(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: -)
مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق القسم: أصول الفقه
الكتاب: مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق
المؤلف: جمال الدين الإسنوي
المحقق: الدكتور نصر الدين فريد محمد واصل
الناشر: دار الشروق، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 2007 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رجب 1440
মুতালেউদ দাকাইক ফী তাহরীরিল জাওয়ামি' ওয়াল ফাওয়ারিক বিভাগ: উসূলে ফিকহ
কিতাব: মুতালেউদ দাকাইক ফী তাহরীরিল জাওয়ামি' ওয়াল ফাওয়ারিক
লেখক: জামালুদ্দীন আল-ইসনাবী
তাহকীক: ডক্টর নাসর উদ্দীন ফারিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল
প্রকাশক: দারুশ শুরূক, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রজব ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১)
مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق
للإمام جمال الدين الأسنوي
(1)تحقيق فضيلة الدكتور نصر الدين فريد محمد واصل
مفتي الديار المصرية السابق
دار الشروق
মুতালিউদ্দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
ইমাম জামালুদ্দীন আল-আসনাবীর প্রণীত
(১)সম্মানিত ডক্টর নসরুদ্দীন ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল-এর গবেষণা ও সম্পাদনা
মিসরের সাবেক প্রধান মুফতি
দারুশ শুরূক
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২)
مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق
للإمام جمال الدين الأسنوي
المتوفي سنة 772 هـ
(1)دراسة لفضيلة الدكتور نصر الدين فريد محمد واصل
مفتي الديار المصرية السابق
دار الشروق
আল-জাওয়ামি ওয়া আল-ফাওয়ারিক-এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে মাতালি আদ-দাকাইক
ইমাম জামালুদ্দিন আল-আসনাবি বিরচিত
মৃত্যু: ৭৭২ হিজরি
(১)বিশিষ্ট ডক্টর নাসর উদ্দিন ফরিদ মুহাম্মদ ওয়াসিল-এর গবেষণা ও সম্পাদনা
মিশরের প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি
দারুশ শুরূক
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৪)
طبعة دار الشروق الأولى
2007
جميع حقوق الطبع محفوظة
دار الشروق
8 شارع سيبويه المصرى
مدينة نصر - القاهرة - مصر
تليفون: 24023399
فاكس: 24037567 (202)
email: dar@shorouk.com
www.shorouk.com
দারুশ শুরূক প্রথম সংস্করণ
২০০৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দারুশ শুরূক
৮ সিবওয়াইহ আল-মিসরি স্ট্রিট
নাসর সিটি - কায়রো - মিশর
টেলিফোন: ২৪০২৩৩৯৯
ফ্যাক্স: ২৪০৩৭৫৬৭ (২০২)
ইমেইল: dar@shorouk.com
www.shorouk.com
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولى للقسم الأول "الدراسى"
الحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف خلق اللَّه أجمعين وخاتم النبيين والمرسلين محمد بن عبد اللَّه الهادى الأمين وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين. . وبعد. .
فإن من فضل اللَّه علىّ أن هدانى وأعاننى على تحقيق هذا الكتاب تحقيقًا علميًا وتقديمه للباحثين وطلاب العلم ودقائق الفقه والمعرفة فى كنوز تراثنا العربى والإسلامى الأصيل، وذلك لإثراء المكتبة الإسلامية المطبوعة والمنشورة لخدمة الدين الإِسلامى وتشريعه العملى بين الناس جميعًا بالحكمة والموعظة الحسنة إلى أن يرث اللَّه الأرض ومن عليها.
وهذا الكتاب المحقق "مطالع الدقائق فى تحرير الجوامع والفوارق" هو أحد كتب التراث الفقهى الإسلامى النادرة، التى تعد على أصابع اليد طيلة عصور التاريخ الفقهى والعلمى الإسلامى. ولهذه الأهمية فقد كان ذلك الكتاب هو موضوع رسالتى العلمية التى شرفنى اللَّه بها ونلت بها درجة العالمية "الدكتوراه" فى الفقه المقارن بمرتبة الشرف الأولى بالإجماع سنة 1392 هـ/ 1972 م من كلية الشريعة والقانون جامعة الأزهر. وكانت لجنة المناقشة والحكم تتكون من: فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور عبد الغنى محمد عبد الخالق أستاذ الفقه والأصول وشيخ المحققين بالجامعة، وفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد أنيس عبادة أستاذ الأصول والفقه المقارن بالكلية، وفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور بدران أبو العينين بدران أستاذ ورئيس قسم الشريعة الإسلامية فى كلية الحقوق جامعة الإسكندرية فى ذلك الوقت. وهم جميعًا من القمم العلمية الإسلامية المخلدة فى تاريخنا الإسلامى بفضلها على العلم وطلابه، وآثارها العلمية إلى ما شاء اللَّه سبحانه وتعالى.
প্রথম অংশের (গবেষণামূলক) প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম, নবী ও রাসূলগণের মোহর, সত্যপথের দিশারি ও বিশ্বস্ত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর...
এটি আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি আমাকে এই গ্রন্থটির একটি বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা সম্পন্ন করার এবং গবেষক ও জ্ঞানান্বেষীদের নিকট আমাদের মৌলিক আরবি ও ইসলামি ঐতিহ্যের ভাণ্ডার থেকে ফিকহ ও জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি উপস্থাপনের তাওফিক ও সাহায্য দান করেছেন। এর লক্ষ্য হলো মুদ্রিত ও প্রকাশিত ইসলামি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করা, যাতে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ইসলামি দ্বীন ও এর ব্যবহারিক বিধানসমূহের খিদমত করা যায়, যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন।
সম্পাদিত এই গ্রন্থটি "মাতালিউদ দাকায়িক ফি তাহরীরিল জাওয়ামি ওয়াল ফাওয়া-রিক" ইসলামি ফিকহী ঐতিহ্যের অন্যতম এক দুর্লভ গ্রন্থ, যা সমগ্র ইসলামি ফিকহী ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসের পরিক্রমায় আঙুলে গণনা করা যায়। এই গুরুত্বের কারণেই গ্রন্থটি ছিল আমার সেই বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন এবং আমি ১৩৯২ হিজরি/১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়া ও আইন অনুষদ থেকে তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম শ্রেণির সম্মানের সাথে "ডক্টরেট" ডিগ্রি লাভ করেছি। আর উক্ত আলোচনা ও বিচারক পর্ষদ গঠিত হয়েছিল নিম্নোক্তদের নিয়ে: ফজিলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর আব্দুল গণি মুহাম্মাদ আব্দুল খালিক—যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিকহ ও উসূল শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং গবেষকগণের প্রধান; ফজিলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ আনিস উবাদাহ—যিনি অনুষদের উসূল ও তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক; এবং ফজিলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর বদরান আবুল আইনাইন বদরান—যিনি তৎকালীন সময়ে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ইসলামি শরীয়া বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তাঁরা সকলেই ইসলামি জ্ঞানের এমন সুউচ্চ শিখর, যারা জ্ঞান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁদের বিশেষ অবদান এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যতক্ষণ চান ততক্ষণ টিকে থাকা তাঁদের জ্ঞানগর্ভ কর্মরাজির মাধ্যমে আমাদের ইসলামি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولحرصى الشديد على ألّا يطبع الكتاب وينشر إلّا تحت عينى ومراجعتى الخاصة؛ فقد تأخر نشره لمشاغلى العلمية الكثيرة العامة والخاصة إلى أن هيأ اللَّه لطبعه ونشره يدًا أمينة فى نشر التراث الإسلامى وحفظه وهى "دار الشروق"، فأذنتها بنشره لإثراء المكتبة الإسلامية وتيسير البحث فيها لطلاب العلم والفقه والمعرفة الإسلامية الصحيحة.
ندعو اللَّه سبحانه وتعالى أن يوفقنا جميعا لما فيه خير الإسلام والمسلمين فى كل زمان ومكان. وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين.
دكتور نصر فريد واصل
مفتى الديار المصرية الأسبق
বইটি যেন কেবল আমার সরাসরি তত্ত্বাবধান ও ব্যক্তিগত পর্যালোচনায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়—এ বিষয়ে আমার তীব্র আগ্রহের কারণে এর প্রকাশনায় বিলম্ব হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক নানাবিধ জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যস্ততাই ছিল এর কারণ; অবশেষে আল্লাহ তাআলা ইসলামি ঐতিহ্যের প্রচার ও সংরক্ষণে এক বিশ্বস্ত হাত অর্থাৎ "দারুশ শুরূক"-কে এর মুদ্রণ ও প্রকাশনার জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। ইসলামি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে এবং জ্ঞান, ফিকহ ও সঠিক ইসলামি প্রজ্ঞা অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার পথ সহজতর করার লক্ষ্যে আমি তাদের এটি প্রকাশের অনুমতি প্রদান করেছি।
আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে সর্বকাল ও সর্বস্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য যা কল্যাণকর তা করার তৌফিক দান করেন। আমাদের শেষ নিবেদন হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ডক্টর নাসর ফরীদ ওয়াসিল
মিসরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة التحقيق والدراسة العلميةالحمد للَّه الذى هدانا لهذا، وما كنا لنهتدى لولا أن هدانا اللَّه. . .
وبعد. .
فإن معالم الإسلام ومآثره الخالدة، كادت أن تنطمس فى أعين كثير من الناس، وتختلط عليهم وجوه الحق نتيجة لرواسب الجهالات التى كانت قد رانت على عقول أسلافهم، ولأنهم أصاخوا بآذانهم إلى حضارة الغرب، وافتتنوا بمدنيته الزاهرة، وأعجبوا بأنظمته وقوانينه السائدة، ونسو االتراث التشريعى الأصيل الذى خلده الإسلام، والذى مازالت حيويته تنطق بجدته وبتميزه وصلاحيته.
فقد فهم علماؤنا السابقون، وفقهاؤنا المتقدمون، ما فى شريعتهم من السعة والمرونة، والحيوية، فبذلوا كل ما يستطيعون فى التخريج والاستنباط، حتى أحاطوا بكثير من الفروع والجزئيات، وكادت هذه الفروع لا تترك صغيرة ولا كبيرة إلا أحصتها.
وهذا ما يصور لنا الفكر التشريعى الإسلامى فكرًا موحد الهدف، متعدد النوع والموضوع، مختلف الأثر؛ لأنه قد استهدف مصلحة الأمة، أو مصلحة المجتمع، وذلك بمراعاته كل ما يحفظ عليه وحدته وتماسكه، ويحقق له أهدافه ويصون علاقات أفراده من الوهن والتفكك، ويوفر لهم الاستقرار والسلام، ويهيئ لهم بالأمن فرص العمل والرخاء، فما كان فيه المصلحة له فهو محل طلبه، وما كان فيه المضرة له فهو محل نهيه. وإن هذا أمر أجمع عليه فقهاء المسلمين وأثبته استقراء الأحكام، فلم يلاحظ فيه حكم ضار بالأمة، أو يزيد ضرره على نفعه، وما من حكم جاء به إلا كان نفعه أكبر من ضرره.
সম্পাদনা ও গবেষণামূলক আলোচনার ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না...
অতঃপর...
নিশ্চয়ই ইসলামের নিদর্শনসমূহ এবং এর কালজয়ী কীর্তিসমূহ বহু মানুষের দৃষ্টিতে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল। তাদের সামনে সত্যের রূপসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল সেই অজ্ঞতার অবশেষের ফলে যা তাদের পূর্বপুরুষদের হৃদয়ে জেঁকে বসেছিল। তারা পশ্চিমা সভ্যতার প্রতি কান পেতেছিল, তার চাকচিক্যময় নগরায়নে মোহাবিষ্ট হয়েছিল এবং তার প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও আইনের প্রতি মুগ্ধ হয়েছিল। ফলে তারা সেই মৌলিক আইনি ঐতিহ্যকে বিস্মৃত হয়েছিল যাকে ইসলাম অমর করে রেখেছে, যার প্রাণচাঞ্চল্য আজও তার নতুনত্ব, অনন্যতা এবং উপযোগিতার কথা ঘোষণা করে।
আমাদের পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম এবং প্রাচীন ফকীহগণ তাদের শরীয়তের প্রশস্ততা, নমনীয়তা এবং প্রাণশক্তি উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তারা তখরীজ ও ইস্তিনবাতের (আইনি গবেষণা ও বিধান আহরণ) ক্ষেত্রে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন, এমনকি তারা অসংখ্য শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয় আয়ত্তে এনেছিলেন। এসকল শাখা-প্রশাখা ছোট বা বড় কোনো বিষয়কেই বাদ দেয়নি, বরং সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এটি আমাদের সামনে ইসলামি আইনি চিন্তাধারাকে এমন এক চিন্তা হিসেবে চিত্রায়িত করে যার লক্ষ্য অভিন্ন, কিন্তু ধরন ও বিষয় বহুমুখী এবং প্রভাব বৈচিত্র্যময়। কারণ এর লক্ষ্য ছিল উম্মাহর কল্যাণ বা সমাজের স্বার্থ। এটি এমন সবকিছুর প্রতি লক্ষ্য রেখেছে যা সমাজের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখে, এর লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে এবং এর সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দুর্বলতা ও ভাঙন থেকে রক্ষা করে। এটি তাদের জন্য স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করে এবং নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। যাতে কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তা-ই এর কাম্য; আর যাতে ক্ষতি রয়েছে, তা-ই এর নিষিদ্ধ বিষয়। এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর মুসলিম ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং বিধানসমূহের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। এতে উম্মাহর জন্য ক্ষতিকর অথবা উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি—এমন কোনো বিধান পরিলক্ষিত হয়নি। বরং যে বিধানই এটি নিয়ে এসেছে, তার উপকারিতা এর ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
فقد مزج بين المصالح الدينية والدنيوية مزجا محوره سعادة الناس ومبناه الفضيلة بأتم معانيها، وليس لهذا من نظير حتى فى أرقى القوانين الوضعية. فهو إذن تام الأصول والأحكام، لم يدع شاردة ولا واردة إلا بينها، كل ذلك لينتظم أمر الحياة ويعيش المرء عيشة منتظمة يتفرغ منها لإعداد الزاد ليوم الميعاد.
ولقد دونت فى ذلك كله كتب نافعة، ومصنفات جامعة، تحتوى آراء أصحاب المذاهب وأقوال متبعيهم، وترجيحات مرجحيهم، حتى أصبحت المكتبة الفقهية الإسلامية غنية بهذه الثمرات الطيبة من آثار السلف التى تعد من أعظم مفاخر المسلمين، والتى شهد لها العالم كله، واقتبس منها واضعوا قوانينه فى الشرق والغرب، حتى أننا لنستطيع أن نقول إنه ما من تشريع وضعى عادل عرفه العالم إلا وهو مستمد من مذهب من مذاهب الفقهاء المسلمين، أو مندرج تحت قاعدة كلية، أو نص عام، أو خاص من نصوص الشريعة.
فالفقه الإسلامى إذن بأصوله وقواعده ومذاهبه هو المصدر الأعظم للتقنين والتشريع فى مختلف العصور، وكتبه ومصنفاته هى المراجع الأصلية لكل من أراد أن يستقى المنابع الصافية الشافية.
ومن الأدلة على ذلك، ما أقره مؤتمر القانون الذف عقد فى "لاهاى" سنة 1938 م، فقد تقرر فيه اعتبار الشريعة الإسلامية مصدرًا مهمًا من مصادر التشريع وذلك بعد أن أشاد الأعضاء الأجانب -على اختلاف مللهم- بأحكام تلك الشريعة.
ولقد آمن بذلك فى أيامنا كثير ممن كانوا لا يؤمنون به من قبل، واتجهت الأنظار إلى هذا الفقه الإسلامى رغبة فى الإفادة منه، والتعويل عليه، والاقتباس من أحكامه فى مختلف مذاهبه.
ولئن طغى فى عصرنا سيل الأفكار الأجنبية حينًا من الزمان، لاسيما فيما يمس تعاليم الإسلام، فإنه سرعان ما برزت إلى الوجود نهضة علمية وثَّابة، وهمة جبارة ترد الحق إلى نصابه، وتبين متاهات الضلال.
غير أننا قد وجدنا البعض يردد: "قد يحول دون الانتفاع بهذا التشريع الفقهى. . صعوبة الكتب التى احتوته من ناحية الترتيب، والتبويب، بل وصعوبة الحصول على مراجعه الأصيلة؛ فإن أغلبها -بل وأثمنها مادة- ما زال مخطوطًا
এটি দ্বীনি ও পার্থিব কল্যাণসমূহের মধ্যে এমন এক সমন্বয় সাধন করেছে যার কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষের সুখ এবং যার ভিত্তি হলো পূর্ণাঙ্গ অর্থে সচ্চরিত্রতা। এমনকি উন্নতমানের মানবরচিত আইনগুলোতেও এর কোনো নজির নেই। সুতরাং এটি মূলনীতি ও বিধানের দিক থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, যা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো বিষয়কেও বর্ণনা করা ছাড়া বাকি রাখেনি। আর এসব কিছুর লক্ষ্য হলো জীবনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষ যেন একটি সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে পারে, যেখান থেকে সে কিয়ামতের দিনের পাথেয় সংগ্রহের জন্য সময় বের করতে পারবে।
এই সমস্ত বিষয়ে উপকারী গ্রন্থসমূহ ও সমৃদ্ধ সংকলনসমূহ লিখিত হয়েছে, যাতে মাযহাবসমূহের ইমামগণের মতামত, তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্য এবং গবেষকদের অগ্রাধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি ইসলামি ফিকহী লাইব্রেরি সালাফদের সেইসব বরকতময় নিদর্শন ও উত্তম ফল দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে যা মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ গৌরবের বিষয় বলে বিবেচিত হয়। সমগ্র বিশ্ব এর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আইনপ্রণেতারা এখান থেকেই উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। এমনকি আমরা বলতে পারি যে, বিশ্বের পরিচিত কোনো ন্যায়নিষ্ঠ মানবরচিত আইনই এমন নেই যা মুসলিম ফকীহগণের কোনো না কোনো মাযহাব থেকে গৃহীত হয়নি, অথবা শরীয়তের কোনো সামগ্রিক মূলনীতি, কিংবা সাধারণ বা বিশেষ কোনো পাঠের (নস) অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুতরাং ইসলামি ফিকহ তার মূলনীতি, নিয়মাবলি ও মাযহাবসমূহসহ বিভিন্ন যুগে আইন প্রণয়ন ও শরীয়ত প্রবর্তনের মহান উৎস। এর গ্রন্থ ও সংকলনসমূহ হচ্ছে সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য মূল সূত্র যারা এর স্বচ্ছ ও নিরাময় দানকারী ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে চায়।
এর অন্যতম প্রমাণ হলো ১৯৩৮ সালে 'হেগ'-এ অনুষ্ঠিত আইন সম্মেলন যা স্বীকৃতি দিয়েছে। সেখানে ইসলামি শরীয়তকে আইন প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আর এটি করা হয়েছিল যখন বিদেশী সদস্যরা—তাদের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মমত থাকা সত্ত্বেও—এই শরীয়তের বিধানসমূহের প্রশংসা করেছিলেন।
বর্তমানে এমন অনেকেই এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছেন যারা আগে এটি বিশ্বাস করতেন না। এই ইসলামি ফিকহ থেকে উপকৃত হওয়া, এর ওপর নির্ভর করা এবং এর বিভিন্ন মাযহাবের বিধানাবলি থেকে উপাদান গ্রহণ করার লক্ষ্যে সবার দৃষ্টি এখন এর প্রতি নিবদ্ধ হয়েছে।
আমাদের যুগে যদিও কিছু সময়ের জন্য বিজাতীয় চিন্তাধারার প্লাবন প্রবল হয়ে উঠেছিল—বিশেষ করে ইসলামের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে—কিন্তু অচিরেই একটি অগ্রগামী ইলমী জাগরণ ও সুদৃঢ় সংকল্পের আবির্ভাব ঘটেছে, যা সত্যকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনে এবং ভ্রান্তির গোলকধাঁধাগুলোকে স্পষ্ট করে দেয়।
তবে আমরা দেখেছি কেউ কেউ বলছেন: "এই ফিকহী আইন থেকে উপকৃত হওয়ার পথে যা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তা হলো... বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের দিক থেকে সংশ্লিষ্ট বইগুলোর কঠিন পাঠ্য হওয়া, বরং এর মূল সূত্রগুলো সংগ্রহ করার ক্ষেত্রেও জটিলতা রয়েছে। কেননা এর অধিকাংশ বই—বরং বিষয়বস্তুর দিক থেকে অধিক মূল্যবান বইগুলো—এখনও পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومبعثرًا فى مكتبات العالم. . حتى الكتاب الواحد قد وجدنا أجزاءه متفرقة فى هذه المكتبات".
فكان ولا بد من عمل يعيد إلى هذه الكتب وإلى الفقه الإسلامى، عصره الذهبى، ويقربه من ميدان البحث حتى يستقى الباحثون ويشفوا ظمأهم منه.
وحينما أتيحت لى الأسباب، قاسيت هذه التجربة بنفسى -تجربة البحث فى بحور الفقه الزاخرة، ومحيطاته الشاسعة- ولولا ما وجدت من كنوز نادرة وثمار يانعة، لأثنانى الجهد عن الغوص فيها، أو البحث عنها.
وفى هذا -ولا شك- تدريب على العمل الشاق الذى ينتظرنا جميعًا. . لخدمة العلم والدين، وتقديمه سهلًا يسيرًا فى ثوب يليق وسماحة الإسلام.
ويرجع ذلك إلى الزمن الذى هيأنى اللَّه فيه لتحمل عبء هذه التجربة الجديدة على كل باحث مثلى، والتى كان لا يقدر عليها إلا الأساتذة الكبار والعلماء الأجلاء الذين أمضوا حياتهم فى ميدان البحث والتقصى.
لقد تخرجت من كلية الشريعة والقانون فى سنة 1385 هـ (1965 م)، ثم حصلت على درجة التخصص (الماجستير) شعبة الفقه المقارن فى سنة 1388 هـ (1967 م). فكان ولا بد أن أهيئ نفسى لمرحلة ثالثة وأخيرة من مراحل التعليم المنتظم - ألا وهى مرحلة التخصص (الدكتوراه) فى الفقه المقارن، حيث هى الدراسة الميدانية والتطبيق العملى لجميع المراحل التى مرت قبلها.
ولقد أحسست فعلًا بمدى الصعوبات التى ستقابلنى، والجهد الذى يجب أن يبذل -من أولى وهلة- حينما فكرت فى السير على هذا الطريق.
وكانت أولى هذه الصعوبات هو اختيارى موضوع "البحث والدراسة"، وقضيت فى ذلك وقتًا ليس بالقصير فى تفكير عميق حول الموضوع الذى يمكن أن أقدم ثمرته لقارئه. . وطالت بى الحيرة، وظللت أكثر من عام أقرأ وأنقب عن الموضوع الذى يمكن أن أقدم فيه الجديد فى خدمة البحث والعلم. . وأخيرًا كان هناك أكثر من موضوع وقع عليه اختيارى. . وعرض على بساط البحث.
...এবং বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমনকি আমরা একই বইয়ের বিভিন্ন অংশ এই লাইব্রেরিগুলোতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পেয়েছি।"
তাই এমন একটি কাজের প্রয়োজন ছিল যা এই বইগুলো এবং ইসলামি ফিকহশাস্ত্রকে তার সোনালী যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং একে গবেষণার ময়দানের নিকটবর্তী করবে, যাতে গবেষকরা এর থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন এবং তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারেন।
আর যখন আমার জন্য সুযোগ তৈরি হলো, তখন আমি নিজেই এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি—ফিকহশাস্ত্রের উত্তাল সাগর ও বিশাল মহাসাগরগুলোতে গবেষণার অভিজ্ঞতা। যদি আমি সেখানে বিরল রত্নভাণ্ডার এবং সুপক্ক ফল না পেতাম, তবে এই পরিশ্রম আমাকে তাতে ডুব দেওয়া বা তা অনুসন্ধান করা থেকে বিরত রাখত।
আর এতে নিঃসন্দেহে সেই কঠোর পরিশ্রমের প্রশিক্ষণ রয়েছে যা জ্ঞান ও দ্বীনের খিদমতের জন্য আমাদের সকলের প্রতীক্ষায় আছে; যাতে একে ইসলামি উদারতার সাথে মানানসই একটি সহজ ও সাবলীল অবয়বে উপস্থাপন করা যায়।
এর কৃতিত্ব সেই সময়ের, যখন আল্লাহ আমাকে আমার মতো প্রত্যেক গবেষকের জন্য এই নতুন অভিজ্ঞতার বোঝা বহনের সামর্থ্য দান করেছিলেন, যা কেবল সেই বড় বড় উস্তাদ এবং মহান আলেমদের পক্ষেই সম্ভব ছিল যারা গবেষণা ও অনুসন্ধানের ময়দানে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন।
আমি ১৩৮৫ হিজরি (১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ) সালে শরীয়াহ ও আইন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছি, এরপর ১৩৮৮ হিজরি (১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে তুলনামূলক ফিকহ বিভাগে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জন করি। এরপর নিয়মিত শিক্ষার তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা অপরিহার্য ছিল—আর তা হলো তুলনামূলক ফিকহশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ পর্যায় (পিএইচডি), যা পূর্ববর্তী সকল পর্যায়েরই মাঠপর্যায়ের অধ্যয়ন এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ।
এই পথে চলার কথা যখন চিন্তা করলাম, তখন প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমি বাস্তবে সেই সমস্যার গভীরতা এবং যে শ্রম ব্যয় করতে হবে তা অনুভব করতে পেরেছিলাম।
এই অসুবিধাগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল "গবেষণা ও অধ্যয়নের" বিষয় নির্বাচন করা। পাঠকের কাছে যার ফসল উপস্থাপন করতে পারি এমন একটি বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তায় আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি। আমার দ্বিধাদ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল এবং আমি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়েছি যাতে গবেষণা ও জ্ঞানের খিদমতে নতুন কিছু প্রদান করা সম্ভব হয়। পরিশেষে একাধিক বিষয় আমার পছন্দের তালিকায় এলো এবং আলোচনার টেবিলে উপস্থাপিত হলো।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولقد حاولت فعلًا أن أستقر على أحد الموضوعات التى عالجها الفقه الإسلامى اتباعًا للمنهج الذى سبقنى إليه من سار فى هذا الميدان.
وفجأة، وحينما كنت أتردد على المكتبات العامة لاستكمال خطة البحث بالتزويد من أمهات الكتب الفقهية - أوقفنى واستلفت نظرى ما وجدته مخطوطًا من تراثنا الإسلامى العظيم، ليس فى مجال الفقه وحده بل فى جميع المجالات المختلفة.
ولقد تبين لى أن ما ظهر لنا فى مجال الفقه من كتب مطبوعة إنما هو قليل من كثير، وأن هناك ثمارًا يانعة حلوة المذاق، هى فى أشد الحاجة إلى من يقطفها ويتغذى هو وغيره عليها.
وعلى الفور قمت بعرض فكرة تسجيل الرسالة فى تحقيق أحد المخطوطات الفقهية على أستاذ التحقيق بالكلية، ورئيس قسم الأصول بها (الأستاذ عبد الغنى محمد عبد الخالق) فلقيت منه العناية والتشجيع، ووجدته صاحب هذه الفكرة، وأستاذ جامعتها، وسجلت فى تحقيق كتاب "مطالع الدقائق فى تحرير الجوامع والفوارق" للإمام جمال الدين عبد الرحيم الأسنوى المتوفى سنة 772 هـ.
ولقد كانت رغبتى فى تحقيق إحدى المخطوطات عامة ترجع إلى العوامل الآتية:
أولًا: الإسهام بقدر الإمكان فى تحقيق التراث الإسلامى والمحافظة عليه وإبرازه فى ثوب جديد يشجع على النظر والبحث، والأخذ منه لجميع التشريعات المحلية والعالمية، ولدفع ما يتعلل به المحجمون عن الأخذ منه.
فقد ذكر فى مؤتمر "لاهاى" -بعد أن تقرر فيه أن الشريعة الإسلامية مصدر من مصادر التشريع- أن من العقبات دون هذا الغرض الكريم، عسر فهم الشريعة من مصادرها الحالية لكثرتها وتشعبها، ونأيها عن الطرق المذللة التى جرت عليها دراسة القانون.
وهذا ما تعلل به بعض الكاتبين (1) المصريين عندما أثيرت "قضية الشريعة الإسلامية فى الدستور الدائم الجديد لجمهورية مصر" باعتبارها المصدر الرئيسى
--------------------------------------------
আমি প্রকৃতপক্ষে ইসলামি ফিকহ আলোচিত কোনো একটি বিষয়ের ওপর স্থির হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, যারা এই ময়দানে আমার আগে চলেছেন তাদের অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে।
হঠাৎ করে, যখন আমি গবেষণার পরিকল্পনা পূর্ণ করতে এবং ফিকহশাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থগুলো থেকে উপকরণ সংগ্রহের জন্য গণগ্রন্থাগারগুলোতে যাতায়াত করছিলাম—তখন আমাদের মহান ইসলামি ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি হিসেবে যা কিছু পেয়েছি তা আমাকে থামিয়ে দিল এবং আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল; যা কেবল ফিকহশাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সকল ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত ছিল।
আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ফিকহশাস্ত্রে আমাদের সামনে মুদ্রিত গ্রন্থ আকারে যা প্রকাশ পেয়েছে তা বৃহতের তুলনায় সামান্য মাত্র। সেখানে অত্যন্ত পরিপক্ক ও সুস্বাদু ফল রয়েছে, যা আহরণ করার জন্য এবং নিজে ও অন্যকে তা দ্বারা পুষ্ট করার জন্য কারো একান্ত প্রয়োজন।
অবিলম্বে আমি কোনো একটি ফিকহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ওপর থিসিস নিবন্ধনের প্রস্তাব ফ্যাকাল্টির সম্পাদনা (তাহকিক) বিষয়ের শিক্ষক এবং উসুল বিভাগের প্রধান (অধ্যাপক আব্দুল গনি মুহাম্মদ আব্দুল খালিক)-এর কাছে পেশ করলাম। আমি তাঁর পক্ষ থেকে যত্ন ও উৎসাহ পেলাম। আমি তাঁকে এই চিন্তাধারার প্রবর্তক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পেলাম। এরপর আমি ৭৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম জামালুদ্দীন আব্দুর রহিম আল-আসনবীর রচিত "মাতালিউদ দাকায়িক ফি তাহরীরিল জাওয়ামি ওয়াল ফাওয়ারিক" কিতাবটির সম্পাদনার ওপর নাম নিবন্ধন করলাম।
সাধারণভাবে কোনো পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার আগ্রহের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো ছিল:
প্রথমত: ইসলামি ঐতিহ্য সম্পাদনা, তা সংরক্ষণ করা এবং এটিকে একটি নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব অবদান রাখা, যা অধ্যয়ন ও গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং যা থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সকল আইনি ব্যবস্থার জন্য উপকরণ গ্রহণ করা যাবে; আর যারা এটি গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করে তাদের অজুহাত নিরসন করা।
কেননা "দ্য হেগ" সম্মেলনে—ইসলামি শরিয়তকে আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর—উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এই মহৎ উদ্দেশ্য অর্জনে অন্যতম বাধা হলো বর্তমান উৎসগুলো থেকে শরিয়ত বোঝা কঠিন হওয়া; কারণ তা অত্যন্ত বিশাল ও শাখাপ্রশাখায় বিস্তৃত এবং আইন অধ্যয়নের প্রচলিত সহজ পদ্ধতিগুলো থেকে ভিন্নতর।
আর এটিই ছিল মিশরের কিছু লেখকের (১) অজুহাত, যখন "মিশর প্রজাতন্ত্রের নতুন স্থায়ী সংবিধানে ইসলামি শরিয়ত"কে প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
للتشريع -فقد دعا إلى أن يكون النص هو "مبادئ الشريعة" بدلًا من "الشريعة" متعللًا بما تعلل به فى مؤتمر "لاهاى"- السابق الإشارة إليه. وللأسف فقد أخذ بقوله، وهو الذى أصبح مستقرًا ومعمولًا به فى الدستور الجديد.
ومما جاء فى هذا المقال: ". . ومن هذا يتبين أن الدعوة إلى النص على أن تكون الشريعة الإسلامية هى "المصدر الرئيسى" للتشريع يجب أن يلاحظ فيها أن الفقه الإسلامى لم يدون فى معظمه، ولا يزال مدفونًا فى بطون الكتب موزعًا بين مذاهب أربعة، ومدارس مختلفة، ويجب أن يلاحظ فيها أن مجتمع القرن العشرين بمشكلاته الحديثة، وتقدمه العلمى المذهل فى الذرة، وغزو الفضاء، وفى ارتباط أجزاء العالم ببعضها، والتزاماته الدولية - أصبح يحتاج إلى مزيد من الاجتهاد واستحداث أحكام توائم هذه الظروف المتغيرة".
ومما قاله أيضًا تحت عنوان "المعاناة فى البحث":
"وإن الاقتراح الذى يرى أن ينص دستورنا الجديد على أن تكون "الشريعة الإسلامية" المصدر الوحيد للتشريع - اقتراح يخشى لو أخذ به أن يصرف مجتمع قوى الشعب العامل عن الاجتهاد فى إيجاد حلول لمشكلاته، ويزكى نزعة الجمود والتقليد. كما يخشى معه أن يصبح باب البحث والتعرف على المصادر الشرعية مقصورًا على نفر قليل تمرس على الرجوع إلى كتب الفقه الإسلامى، ومعظمها ليس مفهرسًا، ولا يسير على نهج واحد فى عرض المسائل" ا. هـ.
ومع أن الكلام السابق مبنى فى أغلبه على المغالطة، أو القصور فى استيعاب معنى الشريعة، أو البحث فى مراجعها الكثيرة. إلا أنه على جانب من الصحة.
ولذلك كان لزامًا علينا تنقية الفقه الإسلامى مما أصابه من جمود أو غموض قد يعترض الباحث فى العصر الحديث، فيثنيه عن الأخذ منه أو العزوف عنه وعن نشره على صورة تشجع أصحاب الثقافات القانونية المختلفة على الأخذ منه، والعمل به والنهضة بالمجتمعات على يديه.
ثانيًا: مقاومة الغزو الاستعمارى الهدام، والمحافظة على تراثنا الإسلامى من أن تمتد إليه يد العابث الماجن، الحاقد على الإسلام -بالإهلاك، أو بالتبديل تحقيقًا لبغيته الخبيثة- وهى القضاء على دولة الإسلام -وما لقيه التراث الإسلامى على يد
আইন প্রণয়নের জন্য - তিনি 'শরীয়াহ'-এর পরিবর্তে 'শরীয়াহর মূলনীতি' পাঠটি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যার জন্য তিনি পূর্বে উল্লেখিত 'হেগ' সম্মেলনে প্রদত্ত অজুহাতটিই ব্যবহার করেছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তার বক্তব্যটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটিই নতুন সংবিধানে সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর হয়েছে।
এই নিবন্ধে যা এসেছে তার মধ্যে রয়েছে: "...এবং এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ আইন প্রণয়নের 'প্রধান উৎস' হিসেবে গণ্য হওয়ার যে দাবি, তাতে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ অংশই বিধিবদ্ধ হয়নি এবং এটি এখনও কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে সমাহিত অবস্থায় চারটি মাযহাব ও বিভিন্ন ঘরানার মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আরও লক্ষ্য করা উচিত যে, বিংশ শতাব্দীর সমাজ তার আধুনিক সমস্যাবলি, পরমাণু বিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি, মহাকাশ বিজয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পারস্পরিক সংযোগ এবং এর আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কারণে—এখন এমন আরও ইজতিহাদ এবং নতুন বিধিবিধান প্রণয়নের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে যা এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।"
"গবেষণার কষ্ট" শিরোনামের অধীনে তিনি আরও যা বলেছেন:
"আমাদের নতুন সংবিধানে 'ইসলামী শরীয়াহ' আইন প্রণয়নের একমাত্র উৎস হবে—এই মর্মে যে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে, সেটি গ্রহণ করা হলে আশঙ্কা রয়েছে যে, তা কর্মজীবী জনশক্তির সমাজকে তাদের সমস্যার সমাধান খোঁজার ইজতিহাদ থেকে বিমুখ করে দেবে এবং স্থবিরতা ও তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের প্রবণতাকে উসকে দেবে। সেই সাথে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, শরীয়াহর উৎসসমূহ অনুসন্ধান ও তা চেনার পথটি কেবল এমন গুটি কয়েক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে যারা ইসলামী ফিকহের কিতাবসমূহে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, যে কিতাবগুলোর অধিকাংশই নির্ঘণ্ট বা ইনডেক্স করা নেই এবং মাসআলা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো একক পদ্ধতি অনুসরণ করে না।" সমাপ্ত।
যদিও পূর্বোক্ত কথাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি, অথবা শরীয়াহর অর্থ অনুধাবনে সীমাবদ্ধতা, কিংবা এর বিশাল তথ্যসূত্রসমূহে গবেষণার অক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে; তবুও এতে কিছুটা সত্যতা রয়েছে।
আর এই কারণেই আধুনিক যুগে কোনো গবেষক যে স্থবিরতা বা অস্পষ্টতার সম্মুখীন হতে পারেন এবং যা তাকে ফিকহ থেকে বিমুখ করতে পারে, তা থেকে ইসলামী ফিকহকে পরিচ্ছন্ন করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একই সাথে একে এমনভাবে প্রচার করা প্রয়োজন যাতে বিভিন্ন আইনি সংস্কৃতির ধারকগণ এর থেকে গ্রহণে উৎসাহিত হন এবং এর ওপর আমল ও এর মাধ্যমে সমাজকে পুনর্জীবিত করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত: ধ্বংসাত্মক ঔপনিবেশিক আগ্রাসন প্রতিরোধ করা এবং আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যকে সেই সকল ফাসেক ও লম্পটদের হাত থেকে রক্ষা করা যারা ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী—তা ধ্বংস বা পরিবর্তনের মাধ্যমেই হোক—যাতে তারা তাদের জঘন্য উদ্দেশ্য অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্রকে মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য হাসিল করতে না পারে। আর ইসলামী ঐতিহ্য তাদের হাতে যা সহ্য করেছে...
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
المستعمرين الأوائل من إهلاك وتدمير فى عصر التتار والحروب الصليبية- ليس بعيدًا ولا يخفى على أحد، وقد تكلمنا عن هذا الموضوع فى محله بتفصيل، وذلك فى الباب الأول للرسالة (1).
وإن التاريخ الآن يعيد نفسه، ونحن أمام تجربة قاسية لامتحان إرادتنا، وقوة إسلامنا وتماسكنا، بعد أن بدأ الغزو الاستعمارى الصليبى يهددنا من جديد، ممثلًا فى أداة الصهيونية العالمية (إسرائيل) التى تحتل جزءًا ليس بالقليل من أرض الإسلام والسلام، ومقدساته الغالية الطاهرة فى القدس الشريف وفلسطين وغيرها.
والصليبية الغربية دائمًا بالمرصاد، وهى نهّازة للفرص، فإذا وجدت ثغرة تنفذ منها إلى النيل من الإسلام وإصابة مقاتله، فهى تهتبلها لا محالة.
ثالثًا: مقاومة الغزوين الثقافى والتشريعى الأجنبيين. وذلك، بتشجيع الباحثين الذين احتوتهم ثقافة الغزو القانونى الغربى على قطع هذه التبعية، والأخذ من الشريعة الإسلامية، وإعادة الثقة إليهم فى تراثنا الفقهى العظيم -وخاصة أنه قد استقر فى دستور "جمهورية مصر" الجديد على أن: "مبادئ الشريعة الإسلامية ستكون المصدر الرئيسى للتقنين" كما استقر فى دستور دولة اتحاد الجمهوريات العربية على أن الشريعة الإسلامية "مصدر رئيسى للتشريع".
وأمام هؤلاء الآن مجال رحب لإعادة البناء الاجتماعى على أسس إسلامية سليمة، والخلاص إلى الأبد من آثار الثقافة الغربية الهدامة فى أفكارنا وتقاليدنا ومعاملاتنا.
ففى الغزوين الثقافى والاجتماعى اللذين رمتنا بهما الصليبية كان حرصها باديًا على ضرورة إقصاء التشريع الإسلامى وإحلال القوانين الغربية محله.
وقد بدأ ذلك فى مصر من عهد "محمد على باشا" رأس الأسرة المالكة التى قضت عليها الثورة المصرية. وهكذا أصيب التشريع الإسلامى بضربة موجعة منذ زمن بعيد، إلى أن تحركت أمتنا تسترد حريتها، وتستعيد مكانتها، وتعتز بتراثها.
--------------------------------------------
তাতার যুগ এবং ক্রুসেড যুদ্ধের সময় প্রাথমিক উপনিবেশবাদীদের ধ্বংসযজ্ঞ ও বিনাশের বিষয়টি কোনো সুদূর অতীত নয় এবং কারো কাছে অস্পষ্টও নয়। আমরা এই বিষয়টি যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি, যা এই গবেষণাপত্রের প্রথম পরিচ্ছেদে রয়েছে (১)।
এখন ইতিহাস নিজেকে পুনরায় পুনরাবৃত্তি করছে। আমরা আমাদের ইচ্ছা, ইসলামের শক্তি এবং আমাদের সংহতির এক কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন। কারণ ঔপনিবেশিক ক্রুসেডার আগ্রাসন আবারও আমাদের হুমকি দিতে শুরু করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিশ্ব জায়নবাদের হাতিয়ার (ইসরায়েল)-এর মাধ্যমে, যারা ইসলাম ও শান্তির ভূমির এক বড় অংশ এবং কুদস শরিফ, ফিলিস্তিন ও অন্যান্য পবিত্র ও মূল্যবান স্থানগুলো দখল করে রেখেছে।
পশ্চিমা ক্রুসেডাররা সর্বদা ওঁত পেতে থাকে এবং তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। যখনই তারা ইসলামকে অবদমিত করতে এবং এর প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানার কোনো ছিদ্র বা পথ পায়, তারা নিঃসন্দেহে তা লুফে নেয়।
তৃতীয়ত: বিদেশি সাংস্কৃতিক ও আইনি আগ্রাসন প্রতিরোধ করা। এর উপায় হলো—যেসব গবেষক পশ্চিমা আইনি আগ্রাসনের সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের সেই পরাধীনতা ছিন্ন করতে উৎসাহিত করা, ইসলামি শরিয়াহ থেকে জ্ঞান আহরণ করা এবং আমাদের মহান ফিকহী ঐতিহ্যের প্রতি তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে যখন "মিশর প্রজাতন্ত্রের" নতুন সংবিধানে এটি নির্ধারিত হয়েছে যে: "ইসলামি শরিয়াহর নীতিমালা হবে আইন প্রণয়নের প্রধান উৎস", ঠিক যেমন আরব প্রজাতন্ত্র সমূহের ইউনিয়নের সংবিধানে নির্ধারিত হয়েছে যে ইসলামি শরিয়াহ "আইন প্রণয়নের একটি প্রধান উৎস"।
এদের সামনে এখন সঠিক ইসলামি ভিত্তির ওপর সামাজিক পুনর্গঠনের এক বিস্তৃত ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে, যাতে আমাদের চিন্তা-চেতনা, ঐতিহ্য এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির প্রভাব থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করা যায়।
ক্রুসেডার শক্তি আমাদের ওপর যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আগ্রাসন চাপিয়ে দিয়েছিল, তাতে ইসলামি আইনকে বর্জন করে তার স্থলে পশ্চিমা আইন প্রবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সুস্পষ্ট ছিল।
মিশরে এর সূচনা হয়েছিল রাজবংশের প্রধান "মুহাম্মদ আলী পাশা"-র আমল থেকে, যে রাজবংশ মিশরীয় বিপ্লবের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছে। এভাবেই ইসলামি আইন দীর্ঘকাল আগে থেকে এক বেদনাদায়ক আঘাতের শিকার হয়েছে, যতক্ষণ না আমাদের জাতি তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়েছে, তাদের মর্যাদা ফিরে পেয়েছে এবং তাদের ঐতিহ্যের প্রতি গৌরব প্রকাশ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وصدر فى مصر دستور سبتمبر سنة 1971 م، وأخذ التشريع الإسلامى طريقه إلى الحياة من جديد.
* * *
كان هذا هو السبب العام فى اتجاهى نحو تحقيق التراث. أما السبب الخاص فى اختيارى لتحقيق هذا الكتاب بالذات، (مطالع الدقائق فى تحرير الجوامع والفوارق) دون غيره فقد يرجع إلى العوامل الآتية:
أولًا: ما شاع وما عرف عن الإمام الأسنوى من أنه أصولى لا "فقيه" أو على الأقل هو أبرز منه فى الأصول دون الفقه.
فأردت أن أحقق شخصيته من خلال التحقيق لكتابه "الفروق الفقهية" والذى ظهر لى أن العكس صحيح، فقد غلب عنده الفقه على الأصول.
ثانيًا: إبراز ما احتواه الكتاب -مع قلة حجمه- من جواهر ونفائس قل أن توجد فى غيره، فكان من الواجب إبرازها وإخراجها للناس فى ثوب يشجع الباحثين على ارتياده والأخذ منه.
ثالثًا: ندرة هذا النوع من التآليف، فهو قليل جدًا بالنسبة إلى غيره من التأليف الأخرى، فكان من الأجدر إظهاره للعالم فى ثوب قشيب حتى يستفيد منه الباحثون، ويعول عليه الناظرون.
ولقد كانت خطتى لتحقيق هذا الكتاب تقوم على تقسيم منهج البحث إلى قسمين منفصلين يكمل كل منهما الآخر.
أ- القسم الأول:وخصصته لدراسة المؤلف.
ب- القسم الثانى:وخصصته لتحقيق ودراسة النص.
وقد قسمت خطة البحث بالنسبة للقسم الأول إلى تمهيد، وبابين، وخاتمة.
১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে মিশরে সংবিধান জারি করা হয় এবং ইসলামী শরীয়ত নতুনভাবে তার জীবনযাত্রা ও পথচলা শুরু করে।
* * *
ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) দিকে আমার মনোনিবেশ করার এটিই ছিল সাধারণ কারণ। আর অন্যান্য কিতাব বাদ দিয়ে বিশেষ করে এই কিতাবটি—অর্থাৎ (মাতালিউ আদ-দাকাইক ফি তাহরিরিল জাওয়ামি ওয়াল ফাওয়ারিক)—সম্পাদনার জন্য বেছে নেওয়ার পেছনে যে বিশেষ কারণগুলো রয়েছে, তা সম্ভবত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করে:
প্রথমত: ইমাম আসনাভী সম্পর্কে যা প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ তা হলো তিনি একজন 'উসূলবিদ', 'ফকিহ' নন; অথবা অন্তত তিনি ফিকহ শাস্ত্রের তুলনায় উসূল শাস্ত্রে বেশি প্রোজ্জ্বল।
তাই আমি তাঁর "আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ" নামক কিতাবটি সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটন করতে চেয়েছি, যার ফলে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে প্রকৃত বিষয়টি এর উল্টো। মূলত তাঁর মাঝে উসূলের তুলনায় ফিকহ শাস্ত্রের প্রাধান্যই বেশি ছিল।
দ্বিতীয়ত: কিতাবটির কলেবর সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ মনি-মুক্তা ও অমূল্য রত্ন ধারণ করে আছে যা সচরাচর অন্য কিতাবে পাওয়া যায় না। তাই একে এমন এক অবয়বে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা আবশ্যক ছিল যা গবেষকদের একে অধ্যয়ন করতে ও এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করতে উৎসাহিত করবে।
তৃতীয়ত: এই ধরণের রচনার অপ্রতুলতা; কারণ অন্যান্য রচনার তুলনায় এ জাতীয় গ্রন্থ খুবই কম। তাই একে একটি নবীন আঙ্গিকে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা অধিকতর সমীচীন ছিল, যাতে গবেষকগণ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন এবং জ্ঞানান্বেষীগণ এর ওপর নির্ভর করতে পারেন।
এই কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পরিকল্পনা ছিল গবেষণা পদ্ধতিকে দুটি পৃথক ভাগে বিভক্ত করা, যার একটি অন্যটির পরিপূরক।
ক- প্রথম অংশ:এটি আমি লেখকের জীবন ও কর্ম পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
খ- দ্বিতীয় অংশ:এটি আমি মূল পাঠ্য (নস) সম্পাদনা ও পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
গবেষণা পরিকল্পনার প্রথম অংশকে আমি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تكلمت فى التمهيد عن الأحوال التى مر بها الفقه الإسلامى حتى القرن الثامن الهجرى، فالفقه مثله مثل كل كائن يتدرج من المهد إلى الكمال، ويصيبه الضعف حينا، والقوة تارة أخرى، ومن هنا كانت حاجتنا إلى دراسة هذه الأطوار التى مر بها، كى يقف الباحث على عصر المؤلف بكل ما يحمله وما يحويه من آثار، هى ثمرة الحركة العلمية فيه.
ثم خصصت الباب الأول للكلام عن الحركة العلمية فى القرن الثامن. وقد قسمت هذا الباب إلى خمسة فصول:
تكلمت فى الفصل الأول: عن مظاهر ومميزات النشاط الفكرى لهذا القرن.
وفى الثانى: عن سمة التأليف الفقهى والأصولى لهذا العصر.
وفى الثالث: عن أتمة فقهاء هذا القرن.
وفى الرابع: عن العوامل التى ساعدت على ازدهار الحركة العلمية فيه.
وفى الخامس: عن الآثار التى نتجت عن هذه الحركة أو "الإنتاج العلمى" لها.
ثم خصصت الباب الثانى لدراسة مؤلف الكتاب وهو الإمام جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن الأسنوى المتوفى سنة 772 هـ.
وقد قسمت هذا الباب إلى فصول ثلاثة:
تكلمت فى الفصل الأول: عن نسبه، ومولده، ونشأته، وحياته، واشتغاله بالسياسة والإدارة، وثقافته، وفقهه. ثم تكلمت فى الفصل الثانى: عن العوامل التى ساعدت على تكوين ثقافة الأسنوى العلمية وازدهارها، وبينت فى هذا العامل أخلاقه وصفاته، ومكانته العلمية، وشيوخه، وأقرانه.
ثم تكلمت فى الفصل الثالث عن: وفاته، وآثاره.
أما الخاتمة فقد خصصتها لعدة مباحث، هى فى الحقيقة ثمرة من ثمار هذا المجهود الذى بذل فى تحقيق هذا الكتاب، ولذلك آثرت أن أجعلها رابطة بين التمسمين الأول والثانى، فهى خاتمة بالنسبة للقسم الأول، ومقدمة بالنسبة للقسم الثانى، وهذا أنسب من وجهة نظرى.
আমি উপক্রমণিকায় অষ্টম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামি ফিকহ যে সকল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। কেননা ফিকহ প্রতিটি প্রাণীর ন্যায় দোলনা থেকে পূর্ণতা লাভের দিকে অগ্রসর হয়; কখনও এটি দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়, আবার কখনও শক্তিশালী হয়। আর এখান থেকেই আমাদের এই পর্যায়গুলো অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যার মধ্য দিয়ে এটি অতিবাহিত হয়েছে, যাতে গবেষক লেখকের যুগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন—তার সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শনাদিসহ, যা ঐ যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের ফসল।
অতঃপর আমি প্রথম পরিচ্ছেদটি অষ্টম শতাব্দীর জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। আর আমি এই পরিচ্ছেদটিকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়ে আমি আলোচনা করেছি: এই শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতার বহিঃপ্রকাশ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে: এই যুগের ফিকহ ও উসুল সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
তৃতীয় অধ্যায়ে: এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফকিহদের সম্পর্কে।
চতুর্থ অধ্যায়ে: সেই সকল প্রভাবক সম্পর্কে যা সেই যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের বিকাশে সহায়তা করেছিল।
পঞ্চম অধ্যায়ে: এই আন্দোলনের ফলে অর্জিত নিদর্শনসমূহ বা এর "জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদন" সম্পর্কে।
অতঃপর আমি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি গ্রন্থের লেখক ইমাম জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম বিন হাসান আল-আসনবি (মৃত্যু ৭৭২ হি.)-এর জীবন ও কর্ম পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
আর আমি এই পরিচ্ছেদটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়ে আমি আলোচনা করেছি: তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, বেড়ে ওঠা, জীবন, রাজনীতি ও প্রশাসনে তাঁর সম্পৃক্ততা, তাঁর পাণ্ডিত্য এবং তাঁর ফিকহ সম্পর্কে। অতঃপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি আলোচনা করেছি: সেই সকল প্রভাবক সম্পর্কে যা আসনবির জ্ঞানতাত্ত্বিক পাণ্ডিত্য গঠন ও বিকাশে সহায়তা করেছিল এবং আমি এই অংশে তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি, জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা, শিক্ষকবৃন্দ এবং সমসাময়িকদের কথা বর্ণনা করেছি।
এরপর তৃতীয় অধ্যায়ে আমি তাঁর মৃত্যু এবং রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
পরিশেষে উপসংহারটিকে আমি কয়েকটি গবেষণার বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যা মূলত এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে ব্যয়িত শ্রমের অন্যতম ফসল। এ কারণে আমি একে প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে রাখা পছন্দ করেছি; সুতরাং এটি প্রথম অংশের জন্য উপসংহার এবং দ্বিতীয় অংশের জন্য ভূমিকা স্বরূপ। আমার দৃষ্টিতে এটিই অধিকতর উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والمباحث التى تناولتها فى الخاتمة هى:
1 - الفروق الفقهية.
2 - السواك.
3 - النية.
4 - أعضاء التيمم.
5 - الغسل من الجنابة.
6 - بيع آلات اللهو والغناء.
أما القسم الثانى (التحقيق):فلقد سرت فيه على المنهج الآتى:
أولًا: دراسة المخطوطات العربية فى العصور المختلفة حتى القرن الثامن الهجرى، وذلك لمعرفة أسلوب التأليف فى كل عصر على حدة، وطريقة النساخ فى كتابة ونقل هذه المؤلفات، حتى يمكننا التعرف على النسخ الخطية التى لا يتبين منها تاريخ نسخها، حيث إن لكل عصر طابعه الخاص به فى الكتابة، حسب الأطوار التى مرت بها من حيث التأليف والتصنيف.
ثانيًا: دراسة مؤلف الكتاب دراسة مستفيضة من جميع نواحيها لنتمكن بذلك من حصر مؤلفاته، ومعرفة منهجه فى الكتابة والتأليف، وذلك للتحقق من نسبة هذا الكتاب -موضوع التحقيق- إليه.
ثالثًا: حصر جميع النسخ التى وجدت للمؤلف فى جميع مكتبات العالم حسب المصادر التاريخية، والتى ظهرت لنا منها تسع نسخ: أربع منها لم نتمكن من الحصول عليها، وهى:
أ - نسخة بتركيا.
ب- نسخة بمكتبة بلدية الإسكندرية.
وهاتان النسختان هما اللتان أشار إليهما بروكلمان.
উপসংহারে আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো হলো:
১ - ফিকহি পার্থক্যসমূহ।
২ - মিসওয়াক।
৩ - নিয়ত।
৪ - তায়াম্মুমের অঙ্গসমূহ।
৫ - জানাবাত থেকে গোসল।
৬ - বাদ্যযন্ত্র ও গানের সরঞ্জাম বিক্রয়।
দ্বিতীয় অংশ (সম্পাদনা):এতে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
প্রথমত: হিজরি অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন যুগের আরবি পাণ্ডুলিপিগুলো অধ্যয়ন করা, যাতে প্রতিটি যুগের স্বতন্ত্র রচনাশৈলী এবং এই গ্রন্থগুলো লিখন ও অনুলিপির ক্ষেত্রে লিপিকারদের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়। এর ফলে আমরা সেই সব পাণ্ডুলিপি শনাক্ত করতে সক্ষম হব যেগুলোর অনুলিপির তারিখ স্পষ্ট নয়; কারণ রচনার বিবর্তন ও বিন্যাস অনুযায়ী প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব লিখনশৈলী রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থকারের জীবন ও কর্মের সকল দিক নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়ন করা যাতে তাঁর সকল রচনার তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয় এবং তাঁর রচনা ও সংকলন পদ্ধতি জানা যায়। এর উদ্দেশ্য হলো বর্তমান সম্পাদিত গ্রন্থটি যে তাঁরই—তা নিশ্চিত করা।
তৃতীয়ত: ঐতিহাসিক উৎস অনুযায়ী বিশ্বের সকল লাইব্রেরিতে বিদ্যমান লেখকের সকল পাণ্ডুলিপি তালিকাভুক্ত করা, আমাদের কাছে যার নয়টি পাণ্ডুলিপির কথা প্রকাশ পেয়েছে: এর মধ্যে চারটি আমরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি, সেগুলো হলো:
ক - তুরস্কে অবস্থিত একটি পাণ্ডুলিপি।
খ- আলেকজান্দ্রিয়া পৌরসভা (মিউনিসিপ্যাল) লাইব্রেরিতে অবস্থিত একটি পাণ্ডুলিপি।
এবং এই দুটি পাণ্ডুলিপির দিকেই ব্রোকলম্যান ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جـ - نسختان بمكتبة "الأوقاف العامة" ببغداد.
أما نسخة تركيا: فلم أهتد إليها أصلًا وذلك بعد جهد طويل وشاق شمل المكتبات الرسمية وغير الرسمية للمكتبة التى أشار إليها بروكلمان، كما شمل الاتصال بالسفارة التركية نفسها، والتى قامت -مشكورة- بعدة اتصالات بتركيا، ثم أبلغتنى مكاتبة بعدم العثور على هذه المكتبة.
كما شمل أيضًا: الاتصالات الشخصية لبعض الأفراد، ومنهم الطلبة الذين يدرسون بالأزهر من تركيا. حيث كلفت هذا النفر الذى سعيت إليه أن يبحث عن هذه المكتبة. كما كلفته بإحضار صورة منها على أي وجه كان -إن وجدت- بعد إعطائه التكاليف المطلوبة، ولكنه أيضًا لم يعثر على المكتبة. كما اتصلت بالمهتمين بالثقافة الشرقية، وخاصة التركية، ومنهم الأستاذ "نصر اللَّه شيراز" التركى المتخصص بقسم اللغات الشرقية بدار الكتب المصرية. وقد أرشدتنى إليه السفارة التركية، وقمت معه -بعد مقابلته- بمراجعة مكتبات تركيا وفهارسها فلم نعثر لها على أثر.
أما نسخة الإسكندرية: فلم أتمكن من الإطلاع عليها وذلك بسبب ظروف الحرب الراهنة؛ حيث إن جميع مخطوطات الإسكندرية كانت معبأة فى مخابئ لا يمكن الوصول إليها بأية حال، كما أخبرنى بذلك مدير مكتبة البلدية بنفسه، إلى درجة أننى قد حاولت معه بشتى الطرق واستعنت بشخصيات كبيرة مسئولة؛ ظنًا منى أنه بذلك يمكن تسهيل الأمر وإخراجها لى من التعبئة استثناء، ولكن بدون جدوى.
وأما نسختا بغداد، فقد أشار إليهما عبد اللَّه الجبورى صاحب تحقيق كتاب طبقات الشافعية للأسنوى، وذلك فى مقدمة التحقيق:
أ- إحداهما: برقم 13812 ضمن مجموعة فى (60) ورقة.
ب- والثانية: برقم 3959.
ولم أتمكن من الاطلاع عليهما وعذرى فى ذلك أن أيًا من المراجع التاريخية أو الفهارس المكتبية لم تشر بذلك، كما أن الطبعة الأولى لكتاب طبقات الأسنوى
গ - বাগদাদের "আওকাফ আম্মাহ" লাইব্রেরিতে দুটি পাণ্ডুলিপি।
তুরস্কের পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে: আমি সেটির কোনো হদিসই পাইনি। ব্রোকলম্যান যে লাইব্রেরির কথা উল্লেখ করেছিলেন, দীর্ঘ ও কঠোর প্রচেষ্টার পর সেটির সরকারি ও বেসরকারি সকল লাইব্রেরিতে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি তুরস্কের দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে; তারা সদয় হয়ে তুরস্কে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেন, অতঃপর আমাকে লিখিতভাবে জানান যে সেই লাইব্রেরির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল ব্যক্তিগত যোগাযোগ, যেমন আল-আজহারে অধ্যয়নরত কিছু তুর্কি ছাত্র। আমি এই দলটিকে এই লাইব্রেরিটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খরচ প্রদানের মাধ্যমে যেকোনো উপায়ে সেই পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি সংগ্রহের অনুরোধ করেছিলাম—যদি পাওয়া যায়। কিন্তু তারাও লাইব্রেরিটির সন্ধান পায়নি। আমি প্রাচ্য সংস্কৃতি, বিশেষ করে তুর্কি সংস্কৃতি বিষয়ে আগ্রহীদের সাথেও যোগাযোগ করেছি, যাদের মধ্যে মিশরের 'দারুল কুতুব'-এর প্রাচ্য ভাষা বিভাগের তুর্কি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক "নাসরুল্লাহ শিরাজ" অন্যতম। তুর্কি দূতাবাসই আমাকে তাঁর নিকট পাঠিয়েছিল। তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর তুরস্কের লাইব্রেরিগুলো ও সেগুলোর ক্যাটালগ পর্যালোচনা করি, কিন্তু সেখানে এর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
আলেকজান্দ্রিয়ার পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে: বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমি সেটি দেখার সুযোগ পাইনি। কারণ আলেকজান্দ্রিয়ার সমস্ত পাণ্ডুলিপি এমন সুরক্ষিত স্থানে (বাঙ্কারে) রাখা ছিল যে সেখানে পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। খোদ মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরির পরিচালক আমাকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। এমনকি আমি বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেছি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাহায্য নিয়েছি; এই ভেবে যে হয়তো এতে বিষয়টি সহজ হবে এবং ব্যতিক্রম হিসেবে সেগুলো বের করে আনা সম্ভব হবে, কিন্তু সবকিছুই নিষ্ফল হয়েছে।
আর বাগদাদের দুটি পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আল-আসনাভির 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' গ্রন্থের মুহাক্কিক আব্দুল্লাহ আল-জাবুরি তাঁর তাহকিকের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন:
ক- প্রথমটি: ১৩৮১২ নং ক্রমিক যুক্ত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যা (৬০) পৃষ্ঠার।
খ- দ্বিতীয়টি: ৩৯৫৯ নং ক্রমিক যুক্ত।
আমি সেই দুটি পাণ্ডুলিপি দেখার সুযোগ পাইনি এবং আমার অপারগতার কারণ হলো এই যে, কোনো ঐতিহাসিক সূত্র বা লাইব্রেরি ক্যাটালগ এগুলোর ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তাছাড়া আসনাভির 'তাবাকাত' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ...
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والتى أشارت إليهما لم تظهر إلا متأخرة، وبعد الانتهاء من تحقيقى للكتاب، ولم تصلنى إلا وقت الطبع.
وعلى كل فإننى قد وجدت أن ذلك لا يؤثر على تحقيق الكتاب ولا على العمل الذى قمت به لسلامة النص، لوجود النسخ الخمس الباقية، وفى هذا العدد ما يكفى لتحقيق الكتاب، وخاصة أن أيًا منها لم يشر أحد إلى أنها نسخة المؤلف. أما النسخ الخمس الباقية، والتى قام عليها التحقيق، فيوجد منها أربع نسخ بدار الكتب المصرية، والخامسة بمكتبة الجامع الأزهر الشريف.
وإليك وصفًا مجملًا لهذه النسخ:
1 - النسخة الأولى:
وهى بدار الكتب المصرية تحت رقم 277 فقه شافعى، وعدد أوراقها 64، ومسطرتها 23 سطرًا 25 × 16 سم، بقلم نسخ معتاد، ناقصة الشكل والنقط وشرطة الكاف فى غالب الأحوال. ورءوس المسائل كلها مكتوبة بالحبر الأحمر، وبها بياض كثير، غالبًا ما يكون مكان عنوان "مسألة" تركه الناسخ ليكتبه بالحبر الأحمر بعد ذلك ثم نسى. وهى خالية من الهوامش، اللهم إلا ما أشار إليه الناسخ من خطإ منه فى الكتابة.
وهذه النسخة كتبت بخط "أحمد الملوىّ" فى القرن التاسع الهجرى، ولم يبين فيها تاريخ بدء كتابتها أو الانتهاء منها. ولكنه أشار فقط إلى تاريخ الفراغ من تغليفه (تجليده) فى 19 ربيع الآخر سنة 862 هـ (1457 م). وقد أشار الناسخ إلى أن ذلك كان فى ثغر دمياط، المحروسة على يد المكنى بأبى هريرة محمد عمر بمدرسته "القوقانية" كما أنه لم يبين لنا النسخة التى نقل عنها، وإن كان يغلب على الظن أنها قد أخذت عن نسخة ابن العماد (شهاب الدين) تلميذ الأسنوى، وحيث إننا قد وجدنا له بعض الفروق التى لم يذكرها الأسنوى.
وقد أشار الناسخ عندها بقوله "انتهى كلام ابن العماد"، وإن كان لم يتأكد ذلك
যেগুলোর প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে, সেগুলো অনেক দেরিতে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিতাবটির সম্পাদনা শেষ করার পর মুদ্রণের সময় পর্যন্ত আমার কাছে পৌঁছায়নি।
যা-ই হোক, আমি দেখেছি যে এটি কিতাবটির সম্পাদনা বা মূল পাঠের বিশুদ্ধতার জন্য আমার সম্পাদিত কাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ অবশিষ্ট পাঁচটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে এবং কিতাবটি সম্পাদনার জন্য এই সংখ্যাটিই যথেষ্ট, বিশেষ করে যেহেতু সেগুলোর কোনোটিকেই কেউ লেখকের নিজস্ব পাণ্ডুলিপি হিসেবে উল্লেখ করেননি। আর অবশিষ্ট পাঁচটি পাণ্ডুলিপি, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই সম্পাদনা সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে চারটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ এবং পঞ্চমটি আল-জামেউল আজহার আশ-শরীফের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।
নিচে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
১ - প্রথম পাণ্ডুলিপি:
এটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ শাফেয়ী ফিকহ ক্যাটাগরিতে ২৭৭ নম্বরের অধীনে রয়েছে; এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪টি, প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে এবং আকার ২৫ × ১৬ সেমি। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হরকত, নুকতা এবং 'কাফ' বর্ণের উপরের রেখা অনুপস্থিত। মাসআলাগুলোর শিরোনামগুলো লাল কালিতে লেখা হয়েছে এবং এতে অনেক খালি স্থান রয়েছে, যা মূলত 'মাসআলা' শিরোনামের স্থান ছিল; লিপিকার পরে লাল কালিতে লিখবেন বলে খালি রেখেছিলেন কিন্তু পরে ভুলে গেছেন। এটি পার্শ্বটীকা মুক্ত, তবে লিপিকার লেখার সময় নিজের কোনো ভুলের প্রতি যেটুকু ইশারা করেছেন সেটুকু ছাড়া।
এই পাণ্ডুলিপিটি হিজরি নবম শতাব্দীতে 'আহমদ আল-মাল্লাভী'র হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে, তবে এতে লেখা শুরু বা শেষ করার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু তিনি কেবল এর বাঁধাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার তারিখটি ১৯শে রবিউস সানি ৮৬২ হিজরি (১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লিপিকার উল্লেখ করেছেন যে, এটি দামিয়েত্তা বন্দরে আবু হুরায়রা মুহাম্মদ উমর নামক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে তার 'কাওকানিয়া' মাদরাসায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তিনি আমাদের জানাননি যে এটি কোন পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে; যদিও প্রবল ধারণা হলো এটি আল-আসনাবীর ছাত্র ইবনে আল-ইমাদ (শিহাবুদ্দিন)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে, যেহেতু আমরা এতে এমন কিছু পাঠান্তর পেয়েছি যা আল-আসনাবী উল্লেখ করেননি।
লিপিকার সেখানে "ইবনে আল-ইমাদের কথা সমাপ্ত" বলে উল্লেখ করেছেন, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إلى درجة اليقين. ولكن مما يقوى هذا الظن عندى أن هذه النسخة قديمة وقريبة العهد بالمؤلف نفسه وبابن العماد أكثر وأكثر.
وهذه النسخة مجلدة بجلد سميك نظيف، من مجلد الكتبخانة الخديوية المصرية، وهى كاملة ومذيلة.
وقد كتب أمام عنوان الكتاب وبخط مغاير "ملك الفقير محمد السريدانى".
2 - أما النسخة الثانية:
فهى برقم 1431 فقه شافعى، بخزانة مخطوطات دار الكتب المصرية أيضًا كاملة، وتقع فى مائة ورقة، مرقمة الصفحات من 1 - 200، ومسطرتها 18 سطرا 24 × 16 سم، وهى بقلم نسخ معتاد حديث واضح بالحبر الكوبيا، والظاهر أنه طبع مطبعة بالوظة عن نسخة خطية؛ لأنه معاد على بعض الكلمات التى لم تظهر بالحبر الأسمر فى أماكن مختلفة من الكتاب بخط اليد. والنسخة ليس بها حواش إلا من كلمة "مطلب" أمام كل باب بالحبر الأحمر.
وهذه النسخة لم يعرف كاتبها، ولا الزمن الذى كتبت فيه ولا تاريخ الانتهاء منها. ولكن يوجد عليها خاتم كبير يوضح أنها من وقف السيد أحمد الحسينى السيد أحمد بن السيد يوسف الحسينى سنة 1323 هـ (1905 م) وأهديت إلى دار الكتب المصرية من حضرة السيد حسين الحسينى فى شهر سبتمبر سنة 1921 م، والخاتم على أول صفحة منها وعلى آخر صفحة، وهى مجلدة بجلد سميك حسن.
3 - والنسخة الثالثة:
برقم 372 أصول فقه، بدار الكتب المصرية، وهى مطابقة تمامًا للنسخة السابقة فى كل الأوصاف إلا من لون الحبر حيث إنه أزرق.
وهذه النسخة جيدة الورق والتغليف ولم توجد هذه النسخة فى فهرس الفقه، وإنما وجدت فى فهرس الأصول، وهى صورة طبق الأصل من النسخة رقم 1421
...নিশ্চয়তার পর্যায় পর্যন্ত। তবে আমার নিকট এই প্রবল ধারণাটি যা শক্তিশালী করে তা হলো, এই পাণ্ডুলিপিটি প্রাচীন এবং লেখকের সমসাময়িক এবং ইবনুল ইমাদের সময়ের আরও অনেক বেশি কাছাকাছি।
আর এই পাণ্ডুলিপিটি মিশরের খেদিভিয়া কুতুবখানার একটি মজবুত ও পরিষ্কার মলাটে বাঁধানো, এবং এটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিশিষ্টযুক্ত।
বইয়ের শিরোনামের সামনে ভিন্ন হস্তাক্ষরে লেখা আছে "দরিদ্র মুহাম্মদ আল-সারিদানীর মালিকানাধীন"।
২ - দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি:
এটি মিশরের দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডারে ১৪৩১ নম্বর শাফেয়ী ফিকহ হিসেবে সংরক্ষিত, এটিও পূর্ণাঙ্গ। এটি একশটি পত্রে বিন্যস্ত, পৃষ্ঠা নম্বর ১ থেকে ২০০ পর্যন্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৮টি করে লাইন রয়েছে এবং এর আকার ২৪ × ১৬ সেন্টিমিটার। এটি কপিয়া কালিতে লেখা স্পষ্ট আধুনিক সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত। বাহ্যত মনে হয় এটি কোনো হস্তলিপি থেকে বালুজা প্রেসের মুদ্রণ; কারণ বইটির বিভিন্ন স্থানে কালো কালিতে অস্পষ্ট থাকা কিছু শব্দের ওপর হাতে পুনরায় লেখা হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিতে লাল কালিতে প্রতিটি পরিচ্ছেদের সামনে "মাতলাব" (আলোচ্য বিষয়) শব্দটি ছাড়া আর কোনো টীকা নেই।
এই পাণ্ডুলিপির লেখকের নাম, এটি রচনার সময়কাল বা সমাপ্তির তারিখ জানা যায়নি। তবে এর ওপর একটি বড় সিলমোহর রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, এটি ১৩২৩ হিজরি (১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ) সালে সাইয়্যিদ আহমদ আল-হুসাইনি ইবনে সাইয়্যিদ ইউসুফ আল-হুসাইনির পক্ষ থেকে ওয়াকফ করা হয়েছিল এবং ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে জনাব সাইয়্যিদ হোসেন আল-হুসাইনির পক্ষ থেকে মিশরের দারুল কুতুবকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। পাণ্ডুলিপির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় সিলটি রয়েছে এবং এটি একটি মজবুত ও সুন্দর মলাটে বাঁধানো।
৩ - তৃতীয় পাণ্ডুলিপিটি:
এটি মিশরের দারুল কুতুবের ৩৭২ নম্বর উসুলুল ফিকহ হিসেবে সংরক্ষিত। এটি কালির রঙ নীল হওয়া ছাড়া বাকি সকল বৈশিষ্ট্যে পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির সাথে হুবহু মিল রয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপিটির কাগজ এবং বাঁধাই অত্যন্ত উন্নত মানের। এই পাণ্ডুলিপিটি ফিকহ শাস্ত্রের ক্যাটালগে পাওয়া যায়নি, বরং এটি উসুলের ক্যাটালগে পাওয়া গেছে। এটি ১৪২১ নম্বর পাণ্ডুলিপির একটি অবিকল প্রতিলিপি।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلا أنه لا يوجد عليها إلا ختم صغير، وهو ختم (دار الكتب السلطانية) ومبين على أول صفحة بها أن تجليدها فى 28/ 2/ 1326 هـ (1908 م)، ويوجد أيضًا على الهامش فى أول صفحة أمام عنوان الكتاب "عبد الفتاح البنا" سنة 1329 هـ - (1911 م) بحبر يقارب الحبر الذى كتب به عنوان الكتاب، ولعله صاحب النسخة قبل الإهداء إلى دار الكتب. . كما يغلب على الظن أنه صاحب الإهداء.
وهذه النسخة لا يوجد بها أى تصحيح أو تغيير فى الحبر. . مما يدل على أنها لم تصحح كالسابقة. ومما يرجح أن هذه النسخة صورة طبق الأصل من النسخة السابقة، أنه وجد فى فهرس أصول الفقه عند عنوان الكتاب "أنها مأخوذة بمطبعة البالوظة عن نسخة خطية". . ولكنه لم يتبين لنا معرفة هذه النسخة الخطية التى نقل عنها ولا تاريخها.
وقد راجعت هذه النسخة على النسخة رقم 1421 فلم أجد بينهما أى خلاف مما يدل على أنهما أصل وصورة من مطبعة بالوظة واحدة، ولهذا اكتفيت عند التحقيق بالنسخة الأولى فقط.
4 - النسخة الرابعة:
برقم 901 فقه شافعى، بخزانة مخطوطات دار الكتب المصرية أيضًا، ناقصة الآخر وبها خروم من الوسط، بقلم نسخ معتاد، ومسطرتها 17 سطرًا 17× 13 سم، فى حجم الربع، ويقع الموجود منها فى 102 ورقة، الورقة الأخيرة منها من أول كتاب النفقات. وهى مفككة الأوراق، ومجلدة بجلد قديم، ولم يعرف تاريخ نسخها ولا تاريخ الانتهاء منها. . ولعل ذلك يرجع إلى ضياع الأوراق الأخيرة، وهى التى يكتب عليها عادة تاريخ الانتهاء من النسخة وكذا بقية المعلومات التى نحتاج إليها. ولكنه من خلال البحث يتضح أن هذه النسخة قد كتبت فى القرن الثامن أو فى أوائل التاسع الهجرى، وأنها أخذت عن نسخة المصنف نفسه، فقد جاء بهامش هذه النسخة عند مسألة عدم تأقيت الجبيرة أمام البياض الذى فى نهاية المسألة هذه العبارة: "البياض الذى يوجد كله عن نسخة المصنف، رحمه الله".
তবে এতে শুধুমাত্র একটি ছোট সিল রয়েছে, যা হলো (দারুল কুতুব আস-সুলতানিয়া)-এর সিল। এর প্রথম পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে এর বাঁধাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৮/০২/১৩২৬ হিজরি (১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে। বইয়ের শিরোনামের সামনে প্রথম পৃষ্ঠার মার্জিনে ১৩২৯ হিজরি (১৯১১ খ্রিস্টাব্দ) সালে "আব্দুল ফাত্তাহ আল-বান্না" নামটিও রয়েছে, যা বইটির শিরোনাম লেখার কালির অনুরূপ কালিতে লেখা। সম্ভবত তিনি দারুল কুতুবে উপহার দেওয়ার পূর্বে এই পান্ডুলিপিটির মালিক ছিলেন। ধারণা করা হয় যে, তিনিই এটি উপহার দিয়েছিলেন।
আর এই পান্ডুলিপিটিতে কোনো সংশোধন বা কালির পরিবর্তন নেই। যা থেকে বোঝা যায় যে, এটি পূর্ববর্তীটির মতো সংশোধন করা হয়নি। এই পান্ডুলিপিটি যে পূর্ববর্তীটির একটি হুবহু অনুলিপি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তা হলো, উসুলুল ফিকহের সূচিপত্রে বইটির শিরোনামের নিচে পাওয়া গেছে যে "এটি একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে বালুজা প্রেসে মুদ্রিত"। তবে যে পাণ্ডুলিপি থেকে এটি অনুলিপি করা হয়েছে তা বা তার তারিখ সম্পর্কে আমাদের কাছে কিছু স্পষ্ট হয়নি।
আমি এই পান্ডুলিপিটি ১৪২১ নম্বর পান্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি। যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তারা উভয়ই একই বালুজা প্রেসের মূল এবং অনুলিপি। একারণে তাহকিকের (গবেষণার) ক্ষেত্রে আমি কেবল প্রথম পান্ডুলিপিটিকেই যথেষ্ট মনে করেছি।
৪ - চতুর্থ পান্ডুলিপি:
এটি মিশরীয় দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডারে ৯০১ নম্বর শাফিঈ ফিকহ হিসেবে সংরক্ষিত। এটি শেষাংশ থেকে অসম্পূর্ণ এবং এর মাঝখানে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ছিদ্রযুক্ত। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লেখা এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৭টি লাইন রয়েছে, যার আকার ১৭×১৩ সেমি (চতুর্থাংশ আকার)। বর্তমানে প্রাপ্ত অংশটি ১০২টি পাতার সমন্বয়ে গঠিত, যার শেষ পাতাটি 'কিতাবুন নাফাকাত' (ভরণপোষণ অধ্যায়) এর শুরু থেকে। এর পাতাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং এটি একটি পুরনো চামড়া দিয়ে বাঁধানো। এটি অনুলিপি করার তারিখ বা শেষ করার তারিখ জানা যায়নি। সম্ভবত শেষ পাতাগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণে এটি হয়েছে, যেখানে সাধারণত অনুলিপি শেষ করার তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা থাকে। তবে গবেষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই পাণ্ডুলিপিটি অষ্টম বা নবম হিজরি শতকের শুরুতে লেখা হয়েছে এবং এটি স্বয়ং গ্রন্থকারের (মুসান্নিফ) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে। কারণ এই পাণ্ডুলিপির মার্জিনে ‘জাবিরা’ বা ব্যান্ডেজের সময়সীমা নির্ধারিত না থাকার মাসআলার শেষে খালি জায়গার সামনে এই বাক্যটি রয়েছে: "যে শূন্যস্থান বা খালি জায়গাটি এখানে বিদ্যমান তার সবই গ্রন্থকারের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত।"
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد وجد على الصفحة الأولى عدة تمليكات: إحداها لنور الدين بن الشيخ بدر الدين الشناوى. . والثانية لتقى الدين الحسينى الحصنى الشافعى سنة 1109 هـ- (1697 م).
5 - أما النسخة الخامسة:
فهى برقم 477 خصوصية فقه شافعى، بخزانة مخطوطات الجامع الأزهر.
وهذه النسخة ضمن مجموعة، وتقع فى 73 ورقة من المجموعة، ومسطرتها مختلفة ما بين 19، 20، 22، 23 - بخط نسخ مختلف بالحبر الأسمر. وهى كاملة وعليها حواش كثيرة لابن العماد تلميذ الأسنوى. . وعلى الورقة الأولى منها عنوان الكتاب مرتين، بخط مختلف، وهى مزيلة وبها عدة خروم من الوسط، ولم يعرف كاتبها ولا الزمن الذي كتبت فيه ولا تاريخ الانتهاء منها، ويظهر من الختم الواضح عليها أنها من كتب المرحوم حسن جلال باشا، هدية للجامع الأزهر تنفيذًا لوصيته.
وهذه النسخة أخذت عن نسخة ابن العماد تلميذ الآسنوى حيث ذكر الناسخ فى آخرها هذه العبارة: "والأصل المنقول منه هذه النسخة بخط شيخنا شهاب الدين أحمد بن عماد الأفقهى، والحواشى أيضًا إلا ما بينته، وقابلت الحواشى أيضًا فصح ذلك".
رابعًا: فى منهج التحقيق. . قمت بنسخ النسخة الخطية رقم 277 بخط يدى، ثم قابلت النسخ الباقية عليها وأثبت ما وجد من خلاف.
وقد اخترت هذه النسخة بالذات لأنها كاملة، وقديمة، وقريبة العهد بالمؤلف، وتحمل تاريخ الانتهاء منها، وقد رمزت إليها بالحرف (أ).
وكانت طريقة مقابلتى للنسخ الباقية على النسخة (أ) هو إثبات ذلك الخلاف على النسخة (أ) التى نقلتها بخط يدى -وذلك بلون مخالف- وجعلت لكل نسخة لونًا خاصًا -سواء بالزيادة- أو النقص، أو الاختلاف فى الشكل.
প্রথম পৃষ্ঠায় বেশ কিছু মালিকানা স্বত্ব (তামলিকাত) পাওয়া গেছে: এর একটি হলো নূরুদ্দীন ইবনে শেখ বদরুদ্দীন আশ-শিন্নাওয়ীর জন্য, এবং দ্বিতীয়টি হলো ১১০৯ হিজরী (১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) সালে তকীউদ্দীন আল-হুসাইনী আল-হিসনী আশ-শাফেয়ীর জন্য।
৫ - পঞ্চম পাণ্ডুলিপি প্রসঙ্গে:
এটি আল-আজহার জামে মসজিদের পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে শাফেয়ী ফিকহ বিশেষ সংগ্রহে ৪৭৭ নম্বরে সংরক্ষিত।
এই পাণ্ডুলিপিটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যা উক্ত সংকলনের ৭৩টি পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে। এর প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ১৯, ২০, ২২ এবং ২৩ এর মধ্যে বিভিন্ন রকম - যা কালো কালিতে বিভিন্ন নসখ লিপিতে লিখিত। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কপি এবং এতে আল-আসনাবীর ছাত্র ইবনুল ইমাদের প্রচুর পার্শ্বটীকা (হাশিয়া) রয়েছে। এর প্রথম পৃষ্ঠায় ভিন্ন ভিন্ন লিপিতে বইটির শিরোনাম দুইবার লেখা আছে। এটি কিছুটা জীর্ণ এবং মাঝখানে বেশ কিছু ছিদ্র রয়েছে। এর লেখক কে, কখন এটি লেখা হয়েছে বা এর সমাপ্তির তারিখ জানা যায়নি। এর ওপর থাকা স্পষ্ট সিলমোহর থেকে বোঝা যায় যে, এটি মরহুম হাসান জালাল পাশার ব্যক্তিগত বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী আল-আজহার জামে মসজিদে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি আল-আসনাবীর ছাত্র ইবনুল ইমাদের কপি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যেহেতু অনুলিপিকারক এর শেষে এই বাক্যটি উল্লেখ করেছেন: "যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এই কপিটি নকল করা হয়েছে তা আমাদের শায়খ শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন ইমাদ আল-আফকাহীর হস্তাক্ষরে লিখিত এবং পার্শ্বটীকাগুলোও (তাঁরই হাতের), তবে আমি যা স্পষ্ট করেছি তা বাদে। আমি পার্শ্বটীকাগুলোও মিলিয়ে দেখেছি এবং তা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।"
চতুর্থত: সম্পাদনা পদ্ধতি প্রসঙ্গে। আমি নিজের হাতে ২৭৭ নম্বর পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি, এরপর অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোকে সেটির সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং প্রাপ্ত পার্থক্যগুলো নিশ্চিত করেছি।
আমি বিশেষভাবে এই পাণ্ডুলিপিটি নির্বাচন করেছি কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ, প্রাচীন এবং লেখকের সময়ের কাছাকাছি সময়ের, আর এতে সমাপ্তির তারিখ উল্লেখ রয়েছে। আমি এটিকে (আলিফ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(আলিফ) পাণ্ডুলিপির সাথে অবশিষ্ট কপিগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার পদ্ধতি ছিল এই যে, আমি নিজের হাতে লেখা (আলিফ) পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত পার্থক্যগুলো ভিন্ন রঙে চিহ্নিত করেছি। প্রতিটি পাণ্ডুলিপির জন্য আমি একটি স্বতন্ত্র রঙ নির্ধারণ করেছি—তা কোনো সংযোজন হোক, বিয়োজন হোক কিংবা গাঠনিক ভিন্নতা হোক।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد نقلت النسخة "أ" بالحبر الأزرق، ثم قابلت عليها النسخة رقم 1421 والتى رمزت إليها بالحرف "ب" وأثبت الخلاف بالرصاص، ثم النسخة رقم 901 والتى رمزت إليها بالحرف "جـ" وأثبت الخلاف بالحبر الأخضر، ثم النسخة رقم 477 والتى رمزت إليها بالحرف "د" وأثبت الخلاف بالحبر الأحمر.
خامسًا: قمت بإثبات ذلك الخلاف مرة أخرى على الصفحة المقابلة مستخدمًا الحروف الرمزية المشار إليها "أ"، "ب"، "جـ"، "د".
سادسًا: قمت بنسخ صورة طبق الأصل مما أشرت إليه فى "خامسًا"؛ لتكون تحت يد الأستاذ المشرف زيادة فى دقة المراجعة وتحقيق النص.
سابعًا: حققت كل نص على حدة -ما أمكن- من المراجع الفقهية التى نقل عنها المؤلف أو أشار إليها، وأثبت ذلك بالهامش، وهو ما يعرف بتثبيت النص. وقد اجتهدت فى ضبط نصوصه، ما وسعنى الجهد والقدرة، وقد بذلت قصارى الاجتهاد فى هذه السبل.
ثامنًا: أثبت النص الصحيح للكتاب بالأصل، معتمدًا على جميع النسخ، وبينت المخالف لذلك النص بهامش الكتاب، حيث إننى لم أجعل فى التحقيق أصلًا ولا فرعًا بل اعتبرت النص السليم هو الأصل.
وقد حاولت أن أخرج النص سليمًا يقرب من الأصل الذى كتبه المؤلف، ولم أنقل الحواشى بالاختلافات البسيطة التى لا تستحق الذكر، مثل سقوط نقطة، أو سهو فى رسم حرف، أو زيادته، أو نقصانه فى الكلم، وإنما أصلحت ما هو بحاجة إلى الرم والإصلاح -دون الإشارة إلى ذلك فى الحواشى إلا لمامًا، واجتهدت فى وضع ما يستوجب وضعه تكملة لمعنى النص، ووفاقا للياقته وجعلته بين معقوفتين: []، مشيرًا إلى مصدرها بالهامش.
وقد استنجدت فى عملى هذا بجمهرة غير قليلة من المظانّ والمراجع المخطوطة والمطبوعة، وأظننى لم أرجع خائبًا فيما طلبته إليها ورجوته منها بفضل اللَّه وعونه.
تاسعًا: ترجمت لجميع الأعلام والكتب التى وردت بالكتاب، وقد حاولت أن
আমি পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' নীল কালিতে অনুলিপি করেছি, তারপর তার সাথে ১৪২১ নং পাণ্ডুলিপিটি মিলিয়েছি যাকে আমি 'বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং পার্থক্যগুলো পেনসিল দিয়ে লিখেছি। এরপর ৯০১ নং পাণ্ডুলিপি যার প্রতীক দিয়েছি 'জিম' এবং পার্থক্যগুলো সবুজ কালিতে লিখেছি। এরপর ৪৭৭ নং পাণ্ডুলিপি যার প্রতীক দিয়েছি 'দাল' এবং পার্থক্যগুলো লাল কালিতে লিখেছি।
পঞ্চম: আমি উল্লিখিত প্রতীকী বর্ণসমূহ 'আলিফ', 'বা', 'জিম', 'দাল' ব্যবহার করে বিপরীত পৃষ্ঠায় পুনরায় সেই পার্থক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছি।
ষষ্ঠ: আমি 'পঞ্চম' অনুচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছি তার একটি হুবহু অনুলিপি তৈরি করেছি; যেন তা তত্ত্বাবধায়ক উস্তাযের হাতে থাকে, যাতে করে পর্যালোচনা ও পাঠ-সম্পাদনার নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সপ্তম: আমি প্রতিটি পাঠকে স্বতন্ত্রভাবে—সাধ্যানুসারে—সেই ফিকহী উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে যাচাই করেছি যা থেকে লেখক উদ্ধৃতি দিয়েছেন বা যার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তা পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করেছি, যা পাঠের স্থায়ীকরণ হিসেবে পরিচিত। আমি এর পাঠসমূহ বিন্যস্ত করতে আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং এ পথে সর্বোচ্চ মেহনত ব্যয় করেছি।
অষ্টম: আমি সকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করে মূল কিতাবের সঠিক পাঠটি মূল পাঠে স্থাপন করেছি এবং সেই পাঠের বিপরীত বিষয়গুলো কিতাবের পাদটীকায় বর্ণনা করেছি। কেননা, আমি এই সম্পাদনায় কোনো একটিকে মূল বা শাখাগত হিসেবে নির্ধারণ করিনি, বরং সঠিক পাঠটিকেই মূল হিসেবে গণ্য করেছি।
আমি পাঠটিকে এমনভাবে নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি যা লেখকের লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির নিকটতর হয়। আর আমি সেই সাধারণ পার্থক্যগুলো টীকায় উল্লেখ করিনি যা উল্লেখ করার মতো নয়, যেমন: কোনো বিন্দুর পতন, অক্ষর লিখনে অসাবধানতা, অথবা শব্দে কোনো অক্ষরের বৃদ্ধি বা ঘাটতি। বরং আমি কেবল সেসব বিষয় সংশোধন করেছি যা মেরামত ও সংস্কারের মুখাপেক্ষী—খুব সামান্য ক্ষেত্র ব্যতীত টীকায় তার প্রতি ইঙ্গিত না দিয়েই। আর পাঠের অর্থের পূর্ণতা ও প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে যা কিছু যোগ করা আবশ্যক ছিল, তা আমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যুক্ত করেছি এবং সেগুলোকে বন্ধনীর [ ] মধ্যে রেখেছি, সাথে পাদটীকায় তার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
আমি আমার এই কাজে বহুসংখ্যক নির্ভরযোগ্য উৎস, পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত গ্রন্থরাজির সাহায্য নিয়েছি এবং আমার ধারণা, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যে আমি এগুলোর কাছে যা চেয়েছি বা আশা করেছি, তাতে বিফল মনোরথ হইনি।
নবম: আমি কিতাবে বর্ণিত সকল ব্যক্তি ও কিতাবের জীবনী ও পরিচয় তুলে ধরেছি এবং আমি চেষ্টা করেছি যে...
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
تكون الترجمة مختصرة مع وفائها بالغرض، بخلاف الترجمة للمؤلف حيث جعلتها مستوعبة شاملة جلية الآفاق، نيرة الأسرة.
عاشرًا: خرجت الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، والآثار التى ترد بالكتاب.
حادى عشر: فهرستُ الكتاب فهرسة فنية شاملة تتكفل بأعلامه، وكتبه، ومصطلحاته الفقهية تكون فى آخر الكتاب.
ثانى عشر: ذكرت مراجع التحقيق والدراسة فى فهرس فنى مستقل.
وأرانى ملزمًا -هنا- بالاعتراف بالحمد والثناء لأستاذى الجليل فضيلة الأستاذ عبد الغنى عبد الخالق رئيس قسم الأصول بكلية الشريعة والقانون، وأستاذ الجيل الحاضر فى التحقيق، فقد كان له أعمق الأثر وأطيبه فى إعداد هذه الرسالة وإخراج هذا التحقيق إلى عالم النور، وذلك بفضل ما يتميز به من بعد النظر، وحصافة الرأى، والذوق الفقهى والأصولى، مما جعلنى اقتطع الكثير من وقته الثمين فى تحقيق أصول البحث، وتمحيص الأدلة، وتنسيق النتائج العلمية، وكان لا يضن فى كل حال بكل ما أحتاجه منه من جهد فكرى -وإن كنت أعلم أن ذلك فى بعض الأحيان قد كلفه فوق طاقته البشرية- خدمة فى سبيل تحقيق التراث الإسلامى الخالد، ونشره، وكان لا يألو جهدًا فى إرشادى وإمدادى بالمراجع العلمية التى كنت أعجز عنها، حتى أنه أطلق يدى فى مكتبته العامرة لأتصيد منها نفائس الكتب مساهمة منه فى خدمة الفكر التشريعى العظيم. فلله درّه وعليه ثوابه، وحسن جزائه.
كما أرانى ملزمًا أيضًا بتقديم الثناء لجميع المؤسسات العلمية ورجالها الذين كان لهم نصيب بالمشاركة أو المساعدة فى إتمام هذا العمل الجليل، وعلى رأس هذه المؤسسات دار الكتب المصرية، ومكتبة الجامع الأزهر الشريف، وكلية الشريعة والقانون، والمكتبات الجامعية الأخرى.
وأخيرًا، أبتهل إليه -سبحانه- أن يشد من أزرى، ويأخذ بيدى لأقوى -بحول منه- فى السعى المتواصل فى خدمة لغة السماء، وتراث الأمة العتيد.
وإنى بعملى هذا، أرجو أن يكون نصيبى من الأجر والمثوبة، نصيب من يجتهد،
অনুবাদটি সংক্ষিপ্ত হবে এবং উদ্দেশ্য পূরণ করবে, তবে লেখকের জীবনী সংক্রান্ত অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি তা বিস্তারিত, ব্যাপক, সুস্পষ্ট এবং উজ্জ্বল করেছি।
দশম: আমি বইটিতে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস এবং আসারসমূহ (সাহাবা ও তাবেঈদের উক্তি) তাখরিজ বা উৎস নির্দেশ করেছি।
একাদশ: আমি বইটির শেষে একটি ব্যাপক বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি, যা গ্রন্থোক্ত ব্যক্তিত্ব, বইসমূহ এবং ফিকহি পরিভাষাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বাদশ: আমি তাহকিক এবং গবেষণার রেফারেন্সসমূহ একটি স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক সূচিতে উল্লেখ করেছি।
এখানে আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, শরীয়াহ ও আইন অনুষদের উসুল বিভাগের প্রধান এবং বর্তমান প্রজন্মের তাহকিক বা গবেষণা বিষয়ের উস্তাদ, ফযিলতুশ শায়খ আব্দুল গনি আব্দুল খালেক-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে নিজের কর্তব্য মনে করছি। এই থিসিসটি প্রস্তুত করতে এবং এই গবেষণাকে আলোর মুখ দেখাতে তাঁর গভীর ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় প্রভাব রয়েছে; আর এটি সম্ভব হয়েছে তাঁর বিশেষ দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞাপূর্ণ রায় এবং ফিকহি ও উসুলি রুচির কারণে। এর ফলে আমি গবেষণার মূলনীতি যাচাইকরণ, দলীলসমূহ বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক ফলাফলগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর মূল্যবান সময়ের অনেকটা অংশই ব্যয় করেছি। তিনি সর্বাবস্থায় আমার প্রয়োজনীয় যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক পরিশ্রম প্রদানে কার্পণ্য করেননি—যদিও আমি জানতাম যে কখনো কখনো এটি তাঁর মানবিক সক্ষমতার বাইরে ছিল—কেবল অমর ইসলামী ঐতিহ্যকে (তুরাস) সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্দেশ্যে। তিনি আমাকে পথনির্দেশনা দিতে এবং যেসব বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স আমি খুঁজে পেতে অক্ষম ছিলাম তা সরবরাহ করতে কোনো ত্রুটি করেননি। এমনকি তিনি তাঁর সমৃদ্ধ লাইব্রেরিটি আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন যাতে আমি সেখান থেকে মূল্যবান বইগুলো সংগ্রহ করতে পারি, যা ছিল মহান আইনি ও শাস্ত্রীয় চিন্তাধারার সেবায় তাঁর একটি অবদান। আল্লাহ তাঁকে এর জন্য বরকত দান করুন এবং তাঁকে উত্তম সওয়াব ও প্রতিদান দিন।
আমি সেই সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আবশ্যক মনে করছি যারা এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বা সহযোগিতা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষে রয়েছে মিশরের দারুল কুতুব, জামে আল-আযহার শরিফের লাইব্রেরি, শরীয়াহ ও আইন অনুষদ এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিসমূহ।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ সুবহানাহু-এর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং আমাকে সাহায্য করেন, যাতে আমি তাঁরই প্রদত্ত সামর্থ্যে আসমানি ভাষা এবং উম্মাহর গৌরবময় ঐতিহ্যের সেবায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি।
আমার এই কাজের মাধ্যমে আমি আশা করি যে, আমার সওয়াব ও প্রতিদান যেন সেই ব্যক্তির অংশের ন্যায় হয় যে ইজতিহাদ বা গবেষণা করে।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولست أدعى أننى بلغت الكمال فى البحوث التى أتيح لى عرضها، فإنى أعتقد أن بحار العلم واسعة وعميقة، وأن ما يحصله الباحث بجهده المتواضع قليل من كثير، ولو انتظرت حتى أدرك الكمال الذى أنشده لما وصلت إليه، فالكمال للَّه وحده، وفوق كل ذى علم عليم، وغاية ما يطلب من الباحث أن يضع لبنة فى بناء المعرفة، ثم يستأنف الجهد، فقد يوفق لإضافة لبنة أخرى، وقد تكون إضافة هذه اللبنة مهمة باحث آخر من جيل جديد.
ومع ذلك، وعلى كل حال فأرجو أن أحوز -مع تقصيرى- بعض الثقة، تشجيعًا للخوض فى هذا الميدان. . والأمل كبير، وهذا مبدأ السباق، ونأمل المزيد فى المستقبل بتوفيق من اللَّه. . وأول الغيث قطرة، ثم ينهمر.
وقد حققت هذا الكتاب، لأننى {إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88].
* * *
الباحث والفقير إلى ربه ومولاه
نصر فريد محمد واصل
আমি দাবি করি না যে, আমি যে গবেষণাসমূহ উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছি তাতে পূর্ণতা লাভ করেছি। কেননা আমি বিশ্বাস করি ইলমের সমুদ্র অত্যন্ত বিশাল ও গভীর এবং একজন গবেষক তাঁর বিনম্র প্রচেষ্টায় যা অর্জন করেন তা প্রাচুর্যের তুলনায় সামান্যই। আমি যদি আমার কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা অর্জনের প্রতীক্ষায় থাকতাম তবে আমি কখনো সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহরই এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর রয়েছেন একজন মহাজ্ঞানী। একজন গবেষকের কাছে সর্বোচ্চ যা কাম্য তা হলো তিনি জ্ঞান-সৌধের একটি ইট স্থাপন করবেন, এরপর পুনরায় তাঁর প্রচেষ্টা শুরু করবেন; হয়তো তিনি আরও একটি ইট যোগ করার তাওফিক পাবেন অথবা এই ইট যোগ করাটি নতুন প্রজন্মের অন্য কোনো গবেষকের দায়িত্ব হবে।
তা সত্ত্বেও এবং যেকোনো অবস্থাতেই আমি আশা রাখি যে—আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও—আমি কিছুটা আস্থা অর্জন করব, যা এই ময়দানে অবতীর্ণ হতে উৎসাহ জোগাবে। আশা অনেক বড়, আর এটি প্রতিযোগিতার প্রারম্ভ মাত্র। আল্লাহর তাওফিকে ভবিষ্যতে আমরা আরও অনেক কিছুর প্রত্যাশা রাখি। বারিপাতের সূচনা হয় এক ফোঁটা দিয়ে, এরপর তা প্রবল বেগে বর্ষিত হতে থাকে।
আমি এই কিতাবটি সম্পাদনা করেছি, কারণ আমি {কেবল সাধ্যমতো সংশোধনই কামনা করি; আর আমার কাজের সাফল্য তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাই} [হূদ: ৮৮]।
* * *
গবেষক এবং তাঁর প্রতিপালক ও মাওলার মুখাপেক্ষী
নাসর ফারিদ মুহাম্মাদ ওয়াসিল
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تمهيديعتبر القرن الثامن الهجرى (الرابع عشر الميلادى) مرحلة من مراحل النشاط الفكرى التى ظهرت فى الدولة الإسلامية عقب الزحف التترى على بلاد الإسلام، فى القرنين السادس والسابع.
فقد استيقظ العالم الإسلامى بعد غفوة دامت نحوًا من قرن من عمر الزمن بعد هذه الهمجية اللئيمة الغادرة التى قام بها أعداء البشر، وراح يلملم تفاريق شعثه ويستجمع قواه؛ لتدارك ما فاته من تقدم حضارى، وتطور فكرى فى خدمة الإنسانية أجمع.
فإن الأهوال العظيمة التى صحبت هذا المد، وما نجم عنها من إهلاك للبشر وتخريب للديار، وحرق وإغراق للثروة العلمية على يد هؤلاء الهمج، قد نبهت جمهرة العلماء العرب، ودفعتهم دفعًا إلى تراث آبائهم وأجدادهم فعكفوا عليه تحصيلًا وفهما، وتمثلوه علمًا وفنا، ثم فرغوا بعد ذلك إلى أقلامهم يسجلونه على نحو جديد، يدنيه من كل قلب ويحببه إلى كل نفس.
واجتهد علماء أفذاذ أغنوا الحضارة الإنسانية بمآثرهم التى تجسدت آثارًا وتواليف، ولمعت فى آفاق المعارف موسوعات فى الفقه، واللغة، والحديث، والتفسير والتاريخ، والأدب، والجغرافيا، وغيرها. .
ولمعت آنذاك فى سماء الفكر والعلم شخصيات نابغة من أمثال: الذهبى، والنويرى، والصفدى، والأسنوى، وابن السبكى، والمقريزى، وابن خلدون، وغيرهم كثير.
ভূমিকাঅষ্টম হিজরি শতাব্দীকে (চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দ) বৌদ্ধিক তৎপরতার এমন এক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিম ভূখণ্ডে তাতারদের আক্রমণের পর ইসলামি রাষ্ট্রে প্রকাশ পেয়েছিল।
মানবজাতির শত্রুদের দ্বারা পরিচালিত এই নীচ ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক বর্বরতার পর মুসলিম বিশ্ব প্রায় এক শতাব্দীর তন্দ্রা কাটিয়ে জেগে ওঠে এবং তার বিশৃঙ্খল অবস্থাকে গুছিয়ে নিতে ও শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে; যাতে করে সমগ্র মানবতার সেবায় সভ্যতা ও চিন্তাগত উৎকর্ষের যেটুকু সময় হারিয়েছে তা পূরণ করা যায়।
এই জলোচ্ছ্বাসের সাথে যে ভয়াবহ আতঙ্ক এসেছিল এবং সেই বর্বরদের হাতে যে মানবহত্যা, জনপদ ধ্বংস এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের সম্পদের অগ্নিসংযোগ ও নিমজ্জন ঘটেছিল, তা আরব আলেম সমাজকে সচেতন করে তোলে। এটি তাদেরকে তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের দিকে প্রবলভাবে ধাবিত করে, ফলে তারা তা অর্জন ও অনুধাবনে আত্মনিয়োগ করেন এবং একে জ্ঞান ও শিল্প হিসেবে ধারণ করেন। অতঃপর তারা লেখনীর মাধ্যমে একে নতুনভাবে লিপিবদ্ধ করতে সচেষ্ট হন, যা একে প্রতিটি হৃদয়ের নিকটবর্তী এবং প্রতিটি প্রাণের কাছে প্রিয় করে তোলে।
এবং বহু অনন্যসাধারণ আলেম নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যারা তাদের কীর্তিগুলোর মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন, যা বিভিন্ন নিদর্শন ও রচনারূপে মূর্ত হয়েছে। জ্ঞানের দিগন্তে ফিকহ, ভাষা, হাদিস, তাফসির, ইতিহাস, সাহিত্য, ভূগোল এবং অন্যান্য বিষয়ের বিশ্বকোষগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
সে সময়ে চিন্তা ও জ্ঞানের আকাশে বহু মেধাবী ব্যক্তিত্বের উদ্ভাস ঘটেছিল, যেমন: আয-যাহাবি, আন-নুওয়াইরি, আস-সাফাদি, আল-আসনাওয়ি, ইবনে আস-সুবকি, আল-মাকরিজি, ইবনে খালদুন এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويحسن قبل أن نتكلم عن الحركة العلمية لهذا العصر بالتفصيل -أن نعرض عرضًا سريعًا موجزًا للأطوار التى مر بها الفقه الإسلامى، حيث هو المعنى بدراستنا لهذا العصر، "فالفقه مثله مثل كل كائن، مادى، أو معنوى لا ينشأ من لا شئ، ولا يبلغ كماله طفرة واحدة. بل ينشأ من شئ موجود وسابق عليه، ويأخذ فى السير متدرجا فى مراتب الحياة والوجود، حتى يبلغ أقصى ما قدر له من نضج وكمال وتطور (1) وهذا ما جعلنا نفرد له مبحثا مستقلا ليكون تمهيدا للكلام عن الحركة العلمية فى هذا القرن، "الثامن الهجرى".
* * *
--------------------------------------------
এই যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক গতিধারা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে—ইসলামি ফিকহ যেসব স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে সেগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত পর্যালোচনা পেশ করা সমীচীন হবে। কেননা আমাদের এই যুগের গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হলো ফিকহ। "ফিকহ হলো প্রতিটি বস্তুগত বা অবস্তুগত সত্তার মতো, যা শূন্য থেকে সৃষ্টি হয় না এবং এক লাফে পূর্ণতায় পৌঁছে না। বরং এটি বিদ্যমান এবং পূর্ববর্তী কোনো বিষয় থেকে উদ্ভূত হয় এবং জীবন ও অস্তিত্বের স্তরগুলোতে ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকে, যতক্ষণ না এটি তার জন্য নির্ধারিত পরিপক্কতা, পূর্ণতা ও বিবর্তনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায় (১)।" আর একারণেই আমরা এর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি, যাতে তা এই শতাব্দী অর্থাৎ "অষ্টম হিজরি"র জ্ঞানতাত্ত্বিক গতিধারা সম্পর্কে আলোচনার ভূমিকা স্বরূপ হয়।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأطوار التى مر بها الفقه الإسلامى حتى القرن الثامن الهجرىمر الفقه الإسلامى فى أطواره بمراحل متعددة، اختلفت فى الكتابة عنها أقلام الكاتبين. ولست فى مجال تحقيق هذا الخلاف لأنه لا سعة للبحث به الآن ولا يقتضيه المقام، كما أنه من اختصاص الكاتبين فى مجال تاريخ الفقه والتشريع.
وإنما كل ما أردته هو أن أربط خيط البحث حتى نتعرف من أين بدأ وإلى أى مدى قد وصل، حيث نبدأ فى بحثنا ودراستنا؛ ليمكن أن نحدد معالم الطريق التى نقف عليها بعناية ودقة.
وحتى نخرج من هذا الخلاف؛ فإنه من الممكن أن يصطلح على ذكر المراحل التى مر بها الفقه الإسلامى حتى القرن الثامن على النحو التالى:
المرحلة الأولى:وكانت بدايتها فى حياة الرسول صلى الله عليه وسلم وتنتهى بوفاته سنة 11 هـ (632 م).
وفى هذه الفترة كان الفقه يعتمد على الوحى النازل من عند اللَّه تعالى، فقد نزل القرآن وحفظت السنة، ولم ينتقل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى، حتى كانت أصول هذا الفقه قد استكملت، وأسس التشريع قد تمت، وقد نزلت هذه الأحكام المهمة حسب الحاجة.
অষ্টম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামী ফিকহ যে সকল স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেইসলামী ফিকহ তার বিবর্তনের ধারায় বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যা নিয়ে লেখকদের লেখনীতে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ পেয়েছে। আমি এই মতপার্থক্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে যাচ্ছি না, কারণ বর্তমানে এখানে এর আলোচনার অবকাশ নেই এবং বিষয়ের চাহিদাও তা নয়। তদুপরি, এটি ফিকহ ও শরয়ি বিধানের ইতিহাসের লেখকদের বিশেষায়িত ক্ষেত্র।
বরং আমার উদ্দেশ্য হলো আলোচনার যোগসূত্র স্থাপন করা, যাতে আমরা জানতে পারি এটি কোথা থেকে শুরু হয়েছে এবং কতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখান থেকে আমরা আমাদের গবেষণা ও পড়াশোনা শুরু করছি; যেন আমরা সযত্নে ও সূক্ষ্মভাবে সেই পথের চিহ্নগুলো চিহ্নিত করতে পারি যার ওপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি।
আর এই মতপার্থক্য থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে, অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামী ফিকহ যে সকল স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে:
প্রথম স্তর:এর সূচনা হয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় এবং এর সমাপ্তি ঘটে ১১ হিজরি (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) সালে তাঁর ওফাতের মাধ্যমে।
এই সময়কালে ফিকহ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে (রফিকিল আলা) গমন করার পূর্বেই এই ফিকহের মূলনীতিসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছিল এবং শরয়ি বিধানের ভিত্তিগুলো সম্পন্ন হয়েছিল। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المرحلة الثانية (1):
وقد ظهرت من عهد الخلفاء الراشدين حينما بدأت المشكلات التى تحتاج إلى اجتهاد ونظر، فقد تفرق المسلمون إلى فرق سياسية حينما بدأ عصر صغار الصحابة وكبار التابعين، وذلك بسبب اختلافهم فى الخلافة، إلى شيعة، وخوارج، وأهل سنة.
كما تفرق الصحابة فى الأمصار يدعون إلى الإسلام يعلمون الناس أمر دينهم، وقد التف الناس حولهم يأخذون عنهم، وينقلون منهم، وفيهم القراء، والمعلمون وقد يصح من الحديث عند أحدهم ما لا يصح عند الآخر، فاختلفت الأقوال واتجهت الآراء.
وفى نهاية هذه المرحلة كثر التحديث عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولذلك زاد الشك فى صحة هذه الأحاديث.
وقد ترتب على ذلك أن ظهرت نزعتان:
1 - نزعة أهل الحديث.
2 - نزعة أهل الرأى والقياس.
وفى هذه المرحلة اتجه بعض الصحابة والتابعين إلى تأسيس علم الفقه؛ ليكون مثلا يحتذى به (2).
وفى هذه المرحلة أيضًا أسست المدرسة العلمية فى مصر وكان مقرها جامع عمرو ابن العاص بالفسطاط وأساتذتها من كبار الصحابة، وأستاذها الأول عبد اللَّه بن عمرو، وقد كثرت الرحلة من مصر وإليها فى طلب العلم فى هذه المدرسة.
ونبغ من المصريين كثيرون، هم تلاميذ هذه المدرسة الأولى، ومن أشهرهم فى
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পর্যায় (১):
এটি খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে প্রকাশ পেয়েছিল, যখন এমন সব সমস্যার উদয় হতে শুরু করেছিল যার জন্য ইজতিহাদ ও গবেষণার প্রয়োজন ছিল। যখন কনিষ্ঠ সাহাবী এবং জ্যেষ্ঠ তাবেয়ীদের যুগ শুরু হলো, তখন খেলাফত নিয়ে মতবিরোধের কারণে মুসলমানরা শিয়া, খারেজি এবং আহলে সুন্নাত—এই রাজনৈতিক দলগুলোতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
সাহাবীগণও বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতেন এবং মানুষকে দ্বীনের বিষয়াবলি শিক্ষা দিতেন। মানুষ তাঁদের চারপাশ ঘিরে জমা হতো, তাঁদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করত এবং তা বর্ণনা করত। তাঁদের মধ্যে ক্বারী এবং শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন। কারো কাছে কোনো হাদীস সহীহ হিসেবে গণ্য হতো, যা অন্যজনের কাছে হতো না। ফলে মতভেদ সৃষ্টি হলো এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব ঘটল।
এই পর্যায়ের শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনার আধিক্য দেখা দিল, যার ফলে এই হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ বৃদ্ধি পেল।
এর ফলে দুটি ধারার উদয় হলো:
১ - আহলে হাদীসের ধারা।
২ - আহলে রায় ও কিয়াসের ধারা।
এই পর্যায়ে কিছু সাহাবী এবং তাবেয়ী ফিকহ শাস্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে মনোনিবেশ করেন; যাতে এটি অনুসরণযোগ্য একটি আদর্শ হতে পারে (২)।
এই পর্যায়ে মিশরে একটি ইলমি মাদরাসা (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কেন্দ্র ছিল ফুসতাতের জামে আমর ইবনুল আস। এর শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন বড় বড় সাহাবীগণ এবং এর প্রথম শিক্ষক ছিলেন আবদুল্লাহ বিন আমর। এই মাদরাসায় জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে মিশরে ও মিশর থেকে প্রচুর যাতায়াত বা সফর বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মিশরীয়দের মধ্যে অনেকে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, যারা ছিলেন এই প্রথম মাদরাসার ছাত্র। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধরা হলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القرن الأول: سليم بن عنبر النجيبى أول من قضى بمصر، وقد ولاه معاوية القضاء سنة 40 هـ، وهو أول من أسجل بمصر سجلات فى المواريث. مات بدمياط سنة 75 هـ (1).
المرحلة الثالثة (2):
مرحلة تدوين الفقه أو ما يطلق عليها مرحلة "عصر المذاهب الفقهية" أو "عصر الاجتهاد المطلق".
وفى هذه المرحلة ظهرت مذاهب كثيرة، بعضها كتب له النجاح واشتهر، والبعض الآخر لم يكتب له الذيوع والانتشار.
أما التى كتب لها النجاح والشيوع فهى: الحنفى، والمالكى، والشافعى، والحنبلى، والشيعى (3) (الزيدى والإمامى)، والظاهرى.
--------------------------------------------
প্রথম শতাব্দী: সুলাইম ইবনে আম্বার আল-নাজিবি ছিলেন মিশরের প্রথম বিচারক। মুয়াবিয়া তাঁকে ৪০ হিজরি সনে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মিশরে উত্তরাধিকারের রেকর্ডসমূহ নিবন্ধন করেছিলেন। তিনি ৭৫ হিজরি সনে দমিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
তৃতীয় পর্যায় (২):
ফিকহ সংকলনের পর্যায় অথবা একে "ফিকহি মাজহাবসমূহের যুগ" বা "মুজতাহিদ-ই-মুতলাকদের যুগ" বলা হয়।
এই পর্যায়ে অনেক মাজহাবের আবির্ভাব ঘটেছিল; যার কিছু সফল হয়েছে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, আবার অন্যগুলোর প্রচার ও প্রসার ঘটেনি।
আর যেগুলো সফল ও প্রসারিত হয়েছে সেগুলো হলো: হানাফি, মালিকি, শাফিয়ি, হাম্বলি, শিয়া (৩) (জায়দি ও ইমামি) এবং জাহিরি মাজহাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما المذاهب التى لم يكتب لها الانتشار والظهور لأنها لم تجد من يعمل على نشرها فاندثرت، فهى كمذهب الثورى والأوزاعى، وأبى ثور والليث بن سعد (1) والطبرى.
ولقد حوت هذه المذاهب آراء قيمة لها وزنها فى مجال البحث العلمى والتشريعى. قال الإمام الشافعى -رضى اللَّه عنه-: "الليث بن سعد أفقه من مالك، ولكن قومه ضيعوه" (2).
ولقد كان للتدوين فى هذه المرحلة أثر كبير على الفقه والفقهاء.
يقول صاحب معجم المصنفين: "حينما ظهر التشيع والاعتزال فى سنة 132 هـ شرع الكبار فى تدوين السنن وتأليف الفروع وتصنيف العربية، ثم كثر ذلك فى أيام الرشيد بكثرة التصانيف، وأخذ حافظ العلماء ينقص، فلما دونت الكتب عكف عليها.
وإنما كان قبل ذلك علم الصحابة والتابعين فى الصدور، فهى كانت خزائن العلم لهم" (3).
ويقول فى مكان آخر: "ولما عظمت أمصار الإسلام، وذهبت الأمية من العرب بممارسة الكتاب، وتمكين الاستنباط، وكمل الفقه، وأصبح صناعة وعلمًا، بدلوا باسم الفقهاء والعلماء من القراء" (4).
يقول السيوطى: "وفى القرن الثانى للهجرة بدأت حركة تدوين الكتب وتأليفها فى مختلف ولايات الدولة الإسلامية بما فيها مصر، وكان على رأس القائمين بهذه
--------------------------------------------
আর যেসব মাযহাবের বিস্তার ও প্রকাশ ভাগ্যে জোটেনি কারণ সেগুলো প্রচার করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি এবং ফলে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেগুলো হলো সাওরি, আওযায়ি, আবু সাওর, লাইস ইবনে সাদ (১) এবং তাবারি-র মাযহাবের মতো।
এই মাযহাবগুলো বৈজ্ঞানিক ও আইনগত গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ মতামতের আধার ছিল। ইমাম শাফিয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "লাইস ইবনে সাদ ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকিহ ছিলেন, কিন্তু তার জাতি তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে (অর্থাৎ তার ইলম প্রচার করেনি)" (২)।
এই পর্যায়ে গ্রন্থবদ্ধকরণের কাজ ফিকহ ও ফকিহদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
মুজামুল মুসান্নিফিনের লেখক বলেন: "যখন ১৩২ হিজরি সনে শিয়া মতবাদ ও মুতাযিলা মতবাদের উদ্ভব ঘটল, তখন বিজ্ঞ মনীষীগণ সুন্নাহ সংকলন, ফুরু (শাখা-প্রশাখা) মাসআলা রচনা এবং আরবি ভাষা বিন্যাসের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে হারুনুর রশিদের শাসনামলে প্রচুর গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এতে আলেমদের মুখস্থ রাখার চর্চা কমতে থাকে এবং যখন গ্রন্থগুলো সংকলিত হলো, তখন তারা সেগুলোর ওপরই নিবিষ্ট হলেন।
এর আগে সাহাবী ও তাবেয়ীদের ইলম কেবল তাদের অন্তরেই সংরক্ষিত ছিল, যা ছিল তাদের ইলমের ভাণ্ডার" (৩)।
তিনি অন্য স্থানে বলেন: "যখন ইসলামের বড় বড় শহরগুলো গড়ে উঠল, লেখালেখির চর্চার মাধ্যমে আরবদের নিরক্ষরতা দূর হলো, গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (ইস্তিনবাত) ভিত্তি মজবুত হলো, ফিকহ পূর্ণতা পেল এবং তা একটি সুশৃঙ্খল বিদ্যা ও বিজ্ঞানে পরিণত হলো, তখন ‘কুররা’ (কুরআন পাঠকারী) শব্দের পরিবর্তে ‘ফকিহ’ ও ‘আলেম’ শব্দের প্রচলন শুরু হলো" (৪)।
সুয়ূতী বলেন: "হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে ইসলামি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে গ্রন্থ সংকলন ও রচনার আন্দোলন শুরু হয়, যার মধ্যে মিশরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এই কাজের অগ্রভাগে যারা ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাতালিউদ দাকায়িক ফী তাহরীরিল জাওয়ামিই ওয়াল ফাওয়ারিক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحركة فى مصر العالمان الكبيران، عبد اللَّه بن لهيعة (1)، والليث بن سعد (2)، وهما من أنبغ تلامذة يزيد بن أبى حبيب الأزدى، الذى كان من أبرز الشخصيات العلمية فى القرن الثانى الهجرى، فقد كان رجلًا واسع المعرفة فى الناحيتين التاريخية والفقهية، وهو أول من عنى بالتشريع فى مصر، بعد أن كانت عناية سابقيه بالقصص والتاريخ".
وفى نهاية هذه المرحلة كان القيام على المذاهب وتأييدها، وشاعت المناظرة والجدل، واتجه الفقه بآفاقه نحو التأليف والتصنيف فى الفروع، وقل الاجتهاد.
المرحلة الرابعة:وتبدأ من منتصف القرن الرابع الهجري إلى الآن (3)، وكان من معالم الفقه فى هذه المرحلة أن جمع الأتباع أقوال فقهاء المذاهب ودونوها فى متون، ثم قام البعض بشرح هذه المتون، ثم وضع حواش عليها، ثم اختصارات لها، وشاع التقليد على المذاهب وانتشر.
* * *
--------------------------------------------
মিশরের (ইলমি) আন্দোলনের দুই মহান আলেম ছিলেন আবদুল্লাহ বিন লাহিয়া (১) এবং লাইস বিন সাদ (২)। তাঁরা ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব আল-আজদির অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যিনি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইতিহাস এবং ফিকহ—উভয় বিষয়েই গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনিই মিশরে সর্বপ্রথম আইন প্রণয়ন বা তাশরি-র প্রতি মনোনিবেশ করেন, অথচ তাঁর পূর্বসূরিদের মনোযোগ ছিল কেবল গল্প-কাহিনী ও ইতিহাসের ওপর।
এই স্তরের শেষ পর্যায়ে মাযহাবগুলোর প্রতিষ্ঠা ও সেগুলোর সমর্থনের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং মুনাজারা (বিতর্ক) ও বাদানুবাদ ব্যাপক আকার ধারণ করে। ফিকহ শাস্ত্রের দিগন্ত শাখা-প্রশাখা (ফুরু) বিষয়ক গ্রন্থ সংকলন ও রচনার দিকে ধাবিত হয় এবং ইজতিহাদ কমে যায়।
চতুর্থ স্তর:এটি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত (৩)। এই স্তরে ফিকহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, অনুসারীরা বিভিন্ন মাযহাবের ফকিহদের উক্তিগুলো একত্রিত করেন এবং সেগুলো মূল পাঠ (মতন) হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর কেউ কেউ এই মতনগুলোর ব্যাখ্যা (শারহ) প্রদান করেন, তারপর সেগুলোর ওপর টীকা (হাশিয়া) লেখেন এবং পরবর্তীতে এগুলোর সংক্ষেপণ (মুখতাসার) তৈরি করেন। মাযহাবগুলোর ওপর তাকলিদ বা অনুসরণ ব্যাপক হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে।
* * *
--------------------------------------------