(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: -)
نفائس الأصول في شرح المحصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: نفائس الأصول في شرح المحصول
المؤلف: شهاب الدين أبو العباس أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن الصنهاجي المصري المشهور بـ (القرافي) (ت 684 هـ)
دراسة وتحقيق وتعليق: عادل أحمد عبد الموجود، علي محمد معوض
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز، مكة المكرمة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 9 (متسلسلة الترقيم)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الآخر 1436
আল-মাহসুল এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাফাইস আল-উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-মাহসুল এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাফাইস আল-উসুল
লেখক: শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইদরিস ইবনে আব্দুর রহমান আস-সানহাজি আল-মিসরি, যিনি (আল-কারাফি) হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি)
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: আদিল আহমাদ আব্দুল মাওজুদ، আলি মুহাম্মদ মুআওয়াদ
প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায، মক্কা আল-মুকাররামা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৯ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, সৌজন্যে (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউস সানি ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب نفائس الأصول في شرح المحصول
تأليف الإمام الفقيه
شهاب الدين أبي العباس أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن
الصنهاجي المصري
المشهور بالقرافي المتوفى سنة 684هـ
دراسة وتحقيق وتعليق
الشيخ عادل أحمد عبد الموجود - والشيخ علي محمد معوض
قرظه
الأستاذ الدكتور: عبد الفتاح أبو سنة
الأستاذ بجامعة الأزهر الشريف
وعضو المجلس الأعلى للشئون الإسلامية
وخبير التحقيق بمجمع البحوث الإسلامية
مكتبة
نزار مصطفى الباز
الطبعة الأولى
1416هـ - 1995م
আল-মাহসুলের ব্যাখ্যায় নাফায়েসুল উসুল গ্রন্থ
ফকিহ ইমামের রচনা
শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান
আস-সানহাজি আল-মিসরি
যিনি আল-কারাফি নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা
শায়খ আদিল আহমদ আব্দুল মওজুদ - এবং শায়খ আলি মুহাম্মদ মুয়াওয়াদ
প্রশংসা বাণী লিখেছেন
প্রফেসর ডক্টর: আব্দুল ফাত্তাহ আবু সুন্নাহ
আল-আজহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
এবং ইসলামী বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য
এবং ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সম্পাদনা বিশেষজ্ঞ
মাকতাবাতু
নিযার মুস্তফা আল-বায
প্রথম সংস্করণ
১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيقي إلا بالله عليه توكَّلتُ
قال سيدنا ومولانا الشيخ الإمام العالم العلامة بقية السلف، وقدوة الخلف، لسان المتكلمين، سيف المناظرين، فريدُ دهره، ووحيد عصره شهابُ الدينِ أحمدُ بنُ إدريسَ المالكىُّ، المعروفُ بـ ((القَرَافيِّ)) متع الله المسلمين ببقائه:
الحمد الله الذي تفرد في عظم ألوهيته بكمال المجد والعلاء، وتوحد في جلال صمديته بغايات شرف الصفات والأسماء، وتمجد بجلال أزليته في صفاته وهويته عن إمكان الحدوث والابتداء، وتقدَّس في وجوب ديمومية أبديتهِ عن عواض التغير والفناء، الذي عجز عن إدراك كنه حقيقته غايات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার সফলতা কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি।
আমাদের নেতা ও অভিভাবক, শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, পূর্বসূরীদের উত্তরসূরী ও উত্তরসূরীদের আদর্শ, ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের কণ্ঠস্বর, তার্কিকদের তলোয়ার, তাঁর যুগের অনন্য ও অদ্বিতীয় শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে ইদ্রিস আল-মালিকি—যিনি ‘আল-কারাফি’ নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ হায়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন—তিনি বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর উলুহিয়্যাতের মাহাত্ম্যে পূর্ণাঙ্গ গৌরব ও উচ্চমর্যাদায় একক; এবং তাঁর সামাদিয়্যাতের মহিমায় গুণাবলি ও নামের সর্বোচ্চ সম্মানে অদ্বিতীয়; এবং তাঁর অনাদিতার মহিমায় স্বীয় গুণাবলি ও সত্তার ক্ষেত্রে নতুনত্ব ও সূচনার সম্ভাবনা থেকে মহিমান্বিত; এবং তাঁর অনন্ত স্থায়িত্বের আবশ্যিকতায় পরিবর্তন ও বিনাশের আবর্তন থেকে পবিত্র; যাঁর প্রকৃত স্বরূপের গভীরতা অনুধাবনে চূড়ান্ত...
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
عقول العقلاء، وتاهت في سُرَادقات عظمة جلاله نهايات ألباب الألباء، أحاط عمله القديم بكل موجود ومعدوم، فلا يعزب عنه مثقال ذرة في الأرض ولا في السماء، نفذت سوابق مشيئته في بريته، فلا يكون إلا ما يشاء في حالتي السراء والضراء، وطوري الشدة والرخاء، حليت بمدارج معارج شرف تقريبه أرواح خاصته الأنبياء، وتنعمت بتجليات مواهب ملكوته صدور الأولياء، وخضع لعواصف قواصف رهبوته من في الغبراء والزرقاء، عظمت مواهب آلائه، فالدنيا والآخرة في بحار جوده أيسر العطاء، أعطى الجزيل، وأظهر الجميل، فأعظم به في بسط العطاء، وسبل الغطاء، أنزل الرسائل، وشرع الوسائل؛ فحاز أيسرها حكمة الحكماء، نوع آدابها، وفرع أسبابها، وأرشد طلابها بأوضح الأنباء،
বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি এবং প্রজ্ঞাবানদের মেধার পরিধি তাঁর মহিমার গাম্ভীর্যের শামিয়ানায় দিশেহারা। তাঁর অনাদি জ্ঞান ও কর্ম প্রতিটি বিদ্যমান ও অবিদ্যমান বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে; ফলে আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়। তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর পূর্ব-নির্ধারিত ইচ্ছা কার্যকর হয়েছে; তাই সুখ ও দুঃখ এবং কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য—উভয় অবস্থাতেই তিনি যা চান তা ছাড়া কিছুই ঘটে না। তাঁর নৈকট্য লাভের উচ্চ মর্যাদার সোপানসমূহের মাধ্যমে তাঁর বিশিষ্ট নবীগণের রূহসমূহ সুশোভিত হয়েছে এবং তাঁর মালাকুতের দানসমূহের জ্যোতিতে আউলিয়াগণের অন্তরসমূহ ধন্য হয়েছে। ধূলিময় পৃথিবী ও নীল আকাশে যা কিছু আছে, সবই তাঁর মহিমার প্রতাপশালী ঝটিকার সামনে মস্তক অবনত করেছে। তাঁর নিয়ামতের দানসমূহ অতি মহান; তাঁর বদান্যতার সমুদ্রের নিকট দুনিয়া ও আখেরাত অতি সামান্য দান মাত্র। তিনি প্রচুর দান করেছেন এবং যা সুন্দর তা প্রকাশ করেছেন। দান প্রসারণে এবং দোষ গোপন করার পন্থায় তিনি কতই না মহান! তিনি রিসালাত অবতীর্ণ করেছেন এবং উপায়সমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন; ফলে প্রজ্ঞাবানদের প্রজ্ঞা এর সামান্যতম অংশই আয়ত্ত করতে পেরেছে। তিনি এর শিষ্টাচারসমূহকে বৈচিত্র্যময় করেছেন, এর মাধ্যমগুলোকে শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত করেছেন এবং অন্বেষণকারীদের সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তার মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
فرسخت أصولها، وبسقت فروعها، وأينعت ثمارها في صدور العلماء، وأفضل الصلوات الطيبات على محمد سيد النُّجباء، وواسطة عِقْد الأصفياء، اختار الله تعالى له من المقامات القدسية أعلاها، ومن الصفات النفسانية أسناها، ومن الرسائل الربانية أسماها، ومن الصحابات والقرابات أوفاها، ومن الأمم العاملة أقواها، وأفضلها في برِّها وتقواها، وقدمه على جميع الملائكة والأنبياء ليلة الإسراء، فهو الرسول الأعظم، والإمام الأقوم، والشفيع المقدم.
إذا اشتدت إليه حاجات الأمم يوم الفصل والقضاء، آدم فمن دونه تحت لوائه وسيادته على الثقلين، من صفاته وأسمائه شمس الوجود، معدن الجود، وجامع الحمد، وحائز الجِدّ في جميع التصرفات والآراء، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه ومحبيه صلاةً يجزيه الله بها عن أمته أحسن
সুতরাং এর শিকড় সুদৃঢ় হয়েছে, এর শাখা-প্রশাখা উচ্চ হয়েছে এবং আলেমদের অন্তরে এর ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর সর্বোত্তম ও পবিত্রতম দরুদ বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি মহৎ ব্যক্তিদের সরদার এবং মনোনীত ব্যক্তিদের কণ্ঠহারের মধ্যমণি। মহান আল্লাহ তাঁর জন্য পবিত্র মাকামসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চটি, মানবিক গুণাবলীর মধ্যে উজ্জ্বলতমটি, রব্বানি রিসালাতসমূহের মধ্যে সুউচ্চটি, সাহাবী ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে সর্বাধিক অনুগতদের এবং কর্মঠ উম্মতদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও তাদের নেকি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তমদের মনোনীত করেছেন। এবং মিরাজের রাতে তাঁকে সকল ফেরেশতা ও নবীদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন; অতএব তিনি হলেন মহানতম রাসূল, সুপ্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং অগ্রগণ্য সুপারিশকারী।
বিচার ও মীমাংসার দিনে যখন জাতিসমূহের প্রয়োজন তাঁর প্রতি তীব্র হবে, তখন আদম (আ.) ও তাঁর পরবর্তী সকলে তাঁর পতাকাতলে থাকবেন এবং তিনি মানব ও জিন জাতির ওপর কর্তৃত্ব করবেন। তাঁর গুণাবলী ও নামসমূহের মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বের সূর্য, দানশীলতার খনি, সকল প্রশংসার সংগ্রাহক এবং সকল কর্মকাণ্ড ও মতামতে সংকল্পের অধিকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পবিত্র স্ত্রীগণ ও তাঁর মহব্বতকারীদের ওপর এমন দরুদ বর্ষণ করুন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯০)
الجزاء، وأسلم بها من دَرَك الشقاء، وضَنْك البلاء، وشماتة الأعداء، وأحوز بها منازل السعداء في دار البقاء.
أمَّا بعدُ:
فأفضل ما اكتسبه الإنسان علْماً يسعد به في عاجل معاشه، وآجل معاده، ومن أفضل ذلك علم أصول الفقه؛ لاشتماله على المعقول والمنقول، فهو جامع أشتات الفضائل، والواسطة في تحصيل لباب الرسائل، ليس هو من العلوم التى هي رواية صرفة لا حَظَّ لشرف النفوس فيه، ولا من المعقول الصرف الذي لم يَحُضَّ الشرع على معانيه، بل جمع بين الشرفين، واستولى على الطرفين، يحتاج فيه إلى الرواية والدراية، ويجتمع فيه معاقد النظر، ومسالك العبر، من جهله من الفقهاء فتحصيله أجاج، ومن سُلِبَ ضوابطه عُدم عند دعاويه الحِجَاج، فهو جدير بأن ينافس فيه، وأن يشتغل بأفضل الكتب في تلخيصاته ومبانيه، ورأيت كتاب ((المحصول)) للإمام الأوحد فخر الدين أبي عبد الله محمد بن الشيخ الإمام العلامة أبى حفصٍ عُمَرَ الرَّازيِّ، قدَّس الله روحه، جمع قواعد الأوائل ومستحسنات الأواخر بأحسن العبارات، وألطف الإشارات، وقد عظم نفع الناس به
প্রতিদান, এবং এর মাধ্যমে আমি যেন রক্ষা পাই দুর্ভাগ্যের অতল গহ্বর, সংকীর্ণ বিপদ এবং শত্রুদের উপহাস থেকে; আর এর দ্বারা আমি যেন চিরস্থায়ী আবাসে সৌভাগ্যবানদের মর্তবা অর্জন করতে পারি।
অতঃপর:
মানুষ যা কিছু অর্জন করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো এমন জ্ঞান, যা দ্বারা সে তার ইহকালীন জীবন ও পরকালীন ভবিষ্যতে সৌভাগ্য লাভ করে। আর এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) সংক্রান্ত জ্ঞান; কারণ এটি যৌক্তিক ও বর্ণনাগত—উভয় জ্ঞানেরই ধারক। এটি নানাবিধ শ্রেষ্ঠত্বের সংকলক এবং শরয়ি কিতাবসমূহের মর্মার্থ অনুধাবনের সেতুবন্ধন। এটি এমন কোনো শাস্ত্র নয় যা নিছক বর্ণনা-সর্বস্ব, যাতে মানুষের আত্মিক উৎকর্ষের কোনো সুযোগ নেই; আবার এটি কেবল নিছক যুক্তি-নির্ভরও নয়, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি শরিয়ত গুরুত্বারোপ করেনি। বরং এটি উভয় প্রকার মর্যাদাকেই ধারণ করেছে এবং উভয় প্রান্তকেই আয়ত্তে এনেছে। এতে বর্ণনা ও বিচারবুদ্ধি—উভয় বিদ্যারই প্রয়োজন পড়ে এবং এখানে চিন্তাশীলতার মূলবিন্দু ও শিক্ষা গ্রহণের পথসমূহ একত্রিত হয়েছে। ফকিহদের মধ্যে যারা এই শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের জ্ঞানার্জন লবণাক্ত ও বিস্বাদ পানির ন্যায়। আর যার নিকট এর মূলনীতিসমূহ নেই, সে তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে অক্ষম। সুতরাং এটি এমন এক শাস্ত্র যা অর্জনে প্রতিযোগিতা করা এবং এর সংক্ষিপ্তসার ও কাঠামোর ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবসমূহ নিয়ে নিমগ্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমি দেখেছি যে, অনন্য ইমাম ফখরুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা আবু হাফস ওমর আর-রাজি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বিরচিত 'আল-মাহসুল' কিতাবটি অত্যন্ত চমৎকার বাচনভঙ্গি ও সূক্ষ্ম ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে পূর্ববর্তীদের মূলনীতি ও পরবর্তীদের উত্তম সংযোজনসমূহকে একত্রিত করেছে এবং এর দ্বারা মানুষের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯১)
وبمختصراته، وحصل لهم بسببه من الأهليَّة، والاستعداد ما لم يحصل لمن اشتغل بغيره.
بسبب أنه ألفه من أحسن كتب السنة، وأفضل كتب المعتزلة: ((البرهان)) و ((المستصفي)) للسنة، ((والمعتمد)) و ((شرح العمد)) للمعتزلة، فهذه الأربعة هي أصله، مُصانا بحسن تصرف الإمام، وجود ترتيبه وتنقيحه، وفصاحة عبارته، وما زاده فيه من فوائد فكره وتصرفه وحسن ترتيبه، وإيراده وتهذيبه، فاستخرت الله -تعالى - في أن أضَعَ له شرحاً أودعه بيان مشكله، وتقييد مهمله، وتحرير ما اختل من فهرسة مسائله، والأسئلة الواردة على متنه، وما عساه يوجد من الفوائد في غيره، وجمعت له نحو ثلاثين تصنيفا في أصول الفقه للمتقدمين والمتأخّرين من أهل السنة والمعتزلة، وأرباب المذاهب الأربعة منها ((البرهان)) و ((المُستصفي)) و ((الإحكام)) لسيف الدين الآمدى،
এবং এর সংক্ষেপগুলোর মাধ্যমে; এবং এর কারণে তারা এমন যোগ্যতা ও প্রস্তুতি অর্জন করেছে যা অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
এর কারণ হলো তিনি এটি সুন্নাহর সর্বোত্তম কিতাবসমূহ এবং মুতাজিলাদের শ্রেষ্ঠ কিতাবসমূহ থেকে সংকলন করেছেন: সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে ‘আল-বুরহান’ ও ‘আল-মুস্তাসফা’, এবং মুতাজিলাদের কিতাবসমূহের মধ্যে ‘আল-মুতামাদ’ ও ‘শারহুল উমাদ’। এই চারটি কিতাবই এর মূল উৎস, যা ইমামের চমৎকার কর্মদক্ষতা, উন্নত বিন্যাস ও পরিমার্জন এবং ভাষার প্রাঞ্জলতার মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি এতে তাঁর নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, প্রয়োগকৌশল, সুবিন্যাস, উপস্থাপন ও পরিশোধন দ্বারা যা কিছু নতুন তাত্ত্বিক তথ্য যোগ করেছেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যাতে আমি এর জন্য এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি যেখানে এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করব, অনিবন্ধিত বিষয়গুলোকে সীমাবদ্ধ করব এবং এর মাসআলাসমূহের সূচিতে থাকা অসংগতিগুলো ও এর মূলপাঠে উত্থাপিত প্রশ্নাবলি সংশোধন করব। সাথে সাথে অন্যান্য গ্রন্থে যেসব জ্ঞানগর্ভ বিষয় পাওয়া যেতে পারে তাও এতে অন্তর্ভুক্ত করব। এই উদ্দেশ্যে আমি আহলুস সুন্নাহ ও মুতাজিলা এবং চার মাজহাবের ইমামগণের মধ্য থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের রচিত উসূলুল ফিকহের প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ সংগ্রহ করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ‘আল-বুরহান’, ‘আল-মুস্তাসফা’ এবং সাইফউদ্দীন আল-আমিদির ‘আল-ইহকাম’।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وكتاب ((الترجيحات)) له، و ((منتهي السُّول)) له، و ((المعتمد)) لأبي الحسين، و ((شرح العمد)) له، و ((القياس الكبير)) له، و ((القياس الصغير)) له، و ((شرح البرهان)) للأبيارى، و ((شرح البرهان)) للمَازِريِّ، و ((الإفادة)) للقاضي عبد الوهاب في مجلدين و ((الملخص)) له، و ((الفصول)) للباجى في مجلدين، و ((الإشارة)) له، و ((اللُّمع)) للشيخ أبي إسحق وشرحه له ، و ((المعالم))، وشرحها للتِّلمسانى،
এবং তাঁর ((আত-তারজিহাত)) গ্রন্থ, তাঁর ((মুনতাহাস সুল)), আবুল হুসায়নের ((আল-মুতামাদ)), তাঁর ((শারহুল উমাদ)), তাঁর ((আল-কিয়াসুল কাবীর)), তাঁর ((আল-কিয়াসুস সাগীর)), আল-আবিয়ারির ((শারহুল বুরহান)), আল-মাজিরির ((শারহুল বুরহান)), দুই খণ্ডে কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের ((আল-ইফাদাহ)), তাঁর ((আল-মুলাখখাস)), দুই খণ্ডে আল-বাজির ((আল-ফুসুল)), তাঁর ((আল-ইশারাহ)), শায়খ আবু ইসহাকের ((আল-লুমা)) ও তাঁর কৃত সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং ((আল-মায়ালিম)) ও আত-তিলিমসানি কর্তৃক সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ,
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
و ((المحصول)) لابن العربى، و ((العمْدة)) لأبي يعلى مجلدان، و ((الواضح)) لأبى عبيد مجلدان، و ((التمهيد)) لأبى
এবং ইবনুল আরাবীর ((আল-মাহসুল)), এবং আবু ইয়া’লার ((আল-উমদাহ)) দুই খণ্ড, এবং আবু উবাইদের ((আল-ওয়াদিহ)) দুই খণ্ড, এবং আবু এর ((আত-তামহীদ))
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
الخَطَّاب مجلدان، و ((التنقيحات)) للسهروردي، و ((الأوسط)) لابن برهان مجلدان.
و ((الوافي)) لابن حمدان الحرَّاني مجلدان، و ((تعليق على المحصول)) لابن يونس الموصلى، و ((شرح النَّقْشَوَاني للمحصول))، و ((كتاب ابن
আল-খাত্তাব দুই খণ্ড, এবং সোহরাওয়ার্দী রচিত ((আত-তানকীহাত)), এবং ইবনে বুরহান রচিত ((আল-আওসাত)) দুই খণ্ড।
এবং ইবনে হামদান আল-হাররানী রচিত ((আল-ওয়াফি)) দুই খণ্ড, এবং ইবনে ইউনুস আল-মাওসিলী রচিত ((তালিক আলাল মাহসুল)), এবং ((শারহুন্ নাকশাওয়ানী লিল-মাহসুল)), এবং ইবনে এর কিতাব...
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
القاص))، و ((كتاب الإحكام)) لابن حزم، و ((كتاب الرَّوضة)) للشيخ موفق الدين، و ((شفاء الغليل)) للغزاليِّ، وتعاليق لجماعة من العلماء المعتبرين في أصول الفقه لا أطول بذكرهم، والتزمت من
আল-কাস’)), এবং ইবনে হাযমের ‘কিতাবুল ইহকাম’, এবং শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দীনের ‘কিতাবুর রওদাহ’, এবং আল-গাযালীর ‘শিফাউল গালীল’, এবং উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের একদল নির্ভরযোগ্য আলিমের টীকা-টিপ্পনীসমূহ—যাদের নাম উল্লেখ করে আমি আলোচনা দীর্ঘ করছি না; আর আমি যা পালনের সংকল্প করেছি তা হলো...
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
مختصراته ((بالمنتخب)) و ((الحاصل)) لضياء الدين حسن، و ((الحاصل)) لتاج الدين، و ((التحصيل)) لسراج الدين. و ((التنقيح)) للتبريزى، والتزمت أن أعزو كل قول لقائله، وكل سؤال لمورده، وكل جواب لمفيده، ليكون المطالع لهذا الشرح ينقل عن تلك الكتب العديدة الجليلة الغريبة، فيكون ذلك أجمل من النقل عن كتاب واحد في التدريس والإفادة، وعند المناظرات، وليكون إذا وقع خلل فيما نقلته وقد أعزيته إلى موضع يستدرك من الموضع الذي أعزيته إليه، ويمكن استدراكه من أصله، فيكون ذلك أيسر لتحقيق الصواب ورفع الخطأ وما فتح الله تعالى به من المباحث والأسئلة والأجوبة والقواعد والتنبيهات أسرده سردا من غير إعزاء، ولعلي قد أكون صادفت خاطر غيرى في ذلك، ولم أعلم به، غير أن الله تعالى أعلم بمواهبه في صدور عباده، غير أنى أذكر ما وقع لي من ذلك بفضل الله - تعالى - وفتحه، رجاء النفع به إن شاء الله تعالى، وقد يتفق لى بعد ذلك أن أجده لغيرى فلا أعيد ذكره خشية الإطالة، وقد يقع الخاطر على الخاطر في القصائد المنظمة، فكيف بموارد العقول، فإنه أقرب لأنها كالمرائي، إذا استوت في الجلاء، تجلَّى في جميعها الصورة الواحدة، ولا أورد من الأسئلة إلا ما هو حق عندى لا جواب عنه، أو ما عنه جواب، غير أن كثيرا من الفضلاء يعسر عليهم الجواب عنه، فأذكره لجوابه لا لذاته، وليحترز منه، ويتنبه به على أمثاله، وأما الأسئلة الضعيفة فلا أوردها؛ لأنها تطويل بغير فائدة مهمة، والعمر أقصر شُقة من أن يطول بالعتاب، وكذلك إذا وقع جواب حق، أو سؤال حق لا أورد عليه الأسئلة الضعيفة، ثم أجيب عنها، فتصير أجوبة وأسئلة، وأسئلة وأجوبة فيتسلسل الحال، فهذا لا يليق إلا بعلم الخلاف للتمرُّن على الجدال والمناظرات، أما بغيره فلا، ومهما كان لفظ ((المحصول)) غنيا عن البيان تركته، إلا أن يكون عليه سؤال، متى كان محتاجا لبيان، وهو يحصل من أثناء إيراد الأسئلة عليه تركت بيانه لحصوله من الأسئلة طلبا
এর সংক্ষেপিত রূপসমূহ হলো জিয়াউদ্দীন হাসান-এর 'আল-মুনতাখাব' ও 'আল-হাসিল', তাজউদ্দীন-এর 'আল-হাসিল', সিরাজউদ্দীন-এর 'আত-তাহসীল' এবং তাবরিযী-এর 'আত-তানকীহ'। আমি প্রতিটি উক্তিকে তার প্রবক্তার দিকে, প্রতিটি প্রশ্নকে তার উত্থাপনকারীর দিকে এবং প্রতিটি উত্তরকে তার প্রদানকারীর দিকে সম্বন্ধ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি, যাতে এই ভাষ্যের পাঠক সেই বহুসংখ্যক মহান ও দুর্লভ কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারেন। এটি পাঠদান, জ্ঞান বিতরণ এবং বিতর্কের ক্ষেত্রে একটি মাত্র কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেয়ে অধিকতর উত্তম হবে। এছাড়া আমি যা উদ্ধৃত করেছি তাতে যদি কোনো ত্রুটি ঘটে থাকে এবং আমি যদি তা কোনো উৎসের দিকে সম্বন্ধ করে থাকি, তবে তা সেই উৎস থেকেই সংশোধন করে নেওয়া সম্ভব হবে এবং মূল কিতাব থেকেও তা সংশোধন করা যাবে। ফলে সঠিক বিষয়টির অনুসন্ধান এবং ভুল দূর করা অধিকতর সহজ হবে। আর আল্লাহ তাআলা যেসব গবেষণা, প্রশ্ন, উত্তর, মূলনীতি ও সতর্কবার্তার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, সেগুলো আমি কোনো উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব। হতে পারে এ ক্ষেত্রে আমি অন্য কারো চিন্তার সাথে মিলে গেছি যা আমার জানা নেই; বস্তুত আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের অন্তরে তাঁর দানসমূহ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। তবে আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত উন্মোচনের মাধ্যমে আমার কাছে যা প্রকাশিত হয়েছে, আমি তা-ই উল্লেখ করছি, ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে উপকারের আশায়। পরবর্তীতে এমন হতে পারে যে, আমি তা অন্য কারো কিতাবেও পেয়েছি, কিন্তু দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে আমি তা পুনরায় উল্লেখ করিনি। কখনো কখনো ছন্দবদ্ধ কবিতায় একজনের চিন্তার সাথে অন্যজনের চিন্তা মিলে যায়, তাহলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন হওয়া তো আরও স্বাভাবিক। কারণ তা আয়নার মতো; যখন স্বচ্ছতায় তা সমপর্যায়ের হয়, তখন সেগুলোর সবকটিতে একই প্রতিবিম্ব প্রকাশিত হয়। আমি কেবল সেই প্রশ্নগুলোই উল্লেখ করব যা আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে এবং যার কোনো উত্তর নেই, অথবা যেগুলোর উত্তর আছে কিন্তু অনেক গুণীজনদের পক্ষে তার উত্তর প্রদান করা কঠিন। তাই আমি সেই প্রশ্নটি তার উত্তরের জন্যই উল্লেখ করব, মূল প্রশ্নের খাতিরে নয়, যাতে এটি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা যায় এবং এর মাধ্যমে অনুরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। পক্ষান্তরে দুর্বল প্রশ্নগুলো আমি উল্লেখ করব না; কারণ এতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ছাড়াই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। আর জীবনের পথ এতোই সংক্ষিপ্ত যে তা পারস্পরিক বাদানুবাদের মাধ্যমে দীর্ঘ করার অবকাশ নেই। তেমনিভাবে যখন কোনো সঠিক উত্তর বা সঠিক প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়, তখন আমি তার ওপর কোনো দুর্বল প্রশ্ন উত্থাপন করি না এবং পরবর্তীতে সেগুলোর উত্তরও দিই না; কারণ এতে প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন এবং উত্তরের পিঠে উত্তরের ধারা চলতে থাকে। এটি কেবল বিতর্ক ও মুনাজারায় পারদর্শী হওয়ার জন্য 'ইলমুল খিলাফ' বা মতভেদ সংক্রান্ত শাস্ত্রের ক্ষেত্রেই মানানসই, অন্য ক্ষেত্রে নয়। আর 'আল-মাহসুল'-এর যে শব্দগুলো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়, সেগুলো আমি বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছি; তবে যদি সেই শব্দের ওপর কোনো প্রশ্ন থাকে কিংবা যদি তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় এবং প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমেই যদি সেই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, তবে আমি সংক্ষেপ করার নিমিত্তে তার পৃথক বর্ণনা বর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
لتقليل الحجم، وترك التطويل، وأبدأ بالمحصول. فإذا تلخص كلامه، وما عليه ثنيت بمختصراته، فإن زاد بعضها لفظا، أو غيّر وضعها، فأذكر ما يتعلق بذلك التغيير، أو بتلك الزيادة من إيراد وتحرير وغير ذلك، ثم أثلث بتصانيف الناسِ المتقدم ذكرها، فأنقل ما فيها جميعها في كل مسألة تكون فيها من زيادة فائدة إن وجدتها، والمتكرر أسقطه، ويصير هذا الكتاب شرحا لـ ((المحصول)) ولمختصراته من ال ((المنتخب))، و ((الحاصل)) وغيره، فيعظم نفعه، ويجل في الوضع وقعه، مستعينا بالله - تعالى - على خلوص النية وحصول البغية وسميته ((نَفَائس الأصُولِ في شَرْحِ المَحْصُولِ))، وقد أقدم قبل الخوض في شرح الكتاب أربعة أبحاث يناسب تقديمها:
البحث الأول
قال ((السيف الآمدي)): حق على كل من حاول علما أن يتصور معناه بالحد والرسم، ليتميز له مطلوبه عن غيره، وأن يعرف موضوعه، ليتميز عن غيره من الموضوعات، وغايته المقصودة من تحصيله، حتى لا يكون سعيه عبثا، والذي يبحث فيه عنه من المسائل ليتصور طلبها، وما منه يستمد ليحصله من تلك المادة، وما هي مبادئه ليبنى عليها.
আকার সংক্ষেপ করতে এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করতে আমি আল-মাহসুল দ্বারা শুরু করছি। যখন তার বক্তব্য ও বিষয়বস্তু সংক্ষেপিত হবে, তখন আমি এর সংক্ষিপ্তকরণগুলোর (মুখতাসারাত) অবতারণা করব। যদি সেগুলোর কোনোটিতে শব্দগত আধিক্য থাকে বা বিন্যাস পরিবর্তিত হয়, তবে আমি সেই পরিবর্তন বা পরিবর্ধন সংশ্লিষ্ট উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করব। অতঃপর তৃতীয়ত আমি মানুষের সেই সকল রচনার অবতারণা করব যেগুলোর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সেগুলোর সব কটি থেকে প্রতিটি মাসআলায় বিদ্যমান অতিরিক্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা (যদি পাই) উদ্ধৃত করব এবং পুনরাবৃত্তি বর্জন করব। এর ফলে এই বইটি 'আল-মাহসুল' এবং এর সংক্ষিপ্তকরণসমূহ যেমন 'আল-মুনতাখাব', 'আল-হাসিল' ও অন্যান্য কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে পরিণত হবে; এতে এর উপকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং উপস্থাপনার দিক থেকে এর গুরুত্ব সুউচ্চ হবে। নিয়তের একনিষ্ঠতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি এর নামকরণ করেছি 'নাফাইসুল উসুল ফি শারহিল মাহসুল'। কিতাবটির ব্যাখ্যায় প্রবেশের পূর্বে আমি চারটি গবেষণামূলক আলোচনা পেশ করছি যা প্রথমেই উপস্থাপন করা সমীচীন:
প্রথম গবেষণা
সাইফ আল-আমিদী বলেছেন: কোনো শাস্ত্র অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার অর্থকে সংজ্ঞা (হাদ্দ) ও বর্ণনার (রাসম) মাধ্যমে অনুধাবন করা, যাতে তার অভীষ্ট বিষয়টি অন্য বিষয় থেকে পৃথক হয়ে যায়। একইভাবে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা প্রয়োজন যাতে তা অন্য বিষয়বস্তু থেকে স্বতন্ত্র হয় এবং তা অর্জনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যও জানা থাকা দরকার যাতে তার প্রচেষ্টা বৃথা না যায়। পাশাপাশি ঐ সকল মাসআলা সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন যা নিয়ে সেখানে আলোচনা করা হয় যাতে সেগুলোর অনুসন্ধান সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়, এবং তা কোন উৎস থেকে গৃহীত তাও জানা দরকার যাতে সেই উৎস থেকে তা অর্জন করা যায় এবং এর মূলনীতিগুলো কী তাও জানা প্রয়োজন যার ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
أما حدُّ أصول الفقه فسيأتى إن شاء الله -تعالى -في الشرح.
وأمَّا موضوعه، فموضوع كل علم ما يبحث فيه عن عوارضه لذاته، فموضوع أصول الفقه الأدلة الموصلة للأحكام الشرعية، وأقسامها، واختلاف مراتبها، وكيفية الاستدلال بها على الأحكام الشرعية على وجه الإجمال دون التفصيل، وكيفية حال المستدل بها، فالموضوع لعلم أصول الفقه كله ثلاثة أجزاء الأدلة والاستدلال، وهو باب التعارض والترجيح، وصفة المستدل، وهو باب المجتهد والمقلّد، والمفتي والمستفتِي، كما أن موضوع الفقه الأفعال من جهة أنها يعرض لها حكم شرعي في مكلف، أو لا يعرض لها حكم شرعي كالنائم والساهي، وأسباب الأحكام والشروط والموانع، والحجاج الكائنة عند الحكام كالبينات والأقارير ونحوها.
وموضوع علم التفسير ألفاظ الكتاب العزيز ومعانيه.
وموضوع علم الحديث ألفاظ الحديث وأسانيدها ورواتها.
وموضوع علم الطب مزاج الإنسان من حيث يصح ويسقم، وعلى هذا المِنوَال يُعرف موضوع كل علم، فهذا بسط كلام سَيْفِ الدِّينِ، وإنما هو اختصره.
وأما غايته، فالوصول إلى معرفة الأحكام الشرعيَّة.
وأما مسائله، فهي أحوال الأدلة المبحوث عنها فيه.
وأما استمداده، فعلم الكلام والعربية والأحكام الشرعيَّة.
أما الكلام فلتوقُّفه على أن الناطق بهذه الأدلة رسول صادق.
وأما العربية؛ فلأن من جهلها جهل دلالات الألفاظ في الكتاب والسنة، وأقوال إجماع الأمة من جهة الحقيقة والمجاز والعموم والخصوص وغير ذلك.
উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞা অচিরেই ইনশাআল্লাহ তাআলা ব্যাখ্যায় আসবে।
আর এর আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বলা যায় যে, প্রত্যেক শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সেই বিষয়বস্তু যা তার সত্তাগত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং উসূলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয় হলো সেই সকল দলিল যা শারঈ বিধান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, এগুলোর প্রকারভেদ, এগুলোর স্তরের ভিন্নতা এবং বিস্তারিত বর্ণনার পরিবর্তে সংক্ষিপ্তভাবে এগুলোর মাধ্যমে শারঈ বিধানের ওপর দলিল পেশ করার পদ্ধতি এবং দলিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর অবস্থা। সুতরাং পূর্ণ উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় তিনটি অংশে বিভক্ত: দলিলসমূহ; ইস্তিদলাল বা দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি—যা মূলত বিরোধপূর্ণ দলিলের সমন্বয় ও প্রাধান্য দান সংক্রান্ত অধ্যায়; এবং দলিল উপস্থাপনকারীর গুণাবলি—যা মূলত মুজতাহিদ, মুকাল্লিদ, মুফতি ও ফতোয়া অন্বেষণকারী সংক্রান্ত অধ্যায়। যেমন ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো কার্যাবলি—এই দিক থেকে যে সেগুলো কোনো মুকাল্লাফের ক্ষেত্রে শারঈ বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে, নাকি হবে না (যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তি বা বিস্মৃত ব্যক্তির কাজ); এবং বিধানের কারণসমূহ, শর্তসমূহ ও প্রতিবন্ধকসমূহ এবং বিচারকদের নিকট উপস্থাপিত প্রমাণাদি যেমন সাক্ষ্য, স্বীকৃতি ও এ জাতীয় বিষয়সমূহ।
আর ইলমে তাফসীরের আলোচ্য বিষয় হলো মহাগ্রন্থের শব্দাবলি এবং এর অর্থসমূহ।
আর ইলমে হাদীসের আলোচ্য বিষয় হলো হাদীসের শব্দাবলি, এর সনদসমূহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ।
আর চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের শারীরিক মেজাজ—সুস্থতা ও অসুস্থতার দিক থেকে। এই পদ্ধতিতেই প্রত্যেক শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় জানা যায়। এটি সাইফুদ্দীনের বক্তব্যের বিস্তারিত রূপ, যা তিনি সংক্ষেপে ব্যক্ত করেছিলেন।
আর এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো শারঈ বিধানসমূহের জ্ঞান লাভ করা।
আর এর মাসআলাসমূহ হলো দলিলের সেই সকল অবস্থা যা এতে আলোচিত হয়।
আর এর উৎস হলো ইলমুল কালাম, আরবী ভাষা এবং শারঈ বিধানসমূহ।
ইলমুল কালামের প্রয়োজনীয়তা এজন্য যে, এটি এই বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যে, এই দলিলসমূহের প্রবক্তা একজন সত্যবাদী রাসূল।
আর আরবী ভাষার প্রয়োজনীয়তা এজন্য যে, যে ব্যক্তি এটি জানে না, সে কুরআন ও সুন্নাহর শব্দের অর্থগত নির্দেশিকা এবং উম্মতের ইজমার বক্তব্যের ব্যাপারেও অজ্ঞ থাকবে—হাকীকত, মাজায, আম, খাস এবং অন্যান্য দিক থেকে।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وأما الأحكام الشرعية، فلا بد من تصورها ليعلم كيف يفيدها أصول الفقه، ولا يتوقف على الأحكام من جهة أنها حاصلة للأفعال؛ لأن الأحكام متوقفة على أصول الفقه، وهو أدلته من هذا الوجه، فيلزم الدور، بل من الوجه الذي ذكرناه.
وأما مبادئه، فمبادئ كل علم التصورات، والتصديقات المسلمة في ذلك العلم من غير برهان ليبنى عليها ذلك العلم، كانت مسلمة في نفسها كمبادئ علم أصول الدين التى هي البدهيات، أو مقبولة على سبيل المصادرة، وتكون مبرهنة في علم آخر قبل هذا العلم، وهي هاهنا ما يحتاجه أصول الفقه من الكلام والعربية والأحكام الشرعية على ما تقدم.
قال الأبيارىُّ في ((شرح البرهان)): أصول الفقه له معنيان: يطلق لقبا، ويطلق مضافا.
فإنْ أطلق لقبا فهو من الفنون مشتمل على جملة من الأحكام الشرعية، وحقائقها، وأقسامها، والمميز لها، وهو أدلتها، وأقسام الأدلة، وشرائطها، وكيفية الاستدلال بها، وكيفية المستدل.
وإذا أطلق مضافا فهو الأدلة خاصة من هذا الوجه، لا يتوقف على الكلام والعربية والفقه، إنما يتوقف من الوجه الأول الذي هو لقب.
শরয়ি বিধানসমূহের ক্ষেত্রে সেগুলোর ধারণা বা কল্পনা করা অপরিহার্য, যাতে জানা যায় উসুলে ফিকহ কীভাবে সেগুলো প্রদান করে। তবে এটি এই দিক থেকে বিধানসমূহের ওপর নির্ভরশীল নয় যে সেগুলো কার্যাবলীর মাধ্যমে অর্জিত হয়; কেননা বিধানসমূহ উসুলে ফিকহের ওপর নির্ভরশীল, কারণ এই দিক থেকে উসুলে ফিকহ হলো সেগুলোর দলিল। অন্যথায় চক্রবৃদ্ধি (দাওর) দোষ দেখা দেবে। বরং এটি আমাদের উল্লিখিত দিক থেকেই নির্ভরশীল।
আর এর মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে বলতে হয়, প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো সেই সকল কল্পনা এবং প্রত্যয়ন যা সেই শাস্ত্রে কোনো প্রমাণ ছাড়াই স্বীকৃত হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যাতে সেই শাস্ত্রটি তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এগুলো হয় স্বতস্ফূর্তভাবে স্বীকৃত হতে পারে যেমনটি দ্বীনের মূলনীতি শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ যা স্বতঃসিদ্ধ, অথবা তা স্বতঃসিদ্ধ প্রস্তাবনা হিসেবে গৃহীত যা এই শাস্ত্রের পূর্বে অন্য কোনো শাস্ত্রে প্রমাণিত হয়েছে। আর এখানে এগুলো হলো ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং শরয়ি বিধানসমূহ যা উসুলে ফিকহের প্রয়োজন হয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আল-আবিয়ারি ‘শারহুল বুরহান’-এ বলেছেন: উসুলে ফিকহের দুটি অর্থ রয়েছে: এটি পারিভাষিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সমাসবদ্ধ পদ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
যদি এটি পারিভাষিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা এমন একটি শাস্ত্র যা একগুচ্ছ শরয়ি বিধান, সেগুলোর প্রকৃত রূপ, প্রকারভেদ এবং সেগুলোর স্বাতন্ত্র্য দানকারী বিষয় তথা সেগুলোর দলিলসমূহ, দলিলের প্রকারভেদ, সেগুলোর শর্তাবলি, সেগুলো দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতি এবং দলিল পেশকারীর অবস্থা সংক্রান্ত আলোচনার সমষ্টি।
আর যখন এটি সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা বিশেষভাবে দলিলসমূহকেই বোঝায়। এই দিক থেকে এটি ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং ফিকহের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি কেবল প্রথম দিকের তথা পারিভাষিক নামের দিক থেকেই নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وفى كلامه نظر.
أما اللقب فيتوقف على تلك الأمور؛ لأن بعضها جزء، وبعضها لازم للمجموع، وأما المضاف فلأن خصوص المضاف إنما يعرف بالمضاف إليه من حيث هو كذلك، والمضاف إليه الفقه، فيتوقف المضاف الذي هو الأصل على معرفته، والفقه هو الأحكام، وهو يستلزم من الكلام صدق الرسول والعربية وغيرها، فالقِسْمَان متوقفان؛ والتوقف أعم من توقف الجزء، وتوقف اللزوم، غير أن اللوازم منها قريب لا بدّ من معرفته، وحضوره في الذهن، وبعيد قد يستغنى عنه.
البحث الثاني
في فضيلة هذا العلم، وقد أجمع قوم من الفقهاء الجهال على ذمّه، واهتضامه، وتحقيره في نفوس الطلبة، بسبب جهلهم به، ويقولون: إنما يتعلم للرياء، والسُّمعة، والتغالب، والجدال، لا لقصد صحيح، بل للمضاربة والمغالبة، وما علموا أنه لولا أصول الفقه لم يثبت من الشريعة قليل ولا كثير، فإن كل حكم شرعى لا بُدَّ له من سبب موضوع، ودليل يدل عليه وعلى سببه، فإذا ألغينا أصول الفقه ألغينا الأدلة، فلا يبقى لنا حكم ولا سبب، فإن إثبات الشرع بغير أدلته، وقواعدها بمجرد الهوى خلاف الإجماع، ولعلهم لا يعبئون بالإجماع، فإنه من جملة أصول الفقه، أو ما علموا أنه أول مراتب المجتهدين، فلو عدمه مجتهد لم يكن مجتهدا قطعا، غاية ما في الباب أن الصحابة والتابعين رضي الله عنهم لم يكونوا يتخاطبون بهذه الاصطلاحات، أما المعاني فكانت عندهم قطعا، ومن مناقب الشافعى رضي الله عنه أنه أول من صنف في أصول الفقه.
তাঁর বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণের অবকাশ রয়েছে।
আর উপাধি বা পরিভাষার বিষয়টি ওই সব বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল; কারণ সেগুলোর কোনোটি অংশ, আর কোনোটি সামগ্রিক সত্তার জন্য অপরিহার্য। আর ‘মুদাফ’ (সংযুক্ত শব্দ) এর বিষয়টি হলো, নির্দিষ্ট কোনো মুদাফকে কেবল তার ‘মুদাফ ইলাইহি’র (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে) মাধ্যমেই চেনা যায়, আর এখানে মুদাফ ইলাইহি হলো ফিকহ। ফলে মুদাফ—যা মূল ভিত্তি—তা জানার বিষয়টি ফিকহকে জানার ওপর নির্ভরশীল। আর ফিকহ হলো আহকাম বা বিধিবিধান; আর এটি কালাম (আল্লাহর বাণী), রাসূলের সত্যতা, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়কে আবশ্যক করে। সুতরাং উভয় প্রকারই নির্ভরশীল; আর এই নির্ভরতা অংশগত নির্ভরতা বা আবশ্যকতাগত (লুজুম) নির্ভরতার চেয়েও ব্যাপক। তবে আবশ্যকতাগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে নিকটবর্তী, যা জানা এবং যা স্মরণে রাখা অপরিহার্য; আর কিছু রয়েছে দূরবর্তী, যা ছাড়াই হয়তো কাজ চলে যায়।
দ্বিতীয় আলোচনা
এই ইলমের মর্যাদা প্রসঙ্গে। একদল মূর্খ ফকিহ এই ইলমের প্রতি তাদের অজ্ঞতার কারণে একে নিন্দা করার, এর গুরুত্ব হ্রাস করার এবং ছাত্রদের মনে এর প্রতি তুচ্ছতা সৃষ্টি করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁরা বলেন: এটি কেবল রিয়া (লৌকিকতা), সুমআ (খ্যাতি), জয়লাভ এবং বিতর্কের জন্যই শেখা হয়; কোনো সঠিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং আঘাত এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য। অথচ তাঁরা জানেন না যে, যদি উসূলে ফিকহ না থাকতো, তবে শরীয়তের সামান্য বা বেশি কোনো কিছুই সাব্যস্ত হতো না। কারণ প্রত্যেকটি শরয়ী বিধানের জন্য একটি নির্ধারিত কারণ (সাবাব) এবং এমন একটি দলিলের প্রয়োজন, যা উক্ত বিধান ও তার কারণের ওপর প্রমাণ পেশ করে। অতএব আমরা যদি উসূলে ফিকহকে বাতিল করে দিই, তবে আমরা মূলত দলিলগুলোকেই বাতিল করে দিলাম; ফলে আমাদের কাছে কোনো বিধান বা কারণ অবশিষ্ট থাকবে না। কেননা দলিল এবং তার নীতিমালা ব্যতীত কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় শরীয়তকে সাব্যস্ত করা ইজমার পরিপন্থী। সম্ভবত তাঁরা ইজমার কোনো তোয়াক্কাই করেন না, অথচ এটি উসূলে ফিকহেরই অন্তর্ভুক্ত। অথবা তাঁরা কি জানেন না যে, এটি মুজতাহিদগণের প্রথম স্তর? যদি কোনো মুজতাহিদের মাঝে এটি অনুপস্থিত থাকে, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই মুজতাহিদ হতে পারবেন না। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ কথা হলো, সাহাবী এবং তাবিঈগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এসব পরিভাষায় কথা বলতেন না। তবে এর মর্ম ও অর্থসমূহ নিশ্চিতভাবেই তাঁদের নিকট বিদ্যমান ছিল। ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অন্যতম মর্যাদা হলো, তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূলে ফিকহ বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০১)
وأما قولهم: إنه جدال، فليت شعرى كيف يليق بهم ذم الجدال والجدل، وهو شأن الله تعالى، وشأن خاصته، فقد أقام الله - تعالى - الحجج، وعامل عباده بالمناظرة، قال الله تعالى: {فلله الحجة البالغة فلو شاء لهداكم أجمعين}، وقال تعالى: {لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل}، {بل نقذف بالحق على الباطل فيدمغه}، وقال للملائكة: {ألم أقل لكم إني أعلم غيب السموات والأرض}، لما قالوا له: {أتجعل فيها من يفسد فيها}، وقامت الحجة له - تعالى - عليهم لما أنبأهم آدم بالأسماء وتناظرت الملائكة بقوله تعالى: {ما كان لي
আর তাদের এই উক্তি যে—এটি হলো বিতর্ক; তবে হায়, আমি যদি জানতাম, বিতর্ক ও বাদানুবাদকে নিন্দা করা তাদের জন্য কীভাবে শোভা পায়, অথচ এটি মহান আল্লাহর কাজ এবং তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। কেননা মহান আল্লাহ প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সাথে বিতর্কের (মুনাজারা) পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব আল্লাহর জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত দলিল; তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হেদায়াত দান করতেন।} তিনি আরও বলেছেন: {যাতে রাসুলগণের (আগমনের) পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।} এবং {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।} আর তিনি ফেরেশতাদের বলেছিলেন: {আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে আমিই অবগত?} যখন তারা তাঁকে বলেছিল: {আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে?} এবং তাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যখন আদম তাদেরকে নামসমূহ সম্পর্কে অবহিত করলেন। আর ফেরেশতাগণ বাদানুবাদ করেছিলেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আমার তো কোনো
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০২)
من علم بالملأ الأعلى إذ يختصمون}، وتجادل الأنبياء عليهم السلام.
وفي الصحيح: ((تحاجّ آدم وموسى عليهما السلام فقال موسى لآدمَ -صلواتُ الله عليهم أجمعين - أنتَ آدَمُ خلقك الله بيدهِ وأسجدَ لكَ الملائكة، وعاتبه على أكل الشجرة، فقال له آدم في آخر كلامه: أتلومني على أمر قد قُدّر علىَّ؟ قالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: فحجَّ آدم موسى)) أى ظهرت حجته عليه. الحديث.
وحاجت الأنبياء أممها، وجادلتها قال الله تعالى: {ألم تر إلى الذي حاج إبراهيم في ربه}، وحكى المجادلة إلى آخرها إلى قوله تعالى: {فبهت الذي كفر}، وقال تعالى: {قالوا يا نوح قد جادلتنا فأكثرت جدالنا}، وقال تعالى: {قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين}، وقال تعالى {وجادلتهم بالتي هي أحسن}، وقال تعالى: {ولا تجادلوا أهل الكتاب إلا بالتي هي أحسن} وهو كثير جدا.
فالجدال أصله اللَّىُّ والفَتْلُ، وجَدَلت الحبل إذا فتلته، ومنه سمى الصَّقر أجدل لانبرام جسمه وشدته، فمن لوى إلى الحق فهو محمود، ومن لوى إلى الباطل فهو مذموم، فالجدال كالسَّيف آلة عظيمة حسنة في نفسها، وإنما يَعْرض لها الذم من جهة ما تعمل فيه، فمن قطع به الطريق، وأخاف به السبيل على المسلمين ذُمّ، فكما لا يذم السيف في نفسه لا يذم الجدال في
"উচ্চ জগতের (ফেরেশতাদের) যখন তারা বিতর্ক করছিল সেই বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না", এবং নবিগণ (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বিতর্ক করেছেন।
এবং সহিহ হাদিসে এসেছে: "আদম ও মুসা (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) পরস্পর বিতর্ক করলেন। মুসা আদমকে—তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—বললেন: আপনিই কি সেই আদম যাকে আল্লাহ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার জন্য ফেরেশতাদের সেজদাবনত করেছেন? অতঃপর তিনি গাছ থেকে ফল খাওয়ার জন্য তাকে অনুযোগ করলেন। আদম তার কথার শেষে তাকে বললেন: আপনি কি আমাকে এমন বিষয়ে ভর্ৎসনা করছেন যা আমার ওপর পূর্বেই নির্ধারিত ছিল? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এভাবে আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।" অর্থাৎ মুসার ওপর আদমের প্রমাণ স্পষ্ট হলো। (হাদিস)।
আর নবিগণ নিজ নিজ উম্মতের সাথে দলিল পেশ করেছেন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আপনি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেননি, যে ইবরাহিমের সাথে তার রব সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল?", এবং তিনি বিতর্কের সেই ঘটনা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "অতঃপর যে কুফরি করেছিল সে হতভম্ব হয়ে গেল।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তারা বলল, হে নুহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে অনেক বেশি বিতর্ক করেছ।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আপনি তাদের সাথে সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা কিতাবধারীদের সাথে সর্বোত্তম পন্থা ব্যতীত বিতর্ক করো না।" আর এ ধরনের উদাহরণ অত্যন্ত অধিক।
বিতর্কের (জিদাল) মূল আভিধানিক অর্থ হলো পাকানো বা মোচড়ানো। আপনি যখন দড়ি পাকান তখন বলা হয় 'আমি দড়িটি পাকিয়েছি'। এর থেকেই শিকারি বাজ পাখিকে 'আজদাল' বলা হয় তার শরীরের সুদৃঢ় গঠন ও শক্তির কারণে। সুতরাং যে ব্যক্তি সত্যের দিকে ধাবিত করার জন্য মোচড় দেয় বা বিতর্ক করে সে প্রশংসিত, আর যে বাতিলের দিকে ধাবিত করার জন্য বিতর্ক করে সে নিন্দিত। বিতর্ক হলো তলোয়ারের মতো, যা সত্তাগতভাবে একটি মহৎ ও উত্তম হাতিয়ার। এর ওপর নিন্দা কেবল তখনই আপতিত হয় যখন এটি যে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি দিয়ে দস্যুবৃত্তি করে এবং মুসলমানদের চলাচলের পথকে ভীতিকর করে তোলে, সে নিন্দিত। অতএব, যেভাবে তলোয়ারের নিজস্ব কোনো নিন্দা নেই, তেমনি বিতর্কেরও নিজস্ব কোনো নিন্দা নেই...
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
نفسه، وإنما يُذَمُّ القصد الصارف له إلى الباطل، فما من شيء في العالم إلا هو كذلك، قال الله تعالى: {ونبلوكم بالشر والخير فتنة وإلينا ترجعون}، فجعل الجميع فتنة إشارة لما ذكرته، وأصول الفقه وأصول الدين من الفروض المتعين إقامتها وضبطها، لوجوب الحجة لله - تعالى - على خلقه، وإيضاح أحكام شريعته، وسيأتى في ((المحصول)) أنه من فروض الكفايات الحسنة الجليلة التى لها شئون، وشرف عظيم على غيرها.
البحث الثالث
في تسمية الكتاب بـ ((المحصول))، وهو مشكل، لأن الفعل إن كان حَصَلَ فهو قاصر ليس له مفعول، فلا يقال: محصول لأنه اسم مفعول، وإن كان حصَّل بالتشديد فاسم المفعول منه مُحصَّل، نحو كسَّرته فهو مكسَّر، وجرَحْته فهو مُجَرَّح، فمحصول لا يتأتى منه، وليس للعرب هاهنا إلا حَصَلَ وحصَّل، فعلى هذا لفظ محصول ممتنع لغة، والجواب من وجوه:
أحدها: أن صيغة مفعول تكون لغة للمصدر، تقول العرب: فلانٌ لا معقول له أى لا عقل له، وكذلك قيل: في قوله تعالى: {بأيكم المفتون}، أى الفتنة، فيكون المحصول بمعنى الحصول، ولا شك أن هذا الكتاب فيه حصول لأنواع من العلوم والفوائد.
وثانيها: أن ((حصل)) القاصر يتعدى بحرف جر تقول: حصل بكذا، فيكون هذا الكتاب قد حصل به العلم للمشتغل به، ولا شك أن كذلك، فيصدق عليه أنه محصول به.
স্বয়ং নিজে, বরং একে বাতিলের দিকে ধাবিতকারী উদ্দেশ্যটিই কেবল নিন্দনীয়। জগতের এমন কোনো বস্তু নেই যা এর ব্যতিক্রম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করি এবং তোমরা আমারই কাছে ফিরে আসবে}। সুতরাং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার দিকে ইঙ্গিত করে সবকিছুকে ফিতনা বা পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। উসুলুল ফিকহ এবং উসুলুদ দীন এমন সব ফরযের অন্তর্ভুক্ত যা প্রতিষ্ঠিত করা এবং সুশৃঙ্খল করা অপরিহার্য; যাতে সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাঁর শরীয়তের বিধিবিধানসমূহ স্পষ্ট হয়। 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে সামনে আসবে যে, এটি এমন এক উত্তম ও মহান ফরযে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত যার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর এর সুমহান সম্মান রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
কিতাবটির নামকরণ 'আল-মাহসুল' রাখা প্রসঙ্গে। এটি একটি জটিল বিষয়, কারণ ক্রিয়াটি যদি 'হাসালা' (অকর্মক) হয় তবে তার কোনো কর্ম (মাফউল) থাকে না। সুতরাং একে 'মাহসুল' বলা যায় না, কারণ এটি ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)। আর যদি তা তশদীদযুক্ত 'হাসসালা' হয় তবে তার ইসমে মাফউল হবে 'মুহাসসাল', যেমন: 'কাসসারতুহু' (আমি তাকে চূর্ণ করেছি) থেকে 'মুকাশসার' এবং 'জাররাহতুহু' (আমি তাকে আহত করেছি) থেকে 'মুজাররাহ'। সুতরাং 'মাহসুল' শব্দটি এখান থেকে গঠিত হওয়া সম্ভব নয়। আর আরবদের নিকট এক্ষেত্রে 'হাসালা' ও 'হাসসালা' ব্যতীয় অন্য কিছু নেই। ফলে ভাষাগত দিক থেকে 'মাহসুল' শব্দটির ব্যবহার অসম্ভব। এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:
প্রথমত: ভাষাগতভাবে 'মাফউল' রূপটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আরবরা বলে: 'অমুকের কোনো মাকুল নেই' অর্থাৎ 'তার কোনো আকল (বুদ্ধি) নেই'। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কে ফিতনাগ্রস্ত (আল-মাফতুন)}, এখানে এর অর্থ হলো 'ফিতনা'। সুতরাং 'মাহসুল' শব্দটি 'হুসুল' (অর্জিত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই কিতাবে নানাবিধ জ্ঞান ও উপকারের অর্জন বিদ্যমান।
দ্বিতীয়ত: অকর্মক 'হাসালা' হারফে জারের মাধ্যমে সকর্মক হয়। যেমন বলা হয়: 'অমুক জিনিসের দ্বারা অর্জিত হয়েছে'। সুতরাং এই কিতাবটি এমন যে, এর দ্বারা এতে নিয়োজিত ব্যক্তির জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বিষয়টি এমনই, তাই একে 'মাহসুল বিহি' (যার দ্বারা অর্জিত হয়েছে) বলা সঠিক।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وثالثها: أن ((حصل)) يتعدى للظرف من الزمان، والظرف من المكان، فيكون هذا الكتاب محصولا فيه، ولا شك أنه كذلك؛ لأنه مكان حصل فيه العلم مسطورا لمن يقرؤه.
ورابعها: أنه يتعدّى للمفعول من أجله، فتقول: حصل له أى لأجله، فيكون هذا الكتاب حصل العلم لأجله، ولا شك أنه كذلك؛ لأن مصنفه لما أراد وضعه حصَّل، واستحضر في نفسه علما كثيرا لأجل وضعه.
فهذه وجوه أربعة، وعلى الثلاثة الأخيرة منها سؤال وهو: أن اسم المفعول متى كان له صلة من حرف جر، فلا بد وأن ينطق به معه، فلا تقول: زيد ممرور وتسكت، بل تقول: ممرور به، وكذلك مدخول عليه؛ لأن اسم المفعول في تقدير ما لم يسم فاعله، والذي يقام مقام الفاعل هو ذلك المضمر المجرور فلا يجوز حذفه، وقد جوزوه لقوله تعالى: {إن العهد كان مسؤولا}، وقوله: {في ليلة مباركة} أى فيها، وقوله تعالى: {شجرة مباركة} أى فيها، فإن (بارك) لا يتعدى إلا بحرف جر.
وأجابوا عن قول الأولين بأن حرف الجر حذف على السعة، فاستتر الضمير في الصفة كما حذف في قوله تعالى: {افعل ما تؤمر} و {اصدع بما تُؤمر} حذف حرف الجر فصار تؤمر، ثم حذف وهو منصوب؛ لأن المجرور لا يحذف على الصحيح لما فيه من حذف كلمتين، وقيل: حذفا معا، كذلك حذف حرف الجر هاهنا، ويؤكده إجماع النحاة على قولهم: جار ومجرور، وهو مجرور إليه أى: انجر له المصدر بالحرف، فإذا قلت: مررت بزيد انجرَّ المرور لزيد بالباء، ومع ذلك لم يقولوا: مجرور إليه، بل سكتوا عن إليه.
তৃতীয়ত: 'হাসালা' (অর্জিত হওয়া) ক্রিয়াটি কালবাচক আধার (জরফুজ্জামান) এবং স্থানবাচক আধারের (জরফুল মাকান) দিকে ধাবিত হয়। ফলে এই কিতাবটি এমন একটি আধার হবে যাতে (জ্ঞান) অর্জিত হয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বিষয়টি তেমনই; কারণ এটি এমন একটি স্থান যেখানে পাঠকদের জন্য জ্ঞান লিখিত আকারে অর্জিত হয়েছে।
চতুর্থত: এটি উদ্দেশ্যবাচক কর্মের (মাফউল লাহু) দিকেও ধাবিত হয়। সুতরাং আপনি বলতে পারেন: 'হাসালা লাহু' অর্থাৎ তার জন্য (বা তার কারণে) অর্জিত হয়েছে। ফলে এই কিতাবটি এমন বিষয় হবে যার কারণে জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। এতেও কোনো সন্দেহ নেই; কারণ এর গ্রন্থকার যখন এটি রচনা করার সংকল্প করেছিলেন, তখন এর রচনার নিমিত্তে তিনি অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং নিজ অন্তরে তা উপস্থিত করেছিলেন।
এই হলো চারটি দিক। তবে শেষের তিনটি দিকের ওপর একটি প্রশ্ন রয়েছে, তা হলো: 'ইসম মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য) যখন কোনো অব্যয়ের (হরফে জর) মাধ্যমে যুক্ত হয়, তখন অবশ্যই সেই অব্যয়টিকে তার সাথে উচ্চারণ করতে হয়। আপনি 'যায়েদুন মামরুরুন' (যায়েদ অতিক্রান্ত) বলে চুপ থাকতে পারেন না, বরং বলতে হয় 'মামরুরুন বিহি' (যার পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে)। একইভাবে 'মাদখুলুন আলাইহি' (যার ওপর প্রবেশ করা হয়েছে)। কারণ 'ইসম মাফউল' হলো কর্মবাচ্য ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত, আর যে বিষয়টি কর্তার স্থলাভিষিক্ত (নায়েবে ফায়েল) হয় তা হলো সেই অব্যয়যুক্ত সর্বনামটি। সুতরাং একে বিলুপ্ত করা বৈধ নয়। তবে তারা একে বৈধ বলেছেন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে}, এবং তাঁর বাণী: {এক বরকতময় রজনীতে} অর্থাৎ যাতে (বরকত রয়েছে), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এক বরকতময় বৃক্ষ} অর্থাৎ যাতে (বরকত রয়েছে) - এগুলোর কারণে; কারণ 'বারাকা' ক্রিয়াটি অব্যয় ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না।
তারা প্রথমোক্তদের কথার জবাবে বলেছেন যে, ভাষাগত প্রশস্ততার কারণে অব্যয়টিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে গুণের (সিফাত) মধ্যে সর্বনামটি প্রচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা করো} এবং {তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রচার করো} - এর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়েছে। এখানে অব্যয়টি বিলুপ্ত হওয়ায় তা 'তু’মারু' হয়েছে, এরপর তা মানসুব (কর্মকারক) অবস্থায় বিলুপ্ত হয়েছে। কারণ বিশুদ্ধ মতানুসারে মাজরুর (অব্যয়যুক্ত পদ) বিলুপ্ত হয় না, কারণ তাতে দুটি শব্দ বিলুপ্ত করার বিষয় থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: উভয়টিই একসাথে বিলুপ্ত হয়েছে। একইভাবে এখানেও অব্যয়টি বিলুপ্ত হয়েছে। ব্যাকরণবিদদের সর্বসম্মত অভিমত একে সমর্থন করে যখন তারা বলেন: 'জার ও মাজরুর' (অব্যয় ও অব্যয়যুক্ত পদ), আর এটি হলো 'মাজরুরুন ইলাইহি' অর্থাৎ অব্যয়ের মাধ্যমে ক্রিয়ামূলটি তার দিকে ধাবিত হয়েছে। আপনি যখন বলেন: 'আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি', তখন 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে অতিক্রম করার বিষয়টি যায়েদের দিকে ধাবিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা 'মাজরুরুন ইলাইহি' বলেন না, বরং 'ইলাইহি' অংশটি উহ্য রাখেন।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وكذلك قال صاحب ((الجمل))،:كان متصرفه، تقول: كان فهو كائن ومكون، ومعناه فيه، ولم يذكر فيه.
وكذلك قال سيبويه في ((كتابه)) كما نقله صاحب ((الجمل)) عنه، ولم يذكر فيه، فتخرج هذه الأجوبة على هذا.
البحث الرابعُ
أخبرنى ((الشيخ شمس الدين الِخسْرُوشَاهي)) أنّ الإمام فخر الدين
অনুরূপভাবে ‘আল-জুমাল’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এটি ছিল তার রূপান্তরযোগ্য অবস্থা; আপনি বলবেন: ‘কানা’ (হলো), অতঃপর সে হয় ‘কায়িন’ (বিদ্যমান) এবং ‘মুকাওয়ান’ (অস্তিত্বপ্রাপ্ত), আর এর অর্থ এর মধ্যেই নিহিত, এবং এতে অন্য কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
অনুরূপভাবে সিবওয়াইহি তার ‘কিতাব’-এ বলেছেন যেমনটি ‘আল-জুমাল’ গ্রন্থের লেখক তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাতে এটি উল্লেখ করা হয়নি; সুতরাং এই উত্তরগুলো এর ভিত্তিতেই প্রতিপাদিত হবে।
চতুর্থ গবেষণা
শায়খ শামসউদ্দীন আল-খসরুশাহি আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইমাম ফখরউদ্দীন
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
اختصر من ((المحصول)) كراسين فقط، ثم كمله ((ضياء الدين حُسين)) فلما كمل وجد عبارته تخالف الكراسين الأولين، فغيرهما بعبارته، وهذا هو ((المنتخب))، فـ ((المنتخب)) لضياء الدين حسين لا للإمام فخر الدين، ويوجد في بعض النسخ: قال محمد بن عمر إشارة للإمام فخر الدين، وهو وَهْم، وليس للإمام فخر الدين في اختصاره شيء.
তিনি 'আল-মাহসুল' থেকে মাত্র দুটি পুস্তিকা সংক্ষেপ করেছিলেন, অতঃপর জিয়াউদ্দীন হুসাইন এটি সমাপ্ত করেন। যখন এটি পূর্ণাঙ্গ হলো, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে তার ভাষাভঙ্গি প্রথম দুটি পুস্তিকার পরিপন্থী হচ্ছে, তাই তিনি সেই দুটিকেও নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে নিলেন। আর এটিই হলো 'আল-মুনতাখাব'। সুতরাং 'আল-মুনতাখাব' গ্রন্থটি জিয়াউদ্দীন হুসাইনের, ইমাম ফাখরুদ্দীনের নয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'মুহাম্মাদ ইবনে উমর বলেছেন' কথাটি পাওয়া যায় যা ইমাম ফাখরুদ্দীনের প্রতি ইঙ্গিত করে; তবে এটি একটি ভ্রম এবং এই সংক্ষেপায়ণে ইমাম ফাখরুদ্দীনের কোনো অবদান নেই।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعينُ
قال مولانا الصدر الإمام: ((سلطان المحققين، ناصر الإسلام والمسلمين، بحر العلوم، أستاذ الورى، علم الهدى، أستاذ الشرق والغرب حجة الله على العباد، الداعي إلى الله أبو عبد الله محمد بن عمر بن الحسين الرَّازى متّع الله المسلمين بطول عُمْرِه، وَشَكَر في الدين سَعْيَه)):
الحمدلله حقَّ حمْدِهِ، وصلى الله على محمد وآله، وعلى جميع الأنبياء والمُرسلين.
الكلام في المقدمات وفيه فُصول
المقدمات: جمع مقدِّمة، ويقال: مقدَّمة - بفتح الدال وكسرها - اسم مفعول، واسم فاعل، ملاحظة أمرين مختلفين، إن لاحظت أن المقدمة تُقدِّمُنَا لمقصودنا، كسرنا الدال، لأنها فاعلة، أونحن نقدمها لنبنى عليها مقصودنا، فتحنا الدال؛ لأنها اسم مفعول.
قال صاحب ((الصحاح)) وغيرُه: مقدمة الجيش مكسورة
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
আমাদের মওলানা, প্রধান ইমাম বলেছেন: ((গবেষকগণের সুলতান, ইসলাম ও মুসলিমদের সাহায্যকারী, জ্ঞানসমুদ্র, সৃষ্টিজগতের শিক্ষক, হিদায়াতের ঝাণ্ডা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শিক্ষক, বান্দাদের উপর আল্লাহর দলিল, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ওমর ইবনুল হোসাইন আর-রাজি; আল্লাহ তাআলা তাঁর দীর্ঘ আয়ু দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং দীনের পথে তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন)):
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমন প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, এবং সকল নবী ও রাসূলের উপর।
ভূমিকা সংক্রান্ত আলোচনা এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
মুকাদ্দিমাত: এটি মুকাদ্দিমাহ শব্দের বহুবচন। একে মুকাদ্দামাহ এবং মুকাদ্দিমাহ—দাল বর্ণে জবর ও যের উভয় যোগে—পড়া হয়; যা যথাক্রমে ইসম মাফউল এবং ইসম ফায়েল। এটি দুটি ভিন্ন বিষয়ের বিবেচনার কারণে হয়; যদি আপনি বিবেচনা করেন যে ভূমিকা আমাদের আমাদের উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে আমরা দাল বর্ণে যের দেব, কারণ তখন এটি সম্পাদনকারী বা ফায়িল। অথবা যদি আমরা একে আগে উপস্থাপন করি যাতে এর ওপর আমাদের উদ্দেশ্য নির্মাণ করতে পারি, তবে আমরা দাল বর্ণে জবর দেব, কারণ তখন এটি কর্ম বা ইসম মাফউল।
‘সিহাহ’ গ্রন্থকার এবং অন্যান্যরা বলেছেন: সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের ক্ষেত্রে দাল বর্ণটি যেরযুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
الدال، وهي أول الجيش، ولم أرهم حكوا فيها خلافا، فكأنه غلب عليها اسم الفاعل، من جهة أنها تقدم الجيش والجيش يتبعها، وهي تشجعه وتستتبعه، وهذا البحث بعينه يأتى في مقدمات الدليل بتجويز الوجهين.
الفصل الأولفي تفسير أصول الفقه[قال الرَّازي]: اعلم أن المركَّب: لا يُمكن أن يُعلم إلا بعد العلم بمفرداته، لا من كل وجه، بل من الوجه الذي لأجله يصحُّ أن يقع التركيب فيه.
‘দাল’ (মুকাদ্দিমাহ শব্দের), আর এটি হলো সৈন্যবাহিনীর অগ্রভাগ। আমি দেখিনি যে তারা এ বিষয়ে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেছেন। ফলে মনে হয় এর ওপর ‘ইসমুল ফাঈল’ (কর্তৃবাচক রূপ) প্রাধান্য পেয়েছে, এ দিক থেকে যে এটি সৈন্যবাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং সৈন্যবাহিনী একে অনুসরণ করে; এটি বাহিনীকে উৎসাহিত করে এবং অনুগামী করে তোলে। এই একই পর্যালোচনা দলিলের ভূমিকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে উভয় রূপই (মুকাদ্দিমাহ ও মুকাদ্দামাহ) জায়েজ রাখা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে[রাযী বলেন]: জেনে রাখুন, কোনো যৌগিক বিষয় সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তার একক উপাদানগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হয়। তবে এটি সব দিক থেকে হতে হবে এমন নয়, বরং কেবল সেই দিক থেকে হতে হবে যার কারণে তাতে গঠন বা সংমিশ্রণ হওয়া শুদ্ধ হয়।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
فيجب علينا تعريف الأصلِ والفقه، ثم تعريف أصول الفقه.
أما الأصل: فهو المُحتاج إليه.
وأمَّا الفقه: فهو في أصلِ اللغة عبارة: عن فهم غرض المتكلم من كلامه.
وفي اصطلاح العلماء عبارة: عن العلم بالأحكام الشرعية العملية، المستدل على أعيانها، بحيث لا يُعلم كونها من الدين ضرورة.
فإن قلتَ: الفقه من باب الظنون، فكيف جعلته عِلما.
قلت: المجتهد إذا غلب على ظنه مشاركة صورة لصورة في مناط الحكم، قطع بوجوب العمل بما أدَّى إليه ظنه، فالحكم معلوم قطعا، والظن واقع في طريقه.
وقولنا: ((العِلم بالأحكام)): احتراز عن العلم بالذوات والصفات الحقيقية.
وقولنا: ((الشرعية)): احتراز عن العلم بالأحكام العقلية؛ كالتماثل، والاختلاف والعلم بقبح الظلم، وحسن الصدق عند من يقول بكونهما عقليين.
وقولنا: ((العملية)): احتراز عن العلم بكون الإجماع وخبر الواحد والقياس حُجَّة؛ فإن كل ذلك أحكام شرعية، مع أن العلم بها ليس من الفقه، لأن العلم بها ليس علما بكيفية عمل.
وقولنا: ((المستدل على أعيانها)): احتراز عما للمقلد من العلوم الكثيرة المتعلقة بالأحكام الشرعية العلميّة؛ لأنه إذا علم أن المفتى أفتى بهذا الحكم، وعلم أن ما أفتى به المفتى هو: حكم الله تعالى في حقه، فهذان العلمان يستلزمان العلم بأن حكم الله تعالى في حقه ذلك، مع أن تلك العلوم لا تسمى فقها؛ لمَّا لم يكن مستدلا على أعيانها.
وقولنا: ((بحيث لا يُعلم كونها من الدين ضرورة)): احتراز عن العلم
অতএব আমাদের জন্য মূল (আসল) ও ফিকহ সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক, অতঃপর উসূলে ফিকহ সংজ্ঞায়িত করা।
আর মূল (আসল) হলো: যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়।
আর ফিকহ: আভিধানিক মূল অর্থ অনুযায়ী তা হলো: বক্তার কথা থেকে তার উদ্দেশ্য বোঝা।
আর আলেমগণের পরিভাষায় তা হলো: শরয়ি আমলি (কার্যগত) বিধানাবলি সম্পর্কে এমন জ্ঞান, যা সেগুলোর বিস্তারিত দলিল থেকে আহরিত এবং যা দ্বীনের স্বতসিদ্ধ বিষয় হিসেবে পরিগণিত নয়।
যদি আপনি বলেন: ফিকহ তো প্রবল ধারণার (যন) অন্তর্ভুক্ত, তবে আপনি একে ইলম (নিশ্চিত জ্ঞান) হিসেবে কীভাবে গণ্য করলেন?
আমি বলব: মুজতাহিদ যখন তার প্রবল ধারণার ভিত্তিতে মনে করেন যে কোনো একটি বিষয় বিধানের ভিত্তির (মানাত আল-হুকুম) ক্ষেত্রে অন্য একটি বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তখন তিনি তার সেই প্রবল ধারণা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হন। সুতরাং বিধানটি নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত, আর প্রবল ধারণাটি কেবল সেই বিধান অর্জনের পথে সংঘটিত হয়েছে।
আর আমাদের কথা—'বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান'—এর মাধ্যমে সত্তা (জাত) ও প্রকৃত গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর আমাদের কথা—'শরয়ি'—এর মাধ্যমে আকলি বা যুক্তিনির্ভর বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে; যেমন—সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান এবং জুলুমের মন্দ হওয়া ও সত্যের সুন্দর হওয়ার জ্ঞান—যারা এগুলোকে আকলি মনে করেন তাদের নিকট।
আর আমাদের কথা—'আমলি' (কার্যগত)—এর মাধ্যমে ইজমা, খবর-ই-ওয়াহিদ এবং কিয়াস দলিল হওয়ার জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ এগুলো সবই শরয়ি বিধান হওয়া সত্ত্বেও এগুলো সম্পর্কে জ্ঞান ফিকহ-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এগুলো সম্পর্কে জ্ঞান কোনো কাজের পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞান নয়।
আর আমাদের কথা—'সেগুলোর বিস্তারিত দলিল থেকে আহরিত'—এর মাধ্যমে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর শরয়ি বিধান সংক্রান্ত বহুবিধ জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ সে যখন জানে যে মুফতি এই ফতোয়া দিয়েছেন এবং সে জানে যে মুফতি যা ফতোয়া দিয়েছেন তা-ই তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার বিধান, তখন এই দুটি জ্ঞান এই বিষয়ের ইলম বা জ্ঞানকে আবশ্যক করে যে তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার বিধান এটিই। তা সত্ত্বেও সেই জ্ঞানকে ফিকহ বলা হয় না; যেহেতু তা বিস্তারিত দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত নয়।
আর আমাদের কথা—'যা দ্বীনের স্বতসিদ্ধ বিষয় হিসেবে পরিগণিত নয়'—এর মাধ্যমে সেই জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১১০)
بوجوب الصلاة والصوم؛ فإن ذلك لا يُسمّى فقها؛ لأن العلم الضروري حاصل بكونهما من دين محمد صلى الله عليه وسلم.
وأمَّا أصول الفقه، فاعلم أنَّ إضافة اسم المعنى تُفيد اختصاص المضاف بالمضاف إليه في المعنى الذي عُيِّنَتْ لهُ لفظة المضاف، يُقال: هذا مكتوب زيد، والمفهوم ما ذكرناه.
وعند هذا نقول: أصول الفقه: عبارة عن مجموع طرق الفقه على سبيل الإجمال وكيفية الاستدلال بها، وكيفية حال المستدل بها.
فقولنا: ((مجموع)): احتراز عن الباب الواحد من ((أصول الفقه)) فإنه، وإن كان من أصول الفقه، لكنّه ليس أصول الفقه؛ لأن بعض الشيء لا يكون نفس ذلك الشىء.
وقولنا: ((طرق الفقه)) يتناول: الأدلة والأماراتِ.
وقولنا: ((على طريق الإجمال)): أردنا به بيان كون تلك الأدلّة أدلَّة؛ ألا ترى أنا إنما نتكلم في أصول الفقه في بيان أن الإجماع دليل؟! فأمّا أنه وجد الإجماع في هذه المسألة فذلك لا يُذكر في أصول الفقه.
وقولُنا: ((وكيفية الاستدلال بها)) أردنا به: الشرائط التى معها يصحُّ الاستتدلال بتلك الطُّرُقِ.
وقولنا: ((وكيفية حال المستدل بها)) أردنا به: أنَّ الطالب لحكم الله تعالى، إن كان عاميا، وجب أن يستفتي؛ وإن كان عالما، وجب أن يجتهد، فلا جرم وجب في أصول الفقه أن يبحث عن حال الفتوى، والاجتهاد، وأنَّ كل مجتهد هل هو مصيب، أم لا.
সালাত এবং সিয়ামের ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি; কেননা এটিকে ফিকহ বলা হয় না; যেহেতু এই দুই বিষয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আবশ্যিক জ্ঞান অর্জিত রয়েছে।
আর উসুলুল ফিকহ প্রসঙ্গে জেনে রাখুন যে, অর্থবোধক বিশেষ্যের সম্বন্ধকরণ সেই অর্থের ক্ষেত্রে মুদাফ-কে (যাকে সম্বন্ধ করা হয়েছে) মুদাফ ইলাইহ-এর (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে) সাথে নির্দিষ্ট করার ফায়দা প্রদান করে, যার জন্য মুদাফ শব্দটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বলা হয়: 'এটি যায়েদের লিখিত', আর এর অর্থ তাই যা আমরা উল্লেখ করেছি।
এ পর্যায়ে আমরা বলি: উসুলুল ফিকহ হলো সাধারণভাবে ফিকহ অর্জনের মাধ্যমসমূহের সমষ্টি, সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি এবং যিনি দলিল পেশ করেন তার অবস্থার বর্ণনা।
আমাদের বক্তব্য: 'সমষ্টি': এর মাধ্যমে উসুলুল ফিকহের কোনো একটি একক অধ্যায়কে পৃথক করা হয়েছে। কেননা সেটি উসুলুল ফিকহের অংশ হলেও তা স্বয়ং উসুলুল ফিকহ নয়; কারণ কোনো জিনিসের অংশ সেই জিনিসের হুবহু সত্তা হতে পারে না।
আমাদের বক্তব্য: 'ফিকহ অর্জনের মাধ্যমসমূহ' দলিল এবং লক্ষণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আমাদের বক্তব্য: 'সাধারণভাবে': এর মাধ্যমে আমরা এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, উক্ত মাধ্যমগুলো দলিল হিসেবে গণ্য হওয়া। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, উসুলুল ফিকহে আমরা কেবল ইজমা একটি দলিল—এটি বর্ণনা করার আলোচনা করি? পক্ষান্তরে কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় ইজমা সংঘটিত হয়েছে কি না, তা উসুলুল ফিকহে আলোচিত হয় না।
আমাদের বক্তব্য: 'সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি': এর দ্বারা আমরা সেই শর্তসমূহ বুঝিয়েছি, যেগুলোর উপস্থিতিতে উক্ত মাধ্যমগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা সঠিক হয়।
আমাদের বক্তব্য: 'যিনি দলিল পেশ করেন তার অবস্থা': এর দ্বারা আমরা বুঝিয়েছি যে, মহান আল্লাহর বিধান অন্বেষণকারী যদি সাধারণ ব্যক্তি হন, তবে তার জন্য ফতোয়া গ্রহণ করা ওয়াজিব; আর যদি তিনি আলেম হন, তবে তার জন্য ইজতিহাদ করা ওয়াজিব। সুতরাং অনিবার্যভাবেই উসুলুল ফিকহে ফতোয়া ও ইজতিহাদের অবস্থা এবং প্রত্যেক মুজতাহিদ কি সঠিক পথপ্রাপ্ত কি না—এসব বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১১১)
قال القرافي: تقريره: أنّ أصول الفقه مركب من المضاف والمضاف إليه، والعلم بالمركبات يتوقف على العلم بالمفردات، لأن من جهل الحيوان، أو الناطق استحال أن يعرف الإنسان، أو جهل الخلَّ أو السُّكّر استحال أن يعرف السَّكَنْجَبِين الذي يتركب منهما، ولكن يعرف الحيوان والناطق من جهة أنهما حيوان وناطق، فإن تركب الإنسان منهما، إنما هو من هذا الوجه، لا من جهة أن الحيوان جسم ولا ممكن، ولا من جهة أن الناطق متحيز، ولا قابل للأعراض، وكذلك جميع أجزاء المركبات، يجب أن يقف العلم بالمركب عليها من جهة أنها يصح منها التركيب، لا من كل وجه، وترد عليه أربعة أسئلة:
السؤال الأول: أنَّ العلم قسمان:
إجمالي وتفصيلي.
فالإجمالي: العلم بالشيء من بعض وجوهه.
والتفصيلي: العلم بالشيء من جميع وجوهه، وكذلك تقول: أمر فلان أعرفه من حيث الجملة، وأمر فلان أعرفه مفصلا، والجَمْل: الخلط، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: ((لعن الله اليهود حُرمت عليهم الشحوم فجملوها وباعوها وأكلوا أثمانها)) أى: خلطوها بالسبك على النار.
ومنه لفظ ((مُجمَل)) لاختلاط المراد فيه بغير المراد، والعلم الإجمالى: اختلط الوجه المعلوم بالوجه المجهول في تلك الحقيقة.
আল-কারাফি বলেছেন: এর ব্যাখ্যা হলো: উসুলুল ফিকহ মুদাফ (নামপদীয় সম্বন্ধ) এবং মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়) এর সমন্বয়ে গঠিত, আর যৌগিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা একক বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। কারণ যে ব্যক্তি জীব বা বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, তার পক্ষে মানুষকে চেনা অসম্ভব; অথবা যে সিরকা বা চিনি সম্পর্কে অজ্ঞ, তার পক্ষে সাকানজাবিন চেনা অসম্ভব যা এ দুটি উপাদানে গঠিত। তবে জীব এবং বাকশক্তিকে এ দিক থেকেই চিনতে হবে যে তারা জীব এবং বাকশক্তি সম্পন্ন। কেননা মানুষ এ দুটি দ্বারা গঠিত হওয়ার বিষয়টি এই দিক থেকেই বিবেচিত হয়, জীব দেহধারী বা সম্ভাব্য হওয়ার দিক থেকে নয়, এবং বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া স্থান দখলকারী হওয়া বা পরিবর্তনশীল গুণের আধার হওয়ার দিক থেকেও নয়। একইভাবে যৌগিক বিষয়ের সকল অংশের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, যৌগিক বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান এগুলোর ওপর এমন দিক থেকে নির্ভর করবে যে দিক থেকে এগুলোর গঠন সঠিক হয়, সব দিক থেকে নয়। আর এর ওপর চারটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়:
প্রথম প্রশ্ন: জ্ঞান দুই প্রকার:
সামগ্রিক এবং বিস্তারিত।
সামগ্রিক জ্ঞান হলো: কোনো বস্তুর কিছু দিক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর বিস্তারিত জ্ঞান হলো: কোনো বস্তুর সকল দিক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। একইভাবে আপনি বলে থাকেন: অমুকের বিষয়টি আমি সামগ্রিকভাবে জানি, আর অমুকের বিষয়টি আমি বিস্তারিতভাবে জানি। আর ‘জামল’ অর্থ হলো মিশ্রিত করা। এ থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এসেছে: “আল্লাহ ইহুদিদের অভিশাপ দিন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গলিয়ে মিশ্রিত করল এবং তা বিক্রি করে এর মূল্য ভক্ষণ করল।” অর্থাৎ: আগুনের তাপে গলিয়ে তারা তা মিশ্রিত করেছিল।
এ থেকেই ‘মুজমাল’ শব্দটি এসেছে, কারণ এতে উদ্দিষ্ট অর্থটি অনভিপ্রেত অর্থের সাথে মিশে থাকে। আর সামগ্রিক জ্ঞান হলো: সেই বাস্তবতায় পরিচিত দিকটি অপরিচিত দিকের সাথে মিশে থাকা।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১১২)
إذا تقرر هذا، فالعلم بالمركب إنما يتوقف على العلم بمفرداته إذا كان تفصيليا، أما الإجمالى فلا، فكم في العالم من يعلم التِّريَاق والفاروق بالسماع، ولا يعرف أن حوائجه نَيِّف وسبعون حاجة، بل يعرف سقف بيته ولا يعرف عدد خشبه، ولا ما رُصَّ فيه من اللَّبِنِ، بل يعرف نفسه، ولا يعرف أن فيه خمسمائة عضلة تحركه، ولا عدد عظامه، وأوردته، وشرايينه، وغير ذلك من أجزائه، وهذه نفس الإنسان، فما ظنُّك بغيرها، نعم العلم التفصيلي متوقف، لكنه أطلق القول، فيرد عليه القسم الأول الإجمالى.
الثاني: أنه إذا سُلِّمَ له ما قال، واحتاج كما قال إلى معرفة الفقه، والأصل يلزمه أن الفقه جزء كما قال، وأن الحقيقة لا تثبت به، وأن الحقيقة لا تثبت بدون جميع أجزائها، فلا يسمى أحد أصوليا، إلا إذا قام به أصول الفقه، ومن جملة أجزائه الفقه، فلا يكون أحد أصوليا حتى يكن فقيها، وليس كذلك لإطباق أهل العرف علي قولهم: فلان أصولى، وليس بفقيه، وإنما يحتاج في الأصول إلى معرفة تصور أصل الأحكام الفقهية، أو التمثيل ببعض أفرادها، وذلك ليس كافيا في مسمى الفقه على ما يأتى في حد الفقه إن شاء الله تعالى.
الثالث: في قوله: من الوجه الذي يصح التركيب فيه، مع أن الجزء لا يقع التركيب فيه، بل منه، والذي يقع التركيب فيه إنما هو المركب لا مفرداته، فمقتضى قوله: أن يكون التركيب في الجزء، فيكون كل جزء مركبا، فيلزم التركيب في كل مركب من أجزاء لا نهاية لها، وهو محال لاقتضاء صيغته أن كل جزء وقع التركيب فيه.
الرابع: أن أصول الفقه مركب من المضاف الذي هو الأصول، ومن الفقه الذي هو المضاف إليه، فاللازم عن هذا التركيب معرفة الأصول، ومعرفة نسبته الخاصة إلى الفقه لا نفس الفقه، فالمضاف إليه لا يدخل في حقيقة المضاف، بل نسبته إليه فقط، فقوله بعد ذلك: فيجب علينا تعريف الأصل،
যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন কোনো যৌগিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা তার একক উপাদানগুলো জানার ওপর তখনই নির্ভর করে যখন সেই জ্ঞানটি বিস্তারিত হয়। তবে ভাসা-ভাসা বা সামগ্রিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। কারণ বিশ্বে এমন কতজন আছে যারা কেবল শ্রুতির মাধ্যমে তেরিয়াক (প্রতিষেধক) এবং আল-ফারুক সম্পর্কে জানে, অথচ তারা জানে না যে এর উপাদান সত্তরটিরও বেশি। বরং সে তার ঘরের ছাদ চেনে কিন্তু তার কাঠের সংখ্যা জানে না, কিংবা তাতে কতগুলো ইট গাঁথা হয়েছে তাও জানে না। এমনকি সে নিজেকে চেনে, অথচ সে জানে না যে তার ভেতরে পাঁচশত পেশি রয়েছে যা তাকে সচল রাখে, কিংবা তার হাড়ের সংখ্যা, শিরা-উপশিরা এবং তার অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কেও সে জানে না। এটি তো খোদ মানুষের নিজের অবস্থা, তাহলে অন্য জিনিসের ক্ষেত্রে আপনার ধারণা কী? হ্যাঁ, বিস্তারিত জ্ঞান উপাদান জানার ওপর নির্ভরশীল, তবে তিনি ঢালাওভাবে কথাটি বলেছেন, ফলে প্রথম প্রকার অর্থাৎ সামগ্রিক জ্ঞানের বিষয়টি তার বক্তব্যের ওপর আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত: তার কথা যদি মেনেও নেওয়া হয় এবং তার দাবি অনুযায়ী ফিকহ ও মূলনীতি জানার প্রয়োজন পড়ে, তবে তার কথা অনুযায়ী ফিকহকে একটি অংশ হিসেবে গণ্য করতে হয়। অথচ কোনো কিছুর সত্তা তার সকল অংশ ছাড়া সাব্যস্ত হয় না। এমতাবস্থায় কাউকে ‘উসুলি’ বলা যাবে না যতক্ষণ না তার মধ্যে উসুলুল ফিকহ বিদ্যমান থাকে। আর যেহেতু ফিকহ উসুলুল ফিকহের অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই ফিকহবিদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ উসুলি হতে পারবে না। অথচ বাস্তবতা এমন নয়, কারণ বিশেষজ্ঞগণের পরিভাষায় ঐকমত্য রয়েছে যে: অমুক ব্যক্তি একজন উসুলি, কিন্তু তিনি ফকিহ নন। প্রকৃতপক্ষে উসুলের ক্ষেত্রে ফিকহি বিধানসমূহের মূল ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা অথবা এর কিছু উদাহরণের প্রয়োজন পড়ে মাত্র। আর ফিকহের সংজ্ঞায় যা সামনে আসবে (ইনশাআল্লাহ তায়ালা), সেই অনুযায়ী তা ফিকহ নাম পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
তৃতীয়ত: তার কথা—‘যে দিক থেকে তাতে গঠন সঠিক হয়’—প্রসঙ্গে বক্তব্য হলো, কোনো অংশের মধ্যে গঠন সংঘটিত হয় না, বরং অংশ দ্বারা গঠন সম্পন্ন হয়। আর গঠন মূলত যৌগিক বস্তুর ক্ষেত্রে ঘটে, তার একক উপাদানসমূহের ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং তার কথার দাবি অনুযায়ী গঠন খোদ অংশের মধ্যেই বিদ্যমান, ফলে প্রতিটি অংশই যৌগিক হয়ে পড়বে। এতে প্রতিটি যৌগিক বস্তুর ক্ষেত্রে অসীম অংশের আবশ্যকতা দেখা দেবে, যা অসম্ভব; কারণ তার ব্যবহৃত শব্দের গঠনভঙ্গি দাবি করছে যে প্রতিটি অংশের মধ্যেই গঠন প্রক্রিয়া রয়েছে।
চতুর্থত: উসুলুল ফিকহ মূলত মুদাফ অর্থাৎ ‘উসুল’ এবং মুদাফ ইলাইহি অর্থাৎ ‘ফিকহ’-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক রূপ। সুতরাং এই গঠন থেকে যা জরুরি হয়ে পড়ে তা হলো উসুল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং ফিকহের সাথে এর বিশেষ সম্পর্কের পরিচয় জানা, স্বয়ং ফিকহ সম্পর্কে জানা নয়। কারণ মুদাফ ইলাইহি মূলত মুদাফের প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত হয় না, বরং তা কেবল তার দিকে একটি সম্বন্ধ মাত্র। সুতরাং এরপর তার এই উক্তি: ‘তাই আমাদের ওপর আসলের সংজ্ঞা প্রদান করা আবশ্যক...’
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
والفقه ليس كذلك، بل تعريف الأصل ونسبته إلى الفقه، وأما الفقه فلا، وهذا هو السر في أن أصول الفقه قد يوجد بدون الفقه، وفي قوله: هذا أصولى، وليس بفقيه؛ لأن الفقه لم يدخل في حقيقة الأصول، بل النسبة فقط، كقولهم: غذاء الإنسان، ونومه، ومسكنه، لم يدخل الإنسان في شىء من تلك الحقائق، بل النسبة إليه فقط.
تنبيهوفي ((الحاصل)) سكت عن قوله: لا من كل وجه، بل من الوجه الذي يصح التركيب فيه، فيسقط عنه السؤال الثالث، ويرد عليه أنه أهمل، كيف يعرف جزآه؟ فيبقى الكلام دائرا بين ما هو شرط، وهو الوجه الذي يقع منه التركيب، وما ليس بشرط، وهو معرفة الجزء من غير ذلك الوجه.
وقال سراج الدين: من حيث يصح تركيبها، فلا يرد عليه شىء مما ورد على تاج الدين، ولا على الإمام في السؤال الثالث.
এবং ফিকহ বিষয়টি তেমন নয়, বরং এটি হলো মূলের (আসল) সংজ্ঞা এবং ফিকহের সাথে এর সম্বন্ধ। কিন্তু ফিকহ নিজে তেমন নয়; আর এটিই হলো সেই রহস্য যার কারণে ফিকহ ছাড়াই উসূলুল ফিকহ বিদ্যমান থাকতে পারে। এবং এই কথাটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য যে: "তিনি একজন উসূলী, কিন্তু ফকীহ নন"; কারণ ফিকহ উসূলের হাকীকতের (মূল সত্তা) অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং কেবল সম্বন্ধ মাত্র। যেমন তাদের কথা: মানুষের খাদ্য, তার ঘুম এবং তার বাসস্থান; এখানে মানুষ এই হাকীকতগুলোর কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং কেবল তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে মাত্র।
সতর্কীকরণএবং 'আল-হাসিল' গ্রন্থে তাঁর এই উক্তিটি সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে: "সর্বদিক থেকে নয়, বরং কেবল সেই দিক থেকে যে দিক থেকে গঠন (তারকীব) সহীহ হয়।" ফলে তাঁর থেকে তৃতীয় প্রশ্নটি রহিত হয়ে যায়। তবে তাঁর ওপর এই আপত্তি আসে যে, তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন; কীভাবে এর দুটি অংশ জানা যাবে? ফলে বিষয়টি এমন কিছুর মধ্যে আবর্তিত হতে থাকে যা শর্ত—আর তা হলো সেই দিক যেখান থেকে গঠন সংঘটিত হয়—এবং যা শর্ত নয়—আর তা হলো সেই দিক ব্যতীত অন্য দিক থেকে অংশটি জানা।
এবং সিরাজুদ্দীন বলেন: যেদিক থেকে এগুলোর গঠন সহীহ হয়, ফলে তাজউদ্দীন কিংবা ইমামের ওপর তৃতীয় প্রশ্নের ব্যাপারে যা আপতিত হয়েছে, তাঁর ওপর তার কিছুই আপতিত হবে না।
(খণ্ড: ১)
নাফায়িসুল উসূল ফী শারহিল মাহসূুল
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
وقال التبريزى لا بد من معرفة الأصول والفقه، ومعرفة وجه الإضافة، ولم يذكر الوجه الذي يقع منه التركيب، بل عبر عنه بوجه الإضافة، فهو نحو من ((الحاصل))، وسكت ((المنتخب)) عن هذه المسألة بالكلية.
قوله: ((الأصل هو المحتاج إليه))
تقريره: أن الأصل والفقه لما احتاج إلى تعريفهما، وهما لكل واحد منهما معنى في اللغة، ومعنى في اصطلاح العلماء، احتاج إلى تعريف هذه المعانى الأربعة، فهذا الذي ذكره هو معنى الأصل في اللغة عنده؛ لأن أصل السُّنبلة بُرّة، وهي تحتاج إليها، وأصل النخلة نواة وهي يحتاج إليها، وأصل الإنسان نطفة، وهو محتاج في تخليقه إليها، ولا شك أن كل أصل يُحتاج إليه، غير أن كل حقيقة كما يحتاج لأصلها يحتاج لشرطها، وانتفاء مانعها والشروط وعدم الموانع ليست أصولا لتلك الحقائق.
فكما تحتاج السنبلة للبرة تحتاج للهواء اللَّين والندى المتواصل، وعدم دابة تقلعها من أصلها، وعدم عَفَن يحصل لها من منبتها، ولا يقال: أصلها الهواء، ولا عدم الحيوان المهلك، وكذلك الإنسان يحتاج لهواء يتنفس فيه، وقوت يغذيه، وبيت يؤويه، وثوب يحميه، ولا يقال: أصله الهواء ولا الثوب، فالحاصل أن كل أصل مُحتاج إليه، ليس كل محتاج إليه أصلا،
আত-তাবরিজি বলেন, উসুল এবং ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং ইজাফাতের (সম্বন্ধ) ধরন জানা আবশ্যক। তবে তিনি সেই ধরনটি উল্লেখ করেননি যার মাধ্যমে বাক্য গঠন সম্পন্ন হয়, বরং একে ইজাফাতের ধরন হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। এটি ‘আল-হাসিল’-এর অনুরূপ। আর ‘আল-মুনতাখাব’ গ্রন্থটি এই বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নীরব রয়েছে।
তাঁর উক্তি: "আসল (মূল) হলো যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়।"
এর ব্যাখ্যা হলো: যখন ‘আসল’ এবং ‘ফিকহ’ এই শব্দ দুটির সংজ্ঞা প্রদানের প্রয়োজন দেখা দিল এবং যেহেতু এগুলোর প্রত্যেকেরই আভিধানিক এবং উলামাদের পরিভাষাগত অর্থ রয়েছে, তাই এই চারটি অর্থ সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন পড়ল। সুতরাং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা তাঁর নিকট আসলের আভিধানিক অর্থ; কেননা শস্যের শীষের মূল হলো গমের দানা, যার প্রতি শীষ মুখাপেক্ষী। খেজুর গাছের মূল হলো আঁটি, যার প্রতি গাছ মুখাপেক্ষী। মানুষের মূল হলো শুক্রাণু, তার সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় সে এর প্রতি মুখাপেক্ষী। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক আসলের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়। তবে যেকোনো বস্তুর বাস্তবতা যেমন তার আসলের প্রতি মুখাপেক্ষী, তেমনি তার শর্তের প্রতি এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার প্রতিও মুখাপেক্ষী। কিন্তু শর্তাবলি এবং প্রতিবন্ধকতার অনুপস্থিতি সেই বাস্তবতাসমূহের জন্য ‘আসল’ নয়।
অতএব, শস্যের শীষ যেমন গমের দানার প্রতি মুখাপেক্ষী, তেমনি এটি মৃদু বাতাস, নিরবচ্ছিন্ন শিশির এবং এমন কোনো পশুর অনুপস্থিতির মুখাপেক্ষী যা একে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলবে এবং এর অঙ্কুরোদগমের স্থানে পচন না ধরার মুখাপেক্ষী। কিন্তু বাতাসকে এর মূল বলা হয় না, কিংবা ধ্বংসাত্মক প্রাণীর অনুপস্থিতিকেও মূল বলা হয় না। অনুরূপভাবে মানুষ নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাসের, পুষ্টির জন্য খাদ্যের, আশ্রয়ের জন্য গৃহের এবং সুরক্ষার জন্য পোশাকের মুখাপেক্ষী। কিন্তু বাতাস বা পোশাককে তার মূল বলা হয় না। সারকথা হলো, প্রত্যেক আসলের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়, কিন্তু যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয় তার সবই আসল নয়।