(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: -)
الدعوة الفردية وأهميتها في تربية الأجيال القسم: كتب عامة
الكتاب: الدعوة الفردية وأهميتها في تربية الأجيال
المؤلف: عقيل بن محمد بن زيد المقطري
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 30
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 49
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ব্যক্তিগত দাওয়াত এবং প্রজন্ম গঠনে এর গুরুত্ব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ব্যক্তিগত দাওয়াত এবং প্রজন্ম গঠনে এর গুরুত্ব
লেখক: আকীল বিন মুহাম্মদ বিন জাইদ আল-মাকতারী
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩০
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الدعوة الفردية وأهميتها في تربية الأجيال
بقلم عقيل بن محمد بن زيد المقطري
مقدمةالحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد:
فإن الدعوة إلى الله عز وجل من أفضل القربات إليه، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} ويقول نبينا محمد عليه الصلاة والسلام: «لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم»
والدعوة إلى الله عز وجل تنقسم بالنسبة إلى المدعو إلى قسمين:
الأول: دعوة جماعية وتتمثل بالخطب والمواعظ والدروس.
الثاني: دعوة فردية وهي التي تهتم بتربية الفرد المسلم التربية السليمة مع المتابعة.
والناظر إلى واقع الدعاة إلى الله يجد أنهم في الغالب يقومون بنوع واحد من الدعوة - وهي الدعوة الجماعية - والقليل من يهتم بالدعوة الفردية والتي هي في الواقع لا تقل أهمية عن الدعوة الجماعية بل قد تكون أهم.
إن الدعوة الفردية يمكن أن يقوم بها طلبة العلم المبتدئين لأنها لا تحتاج إلى مثير علم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ব্যক্তিগত দাওয়াত এবং প্রজন্ম গঠনে এর গুরুত্ব
আকিলে বিন মুহাম্মদ বিন যায়িদ আল-মাকত্বারি-র লেখনীতে
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেন: “আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং সৎকর্ম করে আর বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন: “আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করলে তা তোমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান লাল উট লাভ করার চেয়েও উত্তম।”
আর আমন্ত্রিত ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনায় মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: সামষ্টিক দাওয়াত, যা খুতবা, উপদেশমূলক আলোচনা এবং দরসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয়: ব্যক্তিগত দাওয়াত, যা মূলত নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।
আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীদের বর্তমান অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, তারা মূলত এক ধরনের দাওয়াতই পরিচালনা করেন—আর তা হলো সামষ্টিক দাওয়াত। খুব কম সংখ্যক দাওয়াত দানকারী রয়েছেন যারা ব্যক্তিগত দাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেন, অথচ বাস্তবে এটি সামষ্টিক দাওয়াতের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ব্যক্তিগত দাওয়াত একজন ইলমে দ্বীনের প্রাথমিক শিক্ষার্থীও পরিচালনা করতে পারেন, কারণ এর জন্য অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন হয় না।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২)
لذا رغبت أن أكتب في هذا الموضوع رسالة صغيرة الحجم لتكون نبراسًا يستضيء بها الدعاة إلى الله ولتكون حافزًا لإحياء هذا النوع من أنواع الدعوة خاصة في قلوب الشباب الذين لا يتحملون قسطًا من أعباء الدعوة فلا يدعون غيرهم ولا يجهدون أنفسهم في سبيل الله عز وجل بل يكتفي أحدهم بنفسه فتراه يتبع الدروس والمحاضرات ولا يدعو غيره ولا يرغب في أن يكون سببًا لهداية غيره والله المستعان.
أسأل الله عز وجل أن ينفع بهذه الرسالة إنه سميع مجيب.
وكتب:
أبو عبد الرحمن عقيل المقطري
تعز / اليمن
তাই আমি এই বিষয়ে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা রচনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি যাতে তা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হয় এবং বিশেষ করে সেই সমস্ত যুবকদের হৃদয়ে এই প্রকার দাওয়াতের পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে যারা দাওয়াতের গুরুভারের সামান্যতম অংশও বহন করে না। ফলে তারা অন্যকে দাওয়াত দেয় না এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে নিজেদের শ্রম ব্যয় করে না; বরং তাদের প্রত্যেকে নিজেকে নিয়েই তুষ্ট থাকে। আপনি তাকে দেখবেন সে বিভিন্ন পাঠ ও বক্তৃতার অনুসরণ করছে কিন্তু অন্যকে দাওয়াত দিচ্ছে না এবং অন্যের হিদায়াতের কারণ হতে আগ্রহী হচ্ছে না। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই পুস্তিকার মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
লিখেছেন:
আবু আব্দুর রহমান আকীল আল-মাকতরী
তায়িজ / ইয়ামেন
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৩)
* ما المراد بالدعوة الفردية؟
المراد بالدعوة الفردية: (دعوة الأفراد) أي دعوة الناس منفردين فالفردية هنا من حيث المدعو، ويقابل هذا: دعوة الناس مجتمعين من خلال الدروس والمحاضرات؛ ولا نريد به (العمل الفردي) الذي يقابله (العمل الجماعي) فالفردية في هذا النوع من حيث الداعي منفردًا بعمله مستقلًا بآرائه.
* أهمية الدعوة الفردية:
إن أهمية هذا النوع من أنواع الدعوة تنبثق من أهمية الدعوة إلى الله من حيث هي فالدعوة إلى الله تعالى على بصيرة واجبة على المسلمين قال تعالى {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} سورة آل عمران: آية 104
ويقول {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} سورة النحل: آية 125
* ব্যক্তিগত দাওয়াহ (الدعوة الفردية) বলতে কী বুঝায়?
ব্যক্তিগত দাওয়াহ (الدعوة الفردية) বলতে যা বুঝায়: (ব্যক্তিদের নিকট দাওয়াহ পৌঁছানো) অর্থাৎ মানুষকে পৃথক পৃথকভাবে দাওয়াত দেয়া। এখানে 'ব্যক্তিগত' বৈশিষ্ট্যটি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির (المدعو) প্রেক্ষিত থেকে বিবেচিত। এর বিপরীত হলো: দরস ও আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মানুষকে দাওয়াত প্রদান করা। এর দ্বারা আমরা সেই 'ব্যক্তিগত কাজ' (العمل الفردي) বুঝাচ্ছি না যার বিপরীত হলো 'সামষ্টিক কাজ' (العمل الجماعي); কারণ সেই ক্ষেত্রে 'ব্যক্তিগত' বিষয়টি দায়ী বা আহ্বানকারীর (الداعي) দিক থেকে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি তার কাজে একাকী এবং স্বীয় মতামতে স্বতন্ত্র থাকেন।
* ব্যক্তিগত দাওয়াহর (الدعوة الفردية) গুরুত্ব:
দাওয়াহর এই পদ্ধতির গুরুত্ব মূলত আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয়ার সামগ্রিক গুরুত্ব থেকেই উৎসারিত। কেননা সঠিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা মুসলিমদের উপর আবশ্যক (واجب)। মহান আল্লাহ বলেন, {আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও মন্দ কাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।} সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১০৪
তিনি আরও বলেন, {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত (الحكمة) ও উত্তম উপদেশের (الموعظة الحسنة) মাধ্যমে আহ্বান করো।} সূরা আন-নাহল: আয়াত ১২৫
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفي الصحيحين من حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: «بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة في العسر واليسر والمنشط والمكره على أثرة علينا وعلى ألا ننازع الأمر أهله وعلى أن نقول بالحق أينما كنا لا نخاف في الله لومة لائم» الفتح 13 / 192، النووي على مسلم 12 / 228
সহীহাইন-এ উবাদাহ বিন আস-সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: «আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের বায়আত গ্রহণ করেছি—আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে, সক্রিয়তায় ও অনাগ্রহে এবং আমাদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও; আর এই মর্মে যে, আমরা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে নেতৃত্বের প্রশ্নে বিবাদ করব না এবং আমরা যেখানেই থাকি সত্য কথা বলব, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করব না।» ফাতহুল বারী ১৩/১৯২, শরহুন নববী আলা মুসলিম ১২/২২৮।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৫)
*
فضل الدعوة إلى الله:وردت أحاديث كثيرة في فضل الدعوة إلى الله تبارك وتعالى نذكر شيئًا منها:
روى مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئًا» النووي على مسلم 16 / 227
وروى البخاري وغيره أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه لما بعثه إلى خيبر «لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم» الفتح 7 / 7.
আল্লাহর পথে দাওয়াতের ফযিলত:আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পথে দাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করছি:
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব থাকবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস করা হবে না» (মুসলিম শরহে নববী ১৬ / ২২৭)
এবং ইমাম বুখারি ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) আলি বিন আবি তালিব (রা.)-কে যখন খায়বারে প্রেরণ করেছিলেন তখন তাঁকে বলেছিলেন: «তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট লাভের চেয়েও উত্তম» (ফাতহুল বারি ৭ / ৭)।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৬)
*
الدعوة الفردية تحقق ما لا تحققه الدعوة الجماعية:إن كثيرًا من الناس يجهل أهمية الدعوة الفردية وذلك ظنًا منهم أن الدعوة ينبغي أن تكون للناس عامة وذلك بإلقاء المواعظ والمحاضرات والدروس والحقيقة أن هذا لا يكفي، فالدعوة الفردية تكون نافعة في أغلب الأحيان أكثر من الدعوة الجماعية، ولهذا نجد أن النبي صلى الله عليه وسلم اهتم بالدعوة الفردية خاصة في أول مراحل الدعوة. فقد كان وضع اللبنات الأساسية للدولة الإسلامية للدولة من طريق الدعوة الفردية التي أثّرت في الناس أيما تأثير فجعلت الأفراد المتمسكين بهذا الدين مضِّحين له بالغالي والنفيس.
ব্যক্তিগত দাওয়াত এমন ফল বয়ে আনে যা সামষ্টিক দাওয়াত অর্জন করতে পারে না:নিশ্চয়ই অনেক মানুষ ব্যক্তিগত দাওয়াতের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নয়; তারা মনে করে যে দাওয়াত কেবল সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-নসিহত, বক্তৃতা ও পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামষ্টিক দাওয়াতের চেয়ে ব্যক্তিগত দাওয়াত বেশি ফলপ্রসূ হয়। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে ব্যক্তিগত দাওয়াতের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন। ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মূলত এই ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল, যা মানুষের ওপর এতটাই গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে, এই দ্বীনের অনুসারীগণ তাদের মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৭)
*
فوائد الدعوة الفردية:إن الدعوة الفردية تربي الأفراد تربية متكاملة فلا تقتصر على جانب واحد وتهمل الباقي وهذا ما يسمى بالشمولية في التربية، ولهذا فإن الدعوة الفردية تكون أنجح من الدعوة العامة في تربية الأفراد. ولأن الدعوة الجماعية لا يمكن أن تتبع أخطاء الأفراد خطأً خطأ، بل نجد أن الدعوة الفردية من خلالها يمكن التنبيه على كثير من الأخطاء التي يقع فيها الأفراد وبهذا يمكن استكمال التربية.
بالدعوة الفردية يمكن متابعة التطبيق العملي للتوجيهات الملقاة على الأفراد.
بالدعوة الفردية يمكن الرد على كثير من الشبهات التي تُلْقى على مسامع الأفراد والتي لا يمكن التحدث بها في الدعوة الجماعية.
بالدعوة الفردية يمكن غرس المبادئ الإسلامية الصحيحة ويمكن التحدث عنها بكل جدية ووضوح، إذا جاء الوقت المناسب لكل مبدأ.
بالدعوة الفردية يمكن إيصال الحق إلى الذين نفروا - أو نُفِّرُوا - عن سماعه وعن مجالسة أهله.
إن هذا النوع من أنواع الدعوة طريقة سريعة لكسب أكبر عدد من أنصار الدين.
يمكن متابعة الأفراد متابعة دقيقة بخلاف الدعوة الجماعية فإنه لا يمكن متابعتهم.
ব্যক্তিগত দাওয়াতের উপকারিতা:নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত দাওয়াত ব্যক্তিদের একটি পূর্ণাঙ্গ তারবিয়ত বা গঠনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে; এটি কেবল একটি দিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অবশিষ্টাংশকে উপেক্ষা করে না। আর এটিকেই তারবিয়তের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা বলা হয়। এই কারণে ব্যক্তিদের তারবিয়তের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দাওয়াত সাধারণ দাওয়াতের তুলনায় অধিক সফল হয়। যেহেতু সামষ্টিক দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তিদের প্রতিটি ভুল পৃথক পৃথকভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হয় না, বরং ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তিদের লিপ্ত হওয়া অনেক ভুলত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করা সম্ভব হয় এবং এর মাধ্যমে তারবিয়তের পূর্ণতা আনয়ন করা যায়।
ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তিদের ওপর অর্পিত দিকনির্দেশনাসমূহের ব্যবহারিক প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে এমন অনেক সংশয় নিরসন করা সম্ভব যা ব্যক্তিদের শ্রুতিগোচর হয় এবং যা সামষ্টিক দাওয়াতের ক্ষেত্রে আলোচনা করা সম্ভব হয় না।
ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে সঠিক ইসলামি মূলনীতিসমূহ প্রোথিত করা সম্ভব এবং প্রতিটি মূলনীতির জন্য উপযুক্ত সময়ে অত্যন্ত গুরুত্ব ও স্পষ্টতার সাথে তা আলোচনা করা যায়।
ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে হকের বাণী তাদের নিকট পৌঁছানো সম্ভব যারা তা শ্রবণে এবং হকপন্থীদের মজলিসে উপবেশন করতে অনীহা প্রকাশ করেছে—অথবা যাদের বিমুখ করা হয়েছে।
নিশ্চয়ই দাওয়াতের এই প্রকারটি দ্বীনের অধিক সংখ্যক সাহায্যকারী অর্জনের একটি দ্রুত পদ্ধতি।
সামষ্টিক দাওয়াতের বিপরীতে ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, কারণ সামষ্টিক দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের এমন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا النوع من أنواع الدعوة لا يحتاج إلى غزارة علم بقدر ما يحتاج إلى حكمة في الدعوة فيمكن أن يقوم به أفراد محبون للدعوة.
الدعوة الفردية لا تحتاج إلى كثير معاناة فهي سهلة ويمكن أن يقوم بها كل داعية من خلال عمله، فالطالب في مدرسته أو كليته والموظف في مكتبه والعامل في مصنعه
… وهكذا.
***********
এই প্রকারের দাওয়াতের জন্য ইলমের গভীরতার চেয়ে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের (حكمة) অধিক প্রয়োজন হয়, তাই দাওয়াতপ্রেমী ব্যক্তিবর্গ এই কাজ আঞ্জাম দিতে পারেন।
ব্যক্তিগত দাওয়াত (الدعوة الفردية) এর জন্য খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি সহজ এবং প্রত্যেক দাঈ (داعية) তার নিজ নিজ কর্মস্থলের মাধ্যমেই তা সম্পাদন করতে পারেন; যেমন একজন শিক্ষার্থী তার বিদ্যালয়ে বা মহাবিদ্যালয়ে, একজন চাকুরিজীবী তার দপ্তরে এবং একজন শ্রমিক তার কারখানায়
… এভাবেই উত্তরোত্তর।
***********
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ৯)
*
حالات الدعوة الفردية:هناك بعض الحالات يستلزم الداعية أن يستخدم فيها الدعوة الفردية لأن الدعوة الجماعية لا تجدي في مثل تلك الحالات وإن كانت الدعوة الجماعية أيسر وروادها أكثر وسنذكر بعض هذه الحالات التي يجب استخدام الدعوة الفردية فيها:
1 - المكانة الاجتماعية للمدعو:
إن بعض الأفراد يكون معتزًا بوضعه الاجتماعي ويرى أنه لو خالط عامة الناس في تجمعاتهم لذهبت تلك المكانة التي يتمتع بها.. وهذا بالطبع لا يكون إلا لأنه غير ملتزم بالشرع التزامًا كاملًا.. ففي مثل هذه الحالة يجب أن يستخدم الداعية الدعوة الفردية.
2 - جليس السوء:
إن البيئة التي يعيش فيها المدعو لها تأثير على شخصيته فمن خالط جلساء السوء انحرفوا به عن الجادة، فالمرء على دين خليله، ولذلك فمن كانت هذه حالته فإنه يصعب التأثير عليه نظرًا لتكاتب رفقة السوء عليه ولقلة حيائهم ومجاهرتهم برد الحق وتفاخرهم بارتكاب المعاصي والآثام.. ففي هذه الحالة يجب الانفراد بالمدعو بعيدًا عن هذه الرفقة السيئة حتى يمكن التأثير عليه إن شاء الله تعالى.
3 - الحالة النفسية للمدعو:
*
ব্যক্তিগত দাওয়াতের ক্ষেত্রসমূহ:এমন কিছু ক্ষেত্র বা পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে একজন দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য ব্যক্তিগত দাওয়াত পদ্ধতি ব্যবহার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, কারণ এ জাতীয় ক্ষেত্রগুলোতে সামষ্টিক দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না; যদিও সামষ্টিক দাওয়াত পদ্ধতি অধিক সহজতর এবং এর ক্ষেত্র বা শ্রোতা সংখ্যাও বেশি থাকে। আমরা নিচে এমন কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করব যেখানে ব্যক্তিগত দাওয়াত পদ্ধতি ব্যবহার করা অপরিহার্য:
১ - দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা:
কিছু ব্যক্তি তাদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত থাকেন এবং মনে করেন যে, তারা যদি সাধারণ মানুষের সমাবেশে তাদের সাথে মেলামেশা করেন, তবে তাদের ভোগকৃত মর্যাদা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এটি মূলত তখনই ঘটে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শরিয়তের বিধানের প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুগত থাকেন না। এমতাবস্থায়, দাওয়াত প্রদানকারীকে অবশ্যই ব্যক্তিগত দাওয়াত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
২ - অসৎ সঙ্গ:
একজন দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি যে পরিবেশে বসবাস করেন, তার প্রভাব তার ব্যক্তিত্বের ওপর পড়ে। যারা অসৎ সঙ্গীদের সাথে চলাফেরা করে, তারা তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়; কেননা মানুষ তার বন্ধুর দ্বীন বা আদর্শের অনুসারী হয়। ফলে যার অবস্থা এমন, তাকে প্রভাবিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তার ওপর অসৎ সঙ্গীদের নেতিবাচক প্রভাব ও চাপ থাকে এবং তাদের নির্লজ্জতা, সত্যকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার ঔদ্ধত্য এবং পাপ ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে গর্ববোধ করার মানসিকতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায়, দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে তাকে এই অসৎ সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একান্তে দাওয়াত প্রদান করা আবশ্যক, যদি আল্লাহ তাআলা চান।
৩ - দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির মানসিক অবস্থা:
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১০)
إن من الأسباب العائقة عن الهداية نفور المنحرفين من الدعاة والمتمسكين بالدين وهؤلاء إما أن يكون الشيطان قد استحوذ عليهم، فهم يعرفون الحق ولكنهم يبتعدون عنه كبرًا وعنادًا، أو لأنهم يرون أنه لا يمكن الالتقاء مع المتمسكين بالدين نظرًا لتنافر الطباع والأمزجة. فهؤلاء يصعب دعوتهم إلى محاضرات عامة فيلزم على الداعية أن يستخدم معهم الدعوة الفردية حتى يبين لهم الحق ثم إن هداهم الله تعالى يمكن أن ينخرطوا ضمن الدروس العامة.
4 - معالجة جوانب النقص في الأفراد:
قد يكون عند بعض الأفراد جوانب نقص أو عيوب شخصية ولهذا لا يمكن أن تعالج هذه الأمور ضمن الدعوة الجماعية، بل يجب أن يستخدم الداعية الدعوة الفردية لمناقشة المدعو وتبصيره بهذه الأمور.
***********
হেদায়েতের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী কারণসমূহের অন্যতম হলো দাঈ এবং দ্বীনদার ব্যক্তিদের থেকে বিচ্যুতদের বিমুখতা। এরা হয় এমন যাদের ওপর শয়তান আধিপত্য বিস্তার করেছে, ফলে তারা সত্য জানা সত্ত্বেও অহংকার ও হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে তা থেকে দূরে থাকে; অথবা তারা মনে করে যে, স্বভাব ও রুচির বৈসাদৃশ্যের কারণে দ্বীনদার ব্যক্তিদের সাথে তাদের মেলবন্ধন সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় এদেরকে সাধারণ সভা-সমাবেশে দাওয়াত দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। তাই দাঈর জন্য অপরিহার্য হলো তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দাওয়াতের পদ্ধতি অবলম্বন করা, যাতে তাদের নিকট সত্য সুস্পষ্ট হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের হেদায়েত দান করলে তারা সাধারণ পাঠচক্রের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।
৪ - ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার প্রতিকার:
ব্যক্তিবিশেষের মাঝে কখনো কোনো কমতি বা ব্যক্তিগত ত্রুটি থাকতে পারে, যার কারণে সামষ্টিক দাওয়াতের মাধ্যমে এই বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব হয় না। বরং এক্ষেত্রে দাঈর কর্তব্য হলো ব্যক্তিগত দাওয়াতের পদ্ধতি ব্যবহার করে আমন্ত্রিত ব্যক্তির সাথে আলোচনা করা এবং তাকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করা।
***********
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الطور الأول:
وهو أن يوجد الداعية صلة تعارف مع المدعو بحيث يشعره بأنه مهتم به وذلك بتفقده ما بين الحين والآخر، والسؤال عنه إذا غاب وزيارته إذا مرض هذا كله قبل أن يفتح عليه باب الدعوة، حتى إذا صارت القلوب متقاربة والأرواح متآلفة، ووجد التهيؤ من المدعو لتقبل دعوة الداعية طرق الكلام فيما يريد، وليعلم الداعية أنه بقدر نجاحه في هذا الطور مع المدعو يكون التأثير والاستجابة للدعوة، وأي تسرُّع في هذا الطور قد يحدث النفرة من المدعو.
প্রথম পর্যায়:
আর তা হলো দাঈ কর্তৃক মাদঊর সাথে এমন এক পরিচিতির সম্পর্ক তৈরি করা, যাতে তিনি তাকে অনুভব করাবেন যে তিনি তার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করছেন। আর তা হবে মাঝেমধ্যে তার খোঁজখবর নেওয়া, সে অনুপস্থিত থাকলে তার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করা এবং অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে; এই সব কিছুই হবে তার সামনে দাওয়াতের দ্বার উন্মোচন করার পূর্ববর্তী পদক্ষেপ। এভাবে যখন অন্তরসমূহ নিকটবর্তী হবে এবং রূহগুলো একে অপরের প্রতি অনুরক্ত হবে এবং মাদঊর মাঝে দাঈর দাওয়াত গ্রহণ করার মতো মানসিক প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হবে, তখন দাঈ তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করবেন। দাঈর জেনে রাখা উচিত যে, এই পর্যায়ে মাদঊর সাথে তিনি যতটুকু সফল হবেন, দাওয়াতের প্রভাব ও ইতিবাচক সাড়া লাভ করা ঠিক সেই পরিমাণেই সম্ভব হবে। আর এই পর্যায়ে যেকোনো প্রকার তাড়াহুড়ো মাদঊর মাঝে বিমুখতা তৈরি করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১২)
الطور الثاني:
وهو أن على الداعية أن يعمل على تقوية الإيمان عند المدعو وذلك أن أصل الإيمان في الغالب موجود إلا أنه تتفاوت نسب الضعف من شخص إلى آخر. وإذا أراد الداعية أن يعالج هذه القضية فعليه أن لا يدخل في الحديث عن الإيمان مباشرة بل عليه أن يستغل الأحداث بمختلف أنواعها وعليه أن يربطها بالأدلة الواردة في القرآن والسنة، فمثلًا حصل مولود لشخص من الأقرباء أو الجيران فيبدأ الداعية بالكلام حول خلق الله لأبينا آدم ثم كيف أن الله جعل ذريته من ماءٍ مهين وكيف جعل رحم المرأة مكانًا لنشوء الجنين وكيف أوصل له غذائه طيلة تسعة أشهر ثم كيف خرج
… إلى آخر ذلك.
مع ربط جميع المراحل بالقرآن والسنة فإنه ما ينتهي من كلامه إن شاء الله إلا وقد بدأ الإيمان بالازدياد عند المدعو مما يجعله متقبلًا لكل ما يلقى عليه، فإذا شعر الداعية بأن المدعو بدأ يتأثر بكلامه وارتفع نوعًا ما، انتقل به إلى الطور الثالث.
দ্বিতীয় পর্যায়:
আর তা হলো, দাঈর উচিত আমন্ত্রিত ব্যক্তির নিকট ঈমান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করা। এর কারণ হলো, ঈমানের মূলভিত্তি সাধারণত বিদ্যমান থাকে, তবে ব্যক্তিভেদে এর দুর্বলতার (الضعف) মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। দাঈ যদি এই সমস্যার প্রতিকার করতে চান, তবে সরাসরি ঈমান বিষয়ে আলোচনা শুরু করা তাঁর উচিত নয়; বরং তাঁর উচিত বিভিন্ন প্রকারের ঘটনাবলিকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণিত প্রমাণাদির সাথে সম্পৃক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ, কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো, তখন দাঈ আমাদের পিতা আদমের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আল্লাহ কীভাবে তাঁর বংশধরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন, কীভাবে নারীর জরায়ুকে ভ্রুণ বিকাশের আধারে পরিণত করেছেন, দীর্ঘ নয় মাস যাবত কীভাবে তার নিকট খাদ্য সরবরাহ করেছেন এবং অবশেষে কীভাবে সে ভূমিষ্ঠ হলো
… এভাবেই শেষ পর্যন্ত আলোচনা করবেন।
সবগুলো পর্যায়কে কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত করার ফলে, ইনশাআল্লাহ তাঁর আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই আমন্ত্রিত ব্যক্তির অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যা তাকে যা কিছু পেশ করা হবে তা গ্রহণ করার উপযোগী করে তুলবে। দাঈ যখন লক্ষ্য করবেন যে, আমন্ত্রিত ব্যক্তি তাঁর কথায় প্রভাবিত হতে শুরু করেছে এবং তার ঈমানি অবস্থা কিছুটা উন্নত হয়েছে, তখন তিনি তাকে তৃতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الطور الثالث:
في هذا الطور يبدأ الداعية في إعطاء التوجيهات للمدعو التي من شأنها أن تصلح من عبادة المدعو وسلوكه ومظهره، فلربما كان في عبادته كثير من الأخطاء أو أنه لا يصلي الصلوات في جماعة والمسجد منه قريب وكذلك يعرفه على العبادات المفروضة فيعلمه كيفية الوضوء وكيفية الصلاة، ويأمره بالابتعاد عن السبل التي توصله إلى سخط الله عز وجل.
وأما إذا كان محافظًا على الجماعة ولكن عنده بعض التقصير فليعمل الداعية على تبصير المدعو بالمعتقد السليم الذي هو معتقد السلف الصالح رضوان الله عليهم.
ويحسن بالداعية أن يبدأ بإهداء وإعارة بعض الكتب والأشرطة النافعة في مجال العقيدة والإيمان والترغيب والترهيب
… إلخ.
ويعرفه على بعض الشباب الصالحين ويأمر الشباب الملتزم بالإحاطة بهذا الفرد حتى لا يترك مجالًا لقرناء السوء من اجتذابه مرة أخرى. وبهذا نضمن بإذن الله تعالى استمرارية استقامة المدعو.
তৃতীয় পর্যায়:
এই পর্যায়ে দাঈ মাদউকে এমন সব নির্দেশনা প্রদান শুরু করবেন যা মাদউয়ের ইবাদত, আচরণ ও বাহ্যিক অবস্থার সংশোধন করবে; কেননা হতে পারে তার ইবাদতে অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে অথবা সে নিকটবর্তী মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে না। একইভাবে দাঈ তাকে ফরজ ইবাদতগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং তাকে অজুর নিয়ম ও নামাজের পদ্ধতি শিক্ষা দেবেন; আর তাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায় এমন পথগুলো থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেবেন।
আর যদি সে জামাতের ব্যাপারে যত্নশীল হয় কিন্তু তার মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকে, তবে দাঈর উচিত মাদউকে সেই সঠিক আকিদা বা বিশ্বাস সম্পর্কে অবগত করা যা সালাফে সালেহীন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর আকিদা।
দাঈর জন্য এটি উত্তম হবে যে, তিনি আকিদা, ঈমান এবং উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) ইত্যাদি বিষয়ে কিছু উপকারী বই ও অডিও ক্যাসেট উপহার বা ধার দেওয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করবেন
… ইত্যাদি।
তিনি তাকে কিছু সৎকর্মশীল যুবকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দ্বীনদার যুবকদের নির্দেশ দেবেন এই ব্যক্তিকে নিজেদের সান্নিধ্যে রাখতে, যাতে মন্দ বন্ধুরা তাকে পুনরায় প্রলুব্ধ করার কোনো সুযোগ না পায়। এর মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় মাদউয়ের অবিচলতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الطور الرابع:
يبدأ الداعية في هذا الطور بتوضيح شمولية الإسلام وأنه ليس مقصورًا فقط في الصلاة والصوم مثلًا بل إن الإسلام يجب أن يحكم في كل صغيرة وكبيرة. وبهذا يكون المدعو في هذا الطور قد حول جميع حركاته وسكناته وفق شرع الله عز وجل.
চতুর্থ স্তর:
এই স্তরে দাঈ ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা ও ব্যাপকতা বর্ণনা করতে শুরু করেন এবং এটি স্পষ্ট করেন যে, ইসলাম কেবল সালাত ও সিয়ামের মতো ইবাদতসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ে ইসলামের বিধান কার্যকর হওয়া আবশ্যক। এর মাধ্যমে এই স্তরে মাদউ তার যাবতীয় কর্মতৎপরতা ও স্থবিরতাকে মহান আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালিত করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الطور الخامس:
وفيه يوضح للمدعو أن الإسلام ليس معناه أن نكون مؤدين للعبادات متخلقين بالأخلاق الفاضلة وإلى هنا ننتهي.
بل يجب أن يوضح له أن الإسلام دين جماعي، نظام حياة وحكم وتشريع، عقيدة وأخلاق ودولة وجهاد، وأمة واحدة، وأن المسلم لا يمكن أن يكون آخذًا للإسلام من جميع جوانبه إلا إذا فهم هذا الفهم السليم. فإذا فهمنا هذا الفهم السليم للإسلام فإنه - أي هذا الفهم - سيملي علينا مسؤوليات وواجبات يجب أن نقوم بتأديتها امتثالًا لأمر الله حتى يقوم المجتمع على القواعد الصحيحة للإسلام في جميع النواحي السياسية والاقتصادية والاجتماعية.. إلخ.
পঞ্চম পর্যায়:
এবং এতে দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট এটি স্পষ্ট করা হয় যে, ইসলামের অর্থ কেবল ইবাদত পালনকারী হওয়া এবং উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া নয় এবং বিষয়টি এখানেই শেষ নয়।
বরং তার নিকট এটি অবশ্যই স্পষ্ট করতে হবে যে, ইসলাম একটি সামষ্টিক দ্বীন, জীবনব্যবস্থা, শাসন ও বিধান প্রণয়ন (تشريع), বিশ্বাস (عقيدة) ও নৈতিকতা, রাষ্ট্র ও সংগ্রাম (جهاد) এবং একটি একক উম্মাহ। আর একজন মুসলিম ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের সকল দিক গ্রহণকারী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে এই সঠিক উপলব্ধি লাভ করবে। সুতরাং আমরা যখন ইসলামের এই সঠিক সম্যক উপলব্ধি অর্জন করব, তখন এটি—অর্থাৎ এই উপলব্ধি—আমাদের ওপর এমন কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করবে যা আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে আমাদের সম্পাদন করতে হবে; যেন সমাজ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الطور السادس:
فيه يمكن للداعية أن يوضح للمدعو ما يستوجبه الواقع الذي تمر به الدعوة إلى الله وأنها محتاجة إلى تكاتف الجهود ولَمِّ الشمل ووحدة الصف والعلم حتى يتمكن المسلمون من إعادة الخلافة الإسلامية التي كاد لها أعداء الله من الداخل والخارج حتى أطاحوا بها. ومنذ ذلك الحين والمسلمون يعيشون في هذا الذل والهوان حتى صار أعداؤهم لا يبالون بهم وهذا كله نتيجة أن المسلمين رضوا بدنياهم وابتعدوا عن العمل بكتاب الله وعن سنة نبيهم وتركوا الجهاد في سبيل الله ولهذا يقول النبي عليه الصلاة والسلام «إذا تبايعتم بالعينة وأخذتم أذناب البقر ورضيتم بالزرع وتركتم الجهاد، سلط الله عليكم ذلا لا ينزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم»
… ) .
وقال: «وجعلت الذلة والصغار على من خالف أمري» .
وقال: «ولينزعن الله المهابة منكم من قلوب أعدائكم وليقذفن الله في قلوبكم الوهن) قالوا: ما الوهن؟ قال (حب الدنيا وكراهية الموت»
… ) .
ষষ্ঠ স্তর:
এতে দাঈ (আহ্বায়ক) দাওয়াত গ্রহণকারীর নিকট আল্লাহর পথে দাওয়াতের বর্তমান বাস্তবতার আবশ্যকতা স্পষ্ট করতে পারেন। তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেন যে, দাওয়াত বর্তমানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সংহতি ও ইলম (জ্ঞান)-এর মুখাপেক্ষী; যাতে মুসলমানগণ পুনরায় সেই ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, যার বিরুদ্ধে আল্লাহর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুরা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তার পতন ঘটিয়েছিল। সেই সময় থেকে মুসলমানগণ এই লাঞ্ছনা ও অপমানের মধ্যে অতিবাহিত করছে, এমনকি তাদের শত্রুরা এখন আর তাদের পরোয়া করে না। এই সবকিছুর কারণ হলো মুসলমানগণ তাদের পার্থিব জীবন নিয়ে তুষ্ট হয়েছে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁদের নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করেছে। এজন্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যখন তোমরা 'ঈনাহ' পদ্ধতিতে কেনাবেচা করবে, গরুর লেজ ধরবে (পশুসম্পদ নিয়ে মগ্ন থাকবে), কৃষিকাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের থেকে অপসারিত করবেন না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে।"
… ) .
তিনি আরও বলেছেন: "আর যে আমার আদেশের বিরোধিতা করবে, তার ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান অবধারিত করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভয় সরিয়ে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' নিক্ষেপ করবেন।" তারা জিজ্ঞাসা করল: 'ওয়াহন' কী? তিনি বললেন: "দুনিয়ার প্রতি মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা"
… ) .
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإذا أردنا العزة والتمكين وتغيير الأحوال إلى الأصلح وإقامة الدولة الإسلامية فعلينا أن نبدأ بإصلاح أنفسنا وأهلينا ومجتمعنا لأن الله تعالى يقول {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ} سورة الرعد: آية 11
সুতরাং আমরা যদি মর্যাদা ও আধিপত্য অর্জন, পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তবে আমাদের নিজেদের, আমাদের পরিবারবর্গ এবং আমাদের সমাজের সংস্কারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা আবশ্যক। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।} সূরা আর-রাদ: আয়াত ১১
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الطور السابع:
على الداعية أن يحمس المدعو لطلب العلم لأنه لا يمكن أن يعبد الله كما أمر سبحانه إلا بالعلم، فيُرَغِّب المدعو بمجالسة العلماء العاملين من أهل السنة والجماعة أصحاب المنهج السليم، ويشعره إذا وجدت محاضرات أو جلسات خاصة سواء كان ذلك بالمرور عليه أو بالهاتف كما يحثه على اقتناء الكتب النافعة وكذا الأشرطة والمجلات
… إلخ.
وينبه المدعو إلى أن خير السبل لإقامة الخلافة هي سبيل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي سبيل العلم وتربية المجتمع مع تصفيته وأنه لا يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح أولها.
وأنه مهما حاول المحاولون الذين ابتعدوا عن هذا المنهج أن يعيدوا الخلافة الإسلامية فإنما مثلهم مثل من يبني بناية على شفا جرف هار يوشك أن يقع.
والله المسؤول أن يجمع كلمة المسلمين وأن يمكن لهم في الأرض إنه سميع مجيب.
***********
সপ্তম পর্যায়:
দাঈর কর্তব্য হলো দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জ্ঞান অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করা; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তাঁর ইবাদত করা জ্ঞান ব্যতীত সম্ভব নয়। সুতরাং তিনি তাকে সঠিক মানহাজ (منهج)-এর অনুসারী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত আমলকারী আলেমদের মজলিশে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করবেন। কোনো আলোচনা সভা বা বিশেষ মজলিশের আয়োজন হলে সরাসরি সাক্ষাতে কিংবা টেলিফোনে তাকে তা অবহিত করবেন। একইভাবে তাকে উপকারী গ্রন্থাবলী, অডিও ক্যাসেট ও সাময়িকী ইত্যাদি সংগ্রহ করার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করবেন
… ইত্যাদি।
দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এ বিষয়েও সচেতন করবেন যে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পথ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত পথ। আর তা হলো ইলম এবং সমাজ সংস্কার ও পরিশোধন (تصفية)-এর মাধ্যমে সমাজ গঠনের পথ। নিশ্চয়ই এই উম্মতের শেষাংশ সংশোধিত হবে না সেই আদর্শ ব্যতীত, যার মাধ্যমে এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।
এই মানহাজ (منهج) থেকে বিচ্যুত হয়ে যারা ইসলামী খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো পতনোন্মুখ খাদের কিনারায় ভবন নির্মাণ করে, যা অচিরেই ধসে পড়ার উপক্রম হয়।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জমিনে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
***********
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأسباب المساعدة لنجاح الدعوة الفردية1-
الإخلاص لله تعالى:إن أي عبادة من العبادات لا بد لقبولها من شرطين أساسيين:
أ - الإخلاص لله تعالى.
ب - المتابعة للرسول صلى الله عليه وسلم.
فالداعية يجب عليه أن يبتغي بدعوته للأفراد والجماعات وجه الله تعالى ويجب عليه أن يبتعد عن كل ما يقربه من الرياء والسمعة أو أن يكون له أتباع أو جماعة أو حزب قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} سورة البينة: آية 5
وقال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} سورة الكهف: آية 110.
فإذا أخلص الداعية عمله لله ورزق المدعو الاستقامة فإن الله تعالى يكتب للداعية مثل أجر المدعو ولا ينقص من أجره شيئًا.
ففي الحديث الصحيح: «من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه غير أنه لا ينقص من أجورهم شيئًا»
… ) النووي على مسلم 16 / 227
ব্যক্তিগত দাওয়াত সফল হওয়ার সহায়ক কারণসমূহ১-
মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা:যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই দুটি মৌলিক শর্ত থাকা আবশ্যক:
ক - মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (ইখলাস)।
খ - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ।
দাঈ বা দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য আবশ্যক হলো তিনি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নিকট তার দাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবেন। তাকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে যা তাকে লোকদেখানো আমল (রিয়া) ও প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা (সুমআহ) কিংবা নিজস্ব অনুসারী, দল বা উপদল তৈরির দিকে ধাবিত করে। মহান আল্লাহ বলেন: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" (সূরা আল-বাইয়িনাহ: ৫)
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "অতএব, যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।" (সূরা আল-কাহাফ: ১১০)।
যদি দাঈ তার আমল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ অবিচলতা দান করেন, তবে আল্লাহ তায়ালা দাঈর আমলনামায় দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সমান সওয়াব লিখে দেন এবং তার সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হয় না।
একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই সওয়াব থাকবে যা তার অনুসারীরা পাবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে সামান্যতমও কম করা হবে না»
… ) নববী আলা মুসলিম ১৬ / ২২৭
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২০)
2-
صلة الداعية بالله تعالى:إن صلة الداعية بالله تعالى من أهم الأسباب لنجاح الداعية في عمله وهذه الصلة تكون بالتقرب إلى الله تعالى بجميع أصناف العبادة وخاصة الدعاء والتضرع بين يدي الله تعالى. ففي الحديث الصحيح «الدعاء هو العبادة» رواه أبو داود 2 / 76-77 والترمذي 5 / 211، 5 / 374-375،5 / 456 وابن ماجه 2 / 1258
فالداعية إلى الله يخوض في معارك كلما انتهت معركة نشبت أخرى ولا يمكن أن ينتصر ما لم يكن ناصرًا لشرع الله. قال سبحانه: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} سورة محمد: آية 7
وفي صحيح البخاري من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يقول الله عز وجل: من عادى لي وليًا فقد آذنته بالحرب وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إليَّ مما افترضته عليه ولا يزال عبدي يتقرب إليّ بالنوافل حتى أحبه فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به وبصره الذي يبصر به ويده التي يبطش بها ورجله التي يمشي بها وإن سألني لأعطينه ولئن استعاذني لأعيذنه» الفتح 11 / 34. .
2-
মহান আল্লাহ তাআলার সাথে দাইয়ীর সম্পর্ক:নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার সাথে দাইয়ীর (আহ্বানকারীর) সম্পর্ক হলো দাইয়ীর নিজ কর্মে সফল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আর এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের দ্বারা, বিশেষ করে দোআ এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে রোনাজারির মাধ্যমে। একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «দোআই হলো ইবাদত» এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ২/৭৬-৭৭, তিরমিজি ৫/২১১, ৫/৩৭৪-৩৭৫, ৫/৪৫৬ এবং ইবনে মাজাহ ২/১২৫৮।
আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এমন সব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হন যে, যখনই একটি সংগ্রাম শেষ হয় তখনই অন্যটি শুরু হয়ে যায়। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর শরয়তের সাহায্যকারী না হবেন, ততক্ষণ বিজয় লাভ করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে (আল্লাহর দ্বীনকে) সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন} সূরা মুহাম্মদ: আয়াত ৭।
এবং সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর (বন্ধুর) সাথে শত্রুতা করবে, আমি তাকে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি। আমার বান্দা আমার নিকট অধিক প্রিয় এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে নিরন্তর আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে পাকড়াও করে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি; আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দান করি» আল-ফাতহ ১১/৩৪। .
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২১)
فلاح الداعية هو الصلة بالله عز وجل خاصة في هذه الأزمنة التي تتحالف فيها قوى الشر على الإسلام والمسلمين. ولهذا كانت وصية الله تعالى للنبي صلى الله عليه وسلم في بداية الدعوة أن يكثر من الاتصال به ومن التقرب إليه فقال سبحانه: {يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} {قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} سورة المزمل: آية 1-2
وهكذا أوصى النبي صلى الله عليه وسلم ابن عباس فقال له: «احفظ الله يحفظك احفظ الله تجده تجاهك» تحفة الأحوذي 7 / 219. وهذه الوصية ليست خاصة بابن عباس وإنما هي للأمة كلها إلى قيام الساعة.
ينبغي للداعية أن يحافظ على السنن ما استطاع إلى ذلك سبيلًا، وأن يحرص على إحيائها ولا يستهين بسنة من هذه السنن وإنه من جملة الفواقر التي أصيب بها المسلمون وجود فئة منهم يقسمون الدين إلى قشور ولباب ويعنون بالقشور تلك السنن الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.. وليت الأمر يتوقف عن ذلك بل الأدهى من ذلك هو أنهم يحتقرون من طبق تلك السنن.
একজন দা’য়ীর সাফল্য হলো মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন অশুভ শক্তিসমূহ ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই কারণেই দাওয়াতের সূচনালগ্নে মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাথে অধিক সম্পর্ক স্থাপন ও নৈকট্য লাভের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে চাদরাবৃত!} {রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন, তবে সামান্য অংশ ব্যতীত} সূরা আল-মুযযাম্মিল: আয়াত ১-২।
অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে অসিয়ত করেছিলেন এই বলে: «তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, তাঁকে তোমার সম্মুখেই পাবে» তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ / ২১৯। এই অসিয়ত কেবল ইবনে আব্বাসের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র উম্মাহর জন্য।
একজন দা’য়ীর উচিত যথাসাধ্য সুন্নাহসমূহের (السنن) প্রতি যত্নবান হওয়া এবং সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। এই সুন্নাহগুলোর কোনোটিকেই অবজ্ঞা করা উচিত নয়। মুসলিমরা যেসব ভয়াবহ মুসিবতে আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো এমন এক দলের উদ্ভব যারা দ্বীনকে 'খোসা' ও 'মজ্জা'—এই দুই ভাগে বিভক্ত করে। 'খোসা' বলতে তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابتة) সুন্নাহসমূহকে উদ্দেশ্য করে। বিষয়টি যদি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকতো! বরং এর চেয়েও জঘন্য বিষয় হলো, তারা ঐসব ব্যক্তিদের তুচ্ছজ্ঞান করে যারা এই সুন্নাহগুলো অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২২)
3-
العلم:إن العلم ضرورة شرعية خاصة للدعاة إلى الله، فالعلم بالنسبة لهم سلاح يدافعون به عن دين الله عز وجل ويدحضون به الشبهات التي تلقى من أعدائه. يجب على من تعلم أن يعمل بعلمه وأن يدعو إليه، ولهذا قيل (هتف العلم بالعمل فإن أجابه وإلا ارتحل) .
ولهذا يكون علم الداعية شيئًا رئيسيًا لتأثر المدعو، فإذا كانت قدرة الداعية العلمية محدودة - لأننا ذكرنا قبل أن الدعوة الفردية لا تحتاج إلى كثير من العلم - فإنه ينبغي للداعية أن يستخدم الوسائل المتاحة كأن يهدي للمدعو كتابًا أو شريطًا مسموعًا أو مرئيًا أو مجلة
… إلخ.
وهذا ليس مبررًا لتقاعص الداعية عن طلب العلم بل يجب عليه أن يتزود أكثر من العلم. وأن يجعل لنفسه وقتًا يتزود من العلم الشرعي وأن يخالط العلماء.
৩-
জ্ঞান (العلم):নিশ্চয়ই জ্ঞান অর্জন করা আল্লাহর পথে দাঈদের জন্য একটি বিশেষ শরয়ি আবশ্যকতা। তাঁদের নিকট জ্ঞান হলো একটি অস্ত্র, যার মাধ্যমে তাঁরা মহান আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করেন এবং তাঁর শত্রুদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সংশয়সমূহ খণ্ডন করেন। যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেন, তাঁর জন্য সেই অনুযায়ী আমল করা এবং সেই দিকে মানুষকে আহ্বান করা আবশ্যক। একারণেই বলা হয়েছে: "জ্ঞান আমলকে আহ্বান করে; যদি সে সাড়া দেয় (তবে জ্ঞান থাকে), অন্যথায় তা বিদায় নেয়।"
এ কারণেই দাওয়াত গ্রহণকারীর ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে দাঈর জ্ঞান একটি মৌলিক বিষয়। যদি দাঈর ইলমি সক্ষমতা সীমিত হয়—যেহেতু আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে ব্যক্তিগত দাওয়াতের ক্ষেত্রে খুব বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না—তবে দাঈর উচিত সহজলভ্য মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা। যেমন—যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাকে কোনো বই, অডিও বা ভিডিও রেকর্ড অথবা কোনো সাময়িকী ইত্যাদি উপহার দেওয়া
… ইত্যাদি।
আর এটি দাঈর জন্য জ্ঞান অন্বেষণে শিথিলতা প্রদর্শনের কোনো অজুহাত নয়, বরং তার ওপর আবশ্যিক হলো ইলমের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করা। তার উচিত নিজের জন্য এমন একটি সময় নির্দিষ্ট করা যাতে সে শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي) অর্জন করতে পারে এবং আলেমদের সংশ্রবে থাকতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4-
التخطيط والتنظيم:بعض الدعاة إلى الله ممن عندهم نشاط في المواعظ والخطب يبذلون جهودًا كبيرة ولكن هذه الجهود في الغالب لا تثمر وذلك لفقدان التخطيط والتنظيم.
فالواجب على الداعية أن يركز على الأفراد الأكثر قابلية للدعوة. وخاصة الذين يرجى من وراء دعوتهم نصرة دين الله عز وجل.
وللداعية أسوة في رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث إنه عليه الصلاة والسلام لم تنته فترة الدعوة السرية في مكة إلا وقد دخلت الدعوة إلى كل القبائل المشهورة في مكة فأسلم من كل عشيرة بعض أفراده.
إن الدعوة تحتاج إلى بعض الأفراد الذين لديهم القدرة على القيادة والتخطيط فيجب على الداعية أن يعمل جاهدًا على كسب هؤلاء الأفراد لكي تستفيد منهم الدعوة ولهذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم حريصًا على إسلام عمر بن الخطاب وكان يدعو الله [أن يعز الإسلام بأحد العمرين] حتى قال ابن مسعود رضي الله عنه فيما رواه عنه البخاري: ما زلنا أعزة منذ أسلم عمر.
إلا أنه لا ينبغي ترك الأفراد المحبين للدعوة والملتفتين حولها والإعراض عنهم بهذه الحجة بل يجب إعطاؤهم نصيبهم من الدعوة.
4-
পরিকল্পনা ও সংগঠন:আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানকারী কিছু দাঈদের মাঝে ওয়াজ-নসিহত ও খুতবার ক্ষেত্রে অনেক কর্মতৎপরতা দেখা যায় এবং তারা ব্যাপক প্রচেষ্টাও চালান; তবে পরিকল্পনা ও সংগঠনের অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই প্রচেষ্টাগুলো ফলপ্রসূ হয় না।
অতএব, একজন দাঈর জন্য আবশ্যক হলো দাওয়াত গ্রহণের অধিক উপযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা; বিশেষ করে যাদের দাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের আশা করা যায়।
আর দাঈর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। কেননা মক্কায় গোপন (سرية) দাওয়াতের সময়কাল শেষ হওয়ার পূর্বেই দাওয়াতের বাণী মক্কার প্রতিটি প্রসিদ্ধ গোত্রে পৌঁছে গিয়েছিল এবং প্রতিটি গোষ্ঠী থেকে কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
দাওয়াতের কাজের জন্য এমন কিছু ব্যক্তির প্রয়োজন যাদের নেতৃত্ব প্রদান ও পরিকল্পনা করার সক্ষমতা রয়েছে। তাই দাঈর উচিত এই ধরনের ব্যক্তিদের দাওয়াতের ছায়াতলে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা, যাতে দাওয়াতের কাজ তাদের দ্বারা উপকৃত হয়। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যে, [হে আল্লাহ, আপনি দুই ওমরের যেকোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন]। এমনকি বুখারি-তে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত (رواه) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "ওমর ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকেই আমরা সর্বদা শক্তিশালী ও মর্যাদাবান ছিলাম।"
তবে এই অজুহাতে যারা দাওয়াতকে ভালোবাসেন এবং এর সাথে সম্পৃক্ত আছেন, তাদের ছেড়ে দেওয়া বা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়; বরং তাদেরও দাওয়াতের প্রাপ্য অংশ প্রদান করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولهذا أنَّب الله نبيه عليه والصلاة والسلام لما ترك ابن أم مكتوم وبذل وقته مع عظماء قريش فأنزل الله سبحانه وتعالى معاتبًا لنبيه: {عَبَسَ وَتَوَلَّى} {أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى} {وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى}
… الآيات. سورة عبس: الآيات 1-3
وقال تعالى {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا} سورة الكهف: آية 28.
আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সতর্ক করেছেন যখন তিনি ইবনে উম্মে মাকতুমকে উপেক্ষা করে কুরাইশদের নেতৃবৃন্দের পেছনে সময় ব্যয় করেছিলেন। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবীকে অনুযোগ করে অবতীর্ণ করেন: {সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল} {যেহেতু তার কাছে অন্ধ লোকটি এল} {আপনি কি জানেন, সম্ভবত সে পরিশুদ্ধ হতো}
… আয়াতসমূহ। সূরা আবাসা: আয়াত ১-৩
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি সরিয়ে নেবেন না। আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি, যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কাজ সীমা অতিক্রম করেছে।} সূরা আল-কাহাফ: আয়াত ২৮।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
5-
لا بد من التعرف على الصفات الشخصية للأفراد:يجب على الداعية أن يتعرف على صفات المدعوين إذ إن لكل فرد منهم صفات حسنة وصفات سيئة. وتختلف هذه الصفات من فرد إلى آخر.
فالداعية النجاح هو الذي يستطيع أن يحوِّل هذه الصفات إلى صفات خير تخدم الدعوة إلى الله. فمثلًا هناك من الناس من عنده قوة الإقناع قبل أن يهديه الله كأن يكون من دعاة الأحزاب الهدامة فيمكن صقل هذه الموهبة بعد هدايته فيصير هذا الفرد من الدعاة المبرزين.
ولهذا يقول نبينا عليه الصلاة والسلام: «الناس معادن كمعادن الذهب والفضة خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا» النووي على مسلم 16 / 185.
والأمثلة لهذا الجانب كثيرة منها على سبيل المثال: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كان يتصف قبل إسلامه بالشجاعة، فلما أسلم رضي الله عنه استفاد المسلمون من شجاعته حتى إنهم خرجوا وأعلنوا تحديهم للمشركين.
৫-
ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি:একজন ইসলাম প্রচারকারীর জন্য দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক; কারণ তাদের প্রত্যেকেরই ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্য থাকে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
সফল প্রচারক তিনিই, যিনি এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে এমন কল্যাণকর গুণে রূপান্তর করতে সক্ষম হন যা আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজকে আরও সমৃদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু মানুষের মাঝে হেদায়েত লাভের পূর্বেই অন্যকে কোনো বিষয়ে প্ররোচিত বা প্রভাবিত করার বিশেষ সক্ষমতা থাকে; যেমন তিনি হয়তো কোনো পথভ্রষ্ট দলের প্রচারক ছিলেন। হেদায়েত লাভের পর তার এই প্রতিভাকে মার্জিত ও সঠিক পথে প্রয়োগ করা সম্ভব, যার ফলে সেই ব্যক্তি একজন বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারকে পরিণত হতে পারেন।
এই কারণেই আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ হলো খনি সদৃশ, যেমন স্বর্ণ ও রৌপ্যের খনি; তাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াত যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি সম্যক জ্ঞান অর্জন করে»। শারহু সহীহ মুসলিম লি-ননববী ১৬ / ১৮৫।
এই প্রসঙ্গের উদাহরণ অনেক; যেমন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সাহসিকতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। যখন তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন মুসলিমগণ তাঁর সেই সাহসিকতা দ্বারা উপকৃত হলেন, এমনকি তাঁরা প্রকাশ্যে বের হয়ে মুশরিকদের সামনে নিজেদের শক্তিমত্তা ও চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
6-
البدء بالأقربين:إن لنا في نبينا عليه الصلاة والسلام الأسوة الحسنة أمر ربه تبارك وتعالى أن ينذر عشيرته الأقربين فقال سبحانه {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} سورة الشعراء: آية 214
وفي حديث عائشة رضي الله عنها أنها قالت «لما نزلت {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (يا فاطمة ابنة محمد يا صفية ابنة عبد المطلب يا بني عبد المطلب: لا أملك لكم من الله شيئًا سلوني من مالي ما شئتم) » النووي على مسلم 3 / 54.
وذكر صاحب أسد الغابة أنه لما أسلم الطفيل بن عمرو الدوسي رضي الله عنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: إني امرؤ مطاع في قومي وأنا راجع إليهم وأدعيهم إلى الإسلام فلما رجع إلى قومه دعا أباه إلى الإسلام فأسلم ثم دعا امرأته إلى الإسلام فأسلمت. والأمثلة لهذا كثيرة..
فالداعية يحتاج إلى من يقوم بجانبه ويناصره ويعينه وذلك لأن الإنسان بمفرده لا يستطيع أن يحقق ما يحققه ومعه إخوانه.
فيجب على الداعية أن يبدأ بذوي قرابته. الأقرب فالأقرب حتى توجد له منعة ونصرة ثم لا يهمه بعد ذلك إن لم يستحب له.
৬-
নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে শুরু করা:নিশ্চয়ই আমাদের নবী (সা.)-এর মধ্যে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাঁর রব বরকতময় ও মহান তাঁকে তাঁর নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।" (সূরা আশ-শুআরা: আয়াত ২১৪)
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: যখন "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) দাঁড়ালেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা, হে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সাফিয়া, হে বনু আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাতে আমার কোনো ক্ষমতা নেই। তোমরা আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চাও।" (সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা ৩/৫৪)।
আসাদুল গাবাহ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তুফায়েল বিন আমর আদ-দাওসী (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন: "আমি আমার কওমের মধ্যে একজন মান্যবর ব্যক্তি। আমি এখন তাদের কাছে ফিরে যাচ্ছি এবং তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেব।" এরপর যখন তিনি তাঁর কওমের কাছে ফিরে গেলেন, তখন তিনি তাঁর পিতাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর স্ত্রীকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ বিষয়ের উদাহরণ অনেক রয়েছে...
বস্তুত একজন দায়ীর (ইসলাম প্রচারকের) জন্য এমন কাউকে প্রয়োজন যে তাঁর পাশে দাঁড়াবে, তাঁকে সমর্থন জোগাবে এবং সাহায্য করবে। কারণ মানুষ একা তা বাস্তবায়ন করতে পারে না, যা সে তার ভাইদের পাশে নিয়ে করতে সক্ষম হয়।
অতএব, একজন দায়ীর ওপর আবশ্যক হলো তাঁর নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে শুরু করা। পর্যায়ক্রমে যারা অধিক নিকটবর্তী তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, যতক্ষণ না তাঁর জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান ও সাহায্য তৈরি হয়। এরপর তারা যদি দাওয়াতে সাড়া না-ও দেয়, তবে তাতে তাঁর আর কোনো পরোয়া নেই।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن العيب أن يترك الداعية أهل بيته وأقاربه دون تبصيرهم بدين الله عز وجل. والله المستعان.
আর এটি একটি ত্রুটি যে, একজন দাঈ তাঁর পরিবার-পরিজন ও নিকটাত্মীয়দের মহান আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সচেতন না করেই রেখে দেবেন। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7-
إظهار الاهتمام بكل شخص:إن من الدعاة إلى الله من إذا زار أخًا له أو وجده في أي مكان ما بش في وجهه وعانقه بحرارة ثم لا يظهر اهتمامه بمن كان بجانب ذلك الأخ مما يحدث في نفوسهم عليه أنه غير مهتم بهم وأنه إنما جاء لزيارة ذلك الأخ فحسب.
والواجب على الداعية أن يظهر نفس الود لجميع الحاضرين وإن كان فيهم من لا يرضى بعض صفاته الخلقية مثلًا. فلعل ذلك يكون سبًا في استقامة ذلك الشخص. ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يبش في وجه بعض الذين لا يرتضيهم كما حصل ذلك بحضرة عائشة رضي الله عنها فقالت يا رسول الله إنك قلت فيه ما قلت فلما دخل عليك بششت في وجهه فقال «يا عائشة: إن من شرار الناس من يُتَّقَى لفحشه» متفق عليه.
৭-
প্রত্যেকের প্রতি গুরুত্ব প্রদর্শন:আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা যখন তাদের কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন বা তাকে কোনো স্থানে পান, তখন তার প্রতি হাস্যোজ্জ্বল মুখ প্রদর্শন করেন এবং তাকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করেন, কিন্তু সেই ভাইয়ের পাশে যারা অবস্থান করছেন তাদের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ বা গুরুত্ব প্রকাশ করেন না; যার ফলে তাদের মনে এই ধারণার সৃষ্টি হয় যে, তিনি তাদের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং তিনি কেবল সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথেই সাক্ষাৎ করতে এসেছেন।
একজন আহ্বানকারীর কর্তব্য হলো উপস্থিত সকলের প্রতি সমান হৃদ্যতা প্রদর্শন করা, যদিও তাদের মধ্যে এমন কেউ থাকে যার কোনো চারিত্রিক গুণাবলী হয়ত পছন্দনীয় নয়। সম্ভবত এটিই সেই ব্যক্তির সঠিক পথে ফিরে আসা বা অবিচলতার (استقامة) কারণ হতে পারে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু ব্যক্তির সামনেও হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন যাদের তিনি পছন্দ করতেন না; যেমনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উপস্থিতিতে ঘটেছিল। তিনি বলেছিলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই ব্যক্তির ব্যাপারে যা বলার বলেছিলেন, অথচ সে যখন আপনার নিকট আসলো তখন আপনি তার সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করলেন।' তখন তিনি বললেন, «হে আয়েশা! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যাকে মানুষ তার অশ্লীলতা বা দুর্ব্যবহারের (فحش) কারণে বর্জন করে বা এড়িয়ে চলে»। হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১)
আদ দাওয়াতুল ফারদিয়্যাহ ওয়া আহাম্মিয়াতুহা ফী তারবিয়াতিল আজইয়াল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
8-
التدرج في الدعوة:يجب على الداعية أن لا يحاول تغيير المدعو دفعة واحدة لأن ذلك مخالف لسنة الله ومخالف لمنهج الأنبياء عليهم الصلاة والسلام وهذا لا يمنع وجود القابلية عند بعض الأفراد على التحول دفعة واحدة فمن كان عنده الاستعداد للتغيير دفعة واحدة من دون أن يؤثر سلبيًا على نفسه فلا يجوز التواني في ذلك.
أما من كان لا يقبل التحول إلا بالتدرج فيجب تقديم الأهم في دعوته وذلك لأنه قد تؤثر سرعة التحول في حقه سلبيًا فلربما عاد إلى جاهليته.
ولهذا نجد أن الإسلام أعطى هذه المسألة حقها فتجد أنه في العهد المكي ركز على جانب العقيدة مثلًا ثم بعد فترة أمر بالصوم ثم بالزكاة ثم بالحج وهكذا..
8-
দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিকতা:একজন দায়ীর জন্য আবশ্যক হলো তিনি যেন দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একযোগে পরিবর্তন করার চেষ্টা না করেন, কারণ তা আল্লাহর বিধান এবং নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী। তবে এটি কিছু ব্যক্তির মাঝে একযোগে পরিবর্তনের যোগ্যতা থাকাকে নাকচ করে দেয় না। সুতরাং যার মধ্যে নিজের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়া ছাড়াই একযোগে পরিবর্তনের প্রস্তুতি রয়েছে, তার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা জায়েজ নয়।
আর যে ব্যক্তি পর্যায়ক্রমিকতা ব্যতীত পরিবর্তন গ্রহণ করতে পারে না, তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে আগে উপস্থাপন করা আবশ্যক। কারণ দ্রুত পরিবর্তনের চাপ তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে সম্ভবত সে তার পূর্ববর্তী জাহিলিয়াতের দিকে ফিরে যেতে পারে।
এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে ইসলাম এই বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, মক্কী যুগে ইসলাম উদাহরণস্বরূপ আকিদার বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, এরপর নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে রোজার আদেশ প্রদান করা হয়েছে, তারপর জাকাত, এরপর হজের বিধান দেওয়া হয়েছে এবং এভাবেই বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে এসেছে।