(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: -)
نشر ألوية التشريف بالإعلام والتعريف بمن له ولاية عمارة ما سقط من البيت الشريف   (ابن علان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: نشر ألوية التشريف بالإعلام والتعريف بمن له ولاية عمارة ما سقط من البيت الشريف - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (24)

المؤلف: محمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي (ت 1057 هـ)

اعتنى به: محمد أبو بكر عبد الله باذيب

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 84

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437

নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরিফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফ বিমান লাহু বিলায়াতু ইমারতি মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারিফ (পবিত্র কাবার ধসে পড়া অংশ পুনর্নির্মাণের কর্তৃত্ব কার, সে বিষয়ে অবহিতকরণ ও পরিচিতি প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননার ঝাণ্ডা উড্ডীনকরণ)   (ইবনে আল্লান)

বিভাগ: ফিকহ সংক্রান্ত মাসআলা


বই: নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরিফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফ বিমান লাহু বিলায়াতু ইমারতি মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারিফ - মসজিদুল হারামের শেষ দশকের সাক্ষাৎকারের সংকলন (২৪)

লেখক: মুহাম্মদ আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল্লান বিন ইবরাহিম আল-বাকরি আস-সিদ্দিকি আল-শাফিঈ (মৃত্যু ১০৫৭ হিজরি)

সম্পাদনা ও বিন্যাস: মুহাম্মদ আবু বকর আবদুল্লাহ বাযীব

প্রকাশক: দার আল-বাশাঈর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (24)

 

نشر ألوية التشريف بالإعلام والتعريف بمن له ولاية عمارة ما سقط من البيت الشريف

 

تأليف

الشيخ محمد بن علان البكري الصديقي المكي الشافعي

(المولود سنة 996 والمتوفى سنة 1057)

 

اعتنى به

محمد أبو بكر عبد الله باذيب

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের সম্মেলন (২৪)

 

সম্মাননার ঝাণ্ডা উড্ডয়ন: পবিত্র কাবার যে অংশ ধসে পড়েছিল, তার পুনর্নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য প্রদান

 

রচনায়

শায়খ মুহাম্মদ বিন আল্লান আল-বাকরি আস-সিদ্দিকি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি

(জন্ম ৯৯৬ হিজরি এবং মৃত্যু ১০৫৭ হিজরি)

 

সম্পাদনায়

মুহাম্মদ আবু বকর আবদুল্লাহ বা-যীব

 

হারামাইন শরিফাইনের কিছু কল্যাণকামী ব্যক্তি এবং তাঁদের হিতৈষীবৃন্দ এই গ্রন্থ মুদ্রণে অবদান রেখেছেন

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়া
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدّمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على محمَّد وآله وصحبه أجمعين، وبعد:

فإن من النفحات الربانية والعطايا الإِلهية، تكاتف الجهود وتظافر الهمم، وتشمير السواعد لخدمة التراث الإِسلامي وإبراز مكنوناته …

وما هذه المجالس التي تعقد في رحاب البيت الحرام في أجواء العشر الأواخر منه -في جو مفعم بالإِيمان والمحبة والشوق إلى الله سبحانه واستنزال رحماته التي وعد بها المؤمنين من عباده في هذا الشهر العظيم خاصة وفي غيره من الأيام والشهور عامة- إلَّا مظهر من مظاهر النعمة والرحمة والنفحات ..

ولما كانت هذه المجالس العشرية الآخرية تعقد في صحن المسجد الحرام أمام الكعبة المشرفة المعظمة، فقد عرضت على الإِخوان الكرام القائمين على هذه المجالس المباركة هذه الرسالة اللطيفة للإِمام ابن علان رحمه الله تعالى والمتعلقة بهذه البَنِيَّة المعظمة المشرفة، أول بيت وضع للناس … فكان لها وقع طيب وقبول عند الجميع ..

لأن موضوع الرسالة جديد ومهم، ولم يسبق أن طبع كتاب مستقل يتحدث عن الموضوع نفسه، وإن كانت كتب التاريخ المكي طافحة بتفاصيل ما ورد فيه وغير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা (مقدمة)

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতপর:

নিশ্চয়ই ইসলামি ঐতিহ্যের (تراث) খিদমত করা এবং এর লুকায়িত রত্নরাজিকে উন্মোচিত করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টাসমূহের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সংকল্পের সুদৃঢ় হওয়া এবং কঠোর পরিশ্রম করা রব্বানি অনুগ্রহ ও ঐশ্বরিক দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত …

বায়তুল হারামের প্রাঙ্গণে রমজানের শেষ দশকের দিনগুলোতে—ঈমান, ভালোবাসা ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ব্যাকুলতা এবং তাঁর সেই রহমত কামনার এক আবেশপূর্ণ পরিবেশে, যার প্রতিশ্রুতি তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের এই মহান মাসে বিশেষভাবে এবং অন্যান্য দিন ও মাসসমূহে সাধারণভাবে দিয়েছেন—আয়োজিত এই মজলিসসমূহ নেয়ামত, রহমত ও ঐশী স্ফুরণেরই এক বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

যেহেতু রমজানের শেষ দশকের এই মজলিসসমূহ মসজিদে হারামের চত্বরে সম্মানিত ও মহিমান্বিত কাবার সম্মুখে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই আমি এই বরকতময় মজলিসসমূহের সম্মানিত আয়োজকদের নিকট ইমাম ইবনে আল্লান (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি (رسالة) উপস্থাপন করেছি, যা এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ ইমারত (কাবা) সংশ্লিষ্ট—যা মানুষের জন্য (উপাসনার লক্ষ্যে) নির্মিত প্রথম ঘর … ফলে এটি সবার নিকট চমৎকার প্রভাব ফেলেছে এবং গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।

কারণ এই পুস্তিকাটির (رسالة) বিষয়টি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে একই বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো কিতাব মুদ্রিত হয়নি, যদিও মক্কার ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এতে বিদ্যমান বিষয়াবলি ও অন্যান্য বিবরণে সমৃদ্ধ।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك، أضف إلى أنه لم ينشر من كتب ابن علان إلَّا النزر اليسير، فهو على شهرته الكبيرة لم يطبع من كتبه إلَّا شرحيه على رياض الصالحين والأذكار للإِمام النووي، وغير شرحه على "التعرف" لابن حجر الهيتمي … هذا حسب علمي.

وإن كانت رسالته أو كتابه الفريد "إنباء المؤيد" قد حُقِّق تحقيقًا علميًّا ونيل به بعض الشهادات العلمية، إلَّا أنه لم يخرج أو بالأحرى لم يدخل حيز الطباعة … وهناك مميزات أخرى لهذه الرسالة لا أطيل بذكرها …

ولعل من أهم المميزات لخدمة ونشر هذه الرسالة الهامة واللطيفة في بابها … هو مناسبتها التامة لزمان ومكان انعقاد هذه المجالس الرمضانية، التي نسأل الله أن يديم عافيته على أعضائها ويوفقهم لإِخراج وإبراز الجديد والمفيد دائمًا.

كما نسأل الله تعالى أن ينفع بهذه الرسالة كل من قرأها، ونرجو أن نكون قد وفقنا في الاختيار، وحسن الخدمة والعرض، ورحم الله امرءًا أهدى إلينا عيوبنا … وصلَّى الله وسلَّم على سيدنا ونبينا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلَّم.

محمَّد أبو بكر عبد الله باذيب

جدة في 12 ربيع الأول 1422 هـ
তদুপরি, এটিও যুক্ত করা প্রয়োজন যে ইবনে আলানের গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে কেবল অতি সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ব্যাপক খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও ইমাম নববীর রিয়াদুস সালিহীন ও আল-আযকারের ওপর তাঁর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ইবনে হাজার আল-হাইতামির 'আত-তা'আররুফ'-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থ মুদ্রিত হয়নি … আমার জানামতে এটিই বাস্তব।

যদিও তাঁর অনন্য রিসালা বা কিতাব 'ইনবাউল মুয়াইয়াদ' বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাহকিক (تحقيق) করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কিছু উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করা হয়েছে, তবে তা এখনো প্রকাশিত হয়নি বা বলা যায় মুদ্রণ পর্যন্ত পৌঁছায়নি … এই রিসালাটির আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় উল্লেখ করছি না …

সম্ভবত এই গুরুত্বপূর্ণ এবং নিজ বিষয়ে সূক্ষ্ম রিসালাটির খিদমত ও প্রচারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এই রমজান মজলিসগুলোর সময় ও স্থানের সাথে এর পূর্ণ সামঞ্জস্য। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর সদস্যদের ওপর তাঁর কল্যাণ ও নিরাপত্তা সর্বদা বজায় রাখেন এবং তাঁদেরকে সবসময় নতুন ও ফলপ্রসূ কিছু উপস্থাপনের তাওফিক দান করেন।

সেই সাথে আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই রিসালা দ্বারা প্রত্যেক পাঠককে উপকৃত করেন। আমরা আশা করি যে, সঠিক বিষয় নির্বাচন, উত্তম খিদমত ও উপস্থাপনায় আমরা সফল হয়েছি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি আমাদের ত্রুটিগুলো আমাদের নিকট উপহারস্বরূপ তুলে ধরবেন … আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

মুহাম্মদ আবু বকর আবদুল্লাহ বাযিব

জেদ্দা, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪২২ হিজরি
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المصنف (1) (980 - 1058 هـ)

هو الشيخ الإِمام العلامة الفقيه المؤرخ المحدث المتفنن محمَّد علي بن محمَّد علان بن إبراهيم بن محمَّد علان بن عبد الملك بن علي بن علي بن مبارك شاه الصديقي البكري المكي (2).

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: خلاصة الأثر للمحبي: 4/ 184 - 189، الجواهر والدرر في تاريخ القرن الحادي عشر، للعلامة محمَّد بن أبي بكر الشِّلِّي (مخطوط)، التاريخ والمؤرخون في مكة، للحبيب الهيلة: 314 - 330، الأعلام للزركلي: 6/ 293، نشر النور والزهر "المختصر"، لميرداد. الأسر القرشية أعيان مكة المحمية، عبد الله صديق: 223 - 224.

(2) هناك اضطراب واضح في اسم المصنِّف وسرد نسبه إلى جده عبد الملك، فما نقلته هنا هو ما ذكره العلامة السيد المحبي في "الخلاصة"، وأما الشِّلِّي في "الجواهر" فجعله: محمَّد بن علي بن محمَّد بن علان بن محمَّد علان بن إبراهيم بن محمَّد بن علان … وهذا غالبًا وهم من الناسخ لأن محمَّد علي ومحمد علان اسمان مركبان، وهذا النسب بهذا الشكل خطأ محض.

واعتمد الزركلي ما جاء في الخلاصة، ولم يتعرض الدكتور الهيلة لشيء من هذا … وسيأتي في اسم جده وبقية الأسرة شيء من هذا الاضطراب أيضًا، ولكنه يزول بمعرفة ضبط عدد الآباء الذين عددهم الشهاب بن علان في أبياته الواردة، وبه يحقق نسب المصنف وبقية أعلام أسرته، والتحقيق: أن محمَّد علان بن عبد الملك الذي هو والد إبراهيم اسم مركب وليس كما في "الخلاصة" أنه محمَّد بن علان.
গ্রন্থকারের পরিচিতি (১) (৯৮০ - ১০৫৮ হি.)

তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ (فقيه), ইতিহাসবিদ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী মুহাদ্দিস (محدث) মুহাম্মদ আলী বিন মুহাম্মদ আল্লান বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল্লান বিন আব্দুল মালিক বিন আলী বিন আলী বিন মুবারক শাহ আস-সিদ্দিকী আল-বাকরি আল-মাক্কি (২)।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ: আল-মুহিব্বি প্রণীত খুলাসাতুল আসার: ৪/ ১৮৪ - ১৮৯; আল্লামা মুহাম্মদ বিন আবু বকর আশ-শিল্লি প্রণীত আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারিখিল করনিল হাদি আশার (পাণ্ডুলিপি); আল-হাবিব আল-হায়লা প্রণীত আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররিখুন ফি মক্কাহ: ৩১৪ - ৩৩০; আয-যিরিকলি প্রণীত আল-আ’লাম: ৬/ ২৯৩; মীরদাদ প্রণীত নাশরুন নূর ওয়ায যাহর "আল-মুখতাসার"; আব্দুল্লাহ সিদ্দিক প্রণীত আল-আসারুল কুরাইশিয়্যাহ আয়ানু মক্কাতিল মাহমিয়্যাহ: ২২৩ - ২২৪।

(২) এখানে গ্রন্থকারের নাম এবং তার দাদা আব্দুল মালিক পর্যন্ত বংশপরম্পরা বর্ণনায় একটি স্পষ্ট অসংগতি (اضطراب) পরিলক্ষিত হয়। আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তা আল্লামা আস-সাইয়্যিদ আল-মুহিব্বি তার ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর আশ-শিল্লি ‘আল-জাওয়াহির’ গ্রন্থে তাকে এভাবে উল্লেখ করেছেন: মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল্লান বিন মুহাম্মদ আল্লান বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল্লান … এটি সম্ভবত অনুলিপিকারীর পক্ষ থেকে একটি ভুল (وهم); কারণ মুহাম্মদ আলী এবং মুহাম্মদ আল্লান হচ্ছে যৌগিক নাম, আর এই বিন্যাসে এই নসবনামাটি সম্পূর্ণ ভুল।

আয-যিরিকলি ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে যা এসেছে তা-ই গ্রহণ করেছেন, আর ডক্টর আল-হায়লা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি … তার দাদার নাম এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের নামের ক্ষেত্রেও সামনে এ জাতীয় কিছু অসংগতি (اضطراب) আসবে। তবে শিহাব বিন আল্লান তার পঙ্ক্তিমালায় পূর্বপুরুষদের যে সংখ্যা গণনা করেছেন, তা জানার মাধ্যমে এই অসংগতি দূর হয়ে যায়। এর মাধ্যমেই গ্রন্থকার ও তার পরিবারের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বংশপরিচয় সঠিকভাবে নির্ণয় (تحقيق) করা সম্ভব হয়। আর সঠিক তথ্য যাচাইয়ে (التحقيق) প্রতীয়মান হয় যে: ইব্রাহিমের পিতা ‘মুহাম্মদ আল্লান বিন আব্দুল মালিক’ একটি যৌগিক নাম, এটি ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে বর্ণিত ‘মুহাম্মদ বিন আল্লান’-এর মতো (পিতা ও পুত্র হিসেবে বিচ্ছিন্ন) নয়।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৬)
مولده بمكة المشرفة، حدود عام 980 كما ذكر العجيمي (1)، وبها نشأ وطلب العلم، وأخذ عن كبار علماء الحرمين الشريفين والوافدين عليها.

 

‌‌أسرته:

آل علان من الأسر المكية العلمية العريقة، وقد اشتهر أفرادها بين القرنين الثامن والحادي عشر الهجريين … ومرجعهم في النسب إلى الخليفة الأول أبي بكر الصديق رضي الله عنه كما أطبق عليه المؤرخون.

وقد عرف من هذه الأسرة الكريمة عدد من العلماء والأفاضل، وفيهم أو غالبهم مصنفون ذووا مصنفات نافعة جليلة.

ونذكر أولًا أصولهم في النسب ثم نعرض لمشاهير (آل علان):

1 - الجد الأعلى للأسرة: علي بن مباركشاه (2) بن أبي بكر بن محمود بن محمَّد بن أبي محمَّد بن طاهر بن حنون بن علان بن حسين بن عبد الله بن يونس بن يوسف بن إسحاق بن عمر بن زيد بن محمَّد بن الصدِّيق الأكبر خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم أبي بكر بن أبي قحافة التيمي القرشي .. البكري الصديقي.

وهذا النسب ساقه المحبي منظومًا على لسان الشيخ العلامة أحمد بن إبراهيم بن علان -ستأتي ترجمته- وهو قوله:

أيا سائلي عن نسبتي كيف حالها … جدود لي إلى الصديق عشرون فاعدد

خليل وعلان وعبدُ مِليكِهِم … عليٌّ عليٌّ ذو النعيم المؤبَّدِ

مبارك شاه حاوي المجد بعدهم … أبو بكر المحمود نجل محمَّد …

ووالده قد جاء يكنى باسمه … فطاهر حنون الذي هو مهتدي

وعلان كان جاء وهو حسينهم … عفيف أتى فيهم ويونس ذو اليد

--------------------------------------------

(1) خبايا الزوايا (مخطوط): 106 / ب.

(2) له ترجمة في الدرر الكامنة: 3/ 57، ترجمة رقم (2852).
তাঁর জন্ম মক্কা মুকাররমায় আনুমানিক ৯৮০ হিজরির দিকে, যেমনটি আল-উজাইমি (১) উল্লেখ করেছেন। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং ইলম অর্জন করেন। তিনি হারামাইন শরীফাইনের শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং সেখানে আগত বিশিষ্ট বিদ্বানদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

 

‌‌তাঁর পরিবার:

আল-আল্লান হলো মক্কার এক সুপ্রাচীন ইলমি পরিবার। হিজরি অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে এই পরিবারের সদস্যরা বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করেন … এবং ঐতিহাসিকদের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী বংশগতভাবে তাঁদের মূল উৎস হলো প্রথম খলিফা (خليفة) আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত।

এই সম্মানিত পরিবারে বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা আলেম ও গুণীজন পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশরাই ছিলেন গ্রন্থকার বা সংকলক (مصنفون), যাঁদের অত্যন্ত উপকারী ও মহান সব রচনারাজি রয়েছে।

আমরা প্রথমে তাঁদের বংশীয় মূল পুরুষদের কথা উল্লেখ করব এবং এরপর ‘আল-আল্লান’ পরিবারের প্রখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী (ترجمة) তুলে ধরব:

১ - এই পরিবারের আদি পিতা: আলী ইবনে মুবারক শাহ (২) ইবনে আবু বকর ইবনে মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু মুহাম্মদ ইবনে তাহের ইবনে হানুন ইবনে আল্লান ইবনে হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে ইউসুফ ইবনে ইসহাক ইবনে উমর ইবনে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সিদ্দিক আল-আকবর, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা (خليفة) আবু বকর ইবনে আবু কুহাফা আত-তাইমি আল-কুরাশি.. আল-বাকরি আস-সিদ্দিকি।

এই বংশলতিকা আল-মুহিব্বি ছন্দাকারে আল্লামা শায়খ আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল্লানের জবানিতে বর্ণনা করেছেন—অচিরেই তাঁর জীবনী (ترجمة) আসবে—যা নিম্নরূপ:

ওহে আমার বংশ সম্পর্কে প্রশ্নকারী, শোনো তবে এর অবস্থা … সিদ্দিক পর্যন্ত আমার বিশজন পূর্বপুরুষ রয়েছেন, গণনা করে দেখো

খলিল, আল্লান এবং তাঁদের মালিকের বান্দা … আলী, আলী—যিনি চিরস্থায়ী নেয়ামতের অধিকারী

মুবারক শাহ তাঁদের পরে গৌরবের অধিকারী … আবু বকর আল-মাহমুদ, যিনি মুহাম্মদের পুত্র …

এবং তাঁর পিতা স্বীয় কুনিয়াত বা নামেই পরিচিত হয়েছেন … আর তাহের হানুন, যিনি হেদায়েতপ্রাপ্ত

আর আল্লান ছিলেন তাঁদের মধ্যকার হুসাইন … তাঁদের মাঝে পবিত্র এক পুরুষ এলেন, আর ইউনুস—যিনি দানশীল

--------------------------------------------

(১) খাবায়া আজ-জাওয়ায়া (পাণ্ডুলিপি): ১০৬ / খ।

(২) আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে: ৩/ ৫৭, জীবনী নম্বর (২৮৫২)।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৭)
ويوسف إسحاق وعمران قد أتى … وزيد به كل الخلائق تقتدي

ومن بعده حاوي الفخار محمَّد … ووالده الصديق ذخري ومنجدي (1)

2 - عبد الملك بن علي بن علي بن مبارك شاه الصديقي، توفي سنة 896 هـ، له كتاب "الحبل المتين" في الأذكار (2).

3 - الشيخ محمَّد علان بن عبد الملك بن علي بن علي الصديقي، من أهل القرن العاشر، لم يترجم له أحد من المؤرخين، وإنما ورد اسمه في ديباجة كتابه "مثير شوق الأنام"، ونقل المصنف -حفيده- عن كتابه في هذه الرسالة وقال: نقل جدي في كتابه "مثير شوق الأنام" … إلخ (3).

4 - شهاب الدين أحمد بن إبراهيم بن محمَّد علان بن عبد الملك الصديقي البكري المكي النقشبندي المتوفى سنة 1033 هـ، والمولود بها سنة 975 هـ (4).

5 - غياث الدين بن محمَّد علي بن علان المكي … من أهل القرن الحادي عشر، وهو ابن مصنف هذا الكتاب، لم يترجم له سوى مرداد في "نشر النور" فقال: غياث الدين بن جمال الدين العلامة محمَّد علي بن علان المكي الصديقي الشافعي، ولد بمكة المكرمة ونشأ بها، وجد واجتهد في تحصيل العلوم، فقرأ على والده وعلى غيره من أفاضل البلد الحرام. وألف التآليف المجيدة. فمن تآليفه: ذيل كتاب "روضة الصفا في آداب زيارة المصطفى لوالده". ولم أقف له على ولادة ووفاة إلَّا أنه من أهل القرن الحادي عشر. اهـ (5).

--------------------------------------------

(1) خلاصة الأثر: 1/ 88، 89.

(2) له ترجمة في: الضوء اللامع للسخاوي: 5/ 86 - 87، وهدية العارفين للبغدادي 1/ 637، وكشف الظنون: 629، عن "التاريخ والمؤرخون"، للهيلة: ص 311.

(3) يأتي النقل عنه ص 77.

(4) خبايا الزوايا، للشيخ حسن العجيمي الحنفي (مخطوط): 210، 211، ونقله عنه ميرداد في نشر النور: المختصر ص 105، 106، وترجم له المحبي في الخلاصة: 1/ 157، والهيلة في التاريخ والمؤرخون: 314، وذكر مراجع أخرى لترجمته، والأعلام: 1/ 88.

(5) مرداد: "المختصر" 386، التاريخ والمؤرخون: ص 330.
ইউসুফ, ইসহাক এবং ইমরান এসেছেন … আর যায়িদকে সমস্ত সৃষ্টি অনুসরণ করে।

এবং তাঁর পরে শ্রেষ্ঠত্বের আধার মুহাম্মদ … আর তাঁর পিতা আস-সিদ্দিক আমার পাথেয় ও উদ্ধারকর্তা (১)।

২ - আব্দুল মালিক বিন আলী বিন আলী বিন মুবারক শাহ আস-সিদ্দিকী, তিনি ৮৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জিকির সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর "আল-হাবলুল মতিন" নামক একটি কিতাব রয়েছে (২)।

৩ - শায়খ মুহাম্মদ আল্লান বিন আব্দুল মালিক বিন আলী বিন আলী আস-সিদ্দিকী; তিনি দশম হিজরি শতাব্দীর অধিবাসী ছিলেন। ইতিহাসবিদদের কেউই তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেননি, তবে তাঁর নাম তাঁর রচিত কিতাব "মুছিরু শাওকিল আনাম"-এর উপক্রমণিকায় বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থকার (المصنف) —যিনি তাঁর নাতি— এই পুস্তিকা (رسالة) বা গ্রন্থে তাঁর কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং বলেছেন: আমার দাদা তাঁর কিতাব "মুছিরু শাওকিল আনাম"-এ বর্ণনা করেছেন... ইত্যাদি (৩)।

৪ - শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল্লান বিন আব্দুল মালিক আস-সিদ্দিকী আল-বাকরী আল-মাক্কী আন-নাকশবন্দী, তিনি ১০৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ৯৭৫ হিজরিতে সেখানে জন্মগ্রহণ করেন (৪)।

৫ - গিয়াসুদ্দিন বিন মুহাম্মদ আলী বিন আল্লান আল-মাক্কী … তিনি একাদশ হিজরি শতাব্দীর অধিবাসী এবং এই কিতাবের গ্রন্থকারের (المصنف) পুত্র। মিরদাদ তাঁর "নাশরুন্ নূর" গ্রন্থে তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করা ছাড়া আর কেউ তা করেননি। মিরদাদ বলেছেন: গিয়াসুদ্দিন বিন জামালুদ্দিন আল্লামা মুহাম্মদ আলী বিন আল্লান আল-মাক্কী আস-সিদ্দিকী আশ-শাফিঈ; তিনি মক্কাতুল মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি জ্ঞান অর্জনে কঠোর সাধনা ও প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি তাঁর পিতা এবং হারামাইন শরীফাইনের অন্যান্য শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট পাঠগ্রহণ করেছেন। তিনি অনেক চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: তাঁর পিতার রচিত "রাওদাতুস সাফা ফি আদাবি যিয়ারাতিল মুস্তফা" কিতাবের পরিশিষ্ট (ذيل)। আমি তাঁর জন্ম বা মৃত্যুর সময় সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি, তবে তিনি একাদশ হিজরি শতাব্দীর লোক ছিলেন। সমাপ্ত (اهـ) (৫)।

--------------------------------------------

(১) খুলাসাতুল আসার: ১/ ৮৮, ৮৯।

(২) সাখাবীর আদ-দাওউল লামি: ৫/ ৮৬ - ৮৭; বাগদাদীর হাদিয়াতুল আরিফিন: ১/ ৬৩৭; হাইল্লাহ-র "আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন" ৩১১ পৃষ্ঠা থেকে উদ্ধৃত কাশফুজ জুনুন: ৬২৯-এ তাঁর জীবনী (ترجمة) রয়েছে।

(৩) তাঁর থেকে উদ্ধৃতি ৭৭ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৪) শায়খ হাসান আল-উজাইমী আল-হানাফীর খাবায়াল যাওয়ায়া (পাণ্ডুলিপি (مخطوط)): ২১০, ২১১; মিরদাদ তাঁর নাশরুন্ নূর-এর আল-মুখতাসার ১০৫ ও ১০৬ পৃষ্ঠায় তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন; আল-মুহিব্বী আল-খুলাসায় তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন: ১/ ১৫৭; এবং হাইল্লাহ আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন-এ: ৩১৪; তিনি তাঁর জীবনীর (ترجمة) আরও অন্যান্য উৎস উল্লেখ করেছেন এবং আল-আলাম: ১/ ৮৮।

(৫) মিরদাদ: "আল-মুখতাসার" ৩৮৬, আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: পৃষ্ঠা ৩৩০।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৮)
* وأعتقد أن نسل هذه الأسرة الكريمة قد انقرض، فسبحان من له الدوام والبقاء (1).

 

‌‌شيوخه:

نعود إلى ترجمة مصنف هذه الرسالة وقد ذكرنا أشهر علماء آل علان المكيين … فنذكر شيوخه.

فمن أعلام شيوخه الذين تلقى عنهم العلوم الشرعية وآلاتها وأفاد منهم:

العلامة عبد الملك العصامي (2)، والمحدث المتفنن الشيخ العلامة محمَّد بن محمد بن جار الله بن فهد الهاشمي المكي (3)، والسيد العلامة الفقيه عمر بن عبد الرحيم البصري (4)، والعلامة الشيخ عبد الرحيم بن حسان الحنفي المكي (5) تلقى عنه علم النحو، وعمه الشيخ أحمد بن علان (6) أخذ عنه القراءات والحديث والفقه والتصوف، وعلي بن جار الله بن ظهيرة (7) وطبقتهم.

ومن الوافدين على مكة المشرفة: العلامة الجليل الشيخ عبد الرحمن بن

--------------------------------------------

(1) الأسر القرشية أعيان مكة المحمية؛ عبد الله صديق: 223.

(2) توفي سنة 1037 هـ، وهو (الجد) المعروف بمُلّا عصام.

(3) ذكره المحبي ونقله عنه د. الهيلة، وهو وهم واضح، لأن خاتمة علماء آل فهد هو محمَّد بن عبد العزيز المعروف بجار الله بن فهد توفي سنة 954 هـ. وإنما هو علي بن جار الله بن ظهيرة، فالتبس الاسم على العلّامة المحبي، وهو المصرح به في "خبايا الزوايا"، والله أعلم.

(4) السيد عمر البصري، توفي سنة 1037. ترجمته في: خلاصة الأثر 3/ 210 - 212.

(5) عبد الرحيم بن أبي بكر بن حسّان المكي، توفي سنة 1014 هـ. خلاصة الأثر 2/ 406، 407.

(6) تقدمت ترجمته.

(7) توفي سنة 1010 هـ، وقد جاوز التسعين. الخلاصة 3/ 150 - 151، المختصر ص 361.
আমি মনে করি যে এই মহিমান্বিত পরিবারের বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সুতরাং মহিমা কেবল তাঁরই যিনি চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর (১)।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

আমরা এই পুস্তিকার লেখকের জীবনচরিত (ترجمة) বর্ণনায় ফিরে আসি। আমরা আল্লান আল-মাক্কি পরিবারের প্রসিদ্ধ আলেমদের কথা উল্লেখ করেছি … এখন আমরা তাঁর শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করছি।

তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের মধ্য থেকে যাঁদের নিকট তিনি শরয়ি জ্ঞান ও এর সহায়ক শাস্ত্রসমূহ (آلات) শিক্ষা করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন তাঁরা হলেন:

আল্লামা আব্দুল মালিক আল-ইসামি (২), বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হাদিস বিশারদ (المحدث) শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন জারুল্লাহ বিন ফাহদ আল-হাশেমি আল-মাক্কি (৩), সাইয়্যেদ আল্লামা ফকিহ (الفقيه) উমর বিন আব্দুর রহিম আল-বাসরি (৪), আল্লামা শাইখ আব্দুর রহিম বিন হাসসান আল-হানাফি আল-মাক্কি (৫) যাঁর নিকট তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন, তাঁর চাচা শাইখ আহমদ বিন আল্লান (৬) যাঁর নিকট তিনি কিরাত, হাদিস, ফিকহ ও তাসাউফ গ্রহণ করেছেন এবং আলী বিন জারুল্লাহ বিন জুহাইরাহ (৭) ও তাঁদের সমপর্যায়ের স্তরের (طبقة) ব্যক্তিবর্গ।

পবিত্র মক্কায় আগমনকারীদের মধ্যে রয়েছেন: মহান আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন...

--------------------------------------------

(১) আল-আসারুল কুরাইশিয়্যাহ আয়ান মাক্কাহ আল-মাহমিয়্যাহ; আব্দুল্লাহ সিদ্দিক: ২২৩।

(২) ১০৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি (দাদা) মোল্লা ইসাম নামে পরিচিত।

(৩) আল-মুহিব্বি এটি উল্লেখ করেছেন এবং ড. আল-হাইলাহ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এটি একটি স্পষ্ট ভ্রম (وهم)। কারণ আলে-ফাহদ বংশের আলেমদের মধ্যে সর্বশেষ (خاتمة) ব্যক্তি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ, যিনি জারুল্লাহ বিন ফাহদ নামে পরিচিত এবং ৯৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। মূলত তিনি আলী বিন জারুল্লাহ বিন জুহাইরাহ; আল্লামা মুহিব্বির নিকট নামটিতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা "খাবায়াল জাওয়ায়া" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত আছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৪) সাইয়্যেদ উমর আল-বাসরি, ১০৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনচরিত (ترجمة) রয়েছে: খুলাসাতুল আসার ৩/২১০-২১২।

(৫) আব্দুর রহিম বিন আবি বকর বিন হাসসান আল-মাক্কি, ১০১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। খুলাসাতুল আসার ২/৪০৬, ৪০৭।

(৬) তাঁর জীবনী ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৭) ১০১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি নব্বই বছর বয়স অতিক্রম করেছিলেন। খুলাসাতুল আসার ৩/১৫০-১৫১, আল-মুখতাসার পৃষ্ঠা ৩৬১।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ৯)
محمَّد الشربيني العثماني الشافعي (1) روى عنه صحيح البخاري وكتب السنة "إجازة". والعلامة مفتي الحنفية بمصر الشيخ عبد الله النحراوي، والعلامة الشيخ حسن البوريني الدمشقي (2). والشيخ العلامة المحدث محمَّد حجازي الواعظ (3)، أجازه عام 1020 هـ.

 

‌‌مكانته العلمية:

وصفه معاصره والراوي عنه بالإِجازة العامة الشيخ العلامة حسن بن علي العجيمي الحنفي بقوله: حافظ عصره، وإمام وقته، فارس التفسير، وجهبذ الحديث، وفخر علماء مكة عند المصنفين في القديم والحديث .. ولم يزل في الاشتغال حتى اشتهر وارتفع صيته وولع بالتأليف، فصنف أكثر من أربعمائة مؤلف ما بين مطول ومختصر، ولذا كان الشيخ عبد الرحمن الخياري يقول: إنه سيوطي زمانه.

وكان يعقد مجالس الإِملاء في الحديث وغيره فيقرأ ما بين المغرب والعشاء البخاري، وينشئ في كل ليلة خطبة مناسبة لمعنى الحديث الذي يقرأه، وكان يورد كلام الشراح عن حفظه بما يبهر عقول السامعين … ومع ذلك لم تكن لأهالي مكة عناية بالقراءة عليه، فقلما يحضر منهم واحد أو اثنان، وأكثرهم من الجاويين وأهل اليمن، وكان من جملة الملازمين للقراءة عليه الإِمام فضل الطبري والشيخ أحمد الأسدي. وكان قوي الاستحضار حتى للفقه، فربما مر في السوق فيعرض عليه سؤال أو أسئلة فيكتب عليها وهو ماشٍ ..

ثم قال: وشملتني ولله الحمد إجازته لمن سمع شيئًا منه.

--------------------------------------------

(1) توفي سنة 1014 هـ، وهو ابن العلامة شمس الدين محمَّد الشربيني صاحب "مغني المحتاج"، ترجمته في "خلاصة الأثر": 2/ 378.

(2) الحسن بن محمَّد البوريني (963 - 1024 هـ). خلاصة الأثر 2/ 51 - 62.

(3) محمَّد حجازي الواعظ القلقشندي (975 - 1035). خلاصة الأثر 4/ 174.
মুহাম্মদ আশ-শিরবিনী আল-উসমানী আল-শাফিঈ (১) তাঁর থেকে সহীহ বুখারী এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহ 'অনুমতি (إجازة)' বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এবং মিশরের হানাফী মুফতী আল্লামা শেখ আব্দুল্লাহ আন-নাহরাউয়ী, এবং আল্লামা শেখ হাসান আল-বুরিনী আদ-দিমাশকী (২)। আর শেখ আল্লামা হাদিস বিশারদ (محدث) মুহাম্মদ হিজাজী আল-ওয়ায়েজ (৩), ১০২০ হিজরি সনে তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন।

 

‌‌তাঁর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা:

তাঁর সমসাময়িক এবং সাধারণ অনুমতি (إجازة) সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনাকারী শেখ আল্লামা হাসান বিন আলী আল-উজাইমী আল-হানাফী তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: তিনি ছিলেন তাঁর যুগের হাফেজ (حافظ), তাঁর সময়ের ইমাম (إمام), তাফসীর শাস্ত্রে পারদর্শী এবং হাদিস শাস্ত্রের গভীর পণ্ডিত (جهبذ الحديث), আর প্রাচীন ও বর্তমান যুগের গ্রন্থকারদের নিকট তিনি মক্কার উলামাদের গর্ব... তিনি নিরন্তর জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন যতক্ষণ না তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গ্রন্থ রচনার প্রতি তাঁর প্রচণ্ড অনুরাগ ছিল, যার ফলে তিনি বড় ও ছোট মিলিয়ে চারশোরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ কারণেই শেখ আব্দুর রহমান আল-খায়্যারী বলতেন: তিনি তাঁর যুগের সুয়ূতী।

তিনি হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে শ্রুতিলিখনের মজলিস (مجالس الإملاء) আয়োজন করতেন। মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বুখারী পাঠ করতেন এবং প্রতি রাতে পঠিত হাদিসের মর্মার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ একটি ভাষণ পেশ করতেন। তিনি ব্যাখ্যাকারদের আলোচনা নিজ মুখস্থ থেকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যা শ্রোতাদের জ্ঞানকে অভিভূত করে দিত … তা সত্ত্বেও মক্কাবাসীদের তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না, তাদের মধ্যে থেকে খুব কমই একজন বা দুজন উপস্থিত হতেন। উপস্থিতদের অধিকাংশ ছিলেন জাভা ও ইয়েমেনের অধিবাসী। তাঁর নিকট নিয়মিত পাঠ গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইমাম ফজল আত-তাবারী এবং শেখ আহমদ আল-আসাদী। ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও তাঁর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল, এমনকি তিনি যখন বাজার দিয়ে যেতেন, তখন তাঁকে কোনো প্রশ্ন বা প্রশ্নাবলী করা হলে তিনি হাঁটা অবস্থাতেই সেগুলোর উত্তর লিখে দিতেন...

এরপর তিনি বলেন: আল্লাহর শোকর যে, তাঁর থেকে কোনো কিছু শ্রবণকারীদের জন্য প্রদত্ত তাঁর অনুমতি (إجازة) আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।

--------------------------------------------

(১) তিনি ১০১৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি 'মুগনি আল-মুহতাজ' গ্রন্থের লেখক আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ আশ-শিরবিনীর পুত্র। তাঁর জীবনী 'খুলাসাত আল-আসার' গ্রন্থের ২/৩৭৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(২) আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বুরিনী (৯৬৩ - ১০২৪ হিজরি)। খুলাসাত আল-আসার ২/৫১ - ৬২।

(৩) মুহাম্মদ হিজাজী আল-ওয়ায়েজ আল-কালকাশান্দি (৯৭৫ - ১০৩৫ হিজরি)। খুলাসাত আল-আসার ৪/১৭৪।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم قال رحمه الله: واتفق له ختم البخاري أو قرأ مجلس الختم منه في باطن الكعبة لما انهدمت في سنة [1039 هـ] (1)، فقام الشيخ محمَّد الشيبي وأعانه جمع من معاصريه ليمنعه الشريف، فما تم لهم، ولم يزل على كمال في الاشتغال بالعلم تدريسًا وتأليفًا حتى توفي إلى رحمة الله تعالى في سنة ثمان وخمسين بعد الألف ودفن بالمعلاة في مقبرة آبائه عند قبة السيدة خديجة الكبرى رضي الله عنها. انتهى كلام الشيخ حسن عجيمي، وهو مفيد في الباب ويغني عن غيره من أقوال غيره من المؤرخين.

 

‌‌مصنفاته (2):

تقدم في كلام العجيمي أن مصنفات الإِمام ابن علان جاوزت الأربعمائة مصنف، وإذا أردنا أن نسردها ونعددها لطال بنا الكلام، ولكن سأورد أهمها وأشهرها، ثم أخصص بالذكر منها ما صنفه في خصوص البيت الحرام وما ألفه عن هذه الحادثة بالذات …

فمن مؤلفاته الشهيرة والمتداولة:

1 - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين: شرح على الكتاب المعروف للإِمام النووي، مطبوع ومتداول في 4 مجلدات.

2 - الفتوحات الربانية على الأذكار النواوية: شرح على كتاب الأذكار الشهير للإِمام النووي، مطبوع في 4 مجلدات هو الآخر.

3 - التلطف شرح التعرف في الأصلين والتصوف: والمتن للشيخ الإِمام

--------------------------------------------

(1) بياض بالأصل.

(2) لمعرفة مصنفات الإمام الشيخ محمَّد علي بن علان، ينظر: التاريخ والمؤرخون، للهيلة: 316 - 330، وذكر أنه استفاد من مقدمة الأخ الباحث خالد الخالدي لتحقيق كتاب "إنباء المؤيد الجليل مراد"، للمصنف، وأنه أحصى مصنفاته فبلغت 91 مصنفًا بين كتاب ورسالة، وذكر مواضع نسخها في مكتبات العالم.
এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: তাঁর জন্য সহীহ বুখারী সমাপ্তকরণ (ختم) করার অথবা এর সমাপ্তি মজলিসে পাঠ করার সুযোগ হয়েছিল কাবার অভ্যন্তরে, যখন সেটি [১০৩৯ হিজরী] সনে (১) ধসে পড়েছিল। তখন শায়খ মুহাম্মদ আশ-শাইবি দণ্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সমসাময়ীক একদল ব্যক্তি তাঁকে সাহায্য করলেন যেন শরিফ (মক্কার শাসক) তাঁকে বাধা দেন, কিন্তু তারা সফল হননি। তিনি পাঠদান (تدريس) এবং গ্রন্থ রচনা (تأليف) করার মাধ্যমে ইলমি ব্যস্ততায় পূর্ণরূপে নিমগ্ন ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি ১০৫৮ হিজরী সনে মহান আল্লাহর রহমতের দিকে চলে যান এবং তাঁকে আল-মা’লাতে তাঁর পিতৃপুরুষদের কবরস্থানে সায়্যিদা খাদিজাতুল কুবরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গম্বুজের নিকটে দাফন করা হয়। শায়খ হাসান উজাইমির কথা এখানেই সমাপ্ত হলো, যা এই বিষয়ে (الباب) অত্যন্ত উপকারী এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকদের বক্তব্যের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি (২):

উজাইমির বক্তব্যে পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ইমাম ইবনে আল্লানের রচনাবলি (مصنفات) চারশত গ্রন্থ অতিক্রম করেছে। যদি আমরা সেগুলোর তালিকা করতে চাই এবং গণনা করতে চাই, তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে, তবে আমি সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধগুলো উল্লেখ করব, অতঃপর বিশেষভাবে সেই রচনাগুলো উল্লেখ করব যা তিনি বিশেষত বাইতুল্লাহিল হারাম সম্পর্কে এবং সুনির্দিষ্টভাবে এই ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেন …

তাঁর প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - দালিলুল ফালিহীন লি তুরুকি রিয়াদিস সালিহীন: এটি ইমাম নববী রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), যা ৪ খণ্ডে মুদ্রিত ও প্রচলিত।

২ - আল-ফুতুহাদুর রাব্বানিয়্যাহ আলাল আযকারিন নাউয়াউইয়্যাহ: এটি ইমাম নববীর প্রসিদ্ধ 'কিতাবুল আযকার'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), এটিও ৪ খণ্ডে মুদ্রিত।

৩ - আত-তালাত্তুফ শারহুত তাআররুফ ফিল আসলানি ওয়াত তাসাউউফ: যার মূল পাঠ (متن) শায়খ ইমামের...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান (بياض) ছিল।

(২) ইমাম শায়খ মুহাম্মদ আলী ইবনে আল্লানের রচনাবলি জানতে দেখুন: আল-হাইলা রচিত ‘আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররিখুন’: ৩১৬ - ৩৩০। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ইবনে আল্লান রচিত ‘ইনবাউল মুয়াইয়্যাদ আল-জলিল মুরাদ’ গ্রন্থের সম্পাদনা (تحقيق) করার ক্ষেত্রে গবেষক ভাই খালিদ আল-খালিদির ভূমিকা থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তিনি তাঁর রচনাবলি গণনা করে বই ও পুস্তিকা (رسالة) মিলিয়ে ৯১টি নির্ধারণ করেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে সেগুলোর পাণ্ডুলিপির অবস্থান উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১১)
الفقيه ابن حجر الهيتمي المكي، طبع بالمطبعة الماجدية بمكة.

هذه أشهر مصنفاته، وقد انتشرت لا سيما الأولان منها وتداولها طلاب العلم في أرجاء العالم الإِسلامي.

وعدد الدكتور الهيلة 22 كتابًا له في غير علم التاريخ … منها:

4 - بدائع المعاني في بيان عقيدة الشيباني: منه نسخة بمكتبة الأوقاف، بغداد، رقم 4811/ 2.

5 - حدائق الألباب في علم قواعد الإِعراب: يوجد بالمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة، رقم (100) مجاميع.

6 - العقد الفريد في تحقيق التوحيد: منه نسخة بمكتبة المتحف الوطني - جاكرتا أندونيسيا، رقم (DCLI).

7 - المقرب في معرفة ما في القرآن من المعرب: نسخة بالمحمودية بالمدينة المنورة، (100) مجاميع.

8 - مفتاح البلاد في فضائل الغزو والجهاد: نسخة بمكتبة برلين (4091).

ثم عدد الهيلة مصنفاته في التاريخ وجعلها خمسة أقسام (1):

(أ) في السيرة النبوية: بلغت سبعة مؤلفات.

(ب) في تاريخ مكة المكرمة: بلغت 21 مؤلفًا، منها عشرة مؤلفات خص بها حادثة السيل الذي هدم الكعبة الشريفة في عهد السلطان مراد خان، وسيأتي تفصيلها.

(ج) في تاريخ آل عثمان: 3 مؤلفات.

(ع) في التراجم عامة: 5 مؤلفات.

(هـ) موضوعات أخرى: 3 مؤلفات

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 319، 330.
ফকিহ ইবনে হাজার আল-হায়তামি আল-মাক্কি, মক্কার আল-মাতবাআহ আল-মাজিদিয়াহ থেকে মুদ্রিত।

এগুলো তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রচনাবলি, বিশেষ করে প্রথম দুটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বের সকল প্রান্তের ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে এগুলো প্রচলিত ও পঠিত।

ডক্টর আল-হাইলা ইতিহাস শাস্ত্র ব্যতীত তাঁর অন্য আরও ২২টি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন … সেগুলোর মধ্য থেকে:

৪ - বাদায়েউল মাআনি ফি বয়ানি আক্বিদাতুশ শাইবানি: এর একটি পাণ্ডুলিপি বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, নম্বর ৪৮১১/ ২।

৫ - হাদায়েকুল আলবাব ফি ইলমি কাওয়াইদিল ইরব: এটি মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়াহ লাইব্রেরিতে রয়েছে, নম্বর (১০০) মাজামিউ।

৬ - আল-ইকদ আল-ফারিদ ফি তাহকিকিত তাওহিদ: এর একটি পাণ্ডুলিপি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার জাতীয় জাদুঘর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, নম্বর (DCLI)।

৭ - আল-মুকাররাব ফি মা’রিফাতি মা ফিল কুরআনি মিনাল মু’রাব: মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়াহ লাইব্রেরিতে একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, (১০০) মাজামিউ।

৮ - মিফতাহুল বিলাদ ফি ফাদাইলিিল গাজউ ওয়াল জিহাদ: বার্লিন লাইব্রেরিতে একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে (৪০৯১)।

এরপর আল-হাইলা ইতিহাস বিষয়ক তাঁর রচনাবলি গণনা করেছেন এবং সেগুলোকে পাঁচ ভাগে বিন্যস্ত করেছেন (১):

(ক) সিরাত (সীরাতুন্নবী) প্রসঙ্গে: এখানে সাতটি গ্রন্থ রয়েছে।

(খ) মক্কা মুকাররামার ইতিহাসে: ২১টি গ্রন্থ, যার মধ্যে দশটি গ্রন্থ উৎসর্গ করা হয়েছে সুলতান মুরাদ খানের শাসনামলের সেই প্লাবনের ঘটনার জন্য যা পবিত্র কাবা ঘর ধ্বংস করেছিল, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

(গ) উসমানীয় বংশের ইতিহাসে: ৩টি গ্রন্থ।

(ঘ) সাধারণ জীবনীগ্রন্থ (تراجم) প্রসঙ্গে: ৫টি গ্রন্থ।

(ঙ) অন্যান্য বিষয়ে: ৩টি গ্রন্থ

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩১৯, ৩৩০।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১২)
مصنفات ابن علان في حادث السيل الذي هدم البيت الحرام عام 1039 هـ:

كان ذلك حدثًا هامًّا وتاريخيًّا يستحق التأليف فيه؛ لتعلقه بأقدس المواطن الشريفة التي تمس أهم رموز الدين الإِسلامي، وهو البيت الحرام {أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ}، والذي يتجه إليه المسلمون في أنحاء العالم الإِسلامي كل يوم خمس مرات في صلواتهم المفروضة فضلًا عن غيرها …

فقد راع ذلك الأمر الشيخ محمَّد علي بن علان وغيره من علماء الحرمين وعلماء مصر وإسطنبول، لا سيما بعد رجوع الخليفة العثماني وولاته على الحرمين إلى العلماء لمشاورتهم في كيفية إعادة بناء البيت الحرام وطريقة العمل في ذلك، وكثر السؤال عن حكم ذلك العمل ومن الذي يقوم به، هل هو الخليفة أم الوالي … إلى غير ذلك من الأحكام المتعلقة بالموضوع وجوانبه.

فكان أن صنف ابن علان عشر رسائل تناول فيها هذا الموضوع من جوانبه كلها، وهذه الرسالة واحدة منها، أما بقيتها فهي:

1 - إعلام سائر الأنام بقصة السيل الذي سقط منه بيت الله الحرام: ذكره المصنف في عدد من كتبه الأخرى، منها "نشر الألوية" -هذه الرسالة- و"إنباء المؤيد" وغيرها، وهو المسمى بالتاريخ الكبير، وقال: إنه استوفى فيه جميع عمارات الكعبة الإِحدى عشر.

منه نسخة خطية بمكتبة برلين (3080)، ولكنها نسبت لغيره (1).

2 - إنباء المؤيد الجليل مراد ببناء بيت الوهاب الجواد: وقد فصل فيه الحوادث اليومية التي واكبت بناء الكعبة الشريفة وعمارتها، وأرخها يومًا يومًا. وهو ملخص من كتابه السابق كما ذكر في ديباجته.

وقد تابع المصنف العمل في عمارة الكعبة الشريفة متابعة دقيقة، بل إنه ساعد

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 321، وذكر أنها نسبت للعلامة تقي الدين بن زكريا الأموي العثماني الماتريدي الحنفي المتوفى سنة 1050 هـ.
১০৩৯ হিজরি সনে বাইতুল্লাহিল হারামকে ধসিয়ে দেওয়া বন্যার ঘটনার ওপর ইবনে আলানের রচনাবলি:

এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনা, যা গ্রন্থ রচনার দাবি রাখে; কারণ এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এবং পবিত্রতম স্থান—বাইতুল্লাহিল হারামের সাথে সম্পৃক্ত। এটি সেই ঘর, যাকে মানুষের জন্য নির্মিত প্রথম ঘর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলিমগণ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজসহ অন্যান্য সালাতেও এই ঘরের দিকেই অভিমুখী হন …

শাইখ মুহাম্মাদ আলী ইবনে আলান এবং হারামাইন শরিফাইন, মিসর ও ইস্তাম্বুলের অন্যান্য আলেমগণ এই বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষত যখন উসমানীয় খলিফা এবং হারামাইনের ওয়ালিগণ বাইতুল্লাহিল হারামের পুনর্নির্মাণের পদ্ধতি ও এর নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলেমদের পরামর্শ তলব করেন। তখন এই কাজের বিধান (حكم) এবং তা কে সম্পাদন করবেন—খলিফা নাকি ওয়ালি—সে বিষয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এ ছাড়া এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধান (أحكام) ও দিকগুলো নিয়েও অনেক আলোচনা হয়।

এমতাবস্থায় ইবনে আলান এই বিষয়ের ওপর দশটি রিসালাহ বা গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি এর সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। বর্তমান এই রিসালাটি তারই একটি। অবশিষ্ট গ্রন্থগুলো হলো:

১ - ইলামুস সাইরিল আনাম বি কিসসাতিস সাইলিিল্লাজি সাকাতা মিনহু বাইতুল্লাহিল হারাম: লেখক তাঁর আরও বেশ কিছু গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে "নাশরিউল আলউইয়াহ" (বর্তমান রিসালাটি) এবং "ইনবাউল মুআইয়্যাদ" অন্যতম। এটি "তারিখে কাবির" বা বড় ইতিহাস নামেও পরিচিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এতে তিনি কাবার এগারোটি পুনর্নির্মাণের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন।

বার্লিন লাইব্রেরিতে (৩০৮০) এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, তবে এটি অন্য কারো প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে (১)।

২ - ইনবাউল মুআইয়্যাদিল জালিল মুরাদ বি বিনায়ি বাইতিল ওয়াহহাবিল জাওয়াদ: এতে তিনি কাবার নির্মাণ ও সংস্কার কাজের প্রাত্যহিক ঘটনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং প্রতিদিনের বিবরণ তারিখসহ লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থের একটি সংক্ষেপিত রূপ, যা তিনি এর মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন।

গ্রন্থকার কাবার নির্মাণ কাজের অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করেছেন, এমনকি তিনি এতে সহায়তাও করেছেন

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩২১; সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি আল্লামা তাকিউদ্দীন বিন জাকারিয়া আল-উমাবী আল-উসমানী আল-মাতুরিদী আল-হানাফি (মৃত্যু: ১০৫০ হিজরি) এর প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في بناء البيت الشريف، وكان يحمل النورة والحجارة على كاهله معاونةً للبنائين، وكان كلما وصل العمال إلى جهة من جهات الكعبة صنف لهم رسالة تتعلق بذلك يرشدهم فيها للأصلح، وكان كلما اختلف مع النظار على البناء في أمر ما صنف رسالة يوضح لهم وجهة نظره الشرعية.

وذكر د. الحبيب الهيلة أن للكتاب 4 نسخ خطية، وأنه حقق بجامعة الملك سعود (الرياض سابقًا) على يد الباحث خالد عزام الخالدي ونال به رسالة الماجستير سنة 1406 هـ، واعتمد على تلك النسخ الأربع (1).

3 - نشر ألوية التشريف بالإِعلام والتعريف بمن له ولاية عمارة ما سقط من البيت الشريف: وهو هذا الذي نقدم له.

ورومًا للاختصار فإنا نذكر سبب تأليفه في هذا الموضع ثم نرجئ الحديث عن النسخة المعتمدة وطريقة العمل فيها.

قال العلامة المحبي في خلاصة الأثر 4/ 188: سببه أن البيت العتيق لما سقط سأل الشريف مسعود -صاحب مكة إذ ذاك- العلماء عن حكم عمارته، فأجابوا بأنه فرض كفاية على سائر المسلمين، ولشريف مكة تعاطي ذلك، وأنه يعمره ولو أنه من القناديل التي لم يعلم أنها عينت من واقفها لعين العمارة، ووافقهم صاحب الترجمة أولًا، ثم ظهر له أن هذا العمل لا يتوجه إلَّا إلى السلطان الأعظم، وتوقف معظم العلماء عن موافقته فألف المؤلف المذكور، ثم بلغه توقفهم عن دليله في ذلك، فألف مؤلفًا آخر سماه: "البيان والإِعلام في توجيه فرضية عمارة الساقط من البيت لسلطان الإِسلام". انتهى.

4 - البيان والإِعلام في توجيه عمارة الساقط من البيت لسلطان الإِسلام: وتقدم سبب تأليفه، وذكره أيضًا المصنف في "إنباء المؤيد الجليل" والشلّي في عقد

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 321 - 324.
পবিত্র গৃহ (বায়তুল্লাহ) নির্মাণের সময় তিনি নির্মাণকর্মীদের সাহায্য করার জন্য নিজের কাঁধে করে চুন ও পাথর বহন করতেন। কাবার বিভিন্ন অংশে কাজ করার সময় কর্মীরা যখনই কোনো পর্যায়ে পৌঁছাতেন, তিনি তাদের জন্য সে বিষয়ক একটি পুস্তিকা (رسالة) রচনা করতেন, যাতে তিনি তাদের অধিকতর সঠিক ও কল্যাণকর পথের দিকনির্দেশনা দিতেন। আর নির্মাণের কোনো বিষয়ে তত্ত্বাবধায়কদের সাথে যখনই তাঁর মতপার্থক্য হতো, তিনি তাঁর শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করার জন্য একটি পুস্তিকা (رسالة) রচনা করতেন।

ড. হাবিব আল-হাইলা উল্লেখ করেছেন যে, এই গ্রন্থটির ৪টি পাণ্ডুলিপি (نسخ خطية) বিদ্যমান রয়েছে এবং এটি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন রিয়াদ) গবেষক খালিদ আজম আল-খালিদির মাধ্যমে সম্পাদিত (حقق) হয়েছে, যার জন্য তিনি ১৪০৬ হিজরি সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি উক্ত ৪টি পাণ্ডুলিপির (نسخ خطية) ওপরই নির্ভর করেছেন (১)।

৩ - নশরু আলবিয়াতিত তাশরিফ বিল ই'লামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু বিলায়াতু ইমারতি মা সাকাত্বা মিনাল বাইতিশ শারিফ: এটি সেই গ্রন্থ যা আমরা এখন উপস্থাপন করছি।

সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে গ্রন্থটি রচনার কারণ উল্লেখ করছি এবং পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি (النسخة المعتمدة) ও কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব।

আল্লামা মুহিব্বি 'খুলাসাতুল আসার' গ্রন্থে (৪/১৮৮) বলেছেন: এর কারণ হলো, যখন প্রাচীন গৃহের (কাবা শরিফ) কোনো অংশ ধসে পড়ে, তখন মক্কার তৎকালীন শাসক শরিফ মাসউদ উলামায়ে কেরামের কাছে এর সংস্কারের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁরা উত্তর দেন যে, এটি সকল মুসলমানের ওপর ফরজে কেফায়া (فرض كفاية) এবং মক্কার শরিফের জন্য এটি সম্পাদন করা জায়েজ। এমনকি তিনি যদি এমন প্রদীপগুলো (বা প্রদীপের তেল) থেকেও সংস্কার কাজ করেন যেগুলোর দাতা (ওয়াকেফ) বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করেননি, তবুও তা বৈধ হবে। জীবনীকার (صاحب الترجمة) প্রথমে তাঁদের সাথে একমত হয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই দায়িত্বটি কেবল সুলতানে আজমের (মহান সুলতান) দিকেই ন্যস্ত হওয়া উচিত। অধিকাংশ আলেম তাঁর সাথে একমত হতে দ্বিধা প্রকাশ করলে লেখক উল্লিখিত গ্রন্থটি রচনা করেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তাঁরা এ বিষয়ে তাঁর দলিলের ব্যাপারে সংশয়ে আছেন, তখন তিনি আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম: 'আল-বায়ান ওয়াল ই'লাম ফি তাওজিহি ফারদিয়াতি ইমারতিস সাকিতি মিনাল বাইতি লিসুলতানিল ইসলাম'। সমাপ্ত।

৪ - আল-বায়ান ওয়াল ই'লাম ফি তাওজিহি ইমারতিস সাকিতি মিনাল বাইতি লিসুলতানিল ইসলাম: এর রচনার কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থকার নিজেও 'ইনবাউল মুয়াইয়িদ আল-জলিল' গ্রন্থে এবং আল-শালি 'আকদ' গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররিখুন: ৩২১ - ৩২৪।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجواهر. منه نسخة خطية بالمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة مجموع (1645) في 3 ورقات (1).

5 - رسالة في منع وضع الستائر لوجه الكعبة كلها بقدر سمكها: ذكرها بنفسه في "إنباء المؤيد الجليل" ص 79، وقال: إنه بيَّن فيها وجه منع البنائين في عمارة الكعبة من سترها تمامًا عند قيامهم بعملهم، مما يؤدي إلى إخفائها وبطلان صلاة كثير من الناس (2).

6 - فتح الكريم الفتاح في حكم ما سد به البيت من حصر وأعواد وألواح: ذكره المؤلف في "إنباء المؤيد الجليل مراد" ص 8، 9، وقال عنه: بينت فيه عمل المهندسين والصناع أتم بيان، وعدد الأعواد وأصحابها، والحصر المسدود بها باقي العمارة وأصحابها. وذكره الشلِّي في عقد الجواهر، والبغدادي في إيضاح المكنون 2/ 170 (3).

7 - فتح القدير في الأعمال التي يحتاج إليها من حصل له بالملك على البيت ولاية التعمير: رسالة في الأعمال التي يحتاجها النائب في عمارة البيت. ذكرها المؤلف في إنباء المؤيد الجليل مراد: ص 12، والشلِّي في الجواهر، والبغدادي في الإِيضاح.

8 - إيضاح تلخيص بديع المعاني في بيان منع هدم الجدار اليماني: رسالة ذكرها المؤلف في "إنباء المؤيد الجليل" ص 26، وقال: إنه كتبها حين أراد بعض البنائين في العمارة هدم الجدار اليماني وإعادة بنائه. وكان يرى عدم هدمه؛ لعدم وجود ضرورة لذلك، فوضع هذه الرسالة ونسخ منها ثلاث نسخ إحداها موجهة إلى قاضي مكة، والأخرى إلى ناظر عمارة الحرم، والثالثة إلى شيخ الحرم، وكان تأليفها

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 324.

(2) السابق: 326.

(3) السابق: 327.
আল-জাওয়াহির। মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবা মাহমুদ্দিয়াতে এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) রয়েছে, যার সংগ্রহ নম্বর (১৬৪৫) এবং এটি ৩টি পত্রে সম্বলিত (১)।

৫ - রিসালাহ ফি মান'ই ওয়াদয়িস সিতাইরি লি-ওয়াজহিল কাবাতি কুল্লিহা বি-কাদারি সামকিহা (কাবার সম্মুখভাগে এর পুরুত্ব অনুযায়ী সম্পূর্ণ পর্দা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক পুস্তিকা): লেখক নিজেই এটি 'ইম্বাুল মুয়ায়্যাদ আল-জলিল' গ্রন্থের ৭৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এতে তিনি কাবার সংস্কার কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রিদের কাজ করার সময় কাবাকে সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখা থেকে বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন; কারণ এর ফলে কাবা দৃশ্যপট থেকে আড়ালে চলে যায় এবং অনেক মানুষের সালাত বাতিল (بطلان) হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় (২)।

৬ - ফাতহুল কারীম আল-ফাত্তাহ ফি হুকমি মা সাদ্দা বিহি আল-বাইতু মিন হাসরিন ওয়া আ'ওয়াদিন ওয়া আলওয়াহ (কাবা ঘরের সংস্কারে ব্যবহৃত মাদুর, কাঠ ও তক্তার বিধান (حكم) বিষয়ক বিজয়): লেখক এটি 'ইম্বাুল মুয়ায়্যাদ আল-জলিল মুরাদ'-এর ৮ ও ৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন এবং এ সম্পর্কে বলেছেন: এতে আমি প্রকৌশলী ও কারিগরদের কার্যাবলি, কাঠের সংখ্যা ও সেগুলোর মালিকদের বিবরণ এবং অবশিষ্ট নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মাদুর ও তাদের মালিকদের পরিচয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। আল-শিল্লি 'ইকদুল জাওয়াহির' গ্রন্থে এবং আল-বাগদাদি 'ইদাহুল মাকনুন' ২/১৭০ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন (৩)।

৭ - ফাতহুল কাদির ফিল আ'মালিল্লাতি ইয়াহতাযু ইলাইহা মান হাসালা লাহু বিল মিলকি আলাল বাইতি বিলায়াতুত তা'মীর (কাবা ঘরের মালিকানা সূত্রে সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজয়): এটি কাবার সংস্কার কাজে নিয়োজিত প্রতিনিধির প্রয়োজনীয় কার্যাবলি সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা। লেখক এটি 'ইম্বাুল মুয়ায়্যাদ আল-জলিল মুরাদ'-এর ১২ পৃষ্ঠায়, আল-শিল্লি 'জাওয়াহির' গ্রন্থে এবং আল-বাগদাদি 'আল-ইদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

৮ - ইদাহু তালখিসি বাদিউল মা'আনি ফি বায়ানি মান'ই হাদিমি আল-জিদার আল-ইয়ামানি (রুকন-ই-ইয়ামানি প্রাচীর ভাঙার নিষেধাজ্ঞার বর্ণনায় বাদিউল মা'আনি সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যা): এটি একটি পুস্তিকা যা লেখক 'ইম্বাুল মুয়ায়্যাদ আল-জলিল'-এর ২৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: তিনি এটি তখন লিখেছিলেন যখন কাবার সংস্কার কাজে নিয়োজিত কিছু রাজমিস্ত্রি রুকন-ই-ইয়ামানি প্রাচীর ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করতে চেয়েছিল। তিনি এটি না ভাঙার পক্ষপাতী ছিলেন; কারণ এর কোনো আবশ্যকতা ছিল না। তাই তিনি এই পুস্তিকাটি রচনা করেন এবং এর তিনটি অনুলিপি (نسخة) প্রস্তুত করেন। যার একটি মক্কার কাজির (قاضي) প্রতি, অন্যটি হারামের সংস্কার তত্ত্বাবধায়কের প্রতি এবং তৃতীয়টি শায়খুল হারামের প্রতি প্রেরিত হয়েছিল। এটি রচনার সময়কাল ছিল...

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররখুন: ৩২৪।

(২) প্রাগুক্ত: ৩২৬।

(৩) প্রাগুক্ত: ৩২৭।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
في جمادى الأولى سنة 1040 هـ (1).

9 - مؤلف في باب الكعبة: ذكره في "إنباء المؤيد" ص 70، قال: وقد أفردت لباب الكعبة مؤلفًا استوعبت فيه عمارته وبيان تغييراته (2).

10 - المواهب والفتوح بعمارة المقام الإِبراهيمي وباب الكعبة وسقفها والسطوح: ذكره الشلِّي والمحبي، والبغدادي في هدية العارفين 2/ 283، وفي إيضاح المكنون: 1/ 82 (3).

 

‌‌منقبة كبيرة لابن علان رحمه الله:

هذا … ولابن علان شهرة عند المؤرخين بوصفه قارئ لصحيح البخاري في جوف الكعبة، وهذه منقبة جليلة اختص بها، وقد تقدم في كلام العجيمي الإِشارة إلى ذلك، ولما كثر عليه الانتقاد والكلام صنف في المسألة رسالة سماها: "القول الحق والنقل الصحيح بجواز أن يدرس في جوف الكعبة الحديث الصحيح"، وتحدث هو عن تفاصيل ما جرى في هذه المسألة في "إنباء المؤيد الجليل" ص 79، ومن هذا الكتاب نسخة بالمحمودية بالمدينة المنورة (1645) مجموع، في 18 ورقة (4).

وله فيما يتعلق بتاريخ مكة وفضائلها، والتاريخ عمومًا مصنفات أخرى أعرضنا عنها خشية التطويل، ومن أراد معرفتها فعليه بكتاب الدكتور الهيلة المذكور، ومقدمة تحقيق "إنباء المؤيد" للباحث الخالدي.

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 324.

(2) السابق: 328.

(3) السابق: 320.

(4) التاريخ والمؤرخون: ص 328، لم يسبق لأحد من المسلمين أن نال هذه المنقبة الجليلة أو فعل نحو ذلك الفعل، وهو إقراء الجامع الصحيح للإِمام البخاري في جوف الكعبة الشريفة إلَّا لابن علان، وقد كان يفخر بهذا على غيره، حتى أنه قد يصدر ذكرها في بعض مقدمات كتبه كما فعل في التلطف (ص 1) بقوله: "وبعد، فيقول فقير رحمة مولاه، اللائذ به في سره ونجواه، المؤهل بحكمة الله لإقراء صحيح البخاري وختمه بجوف كعبة الله … " إلخ.
১০৪০ হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসে (১)।

৯ - কাবার দরজার বিষয়ে একটি রচনা: এটি 'ইনবাউল মুআইয়্যাদ' গ্রন্থের ৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন: আমি কাবার দরজার বিষয়ে একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছি, যাতে এর নির্মাণশৈলী এবং পরিবর্তনের বর্ণনাসমূহ বিস্তারিতভাবে স্থান পেয়েছে (২)।

১০ - আল-মাওয়াহিব ওয়াল ফুতুহ বি-ইমারাতিল মাকামিল ইব্রাহিমি ওয়া বাবিল কাবাতি ওয়া সাকফিহা ওয়াস সুতুহ: আল-শিল্লি, আল-মুহিব্বি এবং আল-বাগদাদি 'হাদিয়াতুল আরিফিন' ২/২৮৩ এবং 'ইদাহুল মাকনুন' ১/৮২-তে এটি উল্লেখ করেছেন (৩)।

 

‌‌ইবনে আল্লান (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বড় মর্যাদা:

এটি … ঐতিহাসিকদের নিকট ইবনে আল্লান কাবা ঘরের ভেতরে সহিহ বুখারি পাঠকারী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। এটি একটি মহান মর্যাদা যা কেবল তিনিই লাভ করেছেন। আল-উজাইমির বক্তব্যে ইতোপূর্বে এর ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। যখন এ বিষয়ে সমালোচনা ও আলাপ-আলোচনা বৃদ্ধি পায়, তখন তিনি এই মাসআলা সম্পর্কে একটি পুস্তিকা রচনা করেন, যার নামকরণ করেন: "আল-কাউলুল হাক্ক ওয়ান নাকলুস সহিহ বি-জাওয়াযি আন ইউদাররাসা ফি জাওফিল কা'বাতি আল-হাদিসুস সহিহ"। এই বিষয়ে যা ঘটেছিল তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি 'ইনবাউল মুআইয়্যাদ আল-জলিল'-এর ৭৯ পৃষ্ঠায় আলোচনা করেছেন। এই বইটির একটি পাণ্ডুলিপি মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়াহ লাইব্রেরিতে (১৬৪৫) সংকলন আকারে ১৮ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে (৪)।

মক্কার ইতিহাস, এর ফযিলত এবং সাধারণ ইতিহাসের বিষয়ে তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে, যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা এড়িয়ে গিয়েছি। যারা এ সম্পর্কে জানতে চান, তাদের ডক্টর আল-হিলার উল্লিখিত গ্রন্থ এবং গবেষক আল-খালিদি কর্তৃক সম্পাদিত 'ইনবাউল মুআইয়্যাদ'-এর ভূমিকাটি দেখা উচিত।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩২৪।

(২) প্রাগুক্ত: ৩২৮।

(৩) প্রাগুক্ত: ৩২০।

(৪) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: পৃ. ৩২৮। কোনো মুসলিম ইতিপূর্বে এই মহান মর্যাদা লাভ করেননি বা এমন কাজ করেননি, যা হলো কাবা শরিফের ভেতরে ইমাম বুখারির আল-জামি আস-সহিহ পাঠদান করা, যা কেবল ইবনে আল্লানই করেছেন। তিনি এটি নিয়ে অন্যদের নিকট গর্ব করতেন, এমনকি তিনি তাঁর কোনো কোনো বইয়ের ভূমিকায় এর উল্লেখ করতেন। যেমনটি তিনি 'আত-তালাত্তুফ' (পৃ. ১) গ্রন্থে করেছেন এভাবে: "অতঃপর, তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী ও তাঁর নিকট গোপনে ও প্রকাশ্যে আশ্রয়প্রার্থী বান্দা বলছে, যাকে আল্লাহর হিকমত অনুযায়ী কাবার ভেতরে সহিহ বুখারি পাঠদান এবং তা খতম করার যোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে … " ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ذكر بعض من أَرَّخ لهذه الحادثة العظيمة:

وللإِلمام بموضوع الرسالة والإِتيان عليها من جوانبها فإنه من المهم والمفيد معرفة أصداء الحادثة، وذكر من صنف فيها آنذاك غير المصنف، وهم قسمان: قسم أفردوا بعض المسائل بمصنفات مستقلة، وقسم تحدثوا عن الحادثة ضمن مؤلفاتهم التاريخية.

* فممن أفرد مصنفًا في حادثة البناء من معاصري المؤلف ابن علان:

1 - العلامة خالد بن محمَّد الجعفري (ت 1044 هـ) … له رسالة تتعلق ببناء الكعبة نقل عنها ميرداد في نشر النور (المختصر: 186، 187) (1).

2 - العلامة خليفة بن أبي الفرج الزمزمي (ت نحو 1062 هـ) … له رسالة "الدرر المنفية في تاريخ بناء الكعبة الشريفة" (2).

3 - العلامة إبراهيم بن يوسف المهتار الرومي (ت 1071 هـ): له "در النظم في وقوع أركان البيت المعظم" (3).

4 - العلامة الفقيه الشيخ حسن بن عمار بن علي الشرنبلالي (ت 1069 هـ): الفقيه الحنفي مصنف "مراقي الفلاح"، له "إسعاد آل عثمان المكرم ببناء بيت الله المحرم"، ذكره في ذيل كشف الظنون، وله "أعظم القربة في تعظيم الكعبة" هدية: 2/ 338 (4).

5 - العلامة المؤرخ علي بن عبد القادر الطبري (ت 1070 هـ): من تلامذة ابن علان رحمه الله، له في خصوص الموضوع "تحفة الكرام بأخبار عمارة السقف

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون: 308، خلاصة الأثر: 2/ 129.

(2) التاريخ والمؤرخون: 331، خلاصة الأثر: 2/ 132، أعلام: 2/ 312.

(3) التاريخ والمؤرخون: 346، أعلام: 1/ 82.

(4) خلاصة الأثر: 2/ 38، معجم الموضوعات المطروقة للبحَّاثة عبد الله محمَّد الحبشي (الكعبة).
‌‌এই মহান ঘটনার ইতিহাস বর্ণনাকারীদের কয়েকজনের উল্লেখ:

রিসালার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ এবং এর সকল দিক তুলে ধরার জন্য এই ঘটনার প্রতিধ্বনি সম্পর্কে জানা এবং গ্রন্থকার (مصنف) ব্যতীত ওই সময়ে যারা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী। তারা দুই ভাগে বিভক্ত: একদল যারা কিছু নির্দিষ্ট মাসআলা নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ (مصنفات) রচনা করেছেন এবং অপর দল যারা তাদের ঐতিহাসিক রচনাবলির মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

* গ্রন্থকার ইবনে আল্লানের সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এই নির্মাণ সংক্রান্ত ঘটনার ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ (مصنف) রচনা করেছেন, তারা হলেন:

১ - আল্লামা খালিদ বিন মুহাম্মদ আল-জাফরি (মৃ. ১০৪৪ হি.) … কাবা নির্মাণ সংক্রান্ত তার একটি রিসালা (رسالة) রয়েছে, যা থেকে মিরদাদ ‘নাশরাহুন নূর’ (আল-মুখতাসার: ১৮৬, ১৮৭) গ্রন্থে উদ্ধৃতি দিয়েছেন (১)।

২ - আল্লামা খলিফা বিন আবি আল-ফারাজ আজ-জামজামি (মৃ. ১০৬২ হিজরির কাছাকাছি) … তার ‘আদ-দুরারুল মানফিয়্যাহ ফি তারিখি বিনাইল কা’বাতিশ শারিফাহ’ নামক একটি রিসালা (رسالة) রয়েছে (২)।

৩ - আল্লামা ইবরাহিম বিন ইউসুফ আল-মুহতার আর-রুমি (মৃ. ১০৭১ হি.): তার ‘দুররুন নাজম ফি উকুয়ি আরকানিল বাইতিল মুয়াজ্জাম’ নামক গ্রন্থ রয়েছে (৩)।

৪ - আল্লামা ফকিহ (فقيه) শেখ হাসান বিন আম্মার বিন আলি আশ-শুরুনবুলালি (মৃ. ১০৬৯ হি.): তিনি একজন হানাফি ফকিহ (فقيه) এবং ‘মারাকিল ফালাহ’-এর রচয়িতা (مصنف)। তার ‘ইসআদু আলি উসমানাল মুকাররাম বি-বিনায়ি বাইতিল্লাহিল মুহাররাম’ নামক গ্রন্থ রয়েছে, যা ‘জাইলু কাশফিজ জুনুন’-এ উল্লিখিত হয়েছে। এছাড়াও তার ‘আজামুল কুরবাহ ফি তাজিমিল কা’বা’ নামক গ্রন্থ রয়েছে। হাদিয়্যা: ২/৩৩৮ (৪)।

৫ - আল্লামা ঐতিহাসিক (مؤرخ) আলি বিন আব্দুল কাদির আত-তাবারী (মৃ. ১০৭০ হি.): তিনি ইবনে আল্লান—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এর অন্যতম ছাত্র। এই বিশেষ বিষয়ের ওপর তার ‘তুহফাতুল কিরাম বি-আখবারি ইমারাতিল সাকফ’...

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩০৮, খুলাসাতুল আসার: ২/১২৯।

(২) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩৩১, খুলাসাতুল আসার: ২/১৩২, আলাম: ২/৩১২।

(৩) আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন: ৩৪৬, আলাম: ১/৮২।

(৪) খুলাসাতুল আসার: ২/৩৮, মুজামুল মাওদুয়াতিল মাত্রুকাহ লি-বিহসা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-হাবাশি (আল-কা’বা)।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والباب من البيت الحرام" (ذيل الكشف)، وله "الأقوال المعلمة في وقوع الكعبة المعظمة"، وله "شن الغارة على مانع الستارة"، رد بهذا الأخير على شيخه ابن علان في منعه وضع الستارة على الكعبة حال عمارتها (1).

6 - العلامة إبراهيم بن محمَّد بن عيسى الميموني المصري (991 - 1079 هـ): وصنف: "تهنئة أهل الإِسلام بتجديد بيت الله الحرام" منه نسخة بالمكتبة الوطنية بتونس، وطبع مؤخرًا عام 1418 هـ، وصدر عن دار الباز بمكة (2).

7 - العلامة عبد العال … مصري، له "الزلف والقربة في تعمير ما سقط من الكعبة"، ذكره صاحب هدية العارفين: 1/ 245 (3).

* وأما الذين تحدثوا عن هذه الحادثة ضمن مصنفاتهم في تاريخ مكة عمومًا، أو في مصنفات أخرى؛ فمن المعاصرين للحادثة:

1 - العلامة علي بن عبد القادر الطبري (ت 1070 هـ) تقدم ذكره، في كتابه "الأرج المسكي في التاريخ المكي" (4).

2 - العلامة محمَّد بن أحمد الأسدي المكي (ت 1066 هـ) في كتابه "إخبار الكرام بأخبار بيت الله الحرام" (5)، وهو والطبري السابق من تلامذة ابن علان.

3 - العلامة علي بن برهان الدين الحلبي صاحب السيرة الحلبية (ت 1044 هـ) ضمن المجلد الأول من سيرته المذكورة.

4 - العلامة المتفنن المؤرخ الفلكي الأديب السيد محمَّد بن أبي بكر الشلِّي باعلوي الحسيني الحضرمي ثم المكي (ت 1093 هـ) في كتابيه: "الجواهر والدرر"

--------------------------------------------

(1) التاريخ والمؤرخون في مكة: 343، خلاصة الأثر: 2/ 161، أعلام 4/ 301.

(2) خلاصة الأثر: 1/ 45، الأعلام: 1/ 67، معجم الموضوعات المطروقة (الكعبة).

(3) معجم الموضوعات المطروقة (الكعبة).

(4) وهو مطبوع.

(5) صدر عن دار الصحوة عام 1405 هـ، ص: 148 - 157.
এবং বায়তুল হারামের দরজা" (যাইলুল কাশফ), এবং তাঁর রয়েছে "আল-আকওয়ালুল মুআল্লামাহ ফি উকুয়িল কাবাতিল মুয়ায্যামাহ", এবং তাঁর রয়েছে "শাননুল গারা আলা মানিয়িস সিতারা"; এই শেষোক্ত গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে আল্লানের কাবার সংস্কার কাজ চলাকালীন গিলাফ লাগানোর নিষেধাজ্ঞার জবাব দিয়েছেন (১)।

৬ - আল্লামা ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-মাইমুনি আল-মিসরি (৯৯১ - ১০৭৯ হিজরি): তিনি রচনা করেছেন: "তাহনিয়াহ আহলিল ইসলাম বি-তাজদিদি বাইতিল্লাহিল হারাম"; তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এটি সম্প্রতি ১৪১৮ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে এবং মক্কার দারুল বায থেকে প্রকাশিত হয়েছে (২)।

৭ - আল্লামা আবদুল আল... মিসরি, তাঁর রয়েছে "আয-যুলফ ওয়াল কুরবাহ ফি তামিরি মা সাকাতা মিনাল কাবা"; 'হাদিয়াতুল আরিফিন'-এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন: ১/২৪৫ (৩)।

* আর যারা সাধারণভাবে মক্কার ইতিহাসের ওপর তাদের রচিত গ্রন্থে অথবা অন্যান্য রচনায় এই ঘটনার কথা আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে ঘটনার সমসাময়িক ব্যক্তিরা হলেন:

১ - আল্লামা আলি বিন আবদুল কাদির আত-তাবারী (ওফাত ১০৭০ হিজরি), যাঁর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর "আল-আরজুল মিসকি ফিত তারিখিল মাক্কি" গ্রন্থে (৪)।

২ - আল্লামা মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসাদি আল-মাক্কি (ওফাত ১০৬৬ হিজরি) তাঁর "ইখবারুল কিরাম বি-আখবারি বাইতিল্লাহিল হারাম" গ্রন্থে (৫)। তিনি এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত তাবারী উভয়ই ইবনে আল্লানের ছাত্র ছিলেন।

৩ - আল্লামা আলি বিন বুরহানুদ্দিন আল-হালাবি, যিনি 'সীরাতে হালাবিয়্যাহ'-এর লেখক (ওফাত ১০৪৪ হিজরি); তাঁর উক্ত সীরাত গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

৪ - বহুবিদ্যায় পারদর্শী আল্লামা, ঐতিহাসিক, জ্যোতির্বিদ ও সাহিত্যিক আস-সায়্যিদ মুহাম্মদ বিন আবি বকর আশ-শিল্লি বা-আলাউয়ি আল-হুসাইনি আল-হাদরামি অতঃপর আল-মাক্কি (ওফাত ১০৯৩ হিজরি) তাঁর দুটি গ্রন্থে: "আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার"

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররখুন ফি মাক্কাহ: ৩৪৩, খুলাসাতুল আসার: ২/১৬১, আলাম: ৪/৩০১।

(২) খুলাসাতুল আসার: ১/৪৫, আল-আলাম: ১/৬৭, মুজামুল মাওদুয়াতিল মাত্রুকাহ (আল-কাবা)।

(৩) মুজামুল মাওদুয়াতিল মাত্রুকাহ (আল-কাবা)।

(৪) এটি মুদ্রিত।

(৫) ১৪০৫ হিজরি সালে দারুস সাহওয়াহ থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা: ১৪৮ - ১৫৭।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
في حوادث عام 1039 هـ و"النهر المورود في أخبار ملوك مكة القتاديين أهل النجدة والجود" وهو لدي مصور عن نسخة نادرة، يسر الله تحقيقه وإخراجه.

5 - السيد العلامة الأديب عبد الله بن جعفر العلوي الحسيني الحضرمي ثم المكي (ت 1166 هـ) في رسالته "تذكرة المتذكر بما جرى من السيل المستبحر"، لدي مصورة عن نسخة بخط مصنفه محفوظة بالتيمورية برقم (1257).

6 - العلامة المؤرخ علي بن تاج الدين السنجاري المكي (ت 1125 هـ) في كتابه النفيس المفيد: "منائح الكرم في أخبار مكة والبيت وولاة الحرم" (1).

* وكل من أتى من بعدهم فإنما استقى من هذه المصنفات كالإِمام أحمد زيني دحلان في تاريخ أمراء البلد الحرام، والعلامة حسين باسلامة في تاريخ الكعبة المشرفة، وشيخنا العلامة المتفنن عبد الفتاح رواه في كتابه عن أمراء مكة، وغيرهم.

ملاحظة: المؤرخون الذين عاصروا حادثة سقوط الكعبة الشريفة وصنفوا فيها كان معظمهم مكيين، إلَّا أن هناك عددًا منهم من علماء مصر، وإنما صنفوا في الحادثة مع بعدهم عنها لأن والي مصر الوزير محمَّد باشا سبط الوزير رستم باشا (ت 1056 هـ) كان جمع العلماء بعد أن وصلته فتاوى علماء الحجاز بشأن عمارة ما سقط من البيت، فاجتمع لديه: العلامة حسن الشرنبلالي، والعلامة الحلبي صاحب السيرة، والعلامة إبراهيم الميموني وغيرهم … وقد تقدم ذكر مصنفاتهم وغيرهم آنفًا (2) …

* * *

--------------------------------------------

(1) صدر عن جامعة أم القرى بمكة المكرمة في 6 مجلدات، بتحقيق د. ماجدة زكريا.

(2) وكان اجتماعهم في 1039 هـ، كما ذكر الميموني الذي أنهى تصنيف كتابه في ذي الحجة 1039 هـ، بينما في المطبوع من السيرة الحلبية 1/ 279: أنه في سنة 1043 هـ، ولعله خطأ مطبعي أو من الناسخ، وهذا التاريخ غير صحيح.
১০৩৯ হিজরির ঘটনাবলী এবং "আন-নাহরুল মাওরুদে ফী আখবারি মুলুকি মাক্কাতা আল-কাতাদিয়্যীন আহলুন নাজদাতি ওয়াল জুদ" (মক্কার কাতাদী বাদশাহদের সংবাদে প্রবহমান নদী, যারা ছিলেন বীরত্ব ও বদান্যতার অধিকারী); এটি আমার নিকট একটি বিরল পাণ্ডুলিপির অনুলিপি হিসেবে রয়েছে, আল্লাহ এর গবেষণামূলক সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ সহজ করে দিন।

৫ - সাইয়্যেদ আল্লামা সাহিত্যিক আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আল-আলাউয়ী আল-হুসাইনী আল-হাদরামী অতঃপর আল-মাক্কী (মৃত্যু ১১৬৬ হি.), তাঁর "তাযকিরাতুল মুতাযাক্কির বিমা জারা মিনাস সায়লিল মুস্তাবহির" (প্রবল বন্যায় যা ঘটেছিল তার স্মারক) নামক রিসালায়; এটি আমার নিকট গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি হিসেবে রয়েছে যা তাইমুরিয়া লাইব্রেরিতে ১২৫৭ নম্বর ক্রমিকে সংরক্ষিত।

৬ - আল্লামা ঐতিহাসিক আলী ইবনে তাজউদ্দীন আস-সিনজারী আল-মাক্কী (মৃত্যু ১১২৫ হি.), তাঁর মূল্যবান ও উপকারী গ্রন্থ: "মানাইহুল কারাম ফী আখবারি মাক্কাতা ওয়াল বাইতি ওয়া উলাতিল হারাম"-এ (১)।

* আর তাঁদের পরে যাঁরা এসেছেন তাঁরা মূলত এই গ্রন্থসমূহ থেকেই তথ্য আহরণ করেছেন, যেমন ইমাম আহমদ যাইনি দাহলান তাঁর "তারিখু উমারাউল বালাদিল হারাম"-এ, আল্লামা হুসাইন বা-সালামা তাঁর "তারিখুল কাবা আল-মুশাররাফা"-এ, এবং আমাদের শাইখ বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী আল্লামা আব্দুল ফাত্তাহ রাওয়া মক্কার আমিরদের সম্পর্কে রচিত তাঁর গ্রন্থে এবং আরও অনেকে।

দ্রষ্টব্য: পবিত্র কাবা ধসে পড়ার ঘটনার সমসাময়িক যে সকল ঐতিহাসিকরা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন মক্কাবাসী। তবে তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু মিশরের আলেমও ছিলেন। তাঁরা ঘটনা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে গ্রন্থ লিখেছেন কারণ মিশরের গভর্নর উজির মুহাম্মাদ পাশা -যিনি উজির রুস্তম পাশার দৌহিত্র- (মৃত্যু ১০৫৬ হি.), কাবা ঘরের বিধ্বস্ত অংশ সংস্কারের বিষয়ে হিজাজের আলেমদের ফতোয়া পৌঁছানোর পর আলেমদের সমবেত করেছিলেন। তখন তাঁর কাছে সমবেত হয়েছিলেন: আল্লামা হাসান আশ-শুরুনবুলালী, সীরাহ গ্রন্থের লেখক আল্লামা হালাবী, আল্লামা ইবরাহিম আল-মাইমুনী এবং আরও অনেকে... ইতিপূর্বে তাঁদের এবং অন্যদের গ্রন্থাবলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে (২)...

* * *

--------------------------------------------

(১) এটি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. মাজেদা জাকারিয়ার গবেষণামূলক সম্পাদনায় ৬ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) তাঁদের এই সভাটি ১০৩৯ হিজরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেমনটি মাইমুনী উল্লেখ করেছেন যিনি যিলহজ্জ ১০৩৯ হিজরিতে তাঁর গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত করেছিলেন। পক্ষান্তরে, সীরাহ হালাবিয়্যার মুদ্রিত সংস্করণে ১/২৭৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে এটি ১০৪৩ হিজরিতে ঘটেছিল; সম্ভবত এটি মুদ্রণজনিত ভুল কিংবা অনুলিপিকারের বিচ্যুতি, আর এই তারিখটি সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بنايات الكعبة المشرفة عبر العصور وأسبابها، ونبذة عن السيول التي دهمت المسجد الحرام

عبر العصور التاريخية، ومنذ قديم الزمن تعرض البيت الحرام إلى إعادة بنائه ثلاث عشرة مرة، منذ أن بنته الملائكة على بعض الأقوال إن صحّت … وكان العمل في بعضها ترميمًا وعمارة فقط وليس بناء من الأساس … وهذه المرات هي:

1 - بناء الملائكة.

2 - بناء آدم أبي البشر عليه السلام.

3 - بناء شيث بن آدم عليهما السلام.

4 - بناء إبراهيم الخليل أبي الأنبياء عليه السلام.

5 - بناء جُرهم.

6 - بناء العماليق.

7 - بناء قصي بن كلاب نحو عام 450 للميلاد.

8 - بناء قريش قبل البعثة بخمس سنوات (نحو عام 606 للميلاد).

9 - بناء ابن الزبير رضي الله عنهما عام 65 هـ.

10 - بناء الحجاج بن يوسف الثقفي عام 74 هـ.

11 - عمارة السلطان العثماني مراد خان عام 1039 هـ - 1040 هـ، والذي يدور موضوع هذه الرسالة حولها.

12 - ترميم عام 1377 هـ، في عهد الملك سعود بن عبد العزيز آل سعود رحمه الله.
যুগপরম্পরায় পবিত্র কাবার নির্মাণসমূহ, এর কারণসমূহ এবং মসজিদে হারামে আঘাত হানা বন্যা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ঐতিহাসিক কালপরম্পরায় এবং সুপ্রাচীনকাল থেকে পবিত্র ঘরটি তেরো বার পুনর্নির্মিত হয়েছে; ফেরেশতাগণ এটি নির্মাণ করার সময় থেকে নিয়ে—যদি উক্ত বর্ণনাগুলো বিশুদ্ধ (صحيح) হয়ে থাকে … এগুলোর মধ্যে কিছু কাজ ছিল কেবল সংস্কার ও মেরামত মাত্র, মূল ভিত্তি থেকে নতুন করে নির্মাণ নয় … এই পর্যায়গুলো হলো:

1 - ফেরেশতাগণের নির্মাণ।

2 - মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিস সালাম-এর নির্মাণ।

3 - আদম-তনয় শীষ আলাইহিমাস সালাম-এর নির্মাণ।

4 - নবীকুল শিরোমণি ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম-এর নির্মাণ।

5 - জুরহুম গোত্রের নির্মাণ।

6 - আমালিকা সম্প্রদায়ের নির্মাণ।

7 - ৪৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে কুসাই বিন কিলাবের নির্মাণ।

8 - নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে (প্রায় ৬০৬ খ্রিস্টাব্দে) কুরাইশদের নির্মাণ।

9 - ৬৫ হিজরিতে ইবনুল জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নির্মাণ।

10 - ৭৪ হিজরিতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফির নির্মাণ।

11 - ১০৩৯ হিজরি - ১০৪০ হিজরিতে উসমানীয় সুলতান মুরাদ খানের নির্মাণ কাজ, যা এই প্রবন্ধের মূল আলোচনার বিষয়।

12 - ১৩৭৭ হিজরিতে বাদশাহ সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল সাউদ রাহিমাহুল্লাহ-এর শাসনামলে সম্পাদিত সংস্কারকাজ।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২০)
13 - ترميمها مؤخرًا عام 1418 هـ، في عهد خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود، وفقه الله.

ولجماعة من المؤرخين رأي في بعض ما ذكر، قال العلامة الحلبي في سيرته "الحلبية": "والحق أن الكعبة لم تبن جميعها إلَّا ثلاث مرات: الأول بناء إبراهيم الخليل عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة والتسليم. والثاني: بناء قريش، وكان بينهما ألفا سنة وسبعمائة سنة وخمس وسبعون سنة. والثالثة: بناء عبد الله بن الزبير، أي وكان بينهما نحو اثنتين وثمانين سنة.

وأما بناء الملائكة وبناء آدم وبناء شيث فلم يصح. وأما بناء جرهم والعمالقة وقصي فإنما كان ترميمًا، ولم تبن بعد هدمها جميعها إلَّا مرتين: مرة زمن قريش، ومرة زمن عبد الله بن الزبير رضي الله تعالى عنه. اهـ (1).

ومن جملة أسباب إعادة البناء أو العمارة: الحرائق، كما حدث زمن قريش وزمن ابن الزبير.

ومنها أو من أعظم الأسباب وأدعاها لذلك: السيول العظيمة التي تدهم المسجد الحرام بين الفينة والأخرى.

 

‌‌نبذة عن السيول بمكة:

وقد بلغت إحصائية السيول التي دهمت المسجد الحرام، من زمن جرهم في الجاهلية إلى سنة 1384 هـ: (89) تسعة وثمانين سيلًا، حسبما ورد في "التاريخ القويم" للمؤرخ المكي محمَّد طاهر الكردي رحمه الله (2). وكان من أعظم تلك السيول سيل عام 1039 هـ، والذي هدمت بسببه الكعبة المشرفة وطاحت جدرانها كما سيأتي تفصيله في هذه الرسالة …

--------------------------------------------

(1) السيرة الحلبية: 1/ 279 - 280، ط دار المعرفة - بيروت. وينظر كتاب: "تاريخ الكعبة الشريفة"، للمؤرخ حسين عبد الله بن سلامة المكي.

(2) التاريخ القويم: 2/ 194 - 200، الطبعة الأولى.
১৩ - সম্প্রতি ১৪১৮ হিজরীতে খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) শাসনামলে এটি সংস্কার করা হয়েছে।

একদল ঐতিহাসিকের মতে উল্লেখিত কিছু বিষয়ে ভিন্ন অভিমত রয়েছে। আল্লামা হালাবি তার সীরাতে 'হালবিয়্যাহ'-তে বলেন: "প্রকৃত সত্য হলো, কাবা সম্পূর্ণভাবে মাত্র তিনবার নির্মিত হয়েছে: প্রথমবার ইব্রাহিম খলিল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্মাণ কাজ। দ্বিতীয়বার কুরাইশদের নির্মাণ, যা প্রথমটির দুই হাজার সাতশো পঁচাত্তর বছর পর সম্পন্ন হয়েছিল। আর তৃতীয়বার আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর নির্মাণ কাজ, যা আগেরটির প্রায় বিরাশি বছর পর হয়েছিল।

আর ফেরেশতাদের নির্মাণ, আদমের নির্মাণ এবং শীস (আ.)-এর নির্মাণের বিষয়টি বিশুদ্ধ নয় (لم يصح)। জুরহুম, আমালিকা ও কুসাই-এর নির্মাণ ছিল মূলত সংস্কার কাজ। সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার পর এটি কেবল দুবারই নির্মিত হয়েছে: একবার কুরাইশদের যুগে এবং অন্যবার আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর যুগে। [সমাপ্ত] (১)।

পুনর্নির্মাণ বা স্থাপত্য সংস্কারের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে ছিল অগ্নিসংযোগ, যেমনটি কুরাইশদের যুগে এবং ইবনে যুবায়েরের যুগে ঘটেছিল।

অন্যতম বা প্রধান ও প্রভাবশালী কারণগুলোর একটি হলো প্রবল বন্যা, যা সময়ে সময়ে মসজিদে হারামকে প্লাবিত করত।

 

‌‌মক্কার বন্যা সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

জাহেলি যুগে জুরহুমের সময় থেকে ১৩৮৪ হিজরী পর্যন্ত মসজিদে হারামে আঘাত হানা বন্যার পরিসংখ্যান হলো ৮৯ (ঊননব্বই)টি। যেমনটি মক্কার ঐতিহাসিক মুহাম্মদ তাহের আল-কুর্দি (রহ.) প্রণীত "আত-তারিখুল কাওয়ীম" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যা ছিল ১০৩৯ হিজরীর বন্যা, যার কারণে কাবা শরিফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং এর দেয়াল ধসে পড়েছিল, যার বিস্তারিত বিবরণ এই রিসালায় সামনে আসবে …

--------------------------------------------

(১) আস-সীরাতুল হালবিয়্যাহ: ১/২৭৯-২৮০, দারুল মা'রিফা সংস্করণ - বৈরুত। আরও দ্রষ্টব্য: ঐতিহাসিক হুসাইন আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-মক্কি রচিত "তারিখুল কাবাতুশ শারিফাহ" গ্রন্থ।

(২) আত-তারিখুল কাওয়ীম: ২/১৯৪-২০০, প্রথম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২১)
وسبب دخول هذه السيول إلى المسجد الحرام هو الموقع الجغرافي لمكة المكرمة، إذ أنها واقعة في وادٍ تحف به الجبال من كل جانب، فإذا نزلت الأمطار عليها بشدة نزلت المياه من جميع الجبال، ومن المرتفعات وغيرها إلى المواضع المنخفضة بمكة، فتجمعت في أزقتها وشوارعها، وإذا زادت الأمطار في ضواحيها جاءت السيول من أعاليها من جهة منى إلى داخل مكة، فتدخل المسجد الحرام فتحدث به الأضرار الجسيمة، وكذا تفعل بالبيوت القديمة الواقعة حوله (1).

مجرى السيل بمكة قديمًا:

كانت السيول قديمًا تنزل من جهة منى ومن جهة حراء إلى مكة، ثم ينزل بطن الوادي من طريق المدعى أي من الموضع الذي كان يرى منه البيت الحرام، وكان هذا الموضع في عهده صلى الله عليه وسلم غير مرتفع، ولم يرتفع إلَّا بعد أن ردمه أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه بالصخور العظام ليمنع السيل عن المسجد الحرام، وكان يسمى "ردم بني جمح".

وبعد حدوث هذا الردم امتنع السيل من الدخول من جهة المدعى، لكنه صار يأتي من جهة سوق الليل ومن جهة الغزة إلى جهة الحرم ومنه إلى المسفلة، ولكن هناك سيل يسمى "سيل جياد" كان يسيل كل عشر سنوات ويصطدم بسيل وادي إبراهيم فيوقفه عن المسيل فيدخل المسجد الحرام، كما ذكر ذلك القطبي في "الإِعلام" وأيده عليه المؤرخ الكردي رحمهما الله (2).

ثم قال الكردي بعد أن ساق كلام القطبي: فمن عصره بل من قبل عصره [أي من القرن العاشر] والسيول لا تزال تدخل المسجد الحرام إذا عظمت وقويت إلى عصرنا هذا، أي إلى سنة 1375 هـ، ألف وثلاثمائة وخمس وسبعين هجرية.

ثم لما ابتدأوا بتوسيع المسجد الحرام في السنة المذكورة عملوا نفقًا خاصًّا للسيول خلف المسعى من جهة الصفا تمر منه السيول وتخرج إلى المسفلة من جهة

--------------------------------------------

(1) التاريخ القويم: 2/ 193.

(2) السابق: 2/ 202.
মসজিদুল হারামে এই প্লাবন প্রবেশের কারণ হলো মক্কা মুকাররমার ভৌগোলিক অবস্থান; কেননা এটি এমন এক উপত্যকায় অবস্থিত যা চতুর্দিক থেকে পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। ফলে যখন সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, তখন সমস্ত পাহাড়, উচ্চভূমি এবং অন্যান্য স্থান থেকে পানি মক্কার নিচু এলাকাগুলোতে নেমে আসে এবং এর অলিগলি ও রাস্তায় জমা হয়। যখন এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়, তখন মক্কার উপরিভাগ অর্থাৎ মিনা-র দিক থেকে প্লাবন মক্কার অভ্যন্তরে চলে আসে এবং মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। একইভাবে তা হারামের চারপাশের প্রাচীন ঘরবাড়িগুলোরও ক্ষতিসাধন করে (১)।

প্রাচীনকালে মক্কায় প্লাবনের গতিপথ:

প্রাচীনকালে প্লাবন মিনা এবং হেরা-র দিক থেকে মক্কায় প্রবাহিত হতো, অতঃপর তা ওয়াদির তলদেশ দিয়ে আল-মুদ্দা'আ-র পথ হয়ে প্রবাহিত হতো—অর্থাৎ সেই স্থান যেখান থেকে বাইতুল হারাম দেখা যেত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এই স্থানটি উঁচু ছিল না। আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদুল হারামকে প্লাবন থেকে রক্ষা করার জন্য বিশাল পাথর দিয়ে বাঁধ দেওয়ার পরই কেবল এটি উঁচু হয়। একে "রাদমে বনি জুমাহ" বলা হতো।

এই বাঁধ নির্মাণের পর আল-মুদ্দা'আ-র দিক থেকে প্লাবনের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তা সুকুল লাইল এবং গাজ্জা-র দিক থেকে হারামের দিকে এবং সেখান থেকে মিসফালাহ-র দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। তবে "সাইলে জিয়াদ" নামক একটি প্লাবন ছিল যা প্রতি দশ বছর অন্তর প্রবাহিত হতো এবং তা ওয়াদি ইবরাহিমের স্রোতের সাথে ধাক্কা খেয়ে তার স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করত, ফলে পানি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করত। যেমনটি কুতবী তাঁর "আল-ইলাম" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ঐতিহাসিক কুর্দি (রাহিমাহুমাল্লাহ) তাঁকে এ বিষয়ে সমর্থন করেছেন (২)।

অতঃপর কুর্দি, কুতবীর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: তাঁর যুগ থেকে, বরং তাঁর যুগের পূর্ব থেকেও [অর্থাৎ দশম হিজরি শতাব্দী থেকে] প্লাবন বা বন্যার পানি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা অব্যাহত থাকে যখনই তা প্রবল ও শক্তিশালী হতো; যা আমাদের এই যুগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩৭৫ হিজরি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

অতঃপর যখন উল্লিখিত বছরে মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়, তখন তারা মাসআ-র পেছনে সাফা-র দিক থেকে প্লাবনের জন্য একটি বিশেষ সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেন, যেখান দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে মিসফালাহ-র দিকে বেরিয়ে যায়...

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখুল কাওয়িম: ২/ ১৯৩।

(২) প্রাগুক্ত: ২/ ২০২।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২২)
السوق الصغير فلا تدخل المسجد الحرام، اللهم إلَّا ما يتجمع من مياه الأمطار النازلة عليه. فلما صدر أمر جلالة الملك سعود بن عبد العزيز آل سعود بتوسعة المسجد الحرام وباشروا العمل فعلًا في أول سنة 1375 هـ … جعلوا ممر السيل عن طريق الهجلة وبالمسفلة تحت الأرض في نفق خاص لذلك (1).

 

و‌‌ملخص ما عملته حكومة جلالة الملك سعود رحمه الله في هذا الصدد:

1 - أنشئت تحت الطبقة الأولى -بالحرم- طبقة من الأقبية ارتفاعها ثلاثة أمتار ونصف المتر، وسطحها في مستوى الأرض.

2 - أنشئ مجرى خاص يمتد من أسفل رصيف الجهة الجنوبية من شارع القشاشية ويمر تحت منطقة الصفا، ثم تحت رصيف الشارع الجديد، ويبلغ عرض هذا المجرى خمسة أمتار وارتفاعه ما بين أربعة أمتار وستة، والغاية منه تحويل مجرى السيل الذي طالما اخترق المسعى وتسبب في تسرب المياه من أبواب المسجد.

3 - وفي المرحلة الثانية من التوسعة السعودية 1379 هـ أنهي بناء وسقف القسم المتبقي من مجرى السيل، فامتد إلى الجهة المقابلة لباب أم هاني، وإلى الطريق الجديدة في السوق الصغير، ثم إلى طريق الهجلة، حيث انتهى بفوّهة يندفع منها الماء إلى أرض منخفضة فنحو المسفلة.

وهكذا تم التغلب -بصورة كبيرة- على السيول المداهمة للمسجد الحرام بجهد وصبر وتفانٍ وسهر من حكومة المملكة العربية السعودية على راحة المصلين في أشرف بقعة وأفضل موقع، ويمثل هذا العمل جزءًا عزيزًا وغاليًا من أجزاء كثيرة تقدمها هذه الدولة المشرفة لخدمة الإِسلام والمسلمين، وخدمة بيوت الله والحرمين الشريفين منها بخاصة، بسخاء لا نظير له على مر التاريخ (2).

--------------------------------------------

(1) التاريخ القويم: 2/ 203.

(2) من مقال لشقيقي الأكبر الأستاذ عمر أبو بكر باذيب نزيل المدينة المنورة بعنوان "السيول في المسجد الحرام والجهود التي بذلت في تحويلها عنه"، نشر في ملحق التراث (عدد 45) في صحيفة المدينة السعودية بتاريخ الخميس 7 رمضان 1417 هـ.
সুক আস-সাগির, ফলে তা আর মসজিদ আল-হারামে প্রবেশ করে না, তবে তার উপর বর্ষিত বৃষ্টির পানি যা জমা হয় তা ব্যতীত। অতঃপর যখন মহামান্য বাদশাহ সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল সাউদ মসজিদ আল-হারাম সম্প্রসারণের আদেশ জারি করেন এবং ১৩৭৫ হিজরি সালের শুরুতে তারা প্রকৃত অর্থে কাজ শুরু করেন … তখন তারা বন্যার পানির গতিপথ আল-হাজলাহ হয়ে এবং আল-মিসফালাহ দিয়ে ভূগর্ভস্থ একটি বিশেষ টানেলের মাধ্যমে তৈরি করেন (১)।

 

এবং এই বিষয়ে মহামান্য বাদশাহ সাউদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সরকার যা সম্পাদন করেছে তার সংক্ষিপ্ত সার হলো:

১ - হারামের প্রথম স্তরের নিচে একটি ভূগর্ভস্থ তলা (বেজমেন্ট) নির্মাণ করা হয়েছে যার উচ্চতা সাড়ে তিন মিটার, এবং এর ছাদ মাটির সমতলে অবস্থিত।

২ - একটি বিশেষ জলপথ নির্মাণ করা হয়েছে যা আল-কাশাশিয়া সড়কের দক্ষিণ দিকের ফুটপাথের নিচ থেকে শুরু হয়ে সাফা এলাকার নিচ দিয়ে অতিক্রম করেছে, এরপর তা নতুন সড়কের ফুটপাথের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই জলপথের প্রস্থ পাঁচ মিটার এবং উচ্চতা চার থেকে ছয় মিটারের মধ্যে। এর উদ্দেশ্য হলো বন্যার পানির প্রবাহকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া, যা দীর্ঘকাল ধরে আল-মাসআয় ঢুকে পড়ত এবং মসজিদের প্রবেশদ্বারগুলো দিয়ে পানি প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়াত।

৩ - সৌদি সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৭৯ হিজরি সালে বন্যার জলপথের অবশিষ্ট অংশের নির্মাণ ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। এটি বাব উম্মে হানির বিপরীত দিক থেকে সুক আস-সাগিরের নতুন রাস্তা পর্যন্ত এবং এরপর আল-হাজলাহ সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যেখানে এটি একটি নির্গমনমুখে গিয়ে শেষ হয় যেখান দিয়ে পানি নিচু ভূমিতে এবং এরপর আল-মিসফালাহ অভিমুখে ধাবিত হয়।

এভাবেই অত্যন্ত প্রচেষ্টা, ধৈর্য, ত্যাগ এবং বিনিদ্র তদারকির মাধ্যমে সৌদি আরব সরকার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম স্থানে মুসল্লিদের আরাম-আয়েশের নিমিত্তে মসজিদ আল-হারামে হানা দেওয়া বন্যার পানির সমস্যার ওপর ব্যাপকভাবে বিজয় লাভ করে। এই মহৎ কাজটি ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় এবং বিশেষ করে আল্লাহর ঘরসমূহ ও হারামাইন শরীফাইনের খিদমতে এই সম্মানিত রাষ্ট্র কর্তৃক উপস্থাপিত অসংখ্য কাজের একটি মূল্যবান ও মহিমান্বিত অংশ হিসেবে বিবেচিত, যা ইতিহাসের পাতায় এক অতুলনীয় বদান্যতার স্বাক্ষর (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-তারিখ আল-কাউয়্যিম: ২/২০৩।

(২) মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাসরত আমার বড় ভাই উস্তাদ উমর আবু বকর বাযীব-এর একটি নিবন্ধ থেকে সংগৃহীত, যার শিরোনাম হলো "মসজিদ আল-হারামে বন্যার পানি এবং তা সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাসমূহ", যা সৌদি আরবের আল-মদিনা পত্রিকার আল-তুরাথ ক্রোড়পত্রে (সংখ্যা ৪৫) বৃহস্পতিবার ৭ রমজান ১৪১৭ হিজরি তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌جهود وأعمال الدولة السعودية حرسها الله في ترميم الكعبة الشريفة وإصلاحها:

إضافة إلى ما ذكر عن عناية هذه الدولة حرسها الله من كيد حسادها بالحفاظ على سلامة المسلمين والوافدين على مكة المكرمة وحماية المسجد الحرام من السيول المداهمة له، فإن لها أيضًا -أيد الله حكامها لنصرة الدين- عناية واهتمام بذات البيت الحرام والكعبة المعظمة … فمن ذلك:

1 - ما تم في عهد الملك سعود رحمه الله تعالى، إذ حصل لسقف الكعبة المعظمة الأعلى خراب ملزم لإِصلاحه وتغييره بكامله، وأما الأسفل فكان قد تآكل بفعل الأرضة والسوس.

فأمر جلالته رحمه الله بتشكيل هيئة علمية وهيئة فنية، كان ضمن الأولى معالي الشيخ عبد الملك بن إبراهيم آل الشيخ، والسيد العلامة علوي بن عباس المالكي، ومعالي الشيخ محمَّد علي الحركان. ومن الأخرى: محمَّد بن لادن، ومحمد صالح قزاز، وغيرهم.

وبعد أن رفع تقرير بما يلزم إصلاحه، صدر أمر ملكي في أواخر محرم 1377 هـ، وبدأ العمل فعلًا في 21 جمادى الثانية من نفس العام، وكان تمامه والفراغ منه ليلة الاثنين 27 شعبان من العام نفسه (1377 هـ) (1).

2 - ومن مظاهر عناية الحكومة السعودية أيدها الله أيضًا في هذا الصدد: ما تم عمله في سقف الكعبة الشريفة وأساساتها المعظمة عام 1418 هـ في عهد

--------------------------------------------

(1) ينظر لمعرفة كافة تفاصيل ذلك العمل المبرور كتاب "التاريخ القويم"، للشيخ محمَّد طاهر الكردي الخطاط المكي رحمه الله تعالى: 4/ 68 - 100. وهو بعمله ذلك وتقييده لكل صغيرة وكبيرة يشبه تمامًا ما قام به العلامة الإمام محمَّد بن علان في تصانيفه التي ذكرت سابقًا، فرحمهما الله تعالى وجزاهما كل خير لقاء ما قاما به من تاريخ هذه الحوادث المهمة.
সম্মানিত কাবাঘরের সংস্কার ও মেরামতে সৌদি রাষ্ট্রের—আল্লাহ একে হিফাযত করুন—প্রচেষ্টা ও কার্যাবলি:

বিদ্বেষীদের চক্রান্ত থেকে মুসলমানদের এবং মক্কায় আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আকস্মিক বন্যা থেকে মাসজিদুল হারামকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রের—আল্লাহ একে হিফাযত করুন—যে যত্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার পাশাপাশি—আল্লাহ ধর্ম রক্ষায় এর শাসকদের সাহায্য করুন—বাইতুল্লাহিল হারাম এবং সম্মানিত কাবার মূল কাঠামোর প্রতিও তাদের বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ রয়েছে … তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

1 - যা বাদশাহ সাউদের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যুগে সম্পন্ন হয়েছে। সে সময় সম্মানিত কাবার উপরের ছাদে এমন ক্ষতি সাধিত হয়েছিল যা সম্পূর্ণ মেরামত ও পরিবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। আর নিচের অংশটি উইপোকা ও পোকা-মাকড়ের কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল।

অতঃপর মহামান্য বাদশাহ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—একটি ইলমি কমিটি এবং একটি কারিগরি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। প্রথম কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন মাননীয় শাইখ আবদুল মালিক বিন ইবরাহিম আলুশ শাইখ, আল্লামা (علامة) সাইয়্যিদ আলাউয়ি বিন আব্বাস আল-মালিকি এবং মাননীয় শাইখ মুহাম্মাদ আলি আল-হারকান। আর দ্বিতীয় কমিটিতে ছিলেন: মুহাম্মাদ বিন লাদেন, মুহাম্মাদ সালিহ কাযযাখ এবং আরও অনেকে।

প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ১৩৭৭ হিজরির মহররম মাসের শেষের দিকে একটি রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়। একই বছরের ২১শে জুমাদাস সানি থেকে কাজ শুরু হয় এবং ঐ বছরেরই ২৭শে শাবান সোমবার রাতে কাজ সমাপ্ত ও সম্পন্ন হয় (১)।

2 - এই প্রসঙ্গে সৌদি সরকারের—আল্লাহ একে সাহায্য করুন—যত্নের আরও একটি নিদর্শন হলো: ১৪১৮ হিজরিতে সম্মানিত কাবার ছাদ ও এর সম্মানিত ভিত্তিমূলে যে কাজ সম্পন্ন হয়েছিল...

--------------------------------------------

(1) সেই পুণ্যময় কাজের বিস্তারিত বিবরণ জানতে দেখুন শাইখ মুহাম্মাদ তাহির আল-কুর্দি আল-খাত্তাত আল-মাক্কি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—রচিত গ্রন্থ "আত-তারিখুল কাওয়িম": ৪/ ৬৮ - ১০০। তিনি তাঁর এই কাজের মাধ্যমে এবং প্রতিটি ছোট-বড় বিষয় লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে হুবহু আল্লামা (علامة) ইমাম (إمام) মুহাম্মাদ বিন আল্লানের মতো কাজ করেছেন যা পূর্বে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
حضرة خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود أَيَّده الله.

 

‌‌آخر عمليات ترميم البيت الحرام (1):

في عهد خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود -أيده الله- تمت أعمال ترميم الكعبة الشريفة، ونظرًا لكونها تمثل امتدادًا لموضوع هذا الكتاب فإنه لا يحسن بنا أن نغفلها عن الذكر في هذه المقدمة، ولأنها عمل تاريخي وحدث هام في تاريخ الكعبة الشريفة، ولا سيما أنها وُثِّقت ودُوِّنت مراحلها بأعلى درجات التوثيق من تصوير وكتابة ومتابعة شخصية من قبل كبار الشخصيات في الدولة والمفوضين للإِشراف على هذا العمل الجليل …

البداية:

في أوائل شهر ذي الحجة من عام 1415 هـ صدر الأمر السامي الكريم من خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود بإصلاح فواصل الحجارة الخارجية للكعبة المشرفة لوجود بعض الفجوات بها بسبب تآكلها وتعريها الناتجة عن عوامل الزمن والتجوية، التي أثرت في أوجه الحجارة الخارجية وعملت فجوات بها بل ونخرت في لياسة الفواصل بين الحجارة سواء العليا أو السفلى.

فجرى العمل فيها على أكمل الصور وأتقنها، واتخذ لها طريقة فنية حديثة تضمن سلامة أحجار الكعبة المشرفة وصيانتها عن حدوث مثل هذا لمدة طويلة (أكبر عمر افتراضي).

وبعد فراغ العمل وسد الفجوات وجد أن الأَرَضَة والفطريات كانت هي السبب الأكبر في حدوث ذلك الخلل، مما لا يستبعد معه أن تكون تلك الآثار قد تغلغلت إلى داخل جدر الكعبة (أي في جوفها).

--------------------------------------------

(1) نقلًا عن كتاب "الكعبة المعظمة والحرمان الشريفان عمارة وتاريخًا"، تأليف عبيد الله محمَّد أمين كردي، المطبوع على نفقة (مجموعة بن لادن السعودية) تحت إشراف المهندس بكر بن محمَّد عوض بن لادن.
মহামান্য দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন।

 

‌‌বাইতুল হারামের সর্বশেষ সংস্কার কার্যক্রম (১):

দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন—এর শাসনামলে সম্মানিত কাবার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেহেতু এটি এই বইয়ের বিষয়ের একটি ধারাবাহিকতা, তাই এই মুখবন্ধে এটি উল্লেখ না করা সমীচীন হবে না। এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ এবং সম্মানিত কাবার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা; বিশেষ করে যেহেতু এর পর্যায়গুলো আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও এই মহান কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মানের দালিলিক প্রমাণসহ নথিভুক্ত করা হয়েছে ...

সূচনা:

১৪১৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুর দিকে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর পক্ষ থেকে সম্মানিত কাবার বহিঃস্থ পাথরের জোড়াগুলোর মেরামতের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের রাজকীয় নির্দেশ জারি করা হয়। কাল পরিক্রমা ও আবহাওয়াজনিত কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে সেখানে কিছু ছিদ্র বা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়েছিল, যা পাথরের বাইরের অংশকে প্রভাবিত করেছিল এবং পাথরের মধ্যবর্তী উপরিভাগ ও নিম্নভাগের পলেস্তারাকে নষ্ট করে দিয়েছিল।

অতএব, সেই কাজ অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও সুচারুরূপে আঞ্জাম দেওয়া হয় এবং এর জন্য একটি আধুনিক কারিগরি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় যা সম্মানিত কাবার পাথরসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং দীর্ঘকাল পর্যন্ত (সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সময়) এ ধরনের সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখে।

কাজ সমাপ্তি এবং ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করার পর দেখা গেল যে, উইপোকা এবং ছত্রাক ছিল এই ত্রুটির অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না যে, সেই প্রভাব কাবার দেয়ালের অভ্যন্তরেও (অর্থাৎ এর ভেতরের অংশে) ছড়িয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) ওবায়দুল্লাহ মুহাম্মদ আমিন কুর্দি রচিত "আল-কাবাতুল মুয়াযযামাহ ওয়াল হারামাইন আশ-শারিফাইন ইমারাতান ওয়া তারিখান" গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত। এটি প্রকৌশলী বকর বিন মুহাম্মদ আওয়াদ বিন লাদেনের তত্ত্বাবধানে (সৌদি বিন লাদেন গ্রুপ)-এর অর্থায়নে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فتم القيام بمجهودات دراسية وأعمال فنية وهندسية في داخل الكعبة المشرفة للوقوف على جلية الأمر، فتبين وجود أعداد مهولة من حشرات الأرضة والفطريات في جوف الكعبة، أما السقف فقد تبين تآكل وتلف كبير فيه، فكانت النتيجة الحتمية لهذا الوضع هو القيام بأعمال الترميم والإِصلاحات التي أصبحت ضرورة ملحة.

وقد باشرت "مجموعة بن لادن السعودية" كافة أعمال الترميم، ونالت شرف خدمة البيت الحرام. وكانت بداية أعمال الترميم في العاشر من شهر محرم عام 1417 للهجرة … وأول ما بدئ به هو عمل ستار خشبي أبيض يحيط بالكعبة، وسمح في الأسابيع الأولى لكافة الناس بالدخول إلى الكعبة من خلال ذلك الستار، فدخل ألوف من الناس إلى جوف الكعبة المشرفة وشهدوا بأنفسهم ما بداخلها من شقوق وأمور مهولة تستدعي وجوب تلك الأعمال وضرورة الترميم …

وهذا الإِشهاد لم يكن بدعًا، فقد أشهد ابن الزبير رضي الله عنهما من قبل على ما قام به من ترميم وبناء في زمنه … وأيضًا فالملك سعود أشهد أيضًا في العصر الأخير.

وقد تمت أعمال الترميم على النحو التالي:

المرحلة الأولى: اشتملت على الفحص على المداميك (الصفوف) الأربعة العليا.

المرحلة الثانية: من أسفل المداميك إلى الأرضية الداخلية للكعبة.

ففي هاتين المرحلتين تم تصفية الفجوات بين الأحجار، وحقنت الفراغات بمواد (خلطة) إسمنتية ذات مواصفات عالية. وعولجت أيضًا البطانة الداخلية للكعبة الشريفة معالجة تامة، ودعمت الجوانب بدعائم خشبية أفقية، على مسافات متناسبة، ونظفت بالمياه النقية، ثم حشيت بالمادة (الخلطة) القوية أيضًا.

المرحلة الثالثة: وتعتبر أهم هذه المراحل على الإِطلاق، إذ أنه تم الكشف على الأساسات بحفر أرضية الكعبة الشريفة إلى مستوى منسوب المطاف الحالي
পবিত্র কাবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সুস্পষ্টভাবে অনুধাবনের লক্ষ্যে বেশ কিছু গবেষণামূলক প্রচেষ্টা এবং কারিগরি ও প্রকৌশলগত কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে কাবার অভ্যন্তরে বিপুল সংখ্যক উইপোকা ও ছত্রাকের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ছাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাতে বড় ধরনের ক্ষয় ও ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সংস্কার ও মেরামতের কাজ গ্রহণ করা হয়, যা একটি জরুরি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছিল।

"সৌদি বিন লাদেন গ্রুপ" সংস্কারের যাবতীয় কাজ শুরু করে এবং পবিত্র ঘর সেবার গৌরব অর্জন করে। সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৪১৭ হিজরি সালের ১০ই মহররম তারিখে … সর্বপ্রথম কাবার চারদিকে একটি সাদা কাঠের পর্দা স্থাপন করা হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহ সাধারণ মানুষকে সেই পর্দার ভেতর দিয়ে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে হাজার হাজার মানুষ পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশ করে এবং তারা স্বচক্ষে সেখানে বিদ্যমান ফাটল ও ভয়াবহ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে, যা এই সংস্কার কাজের অপরিহার্যতা ও প্রয়োজনীয়তাকে প্রমাণ করে …

লোকজনকে সাক্ষী রাখার এই বিষয়টি নতুন কিছু ছিল না; ইতিপূর্বে ইবনে আল-জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সময়ে সম্পাদিত সংস্কার ও নির্মাণ কাজের ওপর লোকজনকে সাক্ষী রেখেছিলেন … তদ্রূপ আধুনিক যুগে বাদশাহ সাউদও লোকজনকে সাক্ষী রেখেছিলেন।

সংস্কার কাজ নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছিল:

প্রথম পর্যায়: এটি উপরের চারটি স্তরের (গাঁথুনি) পরীক্ষণের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দ্বিতীয় পর্যায়: উপরের স্তরগুলোর নিচ থেকে কাবার অভ্যন্তরীণ মেঝে পর্যন্ত।

এই দুই পর্যায়ে পাথরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানগুলো পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং উচ্চ মানসম্পন্ন সিমেন্টের মিশ্রণ (মশলা) দ্বারা শূন্যস্থানগুলো ভরাট করা হয়েছিল। এছাড়া পবিত্র কাবার অভ্যন্তরীণ দেয়ালের আস্তরণও পূর্ণাঙ্গভাবে মেরামত করা হয়েছিল এবং পার্শ্বদেশগুলোতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অনুভূমিক কাঠের খুঁটি দিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছিল। এরপর বিশুদ্ধ পানি দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় শক্তিশালী মিশ্রণ (মশলা) দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছিল।

তৃতীয় পর্যায়: এটি সমস্ত পর্যায়ের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কেননা এই পর্যায়ে পবিত্র কাবার মেঝে খনন করে বর্তমান মাতাফ-এর সমতল পর্যন্ত এর ভিত্তি উন্মোচন করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بمقدار 2.2 م، بل وزيد في الحفر بمقدار 40 إلى 70 سم، وعوينت من خلال الحفر الأساسات الشريفة فوجدت سليمة بدرجة عالية.

يقول الأستاذ عبيد الله كردي: ولم يكن الإِقدام على ذلك الحفر بالأمر الهين أو السهل أو مما يحسن التسرع فيه، كما أنه ليس من الحكمة أن يتم ترميم جدار الكعبة ترميمًا شاملًا دون تفقد القاعدة التي هي أصل فيها.

لهذا كانت الخطوة الأولى في هذه المرحلة هو الاستكشاف للتعرف على مدى الحاجة للنزول في أعماق الترميم إلى القاعدة. وبعد الخبر والمعاينة وجد أن الحال فيها أفضل بكثير بكثير مما كان عليه الحال في الحوائط العليا، إلَّا أن بوادر التأثيرات السلبية للمستقبل كانت ظاهرة، وذلك فيما إذا ترك الوضع على ما هو عليه، فاستقر القرار بضرورة الحفر والترميم.

فتم الحفر الكامل لأرضية الكعبة المشرفة، ثم الترميم بنفس الأسلوب الذي تم به ترميم الحوائط العليا، وبنفس التقسيم للشرائح الرأسية، وكأن العملية امتداد متطابق لما تم من عمل في الحوائط العلوية، إلَّا أنه من باب الاحتياط امتد العمل إلى أسفل منسوب المطاف بما يتراوح بين نصف المتر وثلاثة أرباع المتر تقريبًا، وهي المسافة التي تصل إلى الأحجار القوية المتماسكة، والتي لا تحتاج إلى إعادة بناء، انتهى.

ثم تكلم مصنف ذلك الكتاب أو التقرير عن بقية الأعمال التي نفذت أثناء عمليات الترميم الشاملة التابعة كحجر إسماعيل عليه السلام، وبسط الكلام عن كيفية إعادة بناء السقف والأعمدة الداخلية للكعبة وما إلى ذلك، وقد نقلت هنا ما يتعلق بهذا الحدث التاريخي الهام بما يناسب المقام، ولأن هذا الحديث الكبير من صميم موضوع هذه الرسالة، نسأل الله أن يجزي من قام على ذلك خير الجزاء.

* * *
২.২ মিটার পর্যন্ত, এমনকি খননকার্যে আরও ৪০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি করা হয়েছিল। খননের মাধ্যমে সম্মানিত ভিত্তিগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং সেগুলো অত্যন্ত সুসংহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ কুর্দি বলেন: এই খননকাজে অগ্রসর হওয়া কোনো সাধারণ বা সহজ বিষয় ছিল না, আর না এতে তাড়াহুড়া করা সমীচীন ছিল। তেমনিভাবে, কাবাঘরের ভিত্তি—যা এর মূল অবকাঠামো—তা পরীক্ষা না করে এর দেওয়ালগুলোর ব্যাপক সংস্কার করাও প্রজ্ঞার পরিচায়ক ছিল না।

একারণে এই পর্যায়ের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ভিত্তি পর্যন্ত সংস্কারের গভীরতায় নামার প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান চালানো। পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেল যে, ভিত্তির অবস্থা উপরের দেওয়ালগুলোর অবস্থার চেয়ে অনেক অনেক গুণ ভালো। তবে বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখা হলে ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার লক্ষণগুলো স্পষ্ট ছিল। ফলে খনন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

অতপর কাবা শরিফের মেঝের পূর্ণাঙ্গ খননকার্য সম্পন্ন হয়। এরপর উপরের দেওয়ালগুলোর সংস্কারে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল, ঠিক একই পদ্ধতিতে এবং একই ধরণের উলম্ব স্তরবিন্যাসে এর সংস্কার করা হয়। যেন এই প্রক্রিয়াটি উপরের দেওয়ালে কৃত কাজেরই একটি অভিন্ন সম্প্রসারণ। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজটিকে মাতাফ-এর স্তর থেকে প্রায় আধা মিটার থেকে পৌনে এক মিটার নিচ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। এটি এমন এক গভীরতা যেখানে শক্তিশালী ও সুসংহত পাথর পাওয়া গিয়েছিল, যার নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। (সমাপ্ত)।

অতঃপর সেই গ্রন্থের বা প্রতিবেদনের রচয়িতা হিজরে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মতো পরবর্তী ব্যাপক সংস্কার কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি কাবার ছাদ এবং অভ্যন্তরীণ স্তম্ভগুলোর পুনর্নির্মাণ পদ্ধতি এবং এই জাতীয় বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। আমি এখানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা সংক্রান্ত অংশটুকু স্থানোপযোগী করে উদ্ধৃত করেছি। যেহেতু এই বিশাল হাদিস বা বিবরণটি এই গবেষণাপত্রের মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

* * *
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌وصف النسخة المعتمدة في التحقيق ومنهج العمل في تحقيقها

حصلت على النسخة التي لعلها الوحيدة من هذه الرسالة بالتصوير من مكتبة "الأحقاف" للمخطوطات الكائنة بجامع (تريم) بحضرموت، وهي تحت رقم (2727) ضمن مجموع.

كتبت هذه النسخة في حياة المصنف سنة 1040 هـ "نهار الثلاثاء خامس عشري جمادى الأخرى … " على يد ناسخها: عمر بن علي بن أحمد بن عمر العرشاني الموزعي الشافعي الأشعري … وتقع في (9) ورقات، 18 صفحة، 27 سطرًا.

وكتب على صفحة العنوان (1):

كتاب نشر ألوية الشَّريف (2)، بالإِعلام والتعريف بمن له ولاية عمارة ما سقط من البيت الشريف. تأليف سيدنا ومولانا الشيخ العلامة العمدة الفهامة القدوة المحقق النحرير المدقق، خادم السنّة النبوية بالحرم المكي، مولانا الشيخ محمَّد بن علي بن علان البكري الصديقي الشافعي، متع الله بوجوده الوجود، ونفع به وبعلومه كل موجود، آمين اللهم آمين، م.

--------------------------------------------

(1) انظر: صور المخطوط ص 30.

(2) كذا بالأصل (الشريف) وهو غير صحيح، والصواب (التشريف) كما أجمعت عليه كافة المصادر، وهو ما أثبت في صفحة العنوان.
সম্পাদনায় (تحقيق) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং এর সম্পাদনা পদ্ধতি

আমি এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির সম্ভবত একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি হাযরামাউতের তারিম জামে মসজিদে অবস্থিত "আল-আহকাফ" পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি (تصوير) হিসেবে সংগ্রহ করেছি, যা একটি সংকলনের (مجموع) অধীনে ২৭২৭ নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত।

এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের জীবদ্দশায় ১০৪০ হিজরি সালে "মঙ্গলবার দিনের বেলা, জামাদিউল আখিরা মাসের পঁচিশ তারিখ … " এর অনুলিপি প্রস্তুতকারী (ناسخ): উমর ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-আরশানি আল-মাওজায়ি আশ-শাফিয়ি আল-আশআরি … এর হাতে লিখিত হয়েছে। এটি ৯টি পত্র, ১৮ পৃষ্ঠা এবং ২৭ লাইনের সমন্বয়ে গঠিত।

এর শিরোনাম পৃষ্ঠায় (১) লিখিত আছে:

কিতাব নাশরু আলউইয়াতিল শরিফ (২), বিল-ইলাম ওয়াত-তা’রিফ বিমান লাহু উইলায়াতু ইমারতি মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারিফ। আমাদের সায়্যিদ ও মাওলানা, শায়খ, আল্লামা, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব (عمدة), প্রজ্ঞাবান, আদর্শ, গবেষক (محقق), সুদক্ষ পণ্ডিত ও সূক্ষ্মদর্শী, মক্কার হারামে সুন্নাতে নববীর খাদেম, মাওলানা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আললান আল-বাকরি আস-সিদ্দিকি আশ-শাফিয়ি-এর রচনা। আল্লাহ তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে জগতকে বরকতময় করুন এবং তাঁর ও তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে প্রতিটি সৃষ্টিকে উপকৃত করুন, আমিন আল্লাহুম্মা আমিন। সমাপ্ত (م)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পাণ্ডুলিপির চিত্র, পৃষ্ঠা ৩০।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই (الشريف) আছে যা সঠিক নয়; সঠিক শব্দ হলো (التشريف), যেমনটি সকল উৎসগ্রন্থ একমত পোষণ করেছে এবং এটিই শিরোনাম পৃষ্ঠায় সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأسفل ذلك بخط الناسخ:

للمؤلف في تاريخ قصة السيل:

يا من سنا مصباحه … يضيء بغير زيت

ومن له تطلع … إلى معالي الصوت

إن تبغ عام سيلنا … سيل به كم ميْتِ

وفيه هدم كعبة … أكرِمْ به من بيت

مُقدِّر كل كذا … تاريخه في بيت

بالقَدَر الإِلهي … بدا سقوط البيت

سنة 1039 هـ

 

عملي في الرسالة

لما حصلت على الرسالة بالتصوير من الأصل بالمكتبة المذكورة، بحثت في فهارس مكتبة مكة المكرمة ومكتبة الحرم المكي، وغيرها، وتتبعت مواضع ترجمة لابن علان، وخاصة كتاب العلامة الدكتور الهيلة "التاريخ والمؤرخون في مكة" أملًا في الحصول على نسخة أخرى منها فلم أظفر بذلك.

وبعد أن وقع اختياري عليها في لقاء العشر الأواخر وموافقة الإِخوة الأجلاء الأفاضل، قمت بالاتصال بالدكتور الشيخ عبد الوهاب أبو سليمان لمعرفته واطلاعه على نفائس التراث المكي، فأخبرني أنه لم يقف على هذه الرسالة، وقال: ابدأ بالعمل فيها فلعلها الوحيدة.

وبالفعل، قمت بالعمل عليها كما يرى القارئ الكريم:

1 - قمت بنسخها من الأصل ثم مقابلتها به مع شيخنا الفاضل نظام يعقوبي حفظه الله، بصحن الحرم الشريف.

2 - قدمت للرسالة بتعريف عن مؤلفها، وتحدَّثت عن مصنفاته العشرة في خصوص حادثة السقوط والعمارة وغير ذلك، وعرَّفت بأسرته ومشاهير علمائها بإيجاز، وذكرت من صنف في موضوع الرسالة من معاصريه وغيرهم.
নিচে লিপিকারের (الناسخ) হস্তাক্ষরে রয়েছে:

বন্যার ঘটনার তারিখ (تاريخ) সম্পর্কে লেখকের পঙক্তি:

হে সেই সত্তা যার প্রদীপের আভা … তেল ছাড়াই প্রজ্বলিত হয়

এবং যার রয়েছে আকাঙ্ক্ষা … উচ্চ মর্যাদার প্রতি

যদি তুমি আমাদের বন্যার বছরটি জানতে চাও … এমন এক বন্যা যাতে কত লোক মারা গিয়েছে

এবং তাতে কাবা ধ্বংস হয়েছিল … কতই না সম্মানিত সেই ঘর

সবকিছুর মহান নিয়ন্তা … এর তারিখটি (تاريخ) একটি পঙক্তিতে নিহিত

আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরে … পবিত্র ঘরটির পতন সূচিত হয়

১০৩৯ হিজরি সাল

 

পুস্তিকাটি (الرسالة) সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি

যখন আমি উল্লিখিত লাইব্রেরি থেকে মূল কপির (الأصل) আলোকচিত্রের মাধ্যমে পুস্তিকাটি (الرسالة) সংগ্রহ করলাম, তখন আমি মক্কা মুকাররমা লাইব্রেরি ও হারম মক্কি লাইব্রেরিসহ অন্যান্য লাইব্রেরির ক্যাটালগে অনুসন্ধান চালালাম। আমি ইবনে আল্লানের জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত উৎসগুলো অনুসন্ধান করলাম, বিশেষ করে আল্লামা ডক্টর আল-হায়লা রচিত "আত-তারিখ ওয়াল মুয়াররিখুন ফি মাক্কাহ" গ্রন্থটি; এই আশায় যে পুস্তিকাটির অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি (نسخة) পাওয়া যাবে কি না, কিন্তু আমি তাতে সফল হইনি।

অতঃপর যখন 'লিকাউল আশরিল আওয়াখির' অনুষ্ঠানে এটি আমার নির্বাচনের তালিকায় স্থান পেল এবং বিজ্ঞ ও সম্মানিত ভাইদের সম্মতি লাভ করলাম, তখন আমি ডক্টর শেখ আব্দুল ওয়াহাব আবু সুলাইমানের সাথে যোগাযোগ করলাম; মক্কার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলো (التراث) সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও জানাশোনা থাকার কারণে। তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি এই পুস্তিকাটি (الرسالة) সম্পর্কে অবগত নন এবং বললেন: "আপনি এটি নিয়ে কাজ শুরু করুন, সম্ভবত এটিই এর একমাত্র পাণ্ডুলিপি (نسخة)।"

প্রকৃতপক্ষে, আমি এর ওপর সেভাবেই কাজ করেছি যা সম্মানিত পাঠক দেখতে পাবেন:

১ - আমি মূল কপি (الأصل) থেকে এটি অনুলিপি (نسخ) করেছি এবং পরবর্তীতে মসজিদুল হারামের চত্বরে আমাদের বিজ্ঞ শায়খ নিযাম ইয়াকুবী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর সাথে মিলিয়ে (مقابلة) দেখেছি।

২ - আমি পুস্তিকাটির (الرسالة) শুরুতে এর লেখকের একটি পরিচিতি পেশ করেছি এবং বিশেষভাবে কাবার পতন ও নির্মাণ সংক্রান্ত তাঁর দশটি রচনা (مصنفات) ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি সংক্ষেপে তাঁর পরিবার ও তাঁদের প্রখ্যাত আলেমদের (علماء) পরিচয় তুলে ধরেছি এবং তাঁর সমসাময়িক ও অন্যদের মধ্যে যারা এই পুস্তিকাটির (الرسالة) বিষয়বস্তুর ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) নাশরু আলওয়িয়াতিত তাশরীফ বিল ইলামি ওয়াত তারিফি বিমান লাহু ওয়ালাইয়াতু ইমারাত মা সাকাতা মিনাল বাইতিশ শারীফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - خرجت الآيات الكريمة والأحاديث الشريفة الواردة.

4 - عرفت بالأعلام في الغالب.

5 - رجعت إلى بعض مصادر المؤلف لا سيما رسالة ابن حجر الهيتمي "المناهل العذبة" وهي مخطوطة زوّدني بمصورة لها الأخُ الفاضل أمجد رشيد محمَّد الأردني -أحد طلاب العلم النابهين من أهل عمّان- فجزاه الله خيرًا، وقد أخبرني أنه يعمل على تحقيقها، فأرجو له التوفيق.

6 - واجهت بعض الصعوبة في قراءة بعض الكلمات بالمخطوط، وأيضًا وجود خروم في غالب الصفحات. فما تمكنت من قراءته أوردته، وما لم أتمكن، أثبته كما ورد وعلقت عليه.

7 - علقت على بعض المواضع بما يزيد القارئ فائدة من بعض المراجع الهامة.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يتقبله مني إنه جواد كريم، كما أرجو من القراء الكرام أن لا ينسوني ووالدي وشيوخي من دعوة صالحة بظهر الغيب! وحسبنا الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلَّا بالله العلي العظيم.

وصلَّى الله وسلَّم على سيِّدنا وأسعدنا محمَّد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

محمَّد أبو بكر باذيب

حرر بجدة في 19 صفر الخير 1422 هـ
৩ - উল্লিখিত সম্মানিত আয়াতসমূহ ও হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।

৪ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) পরিচয় প্রদান করা হয়েছে।

৫ - আমি লেখকের কিছু মূল উৎসের সাহায্য নিয়েছি, বিশেষ করে ইবনে হাজার হাইতামীর রিসালাহ "আল-মানাহিল আল-আযবাহ"। এটি একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة), যার একটি ছায়ালিপি আমাকে প্রদান করেছেন আম্মানের একজন মেধাবী ইলম অন্বেষী (طلاب العلم) সম্মানিত ভাই আমজাদ রশিদ মুহাম্মদ আল-উর্দুনী—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এটি সম্পাদনার (تحقيق) কাজ করছেন, আমি তাঁর সফলতা কামনা করি।

৬ - পাণ্ডুলিপি পাঠ করার ক্ষেত্রে আমি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, এছাড়া অধিকাংশ পৃষ্ঠায় বিচ্যুতি বা ছিদ্র (خروم) ছিল। আমি যা পাঠ করতে পেরেছি তা উল্লেখ করেছি, আর যা পাঠ করা সম্ভব হয়নি তা যেমন আছে তেমনই রেখেছি এবং সে বিষয়ে টিকা (تعليق) প্রদান করেছি।

৭ - কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র (مراجع) থেকে পাঠকের উপকারের জন্য কোনো কোনো স্থানে টিকা (تعليق) প্রদান করেছি।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি গ্রহণ করেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা ও দয়ালু। আরও আশা করি যে, সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং আমার উস্তাদগণের (شيوخ) কথা তাঁদের নেক দোয়ায় ভুলে যাবেন না। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

আমাদের নেতা ও সৌভাগ্যের আধার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর (صحابة) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

মুহাম্মদ আবু বকর বা-দীব

জেদ্দায় লিখিত, ১৯ সফরুল খায়ের ১৪২২ হিজরি