(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
بديع النظام الجامع بين كتاب البزدوي والإحكام = نهاية الوصول إلى علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: نهاية الوصول إلى علم الأصول
[المعروف بـ «بديع النظام الجامع بين كتاب البزدوي والإحكام»]
المؤلف: مظفر الدين أحمد بن علي بن الساعاتي (ت 694 هـ)
تحقيق: سعد بن غرير بن مهدي السلمي
بإشراف: د محمد عبد الدايم علي
الناشر: رسالة دكتوراه (جامعة أم القرى)
سنة النشر: 1405 هـ - 1985 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
تنبيه: قامتْ جامعة أم القرى لاحقًا بطباعة هذا التحقيق سنة 1418 هـ ضمن سلسة الرسائل العلمية الموصَى بطبعها
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 محرم 1437
বাদিউন নিজাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউয়ি ওয়াল ইহকাম = নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
[যা «বাদিউন নিজাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউয়ি ওয়াল ইহকাম» নামে পরিচিত]
লেখক: মুজাফফরুদ্দিন আহমাদ বিন আলী বিন আস-সাআতি (মৃত্যু ৬৯৪ হি.)
তাহকিক: সাদ বিন গুরইর বিন মাহদি আস-সুলামি
তত্ত্বাবধানে: ড. মুহাম্মাদ আব্দুল দায়েম আলী
প্রকাশক: পিএইচডি থিসিস (উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশকাল: ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
সতর্কতা: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তীতে ১৪১৮ হিজরিতে এই তাহকিকটি মুদ্রণের জন্য সুপারিশকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে ছাপিয়েছে।
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ই মহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১)
الخير دأبك اللهم، يا واجب الوجود؛ والفيض شعارك يا واسع الرحمة والجود، أنت الذي لاينقص فيضك العطاء، وكلتا يديك بالخير سحاء، لك النعمة السابغة، والحجة البالغة، وبعفوك عياذ العباد، ومنك المبدأ، وإليك المعاد، بعثت النبيين بالحق؛ فأقمت بهم الحجة، وأوضحت بهديهم المحجة، وخصصت محمدا سيد البشر بأنواع الكمالات، وختمت برسالته الرسالات، وقطعت بحجته العلل، ونسخت بملته الملل، اللهم فصل عليه صلاة تقف دونها نهايات الطلب، ويتبوأ بها أعلى المقامات والرتب واجعلنا اللهم ممن أرضاك باتباعه، وأخلص لك في قول الحق واستماعه، وأراد وجهك الكريم بما نقحه وصنفه واستصحب توفيقك فيما جمعه وألفه.
قد منحتك أيها الطالب، لنهاية الوصول إلى علم الأصول بهذا الكتاب البديع في معناه المطابق اسمه لمسماه، لخصته لك من كتاب الإحكام ورصعته بالجواهر
হে আল্লাহ, কল্যাণই আপনার স্থায়ী অভ্যাস, হে ওয়াজিবুল ওজুদ (অপরিহার্য অস্তিত্ব); আর অনুগ্রহই আপনার ভূষণ, হে প্রশস্ত রহমত ও দানশীলতার আধার। আপনিই সেই সত্তা যাঁর দান আপনার অনুগ্রহের ভাণ্ডারকে হ্রাস করে না, এবং আপনার উভয় হাত কল্যাণে সদা বর্ষণকারী। আপনারই জন্য সমস্ত পূর্ণাঙ্গ নেয়ামত এবং অকাট্য দলিল; আপনার ক্ষমার মধ্যেই বান্দাদের আশ্রয়, আপনার থেকেই সৃষ্টিজগতের শুরু এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন। আপনি সত্যসহ নবীদের প্রেরণ করেছেন; অতঃপর তাঁদের মাধ্যমে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁদের হেদায়েতের মাধ্যমে সঠিক পথ স্পষ্ট করেছেন। আপনি মানবজাতির সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিভিন্ন প্রকার পূর্ণতা দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে নবুয়ত ও রিসালাতের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন, তাঁর দলিলের মাধ্যমে সকল ওজর-আপত্তি ছিন্ন করেছেন এবং তাঁর মিল্লাতের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ধর্মসমূহ রহিত করেছেন। হে আল্লাহ, আপনি তাঁর ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যার ঊর্ধ্বে কোনো আকাঙ্ক্ষা পৌঁছাতে পারে না এবং যার মাধ্যমে তিনি সর্বোচ্চ মাকাম ও উচ্চমর্যাদা লাভ করেন। হে আল্লাহ, আমাদের সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদেরকে আপনি রাসূলের অনুসরণের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করেছেন, যারা সত্য কথা বলা ও শ্রবণে আপনার প্রতি একনিষ্ঠ থেকেছে এবং যা কিছু পরিমার্জন ও রচনা করা হয়েছে তার দ্বারা কেবল আপনার মহান চেহারা কামনা করেছে এবং যা কিছু সংগ্রহ ও সংকলন করা হয়েছে তাতে আপনার তাওফীককে সঙ্গে পেয়েছে।
হে জ্ঞানান্বেষী, ইলমে উসুলের প্রান্তসীমায় পৌঁছানোর জন্য আমি আপনাকে এমন এক অপূর্ব কিতাব উপহার দিয়েছি যার অর্থ তার নামের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি আপনার জন্য এটি 'আল-ইহকাম' কিতাব থেকে সংক্ষিপ্ত করেছি এবং একে বিভিন্ন রত্নরাজিতে সুশোভিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
النفيسة من أصول فخر الإسلام فإنهما البحران المحيطان بجوامع الأصول، الجامعان
ফখরুল ইসলামের উসুল (মূলনীতিমালা) হতে সংগৃহীত মূল্যবান বিষয়াবলি; কেননা এই উভয়ই হলো উসুলের সামগ্রিক বিষয়সমূহকে পরিবেষ্টনকারী এমন দুটি মহাসমুদ্র, যা (সবকিছুর) সংগ্রাহক।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
لقواعد المعقول، والمنقول، هذا حاو للقواعد الكلية الأصولية، وذاك مشحون بالشواهد الجزئية الفروعية.
وهذا الكتاب: يقرب منهما البعيد، ويؤلف الشريد، ويعبد لك الطريقين ويعرفك اصطللاح الفريقين، مع زيادات شريفة، وقواعد منقحة لطيفة، واختيار للفص واللباب، ورعاية للمذهب الذي هو أصل الباب، فما أجدرك بتحصيله، وتحقيق إجماله وتفصيله، والله الموفق لإدراك الأماني، واستجلاء أبكار المعاني.
وقد رتبته على أربع قواعد:
الأولى: في المبادئ.
والثانية: في الأدلة السمعية، وأقسامها وأحكامها.
والثالثة: في أحكام الإجتهاد، والمفتي والمستفتي.
والرابعة: في ترجيحات طرق المطلوبات.
যৌক্তিক ও উদ্ধৃতিমূলক মূলনীতিসমূহের বর্ণনায়; এটি সামগ্রিক মৌলিক নিয়মাবলিকে অন্তর্ভুক্তকারী, আর সেটি শাখাগত আংশিক উদাহরণসমূহে পরিপূর্ণ।
আর এই কিতাবটি: এ দুটির মধ্যকার দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করে, বিচ্ছিন্ন বিষয়কে একত্রিত করে, আপনার জন্য উভয় পথকে সুগম করে এবং আপনাকে উভয় পক্ষের পরিভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এর সাথে এতে রয়েছে উচ্চাঙ্গের সংযোজনী, পরিমার্জিত সূক্ষ্ম নিয়মাবলি, সারবস্তু ও নির্যাস চয়ন এবং সেই মাযহাবের অনুসরণ যা এই বিষয়ের মূল ভিত্তি। সুতরাং এটি অর্জন করা এবং এর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বিষয়সমূহ অনুধাবন করা আপনার জন্য কতই না সমীচীন! আল্লাহই আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাওফিক দানকারী এবং অর্থের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনে সহায়তাকারী।
আমি একে চারটি মূলনীতির ওপর বিন্যস্ত করেছি:
প্রথমটি: প্রারম্ভিক আলোচনার বিষয়ে।
দ্বিতীয়টি: শ্রুতিগ্রাহ্য দলিলসমূহ এবং সেগুলোর প্রকার ও বিধানের বিষয়ে।
তৃতীয়টি: ইজতিহাদ, মুফতি এবং ফতোয়া জিজ্ঞাসাকারীর বিধানের বিষয়ে।
চতুর্থটি: উদ্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পদ্ধতিগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়ে।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
القاعدة الأولى في المبادئ.
حق على من حاول علما أن يتصوره بحده أو رسمه، ويعرف موضوعه، وغايته، واستمداده.
فأصول
ভূমিকা সংক্রান্ত প্রথম নীতিমালা.
যে ব্যক্তি কোনো শাস্ত্র অর্জন করতে চায়, তার জন্য আবশ্যক হলো সেটিকে তার সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে উপলব্ধি করা এবং তার আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও উৎস সম্পর্কে অবগত হওয়া।
সুতরাং মূলনীতিসমূহ
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفقه علما:
[هو] العلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية.
واستنباط الأحكام: فصل عن استنباط الصنائع.
والشرعية: عن العقلية.
والفرعية: عن مثل كون الأدلة حججا.
والتفصيلية: عن الإجمالية.
كالمقتضي والنافي.
শাস্ত্রীয় সংজ্ঞায় ফিকহ:
[এটি হলো] এমন কতগুলো মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে শাখা-প্রশাখাগত শরয়ি বিধানসমূহ আহরণ করা যায়।
আর বিধানসমূহ আহরণ: এটি শিল্প-কৌশল আহরণ হতে পৃথককারী।
এবং শরয়ি: এটি যৌক্তিক বিষয়াদি হতে পৃথককারী।
এবং শাখা-প্রশাখাগত: এটি দলিলসমূহের প্রমাণযোগ্যতা বা হুজ্জত হওয়ার ন্যায় বিষয়সমূহ হতে পৃথককারী।
এবং বিস্তারিত: এটি সংক্ষিপ্ত বা সামষ্টিক বিষয়সমূহ হতে পৃথককারী।
যেমন—অপরিহার্যতা সাব্যস্তকারী এবং নেতিবাচক বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
واستغنينا بالاستنباط عن الاستدلالية.
وأما مضافا: فالأصول أدلة الفقه، وجهات دلالتها، وحال المستدل بها على وجه كلي.
والفقه: العلم بجملة غالبة من الأحكام الشرعية الفرعية الاستدلالية بالتفصيل.
وقولنا: بجملة غالبة فصل عن العلم بحكم، أو حكمين، وعن التعميم المشعر بأن ما دون جملة الأحكام لا يكون فقها.
والشرعية والفرعية: عما سبق.
والاستدلالية: عن علم الله تعالى، والملك، والرسول صلى الله عليه وسلم، وبالتفصيل: عما سبق.
আর আমরা ইসতিনবাতের (তত্ত্ব উদ্ঘাটন) মাধ্যমে ইস্তিদলালিয়্যাহর (দলিলনির্ভরতা) প্রয়োজনীয়তা হতে অব্যাহতি লাভ করেছি।
আর সংযোজিত নাম হিসেবে: উসুল হলো ফিকহের দলিলসমূহ, তাদের নির্দেশনার ধরণসমূহ এবং সামগ্রিক দিক থেকে তা দ্বারা দলিল পেশকারীর অবস্থা।
আর ফিকহ হলো: বিস্তারিতভাবে দলিলনির্ভর শরয়ী শাখা-উপশাখা সংক্রান্ত বিধানাবলির এক বৃহৎ অংশ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
এবং আমাদের উক্তি ‘এক বৃহৎ অংশ’ দ্বারা একটি বা দুটি বিধানের জ্ঞান থেকে এবং এমন সাধারণীকরণ—যা এই ধারণা দেয় যে সমস্ত বিধানের সমষ্টির চেয়ে কম কিছু ফিকহ হবে না—তা হতে পৃথক করা হয়েছে।
আর ‘শরয়ী’ এবং ‘শাখা-উপশাখা’ বিশেষণ দুটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
এবং ‘ইস্তিদলালিয়্যাহ’ দ্বারা মহান আল্লাহ, ফেরেশতা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞানকে পৃথক করা হয়েছে; আর ‘বিস্তারিতভাবে’ বিষয়টি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وموضوعه: الأدلة التي يبحث عن أقسامها، واختلاف مراتبها، وكيفية الاستثمار منها على وجه كلي.
وغايته: معرفة الأحكام الشرعية.
واستمداده: من الكلام، والعربية، والأحكام الشرعية.
أما الكلام: فلتوقف إفادة الأدلة لأحكامها على معرفة الله تعالى وصفاته، وأفعاله، وصدق الرسول صلى الله عليه وسلم.
وأما العربية: فلتوقف معرفة دلالاتها على العلم بموضوعاتها لغة من الحقيقة والمجاز، وعلى العموم، والخصوص، والإطلاق، والتقيد، والحذف، والإضمار، والمنطوق، والمفهوم، والإقتضاء والإشارة، والصريح، والكتابة وغيرها.
وأما الأحكام: فلأن تلك الأدلة تتوقف على تصور الأحكا م بحقائقها لتقصد، وليتمكن من إيضاح المسائل بالشواهد، لاعلى العلم بثبوتها، لاستلزام الدور.
এর আলোচ্য বিষয় হলো: সেই সকল দলীল, যার বিভিন্ন প্রকার, সেগুলোর স্তরের ভিন্নতা এবং সামগ্রিক দিক থেকে তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো: শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
এর উৎস হলো: ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং শরয়ি আহকাম।
ইলমুল কালামের প্রয়োজনীয়তা এই কারণে যে, দলীলসমূহ থেকে বিধান আহরণ করা মহান আল্লাহ তাআলা, তাঁর গুণাবলি ও তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা জানার ওপর নির্ভরশীল।
আর আরবি ভাষার প্রয়োজনীয়তা এই কারণে যে, দলীলসমূহের নির্দেশক হওয়ার বিষয়টি ভাষাগতভাবে এর আলোচ্য বিষয়সমূহ যেমন— হাকিকত ও মাজায, আম ও খাস, ইতলাক ও তাকয়ীদ, হাজফ ও ইজমার, মানতুক ও মাফহুম, ইক্তিযা ও ইশারা, সারিহ, কিতাবাত এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।
আর আহকামের প্রয়োজনীয়তা এই কারণে যে, সেই সকল দলীল থেকে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আহকাম বা বিধানসমূহকে তাদের প্রকৃতরূপে কল্পনা করা প্রয়োজন, যাতে করে উদাহরণের মাধ্যমে মাসআলাগুলো স্পষ্ট করা সম্ভব হয়; তবে বিধানগুলো প্রমাণিত হওয়ার জ্ঞানের ওপর এটি নির্ভর করে না, কারণ তা অনিবার্যভাবে চক্রক দোষের সৃষ্টি করবে।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبادئ الكلاميةلما انقسم الدليل إلى ما يفيد العلم، والظن بواسطة النظر احتيج إلى تصور الدليل، والنظر، والعلم والظن.
فالدليل [في اللغة]: الدال.
والذاكر للدليل.
وما فيه إرشاد.
و [الدليل] في الأصول: ما أوصل إلى العلم.
والأمارة: ما أوصل إلى الظن.
فعلى العرف الفقهي هو: ما يمكن التوصل بصحيح النظر فيه إلى مطلوب خبري.
فقيد: الإمكان ليدخل فيه ما لم يتوصل به لعدم النظر فيه مع الإمكان.
والصحيح: فصل عن الفاسد، والخبري: عن التصوري.
وعلى الأصولي: ما يمكن التوصل به إلى العلم بمطلوب خبري، فتخرج الأمارة.
والأول المختار لاندراجها.
والنظر:
কালামশাস্ত্রীয় মূলনীতিসমূহযেহেতু দলিলকে গবেষণা বা চিন্তার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান ও প্রবল ধারণা—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, তাই দলিল, গবেষণা, নিশ্চিত জ্ঞান ও প্রবল ধারণার স্বরূপ অনুধাবন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
ভাষাগতভাবে দলিল হলো: নির্দেশক।
এবং যে ব্যক্তি দলিল বর্ণনা করে।
এবং যার মধ্যে দিকনির্দেশনা বিদ্যমান।
আর উসুল শাস্ত্রের পরিভাষায় [দলিল] হলো: যা নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে পৌঁছে দেয়।
আর আলামত (লক্ষণ) হলো: যা প্রবল ধারণার দিকে পৌঁছে দেয়।
ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষা অনুযায়ী তা হলো: যার মধ্যে সঠিক চিন্তার মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক কাম্য বিষয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
এখানে ‘সম্ভব হওয়া’ শর্তটি যুক্ত করা হয়েছে এমন বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, যেগুলোতে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক চিন্তা বা গবেষণার অভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
‘সঠিক’ শব্দটি ভুল বা অশুদ্ধ থেকে পৃথক করার জন্য এবং ‘সংবাদমূলক’ শব্দটি ‘ধারণামূলক’ বিষয় থেকে পৃথক করার জন্য আনা হয়েছে।
উসুলবিদগণের মতে: যা দিয়ে কোনো সংবাদমূলক কাম্য বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়; ফলে এতে ‘আলামত’ বহির্ভূত হয়ে যায়।
প্রথম সংজ্ঞাটিই মনোনীত, কারণ তা আলামতকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
আর গবেষণা হলো:
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الاعتبار، وحد: بأنه الفكر الذي يطلب به- من قام به -علما أو ظنا.
والفكر: حركة النفس من المطالب إلى مبادئها، ثم الرجوع عنها إليها.
وقيل: تصرف العقل في الأمور السابقة بالعلم -أو الظن المناسبة للمطلوب
আল-ই'তিবার (বিবেচনা), এর সংজ্ঞা হলো: এটি এমন এক চিন্তা যার মাধ্যমে এর সম্পাদনকারী সুনিশ্চিত জ্ঞান কিংবা ধারণা অন্বেষণ করে।
আর চিন্তা হলো: কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে তার মূলনীতির দিকে এবং সেখান থেকে পুনরায় লক্ষ্যের দিকে আত্মার পরিভ্রমণ।
আর বলা হয়েছে: কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের উপযোগী জ্ঞান কিংবা ধারণার মাধ্যমে পূর্ববর্তী বিষয়াবলীতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ ঘটানো।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
-بتأليف خاص- لتحصيل ما ليس بحاصل، فهذا يعم التصوري، والتصديقي، والقطعي والظني.
وقيل: ترتيب أمور ذهنية، يتوصل بها إلى أمر ذهني، وما عرفت جهة دلالته على المطلوب فصحيح وإلا ففاسد.
والعلم:
-একটি বিশেষ বিন্যাসের মাধ্যমে- যা অর্জিত নয় তা অর্জন করার জন্য; সুতরাং এটি ধারণামূলক, সত্যায়নমূলক, সুনিশ্চিত এবং ধারণাপ্রসূত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং বলা হয়েছে: এটি হলো মানসিক বিষয়াবলির বিন্যাস, যার মাধ্যমে কোনো মানসিক বিষয়ে উপনীত হওয়া যায়। আর যার নির্দেশনার দিকটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি জানা যায় তা সঠিক, অন্যথায় তা অশুদ্ধ।
এবং জ্ঞান:
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
قيل: لا يحد لعسره، بل يعرف بالقسمة.
ويرد عليه: إن لم تفد تمييزا لم تفد تعريفا، وإن أفادته فهو المراد بالحد.
وقيل: لأنه ضروري لأن ما عداه لايعلم إلا به، فلو علم فهو بغيره دار، ولأن علمنا بوجودنا ضروري، والعلم أحد تصورات هذا التصديق، وليس بسديد.
أما الأول: فلاختلاف الجهة، فإن جهة توقف غير العلم على العلم؛ من حيث الإدراك، وتوقف العلم على الغير من جهة كون ذلك الغير صفة مميزة له عن غيره، لا إدراكا.
وأما الثاني: فلعدم توقف التصديق البديهي على بداهة تصوراته، فإن المقطوع به: النسبة؛ وأيضا: فلا يلزم من حصول العلم بشئ -ضرورة- تصور العلم الخاص ليستلزم العام، ولا سبق تصوره.
وقيل: في حده: صفة توجب لمن اتصف بها تمييزا لا يحتمل النقيض في الخارج؛ وتوجب تمييزا: فصل عن مثل الحياة، وبعض الصفات المشروطة بها، ولايحتمل النقيض عن الظن.
وزاد: في الخارج، لئلا ينقض بالعلم العادي،
বলা হয়েছে: এর জটিলতার কারণে একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না, বরং একে বিভাজনের মাধ্যমে চেনা যায়।
এর প্রতিউত্তর হলো: যদি এটি কোনো পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য প্রদান না করে, তবে তা কোনো পরিচয় প্রদান করে না; আর যদি তা প্রদান করে, তবে সেটিই সংজ্ঞার উদ্দেশ্য।
আরও বলা হয়েছে: এটি স্বতঃসিদ্ধ, কারণ জ্ঞান ব্যতিরেকে অন্য কিছু জানা যায় না। ফলে একে যদি অন্য কিছুর মাধ্যমে জানতে হয়, তবে তা চক্রাকার দোষে দুষ্ট হবে। তাছাড়া, আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান স্বতঃসিদ্ধ, আর জ্ঞান হলো এই সত্যায়নের ধারণাসমূহের একটি। তবে এই অভিমতটি সঠিক নয়।
প্রথমটির ক্ষেত্রে উত্তর হলো: প্রেক্ষিত ভিন্ন হওয়ার কারণে। কেননা, জ্ঞানের ওপর অন্য কিছুর নির্ভরশীলতা হলো উপলব্ধির দিক থেকে; আর অন্যের ওপর জ্ঞানের নির্ভরশীলতা হলো সেই অন্যটি জ্ঞানের এমন একটি বৈশিষ্ট্য হওয়ার দিক থেকে যা একে অন্যের থেকে পৃথক করে, উপলব্ধির দিক থেকে নয়।
দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে উত্তর হলো: স্বতঃসিদ্ধ সত্যায়ন তার ধারণাসমূহের স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। কারণ যা নিশ্চিতভাবে জানা যায় তা হলো সম্বন্ধ। তদুপরি, কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্ঞান অর্জিত হওয়া মানেই এই নয় যে, তা সাধারণ জ্ঞানকে অনিবার্য করার জন্য বিশেষ জ্ঞানের ধারণাকে আবশ্যক করে, কিংবা তার পূর্ব-ধারণাকেও আবশ্যক করে না।
জ্ঞানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি এমন একটি গুণ যা এর অধিকারীর জন্য এমন একটি পার্থক্য তৈরি করে যা বাস্তব ক্ষেত্রে বিপরীত কোনো সম্ভাবনা রাখে না। 'পার্থক্য তৈরি করে' কথাটি জীবন এবং জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুণাবলী থেকে একে পৃথক করে; আর 'বিপরীত সম্ভাবনা রাখে না' কথাটি একে অনুমান বা ধারণা থেকে পৃথক করে।
আর তিনি 'বাস্তব ক্ষেত্রে' কথাটি যোগ করেছেন যাতে সাধারণ জ্ঞানের মাধ্যমে এটি খণ্ডিত না হয়।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإنه وإن احتمل عقلا لكنه لا يحتمل خارجا، وزاد من أخرج إدراك الحواس؛ في المعاني الكلية.
وينقسم إلى قديم وحادث.
والحادث إلى ضروري، ومكتسب.
والظن: ترجيح أحد الإحتمالين من غير قطع، وإذا تساويا فشك؛ والمرجوح وهم.
المبادئ اللغوية
لما علم الله سبحانه حاجة هذا النوع الشريف إلى إعلام بعضهم بعضا، ما في نفوسهم؛ لتحصيل بعض مقاصدهم -التي لا يستقل الواحد بتحصيلها- أقدره على تركيب المقاطع الصوتية، عناية به، فإنه من أخف الأفعال الإختيارية؛ مقدور عليه عند الحاجة من غير تعب، مستغنى عنه عند عدمها.
ومن اختلاف التركيب، حدثت العبارات، فما ليس منها موضوعا لمعنى: مهمل، وما وضع لمعنى: فالنظر: في أنواعه؛ وابتداء وضعه؛ وطريق معرفته.
কেননা তা যৌক্তিকভাবে সম্ভবপর হলেও বাহ্যিক বাস্তবতায় সম্ভবপর নয়; আর যারা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানকে বর্জন করেছেন, তারা বিমূর্ত ধারণার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
এবং তা অনাদি ও সৃষ্ট—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
আর সৃষ্ট জ্ঞান স্বতঃসিদ্ধ ও অর্জিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
আর প্রবল ধারণা হলো: কোনো নিশ্চিত বিশ্বাস ছাড়াই দুই সম্ভাবনার একটিকে প্রাধান্য দেওয়া; যদি উভয় সম্ভাবনা সমান হয় তবে তা সংশয়; আর অপ্রধান সম্ভাবনাটি হলো অমূলক ধারণা।
ভাষাতাত্ত্বিক মূলনীতিসমূহ
যখন মহান আল্লাহ এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন প্রজাতির (মানুষ) একে অপরের নিকট তাদের মনের ভাব ব্যক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত হলেন—যাতে তারা তাদের এমন কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারে যা এককভাবে অর্জন করা অসম্ভব—তখন তিনি তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ তাদের ধ্বনি-বিন্যাসের সক্ষমতা দান করলেন। কেননা এটি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সহজতর; যা প্রয়োজনের মুহূর্তে কোনো ক্লান্তি ছাড়াই সম্পাদনযোগ্য এবং প্রয়োজন না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।
আর এই শব্দ-বিন্যাসের বৈচিত্র্য থেকেই শব্দমালার উদ্ভব ঘটেছে। সুতরাং যার কোনো অর্থ নির্ধারিত নেই তা নিরর্থক; আর যা কোনো অর্থের জন্য নির্ধারিত, তার প্রকারভেদ, শব্দ-প্রবর্তনের সূচনা এবং তা অবগত হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কেই এখানে আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والأول نوعان:
مفرد: وهو: مادل بالوضع على معنى ولاجزء له يدل على شيء من حيث هو جزؤه.
ومركب بخلافه، فبعلبك؛ وعبدالله علما: مفرد، وصفة: مركب.
ولا يرد: مثل ضارب، ومخرج -من حيث دلالة الألف والميم على الفاعل؛ والمفعول- لأنا نمنع دلالتهما.
بل المجموع هو الدال على شخص حاله ذلك.
تقسيم: ودلالة المفرد لفظية: وهي التي نفهم منها معنى غير خارج عن مسمى اللفظ.
فإما على تمام مسماه؛ وهي: المطابقة، أو جزئه وهي: التضمن.
এবং প্রথমটি দুই প্রকার:
একক (মুফরাদ): এটি হলো তা যা পারিভাষিক সংস্থাপনের মাধ্যমে কোনো একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং এর এমন কোনো অংশ নেই যা তার অংশ হওয়ার দিক থেকে কোনো বিষয়ের ওপর নির্দেশ করে।
আর যৌগিক (মুরাক্কাব) এর বিপরীত; সুতরাং 'বালাবাক্ক' এবং 'আবদুল্লাহ' নাম হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা একক (মুফরাদ), আর গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা যৌগিক (মুরাক্কাব)।
আর 'দারিব' (প্রহারকারী) এবং 'মুখরাজ' (নিষ্কাশিত)-এর মতো উদাহরণগুলো আপত্তি হিসেবে আসবে না—আলিফ এবং মিম যথাক্রমে কর্তা এবং কর্মের ওপর নির্দেশ করার প্রেক্ষিতে—কারণ আমরা সেগুলোর স্বতন্ত্র নির্দেশিকতাকে অস্বীকার করি।
বরং শব্দসমষ্টিই এমন এক ব্যক্তির ওপর নির্দেশ করে যার অবস্থা সেই রূপ।
বিভাজন: এককের নির্দেশিকতা হলো শাব্দিক: আর এটি হলো সেটি যার মাধ্যমে আমরা এমন অর্থ বুঝতে পারি যা শব্দের নির্ধারিত সংজ্ঞার বহির্ভূত নয়।
হয় তা তার পূর্ণ নির্ধারিত অর্থের ওপর নির্দেশ করে; যা হলো: সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশিকতা (মুতাবাকাহ), অথবা তার অংশের ওপর; যা হলো: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশিকতা (তাদাম্মুন)।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وغير لفظية: وهي التي يفهم منها معنى خارج عن مسماه، وهي الإلتزام.
وشرطه: اللزوم الذهني، فإنه لو قدر عدم الإنتقال الذهني لا يفهم.
والخارجي ليس بشرط لحصول الإلتزام بدونه -كالعدم والملكة-
এবং শব্দ-বহির্ভূত: এটি এমন যা থেকে তার সংজ্ঞায়িত অর্থের বাইরের একটি অর্থ বোঝা যায়, আর তা হলো আবশ্যিকতা।
এবং এর শর্ত হলো: মানসিক আবশ্যকতা; কারণ যদি মানসিক চিন্তার স্থানান্তর না হওয়াকে কল্পনা করা হয়, তবে তা বোধগম্য হবে না।
আর বাহ্যিক আবশ্যকতা অর্জিত হওয়ার জন্য শর্ত নয়, কারণ এটি ছাড়াও তা সম্পন্ন হতে পারে—যেমন অভাব ও গুণ—
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقيل: لأن الجوهر والعرض متلازمان خارجا؛ ولا يستعمل أحدهما في للآخر، وفيه نظر، لأن عدم الإستعمال مع اللزوم الخارجي لا يدل على عدم اشتراطه.
تقسيم: وهو: إما أن يستقل بالمفهومية أولا.
والثاني: الحرف.
والأول: إما أن يدل على أحد الأزمنة الثلاثة ببنيته، وهو: الفعل، أولا؛ وهو: الإسم.
وقد علم بذلك حدودهما.
تقسيم؛ وهو ومفهومه: إما أن يتحدا، أو يتعددا؛ أو يتحد الإسم، ويختلف مسماه؛ أو بالعكس.
فالأول: إما أن يصح أن يشترك في مفهومه كثيرون بالفعل، أو بالقوة وهو الكلي، أولايصح وهو الجزئي الحقيقي.
والكلي: إن تساوى صدقه على ما تحته فمتواطئ، كالإنسان، وإن اختلف بشدة وضعف، أو تقدم وتأخر فمشكك، كالموجود والأبيض.
বলা হয়েছে যে: যেহেতু জাওহার (সত্তা) এবং আরাদ (গুণ) বাহ্যিকভাবে একে অপরের পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য; এবং একটির স্থলে অন্যটি ব্যবহৃত হয় না। তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ বাহ্যিক অবিচ্ছেদ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার না হওয়া এটি প্রমাণ করে না যে তা শর্তযুক্ত নয়।
বিভাজন: এটি (শব্দ) হয় স্বতন্ত্রভাবে অর্থ প্রকাশ করবে অথবা করবে না।
আর দ্বিতীয়টি হলো: হারফ (অব্যয়)।
আর প্রথমটি: হয় তার কাঠামোর মাধ্যমে তিন কালের কোনো একটি নির্দেশ করবে, আর তা হলো: ফেল (ক্রিয়া); অন্যথা তা নির্দেশ করবে না, আর তা হলো: ইসম (বিশেষ্য)।
এর মাধ্যমেই এই দুইটির সংজ্ঞা জানা গেল।
বিভাজন; শব্দ এবং তার অর্থ: হয় উভয়ই একক হবে, অথবা উভয়ই একাধিক হবে; অথবা নাম একক হবে কিন্তু তার নামধারী ভিন্ন হবে; অথবা এর বিপরীত হবে।
প্রথম প্রকারটি: হয় বাস্তবিকভাবে অথবা সম্ভাব্যভাবে তার অর্থের মধ্যে অনেকের অংশীদার হওয়া বৈধ হবে, আর তা হলো কুল্লি (সামষ্টিক); অথবা তা বৈধ হবে না, আর তা হলো জুযয়ি হাকিকি (প্রকৃত আংশিক)।
আর কুল্লি: যদি তার অধীনস্থ বিষয়গুলোর ওপর তার প্রয়োগ সমান হয় তবে তা মুতাওয়াতি (সুসম), যেমন 'মানুষ'; আর যদি তীব্রতা ও দুর্বলতা অথবা অগ্রগামিতা ও পশ্চাৎগামিতার কারণে ভিন্ন হয় তবে তা মুশাক্কিক (সংশয়যুক্ত), যেমন 'বিদ্যমান' এবং 'সাদা'।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والثاني: المتباينة، كالإنسان والفرس.
والثالث: إن وضع للكل وضعا أولا فمشترك، كالعين؛ سواء تباينت المسميات، كالجون للسواد والبياض، أم لم تتباين، كالأسود على الأسود علما وصفة، فإن مدلوله -في العلمية- الذات، -وفي الإشتقاق- الذات مع الصفة.
فالمدلول -في العلم: جزؤ المدلول في المشتق.
ومدلوله -مشتقا- صفة لمدلول العلم.
وإن وضع لبعضها ثم استعير لغيره: فاستعماله في الموضوع حقيقة، وفي غيره مجاز.
والرابع: المترادفة: كالإنسان والبشر.
দ্বিতীয়টি হলো: ভিন্নধর্মী (মুতাবায়িন), যেমন মানুষ এবং ঘোড়া।
তৃতীয়টি হলো: যদি শব্দটি প্রতিটি অর্থের জন্য প্রথম থেকেই মৌলিকভাবে নির্ধারিত হয়, তবে তাকে বহুমুখী অর্থবোধক (মুশতারাক) বলা হয়, যেমন 'আইন' শব্দটি; চাই এর দ্বারা নামকৃত বিষয়গুলো পরস্পর ভিন্নধর্মী হোক, যেমন কালো এবং সাদা উভয় রঙের জন্য 'জাওন' শব্দের ব্যবহার, অথবা ভিন্নধর্মী না হোক, যেমন নাম এবং গুণ উভয় হিসেবে 'আসওয়াদ' শব্দের ব্যবহার। কেননা নাম হিসেবে এর অর্থ হলো সত্তা, আর ব্যুৎপত্তিগতভাবে এর অর্থ হলো গুণসহ সত্তা।
সুতরাং নাম হিসেবে এর অর্থ হলো ব্যুৎপত্তিগত অর্থের একটি অংশ।
আর ব্যুৎপত্তিগতভাবে এর অর্থ হলো নামের দ্বারা নির্দেশিত সত্তার গুণ।
আর যদি শব্দটি কোনো একটি বিষয়ের জন্য গঠন করা হয় এবং পরবর্তীতে অন্য বিষয়ের জন্য রূপক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার হবে প্রকৃত (হাকিকত), আর অন্যটির ক্ষেত্রে হবে রূপক (মাজায)।
চতুর্থটি হলো: সমার্থবোধক (মুতারাতিফ), যেমন 'ইনসান' এবং 'বাশার'।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قاعدة: قد اصطلح قوم: على تسمية الكلي -الذي نسميه المطلق-
মূলনীতি: একদল লোক ‘কুলি’ (সার্বিক) নামকরণের ব্যাপারে পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন—যাকে আমরা ‘মুতলাক’ (নিরঙ্কুশ) বলে অভিহিত করি—
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بالعام، والجزئي؛ بالخاص.
সাধারণের মাধ্যমে, এবং আংশিক; বিশেষের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
قالوا: اشتراك الأشخاص في الإنسانية.
وليس في مجرد الإسم، وليس وقوع الإنسان عليها، كوقوع زيد على جمع تسموا به، فإن زيدا لم يسم به، إلا لأنه هو؛ لا لمعنى كلي، يطابق كل زيد، ولو رأيت رجلا مجهول الإسم حكمت بأنه إنسان، ولم تحكم بأنه زيد، حتى تسأل عنه، فعلمت أنك -في هذا الحكم- متمثل صورة كلية مطابقة لكل إنسان، فساغ لك الحكم، ولم تتمثل من زيد صورة تطابق كل زيد لتحكم به.
فإذا عرفت الفرق -وأن وقوع اسم الليث على الأسد، لا يمنع الشركة؛ ووقوعه على شخص إنساني يمنعها؛ وأن مفهومه يختلف بالإعتبارين- عرفت أن العموم، إنما هو من عوارض المعاني، دون الألفاظ فإن اسم الليث واحد في المفهومين المختلفين، وقد صح العموم في أحدهما دون الآخر، فلولا اعتبار المعنى لتساويا في المنع وعدمه؛ لاتحاد الصيغة.
ويصح أن يقال: هو من عوارض الألفاظ؛ من حيث أنها ذوات معان؛ تطابق كثرة.
তারা বলেছেন: ব্যক্তিদের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব হলো মানবসত্তার ক্ষেত্রে।
এটি কেবল নিছক নামের ক্ষেত্রে নয়, আর ব্যক্তিদের ওপর ‘মানুষ’ শব্দের প্রয়োগ তেমন নয় যেমন কোনো একটি দলের ওপর ‘জায়েদ’ নাম প্রয়োগ করা হয় যারা এই নাম গ্রহণ করেছে। কেননা ‘জায়েদ’ নাম তার এই নির্দিষ্ট সত্তার কারণেই রাখা হয়েছে; কোনো সামষ্টিক অর্থের ভিত্তিতে নয় যা প্রত্যেক জায়েদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আপনি যদি কোনো নাম না জানা ব্যক্তিকে দেখেন, তবে আপনি তাকে ‘মানুষ’ হিসেবে সিদ্ধান্ত দেবেন, কিন্তু তাকে ‘জায়েদ’ হিসেবে গণ্য করবেন না যতক্ষণ না আপনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। ফলে আপনি বুঝতে পারলেন যে—এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে—আপনার মাঝে প্রতিটি মানুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সামগ্রিক চিত্র বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে আপনার জন্য এই ফয়সালা করা বৈধ হয়েছে। কিন্তু জায়েদের ক্ষেত্রে আপনি এমন কোনো চিত্র কল্পনা করেননি যা প্রত্যেক জায়েদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে যাতে আপনি তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
যখন আপনি এই পার্থক্য বুঝতে পারলেন—এবং এটিও যে সিংহ অর্থে ‘লাইস’ নামের প্রয়োগ অংশীদারিত্বকে বাধা দেয় না, অথচ কোনো মানব ব্যক্তির নাম হিসেবে এর প্রয়োগ অংশীদারিত্বকে বাধা দেয়; এবং এর মূল ধারণা এই দুই বিবেচনায় ভিন্ন হয়—তখন আপনি বুঝতে পারলেন যে, ব্যাপকতা (আল-উমুম) মূলত অর্থের আগন্তুক বৈশিষ্ট্য, শব্দের নয়। কারণ ‘লাইস’ শব্দটি এই ভিন্ন দুটি ধারণার ক্ষেত্রে অভিন্ন, অথচ একটির ক্ষেত্রে ব্যাপকতা সঠিক হয়েছে এবং অন্যটির ক্ষেত্রে হয়নি। সুতরাং যদি অর্থের বিবেচনা না থাকত, তবে শব্দের গঠন এক হওয়ার কারণে অংশীদারিত্বে বাধা দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে উভয়ই সমান হতো।
আর এটি বলাও সঠিক যে: এটি শব্দের আগন্তুক বৈশিষ্ট্য; এই দিক থেকে যে শব্দসমূহ অর্থের ধারক যা বহু সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
تحقيق: إذا قلنا مثلا: حيوان؛ فهناك أمور ثلاثة: من حيث هو.
وكونه كليا.
والمجموع.
والأول: موجود في الخارج؛ لأنه جزء الموجود فيه، دون الباقيين للزوم التشخص المانع من اعتبار الشمول.
والتكليف الشرعي ليس في الإعتبارات الذهنية.
فالحق: أن الدال على الماهية المفردة؛ كقوله تعالى: (فتحرير رقبة) مطلق؛ أي: دال على واحد في الخارج غير عين؛ لا عام بمعنى الشمول المعنوي؛ لعدم تصور عتق رقبة؛ مع اعتبار كليتها لعدم وجودها في الأعيان.
وقولنا: وجود الأخص يستلزم وجود الأعم.
معناه: من حيث هو؛ لا من حيث أنه كلي، وليس معنى قولنا: من حيث هو: أن يكون مجردا عن العوارض.
فإن المجرد [الكلي الطبيعي، لأن المنطقي والعقلي لا يوجدان في الخارج، فالتكليف بهما تكليف بالمستحيل.] هو بشرط لا شيء، ومن حيث هو معناه، لا بشرط شيء، ولا يلزم من الوجود، لا بشرط شيئ الوجود بشرط لا شيء.
تخلص:
فنحن قائلون: بالعموم المعنوي عقلا، ومانعون من التكليف به شرعا.
فتسمية الكلي -في الأصول- بالمطلق: هو الحق، فإن التكليف بالمطلق ممكن -فإنه موجود- وإن توقف وجوده على المشخصات، وليس التكليف به من حيث أنه كلي ممكنا لعدم وجوده في الخارج مطلقا.
قاعدة: والكلي: وإن كان أعم من الجزئي، فإن عدم الكلي أخص
তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: আমরা যদি উদাহরণস্বরূপ বলি: প্রাণী; তবে সেখানে তিনটি বিষয় রয়েছে: তার স্বীয় সত্তার দিক থেকে।
এবং তার কুল্লি বা সার্বিক হওয়ার দিক থেকে।
এবং এই দুটির সমষ্টি।
প্রথমটি: বাহ্যিক জগতে বিদ্যমান; কারণ এটি সেখানে বিদ্যমান বস্তুর অংশ, অন্য দুটির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়, কারণ নির্দিষ্টকরণ (তাশাখখুস) আবশ্যক যা ব্যাপকতা (শুমুল) বিবেচনার পরিপন্থী।
আর শরয়ী বিধান (তাকলিফ) কেবল মানসিক ধারণার (এ'তিবারাত যেহনিইয়্যাহ) স্তরে সীমাবদ্ধ নয়।
সুতরাং প্রকৃত সত্য এই যে: যা একক মাহিয়্যাহ বা সারবস্তুর ওপর দলালত করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (একজন দাস মুক্ত করা) তা হলো মুতলাক; অর্থাৎ তা বাহ্যিক জগতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যতিরেকেই একজনের ওপর দলালত করে; তা অর্থগত ব্যাপকতা বা শুমুল মা'নবী অর্থে 'আম' নয়; কারণ কোনো দাসের মুক্তি প্রদান করা সম্ভব নয় যখন তার কুল্লি বা সার্বিক দিকটি বিবেচনা করা হয়, যেহেতু বাস্তব জগতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
আর আমাদের কথা: বিশেষের (আখাস) অস্তিত্ব সাধারণের (আ'আম) অস্তিত্বকে আবশ্যক করে।
এর অর্থ হলো: তার স্বীয় সত্তার দিক থেকে; তার কুল্লি বা সার্বিক হওয়ার দিক থেকে নয়। আর আমাদের 'স্বীয় সত্তার দিক থেকে' বলার অর্থ এই নয় যে, তা আনুষঙ্গিক গুণাবলী (আওয়ারিদ) থেকে বিমুক্ত হবে।
কেননা যা বিমূর্ত [তা হলো কুল্লি তাবিয়্যী বা প্রাকৃতিক সার্বিক, কেননা লজিক্যাল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কুল্লির কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব নেই, তাই সেগুলোর মাধ্যমে বিধান আরোপ করা অসম্ভব বিষয় আরোপের নামান্তর] তা হলো 'কোনো কিছু না থাকার শর্তে' (বি-শারতি লা শাই), আর 'স্বীয় সত্তার দিক থেকে' এর অর্থ হলো 'কোনো শর্ত ছাড়া' (লা বি-শারতি শাই)। আর 'কোনো শর্ত ছাড়া' অস্তিত্ব থাকা থেকে 'কোনো কিছু না থাকার শর্তে' অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক হয় না।
উপসংহার:
আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে অর্থগত ব্যাপকতার প্রবক্তা, কিন্তু শরয়ীভাবে এর মাধ্যমে বিধান আরোপ করার ক্ষেত্রে আমরা অসম্মতি পোষণ করি।
উসূলে ফিকহে কুল্লি-কে 'মুতলাক' হিসেবে নামকরণ করাই হলো সঠিক, কারণ মুতলাকের ক্ষেত্রে বিধান প্রদান সম্ভব —যেহেতু এর অস্তিত্ব আছে— যদিও এর অস্তিত্ব লাভ করা নির্দিষ্টকারক বৈশিষ্ট্যসমূহের (মুশাখখিসাত) ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কুল্লি বা সার্বিক হিসেবে এর মাধ্যমে বিধান প্রদান সম্ভব নয়, কারণ বাহ্যিক জগতে কোনোভাবেই এর অস্তিত্ব নেই।
নিয়ম: কুল্লি বা সার্বিক যদিও জুযয়্যী বা বিশেষের চেয়ে অধিক সাধারণ, তবে কুল্লির অনুপস্থিতি বা অস্তিত্বহীনতা অধিক বিশেষ।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
من عدمه، فإنه كلما صدق السواد صدق، اللون، من غير عكس، فكذلك كلما صدق اللا لون؛ صدق اللا سواد، من غيرعكس.
قاعدة: كل معقولين، غير متباينين، فأحدهما مع الآخر: إما أخص مطلقا، أو أعم مطلقا.
أو أعم من وجه، وأخص من وجه.
كالإنسان والأبيض، فمن الإنسان ما ليس بأبيض، ومن الأبيض، ما ليس بإنسان، أومتساويان، كالناطق والإنسان.
فالأولان: لا يتعاكسان رأسا برأس بل كل من الموصوفات بأحدهما يوصف بالآخر، وليس كل ما يوصف بالآخر يوصف به بل بعضه.
والأخيران: يتعاكسان.
والأوسطان:
এর অনুপস্থিতি থেকে; কারণ যখনই ‘কালো’ সত্য হয়, তখন ‘রঙ’ সত্য হয়, এর বিপরীতটি নয়। তেমনিভাবে, যখনই ‘রঙহীনতা’ সত্য হয়, তখন ‘কালোহীনতা’ সত্য হয়, এর বিপরীতটি নয়।
মূলনীতি: পরস্পর বিপ্রতীপ নয় এমন প্রতিটি বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ের একটির সাথে অন্যটির সম্পর্ক হয়: হয় নিরঙ্কুশভাবে বিশেষ, অথবা নিরঙ্কুশভাবে সাধারণ।
অথবা এক দিক থেকে সাধারণ এবং অন্য দিক থেকে বিশেষ।
যেমন মানুষ এবং সাদা; মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে সাদা নয়, আবার সাদা বস্তুর মধ্যে এমন কিছু আছে যা মানুষ নয়। অথবা তারা পরস্পর সমান, যেমন বাকশক্তি সম্পন্ন সত্তা ও মানুষ।
প্রথম দুটি: পুরোপুরিভাবে পারস্পরিকভাবে সমান বা ব্যাপ্ত হয় না; বরং একটির গুণে গুণান্বিত প্রতিটি বিষয় অন্যটির দ্বারাও গুণান্বিত হয়, কিন্তু অন্যটির দ্বারা গুণান্বিত সবকিছুই এর দ্বারা গুণান্বিত হয় না, বরং তার কেবল কিয়দংশ হয়।
শেষ দুটি: পারস্পরিকভাবে সমান বা ব্যাপ্ত হয়।
আর মধ্যবর্তী দুটি:
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لا يتعاكسان على الحصر؛ بل على البعض.
وإذا تحقق عام وخاص مطلقان، فالاشتراك في الأخص يوجب الإشتراك في الأعم ضرورة.
وإلا لو وجد ما هو أخص بدون الأعم، ومعه أيضا؛ استلزم أن يكون الأخص مطلقا؛ أعم من أعمه.
قاعدة: والمعنى العام: إذا وجب له أمر، أو امتنع عليه لذاته اطرد فيما وقع تحته.
وما أمكن له لذاته، فقد لايمكن لما تحته، فإن خواص ما تحته قد تجب باعتبار ما، ويمتنع عليها ما يمكن بالإعتبار الأعم.
قاعدة: واللازم الحقيقي، ما لا يفارق الشيء في الخارج والذهن
তারা পূর্ণাঙ্গভাবে একে অপরের বিপরীতে অবস্থান করে না; বরং আংশিকভাবে করে।
যখন একটি সাধারণ (আম) এবং বিশেষ (খাস) শর্তহীনভাবে সাব্যস্ত হয়, তখন বিশেষটির মধ্যে অংশীদারিত্ব অপরিহার্যভাবে সাধারণটির মধ্যেও অংশীদারিত্বকে আবশ্যক করে।
অন্যথায়, যদি সাধারণটি ছাড়াই বিশেষটির অস্তিত্ব পাওয়া যেত, আবার সাধারণটির সাথেও পাওয়া যেত; তবে এটি এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করত যেখানে শর্তহীন বিশেষটি তার সাধারণের চেয়েও অধিক সাধারণ হয়ে পড়ত।
নীতি: সাধারণ অর্থ হলো: যখন কোনো বিষয় তার জন্য অপরিহার্য হয় অথবা তার সত্তাগত কারণে অসম্ভব হয়, তখন তা তার অধীনে থাকা বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
আর যা তার সত্তাগত কারণে সম্ভব, তা তার অধীনে থাকা বিষয়গুলোর জন্য সম্ভব নাও হতে পারে; কারণ তার অধীনে থাকা বিষয়গুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ কোনো বিশেষ বিচারে অপরিহার্য হতে পারে, এবং যা সাধারণ বিচারে সম্ভব তা তাদের জন্য অসম্ভব হতে পারে।
নীতি: প্রকৃত অবিচ্ছেদ্য বিষয় (লাযেম) হলো তা, যা বাহ্যিক জগত এবং মনোজগত—কোনো অবস্থাতেই বস্তু থেকে পৃথক হয় না।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
جميعا، كالزوجية للأربعة بعد فهمها، والأمر الواحد، إذا اجتمع مع شيئين متقابلين، لم يكن لحوق أحدهما إياه لذاته؛ بل لأمر خارجي.
والحقيقة الإنسانية إذا تشخصت بالوقوع في الأعيان، وعمت بشرط التجرد، فهي لذاتها لا تقتضي عموما ولا خصوصا.
وكل ما لحقه أمر بسبب، إذا تجرد عن ذلك السبب، لا يلزمه لذاته، وإلا ما افتقر إلى الخارجي؛ فصح أن العموم والخصوص عرضيان للألفاظ من حيث أنها ذوات معان، وعرضيان للمعاني لا من حيث أنها ذوات ألفاظ، وليسا بعرضيين لازمين بل عارضين.
قاعدة: ولا دلالة للعام على الخاص
من حيث خصوصه، وللخاص دلالة على العام اللازم، إما تضمنا إن كان جزءه، أو التزاما، إن كان خارجا عنه.
فالقائل: رأيت فعلا، وحركة، ولم أر صلاة صادق.
والقائل: رأيت صلاة، ولم أر حركة ولا فعلا كاذب؛ لدلالة الصلاة -ضمنا- على الحركة والفعل.
والخاص: لما لم يكن جزء العام، ولا؛ لازمه، ولا كله -لتحققه دونه انتفت الدلالات كلها.
ومن هذه القاعدة يعلم: أن من اعترف: أن الإنسان عام أخطأ في تعريف هذا العموم بأنه: اللفظ الواحد الدال على شيئين فصاعدا.
فإن الإنسانية لا دلالة فيها على الكثرة بل على معنى واحد؛ يلزمه صحة انطباقه على الكثرة؛ لا دلالته عليها.
সমস্তই—যেমন চার সংখ্যাটি অনুধাবন করার পর তার জোড় হওয়া। আর একটি একক বিষয় যখন দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সাথে একত্রিত হয়, তখন তাদের কোনো একটির সাথে তার সংশ্লিষ্ট হওয়া তার নিজস্ব সত্তার কারণে হয় না; বরং তা কোনো বাহ্যিক কারণবশত হয়।
আর মানবিক বাস্তবতা যখন ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে নিহিত হওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্টতা লাভ করে এবং বিমূর্তকরণের শর্তে ব্যাপকতা লাভ করে, তখন তা নিজস্ব সত্তাগতভাবে ব্যাপকতা কিংবা বিশেষত্ব কোনোটিই দাবি করে না।
আর কোনো কারণবশত যা কিছুর সাথে কোনো বিষয় যুক্ত হয়, সেই কারণটি দূর হয়ে গেলে তা সত্তাগতভাবে তার জন্য অপরিহার্য থাকে না; অন্যথায় তা বাহ্যিক বিষয়ের মুখাপেক্ষী হতো না। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, ব্যাপকতা ও বিশেষত্ব হলো শব্দের জন্য আপতিক গুণ, এই দিক থেকে যে শব্দগুলো অর্থের অধিকারী; এবং এগুলো অর্থের জন্যও আপতিক গুণ, তবে তা শব্দের অধিকারী হওয়ার দিক থেকে নয়। আর এগুলো কোনো অপরিহার্য আপতিক গুণ নয় বরং এগুলো হলো আগন্তুক গুণ।
মূলনীতি: 'আম' (সাধারণ) তার বিশেষত্বের দিক থেকে 'খাস' (বিশেষ)-এর ওপর কোনো নির্দেশনা প্রদান করে না।
তবে 'খাস' তার জন্য অপরিহার্য 'আম'-এর ওপর নির্দেশনা প্রদান করে; হয় তা অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে যদি তা তার অংশ হয়, অথবা অপরিহার্যতার ভিত্তিতে যদি তা তার বহির্ভূত হয়।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি বলে: "আমি একটি কর্ম এবং একটি গতি দেখেছি, কিন্তু কোনো সালাত দেখিনি", তবে সে সত্যবাদী।
আর যে বলে: "আমি সালাত দেখেছি, কিন্তু কোনো গতি কিংবা কর্ম দেখিনি", সে মিথ্যাবাদী; কারণ সালাত তার অন্তর্গতভাবেই গতি ও কর্মের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে।
আর 'খাস' যেহেতু 'আম'-এর অংশ নয়, কিংবা তার জন্য আবশ্যিক বিষয় নয়, এমনকি তার পূর্ণাঙ্গ রূপও নয়—যেহেতু 'খাস' ছাড়াও 'আম'-এর অস্তিত্ব সম্ভব—তাই এখানে সকল প্রকার নির্দেশনার আবশ্যকতা বিলুপ্ত হয়।
এই মূলনীতি থেকে এটি জানা যায় যে: যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে 'মানুষ' শব্দটি একটি 'আম' বা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, সে এই ব্যাপকতার সংজ্ঞায় ভুল করেছে যখন সে বলেছে যে: "এটি এমন একটি একক শব্দ যা দুই বা ততোধিক বিষয়ের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে।"
কেননা 'মনুষ্যত্ব' শব্দটিতে বহুত্বের কোনো নির্দেশনা নেই, বরং তা একটি একক অর্থের ওপর নির্দেশনা দেয়; যার অনিবার্য দাবি হলো বহুত্বের ওপর তার প্রযোজ্যতা সঠিক হওয়া, বহুত্বের ওপর সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া নয়।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قاعدة -يفرق فيها بين هذا العموم وبين الاستغراقي- وهذه الأحكام للعام، ومعنى عدم منع الشركة: وهو الذي يضاف إلى المفرد من دون ضميمة تعريف، أو غيره.
فأما العام الاستغراقي، فهو المنسوب إلى الخبر، فقولنا: كل شيئ؛ ليس معناه: كل الشيئ.
فإن الأول: كل عددي.
والثاني: كل مجموعي.
وأنت تقول: كل حبة من البر غير متقوم، ولا تقول: كل الحبات منه غير متقوم.
ويعرف العددي بالتنوين.
والمجموعي باللام.
والأول: هو الاستغراق؛ فإنه يشير إلى تحقيق تحقق الحكم في كل واحد واحد.
فكل سواد لون، معناه: كل واحد واحد مما يوصف بأنه سواد كيف كان؛ فإنه موصوف بأنه لون.
و [الثاني]: العام المعنوي: يلزم من كذبه كذب الخاص، ولا عكس، ومن صدق الخاص صدقه، ولا عكس -والإستغراقي: يلزم -من كذب الحكم على الخاص- كذبه، ولا عكس.
ومن صدق الحكم فيه، صدقه على الخاص؛ ولا عكس- وهذا العام: هو الذي يتأتى الاحتجاج به، لتعرضه للآحاد؛ بخلاف الأول، فانك تحكم عليه بما لا يتعدى إلى الأشخاص.
تقول: السواد يمكن تخصصه بالإنسان.
ولا تقول: كل سواد، فإنه إذا تشخص بغيره؛ ففرض في الإنسان لم يكن هو هو، فلم يمكن للآحاد ما أمكن للماهية المطلقة، وهذه قواعد مهمة ونفعها عظيم.
একটি মূলনীতি—যার মাধ্যমে এই সাধারণত্ব (আম) এবং পরিবেষ্টনকারী সাধারণত্বের (ইস্তিগরাকি) মাঝে পার্থক্য করা হয়—আর এই বিধানগুলো সাধারণের (আম) জন্য প্রযোজ্য। অংশীদারিত্ব বা সমতা বাধাগ্রস্ত না করার অর্থ হলো: যা কোনো সংজ্ঞায়নকারী সংযুক্তি বা অন্য কিছু ছাড়াই একবচনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়।
পক্ষান্তরে পরিবেষ্টনকারী সাধারণত্ব (আম ইস্তিগরাকি) হলো যা খবরের (বিধানের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সুতরাং আমাদের কথা: "প্রত্যেক বস্তু"; এর অর্থ "সমগ্র বস্তু" নয়।
কারণ প্রথমটি হলো সংখ্যাবাচক সমষ্টি।
আর দ্বিতীয়টি হলো সামগ্রিক সমষ্টি।
আপনি বলে থাকেন: গমের প্রতিটি দানা স্বতন্ত্রভাবে মূল্য নিরূপণযোগ্য নয়, কিন্তু আপনি বলেন না যে: গমের সমস্ত দানা একত্রে মূল্য নিরূপণযোগ্য নয়।
আর সংখ্যাবাচক সমষ্টিকে তানউইনের মাধ্যমে চেনা যায়।
আর সামগ্রিক সমষ্টিকে আলিফ-লাম এর মাধ্যমে চেনা যায়।
আর প্রথমটিই হলো পরিবেষ্টনকারী (ইস্তিগরাক); কেননা এটি প্রতিটি এককের ক্ষেত্রে বিধান সাব্যস্ত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে।
সুতরাং "প্রত্যেক কালো রঙই একটি বর্ণ"—এর অর্থ হলো: যা কিছু কালো হিসেবে বিশেষিত হয় তার প্রতিটি একক, তা যেমনই হোক না কেন, বর্ণ হিসেবে বিশেষিত।
আর [দ্বিতীয়টি] হলো অর্থগত সাধারণত্ব: এটি মিথ্যা হওয়া মানে বিশেষটিও মিথ্যা হওয়া আবশ্যক, তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়। আর বিশেষটি সত্য হওয়া মানে সাধারণটিও সত্য হওয়া আবশ্যক, তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়। আর পরিবেষ্টনকারী সাধারণত্বের (ইস্তিগরাকি) ক্ষেত্রে: বিশেষের উপর বিধানটি মিথ্যা হওয়া মানে সাধারণের ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা হওয়া আবশ্যক, তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়।
এবং এতে বিধানটি সত্য হওয়া মানে বিশেষের ক্ষেত্রেও তা সত্য হওয়া আবশ্যক; তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়। এই সাধারণত্বটিই হলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে দলীল পেশ করা সম্ভব, কারণ এটি একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়; প্রথম প্রকারের বিষয়টি এর বিপরীত, কেননা সেখানে আপনি এমন কিছুর মাধ্যমে বিধান আরোপ করেন যা ব্যক্তিদের মাঝে সঞ্চারিত হয় না।
আপনি বলেন: কালো বর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হওয়া সম্ভব। কিন্তু আপনি বলেন না যে: "প্রত্যেক কালো বর্ণ", কারণ সেটি যখন অন্য কিছুর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষেত্রে তাকে কল্পনা করলে সেটি আর সেই সত্তা থাকে না। সুতরাং পরম সত্তার ক্ষেত্রে যা সম্ভব, একক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং এগুলোর উপকারিতা অপরিসীম।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مسألة: المشترك: جائز وواقع في اللغة والقرآن.
أما الأول: فلعدم امتناع وضع لفظ واحد لمفهومين مختلفين على البدل من واضع واحد، أو واضعين
মাসআলা: মুশতারাক (একাধিক অর্থবোধক শব্দ) ভাষা এবং কুরআনে হওয়া বৈধ এবং বাস্তব।
প্রথমটির (বৈধতার) কারণ হলো, একজন প্রণেতা অথবা একাধিক প্রণেতা কর্তৃক দুটি ভিন্ন অর্থের জন্য বিকল্প হিসেবে একটি শব্দ নির্ধারণ করার মধ্যে কোনো অসম্ভবতা নেই।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يشتهر وضعاهما على أن الوضع تابع للغرض، وقد يقصد التعريف الإجمالي كالتفصيلي.
وأما الثاني: فقيل: المسميات غير متناهية، والأسماء متناهية لتركبها من الحروف المتناهية، فلولا وقوعه لخلت أكثر المسميات عما يدل عليها؛ وليس بسديد لعدم لزوم تناهي الألفاظ.
وإن تركبت من الحروف المتناهية؛ وإن سلم منع.
أن المتضادة والمختلفة التي يوضع لها المشترك غير متناهية، وإن سلم؛ إلا أن الوضع يشترط له القصد، ويستحيل في غير المتناهي.
وإن سلم: لم يلزم الوضع، كأنواع الروايح، وكثير من الصفات.
وقيل: إطلاق اللغة؛ القرء -على الطهر والحيض- دليل
এ দুটির প্রয়োগ এই ভিত্তিতে প্রসিদ্ধ যে, শব্দ গঠন বা নির্ধারণ উদ্দেশ্যের অনুসারী; কখনো বিস্তারিত পরিচয়ের ন্যায় সামগ্রিক পরিচয়ও উদ্দেশ্য করা হয়।
আর দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: নামকৃত বিষয়সমূহ অসীম, কিন্তু নামসমূহ সসীম; কারণ তা সসীম বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং যদি তা (একাধিক অর্থের জন্য একটি শব্দ নির্ধারণ) না ঘটত, তবে অধিকাংশ নামকৃত বিষয় নির্দেশ করার মতো কোনো শব্দ থাকত না। কিন্তু এই দাবি সঠিক নয়; কারণ শব্দসমূহ সসীম হওয়া অপরিহার্য নয়।
যদিও তা সসীম বর্ণ দ্বারা গঠিত; আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে তা অগ্রহণযোগ্য।
নিশ্চয়ই পরস্পর বিপরীত ও ভিন্নধর্মী বিষয়সমূহ যার জন্য সমোচ্চারিত ভিন্নার্থবোধক শব্দ নির্ধারণ করা হয়, তা অসীম নয়। আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়; তবে শব্দ নির্ধারণের জন্য সংকল্প বা ইচ্ছা শর্ত, যা অসীমের ক্ষেত্রে অসম্ভব।
আর যদি মেনেও নেওয়া হয়: তবে শব্দ গঠন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে না; যেমন বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি এবং অনেক গুণের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে।
আর বলা হয়েছে: ভাষার প্রয়োগই এর প্রমাণ; যেমন ‘কুরউ’ শব্দটি পবিত্রতা ও ঋতুস্রাব—উভয় অর্থের ওপর প্রযুক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الوقوع.
فيقال: كونه مشتركا غير منقول؛ ولعل الإطلاق لمعنى مشترك أو أنه حقيقة في أحدهما؛ مجاز في الآخر -وإن خفي، وهذان أحق نفيا للتجوز؛ والإشتراك في الأول، وترجيحا للمجاز على الإشتراك في الثاني.
والأقرب أن يقال: الموجود صادق على القديم.
والحادث حقيقة، فإن كان مدلوله الذات، فهي مخالفة لكل ما سواها من الحوادث، وإلا لوجب الإشتراك في الوجوب بالذات، أو صفة زائدة، فإن اتحد المفهوم منها؛ ومن اسم الموجود في الحادث استلزم أن يكون مسمى الوجود في الحادث واجبا لذاته، أو وجود القديم ممكنا، وإن اختلف المفهومان؛ وقع المشترك.
المانعون: الإشتراك يخل بمقصود الوضع -وهو الفهم- لتساوي النسبة، وخفاء القرائن.
وأجيبوا: بأن فهم الجملة مقصود، وليس فهم التفصيل ضروريا كأسماء الأجناس.
وأما الثالث: فكقوله تعالى (والليل إذا عسعس) لأقبل وأدبر، (وثلاثة قروء).
وما قيل: -إن قرن به البيان طال بغير فائدة، وإلا فلا فائدة- مردود: بأنها الإستعداد للإمتثال بتقدير البيان لظهور دليل التعيين، ونيل الثواب بالاجتهاد
ঘটা বা সংঘটিত হওয়া।
সুতরাং বলা হয়: এটি যে মুশতরাক (যুগ্মপদ) তা কোনো স্থানান্তরিত অর্থ নয়; সম্ভবত এর প্রয়োগ একটি সাধারণ অর্থের ক্ষেত্রে অথবা এটি কোনো একটির ক্ষেত্রে প্রকৃত এবং অন্যটির ক্ষেত্রে রূপক—যদিও তা অস্পষ্ট। আর এই দুটি বিষয়ই রূপক অর্থকে নাকচ করার ক্ষেত্রে অধিকতর যুক্তিযুক্ত; প্রথমটির ক্ষেত্রে মুশতরাক (যুগ্মপদ) হওয়া এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে মুশতরাকের বিপরীতে রূপক হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে নিকটবর্তী কথা হলো: 'বিদ্যমান' শব্দটি অনাদি এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থেই সত্য। যদি এর দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সৃষ্টিজগতের অন্য সব কিছু থেকে ভিন্ন। অন্যথায়, সত্তাগতভাবে অপরিহার্য হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আবশ্যক হয়ে পড়বে, অথবা এটি একটি অতিরিক্ত গুণ হবে। সুতরাং যদি সেই ধারণাটি এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'বিদ্যমান' নামের ধারণাটি অভিন্ন হয়, তবে এটি আবশ্যক হয়ে দাঁড়াবে যে সৃষ্টির অস্তিত্বও সত্তাগতভাবে অপরিহার্য হবে অথবা অনাদির অস্তিত্ব সম্ভবপর হবে। আর যদি ধারণা দুটি ভিন্ন হয়, তবে মুশতরাক (যুগ্মপদ) সাব্যস্ত হবে।
নিষিদ্ধকারীগণ বলেন: ইশতিরাক বা শব্দের বহু অর্থবোধকতা শব্দপ্রনয়নের মূল উদ্দেশ্য তথা 'বোধগম্যতা'র ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটায়; কারণ শব্দ ও অর্থের অনুপাত সমান থাকে এবং প্রাসঙ্গিক লক্ষণসমূহ অস্পষ্ট থাকে।
তাদের উত্তর দেওয়া হয়েছে এই বলে যে: সামগ্রিক বাক্য বুঝাই হলো মূল উদ্দেশ্য, আর বিস্তারিত অর্থ বুঝা জরুরি নয়; যেমনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
আর তৃতীয় প্রকারটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর শপথ রাতের যখন তা অপসৃত হয় অথবা আগত হয়), যা সম্মুখপানে আসা এবং প্রস্থান করা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, এবং (তিনটি ঋতু বা পবিত্রতা)।
আর যা বলা হয়েছে যে—'যদি এর সাথে ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয় তবে তা কোনো ফায়দা ছাড়াই দীর্ঘ হবে, আর তা না হলে এতে কোনো ফায়দাই নেই'—তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ ব্যাখ্যা নির্ধারণের দলীল প্রকাশের মাধ্যমে এটি নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في التأويل.
تنبيه: المشترك يفارق المجمل من حيث يترجح بعض مدلولاته بالإجتهاد؛ والمجمل لا يدرك إلا ببيان من المجمل.
وما يترجح من المشترك بالرأي مؤول، وما بين من المجمل مفسر.
مسألة: المترادف: جائز وواقع.
أما الأول: فلعدم امتناع وضع واحد ألفاظا لمعنى -ويتفق عليه- أو من واضعين، لا شعور لأحدهما بالآخر ويشتهر الوضعان.
وأما الثاني: فالصلهب والشوذب للطويل، والبهتر والبحتر للقصير؛ بالنقل.
ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে।
সতর্কবার্তা: মুশতারাক (একাধিক অর্থবোধক শব্দ) মুজমাল (অস্পষ্ট শব্দ) থেকে ভিন্ন; কেননা ইজতিহাদের মাধ্যমে মুশতারাকের কোনো একটি অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব, কিন্তু মুজমাল-এর মর্ম প্রয়োগকারীর ব্যাখ্যা ব্যতীত অনুধাবন করা যায় না।
মুশতারাক থেকে যুক্তির মাধ্যমে যা প্রাধান্য দেওয়া হয় তা হলো মুআউওয়াল (ব্যাখ্যাত), আর মুজমাল থেকে যা ব্যাখ্যা করা হয় তা হলো মুফাসসার (বিশদকৃত)।
মাসয়ালা: সমার্থক শব্দ (মুতারািদিফ): যুক্তিসম্মত এবং বাস্তবেও বিদ্যমান।
প্রথমটির (যুক্তিসম্মত হওয়ার) কারণ হলো, কোনো একটি অর্থের জন্য একাধিক শব্দ নির্ধারণ করা অসম্ভব নয়—এবং এটি সর্বসম্মত হতে পারে—অথবা দুইজন নির্ধারণকারী কর্তৃক হতে পারে যেখানে একজন অন্যজন সম্পর্কে অবগত নন এবং উভয় প্রয়োগই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
দ্বিতীয়টির (বাস্তবতার) উদাহরণ হলো: দীর্ঘাকৃতির ক্ষেত্রে 'সালহাব' ও 'শাওযাব' এবং খর্বাকৃতির ক্ষেত্রে 'বাহতার' ও 'বুহতার' শব্দের প্রয়োগ; যা ভাষাতাত্ত্বিক বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১)
বাদিউন নিযাম আল-জামি বাইনা কিতাবিল বাযদাউই ওয়াল ইহকাম - নিহায়াতুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قال المانع: في اتحاد المسمى تعطيل فائدة أحد اللفظين؛ والمؤونة في حفظ الواحد أخف، ولأنه إذا اتحد الإسم دعت الحاجة إلى معرفته؛ مع خفة المؤونة في حفظه، بخلاف ما إذا تعدد، لأنه إن حفظ الكل شق؛ وإلا اختل التخاطب لجواز اختصاص كل باسم لا يعرفه الآخر.
وأجيب بالمنع: كيف؟ وفيه توسعه، وتحصيل للمطلوب بطرق، مع فوائد تتعلق بالنظم والنثر، ومساعدة الفصحاء في مقاصد بيانهم وبديع ألفاظهم؟ ولا يجب حفظ الجميع لتعتبر خفة المؤونة ومشقة حفظ الجميع باطل باللغات المختلفة.
تنبيه: قد يظن في أسماء- وضعت لمسمى باعتبار صفاته: كالسيف والصارم، والمهند،
আপত্তিকারী বলেছেন: নামকৃত সত্তা অভিন্ন হলে শব্দদ্বয়ের কোনো একটির উপযোগিতা বাতিল হয়ে যায়; আর একটি মাত্র শব্দ মনে রাখার ভারও লাঘব হয়। কারণ নাম যদি এক হয়, তবে তা জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং তা মুখস্থ রাখার পরিশ্রমও কম হয়; পক্ষান্তরে নাম একাধিক হলে বিষয়টি ভিন্ন হয়, কারণ সবগুলো মুখস্থ করা কষ্টসাধ্য; অন্যথায় পারস্পরিক যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটবে, কারণ একেকজন হয়তো এমন একটি বিশেষ নাম ব্যবহার করবে যা অন্যজন জানে না।
এর উত্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলা হয়েছে: তা কীভাবে? বরং এতে রয়েছে প্রশস্ততা এবং বিভিন্ন পন্থায় উদ্দিষ্ট বিষয় অর্জনের সুযোগ, সাথে কাব্য ও গদ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু উপকারিতা রয়েছে এবং এটি বাগ্মীদের তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে ও চমৎকার শব্দ চয়নে সহায়তা করে। আর সবগুলো শব্দ মুখস্থ রাখা আবশ্যক নয় যে পরিশ্রম লাঘবের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে; আর সবগুলো মুখস্থ করার কাঠিন্যের যুক্তিটি বিভিন্ন ভাষার অস্তিত্ব দ্বারা অসার প্রমাণিত হয়।
সতর্কীকরণ: কোনো একটি নির্দিষ্ট সত্তার জন্য তার গুণের বিচারে যে নামগুলো রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা করা হতে পারে: যেমন—তলোয়ার, তীক্ষ্ণ তলোয়ার এবং ভারতীয় তলোয়ার,