(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: -)
الفروق للسامري جـ 1 ط الصميعي   (ابن سنينة السامري)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: الفروق على مذهب الإمام أحمد بن حنبل

المؤلف: معظم الدين أبو عبد الله السامري (535 - 616 هـ)

دراسة وتحقيق: محمد بن إبراهيم بن محمد اليحيى

أصل التحقيق: رسالة ماجستير بكلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، عام 1402 هـ، حُقِّق فيها قسم العبادت فقط، ولم يُطبع من الكتاب سواه حتى تاريخ نشر هذه النسخة الإلكترونية، وقد تم تحقيق بقية الكتاب في رسالتين علميتين بجامعة أم القرى

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 407

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 ذو الحجة 1437

আস-সামিরীর আল-ফুরূক, ১ম খণ্ড, আস-সুমাইয়ি সংস্করণ   (ইবনে সুনায়নাহ আস-সামিরী)

বিভাগ: উসূলুল ফিকহ

বই: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী আল-ফুরূক

লেখক: মুয়াযযামুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আস-সামিরী (৫৩৫ - ৬১৬ হিজরী)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-ইয়াহইয়া

সম্পাদনার উৎস: রিয়াদের শারীয়াহ অনুষদের মাস্টার্স থিসিস - ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪০২ হিজরী, এতে শুধুমাত্র ইবাদত পর্বটি সম্পাদিত হয়েছে, এবং এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কিতাবটির এই অংশটি ছাড়া আর কিছুই মুদ্রিত হয়নি, কিতাবের বাকি অংশ উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বৈজ্ঞানিক থিসিসের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ যুল হিজ্জাহ ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الفروق على مذهب الإمام أحمد بن حنبل

 

تأليف

الشيخ معظم الدين أبي عبد الله السامري (535 هـ - 616 هـ)

 

دراسة وتحقيق

محمد بن إبراهيم بن محمد اليحيى

 

[الجزء الأول]

قسم العبادات
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী কিতাবুল ফুরুক

 

রচনায়

শাইখ মুয়াজ্জামুদ্দীন আবি আব্দুল্লাহ আস-সামিরী (৫৩৫ হিজরি - ৬১৬ হিজরি)

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ইয়াহইয়া

 

[প্রথম খণ্ড]

ইবাদত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مُقَدمة

الحمد لله القائل في كتابه العزيز {قُلْ هَلْ يَسْتَوي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (1)

والقائل: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} (2).

والقائل: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} (3).

وأصلي وأسلم على النبي الهاشمي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء وخير الخليقة الذي قال: (من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين) (4).

والقائل: (لعلي رضي الله عنه: (فوالله لأن يهدي الله بك رجلًا واحدًا خير لك من حمر النعم) (5).

والمروي عنه قوله: (ومن سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقًا إلى الجنة) (6).

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر آية 9.

‌‌(2) سورة فاطر آية 28.

‌‌(3) سورة المجادلة آية 11.

‌‌(4) البخاري 1/ 28، صحيح مسلم 2/ 718 - 719، 3/ 1524 رياض الصالحين 337.

‌‌(5) مختصر صحيح مسلم 2/ 194، رياض الصالحين 337.

‌‌(6) سنن أبي داوود 4/ 57.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

 

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহান কিতাবে বলেছেন {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} (১)

এবং যিনি বলেছেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে} (২)।

এবং যিনি বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন} (৩)।

এবং আমি সালাত ও সালাম পাঠ করছি হাশেমি নবী মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহর ওপর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), যিনি সর্বশেষ নবী এবং সৃষ্টির সেরা, যিনি বলেছেন: (আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন) (৪)।

এবং যিনি আলীকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উদ্দেশ্য করে বলেছেন: (আল্লাহর কসম, তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম) (৫)।

এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণের কোনো পথে চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন) (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার, আয়াত ৯।

‌‌(২) সূরা ফাতির, আয়াত ২৮।

‌‌(৩) সূরা আল-মুজাদিলা, আয়াত ১১।

‌‌(৪) বুখারি ১/২৮, সহীহ মুসলিম ২/৭১৮ - ৭১৯, ৩/১৫২৪, রিয়াদুস সলিহীন ৩৩৭।

‌‌(৫) মুখতাসার সহীহ মুসলিম ২/১৯৪, রিয়াদুস সলিহীন ৩৩৭।

‌‌(৬) সুনানে আবু দাউদ ৪/৫৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৩)
وبعد:

فإني لما اجتزت المرحلة التمهيدية كان علي اختيار موضوع مناسب للحصول على درجة الماجستير، فوفقني الله لاختيار مخطوطة في الفقه لا حد علمائنا الأفاضل الذين سبقونا وقتا وعلفا وفضلًا وجهدًا واحتسابًا ألا وهي مخطوطة الفروق لفقيه من فقهاء الحنابلة وهو محمد بن عبد الله السامري، المولود عام 535 هـ والمتوفى عام 616 هـ.

ولا ريب فالمؤلِّف والمولَّف جديران بالاهتمام والدراسة والعناية والإبراز حيث أن لهما مكانتهما، المؤلِّف بين العلماء والمؤلَّف بين غيره من المؤلفات.

ويوجد نسختان لهذه المخطوطة إحداهما نسخة الكتبة الظاهرية بدمشق ولقد حصلت على الجزء الأول والذي يختص بربع العبادات-وهو الموضوع الذي يهمني هنا- ويحتوي على كتاب الطهارة وكتاب الصلاة وكتاب الزكاة وكتاب الصيام وكتاب الاعتكاف وكتاب الحج.

وعدد ورقاتها ثلاث وستون ورقة -ما عدا العنوان- وكل ورقة بها صفحتان، وكل صفحة تحتوي على ثلاثة عشر سطرًا وكل سطر يحتوى على إحدى عشرة كلمة إلى تسع كلمات.

وقد ورد في أخرها أنه وافق الفراغ منه تسع عشر شهر الله المحرم سنة ست وخمسين وثمانمائة من الهجرة النبوية.
অতঃপর:

আমি যখন প্রাথমিক পর্যায়টি অতিক্রম করলাম, তখন স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির জন্য আমাকে একটি উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করতে হতো। ফলে মহান আল্লাহ আমাদের পূর্বসূরি বরেণ্য আলিমগণের মধ্য থেকে এমন এক আলিমের ফিকহ শাস্ত্রের একটি পাণ্ডুলিপি নির্বাচনের তাওফিক দান করেন, যারা সময়, ইলম, মর্যাদা, প্রচেষ্টা এবং পরকালীন সওয়াবের প্রত্যাশার (ইখলাস) দিক দিয়ে আমাদের অনেক অগ্রজ। সেটি হলো হাম্বলী ফকীহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সামিরী (জন্ম ৫৩৫ হিজরী এবং মৃত্যু ৬১৬ হিজরী) রচিত 'আল-ফুরূক' নামক পাণ্ডুলিপিটি।

নিঃসন্দেহে লেখক এবং তাঁর এই রচনাটি মনোযোগ, গবেষণা, যত্ন ও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি রাখে। কেননা আলিমদের মাঝে লেখকের যেমন উচ্চ মর্যাদা রয়েছে, ঠিক তেমনি অন্যান্য রচনার মাঝেও গ্রন্থটির একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপিটির দুটি অনুলিপি বিদ্যমান; যার একটি দামেস্কের মাকতাবাতুয যাহিরিয়ার কপি। আমি এর প্রথম খণ্ডটি সংগ্রহ করেছি যা ইবাদত সংক্রান্ত অংশ নিয়ে—আর এটিই এখানে আমার মূল লক্ষ্য। এতে পবিত্রতা অধ্যায়, সালাত অধ্যায়, যাকাত অধ্যায়, সিয়াম অধ্যায়, ইতিকাফ অধ্যায় এবং হজ্জ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর মোট পত্রসংখ্যা হলো তেষট্টিটি (শিরোনাম ব্যতীত) এবং প্রতিটি পত্রের দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় তেরোটি করে লাইন বা সারি রয়েছে এবং প্রতিটি সারিতে নয় থেকে এগারোটি করে শব্দ রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটির শেষে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি সম্পন্ন করার তারিখ ছিল হিজরি ৮৫৬ সনের মুহাররম মাসের উনিশ তারিখ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد جعلت هذه النسخة هي الأصل الذي اعتمدته في التحقيق.

وأما النسخة الثانية فهي نسخة المكتبة العباسية بالبصرة، وهذه المكتبة مكتبة أهلية خاصة، ويصعب جدًّا الإطلاع على شيء من محتوياتها، خاصة في مثل هذه الظروف الحالية التي نشبت فيها الحرب بين العراق وإيران، وقد تفضل الله تعالى وتكرم علي فيسر لي الاطلاع على هذه النسخة بعد جهود مضنية، فلله الحمد والمنة.

وهذه المخطوطة جمعت بمجلد واحد بدأت بكتاب الطهارة وسارت من حيث الكتب كسير نسخة الظاهرية وعدد صفحاتها مائة وثمانون صفحة في كل صفحة واحد وعشرون سطرًا في كل سطر ثلاث عشرة كلمة، لم أجد فيها تاريخ النسخ ولا اسم الناسخ.

وأحب هنا أن أذكر باختصار ما قمت به من عمل حول هذا العالِم وحول مخطوطته (الفروق).

فأقول:

لقد قسمت عملي في هذا الموضوع إلى قسمين.

القسم الأول خاص بالمؤلِّف وعصره وقسمته إلى تمهيد وبابين، تعرضت في التمهيد إلى ثلاثة أمور: -
আর আমি এই কপিটিকে মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে নির্ধারণ করেছি যার ওপর আমি সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে নির্ভর করেছি।

আর দ্বিতীয় কপিটি হলো বসরার আব্বাসীয়া লাইব্রেরির কপি। এটি একটি বিশেষ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি এবং এর বিষয়বস্তু দেখা অত্যন্ত দুরূহ, বিশেষ করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মতো বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। তবে মহান আল্লাহ আমার প্রতি কৃপা ও অনুগ্রহ করেছেন এবং কঠোর প্রচেষ্টার পর আমার জন্য এই কপিটি দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও অনুকম্পা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।

এই পাণ্ডুলিপিটি এক খণ্ডে সংগৃহীত হয়েছে; এটি কিতাবুত তাহারাহ (পবিত্রতা অধ্যায়) দিয়ে শুরু হয়েছে এবং অধ্যায়গুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি জাহিরিয়্যাহ কপির অনুরূপ। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা একশত আশি। প্রতিটি পৃষ্ঠায় একুশটি লাইন এবং প্রতিটি লাইনে তেরোটি শব্দ রয়েছে। আমি এতে অনুলিপির তারিখ বা অনুলিপিকারীর নাম খুঁজে পাইনি।

আর আমি এখানে এই আলেম এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি ‘আল-ফুরুক’ নিয়ে আমার সম্পাদিত কাজের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে চাই।

আমি বলছি:

আমি এই বিষয়ের ওপর আমার কাজটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি।

প্রথম অংশটি লেখক এবং তাঁর যুগ সম্পর্কিত। আমি এটিকে একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। ভূমিকায় আমি তিনটি বিষয় তুলে ধরেছি: -
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৫)
الأول: تعريف كلمة الفروق.

الثاني: أهمية هذا النوع من التأليف.

الثالث: نموذج مما ألف في هذا النوع.

أما الباب الأول فقد خصصته للحالة العلمية والدينية والحالة السياسية في عصر المؤلف.

وأما الباب الثاني فهو خاص بالمؤلف اسمه ونسبه وولادته ووفاته وحياته العلمية والعملية، وقيمته وأثاره العلمية ومشائخه وتلامذته.

وأما القسم الثاني: فهو خاص بالمخطوطة وقد اتبعت في تحقيقها:

‌‌1 - بذل الجهود في إخراج النص كما هو.

‌‌2 - وضع أي زيادة في نسخة عن الأخرى بين قوسين والإشارة إلى ذلك في الهامش.

‌‌3 - عند اختلاف اللفظ أثبت لفظ الظاهرية وأشير في الهامش إلى لفظ العباسية وعندما أقول (الظاهرية) فأنا أريد نسخة المكتبة الظاهرية، وعندما أقول (العباسية) فأنا أريد نسخة المكتبة العباسية.

‌‌4 - ترقيم الآيات القرآنية.

‌‌5 - تخريج الأحاديث وبيان درحتها من القوة والضعف.

‌‌6 - الاستشهاد من الكتب المعتمدة في المذهب للأحكام التي ذكرها المؤلف وفرق بينهما.
প্রথমত: 'আল-ফুরুক' শব্দের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয়ত: এই ধরনের রচনার গুরুত্ব।

তৃতীয়ত: এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থের একটি নমুনা।

প্রথম পরিচ্ছেদটি আমি লেখকের যুগের ইলমি, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি লেখকের জন্য নির্ধারিত; তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, মৃত্যু, ইলমি ও আমলি জীবন, তাঁর মর্যাদা ও ইলমি অবদানসমূহ এবং তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ।

আর দ্বিতীয় অংশটি পাণ্ডুলিপি বিষয়ক; এটি তাহকীক (সম্পাদনা) করার ক্ষেত্রে আমি যা অনুসরণ করেছি:

‌‌১ - মূল পাঠটি যেভাবে আছে সেভাবেই উপস্থাপনের জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করা।

‌‌২ - এক কপিতে অন্য কপির তুলনায় কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকলে তা বন্ধনীতে রাখা এবং ফুটনোটে সেদিকে ইঙ্গিত করা।

‌‌৩ - শব্দের ভিন্নতার ক্ষেত্রে আমি 'জাহিরিয়্যাহ' পাণ্ডুলিপির শব্দ সাব্যস্ত করেছি এবং ফুটনোটে 'আব্বাসিয়্যাহ' কপির শব্দের দিকে ইঙ্গিত করেছি। যখন আমি 'জাহিরিয়্যাহ' বলি, তখন তার দ্বারা 'মাকতাবাতুল জাহিরিয়্যাহ'-এর কপি উদ্দেশ্য এবং যখন আমি 'আব্বাসিয়্যাহ' বলি, তখন তার দ্বারা 'মাকতাবাতুল আব্বাসিয়্যাহ'-এর কপি উদ্দেশ্য।

‌‌৪ - কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান করা।

‌‌৫ - হাদিসসমূহের তাখরিজ করা এবং সবলতা ও দুর্বলতার বিচারে সেগুলোর স্তর বর্ণনা করা।

‌‌৬ - লেখক যে সকল বিধান বর্ণনা করেছেন এবং যেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন, সেগুলোর জন্য মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌7 - ذكر ما ورد في المذهب من الروايات إلى لم يذكرها المولف وذلك قدر المستطاع.

‌‌8 - أتعرض غالبًا لذكر الرواية المعتمدة في المذهب.

‌‌9 - الإشارة إلى المذاهب الفقهية في غالبية الفصول على قدر الاستطاعة وخاصة منها ما يكون فيه خلاف مع الإحالة على الكتب المعتمدة في كل مذهب ما أمكن، وقد أقتصر على الإحالة إلى الكتب التي تعتني بالمذاهب الأربعة كالمغنى، والإفصاح، والمجموع، وبداية المجتهد وبدائع الصنائع وغيرها.

‌‌10 - إيضاح معاني الكلمات الغريبة.

‌‌11 - ترجمة مختصرة لكل علم من الأعلام المذكورين في الكتاب.

‌‌12 - التعريف بما يمر من الأمكنة.

‌‌13 - ختمت ذلك بفهارس لما يلي:

أ - الآيات القرآنية.

ب - الأحاديث النبوية.

جـ - الأعلام.

د - الأمكنة.

هـ - المراجع.

و- المواضيع.

وقبل أن أنهي مقدمتي هذه رأيت أن أذكر بعضًا من الأسباب التي دعتني إلى اختيار هذه المخطوطة موضوعًا لرسالتي:
‌‌৭ - মাযহাবের সেই সকল বর্ণনা উল্লেখ করা যা লেখক উল্লেখ করেননি, এবং তা সাধ্যানুসারে।

‌‌৮ - আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাযহাবের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাটি উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি।

‌‌৯ - অধিকাংশ পরিচ্ছেদে সাধ্যানুসারে ফিকহি মাযহাবসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, বিশেষ করে যেখানে মতভেদ রয়েছে, প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতিসহ যতটুকু সম্ভব। কখনো কখনো আমি কেবল সেই কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা চার মাযহাবের বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে, যেমন আল-মুগনি, আল-ইফসাহ, আল-মাজমু, বিদায়াতুল মুজতাহিদ, বাদায়েউস সানায়ে এবং অন্যান্য।

‌‌১০ - অপ্রচলিত শব্দাবলির অর্থ স্পষ্টীকরণ।

‌‌১১ - কিতাবে বর্ণিত প্রত্যেক প্রখ্যাত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী।

‌‌১২ - উল্লিখিত স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান।

‌‌১৩ - আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সূচিপত্র প্রদানের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করেছি:

ক - কুরআনের আয়াতসমূহ।

খ - নববী হাদীসসমূহ।

গ - ব্যক্তিবর্গ।

ঘ - স্থানসমূহ।

ঙ - উৎসগ্রন্থসমূহ।

চ - বিষয়সমূহ।

আমার এই ভূমিকা সমাপ্ত করার পূর্বে, আমি সেই সকল কারণের কিছু উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যা আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটিকে আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে:
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌1 - أهمية هذا النوع من التأليف في الفقه.

‌‌2 - عدم طباعة أي كتاب مستقل من الكتب التي تعنى بالفروق -فقط- في المذهب الحنبلي -حسب علمي-.

‌‌3 - حاجة الكثيرين من العلماء والمتعلمين إلى الإطلاع عليها.

‌‌4 - شهرة مؤلفها وخاصة في المذهب الحنبلي.

‌‌5 - جودة هذه المخطوطة.

‌‌6 - الإسهام مع غيري من المحققين في التحقيق وإخراج تراث علمائنا الأفاضل إلى متناول الأيدي لكي تعم الفائدة.

وفي الختام أتقدم بشكرى الجزيل إلى شيخي الفاضل المشرف على هذه الرسالة صاحب الفضيلة الشيخ صالح العلي الناصر رئيس قسم الفقه، الذي كان له دوره الفعال في إرشادي ومساندتي حتى وصلت إلى ما وصلت إليه ثم لا يفوتي أن أشكر كلية الشريعة ممثلة في عميدها الموقر وأعضاء هيئة التدريس لما لهم على من الفضل.

فجزى الله الجميع عني وعن العلم وأهله خير الجزاء.

كما أشكر كل من أعانني في هذا المجال من مشائخي وأقاربي وأصدقائي وأدعو الله لي ولهم جميعًا بالتوفيق وقبول العمل إنه سميع مجيب، وأسأله تعالى أن يجعل عملي هذا خالصًا لوجهه الكريم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى أله وصحبه أجمعين (1).

--------------------------------------------

(1) تمت مناقشه هذه الرسالة يوم الاثنين 15/ 8 / 1402 هـ بقاعة المحاضرات بمبنى كليه الشريعة بالرياض بعد صلاة المغرب مباشرة الساعة 6.45 وكانت لجنة المناقشه:

‌‌1 - فضيلة الشيخ صالح العلي الناصر رحمه الله رئيس قسم الفقه والمشرف على الرسالة رئيسًا.

‌‌2 - فضيلة الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الغديان عضو هيئة كبار العلماء عضوًا.

‌‌3 - فضيلة الشيخ صالح بن عبد الرحمن الأطرم الأستاذ المشارك بالكلية وعضو هيئة كبار العلماء حاليًا عضوًا.

وقررت اللجنه منح درجة الماجستير بتقدير جيد جدًّا.

واعتمدت النتيجة من مجلس الجامعة في جلسته رقم 20 المنعقدة في 17/ 8 / 1402 هـ الموافق 9/ 6 / 1982 م.
১ - ফিকহ শাস্ত্রে এ ধরনের রচনার গুরুত্ব।

‌২ - আমার জানামতে, হাম্বলি মাজহাবের শুধুমাত্র 'পার্থক্যসমূহ' (ফুরুক) নিয়ে রচিত কোনো স্বতন্ত্র কিতাব এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি।

‌৩ - অনেক আলেম এবং শিক্ষার্থীর এ বিষয়ে অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা।

‌৪ - এর লেখকের প্রসিদ্ধি, বিশেষ করে হাম্বলি মাজহাবে।

‌৫ - এই পাণ্ডুলিপির গুণগত মান।

‌৬ - অন্যান্য গবেষকদের সাথে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও আমাদের সম্মানিত আলেমদের ঐতিহ্য সবার হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখা, যাতে এর দ্বারা সবাই উপকৃত হতে পারে।

পরিশেষে আমি আমার সম্মানিত উস্তাদ, এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক, ফিকহ বিভাগের প্রধান ফজিলতুশ শাইখ সালিহ আল-আলী আন-নাসিরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাকে সঠিক পথনির্দেশনা এবং সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তাঁর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা ছিল, যার ফলে আমি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। এরপর আমি শরীয়াহ অনুষদকে ধন্যবাদ জানাই, যার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর সম্মানিত ডিন এবং অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ, আমার ওপর তাঁদের অনেক অনুগ্রহ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে এবং ইলম ও এর ধারক-বাহকদের পক্ষ থেকে সবাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এছাড়াও আমি এই ক্ষেত্রে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন—আমার শাইখগণ, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আমার নিজের এবং তাদের সকলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক এবং নেক আমল কবুল হওয়ার দোয়া করছি। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক (১)।

--------------------------------------------

(১) এই অভিসন্দর্ভটি ১৪০২ হিজরির ১৫ই শাবান সোমবার মাগরিবের নামাজের ঠিক পর সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিটে রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদ ভবনের লেকচার হলে আলোচিত হয়েছে। আলোচনার কমিটি ছিল নিম্নরূপ:

‌১ - ফজিলতুশ শাইখ সালিহ আল-আলী আন-নাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), ফিকহ বিভাগের প্রধান এবং অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক—সভাপতি।

‌২ - ফজিলতুশ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-গুদায়্যান, উচুঁ পর্যায়ের আলেমদের পরিষদের (হাইয়াতু কিবারিল উলামা) সদস্য—সদস্য।

‌৩ - ফজিলতুশ শাইখ সালিহ বিন আব্দুর রহমান আল-আতরাম, অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক এবং বর্তমানে উচুঁ পর্যায়ের আলেমদের পরিষদের (হাইয়াতু কিবারিল উলামা) সদস্য—সদস্য।

কমিটি 'খুব ভালো' (জেয়্যিদ জিদ্দান) মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ২০তম অধিবেশনে ১৪০২ হিজরির ১৭ই শাবান মোতাবেক ৯ই জুন ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে এই ফলাফল অনুমোদিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৮)
القسم الأول

حديثي عن هذا القسم سيكون محتويًا على تمهيد وبابين.

أما التمهيد فسيشمل تعريف كلمة فروق والحديث عن أهمية هذا النوع من التأليف وعلى ذكر نماذج مما ألف في هذا الفن.

وأما الباب الأول فسيكون الحديث فيه حول الحالة العلمية والدينية والسياسية في عصر المؤلف.

وأما الباب الثاني فهو خاص بالمؤلف اسمه ونسبه وولادته ووفاته وحياته العلمية والعملية وقيمته وآثاره العلمية ومشائخه وتلامذته.
প্রথম অংশ

এই অংশ সম্পর্কে আমার আলোচনা একটি ভূমিকা এবং দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত হবে।

ভূমিকার ক্ষেত্রে, এতে ‘ফুরুক’ (পার্থক্যসমূহ) শব্দের সংজ্ঞা, এই ধরনের রচনার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা এবং এই শিল্পে রচিত গ্রন্থাবলির কিছু নমুনা উল্লেখ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আর প্রথম পরিচ্ছেদে লেখকের সমসাময়িক যুগের ইলমি, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি লেখকের জন্য নির্ধারিত; এতে থাকবে তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, মৃত্যু, ইলমি ও আমলি জীবন, তাঁর মর্যাদা, তাঁর ইলমি রচনাবলি, তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التمهيد

سيكون الحديث هنا مقصورًا على أمور ثلاثة

الأمر الأول: تعريف كلمة الفروق لغة واصطلاحًا.

الأمر الثاني: أهمية هذا النوع من التأليف.

الأمر الثالث: ذكر نموذج مما ألف في الفروق في كل مذهب من المذاهب الأربعة.
ভূমিকা

এখানে আলোচনা তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রথম বিষয়: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে 'ফুরূক' শব্দের পরিচয়।

দ্বিতীয় বিষয়: এ জাতীয় রচনার গুরুত্ব।

তৃতীয় বিষয়: চার মাযহাবের প্রত্যেকটিতে 'ফুরূক' বিষয়ক রচিত গ্রন্থের একটি করে নমুনা উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الأمر الأول تعريف كلمة الفروق

‌‌التعريف اللغوي:

الفُروق جمع فَرْق، والفَرْق مكيال معروف بالمدينة (1) وهو ستة عشر رطلا (2).

والفَرق خلاف الجمع وتفريق ما بين الشيئين حين يتمرقان، والفصل بين الشيئين وموضع المَفْرِق من الرأس (3).

 

‌‌التعريف الاصطلاحي:

الفروق باصطلاح الفقهاء (الفن الذي يبحث في المسائل المشتبهة في الصورة والمختلفة في الحكم والدليل والعلة) (4).

--------------------------------------------

(1) المنَجِّد 290، لسان العرب 2/ 1087.

‌‌(2) الصحاح 4/ 1540، لسان العرب 2/ 1087.

‌‌(3) لسان العرب 2/ 1805.

‌‌(4) المدخل 231.
প্রথম বিষয়: ‘ফুরূক’ শব্দের সংজ্ঞা

শাব্দিক সংজ্ঞা:

‘ফুরূক’ হলো ‘ফারক’ শব্দের বহুবচন। আর ‘ফারক’ হলো মদীনায় প্রচলিত একটি সুপরিচিত পরিমাপক পাত্র (১), যা ষোল রতলের সমপরিমাণ (২)।

আর ‘ফারক’ হলো একত্র করার বিপরীত এবং দুই বস্তুর মাঝখানে পৃথক করা যখন তারা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এটি দ্বারা দুই বস্তুর মধ্যবর্তী বিচ্ছেদ এবং মাথার সিথির স্থানকেও বোঝানো হয় (৩)।

 

পারিভাষিক সংজ্ঞা:

ফকীহগণের পরিভাষায় ‘ফুরূক’ হলো— (এমন একটি শাস্ত্র যা ওইসব মাসআলা নিয়ে আলোচনা করে, যেগুলো বাহ্যিক আকৃতিতে সদৃশ মনে হলেও বিধান, দলীল এবং কারণের দিক থেকে ভিন্ন) (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনজিদ ২৯০, লিসানুল আরব ২/ ১০৮৭।

(২) আস-সিহাহ ৪/ ১৫৪০, লিসানুল আরব ২/ ১০৮৭।

(৩) লিসানুল আরব ২/ ১৮০৫।

(৪) আল-মাদখাল ২৩১।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الأمر الثاني أهمية هذا النوع من التأليف

لقد اعتنى كثير من علماء المسلمين بهذا النوع وأفردوه بالبحث والتأليف، وذلك لما له من أهمية بالغة في إيضاح الفروق الدقيقة بين الكثير من المسائل التي تتشابه صورها وتختلف أحكامها وأسبابها وعللها.

وقارئ أي كتاب من كتب الفروق عند قراءته لأي فصل من فصولها يبرز له فروق دقيقة لم تكن في علمه، ولربما كان يعلم ذلك بصفة عامة من خلال قراءته للكتب الفقهية الأخرى إلا أنها تظهر في كتب الفروق بمظهر أدق وكأنها جديدة على القارئ وكتب الفروق تزيل كثيرًا من الشبه، وتجلوا ما في الفكر من الصدأ، وتصقل الذهن، وتوجد في القارئ الدقة في النظر للأحكام عند التمييز بينهما.

ويعيش القارئ جوا لم يكن يعهده في الكتب الفقهية الأخرى، فقد يمضي عليه ساعات طويلة في القراءة إلا أنه يستقصرها لما يجد من اللذة وحب الاستزادة، ولقد أحس بذلك كثير من علمائنا الأفاضل فبذلوا ما في وسعهم في التأليف في هذا النوع وأول من رأيت أنه ألف فيه أحمد بن سريج الشافعي المولود عام 249 هـ والمتوفى عام 306 هـ، والحق أن هؤلاء العلماء خلفوا لنا تراثًا علميًّا وثروة فقهية ضخمة مبنية على أسس متينة مستمدة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ثروة تغنينا عن غيرها من الثروات الزائفة من قوانين بشرية وغيرها مما بني على أسس واهية.

إذًا حق لهذا النوع من التأليف أن يبرز وحق له أن يقرأ ويستفاد منه.
দ্বিতীয় বিষয়: এই প্রকার রচনার গুরুত্ব

অনেক মুসলিম আলেম রচনার এই পদ্ধতির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর কারণ হলো, এটি এমন অনেক মাসআলার মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর বাহ্যিক রূপ দেখতে একই রকম মনে হলেও সেগুলোর বিধান, কারণ ও উৎস ভিন্ন ভিন্ন হয়।

পার্থক্যবিষয়ক (ফুরুক) গ্রন্থসমূহের কোনো পাঠক যখন এর কোনো অধ্যায় পাঠ করেন, তখন তার সামনে এমন সব সূক্ষ্ম পার্থক্য উন্মোচিত হয় যা আগে তার জানা ছিল না। হতে পারে অন্য কোনো ফিকহী কিতাব পড়ার মাধ্যমে সাধারণভাবে বিষয়টি তার জানা ছিল, কিন্তু পার্থক্যবিষয়ক গ্রন্থসমূহে তা এতটাই সূক্ষ্মভাবে ফুটে ওঠে যে পাঠকের কাছে তা একেবারে নতুন বলে মনে হয়। এই কিতাবগুলো অনেক সংশয় দূর করে, চিন্তাজগত থেকে বিভ্রান্তির মরিচা পরিষ্কার করে, মেধাকে শাণিত করে এবং বিভিন্ন বিধানের মাঝে পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে পাঠকের মাঝে সূক্ষ্ম দৃষ্টির সক্ষমতা তৈরি করে।

এর ফলে পাঠক এমন এক পরিবেশের অভিজ্ঞতা লাভ করেন যা অন্য ফিকহী কিতাবসমূহে সচরাচর পাওয়া যায় না। পাঠের মগ্নতায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পাঠকের কাছে তা খুব অল্পই মনে হয়, কারণ তিনি এতে বিশেষ স্বাদ ও আরও জানার আগ্রহ খুঁজে পান। আমাদের অনেক বরেণ্য আলেম এটি অনুভব করেছেন, তাই তারা এই বিষয়ে রচনার ক্ষেত্রে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এই বিষয়ে প্রথম যিনি কিতাব লিখেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি, তিনি হলেন আহমাদ ইবনে সুরাইজ আশ-শাফেয়ী (জন্ম ২৪৯ হিজরি এবং মৃত্যু ৩০৬ হিজরি)। প্রকৃতপক্ষে, এই আলেমগণ আমাদের জন্য এক বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও ফিকহী সম্পদ রেখে গেছেন, যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে গৃহীত সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি এমন এক সম্পদ যা আমাদেরকে মানব রচিত আইন বা ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য অসার সম্পদ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়।

সুতরাং, রচনার এই ধারাটি সামনে আসা এবং এটি পাঠ করে তা থেকে উপকৃত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الأمر الثالث بعض ما ألف في هذا النوع من المذاهب الأربعة

لم يكن التأليف في هذا النوع مقصورًا على مذهب من المذاهب دون غيره بل قد ألف فيه علماء كثيرون وهنا سأقتصر على ذكر نماذج مما ألف في هذا الفن على المذاهب الأربعة فقط بادئا باسم المؤلف ونبذة يسيرة عنه متبعًا لذلك بالمؤلَّف.

 

‌‌أ - المذهب الحنفي:

‌‌1 - محمد بن صالح الكرابيسي أبو الفضل السمرقندي الحنفي المتوفى عام 322 هـ صنف الفروق في فروع الحنفية (1).

‌‌2 - أسعد بن محمد بن الحسين الكرابيسي النيسابوري الحنفي أبو المظفر جمال الإسلام توفي عام 570 هـ (2) من مؤلفاته الفروق (3).

‌‌3 - أحمد بن عبيد الله بن إبراهيم المحبوبي، النيسابوري، صدر الشريعة الأول فقيه حنفي توفي عام 630 هـ (4) من تصانيفه تلقيح

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1257، معجم المؤلفين، كحاله، جـ 1 ص 85، هدية العارفين، البغدادي جـ 2 ص 33، الإعلام، الزركلي، جـ 6 ص 162.

‌‌(2) قال: في كشف الظنون جـ 2 ص 1257 بأن وفاته عام 539 هـ.

‌‌(3) معجم المؤلفين، كحاله، جـ 2 ص 247 والإعلام، للزركلي، جـ 1 ص 301 الفوائد البهية في تراجم الحنفية، محمد عبد الحي اللكنوي الهندي ص 45.

‌‌(4) معجم المؤلفين، عمر رضا كحاله، جـ 1 ص 308.
তৃতীয় বিষয়: চার মাযহাবে এই বিষয়ের ওপর রচিত কিছু গ্রন্থ

এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা কেবল কোনো একটি বিশেষ মাযহাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অনেক আলেমই এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এখানে আমি কেবল চার মাযহাবে এই বিদ্যায় রচিত গ্রন্থের কিছু নমুনা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। আমি লেখকের নাম এবং তার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে শুরু করব এবং এরপর তার রচিত গ্রন্থের উল্লেখ করব।

 

ক - হানাফী মাযহাব:

১ - মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-কারাবিসি আবুল ফজল আস-সামারকান্দি আল-হানাফি, মৃত্যু ৩২২ হিজরী। তিনি হানাফি ফিকহের শাখা-প্রশাখার ওপর 'আল-ফুরুক' গ্রন্থটি রচনা করেন (১)।

২ - আসআদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-কারাবিসি আন-নিসাবুরি আল-হানাফি আবুল মুজাফফর জামালুল ইসলাম, মৃত্যু ৫৭০ হিজরী (২)। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-ফুরুক' (৩)।

৩ - আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-মাহবুবি, আন-নিসাবুরি, সদরুশ শারিয়াহ আল-আউয়াল, একজন হানাফি ফকিহ, মৃত্যু ৬৩০ হিজরী (৪)। তার সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে 'তালকিহ'

--------------------------------------------

(১) কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৭ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালাহ, ১ম খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা; হাদিয়াতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ২য় খণ্ড, ৩৩ পৃষ্ঠা; আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা।

(২) কাশফুয যুনুন ২য় খণ্ড ১২৫৭ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে যে, তার মৃত্যু ৫৩৯ হিজরীতে।

(৩) মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালাহ, ২য় খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা এবং আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ১ম খণ্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা; আল-ফাওয়ায়েদ আল-বাহিয়্যাহ ফি তারাযিমিল হানাফিয়্যাহ, মুহাম্মদ আবদুল হাই আল-লাখনবি আল-হিন্দি, ৪৫ পৃষ্ঠা।

(৪) মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, উমর রেজা কাহহালাহ, ১ম খণ্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৩)
العقول (1) في الفروق بين أهل النقول في فروع الفقه الحنفي (2).

‌‌4 - أحمد بن عثمان بن إبراهيم بن مصطفى بن سليمان المارديني الأصل الحنفي المعروف، بابن التركماني (تاج الدين) ولد عام 681 هـ (3) وتوفي عام 744 هـ (4).

وهو ممن ألف في فن الفروق في فروع الحنفية (5).

 

‌‌ب- المذهب المالكي:

‌‌1 - أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن بن عبد الله الصنهاجي شهاب الدين

--------------------------------------------

(1) ورد في معجم المؤلفين وفي كشف الظنون جـ 2 ص 1258 أن اسم الكتاب تلقيح العقود.

‌‌(2) كشف الظنون، حاجي خليفة جـ 1 ص 481، جـ 2 ص 1258، الفوائد البهية، اللكنوي، ص 25 معجم المؤلفين عمر كحاله جـ 1 ص 308.

‌‌(3) ورد في هدية العارفين، المجلد الأول، ص 109 أنه ولد عام 680 هـ.

‌‌(4) الفوائد البهية، اللكنوي، ص 25، كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1257 هدية العارفين المجلد الأول ص 109 الإعلام، الزركلي جـ 1 ص 167 معجم المؤلفين عمر رضا كحالة جـ 1 ص 309.

‌‌(5) كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1257.
আল-উকুল (১) ফিকহে হানাফির শাখা-প্রশাখার বর্ণনাকারীদের মধ্যকার বৈসাদৃশ্যসমূহের বর্ণনায় (২)।

‌‌৪ - আহমাদ বিন উসমান বিন ইবরাহিম বিন মুস্তফা বিন সুলাইমান আল-মারদিনি আল-আসল আল-হানাফি, যিনি ইবনুত তুর্কমানি (তাজুদ্দীন) নামে পরিচিত; তিনি ৬৮১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন (৩) এবং ৭৪৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।

তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা হানাফি মাযহাবের শাখা-প্রশাখার পার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন (৫)।

 

‌‌খ- মালিকি মাযহাব:

‌‌১ - আহমাদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সানহাজি শিহাবুদ্দীন

--------------------------------------------

(১) মু'জামুল মুআল্লিফীন এবং কাশফুয যুনুন-এর ২য় খণ্ড, ১২৫৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, বইটির নাম হলো ‘তালকীহুল উকূদ’।

‌‌(২) কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ১ম খণ্ড, ৪৮১ পৃষ্ঠা, ২য় খণ্ড, ১২৫৮ পৃষ্ঠা; আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ, লাখনবি, ২৫ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুআল্লিফীন, উমর কাহহালাহ, ১ম খণ্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা।

‌‌(৩) হাদিয়্যাতুল আরিফীন, ১ম খণ্ড, ১০৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ৬৮০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌(৪) আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ, লাখনবি, ২৫ পৃষ্ঠা; কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৭ পৃষ্ঠা; হাদিয়্যাতুল আরিফীন, ১ম খণ্ড, ১০৯ পৃষ্ঠা; আল-আ'লাম, যিরিকলি, ১ম খণ্ড, ১৬৭ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুআল্লিফীন, উমর রেজা কাহহালাহ, ১ম খণ্ড, ৩০৯ পৃষ্ঠা।

‌‌(৫) কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৪)
أبو العباس القرافي، ولد عام 626 (1) وتوفي سنة 684 هـ (2) له مؤلفات عديدة من بينها (أنوار البروق في أنواع الفروق) (3).

‌‌2 - قاسم بن عبد الله بن محمد بن الشاط الأنصاري الإشبيلي ولد عام 643 هـ وتوفي عام 723 هـ.

من مؤلفاته (أنوار البروق في تعقب مسائل القواعد والفروق) (4)

--------------------------------------------

(1) ذكر طه عبد الرؤوف سعد محقق كتاب شرح تنقيح الفصول في اختصار المحصول في الأصول عند ترجمته

للقرافي أن العلماء لم يعرفوا تاريخ ميلاده وقد حدد ولادته تحديدًا تقريبيًّا بحوالي عام 590 هـ، انظر المقدمات في الكتاب المذكور ص حـ ط.

وأشار مصطفى المراغي في كتابه الفتح المبين إلى أن تاريخ ولادته غير معروف انظر جـ 3 ص 86 وكذلك صاحب الإعلام.

‌‌(2) ورد في كشف الظنون جـ 1 ص 186 أن وفاتة سنة اثنتين وثمانين وستمائة.

‌‌(3) هدية العارفين، البغدادي، المجلد الأول ص 99، كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 1 ص 186، مقدمات شرح تنقيح الفصول، للقرافي، تحقيق طه عبد الرؤوف سعد، الطبعة الأولى 1393 هـ / 1973 م ص جـ - ط، الفتح المبين في طبقات الأصوليين، اليخ عبد الله مصطفى المراغي، الطبعة الثانية 1394 هـ / 1974 م، جـ 3 ص 86، معجم المؤلفين عمر كحاله، جـ 1 ص 158، الإعلام، الزركلي، جـ 1 ص 94 - 95، محاضرات في المدخل لعلم الفقه، الدكتور عبد الرحمن الصابوني، ص 420 - 421، ذيل وفيات الأعيان 1/ 8 - 9، الديباج المذهب 1/ 236 / 239.

‌‌(4) معجم المؤلفين، كحاله جـ 8 ص 105، هدية العارفين، البغدادي المجلد الأول ص 829، الإعلام، الزركلي، جـ 5 ص 177، الفتح المبين، المراغي، جـ 3 ص 123.
আবু আল-আব্বাস আল-কারাফি, তিনি ৬২৬ হিজরিতে (১) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮৪ হিজরিতে (২) মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বহু সংখ্যক গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো (আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়াইল ফুরুক) (৩)।

‌‌২ - কাসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আশ-শাত আল-আনসারি আল-ইশবিলি, তিনি ৬৪৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (আনওয়ারুল বুরুক ফি তা'াক্কুবি মাসাইলিল কাওয়াইদি ওয়াল ফুরুক) (৪)

--------------------------------------------

(১) শারহু তানকিহিল ফুসুল ফি ইখতিসারিল মাহসুল ফিল উসুল কিতাবের মুহাক্কিক ত্বহা আব্দুর রউফ সা'দ আল-কারাফির জীবনী আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, উলামায়ে কেরাম তাঁর জন্মের তারিখ জানতেন না এবং তিনি তাঁর জন্ম তারিখ আনুমানিক ৫৯০ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। দেখুন: উক্ত কিতাবের ভূমিকা, পৃষ্ঠা: জ-ত।

মুস্তফা আল-মারাগি তাঁর আল-ফাতহুল মুবিন কিতাবে ইঙ্গিত করেছেন যে তাঁর জন্মের তারিখ অজানা। দেখুন: ৩য় খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা এবং একইভাবে আল-আলামের লেখকও।

‌‌(২) কাশফুয যুনুন-এর ১ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে তাঁর মৃত্যু ৬৮২ হিজরি সালে।

‌‌(৩) হাদিয়াতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ১ম খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা; কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ১ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠা; শারহু তানকিহিল ফুসুল-এর ভূমিকা, আল-কারাফি, ত্বহা আব্দুর রউফ সা'দের তাহকিক, প্রথম সংস্করণ ১৩৯৩ হিজরি / ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা: জ-ত; আল-ফাতহুল মুবিন ফি তাবাকাতিল উসুলিয়্যিন, শেখ আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-মারাগি, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৯৪ হিজরি / ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩য় খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, উমর কাহহালা, ১ম খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা; আল-আলাম, আয-যিরিকলি, ১ম খণ্ড, ৯৪-৯৫ পৃষ্ঠা; মুহাদারাত ফিল মাদখাল লি ইলমিল ফিকহ, ডক্টর আব্দুর রহমান আস-সাবুনী, ৪২০-৪২১ পৃষ্ঠা; যাইলে ওফায়াতুল আইয়ান, ১/ ৮-৯; আদ-দিবাজুল মুযাহহাব, ১/ ২৩৬/ ২৩৯।

‌‌(৪) মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালা, ৮ম খণ্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা; হাদিয়াতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ১ম খণ্ড, ৮২৯ পৃষ্ঠা; আল-আলাম, আয-যিরিকলি, ৫ম খণ্ড, ১৭৭ পৃষ্ঠা; আল-ফাতহুল মুবিন, আল-মারাগি, ৩য় খণ্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌3 - محمد بن علي بن حسين بن إبراهيم المالكي المكي مغربي الأصل ولد وتعلم بمكة المكرمة عام 1287 هـ وتوفي بالطائف عام 1367 هـ من مؤلفاته في هذا النوع (تهذيب الفروق) وهو مختصر لفروق القرافي (1).

 

‌‌جـ - المذهب الشافعي:

‌‌1 - أحمد بن عمر بن سريج الفقيه البغدادي الشافعي المولود عام 249 هـ والمتوفى عام 306 هـ (2).

وقد ورد أن من ضمن مولفاته (الفروق في فروع المذهب الشافعي) (3)

--------------------------------------------

(1) معجم المؤلفين، عمر كحالة، جـ 10، ص 318، الإعلام، الزركلي جـ 6 ص 305 - 306.

‌‌(2) وفيات الأعيان، أحمد بن عمد بن أبي بكر بن خلكان 608 - 681، جـ 1 ص 66 طبقات الشافعية الكبرى، للإمام تاج الدين السبكي، الطبعة الثانية، جـ 2 ص 87، شذرات الذهب، لابن العماد الحنبلي، المتوفى سنة 1089، جـ 2 ص 247، طبقات الشافعية، للحسيني، ص 41 - 42، هدية العارفين، للبغدادي، المجلد الأول، ص 57 والإعلام، الزركلي جـ 1 ص 185، كتاب الوفيات، أحمد بن حسن بن علي بن الخطيب، طبعة ثانيه 1978 م تحقيق عادل نويهض، جـ 199.

‌‌(3) كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1257 - 1258، هدية العارفين للبغدادي، المجلد الأول ص 57.
3 - মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন ইবরাহিম আল-মালিকি আল-মাক্কি, মূলে মরক্কীয়। তিনি ১২৮৭ হিজরিতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষালাভ করেন এবং ১৩৬৭ হিজরিতে তায়েফে মৃত্যুবরণ করেন। এই বিষয়ে তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো (তাহজিবুল ফুরুক), যা আল-কারাফির 'ফুরুক' গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার (১)।

 

গ - শাফিঈ মাযহাব:

1 - আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ, বাগদাদী ফকিহ, শাফিঈ; জন্ম ২৪৯ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৩০৬ হিজরিতে (২)।

বর্ণিত আছে যে, তার রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো (আল-ফুরুক ফি ফুরুয়িল মাযহাবিশ শাফিঈ) (৩)

--------------------------------------------

(১) মুজামুল মুআল্লিফীন, উমর কাহহালা, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৩১৮; আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩০৫ - ৩০৬।

(২) ওয়াফায়াতুল আইয়ান, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন খাল্লিকান ৬০৮ - ৬৮১ হি., ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৬; তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা, ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকি রচিত, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮৭; শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি, মৃত্যু ১০৮৯ হি., ২য় খণ্ড, পৃ. ২৪৭; তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ, আল-হুসাইনি রচিত, পৃ. ৪১ - ৪২; হাদিয়াতুল আরিফীন, আল-বাগদাদি রচিত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৭; আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৮৫; কিতাবুল ওয়াফায়াত, আহমদ বিন হাসান বিন আলী বিন আল-খতিব, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ, সম্পাদনা: আদিল নুওয়াইহিদ, পৃষ্ঠা ১৯৯।

(৩) কাশফুজ যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৫৭ - ১২৫৮; হাদিয়াতুল আরিফীন, আল-বাগদাদি রচিত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌2 - أبو محمد عبد الله بن يوسف بن عبد الله بن يوسف بن محمد حيوية الجويني الفقيه الشافعي والمتوفى عام 438 هـ (1) من مؤلفاته (الفرق والجمع) (2).

‌‌3 - سلامة بن إسماعيل بن جماعة الضرير أبو الخير المقدسي الشافعي المتوفى عام 480 هـ من مؤلفاته الوسائل في فروق المسائل (3).

‌‌4 - محمد بن علي بن عبد الواحد بن يحى بن عبد الرحيم المعروف بابن النقاش الشافعي ولد عام 720 هـ (4) وتوفي عام 763 هـ.

له مؤلفات عديدة من بينها كتاب في (الفروق) (5).

--------------------------------------------

(1) وقد ورد في معجم البلدان جـ 1 ص 193 أن وفاته عام 434 هـ.

‌‌(2) وفيات الأعيان، ابن خلكان، ص 3 ص 47 ومعجم البلدان، ياقوت الحموي، جـ 2 ص 193، طبقات الشافعية الكبرى، السبكي، ص 3 ص 208 - 209، شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 3 ص 262 وقد ذكر أن من ضمن مؤلفاته (الفروق)، طبقات الشافعية، الحسيني، ص 144 - 145، كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1258، الإعلام جـ 4 ص 167.

‌‌(3) طبقات الشافعية الكبرى، السبكي، جـ 4 ص 224، هدية العارفين، البغدادي، المجلد الأول ص 394، كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1258 وص 1769 وص 2007 وص 2008، معجم المؤلفين، كحالة، جـ 4 ص 335 - 336.

‌‌(4) جاء في معجم المؤلفين، عمر رضا كحالة، في الجزء الحادي عشر ص 25 ثلاث روايات لتاريخ ولادته 720، 723، 725.

‌‌(5) شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 6 ص 198، كشف الظنون، حاجي خليفة، جـ 2 ص 1258، هدية العارفين، البغدادي، المجلد الثاني ص 162، معجم المؤلفين، عمر كحالة، جـ 11 ص 25، 26 الإعلام، الزركلي، جـ 6 ص 286.
২ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ হাইউইয়াহ আল-জুওয়াইনি, শাফেয়ী ফকিহ, এবং তিনি ৪৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১), তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (আল-ফারকু ওয়াল জামউ) (২)।

৩ - সালামা ইবনে ইসমাঈল ইবনে জামাআহ আদ-দারীর আবুল খায়ের আল-মাকদিসি আশ-শাফেয়ী, ৪৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (আল-ওয়াসায়িল ফি ফুরূকিল মাসায়িল) (৩)।

৪ - মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রাহীম, যিনি ইবনুন নাক্কাশ আশ-শাফেয়ী নামে পরিচিত, ৭২০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন (৪) এবং ৭৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে যার মধ্যে (আল-ফুরূক) বিষয়ক একটি গ্রন্থও রয়েছে (৫)।

--------------------------------------------

(১) মু'জামুল বুলদান-এর ১ম খণ্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে তাঁর মৃত্যু ৪৩৪ হিজরিতে।

(২) ওয়াফায়াতুল আইয়ান, ইবনে খাল্লিকান, ৩য় খণ্ড, ৪৭ পৃষ্ঠা; মু'জামুল বুলদান, ইয়াকুত আল-হামাউয়ি, ২য় খণ্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠা; তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা, আস-সুবকি, ৩য় খণ্ড, ২০৮ - ২০৯ পৃষ্ঠা; শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ, ৩য় খণ্ড, ২৬২ পৃষ্ঠা এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (আল-ফুরূক); তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ, আল-হুসাইনি, ১৪৪ - ১৪৫ পৃষ্ঠা; কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৮ পৃষ্ঠা; আল-আ'লাম, ৪র্থ খণ্ড, ১৬৭ পৃষ্ঠা।

(৩) তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা, আস-সুবকি, ৪র্থ খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা; হাদিয়্যাতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ১ম খণ্ড, ৩৯৪ পৃষ্ঠা; কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৮, ১৭৬৯, ২০০৭ এবং ২০০৮ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালাহ, ৪র্থ খণ্ড, ৩৩৫ - ৩৩৬ পৃষ্ঠা।

(৪) মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, উমর রেজা কাহহালাহ-এর ১১শ খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠায় তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে তিনটি বর্ণনা এসেছে: ৭২০, ৭২৩, ৭২৫।

(৫) শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা; কাশফুয যুনুন, হাজি খলিফা, ২য় খণ্ড, ১২৫৮ পৃষ্ঠা; হাদিয়্যাতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ২য় খণ্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা; মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, উমর কাহহালাহ, ১১শ খণ্ড, ২৫, ২৬ পৃষ্ঠা; আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৮৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌5 - جلال الدين أبو الفضل عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد بن سابق الدين أبي بكر بن عثمان بن محمد بن خضر بن أيوب بن محمد بن الشيخ همام الدين الخضيري السيوطي المولود عام 849 هـ (1) والمتوفى عام 911 هـ.

له مؤلفات كثيرة منها (الأشباه والنظائر في قواعد وفروع فقه الشافعية) (2) رتبه على سبعة كتب خصص الكتاب السادس لما افترقت فيه الأبواب المتشابهة (3).

 

‌‌د- المذهب الحنبلي:

‌‌1 - إبراهيم بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الدمشقي الفقيه الزاهد الورع العابد، الشيخ عماد الدين

--------------------------------------------

(1) وقد أرخت ولادته بـ (809) انظر هدية العارفين، البغدادي، المجلد الأول ص 534.

‌‌(2) شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 8 ص 51، الكواكب السائرة بأعيان المائة العاشرة، نجم الدين الفزي الطبعة الثانية، 1979 م، جـ 1 ص 226، هدية العارفين، البغدادي، جـ 1 ص 534 - 544، معجم المؤلفين، كحالة حـ 5 ص 128، الإعلام، الزركلي، جـ 3 ص 301 - 302.

‌‌(3) الأشباه والنظائر، جلال الدين عبد الرحمن السيوطي، متوفى 911 هـ، ص 544 - 561.
৫ - জালালুদ্দিন আবুল ফজল আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবিকুদ্দিন আবু বকর ইবনে উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খিদির ইবনে আইয়ুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাইখ হুমামুদ্দিন আল-খুদাইরি আস-সুয়ুতি, জন্ম ৮৪৯ হিজরি (১) এবং মৃত্যু ৯১১ হিজরি।

তাঁর অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম (আল-আশবাত ওয়ান নাযাইর ফি কাওয়াইদ ওয়া ফুরু' ফিকহিশ শাফিইয়্যাহ) (২), যা তিনি সাতটি খণ্ডে বিন্যস্ত করেছেন এবং ষষ্ঠ খণ্ডটিকে সাদৃশ্যপূর্ণ অধ্যায়গুলোর মধ্যকার পার্থক্যের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন (৩)।

 

ঘ- হাম্বলি মাযহাব:

১ - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলি ইবনে সুরুর আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি, ফকিহ, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার ও ইবাদতকারী, শাইখ ইমাদুদ্দিন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জন্মের বছর ৮০৯ হিজরি হিসেবেও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, দেখুন হাদিয়াতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৪।

(২) শাযারাতুজ জাহাব, ইবনুল ইমাদ, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫১, আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরাহ বি আ'য়ানিল মায়াতিল আশিরহ, নাজমুদ্দিন আল-ফাযযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৬, হাদিয়াতুল আরিফিন, আল-বাগদাদি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৪ - ৫৪৪, মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, কাহহালা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৮, আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০১ - ৩০২।

(৩) আল-আশবাত ওয়ান নাযাইর, জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান আস-সুয়ুতি, মৃত্যু ৯১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ৫৪৪ - ৫৬১।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولد بجماعيل سنة ثلاث وأربعين وخمسمائة وتوفي سنة أربع عشرة وستمائة.

ألف في هذا الفن كتاب (الفروق في المسائل الفقهية) (1).

‌‌2 - محمد بن عبد الله بن الحسين السامري الفقيه الفرضي يعرف بابن سنينه ويلقب نصير الدين.

ولد بسامراء عام 535 هـ وتوفي عام 616 هـ (2)

من مؤلفاته (الفروق) (3) وهو موضوع حديثنا

‌‌3 - عبد الرحيم بن عبد الله بن محمد بن أبي بكر بين إسماعيل الزريراتي البغدادي الفقيه ولد ببغداد ولم يحدد تاريخ ولادته وتوفي عام 741 هـ.

اختصر كتاب الفروق للسامري وزاد عليها فوائد واستدراكات (4)

--------------------------------------------

(1) الذيل على طبقات الحنابلة لابن رجب، عبد الرحمن بن شهاب الدين أحمد البغدادي، 736 - 795 هـ، جـ 2 ص 93 - 103، شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 5 ص 57 - 60، معجم المؤلفين، كحالة، جـ 1 ص 56 - 57، البداية والنهاية، أبو الفداء الحافظ بن كثير الدمشقي المتوفى سنة 774 هـ الطبعة الأولى، 1966 م، جـ 3، ص 77.

‌‌(2) ورد أنه توفي عام 610 انظر المدخل لابن بدران ص 210.

‌‌(3) ذيل طبقات الحنايلة، عبد الرحمن بن أحمد البغدادي، جـ 2 ص 121 - 122، شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 5 ص 70 - 71، المدخل، ابن بدران، ص 210، وص 217 - 218 وص 237، معجم المؤلفين، كحالة، جـ 11، ص 209، الإعلام، الزركلي، جـ 6 ص 231.

‌‌(4) ذيل الطبقات، عبد الرحمن بن أحمد البغدادي، جـ 2 ص 435. شذرات الذهب، ابن العماد، جـ 6 ص 130 معجم المؤلفين، كحالة، جـ 5 ص 207.
তিনি ৫৪৩ হিজরীতে জাম্মাঈলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি এই শিল্পে (শাস্ত্রে) "আল-ফুরুক ফিল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ" (১) নামক গ্রন্থ রচনা করেন।

‌‌২ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আস-সামিরী, আল-ফকীহ আল-ফারাদী, তিনি ইবনে সুনাইনাহ নামে পরিচিত এবং তাঁর উপাধি নাসিরুদ্দীন।

তিনি ৫৩৫ হিজরীতে সামাররায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে "আল-ফুরুক" (৩), যা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু।

‌‌৩ - আব্দুর রহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন ইসমাঈল আজ-জারীরাতী আল-বাগদাদী আল-ফকীহ। তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর জন্মের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে তিনি ৭৪১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি সামিরীর "আল-ফুরুক" গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেন এবং তাতে বিভিন্ন উপকারিতা ও সংশোধনী যুক্ত করেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রাজাব বিরচিত "আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ", আব্দুর রহমান বিন শিহাবুদ্দীন আহমদ আল-বাগদাদী, ৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৩ - ১০৩; ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব", ৫ম খণ্ড, পৃ. ৫৭ - ৬০; কাহহালাহ’র "মু’জামুল মুয়াল্লিফীন", ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৬ - ৫৭; আবুল ফিদা আল-হাফিজ ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) বিরচিত "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া", প্রথম সংস্করণ, ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৭৭।

‌‌(২) বর্ণিত আছে যে তিনি ৬১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, দেখুন: ইবনে বাদরানের "আল-মাদখাল", পৃ. ২১০।

‌‌(৩) আব্দুর রহমান বিন আহমদ আল-বাগদাদী বিরচিত "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ", ২য় খণ্ড, পৃ. ১২১ - ১২২; ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব", ৫ম খণ্ড, পৃ. ৭০ - ৭১; ইবনে বাদরানের "আল-মাদখাল", পৃ. ২১০, ২১৭ - ২১৮ এবং ২৩৭; কাহহালাহ’র "মু’জামুল মুয়াল্লিফীন", ১১শ খণ্ড, পৃ. ২০৯; যিরিকলীর "আল-আ’লাম", ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৩১।

‌‌(৪) আব্দুর রহমান বিন আহমদ আল-বাগদাদী বিরচিত "যাইলুত তাবাকাত", ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৩৫; ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব", ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৩০; কাহহালাহ’র "মু’জামুল মুয়াল্লিফীন", ৫ম খণ্ড, পৃ. ২০৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌4 - الشيخ عبد الرحمن بن ناصر عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي ولد في بلدة عنيزة عام 1307 هـ وتوفي بها عام 1376 هـ، له مؤلفات عديدة منها (القواعد والأصول الجامعة والفروق والتقاسيم النافعة) (1).

--------------------------------------------

(1) الإعلام، الزركلي، جـ 3 ص 340.

علماء نجد خلال ستة قرون، عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الطبعة الأولى، مطبعة النهضة الحديثة، مكه المكرمة، 1398 هـ، جـ 2، ص 422.

مشاهير علماء نجد وغيرهم، عبد الرحمن بن عبد اللطيف بن عبد الله آل الشيخ الطبعة الثانية، 1394 هـ، ص 392.
৪ - শাইখ আবদুর রহমান বিন নাসির আব্দুল্লাহ বিন নাসির বিন হামাদ আল-সাদী ১৩০৭ হিজরি সনে উনায়জাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ১৩৭৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো (আল-কাওয়ায়িদ ওয়াল-উসুলুল জামিআহ ওয়াল-ফুরুক ওয়াত-তাকাসিমুন নাফিআহ) (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-আলাম, যিরিকলি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪০।

উলামায়ে নাজদ খিলালা সিত্তাতি কুরুনি, আব্দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন সালিহ আল-বাসসাম, প্রথম সংস্করণ, মাতবাআহ আন-নাহদাহ আল-হাদিসাহ, মক্কা মুকাররমা, ১৩৯৮ হিজরি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪২২।

মাশাহিরু উলামায়ে নাজদ ওয়া গাইরুহুম, আবদুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল্লাহ আল-শেখ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৯৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৯২।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الباب الأول الحالة العلمية والدينية والسياسية في عصر المؤلف

مرادنا هنا بعصر المؤلف هو مدة حياته رحمه الله وهي إحدى وثمانون سنة إذ قد كانت ولادته عام 535 هـ ووفاته عام 616 هـ (1).

وفي هذا الباب سأتعرض للحالات السائدة والواقعية في هذه المدة وفي بغداد خاصة من الناحية العلمية والدينية سواء للخلفاء أو لغيرهم من الرعية، كما سأتعرض للحالة السياسية وما اعتراها من قوة أو ضعف، ومن تماسك أو تشتت، وسيكون الحديث في هذا الباب مقسمًا إلى فصلين، أولهما سأقصره على الحالة العلمية والدينية، وثانيهما على الحالة السياسية.

--------------------------------------------

(1) الذيل على طبقات الحنابلة 2/ 121.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগের জ্ঞানগত, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থা

এখানে লেখকের যুগ বলতে আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জীবনকাল, যা ছিল একাশি বছর; কেননা তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৩৫ হিজরি সনে এবং মৃত্যু হয়েছিল ৬১৬ হিজরি সনে (১)।

এই পরিচ্ছেদে আমি উক্ত সময়ের এবং বিশেষ করে বাগদাদের জ্ঞানগত ও ধর্মীয় দিকের প্রচলিত ও বাস্তব অবস্থাসমূহ তুলে ধরব—তা খলিফাদের ক্ষেত্রে হোক বা অন্যান্য প্রজাসাধারণের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি আমি রাজনৈতিক অবস্থা এবং তাতে বিদ্যমান শক্তি বা দুর্বলতা এবং সংহতি বা অনৈক্যের বিষয়টিও আলোচনা করব। এই পরিচ্ছেদের আলোচনা দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত হবে: প্রথমটি আমি জ্ঞানগত ও ধর্মীয় অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব এবং দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক অবস্থার ওপর।

--------------------------------------------

(১) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা ২/ ১২১।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الأول الحالة العلمية والدينية

في الواقع أن عصر المؤلف الذي ولد فيه وترعرع وشب وبلغ أشده وشاخ، عصر يتشوق له ولمثله المسلم في عصرنا الحاضر، إذ به ارتفعت رايات العلم في كل بلد من العراق وخاصة في بغداد -وفي كل مسجد وسوق، وصار هو العمل الناجح والمحبب والمطلوب لدى الغالبية من الناس، عصر كأنه أوجد لنبوغ العلماء وعلو الهمم ومحو الأفكار، وكأن الناس خلقوا للبحث والعلم والجد والاجتهاد والمنافسة، عصر المؤلف عصر أناس فهموا العلم وقيمته، أعطوه حقه فأعطوا جزائهم، تعبوا فأدركوا مقصودهم، سهروا فحصلوا مرادهم، أقبلوا على العلم فقابلهم، خدموا العلم فخدمهم، أحسنوا إليه فعرف الله ذلك منهم فبلغهم مقاصدهم، ولم يكن ذلك كله مقصورًا على فئة دون فئة، فقد كان الخلفاء يجارون غيرهم في ذلك مع وجود فوارق يسيرة بسبب مسئوليتهم عن الخلافة وتدبير الأمور.

ولقد كانت المذاهب الفقهية في ذلك الوقت منتشرة انتشارًا متفاوتًا، فقد كان بعض المذاهب أكثر انتشارًا من الآخر.

وفي هذا الفصل سأقسم حديثي إلى ثلاثة مباحث:

الأول: حالة الخلفاء علميًّا ودينيًّا.

الثاني: حالة غير الخلفاء علميًّا ودينيًّا.

الثالث: المذاهب الفقهية في ذلك الوقت.
প্রথম অধ্যায়: জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় অবস্থা

প্রকৃতপক্ষে লেখকের যুগ—যাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, লালিত-পালিত হয়েছেন, যৌবন লাভ করেছেন, পূর্ণতা অর্জন করেছেন এবং বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন—এমন এক যুগ যার জন্য বর্তমান সময়ের একজন মুসলিম আকাঙ্ক্ষা করে। কারণ তখন ইরাকের প্রতিটি জনপদে, বিশেষ করে বাগদাদে এবং প্রতিটি মসজিদে ও বাজারে ইলমের ঝাণ্ডা সমুন্নত হয়েছিল। এটিই তখন অধিকাংশ মানুষের নিকট সফল, প্রিয় এবং কাঙ্ক্ষিত কর্মে পরিণত হয়েছিল। এটি এমন এক যুগ ছিল যা যেন আলেমদের প্রতিভা বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করা এবং চিন্তাধারার প্রসারের জন্যই তৈরি হয়েছিল। মানুষ যেন কেবল গবেষণা, জ্ঞানচর্চা, প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিযোগিতার জন্যই সৃজিত হয়েছিল। লেখকের যুগ ছিল এমন একদল মানুষের যুগ যারা জ্ঞান এবং এর মর্যাদা অনুধাবন করেছিলেন। তারা জ্ঞানকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাদের প্রতিদানও পেয়েছিলেন। তারা পরিশ্রম করেছিলেন, তাই তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তারা রাত জেগে সাধনা করেছিলেন, তাই তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল। তারা ইলমের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন, ইলমও তাদের সাদরে গ্রহণ করেছিল। তারা ইলমের সেবা করেছিলেন, ইলমও তাদের সেবা করেছিল। তারা ইলমের প্রতি নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন, আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করেছিলেন এবং তাদের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর এই সবকিছু কেবল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং খলিফাগণও এই বিষয়ে অন্যদের সাথে পাল্লা দিতেন, যদিও খিলাফতের দায়িত্ব ও শাসনকার্য পরিচালনার কারণে সামান্য কিছু পার্থক্য বিদ্যমান ছিল।

সেই সময়ে ফিকহি মাযহাবগুলো বিভিন্ন মাত্রায় বিস্তৃত ছিল; কোনো কোনো মাযহাব অন্যগুলোর তুলনায় অধিক প্রসার লাভ করেছিল।

এই অধ্যায়ে আমি আমার আলোচনাকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করব:

প্রথম: জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দিক থেকে খলিফাদের অবস্থা।

দ্বিতীয়: জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দিক থেকে সাধারণ মানুষের (খলিফা ব্যতীত অন্যদের) অবস্থা।

তৃতীয়: তৎকালীন সময়ের ফিকহি মাযহাবসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الأول حالة الخلفاء العلمية والدينية

لم يكن خلفاء ذلك الوقت مشغولين بخلافتهم وسياستهم فقط، بل كانوا إلى جانب اهتمامهم بتدبير أمور رعيتهم داخليًّا وخارجيًّا يهتمون اهتمامًا ظاهرًا -مع تفاوت هذا الاهتمام من خليفة لآخر- في الناحية العلمية والدينية، سواء فيما هم عليه من صفات قولية أو فعلية، أو فيما اتصفوا به من تطيقات للتعليمات الشرعية، أو فيما عرفه منهم العامة والخاصة من حرص على مصالح رعيتهم، واحترامهم للعلماء وإكرامهم وتقديرهم لهم، أو فيما يبرز من أكثرهم من حبهم للعلم وطلبه ونشره.

وسأقسم الحديث في هذا المبحث إلى أربعة مطالب:

الأول: عن صفاتهم.

الثاني: حرصهم على مصالح المسلمين وشدتهم على المفسدين.

الثالث: تقديرهم للعلماء وإكرامهم لهم.

الرابع: طلبهم للعلم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: খলিফাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় অবস্থা

তৎকালীন খলিফাগণ কেবল তাদের খেলাফত এবং রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন না; বরং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে প্রজাসাধারণের বিষয়াবলি ব্যবস্থাপনায় মনোনিবেশ করার পাশাপাশি তারা জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট গুরুত্বারোপ করতেন—যদিও এই গুরুত্ব প্রদানের মাত্রা এক খলিফা থেকে অন্য খলিফার ক্ষেত্রে ভিন্ন হতো। এটি তাদের বাচনিক ও ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য, শরয়ি নির্দেশাবলির প্রয়োগ, প্রজাসাধারণের কল্যাণ কামনায় তাদের ঐকান্তিকতা যা সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট সুবিদিত ছিল, আলেমদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন, কিংবা জ্ঞানার্জন ও তার প্রচার-প্রসারে তাদের অধিকাংশের অনুরাগের মাধ্যমে প্রকাশ পেত।

আমি এই পরিচ্ছেদের আলোচনাকে চারটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করব:

প্রথম: তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের একাগ্রতা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি তাদের কঠোরতা।

তৃতীয়: আলেমদের প্রতি তাদের মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন।

চতুর্থ: তাদের জ্ঞানার্জন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المطلب الأول: صفاتهم

الخلفاء الذين صادفت حياة السامري خلافتهم أربعة وهم المقتفى (1) والمستنجد بالله (2)، والمستضيئ، (3) والناصر (4).

كان هولاء الخلفاء يتصفون بالصفات الحميدة علميًّا ودينيًّا، فقد كان المقتفى محمود السيرة، مشكور الدولة، يرجع إلى فضل ودين وعقل ورأي وسياسة، جدد معالم الإمامة، ومهد رسوم الخلافة، وامتدت أيامه، ولم ير مع سماحته ولين جانبه بعد المعتصم (5) خليفة مثله في شهامته وصرامته، مع

--------------------------------------------

(1) محمد بن المستظهر بالله ولد عام 489 هـ وبويع بالخلافة سنة 530 هـ وتوفي عام 555، انظر تاريخ الخلفاء، السيوطي، ص 694 - 700.

‌‌(2) يوسف بن المقتفى ولد عام 518 هـ وبويع له بالخلافة عام 555 هـ وتوفي عام 566، انظر تاريخ الخلفاء، السيوطي، ص 700 و 704 و 705.

‌‌(3) الحسن أبو محمد بن المستنجد بالله ولد سنة 536 هـ وبويع بالخلافة عام 566 هـ وتوفي عام 575 هـ، تاريخ الخلفاء، السيوطي ص 705 - 712.

‌‌(4) أحمد أبو العباس بن المستظئ، بأمر الله ولد عام 553 هـ وبويع له بالخلافة عام 575 هـ، وتوفي عام 622 هـ تاريخ الخلفاء ص 713 - 728.

‌‌(5) أبو إسحاق محمد بن الرشيد ثامن الخلفاء العباسيين ولد سنة 180 هـ وبويع له بالخلافة بعد المأمون في عام 218 هـ وتوفي عام 227 هـ، تاريخ الخلفاء ص 531 - 535.
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁদের বৈশিষ্ট্যসমূহ

যে সকল খলিফাদের শাসনকাল সামিরীর জীবনকালের সমসাময়িক ছিল তাঁরা হলেন চারজন; আর তাঁরা হলেন: আল-মুকতাফি (১), আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ (২), আল-মুস্তাদি (৩) এবং আন-নাসির (৪)।

এই খলিফাগণ জ্ঞানগত ও ধর্মীয় দিক থেকে প্রশংসনীয় গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। আল-মুকতাফি ছিলেন প্রশংসনীয় জীবনচরিত ও প্রশংসিত রাষ্ট্রীয় শাসনের অধিকারী। তিনি শ্রেষ্ঠত্ব, দ্বীনদারি, প্রজ্ঞা, সুচিন্তিত অভিমত এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। তিনি ইমামতের নিশানসমূহ পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন এবং খিলাফতের রীতিসমূহকে সুগম করেছিলেন। তাঁর শাসনকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। তাঁর উদারতা ও নম্রতা সত্ত্বেও মুতাসিম (৫)-এর পরে তাঁর মতো বীরত্ব ও দৃঢ়তাসম্পন্ন খলিফা আর দেখা যায়নি...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ ইবনুল মুস্তাজহির বিল্লাহ, তিনি ৪৮৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৩০ হিজরিতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন। তিনি ৫৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৬৯৪ - ৭০০।

‌‌(২) ইউসুফ ইবনুল মুকতাফি, তিনি ৫১৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৫৫ হিজরিতে তাঁর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয় এবং ৫৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৭০০, ৭০৪ ও ৭০৫।

‌‌(৩) হাসান আবু মুহাম্মদ ইবনুল মুসতানজিদ বিল্লাহ, তিনি ৫৩৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৬৬ হিজরিতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন এবং ৫৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতী পৃষ্ঠা ৭০৫ - ৭১২।

‌‌(৪) আহমদ আবু আব্বাস ইবনুল মুস্তাদি বি-আমরিল্লাহ, তিনি ৫৫৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৭৫ হিজরিতে তাঁর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয় এবং ৬২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল খুলাফা পৃষ্ঠা ৭১৩ - ৭২৮।

‌‌(৫) আবু ইসহাক মুহাম্মদ ইবনুর রশীদ, আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে অষ্টম। তিনি ১৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মামুনের পরে ২১৮ হিজরিতে তাঁর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হয় এবং ২২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল খুলাফা পৃষ্ঠা ৫৩১ - ৫৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৪)
ما خص به من زهد وورع وعبادة، ولم تزل جيوشه منصورة حيث يممت (1)، وقد كان على قدم من العبادة قبل إفضاء الأمر إليه (2).

وقد وصف المستنجد بالعدل والديانة مع ما قام به من أبطال المكوس (3) (4) وكان رفيقًا برعيته، يمتاز بفهم ثاقب، ورأي صائب، وذكاء غالب، وفضل باهر (5).

أما المستضيئ، فقد ذكر السيوطي في تاريخه نقلًا عن ابن الجوزي قوله:

--------------------------------------------

(1) انظر سمط النجوم العوالي في أنباء الأوائل والتوالي، عبد الملك بن حسن بن عبد الملك العصامي المكي، جـ 3 ص 373.

‌‌(2) تاريخ الخلفاء، السيوطي، ص 701.

‌‌(3) ما يأخذه السلطان ظلمًا عند البيع والشراء، المصباح المنير، الفيومي، جـ 2 ص 703.

‌‌(4) سمط النجوم العوالي، جـ 3 ص 375، البداية والنهاية لابن كثير جـ 11 ص 262.

‌‌(5) تاريخ الخلفاء، السيوطي، ص 704.
তিনি যে দুনিয়াবিমুখতা, খোদাভীতি ও ইবাদত বন্দেগির জন্য বিশিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর সেনাবাহিনী যেদিকেই অগ্রসর হতো সেদিকেই বিজয়ী হতো (১), আর তাঁর নিকট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্পিত হওয়ার পূর্বেই তিনি ইবাদতে দৃঢ়পদ ছিলেন (২)।

মুসতানজিদকে ন্যায়বিচার ও ধর্মপরায়ণতার গুণে বিশেষিত করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি তিনি অন্যায় শুল্ক বিলোপ করেছিলেন (৩) (৪)। তিনি তাঁর প্রজাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তিনি তীক্ষ্ণ বোধশক্তি, সঠিক মতামত, প্রবল বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন (৫)।

আর মুস্তাদি সম্পর্কে সুয়ূতী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইবনে আল-জাওযীর উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিমতুন নুজুমিল আওয়ালি ফি আনবায়িল আওয়ায়িল ওয়াত তাওয়ালি, আবদুল মালিক বিন হাসান বিন আবদুল মালিক আল-ইসামী আল-মাক্কি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৩।

‌‌(২) তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৭০১।

‌‌(৩) ক্রয়-বিক্রয়ের সময় শাসক অন্যায়ভাবে যা গ্রহণ করেন, আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-ফায়য়ুমি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭০৩।

‌‌(৪) সিমতুন নুজুমিল আওয়ালি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৫; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, ১১শ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬২।

‌‌(৫) তারিখুল খুলাফা, সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৭০৪।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৫)
(نادى برفع المكوس ورد المظالم وأظهر من العدل والكرم ما لم نره في أعمارنا) (1).

وقد كان عادلًا، حسن السيرة في الرعية، كثير البذل للأموال، غير مبالغ في أخذ ما جرت العادة بأخذه، عايق الناس في وقته في أمن عام، وإحسان شامل، وطمأنينة وسكون، وكان حليمًا يحب العفو والصفح عن المذنبين (2).

وجاء في البداية والنهاية (أنه من خيار الخلفاء وأعدلهم وأرفقهم بالرعايا، رفع عنهم المكوس والضرائب ولم يترك بالعراق مكسًا) (3).1

وفي أيامه أمن الناس ورزق سعادة عطمة في خلافته (4) وكان رحمه الله جوادًا كريمًا، مؤثرًا للخير كثير الصدقات سخيًّا محبًّا للسنة أبطل مظالم كثيرة (5).

--------------------------------------------

(1) تاريخ الخلفاء، السيوطي، ص 707.

‌‌(2) الكامل، لابن الأثير، جـ 11 ص 459.

‌‌(3) البداية والنهاية، لابن كثير، جـ 11 ص 262.

‌‌(4) تاريخ الخلفاء ص 708.

‌‌(5) سمط النجوم العوالي، جـ 3 ص 377 - 378.
(তিনি শুল্ক রহিতকরণ ও জুলুম দূর করার ঘোষণা দেন এবং এমন ইনসাফ ও উদারতা প্রদর্শন করেন যা আমরা আমাদের জীবনে দেখিনি) (১)।

তিনি ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, প্রজাদের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অতি উত্তম, তিনি অকাতরে অর্থ বিলিয়ে দিতেন এবং প্রচলিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণে বাড়াবাড়ি করতেন না। তাঁর সময়ে মানুষ সাধারণ নিরাপত্তা, ব্যাপক অনুগ্রহ, প্রশান্তি ও স্থিরতার মধ্যে বসবাস করত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল, অপরাধীদের ক্ষমা ও মার্জনা করা পছন্দ করতেন (২)।

‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে এসেছে যে, (তিনি ছিলেন খলিফাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ এবং প্রজাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি তাদের থেকে শুল্ক ও কর রহিত করেন এবং ইরাকে কোনো অবৈধ কর বাকি রাখেননি) (৩)।১

তাঁর শাসনামলে মানুষ নিরাপদ ছিল এবং তাঁর খেলাফতকালে মহান সৌভাগ্য অর্জিত হয়েছিল (৪)। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার, কল্যাণের প্রতি অনুরাগী, অধিক সদকাকারী এবং সুন্নাহর একনিষ্ঠ প্রেমিক; তিনি অনেক জুলুম ও অবিচার বিলুপ্ত করেছিলেন (৫)।

--------------------------------------------

(১) তারীখুল খুলাফা, সুয়ূতী, পৃষ্ঠা ৭০৭।

‌‌(২) আল-কামিল, ইবনুল আসীর, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪৫৯।

‌‌(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৬২।

‌‌(৪) তারীখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ৭০৮।

‌‌(৫) সিমতুন নুজুমিল আওয়ারী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭৭ - ৩৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৬)
أما الناصر وهو الخليفة الرابع في حياة السامري وهو الخليفة الذي انتهت حياة السامري في خلافته، فقد جاء أنه بسط العدل وأمر بإراقة الخمور، وكسر الملاهي وإزالة المكوس والضرائب، فعمر البلاد وبسط الأرزاق (1).

وقد قال ابن جبير (2) عند حديثه عن الناصر: (وهو مع ذلك يحب الظهور للعامة ويؤثر التحبب لهم وهو ميمون النقية عندهم قد استعدوا بأيامه رخاء، وعدلًا وطيب عيش فالكبير والصغير داع له) (3).

والحق أن من اتصف بالعدل ورفع الظلم والعبادة وحب الخير وكثرة الصدقات والديانة والكرم والسماحة ولين الجانب والشهامة والزهد والورع حري بالتوفيق كما أنه لا يستغرب أي نبوغ في عهده من أي من البشر لتوفر أسبابه وعدم موانعه.

--------------------------------------------

(1) سمط النجوم العوالي، جـ 3 ص 378.

‌‌(2) محمد بن أحمد بن جبير الأندلسي رحالة أديب ولد عام 540 هـ وتوفي عام 614 هـ، انظر الإعلام، الزركلي جـ 5 ص 319.

‌‌(3) رحلة ابن جبير، تحقيق الدكتور حسين نصار، ص 214.
পক্ষান্তরে আন-নাসির, যিনি সামেরির জীবদ্দশায় চতুর্থ খলিফা ছিলেন এবং যাঁর খেলাফতকালেই সামেরির জীবনাবসান ঘটে, তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মদ ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম ভেঙে ফেলেছিলেন এবং অবৈধ কর ও শুল্ক বিলুপ্ত করেছিলেন। ফলে দেশ আবাদ হয়েছিল এবং জীবনোপকরণ অঢেল হয়েছিল (১)।

ইবনে জুবায়ের (২) আন-নাসির সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: (তদুপরি তিনি জনসাধারণের সামনে উপস্থিত হওয়া পছন্দ করতেন এবং তাদের নিকট প্রিয় হতে চাইতেন। তাদের কাছে তিনি ছিলেন পবিত্র স্বভাবের অধিকারী এক বরকতময় ব্যক্তিত্ব। তাঁর শাসনকালে তারা সচ্ছলতা, ন্যায়বিচার এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ করেছিল, ফলে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই তাঁর জন্য দোয়াকারী ছিল) (৩)।

প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি ন্যায়বিচার, জুলুমের অবসান, ইবাদত, জনকল্যাণ, প্রচুর দান-সদকা, ধর্মীয় নিষ্ঠা, উদারতা, সহনশীলতা, নম্রতা, তেজস্বিতা, দুনিয়াবিমুখতা এবং আল্লাহভীতির গুণে গুণান্বিত হন, তিনি আল্লাহ প্রদত্ত সফলতার যোগ্য। তেমনিভাবে তাঁর যুগে কোনো মানুষের মধ্যে যেকোনো ধরণের মেধার বিকাশ ঘটা বিস্ময়কর নয়, কারণ সেখানে তার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান ছিল এবং প্রতিবন্ধকতা ছিল অনুপস্থিত।

--------------------------------------------

(১) সিমতুন নুজুমিল আউয়ালি, ৩য় খণ্ড, ৩৭৮ পৃষ্ঠা।

‌‌(২) মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুবায়ের আল-আন্দালুসি, একজন পর্যটক ও সাহিত্যিক, যিনি ৫৪০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আ'লাম, আয-যিরিকলি, ৫ ম খণ্ড, ৩১৯ পৃষ্ঠা।

‌‌(৩) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের, ড. হুসাইন নাসসার কর্তৃক সম্পাদিত, ২১৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثاني: حرصهم على مصالح السلمين وشدتهم على المفسدين

من تدبر الصفات المدونة في المطلب الأول عرف تمام المعرفة اهتمام أصحابها بأمور رعيتهم، حيث العدل محقق لمصالح الرعية، والديانة والعبادة يمنعان صاحبهما من أي عمل فيه ضرر على المسلمين ويحبذان له أي عمل فيه فائدة لهم.

وما رفع الظلم إلا من الحرص على المصالح، وليست إزالة المكوس إلا مما يحقق المصالح، وليست إراقة الخمور وكسر الملاهي إلا نهيًا للرعية عن الالتواء وأمرا لهم في اتباع أوامر الله ورسوله مما يحقق مصالحهم.

وفي خلافة المستنجد كان هناك رجل يسعى بالفساد بين الناس، فأمر المستنجد بسجنه فجاء إلى المستنجد رجل وبذل في هذا المسجون عشرة آلاف دينار فقال المستنجد له: أنا أعطك عشرة آلاف دينار على آخر مثله تأتيني به فأحبسه وأكفي الناس شره (1).

--------------------------------------------

(1) سمط النجوم العوالي، جـ 3 ص 375.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের জনস্বার্থের প্রতি তাদের একাগ্রতা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি তাদের কঠোরতা

প্রথম পরিচ্ছেদে লিপিবদ্ধ গুণাবলী সম্পর্কে যারা চিন্তা-গবেষণা করবেন, তারা প্রজাদের বিষয়ের প্রতি শাসকদের মনোযোগ সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত হবেন। কেননা ন্যায়বিচার প্রজাসাধারণের স্বার্থ নিশ্চিত করে এবং ধার্মিকতা ও ইবাদত এর অধিকারীকে মুসলিমদের ক্ষতি করে এমন কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাদের উপকারে আসে এমন কাজে উৎসাহিত করে।

জুলুমের অবসান ঘটানো জনস্বার্থের প্রতি একাগ্রতারই বহিঃপ্রকাশ। অবৈধ কর (মুকূস) বিলোপ করাও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার অন্তর্ভুক্ত। মদ ঢেলে ফেলা এবং বাদ্যযন্ত্র ও বিনোদনের সরঞ্জাম ধ্বংস করা প্রজাদের পথভ্রষ্টতা থেকে বিরত রাখা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালনের আদেশ প্রদানেরই অংশ, যা তাদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করে।

আল-মুসতানজিদের খিলাফতকালে এক ব্যক্তি মানুষের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করত। মুসতানজিদ তাকে কারারুদ্ধ করার আদেশ দিলেন। তখন এক ব্যক্তি মুসতানজিদের নিকট এসে এই বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে দশ হাজার দিনার প্রদানের প্রস্তাব করল। মুসতানজিদ তাকে বললেন: "আমিই তোমাকে দশ হাজার দিনার প্রদান করব যদি তুমি তার মতো অন্য কোনো ব্যক্তিকে আমার কাছে এনে দাও, যাতে আমি তাকে বন্দি করে মানুষকে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারি।" (১)।

--------------------------------------------

(১) সিমতুন নুজুমিল আাওয়ালী, ৩য় খণ্ড, ৩৭৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المطلب الثالث: تقديرهم للعلماء وإكرامهم لهم

كانوا يحبون العلماء ويكثرون من مجالستهم رغبة في العلم وحبًّا لأهله، كانوا يقدرونهم ويكرمونهم وينزلونهم المنزلة اللائقة بهم.

كانوا يستشيرونهم ويعملون بآرائهم، كانوا يولونهم المناصب الحساسة التي تليق بهم والتي لا يقوم بها قيامًا مرضيًّا غيرهم، كان وزراؤهم من العلماء الموثوق بهم، كانوا يزورونهم في مساجدهم وفي بيوتهم، كانوا يستمعون لمواعظهم ويقرؤون عليهم.

فقد كان الخليفتان المقتفى والمستنجد يستشيران وزيرهما القاضي بن هبيرة ويأخذان بآرائه.

وقد زار المقتفي أحمد بن مهلهل (1) بن عبد الله بن أحمد البرداني في مسجده (2)، كما أنه قد قرأ على موهوب (3) بن أحمد الجواليقي (4)، وحينما دعاه ليجعله إمامًا يصلي

--------------------------------------------

(1) أحمد بن مهلهل بن عبد الله بن أحمد البرداني توفي عام 554 هـ الذيل على طبقات الحنابلة جـ 1 ص 236 - 237.

‌‌(2) الذيل على طبقات الحنابلة، جـ 1 ص 237.

‌‌(3) موهوب بن أحمد بن محمد بن الخضير بن الحسن بن محمد الجواليقي ولد عام 465 هـ وتوفي عام 540 الذيل على طبقات الحنابلة، جـ 1 ص 204 - 206.

‌‌(4) الذيل على طبقات الحنابلة: جـ 1 ص 205.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আলেমদের প্রতি তাদের মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন

তাঁরা আলেমদের ভালোবাসতেন এবং ইলমের প্রতি আগ্রহ ও ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি ভালোবাসার কারণে তাঁদের মজলিশে অধিক পরিমাণে উপস্থিত হতেন। তাঁরা তাঁদের মূল্যায়ন করতেন, সম্মান প্রদর্শন করতেন এবং তাঁদেরকে তাঁদের যোগ্য মর্যাদায় আসীন করতেন।

তাঁরা তাঁদের সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাঁদের মতামত অনুযায়ী আমল করতেন। তাঁরা তাঁদেরকে এমন সব সংবেদনশীল পদে নিযুক্ত করতেন যা তাঁদের জন্য উপযুক্ত ছিল এবং যা তাঁরা ব্যতীত অন্য কেউ সন্তোষজনকভাবে সম্পাদন করতে পারত না। তাঁদের মন্ত্রীগণ ছিলেন নির্ভরযোগ্য আলেমদের মধ্য থেকে। তাঁরা আলেমদের মসজিদে ও বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাঁদের উপদেশ শ্রবণ করতেন এবং তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন।

খলিফা আল-মুকতাফী এবং আল-মুসতানজিদ তাঁদের উজির কাজি ইবনে হুবায়রার সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাঁর মতামত গ্রহণ করতেন।

আল-মুকতাফী আহমদ ইবনে মুহালহিল (১) ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-বারদানি-এর সাথে তাঁর মসজিদে (২) সাক্ষাৎ করেছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি মাওহুব (৩) ইবনে আহমদ আল-জাওয়ালিকি-এর (৪) নিকট পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। আর যখন তিনি তাঁকে ইমাম হিসেবে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান জানালেন—

--------------------------------------------

(১) আহমদ ইবনে মুহালহিল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-বারদানি, মৃত্যু ৫৫৪ হিজরি। আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৬-২৩৭।

‌‌(২) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৭।

‌‌(৩) মাওহুব ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল খুদাইর ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওয়ালিকি, জন্ম ৪৬৫ হিজরি এবং মৃত্যু ৫৪০ হিজরি। আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৪-২০৬।

‌‌(৪) আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৫।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিস সামিরি খণ্ড ১ ত্বা-আস সুমাইয়ি (পৃষ্ঠা: ২৯)
به الصلوات الخمس فحينما دخل ما زاد على أن قال: السلام على أمير المؤمنين فقال ابن التلميذ (1) النصراني: -وكان قائما- ما هكذا يسلم على أمير المؤمنين يا شيخ، فلم يلتفت إليه ابن الجواليقي وقال: يا أمير المؤمنين، سلامي هو ما جاءت به السنة النبوية، وروى الحديث (2)، ثم قال يا أمير المؤمنين، لو حلف حالف أن نصرانيًّا أو يهوديًّا لم يصل إلى قلبه نوع من أنواع العلم على الوجه المرضي لما لزمته كفارة، لأن الله ختم على قلوبهم ولن يفك ختم الله إلا الإيمان.

فقال: صدقت وأحسنت، وكأنما ألجم ابن التلميذ بحجر، مع فضله وغزارة أدبه (3).

--------------------------------------------

(1) هبة الله بن صاعد بن هبة الله بن إبراهيم بن علي البغدادي النصراني، ولد عام 466 هـ وتوفي عام 560 هـ شذرات الذهب، جـ 4 ص 191 معجم المؤلفين، جـ 13 ص 138.

‌‌(2) يظهر أن المراد بالحديث هر الحديث المتفق عليه والذي رواه أبو هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خلق الله آدم على صورته ستون ذراعا، فلما خلقه قال: اذهب فسلم على أولئك النفر، وهم نفر من الملائكة جلوس، فاستمع ما يحيونك، فإنها تحيتك وتحية ذريتك، فذهب فقال: السلام عليكم، فقالوا: السلام عليك ورحمة الله، إلى آخر الحديث مشكاة المصابيح، التبريزي، جـ 3 ص 1315.

‌‌(3) الذيل على طبقات الحنابلة، جـ 1 ص 206 سمط النجوم العوالي، جـ 3 ص 374، 375.
...পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সহকারে; অতঃপর যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন 'আমিরুল মুমিনীনের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' বলার অতিরিক্ত কিছুই বলেননি। তখন খ্রিস্টান ইবনে তিলমিয (১) —যিনি দণ্ডায়মান ছিলেন— বললেন: হে শায়খ, আমিরুল মুমিনীনকে এভাবে সালাম দেওয়া হয় না। তখন ইবনে জাওয়ালিকী তার দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপই করলেন না এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমার সালাম হলো তা-ই যা নববী সুন্নাহ নিয়ে এসেছে। এরপর তিনি হাদিস (২) বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, যদি কোনো শপথকারী ব্যক্তি এই মর্মে শপথ করে যে, কোনো খ্রিস্টান বা ইহুদির অন্তরে সন্তোষজনক পন্থায় কোনো প্রকারের জ্ঞানই পৌঁছায়নি, তবে তার কোনো কাফফারা দিতে হবে না; কারণ আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং ঈমান ছাড়া আল্লাহর সেই মোহর অন্য কিছুতে খুলবে না।

তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন এবং চমৎকার বলেছেন। এতে ইবনে তিলমিযের মুখ যেন পাথর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলো, যদিও তিনি অত্যন্ত গুণী এবং শিষ্টাচারসম্পন্ন ছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) হিবাতুল্লাহ বিন সাঈদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আলি আল-বাগদাদি আল-নাসরানি (খ্রিস্টান), জন্ম ৪৬৬ হিজরি এবং মৃত্যু ৫৬০ হিজরি। শাযারাতুয যাহাব, ৪ খণ্ড, ১৯১ পৃষ্ঠা; মুজামুল মুয়াল্লিফিন, ১৩ খণ্ড, ১৩৮ পৃষ্ঠা।

‌‌(২) প্রতীয়মান হয় যে, এখানে হাদিস বলতে সেই মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসটিই উদ্দেশ্য যা আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, যার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাকে সৃষ্টি করলেন তখন বললেন: যাও এবং ওই দলটিকে সালাম দাও—তারা ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল ছিল—অতঃপর মনোযোগ দিয়ে শোনো তারা তোমার অভিবাদনের কী উত্তর দেয়; কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরের অভিবাদন। অতঃপর তিনি গিয়ে বললেন: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা বলল: তোমার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। মিশকাতুল মাসাবিহ, তাবরিযি, ৩য় খণ্ড, ১৩১৫ পৃষ্ঠা।

‌‌(৩) আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ১ম খণ্ড, ২০৬ পৃষ্ঠা; সিমতুন নুজুমিল আওয়ালি, ৩য় খণ্ড, ৩৭৪, ৩৭৫ পৃষ্ঠা।