(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: -)
إحكام النظر في أحكام النظر بحاسة البصر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إِحْكَامُ النَّظَرِ فِي أَحْكَامِ النَّظَرِ بِحَاسَّةِ البَصَرِ
المؤلف: علي بن محمد بن عبد الملك الكتامي الحميري الفاسي، أبو الحسن ابن القطان (ت 628 هـ)
المحقق: إدريس الصمدي
راجعه وضبطه: فاروق حمادة
الناشر: دار القلم، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 533
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 رمضان 1436
দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে দর্শনের বিধানাবলির সূক্ষ্ম বিন্যাস বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে দর্শনের বিধানাবলির সূক্ষ্ম বিন্যাস
লেখক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-কুতামী আল-হিমইয়ারী আল-ফাসি, আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান (মৃত্যু ৬২৮ হিজরী)
সম্পাদক: ইদ্রিস আস-সামাদি
পর্যবেক্ষণ ও বিন্যাস: ফারুক হামাদাহ
প্রকাশক: দারুল কালাম, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরী - ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: -)
إِحْكَامُ النَّظَرِ فِي أَحْكَامِ النَّظَرِ بِحَاسَّةِ البَصَرِ
تَأليف
الإِمَام الْمُجْتَهد ابنِ القطّانِ الفاسِيّ (الْمُتَوفَّى 628 هـ)
تَحْقِيقْ
الْأُسْتَاذ إِدْرِيس الصّمَديّ
خريج دَار الحَدِيث الحَسنية بالرّباط
رَاجَعَهُ وَضَبَطَهُ
الْأُسْتَاذ الدكتور فاروق حمادة
أستاذ السنّة وعلومها بكلية الْآدَاب - جَامِعَة مُحَمَّد الْخَامِس - الرّباط
دَار الْقَلَم
দৃষ্টিেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে দর্শনের বিধানাবলি সংক্রান্ত সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ
রচনায়
ইমাম মুজতাহিদ ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসি (মৃত্যু ৬২৮ হিজরি)
সম্পাদনায়
অধ্যাপক ইদ্রিস আস-সামাদি
রাবাতের দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া থেকে স্নাতক
পর্যবেক্ষণ ও বিন্যাসে
অধ্যাপক ডক্টর ফারুক হামাদাহ
সুন্নাহ ও এর জ্ঞানসমূহের অধ্যাপক, কলা অনুষদ - পঞ্চম মুহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয় - রাবাত
দারুল কলাম
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৪)
دَار الْقَلَم - دمشق
أسَّسَها
مُحَمَّد عَليّ دولة سنة 1967 م
طبعة دَار الْقَلَم الأولى
1433 هـ - 2012 م
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة
تطلب جَمِيع كتبنَا من:
دَار الْقَلَم - دمشق
هَاتِف: 2229177 - فاكس: 2255738 ص. ب: 4523
الدَّار الشامية - بيروت
هَاتِف: 857222 (01) - فاكس: 857444 (01)
ص. ب: 6501/ 113
توزّع جَمِيع كتبنَا فِي السعودية عَن طَرِيق:
دَار البشير - جدّة
21461 ص. ب: 2895 - هَاتِف: 6657621 - فاكس: 6608904
দারুল কলম - দামেস্ক
প্রতিষ্ঠাতা
মুহাম্মদ আলী দাওলা, ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ
দারুল কলমের প্রথম সংস্করণ
১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আমাদের সকল বই সংগ্রহের ঠিকানা:
দারুল কলম - দামেস্ক
ফোন: ২২২৯১৭৭ - ফ্যাক্স: ২২৫৫৭৩৮, পো. ব.: ৪৫২৩
আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত
ফোন: ৮৫৭২২২ (০১) - ফ্যাক্স: ৮৫৭৪৪৪ (০১)
পো. ব.: ৬৫০১/ ১১৩
সৌদি আরবে আমাদের সকল বই পরিবেশন করা হয়:
দারুল বাশির - জেদ্দা
২১৪৬১ পো. ব.: ২৮৯৫ - ফোন: ৬৬৫৭৬২১ - ফ্যাক্স: ৬৬০৮৯০৪
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৫)
تَقديم الطبعة الثالثةالأستاذ الدكتور فاروق حمادة
الحمدُ لله الذي خلق الإنسان في أحسن تقويم، والصلاة والسلام على سيدنا محمد بن عبد الله المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله الطيبين، وصحابته الغُرِّ الميامين، وبعد:
فإن كتاب (إحكام النطر في أحكام النظر بحاسة البصر) للإمام الحافظ أبي الحسن علي بن محمد، المعروف بابن القطان الفاسي، كتاب عزّ نظيره، ونَدَر مثيله مضمونًا ومنهجًا، فقد تناول الأحكام الشرعية لحاسة البصر، وتتبَّعها في مظانها الفقهية وغير الفقهية، وصدَّرها بالآيات والأحاديث النبوية، واستخرج مدلولاتها من هذه وتلك بروح التمكُّن العلميِّ، والنظر الإجتهادي الذي يستند إلى الأصول والقواعد، فجاء أنموذجًا يحتذيه الدارسون الذين يستنبطون الأحكام، وينسبونها إلى الشريعة المحمدية، مع ورع ظاهر حتى في استعمال الألفاظ والكلمات، إنّه خزانة محشوَّة بالنصوص الشرعية، وآراء الفقهاء المذهبية، بترتيب محكم ورؤية تامة شمولية.
وقد كشف وجه الحق في هذه الأحكام، ولم يخلط الرأي الذي يدعمه الدليل والحجة بالرأي الذي يستند إلى العاطفة والهوى، ويسقط ذلك على الشريعة الغراء، وأُذكَّر أنه المرجع الحجة في هذا الباب، وسيبقى كذلك إن شاء الله، ولقد لقي القبول والإستحسان عبر العصور إلا أنه بقي منزويًا في صقع ذلك
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকাঅধ্যাপক ডক্টর ফারুক হামাদা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও শ্রেষ্ঠতম সম্মানিত সাহাবীবৃন্দের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইমাম হাফিজ আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি নামে পরিচিত, তাঁর রচিত ‘ইহকামুন নজর ফি আহকামিন নজর বি-হাসসাতিল বাসার’ (দৃষ্টিশক্তির বিধানাবলির নিখুঁত পর্যবেক্ষণ) গ্রন্থটি বিষয়বস্তু ও পদ্ধতির দিক থেকে এক অনন্য ও দুর্লভ সৃষ্টি। তিনি এতে দৃষ্টিশক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ফিকহ ও ফিকহ-বহির্ভূত ক্ষেত্রগুলোতে এর উৎস অনুসন্ধান করেছেন। তিনি একে কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিস দ্বারা অলংকৃত করেছেন এবং সেগুলোর মর্মার্থ বের করেছেন গভীর পাণ্ডিত্য ও মূলনীতি-নির্ভর ইজতিহাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। ফলে এটি ঐ সকল গবেষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে যাঁরা বিধান আহরণ করেন এবং সেগুলোকে মুহাম্মদী শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ত করেন। এমনকি শব্দ ও পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এতে এক গভীর আল্লাহভীতি প্রকাশ পেয়েছে। এটি শরয়ী নস (দলীল) এবং ফকীহদের মাযহাবী মতামতের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার, যা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত।
তিনি এই বিধানগুলোর ক্ষেত্রে সত্যের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছেন এবং দলিল-প্রমাণ ভিত্তিক অভিমতকে আবেগ ও প্রবৃত্তি-নির্ভর মতামতের সাথে সংমিশ্রণ করেননি, কিংবা উজ্জ্বল শরীয়তের ওপর তা চাপিয়ে দেননি। আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এই বিষয়ে এটিই প্রামাণ্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ এবং ইনশাআল্লাহ তা ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে। এটি যুগ যুগ ধরে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা লাভ করে আসছে, যদিও তা সুদূর সেই অঞ্চলে লোকচক্ষুর আড়ালে সীমাবদ্ধ ছিল...
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৬)
الإمام -المغرب- فنقل عنه علماء ذلك الصقع الذي كان نئيًّا بعيدًا، ولهجوا بذكره واستحسانه، واختصره بعض الفقهاء منهم، ولكن مخطوطاته غدت نادرة لم يعثر المحقق إلا على واحدةٍ وفيها سقم واضح، ومختصرٍ فقهي له لا يتلو من شيء من ذلك، نسأل الله تعالى أن يُهيِّئ لنا نسخًا مخطوطة جيدة منه، ومن المؤلفات البديعة المفقودة لهذا الحافظ الإمام.
وقد طبع للمرة الأولى فنفدت طبعتُه، ثم صوّر مرة ثانية عنها فنفدت كذلك، وكنت أحثُّ المحقق على إعادة النظر فيه، ولكن ظروفه لم تكن تسمح له بذلك، فعُدت إليه وقوّمت ما أمكن تقويمه من نصوصه، وأضفتُ ما يمكن إضافته ممَّا يسهِّل قراءة النص، أو يلقي ضوءًا عليه، وأزلتُ أخطاءً مطبعية وقعت فيه، فجاءت هذه الطبعة أنقى من سابقتيها، وأصفى وأهنأ للواردين إن شاء الله.
وحقيقٌ بكلِّ طالب علم مخلص، أو باحث جادٍّ، أو عالم طُلَعة أن يكون هذا الكتاب بين يديه، ومرجعه فيما تناوله مؤلفه وذهب إليه.
كما جاءت طباعتُه أعلى وأرقى، طباعةً تليق بهذا الكتاب الفذِّ في المكتبة الإسلامية.
فأسأل الله تبارك وتعالى أن ينفع به، وأن يغدق على مؤلِّفه شآبيب الرحمة، ويجازي بالخير والإحسان في الحال والمآل محققه ومراجعه، ويثيب ناشره ثواب العاملين. . إنه خير مسؤول وأكرم مأمول.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
في أبو ظبي
بتاريخ 3 جمادى الآخرة 1431 هـ
موافق 6 / ماي / 2010 م
وكتبه
المستشار الدكتور
فاروق محمود حمادة
ইমাম —মাগরিব— সেই দূরবর্তী জনপদের আলেমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁরা তাঁর প্রশংসায় ও গুণগানে পঞ্চমুখ ছিলেন। তাঁদের মধ্য হতে কিছু ফকিহ এটি সংক্ষেপ করেছেন। তবে এর পাণ্ডুলিপিগুলো দুর্লভ হয়ে পড়েছে। মুহাক্কিক (গবেষক) কেবল একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছেন যাতে স্পষ্ট ত্রুটি রয়েছে। আর তাঁর একটি ফিকহি সংক্ষিপ্তসার রয়েছে যা এই অভাব পূরণ করে না। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের জন্য এই কিতাবের এবং এই হাফেয ইমামের অন্যান্য অনবদ্য নিখোঁজ রচনার উত্তম পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দেন।
এটি প্রথমবার মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর মুদ্রণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয়বার তা ফটোকপি করে প্রকাশ করা হয় এবং সেটিও শেষ হয়ে যায়। আমি মুহাক্কিককে এটি পুনঃনিরীক্ষণ করার জন্য উৎসাহিত করছিলাম, কিন্তু তাঁর পরিস্থিতি তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। ফলে আমি নিজে এর দিকে ফিরে আসি এবং এর পাঠ্যসমূহের যতটুকু সম্ভব সংস্কার করি। পাঠ সহজ করার জন্য বা বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার জন্য যা যোগ করা সম্ভব ছিল তা যোগ করেছি এবং এতে থাকা মুদ্রণজনিত ভুলগুলো দূর করেছি। ফলে এই সংস্করণটি পূর্বের দুটি সংস্করণের চেয়ে অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ পাঠকদের জন্য এটি অধিকতর আনন্দদায়ক হবে।
প্রত্যেক একনিষ্ঠ ইলম অন্বেষণকারী, একনিষ্ঠ গবেষক অথবা অনুসন্ধিৎসু আলেমের জন্য এটি আবশ্যক যে, এই কিতাবটি তাঁদের হাতে থাকুক এবং লেখক যা আলোচনা করেছেন ও যে মত পোষণ করেছেন সে ক্ষেত্রে এটি তাঁদের প্রধান অবলম্বন হোক।
তেমনিভাবে এর মুদ্রণও হয়েছে উন্নত ও পরিমার্জিত; এমন এক মুদ্রণ যা ইসলামি লাইব্রেরিতে এই অনন্য কিতাবটির মর্যাদার সাথে মানানসই।
আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন, এর লেখকের ওপর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন এবং এর মুহাক্কিক ও পর্যালোচনাকারীকে ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ ও ইহসানের মাধ্যমে প্রতিদান দান করেন এবং এর প্রকাশককে নিষ্ঠাবান কর্মীদের ন্যায় সওয়াব দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাভরসার স্থল।
আর আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আবুধাবিতে
তারিখ: ৩ জমাদিউল আখিরাত ১৪৩১ হিজরি
মোতাবেক ৬ মে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
এটি লিখেছেন
উপদেষ্টা ডক্টর
ফারুক মাহমুদ হামাদা
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৭)
تَقديمبقلم الأستاذ الدكتور فاروق حمادة
إنَّ الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، مَن يهدِ الله فهو المهتد، ومَن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
- 1 -
أما بعد: فإن كثيرًا من الأفكار تتألَّق بمرور الزمن، وتعاقُب الأيام، فتتلألأ في جنبات التاريخ وموجات الفكر الإِنساني المتلاحق، نيِّرةً متميزة، يُشار إليها بالبنان ويُستشهد بها، وتُزين بها الآراء، ويُحتج بها في المحافل، ويرجع إليها
ভূমিকাপ্রফেসর ডক্টর ফারুক হামাদা-এর কলমে
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাওয়া যাবে না।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]
{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]
- ১ -
অতঃপর: সময়ের বিবর্তন ও দিনের পরিক্রমায় অনেক চিন্তাধারাই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং ইতিহাসের পরতে পরতে ও মানবীয় চিন্তার ক্রমাগত ঢেউয়ের মাঝে সেগুলো স্বতন্ত্র দীপ্তিতে ভাস্বর হয়। এগুলোর দিকে আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করা হয়, এগুলোকে উদ্ধৃতি হিসেবে পেশ করা হয়, এসবের মাধ্যমে বিভিন্ন মতামতকে সুশোভিত করা হয়, বড় বড় মজলিসগুলোতে এগুলো দিয়ে দলিল পেশ করা হয় এবং এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৮)
الناس في كل حين وآن، لا يُقلل من شأنها عند العقلاء أنها ليست من رعونات العصر، أو خارجة عن إبداع الجيل الحاضر ونزقه ونزغاته، وما ذلك إلا لأنها قامت من منطلق صحيح، وبُنيت بمنهج دقيق، وعالجت جانبًا من جوانب الإِنسانية الثابتة التي لا تتبدل ولا تتغير؛ لأنها من خصائص الإِنسان ومميزات وجوده.
وإن أبقى الكتب مع الأيام هي التي تضمُّ قدرًا كبيرًا من هذه الأفكار، فلها القبول وعليها المدار.
وإن هذا الكتاب الذي بين يديك أيها القارئ الكريم: (إحكام النظر في أحكام النظر بحاسّة البصر) من الأسفار التي ضمّت نيّر الأفكار، وقويَّ الآراء، وسديد الإستنباطات في جانب خطير من جوانبا الإنسانية الثابتة، ألا وهو النظر بالعين، وما تعكسه على النفس والمشاعر من آثار، قد تكون هذه الآثار في غاية النبل والسمو فترفع صاحبها إلى مقام الصدّيقين والشهداء، فيستحق النعيم المقيم في أعلى عليين، قال تعالى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ (190) الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [آل عمران: 190، 191].
{أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ (6) وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ (7) تَبْصِرَةً وَذِكْرَى لِكُلِّ عَبْدٍ مُنِيبٍ} [ق: 6 - 8].
أو تهبط بصاحبها إلى دركات الحيوانية، بل دون ذلك، فيكون من الغاوين الذين اتبعوا هواهم، وعاثوا يطلبون مناهم، وأنّى لهم ذلك؟! بل شأنهم في تعب دائم، وشقاء متجدِّد متعاظم، وسُعَار لاهب متفاقم، وفي هؤلاء جاء قول الحق سبحانه: {وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ (175) وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ
মানুষ সব সময় এবং প্রতিটি মুহূর্তে—বিবেচক ব্যক্তিদের নিকট এর গুরুত্ব কেবল এজন্য কমে যায় না যে এটি আধুনিক যুগের চপলতা নয়, কিংবা বর্তমান প্রজন্মের উদ্ভাবন ও তাদের অস্থিরতা বা প্ররোচনার বাইরে। আর এটি কেবল এজন্যই যে, তা সঠিক প্রস্থানবিন্দু থেকে শুরু হয়েছে, নির্ভুল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং মানবতার এমন এক শাশ্বত দিক নিয়ে আলোচনা করেছে যা পরিবর্তন বা পরিমার্জনযোগ্য নয়; কারণ এটি মানুষের বৈশিষ্ট্য এবং তার অস্তিত্বের বিশেষত্বের অন্তর্ভুক্ত।
আর কালপরিক্রমায় সেই বইগুলোই টিকে থাকে যা এই চিন্তাগুলোর একটি বড় অংশ ধারণ করে; ফলে তা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং তা-ই হয় মূল কেন্দ্রবিন্দু।
হে সম্মানিত পাঠক, আপনার হাতে থাকা এই বইটি: (দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপাতের বিধানাবলির সুনিপুণ পর্যালোচনা) এমন এক গ্রন্থ যা মানবতার এক গুরুত্বপূর্ণ ও শাশ্বত দিক নিয়ে উজ্জ্বল চিন্তা, শক্তিশালী মতামত এবং সঠিক উদ্ভাবনী সিদ্ধান্তসমূহ ধারণ করেছে। আর তা হলো চর্মচক্ষুর দৃষ্টিপাত এবং আত্মা ও অনুভূতির ওপর এর প্রভাব। এই প্রভাব অত্যন্ত মহৎ ও উচ্চমার্গের হতে পারে, যা এর অধিকারীকে সত্যনিষ্ঠ ও শহীদদের মাকামে উন্নীত করে। ফলে সে উচ্চতম ইল্লিয়্যীনে চিরস্থায়ী নিআমতের যোগ্য হয়। মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা করে (ও বলে), হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; অতএব আপনি আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।” [আলে ইমরান: ১৯০, ১৯১]
“তবে কি তারা তাদের উপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না, আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোনো ছিদ্র নেই? আর আমি জমিনকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি আর তাতে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। এটি প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারী বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ।” [ক্বাফ: ৬ - ৮]
অথবা এটি তার অধিকারীকে পশুত্বের নিম্নস্তরে নামিয়ে দেয়, বরং তার চেয়েও নিচে; ফলে সে সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয় যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং নিজ কামনা পূরণে বিচরণ করে। কিন্তু তাদের জন্য তা কোথায়?! বরং তাদের অবস্থা হলো নিরন্তর ক্লান্তি, ক্রমবর্ধমান নতুন দুর্দশা এবং তীব্র দহন। এদের সম্পর্কেই সত্য মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: “আর আপনি তাদের নিকট সেই ব্যক্তির সংবাদ পাঠ করুন, যাকে আমি আমার নিদর্শনাবলি দান করেছিলাম, কিন্তু সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। অতঃপর শয়তান তার পিছু নেয়, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। আর আমি ইচ্ছা করলে এর দ্বারা তাকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে...”
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (176) سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنْفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ} [الأعراف: 175، 177].
ولخطورة حاسة البصر، وأهميتها في حياة الإِنسان جاءت الشريعة المطهَّرة بتحديد مساربها، وبيان الوجهِ الحقِّ لاستعمالها، وضبط العلاقة السليمة بين الناظر وما حوله من الوجود إنسانًا وجمادًا، كلُّ ذلك بما يتفق وتكوينه وغرائزه، وجِبِلَّته وفطرته حتى تكون حاسة البصر أداة خير وبناء، لا معول هدمٍ وإفسادٍ وشقاء.
وإنَّ أخطر نظرة تكون بهذه الحالة هي النَّظرة التي تتوجَّه من الرجل نحو المرأة، ومن المرأة نحو الرجل، بحكم الفطرة التي ينجذب إليها أحدهما نحو الآخر، وهي التي في الحديث: "النظرة سهم من سهام إبليس".
ولهذا جاءت النصوص الشرعية كثيرة ضافية تضبط النظر من أحدهما نحو الآخر حتى لا يزلَّ وينحرف، أو يسقط وينجرف، وليبقى كلاهما في إنسانية كريمة وعلاقة خيِّرة سليمة.
وقد أولى علماء الإسلام عبر العصور ولا يزالون هذه النصوص الشريفة كامل العناية والرعاية من تفسير وشرح، واستنباط وبيان، وذلك خلال درسهم للقرآن الكريم، والحديث النبوي الشريف، أو في كتب الفقه الإسلامي وأبوابه، وكلُّ باب من أبواب كتب الفقه هو باب للإنسانية على حياتها، إن دخلت منه كان دخولها صحيحًا سليمًا، وسيرها مأمونًا قويمًا، فالفقه الإِسلامي هو كتاب الحياة الإِنسانية الواسعة في كلياتها وجزئياتها، في دقائقها ومخفياتها، وقد وقف الفقهاء مع حاسة البصر والنظر وقفات غير قليلة في كتب التفسير، وشروح الحديث، ومصنفات الفقه.
ومع هذا فإنَّ هذا الكتاب فريد في بابه، إذ استقلَّ بجمعه دون غيره،
...এবং সে নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করল। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত কুকুরের মতো; তুমি যদি তাকে আক্রমণ করো তবে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবেও সে হাঁপাতে থাকে। এটিই সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব তুমি এসব কাহিনী বর্ণনা করো যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে। (১৭৬) অত্যন্ত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করত। [আল-আরাফ: ১৭৫, ১৭৭]।
দৃষ্টিশক্তির বিপজ্জনকতা এবং মানুষের জীবনে এর গুরুত্বের কারণে পবিত্র শরিয়ত এর গতিপথ নির্ধারণ, এর ব্যবহারের সঠিক দিক বর্ণনা এবং দ্রষ্টা ও তার চারপাশের অস্তিত্বের—তা মানুষ হোক বা জড়বস্তু—মাঝখানে সুস্থ সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের বিধান নিয়ে এসেছে। এসব কিছু মানুষের গঠন, প্রবৃত্তি, প্রকৃতি ও ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে, যাতে দৃষ্টিশক্তি কল্যাণ ও গঠনের হাতিয়ার হতে পারে, ধ্বংস, বিপর্যয় ও দুর্ভাগ্যের কুঠার নয়।
আর এই অবস্থায় সবচেয়ে বিপজ্জনক দৃষ্টি হলো সেই দৃষ্টি যা পুরুষের পক্ষ থেকে নারীর প্রতি এবং নারীর পক্ষ থেকে পুরুষের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়, যা সেই স্বভাবজাত প্রবৃত্তির কারণে ঘটে যার ফলে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর এটিই সেই দৃষ্টি যার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে: "দৃষ্টি হলো ইবলিসের তীরসমূহের মধ্য থেকে একটি তীর।"
এই কারণেই অসংখ্য এবং বিস্তারিত শরয়ি দলিলসমূহ এসেছে যা একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের প্রতি দৃষ্টিপাতকে সুনিয়ন্ত্রিত করে, যাতে করে কেউ পদস্খলিত ও বিপথগামী না হয়, কিংবা ধ্বংস ও বিচ্যুতিতে নিপতিত না হয়; বরং যাতে তারা উভয়ই এক সম্মানিত মানবিকতা এবং উত্তম ও সুস্থ সম্পর্কের ওপর অটল থাকতে পারে।
আর যুগ যুগ ধরে ইসলামের আলেমগণ এই মর্যাদাপূর্ণ দলিলসমূহের প্রতি পূর্ণ যত্ন ও গুরুত্ব দিয়ে আসছেন এবং এখনও দিচ্ছেন—তাফসীর, ব্যাখ্যা, মাসআলা উদ্ভাবন এবং বর্ণনার মাধ্যমে। এটি ঘটেছে পবিত্র কুরআন ও সুমহান নববী হাদিস অধ্যয়নের সময়, কিংবা ইসলামী ফিকহশাস্ত্রের কিতাব ও এর অধ্যায়সমূহের মধ্যে। ফিকহ শাস্ত্রের প্রতিটি অধ্যায়ই হলো মানবতার জীবনের জন্য একটি প্রবেশদ্বার; যদি মানুষ সেখান দিয়ে প্রবেশ করে, তবে তার প্রবেশ হবে সঠিক ও সুস্থ, এবং তার পথচলা হবে নিরাপদ ও সুদৃঢ়। কারণ ইসলামী ফিকহ হলো বিশাল মানবজীবনের কিতাব—এর সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিিক সকল বিষয়ে, এর সূক্ষ্ম ও গোপন সকল দিকসহ। ফকিহগণ তাফসীর গ্রন্থ, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ফিকহ সংকলনগুলোতে দৃষ্টিশক্তি ও তাকানোর বিষয়ে অসংখ্য আলোচনা করেছেন।
এতদসত্ত্বেও, এই বইটি তার নিজ ক্ষেত্রে অনন্য, কারণ এটি অন্য বিষয়ের মিশ্রণ ছাড়াই এককভাবে এই বিষয়বস্তু সংগ্রহে বিশেষত্ব লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعمل على الإحاطة بمسائله الكبرى وجزئياته، بل تعمق حتى بحث في خلجات النفس ودقائق الورع، وترك الإِنسان المسلم يواجه أفكاره وحركات نفسه، ويراقب الله وحده. . {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} [ق: 16].
ولا نعلم كتابًا قبل هذا الكتاب أفرد مسائل هذا الباب بهذه الكيفية وهذه الشمولية.
وإن مؤلفه أبا الحسن بن القطان إمام كبير، وناقد خطير، وحافظ جهبذ. .
إنه شيخ شيوخ الدولة الموحِّدية التي أطلقت الفكر من عقاله، وألحَّت على
ضرورة طوافه وتجواله للتجديد والإجتهاد، وإن أقوال هذا الإِمام وآراءه في علم الحديث والرجال انتهبَتهَا الدواوين، وتزينت بها الأسفار التي جاءت بعده وغدت متكأً للحفّاظ والنقّاد الكبار، ولئن كان كتابه الكبير (بيان الوهم والإِيهام، الواقعين في كتاب الأحكام) (1) هو الذي جعل صيته يطير شرقًا وغربًا، وسلَّم له بالإِمامة في علم الحديث كلُّ من اطَّلع عليه، فإن كتبه الأخرى -وخاصة هذا الكتاب- قد حظيت بكل قبول وتقدير، واهتبالٍ واحتفال، لما أبدى فيه من قوة عارضة، وسعة أُفق، وحسن تقدير.
لقد كسر المصنف كتابه هذا على ثمانية أبواب، متيمِّنًا بأبواب الجنة الثمانية التي هي محطُّ نظر المؤمنين على الدوام، جعلنا الله وإياه من أهلها، متدرِّجًا في أحكام البصر تدرُّجًا سليمًا وقويمًا، بدءًا من غضِّ البصر عما لا يحلُّ، ومشروعية ذلك، إلى ما لا يجوز إبداؤه للناظرين وما يجوز، ثم في نظر الرجال إلى الرجال في شتى الأحوال، ثم في نظر النساء إلى النساء، ثم في نظر الرجال إلى النساء، والنساء إلى الرجال، وهذان البابان قد بلغ فيهما الذروة، وسامى المجتهدين الكبار، ثم عالج مسألة الضرورات المبيحة، وختمه في تقلبات
--------------------------------------------
তিনি এর বড় ও ছোট যাবতীয় মাসআলাসমূহ আয়ত্ত করার ওপর কাজ করেছেন, বরং গভীরে গিয়ে তিনি অন্তরের ভাবতরঙ্গ এবং তাকওয়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি মুসলিম ব্যক্তিকে তার চিন্তা ও নফসের প্ররোচনার মুখোমুখি হতে এবং একমাত্র আল্লাহকে পর্যবেক্ষণ করতে ছেড়ে দিয়েছেন। “আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার কুপ্রবৃত্তি তাকে যে প্ররোচনা দেয় সে সম্পর্কে আমি অবগত, আর আমি তার শাহরগ হতেও নিকটতর।” [ক্বাফ: ১৬]।
এই কিতাবটির পূর্বে আমরা এমন কোনো কিতাব সম্পর্কে জানি না যা এই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহকে এমনভাবে এবং এই ব্যাপকতার সাথে এককভাবে আলোচনা করেছে।
এর লেখক আবুল হাসান বিন আল-কাত্তান হলেন একজন মহান ইমাম, একজন তীক্ষ্ণ সমালোচক এবং একজন সুদক্ষ হাফিজ।
তিনি মুওয়াহ্হিদুন সাম্রাজ্যের শাইখদের শাইখ ছিলেন, যে সাম্রাজ্য চিন্তাধারাকে তার বন্ধন থেকে মুক্ত করেছিল এবং গুরুত্বারোপ করেছিল
এর সংস্কার ও ইজতিহাদের জন্য অবাধ বিচরণ ও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর। ইলমে হাদিস এবং রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে এই ইমামের উক্তি ও মতামতসমূহ বিভিন্ন সংকলনে গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর পরবর্তী গ্রন্থসমূহ তাঁর কথায় সুশোভিত হয়েছে এবং বড় বড় হাফিজ ও সমালোচকদের জন্য তা নির্ভরস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও তাঁর মহান গ্রন্থ (বায়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহাম, আল-ওয়াকিঈন ফি কিতাবিল আহকাম) (১) তাঁর খ্যাতিকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং যারাই এটি পাঠ করেছেন তারা ইলমে হাদিসে তাঁর ইমামতিকে স্বীকার করেছেন, তথাপি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ—বিশেষ করে এই কিতাবটি—পূর্ণ কবুলিয়্যাত, মর্যাদা, বিশেষ যত্ন ও সমাদর লাভ করেছে। কারণ এতে তিনি তাঁর শক্তিশালী উপস্থাপনা, দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপকতা এবং সুন্দর বিচারবোধের পরিচয় দিয়েছেন।
লেখক তাঁর এই কিতাবটিকে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, জান্নাতের আটটি দরজার বরকতের আশায় যা সর্বদা মুমিনদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে এর অধিবাসী করুন। তিনি দৃষ্টির বিধানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সঠিক ও সুচারুভাবে পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসরণ করেছেন; যা শুরু হয়েছে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা এবং এর বৈধতা দিয়ে, এরপর দর্শকদের সামনে যা প্রকাশ করা বৈধ নয় এবং যা বৈধ তার বর্ণনা পর্যন্ত। এরপর বিভিন্ন অবস্থায় পুরুষের পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত, অতঃপর নারীর নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত, তারপর পুরুষের নারীর প্রতি এবং নারীর পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাতের আলোচনা। এই শেষোক্ত দুটি অধ্যায়ে তিনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন এবং বড় বড় মুজতাহিদদের সমকক্ষতা অর্জন করেছেন। এরপর তিনি বৈধতাদানকারী প্রয়োজনীয়তা বা নিরুপায় অবস্থার মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন বিভিন্ন অবস্থার পরিবর্তনের বর্ণনায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১১)
الطرف في هذا الوجود، ومشروعية أقوال خاصة وأفعال محددة عند نظر بعض المرئيات، وفي خضمِّ هذه الأبواب الثمانية، جمع فأوعى، واستقصى فأوفى.
وأما عن منهجه في هذا الكتاب، فهو نموذج رائع، وقدوة لكلِّ باحث ودارس، ويمكن إجمال ذلك من خلال النقاط التالية:
1 - لقد جمع ابن القطان كل الآيات القرآنية المتعلِّقة بالنظر، ووضعها في سياقها الصحيح مع ما قبلها وما بعدها، ونقل أقوال أئمة التفسير فيها بدءًا من الصحابة الكرام ومن تلاهم من التابعين، كاشفًا عن أقوال أئمة اللغة العربية، مع بيان موضع الدليل، ومناط الأحكام فيها.
وأما نصوص السُّنَّة الشريفة، فحدِّث عن البحر ولا حرج، فلقد جمعها من مظانِّها، ولم يفته منها نصٌّ ذو شأن، وخطَّ لجمعها خطَّةً جليلةً، فقد التزم بأن يورد الحديث الشريف إذا كان صحيحًا دون إسناد مع بيان مصدره، وإن كان فيه نظر عند المحدِّثين أو تكلّم أحد فيه ساقه بإسناده، وتكلَّم عليه جرحًا
وتعديلًا وتصحيحًا وتضعيفًا، وأما الحديث المعروف بالضعف فيورده ويشير إلى موضع العلة فيه. ومن خطته: تقديها الصحيح للإحتجاج، والتعريج على ما فيه كلام ويصلح للاستشهاد، ثم يورد الضعيف لبيان ضعفه حتَّى لا يأتي آتٍ بعده فيظنَّ به أنه لم يطَّلع عليه أو قصر في جمعه والنظر فيه.
ويبيّن في كلِّ نصٍّ موضع الدليل، وما يمكن أن يثور في الإعتراض عليه، وما قاله فقهاء السُّنة إن تنازعت دلالتَه الآراء.
لقد ذكر في كتابه هذا نحوًا من مئتين وسبعين حديثًا في موضوع النظر، وتكلَّم عليها بما يكفي ويشفي، واقتبس علماء الحديث من بعده طرفًا غير يسير من كلامه فيها.
2 - لقد أحاط المصنِّفُ في كتابه هذا في موضوع النظر وما يتعلق
এই অস্তিত্বের মধ্যে দৃষ্টিপাত এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয় দেখার সময় বিশেষ উক্তি ও নির্দিষ্ট কর্মসমূহের বৈধতা সম্পর্কে। এই আটটি অধ্যায়ের আবহে তিনি সবকিছুই একত্রিত করেছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা পূর্ণ করেছেন।
আর এই কিতাবে তাঁর পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে, এটি একটি চমৎকার নমুনা এবং প্রতিটি গবেষক ও শিক্ষার্থীর জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ। নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:
১ - ইবনুল কাত্তান দৃষ্টিপাত সংক্রান্ত সমস্ত কুরআনী আয়াত একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোকে পূর্বাপর প্রসঙ্গের সাথে সঠিক ধারায় বিন্যস্ত করেছেন। তিনি সম্মানিত সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীগণ থেকে শুরু করে মুফাসসির ইমামগণের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। পাশাপাশি আরবি ভাষার ইমামগণের মতামত ব্যক্ত করার সাথে সাথে দলিলের স্থান এবং তাতে বিধানের ভিত্তি স্পষ্ট করেছেন।
আর সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের কথা বলতে গেলে, তা যেন এক অফুরন্ত সমুদ্র। তিনি সেগুলোকে তাদের সঠিক উৎসস্থল থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি। তিনি এগুলো সংকলনের জন্য একটি মহান পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। তিনি এই নীতি অবলম্বন করেছেন যে, হাদিসটি সহিহ হলে তিনি সনদ ছাড়াই তার উৎস উল্লেখ করে তা উদ্ধৃত করেছেন। আর যদি মুহাদ্দিসগণের নিকট হাদিসটি নিয়ে কোনো সংশয় থাকে কিংবা কেউ তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করে থাকেন, তবে তিনি সেটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং তার জারাহ (সমালোচনা)
ও তাদীল (প্রশংসা), সহিহ বা জয়িফ হওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর যে হাদিসটি দুর্বল (জয়িফ) হিসেবে পরিচিত, তিনি তা উল্লেখ করে তার ত্রুটির স্থান নির্দেশ করেছেন। তাঁর কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল: দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য সহিহ হাদিসকে অগ্রগণ্য করা, এবং যে হাদিস নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করার উপযোগী তা নিয়ে আলোচনা করা। এরপর তিনি জয়িফ হাদিস উল্লেখ করেছেন তার দুর্বলতা বর্ণনার জন্য, যাতে পরবর্তীতে কেউ এসে এমন ধারণা না করে যে তিনি এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না কিংবা তা সংগ্রহ ও পর্যালোচনায় অবহেলা করেছেন।
তিনি প্রতিটি পাঠ্যে দলিলের স্থান এবং তার বিরুদ্ধে কী কী আপত্তি উঠতে পারে তা স্পষ্ট করেছেন। এছাড়া বর্ণনার অর্থের বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে সুন্নাহর ফকীহগণ যা বলেছেন তাও উল্লেখ করেছেন।
তিনি তাঁর এই কিতাবে দৃষ্টিপাত সংক্রান্ত প্রায় দু’শো সত্তরটি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর ওপর পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক আলোচনা করেছেন। পরবর্তীকালের হাদিস বিশারদগণ তাঁর আলোচনা থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রহণ করেছেন।
২ - গ্রন্থকার তাঁর এই কিতাবে দৃষ্টিপাত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১২)
به بمذاهب الفقهاء المعتبرين؛ بدءًا من الصحابة الكرام، ومَن تلاهم من التابعين، حتى الأئمة الأربعة: أبي حنيفة النعمان بن ثابت، ومالك بن أنس، ومحمد بن إدريس الشافعي، وأحمد بن حنبل، ومَن سار خلفهم من كبار علماء الإِسلام الذين يعتدُّ بقولهم، ويُرجع إلى رأيهم ونظرهم. . وكان يسوق أقوالَهم، ويستقصي مذاهبهم من كتبهم المعتمدة، بكلِّ أمانة وإنصاف وإتقان واستيفاء، ثم يبيِّن قويَّ هذه الآراء وقويمها بالحجة والبرهان، دون تعصُّب لمذهب أو انسياق مع فكرة لمكابقة، فهو متحرٍّ للدليل، مجتهدٍ في الرأي، غير منتقٍ من الآراء بدافع هوًى معين، أو ملفقٍ بين بعضها تحت ضغط رغبة جامحة أو نزوة طارئة!. . وقد بلغ في هذا شأوًا بعيدًا، فهذا الكتاب من هذه الناحية كتاب فقه مقارن، وبه يظهر لنماذج من عصرنا وقد نتفوا من القرآن أو السنّة نتفًا، ولم يلامسوا من العربية إلا القليق، وأرادوا الإجتهاد، يظهر لهم كيف يكون الإجتهاد، إنهم بنتفهم قد ضلوا وأضلوا، وزلوا أيما زلل وأزلوا، فالإجتهاد كلمة محبّبة، ولكن الوصول إليها ليس بالآمر الهين، إنه ليس بجمع نصوص لا يدري جامعها ما يصنع بها، أو النظر فيها دون معرفة تفسير الذين نقلوها ورووها. .
إنَّ من المهمَّات في باب الإجتهاد الإِحاطة بمذاهب المتقدمين، ومعرفة دليل كل واحد منهم، وحجته فيما ذهب إليه، وإنَّ من ينظر إلى صنيع ابن القطان في هذا الكتاب يتيقَّن أنه من النخبة المتميزة في تاريخ الفقه الإِسلامي.
وإن المكتبة الفقهية التي رجع إليها ابن القطان لاستعراض المذاهب والآراء واسعة جدًّا، عرفناها من خلال هذا الكتاب، ومن خلال كتابه البديع المسمى (الإِقناع في مسائل الإِجماع) (1)، الذي نخل فيه كتب فقه المذاهب المعتمدة وأصولها المتداولة المرضية في كل مذهب، وعرفنا من خلاله دقته وحسن تصرفه في كتب الفقه على اختلافها.
--------------------------------------------
এতে রয়েছে নির্ভরযোগ্য ফকীহগণের মাযহাবসমূহ; যা শুরু হয়েছে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম থেকে এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীনদের মধ্য থেকে যারা এসেছেন, এমনকি চার ইমাম পর্যন্ত: আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত, মালেক ইবনে আনাস, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ী এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের অনুসারী ইসলামের ওই সকল বড় আলেমদের পর্যন্ত যাদের কথা গ্রহণযোগ্য এবং যাদের রায় ও মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। তিনি তাঁদের উক্তিগুলো উপস্থাপন করতেন এবং তাঁদের মাযহাবসমূহ তাঁদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে পূর্ণ আমানতদারি, ইনসাফ, নিপুণতা ও পরিপূর্ণতার সাথে অনুসন্ধান করতেন। অতঃপর তিনি কোনো মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব না করে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাধারার বশবর্তী না হয়ে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে এই রায়গুলোর মধ্যে যেটি শক্তিশালী ও সঠিক সেটি বর্ণনা করতেন। সুতরাং তিনি ছিলেন দলিলের সন্ধানী এবং মতামতের ক্ষেত্রে মুজতাহিদ; নির্দিষ্ট কোনো খেয়ালখুশির বশবর্তী হয়ে রায় নির্বাচনকারী কিংবা তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা আকস্মিক ঝোঁকের চাপে পড়ে কোনো কিছু তালিদানকারী ছিলেন না! এবং তিনি এই ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী উচ্চতায় পৌঁছেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই কিতাবটি একটি তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ। এর মাধ্যমে আমাদের যুগের ওই ব্যক্তিদের স্বরূপ প্রকাশ পায় যারা কুরআন বা সুন্নাহ থেকে সামান্য কিছু অংশ বিচ্ছিন্নভাবে গ্রহণ করেছে এবং আরবি ভাষার কেবল সামান্যই স্পর্শ করেছে, অথচ তারা ইজতিহাদ করতে চায়; তাদের কাছে প্রকাশ পায় যে ইজতিহাদ কেমন হওয়া উচিত। তারা তাদের বিচ্ছিন্ন জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে, নিজেরা চরমভাবে পদস্খলিত হয়েছে এবং অন্যদেরও পদস্খলিত করেছে। কেননা ইজতিহাদ একটি প্রিয় শব্দ, কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি কেবল কিছু উদ্ধৃতি জমা করা নয় যেখানে সংকলক জানেন না এগুলো নিয়ে কী করতে হবে, অথবা যারা এগুলো বর্ণনা করেছেন ও বর্ণনাপরম্পরায় এনেছেন তাদের ব্যাখ্যা জানা ছাড়াই সেগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করা নয়।
ইজতিহাদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পূর্বসূরিদের মাযহাবসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা এবং তাদের প্রত্যেকের দলিল ও তারা যে মত গ্রহণ করেছেন সে বিষয়ে তাদের প্রমাণাদি সম্পর্কে জানা। আর যে ব্যক্তি এই কিতাবে ইবনে আল-কাত্তানের কর্মপদ্ধতির দিকে তাকাবে, সে নিশ্চিত হবে যে তিনি ইসলামি ফিকহের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট অনন্য ব্যক্তিত্ব।
মাযহাব ও মতবাদগুলো পর্যালোচনার জন্য ইবনে আল-কাত্তান যে ফিকহী লাইব্রেরির দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন তা অত্যন্ত বিশাল। আমরা তা এই কিতাবের মাধ্যমে এবং তাঁর "আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা" (১) নামক চমৎকার কিতাবটির মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যেটিতে তিনি প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থ এবং প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য মূলনীতিগুলোকে যাচাই-বাছাই করেছেন। এর মাধ্যমে আমরা ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের ক্ষেত্রে তাঁর সূক্ষ্মতা ও সুন্দর পরিচালনার সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3 - لقد أجاد ابن القطان وأفاد في بحثه لمسألة النظر، وما يجوز إبداؤه، وما لا يجوز وغير ذلك من المباحث الكثيرة التي عرض لها، أجاد وأفاد في ربط النصوص الشرعية بمقاصدها، والحكمة من تشريعها، وبيان الغاية منها في تكوين الإِنسان الربَّاني الصالح، وإبعاده عن مواطن الشبه والريبة، والسمو به عن دركات الفاحشة، فكان تعليل النصوص هاجسًا له يسير معه، ويستعين به، وهو ينظر في القرآن الكريم والسنّة المطهرة، فلم يكن نصيًّا جامدًا يقف مع الظواهر أو يحشر المتناقضات، بل كان يوجه النصوص تبعًا لمقاصدها ويوفق بين ما ظاهره التعارض بوضع كلِّ نصٍّ في محله الذي سيق من أجله.
ومَن يقرأ هذا البحث يشعر شعورًا غامرًا بأن فقهاء الإِسلام، كانوا على الدوام أطباء المجتمع، وحرّاس الفضيلة فيه، ومصلحي خلل الأمة، بل كانوا نبضها المتحرك، وروحها الوثَّابة، خبرة ومعرفة بما يجري ويدور في خلد الناس، وجنبات المجتمع، وأعماق الأُسر. . فيدلُّون الناس على الخير، ويجهدون
لهم بالنُّصح، ويضعون نصوص الشريعة طبقًا للغاية التي جاءت من أجلها دون
تعسُّفا أو التواء؛ لأن الحياة بغير ذلك تفسد ولا تستقيم. . {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا} [الإسراء: 9].
4 - ومن خلال الثمانية الأبواب التي أدار المؤلف كتابه عليها فرَّع كلَّ باب إلى مباحث ومسائل دقيقة جدًّا، استوعب بها ما هو واقع، وما يمكن أن يخطر بالبال في حياة الإِنسان وله تعلق بالنظر والبصر والعورات، والضرورات، وبهذا يمكن الجزم بأن هذا الكتاب موسوعة شاملة فيه ما ليس في غيره من كتب الفقه والتفسير وفقه الحديث، ويغني عن غيره ولا يغني غيره عنه، ويسوق المسائل بمنهجية صارمة وتسلسل دقيق دون تكرار أو إعادة، وقد بلغت مسائله نحوًا من مئة وإحدى وسبعين مسألة.
৩ - ইবনুল কাত্তান দৃষ্টির মাসআলা, যা প্রকাশ করা বৈধ ও যা অবৈধ এবং এ ধরনের আরও অনেক বিষয় যা তিনি আলোচনা করেছেন, সেগুলোর গবেষণায় অত্যন্ত নৈপুণ্য ও পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি শরয়ি দলীলসমূহকে সেগুলোর মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও বিধিবদ্ধ করার হিকমতের সাথে সংযুক্ত করতে এবং একজন আদর্শ রব্বানি মানুষ গঠনে এগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। এছাড়া মানুষকে সন্দেহ ও সংশয় থেকে দূরে সরিয়ে অশ্লীলতার পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে উচ্চতর স্তরে উন্নীত করতেও তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। দলীলসমূহের অন্তর্নিহিত কারণ বা ইল্লত তালাশ করা ছিল তাঁর একটি সার্বক্ষণিক চেতনা যা তাঁকে সর্বদা পথ দেখাত। তিনি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর গবেষণায় এর সাহায্য নিতেন; তিনি নিছক বাহ্যিক শব্দে আটকে থাকা কোনো স্থবির শাস্ত্রকার ছিলেন না যিনি কেবল বাহ্যিক দিক নিয়ে পড়ে থাকেন কিংবা বৈপরীত্যের স্তূপ জমা করেন। বরং তিনি দলীলসমূহকে সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করতেন এবং বাহ্যত পরস্পরবিরোধী দলীলের প্রত্যেকটিকে তার যথাযথ প্রেক্ষাপটে স্থাপনের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে চমৎকারভাবে সমন্বয় সাধন করতেন।
যিনি এই গবেষণাটি পড়বেন তিনি গভীরভাবে অনুভব করবেন যে, ইসলামের ফকিহগণ সর্বদা সমাজের আধ্যাত্মিক চিকিৎসক এবং নৈতিকতার অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন। তাঁরা ছিলেন উম্মাহর সমস্যাবলির সংশোধক, বরং তাঁরা ছিলেন উম্মাহর স্পন্দন ও প্রাণশক্তি; মানুষের মনে কী ঘুরপাক খাচ্ছে, সমাজের প্রতিটি স্তরে এবং পরিবারের অন্দরে কী ঘটছে—সে বিষয়ে তাঁদের ছিল গভীর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান। তাঁরা মানুষকে কল্যাণের পথ দেখাতেন এবং তাঁদের উপদেশে আপ্রাণ চেষ্টা
করতেন। কোনো প্রকার জবরদস্তি বা বক্রতা ছাড়াই তাঁরা শরীয়তের দলীলগুলোকে সেগুলোর মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতেন; কারণ জীবন এর ব্যতিক্রম হলে কলুষিত হয় এবং সুসংহত থাকে না। {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচাইতে সরল এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।} [বনী ইসরাঈল: ৯]।
৪ - লেখক তাঁর গ্রন্থটিকে যে আটটি অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন, সেগুলোর প্রতিটি অধ্যায়কে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম উপ-পরিচ্ছেদ ও মাসআলায় বিভক্ত করেছেন। এতে তিনি মানুষের জীবনে দৃষ্টি, দেখা, আওরাত এবং প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত বাস্তব ও সম্ভাব্য সব বিষয় অত্যন্ত ব্যাপকভাবে আলোচনা করেছেন। এ কারণে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এই বইটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ, যাতে এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে যা ফিকহ, তাফসির ও হাদিসের অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এটি অন্য গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা দূর করে, কিন্তু অন্য কোনো গ্রন্থ এর অভাব পূরণ করতে পারে না। তিনি অত্যন্ত কঠোর নিয়মতান্ত্রিকতা ও সূক্ষ্ম ধারাবাহিকতায় কোনো প্রকার পুনরাবৃত্তি ছাড়াই মাসআলাগুলো উপস্থাপন করেছেন। এই গ্রন্থে আলোচিত মাসআলার সংখ্যা প্রায় একশত একাত্তরটি।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
5 - لقد وصل ابن القطان في كتابه هذا إلى نتائج حاسمة في تحديد العورات للرجل والمرأة، وما يجوز للمرأة إبداؤه، وهو الوجه والكفّان فقط، وتردّد في القدمين، ومال إلى عدم الجواز، فجاء هذا الكتاب ردًّا على مَن أراد تجريد المرأة والرجل من الإِنسانية، وإِطلاقهما في غابة الهبوط الحيواني دون خلق، أو وازع، أو حياء، وهذه حالة مَرَضية في تاريخ الإِنسانية تتكرر آنًا بعد آن، فقد كانت قديمًا في الجاهلية: {وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} [الأحزاب: 33] وتكون اليوم، وغدًا. . فلا بدَّ لعلماء الشريعة استهداءً بنور الوحي من بيان حكمها والعمل لسدّ خرقها.
وجاء كذلك ليردَّ على تشدُّد طائفةٍ غَلَت في الأمر، وأرادت إحاطة المرأة بضباب كثيف، وفرضت عليها تغطية كلِّ شيء فيها، وزعمت أن هذا هو الدين الحق!. . واني أقول لهؤلاء على الدوام: لو قلتم: إنها الغيرة على الحُرَم، أو الورع والاحتياط، لسلمنا ذلك لكم، ولن يلومكم أحد بل يُحمد لكم ذلك، أما أن تعتقدوا وتروِّجوا للغلوِّ، وتفسِّقوا المخالف، فهذا أمر لا يصفو لكم، ولا حجة لديكم.
وقد ردّ عليهم ابن القطان بالحجج الدامغة والأدلة البيّنة التي لا تدع قولًا لقائل، بعيدًا عن تطويح العواطف، ونزق الأحداث العارضة، فالشريعة دائمة بدوام الإِنسان، محيطة بكلِّ حياته وأفراده.
إنَّ المسلمين جميعًا إن شاء الله سينتفعون بهذا الكتاب، وستكون فائدته أعظم عند الباحثين عن الحق المنقبين بطمأنينة عن الدليل، ولا سيما في هذا الوقت الذي نرى فيه أفكارًا شاذَّة عن الزمان والمكان. . تصبّ الجهود لفرض هيئة معينة، والإِسلام يحاول المحاولون اقتلاعه من جذوره، ويعطيهم السُّذَّج من هؤلاء البرهان والمتمسَّك بخروج المرأة المسلمة في هيئاتها التي يروِّجون لها: {رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الممتحنة: 5].
৫ - ইবনুল কাত্তান তাঁর এই কিতাবে পুরুষ ও নারীর সতর নির্ধারণ এবং নারীর জন্য যা প্রকাশ করা বৈধ—তা কেবল মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি—এ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তিনি দুই পায়ের ব্যাপারে দ্বিধাবোধ করেছেন এবং তা প্রকাশ না করার (সতর হিসেবে গণ্য করার) দিকেই ঝুঁকেছেন। সুতরাং এই কিতাবটি তাদের জন্য এক মোক্ষম জবাব হিসেবে এসেছে, যারা নারী ও পুরুষকে মানবতা থেকে বিচ্যুত করতে এবং কোনো চরিত্র, বালাই বা লজ্জা ছাড়াই তাদেরকে পাশবিক অধঃপতনের অরণ্যে ছেড়ে দিতে চায়। এটি মানব ইতিহাসের একটি ব্যাধিস্বরূপ অবস্থা যা সময়ে সময়ে পুনরাবৃত্ত হয়। প্রাচীন জাহিলিয়াত আমলেও এটি ছিল: "আর তোমরা প্রাচীন জাহিলিয়াত যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না" [আল-আহযাব: ৩৩]। এটি আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই শরীয়াহর আলেমদের জন্য ওহীর নূরের সাহায্যে এর বিধান বর্ণনা করা এবং এই ফাটল বন্ধে সচেষ্ট হওয়া অপরিহার্য।
তেমনিভাবে এটি সেই দলের কঠোরতার প্রতিবাদ হিসেবে এসেছে, যারা এই বিষয়ে চরমপন্থা অবলম্বন করেছে এবং নারীকে এক ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবরণে ঘিরে রাখতে চেয়েছে। তারা নারীর প্রতিটি অংশ ঢেকে রাখাকে আবশ্যক করেছে এবং দাবি করেছে যে এটিই সত্য দ্বীন! আমি সর্বদা এদেরকে বলি: যদি আপনারা বলতেন যে এটি সম্ভ্রমের প্রতি মর্যাদাবোধ, অথবা পরহেজগারি ও সতর্কতা স্বরূপ, তবে আমরা তা মেনে নিতাম এবং কেউ আপনাদের দোষারোপ করত না, বরং আপনাদের প্রশংসা করা হতো। কিন্তু আপনারা চরমপন্থাকে আকিদা হিসেবে বিশ্বাস ও প্রচার করবেন এবং ভিন্নমত পোষণকারীকে ফাসেক সাব্যস্ত করবেন—এটি আপনাদের জন্য সঙ্গত নয় এবং এর পক্ষে আপনাদের কোনো প্রমাণ নেই।
ইবনুল কাত্তান অকাট্য যুক্তি ও সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করেছেন যা কোনো প্রশ্নকারীর জন্য কোনো অবকাশ রাখে না। এটি আবেগতাড়িত হওয়া এবং সাময়িক পরিস্থিতির অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। কেননা শরীয়াহ মানুষের অস্তিত্বের সাথে স্থায়ী এবং এটি মানুষের সমগ্র জীবন ও প্রতিটি ব্যক্তিকে পরিবেষ্টন করে আছে।
ইনশাআল্লাহ, সকল মুসলিম এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা সত্যের সন্ধানী এবং প্রশান্ত চিত্তে দলীল অন্বেষণকারী গবেষক, তাদের নিকট এর উপকারিতা হবে অধিকতর। বিশেষত বর্তমান সময়ে, যখন আমরা দেশ ও কাল বহির্ভূত কিছু বিচ্ছিন্ন চিন্তা দেখতে পাচ্ছি। যেখানে একটি নির্দিষ্ট বেশভুষা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সকল প্রচেষ্টা ব্যয় করা হচ্ছে, আর ইসলামবিদ্বেষীরা একে এর শিকড় থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। আর তাদের মধ্য থেকে যারা সরলমনা, তারা মুসলিম নারীর বের হওয়ার সেই সব রূপ বা বেশভুষার পক্ষে যুক্তি ও অবলম্বন দিচ্ছে যা তারা প্রচার করে থাকে: "হে আমাদের রব! আমাদের আপনি কাফিরদের জন্য ফিতনার কারণ বানাবেন না এবং হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়" [আল-মুমতাহিনা: ৫]।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- 2 -
• لقد تشوَّف الباحثون والدارسون، وعلماء الإِسلام وطلَاّب العلم إلى هذا الكتاب عبر العصور لجلالته وأهميته، وتوارى عن الأنظار دهرًا طويلًا، وقد ادَّخر الله تعالى الفضل في إخراجه وتعميم نفعه في المشارق والمغارب للأخ الأستاذ إدريس الصَّمَدي، فأخرجه من ظلمات الرفوف في خزانة الأسكوريال بإسبانيا ليضعه تحت نور الأبصار، والله يختصُّ مَن يشاء بما يشاء.
والنسخة الوحيدة التي نعلمها لهذا الكتاب هي نسخة الأسكوريال، وهي نسخة سقيمة وفيها أخطاء كثيرة، وقد عكف الأستاذ الصَّمدي عليها بصبر وتؤدة دون كَلَل أو مَلَل، ولقد كان يعمل بها، ومرَّت به عاصفة من الأسقام والأمراض فما وَنَته عنها، وما أقعدته عن متابعتها، وكنتُ أشفق عليه وهو يجد في ذلك لذّة وحلاوة، واستطاع أن يخرجها ويقوّم كثيرًا من كلماتها وعباراتها، ويردَّها إلى الصواب بما رجع إليه من مصادر ومظان استخدمها المصنف، وبقيت كلمات صعبت عليّ وعليه فنرجو الله عز وجل أن ييسِّر لنا نسخة أخرى لإِصلاحها واستكمالها.
ثم قام بتخريج أحاديثها وتتبعها بشكل جيد، وترجم لعديد من الرواة الذين ذكروا في الأسانيد، أو حام حولهم تعليل ابن القطان وتضعيفه.
كما ذكر مظانَّ كثيرٍ من المسائل الفقهية التي أوردها ابن القطان في كتابه، وتكلَّم فيها بما يسهل الرجوع إلى عديد من المصادر لمن أراد المزيد.
كما عرَّف بالكتاب وبصاحبه قبل الدخول إليه تعريفًا مطولًا نافعًا إن شاء الله.
لقد أسدى الأستاذ إدريس الصَّمَدي للمكتبة الإِسلامية: الحديثية والفقهية بهذا العمل كتابًا نفيسًا، تُشدُّ عليه يد الضّنانة، ويقتنى بكلِّ غالٍ ونفيس، أسدى
- 2 -
• গবেষক, শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশেষজ্ঞ এবং ইলম অন্বেষণকারীরা যুগ যুগ ধরে এই কিতাবটির মহত্ত্ব ও গুরুত্বের কারণে এর প্রতীক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘকাল এটি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। আল্লাহ তাআলা এর প্রকাশ এবং এর কল্যাণ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ফযিলত জনাব উস্তাদ ইদরিস আস-সামাদির জন্য জমা রেখেছিলেন। তিনি এটিকে স্পেনের এসকোরিয়াল গ্রন্থাগারের তাকের অন্ধকার থেকে বের করে দৃষ্টির আলোয় নিয়ে এসেছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা যা খুশি দান করেন।
এই কিতাবটির আমাদের জানা একমাত্র পাণ্ডুলিপি হলো এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি। এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং এতে অনেক ভুল রয়েছে। উস্তাদ সামাদি কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই অত্যন্ত ধৈর্য ও ধীরস্থিরতার সাথে এতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি যখন এটি নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন তার ওপর দিয়ে রোগ-ব্যাধির ঝড় বয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তা তাকে এ কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি এবং এর কাজ চালিয়ে যাওয়া থেকেও তাকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। আমি তার প্রতি সমব্যথী হতাম, অথচ তিনি এতে এক প্রকার আনন্দ ও মিষ্টতা খুঁজে পেতেন। তিনি এটি প্রকাশ করতে এবং এর অনেক শব্দ ও বাক্য সংশোধন করতে সক্ষম হয়েছেন। লেখক যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছেন সেগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি এগুলোকে সঠিক রূপে ফিরিয়ে এনেছেন। তবুও কিছু শব্দ আমার এবং তার কাছে দুর্বোধ্য রয়ে গেছে; আমরা মহামহিম আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে তিনি আমাদের জন্য এর সংস্কার ও পূর্ণতা দানের নিমিত্তে অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি সহজ করে দেবেন।
অতঃপর তিনি হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন। সনদগুলোতে বর্ণিত অনেক বর্ণনাকারীর জীবনী তুলে ধরেছেন, যাদের সম্পর্কে ইবনুল কাত্তানের ত্রুটি নির্দেশ বা দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়টি জড়িত ছিল।
এছাড়া তিনি ইবনুল কাত্তান তার কিতাবে যেসব ফিকহি মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশেরই মূল উৎস উল্লেখ করেছেন এবং সে বিষয়ে এমনভাবে আলোচনা করেছেন যা যারা অধিক জানতে চায় তাদের জন্য বিভিন্ন মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া সহজ করে দেয়।
তেমনিভাবে কিতাবে প্রবেশের পূর্বে তিনি কিতাব এবং এর লেখক সম্পর্কে দীর্ঘ ও উপকারী পরিচিতি পেশ করেছেন, ইনশাআল্লাহ।
উস্তাদ ইদরিস আস-সামাদি এই কাজের মাধ্যমে ইসলামি লাইব্রেরিতে—হাদিস এবং ফিকহ শাস্ত্রে—একটি মূল্যবান কিতাব উপহার দিয়েছেন, যা অতি যত্নে সংরক্ষণ করার মতো এবং যা যে কোনো মূল্যবান জিনিসের বিনিময়ে হলেও সংগ্রহ করার যোগ্য। তিনি উপহার দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مرجعًا أساسيًّا لا يُستغنى عنه، تقبَّل الله منا ومنه هذا الجهد، وقد كان هذا الكتاب مع دراسة له رسالة نال بها درجة دبلوم الدراسات العليا من كلية الآداب والعلوم الإِنسانية بالرباط بتقدير "حسن جدًّا".
• وقد تناولتُ الكتاب أثناء عمله فيه، وبعد انتهائه منه، فدققتُ كلِمَه، وأصلحتُ عددًا منها ومن عباراته من الأصل ومن غيره، وتتبعتُ مسائله وأحاديثه وعلَّقتُ على عدد منها بما يقنع ويفيد إن شاء الله.
وقد ميزُتها عن عمل الأستاذ إدريس بوضعها بين قوسين، وتصديرها بـ (قال أبو محمود:. . .) واقتصدت في ذلك ما أمكن، وضبطت عددًا من النصوص بالشكل.
وبذلك نرجو أن يكون هذا السِّفر النفيس قد غدا معينًا سائغًا للواردين ينهلون منه كلَّ آنٍ وحين، سائلين المولى تعالى أن يوفقنا لما يحبه ويرضاه، ويفيد الأمة في عاجل أمرها وآجله، ويتولانا بكريم رحمته وعنايته، إنه سميع مجيب، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وكتبه
الدكتور فاروق محمود حمادة
أبو محمود
في القنيطرة بالمغرب الأقصى
একটি অপরিহার্য মৌলিক রেফারেন্স হিসেবে, আল্লাহ আমাদের ও তাঁর পক্ষ থেকে এই শ্রম কবুল করুন। এই কিতাবটি তাঁর একটি গবেষণাসহ পেশ করা হয়েছিল যার মাধ্যমে তিনি রাবাতের ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস থেকে 'ভেরি গুড' গ্রেডে উচ্চতর গবেষণার ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন।
• তিনি যখন এতে কাজ করছিলেন এবং এটি সমাপ্ত করার পর আমি কিতাবটি পর্যালোচনা করেছি। আমি এর শব্দাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি এবং মূল পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য উৎস থেকে এর বেশ কিছু শব্দ ও বাক্য সংশোধন করেছি। আমি এর মাসআলা ও হাদিসগুলো অনুসরণ করেছি এবং আল্লাহর ইচ্ছায় যা সন্তোষজনক ও উপকারী হবে এমন কিছু বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি।
উস্তাদ ইদ্রিসের কাজ থেকে আমার কাজকে আলাদা করার জন্য আমি সেগুলোকে বন্ধনীতে রেখেছি এবং শুরুতে (আবু মাহমুদ বলেছেন: . . .) যোগ করেছি। আমি এক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সংক্ষেপ করেছি এবং বেশ কিছু পাঠ্যের ওপর স্বরচিহ্ন প্রদান করেছি।
এর ফলে আমরা আশা করি যে, এই মূল্যবান গ্রন্থটি জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এক সুপেয় ঝরনায় পরিণত হয়েছে যেখান থেকে তারা সর্বদাই জ্ঞান আহরণ করবেন। আমরা মহান রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের সেই তাওফিক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, আর এটি যেন উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যতে কল্যাণ বয়ে আনে। তিনি যেন তাঁর মহান রহমত ও যত্নে আমাদের পরিচালনা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
ডক্টর ফারুক মাহমুদ হামাদা
আবু মাহমুদ
কুনেইত্রা, সুদূর মরক্কো।
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التعريف بابن قطانلقد اشتهر ابن القطان عند رجال الحديث والفقه من خلال مؤلفاته القيِّمة، التي برهن فيها على قدرته العلمية الواسعة، واطِّلاعه الكبير، فكان في كثير ممَّا انتهى إليه من الآراء والأحكام حجةً.
ولم يظفر بهذا المستوى العلميِّ الذي انتهى إليه ابن القطان من حيث سعة اطلاعه على الحديث: رواية ودراية، إلا نزر قليل في كلِّ طبقة من طبقات الحفاظ المحدِّثين، كشعبة بن الحجاج (ت 160 هـ)، وسفيان الثوري (ت 161 هـ)، ووكيع بن الجراح (ت 197 هـ)، ويحيى بن معين (ت 233 هـ)،
وعلي بن المديني (ت 234 هـ)، ومحمد بن إسماعيل البخاري (ت 256 هـ)، ومسلم بن الحجاج (ت 261 هـ)، وأبو زرعة الرازي (ت 264 هـ). . . وغيرهم.
وابن القطان كهؤلاء برز بجهوده المباركة في جميع علوم الحديث، فكان على خبرة شاملة بعلل الحديث، ودراية واسعة بفقهه، فحاز الرتبة المرموقة بين جهابدة الحفّاظ، وكَثُرت النقول عنه في كتب الحديث والرجال من كتاب "بيان الوهم والإِيهام"، وكتاب "إحكام النطر في أحكام النظر بحاسة البصر".
وإذا رجعنا مثلًا إلى كتاب "نصب الراية لأحاديث الهداية" للحافظ جمال الدين الزيلعي (ت 762 هـ) سنجده مملوءًا بالقول عن كتب ابن القطان، وكذلك كتاب "التلخيص الحبير" للحافظ ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، و"ميزان
ইবনে আল-কাত্তান-এর পরিচিতিইবনে আল-কাত্তান হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট তাঁর মূল্যবান রচনাবলির মাধ্যমে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর ব্যাপক জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রদত্ত অধিকাংশ মতামত ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (হুজ্জাত) ছিলেন।
হাদীস বর্ণনার ধারা (রিওয়ায়াত) এবং এর মর্মার্থ অনুধাবন (দিরায়াত)—উভয় ক্ষেত্রেই হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞানের যে স্তরে ইবনে আল-কাত্তান পৌঁছেছিলেন, তা প্রত্যেক স্তরের হাফেয ও মুহাদ্দিসদের মধ্যে কেবল হাতেগোনা কয়েকজনই লাভ করতে পেরেছেন; যেমন শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ১৬০ হিজরী), সুফিয়ান আস-সাওরী (মৃত্যু ১৬১ হিজরী), ওয়াকী ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু ১৯৭ হিজরী), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৩ হিজরী),
আলী ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরী), মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী), মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ২৬১ হিজরী), আবু যুরআহ আর-রাযী (মৃত্যু ২৬৪ হিজরী)... প্রমুখ।
ইবনে আল-কাত্তান তাঁদের মতোই হাদীস শাস্ত্রের সকল শাখায় তাঁর বরকতময় প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় আরোহণ করেছিলেন। ইলমুল ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে তাঁর পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা এবং হাদীসের ফিকহ সম্পর্কে তাঁর সুগভীর জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি শীর্ষস্থানীয় হাফেযদের মধ্যে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করেন। তাঁর রচিত কিতাব "বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম" এবং "ইহকামুন নাযার ফী আহকামিন নাযার বি হাসসাতিল বাসার" থেকে হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে প্রচুর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি হাফেয জামালুদ্দীন আয-যাইলায়ী (মৃত্যু ৭৬২ হিজরী)-এর "নাসবুর রাইয়াহ লি আহাদীসিল হিদায়াহ" কিতাবটি দেখি, তবে আমরা একে ইবনে আল-কাত্তানের কিতাবসমূহ থেকে নেওয়া বক্তব্যে ভরপুর পাব। অনুরূপভাবে হাফেয ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)-এর "আত-তালখীসুল হাবীর" এবং "মীযান [আল-ইতিদাল]"...
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإعتدال في نقد الرجال" للحافظ الذهبي (ت 743 هـ)، وغيرها من كتب الحديث والفقه، كـ"نيل الأوطار" للشوكاني، و"مواهب الجليل لشرح مختصر خليل" للحطَّاب (ت 954 هـ)، و"التاج الإِكليل لمختصر خليل" لمحمد بن يوسف المعروف بالمواق (ت 897 هـ)، وغيرها.
فمَن هو ابن القطان هذا؟.
أولًا: اسمه ونسبه:سجَّلت جميع الكتب التي ترجمت له أن اسمه: علي بن محمد بن
عبد الملك بن يحيى بن محمد بن إبراهيم بن خلصة بن سماحة الحميري
الكتامي الأصل، الفاسي المولد والمنشأ، نزيل مراكش (1)، المعروف بابن
القطان، يكنى: أبا الحسن.
وذكر ابن الزبير وابن القاضي وأحمد بابا -من الذين ترجموا له- أن أصل أجداده من قرطبة بالأندلس (2)، وابن مسدي ذكر أنه "مصري الأصل، مراكشي الدار" (3).
ثانيًا: مولده ووفاته:ذكر مَن ترجم له أنه وُلد بفاس فجر عيد الأضحى سنة اثنتين وستين وخمسمئة هجرية، وتوفي "بين العشاءين من الليلة التي أهلّ فيها هلال ربيع الأول من سنة ثمان وعشرين وستمئة، ودُفن بالركن الواصل بين الصحنين
--------------------------------------------
হাফেজ আয-যাহাবীর (মৃত্যু ৭৪৩ হি.) "আল-ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল" এবং অন্যান্য হাদিস ও ফিকহের কিতাব, যেমন শাওকানীর "নাইলুল আওতার", হাত্তাবের (মৃত্যু ৯৫৪ হি.) "মাওয়াহিবুল জলীল লি-শারহি মুখতাসারি খলীল", আল-মাওয়াক নামে পরিচিত মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের (মৃত্যু ৮৯৭ হি.) "আত-তাজুল ইকলীল লি-মুখতাসারি খলীল" এবং অন্যান্য কিতাব।
তাহলে এই ইবনুল কাত্তান কে?।
প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তাঁর জীবনী গ্রন্থসমূহে তাঁর নাম এভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে খলসা ইবনে সামাহা আল-হিময়ারী। তিনি বংশগতভাবে কুতামী, জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেজে, মাররাকেশের বাসিন্দা (১), তিনি ইবনুল কাত্তান নামে পরিচিত এবং তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান।
তাঁর জীবনী লেখকদের মধ্যে ইবনে আল-যুবাইর, ইবনে আল-কাদী এবং আহমদ বাবা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল আন্দালুসের কর্ডোভায় (২), আর ইবনে মাসদী উল্লেখ করেছেন যে তিনি "মূলত মিশরীয় এবং মাররাকেশের বাসিন্দা" (৩)।
দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৫৬২ হিজরির ঈদুল আযহার ভোরে ফেজে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬২৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে দুই চত্বরের সংযোগকারী কোণায় দাফন করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الشمالي والغربي من الزنقة، لصق الجامع الأعظم بسجلماسة، وقبره معروف هناك إلى الآن" (1).
ثالثًا: نشأته وتحصيله العلمي:نشأ ابن القطان بفاس، وبها تلقَّى علومه الأولى، ولازم العديد من شيوخها الذين كانوا يفدون عليها، أو استقروا بها، ونهل من معينهم جميع العلوم واستكثر من علم الحديث، فأجاده رواية ودراية، واشتهر أمره فيه حتى صار حجة فيما ينتهي إليه من الأحكام والآراء.
وكان لنضوج الحركة العلمية في المغرب على عهد الموحدين أثر كبير على ابن القطان في تحصيله العلمي، حيث صادف تحصيله العلمي في فاس أولًا، ثم في مراكش ثانيًا بعد أن رحل إليها، اهتمام الدولة الموحدية بعلم الحديث اهتمامًا كبيرًا، إذ جلبوا لتحقيق هذا الهدف كل من اشتهر أمره من العلماء، في الحديت والمناظرة من الأندلس والمغرب، "حتى اجتمع في فاس: علم القيروان، وعلم قرطبة" (2) "وكان ملوك المغرب يكرمون الوافدين عليهم من العلماء ويجلُّونهم ويفتخرون بهم".
وقال صاحب "القرطاس" في عبد المؤمن بن علي: "وكان محبًّا في أهل العلم والأدب، مقربًا لهم، متشوقًا لوفادتهم، منفقًا لبضاعتهم" (3).
ويقول الأستاذ محمد المنوني:
"هذا إلى جانب ما وجد في المغرب على عهدهم من أعلام كبار من الأندلس والقيروان وغيرهما حتى اجتمع في فاس على حد تعبير "المعجب"
--------------------------------------------
গলির উত্তর ও পশ্চিম অংশে, সিজিলমাসা’র জামে আ’যম সংলগ্ন স্থানে, এবং তাঁর কবর সেখানে এখন পর্যন্ত পরিচিত" (১)।
তৃতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষা অর্জন:ইবনুল কাত্তান ফাসে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি সেখানকার বহু শায়খের সাহচর্য লাভ করেন যারা সেখানে আসতেন অথবা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে সকল প্রকার ইলম অর্জন করেন এবং ইলমে হাদিসে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। ফলে তিনি রিওয়ায়েত (বর্ণনা) এবং দিরায়েত (বিশ্লেষণ) উভয় ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি আহকাম ও মতামতের ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (হুজ্জাত) হিসেবে গণ্য হন।
মুওয়াহহিদুন যুগে মাগরিবে ইলমি আন্দোলনের পরিপক্কতা ইবনুল কাত্তানের শিক্ষা অর্জনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। প্রথমে ফাসে এবং পরবর্তীতে মারাকেশে হিজরত করার পর তাঁর শিক্ষা অর্জনের সময়কালটি মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের হাদিস শাস্ত্রের প্রতি ব্যাপক আগ্রহের সমসাময়িক ছিল। কারণ, এই লক্ষ্য পূরণে তাঁরা আন্দালুস ও মাগরিব থেকে হাদিস ও মুনাজারা (বিতর্ক) শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ সকল আলেমকে সেখানে নিয়ে এসেছিলেন, "এমনকি ফাসে কায়রাওয়ানের ইলম এবং কর্ডোভার ইলম একত্রিত হয়েছিল" (২)। "মাগরিবের রাজন্যবর্গ তাঁদের কাছে আগত আলেমদের সম্মান করতেন, তাঁদের শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁদের নিয়ে গর্ব করতেন।"
"আল-কিরতাস"-এর লেখক আব্দুল মুমিন ইবনে আলী সম্পর্কে বলেন: "তিনি ইলম ও আদবের (সাহিত্য) অনুরাগী ছিলেন, আলেমদের নিকটবর্তী রাখতেন, তাঁদের আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতেন এবং তাঁদের জ্ঞান প্রসারে ব্যয় করতেন" (৩)।
উস্তাদ মুহাম্মাদ আল-মানুনি বলেন:
"এর পাশাপাশি তাঁদের যুগে মাগরিবে আন্দালুস, কায়রাওয়ান ও অন্যান্য স্থান থেকে আগত অনেক বড় বড় মনীষী উপস্থিত ছিলেন, এমনকি 'আল-মু'জিব'-এর ভাষ্যমতে ফাসে একত্রিত হয়েছিল"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২০)
علم القيروان وعلم قرطبة، وصارت مراكش هي الأخرى عاصمة علم ثانية، الأمر الذي له دخل كبير في تسمية غير واحد لها ببغداد المغرب، وكذا سبتة وطنجة وغير مدينة من مدن المغرب" (1).
ويقول أيضًا:
"وكذا ازدهر الحديث في هذا العهد ازدهارًا لها يكن له من قبل، وقد استمد نهضته من اهتمام الموحدين به اهتيامًا كبيرًا، ظهر في استدعائهم للمحدثين من الأندلس وأمرهم بتدريسه إلى جانب المحدثين المغاربة" (2).
وهكذا نلاحظ أن المغرب عرف على عهد الموحدين نهضةً علميةً عظيمةً، صادفها ابن القطَّان في تحصيله العلمي، فاستفاد منها كثيرًا. . قضى مرحلته الأولى في التحصيل العلمي بفاس، ثم انتقل بعدها إلى مراكش، مهد العلم الثانى بعد فاس، ولربما أصبحت على عهد الموحدين تحتل الرتبة الأولى في العلم، لكثرة وفادة العلماء عليها، بسبب إجلال الموحدين لهم واحترامهم
وإكرامهم.
وكان انتقال ابن القطان إلى مراكش بعد تجاوزه العشرين من العمر، ولم أقف على تاريخ انتقاله إليها بالضبط، وإنما كل ما هنالك أن ابن الأبار يروي: "أن ابن القطان روى عن أبي عبد الله بن البقار الفاسي بفاس، وتفقه بفقهه، وأجاز له جميع روايته سنة (582 هـ) " (3).
وبالرجوع إلى الشيوخ الذين أخذ عنهم بمراكش، نجد ابن الأبار، وكذلك ابن عبد الملك يرويان أنه أخذ عن الحافظ أبي عبد الله بن الفخار الأندلسي
--------------------------------------------
কায়রোয়ানের ইলম এবং কর্ডোভার ইলম; আর মাররাকেশ নিজেও অন্য একটি ইলমি রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল, যা একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক একে 'মাগরিবের বাগদাদ' হিসেবে নামকরণের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। একইভাবে সেউটা, তাঞ্জিয়ার এবং মরক্কোর অন্যান্য শহরগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।" (১).
তিনি আরও বলেন:
"অনুরূপভাবে, এই যুগে হাদীস শাস্ত্র এমনভাবে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল যা ইতিপূর্বে কখনও হয়নি। মুওয়াহহিদুনদের পক্ষ থেকে এর প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব প্রদানের ফলে এই জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। এটি আন্দালুস থেকে মুহাদ্দিসদের আমন্ত্রণ জানানো এবং মরক্কোর মুহাদ্দিসদের পাশাপাশি তাদের অধ্যাপনার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।" (২).
এভাবে আমরা লক্ষ্য করি যে, মুওয়াহহিদুনদের শাসনামলে মরক্কো এক মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের সাক্ষী হয়েছিল, যা ইবনে আল-কাত্তান তাঁর জ্ঞান অর্জনের সময়কালে লাভ করেছিলেন এবং এর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষা জীবনের প্রথম পর্যায় ফেজে অতিবাহিত করেন, এরপর তিনি মাররাকেশে স্থানান্তরিত হন, যা ফেজের পর জ্ঞানের দ্বিতীয় সূতিকাগার ছিল। সম্ভবত মুওয়াহহিদুনদের যুগে এটি জ্ঞানে প্রথম স্থান দখল করেছিল, কারণ সেখানে প্রচুর সংখ্যক আলিমের সমাগম ঘটত এবং মুওয়াহহিদুনরা তাঁদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা, সম্মান ও সমাদর করতেন।
এবং ইবনে আল-কাত্তানের মাররাকেশে স্থানান্তর ছিল বিশ বছর বয়স পার হওয়ার পর। তাঁর সেখানে স্থানান্তরের সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে ইবনুল আব্বার বর্ণনা করেন যে: "ইবনে আল-কাত্তান ফেজে আবু আবদুল্লাহ বিন আল-বাক্কার আল-ফাসির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন এবং তিনি তাঁকে ৫৮২ হিজরিতে তাঁর সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছিলেন।" (৩).
মাররাকেশে তিনি যাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন সেই উস্তাদগণের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই যে, ইবনুল আব্বার এবং ইবনে আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ বিন আল-ফাকখার আল-আন্দালুসির নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২১)
الذي وفد إلى مراكش بطلب من المنصور سنة ثمانين وخمسمئة، وتوفي بها سنة تسعين وخمسمئة، ولازمه ملازمة طويلة. . فيفهم من هذا أن انتقاله إلى مراكش كان بعد سنة اثنتين وثمانين وخمسمئة.
وقد ذكر شيخنا الدكتور إبراهيم بن الصديق في أطروحته: أن انتقاله إلى مراكش كان بين سنة (583 هـ) و (585 هـ)، وعزز هذا: بأن بعض شيوخه الذين أخذ عنهم بمراكش مات في هذا التاريخ أو بعده بقليل (1).
وعلى كُلٍّ فإن سنة إنتقاله من فاس إلى مراكش بالضبط لم يذكرها الرواة المترجمون له؛ لأنهم لم يتحدثوا عنه، في مرحلته الأولى بفاس، كما تحدثوا عنه في مرحلته الثانية بمراكش؛ لأن في هذه المرحلة ظهر نبوغه العلمي، واشتهر أمره بين العامة والخاصة، وتم اتصاله بملوك الموحدين، وخاصة منهم يعقوب المنصكور الموحدي الذي كان ابن القطان "من أخص جلسائه، وقد صدر به ابن القطان شيوخه في معجم شيوخه" (2).
والذي يمكن القطع به هنا هو أن انتقاله من فاس إلى مراكش، كان بعد أن جاوز العشرين من العمر؛ لأن شيخه أبا عبد الله بن البقار الفاسي أجازه جميع روايته بفاس سنة اثنتين وثمانين وخمسمئة -كما سبق أن ذكرنا- وابن القطان آنذاك كان قد بلغ العشرين من العمر؛ لأن مولده كان سنة اثنتين وستين وخمسمئة.
ولما انتقل إلى مراكش لازم علماءها، ونال من حياضهم الكثير، واتصل بملوك الموحدين فاشتهر أمره.
ومن العلماء الذين استفاد منهم ابن القطان -وكان يحظى بالتكريم والإِجلال من طرف المنصور بن عبد المؤمن- الحافظ أبو عبد الله بن
--------------------------------------------
যিনি ৫৮০ হিজরি সনে আল-মানসুরের আহ্বানে মারাকেশে আগমন করেন এবং ৫৯০ হিজরি সনে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন, ইবনুল কাত্তান দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। সুতরাং এর থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর মারাকেশে স্থানান্তর ৫৮২ হিজরি সনের পরে হয়েছিল।
আমাদের শাইখ ডক্টর ইবরাহিম ইবনুল সিদ্দিক তাঁর গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন যে: তাঁর মারাকেশে স্থানান্তর ৫৮৩ হিজরি থেকে ৫৮৫ হিজরি সালের মধ্যবর্তী সময়ে হয়েছিল। তিনি এই মতকে শক্তিশালী করেছেন এই বলে যে: মারাকেশে তাঁর কতিপয় শাইখ, যাঁদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, এই সময়ের মধ্যে অথবা এর সামান্য পরে মৃত্যুবরণ করেছেন (১)।
যাই হোক, ফাস থেকে মারাকেশে তাঁর স্থানান্তরের সঠিক বছরটি তাঁর জীবনীকারগণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; কারণ তাঁরা ফাস-এ অবস্থানকালীন তাঁর প্রথম জীবন নিয়ে তেমন আলোকপাত করেননি যেমনটি করেছেন মারাকেশে তাঁর দ্বিতীয় জীবন নিয়ে। কেননা এই পর্যায়েই তাঁর ইলমি প্রতিভা বিকশিত হয়, বিশিষ্ট ও সাধারণ মহলে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং মুওয়াহহিদুন শাসকদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়, বিশেষ করে ইয়াকুব আল-মানসুর আল-মুওয়াহহিদির সাথে; ইবনুল কাত্তান যাঁর "অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইবনুল কাত্তান তাঁর মুজামু শুয়ুখ-এ তাঁকে তাঁর শাইখদের তালিকায় সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন" (২)।
এখানে যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব তা হলো, ফাস থেকে মারাকেশে তাঁর হিজরত বা স্থানান্তর হয়েছিল কুড়ি বছর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর; কারণ তাঁর শাইখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাক্কার আল-ফাসি ৫৮২ হিজরি সনে ফাস-এ তাঁকে তাঁর সকল বর্ণনার ইজাজত প্রদান করেছিলেন—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—এবং তখন ইবনুল কাত্তানের বয়স বিশ বছর পূর্ণ হয়েছিল; কারণ তাঁর জন্ম ছিল ৫৬২ হিজরি সনে।
যখন তিনি মারাকেশে স্থানান্তরিত হলেন, তখন তিনি সেখানকার উলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য অবলম্বন করলেন এবং তাঁদের ইলমের প্রস্রবণ থেকে প্রভূত কল্যাণ অর্জন করলেন। অতঃপর মুওয়াহহিদুন শাসকদের সাথে তাঁর যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং তাঁর খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ইবনুল কাত্তান যেসব আলেমদের নিকট থেকে উপকৃত হয়েছিলেন—এবং যিনি মনসুর বিন আব্দুল মুমিনের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন—তাঁদের একজন হলেন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفخار المالقي، الذي استجلبه المنصور إلى مراكش ليسمع بها عليه، سنة ثمانين وخمسمئة.
وأبو عبد الله هذا، وصفه الحافظ الذهبي في "تذكرة الحفّاظ": "بالحافظ الإِمام الأوحد" (1).
وقال فيه ابن الأبار: "كان صدرًا في حفّاظ الحديث، مقدمًا في ذلك، معروفًا بسرد المتون والأسانيد، مع معرفته بالرجال وحفظ الغريب، سمع منه جلّة، وحدّث عنه أئمة، واعترف له بالحفظ أهل زمانه" (2).
ومن الذين لازمهم ابن القطان في تحصيله العلمي، وكان من علماء المغرب النابغين في علوم الحديث، أبو عبد الله محمد بن طاهر الحسيني الشريف الصقلي الحافظ المغربي الكبير الذي قال فيه ابن عبد الملك:
"وكان راوية للحديث، حافظًا لمتونه، بصيرًا بعلله، عارفًا برجاله، مشرفًا على طبقاتهم وتواريخهم" (3).
وبتتبع ابن القطان مجالس مثل هذين العالمين الجليلين، يكون قد أخذ علم الحديث عن أهله المشهورين بالحفظ والإِتقان. . ولم يكن نبوغه فيه عن طريق المطالعة كما قال الحافظ الذهبي في ترجمته، بل كان نبوغه في جميع العلوم، ومنها علوم الحديث، عن طريق ملازمته للشيوخ الكبار الذين وصفهم الحافظ الذهبي نفسه بالحفّاظ.
وقد تعرض شيخنا الدكتور إبراهيم بن الصديق لهذا الموضوع في أطروحته، واستوفى فيه البحث تحت عنوان: "الحافظ الذهبي وابن القطان"
--------------------------------------------
আল-ফাখখার আল-মালাকি, যাকে আল-মানসুর ৫৮০ হিজরি সনে মাররাকুশে নিয়ে এসেছিলেন তার নিকট হাদিস শোনার জন্য।
আর এই আবু আব্দুল্লাহ সম্পর্কে হাফেজ আয-যাহাবি "তাযকিরাতুল হুফফাজ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "তিনি ছিলেন হাফেজ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম" (১)।
এবং ইবনুল আব্বার তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হাদিস বিশারদগণের মধ্যে ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ও অগ্রগামী। তিনি হাদিসের মূল পাঠ ও সনদ বর্ণনায় সুপরিচিত ছিলেন। এর পাশাপাশি রাবী এবং জটিল শব্দসমূহ সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। প্রথিতযশা আলেমগণ তার নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং বড় ইমামগণ তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। তার সমসাময়িক বিজ্ঞ সমাজ তার স্মৃতিশক্তির স্বীকৃতি দিয়েছেন" (২)।
ইবনুল কাত্তান তার জ্ঞানার্জনের সময় যাদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং যারা মাগরেবের হাদিস শাস্ত্রের প্রথিতযশা আলেম ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন তাহির আল-হুসাইনি আশ-শরিফ আস-সিকিল্লি। তিনি ছিলেন মাগরেবের একজন বড় হাফেজ, যার সম্পর্কে ইবনে আব্দুল মালিক বলেছেন:
"তিনি ছিলেন হাদিস বর্ণনাকারী, হাদিসের মূল পাঠসমূহের হাফেজ, হাদিসের গূঢ় ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে বিজ্ঞ, বর্ণনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে অবগত এবং তাদের স্তর ও ইতিহাস সম্পর্কে গভীরভাবে ওয়াকিফহাল" (৩)।
এই দুই মহান আলেমের মজলিসসমূহ অনুসরণ করার মাধ্যমে ইবনুল কাত্তান হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেছিলেন সেই সব মনীষীদের কাছ থেকে যারা স্মৃতিশক্তি ও নিখুঁত জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। হাফেজ আয-যাহাবি তার জীবনীতে যেমনটি বলেছেন, তার এই বুৎপত্তি কেবল ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে আসেনি; বরং হাদিস শাস্ত্রসহ সকল বিজ্ঞানে তার এই পারদর্শিতা অর্জিত হয়েছিল সেই সব বড় বড় শাইখদের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমে, যাদেরকে স্বয়ং হাফেজ আয-যাহাবি 'হাফেজ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আমাদের শাইখ ডক্টর ইব্রাহিম বিন সিদ্দিক তার থিসিসে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং "হাফেজ আয-যাহাবি ও ইবনুল কাত্তান" শিরোনামের অধীনে তিনি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأكّد فيه بأدلة ناهضة، أن ابن القطان تلقى علوم الحديث، عن أصحاب الفن، فيكون بذلك قد "تأصل في الفن في مدرسة حديثية، تفاعل معها، كما هو شأن المحدثين في سائر الأقطار" (1)، بالإِضافة إلى ما ظفر به في هذا الجانب من خلال رحلاته العلمية التي قام بها إلى إفريقية والأندلس (2)، حيث التقى أثناءها بعلمائها فأخذ عنهم، كما ذكر ابن الأبار وابن عبد الملك في ترجمته.
وقد مكنه ذكاؤه وحدة فطنته من استغلال الحركة العلمية المباركة والاستفادة من مدرسة الحديث التي أقيم صرحها على عهد الموحدين، والتي كانت تضم كبار المحدثين والمشهورين في سعة الرواية والدراية من علماء العدوتين: المغرب والأندلس، حتى بلغ مكانة الأئمة الحفَّاظ، يحتج بأقواله في الجرح والتعديل، وبيان علل الحديثا سندًا ومتنًا.
رابعًا: شيوخه:تعلَّم ابن القطان أولًا في بلده فاس، سمع الحديث فيها عن جماعة، ثم انتقل إلى مراكش ليسمع عن علمائها ومحدثيها الوافدين عليها، وقد جمع شيوخه في "برنامجه" الذي يقول عنه ابن القاضي: "وجمع برنامجًا مفيدًا في مشيخته" (3). وقد وقف عليه ابن عبد الملك ونقل عنه شيوخه.
ولابن القطان في تحصيله العلمي مرحلتان: الأولى بفاس، والثانية بمراكش، سمع في المرحلة الأولى من شيوخ فاس ومحدثيها، وفي المرحلة الثانية من علماء مراكش وحفّاظها.
--------------------------------------------
তিনি এতে জোরালো দলিলের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, ইবনুল কাত্তান এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি "একটি হাদিস ঘরানায় এই শাস্ত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, যেমনটি অন্যান্য অঞ্চলের মুহাদ্দিসগণের রীতি ছিল" (১)। এর পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন তা আফ্রিকা ও আন্দালুসে করা তাঁর ইলমি সফরের মাধ্যমেও অর্জিত হয়েছিল (২), যেখানে তিনি সেখানকার আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, যেমনটি ইবনুল আব্বার এবং ইবনে আবদুল মালিক তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর প্রখর মেধা ও সূক্ষ্ম বুদ্ধি তাঁকে সেই বরকতময় ইলমি আন্দোলনকে কাজে লাগাতে এবং মুওয়াহহিদুন যুগে প্রতিষ্ঠিত হাদিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপকৃত হতে সক্ষম করেছিল, যাতে দুই ভূখণ্ড—মরক্কো ও আন্দালুসের—বর্ণনা ও উপলব্ধির ব্যাপকতায় প্রসিদ্ধ বড় বড় মুহাদ্দিসগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরিশেষে তিনি হাফেজ ইমামদের স্তরে পৌঁছে যান; জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) এবং সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে হাদিসের ইল্লত (নিগূঢ় ত্রুটি) বর্ণনায় তাঁর বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হতো।
চতুর্থত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:ইবনুল কাত্তান প্রথমে তাঁর নিজ শহর ফেসে শিক্ষালাভ করেন এবং সেখানে একদল আলেমের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি মারাকেশে স্থানান্তরিত হন সেখানকার আলেম ও সেখানে আগমনকারী মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে হাদিস শোনার জন্য। তিনি তাঁর শিক্ষকদের নাম তাঁর ‘বারনামাজ’-এ (শিক্ষক তালিকা) সংকলিত করেছেন, যা সম্পর্কে ইবনুল কাজি বলেন: "তিনি তাঁর মাশাইখদের নিয়ে একটি উপকারী বারনামাজ সংকলন করেছেন" (৩)। ইবনে আবদুল মালিক এটি অবলোকন করেছেন এবং এটি থেকে তাঁর শিক্ষকদের নাম উদ্ধৃত করেছেন।
ইবনুল কাত্তানের ইলম অর্জনের দুইটি পর্যায় ছিল: প্রথমটি ফেসে এবং দ্বিতীয়টি মারাকেশে। প্রথম পর্যায়ে তিনি ফেসের শায়খ ও মুহাদ্দিসদের নিকট হাদিস শুনেছেন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে মারাকেশের আলেম ও হাফেজদের নিকট শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن هنا أرى أن أبدأ أولًا بالشيوخ الذين تلقى عنهم بفاس، ثم أتبعهم بالشيوخ الذين تلقى عنهم بمراكش سماعًا وإجازة:
1 - الشُّيوخ الذين تلقَّى عنهم بفاس:• علي بن موسى بن علي بن خلف السالمي الجياني: يكنى: أبا الحسن بن الفرات، نزل مدينة فاس، وتولى مهمة التدريس والخطابة بجامع القرويين. ذكره ابن عبد الملك من شيوخ ابن القطان، حيث قال: "روى عنه أبو الحجاج بن محمد الأندي، وأبو الحسن ابن القطان. . .".
وقال فيه: "كان مقرئًا مجوِّدًا محدِّثًا راوية" (1).
وكان هذا من شيوخ ابن القطان الأوائل، ولازمه ملازمة طويلة، كما قال ابن عبد الملك في ترجمته.
• عبد الرحمن بن عيسى بن يوسف: يكنى: أبا القاسم الملجوم الفاسي، اشتهر أمره في العدوتين: المغرب والأندلس، وكثر الرواة عنه، لما كان يتوفر عليه من علو السند، كما يقول ابن القاضي في "جذوة الاقتباس".
وكان متصل العناية بالرواية، ولقاء الشيوخ، والإِكثار من حمل الرواية، بصيرًا بالحديث، محافظًا على تقييده وضبطه. . حدّث وأخذ الناس عنه واستجازه من أقاصي البلاد رغبة فيه، وتنافسًا في علو روايته، وكان أهلًا لذلك (2).
وقد ذكره ابن الزبير وابن عبد الملك في شيوخ ابن القطان، توفي سكنة (604 هـ).
--------------------------------------------
এখান থেকে আমি প্রথমে সেই শাইখদের আলোচনা শুরু করা সমীচীন মনে করছি যাঁদের নিকট তিনি ফেসে শিক্ষা লাভ করেছেন, এরপর সেই শাইখদের বর্ণনা দেব যাঁদের নিকট তিনি মাররাকেশে শ্রবণ ও ইজাযতের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেছেন:
১ - ফেসে যাঁদের নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন:• আলী বিন মুসা বিন আলী বিন খালাফ আস-সালমি আল-জাইয়ানি: তাঁর উপনাম আবু আল-হাসান বিন আল-ফুরাত। তিনি ফেস নগরীতে আবস্থান গ্রহণ করেন এবং কারাওয়িন জামে মসজিদে অধ্যাপনা ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে ইবনে আল-কাত্তানের শাইখদের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "তাঁর নিকট থেকে আবু আল-হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আল-আন্দি এবং আবু আল-হাসান ইবনে আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন..."।
এবং তাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ ক্বারী, মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারী" (১)।
আর তিনি ছিলেন ইবনে আল-কাত্তানের প্রাথমিক শাইখদের অন্যতম এবং তিনি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন, যেমনটি ইবনে আব্দুল মালিক তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।
• আব্দুর রহমান বিন ঈসা বিন ইউসুফ: তাঁর উপনাম আবু আল-কাসিম আল-মালজুম আল-ফাসি। মরক্কো ও আন্দালুস—উভয় অঞ্চলেই তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণনাকারীর সংখ্যা ছিল প্রচুর, কারণ তাঁর নিকট উচ্চস্তরের সনদ বিদ্যমান ছিল, যেমনটি ইবনে আল-কাদি 'জাযওয়াতুল ইক্তিাবাস' গ্রন্থে বলেছেন।
তিনি বর্ণনার প্রতি সর্বদা যত্নশীল ছিলেন, শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং প্রচুর বর্ণনা সংগ্রহ করতেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রে প্রাজ্ঞ ছিলেন এবং হাদীস লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণে খুবই সচেতন ছিলেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। ইলমের প্রতি আগ্রহ এবং তাঁর উচ্চমানের বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দূরদূরান্ত থেকে লোকেরা তাঁর ইজাযত প্রার্থনা করত; আর তিনি এর যোগ্যও ছিলেন (২)।
ইবনে আয-যুবাইর এবং ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে ইবনে আল-কাত্তানের শাইখদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি ৬০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
• محمد بن إبراهيم بن حزب الله: يكنى: أبا عبد الله بن البقار، من شيوخ ابن القطان بفاس، ذكره ابن الأبار في شيوخه، وقال عنه: "وكان من أهل الفقه والحديث متحققًا بالرواية، والحديث عن رجالها، عاكفًا على التدريس، حافظًا متقنًا .. . روى عنه أبو الحسن بن القطان وتفقّه به، فأجاز له جميع روايته سنة (582 هـ) " (1).
• إبراهيم بن إبراهيم الأنصاري، المقري، الأشبوني: يكنى: أبا إسحاق ابن العشاب، نزيل فاس، ذكره ابن الأبار في شيوخ ابن القطان وقال عنه: "حدّث وأقرأ وأخذ عنه، حكى أبو الحسن بن القطان أنه أجاز له جميع روايته سنة (582 هـ) .. توفي سنة (583 هـ) " (2).
• محمد بن طاهر الحسيني الشريف الصقلي: يكنى: أبا عبد الله، يعتبر من أجلّ شيوخ فاس وحفّاظها .. عده ابن عبد الملك في شيوخ ابن القطان، حيث قال: "روى عنه أبو الحسن بن القطان، وأبو عبد الله بن حصاد العجلاني، وكان راوية للحديث، حافظًا لمتونه، بصيرًا بعلله، عارفًا برجاله، مشرفًا على طبقاتهم وتواريخهم، عني بهذا الشأن أتم عناية ودرسه ببلده، واستدرك على "الأحكام الكبرى" لعبد الحق أحاديث كثيرة في أكثر الكتب، رأى أن أبا محمد أغفلها، وأنها أولى بالذكر مما أورده أبو محمد في الأحكام، دل ذلك على حسن نظره، وجودة اختياره" (3).
هذه جملة من الشيوخ الذين يرجح أن ابن القطان أخذ عنهم في مرحلته الأولى من التحصيل العلمي بفاس، ويحتمل أن يكون قد تلقى عن بعضهم بمراكش أيضًا بعد انتقالهم إليها.
--------------------------------------------
• মুহম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন হিজবুল্লাহ: তার উপনাম আবু আবদুল্লাহ বিন আল-বাক্কার, তিনি ফেসে ইবনুল কাত্তানের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনুল আব্বার তার শায়খদের তালিকায় তাকে উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের অনুসারী ছিলেন, বর্ণনাশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং রাবিদের সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি পাঠদানে একনিষ্ঠ এবং অত্যন্ত দক্ষ হাফেজ ছিলেন... আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান তার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার কাছে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি ৫৮২ হিজরিতে তাকে তার সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন।" (১)।
• ইব্রাহিম বিন ইব্রাহিম আল-আনসারি, আল-মুকরি, আল-আশবউনি: তার উপনাম আবু ইসহাক ইবনুল আশশাব, তিনি ফেসে বসবাসকারী ছিলেন। ইবনুল আব্বার ইবনুল কাত্তানের শায়খদের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, কুরআন পাঠ দান করেছেন এবং তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা হয়েছে। আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ৫৮২ হিজরিতে তাকে তার সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন... তিনি ৫৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।" (২)।
• মুহম্মদ বিন তাহের আল-হুসাইনি আশ-শরিফ আস-সিকিল্লি: তার উপনাম আবু আবদুল্লাহ, তাকে ফেসের মহান শায়খ এবং হাফেজদের অন্যতম গণ্য করা হয়... ইবনু আবদিল মালিক তাকে ইবনুল কাত্তানের শায়খদের মধ্যে গণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান এবং আবু আবদুল্লাহ বিন হাসসাদ আল-আজলানি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিসের বর্ণনাকারী, হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থকারী, হাদিসের সুক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং রাবিদের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি তাদের স্তরবিন্যাস ও ইতিহাসের ওপর পূর্ণ অবগতি রাখতেন। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন এবং নিজ শহরে তা শিক্ষা দেন। তিনি আবদুল হকের 'আল-আহকামুল কুবরা' গ্রন্থের অধিকাংশ অধ্যায়ে অনেক হাদিসের সংযোজন করেছেন, যেগুলো সম্পর্কে তিনি মনে করতেন যে আবু মুহাম্মদ উপেক্ষা করেছেন এবং আবু মুহাম্মদ তার 'আহকাম' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়ে এই হাদিসগুলো উল্লেখ করা অধিকতর উপযুক্ত ছিল। এটি তার প্রখর দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম চয়নের পরিচায়ক।" (৩)।
এরা হলেন সেই সকল শায়খদের একটি দল যাদের কাছ থেকে ইবনুল কাত্তান ফেসে তার জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলে প্রবল ধারণা করা হয়। এটিও সম্ভব যে, তাদের কেউ কেউ মাররাকেশে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি সেখানেও তাদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - أما الشُّيوخ الذين تلقَّى عنهم بمراكش فمنهم:• أبو بكر بن خلف الأنصاري القرطبي: والد الحافظ أبي عبد الله بن أبي بكر بن المواق تلميذ ابن القطان، وقد عده ابن الأبار في شيوخ ابن القطان، وقال عنه:
"وعني بالحديث على جهة التفقه والتعليل والبحث عن الأسانيد والرجال والزيادات، وما يعارض أو يعاضد، ولم يعنَ بالرواية، وقد حدّث وسمع منه أبو الحسن بن القطان، وحظي بخدمة السلطان بمراكش .. . وولي قضاء مدينة فاس، وتوفي بها وهو يتولاه في شوال سنة تسعين وخمسمئة" (1).
• محمد بن إبراهيم بن خلف: يكنى: أبا عبد الله بن الفخار المالقي الأندلسي "الحافظ الإِمام الأوحد" (2). كما قال الحافظ الذهبي.
وقال عنه ابن الأبار: "كان صدرًا في الحفَّاظ مقدمًا معروفًا بِسَرد المتون والأسانيد، مع معرفة بالرجال وحفظ للغريب، سمع منه جِلَّة، وحدّث عنه أئمة" (3).
وهذا من الشيوخ الذين لازمهم ابن القطان ملازمة طويلة.
توفي بمراكش سنة خمسمئة وتسعين (4).
• يعيش بن علي بن مسعود بن يعيش بن القديم الأنصاري الشلبي: يكنى
أبا البقاء، نزل بمراكش وبقي فيها مدة، ثم انتقل إلى فاس وبها توفي سنة (626 هـ)، عده ابن القاضي في "جذوة الإقتباس" من شيوخ ابن القطان، حيث قال: "حدّث عنه أبو الحسن بن القطان وأبو العباس بن البناء وأبو بكر بن عمر بن عتاب" (5).
--------------------------------------------
২ - মাররাকেশে তিনি যেসব শাইখদের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন:• আবু বকর বিন খালাফ আল-আনসারি আল-কুরতুবি: তিনি ইবনুল কাত্তানের ছাত্র হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন আল-মাওয়াকের পিতা। ইবনুল আব্বার তাকে ইবনুল কাত্তানের শাইখদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন:
"তিনি ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি, দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ এবং সনদ, বর্ণনাকারী ও বর্ধিত অংশ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হাদীসের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এছাড়া কোন বিষয়টি বিরোধপূর্ণ আর কোনটি সমর্থনযোগ্য তা নিয়েও তিনি গবেষণা করতেন। তবে রেওয়ায়েতের (বর্ণনার) দিকে তিনি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান তার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং শুনেছেন। তিনি মাররাকেশে সুলতানের খেদমতের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন... এবং ফাস শহরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাঁচশ নব্বই হিজরির শাওয়াল মাসে সেই পদে থাকাবস্থায় সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন" (১)।
• মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন খালাফ: তার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-ফাকখার আল-মালিকি আল-আন্দালুসি, যিনি "একচ্ছত্র ইমাম ও হাফেজ" (২) হিসেবে পরিচিত, যেমনটি হাফেজ আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন।
ইবনুল আব্বার তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হাফেজদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি মতন (মূল পাঠ) ও সনদ অনর্গল বর্ণনার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এর পাশাপাশি বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং বিরল শব্দাবলি মুখস্থ রাখার বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান ছিল। প্রথিতযশা আলেমগণ তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং অনেক ইমামগণ তার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন" (৩)।
ইনি সেই শাইখদের একজন যাদের সাহচর্যে ইবনুল কাত্তান দীর্ঘকাল অবস্থান করেছিলেন।
তিনি পাঁচশ নব্বই হিজরিতে মাররাকেশে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
• ইয়াইশ বিন আলী বিন মাসউদ বিন ইয়াইশ বিন আল-কাদিম আল-আনসারি আশ-শালবি: তার উপনাম
আবুল বাকা; তিনি মাররাকেশে অবতরণ করেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ফাস শহরে চলে যান এবং ৬২৬ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল কাদি 'জাযওয়াতুল ইকতিবাস' গ্রন্থে তাকে ইবনুল কাত্তানের শাইখদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "তার নিকট থেকে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান, আবুল আব্বাস বিন আল-বান্না এবং আবু বকর বিন উমর বিন আত্তাব হাদীস বর্ণনা করেছেন" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
• أبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن بن علي بن محمد بن سليمان المرسي: "الحافظ الإِمام محدث تلمسان" (1)، كما قال الحافظ الذهبي.
أخذ عن علماء الأندلس ثم رحل إلى الشرق وبقي به مدة طويلة، روى خلالها عن علماء أجلاّء، منهم: السّلفي، ويقال: إنه دعا له بطول العمر، وقال له: "تكون محدث المغرب إن شاء الله" (2).
وذكر ابن الأبار رحلته إلى الشرق هذه، فقال: "وقفل من رحلته الحافلة هذه، فأخذ عنه بسبتة سنة (574 هـ)، ثم نزل تلمسان، واتخذها وطنًا، وحدّث بها وألَّف، ورحل الناس إليه وسمعوا منه كثيرًا" (3).
وذكره ابن عبد الملك في "الذيل والتكملة" وكذلك ابن الزبير في "صلة الصلة" في شيوخ ابن القطان ..
وذكر ابن القاضي: أنه "قدم فاس عام أربعة وتسعين وخمسمئة، وروى عنه بها خلق كثير" (4).
توفي بمراكش سنة (610 هـ).
• أبو الخطَّاب بن واجب أحمد بن محمد بن عمر القيسي البلنسي:
وصفه ابن الأبار بقوله: "حامل راية الرواية بشرق الأندلس، وآخر المحدثين المسندين" ..
وقال فيه أيضًا: "فصار لا يعدل به أحد من أهل وقته عدالة وجلالة وسعة أسمعة وعلو إسناد وصحة قول وضبط، مع عناية كاملة بصناعة الحديث وبصر
--------------------------------------------
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-মুরসি: "হাফেজ, ইমাম, তিলিমসানের মুহাদ্দিস" (১), যেমনটি হাফেজ আল-জাহাবি বলেছেন।
তিনি আন্দালুসের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, অতঃপর প্রাচ্যের দিকে সফর করেন এবং সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। এই সময়ে তিনি বহু মহান আলেমের নিকট থেকে বর্ণনা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আস-সিলাফি। বলা হয় যে, তিনি তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন: "ইনশাআল্লাহ, আপনি মাগরিবের মুহাদ্দিস হবেন" (২)।
ইবনুল আব্বার তাঁর এই প্রাচ্য সফরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি তাঁর এই ঘটনাবহুল সফর থেকে ফিরে আসেন এবং ৫৭৪ হিজরি সালে সেবুতায় তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করা হয়। অতঃপর তিনি তিলিমসানে অবতরণ করেন এবং একে স্বদেশ হিসেবে গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি হাদিস বর্ণনা করেন ও গ্রন্থ রচনা করেন। মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করে এবং তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করে" (৩)।
ইবনে আবদুল মালিক 'আদ-জায়ল ওয়াত তাকমিলাহ' গ্রন্থে এবং ইবনুয যুবাইর 'সিলাতুস সিলাহ' গ্রন্থে ইবনুল কাত্তানের শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন...
ইবনুল কাজি উল্লেখ করেছেন যে: "তিনি ৫৯৪ হিজরিতে ফাস নগরীতে আগমন করেন এবং সেখানে বহু সংখ্যক লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন" (৪)।
তিনি ৬১০ হিজরিতে মারাকেশে ইন্তেকাল করেন।
• আবুল খাত্তাব বিন ওয়াজিব আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-কাইসি আল-বালানসি:
ইবনুল আব্বার তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "পূর্ব আন্দালুসে হাদিস বর্ণনার পতাকাবাহী এবং সর্বশেষ মুসনিদ মুহাদ্দিসদের একজন"...
তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "নির্ভরযোগ্যতা, মর্যাদা, শ্রবণের ব্যাপকতা, উচ্চতর সনদ, বক্তব্যের বিশুদ্ধতা ও নিখুঁত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িক কেউ তাঁর সমকক্ষ ছিল না; সাথে ছিল হাদিস শাস্ত্রের শিল্প ও অন্তর্দৃষ্টির প্রতি পূর্ণ মনোযোগ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
به، وتحقق بحمله وذكر لرجاله، وتهافت على جمع كتبه وما يتعلق بفنه، ومحافظة على اسمه ونشره، وترغيب لأهله فيه، وكانت الرحلة إليه في زمانه" (1).
توفي بمراكش سنة (614 هـ).
ونقل ابن عبد الملك عن برنامج ابن القطان أنه من شيوخه.
• أحمد بن هارون بن أحمد بن جعفر بن عتاب النفزي: "الحافظ الإِمام الثقة" هكذا وصفه الحافظ الدهبي، يكنى: أبا عمر، وصفه ابن الأبار بقوله: "كان أحد الحفَّاظ، يسرد المتون، ويحفظ الأسانيد عن ظهر قلب لا يخل منها بشيء، موصوفًا بالدراية والرواية، يغلب عليه الورع والزهد على منهاج السلف،
وله تآليف دالة على سعة حفظه" (2).
وقال فيه ابن عبد الملك: "وكان من أكابر المحدثين الجلّة الحفّاظ المسندين للحديث، وكان أهل شاطبة يفاخرون بأبوي: عمر بن عبد البر، وابن عتّاب" (3).
استشهد في وقعة "العقاب" سنة تسع وستمئة (4).
ذكره ابن عبد الملك في "الذيل والتكملة" في شيوخ ابن القطان.
• أحمد بن يزيد بن عبد الرحمن بن بقي: يكنى: أبا القاسم، من ذرية بقي بن مخلد، وصفه ابن الأبار بأنه: "قاضي قضاة المغرب، من أهل قرطبة، ولي قضاء الجماعة بمراكش، بالإضافة إلى خطَّتي: المظالم والكتابة العليا، توفي سنة (615 هـ) " (5).
سمع منه ابن القطان مسند جده وتفسيره، ولازمه مدة طويلة. قاله ابن عبد الملك.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে, এবং এর ধারণ ও এর বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে তিনি তা অর্জন করেছেন। তিনি এর গ্রন্থসমূহ এবং এর শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি এর নাম রক্ষা ও প্রসারে সচেষ্ট ছিলেন এবং এর যোগ্য ব্যক্তিদের এতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর সময়ে তাঁর নিকট জ্ঞান অন্বেষণে ভ্রমণের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম (১)।
তিনি ৬১৪ হিজরি সনে মাররাকেশে মৃত্যুবরণ করেন।
ইবনে আব্দুল মালেক ইবনুল কাত্তানের 'বারনামাজ' থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন।
• আহমাদ বিন হারুন বিন আহমাদ বিন জাফর বিন আত্তাব আন-নাফজি: "আল-হাফিজ আল-ইমাম আস-সিকাহ (নির্ভরযোগ্য ইমাম ও হাফিজ)", হাফিজ আয-যাহাবি তাঁকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু উমর। ইবনুল আব্বার তাঁকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: "তিনি হাফিজদের অন্যতম ছিলেন, তিনি মূল পাঠসমূহ গড়গড় করে বলে যেতেন এবং সনদসমূহ মুখস্থ রাখতেন যাতে কোনো ত্রুটি হতো না। তিনি বর্ণনা ও অনুধাবন (দিরায়াহ ও রিওয়ায়াহ) উভয় গুনেই ভূষিত ছিলেন। সালাফদের আদর্শ অনুযায়ী পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতা তাঁর চরিত্রে প্রবল ছিল,
এবং তাঁর এমন সব রচনা রয়েছে যা তাঁর বিশাল স্মৃতিশক্তির প্রমাণ দেয়" (২)।
ইবনে আব্দুল মালেক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বড় বড় মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা ছিলেন মহান হাফিজ ও হাদিসের মুসনিদ (সনদ সংগ্রাহক)। শাতিবা নগরীর অধিবাসীরা দুই 'আবু উমর'কে নিয়ে গর্ব করতেন: ইবনে আব্দুল বার এবং ইবনে আত্তাব" (৩)।
তিনি ৬০৯ হিজরি সনে "আল-উকাব" যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন (৪)।
ইবনে আব্দুল মালেক তাঁর 'আয-যাইল ওয়াত-তাকমিলাহ' গ্রন্থে ইবনুল কাত্তানের শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন।
• আহমাদ বিন ইয়াযিদ বিন আব্দুর রহমান বিন বাকি: তাঁর কুনিয়াত ছিল আবুল কাসিম। তিনি বাকি বিন মাখলাদের বংশধর ছিলেন। ইবনুল আব্বার তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "মাগরিবের প্রধান বিচারপতি, কর্ডোভার অধিবাসী, তিনি মাররাকেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি তিনি মাজালিম (অবিচার প্রতিরোধ বিভাগ) ও উচ্চতর সচিবালয়ের পদেও আসীন ছিলেন। তিনি ৬১৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন" (৫)।
ইবনুল কাত্তান তাঁর নিকট থেকে তাঁর দাদার 'মুসনাদ' ও 'তাফসির' শ্রবণ করেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। ইবনে আব্দুল মালেক এটি বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
• أحمد بن يحيى بن عميرة الضبي المرسي: يكنى: أبا جعفر. قال ابن الأبار: "روى عنه جماعة من شيوخنا وكبار أصحابنا" (1).
ودخل مراكش (2)، وعده ابن الأبار وابن عبد الملك في شيوخ ابن القطان.
توفي سنة (599 هـ).
• أبو العباس الصيقل أحمد بن سلمة بن أحمد اللورقي الأندلسي:
سكن تلمسان، قال ابن الأبار: "كان من أهل العناية الكاملة للحديث، والمعرفة بصناعته، والتقدم في الضبط والإِتقان" (3).
وذكره ابن الأبار، وكذلك ابن عبد الملك في شيوخ ابن القطان.
توفي سنة (598 هـ).
هؤلاء هم الشيوخ الذين روى عنهم ابن القطان ولازمهم كثيرًا، بالإِضافة إلى عدد كبير من الشيوخ الذين تحمل عنهم ابن القطان عن طريق المكاتبة .. ورغم ما قام به من الرحلات إلى إفريقية والأندلس، فقد فاته اللقاء بعدد من الشيوخ ورغب في تحمُّل رواياتهم عن طريق المكاتبة.
وصورة المكاتبة: "أن يكتب الشيخ بعض حديثه لمن حضر عنده، أو لمن غاب عنه ويرسله إليه، وسواء كتبه بنفسه، أو أمر غيره أن يكتبه، ويكفي أن يعرف المكتوب له خط الشيخ، أو خط الكاتب عن الشيخ، ويشترط فيها: أن يعلم أن الكاتب ثقة" (4).
وقد كاتبا ابنَ القطان عددٌ كبيرٌ من الشيوخ، نذكر من بينهم:
--------------------------------------------
• আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন উমাইরা আদ-দাব্বি আল-মুরসি: উপনাম: আবু জাফর। ইবনুল আব্বার বলেন: "আমাদের একদল শিক্ষক এবং বড় বড় সাথীবৃন্দ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন" (১)।
তিনি মারাকেশে প্রবেশ করেন (২), এবং ইবনুল আব্বার ও ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে ইবনুল কাত্তানের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
৫৯৯ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
• আবুল আব্বাস আস-সাইকাল আহমদ বিন সালামাহ বিন আহমদ আল-লাওরাকি আল-আন্দালুসি:
তিনি তিলিমসানে বসবাস করতেন। ইবনুল আব্বার বলেন: "তিনি ছিলেন হাদিসের প্রতি পূর্ণ যত্নশীল, এর শিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং নির্ভুলতা ও দক্ষতায় অগ্রগামী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত" (৩)।
ইবনুল আব্বার এবং ইবনে আব্দুল মালিকও তাঁকে ইবনুল কাত্তানের শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।
৫৯৮ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
এরাই হলেন সেই সব শিক্ষক যাঁদের নিকট থেকে ইবনুল কাত্তান বর্ণনা করেছেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁদের সান্নিধ্যে ছিলেন। এর পাশাপাশি আরও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন যাঁদের কাছ থেকে ইবনুল কাত্তান 'মুকাতেবাহ' (পত্রবিনিময়) পদ্ধতিতে ইলম অর্জন করেছেন। ইফ্রিকিয়া এবং আন্দালুসে সফর করা সত্ত্বেও, তিনি বেশ কিছু শিক্ষকের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি, ফলে তিনি পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের বর্ণনা গ্রহণ করতে আগ্রহী হন।
মুকাতেবাহ-এর পদ্ধতি হলো: "শিক্ষক তাঁর কিছু হাদিস তাঁর নিকট উপস্থিত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য লিখবেন এবং তা তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি নিজে লিখুন বা অন্য কাউকে দিয়ে লেখান তা সমান। এক্ষেত্রে প্রাপকের জন্য শিক্ষকের হস্তলিপি অথবা শিক্ষকের পক্ষ থেকে লেখকের হস্তলিপি চেনা যথেষ্ট এবং শর্ত হলো লেখক নির্ভরযোগ্য হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া" (৪)।
ইবনুল কাত্তানের নিকট বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পত্র লিখেছিলেন, আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে উল্লেখ করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইহকামুন নাযারি ফি আহকামিন নাযারি বি-হাসাতিল বাসার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
• الحافظ أبو محمد عبد الله بن محمد بن علي بن عبد الله بن عبيد الله الحجري الأندلسي: نزيل سبتة، وبها توفي سنة (591 هـ)، ذكره ابن عبد الملك وكذلك ابن الزبير في المجيزين لابن القطان.
• أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن كوثر الغرناطي: سمع من
علماء الأندلس والمشرق ورجع إلى بلده "بعلم كثير ورواية واسعة" (1)، أخذ عنه خلق كثير .. ذكره ابن عبد الملك وابن الزبير في شيوخ ابن القطان.
• أبو عبد الله محمد بن سعيد بن زرقون الإِشبيلي: أخذ عن القاضي عياض ولازمه كثيرًا، قال ابن الأبار: "وكان الناس يرحلون إليه للسماع منه لعلو روايته، توفي سنة (586 هـ) " (2).
جعله ابن عبد الملك في مَن روى عنهم ابن القطان مكاتبة، وكذلك ابن الزبير.
• أبو محمد بن عبد المنعم بن محمد الخزرجي الغرناطي المعروف بابن الفرس: ذكره ابن عبد الملك في الشيوخ الذين روى عنهم ابن القطان سماعًا، أما ابن القاضي فقد عده في "جذوة الإقتباس" في الشيوخ الذين روى عنهم ابن القطان مكاتبة، توفي سنة (597 هـ).
فهذه جملة من الشيوخ الذين روى عنهم ابن القطان سماعًا أو مكاتبة .. كلهم كما رأينا قد بلغوا مرتبة في الحفظ والإِتقان وسعة النظر، ساعدته ملكته القوية على الإستفادة منهم كثيرًا.
خامسًا: تلامدته والرواة عنه:كان دور ابن القطان في تلقين طلبَة العلم في حلقاته المباركة الكبيرة التي كان يعقدها في قصر الخلافة وغيره بمراكش وغيرها، كدور كلِّ عالم
--------------------------------------------
• আল-হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ আল-হাজরি আল-আন্দালুসি: তিনি সেউতার অধিবাসী ছিলেন এবং সেখানেই ৫৯১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে আব্দুল মালিক এবং একইভাবে ইবনুয যুবাইর ইবনুল কাট্টানের ইজাজত প্রদানকারী শিক্ষকদের তালিকায় তাকে উল্লেখ করেছেন।
• আবুল হাসান আলি বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কাউসার আল-গারনাতি: তিনি আন্দালুস ও প্রাচ্যের আলেমদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন এবং নিজ শহরে "বিপুল জ্ঞান ও বিস্তৃত বর্ণনা" নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন (১)। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য লোক ইলম গ্রহণ করেছেন। ইবনে আব্দুল মালিক এবং ইবনুয যুবাইর ইবনুল কাট্টানের শিক্ষকদের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করেছেন।
• আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন যারকুন আল-ইশবিলি: তিনি কাজি আইয়াজ থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। ইবনুল আব্বার বলেন: "লোকেরা তাঁর উচ্চ বর্ণনার কারণে তাঁর নিকট থেকে শোনার জন্য সফর করত। তিনি ৫৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন" (২)।
ইবনে আব্দুল মালিক এবং একইভাবে ইবনুয যুবাইর তাকে ইবনুল কাট্টানের সেই শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের নিকট থেকে তিনি পত্র বিনিময়ের (মুকাতিবাহ) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
• আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুনইম বিন মুহাম্মদ আল-খাযরাজি আল-গারনাতি, যিনি ইবনুল ফারাস নামে পরিচিত: ইবনে আব্দুল মালিক তাকে সেইসব শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন যাদের নিকট থেকে ইবনুল কাট্টান সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনুল কাজি তাকে 'জাযওয়াতুল ইকতিবাস'-এ সেই শিক্ষকদের তালিকায় গণ্য করেছেন যাদের নিকট থেকে ইবনুল কাট্টান পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৫৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
এই হলো সেই শিক্ষকদের একটি তালিকা যাদের নিকট থেকে ইবনুল কাট্টান শ্রবণ অথবা পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আমরা যেমনটি দেখলাম, তাঁরা সকলেই হিফয, পারদর্শিতা ও পাণ্ডিত্যের সুউচ্চ স্তরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর শক্তিশালী সহজাত প্রতিভা এই শিক্ষকদের থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে তাঁকে সাহায্য করেছিল।
পঞ্চম: তাঁর ছাত্র ও বর্ণনাকারীগণ:মাররাকেশের খেলাফত প্রাসাদ ও অন্যান্য স্থানে ইবনুল কাট্টান যে বরকতময় বৃহৎ ইলমি মজলিসগুলো পরিচালনা করতেন, সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রত্যেক মহান আলেমের ভূমিকার মতোই...
--------------------------------------------