(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأسرة   (-)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الأسرة

المؤلف: -

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 26

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 39

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পরিবার   (-)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: পরিবার

লেখক: -

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ২৬

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌خصائص النظرة الإسلامية للأسرة

لأن الإسلام دين سماوي نزل من عند الله تعالى الذي خلق الناس وهو الأعلم بطبيعتهم وبما يصلح لهم كما قال الله تعالى: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} فإنه ينظر إلى الرجل والمرأة نظرة عميقة ومستقره لا تجاري الرغبات التلقائية لدي دعاة العدالة بإراحة ضمائرهم المثقلة بإرث تاريخي من الشعور بالذنب تجاه المرأة التي كثيرا ما ظلمت في غالب العصور والأقطار عن طريق دعوتها إلى المساواة غير المدروسة بين الجنسين كما أنه لا يغير مواقفه ونظرته تبعا لتغير مواقف المفكرين وعلماء النفس والاجتماع التي تتبدل بدورها مع تبدل الظروف الاجتماعية وكمية الركام التاريخي حول هذه القضية وتجارب الشعوب المختلفة فيها والزاوية التي ينظر المجتمع منها إلى هذا الموضوع بحيثياته المختلفة.
পরিবারের প্রতি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির বৈশিষ্ট্যসমূহ

যেহেতু ইসলাম মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ একটি আসমানি দ্বীন, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের প্রকৃতি ও তাদের জন্য যা কিছু কল্যাণকর সে সম্পর্কে তিনি অধিক পরিজ্ঞাত; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" সেহেতু ইসলাম নারী ও পুরুষের প্রতি এক গভীর ও সুস্থিত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এটি ন্যায়বিচারের সেই সব প্রবক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্ক্ষার অনুগামী হয় না, যারা নারীর প্রতি ঐতিহাসিক অপরাধবোধের ভারে ভারাক্রান্ত তাদের বিবেককে শান্ত করতে চায়; যে নারী অধিকাংশ যুগ ও জনপদে প্রায়শই নিগৃহীত হয়েছে। তারা নারী-পুরুষের মাঝে অবিবেচনাপ্রসূত সমতার আহ্বানের মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ দিতে চায়। তদ্রূপ ইসলাম চিন্তাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে না; যা সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক জঞ্জাল, বিভিন্ন জাতির অভিজ্ঞতা এবং সমাজ যে প্রেক্ষাপট থেকে এই বিষয়টিকে তার নানাবিধ অনুষঙ্গসহ পর্যবেক্ষণ করে, তার সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
فعمق النظرة الإسلامية يتجلى في الاحتراف الصريح الواثق بوجود خصائص عامة مشتركة بين الرجل والمرأة وأيضًا بوجود فروقات أصلية خلت معهما وظلت معهما وظلت جزء من تكوينهما لتهيئ كلًّا منهما إلى الوظيفة التي يسره الله تعالى للقيام بها «النساء شقائق الرجال» حديث من الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم يعلن فيه بوضوح أن المرأة والرجل يشتركان في الحقوق والواجبات التي تشتمل عليها الأحكام الإسلامية ما لم ينص بوضوح على تخصيص أحدهما بحكم معين، ويقول سبحانه وتعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা পুরুষ ও নারীর মধ্যে সাধারণ ও অভিন্ন বৈশিষ্ট্যাবলীর উপস্থিতির পাশাপাশি তাদের মধ্যকার এমন কিছু মৌলিক পার্থক্যের দ্ব্যর্থহীন ও সুদৃঢ় স্বীকৃতির মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যা তাদের সৃষ্টির শুরু থেকেই বিদ্যমান এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক গঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পার্থক্যসমূহ তাদের প্রত্যেককে সেই বিশেষ দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলে, যার জন্য আল্লাহ তাআলা তাদের সহজতর করেছেন। “নারীরা পুরুষদেরই সহোদর বা সমতুল্য (شقائق)” — এটি সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণিত একটি হাদিস, যাতে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ইসলামি বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত অধিকার ও কর্তব্যসমূহে নারী ও পুরুষ সমানভাবে অংশীদার, যতক্ষণ না কোনো বিশেষ বিধানের মাধ্যমে তাদের কাউকে সুনির্দিষ্ট করার (تخصيص) ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) আসে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: “মুমিন অবস্থায় পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে তাদের শ্রেষ্ঠ কাজ অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব।”
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وانطلاقا من هذا الإدراك الواثق لطبيعة الرجل والمرأة أوجب الإسلام على الرجل القادر أن ينفق على نفسه وعلى من يعوله من النساء والأولاد ولم يوجب ذلك على المرأة حتى وإن كانت غنية وقادرة بل ترك لهما ذلك إن شاءت فعلته وإن شاءت امتنعت عنه وفي العبادات شرع للمرأة أن لا تصلي في حالة الحيض والنفاس ولم يوجب عليها أن تقضي هذه العبادة بعد أن تتطهر لما في ذلك من المشقة عليها والإرهاق لها بينما أوجب على الرجل العاقل الواعي أن يؤدي الصلاة مهما كانت حالته وثبات النظرة الإسلامية إلى الجنسين يتمثل في أنها لم ولن تكون في يوم من الأيام ردة فعل لرأي مجتمع معين أو سلوك مجتمع آخر أو فكرة مفكر من هنا أو هناك بل هي نظرة منطلقة من المعرفة الدقيقة بطبيعة كل من الرجل والمرأة وما يناسبها في أحوالها المختلفة.
পুরুষ ও নারীর স্বভাবজাত প্রকৃতি সম্পর্কে এই সুনিশ্চিত উপলব্ধির ভিত্তিতে ইসলাম সক্ষম পুরুষের ওপর নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল নারী ও সন্তানদের ভরণপোষণ করা আবশ্যক করেছে। নারীর ওপর তা আবশ্যক করা হয়নি, এমনকি সে সম্পদশালী ও সক্ষম হলেও; বরং বিষয়টি তাদের জন্য ইচ্ছাধীন রাখা হয়েছে—সে (নারী) চাইলে তা করতে পারে, আবার চাইলে তা থেকে বিরতও থাকতে পারে। ইবাদতের ক্ষেত্রে নারীর জন্য ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব অবস্থায় সালাত আদায় না করার বিধান দেওয়া হয়েছে এবং পবিত্র হওয়ার পর তার ওপর এই ইবাদত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক করা হয়নি, যাতে তার ওপর কোনো কষ্ট বা সাধ্যাতীত চাপ সৃষ্টি না হয়। পক্ষান্তরে, সুস্থ ও সচেতন পুরুষের ওপর যেকোনো অবস্থাতেই সালাত আদায় করা আবশ্যক করা হয়েছে। উভয় লিঙ্গের প্রতি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির এই অবিচলতা এতেই নিহিত যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সমাজের জনমত, অন্য কোনো সমাজের আচরণ কিংবা কোনো চিন্তাবিদের ব্যক্তিগত ভাবনার কোনো প্রতিক্রিয়া নয় এবং কখনো হবেও না; বরং এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রকৃতি এবং তাদের বিভিন্ন অবস্থায় যা সবচেয়ে উপযুক্ত, সে সম্পর্কে অর্জিত নিখুঁত ও গভীর জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি দৃষ্টিভঙ্গি।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مكانة الزواج

ويمكن التعبير عن النظرة الإسلامية إلى الأسرة التي تقوم أساسا على الرجل والمرأة ضمن البنود التالية: -

الزواج في الإسلام شركة: -

لهذه الشركة عضوان مؤسسان (الرجل والمرأة) لأن الرجل هو صاحب الخطوة التأسيسية الأولى ولأنه صاحب النفسية الأقل تقلبًا وانفعالا. وللشركة دستور واضح وبنود محددة تقوم في مجملها على الحب والمودة ثم تتعرض في تفاصيلها لجميع جوانب الحياة الأسرية. ثم إن الإسلام يدعو كل من يستطيع تأسيس هذه الشركة إلى المبادرة بتأسيسها ويعده التيسير الكثير والرزق الوفير إذا التزم في إقامتها ببنود الدستور الأسري الإسلامي،
বিবাহের মর্যাদা

পুরুষ ও নারীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পরিবার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে প্রকাশ করা যেতে পারে: -

ইসলামে বিবাহ একটি অংশীদারিত্ব: -

এই অংশীদারিত্বের দুজন প্রতিষ্ঠাতাসদস্য (পুরুষ ও নারী) রয়েছেন; কারণ পুরুষই প্রথম প্রতিষ্ঠামূলক পদক্ষেপ গ্রহণকারী এবং তার মনস্তত্ত্ব তুলনামূলক কম পরিবর্তনশীল ও আবেগপ্রবণ। এই অংশীদারিত্বের একটি সুস্পষ্ট সংবিধান ও নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ভালোবাসা ও মমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীতে তা বিস্তারিতভাবে পারিবারিক জীবনের সকল দিক নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া ইসলাম এই অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় এবং তাকে প্রভূত সহজতা ও পর্যাপ্ত জীবিকার প্রতিশ্রুতি দেয়, যদি সে এটি পালনে ইসলামি পারিবারিক সংবিধানের বিধিবিধানগুলো মেনে চলে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ففي صحيح مسلم «أن أسماء بنت يزيد الأنصارية أتت النبي صلى الله عليه وسلم وهو بين أصحابه فقالت: - بأبي وأمي أنت يا رسول الله: أنا وافدة النساء إليك. إن الله عز وجل بعثك إلى الرجال والنساء كافة فآمنا بك وبإلهك إنا معشر النساء محصورات مقصورات، قواعد بيوتكم وحاملات أولادكم، وأنتم معاشر الرجال فضلتم علينا بالجمع والجماعات، وعيادة المرضى، وشهود الجنائز، والحج بعد الحج، وأفضل من ذلك الجهاد في سبيل الله عز وجل. وإن أحدكم إذا خرج حاجا أو معتمرا أو مجاهدا حفظنا لكم أموالكم وغزلنا أثوابكم وربينا لكم أولادكم، أفنشارككم في الأجر والخير؟ فالتفت النبي صلى الله عليه وسلم إلى أصحابه بوجهه ثم قال: هل سمعتم مسألة امرأة قط أحسن في مسألتها في أمر دينها من هذه؟

সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত আছে যে, আসমা বিনতে ইয়াজিদ আল-আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর সাহাবীগণের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়েছি। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে সকল নারী ও পুরুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন, ফলে আমরা আপনার প্রতি এবং আপনার ইলাহ-র প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা নারী সমাজ (গৃহের অভ্যন্তরে) সীমাবদ্ধ এবং আপনাদের ঘরের তত্ত্বাবধানকারী ও আপনাদের সন্তানদের গর্ভে ধারণকারী। আর আপনারা পুরুষ সমাজ জুমুআ ও জামাতে অংশগ্রহণ, অসুস্থদের সেবা করা, জানাজায় উপস্থিত হওয়া এবং বারবার হজ আদায় করার মাধ্যমে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। আর এসবের চেয়েও শ্রেষ্ঠ আমল হলো মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আপনাদের মধ্যে কেউ যখন হজ, উমরা কিংবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন আমরা আপনাদের সম্পদ হেফাযত করি, আপনাদের জন্য বস্ত্র বয়ন করি এবং আপনাদের সন্তানদের লালন-পালন করি; তবে কি আমরা সওয়াব ও কল্যাণের ক্ষেত্রে আপনাদের অংশীদার হবো?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "তোমরা কি দ্বীনের বিষয়ে এই মহিলার প্রশ্নের চেয়ে উত্তম কোনো প্রশ্ন ইতিপূর্বে কোনো মহিলার নিকট থেকে শুনেছ?"

(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فقالوا يا رسول الله: ما ظننا أن امرأة تهتدي إلى مثل هذا. فالتفت النبي صلى الله عليه وسلم إليها فقال: افهمي أيتها المرأة وأعلمي من خلفك من النساء أن حسن تبعل المرأة لزوجها وطلبها مرضاته وابتغائها موافقته يعدل ذلك كله. فانصرفت المرأة وهي تهلل حتى وصلت إلى نساء قومها من العرب وعرضت عليهن ما قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ففرحن وآمن جميعا» والزواج هو العقد والميثاق الذي على أساسه تقوم رابطة الأسرة ويلتقي الرجل والمرأة ليكونا هذه المؤسسة الاجتماعية الخطيرة الشأن وقد اعتبر الإسلام هذه العلاقة بين الرجل والمرأة قائمة على الرحمة والمودة: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً}
তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ধারণা করিনি যে কোনো নারী এমন উচ্চতর প্রজ্ঞার সন্ধান পাবে।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাঁর দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "হে নারী! তুমি বুঝে নাও এবং তোমার পশ্চাতে থাকা নারীদের জানিয়ে দাও যে, একজন স্ত্রীর তার স্বামীর প্রতি প্রদর্শন করা উত্তম আচরণ (تبعّل), তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ এবং তার ইচ্ছার অনুগামী হওয়া—এই সবকিছুই সেই সকল (পুরুষদের আমলসমূহের) সমতুল্য।" অতঃপর সেই নারী আল্লাহর মহিমা ঘোষণা (تهلل) করতে করতে প্রস্থান করলেন এবং নিজের কওমের আরব নারীদের কাছে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছিলেন তা তাদের কাছে ব্যক্ত করলেন; এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং সকলেই তা বিশ্বাস করলেন। আর বিবাহ হলো এমন এক চুক্তি (عقد) ও অঙ্গীকার (ميثاق) যার ভিত্তিতে পারিবারিক বন্ধন গড়ে ওঠে এবং নারী ও পুরুষ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়। ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যকার এই সম্পর্ককে দয়া ও ভালোবাসার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য করেছে: "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وجعل هدفها السكن وتحقيق السعادة: {لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا} {هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا} {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ} كما أنه أقامها على التراضي والاختيار الحر: {فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ} {وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ} {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا} كما أنه جعل إدارة شأنها واتخاذ القرار داخلها أمرا يتم بالتداول والتشاور بين الزوجين: {وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ} ونجد القرآن في جزئية من جزيئات الشئون الأسرية هي فطام الرضيع فيوليها اهتماما ويحض على أن تتم بالتشاور والتراضي: {فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا}
এবং তিনি এর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন প্রশান্তি ও সুখ অর্জনকে: {যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো} {তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকেই তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি পায়} {তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ}। তদুপরি, তিনি একে পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও স্বাধীন পছন্দের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন: {তবে তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের বিয়ে করতে বাধা দিয়ো না, যখন তারা বিধি মোতাবেক পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়} {এবং সংকটে ফেলার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না সীমা লঙ্ঘন করার জন্য; আর যে এরূপ করবে, সে মূলত নিজের ওপরই জুলুম করল} {হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়}। তেমনিভাবে তিনি এর ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদনযোগ্য করেছেন: {এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে পরামর্শ করো}। আর আমরা পবিত্র কুরআনের পারিবারিক বিষয়ের অন্যতম একটি অংশ তথা শিশুর দুগ্ধপান ত্যাগের ক্ষেত্রেও দেখি যে, এটি এর প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং তা পরামর্শ ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে: {অতঃপর তারা যদি উভয়ে পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও পরামর্শের মাধ্যমে (দুধ) ছাড়াতে চায়, তবে তাদের কোনো গুনাহ হবে না}।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌التشريعات الإسلامية لحماية الحياة الزوجية

وحتى لا يحدث تلاعب بهذه العلاقة تروح ضحية الأسرة بما فيها من أولاد لهم الحق في أن يوفر لهم جو مناسب يتنفسون فيه السعادة ويتربون بدون ضجيج وإزعاج جعل للرجل الحق في الطلاق مرتين فإن طلق الثالثة سد أمامه هذا الطريق وحرمت عليه المرأة حتى تتزوج غيره: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} وحث الإسلام على استمرار هذه الرابطة وكره قطعها من غير مبرر وشرع لذلك جملة تشريعات:

1 / حث كل واحد من الزوجين على إحسان العلاقة بالآخر والقيام بواجبه تجاهه مما يقلل فرص الشقاق ويزرع الحب والمودة في قلب كل واحد منهما تجاه الآخر.

2 / حث على صبر كل واحد من الزوجين على ما يلاقيه من الآخر ما دام ذلك ممكنا وما دام سبيلا لاستمرار هذه العلاقة بشكل مقبول وأثار في نفوس الأزواج الرغبة في دوام هذه الرابطة بفتحه نافذة المستقبل الواعد الزاهر الذي قد يترتب على هذه العلاقة {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا}
দাম্পত্য জীবন সুরক্ষায় ইসলামি বিধানসমূহ

যাতে এই সম্পর্কের সাথে এমন কোনো স্বেচ্ছাচারিতা না ঘটে যার শিকারে পরিণত হয় পরিবার এবং সেই সব সন্তানরা—যাদের অধিকার রয়েছে এমন এক উপযুক্ত পরিবেশে লালিত-পালিত হওয়ার যেখানে তারা সুখের আবহে নিঃশ্বাস নিতে পারবে এবং কোনো প্রকার কোলাহল ও অশান্তি ব্যতিরেকে বেড়ে উঠবে। একারণেই পুরুষের জন্য দুই বার তালাক প্রদানের অধিকার রাখা হয়েছে। তবে সে যদি তৃতীয়বার তালাক প্রদান করে, তবে তার জন্য এই পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং ঐ নারী তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায় যতক্ষণ না সে অন্য কাউকে বিবাহ করে। ইরশাদ হয়েছে: "তালাক দুই বার; অতঃপর হয় বিধিমত রাখা, না হয় সদয়ভাবে বর্জন করা।" ইসলাম এই বন্ধন অব্যাহত রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়া তা ছিন্ন করাকে অপছন্দ করেছে। এ লক্ষ্যে ইসলাম কতিপয় বিধান প্রণয়ন করেছে:

১ / স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেককে অপরজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং একে অপরের প্রতি নিজ দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা বিবাদের আশঙ্কা হ্রাস করে এবং উভয়ের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করে।

২ / স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেককে অপরজনের পক্ষ থেকে আসা প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, যতক্ষণ তা সম্ভব হয় এবং এই সম্পর্কটিকে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় টিকিয়ে রাখার উপায় হিসেবে কাজ করে। ইসলাম স্বামীদের অন্তরে এই বন্ধন স্থায়ী করার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করেছে ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় আশার দিগন্ত উন্মোচনের মাধ্যমে, যা এই সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে অর্জিত হতে পারে। ইরশাদ হয়েছে: "তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন অতিবাহিত করো; অতঃপর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
3 / شرع العدة بعد الطلاق وهي فترة يحق للزوج فيها مراجعة زوجته بدون عقد جديد، فعسى أن تحن نفسه إلى مراجعة زوجته وتحركه ذكرى الأيام الخوالي والذكريات السعيدة إلى ذلك كما أنه قد يكتشف أسبابا للبقاء مع زوجته تفوق تلك التي من أجلها قطع هذا العلاقة.

4 / كما شرع التحكيم وهو أن تتدخل أسرتا الزوجين إذا توترت العلاقة بينهما فيبعثون حكما من أهله وحكما من أهلها لدراسة أسباب الشقاق والبحث عن سبل لتجاوزها لإعادة سفينة الأسرة إلى بر الأمان {وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا} فبهذه كلها حافظ الإسلام على الأسرة، بالإضافة إلى ما ينشره في مجتمعه من حرص على الفضيلة وابتعاد عن الممارسات الضارة كالأكاذيب والشائعات والعلاقات المشبوهة التي غالبا ما تكون سببا في دمار البيوت وخراب العلاقات الاجتماعية وذلك من أجل تحقيق المقاصد التي يعلقها الإسلام على الأسرة والمهام الاجتماعية الجسيمة التي ينوط بها والتي منها.:
৩ / তালাকের পর ইদ্দত পালনের বিধান রাখা হয়েছে; এটি এমন এক সময়কাল যখন স্বামী নতুন কোনো চুক্তি ছাড়াই তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রাখেন। সম্ভবত তার মনে স্ত্রীর প্রতি পুনরায় অনুরাগের সঞ্চার হবে এবং ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি ও আনন্দময় মুহূর্তগুলো তাকে সেদিকে ধাবিত করবে। এছাড়া তিনি হয়তো স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার এমন কিছু কারণ খুঁজে পাবেন যা বিচ্ছেদের কারণগুলোর চেয়েও অধিক গুরুত্ববহ হতে পারে।

৪ / একইভাবে সালিশি ব্যবস্থারও বিধান দেওয়া হয়েছে। এটি হলো—যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন তাদের উভয় পরিবার এতে হস্তক্ষেপ করবে। এমতাবস্থায় স্বামীর পক্ষ থেকে একজন সালিশকারী এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকে একজন সালিশকারী পাঠানো হয় যাতে তারা বিবাদের কারণগুলো পর্যালোচনা করেন এবং পরিবারের তরীকে পুনরায় নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনার পথ অন্বেষণ করেন: "আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে তোমরা স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশকারী এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশকারী নিযুক্ত করো। যদি তারা উভয়েই মিমাংসা চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে ঐক্য দান করবেন।" এ সবকিছুর মাধ্যমে ইসলাম পরিবার সংস্থাকে সুরক্ষা প্রদান করেছে। এর পাশাপাশি ইসলাম সমাজে সচ্চরিত্রতা বজায় রাখা এবং ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড যেমন—মিথ্যাচার, গুজব ও সন্দেহজনক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেয়; যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘর-বাড়ি ধ্বংস এবং সামাজিক সম্পর্ক নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত ইসলাম পরিবারের ওপর যে লক্ষ্যসমূহ অর্পণ করেছে এবং সমাজ গঠনে এর ওপর যে গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেছে, তা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
1 / إنجاب الذرية من أجل أن تستمر الحياة الإنسانية على هذا الكوكب، فاستمرار الحياة متوقف على الإنجاب ولكن هذا الإنجاب لا بد أن يتم وفق نظام وذلك عن طريق الأسرة التي تربي الذرية وتتعهدها حتى تهيأ لمهام المحافظة على الجيل القادم. وقد اعتبر الإسلام إنجاب الذرية من نعم الله وآياته التي يستحق بها الشكر {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً} كما اعتبر الذرية والمال زينة الحياة {الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} وكان من دعاء الرسل أن يهبهم الله الذرية الصالحة، فهذا إبراهيم عليه السلام يقول {رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ}

وهذا زكريا عليه السلام يقول رب هب لي من لدنك وليا وعباد الرحمن يحدثنا القرآن أن من دعائهم {رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ} فاستمرار الحياة الإنسانية على الأرض مقصد من مقاصد الإسلام ولا يتم ذلك على الوجه الأكمل إلا بقيام الأسرة.
১ / এই গ্রহে মানবজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্মদান। জীবনের স্থায়িত্ব সন্তান প্রজননের ওপর নির্ভরশীল, তবে এই সন্তান জন্মদান অবশ্যই একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অধীনে হতে হবে এবং তা পরিবারের মাধ্যমে; যা পরবর্তী প্রজন্মকে লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান করে যাতে তারা আগামী প্রজন্মের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনে যোগ্য হয়ে ওঠে। ইসলাম সন্তান জন্মদানকে আল্লাহর নেয়ামত এবং তাঁর সেই সব নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছে যার জন্য শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক। {আর আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন}। তেমনিভাবে তিনি সম্পদ ও সন্তানকে পার্থিব জীবনের শোভা হিসেবে গণ্য করেছেন: {ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য}। রাসূলগণের অন্যতম প্রার্থনা ছিল আল্লাহ যেন তাঁদের সৎকর্মশীল (صالح) সন্তান দান করেন। যেমন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক সৎকর্মশীল (صالح) সন্তান দান করুন}।

তেমনি জাকারিয়া আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন। আর 'ইবাদুর রহমান' বা রহমানের বান্দাদের দোয়া সম্পর্কে কুরআন আমাদের জানায় যে তাঁদের প্রার্থনা ছিল: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের বংশধরদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর দান করুন}। সুতরাং পৃথিবীতে মানবজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, আর তা পরিবার গঠন ব্যতীত পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
2 / تنظيم الطاقة الجنسية: فقد ركب الله سبحانه في الإنسان الطاقة الجنسية التي بها استمرار الحياة وهذه الطاقة لا يسعى الإسلام إلى كبتها أو مشاكستها وإنما يسعى إلى تصريفها بطريق منظم لا تنتج عنه مخاطر على المجتمع وهذا الطريق هو تكوين الأسرة.

3 / تقاسم أعباء الحياة والمشاركة في تكاليفها: فالإنسان بمفرده ضعيف عن حمل هذه الأعباء فإذا شعر بوجود من يقوم معه بحمل هذه الأعباء ويقاسمه مسرات وأحزان الحياة دفعه ذلك إلى مزيد من التضحية والبذل والصبر على تجاوز الصعوبات وتذليل العقبات.

4 / تربية الأجيال الجديدة التي تخلف الجيل السابق وتحمل أمانة الاستخلاف لمن بعدها وتزويد الحياة بعناصر الإعمار والبناء فالتربية القديمة التي ينشأ فيها الجيل الجديد قوي العزيمة راسخ الإيمان سليم البنية أبي النفس عالي الهمة ضرورية لأخذ مهام الاستخلاف بقوة وهي لا تتم على الوجه المطلوب إلا في ظل حياة أسرية سعيدة يشعر فيها الأبوان بالمسئولية المشتركة عن الأبناء ويؤدي كل منهما الواجب الذي عليه.

ومن هنا أكد الإسلام على الوالدين أن يقوما بواجب الرعاية والتربية نحو الأبناء وجعل كل منهما راعيا ومسئولا عن رعيته.
২ / যৌন শক্তি নিয়ন্ত্রণ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের মধ্যে যৌন শক্তি নিহিত রেখেছেন যার মাধ্যমে জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ইসলাম এই শক্তিকে দমন বা অবদমিত করতে চায় না, বরং একে একটি সুশৃঙ্খল পন্থায় পরিচালিত করতে চায় যাতে সমাজের ওপর কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয়। আর এই পন্থাটি হলো পরিবার গঠন।

৩ / জীবনের বোঝা ভাগ করে নেওয়া এবং এর ব্যয়ভার বহনে অংশগ্রহণ: মানুষ একাকী এই সকল বোঝা বহনে অক্ষম। যখন সে অনুভব করে যে তার সাথে এই দায়িত্ব বহনে কেউ আছে এবং জীবনের সুখ ও দুঃখ ভাগ করে নিচ্ছে, তখন এটি তাকে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বাধাগুলো দূর করতে আরও বেশি ত্যাগ, দান ও ধৈর্যের প্রতি অনুপ্রাণিত করে।

৪ / নতুন প্রজন্মের লালন-পালন যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খিলাফতের আমানত বহন করে এবং জীবনকে আবাদ ও বিনির্মাণের উপাদানে সমৃদ্ধ করে। সুতরাং সেই সুদৃঢ় লালন-পালন—যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, অবিচল বিশ্বাসী, সুস্থ দেহের অধিকারী, আত্মমর্যাদাশীল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসেবে গড়ে ওঠে—তা খিলাফতের দায়িত্বগুলো জোরালোভাবে পালনের জন্য অপরিহার্য। আর এটি একটি সুখী পারিবারিক জীবন ব্যতীত যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় না, যেখানে পিতা-মাতা সন্তানদের প্রতি যৌথ দায়িত্ব অনুভব করেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করেন।

আর এখান থেকেই ইসলাম পিতা-মাতাকে সন্তানদের যত্ন ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং তাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ও তার অধীনস্তদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
5 / حفظ النسب فالإسلام يسعى إلى تقوية الروابط الاجتماعية وتوثيقها حتى يتم الانسجام داخل المجتمع ويكتسب قوة داخلية وحصانة ضد عوامل الهدم كما يحرص الإسلام على تحديد المسؤوليات الاجتماعية كمسؤوليات التربية والرعاية والقيام على مصالح الأبناء، فإنه يرفض أن يتهرب الأب من هذه المسؤوليات وتبقى الأمم وحدها هي الضحية ومن هنا حرص على حفظ النسب حتى يتجنب المجتمع الكوارث الاجتماعية التي عادة ما تنشأ عن فوضى العلاقات الجنسية.
5 / বংশধারা সংরক্ষণ (حفظ النسب): ইসলাম সামাজিক বন্ধনসমূহকে শক্তিশালী ও প্রামাণিককরণ (توثيق) করার প্রয়াস চালায়, যাতে সমাজের অভ্যন্তরে সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সমাজ অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ধ্বংসাত্মক উপাদানের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অর্জন করে। ইসলাম সামাজিক দায়িত্বসমূহ যেমন—সন্তানদের লালন-পালন, তত্ত্বাবধান ও তাদের কল্যাণের দায়িত্ব পালনকে সুনির্দিষ্ট করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। ইসলাম পিতার এই দায়িত্বসমূহ থেকে পলায়ন করাকে প্রত্যাখ্যান করে, নতুবা জাতিসমূহ এককভাবে এর শিকারে পরিণত হয়। এ কারণেই ইসলাম বংশধারা সংরক্ষণ (حفظ النسب)-এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে সমাজ সেইসব সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় যা সাধারণত বিশৃঙ্খল যৌন সম্পর্ক থেকে সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أ /‌‌ حقوق الزوجة على زوجها:

1 /المهر: وهو الحق المالي الذي يجب على الرجل لامرأته بالعقد عليها أو الدخول بها {وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً} وقد أوجبه الله سبحانه وتعالى إظهارا لمكانة الزواج وتقديرا للمرأة إذا لو أبيح بدون مهر لأدى ذلك إلى امتهان المرأة ولأزال من شعور الرجل قداسة وخطر هذه الرابطة لأنه لا يحس بأنه أنفق شيئا ذا خطر في نفسه في مقابل الزواج من المرأة كذلك فإنه أدعى لاستمرار رابطة الزوجية لأن الزوج يعلم أنه قد ضحى من أجل الحصول على المهر الذي بذله في إقامة هذه الرابطة.
ক /‌‌ স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারসমূহ:

১ / মোহর (المهر): এটি হলো সেই আর্থিক অধিকার যা বিবাহের চুক্তি সম্পাদন অথবা সহবাসের কারণে স্ত্রীর প্রাপ্য হিসেবে স্বামীর ওপর আবশ্যক হয়। "আর তোমরা নারীদের তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিবাহের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে এটি আবশ্যক করেছেন; কেননা মোহর ব্যতীত বিবাহের অনুমতি থাকলে তা নারীর অবমাননার কারণ হতো এবং পুরুষের অন্তর থেকে এই সম্পর্কের পবিত্রতা ও গুরুত্বের অনুভূতি বিলুপ্ত করে দিত। কারণ তখন সে অনুভব করত না যে, নারীর সাথে বিবাহের বিনিময়ে সে মূল্যবান কিছু ব্যয় করেছে। তদুপরি, এটি বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক; কারণ স্বামী জানেন যে, এই সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তিনি যে মোহর প্রদান করেছেন, তা অর্জনে তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
2 / النفقة: وهي ما يصرفه الزوج على زوجته وأولاده من طعام ومسكن وكسوة ونفقة الزوجة هي ما يلزم للوفاء بمعيشتها بحسب ما هو متعارف بين الناس وقد ثبت وجوبها بالكتاب والسنة وذلك في قوله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ} {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف» وتستحق المرأة هذه النفقة متى ما كان عقد الزواج صحيحا وكانت صالحة للمباشرة الزوجية ومكنت الزوج من ذلك، سواء كانت مسلمة أو كتابية غنية أو فقيرة.
২ / ভরণপোষণ: এটি হলো স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের খাদ্য, বাসস্থান ও পোশাক বাবদ যা ব্যয় করেন। আর স্ত্রীর ভরণপোষণ বলতে তার জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটাতে যা আবশ্যক, লোকালয়ে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাকেই বোঝায়। কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) দ্বারা এর আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়েছে। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আর মাতাগণ তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, যারা দুধ পানের সময়কাল পূর্ণ করতে চায়। আর পিতার কর্তব্য হলো যথানিয়মে তাদের আহার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।} {তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে বসবাস কর, তাদেরকেও সেখানে থাকতে দাও। তাদেরকে সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না। আর তারা যদি গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করো।} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «তোমাদের ওপর তাদের জন্য যথানিয়মে আহার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা আবশ্যক»। একজন নারী এই ভরণপোষণের অধিকারী হন যখন বিবাহের চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হয় এবং তিনি দাম্পত্য মিলনের উপযোগী হন ও স্বামীকে সে সুযোগ প্রদান করেন; চাই তিনি মুসলিম হোন বা কিতাবী, ধনী হোন বা দরিদ্র।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 /عدم الإضرار بالزوجة: فمن حقها أن لا يؤذيها بقول أو فعل أو خلق فالإضرار بها غير جائز {فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ} وإذا خالف الزوج أدب الإسلام وآذاها كان من حقها أن ترفع أمرها إلى القضاء لينصفها ويزجره عما فعل بل يرى بعض الفقهاء أن من حقها أن تطلب التفريق للضرر الواقع عليها وللقاضي أن يحكم بطلاقها جبرا على الزوج طلاقا بائنا (لا حق للزوج في إرجاعها)
৩ / স্ত্রীর ক্ষতি না করা: এটি তার অধিকার যে স্বামী তাকে কথা, কাজ বা আচরণের মাধ্যমে কষ্ট দেবে না; কেননা তার ক্ষতিসাধন করা বৈধ নয়। {অতঃপর তোমরা হয় বিধিসম্মতভাবে তাদের রেখে দাও অথবা বিধিসম্মতভাবে তাদের বিদায় দাও। আর তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না যাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন করো। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে নিশ্চয়ই নিজের ওপর জুলুম করল}। স্বামী যদি ইসলামের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে এবং তাকে কষ্ট দেয়, তবে বিষয়টি বিচারালয়ে পেশ করার অধিকার স্ত্রীর রয়েছে, যাতে আদালত তাকে ন্যায়বিচার প্রদান করেন এবং স্বামীকে তার কৃতকর্মের জন্য শাসন করেন। এমনকি কোনো কোনো ফকীহ মনে করেন যে, তার ওপর আপতিত ক্ষতির কারণে বিচ্ছেদ দাবি করার অধিকার তার রয়েছে এবং বিচারকের এই এখতিয়ার রয়েছে যে তিনি স্বামীর ওপর বাধ্যতামূলকভাবে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রায় প্রদান করবেন (যে ক্ষেত্রে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো অধিকার স্বামীর থাকে না)।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ب /‌‌ حقوق الزوج على زوجته

1 /الطاعة بالمعروف في غير معصية الله: وذلك حتى تقوم العلاقة الأسرية على أساس متين من النظام والانضباط يحترم كل طرف فيه التزاماته التي يقتضيها هذا العقد.

2 /ولاية التأديب: فمن أجل الحفاظ على الأسرة جعل الإسلام رئاسة هذه المؤسسة في يد الزوج وذلك كما سبق مقابل المسؤوليات التي ألقاها الإسلام على عاتقه تجاه هذه المؤسسة. وقد نشأ عن هذا الحق أن الزوج إذا تمردت عليه الزوجة وامتنعت من أداء حقوقه عليها كزوج بأن لم تمكنه من المعاشرة كان للزوج تأديبها لهذا السبب وهو تأديب يمر بثلاثة مراحل:

المرحلة الأولى الموعظة: بأن يذكرها ما أوجب الله عليها من حقوق تجاه زوجها بموجب هذا العقد.

المرحلة الثانية الهجران: بأن يعتزلها في المضجع فلا يبيت معها ويعرض عنها.
খ /‌‌ স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকারসমূহ

১ / আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত সঙ্গত বিষয়ে আনুগত্য (الطاعة): আর এটি এই জন্য যাতে পারিবারিক সম্পর্ক শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রত্যেক পক্ষ এই চুক্তির দাবি অনুযায়ী তার নিজ নিজ দায়বদ্ধতাকে সম্মান করবে।

২ / শিষ্টাচার শিক্ষা প্রদানের অভিভাবকত্ব (ولاية التأديب): পরিবার রক্ষার স্বার্থে ইসলাম এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব স্বামীর হাতে ন্যস্ত করেছে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত সেই সকল দায়িত্বের বিনিময়ে যা ইসলাম এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার ওপর অর্পণ করেছে। এই অধিকার থেকেই এটি উদ্ভূত হয়েছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয় এবং স্বামী হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার আদায়ে অস্বীকৃতি জানায় যেমন- দাম্পত্য মেলামেশার সুযোগ না দেয়, তবে স্বামী তাকে এই কারণে শিষ্টাচার শিক্ষা (تأديب) দিতে পারেন। আর এই শিষ্টাচার শিক্ষা তিনটি পর্যায় অতিক্রম করে:

প্রথম পর্যায় উপদেশ দান (الموعظة): এই চুক্তির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার স্বামীর প্রতি যে সকল অধিকার অপরিহার্য (واجب) করেছেন, সে সম্পর্কে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

দ্বিতীয় পর্যায় শয্যা ত্যাগ (الهجران): শয্যায় তার থেকে পৃথক থাকা, অর্থাৎ তার সাথে রাত যাপন না করা এবং তার থেকে বিমুখ থাকা।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المرحلة الثالثة الضرب الخفيف غير المبرح: ويستحب أن لا يمارس هذا الحل الأخير لقوله صلى الله عليه وسلم في الذين يضربون زوجاتهم «ليس أولئك خياركم» ومع ذلك فهو ضرب بالسواك- وهو عود من جذور بعض الأشجار لا تأثير في البدن بالضرب به- ونحوه والقصد منه معنوي بالأساس. وعلى هذا دل قوله تعالى: {وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا}
তৃতীয় পর্যায়: হালকা এবং কঠোর (غير مبرح) নয় এমন প্রহার: আর এটি পছন্দনীয় (يستحب) যে এই সর্বশেষ সমাধানটি যেন প্রয়োগ করা না হয়; কারণ যারা তাদের স্ত্রীদের প্রহার করে তাদের সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তারা তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নয়।" তা সত্ত্বেও এটি মেসওয়াক—যা নির্দিষ্ট কিছু গাছের শিকড় এবং যা দিয়ে আঘাত করলে শরীরে কোনো প্রভাব পড়ে না—বা অনুরূপ কিছু দিয়ে প্রহার করাকে বোঝায় এবং এর উদ্দেশ্য মূলত প্রতীকী। আর মহান আল্লাহর এই বাণী একথাই নির্দেশ করে: {আর যাদের মধ্যে তোমরা অবাধ্যতার (نشوز) আশঙ্কা করো, তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা বর্জন করো এবং তাদেরকে প্রহার করো। অতঃপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান।}
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ج /‌‌ الحقوق المشتركة

1 /حق الاستمتاع: وهو حق مشترك بين الزوجين كما يدل عليه قوله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} كما أن من مقاصد الزواج عفاف كل واحد من الزوجين وإيجاد الحل النظيف للمسألة الجنسية وذلك لا يتم إلا بأن يكون هذا الحق مشتركا وقد اتفق الفقهاء على وجوب الاتصال الجنسي على الزوج بزوجته حسب قدرته واستطاعته، وإلا كان لها الحق في الانفصال عنه.

2 /حسن المعاشرة: - فكل واحد من الزوجين مطالب بإحسان الصلة بالآخر حتى يسود الأسرة جو من التواد والتعاون ليحقق مقصد هذه العلاقة {إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} {وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا} {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ}
গ /‌‌ যৌথ অধিকার (الحقوق المشتركة)

১ / সম্ভোগের অধিকার (حق الاستمتاع): এটি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার একটি যৌথ অধিকার (حق مشترك), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা প্রমাণিত: {এবং নারীদেরও তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন রয়েছে তাদের ওপর পুরুষদের}। তেমনিভাবে বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের চারিত্রিক পবিত্রতা (عفاف) রক্ষা করা এবং যৌন সমস্যার একটি পরিচ্ছন্ন সমাধান নিশ্চিত করা; আর এটি তখনই সম্ভব যখন এই অধিকারটি যৌথ হিসেবে গণ্য হয়। ফকিহগণ (الفقهاء) স্বামীর সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার আবশ্যকতা (وجوب) বিষয়ে একমত হয়েছেন; অন্যথায় স্ত্রীর অধিকার থাকবে স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার।

২ / সদ্ব্যবহার (حسن المعاشرة): স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেকের নিকট দাবি করা হয়েছে যেন তারা একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে, যাতে পরিবারে হৃদ্যতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বিরাজ করে এবং এই সম্পর্কের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়। {যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} {এবং তিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি পায়} {তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ}
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
3 /حق الإرث: ويثبت في الزواج الصحيح إذا مات أحد الزوجين حال قيام الرابطة الزوجية حقيقة أو حكما بأن كانت الزوجة في العدة. وقد حدد القرآن هذا الحق في الآية الكريمة: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} وقد جعل الإسلام للرجل في الميراث ضعف ما للمرأة في بعض الحالات وذلك لاعتبارات موضوعية تتمثل في أن الرجل مكلف بالإنفاق على نفسه وزوجته وأولاده، والمرأة لم تكلف بالإنفاق على أي من أولئك ومن هنا كان العدل أن تتكافأ الحقوق مع الوجبات فيعطي للرجل على قدر مسؤولياته.

بحث متقدم

البشير للأخبار

محاور إعلامية

مقالات

قلم المشرف

بيت الأسرة

المسلمون حول العالم

ثقافة ونقد وإبداع

الملتقى الإداري

بحوث ودراسات

طب وصحة

صوتيات

دروس علمية

إلى الإسلام
৩ / উত্তরাধিকারের অধিকার: এটি সঠিক (صحيح) বিবাহের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয় যখন স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাবস্থায় প্রকৃতপক্ষে অথবা আইনগতভাবে (যেমন স্ত্রী ইদ্দত পালনরত অবস্থায় থাকা) মৃত্যুবরণ করেন। কুরআন এই অধিকারটিকে এই মহান আয়াতে সুনির্দিষ্ট করেছে: “তোমাদের স্ত্রীদের ত্যাজ্য সম্পত্তিতে তোমাদের জন্য অর্ধেক অংশ রয়েছে যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে; কিন্তু যদি তাদের সন্তান থাকে তবে তোমাদের জন্য তাদের ত্যাজ্য সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ, তারা যে অসিয়ত করে তা পালন করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের ত্যাজ্য সম্পত্তিতে তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে; কিন্তু যদি তোমাদের সন্তান থাকে তবে তোমাদের জন্য তাদের ত্যাজ্য সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ, তোমরা যে অসিয়ত করো তা পালন করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর।” ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে মিরাসে পুরুষের জন্য নারীর দ্বিগুণ অংশ নির্ধারণ করেছে এবং তা কিছু বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনার কারণে। তা হলো এই যে, পুরুষ নিজের, নিজের স্ত্রী এবং সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য দায়বদ্ধ, পক্ষান্তরে নারী এদের কারো ভরণপোষণের জন্য দায়বদ্ধ নয়। এখান থেকেই ন্যায়বিচার (আদল) নিশ্চিত হয়েছে যে, অধিকারগুলো যেন কর্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, ফলে পুরুষকে তার দায়িত্বের পরিমাণ অনুযায়ী অংশ প্রদান করা হয়েছে।

উন্নত অনুসন্ধান

আল-বাশির নিউজ

মিডিয়া পরিমণ্ডল

প্রবন্ধসমূহ

সম্পাদকের কলম

পারিবারিক নীড়

বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ

সংস্কৃতি, সমালোচনা ও সৃজনশীলতা

প্রশাসনিক ফোরাম

গবেষণা ও অধ্যয়ন

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য

অডিওসমূহ

ইলমি দরসসমূহ

ইসলামের পথে
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
التاريخ الهجري 1425-7-13 توقيت مكة 2: 31 التاريخ الميلادي 2004-8-29 توقيت جرينتش 31: 0
হিজরি তারিখ ১৪২৫-৭-১৩ মক্কা সময় ২: ৩১ ঈসায়ী তারিখ ২০০৪-৮-২৯ গ্রিনিচ সময় ৩১: ০
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌حقوق الأولاد

الأولاد هم الثمرة المرجوة من الزواج، والإنجاب هو المقصد الأهم من مقاصد النكاح وذلك لأنهم يمثلون بذور الحياة الإنسانية في المستقبل والجيل الجديد الذي يرث الحياة ويحفظ استمرارها عبر الزمن لذلك كان لا بد من الاعتناء بهم عناية خاصة حتى يشبوا قادرين على الاحتفاظ بأمانة الاستخلاف الإنساني في الأرض وتسليمها إلى الجيل الذي يأتي بعدهم ولا يتم ذلك إلا بإيجاد الضمانات الكافية لصحتهم النفسية والجسمية والعقلية والروحية. من أجل ذلك اعتنى الإسلام بشأن الأولاد وجعل لهم على الأسرة أما وأبا حقوقا يجب عليهما القيام بها كما ينبغي وهذه الحقوق تشتمل في الآتي:

1 /ثبوت النسب وقد اعتنت الشريعة الإسلامية بثبوت النسب وحرمت على الأباء أن ينكروا أبناءهم أو يدعوا بنوة غير أبنائهم لهم وأمرت بسبة الأولاد إلى آبائهم {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ}
সন্তানাদির অধিকার

সন্তানাদি হলো বিবাহের কাঙ্ক্ষিত ফল এবং সন্তান জন্মদান হলো বিবাহের উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এর কারণ হলো তারা ভবিষ্যতে মানবজীবনের বীজের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারাই সেই নতুন প্রজন্ম যারা জীবনের উত্তরাধিকার লাভ করে এবং কালের বিবর্তনে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। তাই তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া অপরিহার্য, যাতে তারা পৃথিবীতে মানবীয় খেলাফতের আমানত রক্ষা করতে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়ে গড়ে ওঠে। আর এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক, শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব। একারণেই ইসলাম সন্তানদের বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং পিতা ও মাতার ওপর তাদের জন্য এমন কিছু অধিকার ন্যস্ত করেছে যা যথাযথভাবে পালন করা তাঁদের জন্য আবশ্যক। এই অধিকারগুলো নিম্নরূপ:

১ / বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্তকরণ: ইসলামি শরিয়ত বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্তকরণের বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং পিতাদের জন্য তাদের সন্তানদের অস্বীকার করা অথবা অন্যের সন্তানকে নিজেদের সন্তান হিসেবে দাবি করাকে হারাম ঘোষণা করেছে। ইসলাম সন্তানদের তাদের প্রকৃত পিতাদের পরিচয়ে সম্বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছে: "তোমরা তাদেরকে তাদের পিতাদের পরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটিই অধিকতর ন্যায়সংগত।"
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
2 /الرضاع: وهو من النفقة الواجبة على الأب لابنه بمعنى أنه ملزم قانونا بإعداد المرضع ودفع أجرة الرضاعة إذا امتنعت الأم عنها أو كانت في وضع لا يمكنها منها. أما الأم فتطالب بذلك دينا أي فيما بينها وبين ربها لا قضاء إلا إذا كان الولد بحال لا يستغني عن إرضاعها كأن لم توجد مرضع غيرها أو رفض رضاع غيرها.

3 /الحضانة: وهي تربية الولد ورعاية شئونه ممن هو مطالب بالحضانة شرعا والأم هي أول من تكون عليه مسؤولية حضانة الصغير ما لم تتزوج من غير أبيه وذلك تبعا لما لها على ولدها من عطف وحنان فطري وإذا أسقطت الحضانة عن الأم قدمت قرابتها على الأب وعلى قرابته.
2 / স্তন্যদান (الرضاع): এটি পিতার ওপর তার সন্তানের জন্য আবশ্যকীয় ভরণপোষণের (النفقة) অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ হলো, যদি মাতা স্তন্যদান করতে অস্বীকার করেন অথবা এমন পরিস্থিতিতে থাকেন যেখানে তিনি স্তন্যদানে সক্ষম নন, তবে পিতা আইনত একজন ধাত্রীর ব্যবস্থা করতে এবং স্তন্যদানের মজুরি প্রদান করতে বাধ্য। তবে মাতার ক্ষেত্রে এটি কেবল ধর্মীয়ভাবে (دينا) অর্থাৎ তার ও তার রবের মধ্যবর্তী বিষয় হিসেবে দাবিযোগ্য, আইনগতভাবে (قضاء) নয়; যতক্ষণ না সন্তান এমন অবস্থায় থাকে যেখানে তার স্তন্যদান ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই—যেমন অন্য কোনো ধাত্রী পাওয়া না গেলে অথবা শিশু অন্য কারো স্তন্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে।

3 / শিশু প্রতিপালন (الحضانة): এটি হলো শরিয়তসম্মতভাবে (شرعا) যার ওপর শিশু প্রতিপালনের দায়িত্ব অর্পিত, তার মাধ্যমে সন্তানের লালন-পালন ও তার যাবতীয় বিষয়াদি দেখাশোনা করা। মাতা হলেন সন্তানের লালন-পালনের প্রাথমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না তিনি সন্তানের পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে বিবাহ করেন। এটি সন্তানের প্রতি মাতার সহজাত মমতা ও অনুরাগের কারণে। আর যদি মাতার ওপর থেকে শিশু প্রতিপালনের অধিকার বিলুপ্ত হয়, তবে পিতা ও তার আত্মীয়দের তুলনায় মাতার আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
4 /حسن التربية: وذلك بإعدادهم إعدادا صالحا بتنمية الدين والأخلاق في نفوسهم ومجتمعاتهم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا كلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته فالإمام الأعظم الذي على الناس راع وهو مسئول عن رعيته والرجل راع على أهل بيته وهو مسئول عن رعيته والمرأة راعية في بيت زوجها وولده وهي مسئولة عن رعيتها وعبد الرجل راع على مال سيده وهو مسئول عنه ألا فكلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته» ويدخل في ذلك مقصد تعليمهم وحسن توجيههم وتوفير الظروف الملائمة التي تمكنهم من القيام بواجبهم في التعليم.

5 /العدل بين الأولاد: والعدل قيمة من قيم الإسلام الأساسية في جميع الأمور وفي كل الأحوال: كما قال الله تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اتقوا الله واعدلوا في أولادكم» ذلك «أن النعمان بن بشير أعطى ابنا له عطاء فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك فقال له صلى الله عليه وسلم: أفعلت هذا بولدك كلهم قال: لا قال صلى الله عليه وسلم اتقوا الله واعدلوا في أولادكم»
৪ / উত্তম প্রতিপালন: আর তা হলো তাদের মন ও সমাজে দ্বীন ও নৈতিকতার বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। অতএব, জনগণের ওপর আসীন সর্বোচ্চ নেতা একজন দায়িত্বশীল এবং তিনি তার প্রজাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের ওপর দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর দাসের ওপর তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পিত এবং সে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।» সন্তানদের শিক্ষার লক্ষ্য, তাদের উত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তাদেরকে শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তোলে।

৫ / সন্তানদের মাঝে ইনসাফ: ইনসাফ হলো সমস্ত বিষয়ে এবং সকল অবস্থায় ইসলামের অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ। যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করার বিষয়ে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটি তাকওয়ার নিকটতর।} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: «আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।» এটি এ কারণে যে, «নুমান ইবনে বশীর তার এক সন্তানকে কিছু দান করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সে বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি তোমার সকল সন্তানের ক্ষেত্রে এরূপ করেছ? তিনি উত্তর দিলেন: না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।»
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
6 /حسن اختيار الاسم له: ذلك لأن الاسم الجديد له معنى وله مدلول وقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على أن يختار الأب لولده اسما حسنا وأن يبتعد عن الأسماء المستكرهة أو تلك التي تشتمل على معان غير لائقة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إنكم تدعون يوم القيامة بأسمائكم وبأسماء آبائكم فأحسنوا أسماءكم» وقال صلى الله عليه وسلم «إن أحب أسمائكم عند الله عز وجل عبد الله وعبد الرحمن»

 

المقصود بالولاية على النفس: هو الإشراف على التصرفات المتعلقة بنفس القاصر من حيث التعليم والتربية والرعاية والحماية حتى التزويج.
৬ / সন্তানের জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন: এর কারণ হলো নতুন নামের একটি অর্থ ও তাৎপর্য (مدلول) রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতাকে তার সন্তানের জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করতে এবং অপছন্দনীয় (المستكرهة) কিংবা অনুপযুক্ত অর্থ সম্বলিত নামসমূহ পরিহার করতে উৎসাহিত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতাদের নামে আহ্বান করা হবে, সুতরাং তোমরা তোমাদের নামগুলো সুন্দর করো।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, "আল্লাহর নিকট তোমাদের নামসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।"

 

ব্যক্তির ওপর অভিভাবকত্ব (الولاية على النفس) বলতে যা বোঝায়: তা হলো শিক্ষা, লালন-পালন, যত্ন ও সুরক্ষা এবং এমনকি বিবাহ পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক (القاصر) ব্যক্তির কার্যাবলি তত্ত্বাবধান করা।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الغاية من الولاية على النفس: إن الإنسان ينشأ في هذا الوجود ضعيفا لا يقوى على الانفراد بمواجهته إلا بعد زمن طويل. فإذا كانت رعاية الحيوان لصغاره قصيرة، فرعاية الإنسان لأولاده طويلة، تمتد خمسة عشر عاما على الأقل بينما الحيوان لا تمتد رعايته لصغاره لأكثر من بضعة أسابيع أو أشهر على الأكثر ولهذا الضعف الذي يصحب الإنسان منذ ولادته نظم الإسلام له ولاية لرعايته وحمايته حتى يستوي شابا قويا يعتمد على نفسه ويختلف ذلك باختلاف الأزمان فإنه كلما تعقدت أساليب الحياة كان الضعف لا يزول إلا بكثرة الدراية والخبرة بالحياة، كما أن ذلك يختلف بحسب نوع الإنسان من حيث الذكورة والأنوثة فإن الذكر يبلغ درجة القوة والاستغناء قبل الأنثى التي يجب أن يرعاها ويحفظها وليها سواء كان أبا أو زوجا.

 

أنواع الولايات على الإنسان:
ব্যক্তির ওপর অভিভাবকত্বের (الولاية على النفس) মূল লক্ষ্য: নিশ্চয়ই মানুষ এই মহাবিশ্বে দুর্বল (ضعيف) অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, ফলে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সে এককভাবে এর মোকাবিলা করার শক্তি লাভ করে না। যদি পশুর ক্ষেত্রে তার শাবকের লালন-পালনের সময়কাল সংক্ষিপ্ত হয়, তবে মানুষের ক্ষেত্রে তার সন্তানের লালন-পালনের সময়কাল দীর্ঘ; যা কমপক্ষে পনের বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অথচ পশুর ক্ষেত্রে তার শাবকের রক্ষণাবেক্ষণ বড়জোর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের বেশি দীর্ঘ হয় না। জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের সাথে লেগে থাকা এই দুর্বলতার (الضعف) কারণেই ইসলাম তার লালন-পালন ও নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকত্বের (ولاية) ব্যবস্থা করেছে, যতক্ষণ না সে একজন শক্তিশালী যুবক হিসেবে গড়ে ওঠে এবং স্বাবলম্বী হয়। এটি সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভিন্নতর হয়; কেননা জীবনযাত্রার পদ্ধতি যত জটিল হয়, প্রজ্ঞা ও জীবনবোধের অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়া এই দুর্বলতা (الضعف) দূর হয় না। তদ্রূপ নারী ও পুরুষভেদেও এতে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; কেননা পুরুষ, নারীর তুলনায় দ্রুত সামর্থ্য ও অমুখাপেক্ষিতার স্তরে পৌঁছে যায়, যার (নারীর) অভিভাবক (ولي) কর্তৃক যত্ন ও সুরক্ষা পাওয়া অপরিহার্য, চাই তিনি পিতা হোন বা স্বামী।

 

মানুষের ওপর অভিভাবকত্বের (الولايات) প্রকারভেদ:
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
1 /الولاية على النفس: وهي التي يقوم فيها وليه برعاية شئونه منذ ولادته ففي فترة الحضانة تحتضنه الأم وتسقيه من ثديها الغذاء ومن صدرها العطف والحنان حتى ترى فيه النوازع والعواطف الإنسانية. وقد حث الإسلام على استيفاء الرضاعة لعامين قال الله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} والولاية في هذه الفترة خاصة بالأم أو امرأة أخرى تقوم مقامها، لأن الطفل في هذه المدة يحتاج إلى أمومة مستمرة حتى يصبح غلاما يألف الناس ويألفونه أما الوالد فإنه يشارك في هذه الفترة بالإنفاق على الأم حتى تقوم بواجبها لذا كانت النفقة واجبة عليه فلو حدث أن أم الطفل لم تستطيع إرضاعه لقلة لبنها أو لمرضها وجب على الأب أن يدفع المال لامرأة أخرى تقوم بإرضاعه قال الله تعالى: {وَإِنْ أَرَدْتُمْ أَنْ تَسْتَرْضِعُوا أَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُمْ مَا آتَيْتُمْ بِالْمَعْرُوفِ} ثم إن الأب يشارك كذلك بالولاية على النفس بالعناية والتهذيب والإصلاح والحماية حتى إذا انقضت فترة الحضانة استقل الأب بالولاية على النفس فيكون هو
১/ ব্যক্তিগত অভিভাবকত্ব: এটি এমন এক বিষয় যেখানে অভিভাবক (সন্তানের) জন্মের সূচনা থেকেই তার যাবতীয় বিষয়াবলির তত্ত্বাবধান করেন। লালন-পালনকালীন সময়ে মা শিশুকে নিজের সান্নিধ্যে রাখেন এবং নিজের বক্ষ থেকে তাকে পুষ্টি, মায়া ও মমতা দান করেন, যতক্ষণ না তার মধ্যে মানবিক প্রবৃত্তি ও আবেগ-অনুভূতির সঞ্চার হয়। ইসলাম পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পানের সময়কাল পূর্ণ করতে চায়}। এই পর্যায়ে অভিভাবকত্ব কেবল মা অথবা তাঁর স্থলাভিষিক্ত কোনো নারীর জন্য নির্ধারিত; কারণ এই সময়কালে শিশুটি নিরবচ্ছিন্ন মাতৃত্বের সান্নিধ্যের মুখাপেক্ষী থাকে, যতক্ষণ না সে মানুষের সাথে পরিচিত হয় এবং মানুষও তাকে চিনে নেয়। অন্যদিকে পিতা এই সময়ে মায়ের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের মাধ্যমে অভিভাবকত্বে শরিক হন যাতে মা তাঁর কর্তব্য পালন করতে পারেন। একারণেই (মায়ের) ভরণপোষণ প্রদান করা পিতার ওপর আবশ্যক। যদি এমন হয় যে, দুধের স্বল্পতা বা অসুস্থতার কারণে মা দুধ পান করাতে সক্ষম নন, তবে অন্য কোনো নারীর মাধ্যমে দুধ পান করানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করা পিতার ওপর আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদের অন্য কারো দ্বারা দুধ পান করাতে চাও, তবে তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই, যদি তোমরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যা দেওয়ার তা প্রদান করো}। এছাড়া পিতাও যত্ন, শিষ্টাচার শিক্ষা, সংস্কার ও সুরক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিভাবকত্বে অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর যখন লালন-পালনের মেয়াদকাল অতিক্রান্ত হয়, তখন পিতাই ব্যক্তিগত অভিভাবকত্বে স্বতন্ত্র হয়ে যান এবং তিনিই হন
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
المسؤول مباشرة عن الصبي ولهذه الولاية أهمية قصوى في حياة الأطفال إذ هي التي يصلح بها الناشئة وتجعل المجتمع قائما على التآلف والحفاظ على وشائج القربى وصلة الأرحام ورعاية حقوق الوالدين، وبذلك يقل في المجتمع الشذوذ والانحراف السلوكي والأخلاقي للأطفال كما تختفي ظاهرة تشرد الأطفال وتسولهم وجنوحهم إلى الجرائم. لأن الأطفال دائما يكونون تحت الرعاية المباشرة لوالديهم في حال استقرار حياتهما الزوجية أو في رعاية من تؤول إليه الولاية حال انفصالها بالطلاق أو إلى وال ينوب عنهما حال وفاة صاحب الحق في الولاية أو فقده لشرط من شروطها.
শিশুর জন্য সরাসরি দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং শিশুদের জীবনে এই অভিভাবকত্বের (الولاية) গুরুত্ব অপরিসীম; কেননা এর মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের সংশোধন হয় এবং এটি সমাজকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখা এবং পিতা-মাতার অধিকার সংরক্ষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। এর ফলে সমাজে শিশুদের অস্বাভাবিকতা এবং আচরণগত ও চারিত্রিক বিচ্যুতি হ্রাস পায়, সেই সাথে শিশুদের আশ্রয়হীনতা, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অপরাধপ্রবণতার মতো বিষয়গুলোও তিরোহিত হয়। কারণ বৈবাহিক জীবন স্থিতিশীল থাকাকালীন শিশুরা সর্বদা তাদের পিতা-মাতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকে, অথবা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটলে যার ওপর অভিভাবকত্ব (الولاية) অর্পিত হয় তার তত্ত্বাবধানে থাকে, কিংবা অভিভাবকত্বের (الولاية) অধিকারীর মৃত্যু হলে অথবা তার কোনো শর্ত (شرط) অনুপস্থিত থাকলে যে অভিভাবক তাদের স্থলাভিষিক্ত হন, তারা তার অধীনে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
2 /الولاية على المال: وهي مختصة برعاية مال الصغير والمجنون إن كان لهما مال - بإدارته وتنميته وتزكيته حفظا وصونا ذلك أن الصغير لا يستطيع مباشرة ماله وتنميته وحمايته لذا يتولى ذلك الولي على ماله إلى أن يبلغ الصغير الرشد الذي يمكنه من القيام على ماله. كما قال الله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا} ويلاحظ أن الولي على النفس ليس هو دائما الولي على المال إلا إذا أوكل إليه ذلك. أما إذا لم يوكل إليه القيام على المال فإن القائم على المال يكون الوصي الذي عهد إليه ذلك من قبل الأب وإلا فإن القاضي يختار له من يصلح للقيام بذلك.

 

أسباب الولاية على النفس:

تثبت الولاية على النفس حيث يتحقق أحد أمرين: -

الأول: العجز عن وقوف الشخص وحده في الحياة واحتياجه إلى من يحميه ويقوم على شئونه في معترك الحياة.
২ / সম্পদের উপর অভিভাবকত্ব (الولاية على المال): এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক (الصغير) ও অপ্রকৃতিস্থ (المجنون) ব্যক্তির সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের সাথে নির্দিষ্ট—যদি তাদের সম্পদ থাকে—তা পরিচালনা, বৃদ্ধি এবং পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য। কারণ, অপ্রাপ্তবয়স্ক (الصغير) ব্যক্তি সরাসরি তার সম্পদ পরিচালনা, বৃদ্ধি ও সুরক্ষা করতে সক্ষম নয়, তাই তার সম্পদের অভিভাবক (الولي) এই দায়িত্ব পালন করেন যতক্ষণ না অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এমন প্রাজ্ঞতা (الرشد) অর্জন করে যা তাকে তার সম্পদ পরিচালনায় সক্ষম করে তোলে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়; অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে প্রাজ্ঞতা (رشدًا) অনুভব করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট হস্তান্তর করো; আর তারা বড় হয়ে যাবে বলে তোমরা অপচয় করে ও তাড়াহুড়া করে তা ভক্ষণ করো না।} লক্ষণীয় যে, জীবনের অভিভাবক (الولي على النفس) সর্বদা সম্পদের অভিভাবক (الولي على المال) হন না, যতক্ষণ না তাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তবে যদি তাকে সম্পদ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা না হয়, তবে সম্পদের দায়িত্ব পালনকারী হবেন সেই ওছি (الوصي) যাকে পিতার পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, অন্যথায় বিচারক (القاضي) তার জন্য এই কাজের যোগ্য কাউকে নির্বাচন করবেন।

 

জীবনের উপর অভিভাবকত্বের (الولاية على النفس) কারণসমূহ:

জীবনের উপর অভিভাবকত্ব (الولاية على النفس) তখন সাব্যস্ত হয় যখন দুটি বিষয়ের একটি বাস্তবায়িত হয়: -

প্রথমত: জীবনে একাকী চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তির অক্ষমতা এবং জীবন-সংগ্রামে তাকে সুরক্ষা প্রদান ও তার বিষয়াদি তদারকি করার জন্য কারো প্রয়োজনীয়তা।
(খণ্ড: ১) আল উসরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الثاني: أن يكون الشخص في حاجة إلى التأديب والتهذيب والتعود على العادات الإسلامية الكريمة وبالنظر في أحوال الناس نجد أن هذين الأمرين يتحققان في ثلاثة أسباب هي: الصغر - والجنون - أو العته والأنوثة في دائرة خاصة.

السبب الأول: الصغر: يولد الإنسان ضعيفا محتاجا لمن يقوم على احتياجاته وهو في ذلك يمر بمرحلتين.

المرحلة الأولى: مرحلة فقد التمييز: وهذه المرحلة لا تكون التبعة فيها ملقاة على الولي، بل يشاركه فيها الحاضنة لأن الصغير هنا بحاجة إلى رعاية المرأة وإشرافها حيث تكون مسؤولة عن الرعاية اليومية من إعداد غذائه وإطعامه وإلباسه ونظافته والإشراف على منامه، والقرب منه للوفاء بحاجاته اليومية العاجلة، إضافة إلى إمداده بالعطف والرحمة والمودة- أما الولي على النفس فهو الذي يحميه ويربيه ويهذبه ويقوم بتطبيبه وتنمية عقله ومعاونته في مصاعبه الحياتية، ويحفظ عليه في دينه وأخلاقه ويراقب الحاضنة لينشأ نشأة حسنة متزنة.

المرحلة الثانية: مرحلة التمييز دون البلوغ: وفي هذه المرحلة ينفرد الولي على النفس بالمسؤولية عن الغلام مع عدم سقوط الحاجة إلى الحاضنة ويتمثل واجب الولي على النفس في أمور ثلاثة:
দ্বিতীয়ত: যখন কোনো ব্যক্তি শিষ্টাচার শিক্ষা (تأديب), সংশোধন (تهذيب) এবং মহৎ ইসলামি রীতিনীতিতে অভ্যস্ত হওয়ার মুখাপেক্ষী হয়। মানুষের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, এই বিষয় দুটি তিনটি কারণে কার্যকর হয়, সেগুলো হলো: অপ্রাপ্তবয়স্কতা (الصغر), উন্মাদনা (الجنون) বা জড়বুদ্ধি (العته) এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নারীত্ব (الأنوثة)।

প্রথম কারণ: অপ্রাপ্তবয়স্কতা (الصغر): মানুষ দুর্বল অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে এবং তার প্রয়োজনসমূহ পূরণ করার জন্য একজনের মুখাপেক্ষী থাকে। এই ক্ষেত্রে সে দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।

প্রথম পর্যায়: বিচারবুদ্ধিহীন পর্যায় (مرحلة فقد التمييز): এই পর্যায়ে দায়িত্বভার কেবল অভিভাবকের (الولي) ওপর ন্যস্ত থাকে না, বরং লালন-পালনকারিণীও (الحاضنة) এতে অংশীদার হন। কারণ শিশু এখানে নারীর যত্ন ও তত্ত্বাবধানের মুখাপেক্ষী থাকে; যেখানে তিনি শিশুর খাদ্য প্রস্তুত করা, খাওয়ানো, পোশাক পরিধান করানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ঘুমের তদারকি করা এবং তার জরুরি দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য তার নিকটে থাকার দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে তাকে মায়া, মমতা ও ভালোবাসা প্রদান করেন। পক্ষান্তরে, ব্যক্তিগত অভিভাবক (الولي على النفس) হলেন তিনি, যিনি তাকে সুরক্ষা প্রদান করেন, লালন-পালন ও সংশোধন (تهذيب) করেন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তার মেধার বিকাশ ঘটান এবং জীবনযাত্রার কঠিন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেন। এছাড়া তিনি তার দ্বীন ও নৈতিকতা রক্ষা করেন এবং লালন-পালনকারিণীর (الحاضنة) ওপর নজরদারি করেন যাতে শিশুটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠে।

দ্বিতীয় পর্যায়: বয়ঃসন্ধির (البلوغ) পূর্বের বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন পর্যায় (مرحلة التمييز): এই পর্যায়ে বালকের যাবতীয় দায়িত্ব কেবল ব্যক্তিগত অভিভাবকের (الولي على النفس) ওপর অর্পিত হয়, যদিও লালন-পালনকারিণীর (الحاضنة) প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায় না। ব্যক্তিগত অভিভাবকের (الولي على النفس) কর্তব্য তিনটি বিষয়ে পরিলক্ষিত হয়: