد، ودفاعًا عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وحفظًا لحقوقه، ولحقوق أصحابه، وإلجامًا بالحق المبين، والحيجة البالغة على من استظهروا بالفرقة على الجماعة، واستبدلوا الغواية من الهداية، فاستطالوا على مراتب الصحابة السنية، ودرجاتهم الرفيعة، وتعدوا على أعراضهم المصونة الشريفة، وفضائلهم العالية النفيسة، واتخذوا منهم - أو من بعضهم، جاعات أو أفرادًا - دريّة لرماحهم، وغرضًا لسهامهم، يهْلِك على ذلك الهرم الكبير، ويستنهج سبيله الناشئ الصغير، أو المنحرف الغرير‌‌(1) - وقانا الله اتباع الهوى، وسلوك سبيل الردى -.

--------------------------------------------

‌‌(1) يقول أبو محمد اليمني في عقائد الثلاث والسبعين فرقة (1/ 95 - 96): ( … طعنوا عليهم بأقوالهم، وأعمالهم، ودونوها دواوين، وعملوا فيها الأشعار … ولهم في ذلك ما يطول شرحه، والله يجازيهم عليه. وعملوا فيهم - أيضًا - الأخبار المبتدعة، وتأولوا فيهم التأويلات الباردة، وندبوا إلى التدين بها، والخلاف لما سواها، وجعلوا ذلك تقربًا إلى الله - تعالى -، وهي بخلافه) اهـ … وفعل الرافضة، ومن حذا حذوهم في محاربة الدين، وناقليه من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من أسبابه: قلة فقههم في دين الله عز وجل، وإعراضهم عن الكتاب والسنة - علمًا، وعملًا، واعتقادًا -، وتقليد علماء السوء، واتباع ما يوحيه الشيطان ويلقيه في قلوبهم الخربة، ويزخرفه ويزينه لعقولهم =
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতস্বরূপ, তাঁর তূণীর থেকে নিক্ষিপ্ত একটি তীর এবং তাঁর শত্রুদের হৃদয়ে বিদ্ধ এক বল্লম। যেন এক পিতৃসুলভ মমতা তাদের লালন করেছে এবং এক মাতৃসুলভ স্নেহ তাদের গর্ভধারণ করেছে—আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আল্লাহ আমাকে তাঁদের সাথে এবং অন্যান্য সকল মুসলিমকে জান্নাতুল খুলদ ও সম্মানিত আবাসে একত্রিত করুন।

* দ্বিতীয়ত: এই হাদিসগুলো সংকলন ও গবেষণা করা ইসলামের সীমানা ও সালাফে সালেহীনের আকিদাকে রক্ষা করা, ঈমান ও তাওহীদের সুরক্ষা প্রদান করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করা এবং তাঁর ও তাঁর সাহাবীদের অধিকার সংরক্ষণ করার নামান্তর। এটি সেইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট সত্য ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে মুখ বন্ধ করার প্রয়াস, যারা জামাতের বিপরীতে অনৈক্যের আশ্রয় নিয়েছে এবং হিদায়াতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করেছে। ফলে তারা সাহাবীগণের সুউচ্চ মর্তবা ও সুমহান মর্যাদার ওপর অবমাননা করেছে, তাঁদের সুরক্ষিত ও সম্মানিত মর্যাদা এবং সুউচ্চ ও মূল্যবান গুণাবলির ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে। তারা সাহাবীদের—পুরো জামাত বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে—নিজেদের বল্লমের লক্ষ্যবস্তু এবং তীরের নিশানায় পরিণত করেছে। যার ওপর ভিত্তি করে প্রবীণরা মৃত্যুবরণ করে এবং নবীন যুবকরা অথবা বিভ্রান্ত পথভ্রষ্টরা সেই পথই অনুসরণ করে—আল্লাহ আমাদের প্রবৃত্তি অনুসরণ এবং ধ্বংসের পথ অবলম্বন থেকে রক্ষা করুন।

--------------------------------------------

‌‌(১) আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি 'আকায়েদ আস-সালাসা ওয়া সাবউন ফিরকা' গ্রন্থে (১/ ৯৫-৯৬) বলেন: ( … তারা সাহাবীদের নামে অপবাদ দিয়েছে, তাদের কথা ও কাজের সমালোচনা করেছে, সেগুলো নিয়ে গ্রন্থ সংকলন করেছে এবং সে বিষয়ে কবিতা রচনা করেছে … এ বিষয়ে তাদের এমন অনেক কর্মকাণ্ড আছে যা ব্যাখ্যা করতে গেলে দীর্ঘ হবে, আল্লাহ তাদের এর প্রতিফল দেবেন। তারা তাঁদের সম্পর্কে বানোয়াট সংবাদও তৈরি করেছে এবং তাঁদের বিষয়ে অসার ও ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। তারা একে দ্বীন হিসেবে পালনের এবং এর বাইরের সবকিছুর বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে এবং একে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছে, অথচ বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত) উদ্ধৃতি সমাপ্ত … আর রাফেযী এবং দ্বীন ও দ্বীনের বাহক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত তাদের অনুসারীদের এসব কর্মকাণ্ডের অন্যতম কারণ হলো: মহান আল্লাহর দ্বীনে তাদের সঠিক বুঝের অভাব, জ্ঞান, আমল ও আকিদাগতভাবে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিমুখতা, অসৎ আলেমদের অন্ধ অনুকরণ এবং শয়তানের প্ররোচনা ও তাদের বিধ্বস্ত অন্তরে ঢেলে দেওয়া কুমন্ত্রণার অনুসরণ, যা সে তাদের বুদ্ধির কাছে সুশোভিত ও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরে =
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد عقد الخطيب البغدادي رحمه الله في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع‌‌(1) فصلًا في أدب إملاء فضائل الصحابة ومناقبهم، والنشر لمحاسن أعمالهم وسوابقهم، قال فيه: (إن الله - تعالى - اختار لنبيه أعوانا، جعلهم أفضل الخلق وأقواهم إيمانا، وشد بهم أزر الدين، وأظهر بهم كلمة المؤمنين، وأوجب لهم الثواب الجزيل، وألزم أهل الملة ذكرهم بالجميل. فخالفت الرافضة أمر الله فيهم، وعمدت لمحو مآثرهم ومساعيهم، وأظهرت البراءة منهم، وتدينت بالسب لهم، {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ}‌‌(2)، كما رام ذلك المتقدمون من أشباههم، {وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ}‌‌(3)، {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ}‌‌(4). فلزم الناقلين للأخبار، والمتخصصين بحمل الآثار نشر مناقب الصحابة الكرام، وإظهار

--------------------------------------------

= الفاسدة، فناصبوا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم العداء، وأعرضوا عن محبتهم وموالاتهم، وأقبلوا على موالاة الشيطان، واستكانوا إلى ما يوحيه إليهم … وقد روى مسلم في صحيحه (4/ 2031 - 2032) ورقمه / 2638 من طريقي أبي صالح السمان، ويزيد الأصم، كلاهما عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (الناس معادن كمعادن الفضة والذهب، خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا. والأرواح جنود مجندة، فما تعارف منها ائتلف، وما تناكر منها اختلف) - وهذا لفظ يزيد الأصم -.

‌‌(1) (2/ 117 - 119).

‌‌(2) من الآية الثامنة، من سورة: الصف.

‌‌(3) من الآية الثامنة، من سورة الصف.

‌‌(4) من الآية: (227)، من سورة: الشعراء.
আল-খতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-জামে লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি'‌‌(১) গ্রন্থে সাহাবায়ে কিরামের ফজিলত ও মর্যাদা বর্ণনা এবং তাঁদের নেক আমল ও অগ্রগামী ভূমিকার কথা প্রচারের আদব সংক্রান্ত একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর জন্য এমন কিছু সাহায্যকারী মনোনীত করেছেন, যাদের তিনি সৃষ্টির সেরা এবং ঈমানে সবচেয়ে শক্তিশালী করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে তিনি দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন এবং মুমিনদের কালেমাকে বিজয়ী করেছেন। তিনি তাঁদের জন্য মহা পুরস্কার অবধারিত করেছেন এবং উম্মতের ওপর তাঁদের উত্তমরূপে স্মরণ করাকে আবশ্যক করেছেন। কিন্তু রাফেজিরা তাঁদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করেছে এবং তাঁদের কীর্তি ও প্রচেষ্টাকে মুছে ফেলার সংকল্প করেছে। তারা তাঁদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে এবং তাঁদের গালিগালাজ করাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়‌‌(২), যেমনটি তাদের পূর্বসূরি সমমনারা চেয়েছিল। অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে‌‌(৩)। আর জালেমরা শীঘ্রই জানতে পারবে তারা কোন গন্তব্যস্থলে প্রত্যাবর্তন করবে‌‌(৪)। সুতরাং সংবাদ বর্ণনাকারী এবং আসার (ঐতিহ্য) বহনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যক হলো সম্মানিত সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা প্রচার করা এবং প্রকাশ করা...

--------------------------------------------

= ভ্রান্ত, ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা শয়তানের আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং শয়তান তাদের কাছে যা কুমন্ত্রণা দেয় তার কাছে নতি স্বীকার করেছে... ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৪/২০৩১ - ২০৩২) এবং হাদীস নম্বর: ২৬৩৮-এ আবু সালেহ আস-সাম্মান ও ইয়াজিদ আল-আসাম—উভয়ের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (মানুষ খনিসমূহের ন্যায়, যেমন সোনা ও রূপার খনি। তাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম, যদি তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে। আর রূহসমূহ সুশৃঙ্খল বাহিনীর মতো; যাদের মধ্যে পূর্ব-পরিচয় ঘটে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়, আর যাদের মধ্যে অপরিচিতি থাকে তারা বিচ্ছিন্ন থাকে) - এটি ইয়াজিদ আল-আসাম-এর শব্দ।

‌‌(১) (২/১১৭ - ১১৯)।

‌‌(২) সূরা আস-সাফ-এর অষ্টম আয়াতের অংশ।

‌‌(৩) সূরা আস-সাফ-এর অষ্টম আয়াতের অংশ।

‌‌(৪) সূরা আশ-শুআরা-এর ২২৭ নম্বর আয়াতের অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
مترلتهم ومحلهم من الإسلام عند ظهور هذا الأمر العظيم، والخطب الجسيم، واستعلاء الحائدين عن سلوك الطريق المستقيم؛ {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ (42)}‌‌(1)) اهـ.

وقال شيخ الإسلام‌‌(2): (إذا ظهر مبتدع يقدح فيهم بالباطل فلا بد من الذب عنهم، وذكر ما يبطل حجته بعلم، وعدل) ا هـ. وقال السيوطي في شرح سنن ابن ماجه‌‌(3) عند ما يروى من حديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا لعن آخر هذه الأمة أولها فمن كتم حديثا فقد كتم ما أنزل الله) ما نصه: (قوله: "إذا لعن" الخ المراد منه: أهل الباطل من الروافض، والخوارج، وغيرهم. أي: من أدرك هذا الزمان فعليه إظهار مناقب الصحابة، وفضائلهم) اهـ … ونحن في زمن فيه للخوارج أعناق مشرئبة، وصولة وجولة، وللرافضة كثرة عدد وشوكة، وطعنهم في الصحابة استغلوا فيه جميع القنوات المتاحة. والخوارج أول سيف سُلّ على المسلمين سيفهم. والرافضة أجهل الجماعات، وأكذب الناس في النقليات، وأجهلهم في العقليات، وقد دخل منهم، ومن الخوارج على الدين من الفساد ما لا يعلمه إلا رب العباد‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) من الآية: (42)، من سورة: الأنفال.

‌‌(2) منهاج السنة (6/ 254).

‌‌(3) (ص/ 23)، والحديث سيأتي برقم/ 127. وانظر الأحاديث/ 123 - 126.

‌‌(4) انظر: مختصر منهاج السنة للذهبي (ص/ 20 - 21).
ইসলামের মধ্যে তাদের মর্যাদা ও অবস্থান, যখন এই মহান বিষয়টি এবং গুরুতর বিপদ প্রকাশিত হয়েছে এবং সরল পথ থেকে বিচ্যুতদের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে; {যাতে ধ্বংস হয় সে, যে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং জীবিত থাকে সে, যে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৪২)}‌‌(১)।

শায়খুল ইসলাম‌‌(২) বলেছেন: (যখন এমন কোনো বিদআতি প্রকাশ পায় যে বাতিল বা মিথ্যার মাধ্যমে তাদের নিন্দা করে, তখন অবশ্যই তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করা এবং জ্ঞান ও ন্যায়ের সাথে তার যুক্তি খণ্ডন করে এমন বিষয় উল্লেখ করা অপরিহার্য)। আস-সুয়ূতী সুনান ইবনে মাজাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে‌‌(৩) জাবির (রা.) বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদীসের প্রসঙ্গে—যিনি বলেছেন: "যখন এই উম্মতের শেষ অংশ প্রথম অংশকে লানত করবে, তখন যে ব্যক্তি কোনো হাদীস গোপন করবে সে যেন আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়কেই গোপন করল"—তার বক্তব্যের মূল পাঠ উল্লেখ করেছেন: (তার কথা: "যখন লানত করবে" ইত্যাদি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: রাফেজি, খারিজি এবং অন্যান্য বাতিলপন্থীরা। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি এই সময়টি পাবে তার কর্তব্য হলো সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহ প্রকাশ করা) ... এবং আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি যেখানে খারিজিদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার প্রবণতা এবং দাপট ও বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর রাফেজিদের সংখ্যাধিক্য ও শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে; সাহাবায়ে কেরামের প্রতি তাদের অপবাদ ও নিন্দার ক্ষেত্রে তারা সকল লভ্য মাধ্যম ব্যবহার করেছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রথম যে তলোয়ারটি কোষমুক্ত হয়েছিল তা ছিল খারিজিদের তলোয়ার। আর রাফেজিরা হলো দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ, উদ্ধৃতি বা বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী এবং যুক্তিনির্ভর বিষয়ে সবচেয়ে নির্বোধ। তাদের ও খারিজিদের মাধ্যমে দ্বীনের মধ্যে এমন ফাসাদ বা বিপর্যয় প্রবেশ করেছে যা বান্দাদের রব ছাড়া আর কেউ জানে না‌‌(৪)।

--------------------------------------------

‌‌(১) সূরা আল-আনফাল-এর ৪২ নম্বর আয়াতের অংশ।

‌‌(২) মিনহাজুস সুন্নাহ (৬/ ২৫৪)।

‌‌(৩) (পৃষ্ঠা/ ২৩), এবং হাদীসটি সামনে ১২৭ নম্বর ক্রমিকে আসবে। আরও দেখুন হাদীস: ১২৩ - ১২৬।

‌‌(৪) দেখুন: আয-যাহাবী কর্তৃক সংক্ষেপিত মিনহাজুস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা/ ২০-২১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
* ثالثًا: أن في الإطلاع على سير الصحابة رضي الله عنهم، والتفتيش عن أخبارهم، والتأمل في أحوالهم أسبابًا قوية، وعرى متينة لمعرفة مكانتهم وفضلهم، وإيمانهم وصدقهم، وعلمهم وجهادهم، وعملهم ودعوتهم، وشريف منزلتهم من الدين على بصيرة وعلم، تقوى به الحجج، وتنوّر به البصائر، ويتقرب به إلى الله عز وجل، ويعرف به خيرهم الماتع، وفضلهم الواسع على الإسلام والمسلمين في كل زمان ومكان … ومن أعظم الوسائل، وأقوى الأسباب، وأوضح الدلائل المعينة على ذلك من أخبارهم الحميدة، وسيرهم العاطرة: معرفة ما ورد من ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم في فضائلهم ومناقبهم الدائمة لهم، المقصورة عليهم، المؤكدة على سمو مكانتهم، ورفعة رتبتهم. قال شيح الإسلام‌‌(1): (وأما الخلفاء والصحابة فكل خير فيه المسلمون إلى يوم القيامة من الإيمان والإسلام، والقرآن والعلم، والمعارف والعبادات، ودخول الجنة، والنجاة من النار، وانتصارهم على الكفار، وعلو كلمة الله فإنما هو ببركة ما فعله الصحابة، الذين بلغوا الدين، وجاهدوا في سبيل الله. وكل مؤمن آمن بالله فللصحابة رضي الله عنهم عليه فضل إلى يوم القيامة، وكل خير فيه الشيعة، وغيرهم فهو ببركة الصحابة. وخير الصحابة تبع لخير الخلفاء الراشدين، فهم كانوا أقوَم بكل خير في الدين والدنيا من سائر الصحابة) اهـ.

--------------------------------------------

‌‌(1) منهاج السنة (6/ 376).
তৃতীয়ত: সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনী পাঠ করা, তাঁদের সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করা এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার মাঝে এমন শক্তিশালী কারণ ও সুদৃঢ় বন্ধন রয়েছে, যার মাধ্যমে দলিল-প্রমাণ ও জ্ঞানের ভিত্তিতে তাঁদের মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, ঈমান, সত্যবাদিতা, ইলম, জিহাদ, আমল, দাওয়াত এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ অবস্থান সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণাদি শক্তিশালী হয়, অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হয়, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং প্রতিটি যুগে ও স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর তাঁদের চমৎকার কল্যাণ ও ব্যাপক অনুগ্রহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় … তাঁদের প্রশংসনীয় সংবাদ ও সুগন্ধিময় জীবনীর মধ্য থেকে এ বিষয়ে সহায়ক সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম, শক্তিশালী কারণ এবং অত্যন্ত স্পষ্ট দলিলগুলোর অন্যতম হলো: তাঁদের স্থায়ী ফযীলত ও গুণাবলি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা জানা, যা কেবল তাঁদের জন্যই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং যা তাঁদের সুউচ্চ অবস্থান ও উন্নত মর্যাদাকে সুনিশ্চিত করে। শায়খুল ইসলাম‌‌(১) বলেন: (আর খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে বক্তব্য হলো, কেয়ামত পর্যন্ত ঈমান, ইসলাম, কুরআন, ইলম, মা'রিফাত, ইবাদত, জান্নাতে প্রবেশ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, কাফেরদের ওপর বিজয় এবং আল্লাহর বাণী সমুন্নত হওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিমরা যে কল্যাণই লাভ করবে, তা মূলত সেই সাহাবীদের কর্মকাণ্ডের বরকতেই অর্জিত হবে, যারা দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারী প্রত্যেক মুমিনের ওপর কেয়ামত পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অনুগ্রহ রয়েছে। শিয়া এবং অন্যান্যদের মাঝে যে কল্যাণই বিদ্যমান, তা সাহাবায়ে কেরামের বরকতেই। আর সাহাবীদের মধ্যকার কল্যাণ মূলত খুলাফায়ে রাশেদীনের কল্যাণেরই অনুগামী; কেননা তাঁরা দ্বীন ও দুনিয়ার প্রতিটি কল্যাণের ক্ষেত্রে অন্যান্য সাহাবীদের তুলনায় অধিক সুদৃঢ় ছিলেন) সমাপ্ত।

--------------------------------------------

‌‌(১) মিনহাজুস সুন্নাহ (৬/ ৩৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
* رابعًا: أن المؤلفات في هذا الباب قليلة، وأن ما وصلنا من المؤلفات المسندة فإن أحاديثها، ومن وردت فيهم من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قليل - أيضا -.

* خامسًا: أن أكثر المؤلفات في هذا الموضوع - على قلتها - لم يصل إلينا - فيما أعلم، وعلى حسب ما اطلعت عليه عند من كتب عن هذه المؤلفات، وجمع أسماءها‌‌(1)، وإذا وصلت إلينا في يوم ما - وعسى أن يكون قريبًا - فوصولها لا بد أن يكون إلى النظر محتاجًا، وإلى التخريج مفتقرًا؛ لتتسنى الاستفادة منها، ومعرفة درجات أحاديثها.

* سادسًا: أنه لم يطبع من المؤلفات التي وصلت إلينا - في حدّ علمي - إلّا القليل، ولم تخدم الخدمة الحديثية العلمية المحتاجة إليها، ويُستثني منها كتاب: فضائل الصحابة للإمام أحمد - رحمه الله تعالى -، فقد بذل محققه فيه جهدًا مشكورًا، مع ما يعترى أي عمل بشري من قصور، وخلل … مع التنبيه على أنه أوسع مؤلف في جمع الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة قبل بحثي هذا، فيه: (437) أربع مئة وسبعة وثلاثون

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: مقدمة د. محمد راضي لمعرفة الصحابة لأبي نعيم (1/ 75 وما بعدها) حيث ذكر أحد عشر كتابًا في فضائل الصحابة، أشار إلى وجود ثلاثة منها، طبع منها: اثنان. ومقدمة وصي الله بن محمد عباس لفضائل الصحابة للإمام أحمد (1/ 17 وما بعدها) حيث ذكر مثل ما ذكر د. محمد راضي، وأحال خمسة منها إلى كتابي: تأريخ التراث العربي، وتأريخ الأدب العربي - أو أحدهما - منها أربعة كتب مطبوعة.
* চতুর্থত: এই বিষয়ের গ্রন্থসমূহ সংখ্যায় অল্প এবং সনদসহ আমাদের নিকট যে সকল গ্রন্থ পৌঁছেছে সেগুলোর হাদীসসমূহ এবং যে সকল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের সংখ্যাও সীমিত।

* পঞ্চমত: এই বিষয়ের অধিকাংশ গ্রন্থ—সেগুলো সংখ্যায় অল্প হওয়া সত্ত্বেও—আমার জানামতে এবং যারা এই গ্রন্থগুলো সম্পর্কে লিখেছেন ও সেগুলোর নাম সংকলন করেছেন‌‌(১) তাদের বর্ণনা অনুযায়ী আমাদের নিকট পৌঁছেনি। যদি কোনোদিন সেগুলো আমাদের নিকট পৌঁছে—আশা করা যায় তা শীঘ্রই হবে—তবে সেগুলো থেকে যথাযথ উপকার গ্রহণ এবং হাদীসগুলোর মান নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তখরীজ (হাদীসের উৎস যাচাই) করা অপরিহার্য হবে।

* ষষ্ঠত: আমার জানামতে, আমাদের নিকট যে গ্রন্থগুলো পৌঁছেছে তার মধ্যে অতি সামান্য অংশই মুদ্রিত হয়েছে এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হাদীসতাত্ত্বিক ও ইলমী খেদমত আঞ্জাম দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)-এর 'ফাযায়িলুস সাহাবা' গ্রন্থটি ব্যতিক্রম; কারণ এর মুহাক্কিক (সম্পাদক) এতে প্রশংসনীয় শ্রম দিয়েছেন, যদিও মানুষের যেকোনো কাজেই কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক … তবে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আমার এই গবেষণার পূর্বে সাহাবীগণের মর্যাদা বিষয়ক হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে এটিই ছিল সর্ববৃহৎ গ্রন্থ, যাতে রয়েছে: (৪৩৭) চারশত সাইত্রিশটি

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: আবু নুআইমের ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’ গ্রন্থের ড. মুহাম্মদ রাযীর ভূমিকা (১/ ৭৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো), যেখানে তিনি সাহাবীগণের মর্যাদা বিষয়ে এগারোটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে তিনটি বিদ্যমান থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার মধ্যে দুটি মুদ্রিত হয়েছে। আরও দেখুন: ইমাম আহমাদের ‘ফাযায়িলুস সাহাবা’ গ্রন্থের প্রতি অসিউল্লাহ বিন মুহাম্মদ আব্বাসের ভূমিকা (১/ ১৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো), যেখানে তিনি ড. মুহাম্মদ রাযীর বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং এর মধ্যে পাঁচটি গ্রন্থকে ‘তারীখুত তুরাসিল আরাবী’ ও ‘তারীখুল আদাবিল আরাবী’—অথবা এই দুটির কোনো একটির—বরাত দিয়েছেন; সেগুলোর মধ্যে চারটি গ্রন্থ মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
حدديثًا - تقريبًا - في فضائل الصحابة - رضوان الله تعالى عليهم - من غير تكرار، واردة في فضائل: (29) تسعة وعشرين صحابيا‌‌(1).

وفي هذا البحث فضائل جماعة عددهم أكثر من عدد أهل بدر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم … فيه فضائل: (343) ثلاث مئة وثلاثة وأربعين نفسًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكورًا، وإناثًا. وهذا العدد من غير عد المبهمين والمبهمات، الذين بلغ عدد الأحاديث الواردة فيهم: (72) اثنين وسبعين حديثًا، في بعضها فضائل جماعة منهم - وذلك من غير عد المكرر منها -. وبلغ عدد الأحاديث الواردة فيه: (2022) ألفين واثنين وعشرين حديثًا - من غير عدّ المكرر، والطرق، والشواهد، وهي كثيرة جدًّا، ولو عددتها لبلغ

--------------------------------------------

‌‌(1) كتاب: فضائل الصحابة للإمام أحمد فيه زيادات لابنه عبد الله، وزيادات لأبي بكر القطيعي. وبلغ عدد نصوصه - كما أثبته محققه: وصي الله عباس -: (1962) نصًّا، وليس كل هذا العدد في فضائل الصحابة رضي الله عنهم؛ فقد تكرر عدد كثير من الأحاديث الواردة في الفضائل، وفي غيرها في الكتاب بمثلها، أو نحوها، أو مطوله - أحيانًا -، ومختصرة - أحيانًا أخرى - وحوى الكتاب عددًا كبيرًا من الآثار الموقوفة، والمقطوعة في: علم الصحابة رضي الله عنهم، وفقههم، وعبادتهم، وزهدهم، وصفاتهم، وأخبارهم، وسيرهم، وأنسابهم، وجهادهم، وكراماتهم، وأوائلهم، وأقوال بعضهم في بعض، وأولهم إسلامًا، واستخلاف الخلفاء منهم، وموقف السلف الصالح منهم، وغير ذلك من الموضوعات المتنوعة. كما حوى عددًا من مروياتهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في أحكام العبادات، ونحوها. وعددًا من الأحاديث في الخوارج، والروافض، وفضائل أهل الشام، وغير ذلك.
প্রায় - হাদিস - সাহাবায়ে কিরাম - তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক - এর ফযিলত সম্পর্কে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে, যা (২৯) ঊনত্রিশ জন সাহাবীর ফযিলত সংক্রান্ত‌‌(১).

আর এই গবেষণায় এমন এক জামাআত বা দলের ফযিলত রয়েছে যাদের সংখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার চেয়েও বেশি … এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুরুষ ও নারী সাহাবীদের মধ্যে (৩৪৩) তিনশ তেতাল্লিশ জনের ফযিলত রয়েছে। আর এই সংখ্যা অস্পষ্ট (নাম উল্লেখ না থাকা) পুরুষ ও নারী সাহাবীদের গণনা করা ব্যতিরেকেই, যাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা (৭২) বাহাত্তরটিতে পৌঁছেছে; এর কয়েকটিতে তাঁদের একটি দলের ফযিলত বর্ণিত হয়েছে - আর এটিও পুনরাবৃত্তি গণনা করা ছাড়াই। এতে বর্ণিত হাদিসের মোট সংখ্যা (২০২২) দুই হাজার বাইশটিতে পৌঁছেছে - পুনরাবৃত্তি, ভিন্ন সূত্র (তুরুক) এবং শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) গণনা করা ছাড়া, যেগুলোর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি; আর আমি যদি সেগুলোকে গণনা করতাম তবে তা পৌঁছাত...

--------------------------------------------

‌‌(1) গ্রন্থ: ইমাম আহমদের 'ফাদায়িলুস সাহাবা', এতে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর সংযোজন এবং আবু বকর আল-কাতিয়ীর সংযোজন রয়েছে। আর এর বর্ণনা সংখ্যা - যেমনটি এর মুহাক্কিক ওয়াসিউল্লাহ আব্বাস সাব্যস্ত করেছেন - (১৯৬২) উনিশশ বাষট্টিটি; আর এই পুরো সংখ্যাটি সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমের ফযিলত সংক্রান্ত নয়। কারণ ফযিলত সংক্রান্ত এবং কিতাবের অন্যান্য বিষয়ে বর্ণিত অনেক হাদিস একই রকম শব্দে, অথবা কাছাকাছি শব্দে, কখনো দীর্ঘভাবে - আবার কখনো সংক্ষিপ্তভাবে - পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কিতাবটি সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমের জ্ঞান, ফিকহ, ইবাদত, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), গুণাবলি, সংবাদ, জীবনী, বংশপরিচয়, জিহাদ, কারামত, তাঁদের মধ্যকার অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গ, একে অপরের সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণে প্রথম ব্যক্তি, তাঁদের মধ্য থেকে খলিফাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া, তাঁদের সম্পর্কে সালাফে সালেহীনের অবস্থান এবং এ জাতীয় আরও বিভিন্ন বিষয়ে বিপুল সংখ্যক মাওকুফ ও মাকতু আছার (বর্ণনা) ধারণ করেছে। এছাড়াও এতে ইবাদতের আহকাম এবং এ জাতীয় বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁদের বেশ কিছু রেওয়ায়েত রয়েছে। সেই সাথে খাওয়ারিজ, রাফেযি এবং শামবাসীদের ফযিলত ও অন্যান্য বিষয়েও বেশ কিছু হাদিস এতে স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عددها أضعاف العدد المرقوم - … فجاء حافلًا بأكبر عدد، وأكثره - ولله الحمد، والمنة -.

*سابعًا: أنه لم يهتم أصحاب المؤلفات المسندة في التأريخ، ومعرفة الصحابة بإيراد أحاديث الفضائل، وأكثر ما يسوقونه فيما يثبتون به الرواية والصحبة، أو في الأخبار، أو في المشاهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو في نحو ذلك. وإذا أوردوا شيئا من ذلك فإنهم يوردونه - في الغالب - في ترجمة من جاء الحديث من طريقه، لا في ترجمة من ورد فيه الفضل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد تكون بأسانيدهم عن بعض أصحاب كتب نطاق البحث … كابن أبي خيثمة (ت / 279 هـ) في التأريخ، وابن قانع (ت / 351 هـ) في المعجم، والحاكم (ت / 405 هـ) في المستدرك، وأبي نعيم (ت / 430 هـ) في المعرفة، وابن الأثير (ت / 630 هـ) في أسد الغابة، وغيرهم.

* ثامنًا: أن في خدمة هذا الباب والتصنيف فيه أهمية وشرفًا؛ لما فيه من الفوائد الجليلة، والفرائد الأثيرة. ولما فيه من الأجور الجزيلة، والحسنات الكثيرة من الله تبارك وتعالى فيما يحتسب عنده - جل وعلا -.

* تاسعًا: أن الأحاديث الواردة فيه كثيرة جدا. وما أراه من الحاجة الملجئة إلى كتاب ينظم شملها، ويضم ألفتها، مع بيان أحوال رواتها، ومنازل درجاتها بالعدل والإنصاف، على ضوء القواعد المقررة، والضوابط المعتبرة عند أهل العلم، مع ما لا يخفى من علو مكانة علم الحديث،
এগুলোর সংখ্যা উল্লিখিত সংখ্যার কয়েক গুণ - … ফলে এটি বৃহত্তম ও সর্বাধিক সংখ্যা সমৃদ্ধ হয়ে এসেছে - সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।

*সপ্তম: ইতিহাস এবং সাহাবীদের পরিচয় বিষয়ক সনদভিত্তিক গ্রন্থসমূহের রচয়িতাগণ ফযিলত বিষয়ক হাদীসগুলো উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেননি। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সব বর্ণনা পেশ করেন যার মাধ্যমে বর্ণনা সূত্র ও সাহাবিত্ব সাব্যস্ত হয়, অথবা সংবাদসমূহ, কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ঘটনাবলী অথবা এই জাতীয় বিষয়াদি সম্পর্কে। আর যদি তারা এর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করেনও, তবে তা সাধারণত উল্লেখ করেন সেই ব্যক্তির জীবনীতে যার সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে; সেই ব্যক্তির জীবনীতে নয় যার ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর কখনও তা গবেষণার আওতাভুক্ত কতিপয় গ্রন্থকারের সনদেও হতে পারে … যেমন ইতিহাসে ইবনে আবি খাইসামাহ (মৃত্যু ২৭৯ হি.), আল-মু’জাম-এ ইবনে কানি’ (মৃত্যু ৩৫১ হি.), আল-মুস্তাদরাক-এ আল-হাকিম (মৃত্যু ৪০৫ হি.), আল-মা’রিফাহ-তে আবু নুআইম (মৃত্যু ৪৩০ হি.), উসদুল গাবাহ-তে ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬৩০ হি.) এবং অন্যান্যগণ।

* অষ্টম: এই বিষয়ের খিদমত এবং এতে গ্রন্থ রচনার বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে; কারণ এতে রয়েছে মহান উপকারিতা ও অনন্য দুর্লভ বিষয়াদি। এছাড়া এতে মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার নিকট সওয়াবের প্রত্যাশায় কৃত কাজের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার এবং প্রচুর নেকি - তিনি মহিমান্বিত ও সমুন্নত।

* নবম: এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি। আর আমি এ ক্ষেত্রে এমন একটি গ্রন্থের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি যা এই বিষয়গুলোকে সুবিন্যস্ত করবে এবং এগুলোকে একত্রিত করবে। সেই সাথে বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং হাদীসের মান ও স্তরসমূহ ন্যায়নিষ্ঠভাবে বর্ণনা করবে; যা হবে আলেমদের নিকট সুনির্ধারিত মূলনীতি ও নির্ভরযোগ্য মানদণ্ডের আলোকে। আর হাদীস শাস্ত্রের সুউচ্চ মর্যাদার বিষয়টি তো কারো অজানা নয়,
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وصعوبة مزاولته وإتقانه؛ لشدة مراسه، وصعوبة معتركه، ودقة ولطف مداركه، ونعم المشتغل والصنعة هو - والله حسبي، وهو نعم الوكيل -.

* عاشرًا: أن في دراسة، وتأمل الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة - رضى الله عنهم -، والوقوف عليها وقوف مُعتَبِر، وتأملها تأمل مُتفكِر، وعقل دلالاتها حلاوةً تقتاتها الأرواح، وتتزكى بها الأنفس، ولها أثرها البالغ في زيادة الإيمان، والصبر على ما أمر الله به، أو نهى عنه، إخباتًا لله، ورجاءً لمغفرته. وفيها تنبيه وتذكير لذوى الغفلة، وشحذ لأهل الهمم المقتدين برسول الله صلى الله عليه وسلم، المتشبهين بهم، لإحياء سيرهم، واقتفاء آثارهم‌‌(1). وفيها طمأنينة للنفس، وخشوع في القلب، وزهد في الدنيا، ورغبة في الأخرى، وتشوّق إليهم، وإلى صحبتهم فيما وعدهم الله به من جنات تجري من تحتها الأنهار، لهم فيها نعيم مقيم، خالدين فيها أبدًا، إن الله عنده أجر عظيم.

وفيما أظن أنه لن يخلو من ترائها، ومتأمليها مطالع يخشع قلبه، ويقشعر جلده، وتترقرق دموعه، وتتحدر عبراته؛ لما تتركه في نفسه من مواعظ وعبر، وفي عقله من تأملات وخواطر، وفي إيمانه من زيادة يلحظها ويعرفها. فأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قد مضوا على خير صيت، وأجل

--------------------------------------------

‌‌(1) الصحابة رضي الله عنهم كانوا مقتدين بالرسول صلى الله عليه وسلم، مهتدين بهديه، وإنما كان خلقه صلى الله عليه وسلم القرآن، فالقرآن هو المتبوع على الحقيقة، وجاءت السنة مبينة له، فالمتبع للسنة متبع للقرآن، والصحابة كانوا أولى الناس بذلك. فكل من اقتدى بهم فهو من الفرقة الناجية، الداخلة للحنة بفضل الله. عن الشاطبى في الاعتصام (2/ 252)، بتصرف يسير.
এবং এটি অনুশীলন করা ও এতে পারদর্শিতা লাভ করা অত্যন্ত কঠিন; এর চর্চার কঠোরতা, এর কর্মক্ষেত্রের জটিলতা এবং এর উপলব্ধির সূক্ষ্মতা ও নিগূঢ়তার কারণে। আর কতই না চমৎকার সেই ব্যক্তি যে এতে নিয়োজিত এবং কতই না উত্তম এই শিল্প—আর আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক—।

* দশম: সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ অধ্যয়ন ও তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মধ্যে, এবং উপদেশ গ্রহণকারীর দৃষ্টিতে তা পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাশীল ব্যক্তির ন্যায় তা নিয়ে ভাবনার মধ্যে এবং এর অর্থসমূহ অনুধাবনের মধ্যে এমন এক স্বাদ রয়েছে যা আত্মাসমূহ গ্রহণ করে এবং যার মাধ্যমে নফসসমূহ পরিশুদ্ধ হয়। ঈমান বৃদ্ধিতে, আল্লাহর আদেশ পালন ও তাঁর নিষেধ বর্জনে ধৈর্য ধারণে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, যা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হওয়া এবং তাঁর ক্ষমা লাভের প্রত্যাশায় অর্জিত হয়। এতে গাফেল বা অসতর্ক ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতা ও উপদেশ রয়েছে এবং সেই সব উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের প্রেরণা যোগানো হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারী এবং সাহাবাদের পদাঙ্ক অনুসারী, যাতে তাঁদের জীবনচরিত পুনর্জীবিত করা যায় এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা যায়‌‌(১)। এতে নফসের প্রশান্তি, হৃদয়ে খুশু বা বিনয়, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও পরকালের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আর সৃষ্টি হয় তাঁদের প্রতি এবং তাঁদের সাহচর্যের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা—সেই জান্নাতসমূহে যার নিচ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত এবং যা আল্লাহ তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানে তাঁদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নেয়ামত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার।

আমার ধারণা এই যে, এর পাঠক ও এতে গভীর মনোনিবেশকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে না যার অন্তর বিগলিত হবে না, শরীরের চামড়া শিহরিত হবে না এবং নয়ন অশ্রুসিক্ত হবে না; কারণ এটি মানুষের অন্তরে যে নসিহত ও শিক্ষা, মস্তিস্কে যে চিন্তা ও ভাবনা এবং ঈমানে যে বৃদ্ধি রেখে যায় তা সে নিজেই প্রত্যক্ষ ও উপলব্ধি করতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ সর্বোত্তম সুখ্যাতি ও মহানতম মর্যাদার সাথেই বিদায় নিয়েছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁর হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র ছিল কুরআন; সুতরাং কুরআনই হলো প্রকৃতপক্ষে অনুসৃত, আর সুন্নাহ তা ব্যাখ্যা করতে এসেছে। অতএব, সুন্নাহর অনুসারী মানেই কুরআনের অনুসারী, আর সাহাবীগণই ছিলেন এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত ও অগ্রগামী। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের অনুসরণ করবে, সে-ই হবে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশকারী। আশ-শাতবি রচিত আল-ইতিসাম (২/২৫২) থেকে সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
رتبة، وأبعد مكان عن الأعجاب والكِبْر مع ما ورد في مناقبهم وفضائلهم، وما وصفوا به من الأوصاف الجميلة الحميدة‌‌(1)، ومضى بعدهم أكثر من ثلاثة عشر قرنًا بأفرادها، وجماعاتها، وحوادثها التي ازدردها التأريخ، ونسيها الناس؛ لطول الأمد، وتعاتب الطبقات، وبقي ذِكر الصحابة، ومن شاء ربك، وبقيت فضائلهم، وحميد سيرتهم ماثلة للأنظار، وجائلة في الضمائر، سميرة لعقول المتفكرين، ونجية لأفئدة أولي الألباب.

 

‌‌(خطة البحث)

كتبت البحث في مقدّمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب - بتقهاسيمها، وأجزائها -، أعقبتها بالفهارس العلميّة، التفصيليّة لها.

- فامّا المقدّمة فذكرتُ فيها: دواعى اختيار الكتابة في هذا الموضوع، وخطّة البحث، ومنهج كتابتي وإعدادى له، وغير ذلك.

- وأمّا التّمهيد فذكرت فيه دراسة موحزة في عدد من المسائل، والمباحا المتعلّقة بالصّحابة رضي الله عنهم وأرضاهم - … كتعريفهم عند أهل العلم، وما تعرف به صحبتهم، وعدد طبتهاتهم، وعقيدة السّلف الصّالح فيهم، وغير ذلك مما ستراه في موضعه - إن شاء الله تعالى -.

ولكثرة الأحاديث في كتب نطاق البحث اقتضى النظر تقسيمها إلى ثلاثة أبواب، فيها تعداد أصنافها، وأشكالها:

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: فتح البارى (10/ 494).
মর্যাদা, এবং আত্মমুগ্ধতা ও অহংকার থেকে দূরতম অবস্থান; পাশাপাশি তাদের সুউচ্চ গুণাবলি ও ফযীলত এবং তাদের যে সকল সুন্দর ও প্রশংসনীয় গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে তা সত্ত্বেও‌‌(১), আর তাদের পরে তেরো শতাব্দীরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে তার ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং ঘটনাবলি নিয়ে—যাকে ইতিহাস গ্রাস করেছে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে ও প্রজন্মের পরিক্রমায় মানুষ যা ভুলে গিয়েছে। কিন্তু সাহাবীগণের এবং আপনার রব যাদের চেয়েছেন তাদের আলোচনা টিকে আছে; আর তাদের ফযীলত ও প্রশংসনীয় জীবনী দৃষ্টির সামনে সমুজ্জ্বল এবং অন্তরে প্রবহমান রয়েছে, যা চিন্তাশীলদের বুদ্ধিবৃত্তির সহচর এবং প্রজ্ঞাবানদের হৃদয়ের একান্ত আলাপচারী হয়ে বিদ্যমান।

 

‌‌(গবেষণার পরিকল্পনা)

আমি এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি অধ্যায়—তার উপ-বিভাজন ও অংশসমূহসহ—লিখেছি, এবং এর শেষে ইলমী ও বিস্তারিত নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করেছি।

- ভূমিকার ক্ষেত্রে আমি তাতে উল্লেখ করেছি: এই বিষয়ে লেখার কারণসমূহ, গবেষণার পরিকল্পনা, এটি লেখা ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয়।

- আর উপক্রমণিকার ক্ষেত্রে আমি তাতে সাহাবীগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখুন) সম্পর্কিত বেশ কিছু মাসআলা ও বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি— … যেমন: আলেমগণের নিকট তাদের সংজ্ঞা, কীসের মাধ্যমে তাদের সাহচর্য প্রমাণিত হয়, তাদের স্তরের সংখ্যা, তাদের ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের আকিদা এবং অন্যান্য বিষয় যা আপনি যথাস্থানে দেখতে পাবেন—ইনশাআল্লাহ তাআলা।

গবেষণার আওতাভুক্ত গ্রন্থসমূহে হাদিসের আধিক্যের কারণে তা তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাতে তার প্রকার ও ধরনসমূহ গণনা করা হয়েছে:

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/ ৪৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
* فالباب الأوّل ذكرت فيه الأحاديث الواردة في فضائلهم رضي الله عنهم على وجه الإجمال … وفيه خمسة فصول:

* الفصل الأوّل: ما ورد في فضل من آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم وصَحِبَه.

* الفصل الثاني: ما ورد في أنّ خير النّاس القرن الذي كان فيه الرّسول صلى الله عليه وسلم، وأصحابه - رضى الله عنهم -.

* الفصل الثّالث: ما ررد في أن بقاء النّبيّ - صلى الله عليه رسلم - أمان لأصحابه - رضى الله عنهم -، وأن بقاء أصحابه أمان لأمته.

* الفصل الرابع: ما ررد في مدة حياة الصّحابة رضي الله عنهم.

* الفصل الخامس: ما ررد في النّهي عن سبهم - رضى الله عنهم -.

* الباب الثاني: ذكرت في الأحاديث الواردة في فضائلهم رضي الله عنهم حسب الحوادث، والوقائع، والقبائل، والطّوائف، والبلاد … وفيه ثلاثة فصول:

* الفصل الأوّل: الأحاديث الواردة في فضائلهم حسب الحوادث، والوقائع … وفيه سبعة مباحث:

* المبحث الأوّل: ما ورد في فضائل المهاجرين إلى الحبشة.

* المبحث الثّاني: ما ورد في فضائل البدريّين، وأهل بيعة الحديبية - جميعا -.

*المبحث الثالث: ما ررد في فضائل البدريين - دون غيرهم -.
সুতরাং প্রথম অধ্যায়ে আমি তাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি … এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছেন এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন তাদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই প্রজন্ম যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন—এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতি তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ এবং তাঁর সাহাবীদের উপস্থিতি তাঁর উম্মতের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ—এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গালি দেওয়া বা মন্দ বলা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি তাঁদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা, বিষয়াদি, গোত্র, গোষ্ঠী এবং ভূখণ্ড অনুযায়ী বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি … এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: ঘটনা ও বিষয়াদি অনুযায়ী তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ … এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম অনুচ্ছেদ: হাবশায় হিজরতকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং হুদায়বিয়ার বাইআতে অংশগ্রহণকারী—উভয় পক্ষের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অন্যদের ছাড়া কেবল বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
* المبحث الرابع: ما ورد في فضائل أهل أحد.

* المبحث الخامس: ما ورد في فضائل أهل بئر معونة.

* المبحث السادس: ما ورد في فضائل أهل بيعة الحديبية - دون غيرهم -.

* المبحث السابع: ما ورد في فضائل أهل حنين.

* الفصل الثاني: الأحاديث الواردة في فضائلهم حسب القبائل والطوائف … وفيه تسعة وعشرون مبحثا:

* المبحث الأول: ما ورد في فضائل قرابته صلى الله عليه وسلم، وأهل بيته.

* المبحث الثاني: ما ورد في فضائل قريش، والأنصار، وجهينة، ومزينة، وأسلم، وكفار، وأشجع، - جميعًا -، وغيرهم.

* المبحث الثالث: ما ورد في فضائل قريش، والأنصار - جميعًا - وغيرهم - سوى ما تقدم -.

* المبحث الرابع: ما ورد في فضائل قريش … وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: ما ورد في فضائل قريش - على وجه العموم - سوى ما تقدم -.

المطلب الثاني: ما ورد في فضائل بني هاشم، وبني عبد المطلب - من قريش - جميعا.

المطلب الثالث: ما ورد في فضائل بني هاشم، وغيرهم - سوى ما تقدم -.
* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উহুদবাসীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বি’র মাউনার শহীদদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হুদায়বিয়ার বাইয়াতে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (অন্যদের ব্যতীত)।

* সপ্তম পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: বিভিন্ন গোত্র ও দল অনুসারে তাদের ফযীলত বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ ... এবং এতে ঊনত্রিশটি মাবহস (পরিচ্ছেদ) রয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় এবং তাঁর আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরাইশ, আনসার, জুহাইনা, মুযাইনা, আসলাম, গিফার ও আশজা‘—সকলের—এবং অন্যদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরাইশ ও আনসার—একত্রে—এবং অন্যদের (পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত) ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরাইশদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে ... এবং এতে চারটি মাতলাব (অনুচ্ছেদ) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে কুরাইশদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরাইশদের মধ্য থেকে বনু হাশিম ও বনু আব্দুল মুত্তালিবের—একত্রে—ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বনু হাশিম ও অন্যদের (পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত) ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الرابع: ما ورد في فضائل بني عبد المطلب، ولم يشركهم فيه أحد - سوى ما تقدم -.

* المبحث الخامس: ما ورد في فضائل المهاجرين، والأنصار - جميعًا -، وغيرهم.

* المبحث السادس: ما ورد في فضائل المهاجرين، ولم يشركهم فيه أحد.

* المبحث السابع: ما ورد في فضائل الأنصار، ولم يشركهم فيه أحد … وفيه ثلاثة مطالب:

الطلب الأول: ما ورد في فضائلهم على وجه العموم.

المطلب الثاني: ما ورد في أي دورهم خير.

المطلب الثالث: ما ورد في فضائل أهل بيعتي العقبة.

* المبحث الثامن: ما ورد في فضائل أهل الصّفّة.

* المبحث التاسع: ما ورد في فضائل غفار، وأسلم، وجهينة، ومزينة، وغيرهم - سوى ما تقدم -.

* المبحث العاشر: ما ورد في فضائل الأزد.

* المبحث الحادي عشر: ما ورد في فضائل أسلم - سوى ما تقدم -.

* المبحث الثاني عشر: ما ورد في فضائل الأشعريين.

* المبحث الثالث عشر: ما ورد في فضائل البجليين … وفيه مطلبان:

المطلب الأول: ما ورد في فضائلهم على وجه العموم.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বনু আবদিল মুত্তালিবের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যাতে অন্য কেউ তাদের অংশীদার নয়—যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা ব্যতীত।

* পঞ্চম অধ্যায়: মুহাজির ও আনসার—উভয়—এবং অন্যদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* ষষ্ঠ অধ্যায়: মুহাজিরদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যাতে অন্য কেউ তাদের অংশীদার নয়।

* সপ্তম অধ্যায়: আনসারদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যাতে অন্য কেউ তাদের অংশীদার নয় ... এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের কোন ঘরানাটি সর্বোত্তম সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দুই বায়আতে আকাবায় অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* অষ্টম অধ্যায়: আহলে সুফফার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* নবম অধ্যায়: গিফার, আসলাম, জুহাইনা, মুযাইনা এবং অন্যদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে—যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা ব্যতীত।

* দশম অধ্যায়: আযদ গোত্রের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* একাদশ অধ্যায়: আসলাম গোত্রের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে—যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা ব্যতীত।

* দ্বাদশ অধ্যায়: আশআরীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* ত্রয়োদশ অধ্যায়: বাজালীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে ... এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
المطلب الآخر: ما ورد في فضائل الأحمسيين منهم على وجه الخصوص.

* المبحث الرابع عشر: ما ورد في فضائل بني تميم … وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: ما ورد في فضائلهم على وجه العموم.

المطلب الثاني: ما ورد في فضائل بلعنبر منهم على وجه الخصوص.

المطلب الثالث: ما ورد في فضائل بني سعد منهم على وجه الخصوص.

* المبحث الخامس عشر: ما ورد في فضائل ثقيف.

* المبحث السادس عشر: ما ورد في فضائل جُهينة - سوى ما تقدم -.

* المبحث السابع عشر: ما ورد في فضائل حمير.

* المبحث الثامن عشر: ما ورد في فضائل دوس.

* المبحث التاسع عشر: ما ورد في فضائل بني الديلم.

* المبحث العشرون: ما ورد في فضائل طيء.

* المبحث الواحد والعشرون: ما ورد في فضائل بي عامر.

* المبحث الثاني والعشرون: ما ورد في فضائل عبد القيس من ربيعة - وفيه فضل بي ضبيعة بن ربيعة -.

* المبحث الثالث والعشرون: ما ورد في فضائل عنزة.

* المبحث الرابع والعشرون: ما ورد في فضائل لخم، وجُذام.
অন্য অনুচ্ছেদ: বিশেষভাবে তাদের মধ্য হতে আহামাসীদের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: বনু তামীমের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা … এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাদের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিশেষভাবে তাদের মধ্য হতে বাল্-আনবারের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিশেষভাবে তাদের মধ্য হতে বনু সা’দের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: সাকীফ গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* ষোড়শ পরিচ্ছেদ: জুহাইনা গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা - যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত -।

* সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: হিমইয়ার গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: দাওস গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* উনবিংশ পরিচ্ছেদ: বনু দাইলামের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* বিংশ পরিচ্ছেদ: তাই গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* একবিংশ পরিচ্ছেদ: বনু আমিরের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ: রাবি'আ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আবদ আল-কায়সের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা - এবং এতে বনু দ্বাবি’আ ইবনে রাবি’আর ফযীলতও রয়েছে -।

* ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ: আনাযা গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।

* চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ: লাখম এবং জুযাম গোত্রের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী ফাদাইলিস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
* المبحث الخامس والعشرون: ما ورد في فضائل عرب مضر.

* المبحث السادس والعشرون: ما ورد في فضائل بني المنتفق.

* المبحث السابع والعشرون: ما ورد في فضائل بني ناجية.

* المبحث الثامن والعشرون: ما ورد في فضائل بني النخع.

* المبحث التاسع والعشرون: ما ورد في فضل جمعٍ من القبائل والطوائف.

* الفصل الثالث: الأحاديث الواردة في فضائلهم حسب البلاد … وفيه أربعة مباحث:

* المبحث الأول: ما ورد في فضائل أهل الحبشة.

* المبحث الثاني: ما ورد في فضائل أهل الحجاز، وأهل اليمن … وفيه مطلبان:

المطلب الأول: ما ورد في فضائلهم جميعًا.

المطلب الآخر: ما ورد في فضائل أهل اليمن، وقبائلهم خصوصًا.

* المبحث الثالث: ما ورد في فضائل أهل عمان (ومنهم: أزد شنوءة، وأسلم).

* المبحث الرابع: ما ورد في فضائل وَفد جِنّ نَصِيبين.

* والباب الثالث: ذكرت فيه الأحاديث الواردة في تفصيل فضائلهم رضي الله عنهم على الأعيان … وفيه أربعة فصول:

* الفصل الأول: الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة من الرجال … وفيه مبحثان:
* পঁচিশতম পরিচ্ছেদ: মুদার গোত্রের আরবদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* ছাব্বিশতম পরিচ্ছেদ: বনু মুনতাফিক-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* সাতাশতম পরিচ্ছেদ: বনু নাজিয়াহ-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* আটাশতম পরিচ্ছেদ: বনু নাখা-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* উনত্রিশতম পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন গোত্র ও সম্প্রদায়ের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অঞ্চলভেদে তাদের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ … এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: হাবশার অধিবাসীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিজায ও ইয়ামেনের অধিবাসীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে … এতে দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: তাদের সকলের সাধারণ ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

অন্য বিষয়: বিশেষভাবে ইয়ামেনবাসী ও তাদের গোত্রসমূহের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ওমানের অধিবাসীদের (যাদের অন্তর্ভুক্ত: আযদ শানুয়াহ এবং আসলাম) ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নাসীবীন অঞ্চলের জিনদের প্রতিনিধি দলের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

* তৃতীয় অধ্যায়: এতে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ফযীলতের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত হাদীসসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে … এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরুষ সাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ … এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: