القسم: كتب عامة
الكتاب: العلم الظاهر في نفع النسب الطاهر
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ
কিতাব: পবিত্র বংশমর্যাদার উপকারে সুস্পষ্ট জ্ঞান (আল-ইলমুয যাহির ফী নাফয়িন নাসাবিত তাহির)
(ইবনে আবিদীনের পত্রাবলি সংকলনের (মাজমুউ রাসায়িল) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে প্রসিদ্ধ [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারুস সায়াদাত، ইস্তাম্বুল، ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
«মাজমুউ রাসায়িল»-এর প্রতিলিপি করেছে: আলমুল কুতুব، এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪৫
--------------------------------------------
আমি উভয় দলের স্বপক্ষে সাক্ষ্য প্রদানকারী বিষয়সমূহ এখান থেকে সংগ্রহ করেছি এবং এর সাথে এমন বিষয় যুক্ত করেছি যার দ্বারা চাক্ষুষভাবে সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-ইলমুয যাহির ফি নাফয়িন নাসাবিত তাহির' (পবিত্র বংশমর্যাদার উপকারে প্রকাশ্য জ্ঞান)।
(আমি বলছি) ইবাদতযোগ্য অধিপতি, কল্যাণ ও দানশীলতার অভিভাবকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে— অস্বীকারকারীদের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় মহান আল্লাহর এই বাণী: {অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না}। মুফাসসিরগণের প্রধান (কাযী) বলেছেন: "তাদের মধ্যকার বংশমর্যাদা সেদিন তাদের কোনো উপকারে আসবে না; কারণ চরম দিশেহারা অবস্থা এবং ভীতির প্রাবল্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও দয়া বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যার ফলে মানুষ তার ভাই, মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তান থেকে পলায়ন করবে, অথবা তারা এগুলো নিয়ে আর গর্ব করবে না।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। দ্বিতীয় অর্থটি প্রথমটির নিকটবর্তী, কেননা পরকালে উপকারের অনুপস্থিতিই গর্ব না করার অন্যতম কারণ। আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী}।
আর হাদিসসমূহের বিষয়ে ইমাম আহমাদ (রহ.) আবু নাযরাহ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি মিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা প্রত্যক্ষ করেছেন যখন তিনি উটের পিঠে আরোহণ অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলছিলেন, "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের রব এক এবং তোমাদের পিতাও এক। কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; নেই কোনো কালোর ওপর লালের শ্রেষ্ঠত্ব, আর না কোনো লালের ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব— তাকওয়া ব্যতীত। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী।"
এবং মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন," তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের ডাকলেন। তারা সমবেত হলে তিনি সাধারণ ও বিশেষভাবে সম্বোধন করে বললেন: "হে বনী কাব ইবনে লুয়াই! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনী হাশিম! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। কেননা আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি তার সিক্ততা দিয়ে সিক্ত রাখব (অর্থাৎ আত্মীয়তার হক আদায় করব)।" আর বুখারী এটি ব্যতিক্রমটুকু ছাড়া বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
এবং আবুশ শাইখ সাওবান (রাযি.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে বনী হাশিম! কিয়ামতের দিন লোকেরা যেন(1) এমনভাবে না আসে যে তারা আখিরাতকে তাদের বুকে বহন করছে, আর তোমরা দুনিয়াকে তোমাদের পিঠে বহন করে আসছ। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের রক্ষায় আমি কোনো কাজে আসব না।"
এবং বুখারী আল-আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মুত্তাকীরাই আমার বন্ধু (অভিভাবক), যদিও কোনো বংশ অন্য বংশের চেয়ে নিকটতর হতে পারে। লোকেরা যেন আমল নিয়ে না আসে আর তোমরা দুনিয়াকে তোমাদের ঘাড়ে বহন করে নিয়ে আস। অতঃপর তোমরা বলবে— হে মুহাম্মদ! তখন আমি এমন ও এমন বলব এবং আমার দুই পাশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব।"
এবং তাবারানী মুয়াজ (রাযি.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে ওসিয়ত করতে করতে তাঁর সাথে বের হলেন। অতঃপর তিনি মদীনার দিকে তাকিয়ে বললেন: "তোমাদের মধ্যে মুত্তাকীরাই আমার বন্ধু, তারা যে-ই হোক এবং যেখানেই থাকুক।" এটি আবুশ শাইখও বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং এর শেষে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য সেই জিনিসের বিনাশ বৈধ করি না যা আমি সংশোধন করেছি।"
এবং বুখারী ও মুসলিম—আর শব্দশৈলী (اللفظ) তাঁর—আমর ইবনুল আস (রাযি.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোপনে নয় বরং প্রকাশ্যে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই অমুক বংশের লোকেরা আমার বন্ধু (অভিভাবক) নয়; আমার অভিভাবক তো কেবল আল্লাহ এবং সৎ (صالح)..."
--------------------------------------------
মুমিনগণের (এবং বর্ণনা করেছেন (أخرج)) মুসলিম আবু হুরায়রা —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে একটি হাদিসে যে, রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— বলেছেন: "যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশীয় মর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারবে না।" এবং এ বিষয়ে হাদিসসমূহ বহু ও প্রসিদ্ধ (شهيرة)। আর যা এই সাব্যস্তকারী মতের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় তা হলো যা তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (أخرج) এবং একে একটি হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু (সাকলাইন) রেখে যাচ্ছি, যা তোমরা আঁকড়ে ধরলে আমার পরে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। তাদের একটি অপরটির চেয়ে মহান; আল্লাহর কিতাব, যা আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রশি এবং আমার বংশধর তথা আহলে বাইত। তারা হাউজে কাউসারে আমার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত কখনোই একে অপর থেকে পৃথক হবে না। সুতরাং লক্ষ্য রেখো, তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তোমরা আমার কতটুকু স্থলাভিষিক্ত হতে পারো।"
(এবং বর্ণনা করেছেন (روى)) হাফিজ জামাল উদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-জারান্দি তার 'নাজম দুরুদ আল-সিমতাইন' গ্রন্থে যায়েদ ইবনে আরকাম —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে। তিনি বলেন: বিদায় হজের দিন রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— আগমন করলেন এবং বললেন, "আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের অগ্রগামী হব এবং তোমরা আমার অনুসারী। শীঘ্রই তোমরা হাউজে কাউসারে আমার নিকট উপস্থিত হবে। তখন আমি তোমাদেরকে আমার দুটি ভারী বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যে, আমার পরে তোমরা তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছ।" তখন মুহাজিরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "ভারী বস্তু দুটি কী?" তিনি বললেন, "তাদের মধ্যে বৃহত্তরটি হলো আল্লাহর কিতাব, যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে; সুতরাং তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। আর ক্ষুদ্রতরটি হলো আমার বংশধর। সুতরাং যারা আমার কিবলার দিকে মুখ করে এবং আমার দাওয়াত কবুল করে, তারা যেন তাদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করে। তোমরা তাদের হত্যা করো না, তাদের ওপর চড়াও হয়ো না এবং তাদের বিষয়ে অবহেলা করো না। আর আমি লতিফুল খবির (আল্লাহ)-এর নিকট তাদের জন্য এই প্রার্থনা করেছি যে, তারা যেন হাউজে কাউসারে এই দুটির মতো করে উপস্থিত হয়" — তিনি নিজের দুটি তর্জনী আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন — (হাদিসটি শেষ পর্যন্ত)।
(এবং বর্ণনা করেছেন (أخرج)) দাইলামি আব্দুর রহমান বিন আউফ —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে আমার বংশধরের ব্যাপারে কল্যাণ কামনার অসিয়ত করছি এবং তাদের সাথে মিলনের স্থান হলো হাউজে কাউসার।"
(এবং বর্ণনা করেছেন (أخرج)) আবু সাঈদ 'শরাফুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আব্দুল আজিজ থেকে তার সনদে (بسنده) নবীর —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— সূত্রে যে, তিনি বলেছেন: "আমি এবং আমার আহলে বাইত জান্নাতে একটি বৃক্ষস্বরূপ, যার ডালপালা দুনিয়াতে রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে, সে আল্লাহর দিকে পথ খুঁজে পাবে।"
(এবং বর্ণনা করেছেন (أخرج)) তাবারানি 'আল-আওয়াইল' গ্রন্থে আলী —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম—-কে বলতে শুনেছি, "হাউজে কাউসারে সর্বপ্রথম যারা আমার নিকট আসবে তারা হলো আমার আহলে বাইত এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা আমাকে ভালোবাসে।"
(এবং বর্ণনা করেছেন (أخرج)) তাবারানি, দারাকুতনি এবং 'কিতাবুল ফিরদাউস'-এর লেখক ইবনে উমর —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুমা— থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম— বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমি সর্বপ্রথম যাদের জন্য সুপারিশ করব তারা হলো আমার আহলে বাইত, এরপর যারা অধিক নিকটবর্তী, এরপর আনসারগণ, এরপর ইয়েমেনের অধিবাসী যারা আমার ওপর ঈমান এনেছে এবং আমার অনুসরণ করেছে, এরপর বাকি আরব এবং তারপর অনারবগণ। আর আমি সর্বপ্রথম যার জন্য সুপারিশ করব সে সর্বোত্তম।"
(এবং বর্ণনা করেছেন (روى)) তাবারানি 'আল-মু'জাম আস-সগির' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন জাফর —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ —সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম—-কে বলতে শুনেছি, "হে বনি হাশেম! আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তোমাদেরকে অভিজাত ও দয়ালু বানান এবং আমি তাঁর নিকট আরও প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তোমাদের পথভ্রষ্টদের পথ দেখান, তোমাদের ভীতদের নিরাপত্তা দান করেন এবং তোমাদের ক্ষুধার্তদের অন্ন দান করেন।"
আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক-এ বর্ণনা (روي) করেছেন এবং একে সহিহ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) বলে অভিহিত করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার রব আমার নিকট আমার আহলে বাইত সম্পর্কে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে যারা তাওহিদকে স্বীকার করবে এবং আমার দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াকে গ্রহণ করবে, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না।" আবু সাঈদ, আল-মুল্লা তাঁর সিরত গ্রন্থে, আদ-দাইলামি এবং তাঁর পুত্র ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে নবী (সা.) সূত্রে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন যে, "আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি আমার আহলে বাইতের কাউকে জাহান্নামে প্রবেশ না করান; অতঃপর তিনি আমাকে তা দান করেছেন।" ইমাম আহমাদ আল-মানাকিবে আলী (রা.) থেকে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হে বনু হাশেম সম্প্রদায়! সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি যদি জান্নাতের দরজার কড়া ধরি, তবে তোমাদের মাধ্যমেই আমি (প্রবেশ) শুরু করব।" আত-তাবারানি আল-কাবিরে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات); ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ফাতিমা (রা.)-কে বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাকেও আযাব দেবেন না এবং তোমার সন্তানদেরও নয়।" ইমাম আহমাদ, আল-হাকিম তাঁর সহিহ-তে এবং আল-বাইহাকি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: "লোকদের কী হয়েছে যে তারা বলে যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আত্মীয়তা কিয়ামতের দিন তাঁর কওমের কোনো উপকারে আসবে না? অবশ্যই, আল্লাহর কসম! আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক দুনিয়া ও আখিরাতে যুক্ত থাকবে। হে লোকসকল, আমি হাউজের নিকট তোমাদের অগ্রগামী থাকব।" আবু সালেহ আল-মুয়াযযিন তাঁর আরবাঈনে, আল-হাফিজ আব্দুল আজিজ ইবনে আল-আখদার এবং আবু নুআইম 'মারিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে উমর (রা.) থেকে নবী (সা.) সূত্রে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্ক ও বংশধারা ব্যতীত সকল সম্পর্ক ও বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর প্রত্যেক আদম সন্তানের আসাবা (عصبة) তাদের পিতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, ফাতিমার সন্তানরা ব্যতীত; কেননা আমিই তাদের পিতা এবং আমিই তাদের আসাবা (عصبة)।" এ ধরনের শব্দাবলীতে বহুসংখ্যক সূত্রে (طرق) এ বিষয় এবং এ ছাড়াও আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা তাদের নাজাত বা মুক্তি এবং মৃত্যুর সময় হলেও তাদের উত্তম অবস্থার সাক্ষ্য দেয়।
আর পূর্বোক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তা পূর্বাপর প্রসঙ্গের (সিবাক ও সিয়াক) প্রমাণে কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; সুতরাং তা ব্যাপক (عام) অর্থবোধক নয়। আর যদি একে ব্যাপক (عام) হিসেবে গণ্য করাও হয়, তবে বলা হবে যে এটি এমন একটি সাধারণ শব্দ যা দ্বারা বিশেষ (خصوص) উদ্দেশ্য করা হয়েছে; যার প্রমাণ হলো পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ (نصوص), যা প্রমাণ করে যে তাঁর সম্মানিত বংশধারা তাঁর পবিত্র সন্তানদের জন্য উপকারী এবং তারা দুনিয়া ও আখিরাতে মানবকুলের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সৌভাগ্যবান। এমনকি দুনিয়াতে তাদের মুক্তদাসদেরও সম্মানিত করা হয়েছে, যার ফলে তাদের জন্য জাকাত গ্রহণ হারাম করা হয়েছে; আর এটি কেবল তাদের সাথে সম্পৃক্ততার কারণেই। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অনুগত ও অবাধ্যের মাঝে পার্থক্য করা হয়নি। তাহলে তাদের (সন্তানদের) অবস্থা কেমন হবে, যখন তাদের খাতিরেই অন্যদের সম্মানিত করা হয় এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অন্যদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়? তারা তো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা এবং আসমান ও জমিনবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম সত্তার সাথে প্রকৃত বংশীয় সম্পর্কে সম্পর্কিত। যাঁকে মহান আল্লাহ এমনভাবে সম্মানিত করেছেন যার ক্ষুদ্রতম অংশের নাগাল পাওয়াও অসম্ভব এবং যাঁর সম্মানে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তাঁর মাধ্যমে কবিরা গুনাহে লিপ্ত অসংখ্য মানুষের সুপারিশ কবুল করবেন—যারা ছোট গুনাহ তো বটেই, এমনকি বড় গুনাহে অনড় ছিল। তাঁরই খাতিরে তিনি তাদের প্রশস্ত জান্নাতে বসবাস করতে দেবেন এবং তাদের ওপর ক্ষমা ও মার্জনা নামক চাদর প্রসারিত করবেন। এমতাবস্থায় তিনি কি তাঁকে সম্মানিত করবেন না?
তাঁর সন্তানদের উদ্ধারের মাধ্যমে, যারা তাঁর শরীরেরই অংশ। তিনি তাদের উচ্চ মর্যাদায় আসীন করবেন, যেমনটি তিনি দুনিয়াতে অন্যান্য মানুষের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শানের পরিপন্থী যে, তিনি দূরবর্তীদের জন্য সুপারিশ (شفاعة) করবেন আর নিজের নিকটাত্মীয়দের ধ্বংস হতে দেবেন, কিংবা তাদের সাথে তাঁর আত্মীয়তার কথা ভুলে যাবেন এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। হে রাজাধিরাজ আল্লাহ! আমাদের জন্য তা বাস্তবায়িত করুন। কারণ, আল্লাহর প্রশংসায় আমি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের বংশীয় সম্পৃক্ততা বিশ্বজাহানের সরদার এবং তাঁর সন্তান হুসাইনের (আলাইহিমুস সালাম) বংশধারার সাথে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح)।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—যেমনটি আল-বজ্জার এবং আত-তাবারানি একটি দীর্ঘ হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)—'সেই সম্প্রদায়ের কী হলো যারা মনে করে যে আমার আত্মীয়তা কোনো উপকারে আসবে না? কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্ক ও বংশীয় সূত্র ব্যতীত প্রতিটি সম্পর্ক ও বংশীয় সূত্র ছিন্ন হয়ে যাবে। আর আমার রক্তসম্পর্ক দুনিয়া ও আখিরাতে অবিচ্ছেদ্য থাকবে।' আর কেনই বা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আত্মীয়তা অবিচ্ছেদ্য হবে না? মহান আল্লাহর বাণী 'আর দেয়ালটির ব্যাপারে...' এর তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে যে, সেই দুই বালক এবং তাদের পিতার মধ্যে সাতজন পূর্বপুরুষের ব্যবধান ছিল, যাদের কারণে তাদের সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধর এবং তাঁর আহলে বাইতকে তাঁর কারণে সংরক্ষণ করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত, যদিও তাঁর ও তাদের মধ্যে মাধ্যম অনেক বেশি হয়। এ কারণেই জাফর আস-সাদিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন—যা হাফিজ আব্দুল আজিজ বিন আল-আখদার 'মাআলিমুল ইতরাতিন নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)—'আমাদের ব্যাপারে তোমরা তেমন সংরক্ষণশীল হও যেমনটি সেই নেককার বান্দা দুই ইয়াতীম বালকের ক্ষেত্রে হয়েছিলেন, কারণ তাদের পিতা নেককার ছিলেন।'
এই প্রসঙ্গে আমার কোনো কোনো সম্মানিত উস্তাদ তাঁর কোনো উস্তাদের বরাতে আমাকে যা জানিয়েছেন তা থেকে সান্ত্বনা পাওয়া যায়—আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে জান্নাতবাসী করুন—যে একবার তিনি মক্কা মুকাররমায় অবস্থানকালে একটি পাঠ দিচ্ছিলেন। তখন তাঁর সামনে আল্লাহর এই বাণীটি আসলো: 'আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে, হে আহলে বাইত! এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।' তখন কোনো কোনো আলিম এর দ্বারা দলিল পেশ করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধরগণ সর্বোত্তম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি দলিলের দিকে তাকিয়ে একে শক্তিশালী (قوي) দেখতে পেলেন, কিন্তু মক্কা মুকাররমার বংশধরদের সম্পর্কে যা তিনি শুনতেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে একে অসম্ভব মনে করলেন। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ লাভ করলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন এবং বললেন, 'তুমি কি আমার আহলে বাইতের সর্বোত্তম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাকে অসম্ভব মনে করো?' অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। তখন তিনি ভীত হয়ে জাগ্রত হলেন এবং নিজের সেই ধারণা থেকে ফিরে আসলেন।
এটি পূর্বে বর্ণিত সেই সব হাদিসেরও বিরোধী নয় যেগুলোতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন যে 'সকল সম্পর্ক ও বংশীয় সূত্র ছিন্ন হয়ে যাবে', কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে কারো জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নন। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর নিকটাত্মীয়দের এবং তাঁর পুরো উম্মতকে সাধারণ ও বিশেষ সুপারিশের (شفاعة) মাধ্যমে উপকৃত করার ক্ষমতা দান করেছেন। সুতরাং তিনি কেবল তারই মালিক যা তাঁর মহান রব তাঁকে মালিক বানিয়েছেন। এজন্যই তিনি বলেছিলেন 'আমার সম্পর্ক ও বংশীয় সূত্র ব্যতীত'। একইভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী 'আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না' এর অর্থ হলো: কেবল আমার নিজের পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাআলা আমাকে যে সুপারিশ (شفاعة) বা আমার কারণে যে ক্ষমা ও অনুরূপ সম্মান দান করবেন তা ব্যতীত। ভীতি প্রদর্শন এবং আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার স্থানটি দাবি করে যে, সম্বোধনটি এভাবেই হোক; সাথে সাথে তাঁর আত্মীয়তার হকের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: 'তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তা রয়েছে যা আমি সিক্ত রাখব।' হিকমতের আধার ও চরম অলঙ্কারপূর্ণ এই চমৎকার শৈলী মূলত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই চরম আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত যে, তাঁর আহলে বাইত যেন অধিকতর অনুগত হয়।
তাকওয়া (ভীতি) এবং মহা মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি ভীতির ক্ষেত্রে মানুষের যে অংশ রয়েছে; আমরা যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের পক্ষ থেকে এটিই সর্বোত্তম ব্যাখ্যা। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "কিয়ামতের দিন আমার বন্ধু (ولي) তারাই হবে যারা মুত্তাকী, তারা যেখানেই থাকুক না কেন" এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং মুমিনদের মধ্যে যারা নেককার (صالح) তারাই আমার বন্ধু (ولي)", এটি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও নিকটজনদের উপকারের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয় না। একইভাবে তাঁর বাণী: "যার আমল তাকে পিছিয়ে দেবে, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারবে না", এর সম্ভাব্য অর্থ হলো—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—বংশমর্যাদা তাকে সুউচ্চ মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে দ্রুত করতে পারবে না; তবে এটি নাজাত বা মুক্তি লাভের পথে অন্তরায় নয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আল্লাহর অনুগ্রহের দরজা অত্যন্ত প্রশস্ত।
তা সত্ত্বেও, আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র সীমানা লঙ্ঘনের বিষয়ে আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করেন। আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহর একজন বান্দা; তাঁর মালিক তাঁকে যতটুকু দান করেছেন, তার বাইরে তিনি কোনো কিছুর মালিক নন। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত সব কিছু লাভ করেন না। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেন না? {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন} এবং তাঁর বাণী: {বিষয়ের কোনো অংশেই আপনার অধিকার নেই}। সুতরাং, প্রত্যেকের বিষয়ে তিনি সুপারিশ করবেন কি না তা তিনি জানেন না, যদিও সেই ব্যক্তি তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হোক না কেন।
এই যে আবু তালিব, যিনি আল্লাহর রাসূলকে সাহায্য করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন, যদিও তিনি ছিলেন তাঁর পিতার সহোদর, তাঁর অভিভাবক এবং লালনপালনকারী; কিন্তু এই সম্পর্ক কি তাঁর কোনো উপকারে এসেছে এবং ধ্বংসের হাত থেকে কি তাঁকে রক্ষা করতে পেরেছে? আর এই যে নূহ আলাইহিস সালাম, যিনি মানবজাতির পিতা; তাঁর পুত্র সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, নিশ্চয়ই তার কাজ সৎ (صالح) ছিল না}। সুতরাং সব কিছুই মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। {ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে কেউ নিশ্চিন্ত হতে পারে না}। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালককে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন এবং তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধাবোধ ও মহিমা পোষণ করতেন।
অনুরূপভাবে তাঁর পবিত্র সাহাবীগণ এবং তাঁদের পুণ্যবান অনুসারীদের অবস্থাও ছিল একই। এই যে ওমর ইবনুল খাত্তাব, যিনি মুসলিম বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন, একেশ্বরবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন, দেশ জয় করেছিলেন, অবাধ্যদের দমন করেছিলেন এবং যাঁর বিষয়ে সত্যবাদী নবী জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং কল্যাণ ও অনুগ্রহের পূর্ণতার কথা বলেছিলেন; তা সত্ত্বেও তিনি বলতেন, "হায়! ওমরের মা যদি ওমরকে জন্ম না দিতেন!" তিনি আরও বলতেন, "আমি আল্লাহর কৌশল থেকে নিশ্চিন্ত নই।" সুতরাং তিনি এসবের ওপর নির্ভর করেননি। কারণ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের সাথে তাঁর ন্যায়ের ভিত্তিতে আচরণ করেন, তবে আমাদের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্তের সংখ্যা হবে অতি সামান্য।
অতএব, কোনো বংশমর্যাদার অধিকারী যেন তার বংশ নিয়ে ধোঁকায় না পড়ে এবং একেই যেন তার প্রধান অবলম্বন না করে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুবুবিয়্যাতের হকসমূহ চেনা এবং দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) দাবিগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ মাকাম লাভ করেছেন। সুতরাং জেনে রাখা উচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর কলিজার টুকরো সাইয়িদা ফাতিমা এবং মহা মহিমান্বিত পরাক্রমশালী প্রতিপালকের মর্যাদার মধ্যে কোনো তুলনা নেই। তাঁর মহান রব যা পছন্দ করেন তিনিও তা-ই পছন্দ করেন, আর যা তাঁর রবকে অসন্তুষ্ট করে তিনি তাতে অসন্তুষ্ট হন, যদিও তা তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রেই হোক না কেন। বরং এটিই হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিন্ন হওয়ার কারণ। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়, অধিক সম্মানিত, অতি মহান এবং বড়, যা সামান্য বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট নয়, প্রজ্ঞাবানদের তো কথাই নেই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আনীত আদর্শ যারা পালন করেনি তাদের থেকে বিমুখ হয়েছেন, যদিও তারা তাঁর নিকটতম আত্মীয়ও ছিল; এ বিষয়ে এটিই সবচেয়ে বড় সাক্ষী এবং শ্রেষ্ঠ সনদ (سند) ও সমর্থক। সুতরাং কোনো বংশমর্যাদার অধিকারী যদি আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে, তবে সে কীভাবে মনে করতে পারে...
আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত পবিত্র বিষয়সমূহ এবং তাঁর প্রতি মানুষের যে কর্তব্য রয়েছে, তা যে ব্যক্তি রক্ষা করে না, আল্লাহর রাসূলের নিকট কি তার কোনো সম্মান বা মর্যাদা অবশিষ্ট থাকা সমীচীন? নির্বোধ ব্যক্তি কি এমন স্পর্ধা প্রদর্শন করে যে, আল্লাহর নবীর নিকট আল্লাহর চেয়ে তার নিজের মর্যাদা বেশি? আল্লাহর কসম, কখনোই নয়! বরং তার অন্তর গাফেলতির গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত ও বিস্মৃত। যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস পোষণ করে, তার মন্দ পরিণতির আশঙ্কা রয়েছে; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সুতরাং সে যেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত পুণ্যবান পূর্বসূরীদের (السلف) অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে যে, তাঁরা কেমন চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, কিসের ওপর ভরসা করতেন, কোন গুণে গুণান্বিত ছিলেন এবং কিসের ওপর নির্ভর করতেন। অতঃপর সে যদি সত্যনিষ্ঠ সংকল্প সহকারে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমসমূহ অর্জনে মনোনিবেশ করে, তবে তার প্রতি ঐশী উন্মোচন ধাবিত হবে এবং সে তাঁদের এক উত্তম অনুসারী হিসেবে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আহলে বাইতগণ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও যত্নের ছায়াতলে রয়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের রবের সান্নিধ্য লাভের অধিক নিকটবর্তী। বস্তুত যে চেষ্টা করে সে সাফল্য পায়, আর যে মহান দাতার মুখাপেক্ষী হয় সে বঞ্চিত হয় না। আমরা মহান আল্লাহর নিকট নিরন্তর তাওফিক এবং সঠিক পথের হিদায়াত প্রার্থনা করি। আর তিনি যেন আমাদের তাঁর অনুসরণ করার এবং আত্মীয়তা ও বংশগত অধিকারসমূহ আদায় করার তাওফিক দান করেন; এবং একে যেন অহংকার ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের কারণ না করেন। তিনি যেন আমাদের তাঁর মহান নবীর দ্বীনের ওপর এবং তাঁর ও তাঁর সম্মানিত ও পবিত্র আহলে বাইতের ভালোবাসার ওপর মৃত্যু দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা এবং দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, পবিত্র বংশধরগণ, সকল সাহাবী এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের (تابعين) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।