(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: -)
الإبهاج في شرح المنهاج - ط دبي   (تاج الدين ابن السبكي - تقي الدين السبكي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: الإبهاج في شرح المنهاج (شرح على منهاج الوصول إلى علم الأصول للقاضي البيضاوي المتوفى سنة 685 هـ)

المؤلف: شيخ الإسلام علي بن عبد الكافي السبكي (ت 756 هـ) وولده تاج الدين عبد الوهاب بن علي السبكي (ت 771 هـ)

تنبيه: شرح التقي السبكي قطعة يسيرة من أول المنهاج، ثم أعرض عنه فأكمله ابنه التاج، بداية من قول البيضاوي: «الرابعة: وجوب الشيء مطلقًا يوجب وجوب ما لا يتم إلا به وكان مقدورًا».

دراسة وتحقيق: الدكتور أحمد جمال الزمزمي - الدكتور نور الدين عبد الجبار صغيري

أصل التحقيق: رسالة دكتوراه - جامعة أم القرى بمكة المكرمة

الناشر: دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 7 (1 دراسة، 2 - 7 متسلسلة الترقيم)

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1440

আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ - দুবাই সংস্করণ   (তাজুদ্দিন ইবনুল সুবকী - তাকিউদ্দীন সুবকী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

গ্রন্থ: আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ (কাজি বায়দাউয়ি -মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি- রচিত মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)

লেখক: শায়খুল ইসলাম আলি বিন আব্দুল কাফি সুবকী (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) এবং তাঁর পুত্র তাজুদ্দিন আব্দুল ওয়াহাব বিন আলি সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)

সতর্কবার্তা: তাকিউদ্দীন সুবকী মিনহাজ-এর প্রথম দিককার সামান্য অংশ ব্যাখ্যা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি ছেড়ে দেন এবং তাঁর পুত্র তাজুদ্দিন তা পূর্ণ করেন। এটি বায়দাউয়ির এই উক্তি থেকে শুরু হয়েছে: «চতুর্থত: কোনো বিষয়ের নিঃশর্ত ওয়াজিব হওয়া সেই বিষয়ের ওয়াজিব হওয়াকেও আবশ্যক করে যা ছাড়া সেটি সম্পন্ন হয় না এবং যা সাধ্যের মধ্যে থাকে»।

গবেষণা ও সম্পাদনা: ডক্টর আহমদ জামাল আল-যামযামী - ডক্টর নূরুদ্দিন আব্দুল জাব্বার সাগিরি

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা

প্রকাশক: দারুল বুহুস লিদ-দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়া ইহয়ায়িত তুরাস

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৭ (১টি গবেষণা খণ্ড, ২ - ৭ ক্রমানুসারে নম্বরকৃত)

শামেলার জন্য প্রস্তুতকারী: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১)
دَولة الإمَارَات العَربية المتّحدة

حُكومة دُبي

سلسلة

الدراسَات الأصولية

"17"

الإِبهَاجُ فِي شَرح المِنْهَاجِ

شرح عَلَى مِنْهَاجِ الوُصُولِ إلى عِلمِ الأصُولِ لِلقاضِي

البَيْضَاويّ المُتَوَفى سنة 685 هـ

تَأليفُ

شيخ الإسلام علي بن عبد الكافي السبكي المتوفى 756 هـ

وولده تاج الدّين عبد الوهاب بن علي السبكي المتوفى 771 هـ

درَاسَة وتحقيق

الدكتور أحمد جمال الزَمزَمي

الدكتور نُورُ الدين عَبد الجَبَار صَغِيري

الجزء الأول

دَار البحُوث للدِّراسَات الإسْلَاميّة وإحياء التّراث
সংযুক্ত আরব আমিরাত

দুবাই সরকার

ধারাবাহিক

উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের গবেষণা

"১৭"

আল-ইব্হাজ ফি শারহিল মিনহাজ

কাযী আল-বায়যাভী (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) রচিত 'মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ

রচনা করেছেন

শায়খুল ইসলাম আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি)

এবং তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহাব বিন আলী আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর আহমদ জামাল আল-যামযামী

ডক্টর নূরুদ্দীন আব্দুল জাব্বার সগিরী

প্রথম খণ্ড

দারুল বুহুস লিন-দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়া ইহয়ায়িত তুরাথ (ইসলামি গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্র)
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২)
أصل هذا الكتاب

رسالة مقدمة لنيل درجة الدكتوراه

من جامعة أم القرى بمكة المكرمة
এই গ্রন্থের মূল

ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত একটি অভিসন্দর্ভ

মক্কাতুল মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় হতে
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৩)
الإِبهَاج فِي شَرح المِنهَاج
আল-মিনহাজের ব্যাখ্যায় আল-ইব্হাজ
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقوق الطبع مَحفوظَة

الطبعَة الأولى

1424 هـ - 2004 م

دَار البحُوث لِلدرَاسَات الإسلاميَّة وَإحيَاء التّراث

الإمَارات العربية المتحدة - دبي - هاتف: 3456808، فاكس: 3453299، ص. ب: 25171

الموقع www.bhothdxb.org.ae البريد الإلكتروني irhdubai@bhothdxb.org.ae
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামি গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্র

সংযুক্ত আরব আমিরাত - দুবাই - টেলিফোন: ৩৪৫৬৮০৮, ফ্যাক্স: ৩৪৫৩২৯৯, পোস্ট বক্স: ২৫১৭১

ওয়েবসাইট www.bhothdxb.org.ae ইমেইল irhdubai@bhothdxb.org.ae
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌الافتتاحية

نستفتح بالذي هو خير، حمدًا لله، وصلاةً وسلامًا على رسوله صلى الله عليه وآله وسلم وعلى عباده الذين اصطفى.

وبعد:

فيسر دار البحوث أن تقدم للباحثين والقراء هذا الكتاب "الإبهاج في شرح المنهاج" لتقي الدين وابنه تاج الدين السبكي في سلسلة الدراسات الأصولية ضمن سلسلة "الدراسات الأصولية" وتكمن أهميته في أنه تضافرت جهود الأب والابن على شرحه، فخرج في حلّة موشاة بمنهجين أصيلين في الدراسات الأصولية، ويمكن أن يصنف هذا الكتاب ضمن سلسلة الكتب التي تخصصت في تخريج الفروع على الأصول، فقد أكثر التاج السبكي من التفريعات على القواعد الأصولية، كما أن هذه الطبعة تميزت بإخراج النص إخراجًا قريبًا جدًا من نص المؤلف، وتميزت أيضًا بالتصحيح والتدقيق والتنقيح واعتمادها على نسخ خطية، كما ستعرفه في قسم الدراسة، فتميزت بذلك عن جميع النسخ المطبوعة.

وهذا التقديم مقرون بالشكر والعرفان لأسرة "آل مكتوم" حفظها الله، التي ترعى العلم، وتشيِّد نهضته، وتحيي تراثه، وتؤازر قضايا العروبة والإسلام، وعلى رأسها صاحب السمو مكتوم بن راشد بن سعيد آل مكتوم، نائب رئيس الدولة رئيس مجلس الوزراء، حاكم دبي الذي أنشأ هذه الدار لتكون منار خير، ومنبر حق على درب العلم والمعرفة، تجدد ما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌মুখবন্ধ

আমরা তাঁর মাধ্যমে শুরু করছি যিনি সর্বোত্তম; আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর দরুদ ও সালাম।

অতঃপর:

‘দারুল বুহুস’ (গবেষণা কেন্দ্র) গবেষক ও পাঠকদের সম্মুখে উসুল বা নীতিশাস্ত্রীয় অধ্যয়ন সিরিজের অন্তর্ভুক্ত তাকিউদ্দীন এবং তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন আস-সুবকীর গ্রন্থ "আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ" উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত। এই গ্রন্থটির গুরুত্ব এখানে যে, এটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে পিতা ও পুত্রের যৌথ প্রচেষ্টা প্রযুক্ত হয়েছে। ফলে এটি উসুল বা নীতিশাস্ত্রীয় অধ্যয়নের দুটি মৌলিক পদ্ধতির সমন্বয়ে এক অনন্য রূপে প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থটিকে সেইসব বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যেগুলি মূলনীতির ভিত্তিতে শাখাগত মাসআলা উদ্ভাবনে (তাখরিজুল ফুরু আল্যাল উসুল) বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য; কেননা তাজ সুবকী উসুলি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে প্রচুর পরিমাণে শাখাগত মাসআলার অবতারণা করেছেন। এছাড়াও এই সংস্করণটির বিশেষত্ব হলো এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির অত্যন্ত নিকটবর্তী পাঠ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এটি সংশোধন, সূক্ষ্ম নিরীক্ষণ, পরিমার্জন এবং পাণ্ডুলিপি বা হস্তলিখিত কপির ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে, যা আপনি ‘অধ্যয়ন’ অংশে জানতে পারবেন; ফলে এটি প্রচলিত সকল মুদ্রিত সংস্করণ থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে।

এই নিবেদনের সাথে ‘আলে মাকতুম’ (আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন) পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হচ্ছে, যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, এর নবজাগরণ ঘটান, এর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করেন এবং আরব্য ও ইসলামি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহায়তা প্রদান করেন। তাঁদের নেতৃত্বে রয়েছেন মহামান্য মাকতুম বিন রাশিদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, রাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক; যিনি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন যাতে এটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে কল্যাণের বাতিঘর এবং সত্যের মিম্বর হিসেবে কাজ করে সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে পারে যা...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৬)
اندثر من تراث هذه الأمة، وتبرز محاسن الإسلام، فيما سطره الأوائل وفيما يمتد من ثماره، مما تجود به القرائح، في شتى مجالات البحوث الإسلامية، والدراسات الجادة، التي تعالج قضايا العصر، وتؤصل أسس المعرفة، على مفاهيم الإسلام السمحة، عقيدةً وشريعةً، وآدابًا وأخلاقًا ومناهج حياة، مستلهمة الأدب القرآني في الدعوة إلى الله على بصيرة.

{ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125].

وكذلك مؤازرة سمو الشيخ حمدان بن راشد آل مكتوم نائب حاكم دبي ووزير المالية والصناعة، والفريق أول سمو الشيخ محمد بن راشد آل مكتوم ولي عهد دبي وزير الدفاع.

سائلين الله العون والسداد، والهداية والتوفيق.

ولا يفوت الدار أن تشكر من أسهم في خدمة هذا العمل العلمي من العاملين بالدار وهما:

مساعد باحث: الشيخ/ محمد سعد خلف الله الشحيمي الذي قام بإخراج وتنسيق الكتاب، ومراجعته وتدقيقه، وتصحيح التنضيد.

مساعد باحث: الشيخ/ عمر محمد سيد عبد العزيز الذي قام بإعداد الفهارس العلمية والفنية للكتاب.

ونرجو من الله سبحانه وتعالى أن يعين على السير على هذا الدرب، وأن يتواصل هذا العطاء من حسن إلى أحسن.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على خير خلقه سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

دار البحوث
এই উম্মাহর ঐতিহ্যের যা কিছু বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা, যা পূর্ববর্তীরা লিখে গেছেন এবং যা উত্তরসূরিদের মেধা থেকে নিঃসৃত হয়ে ইসলামি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সেইসব গুরুত্ববহ অধ্যয়নে বিস্তৃত হয়েছে যা সমসাময়িক সমস্যাবলির সমাধান দেয়। আর যা ইসলামের উদার ধারণার ভিত্তিতে জ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে—আকিদা, শরিয়ত, শিষ্টাচার, আখলাক এবং জীবনপদ্ধতির ক্ষেত্রে, যা দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনি শিষ্টাচার থেকে অনুপ্রাণিত।

“তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম।” [আন-নাহল: ১২৫]

সেই সাথে দুবাইয়ের উপ-শাসক এবং অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী মহামান্য শেখ হামদান বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল মহামান্য শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সহযোগিতা।

আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য, সঠিক পথ, হিদায়াত ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।

এই জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মটি সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানের যে সকল কর্মী অবদান রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে প্রতিষ্ঠানটি বিস্মৃত হচ্ছে না, তাঁরা হলেন:

গবেষণা সহকারী: শেখ মুহাম্মদ সাদ খালাফাল্লাহ আশ-শুহাইমি, যিনি বইটির প্রকাশনা, বিন্যাস, পর্যালোচনা, নিরীক্ষণ এবং মুদ্রণ সংশোধন করেছেন।

গবেষণা সহকারী: শেখ উমর মুহাম্মদ সাইয়িদ আব্দুল আজিজ, যিনি বইটির জ্ঞানতাত্ত্বিক ও কারিগরি নির্ঘণ্টসমূহ প্রস্তুত করেছেন।

আমরা আল্লাহ সুবহانাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি এই পথে চলতে সাহায্য করবেন এবং এই অবদান যেন উত্তম থেকে উত্তমতর পন্থায় অব্যাহত থাকে।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সেরা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।

দারুল বুহুস (গবেষণা কেন্দ্র)
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المحققين
গবেষকবৃন্দের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৯)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الحمد لله رب العالمين حمد الشاكرين، نحمده على عظيم نعمائه، ونبرأ إليه من الحول والقوة ونخلص القول بأنه لا إله إلا الله شهادة الموحد المستبصر، غير المتوقف المتحير، ونشهد أن سيدنا محمدًا عبده الأمين على وحيه، ورسوله الصادع بأمره ونهيه، المؤيد بجوامع الكلم، المبين للناس ما نزل إليهم بلسان عربي مبين، فيه المحكمُ، يعرفه السامعون، ومتشابه، لا يعقله إلا الراسخون، فصلي اللهم عليه وعلى آله المتبعين لسنته وأصحابه المنيبين لشريعته، وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فإن من نعم الله أن وفقنا إلى طريق العلم ووجدنا من يشجعنا عليه، ثم إن العناية بكتب التراث لا سيما الشرعي منها، واجب منوط بالعلماء وطلاب العلم؛ إذ هم الفئة القادرة والمعنية بذلك.

وإن حياة المسلمين المعاصرة ليست مقطوعة الجذور ولا مجهولة الأصول، لذلك فقد بات من الضروري، والمطلوب بإلحاح اليوم أكثر من أي وقت مضى الاهتمام بتراثنا المخطوط ونشره، خاصة ونحن في ظل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারীদের প্রশংসার ন্যায়। আমরা তাঁর মহান নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করি এবং আমরা নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য বর্জন করে তাঁরই মুখাপেক্ষী হই। আমরা একনিষ্ঠভাবে এই সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এটি এমন এক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একত্ববাদীর সাক্ষ্য, যে দ্বিধাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত নয়। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ওহীর আমানতদার বান্দা এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ স্পষ্টভাবে প্রচারকারী রসূল। তিনি সারগর্ভ বাণীর (জাওয়ামিউল কালিম) মাধ্যমে সমর্থিত এবং মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা তাদের নিকট সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বর্ণনাকারী। তাতে এমন সুস্পষ্ট (মুহকাম) আয়াত রয়েছে যা শ্রবণকারীরা বুঝতে পারে এবং রূপক (মুতাশাবিহ) আয়াত রয়েছে যা গভীর জ্ঞানের অধিকারীগণ (রাসিকুন) ব্যতীত কেউ অনুধাবন করতে পারে না। অতএব, হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর সুন্নাতের অনুসারী পরিবারবর্গ ও তাঁর শরীয়তের প্রতি অনুগত সাহাবীবৃন্দের ওপর, আর দান করুন প্রচুর শান্তি।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি আমাদের ইলমের (জ্ঞান) পথে চলার তাওফিক দান করেছেন এবং এমন ব্যক্তিদের সান্নিধ্য দিয়েছেন যারা আমাদের এ কাজে উৎসাহিত করেন। তদুপরি, ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাবলির (তুরাছ), বিশেষ করে শরয়ি বিষয়াদির সংরক্ষণ ও যত্ন নেওয়া আলেম ও জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীদের ওপর অর্পিত একটি অপরিহার্য দায়িত্ব; কারণ তারাই এ কাজের যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

নিশ্চয়ই সমকালীন মুসলিম জীবন শিকড়বিচ্ছিন্ন নয় এবং এর মূলনীতিসমূহও অজ্ঞাত নয়। তাই আমাদের পাণ্ডুলিপি ঐতিহ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তা প্রকাশ করা বর্তমান সময়ে পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি ও অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে আমরা যখন...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১০)
العولمة الثقافية التى تريد أن تجتث ما بقي من تراث الأمم لتجعلها بلا ماض، همها بطونها وشهواتها، حياة بدون قيم ولا مبادئ. فالاهتمام بتراثنا الغاية منه وصل الماضي بالحاضر، وصلا منطقيًا ووجدانيًا في صورة متسقة منسجمة، نخضع بها تراثنا إلى تمحيص عميق بفكر لا يتعصب لقديم ولا يفتتن بجديد، يعتمد الرأي متى أثبته الدليل، ويتقبل الحكم متى لاحت بجانبه حكمة، وشهدت له الشريعة بالاعتبار، ويثق في الرواية متى سلمت من القدح والشذوذ والعلة.

وبكلمة مختصرة ينبغي أن ننظر لتراثنا النظرة الواعية الثاقبة، البعيدة عن التحامل والهوى والتعصب.

وبناء عليه فإنه ينبغي التنقيب عن المخطوطات الضرورية التي تكمل النقص الذي تعانيه المكتبة الإسلامية العربية. . .

وإيمانا بهذا المنهج، وترسيخًا لهذا المبدأ، فقد أخذت الجامعات على عاتقها هذه المهمة، وتحملت هذه الأمانة، ممثلة في مجالسها العلمية عبر الأقسام والكليات. وعنيت بعلوم الشريعة ومنها علم أصول الفقه الذي نعتقد أن مباحثه تمثل قمة الفكر التى أنتجه وأبدعه العقل المسلم.

فإحياء كتب الأصول هو إحياء لمنهج البحث الإسلامي الذي يُكَوِّنُ المنظومة العقلية لمنهجنا الفكري المتميز، والذي ينبغي أن يكون بديلًا عن المنطق اليوناني، وعن المنهج الغربي ذي الأصول الوثنية.

فتراثنا الشرعي الضخم الذي خلفه علماؤنا السابقون جيلًا بعد جيل
সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন যা জাতিসমূহের অবশিষ্টাংশ ঐতিহ্যকে উপড়ে ফেলতে চায় যাতে তাদের কোনো অতীত না থাকে, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো উদরপূর্তি ও লালসা, আর এমন এক জীবন যেখানে কোনো মূল্যবোধ বা আদর্শ নেই। সুতরাং আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো অতীতকে বর্তমানের সাথে যুক্ত করা; এটি এমন এক যৌক্তিক ও আবেগীয় সংযোগ যা একটি সুসংহত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপ প্রদান করে। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে এমন এক গভীর যাচাই-বাছাইয়ের অধীন করি যেখানে চিন্তা না পুরাতনের প্রতি অন্ধভক্তি পোষণ করে, আর না নতুনের মোহে আচ্ছন্ন হয়; বরং দলিল দ্বারা প্রমাণিত হলে কোনো মতকে গ্রহণ করে, প্রজ্ঞা পরিলক্ষিত হলে এবং শরীয়ত দ্বারা স্বীকৃত হলে কোনো বিধানকে গ্রহণ করে, এবং বর্ণনাকে বিশ্বাস করে যখন তা ত্রুটি, বৈসাদৃশ্য ও আপত্তিমুক্ত থাকে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের এমন এক সচেতন ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা উচিত যা পক্ষপাতিত্ব, প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত।

এরই প্রেক্ষাপটে, সেই সব প্রয়োজনীয় পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করা উচিত যা আরবি-ইসলামি গ্রন্থাগারের অপূর্ণতা পূরণ করবে। . .

এই পদ্ধতির প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং এই নীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদীয় একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এই আমানত বহন করেছে। তারা শরীয়াহর বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রতি যত্নবান হয়েছে, যার অন্যতম হলো উসুলুল ফিকহ; আমরা বিশ্বাস করি যে এর আলোচ্য বিষয়গুলো মুসলিম মেধা দ্বারা উৎপাদিত ও উদ্ভাবিত উচ্চতর চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে।

সুতরাং উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির পুনর্জাগরণ মূলত ইসলামি গবেষণা পদ্ধতিরই পুনর্জাগরণ, যা আমাদের স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর ভিত্তি নির্মাণ করে; এবং যা গ্রিক যুক্তিবিদ্যা ও পৌত্তলিক উৎসজাত পশ্চিমা পদ্ধতির বিকল্প হওয়া আবশ্যক।

আমাদের সেই সুবিশাল শরয়ি ঐতিহ্য যা আমাদের পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রেখে গিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১১)
يحتاج منا إلى جهود متلاحقة ومتواصلة لحفظه وصيانته من العبث والتحريف.

ولذا كان القيام بتحقيق التراث هو عملية الصيانة لهذا التراث والمحافظة عليه جديدًا حيًا نقيًا، ولا يخفى على ذي لب أن دراسة علم تحقيق النصوص على الشكل الصحيح، لمن الأمور التى تساعد على تحقيق هذه المهمة.

وهناك أمران لا بد من مراعاتهما - في جملة أمور مهمة - في هذه المهمة الخطيرة:

‌‌1 - تعلم علم الخط العربي وأطواره عند العرب: إذ تعلم الخط وأطوار نشوئه لهو في غاية الأهمية لفهم النص وقراءته على الشكل الصحيح، بل ولتحديد زمن كتابة النسخة المخطوطة في أي مرحلة من المراحل.

ثم هناك أنواع من الخطوط من الخط المشرقي والمغربي وما يتفرع عن ذلك، فما لم يدرس هذا العلم دراسة وافية كيف يمكن قراءة النصوص القديمة على الشكل الصحيح ومن المحافظة عليها من غير تحريف ولا تبديل!

‌‌2 - التعرف على مصطلحات الأقدمين من النساخ والعلماء في كتاباتهم: وإن تعرف المحقق على مثل هذه المصطلحات لما يساعد على فهم تلك الرموز التي توجد في النسخ القديمة. وقد ضرب لذلك أمثلة الأستاذ المحقق عبد السلام هارون في كتابه الفذ تحقيق التراث.
একে বিকৃতি ও অনর্থক পরিবর্তন থেকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

তাই ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকীক) করা হলো এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের একটি প্রক্রিয়া এবং একে সজীব, জীবন্ত ও বিশুদ্ধ অবস্থায় টিকিয়ে রাখা। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, পাণ্ডুলিপি পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনা বিজ্ঞান সঠিকভাবে অধ্যয়ন করা এই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক বিষয়গুলোর অন্যতম।

এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জরুরি বিষয়ের মধ্যে দুটি বিষয় লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য:

‌‌১ - আরবি লিপিবিদ্যা এবং আরবদের মাঝে এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ শিক্ষা করা: কেননা লিপি এবং এর বিবর্তনের পর্যায়সমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা মূল পাঠ বুঝতে এবং তা সঠিকভাবে পাঠ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি পাণ্ডুলিপির অনুলিপিটি ইতিহাসের কোন পর্যায়ে লেখা হয়েছে তা নির্ধারণ করার জন্যও এটি জরুরি।

এছাড়া প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য লিপি এবং তা থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন প্রকারের লিপি রয়েছে। সুতরাং এই শাস্ত্রটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন না করলে প্রাচীন পাঠসমূহ কীভাবে সঠিকভাবে পড়া সম্ভব এবং কীভাবে তা বিকৃতি ও পরিবর্তন ছাড়া রক্ষা করা সম্ভব!

‌‌২ - প্রাচীন লিপিকার ও আলেমদের ব্যবহৃত পারিভাষিক শব্দাবলির সাথে পরিচিত হওয়া: একজন পাণ্ডুলিপি গবেষকের (মুহাক্কিক) জন্য এ জাতীয় পরিভাষাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া প্রাচীন অনুলিপিগুলোতে বিদ্যমান সংকেতগুলো বুঝতে সাহায্য করে। মুহাক্কিক উস্তাদ আব্দুস সালাম হারুন তাঁর অনন্য গ্রন্থ 'তাহকীকুত তুরাস'-এ এর বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد وقع الاختيار على كتاب الإبهاج في شرح المنهاج لتقي الدين وابنه تاج الدين السبكي لما له من الأهمية، فهو من كتب الأصول المهمة، نظرًا لأن المنهاج من الكتب المعتمدة والمهمة في الفن، والشارحين إمامان في الفن، وباقي العلوم العقلية والنقلية. وبصفة مختصرة نعرف بالشارحين وبالكتاب.

 

‌‌أما الشارحان فهما:

تقي الدين وابنه تاج الدين السبكي.

فأما الوالد فهو تقي الدين علي بن عبد الكافي بن تمام السبكي الأنصاري الخزرجي أبو الحسن، تقي الدين: شيخ الإسلام في عصره، ولد في سبك من المنوفية بمصر وانتقل إلى القاهرة ثم إلى الشام، وولي قضاء الشام سنة 739 هـ، واعتل فعاد إلى القاهرة، فتوفي فيها سنة 756 هـ.

وأما الابن فهو تاج الدين عبد الوهاب بن علي السبكي ولد بالقاهرة المعمورة سنة سبع وعشرين وسبعمائة (727 م) تلقى العلم كأبناء زمانه وفتح عينيه على بيت يموج بالمعرفة، ورأى وفود العلماء تنسل إلى مجلس أبيه، ينهلون عليه، فلا غرابة إذن أن يبدأ العلم مبكرًا، كان من أعظم رجال تلك الأسرة السبكية الذين ذاع صيتهم في دولة المماليك لامتيازهم في العلم وفي مناصب التدريس والقضاء، ورغم أنه لم يعش إلا نحو أربعة وأربعين عامًا، لكن حياته كانت ملأى بالإنتاج
গুরুত্বের বিবেচনায় তাকিউদ্দিন এবং তাঁর পুত্র তাজউদ্দিন আস-সুবকির 'আল-ইব হাজ ফি শারহিল মিনহাজ' গ্রন্থটি নির্বাচন করা হয়েছে। এটি উসুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, কারণ 'মিনহাজ' এই শাস্ত্রের একটি নির্ভরযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বই এবং এর ব্যাখ্যাকারদ্বয় এই শাস্ত্রসহ অন্যান্য যৌক্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানশাস্ত্রে ইমাম হিসেবে স্বীকৃত। সংক্ষেপে আমরা ব্যাখ্যাকারদ্বয় এবং গ্রন্থটির পরিচয় তুলে ধরব।

 

‌‌ব্যাখ্যাকারদ্বয় হলেন:

তাকিউদ্দিন এবং তাঁর পুত্র তাজউদ্দিন আস-সুবকি।

পিতার কথা বলতে গেলে, তিনি হলেন তাকিউদ্দিন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন তামাম আস-সুবকি আল-আনসারি আল-খাজরাজি আবুল হাসান। তাকিউদ্দিন: তাঁর যুগের শায়খুল ইসলাম; তিনি মিশরের মানুফিয়ার সুবকে জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে, এরপর শামে স্থানান্তরিত হন। তিনি ৭৩৯ হিজরিতে শামের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন এবং অসুস্থ হয়ে কায়রোতে ফিরে আসেন, অতঃপর ৭৫৬ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।

আর পুত্রের কথা বলতে গেলে, তিনি হলেন তাজউদ্দিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আস-সুবকি। তিনি ৭২৭ হিজরিতে জনাকীর্ণ কায়রো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মতো জ্ঞান অর্জন করেন এবং জ্ঞানতাপে উদ্ভাসিত এক পরিবারে তাঁর চোখ খোলেন। তিনি দেখতে পান আলেমদের দল তাঁর পিতার মজলিসে ভিড় করছেন এবং সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করছেন। সুতরাং তাঁর খুব অল্প বয়সেই জ্ঞানচর্চা শুরু করাটা মোটেও বিস্ময়কর কিছু নয়। তিনি সুবকি পরিবারের সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন যারা মামলুক সালতানাতে জ্ঞান এবং শিক্ষকতা ও বিচার বিভাগের উচ্চপদে আসীন হওয়ার কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। যদিও তিনি মাত্র ৪৪ বছর বেঁচে ছিলেন, তবুও তাঁর জীবন ছিল জ্ঞানতাত্ত্বিক রচনা ও অবদানে ভরপুর।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৩)
العلمي مما بوأه مقاعد القضاء والفتوى والتعليم. كان فقيها أصوليًا ومتكلمًا محدثًا بارعًا مؤرخًا. توفي رحمه الله سنة 771 هـ

 

‌‌وأما الكتاب فهو:

الإبهاج في شرح المنهاج للتقي السبكي وابنه التاج رحمهما الله، يعد من كتب الأصول المهمة، نظرًا لأن المنهاج من الكتب المعتمدة والمهمة في الفن، والشارحين إمامان في الفن وباقي العلوم العقلية والنقلية.

ويعد متن البيضاوي من المتون التى استوعبت جميع أبواب أصول الفقه الإسلامي المقارن على طريقة الجمهور وناهيك بالبيضاوي حفظا وإتقانًا وتحقيقًا للمسائل، فلا يقتحم شرح متنه، ولا تحدثه نفسه الولوج في أعماقه إلا ممن أنس في نفسه المقدرة على ذلك. والتقي والتاج جديران بهذا الوصف فقد شرحاه شرحًا يفوق كل وصف، من حيث الإتقان والعزو إلى المصادر وتفريع المسائل خاصة الفروع الشافعية، فعد بذلك مرجعًا للشافعية وغيرهم في علم تخريج الفروع على الأصول، فهو كتاب جدير بالتحقيق.

وقد اعتمدنا في تحقيقه على أربع نسخ خطية: اثنتين منها قديمتين كتبتا في حياة المؤلف التاج السبكي رحمه الله، والثالثة متأخرة جدا كتبت في القرن الرابع عشر الهجري، والرابعة لم يكتب علمها تاريخ النسخ ولا من هو الناسخ.

 

‌‌ويشتمل عملنا في هذا الكتاب قسمين: قسم الدراسة وقسم التحقيق
তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ যোগ্যতা তাঁকে বিচারকার্য, ফতোয়া এবং শিক্ষাদানের উচ্চাসনে সমাসীন করেছিল। তিনি একাধারে ফকিহ, উসুলবিদ, মুতাকাল্লিম, দক্ষ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ৭৭১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌আর গ্রন্থটি হলো:

তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এবং তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন আস-সুবকি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) প্রণীত 'আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ' উসুলুল ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ হলো, 'মিনহাজ' এই শাস্ত্রের একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ এবং এর ব্যাখ্যাদাতাদ্বয় এই শাস্ত্র ও অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক বিদ্যায় ইমামতুল্য।

বায়যাভীর মূলপাঠ (মতন) এমন এক রচনা যা জুমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের পদ্ধতিতে তুলনামূলক ইসলামি ফিকহের মূলনীতির সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাসয়ালাসমূহের হেফজ, নিপুণতা ও তাহকিকের ক্ষেত্রে বায়যাভীর উচ্চমর্যাদার কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং তাঁর মতনের ব্যাখ্যা করার দুঃসাহস দেখানো কিংবা এর গভীরে প্রবেশের সংকল্প করা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা নিজেদের মধ্যে সেই সক্ষমতা অনুভব করেন। তাকিউদ্দীন এবং তাজউদ্দীন এই বর্ণনার পূর্ণ যোগ্য, কেননা তাঁরা গ্রন্থটির এমন এক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা এর নিপুণতা, মূল উৎসসমূহের উদ্ধৃতি এবং মাসয়ালাসমূহের শাখা-প্রশাখা নির্ণয়—বিশেষত শাফেয়ি মাজহাবের শাখাগুলোর ক্ষেত্রে—সব বর্ণনার ঊর্ধ্বে। ফলে এটি শাফেয়ি এবং অন্যদের নিকট 'তখরিজুল ফুরু আলাল উসুল' বিদ্যায় একটি অন্যতম মারজা বা উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। সুতরাং এটি একটি তাহকিক বা সম্পাদনার যোগ্য গ্রন্থ।

এর সম্পাদনায় আমরা চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি: যার মধ্যে দুটি প্রাচীন যা লেখক তাজউদ্দীন আস-সুবকি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জীবদ্দশায় লিখিত, তৃতীয়টি অনেক পরের যা চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীতে লিখিত এবং চতুর্থটিতে অনুলিপি করার তারিখ বা অনুলিপিকারীর নাম উল্লেখিত নেই।

 

‌‌এই গ্রন্থে আমাদের কাজ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: গবেষণা অংশ এবং সম্পাদনা অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৪)
كما سنعرفه في الخطة التالية.

 

أولًا: قسم الدراسة، ويشتمل على جانبين:

الجانب الأول: ترجمة المصنف والشارحين، وهو يتضمن بابين:

الباب الأول في ترجمة الإمام البيضاوي.

ويحتوي هذا الباب على فصلين:

الفصل الأول: التعريف بالمصنف، ويشتمل هذا الفصل على مبحثين:

المبحث الأول: في اسمه ونسبه، ومولده ووفاته.

المبحث الثاني: في نشأته، ورحلته وشيوخه، وتلاميذه.

الفصل الثاني: حياته العلمية وآثاره ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ثقافته الواسعة، والعلوم التي برز فيها وفاق.

المبحث الثاني: تقلده منصب القضاء.

المجث الثالث: مؤلفاته العلمية.

الباب الثاني: ترجمة الشارحين ويحتوي هذا الباب على ثلاثة فصول:

الفصل الأول: بيان العصر الذي نشأ فيه الشارحان.

ويشتمل هذا الفصل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الحياة السياسية.

المبحث الثاني: الحياة الاجتماعية.
যেমনটি আমরা পরবর্তী পরিকল্পনায় জানব।

 

প্রথমত: গবেষণা বিভাগ, যা দুটি দিক নিয়ে গঠিত:

প্রথম দিক: গ্রন্থকার ও ব্যাখ্যাকারদের জীবনী, যা দুটি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: ইমাম বায়দাওয়ীর জীবনী।

এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের পরিচিতি, এবং এই পরিচ্ছেদটি দুটি পাঠ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পাঠ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও মৃত্যু প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পাঠ: তাঁর বেড়ে ওঠা, সফর, শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত জীবন ও কর্মসমূহ, যা তিনটি পাঠ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পাঠ: তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং যেসব বিজ্ঞানে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

দ্বিতীয় পাঠ: বিচারপতির পদ অলঙ্করণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পাঠ: তাঁর ইলমী রচনাবলি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ব্যাখ্যাকারদের জীবনী এবং এই অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যে যুগে ব্যাখ্যাকারদ্বয় লালিত-পালিত হয়েছেন তার বর্ণনা।

এই পরিচ্ছেদটি তিনটি পাঠ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পাঠ: রাজনৈতিক জীবন।

দ্বিতীয় পাঠ: সামাজিক জীবন।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث: الحياة العلمية والدينية.

الفصل الثاني: التعريف بالشيخ الإمام الحافظ تقي الدين السبكي. وفيه مباحث:

المبحث الأول: اسمه ونسبه.

المبحث الثاني: ولادته ونشأته.

المبحث الثالث: طلبه للعلم وشيوخه.

المبحث الرابع: تلاميذه.

المبحث الخامس: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث السادس: قوته في المناظرة.

المبحث السابع: فصاحته وبلاغته.

المبحث الثامن: أخلاقه وعبادته.

المبحث التاسع: مصنفاته.

المبحث العاشر: وفاته والرؤى التى رئيت له.

المبحث الحادي عشر: مراثيه.

الفصل الثالث: التعريف بالإمام الحافظ تاج الدين السبكي.

ويشتمل على المباحث الآتية:

المبحث الأول: اسمه ونسبه.

المبحث الثاني: ولادته ونشأته.

المبحث الثالث: طلبه للعلم وشيوخه.
তৃতীয় আলোচনা: ইলমি ও ধর্মীয় জীবন।

দ্বিতীয় অধ্যায়: শায়খ, ইমাম, আল-হাফিজ তাকিউদ্দীন আস-সুবকী-এর পরিচিতি। এতে নিম্নোক্ত আলোচনাগুলো রয়েছে:

প্রথম আলোচনা: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় আলোচনা: তাঁর জন্ম ও লালন-পালন।

তৃতীয় আলোচনা: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও শিক্ষকবৃন্দ।

চতুর্থ আলোচনা: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

পঞ্চম আলোচনা: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।

ষষ্ঠ আলোচনা: বিতর্কে তাঁর পারদর্শিতা।

সপ্তম আলোচনা: তাঁর বাকপটুতা ও অলংকারশাস্ত্রীয় দক্ষতা।

অষ্টম আলোচনা: তাঁর চরিত্র ও ইবাদত।

নবম আলোচনা: তাঁর রচনাবলী।

দশম আলোচনা: তাঁর ইন্তেকাল ও তাঁকে নিয়ে দেখা স্বপ্নসমূহ।

একাদশ আলোচনা: তাঁর শোকগাথা।

তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম, আল-হাফিজ তাজউদ্দীন আস-সুবকী-এর পরিচিতি।

যা নিম্নোক্ত আলোচনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম আলোচনা: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় আলোচনা: তাঁর জন্ম ও লালন-পালন।

তৃতীয় আলোচনা: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও শিক্ষকবৃন্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الرابع: تلاميذه.

المبحث الخامس: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث السادس: مناصبه العلمية.

المبحث السابع: فصاحته وبلاغته.

المبحث الثامن: حفظه.

المبحث التاسع: أخلاقه وصفاته.

المبحث العاشر: محنته.

المبحث الحادي عشر: مصنفاته.

المبحث الثاني عشر: وفاته.

الجانب الثاني: دراسة منهج الكتاب: ويتضمن المباحث الآتية.

المبحث الأول: توثيق نسبة الكتاب إلى مؤلفيه.

المبحث الثاني: الملاحظات العامة على كتاب الإبهاج.

المبحث الثالث: المنهج الذي اتبعه التاج في شرح الكتاب.

المبحث الرابع: مصادر الشارحين في الكتاب.

المبحث الخامس: بيان منهج المحققين في التحقيق.

المبحث السادس: وصف النسخ المعتمدة في التحقيق.

المبحث السابع: بيان المصطلحات التي استخدمها الشارح.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি পদমর্যাদাসমূহ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রাঞ্জলতা ও অলংকারিক দক্ষতা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর স্মৃতিশক্তি।

নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

দশম পরিচ্ছেদ: তাঁর অগ্নিপরীক্ষা।

একাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় দিক: কিতাবের পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনা: এবং এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর রচয়িতাদের প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-ইবহাঝ কিতাবের ওপর সাধারণ পর্যবেক্ষণসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবটির ব্যাখ্যায় আল-তাজ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কিতাবটিতে ব্যাখ্যাকারদ্বয়ের উৎসসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সম্পাদনার ক্ষেত্রে মুহাক্কিকদের অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সম্পাদনায় নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যাকার কর্তৃক ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৭)
القسم الأول

 

‌‌الدراسة
প্রথম অংশ

 

‌গবেষণা
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الجانب الأول

ترجمة المصنف

والشارحين
প্রথম দিক

গ্রন্থকারের জীবনী

ও ব্যাখ্যাকারগণ
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الباب الأول

ترجمة المصنف

[البيضاوي]
প্রথম অধ্যায়

গ্রন্থকারের জীবনী

[আল-বায়যাবী]
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول

التعريف بالمصنف
প্রথম পরিচ্ছেদ

গ্রন্থকারের পরিচিতি
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الأول: اسمه ونسبه، ومولده ووفاته (‌‌1)

‌‌1 - اسمه ونسبه:

هو الكريم قاضي القضاة ابن الكريم إمام الملة والدين ابن الكريم قاضي القضاة ابن الإمام صدر الدين:

عبد الله بن عمر بن محمد بن علي، أبو الخير، ناصر الدين، البيضاويُّ مولدًا، الشيرازيُّ نشأة، التِّبْريزيُّ وفاةً، الشافعيُّ مذهبًا، الأشعريُّ عقيدة.

القاضي، الفقيه، المفسِّر، الأصولي، النحوي، المتكلم، المؤرخ، الملقَّب بناصر الدين، والمُكْنى بأبي الخير.

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر هذا المبحث في: الطبقات الكبرى 8/ 157، البداية والنهاية 13/ 327، طبقات الإسنوي 1/ 136، طبقات ابن قاضي شهبة 2/ 172، بغية الوعاة 2/ 50، طبقات المفسرين 1/ 242، شذرات 5/ 392، ذيل طبقات الفقهاء الشافعيين للعبادي 3/ 94، الفتح المبين 2/ 88، القاضي ناصر الدين البيضاوي وأثره في أصول الفقه ص 138 - 139، مقدمة محقِّق الغاية القصوى في دراية الفتوى 1/ 51.

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও মৃত্যু (১)

১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন সম্মানিত প্রধান বিচারপতি, বংশপরম্পরায় সম্মানিত মিল্লাত ও দ্বীনের ইমামের পুত্র, সম্মানিত প্রধান বিচারপতির পুত্র, ইমাম সদরুদ্দীনের বংশধর:

আবদুল্লাহ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী, আবু খায়ের, নাসিরুদ্দীন; জন্মসূত্রে বায়দাভী, বেড়ে ওঠায় শিরাজি, মৃত্যুতে তাবরিজি, মাযহাবের দিক থেকে শাফেয়ী এবং আকিদাগতভাবে আশআরি।

তিনি একাধারে কাজি (বিচারক), ফকিহ (আইনবিদ), মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারক), উসুলবিদ (মূলনীতি বিশেষজ্ঞ), নাহবি (ব্যাকরণবিদ), মুতাকাল্লিম (ধর্মতাত্ত্বিক) ও ঐতিহাসিক; তাঁর উপাধি ছিল নাসিরুদ্দীন এবং ডাকনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু খায়ের।

--------------------------------------------

(১) এই পরিচ্ছেদটি দেখুন: আত-তবাকাতুল কুবরা ৮/১৫৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৩২৭, তবাকাতুল আসনাবি ১/১৩৬, তবাকাতু ইবনি কাজি শুহবা ২/১৭২, বুগইয়াতুল উয়াত ২/৫০, তবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/২৪২, শাযারাত ৫/৩৯২, ইবনুল আবাদি রচিত যাইলু তবাকাতিল ফুকাহাইশ শাফেয়ীন ৩/৯৪, আল-ফাতহুল মুবিন ২/৮৮, আল-কাজি নাসিরুদ্দীন আল-বায়দাভী ওয়া আসারুহু ফি উসুলিল ফিকহ পৃষ্ঠা ১৩৮ - ১৩৯, আল-গায়াতুল কুসওয়া ফি দিরায়াতিল ফাতওয়া-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা ১/৫১।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌2 - ولادته ووفاته:

‌‌أولًا - ولادته:

ولد القاضي ناصر الدين البيضاوي في بلدة البيضاء‌‌(1) التابعة لمدينة شيراز ببلاد فارس، واشتهر بالنسبة إليها، كما عُرف بالشيرازيِّ نسبة إلى شيراز‌‌(2) حيث كانت نشأته بها، وعُرِف أيضًا بالتِّبْريزيِّ نسبة إلى تِبْريز‌‌(3) حيث كانت وفاته بها.

يقول الدكتور جلال الدين عبد الرحمن: "ولم يُشِر أحدٌ من المؤرخين - الذين كتبوا سيرته وترجموا له - إلى تاريخ ولادته، ولعل السبب في ذلك هو ما أصاب الناس من الحروب التي اجتاحت هذه

--------------------------------------------

‌‌(1) البيضاء: مدينة مشهورة بفارس. قال الإصطخري: البيضاء أكبر مدينة في إصطخر، وإنما سميت البيضاء لأن لها قلعة تبين من بُعد، ويُرى بياضها. وينسب إليها جماعة من العلماء. اهـ.

انظر: معجم البلدان 1/ 529.

‌‌(2) شيراز: بكسر الشين، بلد عظيم مشهور، وهي قَصَبة - أي: وسط - بلاد فارس في الإقليم الثالث، وبها جماعة من التابعين مدفونون، وذمها البعض بضيق دروبها. وقد نسب إلى شيراز جماعة كثيرة من العلماء في كل فن، منهم أبو إسحاق الشيرازي وغيره.

انظر: معجم البلدان 3/ 380 - 381.

‌‌(3) تِبْريز: بكسر التاء، وسكون الباء، وكسر الراء، وياء ساكنة، وزاي. وهي أشهر مدن أذربيجان، وهي مدينة عامرة حسناء، ذات أسوار محكمة بالآجر والجص، وقد خرج منها جماعة وافرة من أهل العلم، منهم إمام أهل الأدب أبو زكريا يحيى بن علي الخطيب التِّبْريزي.

انظر معجم البلدان 2/ 13.

২ - তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:

প্রথমত - তাঁর জন্ম:

কাজী নাসিরুদ্দিন আল-বায়দাভি পারস্যের শিরাজ শহরের অন্তর্গত আল-বাইদা(১) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং এর সম্বন্ধেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তেমনিভাবে তিনি শিরাজি হিসেবেও পরিচিত—শিরাজের নিসবতে(২)—যেহেতু সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। আবার তিনি তাবরিজি হিসেবেও পরিচিত—তাবরিজের নিসবতে(৩)—যেহেতু সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

ডক্টর জালাল উদ্দিন আব্দুর রহমান বলেন: "ঐতিহাসিকদের কেউই—যাঁরা তাঁর জীবনী ও পরিচয় লিখে গেছেন—তাঁর জন্মের তারিখ উল্লেখ করেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো ঐ অঞ্চলগুলোতে যে যুদ্ধবিগ্রহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং যা এই জনপদগুলোকে বিধ্বস্ত করেছিল তার প্রভাব..."

--------------------------------------------

(১) আল-বাইদা: পারস্যের একটি বিখ্যাত শহর। আল-ইসতাখরি বলেন: আল-বাইদা হলো ইসতাখরের সবচেয়ে বড় শহর। এর নাম আল-বাইদা (সাদা) রাখার কারণ হলো এর একটি দুর্গ ছিল যা দূর থেকে দৃশ্যমান হতো এবং এর শুভ্রতা দেখা যেত। একদল আলেম এই শহরের দিকে নিসবত রাখেন। সমাপ্ত।

দেখুন: মুজামুল বুলদান ১/ ৫২৯।

(২) শিরাজ: 'শীন' অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে; এটি একটি বিখ্যাত ও বিশাল শহর। এটি পারস্যের কেন্দ্রস্থল যা তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে একদল তাবেয়ি সমাহিত রয়েছেন। কেউ কেউ এর সরু গলিগুলোর কারণে এর নিন্দা করেছেন। প্রতিটি শাস্ত্রের বহু সংখ্যক আলেম শিরাজের দিকে নিসবত রাখেন, তাঁদের মধ্যে আবু ইসহাক আল-শিরাজি এবং আরও অনেকে রয়েছেন।

দেখুন: মুজামুল বুলদান ৩/ ৩৮০ - ৩৮১।

(৩) তাবরিজ: 'তা' অক্ষরে কাসরা, 'বা' সাকিন, 'রা' অক্ষরে কাসরা, 'ইয়া' সাকিন এবং 'যা'। এটি আজারবাইজানের সবচেয়ে বিখ্যাত শহর। এটি একটি আবাদকৃত সুন্দর শহর, যার প্রাচীরগুলো ইট ও চুন দিয়ে মজবুতভাবে তৈরি। এখান থেকে ইলম অন্বেষণকারীদের একটি বড় দল বের হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আদব শাস্ত্রের ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আলি আল-খাতিব আল-তাবরিজি।

দেখুন মুজামুল বুলদান ২/ ১৩।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৬)
المناطق في النصف الأول لهذا القرن‌‌(1)، وهو الوقت الذي كانت ولادته فيه. وما توصلنا إليه بعد الدراسة والبحث هو أن ولادته في البيضاء كانت أوائل القرن السابع الهجري - الثالث عشر الميلادي - أو قبله بيسير.

فقد رحل أبوه بأسرته من البيضاء إلى شيراز في أوائل القرن، وكانت شيراز حينذاك عاصمة بلاد فارس، يحكمها الأتابك أبو بكر بن سعد بن زنكي بن مودود، الذي حكم فارس من سنة (623 هـ - 1226 م) إلى سنة (658 هـ - 1293 م)، وكانت تتسم بالأمان والاستقرار، فقد رأى الأتابك أبو بكر أن من الحكمة أن لا يقف في سبيل التتار، فأرسل إليهم الهدايا الثمينة، والإتاوات، ودخل في طاعتهم، فلم يتعرضوا له بسوء‌‌(2)، فكانت شيراز ملجأً للعلماء الذين فروا من وحشية التتار باحثين عن الاستقرار، والبعد عن حياةٍ مليئةٍ بالخوف والقلق، فكانوا يجدون في شيراز البسطة في الرزق، والأمان في الحياة. ويُروى أنه كان لوالده عمر بن محمد منزلةٌ كبيرة عند الأتابك أبي بكر بن سعد، فجعله قاضي قضاة شيراز، مما حَبَّب إليه الإقامة بها.

وإذا كان المؤرخون يُجمعون على أنه ولد في البيضاء - فلا بد أن لَكون ولادته قبل رحيل والده وأسرته إلى شيراز"‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) أي: القرن السابع، والحروب هى حروب التتر.

‌‌(2) انظر: تاريخ الإسلام للدكتور حسن إبراهيم 4/ 94.

‌‌(3) انظر: القاضي البيضاوي وأثره في أصول الفقه ص 137.

এই শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই অঞ্চলসমূহ‌‌(১), আর এটাই ছিল তাঁর জন্মের সময়। অধ্যয়ন ও গবেষণার পর আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা হলো, বায়দাতে তাঁর জন্ম হয়েছিল সপ্তম হিজরি শতাব্দীর—ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দ—শুরুতে অথবা এর সামান্য আগে।

শতাব্দীর শুরুতে তাঁর পিতা সপরিবারে বায়দা থেকে শিরাজ অভিমুখে যাত্রা করেন। তখন শিরাজ ছিল পারস্যের রাজধানী, যা শাসন করতেন আতাবেগ আবু বকর ইবনে সাদ ইবনে জাঙ্গি ইবনে মাওদুদ। তিনি ৬২৩ হিজরি (১২২৬ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ৬৫৮ হিজরি (১২৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত পারস্য শাসন করেন। শহরটি তখন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সুপরিচিত ছিল। আতাবেগ আবু বকর মনে করেছিলেন যে, তাতারদের পথে বাধা না দাঁড়ানোই হবে প্রজ্ঞার কাজ। তাই তিনি তাদের কাছে মূল্যবান উপঢৌকন ও নজরানা পাঠান এবং তাদের আনুগত্য স্বীকার করে নেন। ফলে তারা তাঁর কোনো ক্ষতি করেনি‌‌(২)। এমতাবস্থায় শিরাজ সেই সব আলেমদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়, যারা তাতারদের বর্বরতা থেকে পালিয়ে স্থিতিশীলতা এবং ভয় ও উদ্বেগপূর্ণ জীবন থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলেন। তাঁরা শিরাজ শহরে জীবনযাত্রায় নিরাপত্তা ও জীবিকার প্রশস্ততা খুঁজে পেতেন। বর্ণিত আছে যে, তাঁর পিতা উমর ইবনে মুহাম্মদের আতাবেগ আবু বকর ইবনে সাদের নিকট উচ্চ মর্যাদা ছিল। ফলে তিনি তাকে শিরাজের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করেন, যা তাঁর সেখানে বসবাসকে আনন্দদায়ক করে তোলে।

যেহেতু ঐতিহাসিকগণ একমত যে তিনি বায়দাতে জন্মগ্রহণ করেছেন—তাই তাঁর জন্ম অবশ্যই তাঁর পিতা ও পরিবারের শিরাজ গমনের পূর্বেই হতে হবে‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ: সপ্তম শতাব্দী, আর যুদ্ধগুলো হলো তাতারদের (মঙ্গোলদের) যুদ্ধ।

‌‌(২) দেখুন: ডক্টর হাসান ইব্রাহিম রচিত তারিখুল ইসলাম ৪/৯৪।

‌‌(৩) দেখুন: আল-কাযি আল-বায়দাবি ওয়া আসারুহু ফি উসুলিল ফিকহ, পৃষ্ঠা ১৩৭।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ثانيًا - وفاته:

اختلف المؤرخون في تاريخ وفاة القاضي ناصر الدين البيضاوي، لكن الذي ذكره الأكثرون أنه توفي سنة خمسٍ وثمانين وستمائة.

قال الدكتور علي محيي الدين القره داغي: "الذين قالوا: إن وفاته كانت في سنة (685 هـ) أكثر من عشرين مؤرخًا ومترجمًا، على رأسهم صلاح الصفدي‌‌(1) الذي عاش بين سنة (696 - 764 هـ) في كتابه الوافي بالوفيات‌‌(2)، وابن كثير المتوفى في سنة (774 هـ) في البداية والنهاية‌‌(3). . ."‌‌(4).

وذهب ابن السبكي‌‌(5)، والإسنوي‌‌(6)، وغيرهما‌‌(7): إلى أن وفاته

--------------------------------------------

‌‌(1) هو خليل بن أيبك بن عبد الله الصفدي، صلاح الدين. أديب، مؤرخ، كثير التصانيف المتعة. ولد بصفد بفلسطين سنة 696 هـ. سمع الكثير، من مؤلفاته: شرح لامية العجم، وجر الذيل في وصف الخيل، وغيرهما. توفي رحمه الله سنة 764 هـ.

انظر المعجم المختص للذهبي ص 91، البداية والنهاية 14/ 318، الدرر 2/ 87، شذرات 6/ 200.

‌‌(2) انظر: الوافي بالوفيات 17/ 379.

‌‌(3) انظر: البداية والنهاية 13/ 327.

‌‌(4) انظر: مقدمة محقق الغاية القصوى في دراية الفتوى 1/ 57.

‌‌(5) في طبقاته الوسطى. انظر كلام محقِّق الطبقات الكبرى 8/ 157.

‌‌(6) هو عبد الرحيم بن الحسن بن علي جمال الدين، أبو محمد، القرشي، الأُموي، الإسنوي، المصري، الشافعي، الإمام، العلامة، الفقيه، الأصولي، النحوي. ولد بإسنا سنة 704 هـ. اهـ صنف التصانيف المفيدة النافعة، منها: الكوكب الدري، وطبقات الشافعية، ونهاية السول في شرح منهاج الوصول، وغيرها. توفي سنة 772 هـ.

‌‌(7) انظر طبقات الشافعية للإسنوي 1/ 136، طبقات ابن شهبة 2/ 172، بغية الوعاة 2/ 51، طبقات المفسرين للداودي 1/ 243. انظر: الدرر 2/ 355، طبقات =

‌দ্বিতীয় - তাঁর মৃত্যু:

ঐতিহাসিকগণ কাজি নাসিরুদ্দিন আল-বায়দাবির মৃত্যুর তারিখ নিয়ে মতভেদ করেছেন, তবে অধিকাংশের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ছয়শত পঁচাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

ডক্টর আলি মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি বলেন: "যাঁরা তাঁর মৃত্যু (৬৮৫ হিজরি) সনে হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সংখ্যা বিশ জনেরও বেশি ঐতিহাসিক ও জীবনীকার, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন সালাহ আস-সাফাদি‌‌(১) যিনি (৬৯৬ - ৭৬৪ হিজরি) সনের মধ্যে জীবিত ছিলেন তাঁর কিতাব 'আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত'‌‌(২)-এ, এবং ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া'‌‌(৩) গ্রন্থে..."‌‌(৪)।

ইবনে আস-সুবকি‌‌(৫), আল-ইসনাবি‌‌(৬) এবং অন্যান্যদের‌‌(৭) মতে তাঁর মৃত্যু

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন খলিল বিন আইবাক বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফাদি, সালাহউদ্দিন। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক এবং বহু উপভোগ্য গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৬৯৬ হিজরিতে ফিলিস্তিনের সাফাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রচুর হাদীস ও ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: শারহু লামিয়াতিল আজম, জাররুয যাইলি ফি ওয়াসফিল খাইল ইত্যাদি। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭৬৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: আয-যাহাবির আল-মুজামুল মুখতাস পৃষ্ঠা ৯১, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৪/ ৩১৮, আদ-দুরার ২/ ৮৭, শাযারাত ৬/ ২০০।

‌‌(২) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত ১৭/ ৩৭৯।

‌‌(৩) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/ ৩২৭।

‌‌(৪) দেখুন: আল-গায়াতুল কুসওয়া ফি দিরায়াতিল ফাতওয়া-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা ১/ ৫৭।

‌‌(৫) তাঁর তাবাকাতুল উসতা-এ। দেখুন: তাবাকাতুল কুবরার মুহাক্কিকের বক্তব্য ৮/ ১৫৭।

‌‌(৬) তিনি হলেন আব্দুর রহিম বিন আল-হাসান বিন আলী জামালুদ্দিন, আবু মুহাম্মদ, আল-কুরাশি, আল-উমাবি, আল-ইসনাবি, আল-মিসরি, আশ-শাফিয়ি; তিনি একজন ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, উসুলবিদ এবং নাহুবিদ ছিলেন। তিনি ৭০৪ হিজরিতে ইসনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অনেক দরকারী ও উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল-কাওকাবুদ দুরি, তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ, নিহায়াতুস সুল ফি শারহি মিনহাজিল উসুল ইত্যাদি। তিনি ৭৭২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌(৭) দেখুন: আল-ইসনাবুর তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ ১/ ১৩৬, তাবাকাতু ইবনে শুহবাহ ২/ ১৭২, বুগইয়াতুল উয়াত ২/ ৫১, আদ-দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/ ২৪৩। দেখুন: আদ-দুরার ২/ ৩৫৫, তাবাকাত =

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৮)
كانت في سنة إحدى وتسعين وستمائة.

وقد رجَّح الدكتور جلال الدين عبد الرحمن أنه توفي سنة 685 هـ، لأن هذا رواية الحافظ الدِّهلي‌‌(1) الثقة الذي كان معاصرًا للقاضي البيضاوي، وقد اعتمدها الصلاح الصفدي المؤرخ الكبير، والمتثبت في روايته، وقد اقتصر عليها، ولم يشر إلى غيرها، فضلًا عن اعتماد أكثر المؤرخين لها‌‌(2).

وقد أجمع المتقدمون والمتأخرون من المؤرخين له: على أن وفاته كانت في مدينة تبريز.

وذكر ابن كثير: أن القاضي ناصر الدين البيضاوي أوصى إلى القطب الشيرازي‌‌(3) أن يدفن بجانبه بتبريز‌‌(4).

--------------------------------------------

= ابن قاضي شهبة 3/ 98، شذرات 6/ 223، الفتح المبين 2/ 186.

‌‌(1) هو سعيد بن عبد الله الدهلي - بكسر الدال المهملة، وسكون الهاء - البغدادي، أبو الخير، نجم الدين. ولد سنة 712 هـ، ورحل إلى دمشق ومصر والإسكندرية في طلب الحديث، وكتب الكثير، وأتقن الفن، وتعب كثيرًا. مات بالطاعون في خامس عشر ذىِ القعدة سنة 749 هـ، وله 37 سنة. انظر: الدرر 2/ 134.

‌‌(2) انظر: القاضي البيضاوي وأثره في أصول الفقه ص 169 - 170.

‌‌(3) هو محمود بن مسعود بن مصلح الفارسي، قطب الدين الشيرازي، الشافعي، العلامة الكبير. ولد بشيراز سنة 634 هـ، وأخذ عن أبيه وعمه وغيرهما في علم الطب، ثم رتب طبيبًا بالمرستان وهو شاب، ثم سافر إلى نصير الدين الطوسي فقرأ عليه الهيئة، وبحث عليه في الإشارات وبرع، ثم سكن تبريز وأقرأ بها العلوم العقلية. ومن تصانيفه: شرح مختصر ابن الحاجب، وشرح المفتاح للسكاكي، وشرح الكليات لابن سينا، وغيرها. مات في رمضان سنة 710 هـ.

انظر: الدرر 4/ 339، البدر 2/ 299.

‌‌(4) انظر: البداية والنهاية 13/ 327.

ছয়শ একানব্বই হিজরি সনে (মৃত্যু) হয়েছিল।

ড. জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তিনি ৬৮৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। কারণ এটি নির্ভরযোগ্য হাফেজ দেহলভির‌‌(১) বর্ণনা, যিনি কাজি বায়দ্বাভির সমসাময়িক ছিলেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আস-সালাহ আস-সাফাদি এটি গ্রহণ করেছেন, যিনি নিজ বর্ণনায় অত্যন্ত সুনিপুণ ছিলেন। তিনি কেবল এটিই উল্লেখ করেছেন এবং অন্য কোনো মতের দিকে ইঙ্গিত করেননি। পাশাপাশি অধিকাংশ ঐতিহাসিকও এই মতটির ওপর নির্ভর করেছেন‌‌(২)।

তাঁর জীবনীকার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল ঐতিহাসিক এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যু তাবরিজ শহরে হয়েছিল।

ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন: কাজি নাসিরুদ্দীন বায়দ্বাভি কুতুবুদ্দীন শিরাজিকে‌‌(৩) এই অসিয়ত করেছিলেন যে, তাঁকে যেন তাবরিজে তাঁর পাশেই দাফন করা হয়‌‌(৪)।

--------------------------------------------

= ইবনে কাজি শুহবা ৩/৯৮, শাজারাত ৬/২২৩, আল-ফাতহুল মুবিন ২/১৮৬।

‌‌(১) তিনি হলেন সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দেহলভি —দাল বর্ণে কাসরা এবং হা বর্ণে সুকুন যোগে— আল-বাগদাদি, আবুল খায়ের, নাজমুদ্দীন। তিনি ৭১২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদিস অন্বেষণে দামেশক, মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন। তিনি প্রচুর লিখেছেন, এই বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং অনেক পরিশ্রম করেছেন। ৭৪৯ হিজরি সনের ১৫ই জিলকদ প্লেগ রোগে ৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আদ-দুরার ২/১৩৪।

‌‌(২) দেখুন: আল-কাজি আল-বায়দ্বাভি ওয়া আসারুহু ফি উসুলিল ফিকহ, পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০।

‌‌(৩) তিনি হলেন মাহমুদ ইবনে মাসউদ ইবনে মুসলিহ আল-ফারিসি, কুতুবুদ্দীন শিরাজি, শাফেয়ি, প্রখ্যাত আলেম। তিনি ৬৩৪ হিজরি সনে শিরাজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা, চাচা ও অন্যদের নিকট চিকিৎসা বিজ্ঞানে শিক্ষালাভ করেন। এরপর যুবক বয়সেই মারিস্তানে চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। অতঃপর তিনি নাসিরুদ্দীন তুসির নিকট সফর করেন এবং তাঁর কাছে জ্যোতির্বিজ্ঞান পাঠ করেন। তিনি আল-ইশারাত-এর ওপর গবেষণা করেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এরপর তিনি তাবরিজে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে আকলি (যুক্তিনির্ভর) বিজ্ঞানসমূহ পাঠদান করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: শরহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব, সাক্কাকির আল-মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনে সিনার আল-কুল্লিয়াত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইত্যাদি। ৭১০ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: আদ-দুরার ৪/৩৩৯, আল-বদর ২/২৯৯।

‌‌(৪) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৩২৭।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الدكتور جلال الدين حفظه الله: "وجاء في ترجمة القطب الشيرازي: أنه أوصى أن يُدفن إلي جانب القاضي ناصر الدين عبد الله بن عمر البيضاوي. فأوصى كلٌ منهما بأن يُدفن إلى جانب صاحبه؛ لما كان بينهما من المودة"‌‌(1).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: القاضي البيضاوي ص 171، وهو نقلًا عن منتخب المختار للسلمي ص 228.

ড. জালালুদ্দীন (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: "কুতুব আশ-শিরাজীর জীবনীতে এসেছে যে, তিনি কাযী নাসিরুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-বায়যাবীর পাশে সমাহিত হওয়ার অসিয়ত করেছিলেন। তাদের উভয়ের মধ্যকার হৃদ্যতার কারণে তারা প্রত্যেকেই একে অপরের পাশে সমাহিত হওয়ার অসিয়ত করেছিলেন"‌‌(১).

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আল-কাযী আল-বায়যাবী, পৃষ্ঠা ১৭১; এটি আস-সুলামীর মুনতাখাব আল-মুখতার, পৃষ্ঠা ২২৮ থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الثاني: في نشأته، ورحلاته، وشيوخه، وتلامذته

‌‌1 - نشأته:

نشأ القاضي ناصر الدين البيضاوي أول حياته في البيضاء، ثم رحل إلى شيراز، وهي حينذاك عاصمة بلاد فارس، ومقر حكم الأتابك أبي بكر بن سعد، وكانت ملجأ الأدباء والعلماء والشعراء الفارين من وجه المغول، وكان الأتابك أبو بكر يرحب بكل من يلجأ إليه، ويوسع عليهم في الرزق.

يقول الدكتور جلال الدين: "عاش صاحبنا في كنف أسرته - حياته الأولى - في البيضاء، ثم في شيراز، وقد اشتغل منذ الصغر بطلب علوم الأدب والعربية، والفقه وأصوله، والتفسير والحديث، والكلام والمنطق، والتاريخ على أعظم أئمة مصره، وعلماء عصره، كما تلقن عن أبيه العلوم والفنون المتنوعة"‌‌(1)، "وتخرج في الفقه والأصول، والأدب، والمنطق، والحكمة على الأسلوب الأعجمي، الذي يجمع بين العلوم المختلفة بالترقي

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: القاضي البيضاوي ص 138.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা, সফরসমূহ, উস্তাদগণ এবং ছাত্রবৃন্দ সম্পর্কে

১ - তাঁর বেড়ে ওঠা:

কাযী নাসিরুদ্দিন আল-বায়যাভী তাঁর প্রাথমিক জীবন বায়যায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি শিরাজ অভিমুখে সফর করেন, যা তৎকালীন পারস্যের রাজধানী এবং আতাবিক আবু বকর ইবনে সাআদের শাসনকেন্দ্র ছিল। এটি ছিল মোঙ্গলদের হাত থেকে পলায়নরত সাহিত্যিক, আলিম এবং কবিদের আশ্রয়স্থল। আতাবিক আবু বকর তাঁর কাছে আশ্রয় গ্রহণকারী সকলকে স্বাগত জানাতেন এবং তাদের জীবনযাত্রার জন্য প্রশস্ততা দান করতেন।

ডক্টর জালালুদ্দিন বলেন: "আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব তাঁর জীবনের প্রথম ভাগ বায়যায় এবং পরবর্তীতে শিরাজ শহরে নিজ পরিবারের ছায়াতলে অতিবাহিত করেছেন। তিনি শৈশব থেকেই সাহিত্য ও আরবি ভাষা, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ, তাফসীর ও হাদিস, ইলমুল কালাম ও যুক্তিবিদ্যা এবং ইতিহাস চর্চায় তাঁর দেশের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও সমকালীন আলেমদের কাছে মগ্ন ছিলেন। একইভাবে তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকেও বিভিন্ন জ্ঞান ও শিল্পকলা শিক্ষা লাভ করেন।"(১), "তিনি ফিকহ, উসূলে ফিকহ, সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা এবং হিকমত (দর্শন) অর্জন করেছিলেন অনারব পদ্ধতিতে, যা উন্নতির ক্রমধারায় বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাযী আল-বায়যাভী, পৃষ্ঠা ১৩৮।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৩১)
في درجاتها المتقابلة، وتحقيق بعضها ببعض تحقيقًا يهدف إلى تكوين الملكة العامة، المتصرفة بالتحصيل والتحليل، والاستنتاج والبحث في العلوم على نسبة واحدة‌‌(1)، وتحرير قوالبها التعبيرية على منهج مُتَّحد، وأسلوب مُطَّرِد"‌‌(2).

وقد عاش البيضاوي في شيراز أكثر حياته حتى تولى منصب قاضي قضاتها، ثم صُرف عنه، فرحل إلى تبريز حيث كانت وفاته بها.

ولم يذكر أحد من المؤرخين - فيما نعلم - شيئًا عن أسرة القاضي ناصر الدين البيضاوي، فقد ظل ذلك أمرًا بعيدًا عن التاريخ‌‌(3).

 

‌‌2 - رحلاته:

يقول الدكتور علي محيي الدين حفظه الله: "نتيجة للغزو المغولي الدموي على البلاد الإسلامية، وإيقاع الدمار والخراب بها، مع أن شيراز كانت بمأمن من هذه الويلات - أصبح العلماء يقصدونها من كل فج عميق، وكان حاكمها الأتابك يشجع على العلم والعلماء، مما أدى إلى قيام نهضة علمية متطورة في شيراز وأنحائها، فاجتمع فيها كبار العلماء الذين أتوا من مختلف الأقطار الإسلامية؛ لذلك لم يحتج الإمام البيضاوي إلى رحلات علمية يقوم بها لأجل تحصيل العلم، إذ كبار العلماء قد أصبحوا

--------------------------------------------

‌‌(1) أي: يحصل التحصيل والتحليل والاستنتاج والبحث في العلوم في آنٍ واحد غير متفاوت، فهو يحصِّل وفي الوقت نفسه يحلِّل ويستنتج.

‌‌(2) انظر: التفسير ورجاله، لابن عاشور ص 98.

‌‌(3) انظر: القاضي البيضاوي ص 139، مقدمة محقق الغاية القصوى 1/ 58.

এটির পরস্পরবিরোধী পর্যায়সমূহে এবং একটির মাধ্যমে অপরটির এমন এক সূক্ষ্ম যাচাই যা একটি সাধারণ যোগ্যতা বা মেধা গঠনের লক্ষ্য রাখে, যা সমান অনুপাতে জ্ঞান আহরণ, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে গবেষণার ক্ষেত্রে পরিচালিত হয়‌‌(১); এবং একটি ঐক্যবদ্ধ মানহাজ ও অবিচ্ছিন্ন শৈলীতে এর অভিব্যক্তির ছাঁচগুলোকে পরিমার্জন করা"‌‌(২)।

আল-বাইদাভী তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় শিরাজেই অতিবাহিত করেছেন, এমনকি তিনি সেখানে প্রধান বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই পদ থেকে অপসারিত হন এবং তাবরিজে চলে যান, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আমাদের জানামতে, ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউই কাজী নাসিরুদ্দিন আল-বাইদাভীর পরিবার সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি; ফলে বিষয়টি ইতিহাসের অন্তরালেই রয়ে গেছে‌‌(৩)।

 

‌‌২ - তাঁর সফরসমূহ:

ডক্টর আলী মুহিউদ্দিন (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) বলেন: "মুসলিম দেশগুলোতে মোঙ্গলদের রক্তক্ষয়ী আক্রমণ এবং এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপর্যয়ের কারণে—যদিও শিরাজ এই দুর্ভোগ থেকে নিরাপদ ছিল—বিদ্বানগণ দূর-দূরান্ত থেকে এই শহরের দিকে আসতে শুরু করেন। এর শাসক আতাবেক ইলম ও ওলামাদের উৎসাহিত করতেন, যার ফলে শিরাজ ও এর আশপাশে এক উন্নত জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ সৃষ্টি হয়। সেখানে বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ড থেকে আগত বড় বড় আলেমদের সমাবেশ ঘটে। এ কারণে ইমাম বাইদাভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষামূলক সফরের প্রয়োজন পড়েনি, কারণ বড় বড় আলেমরাই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ: জ্ঞান আহরণ, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিজ্ঞানে গবেষণা একই সাথে কোনো পার্থক্য ছাড়াই সম্পন্ন হয়; ফলে তিনি একই সময়ে জ্ঞান অর্জন করেন এবং একই সাথে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

‌‌(২) দেখুন: আত-তাফসীর ওয়া রিজালুহু, ইবনে আশুর, পৃষ্ঠা ৯৮।

‌‌(৩) দেখুন: আল-কাজী আল-বাইদাভী, পৃষ্ঠা ১৩৯; আল-গায়াতুল কুসওয়া-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা, ১/৫৮।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৩২)
في بلده، ولهذا لم نعثر في كتب الطبقات والتراجم النصَّ على أكثر من رحلتين له"‌‌(1).

أما رحلته الأولى: فكانت من البيضاء إلى شيراز، حيث رحل أبوه بأسرته فارًا من جحافل التتار.

أما رحلته الثانية: فهي من شيراز إلى تبريز عاصمة الإيلخانيين الذين أسلموا من المغول، واتخذوا تبريز عاصمة لهم، ولم نعثر في بطون كتب التراجم والطبقات على تاريخ لهذه الرحلة، لكنها كانت بعد أن تولى القضاء بشيراز‌‌(2). وقد رجح الدكتور جلال الدين - حفظه الله - أن رحلته إلى تبريز كانت سنة 681 هـ، وذكر أدلة على ذلك‌‌(3).

والظاهر أن البيضاوي رحمه الله قد دخل تبريز قبل أن يرحل إليها ويستقر بها في آخر حياته، وذلك أن الإمام البيضاوي قد زار تبريز طلبًا في قضاء شيراز، فأعطي ذلك، ثم عاد قاضيًا على شيراز، ثم عزل بعد ذلك كما سيأتي، ثم رجع إلى تبريز وقضى فيها بقية عمره المبارك في الزهد والعبادة والتدريس والتأليف.

 

‌‌3 - شيوخه:

نهل البيضاوي أول ما نهل من منهل والده العذب، لكن ذلك لا يعني أنه لم يأخذ من غيره، لا سيما وشيراز آنذاك تموج بعلماءٍ أعلام من كل

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: مقدمة محقق الغاية القصوى 1/ 59.

‌‌(2) انظر: مقدمة محقق الغاية القصوى 1/ 59.

‌‌(3) انظرها في: القاضي البيضاوي ص 142 - 143.

নিজ শহরে, এবং এই কারণে আমরা জীবনীগ্রন্থ ও তাবাকাত গ্রন্থসমূহে তাঁর দুটির বেশি সফরের কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণনা খুঁজে পাইনি।‌‌(১)

তাঁর প্রথম সফর: এটি ছিল বায়দা থেকে শিরাজ অভিমুখে, যখন তাঁর পিতা তাতার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে সপরিবারে হিজরত করেছিলেন।

তাঁর দ্বিতীয় সফর: এটি ছিল শিরাজ থেকে তাবরিজ অভিমুখে, যা ছিল ইলখানিদের রাজধানী; তাঁরা ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী মঙ্গোল বংশোদ্ভূত। তাঁরা তাবরিজকে তাঁদের রাজধানী বানিয়েছিলেন। আমরা জীবনী ও তাবাকাত গ্রন্থসমূহের কোথাও এই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ খুঁজে পাইনি, তবে এটি শিরাজ নগরীর কাজির পদ গ্রহণের পরবর্তী ঘটনা ছিল।‌‌(২) ডক্টর জালালুদ্দিন -আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন- প্রবল মত ব্যক্ত করেছেন যে, তাবরিজে তাঁর সফরটি ৬৮১ হিজরি সালে হয়েছিল এবং তিনি এর সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন।‌‌(৩)

প্রকাশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, বাইদাভি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষভাগে সেখানে হিজরত করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগেই একবার তাবরিজে প্রবেশ করেছিলেন। এর কারণ হলো, ইমাম বাইদাভি শিরাজ নগরীর বিচারকের (কাজি) পদের সন্ধানে তাবরিজে গিয়েছিলেন, এবং তাঁকে তা প্রদান করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি কাজি হিসেবে শিরাজ ফিরে আসেন, পরে তাঁকে সে পদ থেকে অপসারিত করা হয় (যেমন সামনে আলোচনা আসবে)। এরপর তিনি পুনরায় তাবরিজে ফিরে যান এবং জীবনের অবশিষ্ট বরকতময় সময় যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), ইবাদত, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেন।

 

‌‌৩ - তাঁর শিক্ষকগণ:

বাইদাভি সর্বপ্রথম তাঁর পিতার সুপেয় জ্ঞানের উৎস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তিনি অন্য কারো থেকে শিক্ষা নেননি, বিশেষ করে সেই সময়ের শিরাজ ছিল সর্বদিকের প্রথিতযশা আলেমদের সমাগমে মুখরিত।

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আল-গয়াতুল কুসওয়া-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা ১/৫৯।

‌‌(২) দেখুন: আল-গয়াতুল কুসওয়া-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা ১/৫৯।

‌‌(৩) দেখুন: আল-কাদি আল-বাইদাভি, পৃষ্ঠা ১৪২ - ১৪৩।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত দুবাই (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الأقطار، فمن المستبعد جدًا لعالم مثله فاق الأقران، وبزَّ أهل الزمان أن يكتفي بشيخ أو شيخين، بل لا بد أن يكون مكثرًا من الشيوخ، متتبعًا لهم ولو في الكهوف، ولكن الظاهر والله أعلم أن محن ذلك الزمان وتقلباته، وحروبه الطاحنة شغلت العلماء عن رصد مثل ذلك.

والذين نعرف أسماءهم من شيوخه هما: والده، والشيخ الكتحتائي.

 

‌‌أولًا: والده، وصورة من إجازته العلمية:

هو الإمام عمر بن قاضي القضاة السعيد فخر الدين محمد. وتلمذته على والده مما لا شك فيها، حيث يذكر البيضاوي في مقدمة "الغاية القصوى" أنه أخذ العلوم عن والده فيقول:

"إذا عرفت ذلك فاعلم أني أخذت الفقه عن والدي مولى الموالي، الصدرِ العالي، وليِّ الله الوالي، قدوةِ الخلف، وبقيةِ السلف، إمام الملة والدين، أبي القاسم عمر قَدَّس الله روحه، وهو عن والده قاضي القضاة السعيد فخر الدين محمد بن الإمام الماضي صدر الدين أبي الحسن علي البيضاوي قدس الله أرواحهم" ثم ذكر تتمة السند إلى الإمام الشافعي رضي الله عنه، ومنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم‌‌(1).

ولم تذكر لنا كتب التراجم سيرة والده، ولا تاريخ ولادته ووفاته، والمعروف عنه أنه كان من المقربين للأتابك أبي بكر بن سعد، سلطان بلاد فارس آنذاك‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: الغاية القصوى 1/ 184 - 188.

‌‌(2) انظر: دائرة المعارف الإسلامية لبروكلمان 45/ 418.

অঞ্চলসমূহ; তাঁর মতো একজন আলিম, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং যুগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তিনি কেবল একজন বা দুইজন শায়খের ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন—এটি অত্যন্ত অসম্ভব। বরং অবশ্যই তাঁর শায়খদের সংখ্যা অনেক হওয়ার কথা, তিনি তাঁদের অনুসন্ধান করে যেতেন এমনকি যদি তাঁরা পাহাড়ের গুহায় থাকতেন তবুও। তবে স্পষ্টত—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—সেই সময়ের পরীক্ষা, উত্থান-পতন এবং ভয়াবহ যুদ্ধসমূহ আলেমদের এই জাতীয় বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা থেকে বিমুখ করে রেখেছিল।

তাঁর শায়খদের মধ্যে যাদের নাম আমরা জানতে পারি তাঁরা হলেন দুইজন: তাঁর পিতা এবং শায়খ আল-কাহতাহাঈ।

 

‌‌প্রথমত: তাঁর পিতা এবং তাঁর ইলমী ইজাযতের (সনদ) একটি চিত্র:

তিনি হলেন ইমাম উমর ইবন কাযিল কুযাত আস-সাঈদ ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ। তাঁর পিতার নিকট তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণের বিষয়টি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ বাইযাভী ‘আল-গায়াতুল কুসওয়া’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকেই জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি বলেন:

"যদি আপনি তা জেনে থাকেন, তবে জেনে রাখুন যে, আমি ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেছি আমার পিতা, মাওলা আল-মাওয়ালী (প্রভুদের অভিভাবক), আস-সাদরুল আলী (উচ্চমর্যাদাশীল), ওয়ালিউল্লাহ আল-ওয়ালী (আল্লাহর অলি ও অভিভাবক), পরবর্তী প্রজন্মের আদর্শ এবং পূর্বসূরীদের অবশিষ্টাংশ, মিল্লাত ও দ্বীনের ইমাম আবুল কাসিম উমর—আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন—তাঁর নিকট থেকে। আর তিনি গ্রহণ করেছেন তাঁর পিতা কাযিল কুযাত আস-সাঈদ ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন ইমাম আল-মাযী সদরুদ্দিন আবুল হাসান আলী আল-বাইযাভী—আল্লাহ তাঁদের রুহকে পবিত্র করুন—তাঁর নিকট থেকে।" এরপর তিনি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত এবং তাঁর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পূর্ণ সনদটি উল্লেখ করেছেন।

জীবনীগ্রন্থসমূহ আমাদের নিকট তাঁর পিতার জীবনবৃত্তান্ত কিংবা তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেনি। তাঁর সম্পর্কে যা প্রসিদ্ধ তা হলো তিনি তৎকালীন পারস্যের সুলতান আতাবাক আবু বকর ইবন সা'দের ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আল-গায়াতুল কুসওয়া ১/ ১৮৪ - ১৮৮।

‌‌(২) দেখুন: ব্রোকলম্যানের দায়িরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৪৫/ ৪১৮।