(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: -)
استدراك الزيادات على كتاب الرحلة القسم: علوم الحديث
الكتاب: استدراك الزيادات على كتاب الرحلة مما لم يذكره الحافظ الخطيب
(مطبوع بذيل كتاب الرحلة في طلب الحديث للخطيب البغدادي)
المؤلف: نور الدين عتر
رئيس قسم علوم القرآن والسنة، في جامعة دمشق
الناشر: أمين دمج (ثم صورته دار الكتب العلمية، بيروت)
الطبعة: الأولى، 1395 هـ - 1975 م
عدد الصفحات: 38
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1445
ইস্তিদরাক আল-জিয়াদাত আলা কিতাবুর রিহলাহ বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
গ্রন্থ: ইস্তিদরাক আল-জিয়াদাত আলা কিতাবুর রিহলাহ যা হাফিজ (الحافظ) খতিব উল্লেখ করেননি
(খতিব আল-বাগদাদির ‘আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত)
লেখক: নুর আল-দীন ইতর
দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান
প্রকাশক: আমিন দামজ (পরবর্তীতে দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত থেকে পুনর্মুদ্রিত)
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৫ হি. - ১৯৭৫ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
استدراك الزيادات على كتاب الرحلة مما لم يذكره الحافظ الخطيب
رحلة الصحابة إلى النبي صلى الله عليه وسلم:لم يخرج الإمام أبو بكر الخطيب شيئا من هذا النوع، وهو كثير جدا، لأن كثيرا من الصحابة كان يقصد النبي صلى الله عليه وسلم يرحل إليه، ليتشرف بلقائه، ويحمل عنه وصية، أو خطبة، أو حديثا، وكثير منهم رحلوا لسؤال النبي صلى الله عليه وسلم عن مسألة أشكلت عليهم.
وإليك طرفا من ذلك:
82 - عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: نهينا أن نسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شئ، فكان يعجبنا أن يجيء الرجل من أهل البادية العاقل فيسأله ونحن نسمع،
হাফেজ আল-খাতিব তাঁর 'কিতাবুর রিহলা'-তে যা উল্লেখ করেননি, সে বিষয়ে অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহাবীগণের সফর:ইমাম আবু বকর আল-খাতিব এই প্রকারের কোনো বর্ণনা উদ্ধৃত (أخرج) করেননি, অথচ এর সংখ্যা অনেক বেশি; কারণ অনেক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাতের গৌরব অর্জন করতে এবং তাঁর নিকট থেকে কোনো অসিয়ত, ভাষণ বা হাদিস গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে সফর করতেন। আবার তাঁদের অনেকেই কোনো অস্পষ্ট বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করার জন্য সফর করতেন।
এখানে তার কিয়দাংশ তুলে ধরা হলো:
৮২ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুভূমি থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসে তাঁকে প্রশ্ন করবেন এবং আমরা তা শুনব—এটি আমাদের নিকট খুব পছন্দনীয় ছিল।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
فجاء رجل من أهل البادية فقال: يا محمد، أتانا رسولك فزعم لنا أنك تزعم أن الله أرسلك؟.
قال: صدق. قال: فمن خلق السماء؟ قال: الله. قال: فمن خلق الأرض؟ قال: الله. قال: فمن نصب هذه الجبال وجعل فيها ما جعل؟. قال: الله.
قال: فبالذي خلق السماء، وخلق الأرض ونصب هذه الجبال آلله أرسلك؟. قال: نعم.
قال: وزعم رسولك أن علينا خمس صلوات في يومنا وليلتنا؟ قال: صدق. قال: فبالذي أرسلك آلله أمرك بهذا؟. قال: نعم.
قال: وزعم رسولك أن علينا زكاة في أموالنا؟ قال: صدق. قال: فبالذي أرسلك آلله أمرك بهذا؟. قال: نعم.
قال: وزعم رسولك أن علينا صوم شهر رمضان في سنتنا؟. قال: صدق. قال: فبالذي أرسلك آلله أمرك بهذا؟ قال: نعم.
قال: وزعم رسولك أن علينا حج البيت من استطاع
অতঃপর মরুভূমি থেকে এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনার প্রেরিত দূত আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের নিকট ব্যক্ত করেছেন যে, আপনি নাকি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে (রাসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন?
তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে ব্যক্তি বলল: তবে আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে এই পাহাড়সমূহ কে গেড়ে দিয়েছেন এবং তাতে যা কিছু সৃষ্টি করার তা কে করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ।
সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এই পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন— আল্লাহই কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা কর্তব্য? তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে ব্যক্তি বলল: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন— আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের ধন-সম্পদে যাকাত প্রদান করা কর্তব্য? তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে ব্যক্তি বলল: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন— আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের বছরে রমজান মাসের সিয়াম পালন করা কর্তব্য? তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন— আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা কর্তব্য...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
إليه سبيلا؟. قال: صدق.
قال: ثم ولى، قال: والذي بعثك بالحق لا أزيد عليهن ولا أنقص منهن.
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " لئن صدق ليدخلن الجنة ".
متفق عليه
(1) 83 - وللبخاري عن أنس قال: بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ. فقال له الرجل: ابن عبد المطلب!، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: قد أجبتك. فقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة فلا تجد
(2) علي في نفسك. فقال: سل عما بدا لك.
فقال: أسألك بربك ورب من قبلك آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ فقال: اللهم نعم.
--------------------------------------------
...সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে? তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
বর্ণনাকারী বলেন: তারপর সে ব্যক্তি চলে গেল। সে বলল: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এর অতিরিক্ত কিছু করব না এবং এর থেকে কোনো কিছু কমাব না।
অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সে যদি সত্য বলে থাকে, তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
সর্বসম্মত (متفق عليه)
(১) ৮৩ - এবং বুখারিতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমরা মসজিদে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি উটে চড়ে প্রবেশ করল। সে মসজিদের ভেতরে উটটি বসাল এবং সেটিকে বাঁধল। তারপর সে উপস্থিত সাহাবীদের বলল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা বললাম: এই যে হেলান দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তিটি। তখন লোকটি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি। লোকটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলল: আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করব এবং প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করব; সুতরাং আপনি আপনার মনে আমার প্রতি কোনো ক্ষোভ
(২) অনুভব করবেন না। তিনি বললেন: তোমার যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করো।
সে বলল: আমি আপনাকে আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! হ্যাঁ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
قال: أنشدك بالله آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: اللهم نعم.
قال: أنشدك بالله آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فتقسمها على فقرائنا؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: اللهم نعم.
فقال الرجل: " آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة أخو بني سعد بن بكر "
(1).
84 - قال ابن عباس رضي الله عنهما: فما سمعنا بوافد قوم يقول أفضل من ضمام ".
أخرجه أحمد والطبراني في حديث طويل
(2) 85 - عن طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه قال:
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
তিনি বললেন: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আপনি আমাদের ধনীদের থেকে এই সদকা গ্রহণ করবেন এবং তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেবেন?" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
তখন লোকটি বললেন: "আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম। আমি আমার পেছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি। আমি যিমাম ইবনে সা’লাবা, বনু সা’দ ইবনে বকর গোত্রের সদস্য।"
(১).
৮৪ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "আমরা কোনো গোত্রীয় প্রতিনিধির কথা যিমামের চেয়ে উত্তম হতে শুনিনি।"
আহমদ এবং তাবারানি এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের মধ্যে বর্ণনা করেছেন।
(২) ৮৫ - তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من أهل نجد ثائر الرأس، يسمع دوي صوته ولا يفقه ما يقول، حتى دنا، فإذا هو يسأل عن الإسلام؟
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " خمس صلوات في اليوم والليلة ". فقال: " هل علي غيرها؟ " قال: " لا، إلا أن تطوع ".
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " وصيام رمضان " قال: " هل علي غيره؟: قال: " لا، إلا أن تطوع ".
قال: وذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم الزكاة. قال: " هل علي غيرها؟ " قال: " لا، إلا أن تطوع ".
قال: فأدبر الرجل وهو يقول: " والله لا أزيد على هذا ولا أنقص ".
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أفلح إن صدق ".
متفق عليه
(1)وهذا الرجل غير ضمام بن ثعلبة، لأن ضماما سعدي بكري ذو عقيصتين أي ضفيرتين كما في المسند والمعجم الكبير للطبراني، وهذا نجدي ثائر الرأس، فهما مختلفان موطنا وهيئة.
--------------------------------------------
নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে থেকে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তাঁর কণ্ঠের গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি যখন নিকটে আসলেন, দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।" সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: "আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কোনো নামাজ আছে?" তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করো।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এবং রমজানের রোজা রাখা।" সে জিজ্ঞাসা করল: "আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কোনো রোজা আছে?" তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করো।"
বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে জাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। সে জিজ্ঞাসা করল: "আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু আছে?" তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল (تطوع) হিসেবে কিছু আদায় করো।"
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল যে, "আল্লাহর কসম! আমি এর চেয়ে বৃদ্ধিও করব না এবং হ্রাসও করব না।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে সফলকাম হবে যদি সে সত্য বলে থাকে।"
এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)
(1)আর এই ব্যক্তি দিমাম ইবনে সা'লাবা নন, কারণ দিমাম ছিলেন বকরী সাদী গোত্রের এবং তাঁর দুটি বেণী বা চুলের গোছা ছিল, যেমনটি মুসনাদ এবং তাবারানির আল-মু'জাম আল-কবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এই ব্যক্তি ছিলেন নজদীয় এবং উস্কোখুস্কো চুলের অধিকারী। সুতরাং আবাসস্থল এবং আকৃতির দিক থেকে তাঁরা ভিন্ন ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯২)
86 - عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: إن وفد عبد القيس لما أتوا النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من القوم أو من الوفد؟ " قالوا: ربيعة. قال: " مرحبا بالقوم أو بالوفد غير خزايا ولا ندامى ".
فقالوا: يا رسول الله إنا لا نستطيع أن فأتيك إلا في شهر الحرام، وبيننا وبينك هذا الحي من كفار مضر، فمرنا بأمر فصل نخبر به من وراءنا، وندخل به الجنة، وسألوه عن الأشربة، فأمرهم بأربع، ونهاهم عن أربع:
أمرهم بالإيمان بالله وحده، قال: " أتدرون ما الإيمان بالله وحده "؟ قالوا: الله ورسوله أعلم.
قال: " شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصيام رمضان، وأن تعطوا من المغنم الخمس "، ونهاهم عن أربع: عن الحنتم، والدباء، والنقير، والمزفت، وربما قال المقير. وقال: " احفظوهن وأخبروا بهن من وراءكم ".
متفق عليه
(1)--------------------------------------------
৮৬ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমরা কোন কওম বা কোন প্রতিনিধিদল?" তারা বলল: "রাবিআহ।" তিনি বললেন: "মারহাবা সেই কওম বা প্রতিনিধিদলকে, যারা লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত না হয়েই আগমন করেছে।"
অতঃপর তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার নিকট নিষিদ্ধ মাসগুলো ব্যতীত অন্য সময়ে আসতে সক্ষম নই; কারণ আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের এই কাফির সম্প্রদায়টি অবস্থিত। অতএব, আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত বিষয়ের নির্দেশ প্রদান করুন যা আমরা আমাদের পেছনে ফেলে আসা লোকেদের অবহিত করতে পারি এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।" তারা তাঁকে পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর তিনি তাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন:
তিনি তাদের একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা কী?" তারা বলল: "আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।"
তিনি বললেন: "এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ) মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।" আর তিনি তাদের চারটি পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করলেন: হানতাম, দুব্বা, নাক্বির এবং মুজাফফাত (বর্ণনাকারী কখনো 'মুক্বাইয়ার' শব্দটিও বলতেন)। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা এগুলো স্মরণে রেখো এবং তোমাদের পেছনে থাকাদের এ বিষয়ে অবহিত করো।"
সর্বসম্মত (متفق عليه)
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৩)
وهذه المنهيات أوعية ينبذ فيها المسكر فنهاهم عما ينبذ فيها.
الحنتم: الجرة الخضراء، والدباء: القرع اليابس يتخذ منه إناء للخمر، والنقير: جذع ينقر وسطه. والمقير ما طلي بالقار كالمزفت المطلي بالزفت.
87 - عن أبي هريرة وزيد بن خالد الجهني رضي الله عنهما انهما قالا: إن رجلا من الأعراب أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: " يا رسول الله: أنشدك الله إلا قضيت لي بكتاب الله ".
فقال الخصم الآخر وهو أفقه منه: " نعم فاقض بيننا بكتاب الله وائذن لي ".
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " قل ".
قال: " ان ابني كان عسيفا على هذا، فزنى بامرأته، وإني أخبرت أن على ابني الرجم، فافتديت منه بمائة شاة ووليدة، فسألت أهل العلم، فأخبروني أنما على ابني جلد مائة وتغريب عام، وأن على امرأة هذا الرجم؟ ".
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " والذي نفسي بيده لأقضين بينكما
এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হলো মূলত মাদক তৈরির পাত্র, তাই তিনি সেগুলোতে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন।
হানতাম (الحنتم): সবুজ কলস; দুব্বা (الدباء): শুকনো লাউ যা মদের পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো; নাকীর (النقير): খেজুর গাছের কাণ্ড যা খোদাই করে তৈরি করা হয়; এবং মুকাইয়্যার (المقير): আলকাতরা বা পিচ প্রলেপিত পাত্র, যা মুজাফফাত (المزفت)-এর ন্যায়।
৮৭ - আবু হুরায়রা ও যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, "হে রাসুলুল্লাহ! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমার ফয়সালা করে দিন।"
অপর পক্ষ, যিনি তার চেয়েও অধিক বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন, তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন।"
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "বলো।"
সে বলল: "আমার পুত্র এই ব্যক্তির নিকট শ্রমিক (عسيف) হিসেবে কর্মরত ছিল, অতঃপর সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। আমাকে জানানো হয়েছিল যে, আমার পুত্রের শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড (الرجم)। তখন আমি এর পরিবর্তে একশটি ভেড়া ও একটি দাসী দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করি। এরপর আমি আলেমদের নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা আমাকে জানান যে, আমার পুত্রের শাস্তি হলো একশ দোররা (جلد) এবং এক বছরের নির্বাসন (تغريب), আর এই ব্যক্তির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড (الرجم)।"
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব—"
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৪)
بكتاب الله: الوليدة والغنم رد، وعلى ابنك جلد مائة وتغريب عام، واغد يا أنيس إلى امرأة هذا فان اعترفت فارجمها ".
قال: " فغدا عليها فاعترفت، فأمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت ". متفق عليه
(1)الأعرابي: هو ساكن البادية. وقد رحل مع صاحبه إلى النبي صلى الله عليه وسلم، لسؤاله عن هذه الواقعة ليس له حاجة غيرها.
عسيفا على هذا: أي أجيرا عند هذا.
الوليدة والغنم رد: أي الجارية المملوكة والغنم ترد إليك.
88 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءه أعرابي، فقال: " يا رسول الله، إن امرأتي ولدت غلاما أسود؟! "
فقال: " هل لك من إبل؟ " قال: " نعم ".
قال: " ما ألوانها؟ ". قال: " حمر ".
--------------------------------------------
আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী: দাসী এবং ছাগলগুলো ফেরতযোগ্য, আর তোমার ছেলের জন্য একশ দোররা এবং এক বছরের নির্বাসন দণ্ড। হে উনাইস, তুমি এই ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে যাও, যদি সে স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) করো।"
তিনি বললেন: "অতঃপর তিনি সকালে তার নিকট গেলেন এবং সে স্বীকারোক্তি দিল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে রজম করা হলো।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)
(1)বেদুইন: সে হলো মরুভূমিবাসী। সে তার সাথীর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল, এটি ছাড়া তার অন্য কোনো প্রয়োজন ছিল না।
এর কাছে 'আসীফ': অর্থাৎ এর নিকট একজন মজুর বা শ্রমিক।
দাসী ও ছাগল ফেরতযোগ্য: অর্থাৎ মালিকানাধীন দাসী এবং ছাগলগুলো তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে।
৮৮ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক বেদুইন এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রী একটি কালো বর্ণের সন্তান জন্ম দিয়েছে!"
তিনি বললেন: "তোমার কি কোনো উট আছে?" সে বলল: "হ্যাঁ।"
তিনি বললেন: "সেগুলোর রং কী?" সে বলল: "লাল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৫)
قال: " فيها من أورق؟ ". قال: " نعم ".
قال: " فأنى ذلك؟ ". قال: " أراه عرق نزعه ".
قال: " فلعل ابنك هذا نزعه عرق ".
متفق عليه
(1)الأورق: الأسمر
نزعه عرق: جذبه الشبه إلى بعض أجداده بعامل الوراثة.
ومن آثار الصحابة في الرحلة:89 - قول أبي الدرداء: " لو أعيتني آية من كتاب الله فلم أجد أحدا يفتحها علي إلا رجل ببرك الغماد لرحلت إليه "
(2).
من رحلات التابعين ومن بعدهم:وفيها جاء هذا الحديث:
90 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"يوشك أن يضرب الناس أكباد الإبل يطلبون العلم، فلا يجدون
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "সেগুলোর মধ্যে কি ধূসর বর্ণের উট আছে?" তিনি উত্তর দিলেন: "হ্যাঁ।"
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তবে সেটা কোথা থেকে এলো?" তিনি বললেন: "আমার মনে হয় কোনো সুপ্ত বংশীয় ধারা (عرق) তাকে প্রভাবিত করেছে।"
তিনি বললেন: "তবে সম্ভবত তোমার এই পুত্রকেও কোনো সুপ্ত বংশীয় ধারা (عرق) প্রভাবিত করেছে।"
সর্বসম্মত (متفق عليه)
(১)আল-আওরাক (الأورق): তামাটে বা ধূসর বর্ণ।
নাযাআহু ইরকুন (نزعه عرق): বংশগতির প্রভাবে পূর্বপুরুষদের কারো সাথে সাদৃশ্যের কারণে কোনো গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটা।
জ্ঞানার্জনের সফরের ক্ষেত্রে সাহাবিগণের কিছু নিদর্শন (آثار):৮৯ - আবু দারদা (রা.)-এর উক্তি: "যদি আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াতের অর্থ বুঝতে আমি অক্ষম হতাম এবং 'বারক আল-গিমাদ' নামক স্থানে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি ব্যতীত সেটি ব্যাখ্যা করার মতো আর কাউকে আমি না পেতাম, তবে আমি অবশ্যই তার কাছে সফর করতাম।"
(২).
তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সফরসমূহ থেকে:আর এই প্রসঙ্গে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে:
৯০ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"এমন সময় ঘনিয়ে আসছে যখন মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের পিঠে চড়ে কঠোর সফর করবে, কিন্তু তারা পাবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৬)
أحدا أعلم من عالم المدينة ".
أخرجه الترمذي وسننه
وصححه الحاكم على شرط مسلم ووافقه الذهبي
(1) 91 - عن عامر بن شراحيل الشعبي الإمام التابعي أنه خرج إلى مكة في ثلاثة أحاديث ذكرت له، فقال: " لعلي ألقى رجلا لقي النبي صلى الله عليه وسلم أو من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ".
أخرجه الرامهرمزي
(2) 92 - عن علي بن المديني قال: قيل للشعبي: " من أين لك هذا العلم كله؟ ".
قال: " بنفي الاعتماد، والسير في البلاد، وصبر كصبر
--------------------------------------------
"...মদিনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ নেই।"
এটি তিরমিজি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন।
এবং হাকেম একে মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(১) ৯১ - ইমাম ও তাবেয়ি (تابعي) আমির ইবনে শারাহিল আশ-শাবি থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে বলা হয়েছিল এমন তিনটি হাদিসের খোঁজে তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "হয়তো আমি এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাব যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা পেয়েছেন অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত।"
এটি রামাহুরমুজি বর্ণনা করেছেন।
(২) ৯২ - আলি ইবনুল মাদিনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাবি-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি এই সমস্ত জ্ঞান কোথা থেকে অর্জন করলেন?"
তিনি বললেন: "অন্যের ওপর নির্ভরতা বর্জন করে, দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণের মাধ্যমে এবং ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে যেমন ধৈর্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
الجماد، وبكور كبكور الغراب ".
تذكرة الحفاظ
(1) 93 - عن أحمد بن حنبل رضي الله عنه أنه قيل له: " أيرحل الرجل في طلب العلو؟ ".
فقال: " بلى والله شديدا، لقد كان علقمة والأسود يبلغهما الحديث عن عمر رضي الله عنه، فلا يقنعهما حتى يخرجا إلى عمر فيسمعانه منه ".
علوم الحديث
(2)هذان الإمامان الجليلان من أئمة التابعين يخرجان من العراق إلى المدينة مسيرة شهر لكي يسمعا من عمر حديثا بلغهما عنه.
94 - عن الشعبي قال: " ما علمت أن أحدا من الناس
--------------------------------------------
জড়বস্তু, এবং কাকের ন্যায় প্রত্যুষে যাত্রা করা।".
তাজকিরাতুল হুফফাজ
(১) ৯৩ - আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "একজন ব্যক্তি কি উচ্চ মানের সনদ (العلو) অন্বেষণে সফর করবে?".
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, অবশ্যই করবে। আলক্বামাহ ও আসওয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদিস পৌঁছাত, কিন্তু তারা তাতে সন্তুষ্ট হতেন না যতক্ষণ না তারা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সফর করতেন এবং সরাসরি তাঁর থেকে তা শুনতেন।".
উলূমুল হাদিস
(২)এই দুই মহান ইমাম তাবিঈদের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইরাক থেকে মদিনা পর্যন্ত এক মাসের পথ সফর করতেন যাতে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর থেকে একটি হাদিস শুনতে পারেন যা তাঁর পক্ষ থেকে তাদের কাছে পৌঁছেছে।
৯৪ - শাবী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি জানি না যে মানুষের মধ্যে কেউ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৮)
كان أطلب لعلم في أفق من الآفاق من مسروق ".
أخرجه الرامهرمزي وابن عبد البر
(1) 95 - وعن سفيان عن رجل " أن مسروقا رحل في حرف، وأن أبا سعيد رحل في حرف ".
أخرجه ابن عبد البر
(2) 96 - مكحول الدمشقي الإمام قال:
"كنت عبدا بمصر لامرأة من بني هذيل فأعتقتني فما خرجت من مصر وبها علم إلا حويت عليه فيما أرى، ثم أتيت الحجاز فما خرجت منها وبها علم إلا حويت عليه فيما أرى، ثم أتيت الحجاز فما خرجت منها وبها علم إلا حويت عليه فيما أرى، ثم أتيت العراق فما خرجت منها وبها علم إلا حويت عليه فيما أرى، ثم أتيت الشام فغربلتها، كل ذلك أسأل عن النفل
(3) فلم أجد أحدا يخبرني فيه بشئ حتى أتيت شيخا يقال له زياد بن جارية التميمي فقلت له: هل سمعت في النفل شيئا؟
--------------------------------------------
মাসরূক (রহ.)-এর চেয়ে ইলমের সন্ধানে দিগন্তের কোনো প্রান্তে অধিক বিচরণকারী আর কেউ ছিলেন না।
এটি রামহুরমুজী এবং ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন
(১) ৯৫ - সুফিয়ান থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, "মাসরূক একটি শব্দের (حرف) জন্য সফর করেছিলেন এবং আবু সাঈদ (রা.)-ও একটি শব্দের (حرف) জন্য সফর করেছিলেন।"
এটি ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন
(২) ৯৬ - ইমাম মাকহুল আদ-দিমাশকী বলেন:
"আমি মিশরে বনী হুযায়ল গোত্রের এক মহিলার ক্রীতদাস ছিলাম, অতঃপর তিনি আমাকে মুক্ত করে দেন। আমি মিশর ত্যাগ করিনি যতক্ষণ না সেখানকার যা কিছু ইলম আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা আমি আয়ত্ত করেছি। এরপর আমি হিজাজে এলাম এবং সেখানকার যা কিছু ইলম ছিল তা আমি সংগ্রহ না করা পর্যন্ত তথা হতে বের হইনি। এরপর আমি ইরাকে এলাম এবং সেখানকার যা কিছু ইলম ছিল তা আমি আয়ত্ত না করা পর্যন্ত প্রস্থান করিনি। এরপর আমি সিরিয়া এলাম এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করলাম। এই পুরো সময়ে আমি কেবল 'নাফল' (النفل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, কিন্তু আমি কাউকে পাইনি যে আমাকে এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারত। অবশেষে আমি যিয়াদ বিন জারিয়া আত-তামীমী নামক এক শায়খের (شيخ) নিকট পৌঁছালাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি 'নাফল' (النفل) সম্পর্কে কিছু শুনেছেন?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ১৯৯)
قال: نعم: سمعت حبيب بن مسلمة الفهري يقول: شهدت النبي صلى الله عليه وسلم نفل الربع في البدأة والثلث في الرجعة ".
أخرجه أبو داود وابن ماجة
(1) 97 - وعن ابن إسحاق قال: سمعت مكحولا يقول: " طفت الأرض في طلب العلم ".
ذكره الذهبي في التذكرة
(2) 98 - أربدة
(3) التميمي التابعي راوي التفسير عن ابن عباس، قال العجلي: " تابعي كوفي ثقة "، وذكره ابن حبان في الثقات. وقال الحافظ ابن حجر في التقريب: " صدوق ".
روى عنه أبو إسحاق السبيعي الإمام الحافظ أنه قال:
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমি হাবিব ইবনে মাসলামা আল-ফিহরিকে বলতে শুনেছি: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি যুদ্ধের শুরুতে এক-চতুর্থাংশ এবং ফেরার পথে এক-তৃতীয়াংশ নফল (অতিরিক্ত পুরস্কার) প্রদান করেছেন।"
এটি আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন
(১) ৯৭ - এবং ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মাকহুলকে বলতে শুনেছি: "আমি জ্ঞান অর্জনের সন্ধানে পৃথিবী ভ্রমণ করেছি।"
আয-যাহাবি এটি তাজকিরাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
(২) ৯৮ - আরবাদাহ
(৩) আত-তামিমি, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে তাফসিরের বর্ণনাকারী একজন তাবেয়ি (تابعي)। আল-ইজলি বলেন: "তিনি কুফার একজন তাবেয়ি (تابعي) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة)"। ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর হাফিজ ইবনে হাজার আত-তাকরিব গ্রন্থে বলেছেন: "সত্যবাদী (صدوق)"।
তাঁর থেকে ইমাম হাফিজ (حافظ) আবু ইসহাক আস-সাবি'য়ি বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০০)
" ما سمعت بأرض فيها علم إلا أتيتها ".
أخرجه أحمد في العلل
(1) 99 - الإمام الحافظ العلم علي بن المديني شيخ الإمام البخاري: قال:
حججت حجة وليس لي همة إلا أن أسمع
… ".
أخرجه الترمذي
(2) 100 - الإمام الحافظ عبد الرحمن بن الإمام الكبير أبي حاتم محمد بن إدريس قال:
سمعت أبي رحمه الله يقول:
"قلت على باب أبي الوليد الطيالسي: من أغرب علي حديثا غريبا مسندا صحيحا لم أسمعه فله علي درهم يتصدق به ". وقد حضر على باب أبي الوليد خلق. من الخلق: أبو زرعة فمن دونه، وإنما كان مرادي أن يلقى علي ما لم أسمع
--------------------------------------------
"আমি এমন কোনো ভূখণ্ডের কথা শুনিনি যেখানে ইলম আছে, অথচ আমি সেখানে যাইনি।"
আহমাদ এটি আল-ইলাল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(১) ৯৯ - ইমাম, হাফেজ (الحافظ), প্রখ্যাত আলিম আলী ইবনুল মাদিনী, যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ; তিনি বলেন:
"আমি একবার হজ আদায় করেছি এবং তখন হাদিস শ্রবণ ব্যতিরেকে আমার আর কোনো সংকল্প ছিল না …"।
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন
(২) ১০০ - ইমাম, হাফেজ (الحافظ) আবদুর রহমান, যিনি মহান ইমাম আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিসের পুত্র; তিনি বলেন:
আমি আমার পিতাকে (রাহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি:
"আমি আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসির দরজায় দাঁড়িয়ে বলেছিলাম: যে ব্যক্তি আমাকে এমন কোনো অদ্ভুত (غريب), সূত্রযুক্ত (مسند), বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস শোনাবেন যা আমি আগে শুনিনি, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে এক দিরহাম রয়েছে যা তিনি সদকা করবেন।" আবুল ওয়ালিদের দরজায় বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই জনসমষ্টির মধ্যে আবু যুরআহ এবং তাঁর পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিরাও ছিলেন। মূলত আমার উদ্দেশ্য ছিল যেন আমার সামনে এমন কিছু উপস্থাপন করা হয় যা আমি ইতিপূর্বে শুনিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০১)
به، فيقولون: هو عند فلان. فأذهب فأسمع. وكان مرادي أن أسمع منهم ما ليس عندي، فما تهيأ لأحد منهم أن يغرب علي حديثا ".
تقدمة الجرح والتعديل
(1) 101 - عن المؤمل بن إسماعيل إنه ذكر عنده الحديث الذي يروى عن أبي عن النبي صلى الله عليه وسلم في فضل القرآن
(2)، فقال: لقد حدثني رجل ثقة سماه، قال: أتيت المدائن فلقيت الرجل الذي يروي هذا الحديث، فقلت له حدثني فإني أريد أن آتي البصرة.
فقال: هذا الرجل الذي سمعنا منه هو بواسط في أصحاب القصب.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে, তখন তারা বলে: এটি অমুকের কাছে আছে। ফলে আমি সেখানে যাই এবং শুনি। আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদের কাছ থেকে এমন কিছু শোনা যা আমার কাছে নেই, কিন্তু তাদের কেউ আমার কাছে কোনো অপরিচিত (يغرب) হাদিস উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি।
তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল
(১) ১০১ - মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল থেকে বর্ণিত যে, তার নিকট কুরআনের ফজিলত সম্পর্কে উবাই থেকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন: আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বললেন: আমি মাদায়েনে গেলাম এবং সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলাম যিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেন। আমি তাকে বললাম, আমাকে এটি বর্ণনা করুন, কারণ আমি বসরায় যেতে চাই।
তিনি বললেন: এই ব্যক্তি যার কাছ থেকে আমরা এটি শুনেছি, তিনি ওয়াসিত নামক স্থানে শরকাঠি বিক্রেতাদের মধ্যে আছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০২)
قال: فأتيت واسطا فلقيت الشيخ، فقلت: إني كنت بالمدائن فدلني عليك الشيخ وإني أريد أن آتي البصرة.
قال: ان هذا الذي سمعت منه هو بالكلاء.
فأتيت البصرة فلقيت الشيخ بالكلاء، فقلت له حدثني فإني أريد أن آتي عبادان.
فقال: " إن الشيخ الذي سمعناه منه هو بعبادان ".
فأتيت عبادان فلقيت الشيخ، فقلت له: " اتق الله ما حال هذا الحديث؟ أتيت المدائن - فقصصت عليه - ثم واسطا، ثم البصرة، فدللت عليك، وما ظننت إلا أن هؤلاء كلهم قد ماتوا، فأخبرني بقصة هذا الحديث ".
فقال: " إنا اجتمعنا هنا فرأينا الناس قد رغبوا عن القرآن، وزهدوا فيه، وأخذوا في هذه الأحاديث، فقعدنا فوضعنا لهم هذه الفضائل حتى يرغبوا فيه ".
أخرجه الخطيب في الكفاية
(1) وابن الجوزي
(2)--------------------------------------------
তিনি বললেন: অতঃপর আমি ওয়াসিতে আসলাম এবং শায়খের সাথে দেখা করলাম। আমি বললাম: "আমি মাদায়েনে ছিলাম এবং সেই শায়খ আমাকে আপনার সন্ধান দিয়েছেন; আমি বসরা যেতে চাই।"
তিনি বললেন: "যার কাছ থেকে এটি শোনা হয়েছে তিনি কাল্লা-তে আছেন।"
এরপর আমি বসরা আসলাম এবং কাল্লা-তে শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তাঁকে বললাম: "আমাকে হাদিস বর্ণনা করুন, কারণ আমি আব্বাদানে যেতে চাই।"
তিনি বললেন: "আমরা যাঁর কাছ থেকে এটি শুনেছি তিনি আব্বাদানে আছেন।"
এরপর আমি আব্বাদানে আসলাম এবং শায়খের সাথে দেখা করলাম। আমি তাঁকে বললাম: "আল্লাহকে ভয় করুন, এই হাদিসের অবস্থা (حال) কী? আমি মাদায়েনে গিয়েছিলাম — তাঁকে বিস্তারিত ঘটনা বললাম — এরপর ওয়াসিত, এরপর বসরা, অতঃপর আমাকে আপনার সন্ধান দেওয়া হয়েছে। আমি তো ভেবেছিলাম তাঁরা সবাই হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাকে এই হাদিসের পেছনের ঘটনা বলুন।"
তিনি বললেন: "আমরা এখানে একত্রিত হয়েছিলাম এবং দেখলাম যে মানুষ কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে এবং এর প্রতি অনাগ্রহী হয়ে এই হাদিসগুলোর পেছনে লেগেছে। তাই আমরা বসে তাদের জন্য এই ফজিলতগুলো জাল (وضعنا) করেছি যাতে তারা কুরআনের প্রতি আগ্রহী হয়।"
খতিব আল-বাগদাদি আল-কিফায়া গ্রন্থে
(১) এবং ইবনুল জাওজি
(২) এটি উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
102 - الحافظ أبو جعفر أحمد بن حمدان النيسابوري الزاهد العابد المجاب الدعوة صاحب الكتاب الجليل " المستخرج على صحيح مسلم ".
قال أبو عمرو بن الصلاح: " رحل في حديث واحد منه إلى أبي يعلى الموصلي، ورحل في أحاديث معدودة منه لم يكن سمعها حتى سمعها.
وروينا أنه سمعه منه الشيخ القدوة أبو عثمان سعيد بن إسماعيل الزاهد الحيري، فكان إذا بلغ منه موضعا فيه سنة لم يستعملها وقف عندها إلى أن يستعملها ".
شرح مسلم لابن الصلاح
(1) 103 - الفضل بن غانم الخزاعي قاضي الري للرشيد. وكان ممن لم يجب المعتزلة ومن وافقهم من الحكام إلى القول بخلق القرآن
--------------------------------------------
১০২ - হাফিজ (الحافظ) আবু জাফর আহমাদ ইবনে হামদান আল-নিসাবুরি; যিনি ছিলেন অত্যন্ত নিরাসক্ত (الزاهد), ইবাদতগুজার (العابد) এবং যার দোয়া কবুল হয় (مجاب الدعوة)। তিনি "আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ মুসলিম" নামক সুমহান গ্রন্থের রচয়িতা।
আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন: "তিনি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত মাত্র একটি হাদিসের জন্য আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির কাছে সফর করেছিলেন, এবং আরও কয়েকটি হাদিসের জন্যও সফর করেছিলেন যা তিনি তখনও শ্রবণ করেননি, যতক্ষণ না তিনি সেগুলো সরাসরি শুনেছেন।"
বর্ণিত হয়েছে যে, অনুসরণীয় শায়খ (الشيخ القدوة) আবু উসমান সাঈদ ইবনে ইসমাইল আল-জাহিদ আল-হিরি তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন। তিনি যখন কিতাবের এমন কোনো স্থানে পৌঁছাতেন যেখানে এমন কোনো সুন্নাহর উল্লেখ থাকত যা তিনি পালন করেননি, তখন তিনি সেখানে থেমে যেতেন যতক্ষণ না তিনি সেটি আমল করতেন।"
ইবনুস সালাহ রচিত শারহু মুসলিম
(১) ১০৩ - আল-ফাদল ইবনে গানিম আল-খুজায়ি, হারুনুর রশিদের শাসনামলে রাই অঞ্চলের বিচারক (قاضي)। তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারী শাসকদের 'কুরআন সৃষ্টির' (خلق القرآن) মতবাদের ডাকে ইতিবাচক সাড়া দেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
روى إبراهيم بن محمد المخرمي حدثنا الفضل بن غانم حدثنا مالك عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جده علي رضي الله عنه قال قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قال في اليوم مائة مرة لا إله إلا الله الملك الحق المبين كان له أمان من الفقر
… الحديث "
(1).
قال: الفضل بن غانم:
"لو رحل في هذا الحديث إلى خراسان لكان قليلا "
(2).
اللسان
104 - المسيب بن واضح السلمي التلمنسي
(3).
قال الحسين بن عبد الله القطان: سمعت المسيب بن واضح يقول: " خرجت من قرية تلمنس أريد إلى مصر ابن لهيعة فأخبرت بموته ".
الميزان واللسان
(4)--------------------------------------------
ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মাখরামি বর্ণনা করেছেন, ফাদল বিন গানিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি দিনে একশ বার বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল মালিকুল হাক্কুল মুবিন’, তা তার জন্য দারিদ্র্য থেকে সুরক্ষা হবে
… হাদিস"
(১).
তিনি বলেন: ফাদল বিন গানিম:
"যদি এই হাদিসের উদ্দেশ্যে খোরাসান পর্যন্ত সফর করা হতো, তবে তা সামান্যই হতো"
(২).
আল-লিসান
১০৪ - আল-মুসায়্যিব বিন ওয়াদিহ আস-সুলামি আত-তিলমান্নাসি
(৩).
আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-কাত্তান বলেন: আমি আল-মুসায়্যিব বিন ওয়াদিহকে বলতে শুনেছি: "আমি তিলমান্নাস গ্রাম থেকে ইবনে লাহিয়ার উদ্দেশ্যে মিসরের পথে বের হলাম, অতঃপর আমাকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হলো"।
আল-মিজান এবং আল-লিসান
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
طرائف من رحلات المحدثيننقدم إليك أخبارا لطيفة من طرائف رحلات المحدثين رضي الله عنهم وأجزل مثوبتهم، نختارها من بين ما وقعنا عليه
(1) لمناسبة موضوع هذا الكتاب:
105 - الهيثم بن جميل البغدادي أبو سهل الحافظ نزيل أنطاكية. ثقة صاحب سنة يغلط على الثقات. قال سفيان بن محمد المصيصي: " شهدت الهيثم بن جميل وهو يموت وقد سجي نحو القبلة، فقامت جاريته تغمز رجليه (أي لترى صحوه) فقال: اغمزيهما فالله يعلم أنه ما مشتا إلى حرام قط ".
رحل وتجول في طلب الحديث، وتحمل الكثير، قال ابن سعد: سمعت موسى بن داود يقول:
"أفليس الهيثم بن جميل في طلب الحديث مرتين ".
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণের সফরসমূহের কিছু চমৎকার ঘটনাআমরা আপনার নিকট হাদিস বিশারদগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সফরসমূহের বিস্ময়কর ঘটনাবলি থেকে কিছু চমৎকার সংবাদ উপস্থাপন করছি এবং আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান বৃদ্ধি করে দিন; এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে আমরা আমাদের নিকট থাকা তথ্যাবলি থেকে এগুলো নির্বাচন করেছি
(১):
১০৫ - আল-হাইসাম বিন জামিল আল-বাগদাদি আবু সাহল আল-হাফিজ (الحافظ), তিনি আনতাকিয়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করতেন। সুফিয়ান বিন মুহাম্মদ আল-মাসিসি বলেন: "আমি আল-হাইসাম বিন জামিলকে তাঁর অন্তিম সময়ে প্রত্যক্ষ করেছি যখন তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করে শায়িত করা হয়েছিল। তখন তাঁর পরিচারিকা তাঁর পা মর্দন করতে শুরু করল (অর্থাৎ তাঁর চেতনা আছে কি না তা দেখতে), তখন তিনি বললেন: 'পা দুটো মর্দন করো, কারণ আল্লাহ জানেন যে, এই পা দুটো কখনো কোনো হারামের দিকে ধাবিত হয়নি'।"
তিনি হাদিস অন্বেষণে দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন এবং অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন। ইবনে সাদ বলেন: আমি মুসা বিন দাউদকে বলতে শুনেছি:
"আল-হাইসাম বিন জামিল হাদিস অন্বেষণ করতে গিয়ে দুই বার নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
توفى سنة 213. رحمه الله تعالى
(1).
106 - يعقوب بن سفيان بن جوان الفسوي
(2) المحدث الحافظ.
كان ممن جمع وصنف مع الورع والنسك والصلابة في التمسك بالسنة، قال الحاكم: " فأما سماعه ورحلته وأفراد حديثه فأكثر من أن يمكن ذكرها ".
وقال أبو عبد الرحمن النهاوندي سمعت يعقوب بن سفيان يقول: " كتبت عن ألف شيخ وكسر كلهم ثقات ".
وقال يعقوب أيضا: " قمت في الرحلة ثلاثين سنة ". وقال أبو زرعة الدمشقي: " قدم علينا رجلان من نبلاء الناس أحدهما وأرحلهما يعقوب بن سفيان، يعجز أهل العراق أن يروا مثله ".
مات سنة سبع وسبعين ومائتين.
قال عبدان بن محمد المروزي: " رأيت يعقوب بن سفيان في النوم فقلت: ما فعل الله تعالى بك؟ قال: " غفر لي وأمرني أن أحدث في السماء كما كنت أحدث في الأرض ".
ومن عنايات الله بهذا الإمام في طلبه للحديث هذا الحديث الذي أخبر به عن نفسه نسوقه عبرة لطلاب العلم:
قال محمد بن يزيد العطار سمعت يعقوب بن سفيان يقول: " كنت في رحلتي فقلت نفقتي، فكنت أدمن الكتابة ليلا، وأقرأ نهارا، فلما كان ذات ليلة كنت جالسا أنسخ في السراج، وكان شتاء، فنزل
--------------------------------------------
২১৩ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
(১)।
১০৬ - ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বিন জুওয়ান আল-ফাসায়ি
(২), তিনি ছিলেন হাদিস বিশারদ (المحدث) এবং হাফেজ (الحافظ)।
তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাকওয়া, ইবাদত এবং সুন্নাহর ওপর অটল থাকার পাশাপাশি হাদিস সংগ্রহ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম হাকিম বলেন: "তাঁর হাদিস শ্রবণ (سماع), জ্ঞানার্জনের সফর (رحلة) এবং তাঁর একক হাদিসসমূহ (أفراد) এতই বেশি যে তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।"
আবু আবদুর রহমান আল-নাহাওয়ান্দি বলেন, আমি ইয়াকুব বিন সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: "আমি এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, যাঁদের সকলেই ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"
ইয়াকুব আরও বলেন: "আমি ত্রিশ বছর জ্ঞানার্জনের সফরে (رحلة) কাটিয়েছি।" আবু জুরআহ আদ-দিমাশকি বলেন: "আমাদের নিকট দুজন উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তি এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন এবং অধিক সফরকারী ছিলেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান; ইরাকবাসী তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখতে সক্ষম হবে না।"
তিনি ২৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আবদান বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি বলেন: "আমি স্বপ্নে ইয়াকুব বিন সুফিয়ানকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আসমানেও হাদিস বর্ণনা (تحديث) করি, যেমনটা আমি জমিনে করতাম।"
হাদিস অন্বেষণে এই ইমামের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের একটি ঘটনা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন, যা আমরা শিক্ষার্থীদের উপদেশের জন্য উল্লেখ করছি:
মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আল-আত্তার বলেন, আমি ইয়াকুব বিন সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: "সফর অবস্থায় একবার আমার পাথেয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। আমি রাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখতাম এবং দিনে পড়তাম। এক শীতের রাতে আমি প্রদীপের আলোতে অনুলিপি করছিলাম, এমন সময়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
الماء في عيني فلم أبصر شيئا، فبكيت على نفسي لانقطاعي عن بلدي وعلى ما فاتني من العلم، فغلبتني عيناي فنمت فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم، فناداني: " يا يعقوب لم أنت بكيت؟ " فقلت: يا رسول الله ذهب بصري فتحسرت على ما فاتني. فقال لي: " أدن مني "، فدنوت منه فأمر يده على عيني كأنه يقرأ عليهما، ثم استيقظت فأبصرت، فأخذت نسخي وقعدت أكتب "
(1).
107 - يحيى بن معين بن عون المري الغطفاني مولاهم، أبو زكريا البغدادي:
إمام الجرح والتعديل، وأحد من انتهى إليه علم الحديث في عصره، قال: كتبت بيدي ألف ألف حديث، قال الإمام أحمد: " كان ابن معين أعلمنا بالرجال "، وقال أبو سعيد الحداد: " الناس كلهم عيال على يحيى بن معين ".
وذكر ابن عدي أن والد يحيى خلف له ثروة ضخمة ألف ألف درهم وخمسين ألف درهم، فأنفق ذلك كله على الحديث
(2)، لما توسع في طلبه ورحلاته من أجله.
ومن لطائف أخبار رحلاته، هذه الرحلة التي سافر فيها مع صديقه الإمام أحمد بن حنبل من العراق إلى اليمن للسماع من الإمام عبد الرزاق ابن همام الصنعاني حافظ اليمن، وفي العودة أراد أن يدخل الكوفة ليختبر الحافظ أبا نعيم الفضل بن دكين ويعرف حفظه وتيقظه ونباهته، وكان يرافقهما
--------------------------------------------
চোখে পানি এসে পড়ল, ফলে আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি আমার নিজের অবস্থার জন্য কাঁদলাম, কারণ আমি আমার দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম এবং যে জ্ঞান অর্জন থেকে আমি বঞ্চিত হচ্ছিলাম তার জন্য। এরপর আমার চোখে ঘুম জড়িয়ে এল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: "হে ইয়াকুব, তুমি কেন কাঁদছ?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে, তাই যা হারিয়েছি তার জন্য আমি অনুতপ্ত। তিনি আমাকে বললেন: "আমার কাছে এসো।" আমি তাঁর কাছে গেলাম, তিনি তাঁর হাত আমার চোখের ওপর বুলিয়ে দিলেন যেন তিনি তার ওপর কিছু পাঠ করছেন। এরপর আমি জেগে উঠলাম এবং দেখতে পেলাম। তখন আমি আমার পাণ্ডুলিপিগুলো নিলাম এবং লিখতে বসলাম।
(১).
১০৭ - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ইবনে আউন আল-মুররি আল-গাতাফানি, তাঁদের আযাদকৃত দাস, আবু জাকারিয়া আল-বাগদাদি:
তিনি জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমাম এবং তাঁর যুগে হাদিস বিজ্ঞানের (علم الحديث) অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি বলেছেন: "আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছি।" ইমাম আহমাদ বলেন: "ইবনে মাঈন আমাদের মধ্যে বর্ণনাকারী পুরুষদের (الرجال) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।" আবু সাঈদ আল-হাদ্দাদ বলেন: "সকল মানুষ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মুখাপেক্ষী।"
ইবনে আদি উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়ার পিতা তাঁর জন্য দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার দিরহামের এক বিশাল সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। তিনি তার পুরোটাই হাদিসের পেছনে ব্যয় করেছিলেন, কারণ তিনি হাদিস অন্বেষণ এবং এর জন্য সফরের পরিধি বিস্তৃত করেছিলেন।
(২)তাঁর সফরের চমৎকার ঘটনাবলির মধ্যে একটি হলো সেই সফর, যাতে তিনি তাঁর বন্ধু ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে ইরাক থেকে ইয়ামেন গমন করেন ইয়ামেনের হাফেজ (حافظ) আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সানআনির কাছ থেকে হাদিস শোনার জন্য। ফেরার পথে তিনি কুফায় প্রবেশ করতে চাইলেন যাতে হাফেজ (حافظ) আবু নুআইম আল-ফদল ইবনে দুকাইনের পরীক্ষা নিতে পারেন এবং তাঁর হিফজ (حفظ) তথা সংরক্ষণ ক্ষমতা, সজাগতা ও প্রখরতা যাচাই করতে পারেন। তাঁদের সাথে ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
في هذه الرحلة أحمد بن منصور الرمادي الثقة، وهذا نصه يروي قصة هذا الاختبار
(1).
قال أحمد بن منصور الرمادي: " خرجت مع أحمد ويحيى إلى عبد الرزاق أخدمهما، فلما عدنا إلى الكوفة قال يحيى لأحمد: أريد أختبر أبا نعيم. فقال له أحمد: لا تزيد الرجل إلا ثقة.
فقال يحيى: " لا بد لي "، فأخذ ورقة وكتب فيها ثلاثين حديثا من حديث أبي نعيم، وجعل على رأس كل عشرة منها حديثا ليس من حديثه، ثم جاءوا إلى أبي نعيم، فخرج فجلس على دكان، فأخرج يحيى الطبق فقرأ عليه عشرة ثم قرأ الحادي عشر، فقال أبو نعيم: ليس من حديثي، اضرب عليه، ثم قرأ العشر الثاني، وأبو نعيم ساكت، فقرأ الحديث الثاني، فقال: ليس من حديثي اضرب عليه، ثم قرأ العشر الثالث وقرأ الحديث الثالث، فانقلبت عيناه، وأقبل على يحيى فقال: أما هذا - وذراع أحمد في يده - فأورع من أن يعمل هذا، وأما هذا يريدني فأقل من أن يعمل هذا، ولكن هذا من فعلك يا فاعل، ثم أخرج رجله فرفسه، فرمى به وقام فدخل داره.
فقال أحمد ليحيى: ألم أقل لك إنه ثبت.
قال: " والله لرفسته أحب إلي من سفرتي!! ".
108 - روى عبد الرحمن بن أبي حاتم
(2) قال سمعت أبي يقول: " بقيت بالبصرة في سنة أربع عشرة ومائتين ثمانية أشهر، وكان في
--------------------------------------------
এই সফরে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনে মানসুর আল-রামাদি ছিলেন, এবং এটিই তাঁর বক্তব্য যেখানে তিনি এই পরীক্ষার ঘটনা বর্ণনা করেছেন
(১)।
আহমাদ ইবনে মানসুর আল-রামাদি বলেন: "আমি আহমাদ এবং ইয়াহইয়ার সাথে তাঁদের খেদমত করার উদ্দেশ্যে আব্দুর রাজ্জাকের কাছে গিয়েছিলাম। যখন আমরা কুফায় ফিরে আসলাম, তখন ইয়াহইয়া আহমাদকে বললেন: 'আমি আবু নুআইমকে পরীক্ষা করতে চাই।' আহমাদ তাঁকে বললেন: 'তুমি তাঁর মাঝে কেবল নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)-ই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে দেখবে।'
ইয়াহইয়া বললেন: 'আমাকে এটি করতেই হবে।' অতঃপর তিনি একটি কাগজ নিলেন এবং তাতে আবু নুআইমের বর্ণিত হাদিসসমূহ থেকে ত্রিশটি হাদিস লিখলেন। তিনি প্রতি দশটি হাদিসের শুরুতে এমন একটি হাদিস যুক্ত করলেন যা তাঁর (আবু নুআইমের) হাদিস নয়। এরপর তাঁরা আবু নুআইমের কাছে আসলেন। তিনি বেরিয়ে এসে একটি উঁচু স্থানে বসলেন। ইয়াহইয়া সেই কাগজটি বের করলেন এবং তাঁর সামনে দশটি হাদিস পাঠ করলেন, এরপর একাদশতম হাদিসটি পড়লেন। তখন আবু নুআইম বললেন: 'এটি আমার হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।' এরপর তিনি দ্বিতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং আবু নুআইম চুপ ছিলেন। এরপর তিনি (দ্বিতীয় ভুল) হাদিসটি পড়লেন। তখন আবু নুআইম বললেন: 'এটি আমার হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।' এরপর তিনি তৃতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং তৃতীয় (ভুল) হাদিসটি পড়লেন। তখন আবু নুআইমের চক্ষুদ্বয় স্থির হয়ে গেল (রাগে)। তিনি ইয়াহইয়ার দিকে ফিরে বললেন: 'এই যে ব্যক্তিটি—তিনি আহমাদের বাহু ধরে ছিলেন—তিনি এ ধরনের কাজ করার চেয়ে অনেক বেশি পরহেজগার। আর এই যে ব্যক্তিটি, সে এ কাজ করার মতো যোগ্যতাই রাখে না। কিন্তু হে পাপিষ্ঠ! এটি তোমারই কাজ।' এরপর তিনি তাঁর পা বাড়িয়ে তাঁকে লাথি মারলেন, ফলে ইয়াহইয়া ছিটকে পড়লেন। এরপর আবু নুআইম উঠে তাঁর ঘরে ঢুকে গেলেন।
তখন আহমাদ ইয়াহইয়াকে বললেন: 'আমি কি তোমাকে বলিনি যে তিনি একজন সুদৃঢ় (ثبت) ব্যক্তি?'
ইয়াহইয়া বললেন: 'আল্লাহর কসম! তাঁর এই লাথি আমার কাছে আমার এই সফরের চেয়েও বেশি প্রিয়!'
১০৮ - আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম
(২) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আমি ২১৪ হিজরি সনে বসরায় আট মাস অবস্থান করেছিলাম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
نفسي أن أقيم سنة! فانقطع نفقتي، فجعلت أبيع ثياب بدني شيئا بعد شئ، حتى بقيت بلا نفقة، ومضيت أطوف مع صديق لي إلى المشيخة، وأسمع منهم إلى المساء، فانصرف رفيقي ورجعت إلى بيت خال، فجعلت أشرب الماء من الجوع، ثم أصبحت من الغد وغدا علي رفيقي فجعلت أطوف معه في سماع الحديث على جوع شديد، فانصرف عني وانصرفت جائعا.
فلما كان من الغد غدا علي. فقال: " مر بنا إلى المشايخ ".
قلت: " أنا ضعيف لا يمكنني " قال: " ما ضعفك؟ ".
قلت: " لا أكتمك أمري، قد مضى يومان ما طعمت فيهما شيئا ".
فقال: " قد بقي معي دينار، فأنا أواسيك بنصفه، ونجعل النصف الآخر في الكراء ".
فخرجنا من البصرة. وقبضت منه النصف دينار.
109 - الحافظ الإمام الجوال الفضل بن محمد بن المسيب البيهقي، الشعراني المتوفي سنة 282 هـ، كان أديبا فقيها، عابدا، عارفا بالرجال.
قال ابن المؤمل:
"كنا نقول: ما بقي بلد لم يدخله الفضل الشعراني في طلب الحديث إلا الأندلس ".
تذكرة الحفاظ
(1)--------------------------------------------
আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুন্নাহ (سنة) জীবিত রাখা! একপর্যায়ে আমার ব্যয়ভার নির্বাহের সংস্থান ফুরিয়ে গেল, ফলে আমি আমার পরিহিত বস্ত্রাদি একে একে বিক্রি করতে শুরু করলাম, এমনকি আমি নিঃস্ব হয়ে পড়লাম। আমি আমার এক বন্ধুর সাথে মাশায়েখদের নিকট যাতায়াত করতাম এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতাম। এরপর আমার সঙ্গী বিদায় নিতেন আর আমি এক শূন্য ঘরে ফিরে আসতাম; ক্ষুধার তাড়নায় কেবল পানি পান করতাম। পরদিন সকালে আমার বন্ধু পুনরায় আমার কাছে আসতেন এবং আমি প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে হাদিস শ্রবণের জন্য তাঁর সাথে ঘুরে বেড়াতাম। এরপর তিনি চলে যেতেন আর আমিও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরে আসতাম।
পরদিন সকালে তিনি যখন আমার নিকট আসলেন, তখন বললেন: "চলুন, আমাদের সাথে মাশায়েখদের নিকট যাই।"
আমি বললাম: "আমি দুর্বল (ضعيف), আমার পক্ষে সম্ভব নয়।" তিনি বললেন: "আপনার এই দুর্বলতার কারণ কী?"
আমি বললাম: "আপনার কাছে আমার অবস্থা গোপন করব না; গত দুই দিন যাবৎ আমি কিছুই আহার করিনি।"
তিনি বললেন: "আমার নিকট একটি দিনার অবশিষ্ট আছে, আমি এর অর্ধেক দিয়ে আপনার সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করছি (অর্ধেক আপনাকে দিচ্ছি), আর বাকি অর্ধেক আমরা যাতায়াত ভাড়ার জন্য রাখব।"
অতঃপর আমরা বসরা থেকে বের হলাম এবং আমি তাঁর কাছ থেকে অর্ধেক দিনার গ্রহণ করলাম।
109 - হাফেজ (الحافظ), ইমাম, পরিব্রাজক আল-ফজল বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-বাইহাকি আল-শা’রানি; তিনি ২৮২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, ফকিহ, ইবাদতগুজার এবং বর্ণনাকারী শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ (عارفا بالرجال)।
قال ابن المؤمل:
"আমরা বলতাম: হাদিস অন্বেষণের সফরে ফজল আল-শা’রানি আন্দালুস ব্যতীত এমন কোনো জনপদ বাকি রাখেননি যেখানে তিনি প্রবেশ করেননি।"
তাযকিরাতুল হুফফায
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১০)
110 - الحافظ البارع الجوال الزاهد القدوة محمد بن المسيب بن إسحاق الأرغياني، المتوفي سنة 315 هـ.
قال الإمام أبو عبد الله الحاكم: " كان من العباد المجتهدين، سمعت غير واحد من مشايخنا يذكرون عنه أنه قال: " ما أعلم منبرا من منابر الإسلام بقي علي لم أدخله لسماع الحديث، وسمعت أبا إسحاق المزكي يقول سمعت محمد بن المسيب يقول: " كنت أمشي في مصر، وفي كمي مائة جزء، في كل جزء ألف حديث ". وسمعت أبا علي الحافظ يقول: " كان محمد بن المسيب يمشي بمصر وفي كمه مائة ألف حديث، كان دقيق الخط، وصار هذا كالمشهور من شأنه ".
تذكرة الحفاظ
(1) 111 - محدث أصبهان الإمام الراحل الحافظ الثقة أبو بكر محمد بن إبراهيم بن علي الأصبهاني الخازن المشهور بابن المقرئ المتوفي سنة 381 هـ.
سمع مالا يحصى كثره. قال أبو طاهر أحمد بن محمود: سمعت ابن المقرئ يقول: " طفت الشرق والغرب أربع مرات ".
وعن ابن المقرئ قال: " مشيت بسبب نسخة
(2) مفضل بن فضالة سبعين مرحلة، ولو عرضت على خبار برغيف لم يقبلها ".
--------------------------------------------
১১০ - হাফিজ (الحافظ), অত্যন্ত প্রাজ্ঞ, পর্যটক, জাহিদ (الزاهد) ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব বিন ইসহাক আল-আরগিয়ানি, মৃত্যু ৩১৫ হিজরী।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: "তিনি পরিশ্রমী ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমি আমাদের একাধিক উস্তাদের নিকট তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলতেন: 'ইসলামের জনপদসমূহের এমন কোনো মিম্বার সম্পর্কে আমার জানা নেই যেখানে হাদিস শোনার উদ্দেশ্যে আমি গমন করিনি।' আমি আবু ইসহাক আল-মুযাক্কিকে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িবকে বলতে শুনেছেন: 'আমি মিশরে ভ্রমণ করতাম এমতাবস্থায় যে, আমার আস্তিনে একশতটি জুজ (جزء) থাকত এবং প্রতিটি জুজে এক হাজার হাদিস ছিল।' আমি আবু আলী আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি: 'মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব মিশরে চলাফেরা করতেন এবং তাঁর আস্তিনে এক লক্ষ হাদিস থাকত। তাঁর হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এটি তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল'।"
তাজকিরাতুল হুফফাজ
(১) ১১১ - আসবাহানের মুহাদ্দিস, প্রখ্যাত ইমাম, হাফিজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة) আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আলী আল-আসবাহানি আল-খাজিন, যিনি ইবনুল মুকরি নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু ৩৮১ হিজরী।
তিনি অগণিত হাদিস শ্রবণ করেছেন। আবু তাহির আহমদ বিন মাহমুদ বলেন: আমি ইবনুল মুকরিকে বলতে শুনেছি: "আমি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য চারবার ভ্রমণ করেছি।"
ইবনুল মুকরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মুফাদদাল বিন ফাদালাহ-এর নুসখা (نسخة) বা পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের জন্য সত্তর মারহালা (مرحلة) বা মঞ্জিল পথ হেঁটেছি; অথচ তা যদি কোনো রুটি বিক্রেতার নিকট একটি রুটির বিনিময়ে পেশ করা হতো, তবে সে তা গ্রহণ করত না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১১)
وقال أبو طاهر بن سلمة: " سمعت ابن المقرئ يقول: دخلت بيت المقدس عشر مرات
… ".
تذكرة الحفاظ
(1) 112 - المحدث الحافظ محمد بن إسحاق بن يحيى بن منده الأصبهاني الرحالة، كان من أئمة هذا الشأن وثقاتهم، ولد سنة عشر وثلاثمائة، وسمع سنة ثماني عشرة وبعدها، ورحل سنة ثلاثين إلى نيسابور فأدرك أبو حامد بن بلال وكتب عن الأصم نحوا من ألف جزء، ثم رحل إلى بغداد فلقي ابن البختري والصفار، ولقي بدمشق خيثمة بن سليمان وطبقته، ولقي بمكة أبا سعيد بن الأعرابي، وبمصر أبا الطاهر المديني وببخارى ومرو وبلخ جماعة، وطوف الأقاليم، وكتب بيده عدة أحمال، وبقي في الرحلة نحوا من أربعين سنة، ثم عاد إلى وطنه شيخا، فتزوج، ورزق الأولاد، ويقال إنه لما رجع إلى بلده أصبهان قدمها ومعه أربعون حملا من الكتب والأجزاء، قال ابن منده رحمه الله: " كتبت عن ألف شيخ وسبعمائة شيخ ". وكان من دعاة السنة وحفاظ الأثر، حدث بالكثير، حتى توفي سنة 395، قال الباطرقاني: " إمام الأئمة في الحديث " رحمه الله.
تذكرة الحفاظ
(2) 113 - الحافظ العالم المكثر الجوال أبو الفضل محمد بن طاهر بن
--------------------------------------------
আবু তাহের বিন সালামা বলেছেন: "আমি ইবনুল মুকরিকে বলতে শুনেছি: আমি দশবার বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করেছি
… "।
তাযকিরাতুল হুফফায
(১) ১১২ - মুহাদ্দিস হাফিজ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ আল-আসফাহানি আর-রাহহালাহ। তিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ৩১০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১৮ হিজরি ও তার পরবর্তী সময়ে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ৩৩০ হিজরিতে নিশাপুরে সফর করেন এবং আবু হামিদ বিন বিলালকে পান এবং আল-আসাম-এর নিকট থেকে প্রায় এক হাজার জুয (অংশ) লেখেন। এরপর তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং ইবনুল বাখতারি ও আস-সাফফারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। দামেস্কে তিনি খাইসামাহ বিন সুলাইমান এবং তার সমসাময়িক স্তরের ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। মক্কায় তিনি আবু সাঈদ বিন আল-আরাবি এবং মিশরে আবু তাহের আল-মাদিনি এবং বুখারা, মার্ভ ও বলখে এক জামাতের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন এবং নিজ হাতে বহু বোঝা পরিমাণ কিতাব লেখেন। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর সফরে অতিবাহিত করেন। অতঃপর বৃদ্ধ বয়সে নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং বিবাহ করেন ও সন্তান লাভ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, যখন তিনি তার শহর আসফাহানে ফিরে আসেন, তখন তার সাথে চল্লিশটি উটের বোঝা পরিমাণ কিতাব ও পান্ডুলিপি ছিল। ইবনে মানদাহ (রহ.) বলেন: "আমি এক হাজার সাতশত শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি।" তিনি ছিলেন সুন্নাহর দাওয়াত দানকারী এবং হাদিস সংরক্ষণকারী (حافظ الأثر)। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেন এবং ৩৯৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। বাতরেকানি বলেন: "হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ইমামদের ইমাম (ইমামুল আইম্মাহ)।" আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তাযকিরাতুল হুফফায
(২) ১১৩ - হাফিজ ও আলিম, প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر) ও পর্যটক আবু ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১২)
علي المقدسي، المتوفي سنة 507 ما كان على وجه الأرض له نظير، قال السلفي سمعت ابن طاهر يقول: " كتبت الصحيحين وسنن أبي داود سبع مرات بالأجرة
… ".
وقال أبو مسعود عبد الرحيم الحاجي سمعت ابن طاهر يقول " بلت الدم في طلب الحديث مرتين: مرة ببغداد، ومرة بمكة، كنت أمشي حافيا في الحر فلحقني ذلك، وما ركبت دابة قط في طلب الحديث، وكنت أحمل كتبي على ظهري ".
تذكرة الحفاظ
(1) 114 - الحافظ الإمام علم السنة عبيد الله بن سعيد بن حاتم أبو نصر السجزي المتوفي سنة 444 هـ. من أحفظ أهل زمانه للحديث، طوف الآفاق في طلب الحديث.
قال الحافظ أبو إسحاق الحبال: " كنت يوما عند أبي نصر السجزي فدق الباب، فقمت ففتحته، فدخلت امرأة وأخرجت كيسا فيه ألف دينار، فوضعته بين يدي الشيخ وقالت: " أنفقها كما ترى ".
قال: " ما المقصود؟ ".
قالت: " تتزوجني، ولا حاجة لي في الزوج، ولكن لأخدمك "!
فأمرها بأخذ الكيس وأن تنصرف، فلما انصرفت قال: " خرجت من سجستان بنية طلب العلم، ومتى تزوجت سقط عني هذا الاسم، وما أوثر
--------------------------------------------
আলী আল-মাকদিসি, যিনি ৫০৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, তাঁর সমসাময়িক পৃথিবীতে তাঁর কোনো তুলনা ছিল না। আস-সালাফি বলেন, আমি ইবনে তাহিরকে বলতে শুনেছি: "আমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সহীহাইন এবং সুনানে আবু দাউদ সাতবার লিখেছি
… "।
আবু মাসউদ আবদুর রহীম আল-হাজি বলেন, আমি ইবনে তাহিরকে বলতে শুনেছি: "হাদিস অন্বেষণের পথে আমি দুইবার রক্ত প্রস্রাব করেছি: একবার বাগদাদে এবং একবার মক্কায়। আমি প্রচণ্ড গরমে খালি পায়ে হাঁটতাম, ফলে আমার এই অবস্থা হয়েছিল। আমি হাদিস অন্বেষণে কখনো কোনো সওয়ারিতে আরোহণ করিনি এবং আমি আমার বইপত্র নিজের পিঠে বহন করতাম।"
তাযকিরাতুল হুফফাজ
(১) ১১৪ - হাফিজ (الحافظ), ইমাম (الإمام), সুন্নাহর নিদর্শন উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন হাতিম আবু নাসর আস-সিজযি, যিনি ৪৪৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক হাদিস বিশারদদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফিজ (أحفظ) ছিলেন এবং হাদিস অন্বেষণে দিগদিগন্ত সফর করেছেন।
হাফিজ (الحافظ) আবু ইসহাক আল-হাব্বাল বলেন: "আমি একদিন আবু নাসর আস-সিজযির নিকট ছিলাম। তখন দরজায় করাঘাত হলো। আমি উঠে দরজা খুললাম। একজন মহিলা প্রবেশ করলেন এবং এক হাজার দিনার ভর্তি একটি থলি বের করলেন। তিনি সেটি শায়খের সামনে রেখে বললেন: 'এটি আপনার ইচ্ছানুযায়ী ব্যয় করুন'।"
তিনি বললেন: "এর উদ্দেশ্য কী?"
তিনি বললেন: "আপনি আমাকে বিবাহ করবেন; আমার স্বামীর কোনো প্রয়োজন নেই, বরং আমি কেবল আপনার সেবা করতে চাই!"
অতঃপর তিনি তাকে থলিটি নিয়ে চলে যেতে নির্দেশ দিলেন। যখন তিনি চলে গেলেন, শায়খ বললেন: "আমি ইলম অর্জনের নিয়তে সিজস্তান থেকে বের হয়েছি। যদি আমি বিবাহ করি, তবে আমার এই উপাধি (ইলম অন্বেষণকারী) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর আমি কোনো কিছুকেই ইলমের ওপর প্রাধান্য দেই না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
عنه ثواب طلب العلم شيئا ".
تذكرة الحفاظ
(1) 115 - الإمام الكبير الجهبذ أبو حاتم محمد بن إدريس بن المنذر الحنظلي الرازي إمام المحدثين في الحديث وفي الجرح والتعديل ومعرفة العلل والرجال، المتوفى سنة 277 هـ. رحلته من أطرف رحلات المحدثين.
روى ابنه عبد الرحمن عنه في كتابه " تقدمة الجرح والتعديل " قال: سمعت أبي يقول: " أول سنة خرجت في طلب الحديث أقمت سبع سنين أحصيت ما مشيت على قدمي زيادة على ألف فرسخ
(2)، لم أزل أحصي حتى زاد على ألف فرسخ تركته
(3)، أما ما كنت سرت أنا من الكوفة إلى بغداد فمالا أحصي كم مرة، ومن مكة إلى المدينة مرات كثيرة، وخرجت من البحرين من قرب مدينة صلا، إلى مصر ماشيا، ومن مصر إلى الرملة ماشيا، ومن الرملة إلى بيت المقدس، ومن الرملة إلى عسقلان، ومن الرملة إلى طبرية، ومن طبرية إلى دمشق، ومن دمشق إلى حمص، ومن حمص إلى أنطاكية، ومن أنطاكية إلى طرسوس، ثم رجعت من طرسوس إلى حمص، وكان بقي علي شئ من حديث أبي اليمان فسمعت، ثم خرجت من حمص إلى بيسان، ومن بيسان إلى الرقة، ومن الرقة ركبت الفرات إلى بغداد، وخرجت قبل خروجي إلى الشام من واسط
--------------------------------------------
তাঁর থেকে ইলম অন্বেষণের সওয়াব সম্পর্কে সামান্য কিছু অংশ।"
তাজকিরাতুল হুফফাজ
(১) ১১৫ - মহান ইমাম (الإمام) ও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক (الجهبذ) আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবন ইদ্রিস ইবন আল-মুনজির আল-হানজালি আর-রাজি। তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে এবং সমালোচনা ও গুণাবলি নির্ধারণ (الجرح والتعديل), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) ও বর্ণনাকারী (الرجال) বিষয়ক জ্ঞানে হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) ইমাম (إمام) ছিলেন। মৃত্যু: ২৭৭ হিজরি। তাঁর সফর ছিল হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) সফরসমূহের মধ্যে অন্যতম বিস্ময়কর।
তাঁর পুত্র আবদুর রহমান তাঁর "তাকদিমাতুল জারহ ওয়াত তা'দিল" গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "প্রথম বছর যখন আমি হাদিস অন্বেষণে বের হই, তখন আমি সাত বছর অবস্থান করি। আমি পদব্রজে যতটুকু পথ চলেছি তা গণনা করেছি, যা এক হাজার ফারসাখের বেশি ছিল।
(২) আমি এক হাজার ফারসাখ অতিক্রম করা পর্যন্ত গণনা অব্যাহত রাখি, এরপর তা ছেড়ে দিই
(৩)। আর কুফা থেকে বাগদাদ আমি কতবার যাতায়াত করেছি তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। মক্কা থেকে মদিনায় গিয়েছি বহুবার। আমি বাহরাইনের সলা শহরের নিকট থেকে পায়ে হেঁটে মিশরে গিয়েছি, মিশর থেকে রামলায় পায়ে হেঁটে, রামলা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস, রামলা থেকে আসকালান, রামলা থেকে তাবারিয়া, তাবারিয়া থেকে দামেস্ক, দামেস্ক থেকে হিমস, হিমস থেকে আনতাকিয়া এবং আনতাকিয়া থেকে তারসুস পর্যন্ত গিয়েছি। এরপর তারসুস থেকে হিমসে ফিরে আসি। সেখানে আবু আল-ইয়ামান এর কিছু হাদিস আমার বাকি ছিল, তা আমি শ্রবণ করি। এরপর হিমস থেকে বাইসান, বাইসান থেকে রাক্কাহ এবং রাক্কাহ থেকে ফুরাত নদী হয়ে বাগদাদে আসি। আর শামে যাওয়ার আগে আমি ওয়াসিত থেকে বের হয়েছিলাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
إلى النيل، ومن النيل إلى الكوفة، كل ذلك ماشيا، كل هذا في سفري الأول، وأنا ابن عشرين سنة أجول سبع سنين، خرجت من الري سنة ثلاث عشرة ومائتين
… في شهر رمضان، ورجعت سنة إحدى وعشرين ومائتين
… ".
تقدمة الجرح والتعديل
(1) 116 - وقال عبد الرحمن بن أبي حاتم: سمعت أبي يقول: " كنا في البحر، فاحتلمت، فأصبحت وأخبرت أصحابي به، فقالوا لي: اغمس نفسك في البحر. قلت: إني لا أحسن أن أسبح فقالوا: إنا نشد فيك حبلا ونعلقك من الماء ".
"فشدوا في حبلا وأرسلوني في الماء وأنا في الهواء أريد إسباغ الوضوء فلما توضأت قلت لهم: أرسلوني قليلا، فأرسلوني، فغمست نفسي في الماء قلت: ارفعوني، فرفعوني ".
تقدمة الجرح والتعديل
(2) 117 - وقال عبد الرحمن بن أبي حاتم: سمعت أبي يقول:
"لما خرجنا من المدينة من عند داود الجعفري صرنا إلى الجار
(3) وركبنا البحر، وكنا ثلاثة أنفس: أبو زهير المروروذي شيخ، وآخر
--------------------------------------------
...নীল নদ পর্যন্ত, এবং নীল নদ থেকে কুফা পর্যন্ত—এই সবটুকুই পায়ে হেঁটে। এই সবই ছিল আমার প্রথম সফরে, আর তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। আমি সাত বছর পরিভ্রমণ করেছি। আমি ২১৩ হিজরি সনের রমজান মাসে রাই শহর থেকে বের হয়েছিলাম এবং ২২১ হিজরি সনে ফিরে এসেছিলাম
…।
তাকদিমাতুল জরাহ ও তাদীল
(১) ১১৬ - আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আমরা সমুদ্রে ছিলাম, তখন আমার স্বপ্নদোষ হলো। ভোরে আমি আমার সঙ্গীদের তা জানালাম। তারা আমাকে বললেন: 'নিজেকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিন।' আমি বললাম: 'আমি তো সাঁতার কাটতে জানি না।' তারা বললেন: 'আমরা আপনার শরীরে একটি রশি বাঁধব এবং আপনাকে পানিতে ঝুলিয়ে দেব'।"
"অতঃপর তারা আমার শরীরে রশি বাঁধলেন এবং আমাকে পানির দিকে নামিয়ে দিলেন। আমি শূন্যে থাকা অবস্থায় পরিপূর্ণভাবে ওজু করতে চাচ্ছিলাম। যখন আমি ওজু সম্পন্ন করলাম, তখন তাদের বললাম: 'আমাকে সামান্য নিচে নামান।' তারা আমাকে নামালেন এবং আমি নিজেকে পানিতে ডুবিয়ে দিলাম। এরপর বললাম: 'আমাকে উপরে তুলুন,' তখন তারা আমাকে উপরে তুললেন।"
তাকদিমাতুল জরাহ ও তাদীল
(২) ১১৭ - আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি:
"যখন আমরা দাউদ আল-জাফরির নিকট থেকে মদিনা ত্যাগ করলাম, আমরা আল-জার
(৩) নামক বন্দরে পৌঁছালাম এবং সমুদ্রে আরোহণ করলাম। আমরা মোট তিনজন ব্যক্তি ছিলাম: আবু জুহাইর আল-মারওয়ারুজি নামক একজন শায়খ (شيخ), এবং অপর একজন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইস্তিদরাকুয যিয়াদাত আলা কিতাবির রিহলা
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
نيسابوري. فركبنا البحر وكانت الريح في وجوهنا، فبقينا في البحر ثلاثة أشهر، وضاقت صدورنا، وفني ما كان معنا من الزاد، وبقيت بقية، فخرجنا إلى البر فجعلنا نمشي أياما على البر حتى فني ما كان معنا من الزاد والماء، فمشينا يوما وليلة لم يأكل أحد منا شيئا ولا شربنا، واليوم الثاني كمثله، واليوم الثالث. كل يوم نمشي إلى الليل، فإذا جاء المساء صلينا وألقينا بأنفسنا حيث كنا، وقد ضعفت أبداننا من الجوع والعطش والعياء، فلما أصبحنا اليوم الثالث جعلنا نمشي على قدر طاقتنا، فسقط الشيخ مغشيا عليه، فجئنا نحركه وهو لا يعقل، فتركناه ومشينا أنا وصاحبي النيسابوري قدر فرسخ أو فرسخين، فضعفت وسقطت مغشيا علي، ومضى صاحبي وتركني، فلم يزل هو يمشي إذ بصر من بعيد قوما قد قربوا سفينتهم من البر، ونزلوا على بئر موسى صلى الله عليه وسلم، فلما عاينهم لوح بثوبه إليهم، فجاءوه معهم الماء في إداوة، فسقوه وأخذوا بيده.
فقال لهم: الحقوا رفيقين لي قد ألقوا بأنفسهم مغشيا عليهم، فما شعرت إلا برجل يصب الماء على وجهي، ففتحت عيني فقلت: اسقني فصب من الماء في ركوة أو مشربة شيئا يسيرا، فشربت ورجعت إلي نفسي، ولم يروني ذلك القدر، فقلت: اسقني فسقاني شيئا يسيرا، وأخذ بيدي، فقلت: ورائي شيخ ملقى، قال: قد ذهب إلى ذاك جماعة، فأخذ بيدي وأنا أمشي أجر رجلي، ويسقيني شيئا بعد شئ، حتى إذا بلغت إلى عند سفينتهم وأتوا برفيقي الثالث الشيخ، وأحسنوا إلينا أهل السفينة، فبقينا أياما حتى رجعت إلينا أنفسنا.
নিসাবুরী। অতঃপর আমরা সমুদ্রে আরোহণ করলাম এবং বাতাস আমাদের প্রতিকূলে ছিল। ফলে আমরা সমুদ্রে তিন মাস অবস্থান করলাম এবং আমাদের মন সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। আমাদের সাথে যে পাথেয় ছিল তা ফুরিয়ে গেল এবং সামান্য কিছু অবশিষ্ট রইল। এরপর আমরা স্থলভাগে বের হলাম এবং কয়েকদিন হাঁটতে থাকলাম, শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকা খাদ্য ও পানি নিঃশেষ হয়ে গেল। আমরা একদিন ও একরাত এমনভাবে হাঁটলাম যে আমাদের কেউ কিছুই আহার করেনি এবং আমরা পানও করিনি। দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিনও একইভাবে কাটল। প্রতিদিন আমরা রাত পর্যন্ত হাঁটতাম; যখন সন্ধ্যা হতো আমরা সালাত আদায় করতাম এবং যেখানে থাকতাম সেখানেই লুটিয়ে পড়তাম। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তিতে আমাদের শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যখন তৃতীয় দিন সকাল হলো, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটতে লাগলাম। এক পর্যায়ে শায়খ (الشيخ) সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন। আমরা তাকে নড়াচড়া করানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তিনি তখন চেতনাহীন ছিলেন। আমরা তাকে রেখে আমি ও আমার নিসাবুরী সঙ্গী প্রায় এক বা দুই ফরসাখ পরিমাণ পথ হাঁটলাম। এরপর আমিও দুর্বল হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে গেলাম এবং আমার সঙ্গী আমাকে রেখে চলে গেল। সে একনাগাড়ে হাঁটতে থাকল এবং দূর থেকে একদল লোককে দেখতে পেল যারা তাদের জাহাজটি তীরের কাছে ভিড়িয়েছে এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কূয়ার নিকট অবতরণ করেছে। যখন সে তাদের দেখতে পেল, নিজের কাপড় দিয়ে তাদের ইশারা করল। তারা চামড়ার মশক ভর্তি পানি নিয়ে তার নিকট এল, তাকে পান করাল এবং তার হাত ধরল।
সে তাদের বলল: আমার অপর দুই সঙ্গীর সাহায্যে এগিয়ে যান যারা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। হঠাৎ আমি অনুভব করলাম এক ব্যক্তি আমার মুখে পানি ছিটাচ্ছে। আমি চোখ খুললাম এবং বললাম: আমাকে পানি পান করাও। সে একটি ছোট পাত্র বা পেয়ালায় সামান্য পরিমাণ পানি ঢালল, আমি তা পান করলাম এবং আমার প্রাণ ফিরে এল। তারা আমাকে বেশি পানি পান করতে দিল না। আমি বললাম: আমাকে আরও পান করাও। সে আমাকে সামান্য পান করাল এবং আমার হাত ধরল। আমি বললাম: আমার পেছনে এক শায়খ (الشيخ) পড়ে আছেন। সে বলল: একদল লোক তার কাছে গিয়েছে। অতঃপর সে আমার হাত ধরল আর আমি পা টেনে টেনে হাঁটছিলাম; সে আমাকে অল্প অল্প করে পানি পান করাচ্ছিল। অবশেষে যখন আমি তাদের জাহাজের নিকট পৌঁছালাম, তারা আমার তৃতীয় সঙ্গী শায়খকেও (الشيخ) নিয়ে এল। জাহাজের আরোহীরা আমাদের প্রতি অত্যন্ত সদয় আচরণ করল এবং আমরা সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করলাম, যতক্ষণ না আমাদের প্রাণশক্তি ফিরে আসল।