(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الترغيب والترهيب - إسماعيل الأصفهاني - ط اللؤلؤة القسم: كتب السنة
الكتاب: الترغيب والترهيب
المؤلف: قوام السنة أبو القاسم الأصبهاني (ت 535 هـ)
حققه وخرَّج أحاديثه وآثاره وعلَّق عليه: أبو إسحاق مجدي عطية السمنودي، الصافي بن عبد السلام، أبو عمار ياسر بن الدسوقي اليماني، أبو عمار إبراهيم بن سلام، أبو عبد الله يوسف بن حسيني، أحمد بن السيد شلبي
(طبعة جديدة ومنقحة، وموافقة لخمس نُسخ خطية)
الناشر: دار اللؤلؤة - مصر
الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الآخر 1446
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাঈল আল-আসফাহানী - আল-লুলুওয়াহ সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব
লেখক: কাওয়ামুস সুন্নাহ আবু আল-কাসিম আল-আসফাহানী (মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি)
তাহকীক, হাদীস ও আছার তাখরীজ এবং টীকা প্রদান করেছেন: আবু ইসহাক মাজদী আতিয়্যাহ আস-সামান্নুদী, আস-সাফী বিন আব্দুস সালাম, আবু আম্মার ইয়াসির বিন আদ-দাসূকী আল-ইয়ামানী, আবু আম্মার ইব্রাহীম বিন সালাম, আবু আব্দুল্লাহ ইউসুফ বিন হুসাইনী, আহমাদ বিন আস-সাইয়্যিদ শালাবী
(নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণ এবং পাঁচটি পাণ্ডুলিপির সাথে সংগতিপূর্ণ)
প্রকাশক: দারুল লুলুওয়াহ - মিসর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة التحقيقبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله تعالى نحمده ونستعين به ونستغفره ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
ثم أما بعد:
فهذا كتابُ الترغيبِ والترهيبِ لقوام السنة أبي القاسم الأصبهاني رحمه الله،
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াত। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) উদ্ভাবিত নতুন বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নতুন বিষয়ই হলো বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।
অতঃপর:
এটি কাওয়ামুস সুন্নাহ আবুল কাসিম আল-আসবাহানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রচিত 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' কিতাব,
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهو من أجل الكتب التي سار مصنفوها في الجملة علي المنهج القويم نهج أهل السنة والجماعة، فكان من الجدير بطلاب العلم الشرعي أن يعتنوا بهذا الكتاب ويولوه قدرًا كبيرًا من الاهتمام وأن يتناولوه بالتدريس والتنقيح وإيضاح ما أجمل وبيان ما أشكل والنظر في صحة المادة الحديثية المستدل بها وسلامتها من العلل وكذا الآثار آثار الصحابة فمن بعدهم فضلا عن التعقيب إذا احتيج إلى تعقيب أو الترجيح إذا احتيج إلى ترجيح وغير ذلك من متبوعات تدارس كتب العلم.
منهجنا في العمل•
أولا تحقيق النص:اتبعنا في هذا التحقيق طريقة النص المختار لعدم وجود نسخة المصنف الأم أو نسخة تصلح لأن تكون أصلًا دون غيرها؛ حيث أثبتنا النص المجمع عليه، وإذا اختلف النسخ أثبتنا ما قامت قرينة على تقديمه، وإلا فنذكر ما عليه أكثر النسخ - إلا لعلة - وننبه في الحاشية على ما خالف ذلك.
لم نُثبت كل خلافات النسخة (ب) لكونها غير مسندة مع كثرة السقط والتصحيفات وخاصة فيما يتعلق بالنقط، واكتفينا باعتمادها فيما اختلفت فيه النسخ فأثبتنا ما فيها في الحاشية إذا كان ما فيها بخلاف ما رجحته.
لم نثبت الفرق اليسيرة مثل اختلاف صيغ الصلاة والسلام على النبي وصيغ تنزيه الله تعالى.
لم نزد في المتن شيء من كيسنا، وإذا وجد ما استلزم التنبيه نذكره كما هو ونقول في الحاشية: (كذا) وقد نثبت الصواب في الحاشية إذا ترجح لي خطأ المذكور بالأصل.
এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার সংকলকগণ সামগ্রিকভাবে সঠিক পথ অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পথ অনুসরণ করেছেন। তাই ইলমে শরয়ীর শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বাঞ্ছনীয় যে, তারা এই কিতাবটির প্রতি যত্নশীল হবে, এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে এবং পাঠদান, সংশোধন, সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা, অস্পষ্ট বিষয়সমূহের বিশদ বিবরণ, দলীলে ব্যবহৃত হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা যাচাই ও ত্রুটিমুক্ত থাকা নিশ্চিতকরণ এবং সাহাবী ও পরবর্তীগণের আছারসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে এর চর্চা করবে। সেই সাথে যেখানে প্রয়োজন সেখানে মন্তব্য করা কিংবা যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রাধান্য প্রদান এবং ইলমী কিতাবাদি অধ্যয়নের আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদিও এর অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের কর্মপদ্ধতি•
প্রথমত: মূল পাঠের তাহকীক:এই তাহকীকের ক্ষেত্রে আমরা 'নির্বাচিত পাঠ' পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; কারণ লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি বা এমন কোনো কপি পাওয়া যায়নি যা অন্য সবগুলোর ওপর মূল হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই আমরা সর্বসম্মত পাঠটিকেই সাব্যস্ত করেছি। আর যদি পাণ্ডুলিপিগুলোতে পার্থক্য দেখা দেয়, তবে যেটির অগ্রগণ্য হওয়ার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে আমরা সেটিকেই বহাল রেখেছি; অন্যথায় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে যা পাওয়া গেছে সেটিই উল্লেখ করেছি এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে পাদটীকায় সতর্ক করে দিয়েছি।
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর সকল পাঠভেদ আমরা উল্লেখ করিনি, কারণ এটি সনদবিহীন এবং এতে অনেক তথ্যবিচ্যুতি ও ভুল (বিশেষ করে নুকতা বা বিন্দুর ক্ষেত্রে) রয়েছে। অন্যান্য পাণ্ডুলিপির মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থেকেছি; ফলে পাণ্ডুলিপি (খ)-তে যা রয়েছে তা আমার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতের বিরোধী হলে তা আমরা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
ছোটখাটো পার্থক্যসমূহ আমরা উল্লেখ করিনি, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ ও সালাম পড়ার শব্দশৈলীর ভিন্নতা এবং আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ঘোষণার শব্দশৈলীর ভিন্নতা।
মূল পাঠে আমরা নিজের পক্ষ থেকে কিছুই যোগ করিনি। যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা সতর্ক করার প্রয়োজনীয়তা রাখে, তবে সেটি যেমন আছে তেমনই উল্লেখ করে পাদটীকায় লিখেছি: 'এরূপই আছে'; আর মূল পাঠে যা উল্লেখ আছে তা যদি আমার নিকট ভুল বলে প্রতীয়মান হয়, তবে আমরা পাদটীকায় সঠিক বিষয়টি উল্লেখ করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
نثبت القراءات القرآنية كما هي وإذا كانت الآية تخالف قراءة حفص نبهنا عليها.
ضبطتنا أقوال النبي صلى الله عليه وسلم بالشكل، وكذلك ضبطنا ما قد يُشكل.
بيَّنا غريب ما لم يتعرض له المصنف ببيان وذلك بالرجوع إلى كتب غريب الحديث والمعاجم، ولم نتقيد بكتاب محدد أو بتقدم وفاة مصنفٍ، بل نثبت ما ظنناه مؤديا للغرض موافقا للمعنى المراد في السياق؛ ونبهنا أحيانا على ما يلزم من غريب المواضع والبلدان الواردة في المتن.
•
ثانيًا التخريج:قد اعتنينا بهذا الكتاب فقمنا مستعينين بالله نريد ابتغاء وجه الله عز وجل وابتغاء رضوانه لخدمة هذا الكتاب، فقمنا بتخريج أحاديثه وآثاره، والحكم عليها بما تستحقه من صحة أو حسن أو ضعف.
فإن كان الحديث في الصحيحين، خرّجناه منهما واكتفينا، وفي بعض الأحيان نخرجه من باقي كتب السنن والمسانيد إذا احتيج الأمر لذلك.
وأما إن كان الحديث خارج الصحيحين؛ فإنا قد نستقصي في التخريج في بعض الأحيان إن احتيج الأمر إلى ذلك؛ وهذا لبيان طرق الحديث؛ فقد تكون كل طرقه ضعيفة، وبمجموعها ينجبر الخبر إلى التحسين. وقد تكون أسانيده ظاهرها الصحة؛ إلا أنه يُعلّ بعضُها بعضًا.
وقد يذكر المصنف حديثًا ضعيفًا بسندٍ ضعيف، إلا أنه له شواهد تصححه فإنا نصدِّر الحكم على سند المصنف، فنعقبه بتصحيحه بالشواهد، أو بمجموع طرقه، ثم نخرجه، ثم، نبين حال رجال كل طريق.
وقد اعتنينا بذكر الشواهد للحديث الضعيف، والحديث الصحيح، إن كان
আমরা কুরআনের কিরাতসমূহকে অপরিবর্তিত রেখেছি এবং যদি কোনো আয়াত হাফসের কিরাত থেকে ভিন্ন হয়, তবে আমরা সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহকে হরকত প্রদান করে সুবিন্যস্ত করেছি এবং সেই সাথে যা জটিল মনে হতে পারে সেগুলোকে হরকতের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।
লেখক যেসব দুর্লভ (গারীব) শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেননি, আমরা 'গারীবুল হাদীস' এবং অভিধান গ্রন্থসমূহের সহায়তায় সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। আমরা নির্দিষ্ট কোনো কিতাব বা কোনো গ্রন্থকারের মৃত্যুর অগ্রগণ্যতার ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক মনে হয়েছে এমন অর্থই সাব্যস্ত করেছি; আর আমরা মাঝে মাঝে মূল পাঠে উল্লিখিত অপরিচিত স্থান ও দেশসমূহ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কতা প্রদান করেছি।
•
দ্বিতীয়ত: তাখরীজ:আমরা এই বইটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি এবং আল্লাহর সাহায্য কামনায় কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এই কিতাবটির খিদমতে আত্মনিয়োগ করেছি। আমরা এর হাদীস ও আছারসমূহের তাখরীজ করেছি এবং সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা অনুযায়ী সহীহ, হাসান বা যয়ীফ হওয়ার হুকুম বর্ণনা করেছি।
হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ থাকে, তবে আমরা তা থেকেই তাখরীজ করেছি এবং সেটিকেই যথেষ্ট মনে করেছি। প্রয়োজনে কখনও কখনও আমরা অন্যান্য সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহ থেকেও তাখরীজ করেছি।
আর হাদীসটি যদি সহীহাইনের বাইরে হয়, তবে প্রয়োজনে আমরা কখনও কখনও তাখরীজের ক্ষেত্রে গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছি; আর তা করা হয়েছে হাদীসের সূত্রগুলো (তুরুক) স্পষ্ট করার জন্য। কারণ কখনও কখনও হাদীসের সবকটি সূত্রই যয়ীফ হয়, কিন্তু সেগুলোর সমষ্টির মাধ্যমে বর্ণনাটি 'হাসান' পর্যায়ে উন্নীত হয়। আবার কখনও কখনও কোনো সনদের বাহ্যিক দিক সহীহ মনে হলেও এর একটি অন্যটির ত্রুটি প্রকাশ করে দেয়।
লেখক কোনো যয়ীফ হাদীস দুর্বল সনদে উল্লেখ করে থাকতে পারেন, কিন্তু সেটির এমন কিছু শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) থাকে যা তাকে সহীহ সাব্যস্ত করে; সেক্ষেত্রে আমরা লেখকের সনদের ওপর হুকুম প্রদান করার পর শাহেদের মাধ্যমে বা এর সকল সূত্রের সমষ্টির মাধ্যমে সেটির সহীহ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। এরপর আমরা তা তাখরীজ করেছি এবং প্রতিটি সূত্রের বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছি।
আমরা যয়ীফ ও সহীহ হাদীসের জন্য শাহেদ বা সমর্থক বর্ণনা উল্লেখ করার প্রতিও বিশেষ যত্ন নিয়েছি, যদি
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
للمتن شواهد صحيحة، وأما إن كانت الشواهد ضعيفة، فإننا نذكر منها طرفًا، ونبين علتها.
هذا، وقد اعترضنا بعض الأمور؛ منها أن المصنف رحمه الله قد يأتي في بعض الأحيان بمتون صحيحة بأسانيد غير محفوظة غالبًا؛ فنحكم على السند بالضعف، أو النكارة، ثم نبين الوجه الصحيح فيها.
ومنها أنه قد يأتي المصنف رحمه الله في بعض الأحيان بأحاديث ضعيفة، وقد تكون منكرة ومخالفة لعموم الشريعة؛ فحينئذ يحتاج الأمر منا إلى تعقيب، فنعقب، ونبين وجه الصواب بأدلته من الكتاب العزيز، أو من السنة الصحيحة، ونذكر بعض كلام أهل العلم فيها.
هذا وصلِّ الله وسلِّم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
মূল পাঠের জন্য সহীহ সাক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে, আর যদি সাক্ষ্যগুলো যয়ীফ হয়, তবে আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করি এবং তার ত্রুটি স্পষ্ট করি।
এছাড়া কিছু বিষয় আমাদের সামনে এসেছে; তন্মধ্যে একটি হলো, গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) অনেক সময় সহীহ মতনসমূহ এমন সনদে নিয়ে আসেন যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নয়; ফলে আমরা উক্ত সনদের ওপর যয়ীফ বা মুনকার হওয়ার হুকুম প্রদান করি এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে সঠিক দিকটি বর্ণনা করি।
আরও একটি বিষয় হলো, গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো এমন যয়ীফ হাদীস নিয়ে আসেন যা মুনকার এবং শরীয়তের সাধারণ মূলনীতির পরিপন্থী হতে পারে; এমতাবস্থায় বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে পর্যালোচনার দাবি রাখে, ফলে আমরা পর্যালোচনা করি এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বা সহীহ সুন্নাহ থেকে তার দলীলাদিসহ সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করি এবং এ প্রসঙ্গে আহলে ইলমগণের কিছু উক্তি উল্লেখ করি।
পরিশেষে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المصنف•
اسمه ونسبه:هو إسماعيل بن محمد بن الفضل بن علي بن أحمد بن طاهر القرشي التيمي، ثم الطلحي الأصبهاني، الحافظ الأصبهاني، أبو القاسم، الإمام شيخ الإسلام المعروف بقوام السنة.
•
مولده وطلبه للعلم:ولد رحمه الله سنة سبع وخمسين وأربعمائة
سمع: أبا عمرو عبد الوهاب بن أبي عبد الله بن منده، وعائشة بنت الحسن، وإبراهيم بن محمد الطيان، وأبا الخير محمد بن أحمد بن ررا، والقاضي أبا منصور بن شكرويه، وأبا عيسى عبد الرحمن بن محمد بن زياد، وأصحاب ابن منده، وأبا بكر بن مردويه، وابن خرشيد قولة، وسليمان بن إبراهيم الحافظ، ومحمد بن أحمد بن علي السمسار، وأحمد بن عبد الرحمن الذكواني، والرئيس أبا عبد الله الثقفي، وطبقتهم بأصبهان، وأبا نصر محمد بن محمد الزيني، وعاصم بن الحسن، وخلقا ببغداد، وأبا بكر بن خلف الشيرازي، وأبا نصر محمد بن سهل السراج، وعبد الرحمن بن أحمد الواحدي، وأقرانهم بنيسابور، وسمع بعدة مدائن وجاور سنة. وأقدم سماعه من: محمد بن عمر الطهراني - صاحب ابن مندة - في سنة سبع وستين وهو ابن عشر سنين. وأملى وصنف وتكلم في الرجال وأحوالهم.
حدث عنه: أبو سعد السمعاني، والسلفي، وأبو القاسم بن عساكر، وأبو موسى
গ্রন্থকারের পরিচিতি•
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফজল ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে তাহির আল-কুরাশি আত-তাইমি, অতঃপর আত-তালহি আল-আসবাহানি, আল-হাফিজ আল-আসবাহানি, আবু আল-কাসিম, ইমাম শাইখুল ইসলাম, যিনি কাওয়ামুস সুন্নাহ নামে সুপ্রসিদ্ধ।
•
তাঁর জন্ম ও জ্ঞান অন্বেষণ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) চারশত সাতান্ন হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন: আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবি আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ, আয়েশা বিনতে আল-হাসান, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আত-তাইয়ান, আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ররা, কাজী আবু মনসুর ইবনে শুকরুয়াহ, আবু ঈসা আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ, ইবনে মান্দাহর ছাত্রবৃন্দ, আবু বকর ইবনে মারদুওয়াহ, ইবনে খুরশিদ কাওলাহ, সুলাইমান ইবনে ইব্রাহিম আল-হাফিজ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আস-সিমসার, আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাকওয়ানি, আর-রাইস আবু আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি এবং আসবাহানে অবস্থানরত তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট। এছাড়া তিনি বাগদাদে আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাইনি, আসিম ইবনে আল-হাসান এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেছেন। নিশাপুরে আবু বকর ইবনে খালাফ আশ-শিরাজি, আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে সাহল আস-সাররাজ, আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ আল-ওয়াহিদি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন শহরে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং এক বছর হারামে অবস্থান করেছেন। তাঁর সবচেয়ে প্রাচীন হাদিস শ্রবণ ছিল ৪৬৭ হিজরি সালে মুহাম্মদ ইবনে উমর আত-তেহরানি—যিনি ইবনে মান্দাহর ছাত্র—তাঁর নিকট থেকে, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। তিনি হাদিস ইমলা করিয়েছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: আবু সাদ আস-সামআনি, আস-সিলাফি, আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির এবং আবু মুসা।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المديني، ويحيى بن محمود الثقفي وعبد الله بن محمد بن حميد الخباز وأبو الفضائل محمود بن أحمد العبد كوي وأبو نجيح فضل الله بن عثمان وأبو المجد زاهر الثقفي والمؤيد بن الأخوة وخلق.
•
ثناء العلماء عليه:قال أبو موسى: أبو القاسم الحافظ إمام أئمة وقته وأستاذ علماء عصره وقدوة أهل السنة في زمانه حدثنا عنه جماعة في حال حياته.
قال أبو موسى: قال: وسمعت من عائشة وأنا بن أربع سنين، وسمع من أبي القاسم بن عليك سنة إحدى وستين. قال: ولا أعلم أحدًا عاب عليه قولا ولا فعلا ولا عانده أحد إلا ونصره الله، وكان نزه النفس عن المطامع لا يدخل على السلاطين ولا على من اتصل بهم، قد أخلى دارًا من ملكه لأهل العلم مع خفة ذات يده ولو أعطاه الرجل الدنيا بأسرها لم يرتفع عنده، أملى ثلاثة آلاف وخمسمائة مجلس وكان يملي على البديهة.
وقال يحيى بن منده: كان حسن الاعتقاد جميل الطريقة قليل الكلام ليس في وقته مثله. قال عبد الجليل بن محمد كوتاه: سمعت أئمة بغداد يقولون: ما رحل إلى بغداد بعد الإمام أحمد أحفظ وأفضل من الإمام إسماعيل. وقال أبو موسى المديني في ذكر من هو على رأس المائة الخامسة: لا أعلم أحدًا في ديار الإسلام يصلح لتأويل الحديث إلا إسماعيل الحافظ. قلت: هذا تكلف فإن الرجل ما كان في رأس المائة قد اشتهر؛ وروي عن إسماعيل قال: ما رأيت في عمري أحدًا يحفظ حفظي. قال أبو موسى: وقد قرأ أبو القاسم بالروايات على جماعة من القراء، وأما التفسير والمعاني والإعراب فقد صنف فيه كتابًا بالعربية والفارسية، وأما علم الفقه فقد سرت فتاواه في البلد والرساتيق.
আল-মাদিনী, ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ আস-সাকাফী, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-খাব্বায, আবুল ফাদায়িল মাহমুদ বিন আহমাদ আল-আবদুকওয়ী, আবু নাজীহ ফাযলুল্লাহ বিন উসমান, আবুল মাজদ যাহির আস-সাকাফী, আল-মুআইয়্যাদ বিন আল-উখুওয়াহ এবং আরও অনেকে।
•
তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:আবু মুসা বলেন: হাফিয আবুল কাসিম ছিলেন তাঁর সময়ের ইমামদের ইমাম, তাঁর যুগের আলিমদের উস্তায এবং তাঁর সময়ের আহলুস সুন্নাহর অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর জীবদ্দশাতেই এক জামাত আমাদের নিকট তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু মুসা বলেন: তিনি (ইসমাইল) বলেছেন: আমি যখন চার বছর বয়সী ছিলাম তখন আমি আয়েশার নিকট থেকে শুনেছি, আর আবু কাসিম বিন আলাইক থেকে ৪৬১ হিজরীতে শ্রবণ করেছি। তিনি (আবু মুসা) বলেন: আমি এমন কাউকে চিনি না যে তাঁর কোনো কথা বা কাজের সমালোচনা করেছে, আর যে কেউ তাঁর বিরোধিতা করেছে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন। তিনি লোভ-লালসা থেকে নিজের আত্মাকে পবিত্র রেখেছিলেন; তিনি সুলতানদের নিকট বা তাদের সাথে সংশ্লিষ্টদের নিকট যেতেন না। তাঁর আর্থিক সচ্ছলতা কম থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর মালিকানাধীন একটি বাড়ি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। যদি কোনো ব্যক্তি তাকে সমগ্র পৃথিবীও দিয়ে দিত, তবুও তাঁর নিকট তার কোনো গুরুত্ব বৃদ্ধি পেত না। তিনি সাড়ে তিন হাজার মজলিসে হাদীস শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন এবং তিনি কোনো পাণ্ডুলিপি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে স্মৃতি থেকে তা প্রদান করতেন।
ইয়াহইয়া বিন মানদাহ বলেন: তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ আকীদার অধিকারী, উত্তম পথের অনুসারী এবং স্বল্পভাষী। তাঁর সময়ে তাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ ছিল না। আব্দুল জলীল বিন মুহাম্মদ কুতাহ বলেন: আমি বাগদাদের ইমামদের বলতে শুনেছি: ইমাম আহমদের পর বাগদাদে ইমাম ইসমাইলের চেয়ে বড় হাফিয এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আর কেউ পদার্পণ করেননি। আবু মুসা আল-মাদিনী পঞ্চম শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে যারা ছিলেন তাদের আলোচনায় বলেন: ইসমাইল হাফিয ব্যতীত ইসলামের ভূখণ্ডে হাদীসের ব্যাখ্যার জন্য উপযুক্ত আর কাউকে আমি চিনি না। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি অতিরঞ্জন, কারণ শতাব্দীর প্রারম্ভে তিনি তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেননি। ইসমাইল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: আমি আমার জীবনে আমার মতো মুখস্থ শক্তি সম্পন্ন আর কাউকে দেখিনি। আবু মুসা বলেন: আবুল কাসিম একদল ক্বারীর নিকট বিভিন্ন ক্বিরাআতে কুরআন পড়েছেন। আর তাফসীর, শব্দার্থ ও ব্যাকরণের ক্ষেত্রে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর ফতোয়া শহর ও গ্রাম্য জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال أبو المناقب محمد بن حمزة العلوي: حدثنا الإمام الكبير بديع وقته وقريع دهره أبو القاسم إسماعيل بن محمد، فذكر حديثًا. ويذكر عن أبي القاسم تعبده وتهجده.
قال أبو موسى: سمعت من يحكي عنه في اليوم الذي قدم بولده ميتًا وجلس للتعزية، جدد الوضوء في ذلك اليوم مرات نحو الثلاثين كل ذلك يصلي ركعتين. وسمعت بعض أصحابه أنه كان يملي شرح صحيح مسلم عند قبر ولده أبي عبد الله ويوم تمامه عمل مائدة وحلاوة كثيرة.
قال أبو سعد السمعاني: هو أستاذي في الحديث وعنه أخذت هذا القدر وهو إمام في الحديث والتفسير واللغة والأدب عارف بالمتون والأسانيد، كنت إذا سألته عن المشكلات أجاب في الحال وذهب أكثر أصوله في آخر عمره وأملى بالجامع قريبًا من ثلاثة آلاف مجلس، وكان أبي يقول: ما رأيت بالعراق من يعرف الحديث ويفهمه غير اثنين: إسماعيل الجوزي بأصبهان، والمؤتمن ببغداد.
قال أبو سعد: تلمذت له وسألته عن أحوال جماعة، وسمعت أبا القاسم الحافظ بدمشق يثني عليه وقال: رأيته وقد ضعف وساء حفظه. قال الدقاق في رسالته: كان عديم النظير لا مثل له في وقته، كان ممن يضرب به المثل في الصلاح والرشاد. وقال السلفي: كان فاضلا في العربية ومعرفة الرجال.
وقال أبو عامر العبدري: ما رأيت أحدًا قط مثل إسماعيل، ذاكرته فرأيته حافظًا للحديث عارفًا بكل علم متفننًا استعجل علينا بالخروج. سمع السلفي هذا القول من أبي عامر، ثم قال: وسمعت أبا الحسين بن الطيوري يقول: ما قدم علينا من خراسان مثل إسماعيل بن محمد رحمه الله.
আবু আল-মানাকিব মুহাম্মদ ইবনে হামজাহ আল-আলাভি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মহান ইমাম, তাঁর সময়ের বিস্ময় ও যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ, এরপর তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করেন। আবু আল-কাসিম সম্পর্কে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি ও তাহাজ্জুদের কথা বর্ণিত রয়েছে।
আবু মুসা বলেন: আমি এমন একজনের কাছ থেকে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, যেদিন তাঁর মৃত সন্তানকে আনা হয়েছিল এবং তিনি শোক পালনের জন্য বসেছিলেন, সেদিন তিনি প্রায় ত্রিশবার ওযু নবায়ন করেছিলেন এবং প্রতিবারই দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন। আমি তাঁর কিছু সঙ্গীর কাছ থেকে শুনেছি যে, তিনি তাঁর পুত্র আবু আব্দুল্লাহর কবরের পাশে সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা শ্রুতলিপি দিচ্ছিলেন (ইমলা করাচ্ছিলেন) এবং এটি শেষ হওয়ার দিন তিনি একটি বড় ভোজ ও প্রচুর মিষ্টির আয়োজন করেছিলেন।
আবু সাদ আল-সামআনি বলেন: তিনি হাদীস শাস্ত্রে আমার উস্তাদ এবং তাঁর নিকট থেকেই আমি এই পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেছি। তিনি হাদীস, তাফসীর, ভাষা ও সাহিত্যের একজন ইমাম এবং মতন (মূল পাঠ) ও আসনাদ (বর্ণনাসূত্র) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। আমি যখনই তাঁকে জটিল কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতাম, তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দিতেন। তাঁর জীবনের শেষ দিকে তাঁর অধিকাংশ মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি জামে মসজিদে প্রায় তিন হাজার মজলিসে ইলম শিক্ষা দিয়েছিলেন। আমার পিতা বলতেন: আমি ইরাকে হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং তা অনুধাবনকারী হিসেবে দুইজন ছাড়া আর কাউকে দেখিনি: আসফাহানের ইসমাইল আল-জাওজি এবং বাগদাদের আল-মুতামান।
আবু সাদ বলেন: আমি তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং একদল বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি। আমি দামেস্কে হাফেজ আবু আল-কাসিমকে তাঁর প্রশংসা করতে শুনেছি; তিনি বলেন: আমি তাঁকে এমন অবস্থায় দেখেছি যখন তিনি বার্ধক্যের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্মরণশক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। আদ-দাক্কাক তাঁর রিসালায় (পুস্তিকায়) বলেন: তিনি ছিলেন অতুলনীয়, তাঁর সময়ে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। সততা ও সঠিক পথের দিশারি হিসেবে তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো। আস-সিলাফি বলেন: তিনি আরবি ভাষা এবং রিজাল শাস্ত্রে (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) পারদর্শী ছিলেন।
আবু আমির আল-আবদারি বলেন: আমি ইসমাইলের মতো কাউকে কখনও দেখিনি। আমি তাঁর সাথে ইলমি আলোচনা করেছি এবং তাঁকে হাদীসের হাফেজ, প্রতিটি শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে পেয়েছি; তবে তিনি আমাদের নিকট থেকে দ্রুত বিদায় নিয়েছিলেন। আস-সিলাফি আবু আমিরের নিকট থেকে এই কথাটি শুনেছেন, অতঃপর তিনি বলেন: আমি আবুল হুসাইন ইবনে আল-তুয়ুরিকে বলতে শুনেছি যে: খুরাসান থেকে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মতো আর কেউ আমাদের কাছে আসেনি।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
•
مصنفاته:قال أبو موسى: وله التفسير في ثلاث مجلدات سماه «الجامع» وله تفسير آخر في أربع مجلدات، و «الموضح» في التفسير في ثلاث مجلدات، وكتاب «المعتمد» في التفسير عشر مجلدات، وكتاب «السنة» مجلد، وكتاب «سيرة السلف» مجلد ضخم، وكتاب «دلائل النبوة» مجلد، و «المغازي» مجلد وأشياء كثيرة.
وزاد السيوطي: وشرح الصحيحين.
•
وفاته:قال أبو موسى: أصمت في صفر سنة أربع وثلاثين ثم فلج بعد مدة، ومات يوم الأضحى سنة خمس وثلاثين وخمسمائة واجتمع في جنازته جمع لم أر مثلهم كثرة
(1).
--------------------------------------------
•
তাঁর রচনাবলি:আবু মূসা বলেন: তিন খণ্ডে তাঁর একটি তাফসীর রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আল-জামি’। এছাড়া চার খণ্ডে তাঁর আরেকটি তাফসীর রয়েছে, তিন খণ্ডে তাফসীর বিষয়ক ‘আল-মুওয়াদদিহ’, দশ খণ্ডে তাফসীর বিষয়ক ‘আল-মু'তামাদ’, এক খণ্ডে ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থ, এক বিশাল খণ্ডে ‘সিরাতুস সালাফ’ গ্রন্থ, এক খণ্ডে ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ এবং এক খণ্ডে ‘আল-মাগাযী’ সহ আরও অনেক বিষয় তিনি রচনা করেছেন।
আস-সুয়ূতী আরও বর্ধিত করেছেন: এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
•
তাঁর মৃত্যু:আবু মূসা বলেন: তিনি পাঁচশ চৌত্রিশ হিজরীর সফর মাসে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন, অতঃপর কিছুকাল পর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং পাঁচশ পঁয়ত্রিশ হিজরীর ঈদুল আযহার দিন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাযায় এমন এক বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল যে, আমি সংখ্যার দিক থেকে তাদের মতো আর কোনো সমাবেশ দেখিনি
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
التعريف بكتاب الترغيب والترهيب•
اسم الكتاب:«الترغيب والترهيب»، وقد أثبت هذا الاسم على طرة النسخ (ق) و (ح) - إلا أنه أصاب كلمة الترهيب فيهما طمس-، وكذلك في نسخة (ب): - وهي مختصر للكتاب - ورد في طرتها: كتاب مختصر الترغيب والترهيب -.
وكذلك سماه المصنف بهذا الاسم، كما في نهاية النسخ: (س)، و (ق)، و (ج)، حيث قال: انتهى ما سبق القول به من إملاء كتاب الترغيب والترهيب.
•
سبب تأليف الكتاب:قال المصنف رحمه الله في مقدمته للكتاب:
ثم إنكم معشر طلبة العلم - أحسن الله توفيقكم- أكثرتم مسألتكم إياي أن أجمع لكم كتابا يشتمل على الترغيب في الأعمال الصالحة والأقوال الحسنة والنيات الخالصة، وعلى الترهيب من الأعمال السيئة والأقوال القبيحة والنيات الفاسدة، ويتضمن ما ورد في ذلك من الثواب والعقاب، وذكرتم أن الكتب المصنفة في هذا الباب مطولة بكثرة الأسانيد والتكرار، أو مختصرة غاية الاختصار، لا يظفر طالب العلم منها بالمراد، ولا يشفي بها غليل الفؤاد؛ فترددت في ذلك زمانا، ليتقرر لي ترتيب أبواب الكتاب.
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব কিতাবের পরিচিতি•
কিতাবের নাম:«আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব», এই নামটি (ক) এবং (হ) পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের শিরোনামে সাব্যস্ত হয়েছে - তবে সে দুটিতে ‘তারহীব’ শব্দটি অস্পষ্ট হয়ে গেছে -, এবং একইভাবে (ব) পাণ্ডুলিপিতে - যা কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ - এর শিরোনামে এসেছে: ‘কিতাব মুখতাসার আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’।
অনুরূপভাবে গ্রন্থকার নিজেও একে এই নামেই অভিহিত করেছেন, যেমনটি (স), (ক) এবং (জ) পাণ্ডুলিপির শেষে রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব কিতাবটির শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে যা বলা হয়েছিল তা এখানেই শেষ হলো।
•
কিতাবটি রচনার কারণ:গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবটির ভূমিকায় বলেছেন:
অতঃপর হে ইলম অন্বেষণকারী দল - আল্লাহ আপনাদের তাওফীককে উত্তম করুন - আপনারা আমার কাছে বারবার অনুরোধ করেছেন যেন আমি আপনাদের জন্য এমন একটি কিতাব সংকলন করি যা নেক আমল, উত্তম কথা এবং বিশুদ্ধ নিয়তের প্রতি উৎসাহিত করবে, এবং মন্দ কাজ, কুৎসিত কথা ও কলুষিত নিয়তের ব্যাপারে সতর্ক করবে। পাশাপাশি এটি সেসবে বর্ণিত সওয়াব ও শাস্তির বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহ হয় সনদ এবং পুনরাবৃত্তির আধিক্যের কারণে অত্যন্ত দীর্ঘ, অথবা অতিশয় সংক্ষিপ্ত, যার ফলে ইলম অন্বেষণকারী সেখান থেকে তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য খুঁজে পায় না এবং তার অন্তরের তৃষ্ণা মেটে না। এ কারণে আমি দীর্ঘ সময় দ্বিধায় ছিলাম, যাতে কিতাবটির অধ্যায়সমূহের বিন্যাস আমার কাছে স্থির হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال في خاتمة الكتاب: انتهى ما سبق القول به من إملاء كتاب الترغيب والترهيب، وأحمد الله تعالى على ذلك وأسأله مزيد النعم، وأرغب إليه أن ينفع به سامعه والناظر فيه، وأن يتغمد ولدي أبا عبد الله برحمته ومغفرته، وأن يُنزِله الدرجة الرفيعة من جنته، فهو كان السبب في جمع هذا الكتاب، وهو رغَّبَنِي مرة بعد مرة.
•
طريقة المصنف في الكتاب:قال رحمه الله في المقدمة:
وقع الاختيار على أن أجمعه على حروف: أ، ب، ت، ث ليكون أسهل على طالب الاهتداء إليه، وأُقدِّم في كل باب ما ورد فيه من الترغيب، ثم أتبعه ما ورد من الترهيب، ولا أُراعي في الحروف أزائدة هي أم من نفس الكلمة، نحو: باب الإخلاص، وباب الإحسان أذكرهما في باب الألف لا في باب الخاء والحاء، فإن لم يقع في باب الترغيب والترهيب جميعا اقتصرت على واحد منهما.
وقد حرص المصنف رحمه الله على شرح الغريب وكثيرًا ما يشرح غريب الحديث عقبه، وأحيانًا - وهو قليل - يشرح الغريب نهاية الباب أو الفصل.
وطريقته في ذلك أن يقول: قوله: كذا أي: كذا، وأحيانا يقول: قال أهل اللغة، وأحيانا يميز القائل فيقول: قائل صاحب الغريبين أو قال صاحب المجمل. يشير بذلك إلى أبي عبيد القاسم بن سلام وابن فارس.
كما أنه يبين أحيانًا فقه الحديث مثل ما قال عقب حديث (2356) أو الباب كما ذكر برقم (2086) أو اختلاف السلف في تأويل الحديث مثل ما فعل على حديث (914) حيث ذكر اختلاف علماء السلف في ساعة الإجابة يوم الجمعة،.
وكما أنه اعتنى في كتابه «الحجة في بيان المحجة» بقول السلف في الاعتقاد،
তিনি কিতাবের শেষে বলেন: আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব কিতাবটি শ্রুতলিখন করানোর যে বিষয়টি পূর্বে আলোচিত হয়েছিল তা সমাপ্ত হলো। আমি এর জন্য মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে নেয়ামতের আধিক্য প্রার্থনা করছি। আমি তাঁর কাছে আরও আশা পোষণ করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর শ্রোতা ও পাঠককে উপকৃত করেন এবং আমার সন্তান আবু আব্দুল্লাহকে তাঁর রহমত ও ক্ষমা দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকামে আসীন করেন; কারণ সেই ছিল এই কিতাবটি সংকলনের মূল কারণ এবং সে বারবার আমাকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছে।
•
কিতাবটিতে গ্রন্থকারের পদ্ধতি:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ভূমিকার মধ্যে বলেছেন:
এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে (আলিফ, বা, তা, ছা...) বিন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে এর অনুসন্ধানকারীর জন্য বিষয়টি সহজতর হয়। আমি প্রতিটি অধ্যায়ে প্রথমে তারগীব (উৎসাহদান) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করি, এরপর তারহীব (ভীতিপ্রদর্শন) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো নিয়ে আসি। আর আমি অক্ষরের ক্ষেত্রে তা অতিরিক্ত নাকি মূল শব্দের অংশ তা বিবেচনা করিনি; যেমন: ইখলাস (الإخلاص) অধ্যায় এবং ইহসান (الإحسان) অধ্যায়—আমি এ দুটিকে আলিফ (أ) বর্ণের অধীনে উল্লেখ করেছি, খা (خ) বা হা (ح) বর্ণের অধীনে নয়। যদি কোনো বিষয়ে তারগীব ও তারহীব উভয়টি না পাওয়া যায়, তবে আমি শুধু একটির ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) 'গারীব' (কঠিন শব্দ) সমূহের ব্যাখ্যার প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং প্রায়শই তিনি হাদীসের পরপরই এর কঠিন শব্দগুলো ব্যাখ্যা করেন। আবার কখনও কখনও—যা সংখ্যায় কম—অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের শেষে গারীব শব্দসমূহ ব্যাখ্যা করেন।
এ ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি হলো তিনি বলেন: তাঁর কথা "অমুক" এর অর্থ হলো "অমুক", আবার কখনও বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, আবার কখনও বক্তার নাম নির্দিষ্ট করে বলেন: 'গারীবাইন' এর লেখক বলেছেন অথবা 'মুজমাল' এর লেখক বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম এবং ইবনে ফারিসকে উদ্দেশ্য করেন।
এছাড়া তিনি কখনও হাদীসের ফিকহ বা মর্মার্থ বর্ণনা করেন, যেমনটি তিনি ২৩৫৬ নম্বর হাদীসের পরে করেছেন; অথবা অধ্যায়ের মর্মার্থ বর্ণনা করেন যেমনটি ২০৮৬ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করা হয়েছে; অথবা হাদীসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সালাফদের মতভেদ উল্লেখ করেন যেমনটি ৯১৪ নম্বর হাদীসের ক্ষেত্রে করেছেন যেখানে তিনি জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময় নিয়ে সালাফ আলেমদের মতভেদ উল্লেখ করেছেন।
যেমন তিনি তাঁর «আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ» কিতাবে আকিদাহর বিষয়ে সালাফদের বক্তব্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقد اعتنى هنا ببيان فقه السلف فيما يتعلق بالمعاملات والعبادات وشئون الحياة وفقه النفس كما فعل في الباب الذي ذكره عقب حديث (1781) حيث ذكر فيه ما ينبغي لمن أدرك رمضان. بل إن ذلك لم يقف عند ذكر الآثار بل تعدى إلى النقل من كتبهم كما ذكر برقم (1964) حيث قال: وقد قال إسحاق بن راهويه في كتاب عدد ركعات السنة والتطوع:
… إلخ. والله أعلم.
•
النسخ المعتمدة في التحقيقهذا، وقد منَّ الله علينا بمنه وكرمه إذ يسر لنا خمس نسخ خطية لهذا الكتاب؛ اثنتان منها من طريق حفيد المصنف عن جده، وأخرى من طريق الحافظ أبي موسى المديني عن المصنف. هذا إلى جانب السماعات المتصلة إلى المصنف المدونة على النسخ، ودونك وصفها.
1 - نسخة المكتبة المحمودية (ح):وهذه النسخة محفوظة في المكتبة المحمودية ضمن مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنورة رقم: (412)، وقد حصلنا على نسخة منها من مصورات الجامعة الإسلامية.
الحالة: غير كاملة؛ فهي ناقصة الآخر، وكذلك هناك نقص بعد ورقة 212 كما سيأتي تفصيله.
عدد أوراقها: 332 ورقة.
سنة النسخ: غير معروفة
(1).
--------------------------------------------
এখানে তিনি লেনদেন, ইবাদত, জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়াবলী এবং নফসের ফিকহ সংক্রান্ত বিষয়ে সালাফদের ফিকহ বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যেমনটি তিনি ১৭৮১ নম্বর হাদিসের পরবর্তী অনুচ্ছেদে করেছেন, যেখানে তিনি রমজান মাস লাভকারীর করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বরং এটি কেবল আছার (বর্ণনা) উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তাদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের পর্যায়েও পৌঁছেছে, যেমনটি তিনি ১৯৬৪ নম্বরে উল্লেখ করেছেন: ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ ‘কিতাবুল আদাদি রাকাআতিস সুন্নাহ ওয়াত তাতাউ’ গ্রন্থে বলেছেন:
... ইত্যাদি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
•
তাহকীকে নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিসমূহআল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের জন্য এই কিতাবটির পাঁচটি পাণ্ডুলিপি সহজ করে দিয়েছেন; এর মধ্যে দুটি পাণ্ডুলিপি লেখকের নাতির সূত্রে তাঁর দাদা (মূল লেখক) থেকে প্রাপ্ত, এবং অন্যটি হাফেজ আবু মুসা আল-মাদীনীর সূত্রে লেখকের কাছ থেকে প্রাপ্ত। এর পাশাপাশি পাণ্ডুলিপিগুলোতে লিপিবদ্ধ লেখকের নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণ-পরম্পরা (সামাআত) রয়েছে; নিচে সেগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো।
১ - মাহমুদিয়া লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি (হা):এই পাণ্ডুলিপিটি মদিনা মুনাওয়ারার বাদশাহ আব্দুল আজিজ লাইব্রেরি কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে, যার নম্বর: (৪১২)। আমরা মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোফিল্ম থেকে এর একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছি।
অবস্থা: অপূর্ণাঙ্গ; এর শেষ অংশটি খণ্ডিত, এবং একইভাবে ২১২ নম্বর পত্রের পরেও কিছু অংশ বাদ পড়েছে যা বিস্তারিত সামনে আসবে।
পত্র সংখ্যা: ৩৩২টি পত্র।
অনুলিপি করার সাল: অজ্ঞাত
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مسطرتها: غير مطردة ما بين (19 - 22).
طبقات السماع: امتازت هذه النسخة بكثرة السماعات و المقابلات وكذلك نبه فيها كثيرا على اختلاف النسخ، وقد أثبت على طرتها طبقة سماع وهذا نصها: الحمد لله رب العالمين سمع جميع هذا الكتاب على الشيخ الإمام المحدث الصالح الزاهد الورع العابد بقية الصالحين تقي الدين أبي التقى صالح بن مختار بن صالح بن أبي الفوارس الأشنوي
(1) - نفع الله به- بسماعه بجميعه من زين الدين أبي العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة المقدسي
(2) وإجازته من أبي إسحاق إبراهيم بن خليل بن عبد الله الدمشقي الأدمي بسماعهما من يحيى الثقفي
(3)، أنا المصنف. بقراءة علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام السبكي وهذا خطه من أول الكتاب إلى باب السين و ..... العالم الفاضل البارع المحدث تقي الدين أبي الفتح محمد بن عبد اللطيف بن يحيى بن علي بن تمام السبكي من باب السين إلى آخر الكتاب أولادي أبو حامد أحمد وأبو الطيب الحسين ...........
--------------------------------------------
এর পঙক্তি সংখ্যা: ১৯ থেকে ২২ এর মধ্যে অনিয়মিত।
শ্রবণের স্তরসমূহ (তাবাকাতুস সামা): এই পাণ্ডুলিপিটি প্রচুর পরিমাণে শ্রবণ ও মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলকরণের (মুকাবালা) বৈশিষ্ট্যে অনন্য। একইভাবে এতে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ সম্পর্কে প্রচুর সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। এর প্রচ্ছদে শ্রবণের একটি স্তর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যার পাঠ নিম্নরূপ: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এই পুরো কিতাবটি শ্রবণ করা হয়েছে শায়খ, ইমাম, মুহাদ্দিস, পুণ্যবান, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার, ইবাদতগুজার, নেককারদের উত্তরসূরি তাকিউদ্দীন আবুল তাকা সালিহ বিন মুখতার বিন সালিহ বিন আবু আল-ফাওয়ারিস আল-উশনুভী
(১) —আল্লাহ তাকে দিয়ে উপকার সাধন করুন— এর নিকট। তিনি এটি সম্পূর্ণ শ্রবণ করেছেন যাইনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি'মাহ আল-মাকদিসি
(২) এর নিকট থেকে এবং অনুমতি (ইজাজাহ) লাভ করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন খলিল বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-আদামি থেকে; আর তারা উভয়েই শ্রবণ করেছেন ইয়াহইয়া আস-সাকাফি
(৩) এর নিকট থেকে, (যিনি বলেন) আমাকে গ্রন্থকার জানিয়েছেন। পাঠ করেছেন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী বিন তামাম আস-সুবকি এবং এটি কিতাবের শুরু থেকে 'সিন' অধ্যায় পর্যন্ত তার নিজের হাতের লেখা এবং... বিদগ্ধ আলিম, শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস তাকিউদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন তামাম আস-সুবকি, 'সিন' অধ্যায় থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত। আমার সন্তানাদি আবু হামিদ আহমদ এবং আবু তৈয়ব আল-হুসাইন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا خطه سمع ما .... وما قرأه أبو الفتح كاملا ...... أبو الفتح ما قرأه ...... باب في الترغيب في ....
بدايتها بعد صفحة العنوان: بسم الله الرحمن الرحيم قال الشيخ الإمام قوام السنة موفق الإسلام أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل رحمت الله عليه الحمد لله عالم الغيوب.
خاتمتها: قال: قلت: يا رسول الله أمن الحسنات لا إله إلا الله؟ قال: من أفضل الحسنات. أخبرنا. - نهاية حديث: (2519) -.
ملاحظات على النسخة: حالتها المادية جيدة، وقد تعاقب عليها ناسخان فالأول نسخ من بدايتها إلى آخر اللوحة (212) والآخر من اللوحة (213) إلى آخر ما بين أيدينا من النسخة؛ وقد وقع سقط حيث تغيير الناسخ بدايته أثناء ح: (1696): (من صلى علي في كل يوم جمعة أربعين مرة). إلى قوله أثناء ح: (1766): (في عيدهم من الغد يا معشر الملائكة).
ويلاحظ عليها أيضا: أنه كتب في هوامشها تخريجات قاصرة مثل: (أخرجه في الصحيحين - أخرجه في السنن - أخرجاه جميعا).
وكذلك يلحظ عليها: أن النقط فيها - وسيما الجزء الأول منها - أحيانًا وأحيانًا، فأحيانا ينقط بعض كلماتها دون بعض، وأحيانا بعض الحروف دون بعض.
2 - نسخة السليمانية الأولى (ج):وهي تقع ضمن مكتبة جورليلي علي باشا ورقمها (84) ضمن المكتبة السليمانية. وهي من طريق أبي موسى المديني عن المصنف.
الحالة: كاملة
عدد أوراقها: 208 ورقة.
এটি তাঁর হস্তলিপি, তিনি যা শুনেছেন... এবং যা আবু আল-ফাতহ পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠ করেছেন... আবু আল-ফাতহ যা পাঠ করেছেন... অনুচ্ছেদ: উৎসাহ প্রদানের বিষয়ে...
শিরোনাম পৃষ্ঠার পরের সূচনা অংশ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শায়খ, ইমাম, কাওয়ামুস সুন্নাহ, মুওয়াফফাকুল ইসলাম আবু আল-কাসিম ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা।
এর সমাপ্তি অংশ: তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কি নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: এটি সর্বোত্তম নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। - হাদিস নং: (২৫১৯)-এর শেষ অংশ।
পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ: এর ভৌত অবস্থা ভালো। এটি দুজন অনুলিপিকার দ্বারা পর্যায়ক্রমে লিখিত হয়েছে; প্রথমজন এর শুরু থেকে ২১২ নম্বর ফলক পর্যন্ত অনুলিপি করেছেন এবং অন্যজন ২১৩ নম্বর ফলক থেকে আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপির শেষ পর্যন্ত অনুলিপি করেছেন। অনুলিপিকার পরিবর্তনের সময় কিছু অংশ বাদ পড়েছে, যার শুরু হাদিস নং (১৬৯৬): (যে ব্যক্তি প্রতি জুমুয়াবার আমার ওপর চল্লিশ বার দরুদ পাঠ করবে) থেকে হাদিস নং (১৭৬৬): (তাদের ঈদের পরের দিন, হে ফেরেশতামণ্ডলী) এর মধ্যবর্তী বক্তব্য পর্যন্ত।
এতে আরও লক্ষ্য করা যায় যে: এর পার্শ্বটীকায় কিছু সংক্ষিপ্ত উৎস-নির্দেশ বা তাখরিজ লেখা হয়েছে যেমন: (এটি সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে - এটি সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে - তাঁরা উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন)।
অনুরূপভাবে এতে আরও দেখা যায় যে: এতে নুকতা বা বিন্দু প্রদান—বিশেষ করে এর প্রথম অংশে—মাঝে মাঝে করা হয়েছে; কখনো কিছু শব্দে নুকতা দেওয়া হয়েছে আবার কখনো দেওয়া হয়নি, আবার কখনো কিছু বর্ণে নুকতা দেওয়া হয়েছে আর কিছুতে দেওয়া হয়নি।
২ - সুলায়মানিয়া প্রথম পাণ্ডুলিপি (জীম):এটি চোরলুলু আলী পাশা লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত এবং সুলায়মানিয়া লাইব্রেরিতে এর নম্বর (৮৪)। এটি গ্রন্থকারের সূত্রে আবু মুসা আল-মাদিনির বর্ণনা পরম্পরায় প্রাপ্ত।
অবস্থা: পূর্ণাঙ্গ
পত্র সংখ্যা: ২০৮টি পত্র।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سنة النسخ: 744 هـ.
اسم الناسخ: محمد بن عمر بن الحسين الداراني - لنفسه-.
مسطرتها: (29) سطرا.
سندها للمصنف: أثبته الناسخ في بداية الكتاب في ظهر اللوحة الأولي، حيث قال: أخبرنا شيخنا وسيدنا ومولانا ومقتدانا الإمام الهمام العالم الفاضل الكامل التَّحرير القمنقام قدوة الأئمة والأفاضل زبدة العلماء المحققين أسوة الفضلاء الراسخين سعيد الملة والحق والدي شيخ مشايخ المحدثين أبو سعيد محمد بن مسعود بن محمد بن مسعود الكازروني أدام الله ظلاله وزاد رفعته وجلاله قراءة عليه في ذي القعدة سنة ثلاث وأربعين وسبعمائة، قال: أخبرنا الشيخ السعيد ظهير الدين إسماعيل بن المظفر بن محمد الشيرازي، أنا السيد علاء الدين المجتبى بن محمد بن المجتبى الحسيني، أنا الحافظ أبو موسى محمد بن أبي بكر بن أبي عيسى المديني، أنا الشيخ الحافظ قوام السنة أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل الأصفهاني.
بدايتها بعد صفحة العنوان: بسم الله الرحمن الرحيم، وبه نستعين. رب تمم بالخير. أخبرنا شيخنا وسيدنا ومولانا ومقتدانا الإمام الهمام العالم الفاضل الكامل التحرير ..
خاتمتها: انتهى ما سبق القول به من إملاء كتاب الترغيب والترهيب. كمل هذا الكتاب بحمد الله ومنه وصلى على خير خلقه وآله.
ملاحظات على النسخة: كتبت بخط جميل وقد نسخها الناسخ لنفسه - كما يظهر في الورقة الأخيرة حيث أثبت سماعه فيها -، ولذا فقد اعتنى بها وشكل ما يُشكل، ويشار فيها أحيانا إلى اختلاف النسخ؛ وقد أصابتها الأرضة في أطراف بعض صفحاتها، وقد وصلت أحيانا إلى السطر الأول والأخير؛ وهي نسخة نفيسة.
অনুলিপির বছর: ৭৪৪ হিজরি।
অনুলিপিকারীর নাম: মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আল-হুসাইন আদ-দারানি - নিজের জন্য -।
পঙক্তি সংখ্যা: (২৯)টি পঙক্তি।
মূল গ্রন্থকারের প্রতি এর সনদ: অনুলিপিকার এটি গ্রন্থের শুরুতে প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে সাব্যস্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: আমাদের শায়খ, আমাদের সরদার, আমাদের মাওলা এবং আমাদের অনুসৃত ব্যক্তিত্ব, মহান ইমাম, মহৎ আলিম, বিদগ্ধ পণ্ডিত, সুনিপুণ গবেষক, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, ইমাম ও গুণীজনদের আদর্শ, গবেষক ওলামাদের সারসংক্ষেপ, সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অনুসরণীয়, মিল্লাত ও হকের সৌভাগ্য স্বরূপ, আমার পিতা, মুহাদ্দিসগণের শায়খদের শায়খ আবু সাঈদ মুহাম্মাদ বিন মাসউদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাসউদ আল-কাজরুনি — আল্লাহ তাঁর ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁর মর্যাদা ও মহিমা বৃদ্ধি করুন — ৭৪৩ হিজরির জিলকদ মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সৌভাগ্যবান শায়খ জহিরুদ্দিন ইসমাইল বিন আল-মুজাফফর বিন মুহাম্মাদ আশ-শিরাজি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যেদ আলাউদ্দিন আল-মুজতবা বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুজতবা আল-হুসাইনি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু মুসা মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আবি ঈসা আল-মাদিনি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ হাফিজ কাওয়ামুস সুন্নাহ আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আল-আসফাহানি।
শিরোনাম পৃষ্ঠার পরের প্রারম্ভিক অংশ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। হে প্রতিপালক, কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করুন। আমাদের শায়খ, আমাদের সরদার, আমাদের মাওলা এবং আমাদের আদর্শ ইমাম, মহৎ আলিম, বিদগ্ধ পণ্ডিত, সুনিপুণ গবেষক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
সমাপ্তি অংশ: কিতাবুত তারগিব ওয়াত তারহিব-এর শ্রুতিলিপি থেকে যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে তা সমাপ্ত হলো। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এই গ্রন্থটি সম্পন্ন হলো এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা সত্তা ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
অনুলিপি সংক্রান্ত মন্তব্য: এটি সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে এবং অনুলিপিকার এটি নিজের ব্যবহারের জন্য অনুলিপি করেছেন — যেমনটি শেষ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট হয় যেখানে তিনি তাতে নিজের শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন। এই কারণে তিনি এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং অস্পষ্ট শব্দসমূহে হরকত (স্বরচিহ্ন) প্রদান করেছেন। এতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর নির্দেশ করা হয়েছে। কিছু পৃষ্ঠার প্রান্তভাগে উইপোকা আক্রমণ করেছে, যা কোনো কোনো স্থানে প্রথম এবং শেষ পঙক্তি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান অনুলিপি।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
3 - نسخة السليمانية الثانية (س):وهي تقع ضمن مكتبة أسعد أفندي 19 [291] ضمن السليمانية. وهي من رواية سبطه الشيخ الإمام مجد الدين أبو الفرج يحيى بن
محمود بن سعد بن أحمد الثقفي الأصبهاني - ت: 584 هـ. -، عن جده.
الحالة: كاملة.
عدد أوراقها: 260 ورقة.
سنة النسخ: 818 هـ.
اسم الناسخ: محمد بن أبي بكر الخطيب السمنودي
(1) - ت: 837 هـ-.
مسطرتها: غير مطردة فهي ما بين (24 - 29) سطرا.
طبقات السماع: - ذكر في هذه النسخة سماعات وإشارات إلى اختلاف النسخ، وذكر في آخرها أسفل حرد المتن طبقة سماع نصها: أخبرني ........ بن محمد البرعي، قال: أنا به القطب محمد بن محمد بن أحمد الجوهري الشافعي، قال: أنا به الشيخ نجم الدين محمد بن علي بن العلامة نجم الدين محمد بن عقيل البالسي ثم المصري الشافعي
(2)، قال: أنا به أبو الفرج زين الدين عبد الرحمن بن محمد بن عبد الحميد [بن عبد القادر]
(3) بن قدامة المقدسي الحنبلي، قال: أنا به أبو العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة المقدسي- خلا الترغيب في التواضع إلى باب في حق الجار والترغيب في حسن الجوار -، قال: أنا به أبو الفرج يحيى بن
--------------------------------------------
৩ - সুলায়মানিয়া দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি (স):এটি সুলায়মানিয়ার আসআদ এফেন্দি লাইব্রেরি ১৯ [২৯১]-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর দৌহিত্র শাইখ ইমাম মাজদুদ্দীন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে
মাহমুদ বিন সা'দ বিন আহমাদ আস-সাকাফী আল-ইসফাহানি - মৃত্যু: ৫৮৪ হিজরী - এর বর্ণনা থেকে, যা তিনি তাঁর দাদা থেকে গ্রহণ করেছেন।
অবস্থা: পূর্ণাঙ্গ।
পত্র সংখ্যা: ২৬০টি পত্র।
প্রতিলিপি করার বছর: ৮১৮ হিজরী।
প্রতিলিপিকারীর নাম: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল-খতিব আস-সামানূদী
(১) - মৃত্যু: ৮৩৭ হিজরী -।
এর পঙ্ক্তি বিন্যাস: অনিয়মিত, যা (২৪ - ২৯) লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
শ্রবণের স্তরসমূহ: - এই পাণ্ডুলিপিতে শ্রবণের বিবরণ এবং পাণ্ডুলিপিভেদের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। এর শেষে মূল পাঠের সমাপ্তি বার্তার নিচে শ্রবণের একটি বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে যার ভাষ্য নিম্নরূপ: আমাকে খবর দিয়েছেন ........ বিন মুহাম্মাদ আল-বুরঈ, তিনি বলেন: আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন কুতুব মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জাওহারি আশ-শাফেয়ী, তিনি বলেন: আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন শাইখ নাজমুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল্লামা নাজমুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আকীল আল-বালিসি অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফেয়ী
(২), তিনি বলেন: আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হামিদ [ইবনে আব্দুল কাদির]
(৩) বিন কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি, তিনি বলেন: আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল দায়েম বিন নি'মাহ আল-মাকদিসি—বিনয় ও নম্রতা অবলম্বনে উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ থেকে প্রতিবেশীর হক এবং উত্তম প্রতিবেশত্বের প্রতি উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ পর্যন্ত অংশ ব্যতীত—, তিনি বলেন: আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
محمود بن محمد الثقفي، قال: أنا جدي لأمي الحافظ أبو القاسم إسماعيل بن محمد الطلحي ....
بدايتها: بسم الله الرحمن الرحيم. اللهم صل وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه. قال الأستاذ أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل الأصبهاني رحمه الله: الحمد لله عالم الغيوب وساتر العيوب.
خاتمتها: وأن يتغمد ولدي أبا عبد الله برحمته ومغفرته وأن ينزله الدرجة الرفيعة من جنته فهو كان السبب في جمع هذا الكتاب، وهو رغبني مرة بعد مرة، وصلى الله على سيدنا محمد نبي الرحمة وهادي الأمة صلوات الله عليه وعلى آله الطيبين الطاهرين وزوجاته الطاهرات أمهات المؤمنين وأصحابه المنتخبين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين. الحمد لله رب العالمين. - ثم ختمها النسخ -.
ملاحظات على النسخة: وهذه نسخة حالتها المادية جيدة، وذكر في آخرها بجوار حردها: انتهى إكمال هذه النسخة من نسخة معتمدة وعليها طبقات كثيرة. وصنع في أولها فهرسا لأبواب؛ وقد تعاقب عليها أكثر من ناسخ فالناسخ الأول نسخ من أول الكتاب إلى نهاية لوحة (4)، و بدأ الناسخ الثاني من لوحة (5) إلى لوحة (32)، والناسخ الثالث من لوحة (33) إلى لوحة (250)، ثم أكمل الناسخ الثاني من لوحة (251) إلى نهاية الكتاب.
4 - نسخة المكتبة الوطنية/ قسطموني تركيا (ق):وهي من رواية سبطه الشيخ الإمام مجد الدين أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد بن أحمد الثقفي الأصبهاني - ت: 584 هـ. -، عن جده.
الحالة: كاملة
عدد أوراقها: 329 ورقة.
মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাকে খবর দিয়েছেন আমার মাতামহ হাফিজ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আত-তালহি ....
প্রারম্ভিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। উস্তাদ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-আসফাহানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের পরিজ্ঞাত এবং দোষত্রুটি গোপনকারী।
উপসংহার: এবং (দোয়া করি) তিনি যেন আমার পুত্র আবু আবদুল্লাহকে তাঁর রহমত ও মাগফিরাত দ্বারা ঢেকে দেন এবং তাঁর জান্নাতের উচ্চ মাকামে দান করেন, কারণ তিনিই ছিলেন এই কিতাব সংকলনের মূল কারণ, এবং তিনি বারবার আমাকে উৎসাহিত করেছেন। আর দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি রহমতের নবী এবং উম্মতের পথপ্রদর্শক, তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধর, পবিত্র স্ত্রীগণ যারা মুমিনদের মাতা, তাঁর মনোনীত সঙ্গীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। - অতঃপর তিনি এর প্রতিলিপি সমাপ্ত করেছেন।
পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত টীকা: এটি একটি উত্তম ভৌত অবস্থার পাণ্ডুলিপি। এর শেষে সমাপ্তি নোটের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে: এই পাণ্ডুলিপিটি একটি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে যার ওপর অনেকগুলো শ্রুতিলিপি বা পাঠের স্তর (তাবাকাত) রয়েছে। এর শুরুতে অধ্যায়গুলোর একটি সূচিপত্র তৈরি করা হয়েছে। এতে একের অধিক লিপিকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন; প্রথম লিপিকার কিতাবের শুরু থেকে ৪ নম্বর পত্রের (ফোলিও) শেষ পর্যন্ত নকল করেছেন, দ্বিতীয় লিপিকার ৫ নম্বর পত্র থেকে ৩২ নম্বর পত্র পর্যন্ত শুরু করেছেন, তৃতীয় লিপিকার ৩৩ নম্বর পত্র থেকে ২৫০ নম্বর পত্র পর্যন্ত এবং এরপর দ্বিতীয় লিপিকার পুনরায় ২৫১ নম্বর পত্র থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করেছেন।
৪ - জাতীয় লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি/ কাস্তামোনু, তুরস্ক (কাফ):এটি তাঁর দৌহিত্র শায়খ ইমাম মাজদুদ্দীন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ ইবনে আহমদ আস-সাকাফি আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৫৮৪ হিজরি) কর্তৃক তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত।
অবস্থা: পূর্ণাঙ্গ
পত্র সংখ্যা: ৩২৯টি পত্র।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سنة النسخ: 869 هـ.
مسطرتها: (22) سطرا.
بدايتها بعد صفحة العنوان: بسم الله الرحمن الرحيم. رب يسر وأعن يا كريم. أخبرنا الشيخ الإمام الثقة مجد الدين أبو الفرج يحيى بن أبي الرجاء محمود بن سعد بن أحمد الثقفي الأصبهاني قراءة عليه وأنا أسمع، قال: أخبرنا جدي الإمام الحافظ قوام السنة أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي الأصبهاني.
خاتمتها: قال الإمام رحمه الله: انتهى ما سبق القول به من إملاء كتاب الترغيب والترهيب، وأحمد الله تعالى على ذلك وأسأله مزيد النعم وأرغب إليه أن ينفع به سامعه والناظر فيه وأن يتغمد ولدي أبا عبد الله برحمته ومغفرته وأن ينزله الدرجة الرفيعة من جنته فهو كان السبب في جمع هذا الكتاب، وهو رغبني مرة بعد مرة، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين، والحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين ولا عدوان إلا على الظالمين. وقع الفراغ منه نهار الأربعاء مستهل شهر رجب الفرد سنة تسع وستين وثمانمائة. والحمد لله رب العالمين، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
ملاحظات على النسخة: هذه النسخة حالتها المادية جيدة، وقد احتوى هامشها على بعض الحواشي والعناوين الفرعية صدرت بكلمة (مطلب)، وكذلك بيان لبعض الغريب، لكن يلحظ عليها وقوع السقط فيها أحيانا وكذلك يلحظ فيها أحيانا خلطا بين (عن) و (إن)، وبين (الحسن) و (الحسين)، وأشباه ذلك. لكنه لم يكن فاحشا ليخرجها عن الاعتماد.
অনুলিপি করার বছর: ৮৬৯ হিজরি।
এর পঙ্ক্তি সংখ্যা: (২২) লাইন।
শিরোনাম পৃষ্ঠার পর এর সূচনা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব! কাজ সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন হে দয়াময়। নির্ভরযোগ্য ইমাম শাইখ মাজদুদ্দীন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনু আবিল রাজা মাহমুদ ইবনু সাদ ইবনু আহমাদ আস-সাক্বাফি আল-আসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমার দাদা হাফিজুল হাদিস কাওয়ামুস সুন্নাহ আবু কাসিম ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আত-তৈমি আল-আসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
এর সমাপ্তি: ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'কিতাবুত তারগিব ওয়াত তারহিব' শ্রুতিলিখন হিসেবে যা পূর্বেই বলা হয়েছে তা এখানেই শেষ হলো। এর জন্য আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে নেয়ামতের আধিক্য কামনা করছি। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর শ্রবণকারী এবং পাঠকারীকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। আর তিনি যেন আমার সন্তান আবু আব্দুল্লাহকে তাঁর রহমত ও ক্ষমা দিয়ে আবৃত করেন এবং তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন; কেননা এই কিতাব সংকলনের ক্ষেত্রে সেই ছিল মূল কারণ, সে আমাকে বারবার উৎসাহিত করেছিল। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, আর জালিমরা ব্যতীত কারো প্রতি শত্রুতা নেই। ৮৬৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে বুধবার দিনে এটি সমাপ্ত হয়েছে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
অনুলিপি সম্পর্কে মন্তব্য: এই পাণ্ডুলিপিটির বাহ্যিক অবস্থা ভালো। এর পার্শ্বটীকায় কিছু ব্যাখ্যা এবং উপ-শিরোনাম রয়েছে যা ‘মাতলাব’ (উদ্দেশ্য) শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এতে কিছু বিরল শব্দের ব্যাখ্যাও রয়েছে। তবে এতে কখনো কখনো কিছু অংশ বাদ পড়ার বিষয় পরিলক্ষিত হয়, এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘আন’ ও ‘ইন’ এর মাঝে এবং ‘হাসান’ ও ‘হুসাইন’ ও এই জাতীয় শব্দগুলোর মাঝে মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। তবে তা নির্ভরযোগ্যতার স্তর থেকে বিচ্যুত করার মতো বড় কোনো ত্রুটি নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - نسخة جامعة برنستون (ب):وهذه النسخة من مجموعة جاريت (قسم يهودا) ومحفوظة في مكتبة جامعة برنستون برقم 111 (636). وهي مختصر للكتاب وكان اختصارها بحذف أسانيدها فقط ولم يذكر الأسانيد إلا ما ندر. وكتب على طرتها: كتاب مختصر الترغيب والترهيب تأليف الشيخ الفقيه الإمام الأستاذ أبي القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل رضي الله عنه.
الحالة: ناقصة الآخر.
عدد أوراقها: 216 ورقة.
مسطرتها: 17 سطرا.
تاريخ النسخ: غير معروف، لكن عليها قيدان للمطالعة أُرِّخ أحدهما كالتالي: 15 بشهر رجب الفرد سنة 1218.
بدايتها بعد صفحة العنوان: بسم الله الرحمن الرحيم. رب يسر وأعن. قال الشيخ الإمام الأستاذ أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل رضي الله عنه: الحمد لله عالم الغيوب.
نهايتها: ومن قطعها قطعه الله. قيل. شجنة من الرحمن. - آخر حديث: (2318) -.
ملاحظات على النسخة: وهذه النسخة يكثر فيها السقط والخطأ في النقط، وهناك تقديم وتأخير في بعض الصفحات. وتقدم كونها غير مسندة.
৫ - প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় পাণ্ডুলিপি (খ):এই পাণ্ডুলিপিটি গ্যারেট সংগ্রহ (ইয়াহুদা বিভাগ) এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ১১১ (৬৩৬) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে। এটি মূল গ্রন্থটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ এবং এর সংক্ষিপ্তকরণ করা হয়েছে কেবল সনদসমূহ বর্জনের মাধ্যমে; অতি দুর্লভ ক্ষেত্র ব্যতীত এতে সনদ উল্লেখ করা হয়নি। এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় লেখা আছে: শায়খ ফকিহ ইমাম উস্তাদ আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল (রাদিআল্লাহু আনহু) বিরচিত কিতাব মুখতাসার আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব।
অবস্থা: শেষাংশ অসম্পূর্ণ।
পত্র সংখ্যা: ২১৬টি পাতা।
লাইন সংখ্যা: ১৭টি লাইন।
অনুলিপির তারিখ: অজ্ঞাত, তবে এতে অধ্যয়নের দুটি নোট রয়েছে যার একটির তারিখ নিম্নরূপ: ১২১৮ হিজরি সনের ১৫ রজব।
শিরোনাম পৃষ্ঠার পরের সূচনা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন। শায়খ ইমাম উস্তাদ আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অদৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাত।
সমাপ্তি: "আর যে তা ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করবেন। বলা হয়েছে, এটি রহমানের একটি শাখা।" - সর্বশেষ হাদিস: (২৩১৮) -।
পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত মন্তব্য: এই পাণ্ডুলিপিতে প্রচুর পরিমাণে শব্দচ্যুতি এবং নুকতাগত ভুল রয়েছে এবং কিছু পৃষ্ঠায় অগ্র-পশ্চাৎ (ক্রমবিচ্যুতি) পরিলক্ষিত হয়। এটি যে সনদবিহীন, তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
•
الطبعات السابقة للكتاب:لم نقف للكتاب إلا على طبعة واحدة وهي معروفة مشهورة مما يغني عن تسميتها، وهي - كما هو معلوم لكل من اطلع عليها وكان له عناية بعلم الحديث - مليئة بالتصحيفات وسيما في أسماء الرجال، وقد ذُكِر فيها أنه اعتُمد في تحقيقها على نسخة المحمودية المشار لها هنا ب (ح).
ولكن عند شروعنا في العمل وجدنا الطبعة المشار إليها لا تتوافق مع هذه النسخة، ووجدناها أشبه ما تكون من النسخة (س) فكثير من انفرادات (س) ومواطن السقط فيها تتوافق مع المثبت في هذه الطبعة؛ وكأنهما نسختان عن أصل واحد اختلف فيهما الناسخ فاختلفا خلافا يسيرا؛ إلا أن هذه الطبعة اختلفت بكثرة التصحيفات والتحريفات، ووجدنا فراغات تركت في المطبوعة وهي ثابتة وواضحة في نسخة المحمودية، وكذلك وجدنا أحاديث ساقطة من نسخة المحمودية وهي مثبتة في هذه المطبوعة وهذه الأحاديث هي: - من بداية متن ح: (1696) إلى أثناء ح: (1766)، أي (70) حديثا تقريبا، وكذلك ح: (2520) - وجدت مثبتة في هذه الطبعة!
فإن كان لهم فضل السَّبْق فقد شانوا طبعتهم بما ذُكر.
কিতাবটির পূর্ববর্তী সংস্করণসমূহ:আমরা এই কিতাবটির কেবল একটি সংস্করণই পেয়েছি, যা সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ হওয়ায় তার নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। যারা এই সংস্করণটি দেখেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রের প্রতি যাদের বিশেষ অনুরাগ রয়েছে, তাদের সবার নিকট এটি সুবিদিত যে, এটি বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে প্রচুর লিপিপদ প্রমাদ (তাসহিফ) ও ভুলভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। এতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এর সম্পাদনায় মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা এখানে (হা) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিন্তু কাজ শুরু করার পর আমরা দেখতে পেলাম যে, উল্লিখিত মুদ্রিত সংস্করণটি এই পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং আমরা এটিকে (সিন) পাণ্ডুলিপির অধিকতর সদৃশ পেয়েছি। (সিন) পাণ্ডুলিপির অনেক একক পাঠ এবং বাদ পড়া অংশগুলো এই সংস্করণের পাঠের সাথে হুবহু মিলে যায়; যেন মনে হয় পাণ্ডুলিপি দুটি একই মূল উৎস থেকে সংগৃহীত, কেবল অনুলিপিকারীদের কারণে সামান্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে এই মুদ্রিত সংস্করণটি প্রচুর লিপিপদ প্রমাদ ও বিকৃতি (তাহরিফ) দ্বারা কণ্টকিত। আমরা মুদ্রণে এমন কিছু শূন্যস্থান দেখতে পেয়েছি যা মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপিতে সুষ্পষ্টভাবে বিদ্যমান। আবার মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়া কিছু হাদিস এই মুদ্রণে সংরক্ষিত পাওয়া গেছে; এই হাদিসগুলো হলো: (হা) পাণ্ডুলিপির ১৬৯৬ নং হাদিসের শুরু থেকে ১৭৬৬ নং এর মধ্যভাগ পর্যন্ত—অর্থাৎ প্রায় ৭০টি হাদিস। এছাড়া ২৫২০ নং হাদিসটিও এই সংস্করণে পাওয়া গেছে!
সুতরাং প্রথম প্রকাশের কৃতিত্ব তাদের থাকলেও, উল্লিখিত ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো তাদের এই সংস্করণটিকে ত্রুটিপূর্ণ করে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
صور المخطوطاتالنسخة (ح)
পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্রপাণ্ডুলিপি (হা)
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
النسخة (ج)
সংস্করণ (জ)
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النسخة (س)
সংস্করণ (স)
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النسخة (ق)
সংস্করণ (ক্বাফ)
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النسخة (ب)
সংস্করণ (খ)
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيم. رب يسر وأعن يا كريم. أخبرنا الشيخ الإمام الثقة مجد الدين أبو الفرج يحيى بن أبي الرجاء محمود بن سعد بن أحمد الثقفي الأصبهاني قراءة عليه وأنا أسمع، قال: أخبرنا جدي الإمام، الحافظ، قوام السنة، أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي الأصبهاني.الحمد لله، عالم الغيوب، وساتر العيوب، وغافر الذنوب، والمطلع على ضمائر القلوب. ويجزل الثواب فضلاً، ويكثر العقاب عدلاً. {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ (23)} [الأنبياء: 23]خصنا بدين الإسلام، وجعلنا من أمة محمد عليه السلام صلى الله عليه أفضلَ صلاة وأزكاها، وأطيبها وأنماها، وصلى على آله وأصحابه-ثم .. إنكم معشر طلبة العلم- أحسن الله توفيقكم- أكثرتم مسألتكم إياي أن أجمع لكم كتاباً، يشتمل على الترغيب في الأعمال الصالحة، والأقوال الحسنة، والنيات الخالصة.وعلى الترهيب من الأعمال السيئة، والأقوال القبيحة، والنيات الفاسدة، ويتضمن ما ورد في ذلك من الثواب والعقاب.وذكرتم أن الكتب المصنفة في هذا الباب مطولةٌ بكثرة الأسانيد والتكرار، أو مختصرةٌ غاية الاختصار، لا يظفر طالب العلم منها بالمراد، ولا يُشفى بها غليلُ الفؤاد.فترددت في ذلك زماناً، ليتقرر لي ترتيب أبواب الكتاب، ثم وقع الاختيار على أن أجمعه على حروف:أ، ب، ت، ث، جليسهل على الطالب الاهتداء إليه، وأقدم في كل باب ما ورد فيه من الترغيب، ثم أتبعه ما ورد فيه من الترهيب. ولا أراعي في الحروف: أزائدةٌ هي- أم- من نفس الكلمة؟نحو:باب (الإخلاص)، وباب (الإحسان) أذكرهما في باب الألف لا في باب الخاء والحاء.فإن لم يقع في باب الترغيب والترهيب معًا. اقتصرت على واحد منهما، وأسأل الله تعالى [أن ينفعني والمستفيدين بذلك](1)، إنه المنعم المتفضل.--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব! কাজ সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শায়খ ইমাম মাজদুদ্দীন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে আবির রাজা মাহমুদ ইবনে সা’দ ইবনে আহমাদ আস-সাকাফি আল-আসফাহানি—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা ইমাম, হাফিজ, কাওয়ামুস সুন্নাহ, আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফদল আত-তাইমি আল-আসফাহানি।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত, দোষত্রুটি গোপনকারী, গুনাহ ক্ষমাকারী এবং অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তিনি অনুগ্রহস্বরূপ প্রচুর সওয়াব দান করেন এবং ন্যায়বিচারের সাথে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।} [আল-আম্বিয়া: ২৩]তিনি আমাদের ইসলাম ধর্ম দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং আমাদের মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মতভুক্ত করেছেন—তাঁর ওপর সর্বোত্তম, পবিত্রতম, উত্তম ও ক্রমবর্ধমান দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর—অতঃপর... হে ইলম অন্বেষী সম্প্রদায়—আল্লাহ আপনাদের উত্তম তাওফিক দান করুন—আপনারা আমার কাছে বারবার আরজি পেশ করেছেন যেন আমি আপনাদের জন্য এমন একটি গ্রন্থ সংকলন করি, যা নেক আমল, উত্তম কথা এবং বিশুদ্ধ নিয়তের প্রতি উৎসাহ প্রদান (তারগিব) সংবলিত হবে।এবং যা মন্দ আমল, কদর্য কথা ও কলুষিত নিয়ত থেকে ভীতি প্রদর্শন (তারহিব) এবং এসবের বিনিময়ে বর্ণিত সওয়াব ও শাস্তির বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করবে।আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলো হয় দীর্ঘ সনদ ও পুনরাবৃত্তির আধিক্যের কারণে অনেক দীর্ঘ, অথবা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যার ফলে ইলম অন্বেষী তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হয় না এবং তাতে হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারিত হয় না।তাই আমি দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম যেন কিতাবের অধ্যায়গুলোর বিন্যাস আমার কাছে সুনির্দিষ্ট হয়। অতঃপর আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে (হরফ অনুযায়ী) সংকলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি:আলিফ, বা, তা, সা, জীম...যাতে অন্বেষণকারীর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়টি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। আমি প্রতিটি অধ্যায়ে প্রথমে সেই বিষয় সংক্রান্ত উৎসাহব্যঞ্জক (তারগিব) বর্ণনাগুলো উপস্থাপন করব, এরপর তার অনুগামী হিসেবে ভীতিপ্রদর্শক (তারহিব) বর্ণনাগুলো নিয়ে আসব। অক্ষরের ক্ষেত্রে আমি এটি বিবেচনা করব না যে—তা কি অতিরিক্ত (জায়েদ) অক্ষর নাকি শব্দের মূল অংশ?যেমন:‘ইখলাস’ (Al-Ikhlas) অধ্যায় এবং ‘ইহসান’ (Al-Ihsan) অধ্যায়—আমি এই দুটিকে ‘আলিফ’ অধ্যায়ে উল্লেখ করব, ‘খা’ বা ‘হা’ অধ্যায়ে নয়।যদি কোনো বিষয়ে তারগিব ও তারহিব উভয়টি একত্রে পাওয়া না যায়, তবে আমি তার যেকোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকব। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি [যাতে তিনি আমাকে এবং এর দ্বারা যারা উপকৃত হবে তাদের সকলকে এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন], নিশ্চয়ই তিনি নিআমতদাতা ও পরম দাতা।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
باب الألف
باب في الترغيب في الإيمان وفضله
1 - أخبرنا الشريف أبو نصر الزينبي رحمه الله ببغداد
(1)، أخبرنا أبو طاهر المخلص
(2)، قال: حدثنا عبد الله بن محمد البغوي قال: حدثنا أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني، حدثنا يحيى بن سعيد، عن شعبة قال: أخبرني [أبو جمرة]
(3)(4) قال: [سمعت]
(5) ابن عباس رضي الله عنه يقول: قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمرهم بالإيمان بالله عز وجل، قال: «أتدرون ما الإيمان بالله؟». قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، [وَأَنْ تُعْطُوا]
(6) الخُمُسَ مِنَ المَغْنَمِ»
(7).
--------------------------------------------
আলিফ অধ্যায়
ঈমানের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর ফযীলত সম্পর্কিত অধ্যায়
১ - বাগদাদে শরীফ আবু নাসর আয-যাইনাবী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(১), আবু তাহির আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(২), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শায়বানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু জামরাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন
(৩)(৪), তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি
(৫) যে: আবদুল কায়েস গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তখন তিনি তাদের মহামহিম আল্লাহর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: «তোমরা কি জানো আল্লাহর ওপর ঈমান আনা কী?»। তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: «এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা এবং তোমরা গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে
(৬)»
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - أخبرنا أحمد بن علي بن خلف بنيسابور
(1)، أخبرنا الحاكم أبو عبد الله الحافظ، حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب، حدثنا محمد بن إسحاق الصغاني، حدثنا أبو [النضر
(2)(3)، حدثنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، عن أنس رضي الله عنه قال: كنا نهينا أن نسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شيء، [فكان]
(4) يعجبنا أن يأتيه الرجل من أهل البادية فيسأله ونحن نسمع، فأتى رجل منهم، فقال: يا محمد، أتانا رسولك فزعم أنك تزعم أن الله أرسلك. قال: «صَدَقَ». قال: فمن خلق السماء؟ قال: «اللهُ». قال: فمن خلق الأرض؟ قال: «اللهُ». قال: فمن نصب هذه الجبال؟ قال: «اللهُ». قال: فمن جعل فيها هذه المنافع؟ قال: «اللهُ». قال: فبالذي خلق السماء والأرض ونصب الجبال وجعل فيها هذه المنافع آلله أرسلك؟ قال: «نَعَمْ». قال: وزعم رسولك أن علينا خمس صلوات في يومنا وليلتنا. قال: «صَدَقَ». قال: فبالذي أرسلك، آلله أمرك بهذا؟ قال: «نَعَمْ». قال: وزعم رسولك أن علينا صدقة في أموالنا؟ قال: «صَدَقَ». قال: فبالذي أرسلك، آلله أمرك بهذا؟ قال: «نَعَمْ». قال: وزعم رسولك أن علينا صوم شهر في سنتنا؟ قال: «صَدَقَ». قال: فبالذي أرسلك، آلله أمرك بهذا؟ قال: «نَعَمْ». قال: وزعم رسولك أن علينا حج البيت من استطاع إليه سبيلا. قال: «صَدَقَ». قال: فبالذي أرسلك، آلله أمرك بهذا؟ قال: «نَعَمْ». قال: والذي بعثك بالحق لا أزيد عليهن ولا أنقص منهن. فلما مضى قال: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ»
(5).
--------------------------------------------
2 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন আলী ইবন খালাফ নিশাপুরে
(1), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন ইয়াকুব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু [আন-নাদর
(2)(3), আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান ইবনুল মুগিরা, সাবিত থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল, [তাই] আমাদের খুব ভালো লাগত যখন মরুভূমির কোনো ব্যক্তি তাঁর কাছে আসত এবং তাঁকে প্রশ্ন করত আর আমরা তা শুনতাম। এরপর তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এল এবং বলল: হে মুহাম্মাদ, আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং দাবি করেছেন যে আপনি মনে করেন আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»। সে বলল: তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»। সে বলল: তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»। সে বলল: তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»। সে বলল: তবে এতে এই উপকারগুলো কে নিহিত করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»। সে বলল: তবে যিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন এবং এতে এই উপকারগুলো নিহিত করেছেন, তাঁর কসম দিয়ে বলছি—আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে আমাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি—আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে আমাদের সম্পদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ? তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি—আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে আমাদের বছরে এক মাস রোজা রাখা ফরজ? তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি—আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। সে বলল: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর বায়তুল্লাহর হজ ফরজ। তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি—আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। সে বলল: যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আমি এগুলোর ওপর বৃদ্ধিও করব না এবং এগুলো থেকে হ্রাসও করব না। যখন সে চলে গেল, তখন তিনি বললেন: «যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(5).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
3 - أخبرنا محمد بن أبي طاهر الخرقي
(1)، أخبرنا الفضل بن عبيد الله
(2)، حدثنا عبد الله بن جعفر
(3)، حدثنا محمد بن [محمد]
(4) بن صخر، حدثنا عبد الله
--------------------------------------------
৩ - মুহাম্মাদ ইবনে আবি তাহের আল-খারাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(১), ফজল ইবনে উবায়দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(২), আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন
(৩), মুহাম্মাদ ইবনে [মুহাম্মাদ]
(৪) ইবনে সাখর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - ইসমাইল আল-আসবাহানি - ত আল-লুলুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ابن يزيد
(1)، حدثنا الليث
(2)، حدثني سعيد، عن شريك بن عبد الله بن أبي نمر، أنه سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: بينا نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوس في المسجد، دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيُّكم محمد؟ - ورسول الله صلى الله عليه وسلم[مُتَّكِيء]
(3) بين أَظهُرِهم- فقلنا: هذا الرجل الأبيض المُتَّكيء. فقال له الرجل: يا ابن عبد المطلب. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قَدْ أَجَبْتُكَ». فقال الرجل: إني يا محمد سائلك، فمُشَدِّدٌّ عليك في المسألة، فلا تجدنَّ عليَّ في نفسك. فقال: «سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ». فقال الرجل: نشدتك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قال: فنشدتك بالله، آلله أمرك أن [تصلي]
(4) الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قال: فنشدتك بالله؛ آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فتقسمها على فقرائنا؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». فقال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول مَنْ ورائي من قومي، وأنا ضِمَامُ بن ثَعْلَبَةَ، أخو بني سعد بن بكر»
(5).
--------------------------------------------
ইবনে ইয়াযীদ
(১), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস
(২), আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ, শারীক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি নামির থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় উটের পিঠে চড়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। সে মসজিদের ভেতরে উটটিকে বসাল এবং সেটিকে বাঁধল। তারপর তাদের (সাহাবীদের) উদ্দেশ্য করে বলল: "তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: "এই যে সাদা বর্ণের হেলান দিয়ে বসা ব্যক্তিটিই তিনি।" তখন লোকটি তাঁকে বলল: "হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি।" লোকটি বলল: "হে মুহাম্মাদ, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আপনার প্রতি কঠোর হব, আপনি মনে কিছু নেবেন না।" তিনি বললেন: "তোমার মনে যা আসে তা জিজ্ঞাসা করো।" লোকটি বলল: "আমি আপনাকে আপনার রবের এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" সে বলল: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" সে বলল: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের ধনীদের থেকে এই সদকা (যাকাত) গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" তখন লোকটি বলল: "আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম। আমি আমার গোত্রের যারা পেছনে রয়েছে তাদের প্রতিনিধি। আমি যিমাম বিন সা’লাবাহ, বনু সাদ বিন বকর গোত্রের ভাই।"
(৫).
--------------------------------------------