(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: -)
حكم التقليد القسم: أصول الفقه
الكتاب: حكم التقليد
جواب عن سؤال في: حكم معرفة طالب العلم لدليل المسألة • حكم التقليد للعاميِّ • حكم تقليد المذاهب الأربعة.
المؤلف: حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر النجدي التميمي الحنبلي (ت 1225 هـ)
تحقيق وتعليق: عبد العزيز بن عدنان العيدان
الناشر: ركائز للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 108
أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 جُمادَى الأولى 1443
তাকলীদের (تقليد) বিধান (حكم) বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
বই: তাকলীদের (تقليد) বিধান (حكم)
একটি প্রশ্নের উত্তর প্রসঙ্গে: মাসআলার (مسألة) দলিল (دليل) জানার ক্ষেত্রে জ্ঞান অন্বেষণকারীর (طالب العلم) বিধান (حكم) • সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য তাকলীদের (تقليد) বিধান (حكم) • চার মাযহাবের (المذاهب الأربعة) তাকলীদের (تقليد) বিধান (حكم).
লেখক: হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুয়াম্মার আন-নাজদী আত-তামিমী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১২২৫ হি.)
তাহকিক ও তালীক: আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-ঈদান
প্রকাশক: রাকায়িয পাবলিকেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৯ হি. - ২০১৮ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
শামেলায় উপহার দিয়েছেন: রাকায়িয পাবলিকেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন; জাযাহুমুল্লাহু খাইরান
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১)
حكم التقليد
- جواب عن سؤال في:
- حكم معرفة طالب العلم لدليل المسألة.
- حكم التقليد للعاميِّ.
- حكم تقليد المذاهب الأربعة.
للشيخ العلامة
حمد بن ناصر بن عثمان بن مُعَمَّر النجدي التميمي الحنبلي
المتوفى: 1225 هـ
تحقيق وتعليق
د. عبد العزيز بن عدنان العيدان
তাকলিদ (تقليد)-এর বিধান
- নিম্নোক্ত বিষয়াবলি সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তর:
- মাসআলার দলিল (دليل) সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষীর (طالب العلم) অবগতির বিধান।
- সাধারণ ব্যক্তির (عامي) জন্য তাকলিদ (تقليد)-এর বিধান।
- চার মাজহাবের তাকলিদ (تقليد)-এর বিধান।
শায়খ আল্লামা
হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুআম্মার আন-নাজদী আত-তামীমী আল-হাম্বলী
মৃত্যু: ১২২৫ হিজরি
সম্পাদনা ও টীকা (تحقيق وتعليق)
ড. আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد ألا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن الله تعالى فضَّل العلم النافع وأحب أهله، ورفع بعضهم فوق بعض درجات، فأعلاهم منزلة عنده أعلمهم به وبشريعته، قال تعالى: (يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات)، وجعل خشيتَه معلَّقةً به فقال: (إنما يخشى الله من عباده العلماء)، فتنافس الناس في القرون الثلاثة المفضلة لتحصيل ذلك العلم، وتنادوا فيما بينهم إليه، واجتهدوا في التحقُّق به، وبذلوا الأموال والأوقات، وتركوا من أجله المُتع والملذات، فكثرت فيهم العلماء، وقلت البدع والضلالات، وكان لهجهم بعد التسبيح والتهليل بـ"حدثنا" و "أخبرنا"، وكانوا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উপকারী জ্ঞানকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এর অধিকারীদের ভালোবেসেছেন। তিনি তাঁদের একজনকে অন্যজনের ওপর বিভিন্ন স্তরে উন্নীত করেছেন। তাঁর নিকট মর্যাদার দিক থেকে তাঁরাই সর্বোচ্চ, যারা তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর শরিয়ত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।" আর তিনি নিজের ভীতিকে জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট করে বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।" ফলে শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের মানুষ সেই জ্ঞান অর্জনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন, একে অন্যকে এর দিকে আহ্বান করেছেন এবং এর যথার্থতা যাচাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা এর জন্য অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন এবং এর জন্য পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাস ত্যাগ করেছেন। ফলে তাঁদের মধ্যে আলেমদের আধিক্য ছিল এবং বিদআত (بدعة) ও ভ্রষ্টতা ছিল যৎসামান্য। তাসবীহ ও তাহলীলের পর তাঁদের মুখ সর্বদা উচ্চারিত হতো "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)" এবং "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)" দ্বারা। আর তাঁরা ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
يتعلمون العلم لنفوسهم حتى تزكو، ولقلوبهم حتى تجلو، لا للناس أو للجاه أو ليقال، وكان كيد الشيطان فيهم ضعيفًا، والمتعلم منهم من حبائله فطينًا حصيفًا؛ فظهرت السنن وأُمر بالمعروف ونُهي عن المنكر وقامت سوق الديانة، فكلما أوقد أعداء السنن نار البدع أطفوها بماء النبوة.
وكان مسلكهم في تحصيل العلم آنذاك؛ الرجوع إلى صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم لسماع القرآن والحديث والتفقُّه فيهما، ثم العمل بمقتضى ذلك والدعوة إليه، واستمروا على ذلك زمانًا صحَّ لهم فيه المأخذ ولم يُعكِّر صفوَه معكِّر.
ولما اتَّسعت رقعة الإسلام، وطالت أطرافه بلاد الأعاجم، وتطاول العهد بالنبوة؛ كثرت الأفهام السقيمة والدواخل الفاسدة، وزاحم أهلَ العلم النافع غيرُهم، وتشعَّبت المقاصد والنيات، فعمد الشيطان بمكايده لدسِّ العلم الضار بالعلم النافع وخَلْطِ بعضه ببعض، حتى إذا ما أراد طالبٌ تحصيل العلم النافع اشتبه عليه بغيره فضلَّ وأضل.
ففي علم الحديث والسير والمغازي؛ سوَّدت الزنادقة والمبتدعة الصحائف بالأخبار الباطلة، فنهض أهل الحديث وحموا الأخبار بحفظها وبيان عللها، قال ابن سيرين: (كانوا لا
তারা নিজেদের নফসের পবিত্রতার জন্য এবং হৃদয়ের উজ্জ্বলতার জন্য ইলম অর্জন করতেন; মানুষের জন্য, পদের লালসায় কিংবা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য নয়। তাদের মাঝে শয়তানের চক্রান্ত ছিল দুর্বল (ضعيف), আর তাদের মধ্যে ইলম অন্বেষণকারীরা শয়তানের জাল সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ ও বিচক্ষণ ছিলেন। ফলে সুন্নাহসমূহ প্রকাশিত হলো, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ (منكر) করা হলো এবং দ্বীনদারির বাজার জমজমাট হলো। যখনই সুন্নাহর শত্রুরা বিদআতের আগুন প্রজ্বলিত করত, তারা নবুওয়াতের বারিধারা দিয়ে তা নিভিয়ে দিতেন।
সেই সময়ে ইলম অর্জনে তাদের কর্মপন্থা ছিল—কুরআন ও হাদিস শ্রবণ এবং এই দুটিতে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জনের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের শরণাপন্ন হওয়া। অতঃপর সেই অনুযায়ী আমল করা এবং তার দিকে দাওয়াত দেওয়া। দীর্ঘকাল তারা এই পদ্ধতির ওপর অটল ছিলেন, যে সময়ে তাদের ইলম গ্রহণের উৎস ছিল সঠিক (صح) এবং কোনো কলুষতা তার স্বচ্ছতাকে ঘোলাটে করতে পারেনি।
যখন ইসলামের ভূখণ্ড বিস্তৃত হলো এবং এর সীমানা অনারব দেশগুলো পর্যন্ত পৌঁছে গেল, আর নবুওয়াতের যুগ থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো; তখন অসুস্থ উপলব্ধি ও কলুষিত চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটল। উপকারী ইলমের অধিকারীদের সাথে অন্যদের ভিড় বেড়ে গেল এবং লক্ষ্য ও নিয়ত নানামুখী হয়ে পড়ল। শয়তান তার চক্রান্তের মাধ্যমে উপকারী ইলমের মধ্যে ক্ষতিকর বিষয়গুলো ঢুকিয়ে দিতে এবং একটির সাথে অন্যটি মিশ্রিত করতে সচেষ্ট হলো। ফলে কোনো শিক্ষার্থী যখন উপকারী ইলম অর্জন করতে চাইত, তখন তা অন্যান্য বিষয়ের সাথে গুলিয়ে যেত, যার ফলে সে নিজে বিভ্রান্ত হতো এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত করত।
হাদিস শাস্ত্র, সীরাত ও মাগাজির ক্ষেত্রে যিনদিক ও বিদআতিরা কিতাবের পাতাগুলোকে বাতিল (باطل) সংবাদ দ্বারা কলঙ্কিত করল। তখন হাদিস বিশারদগণ তৎপর হলেন এবং বর্ণনাসমূহ হিফজ করার মাধ্যমে এবং সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বর্ণনার মাধ্যমে এই সংবাদগুলোকে সুরক্ষিত করলেন। ইবনে সীরীন বলেন: (তারা...
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة قالوا: سمُّوا لنا رجالكم).
وفي علم الاعتقاد؛ تكلَّم الفلاسفة ومن تأثَّر بهم بما لا يُعرف في القرون المفضلة، فحرس أهل السنة الحقَّة حمى العقيدة بمصنفاتهم، وبدَّدوا وَهَج الباطل بمواقفهم، وأتوا على بنيان الفلاسفة وأهل الكلام من قواعدهم فخرَّ عليهم السقف من فوقهم.
وفي علم الفقه ومسالك أخذه؛ سلك المقلِّدة والمتعصبة مسلكًا لم يَسبقهم إليه أحد، فتتابع أهل العلم في نقضه، ورموهم من قوس السنة ورماح الآثار، وبيَّنوا المسالك المعرِّفة بأحكام الحلال والحرام.
وهكذا في كل علم من العلوم النافعة الموصلة إلى مرضاة الله، يقيِّض الله من يحرسه من الدواخل الفاسدة، والشبه الملبِّسة، والآراء المضلِّلة، ومنذ ذلك الزمان وأهل السنة يذودون عن حياض العلم، ويجاهدون بأقوالهم وأقلامهم لتمييز النافع منه من ضده، ولإرجاع الناس في سائر العلوم إلى ما كان عليه أهل الزمان الأول، وهم في كل جولة بفضل الله منصورون، وعلى كل باطل بأمر الله ظاهرون؛ وكما قال صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَائِمَةً بِأَمْرِ اللهِ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ أَوْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ عَلَى النَّاسِ».
তারা সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন; অতঃপর যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের (رجالكم) নাম উল্লেখ করো।
আর আকিদা (الاعتقاد) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে; দার্শনিকগণ এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিগণ এমন সব বিষয়ে কথা বলেছেন যা শ্রেষ্ঠ শতাব্দীগুলোতে (القرون المفضلة) পরিচিত ছিল না। ফলে হাক্কানি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত তাদের রচনার মাধ্যমে আকিদার সীমানাকে রক্ষা করেছেন এবং তাদের অবস্থানের মাধ্যমে বাতিলের চাকচিক্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। তারা দার্শনিক ও ইলমুল কালামের অনুসারীদের (أهل الكلام) ইমারতকে তাদের ভিত্তি থেকেই উপড়ে ফেলেছেন, ফলে তাদের ওপর তাদের ছাদ ধসে পড়েছে।
আর ফিকহ (الفقه) শাস্ত্র এবং তা আহরণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে; মুকাল্লিদ (المقلِّدة) ও অন্ধ অনুসারীরা (المتعصبة) এমন পথ অবলম্বন করেছিল যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। ফলে উলামায়ে কেরাম ধারাবাহিকভাবে তা খণ্ডন করেছেন এবং সুন্নাহর ধনুক ও আসারের (الآثار) বর্শা দিয়ে তাদের লক্ষ্যভেদ করেছেন এবং হালাল ও হারামের বিধানসমূহ জানার সঠিক পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছেন।
এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হওয়া প্রতিটি উপকারী ইলমের ক্ষেত্রে, আল্লাহ এমন ব্যক্তিদের নির্ধারণ করে দেন যারা একে কলুষিত অনুপ্রবেশ, বিভ্রান্তিকর সংশয় এবং পথভ্রষ্ট মতামত থেকে রক্ষা করেন। সেই সময় থেকেই আহলে সুন্নাত ইলমের সীমানা পাহারা দিচ্ছেন এবং তাদের কথা ও কলমের মাধ্যমে উপকারী ও অপকারী ইলমের মাঝে পার্থক্য করার জন্য এবং সকল ইলমের ক্ষেত্রে মানুষকে প্রথম যুগের মনীষীদের আদর্শের দিকে ফিরিয়ে নিতে জিহাদ করে যাচ্ছেন। তারা প্রতিটি লড়াইয়ে আল্লাহর অনুগ্রহে সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورون) এবং আল্লাহর আদেশে সকল বাতিলের ওপর বিজয়ী (ظاهرون); যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা মানুষের ওপর বিজয়ী (ظاهرون) থাকবে।”
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإن ممن برى قلمه وأحضر دواته لحماية جناب العلم النافع: الشيخ حمد بن ناصر بن معمَّر، في جوابٍ له عن المسلك الصحيح في أخذ الفقه ومعرفة الحلال والحرام، وسُمِّيت الرسالة بـ (الَاجْتِهَادِ وَالتَّقْلِيدِ)، وهي رسالتنا هذه
(1).
فقد بيَّن فيها رحمه الله أحوال الناس في معرفة أحكام الحلال والحرام والعمل بها، وأنهم ينقسمون إلى ثلاثة أقسام:
القسم الأول: المجتهد، الذي توفرت فيه شروط الاجتهاد، وأن الواجب عليه الاجتهاد لا التقليد.
والقسم الثاني: من كان عاجزًا عن معرفة حكم الله تعالى في مسألة من المسائل؛ كالعامِّيِّ والمتفقِّه القاصر عن النظر: وبين أن مثل هؤلاء فرضهم التقليد.
والقسم الثالث: من كان متوسطًا بين القسمين السابقين، وهو المتفقِّه القادر على النظر والاستدلال، وكانت عنده الآلة التي يُميِّز من خلالها القول الأقرب للدليل، بحيث يشعر برجحان قول على قول: فبيَّن رحمه الله أن مثل هذا يجب عليه النظر والاستدلال والعمل
--------------------------------------------
যারা উপকারী ইলমের মর্যাদা রক্ষায় নিজেদের কলমকে শাণিত করেছেন এবং দোয়াত প্রস্তুত করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: শায়খ হামাদ বিন নাসির বিন মুয়াম্মার; ফিকহ গ্রহণ এবং হালাল-হারাম চেনার সঠিক পথ সম্পর্কে তাঁর একটি উত্তরে এটি বিধৃত হয়েছে। এই রিসালাটির নাম রাখা হয়েছে আল-ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ (গবেষণা ও অনুসরণ), যা আমাদের বর্তমান এই রিসালা
(1).
এতে তিনি—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—হালাল-হারামের বিধান জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থাসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে তারা তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথম বিভাগ: মুজতাহিদ (مجتهد), যাঁর মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর শর্তাবলী বিদ্যমান রয়েছে; তাঁর জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করাই আবশ্যক, তাকলিদ (تقليد) নয়।
দ্বিতীয় বিভাগ: কোনো একটি মাসআলায় আল্লাহর বিধান জানতে যে অক্ষম; যেমন সাধারণ মানুষ (عامي) এবং দালিলিক গবেষণায় (نظر) অক্ষম ইলমে ফিকহ অন্বেষণকারী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এদের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব হলো তাকলিদ (تقليد)।
তৃতীয় বিভাগ: যে ব্যক্তি পূর্বোক্ত দুই বিভাগের মধ্যবর্তী পর্যায়ের; অর্থাৎ এমন ফিকহ অন্বেষণকারী যে দালিলিক বিশ্লেষণ (نظر) এবং প্রমাণ উপস্থাপনে (استدلال) সক্ষম এবং তাঁর কাছে এমন যোগ্যতা রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি দলিলের (دليل) অধিকতর নিকটবর্তী মতটিকে পৃথক করতে পারেন, যাতে এক মতের ওপর অন্য মতের শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করতে পারেন। তিনি—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—বর্ণনা করেছেন যে, এমন ব্যক্তির জন্য দালিলিক অনুসন্ধান (نظر), প্রমাণ উপস্থাপন (استدلال) এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بما دلَّه عليه الدليل، ولو خالف في تلك المسألة قول مذهبه الذي ينتسب إليه، وذكر كلام العلماء في ذلك.
وهذا القسم الذي أراد المؤلف بيانه والتدليل عليه والإجابة عن الشبهات الواردة عليه؛ هو الذي يطلق عليه كثير من العلماء: مرتبة الاتباع.
وبيَّن رحمه الله خطأ مَن ظن مِن المتفقهة أن المرء إما مجتهد أو مقلد، وأن متفقهة المذاهب والمتعلمين ليسوا من المجتهدين، وإنما هم في عداد المقلِّدين؛ فركنوا بسبب ذلك إلى التقليد، وأعرضوا عن العلم التليد، وسلك جماعة منهم في التعلم والتعليم مسلكًا متواكبًا مع ذلك الظن الخاطئ، فجعلوا تلك المتون - التي جعلها العلماء وسيلة لحفظ العلوم - مقاصد، وتلك المختصرات - التي أعدُّوها تنظيمًا للفهوم - قبلة، فبدَّلوا الفقه بالتقليد، واستبدلوا الذي هو أدنى بالذي هو خير، وخلطوا هذا بذاك، وظنُّوا أن ما هم عليه من التمسك بالتقليد علمًا نافعًا، حتى صار منتهى إرادة الواحد منهم فهم عبارات تلك المختصرات، وحفظ المسائل مجردة عن الدلائل، فتصرَّمت أوقاتهم في معاناة ألفاظها، والانكباب على عباراتها، وانصرف بعضهم بل وأعرض عن معرفة حكم الله تعالى في تلكم المسائل بالبحث عن دلائلها من السنن والآثار.
যা তাকে দলীলের (الدليل) মাধ্যমে নির্দেশিত করেছে তার ভিত্তিতে, যদিও সেই মাসয়ালাটি তার সংশ্লিষ্ট মাযহাবের মতের পরিপন্থী হয়; তিনি এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন।
এটি সেই বিভাগ যা লেখক স্পষ্ট করতে, এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি (التدليل) পেশ করতে এবং এর ওপর উত্থাপিত সংশয়গুলোর (الشبهات) উত্তর দিতে চেয়েছেন; অনেক আলেম একে ‘অনুসরণের স্তর’ (مرتبة الاتباع) বলে অভিহিত করেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেইসব ফকিহদের ভুল স্পষ্ট করেছেন যারা মনে করেন যে, মানুষ হয় একজন গবেষক (مجتهد) অথবা একজন অন্ধ অনুসারী (مقلد) হবে; এবং মাযহাবের ফকিহগণ ও শিক্ষার্থীরা গবেষকদের (مجتهدين) অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তারা কেবল অন্ধ অনুসারীদের (مقلدين) কাতারভুক্ত। এই কারণে তারা অন্ধ অনুকরণের (تقليد) প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন এবং প্রাচীন ইলম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাদের একটি দল শিক্ষা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে সেই ভুল ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পথ অবলম্বন করেছেন। তারা সেইসব মূল পাঠসমূহ (المتون) - যা আলেমগণ জ্ঞান সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন - সেগুলোকে মূল লক্ষ্যে পরিণত করেছেন, এবং সেই সংক্ষিপ্তসারসমূহ (المختصرات) - যা তারা উপলব্ধিকে সুশৃঙ্খল করার জন্য তৈরি করেছিলেন - সেগুলোকে কিবলায় পরিণত করেছেন। ফলে তারা ফিকহকে অন্ধ অনুকরণ (تقليد) দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন এবং যা উত্তম তার পরিবর্তে যা নিকৃষ্ট তা গ্রহণ করেছেন। তারা একে অপরের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন এবং ধারণা করেছেন যে, তারা অন্ধ অনুকরণকে (تقليد) আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে যা বজায় রাখছেন তা-ই উপকারী জ্ঞান। এমনকি তাদের একেকজনের আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত সীমায় পরিণত হয়েছে সেই সংক্ষিপ্তসারগুলোর শব্দাবলি বোঝা এবং দলীল (الدلائل) বিহীন কেবল মাসয়ালাসমূহ মুখস্থ করা। ফলে তাদের সময় অতিবাহিত হয়েছে সেগুলোর শব্দ চয়ন নিয়ে লড়াই করতে এবং সেগুলোর বাক্যাবলির ওপর নিবিষ্ট থাকতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বরং এসকল মাসয়ালায় সুন্নান এবং বর্ণনা (الآثار) থেকে দলীল অনুসন্ধানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর বিধান জানার বিষয়ে বিমুখ হয়েছেন, এমনকি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فبيَّن المؤلف رحمه الله أن الواجب على المتفقِّه القادر على النظر: الاجتهاد حسب قدرته ووسعه لمعرفة حكم الله تعالى في الوقائع والأحكام من خلال النظر في النصوص والأدلة، وذلك إنما يحصل بالدُّرْبة على مسالك الاجتهاد والنظر، وألا يقتصر المعلِّم في تعليمه على توضيح عبارات المتون والمختصرات، وبيان ما أجملته أو تخصيص ما عمَّمته، أو تقييد ما أطلقته، أو التنبيه على ما خالفت فيه راجح المذهب عند المتأخرين.
بل ينبغي على المعلِّم والمتعلِّم أن يسلكوا في التفقُّه ومعرفة الحلال والحرام مسلكًا تبرأ به ذممهم، ويقوموا بالواجب المتوجِّه إليهم، ويجمعوا بين الاستفادة من مصنفات الفقهاء، والدربة على النظر والاستدلال والبحث عن مراد الله تعالى في الأحكام.
وينبغي على المعلِّم أن يقوم بتعظيم الأحاديث والآثار في نفسه وفي نفس الدارس عنده، وأن يستنهض الملكات للنظر فيها والترجيح بينها، فيدرِّب المتفقِّه على التفقُّه والاستدلال، وعلى تقديم الدليل وتعظيمه ولو خالف مذهبه، وأن يعمل بما ترجح عنده لكونه الواجب عليه.
فإن العلماء لما صنفوا المصنفات وكتبوا المختصرات؛ قصدوا من ذلك كله تسهيل العلم على راغبيه، وجمع مسائله لطالبيه؛
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, গবেষণায় সক্ষম ফিকহ শিক্ষার্থীর জন্য ওয়াজিব হলো: ঘটনাপ্রবাহ ও বিধানাবলীতে আল্লাহ তাআলার হুকুম জানার জন্য তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী গবেষণা (اجتهاد) করা। আর তা অর্জিত হয় মূল পাঠ (نصوص) ও দলিলসমূহের (أدلة) প্রতি গভীর দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে। এটি কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন গবেষণার (اجتهاد) পথসমূহ ও পর্যালোচনার পদ্ধতিতে বিশেষ বুৎপত্তি অর্জিত হবে। শিক্ষক যেন তার পাঠদানে কেবল মূলপাঠ (متون) ও সারসংক্ষেপগুলোর (مختصرات) শব্দাবলি ব্যাখ্যা করা, এবং তার অجمাল বা সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ করা, অথবা সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়ন (تخصيص) করা, অথবা নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করা, অথবা পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট মাযহাবের অগ্রগণ্য (راجح) মতের পরিপন্থী বিষয়গুলোর ওপর সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকেন।
বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েরই উচিত ফিকহ চর্চা এবং হালাল-হারাম জানার ক্ষেত্রে এমন পথ অবলম্বন করা, যার মাধ্যমে তারা দায়মুক্ত হতে পারে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। তারা ফকিহদের রচিত গ্রন্থাবলি থেকে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি পর্যালোচনা, দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ (استدلال) এবং বিধানাবলির ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য অনুসন্ধানের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটাবে।
শিক্ষকের উচিত নিজের অন্তরে এবং শিক্ষার্থীর অন্তরে হাদিস ও বর্ণনাগুলোর (آثار) প্রতি মহিমা জাগ্রত করা। সেগুলোর পর্যালোচনা এবং সেগুলোর মধ্য থেকে প্রাধান্য নির্ধারণের (ترجيح) ক্ষমতাকে জাগ্রত করা। শিক্ষক ফিকহ শিক্ষার্থীকে ফিকহ চর্চা ও দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استدلال) বিষয়ে এবং দলিলকে (دليل) অগ্রাধিকার প্রদান ও তা উচ্চকিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন, যদিও তা তার নিজস্ব মাযহাবের পরিপন্থী হয়। আর শিক্ষার্থীর নিকট যা প্রাধান্যপ্রাপ্ত (ترجح) হবে সে অনুযায়ী আমল করা তার জন্য অপরিহার্য।
নিশ্চয়ই আলেমগণ যখন বিভিন্ন কিতাব (مصنفات) ও সারসংক্ষেপ (مختصرات) রচনা করেছেন; তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানান্বেষীদের জন্য জ্ঞান অর্জন সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মাসআলাসমূহ একত্রিত করা;
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليتحصَّل عند طالب الفقه ملكةً يعرف من خلالها كيفية التعامل مع نصوص الوحي، ومُكْنةً يقدر من خلالها استنباط أحكام ما لم ترد فيه النصوص، فيعبد الله على بصيرة، ويأمر بالمعروف على بصيرة، وينهى عن المنكر على بصيرة.
ولم يقصدوا من كتابة المختصرات أن يكون المقصد والمنتهى فيها معرفة عباراتها والوقوف على مفاهيمها، بحيث يتشاغل الإنسان بها عن الأحاديث والآثار والتفقُّه فيهما.
فإن مثل هذا الأمر هو الذي دعا الإمام أحمد رحمه الله إلى إنكاره على وضع الكتب؛ فقد جاء عنه فيما نقله ابنه عبد الله في مسائله (ص 437)، أنه قال: (كلما جاء رجل وضع كتابًا ويترك حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه)، وعاب وضع الكتب وكرهه كراهية شديدة.
ويقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله: (ولما حدث قليل من هذا، لا يشبه ما أنتم عليه في زمن الإمام أحمد، اشتد إنكاره لذلك)، ثم قال: (ولما ذكر له بعض أصحابه أن هذه الكتب فيها فائدة لمن لا يعرف الكتاب والسنة، قال: إن عرفت الحديث لم تحتج إليها، وإن لم تعرفه لم يحل لك النظر فيها) ينظر: الدرر السنية 1/ 47.
যাতে ফিকহ (فقه)-এর শিক্ষার্থীর মাঝে এমন এক বিশেষ বুৎপত্তি অর্জিত হয় যার মাধ্যমে সে ওহীর ভাষ্যসমূহ (نصوص) ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং এমন এক সামর্থ্য লাভ করে যার মাধ্যমে সে ঐসব বিষয়ের বিধান (أحكام) উদ্ঘাটন (استنباط) করতে পারে যেগুলোর ব্যাপারে কোনো ভাষ্য (نصوص) বর্ণিত হয়নি। ফলে সে সুনিশ্চিত প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে, প্রজ্ঞার সাথে সৎকাজের আদেশ দিতে পারে এবং প্রজ্ঞার সাথে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে পারে।
আর তারা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহ রচনার মাধ্যমে এমন উদ্দেশ্য পোষণ করেননি যে, এগুলোর শব্দাবলি জানাই হবে মূল লক্ষ্য ও শেষ গন্তব্য এবং এগুলোর মর্মার্থের ওপরই থেমে যাওয়া হবে; যাতে মানুষ হাদিস এবং বর্ণনা (آثار) ও এ দুটির সম্যক উপলব্ধি অর্জন থেকে বিমুখ হয়ে এগুলোতে মগ্ন হয়ে পড়ে।
মূলত এই ধরণের বিষয়টিই ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে কিতাব সংকলনের প্রতি অস্বীকৃতি জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর মাসায়েল গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৪৩৭) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যখনই কোনো ব্যক্তি আসে, সে একটি কিতাব রচনা করে এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবী (صحابة) গণের হাদিস পরিত্যাগ করে।" তিনি কিতাব সংকলনের দোষ বর্ণনা করেছেন এবং একে অত্যন্ত কঠোরভাবে অপছন্দ করেছেন।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখন এর সামান্য কিছু প্রকাশ পেয়েছিল—যা ইমাম আহমাদের যুগের পরিস্থিতির মতো ছিল না—তখনই তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।" অতঃপর তিনি বলেন: "যখন তাঁর কিছু সঙ্গী তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন যে, যারা কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) জানে না তাদের জন্য এই কিতাবগুলোতে উপকার রয়েছে, তখন তিনি বলেছিলেন: যদি তুমি হাদিস জানো তবে তোমার এগুলোর প্রয়োজন নেই, আর যদি তুমি তা না জানো তবে তোমার জন্য এগুলোর দিকে তাকানো বৈধ (حلال) নয়।" দ্রষ্টব্য: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ১/ ৪৭।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد بيَّن ابن بدران سبب كراهية الإمام أحمد لوضع الكتب فقال: (اعلم أن الإمام أحمد رضي الله عنه كان يكره وضع الكتب التي تشتمل على التفريع والرأي، وما ذلك إلا ليتوفر الالتفات إلى النقل ويزرع في القلوب التمسك بالأثر) ينظر: المدخل ص 123.
فالإمام أحمد رحمه الله إنما أراد سد الذريعة هجر السنن والآثار، ومن أجاز كتابة الكتب رأى أنها من المصالح المرسلة التي تُعين على جمع العلم وتسهيله على طلابه، وأجمع الكل على أن هذه الكتب والمصنفات إنما هي وسيلة لضبط العلم وحفظه، وأن يُحصِّل الناظر فيها على الآلة التي من خلالها يُدرك مراد الله تعالى، لا أن يُتشاغل بها عن السنن أو تُرد بها الآثار.
ومن ذلك كتابة المختصرات، فإنهم كتبوها ليجمعوا مسائل الأبواب في مذاهبهم بعبارات وجيزة، متضمنةً لمعاني كثيرة؛ فيسهل استحضار المسائل والأحكام، وتكون معينًا للمبتدي وتذكيرًا للمنتهي.
وقد بيَّن الرازي المقصود من كتابة المصنفات، فقال: (فإن قلت: فلم صُنفت كتب الفقه مع فناء أربابها؟ قلت: لفائدتين: إحداهما: استفادة طريق الاجتهاد من تصرفهم في الحوادث وكيفية
ইবনে বাদ্রান ইমাম আহমাদ কর্তৃক কিতাব রচনার প্রতি অনীহা প্রকাশের কারণ বর্ণনা করে বলেন: (জেনে রাখুন যে, ইমাম আহমাদ (রা.) সেই সব কিতাব রচনা করা অপছন্দ করতেন যেগুলোতে শাখা-প্রশাখা সংবলিত মাসয়ালা এবং ব্যক্তিগত মতামত (رأي) অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি কেবল এজন্যই ছিল যাতে বর্ণনা (نقل)-এর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা যায় এবং হৃদয়ে আসার বা ঐতিহ্যের (أثر) প্রতি অবিচল থাকার মানসিকতা বপন করা যায়)। দ্রষ্টব্য: আল-মাদখাল, পৃষ্ঠা ১২৩।
মূলত ইমাম আহমাদ (রহ.) সুন্নাহ (سنن) ও আসার (آثار) বর্জনের পথ রুদ্ধ করার (سد الذريعة) উদ্দেশ্যেই এমনটি চেয়েছিলেন। আর যারা কিতাব রচনার অনুমতি দিয়েছেন, তারা মনে করেছেন যে এটি জনকল্যাণমূলক বিষয় (المصالح المرسلة)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা জ্ঞান বা ইলম সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তা সহজ করতে সহায়তা করে। সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, এই কিতাব ও সংকলনসমূহ ইলম সুশৃঙ্খল রাখা ও সংরক্ষণের একটি মাধ্যম মাত্র, এবং যাতে পাঠক এর মাধ্যমে এমন উপকরণ অর্জন করতে পারে যার দ্বারা সে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে সক্ষম হয়; তবে শর্ত হলো এগুলো যেন সুন্নাহ (سنن) থেকে বিমুখ হওয়ার বা আসার (آثار) প্রত্যাখ্যান করার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
আর তারই অংশ হলো সংক্ষিপ্তসার বা মুখতাসারসমূহ রচনা করা। লেখকগণ এগুলো রচনা করেছেন তাদের মাযহাবের বিভিন্ন অধ্যায়ের মাসয়ালাসমূহ সংক্ষিপ্ত শব্দে একত্রিত করার জন্য, যা ব্যাপক অর্থ বহন করে; ফলে মাসয়ালা ও বিধানসমূহ (أحكام) স্মরণ করা সহজ হয় এবং তা নবাগত শিক্ষার্থীর (مبتدي) জন্য সহায়ক এবং উচ্চতর পর্যায়ের ব্যক্তির (منتهي) জন্য স্মারক হিসেবে কাজ করে।
আর আল-রাজি কিতাবসমূহ সংকলনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন: (যদি আপনি বলেন: ফিকহ শাস্ত্রের প্রবর্তকদের তিরোধান সত্ত্বেও কেন ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ সংকলিত হলো? আমি বলব: দুটি উপকারের জন্য: প্রথমটি হলো: বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা থেকে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং কীভাবে
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بناء بعضها على بعض، والأخرى: معرفة المتفق عليه من المختلف فيه) ينظر: المحصول 6/ 71.
وبيَّن الشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب فائدة هذه المصنفات، فقال: (فإن قلت: فماذا يجوز للإنسان من قراءة هذه الكتب المصنفة في المذاهب؟ قيل: يجوز من ذلك قراءتها على سبيل الاستعانة بها على فهم الكتاب والسنة، وتصوير المسائل، فتكون من نوع الكتب الآلية، أما أن تكون هي المقدمة على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم الحاكمة بين الناس فيما اختلفوا فيه، المدعو إلى التحاكم إليها، دون التحاكم إلى الله والرسول صلى الله عليه وسلم، فلا ريب أن ذلك مناف للإيمان مضاد له، كما قال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً}) ينظر: تيسير العزيز الحميد ص 473.
وعلى كل حال؛ فإن الناس انقسمت مسالكهم في التفقُّه منذ زمنٍ إلى ثلاثة مسالك:
الأول: الاقتصار في التفقه على مختصرات المذهب، دون العناية بالاستدلال والدربة على الترجيح بين الأقوال.
একটির ওপর অপরটি গড়ে তোলা, আর অন্যটি হলো: মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ঐকমত্যপূর্ণ (المتفق عليه) বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। দ্রষ্টব্য: আল-মাহসুল ৬/৭১।
শায়খ সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এই সংকলিত গ্রন্থসমূহের উপকারিতা বর্ণনা করে বলেছেন: (যদি আপনি বলেন: মাজহাবসমূহের ওপর রচিত এই গ্রন্থগুলো পাঠ করা মানুষের জন্য কতটুকু বৈধ? বলা হবে: কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মাসআলাগুলোর স্বরূপ উপলব্ধির মাধ্যম হিসেবে এগুলো পাঠ করা বৈধ। ফলে এগুলো সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হবে। তবে এগুলোকে যদি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়—যা মানুষের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালাকারী এবং যার কাছে বিচার প্রার্থনা করা আবশ্যক—আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার প্রার্থনা বর্জন করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা ঈমানের পরিপন্থী ও এর বিপরীত। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে না, তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।}) দ্রষ্টব্য: তায়সিরুল আজিজিল হামিদ পৃ. ৪৭৩।
যা-ই হোক; অনেক আগে থেকেই ফিকহ অর্জনের (التفقه) ক্ষেত্রে মানুষের কর্মপদ্ধতি তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে:
প্রথমত: ফিকহ অর্জনে (التفقه) কেবল মাজহাবের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর (المختصرات) ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, দলীল পেশ করার (الاستدلال) প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণের (الترجيح) ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন না করা।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الثاني: التفقُّه على النصوص مباشرة دون الاستفادة من الموروث الفقهي للمذاهب الأربعة إلا قليلًا.
الثالث: وهو التوسط بين المسلكين: بحيث ينتظم المتفقِّه في مذهب من المذاهب الفقهية، يتفقَّه على مختصراتها، وينتفع بما ورَّثه فقهاؤها، وفي الوقت ذاته يكون معظِّمًا للسنة والآثار، لا يقدِّم عليها شيئًا إذا ظهرت له، ويسعى في البحث عنها والتفقه فيها.
فيجمع في هذا المسلك بين الاستفادة من المذاهب الفقهية، والعناية بالنصوص الشرعية.
فأما استفادته من المدارس الفقهية الأربعة؛ فلكونها امتازت بعناية أصحابها بها العناية الفائقة، فالكتب فيها منتظمة مسطَّرة، والمسائل منضبطة محررة، والقواعد حاضرة مقرَّرة، فحُرِّرت الأقوال، وجُمعت الشروط، وذكرت القيود، وأُبعِد القول الشاذ، ونُبِّه على القول الغريب، فانتظم الفقه بمنظومة مترابطة، رُتِّب به ذهن المتفقِّه، وأُعِين على التعلم والتفقُّه.
وأما اشتغاله بالبحث عن دلائل الكتاب والسنة والآثار والنظر فيها وتفهمها؛ فلأنه الأصل الذي تنبغي العناية به، يقول ابن رجب في بيان طريق الرسوخ في العلم: (وأما فقهاء أهل الحديث العامِلُون به، فإنَّ معظمَ همِّهم البحثُ عن معاني كتاب الله عز وجل، وما
দ্বিতীয়: চার মাজহাবের ফিকহী ঐতিহ্য থেকে সামান্য ব্যতিরেকে সরাসরি মূল পাঠ্য (نصوص) থেকে জ্ঞান অর্জন করা।
তৃতীয়: এটি হলো দুই পদ্ধতির মধ্যবর্তী পন্থা: যাতে ফিকহ অন্বেষী কোনো একটি ফিকহী মাজহাবের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তার সংক্ষিপ্তসার (مختصرات) সমূহের মাধ্যমে বুৎপত্তি অর্জন করে এবং সেই মাজহাবের ফকিহগণ যা রেখে গেছেন তা থেকে উপকৃত হয়। পাশাপাশি সে সুন্নাহ ও আসার (آثار) এর প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল হবে, যখনই তার কাছে তা স্পষ্ট হবে তখন সে এর ওপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেবে না এবং সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হবে।
ফলে এই পদ্ধতিতে ফিকহী মাজহাবগুলো থেকে উপকার গ্রহণ এবং শরয়ি মূল পাঠ্য (نصوص) সমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়ার সমন্বয় ঘটে।
আর চার ফিকহী মাজহাব থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি এ কারণে যে, সেগুলোর ইমাম ও অনুসারীরা সেগুলোর প্রতি অত্যন্ত উচ্চমানের গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে এই মাজহাবগুলোর কিতাবসমূহ সুবিন্যস্ত ও লিপিবদ্ধ, মাসআলাগুলো সুশৃঙ্খল ও সম্পাদিত এবং মূলনীতিগুলো সুসংহত ও প্রতিষ্ঠিত। এতে মতামতগুলো পরিমার্জিত হয়েছে, শর্তাবলি সংকলিত হয়েছে, সীমাবদ্ধতাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, বিচ্ছিন্ন (شاذ) মত বর্জন করা হয়েছে এবং বিরল (غريب) মতামতের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ফিকহ একটি আন্তঃসংযুক্ত পদ্ধতিতে সুশৃঙ্খল রূপ পেয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা সুবিন্যস্ত হয় এবং শিক্ষা ও বুৎপত্তি অর্জনে সহায়তা লাভ করে।
আর কুরআন, সুন্নাহ ও আসার (آثار) এর দলিলসমূহ অনুসন্ধান, সেগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত এবং তা অনুধাবনে আত্মনিয়োগ করার কারণ হলো, এটিই সেই মূল উৎস যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া একান্ত আবশ্যক। ইলমের ক্ষেত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের পথ বর্ণনায় ইবনে রজব বলেন: (আর আহলে হাদিসের অন্তর্ভুক্ত আমলকারী ফকিহগণের প্রধান লক্ষ্যই হলো মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থসমূহ অনুসন্ধান করা এবং যা...)
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يُفسِّرُهُ من السنن الصحيحة، وكلام الصحابة والتابعين لهم بإحسان، وعن سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومعرفة صحيحها وسقيمِها، ثم التفقُّه فيها وتفهمها، والوقوف على معانيها، ثم معرفة كلام الصحابة والتابعين لهم بإحسان في أنواع العلوم من التفسير والحديث، ومسائل الحلال والحرام، وأصول السُّنة والزهد والرقائق وغير ذلك، وهذا هو طريقة الإمام أحمد ومَن وافقه من علماء الحديث الرَّبَّانيين، وفي معرفة هذا شغلٌ شاغلٌ عن التَّشاغُل بما أُحدثَ من الرأي ممَّا لا يُنتفع به ولا يقع)، ثم قال: (ومن سلك طريقة طلب العلم على ما ذكرناه، تمكَّن من فهم جواب الحوادث الواقعة غالباً؛ لأنَّ أصولها تُوجد في تلك الأصول المشار إليها، ولابدَّ أنْ يكون سلوكُ هذا الطريق خلف أئمة أهل الدين المجمَع على هدايتهم ودرايتهم؛ كالشافعي وأحمد وإسحاق وأبي عُبيد ومن سلك مسلكَهم، فإنَّ مَن ادعى سلوكَ هذا الطريق على غير طريقهم وقع في مفاوزَ ومهالك)، ثم قال: (وملاك الأمر كله: أن يُقصد بذلك وجه الله، والتقرب إليه
بمعرفة ما أنزل على رسوله، وسلوك طريقه، والعمل بذلك، ودعاء الخلق إليه، ومن كان كذلك وفَّقه الله وسدَّده، وألهمه رشده، وعلَّمه ما لم يكن يعلم، وكان من العلماء الممدوحين في الكتاب في قوله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء} [فاطر: 28]، ومن الراسخين في العلم) ينظر: جامع العلوم والحكم 1/ 249.
তিনি এটি ব্যাখ্যা করেন সহিহ (صحيحة) সুন্নাহসমূহ, সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের বাণী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে। আর সুন্নাহর সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) অংশ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, অতঃপর তাতে ব্যুৎপত্তি ও গভীর বোধ অর্জন এবং এর অর্থসমূহ অনুধাবন করা। এরপর তাফসির, হাদিস, হালাল-হারামের মাসআলাসমূহ, সুন্নাহর মূলনীতি, জুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), রাকায়েক (হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা) এবং অন্যান্য জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের বক্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এটিই হলো ইমাম আহমাদ এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারী রব্বানি হাদিস বিশারদগণের পথ। এই জ্ঞান অর্জনের মাঝে এমন এক ব্যস্ততা রয়েছে যা মানুষকে পরবর্তীতে উদ্ভাবিত সেসব (ব্যক্তিগত) রায় বা মতামতে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে, যাতে কোনো উপকার নেই এবং যা বাস্তবেও ঘটে না। অতঃপর তিনি বলেন: (যে ব্যক্তি আমাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে জ্ঞান অর্জনের পথে চলবে, সে সাধারণত উদ্ভূত ঘটনাবলির উত্তরের সম্যক জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে; কারণ সেগুলোর মূলনীতিসমূহ নির্দেশিত ওই উৎসগুলোতেই বিদ্যমান। আর অবশ্যই এই পথে চলতে হবে দ্বীনের সেই সকল ইমামদের অনুসরণে যাদের হিদায়াত ও পাণ্ডিত্যের বিষয়ে সকলে একমত; যেমন শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবায়েদ এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন। কেননা, যে ব্যক্তি তাদের পথ ব্যতীত অন্য পথে এই পথে চলার দাবি করবে, সে মরুপ্রান্তর ও ধ্বংসের গহ্বরে পতিত হবে)। অতঃপর তিনি বলেন: (আর পুরো বিষয়ের মূল হলো: এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করা এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করা
তাঁর রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা জানার মাধ্যমে, তাঁর পথে চলার মাধ্যমে, সেই অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে এবং সৃষ্টির মানুষকে তাঁর দিকে ডাকার মাধ্যমে। যে ব্যক্তি এরূপ হবে, আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করবেন, সঠিক পথে পরিচালিত করবেন, তাকে সঠিক পথের দিশা দেবেন এবং তাকে এমন জ্ঞান দান করবেন যা সে জানত না। তিনি আল্লাহর কিতাবে প্রশংসিত সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮], এবং ইলমে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী (الراسخين في العلم) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।) দেখুন: জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম ১/ ২৪৯।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تنبيه:نعم؛ قد يحتاج المتعلِّم في أول الطلب إلى دراسة المختصرات دون النظر في الأدلة؛ ليتصور مسائل الفقه وتسلسلها ومعرفة مظانها في كتب الفقهاء، فيَمُرَّ على جملة الفقه مرورًا سريعًا ليحقِّق شيئًا من ذلك، وهذا لا إشكال فيه؛ مواكبة للسنة الكونية في عدم القدرة على أخذ العلم جملة.
وقد يحتاج المتفقِّه إلى حفظ المختصرات والمتون؛ ليتذكر المسائل والشروط والقيود، ويستحضر العلم في صدره، وهذا دأب كثير من العلماء، فقد حفظ الموفق ابن قدامة وأخيه أبي عمر وغيرهما مختصر الخرقي، وحفظ ابن أبي الفهم الحرَّاني وأبو طالب البصري وغيرهما متن الهداية لأبي الخطاب، وحفظ الدجيلي وابن قندس وغيرهما كتاب المقنع، وحفظ كثير من أئمة الدعوة النجدية متن زاد المستقنع، فلا غضاضة في ذلك أيضًا.
وقد يعتني المتفقِّه بعبارات المتون والمختصرات عناية فائقة، وهذا أمر لا يُعاب، وقد جرى عليه عمل المحققين؛ كما جاء في ترجمة العلامة عبد الله أبا بُطين رحمه الله، فقد قال ابن حميد عنه: (إذا قرر مسألة يقول: هذي عبارة المقنع، مثلًا، وزاد عليها المنقِّح كذا ونقص منها كذا، وأبدل لفظة كذا بهذه) ثم قال: (وبموته فُقِد
সতর্কীকরণ (تنبيه):হ্যাঁ; জ্ঞান অন্বেষণের প্রাথমিক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্য দলীলসমূহ (الأدلة) বিবেচনা না করেই সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপসমূহ (المختصرات) অধ্যয়ন করার প্রয়োজন হতে পারে; যাতে সে ফিকহের মাসআলাসমূহ (مسائل), সেগুলোর ধারাবাহিকতা এবং ফকীহগণের (الفقهاء) কিতাবসমূহে সেগুলোর স্থান সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। ফলে সে ফিকহের সামগ্রিক বিষয়ের ওপর দিয়ে দ্রুত একবার দৃষ্টিপাত করে যেন এর কিছুটা অর্জন করতে পারে। এতে কোনো সংশয় নেই; কেননা একবারে পূর্ণ জ্ঞান আহরণ করতে না পারা একটি জাগতিক নিয়ম (السنة الكونية)।
একজন ফিকহ গবেষকের জন্য মাসআলা (المسائل), শর্তাবলি (الشروط) ও সীমাবদ্ধতাসমূহ (القيود) স্মরণ রাখা এবং নিজের হৃদয়ে ইলমকে উপস্থিত করার জন্য সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (المختصرات) ও মূল পাঠসমূহ (المتون) মুখস্থ করার প্রয়োজন হতে পারে। এটি অনেক আলেমেরই অভ্যাস ছিল। যেমন মুয়াফফাক ইবনু কুদামাহ এবং তাঁর ভাই আবু উমর ও অন্যান্যরা মুখতাসার আল-খিরাকি মুখস্থ করেছিলেন; ইবনু আবিল ফাহম আল-হাররানি ও আবু তালিব আল-বাসরি এবং অন্যান্যরা আবু খাত্তাবের মাতন আল-হিদায়া মুখস্থ করেছিলেন; আদ-দুজাইলি ও ইবনু কুনদুস এবং আরও অনেকে কিতাব আল-মুকনি মুখস্থ করেছিলেন এবং নজদি দাওয়াতের অনেক ইমাম যাদ আল-মুসতাকনি-এর মূল পাঠ মুখস্থ করেছিলেন। এতেও কোনো প্রকার দোষ নেই।
কখনো কখনো ফিকহ গবেষক মূল পাঠ (المتون) ও সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের (المختصرات) শব্দমালার (عبارات) প্রতি অত্যন্ত গভীর যত্ন প্রদান করেন, এবং এটি কোনো নিন্দনীয় বিষয় নয়। বরং যাচাইকারী আলেমদের (المحققين) কর্মপদ্ধতি এমনই ছিল; যেমনটি আল্লামা আব্দুল্লাহ আবা বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে। ইবনু হুমাইদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: (যখন তিনি কোনো মাসআলা (مسألة) সাব্যস্ত করতেন, তখন বলতেন: এটি উদাহরণস্বরূপ আল-মুকনি কিতাবের শব্দমালা (عبارة), আর আল-মুনাককিহ-তে এর ওপর এমন কিছু বাড়ানো হয়েছে এবং এখান থেকে এমন কিছু কমানো হয়েছে, আর অমুক শব্দের পরিবর্তে এই শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে) অতঃপর তিনি বলেন: (এবং তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে হারিয়ে গেছে
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التحقيق في مذهب الإمام أحمد، فقد كان فيه آية، وإلى تحقيقه النهاية، فقد وصل فيه إلى الغاية) ينظر: السحب الوابلة 2/ 631.
ومع ذلك كله؛ فإن العناية بمثل هذه الأمور لا ينبغي أن تتعدى العناية بعلوم الآلة، بحيث لا تصُدُّه عن المقصد الأسمى في العلم من العناية بكتاب الله وسنة رسوله وآثار الصحابة والنظر فيها والبحث عنها، ولا يصرف همَّته لدراسة مختصرات المذهب أزمنةً طويلة دون الالتفات إلى نصوص الوحيين والبحث عن مراد الله تعالى، مع مُكْنَته على الاستنباط والفهم والترجيح، وقدرته على البحث والاطلاع.
فهذا المسلك الموصوف لك في التفقُّه هو الذي سار عليه المحققون من العلماء في كل مذهب من المذاهب، فقلَّ أن تجد عالمًا بعد القرن الرابع إلا وهو منتسب إلى أحد المذاهب الأربعة، وهو المسلك الذي يريد المؤلف رحمه الله أن يصف لك طرفًا منه في هذه الرسالة المباركة بإذن الله.
ইমাম আহমদের মাজহাবের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে (التحقيق) তিনি এক নিদর্শন ছিলেন এবং এর গবেষণায় তিনি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন; তিনি এতে লক্ষ্যমাত্রায় উপনীত হয়েছিলেন। (দ্রষ্টব্য: আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ ২/৬৩১)।
এতসব সত্ত্বেও, এই জাতীয় বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ প্রদান যেন সহায়ক শাস্ত্রসমূহের (علوم الآلة) প্রতি গুরুত্বারোপের সীমা অতিক্রম না করে, যাতে তা তাকে ইলমের সর্বোচ্চ লক্ষ্য—অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের আছারসমূহের (آثار) প্রতি যত্নবান হওয়া এবং সেগুলোতে গভীর চিন্তা ও অনুসন্ধান চালানো থেকে বিমুখ না করে। আর সে যেন তার সমস্ত একাগ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে মাজহাবের সারসংক্ষেপগুলোর (مختصرات) অধ্যয়নে ব্যয় না করে—উভয় ওহীর ভাষ্যসমূহের (نصوص) প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে এবং মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য তালাশ না করে; অথচ তার মাঝে মাসআলা উদ্ঘাটন (استنباط), সঠিক অনুধাবন ও অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) সক্ষমতা এবং গবেষণা ও অধ্যয়নের যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে।
ফিকহ অর্জনের ক্ষেত্রে আপনার নিকট বর্ণিত এই পদ্ধতিটিই প্রতিটি মাজহাবের গবেষক (محققون) আলেমগণ অনুসরণ করেছেন। চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর পর এমন আলেম খুব কমই পাওয়া যাবে, যিনি চার মাজহাবের কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত নন। আর এটিই সেই পথ, যার কিয়দাংশ লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর ইচ্ছায় এই বরকতময় রিসালায় আপনার নিকট বর্ণনা করতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نسأل الله تعالى أن يبصرنا في دينه، ويرشدنا لما يحبه ويرضاه، هو ولي ذلك والقادر عليه.
والحمد لله رب العالمين
كتبه
عبد العزيز بن عدنان العيدان
11 جمادى الأولى 1439 هـ
جامع العويضة - الرياض
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাদের সেই বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন; তিনিই এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
আব্দুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান
১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৯ হিজরি
জামে আল-উওয়াইদাহ - রিয়াদ
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ترجمة المؤلف (1)-
اسمه ونسبه:الشيخ حمد بن ناصر ابن الأمير عثمان بن حمد من آل معمَّر، من العناقر من بني سعد إحدى قبائل بني تميم.
ووالد الشيخ يكون خال الأمير سعود بن عبد العزيز آل سعود.
-
مولده ونشأته ومشايخه:وُلد في مدينة العيينة سنة (1160 هـ)، ونشأ بها يأخذ مبادئ العلوم، إلى أن قُتل جدُّه سنة (1173 هـ)، فنزح منها مع والده إلى مدينة الدرعية واستوطنها، وكان عمره آنذاك أربعة عشر عامًا.
--------------------------------------------
লেখকের জীবনী(১)-
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:শায়খ হামাদ বিন নাসির ইবনুল আমির উসমান বিন হামাদ; তিনি বনু তামিম গোত্রের বনু সা’দ-এর শাখা আল-আনাকিরের আল-মুয়াম্মার বংশোদ্ভূত।
শায়খের পিতা ছিলেন আমির সৌদ বিন আব্দুল আজিজ আলে সৌদের মামা।
-
তাঁর জন্ম, শৈশব ও শিক্ষকগণ:তিনি (১১৬০ হিজরি) সালে আল-উয়াইনাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে ইলমের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করে বেড়ে ওঠেন। ১১৭৩ হিজরি সালে তাঁর দাদা নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার সাথে দিরিয়াহ শহরে হিজরত করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন; সে সময় তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
قرأ في الدرعية على كبار أهل العلم فيها آنذاك، منهم:
1 - شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب.
2 - الشيخ حسين بن غنام نزيل الدرعية، صاحب التاريخ المشهور.
3 - الشيخ سليمان بن عبد الوهاب أخو الشيخ محمد بن عبد الوهاب.
4 - الشيخ حمد بن مانع.
5 - الشيخ محمد بن علي بن غريب.
وقرأ على غيرهم حتى أدرك ونبغ نبوغًا تامًّا، وصار من علماء الدعوة ورجالها، وجلس للتدريس بمدينة الدرعية، وعُيِّن على قضاء الدرعية.
وفي عام 1221 هـ عُيِّن رئيسًا لقضاة مكة المكرمة، وصار هو العالم المشرِف على قضاء مكة وتوابعها.
-
حياته العلمية وتلاميذه:جلس الشيخ للتدريس في الدرعية واحتفَّ به الطلاب وجلسوا بين يديه، وصارت مجالسه ودروسه حافلة، فنفع الله به خلقًا كثيرًا.
وقُصد الشيخ حمد بالأسئلة والفتاوى من أنحاء الجزيرة
তিনি তৎকালে দিরইয়াহর প্রথিতযশা আলেমদের (علماء) নিকট অধ্যয়ন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব।
২ - দিরইয়াহর অধিবাসী শায়খ হুসাইন ইবনে গাননাম, যিনি বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা।
৩ - শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের ভাই শায়খ সুলাইমান ইবনে আবদুল ওয়াহহাব।
৪ - শায়খ হামাদ ইবনে মানি।
৫ - শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে গরিব।
তিনি অন্যদের নিকটও পড়াশোনা করেছেন এবং পূর্ণ পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি দাওয়াতের অন্যতম আলেম (علماء) ও ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি দিরইয়াহ শহরে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দিরইয়াহর বিচারক (قضاء) হিসেবে নিযুক্ত হন।
১২২১ হিজরি সালে তিনি মক্কা মুকাররমার প্রধান বিচারক (رئيس القضاة) হিসেবে নিযুক্ত হন এবং তিনি মক্কা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের বিচার বিভাগীয় (قضاء) তত্ত্বাবধানকারী আলেম (عالم) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-
তাঁর শিক্ষা জীবন ও ছাত্রবৃন্দ (تلاميذ):শায়খ দিরইয়াহতে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ছাত্ররা (طلاب) তাঁকে ঘিরে সমবেত হতে থাকে। তাঁর মজলিস ও দরসসমূহ কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য সৃষ্টিকে উপকৃত করেছেন।
জাজিরাতুল আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শায়খ হামাদের নিকট প্রশ্ন ও ফাতাওয়া (فتاوى) জানার জন্য যোগাযোগ করা হতো।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
العربية، فجاءت فتاويه ورسائله بفوائد كثيرة تُنبئ عن حسن فهمه ودقة تعليله.
وتتلمذ له جماعة من علماء الدعوة، منهم:
1 - ابنه الشيخ الأديب عبد العزيز بن حمد بن معمَّر.
2 - الشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب.
3 - الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب.
4 - الشيخ علي بن حسين بن محمد بن عبد الوهاب.
5 - الشيخ عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب.
6 - الشيخ إبراهيم بن سيف الدوسري.
7 - الشيخ عبد العزيز بن عثمان بن شبانة.
8 - الشيخ عبد العزيز بن عبد الله الحصين.
9 - الجد الشيخ حسن بن عبد الله بن عيدان.
10 - الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين.
11 - الشيخ سعيد بن حجي.
12 - الشيخ قرناس بن عبد الرحمن بن قرناس.
وآخرون من علماء الدعوة النجدية رحمهم الله وغفر لهم.
আরবি ভাষা; ফলে তাঁর ফতোয়া ও পত্রাবলি বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ হয়ে এসেছে, যা তাঁর প্রখর অনুধাবন ক্ষমতা এবং সূক্ষ্ম যুক্তিপ্রয়োগের (تعليل) পরিচয় প্রদান করে।
দাওয়াতী আন্দোলনের একদল আলিম তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
1 - তাঁর পুত্র প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক শাইখ আব্দুল আজিজ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মার।
2 - শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব।
3 - শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব।
4 - শাইখ আলী বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব।
5 - শাইখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব।
6 - শাইখ ইব্রাহিম বিন সাইফ আদ-দাওসারী।
7 - শাইখ আব্দুল আজিজ বিন উসমান বিন শাবানাহ।
8 - শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন।
9 - পিতামহ শাইখ হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আইদান।
10 - শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন।
11 - শাইখ সাঈদ বিন হাজ্জী।
12 - শাইখ কির্নাস বিন আব্দুর রহমান বিন কির্নাস।
এবং নজদী দাওয়াহর আরও অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদের ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
-
وفاته:توفي رحمه الله في مكة المكرمة شهر ذي الحجة عام 1225 هـ، وصلى عليه المسلمون تحت الكعبة، وقبروه في مقبرة البياضة، رحمه الله تعالى.
তাঁর ইন্তেকাল:তিনি আল্লাহ তাআলার রহমতে ১২২৫ হিজরি সালের জিলহজ মাসে মক্কাতুল মোকাররমায় ইন্তেকাল করেন। মুসলিমগণ কাবার পাদদেশে তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করেন এবং তাঁকে আল-বায়াদা কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وصف النسخ الخطيةصورة المخطوط
(نسخة (أ) وهي من طرف الشيخ أحمد بن عبد العزيز الجماز جزاه الله خيرًا، بخط عبد الرحمن الشبيلي، وتاريخ النسخ: 28 رجب 1304 هـ، وتقع في (17) ورقة).
পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণপাণ্ডুলিপির চিত্র
(অনুলিপি (نسخة) (ক), এটি শায়খ আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-জাম্মাজের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এটি আব্দুর রহমান আশ-শুবাইলির হস্তাক্ষরে লিখিত এবং অনুলিপি করার তারিখ: ২৮ রজব ১৩০৪ হিজরি; এটি (১৭)টি পত্রে বিস্তৃত)।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
صورة المخطوط
(نسخة (ب) من دارة الملك عبد العزيز، ورقمها (5194)، ناقصة الأول والآخر، وعدد أوراقها (6) ورقات)
পাণ্ডুলিপির চিত্র
(কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত সংস্করণ (نسخة) (ب), যার নম্বর (৫১৯৪), এর প্রথমাংশ ও শেষাংশ অসম্পূর্ণ (ناقصة الأول والآخر), এবং এর পত্র (ورقات) সংখ্যা (৬) টি)
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
مسألة: ما قولكم - نوَّر الله قلوبكم لفك المعضلات، ووفقكم للأعمال الصالحات-: هل يلزم المبتدئين المتعلمين الترقِّي إلى معرفة الدليل الناصِّ على كل مسألة، ومعرفة طرقِه وصحتِه؟ أم تقليد المخرِّجين للحديث أنه صحيح أو حسن يكفيهم؟ أو العمل بالفقهيات المجردة عن الدليل يغنيهم؟ هذا فيمن طلب العلم وتأهل له.
فما الحال في العوام، هل يجزئهم مجرد التقليد؟
وأيضا: حكى بعض المتأخرين الإجماع على تقليد الأئمة الأربعة، أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد، فأفيدونا واحتسبوا؛ فإن الحاجة ماسة إلى هذه المباحث، فإن تتفضلوا بطول الجواب، وذكر الدليل ومن قال به، فهو المطلوب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর।
মাসআলা: আপনাদের অভিমত কী—আল্লাহ জটিল বিষয়সমূহ সমাধানের জন্য আপনাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করুন এবং আপনাদের নেক আমলের তাওফিক দিন—শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থীদের জন্য কি প্রতিটি মাসআলার সুনির্দিষ্ট দলিল এবং এর সনদসমূহ (طرق) ও বিশুদ্ধতা (صحة) জানার স্তরে উন্নীত হওয়া আবশ্যক? নাকি হাদিস বিশারদদের (المخرجين) এই অনুসরণ করা যে, হাদিসটি সহিহ (صحيح) অথবা হাসান (حسن), তাদের জন্য যথেষ্ট? অথবা দলিলবিহীন নিছক ফিকহি মাসআলা অনুযায়ী আমল করাই কি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে? এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন এবং এর জন্য যোগ্য।
তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী বিধান, তাদের জন্য কি কেবল অনুসরণ (تقليد) করাই যথেষ্ট হবে?
তাছাড়া পরবর্তী সময়ের কতিপয় আলেম চার ইমাম—আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ—এর অনুকরণের ওপর ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। অতএব আমাদের এ বিষয়ে অবগত করুন এবং সওয়াবের নিয়ত রাখুন; কারণ এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আপনারা যদি বিস্তারিত উত্তর প্রদান করেন এবং এর দলিল ও যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেন, তবে সেটিই কাম্য।
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الجواب وبالله التوفيق:
[وجوب طاعة الرسول دون غيره]لا ريب أن الله سبحانه فرض على عباده طاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ}، وقال تعالى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ} إلى قوله: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا}.
ولم يوجب الله على هذه الأمة طاعة أحد بعينه في كل ما يأمر به وينهى عنه إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
واتفق العلماء على أنه ليس أحد معصومًا إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم
(1).
[نهي الأئمة عن التقليد المذموم]وهؤلاء الأئمة الأربعة قد نهوا الناس عن تقليدهم في كل ما يقولون:
--------------------------------------------
উত্তর, আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়:
[অন্য কারো নয় বরং কেবল রাসূলের আনুগত্য করার আবশ্যকতা (وجوب)]এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর নিজের আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য ফরজ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তা অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো..." তাঁর এই কথা পর্যন্ত: "আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হেদায়াত পাবে।"
আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ আনুগত্য আবশ্যক (وجوب) করেননি।
আর উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত (اتفق) হয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কেউই নিষ্পাপ (معصوم) নন
(১)।
[ইমামগণের পক্ষ থেকে নিন্দনীয় অন্ধ অনুসরণ (تقليد) হতে নিষেধ করা]আর এই চার ইমাম তাঁদের সকল কথার ক্ষেত্রে লোকজনকে তাঁদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فقال أبو حنيفة: (علمنا هذا رأيٌ، وهو أحسن ما قدرنا عليه، ومن جاءنا بأحسن منه قبلناه منه)
(1).
وقال معن بن عيسى: (سمعت مالكًا يقول: إنما أنا بشرٌ أُخطئ وأُصيب، فانظروا في قولي، فكل ما خالف الكتاب والسنة فاتركوه)
(2).
وقال ابن القاسم: (كان مالك يُكثِر أن يقول: {إِنْ نَظُنُّ إِلاَّ ظَنَّاً وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ})
(3).
وقال الشافعي: (إذا صح الحديث فاضربوا بقولي الحائط، وإذا رأيت الحجة على الطريق فهي قولي)
(4).
--------------------------------------------
আবু হানিফা বলেন: (আমাদের এই জ্ঞান একটি রায় বা অভিমত, এবং এটি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম যা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। যদি কেউ আমাদের কাছে এর চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে আসে, তবে আমরা তা গ্রহণ করব)
(১)।
মা'ন ইবনে ঈসা বলেন: (আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "আমি তো কেবল একজন মানুষ, আমি ভুলও করি আবার সঠিকও বলি। সুতরাং তোমরা আমার বক্তব্যের বিচার-বিশ্লেষণ করো। যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তা বর্জন করো")
(২)।
ইবনুল কাসিম বলেন: (মালিক প্রায়শই বলতেন: {আমরা তো কেবল একটি ধারণা পোষণ করি এবং আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই})
(৩)।
শাফেয়ী বলেন: (যখন হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হবে, তখন আমার বক্তব্যকে দেয়ালে ছুড়ে মারো। আর যদি তোমরা পথের মধ্যে কোনো দলিল দেখতে পাও, তবে সেটিই আমার বক্তব্য)
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والإمام أحمد كان يقول: (لا تقلدوني، ولا تقلدوا مالكًا ولا الشافعي ولا الثوري، وتعلموا كما تعلمنا)
(1).
وكان يقول: (مِن قلة علم الرجل أن يُقلِّد دينه الرجال)
(2).
وقال: (لا تُقلِّد دينك الرجال؛ فإنهم لن يَسْلَموا مِن أن يَغْلُطوا)
(3).
[المقلد ليس من أهل العلم]وقال ابن عبد البر: (أجمعَ الناس على أن المقلِّد ليس معدودًا من أهل العلم، وأن العلم معرفة الحق بدليله)
(4).
--------------------------------------------
ইমাম আহমদ বলতেন: (তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না এবং মালিক, শাফেয়ি কিংবা সাওরিরও অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না; বরং আমরা যেভাবে শিখেছি তোমরাও সেভাবেই শেখো)
(১).
তিনি আরও বলতেন: (কোনো ব্যক্তির ইলমের স্বল্পতার বহিঃপ্রকাশ হলো নিজ দ্বীনের ক্ষেত্রে মানুষের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করা)
(২).
এবং তিনি বলেন: (তোমার দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না; কারণ তারা ভুল করা থেকে নিরাপদ নয়)
(৩).
[অন্ধ অনুসারী (مقلد) জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত নয়]ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: (সকলে এ বিষয়ে একমত যে, অন্ধ অনুসারী (مقلد) জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ইলম হলো দলিলের মাধ্যমে সত্যকে জানা)
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[من شروط القاضي الاجتهاد]ولهذا جعل الفقهاء من شروط القاضي أن يكون مجتهدًا، فلا يصح أن يتولاه المقلد، هذا الذي عليه جمهور العلماء
(1).
--------------------------------------------
[বিচারকের অন্যতম শর্ত হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)]এ কারণেই ফকিহগণ বিচারকের জন্য মুজতাহিদ (مجتهدًا) হওয়াকে অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন; সুতরাং একজন মুকাল্লিদ (المقلদ) ব্যক্তির বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করা বৈধ নয়। এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের (جمهور العلماء) অভিমত
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال في «الإفصاح»: (اتفقوا على أنه لا يجوز أن يُولَّى القضاء من ليس من أهل الاجتهاد، إلا أبا حنيفة؛ فإنه قال: يجوز ذلك)
(1).
وقال الموفق في «المغني»: (يشترط في القاضي ثلاثة شروط:
أحدها: الكمال؛ وهو نوعان: كمال الأحكام، وكمال الخلقة.
والثاني: العدالة.
والثالث: أن يكون من أهل الاجتهاد، وبهذا قال مالك والشافعي وبعض الحنفية.
وقال بعضهم: يجوز أن يكون عاميًّا فيحكم بالتقليد؛ لأن الغرضَ
(2) فصلُ الخصومات، فإذا أمكنه ذلك بالتقليد جاز؛ كما يُحكم بقول المقومين.
ولنا: قوله تعالى: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ}،
--------------------------------------------
'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইজতিহাদ করার যোগ্য (أهل الاجتهاد) নন এমন ব্যক্তিকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জায়েজ নয়, তবে ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত; কেননা তিনি বলেছেন: এটি জায়েজ)
(১).
মুয়াফফাক 'আল-মুগনি' গ্রন্থে বলেছেন: (বিচারকের ক্ষেত্রে তিনটি শর্তারোপ করা হয়:
প্রথমটি: পূর্ণতা (الكمال); আর এটি দুই প্রকার: বিধানগত পূর্ণতা এবং শারীরিক গঠনগত পূর্ণতা।
দ্বিতীয়টি: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة)।
তৃতীয়টি: তাকে অবশ্যই ইজতিহাদ করার যোগ্য (أهل الاجتهاد) হতে হবে; আর ইমাম মালিক, শাফেয়ি এবং কিছু সংখ্যক হানাফি আলেম এই মত পোষণ করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি (عامي) হতে পারেন এবং তাকলিদ বা অনুকরণের (التقليد) মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান করবেন; কারণ উদ্দেশ্য হলো বিরোধ নিষ্পত্তি করা। সুতরাং যদি তাকলিদ বা অনুকরণের (التقليد) মাধ্যমে তা সম্ভব হয় তবে তা জায়েজ; যেমনটি বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ফয়সালা দেওয়া হয়।
আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি তাদের মাঝে তা দিয়েই ফয়সালা করুন যা আল্লাহ নাজিল করেছেন},
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুত তাকলীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولم يقل بالتقليد، وقال: {لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ}، وقال: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ}، وروى بُريدة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ، اثْنَانِ فِي النَّارِ، وَوَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ، رَجُلٌ عَلِمَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ، وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ جَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ» رواه ابن ماجه
(1)،
والعامي يقضي على جهل، ولأن الحكم آكد من الفتيا، لأنه فتيا وإلزام، والمفتي لا يجوز أن يكون مقلدًا، فالحاكم أولى
(2) انتهى
(3).
وقال في «الإنصاف»: (ويشترط في القاضي أن يكون مجتهدًا، هذا المذهب المشهور، وعليه معظم الأصحاب.
قال ابن حزم: يشترط كونه مجتهدًا إجماعًا. وقال: أجمعوا على أنه لا يحل لحاكمٍ ولا لمفتٍ تقليدُ رجلٍ، فلا يُحكم ولا يُفتي إلا بقوله.
--------------------------------------------
এবং তিনি অন্ধ আনুগত্য (تقليد)-এর কথা বলেননি, বরং বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী}, এবং বলেছেন: {অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও}। আর বুরাইদাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকার জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে। যে ব্যক্তি সত্য জানল এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করল, সে জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা সত্ত্বেও মানুষের জন্য ফয়সালা করল, সে জাহান্নামে যাবে। আর যে ব্যক্তি বিচারে জুলুম করল, সে-ও জাহান্নামে যাবে।» এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন
(১),
আর সাধারণ মানুষ (عامي) অজ্ঞতার ওপর ফয়সালা করে। আর যেহেতু বিচারকার্য ফতোয়া প্রদানের চেয়েও অধিক গুরুত্ববহ; কেননা বিচারিক ফয়সালা হলো ফতোয়া প্রদান এবং তা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা। আর মুফতির (مفتي) জন্য অন্ধ অনুসারী (مقلد) হওয়া জায়েজ নয়, সুতরাং বিচারকের ক্ষেত্রে (মুজতাহিদ হওয়া) আরও বেশি অগ্রগণ্য
(২) সমাপ্ত
(৩)।
তিনি ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলেছেন: (বিচারকের জন্য মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া শর্ত, এটিই প্রসিদ্ধ মাযহাব (مذهب) এবং অধিকাংশ আসহাব বা অনুসারীগণ এর ওপরই রয়েছেন।
ইবনে হাজম বলেছেন: সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعًا) তার মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া শর্ত। তিনি আরও বলেন: সকলে একমত হয়েছেন যে, কোনো বিচারক বা মুফতির জন্য কোনো ব্যক্তির অন্ধ আনুগত্য (تقليد) করা হালাল নয়; সুতরাং তিনি কেবল তার কথা অনুযায়ী বিচার বা ফতোয়া প্রদান করবেন না।
--------------------------------------------