(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: -)
الذهب المسبوك في تحقيق روايات غزوة تبوك القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الذهب المسبوك في تحقيق روايات غزوة تبوك
المؤلف: عبد القادر حبيب الله السندى [ت 1418 هـ]
أصل الكتاب: رسالة ماجستير للمؤلف
الناشر: مطابع الرشيد، المدينة المنورة
الطبعة: بدون
عدد الصفحات: 509
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 محرم 1437
তাবুক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহের তাহকীক প্রসঙ্গে বিশুদ্ধ স্বর্ণ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: তাবুক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহের তাহকীক প্রসঙ্গে বিশুদ্ধ স্বর্ণ
লেখক: আব্দুল কাদির হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধী [মৃত্যু ১৪১৮ হি.]
মূল বই: লেখকের মাস্টার্স থিসিস
প্রকাশক: আর-রশীদ প্রেস, মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: নেই
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ মহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: -)
الذهب المسبوك في تحقيق روايات غزوة تبوك
تأليف
عبد القادر حبيب الله السندي
المدرس بكلية الحديث والدراسات الإسلامية بالجامعة الإسلامية - المدينة المنورة
তাবুক যুদ্ধের বর্ণনাসমূহের তাহকীক প্রসঙ্গে স্বর্ণালি গ্রন্থ
রচনা
আবদুল কাদির হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি
মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
كلمة الناشرإن الحمد للَّه نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره ونتوب إليه ونصلى ونسلم على عبده ورسوله وخليله وخيرته من خلقه الداعى إلى اللَّه بإذنه وسراجا منيرا نبينا محمد بن عبد اللَّه بن عبد المطلب الهاشمى القرشى المكى ثم المدني من أرسله اللَّه رحمة للعالمين بشيرا ونذيرا يبشر من اطاعه واتبعه بالجنة وينذر من عصاه وخالف نهجه بالنار، دعى إلى اللَّه على بصيرة
حتى أتاه اليقين وأنزل اللَّه عليه قوله: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (1).
وبعد: فقد أراد اللَّه لى أن أزور أخى فى اللَّه الشيخ عبد القادر بن حبيب اللَّه بن كورو السندى ذات يوم ودار بيننا البحث العلمى كما جرت عادة طلاب العلم عند اللقاء وسألته عن رسالته فى الماجستير المسماة بالذهب المسبوك فى تحقيق روايات غزوة تبوك ماذا تم فيها وكنت مشتاقا إلى نيل نسخة منها لما امتازت به من دقة فى البحث على نهج المُحَدِّثِيْن لا على نهج كثير المُحْدَثِيْن فأخبرني أنها مازالت بدون طبع وقد تم لها التصريح الرسمى من قبل وزارة الاعلام السعودية برقم 759/ م 31 وتاريخ 5/ 12/ 1403 هـ بتوقيع مدير فرع المطبوعات بالمدينة المنورة بالنيابة.
فاشتاقت نفسى لنشرها لعلى أنال من طلاب العلم دعوة مباركة ينفعنى
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের কথানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর বন্ধু এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ সত্তার প্রতি, যিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ। তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশেমি আল-কুরাশি আল-মাক্কি অতঃপর আল-মাদানি। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। যে তাঁর আনুগত্য করবে এবং তাঁর অনুসরণ করবে, তাকে তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দেন; আর যে তাঁর অবাধ্য হবে এবং তাঁর আদর্শের বিরোধিতা করবে, তাকে তিনি জাহান্নামের ভয় দেখান। তিনি প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন—
যতক্ষণ না তাঁর নিকট মৃত্যু (ইয়াকীন) এসেছে। আর আল্লাহ তাঁর প্রতি এই বাণী অবতীর্ণ করেছেন: {বলুন, এটাই আমার পথ; আমি ও যারা আমাকে অনুসরণ করেছে, আমরা জাগ্রত জ্ঞান বা প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} (১)।
অতঃপর: আল্লাহ চাইলেন যে, একদিন আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার ভাই শেখ আব্দুল কাদির বিন হাবিবুল্লাহ বিন কুরু আস-সিন্ধির সাথে সাক্ষাৎ করি। আমাদের মধ্যে ইলমি আলোচনা বা গবেষণা বিনিময় হলো, যেমনটি সাক্ষাতের সময় ইলম অন্বেষণকারীদের রীতি হয়ে থাকে। আমি তাঁকে তাঁর মাস্টার্স থিসিস—যার নাম 'আয-যাহাবুল মাসবুক ফি তাহকিকি রিওয়ায়াতি গাযওয়াতি তাবুক'—সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে সেটির কাজ কতদূর হলো। এর একটি অনুলিপি পাওয়ার জন্য আমি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম, কারণ এটি মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নিখুঁত গবেষণার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যা বর্তমানকালের অনেক আধুনিক গবেষকদের পদ্ধতির মতো নয়। তিনি আমাকে জানালেন যে এটি এখনও মুদ্রিত হয়নি, তবে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৫/১২/১৪০৩ হিজরি তারিখে ৭৫৯/ ম ৩১ নম্বরের অধীনে মদিনা মুনাওয়ারার প্রকাশনা শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের স্বাক্ষরে এটির আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র সম্পন্ন হয়েছে।
তাই এটি প্রকাশের ব্যাপারে আমার মনে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগল, যাতে সম্ভবত আমি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট থেকে বরকতময় দোয়া লাভ করতে পারি যা আমার উপকারে আসবে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২)
اللَّه بها فى الدنيا ويوم لقاه ولعلى أكون زودت المكتبة الاسلامية بجوهرة نفيسة برزت فى هذا العصر الذى صار حشو الكلام المجرد من غير اسناد مسلك الكثير من الباحثين وربما اسند القول إلى غير ثقة فأخذ قوله على علاته منهجا ولربما كان من أعداء البشرية والاسلام وأهله. وحيث أن الرسالة مُوَثَّقَةً وسمح لها بالطبع طلبت منه حفظه اللَّه الاذن لى بطبعها ونشرها وها أنا ذا أقدمها بين يديك وأحيل الحكم عليها إليك والمنصف التقى لا يهضم صاحب الحق حقه وإن وجد زلة تغتفر غفرها وإن خفى أمر نافع أظهره. وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين. وصلى اللَّه على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
الناشر الفقير إلى عفو اللَّه
محمد بن بكرى بن حسن السميرى
المدرس بالمسجد النبوى الشريف علي صاحبه أتم الصلاة والتسليم وعضو رئاسة البحوث العلمية للدعوة والإرشاد
المدينة المنورة
আল্লাহ এর মাধ্যমে ইহকালে এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে উপকার করুন। আর সম্ভবত আমি ইসলামী লাইব্রেরিকে একটি মূল্যবান রত্ন দ্বারা সমৃদ্ধ করতে পেরেছি যা এমন এক যুগে প্রকাশিত হয়েছে যখন সনদবিহীন অসার কথা অনেক গবেষকের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় কথাকে অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, ফলে তার কথাকে ত্রুটিবিচ্যুতিসহই একটি পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়; অথচ হতে পারে সে মানবতা, ইসলাম এবং এর অনুসারীদের শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এই ক্ষুদ্র গবেষণাটি প্রামাণিক এবং এটি মুদ্রণের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাই আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) কাছে এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের অনুমতি চেয়েছি। আর এখন আমি এটি আপনার সামনে উপস্থাপন করছি এবং এর বিচারের ভার আপনার ওপরই অর্পণ করছি। একজন ন্যায়পরায়ণ ও মুত্তাকী ব্যক্তি হকদারের হক নষ্ট করেন না; তিনি যদি কোনো ক্ষমাযোগ্য ভুল খুঁজে পান তবে তা ক্ষমা করে দেন, আর যদি কোনো উপকারী বিষয় গোপন থাকে তবে তা প্রকাশ করে দেন। আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
প্রকাশক, আল্লাহর ক্ষমার ভিখারি
মুহাম্মাদ বিন বকরী বিন হাসান আস-সুমাইরী
মসজিদে নববী শরীফের শিক্ষক (তাঁর অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দাওয়াহ ও ইরশাদ প্রেসিডেন্সির সদস্য
মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
"
خلاصة الرسالة"
الحمد للَّه الذى أعزنا بمحمد صلى الله عليه وسلم، إذ بعثه إلينا هاديا، ومرشدا ومجاهدا، وداعيا إلى اللَّه بإذنه وسراجا منيرا، والصلاة والسلام على خليله الهادى إلى الحق الأبلج، وعلى من سار بهداه، من الأولين والآخرين إلى يوم الدين أما بعد،
فهذا موجز بسيط لما فى هذه الفصول الثلاثة والسبعين، من أمره صلى الله عليه وسلم وشأنه، من رفعة هذا الدين، وبذله صلى الله عليه وسلم ماله، وحياته، وجهده لإعلاء كلمة الدين، وذلك قيامه صلى الله عليه وسلم فى سنة تسع من الهجرة، بأداء أكبر واجب اسلامى نحو تمديد هذه الرسالة السامية، وهو اداؤه صلى الله عليه وسلم فريضة الجهاد، فى آخر غزوة غزاها صلى الله عليه وسلم، وهي غزوة تبوك.
فخرج إليها صلى الله عليه وسلم فى رجب سنة تسع من الهجرة، يوم الخميس، لخمس خلون من رجب بأكبر جيش إسلامي بلغ عدده ثلاثين ألفا، على أصح الروايات المحققة فى قحط شديد من كل شئ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
"
রিসালাতের সারসংক্ষেপ"
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন; যখন তিনি তাঁকে আমাদের নিকট পথপ্রদর্শক, দিশারী, মুজাহিদ, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর খলীল (বন্ধু)-এর ওপর, যিনি সুস্পষ্ট সত্যের দিকে পথপ্রদর্শক, এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর হেদায়াত অনুসরণকারী পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ওপর। অতঃপর,
এই তেহাত্তরটি পরিচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে, এটি তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ; যেখানে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয় ও অবস্থা, এই দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত করার জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পদ, জীবন ও প্রচেষ্টার আত্মত্যাগের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর তা হলো নবম হিজরী বর্ষে এই মহান রিসালাতকে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এক সুমহান ইসলামী দায়িত্ব পালনে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অটল থাকা; অর্থাৎ তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ—তাবুক যুদ্ধে—জিহাদের ফরজ বিধান পালন করা।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবম হিজরীর রজব মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এক বৃহস্পতিবার সেই যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। বিশুদ্ধতম ও যাচাইকৃত বর্ণনা অনুযায়ী এটি ছিল সর্ববৃহৎ ইসলামী বাহিনী, যার সৈন্যসংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার। সেই সময়টি ছিল সর্ববিষয়ে এক চরম দুর্ভিক্ষের কাল।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৪)
حين طابت الثمار، واشتهيت الظلال والنساء والناس إليها صعر (1).
لم يكن سبب وقوع هذه الغزوة، أمرا خاصا كما يقوله اليعقوبى فى تاريخه، أنه خرج إليها صلى الله عليه وسلم لاخذ ثأر ابن عمه جعفر ابن أبي طالب رضي اللَّه تعالى عنه الذى استشهد فى غزوة مؤتة، ولا ما يقوله ابن سعد فى طبقاته الكبرى، أنة توجه إليها بناء على الاخبار التى وردت الى المدينة، بأن الروم جمعت جموعا كبيرة فى الشام، فتريد الهجوم على المدينة، وهناك أسباب أخرى ذكرها المؤرخون إلا أنها لم تكن صحيحة لانها لم تثبت عن طريق الأسانيد الصحيحة، إنما خرج إليها صلى الله عليه وسلم بناء على أمر إلهي شامل، عندما أنتهت الحروب الداخلية فى الجزيرة العربية، فعليه أن يوجه عنايته الى خارج الجزيرة لإبلاغ هذه الرسالة السامية، مستندا على قوله تعالى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} (2) هذا هو الامر الالهى الذى كان سببا أساسيا لوقوع غزوة تبوك، وهو قول ابن عباس، ومجاهد، وعكرمة وسعيد بن جبير، وقتادة، والضحاك بن مزاحم الهلالى، وغيرهم رحمهم اللَّه تعالى.
وقد بحثت عن أسانيد هذه الاقوال، فوجدتها كلها تقريبا صالحة للاحتجاج بها، ففصول هذه الغزوة عبارة عن مائة وعشرين حادثة متنوعة وقعت فى غزوة تبوك، وقد حققت منها، ثلاثًا وسبعين حادثة
--------------------------------------------
যখন ফলসমূহ পেকে গেল এবং ছায়া ও নারীদের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো এবং মানুষ সেদিকে ঝুঁকে পড়ল (১)।
এই যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণ কোনো বিশেষ বিষয় ছিল না, যেমনটি ইয়াকুবী তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই জাফর ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর রক্তের বদলা নিতে এই যুদ্ধে বের হয়েছিলেন, যিনি মুতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। আবার ইবনে সাদ তাঁর ‘তাবাকাতে কুবরা’ গ্রন্থে যা বলেছেন সেটিও নয় যে, মদিনায় আসা এমন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি সেদিকে অগ্রসর হয়েছিলেন যে, রোমানরা সিরিয়ায় বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করেছে এবং তারা মদিনায় আক্রমণ করতে চায়। ইতিহাসবিদগণ আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলো সঠিক নয়, কারণ সেগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। বরং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বের হয়েছিলেন একটি ব্যাপক খোদায়ী নির্দেশের ভিত্তিতে; যখন আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধগুলো সমাপ্ত হলো, তখন তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল এই সুমহান বাণী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপদ্বীপের বাইরের দিকে মনোনিবেশ করা। এর ভিত্তি ছিল মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা আহলে কিতাবদের মধ্য হতে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না, যতক্ষণ না তারা বশ্যতা স্বীকার করে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে।” (২) এটিই সেই খোদায়ী নির্দেশ যা তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ ছিল। এটিই ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ, দাহহাক ইবনে মুজাহিম আল-হিলালী এবং অন্যান্যদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন) অভিমত।
আমি এই উক্তিগুলোর সনদসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোর প্রায় সবই দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য পেয়েছি। এই যুদ্ধের অধ্যায়গুলো তাবুক যুদ্ধে সংঘটিত একশ বিশটি বৈচিত্র্যময় ঘটনার সমষ্টি, যার মধ্য থেকে আমি তিয়াত্তরটি ঘটনা নিয়ে গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৫)
على طريق المحدثين، عن طريق الاسناد، وقد تكون بعض هذه الحوادث متداخلة، بعضها فى البعض الآخر إلا أنها تختلف نوعيتها عن مثيلاتها فى جوانب أخرى، وتشمل هذه الحوادث التى جرت على يد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم منذ خروجه من المدينة حتى رجوعه إليها، فمثلا، حادثة سبب وقوع الغزوة، ووجه تسميتها بتبوك، ولماذا سميت العسرة، وعدد جيش العسرة، كيفية اتخاذ الالوية فى الغزوة، ونفقات الصحابة فيها على الترتيب، وقصة كعب بن مالك واصحابه رضى اللَّه تعالى عنهم، وما نزل فيهم من القرآن، وموقف المنافقين من هذه الغزوة، ومعجزات الرسول صلى الله عليه وسلم التى صدرت عنه فى الغزوة، إثناء سيره إلى تبوك، ورجوعه منها، وقصة ديار ثمود وما جرى فيها، وإكرامه صلى الله عليه وسلم بعض أصحابه فى الغزوة كصلاته خلف عبد الرحمن بن عوف رضي اللَّه تعالى عنه، ومقالته صلى الله عليه وسلم فى مناديل سعد بن معاذ الذى استشهد فى غزوة الاحزاب، وصلح رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مع صاحب أيلة، كيفية صلاته هناك، ومدة اقامته صلى الله عليه وسلم فى تبوك. وغير ذلك من الحوادث، ثم استقباله صلى الله عليه وسلم بالمدينة عند رجوعه من تبوك من قبل الصبيان والولائد والنساء وغيرهم ممن كانوا تخلفوا بعذر.
ورجزهم بابيات رقيقة أخرجها النسائي وغيره بهذه المناسبة السعيدة:
طلع البدر علينا
… من ثنيات الوداع
وجب الشكر علينا
… ما دعا للَّه داع
وصلى اللَّه عليه وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতিতে সনদসমূহের মাধ্যমে এই ঘটনাগুলো বর্ণিত হয়েছে। এসব ঘটনার কিছু অংশ হয়তো একটি অন্যটির সাথে মিশে গেছে, তবে অন্যান্য দিক থেকে সেগুলোর প্রকৃতি তাদের অনুরূপ ঘটনাগুলো থেকে ভিন্ন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে পুনরায় সেখানে ফিরে আসা পর্যন্ত তাঁর মাধ্যমে যে সকল ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ: যুদ্ধটি সংঘটিত হওয়ার কারণ, এর নাম তাবুক রাখার প্রেক্ষিত, কেন একে 'উসরা' (সংকটকাল) বলা হয়েছে, উসরা বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা, যুদ্ধে পতাকা ধারণের পদ্ধতি, সাহাবীদের ব্যয়ের ক্রমানুসারে বিবরণ, কা'ব ইবনে মালিক ও তাঁর সাথীদের (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) কাহিনী এবং তাঁদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া, এই যুদ্ধে মুনাফিকদের অবস্থান, তাবুকে যাওয়া ও ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশিত মুজিজাসমূহ, সামুদ জাতির জনপদ ও সেখানে যা ঘটেছিল তার বিবরণ, যুদ্ধে তাঁর কোনো কোনো সাহাবীকে সম্মানিত করা—যেমন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পেছনে তাঁর সালাত আদায় করা, আহজাব যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাদ ইবনে মুআজের রুমাল সম্পর্কে তাঁর উক্তি, আয়লার অধিপতির সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্ধি, সেখানে তাঁর সালাত আদায়ের পদ্ধতি এবং তাবুকে তাঁর অবস্থানের সময়কাল। এ ছাড়া আরও অন্যান্য ঘটনাবলী এবং তাবুক থেকে ফেরার সময় মদিনায় শিশু, কিশোরী, নারী এবং যারা ওজরের কারণে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তাদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বাগত জানানোর বিবরণ।
এবং এই আনন্দঘন উপলক্ষে তারা ছন্দময় পঙক্তিমালা পাঠ করেছিল যা ইমাম নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন:
পূর্ণিমার চাঁদ আমাদের ওপর উদিত হয়েছে
… বিদা উপত্যকা থেকে
আমাদের ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক হয়েছে
… যতক্ষণ আল্লাহর প্রতি কোনো আহ্বানকারী আহ্বান জানায়
এবং আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
الإِهداءإلى كل مسلم يرغب السير على طريق الحق، مهما كان وعرا،
فيتبع أثر رسول اللَّه- صلى الله عليه وسلم في سيرته، ودعوته وجهاده، وفى كل شئ من شأنه أن يجعله مسلما مثاليا على وجه الأرض، كما أراده اللَّه منه.
فيسير هذا العالم المحتضر على أثره طائعا مختارا فى الحق، وعلى الحق، ولأجل الحق، وبذلك يصبح هذا المسلم خليفة اللَّه فى أرضه جلّ وعلا.
عبد القادر بن حبيب اللَّه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উৎসর্গপ্রত্যেক সেই মুসলিমের প্রতি, যে সত্যের পথে চলতে আগ্রহী, তা যতই বন্ধুর হোক না কেন,
যাতে সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, দাওয়াত ও জিহাদে এবং এমন প্রতিটি বিষয়ে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে যা তাকে এই পৃথিবীতে একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলবে, যেমনটি আল্লাহ তার নিকট থেকে চেয়েছেন।
এর ফলে এই মুমূর্ষু বিশ্ব সত্যের পথে, সত্যের ওপর এবং সত্যের জন্য অনুগত ও স্বেচ্ছাধীন হয়ে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে; আর এভাবেই এই মুসলিম মহামহিম ও সুউচ্চ আল্লাহর জমিনে তাঁর প্রতিনিধি হয়ে উঠবে।
আব্দুল কাদির বিন হাবিবুল্লাহ
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৭)
شكر وتقديرالحمد للَّه وحده، والصلاة والسلام على من لا نبى بعده، أما بعد:
فقد قال ربنا جلّ وعلا: {وَمَنْ شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ} (1).
وقال صلى الله عليه وسلم: فيما روى عنه أبو هريرة رضى اللَّه تعالى عنه: "من لم يشكر الناس لم يشكر اللَّه عز وجل" (2)
وقال أيضا صلى الله عليه وسلم: "إن أشكر الناس للَّه عز وجل أشكرهم للناس" (3).
وقال أيضا صلى الله عليه وسلم: "من لم يشكر القليل لم يشكر الكثير" ومن لم يشكر الناس لم يشكر اللَّه، التحدث بنعمة اللَّه شكر، وتركه كفر، والجماعة رحمة، والفرقة عذاب" (4).
فبناء على هذه الآية الكريمة، والأحاديث النبوية يطيب لى أن أتقدم بأجزل الشكر، وأوفر الثناء وأعذب الآمال السنية، وأطيب الدعوات
--------------------------------------------
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর যাঁর পরে আর কোন নবী নেই। অতঃপর:
আমাদের প্রতিপালক মহিমান্বিত ও সুউচ্চ ইরশাদ করেছেন: “আর যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো তার নিজের কল্যাণের জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে; আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, তবে নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত ও দয়ালু।” (১)।
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, যা তাঁর থেকে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে মহান আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (২)
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক কৃতজ্ঞ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের প্রতি সর্বাধিক কৃতজ্ঞ।” (৩)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: “যে অল্পের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে বেশীর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না। আর যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না। আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা), আর তা বর্জন করা হলো কুফরি (অকৃতজ্ঞতা)। আর ঐক্য হলো রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা হলো আযাব।” (৪)।
সুতরাং এই সম্মানিত আয়াত ও নববী হাদীসসমূহের আলোকে আমি অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে গভীর কৃতজ্ঞতা, অঢেল প্রশংসা, সুউচ্চ উত্তম প্রত্যাশা এবং পবিত্র দোয়াসমূহ পেশ করছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৮)
الروحية، إلى فضيلة الدكتور العلامة الشيخ/ محمد أمين المصرى رحمه الله ذلك الرجل الكريم الخلص الذى وهب حياته لأعمال البر -فيما علمت- فسخر اللَّه قلبه، وضميره وروحه.
ذلك الانسان الكريم الذى أحببته فى اللَّه حبا جما، منذ أن عرفته عن كثب، فوجهنى إلى الخير توجيها طيبا ولاعانته المعنوية، ومساعدته المادية أثر عميق فى نفسى منذ أن انتظمت بهذا المنهل العلمى المبارك (قسم الدراسات العليا) بهذا الجوار الكريم كما اتقدم ايضا بجزيل شكرى وعظم تقديرى لفضيلة الدكتور العلامة/ محمد خليل هراس الذى أشرف على هذه الرسالة إشرافا مباشرا، فأعطاني من علمه الجم، وخلقه النبيل، وتوجيهاته القيمة، الشئ الكثير -رحمه اللَّه تعالى وغفر له- وكذا فضيلة الدكتور العلامة محمد السماحى الذى ساعدني فى ترتيب هذه الرسالة، وتنظيم فصولها، فضيلة الدكتور الاستاذ محمد مصطفى الأعظمى الذى أعارني بعض المخطوطات النادرة، وفضيلة الشيخ عبد العزيز بن إبراهيم الدوسرى مدير مكتبة الحرم الكى، وأمينها المساعد الشيخ عبد اللَّه بن عبد الرحمن المعلمى، وجميع المسئولين بها، وفقهم اللَّه تعالى.
كما أتوجه إلى اللَّه عز وجل، بالدعاء الخالص، لسماحة العلامة العالم السلفى الشيخ محمد نصيف رحمه اللَّه تعالى الذى أعاننى اللَّه عن طريقه قبل أن يلقى ربه، بالاطلاع على عظيم المخطوطات النافعة، والمطبوعات القيمة التى استفدت منها بمعلومات عظيمة تتصل بهذه الدراسة.
আধ্যাত্মিক, শ্রদ্ধেয় ডক্টর আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আমিন আল-মিশরি (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর প্রতি, সেই উদার ও একনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি তার জীবনকে সৎকাজের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন—আমি যতদূর জানি—ফলে আল্লাহ তার অন্তর, বিবেক ও আত্মাকে অনুগত করে দিয়েছিলেন।
সেই মহান মানুষটি যাকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গভীরভাবে ভালোবেসেছি, যখন থেকে তাকে কাছ থেকে চিনেছি; তিনি আমাকে কল্যাণের দিকে চমৎকারভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এই বরকতময় জ্ঞান-উৎস (উচ্চতর গবেষণা বিভাগ)-এ এই সম্মানিত সান্নিধ্যে আসার পর থেকে আমার মনে তার আধ্যাত্মিক সমর্থন ও বস্তুগত সহায়তার গভীর প্রভাব রয়েছে। আমি আরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি শ্রদ্ধেয় ডক্টর আল্লামা মুহাম্মদ খলিল হাররাসের প্রতি, যিনি সরাসরি এই অভিসন্দর্ভ তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি আমাকে তার অগাধ জ্ঞান, মহান চরিত্র এবং মূল্যবান দিকনির্দেশনা থেকে অনেক কিছু দান করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন। একইভাবে শ্রদ্ধেয় ডক্টর আল্লামা মুহাম্মদ আস-সামাহি, যিনি আমাকে এই অভিসন্দর্ভ সাজাতে ও এর পরিচ্ছেদগুলো বিন্যস্ত করতে সহায়তা করেছেন; শ্রদ্ধেয় ডক্টর প্রফেসর মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আজামি, যিনি আমাকে কিছু বিরল পাণ্ডুলিপি ধার দিয়ে সহায়তা করেছেন; এবং শ্রদ্ধেয় শেখ আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম আদ-দুসারি, মক্কা হারাম শরীফ লাইব্রেরির পরিচালক, এবং এর সহকারী লাইব্রেরিয়ান শেখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি ও এর সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—আল্লাহ তাআলা তাদের তাওফিক দান করুন।
আমি মহামহিম আল্লাহর দরবারে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করছি শ্রদ্ধেয় আল্লামা সালাফি আলেম শেখ মুহাম্মদ নাসিফ (আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন)-এর জন্য, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে তার রবের সাথে মিলিত হওয়ার আগে কিছু মহান উপকারী পাণ্ডুলিপি ও মূল্যবান মুদ্রিত বইপত্র দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, যা থেকে আমি এই গবেষণা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্বারা উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ৯)
كما أتقدم إلى غيرهم وهم كثير بحيث لا يسع المقام، ذكر اسمائهم، خالص شكرى، وعاطر ثنائى، جزاهم اللَّه خيرا، وأحسن إليهم، وبارك فى أعمالهم، وجهودهم، وتولاهم، أنه سميع مجيب، وبالاجابة جدير.
একইভাবে আমি অন্যদের প্রতিও—যাঁরা সংখ্যায় এতই অধিক যে এখানে তাঁদের নাম উল্লেখ করার অবকাশ নেই—আমার ঐকান্তিক কৃতজ্ঞতা ও সুবাসিত প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করুন, তাঁদের কর্ম ও প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী এবং সাড়া প্রদানের যোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد للَّه الذى أرسل رسوله بالهدى ودين الحق، ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، وإمام الأولين والآخرين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد:
فإنه لما كان علم المغازى والسير من العلوم النافعة الشريفة التى تنافس فيها المتنافسون، وشمر عن ساعد الجد فى تحصيلها العاملون المخلصون.
اذ هو علم يحث المسلم النبيل عل الاقتداء بنبيه المصطفى صلى الله عليه وسلم، وإلى التخلق بحقائق أقواله وأفعاله صلى الله عليه وسلم التى توصله إلى دار السلام، وإنه لعلم نافع عظيم يطلع المسلم خلال دراسته التى درج عليها المحدثون القدماء فى الاسلام -على ما كانت عليه الصورة الاسلامية الحقيقية فى العهد النبوى الشريف وفى العهود الاولى من الخلافة الاسلامية الراشدة.
وليس ثمة شك، أن دراسة هذا العلم والتعمق فيه لهى دراسة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং পূর্বাপর সকলের ইমাম, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
যেহেতু মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং সিয়ার (জীবনী) বিষয়ক ইলম অত্যন্ত উপকারী ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা লাভের জন্য প্রতিযোগীরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং একনিষ্ঠ কর্মীরা তা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করে থাকে।
কেননা এটি এমন এক ইলম যা একজন মহৎ মুসলিমকে তার মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে এবং তাঁর কথা ও কাজের প্রকৃত রূপের অনুসরণে চরিত্রবান হতে উদ্বুদ্ধ করে, যা তাকে শান্তির আলয়ে (জান্নাতে) পৌঁছে দেয়। নিশ্চয়ই এটি একটি মহান ও উপকারী ইলম, যা অধ্যয়নের মাধ্যমে—যে পদ্ধতিতে ইসলামের প্রাচীন মুহাদ্দিসগণ অগ্রসর হয়েছিলেন—একজন মুসলিম নবুওয়াতের পবিত্র যুগে এবং ইসলামের খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রাথমিক যুগগুলোতে ইসলামের প্রকৃত চিত্র কেমন ছিল তা অবগত হতে পারে।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ইলম নিয়ে অধ্যয়ন করা এবং এর গভীরে প্রবেশ করা এমন এক অধ্যয়ন যা...
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১১)
تعين على تفسير كتاب اللَّه تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم كما قال عز من قائل: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1) وقال أيضا: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2) وكما صح عن الصديقة بنت الصديق رضي اللَّه تعالى عنهما فيما روى عنها سعد بن هشام رحمه اللَّه تعالى قال: سألت عائشة رضي اللَّه تعالى عنها، فقلت: أخبرينى عن خلق رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؟ فقالت رضي الله عنها: كان خلقه القرآن (3).
فالآيتان الكريمتان والحديث وما فى معناها، يدل دلالة واضحة على أنه صلى الله عليه وسلم كان صورة واضحة، ومثالا حيا، لما جاء به كتاب اللَّه تعالى من أحكام، وآداب، ومعاملات، فبقى الحال -برهة من الزمن- فى العهد النبوى الشريف، وفيما بعد من الخلافة الراشدة، -على أحسن ما يرام، لقرب العهد به صلى الله عليه وسلم، ثم تطاول الوقت، وكر الدهر، -وللَّه فى ذلك حكمة بالغة- فاتى على المسلمين
--------------------------------------------
যা মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়, যেমনটি সেই মহিমান্বিত সত্তা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} (১)। তিনি আরও বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন; আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (২)। এবং যেমনটি সিদ্দিকার কন্যা সিদ্দিকা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে, যার সম্পর্কে সাদ ইবনে হিশাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আমাকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র সম্পর্কে সংবাদ দিন। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললেন: তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন (৩)।
সুতরাং এই মহিমান্বিত আয়াতদ্বয়, হাদীস এবং এই জাতীয় যা কিছু আছে, তা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বিধানাবলী, শিষ্টাচার এবং মুয়ামালাতের (লেনদেনের) একটি স্পষ্ট চিত্র এবং জীবন্ত দৃষ্টান্ত। ফলে এক সময় পর্যন্ত—নববী যুগে এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে—রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সময়ের নৈকট্যের কারণে পরিস্থিতি সর্বোত্তম অবস্থায় ছিল। এরপর সময় অতিবাহিত হলো এবং কালচক্র আবর্তিত হলো—আর এতে আল্লাহর গভীর প্রজ্ঞা নিহিত ছিল—অতঃপর মুসলমানদের ওপর এমন সময় এলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১২)
عهد وقعت فيه الكارثة العظمى، والمصيبة الكبرى، مصداقا لقوله صلى الله عليه وسلم: فيما روى عنه عمرو بن عوف رضي اللَّه تعالى عنه، قال: "فواللَّه ما الفقر أخشى عليكم، ولكنى أخشى عليكم أن تبسط الدنيا عليكم، كما بسطت علي من كان قبلكم، فتنافسوها كما تنافسوها، وتلهيكم، كما ألهتهم" (1).
فظهر هذا اللهو واضحًا جليًا فى حياة المسلمين بعد أن فقدوا تلك القيادة الرشيدة العالمية، فاستغل الاعداء الماكرون -من اليهود عليهم لعائن اللَّه، ومن لف لفهم من أمم الشرق والغرب فرصة اللهو هذه، فوجهوا خلالها تلك الطعنات الخبيثة، الى صميم رسالتنا الخالدة، والى حاملها صلى الله عليه وسلم، والى أصحابه البررة الكرام، والى كل من حمل هذا العلم صافيا نقيا.
فأول ما بدأ به هؤلاء الاوباش هو أن أوجدوا جماعة كبيرة فى صفوف المسلمين، بعد أن غذوها غذا ماديا الحاديا يمكن أن يحولوا به مجرى التاريخ الاسلامى الحافل، الى ما أرادوا به من ايقاع الفتن، والشرور، والاضطراب، والى كل ما من شأنه أن لا تبقى هذه الأمة المجيدة على اصالتها، وروحها الطاهرة النقية المهذبة عن طريق الوحى السماوى، ورسالتها السامية الخالدة.
--------------------------------------------
এমন এক যুগ যাতে চরম বিপর্যয় ও মহা বিপদ নেমে এসেছিল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে; যেমনটি আমর বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের ওপর দারিদ্র্যের ভয় করি না, বরং আমি তোমাদের ওপর এই ভয় করি যে, তোমাদের সামনে দুনিয়াকে প্রসারিত করে দেওয়া হবে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য প্রসারিত করা হয়েছিল, এরপর তোমরা তা পাওয়ার জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে যেমন তারা করেছিল, এবং তা তোমাদের গাফেল করে দেবে যেভাবে তাদেরকে গাফেল করেছিল।" (১)।
সেই বিশ্বজনীন সঠিক নেতৃত্ব হারানোর পর মুসলমানদের জীবনে এই গাফিলতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ফলে ধূর্ত শত্রুরা—যাদের মধ্যে রয়েছে ইয়াহুদিরা (তাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক) এবং পূর্ব ও পশ্চিমের যেসব জাতি তাদের অনুসারী হয়েছে—তারা এই গাফিলতির সুযোগ গ্রহণ করে। এই অবসরে তারা আমাদের শাশ্বত রিসালাতের মূলে, এর বাহক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর সম্মানিত পুণ্যবান সাহাবীগণের প্রতি এবং যারা এই ইলমকে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধভাবে ধারণ করেছেন তাদের সকলের প্রতি সেই বিদ্বেষপূর্ণ আঘাতগুলো হানে।
এই দুষ্কৃতিকারীরা সর্বপ্রথম যা শুরু করল তা হলো, মুসলমানদের সারিতে তারা একটি বড় দল তৈরি করল। তাদেরকে বস্তুবাদী ও নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারায় পুষ্ট করার পর তারা এর মাধ্যমে গৌরবময় ইসলামি ইতিহাসের গতিপথকে ফিতনা, অনিষ্ট ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যেন এই মহান উম্মত তার মৌলিকত্ব, আসমানী ওহীর মাধ্যমে পরিশোধিত তার পবিত্র ও নির্মল আত্মা এবং তার সুউচ্চ শাশ্বত রিসালাতের ওপর অটল থাকতে না পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فظهر الوضع فى حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قبل ظهور تلك الفلسفة العلمانية اللادينية التى ضيعت على هذه الامة ثقافتها الدينية، وسياستها الحكيمة، فأخذ هذا الوضع يتطور تطورا خطيرا، ولم يكن محصورا على أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم فحسب بل فى أحاديث الصحابة رضي اللَّه تعالى عنهم، التى توقع بينهم الفرقة، والشقاق.
أخرج الحاكم فى مستدركه، بإسناده عن عبد اللَّه بن مسعود رضى اللَّه تعالى عنه فى قصة وفاة أبي ذر رضي اللَّه تعالى عنه، وفيه، أن عثمان نفى أبا ذر إلى الربذة الحديث (1).
وفى إسناد هذا الخبر، بريدة بن سفيان الاسلمى، وهو شيعي رافضى، كما قال عنه الذهبى فى الميزان: بريدة بن سفيان الاسلمي، قال البخاري: فيه نظر وقال أبو داود: لم يكن بذاك، وكان يتكلم فى عثمان.
وقال الدارقطي: متروك. وقيل كان يشرب الخمر، وهو مقل (2).
وقال الحافظ ابن حجر: ليس بالقوي، وفيه رفض من السادسة (3).
قلت: إن لم يكن هذا الحديث قد بلغ درجة الوضع إلا أنه قريب منه، وهو حديث منكر، وقد أخرجه ابن إسحاق فى السيرة (4)، ومحمد
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে জালিয়াতির প্রকাশ ঘটেছিল সেই ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মহীন দর্শনের উদ্ভবের আগেই যা এই উম্মতের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিজ্ঞ রাজনীতিকে নষ্ট করে দিয়েছে। এরপর এই জালিয়াতি বিপজ্জনকভাবে বিকশিত হতে থাকে এবং তা কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম)-এর বর্ণনার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তাঁদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য তৈরি করে।
হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর সূত্রে আবু যর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর ইন্তেকালের ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু যরকে রাবাদাহ-তে নির্বাসিত করেছিলেন (১)।
এই সংবাদের সনদে বুরায়দাহ ইবনে সুফিয়ান আল-আসলামী রয়েছেন, যিনি একজন শিয়া রাফেজি। যেমনটি যাহাবী তাঁর 'মিজান' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: বুরায়দাহ ইবনে সুফিয়ান আল-আসলামী সম্পর্কে বুখারী বলেছেন, 'তাঁর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে' এবং আবু দাউদ বলেছেন, 'তিনি তেমন নির্ভরযোগ্য ছিলেন না' এবং তিনি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতেন।
দারাকুতনী বলেছেন: 'পরিত্যক্ত'। বলা হয় যে তিনি মদ্যপান করতেন এবং তিনি অল্প হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: 'তিনি শক্তিশালী নন এবং তাঁর মধ্যে রাফেজি মতাদর্শের প্রভাব ছিল', তিনি ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারী (৩)।
আমি বলি: এই হাদিসটি যদিও জাল হওয়ার স্তরে পৌঁছেনি, তবুও এটি তার নিকটবর্তী। এটি একটি 'মুনকার' (অস্বীকৃত) হাদিস। ইবনে ইসহাক তাঁর 'সীরাত' গ্রন্থে (৪) এবং মুহাম্মদ এটি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن جرير الطبري فى تاريخه (1) وكما سترى الكلام على هذا الحديث فى موضعه من هذه الرسالة، فى وفاة أبي ذر رضي اللَّه تعالى عنه بالتفصيل (2).
هكذا بدأ هذا الهجوم على الاسلام، منذ أول يوم عن هذا الطريق اللاذع الرهيب الذى اتخذه المستشرقون، اساسا قويا، ومنهاجا صلبا فى الهجوم على الاسلام بعد أن مهد لهم الطريق، عن هؤلاء الوضاعين الكذابين المنتسبين الى الاسلام -والاسلام منهم براء- فنشط هؤلاء المستشرقون نشاطا مرموقا فى مهمتهم الشيطانية فى الهجوم الشنيع الخفي الذى لا يتمكن من إدراكه أحد إلا من رزقه اللَّه تعالى، علما واسعا، وثقافة عالية.
أورد المستشرق الالماني جوزيف هوروفتس فى ترجمة ابان بن عثمان الاموى رحمه اللَّه تعالى بعد أن ساق فى ترجمته عدة روايات مختلفة بطرق فنية رائعة مع ذكر مصادرها كما سيأتى فحاول أخيرا أن يتكلم بشئ خفي يمس به عدالة هذا التابعى الإِمام فلم يجد ما يبرر به إمام النقد العلمى إن وجه إليه، فحاول -بطريق فنى رائع أجمل- فى أن يأتي بشئ يقربه عينه ويثلج صدره، ويطفئ غيظه فأتى فى ترجمة ابان بن عثمان هذه العبارة (ولم تقصر عناية أهل المدينة على العلوم الدينية وحدها، بل عنوا أعظم عناية بالموسيقي والشعر).
--------------------------------------------
ইবনে জারির আত-তাবারী তাঁর ইতিহাসে (১), এবং আপনি এই রিসালাহ’র যথাস্থানে আবু যার (রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর মৃত্যু সম্পর্কিত এই হাদীসের আলোচনা বিস্তারিতভাবে দেখতে পাবেন (২)।
এভাবেই ইসলামের ওপর এই আক্রমণ শুরু হয়েছিল প্রথম দিন থেকেই, সেই তীব্র ও ভয়ংকর পথ ধরে যা প্রাচ্যবিদরা ইসলাম বিরোধী আক্রমণের এক শক্তিশালী ভিত্তি ও সুদৃঢ় পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এই পথটি তাদের জন্য সুগম করে দিয়েছিল ইসলামে অনুপ্রবেশকারী সেই সব মিথ্যাবাদী ও জালিয়াতকারীরা—যাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অতঃপর এই প্রাচ্যবিদরা তাদের শয়তানি মিশনে এক উল্লেখযোগ্য উদ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা ছিল এক জঘন্য ও নিগূঢ় আক্রমণ। আল্লাহ তা'আলা যাকে প্রশস্ত জ্ঞান এবং উচ্চতর সংস্কৃতি দান করেছেন, তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।
জার্মান প্রাচ্যবিদ জোসেফ হোরোভিটস, আবান ইবনে উসমান আল-উমাবী (রাহিমাহুল্লাহ তা'আলা)-এর জীবনী আলোচনায়—উৎসসহ চমৎকার শৈল্পিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করার পর—পরিশেষে এমন কিছু নিগূঢ় কথা বলার চেষ্টা করেছেন যার মাধ্যমে এই ইমাম তাবেয়ীর ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করা যায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সমালোচনার মোকাবিলায় কোনো যৌক্তিক প্রমাণ তিনি খুঁজে পাননি। তাই তিনি আরও চমৎকার এক শৈল্পিক উপায়ে এমন কিছু নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন যা তার নয়ন জুড়াবে, চিত্তকে প্রশান্ত করবে এবং তার ক্রোধ নির্বাপিত করবে। ফলে তিনি আবান ইবনে উসমানের জীবনীতে এই বাক্যটি উল্লেখ করেন: "মদিনাবাসীদের মনোযোগ কেবল ধর্মীয় ইলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা সংগীত ও কবিতার প্রতিও সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن الخطا أن يظن أنه لا توجد صلات بين العلماء والشعراء، وإن علماء الدين كانوا جميعا معادين للشعر، بل وجد فى المدينة نفسها اعلام من العلماء الدينيين قد برزوا فى قول الشعر، وأشهر مثل لذلك تتحقق فيه هذه الصلة، عبيد اللَّه بن عبد اللَّه بن عتبة، حفيد عتبة بن مسعود، وهو ممن حارب مع النبي- فى أحد، وقد خصص أبو الفرج الاصبهاني فى "كتاب الاغانى" فصلا لعبيد اللَّه هذا، وأورد طائفة من شعره، وفعل مثل ذلك ابن سعد أيضا فى طبقاته، وهو معدود من فقهاء المدينة السبعة، وحينما تيّمَه حب هذلية حسناء دعا الفقهاء الستة الآخرين فى اشعاره التى يخاطبها بها، ليشهدوا على قوة حبه الذى برح به قال:
أحبك حبا لو علمت ببعضه
… لجدت عليّ ولم يصعب عليك شديد
وحبك -يا أم الصبي- مدلهى
… شهيدى أبو بكر، وأى شهيد
ويعلم وجدى القاسم بن محمد
… وعروة ما القى بكم، وسعيد
ويعلم ما أخفى سليمان علمه
… وخارجة يبدى لنا ويعيد
متى تسألى عما أقول فتخبرى
… فللحب عندى طارف وتليد (1)
قلت: من العجب جدا أمر هذه الابيات التى هي ترجمة صحيحة عن نفسية عبيد اللَّه بن عبد اللَّه بن عتبة إن صح الاسناد إليه.
فعلينا أن نرجع الى ترجمة عبيد اللَّه هذا المذكور حتى نعرف عن شخصيته، وحقيقته هل هذه الابيات تتفق مع ترجمته؟ أو هناك فى دس
--------------------------------------------
এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা যে আলেম ও কবিদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই এবং ধর্মীয় আলেমগণ সকলেই কবিতার বিরোধী ছিলেন। বরং মদীনাতেই এমন অনেক বিশিষ্ট ধর্মীয় আলেম ছিলেন যারা কবিতা রচনায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উদাহরণ, যাতে এই যোগসূত্রটি বাস্তবায়িত হয়েছে, তিনি হলেন উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবাহ, যিনি উতবাহ ইবন মাসউদের নাতি। তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা রাসূলুল্লাহর (সা.) সাথে উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আবু আল-ফারজ আল-ইসফাহানি তার "কিতাবুল আগানি"-তে এই উবাইদুল্লাহর জন্য একটি পৃথক পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন এবং তার কবিতার একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে সাদও তার "তাবাকাত"-এ অনুরুপ কাজ করেছেন। তিনি মদীনার সাত ফকীহর অন্যতম হিসেবে গণ্য। যখন জনৈক সুন্দরী হুযালী নারীর ভালোবাসা তাকে আচ্ছন্ন করল, তখন তিনি তাকে সম্বোধন করে রচিত কবিতায় অন্য ছয়জন ফকীহকে আহ্বান জানালেন, যাতে তারা তার সেই তীব্র ভালোবাসার সাক্ষ্য দেন যা তাকে বিচলিত ও ব্যাকুল করে তুলেছিল। তিনি বলেন:
আমি তোমাকে এমনভাবে ভালোবাসি যে তার সামান্য অংশও যদি তুমি জানতে
… তবে তুমি আমার প্রতি বদান্যতা প্রদর্শন করতে এবং কোনো কঠিন বিষয়ই তোমার জন্য দুঃসাধ্য হতো না।
আর তোমার ভালোবাসা—হে শিশুর জননী—আমাকে দিশেহারা করে দিয়েছে;
… আবু বকর আমার সাক্ষী, আর তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ সাক্ষী!
কাসিম ইবন মুহাম্মদ আমার ব্যাকুলতা সম্পর্কে জানেন
… আর উরওয়াহ এবং সাঈদ জানেন তোমাদের কারণে আমি কিসের সম্মুখীন হই।
সুলাইমান তা জানেন যা আমি গোপন করি
… আর খারিজাহ আমাদের কাছে তা বারবার প্রকাশ ও পুনরাবৃত্তি করেন।
আমি যা বলি সে সম্পর্কে যখনই তুমি জিজ্ঞাসা করবে, তখন তোমাকে অবহিত করা হবে;
… কারণ আমার কাছে ভালোবাসা নতুনের মতো সতেজ এবং আদি ঐতিহ্যের মতো সুপ্রাচীন। (১)
আমি বলি: এই কবিতাগুলোর বিষয়টি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক, যা উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবাহর মানসিক অবস্থার একটি সঠিক অনুবাদ, যদি তার প্রতি এর সূত্রায়ন বা বর্ণনা পরম্পরা বিশুদ্ধ হয়।
সুতরাং আমাদের উল্লিখিত এই উবাইদুল্লাহর জীবনীর দিকে ফিরে যেতে হবে যাতে তার ব্যক্তিত্ব ও প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে, এই কবিতাগুলো কি তার জীবনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? নাকি এর মধ্যে কোনো কারসাজি বা অনুপ্রবেশ ঘটেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من دسائس الأعداء الماكرين؟ قال الحافظ ابن حجر فى ترجمته: قال الواقدى: كان عالما، وكان ثقة فقيها، كثير الحديث، والعلم، شاعرا، وقد عمى، وقال العجلى: كان أعمى، وكان أحد فقهاء المدينة، تابعي ثقة، رجل صالح جامع للعلم، وهو معلم عمر بن عبد العزيز.
وقال أبو زرعة: ثقة مأمون، امام.
وقال ابن حبان فى الثقات: كان من سادات التابعين.
وقال ابن جرير الطبرى: كان مقدما فى العلم، والمعرفة بالاحكام، والحلال والحرام، وكان مع ذلك شاعرا مجيدا.
وقال ابن عبد البر: كان أحد الفقهاء العشرة، ثم السبعة الذين تدور عليهم الفتوى، وكان عالما فاضلا مقدما فى الفقه، تقيا، شاعرا محسنا، لم يكن بعد الصحابة الى يومنا فيما علمت فقيه أشعر منه ولا شاعر أفقه منه.
وقال عمر بن عبد العزيز: لو كان عبد اللَّه حيا ما صدرت الا عن رأيه انتهي كلام الحافظ ملخصا (1) قلت وهو من رجال الكتب الستة وقد أخرج له البخاري جملة من الاحاديث فى الاحكام، قبل أن ندرس اسناد هذه الابيات نقف هنا قليلا، ونسأل الاستاذ جوريف هوروفتس كيف أدخلت هذه الابيات المنسوبة الى عبيد اللَّه بن عبد اللَّه ابن عتبة فى ترجمة أبان بن عثمان، وأنت تتكلم على مؤلفى المغازى الأولى، وعبيد اللَّه بن عبد اللَّه لم يكن مؤلف المغازى مع اعترافك؟
--------------------------------------------
ধূর্ত শত্রুদের চক্রান্ত থেকে? হাফেজ ইবনে হাজার তার জীবনীতে বলেন: ওয়াকিদী বলেছেন: তিনি আলেম ছিলেন, নির্ভরযোগ্য ফকিহ ছিলেন, প্রচুর হাদিস ও ইলমের অধিকারী এবং কবি ছিলেন, তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন।
ইজলী বলেছেন: তিনি অন্ধ ছিলেন, মদিনার ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি, ইলমের সমাহারকারী নেককার মানুষ এবং তিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের শিক্ষক ছিলেন।
আবু জুরআ বলেছেন: নির্ভরযোগ্য, আমানতদার এবং ইমাম।
ইবনে হিব্বান ‘আত-সিকাত’-এ বলেছেন: তিনি তাবেয়িদের নেতৃস্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ইবনে জারির তাবারী বলেছেন: ইলম, আহকাম এবং হালাল-হারামের জ্ঞানে তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন, এর পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ কবিও ছিলেন।
ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: তিনি দশজন ফকিহ এবং পরবর্তীতে সাতজন ফকিহর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ওপর ফতোয়া আবর্তিত হতো। তিনি একজন আলেম, ফাজেল এবং ফিকহশাস্ত্রে অগ্রণী ছিলেন, মুত্তাকি এবং সুনিপুণ কবি ছিলেন। আমার জানামতে সাহাবায়ে কেরামের পর আজ পর্যন্ত তার চেয়ে বড় কবি ফকিহ কিংবা তার চেয়ে বড় ফকিহ কবি আর কেউ ছিলেন না।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: আব্দুল্লাহ যদি জীবিত থাকতেন, তবে আমি তার পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতাম না। হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এখানেই শেষ। (১) আমি বলছি, তিনি কুতুবুস সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং ইমাম বুখারি আহকাম বিষয়ক তার একগুচ্ছ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই কাব্যংশগুলোর সনদ পর্যালোচনার আগে আমরা এখানে কিছুক্ষণ থামব এবং অধ্যাপক জোসেফ হোরোভিতসকে জিজ্ঞাসা করব, আপনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই কাব্যংশগুলোকে আবান ইবনে উসমানের জীবনীতে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করলেন? অথচ আপনি প্রাথমিক যুগের মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) লেখকদের নিয়ে আলোচনা করছেন এবং আপনার নিজের স্বীকৃতি মতেই উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ মাগাজি লেখক ছিলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ب - وهل هناك ارتباط وثيق مع المعاني التى تحمل هذه الابيات فى طياتها مع الشخصية المباكة التى ترى ما قيل فى ترجمتها؟
ثم السؤال الأخير:
جـ - هل درست اسناد هذه الابيات؟
وأنا أتولى الجواب:
أ - لا مناسبة أبدا بين ايراد هذه الابيات فى ترجمة ابان بن عثمان بن عفان رحمه اللَّه تعالى. الا للنيل من شخصية مماثلة فى الزهد، والورع، واسقاط عدالته.
ب - لا تتفق هذه المعاني القبيحة التى تشم منها رائحة الزنا مع شخصية عبيد اللَّه بن عبد اللَّه المذكور المترجم لها آنفا.
جـ - اما الاسناد فهو كاد أن يكون موضوعا كما سترى.
قال أبو الفرج الاصبهاني (1):
حدثنا محمد بن جرير الطبرى، والحرمى بن العلاء، ووكيع، قالوا: حدثنا الزبير بن بكار، قال: حدثنى اسماعيل بن يعقوب، عن أبي الرتاد، عن أبيه، قال: قدت المدينة امرأة من ناحية مكة، من هذيل، وكانت جميلة، فخطبها الناس، وكادت تذهب بعقول أكثرهم، فقال فيها عبيد اللَّه بن عبد اللَّه ابن عتبة بن مسعود ثم ساق الابيات المذكورة.
--------------------------------------------
খ - এই কবিতাগুলো নিজের অন্তরালে যে অর্থ বহন করে, তার সাথে কি সেই বরকতময় ব্যক্তিত্বের কোনো নিবিড় সম্পর্ক আছে, যাঁর জীবনীতে এগুলো বর্ণিত হয়েছে বলে আপনি দেখছেন?
অতঃপর সর্বশেষ প্রশ্ন:
গ - আপনি কি এই কবিতাগুলোর বর্ণনাসূত্র (সনদ) যাচাই করেছেন?
আমি উত্তর প্রদানের দায়িত্ব নিচ্ছি:
ক - আবান ইবন উসমান ইবন আফফান (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর জীবনীতে এই কবিতাগুলো উল্লেখ করার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। এটি কেবল যুহদ ও তাকওয়ায় তাঁর সমতুল্য এক ব্যক্তিত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করার এবং তাঁর বিশ্বস্ততা বিনষ্ট করার অপপ্রয়াস মাত্র।
খ - ব্যভিচারের গন্ধযুক্ত এই কদর্য অর্থগুলো ইতিপূর্বে আলোচিত উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহর ব্যক্তিত্বের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।
গ - আর বর্ণনাসূত্রের ব্যাপারে কথা হলো, এটি প্রায় জাল বা বানোয়াট পর্যায়ের, যা আপনি অচিরেই দেখতে পাবেন।
আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানি (১) বলেন:
আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন জারির আল-তাবারি, আল-হারামি ইবনুল আলা এবং ওয়াকি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট যুবায়ের ইবন বাক্কার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার নিকট ইসমাইল ইবন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন আবু আল-রাতাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হুযাইল গোত্রের এক সুন্দরী নারী মদিনায় আগমন করে। মানুষ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকে এবং সে প্রায় অধিকাংশের হিতাহিত জ্ঞান হরণ করার উপক্রম করেছিল। তখন উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবাহ ইবন মাসউদ তাকে লক্ষ্য করে এই কবিতাগুলো বলেন; অতঃপর তিনি উল্লিখিত কবিতাগুলো বর্ণনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قلت: ننظر الآن ما مدى قيمة هذا الاسناد الذى يأتى الجرح الشديد عن طريقه فى التابعى المذكور، وقد ثبت لدينا عدالته بإجماع المحدثين الذين مر ذكرهم عند الحافظ فى التهذيب؟
رجال الاسناد:ابن الفرج الاصبهانى: قال الخطيب فى تاريخه باسناده الجيد عن محمد الحسن بن الحسين النوبختى يقول: كان أبو الفرج الاصبهانى، أكذب الناس، كان يدخل سوق الوراقين وهي عامرة، والدكاكين مملؤة بالكتب، فيشترى شيئا كثيرا من الصحف، ويحملها إلى بيته، ثم تكون رواياته كلها منها، ثم قال الخطيب وكان أمويا يتشيع (1).
وقال الذهبى فى سير أعلام النبلاء: كان وسخا زريا (2).
قلت: وفى اسناد هذه الابيات رجل آخر مجهول، وهو ذكوان القرشي، ولم أجد له ترجمة فى المراجع التى بين يدى، الا ما قال فيه الحافظ ابن حجر: قيل: ان أباه أي عبد اللَّه بن ذكوان القرشي -كان اخا أبي لؤلؤة قاتل عمر (3).
ومهما يكن من أمر، فإن هذه الابيات لا تجوز أن تنسب الى
--------------------------------------------
আমি বলি: এখন দেখা যাক এই সনদের মূল্য কতটুকু, যার মাধ্যমে উক্ত তাবিঈর ব্যাপারে এই কঠোর সমালোচনা এসেছে, অথচ হাফিজের ‘তাহযিব’ গ্রন্থে ইতিপূর্বে উল্লেখিত মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমাদের নিকট তার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হয়েছে?
সনদের রাবীগণ:ইবনুল ফরাজ আল-আসবাহানি: খতিব তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে উত্তম সনদে মুহাম্মদ হাসান বিন হুসাইন আন-নওবাখতি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফরাজ আল-আসবাহানি ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যুক। সে জমজমাট ওরাগীন (কাগজ বিক্রেতাদের) বাজারে প্রবেশ করত যখন দোকানগুলো বইয়ে পূর্ণ থাকত, অতঃপর সে সেখান থেকে প্রচুর পাণ্ডুলিপি ক্রয় করত এবং সেগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে যেত; এরপর তার সমস্ত বর্ণনা সেগুলো থেকেই হতো। এরপর খতিব বলেন, সে ছিল উমাইয়াপন্থী কিন্তু শিয়া ভাবাপন্ন (১)।
যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেন: সে ছিল নোংরা ও নিকৃষ্ট (২)।
আমি বলি: এই কবিতাগুলোর সনদে আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে, সে হলো জাকওয়ান আল-কুরাশি। আমার নিকট বিদ্যমান রেফারেন্সগুলোতে আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, কেবল হাফিজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে যা বলেছেন তা ছাড়া: বলা হয়ে থাকে যে, তার পিতা—অর্থাৎ আবদুল্লাহ বিন জাকওয়ান আল-কুরাশি—ছিল ওমরের হত্যাকারী আবু লুলুর ভাই (৩)।
পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, এই কবিতাগুলো কোনোভাবেই নিসবত করা জায়েজ নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عبيد اللَّه بن عبد اللَّه بن عتبة، عن طريق هذا الاسناد الذى كاد أن يكون موضوعا.
ولا ذنب للمستشرق الالمانى على نقلها مع جهل حال رجال الاسناد، ولكن الذنب على من وضع هذه الرواية -لمجرد كون عبيد اللَّه المذكور شاعرا-، ونسبها الى ذاك التقى الزاهد الثقة الامام.
ولقد وجد كتاب المستشرق جوزيف هوروفتس مملوءا بهذه السخافات الواهية، والحكاية المكذوبة التى لا تخلو منها صفحة من صفحات الكتاب، الا أن هذا المثالي الواحد فيه كفاية على رد كتابه، وعلى ما درجوا عليه، من وضع مخططات جهنمية، وأساليب ماكرة، لتدمير الثقافة الاسلامية، وهم فى ديارهم، وجامعاتهم التى لم تؤسس إلا على هذا الأساس، لكى تؤدى لهم هذه الخدمات على يد من يفد إليهم من ديار المسلمين، بعد أن يمنحوهم تلك الشهادات التى هى فى الواقع شهادة فى الاستشراق وللاستشراق، ولم تكن شهادة علمية يرضى اللَّه تعالى عنها، والمؤمنون، وأما موقف من حمل تلك الشهادة من المسلمين فلربما أن يكون الحامل لها كشافا عوراتهم، وخبيئاتهم للمسلمين إن شاء اللَّه تعالى، كما فعل الفيلسوف الاسلامى، وشاعر الشرق الاسلامى الدكتور محمد اقبال رحمه اللَّه تعالى فى كتابه الفذ "بانك درا" (1) إلا أن
--------------------------------------------
উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে এই সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, যা প্রায় জাল হওয়ার উপক্রম।
সনদের বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা সত্ত্বেও এটি উদ্ধৃত করার জন্য জার্মান প্রাচ্যবিদের কোনো অপরাধ নেই, বরং অপরাধ তার যে এই বর্ণনাটি জাল করেছে—কেবলমাত্র উল্লিখিত উবায়দুল্লাহ কবি হওয়ার কারণে—এবং একে সেই পরহেজগার, দুনিয়াবিপরাগী, নির্ভরযোগ্য ইমামের সাথে সম্পৃক্ত করেছে।
প্রাচ্যবিদ জোসেফ হোরোভিটসের বইটি এমন অসার মূর্খতা এবং মিথ্যা কাহিনীতে পরিপূর্ণ পাওয়া গেছে যা বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই বিদ্যমান। তবে এই একটি উদাহরণই তার বইটিকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য এবং তারা ইসলামী সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য নিজেদের দেশে ও তাদের সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যা কেবল এই ভিত্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে) বসে যেসব পৈশাচিক পরিকল্পনা ও ধূর্ত কৌশল অবলম্বন করে থাকে, তা নস্যাৎ করার জন্য যথেষ্ট। যাতে মুসলিম দেশগুলো থেকে যারা তাদের কাছে যায়, তাদের মাধ্যমে তারা এই উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে—যখন তারা তাদের সেই সব সনদ প্রদান করে যা প্রকৃতপক্ষে প্রাচ্যতত্ত্বের স্বার্থে এবং প্রাচ্যতত্ত্বের সপক্ষে একটি সাক্ষ্য মাত্র। এটি এমন কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক ডিগ্রি নয় যার প্রতি আল্লাহ তাআলা এবং মুমিনগণ সন্তুষ্ট হবেন। আর মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা এই সনদ বহন করছেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে বলা যায় যে, সম্ভবত এই সনদধারী ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ তাআলা মুসলমানদের সামনে তাদের (প্রাচ্যবিদদের) দোষ-ত্রুটি ও গোপন অভিসন্ধিগুলো উন্মোচনকারী হবেন; যেমনটি করেছেন ইসলামী দার্শনিক এবং প্রাচ্যের ইসলামী কবি ডক্টর মুহাম্মাদ ইকবাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর অনন্য গ্রন্থ "বাং-ই-দারা" (১)-তে। তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا الموقف نادر جدا بالنسبة لما هو حال شباب المسلمين اليوم، قال محمد بن سيرين -أحد أئمة التابعين الكبار، فيما روى مسلم فى مقدءطة صحيحه باسناده عنه، قال: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم.
وقال ابن المبارك: الاسناد من الدين، ولولا الاسناد، لقال من شاء، ما شاء (1).
هناك رواية أخرى، أخرجها مسلم فى مقدمة صحيحه أيضا، وهى صالحة للمتابعات والشواهد، قال أبو عقيل صاحب بهية: كنت جالسا عند القاسم بن عبيد اللَّه، ويحيى بن سعيد، قال فقال يحيى: للقاسم: يا أبا محمد: إنه قبيح على مثلك، عظيم أن تسأل عن شئ من أمر هذ، الدين فلا يوجد عندك عنه علم، ولا فرج، أو علم، ولا مخرج؟
فقال له القاسم: وعم ذاك؟
قال: لانك ابن أمامى هدى، أبى بكر، وعمر، قال: يقول له القاسم: أقبح من ذاك عند من عقل عن اللَّه، أن أقول: بغير علم، أو آخذ، عن غير ثقة، قال: فسكت فما أجابه (2).
--------------------------------------------
বর্তমান মুসলিম যুবকদের অবস্থার তুলনায় এই অবস্থানটি অত্যন্ত বিরল। মহান তাবেঈ ইমামগণের একজন মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন, ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুখবন্ধে তাঁর থেকে নিজ সনদে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) হচ্ছে দ্বীন; সুতরাং তোমরা কার থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো।
এবং ইবনুল মুবারক বলেন: ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত (১)।
আরও একটি বর্ণনা রয়েছে, যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুখবন্ধে উদ্ধৃত করেছেন এবং এটি মুতাবা'আত ও শাওয়াহিদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে গ্রহণযোগ্য। বাহিয়ার সাথী আবু আকিল বলেন: আমি কাসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। ইয়াহইয়া কাসিমকে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! আপনার মতো ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত কদর্য এবং গুরুতর বিষয় যে, আপনার নিকট দ্বীনের কোনো বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে অথচ আপনার কাছে সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞান বা সমাধান থাকবে না, অথবা কোনো জ্ঞান বা উত্তরণের পথ থাকবে না?
তখন কাসিম তাঁকে বললেন: আর সেটি কেন?
তিনি বললেন: কারণ আপনি হলেন হিদায়াতের দুই ইমাম—আবু বকর ও উমরের বংশধর। কাসিম তাঁকে বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে তার নিকট এর চাইতেও কদর্য বিষয় হলো—আমি জ্ঞান ছাড়া কথা বলি অথবা কোনো অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২১)
قلت كل هذه الدوافع التى جعلتنى أن أختار هذا الموضوع للتحقيق، والتمحيص، حتى ادرك ما مدى الاصالة التى بقيت عندنا، بعد وقوع تلك المؤامرة التاريخية الخطيرة التى مر ذكرها.
ولست فى ذلك مبتدعا أو محدثا، لما مر بكم بعض تلك النصوص، من مقدمة صحيح مسلم، انظر مقدمة جامع مسانيد الامام أبى حنيفة لابي المؤيد الخوارزمى فى أحاديث موضوعة فى مناقب الامام أبى حنيفة رحمه اللَّه تعالى (1).
ولما كان لوضع الاحاديث فى التشريع الاسلامى على يد هؤلاء الأعداء أثر سئ جدا كما مر بكم بعض الامثلة، هيأ اللَّه تعالى لبقاء هذه الرسالة السامية رجالا مخلصين، يدافعون عنها، ويذبون عن سنة نبيها صلى الله عليه وسلم، فأتوا بعجب العجاب فى هذا الميدان، فكانت خدماتهم فريدة فى العالم كله، يقول الدكتور اسبرنكر -أحد المستشرقين الالمان- مهما افتخر المسلمون بعلم اسماء الرجال فهو افتخار قليل بالنسبة لما سجل لهم من حياة رجال الحديث، وجمع لهم من هذه الثروة العلمية الهائلة التى لم تعرف أمة من أمم الأرض بهذا العلم سواهم (2).
ولما تحقق لدى ما اشرت إليه، فى الصفحات السابقة من وجود أحاديث كثيرة موضوعة مكذوبة على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
আমি বলেছি, এই সকল প্রেক্ষাপটই আমাকে এই বিষয়টি তাহকীক (অনুসন্ধান) ও নিরীক্ষার জন্য বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমি উপলব্ধি করতে পারি যে, সেই উল্লিখিত বিপজ্জনক ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্র সংঘটিত হওয়ার পর আমাদের কাছে মৌলিকত্বের কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে।
আর আমি এক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রবর্তক বা অভিনব মতাদর্শী নই, কারণ আপনারা সহীহ মুসলিমের ভূমিকা থেকে এই সংক্রান্ত কিছু উদ্ধৃতি ইতিমধ্যে দেখেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর গুণাবলি বর্ণনায় জাল হাদীসসমূহের ব্যাপারে আবুল মুয়াইয়িদ আল-খাওয়ারিজমি প্রণীত 'জামে মাসানিদ আল-ইমাম আবি হানিফা'-এর ভূমিকা দেখুন (১)।
যেহেতু এই শত্রুদের হাতে ইসলামী শরীয়তের বিধানে হাদীস জাল করার অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল—যেমনটি আপনারা কিছু উদাহরণে দেখেছেন—তাই মহান আল্লাহ এই সুমহান রিসালাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু একনিষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন, যারা একে রক্ষা করেন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেন। ফলে তারা এই ময়দানে বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন এবং সারা বিশ্বে তাদের এই খিদমত ছিল অনন্য। জার্মান প্রাচ্যবিদ ড. স্প্রেঙ্গার বলেন, "মুসলমানরা ইলমে আসমাউর রিজাল নিয়ে যতই গর্ব করুক না কেন, হাদীস বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করা এবং এই বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পদ সংগ্রহ করার তুলনায় সেই গর্ব অতি সামান্য, যা পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি এই শাস্ত্র সম্পর্কে অর্জন করতে পারেনি (২)।"
পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমি যা ইঙ্গিত করেছি, যখন আমার নিকট তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আরোপিত বহু জাল ও মিথ্যা হাদীস বিদ্যমান রয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২২)
فى مغازيه صلى الله عليه وسلم وفى غيرها من الاحكام الشرعية، ولآداب المرعية، ونحوها، كذا على أصحابه البررة الكرام وعلى غيرهم من أئمة الهدى كالامام أبى حنيفة، والشافعى، ومالك، وأحمد بن حنبل رحمهم اللَّه تعالى، لذا وجدتنى، أن أختار تحقيق هذا الجزء المهم من مغازى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وهي غزوة تبوك، وآخر غزوة غزاها صلى الله عليه وسلم فى سنة تسع من الهجرة.
منهج البحثأما منهج البحث: فهو عبارة عن معرفة الحديث الصحيح، والحسن، والضعيف بجميع أقسامه، من أحاديث مرفوعة، وآثار موقوفة، مقطوعة من أحاديث غزوة تبوك، وبيان الارسال فيها إن وجد، كذا الاعضال، والانقطاع، والتعليق عن طريق الدراسة النقدية، لرجال الاسناد، بناء على قواعد اصول الحديث المعروفة عند أهل الحديث، لا عن طريق التقليد، ثم الحكم على الحديث إما صحة، أو ضعفا حسب ظهور نتيجة الدراسة النقدية.
ثم تخريج الحديث، عن الكتب المسندة من كتب الحديث، والتفسير، والمغازى والسير وغيرها، مما يعتنى أصحابها بالاسناد.
ثم ذكر محل ورودها فى كتب أخرى فى موضوع الاستدلال، أو للشواهد أو نحوها ككتب الفقه، والتفسير، واللغة، والأدب، والبلدانيات ونحو ذلك مما عرف أصحابها بالباع الطويل فى موضوع ما.
তাঁর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যুদ্ধাভিযান এবং অন্যান্য শরয়ি বিধিবিধান, পালনীয় আদব ও অনুরূপ বিষয়াবলীতে, অনুরূপভাবে তাঁর নেককার সম্মানিত সাহাবীগণ এবং হিদায়াতের অন্যান্য ইমামগণ যেমন ইমাম আবু হানিফা, শাফিয়ি, মালিক ও আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর ক্ষেত্রেও। তাই আমি আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যুদ্ধাভিযানের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি সম্পাদনা (তাহকিক) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তা হলো তাবুক যুদ্ধ—যা হিজরি নবম সনে তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল।
গবেষণার পদ্ধতিআর গবেষণার পদ্ধতি হলো: তাবুক যুদ্ধের হাদিসসমূহ থেকে মারফু হাদিস এবং মাওকুফ ও মাকতু আছারসমূহের মধ্য হতে সহিহ, হাসান ও জয়িফ হাদিসের সকল প্রকার নির্ণয় করা। সনদে কোনো ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা) থাকলে তা স্পষ্ট করা, অনুরূপভাবে ইদাল, ইনকিতা ও তায়লিকের বিষয়গুলো বর্ণনাকারীদের সমালোচনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা; যা হবে মুহাদ্দিসগণের নিকট সুপরিচিত উসুলুল হাদিসের মূলনীতির ভিত্তিতে, তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে নয়। অতঃপর সমালোচনামূলক পর্যালোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা।
এরপর হাদিস, তাফসির, মাগাজি ও সিরাতসহ অন্যান্য মূল সূত্রগ্রন্থ—যেগুলোর লেখকগণ সনদের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন—তা হতে হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করা।
অতঃপর দলিল হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অথবা শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) বা অনুরূপ প্রয়োজনে অন্যান্য কিতাবে সেগুলোর উল্লেখ থাকার স্থানসমূহ বর্ণনা করা; যেমন—ফিকহ, তাফসির, অভিধান, সাহিত্য ও ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, যেগুলোর লেখকগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী হিসেবে সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا هو المنهج بالاختصار، وليس الكلام على متن الحديث داخلا فى منهج البحث، لان هذه مرحلة مستقلة وسوف يفرغ لها إن شاء اللَّه تعالى، فى وقت آخر.
العقبات التى واجهت البحثمن الطبيعى جدا، أن هذا البحث على هذا النمط -كما هو واضح لدى أهل هذا الفن لم يبحث من قبل، على هذا النهج، لان كثيرا ما ينقل على الالسنة، أن أحاديث المغازى والسير، وفضائل الاعمال، والملاحم، والرقاق ونحوها، مما وقع فيها التساهل منذ قديم الزمان، فينظر إليها المحدثون القدماء وغيرهم بغير النظرة التى ينظرون بها إلى أحاديث الأحكام، والعقائد، وهذا القول كثرا ما ينسب الى الإمام أحمد بن حنبل رحمه اللَّه تعالى، كما نقله فضيلة الشيخ حسن مشاط فى انارة الدجى فى مغازى خير الورى (1) وعند البحث عن اسناده فوجد عند الخطيب البغدادى إذ قال رحمه اللَّه تعالى باسناده الجيد عن الإمام أحمد بن حنبل:
قال رحمه اللَّه تعالى: إذا روينا عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فى الحلال، والحرام، والسنن، والاحكام، تشددنا فى الاسانيد، وإذا روينا عن النبي صلى الله عليه وسلم فى فضائل الاعمال، وما لا يضع حكما، ولا يرفعه، تساهلنا فى الاسانيد (2).
--------------------------------------------
সংক্ষেপে এটিই হলো কর্মপদ্ধতি। আর হাদীসের মূল পাঠের ওপর আলোচনা গবেষণার এই কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র পর্যায় এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতে এর জন্য সময় বের করা হবে।
গবেষণার ক্ষেত্রে সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতাসমূহএটি অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, এই ধাঁচের গবেষণা—যেমনটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট স্পষ্ট—এই পদ্ধতিতে ইতিপূর্বে করা হয়নি। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখে মুখে এটি আলোচিত হয় যে, মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ), সীরাত, আমলের ফজিলত, মালাহিম (মহাযুদ্ধ) এবং রিক্বাক্ব (হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা) ও এই জাতীয় হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে প্রাচীনকাল থেকেই শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে প্রাচীন মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যরা এগুলোকে সেই দৃষ্টিতে দেখেন না, যে দৃষ্টিতে তারা আহকাম (বিধান) ও আকাইদ (বিশ্বাস) সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে দেখে থাকেন। আর এই কথাটি প্রায়শই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, যেমনটি ফযীলতুশ শাইখ হাসান মাশশাত ‘ইনারাতুদ দুজা ফী মাগাযী খাইরিল ওয়ারা’ (১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ বা সূত্র অনুসন্ধান করে তা খতীব আল-বাগদাদীর নিকট পাওয়া গেছে; তিনি তাঁর উত্তম সনদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন যে:
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হালাল, হারাম, সুন্নাহ ও আহকাম বিষয়ে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি। আর যখন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমলের ফজিলত এবং এমন বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করি যা কোনো বিধান সাব্যস্ত করে না কিংবা রহিত করে না, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قلت: هذا هو الميزان الصحيح الذى وضعه المحدثون القدماء، وعلى رأسهم جبل السنة وأمام الهدى أحمد بن حنبل الشيبانى رحمه اللَّه تعالى فى الاستدلال بالحديث الضعيف أو استعماله للشواهد، أو المتابعات ولا يمكن حمل قولهم رحمهم اللَّه تعالى على الحديث الضعيف. الذى ضعف اسناده الى حد لا يمكن أن يتحمل ضعفه، أو يتقوى به حديث آخر مثله زيادة على ذلك أن التقسيم الحاضر للحديث الى ثلاثة اقسام معروفة لم يكن الا من وضع متأخرى أهل الحديث، وهو معروف عند أهله، كما قال الامام ابن كثير رحمه اللَّه تعالى: إن هذا التقسيم إذا كان بالنسبة الى ما فى نفسى الامر فليس الا صحيح، أو ضعيف (1).
قلت: فالحديث الضعيف المراد به من قولهم هو الحديث الحسن الذى جعل فى النهاية قسما متوسطا لدى المتأخرين.
فعلى هذه القاعدة المعروفة التى أشرت إليها آنفا وضعت أساس هذه الدراسة المتواضعة متطفلا على مائدة هؤلاء العباقرة الامجاد رحمهم اللَّه تعالى.
وحقا: عند بدء هذه الدراسة واجهتنى بعض المشاكل من نواح متعددة:
أ- إن هذا الموضوع لم يبحث من قبل على هذا النمط، حتى يمكن الاستهداء به ولو فى بعض الأمور.
ب- عدم وجود المشرف الذى يتطلبه البحث فى بداية الأمر، لأن من عرف هذه الدراسة النقدية والتخريجية وعاش فيها وقتا طويلا،
--------------------------------------------
আমি বললাম: এটিই সেই সঠিক মানদণ্ড যা প্রাচীন মুহাদ্দিসগণ নির্ধারণ করেছেন, যাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন সুন্নাহর পর্বত ও হেদায়েতের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)। এটি যঈফ হাদিস থেকে প্রমাণ গ্রহণ কিংবা শাহেদ ও মুতাবিআত (সহায়ক বর্ণনা) হিসেবে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাঁদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) এই কথাকে এমন যঈফ হাদিসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, যার সনদের দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা আর বহনযোগ্য নয় অথবা তা দ্বারা অন্য কোনো সদৃশ হাদিস শক্তিশালী হতে পারে না। এর পাশাপাশি, হাদিসকে বর্তমানে যে তিনটি সুপ্রসিদ্ধ ভাগে বিভক্ত করা হয়, তা কেবল পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণেরই উদ্ভাবন, যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সুপরিচিত। যেমনটি ইমাম ইবনে কাসির (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: এই বিভাজন যদি বিষয়ের প্রকৃত অবস্থার নিরিখে হয়, তবে তা সহিহ অথবা যঈফ ছাড়া অন্য কিছু নয় (১)।
আমি বললাম: তাঁদের বক্তব্যে যঈফ হাদিস বলতে মূলত সেই হাসান হাদিসকেই বোঝানো হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট একটি মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
সুতরাং, ইতিপূর্বে আমি যে সুপরিচিত মূলনীতির উল্লেখ করেছি, তার ওপর ভিত্তি করেই এই মহান কৃতি মনীষীদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) জ্ঞান-দস্তরখানের এক নগণ্য ভোজী হিসেবে আমি আমার এই বিনম্র গবেষণার ভিত্তি স্থাপন করেছি।
প্রকৃতপক্ষে, এই গবেষণা শুরু করার সময় আমি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম:
ক- এই বিষয়টি ইতিপূর্বে এই আঙ্গিকে আলোচিত হয়নি, যাতে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে তা থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা সম্ভব হতো।
খ- গবেষণার শুরুতে যে ধরনের তত্ত্বাবধায়ক প্রয়োজন ছিল তার অভাব, কারণ যিনি এই সমালোচনামূলক এবং তাখরিজ ভিত্তিক গবেষণা সম্পর্কে জানেন এবং দীর্ঘ সময় এতে নিবিষ্ট ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يغفل أحيانا عن معرفة بعض رجال الاسناد، خصوصا إذا اتفقت اسمائهم، واسماء آبائهم، واسماء بلدانهم، وهم فى طبقة واحدة، وقد اتفق أخذهم الحديث عن شيخ واحد، فهناك يحصل الخلط بين اسمائهم، وعدم التمييز بينهم، وهذا من أخطر شئ مرّ عليّ فى هذه الدراسة، انظر ما قاله الحاكم فى علوم الحديث عن هذا الموضوع (1) كيف لا يحصل هذا، وأنا حالي كرجل يلقى نفسه فى اليم ولا يحسن العوم؟
وقد وقع مثل هذا الخطأ عن أمير المؤمنين فى الحديث، الامام أبى عبد اللَّه محمد بن اسماعيل البخارى رحمه اللَّه تعالى فى -تاريخه الكبير، ذاك الجهبذ الكبير، والناقد البصير الذى اتسم كتابه العظيم "صحيح البخارى" بما اتسم به من الدرجة العالية، والمنزلة الرفيعة، من حيث القبول والاقبال عليه، حتى أصبح أصح كتاب بعد كتاب اللَّه تعالى.
قال الامام أبو القاسم الرافعى الكبير باسناده الجيد، عن أبى زيد المروزى، الفقيه، قال: كنت نائما بين الركن والمقام، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم فى المنام، فقال: يا أبا زيد: إلى متى تدرس كتاب الشافعى، ولا تدرس كتابي؟
فقلت: يا رسول اللَّه: وما كتابك؟
قال: هو جامع محمد بن اسماعيل البخاري (2).
--------------------------------------------
মাঝে মাঝে সানাদের কতিপয় বর্ণনাকারীর পরিচয় জানার ক্ষেত্রে অসতর্কতা ঘটে যায়, বিশেষ করে যখন তাদের নাম, তাদের পিতাদের নাম এবং তাদের অঞ্চলের নাম একই হয়ে যায় এবং তারা একই প্রজন্মের (তাবাকাহ) অন্তর্ভুক্ত হন, আবার তারা একই শাইখের নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও একমত হন। এমতাবস্থায় তাদের নামের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং তাদের একে অপর থেকে পৃথক করা সম্ভব হয় না। এই গবেষণায় আমার নিকট এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হিসেবে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে ‘উলূমুল হাদীস’ গ্রন্থে আল-হাকিম যা বলেছেন তা লক্ষ্য করুন (১)। এটি কেন ঘটবে না, অথচ আমার অবস্থা তো সেই ব্যক্তির মতো যে নিজেকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে অথচ সে ভালো করে সাঁতার জানে না?
অনুরূপ ভুল হাদীস শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর পক্ষ থেকেও তাঁর ‘তারীখুল কাবীর’ গ্রন্থে সংঘটিত হয়েছে। তিনি সেই মহান বিশারদ ও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক, যাঁর মহান গ্রন্থ ‘সহীহ আল-বুখারী’ গ্রহণযোগ্যতা ও সমাদরের দিক থেকে এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান স্তরে ভূষিত হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত এটি আল্লাহ তায়ালার কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
ইমাম আবুল কাসিম আর-রাফিয়ী আল-কাবীর তাঁর উত্তম সূত্রের মাধ্যমে ফকীহ আবু যায়েদ আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রুকন ও মাকামের মাঝখানে ঘুমিয়ে ছিলাম, এমতাবস্থায় স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম। তিনি বললেন: হে আবু যায়েদ! কতকাল তুমি শাফিয়ীর কিতাব অধ্যয়ন করবে, অথচ আমার কিতাব অধ্যয়ন করবে না?
আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কিতাব কোনটি?
তিনি বললেন: সেটি হলো মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারীর জামি‘ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قلت: مع هذه المنزلة الرفيعة، لم يسلم عن الخطأ رحمه اللَّه تعالى تاريخه الكبير فيأتى ابن أبى حاتم الرازى صاحب كتاب الجرح والتعديل المتوفى سنة 327 هـ، فيستدرك عليه، فى كتابه بيان خطأ محمد بن إسماعيل البخارى فى التاريخ (1)، ثم يأتى الخطيب البغدادى المتوفى سنة 463 فيكتب كتابا مفصلا، ويسميه موضح أوهام الجمع والتفريق (2) كأنه يرد على ابن أبى حاتم فى كتابه الآنف الذكر، فى بعض المواضع، ويخطئ البخارى رحمه اللَّه تعالى فى مواضع أخرى، لم يشر إليها ابن أبى حاتم الرازى، وهكذا يأتى الشيخ عبد الرحمن بن يحيى المعلمى رحمه اللَّه تعالى فيكتب مقدمة جميلة للغاية، على كتاب الخطيب المذكور يدافع فيها عن الإمام البخارى رحمه اللَّه تعالى، ويذكر أوهام الخطيب الخفية.
كما وقع مثل هذا الخطأ بل أقبح منه، ما وقع عن الشيخ محمد زاهد الكوثرى: كتابه، تأنيب الخطيب على ما ساقه فى ترجمة أبى حنيفة من الأكاذيب (3) ثم استدرك عليه الشيخ العلامة الامام عبد الرحمن بن يحيى المعلمى فى كتابه الفذ "التنكيل بما فى تأنيب الكوثرى من الاباطيل" (4).
--------------------------------------------
আমি বলছি: এই উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ‘তারিখুল কাবির’ গ্রন্থটি ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত ছিল না। ফলে ‘আল-জারহু ওয়াত তা’দিল’ গ্রন্থের লেখক ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু: ৩২৭ হি.) তাঁর ‘বায়ানু খাতা-ই মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারি ফিত তারিখ’ (১) গ্রন্থে তাঁর ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। অতঃপর আল-খাতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হি.) আসেন এবং একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দেন ‘মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক’ (২)। তিনি যেন কিছু স্থানে ইবনে আবি হাতিমের উপরোক্ত কিতাবের জবাব দিয়েছেন, আবার অন্য কিছু স্থানে ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর এমন কিছু ভুল ধরেছেন যা ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি উল্লেখ করেননি। এভাবেই শায়খ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আসেন এবং খাতিব বাগদাদির উক্ত কিতাবের উপর অত্যন্ত চমৎকার একটি ভূমিকা লিখেন, যাতে তিনি ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর পক্ষাবলম্বন করে প্রতিরক্ষা করেন এবং খাতিব বাগদাদির সূক্ষ্ম ভুলগুলো তুলে ধরেন।
অনুরূপ ভুল, বরং তারচেয়েও জঘন্য ভুল সংঘটিত হয়েছে শায়খ মুহাম্মাদ যাহিদ আল-কাওসারির পক্ষ থেকে তাঁর কিতাব: ‘তানিবুল খাতিব আলা মা সাক্বাহু ফি তারজামতি আবি হানিফা মিনাল আকাযিব’ (৩)-এ। পরবর্তীতে প্রখ্যাত আলেম ইমাম আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি তাঁর অনন্য গ্রন্থ ‘আত-তানকিল বিমা ফি তানিবি আল-কাওসারি মিনাল আবাতিল’ (৪)-এ তার প্রতিবাদ ও ভুল সংশোধন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فإذا عرفت هذا -فاعلم أن هذا من أخطر الفنون الاسلامية، ومنه تتسرب العلل غالبا فى الحديث.
ولقد وقع مثل هذه الاوهام عن جملة عن أعلام المحدثين الكبار، كما ستراها إن شاء اللَّه تعالى مفصلا فى طيات هذه الرسالة المتواضعة.
فإذا كان الأمر كما ذكر، فإنا من باب أولى أن يزل قدمى، ويضطرب قلبي، لانى لم أحمل رصيدا علميا كافيا، يمكن لى الاستقلال به.
قصة مشكلة غريبةوقعت فى مشكلة غريبة حرت فيها أكثر من شهرين أو أكثر وهى أنى التقيت نصا معلقا، حكم عليه الحافظ ابن حجر فى فتح البارى بالضعف الشديد، فصرت أبحث عن اسناده، حتى أطمئن بدراسته، ونقد رجاله، هل الحافظ رحمه اللَّه تعالى أصاب فيه أو وقع منه تساهل؟ والكتاب الذى أحال علية فى الفتح، هو موجود بمكتبة الحرم المكى (1)، الا انه مطموس بحيث لا يمكن الاستفادة منه بحال من الأحوال، ومع ذلك حاولت فى أن أتحصل ما أشار إليه الحافظ، فلم أنجح، ثم واصلت البحث عنه فى بحار كتب كثيرة فلم أجده الا معلقا عن الاخرين أيضا، حتى عزمت السفر الى الرياض لهذا الغرض لانى علمت أن هناك مصادر مخطوطة، ويمكن لى الاستفادة منها، فلم أجده أيضا، ثم واصلت البحث عنه بطرق أخرى كثيرة، فوجدته فى غير مظانه، وحينئذ فرحت فرحا شديدا وشكرت اللَّه على ذلك، فوضعته فى الصلب، مع أن صاحب المصدر الاخير هو أقدم وأجود من الحافظ ابن حجر الا انى
--------------------------------------------
আপনি যখন এটি জানলেন—তবে জেনে রাখুন যে, এটি ইসলামি শাস্ত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম বিপজ্জনক একটি শাস্ত্র, এবং এখান থেকেই সাধারণত হাদিসে ত্রুটিসমূহ (ইলল) প্রবেশ করে।
আর এ জাতীয় বিভ্রম বড় বড় প্রথিতযশা মুহাদ্দিসগণের এক বড় অংশের ক্ষেত্রেও ঘটেছে, যেমনটি আপনি ইনশাআল্লাহ তাআলা এই বিনম্র পুস্তিকার ভাঁজে ভাঁজে বিস্তারিতভাবে দেখতে পাবেন।
সুতরাং বিষয়টি যদি এমন হয় যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে আমার পা পিছলে যাওয়া এবং অন্তর বিচলিত হওয়া তো আরও বেশি স্বাভাবিক; কারণ আমি পর্যাপ্ত ইলমি পুঁজি বহন করি না যার মাধ্যমে আমি স্বাবলম্বী হতে পারি।
একটি অদ্ভুত সমস্যার গল্পআমি এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছিলাম যাতে আমি দুই মাস বা তারও বেশি সময় ধরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলাম। তা হলো, আমি একটি মুআল্লাক (সূত্রবিহীন) পাঠের মুখোমুখি হয়েছিলাম, যার ব্যাপারে হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। ফলে আমি এর সনদের অনুসন্ধান শুরু করলাম, যাতে এর পর্যালোচনা এবং এর বর্ণনাকারীদের সমালোচনার মাধ্যমে আশ্বস্ত হতে পারি যে, হাফেজ রহিমাহুল্লাহ তাআলা এতে সঠিক ছিলেন নাকি তার পক্ষ থেকে কোনো শিথিলতা প্রকাশ পেয়েছে? আর ফাতহুল বারীতে তিনি যে কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তা মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে (১) বিদ্যমান রয়েছে; তবে তা এমনভাবে মুছে গেছে (অস্পষ্ট হয়ে গেছে) যে কোনোভাবেই তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও আমি হাফেজ যেটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা অর্জনের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। অতঃপর আমি অসংখ্য কিতাবের সাগরে এর অনুসন্ধান চালিয়েছি, কিন্তু অন্যদের বরাতেও তা কেবল মুআল্লাক হিসেবেই পেয়েছি। অবশেষে আমি এই উদ্দেশ্যে রিয়াদে সফরের সংকল্প করলাম, কারণ আমি জানতাম যে সেখানে পাণ্ডুলিপি উৎস রয়েছে এবং আমি সেগুলো থেকে উপকৃত হতে পারব। কিন্তু সেখানেও আমি তা পেলাম না। অতঃপর আমি অন্যান্য অনেক উপায়ে এর অনুসন্ধান অব্যাহত রাখলাম এবং শেষ পর্যন্ত তা এমন স্থানে পেলাম যেখানে পাওয়ার কথা ছিল না। তখন আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম এবং এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। অতঃপর আমি এটিকে মূল পাঠে স্থান দিলাম, যদিও শেষোক্ত উৎসের লেখক হাফেজ ইবনে হাজারের চেয়ে প্রাচীন ও উন্নত মানের, তবে আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আয-যাহাবুল মাসবুক ফী তাহকীক রিওয়ায়াত গাযওয়াহ তাবুক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
خالفت قاعدة التحقيق لغرض ما يخفى عليك، وهكذا سرت فى هذه الدراسة بهذا الجوار الكريم، وكانت هناك مشاكل أخرى، الا أنها لم تكن الى حد بعيد تقف موقفا سلبيا عن التقدم فى البحث، وحالي كما ذكرت، فقير فى كل شئ، مضطرب فى التفكير الذى هو وسيلة طيبة -فى سبك تلك المعانى التى أخذتها فى قالب جميل، وزيادة على ذلك، ما هناك من المشاكل العائلية، والعوائق النفسية والتى لا يخلو منها أى انسان، خصوصا فى هذا العصر، وأنا فى حالة كهذه مع التذلل أمام الرب جل وعلا أتمناه الفتح المبين، والطريق المنير فى هذا السبيل سبيل العلم، والمعرفة، والعمل به، والدعوة اليه، مطمئنا الى رحمته، وعدله، وحكمته، وعلمه، وهو الملاذ الوحيد، ومتيقنا فى وعده الكريم، {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} (1) فتلك بعض المشاكل بالاختصار.
مخطط السير فى منهج البحثأ- أما مخطط السير الذى اخترته، فهو عبارة عن جمع المادة المناسبة من أحاديث غزوة تبوك من مصادر عديدة من أمهات كتب السنة وغيرها، مما يعتنى أصحابها بالاسناد.
ب- ثم توزيعها، وسبكها فى هيكل البحث، تحت فصول معروفة
--------------------------------------------
আমি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যা আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়, গবেষণার সাধারণ নিয়ম লঙ্ঘন করেছি; এভাবেই আমি এই বরকতময় সান্নিধ্যে এই অধ্যয়নটি চালিয়ে নিয়েছি। সেখানে আরও কিছু সমস্যা ছিল, তবে সেগুলো গবেষণার অগ্রগতিতে খুব একটা নেতিবাচক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। আর আমার অবস্থা যেমনটি উল্লেখ করেছি—আমি সর্বদিক দিয়ে রিক্ত এবং চিন্তাধারায় অস্থির, যা কি না সংগৃহীত অর্থগুলোকে একটি সুন্দর অবয়বে বিন্যস্ত করার উত্তম মাধ্যম ছিল। তদুপরি, পারিবারিক সমস্যা ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা তো ছিলই, যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়, বিশেষ করে এই যুগে। আমি এই অবস্থায় মহান প্রতিপালকের সামনে বিনয়াবনত হয়ে তাঁর নিকট সুস্পষ্ট বিজয় এবং এই জ্ঞান, প্রজ্ঞা, তদানুযায়ী আমল ও এর দিকে দাওয়াতের পথে আলোকিত পথের প্রত্যাশা করি। আমি তাঁর রহমত, ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের ওপর আশ্বস্ত, আর তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল। আমি তাঁর মহান অঙ্গীকারে সুনিশ্চিত: "আর যারা আমার পথে প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।" (১) সংক্ষেপে এগুলোই ছিল কিছু সমস্যা।
গবেষণা পদ্ধতির রূপরেখাক- আমি যে কর্মপরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছি, তা হলো সুন্নাহর মূল গ্রন্থাবলি ও অন্যান্য উৎস—যেগুলোর সংকলকগণ সনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন—তা থেকে তাবুক যুদ্ধ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের উপযুক্ত উপাদান সংগ্রহ করা।
খ- অতঃপর সেগুলো গবেষণার কাঠামোর অধীনে সুনির্দিষ্ট পরিচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ করা।
--------------------------------------------