(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: -)
فهرسة ابن خير - ت بشار القسم: فهارس الكتب والأدلة
الكتاب: فهرسة ابن خير الإشبيلي
المؤلف: ابن خير الإشبيلي (502 - 575 هـ)
حققه وضبط نصه وعلق عليه: بشار عواد معروف - محمود بشار عواد
الناشر: دار الغرب الاسلامي - تونس
الطبعة: الأولى، 2009 م
عدد الصفحات: 670
أعده للشاملة: محمود الجيزي - عفا الله عنه -
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الأولى 1438
ইবন খায়রের ফিরিস্ত - বাশারের সম্পাদনা বিভাগ: বইয়ের ফিরিস্ত ও নির্দেশিকা
বই: ফাহরাসা ইবন খায়র আল-ইশবিলি
লেখক: ইবন খায়র আল-ইশবিলি (৫০২ - ৫৭৫ হিজরি)
সম্পাদনা, পাঠ্য সংশোধন ও টীকা প্রদান: বাশার আওয়াদ মারুফ - মাহমুদ বাশার আওয়াদ
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি - তিউনিসিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মাহমুদ আল-জিজি - আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন -
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: فهرسة ابن خير الإشبيلي
المؤلف: ابن خير الإشبيلي (502 - 575 هـ)
حققه وضبط نصه وعلق عليه: بشار عواد معروف - محمود بشار عواد
الناشر: دار الغرب الاسلامي - تونس
الطبعة: الأولى، 2009 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة: محمود الجيزي - عفا الله عنه -
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
গ্রন্থ: ইবনে খায়র আল-ইশবিলির নির্ঘণ্ট
লেখক: ইবনে খায়র আল-ইশবিলি (৫০২ - ৫৭৫ হিজরি)
সম্পাদনা, পাঠ্য সংশোধন এবং টীকা প্রদান করেছেন: বাশার আওয়াদ মারুফ - মাহমুদ বাশার আওয়াদ
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি - তিউনিসিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: মাহমুদ আল-জিজি - আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন -
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة التحقيق]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنّا لنهتدي لولا أن هدانا الله، الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلها صمدا، وأشهد أنّ سيّدنا وإمامنا وقدوتنا وأسوتنا وشفيعنا وحبيبنا محمدا عبده ورسوله، بعثه الله بالهدى ودين الحقّ ليظهره على الدّين كلّه ولو كره المشركون.
يا أَيُّهَا اَلَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اَللهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) [آل عمران]
يا أَيُّهَا اَلنّاسُ اِتَّقُوا رَبَّكُمُ اَلَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالاً كَثِيراً وَنِساءً وَاِتَّقُوا اَللهَ اَلَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَاَلْأَرْحامَ إِنَّ اَللهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) [النساء]
يا أَيُّهَا اَلَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اَللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اَللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) [الأحزاب]
أما بعد:
فيسعدني أن أقدّم للباحثين المعنيين بتاريخ الفردوس المفقود الأندلس كتاب «فهرسة ابن خير الإشبيلي»، وهو الإصدار الرابع من «سلسلة التراجم الأندلسية» التي رغب إليّ فيها صديقي الفاضل الخبير بالمؤلّفات الأصيلة الأستاذ حبيب اللّمسي صاحب دار الغرب الإسلامي المتفجر عليّ بنفحات معروفه، والفائض الخير الغامر البرّ، الناصب للتراث الأصيل أعلاما لا تشتبه، والباني له منارا لا ينهدم باختياره الجيد الحقيق بالنشر منه، مادة وفائدة وتحقيقا.
[সম্পাদকের ভূমিকা]পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের ইমাম, আমাদের আদর্শ, আমাদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, আমাদের সুপারিশকারী এবং আমাদের প্রিয়তম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২) [আলে ইমরান]
হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১) [নিসা]
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে এক মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১) [আহযাব]
অতঃপর:
হারানো স্বর্গ আন্দালুসের ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের কাছে 'ফিহরিসাতু ইবনে খাইর আল-ইশবিলি' গ্রন্থটি পেশ করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি ‘আন্দালুসি জীবনী গ্রন্থমালা’ (সিলসিলাতুত তারাজিমিল আন্দালুসিয়্যাহ)-এর চতুর্থ প্রকাশনা। এ ব্যাপারে আমাকে আমার গুণী বন্ধু, মৌলিক রচনাবলী বিশেষজ্ঞ এবং 'দারুল গারব আল-ইসলামি'-এর স্বত্বাধিকারী উস্তাদ হাবিব আল-লামসি অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি তাঁর মহানুভবতার সৌরভে আমাকে সিক্ত করেছেন এবং যাঁর কল্যাণ ও বদান্যতা অবারিত; যিনি মৌলিক ঐতিহ্যের (তুরাস) জন্য এমন সুস্পষ্ট নিদর্শন স্থাপন করেছেন যা অস্পষ্ট নয় এবং এর জন্য এমন সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেছেন যা ধ্বংস হবে না; যা তিনি এর বিষয়বস্তু, উপযোগিতা ও সম্পাদনার মান বিচারে প্রকাশের যোগ্য এবং উৎকৃষ্ট হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬)
ابن خير الإشبيلي:هو أبو بكر محمد (1) بن خير بن عمر بن خليفة، مولى إبراهيم بن محمد بن يغمور اللّمتوني، وكان يكتب في نسبه الأموي - بفتح الهمزة - نسبة إلى أمة جبل بالمغرب (2).
وذكر تلميذه أبو القاسم عبد الرحيم بن عيسى بن يوسف الأزدي الزّهراني الفاسي المعروف بابن الملجوم (524 - 604) (3) أنّه سأله عن مولده فقال: ولدت بفاس ليلة الأحد الثامن والعشرين من رمضان سنة اثنتين وخمس مئة (4). وهذا يظهر خطأ كوديرا الذي ذكر أنه ولد بإشبيلية (5)، فهو فاسي الأصل.
--------------------------------------------
ইবনে খায়র আল-ইশবিলি:তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ (১) বিন খায়র বিন উমর বিন খলিফা, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াগমুর আল-লামতুনি-এর মাওলা (মুক্তদাস)। তিনি তার বংশপরিচয়ে 'আল-উমাউয়ি' (হামজার উপর ফাতহা সহ) লিখতেন, যা মরক্কোর 'উম্মাহ' নামক একটি পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত (২)।
তার ছাত্র আবুল কাসিম আব্দুর রহিম বিন ঈসা বিন ইউসুফ আল-আযদিও আজ-যাহরানি আল-ফাসি, যিনি ইবনুল মালজুম (৫২৪ - ৬০৪) নামে পরিচিত (৩), উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন: "আমি পাঁচশ দুই হিজরি সালের আঠাশে রমজান রবিবার দিবাগত রাতে ফাস শহরে জন্মগ্রহণ করেছি" (৪)। এটি কডেরা-এর ভুলকে স্পষ্ট করে, যিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি ইশবিলিয়া (সেভিল)-তে জন্মগ্রহণ করেছেন (৫); মূলত তিনি ফাস বংশোদ্ভূত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৭)
بدأ ابن خير بطلب العلم منذ مدة مبكرة من حياته حيث يذكر سماعه من شيخه الأديب أبي عبد الله محمد بن سليمان بن أحمد النّفزي المتوفى سنة (525) هـ في منزله بإشبيلية سنة (518) هـ (1) عند قدومه إلى إشبيلية (2)، وسمع بجامع إشبيلية في رمضان من سنة (520) هـ من شيخه أبي الحسن عبّاد بن سرحان بن مسلم المتوفى نحو سنة (543) هـ (3). واتصل آنذاك اتصالا قويا بشيخه المقرئ أبي الحسن شريح بن محمد بن شريح الرّعيني المتوفى سنة (539) هـ حيث لازمه طيلة حياته وأخذ عنه علما جما، كما يظهر واضحا من هذا الكتاب.
ثم بدأ ابن خير بالتجوال في مدن الأندلس يقرأ على الشيوخ ويستجيزهم، ولا أراني بحاجة إلى ذكر شيوخه الكثر فقد ذكرهم هو في آخر هذا الكتاب حيث زادوا على المئة. كما أخذ عنه العديد من التلاميذ لما كان يتمتع به من الدقة والأمانة وسعة الرّواية، وكتب التراجم التي تناولت المئة السابعة تزخر بالعديد من تلامذته.
وحين ذاعت شهرته ومنزلته في العلم طلبه والي قرطبة أبو عليّ الحسن ابن عبد المؤمن (4) ليتولّى الصلاة بجامع قرطبة الأعظم سنة (573) هـ، وهي من الوظائف الخطيرة، فبقي يتولاها إلى أن توفي سحر ليلة الأربعاء الرابع من ربيع الأول سنة (575) هـ، ودفن بإزاء الدار التي أنزل فيها، وكانت جنازته مشهودة لم يتخلف عنها كبير أحد، وحضرها الوالي أبو علي الحسن بن عبد المؤمن، ثم نقل رفاته بعد ذلك إلى إشبيلية ليدفن في مقبرة مشكة (5).
--------------------------------------------
ইবনে খাইর তাঁর জীবনের প্রাথমিক সময় থেকেই ইলম অর্জন শুরু করেন, যেখানে তিনি ৫১৮ হিজরিতে সেভিলে (ইশবিলিয়াহ) তাঁর গৃহে আগমনের সময় (২) তাঁর উস্তাদ আদীব আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আহমদ আন-নাফজি (মৃত্যু ৫২৫ হিজরি) থেকে ইলম শোনার কথা উল্লেখ করেছেন (১)। তিনি ৫২০ হিজরির রমজান মাসে সেভিলের জামে মসজিদে তাঁর উস্তাদ আবু আল-হাসান আব্বাদ বিন সারহান বিন মুসলিম (মৃত্যু আনুমানিক ৫৪৩ হিজরি) থেকেও ইলম শ্রবণ করেছেন (৩)। সেই সময়ে তিনি তাঁর উস্তাদ মুকরি আবু আল-হাসান শুরাইহ বিন মুহাম্মদ বিন শুরাইহ আর-রুআইনি (মৃত্যু ৫৩৯ হিজরি) এর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং আমৃত্যু তাঁর সান্নিধ্যে থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেন, যা এই গ্রন্থ থেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
এরপর ইবনে খাইর আন্দালুসের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ শুরু করেন এবং আলেমদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন ও তাঁদের থেকে ইজাজত লাভ করেন। আমার মনে হয় না তাঁর অগণিত উস্তাদদের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে, কেননা তিনি নিজেই এই গ্রন্থের শেষে তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা একশতেরও বেশি। তাঁর নির্ভুলতা, আমানতদারি এবং বর্ণনার ব্যাপকতার কারণে অসংখ্য ছাত্র তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন। সপ্তম শতাব্দীর জীবনীগ্রন্থগুলো তাঁর ছাত্রদের বিবরণে সমৃদ্ধ।
যখন তাঁর খ্যাতি এবং ইলমি মর্তবা ছড়িয়ে পড়ল, তখন কর্ডোবার (কুরতুবা) ওয়ালি আবু আলী হাসান ইবনে আবদ আল-মুমিন (৪) তাঁকে ৫৭৩ হিজরিতে কর্ডোবার প্রধান জামে মসজিদে নামাজের দায়িত্ব পালনের জন্য তলব করেন; এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং ৫৭৫ হিজরির ৪ঠা রবিউল আউয়াল বুধবার শেষ রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল তার পাশেই দাফন করা হয়। তাঁর জানাজা ছিল অত্যন্ত জনাকীর্ণ যেখানে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং ওয়ালি আবু আলী হাসান ইবনে আবদ আল-মুমিনও তাতে শরিক হন। পরবর্তীতে তাঁর দেহাবশেষ সেভিলে স্থানান্তরিত করা হয় এবং মিশকাহ গোরস্থানে দাফন করা হয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৮)
منزلته العلمية:نال ابن خير شهرة واسعة لما عرف عنه من سعة الرّواية والعناية المستديمة في طلب العلم، فضلا عن الدّقة والضبط والإتقان، فوصفه ابن عميرة الضّبّي بأنه «محدث من أهل الإتقان وجودة الضبط، مقرئ مجود» (1).
وقبل ذلك أثنى عليه من أساتذته أبو الحسن يونس بن محمد بن مغيث القرطبي المتوفى سنة (532) هـ وهو لمّا يزل شابّا يقرأ عليه، قال ابن الأبّار: «سمعت شيخنا أبا الخطاب بن واجب، وهو أحد المكثرين عنه، يقول: سمعت أبا عبد الله بن حميد يقول: سمعت أبا الحسن بن مغيث يقول: أبو بكر ابن خير خير ابن خير، وذلك وقت قراءته عليه في حداثته، قال أبو الخطاب: فكيف لو رآه حين رأيناه» (2).
وعني ابن خير عناية بالغة بضبط كتبه وأصوله ومقابلتها بالأصول الصحيحة حتى نوّه بذلك أكابر العلماء، قال ابن الأبار: «وكانت كتبه في غاية الصّحة والإتقان لكثرة ما عاناها وعالج تصحيحها بحسن خطه وجودة تقييده وضبطه، وفي ذلك قطع دهره وأنفق حياته، فلحق بالمتقدمين وأربى على المتأخرين، وأدّى ذلك إلى المغالاة فيها بعد وفاته حتى بلغت أثمانها الغاية، ولم يكن له نظير في هذا الشأن مع الحظّ الأوفر من علوم اللّسان» (3).
وقال ابن عبد الملك المراكشي: «وكانت كتبه وأصوله في غاية الصّحة ونهاية الإتقان لتهمّمه بمقابلتها وعكوفه على تصحيحها مؤيّدا على ذلك بحسن الخطّ وإتقان التّقييد والضّبط اللذين برز فيهما على متقدّمي الأكابر من مشاهير أهلهما، دأب على ذلك دهره وأنفد فيه عمره. وكتب بخطه الكثير
--------------------------------------------
তাঁর ইলমী মাকাম (বা জ্ঞানগত অবস্থান):ইবনে খায়ের তাঁর বর্ণনার প্রশস্ততা এবং ইলম অর্জনে অবিরত মনোনিবেশের জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, সেই সঙ্গে তাঁর ছিল সূক্ষ্মতা, নির্ভুলতা ও দক্ষতা। ইবনে উমাইরা আদ-দব্বী তাঁকে বর্ণনা করেছেন এভাবে যে, তিনি হলেন "দক্ষ ও সুনিপুণ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত একজন মুহাদ্দিস এবং একজন দক্ষ ক্বারী।" (১)
এর আগে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে আবুল হাসান ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুগীস আল-কুরতুবী (মৃত্যু ৫৩২ হিজরী) তাঁর প্রশংসা করেছিলেন, যখন তিনি যুবক ছিলেন এবং তাঁর কাছে পাঠগ্রহণ করছিলেন। ইবনে আল-আব্বার বলেন: "আমি আমাদের শায়খ আবুল খাত্তাব ইবনে ওয়াজিবকে বলতে শুনেছি—যিনি তাঁর (ইবনে খায়েরের) কাছ থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ ইবনে হামিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান ইবনে মুগীসকে বলতে শুনেছি: 'আবু বকর ইবনে খায়ের হলেন ইবনে খায়েরের মধ্যে সর্বোত্তম (খায়ের)', আর এটি ছিল তাঁর যৌবনকালে তাঁর কাছে পড়ার সময়কার কথা। আবুল খাত্তাব বলেন: তিনি যদি তাঁকে তখন দেখতেন যখন আমরা তাঁকে দেখেছি (তবে না জানি আরও কত প্রশংসা করতেন)!" (২)
ইবনে খায়ের তাঁর কিতাবসমূহ ও পাণ্ডুলিপিগুলো নির্ভুল করতে এবং সেগুলোকে সঠিক মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখতে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করতেন, এমনকি বড় বড় আলেমগণও এর প্রশংসা করেছেন। ইবনে আল-আব্বার বলেন: "তাঁর কিতাবসমূহ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত; কারণ তিনি সেগুলোর পেছনে অনেক পরিশ্রম করেছিলেন এবং তাঁর সুন্দর হস্তাক্ষর ও চমৎকার টীকা ও নির্ভুলকরণের মাধ্যমে সেগুলো সংশোধন করতেন। এর পেছনেই তিনি তাঁর যুগ অতিবাহিত করেছেন এবং জীবন ব্যয় করেছেন। ফলে তিনি পূর্ববর্তীদের সমপর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছেন এবং পরবর্তীদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন। আর এটিই তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কিতাবগুলোর আকাশচুম্বী মূল্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভাষাবিজ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি এই বিষয়েও তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না।" (৩)
ইবনে আব্দুল মালিক আল-মাররাকুশী বলেন: "তাঁর কিতাবসমূহ ও পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও নিপুণতার চরম সীমায়; কারণ তিনি সেগুলোকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানোর ব্যাপারে খুবই মনোযোগী ছিলেন এবং সংশোধনের কাজে নিজেকে নিমগ্ন রাখতেন। এ কাজে তাঁকে সহায়তা করেছিল তাঁর সুন্দর হস্তাক্ষর এবং টীকা ও নির্ভুলকরণের দক্ষতা, যে বিষয়ে তিনি এই অঙ্গনের প্রসিদ্ধ পূর্ববর্তী মনীষীদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সারাজীবন এই কাজেই নিরবচ্ছিন্নভাবে মগ্ন ছিলেন এবং এভাবেই তাঁর আয়ু শেষ করেছেন। তিনি নিজ হাতে প্রচুর লিখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومتّع بصحة بصره، فقد وقفت في بعض ما كتب، وهو قد جاوز السبعين من عمره بسنتين أو نحوهما على ما يقضى منه العجب؛ دقة خط وإدماج حروف مع البيان، فكان في ذلك وحيدا، وأثمر المغالاة فيها بعد وفاته حتى تجووزت في أثمانها الغاية التي لا عهد بها، وتمادت رغبة الناس في اقتناء ما يوجد بخطه أو بتصحيحه ومنافستهم فيه إلى الآن» (1).
وذكر العلاّمة الكتّاني أنّ بمكتبة القرويين بفاس إلى الآن نسخته من «صحيح مسلم» التي قابلها مرارًا وسمع فيها وأسمع بحيث يعد أعظم أصل موجود من «صحيح مسلم» في إفريقية، وهو بخط الشيخ الأديب الكاتب أبي القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن عمر الأموي الإشبيلي المالكي، فرغ منه سنة (573)، وعليه بخط المترجم (ابن خير) أنه عارضه بأصول ثلاثة معارضة بنسخة الحافظ أبي علي الجيّاني شيخ عياض وغيره من الأعلام، وكتب المترجم بهامشه كثيرا من الطّرر والفوائد والشّرح لغريب ألفاظه وشروح بعض معانيه وفرغ من ذلك سنة (573) أيضا (2).
وأشار ابن الأبّار إلى توسعه بالرّواية وإتقانه لها فقال: «وكان من الإكثار في تقييد الآثار والعناية بتحصيل الرّواية بحيث يأخذ من أصحابه الذين شركهم في السّماع من شيوخه»، ثم قال: «وكان مقرئا مجودا ضابطا، محدثا جليلا متقنا، أديبا نحويا لغويا، واسع المعرفة، رضى مأمونا، كريم العشرة، خيّرا فاضلا، ما صحب أحدا ولا صحبه أحد إلا أثنى عليه» (3).
وقال ابن الزبير: «أحد المقرئين المحدّثين المشهورين بحسن الضّبط وإتقان التقييد، مع معرفته بالعربية واللّغة والأدب والغريب أغنى النّاس بإكثار الرّواية حتى أخذ عن كثير من نظرائه» (4).
--------------------------------------------
এবং তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা উপভোগ করেছেন। আমি তাঁর লেখা এমন কিছু নিদর্শনের খোঁজ পেয়েছি যা তিনি তাঁর বাহাত্তর বছর বা এর কাছাকাছি বয়সে লিখেছিলেন এবং তা দেখে বিস্ময় জাগে; অক্ষরের সূক্ষ্মতা এবং প্রাঞ্জলতার সাথে বর্ণের চমৎকার বিন্যাস, যা তাকে এ ক্ষেত্রে অনন্য করে তুলেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই পাণ্ডুলিপিগুলোর কদর ও মূল্যের এতই ঊর্ধ্বগতি হয়েছিল যে তা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তাঁর হস্তাক্ষরযুক্ত বা তাঁর সংশোধিত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করার জন্য মানুষের প্রবল আগ্রহ এবং এ নিয়ে প্রতিযোগিতা বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে (১)।
আল্লামা কাত্তানি উল্লেখ করেছেন যে, ফাসের কারাওয়িয়ীন লাইব্রেরিতে বর্তমানে তাঁর ‘সহীহ মুসলিম’-এর একটি নিজস্ব কপি রয়েছে যা তিনি বারবার মূল কপির সাথে মিলিয়েছিলেন এবং সেখানে পাঠ গ্রহণ ও প্রদান করেছিলেন; যার ফলে এটি আফ্রিকায় বিদ্যমান ‘সহীহ মুসলিম’-এর শ্রেষ্ঠ মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য হয়। এটি প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও লেখক আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর আল-উমাবি আল-ইশবিলি আল-মালিকির হস্তাক্ষরে লেখা, যা ৫৭০ হিজরিতে সমাপ্ত হয়। এর ওপর জীবনীকার (ইবনুল খায়ের)-এর নিজ হাতের লেখায় উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি হাফেজ আবু আলী আল-জাইয়ানি—যিনি কাজী ইয়াদ ও অন্যান্য মহান ইমামদের উস্তাদ ছিলেন—তাঁর পাণ্ডুলিপি সহ মোট তিনটি মূল কপির সাথে এটি মোকাবিলা বা তুলনা করেছেন। তিনি এর মার্জিনে অনেক টীকা, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং এর জটিল শব্দ ও অর্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এটিও ৫৭০ হিজরিতেই সম্পন্ন হয় (২)।
ইবনুল আব্বার তাঁর বর্ণনার বিস্তৃতি এবং এর নিখুঁত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: «তিনি হাদিস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আধিক্য এবং বর্ণনা অর্জনে যত্নশীল হওয়ার ব্যাপারে এমন পর্যায়ে ছিলেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক সাথীদের কাছ থেকেও হাদিস গ্রহণ করতেন যাদের সাথে তিনি নিজের উস্তাদদের নিকট শ্রবণে অংশ নিতেন।» অতঃপর তিনি বলেন: «তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ ক্বারি, বর্ণনায় সূক্ষ্মতা রক্ষাকারী মহান ও নিখুঁত মুহাদ্দিস, সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি, উত্তম আচরণের অধিকারী এবং অত্যন্ত নেককার ও ফাজেল মানুষ। তাঁর সাথে যারই সাহচর্য হয়েছে বা তিনি যার সান্নিধ্যে গিয়েছেন, সে-ই তাঁর প্রশংসা করেছে» (৩)।
ইবনুল জুবায়ের বলেন: «তিনি প্রখ্যাত ক্বারি ও মুহাদ্দিসদের অন্যতম ছিলেন এবং বর্ণনার নিখুঁত ও সূক্ষ্ম সংরক্ষণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আরবী ভাষা, সাহিত্য এবং জটিল শব্দের জ্ঞানে তাঁর দক্ষতার পাশাপাশি বর্ণনার প্রাচুর্যের কারণে তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর অনেক সমসাময়িকদের থেকেও বর্ণনা গ্রহণ করেছেন» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقال ابن عبد الملك: «وكان من أئمة المقرئين المجوّدين، وجلة المحدّثين المسندين ثقة فيما يرويه، رضى مأمونا، متسع الرّواية، أخذ عن النّظير والكبير والصغير، حتى اجتمع له في القراءات ما لم يجتمع لغيره من نظرائه. وكان متفنّنا في علوم اللّسان، متقدّما في النحو واللغة منها» (1).
ووصفه الإمام الذهبي في «السير» بالشيخ الإمام البارع الحافظ المجّود المقرئ الأستاذ عالم الأندلس (2)، وقال في موضع آخر: «وكان مكثرا إلى الغاية تصدّر بإشبيلية للإقراء والتسميع وكان قائما على الصّناعتين، مبرزا فيهما، نحويا لغويا، ثقة رضى، إليه المنتهى في التحرير وإتقان الأصول» (3)، وأثنى عليه كل من ترجم له.
على أنني لاحظت من المقدمة التي كتبها لفهرسته عدم تمرسه بالحديث الشريف مع سعة روايته، فإنه يكثر من إيراد الأحاديث الموضوعة والتالفة من غير أن ينبّه عليها، وهي آفة استشرت بين العلماء المتأخرين. كما أشار ابن عبد الملك إلى بعض أوهامه التي مصدرها الغفلة التي يقتضيها النقص البشري (4).
فهرسة ابن خيرعني الكثير من العلماء بإثبات مروياتهم عن شيوخهم فكان كل محدّث يعنى بتدوين أسماء شيوخه الذين أخذ عنهم والمرويات التي سمعها منهم أو أجازوه بروايتها. وكان الكثير منهم يعيد تنظيم هذه المادة العلمية على وفق أساليب معينة، فمنهم من يعنى بترتيب أسماء شيوخه على حروف المعجم،
--------------------------------------------
ইবনে আব্দুল মালিক বলেন: "তিনি ছিলেন দক্ষ কারীদের ইমামদের অন্যতম, এবং সম্মানিত নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত, তিনি যা বর্ণনা করেন তাতে বিশ্বস্ত ছিলেন, সন্তোষভাজন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, তার বর্ণনার পরিধি ছিল ব্যাপক। তিনি সমসাময়িক, বড় এবং ছোট সবার কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, এমনকি কিরাআতশাস্ত্রে তার কাছে এমন কিছু জমা হয়েছে যা তার সমসাময়িক অন্য কারো নিকট জমা হয়নি। তিনি ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী ছিলেন এবং এর মধ্যে নাহু ও লুগাহ শাস্ত্রে অগ্রগামী ছিলেন" (১)।
ইমাম যাহাবি 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে তাকে শাইখ, ইমাম, পারদর্শী, হাফিজ, মুজাওয়িদ, কারী, উস্তায এবং আন্দালুসের আলিম হিসেবে বর্ণনা করেছেন (২)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: "তিনি বর্ণনার দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন, সেভিলে কিরাআত শিক্ষা প্রদান ও হাদিস শ্রবণের জন্য বসেন। তিনি উভয় শিল্পেই পারদর্শী ছিলেন এবং এগুলোতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন নাহুবিদ ও ভাষাবিদ, বিশ্বস্ত ও সন্তোষভাজন। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং মূলনীতিগুলো নিখুঁত করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের" (৩)। যারা তার জীবনী লিখেছেন তারা সবাই তার প্রশংসা করেছেন।
তবে আমি তার 'ফিহরিস'-এর জন্য লেখা ভূমিকা থেকে লক্ষ্য করেছি যে, তার বর্ণনার ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও হাদিস শরিফে তার তেমন ব্যুৎপত্তি ছিল না। কারণ তিনি কোনো সতর্কতা প্রদান ছাড়াই জাল ও অকেজো হাদিস অধিক মাত্রায় বর্ণনা করতেন, যা পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যাধি। যেমন ইবনে আব্দুল মালিক তার কিছু ভুলভ্রান্তির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার উৎস ছিল অসতর্কতা যা মানবিক অপূর্ণতার কারণে হয়ে থাকে (৪)।
ইবনে খায়েরের ফিহরিসঅনেক আলিমই তাদের শাইখদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রত্যেক মুহাদ্দিস তার শাইখদের নাম—যাদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন—এবং তাদের কাছ থেকে শোনা বর্ণনা বা যে সব বর্ণনার অনুমতি তারা তাকে দিয়েছেন, তা সংকলনে যত্নবান হতেন। তাদের মধ্যে অনেকে এই ইলমি বিষয়বস্তুগুলোকে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ী পুনরায় বিন্যস্ত করতেন। তাদের কেউ কেউ তাদের শাইখদের নাম অভিধানের বর্ণক্রম অনুযায়ী সাজাতে গুরুত্ব দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১১)
فيسميه أهل المشرق عندئذ «معجم الشيوخ» أو يذكرهم حسب وفياتهم أو تاريخ سماعه منهم، أو على البلدان التي سمع منهم فيها فتسمى عند أهل المشرق: «المشيخة». أما المغاربة فيطلقون على معجم الشيوخ والمشيخة اسم «البرنامج»، وهي لفظة فارسية معربة.
وأما الذين يعنون بذكر المرويات فيطلق عليه المشارقة لفظة «الثّبت» بفتح الثاء المثلثة والباء الموحدة، وأما المغاربة فيطلقون عليه: «الفهرسة»، وهي لفظة فارسية معربة أيضا (1). وأشار العلامة المحدث الكتاني إلى أن بعض أهل الأندلس قد يستعمل البرنامج بمعنى الفهرسة أيضا (2).
وواضح من «فهرسة ابن خير» التي نحققها أنها معنية بالمرويات، وليس بسير الشيوخ الذين أخذ عنهم ابن خير وذكر شيوخهم ومواليدهم ووفياتهم ونحو ذلك مما تحويه كتب التّراجم عادة، فقد بدأ الكتاب بمقدمة تناول فيها ضرورة العمل بما يحمله الطالب من العلم، وبذله لأهله لما في ذلك من الأجر العظيم والثواب الجزيل، وسبب تأليفه لهذا الفهرسة، وفضل العلم والعالم والمتعلم، وضرورة تقييد العلم بالأسانيد والكراهية لما كان عريا منها. ثم تناول فيها ما يتعين على طالب العلم عند الحمل والرّواية وعند التأدية والتبليغ، مبينا مراتب الرواية (طرق التحمل) من سماع، وعرض، ومناولة، وإجازة. ثم تقديم حسن النّية والعمل بما يتعلّم، وتبليغه إلى مستحقه، والعناية بتعلّم اللّغة العربية وإتقانها، والعناية بشيوخه؛ برا ورفقا بهم وتملّقا لهم ليستخرج منهم بذلك الفوائد. وتطرق فيها أيضا إلى وظائف التأدية من تحري الصّدق وتوقي التدليس والتزين بزينة التقوى، والتباعد عن التساهل
--------------------------------------------
তখন প্রাচ্যবাসীরা একে «মু'জামুশ শুয়ুখ» (শায়েখদের অভিধান) নামে অভিহিত করেন অথবা তাঁদের মৃত্যুর তারিখ বা তাঁদের থেকে শ্রবণের সময়ানুযায়ী তাঁদের উল্লেখ করেন, কিংবা যে দেশগুলোতে তাঁদের থেকে শ্রবণ করেছেন সেই দেশগুলোর ভিত্তিতেও সাজানো হয়, যাকে প্রাচ্যবাসীদের নিকট «মাশইয়াহাহ» বলা হয়। আর মাগরিববাসীরা (পশ্চিমারা) মু'জামুশ শুয়ুখ এবং মাশইয়াহাহ-কে «বারনামাজ» নামে অভিহিত করেন, যা একটি ফারসি শব্দ থেকে উদ্ভূত আরবিকৃত শব্দ।
আর যারা বর্ণিত বিষয়সমূহ (রিওয়ায়াত) উল্লেখ করার ব্যাপারে আগ্রহী, প্রাচ্যবাসীরা একে «আছ-ছাবাত» (ছা বর্ণে ফাতহা এবং বা বর্ণে ফাতহা সহযোগে) শব্দে অভিহিত করেন, আর মাগরিববাসীরা একে «আল-ফিহরিসাহ» নামে অভিহিত করেন, এটিও একটি ফারসি শব্দ থেকে উদ্ভূত আরবিকৃত শব্দ (১)। আল্লামা মুহাদ্দিস আল-কাত্তানি ইঙ্গিত করেছেন যে, কোনো কোনো আন্দালুসীয় অধিবাসী বারনামাজ শব্দটিকে ফিহরিসাহ অর্থেই ব্যবহার করে থাকেন (২)।
ইবনে খায়র-এর «ফিহরিসাহ» যা আমরা সম্পাদনা করছি, তা থেকে এটি স্পষ্ট যে এটি বর্ণিত বিষয়সমূহ (রিওয়ায়াত) নিয়েই রচিত, এটি সেই সব শায়েখদের জীবনী নিয়ে নয় যাদের নিকট থেকে ইবনে খায়র জ্ঞান অর্জন করেছেন। এতে তাঁদের উস্তাদদের নাম, তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা হয়নি যা সাধারণত জীবনীগ্রন্থগুলোতে (কুতুবুত তারাজিম) থাকে। লেখক গ্রন্থটি একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন যাতে তিনি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সেই জ্ঞান বিলিয়ে দেওয়ার গুরুত্ব আলোচনা করেছেন, কারণ এতে রয়েছে মহান প্রতিদান ও প্রচুর সওয়াব। আরও উল্লেখ করেছেন এই ফিহরিসাহ সংকলনের কারণ, জ্ঞান, জ্ঞানী ও শিক্ষার্থীর মর্যাদা এবং সনদ বা সূত্র সহকারে জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এবং সনদবিহীন জ্ঞানের প্রতি অপছন্দনীয়তা। এরপর তিনি এতে একজন জ্ঞানপিপাসুর জ্ঞান অর্জন ও বর্ণনার সময় এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় কী কী করণীয়, তা আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা, উপস্থাপন (আরদ), হস্তান্তর (মুনাওয়ালাহ) এবং অনুমতির (ইজাজাহ) মতো বর্ণনার স্তরগুলো (তুরুকুল তাহাম্মুল) বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন নিয়তের বিশুদ্ধতা, যা শিক্ষা করা হয় তা অনুযায়ী আমল করা, যোগ্য পাত্রে তা পৌঁছে দেওয়া এবং আরবি ভাষা শেখা ও তাতে দক্ষতা অর্জনের প্রতি যত্নশীল হওয়া। সেই সাথে নিজ শায়েখদের প্রতি যত্নবান হওয়া; তাঁদের সাথে সদাচরণ ও নম্রতা প্রদর্শন এবং তাঁদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা যাতে তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞানীয় উপকারিতা লাভ করা যায়। তিনি সেখানে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার (তাদিয়া) কার্যাবলি নিয়েও আলোচনা করেছেন, যেমন সত্যবাদিতা অনুসন্ধান করা, জালিয়াতি (তাদলিস) পরিহার করা, তাকওয়ার ভূষণে সজ্জিত হওয়া এবং শিথিলতা থেকে দূরে থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১২)
في الأمور. وعني فيها بشرح رواية الحديث نصا وبالمعنى، فهي مقدمة في آداب طلبة العلم ورواته وبعض مصطلح الحديث.
وحين انتهى من هذه المقدمة ابتدأ بمقصود الكتاب، وهو ذكر المصنّفات التي سمعها على شيوخه أو أجازوه بها، فابتدأ بعلوم القرآن والقراءات، وثنّى بذكر الموطآت وما يتصل بها، ثم المصنفات والمسانيد وسائر كتب الحديث وعلومه، من شرح لغريبه وبيان علله والمصنفات المؤلفة في معرفة رجاله، ثم كتب السّير والأنساب والتواريخ ونحوها. وتناول بعدها كتب الفقه وأصوله، وأصول الدين والزّهد والرّقائق لا سيما كتب ابن أبي الدنيا وأبي سعيد ابن الأعرابي وأبي بكر الآجري وأبي ذر الهروي. وتناول بعد ذلك كتب اللّغة والأدب والشعر، والعناية بما حمله أبو عليّ البغدادي منها إلى بلاد الأندلس. ثم ذكر بعض مؤلفات المشهورين. وتناول في آخر الكتاب: تفسير الإجازة العامة، وختم الكتاب بذكر أسماء شيوخه الذين روى عنهم أو أجازوا له مرتّبين حسب المدن.
هذا هو محتوى كتاب «الفهرسة» لابن خير على وجه الإجمال، يذكر اسم الكتاب أو صفته، ومؤلفه، ثم الطريقة التي تحمّله فيها.
والسؤال الآن: هل ألّف ابن خير هذا الكتاب أم ألّف كتابا آخر لشيوخه أطلق عليه اسم «البرنامج» أم إن البرنامج الذي يشير إليه بعض من أرخ له هو هذا الكتاب؟
والذي تحصّل عندي أنّ ابن خير ألف كتابين أحدهما لشيوخه وصفه ابن الأبار بقوله: «وعدد من سمع منه أو كتب إليه نيّف ومئة رجل قد احتوى على أسمائهم برنامج له ضخم في غاية الاحتفال والإفادة لا يعلم لأحد من طبقته مثله. وقد كتبت منه في هذا المصنف ما نسبته إليه» (1)، ثم ذكر فهرسته فقال: «وقال جابر بن أحمد القرشي: كتب إليّ يعني ابن خير يخبرني أن فهرسته عشرة
--------------------------------------------
বিষয়াবলীতে। এতে তিনি হাদীস বর্ণনার পাঠ্যগত ও অর্থগত ব্যাখ্যা প্রদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি ইলম অন্বেষণকারী ও বর্ণনাকারীদের আদব এবং হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় পরিভাষা সংক্রান্ত একটি ভূমিকা।
এই ভূমিকা সম্পন্ন করার পর তিনি গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য শুরু করেন, আর তা হলো—সেসব গ্রন্থের উল্লেখ যা তিনি তাঁর শায়খদের থেকে শুনেছেন অথবা যেগুলোর ব্যাপারে তাঁরা তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তিনি উলূমুল কুরআন ও কিরাআত দ্বারা শুরু করেছেন; এরপর মুয়াত্তা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর মুসান্নাফাত, মাসানিদ এবং হাদীসের অন্যান্য গ্রন্থ ও উলূমুল হাদীস—যেমন গরীব হাদীসের ব্যাখ্যা, ইলাল বর্ণনা এবং রিজাল শাস্ত্রীয় গ্রন্থাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর সীরাত, বংশপরম্পরা, ইতিহাস ও সমজাতীয় গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি ফিকহ ও উসূলে ফিকহ, উসূলে দ্বীন, যুহদ এবং রাকায়েকের কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন; বিশেষ করে ইবন আবিদ দুনইয়া, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী, আবু বকর আল-আজুরি এবং আবু যার আল-হারাবীর গ্রন্থসমূহ। এরপরে তিনি ভাষা, সাহিত্য ও কবিতার গ্রন্থগুলো আলোচনা করেছেন এবং আবু আলী আল-বাগদাদী সেখান থেকে যা কিছু আন্দালুস ভূখণ্ডে নিয়ে এসেছিলেন সেগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। অতঃপর তিনি কতিপয় প্রসিদ্ধ লেখকের রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থের শেষে তিনি সাধারণ ইজাযতের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং পরিশেষে তাঁর সেসব শায়খদের নাম উল্লেখ করে গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন, যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন অথবা যাঁরা তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন, এবং তাঁদের নামগুলো শহর অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।
এটিই হলো ইবনে খাইরের 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত রূপ; এতে তিনি গ্রন্থের নাম বা বৈশিষ্ট্য, লেখকের নাম এবং তারপর সেটি তাঁর নিকট পৌঁছানোর পদ্ধতি উল্লেখ করেন।
এখন প্রশ্ন হলো: ইবনে খাইর কি এই গ্রন্থটিই রচনা করেছেন, নাকি তিনি তাঁর শায়খদের জন্য 'আল-বারনামাজ' নামে অন্য কোনো গ্রন্থ রচনা করেছিলেন? অথবা তাঁর জীবনীকারদের কেউ কেউ যে 'বারনামাজ' এর কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি কি এই গ্রন্থটিই?
আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, ইবনে খাইর দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। একটি তাঁর শায়খদের সম্পর্কে, যেটির বর্ণনায় ইবনুল আব্বার বলেন: "যাঁদের থেকে তিনি শুনেছেন অথবা যাঁরা তাঁকে লিখেছেন তাঁদের সংখ্যা একশ'রও বেশি; তাঁর একটি বিশাল 'বারনামাজ' তাঁদের নামসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও তথ্যবহুল, যার সমতুল্য তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো জানা নেই। আমি এই সংকলনে তাঁর থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছি তা সেই কিতাব থেকেই নিয়েছি" (১)। অতঃপর তিনি তাঁর 'ফিহরিস্ত' সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন: "জাবির বিন আহমাদ আল-কুরাশী বলেন: ইবনে খাইর আমাকে লিখে জানিয়েছেন যে, তাঁর 'ফিহরিস্ত' হলো দশটি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أجزاء كل جزء منها ثلاثون ورقة» (1).
والدليل على ذلك أنّ ابن عبد الملك نقل عن برنامجه أشياء لا توجد في فهرسته نحو قوله في ترجمة محمد بن أحمد بن عبد الرحمن بن محرز السماني الألشي: «قال ابن خير: سألته عن مولده فقال لي: ولدت سحر ليلة الاثنين لعشر خلون من جمادى الآخرة سنة تسع وسبعين وأربع مئة قبل كائنة الزلاقة بشهر، وتوفي صبيحة يوم الثلاثاء أول يوم من جمادى الآخرة سنة تسع وستين وخمس مئة فكمل له من العمر تسعون سنة وعشرة أيام. روى عنه ابن خير ونجبه بن يحيى. . . الخ» (2)، فهذا لا ذكر له في فهرسة ابن خير.
ومنها أيضا: أن ابن الأابار نقل عن ابن خير وفاة أحمد بن عبد الله بن جابر ابن صالح الأزدي (3)، وليس من ذلك شيء في الفهرسة.
ومن ذلك قوله في ترجمة أحمد بن محمد بن عبد الرحمن بن خاطب الباجي: «وحكى ابن خير أنه لقيه بباجة في سنة ست وثلاثين وخمس مئة وحضر مجلسه واستجازه، فأجاز له ما يحمله عن ابن أبي العافية وغيره من شيوخه، قال: وتوفي ليلة الأربعاء قريبا من نصف جمادى الآخرة سنة اثنتين وأربعين وسنه نحو الثمانين» (4)، ولا ذكر لمثل هذا في الفهرسة.
ومن ذلك أنه نقل ترجمة مفصّلة لشيخ ابن خير: محمد بن خلف بن صاعد الغساني الشّلبي المعروف باللّبلي، وقال: «وتوفي ظهر يوم الخميس لليلتين خلتا من جمادى الآخرة سنة سبع وأربعين وخمس مئة ودفن يوم الجمعة بعده. ذكره ابن خير» (5)، ولا وجود لمثل هذا في فهرسته أيضا.
--------------------------------------------
খন্ডসমূহ, যার প্রতিটি খন্ডে ত্রিশটি পাতা রয়েছে (১)।
এর প্রমাণ হলো এই যে, ইবনে আব্দুল মালিক তাঁর ‘বারনামাজ’ (তালিকাপত্র) থেকে এমন কিছু বিষয় উদ্ধৃত করেছেন যা তাঁর ‘ফিহরিস’ (সূচীপত্র)-এ পাওয়া যায় না। যেমন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহরিজ আস-সাম্মানি আল-আলশি-এর জীবনীতে তাঁর উক্তি: "ইবনে খায়র বলেন: আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বললেন: আমি ৪৭৯ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার রাতে সেহরির সময় জন্মগ্রহণ করেছি, যা জাল্লাকার যুদ্ধের এক মাস পূর্বের ঘটনা। আর তিনি ৫৬৯ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে ইন্তেকাল করেন। ফলে তাঁর বয়স পূর্ণ নব্বই বছর দশ দিন হয়েছিল। ইবনে খায়র এবং নুজাবাহ ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন... ইত্যাদি" (২)। সুতরাং ইবনে খায়রের ‘ফিহরিস’-এ এর কোনো উল্লেখ নেই।
এর আরেকটি প্রমাণ হলো: ইবনে আল-আব্বার ইবনে খায়র থেকে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাবির ইবনে সালিহ আল-আজদি-এর মৃত্যু সম্পর্কে উদ্ধৃত করেছেন (৩), অথচ ‘ফিহরিস’-এ এর কিছুই নেই।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাতিব আল-বাজি-এর জীবনীতে তাঁর বক্তব্য: "ইবনে খায়র বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ৫৩৬ হিজরিতে বাজা নামক স্থানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর মজলিসে উপস্থিত হন এবং তাঁর কাছে ইজাজত প্রার্থনা করেন। ফলে তিনি তাঁকে ইবনে আবু আল-আফিয়া এবং তাঁর অন্যান্য শায়খদের থেকে যা কিছু তিনি বর্ণনা করেন, তার ইজাজত প্রদান করেন। তিনি বলেন: আর তিনি ৫৪২ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসের মাঝামাঝি সময়ে বুধবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর বয়স ছিল প্রায় আশি বছর" (৪)। ‘ফিহরিস’-এ এরও কোনো উল্লেখ নেই।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো যে, তিনি ইবনে খায়রের উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে সাঈদ আল-গাসসানি আশ-শালবি—যিনি আল-লুবলি নামে পরিচিত—তাঁর একটি বিস্তারিত জীবনী উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ৫৪৭ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন শুক্রবার তাঁকে দাফন করা হয়। ইবনে খায়র এটি উল্লেখ করেছেন" (৫)। অথচ তাঁর ‘ফিহরিস’-এও এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن ذلك قوله في ترجمة عبد الله بن عيسى بن عبد الله بن أحمد بن سليمان الشّلبي: «توفي بهراة في جمادى الآخرة من سنة إحدى وخمسين وخمس مئة
… وقرأت وفاته بخط ابن خير» (1).
وسماه ابن الأبار تارة: مشيخة ابن خير (2)، وسمّاه تارة أخرى: برنامج ابن خير (3).
ونقل ابن الأبار في ترجمة أحمد بن محمد بن موسى بن عطاء الله الصنهاجي أبي العباس ابن العريف من «المعجم» أبياتا من الشعر ثم قال: «وهذه الأبيات أنشد أبو بكر بن خير في برنامجه أربعة منها، وقال: سألته أن يجيز لي جميع ما رواه وألّفه وأجاب فيه وجميع منثوره ومنظومه فأجاز لي ذلك كله في ذي القعدة سنة أربع وثلاثين وخمس مئة» (4).
وهذا صريح بأن البرنامج غير هذه الفهرسة، ولعل فيما قدمناه كفاية لبيان ذلك.
ومن الجدير بالذكر أنّ جابر بن أحمد بن إبراهيم القرشي الحسني قد ألّف مشيخة لابن خير الإشبيلي نقل منها ابن الأبار في «التكملة» فقال في ترجمة شيخ ابن خير أحمد بن عليّ بن أحمد بن رزقون القيسي: «وقال جابر بن أحمد القرشي في مشيخة ابن خير من تأليفه أنه توفي في حدود سنة خمس وأربعين وخمس مئة عن سن عالية» (5).
وجابر بن أحمد هذا ترجمه ابن الأبار في «التكملة» فقال: «جابر بن أحمد بن إبراهيم القرشي الحسني، من أهل تلمسان يكنى أبا الحسن. . . وكان من أهل العناية بالرّواية والمعرفة بأسماء الرجال». وذكر تأليفه لمشيخة ابن خير فقال: «وجمع مشيخة ابن خير على حروف المعجم فافاد بها»، ولم يذكر تاريخ وفاته
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো আবদুল্লাহ বিন ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন সুলাইমান আশ-শালবির জীবনীবৃত্তান্তে তাঁর বক্তব্য: «তিনি পাঁচশত একান্ন হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে হেরাতে ইন্তেকাল করেন
… এবং আমি ইবনে খাইরের হস্তাক্ষরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পড়েছি» (১)।
ইবনে আল-আব্বাব এটিকে কখনো: মাশইয়াখাতু ইবনে খাইর (২) এবং অন্য সময়ে: বারনামাজু ইবনে খাইর (৩) নামে অভিহিত করেছেন।
এবং ইবনে আল-আব্বাব 'আল-মু'জাম' গ্রন্থে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আতাউল্লাহ আস-সানহাজি আবুল আব্বাস ইবনুল আরিফের জীবনীবৃত্তান্তে কিছু পঙক্তি বর্ণনা করে বলেছেন: «এই পঙক্তিগুলোর মধ্যে চারটি আবু বকর ইবনে খাইর তাঁর 'বারনামাজ'-এ পাঠ করেছেন এবং বলেছেন: আমি তাঁর কাছে আবেদন করেছিলাম যেন তিনি তাঁর বর্ণিত, রচিত ও জবাবকৃত সব কিছু এবং তাঁর সকল গদ্য ও পদ্যের জন্য আমাকে অনুমতি প্রদান করেন। ফলে তিনি পাঁচশত চৌত্রিশ হিজরি সালের জিলকদ মাসে আমাকে সেই সব কিছুর অনুমতি প্রদান করেন» (৪)।
আর এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, 'বারনামাজ' এই 'ফিহরিসাত' (তালিকা) থেকে ভিন্ন একটি গ্রন্থ; সম্ভবত আমরা যা পেশ করেছি তা বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
এটিও উল্লেখ্য যে, জাবির বিন আহমদ বিন ইবরাহিম আল-কুরাশি আল-হাসানি ইবনে খাইর আল-ইশবিলির জন্য একটি 'মাশইয়াখা' সংকলন করেছেন, যা থেকে ইবনে আল-আব্বাব 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি ইবনে খাইরের উস্তাদ আহমদ বিন আলি বিন আহমদ বিন রিজকুন আল-কায়সির জীবনীবৃত্তান্তে বলেন: «জাবির বিন আহমদ আল-কুরাশি তাঁর সংকলিত 'মাশইয়াখাতু ইবনে খাইর'-এ বলেছেন যে, তিনি পাঁচশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সালের দিকে বার্ধক্যজনিত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন» (৫)।
আর এই জাবির বিন আহমদের জীবনীবৃত্তান্ত ইবনে আল-আব্বাব 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «জাবির বিন আহমদ বিন ইবরাহিম আল-কুরাশি আল-হাসানি, তিলিমসান এলাকার অধিবাসী, তাঁর উপনাম আবুল হাসান... তিনি হাদিস বর্ণনা এবং আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও যত্নবান ছিলেন।’ তিনি ইবনে খাইরের মাশইয়াখা সংকলন করার কথা উল্লেখ করে বলেন: ‘তিনি ইবনে খাইরের মাশইয়াখাকে অভিধানের বর্ণানুক্রমে সংকলন করেছেন এবং এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেছেন», তবে তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لكنه رأى السّماع منه بإشبيلية في سنة (578) هـ، وذكره التّجيبي في معجم شيوخه وذكر أنه توفي بتلمسان (1).
وأستبعد أن تكون النّقول التي أشرت إليها آنفا مما ورد في هذه المشيخة لعدم التصريح بها من جهة، ولذكر ابن الأبار في بعضها أنه ينقل من برنامج ابن خير، ومن ثم فإن هذا لا يعكّر على ما ذهبت إليه.
وصف النسخة الخطيةهي نسخة فريدة محفوظة في مكتبة الإسكوريال بإسبانيا، تقع في (155) ورقة ذات وجهين مسطرتها (23) سطرا، كتبت في العشرين من شهر رمضان سنة (712) هـ ولم يذكر اسم ناسخها، وهي خلو من العنوان بالخط الذي كتبت به النسخة، بل جاء بخط أحدث، وعلى النسخة بعض التملكات.
ويظهر من كثرة الأخطاء الواقعة فيها أن ناسخها قليل المعرفة بالعلم الذي ينسخه، كما أنّه لم يقابل النسخة على الأصل المنتسخ منه يدل على ذلك عدم وجود أثر للمقابلة، فضلا عن أننا لم نقف في حواشي النسخة على ما يشير إلى أن أحدا من العلماء المعروفين قد قرأها أو قرئت عليه وصحّح ما فيها من أخطاء، فجاءت النسخة كثيرة التصحيف والتحريف والسّقط مما أتعبنا في تتبع كل ذلك.
وعلى هذه النّسخة الفريدة نشر المستشرق الإسباني كوديرا وتلميذه طرغوه الكتاب سنة (1893) م وطبع في مطبعة قومش بسرقسطة، وقدّما لها بمقدمة لاتينية، وهي نشرة راعت نقل النّسخة على ما هي عليها من كثرة التصحيف والتحريف، ولم يكن في مكنتهم إصلاح ما فيها من خلل لقلة خبرتهم بطبيعة التّراث العربي ولا سيما في تلك الأزمان التي لم تكن كثير من أمهات الكتب
--------------------------------------------
কিন্তু তিনি ৫৭৮ হিজরি সালে সেভিলে (ইশবিলিয়া) তাঁর কাছ থেকে শ্রবণের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আত-তুজিবি তাঁর 'মু'জামু শুইউখ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি তিলিমসানে মৃত্যুবরণ করেছেন (১)।
আর আমি মনে করি যে, আমি ইতিপূর্বে যে উদ্ধৃতিগুলোর দিকে ইশারা করেছি সেগুলো এই 'মাশইয়াখা' থেকে আসার সম্ভাবনা কম। এর কারণ একদিকে যেমন এতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, অন্যদিকে ইবনুল আব্বার এর কোনো কোনো অংশে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইবনে খায়েরের 'বারনামাজ' থেকে উদ্ধৃত করছেন। ফলে এটি আমার মতের বিপরীতে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করে না।
পাণ্ডুলিপির বিবরণএটি স্পেনের এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি। এটি ১৫৫টি দ্বিমুখী পাতার সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পাতায় ২৩টি লাইন রয়েছে। এটি ৭১২ হিজরির ২০ রমজান তারিখে লেখা হয়েছে, তবে এর অনুলিপিকারের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাণ্ডুলিপিটি যে লিপিতে লেখা হয়েছে তাতে কোনো শিরোনাম ছিল না, বরং পরবর্তীকালে ভিন্ন হাতে শিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটির ওপর কিছু মালিকানা স্বত্বের স্বাক্ষর বিদ্যমান।
এতে বিদ্যমান প্রচুর ভুল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এর অনুলিপিকার যে শাস্ত্রটি অনুলিপি করছিলেন সে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল সামান্য। তদুপরি, তিনি পাণ্ডুলিপিটিকে মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখেননি, যার প্রমাণ হলো এতে পাঠ-পর্যালোচনার কোনো চিহ্ন নেই। তাছাড়া আমরা পাণ্ডুলিপির প্রান্তিক টীকাগুলোতে এমন কোনো কিছুর দেখা পাইনি যা ইঙ্গিত করে যে, কোনো প্রখ্যাত আলেম এটি পাঠ করেছেন বা কারো সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং এর ভুলগুলো সংশোধন করা হয়েছে। ফলে পাণ্ডুলিপিটি প্রচুর শব্দগত পরিবর্তন, বিকৃতি এবং পাঠ্যচ্যুতির শিকার হয়েছে, যা এই সবকিছু অনুসন্ধান ও উদ্ধারে আমাদের যথেষ্ট পরিশ্রান্ত করেছে।
এই অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করেই স্পেনীয় প্রাচ্যবিদ কোডেরা এবং তাঁর ছাত্র টরগো ১৮৯৩ সালে বইটি প্রকাশ করেন এবং এটি সারাগোসার গোমেজ প্রেসে মুদ্রিত হয়। তাঁরা এতে একটি ল্যাটিন ভূমিকা যুক্ত করেন। এই প্রকাশনাটিতে পাণ্ডুলিপিটিকে তার প্রচুর শব্দগত পরিবর্তন ও বিকৃতির অবস্থাতেই অবিকল নকল করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরবি ঐতিহ্যের প্রকৃতি সম্পর্কে বিশেষত সেই সময়ে তাঁদের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে এতে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো সংশোধন করা তাঁদের সামর্থ্যে ছিল না, যখন অনেক মূল আকর গ্রন্থসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العربية قد طبعت. على أن عملهم كان متميزا في حينه قد بذل فيه من الجهد المحمود ما يتعين تقديره والإشادة به إذا راعينا الزمن الذي نشر فيه.
ثم قام المصريون بإعادة طبع الكتاب على طبعة كوديرا وتلميذه، ولم يكلف أحد نفسه بالاطلاع على النّسخة الخطية أو مراجعة الأخطاء الكثيرة التي وقعت فيها، فنشرتها مكتبة الخانجي والهيئة المصرية العامة وإبراهيم الأبياري.
إنّ كثرة الأخطاء وجسامتها ومتابعة النّشرة الإسبانية متابعة عمياء أوقع الناشرين العرب بأخطاء لا يقع فيها من له أدنى معرفة بهذا العلم مع دعاواهم الكاذبة بالمراجعة والمقابلة والضّبط والتصحيح. ولعلي أضرب لذلك مثلا واحدا له مئات نظائر يستعظم على طالب علم مبتدئ أن يقع فيه، وذلك عند ذكر الشاعر الشهير الشريف الرضي فقد جاء اسمه في جميع النشرات كما يأتي: «. . . أبي الحسين محمد بن موسى بن إبراهيم بن موسى بن جعفر بن محمد بن علي بن إبراهيم بن أبي طالب».
وفي هذا الاسم المشهور أربعة أخطاء يعرفها من له أدنى معرفة بالتراث العربي:
أولا: فهو يكنى أبا الحسن، فتحرفت كنيته إلى «أبي الحسين».
ثانيا: موسى اسم جده، فهو محمد بن الحسين بن موسى، فسقط اسم الحسين وهو اسم أبيه.
ثالثا: قوله: علي بن إبراهيم، وإنما هو علي بن الحسين.
رابعا: قوله: إبراهيم بن أبي طالب، وإنما هو الحسين بن علي بن أبي طالب.
فتأمل هذا الجهل المدقع الذي وقع فيه مثل إبراهيم الأبياري الذي يزعم أنه من أهل المعرفة بالعربية ودعاواه الفارغة في تصحيح الكتب ونشرها بهذه الصورة المخجلة، غفر الله لهم على ما اقترفوا بحق تراث الأمة.
আরবি প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ে তাদের কাজটি ছিল অনন্য এবং এতে এমন প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছিল যা তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ণ ও প্রশংসার দাবি রাখে।
অতঃপর মিশরীয়রা কোডেরা ও তার ছাত্রের সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে বইটি পুনরায় মুদ্রণ করে। কিন্তু কেউ মূল পাণ্ডুলিপি দেখে নেওয়ার কিংবা এতে বিদ্যমান অসংখ্য ভুলগুলো পর্যালোচনার কষ্টটুকু করেনি। ফলে আল-খানজি লাইব্রেরি, মিশরীয় জেনারেল অথরিটি এবং ইব্রাহিম আল-আবিয়ারি এটি প্রকাশ করেন।
ভুলের আধিক্য ও ভয়াবহতা এবং স্প্যানিশ সংস্করণের অন্ধ অনুসরণের কারণে আরব প্রকাশকরা এমন সব ভুল করেছেন যা এই শাস্ত্র সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান রাখা কোনো ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব নয়; অথচ তারা বইটির পর্যালোচনা, মূলের সাথে তুলনা, যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের মিথ্যা দাবি করেছিলেন। আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি যার শত শত নমুনা রয়েছে এবং যে ভুল করা কোনো প্রাথমিক স্তরের ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীর জন্যও দুষ্কর। সেটি হলো বিখ্যাত কবি আশ-শরীফ আর-রাদীর নাম বর্ণনায়; তার নাম সকল সংস্করণে এভাবে এসেছে: "... আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন ইব্রাহিম বিন মুসা বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন ইব্রাহিম বিন আবি তালিব।"
এই সুপরিচিত নামটিতে চারটি ভুল রয়েছে যা আরবি ঐতিহ্য সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিও অনুধাবন করবেন:
প্রথমত: তার উপনাম (কুনিয়াত) হলো 'আবুল হাসান', কিন্তু তা বিকৃত হয়ে 'আবুল হুসাইন' হয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত: মুসা হলো তার দাদার নাম; তিনি হলেন 'মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুসা'। এখানে 'আল-হুসাইন' নামটি বাদ পড়েছে যা ছিল তার পিতার নাম।
তৃতীয়ত: সেখানে বলা হয়েছে 'আলি বিন ইব্রাহিম', অথচ তা হবে 'আলি বিন আল-হুসাইন'।
চতুর্থত: সেখানে বলা হয়েছে 'ইব্রাহিম বিন আবি তালিব', অথচ তা হবে 'আল-হুসাইন বিন আলি বিন আবি তালিব'।
ইব্রাহিম আল-আবিয়ারির মতো ব্যক্তিদের এই চরম অজ্ঞতার কথা চিন্তা করুন, যিনি নিজেকে আরবি ভাষায় বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন। এই লজ্জাজনক পদ্ধতিতে কিতাব সংশোধন ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তার অন্তঃসারশূন্য দাবিগুলোর কথা ভাবুন। উম্মাহর ঐতিহ্যের প্রতি তারা যে অপরাধ করেছেন, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
نهج العمل في التحقيق:لما كانت النّسخة التي أقمنا عليها التّحقيق نسخة فريدة يكثر فيها التّحريف والتصحيف ولا يمكن الركون إليها والاعتماد عليها كلية، كان لا بد من بذل مزيد من الجهد لضبط النّص وإصلاح ما فيه من خلل. ومما زاد في صعوبة الأمر أنّ الناقلين من فهرسة ابن خير كانوا قلّة، وفي مقدمتهم ابن الأبار الذي نقل عشرات النصوص فقط مما لا يغني في تصحيح الكتاب كله.
ومن هنا كان لا بد من اتباع قاعدة «الشك قبل اليقين»، وذلك بعرض الأسماء التي نشك في صحتها أو لا نحفظها، وهي ليست قليلة، على كتب التّراجم المتقنة للتأكد من صحتها، فإذا كانت صحيحة سكتنا، وإن وقفنا فيها على تحريف أو تصحيف علّقنا.
لقد اضطررنا إلى عمل فهارس للكتاب قبل تحقيقه، ذلك أنّ الفهارس تكشف الأخطاء حين تتكرر الأسماء بصيغ مختلفة، فأعاننا ذلك على التصحيح والوصول إلى نص أكثر صحة.
كما رأينا من المفيد أن نعرّف تعريفا وجيزا بأسماء مؤلفي المصنّفات وعرضها على بعض المصادر وفي مقدمتها «تاريخ الإسلام» للذهبي بتحقيقنا، دفعا لأي لبس قد يقع.
ثم تتبعنا شيوخ ابن خير في جميع الكتاب ونظمنا بهم بطاقات قبل التحقيق، وعرضناهم على المصادر المتقنة مثل الصلة لابن بشكوال (وبين يدي إضافة إلى النسخة المطبوعة أربع نسخ خطية منها)، والتكملة لابن الأبار، وعندي منها نسخ خطية أيضا، وتاريخ الإسلام الناقل عن هذين الكتابين المهمين، فضلا عن موارد أخرى منها: الذيل لابن عبد الملك وصلة الصلة لابن الزبير، وغيرها.
সম্পাদনার কর্মপদ্ধতি:যেহেতু আমরা যে পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এই সম্পাদনা কার্য পরিচালনা করেছি সেটি একটি অনন্য কপি (একমাত্র পাণ্ডুলিপি), যাতে প্রচুর বিকৃতি ও লিখনপ্রমাদ বিদ্যমান এবং এর ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা সম্ভব নয়, তাই পাঠ্যটিকে সুসংহত করতে এবং এতে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ সংশোধনের জন্য অধিকতর প্রচেষ্টা ব্যয় করা অপরিহার্য ছিল। বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছে এই যে, ইবনে খায়েরের ‘ফিহরিস্ত’ থেকে উদ্ধৃতি দানকারীর সংখ্যা ছিল নগণ্য; তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন ইবনে আল-আববার, যিনি মাত্র কয়েক ডজন পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন যা পুরো কিতাবটি সংশোধনের জন্য যথেষ্ট নয়।
এখান থেকেই ‘নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে সংশয়’—এই নীতিটি অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, যেসব নাম আমাদের কাছে সঠিক বলে সন্দেহ হয়েছে অথবা আমাদের মুখস্থ ছিল না (এবং এমন নামের সংখ্যা কম নয়), সেগুলোকে সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সুবিন্যস্ত জীবনী গ্রন্থসমূহের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি সেগুলো সঠিক পাওয়া গেছে তবে আমরা নীরব থেকেছি, আর যদি সেখানে কোনো বিকৃতি বা লিখনপ্রমাদ লক্ষ করেছি, তবে সে বিষয়ে টীকা প্রদান করেছি।
আমরা কিতাবটি সম্পাদনার পূর্বেই এর নির্ঘণ্ট তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ, নির্ঘণ্ট ব্যবহারের ফলে যখন একই নাম বিভিন্ন রূপে বারবার আসে, তখন ভুলগুলো ধরা পড়ে। এটি আমাদের সংশোধনে এবং একটি অধিকতর নির্ভুল পাঠ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
তদুপরি আমরা কিতাবসমূহের লেখকদের নামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করা এবং কোনো প্রকার বিভ্রান্তি নিরসনে সেগুলো কিছু উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখা উপযোগী মনে করেছি, যার শীর্ষে রয়েছে আমাদেরই সম্পাদিত ইমাম যাহাবীর ‘তারিখুল ইসলাম’।
অতঃপর আমরা পুরো কিতাবে ইবনে খায়েরের উস্তাদদের অনুসরণ করেছি এবং সম্পাদনার পূর্বে তাঁদের তথ্য সম্বলিত কার্ড তৈরি করেছি। আমরা তাঁদেরকে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যেমন: ইবনে বাশকুওয়ালের ‘আস-সিলাহ’ (মুদ্রিত কপির পাশাপাশি যার চারটি পাণ্ডুলিপি আমাদের হাতে রয়েছে), ইবনে আল-আব্বারের ‘আত-তাকমিলা’ (এরও পাণ্ডুলিপি আমাদের নিকট আছে) এবং ‘তারিখুল ইসলাম’ যা এই গুরুত্বপূর্ণ কিতাবদ্বয় থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে। এছাড়াও অন্যান্য সূত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে: ইবনে আব্দুল মালিকের ‘আয-যাইল’ এবং ইবনে আয-যুবায়েরের ‘সিলাতুস সিলাহ’ প্রভৃতি।
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولم يكن هذا الأمر هينا فالمؤلف يذكر شيوخه وبعض الأسماء بصيغ مختلفة، فيذكرهم بكناهم وشهرتهم تارة، وينسبهم إلى أحد أجدادهم البعيدين تارة أخرى فهو يقول مثلا: «أحمد بن محمد بن بقي» ويريد به: «أحمد بن محمد ابن أحمد بن مخلد بن عبد الرحمن بن أحمد بن بقي»، ويقول: «أحمد بن عمر» ويريد به «أحمد بن محمد بن عمر» ويقول: «علي بن خلف الفقيه القابسي»، وإنما هو: «علي بن محمد بن خلف»، ويقول: «دعلج بن عبد الرحمن»، وإنما هو: «دعلج بن أحمد بن دعلج بن عبد الرحمن»، وهلم جرّا.
وقد انقلبت على الناسخ الكثير من الأسماء استطعنا بحمد الله ومنه كتابتها على الصواب بعد التدقيق والمراجعة.
ولا أراني بحاجة إلى ذكر ما عانينا في ضبط هذا النص المضطرب، وتفصيله لإظهار دلالاته ومعانيه، من وضع الفواصل والنقط وبداية الفقرات.
وقد رأيت أن أضع أرقاما مسلسلة لأسماء الكتب والأجزاء التي قرأها المؤلف على شيوخه أو أجازوه بها، وجعلت اسم المؤلف بخط غامق إظهارا له، ووضعت أرقام أوراق النسخة الخطية في حاشية الكتاب مع إشارة بخط مائل في داخل النص لإظهار بداية الصفحة، ورمزت لوجه الورقة الخطية بالحرف «أ» ولظهرها بالحرف «ب»، تمكينا للقارئ العالم من المراجعة عند الضرورة.
ويلاحظ القارئ أننا كتبنا الأسماء بالإملاء الحديث، ونسّاخ المخطوطات في تلك الأعصر يستعملون صيغا في الكتابة غير مستعملة في عصرنا فلا بد من تغييرها. ويلاحظ أيضا أننا كتبنا الأسماء المنتهية ب «ويه» على طريقة المحدّثين وليس على طريقة النّحويين، فالمحدّثون يضبطون «نفطوية» بضم الطاء وسكون الواو وفتح الياء آخر الحروف واعتبار الهاء تاء مربوطة، أما
এই বিষয়টি সহজ ছিল না, কারণ লেখক তাঁর শাইখদের এবং কিছু নাম বিভিন্নরূপে উল্লেখ করেছেন। কখনও তিনি তাঁদের উপনাম ও প্রসিদ্ধ নামে উল্লেখ করেছেন, আবার কখনও তাঁদের কোনো দূরবর্তী পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন: "আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বাকি", অথচ এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: "আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাখলাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন বাকি"। তিনি বলেন: "আহমদ বিন উমর", অথচ এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন "আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর"। তিনি বলেন: "আলী বিন খালাফ আল-ফকিহ আল-কাবেসি", অথচ তিনি হলেন: "আলী বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ"। তিনি বলেন: "দা'লাজ বিন আব্দুর রহমান", অথচ তিনি হলেন: "দা'লাজ বিন আহমদ বিন দা'লাজ বিন আব্দুর রহমান", এবং এভাবেই অন্যান্য নামগুলোও।
পাণ্ডুলিপি নকলকারীর কাছে অনেক নাম উল্টেপাল্টে গিয়েছিল, যা আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমরা সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সঠিকভাবে লিখতে সক্ষম হয়েছি।
এই এলোমেলো মূল পাঠটিকে সুবিন্যস্ত করতে এবং এর সংকেত ও অর্থসমূহ স্পষ্ট করার জন্য কমা, দাঁড়ি এবং অনুচ্ছেদের সূচনা নির্ধারণে আমাদের যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
লেখক তাঁর শাইখদের কাছে যেসব কিতাব ও জুয (খণ্ড) পাঠ করেছেন অথবা যেগুলোর জন্য তাঁরা তাঁকে ইজাজত দিয়েছেন, সেগুলোর নামের জন্য আমি ক্রমিক নম্বর প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লেখকের নামটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি তা মোটা হরফে লিখেছি। পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরগুলো বইয়ের টীকায় প্রদান করেছি এবং মূল পাঠের ভেতরে একটি বাঁকা চিহ্নের মাধ্যমে পৃষ্ঠার শুরু নির্দেশ করেছি। পাণ্ডুলিপির পাতার সম্মুখভাগকে ‘আলিফ’ এবং উল্টো পিঠকে ‘বা’ বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি, যাতে বিজ্ঞ পাঠক প্রয়োজনে পর্যালোচনা করতে পারেন।
পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আমরা নামগুলো আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী লিখেছি। ঐ যুগের পাণ্ডুলিপি নকলকারীরা এমন কিছু লিখনরীতি ব্যবহার করতেন যা বর্তমান যুগে প্রচলিত নয়, তাই সেগুলো পরিবর্তন করা অপরিহার্য ছিল। আরও লক্ষ্যণীয় যে, আমরা ‘ওয়াইহি’ দিয়ে শেষ হওয়া নামগুলো মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী লিখেছি, ব্যাকরণবিদদের (নাহবি) পদ্ধতিতে নয়। মুহাদ্দিসগণ ‘নাফতাওয়াইহি’ এর ‘ত’ বর্ণে পেশ, ‘ওয়াও’ বর্ণে সুকুন এবং শেষ বর্ণ ‘ইয়া’ তে জবর প্রদান করে এবং ‘হা’ বর্ণটিকে গোল ‘ত’ হিসেবে গণ্য করে এর স্বরচিহ্ন নির্ধারণ করেন, পক্ষান্তরে...
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
النحويون فيفتحون الطاء والواو ويسكنون الياء «نفطويه»، ومثلها جميع الأسماء من هذا النوع، وإنما فعلنا ذلك لأن الكتاب الذي نحققه لمحدث يكتب هذه الأسماء على قاعدة المحدثين.
ورأينا لزاما علينا أن نلحق بالكتاب أربعة فهارس تيسر على الباحثين طلبتهم، وهي فهرس الأحاديث المرفوعة، وهي قليلة، ثم أسماء المصنفات مع ذكر مؤلفيها مرتبة على حروف المعجم، وفهرس لشيوخ ابن خير الإشبيلي الذين روى عنهم هذه المصنفات أو أجازوه فيها، ثم فهرس للأمكنة والبقاع، فضلا عن قائمة بالمصادر والمراجع المعتمدة في التحقيق.
وقد رأيت أن يشاركني في تحقيق هذا الكتاب ولدي محمود بشار بعد أن تدرج في مراتب العلم، فهو طالب تاريخ مجد ذو نهم في القراءة والتتبع، وهو ساع إلى مزيد من المعرفة، فقابل معي النصوص، وشارك في ضبط الأسماء وتخريج بعض ما احتجنا إليه من مصادر، نسأل الله جل في علاه أن يوفقه لكل خير وأن ينفع به العلم وأهليه، ويجعله من عباده الصالحين الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه، وأن يجعله خلفا لأبيه، وأن يجنبني وإياه مواطن الزلل، ويثبتنا بقوله الثابت في الحياة الدنيا والآخرة إنه سميع مجيب.
كتبه بدار هجرته عمان البلقاء عاصمة الهواشم - أيدهم الله ووفقهم لكل خير - في أول شوال سنة 1430 هـ.
أفقر العباد
بشار بن عواد
ব্যাকরণবিদগণ ত্ব (ط) ও ওয়াও (و) বর্ণে ফাতহা (যবর) প্রদান করেন এবং ইয়া (ي) বর্ণকে সাকিন করেন, যেমন ‘নাফতাওয়াইহি’; এবং এই জাতীয় সকল নামের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আমরা এমনটি করেছি কারণ আমরা যে বইটি সম্পাদনা করছি সেটি একজন মুহাদ্দিসের লেখা, যিনি এই নামগুলো মুহাদ্দিসগণের নিয়ম অনুযায়ী লিখতেন।
আমরা বইটির সাথে চারটি সূচিপত্র যুক্ত করা আবশ্যক মনে করেছি যা গবেষকদের জন্য তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ করবে। সেগুলো হলো: মারফূ হাদীসসমূহের সূচি—যা সংখ্যায় সামান্য—এরপর রচয়িতাদের নামসহ গ্রন্থসমূহের সূচি যা বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে, ইবনে খাইর আল-ইশবিলীর সেই সকল উস্তাদদের সূচি যাদের থেকে তিনি এই গ্রন্থগুলো বর্ণনা করেছেন অথবা যারা তাকে এগুলোতে ইজাযত দিয়েছেন, এরপর স্থান ও জনপদের সূচি। এছাড়া সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য উৎস ও রেফারেন্সের একটি তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে।
আমি এই গ্রন্থটি সম্পাদনার কাজে আমার সন্তান মাহমুদ বাশশারকে আমার সাথে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি, কারণ সে ইলমের বিভিন্ন স্তরে উন্নতি লাভ করেছে। সে ইতিহাসের একজন পরিশ্রমী ছাত্র, যার পড়াশোনা ও গবেষণায় প্রচণ্ড আগ্রহ রয়েছে এবং সে অধিকতর জ্ঞান অন্বেষণে সচেষ্ট। সে আমার সাথে মূল পাঠ্যসমূহ তুলনা করেছে এবং নামের শুদ্ধরূপ নির্ণয়ে ও আমাদের প্রয়োজনীয় কিছু উৎসের উদ্ধৃতি বের করতে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সুউচ্চ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে সকল কল্যাণের তাওফীক দান করেন এবং তার মাধ্যমে ইলম ও এর ধারক-বাহকদের উপকৃত করেন। তাকে যেন তাঁর সেই সব নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। আর তাকে যেন তার পিতার যোগ্য উত্তরসূরি বানান এবং আমাকে ও তাকে পদস্খলনের স্থানসমূহ থেকে রক্ষা করেন। আর দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সুদৃঢ় বাণীর ওপর আমাদের অবিচল রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
এটি তাঁর হিজরতস্থল আম্মান আল-বালকা, হাশেমী সালতানাতের রাজধানী—আল্লাহ তাদের সাহায্য করুন এবং সকল কল্যাণের তাওফীক দিন—সেখানে ১লা শাওয়াল, ১৪৩০ হিজরীতে লেখা হয়েছে।
বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখাপেক্ষী
বাশশার বিন আওয়াদ
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২০)
راموز طرة النسخة
সংস্করণের প্রান্তীয় সংকেত
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২১)
راموز بداية النسخة
সংস্করণের প্রারম্ভিক সংকেত
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২২)
راموز الورقة (39)
পৃষ্ঠা সংকেত (৩৯)
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
راموز الورقة (80)
ফলীয়ো নম্বর (৮০)
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
راموز الصفحة الأخيرة
শেষ পৃষ্ঠার সংকেত
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
وصلّى الله على سيّدنا محمد وعلى آله وسلّم تسليما (1)
أحمد الله كفاء إنعامه وإفضاله، وأسأله الصلاة على محمد نبيّه الكريم وآله.
وأسأله في أن يجعلنا بالعلم عملة، كما جعلنا له حملة؛ فإنّ الشيخ أبا حفص عمر (2) بن إسماعيل، رحمه الله، حدّثنا قراءة عليه، قال: حدثنا الشيخ الفقيه أبو عبد الله الحسين (3) بن أحمد بن محمد بن طحال المقدادي (4)، قراءة عليه وأنا أسمع، قال: حدثنا أبو طالب الحسن بن مهدي بن أحمد بن عقيل العلويّ، قال: حدثنا أبو طالب عليّ بن الحسين الحسنيّ، قال: حدثنا أبو القاسم زيد بن عبد الله بن مسعود الهاشميّ، رحمه الله، قال: حدثنا أبو القاسم سليمان بن أحمد ابن أيّوب الطّبرانيّ، قال: حدثنا أبو مسلم إبراهيم بن عبد الله بن مسلم الكجّيّ، ويقال: الكشّيّ، قال: حدثنا أبو عاصم الضّحّاك بن مخلد النّبيل، عن محمد بن عجلان، عن المقبريّ، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العلم الذي لا يعمل به كالكنز الذي لا ينفق منه، أتعب صاحبه نفسه في جمعه، ثم لم يصل إلى نفعه (5)». وأن يجعل ما وعيناه من ذلك علما بالقلب يصل
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি ও অগণিত সালাম বর্ষণ করুন (১)
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের সমপরিমাণ, এবং তাঁর নিকট তাঁর সম্মানিত নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণের প্রার্থনা করছি।
এবং আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী বানান, যেমনটি তিনি আমাদের সেই ইলমের বাহক বানিয়েছেন; কেননা শায়খ আবু হাফস উমর (২) বিন ইসমাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের নিকট পাঠ করে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ফকিহ শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন (৩) বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন তাহহাল আল-মিকদাদি (৪) পাঠ করে বর্ণনা করেছেন আর আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তালিব আল-হাসান বিন মাহদি বিন আহমদ বিন আকিল আল-আলাভি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তালিব আলি বিন আল-হুসাইন আল-হাসানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল কাসিম যাইদ বিন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ আল-হাশেমি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ বিন মুসলিম আল-কাজ্জি—যাকে আল-কাশ্শিও বলা হয়—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আন-নাবিল বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ইলম অনুযায়ী আমল করা হয় না তা সেই গুপ্তধনের মতো যা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করা হয় না; এর অধিকারী ব্যক্তি এটি সংগ্রহ করতে নিজেকে পরিশ্রান্ত করে, অথচ শেষ পর্যন্ত এর সুফল লাভ করতে পারে না (৫)»। এবং (আমি আরও প্রার্থনা করি) তিনি যেন আমরা যা আত্মস্থ করেছি তাকে অন্তরের এমন ইলম বানিয়ে দেন যা পৌঁছাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثوابه إلينا، لا علما باللّسان يكون يوم القيامة حجّة علينا؛ فإنّ أبا حفص المذكور حدثنا بالسند المتقدّم آنفا إلى أبي القاسم زيد بن عبد الله المذكور، قال: حدثنا أبو حفص الفاروق بن عبد الكبير بن عمر الخطّابيّ (1)، حدثنا بالبصرة، قال: حدثنا أبو مسلم، قال: حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب الحجبيّ، قال: حدثنا عبد الرحيم بن زيد العمّي، عن أبيه، عن معاوية بن قرّة، عن ابن عمر، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العلم علمان، علم باللّسان هو الحجّة عليك، وعلم بالقلب هو النافع لك» (2). وأن يوفّقنا لبذله لأهله، كما وفّقنا لحمله ونقله؛ فإنّ أبا حفص المذكور حدثنا بالسند المتقدّم إلى أبي القاسم زيد ابن عبد الله المذكور، قال: حدثنا أبو موسى جعفر بن إبراهيم بن الهادي ببغداد، قال: حدثنا أبو سليمان محمد بن منصور، قال: حدثنا أبو سلمة موسى ابن إسماعيل المنقريّ، قال: حدثنا حمّاد بن سلمة، عن قتادة، عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رحم الله من سمع مقالتي فوعاها، ثم أدّاها
--------------------------------------------
এর সওয়াব আমাদের কাছে পৌঁছে দেন, এমন যবানি জ্ঞান নয় যা কিয়ামতের দিন আমাদের বিপক্ষে দলিল হবে। কেননা উল্লিখিত আবু হাফস আমাদের কাছে ইতিপূর্বে বর্ণিত সনদে উল্লিখিত আবুল কাসিম জায়েদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাফস আল-ফারুক বিন আব্দুল কাবির বিন উমর আল-খাত্তাবি (১) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বসরার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-হাজাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহিম বিন জায়েদ আল-আম্মি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন কুররা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান দুই প্রকার: যবানি জ্ঞান যা তোমার বিপক্ষে দলিল হবে, আর অন্তরের জ্ঞান যা তোমার জন্য উপকারী হবে» (২)। এবং তিনি যেন আমাদের তা এর উপযুক্ত পাত্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক দান করেন, যেমনিভাবে তিনি আমাদের তা বহন ও বর্ণনা করার তাওফিক দিয়েছেন; কেননা উল্লিখিত আবু হাফস আমাদের কাছে পূর্বোক্ত সনদে উল্লিখিত আবুল কাসিম জায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসা জাফর বিন ইবরাহিম বিন আল-হাদি বাগদাদে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সুলাইমান মুহাম্মদ বিন মনসুর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাঈল আল-মানকারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামা কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা ধারণ করল এবং তা পৌঁছে দিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى / من لم يسمعها؛ فربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه» (1). وأن يجعلنا بذلك من أهل الخير، ويشركنا معهم في مذخور الأجر؛ فإنّ أبا حفص المذكور، حدّثنا بالسند المتقدّم إلى أبي القاسم زيد بن عبد الله المذكور، قال: حدثنا الحسين بن محمد، المعروف بأبي المعمّر، قال: حدثنا الحسن بن الصبّاح بن محمد، قال: حدثنا عثمان بن عمر، قال: حدثنا يونس، عن الزّهريّ، عن قبيصة، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العالم والمتعلّم (2) شريكان في الأجر، ولا خير في سائر الناس من بعد» (3). وإنه سألني سائلون ممّن له رغبة في العلم وعناية بتقييده وهمة في تحصيله أن أذكر لهم ما رويته عن شيوخي رحمهم الله، من الدواوين المصنّفة في ضروب العلم وأنواع المعارف، وأن أذكر أسانيدي عنهم فيها إلى مصنّفيها، وما قرأته من ذلك عليهم أو سمعته عليهم بقراءتهم أو بقراءة غيري، وأن أضيف إلى ذلك ما ناولوني إياه وأجازوه لي.
--------------------------------------------
...সেই ব্যক্তির কাছে (পৌঁছে দাও) যে তা শোনেনি; কারণ অনেক ফিকহ বহনকারী ব্যক্তি এমন একজনের কাছে তা বহন করে নিয়ে যায় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার। (১) এবং তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের কল্যাণকামী লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাদের তাদের সাথে জমাকৃত সওয়াবে অংশীদার করেন; কেননা উল্লিখিত আবু হাফস আমাদের কাছে পূর্বোক্ত সনদে উল্লিখিত আবু কাসিম যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হুসাইন বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, যিনি আবু মামার নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাসান বিন সাব্বাহ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে উসমান বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে, তিনি কাবিদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আলেম এবং ইলম অন্বেষণকারী (২) সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার, আর এছাড়া অন্য মানুষের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই» (৩)। আর আমার কাছে এমন কিছু ব্যক্তি আবেদন করেছেন যাদের ইলমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, ইলমকে লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে যত্নশীল এবং তা অর্জনের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী, যেন আমি তাদের জন্য আমার শাইখদের থেকে (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) বর্ণিত বিভিন্ন শাস্ত্রের সংকলিত গ্রন্থসমূহ এবং নানা প্রকার জ্ঞান সম্পর্কে উল্লেখ করি। আরও আবেদন করেছেন যেন আমি তাদের নিকট উক্ত গ্রন্থকারদের পর্যন্ত আমার সনদসমূহ বর্ণনা করি, এবং আমি তাদের কাছে যা পাঠ করেছি অথবা তাদের নিকট যা পাঠ করা হয়েছে আর আমি তা শুনেছি—সেসব উল্লেখ করি। এছাড়া তারা আমাকে যা প্রদান করেছেন এবং যা বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন, তাও যেন এতে যুক্ত করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولمّا علمت ما لحملة العلم من الشّرف، عند السّلف والخلف، وعظم شأنهم، وعلوّ قدرهم، على قدر سائر أهل زمانهم، كما حدّثنا أبو حفص المذكور بالسند المتقدّم إلى أبي القاسم زيد بن عبد الله المذكور، قال: حدثنا أبو بكر محمد بن الحسين الآجريّ، رحمه الله، قال: حدثنا أبو شعيب عبد الله بن الحسن الحرّانيّ، قال: حدثنا عاصم بن عليّ، قال: حدثنا أبو معشر، عن يعقوب بن زيد بن طلحة بن زيد بن أسلم، عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حملة العلم في الدّنيا خلفاء الأنبياء، وفي الآخرة من الشّهداء» (1).
وعرفت ما أوجبه الله تعالى من حقوق طلبة العلم على الكافّة، وألزمهم إيّاه من التحنّن عليهم والرأفة، كما حدّثني به أبو حفص المذكور بالسند المتقدّم إلى أبي القاسم زيد بن عبد الله المذكور، قال: حدّثني شيخي أبو سعد عبد الله بن مسعود، قال: حدّثني محمد بن منصور، قال: حدّثني أبو سلمة موسى بن إسماعيل، قال: حدثنا حمّاد بن سلمة، عن أبي هارون عمارة بن جوين العبديّ، قال: كنا إذا أتينا أبا سعيد الخدريّ قال لنا: مرحبا بوصيّة رسول الله صلى الله عليه وسلم: سمعته صلى الله عليه وسلم، يقول: «إنه سيأتيكم قوم من أقطار الأرض يطلبون العلم، فاستوصوا بهم خيرا» (2).
--------------------------------------------
যখন আপনি অবগত হলেন পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের নিকট ইলমের বাহকদের শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁদের মর্যাদার বিশালত্ব এবং তাঁদের সমসাময়িক অন্য সকল মানুষের ওপর তাঁদের উচ্চস্থান সম্পর্কে, যেমনটি আমাদের কাছে পূর্বোক্ত সনদে বর্ণিত সূত্রের মাধ্যমে আবু হাফস বর্ণনা করেছেন যা আবু কাসিম জাইদ বিন আব্দুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-আজুরি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু শুআইব আব্দুল্লাহ বিন হাসান আল-হাররানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আসিম বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু মা'শার বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন জাইদ বিন তালহা বিন জাইদ বিন আসলামের সূত্রে আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়াতে ইলমের বাহকগণ হলেন নবীদের প্রতিনিধি এবং আখিরাতে তাঁরা শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত।” (১)।
এবং আমি জেনেছি যা আল্লাহ তাআলা ইলম অন্বেষণকারীদের হকের ব্যাপারে সকলের ওপর আবশ্যক করেছেন এবং তাদের প্রতি স্নেহ ও মমতা বজায় রাখা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন, যেমনটি আমার কাছে আবু হাফস পূর্বোক্ত সনদে আবু কাসিম জাইদ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আমার শায়খ আবু সা'দ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবু সালামা মুসা বিন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাম্মাদ বিন সালামা বর্ণনা করেছেন আবু হারুন আম্মারা বিন জুয়াইন আল-আবদির সূত্রে, তিনি বলেন: আমরা যখন আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আসতাম, তিনি আমাদের বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসিয়তকৃতদের প্রতি স্বাগতম। আমি তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তোমাদের কাছে একদল লোক ইলম অন্বেষণ করতে আসবে, সুতরাং তোমরা তাদের সাথে কল্যাণের আচরণ করো।” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وحدثنا ابن سرحان، قال: حدثنا أبو بكر بن طرخان، قال: حدثنا أبو الفضل الحدّاد، قال: حدثنا أبو نعيم الحافظ، قال: حدثنا أبو محمد بن حيّان، قال: حدثنا إبراهيم بن محمد بن الحسن، قال: حدثنا أحمد بن سعيد، قال: حدثنا ابن وهب، قال: أخبرني يحيى بن أيّوب، عن عبيد الله بن زحر، عن ليث بن أبي سليم، / عن شهر بن حوشب، قال: كنا نأتي أبا سعيد الخدريّ ونحن غلمان نسأله، قال: فكان يقول: مرحبا بوصيّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «سيأتيكم ناس يتفقّهون، ففقّهوهم وأحسنوا تعليمهم». قال: وكان يجيبنا لمسائلنا، فإذا نفدت مسائلنا حدّثنا بعد حتى نملّ (1).
وتيقّنت أن أجلّ ما أتحف به جملة حملة العلم ودعاته، وأهدي إلى سائر طلاّبه وبغاته، ما عظّم رسول الله صلى الله عليه وسلم شانه، وأعلى رتبته ومكانه، فقال: ما حدّثنا به أبو حفص المذكور، بالسند المتقدّم المسطور، إلى أبي القاسم زيد بن عبد الله المذكور، قال: حدّثني أحمد بن هاشم بن حميد بواسط، قال: حدثنا الحسن بن سلامة السوّاق، قال: حدثنا أبو غسّان، عن ابن عيينة، عن إبراهيم بن ميسرة، عن طاووس، عن ابن عبّاس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أهدى المسلم لأخيه هدّية أفضل من كلمة حكمة يسمعها، فانطوى عليها ثم علّمه إيّاها، يزيده الله بها هدى أو يردّه عن ردى، وإنها لتعدل إحياء نفس، ومن أحياها فكأنّما أحيا النّاس جميعا» (2).
--------------------------------------------
ইবনে সারহান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন তারখান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আল-হাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আবু নুআইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ বিন হাইয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাকে খবর দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন যাহর থেকে, তিনি লাইস বিন আবি সুলিম থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আসতাম যখন আমরা কিশোর ছিলাম এবং তাকে প্রশ্ন করতাম। তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তের (উপদেশের) প্রতি স্বাগতম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের কাছে এমন লোক আসবে যারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে চাইবে, সুতরাং তোমরা তাদের দ্বীন শেখাবে এবং উত্তমরূপে তাদের শিক্ষিত করবে»। তিনি বলেন: তিনি আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন, অতঃপর যখন আমাদের প্রশ্ন শেষ হয়ে যেত তখন তিনি আমাদের সাথে কথা বলতেন যতক্ষণ না আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়তাম (১)।
এবং আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, জ্ঞান বহনকারী ও তার দাঈদের জন্য সর্বোত্তম উপহার এবং অন্যান্য জ্ঞানান্বেষীদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপঢৌকন হলো তা-ই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার মর্যাদা মহান করেছেন এবং যার স্তর ও স্থানকে উচ্চে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন: উল্লিখিত আবু হাফস পূর্ববর্ণিত সনদে উল্লিখিত আবু কাসিম যিয়াদ বিন আবদুল্লাহর সূত্রে আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ওয়াসিতে আহমদ বিন হাশিম বিন হুমাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন সালামা আস-সাওয়াক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু গাসসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মাইসারা থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য হিকমত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ কথার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপহার দিতে পারে না যা সে শ্রবণ করে, অতঃপর তা নিজের মধ্যে গেঁথে নেয় এবং তারপর তাকে তা শিক্ষা দেয়; যার মাধ্যমে আল্লাহ তার হিদায়াত বৃদ্ধি করেন অথবা তাকে ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে আনেন। আর এটি একটি প্রাণকে জীবিত করার সমতুল্য, আর যে ব্যক্তি কাউকে জীবন দান করল সে যেন সকল মানুষকে জীবন দান করল» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
استخرت الله تعالى، وأجبتهم إلى ما سألوني إياه، ولم يسعني الانكفاف عنه إشفاقا من الوعيد في قوله تعالى: إِنَّ اَلَّذِينَ يَكْتُمُونَ ما أَنْزَلْنا مِنَ اَلْبَيِّناتِ الآية [البقرة: 159]، وامتثالا لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالإلطاف والتّحديث لمن سأل الحديث، كما حدّثنا الشيخ أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتّاب رحمه الله، إذنا، قال: حدّثني أبي رحمه الله، قال: حدثنا خلف بن يحيى، قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن أحمد، هو ابن الحدّاد، قال: حدثنا أبو سعيد ابن الأعرابي، قال: حدثنا يحيى بن أبي طالب، قال: حدثنا عليّ بن عاصم، قال: حدثنا أبو هارون عمارة بن جوين العبديّ، قال: كنّا إذا أتينا أبا سعيد الخدريّ قال لنا: مرحبا بوصيّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنه سيأتي من بعدي قوم يسألونكم الحديث، فإذا جاءوكم فالطفوهم وحدّثوهم» (1).
وحدّثنا أبو عبد الله جعفر بن محمد، قال: حدثنا أبو مروان عبد الملك بن سراج، قال: حدثنا أبو محمد عبد الله بن سعيد، قال: حدثنا أحمد بن فراس، عن محمد بن إبراهيم بن الفضل، عن أبي عبيد الله سعيد بن عبد الرحمن، عن سفيان بن عيينة، عن الزّهريّ، قال: كان عروة بن الزّبير يتألّف الناس إلى حديثه ورغبة في دعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالنّضرة لمن سمع فوعى ما سمع، فأدّاه كما سمع إلى من لم يسمع. كما حدّثناه أبو محمد بن عتّاب رحمه الله، إذنا، قال: حدثنا أبو عمرو عثمان بن أبي بكر الصّدفيّ، قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن عليّ بن عبد الملك بن عمير، قال: حدثنا / أبو سليمان حمد بن محمد بن إبراهيم بن الخطّاب (2)، قال: حدثنا الأصمّ، قال: حدثنا الرّبيع بن سليمان، قال: حدثنا الشافعيّ، قال: أنبأنا سفيان بن عيينة، عن عبد الملك بن عمير، عن عبد الرحمن بن
--------------------------------------------
আমি মহান আল্লাহর নিকট ইসতিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করেছি এবং তারা আমার কাছে যা আবেদন করেছে আমি তাতে সাড়া দিয়েছি। মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত সতর্কবাণীর প্রতি আশঙ্কাবশত এটি থেকে বিরত থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি: "নিশ্চয়ই যারা আমরা যে সকল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হিদায়াত অবতীর্ণ করেছি তা গোপন করে..." আয়াত [আল-বাকারাহ: ১৫৯]। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালনকল্পে—যিনি হাদীস অন্বেষণকারীর প্রতি সদয় হতে এবং তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে আদেশ দিয়েছেন। যেমনটি আমাদের নিকট শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব (রহিমাহুল্লাহ) অনুমতিক্রমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খালাফ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ—যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু হারুন উমারা ইবনে জুওয়াইন আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমরা যখন আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসতাম, তিনি আমাদের বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসিয়তের (নির্দেশিত ব্যক্তিদের) প্রতি স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমার পরে এমন একদল লোক আসবে যারা তোমাদের কাছে হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে; সুতরাং তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে, তখন তাদের প্রতি সদয় হবে এবং তাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করবে" (১)।
এবং আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ জাফর ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবনে সিরাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবনে ফিরাাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল ফাদল থেকে, তিনি আবু উবায়দুল্লাহ সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের মানুষকে তাঁর হাদীসের প্রতি আকৃষ্ট করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই দোয়ার বরকত লাভের আকাঙ্ক্ষা করতেন—যিনি সেই ব্যক্তির জন্য সজীবতা ও উজ্জ্বলতার দোয়া করেছেন যে শ্রবণ করল, অতঃপর যা শুনল তা স্মরণ রাখল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিল যে তা শোনেনি। যেমনটি আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব (রহিমাহুল্লাহ) অনুমতিক্রমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আমর উসমান ইবনে আবু বকর আস-সাফাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন / আবু সুলাইমান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল খাত্তাব (২), তিনি বলেছেন: আল-আসাম্ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আর-রাবী ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আশ-শাফিয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عبد الله بن مسعود، عن أبيه، أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «نضّر الله عبدا سمع مقالتي فحفظها ووعاها، فأدّاها كما سمعها، فربّ حامل فقه ليس بفقيه، وربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه» (1). قال بعض شيوخنا رحمهم الله: ومعنى قوله: «نضّر الله امرءا»: الدعاء له بالنّضارة، وهي النّعمة والبهجة، يقال: نضّر الله وجهه ونضره بالتخفيف. وقال الحميديّ: سمعت سفيان بن عيينة يقول: ما من أحد يطلب الحديث إلاّ وفي وجهه نضرة، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نضّر الله امرءا سمع منّي حديثا فبلّغه».
وفي قوله: «ربّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه» دليل على كراهية اختصار الحديث لمن ليس بالمتناهي في الفقه؛ لأنه إذا فعل ذلك فقد قطع طريق الاستنباط على من بعده ممّن هو أفقه منه.
وفيه بيان أنّ الفقه هو: الاستنباط والاستدراك في معاني الكلام من طريق التفهّم. وفي ضمنه بيان وجوب التفقّه، والحثّ على معاني الحديث، واستخراج المكنون من سرّه، وفيه أيضا بيان في ترتيب الكلام وتنزيله منازله.
ألا تراه عليه السلام، كيف رتّب الوعي على الحفظ فاشترط عليه الحفظ أوّلا، وهو تلقّف الألفاظ وجمعها في صدره، ثم أمره بالوعي، وهو مراقبته إياه بالذّكر وتخوّلها بالرّعاية والاستصحاب لها إلى أن يؤدّيها، فخرج من العهدة فيها.
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে এবং তা অন্তরে গেঁথে নিয়েছে, এরপর তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ইলম বহনকারী নিজে ফকীহ (গভীর সমঝদার) নন, আবার অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বড় ফকীহ।” (১) আমাদের অনেক শিক্ষক (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেছেন: তাঁর বাণী “আল্লাহ ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন”-এর অর্থ হলো তার জন্য সজীবতার দুআ করা; আর তা হলো নেয়ামত ও আনন্দ। বলা হয়: ‘আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল ও সজীব করুন’। আল-হুমাইদী বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তিই হাদিস অন্বেষণ করে তার চেহারায় সজীবতা থাকে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমার থেকে একটি হাদিস শুনেছে অতঃপর তা পৌঁছে দিয়েছে’।”
এবং তাঁর বাণী: “অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বড় ফকীহ”-এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী নয় তার জন্য হাদিস সংক্ষেপ করা অপছন্দনীয়; কারণ যখন সে এমনটি করবে, তখন সে তার পরবর্তী ব্যক্তিদের জন্য মাসআলা ইস্তিনবাত (উদ্ঘাটন) করার পথ বন্ধ করে দিবে যারা তার চেয়েও বড় ফকীহ হতে পারে।
এতে আরও বর্ণনা রয়েছে যে, ফিকহ হলো: অনুধাবনের মাধ্যমে কথার অর্থের মধ্য থেকে মাসআলা উদ্ঘাটন ও পরিমার্জন করা। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফিকহ অর্জনের আবশ্যকতা, হাদিসের অর্থের প্রতি উৎসাহ প্রদান, এর গোপন রহস্যসমূহ বের করা, এবং কথার বিন্যাস ও তা যথাস্থানে প্রয়োগ করার বর্ণনা।
আপনি কি দেখেন না (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), কীভাবে তিনি মুখস্থ করার পর অনুধাবনকে বিন্যস্ত করেছেন? ফলে তিনি প্রথমে মুখস্থ করার শর্তারোপ করেছেন, যা হলো শব্দগুলোকে গ্রহণ করা এবং তা অন্তরে জমা করা; অতঃপর তিনি তা অনুধাবন করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা হলো স্মরণের মাধ্যমে তা পর্যবেক্ষণ করা এবং যত্ন ও সান্নিধ্যের মাধ্যমে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা যতক্ষণ না তা পৌঁছে দেওয়া হয়, ফলে সে এর আমানত থেকে মুক্ত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিহরিসাতু ইবনে খায়ের - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وحدّثنا الشيخ أبو بكر عبد العزيز بن خلف، قال: حدثنا الشيخ أبو عبد الله محمد بن سعدون، قال: حدثنا أبو بكر محمد بن عليّ المطّوّعيّ النّيسابوريّ، قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله النّيسابوريّ الحاكم الحافظ، قال (1): حدثنا أبو العبّاس محمد بن يعقوب، قال: حدثنا إبراهيم بن مرزوق (2) البصريّ بمصر، قال: حدثنا وهب بن جرير، قال: حدثنا شعبة، عن معاوية ابن قرّة، قال: سمعت أبي يحدّث عن النبيّ صلى الله عليه وسلم، قال: «لا يزال الناس من أمتي منصورين لا يضرّهم من خذلهم حتى تقوم الساعة». قال أبو عبد الله الحاكم: سمعت أبا عبد الله محمد بن عليّ بن عبد الحميد الأدميّ بمكة، قال: سمعت موسى بن هارون يقول: سمعت أحمد بن حنبل رحمه الله وسئل عن معنى الحديث - فقال: إن لم تكن هذه الطائفة (3) المنصورة أصحاب الحديث فلا أدري من هم! !
وحدّثنا أبو محمد بن عتّاب أيضا، قال: أخبرنا أبو عمر بن عبد البر، قال: حدثنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن عبد المؤمن، قال: / حدثنا محمد بن بكر ابن داسة، قال: حدثنا أبو داود، قال (4): حدثنا زهير بن حرب وعثمان بن أبي شيبة، قالا: حدثنا جرير، عن الأعمش، عن عبد الله بن عبد الله الرّازي، عن سعيد بن جبير، عن ابن عبّاس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تسمعون ويسمع منكم. ويسمع ممن يسمع منكم» (5). وفي هذا الحديث أيضا دلالة على تبليغ العلم ونشره.
--------------------------------------------
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন খালাফ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাদুন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আল-মুত্তাউয়ি আল-নিশাপুরী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-নিশাপুরী আল-হাকিম আল-হাফিজ, তিনি বলেন (১): আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মারজুক বসরী মিসরে থাকাকালীন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন জারীর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুবা, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের একদল মানুষ সর্বদা বিজয়ী থাকবে, কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।» আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: আমি মক্কায় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-আদমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুসা বিন হারুনকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি বলেছিলেন: যদি এই বিজয়ী দল 'আসহাবুল হাদিস' (হাদিস বিশারদগণ) না হয়, তবে আমি জানি না তারা আর কে হতে পারে! !
আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাবও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর বিন আব্দুল বার, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন, তিনি বলেন: / আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বকর ইবনে দাসাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন (৪): আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন হারব এবং উসমান বিন আবু শাইবাহ, তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর, আমাশ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজি থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা (আমার থেকে) শুনছ, এবং তোমাদের থেকে শোনা হবে, এবং তাদের থেকেও শোনা হবে যারা তোমাদের থেকে শুনেছে» (৫)। এই হাদিসেও ইলম পৌঁছানো এবং তা প্রচার করার প্রমাণ রয়েছে।
--------------------------------------------