(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: -)
مسألة تقديم وقت أذان الفجر، وتأخير توقيت العشاء   (عدنان العرعور)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسألة تقديم وقت أذان الفجر، وتأخير توقيت العشاء

المؤلف: الشيخ عدنان بن محمد العرعور

عدد الصفحات: 12

[الكتاب مرقم آليا، وهو غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الآخرة 1440

ফজর আজানের ওয়াক্ত এগিয়ে আনা এবং এশার ওয়াক্ত বিলম্বিত করার মাসআলা   (আদনান আল-আরউর)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: ফজর আজানের ওয়াক্ত এগিয়ে আনা এবং এশার ওয়াক্ত বিলম্বিত করার মাসআলা

লেখক: শায়খ আদনান বিন মুহাম্মাদ আল-আরউর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং এটি মুদ্রিত নয়]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم.

أما بعد:

فمنذ فترة من الزمن والناس في قيل وقال، وأخذ ورد في موضوع صحة توقيت الفجر في التقاويم المتداولة، وقد ذهب فريق من العلماء والباحثين إلى خطأ هذه التقاويم، وأن فيها اختلافاً عن الواقع المشاهد من قبل العشرات من طلبة العلم، والخبراء في الفلك الموثوق بهم.

وكان المدافعون عن التقاويم يردون على المصححين ،ويرون صحة هذه التقاويم، رغم عدم المعرفة التامة عن واضعيها، وعن علمهم الشرعي.

 

لقد تتبعت هذه المسألة منذ أكثر من خمسة عشر سنة وتبين لي ما يلي:

 

‌‌جهل كثير من الفلكيين بالتفريق بين الفجرين وهو أصل مشكلة هذه المسألة:

مما هو معلوم في الشرع والفلك، أن ثمة فجرين فجر كاذب، وفجر صادق، والكاذب يطلع قبل الصادق بـ (20) دقيقة، تزيد قليلاً أو تنقص، حسب فصول السنة.

والكاذب، يُحل الطعام للصائم، ويُحرم صلاة الفجر، والصادق، يحرم الطعام، ويحل صلاة الفجر.

قال صلى الله عليه وسلم: ((إن بلالاً يؤذن بليل (وهو أذان الفجر الكاذب) (1)، فكلوا، واشربوا حتى يؤذن ابن أم مكتوم)) (2) (وهو أذان الفجر الصادق) (3) ودليل أن هذا الليل الذي يؤذن فيه بلال هو الفجر الكاذب رغم أن فيه نوراً، ما رواه مسلم عن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يغرنكم أذان بلال ولا هذا البياض لعمود الصبح حتى يستطير " ففيه دليل صريح أن النور الذي يخرج أفقيًا ليس هو الفجر المعتمد الصادق، بل هو الفجر الكاذب الذي لا يعتد به … ومع ذلك فقد اعتد به واضعوا التقاويم، لعدم معرفتهم بالسنة، كما سنبين ذلك لاحقًا.

--------------------------------------------

(1) ما بين القوسين من عندي، وليس من أصل الحديث.

(2) - أخرجه البخاري (622)، ومسلم (1092).

(3) - أخرجه ابن خزيمة في صحيحه (356، 1927)، والحاكم في المستدرك (687، 1549)، وصححه، ووافقه الذهبي، والبيهقي في السنن الكبرى (1/ 377، 457). وذكره الشيخ الألباني رحمه الله في الصحيحة (693)
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

বেশ কিছু সময় ধরে মানুষ প্রচলিত ক্যালেন্ডারগুলোতে ফজরের সময়ের সঠিকতা নিয়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা এবং বাদানুবাদে লিপ্ত রয়েছে। একদল আলেম ও গবেষক এই ক্যালেন্ডারগুলোর ভুল হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, বহু সংখ্যক দ্বীনি ইলম অন্বেষণকারী (طلبة العلم) এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য (موثوق بهم) ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের সাথে এগুলোর পার্থক্য রয়েছে।

ক্যালেন্ডারগুলোর সমর্থকরা সংশোধনকারীদের বিরোধিতা করছিলেন এবং এই ক্যালেন্ডারগুলোকে সঠিক মনে করছিলেন, যদিও এর প্রণয়নকারীদের পরিচয় এবং তাঁদের শরয়ি জ্ঞান সম্পর্কে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা ছিল না।

 

আমি দীর্ঘ পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিষয়টি অনুসরণ করছি এবং আমার কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে:

 

‌‌অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দুই ফজরের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারা, যা এই সমস্যার মূল উৎস:

শরয়ি বিধান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান—উভয় দিক থেকেই এটি স্বীকৃত যে ফজর দুই প্রকার: মিথ্যা ফজর (فجر كاذب) এবং সত্য ফজর (فجر صادق)। বছরের ঋতুভেদে মিথ্যা ফজর সত্য ফজরের প্রায় ২০ মিনিট আগে বা সামান্য কম-বেশি সময়ে উদিত হয়।

মিথ্যা ফজর (فجر كاذب) রোজাদারের জন্য খাবার গ্রহণকে বৈধ করে এবং ফজরের সালাত আদায়কে হারাম বা অবৈধ করে। অন্যদিকে সত্য ফজর (فجر صادق) খাবার গ্রহণকে হারাম করে এবং ফজরের সালাত আদায়কে বৈধ করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিলাল রাতে আজান দেয় (আর এটি হলো মিথ্যা ফজর (فجر كاذب)-এর আজান) (১), সুতরাং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আজান দেয়" (২) (এটি হলো সত্য ফজর (فجر صادق)-এর আজান) (৩)। বিলাল যে সময়ে আজান দেন তা রাত এবং সেটি যে মিথ্যা ফজর (فجر كاذب)—তাতে আলো থাকা সত্ত্বেও—তার প্রমাণ হলো যা ইমাম মুসলিম সামুরা বিন জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিলালের আজান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে এবং সকালের স্তম্ভাকৃতি শুভ্রতাও যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে, যতক্ষণ না তা আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত হয়।" এতে স্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, দিগন্তে আড়াআড়িভাবে যে আলো উদিত হয় না তা শরয়ি গ্রহণযোগ্য সত্য ফজর (فجر صادق) নয়, বরং তা হলো মিথ্যা ফজর (فجر كاذব) যা ধর্তব্য নয় … তা সত্ত্বেও ক্যালেন্ডার প্রণেতারা সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে এটিকেই গ্রহণ করেছেন, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আমার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা, এটি মূল হাদিসের অংশ নয়।

(২) - বুখারি (৬২২) এবং মুসলিম (১০৯২) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) - ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ-তে (৩৫৬, ১৯২৭) এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ (৬৮৭, ১৫৪৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সঠিক (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং ইমাম আল-যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা-তে (১/৩৭৭, ৪৫৭) এটি উল্লেখ করেছেন। শেখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) আস-সহিহাহ (৬৯৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ২)
ويؤيد هذا قول ابن عمر في الحديث نفسه: وكان - أي ابن أم مكتوم - رجلاً أعمى، لا ينادي حتى يقال: أصبحت أصبحت، أي: حتى يظهر النور لكل من يتوجه إلى المسجد، فيخبرون ابن أم مكتوم بطلوع الصبح لكي يؤذن، فأين هذا من أذان الناس اليوم؟ !

وقال صلى الله عليه وسلم: ((الفجر فجران: فجر يحرم فيه الطعام، وتحلُّ فيه الصلاة، وفجر تَحرمُ فيهِ الصلاة، ويحلُّ فيه الطعامُ)) (1).

ومن الجهل في بعض البلدان، أنهم يسمّون أذان الفجر الأول الذي يبيح الطعام ب ((أذان الإمساك))، ويحرمون على الناس الأكل بعده.

 

‌‌كلام أهل العلم في الأكل للتسحر، ووقت الفجرين:

قال النووي رحمه الله: قال أصحابنا: والأحكام كلها معلقة بالفجر الثاني، فيه يدخل وقت صلاة الصبح، ويخرج وقت العشاء ويدخل في الصوم، ويحرم به الطعام والشراب على الصائم، وبه ينقضي الليل ويدخل النهار، ولا يتعلق بالفجر الأول ((الكاذب)) شيء من الأحكام بإجماع المسلمين)). [المجموع (3/ 44)]

وقال أبو عمر بن عبد البر: ((أجمع العلماء؛ على أن وقت صلاة الصبح طلوع الفجر الثاني إذا تبين طلوعه، وهو البياض المنتشر من أفق المشرق، والذي لا ظلمة بعده)). [الإجماع ص 46]

وقال ابن حزم: ((ولا يجزئ لها الأذان الذي كان قبل الفجر، لأنه أذان سحور، لا أذان للصلاة، ولا يجوز أن يؤذن لها قبل المقدار الذي ذكرناه)).

وروى بسنده عن الحسن البصري أن رجلاً قال: يا أبا سعيد، الرجل يؤذن قبل الفجر يوقظ الناس؟ فغضب وقال: علوج فراغ، لو أدركهم عمر بن الخطاب لأوجع جنوبهم! من أذن قبل الفجر فإنما صلى أهل ذلك المسجد بإقامة لا أذان فيه)) وفي رواية: ((أنه سمع مؤذناً أذن بليل فقال: ((علوج تباري الديوك، وهل كان الأذان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بعد ما يطلع الفجر)).

وعن إبراهيم النخعي قال: سمع علقمة ابن قيس مؤذناً بليل فقال: لقد خالف هذا سنة من سنة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لو نام على فراشه لكان خيراً له))، وفي

--------------------------------------------

(1)
ইবনে ওমরের সেই হাদিসের উক্তি এই বিষয়টিকে সমর্থন করে: "তিনি—অর্থাৎ ইবনে উম্মে মাকতূম—ছিলেন একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি। তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত আযান দিতেন না যতক্ষণ না তাঁকে বলা হতো: ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে।" অর্থাৎ যতক্ষণ না মসজিদের অভিমুখে গমনকারী প্রত্যেকের নিকট আলো প্রকাশ পেত। তখন তারা ইবনে উম্মে মাকতূমকে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সংবাদ দিতেন যাতে তিনি আযান দিতে পারেন। বর্তমান যুগের মানুষের আযানের সাথে এর কতই না ব্যবধান!

এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ফজর হলো দুই প্রকার: এমন ফজর যাতে খাবার গ্রহণ হারাম হয় এবং সালাত বৈধ হয়, আর এমন ফজর যাতে সালাত হারাম হয় এবং খাবার গ্রহণ বৈধ হয়।" (১)।

কোনো কোনো দেশে অজ্ঞতার একটি দিক হলো যে, তারা ফজরের প্রথম আযানকে—যা খাবার গ্রহণকে বৈধ রাখে— 'ইমসাকের আযান' নামে অভিহিত করে এবং এরপর মানুষের জন্য আহার করা নিষিদ্ধ করে দেয়।

 

‌‌সাহরি খাওয়ার ক্ষেত্রে এবং দুই ফজরের সময়ের ব্যাপারে আহলে ইলম বা আলেমদের বক্তব্য:

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "আমাদের শাফিঈ মাজহাবের ফকিহগণ বলেছেন: সকল শরয়ী বিধান দ্বিতীয় ফজরের (সুবহে সাদিক) সাথে সম্পৃক্ত। এর মাধ্যমেই ফজরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয়, এশার ওয়াক্ত শেষ হয় এবং সিয়ামের সময় শুরু হয়। এর মাধ্যমেই রোজাদারের জন্য পানাহার হারাম হয়ে যায় এবং এর দ্বারাই রাত শেষ হয়ে দিন শুরু হয়। মুসলিমদের ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী প্রথম ফজর অর্থাৎ 'মিথ্যা' (كاذب) ফজরের সাথে শরীয়তের কোনো বিধান সংশ্লিষ্ট নয়।" [আল-মাজমু (৩/৪৪)]

আবু ওমর ইবনে আবদিল বার (রহ.) বলেন: "ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, ফজরের সালাতের ওয়াক্ত হলো দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়া যখন তার উদয় স্পষ্ট হয়ে যায়; আর তা হলো পূর্ব দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া শুভ্রতা যার পর আর কোনো অন্ধকার থাকে না।" [আল-ইজমা, পৃষ্ঠা ৪৬]

ইবনে হাজম (রহ.) বলেন: "ফজরের পূর্বে যে আযান প্রদান করা হয় তা ফজরের জন্য যথেষ্ট হবে না; কারণ তা হলো সাহরির আযান, সালাতের আযান নয়। আমরা যে সময়ের কথা উল্লেখ করেছি তার পূর্বে আযান দেওয়া জায়েজ নেই।"

তিনি স্বীয় সনদ (سند) সহ হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: "হে আবু সাঈদ! কোনো ব্যক্তি যদি মানুষকে জাগানোর জন্য ফজরের আগে আযান দেয় তবে তা কেমন?" তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: "বেকার অনারব লোক! ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যদি তাদের পেতেন তবে তাদের পিঠের চামড়া তুলে দিতেন। যে ব্যক্তি ফজরের আগে আযান দিল, সেই মসজিদের মুসল্লিরা যেন আযান ছাড়াই শুধু একামতের মাধ্যমে সালাত আদায় করল।" অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: "তিনি জনৈক মুয়াজ্জিনকে রাতে আযান দিতে শুনে বললেন: অনারব লোকগুলো মোরগের সাথে পাল্লা দিচ্ছে! রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কি ফজর উদিত হওয়া ছাড়া আযান ছিল?"

ইব্রাহিম নাখঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলকামা ইবনে কায়স জনৈক মুয়াজ্জিনকে রাতে আযান দিতে শুনে বললেন: "এই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের সুন্নাহর (سنة) বিরুদ্ধাচরণ করেছে। সে যদি নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে থাকত তবে তার জন্য অধিকতর কল্যাণকর হতো।" এবং...

--------------------------------------------

(1)
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৩)
رواية عن النخعي قال: كانوا إذا أذن المؤذن بليل قالوا له: اتق الله وأعد أذانك)). [المحلى 3/ 117 - 118]

قلت: مقصودهم؛ إنكار أن يكون الأذان الثاني - بإعلام دخول الفجر - بليل فيمتنع الناس من الطعام بغير حق، وإلا فإن بلالاً كان يؤذن بليل لإيقاظ الناس.

وقال محمد بن رشد: ((واختلفوا في أوله (الإمساك)، فقال الجمهور: هو طلوع الفجر الثاني المستطير الأبيض، لثبوت ذلك عند رسول الله صلى الله عليه وسلم أعني ،حده بالمستطير [بداية المجتهد (1/ 288)].

قال ابن قدامة: وجملته؛ أن وقت الصبح يدخل بطلوع الفجر الثاني إجماعاً، وقد دلت عليه أخبار المواقيت، وهو البياض المنتشر في الأفق، ويسمى الفجر الصادق، لأنه صدقك عن الصبح وبينه لك. [المغني (1/ 385) طبعة دار الإفتاء]

وقال شمس الدين السرخسي: ((والفجر فجران؛ كاذب تسميه العرب ذنب السرحان، وهو البياض الذي يبدو في السماء طولاً، ويعقبه ظلام، والفجر الصادق وهو البياض المنتشر في الأفق، فبطلوع الفجر الكاذب لا يدخل وقت الصلاة، ولا يحرم الأكل على الصائم مالم يطلع الفجر الصادق … )). [كتاب المبسوط (1/ 141) طبعة دار الفكر]

وقال كمال الدين بن الهمام: ولا معتبر بالفجر الكاذب، وهو البياض الذي يبدو طولاً ثم يعقبه الظلام لقوله عليه الصلاة والسلام: ((لا يغرنكم أذان بلال ولا الفجر المستطيل)) وإنما الفجر في الأفق)) أي المنتشر فيه. [فتح القدير (1/ 219)] وقال قبل ذلك: ثم صلى الفجر حين برق الفجر، وحرم الطعام على الصائم (1/ 218).

 

‌‌التقاويم وضعت على وقت الفجر الكاذب.

والمشكلة نشأت من أن معظم الفلكيين والخبراء الجغرافيين والعسكريين لا يفرقون بين الفجرين، لأن هذا لا يهمهم، ولأنهم يرون أن أول ضوء هو الفجر عندهم، فلذلك وضعوا التقاويم بناءً على ذلك.

وأما في الشرع؛ فالضوء الأول هو الفجر الكاذب، ومن هنا وقع الخطأ، وكان مقداره مقدار ما بين الفجرين، وهو عشرون دقيقة، تزيد خمس دقائق أو تنقص حسب طول الليل والنهار.
আন-নাখায়ি থেকে একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে, তিনি বলেন: "মুয়াজ্জিন যখন রাতের বেলা আজান দিত, তারা তাকে বলত: আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার আজান পুনরায় দাও।" [আল-মুহাল্লা ৩/১১৭-১১৮]

আমি বলছি: তাদের উদ্দেশ্য হলো—ফজরের প্রবেশের ঘোষণা হিসেবে দ্বিতীয় আজানটি যেন রাতে না হয়, তা অস্বীকার করা; কেননা এতে মানুষ অহেতুক পানাহার থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায়, বিলাল (রা.) তো মানুষকে জাগানোর জন্যই রাতের বেলা আজান দিতেন।

মুহাম্মদ ইবনে রুশদ বলেন: "তারা এর শুরু (ইমসাক বা পানাহার বিরতি) নিয়ে মতভেদ করেছেন। জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতে, এটি হলো দ্বিতীয় ফজর—যা দিগন্তে বিস্তৃত ও শ্বেতবর্ণ (المستطير الأبيض)। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিষয়টি প্রমাণিত, অর্থাৎ তিনি এর সীমানা হিসেবে 'মুস্তাতীর' (المستطير) বা বিস্তৃত ফজরকে নির্ধারণ করেছেন।" [বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৮৮]

ইবনে কুদামা বলেন: "সারকথা হলো, ইজমা (إجماع) বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে সুবহে সাদিকের সময় শুরু হয়। নামাজের ওয়াক্ত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো এর প্রমাণ দেয়। এটি হলো দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া শুভ্রতা, যাকে ফজর সাদিক (الفجر الصادق) বলা হয়; কারণ এটি আপনার কাছে সুবহে সাদিকের আগমনের সত্যতা প্রকাশ করে ও তা স্পষ্ট করে দেয়।" [আল-মুগনি ১/৩৮৫, দারুল ইফতা সংস্করণ]

শামসুদ্দিন আস-সারখাসি বলেন: "ফজর হলো দুই প্রকার; ফজর কাজিব (الفجر الكاذب) বা মিথ্যা ফজর, যাকে আরবরা 'যানাবুস সিরহান' (ذنب السرحان) বা নেকড়ের লেজ বলে থাকে। এটি আকাশে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান শুভ্রতা, যার পরে অন্ধকার নেমে আসে। আর ফজর সাদিক (الفجر الصادق) বা সত্য ফজর হলো দিগন্তে ছড়িয়ে পড়া শুভ্রতা। ফজর কাজিব উদিত হলে নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় না এবং ফজর সাদিক (الفجر الصادق) উদিত না হওয়া পর্যন্ত রোজাদারের জন্য পানাহার হারাম হয় না … )। [কিতাবুল মাবসুত ১/১৪১, দারুল ফিকর সংস্করণ]

কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম বলেন: "ফজর কাজিবের (الفجر الكاذب) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এটি লম্বালম্বিভাবে প্রকাশ পাওয়া শুভ্রতা যার পরে অন্ধকার আসে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'বিলালের আজান এবং দীর্ঘাকার ফজর (الفجر المستطيل) যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে, বরং ফজর হলো দিগন্তে প্রকাশ পাওয়া আলো।' অর্থাৎ যা দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে।" [ফাতহুল কাদির ১/২১৯] তিনি এর আগে বলেন: অতঃপর তিনি ফজর পড়লেন যখন ফজর আলোকিত হলো এবং রোজাদারের জন্য পানাহার হারাম হলো (১/২১৮)।

 

‌ক্যালেন্ডার বা সময়সূচিগুলো ফজর কাজিবের (الفجر الكاذب) সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে.

সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে এখান থেকে যে, অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভৌগোলিক এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা দুই ফজরের মধ্যে পার্থক্য করেন না। কারণ এটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং তাদের মতে প্রথম আলোই হলো ফজর। এ কারণেই তারা এর ওপর ভিত্তি করে ক্যালেন্ডার বা সময়সূচিগুলো তৈরি করেছেন।

অথচ শরয়ি (الشرع) পরিভাষায় প্রথম আলোটি হলো ফজর কাজিব (الفجر الكاذب)। এখান থেকেই ভুলটির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ভুলের পরিমাণ হলো দুই ফজরের মধ্যবর্তী সময়, যা প্রায় ২০ মিনিট; রাত ও দিনের দৈর্ঘ্যভেদে এটি ৫ মিনিট কম বা বেশি হতে পারে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد قامت عدة مشاهدات وشهادات من فضلاء، وتمت عدة دراسات تبين بالدليل العلمي، والرؤية الواقعية، أن معظم التقاويم ومنها تقويم أم القرى، قد وقعت في هذا الخطأ، إذ وُقِّت الفجر فيها على الفجر الكاذب.

وهذا أمر بالغ الخطورة، حيث يصلي كثير من المسلمين، وبخاصة النساء في البيوت، والمرضى والمسافرون والمتعجلون من الأئمة، يصلون بُعيد أذان الفجر الكاذب، أي: قبل طلوع الفجر الصادق، مما يترتب على ذلك فساد الصلاة على مَنْ علم ذلك، كما لا يخفى على كل مسلم.

لذا وجب على المسلم التنبه إلى هذه المسألة، والنظر فيها نظر علم واتباع وتمحيص، لا نظر تقليد، لا يفرق بين دليل وتزيين، ولا بين اتباع وتقليد، ولا يجوز له الاعتماد على تقويم مُعَدٍّ على حساب فلكي، لا يُدرى عن واضعيه، مقدار علمهم الشرعي، واتباعهم للسنة، بخاصة وقد تبين بالدليل القطعي خطؤه، وشهد على ذلك العلماء العدول.

 

‌‌أدلة الذين يرون خطأ التقاويم وشهاداتهم على ذلك:

‌‌الأول: شهادة الحافظ العسقلاني في ذلك:

وهو دليل واضح قوي، يبين فيه سبب الخطأ، وبدايته، فقد قال الحافظ ابن حجر في [فتح الباري: (4/ 199)]: (تنبيه) من البدع المنكرة ما أحدث في هذا الزمان من إيقاع الأذان الثاني قبل الفجر بنحو ثلث ساعة في رمضان، وإطفاء المصابيح التي جعلت علامة لتحريم الأكل والشرب على من يريد الصيام، زعماً ممن أحدثه: أنه للاحتياط في العبادة، ولا يعلم بذلك إلا آحاد الناس، وقد جرهم ذلك إلى أن صاروا لا يؤذنون إلا بعد الغروب بدرجة، لتمكين الوقت زعموا، فأخروا الفطر، وعجلوا السحور، وخالفوا السنة، فلذلك قل عندهم الخير، وكثر فيهم الشر، والله المستعان))، والدرجة تقدر من 4 - 4.45 دقيقة.

 

‌‌الثاني: شهادة العلامة القرافي رحمه الله قال:

((جرت عادة المؤذنين، وأرباب المواقيت بتسيير درج الفلك إذا شاهدوا المتوسط من درج الفلك، أو غيره من درج الفلك الذي يقتضي أن درجة الشمس قربت من الأفق قرباً يقتضي أن الفجر طلع، أمروا الناس بالصلاة والصوم مع أن الأفق يكون صاحياً لا يخفى فيه طلوع الفجر لو طلع، ومع ذلك لا يجد الإنسان للفجر أثراً البتة، وهذا لا يجوز، فإن الله تعالى
অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তির প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে এবং বেশ কিছু গবেষণা পরিচালিত হয়েছে যা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট করে যে, 'উম্মুল কুরা' ক্যালেন্ডারসহ অধিকাংশ ক্যালেন্ডারই এই ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছে; কারণ সেগুলোতে ফজরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে মিথ্যা ফজরের (الفجر الكاذب) উপর ভিত্তি করে।

এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়, কারণ অনেক মুসলিম, বিশেষ করে ঘরের মহিলারা, অসুস্থ ব্যক্তিরা, মুসাফিরগণ এবং তাড়াহুড়োকারী ইমামগণ মিথ্যা ফজরের (الفجر الكاذب) আজানের পরপরই নামাজ পড়ে নেন; অর্থাৎ সত্য ফজর (الفجر الصادق) উদিত হওয়ার পূর্বেই। এর ফলে যারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তাদের নামাজ বাতিল (فساد) হওয়ার উপক্রম হয়, যা যে কোনো মুসলিমের নিকট স্পষ্ট।

তাই একজন মুসলিমের জন্য এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া এবং ইলম, অনুসরণ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখা আবশ্যক; নিছক অন্ধ অনুকরণের দৃষ্টিতে নয়, যা দলিল ও বাহ্যিক চাকচিক্যের মধ্যে কিংবা অনুসরণ ও অনুকরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। এছাড়া তার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এমন ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করা জায়েজ নয়, যার প্রণেতাদের শরয়ি জ্ঞান এবং সুন্নাহর (السنة) অনুসরণের গভীরতা সম্পর্কে জানা যায় না। বিশেষ করে যখন এর ভুল হওয়া অকাট্য প্রমাণের (الدليل القطعي) মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে এবং ন্যায়পরায়ণ (عدول) আলেমগণ এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

‌‌ক্যালেন্ডারের ভুল যারা মনে করেন তাদের দলিলসমূহ এবং এ বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য:

‌‌প্রথম: এ বিষয়ে হাফেজ আসকালানীর সাক্ষ্য:

এটি একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী দলিল, যাতে তিনি ভুলের কারণ ও এর সূচনা বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী (৪/১৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: (সতর্কবার্তা) বর্তমান সময়ে উদ্ভাবিত একটি গর্হিত বিদআত (البدع المنكرة) হলো রমজান মাসে ফজরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘণ্টা পূর্বে দ্বিতীয় আজান দেওয়া এবং যারা রোজা রাখতে চান তাদের জন্য পানাহার হারাম হওয়ার চিহ্ন হিসেবে নির্ধারিত বাতিগুলো নিভিয়ে দেওয়া। যারা এটি উদ্ভাবন করেছে তাদের দাবি হলো—এটি ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতা। অথচ সাধারণ মানুষের অল্প কিছু অংশ ছাড়া কেউ তা জানে না। এই বিষয়টি তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তারা এখন সূর্যাস্তের এক ডিগ্রি পর ছাড়া আজান দেয় না, তাদের দাবি অনুযায়ী সময় নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ফলে তারা ইফতার বিলম্বিত করে এবং সাহরি দ্রুত করে ফেলে, আর এভাবেই তারা সুন্নাহর (السنة) বিরোধিতা করে। একারণেই তাদের মধ্যে কল্যাণ কমে গেছে এবং অনিষ্ট বেড়ে গেছে। সাহায্য চাওয়ার একমাত্র আশ্রয় আল্লাহ। আর এক ডিগ্রি সময় ৪ থেকে ৪.৪৫ মিনিটের সমপরিমাণ ধরা হয়।

 

‌‌দ্বিতীয়: আল্লামা কারাফী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাক্ষ্য; তিনি বলেছেন:

((মুয়াজ্জিন এবং সময় নির্ধারণকারীদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যখন তারা মহাকাশের ডিগ্রিসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন অথবা মহাকাশের এমন কোনো অবস্থা দেখেন যা নির্দেশ করে যে সূর্যের অবস্থান দিগন্তের এমন নিকটবর্তী হয়েছে যা ফজর উদিত হওয়াকে আবশ্যক করে, তখন তারা মানুষকে নামাজ ও রোজা শুরুর নির্দেশ দেন। অথচ দিগন্ত তখন পরিষ্কার থাকে এবং ফজর উদিত হলে তা স্পষ্ট হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও মানুষ ফজরের কোনো চিহ্নই দেখতে পায় না। এটি জায়েজ নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা...
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৫)
إنما نصب سبب وجوب الصلاة ظهور الفجر فوق الأفق ولم يظهر، فلا تجوز الصلاة حينئذ، فإنه إيقاع للصلاة قبل وقتها، وبدون سببها)). [الفروق (2/ 3)، 301]

 

‌‌الثالث: شهادة العلامة محمد رشيد رضا:

قد قرر هذه الحقيقة، وأشار إلى أن هذا الخطأ وقع حين وُضع التقويم: الشيخ محمد رشيد رضا في تفسيره "المنار" عند قوله تعالى: {حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر}. [البقرة (187)]، قال (2/ 184): (ومن مبالغة الخلف في تحديد الظواهر مع التفريط في إصلاح الباطن من البر والتقوى، أنهم حددوا الفجر، وضبطوه بالدقائق، وزادوا عليه في الصيام، إمساك عشرين دقيقة تقريباً، وأما وقت المغرب، فيزيدون فيه على وقت الغروب التام خمس دقائق على الأقل، ويشترط بعض الشيعة فيه ظهور بعض النجوم. وهذا نوع من اعتداء على حدود الله تعالى .... بيد أنه يجب إعلام المسلمين … بأن وقت الإمساك الذي يرونه في التقاويم (النتائج) والصحف، إنما وضع لتنبيه الناس إلى قرب طلوع الفجر الذي يجب في بدء الصيام … وأن من أكل، وشرب حتى طلوع الفجر الذي تصح فيه صلاته، ولو بدقيقة واحدة، فإن صيامه صحيح .. )).

قلت: والذي يظهر من كلام الحافظ، وكلام محمد رشيد رضا أن تقديم الأذان إلى الفجر الكاذب كان في رمضان أول الأمر، ثم صار مع مرور الزمن في أشهر السنة كافة، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

 

‌‌الرابع: شهادة العلامة تقي الدين الهلالي:

قام بعض العلماء في بلاد المغرب، وفي مقدمتهم الشيخ تقي الدين الهلالي باستطلاع الفجر، وتبين لهم كما تبين لإخوانهم، وقد أصدر الشيخ الهلالي بيانًا بذلك.

((اكتشفت بما لا مزيد عليه من البحث والتحقيق، والمشاهد المتكررة من صحيح البصر .. أن التوقيت لأذان الصبح لا يتفق مع التوقيت الشرعي، وذلك أن المؤذن يؤذن قبل تبين الفجر تبيناً شرعياً)). [رسالة بيان الفجر الصادق وامتيازه عن الفجر الكذاب ص 2]

 

‌‌الخامس: شهادة العلامة الشيخ الألباني:
নিশ্চয়ই সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে দিগন্তের উপরে ফজরের উদয় হওয়াকে নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ তা তখনো উদিত হয়নি। সুতরাং এমতাবস্থায় সালাত জায়েয হবে না; কারণ এটি ওয়াক্ত হওয়ার আগে এবং তার ওয়াজিব হওয়ার কারণ ছাড়াই সালাত আদায় করা। [আল-ফুরুক (২/ ৩), ৩০১]

 

‌‌তৃতীয়: আল্লামা মুহাম্মাদ রশীদ রিযা-এর সাক্ষ্য:

শেখ মুহাম্মাদ রশীদ রিযা তাঁর তাফসির "আল-মানার"-এ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অধীনে: {যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়} [আল-বাকারা (১৮৭)], এই ধ্রুব সত্যটি সাব্যস্ত করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ভুলটি ক্যালেন্ডার প্রণয়নের সময় ঘটেছে। তিনি বলেন (২/ ১৮৪): (আর পরবর্তী যুগের লোকদের সততা ও তাকওয়ার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংশোধনে অবহেলা করে বাহ্যিক বিষয়াদির সীমা নির্ধারণে অতিরঞ্জন করার একটি দিক হলো—তারা ফজরের সময় নির্ধারণ করেছে এবং একে মিনিটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করেছে। এমনকি তারা সিয়ামের ক্ষেত্রে প্রায় বিশ মিনিট বেশি ইমসাক (বিরতি) যোগ করেছে। আর মাগরিবের ওয়াক্তের ক্ষেত্রে তারা পূর্ণ সূর্যাস্তের সময়ের ওপর কমপক্ষে পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত যোগ করে থাকে। এমনকি শিয়াদের কেউ কেউ এতে নক্ষত্র প্রকাশ পাওয়াকে শর্ত হিসেবে গণ্য করে। এটি আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমার এক প্রকার লঙ্ঘন... তবে মুসলিমদের জানানো আবশ্যক যে... ক্যালেন্ডার (জান্ত্রি) ও পত্রপত্রিকায় তারা ইমসাকের যে সময় দেখতে পায়, তা কেবল মানুষকে সিয়াম শুরুর ওয়াক্ত অর্থাৎ ফজর উদয় হওয়া নিকটবর্তী—এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য রাখা হয়েছে... আর যে ব্যক্তি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত পানাহার করবে—যার মাধ্যমে তার সালাত বিশুদ্ধ হবে—এমনকি এক মিনিট আগেও যদি হয়, তবে তার সিয়াম বিশুদ্ধ (صحيح) হবে...)।

আমি (লেখক) বলছি: হাফেজ (الحافظ) এবং মুহাম্মাদ রশীদ রিযা-এর বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, সুবহে কাযিবের সময় আযান এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রথম দিকে কেবল রমজান মাসে ছিল, অতঃপর সময়ের আবর্তনে তা বছরের সকল মাসের জন্য প্রচলিত হয়ে গেছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।

 

‌‌চতুর্থ: আল্লামা তাকিউদ্দীন আল-হিলালী-এর সাক্ষ্য:

মাগরিব (মরক্কো) ভূখণ্ডের কিছু আলেম, যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন শেখ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী, তাঁরা ফজরের ওয়াক্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের নিকট বিষয়টি সেভাবেই স্পষ্ট হয়েছে যেভাবে তাঁদের ভাইদের নিকট স্পষ্ট হয়েছিল। শেখ হিলালী এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও প্রদান করেছেন।

(("আমি অধিকতর গবেষণা, তাহকিক (تحقيق) এবং সুস্থ দৃষ্টিতে বারবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি উদঘাটন করেছি যে... ফজর আযানের সময়সূচি শরয়ি সময়ের সাথে মিলছে না। আর তা এ কারণে যে, মুয়াজ্জিন শরয়ি পদ্ধতিতে ফজর স্পষ্ট হওয়ার পূর্বেই আযান দিয়ে দিচ্ছেন"))। [রিসালাতু বয়ানিল ফাজরিস সাদিক ওয়া ইমতিয়াযিহি আনিল ফাজরিল কাযিব, পৃষ্ঠা ২]

 

‌‌পঞ্চম: আল্লামা শেখ আলবানী-এর সাক্ষ্য:
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৬)
قام أخوة في بلاد الشام، وعلى رأسهم العلامة الألباني رحمه الله باستطلاع الفجر، وتبين لهم ما ذكرنا، وصرح الشيخ بذلك في شريط مسجل وذكر ذلك في كتابه سلسلة الأحاديث الصحيحة (5/ 52) رقم (2031).

((وقد رأيت ذلك بنفسي مراراً من داري في جبل هملان -جنوب شرق عمان- ومكنني ذلك من التأكد من صحة ما ذكره بعض الغيورين على تصحيح عبادة المسلمين؛ أن أذان الفجر في بعض البلاد العربية يرفع قبل الفجر الصادق بزمن يتراوح بين العشرين والثلاثين دقيقة، أي قبل الفجر الكاذب أيضاً، وكثيراً ما سمعت إقامة صلاة الفجر من بعض المساجد مع طلوع الفجر الصادق، وهم يؤذنون قبلها بنحو نصف ساعة، وعلى ذلك فقد صلوا سنة الفجر قبل وقتها، وقد يستعجلون بأداء الفريضة قبل وقتها في شهر رمضان …

وفي ذلك تضييق على الناس بالتعجيل بالإمساك عن الطعام، وتعريض لصلاة الفجر للبطلان، وما ذلك إلا بسبب اعتمادهم على التوقيت الفلكي، وإعراضهم عن التوقيت الشرعي، كما جاء في قوله سبحانه وتعالى: ((وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر)) وحديث: ((فكلوا واشربوا حتى يعترض لكم الأحمر))، وهذه ذكرى والذكرى تنفع المؤمنين)). [السلسلة الصحيحة (5/ 52) حديث رقم (2031)]

 

‌‌السادس: شهادة شيوخ من المملكة:

قام أخوة من شيوخ فضلاء من طلبة العلم في السعودية، باستطلاع الفجر، في أكثر من مجموعة أكثر من مرة، وتبين لهم صحة ما ذكرنا. - وبرفقه تقرير من بعضهم -

ومنهم الشيوخ:

عمر بن عبد العزيز العثمان، د. سعيد بن زعير، عبد المحسن العبيكان، عبد العزيز السدحان، سليمان الدهمان، عبد الله السلطان وغيرهم، وكنت مع بعضهم.

 

‌‌السابع: شهادة الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله-:

((بالنسبة لصلاة الفجر؛ المعروف أن التوقيت الذي يعرفه الناس ليس بصحيح، فالتوقيت مقدم على الوقت بخمس دقائق على أقل تقدير، وبعض الإخوان خرجوا إلى البر فوجدوا أن الفرق بين التوقيت الذي بأيدي الناس وبين طلوع الفجر نحو ثلث ساعة، فالمسألة خطيرة
সিরিয়ার (শাম) কিছু ভাই, এবং তাদের অগ্রভাগে আল্লামা আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) ফজর উদয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা তাদের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে। শায়খ একটি রেকর্ডকৃত অডিওতে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং তার কিতাব সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (৫/৫২), নম্বর (২০৩১)-এ উল্লেখ করেছেন।

((“আমি নিজেই জাবালে হামলান —আম্মানের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে— আমার ঘর থেকে বারবার এটি দেখেছি। এর মাধ্যমে আমার কাছে সেই সব ব্যক্তিদের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে, যারা মুসলমানদের ইবাদত সংশোধনের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন; যে কিছু আরব দেশে ফজরের আজান ফজর আস-সাদিক (الفجر الصادق) উদিত হওয়ার বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট আগে দেওয়া হয়, অর্থাৎ ফজর আল-কাযিব (الفجر الكاذب)-এরও আগে। অনেক সময় আমি ফজর আস-সাদিক (الفجر الصادق) উদিত হওয়ার সময় কিছু মসজিদে ফজরের নামাজের ইকামত দিতে শুনেছি, অথচ তারা আজান দিয়েছে তার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে। ফলস্বরূপ, তারা ফজরের সুন্নাত এর সময়ের আগেই আদায় করে নিয়েছে। আবার কখনো কখনো রমজান মাসে সময়ের আগেই ফরজ আদায় করার ক্ষেত্রে তারা তাড়াহুড়ো করে …

এর ফলে সময়ের আগে পানাহার বন্ধ (ইমসাক) করার মাধ্যমে মানুষের ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি হয় এবং ফজরের নামাজ বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়। এর একমাত্র কারণ হলো তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক সময়ের ওপর নির্ভর করা এবং শরিয়তসম্মত সময়ের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: ‘আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে’। এবং হাদিস: ‘তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না লাল আভা তোমাদের নিকট প্রকাশ পায়’। এটি একটি উপদেশ আর উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।”))। [সিলসিলাতুস সহিহাহ (৫/৫২) হাদিস নম্বর (২০৩১)]

 

‌‌ষষ্ঠ: সৌদি আরবের একদল শায়খ বা আলিমের সাক্ষ্য:

সৌদি আরবের ইলম অন্বেষী একদল উচ্চপদস্থ শায়খ একাধিকবার এবং একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে ফজর পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা তাদের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে। —তাদের কয়েকজনের একটি রিপোর্ট এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে—

তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ:

ওমর বিন আব্দুল আজিজ আল-উসমান, ড. সাঈদ বিন জুয়াইর, আব্দুল মুহসিন আল-উবাইকান, আব্দুল আজিজ আস-সাদহান, সুলাইমান আদ-দাহমান, আব্দুল্লাহ আস-সুলতান এবং আরও অনেকে। আমি তাদের কারো কারো সাথে উপস্থিত ছিলাম।

 

‌‌সপ্তম: আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাক্ষ্য:

((“ফজরের নামাজের ব্যাপারে বলতে গেলে; এটি পরিচিত যে মানুষ বর্তমানে যে সময়টি জানে তা সঠিক নয়। ক্যালেন্ডারের সময়টি প্রকৃত সময়ের চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট আগে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু ভাই মরুভূমিতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে, মানুষের হাতে থাকা সময় এবং ফজর উদয়ের মাঝে ব্যবধান প্রায় বিশ মিনিটের (এক-তৃতীয়াংশ ঘণ্টা) মতো। সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”))
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৭)
جداً، ولهذا لا ينبغي للإنسان في صلاة الفجر أن يبادر في إقامة الصلاة، وليتأخر نحو ثلث ساعة أو (25) دقيقة حتى يتيقن أن الفجر قد حضر وقته)). [شرح رياض الصالحين (3/ 216)]

 

‌‌الثامن: شهادة الشيخ عبد الرحمن الفريان رحمه الله في خطابه للدكتور صالح العدل يطلب فيه إعادة النظر في التقويم:

((وكان شيخنا محمد بن إبراهيم رحمه الله لا يقيم الصلاة في مسجده إلا بعد وضوح الفجر الصحيح، وبعض الأئمة لا يقيمون صلاة إلا بعد وقت التقويم الحاضر بأربعين دقيقة أو نحوها، ويخرجون من المسجد بغلس، أما البعض الآخر فإنهم يقيمون بعد الأذان بعشرين دقيقة، وبعضهم يقيمون الصلاة بعد الأذان على مقتضى التقويم بخمس عشرة دقيقة .. ثم هؤلاء المبكرون يخرجون من صلاتهم قبل أن يتضح الصبح فهذا خطر عظيم … )) [تاريخ الخطاب 5/ 9/1414 هـ]

 

‌‌التاسع: شهادة من السودان: قام أخوة من أنصار السنة في السودان باستطلاع الفجر، وكنت معهم، وتبين لنا صحة ما ذكرنا.

‌‌العاشر: شهادة من شيوخ مصر:

"قد صدرت فتوى من شيخ الأزهر توافق قريبًا مما ذكرنا " (1)

وصرح الشيخ محمد حسان والشيخ مصطفى العدوي بمثل ما ذكرنا.

وقال الشيخ العدوي: " وقد راقبت ذلك بقريتي بمصر فإذا بهذا الخيط الأبيض (الفجر الثاني الصادق) يظهر بعد الأذان المثبت في التقاويم بمدة تدور حول الثلث ساعة. (2)

 

‌‌الحادي عشر: الأبحاث في هذه المسألة:

وفضلاً عن هذه الشهادات العلمية، والمتضمنة لأدلة قوية، فقد ظهرت عدة بحوث في هذه المسألة تبين صحة ما ذكرنا.

 

‌‌الأول: قام الدكتور سليمان بن إبراهيم الثنيان ببحث بعنوان: ((أوقات الصلوات المفروضة))، وقد ذكر فيه أنه قام برصد الفجر لعام كامل، وأن وقت الفجر حسب تقويم أم

--------------------------------------------

(1) يواقيت الفلاة في مواقيت الصلاة لمصطفى العدوي ص 127.

(2) المرجع السابق ص 127.
অত্যন্ত বেশি, একারণে ফজর সালাতের ক্ষেত্রে মানুষের উচিত হবে না সালাত শুরু (ইকামাহ) করতে তড়িঘড়ি করা। বরং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘণ্টা অথবা (২৫) মিনিট বিলম্ব করা উচিত, যাতে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।)) [শরহ রিয়াদুস সালিহীন (৩/ ২১৬)]

 

‌‌অষ্টম: শাইখ আব্দুর রহমান আল-ফারইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাক্ষ্য, যা তিনি ডক্টর সালিহ আল-আদল-এর নিকট লিখিত পত্রে ক্যালেন্ডার বা সময়সূচি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে উল্লেখ করেছেন:

((আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মসজিদে সঠিক ফজর (الفجر الصحيح) স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সালাত শুরু করতেন না। কিছু ইমাম বর্তমান ক্যালেন্ডারে বর্ণিত সময়ের প্রায় চল্লিশ মিনিট বা তার কাছাকাছি সময় পর সালাত শুরু করেন এবং তাঁরা মসজিদ থেকে অন্ধকারচ্ছন্ন অবস্থায় (بغلس) বের হন। অন্যদিকে কিছু লোক আজানের বিশ মিনিট পর সালাত শুরু করেন এবং কেউ কেউ ক্যালেন্ডারের নির্দেশ অনুযায়ী আজানের পনের মিনিট পর সালাত শুরু করেন। অতঃপর এই অগ্রিম সালাত আদায়কারীরা সুবহে সাদিক স্পষ্ট হওয়ার আগেই সালাত শেষ করে বেরিয়ে যান, যা এক ভয়াবহ ঝুঁকি … )) [পত্রের তারিখ ৫/ ৯/ ১৪১৪ হিজরি]

 

‌‌নবম: সুদান থেকে প্রাপ্ত সাক্ষ্য: সুদানে আনসারুস সুন্নাহর কয়েকজন ভাই ফজরের সময় পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। আমাদের কাছে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা স্পষ্ট হয়েছে।

‌‌দশম: মিশরের শাইখদের সাক্ষ্য:

"শাইখুল আযহারের পক্ষ থেকে একটি ফাতওয়া জারি হয়েছে যা আমাদের উল্লেখ করা বক্তব্যের সাথে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ।" (১)

শাইখ মুহাম্মাদ হাসান এবং শাইখ মুস্তফা আল-আদাবী আমাদের অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন।

শাইখ আদাবী বলেন: "আমি মিশরে আমার গ্রামে এটি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি দেখেছি যে, এই সাদা রেখা তথা দ্বিতীয় সত্য ফজর (الفجر الثاني الصادق) ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত আজানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘণ্টা পর উদিত হয়।" (২)

 

‌‌একাদশ: এই বিষয়ে গবেষণা:

এই ইলমি সাক্ষ্যসমূহ—যা শক্তিশালী দলীল সমৃদ্ধ—তা ছাড়াও এই বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে যা আমাদের বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করে।

 

‌‌প্রথম: ডক্টর সুলাইমান বিন ইব্রাহিম আল-ছুনাইয়ান "ফরজ সালাতের ওয়াক্তসমূহ" শিরোনামে একটি গবেষণা করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পুরো এক বছর ফজরের সময় পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফজরের সময়...

--------------------------------------------

(১) মুস্তফা আল-আদাবী রচিত ইওয়াকিতুল ফালাত ফি মাওয়াকিতিস সালাত, পৃষ্ঠা ১২৭।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৭।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৮)
القرى، متقدم عن التوقيت الشرعي للفجر ما بين (15) دقيقة إلى 24 دقيقة حسب فصول السنة. (1)

 

‌‌الثاني: قام الباحث الشيخ عبد الله بن إبراهيم التركي ببحث أثبت فيه التفاوت بين الواقع وتقويم أم القرى في وقت الفجر، وكان يُشهد الشهود على طلعاته ومشاهداته.

‌‌الثالث: قامت الجمعية الإسلامية بأمريكا الشمالية (الإسنا) بدراسة الأوقات كلها، وأثبتت صحة ما ذكرنا، وأصدرت توقيتًا معروفًا عند المسلمين، وهذا التوقيت موجودٌ في ساعة العصر وبعض الجوالات والحاسبات باسم طريقة حساب الجمعية الإسلامية بأمريكا (الإسنا). (2)

‌‌الرابع: دراسة من مدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية

كنت قد كتبت معظم ما سبق قبل سبع سنين تقريباً، ثم خرجت علينا دراسة علمية فلكية من أهم الدراسات لقضية الفجر وأدقها، وهي ما قام به معهد بحوث الفلك في "مدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية" بناء على توجيه من سماحة الشيخ عبد العزيز آل الشيخ مفتي المملكة، ومعالي الشيخ صالح آل الشيخ وزير الشؤون الدينية- حفظهم الله.

وقد شارك في هذا البحث أفاضل من علماء الدين والفلك، وتميزت الدراسة بالتجرد، والميدانية، والشرعية، والفلكية، والعلمية، والتجارب المتكررة، وكانت بحق دراسة دقيقة ونافعة، فجزاهم الله خير الجزاء، وإن المسلم ليفتخر أن يجد مثل هذه الدراسات المتجردة، والدقيقة عند المسلمين، وقد أسفرت الدراسة عن الأمور التالية:

- أن واضع تقويم أم القرى ليس لديه علم شرعي، فهو لا يفرق بين الفجر الكاذب، والفجر الصادق، ولهذا وضع وقت الفجر في التقويم على الفجر الكاذب حسب إفادته.

وهذا خطأ شرعي واضح، فإن وقت الفجر الذي يحرم به الصيام، ويبيح الصلاة هو الفجر الصادق-كما هو معلوم من الشرع وقد سبق بيانه.

--------------------------------------------

(1) مشروع دراسة الشفق الصادر عن مدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية ص 39.

(2) منظمة الإسنا هي منظمة معروفة مشهورة في أمريكا وينبه إلى ترك الاعتماد على توقيتها وقت العشاء لوقوع خطأ فيه.
উম্মুল কুরা (ক্যালেন্ডার), ঋতুভেদে ফজরের শরয়ী সময়ের (التوقيت الشرعي) চেয়ে ১৫ থেকে ২৪ মিনিট এগিয়ে। (১)

 

‌‌দ্বিতীয়: গবেষক শায়খ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-তুর্কি একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন যাতে তিনি ফজরের সময়ের ক্ষেত্রে বাস্তবতা এবং উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারের মধ্যে পার্থক্য প্রমাণ করেছেন। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষদর্শনের সময় সাক্ষীদের উপস্থিত রাখতেন।

‌‌তৃতীয়: ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (ইসনা) সকল ওয়াক্তের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা প্রমাণ করেছে। তারা মুসলিমদের নিকট সুপরিচিত একটি সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এই সময়সূচিটি 'আল-আসর' ঘড়ি এবং কিছু মোবাইল ও ক্যালকুলেটরে 'ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (ইসনা)' এর হিসাব পদ্ধতি নামে বিদ্যমান। (২)

‌‌চতুর্থ: কিং আব্দুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর একটি গবেষণা

আমি উপরোক্ত বিষয়গুলোর অধিকাংশ প্রায় সাত বছর আগে লিখেছিলাম। অতঃপর আমাদের সামনে একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশিত হয়, যা ফজরের মাসআলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্মতম গবেষণাগুলোর একটি। এটি কিং আব্দুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে; যা রাজ্যের সম্মানিত মুফতি শায়খ আব্দুল আজিজ আল আশ-শায়খ এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শায়খ সালিহ আল আশ-শায়খ (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন)-এর নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়।

এই গবেষণায় বরেণ্য ধর্মতাত্ত্বিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এই গবেষণাটি নিরপেক্ষতা, সরজমিনে পর্যবেক্ষণ, শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি, জ্যোতির্বিদ্যাগত পরিমাপ, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি সূক্ষ্ম ও উপকারী গবেষণা ছিল। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। একজন মুসলিম হিসেবে গর্ব হয় যে মুসলিমদের মাঝে এমন নিরপেক্ষ ও নিখুঁত গবেষণা পাওয়া যায়। এই গবেষণার ফলাফলসমূহ নিম্নরূপ:

- উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারের সংকলকের শরয়ী জ্ঞান ছিল না; ফলে তিনি সুবহে কাযিব (الفجر الكاذب) ও সুবহে সাদিক (الفجر الصادق)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ক্যালেন্ডারে ফজরের সময়টি সুবহে কাযিব (الفجر الكاذب) অনুযায়ী নির্ধারণ করেছেন।

এটি একটি স্পষ্ট শরয়ী ভুল। কেননা ফজরের সেই সময়, যা থেকে সিয়াম পালন আবশ্যক হয় এবং যার মাধ্যমে সালাত বৈধ হয়, তা হলো সুবহে সাদিক (الفجر الصادق)—যেমনটি শরিয়তের বিধানে সুপরিচিত এবং পূর্বেও তা বর্ণনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কিং আব্দুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃক প্রকাশিত 'শফক' বা গোধূলি সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্প, পৃষ্ঠা ৩৯।

(২) ইসনা একটি আমেরিকায় সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ সংস্থা। তবে এশার সময়ের ক্ষেত্রে তাদের সময়সূচির ওপর নির্ভর না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে, কারণ সেখানে ত্রুটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ৯)
- أن واضع التقويم قدم وقت الفجر بهواه مقدار درجة وهي تعادل 4 - 4.45 دقيقة، وذلك حيطة منه للصيام، فوقع فيما هو أخطر منه ، وهو تقديم وقت صلاة الفجر

- أن الفجر الكاذب الذي وضع عليه التقويم متقدم على الصادق بنحو عشرين دقيقة، يزيد وينقص نحو خمس دقائق، وذلك حسب طول الليل، والنهار، وقصرهما.

وبعد مقابلة اللجنة المشرفة على الدراسة للمسئول عن أم القرى وتسجيل هذه المقابلة قالت: " وقد أمكن اللقاء بمعد التقويم سابقًا الدكتور فضل نور ، الذي أفاد بأنه أعد التقويم بناءً على ما ظهر له، وليس لديه أي أساس مكتوب، ومن خلال الحديث معه ومحاورته تبين أنه لا يميز بين الفجر الكاذب والصادق على وجه دقيق، حيث أعد التقويم على أول إضاءة تجاه الشرق في الغالب ، أي: على درجة 18 وبعد عشر سنوات قدمه إلى 19 درجة احتياطًا "

 

‌‌أدلة من يرى صحة التقاويم:

لم أعثر على بحث مكتوب، أو شهادة موثقة من الذين يرون صحة هذه التقاويم، وقد جادلت كثيراً منهم فما كانوا ليذكروا من الأدلة سوى أن هذه التقاويم هي الأصل .. والمعمول بها من سنين .. وأن في إثارة هذه القضية فتنة للناس.

 

‌‌تحرير المسألة:

هذه هي أدلة الفريقين من العلماء الذين يرون خطأ التقاويم في توقيت الفجر ووجوب تصحيحها، وأقوال الذين يرون صحة حسابات التقويم وعدم تصحيحها، والناظر فيها بعين الإنصاف، يرى أن أدلة القائلين بخطأ التقاويم أدلة ظاهرة، وشهادات موثقة، وبراهين قوية، لا يجوز ردها، بل توجب على المسلم التزامها.

وأما المانعون من التصحيح الموافقون للتقاويم؛ فلا نجد عندهم أدلة البتة لا من الشرع ولا من علم الفلك سوى قولهم هذه (فتنة)، وأنها مخالفة لما اعتاد عليه الناس، وليس لديهم رد علمي ولا فلكي على أدلة الفريق الأول سوى التقليد وترك ماكان على ما كان.

ومن المعلوم؛ أن مثل هذا لا يلتفت إليه في باب الأدلة، ولا يعتمد عليه في أحكام الدين،

وإلا فبأي حق ترد شهادة هؤلاء العدول: العسقلاني، محمد رشيد رضا، الألباني، الهلالي، ابن عثيمين وغيرهم من الفضلاء، ويقبل كلام واضعي التقاويم الذين لا علم لهم في الشرع، .. اللهم إلا أن يتنزل تقويم أم القرى منزلة الوحي المعصوم؟
- ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারী তার খেয়ালখুশি মতো ফজর সালাতের সময়কে এক ডিগ্রি পরিমাণ এগিয়ে এনেছেন, যা ৪ থেকে ৪.৪৫ মিনিটের সমতুল্য। রোজা পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে তিনি আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো ফজর সালাতের সময়কে এগিয়ে আনা।

- ক্যালেন্ডারে যে মিথ্যা ফজর (فجر كاذب) এর ওপর ভিত্তি করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সত্য ফজর (فجر صادق) এর চেয়ে প্রায় বিশ মিনিট আগে হয়ে থাকে; রাত ও দিনের দীর্ঘতা বা স্বল্পতার ওপর ভিত্তি করে যা পাঁচ মিনিট কম-বেশি হতে পারে।

গবেষণার দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটি উম্মুল কুরা-র কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ ও সেই সাক্ষাৎকার রেকর্ড করার পর জানায়: "ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারী পূর্ববর্তী ড. ফজল নূরের সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি তার সামনে যা প্রকাশ পেয়েছে তার ওপর ভিত্তি করেই ক্যালেন্ডারটি প্রস্তুত করেছেন, তার নিকট কোনো লিখিত ভিত্তি নেই। তার সাথে আলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি সত্য ফজর (فجر صادق) ও মিথ্যা ফজর (فجر كاذب) এর মধ্যে যথাযথভাবে পার্থক্য করতে পারেন না। তিনি ক্যালেন্ডারটি প্রস্তুত করেছেন মূলত পূর্ব দিগন্তের প্রথম আলোর রেখার ওপর ভিত্তি করে, অর্থাৎ ১৮ ডিগ্রির ওপর ভিত্তি করে; এর দশ বছর পর সতর্কতাবশত তিনি একে ১৯ ডিগ্রিতে উন্নীত করেন।"

 

‌‌যারা ক্যালেন্ডার সঠিক বলে মনে করেন তাদের দলিলসমূহ:

যারা এই ক্যালেন্ডারগুলো সঠিক বলে মনে করেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত গবেষণা বা প্রামাণ্য সাক্ষ্য আমি খুঁজে পাইনি। তাদের অনেকের সাথে আমি বিতর্ক করেছি, কিন্তু তারা দলিল হিসেবে কেবল এটুকুই উল্লেখ করেন যে, এই ক্যালেন্ডারগুলোই মূল ভিত্তি এবং বছরের পর বছর ধরে এগুলোই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এই বিষয়টি উত্থাপন করা মানুষের জন্য একটি ফিতনা।

 

‌‌বিষয়টি বিশ্লেষণ:

এই হলো উভয় পক্ষের ওলামায়ে কেরামের দলিলসমূহ—যারা ফজর সালাতের ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডারে ভুল দেখছেন এবং তা সংশোধন করা আবশ্যক মনে করেন, আর তাদের বক্তব্য যারা ক্যালেন্ডারের হিসাবকে সঠিক মনে করেন এবং তা সংশোধন না করার পক্ষে। কোনো ব্যক্তি যদি ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে ক্যালেন্ডার ভুল হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট, সাক্ষ্যগুলো প্রামাণ্য এবং প্রমাণসমূহ শক্তিশালী, যা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, বরং একজন মুসলিমের জন্য তা মেনে চলা আবশ্যক।

আর যারা ক্যালেন্ডার সংশোধনের বিরোধী এবং ক্যালেন্ডারের সাথে একমত, তাদের নিকট শরয়ি বা জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক কোনো দলিলই নেই। তাদের বক্তব্য কেবল এটুকুই যে এটি একটি (ফিতনা) এবং মানুষের অভ্যাসের পরিপন্থী। প্রথম পক্ষের দলিলসমূহের কোনো বৈজ্ঞানিক বা জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত জবাব তাদের কাছে নেই, বরং কেবল অন্ধ অনুকরণ এবং যা আগে থেকে চলে আসছে তার ওপর ভিত্তি করেই তারা অটল রয়েছেন।

এটি সর্বজনবিদিত যে, দলিলের ক্ষেত্রে এমন বিষয়ের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না এবং দ্বীনের বিধানের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা হয় না।

অন্যথায় কোন অধিকারে এই ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা হবে: আসকালানি, মুহাম্মদ রশিদ রিদা, আলবানি, হিলালি, ইবনে উসাইমিন এবং অন্যান্য গুণীজন; আর এমন ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারীদের কথা গ্রহণ করা হবে যাদের শরয়ি জ্ঞান নেই? যদি না উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারকে ভুলত্রুটিহীন (معصوم) প্রত্যাদেশ (وحي) হিসেবে গণ্য করা হয়?
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ১০)
قال تعالى: " اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ" (1)

ولم يبق بعد هذا لمقلد عذر؟ .. اللهم إلا عذر تقليد واضع تقويم أم القرى، الذي أقر أنه قد وضع التقويم على الفجر الكاذب .. وقد شهد الأخوة الثقات في دراستهم في مدينة الملك عبد العزيز أنه جاهل بالشرع، وبالفرق بين الفجر الكاذب والصادق، فهل يرضى عاقل أن يقلد في دينه من هذه حاله؟ ! وهذه الدراسة؛ - دراسة مدينة الملك عبد العزيز- بحق قاصمة الظهر - لاعتبارات معينة- لمن يرى تقليد أم القرى.

وبهذه الأدلة يتبين الحق، ويغلق باب الجدل الذي طال أمده.

ولم يبق على المسؤولين عن أم القرى إلا أن يتداركوا الأمر، ويؤدوا الأمانة في اتباع الدليل وترك التقليد، فإن مسئوليتهم أمام الله عظيمة، ففي أعناقهم صلاة ملايين من الناس، والله من وراء القصد.

 

‌‌تأخير توقيت العشاء:

قامت بعض البلاد في رمضان بتأخير وقت العشاء نصف ساعة عن وقته الذي وقته رسول الله صلى الله عليه وسلم بدعوى أن الناس يحتاجون إلى وقت بين إفطارهم وصلاة العشاء.

ولما كان تأخير التوقيت خطأ فادح في مخالفة الشرع، وخشية - مع مرور الزمن وفشوا الجهل - أن يظن ظان أن أصل وقت العشاء مؤخر في رمضان، فيتأخرون في صلاة المغرب.

لذلك؛ كتبت هذا البيان سداً للذريعة، وتنبيهاً للأمة، كما فعل العسقلاني - جزاه الله خيراً - أن نبّه على ما حصل في زمانه من الخطأ في توقيت الفجر، واستمر إلى زماننا هذا الخطأ.

من المعلوم شرعا أن أوقات الصلوات مؤقتة من الله سبحانه، ولا يحل لأحد تقديمها ولا تأخيرها قال تعالى: {إنَّ الصَّلَاة كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا} (2)، وقال تعالى: {تِلْكَ

--------------------------------------------

(1) 7 - سورة الأعراف (3)

(2) 8 - سورة النساء الآية (103)
আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" (১)

এর পরে কোনো অন্ধ অনুসারীর জন্য আর কোনো ওজর বাকি থাকে কি? .. তবে উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার প্রণেতার অন্ধ অনুকরণের অজুহাত ছাড়া, যিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি ক্যালেন্ডারটি মিথ্যা সুবহে সাদিকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন.. অথচ নির্ভরযোগ্য (الثقات) ভাইগণ কিং আব্দুল আজিজ সিটিতে তাঁদের গবেষণায় সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি শরিয়ত সম্পর্কে এবং সুবহে কাজিব ও সুবহে সাদিকের পার্থক্য সম্পর্কে অজ্ঞ। সুতরাং কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি নিজের দ্বীনের ক্ষেত্রে এমন একজনকে অন্ধ অনুসরণ করতে রাজি হবেন যার অবস্থা এরূপ?! আর এই গবেষণাটি—কিং আব্দুল আজিজ সিটির গবেষণা—নির্দিষ্ট কিছু বিবেচনায় উম্মুল কুরাকে অন্ধভাবে অনুকরণকারীদের জন্য প্রকৃতপক্ষেই কোমর ভেঙে দেওয়ার মতো একটি আঘাত।

এই সকল দলিলের মাধ্যমে সত্য সুস্পষ্ট হয় এবং দীর্ঘকাল ধরে চলা বিতর্কের দ্বার রুদ্ধ হয়।

এখন উম্মুল কুরার দায়িত্বশীলদের ওপর কেবল এই দায়িত্বই অবশিষ্ট রয়েছে যে, তাঁরা বিষয়টি সংশোধন করবেন এবং দলিলের অনুসরণ ও অন্ধ অনুকরণ ত্যাগের মাধ্যমে আমানত রক্ষা করবেন। কেননা আল্লাহর নিকট তাঁদের দায়বদ্ধতা বিশাল; তাঁদের কাঁধে লক্ষ লক্ষ মানুষের নামাজের দায়িত্ব ন্যস্ত। আর আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের লক্ষ্যস্থল।

 

‌‌এশার নামাজের সময় বিলম্বিত করা:

কিছু দেশ রমজান মাসে এশার নামাজের সময়কে রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছে এই দাবিতে যে, মানুষের ইফতার ও এশার নামাজের মাঝে সময়ের প্রয়োজন।

যেহেতু সময়ের এই পরিবর্তন শরিয়ত বিরোধী একটি মারাত্মক ভুল, এবং এই আশঙ্কা রয়েছে যে—সময়ের আবর্তনে ও অজ্ঞতা প্রসারের ফলে—কেউ হয়তো মনে করবে রমজানে এশার প্রকৃত সময়টিই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তারা মাগরিবের নামাজে বিলম্ব করবে।

সেজন্য; অশুভ পথ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এবং উম্মাহকে সতর্ক করার জন্য আমি এই বিবৃতিটি লিখেছি, যেমনটি আসকালানি—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—করেছিলেন যখন তিনি তাঁর সময়ের ফজরের সময়ের ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন, যে ভুলটি বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সুপরিচিত যে, নামাজের সময়সমূহ মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত, এবং কারও জন্য তা এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়া বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে।" (২), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "এইগুলো...

--------------------------------------------

(১) ৭ - সূরা আল-আরাফ (৩)

(২) ৮ - সূরা আন-নিসা আয়াত (১০৩)
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ১১)
حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوها وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} (1) وإذا احتاج الناس إلى تأخير صلاة ما عن أول وقتها جاز لهم ذلك.

وثمة فرق كبير بين تأخير الصلاة، وتأخير الأذان، وتأخير التوقيت.

فأما تأخير الصلاة عن وقتها فمشروع، وبخاصة العشاء بل يسن تأخير العشاء لما ثبت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم -وكذلك تأخير صلاة الظهر للإبراد وأما تأخير الأذان فلا يجوز البتة.

وأما تأخير التوقيت وبخاصة في التقاويم فمنكر عظيم، وبدعة قبيحة، ومفسدة كبيرة، لأن كثيراً من النساء والمرضى والضاربين في الأرض وغيرهم، يعتمدون في صلواتهم على سماع الأذان أو التقاويم، فإذا كان توقيت صلاة ما متأخراً، وقعوا في تجاوز وقت الصلاة التي قبلها ظناً منهم أن الوقت لا يزال بسبب تأخير التوقيت، وصلوا الصلاة بعد فوات وقتها.

وقد رأيت مَن حصل معه هذا، فصلى المغرب بعد ذهاب وقتها، قبل أذان صلاة العشاء المؤخرة معتمدا على التقويم المؤخر، وسماع الآذان، فلما قلت له: فاتك الوقت قال: لا .. لم يؤذن العشاء بعد، وهذا التقويم يبين هذا، فلما اطلعت على التقويم وجدت وقت العشاء مؤخرا نصف ساعة ومكتوب: (وقت العشاء) دون أدنى تنبيه.

كما يخشى - كما ذكرنا - أن يأتي زمان على الناس يعتقدون أن تأخير وقت العشاء عن وقتها في رمضان هو أمر شرعي وخاص برمضان، كما حصل اليوم في تقديم وقت الفجر.

ومن عجيب ما حصل: أن بعضهم قال: من حكمة الشرع أن أخر رسول الله صلى الله عليه وسلم توقيت صلاة العشاء نصف ساعة في رمضان.

قيل له: من أين لك هذا؟ قال: من تقويم أم القرى - ولم يكن يعلم أن تأخير توقيت العشاء في رمضان هو حادث وليس من أصل الشرع في شيء ولكن لما سجل في أم القرى، ونشر على الناس، ظن بعضهم أن التأخير في أصل الشرع.

وعليه؛ فالواجب إذا كان الناس يحتاجون إلى وقت في رمضان بين المغرب والعشاء، أن يبقى أذان العشاء في وقته، ولا يغير في التقويم أبداً، وتؤخر الإقامة على قدر مصلحة الناس، وهذه هي سنة رسول الله _ صلى الله عليه وسلم _ حيث كان يؤذن للصلاة في وقتها ثم تؤخر الإقامة حسب الحاجة.

--------------------------------------------

(1) 9 - سورة البقرة (229)
{আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে, তারাই তো জালেম।} (১) আর যখন মানুষের কোনো সালাতকে তার ওয়াক্তের শুরু থেকে বিলম্বিত করার প্রয়োজন হয়, তখন তাদের জন্য তা জায়েজ।

সালাত বিলম্বিত করা, আজান বিলম্বিত করা এবং সময়সূচি (তাকউয়িম) বিলম্বিত করার মাঝে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।

সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা তো শরয়ি বিধানসম্মত, বিশেষ করে এশার সালাত। বরং এশার সালাত বিলম্বিত করা সুন্নত, যেহেতু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। একইভাবে প্রচণ্ড গরমে শীতলতা অর্জনের জন্য জোহরের সালাত বিলম্বিত করাও বৈধ। তবে আজান বিলম্বিত করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

আর সময়সূচি (তাকউয়িম) বিলম্বিত করা—বিশেষ করে ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে—তা একটি অত্যন্ত গর্হিত (منكر) বিষয়, একটি নিকৃষ্ট বিদআত এবং বিরাট ফাসাদ। কারণ অনেক নারী, অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির এবং অন্যান্যরা তাদের সালাতের ক্ষেত্রে আজান শ্রবণ অথবা ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করেন। সুতরাং কোনো সালাতের সময়সূচি যদি বিলম্বিত থাকে, তবে তারা এই ধারণায় আগের সালাতের ওয়াক্ত পার করে ফেলেন যে, সময়সূচি বিলম্বিত হওয়ার কারণে ওয়াক্ত এখনও বাকি আছে; ফলে তারা ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর সালাত আদায় করেন।

আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যার সাথে এটি ঘটেছে; তিনি বিলম্বিত সময়সূচি ও আজান শ্রবণের ওপর নির্ভর করে মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর এবং এশার বিলম্বিত আজানের আগে মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন। যখন আমি তাকে বললাম: "আপনার ওয়াক্ত চলে গেছে", তিনি বললেন: "না, এখনও এশার আজান হয়নি এবং এই ক্যালেন্ডারও তাই বলছে।" এরপর আমি যখন ক্যালেন্ডারটি দেখলাম, তখন দেখতে পেলাম এশার ওয়াক্ত আধঘণ্টা বিলম্বিত করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই শুধু 'এশার ওয়াক্ত' লিখে রাখা হয়েছে।

যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—এই আশঙ্কাও রয়েছে যে, মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে রমজান মাসে এশার সালাত তার প্রকৃত ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা একটি শরয়ি বিষয় এবং তা রমজানের জন্য নির্দিষ্ট; যেমনটি বর্তমানে ফজরের ওয়াক্ত এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঘটেছে।

একটি বিস্ময়কর বিষয় এই যে, তাদের কেউ কেউ বলেছে: "শরিয়তের অন্যতম হিকমত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে এশার সালাতের সময়সূচি আধঘণ্টা পিছিয়ে দিতেন।"

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি এটি কোথায় পেলেন?" তিনি বললেন: "উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার থেকে।" তিনি জানতেন না যে রমজান মাসে এশার সময়সূচি বিলম্বিত করা একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয় এবং এর সাথে মূল শরিয়তের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু যখন এটি উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারে লিপিবদ্ধ করা হলো এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করা হলো, তখন তাদের কেউ কেউ ধারণা করে নিয়েছে যে এই বিলম্ব করাটি মূল শরিয়তের অংশ।

অতএব; ওয়াজিব হলো, রমজান মাসে মাগরিব ও এশার মাঝে মানুষের যদি বিরতির প্রয়োজন হয়, তবে এশার আজান তার প্রকৃত সময়েই বহাল রাখা এবং ক্যালেন্ডারে তা কখনো পরিবর্তন না করা। বরং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ইকামত বিলম্বিত করা হবে। আর এটিই হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত; তিনি সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে আজান দিতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইকামত বিলম্বিত করতেন।

--------------------------------------------

(১) ৯ - সূরা আল-বাকারা (২২৯)
(খণ্ড: ১) মাসআলাতু তাকদীমি ওয়াক্তি আযানিল ফাজরি ওয়া তাখীরি তাওকীতিল ইশা (পৃষ্ঠা: ১২)
أما أن يصدر تقويم يؤخر فيه الوقت .. ثم يُنص فيه؛ أن الوقت هو كذا، فهذا الذي لا يجوز البتة بل هو منكر عظيم، مهما كانت الذرائع لذلك، لأنه تغيير لحد من حدود الله وإن لم يقصد صاحبه ذلك.

هذا هو الحق الذي لا ريب فيه، وذلك حتى لا يأتي آخر ويؤخر صلاة العصر نظراً لظرف معين، وثالث يؤخر صلاة الظهر .. فمع مرور الزمن، ونسيان الناس أو جهلهم، قد يقع تغيير في أوقات الصلاة، وهذا هو التبديل لحدود الله وهكذا وقعت البدع وحصل التغيير في الأديان السابقة، والله نسأل التوفيق للحق والسنة، والسداد في القول والعمل، وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

وكتبه

عدنان بن محمد العرعور

1410
কিন্তু এমন কোনো ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা যাতে সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়... অতঃপর তাতে উল্লেখ করা হয় যে, সময়টি হলো অমুক; তবে তা কোনোভাবেই বৈধ নয়, বরং এটি একটি গুরুতর বর্জনীয় (منكر) বিষয়, এর পেছনে অজুহাত যাই থাকুক না কেন। কারণ এটি আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহ পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত, যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা উদ্দেশ্য না করেন।

এটিই সেই সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এটি এজন্যই যেন পরবর্তীতে অন্য কেউ এসে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আসরের নামাজ বিলম্বিত না করে এবং তৃতীয় কেউ জোহরের নামাজ বিলম্বিত না করে... ফলে সময়ের বিবর্তনে এবং মানুষের বিস্মৃতি বা অজ্ঞতার দরুন নামাজের ওয়াক্তসমূহে পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে। আর এটিই হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমানার রদবদল। এভাবেই বিদআতের উদ্ভব হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। আমরা আল্লাহর কাছে সত্য ও সুন্নাহর তাওফিক এবং কথা ও কাজে সঠিকতা প্রার্থনা করি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

এটি লিখেছেন

আদনান বিন মুহাম্মদ আল-আরুর

১৪১০