(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: -)
فضائل القرآن وتلاوته للرازي   (الرازي، أبو الفضل)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: فضائل القرآن وتلاوته للرازي

المؤلف: أبو الفضل عبد الرحمن بن أحمد بن الحسن الرازي المقرىء (ت 454هـ)

تحقيق وتخريج: الدكتور عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية

الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م

عدد الصفحات: 164

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাজির সংকলিত কুরআনের ফজিলত ও তিলাওয়াত   (রাজি, আবুল ফজল)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: রাজির সংকলিত কুরআনের ফজিলত ও তিলাওয়াত

লেখক: আবুল ফজল আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন হাসান আল-রাজি আল-মুকরি (মৃত ৪৫৪ হি.)

সম্পাদনা (تحقيق) ও হাদিসের মান যাচাই (تخريج): ডক্টর আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشيخ الْإِمَام أَبُو الفضل عَبْد الرَّحْمَن بْن أَحْمَد بْن الْحَسَن الرازي المقرئ رحمة الله عَلَيْهِ: وبعد: فإن هذا كتاب ألفته فِي فضائل القرآن وتلاوته وخصائص تلاوته وحملته.

وقد سماه الله بالقرآن، والفرقان، والعظيم، والعزيز، والحكيم، والروح، والكريم، والنور، والهدى، والتذكرة، والذكرى، والرحمة، والشفاء، والكتاب المبين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، والحق اليقين، والقصص الحق، والموعظة الحسنة، والآيات البينات، والمتبينات، والبيان، والتبيان، والبينة، وحبل الله، وصراط الله، فِي غيرها من الأسماء العلية والصفات الجلية.

ونوه بذكر حملته من حفظته، ورفع من شأنهم، فَقَالَ عز وجل من قائل: {كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} [آل عمران: 79]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ, ইমাম আবু আল-ফজল আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আর-রাজি আল-মুকরি (المقرئ) (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: অতঃপর, এটি এমন একটি কিতাব যা আমি কুরআনের ফাজায়েল (فضائل), এর তিলাওয়াত, তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর বাহকদের মর্যাদা সম্পর্কে রচনা করেছি।

মহান আল্লাহ এটিকে কুরআন (القرآن), ফুরকান (الفرقان), আজিম (العظيم), আজিজ (العزيز), হাকিম (الحكيم), রুহ (الروح), কারিম (الكريم), নূর (النور), হুদা (الهدى), তাযকিরাহ (التذكرة), যিকরা (الذكرى), রহমত (الرحمة), শিফা (الشفاء), কিতাবুম মুবিন (الكتاب المبين), যিকরে হাকিম (الذكر الحكيم), সিরাতে মুস্তাকিম (الصراط المستقيم), হাক্কুল ইয়াকিন (الحق اليقিন), কাসাসুল হাক (القصص الحق), মাওইযাতুল হাসানা (الموعظة الحسنة), আয়াতুম বাইয়িনাত (الآيات البينات), মুতাবাইয়িনাত (المتبينات), বায়ান (البيان), তিবয়ান (التبيان), বাইয়িনাহ (البينة), হাবলুল্লাহ (حبل الله) এবং সিরাতুল্লাহ (صراط الله) সহ অন্যান্য সুউচ্চ নাম ও উজ্জ্বল গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন।

তিনি এর বাহক তথা হাফিজদের (حفظة) কথা উল্লেখ করে তাঁদের সম্মানিত করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা রব্বানী (ربانيين) হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।" [আলে ইমরান: ৭৯]
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৮)
فالرباني أخص نسبة ينسب بِهِ العبد إلى مولاه من بعد النبوة، ومعناه: كونوا علماء حكماء بتعليمكم الكتاب ودرسكم إيَّاه.

وجعلهم مغبوطين فِي الأنبياء والسالفة من الأمم قبل أن أظهروا، ومحسودين في أهل الكتاب والمشركين، ثُمَّ فِي الأمة بعد أن ظهروا واستظهروا.

وفوض إليهم الإمامة والإمارة،. . من عملوا علموه فِي الدُّنْيَا، والشفاعة فِي الآخرة.

وقطع لهم بحق معلوم مؤقت فِي بيت المال لم يقطعه كذلك لغيرهم.

وجعلهم خير الأمة وأفضلهم وخيارهم وأشرافهم، واتخذهم أهلين من بين خلقه، وخواص من بين عباده.
বস্তুত "রাব্বানি" হলো নবুওয়াতের পর এমন এক বিশেষ সম্বন্ধ যার মাধ্যমে বান্দাকে তার মওলার (প্রতিপালক) দিকে সম্পর্কিত করা হয়। এর অর্থ হলো: কিতাব শিক্ষা দেওয়া এবং তা পঠন-পাঠনের মাধ্যমে তোমরা প্রজ্ঞাবান আলেম হও।

তিনি তাদের (আলেমদের) আত্মপ্রকাশের পূর্বেই নবিগণ এবং পূর্ববর্তী উম্মতগণের নিকট ঈর্ষণীয় করেছেন; আর আহলে কিতাব ও মুশরিকদের নিকট করেছেন হিংসার পাত্র; অতঃপর এই উম্মতের মাঝেও (হিংসার পাত্র করেছেন) যখন তারা আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তিনি তাদের ওপর ইমামত ও ইমারত (নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব) ন্যস্ত করেছেন... তারা যা আমল করেছেন তা দুনিয়াতে শিক্ষা দিয়েছেন এবং পরকালে (তাদের জন্য রয়েছে) শাফায়াত।

তিনি বায়তুল মালে তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত হকের ফয়সালা করেছেন, যা তিনি অন্য কারো জন্য সেভাবে নির্ধারণ করেননি।

তিনি তাদের উম্মতের শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক মর্যাদাবান, মনোনীত এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে একান্ত আপন এবং বান্দাদের মধ্য থেকে বিশিষ্টজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
واستدرج النبوة من بين جنوبهم من غير وحي إليهم، وأخبر بأنه عز وجل يأخذهم بما يأخذ بِهِ الأنبياء إلَّا الوحي.

وجعل حرمتهم عَلَى المؤمنين كحرمة أمهاتهم عليهم احتراما ومبرة.

وآمنهم من أن تحرقهم النار أو يلجوها إلَّا تحلة القسم، كل ذَلِكَ بينه عز وجل فِي نص تنزيله، وعلى لسان نبيَّه عليه الصلاة والسلام.

ومن وراء جميع ما ذكرته خص علماءهم بخلة مستخلصة لهم دون غيرهم من علماء الشريعة، وهي ائتمام الأمة بهم فِي كتابه عَن آخرها عَلَى اختلاف نحلها ومذاهبها من غير نزاع ولا مخالفة، فأعظم بهن من فضائل وخصائص وأكرم، وإن لم يحصل المرء المسلم إلَّا عَلَى مجرد حفظه دون تبطن فِي معناه، أو منازلة لجميع موجبه ومقتضاه، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قَالَ: «لو جعل القرآن فِي إهاب، ثُمَّ ألقي فِي النار ما احترق» أي: من علمه الله القرآن من المسلمين وحفظه إياه، لم تحرقه النار يوم القيامة إن ألقي فيها بالذنوب، كذلك قيل فِي معنى الخبر.

وقد قَالَ أَبُو أمامة الباهلي رضي الله عنه: اقرؤا القرآن ولا تغرنكم هذه المصاحف، فإن الله لا يعذب بالنار قلبا وعى القرآن.

তারা তাদের বক্ষদেশের মাঝে নবুওয়াতকে ধারণ করেছে, যদিও তাদের কাছে কোনো ওহী (وحي) আসেনি। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ ওহী (وحي) ব্যতীত অন্য সবকিছুতে তাঁদের সাথে সেই আচরণই করবেন যা তিনি নবীদের সাথে করেন।

আর তিনি মুমিনদের নিকট তাদের মর্যাদাকে তাদের মায়েদের মর্যাদার মতো নির্ধারণ করেছেন, যা সম্মান ও সদাচরণের পরিচায়ক।

আর তিনি তাদের জাহান্নামের আগুন দ্বারা দগ্ধ হওয়া অথবা তাতে প্রবেশ করা থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন, শপথ পূরণের (تحلة القسم) সামান্য সময় ব্যতীত। আল্লাহ তাআলা এই সব কিছুই তাঁর অবতীর্ণ বাণীতে এবং তাঁর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর জবানে সুস্পষ্ট করেছেন।

আমি যা উল্লেখ করেছি সেগুলোর বাইরেও আল্লাহ তাঁদের আলেমদের এমন এক বিশেষ গুণ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যা শরীয়তের অন্য আলেমদের প্রদান করা হয়নি। আর তা হলো, সমগ্র উম্মত তাদের বিভিন্ন মত ও পথ নির্বিশেষে আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিরোধ বা মতভেদ ছাড়াই তাঁদের অনুসরণ করবে। এই মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ কতই না মহান এবং মহিমান্বিত! কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এর গভীর অর্থ অনুধাবন করা বা এর যাবতীয় দাবি ও প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে পালন করা ছাড়াই কেবল এটি মুখস্থ করে, তবুও তার মর্যাদা অনেক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি কুরআনকে কোনো চামড়ার আধারে রাখা হয়, অতঃপর তা আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা দগ্ধ হবে না।” অর্থাৎ: মুসলিমদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং তা তাঁর অন্তরে সংরক্ষিত করেছেন, কিয়ামতের দিন গুনাহের কারণে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলেও আগুন তাকে দগ্ধ করবে না। এই সংবাদটির (خبر) মর্মার্থ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আর আবু উমামা আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এই মাসহাফগুলোর বাহ্যিক রূপ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে; কেননা আল্লাহ তাআলা এমন কোনো অন্তরকে আগুনের শাস্তি দেবেন না যা কুরআনকে ধারণ করেছে।”

(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأحرى لَمن تنبه عَلَى تعظيم حرمات الله فِي نص التنزيل من الشعائر والمشاعر والمناسك والمسعى والمواقف أن يتنبه لحرمة ما هُوَ أعظم حرمة عَند الله سبحانه منهن وهو المؤمن، ثُمَّ لحرمة من اتخذه الله من بين المؤمنين أهلين من جملتهم وهم حملة كتابه، ولولا ورود الشرع بها من لفظه لاستعظم إضمارها، فكيف بإظهارها؟ وإنما تنبيهي عَلَى ما جعل الله لأهليه من الحق والحرمة من بين خلقه، لأنا قد بلينا فِي الموقف بقوم من نشئة لا يعبئون بكتاب الله ولا بحفظه، فلا يعبأ الله بهم، قاصرين عَنْهُ، حاجزين، مفترين غيرهم، مزهدين فِيهِ، ملقبين حملته بالقراء عَلَى النبز والازدراء دون المدح والإطراء ما بين المترسمين بالعلم والمتوسمين بالنسك، جلَّ كلامهم: أن حفظ القرآن يصلح للمعلمين والصبيان، ولم يقرأ إلَّا عَند المرضى وفي المقابر، وأكثر فتياهم أَنَّهُ يكفي من القرآن ما يسقط بِهِ الفرض، بعدما علموا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ عَن الله عز وجل: «من شغله قراءة القرآن عَن ذكري ومسألتي أعطيته
আর যার নিকট ওহীর অমিয় ভাষ্যে বর্ণিত আল্লাহর নির্ধারিত পবিত্র নিদর্শনাবলি, পবিত্র স্থানসমূহ, ইবাদতের নিয়মাবলি, সা’ঈ করার স্থান এবং অবস্থানের স্থানসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি প্রতিভাত হয়েছে, তার জন্য এটি অধিক সমীচীন যে, সে এমন বিষয়ের পবিত্রতার ব্যাপারেও সজাগ হবে যা আল্লাহর নিকট এগুলোর চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ; আর তা হলো মুমিন। অতঃপর সেই মুমিনদের পবিত্রতা ও মর্যাদার ব্যাপারেও (সজাগ হওয়া উচিত) যাদেরকে আল্লাহ মুমিনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন; তারা হলেন আল্লাহর কিতাবের বাহক। যদি শরিয়তে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা না থাকত, তবে তা মনে পোষণ করাকেও গুরুতর মনে করা হতো, প্রকাশ করা তো দূরের কথা! আমি কেবল সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর কিতাবের বাহকদের জন্য নির্ধারিত অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে সতর্ক করছি; কারণ আমরা বর্তমানে এমন এক জনগোষ্ঠীর কবলে পড়েছি যারা আল্লাহর কিতাব এবং তা হিফজ করার কোনো পরোয়া করে না, ফলে আল্লাহও তাদের পরোয়া করেন না। তারা নিজেরা কুরআন বিমুখ, অন্যদের জন্য প্রতিবন্ধক, অন্যদের প্রতি মিথ্যারোপকারী এবং কুরআনের প্রতি অনীহা সৃষ্টিকারী। তারা কুরআনের বাহকদের প্রশংসা বা গুণকীর্তনের পরিবর্তে কেবল ব্যঙ্গ ও অবজ্ঞার ছলে 'ক্বারী' উপাধিতে ভূষিত করে। জ্ঞানার্জনের দাবিদার এবং ইবাদতগুজারি হিসেবে পরিচিত এক শ্রেণির মানুষের অধিকাংশ কথাবার্তা হলো: কুরআন হিফজ করা কেবল শিক্ষক ও শিশুদের জন্য শোভনীয়, আর এটি কেবল অসুস্থদের শিয়রে এবং কবরের পাশে পাঠের বিষয়। তাদের অধিকাংশ ফতোয়া হলো—কুরআনের ততটুকুই যথেষ্ট যা দ্বারা ফরজ আদায় হয়ে যায়। অথচ তারা অবগত আছে যে আল্লাহর রাসূল (সা.) মহান আল্লাহ তাআলা থেকে বর্ণনা করেছেন: "যাকে কুরআনের তিলাওয়াত আমার জিকির ও প্রার্থনা হতে ব্যস্ত রেখেছে, তাকে আমি দান করব..."
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
أفضل ما أعطي السائلين» ، وقَالَ عليه الصلاة والسلام: «أفضل العبادة القرآن» ، وَلَمَّا سُئِلَ عليه السلام عَن أفضل الأعمال قَالَ: " عليك بالحال المرتحل، قِيلَ: وما الحال المرتحل؟ قَالَ: صاحب القرآن يضرب فِي أوله حتى يبلغ آخره، ثُمَّ يضرب فِي آخره حتى يبلغ فِي أوله " ونحوها من الأخبار التي وردت، وسأسوق قليلا منها مسندا ومبوبا يدل عَلَى كثير جاء فِي هذا المعنى، وقد قَالَ الله تعالى: {مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ} [البقرة: 105] قِيلَ: معناه: بحفظ القرآن، أي: ما حسدتكم اليهود والنصارى عَلَى شيء كحفظ القرآن.

যা যাচনাকারীদের প্রদান করা হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সর্বোত্তম ইবাদত হলো কুরআন।" যখন তাঁকে (আলাইহিস সালাম) সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "তোমার জন্য 'হাল আল-মুরতাহিল' (যাত্রারম্ভকারী ও গন্তব্যস্থলে উপনীত ব্যক্তি) হওয়া আবশ্যক।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হাল আল-মুরতাহিল কী?" তিনি বললেন: "কুরআনের সেই সাথী যে এর শুরু থেকে তিলাওয়াত শুরু করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর পুনরায় শেষ থেকে শুরু করে শুরুতে ফিরে আসে।" এই মর্মে বর্ণিত সংবাদসমূহের (أخبار) মধ্যে অনুরূপ আরও বর্ণনা রয়েছে। আমি এই বিষয়ে বর্ণিত বিপুল তথ্যের মধ্য থেকে অল্প কিছু বর্ণনা সনদযুক্ত (مسند) এবং অধ্যায়ভিত্তিক (مبوب) পদ্ধতিতে উপস্থাপন করব। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা চায় না যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করেন} [আল-বাকারা: ১০৫]। বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো কুরআন হিফজ করা; অর্থাৎ, ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা তোমাদের অন্য কোনো নিয়ামতের জন্য ততটা ঈর্ষা করেনি যতটা তারা কুরআন হিফজ করার ওপর করেছে।

(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وبحفاظ الأمة أنجز الله حسن موعوده من قوله تَعَالَى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .

وبحفظ القرآن وصفهم الله عز وجل بالعلم، فَقَالَ: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} [العنكبوت: 49] .

وقرر لهم حقيقة العلم، وكذلك وجدهم مُوسَى عليه السلام فَقَالَ: يا رب، إني أجد فِي التوراة أمة أناجيلهم فِي صدورهم يقرءونه ظاهرا.

وكذلك أشعيا بْن راموص فَقَالَ: قربانهم دماؤهم وأناجيلهم فِي صدورهم.
এই উম্মতের সংরক্ষণকারীদের (حفاظ) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর সেই উত্তম প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।} [হিজর: ৯]।

আর কুরআন সংরক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদেরকে ইলমের বিশেষণে ভূষিত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {বরং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে, তাদের বক্ষে এটি সুস্পষ্ট নিদর্শন।} [আনকাবুত: ৪৯]।

তিনি তাদের জন্য ইলমের প্রকৃত স্বরূপ সাব্যস্ত করেছেন। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালাম তাদের সম্পর্কে (তাওরাতে) পেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "হে আমার রব, আমি তাওরাতে এমন এক উম্মতের কথা পাচ্ছি যাদের কিতাবসমূহ তাদের হৃদয়ে থাকবে, তারা তা মুখস্থ পাঠ করবে।"

অনুরূপভাবে আশয়িয়া বিন রামোস বলেছিলেন: "তাদের কুরবানি হবে তাদের রক্ত এবং তাদের কিতাবসমূহ তাদের বক্ষে সংরক্ষিত থাকবে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد قَالَ النَّبِيّ عليه الصلاة والسلام: " لا حسد إلَّا فِي اثنين: رَجُل آتاه الله القرآن فهو يقوم بِهِ آناء الليل وآناء النهار ".

وعن عيسى بْن مريم عليه السلام، أَنَّهُ قَالَ: طوبى لمن قرأ القرآن ثُمَّ عمل بِهِ.

وعلى الحفظ والتحفظ كَانَ الصدر الأول ومن بعدهم، فربما قرأ الأكبر منهم عَلَى الأصغر منه سنا وسابقة، فلم يكن الفقهاء منهم ولا المحدثون والوعاظ يتخلفون عَن حفظ القرآن والاجتهاد عَلَى استظهاره، ولا المقربون منهم عَن العلم بما لم يسعهم جهله منه، غير أنهم نسبوا إلى ما غلب عليهم من المعرفة بحروفه أو العلم بغيرها، إلى أن خلفهم الخلف الَّذِين مضى ذكرهم، فاتهم في طراتهم وحداثتهم طلب حفظ القرآن وفي أوانه، ولحقهم العجز والبلادة عَلَى سنهم، من غير أن كَانَ لهم أنس بتلاوة كتاب من ربهم، ولا بلطيف خطابه وشريف عتابه، فعوقبوا لحرمانه وإيثار الجدل والنطاح اللَّذِين يؤديان إلى تفريق الأمة، وتمقيت بعضهم إلى بعض، وصار ذَلِكَ أروج لهم فِي مجالس الظلمة والمسلطين الفجرة فمضوا بذَلِكَ وأسند بجوابه، والله زين لهم ذَلِكَ فَقَالَ عز وجل: {كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ} [الأنعام: 108] ، ومع ذَلِكَ فإنهم لا
নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: "দুইটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোথাও ঈর্ষা নেই: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, অতঃপর সে তা নিয়ে রাতের প্রহরে ও দিনের প্রহরে সালাতে দণ্ডায়মান থাকে।"

আর ঈসা ইবনে মারিয়াম (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে কুরআন পাঠ করল অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করল।"

হিফজ এবং সংরক্ষণের ওপরই প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের পরবর্তীগণ সুদৃঢ় ছিলেন। এমনকি অনেক সময় তাদের মধ্যে যারা বড় ছিলেন, তারা বয়স এবং অগ্রবর্তিতার দিক দিয়ে ছোটদের কাছেও পাঠ গ্রহণ করতেন। তাদের মধ্যকার ফকিহগণ, হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) কিংবা ওয়ায়েজগণ কেউই কুরআন হিফজ করা এবং তা মুখস্থ করার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থেকে পিছিয়ে থাকতেন না। তাদের মধ্যকার নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গও ঐসব বিষয় জানা থেকে বিমুখ হতেন না যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা তাদের জন্য সমীচীন ছিল না। তবে তাদের ওপর কিতাবের শব্দাবলির জ্ঞান অথবা অন্য কোনো বিষয়ের জ্ঞান যা প্রবল ছিল, তার ভিত্তিতেই তাদের সম্বন্ধ করা হতো। পরিশেষে তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো সেই পরবর্তী প্রজন্ম যাদের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা তাদের শৈশব ও কৈশোরে এবং উপযুক্ত সময়ে কুরআন হিফজের শিক্ষা লাভে ব্যর্থ হলো। ফলে বার্ধক্যে এসে অক্ষমতা ও জড়তা তাদের পেয়ে বসল। তাদের রবের কিতাব তিলাওয়াত, এর সূক্ষ্ম সম্বোধন এবং এর মহান অনুযোগের সাথে তাদের কোনো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। ফলে তারা এই কিতাব থেকে বঞ্চিত হলো এবং বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে শাস্তিপ্রাপ্ত হলো, যা উম্মাহর মধ্যে বিভেদ এবং একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। আর এ সকল বিষয় যালিম ও পাপাচারী ক্ষমতাশীলদের মজলিসসমূহে তাদের জন্য অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠল। তারা এভাবেই চলতে থাকল এবং তাদের জবাবকে সনদযুক্ত (أسند) করল। আল্লাহ তাদের নিকট এ সকল কাজকে সুশোভিত করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি} [আল-আনআম: ১০৮]। তা সত্ত্বেও তারা...
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يدخلون حفرهم إلَّا تحسرا وتكمدا وتأسفا عَلَى ما فاتهم من بركة حفظ كتاب الله الكريم، ولا يظهر ذَلِكَ عليهم إلَّا عِنْدَ الطعن فِي السن، أو الإشراف على الفوت، أو التغرغر بالموت، لكنهم فِي الحال يستنزرون حفظ القرآن، ويزرون بأهله ويلقبونهم بما تقدم من النبز.

فأما من لم يتحل بالعلم بل ترسم بالنسك ثُمَّ أزرى بأهل القرآن ونبزهم بالقراء فإنه بربخ لا قيمة لَهُ، فربما كَانَ ذَلِكَ منه بلادة وعجزا أو تعديا وجهلا، فليتق الله امرؤ بعد عجزه عمن حفظ كتاب الله، ولا يفترن غيره فإنه لا يأمن أن يصير كمن كفر بِهِ وصد عَنْهُ، وقد قَالَ الله عز وجل فِي ذم قوم صدوا عَنْهُ وهجروه، فَقَالَ عزَّ من قائل إخبارا عنهم: {لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي} [الفرقان: 29] ، وقَالَ تَعَالَى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْءَانَ مَهْجُورًا} [الفرقان: 30] .
তারা তাদের কবরে প্রবেশ করে কেবল আক্ষেপ, মর্মপীড়া এবং অনুশোচনা নিয়ে—সেই বরকত যা তারা মহান আল্লাহর কিতাব হিফজ করার সুযোগ হারানোর ফলে হারিয়েছে। আর তাদের এই অবস্থা বার্ধক্যের চরম সীমায় উপনীত হওয়া, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো অথবা মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তের প্রাণোৎক্রমের সময় ছাড়া তাদের সামনে প্রকাশ পায় না। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তারা কুরআন হিফজ করাকে তুচ্ছজ্ঞান করে, কুরআনের বাহকদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং তাদের পূর্বোল্লিখিত মন্দ উপাধিতে (النبز) ভূষিত করে।

আর যে ব্যক্তি ইলম দ্বারা বিভূষিত হয়নি, বরং কেবল ইবাদত-বন্দেগির বাহ্যিক বেশ ধারণ করেছে, অতঃপর কুরআনের বাহকদের অবজ্ঞা করে এবং তাদের 'ক্বারি' (القراء) বলে ব্যঙ্গ করে, সে মূলত মূল্যহীন এক আধারের মতো। সম্ভবত এটি তার স্থবিরতা ও অক্ষমতা অথবা সীমালঙ্ঘন ও অজ্ঞতার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং আল্লাহর কিতাব হিফজ করতে অক্ষম হওয়ার পর কোনো ব্যক্তির উচিত আল্লাহকে ভয় করা; সে যেন অন্যকে নিরুৎসাহিত না করে। কেননা সে এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয় যে, সে ওই ব্যক্তির মতো হয়ে যাবে যে কুরআনকে অস্বীকার করেছে এবং তা থেকে বিমুখ হয়েছে। আর মহান আল্লাহ ওই জাতির নিন্দায় যারা কুরআন থেকে বিমুখ হয়েছে এবং তা পরিত্যাগ করেছে, তাদের সংবাদ দিয়ে এরশাদ করেছেন: {সে তো আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ আসার পর।} [আল-ফুরকান: ২৯], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর রাসূল বললেন, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।} [আল-ফুরকান: ৩০]।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولا ينسين بعدما تعلمه أو شيئا منه، فإن الله تَعَالَى يقول: {قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} [طه: 126] فهذه الآي وإن كن عَلَى الخصوص للكفار فإن ظاهر تلاوتهن عَلَى العموم، فمن رغب عَن حفظ القرآن وزهد غيره فِيهِ، أو نسي بعدما تعلمه، فكأنه أريد بما مضى وخوطب بِهِ، عَلَى أَنَّهُ قد وردت أخبار عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فِي الوعيد والتوبيخ فيمن نسيه من المسلمين بعدما تعلمه، فمن ذَلِكَ:

1 - مَا حَدَّثَنِي بِهِ وَالِدِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ الْحَافِظُ نَزِيلُ مَكَّةَ رحمه الله بِمَكَّةَ حَرَسَهَا اللَّهُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَليٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّوَّافُ، نا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، نا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، نا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ لَقِيطٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ،
আর তিনি যেন (কুরআন) শেখার পর তা অথবা এর কোনো অংশ ভুলে না যান; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল এবং তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর এভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে} [ত্বহা: ১২৬]। যদিও এই আয়াতগুলো বিশেষভাবে কাফিরদের জন্য, তবে তিলাওয়াতের বাহ্যিক দিক থেকে এগুলোর বিধান ব্যাপক (العموم)। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন হিফজ করা থেকে বিমুখ হয় এবং এর প্রতি অনাগ্রহী হয়, অথবা তা শেখার পর ভুলে যায়, তবে মনে হয় যেন সে এই পূর্বোক্ত আয়াতের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং তাকেই এতে সম্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন মুসলিমদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি ও তিরস্কারমূলক অনেক সংবাদ (أخبار) বর্ণিত হয়েছে যারা এটি শেখার পর ভুলে যায়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - মক্কায় অবস্থানকারী—আল্লাহ তাকে রহম করুন—আমার পিতা আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হাসান আর-রাজি আল-হাফিজ (الحافظ) মক্কায়—আল্লাহ শহরটিকে রক্ষা করুন—আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني); তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সাওয়াফ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (نا) ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (نا) আমর ইবনে মারজুক; তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (نا) শু’বাহ; তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি ঈসা ইবনে লাকীত থেকে এবং তিনি শাম দেশীয় জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ نَسِيَهُ إِلا لَقِيَ اللَّهَ أَجْذَمَ»

সা'দ ইবনে উবাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করল, অতঃপর তা ভুলে গেল, সে আল্লাহ তাআলার সাথে কুষ্ঠরোগী অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।"

(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ فناكي الْعَدْلُ الرُّويَانِيُّ نَزِيلُ الرَّيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الرُّويَانِيُّ، نا أَبُو الرَّبِيعِ السَّمْتِيُّ، ثَنَا أَبُو عَوَانَةَ وَضَّاحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا عَاصِمُ بْنُ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ،
২ - এবং আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল কাসিম জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব বিন ফানাকি ন্যায়পরায়ণ (العدل) আল-রুয়ানি, যিনি আর-রাই শহরের অধিবাসী ছিলেন; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আল-রুয়ানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) আবু আল-রবি আল-সামতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আওয়ানাহ ওয়াদ্দাহ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আসিম বিন আবি আল-নাজুদ, আবু ওয়ায়েল থেকে (عن),
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: مَا لِلْمَرْءِ أَوْ لأَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ: نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ

3 - وَحَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزِّيَادِيُّ الْفَقِيهُ بِنَيْسَابُورَ، نا أَبُو عُثْمَانَ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ الزَّاهِدُ، نا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَيْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بِئْسَمَا لأَحَدِكُمْ يَقُولُ: نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ، بَلْ هُوَ نُسِّيَ، اسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّاقَةِ مِنْ عُقُلِهَا "
আবদুল্লাহ হতে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তির বা তোমাদের কারো জন্য এ কথা বলা সমীচীন নয় যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি’, বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে; এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

৩ - এবং আমাদের কাছে নিশাপুরের ফকিহ (الفقيه) আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জিয়াদি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের কাছে যাহিদ (الزاهد) আবু উসমান আমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের কাছে আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে আবি তাইবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইব্রাহিম ইবনে তাহমান হতে (عن), মনসুর হতে (عن), আবু ওয়ায়েল হতে (عن), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে (عن) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কারো জন্য এ কথা বলা কতই না মন্দ যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি’, বরং তাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা কুরআনের নিয়মিত চর্চা করো, কারণ এটি মানুষের অন্তর থেকে রশি ছিঁড়ে পলায়নরত উটের চেয়েও দ্রুতগতিতে হারিয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪০)
4 - وَأَخْبَرَنَا ابْنُ فناكي، نا الرُّويَانِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «تَعَلَّمُوا كِتَابَ اللَّهِ
৪ - এবং ইবনে ফানাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আর-রুয়ানি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবদুল্লাহ বিন সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) মুসা বিন আলি বিন রাবাহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উকবাহ বিন আমির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করো..."
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَتَعَاهَدُوهُ وَأَفْشُوهُ وَتَغَنُّوا بِهِ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنَ الْمَخَاضِ فِي الْعُقُلِ»
তোমরা এর (কুরআনের) নিয়মিত পরিচর্যা করো, তা প্রচার করো এবং সুমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াত করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! এটি (কুরআন) তার বন্ধন থেকে উট যেভাবে পালিয়ে যায়, তার চেয়েও অধিক দ্রুত স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪২)
5 - وَأَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الأَبَرْقُوهِيُّ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَعْبَدٌ الْبُخَارِيُّ، ثَنَا مَزْيَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمِصْرِيُّ، ثَنَا حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَنْبِجِيُّ، نا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، نا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ أُجُورُ أُمَّتِي حَتَّى الْقَذَاةِ تُخْرِجُهَا مِنَ الْمَسْجِدِ، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ ذُنُوبُ أُمَّتِي ، فَلَمْ أَرَ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِنْ آيَةٍ أَوْ سُورَةٍ أُوتِيهَا ثُمَّ نَسِيَهَا»
5 - এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আবারকুহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম মাবাদ আল-বুখারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মাজইয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثনা) হাজিব বিন সুলাইমান আল-মানবিজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ওকি বিন আল-জাররাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুফিয়ান, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে (عن), তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে (عن) বর্ণনা করেন; আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমার নিকট আমার উম্মতের সওয়াবসমূহ পেশ করা হয়েছে, এমনকি সেই ক্ষুদ্র আবর্জনাটিও যা কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের করে দেয়। আর আমার নিকট আমার উম্মতের পাপসমূহও পেশ করা হয়েছে; আমি এমন কোনো পাপ দেখিনি যা সেই আয়াত বা সূরার চেয়ে বড়, যা কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করার পর সে তা ভুলে গিয়েছে।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فصل: فإن قَالَ قائل: هِل تعين فرض حفظ جميع القرآن عَلَى أعيان جماعة المكلفين أم لا؟ والجواب: إنه لم يتوجه ذَلِكَ عَلَى كل واحد منهم فرضا، وذَلِكَ لأن الله عز وجل أرأف بعباده من أن يكلفهم ما لا طاقة لعامتهم بِهِ، وقد قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت بالحنيفية السهلة السمحة» فلو كلفوا عَلَى العموم لعجز الأكثر عَنْهُ لأن القرآن أعظم شأنا وأمنع جانبا من أن يتأتى حفظه لكل إنسان، أو يتسر بكل لسان، أو ينطلق بِهِ، أو يطيقه كل أحد، أو يحيط بِهِ كل حفظ، أو يحويه كل فهم، أو يعيه كل قلب، أو يسترسل لَهُ كل طبع، أو يحتمله كل سن، ألَّا ترى أن الجزء الَّذِي منه توجه فرضه عَلَى كل
অনুচ্ছেদ: যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: শরিয়ত কর্তৃক আদিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (المكلفين) প্রত্যেকের ওপর কি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করা (حفظ) আবশ্যিক (فرض) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে নাকি নয়? উত্তর: তাদের প্রত্যেকের ওপর এটি আবশ্যিক (فرض) হিসেবে অর্পিত হয়নি। আর তা একারণে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের প্রতি এমন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি দয়াবান যা তাদের সাধারণের সাধ্যাতীত। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «আমি সহজ ও উদার একনিষ্ঠ দ্বীন (الحنيفية) নিয়ে প্রেরিত হয়েছি»। সুতরাং যদি এটি সাধারণভাবে সকলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো, তবে অধিকাংশ মানুষই তা পালনে অক্ষম হতো। কারণ কুরআনের মর্যাদা এতোই মহান এবং এর ব্যাপ্তি এতোই দুর্ভেদ্য যে, প্রত্যেক মানুষের পক্ষে তা মুখস্থ (حفظ) করা সম্ভব হওয়া, অথবা প্রত্যেক জিহ্বায় তা সহজ হওয়া, কিংবা তা সাবলীলভাবে উচ্চারিত হওয়া, অথবা প্রত্যেকের সাধ্যায়ত্ত হওয়া, অথবা প্রতিটি মুখস্থকরণ (حفظ) শক্তির পক্ষে তা আয়ত্ত করা, অথবা প্রতিটি বোধশক্তির পক্ষে তা ধারণ করা, অথবা প্রতিটি হৃদয়ের পক্ষে তা অনুধাবন করা, অথবা প্রতিটি স্বভাবের জন্য তা স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া, কিংবা প্রতিটি বয়সের মানুষের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। আপনি কি দেখেন না যে, কুরআনের সেই অংশটুকু যা প্রত্যেকের ওপর আবশ্যিক (فرض) করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
مكلف، وهو الفاتحة فِي الأكثر وآيها أعتقد هُوَ جزء من ثلاثة آلاف وثمانمائة وسبعين جزءا، وكثير عَلَى عدد الكلم قد أعيا عامَّةُ الأمة تأدية عَلَى حد الواجب قديما وحديثا، وتفاوتت بقراءته درجاتهم، واختلفت عَلَى إقامته ألسنتهم وطباعهم، وكثرت لتجويده عَلَى النحو المرضي رياضاتهم، حتى أَنَّهُ قد يتخلف كثير من الفضل عَن إمامة الصلاة لقصورهم عَنْهُ إقامة عَلَى سواء الصواب، بتقدم المفضولين عليهم فيها، لإقامتهم إيَّاه عَلَى حد الواجب، أو أجود ممن أخر عنها، فإذا كَانَ هذا دأبهم مَعَ الجزء اللطيف الَّذِي كلفوا منه فكيف تراهم كانوا أن لو كلفوا جميعه عَلَى الأعيان مَعَ عزته وصعوبته وكثرة متشابهه، ومشكله، واختلاف حركاته، وسكونه، ونقطه، وإعجامه، وقد قَالَ الله عز وجل: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} [القمر: 17] ، {فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا} [مريم: 97] .

وكان مقاتل بْن سُلَيْمَان يَقُولُ: لولا أن الله تَعَالَى يسره ما
দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف), যা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল-ফাতিহা। আমি মনে করি এর আয়াতগুলো (কোরআনের) তিন হাজার আটশত সত্তরটি অংশের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। শব্দসংখ্যার আধিক্যের কারণে অতীতে ও বর্তমানে উম্মতের সাধারণ মানুষের পক্ষে আবশ্যিক সীমার (حد الواجب) মধ্যে এর যথাযথ তিলাওয়াত আদায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে এবং এটি উচ্চারণের ক্ষেত্রে তাদের জিহ্বা ও স্বভাবগত ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সন্তোষজনকভাবে এর তাজবিদ (تجويد) চর্চার জন্য তাদের সাধনাও ব্যাপক, এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি নামাজের ইমামতি থেকে পিছিয়ে থাকেন কারণ এটি যথাযথভাবে নির্ভুল উচ্চারণে আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে তাদের স্থলে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ইমামতিতে এগিয়ে যান, কারণ তারা এটি আবশ্যিক সীমার (حد الواجب) মধ্যে অথবা ওই পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় অধিকতর উত্তমরূপে আদায় করতে পারেন। সুতরাং যে সামান্য অংশের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই যদি তাদের এই অবস্থা হয়, তবে তাদের অবস্থা কেমন হতো যদি তাদের প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে পুরো কোরআনের দায়িত্ব অর্পণ করা হতো? অথচ এটি অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও কঠিন এবং এতে রয়েছে প্রচুর সমরূপ (متشابه) ও জটিল (مشكل) বিষয়, আর সেই সাথে এর হরকত (حركات), সুকুন (سكون), নুকতা (نقط) ও বর্ণের পার্থক্যকারী চিহ্ন (إعجام) এর বিভিন্নতা। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" [ক্বামার: ১৭], "আমি আপনার ভাষায় একে সহজ করে দিয়েছি যেন আপনি এর দ্বারা মুত্তাকিদের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং ঝগড়াটে সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।" [মারইয়াম: ৯৭]।

আর মুকাতিল ইবনে সুলাইমান বলতেন: "যদি আল্লাহ তাআলা একে সহজ না করতেন তবে তা..."
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
استطاع أحد أن يتكلم بكلام الرَّحْمَن.

لكن الله عز وجل وإن لم يكلفهم جميعه عَلَى الأعيان لِمَا فِيهِ من المشقة والامتناع عَن الأكثر، فإنه عز وجل لم يحب من جميعهم إلَّا حفظه طواعية منهم، أو الجد والاجتهاد فِيهِ إلى تصرم الأجال، وإبلاء العذر عِنْدَ الله عز وجل للعجز، بدليل ما تقدمنا بِهِ من الوعيد لمن نسي شيئا منه بعدما تعلمه، إذ الوعيد من الله لم يرد إلا فِي ترك الفرائض أو فيما يجري مجريها ومن وجوه أخر، وسأذكر طرفا من ذَلِكَ عَلَى الوجز ما ينبه عَلَى ما وراءه، فلعله قد يحث بعض المتوانين عَلَى إتقانه حفظا، أو يحض المستهترين بِهِ عَلَى إحسانه لفظا، أو يحمل المستظهرين إيَّاه عَلَى الاستكثار منه تدبرا ودرسا، أو يقصر من يزهد فِي حفظه غيره، أو يفتر، إمَّا قصورا وإمَّا جهلا.

فمنها: ما لزم الأمة من الاقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم فِي جلي أمر الشرع وخفيه، قولا وفعلا، عَلَى الوجوب أو الندب إلى أن يقوم دليل عَلَى أَنَّهُ كَانَ عليه السلام، مخصوصا بِهِ من قوله: أو فعله، فلما وجدنا أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم كَانَ حافظا بجميع ما نزل عَلَيْهِ من القرآن، ومأمورا بقراءته، حتى أنه عليه السلام، من شدة تمسكه بحفظه كَانَ يعرض عَلَى جِبْرِيلَ عليهما السلام، فِي كل سنة مرة واحدة، وفي السنة التي قبض فيها عرض عَلَيْهِ عليهما السلام مرتين، وكان يعرض عَلَى أصحابه ويعرضون عَلَيْهِ، ويعجل بِهِ ليستكثر منه،
কেউ পরম করুণাময় আল্লাহর বাণীর মতো কথা বলতে সক্ষম হয়নি।

কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদিও অধিকাংশের জন্য কষ্টকর ও দুঃসাধ্য হওয়ার কারণে সকলের ওপর ব্যক্তিগতভাবে (على الأعيان) তা পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করাকে বাধ্যতামূলক করেননি, তবে তিনি সকলের নিকট থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা সংরক্ষণ করাকে পছন্দ করেছেন; অথবা মৃত্যু পর্যন্ত এতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সাধনা করা এবং অক্ষমতার ক্ষেত্রে আল্লাহর নিকট ওজর পেশ করাকে পছন্দ করেছেন। এর প্রমাণ হলো ইতিপূর্বে উল্লিখিত সেই হুঁশিয়ারি, যা কোনো কিছু শেখার পর তা ভুলে যাওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি কেবল আবশ্যিক কার্যাবলি (فرائض) বর্জন অথবা যা তার সমপর্যায়ের তেমন বিষয়ের ক্ষেত্রেই আসে। আমি সংক্ষেপে এর কিছু অংশ উল্লেখ করব যা পরবর্তী বিষয়গুলো সম্পর্কে সজাগ করবে; সম্ভবত এটি কোনো অলস ব্যক্তিকে হিফজ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা অর্জনে উৎসাহিত করবে, অথবা কোনো উদাসীন ব্যক্তিকে তা বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণে উদ্বুদ্ধ করবে, অথবা যারা তা আয়ত্ত করেছে তাদের অধিকতর গবেষণা ও অধ্যয়নে অনুপ্রাণিত করবে, অথবা যারা এটি সংরক্ষণে বিমুখ কিংবা অলস—হোক তা অক্ষমতা বা অজ্ঞতার কারণে—তাদের নিবৃত্ত করবে।

তার মধ্যে একটি হলো: শরিয়তের প্রকাশ্য ও গোপন সকল বিষয়ে কথা ও কাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ উম্মতের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে, যা বাধ্যতামূলক (وجوب) কিংবা পছন্দনীয় (ندব) হিসেবে গণ্য, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যে তা কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে কেবল তাঁর (আলাইহিস সালাম) জন্য নির্দিষ্ট ছিল। যখন আমরা দেখতে পাই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি নাজিল হওয়া সমস্ত কুরআনের হাফেজ ছিলেন এবং তিনি তা পাঠ করার জন্য আদিষ্ট ছিলেন। এমনকি তিনি হিফজের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল হওয়ার কারণে প্রতি বছর একবার জিবরাঈল আলাইহিস সালামের নিকট তা পেশ করতেন; আর যে বছর তাঁর ইন্তেকাল হয়, সে বছর তিনি তাঁর নিকট দুবার পেশ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিকটও তা পেশ করতেন এবং সাহাবীগণও তাঁর নিকট পেশ করতেন; আর তিনি অধিক পরিমাণে পাঠ করার জন্য তা দ্রুত তিলাওয়াত করতেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
لئلا ينسى ولحرصه عليه، فنهى عَنه بقوله تَعَالَى: {وَلا تَعْجَلْ بِالْقُرْءَانِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ} [طه: 114] ، وبقوله عز وجل: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} [القيامة: 16] ، وأمر بالترتيل وأمن مِمَّا كَانَ يصده عَن ذَلِكَ، وهو خشية النسيان والتفلت منه، بقوله تَعَالَى: {سَنُقْرِئُكَ فَلا تَنْسَى} [الأعلى: 6] علمنا أن الأمة لزم حفظه مَعَ الإمكان وجوبا، إلَّا عَن عذر بين، وإلا فقد كَانَ لهم فِي رسول الله أسوة حسنة استحبابا وندبا.

ومنها: أن الله عز وجل دعا الخلق عَلَى العموم إلى الاعتصام بالقرآن، والإتباع لَهُ وتدبره والتذكر بِهِ فِي نص التنزيل، فَقَالَ عزَّ من قائل: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلا تَفَرَّقُوا} [آل عمران: 103] ، ومعناه: التمسك بالقرآن والعمل بما فِيهِ، وبيان ذَلِكَ فِي قوله عليه السلام: " إن هذا القرآن سبب طرفه بيد الله عز وجل وطرفه بأيديكم فتمسكوا به ما استطعتم.

فقال سبحانه عز وجل: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأنعام: 155] ، وقَالَ تَعَالَى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ
যাতে তিনি বিস্মৃত না হন এবং এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এটি থেকে নিষেধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কুরআন পাঠে ত্বরা করবেন না} [ত্বহা: ১১৪], এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণীর মাধ্যমে: {ত্বরা করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে সঞ্চালন করবেন না} [কিয়ামাহ: ১৬]। তিনি ধীরস্থিরভাবে পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা তাঁকে এটি থেকে বাধা দিচ্ছিল—অর্থাৎ বিস্মৃত হওয়া এবং অন্তর থেকে হারিয়ে যাওয়ার ভয়—তা থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না} [আলা: ৬]। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, উম্মতের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী এটি সংরক্ষণ করা আবশ্যিক (وجوبا) হিসেবে জরুরি, তবে স্পষ্ট ওযর ব্যতিরেকে। নতুবা আল্লাহর রাসুলের মাঝে তাঁদের জন্য মুস্তাহাব (استحبابا) এবং পছন্দনীয় (ندبا) হিসেবে উত্তম আদর্শ নিহিত ছিল।

এর মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সাধারণ পর্যায়ে সমগ্র সৃষ্টিজগতকে কুরআনের রশিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার, এর অনুসরণ করার, এটি নিয়ে গবেষণা করার এবং অবতীর্ণ ওহীর স্পষ্ট পাঠের (نص) মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না} [আল-ইমরান: ১০৩]। এর অর্থ হলো: কুরআনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করা। এর ব্যাখ্যা রাসুলুল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই এই কুরআন একটি রজ্জু, যার এক প্রান্ত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে, অতএব তোমরা তোমাদের সাধ্যমতো একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।"

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর এটি এমন এক কিতাব যা আমি নাযিল করেছি, অত্যন্ত বরকতময়; অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়} [আল-আনআম: ১৫৫]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো...}
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
رَبِّكُمْ} [الأعراف: 3] ، وقَالَ عز وجل: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} [طه: 123] ، أي: فلا يضل فِي الدُّنْيَا عن طريق الحق ولا يشقى فِي الآخرة فِي النار، وقَالَ سبحانه: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْءَانَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] ، وقَالَ جل جلاله: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْءَانَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد: 24] .

فالاعتصام بِهِ ما مضى من التمسك بالقرآن، وإتباعه: العمل بما فِيهِ، وتدبره: التفكر فيما أريد بِهِ، والتذكر: الاتعاظ بما فِيهِ، فلما طولبو بما ذكرنا لزم حفظه عَلَى الأعيان إمَّا وجوبا، وإمَّا ندبا إلى عَن عجز ظاهر، وذَلِكَ لأن المخاطبين بِهِ هُمُ العرب الأمة الأمية، والمنزل عَلَيْهِ هُوَ النَّبِيّ الأمي صلى الله عليه وسلم، فدل ذَلِكَ عَلَى أن المراد بِهِ الحفظ إذ الأمي إذا طولب بإتباع ما لا يحفظه والاعتصام بِهِ وتدبره وتذكره، وسيما ما طال من الكلام واخْتَلَف من الأحكام، فقد كلف ما لم يطقه، فالله عزَّ وجلَّ
...তোমাদের রবের পক্ষ থেকে [আরাফ: ৩], এবং মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে দুনিয়াতে সত্য পথ হতে বিচ্যুত হবে না এবং পরকালে দুর্ভাগা হবে না" [ত্বহা: ১২৩], অর্থাৎ: দুনিয়াতে সে সত্য পথ থেকে বিভ্রান্ত হবে না এবং আখেরাতে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হয়ে দুর্ভাগা হবে না। এবং পবিত্র মহান আল্লাহ বলেন: "তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে প্রচুর অমিল দেখতে পেত" [নিসা: ৮২], এবং মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: "তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা (تدبر) করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?" [মুহাম্মাদ: ২৪]।

সুতরাং কুরআনের সাথে লিপ্ত থাকা বা আঁকড়ে ধরা হলো কুরআনের প্রতি অবিচল থাকা, আর এর অনুসরণ করা হলো এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করা, এর গবেষণা (تدبر) হলো এর মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা এবং এর উপদেশ গ্রহণ (تذكر) হলো এতে যা আছে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া। যখন তাদের কাছে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দাবি করা হলো, তখন তা প্রত্যেকের জন্য সংরক্ষণ (حفظ) করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়াল—হয় তা আবশ্যিক (وجوبا) হিসেবে অথবা স্পষ্ট অক্ষমতা না থাকা পর্যন্ত পছন্দনীয় (ندبا) হিসেবে। আর এটি এজন্য যে, যাদেরকে এটি সম্বোধন করা হয়েছে তারা হলো নিরক্ষর আরব জাতি, আর যার ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে তিনি হলেন নিরক্ষর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি প্রমাণ করে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখস্থ বা সংরক্ষণ (حفظ) করা; কেননা একজন নিরক্ষর ব্যক্তিকে যদি এমন কিছু অনুসরণ করতে, আঁকড়ে ধরতে, গবেষণা (تدبر) করতে এবং নসিহত গ্রহণ (تذكر) করতে বলা হয় যা সে সংরক্ষণ (حفظ) করেনি—বিশেষ করে যখন বক্তব্য দীর্ঘ হয় এবং বিধানগুলো (أحكام) ভিন্ন ভিন্ন হয়—তবে তাকে এমন বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হবে যা তার সাধ্যের অতীত। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত...
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
أرأف بعباده من ذَلِكَ، فليت من استظهر القرآن بنفسه، ولم يكن أميا بل كتبه بخطه وتدبره مدة حياته، وسمعه مدى عمره عَلَى الترداد من غيره، وقف عَلَى ما كلف منه، لأن جميعه لا يحيط بِهِ أحد علما غير الله سبحانه، ثُمَّ إن الأمي إذا خوطب بما لا طائل من الكلام، واشتبه كثيره لفظا وحكما ولا هُوَ ممن يكتب فيقيده بخطه ولا هُوَ يحفظه، فالخطاب مَعَه أضيع، وما كَانَ الله أنزله ليضيع، بل دعاهم ليعلم ما فِيهِ ويعمل بِهِ، وإن لم يكلف حفظ جميعه عَلَى الأعيان، فشتان بين من حفظه بنفسه، وجمعه فِي صدره، وتدبره من قلبه، وتلاه فِي كل أوان أزاده، وعلى أي حال أحبه فِي النور والظلمة والهواء والماء، وبين من عميت بصيرته كَمَا لا يتمكن من قراءته ولا التفكر فِيهِ، ولا التدبر المأمور بِهِ إلا فِي الرجوع إلى غيره فِيهِ، وانقطعت عَلَيْهِ سبل الاتباع والاتعاظ والتفكر والتدبر عِنْدَ عدمه، فإن قِيلَ: إن القرآن وإن خوطب بِهِ العرب ونزل بلسانهم، فقد لزم حكم الثقلين كافة عربا وعجما، فهل لزم العجم من حفظه عَلَى أي وجه كان من الوجوب، أو الندب، أو الاستحباب عَلَى الأعيان، أو الكفاية كَمَا لزم العرب.

فالجواب: نعم، وذَلِكَ لأنهم محمولون عَلَى حكمهم لقوله تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا} [الرعد: 37. . .] الآية، وكذلك من فارق من العرب حكم الأميين لتعلمه الكتابة والاستنباط، ومن سكن منهم
তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এর চেয়েও অধিক দয়াবান। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজে কুরআন মুখস্থ করেছে এবং সে নিরক্ষর (أمي) ছিল না, বরং তা নিজ হাতে লিখেছে এবং জীবনভর তা নিয়ে গবেষণা (تدبر) করেছে ও অন্যের পাঠ থেকে বারবার তা শ্রবণ করেছে, সে কুরআনের অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে অনুধাবন করেছে। কারণ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ছাড়া আর কেউ এর পূর্ণ জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে না। অতঃপর একজন নিরক্ষর (أمي) ব্যক্তিকে যখন দীর্ঘ অর্থহীন কথা দ্বারা সম্বোধন করা হয় এবং তার শব্দ ও বিধানের (حكم) অনেক কিছুই অস্পষ্ট থেকে যায়, আর সে এমন ব্যক্তিও নয় যে তা লিখে সংরক্ষণ করবে কিংবা মুখস্থ রাখবে, তবে তার ক্ষেত্রে এই সম্বোধন অধিকতর ফলহীন। আর আল্লাহ তো কুরআনকে বৃথা হওয়ার জন্য অবতীর্ণ করেননি; বরং তিনি তাদের আহ্বান করেছেন যাতে তারা এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। যদিও প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে (الأعيان) পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি। তবে যে ব্যক্তি নিজে তা মুখস্থ করেছে, নিজের অন্তরে তা জমা রেখেছে, হৃদয় দিয়ে তা নিয়ে গবেষণা (تدبر) করেছে এবং সর্বাবস্থায়—আলো ও অন্ধকারে, বায়ু ও সলিলে—তা তিলাওয়াত করেছে ও ভালোবেসেছে; তার সাথে ওই ব্যক্তির আকাশ-পাতাল ব্যবধান যার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে, ফলে সে নিজে তা পাঠ করতে পারে না, এতে চিন্তাও করতে পারে না এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া নির্দেশিত গবেষণায় (تدبر) সক্ষম হয় না। আর অন্যের অনুপস্থিতিতে তার জন্য অনুসরণ, উপদেশ গ্রহণ এবং চিন্তা ও গবেষণার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। যদি প্রশ্ন করা হয়: যদিও কুরআন দ্বারা আরবদের সম্বোধন করা হয়েছে এবং এটি তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও এর বিধান (حكم) তো আরব ও অনারব (عجم) নির্বিশেষে সকল জিন ও ইনসানের জন্য অপরিহার্য। তবে কি অনারবদের (عجم) জন্যও কুরআন মুখস্থ করা আরবেদের মতোই আবশ্যকতা (وجوب), পছন্দনীয় (ندب), মুস্তাহাব (استحباب), ব্যক্তিগত (الأعيان) অথবা সামষ্টিক (كفاية) দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে?

উত্তর হলো: হ্যাঁ, এটি এজন্য যে তারা আরবদের বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: {এভাবেই আমি একে একটি আরবি বিধান (حكم) হিসেবে অবতীর্ণ করেছি} [সূরা রা‘দ: ৩৭... শেষ পর্যন্ত]। তদ্রূপ আরবদের মধ্যে যারা লিখনশৈলী ও মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) শেখার মাধ্যমে নিরক্ষরদের (أمي) বিধান (حكم) থেকে বের হয়ে এসেছে এবং যারা তাদের সাথে বসবাস করে...
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الأمصار والأرياف، فإنهم فِي حكم العرب العاربة الأمية فِي حفظ القرآن وتحفظه، لأن الحكم فِي ظهوره لعلة لا يزول بزوالها إلا على صفة، ولم يسقط الوعيد جملة عمن تعلم شيئا منه ثُمَّ نسيه إلَّا عَمن رحمه الله.

ومنها: أن الله عز وجل لم ينزله جملة كغيره من الكتب، بل نجوما متفرقة مترتلة ما بين الآية والآيتين والآيات وال { [والقصة، فِي مدة زادت عَلَى عشرين سنة، إلَّا ليتلقفوه، حفظا، ويستوي فِي تلقفه بهذه الصورة فِي هذه المدة الكليل والفطن والبليد والذكي والفارغ والمشغول والأمي وغير الأمي، فيكون لمن بعدهم فيهم أسوة فِي نقل كتاب الله حفظا ولفظا قرنا بعد قرن، وخلفا بعد سلف، لئلا يجد التحريف أو التصحيف أو النقص أو اللحن أو سوء الآداء إليه، أو إلى شيء من كلمه، أو حروفه، أو صفاتها سبيلا كَمَا وجد إلى غيره من الكتب من حَيْثُ لم يحفظوه، لَمَّا كَانَ كل كتاب نزل جملة واحدة مكتوبا تنزيلا، قَالَ الله عز وجل:] وَقَالَ
শহর ও গ্রামাঞ্চলসমূহ; কেননা কুরআন হিফজ করা ও তা আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে তারা নিরক্ষর খাঁটি আরবদের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো লক্ষ্য বা কারণবশত যে বিধান প্রকাশ পায়, তা বিশেষ কোনো অবস্থা ব্যতীত সেই কারণ দূরীভূত হওয়ার সাথে সাথে বিলুপ্ত হয় না। আর যে ব্যক্তি কুরআনের কোনো অংশ শিখে পুনরায় তা ভুলে গেছে, তার ওপর থেকে শাস্তির ধমক সামগ্রিকভাবে রহিত হয়ে যায়নি, তবে আল্লাহ যাকে রহম করেছেন তার কথা ভিন্ন।

এর একটি কারণ হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এটি অন্যান্য কিতাবের মতো একবারে নাযিল করেননি, বরং বিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে একটি আয়াত, দুটি আয়াত, একাধিক আয়াত এবং { [কাহিনীর ধারাবাহিকতায় বিচ্ছিন্ন কিস্তিতে (نجوما) অবতীর্ণ করেছেন, যেন তারা তা হিফজ করার মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। আর দীর্ঘ সময় ধরে এই পদ্ধতিতে তা গ্রহণের ফলে মেধাহীন, বুদ্ধিমান, স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন, বিচক্ষণ, অবসরপ্রাপ্ত, ব্যস্ত, নিরক্ষর ও শিক্ষিত সকলেই যেন তা আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে সমান স্তরে থাকে। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যুগ যুগ ধরে এবং উত্তরসূরিদের জন্য পূর্বসূরিদের অনুসরণে আল্লাহর কিতাবকে হিফজ ও উচ্চারণের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এক অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকে। যাতে করে বিকৃতি (تحريف), বর্ণগত ভুল (تصحيف), হ্রাস-বৃদ্ধি, উচ্চারণগত ভুল (لحن) অথবা ত্রুটিপূর্ণ উপস্থাপনা এর মধ্যে অথবা এর কোনো শব্দ, অক্ষর বা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনো পথ খুঁজে না পায়; যেমনটি অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে ঘটেছিল কারণ তারা তা হিফজ করেনি, যেহেতু প্রতিটি কিতাবই লিখিত আকারে একবারে নাযিল হয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন:] এবং বললেন
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫০)
الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْءَانُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ} [سورة الفرقان: 32. . .] الآية، أي: كذلك أنزلناه عَلَى التفريق والترتيل: {لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ} [الفرقان: 32] .

قِيلَ: معناه لنثبته فِي فؤادك، والله أعلم.

ومنها: ما ورد عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فِي التنبيه عَلَى عظمة القرآن، وفضله عَلَى غيره من الكلام والكتب، وعلى شرف حملته وحفظته وقراءته، والترغب فِي تلاوته، وهذا موضع سياقته، غير أني أتقدم عَلَيْهِ بسند ما تقدم من قراءة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وعرضه عَلَى غيره، وعرض الصحابة رضي الله عنهم، بعضهم عَلَى بعض، ففي جميع ذَلِكَ مستدل أَنَّهُ من الله سبحانه دعاء بِهِ إلى حفظه، وعطف عَلَى العمل بما فِيهِ، وأن لا يسع أحدا أن يتخلف عَن حفظه أو تحفظه، وتلاوته عَلَى الدوام إلَّا عَن عذر ظاهر، فطوبى لمن حفظه واستحكمه، وأحسن تلاوته واتبعه، وتدبره، وعمل بما فِيهِ، وأخلص النية فِي
অবিশ্বাসীরা বলে, ‘কেন তাঁর প্রতি কুরআন একযোগে অবতীর্ণ হলো না?’ এভাবেই [সুরা আল-ফুরকান: ৩২...] আয়াত পর্যন্ত। অর্থাৎ: এভাবেই আমি তা পৃথক পৃথক ভাবে এবং স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে অবতীর্ণ করেছি: ‘যাতে আমি এর দ্বারা তোমার অন্তরকে সুদৃঢ় করি এবং আমি তা স্পষ্টভাবে ও ধীরে ধীরে পাঠ করেছি’ [আল-ফুরকান: ৩২]।

বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো যাতে আমি একে তোমার অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত করি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কুরআনের মহান মর্যাদা এবং অন্যান্য কথা ও কিতাবের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং এর বাহক, সংরক্ষক ও পাঠকদের সম্মান এবং এর তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির বিষয়ে যা এসেছে। আর এটিই তা বর্ণনার উপযুক্ত স্থান, তবে আমি এর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিলাওয়াত, অন্যের নিকট তা উপস্থাপন এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের একে অপরের নিকট তা উপস্থাপনের যে সনদ (سند) রয়েছে তা উল্লেখ করছি। এই সবকিছুর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একে মুখস্থ করার একটি আহ্বান এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করার প্রতি উৎসাহ প্রদান। আর সুস্পষ্ট ওযর ছাড়া কারো জন্য এর হিফজ বা মুখস্থকরণ এবং নিয়মিত তিলাওয়াত থেকে পিছিয়ে থাকা সমীচীন নয়। সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে একে মুখস্থ করেছে ও আয়ত্ত করেছে, সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করেছে, এর অনুসরণ করেছে, এটি নিয়ে গবেষণা করেছে, এতে যা আছে তদনুযায়ী আমল করেছে এবং এ ব্যাপারে নিয়তকে বিশুদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫১)
ذَلِكَ، والويل لمن هجره أو أعرض عَنْهُ، أو تركه أو نسيه بعدما تعلمه، أو فتر غيره عَنْهُ، أو زهد فِي حفظه واستبدل بِهِ مزامير الشيطان وآثرها عَلَيْهِ، وأكاذيب الشعراء، وهجر السفهاء، وتأبين الحرم، ومن كَانَ بِهَا صفة، نعوذ بالله منه ومنها، فقد حرم حظا عظيما وعرض للفتن، نسأل الله العصمة والتوفيق، وصلواته عَلَى نبيَّه محمد وآله.

 

‌‌وهذا باب فِي عرض رسول الله صلى الله عليه وسلم القرآن مشافهة

6 - نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ بَامُوَيْهِ الأَصْفَهَانِيُّ بِنَيْسَابُورَ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدَانَ الْهَمَذَانِيُّ بِمَكَّةَ، نا مُسَبِّحُ بْنُ حَاتِمٍ الْعُكْلِيُّ، نا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، عَنْ فَاطِمَةَ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهَا، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا فَاطِمَةُ، كَانَ جِبْرِيلُ يَأْتِينِي فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً يُعَارِضُنِي بِالْقُرْآنِ، وَقَدْ أَتَانِي الْعَامَ مَرَّتَيْنِ ، وَلا أَرَانِي إِلا أُفَارِقُ الدُّنْيَا»
এটিই সেই বিষয়; আর দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা একে (কুরআন) বর্জন করেছে বা এ থেকে বিমুখ হয়েছে, অথবা এটি শিক্ষা করার পর তা ছেড়ে দিয়েছে বা ভুলে গেছে, অথবা অন্যকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেছে, কিংবা এটি হিফজ করার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে এবং এর পরিবর্তে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র গ্রহণ করেছে ও তাকেই এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছে, আর কবিদের মিথ্যাচার, নির্বোধদের অসার প্রলাপ এবং হারাম শোকগাথাকে বেছে নিয়েছে। যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান, আমরা আল্লাহর কাছে তার থেকে এবং সেগুলো থেকে আশ্রয় চাই। প্রকৃতপক্ষে সে এক মহান সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং নিজেকে ফিতনার সম্মুখীন করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে সুরক্ষা ও তাওফিক প্রার্থনা করছি; আর তাঁর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।

 

‌‌এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সরাসরি মৌখিকভাবে কুরআন পেশ করার (عرض) অধ্যায়

৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) নিসাপুরে আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন বামুয়াইহ আল-আসফাহানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মক্কায় ইবরাহিম বিন আবদান আল-হামাদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসাব্বিহ বিন হাতিম আল-উক্লি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুদবাহ বিন খালিদ, হাম্মাদ বিন সালামাহ হতে (عن), তিনি সাবিত হতে (عن), তিনি আনাস হতে (عن), তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে (عن), তিনি ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: «হে ফাতিমা, জিবরাঈল প্রতি বছর একবার আমার নিকট আসতেন এবং আমার সাথে কুরআনের পর্যালোচনা (معارضة) করতেন। আর এই বছর তিনি আমার নিকট দুইবার এসেছেন; আমি মনে করি আমার পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে ছাড়া এটি আর কিছুই নয়।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌باب فِي عرضه عليه السلام فِي شهر رمضان خاصة

7 - نا أَبُو طَاهِرٍ الزِّيَادِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالا: نا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَيْدَانِيُّ، نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، نا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، نا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كَانَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَأَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِي رَمَضَانَ
বিশেষ করে রমজান মাসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (কুরআন) পেশ করার অধ্যায়

7 - আবু তাহির আল-যিয়াদি এবং আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মায়দানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি যুহরি থেকে (عن), তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে (عن), তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল, আর রমজান মাসে যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি সর্বাধিক দানশীল হতেন। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ» . . . الْحَدِيثَ

 

‌‌باب فِي عرض القرآن عَلَى النَّبِيّ عليه الصلاة والسلام

8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ فناكي، نا أَبُو بَكْرٍ الرُّويَانِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا الْحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «عَرَضَ عَلَيَّ الْقُرْآنُ ثَلاثَ عَرَضَاتٍ» .
...তখন তিনি তাঁর সাথে কুরআন অধ্যয়ন করতেন" . . . হাদিস

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নিকট কুরআন পেশ করা প্রসঙ্গে

৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে ফানাকি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-রুয়ানি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি সামুরাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমার নিকট কুরআন তিনবার পেশ করা হয়েছে» ।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
ح وَأَخْبَرَنَا ابْنُ فناكي، نا الرُّويَانِيُّ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ أَبِيهِ، الْحَدِيثَ، قَالَ حَمَّادٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَوْ فِي غَيْرِهِ: فَيَرَى أَنَّ قِرَاءَتَنَا هِيَ الأَخِيرُ

 

‌‌بَابُ فِيمَا رُوِيَ مِنْ عَرْضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ عَلَى أَبِي رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ كُلَّ سَنَةٍ إِنْ صَحَّ الْحَدِيثُ

10 - أَخْبَرَنَا ابْنُ فَنَاكي، نا الرُّويَانِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا حَمْدَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الْهَمَذَانِيُّ، نا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ، نا
রূপান্তরিত সূত্র (ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ফানাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রুয়ানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল, তাঁর পিতার সূত্রে, হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; হাম্মাদ এই হাদিসে অথবা অন্য কোনোটিতে বলেছেন: তিনি মনে করেন যে আমাদের এই তিলাওয়াতই হচ্ছে সর্বশেষ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: প্রতি বছর উবাই (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুরআন পেশ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, যদি হাদিসটি সহিহ (صحيح) হয়।

১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ফানাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রুয়ানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামদান ইবনুল মুগিরা আল-হামদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনুল হাকাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
هَارُونُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَرَضَ عَليَّ الْقُرْآنَ فِي السَّنَةِ الَّتِي مَاتَ فِيهَا مَرَّتَيْنِ، وَقَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ، وَهُوَ يُقْرِئُكَ السَّلامَ» .

وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ

 

‌‌باب فيما صح من قراءته عليه السلام عَلَى أَبِي رضي الله عنه

11 - أَخْبَرَنَا ابْنُ فناكي، نا الرُّويَانِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، نا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ: لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، قَالَ: وَسَمَّانِي رَبِّي؟ قَالَ: نَعَمْ، فَبَكَى "
হারুন বিন কাসির, জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে এবং তিনি উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে বছর আমি ওফাত পেয়েছি সেই বছর আমার নিকট দুইবার কুরআন পেশ করা হয়েছিল এবং তিনি বলেছেন: 'নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমাকে আপনার নিকট কিরাত পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন'।"

এবং তিনি হাদিসটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নবী (সা.) কর্তৃক উবাই (রা.)-এর নিকট কিরাত পাঠ সম্পর্কে যা সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত

১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ফানাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রুয়ানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশশার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাবকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আপনার নিকট 'লাম ইয়াকুনিল্লাজিনা কাফারু মিন আহলিল কিতাব' (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ) পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (উবাই) জিজ্ঞেস করলেন: আমার প্রতিপালক কি আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। এতে তিনি (উবাই) কেঁদে ফেললেন।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআনি ওয়া তিলাওয়াতিহি লির রাযী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌باب فِي قراءته عليه الصلاة والسلام عَلَى عُمَر بْن الخطاب رضي الله عنه

12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ السَّهْمِيُّ الْعَدْلُ بِجُرْجَانَ، نا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ، نا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ الْبُرُلُّسِيُّ، نا مَرْوَانُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ
‌উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাত পাঠ সংক্রান্ত অধ্যায়

১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুরজানের ন্যায়পরায়ণ (العدل) আবু আল-কাসিম হামজা ইবনে ইউসুফ আস-সাহমি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ (الحافظ) আবু আহমাদ আবদুল্লাহ ইবনে আদি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলি ইবনুল হাসান; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আবি দাউদ আল-বুরুল্লুসি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মারওয়ান ইবনে জাফর ইবনে...