(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: -)
أحكام رؤية الهلال   (عدنان العرعور)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام رؤية الهلال

المؤلف: الشيخ عدنان بن محمد العرعور

عدد الصفحات: 8

[الكتاب مرقم آليا وهو غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الآخرة 1440

চাঁদ দেখার বিধানসমূহ   (আদনান আল-আরূর)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: চাঁদ দেখার বিধানসমূহ

লেখক: শায়খ আদনান বিন মুহাম্মাদ আল-আরূর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং এটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

من عدنان العرعور إلى جميع الأخوة الذين سألوا عن مسائل في أحكام هلال الصيام والإفطار في بلدان كثيرة، وبخاصة في الدول الغربية، السلام عليكم ورحمة الله تعالى وبركاته.

أما بعد:

فالحمد لله، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، فقد كثر السؤال عن موضوع هلال رمضان وأحكامه، فأردت أن أحرر جواباً عن هذه المسألة

 

‌‌فحوى الأسئلة:

ما هو المعتمد في الصيام .. هل اعتبار الرؤية البصرية أو الحسابية؟

وماذا يفعل المسلم إذا تعارضت الرؤية مع الحساب؟

إذا اختلف أهل البلد الواحد في الصوم، فصام بعضهم وأفطر بعضهم، فمع من يصوم المسلم! ؟

هل يجب توحيد صيام المسلمين، أم أن لكل بلد مطلعه؟ ؟

إذا ثبتت الرؤية في بلد ما، ولم تثبت في بلده، فهل يصوم من في بلد آخر معهم مخالفاً أهل بلده؟ ؟

ثم إذا كان الرجل في بلد، ويريد أن يسافر إلى بلد آخر، فمع من يصوم؟ وكيف يكون صومه إذا زاد شهر رمضان عليه أو نقص؟ ؟

قلت: إنه لمن المؤسف أن يستمر هذا الخلافات بين المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها منذ قرون، حتى أصبح أشد من فتنة بقرة بني إسرائيل، فمن متعصب لا يسمح بسماع الرأي الآخر، ومن متساهل لا يبالي بسنة، ولا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আদনান আল-আরূর-এর পক্ষ থেকে সেই সকল ভাইদের প্রতি যারা বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে সিয়াম পালন ও ইফতারের জন্য নতুন চাঁদ দেখার বিধান (أحكام) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন; আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতপর:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। রমজানের চাঁদ এবং এর বিধানসমূহ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্নের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আমি এই বিষয়টি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট উত্তর প্রস্তুত করতে চেয়েছি।

 

‌‌প্রশ্নাবলির সারসংক্ষেপ:

সিয়ামের ক্ষেত্রে কোনটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি (معتمد)? চাক্ষুষ দর্শন (رؤية بصرية) নাকি গাণিতিক হিসাব (حسابية)?

যদি চাঁদ দেখার সাথে গাণিতিক হিসাবের বিরোধ দেখা দেয়, তবে একজন মুসলিম কী করবেন?

যদি একই দেশের অধিবাসীদের মধ্যে সিয়াম পালন নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়, যেখানে একদল সিয়াম পালন করে এবং অন্যদল তা ভঙ্গ করে, তবে একজন মুসলিম কার সাথে সিয়াম পালন করবেন?

মুসলিমদের সিয়াম পালন কি ঐক্যবদ্ধ হওয়া আবশ্যক (واجب), নাকি প্রত্যেক ভূখণ্ডের জন্য আলাদা উদয়স্থল (مطلع) রয়েছে?

যদি কোনো একটি দেশে চাঁদ দেখা সাব্যস্ত (ثابت) হয় কিন্তু নিজের দেশে না হয়, তবে অন্য দেশের কেউ কি নিজ দেশের মানুষের বিরোধিতা করে তাদের সাথে সিয়াম পালন করবেন?

আবার যদি কোনো ব্যক্তি এক দেশে অবস্থান করেন এবং অন্য দেশে সফর করতে চান, তবে তিনি কার সাথে সিয়াম পালন করবেন? আর যদি এর ফলে তার রমজান মাস বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায়, তবে তার সিয়ামের পদ্ধতি কী হবে?

আমি বলি: এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে মুসলিমদের মাঝে এই মতভেদ কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। এমনকি এটি বনী ইসরায়েলের গাভী সংক্রান্ত ফিতনার চেয়েও কঠিন রূপ নিয়েছে। ফলে একদল গোঁড়ামিতে লিপ্ত যারা ভিন্ন মত শুনতে চায় না, আর অন্যদল শিথিলতা প্রদর্শনকারী যারা সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না এবং...
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২)
يراعي قواعد فقه، وقد أجبت على ذلك بذكر قواعد واضحة كلية، لا تتعلق بمذهبية ولا بلدية، لتكون عوناً على فهم هذه المسألة وضبطها، والعمل بها في كل زمان ومكان. (1)

 

‌‌المسألة الأولى: إثبات الإهلال بين الرؤية البصرية، والنظرة الحسابية.

الأصل في تحديد الشهور القمرية هو: الرؤية البصرية … فإن رُئيَ هلال رمضان صام المسلمون، وإن رُئيَ هلال شوال أفطر المسلمون، وإن غمّ عليهم أتموا شهرهم، دون تنطع ولا جدال، وكفى الله المؤمنين شر القيل والقال، وبقرة بني إسرائيل.

قال صلى الله عليه وسلم: ((صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته، فإن غُبّي عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين)) (2)، وفي رواية لمسلم: ((فإن غُمّي عليكم فأكملوا العَدَد))، دون تكلّف من مراصد علمية، أو أقمار صناعية، أو حسابات معقدة.

فإن رد البصرية والتكلف في المراصد والحسابات من التكلف المنهي عنه، وديننا أبسط من هذا كله.

قال تعالى آمراً رسوله صلى الله عليه وسلم أن يقول: "وما أنا من المتكلفين"

وقال صلى الله عليه وسلم: "هلك المتنطعون" - أي المتشدون - الذين يتركون ما سهل الله إلى التشديد والتكلف.

 

‌‌الثانية: وجوب توحيد الصيام والإفطار للأمة كلها في جميع أقطارها .. وذلك؛ لأن الهلال واحد، والأرض واحدة، والمسلمون كلهم أمة واحدة.

وأمرُ رسول صلى الله عليه وسلم: ((صوموا لرؤيته، وأفطروا لرؤيته)) هو خطاب للمسلمين جميعاً، دون تفريق بينهم بحدود مصطنعة، أو تقسيمات مخترعة.

--------------------------------------------

(1) - وقد أعرضت عن التفصيل وذكر الأدلة طلباً للاختصار، فقد فصلتها في مباحث خاصة بها.

(2) 2 - أخرجه البخاري (1909)، ومسلم (1081).
এটি ফিকহের মূলনীতিসমূহ বিবেচনা করে। আমি এই বিষয়ে কিছু সুস্পষ্ট ও সামগ্রিক মূলনীতি উল্লেখ করে উত্তর দিয়েছি, যা কোনো সুনির্দিষ্ট মাযহাব বা অঞ্চলের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যাতে তা এই বিষয়টি বুঝতে, নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সর্বকালে ও সর্বস্থানে এর ওপর আমল করতে সহায়ক হয়। (১)

 

‌‌প্রথম মাসয়ালা: চাক্ষুষ দেখা এবং গাণিতিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চাঁদ ওঠার প্রমাণ.

চান্দ্র মাস নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো: চাক্ষুষ দেখা … সুতরাং যদি রমজানের চাঁদ দেখা যায় তবে মুসলিমরা রোজা রাখবে, আর যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায় তবে মুসলিমরা রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করবে। আর যদি তাদের নিকট মেঘের কারণে তা অস্পষ্ট থাকে, তবে তারা তাদের মাস পূর্ণ করবে; কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা বিতর্ক ছাড়াই। আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য অনর্থক বাকবিতণ্ডা এবং বনী ইসরাঈলের গাভীর মতো খুঁতখুঁতে স্বভাবের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো। আর যদি তোমাদের নিকট তা মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে শাবানের সংখ্যা ত্রিশ পূর্ণ করো)) (২), এবং মুসলিম-এর একটি বর্ণনায় (رواية): ((যদি তোমাদের ওপর মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে সংখ্যা পূর্ণ করো)), কোনো বৈজ্ঞানিক মানমন্দির, কৃত্রিম উপগ্রহ কিংবা জটিল হিসাব-নিকাশের কৃত্রিমতা ছাড়াই।

কেননা চাক্ষুষ দেখাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানমন্দির ও হিসাব-নিকাশের পেছনে শ্রম ব্যয় করা সেই নিষিদ্ধ কৃত্রিমতার অন্তর্ভুক্ত, আর আমাদের দ্বীন এসবের চেয়ে অনেক সহজ।

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে বলেন: "এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে" - অর্থাৎ যারা কঠোরতা অবলম্বনকারী - যারা আল্লাহর সহজ করে দেওয়া বিষয়কে বর্জন করে কঠোরতা ও কৃত্রিমতার দিকে ধাবিত হয়।

 

‌‌দ্বিতীয়: সকল ভূখণ্ডের সমগ্র উম্মাহর জন্য রোজা ও রোজা ভঙ্গের অভিন্নতা ওয়াজিব হওয়া .. আর তা এজন্য যে; চাঁদ একটিই, পৃথিবী একটিই এবং মুসলিমরা সবাই এক উম্মাহ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ: ((তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো)) - এটি সকল মুসলিমের প্রতি সম্বোধন, যা কৃত্রিম সীমান্ত বা উদ্ভাবিত বিভাজনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

--------------------------------------------

(১) - আমি সংক্ষেপ করার সুবিধার্থে বিস্তারিত আলোচনা ও দলিল উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, যেহেতু আমি এ বিষয়ে বিশেষ গবেষণাপত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

(২) ২ - এটি বুখারী (১৯০৯) ও মুসলিম (১০৮১) বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الثالثة: إذا ثبتت رؤية الهلال في بلد ما شرعاً؛ وجب على المسلمين كافة الأخذ بذلك، دون النظر إلى حساب أو تشكيك، فإن هذا من التنطع، والتفريق للأمة المنهي عنه.

‌‌الرابعة: إنّ دعوى ((اختلاف المطالع)) بمعنى أنه يطلع على بلد دون بلد، وهم على خط طول واحد .. ، أو أنه يطلع على بلد غربي، ثم بلد شرقي، ثم بلد شمالي؛ هي دعوى غير صحيحة؛ من حيث الشرع، ومن حيث الواقع الفلكي، فإن للقمر إهلالة واحدة على الأرض، ثم تتابع هذه الإهلالة على الأرض وتكبر حسب خطوط الطول خطاً خطاً .. أي كلما اتجهنا نحو الغرب، حتى يهل على العالم كله في ليلة واحدة.

ولا يقال يتتابع إهلاله على الأرض دولة دولة، لأن الدول تتداخل مع خطوط الطول، ولا تنضبط لتفاوت مساحاتها، وتعرج حدودها.

فأما إذا كان المقصود بـ ((اختلاف المطالع)): أن القمر يهل على خطِّ طولٍ معين، ثم يتتابع ظهوره على خطوط الطول خطا خطاً، أو بلداً بلداً .. من الشرق إلى الغرب؛ فصحيح، ولكن دون نظر إلى الحدود السياسية.

وأما إن كان المقصود بـ ((اختلاف المطالع)): أن لكل دولة مطلعها، وأن الهلال يطلع على الشام ولا يطلع على العراق، ويطلع على السعودية ولا يطلع على البحرين، ويطلع على مصر ولا يطلع على السودان، فهذا من أبطل الباطل، وهي مقولة تخالف الشرع ولا تتفق مع واقع حقيقة الفلك.

وإذا سلّمنا جدلاً؛ أنّ لكل بلد مطلعه فيقال: ما معنى البلد؟ وما تعريفه؟ هل هو حسب الحدود السياسية التي رُسمت للأمة وفرقتها؟ ! أم حسب الاصطلاح الجغرافي؟ وهل القمر يعترف بهذا؟ ! أو حتى يعرف هذا؟ !

ثم ما هي مساحة البلد المقصود بقولهم: ((لكل بلد مطلع))؟ فهناك بلد مساحته ملايين الأميال المربعة، وهناك بلد لا يتجاوز مساحته العشرات.

ثم إن البلد الكبير (الدولة) فيه بُلدان (مدن) صغيرة كثيرة، فهل تكون الرؤية للبلد الكبير كله؟ ؟ أم لكل بلد صغير رؤيته؟ ؟
‌‌তৃতীয়: যখন কোনো দেশে শরয়ি (شرعاً) পন্থায় চাঁদ দেখা সাব্যস্ত হয়; তখন সকল মুসলমানের জন্য তা গ্রহণ করা আবশ্যক, এক্ষেত্রে কোনো গাণিতিক হিসাব (حساب) বা সংশয়ের অবকাশ রাখা যাবে না। কারণ, এটি হলো ধর্মীয় বিষয়ে অহেতুক কড়াকড়ি (تنطع) এবং উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করার নামান্তর, যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‌‌চতুর্থ: 'উদয়স্থলের ভিন্নতা' (اختلاف المطالع) হওয়ার দাবি—অর্থাৎ চাঁদ কোনো এক দেশে উদিত হবে কিন্তু অন্য দেশে হবে না, অথচ তারা একই দ্রাঘিমারেখায় (خط طول) অবস্থিত... অথবা চাঁদ প্রথমে কোনো পশ্চিমা দেশে উদিত হবে, এরপর কোনো পূর্বদিকের দেশে, তারপর উত্তরদিকের কোনো দেশে; এই দাবি শরয়ি দৃষ্টিকোণ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের বাস্তবতার নিরিখে সঠিক নয়। কেননা পৃথিবীর উপরিভাগে চাঁদের উদয় একবারই ঘটে, অতঃপর সেই উদিত চাঁদের ক্রমিক আবর্তন দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী এক রেখা থেকে অন্য রেখায় দৃশ্যমান হতে থাকে এবং তা বড় হতে থাকে... অর্থাৎ আমরা যত পশ্চিম দিকে অগ্রসর হব, তা ক্রমান্বয়ে পুরো বিশ্বে এক রাতেই উদিত হবে।

আর এমনটি বলা যাবে না যে, পৃথিবীর দেশসমূহে একে একে চাঁদের উদয় ঘটে; কারণ দেশগুলো দ্রাঘিমারেখার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং দেশগুলোর আয়তনের ভিন্নতা ও সীমানার বক্রতার কারণে তা কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মে সীমাবদ্ধ নয়।

তবে যদি 'উদয়স্থলের ভিন্নতা' (اختلاف المطالع) দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে: চাঁদ নির্দিষ্ট কোনো দ্রাঘিমারেখায় উদিত হয়, এরপর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ক্রমান্বয়ে এক এক করে দ্রাঘিমারেখায় বা এক এক দেশে তা দৃশ্যমান হয়; তবে তা সঠিক, কিন্তু এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সীমানার দিকে লক্ষ্য রাখা যাবে না।

কিন্তু যদি 'উদয়স্থলের ভিন্নতা' (اختلاف المطالع) দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে: প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা উদয়স্থল রয়েছে এবং চাঁদ সিরিয়ায় উদিত হবে কিন্তু ইরাকে হবে না, সৌদি আরবে হবে কিন্তু বাহরাইনে হবে না, মিশরে হবে কিন্তু সুদানে হবে না, তবে এটি চরম পর্যায়ের বাতিল (باطل) কথা; এই বক্তব্য শরয়ি বিধানের পরিপন্থী এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের বাস্তব সত্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যদি আমরা তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে, প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা উদয়স্থল রয়েছে; তবে প্রশ্ন দাঁড়ায়: দেশ বলতে কী বোঝায়? এর সংজ্ঞা কী? এটি কি সেই রাজনৈতিক সীমানা অনুযায়ী যা উম্মাহর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যা উম্মাহকে বিভক্ত করেছে?! নাকি ভৌগোলিক পরিভাষা অনুযায়ী? আর চাঁদ কি এসব স্বীকার করে?! অথবা সে কি এসব জানে?!

তাছাড়া 'প্রত্যেক দেশের জন্য আলাদা উদয়স্থল'—তাদের এই উক্তিতে 'দেশ' বলতে কতটুকু আয়তন বোঝানো হয়েছে? কারণ এমন দেশও আছে যার আয়তন লক্ষ লক্ষ বর্গমাইল, আবার এমন দেশও আছে যার আয়তন কয়েক দশ মাইলের বেশি নয়।

এরপর কথা হলো, একটি বড় দেশের মধ্যে অনেকগুলো ছোট ছোট শহর থাকে, তবে কি চাঁদ দেখা পুরো বড় দেশটির জন্য গণ্য হবে?? নাকি প্রতিটি ছোট শহরের জন্য আলাদাভাবে চাঁদ দেখা জরুরি??
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৪)
كل هذا يشير إلى تناقض أصحاب ((اختلاف المطالع))، ويدل على بطلانه، بل على عدم وجوده أصلاً .. إلاّ في أذهان قائليه.

وأما حديث كريب الذي يحتجون به، فخلاصته: وهو أن كريباً طلب من ابن عباس وهو في المدينة، أن يفطروا على رؤية أهل الشام، فأبى ابن عباس ذلك؛ فليس فيه أن لكل بلد مطلعه وإنما فيه طلب أن يصوم أهل المدينة على رؤية أهل الشام .. وهذا هو الأصل فأبى ابن عباس ذلك .. وهذا هو الصواب وقتئذ، فإذا صاموا على رؤية أهل الشام فلا يمكنهم معرفة رؤية أهل الشام لهلال شوال؛ لانعدام الاتصالات المباشرة، لذلك كان لزاماً أن يصوم أهل كل بلد يومئذ حسب رؤيتهم، وهذا ما يفيده رأي ابن عباس، وذلك لتعذر بلاغ الرؤية للجميع - يومئذ - وليس في حديث كريب أن لكل بلد سياسي مطلعه، ولكل قطر جغرافي هلاله.

ثم لو كان الأمر أن لكل بلد مطلعهم، لقيل: ما هي حدود هذا البلد في عهد الصحابة حتى يصوم أهله .. ؟ ما هي المساحة التي يصوم فيها المسلمون ولا يصومون بعدها .. ؟ ولو أمعن الناس النظر في هذه المسألة، لأدركوا خطأ بل فساد القول بأنَّ ((لكل بلد مطلعه)).

وأما الجواب الصحيح عن حدود البلد التي يصوم المسلمون فيها، فهو حدود علمهم أن الهلال قد هلّ … فمن بلغه الخبر صام، أو أفطر، ومن لم يبلغه لم يصم، ولم يفطر، وذلك لأن الشرع أناط الأحكام بعلم الإنسان بها، ولم ينطها ببلد، أو حدود، أو ما شابه ذلك.

فإن قال قائل: "لكل بلد مطلعه"، حسب إمام البلد حتى لا يتفرق المسلمون فيه.

قلت: لا شك بوجوب صوم البلد السياسي جميعاً وطاعة الإمام في ذلك .. وذلك حتى لا يتفرقوا .. لكن لا يُقال "لكل بلد مطلع"، وإنما يُقال: على أهل البلد اتباع أمامهم في الصوم خشية التفرق، فهذا حكم .. والقول بأن: "لكل بلد مطلع قمري" خاص به حكم آخر، فإن الأول صحيح والآخر باطل.

 

‌‌الخامسة: بناء على ما سبق فيجب على المسلمين أن يصوموا عند علمهم بالرؤية الشرعية، دون النظر إلى حدود، ولا بلدان، ولا جوازات سفر.
এসবই 'উদয়স্থলের ভিন্নতা (اختلاف المطالع)' এর প্রবক্তাদের স্ববিরোধিতাকে নির্দেশ করে এবং এর অসারতা (بطلان) প্রমাণ করে; বরং এর কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই, কেবল প্রবক্তাদের মনগড়া ধারণা ছাড়া।

আর কুরাইবের হাদিস যা তারা দলিল হিসেবে পেশ করেন, তার সারমর্ম হলো: কুরাইব মদিনায় অবস্থানরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নিকট আবেদন করেছিলেন যেন তারা সিরিয়াবাসীদের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ভঙ্গ করেন, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) তা অস্বীকার করেন। এতে এই প্রমাণ নেই যে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা উদয়স্থল (مطلع) রয়েছে; বরং এতে সিরিয়াবাসীদের দেখার ভিত্তিতে মদিনাবাসীদের রোজা রাখার আবেদন ছিল। আর এটিই ছিল মূল বিষয় যা ইবনে আব্বাস (রা.) প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই সময়ের প্রেক্ষিতে এটিই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত, কারণ তারা যদি সিরিয়াবাসীদের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখতেন, তবে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সিরিয়াবাসীদের শাওয়ালের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণেই তৎকালীন সময়ে প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষের জন্য তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা আবশ্যক ছিল। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অভিমত থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়, কারণ সেই যুগে সবার কাছে চাঁদ দেখার খবর পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। কুরাইবের হাদিসে এমন কিছু নেই যে প্রতিটি রাজনৈতিক ভূখণ্ডের জন্য আলাদা উদয়স্থল থাকবে এবং প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের জন্য আলাদা নতুন চাঁদ থাকবে।

তাছাড়া বিষয়টি যদি এমন হতো যে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা উদয়স্থল রয়েছে, তবে প্রশ্ন উঠত: সাহাবীগণের যুগে সেই অঞ্চলের সীমানা কতটুকু ছিল যার ভিত্তিতে সেখানকার অধিবাসীরা রোজা রাখতেন? কতটুকু ক্ষেত্রফল পর্যন্ত মুসলমানরা রোজা রাখতেন এবং কোন সীমানার পর আর রাখতেন না? মানুষ যদি এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত, তবে তারা 'প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য আলাদা উদয়স্থল রয়েছে'—এই বক্তব্যের ভুল, বরং অসারতা (فساد) বুঝতে পারত।

আর যে অঞ্চলের সীমানার মধ্যে মুসলমানরা রোজা রাখবেন সে সম্পর্কে সঠিক উত্তর হলো: চাঁদ উদিত হওয়ার বিষয়টি তাদের জানার সীমানা পর্যন্ত … যার কাছে খবর পৌঁছাবে সে রোজা রাখবে বা ইফতার করবে, আর যার কাছে পৌঁছাবে না সে রোজা রাখবে না বা ইফতার করবে না। কারণ শরিয়ত বিধানসমূহকে মানুষের জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে, কোনো অঞ্চল, সীমানা বা এই জাতীয় কিছুর সাথে নয়।

যদি কেউ বলে: "প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য আলাদা উদয়স্থল রয়েছে", এটি ওই অঞ্চলের ইমামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হতে হবে যাতে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয়।

আমি বলব: একটি রাজনৈতিক ভূখণ্ডের অধিবাসীদের একত্রে রোজা রাখা এবং এই বিষয়ে ইমামের আনুগত্য করা নিঃসন্দেহে ওয়াজিব (واجب), যাতে তারা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। কিন্তু তাই বলে এটি বলা যাবে না যে "প্রত্যেক অঞ্চলের আলাদা উদয়স্থল (مطلع) রয়েছে"; বরং বলতে হবে: বিভক্তির আশঙ্কায় রোজা পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য তাদের ইমামকে অনুসরণ করা আবশ্যক। এটি একটি বিধান। আর এই কথা বলা যে: "প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য একটি নিজস্ব চান্দ্র উদয়স্থল রয়েছে"—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। প্রথমটি সঠিক এবং দ্বিতীয়টি ভ্রান্ত (باطل)।

 

‌‌পঞ্চম: পূর্বালোচনার ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব (واجب) হলো শারঈ চাঁদ দেখা (الرؤية الشرعية) সম্পর্কে অবগত হওয়া মাত্রই রোজা রাখা, এক্ষেত্রে কোনো সীমানা, দেশ কিংবা পাসপোর্টের বিভাজন দেখা হবে না।
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌السادسة: إذا حصل خلاف بين الناس بسبب البلدان، أو المذاهب، فيجب على المسلم أن يصوم مع البلد الذي هو فيه، دون النظر إلى اعتبارات أخرى، وذلك طلباً لوحدة المسلمين، وعدم شق الصف وإثارة الفتن، فإنه إذا فاتت الوحدة الكبرى في الصيام والإفطار، فلا يجوز أن تفوت الوحدة الصغرى في البلد الواحد.

فإن تعذَّر صيام المسلمين في بلد واحدٍ - كما هي الحال في بعض الدول الغربية - صام مع أهل حيِّه ومسجده.

فإن تعذر ذلك صام مع أغلبية المسلمين - إن كانوا مجتهدين - فإن تعذر ذلك صام مع من يرى أنهم على الحق، والحق هو الرؤية الشرعية.

ودليل ذلك؛ أن الخلاف إذا كان معتبراً، والحق محتملاً، قُدِّمت المصلحة الكبرى في وحدة المسلمين على الاختلاف الاجتهادي .. والأدلة على ذلك كثيرة من الكتاب السنة ليس هاهنا محل إيرادها.

وخلاصها ((الخلاف شر)) كما قال ابن مسعود. رضي الله عنه

 

‌‌السابعة: إذا كان ثمَّة قوم من أهل الضلال والابتداع يتعمدون مخالفة الشرع، فإنه لا يوافقهم في الصيام والإفطار.

وإذا كانوا يفرضون على الناس ذلك، وخشي من مفسدة على نفسه، فيوافقهم ظاهراً، ويصوم ويفطر سراً.

 

‌‌الثامنة: مسألة الحساب:

إذا كان الأخذ بالحساب لا يتعارض والرؤية الشرعية، وكان الآخذون به يقرون بالرؤية الشرعية، وأن الحساب - عندهم - نوع من أنواع الرؤية، فيكون الخلاف في هذه المسألة - والحال هذه - خلافاً اجتهادياً، وفي إطار الخلاف المعتبر، كأن لا يُرى الهلال، أحد ويثبت إهلاله بالحساب، أو يُشَكُ في رؤية الرائين، والحساب القطعي اليقيني يرجح أحد الوجهين.

وأما إذا كان الآخذون بالحساب لا يقرون بالرؤية الشرعية، ولا الأخذ بها حين معارضتها للحساب، فهو خلاف الحق، لا يجوز العمل به ولا موافقتهم عليه.
ষষ্ঠত: যদি দেশ বা মাজহাবগত পার্থক্যের কারণে মানুষের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে একজন মুসলমানের জন্য কর্তব্য হলো সে যে দেশে অবস্থান করছে সেই দেশের সাথেই রোজা রাখা, অন্যান্য বিবেচনার দিকে না তাকিয়ে। আর তা মুসলমানদের ঐক্যের স্বার্থে এবং সংহতি বিনষ্ট না করার ও ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি না করার জন্য। কারণ যদি রোজা ও ইফতারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্রতর ঐক্য বিনষ্ট করা জায়েজ (جائز) হবে না।

যদি একই দেশের সকল মুসলমানের সাথে রোজা রাখা অসম্ভব হয় — যেমনটি কিছু পশ্চিমা দেশে পরিলক্ষিত হয় — তবে সে তার এলাকার মানুষ ও মসজিদের সাথে রোজা রাখবে।

যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে সে অধিকাংশ মুসলমানের সাথে রোজা রাখবে — যদি তারা মুজতাহিদ (مجتهدون) হন। আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে সে যাদেরকে সত্যের ওপর মনে করে তাদের সাথে রোজা রাখবে; আর সত্য হলো শরয়ি পর্যবেক্ষণ (الرؤية الشرعية)।

এর দলিল হলো: যখন মতভেদটি গ্রহণযোগ্য (معتبر) হয় এবং সত্যের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে, তখন ইজতিহাদগত (اجتهادي) মতভেদের চেয়ে মুসলমানদের ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কুরআন ও সুন্নাহ হতে এর অনেক দলিল রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার স্থান নয়।

এর সারকথা হলো, ইবনে মাসউদ (রা.) যেমনটি বলেছেন: "বিবাদ হচ্ছে অমঙ্গল (الخلاف شر)"।

 

সপ্তমত: যদি কোনো ভ্রষ্ট ও বিদআতি (الابتداع) গোষ্ঠী থাকে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শরয়ি বিধানের বিরোধিতা করে, তবে রোজা ও ইফতারের ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হওয়া যাবে না।

আর তারা যদি মানুষের ওপর তা চাপিয়ে দেয় এবং সে নিজের ওপর কোনো অনিষ্টের (مفسدة) আশঙ্কা করে, তবে বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে একমত হবে এবং গোপনে রোজা পালন ও ইফতার করবে।

 

অষ্টমত: গণনার (الحساب) মাসআলা (مسألة):

যদি গণনার বিষয়টি শরয়ি পর্যবেক্ষণের (الرؤية الشرعية) সাথে সাংঘর্ষিক না হয় এবং যারা গণনা গ্রহণ করেন তারা যদি শরয়ি পর্যবেক্ষণকে স্বীকৃতি দেন এবং গণনাকে তাদের নিকট এক প্রকারের পর্যবেক্ষণ হিসেবে গণ্য করেন, তবে এমতাবস্থায় এই বিষয়ের মতভেদটি একটি ইজতিহাদগত (اجتهادي) মতভেদ এবং তা গ্রহণযোগ্য (معتبر) মতভেদের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন: চাঁদ কেউ দেখতে পায়নি কিন্তু গণনার মাধ্যমে উদয় হওয়া প্রমাণিত হয়েছে, অথবা দর্শকদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে এবং সুনিশ্চিত (قطعي يقيني) গণনা কোনো একটি পক্ষকে প্রাধান্য (يرجح) দান করে।

কিন্তু যারা গণনা গ্রহণ করেন তারা যদি শরয়ি পর্যবেক্ষণকে স্বীকৃতি না দেন এবং গণনার সাথে সাংঘর্ষিক হলে পর্যবেক্ষণকে গ্রহণ না করেন, তবে তা সত্যের পরিপন্থী; তার ওপর আমল করা বা এ বিষয়ে তাদের সাথে একমত হওয়া জায়েজ (جائز) নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৬)
والمقصود؛ إذا كان الحساب عندهم بمنزلة الشاهد، وليس بمنزلة المرجع القطعي الملغي للرؤية الشرعية، فيدخل هذا في الخلاف المعتبر وإلا فلا.

 

‌‌التاسعة: إن أمر تحديد دخول الشهر القمري وعدمه: مناطٌ برؤية الهلال وعدمها؛ وهو من شأن أولي الأمر، وأولي الحل والعقد.

وأما أمر عامة المسلمين فمناط بولي أمرهم، أو أمر جماعتهم أو غالبتها، وليس بالهلال .. وعليهم طاعته في ذلك، لأن من الناس من يرى الهلال، ومنهم من لا يراه، ومنهم من يهتم به، ومنهم من لا يهتم به.

ولو أنيط صوم كل مسلم برؤية نفسه، أو رؤية بعضهم، لحصل من الفساد والفوضى ما لا يقره الشرع.

ودليل ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((الصوم يوم تصومون، والفطر يوم تفطرون، والأضحى يوم تضحون)) (1)

أي: أن الصوم - عند الله - يوم يصوم الناس ولو أخطأوا الهلال، ، وأن الفطر - عند الله - هو يوم يفطر الناس ولو أخطأوا الهلال ولذلك؛ وجب على المسلمين أن يصوموا جميعاً، وأن يفطروا جميعاً.

 

‌‌العاشرة:

لا يلتفت إلى الهلال بعد صوم الناس سواء أخطأوا في الصيام والإفطار أو أصابوا
.. فإن كان ما صاموه تسعاً وعشرين يوماً أجزأهم ذلك ولو أخطأوا، فإن نقص عن ذلك قضوا حتى يكملوا تسعاً وعشرين يوماً.

فعن أبي البختري قال: خرجنا للعمرة فلما نزلنا ببطن نخلة، قال: تراءينا الهلال، فقال بعض القوم، هو بن ثلاث، وقال بعض القوم: هو بن ليلتين، قال: فلقينا بن عباس فقلنا: إنا رأينا الهلال، فقال بعض القوم: هو بن ثلاث، وقال بعض القوم: هو بن ليلتين، فقال: أي ليلة رأيتموه؟ قال: فقلنا: ليلة كذا وكذا، فقال: إن رسول الله صلى الله

--------------------------------------------

(1) - أخرجه الترمذي (697).
মূল উদ্দেশ্য হলো; যদি তাদের নিকট জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনা (الحساب) একজন সাক্ষীর (الشاهد) মর্যাদায় হয়, এবং শরয়ী চাঁদ দেখার (الرؤية الشرعية) বিধানকে বাতিলকারী কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড (المرجع القطعي) হিসেবে না হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য মতপার্থক্য (الخلاف المعتبر) হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়।

 

‌‌নবম বিষয়: চান্দ্র মাস শুরু হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি: চাঁদ দেখার (رؤية الهلال) ওপর নির্ভরশীল; আর এটি উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি) এবং আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ)-এর দায়িত্ব।

আর সাধারণ মুসলিমদের বিষয়টি তাদের শাসক বা তাদের জামাত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর নয়। আর এ বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা সাধারণ মুসলিমদের ওপর আবশ্যক। কেননা মানুষের মধ্যে কেউ চাঁদ দেখতে পায়, আবার কেউ পায় না; কেউ এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়, আবার কেউ দেয় না।

যদি প্রত্যেক মুসলিমের রোজা রাখা তার নিজের চাঁদ দেখা বা কয়েকজনের চাঁদ দেখার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে এমন বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো যা শরিয়ত অনুমোদন করে না।

এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "রোজা হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই রোজা রাখো, ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই ইফতার (ঈদ) করো এবং ঈদুল আজহা হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সবাই কোরবানি করো।" (১)

অর্থাৎ: আল্লাহর নিকট রোজা হলো সেই দিন যেদিন মানুষ রোজা রাখে—যদিও তারা চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে; এবং আল্লাহর নিকট ঈদুল ফিতর হলো সেই দিন যেদিন মানুষ ইফতার (ঈদ) করে—যদিও তারা চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে। এই কারণে মুসলমানদের জন্য একত্রে রোজা রাখা এবং একত্রে ইফতার (ঈদ) করা ওয়াজিব।

 

‌‌দশম বিষয়:

জনগণের রোজা পালনের পর আর চাঁদের দিকে ভ্রূক্ষেপ করা হবে না, চাই তারা রোজা ও ইফতারের ক্ষেত্রে ভুল করুক বা সঠিক করুক
। যদি তারা ঊনত্রিশ দিন রোজা পালন করে তবে তাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে যদিও তারা ভুল করে থাকে। আর যদি তার চেয়ে কম হয় তবে তারা কাজা করবে যাতে ঊনত্রিশ দিন পূর্ণ হয়।

আবুল বাখতারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা ওমরাহর জন্য বের হলাম। যখন আমরা বাতনে নাখলা নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন আমরা চাঁদ দেখার চেষ্টা করলাম (تراءينا الهلال)। কিছু লোক বলল, এটি তিন দিনের চাঁদ; আবার কিছু লোক বলল, এটি দুই দিনের চাঁদ। এরপর আমরা ইবনে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে বললাম যে আমরা চাঁদ দেখেছি। আমাদের কেউ কেউ বলেছে এটি তিন দিনের চাঁদ এবং কেউ কেউ বলেছে এটি দুই দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন রাতে এটি দেখেছ? আমরা বললাম, অমুক অমুক রাতে। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি...

--------------------------------------------

(১) - তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (৬৯৭)।
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৭)
عليه وسلم قال: ((إن الله مدّه للرؤية فهو لليلة رأيتموه)). وفي رواية ((إن الله قد أمدّه لرؤيته فإن أغمي عليكم فأكملوا العدة)) (1)

قلت: وللعلماء في العبارة (أمدّه) تفسيرات عديدة، والذي يفهم من الحديث أن لا أثر للرؤية بعد الصوم أو الإفطار، وما يفعله بعض الناس من النظر إلى الهلال بعد الصوم، وإحداث فتنة بدعوى الخطأ في الصيام ليس من الشرع في شيء.

 

‌‌الحادية عشرة: يجب على المسلم أن يوافق أهل البلد الذي هو فيه في الصوم والإفطار وإن كان ناوياً السفر إلى بلد خالفوا في صيامهم البلد الذي هو فيه، كأن يكون المسلم في مصر، ويصوم أهل مصر ولا يصوم أهل الجزيرة، وهو يريد السفر إليها، فعليه أن يصوم مع أهل مصر، فإذا سافر إلى البلد الثاني التزم معهم في الصيام والإفطار في تعيين شوال، فإن نقص عليه يوم عن التسع وعشرين قضاه، وإن زاد عن الثلاثين صام معهم وجوباً، وجعله نفلاً، وصلى معهم العيد، وللمسألة أدلة واضحة ليس هاهنا محل سردها.

‌‌الثانية عشرة: تعيين يوم عرفة، وعيد الأضحى:

إن الواجب على الأمة جميعاً الاقتداء بالحجيج في تحديد يوم عرفة والعيد، فيوم عرفة هو يومٌ للأمة جمعاء، ومن خالف فإنما يخالف حقاً، وواقعاً، ويفرق أمته.

فهل يعقل ديناً وعقلاً وفي السنن الكونية فلكاً؛ أن يكون هناك عرفة في أكثر من بلد؟ وهل يترك الله ملايين من الحجيج يخطئون، ويرد حجهم ودعائهم .. ؟

إنّنا نحتاج إلى قليل من التفكر، وقليل من الواقعية، وإذا تأملنا هذا الأمر في عرفة كان الأمر نفسه في شهر الصيام، وفي عيد الفطر.

--------------------------------------------

(1) - أخرجه مسلم (1088).
[রাসূলুল্লাহ] সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ একে (চাঁদকে) দেখার জন্য দীর্ঘায়িত করেছেন, সুতরাং তোমরা একে যে রাতে দেখবে এটি সেই রাতেরই।” অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ একে দেখার সুবিধার জন্য দীর্ঘায়িত করেছেন, সুতরাং যদি তোমাদের ওপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা গণনা পূর্ণ করো।” (১)

আমি বলি: 'একে দীর্ঘায়িত করেছেন' বাক্যটি সম্পর্কে আলেমদের অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। হাদিস থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, সিয়াম পালন বা ইফতারের পর চাঁদ দেখার কোনো প্রভাব নেই। সিয়াম পালনের পর কিছু মানুষের চাঁদের দিকে তাকানো এবং সিয়ামে ভুলের দাবি তুলে ফিতনা সৃষ্টি করার যে আমল, শরিয়তের দৃষ্টিতে তার কোনো ভিত্তি নেই।

 

একাদশ: একজন মুসলিম যে দেশে অবস্থান করছে, সিয়াম পালন ও ইফতারের ক্ষেত্রে সেই দেশের অধিবাসীদের সাথে একমত হওয়া ওয়াজিব যদিও সে এমন কোনো দেশে সফরের নিয়ত করে থাকে যাদের সিয়াম পালন তার বর্তমান দেশের চেয়ে ভিন্ন। যেমন—একজন মুসলিম মিসরে আছে এবং মিসরবাসীরা সিয়াম পালন করছে কিন্তু জাজিরার (উপদ্বীপের) অধিবাসীরা সিয়াম পালন করছে না এবং সে সেখানে সফর করার ইচ্ছা পোষণ করছে; এমতাবস্থায় তাকে মিসরবাসীদের সাথেই সিয়াম পালন করতে হবে। অতঃপর সে যখন দ্বিতীয় দেশে সফর করবে, তখন শাওয়াল মাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিয়াম ও ইফতারের বিষয়ে তাদের সাথেই সংহতি বজায় রাখবে। যদি তার (২৯ দিনের চেয়ে) একদিন কম হয় তবে সে তা কাজা করবে, আর যদি ৩০ দিনের বেশি হয়ে যায় তবে ওয়াজিব হিসেবে তাদের সাথেই সিয়াম পালন করবে এবং সেটিকে নফল হিসেবে গণ্য করবে এবং তাদের সাথে ঈদের সালাত আদায় করবে। এই মাসআলার সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।

দ্বাদশ: আরাফাহর দিন ও ঈদুল আজহা নির্ধারণ:

সমগ্র উম্মতের জন্য কর্তব্য হলো আরাফাহর দিন ও ঈদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে হাজিদের অনুসরণ করা। কারণ আরাফাহর দিনটি সমগ্র উম্মতের জন্য একটি দিন। যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করল, সে মূলত সত্য ও বাস্তবতার বিরোধিতা করল এবং নিজ উম্মতকে বিভক্ত করল।

ধর্মীয় ও যুক্তিগতভাবে এবং মহাজাগতিক প্রাকৃতিক নিয়মে কি এটি বোধগম্য যে, একাধিক দেশে একাধিক আরাফাহ হবে? আল্লাহ কি লক্ষ লক্ষ হাজিকে ভুল করার সুযোগ দেবেন এবং তাদের হজ ও দোয়া ফিরিয়ে দেবেন?

আমাদের সামান্য চিন্তা ও বাস্তববোধের প্রয়োজন। আমরা যদি আরাফাহর এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করি, তবে সিয়ামের মাস এবং ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।

--------------------------------------------

(১) - এটি মুসলিম বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (১০৮৮)।
(খণ্ড: ১) আহকামু রুইয়াতিল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৮)
فالذين يقولون بتوحيد عرفة يلزمهم القول بتوحيد الصيام والإفطار، والذين يقولون بتوحيد الصيام والإفطار يلزمهم القول بتوحيد عرفة.

 

‌‌المسألة الثالثة عشرة:

إذا كان المسلم في بلد غير مسلم
.. أو كان في بلد مسلم ولكن الحاكم فاجر لا يعتد بشرع الله، فكيف يصوم؟

يصوم المسلمون كلهم - في هذه الحالة - مع أول رؤية يعلنها المسلمون في أي بلد آخر، ولا يعتد بجنسية ولا تابعية ولا جواز ولا مولد … فبهذا تتوحد الكلمة، ويزول التفرق وينتهي القيل والقال، وإضاعة الأوقات، وليتق الله الذين يخالفون في هذا حتى لا يكونوا سبباً في تفريق الأمة، بأي دعوى كانت، ولئن يوحد صيام المسلمين وإفطارهم على خطأ غير متعمد، خير من أن يفترقوا ظانين من نفسهم أنهم على الصواب، فليس على التفرق شر على جماعة المسلمين مثله.

 

‌‌المسألة الرابعة عشرة: خلاصة ما سبق

أن على المسلم أن يصوموا جميعاً مع أول رؤية تكون في العالم، فإن أبى أهل البلد المسلم ذلك صام معهم طاعة لولي الأمر وتحقيقاً للوحدة، مالم يتعمدوا مخالفة الشرع، فإن كانوا ممن يتعمد المخالفة كذلك صام مع أهل الحق سراً، ووافقهم جهراً.

فإن اختلفوا في البلد نفسه صام مع أهل منطقته، فإن اختلفوا صام مع أهل مسجده وإن خالفوا الحق اجتهاداً لا تعمداً.

هذا ما اجتهدت في إعداده، فإن أصبت فمن الله وحده كرماً وفضلاً، وإن أخطأت فمن نفسي والشيطان.

والله من وراء القصد والحمد لله رب العالمين.

وكتبه

عدنان بن محمد العرعور
যারা আরাফাতের দিবসের ঐক্যবদ্ধকরণের প্রবক্তা, তাদের জন্য রোজা ও ইফতার ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলাও আবশ্যক। আর যারা রোজা ও ইফতার ঐক্যবদ্ধকরণের প্রবক্তা, তাদের জন্য আরাফাতের দিবসের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলাও আবশ্যক।

 

‌‌ত্রয়োদশ মাসআলা:

যদি কোনো মুসলিম অমুসলিম দেশে অবস্থান করেন
.. অথবা এমন কোনো মুসলিম দেশে থাকেন যেখানে শাসক পাপাচারী এবং আল্লাহর শরিয়তকে গুরুত্ব দেয় না, তবে তিনি কীভাবে রোজা রাখবেন?

এমতাবস্থায় সকল মুসলিম বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রথম চাঁদ দেখার (رؤية) ঘোষণার সাথে সাথে রোজা রাখবেন। এক্ষেত্রে জাতীয়তা, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট কিংবা জন্মস্থানের কোনো বিচার করা হবে না … এর মাধ্যমেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে, বিভেদ দূর হবে এবং অনর্থক বাকবিতণ্ডা ও সময়ের অপচয় বন্ধ হবে। যারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত—যাতে তারা যেকোনো অজুহাতে উম্মাহর মধ্যে অনৈক্যের কারণ না হন। অনিচ্ছাকৃত ভুলের ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের রোজা ও ইফতার ঐক্যবদ্ধ হওয়া, তারা নিজেদের সঠিক মনে করে বিভক্ত হওয়ার চেয়ে অনেক উত্তম। কেননা মুসলিম জামাতের জন্য বিভক্তির মতো অন্য কোনো অনিষ্ট আর নেই।

 

‌‌চতুর্দশ মাসআলা: পূর্বের আলোচনার সারসংক্ষেপ

বিশ্বের কোথাও প্রথম চাঁদ দেখা (رؤية) গেলে সকল মুসলিমের উচিত একত্রে রোজা রাখা। তবে যদি কোনো মুসলিম দেশের অধিবাসীরা তা অস্বীকার করে, তবে উলিল আমরের (ولي الأمر) আনুগত্য এবং ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে তিনি তাদের সাথেই রোজা রাখবেন; যতক্ষণ না তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শরিয়তের বিরোধিতা করে। আর যদি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শরিয়তের বিরোধিতা করে, তবে তিনি হকের অনুসারীদের (أهل الحق) সাথে গোপনে রোজা রাখবেন এবং প্রকাশ্যে তাদের সাথে সংগতি বজায় রাখবেন।

যদি একই দেশে মতপার্থক্য তৈরি হয়, তবে তিনি নিজ এলাকার অধিবাসীদের সাথে রোজা রাখবেন। যদি সেখানেও মতপার্থক্য হয়, তবে তিনি নিজ মসজিদের মুসল্লিদের সাথে রোজা রাখবেন; যদিও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নয় বরং ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে গিয়ে হকের বিপরীত অবস্থানে চলে যান।

এটি প্রস্তুত করতে আমি সাধ্যমতো ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছি। যদি তা সঠিক হয়, তবে তা একান্তই আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া। আর যদি ভুল হয়, তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।

আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য এবং সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আরুর