(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: -)
شرح العضد على مختصر المنتهى الأصولي ومعه حاشية السعد والجرجاني   (عضد الدين الإيجي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: شرح [مختصر المنتهى الأصولي للإمام أبي عمرو عثمان ابن الحاجب المالكي (المتوفى 646 هـ)]

المؤلف: عضد الدين عبد الرحمن الإيجي (ت 756 هـ)

وعلى المختصر والشرح/ حاشية سعد الدين التفتازاني (ت 791 هـ) وحاشية السيد الشريف الجرجاني (ت 816 هـ)

وعلى حاشية الجرجاني/ حاشية الشيخ حسن الهروي الفناري (ت 886 هـ)

وعلى المختصر وشرحه وحاشية السعد والجرجاني/ حاشية الشيخ محمد أبو الفضل الوراقي الجيزاوي (ت 1346 هـ)

المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 3

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1440

উসুল শাস্ত্রীয় মুখতাসারুল মুনতাহা-র ওপর শরহে আদুদ এবং সাথে সাদ ও জুরজানীর হাশিয়া   (আদুদুদ্দীন আল-ইজী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি শাস্ত্র)

কিতাব: শরহ [ইমাম আবু আমর উসমান ইবনুল হাজিব আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৪৬ হি.) রচিত মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসুলি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ]

লেখক: আদুদুদ্দীন আব্দুর রহমান আল-ইজী (মৃ. ৭৫৬ হি.)

মুখতাসার ও শরহের ওপর/ সা’দুদ্দীন তাফতাজানী (মৃ. ৭৯১ হি.)-র হাশিয়া এবং আস-সাইয়িদুল শরীফ আল-জুরজানী (মৃ. ৮১৬ হি.)-র হাশিয়া

জুরজানীর হাশিয়ার ওপর/ শায়খ হাসান আল-হারাওয়ী আল-ফ্যানারী (মৃ. ৮৮৬ হি.)-র হাশিয়া

মুখতাসার, তার শরহ এবং সাদ ও জুরজানীর হাশিয়ার ওপর/ শায়খ মুহাম্মদ আবু আল-ফাদল আল-ওয়াররাকী আল-জিযাউয়ী (মৃ. ১৩৪৬ হি.)-র হাশিয়া

সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হি. - ২০০৪ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৩

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুল নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح مختصر المنتهى الأصولي

 

تأليف

الإمام أبي عمرو عثمان ابن الحاجب المالكي المتوفى سنة 646 هـ

 

شرحه

العلامة القاضي عضد الدين عبد الرحمن الإيجي المتوفى سنة 756 هـ

 

وعلى المختصر والشرح

حاشية العلامة سعد الدين التفتازاني المتوفى سنة 791 هـ

وحاشية السيد الشريف الجرجاني المتوفى سنة 816 هـ

 

وعلى حاشية الجرجاني

حاشية المحقق الشيخ حسن الهروي الفناري المتوفى سنة 886 هـ

 

وعلى المختصر وشرحه وحاشية السعد والجرجاني

حاشية الشيخ محمد أبو الفضل الوراقي الجيزاوي المتوفى سنة 1346 هـ

 

تحقيق

محمد حسن محمد حسن إسماعيل

 

[الجزء الأول]
মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ

 

রচনায়

ইমাম আবু আমর উসমান ইবনুল হাজিব আল-মালিকী (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি)

 

ব্যাখ্যা করেছেন

আল্লামা কাযী আদুদুদ্দীন আব্দুর রহমান আল-ঈজী (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি)

 

এবং মূল গ্রন্থ ও ব্যাখ্যার ওপর

আল্লামা সাদ উদ্দীন আদ-তাফতাজানীর টীকা (মৃত্যু ৭৯১ হিজরি)

ও আস-সাইয়্যিদ আশ-শরীফ আল-জোরজানীর টীকা (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)

 

এবং আল-জোরজানীর টীকার ওপর

মুহাক্কিক শায়খ হাসান আল-হিরাওয়ী আল-ফ্যানারীর টীকা (মৃত্যু ৮৮৬ হিজরি)

 

এবং মূল গ্রন্থ, এর ব্যাখ্যা ও সাদ ও জোরজানীর টীকার ওপর

শায়খ মুহাম্মাদ আবু আল-ফজল আল-ওয়াররাকী আল-জীযাবীর টীকা (মৃত্যু ১৩৪৬ হিজরি)

 

সম্পাদনায়

মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ হাসান ইসমাইল

 

[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২)
منشورات محمد علي بيضون

دار الكتب العلمية

جميع الحقوق محفوظة

 

جميع حقوق الملكية الأدبية والفنية محفوطة لدار الكتب العلمية بيروت - لبنان.

ويحظر طبع أو تصوير أو ترجمة أو إعادة تنضيد الكتاب كاملًا أو مجزأً أو تسجيله على أشرطة كاسيت أو إدخاله على الكمبيوتر أو برمجته على إسطوانات ضوئية إلا بموافقة الناشر خطيًا

 

الطبعة الأولى

1424 هـ - 2004 م

 

دار الكتب العلمية

بيروت - لبنان

رمل الظريف - شارع البحتري - بناية ملكارت

الإدارة العامة: عرمون - القبة - مبنى دار الكتب العلمية

هاتف وفاكس: 13/ 12 /11/ 804810 (9615+)

صندوق بريد: 9424 بيروت - لبنان
মুহাম্মাদ আলী বায়দুন প্রকাশনী

দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

সকল সাহিত্যিক ও শৈল্পিক স্বত্ব দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন এর জন্য সংরক্ষিত।

প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত সম্পূর্ণ বই বা এর আংশিক মুদ্রণ, ছায়াচিত্র গ্রহণ, অনুবাদ, পুনরায় বিন্যাস করা, ক্যাসেট ফিতায় রেকর্ড করা, কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো বা অপটিক্যাল ডিস্কে প্রোগ্রাম করা নিষিদ্ধ।

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৪ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

 

দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

বৈরুত - লেবানন

রামল আল-জারিফ - আল-বুহতরী সড়ক - মেলকার্ট ভবন

সাধারণ প্রশাসন: আরামুন - আল-কুব্বাহ - দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ ভবন

ফোন ও ফ্যাক্স: +৯৬১৫ ৮০৪৮১০ / ১১ / ১২ / ১৩

ডাক বক্স: ৯৪২৪ বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌ترجمة صاحب "مختصر المنتهى" ابن الحاجب

هو:

عثمان بن عمر بن أبى بكر بن يونس الكردى الإسنائى، ثم المصرى، جمال الدين أبو عمرو، المالكى، النحوى، المعروف بابن الحاجب، ولد سنة [570 هـ]، وتوفى بالإسكندرية سنة [646 هـ].

 

من تصانيفه:

"الأمالى"، "الإيضاح فى شرح المفصل"، "جامع الأمهات" فى الفقه، "جمال العرب فى علم الأدب"، "شافية التصريف"، "منتهى السول والأمل فى علمى الأصول والجدل"، وهو أصل كتابنا مختصر المنتهى، الذى اختصر ابن الحاجب فيه كتابه منتهى "السول والأمل"، كما سنبين بعد‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر هدية العارفين [1/ 654 - 655]، كشف الظنون [2/ 1853].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌"মুখতাসারুল মুনতাহা" প্রণেতা ইবনুল হাজিবের জীবনী

তিনি হলেন:

উসমান ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে ইউনুস আল-কুর্দি আল-ইসনায়ি, অতঃপর আল-মিসরি, জামালুদ্দিন আবু আমর, আল-মালিকি, নাহবি (ব্যাকরণবিদ), ইবনুল হাজিব নামে সুপরিচিত। তিনি [৫৭০ হিজরি] সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং [৬৪৬ হিজরি] সনে আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

"আল-আমালি", "আল-ঈজাহ ফি শারহিল মুফাসসাল", ফিকহ শাস্ত্রে "জামেউল উম্মাহাত", সাহিত্য শাস্ত্রে "জামালুল আরব", "শাফিয়াতুত তাসরিফ", উসুল এবং তর্কশাস্ত্রে "মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল"; আর এটিই আমাদের এই গ্রন্থ মুখতাসারুল মুনতাহার মূল উৎস, যেটিতে ইবনুল হাজিব তাঁর "মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল" গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যেমনটি আমরা সামনে বর্ণনা করব‌‌(১)।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন [১/ ৬৫৪ - ৬৫৫], কাশফুয যুনুন [২/ ১৮৫৩]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ترجمة الشارح العضد الإيجى

هو:

عبد الرحمن بن ركن الدين أحمد بن عبد الغفار البكرى، القاضى عضد الدين الإيجى [إيج بلدة من نواحى شيراز] الحنفى، كان قاضيًا بممالك الإتقان، ولد سنة 700 هـ، وتوفى سنة 756 هـ.

 

من تصانيفه:

"آداب عضد الدين"، "أخلاق عضد الدين"، "إشراق التواريخ"، "بهجة التوحيد"، "تحقيق التفسير فى تكثير التنوير" فى تفسير القرآن، "جواهر الكلام فى مختصر المواقف" له، "شرح منتهى السول والأمل" لابن الحاجب، "عيون الجواهر"، وغيرها‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر هدية العارفين [1/ 527].
ব্যাখ্যাকার আদুদ আল-ইজীর জীবনী

তিনি হলেন:

আবদুর রহমান বিন রুকনুদ্দিন আহমদ বিন আবদুল গাফফার আল-বাকরি, বিচারক আদুদুদ্দিন আল-ইজী [ইজ হলো শিরাজের পার্শ্ববর্তী একটি শহর], হানাফি; তিনি মামালিকুল ইতকান-এর বিচারক ছিলেন। তিনি ৭০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

"আদাবুল আদুদুদ্দিন", "আখলাকুল আদুদুদ্দিন", "ইশরাকুল তাওয়ারিখ", "বাহজাতুত তাওহিদ", কুরআনের তাফসির বিষয়ক গ্রন্থ "তাহকিকুত তাফসির ফি তাকছিরিত তানভির", তাঁর স্বরচিত "জওয়াহিরুল কালাম ফি মুখতাসারিল মাওয়াকিফ", ইবনুল হাজিব রচিত "মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "উয়ুনুল জওয়াহির" এবং আরও অন্যান্য‌‌(১)।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফীন [১/ ৫২৭]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة الشيخ التفتازانى

هو:

سعد الدين مسعود بن عمر بن عبد اللَّه الهروى الخراسانى، العلامة الفقيه الأديب، الحنفى، الشهير بالتفتازانى، ولد سنة 722 هـ، وتوفى بسمرقند فى المحرم سنة 792 هـ.

 

من تصانيفه:

أربعين فى الحديث، "إرشاد الهادى" فى النحو، "شرح حديث الأربعين" بتحقيقنا، "شرح العضدى" وهو كتابنا، "قوانين الصرف"، "مقاصد الطالبين فى علم أصول الدين"، "مفتاح الفقه"، "شرح منتهى السول والأمل" لابن الحاجب، "شرح العقائد النسفية"، "رسائل الإكراه"، "التلويح فى كشف حقائق التنفيح" فى الأصول. وغيرها‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر هدية العارفين [2/ 429 - 430]، أبجد العلوم [3/ 57].
শেখ তাফতাজানী-এর জীবনী

তিনি হলেন:

সা’দ আদ-দীন মাসউদ বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাবী আল-খুরাসানী, আল্লামা, ফকীহ, সাহিত্যিক, হানাফী, যিনি তাফতাজানী নামে সুপরিচিত। তিনি ৭২২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯২ হিজরীর মুহররম মাসে সমরকন্দে মৃত্যুবরণ করেন।

 

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে:

হাদীস শাস্ত্রে ‘আরবাঈন’, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ‘ইরশাদুল হাদী’, আমাদের সম্পাদিত ‘শারহু হাদীসিল আরবাঈন’, আমাদের কিতাব ‘শারহুল আদুদী’, ‘কাওয়ানিনুস সরফ’, ইলমে উসূলে দ্বীন বিষয়ে ‘মাকাসিদুত তালিবীন’, ‘মিফতাহুল ফিকহ’, ইবনুল হাজিব রচিত ‘মুনতাহাস সূল ওয়াল আমাল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ‘শারহুল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ’, ‘রাসায়েলুল ইকরাহ’ এবং উসূলে ফিকহ বিষয়ে ‘আত-তালবীহ ফী কাশফি হাকায়িকিত তানকীহ’। এছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে(১)।

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাদিয়্যাতুল আরিফীন [২/ ৪২৯ - ৪৩০], আবজাদুল উলূম [৩/ ৫৭]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ترجمة الشريف الجرجانى

هو:

على بن السيد محمد بن على الجرجانى أبو الحسن الشهير بالسيد الشريف، العلامة المحقق الحنفى، ولد بجرجان سنة 740 هـ، وتوفى بشيراز سنة 816 هـ.

 

من تصانيفه:

"الأجوبة لأسئلة الإسكندر من ملوك تبريز"، "الإشارات والتنبيهات" تعليقة على عوارف المعارف للسهروردى، "تفسير الزهراوين" أى سورة البقرة وآل عمران، "شرح تجريد العقائد" للأصبهانى، "شرح منتهى السول والأمل" لابن الحاجب، "رسالة فى تفسير العلوم"، "شرح الهداية" للمدغينانى فى الفروع‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر هدية العارفين [1/ 728 - 729].
আশ-শরিফ আল-জুরজানির জীবনী

তিনি হলেন:

আলী বিন আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ বিন আলী আল-জুরজানি আবুল হাসান, যিনি আস-সাইয়্যিদ আশ-শরিফ নামে সুপ্রসিদ্ধ; তিনি একজন সুপণ্ডিত গবেষক এবং হানাফি ছিলেন। তিনি ৭৪০ হিজরি সনে জুরজানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮১৬ হিজরি সনে শিরাজ শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

"তাবরিজের রাজন্যবর্গের মধ্য হতে ইসকান্দারের জিজ্ঞাসার উত্তরসমূহ", "আল-ইশারাত ওয়া আত-তানবিহাত" যা সুহরাওয়ার্দি রচিত 'আওয়ারিফুল মাআরিফ'-এর ওপর একটি টীকা, "তাফসিরে যাহরাওয়াইন" অর্থাৎ সুরা আল-বাকারা ও আল-ইমরানের তাফসির, আল-আসবাহানি রচিত "তাজরিদুল আকাইদ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনুল হাজিব রচিত "মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "জ্ঞানবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বিষয়ক একটি পুস্তিকা", ফুরু বা ব্যবহারিক বিধিবিধান শাস্ত্রে আল-মারগিনানি রচিত "আল-হিদায়া"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ‌‌(১)।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন [১/ ৭২৮ - ৭২৯]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة الشيخ حسن الفنارى

هو:

حسن بن محمد شاة بن محمد شمس ولد سنة 840 هـ ونشأ فى بلاد الروم بتركيا، يقال له: منلا حسن شلبى أو جلبى، توفى سنة 886 هـ.

 

من تصانيفه:

حاشية السراجية فى الفرائض على التلويح شرح التنقيح فى الأصول. حاشية على تفسير البيضاوى. حاشية على شرح المطول للتفتازانى. حاشية على شرح المواقف للشريف الجرجانى. رسالة فى الفلسفة. ونظم بالتركية والعربية‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر الضوء اللامع [3/ 127]. [ت/ 492]، شذرات الذهب [7/ 324]، هدية العارفين [1/ 288]. الأزهرية [2/ 673]، [3/ 501]، الخزانة التيمورية [3/ 230].
শেখ হাসান আল-ফানারীর জীবনী

তিনি হলেন:

হাসান বিন মুহাম্মাদ শাহ বিন মুহাম্মাদ শামস। ৮৪০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তুরস্কের রুম অঞ্চলে লালিত-পালিত হন। তাঁকে ‘মোল্লা হাসান শালাবি’ বা ‘জালাবি’ বলা হয়। ৮৮৬ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:

উসুল শাস্ত্রের ‘আত-তানকীহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আত-তালউইহ’-এর ওপর ফরায়েজ সংক্রান্ত ‘হাশিয়া আস-সিরাজিয়া’। তাফসিরে বায়জাবীর ওপর হাশিয়া। আল-তাফতাজানির ‘শারহুল মুতাউওয়াল’-এর ওপর হাশিয়া। শরীফ আল-জুরজানির ‘শারহুল মাওয়াকিফ’-এর ওপর হাশিয়া। দর্শনশাস্ত্রের ওপর একটি রিসালা (পুস্তিকা)। তুর্কি ও আরবি ভাষায় কাব্য সংকলন‌‌(১)।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আদ-দাউ আল-লামি [৩/১২৭], [ত/৪৯২]; শাজারাতুয যাহাব [৭/৩২৪]; হাদিয়্যাতুল আরিফিন [১/২৮৮]; আল-আযহারিয়্যা [২/৬৭৩], [৩/৫০১]; আল-খিযানাতুত তাইমুরিয়্যা [৩/২৩০]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة الشيخ الجيزاوى

هو:

محمد أبو الفضل الوراقى الجيزاوى، ولد سنة 1263 هـ وتوفى سنة 1346 هـ، شيخ الجامع الأزهر، فقيه مالكى، عالم بالأصول من أهل مصر، ولد فى وراق الحضر، من ضواحى القاهرة، وأذن له فى التدريس سنة 1287 هـ، واشتهر بتدريس المنطق والأصول، وعين شيخًا لمعهد الإسكندرية ثم رئيسًا لمشيخة الأزهر، والمعاهد الدينية بالقاهرة، وشيخًا للمالكية، وظل فى هذا المنصب حتى وفاته بالقاهرة.

 

من تصانيفه:

"الطراز الحديث فى فن مصطلح الحديث" تحقيقات شريفة. وحاشية فى أصول الفقه، وكتاب على شرح العضد وحاشيتى السعد والسيد وهو كتابنا‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر الأعلام للزركلى [6/ 330]، الفتح [22]، الأزهرية [1/ 330]، [2/ 17]. الأعلام الشرقية [2/ 144]، الصحف المصرية [16 - 17 محرم/ سنة 1346 هـ]، الكنز الثمين [112].
শেখ আল-জিজাওয়ীর জীবনী

তিনি হলেন:

মুহাম্মদ আবু আল-ফজল আল-ওয়াররাকি আল-জিজাওয়ী, তিনি ১২৬৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জামে আল-আজহারের শাইখ, মালেকি ফকীহ এবং মিশরের একজন উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি কায়রোর উপকণ্ঠের ওয়াররাক আল-হাদরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৮৭ হিজরীতে তাঁকে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। তিনি যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) ও উসুল পাঠদানের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁকে আলেকজান্দ্রিয়া ইনস্টিটিউটের প্রধান এবং পরবর্তীতে আল-আজহারের শাইখ ও কায়রোর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান এবং মালেকিদের শাইখ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। মৃত্যু অবধি তিনি কায়রোতে এই পদে আসীন ছিলেন।

 

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে:

"আত-তিরাজুল হাদিস ফি ফান্নি মুসতালাহিল হাদিস" তাহকিকাতে শরিফা। উসুলুল ফিকহ-এর ওপর একটি হাশিয়া এবং আল-আদুদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও সা'দ এবং সাইয়্যিদ-এর দুই হাশিয়াসহ একটি কিতাব, যা আমাদের এই গ্রন্থটি‌‌(১)।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: জিরিকলি প্রণীত আল-আ’লাম [৬/৩৩০], আল-ফাতহ [২২], আল-আজহারিয়্যাহ [১/৩৩০], [২/১৭]। আল-আ’লাম আশ-শারকিয়্যাহ [২/১৪৪], মিশরীয় সংবাদপত্র [১৬ - ১৭ মুহাররম/ ১৩৪৬ হিজরী], আল-কানজ আল-সামীন [১১২]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌نبذة على الكتاب وأصله

أصل الكتاب هو كتاب: "منتهى السول والأمل فى علمَى الأصول والجدل" للشيخ الإمام جمال الدين أبى عمرو عثمان بن عمر المعروف بابن الحاجب المالكى المتوفى سنة 646 ست وأربعين وستمائة صنفه أولًا ثم اختصره وهو المشهور المتداول بـ "مختصر المنتهى" و"مختصر ابن الحاجب".

قال فيه: لما رأيت قصور الهمم عن الإكثار وميلها إلى الإيجاز والاختصار صنفت مختصرًا فى أصول الفقه ثم اختصرته على وجه بديع وينحصر فى المبادئ والأدلة السمعية والاجتهاد والترجيح. انتهى.

هو مختصر غريب فى صنعه بديع فى فنه لغاية إيجازه يضاهى الألغاز ولحسن إيراده يحاكى الإعجاز واعتنى بشأنه الفضلاء.

فشرحه العلامة قطب الدين محمود بن مسعود الشيرازى المتوفى سنة 710 عشر وسبعمائة أوله: حمد اللَّه أولى ما استفتح به ذكر. . . إلخ. قال: إنه اختصر ترتيب أحكام الآمدى فيه وإليه أشار بقوله: صنفت مختصرًا ثم اختصر المنتهى بأن حذف منه قريبًا من الربع وإليه أشار بقوله: ثم اختصرته على وجه بديع. اهـ.

وشرحه العلامة عضد الدين عبد الرحمن بن أحمد الإيجى المتوفى سنة 756 ست وخمسين وسبعمائة أوله: الحمد للَّه الذي برأ الأنام. . . إلخ. اعتنى بتصنيفه وأفرغه فى قالب الكمال وألبسه حلة الجمال لا يتم تعاطيه إلا لمن كان له قريحة صحيحة وسليقة سليمة وفرغ من تأليفه فى 26 شعبان سنة 734 أربع وثلاثين وسبعمائة.

وعليه حاشية للإمام سيف الدين أحمد الأبهرى أولها: الحمد للَّه الذى شرع الأحكام. . . إلخ.

وعليه حاشية أيضًا لمولانا ميرزاجان حبيب اللَّه الشيرازى المتوفى سنة 994 أربع وتسعين وتسعمائة.

وشرحه العلامة سعد الدين التفتازانى المتوفى سنة 791 إحدى وتسعين
গ্রন্থ ও এর মূল উৎস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

এই গ্রন্থের মূল হলো শাইখ ইমাম জামালুদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে উমর, যিনি ইবনুল হাজিব আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত গ্রন্থ: "মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল ফি ইলমায়িল উসুল ওয়াল জাদাল"। তিনি এটি প্রথমে বিস্তারিতভাবে রচনা করেন এবং পরবর্তীতে একে সংক্ষেপ করেন, যা "মুখতাসারুল মুনতাহা" এবং "মুখতাসার ইবনুল হাজিব" নামে সমধিক পরিচিত ও প্রচলিত।

তিনি এতে বলেছেন: যখন আমি দীর্ঘ আলোচনার প্রতি মানুষের আগ্রহের ঘাটতি এবং সংক্ষিপ্তকরণের প্রতি তাদের ঝোঁক দেখলাম, তখন উসুলুল ফিকহ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করলাম। অতঃপর আমি একে এক অপূর্ব পন্থায় আরও সংক্ষিপ্ত করলাম, যা মৌলিক নীতিমালা, শ্রুতিনির্ভর দলিলসমূহ, ইজতিহাদ এবং তারজিহ (প্রাধান্য নিরূপণ) বিষয়ক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সমাপ্ত।

এটি নির্মাণশৈলীতে এক বিস্ময়কর এবং এর শিল্পগুণে এক অনন্য সংক্ষেপিত রূপ, যা এর চরম সংক্ষিপ্ততার কারণে ধাঁধার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এর সুন্দর উপস্থাপনার জন্য অলৌকিকত্বের অনুকরণ করে। বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

অতঃপর আল্লামা কুতুবুদ্দীন মাহমুদ ইবনে মাসউদ আল-শিরাজি (মৃত্যু ৭১০ হিজরি) এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার শুরু হলো: "আল্লাহর প্রশংসা, যা আলোচনার সূচনা করার জন্য সর্বোত্তম..." ইত্যাদি। তিনি বলেছেন: ইবনুল হাজিব এতে আমেদি-র 'আহকাম' গ্রন্থের বিন্যাসকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তিনি "আমি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করলাম" বলে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। অতঃপর তিনি 'মুনতাহা' গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেন যার মাধ্যমে তিনি এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিলুপ্ত করে দেন এবং তিনি "অতঃপর আমি একে এক অপূর্ব পন্থায় সংক্ষেপ করলাম" বলে সেদিকেই ইশারা করেছেন। সমাপ্ত।

আল্লামা আদুদুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ আল-ইজি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) এর ওপর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার শুরু হলো: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন..." ইত্যাদি। তিনি এর রচনায় গভীর মনোনিবেশ করেছেন এবং একে পূর্ণতার ছাঁচে ঢেলে সৌন্দর্যের পোশাকে সজ্জিত করেছেন। যার সঠিক মেধা ও সুস্থ প্রকৃতি নেই, সে এর সাথে যুক্ত হতে পারবে না। তিনি ২৬শে শাবান ৭৩৪ হিজরি সনে এর রচনা সম্পন্ন করেন।

এর ওপর ইমাম সাইফুদ্দীন আহমদ আল-আভহারি-র একটি টীকা (হাশিয়া) রয়েছে, যার শুরু হলো: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন..." ইত্যাদি।

এর ওপর মাওলানা মিরজাজান হাবিবুল্লাহ আল-শিরাজি (মৃত্যু ৯৯৪ হিজরি)-রও একটি টীকা রয়েছে।

আল্লামা সা'দুদ্দীন আত-তাফতাজানি (মৃত্যু ৭৯১ হিজরি) এর ওপর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১০)
وسبعمائة، أوله: الحمد للَّه الذى وفقنا للوصول إلى منتهى أصول الشريعة. . . إلخ، قال: إن المختصر يجرى من كتب الأصول مجرى الغرّة من الكمية [من الكُمْت] بل الدرة [والقُرْحَة] من الحصى [من الدهم] والواسطة من العِقد وكذلك شرح العلامة المحقق عضد الدين يجرى من الشروح مجرى العذب الفرات من البحر الأجاج بل عين الحياة لم ير مثله فى زبر الأولين ولم يسمع بما يوازيه أو يدانيه. . . إلخ.

وشرحه السيد الشريف على بن محمد الجرجانى المتوفى سنة 816 ست عشرة وثمانمائة.

وشرحه القاضى الإمام ناصر الدين عبد اللَّه بن عمر البيضاوى المتوفى سنة 685 خمس وثمانين وستمائة وسماه مرصاد الأفهام إلى مبادئ الأحكام أوله: الحمد للَّه الذى هدانا إلى مناهج الحق وهو شرح ممزوج لا فرق فيه بين المتن والشرح بشئ أصلًا بل هو كتأليف مستقل.

وشرحه أيضًا الشيخ الإمام أكمل الدين محمد بن محمود البابرتى الحنفى المتوفى سنة 786 ست وثمانين وسبعمائة فى ثلاث مجلدات أيضًا وسماه "النقود والردود" لأنه اختار النقل من شروحه السبعة المشهورة وذكر من شروحه الخفية ثلاثة فصار كتابه مشتملًا على عشرة شروح، وذكر فيه أنه اشتغل بعد فراغه من شرح المواقف المسمى بـ "الكواشف البرهانية" بعلم أصول الفقه وذكر أن خير الكتب مختصر المنتهى وخير شروحه شرح أستاذه عضد الدين إذ هو ملازم على تفسير نصوصه محققًا لدقائقه مدققًا لحقائقه حتى صار كتابه مجموعًا مستحقًا لأن يكون على الرأس محمولًا والعين موضوعًا وأنه قد وقع إليه من الشروح عشرة أخرى أشهرها السبعة السيارة المنسوبات إلى أكابر الفضلاء كالمولى الشيخ قطب الدين الشيرازى والسيد ركن الدين الموصلى والشيخ جمال الدين الحلى وزين الدين الخنجى وشمس الدين الأصفهانى وبدر الدين التسترى وشمس الدين الخطيبى وأنه قرأ الشرح المذكور على الشارح العضد وأنه وإن جعل فرعًا كان أصلًا أصيلًا تحتاج ألفاظه إلى حلها فوجه مطايا فكره إلى توضيحه جاعلًا إياه سدى الأبحاث ملحمًا له بما فى السبعة بل ربما فى الثلاثة فما وافق الأستاذ خلى
...এবং সাতশত, এর প্রারম্ভে রয়েছে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের শরীয়তের মূলনীতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানোর তাওফিক দান করেছেন... ইত্যাদি। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থটি উসুলের কিতাবসমূহের মাঝে উজ্জ্বল বর্ণের ঘোড়ার ললাটে শুভ্র তিলকের ন্যায়, বরং তা নুড়ি পাথরের মধ্যে মহামূল্যবান মুক্তা এবং কণ্ঠহারের মধ্যমণি স্বরূপ। তদ্রূপ বিজ্ঞ গবেষক আল্লামা আদুদুদ্দিনের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অন্যান্য ব্যাখ্যার মাঝে লোনা সমুদ্রের বুকে সুমিষ্ট সুপেয় পানির প্রবাহের ন্যায়, বরং তা যেন জীবন-সুধা; পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে এর সমতুল্য কিছু দেখা যায়নি এবং এর সমকক্ষ বা কাছাকাছি কোনো কিছুর কথা শোনা যায়নি... ইত্যাদি।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন সায়্যিদ শরীফ আলী বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানী, যিনি ৮১৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন ইমাম কাযী নাসিরুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-বায়যাবী, যিনি ৬৮৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন 'মিরসাদুল আফহাম ইলা মাবাদিইল আহকাম'। এর শুরুতে রয়েছে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন। এটি একটি মিশ্রিত ব্যাখ্যা (শারহে মামজুজ), যেখানে মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যার মাঝে মূলত কোনো পার্থক্য করা হয়নি, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র রচনার ন্যায়।

এবং এটি আরও ব্যাখ্যা করেছেন ইমাম শায়খ আকমালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-বাবরতী আল-হানাফী, যিনি ৭৮৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। এটিও তিনটি খণ্ডে সমাপ্ত এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আন-নুকুুদ ওয়ার-রুদুদ'; কারণ তিনি এর সাতটি বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি চয়ন করেছেন এবং তিনটি অপ্রকাশিত ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন, ফলে তাঁর গ্রন্থটি দশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংকলনে পরিণত হয়েছে। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-মাওয়াকিফ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম 'আল-কাওয়াশিফুল বুরহানিয়্যাহ', তা শেষ করার পর তিনি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সর্বোত্তম কিতাব হলো 'মুখতাসারুল মুনতাহা' এবং এর শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা হলো তাঁর উস্তাদ আদুদুদ্দিনের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি; কারণ এটি মূল পাঠের সঠিক মর্ম ব্যাখ্যায় নিবদ্ধ এবং এর গূঢ় রহস্য ও সূক্ষ্ম তত্ত্ব উদ্ঘাটনে নিরলস ছিল, এমনকি তাঁর কিতাবটি এমন এক সংগ্রহে পরিণত হয়েছে যা মস্তকে ধারণ করার এবং নয়ন যুগলে রাখার উপযুক্ত। তাঁর নিকট আরও দশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ এসে পৌঁছেছিল, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো সাতটি 'সায়্যারা' ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা প্রথিতযশা মণীষীদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যেমন—মাওলানা শায়খ কুতুবুদ্দিন আল-শিরাজী, সায়্যিদ রুকনুদ্দিন আল-মাওসিলী, শায়খ জামালুদ্দিন আল-হিল্লী, যাইনুদ্দিন আল-খুনজি, শামসুদ্দিন আল-আসাফাহানী, বদরুদ্দিন আত-তুসতারী এবং শামসুদ্দিন আল-খাতিবী। তিনি আরও বলেন যে, তিনি উল্লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মূল ব্যাখ্যাকার আদুদের কাছে পাঠ করেছেন। এটি যদিও একটি শাখা হিসেবে গণ্য হয়, তবুও এটি একটি শক্তিশালী মূল ভিত্তি, যার শব্দাবলি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তাই তিনি তাঁর চিন্তার বাহনসমূহকে এর ব্যাখ্যায় নিয়োজিত করেন এবং একে গবেষণার বুনন হিসেবে গ্রহণ করে তাতে সাতটি বরং তিনটি ব্যাখ্যার নির্যাস যুক্ত করেন। অতঃপর যা উস্তাদের মতের অনুকূল হয়েছে তা তিনি রেখে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১১)
سبيله وما خالفه أشار إليه رادًا على قائله وناقدًا كلامه جاعلًا شرحًا صحيحًا للكتاب وغرضه تكثير فائدة المناظرات وتوسيع مجال المباحثات وتشحيذ الخواطر وذكر فيه أكثر ما ذكره القاضى الأرموى فى التحصيل واكتفى فى أسماء الشراح السبعة بما اشتهر وفى الثلاثة الأخر الباقين بقيل أو من الشارحين.

وشرحه الإمام ضياء الدين عبد العزيز الطوسى وسماه "كاشف الرموز ومظهر الكنوز" أوله: الحمد للَّه الذى قلد رقاب العباد بقلائد خطابه، والشيخ تاج الدين عبد الوهاب بن على السبكى المتوفى سنة 771 إحدى وسبعين وسبعمائة وسماه "رفع الحاجب عن شرح مختصر ابن الحاجب".

وعليه حاشية لعز الدين محمد بن أبى بكر بن جماعة المتوفى سنة 819 تسع عشرة وثمانمائة.

وشرحه أخوه بهاء الدين أحمد السبكى شرحًا بسيطًا وتوفى سنة 773 ثلاث وسبعين وسبعمائة.

وشرحه مجد الدين إسماعيل بن يحيى الرازى المتوفى سنة 750 خمسين وسبعمائة.

وشرحه كمال الدين محمد المعروف بابن الناسخ الطرابلسى وسماه "الكافى الطالب فى شرح مختصر ابن الحاجب" والسيد ركن الدين حسن بن محمد العلوى الإسترآبادى المتوفى سنة 717 سبع عشرة وسبعمائة وهو شرح بالقول أوله: أما بعد حمد اللَّه خالق الصور والأشباح. . . إلخ، سماه "حل العقد والعقل فى شرح مختصر السول والأمل" ذكر فى أوله اسم السلطان الملك المظفر قرا أرسلان بن السعيد نجم الدين الغازى الأرتقى وفرغ من جمعه فى جمادى الأولى لسنة 684 أربع وثمانين وستمائة.

وشرحه الشيخ الإمام أبو الثناء شمس الدين محمود بن عبد الرحمن الأصفهانى المتوفى سنة 749 تسع وأربعين وسبعمائة.

وشرحه ابن عبد السلام عبد العزيز المعروف بشيخ الإسلام (المتوفى سنة 660 ستين وستمائة) وعلق عليه محمد بن محمد الأسدى القدسى تعليقة وسماها "التوضيح" وتوفى سنة 808 ثمان وثمانمائة.
তাঁর পথ এবং তাঁর বিরোধীদের পথের দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, প্রবক্তার বক্তব্যের খণ্ডন ও সমালোচনা করেছেন এবং কিতাবটির একটি সহীহ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো বিতর্কের উপকারিতা বৃদ্ধি করা, আলোচনার ক্ষেত্র প্রশস্ত করা এবং চিন্তাশক্তিকে শাণিত করা। এতে তিনি আল-কাযী আল-আরমাউয়ী 'আত-তাহসীল' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশ উল্লেখ করেছেন। সাতজন ব্যাখ্যাকারীর নামের ক্ষেত্রে তিনি প্রসিদ্ধ নামগুলোতেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং অবশিষ্ট তিনজনের ক্ষেত্রে 'বলা হয়েছে' বা 'ব্যাখ্যাকারীদের পক্ষ থেকে' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন।

ইমাম জিয়াউদ্দীন আব্দুল আযীয আত-তূসী এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "কাশিফুল রূমূয ওয়া মাযহারুল কুনূয"। এর শুরু হলো: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বাণীর অলঙ্কার দ্বারা বান্দাদের গ্রীবা সুশোভিত করেছেন'। এবং শাইখ তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি) এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন "রাফউল হাজিব আন শারহি মুখতাসার ইবনিল হাজিব"।

এর ওপর ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন জামাআহ (মৃত্যু ৮১৯ হিজরি)-এর একটি হাশিয়া বা টীকা রয়েছে।

তাঁর ভাই বাহাউদ্দীন আহমদ আস-সুবকী একটি প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং তিনি ৭৭৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

মাজদুদ্দীন ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া আর-রাযী (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি) এটি ব্যাখ্যা করেছেন।

কামালউদ্দীন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুন নাসিখ আত-তরাবুলুসী নামে পরিচিত, এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন "আল-কাফী আত-তালিব ফী শারহি মুখতাসার ইবনিল হাজিব"। এবং সাইয়্যিদ রুকনুদ্দীন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-আলাওয়ী আল-আস্তারাবাদী (মৃত্যু ৭১৭ হিজরি) এটি ব্যাখ্যা করেছেন যা একটি বর্ণনামূলক (বিল-কাওল) ব্যাখ্যা; এর শুরু হলো: 'আল্লাহর প্রশংসার পর, যিনি অবয়ব ও দেহের স্রষ্টা... ইত্যাদি'। তিনি এর নাম রেখেছেন "হাল্লুল উকাদ ওয়াল আকল ফী শারহি মুখতাসারিস সউল ওয়াল আমাল"। এর শুরুতে তিনি সুলতান আল-মালিকুল মুজাফফর করা আরসলান বিন আস-সাঈদ নাজমুদ্দীন আল-গাযী আল-আরতুকী-এর নাম উল্লেখ করেছেন এবং ৬৮৪ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে এর সংকলন সমাপ্ত করেছেন।

শাইখ ইমাম আবুস সানা শামসুদ্দীন মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান আল-আস্পাহানী (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি) এটি ব্যাখ্যা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম হিসেবে পরিচিত ইবনু আব্দুস সালাম আব্দুল আযীয (মৃত্যু ৬৬০ হিজরি) এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আসাদী আল-কুদ্সী এর ওপর একটি তালীকা বা টীকা লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন "আত-তাওযীহ"; তিনি ৮০৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১২)
وشرحه الشيخ الإمام برهان الدين إبراهيم بن عبد الرحمن ابن الفركاح الفزارى الشافعى المتوفى سنة 729 تسع وعشرين وسبعمائة وشمس الدين محمد ابن مظفر الخلخالى (المتوفى سنة 745 خمس وأربعين وسبعمائة).

وشرحه جمال الدين بن مطهر بن حسن بن يوسف الحلى الرافضى فى مجلدين على طريقة الأحكام والمحصول سماه "غاية الوضوح وإيضاح السبل فى شرح منتهى السول والأمل" قال ابن كثير ولا بأس به فإنه مشتمل على نقل كثير وتوفى سنة 726 ست وعشرين وسبعمائة.

وشرحه أيضًا أحمد بن محمد الزبيرى الإسكندرى المتوفى سنة 801 إحدى وثمانمائة.

وخليل بن إسحاق الجندى المتوفى سنة 767 سبع وستين وسبعمائة.

ومحمد بن محمد السفاقسى أخو العرب (المفسر المشهور) المتوفى سنة 744 أربع وأربعين وسبعمائة.

وبهرام بن عبد اللَّه المالكى المتوفى سنة 805 خمس وثمانمائة.

ومحمد بن أبى بكر الفارسى المتوفى سنة 629 تسع وعشرين وستمائة.

وعثمان بن عبد الملك الكردى المصرى المتوفى سنة 738 ثمان وثلاثين وسبعمائة.

وزين الدين أبو الحسن على بن الحسين الموصلى ابن الشيخ عوينة المتوفى سنة 755 خمس وخمسين وسبعمائة.

وشرح تقى الدين بن دقيق العيد محمد بن على الشافعى بعضًا منه وتوفى سنة 702 اثنتين وسبعمائة.

وشرحه حارون بن عبد الولى (ابن عبد السلام المراغى) المتوفى سنة 764 أربع وستين وسبعمائة.

وشرحه الشيخ شهاب الدين أحمد بن الحسين الرملى الشافعى المتوفى سنة 844 أربع وأربعين وثمانمائة.

وعليه ثلاث نكت لعز الدين محمد بن أبى بكر ابن جماعة المتوفى سنة 816 ست عشرة وثمانمائة.
এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ ইমাম বুরহান উদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল ফিরকাহ আল-ফাজারি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৭২৯ হিজরি) এবং শামস উদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুজাফফর আল-খালখালি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি)।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন জামাল উদ্দীন ইবনে মুতাহহার ইবনে হাসান ইবনে ইউসুফ আল-হিল্লি আল-রাফেদি দুই খণ্ডে, 'আল-আহকাম' ও 'আল-মাহসুল'-এর পদ্ধতিতে; তিনি এর নামকরণ করেছেন 'গায়াতুল ওজুহ ওয়া ইদাহুস সুবুল ফি শারহি মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল'। ইবনে কাসির বলেন: এটিতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ এটি প্রচুর উদ্ধৃতি সমৃদ্ধ। তিনি ৭২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আরও এটি ব্যাখ্যা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জুবাইরি আল-ইসকান্দারি (মৃত্যু ৮০১ হিজরি)।

এবং খলিল ইবনে ইসহাক আল-জুন্দি (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরি)।

এবং মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফাকুসি আখুল আরব (বিখ্যাত মুফাসসির), যিনি ৭৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং বাহরাম ইবনে আবদুল্লাহ আল-মালিকি (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি)।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-ফারিসি (মৃত্যু ৬২৯ হিজরি)।

এবং উসমান ইবনে আবদুল মালিক আল-কুর্দি আল-মিসরি (মৃত্যু ৭৩৮ হিজরি)।

এবং জয়নুদ্দীন আবুল হাসান আলি ইবনুল হুসাইন আল-মাওসিলি ইবনুশ শায়খ উইয়াইনাহ (মৃত্যু ৭৫৫ হিজরি)।

এবং তাকিউদ্দীন ইবনে দাকিকুল ঈদ মুহাম্মদ ইবনে আলি আশ-শাফেয়ি এর কিছু অংশ ব্যাখ্যা করেছেন এবং তিনি ৭০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন হারুন ইবনে আবদুল ওয়ালি (ইবনে আবদুস সালাম আল-মারাগি) (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি)।

এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনুল হুসাইন আর-রামলি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি)।

এবং এর ওপর ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে জামাআহ-এর তিনটি টীকা রয়েছে, যিনি ৮১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وخرج الشيخ شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن على بن حجر العسقلانى أحاديثه ووقع إملاؤه فى مجلدين وتوفى سنة 852 اثنتين وخمسين وثمانمائة.

وعلى أحاديثه أيضًا كلام لمحمد بن أحمد المعروف بابن عبد الهادى المقدسى المتوفى سنة 774 أربع وسبعين وسبعمائة.

واختصره الشيخ برهان الدين إبراهيم بن عمر الجعبرى وسماه "الكتاب المعتبر فى اختصار المختصر" وتوفى سنة 732 اثنتين وثلاثين وسبعمائة.

وخرج أحاديثه الشيخ السراج عمر بن على ابن الملقن الشافعى المتوفى سنة 804 أربع وثمانمائة وله شرح المختصر أيضًا.

ونظم المختصر جلال الدين عبد الرحمن بن عمر البلقينى المتوفى سنة 824 أربع وعشرين وثمانمائة.

وممن شرحه محب الدين أبو الثناء محمد ابن الشيخ علاء الدين على القونوى ثم القاهرى الشافعى المتوفى سنة 758 ثمان وخمسين وسبعمائة فى جزأين وهو من أحسن شروحه.

وعلى العضد حاشية لمولانا العلامة حسين الأردبيلى المتوفى سنة 950 خمسين وتسعمائة (وهو من علماء الصفوية) ووصل إلى ما وصل إليه الشريف.

وعلى شرح العضد حواش منها: حاشية مير صدر الدين على أوائله وهى بـ "قال أقول" أولها: قال إن أراد بقوله تحقيق. . . إلخ.

وحاشية مولانا حميد بن أفضل الدين إلى قوله: التنافى المقتضى. . . إلخ، أولها: الحمد للَّه الذى أنزل على عبده الكتاب وبين مجمله. . . إلخ، كتبها باسم السلطان بايزيد خان.

وحاشية المولى المعروف بابن الخطيب إلى قوله: ينحصر، أولها: يا واجب الوجود ويا مفيض الجود. . . إلخ.

وحاشية مولانا بالى باشا ابن مولانا يكان جزء.

وحاشية العلامة جلال الدين الدوانى أولها قوله: والاقتصار عليه ثانيًا. . . إلخ، وهى خمسة أوراق.

وحاشية لمولانا عرب إلى قوله: ومع الصغرى ينتج المطلوب أولها: الحمد للَّه رب العالمين. . . إلخ.
শায়খ শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি এর হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন এবং এটি দুই খণ্ডে তাঁর শ্রুতিলিপি (ইমলা) হিসেবে সংকলিত হয়েছে। তিনি ৮৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

এর হাদিসসমূহের উপর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ—যিনি ইবনে আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি নামে পরিচিত—তাঁরও আলোচনা রয়েছে। তিনি ৭৭৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

শায়খ বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে উমর আল-জা'বারি এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "আল-কিতাব আল-মুতাবার ফি ইখতিসার আল-মুখতাসার"। তিনি ৭৩২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

শায়খ সিরাজ উমর ইবনে আলী ইবনে আল-মুলক্কিন আল-শাফিঈ এর হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন। তিনি ৮০৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং "আল-মুখতাসার"-এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও (শারহ) রয়েছে।

জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে উমর আল-বুলকিনি এই মুখতাসারকে কাব্যরূপ দান করেছেন। তিনি ৮২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

যারা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন তাঁদের মধ্যে মুহিব্বুদ্দীন আবুল সানা মুহাম্মদ ইবনে শায়খ আলাউদ্দীন আলী আল-কুনাবি—পরবর্তীতে আল-কাহিরি আল-শাফিঈ—অন্যতম। তিনি ৭৫৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। এটি দুই খণ্ডে রচিত এবং এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

"আল-আদুদ"-এর ওপর আমাদের মাওলানা আল্লামা হুসাইন আল-আরদাবিলির একটি টীকা (হাশিয়া) রয়েছে। তিনি ৯৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (তিনি সাফাভি আমলের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)। তিনি শরীফ (আল-জুরজানি) যতটুকু পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তিনিও ততটুকু পর্যন্ত আলোচনা করেছেন।

"শারহুল আদুদ"-এর ওপর বেশ কিছু টীকা (হাশিয়া) রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো মীর সদরুদ্দীনের টীকা যা এর প্রথমাংশের ওপর লিখিত। এটি "তিনি বলেছেন, আমি বলছি" পদ্ধতিতে রচিত এবং এর শুরু হয়েছে এভাবে: "তিনি বলেছেন, যদি তিনি তাঁর কথার দ্বারা বিশ্লেষণ উদ্দেশ্য করেন..." ইত্যাদি।

এবং মাওলানা হামিদ ইবনে আফজালুদ্দীনের টীকা, যা "পরস্পর বিরোধিতা যা দাবি করে..." কথাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। এর শুরু হয়েছে এভাবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো বিশদ বর্ণনা করেছেন..." ইত্যাদি। তিনি এটি সুলতান বায়েজিদ খানের নামে উৎসর্গ করে লিখেছেন।

এবং মাওলা—যিনি ইবনুল খতিব নামে পরিচিত—তাঁর টীকা, যা "সীমাবদ্ধ হওয়া" কথাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। এর শুরু হয়েছে এভাবে: "হে অবধারিত অস্তিত্বের অধিকারী এবং হে অনুগ্রহ বর্ষণকারী..." ইত্যাদি।

এবং মাওলানা ইয়াকানের পুত্র মাওলানা বালি পাশার এক খণ্ডের একটি টীকা।

এবং আল্লামা জালালুদ্দীন আদ- দাওয়ানির টীকা, যার শুরু হয়েছে তাঁর এই কথাটি দিয়ে: "এবং দ্বিতীয়বার এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা..." ইত্যাদি। এটি পাঁচটি পত্র সম্বলিত।

এবং মাওলানা আরবের একটি টীকা, যা "এবং ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার সাথে অভীষ্ট ফল বেরিয়ে আসে" কথাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। এর শুরু হয়েছে এভাবে: "সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য..." ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وحاشية مولانا حسن بن عبد الصمد السامسونى تلميذ بالى باشا تنتهى إلى حيث تنتهى حاشية ابن الأفضل أولها: أحمدك اللهم يا أهل الحمد والثناء. . . إلخ، ذكر أنه صنفها وأهداها إلى السلطان محمد خان.

وحاشية علاء الدين على الطوسى المتوفى سنة 887 سبع وثمانين وثمانمائة بسمرقند.

وعلى حاشية السيد حاشية للمولى مصلح الدين مصطفى القسطلانى المتوفى سنة 862 هـ.

وحاشية للمولى حميد الدين بن أفضل الدين الحسين المتوفى سنة 908.

وحاشية للمولى يعقوب باشا خضر بك المتوفى سنة 891 هـ.

وعلى شرح العضد حاشية لبدر الدين محمد بن محمد بن خطيب الفخرية الشافعى المتوفى سنة 893 هـ، وغيرها‌‌(1).

* * *

 

‌‌طريقة تنظيم الكتاب

لقد اعتمدنا فى تحقيق هذا الكتاب على طبعة الأميرية ببولاق سنة 1316 هـ.

وقد وضعنا مختصر المنتهى وشرح العضد فى أول الصفحة، ويليه حاشية التفتازانى، ثم حاشية الجرجانى، ثم حاشية الهروى، ثم حاشية الجيزاوى.

تنبيه: تنتهى حواشى الجرجانى والهروى على ما سنبين وهو قبيل مسألة: يجوز أن يحرم واحد لا بعينه، واللَّه الموفق الهادى.

طالب العلم

محمد حسن محمد حسن إسماعيل

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر كشف الظنون لحاجى خليفة [2/ 1853 - 1857].
বালী পাশার শিষ্য মাওলানা হাসান বিন আবদুস সামাদ আস-সামসুনির হাশিয়া, যা ইবনুল আফদালের হাশিয়া যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর শুরু হয়েছে এভাবে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করছি, হে প্রশংসা ও স্তুতির যোগ্য সত্তা..." ইত্যাদি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি রচনা করেছেন এবং সুলতান মুহাম্মদ খানকে উপহার দিয়েছেন।

আলাউদ্দিন আলী আত-তুসির হাশিয়া, যিনি ৮৮৭ হিজরিতে সমরকন্দে ইন্তেকাল করেন।

আস-সাইয়্যিদের হাশিয়ার ওপর মাওলা মুসলিহ উদ্দীন মুস্তফা আল-কাস্তালানির একটি হাশিয়া রয়েছে, যিনি ৮৬২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

মাওলা হামিদ উদ্দীন বিন আফজাল উদ্দীন আল-হুসাইনের হাশিয়া, যিনি ৯০৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

মাওলা ইয়াকুব পাশা খিজির বেক-এর হাশিয়া, যিনি ৮৯১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

শারহুল আদুদ-এর ওপর বদরউদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন খাতিব আল-ফাখরিয়্যাহ আশ-শাফিয়ির একটি হাশিয়া রয়েছে, যিনি ৮৯৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; এছাড়াও অন্যান্য হাশিয়া রয়েছে‌‌(১)।

* * *

 

‌‌গ্রন্থ বিন্যাসের পদ্ধতি

এই গ্রন্থটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা ১৩১৬ হিজরিতে বুলাকের আমিরিয়া সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি।

আমরা পৃষ্ঠার শুরুতে মুখতাসারুল মুনতাহা এবং শারহুল আদুদ রেখেছি; এরপর তাফতাজানির হাশিয়া, এরপর জুরজানির হাশিয়া, এরপর হারাবির হাশিয়া এবং তারপর জিজাভির হাশিয়া বিন্যস্ত করেছি।

সতর্কবার্তা: জুরজানি ও হারাবির হাশিয়াগুলো আমরা যেভাবে বর্ণনা করব সেখানে গিয়ে শেষ হবে, আর তা হলো এই মাসআলার ঠিক আগে: "অনির্দিষ্ট একজনের জন্য হারাম হওয়া জায়েয"; আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সঠিক পথপ্রদর্শক।

ইলম অন্বেষী

মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন হাজি খলিফা রচিত কাশফুয যুনুন [২/ ১৮৫৩ - ১৮৫৭]।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৫)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الحمد للَّه الذى برأ الأنام، وعمهم بالإكرام والدعوة إلى دار السلام وخص من شاء بمزايا الإنعام والتوفيق لدين الإسلام.

والصلاة والسلام على سيد الأواخر والأوائل المبعوث من أشرف الأرومات وأكرم القبائل بأبهر المعجزات وأظهر الدلائل الموضح للسبل الخاتم للأنبياء والرسل وعلى آله الطاهرين وأصحابه أجمعين.

(وبعد) فإن من عناية اللَّه تعالى بالعباد أن شرع الأحكام وبين الحلال والحرام سببًا يصلحهم فى المعاش وينجيهم فى العاد ولما علم كونها متكثرة وأن قوتهم قاصرة عن ضبطها منتشرة ناطها بدلائل وربطها بأمارات ومخايل ورشح طائفة ممن اصطفاهم لاستنباطها ووفقهم لتدوينها بعد أخذها من مأخذها ومناطها.

وكان لذلك قواعد كلية بها يتوصل ومقدمات جامعة منها يتوسل أفردوا لذلك علمًا سموه "أصول الفقه" فجاء علمًا عظيم الخطر محمود الأثر يجمع إلى العقول مشروعًا ويتضمن من علوم شتى أصولًا وفروعًا وقد صنفت فيه كتب معتبرة وألفت زبر مطوّلة ومختصرة وأن المختصر للإمام العلامة قدوة المحققين جمال الملة والدين أبى عمرو عثمان بن الحاجب المالكى تغمده اللَّه بغفرانه يجرى منها مجرى الغرّة من الكمت والقرحة من الدهم والواسطة من العقد وقد رزق حظًا وافيًا من الاشتهار، فاستهتر به الأذكياء فى جميع الامصار أى استهتار وذلك لصغر حجمه وكثرة عمله ولطافة نظمه ولكنه مستعص على الفهم لا يذل صعابه ولا تسمح قرونته لكل ذى علمه وقد شرحه غير واحد من الفضلاء واشتغل بجله جمّ غفير من فحول العلماء فأبرزوا جلائل الأسرار من أستاره وقد بقيت الدقائق واجتلوا الجلىّ من حقائق معانيه واحتجبت عنهم حقائق وإنى ممن شعفت به وقد وكلت فكرى على حل ألفاظه ومعانيه وصرفت بعض عمرى إلى تلخيص مقاصده ومبانيه حتى لم يخف علىّ منها خافية وتنبهت من الفوائد الزوائد على جملة كافية ولا زال أصحابى المشاركون لى فى البحث عن فرائده وأسراره والكشف عن خرائده وأبكاره يلتمسون منى أن أشرحه فأتعلل وأستعفى وهم يكررون الاقتراح ويأبون

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তাদের সম্মান ও শান্তির আবাসের আহ্বানের মাধ্যমে সর্বজনীন অনুগ্রহ দান করেছেন এবং যাকে ইচ্ছা নিআমতের বৈশিষ্ট্য ও ইসলাম ধর্মের তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন।

সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদার, সর্বোত্তম বংশ ও সম্মানিত গোত্র থেকে প্রেরিত, বিস্ময়কর মুজিযা ও সুস্পষ্ট দলীলসমূহের অধিকারী, সঠিক পথ প্রদর্শনকারী এবং নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারীর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

(অতঃপর) বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, তিনি বিধিবিধান প্রবর্তন করেছেন এবং হালাল-হারাম বর্ণনা করেছেন, যা পার্থিব জীবনে তাদের সংশোধন এবং পরকালে মুক্তির কারণ। যখন তিনি অবগত হলেন যে, বিধিবিধানগুলো বহুবিধ এবং সেগুলো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় আয়ত্ত করা মানুষের শক্তির অতীত, তখন তিনি এগুলোকে কতিপয় দলীল ও আলামতের সাথে সম্পৃক্ত করলেন। আর তিনি তাঁর মনোনীত একদল ব্যক্তিকে এই বিধানগুলো উদ্ঘাটন করার জন্য যোগ্য করে তুললেন এবং সেগুলোর মূল উৎস ও ভিত্তি থেকে গ্রহণের পর সংকলন করার তাওফীক দান করলেন।

এর জন্য কিছু মৌলিক নীতিমালা ছিল যার মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব এবং কিছু সর্বজনীন ভূমিকা ছিল যা উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাঁরা এর জন্য একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র তৈরি করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "উসূলে ফিকহ"। ফলে এটি একটি মহান গুরুত্ব ও প্রশংসনীয় প্রভাবসম্পন্ন শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে, যা বিবেকের দাবির সাথে শরয়ি বিষয়কে একত্রিত করে এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের মূল ও শাখা-প্রশাখা ধারণ করে। এ বিষয়ে অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাব এবং বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচিত হয়েছে। ইমাম আল্লামা, গবেষকদের আদর্শ, জামালুল মিল্লাতি ওয়াদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনুল হাজিব আল-মালিকী—আল্লাহ তাঁকে তাঁর ক্ষমা দিয়ে আবৃত করুন—এর 'মুখতাসার' (সংক্ষিপ্তসার) গ্রন্থটি এসব গ্রন্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে অগ্রগণ্য। এটি ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং সকল অঞ্চলের মেধাবীরা এর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী হয়েছে। এর কারণ হলো এর ক্ষুদ্র কলেবর, প্রচুর কর্মপ্রয়াস এবং বিন্যাসের সূক্ষ্মতা। তবে এটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে বেশ কঠিন; এর দুরূহতা সহজে দূর হয় না এবং এর গূঢ় রহস্য প্রত্যেক জ্ঞানীর কাছে ধরা দেয় না। অনেক গুণীজন এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং বহু প্রাজ্ঞ আলেম এর অধিকাংশ বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে তাঁরা এর আবরণ থেকে মহান রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন, যদিও কিছু সূক্ষ্ম বিষয় রয়ে গেছে; তাঁরা এর অর্থের হাকীকত থেকে স্পষ্ট বিষয়গুলো প্রকাশ করেছেন, তবে কিছু গভীর সত্য তাঁদের কাছেও অপ্রকাশিত থেকে গেছে। আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা এর প্রতি আসক্ত ছিল। আমি আমার চিন্তাশক্তিকে এর শব্দ ও অর্থের জট খুলতে নিয়োজিত করেছি এবং জীবনের একাংশ এর উদ্দেশ্য ও কাঠামো সারসংক্ষেপে উপস্থাপনে ব্যয় করেছি, যতক্ষণ না এর কোনো গোপন বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট রইল এবং আমি এর অতিরিক্ত ফায়দাসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করলাম। আমার সাথীরা, যারা এর দুর্লভ ও রহস্যময় বিষয়গুলো অনুসন্ধান এবং এর অপ্রকাশিত সূক্ষ্ম অর্থগুলো উন্মোচনে আমার অংশীদার ছিলেন, তারা আমাকে এটি ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। আমি ওজর পেশ করে অব্যাহতি চাইতাম, কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ করতে থাকেন এবং কোনো ওজর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৬)

إلا الإلحاح فأتسلل وأستخفى حتى صار فعالى مظنة للضنة أو الكسل فعيت بى العلل وضاقت بى الحيل فأسعفتهم بذلك وأمليت عليهم شرحًا لم أدّخر فيه نصحًا ولم آل فى تحريره جهدًا وقد راعيت شريطة الاقتصاد فيما أمل وتجافيت عن طرفيه لكى لا يخل ولا يمل واللَّه أسأل أن ينفع به ويجعله وسيلة إلى الرحمة والغفران وهو المستعان وعليه التكلان.


(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)

الحمد للَّه الذى وفقنا للوصول إلى منتهى أصول الشريعة الغراء، وشرح صدورنا بنور الاهتداء إلى سلوك محجتها البيضاء، والصلاة على سيدنا محمد خير الرسل وخاتم الأنبياء وعلى آله وأصحابه هداة السبل إلى النجاة يوم الجزاء.

وبعد: فكما أن المختصر للشيخ الإمام جمال الملة والدين ابن الحاجب خصه اللَّه من الكرامة بأعلى المراتب، يجرى من كتب الأصول مجرى الغرّة من الكمت بل الدرة من الحصى والواسطة من العقد لا الفقرة من الجمل، كذلك شرحه للعلامة المحقق والنحرير المدقق عضد الملة والدين أعلى اللَّه درجته فى عليين يجرى من الشروح مجرى العذب الفرات من البحر الأجاج بل عين الحيات من ينابيع الفجاج، ويلوح خلالها كأنه بدر مضئ بين الأجرام أو كوكب درى توقد فى الظلام لم ير مثله فى زبر الأولين ولم يسمح بما يوازيه أو يدانيه فكر الآخرين، بل لم يحسب أن أحدًا يبلغ هذا الأمد من التحقيق أو بشرًا يسلك هذا النمط من التدقيق، هذا وقد استهتر به جمع من الحذاق وغدت هممهم ممتدّة الأعناق ساهرة الأحداق شوقًا إلى الاقتناء لذخائر كنوزه والاطلاع على أسرار رموزه، وكم راموا فى ذلك دليلًا يهديهم إلى سواء السبيل ويحظيهم من موارده بما يروى الغليل، فما نالوا إلا مغترفًا هو على ساحل التمنى مقيم ومعترفًا نظر نظرة فيها فقال: إنى سقيم ولعمرى إن الزمان بمثله لعقيم واللَّه يهدى من يشاء إلى صراط مستقيم، وكأنهم احتظوا منى فى بعض مظان اللبس ومواقع الارتياب بما يفيد المرام ويميط الحجاب، فالتمسوا تعليق حواش تزيل فضل القناع وتزيد طالبيه بعض الاطلاع وأنا لنكد الأيام ورمد الدهر أسوف الأمر من يوم إلى يوم ومن شهر إلى شهر.

কেবলমাত্র পীড়াপীড়ি ব্যতীত [আমি বিরত থাকতাম], তাই আমি এড়িয়ে চলতাম ও আত্মগোপন করতাম, এমনকি আমার এই আচরণ কৃপণতা অথবা অলসতার ধারণা তৈরি করেছিল। অতঃপর নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা আমাকে ক্লান্ত করে দিল এবং আমার উপায়সমূহ সংকীর্ণ হয়ে এল। ফলে আমি তাদের আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাদের জন্য এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) প্রদান করলাম যাতে হিতোপদেশ প্রদানে আমি কোনো কার্পণ্য করিনি এবং এর পরিমার্জনে কোনো শ্রম বাকি রাখিনি। আমি এতে পরিমিতিবোধের শর্ত রক্ষা করেছি এবং এর অতিবিস্তৃতি ও অতিসংক্ষিপ্ততা—উভয় প্রান্ত থেকে বিরত থেকেছি, যাতে তা অসম্পূর্ণ না থাকে এবং বিরক্তিও সৃষ্টি না করে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং একে রহমত ও ক্ষমার অসীলা বানান। তিনিই সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসা।


(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মহিমান্বিত শরীয়তের মূলনীতির (উসূল) চরম সীমায় পৌঁছানোর তাওফিক দিয়েছেন, এবং এর উজ্জ্বল রাজপথে চলার জন্য হেদায়েতের নূর দ্বারা আমাদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং নবীদের সর্বশেষ, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা প্রতিদান দিবসে মুক্তির পথের দিশারী।

অতঃপর: শেখ ইমাম জামালুল মিল্লা ওয়াদ-দ্বীন ইবনুল হাজিব-এর প্রণীত 'মুখতাসার' গ্রন্থটি—আল্লাহ যাকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছেন—উসূলের কিতাবসমূহের মধ্যে ঠিক তেমনি মর্যাদাবান যেমনটি ঘোড়ার ললাটে শুভ্র তিলক, বরং কঙ্কররাশির মাঝে মুক্তাতুল্য এবং কণ্ঠহারের মধ্যমণি সদৃশ, বাক্যের সাধারণ কোনো অংশ মাত্র নয়। অনুরূপভাবে, আল্লামা মুহাক্কিক ও সূক্ষ্মদর্শী আদুদুল মিল্লা ওয়াদ-দ্বীন—আল্লাহ ইল্লিয়্যীনে তাঁর মর্যাদা বুলন্দ করুন—কর্তৃক রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও (শারহ) অন্যান্য ব্যাখ্যার তুলনায় যেন লবণাক্ত সাগরের বিপরীতে সুমিষ্ট পানির নহর, বরং দুর্গম গিরিপথের ঝরনাধারার মাঝে সঞ্জীবনী সুধা (আইনুল হায়াত)। এর মাঝে তা এমনভাবে দীপ্তিমান যেন নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে এক উজ্জ্বল পূর্ণিমা অথবা অন্ধকারের মাঝে প্রজ্বলিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে এর কোনো নজির মেলেনি এবং পরবর্তীদের চিন্তাশক্তিও এর সমকক্ষ বা এর কাছাকাছি কিছু উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়নি। বরং কখনো ভাবা হয়নি যে, কেউ তাহকীক বা গবেষণার এই স্তরে পৌঁছাতে পারবে অথবা কোনো মানুষ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের এই পথ অবলম্বন করতে পারবে। এই কারণে একদল বিজ্ঞ পণ্ডিত এতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাদের হিম্মত ও আগ্রহ তীব্র হয়েছে এবং তারা এর গুপ্তভাণ্ডার লাভ ও এর রহস্যময় সঙ্কেতসমূহ জানার জন্য বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন। তারা কতবার এমন এক নিদর্শনের সন্ধান করেছেন যা তাদের সঠিক পথের দিশা দেবে এবং এর উৎসসমূহ হতে তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করবে। কিন্তু তারা কেবল তীরের কাছে দাঁড়িয়ে সামান্য আঁজলা ভরে পান করার সুযোগ পেয়েছেন, আর এমন এক স্বীকৃতি দিয়েছেন যে—তাতে এক পলক তাকিয়ে তারা বলেছে: 'নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ'। আমার জীবনের কসম! সময় এর সমতুল্য কিছু সৃষ্টিতে বন্ধ্যা (অক্ষম), আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। তারা আমার নিকট থেকে অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ স্থানগুলোতে এমন কিছু প্রত্যাশা করছিলেন যা উদ্দেশ্য পূরণ করবে এবং রহস্যের আবরণ উন্মোচন করবে। তাই তারা এমন কিছু টীকা (হাশিয়া) রচনার অনুরোধ করলেন যা অস্পষ্টতার পর্দা অপসারণ করবে এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরিধি বাড়িয়ে দেবে। আর আমি যমানার প্রতিকূলতা ও সময়ের অসুস্থতার কারণে বিষয়টি আজ থেকে কাল এবং মাস থেকে মাসের অজুহাতে বিলম্বিত করছিলাম।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৭)

تمر الليالى ليس للنفع موضع … لدى ولا للمعتفين ثواب

لما أنا فى زمان ليس فيه إلا ما يدهش العقول والألباب ويسلب المعقول إن أصاب، ترى العلم أعلام معاليه مشرفة على الانتكاس وآثار معانيه مؤذنة بالاندراس، والجهل رايات دولته خافقة العذبات وآيات نصرته واضحة البينات:

ولو أنى أعد ذنوب دهرى … لضاع القطر فيها والرمال

وقد صار تعللى هذا مظنة للضنة ومئنة للمنة، استخرت اللَّه وأخذت فى ضبط ما أحطت به من الفوائد ونظم ما جمحته من الفرائد وجل مرمى غرضى كشف الغطاء عما تحت عباراته من لطائف الاعتبارات وخفيات الإشارات، إلى حل الشكوك والشبهات والإيماء إلى ما على الشروح من الاعتراضات طاويًا كشح المقال عن الإطناب بتكثير السؤال والجواب وتحرير مقاصد الفصول والأبواب ونقل مباحث لا تتعلق بالكتاب، واللَّه سبحانه ولى المعونة والتوفيق ومنه الهداية إلى سواء الطريق وهو حسبى ونعم الوكيل.


(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)

قوله: (الحمد للَّه) أردف التسمية بالتحميد فى مفتتح الكلام اقتفاء لما ورد فى الأخبار واقتداء بطريق الأخيار وأداء لبعض حقوق ما استقر فيه من ضروب الإحسان التى من جملتها التوفيق لمثل هذا التصنيف العظيم الشأن منبهًا للمتعلمين على انتهاج مناهج سننه واتباع مدارج سننه، وقد دل بـ "لامى التعريف والتخصيص على اختصاص الجنس المستلزم لاختصاص المحامد كلها تحقيقًا على قاعدة أهل الحق واختار اسم الذات المنبئ عن صفات الكمال ونعته بما يتفرع عليها من الأفعال إيماء إلى استحقاقه من جميع هذه الجهات غاية التعظيم ونهاية الإجلال، وساق الكلام مساقًا رشيقًا وأولاه لطفًا ونظمًا أنيقًا، فأشار أولًا بقوله: برأ الأنام إلى إفاضة الوجود على نوع الإنسان الذى هو أصل لسائر أصناف الأنعام، وثانيًا بقوله: وعمهم بالإكرام إلى الكمالات المتفرعة على وجودهم المشركة فيما بينهم كالعقل وتوابعه الميزة إياهم عما عداهم وقد لاحظ فيه قوله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ} [الإسراء: 70]، وثالثًا بما اقتبسه من معنى قوله تعالى: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ} [يونس: 25]، إلى ما يتفرع على الكرامة الدنيوية

রাতগুলো অতিবাহিত হচ্ছে, অথচ আমার কাছে উপকারের কোনো অবকাশ নেই এবং যাঞ্ঝাকারীদের জন্য কোনো প্রতিদান নেই।

যেহেতু আমি এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে বুদ্ধি ও মেধা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ আক্রান্ত হলে বিলুপ্ত হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই। আপনি দেখবেন যে জ্ঞানের সুউচ্চ মিনারসমূহ পতনের সম্মুখীন এবং এর অর্থবহ নিদর্শনসমূহ বিলুপ্তির বার্তা দিচ্ছে, আর মূর্খতার রাজত্বের ঝাণ্ডাসমূহ পতপত করে উড়ছে এবং এর বিজয়ের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে:

আর আমি যদি আমার যুগের অপরাধসমূহ গণনা করি, তবে তার মাঝে বৃষ্টিবিন্দু ও বালুকণা হারিয়ে যাবে।

আমার এই ওজর পেশ করাটা কৃপণতার ধারণা এবং অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ মনে হতে পারে, তাই আমি আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তিখারা) করলাম এবং আমি যে সকল জ্ঞানগর্ভ বিষয় আয়ত্ত করেছি তা সুসংহত করতে এবং যে সকল অনন্য রত্নরাজি সংগ্রহ করেছি তা সুবিন্যস্ত করতে শুরু করলাম। আমার মূল লক্ষ্য হলো এর শব্দমালার আড়ালে নিহিত সূক্ষ্ম ভাব ও নিগূঢ় ইঙ্গিতসমূহ উন্মোচন করা, সংশয় ও সন্দেহসমূহ নিরসন করা এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহ নির্দেশ করা; সওয়াল-জওয়াব দীর্ঘায়িত করে কথা না বাড়িয়ে বরং অধ্যায় ও অনুচ্ছেদসমূহের মূল উদ্দেশ্যসমূহ সুচারুরূপে লিপিবদ্ধ করা এবং কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন আলোচনা বর্জন করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সাহায্য ও তাওফীকের মালিক এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।


(পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে)

তাঁর বাণী: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। তিনি আলোচনার শুরুতে তাসমিয়ার পর তাহমীদ যুক্ত করেছেন হাদীসে বর্ণিত নির্দেশনার অনুসরণে এবং পুণ্যবানদের পথের অনুকরণে। সেই সাথে তাঁর ওপর বর্ষিত বিবিধ অনুগ্রহের আংশিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই সুমহান গ্রন্থ রচনার তাওফীক লাভ। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের সুন্নাহর পথ ও হেদায়েতের সোপানসমূহ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি 'আলিফ-লাম' দ্বারা পরিচিতি ও বিশেষীকরণের অর্থ গ্রহণ করে সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করেছেন, যা সত্যপন্থীদের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি সত্তাগত নাম (আল্লাহ) চয়ন করেছেন যা সকল পূর্ণতার গুণের পরিচায়ক এবং তাঁর সেই গুণাবলী বর্ণনা করেছেন যা থেকে নানাবিধ কর্ম সম্পাদিত হয়। এটি ইঙ্গিত করে যে, তিনি তাঁর সকল দিক থেকেই চূড়ান্ত সম্মান ও পরম মর্যাদার অধিকারী। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ঢঙে বক্তব্য পেশ করেছেন এবং একে এক চমৎকার বিন্যাস দান করেছেন। অতঃপর তিনি প্রথমে তাঁর বাণী 'তিনি সৃষ্টিজগত সৃজন করেছেন' দ্বারা মানবজাতির ওপর অস্তিত্বের অনুগ্রহ বর্ষণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা অন্য সকল প্রাণীর মূল ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, তাঁর বাণী 'এবং তিনি তাদের সম্মানিত করেছেন' দ্বারা তাদের অস্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই সকল পূর্ণতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা তাদের মাঝে পরিব্যাপ্ত, যেমন বিবেক ও এর অনুষঙ্গসমূহ যা তাদের অন্য সবকিছু থেকে স্বতন্ত্র করেছে। এক্ষেত্রে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য রেখেছেন: {আর আমি অবশ্যই বনী আদমকে সম্মানিত করেছি এবং তাদের বহন করেছি} [সূরা আল-ইসরা: ৭০]। তৃতীয়ত, মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ থেকে তিনি যা গ্রহণ করেছেন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান জানান} [সূরা ইউনুস: ২৫], এর মাধ্যমে তিনি পার্থিব মর্যাদার ওপর যা কিছু বর্তায় তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৮)

ويتوسل به إلى السعادة الأخروية ثم نبه بقوله: وخص من شاء بمزايا الأنعام والتوفيق لدين الإسلام على النعم المخصوصة: فالأول يناسب الإكرام والثانى الدعوة إلى دار السلام مأخوذًا من قوله تعالى: {وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [يونس: 25]، وكأن فى القرائن الأربع رمزًا إلى المقصود لفظًا ومعنى وما قيل من أنه أشير بعموم الإكرام والدعوة إلى أن إضافة الجمع وحذف المفعول فى الآيتين يفيدان تعميمًا وأن الكافر أيضًا مكلف بالفروع وأن العبد داخل فى الخطاب كالأحرار والنساء كالرجال وأريد بقوله: مزايا الأنعام ما خص المجتهدين من الاقتدار على استنباط الأحكام براعة للاستهلال فلا يخلو عن شائبة تكلف، وأما الدين فهو وضع إلهى سائق لأولى الألباب باختيارهم المحمود إلى الخير بالذات ويتناول الأصول والفروع وقد يخص الفروع والإسلام هو هذا الدين المنسوب إلى محمد عليه السلام المشتمل على العقائد الصحيحة والأعمال الصالحة فالإضافة بيانية ولما كانت هذه النعم مستمرة سنية أورد الحمد بجملة اسمية.

قوله: (والصلاة) كما أن للَّه عز شأنه علينا نعمًا لا يتصور إحصاؤها كذلك لنبينا صلى الله عليه وسلم بهدايته لنا إلى سواء الصراط منن لا يمكن استقضاؤها فمن ثمة قرن تبجيله بالصلاة والسلام بتحميد اللَّه سبحانه وتعالى امتثالًا لأمره وقضاء لبعض حقه وأورد من صفاته ما يدل على حيازته قصبات السبق فى مضمار المآثر وتبرزه على الكل فى اقتناء المناقب والمفاخر، فقوله: على سيد الأواخر والأوائل، أى فى الفضل والكمال وصف له بحسبه، وقوله: المبعوث من أشرف الأرومات وأكرم القبائل يعنى هاشمًا وقريشًا نعت له بنسبه، وقوله: بأبهر العجزات وأظهر الدلائل، إشارة إلى وثاقة الحجج الدالة على نبوته واتضاحها ولما كانت الأمور الخارقة المقرونة بالتحدى معجزة لعجز الناس عن إتيان مثلها ودليلًا مرشدًا إلى النبوة من حيث الإعجاز كان كل ما هو أبهر فى الإعجاز أظهر فى الدلالة فلذلك أتبعه به، وقوله: الموضح للسبل، تنبيه على ما يتفرع على النبوة وهو غايتها أعنى: إيضاح السبل الموصلة إلى السعادة الأبدية.

قوله: (الخاتم للأنبياء والرسل) من صفات كماله عليه الصلاة والسلام حيث دل على أن الشريعة قد تمت بإرساله واستقرت فى نصابها فلا يحتاج إلى مؤسس آخر بل إلى من يحفظها وفى مجئ الصفات هكذا مسرودة بلا عاطف ههنا إيذان

এবং এর মাধ্যমে পরকালীন সৌভাগ্যের অসীলা গ্রহণ করা হয়। অতঃপর তিনি তাঁর কথা—"যাকে ইচ্ছা তাকে নেয়ামতের বিশেষত্ব এবং ইসলাম ধর্মের তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন"—দ্বারা বিশেষ নেয়ামতসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: সুতরাং প্রথমটি সম্মান প্রদর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্বিতীয়টি শান্তি নিকেতনের (দারুস সালাম) দিকে আহ্বানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [ইউনুস: ২৫] থেকে গৃহীত। মনে হচ্ছে এই চারটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ের মধ্যে শাব্দিক ও অর্থগতভাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি একটি সংকেত রয়েছে। আর যা বলা হয়েছে যে, সম্মান প্রদর্শন ও আহ্বানের ব্যাপকতার মাধ্যমে এ কথা নির্দেশ করা হয়েছে যে, উভয় আয়াতে বহুবচনের ব্যবহার এবং কর্মপদ বিলুপ্ত করা ব্যাপকতা বুঝায়; এবং কাফিররাও শরীয়তের শাখা-প্রশাখার বিধানের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ, এবং আযাদ ব্যক্তির মতো দাসেরাও এই সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত, এবং পুরুষদের মতো নারীরাও। আর তাঁর কথা "নেয়ামতের বিশেষত্ব" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সূচনার চমৎকারিত্ব হিসেবে মুজতাহিদগণকে বিধান উদঘাটনের যে সক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে তা; তবে এটি কৃত্রিমতার সংশয় থেকে মুক্ত নয়। পক্ষান্তরে দ্বীন হলো এমন এক ঐশী বিধান, যা বিবেকবানদেরকে তাদের প্রশংসনীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরাসরি কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। এটি দ্বীনের মূলনীতি এবং শাখা-প্রশাখা উভয়কেই শামিল করে। কখনো কখনো এটি কেবল শাখা-প্রশাখাকেই বুঝায়। আর ইসলাম হলো মুহাম্মাদ আলাইহিস সালামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত সেই দ্বীন, যা সঠিক আকীদা ও নেক আমলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে সম্বন্ধটি ব্যাখ্যামূলক। যেহেতু এই নেয়ামতসমূহ নিরবচ্ছিন্ন ও মহান, তাই তিনি বিশেষ্যমূলক বাক্য (জুমলা ইসমিয়া) দ্বারা প্রশংসা পেশ করেছেন।

তাঁর উক্তি: (এবং দরুদ); আল্লাহর শান যেমন মহান এবং আমাদের ওপর তাঁর যেমন অগণিত নেয়ামত রয়েছে যার গণনা করা অসম্ভব, তেমনি আমাদের নবীরও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের প্রতি সরল পথের দিশা দেওয়ার মাধ্যমে এমন অনুগ্রহ রয়েছে যা শেষ হওয়ার নয়। একারণেই আল্লাহর আদেশের আনুগত্য এবং তাঁর কিছু হক আদায়ের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসার সাথে দরুদ ও সালামের মাধ্যমে তাঁর সম্মানকে যুক্ত করা হয়েছে। আর তাঁর এমন সব গুণাবলী উল্লেখ করা হয়েছে যা শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে তাঁর অগ্রগামিতা এবং সকল মহৎ গুণ ও গৌরবের অধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে সবার ওপরে থাকাকে প্রমাণ করে। সুতরাং তাঁর উক্তি: "পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদারের ওপর", অর্থাৎ মর্যাদা ও পূর্ণতার দিক থেকে এটি তাঁর সত্তাগত গুণের বর্ণনা। এবং তাঁর উক্তি: "যিনি প্রেরিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ বংশধারা ও সর্বোত্তম গোত্র থেকে", অর্থাৎ হাশিম ও কুরাইশ বংশ; এটি তাঁর বংশীয় আভিজাত্যের বর্ণনা। এবং তাঁর উক্তি: "সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী অলৌকিক নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট দলীলসমূহ সহকারে", এটি তাঁর নবুওয়াতের ওপর প্রমাণ দানকারী দলীলসমূহের দৃঢ়তা ও স্পষ্টতার প্রতি ইঙ্গিত। যেহেতু চ্যালেঞ্জসহ প্রকাশিত অলৌকিক বিষয়গুলো মুজিযা হিসেবে গণ্য হয়, কারণ মানুষ এর অনুরূপ কিছু করতে অক্ষম; এবং এটি নবুওয়াতের দিকে পথপ্রদর্শনকারী দলীল, তাই যা কিছু অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে অধিক প্রভাববিস্তারকারী তা প্রমাণের ক্ষেত্রেও অধিক সুস্পষ্ট। একারণেই তিনি একটির পর আরেকটি উল্লেখ করেছেন। এবং তাঁর উক্তি: "পথসমূহের সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী", এটি নবুওয়াতের ফলশ্রুতি বা এর চূড়ান্ত লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত, অর্থাৎ চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের দিকে পৌঁছে দেয় এমন পথসমূহের স্পষ্ট বর্ণনা।

তাঁর উক্তি: (নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী); এটি তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পূর্ণতার গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত, যা নির্দেশ করে যে তাঁর প্রেরণের মাধ্যমেই শরীয়ত পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এটি তার আপন অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আর নতুন কোনো শরীয়ত প্রবর্তকের প্রয়োজন নেই, বরং কেবল এমন ব্যক্তিবর্গের প্রয়োজন যারা একে সংরক্ষণ করবেন। আর এখানে কোনো সংযোজক অব্যয় ছাড়াই গুণাবলীগুলোকে এভাবে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা একটি ইঙ্গিত দেয়
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৯)

باستقلال كل فى كونها صفة كمال على حيالها وقد زادها فخامة إبهام موصوفها، وأما تنسيق النعم السابقة فلأن معنى الجمع هناك أوقع وحيث كان آله وأصحابه رضوان اللَّه تعالى عليهم أجمعين مشاركين له فى هدايتنا بإبلاغ شريعته وحفظها أردفهم إياه، وقد أفيد أنه ضمن فى التحميد الإشارة إلى شرع الأحكام والأقدار على استنباطها لأنهما نعمتان منه تعالى وفى الصلاة إلى أدلتها مطلقًا فإن الكتاب أبهر المعجزات لبقائه على مر الدهور وأظهر دلائل الأحكام حيث لم يختلف فيه لغاية الظهور وإيضاح السبل يتناول السنة بأقسامها، وفيه إشارة إلى أن مدارك الأحكام مستندة إلى السماع، وذكر الآل والأصحاب إشارة إلى الإجماع ويندرج فيه بعض ما وقع فيه النزاع وأما القياس فحيث كان فرعًا للثلاثة ومظهر للحكم لم يفرد له ذكرًا.

قوله: (وبعد. . . إلخ) قد أشار فى هذا الكلام إلى فائدة أصول الفقه التى هى استنباط الأحكام وما يترتب عليها من الصلاح فى الدنيا والنجاة فى الآخرة؛ فظهر بذلك تعريفه وشرفه الباعث على الاعتناء بشأنه ثم ذكر من نعوت المختصر ما يستدعى زيادة الاهتمام لشأنه وأنه قد أحاط بما فيه خبرًا وأن أصحابه باقتراحهم لم يتركوا له عذرًا فتسبب الكل لتصنيف الكتاب بعد مساعدة التوفيق من العزيز الوهاب.

قوله: (كونها متكثرة) وذلك لأن الأحكام متعلقة بالحوادث الفعلية التى لا تكاد تنحصر فى عدد.

قوله: (ناطها) أى علقها (بدلائل) أى: حجج قطعية من الكتاب والسنة المتواترة والإجماع (وربطها بأمارات) مفيدة للمراتب العالية من الظنون (ومخايل) مفضية إلى الظنون الضعيفة كأنها خيالات، وفيه أن الظن يختلف قوة وضعفًا دون اليقين، وأنه مطلقًا كافٍ فى الأحكام العملية ولا يذهب عليك لطف استعمال النوط مع الدليل، والربط مع الأمارة.

قوله: (من مأخذها) أى الظنى (ومناطها) أى القطعى رعاية لما سبق وههنا بحث ينشأ من تفسير الأدلة فى تعريف الفقه بالأمارات وإنما وصف القواعد بالكلية؛ لأن مسائل أصول الفقه قواعد يندرج تحتها كليات؛ هى المسائل الفقهية المنطوية على جزئيات وجعل المقدمات أى: المبادئ جامعة لشمولها أمورًا متعددة ولقد أعجب

প্রত্যেকটি স্বতন্ত্রভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ হওয়ার কারণে, এবং এর সাথে যার গুণ বর্ণনা করা হয়েছে তার অস্পষ্টতা এর মাহাত্ম্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আর পূর্ববর্তী নেয়ামতসমূহের বিন্যাসের কারণ হলো, সেখানে একত্রিত করার অর্থটি অধিক লাগসই। যেহেতু তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর শরীয়ত পৌঁছানো এবং তা সংরক্ষণের মাধ্যমে আমাদের হেদায়েতের ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগী ছিলেন, তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর সাথে যুক্ত করেছেন। এটিও ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তিনি প্রশংসার মধ্যে বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ করা এবং তা উদ্ভাবন করার যোগ্যতার দিকে ইঙ্গিত অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ এই উভয়টিই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নেয়ামত। আর দরূদের মধ্যে তিনি ঢালাওভাবে বিধানসমূহের দলীলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কেননা কুরআন হলো সবচাইতে বিস্ময়কর মুজেজা যা যুগের পর যুগ টিকে থাকার কারণে, এবং এটি বিধানের সর্বাধিক স্পষ্ট দলীল কারণ এর চরম স্পষ্টতার দরুন এতে কোনো মতভেদ নেই। আর 'পথসমূহের স্পষ্টীকরণ' সুন্নাহর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এতে আরও ইঙ্গিত রয়েছে যে, বিধানসমূহ অনুধাবনের ভিত্তি হলো শ্রুতি বা শ্রুত দলীলের ওপর নির্ভরশীল। আর পরিবার ও সাহাবীগণের উল্লেখ হলো ইজমার (ঐক্যমত্য) প্রতি ইঙ্গিত, যার মধ্যে কিছু মতভেদপূর্ণ বিষয়ও শামিল হয়ে যায়। আর কিয়াস (অনুমান) যেহেতু পূর্ববর্তী তিনটির শাখা এবং বিধানের প্রকাশক মাত্র, তাই তিনি এটিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।

লেখকের উক্তি: (অতঃপর... ইত্যাদি)। এর মাধ্যমে তিনি উসূলে ফিকহের উপযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা হলো বিধান উদ্ভাবন করা এবং এর ফলে দুনিয়াতে সংশোধন ও আখেরাতে মুক্তি লাভ করা। এর মাধ্যমেই এর সংজ্ঞা ও মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে যা এর প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। অতঃপর তিনি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির এমন কিছু গুণাবলী উল্লেখ করেছেন যা এর প্রতি অধিক গুরুত্বারোপের দাবি রাখে। তিনি এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গীদের অনুরোধের কারণে তাঁর কোনো অজুহাত অবশিষ্ট ছিল না। ফলে মহান দাতা আল্লাহর তাওফীকের পর এই সবকিছুই কিতাবটি রচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখকের উক্তি: (এগুলো বহুবিধ হওয়া)। আর এটি এই কারণে যে, বিধানসমূহ এমন সব কর্মগত ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট যা সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব।

লেখকের উক্তি: (তিনি এগুলোকে ঝুলিয়েছেন) অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট করেছেন (দলীলসমূহের সাথে) অর্থাৎ কুরআন, মুতাওয়াতির সুন্নাহ এবং ইজমা থেকে প্রাপ্ত অকাট্য প্রমাণাদির সাথে। (এবং সেগুলোকে যুক্ত করেছেন আলামতসমূহের সাথে) যা উচ্চপর্যায়ের ধারণার ফায়দা দেয়, (এবং নিদর্শনের সাথে) যা দুর্বল ধারণার দিকে নিয়ে যায় যেন সেগুলো নিছক কল্পনা। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, নিশ্চিত বিশ্বাসের বিপরীতে ধারণার ক্ষেত্রে প্রবলতা ও দুর্বলতার তারতম্য হয়। আর আমলী বা কর্মগত বিধানের ক্ষেত্রে ধারণা সাধারণভাবে যথেষ্ট। দলীলের সাথে 'ঝুলিয়ে দেওয়া' এবং আলামতের সাথে 'যুক্ত করা' শব্দের ব্যবহারের সূক্ষ্মতা যেন তোমার নিকট অস্পষ্ট না থাকে।

লেখকের উক্তি: (তার উৎস থেকে) অর্থাৎ ধারণাপ্রসূত উৎস, (এবং তার ভিত্তি থেকে) অর্থাৎ অকাট্য ভিত্তি, যা পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলা হয়েছে। এখানে ফিকহের সংজ্ঞায় দলীলসমূহকে 'আলামত' দ্বারা ব্যাখ্যা করার কারণে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আর তিনি নিয়মাবলিকে 'সামগ্রিক' বলে বিশেষায়িত করেছেন; কারণ উসূলে ফিকহের মাসআলাসমূহ হলো এমন কিছু মূলনীতি যার অধীনে অনেক সামগ্রিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে; আর সেগুলো হলো ফিকহী মাসআলা যা অনেক খুঁটিনাটি বিষয়কে ধারণ করে। আর তিনি ভূমিকাগুলোকে 'সংকলক' হিসেবে অভিহিত করেছেন কারণ তা অনেকগুলো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২০)

حيث ذكر مع القواعد الباء والتوصل، ومع المقدمات من والتوسل.

قوله: (أفردوا) جواب لما مقدرة على كان.

قوله: (عظيم الخطر) أى الشرف فى نفسه لتعلقه بالكتاب والسنة وما يئول إليهما، و (محمود الأثر) أى الفائدة لأنها الفقه فى الدين.

قوله: (يجمع إلى العقول) أى القياس، (مشروعًا) أى منقولًا وذلك لتوسطه بين المعقولات والمشروعات، (ويتضمن من علوم شتى) أى متفرقة، (أصولًا وفروعًا) أى مسائل يتفرع عنها غيرها، وأخرى تتفرع عن غيرها منتزعة من العلوم المتفرقة، أو يتضمن أصولًا وفروعًا هى بعض تلك العلوم، وعلى التقديرين فيه إيماء إلى المبادئ كما أن الأول إشارة إلى المسائل.

قوله: (والقرحة) هى البياض دون الغرة وكان ظهورها من السواد أكثر فلذلك خصها بالدهم يقال: استهتر فلأن على صيغة المجهول، أى أولع (لا يذل) أى: لا ينقاد من الذل بالكسر.

قوله: (صعابه) أى معانيه المشكلة المشبهة بالصعاب إما لدقتها أو لانغلاق عبارتها، (ولا تسمح) من باب الأفعال يقال: أسمحت قرونته، إذا ذلت نفسه وتابعته على الأمر.

قوله: (وقد بقيت الدقائق) أى معانيه التى لا تنال إلا بأنظار عميقة لم يبرزوا شيئًا منها واحتجبت عنهم حقائق فيها نوع خفاء ولهذا نكرها.

قوله: (شعفت به) أى جعلت حريصًا، وفى بعض النسخ شعف وهو الظاهر والأول محتاج إلى تقدير كما فى عبارة الكشاف استكبرت أم كنت ممن علوت أى منهم وقد ضمن وكلت معنى سلطت فعداه بـ "على" وأراد ببعض عمرى مدة معتدًا بها تعد بعضًا منه، والمقاصد هى المسائل، والمبانى هى الدلائل، والتنوين فى خافية إما للإفراد شخصًا أو للتقليل على ما يقتضيه المقام بحسب الادعاء.

قوله: (من الفوائد الزوائد) أى على ما أدركوه لا على الكتاب، (كافية) لمن أراد الوقوف على دقائقه، والخرائد جمع خريدة وهى الحيية من النساء مشبه بها المعانى الخفية فى الاحتجاب وعسر الوصول إليها، والإبكار إشارة إلى ما اختص بإدراكه من دقائقه وحقائقه التى لم يفترعها أحد قبله، والإقتراح السؤال بغير روية، والإلحاح المبالغة فيه.

যেখানে তিনি উসূল বা মূলনীতির সাথে 'বা' অক্ষর এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোকে উল্লেখ করেছেন, এবং ভূমিকাগুলোর সাথে 'মিন' অক্ষর ও মাধ্যম গ্রহণকে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর বক্তব্য: (তারা এককভাবে বর্ণনা করেছেন) এটি 'কান' (ছিল) এর ওপর ভিত্তি করে একটি উহ্য 'লাম্মা' (যখন) এর উত্তর।

তাঁর বক্তব্য: (বিরাট গুরুত্বসম্পন্ন) অর্থাৎ স্বীয় সত্তাগতভাবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, যেহেতু এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং এ দুইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির সাথে সম্পৃক্ত। আর (প্রশংসিত প্রভাব) অর্থাৎ এর উপকারিতা, কারণ এটি হলো দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা বা ফিকহ।

তাঁর বক্তব্য: (যা বিবেকের সাথে সমন্বিত করে) অর্থাৎ কিয়াস বা অনুমানলব্ধ জ্ঞানকে; (শরীয়তসম্মত বিষয়কে) অর্থাৎ যা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বর্ণিত, আর তা এজন্য যে এটি বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শরীয়তসম্মত বিষয়াবলির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। (এবং তা বিভিন্ন জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে) অর্থাৎ যা বিবিধ; (মূলনীতি ও শাখাসমূহকে) অর্থাৎ এমন মাসআলাসমূহ যা থেকে অন্যান্য মাসআলা বের হয়, এবং এমন সব মাসআলা যা অন্যান্য মাসআলা থেকে নির্গত হয়েছে এবং বিভিন্ন জ্ঞান থেকে গৃহীত হয়েছে। অথবা এর অর্থ হলো এটি এমন সব মূলনীতি ও শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ঐসব জ্ঞানের অংশবিশেষ। উভয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী এতে ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যেমন প্রথম অংশটি মাসআলাসমূহের প্রতি ইঙ্গিতবাহী।

তাঁর বক্তব্য: (কুরহাহ) এটি হলো কপালে বিদ্যমান শুভ্রতা যা 'গুররাহ' (বৃহৎ শুভ্রতা) অপেক্ষা ছোট। যেহেতু কালো রঙের মাঝে এর প্রকাশ অধিক স্পষ্ট হয়, তাই তিনি এটিকে গাঢ় কালো বর্ণের ঘোড়ার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি আসক্ত হয়েছে, যা কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত। অর্থাৎ সে একান্ত অনুরাগী হয়েছে। (অবনত হয় না) অর্থাৎ হীনতার কারণে অনুগত হয় না।

তাঁর বক্তব্য: (এর দুর্গম পথসমূহ) অর্থাৎ এর জটিল অর্থসমূহ যা দুর্গমতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; হয় এর সূক্ষ্মতার কারণে অথবা এর ভাষাশৈলীর জটিলতার কারণে। (এবং সদয় হয় না) এটি 'আফ'আল' বাব থেকে এসেছে। বলা হয়, তার জেদ বা কঠোরতা নরম হয়েছে যখন তার মন বশীভূত হয় এবং কোনো বিষয়ে আনুগত্য করে।

তাঁর বক্তব্য: (সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অবশিষ্ট রয়ে গেছে) অর্থাৎ এর এমন সব অর্থ যা গভীর দৃষ্টিপাত ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়; তারা এর কিছুই প্রকাশ করতে পারেনি। এবং তাদের নিকট এমন কিছু হাকীকত বা প্রকৃত রহস্য আবৃত রয়ে গেছে যাতে এক প্রকার অস্পষ্টতা রয়েছে; একারণেই তিনি শব্দটিকে অনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর বক্তব্য: (আমি তার প্রতি আসক্ত হয়েছি) অর্থাৎ আমাকে আগ্রহী করে তোলা হয়েছে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'আসক্ত হয়েছে' শব্দে রয়েছে যা অধিক স্পষ্ট। তবে প্রথম পাঠটির ক্ষেত্রে উহ্য শব্দের প্রয়োজন রয়েছে যেমন কাশশাফের ইবারতে রয়েছে: 'তুমি কি অহংকার করলে নাকি তুমি উচ্চমর্যাদাবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে?' অর্থাৎ তাদের অন্তর্ভুক্ত। এখানে 'অর্পিত' শব্দটিতে 'কর্তৃত্ব প্রদান' এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাই একে 'আলা' অব্যয় দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছে। আর 'আমার জীবনের কিছু অংশ' বলতে তিনি একটি উল্লেখযোগ্য সময়কে বুঝিয়েছেন যা জীবনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। 'মাকাসিদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাসআলাসমূহ এবং 'মাবানি' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দালিলসমূহ। 'খাফিয়্যাহ' শব্দে তানউইনটি হয়তো ব্যক্তি বিশেষকে এককভাবে বুঝানোর জন্য অথবা প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী স্বল্পতা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য: (অতিরিক্ত ফায়দাহসমূহ থেকে) অর্থাৎ তারা যা অনুধাবন করেছে তার অতিরিক্ত, কিতাবের অতিরিক্ত নয়। (পর্যাপ্ত) যে ব্যক্তি এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হতে চায় তার জন্য। 'খরাইদ' হলো 'খরিদা' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ লাজুক নারী; এখানে অপ্রকাশিত এবং যার কাছে পৌঁছানো কঠিন এমন সূক্ষ্ম অর্থসমূহকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। 'ইবকার' শব্দটি সেই সব সূক্ষ্ম ও প্রকৃত বিষয়াবলির একক অনুধাবনের প্রতি ইঙ্গিত যা ইতিপূর্বে অন্য কেউ উন্মোচন করতে পারেনি। 'ইকতিরাহ' অর্থ চিন্তা-ভাবনা ছাড়া প্রশ্ন করা এবং 'ইলহাহ' অর্থ তাতে জোরাজুরি করা।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২১)

قوله: (فعيت بى العلل) أى عجزت فلم تهتد إلى بوجه، تقول: عييت بالأمر، إذ لم تهتد لوجه أو أعجزتنى فلم أهتد إليها لأتمسك بها والأول أبلغ، وقوله: فيه، معمول لنصحًا أو لما يفسره يعنى: أن كل نصح يتعلق بالشرح من تضمين اللطائف فقد سمحت به، والألو التقصير وقد ضمن معنى المنع فعدى إلى مفعولين فى قولهم لا آلوك نصحًا، فالمفعول الأول ههنا محذوف نسيًا أو ضمن معنى الترك، والشريطة هى الشرط، والاقتصاد التوسط والإملال الإملاء وإيصال الملال وقد استعمله فيهما.


(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)

الحمد للَّه الذى ظهر علينا بدلالته للفوز إلى السعادة أسباب ووصل إلينا بعنايته آيات محكمات هن أم الكتاب وعم نعماءه التى مطلق العبارة بعدم أدائها مقيد، وخص مزايا الآلاء بمن عنده مؤيد، والصلاة على من أنزل عليه هدى للناس وبينات من الهدى والفرقان محمد، سيد الأنام بالبيان ومبلغ الأحكام إلى يوم الإحسان وعلى آله الذين أقلعوا الضارلة بالإحراب واجتهدوا فى استنباط الأحكام من السنة وفصل الخطاب.

(وبعد) فإن الفواتح كلما اغتنمت أصولها من ينابيع الحمد ماء والتزمت فروعها من نسيم الصلاة نضارة ونماء أزهرت بإشراق ذكر من افتخرت به المفاخر والعلى واستوجب بإعلائه أعلام الحق علقًا أعلى وهو السلطان الذى رفرف بأجناح‌‌(1) السلطنة على السلاطين فى الأعصار ووضع يد المرحمة على رءوس المساكين فى الأمصار قد انطمس عند إحاطة فضائله طوق البيان السلطان الأعظم محمد بن مراد خان سد اللَّه ظل سلطنته وأدامه وملأ حياض عدله إلى يوم القيامة لا زال لطفه للمؤمنين فوزًا عظيمًا وقهره على الكافرين عذابًا أليمًا وثبت عضد الدنبا والدين بدولته قويّا لمن كان على التعظيم عليّا وبتوفيق وليّا.

--------------------------------------------

‌‌(1) قوله: بأجناح. هكذا فى الأصل والمسموع الموافق للقياس فى جمع جناح أجنحة. كتبه مصحح طبعة بولاق.

তাঁর বক্তব্য: (অজুহাতগুলো আমাকে অক্ষম করে দিয়েছে) অর্থাৎ আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি এবং কোনোভাবেই পথ খুঁজে পাইনি। আপনি বলেন: "আমি বিষয়ে অক্ষম হয়েছি", যখন আপনি কোনো পথ খুঁজে পান না। অথবা এর অর্থ: সেগুলো আমাকে অক্ষম করে দিয়েছে ফলে আমি সেগুলোকে আঁকড়ে ধরার কোনো পথ খুঁজে পাইনি, আর প্রথম অর্থটি অধিক প্রাঞ্জল। এবং তাঁর কথা: "এতে", এটি "নসিহত" (উপদেশ) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা যা তাকে ব্যাখ্যা করে তার সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ, সূক্ষ্ম বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল নসিহত আমি উদারচিত্তে প্রদান করেছি। "আল-আলউ" অর্থ ত্রুটি করা, আর এটি "বারণ করা"র অর্থও অন্তর্ভুক্ত করে, তাই "আমি তোমার উপদেশে কোনো ত্রুটি করব না" - এই বাক্যে এটি দুটি কর্মপদ গ্রহণ করে। এখানে প্রথম কর্মপদটি বিস্মৃত অবস্থায় উহ্য রয়েছে অথবা এটি "বর্জন করা"র অর্থ প্রদান করছে। "শারীতাহ" হলো শর্ত। "ইকতিসাদ" হলো মধ্যপন্থা। আর "ইমলাল" হলো শ্রুতিলিপি প্রদান করা অথবা বিরক্তি উৎপাদন করা, আর তিনি উভয় অর্থেই এটি ব্যবহার করেছেন।


(পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৌভাগ্য অর্জনের উপায়সমূহের নির্দেশনার মাধ্যমে আমাদের সামনে প্রকাশিত হয়েছেন, এবং যাঁর অনুগ্রহে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পৌঁছেছে যা কিতাবের মূল ভিত্তি। তাঁর নেয়ামতসমূহ ব্যাপক, যা প্রকাশ করতে সাধারণ ভাষা অক্ষম ও সীমাবদ্ধ। তিনি তাঁর অনুগ্রহের বিশেষত্বসমূহ তাকে দান করেছেন যাকে তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য করা হয়েছে। আর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর প্রতি মানুষের জন্য পথনির্দেশ এবং হিদায়াত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের প্রমাণস্বরূপ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; যিনি মুহাম্মদ, স্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নেতা এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বিধানসমূহ পৌঁছে দানকারী। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, যারা যুদ্ধের মাধ্যমে পথভ্রষ্টতাকে উপড়ে ফেলেছেন এবং সুন্নাহ ও অকাট্য প্রমাণাদি থেকে বিধান উদঘাটনে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

(অতঃপর) নিশ্চয়ই গ্রন্থারম্ভের কথাগুলো যখনই প্রশংসার ঝরনাধারা থেকে এর মূল উপাদানসমূহ সিক্ত হয় এবং দরুদের মৃদুমন্দ বাতাস থেকে এর শাখা-প্রশাখা সজীবতা ও প্রবৃদ্ধি লাভ করে, তখনই তা ঐ ব্যক্তির স্মরণের উজ্জ্বলতায় প্রস্ফুটিত হয় যার মাধ্যমে গৌরব ও উচ্চমর্যাদা গর্বিত হয়। সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত করার মাধ্যমে তিনি এক সর্বোচ্চ মূল্যবান মর্যাদা লাভ করেছেন। তিনি সেই সুলতান যিনি যুগের সুলতানদের ওপর তাঁর সালতানাতের পাখা বিস্তার করেছেন এবং বিভিন্ন জনপদে অভাবী ও দরিদ্রদের মাথায় করুণার হাত রেখেছেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পরিব্যাপ্তির সামনে বর্ণনার অলঙ্কার ম্লান হয়ে গেছে। তিনি মহান সুলতান মুহাম্মদ বিন মুরাদ খান। আল্লাহ তাঁর সালতানাতের ছায়াকে সুদৃঢ় করুন এবং তা দীর্ঘস্থায়ী করুন, আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর ইনসাফের জলাধারকে পূর্ণ রাখুন। মুমিনদের জন্য তাঁর দয়া সর্বদা মহাসাফল্য হিসেবে এবং কাফেরদের ওপর তাঁর কঠোরতা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হিসেবে অব্যাহত থাকুক। আর তিনি তাঁর রাজত্বের মাধ্যমে পার্থিব ও ধর্মীয় শক্তিকে তাদের জন্য সুদৃঢ় রাখুন যারা তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উচ্চকিত এবং আল্লাহর তাওফিকে তাঁর প্রিয়পাত্র।

--------------------------------------------

‌‌(১) তাঁর বক্তব্য: পাখাগুলো (আজনাহ)। মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী 'জুনাহ' (পাখা) এর বহুবচন হলো 'আজনিহাহ'। বোলাক সংস্করণের সংশোধক এটি লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২২)

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)

الحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد: فيقول أبو الفضل محمد الوراقى الجيزاوى: هذه تقريرات شريفة وتحقيقات منيفة علقتها على شرح مختصر ابن الحاجب العضدى وحاشيتى السعد والسيد عليه حال قراءتى كتاب ابن الحاجب بحاشيتيه المذكورتين المرة الثانية لتوضيح ما أشكل فهمه من ذلك مشيرًا إلى حاشية السيد بـ (قوله) أو (قدس سره)، وإلى حاشية السعد بـ (التفتازانى) أو (السعد)، واللَّه ولى التوفيق والسداد وعليه التوكل والاعتماد.

(পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: আবু আল-ফজল মুহাম্মদ আল-ওয়ারাকি আল-জিজাউই বলেন: এগুলো হলো কিছু উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যাখ্যা এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যা আমি ‘শরহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-আদুদি’ এবং এর ওপর আস-সাদ ও আস-সাইয়্যিদের হাশিয়া (টীকা) দুটির ওপর লিখেছি; যখন আমি দ্বিতীয়বারের মতো ইবনুল হাজিবের কিতাবটি উল্লিখিত হাশিয়া দ্বয়সহ পাঠ করছিলাম, তখন এর দুর্বোধ্য বিষয়গুলো স্পষ্ট করার লক্ষ্যে এগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। আমি সাইয়্যিদের হাশিয়ার দিকে ‘তার উক্তি’ (কউলুহু) অথবা ‘আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন’ (কুদ্দিসা সিররুহু) দ্বারা এবং সা’দের হাশিয়ার দিকে ‘আত-তাফতাজানি’ অথবা ‘আস-সাদ’ দ্বারা ইঙ্গিত করেছি। আল্লাহ-ই তাওফিক ও সঠিক পথ প্রদর্শনের মালিক এবং তাঁরই ওপর ভরসা ও নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৩)

قال: (الحمد للَّه رب العالمين وصلى اللَّه على سيدنا محمد وآله أجمعين، أما بعد: فإنى لما رأيت قصور الهمم عن الإكثار وميلها إلى الإيجاز والاختصار صنفت مختصرًا فى أصول الفقه ثم اختصرته على وجه بديع وسبيل منيع لا يصدّ اللبيب عن تعلمه صادّ ولا يردّ الأريب عن تفهمه راد واللَّه تعالى أسأل أن ينفع به وهو حسبى ونعم الوكيل وينحصر فى المبادئ والأدلة السمعية والترجيح والاجتهاد).

أقول: ينحصر المختصر أو العلم فى أمور أربعة:

الأول: المبادئ وهي ما لا يكون مقصودًا بالذات، بل يتوقف عليه ذلك وعدّها جزءًا من العلم تغليبًا لا يبعد.

الثاني: الأدلة السمعية؛ لأن المقصود استنباط الأحكام وإنما يكون منها لأن العقل لا مدخل له فى الأحكام عندنا.

الثالث: الترجيح إذ الأدلة الظنية قد تتعارض فلا يمكن الاستنباط إلا بالترجيح وهو بمعرفة جهاته.

الرابع: الاجتهاد وهو الاستنباط المقصود فلا بد من معرفة أحكامه وشرائطه.

واعلم أن الحصر فى مثله استقرائى، ومن رام حصرًا عقليًا فقد ركب شططًا إلا أن يقصد به ضبط يقلل من الانتشار ويسهل الاستقراء، فيقال ما يتضمنه الكتاب إما مقصود بالذات أو لا الثاني: المبادئ إذ لا بد أن يتوقف عليه المقصود بالذات وإلا فلا حاجة إليه أصلًا والأوّل لما كان الغرض منه استنباط الأحكام فالبحث إما عن نفس الاستنباط وهو الاجتهاد أو عما تستنبط هي منه إما باعتبار تعارضها وهو الترجيح أو لا وهو الأدلة السمعية.


قوله: (وينحصر) ذهب الجمهور إلى أن موضوع الأصول الأدلة السمعية لما أنه يبحث عن أحوالها من حيث إثبات الأحكام بها بطريق الاجتهاد بعد الترجيح عند التعارض، وبهذا الاعتبار كانت أجزاؤه مباحث الأدلة والاجتهاد والترجيح، ونظر بعضهم إلى أن من المباحث المتعلقة بالإثبات ما يرجع إلى أحوال الأحكام فجعل موضوعه الأدلة والأحكام وصارت الأبواب أربعة وقد جرت العادة بتصدير كتب الأصول بمباحث خارجة عن المقاصد المذكورة يسمونها المبادئ تكون جزءًا من

তিনি বললেন: (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর: যখন আমি দেখলাম যে, মানুষের হিম্মত দীর্ঘ আলোচনায় অক্ষম এবং তাদের ঝোঁক সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপের দিকে, তখন আমি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করলাম। এরপর আমি একে এমন এক চমৎকার পদ্ধতি ও দুর্ভেদ্য পথে পুনরায় সংক্ষিপ্ত করলাম যে, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি শিখতে বাধাগ্রস্ত হবে না এবং কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তি এটি বুঝতে বিমুখ হবে না। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর এই গ্রন্থটি প্রারম্ভিক আলোচনা, শ্রুতিগত দলিলসমূহ, অগ্রাধিকার প্রদান এবং ইজতিহাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ)।

আমি বলছি: এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি বা এই শাস্ত্রটি চারটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ:

প্রথম: প্রারম্ভিক আলোচনা; আর তা এমন বিষয় যা মূলত উদ্দেশ্য নয়, বরং মূল বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করে। প্রাধান্য দেওয়ার বিচারে একে শাস্ত্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা অসঙ্গত নয়।

দ্বিতীয়: শ্রুতিগত দলিলসমূহ; কেননা মূল উদ্দেশ্য হলো বিধান আহরণ করা, আর তা এগুলো থেকেই ঘটে থাকে। কারণ আমাদের মতে বিধানের ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো স্বতন্ত্র প্রবেশাধিকার নেই।

তৃতীয়: অগ্রাধিকার প্রদান; যেহেতু ধারণামূলক দলিলসমূহ অনেক সময় পরস্পর বিরোধী হতে পারে, তাই অগ্রাধিকার প্রদান ছাড়া বিধান আহরণ সম্ভব নয়। আর তা সম্ভব হয় এর বিভিন্ন দিকগুলো জানার মাধ্যমে।

চতুর্থ: ইজতিহাদ; আর এটিই হলো কাঙ্ক্ষিত বিধান আহরণ পদ্ধতি। সুতরাং এর বিধান এবং শর্তাবলী জানা অপরিহার্য।

জেনে রাখুন যে, এই জাতীয় সীমাবদ্ধতা হলো অনুসন্ধানমূলক। যে ব্যক্তি একে যুক্তিনির্ভর সীমাবদ্ধতা হিসেবে গণ্য করতে চায়, সে চরম ভুল করল; তবে যদি এর মাধ্যমে এমন সুশৃঙ্খল বিন্যাস উদ্দেশ্য হয় যা বিক্ষিপ্ততা কমায় এবং অনুসন্ধানকে সহজ করে, তবে তা ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে বলা হয় যে, কিতাবটি যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করে তা হয় মূলত কাঙ্ক্ষিত বিষয়, নতুবা নয়। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো প্রারম্ভিক আলোচনা; কারণ কাঙ্ক্ষিত মূল বিষয়টি এর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক, অন্যথায় এর কোনো প্রয়োজনই থাকত না। আর প্রথম প্রকারের উদ্দেশ্য যেহেতু বিধান আহরণ করা, তাই আলোচনা হয় হয় স্বয়ং আহরণ পদ্ধতি সম্পর্কে—যা হলো ইজতিহাদ, নতুবা যা থেকে বিধান আহরণ করা হয় তা সম্পর্কে। এটি হয় তাদের পরস্পর বিরোধপূর্ণ হওয়ার বিবেচনায়—যা হলো অগ্রাধিকার প্রদান, অথবা তা না হওয়ার বিবেচনায়—যা হলো শ্রুতিগত দলিলসমূহ।


তাঁর উক্তি: (এবং সীমাবদ্ধ); জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের মত হলো যে, উসুল শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো শ্রুতিগত দলিলসমূহ। কারণ বিরোধের সময় অগ্রাধিকার প্রদানের পর ইজতিহাদের পদ্ধতিতে দলিলসমূহের মাধ্যমে বিধান প্রমাণের অবস্থা সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়। এই বিবেচনায় এর অংশগুলো হলো দলিলসমূহ, ইজতিহাদ এবং অগ্রাধিকার প্রদান সংক্রান্ত আলোচনা। তবে তাঁদের কেউ কেউ মনে করেছেন যে, প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বিধানের অবস্থার দিকে ফিরে যায়। ফলে তিনি এর আলোচ্য বিষয় হিসেবে দলিল এবং বিধানসমূহকে নির্ধারণ করেছেন এবং অধ্যায়গুলো চারটি হয়েছে। সাধারণত উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এমন কিছু আলোচনার মাধ্যমে শুরু করার রেওয়াজ রয়েছে যা উল্লিখিত মূল উদ্দেশ্যসমূহের বহির্ভূত, যেগুলোকে তাঁরা প্রারম্ভিক আলোচনা বলে অভিহিত করেন এবং যা এর অংশ হিসেবে গণ্য হয়...
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৪)

الكتاب دون العلم، فمن هنا ذهب جمهور الشارحين إلى أن ضمير ينحصر للمختصر دون العلم على ما ذكره الشارح العلامة الشيرازى؛ لأن المبادئ المذكورة من أجزاء الكتاب وليست من أجزاء العلم وجوزه الشارح المحقق بطريق التغليب حيث جعل الأمور التى أكثرها أجزاء للعلم أجزاء له، على أن من المبادئ ما هو أجزاء بالحقيقة كالتصورات والتصديقات المأخوذة منها مما منه الاستمداد فإطلاق المبادئ على الأمور المذكورة أيضًا تغليب، ويحتمل أن يكون بالمعنى اللغوي لأنه قد ابتدئ بها قبل الشروع فى المقاصد، ثم لا يخفى أن جعل الأمور المذكورة من أجزاء العلم أو المختصر ليس على ظاهره إذ الجزء هو التصورات والتصديقات أو المباحث المتعلقة بالأدلة السمعية مثلًا لا هى نفسها، وبهذا الاعتبار يندرج فى الأدلة السمعية نفى حجية قول الصحابي والاستحسان والمصالح المرسلة وفي الاجتهاد بحث التقليد والإفتاء والاستفتاء، وفي الترجيح حكم الوقف والتخيير وبهذا يظهر أنه لو جعل ضمير ينحصر لما يبحث فى المختصر أو العلم وكان حصر الكلى فى الجزئيات لم يبعد والأمدى جعل كتابه على أربع قواعد الأولى فى تحقيق مفهوم أصول الفقه وتعريف وضوعه وغايته ومسائله وما منه استمداده وتصوير مبادئه فأراد بالمبادئ ما هو المصطلح من التصورات والتصديقات التى ينبنى عليها المسائل ولم يتعرض المصنف لبيان موضوعية الومضوع لطول المباحث المتعلقة به مع كونه خارجًا عن العلم وأورد ما هو من أجزاء العلم أعنى تعريف ما هو الموضوع سنن الكتاب والسنة والإجماع والقياس كلًا فى بابه لشدة ارتباطه بالمسائل، وفسر الشارح الاستمداد على وجه يتناول ما هو من المقدمات أعنى بيان أنه من أى علم يستمد وبها هو من المبادئ أعنى التصورات التى تنبنى عليها المسائل.

قوله: (بل يتوقف عليه ذلك) أى المقصود بالذات يعنى أنه يفيد زيادة بصيرة فى تحصيله واقتدار عليه لا بمعنى امتناع التحصيل بدونه، للقطع بأن حد العلم وفائدته واستمداده ليست كذلك.

قوله: (لأن المقصود) أى الغرض الأصلى من الفن هو استنباط الأحكام وإلا فمقاصد الفتن مسائله.

قوله: (استقرائى) أى على تشبيه تتبع الأجزاء بتتبع الجزئيات، أو على أن الأمور المذكورة جزئيات للجزء وإن كانت أجزاء للعلم أو الكتاب، فكأنه قال كل

কিতাব ইলমের বাইরে, এখান থেকেই অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, 'সীমাবদ্ধ' শব্দটির সর্বনামটি সংক্ষিপ্তসারটির (মুখতাসার) দিকে ফিরেছে, ইলমের দিকে নয়, যেমনটি আল্লামা শিরাজি উল্লেখ করেছেন। কারণ উল্লিখিত মূলনীতিসমূহ কিতাবের অংশ, ইলমের অংশ নয়। তবে গবেষক (মুহাক্কিক) ব্যাখ্যাকার প্রাধান্য প্রদানের (তাগলিব) পদ্ধতিতে একে বৈধ বলেছেন, যেখানে তিনি এমন বিষয়গুলোকে ইলমের অংশ করেছেন যার অধিকাংশ বিষয়ই ইলমের অংশ। তা ছাড়া মূলনীতিসমূহের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে ইলমের অংশ, যেমন ধারণা (তাসাওউরাত) ও প্রত্যয়ন (তাসদিকাত) যা থেকে ইলমের সাহায্য (ইস্তিমদাদ) নেওয়া হয়; তাই উল্লিখিত বিষয়গুলোর ওপর 'মূলনীতি' শব্দটির প্রয়োগও প্রাধান্য প্রদানের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। আর এটি শাব্দিক অর্থে হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ মূল উদ্দেশ্যের (মাকাসিদ) আলোচনার আগে এগুলো দ্বারা শুরু করা হয়েছে। এরপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, উল্লিখিত বিষয়গুলোকে ইলম বা সংক্ষিপ্তসারটির অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা তার বাহ্যিক অর্থে নয়; কেননা প্রকৃত অংশ হলো ধারণা ও প্রত্যয়নসমূহ অথবা উদাহরণস্বরূপ শ্রবণলব্ধ দলীলসমূহ সংক্রান্ত আলোচনা, স্বয়ং দলীলগুলো নয়। এই বিচারে শ্রবণলব্ধ দলীলসমূহের (আদিল্লাহ সামইয়্যাহ) আলোচনার মধ্যে সাহাবীর বক্তব্যের প্রমাণযোগ্যতা অস্বীকার করা, ইসতিহসান এবং মাসালিহে মুরসালা অন্তর্ভুক্ত হয়; ইজতিহাদের আলোচনায় তাকলীদ, ইফতা ও ইসতিফতা অন্তর্ভুক্ত হয়; এবং প্রাধান্য প্রদানের (তারজিহ) আলোচনায় ওয়াকফ ও এখতিয়ারের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়। এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, যদি 'সীমাবদ্ধ' এর সর্বনামকে সংক্ষিপ্তসারে বা ইলমে আলোচিত বিষয়সমূহের দিকে ফেরানো হয় এবং ব্যাপক বিষয়ের (কুল্লি) সীমাবদ্ধতা তার খণ্ডাংশসমূহে (জুযইয়্যাত) করা হয়, তবে তা অবাস্তব হবে না। ইমাম আমিদি তার কিতাবকে চারটি মূল ভিত্তির ওপর সাজিয়েছেন: প্রথমটি উসূলে ফিকহের ধারণার বিশ্লেষণ, এর আলোচ্য বিষয়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মাসআলাসমূহ, যেখান থেকে এর সাহায্য নেওয়া হয় তার পরিচয় এবং এর মূলনীতিসমূহের স্বরূপ বর্ণনা। তিনি মূলনীতি বলতে পারিভাষিক সেই ধারণা ও প্রত্যয়নসমূহকে বুঝিয়েছেন যার ওপর মাসআলাসমূহ প্রতিষ্ঠিত। আর গ্রন্থকার আলোচ্য বিষয়ের (মাওযু) আলোচ্য হওয়ার কারণ বর্ণনার দিকে যাননি, কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা দীর্ঘ এবং তা ইলমের বহির্ভূত। তবে তিনি যা ইলমের অংশ তা উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস—যা মূলত এই ইলমের আলোচ্য বিষয়—সেগুলোর সংজ্ঞা তিনি নিজ নিজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন কারণ মাসআলাসমূহের সাথে এগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাখ্যাকার সাহায্য গ্রহণ (ইস্তিমদাদ) শব্দটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা ভূমিকার বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে, অর্থাৎ এটি বর্ণনা করা যে এই শাস্ত্র কোন ইলম থেকে সাহায্য গ্রহণ করে এবং যা মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ সেই ধারণাগুলো যার ওপর মাসআলাসমূহ নির্মিত।

তাঁর বক্তব্য: (বরং এটি তার ওপর নির্ভরশীল): অর্থাৎ যা মূলত উদ্দেশ্য; বুঝাতে চাচ্ছেন যে এটি তা অর্জনের ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করে এবং এর ওপর সক্ষমতা দান করে। এর অর্থ এটি নয় যে এটি ছাড়া অর্জন করা অসম্ভব। কারণ এটি নিশ্চিত যে ইলমের সংজ্ঞা, এর উপকারিতা ও এর উৎসসমূহ তেমন (অপরিহার্য) নয়।

তাঁর বক্তব্য: (কারণ উদ্দেশ্য): অর্থাৎ এই শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো বিধান আহরণ করা। অন্যথায় শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো এর মাসআলাসমূহ।

তাঁর বক্তব্য: (আরোহী/অনুসন্ধানমূলক): অর্থাৎ অংশগুলো অনুসরণের বিষয়টিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ (জুযইয়্যাত) অনুসরণের সাথে তুলনা করার ভিত্তিতে, অথবা এই ভিত্তিতে যে উল্লিখিত বিষয়গুলো হলো অংশের ক্ষুদ্রাংশ, যদিও সেগুলো ইলম বা কিতাবের অংশ। যেন তিনি বলেছেন প্রতিটি
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৫)

ما هو جزؤه فهو غير خارج عما ذكر لأن هذا الجزء ذاك وكذلك.

قوله: (فقد ركب شططًا) أى تجاوز حدًا لأنه لا ينحصر عقلًا ولا يتم بالترديد بين النفى والإثبات، إذ يرد المنع على الشق الأخير.

قوله: (ويسهل الاستقراء) بأن يضبط له جميع جزئيات ما هو جزء من العلم أو الكتاب من غير افتقاره إلى النظر فى تفاصيله.

قوله: (وإلا فلا حاجة إليه أصلًا) بمعنى أنه لا يفيد فائدة تتعلق بالمقصود فلا يناسب تصديره به، لما عرفت من أن توقفا المقصود على مثل هذه المبادئ واحتجاجه إليها ليس بمعنى امتناع حصوله بدونها، ولذا قال فى بيان مثل هذا الاحتياج ليكون على بصيرة فى طلبه ليزداد جد طالبه ونحو ذلك.


قوله: (ينحصر المختصر أو العلم) يعنى أن ضمير ينحصر إما أن يرجع إلى المختصر المدلول عليه بقوله: اختصرت، لا إلى المختصر المذكور لفظًا فإنه كتابه المسمى بالمنتهى الذي اختصره من الأحكام ثم اختصر هذا الكتاب منه، وإما أن يرجع إلى العلم أى أصول الفقه لتقدمه فى الذكر، وعلى التقديرين هو من تقسيم الكل إلى أجزائه وهو تفصيله وتحليله إليها فلا يصدق المقسم على أقسامه ضرورة أن الكل لا يحمل على الجزء من حيث هو جزؤه ويكون كل قسم داخلًا فى ماهية المقسم ويحتمل أن يقدر ما يتضمنه الكتاب أو العلم كما أشار إليه، فيجعل من تقسيم الكلى إلى جزئياته وهو أن يضم إليه قيود متباينة أو متخالفة غير متباينة فيتحصل بانضمام كل قيد قسم منه؛ فعلى الأول كان التقسيم حقيقيًا يتباين فيه الأقسام، وعلى الثاني اعتباريًا تتصادق فيه وأيًا ما كان ففيه ضم وتركيب، والمقسم صادق على أقسامه وهو جزء لمفهومها، فإذا جعل الضمير للمختصر وهو المختار لعدم الاحتياج إلى الاعتذار، ولأن الأنسب على الوجه الأخير تأخيره عن تعريف علم الأصول ونبه على ذلك بتقديمه أولًا والاقتصار عليه ثانيًا فلا إشكال لأن الأمور الأربعة أجزاء للمختصر وجزئيات لما يتضمنه وأما الخطبة فلا اعتداد بخروجها وإن جعل للعلم توجه ما قيل من أن مبادئ العلم بمعنى ما يتوقف عليه ذات الشئ المقصود منه أعنى التصورات والتصديقات التى يبتنى عليها إثبات مسائله قد تعد جزءًا منه، وأما إذا أطلقت على ما يتوقف عليه ذاتًا أو تصورًا أو

যা এর অংশ, তা উল্লিখিত বিষয়ের বাইরে নয়; কারণ এই অংশটিই হলো সেই বস্তু এবং অনুরূপভাবে।

তাঁর বক্তব্য: (নিশ্চয়ই সে সীমা লঙ্ঘন করেছে) অর্থাৎ সে সীমা অতিক্রম করেছে। কারণ, এটি বুদ্ধিগতভাবে সীমাবদ্ধ নয় এবং নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার মধ্যে আবর্তিত হওয়ার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয় না; যেহেতু শেষোক্ত অংশের ওপর আপত্তি আপতিত হয়।

তাঁর বক্তব্য: (এবং আরোহ পদ্ধতি সহজ হয়ে যায়) এভাবে যে, জ্ঞান বা কিতাবের অংশীভূত সকল খুঁটিনাটি বিষয় এর জন্য সুসংবদ্ধ হয়ে যায়, এর বিস্তারিত আলোচনার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই।

তাঁর বক্তব্য: (অন্যথায়, এর মোটেও প্রয়োজন নেই) অর্থাৎ এটি উদ্দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো উপকার প্রদান করে না, তাই একে প্রারম্ভিকা হিসেবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। কেননা আপনি জেনেছেন যে, এ জাতীয় মূলনীতিগুলোর ওপর উদ্দেশের নির্ভরশীলতা এবং এগুলোর মুখাপেক্ষী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এগুলো ছাড়া উদ্দেশ্য অর্জন অসম্ভব। এই কারণেই তিনি এই প্রয়োজনীয়তার বর্ণনায় বলেছেন: যাতে অন্বেষণকারী তার অন্বেষণে অন্তর্দৃষ্টির ওপর থাকে, তার প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পায় এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়।


তাঁর বক্তব্য: (সংক্ষিপ্তসার বা জ্ঞান সীমাবদ্ধ হয়) অর্থাৎ 'সীমাবদ্ধ হওয়া' ক্রিয়ার সর্বনামটি হয় 'মুখতাসার' (সংক্ষিপ্তসার)-এর দিকে ফিরবে যা তাঁর কথা 'আমি সংক্ষিপ্ত করেছি' দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে; শব্দত উল্লিখিত 'মুখতাসার'-এর দিকে নয়, কারণ সেটি হলো 'আল-মুনতাহা' নামক তাঁর কিতাব যা তিনি 'আল-আহকাম' থেকে সংক্ষেপ করেছেন এবং পরবর্তীতে এই কিতাবটি তা থেকে সংক্ষেপ করেছেন। অথবা এটি 'ইলম' বা জ্ঞানের দিকে ফিরবে, অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ, যেহেতু এটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। উভয় অবস্থাতেই এটি 'সমগ্র' (কুল্ল)-কে তার 'অংশসমূহ' (আজযা)-তে বিভক্ত করার অন্তর্ভুক্ত, যা হলো মূলত এর বিস্তারিত বিবরণ এবং বিশ্লেষণ। ফলে বিভাজকটি (মুকাসসিম) তার বিভাজিত অংশগুলোর (আকসাম) ওপর প্রযোজ্য হয় না; কারণ আবশ্যিকভাবেই 'সমগ্র' তার 'অংশ' হিসেবে অংশের ওপর প্রযুক্ত হতে পারে না, এবং প্রতিটি অংশ বিভাজকের সারবত্তার অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং এটিও সম্ভব যে, কিতাব বা জ্ঞান যা ধারণ করে তাকে উহ্য ধরা হবে, যেমনটি তিনি ইঙ্গিত করেছেন। ফলে এটি হবে 'সামগ্রিক' (কুল্লি)-কে তার 'ব্যষ্টিক' (জুযইইয়াত)-এ বিভক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো এর সাথে ভিন্ন ভিন্ন অথবা পরস্পর বিরোধী নয় এমন ভিন্ন ভিন্ন শর্ত বা অনুষঙ্গ যুক্ত করা; ফলে প্রতিটি অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার একটি করে অংশ অর্জিত হয়। প্রথম অবস্থায় বিভাজনটি হবে প্রকৃত, যাতে অংশগুলো একে অপর থেকে পৃথক হয়। আর দ্বিতীয় অবস্থায় তা হবে বিবেচনাগত বা তাত্ত্বিক, যাতে অংশগুলো একে অপরের ওপর প্রযোজ্য হয়। যা-ই হোক না কেন, এতে সমন্বয় ও গঠন বিদ্যমান থাকে। আর বিভাজকটি তার বিভাজিত অংশগুলোর ওপর সত্য হয় এবং তা অংশগুলোর ধারণার একটি অংশ। যদি সর্বনামটিকে 'মুখতাসার'-এর দিকে ফেরানো হয়—যা কোনো ওজরের মুখাপেক্ষী না হওয়ার কারণে পছন্দনীয় মত, এবং যেহেতু শেষোক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞার পরে এটি উল্লেখ করাই অধিকতর উপযুক্ত ছিল এবং তিনি প্রথমে এটিকে অগ্রে এনে এবং পরবর্তীতে এর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন—তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ চারটি বিষয় মুখতাসারের অংশ এবং এটি যা অন্তর্ভুক্ত করে তার ব্যষ্টিক রূপ। আর খুতবা বা ভূমিকা এর বাইরে থাকাকে ধর্তব্য ধরা হবে না। আর যদি সর্বনামটিকে 'ইলম' বা জ্ঞানের দিকে ফেরানো হয়, তবে সেই বক্তব্যটি প্রাসঙ্গিক হবে যে, জ্ঞানের মূলনীতিসমূহ—অর্থাৎ উদ্দিষ্ট বিষয়ের সত্তা যার ওপর নির্ভরশীল, তথা সেই ধারণা ও প্রত্যয়নসমূহ যার ওপর এর মাসআলাসমূহের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত—সেগুলো জ্ঞানের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আর যদি একে এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার ওপর সত্তাগত বা ধারণাগতভাবে নির্ভরশীলতা রয়েছে অথবা
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৬)

شروعًا كما فعله المصنف فليست بتمامها من أجزائه، فإن تصور الشئ ومعرفة غايته خارجان عنه ولا من جزئيات ما يتضمنه حقيقة لدخوله فيه قطعًا، وجوابه أن بعضها أعنى الاستمداد مع كثرته جزء منه وقد انضمت إلى الأجزاء الثلاثة فلا يبعد تغليبها عليها مجازًا، وما قيل من أنه فسر الشارح الاستمداد على وجه يتناول ما هو خارج عن العلم أعنى بيان أنه من أى علم يستمد، وما هو داخل فيه أعنى ما يبتنى عليه مسائله من التصورات والتصديقات فتوهم بل صرح بأن بيانه على قسمين إجمالى وتفصيلى، وما ظن من وجوب تقييد العلم بالمورد فى المختصر على تقدير رجوع الضمير إليه لجواز اشتماله على أهلية الموضوع فإن الموضوعات من أجزاء العلوم، وعلى الخاتمة فبعد ما يلزمه من ركاكة المعنى يرد عليه أن الأول داخل فى المبادئ بالمعنى المذكور وإن لم يذكر فيها كبعض المسائل فى سائر الأجزاء، وأما الخاتمة الخارجة عن الأربعة فليست جزءًا حقيقة ولا مثلًا له فى التوقف عليه.

قوله: (الثانى: الأدلة السمعية) يريد أن مباحثها المتعلقة باستنباط الأحكام الخمسة من الأجزاء لا الأدلة أنفسها فيندرج فيها أحكام المقبولة منها وهي خمسة؛ الأربعة المشهورة والاستدلال وأحوال المردودة منها وهي ما عداها وهكذا الاجتهاد نفسه ليس جزءًا من العلم أو الكتاب بل القواعد المتعلقة به وبما يقابله أعنى التقليد وبما يستندى إليهما كالإفتاء والاستفتاء وكذا الترجيح فإن الجزء أحكام يتعلق به أو بما يتوقف عليه من التعارض أو بما يعادله من الوقف والتخيير ولو جعلت هذه الألفاظ فى عبارة المتن كأنها أسماء لتلك المباحث لم يبعد.

قوله: (لأن المقصود استنباط الأحكام) أى المقصود بالذات من الفن حيث ذكر فيما وقع إزاء المبادئ المقصودة فى الجملة فما قيل من أنه علم آلى والغرض منه الاستنباط المذكور فيكون حصول ذاته وأجزائه مقصودًا بالذات أولًا وحصول غرضه مقصودًا ثانيًا كسائر ما له غاية، وفي جعل الاستنباط مقصودًا فى موضعين من هذا الفصل وغرضًا فى آخر وجعل ما يتضمنه الكتاب غير المبادئ أعنى المسائل مقصودًا بالذات تنبيه على ما ذكر فمع سقوطه فاسد فى نفسه، لا يقال: كون الاستنباط مقصودًا بالذات وغرضًا منه، يستلزم اتحاد غاية الشئ معه لأنا نقول: المقاصد قد تترتب فيكون أمر وسيلة إلى ثانٍ يتوسل به إلى ثالث فالوسط مقصود

শুরু করার খাতিরে যেমনটি গ্রন্থকার করেছেন, তবে এগুলো সম্পূর্ণরূপে শাস্ত্রের অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা কোনো বিষয়ের স্বরূপ কল্পনা করা এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সেই বিষয়টির বহির্ভূত বিষয়; আর এগুলো শাস্ত্রের অন্তর্গত বিষয়াবলির প্রকৃত অংশও নয়, কারণ সেগুলো নিশ্চিতভাবেই এর অন্তর্ভুক্ত। এর উত্তর হলো, এগুলোর কিছু অংশ—অর্থাৎ অধিক চর্চিত 'ইসতিমদাদ' (সাহায্য গ্রহণ বা উৎস)—এরই অংশবিশেষ। এটি অন্য তিনটি অংশের সাথে যুক্ত হয়েছে, তাই রূপক অর্থে একে এগুলোর ওপর প্রাধান্য দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আর যা বলা হয়েছে যে, ব্যাখ্যাকারক 'ইসতিমদাদ' শব্দটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা শাস্ত্রের বহির্ভূত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে—অর্থাৎ এটি কোন শাস্ত্র থেকে উদ্ভূত হয়েছে তার বর্ণনা—এবং যা শাস্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে—অর্থাৎ যেসব তাসাওউর (ধারণা) ও তাসদিক (প্রত্যয়ন)-এর ওপর এর মাসআলাগুলো দণ্ডায়মান—তা একটি ভ্রম মাত্র। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এর বর্ণনা দুই প্রকার: সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত। আর 'মুখতাসার' গ্রন্থে যদি সর্বনামকে শাস্ত্রের দিকে ফেরানো হয়, তবে বিষয়বস্তুর যোগ্যতা বা পারদর্শিতাকে শামিল করার জায়েয হওয়ার কারণে শাস্ত্রকে নির্দিষ্ট করার যে আবশ্যকতা ধারণা করা হয়েছে, তা অসার; কারণ বিষয়বস্তুসমূহ শাস্ত্রেরই অংশ। আর পরিশিষ্টের (খাতেমা) ক্ষেত্রে বলা যায়, এর অর্থের অসারতা ছাড়াও এটি আপত্তির সম্মুখীন যে, প্রথম বিষয়টি উল্লিখিত অর্থে ভূমিকার (মাবাদি) অন্তর্ভুক্ত, যদিও অন্যান্য অংশের কিছু মাসআলার মতো এখানে তা উল্লেখ করা হয়নি। আর চার বিষয়ের বহির্ভূত যে পরিশিষ্ট, তা প্রকৃতপক্ষে শাস্ত্রের অংশ নয় এবং বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রেও তার সমতুল্য নয়।

তাঁর বক্তব্য: (দ্বিতীয়ত: শ্রুতিনির্ভর দলীলসমূহ): তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, পাঁচটি বিধান আহরণের সাথে সংশ্লিষ্ট এগুলোর গবেষণালব্ধ বিষয়গুলোই শাস্ত্রের অংশ, স্বয়ং দলীলগুলো নয়। সুতরাং এর অধীনে গ্রহণযোগ্য দলীলসমূহের বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত হবে, যা পাঁচটি: প্রসিদ্ধ চারটি এবং ইস্তিদলাল (দলীল উপস্থাপন)। আর এর অন্তর্ভুক্ত হবে প্রত্যাখ্যাত দলীলসমূহের অবস্থা, যা উল্লিখিতগুলো ব্যতীত অন্য সব। একইভাবে ইজতিহাদ স্বয়ং এই শাস্ত্র বা গ্রন্থের অংশ নয়, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ এবং এর বিপরীতে যা রয়েছে—অর্থাৎ তাকলীদ—এবং যা এই দুইয়ের ওপর নির্ভরশীল যেমন ফতোয়া প্রদান ও ফতোয়া তলব করা—তা শাস্ত্রের অংশ। অনুরূপভাবে তারজীহ বা প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টিও শাস্ত্রের অংশ; কেননা এই অংশটি হচ্ছে এমন কিছু বিধান যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা যা তার ওপর নির্ভরশীল যেমন বৈপরীত্য (তাআ’রুয), অথবা যা তার সমান্তরাল যেমন স্থগিত রাখা (ওয়াকফ) ও ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ রাখা। যদি মূল পাঠের এই শব্দগুলোকে সেই গবেষণালব্ধ বিষয়গুলোর নাম হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা অযৌক্তিক হবে না।

তাঁর বক্তব্য: (কেননা উদ্দেশ্য হলো বিধানসমূহ আহরণ করা): অর্থাৎ শাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য। যেহেতু এটি সেই ভূমিকার বিপরীতে উল্লিখিত হয়েছে যা সামগ্রিকভাবে উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য। সুতরাং যা বলা হয়েছে যে এটি একটি সহায়ক বিদ্যা এবং এর লক্ষ্য হলো উল্লিখিত আহরণ প্রক্রিয়া, ফলে শাস্ত্রের সত্তা ও এর অংশসমূহের অর্জিত হওয়া হবে প্রাথমিকভাবে মূল উদ্দেশ্য এবং এর লক্ষ্যের অর্জিত হওয়া হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্য, যেমনটি উদ্দেশ্যসম্পন্ন অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর এই অনুচ্ছেদের দুই স্থানে আহরণকে 'মাকসুদ' (উদ্দেশ্য) এবং অন্য স্থানে 'গায' (লক্ষ্য) হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলিকে (ভূমিকা ব্যতীত অর্থাৎ মাসআলাসমূহ) মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা—উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি একটি সংকেত মাত্র। সুতরাং সেই আপত্তিটি ভিত্তিহীন হওয়ার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল। এমনটি বলা যাবে না যে: আহরণ প্রক্রিয়াটি মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য হওয়া একই জিনিসের পরিণাম বা উদ্দেশ্য অভিন্ন হওয়াকে আবশ্যক করে; কেননা আমরা বলি: উদ্দেশ্যসমূহ ক্রমানুসারে সজ্জিত হতে পারে, ফলে একটি বিষয় দ্বিতীয় কোনো বিষয়ের মাধ্যম হতে পারে, যা আবার তৃতীয় কোনো বিষয়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে; এমতাবস্থায় মধ্যবর্তী বিষয়টিও উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৭)

بالذات نظرًا إلى أحد طرفيه ومقصود بالغير نظرًا إلى الآخر، كما أن مبادئ هذا الفن وسائل إلى مسائله التى هي ذرائع الاستنباط فصح جعله مقصودًا بالذات من العلم وهو ظاهر وغرضًا من القصود بالذات فيه الذي هو المسائل بالنسبة إلى المبادئ.

قوله: (لأن العقل لا مدخل له فى الأحكام عندنا) أى فى الأحكام الخمسة وما ينتمى إليها عند الأشاعرة؛ لابتنائه على قاعدة الحسن والقبح العقليين ولم يرد أن العاقل لا حكم له أصلًا، كيف وقد صرح بأن الأحكام قد تؤخذ لا من الشرع.

قوله: (إذ الأدلة الظنية قد تتعارض) لجواز تخلف مدلولاتها عنها ولا يمكن ذلك فى القطعيات فلو تعارضت يلزم اجتماع المتنافيات وقد أفاد بعضهم أن فى قوله: فلا بد من معرفة أحكامه وشرائطه، من أنه صواب دائمًا أو لا وماذا يعتبر فيه من العلوم، وقوله: وهو بمعرفة جهاته، دلالة على أن الاجتهاد والترجيح ليسا جزءًا من العلوم بل هو قواعدهما ولم يتعرض لمثله فى الأدلة اكتفاء.

قوله: (واعلم أن الحصر) الحصر إما عقلي مردد بين النفى والإثبات يجزم العقل بمجرد ملاحظة مفهومه بالانحصار، وإما استقرائى أى لا يكون كذلك فيستند انحصاره إلى التتبع والاستقراء سواء كان فى الجزئيات كانحصار الدلالة اللفظية فى الثلاث أو فى الأجزاء كانحصار الجسم المركب فى أجزائه من العناصر ولم يرد به ما يقابل التمثيل، والقياس إذ هو استدلال بأحكام الجزئيات على حكم الكلى، والمقصود من القسمة تحصيل الأقسام لا تعدية حكمها إلى مقسمها فإنها إنما تتصور بعد تحصيلها ومعرفة أحكامها فمن قال ذلك على تشبيه تتبع الأجزاء بتتبع الجزئيات، أو على أن الأمور المذكورة جزئيات جزء العلم أو الكتاب فكأنه قيل كل ما هو جزؤه فهو غير خارج عما ذكر، لأن هذا الجزء وذاك كذلك وتابعه غيره قائلًا يحتمل أن يراد ما هو المتعارف أى الاستدلال بالجزئى على الكلى، وأن يراد معناه لغة ليتناول الاستدلال بالأجزاء على الكل فقد ركب شططًا كمن رام حصرًا عقليًا، ثم وجه التتبع ها هنا أنه لما كان علمًا متوسطًا بين الأحكام وأدلتها فى الاستنباط فلا بد أن يتعلق بأحوالها وما ينتسب إليها من تلك الحيثية وقد استقرئت فلم يوجد غيرها مع جوازه عقلًا.

قوله: (إلا أن يقصد) كل قسمة استقرائية يمكن فيها الترديد بين النفى والإثبات

এর এক প্রান্তের বিচারে এটি স্বয়ংক্রিয়াভাবে উদ্দেশ্য এবং অন্য প্রান্তের বিচারে অন্য কিছুর মাধ্যমে উদ্দেশ্য। যেমন এই শিল্পের মূলনীতিসমূহ হলো এর মাসআলাসমূহের জন্য মাধ্যম, যা মূলত মাসআলা উদ্ভাবনের উপায়; সুতরাং একে বিদ্যার স্বকীয় উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা সঠিক এবং এটি স্পষ্ট; আর একে মূল মাসআলাসমূহের সাপেক্ষে উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা যায়, যা মূলনীতির তুলনায় লক্ষ্যবস্তু।

তাঁর বাণী: (কেননা আমাদের নিকট বিধানের ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই) অর্থাৎ আশআরীদের মতে পাঁচটি বিধান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে; কারণ এটি বিবেকজাত ভালো-মন্দের নীতির ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। তিনি একথার দ্বারা এটি বোঝাতে চাননি যে, বিবেকবানের আদৌ কোনো বিধান দেওয়ার ক্ষমতা নেই; তা কীভাবে হতে পারে যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বিধানসমূহ কখনো কখনো শরীয়ত ছাড়াও গ্রহণ করা যেতে পারে।

তাঁর বাণী: (যেহেতু ধারণাভিত্তিক দলিলসমূহের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে) কারণ দলিল থেকে সেগুলোর নির্দেশিত বিষয়ের বিচ্যুতি ঘটা সম্ভব, কিন্তু নিশ্চিত দলিলের ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। কেননা নিশ্চিত দলিলসমূহ পরস্পর বিরোধী হলে পরস্পরবিরোধী দুই বিষয়ের একত্র হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কথা: "সুতরাং এর বিধান ও শর্তাবলী জানা আবশ্যক", এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি কি সর্বদা সঠিক হয় নাকি হয় না এবং এতে কোন কোন জ্ঞানকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। আর তাঁর কথা: "তা হলো এর দিকসমূহ জানার মাধ্যমে", এটি একথার প্রমাণ যে ইজতিহাদ ও তারজীহ (প্রাধান্য দান) বিজ্ঞানের অংশ নয় বরং এগুলো বিজ্ঞানের মূলনীতি। তিনি দলিলের ক্ষেত্রে এর অনুরূপ আলোচনার অবতারণা করেননি সংক্ষেপ করার জন্য।

তাঁর বাণী: (জেনে রাখুন যে সীমাবদ্ধতা) সীমাবদ্ধতা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক যা নেতিবাচক ও ইতিবাচকতার মধ্যে আবর্তিত হয়, যেখানে বিবেক কেবল এর ধারণা অনুধাবন করেই সীমাবদ্ধতার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়। অথবা তা হয় অনুসন্ধানমূলক অর্থাৎ যা পূর্বের মতো নয়, বরং যার সীমাবদ্ধতা অনুসরণ ও অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল; চাই তা আংশিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে হোক যেমন শাব্দিক নির্দেশনার তিন প্রকারে সীমাবদ্ধ হওয়া, অথবা অঙ্গীভূত অংশসমূহের ক্ষেত্রে হোক যেমন যৌগিক দেহের উপাদানসমূহে সীমাবদ্ধ হওয়া। এখানে এটি দ্বারা উদাহরণ ও কিয়াসের বিপরীত অর্থ নেওয়া হয়নি, কারণ কিয়াস হলো আংশিক বিষয়ের বিধান দ্বারা সামগ্রিক বিষয়ের বিধানের ওপর প্রমাণ পেশ করা। আর বিভাজনের উদ্দেশ্য হলো প্রকারসমূহ অর্জন করা, প্রকারসমূহের বিধানকে মূল বিভাজিত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা নয়; কেননা প্রকারগুলো অর্জিত হওয়া এবং সেগুলোর বিধান জানার পরেই বিভাজনের ধারণা করা সম্ভব। সুতরাং যে ব্যক্তি অংশ অনুসরণের বিষয়টিকে আংশিক বিষয় অনুসরণের সাথে সাদৃশ্য দিয়ে এটি বলেছেন, অথবা এই ভিত্তিতে যে উল্লেখিত বিষয়গুলো জ্ঞান বা কিতাবের অংশের অন্তর্ভুক্ত আংশিক বিষয়, তবে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে—বলা হলো যা কিছু এর অংশ তা উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে নয়, কারণ এই অংশটিও এমন এবং ওই অংশটিও তেমন। অন্য একজন তাকে অনুসরণ করে বলেছেন যে, সম্ভবত এখানে প্রচলিত অর্থ অর্থাৎ আংশিক দ্বারা সামগ্রিকের ওপর প্রমাণ পেশ করা উদ্দেশ্য, অথবা এর আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য যাতে অংশের মাধ্যমে সমগ্রের ওপর প্রমাণ পেশ করাকে শামিল করে; তবে তিনি সীমালঙ্ঘন করেছেন যেমনটি কেউ বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা দাবি করলে করে থাকে। অতঃপর এখানে অনুসন্ধানের প্রেক্ষিত হলো—যেহেতু এটি বিধান এবং সেগুলোর দলিলের মাঝে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি মধ্যস্থতাকারী বিজ্ঞান, তাই সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এর অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সাথে এর সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। আর তা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে বুদ্ধিগতভাবে অন্য কিছু সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও এগুলো ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।

তাঁর বাণী: (তবে যদি উদ্দেশ্য করা হয়) প্রতিটি অনুসন্ধানমূলক বিভাজনে নেতিবাচক ও ইতিবাচকতার মধ্যে আবর্তন সম্ভব।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৮)

ابتداء فيقلل الانتشار ويسهل الاستقراء ويبقى القسم الأخير مرسلًا، (فيقال: ما يتضمنه الكتاب) أو العلم، (إما أن يكون مقصودًا بالذات) فى العلم (أو لا) الثاني إما أن يتوقف عليه أولًا، الثاني ساقط عن درجة الاعتبار استحسانًا إذ لا حاجة إليه فى نفس المقصود أصلًا وإن كان منه ما يعد خاتمة وتذييلًا، (والأول) أى المقصود بالذات، (لما كان الغرض منه استنباط الأحكام) فما يتوقف عليه هذا الغرض إما مباحث تتعلق بأحوال نفس الاستنباط أو لا، والثاني إما أحكام ما تستنبط هي منه باعتبار تعارضها أو لا، وهذا الأخير يحتمل قسمين أحوال الأدلة باعتبار تعارضها، وما ليس كذلك وله مدخل فى الاستنباط غايته أنه لم يوجد ولو قيل: ما يتضمنه الكتاب إما أن لا يكون مقصودًا بالذات بل يتوقف عليه ذلك أو لا يكون كذلك، والثاني إما أن يكون مباحث الاستنباط. . . إلخ. لخرج المبادئ وحدها ويبقى الإرسال فى القسم الأخير وكان أشبه بالحصر العقلى، وإن كان بها ذكره أوضح فى التفهيم ثم إن أحوال الاجتهاد والترجيح راجعة فى الحقيقة إلى الأدلة السمعية فالمقصود بالذات أحوالها من حيث دلالتها على الأحكام إما مطلقًا، وإما باعتبار تعارضها أو استنباطها منها، فتكون هى موضوع هذا العلم ومنهم من قال: هو الأدلة مع الاجتهاد والترجيح نظرًا إلى الظاهر، وذهب بعض العلماء إلى أن الموضوع هو الأدلة السمعية والأحكام إذ قد يبحث فيه عن أعراض الحكم أيضًا مثل أن الوجوب موسع أو مضيق، وعلى الأعيان أو على الكفاية إلى غير ذلك، ورد بأن مرجعه بأن الأمر مثلًا يدل على الوجوب الموسع أو المضيق، وإذا عرف أحوال الأدلة الإجمالية على الوجه الكلى من الجهات المذكورة احتيج فى استنباط الأحكام من الأدلة التفصيلية إلى استخراج أحوالها الجزئية المندرجة تحت القواعد الكلية كسائر الفروع من أصولها.


قوله: (ينحصر المختصر أو العلم) إذا وقع المختصر مقسمًا فالأقسام الأربعة معان مخصوصة مذكورة فى الكتاب، وإن وقع العلم مقسما فالأقسام الأربعة معان بعضها مذكور فى الكتاب كما سيجيء التصريح بذلك ومن جعل الأقسام الأربعة فى كل من تقسيم المختصر والعلم تلك المعانى المذكورة فى الكتاب من غير فرق بين أن يكون القسم مختصرًا أو بين أن يكون علمًا فقد ظن وجوب تقييد العلم

প্রারম্ভে, যা বিষয়ের বিস্তৃতি কমিয়ে দেয় এবং বিষয়ের অনুসন্ধান সহজতর করে, আর শেষ অংশটি বিন্যস্ত না থেকে সাধারণ থেকে যায়। (অতঃপর বলা হয়: গ্রন্থটি) বা ইলম যা অন্তর্ভুক্ত করে, (তা হয় ইলম বা শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হবে) (অথবা হবে না)। দ্বিতীয় প্রকারটি হয় তার ওপর নির্ভর করবে অথবা করবে না। দ্বিতীয়টি গ্রহণযোগ্যতার স্তর থেকে বাদ পড়ে যাবে, কারণ মূল উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রয়োজন নেই, যদিও তার কিছু অংশ পরিশিষ্ট বা উপসংহার হিসেবে গণ্য হয়। (প্রথমটি) অর্থাৎ যা মূল উদ্দেশ্য, (যেহেতু তার লক্ষ্য হলো বিধান আহরণ করা), সুতরাং এই লক্ষ্যের ওপর যা কিছু নির্ভর করে তা হয় খোদ বিধান আহরণের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা হবে, অথবা হবে না। এবং দ্বিতীয়টি হয় এমন বিধান হবে যা থেকে আহরণ করা হয় তাদের পারস্পরিক বিরোধের প্রেক্ষিতে, অথবা তা হবে না। আর এই শেষোক্তটি দুই প্রকারের সম্ভাবনা রাখে: দলীলসমূহের অবস্থা তাদের বিরোধের প্রেক্ষিতে, এবং যা এমন নয় কিন্তু বিধান আহরণের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রয়েছে। এর চূড়ান্ত সীমা হলো যে তা পাওয়া যায়নি। আর যদি বলা হতো: গ্রন্থে যা অন্তর্ভুক্ত আছে তা হয় মূল উদ্দেশ্য হবে না বরং তার ওপর নির্ভর করবে, অথবা তেমন হবে না। আর দ্বিতীয়টি হয় বিধান আহরণের আলোচনা হবে... ইত্যাদি। তবে কেবল ভূমিকাসমূহ পৃথক হয়ে যেত এবং শেষ অংশে বিন্যাসহীনতা থেকে যেত, আর এটি বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতার অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হতো। যদিও এগুলোর উল্লেখ বোধগম্য করার ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট। অতঃপর ইজতিহাদ ও তারজীহ-এর অবস্থাসমূহ প্রকৃতপক্ষে শ্রবণনির্ভর দলীলসমূহের দিকেই ফিরে যায়। অতএব, মূল উদ্দেশ্য হলো বিধানের ওপর দলীলের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তাদের অবস্থা; চাই তা সাধারণভাবে হোক, অথবা তাদের পারস্পরিক বিরোধ কিংবা তা থেকে বিধান আহরণের প্রেক্ষিতে হোক। সুতরাং এটিই এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে এটি হলো ইজতিহাদ ও তারজীহসহ দলীলসমূহ। আবার কোনো কোনো আলিম মনে করেন যে, আলোচ্য বিষয় হলো শ্রবণনির্ভর দলীলসমূহ ও বিধানসমূহ। কারণ এতে বিধানের আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করা হয়, যেমন ওয়াজিব কি প্রশস্ত নাকি সংকীর্ণ, এবং এটি কি ব্যক্তিগত নাকি সামষ্টিক—ইত্যাদি। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, এর মূল বিষয় হলো—উদাহরণস্বরূপ ‘আমর’ বা নির্দেশ প্রশস্ত বা সংকীর্ণ ওয়াজিবের ওপর দলালত করে। আর যখন উল্লিখিত দিকগুলো থেকে সামগ্রিকভাবে দলীলসমূহের সাধারণ অবস্থাসমূহ জানা যায়, তখন বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে বিধান আহরণের জন্য সেই আংশিক অবস্থাসমূহ বের করার প্রয়োজন হয় যা মূলনীতিসমূহের অধীনে অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমনটি অন্যান্য শাখা তার মূল থেকে বের করা হয়।


তাঁর বাণী: (সংক্ষিপ্তসার বা ইলম সীমাবদ্ধ হবে): যখন ‘সংক্ষিপ্তসার’ বিভাজিত বিষয় হয়, তখন চারটি বিভাগ হলো গ্রন্থে উল্লিখিত নির্দিষ্ট কিছু অর্থ। আর যদি ‘ইলম’ বা শাস্ত্র বিভাজিত বিষয় হয়, তবে চারটি বিভাগ এমন কিছু অর্থ যার কিছু গ্রন্থে উল্লিখিত আছে, যেমনটি সামনে স্পষ্টভাবে আসবে। আর যে ব্যক্তি সংক্ষিপ্তসার ও ইলম—উভয়ের বিভাজনের ক্ষেত্রে এই চারটি বিভাগকে গ্রন্থে উল্লিখিত সেই অর্থগুলোই নির্ধারণ করেছে এবং ‘সংক্ষিপ্তসার’ হওয়া বা ‘ইলম’ হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি, সে ইলমকে সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক মনে করেছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আদুদ আলা মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসূলী ওয়া মাআহু হাশিয়াতুস সাদ ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৯)

بالمورد فى المختصر ليحصل الانحصار.

قوله: (ضرورة أن الكل لا يحمل على الجزء من حيث هو جزؤه) هذه الحيثية مانعة من صحة الحمل بين الكل والجزء سواء كان الكل محمولًا أو موضوعًا ومع قطع النظر عن تلك الحيثية قد يتحقق صدق الكل وحمله على جزئه، ولذا قيد قوله: فلا يصدق على أقسامه بهذا القيد وإنما أعتبر هذا المانع فى تقسيم الكل إلى أجزائه وحكم بأن المقسم فى هذا التقسيم لا يصدق على أقسامه ولم يعتبره فى تقسيم الكلى إلى جزئياته مع أن ذلك المانع متحقق هنا أَيضًا إذ المقسم جزء من أقسامه فى هذا التقسيم؛ لأن تقسيم الكل إلى الأجزاء يلاحظ فيه الأجزاء من حيث هي أجزاء فالحيثية المذكورة معتبرة فى هذا التقسيم بخلاف تقسيم الكلى إلى جزئياته.

قوله: (ولأن الأنسب على الوجه الأخير) فيه نظر لأنه إذا جعل الضمير راجعًا إلى العلم يجب التوسع فى لفظ العلم على وجه يتناول الأشياء الأربعة بتمامها ليصح الانحصار وبعدما وقع التجوز فى لفظ العلم صار تعريف العلم جزءًا من قسيمه الذي هو جزء منه ولا خفاء فى أن قوله: وينحصر. . . إلخ. خارج عن العلم يذكر قبل الشروع فى الأجزاء ليحصل الضبط والبصيرة من هذا الوجه تأخير تعريف العلم أنسب وأيضًا العلم المنقسم لها معنى مجازى والتعريف للعلم المستعمل فى معناه الحقيقى فلو قدم التعريف على التقسيم يفهم منه أن التقسيم للعلم بالمعنى الحقيقى وصار فهم المعنى المجازى ضعيفًا فالعلة الظاهرة لكون الوجه الأول مختارًا هو عدم الاحتياج إلى الاعتذار.

قوله: (ذاتًا أو تصورًا أو شروعًا) فإن قلت المناسب أن يقول: ما يتوقف عليه ذاتا أو شروعًا لأن تصور العلم والتصديق بفائدته يكونان من مقدمات الشروع فينبغى أن يجعل مبادئ العلم قسمًا ومبادئ الشروع قسمًا آخر قلت: هذا التفصيل مناسب لما فعل المصنف من تقسيم المبادئ إلى ثلاثة أقسام.

قوله: (وما قيل) مرتبط بقوله: وجوابه أن بعضها مع كثرته جزء منه وحاصل الدفع أن الاستمداد الذي هو عبارة عن التصورات والتصديقات المخصوصة قد يكون بيانها على الإجمال وقد يكون على التفصيل ولا تعدد فى نفس الاستمداد بل فى بيانه.

সংক্ষেপে আলোচিত বিষয়ের মাধ্যমে, যাতে সীমাবদ্ধতা অর্জিত হয়।

তার কথা: (অবশ্যই 'সমগ্র' তার 'অংশ' হওয়ার দিক থেকে অংশের উপর আরোপিত হয় না) এই প্রেক্ষিতটি সমগ্র এবং অংশের মধ্যে আরোপ বা আরোহ (হামল) শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, চাই সমগ্রটি 'মাহমুল' (বিধেয়) হোক বা 'মাউযু' (উদ্দেশ্য) হোক। আর উক্ত প্রেক্ষিতটি বিবেচনা না করলে অংশের ওপর সমগ্রের সত্যতা এবং আরোপ সাব্যস্ত হতে পারে। একারণেই তিনি তার কথা: "সুতরাং তার বিভাগগুলোর উপর সত্য হয় না" -কে এই শর্তের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। আর এই প্রতিবন্ধকটিকে কেবল 'সমগ্রকে তার অংশসমূহে বিভক্ত করার' ক্ষেত্রেই বিবেচনা করা হয়েছে এবং এই হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, এই বিভাজনে বিভাজকটি তার বিভাগগুলোর ওপর সত্য হয় না। কিন্তু 'কুলি' (সামগ্রিক সত্তা)-কে তার 'জুযয়িয়াত' (বিশেষসমূহ)-এ বিভক্ত করার ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হয়নি, যদিও সেই প্রতিবন্ধকটি এখানেও বিদ্যমান; কেননা এই বিভাজনেও বিভাজকটি তার বিভাগগুলোর একটি অংশ। কারণ, সমগ্রকে অংশে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে অংশগুলোকে অংশ হওয়ার দিক থেকেই লক্ষ্য করা হয়, তাই উল্লিখিত প্রেক্ষিতটি এই বিভাজনে ধর্তব্য, যা 'কুলি'-কে 'জুযয়িয়াত'-এ বিভক্ত করার বিষয়ের বিপরীত।

তার কথা: (এবং যেহেতু শেষোক্ত পন্থায় এটিই অধিকতর উপযুক্ত) এটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। কারণ, যদি সর্বনামটিকে 'ইলম' (জ্ঞান)-এর দিকে ফিরানো হয়, তবে 'ইলম' শব্দের ব্যবহারে প্রশস্ততা আনা আবশ্যক হয়ে পড়ে এমনভাবে যা চারটি বিষয়কেই পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করে যাতে সীমাবদ্ধতা (ইনহিসার) সঠিক হয়। আর ইলম শব্দে রূপক বা মাজায হওয়ার পর ইলমের সংজ্ঞাটি তার 'কাসিম' (সহ-বিভাগ)-এর অংশে পরিণত হয় যা স্বয়ং তারই অংশ। আর এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই যে, তার কথা: "এবং সীমাবদ্ধ হয়... ইত্যাদি" ইলমের বহির্ভূত বিষয় যা অংশগুলো শুরু করার আগে উল্লেখ করা হয় যাতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয়। এই দিক থেকে ইলমের সংজ্ঞাকে পিছিয়ে দেওয়া অধিকতর উপযুক্ত। তাছাড়া, বিভক্ত ইলমটির একটি রূপক অর্থ রয়েছে, আর সংজ্ঞাটি হলো প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত ইলমের জন্য। সুতরাং যদি সংজ্ঞাকে বিভাজনের আগে আনা হতো, তবে তা থেকে বোঝা যেত যে বিভাজনটি প্রকৃত অর্থের ইলমের জন্য হচ্ছে এবং রূপক অর্থ বোঝার বিষয়টি দুর্বল হয়ে যেত। অতএব, প্রথম পন্থাটি মনোনীত হওয়ার প্রকাশ্য কারণ হলো কোনো কৈফিয়ত পেশ করার প্রয়োজনীয়তা না থাকা।

তার কথা: (সত্ত্বাগতভাবে অথবা কল্পনাপ্রসূতভাবে অথবা শুরু করার দিক থেকে) যদি আপনি বলেন: এটি বলা অধিকতর উপযুক্ত ছিল যে: "যার ওপর তা সত্ত্বাগতভাবে বা শুরু করার দিক থেকে নির্ভরশীল", কারণ ইলমের কল্পনা (তাসাওউব) এবং এর উপযোগিতার প্রতি বিশ্বাস (তাসদিক) শুরু করার ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং উচিত ছিল ইলমের মূলনীতিকে এক বিভাগ এবং শুরু করার মূলনীতিকে অন্য বিভাগ করা। আমি বলব: এই বিস্তারিত বিবরণটি গ্রন্থকারের করা মূলনীতিসমূহের তিন প্রকার বিভাজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তার কথা: (আর যা বলা হয়েছে) এটি তার কথা: "এবং এর উত্তর হলো যে, তাদের কেউ কেউ আধিক্য সত্ত্বেও তার অংশ" -এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর খণ্ডনের সারকথা হলো, 'ইস্তিমদাদ' (রসদ গ্রহণ) যা নির্দিষ্ট কিছু তাসাওউরাত (ধারণা) এবং তাসদিকাত (প্রত্যয়ন)-এর নাম, তার বর্ণনা কখনো সংক্ষিপ্তভাবে হতে পারে আবার কখনো বিস্তারিতভাবে। মূলত ইস্তিমদাদের মধ্যে কোনো বহুত্ব নেই, বরং বহুত্ব রয়েছে কেবল তার বর্ণনায়।