(খণ্ড: ১) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
ديوان الإسلام   (شمس الدين ابن الغزي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: ديوان الإسلام

المؤلف: شمس الدين أبو المعالي محمد بن عبد الرحمن بن الغزي (ت 1167هـ)

المحقق: سيد كسروي حسن

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1990 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দিওয়ানুল ইসলাম   (শামসুদ্দিন ইবনুল গাজ্জি)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


গ্রন্থ: দিওয়ানুল ইসলাম

লেখক: শামসুদ্দিন আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল গাজ্জি (মৃত্যু ১১৬৭ হিজরি)

সম্পাদক: সাইয়্যিদ কাসরাউয়ি হাসান

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ١٨)
الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه ثقتي

الحمد لله الأحد الواحد الذي خلق الخلق بقدرته وأحصاهم عدداً وجعلهم أدلة على ألوهيته فبعداً لكل جاحد. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة تنجي الشاهد.

وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله صاحب المقام المحمود والحوض المورود لكل وارد.

صلى الله عليه وعلى سائر الأنبياء والمرسلين وأصحابه كلهم وآلهم وسائر الصالحين.

أما بعد …

فيقول العبد الفقير إلى عفو الله تعالى: محمد أبو المعالي بن عبد الرحمن بن زين العابدين بن زكريا بن محمد بن محمد بن محمد بن أحمد العامري الشهير بابن الغزي ألهمه الله رشده.

هذا أنموذج لطيف أذكر فيه المشاهير من أهل كل فن بحسب ما اطلعت عليه ممن كان في هذه الدولة الإسلامية وكان له أثر في الإسلام من العلماء أرباب التصانيف. أو الأدباء. والشعراء. والندماء.

ومن له شهرة ببناء مدرسة أو جامع أو مسجد في بلدتنا دمشق الشام.

ومشاهير الملوك. والوزراء. والأمراء. والرؤساء. ومشاهير الأطباء وغيرهم.
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

তাঁরই ওপর আমার ভরসা।

সকল প্রশংসা সেই একক অদ্বিতীয় আল্লাহর জন্য, যিনি আপন কুদরতে সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, তাদের সংখ্যা নিরূপণ করেছেন এবং তাদেরকে তাঁর উলুহিয়্যাতের (প্রভুত্ব) প্রমাণস্বরূপ স্থাপন করেছেন; সুতরাং প্রত্যেক অস্বীকারকারীর জন্য ধ্বংস অনিবার্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা সাক্ষ্যদানকারীকে মুক্তি প্রদান করে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি মাকামে মাহমুদ এবং এমন এক হাউজের (হাউজে কাউসার) অধিকারী যেখানে প্রত্যেক আগমনকারী উপস্থিত হবে।

তাঁর ওপর এবং সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর, তাঁর সকল সাহাবী, পরিবারবর্গ এবং সকল নেককার বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর …

আল্লাহ তাআলার ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ আবু আল-মাআলি বিন আবদুর রহমান বিন জয়নুল আবেদিন বিন জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আমেরি, যিনি ইবনুল গাজ্জি নামে পরিচিত—আল্লাহ তাকে সঠিক পথের দিশা দান করুন—বলছেন:

এটি একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত সংকলন, যেখানে আমি আমার জানামতে এই ইসলামি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করব, যাদের ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ অবদান রয়েছে; বিশেষ করে গ্রন্থপ্রণেতা আলেম সমাজ, সাহিত্যিকবৃন্দ, কবিগণ এবং উচ্চপদস্থ সহচরবৃন্দ।

সেই সাথে আমাদের সিরিয়ার দামেস্ক শহরে যারা কোনো মাদ্রাসা, জামে মসজিদ বা সাধারণ মসজিদ নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাদের কথাও আমি এতে আনব।

এছাড়া প্রখ্যাত বাদশাহগণ, উজিরগণ, আমিরগণ, রাষ্ট্রপ্রধানগণ, নামকরা চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের জীবনীও এতে স্থান পাবে।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ١٩)
مفتتحاً الكتاب بنبذة من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم. مرتباً له على الحروف متوجاً كل حرف بترجمة مشاهير الصحابة في ذلك الحرف مقتصراً من الترجمة على ما لا بد منه وهو: اسم المترجم واسم أبيه وجده غالباً. والفن الذي اشتهر به أو التصنيف الذي شاع اسمه به.

ثم أذكر نسبه. وبلده. وعام وفاته مرقوماً بالحساب الهندي إن وقفت على عام وفاته.

ومرادي بهذا الكتاب: أن يصير تذكرة لي إذا أردت الكشف عن ترجمة شخص من المذكورين فيه من كتاب من كتب التاريخ.

فإن كان ذلك التاريخ مرتباً على الحروف: كتاريخ ابن خلكان وتاريخ ابن عساكر. ومعجم الأدباء لياقوت. والوافي بالوفيات للصلاح الصفدي.

علمت اسمه من هذا الأنموذج وراجعته في ذلك الحرف. وإن كان مرتباً على السنين: كتاريخ الإسلام للذهبي. وتاريخ ابن شاكر علمت السنة التي مات فيها فراجعته فيها: وهذا مقصد جليل وله فائدة عظيمة لاسيما لأرباب الهمم القاصرة الذين يكتفون بأدنى تعريف للشخص. وقد قسمت كل حرف على خمسة فصول: الفصل الأول: في الأسماء.

الفصل الثاني: في الألقاب.

الفصل الثالث: في الكنى.

الفصل الرابع: في الأنساب.

الفصل الخامس: في الأبناء.

وقد سبقني إلى التصنيف في هذا الغرض: العلامة الشيخ شمس الدين محمد بن عزم نزيل مكة وذيل عليه العلامة
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করা হয়েছে। একে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি বর্ণকে সেই বর্ণের প্রসিদ্ধ সাহাবীদের জীবনীর মাধ্যমে সুশোভিত করা হয়েছে। জীবনীতে কেবল অপরিহার্য বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে, তা হলো: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার পিতা ও পিতামহের নাম; আর যে বিষয়ে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন অথবা যে শাস্ত্রের মাধ্যমে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

অতঃপর আমি তার বংশপরিচয়, দেশ এবং যদি মৃত্যুর বছর সম্পর্কে জানতে পারি তবে তা ভারতীয় সংখ্যায় উল্লেখ করেছি।

এই গ্রন্থটি সংকলনে আমার উদ্দেশ্য হলো: এটি যেন আমার জন্য একটি স্মারক হিসেবে কাজ করে, যখন আমি ইতিহাসের কোনো কিতাব থেকে এতে উল্লেখিত কোনো ব্যক্তির জীবনী তালাশ করতে চাইব।

যদি সেই ইতিহাস গ্রন্থটি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত হয়— যেমন ইবনে খাল্লিকানের ইতিহাস, ইবনে আসাকিরের ইতিহাস, ইয়াকুতের মু’জামুল উদাবা এবং সালাহ আস-সাফাদির আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত।

তবে আমি এই সংক্ষিপ্ত রূপরেখা থেকে তার নাম জেনে সংশ্লিষ্ট বর্ণের অধীনে তা দেখে নেব। আর যদি তা বছর অনুযায়ী বিন্যস্ত হয়— যেমন যাহাবীর তারিখুল ইসলাম এবং ইবনে শাকিরের ইতিহাস— তবে আমি তার মৃত্যুর বছর জেনে সংশ্লিষ্ট বছরে তা দেখে নেব। এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য এবং এর বহু উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে তাদের জন্য যাদের হিম্মত বা সংকল্প সীমিত এবং যারা কোনো ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতেই তুষ্ট থাকেন। আমি প্রতিটি বর্ণকে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ: নামসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উপাধিসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুনিয়াত প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বংশধারা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সন্তানাদি প্রসঙ্গে।

এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় আমার পূর্বে অগ্রণী হয়েছেন আল্লামা শাইখ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আযম, যিনি মক্কার অধিবাসী ছিলেন এবং এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন আল্লামা
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الشيخ إبراهيم الجينيني شكر الله سعيهما.

وقد سميت هذا المجموع ديوان الإسلام. لما أنه احتوى على غالب المشاهير من أهل الدين والله أسأل حسن الختام. وأن لا يجعل أعمالنا حسرة علينا يوم تزل الأقدام.

 

‌‌النبي محمد نبينا وسيدنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم

محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان هذا النسب الشريف إلى عدنان قال النووي في تهذيب الأسماء واللغات: أجمعت عليه الأمة.

وأما ما بعده إلى آدم فمختلف فيه أشد اختلاف. قال العلماء: ولا يصح فيه شيء يعتمد.

وكنيته صلى الله عليه وسلم أبو القاسم وكناه جبريل عليه السلام أبا إبراهيم.

ولرسول الله صلى الله عليه وسلم أسماء منها: محمد. وأحمد. والحاشر. والعاقب. والمقفي. والماحي. وخاتم النبيين. ونبي الرحمة. ونبي الملحمة. ونبي التوبة والفاتح. وطه. ويس. وعبد الله. والمبشر. والنذير. والداعي إلى الله. والسراج المنير. والرؤوف الرحيم. والرحمة. والنعمة. والهادي. والشاهد.

قال النووي وبعض هذه الأسماء صفات وإطلاقهم الاسم عليها مجاز.

ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل على الصحيح المشهور ونقل الإجماع عليه واتفقوا على أنه ولد يوم الإثنين من شهر ربيع الأول. واختلفوا في تعيين اليوم. فالمشهور أنه في ثاني عشره قيل ليلاً وقيل نهاراً وقيل في ثانيه وقيل في ثامنه. وصححه جماعة من الأئمة. وقيل في عاشره.

وأمه آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة.

وأرضعته حليمة بنت أبي ذؤيب السعدية.

وعندما شق صدره وملىء حكمة وإيماناً بعد أن استخرج حظ الشيطان منه.
শেখ ইব্রাহিম আল-জিনিনি, আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

আমি এই সংকলনের নাম রেখেছি 'দিওয়ানুল ইসলাম'; কারণ এতে দ্বীনের অধিকাংশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আল্লাহর নিকট আমি সুন্দর পরিসমাপ্তি প্রার্থনা করছি, এবং তিনি যেন আমাদের আমলগুলোকে সেদিন আমাদের জন্য আফসোসের কারণ না বানান, যেদিন পা সমূহ পিছলে যাবে।

 

‌‌নবী মুহাম্মদ, আমাদের নবী, আমাদের নেতা এবং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)

মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাদ বিন আদনান। আদনান পর্যন্ত এই মহৎ বংশপরম্পরার ব্যাপারে ইমাম নববী 'তহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে বলেছেন: উম্মাহ এর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে।

আর তাঁর পরবর্তী থেকে আদম পর্যন্ত বংশলতিকার বিষয়ে প্রচণ্ড মতভেদ রয়েছে। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।

তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কুনিয়াত ছিল আবুল কাসিম, এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কুনিয়াত রেখেছিলেন আবু ইব্রাহিম।

আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) অনেকগুলো নাম রয়েছে, তন্মধ্যে: মুহাম্মদ, আহমাদ, আল-হাশির, আল-আকিব, আল-মুকাফ্ফি, আল-মাহি, খাতামুন নাবিয়্যিন, নবীয়ুর রাহমাহ, নবীয়ুল মালহামাহ, নবীয়ুত তাওবাহ, আল-ফাতেহ, ত্বহা, ইয়াসিন, আবদুল্লাহ, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, উজ্জ্বল প্রদীপ, মমতাময় ও দয়ালু, রহমত, নেয়ামত, পথপ্রদর্শক এবং সাক্ষী।

ইমাম নববী বলেছেন, এই নামগুলোর কয়েকটি মূলত গুণাবলী এবং সেগুলোকে নাম হিসেবে ব্যবহার করা রূপক।

বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) হস্তিবাহিনীর বছর জন্মগ্রহণ করেন এবং এর ওপর ইজমা বর্ণিত হয়েছে। সকলে একমত হয়েছেন যে তিনি রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। তবে তারিখ নির্ধারণে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বারো তারিখ ছিল; কেউ বলেছেন রাতে, কেউ বলেছেন দিনে। আবার বলা হয়েছে দুই তারিখ, কেউ বলেছেন আট তারিখ—যাকে একদল ইমাম বিশুদ্ধ বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন দশ তারিখ।

তাঁর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরাহ বিন কিলাব বিন মুররাহ।

তাঁকে স্তন্যপান করিয়েছেন হালিমা বিনতে আবি জুয়াইয়িব আস-সাদিয়া।

এবং যখন তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়, তখন তা থেকে শয়তানের অংশ বের করে ফেলার পর হিকমত ও ঈমান দ্বারা তা পরিপূর্ণ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢١)
وأرضعته أيضاً ثويبة الأسلمية جارية أبي لهب. وحضنته أم أيمن بركة الحبشية. وكان ورثها من أبيه فلما كبر أعتقها زوجها زيد بن حارثة.

ومات أبوه وهو حمل. وماتت أمه وله أربع سنين وقيل ست. وكفله جده عبد المطلب.

فلما بلغ ثمان سنين وشهرين وعشرة أيام مات عبد المطلب. فوليه عمه أبو طالب.

فلما بلغ خمساً وعشرين سنة تزوج خديجة بنت خويلد ولما بلغ خمساً وثلاثين سنة شهد بنيان قريش الكعبة. ووضع الحجر الأسود بيده.

ولما بلغ أربعين سنة ويوماً بعثه الله بشيراً ونذيراً ونزل عليه جبريل بالوحي والقرآن.

ولما بلغ خمسين سنة قدم عليه جن نصيبين فأسلموا. ولما بلغ إحدى وخمسين سنة أسري به من بين زمزم والمقام إلى بيت المقدس ثم أتي بالبراق فركبه وعرج به إلى السماء وفرضت الصلاة.

ولما بلغ ثلاثاً وخمسين سنة هاجر من مكة إلى المدينة يوم الإثنين لثمان خلون من ربيع الأول ودخلها يوم الإثنين.

وغزواته خمس وعشرون. قاتل في سبع منها.

وهي: بدر، أحد، الخندق، بني قريظة، بني المصطلق، خيبر، الطائف.

وكانت بعوثه نحواً من خمسين.

وحج بعد فرض الحج حجة واحدة واعتمر أربع مرات وأما صفته صلى الله عليه وسلم: فكان ربعة بعيد ما بين المنكبين أبيض اللون مشرباً بحمرة يبلغ شعره شحمة أذنيه. ولم يبلغ الشيب في رأسه ولحيته عشرين شعرة.

ظاهر الوضاءة يتلألأ كالقمر ليلة البدر.

حسن الخلق معتدله.

إن صمت فعليه الوقار وإن تكلم سما وعلاه البهاء. أجمل الناس وأبهاه من
আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবাহ আল-আসলামিয়্যাহও তাকে দুগ্ধপান করিয়েছেন। আর উম্মে আয়মান বারাকাহ আল-হাবাশিয়্যাহ তাকে লালন-পালন করেছেন। তিনি তাকে উত্তরাধিকারসূত্রে তার পিতার নিকট থেকে পেয়েছিলেন। অতঃপর যখন তিনি বড় হলেন, তখন তিনি তাকে মুক্ত করে দেন এবং যায়িদ ইবনে হারিসার সাথে তার বিবাহ দেন।

তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন তখনই তার পিতা ইন্তেকাল করেন। আর যখন তার বয়স চার বছর, মতান্তরে ছয় বছর, তখন তার মাতা ইন্তেকাল করেন। এরপর তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যখন তার বয়স আট বছর দুই মাস দশ দিন হলো, তখন আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। এরপর তার চাচা আবু তালিব তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

যখন তিনি পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদকে বিবাহ করেন। আর যখন তিনি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন কুরাইশদের কাবা ঘর নির্মাণের প্রত্যক্ষদর্শী হন এবং নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন।

যখন তিনি চল্লিশ বছর একদিন বয়সে উপনীত হলেন, তখন আল্লাহ তাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেন এবং জিবরাঈল তার নিকট ওহি ও কুরআন নিয়ে অবতরণ করেন।

যখন তিনি পঞ্চাশ বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন নাসিবিন অঞ্চলের জিনেরা তার নিকট আসলো এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল। যখন তিনি একান্ন বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তাকে যমযম ও মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর তার নিকট বুরাক আনা হলো, তিনি তাতে আরোহণ করলেন এবং তাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং সালাত ফরয করা হলো।

যখন তিনি তিপ্পান্ন বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি সোমবার দিনে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। সেটি ছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ এবং তিনি সোমবার দিনই সেখানে প্রবেশ করেন।

তার প্রত্যক্ষ যুদ্ধাভিযান ছিল পঁচিশটি, যার মধ্যে সাতটিতে তিনি সশরীরে যুদ্ধ করেছেন।

সেগুলো হলো: বদর, উহুদ, খন্দক, বনু কুরাইযা, বনু মুস্তালিক, খায়বার এবং তায়েফ।

তার প্রেরিত সেনাদল ছিল প্রায় পঞ্চাশটি।

হজ ফরয হওয়ার পর তিনি একটি হজ সম্পাদন করেন এবং চারবার উমরাহ করেন। আর তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল: তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের, দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, গায়ের রঙ ছিল লালিমামিশ্রিত ধবধবে সাদা এবং তার চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত। তার মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও পেকে সাদা হয়নি।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত উজ্জ্বল কান্তিময়, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তিনি দ্যুতি ছড়াতেন।

চরিত্র ও দৈহিক গঠনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ।

তিনি যখন নীরব থাকতেন তখন তার মাঝে গাম্ভীর্য বিরাজ করত, আর যখন কথা বলতেন তখন তার মর্যাদা ও সৌন্দর্য ফুটে উঠত। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল...
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
بعيد وأحسنه وأحلاه من قريب. حلو المنطق واسع الجبين. أزج الحواجب في غير قرن أقنى العرنين. سهل الخدين. ضليع الفم. أشيب مفلج الأسنان.

بين كتفيه خاتم النبوة.

يقول واصفه لم أر قبله ولا بعده مثله.

وكان يلبس الصوف والقطن وتعجبه الثياب الخضر ويلبس الأبيض والأحمر.

وكان يعتم ويسدل طرف عمامته بين كتفيه.

ويلبس الخاتم من فضة في خنصر يده اليمنى وربما لبسه في اليسرى ونقشه محمد رسول الله ويحب الطيب. ويكره الرائحة الكريهة.

وأول نسائه خديجة. ثم سودة بنت زمعة. ثم الصديقة عائشة ولم يتزوج بكراً غيرها.

ثم حفصة بنت عمر بن الخطاب.

ومن زوجاته أم حبيبة رملة بنت أبي سفيان. وزينب بنت جحش. وأم سلمة. وجويرية بنت الحارث. وصفية بنت حيي. وميمونة بنت الحارث وزينب بنت الحارث.

وأولاده: القاسم وبه كان يكنى.

وعبد الله ويسمى الطيب. وزينب ورقية. وأم كلثوم وفاطمة. وكلهم من خديجة.

وولد له بالمدينة: إبراهيم من مارية القبطية ومات وهو طفل.

وكلهم ماتوا في حياته صلى الله عليه وسلم. إلا فاطمة فتأخرت بعده ستة أشهر.

وأسلم من أعمامه وعماته: حمزة. والعباس. وصفية. وهي أم الزبير بن العوام ومواليه صلى الله عليه وسلم: زيد بن حارثة. وابنه أسامة. وأبو كبشة سليم. وشقران. وأبو رافع. وسفينة. وغيرهم.
দূর থেকে তাঁকে অত্যন্ত সুন্দর দেখাত এবং নিকট থেকে তিনি ছিলেন অধিকতর লাবণ্যময় ও মিষ্ট। তাঁর বাক্য ছিল সুমিষ্ট এবং ললাট ছিল প্রশস্ত। তাঁর ভ্রুযুগল ছিল ঘন ও পৃথক (একে অপরের সাথে মিলিত নয়), নাসিকা ছিল উন্নত। তাঁর গণ্ডদেশ ছিল মসৃণ, মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত এবং দন্তরাজি ছিল উজ্জ্বল ও বিরল (ফাঁকবিশিষ্ট)।

তাঁর দুই স্কন্ধের মধ্যস্থলে নবুওয়াতের মোহর বিদ্যমান ছিল।

তাঁর গুণাবলি বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর সদৃশ কাউকে দেখিনি।

তিনি পশম ও তুলার বস্ত্র পরিধান করতেন। সবুজ বর্ণের পোশাক তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিল এবং তিনি শ্বেত ও রক্তিম বর্ণের পোশাকও পরিধান করতেন।

তিনি পাগড়ি পরিধান করতেন এবং পাগড়ির শিমলা বা প্রান্তভাগ তাঁর দুই স্কন্ধের মাঝে ঝুলিয়ে দিতেন।

তিনি তাঁর ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে রুপার আংটি পরিধান করতেন, কখনো বাম হাতেও পরতেন। তাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ খোদাই করা ছিল। তিনি সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ অপছন্দ করতেন।

তাঁর পত্নীগণের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিলেন খাদিজা। অতঃপর সাওদা বিনতে জামআ। এরপর সিদ্দিকা আয়েশা; তিনি ব্যতীত আর কোনো কুমারীকে তিনি বিবাহ করেননি।

অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাবের কন্যা হাফসা।

তাঁর অন্যান্য পত্নীগণ হলেন: উম্মে হাবিবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান, জয়নব বিনতে জাহশ, উম্মে সালামা, জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস, সাফিয়া বিনতে হুয়াই, মায়মুনা বিনতে আল-হারিস এবং জয়নব বিনতে আল-হারিস।

তাঁর সন্তানগণ হলেন: কাসিম, যাঁর নামানুসারে তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হয়েছিল।

এবং আব্দুল্লাহ—যাঁকে ‘তয়্যিব’ বলা হতো। আর জয়নব, রুকাইয়াহ, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা। তাঁরা সকলেই খাদিজার গর্ভজাত।

মদিনায় মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে তাঁর পুত্র ইবরাহিম জন্মগ্রহণ করেন এবং শিশুকালেই ইন্তেকাল করেন।

তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁর জীবদ্দশাতেই ফাতিমা ব্যতীত তাঁর সকল সন্তান ইন্তেকাল করেন। ফাতিমা তাঁর ওফাতের ছয় মাস পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

তাঁর চাচা ও ফুফুদের মধ্যে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন: হামজা, আব্বাস এবং সাফিয়া (যিনি যুবায়ের ইবনুল আওয়ামের মাতা)। আর তাঁর (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মুক্তিকৃত দাসদের মধ্যে রয়েছেন: জায়েদ বিন হারিসা, তাঁর পুত্র উসামা, আবু কাবশা সুলাইম, শাকরান, আবু রাফি, সাফিনা এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وجواريه: سلمى. وأم رافع. وبركة. ومارية. وريحانة. وخضرة. ورضوى. وغيرهن.

وخدامه من الأحرار: أنس بن مالك. وعبد الله بن مسعود. وعقبة بن عامر. وبلال. وهند وأسماء ابنا حارثة. وربيعة بن كعب. وأبو ذر الغفاري. وغيرهم.

وكان له من الخيل عشرة. ومن البغال ثلاثة ومن الإبل عشرون. ومن الغنم مائة. ومن السيوف تسعة ومن القسي أربعة. ودرعان.

وأما معجزاته صلى الله عليه وسلم فكثيرة منها: القرآن وهو أعظمها.

وشق الصدر. وانشقاق القمر. وسلم عليه الشجر والحجر. وحن إليه الجزع. وأطعم الجيش الكثير من الطعام اليسير. ونبع الماء النمير من بين أصابعه فأروى الجمع الكثير. وآتاه الله مفاتيح خزائن الأرض.

وخيره الله تعالى بين أن يكون ملكاً أو نبياًُ فاختار أن يكون نبياً عبداً.

ومنحه الله تعالى الشفاعة العظمى في فصل القضاء. وخصه بالحوض.

وبأن أمته خير أمة أخرجت للناس.

ولم يفارق الدنيا حتى بَيّن للناس ما نزل إليهم.

وترك الناس على بيضاء نقية ليلها كنهارها وشريعته باقية إلى يوم القيامة والمصيبة بموته عامة لكل مؤمن به إلى يوم القيامة. وأصابه الوعك بالحمى أياماً.

وانتقل إلى الدار الآخرة يوم الإثنين الثاني عشر من ربيع الأول في السنة الحادية عشرة من الهجرة.

دفن ليلة الأربعاء في بيت عائشة.

ودفن عنده أبو بكر. وعمر.

وهذه نبذة من سيرته صلى الله عليه وسلم ذكرتها لتعود بركتها عليَّ وعلى كتابي.

وأسأل الله تعالى أن يحييني على ملته وأن يحشرني في زمرته تحت لوائه. وأن يجعلني من أهل شفاعته. إنه جواد كريم.
তাঁর দাসীদের মধ্যে ছিল: সালমা, উম্মে রাফি, বারাকাহ, মারিয়া, রায়হানা, খাদরা, রাদওয়া এবং আরও অনেকে।

স্বাধীন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তাঁর সেবক ছিলেন: আনাস ইবনে মালিক, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উকবা ইবনে আমির, বিলাল, হারিসের দুই পুত্র হিন্দ ও আসমা, রাবিআ ইবনে কাব, আবু যার আল-গিফারি এবং আরও অনেকে।

তাঁর দশটি ঘোড়া, তিনটি খচ্চর, বিশটি উট, একশটি ভেড়া, নয়টি তলোয়ার, চারটি ধনুক এবং দুটি বর্ম ছিল।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোজেজা অনেক; তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআন।

বক্ষ বিদীর্ণ করা, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, গাছ ও পাথরের তাঁকে সালাম দেওয়া, খেজুরের শুকনো কাণ্ডের তাঁর বিরহে রোদন করা, সামান্য খাবার দিয়ে বিশাল বাহিনীকে পরিতৃপ্ত করা এবং তাঁর আঙ্গুলগুলোর মধ্য থেকে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হওয়া যার দ্বারা তিনি বিশাল জনসমষ্টির তৃষ্ণা নিবারণ করেছিলেন। আর আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি দান করেছিলেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে বাদশাহ-নবী অথবা বান্দা-নবী হওয়ার মাঝে পছন্দ করার সুযোগ দিয়েছিলেন; তখন তিনি একজন বান্দা-নবী হওয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিচার ফয়সালার দিনে মহা-সুপারিশের (শাফায়াতে কুবরা) অধিকার দান করেছেন এবং তাঁকে হাউজে কাওসার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

এবং তাঁর উম্মতকে মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

লোকদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা না করা পর্যন্ত তিনি ইহধাম ত্যাগ করেননি।

তিনি মানুষকে এক উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ আদর্শের ওপর রেখে গেছেন যার রাত দিনের মতোই স্পষ্ট; আর তাঁর শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তাঁর মৃত্যুজনিত শোক কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মুমিনের জন্য এক সাধারণ বিপদস্বরূপ। তিনি কয়েক দিন তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।

তিনি হিজরি একাদশ সনের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার পরলোকে গমন করেন।

বুধবার রাতে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর পার্শ্বেই আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.)-কে দাফন করা হয়েছে।

এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যা আমি উল্লেখ করেছি যাতে এর বরকত আমার এবং আমার এই কিতাবের ওপর অর্জিত হয়।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাঁর আদর্শের ওপর জীবিত রাখেন এবং তাঁর পতাকাতলে তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশরে সমবেত করেন, আর আমাকে তাঁর শাফায়াত লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌حرف الهمزة

‌‌الفصل الأول

في الأسماء من حرف الهمزة

أيوب السختياني بن كيسان البصري الإمام التابعي: روى عن جماعة من كبار التابعين ورأى أنس بن مالك. وروى عنه: خلق من الأئمة واتفقوا على توثيقه وإمامته.

توفي سنة 131.

أيوب بن زيد ابن القرية: البليغ. الفصيح. المشهور. الهلالي.
হামজা বর্ণ

প্রথম পরিচ্ছেদ

হামজা বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া নামসমূহের আলোচনায়

আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি ইবনে কায়সান আল-বাসরি; ইমাম, তাবিঈ: তিনি একদল প্রবীণ তাবিঈর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আনাস ইবনে মালিককে দেখেছেন। তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল সংখ্যক ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা তাঁর নির্ভরযোগ্যতা ও নেতৃত্বের (ইমামত) ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

১৩১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আইয়ুব ইবনে যাইদ ইবনুল কারইয়াহ: বাগ্মী, সুবক্তা, প্রসিদ্ধ, আল-হিলালি।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
قتل سنة 83.

ألوغ بك بن شاه رخ بن تيمور. ملك التتار صاحب الزيج المشهور.

مات سنة 853.

أشعب الطماع - الماجن. المشهور. صاحب النوادر في الطمع.

مات سنة 154.
৮৩ হিজরিতে নিহত হন।

উলুগ বেগ ইবনে শাহরুখ ইবনে তৈমুর। তাতারদের বাদশাহ এবং বিখ্যাত যিজ-এর প্রণেতা।

৮৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আশআব আল-তাম্মা — রসিক ব্যক্তি। সুপরিচিত। তিনি লোভ সংক্রান্ত বিরল ঘটনাবলির জন্য প্রসিদ্ধ।

১৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أحمد بن سنان: الإمام الحافظ الرحلة أبو جعفر القطان الواسطي روى عنه الستة إلا الترمذي. وصنف المسند.

مات سنة 258.

أبو النرسي: محمد بن علي بن ميمون. الحافظ المقرىء الشيخ أبو الغنائم الكوفي.

توفي سنة 510.
আহমদ ইবনে সিনান: ইমাম, হাফেজ, দেশভ্রমণকারী পর্যটক আবু জাফর আল-কাত্তান আল-ওয়াসিতি। তিরমিজি ব্যতীত ‘সিত্তাহ’র সংকলকগণের বাকি সকলেই তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।

২৫৮ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবু আন-নারসি: মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মাইমুন। হাফেজ, ক্বারি এবং শায়খ আবু আল-গানায়িম আল-কুফি।

তিনি ৫১০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الأسود بن يزيد بن قيس: الإمام الفقيه الحبر أبو عمرو النخعي الكوفي التابعي. روى عن: علي وابن مسعود ومعاذ وأبي موسى وعائشة وغيرهم.

وروى عنه خلق واتفقوا على توثيقه.

توفي سنة 75.

إبراهيم بن خليل: الشيخ المحدث المسند نجيب الدين أبو إسحاق الدمشقي
আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ বিন কায়স: ইমাম, ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম আবু আমর আন-নাখয়ী আল-কুফি আত-তাবেয়ী। তিনি বর্ণনা করেছেন: আলী, ইবনে মাসউদ, মুআজ, আবু মুসা, আয়েশা এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।

এবং তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল সৃষ্টি (অসংখ্য রাবী) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা সকলে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

তিনি ৭৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

ইব্রাহিম বিন খলিল: শায়খ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ নাজিবুদ্দিন আবু ইসহাক আদ-দামেশকি।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الأوسي. سمع بإفادة أخيه الحافظ يوسف بن خليل من يحيى الثقفي وطائفة وحدث.

ومات سنة 658.

أحمد بن أبي الحواري عبد الله بن ميمون: الإمام الحبر المحدث الصوفي الزاهد أبو الحسن التغلبي الغطفاني الدمشقي المشهور.

مات سنة 246.

أحمد بن صالح: المصري الإمام الحبر الفقيه الحافظ أبو جعفر الطبري الشافعي.

مات سنة 248.
আল-আওসী। তিনি তাঁর ভাই হাফিয ইউসুফ বিন খলিলের দিকনির্দেশনায় ইয়াহইয়া আস-সাকাফী ও একদল মুহাদ্দিসের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৬৫৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমাদ বিন আবিল হাওয়ারী আবদুল্লাহ বিন মাইমুন: প্রসিদ্ধ ইমাম, বিজ্ঞ পন্ডিত, মুহাদ্দিস, সূফি, যাহিদ, আবু হাসান আত-তাগলিবি আল-গাতাফানি আদ-দিমাশকি।

তিনি ২৪৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমাদ বিন সালিহ: মিসরীয় ইমাম, বিজ্ঞ পন্ডিত, ফকিহ, হাফিয, আবু জাফর আত-তাবারী আশ-শাফিঈ।

তিনি ২৪৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
إبراهيم بن سعد: الإمام الحبر الحافظ قاضي المدينة ومحدثها الفقيه أبو إسحاق الزهري المدني..

توفي سنة 184.
ইবরাহিম বিন সাদ: ইমাম, মহাজ্ঞানী, হাফিজ, মদীনার বিচারক ও সেখানকার হাদিস বিশারদ, ফকিহ আবু ইসহাক জুহরি মাদানি..

তিনি ১৮৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
إبراهيم النديم بن ماهان: الأديب اللغوي صاحب الغناء ومخترع الألحان فيه. له مصنفات في الغريب والنوادر والشعر.

توفي سنة 188.

إسماعيل بن عُلية: الإمام الحافظ الحبر أبو بشر الأزدي مولاهم البصري.

توفي سنة 193.
ইবরাহিম আন-নাদিম বিন মাহান: সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, সংগীত বিশেষজ্ঞ এবং সুরের উদ্ভাবক। অপরিচিত শব্দাবলী, দুর্লভ বর্ণনা ও কবিতার বিষয়ে তার বহু রচনা রয়েছে।

তিনি ১৮৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ: ইমাম, হাফিজ, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আবু বিশর আল-আযদি, তাদের মুক্ত করা দাস, বসরি।

তিনি ১৯৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
إسحاق بن راهويه، إسحاق بن إبراهيم بن مخلد: الإمام الحبر البحر المجتهد الحافظ أبو يعقوب الحنظلي المروزي النيسابوري الشافعي. روى
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাখলাদ: ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, জ্ঞানের সমুদ্র, মুজতাহিদ, হাফেজ, আবু ইয়াকুব আল-হানজালি আল-মারওয়াজি আন-নাইসাবুরি আশ-শাফিয়ি। তিনি বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
عنه: الأئمة الستة إلا ابن ماجة. وصنف التفسير وغيره.

وتوفي سنة 238.

أبو بكر بن قوام بن علي: الإمام الولي العارف صاحب الأحوال والكرامات البالسي الفقيه الشافعي. أفرد حفيده مناقبه بتأليف حافل.

توفي سنة 658 بقرية علم من أعمال حلب ثم نقل إلى دمشق ودفن بصالحيتها.

أبو بكر الشافعي: محمد بن عبد الله بن إبراهيم. الإمام المحدث المسند
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে মাজাহ ব্যতীত ছয় ইমাম। তিনি তাফসির ও অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তিনি ২৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু বকর বিন ক্বাওয়াম বিন আলী: ইমাম, ওলী, আরেফ (আল্লাহ-সম্পর্কিত বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী), আধ্যাত্মিক অবস্থা ও অলৌকিক নিদর্শনের (কারামাত) অধিকারী, বালিসি, শাফেয়ী ফকীহ। তাঁর পৌত্র তাঁর গুণাবলি ও জীবনী সম্পর্কে একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তিনি ৬৫৮ হিজরিতে আলেপ্পোর অন্তর্গত ‘আলম’ নামক গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন, অতঃপর তাঁকে দামেস্কে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানকার সালেহিয়া অঞ্চলে দাফন করা হয়।

আবু বকর শাফেয়ী: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম। ইমাম, মুহাদ্দিস, মুসনিদ (উচ্চতর সনদধারী)।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
البغدادي البزار. صاحب الأجزاء الغيلانيات التي رواها عنه ابن غيلان توفي سنة 354.

إبراهيم الحربي بن إسحاق بن إبراهيم بن بشر: الإمام الحبر الحافظ العلم أبو إسحاق البغدادي. صاحب الإمام أحمد. له مصنفات كثيرة.

توفي سنة 285.
আল-বাগদাদী আল-বাজার। ‘আল-আজজা আল-গায়লানিয়্যাত’-এর রচয়িতা, যা তাঁর থেকে ইবন গায়লান বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৫৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

ইব্রাহিম আল-হারবি বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন বিশর: ইমাম, মহাজ্ঞানী, হাফেজ, বরেণ্য ব্যক্তিত্ব আবু ইসহাক আল-বাগদাদী। তিনি ইমাম আহমদের সহচর। তাঁর বহু রচনা রয়েছে।

২৮৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الشيخ أبو بكر العُمري.

الشيخ أبو بكر.

أمة الخالق بنت عبد اللطيف العقبي القاهري الشيخة الجليلة المعمرة أم
শায়খ আবু বকর আল-উমরি।

শায়খ আবু বকর।

আমাতুল খালিক বিনতে আবদুল লতিফ আল-উকবি আল-কাহিরি, মহীয়সী ও প্রবীণা শায়খা, উম্মু
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الخير. ولدت سنة 811 وحضرت على: الجمال الحنبلي. والشريف بن الكويك وعائشة بنت عبد الهادي. وغيرهم من أصحاب الحجاز وهي آخرهم موتاً.

توفيت سنة 902.

آدم بن أبي إياس عبد الرحمن بن محمد: الإمام المحدث الحافظ أبو الحسن المروزي العسقلاني البغدادي صاحب الرواية الشهير.

توفي سنة 220.

الشيخ أرسلان بن يعقوب بن عبد الرحمن: الوالي الكبير والقطب الشهير
আল-খাইর। তিনি ৮১১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঠ গ্রহণ করেছেন: আল-জামাল আল-হাম্বলি, আশ-শরীফ বিন আল-কুওয়াইক এবং আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদি ও হেজাজের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট। তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী।

৯০২ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আদম বিন আবি ইয়াস আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ: ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিজ, আবুল হাসান আল-মারওয়াজি আল-আসকালানি আল-বাগদাদি, প্রখ্যাত বর্ণনার অধিকারী।

২২০ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শায়খ আরসালান বিন ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান: মহান ওলি এবং সুপ্রসিদ্ধ কুতুব।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
خفير الشام الجعبري الدمشقي.

توفي سنة 699.

أزهر بن سعد السمان: الإمام المحدث المسند أبو بكر الباهلي البصري صاحب الرواية الشهيرة في الحديث.

توفي سنة 203.

أسد بن الفرات بن سنان: الإمام المحدث الفقيه الجليل أبو عبد الله
খফীরুশ শাম আল-জা’বারী আদ-দিমাশকী।

৬৯৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আযহার ইবনে সা’দ আস-সাম্মান: ইমাম, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, আবু বকর আল-বাহিলী আল-বসরী; হাদীস শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ বর্ণনার অধিকারী।

২০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আসাদ ইবনুল ফুরাত ইবনে সিনান: ইমাম, মুহাদ্দিস, মহান ফকীহ, আবু আব্দুল্লাহ।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
المغربي القيرواني. أحد كبار أصحاب الإمام مالك.

توفي سنة 213.

أسيد بن عاصم بن عبد الله الثقفي: مولاهم الأصبهاني الحافظ المحدث أبو الحسين. مصنف المسند.

توفي سنة 270.

أشهب بن عبد العزيز بن داود: الإمام الفقيه الكبير أبو عمرو القيسي
আল-মাগরিবী আল-কায়রাওয়ানী। ইমাম মালিকের অন্যতম প্রধান শিষ্য।

তিনি ২১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

উসাইদ বিন আসিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী: তাদের মুক্তদাস, আল-আসফাহানী, হাফিজ, মুহাদ্দিস, আবু আল-হুসাইন। মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা।

২৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আশহাব বিন আব্দুল আজিজ বিন দাউদ: মহান ইমাম ও ফকীহ, আবু আমর আল-কায়সী।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
العامري البصري. صاحب الإمام مالك.

توفي سنة 204.

الشيخ أيوب بن أحمد بن أيوب: الشيخ الإمام الحبر العارف الحنفي الخلوتي الصالحي. له مصنفات ورسائل في التصوف ونظم شهير.

توفي سنة 1071. وتاريخه الشيخ أيوب قطب.
আল-আমিরি আল-বসরি। ইমাম মালিকের সঙ্গী।

২০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

শায়খ আইয়ুব বিন আহমদ বিন আইয়ুব: শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আরেফ, হানাফি, খালওয়াতি, সালিহি। তাসাউফ শাস্ত্রে তার বহু গ্রন্থ ও পুস্তিকা এবং একটি প্রসিদ্ধ কাব্য রয়েছে।

১০৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তার মৃত্যুর তারিখবাচক বাক্য হলো ‘শায়খ আইয়ুব কুতুব’।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
إسماعيل القاضي ابن إسحاق بن إسماعيل: الإمام الحبر الفقيه العلامة أبو إسحاق الأزدي البصري المالكي. له مصنفات منها المسند. والموطأ. وكتاب في الرد على محمد بن الحسن. وأحكام القرآن.

توفي سنة 282.

الإمام: أحمد بن حنبل بن هلال: شيخ السنة الصابر في المحنة الحبر
ইসমাইল আল-কাজী ইবন ইসহাক ইবন ইসমাইল: ইমাম, মহাজ্ঞানী পণ্ডিত, ফকিহ, আল্লামা আবু ইসহাক আল-আজদি আল-বসরি আল-মালিকি। তাঁর বেশ কিছু রচনাবলি রয়েছে যার মধ্যে আল-মুসনাদ, আল-মুওয়াত্তা, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের রদ্দে রচিত একটি কিতাব এবং আহকামুল কুরআন অন্যতম।

তিনি ২৮২ সালে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম: আহমাদ ইবন হাম্বল ইবন হিলাল: শাইখুস সুন্নাহ, পরীক্ষার দিনে ধৈর্যশীল, মহাজ্ঞানী পণ্ডিত।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
البحر المجتهد الورع الزاهد أبو عبد الله الشيباني المروزي. صاحب المذهب. ومصنف المسند. والزهد. أفردوا ترجمته بالتأليف.

توفي ببغداد سنة 241.

أحمد بابا بن أحمد بن أحمد الصنهاجي الماسي السوداني العلامة المتبحر
অগাধ জ্ঞানসমুদ্র, মুজতাহিদ, পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ আবু আবদুল্লাহ আশ-শাইবানি আল-মারওয়াযি। তিনি মাযহাবের ইমাম এবং 'আল-মুসনাদ' ও 'আয-যুহদ' গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে।

তিনি ২৪১ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আল্লামা আহমদ বাবা বিন আহমদ বিন আহমদ আস-সানহাজি আল-মাসি আস-সুদানি।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
المالكي المغربي. صنف أكثر من أربعين مصنفاً منها: شرح السنوسية. وكتاب الديباج.

توفي سنة 1032.

القاضي إياس بن معاوية بن قرة أبو واثلة: قاضي البصرة المزني. صاحب
মালিকি মাগরিবি। তিনি চল্লিশটিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শারহুস সানুসিয়্যাহ এবং কিতাবুদ দিবাজ।

১০৩২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

আল-কাদি ইয়াস ইবনে মুআবিয়া ইবনে কুররাহ আবু ওয়াসিলা: বসরার কাদি, আল-মুজানি। তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٢)
الفراسة. والأجوبة المسكتة. وممدوح أبي تمام. توفي سنة 121.

المنلا: أسد الدين بن معين الدين. الشيخ الإمام العلامة الشيرازي الشافعي نزيل دمشق. له شعر كثير حسن بليغ. بينه وبين أدباء عصره مراجعات.

توفي سنة 998.

أويس بن عامر القرني: المرادي خير التابعين وسيد العباد وعلم الأصفياء.
আল-ফিরাসা। নিরুত্তরকারী জওয়াবসমূহ। এবং আবু তামমামের প্রশংসিত ব্যক্তি। ১২১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-মুল্লা: আসাদ উদ্দিন বিন মুঈন উদ্দিন। শায়খ, ইমাম, আল্লামা আশ-শিরাজি আশ-শাফিয়ি, দামেস্কের অধিবাসী। তার প্রচুর সুন্দর ও সাবলীল কবিতা রয়েছে। তার এবং তার সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মাঝে পত্রালাপ বিদ্যমান।

৯৯৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

উওয়াইস বিন আমির আল-কারানি: আল-মুরাদি, শ্রেষ্ঠ তাবেয়ি, ইবাদতকারীদের সরদার এবং মকবুল বান্দাদের নিশান।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٣)
توفي في حدود سنة 85.

أمية بن أبي الصلت: الشاعر المجيد الفاضل الحكيم المنجم. أمية بن عبد العزيز بن أبي الصلت الاشبيلي الأندلسي من شعراء الخريدة له
তিনি আনুমানিক ৮৫ সালের দিকে ইন্তেকাল করেন।

উমাইয়া বিন আবিস সালত: সুপ্রসিদ্ধ কবি, বিদগ্ধ পণ্ডিত, প্রজ্ঞাবান এবং জ্যোতির্বিদ। উমাইয়া বিন আব্দুল আজিজ বিন আবিস সালত আল-ইশবিলি আল-আন্দালুসি 'আল-খারীদা' কাব্যগ্রন্থের কবিদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর...
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٤)
مؤلفات منها. كتاب الأدوية المفردة. والرسالة المصرية. وديوان شعره.

توفي سنة 529.
তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: কিতাবুল আদবিয়াতিল মুফরাদাহ্, আর-রিসালাতুল মিসরিয়্যাহ এবং তাঁর কবিতার দিওয়ান (কাব্যগ্রন্থ)।

তিনি ৫২৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٥)
‌‌الفصل الثاني

في الألقاب من حرف الهمزة

الأشرف: أحمد بن سليمان بن غازي. الملك أبو المحامد الأيوبي. صاحب حصن كيفا وأعمالها. كان شاعراً، له ديوان شعر شهير.

قتل سنة 836.

الملك الأشرف: موسى بن أبي بكر بن أيوب السلطان العادل المجاهد مظهر الدين أبو الفتح. صاحب الشام. وطب. وبلاد الجزيرة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হামজা বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া উপাধি প্রসঙ্গে

আল-আশরাফ: আহমদ বিন সুলায়মান বিন গাজি। আল-মালিক আবু আল-মাহামিদ আল-আইয়ুবি। তিনি হিসন কাইফা ও এর অধীনস্থ এলাকাসমূহের অধিপতি ছিলেন। তিনি কবি ছিলেন, তাঁর একটি প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

তিনি ৮৩৬ হিজরিতে নিহত হন।

আল-মালিক আল-আশরাফ: মুসা বিন আবি বকর বিন আইয়ুব। তিনি ন্যায়পরায়ণ সুলতান, মুজাহিদ, মাজহারুদ্দীন আবুল ফাতহ। তিনি শাম (সিরিয়া), ওয়াতাব এবং জাজিরা অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ٤٦)
وباني الأشرفيتين بدمشق إحداهما بصالحيتها والأخرى داخلها وجامع النوبة بالعقيبة.

توفي سنة 635.

أخي زادة: محمد بن نور الله. الفقيه المحقق الرومي قاضي العسكر الحنفي. وصاحب الحاشية على صدر الشريعة.

توفي سنة 990.

الأفرم آقوش: الأمير الكبير. نائب دمشق من جهة الناصر بن قلاوون. وباني الجامع بصالحية دمشق سنة خمس وسبعمائة.

توفي بعد سنة 720.
এবং দামেস্কে অবস্থিত দুটি আশরাফিয়া মাদরাসার নির্মাতা—যার একটি সালিহিয়া এলাকায় এবং অন্যটি শহরের ভেতরে—এবং তিনি আকীবায় জামে আন-নওবা মসজিদেরও প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি ৬৩৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

আখি জাদাহ: মুহাম্মদ বিন নুরুল্লাহ। তিনি একজন গবেষক ফকিহ, রোমান (রূমী), হানাফি মাযহাবের কাজিউল আসকার (সেনা বিচারপতি) এবং ‘সাদরুশ শারীয়াহ’-এর ওপর টীকা (হাশিয়া) রচয়িতা।

তিনি ৯৯০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

আল-আফরাম আকুশ: মহান আমির। তিনি নাসির ইবনে কালাউনের পক্ষ থেকে দামেস্কের নায়েব ছিলেন এবং ৭০৫ হিজরিতে দামেস্কের সালিহিয়া অঞ্চলে জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি ৭২০ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেন।