(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: -)
هدم المنارة لمن صحح أحاديث التوسل والزيارة القسم: الفرق والردود
الكتاب: هدم المنارة لمن صحح أحاديث التوسل والزيارة - دراسة حديثية نقدية للمرويّات الواردة في التوسّل والزيارة البدعية وبيان أن مذهب شيخ الإسلام ابن تيمية في المنع منهما هو الذي تعضّده الأدلة وأقوال من تقدَّمه من الأئمة والجواب عن اعتراضات بعض المخالفين
المؤلف: عمرو عبد المنعم سليم
الناشر: دار الضياء، طنطا - مصر
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 367
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 جُمادَى الآخرة 1442
তাওয়াসসুল ও যিয়ারত বিষয়ক হাদীসসমূহ সহীহ্ আখ্যাদানকারীদের মিনার ধ্বংসকরণ বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: তাওয়াসসুল ও যিয়ারত বিষয়ক হাদীসসমূহ সহীহ্ আখ্যাদানকারীদের মিনার ধ্বংসকরণ - বিদআতী তাওয়াসসুল ও যিয়ারত সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর একটি হাদীসতাত্ত্বিক ও সমালোচনামূলক অধ্যয়ন এবং এ কথা সুস্পষ্টকরণ যে, এ দুটি নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অভিমতটিই দলীল-প্রমাণ ও তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণের বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত, এবং কিছু বিরোধীদের আপত্তির উত্তর
লেখক: আমর আব্দুল মুনইম সালীম
প্রকাশক: দারুদ দিয়া, তানতা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
هدمُ المنارة لمن صحَّح أحاديث التوسل والزيارة
دراسة حديثية نقدية للمرويّات الواردة في التوسّل والزيارة البدعية وبيان أن مذهب شيخ الإسلام ابن تيمية في المنع منهما هو الذي تعضّده الأدلة وأقوال من تقدَّمه من الأئمة والجواب عن اعتراضات بعض المخالفين
تأليف
عمرو عبد المنعم سليم
دَار الضِّيَاء
طنطا - ت: 3307147
তওয়াসসুল ও যিয়ারতের হাদিসসমূহকে যারা সহিহ বলেছেন, তাদের (ভ্রান্ত) মিনারের পতন
বিদআতি তওয়াসসুল ও যিয়ারত সংক্রান্ত বর্ণিত বর্ণনাগুলোর একটি হাদিসতাত্ত্বিক পর্যালোচনামূলক অধ্যয়ন এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর নিষেধাজ্ঞামূলক অভিমতটিই যে বলিষ্ঠ দলিল ও পূর্বসূরি ইমামদের বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত—তার বিশদ বিবরণ; পাশাপাশি কতিপয় বিরোধীদের উত্থাপিত আপত্তির খণ্ডন
গ্রন্থনায়
আমর আব্দুল মুনইম সালিম
দারুয যিয়া
তান্তা - ফোন: ৩৩০৭১৪৭
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
دار الضّيَاء
طنطا - شارع بطرس مع شارع محمد فريد
برج محمد فريد - شقة 19
هاتف: 3307147 - فاكس 3309603
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
দারুজ জিয়া
তান্তা - বুত্রুস স্ট্রিট ও মুহাম্মদ ফরিদ স্ট্রিটের সংযোগস্থল
মুহাম্মদ ফরিদ টাওয়ার - ফ্ল্যাট ১৯
টেলিফোন: ৩৩০৭১৪৭ - ফ্যাক্স: ৩৩০৯৬০৩
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
هدم المنارة لمن صحح أحاديث التوسل والزيارة
তওয়াসসুল এবং যিয়ারত সংক্রান্ত হাদীসসমূহকে যারা সহীহ সাব্যস্ত করেছেন, তাদের মিনারের বিনাশ।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدِّمَةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
صلى الله عليه، وعلى آله، وصحبه وسلم.
"أما بعد":
فإن من أعظم القربات إلى الله تعالى إسداء المسلمين النصح لبعضهم البعض، بعيدًا عن الفجاجة والتعيير، والشتم والتنفير، إعمالًا لحديث النبي صلى الله عليه وسلم: "الدين النصيحة"، قيل: لمن؟ قال: "لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمة المسلمين، وعامتهم". (1)
فإذا كان هذا واجبًا بين عموم المسلمين باعتبار نصوص أخرى تفيد هذا الحكم، فهو أوجب بين المنتسبين إلى العلم، والباحثين في أبوابه ومسائله.
إلا أننا نرى اليوم العجب العجاب من تطاول ناشئة الطلاب على
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
"অতঃপর:"
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো মুসলমানদের একে অপরের প্রতি কল্যাণকামিতা ও সদুপদেশ প্রদান করা; যা রূঢ়তা, লাঞ্ছনা, গালিগালাজ ও ঘৃণা উদ্রেক করা থেকে মুক্ত থাকবে। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীরই বাস্তব রূপায়ন: "দ্বীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠ কল্যাণকামিতা)।" জিজ্ঞাসা করা হলো: কার জন্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের জন্য।" (১)
সুতরাং শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে যদি এটি পালনীয় কর্তব্য হয়, তবে যারা ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে গবেষণায় রত, তাদের মধ্যে এটি পালন করা আরও অধিকতর আবশ্যক।
কিন্তু বর্তমানে আমরা এক চরম বিস্ময়কর বিষয় লক্ষ্য করছি, তা হলো নবীন শিক্ষার্থীদের ধৃষ্টতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
كبار الأئمة والعلماء والحفاظ، ووصفهم بأوصاف الازدراء، ورميهم بالجهل والضلال، وتتبع زلاتهم، لأجل التشنيع عليهم، والحط من قدرهم، بعبارات أساسها التحريف، وقوامها التدليس.
مع أن كتب العلم الذي يَنْسِبُون أنفسهم إليه لا تخلو من مباحث في فقه الخلاف، وأدب الاعتراض.
وقد شاعت اليوم وانتشرت ظاهرة التضليل، والتجهيل، والتطاول على أهل العلم، لا سيما أهل السنة والجماعة، ويا ليتها تكون بحوثًا علمية يُنتفع بها، أو مساجلات فقهية أو عقدية يُرجع إليها، ولكنها لا تعدوا كونها نقولًا محرَّفة، أو مذاهب مرجوحة، أو أقوالًا مطروحة، يُحشد لها خيول الأحاديث الساقطة، وركاب الأخبار الواهية.
وبعد ....
فقد رأيت كتابًا لأحد الباحثين (1) تناول فيه مسألة التوسل
--------------------------------------------
মহান ইমামগণ, ওলামায়ে কিরাম এবং হাফেজুল হাদিসদের তুচ্ছজ্ঞান করা, তাঁদের প্রতি অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার অপবাদ দেওয়া, এবং তাঁদের মানহানি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বিকৃতি ও প্রতারণা-নির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের ভুলত্রুটি অনুসন্ধান করা।
অথচ তাঁরা নিজেদের যে ইলমের সাথে সম্পৃক্ত দাবি করেন, সেই ইলমের কিতাবসমূহ মতভেদের ফিকহ এবং আপত্তির আদব সংক্রান্ত আলোচনা থেকে মুক্ত নয়।
বর্তমানে কাউকে পথভ্রষ্ট ও জাহেল হিসেবে আখ্যায়িত করার এবং আহলুল ইলম—বিশেষ করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলিমদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের প্রবণতা ব্যাপকতা লাভ করেছে। আক্ষেপের বিষয় হলো, যদি এগুলো জনকল্যাণমুখী কোনো ইলমি গবেষণা কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো ফিকহি বা আকিদাগত বিতর্ক হতো! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিকৃত উদ্ধৃতি, অগ্রহণযোগ্য মতবাদ কিংবা বর্জিত উক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়; যেগুলোর স্বপক্ষে বাতিল হাদিস ও ভিত্তিহীন বর্ণনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অতঃপর ....
আমি জনৈক গবেষকের একটি কিতাব দেখেছি (১), যেখানে তিনি উসিলা (তাওয়াসসুল) প্রদানের মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والزيارة بالدراسة، من تخريج الأحاديث والآثار التي وردت فيهما بالجواز، وتقرير مذهب بعض أهل العلم ممن يقولون بجواز ذلك.
ويا ليت مؤلفه أراد الإنصاف والمساجلة العلمية، وإنما كان ديدنه كيل السباب والاتهام لأئمة أهل السنة والجماعة وعلمائهم، لا سيما المعاصرين منهم.
فأطلق اللسان في شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن عبد الهادي، ومجدد عصره الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمهم الله أجمعين -.
وزاد فأطلق اللسان في الشيخ الجليل، والعالم الرباني، علَّامة العصر الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز - رحمه الله تعالى -، ومحدِّث المدينة النبوية والديار السعودية الشيخ حماد الأنصاري رحمه الله، والشيخ الرباني محمد الصالح العثيمين، ومحدِّث العصر الشيخ محمد ناصر الدين الألباني، والشيخ صالح الفوزان، وأبي بكر الجزائري - حفظهم الله أجمعين -.
بل زاد في التحريف: أن نسب إلى بعضهم القول بتكفير المسلمين والعياذ بالله.
ومع أن الباحث المومأ إليه قد قرر في أول كتابه أن مسألة التوسل من مسائل الفقه، وأنها من المسائل المختلف فيها، وعبارته التي نقضها باتهام العلماء، كما وردت في كتابه:
এবং হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) এর মাধ্যমে এ দুটির (তাওয়াসসুল ও যিয়ারত) বৈধতা বিষয়ক বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনাসহ বিস্তারিত অধ্যয়ন এবং যারা এর বৈধতার কথা বলেন সেই সকল আহলে ইলমের মাযহাব বা মতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
হায়! যদি এর লেখক ন্যায়বিচার এবং ইলমি বিতর্কের ইচ্ছা করতেন; বরং তাঁর চিরচেনা স্বভাব ছিল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমাম এবং আলেমদের প্রতি, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে যারা সমসাময়িক, তাঁদের প্রতি গালিগালাজ ও অপবাদ বর্ষণ করা।
তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইবনে আব্দুল হাদি এবং তাঁর যুগের মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব —তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন— এর বিরুদ্ধে কটু ভাষা প্রয়োগ করেছেন।
এমনকি তিনি আরও বেড়ে গিয়ে মহান শায়খ, রাব্বানি আলেম, যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এবং মদিনা মুনাওয়ারা ও সৌদি আরবের মুহাদ্দিস শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারী —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—, রাব্বানি শায়খ মুহাম্মদ আস-সালেহ আল-উসাইমিন, এ যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি, শায়খ সালেহ আল-ফাওজান এবং আবু বকর আল-জাযাইরি —আল্লাহ তাঁদের সকলকে হিফাযত করুন— তাঁদের বিরুদ্ধেও কটু কথা বলেছেন।
এমনকি তিনি বিকৃতির আশ্রয় নিয়ে আরও বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তাঁদের কারো কারো দিকে মুসলমানদের কাফের বলার (তাকফির) অপবাদ আরোপ করেছেন; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।
অথচ উল্লিখিত গবেষক তাঁর বইয়ের শুরুতে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, তাওয়াসসুলের বিষয়টি ফিকহি মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি ইখতিলাফি বা মতভেদপূর্ণ বিষয়; কিন্তু তিনি আলেমদের প্রতি অভিযোগ উত্থাপন করে তাঁর নিজের সেই বক্তব্যকেই লঙ্ঘন করেছেন, যা তাঁর বইয়ে এভাবে এসেছে:
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
"أن الخلاف في مسألة التوسل هو خلاف في الفروع، ومثله لا يصح أن يُشَنع به أخ على أخيه، أو يعيبه به".
إلا أنه لم يلتزم بهذا القول في كتابه، بل التزم فيه خلاف ما سطره العلماء في أدب الخلاف.
فلم يكن من أمره في حق العلماء إلا ما ذكرت، بل زاد في الأمر ووصف جماعة من أئمة أهل السنة كالإمام أحمد وغيره بأنهم نواصب، وذلك لأنهم اتفقوا على جرح عطية العوفي.
هذا بخلاف ما تبناه من الغالطة والتدليس، وليِّ ألفاظ الجرح والتعديل الواردة عن العلماء أئمة الدين بما يتناسب مع ما يؤيد هواه من تعديل أو تجريح.
فكم من راوٍ اتفقت كلمات العلماء على تجريحه، وإسقاط الاحتجاج بحديثه كعطية العوفي، وعبد الله العمري، وروح بن صلاح، فيبادر هو بالاحتجاج بما لا يحسن الاحتجاج به عند أهل العلم من توثيق المتساهلين في التعديل كابن حبان، وابن عدي، والعجلي، ويرد الجروح المفسرة بمثل هذه التعديلات.
بل تراه يبتدع ويُحدث منهاجًا جديدًا في التوثيق، فكلما وردت عبارة عن إمام في المقارنة بين ثقة وضعيف، احتج بهذه المقارنة على توثيق الضعيف.
وأما بتر عبارات العلماء في الجرح والتعديل فلن تخفى عن
তওয়াসসুল (উসিলা গ্রহণ) সংক্রান্ত মাসআলার মতপার্থক্য মূলত শাখাগত (ফুরু'ই) মতভেদ; এ জাতীয় বিষয়ে এক ভাইয়ের অন্য ভাইকে অভিযুক্ত করা বা নিন্দা জানানো সংগত নয়।
তবে তিনি নিজের কিতাবে এই কথার ওপর অটল থাকেননি, বরং মতপার্থক্যের শিষ্টাচার সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি তার বিপরীত পথ অবলম্বন করেছেন।
উলামায়ে কেরামের ব্যাপারে তাঁর আচরণ কেবল আমার উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি বিষয়টি আরও বাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি ইমাম আহমাদ রহ.-সহ আহলে সুন্নাহর একদল ইমামকে 'নাসিবি' বলে অভিহিত করেছেন; আর এটি কেবল এ কারণে যে, তাঁরা আতিয়্যাহ আল-আউফি-কে জরাহ (অযোগ্য সাব্যস্ত) করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন।
এটি তাঁর গৃহীত ভুল ধারণা, বিভ্রান্তি এবং দ্বীনের ইমামগণের কাছ থেকে বর্ণিত জরাহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীর দোষ-গুণ বিচার)-এর শব্দাবলিকে নিজের খেয়ালখুশিমতো বিকৃত করার অতিরিক্ত, যাতে তা তাঁর পছন্দসই কাউকে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য করার অনুকূলে হয়।
এমন কত রাবী (বর্ণনাকারী) রয়েছেন, যাঁদের অযোগ্য সাব্যস্ত করা এবং তাঁদের হাদীস দ্বারা দলিল গ্রহণ বর্জন করার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের বক্তব্য ঐকমত্যপূর্ণ—যেমন আতিয়্যাহ আল-আউফি, আবদুল্লাহ আল-উমারি এবং রাউহ বিন সালাহ। অথচ তিনি এমন সব বর্ণনা দ্বারা দলিল প্রদানের অবতারণা করেন, যা আহলে ইলমের নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; যেমন ইবনে হিব্বান, ইবনে আদি এবং আজলি রহ.-এর মতো তা'দীল বা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারীগণের সত্যায়ন। আর তিনি এ জাতীয় সাধারণ প্রশংসার মাধ্যমে (অন্যান্য ইমামদের) সবিস্তার জরাহ বা আপত্তিসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেন।
এমনকি আপনি তাকে রাবীগণের নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণে (তাওসিক) এক নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করতে দেখবেন। যখনই কোনো ইমামের পক্ষ থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীর মধ্যে তুলনামূলক কোনো বক্তব্য আসে, তিনি সেই তুলনামূলক আলোচনার ভিত্তিতে উক্ত দুর্বল বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করার পক্ষে দলিল দেন।
আর জরাহ ও তা'দীল সংক্রান্ত উলামায়ে কেরামের বক্তব্য খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টি তো আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
القاريء الكرريم، ولها أمثلة كثيرة قد ذكرناها في ثنايا الكتاب.
وكذلك اضطرابه في وصف العلماء تارة بالتحقيق إن ورد عن أحدهم ما يؤيد قوله، وإن كان مخالفًا لقول الجمهور، وتارة بالسرف والمبالغة والتشنيع، إن خالف حكمهم حكمه.
ومن ذلك أيضًا مخالفته لذهب الأئمة المتأخرين في التقوية، وخروجه في ذلك عن تقوية الحديث الحتمل الضعف بمثيله، إلى التقوية بالأحاديث شديدة الضعف بعضها ببعض.
فتراه يُقَوِّي الشاذ بالمرسل، وقد اشترط العلماء في التحسين بمجموع الطرق أن لا يكون الحديث أو المتابع أو الشاهد شاذًا ولا منكرًا، ولا معللًا، ويقوِّي الحديث الذي فيه إبهام في السند، أو إعضال، أو فيه مجهول عين بمثيله، وكل هذه الأنواع شديدة الضعف لا تُقَوِّي، ولا تَتَقَوَّى.
ومن ذلك أيضًا اعتماده على عمل أحد الأئمة بحديث ضعيف للحكم عليه بالقبول، وهذه مسألة شائكة، وقد تساهل فيها كثير من المتأخرين، وإنما الحجة في إجماع أهل العلم، لا في ذات الحديث الضعيف.
وغيرها من المخالفات العلمية التي سوف تمر بالقاريء في هذا الكتاب.
هذا بالإضافة إلى أنه لما ذكر كلام أهل العلم في هذه المسألة،
হে সম্মানিত পাঠক, এর অনেক উদাহরণ রয়েছে যা আমরা এই বইয়ের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছি।
অনুরূপভাবে, আলেমগণের বর্ণনায় তার অসংলগ্নতাও দৃশ্যমান; কখনও তিনি কাউকে ‘তাহকীক’ বা গভীর গবেষক হিসেবে বর্ণনা করেন যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ এমন কিছু বলেন যা তার মতকে সমর্থন করে—যদিও তা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের বিরোধী হয়; আবার কখনও তিনি তাদের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন, অতিরঞ্জন ও নিন্দার ভাষা ব্যবহার করেন যদি তাদের সিদ্ধান্ত তার সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হয়।
এর মধ্যে আরও রয়েছে হাদীসের মানোন্নয়নের (তাকবিয়াহ) ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের ইমামগণের (মুতাআখখিরীন) পদ্ধতির বিরোধিতা করা। এ ক্ষেত্রে তিনি সহনীয় পর্যায়ের দুর্বলতা সম্পন্ন হাদীসকে তার অনুরূপ হাদীস দ্বারা শক্তিশালী করার পদ্ধতি ত্যাগ করে অত্যন্ত দুর্বল হাদীসগুলোকে একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী করার পথ অবলম্বন করেছেন।
ফলে আপনি তাকে দেখবেন যে, তিনি ‘শায’ বর্ণনাকে ‘মুরসাল’ হাদীস দ্বারা শক্তিশালী করছেন, অথচ আলেমগণ একাধিক সূত্রের সমন্বয়ে কোনো হাদীসকে ‘হাসান’ স্তরে উন্নীত করার জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, মূল হাদীসটি কিংবা তার সমর্থক (মুতাবি' বা শাহিদ) বর্ণনাটি যেন শায, মুনকার কিংবা মু'আল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) না হয়। তিনি এমন হাদীসকেও শক্তিশালী করেন যার সনদে অস্পষ্টতা (ইবহাম) রয়েছে, অথবা যা ‘ই’দাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্নতা) দোষে দুষ্ট, কিংবা যাতে ‘মাজহুলুল আইন’ (অজ্ঞাত পরিচয় বর্ণনাকারী) রয়েছে—এমনই অনুরূপ বর্ণনা দ্বারা। অথচ এই সকল প্রকারের হাদীসই অত্যন্ত দুর্বল, যা অন্যকে শক্তিশালী করতে পারে না এবং নিজেও শক্তিশালী হতে পারে না।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো কোনো একজন ইমাম কর্তৃক একটি দুর্বল হাদীসের ওপর আমল করাকে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা। এটি একটি জটিল বিষয়, যে ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের অনেক আলেম শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। অথচ দলীল কেবল আলেমগণের ইজমার (ঐক্যমত) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্বয়ং দুর্বল হাদীসটির সত্তায় নয়।
এছাড়াও আরও অনেক ইলমী বা তাত্ত্বিক বিচ্যুতি রয়েছে যা এই গ্রন্থে পাঠকের সামনে আসবে।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, যখন তিনি এই মাসআলায় আলেমগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ذكر عنهم ما يؤيد قوله، ولم ينقل عن غيرهم من أهل العلم المعتبرين ما يخالف قولهم، وموَّه على القراء الكرام بأن هذه المسألة مما تفرد به شيخ الإسلام، وأنها من شواذه! ! .
ولما كان الأمر على هذا النحو المذكور، من التطاول في أعراض العلماء المعتبرين، والتعدي عليهم بما لا يصح عنهم، وإطلاق اللسان فيهم، بالإضافة إلى تلك المغالطات العلمية، وعدم النزاهة في النقل والتحقيق والترجيح، فقد استخرت الله تعالى في تناول هذا الباب، أقصد التوسل والزيارة بالبيان والتوضيح والتحقيق لأخباره الواردة بالمنع والإباحة، والترجيح لين المذهبين طبقًا للقواعد العلمية، ثم التعريج على ذِكْرِ ما ورد في الكتاب المومأ إليه من الشبهات والمغالطات والطعن في العلماء، والاعتراضات على تضعيف الأحاديث الضعيفة والواهية، وبيان ما يخالف ذلك من حقائق الأمور، بكل إنصاف وتجرد، وأسميته:
"هدم المنارة لمن صحح أحاديث التوسل والزيارة".
* وقد جعلته أبوابًا:
* الباب الأول:
في بيان موقف شيخ الإسلام رحمه الله من مسألة التوسل، وشد الرحال بالزيارة، وإثبات أنه قد وافق بقوله في منع التوسل جماعة من العلماء الذين سبقوه، وأن فتواه في منع شد الرحال إلى
তাদের পক্ষ থেকে এমন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে, অথচ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য আলেমদের থেকে তাঁদের বক্তব্যের পরিপন্থী কিছু উদ্ধৃত করা হয়নি। তিনি সম্মানিত পাঠকদের নিকট এ কথা প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করেছেন যে, এই মাসআলাটি শাইখুল ইসলামের একক অভিমত এবং এটি তাঁর ব্যতিক্রমী (শায) মতসমূহের অন্তর্ভুক্ত! ! .
যেহেতু বিষয়টি উল্লিখিত পর্যায়ের রূপ নিয়েছে—যেখানে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে, তাঁদের প্রতি এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় আরোপ করা হয়েছে যা তাঁদের থেকে প্রমাণিত নয় এবং তাঁদের সমালোচনা করা হয়েছে; সেই সাথে বৈজ্ঞানিক বিভ্রান্তি এবং উদ্ধৃতি প্রদান, তাহকীক ও তারজীহ (অগ্রাধিকার প্রদান) করার ক্ষেত্রে সততার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে—তাই আমি এই বিষয়টি অর্থাৎ উসিলা (তাওয়াসসুল) ও যিয়ারত নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। আমি এর নিষেধাজ্ঞা ও বৈধতা বিষয়ক বর্ণনাগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও তাহকীকের মাধ্যমে এবং বৈজ্ঞানিক মূলনীতি অনুযায়ী উভয় মতের মধ্যে সঠিকটিকে প্রাধান্য দেওয়ার সংকল্প করেছি। অতঃপর সেই নির্দেশিত কিতাবে বর্ণিত সংশয়, বিভ্রান্তি ও আলেমদের প্রতি কটাক্ষ এবং দুর্বল ও ভিত্তিহীন হাদিসগুলোকে যঈফ সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পেয়েছি এবং পূর্ণ ইনসাফ ও নিরপেক্ষতার সাথে এর বিপরীতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছি। আর আমি এর নামকরণ করেছি:
“হাদমুল মানারাহ লিমান সাহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াজ যিয়ারাহ” (তাওয়াসসুল ও যিয়ারতের হাদিসসমূহ যারা সহিহ বলেছেন, তাদের স্তম্ভ ধূলিসাৎকরণ)।
* এবং আমি একে কয়েকটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
* প্রথম অধ্যায়:
তাওয়াসসুলের মাসআলা এবং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করার বিষয়ে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থান বর্ণনা এবং এটি প্রমাণ করা যে, তাওয়াসসুল নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী একদল আলেমের মতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; এবং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর নিষিদ্ধ করার বিষয়ে তাঁর ফতোয়া—
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قبور الأنبياء والصالحين والسفر إليها لم يتفرد بها، بل وافقه فيها جماعة من أجلة العلماء ومحققيهم ممن سبقوه، وبيان أنه لم يمنع من زيارة القبور، لا سيما قبر النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما منع شد الرحال لأجلها، وذكرت الأدلة الصحيحة المعضدة لهذه الأقوال المعتبرة.
* الباب الثاني:
وهو من أكبر الأبواب، ويحتل تقريبًا ثلثي الكتاب، وفيه ذكر الأدلة التي اعترض بها المؤلف على كلام شيخ الإسلام، وهي حجج كثيرٍ ممن يجيز التوسل أو شد الرحال لأجل زيارة قبور الأنبياء والصالحين، وبيان ما فيها من الضعف والوهاء والوضح، ومناقشته في ترجيحاته، وبيان مغالطاته، وإثبات أن قول شيخ الإسلام في الأحاديث الواردة في الباب هو القول الراجح.
* الباب الثالث:
في ذكر اعتداءات المعترض على أهل العلم، وذكر عباراته الفجة القبيحة فيهم، وبيان ما لهم من الفضل والتقدمة في العلم والدفاع عن السنة، ونشر الفضائل بين الناس.
وطريقتي في الاستدراك:
أن أذكر ما اعترض به المعترض بين قوسين، وأقدِّمه بقولي: "قال المؤلف: .... "، ثم أورد جوابي عن اعتراضاته.
নবীগণ এবং নেককারদের কবরসমূহ এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যে সফর করার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি (শাইখুল ইসলাম) একাকী কোনো মত পোষণ করেননি, বরং তাঁর পূর্ববর্তী একদল মহান ও গবেষক আলেম এ বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। এ কথা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তিনি কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেননি, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা মুবারক যিয়ারত করার ক্ষেত্রে। বরং তিনি কেবল যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর বা পথযাত্রা করতে নিষেধ করেছেন। এই গ্রহণযোগ্য অভিমতগুলোর সমর্থনে সহীহ দলীলসমূহ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
* দ্বিতীয় অধ্যায়:
এটি গ্রন্থের দীর্ঘতম অধ্যায় এবং তা প্রায় বইটির দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে। এতে ওই সমস্ত দলীলসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে গ্রন্থকার শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের ওপর আপত্তি তুলেছেন। এগুলো মূলত তাদেরই যুক্তি যারা নবী ও নেককারদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে তাওয়াসসুল বা সফর করাকে বৈধ মনে করেন। এখানে সেসব যুক্তির দুর্বলতা, অসারতা ও অসারতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তাঁর (গ্রন্থকারের) অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর আলোচনা করে তাঁর ভুল ও বিভ্রান্তিগুলো উন্মোচন করা হয়েছে। সাথে সাথে এটিও প্রমাণ করা হয়েছে যে, এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে শাইخুল ইসলামের মতই অধিকতর সঠিক ও গ্রহণযোগ্য।
* তৃতীয় অধ্যায়:
এই অধ্যায়ে বিজ্ঞ আলেমদের প্রতি আপত্তিকারীর আক্রমণাত্মক আচরণ এবং তাঁদের সম্পর্কে তাঁর ব্যবহৃত অশালীন ও কদর্য শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে ইলম চর্চা, সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং মানুষের মাঝে উত্তম আদর্শ প্রসারের ক্ষেত্রে সেই উলামায়ে কিরামের যে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তা বর্ণনা করা হয়েছে।
পর্যালোচনা ও সংশোধনের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি:
আপত্তিকারীর করা আপত্তিগুলো আমি বন্ধনীর মধ্যে উল্লেখ করব এবং এর শুরুতে লিখব: "গ্রন্থকার বলেছেন: ...."। এরপর তাঁর করা আপত্তিসমূহের উত্তর পেশ করব।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فأسأل الله العظيم، أن يوفقني في هذا الكتاب، وأن يؤيدني بالحق، وأن يرزقني الإنصاف والإخلاص، وأن يكون هذا التبيين لأجل النصح والتحذير، لا لأجل الشين والتشهير، والله الموفق.
وكتب: أبو عبد الرحمن
عمرو عبد المنعم سليم
অতএব আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এই কিতাব রচনায় তাওফিক দান করেন, আমাকে সত্যের ওপর সুদৃঢ় রাখেন এবং আমাকে ইনসাফ ও ইখলাস দান করেন। আর এই স্পষ্টীকরণ যেন কেবল নসিহত ও সতর্কীকরণের উদ্দেশ্যে হয়, কাউকে কলঙ্কিত বা অপমানিত করার জন্য নয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
লিখেছেন: আবু আবদুর রহমান
আমর আবদুল মুনইম সেলিম
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الأول التوسل وأنواعه وموقف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله من التوسل بالجاه وذكر من قال بمذهبه ممن تقدَّمه من أهل العلم
* الزيارة وأقسامها* وموقف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله منها وذكر من قال بمذهبه ممن تقدَّمه من أهل العلم وأدلتهم على ذلك وما روي عن بعض السلف والأئمة من الآثار الضعيفة والواهية في التوسل والزيارة
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওয়াসসুল ও এর প্রকারভেদ এবং মর্যাদার (জাহ) অসিলায় তাওয়াসসুল সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর অবস্থান এবং আহলে ইলম বা বিজ্ঞ আলিমগণের মধ্য হতে যারা তাঁর পূর্বে এই একই মত পোষণ করেছেন তাঁদের আলোচনা।
* যিয়ারত ও এর প্রকারভেদ * এবং যিয়ারতের বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর অবস্থান এবং তাঁর পূর্ববর্তী যে সকল আলিম এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের বর্ণনা ও এ বিষয়ে তাঁদের দলীলসমূহ; এবং তাওয়াসসুল ও যিয়ারত সম্পর্কে সালাফ ও ইমামগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত দুর্বল ও অসার বর্ণনাগুলোর বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
موقف شيخ الإسلام من مسألة التوسل وذكر من وافقه من أهل العلم المتقدِّمينمن تتبع مصنفات شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وفتاويه، لا سيما ما صنَّفه في هاتين المسألتين، ككتاب: "التوسل والوسيلة"، و"اقتضاء الصراط المستقيم"، يجد أنه لم يمنع من عموم التوسل، وإنما ذهب إلى جواز التوسل إلى الله، وجعله ثلاثة أنواع:
الأول: التوسل إليه بأسمائه وصفاته.
الثاني: التوسل إليه بصالح الأعمال والطاعات والإيمان.
الثالث: التوسل إليه بدعاء الصالحين.
وأما النوع الذي ذهب شيخ الإسلام رحمه الله إلى حرمته وعدم جوازه: السؤال على الله أو التوسل بذاته صلى الله عليه وسلم.
قال رحمه الله: (1)
"فهذا هو الذي لم تكن الصحابة يفعلونه في الاستسقاء ونحوه، لا في حياته، ولا بعد مماته، ولا عند قبره، ولا غير قبره، ولا يُعرف هذا في شيء من الأدعية المشهورة بينهم، وإنما يُنقل شيء من ذلك في
--------------------------------------------
তাওাসসুল (মাধ্যম গ্রহণ) ইস্যুতে শাইখুল ইসলামের অবস্থান এবং পূর্বসূরী আলেমদের মধ্যে যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তাঁদের আলোচনাশাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলী ও তাঁর ফতোয়াসমূহ যারা গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন, বিশেষ করে এই দুই বিষয়ে তাঁর প্রণীত গ্রন্থসমূহ—যেমন: "আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা" এবং "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম"—তারা দেখতে পাবেন যে, তিনি ঢালাওভাবে তাওাসসুলকে নিষিদ্ধ করেননি; বরং তিনি আল্লাহর সমীপে তাওাসসুল করাকে বৈধ মনে করতেন এবং একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর নিকট তাওাসসুল করা।
দ্বিতীয়: নেক আমল, আনুগত্য এবং ঈমানের অসিলায় তাঁর কাছে তাওাসসুল করা।
তৃতীয়: নেককার ব্যক্তিদের দুআর মাধ্যমে তাঁর কাছে তাওাসসুল করা।
আর শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) যে প্রকারটিকে হারাম ও অবৈধ মনে করেছেন, তা হলো: আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তার দোহাই দেওয়া বা তাঁর সত্তার মাধ্যমে তাওাসসুল করা।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (১)
"আর এটিই সেই বিষয় যা সাহাবীগণ বৃষ্টির প্রার্থনা (ইস্তিসকা) বা অনুরূপ ক্ষেত্রে করতেন না—তাঁর জীবিত অবস্থায় হোক কিংবা ইন্তেকালের পর, তাঁর কবরের নিকট হোক কিংবা অন্য কোথাও। তাঁদের মাঝে প্রচলিত প্রসিদ্ধ দুআসমূহের কোনোটিতেই এটি জানা যায় না। অবশ্য এর কিছু কিছু বর্ণিত হয়েছে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أحاديث ضعيفة مرفوعة وموقوفة، أو عن من ليس قوله حجة".
قلت: وهذا هو الصحيح الراجح في هذه المسألة، فإنه لا يدل دليل صحيح قط على جواز التوسل بالذات أو الإقسام بذات النبي صلى الله عليه وسلم على الله فضلًا عن غيره صلى الله عليه وسلم من سائر الأنبياء والصالحين، بل الذي صح في السنة تحريم القسم بغير الله، كما سوف يأتي بيانه قريبًا.
وأما المؤلف فقد حرص أشد الحرص على إقناع القراء بأن هذا القول مما استأثر به شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وأنه من جملة شذوذه! ! .
بل زاد في ذلك فأتى ببعض العبارات عن شيخ الإسلام الوهمة بأن هذا النوع من التوسل قد أجازه جماعة من السلف، فقال (ص: 18):
(ولم يقع هذا التشدد إلا في القرن السابع وما بعده، وقد نُقل عن السلف توسل من هذا القبيل.
قال ابن تيمية في "التوسل والوسيلة" (ص: 98):
هذا الدعاء -[أي الذي فيه توسل بالنبي صلى الله عليه وسلم] ونحوه قد روي أنه دعا به السلف، ونقل عن أحمد بن حنبل في منسك المرُّوذي التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم في الدعاء.
وقال (ص: 65):
"...দুর্বল মারফু ও মাওকুফ হাদিসসমূহ অথবা এমন ব্যক্তিদের বক্তব্য যাদের কথা দলিল হিসেবে গণ্য নয়।"
আমি বলছি: এই মাসআলায় এটিই সঠিক ও অগ্রগণ্য মত। কারণ, আল্লাহর নিকট নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার (জাত) মাধ্যমে উসিলা ধরা বা তাঁর সত্তার শপথ করার বৈধতার পক্ষে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই; আর অন্যান্য নবি ও নেককার ব্যক্তিদের কথা তো বলাই বাহুল্য। বরং সুন্নাহ অনুযায়ী যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত তা হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা হারাম, যার বর্ণনা শীঘ্রই আসছে।
পক্ষান্তরে, লেখক পাঠকদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন যে, এই মতটি কেবল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একক মত এবং এটি তাঁর বিভ্রান্তিকর বা বিচ্ছিন্ন মতসমূহের অন্তর্ভুক্ত! ! ।
বরং তিনি এর চেয়েও বাড়িয়ে শাইখুল ইসলামের এমন কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, একদল পূর্বসূরি (সালাফ) এই ধরণের উসিলা জায়েজ মনে করতেন। তিনি (১৮ নং পৃষ্ঠায়) বলেন:
"(এই কঠোরতা কেবল সপ্তম হিজরি শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়েই দেখা দিয়েছে। অথচ সালাফদের থেকে এই ধরণের উসিলা ধরার কথা বর্ণিত হয়েছে।"
ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আত-তাওয়াসসুল ওয়াল অসীলাহ' (পৃ. ৯৮) গ্রন্থে বলেন:
এই দোয়া—[অর্থাৎ যাতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলা রয়েছে] এবং এর অনুরূপ দোয়াগুলো সালাফগণ করেছেন বলে বর্ণিত আছে এবং আল-মাররুযী বর্ণিত মানাসিক (হজ বিধিমালা) গ্রন্থে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে দোয়ায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলা গ্রহণের কথা বর্ণিত হয়েছে।
এবং তিনি (৬৫ নং পৃষ্ঠায়) বলেন:
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والسؤال به -[أي بالمخلوق]- فهذا يجوِّزه طائفة من الناس، ونقل في ذلك آثار عن بعض السلف، وهو موجود في دعاء كثير من الناس).
قلت: وهذا الكلام لا يناقض ما رجحه شيخ الإسلام رحمه الله من أن هذا النوع من التوسل غير جائز، لا سيما وأن المؤلف نفسه قد أثبت أن هذه المسائل من مسائل الخلاف، فقال (ص: 7):
(الخلاف في مسألة التوسل خلاف في الفروع، ومثله لا يصح أن يشنع به أخ على أخيه أو يعيبه به).
وما كان من خلاف الفروع، فهو محتمل، فلا أدري لماذا شنَّع بها المؤلف على شيخ الإسلام ابن تيمية، وعلماء العصر في الديار السعودية - حرسها الله - والشيخ الألباني - رعاه الله وأيده ونصره -.
وأما ما أورده المؤلف نقلًا عن شيخ الإسلام من قوله:
"قد روي أنه دعا به السلف".
و: "ونقل في ذلك آثار عن بعض السلف".
لإثبات ذلك عن السلف غير مُسلم له، فإن قوله "رُوي"، وقوله: "نُقل" لا يقتضيان صحة ذلك، بل قد صرح شيخ الإسلام بأن هذه الآثار لا تثبت، بعد أن نقل جملة منها من كتاب "مجابي الدعوة" لابن أبي الدنيا، ونقدها.
قال (ص: 96) من "التوسل":
সৃষ্টির উসিলায় প্রার্থনা করা—অর্থাৎ সৃষ্টির মাধ্যমে চাওয়া—বিষয়টি একদল লোক জায়েজ মনে করেছেন এবং এ বিষয়ে কিছু সালাফ (পূর্বসূরি) থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। অনেক মানুষের দোয়ায় এটি লক্ষ্য করা যায়।
আমি বলি: এই বক্তব্য শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, এই ধরনের উসিলা গ্রহণ জায়েজ নয়। বিশেষ করে লেখক নিজেই যখন স্বীকার করেছেন যে, এই মাসআলাগুলো ইজতিহাদি বা মতপার্থক্যের বিষয়। তিনি (৭ পৃষ্ঠায়) বলেছেন:
উসিলার মাসআলায় মতপার্থক্য হলো গৌণ (ফুরুয়ি) বিষয়ের মতপার্থক্য। এই ধরনের বিষয়ে এক ভাইয়ের অন্য ভাইকে আক্রমণ করা বা তাকে দোষারোপ করা সংগত নয়।
আর যা গৌণ বিষয়ের মতপার্থক্য, তা অবকাশযোগ্য। তাই আমি জানি না কেন লেখক এই বিষয়টি নিয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, সৌদি আরবের বর্তমান যুগের উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ এই ভূখণ্ডকে রক্ষা করুন) এবং শাইখ আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, শক্তি দিন ও সাহায্য করুন)-এর সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন।
আর লেখক শাইখুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে যা উল্লেখ করেছেন যে:
"বর্ণিত আছে যে সালাফগণ এর মাধ্যমে দোয়া করেছেন।"
এবং: "এ বিষয়ে কিছু সালাফ থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে।"
সালাফদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য লেখকের এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ "বর্ণিত আছে" এবং "উদ্ধৃত হয়েছে" শব্দগুলো সেই বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে না। বরং শাইখুল ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এই বর্ণনাগুলো প্রমাণিত নয়; তিনি ইবনে আবিদ দুনিয়ার 'মুজাবিদ দাওয়াহ' গ্রন্থ থেকে এগুলোর একগুচ্ছ বর্ণনা উদ্ধৃত করার পর সেগুলোর সমালোচনা করেছেন।
তিনি "আত-তাওয়াসসুল" গ্রন্থের (৯৬ পৃষ্ঠায়) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"وفي الباب آثار عن السلف أكثرها ضعيفة".
قد تقدَّم النقل عنه رحمه الله أنه قال:
"وإنما يُنقل شيء من ذلك في أحاديث ضعيفة مرفوعة وموقوفة، أو عن من ليس قوله حجة".
بل قد أورد المؤلف بعض الآثار في ذلك، وقد بينا ما فيها من ضعف، كما سوف يأتي ذكره وبيانه. (1)
وأما ما نقله عن أحمد، فهذا مجمل، ولم يُفصل بأي شيء يتوسل به، هل بذاته أو بالإيمان به، وبطاعته، واتباعه.
قال شيخ الإسلام (ص: 98):
"ونقل عن أحمد بن حنبل في منسك المروذي التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم في الدعاء، ونهى عنه آخرون، فإن كان مقصود المتوسلين التوسل بالإيمان به وبمحبته وبموالاته وبطاعته فلا نزاع بين الطائفتين، وإن كان مقصودهم التوسل بذاته فهو محل النزاع، وما تنازعوا فيه يُردُّ إلى الله والرسول".
قلت: وهذا هو الحق المبين، والنور الأبلج، فإن المسلمين لا
--------------------------------------------
"এ বিষয়ে সলফদের থেকে বর্ণিত বহু আসার রয়েছে যার অধিকাংশেরই সূত্র দুর্বল।"
তাঁর থেকে (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) ইতিপূর্বে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
"এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো কেবল মারফু ও মাওকুফ পর্যায়ের দুর্বল হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে, অথবা এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যাদের বক্তব্য দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।"
বরং লেখক এই বিষয়ে কিছু আসার উল্লেখ করেছেন এবং আমরা সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছি, যা সামনে সবিস্তারে আলোচিত হবে। (১)
আর ইমাম আহমাদ থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা সংক্ষিপ্ত; এতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি যে ঠিক কীসের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করা হবে—তাঁর সত্তার মাধ্যমে, নাকি তাঁর প্রতি ইমান, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে।
শায়খুল ইসলাম বলেন (পৃষ্ঠা: ৯৮):
"আল-মারুযীর 'মানসাক' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে দোয়ার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে অসিলা বা তাওয়াসসুল করার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে অন্যান্যগণ তা নিষেধ করেছেন। যদি তাওয়াসসুলকারীদের উদ্দেশ্য হয় তাঁর প্রতি ইমান, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর প্রতি আনুগত্য ও তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করা, তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় তাঁর সত্তার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করা, তবে এটাই হলো মতভেদের মূল কেন্দ্র; আর তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই ন্যস্ত করতে হবে।"
আমি বলছি: এটাই হলো সুস্পষ্ট সত্য এবং প্রদীপ্ত আলো। কেননা মুসলিমগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يتعبدون الله بأقوال العلماء وأحكامهم، وإنما يتعبدونه بنصوص الكتاب، وصحيح السنة، مما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم، وما أجمعوا عليه مما لا خلاف فيه.
والتوسل بأحد المخلوقات في الدعاء من الأمور التعبدية التي لا تحل إلا بتوقيف يجيزها، وليس ثمة ما يدل على ذلك، بل الذي علُم بالضرورة من نصوص السنة أن الصحابة رضي الله عنهم أجمعين - كانوا يتوسلون إلى الله تعالى في حياة النبي صلى الله عليه وسلم بدعائه، لا بذاته، وهذا ظاهر مما ورد في طلب الاستسقاء، واستشفاع الضرير بالنبي صلى الله عليه وسلم، وهما حديثان صحيحان، وسوف يرد ذكرها ضمن الأدلة التي احتج بها المؤلف على جواز التوسل.
ثم بعد موته فقد كانوا يتوسلون بدعاء أهل الخير والصلاح، لا سيما إن كانوا من آل بيت النبي صلى الله عليه وسلم، كما توسل عمر بن الخطاب رضي الله عنه بدعاء عم النبي صلى الله عليه وسلم العباس بن عبد الطلب رضي الله عنه، فلو كان التوسل بجاه النبي صلى الله عليه وسلم جائزًا، لكان توسل عمر به أولى من توسله بالعباس رضي الله عنه.
وهذا الأثر من أقوى ما يتمسك به. المتوسلون، وهو عمدتهم في الاحتجاج على جواز التوسل بالذوات، مع أن أهل العلم الذين تقدَّموا شيخ الإسلام قد حملوا هذا الأثر على أنه توسل بالدعاء لا بالذات، فأنا أذكر أقوالهم، بيانًا على ما ذكرناه من أن شيخ الإسلام
তারা আলেমদের বক্তব্য ও তাদের বিধানের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করেন না, বরং তারা কিতাবুল্লাহর বর্ণনা এবং সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে তাঁর ইবাদত করেন—যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত এবং যে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই বরং সকলের ঐক্যমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আর দোয়ার ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা একটি ইবাদতগত বিষয়, যা বিধিবদ্ধ দলিল (তাওকিফ) ব্যতীত বৈধ নয়। এর সপক্ষে কোনো দলিল নেই। বরং সুন্নাহর ভাষ্য থেকে যা অকাট্যভাবে জানা যায় তা হলো—সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট উসিলা পেশ করতেন, তাঁর সত্তার (জাত) মাধ্যমে নয়। বৃষ্টির প্রার্থনা এবং দৃষ্টিহীন ব্যক্তির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সুপারিশ কামনার বর্ণনায় এটি সুস্পষ্ট, যা উভয়ই সহীহ হাদীস। উসিলা জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে লেখক যেসব দলিল পেশ করেছেন, তার মধ্যে এগুলোও আলোচিত হবে।
অতঃপর তাঁর ওফাতের পর তাঁরা পুণ্যবান ও নেককার ব্যক্তিদের দোয়ার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করতেন, বিশেষ করে তাঁরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত বা বংশের অন্তর্ভুক্ত হতেন। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দোয়ার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করেছিলেন। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার (জাহ) মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা বৈধ হতো, তবে উমরের জন্য আব্বাসের পরিবর্তে তাঁর (নবীজির) মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করাই বেশি সমীচীন হতো।
উসিলা অন্বেষণকারীদের নিকট এই বর্ণনাটিই অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি এবং ব্যক্তিসত্তার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণের বৈধতার পক্ষে এটি তাদের প্রধান যুক্তি। অথচ শাইখুল ইসলামের পূর্ববর্তী আলেমগণ এই বর্ণনাটিকে দোয়ার মাধ্যমে উসিলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, সত্তার মাধ্যমে নয়। অতএব, শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার সপক্ষে আমি তাঁদের বক্তব্যগুলো উল্লেখ করছি।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
لم يتفرد بمثل هذه الفتوى أو المذهب، فمن هؤلاء:
الإمام البيهقي، فقد حمل هذا الأثر على ما ذكرناه، فبوَّب له في "السنن الكبرى" (3/ 352):
[باب: الاستسقاء بمن تُرجى بركة دعائه].
وكذا فعل الموفق المقدسي رحمه الله فقال في "المغني" (2/ 439):
"ويُستحب أن يُستسقى بمن ظهر صلاحه، لأنه أقرب إلى إجابة الدعاء، فإن عمر رضي الله عنه استسقى بالعباس عم النبي صلى الله عليه وسلم، قال ابن عمر: استسقى عمر عام الرمادة بالعباس، فقال: اللهم إن هذا عم نبيك صلى الله عليه وسلم، نتوجه إليك به، فاسقنا، فما برحوا حتى سقاهم الله عز وجل، وروي أن معاوية خرج يستسقي فلما جلس على المنبر، قال: أين يزيد بن الأسود الجرشي؟ فقام يزيد، فدعاه معاوية، فأجلسه عند رجليه، ثم قال: اللهم إنا نستشفع إليك بخيرنا وأفضلنا يزيد بن الأسود، يا يزيد، ارفع يديك، فرفع يديه ودعا الله تعالى، فثارت إلى الغرب سحابة مثل الترس، وهب لها ريح، فسقوا حتى كادوا لا يبلغون منازلهم، واستسقى به الضحاك مرة أخرى".
وهو ظاهر قول الشيرازي في "المهذب"، قال:
"ويُستسقى بالخيار من أقرباء رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن عمر رضي الله
তিনি এই ফতোয়া বা মতাদর্শে একা ছিলেন না; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
ইমাম বায়হাকী; তিনি এই বর্ণনাটিকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর "আস-সুনান আল-কুবরা" (৩/৩৫২) গ্রন্থে এর জন্য অনুচ্ছেদ এভাবে নির্ধারণ করেছেন:
[পরিচ্ছেদ: যার দোয়ার বরকত আশা করা যায়, তাঁকে দিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা].
অনুরূপভাবে আল-মুওয়াফফাক আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ)-ও করেছেন; তিনি তাঁর "আল-মুগনী" (২/৪৩৯) গ্রন্থে বলেছেন:
"যাঁর নেক আমল বা সততা প্রকাশমান, তাঁর অসীলায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা মুস্তাহাব। কারণ এটি দোয়া কবুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। কেননা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা আব্বাসের অসীলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন। ইবনে উমর বলেন: উমর 'রামাদাহ' (দুর্ভিক্ষের) বছর আব্বাসের অসীলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করে বলেছিলেন: হে আল্লাহ! ইনি আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাচা, আমরা তাঁর মাধ্যমে আপনার অভিমুখী হচ্ছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন। অতঃপর তারা স্থান ত্যাগ করার আগেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁদের বৃষ্টি দান করেন। আরও বর্ণিত আছে যে, মুয়াবিয়া বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য বের হলেন। তিনি যখন মিম্বারে বসলেন, তখন বললেন: ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদ আল-জুরাশী কোথায়? ইয়াযিদ দাঁড়ালে মুয়াবিয়া তাঁকে ডাকলেন এবং নিজের পায়ের কাছে বসালেন। এরপর বললেন: হে আল্লাহ! আমরা আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদকে আপনার কাছে সুপারিশকারী হিসেবে পেশ করছি। হে ইয়াযিদ! তোমার হাত তোলো। তখন তিনি হাত তুললেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করলেন। এরপর পশ্চিম দিক থেকে ঢালের মতো একটি মেঘখণ্ড উদিত হলো এবং বাতাস বইতে শুরু করল। ফলে তাঁদের ওপর এমন প্রচুর বৃষ্টিপাত হলো যে, তাঁরা প্রায় তাঁদের বাড়িতে পৌঁছাতে পারছিলেন না। দাহহাকও অন্য এক সময়ে তাঁর অসীলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন।"
এটিই আশ-শিরাজীর "আল-মুহাযযাব" গ্রন্থের বক্তব্যের প্রকাশ্য রূপ। তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আত্মীয়দের মধ্যে যারা নেককার, তাঁদের অসীলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করতে হবে, কারণ উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)..."
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
عنه استسقى بالعباس ..... ، ويُستسقى بأهل الصلاح، لما روي أن
معاوية استسقى بيزيد بن الأسود ..... ، ويُستسقى بالشيوخ
والصبيان لقوله صلى الله عليه وسلم: لولا صبيان رضع، وبهائم رتع، وعباد لله ركع لصب عليهم العذاب صبًّا".
فتبين أن ذلك مرده إلى الصلاح، والإخلاص في الدعاء، والضعف لأهل الضعف، ولم يقل أحد بجواز التوسل بجاه الشيوخ أو الصبيان.
وقد نقل النووي في "المجموع شرح المهذب" ما يؤيد ذلك عن القاضي حسين، والروياني، والرافعي، قال (5/ 73):
"يستحب أن يستسقى بالخيار من أقارب رسول الله صلى الله عليه وسلم .... قال القاضي حسن، والروياني، والرافعي وآخرون من أصحابنا: ويستحب أن يذكر كل واحد من القوم في نفسه ما فعله من الطاعة الجليلة، ويتشفع به ويتوسل
… ".
وعلى فرض التسليم للمؤلف بجواز التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم، فهو حكم خاص به صلى الله عليه وسلم، لا يتعداه إلى غيره من الصالحين، وهو ما رجحه العز بن عبد السلام.
فقد سئل في فتاويه (رقم: 102):
عن الداعي يُقسم على الله تعالى بمُعَظَّم من خلقه في دعائه كالنبي صلى الله عليه وسلم، والولي، والملك، هل يُكره له ذلك أم لا؟
তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি আব্বাস (রা.)-এর উসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন... এবং নেককার ব্যক্তিদের উসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করা যায়, কেননা বর্ণিত আছে যে মুয়াবিয়া (রা.) ইয়াজিদ ইবনুল আসওয়াদ-এর উসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করেছিলেন... এবং বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের উসিলায়ও বৃষ্টির প্রার্থনা করা যায়, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি দুগ্ধপোষ্য শিশু, চারণভূমিতে বিচরণকারী চতুষ্পদ জন্তু এবং আল্লাহর ইবাদতে রত রুকুকারী বান্দারা না থাকত, তবে তোমাদের ওপর কঠোরভাবে আযাব বর্ষিত হতো।"
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এর মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তির সততা, দোয়ায় একনিষ্ঠতা এবং দুর্বল ও অক্ষমদের বিনয়; আর কেউ বয়োবৃদ্ধ বা শিশুদের পদমর্যাদার (জাহ) দোহাই দিয়ে উসিলা ধরার বৈধতার কথা বলেননি।
ইমাম নববী 'আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব' গ্রন্থে এর সমর্থনে কাজী হুসাইন, রুইয়ানি এবং রাফেয়ি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন (৫/৭৩):
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আত্মীয়দের মধ্যে যারা সর্বোত্তম, তাদের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা মুস্তাহাব... কাজী হুসাইন, রুইয়ানি, রাফেয়ি এবং আমাদের অন্যান্য সঙ্গীগণ (ফকিহগণ) বলেছেন: মুস্তাহাব হলো জামাতের প্রত্যেকে যেন নিজের মনে মনে নিজের করা কোনো মহান নেক আমলের কথা স্মরণ করে এবং তা দিয়ে সুপারিশ ও উসিলা প্রার্থনা করে
… "।
আর লেখকের দাবি অনুযায়ী যদি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্তার উসিলা গ্রহণ বৈধ বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট একটি বিশেষ বিধান, যা অন্য কোনো নেককার ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; আর আল-ইয ইবনে আব্দুস সালাম এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে (১০২ নং) তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:
দোয়া করার সময় যদি কেউ আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোনো সম্মানিত সত্তার দোহাই বা কসম দিয়ে—যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), কোনো ওলী কিংবা ফেরেশতা—আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে তা কি মাকরূহ হবে কি না?
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فأجاب رحمه الله:
"أما مسألة الدعاء، فقد جاء في بعض الأحاديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم علَّم بعض الناس الدعاء في أقواله: "اللهم إني أقسم عليك بنبيك محمد صلى الله عليه وسلم، نبي الرحمة"، وهذا الحديث إن صح، فينبغي أن يكون مقصورًا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأنه سيد ولد آدم، وأن لا يُقسم على الله بغيره من الأنبياء والملائكة والأولياء لأنهم ليسوا في درجته، وأن يكون هذا مما خُصَّ به، تنبيهًا على عُلو درجته ومرتبته".
فإذا تدبرت هذه الفتوى تبين لك أمران هامان:
الأول: أنه علَّق حكمه على ثبوت الحديث، فقال: "إن صحَّ"، فالأمر المتنازع فيه إنما يُرد حكمه إلى الله والرسول، كما قال شيخ الإسلام رحمه الله.
الثاني: أنه حكم بجواز ذلك في حق النبي صلى الله عليه وسلم إن صح الحديث، ولم يتعده إلى باقي الأنبياء، أو الأولياء، أو الملائكة أو الصالحين، ونحوهم، وهذا مخالف لما يروَج له جمهور المتوسلين اليوم.
ولكن لابد من التنبيه هنا أن الحديث الذي ذكره العز، لم أقف عليه بهذا اللفظ، وإنما هو بلفظ الاستشفاع، وفيه ما يدل على أن هذا الاستشفاع هو استشفاع بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم، وسوف يأتي تخريجه قريبًا ضمن الأحاديث التي احتج بها المؤلف.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উত্তর দিলেন:
"দোয়ার বিষয়ের ক্ষেত্রে কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীতে কোনো কোনো ব্যক্তিকে এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার নবী রহমতের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উসিলায় শপথ করছি।' এই হাদিসটি যদি সহিহ বা শুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে এটি কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্যই নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। কারণ তিনি আদম সন্তানদের নেতা। আল্লাহকে অন্য কোনো নবী, ফেরেশতা বা ওলিদের নামে শপথ দেওয়া যাবে না, কারণ তাঁরা তাঁর সমমর্যাদার নন। এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, যা তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।"
আপনি যদি এই ফতোয়াটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে আপনার কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হবে:
প্রথমত: তিনি তাঁর হুকুম বা সিদ্ধান্তকে হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঝুলিয়ে রেখেছেন; তাই তিনি বলেছেন: "যদি এটি সহিহ হয়"। সুতরাং বিবাদমান বিষয়ের ফয়সালা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই ন্যস্ত করা হয়, যেমনটি শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদিসটি সহিহ হলে তিনি কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্ষেত্রেই এটি বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। তিনি একে অন্য কোনো নবী, ওলি, ফেরেশতা বা নেককার বান্দাদের পর্যন্ত বিস্তৃত করেননি। বর্তমান সময়ের উসিলা গ্রহণকারী জনসাধারণের অধিকাংশের প্রচলিত মতের এটি সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তবে এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, আমি তা এই শব্দে কোথাও খুঁজে পাইনি। বরং তা সুপারিশ সংক্রান্ত শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আর সেই শব্দমালায় এটিই প্রমাণিত হয় যে, এই সুপারিশ ছিল মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দোয়ার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা। লেখক যেসব হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, সেগুলোর অধীনে অচিরেই এই হাদিসটির তথ্যসূত্র ও বিশ্লেষণ বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قلت: وقد أفتى بحرمة ذلك - أي القسم بالذوات على الله - الأحناف، وقد قرر شيخ الإسلام ذلك، فقال في "التوسل والوسيلة" (ص: 50):
"وهذا هو الذي قاله أبو حنيفة وأصحابه: إنه لا يجوز، ونهوا عنه، حيث قالوا: لا يُسأل بمخلوق، ولا يقول أحد: أسألك بحق أنبيائك، قال أبو الحسين القدوري في كتابه الكبير في الفقه المسمى بـ "شرح الكرخي" في باب الكراهة: وقد ذكر هذا غير واحد من أصحاب أبي حنيفة، قال بشر بن الوليد، حدثنا أبو يوسف، قال أبو حنيفة: لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به، وأكره أن يقول: "بمعاقد العز من عرشك"، أو "بحق خلقك"، وهو قول أبي يوسف، قال أبو يوسف: بمعقد العز من عرشه هو الله، فلا أكره هذا، وأكره أن يقول بحق فلان، أو بحق أنبيائك ورسلك، وبحق البيت الحرام والمشعر الحرام، قال القدوري: المسألة بخلقه لا تجوز لأنه لا حق للخلق على الخالق، فلا تجوز وفاقًا".
وعودة إلى ما نقل في منسك المرُّوذي عن الإمام أحمد رحمه الله أنه قال:
وسل الله حاجتك متوسلًا إليه بنبيه صلى الله عليه وسلم تُقض من الله عز وجل.
فهذا لفظ مُجمل، فإنه رحمه الله لم يذكر صفة هذا التوسل، فقد يكون توسلًا بالطاعة له، وبمتابعته صلى الله عليه وسلم، وهذا عندي
আমি বলি: হানাফী ফকীহগণ এটি—অর্থাৎ আল্লাহর নিকট কোনো সত্তার দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করা—হারাম হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। শাইখুল ইসলাম এটি সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর 'আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা' (পৃ. ৫০) গ্রন্থে বলেছেন:
"আর এটিই ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন যে, এটি জায়েজ নয়। তাঁরা এটি করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: সৃষ্টির দোহাই দিয়ে কিছু চাওয়া যাবে না। কেউ যেন এ কথা না বলে—'আমি আপনার কাছে আপনার নবীদের হকের উসিলায় প্রার্থনা করছি'। আবু আল-হুসাইন আল-কুদূরী তাঁর ফিকহ শাস্ত্রের বৃহৎ গ্রন্থ 'শরহুল কারখী'-র অপছন্দনীয় কার্যাবলি অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবু হানিফার একাধিক সঙ্গী এটি বর্ণনা করেছেন। বিশর ইবনুল ওয়ালীদ বলেন, আবু ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু হানিফা বলেছেন: আল্লাহর নিকট তিনি ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে প্রার্থনা করা কারো জন্য উচিত নয়। আমি অপছন্দ করি যখন কেউ বলে—'আপনার আরশের গরিমান্বিত স্থানগুলোর উসিলায়' অথবা 'আপনার সৃষ্টির হকের উসিলায়'। এটি ইমাম আবু ইউসুফেরও অভিমত। তবে আবু ইউসুফ বলেন: আরশের গরিমান্বিত স্থান বলতে খোদ আল্লাহকেই বোঝানো হয়, তাই এটি আমি অপছন্দ করি না। কিন্তু আমি অপছন্দ করি যখন কেউ বলে—'অমুকের হকের উসিলায়' অথবা 'আপনার নবী ও রাসূলগণের হকের উসিলায়' কিংবা 'বাইতুল হারাম ও মাশআরুল হারামের হকের উসিলায়'। আল-কুদূরী বলেন: সৃষ্টির মাধ্যমে প্রার্থনা করা বৈধ নয়, কারণ স্রষ্টার ওপর সৃষ্টির কোনো (প্রাপ্য) হক নেই; সুতরাং সর্বসম্মতিক্রমে এটি নাজায়েজ।"
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে আল-মাররূযী-র 'মানাসিক' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে, সেদিকে ফিরে আসলে দেখা যায় যে তিনি বলেছেন:
আল্লাহর কাছে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উসিলা করে তোমার প্রয়োজন প্রার্থনা করো, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে তা পূরণ করা হবে।
এটি একটি অস্পষ্ট বক্তব্য, কেননা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই উসিলার পদ্ধতি বা স্বরূপ বর্ণনা করেননি। সম্ভবত এর দ্বারা তাঁর প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর অনুসরণের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে উসিলা করা বুঝানো হয়েছে। আর এটি আমার নিকট
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هو الظاهر لأن أحمد رحمه الله قد منع من الاستعاذة بالمخلوقين، كما ذكره ابن مفلح في "الفروع" (2/ 127)، قال:
"قال أحمد في منسكه الذي كتبه للمرُّوذي: إنه يتوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم في دعائه، وجزم به في المستوعِب وغيره، وجعلها شيخنا كمسألة اليمين به، قال: والتوسل بالإيمان به، وطاعته ومحبته، والصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وسلم، وبدعائه وشفاعته، ونحوه ..... وقال أحمد وغيره في قوله عليه السلام: "أعوذ بكلمات الله التامة من شر ما خلق": الا ستعاذة لا تكون بمخلوق".
قلت: فما أشبه هذا بالدعاء، فإنه لا يكون بمخلوق أيضًا، إذ إنه لم يدل دليل صحيح على ذلك.
فمما تقدَّم يتبين للقارئ الكريم أن شيخ الإسلام رحمه الله لم ينفرد بالمنع من التوسل بالجاه، بل سبقه إلى ذلك أبو حنيفة النعمان، وصاحبه أبو يوسف.
إلا أن المؤلف حاول جاهدًا أن يعدل بهذا القول من أبي حنيفة من التحرريم إلى الكراهة، فقال (ص: 48):
(وهذا الإمام أبو حنيفة يقول: ويُكره أن يقول الرجل في دعائه: أسألك بمعقد العز من عرشك. ا. هـ الجامع الصغير للإمام محمد ص: 395 مع النافع الكبير.
فعبر الإمام أبو حنيفة رحمه الله تعالى بقوله: يُكره، فدار الأمر بين الكراهية التنزيهية أو التحريمية، كما قرره أصحابه في كتاب
এটাই স্পষ্ট, কারণ ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সৃষ্টির দোহাই দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে নিষেধ করেছেন, যেমনটি ইবনে মুফলিহ 'আল-ফুরু' (২/১২৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
"ইমাম আহমাদ আল-মাররুজীর জন্য লিখিত তাঁর 'মানাসিক' গ্রন্থে বলেছেন: দোয়ার মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা হবে। 'আল-মুস্তাউইব' ও অন্যান্য কিতাবেও তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আমাদের শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) একে নবীজির নামে শপথ করার মাসআলার অনুরূপ গণ্য করেছেন। তিনি বলেন: তাঁর প্রতি ঈমান, আনুগত্য ও ভালোবাসা, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করা এবং তাঁর দোয়া ও সুপারিশ ও এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা হবে... আর ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ নবীজির এই বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে—'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই'—বলেছেন: সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা যায় না।"
আমি বলি: এটি দোয়ার সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ; কেননা দোয়াও সৃষ্টির মাধ্যমে হতে পারে না, যেহেতু এর সপক্ষে কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই।
উপরোক্ত আলোচনা হতে সম্মানিত পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মর্যাদার (জাহ) মাধ্যমে তাওয়াসসুল নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে একক নন, বরং তাঁর পূর্বে ইমাম আবু হানিফা আন-নুমান এবং তাঁর সঙ্গী ইমাম আবু ইউসুফও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।
তবে লেখক আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ইমাম আবু হানিফার এই বক্তব্যটিকে 'হারাম' পর্যায় থেকে 'মাকরুহ' পর্যায়ে নিয়ে আসতে। তিনি (৪৮ নং পৃষ্ঠায়) বলেন:
(এই যে ইমাম আবু হানিফা বলছেন: কোনো ব্যক্তির দোয়ায় এ কথা বলা মাকরুহ যে—আমি আপনার আরশের সুউচ্চ সম্মানের উসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। সমাপ্ত। ইমাম মুহাম্মাদ রচিত 'আল-জামে আস-সাগীর', পৃষ্ঠা: ৩৯৫, 'আন-নাফে আল-কাবীর' সহ)।
ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এখানে 'মাকরুহ' শব্দ ব্যবহার করেছেন; তাই বিষয়টি এখন 'মাকরুহে তানজিহি' নাকি 'মাকরুহে তাহরিমি'-এর মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে, যেমনটি তাঁর অনুসারীগণ কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الكراهية، أو الحظر والإباحة من مصنفاتهم الفقهية).
قلت: الكراهة هنا تحريمية، كما يظهر مما تقدَّم نقله، فإنهم عبروا عن ذلك بعدم الجواز، وبقولهم: "لا ينبغي"، فتنبه إلى ذلك.
(মাকরুহিয়াত অথবা তাঁদের ফিকহী গ্রন্থসমূহের ‘নিষিদ্ধ ও বৈধতা’ অধ্যায় থেকে)।
আমি বলছি: এখানে অপছন্দনীয়তা বা কারাহাত দ্বারা ‘তাহরীমি’ (নিষিদ্ধতা) বোঝানো হয়েছে, যা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়; কেননা তাঁরা বিষয়টি ‘বৈধ নয়’ এবং ‘উচিত নয়’ শব্দাবলি দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। অতএব, এ বিষয়ে সজাগ থাকুন।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
زيارة المقابر وأقسامهاكان الأصل في زيارة القبور في أول الإسلام على التحريم، سدًّا للذرائع المؤدية إلى الشرك بتعظيم هذه القبور وأصحابها، لا سيما مع كون من دخل في الإسلام في ذلك الوقت حديثي عهد بإسلام.
وقد دل على ذلك حديث النبي صلى الله عليه وسلم: "نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها". (1)
قال النووي رحمه الله: (2)
"هذا من الأحاديث التي تجمع الناسخ والمنسوخ، وهو صريح في نسخ نهي الرجال عن زيارتها".
قال شيخ الإسلام ابن القيم رحمه الله: (3)
"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد نهى الرجال عن زيارة القبور سدًّا للذريعة، فلما تمكن التوحيد في قلوبهم أذن لهم في زيارتها على الوجه الذي شرعه، ونهاهم أن يقولوا هجرًا، فمن زارها على غير
--------------------------------------------
কবর জিয়ারত ও এর প্রকারভেদইসলামের সূচনালগ্নে কবর জিয়ারতের মূল বিধান ছিল নিষিদ্ধতা, যেন এই কবরসমূহ ও কবরবাসীদের সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার পথ রুদ্ধ করা যায়; বিশেষত তখন যারা ইসলামে দাখিল হয়েছিলেন তারা ছিলেন নও-মুসলিম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিসটি এর প্রমাণ বহন করে: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো।" (১)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: (২)
"এটি এমন এক হাদিস যা নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত)-কে একত্রিত করেছে। পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা রহিত হওয়ার ব্যাপারে এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ।"
শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: (৩)
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিরকের পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে পুরুষদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর যখন তাদের অন্তরে তাওহীদ সুদৃঢ় হলো, তখন তিনি শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে তাদের জিয়ারতের অনুমতি প্রদান করলেন এবং মন্দ ও জাহেলি কথা বলতে নিষেধ করলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে জিয়ারত করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الوجه المشروع الذي يحبه الله ورسوله، فإن زيارته غير مأذون فيها، ومن أعظم الهجر: الشرك عندها قولًا وفعلًا".
وقد بيَّن صلى الله عليه وسلم أن الحكمة من إباحة الزيارة التي نُهي عنها أولًا حصول الاعتبار والتذكير.
فقال صلى الله عليه وسلم:
"فزوروا القبور، فإنها تذكِّر الموت". (1)
قال القاضي عياض رحمه الله: (2)
"وقوله: (فزوروها): بيِّن في نسخ النهي، وفي علة الإباحة، أن يكون زيارتها للتذكير والاعتبار، لا للفخر والمباهاة، ولا لإقامة النوح والمآتم عليه".
فهذه الأحاديث وما شابهها تدل على:
* النوع الأول: من زيارة القبور، وهي الزيارة المشروعة:
وهي ما يكون فيها قصد الزائر الدعاء للميت، أو الصلاة على الجنازة، أو تذكر الموت والآخرة، والاتعاظ.
ولأجل ذلك فقد أبيح زيارة قبر غير السلم، لا سيما إن كان من الأقارب، إن عُلم من زيارته قوة الاتعاظ والتذكير.
--------------------------------------------
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পছন্দনীয় শরীয়তসম্মত পদ্ধতি ব্যতীত সেই কবর যিয়ারতের অনুমতি নেই। আর সবচেয়ে বড় বর্জনীয় কাজ হলো সেখানে কথা বা কাজের মাধ্যমে শিরক করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, প্রথমে যিয়ারত নিষিদ্ধ করার পর তা পুনরায় বৈধ করার হিকমত হলো শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।" (১)
কাযী আয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (২)
"তাঁর বাণী (তোমরা তা যিয়ারত করো): এটি নিষেধাজ্ঞা রহিত হওয়া এবং বৈধতার কারণকে স্পষ্ট করে। আর তা হলো যিয়ারত হতে হবে স্মরণ ও উপদেশের জন্য, অহংকার ও গৌরবের জন্য নয় এবং বিলাপ বা মাতম করার জন্যও নয়।"
এই হাদীসগুলো এবং এর অনুরূপ অন্যান্য বর্ণনাগুলো নির্দেশ করে:
* প্রথম প্রকার: কবর যিয়ারত, আর তা হলো শরীয়তসম্মত যিয়ারত:
এটি এমন যিয়ারত যেখানে যিয়ারতকারীর উদ্দেশ্য থাকে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা, জানাযার সালাত আদায় করা অথবা মৃত্যু ও পরকালকে স্মরণ করে উপদেশ গ্রহণ করা।
এ কারণেই অমুসলিমের কবর যিয়ারত করাও বৈধ করা হয়েছে, বিশেষ করে যদি সে আত্মীয় হয় এবং যদি সেই যিয়ারতের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণের প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كما في حديث أبي هريرة - المتقدِّم - قال:
زار النبي صلى الله عليه وسلم قبر أمه، فبكى وأبكى من حوله، فقال:
"استأذنت ربي في أن أستغفر لها فلم يؤذن لي، واستأذنته في أن أزور قبرها، فأذن لي، فزوروا القبور، فإنها تذكِّر الموت". (1)
قال النووي - رحمه الله تعالى -: (2)
"فيه جواز زيارة المشركين في الحياة وقبورهم بعد الوفاة،
… .. ، وفيه النهي عن الاستغفار للكفار، قال القاضي عياض رحمه الله: سبب زيارته صلى الله عليه وسلم قبرها، أنه قصد قوة الموعظة والذكرى بمشاهدة قبرها، ويؤيده قوله صلى الله عليه وسلم في آخر الحديث: (فزوروا القبور، فإنها تذكِّر الموت) ".
* وأما النوع الثاني: فهو الزيارة البدعية:
وهي كل ما خالف النوع الأول من الزيارة، كقصد قبر بعينه للدعاء عنده، أو عبادة الله تعالى عنده، أو الاستعانة بصاحبه، أو الاستغاثة به، أو طلب الحوائج عنده، أو الذبح عنده، أو النذر له.
أو شد الرحال إلى قبر بعينه، أو قبور بعينها، لأنه لم يرد في الشرع ما يدل على ذلك، بل الذي ورد في الشرع يخالف ذلك، وينهى عنه، وهذه الأخيرة هي المسألة قيد البحث في هذا الكتاب،
--------------------------------------------
যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পূর্বে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করলেন। এতে তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। এরপর তিনি বললেন:
"আমি আমার রবের কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অতঃপর আমি তাঁর কবর যিয়ারত করার অনুমতি চাইলাম, যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।" (১)
ইমাম নববী - রহিমাহুল্লাহ তাআলা - বলেন: (২)
"এতে মুশরিকদের জীবদ্দশায় তাদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মৃত্যুর পর তাদের কবর যিয়ারত করার বৈধতা প্রমাণিত হয়,
… .. , এবং এতে কাফেরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কাজী আইয়াজ রহিমাহুল্লাহ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করার কারণ ছিল এই যে, তিনি কবর প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে উপদেশ ও স্মরণের শক্তি অর্জন করতে চেয়েছিলেন। হাদিসের শেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী একে সমর্থন করে: (অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়)।"
* আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: বিদআতি যিয়ারত:
এটি যিয়ারতের প্রথম প্রকারের বিপরীত সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: সেখানে দোয়া করার উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট কবরের সংকল্প করা, অথবা সেখানে আল্লাহর ইবাদত করা, অথবা কবরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, কিংবা তার মাধ্যমে ফরিয়াদ করা, অথবা কবরের কাছে গিয়ে অভাব পূরণের প্রার্থনা করা, অথবা সেখানে পশু জবাই করা কিংবা মানত করা।
অথবা কোনো নির্দিষ্ট কবর বা কবরসমূহের উদ্দেশ্যে সফর করা। কারণ শরিয়তে এমন কোনো দলিল নেই যা এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়; বরং শরিয়তে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর পরিপন্থী এবং তা থেকে নিষেধ করে। আর এই শেষোক্ত বিষয়টিই এই কিতাবে আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وإن كان المشهور في بحثها جواز ذلك وعدمه بالنسبة لقبر النبي صلى الله عليه وسلم.
وسوف يأتي إيراد أدلة هذا القول قريبًا إن شاء الله تعالى.
যদ্যপি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের ক্ষেত্রে এই আলোচনার প্রসিদ্ধ দিক হলো এর বৈধতা ও অবৈধতার বিষয়টি।
অচিরেই এই মতের সপক্ষের দলীলসমূহ উপস্থাপিত হবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১)
হাদমুল মানারাহ লিমান সহ্হাহা আহাদিসাত তাওয়াসসুলি ওয়াল যিয়ারাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حكم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم ومذهب شيخ الإسلام في هذه المسألة وذكر من وافقه من أهل العلم المتقدِّمين
هذه المسألة من أعظم المسائل التي شُنِّع بها على شيخ الإسلام رحمه الله من أعدائه، ليس في عصره فحسب، بل وفي كل عصر أتى بعده، ولكن سبحان من أقر فتواه في هذه المسألة في قلوب العلماء وطلاب العلم وعوام المسلمين ممن يلتزم بالسنة والصلاح، في كل عصر ومِصر، لا سيما في هذا العصر، كما أقر فتواه في تعليق الطلاق بشرط في أقضية المسلمين اليوم، بحيث جُعلت حكمًا ثابتًا يتحاكم إليه المفتون في غالب دول الإسلام.
وكما قيل: فإن الحق منصور وممتحن.
فلا يلزم من امتحان شيخ الإسلام في حياته، وحبسه، ووفاته رحمه الله وهو على هذه الحال أن يكون قد مات مخذولًا، كلا بل قد أعلى الله شأنه وكلمته وفتاويه وعلمه بما لم يُعل به شأن من عاداه وناوأه من أهل الباطل، فإن الباطل وإن علا واستفحل ممحوق.
وأما هذه المسألة التي نحن بصدد تحقيق القول فيها؛
فإن شيخ الإسلام رحمه الله لم يمنع من زيارة القبر النبي
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর যিয়ারতের বিধান, এ বিষয়ে শায়খুল ইসলামের মাযহাব এবং পূর্ববর্তী আলিমগণের মধ্যে যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তাঁদের আলোচনা।
এই মাসআলাটি সেই সব গুরুতর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শত্রুরা তাঁর প্রতি কুৎসা রটনা করেছে; কেবল তাঁর সমসাময়িককালেই নয়, বরং তাঁর পরবর্তী প্রতিটি যুগেও। তবে মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি প্রতিটি যুগে ও জনপদে—বিশেষ করে বর্তমান সময়ে—আলিম, তালিবে ইলম এবং সুন্নাহ ও তাকওয়ার অনুসারী সাধারণ মুসলিমদের অন্তরে এই মাসআলায় তাঁর ফাতওয়াকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। যেমনটি বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর বিচারব্যবস্থায় শর্তযুক্ত তালাকের (তালিকে তালাক) বিষয়ে তাঁর ফাতওয়াটি গৃহীত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে অধিকাংশ মুসলিম দেশের মুফতিগণ ফয়সালা প্রদান করে থাকেন।
যেমনটি বলা হয়ে থাকে: সত্য সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পরীক্ষিত।
শায়খুল ইসলামের জীবনে যে পরীক্ষা এসেছে, তাঁর কারাবরণ এবং সেই অবস্থায় তাঁর মৃত্যু—এর অর্থ এই নয় যে তিনি লাঞ্ছিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন; বরং আল্লাহ তাঁর মর্যাদা, তাঁর বাণী, ফাতওয়া এবং ইলমকে এমন উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা তাঁর শত্রু ও বিরোধিতাকারী বাতিলপন্থীদের ভাগ্যে জোটেনি। কেননা বাতিল যতই আস্ফালন করুক বা শক্তিশালী হোক না কেন, তা চিরকালই বিলুপ্ত হতে বাধ্য।
আর আমরা যে মাসআলাটির তাহকীক বা বিশ্লেষণ করতে যাচ্ছি;
নিশ্চয়ই শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেননি।