(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد الترجيح المتعلقة بالنص عند ابن عاشور في تفسيره التحرير والتنوير القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: قواعد الترجيح المتعلقة بالنص عند ابن عاشور في تفسيره التحرير والتنوير - دراسة تأصيلية تطبيقية
إعداد: عبير بنت عبد الله النعيم
أصل الكتاب: أطروحة دكتوراة
تقديم: أ. د. فهد بن عبد الرحمن الرومي
الناشر: دار التدمرية، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م
عدد الصفحات: 990
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 جُمادَى الأولى 1438
ইবনে আশুর তাঁর 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির' তাফসিরে নস সংশ্লিষ্ট তারজিহ প্রদানের নিয়মাবলি বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
বই: ইবনে আশুর তাঁর 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির' তাফসিরে নস সংশ্লিষ্ট তারজিহ প্রদানের নিয়মাবলি - একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণা
প্রস্তুতকারক: আবীর বিনতে আব্দুল্লাহ আন-নাঈম
বইটির মূল রূপ: পিএইচডি থিসিস
উপস্থাপনা: প্রফেসর ড. ফাহাদ বিন আব্দুর রহমান আল-রুমি
প্রকাশক: দারুত তাদমুরিয়্যাহ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯০
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
جامعة الملك سعود
عمادة الدراسات العليا
كلية التربية
قسم الثقافة الإسلامية
قواعد الترجيح المتعلقة بالنص عند ابن عاشور في تفسيره "التحرير والتنوير"
دراسة تأصيلية تطبيقية
رسالة علمية مقدمة استكمالاً لمتطلبات الحصول على درجة الدكتوراه في الآداب
تخصص: تفسير
إعداد الطالبة
عبير بنت عبد الله النعيم
الرقم الجامعي: 426221310
সৌদি আরব রাজ্য
কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চতর শিক্ষা ডিনশিপ
শিক্ষা অনুষদ
ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ
ইবনে আশুরের নিকট তাঁর তাফসির ‘আত-তাহরির ওয়াত-তানভির’-এ নস (পাঠ্য) সংক্রান্ত প্রাধিকার নির্ণয়ের মূলনীতিসমূহ
একটি তাত্ত্বিক ও প্রয়োগমূলক অধ্যয়ন
সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি গবেষণাপত্র
বিশেষায়িত বিষয়: তাফসির
প্রস্তুতকারক ছাত্রী
আবীর বিনতে আব্দুল্লাহ আল-নুয়াইম
বিশ্ববিদ্যালয় নম্বর: ৪২৬২২১৩১০
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২)
إشراف فضيلة الدكتور /ناصر بن محمد المنيع
أستاذ التفسير وعلومه المشارك
العام الدراسي 1429 - 1430 هـ
إهداء
إلى من عشق الفؤاد قربهما
… إلى من سكنت الروح في حضنهما
إلى من صاغا لي أجمل معاني الحياة
… إلى من حياتي لهم أسيرة
إلى من أضاءا لي كل بصيرة
… إلى من يتقازم كل حب أمام حبهما
إلى الحضن الدافئ والبلسم الشافي
… إلى والديّ الغاليين حفظهما الله
أهدي هذه الرسالة
তত্ত্বাবধানে: মান্যবর ডক্টর নাসির বিন মুহাম্মদ আল-মানি‘
তাফসীর ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক
শিক্ষাবর্ষ ১৪২৯ - ১৪৩০ হিজরী
উৎসর্গ
যাদের সান্নিধ্য লাভ করতে হৃদয় ব্যাকুল থাকে
… যাদের বক্ষে আত্মা প্রশান্তি পায়
যারা আমার জন্য জীবনের সুন্দরতম অর্থগুলো বিনির্মাণ করেছেন
… যাদের কাছে আমার জীবন ঋণী
যারা আমার প্রতিটি অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন
… যাদের ভালোবাসার সামনে অন্য সকল ভালোবাসা তুচ্ছ হয়ে যায়
সেই উষ্ণ কোল এবং নিরাময়কারী মলম স্বরূপ
… আমার প্রিয় পিতামাতার প্রতি, আল্লাহ তাঁদের হেফাযত করুন
আমি এই গবেষণাপত্রটি উৎসর্গ করছি
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ..
أما بعد:
فقد نزل القرآن بلسان عربي مبين، لم تشبهه عجمة، ولم يكدره لبس، عجز بلغاء العرب وفصحاؤهم عن الإتيان بمثله، سره في يسره، وإعجازه في وفائه، فأذعن البلغاء لبلاغته، وركن الحكماء إلى حكمته، وأدهشت علماء التشريع أحكامه.
ما أقبلت عليه أمة تلاوة وعملاً فذلت، ولا أدبرت عنه أمة فعزت، ولو ابتغت في الأرض نفقاً، أو اتخذت في السماء سلماً.
أقبل عليه العلماء منذ نزل يتدبرون آياته، ويستنبطون أحكامه، ويستلهمون هداياته، ويعلمون أذهانهم في استنباط معانيه، وما زالت معانيه تفيض وبحاره تتجدد.
وها نحن بعد قرون وقرون نرى عزم العلماء يتجدد، وعطاؤهم يتمدد، وكأن معاني القرآن لا تزال بكراً لم تطمث من قبل، بل ما زالوا يعملون أذهانهم في التفسير وأصوله الترجيح وقواعده، على تفاوت بينهم.
وابن عاشور طبري زمانه علماً، وزمخشري أوانه بلاغة، يعني بقواعد التفسير والاستنباط، بل قواعد الترجيح والاختيار عناية ظاهرة، كيف لا والبلاغة صبغة تفسيره، وكشف المعاني البلاغية الدقيقة ديدنه، فلا عجب أن يكون لهذه الكنوز أبواب ومداخل ولها ضوابط وقواعد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই কুরআন নাযিল হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়, যার মধ্যে কোনো অনারবীয় প্রভাব নেই এবং কোনো অস্পষ্টতা একে কলুষিত করেনি। আরবের অলঙ্কারবিদ ও বাগ্মীরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হয়েছে। এর রহস্য নিহিত রয়েছে এর সহজবোধ্যতায় এবং এর অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে এর পূর্ণতায়। ফলে অলঙ্কারবিদগণ এর অলঙ্কারশাস্ত্রের নিকট নতি স্বীকার করেছেন, প্রজ্ঞাবানরা এর প্রজ্ঞার প্রতি আস্থাশীল হয়েছেন এবং এর বিধানসমূহ আইনশাস্ত্রবিদদের আশ্চর্যান্বিত করেছে।
কোনো জাতি তিলাওয়াত ও আমলের মাধ্যমে এর দিকে মনোনিবেশ করে লাঞ্ছিত হয়নি, আর কোনো জাতি একে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে সম্মানিত হতে পারেনি; যদিও তারা জমিনে কোনো সুড়ঙ্গ তালাশ করত অথবা আকাশে কোনো সিঁড়ি স্থাপন করত।
কুরআন নাযিলের সূচনা থেকেই আলেমগণ এর প্রতি ধাবিত হয়েছেন; তাঁরা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করেন, এর বিধানসমূহ আহরণ করেন, এর হিদায়াত থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন এবং এর অর্থ উদ্ধারে মেধা প্রয়োগ করেন। এর অর্থরাজি সর্বদা উপচে পড়ছে এবং এর সমুদ্রসমূহ প্রতিনিয়ত নবায়িত হচ্ছে।
আর আজ বহু শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার পরও আমরা আলেমদের সংকল্প নবায়িত হতে দেখছি এবং তাঁদের অবদান বিস্তৃত হচ্ছে; যেন কুরআনের অর্থরাজি এখনও অক্ষত রয়ে গেছে যা ইতিপূর্বে কেউ স্পর্শ করেনি। বরং তাঁদের মাঝে পারস্পরিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা তাফসীর ও এর মূলনীতি এবং অগ্রগণ্য মত নির্ধারণ ও এর নিয়মাবলির ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা খাটিয়ে যাচ্ছেন।
ইবনে আশুর ছিলেন ইলমের বিচারে নিজ যুগের তাবারী এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বিচারে স্বীয় সময়ের যামাখশারী। তিনি তাফসীর ও বিধান আহরণ তথা অগ্রগণ্য মত ও পছন্দ নির্ধারণের নিয়মাবলির প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তা হবেই না কেন, যেখানে অলঙ্কারশাস্ত্রই তাঁর তাফসীরের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং সূক্ষ্ম আলঙ্কারিক অর্থসমূহ উন্মোচন করাই তাঁর চিরাচরিত নিয়ম। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই জ্ঞানভাণ্ডারসমূহের জন্য কিছু প্রবেশদ্বার এবং কিছু নীতিমালা ও মূলনীতি থাকবে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد تصدت الباحثة الدكتورة/ عبير بنت عبد الله النعيم في رسالتها للدكتوراه لهذا الأمر -وأحسبها- قد أحكمته وأتقنته فجاءت رسالتها وافية، بل أقتصرت على نوع واحد من قواعد الترجيح وهي قواعد الترجيح المتعلقة بالنص وبعنوان (قواعد الترجيح المتعلقة بالنص عند ابن عاشور في تفسيره التحرير والتنوير دراسة تأصيلية تطبيقية)، وظهرت شخصية الباحثة، ليس في جمع وعرض هذه القواعد ومناقشتها فحسب بل خصصت فصلاً لتقويم منهج ابن عاشور في الترجيح، درست فيه معالم منهج ابن عاشور في الترجيح ومميزاته، والمؤاخذات على منهجه، وأثر عقيدته في صياغة القواعد والترجيح بها، ولا شك أن مثل هذا يحتاج إلى دقة في الفهم وثقة علمية وظهور شخصية.
وقد أصدرت هذا البحث الجمعية العلمية السعودية للقرآن الكريم وعلومه (تبيان) ضمن إصداراتها العلمية، وهي تعني بنشر الكتب والرسائل العلمية المتميزة والنافعة.
أسأل الله أن يعم بنفعها وعلمها، وأن يكون فتحاً للباحثين لتوسيع أفق الموضوع، وفق الله الجميع وسدد الخطى، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتبه
أ. د. فهد بن عبد الرحمن الرومي
رئيس اللجنة العلمية بالجمعية العلمية
السعودية للقرآن الكريم وعلومه "تبيان"
গবেষক ড. আবীর বিনতে আবদুল্লাহ আল-নুয়াইম তাঁর পিএইচডি থিসিসে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন - এবং আমার মনে হয় - তিনি এটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন, ফলে তাঁর থিসিসটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বরং তিনি কেবল এক প্রকারের অগ্রাধিকার প্রদানের (তরজিহ) মূলনীতির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, আর তা হলো পাঠ্য সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের মূলনীতি। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো: (ইবনে আশুরের তাফসির 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির'-এ পাঠ্য সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের মূলনীতিসমূহ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অধ্যয়ন)। এতে গবেষকের নিজস্ব পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে; তা কেবল এই মূলনীতিগুলো সংগ্রহ, উপস্থাপন ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি ইবনে আশুরের অগ্রাধিকার পদ্ধতির মূল্যায়নের জন্য একটি পৃথক অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন। সেখানে তিনি ইবনে আশুরের অগ্রাধিকার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য, তাঁর পদ্ধতির ওপর আপত্তিসমূহ এবং এই মূলনীতিগুলো প্রণয়ন ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর আকিদাহর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিঃসন্দেহে এই ধরনের কাজ সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা এবং শক্তিশালী পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের দাবি রাখে।
সৌদি সায়েন্টিফিক সোসাইটি ফর দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড ইটস সায়েন্সেস (তিবইয়ান) তাদের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার অংশ হিসেবে এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে। এই সংস্থাটি মূলত বিশিষ্ট ও উপকারী বই এবং বৈজ্ঞানিক থিসিস প্রকাশের গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এবং এর জ্ঞানের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন এবং এটি যেন গবেষকদের জন্য এই বিষয়ের দিগন্ত প্রসারিত করার একটি দ্বার উন্মোচন করে। আল্লাহ সকলকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
প্রফেসর ড. ফাহাদ বিন আবদুর রহমান আল-রুমি
সভাপতি, বৈজ্ঞানিক কমিটি, সৌদি সায়েন্টিফিক সোসাইটি
ফর দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড ইটস সায়েন্সেস "তিবইয়ান"
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةإن الحمد لله؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً
… وبعد:
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1).
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} (2).
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70)} (3).
أما بعد:
فإن شرف العلم على قدر شرف المعلوم، وإن أحق ما يتعلمه المتعلمون، وأشرف ما يشتغل به الباحثون، وأفضل ما يتسابق إليه المتسابقون، مدارسة كتاب الله، فهو خير ما صرفت إليه الهمم، وأعظم ما نطق به لسان، وجال فيه
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের উপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন... অতঃপর:
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১)।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (২)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} (৩)।
অতঃপর:
জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদার ওপর। নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণকারীরা যা শেখে তার মধ্যে সবচেয়ে যথার্থ বিষয়, গবেষকগণ যা নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন তার মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত বিষয় এবং প্রতিযোগীরা যা অর্জনে প্রতিযোগিতা করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিষয় হলো আল্লাহর কিতাব নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা। সুতরাং এটিই সর্বোত্তম বিষয় যার পিছনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যয় করা হয় এবং জিহ্বা যা উচ্চারণ করেছে কিংবা যা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা হয়েছে তার মধ্যে এটিই মহানতম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
فكر، ومُدَّ به قلم، فقد أنزله الله على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم بأحسن بيانٍ وأجمل عبارةٍ، وأبلغ دلالةٍ وهدايةٍ، غير أن الغاية العظمى من إنزاله هي تدبره، والعمل بمقتضى أحكامه وشريعته، والاعتبار بقصصه وأخباره، والاستنارة بتوجيهاته وهداياته، والتفكر في آياته ومعانيه، فهو كتاب هذه الأمة المباركة في ماضيها وحاضرها ومستقبلها، وهو السبيل إلى عزها ونصرها وسموها.
وقد ندب الله تعالى خلقه إلى فهمه وتدبر معانيه، فقال عز من قائل: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (1).
وقد أدرك المسلمون كبير فضل الله عليهم، فأفنوا الأعمار واجتهدوا في خدمة دين الله، وتبليغ رسالته، ودراسة كتابه المجيد.
هذا ولا يمكن للراغب في دراسة فن من الفنون أن يحصِّلٌ فيه تحصيلاً معتبراً إلا بمعرفة قواعده، والأصول التي تبنى عليها مسائله، وقد حرص أهل الشأن على الحيلولة دون العبث بتفسير النص، فعمدوا بعد استقراء وجمع إلى استنباط مجموعة من القواعد التي تعين على التفسير السليم، ولتكون بمثابة الميزان الذي يعرف به التفسير المقبول من غيره.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " لا بد أن يكون مع الإنسان أصول كلية ترد إليها الجزئيات ليتكلم بعلم وعدل، ثم يعرف الجزئيات كيف وقعت؟ وإلا فيبقى في كذب وجهل في الجزئيات، وجهل وظلم في الكليات، فيتولد فساد
--------------------------------------------
চিন্তা এবং লেখনী যা ধারণ করেছে—আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এটি অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বর্ণনা, অত্যন্ত সুন্দর অভিব্যক্তি এবং গভীরতম দিকনির্দেশনা ও হেদায়েতসহ। তবে এটি অবতীর্ণ করার মহান লক্ষ্য হলো তা গভীরভাবে অনুধাবন করা, এর বিধান ও শরিয়তের দাবি অনুযায়ী আমল করা, এর কাহিনী ও সংবাদগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, এর দিকনির্দেশনা ও হেদায়েত থেকে আলো গ্রহণ করা এবং এর আয়াত ও অর্থগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। এটিই অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এই বরকতময় উম্মতের কিতাব এবং এটিই তাদের সম্মান, বিজয় ও উচ্চমর্যাদার পথ।
আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে এটি বুঝতে এবং এর অর্থগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছেন। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি পেত।" (১)
মুসলিমরা তাদের ওপর আল্লাহর বিশাল অনুগ্রহ উপলব্ধি করেছেন, তাই তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আল্লাহর দ্বীনের খেদমত, তাঁর রিসালাত প্রচার এবং তাঁর মহিমান্বিত কিতাব অধ্যয়নে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
এটি স্পষ্ট যে, কোনো শাস্ত্রের আগ্রহী শিক্ষার্থীর পক্ষে সেই শাস্ত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য বুৎপত্তি অর্জন করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে তার মূলনীতিগুলো এবং যে উসূল বা স্তম্ভের ওপর এর মাসআলাগুলো প্রতিষ্ঠিত তা জানতে পারে। বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ মূলপাঠের (নস) ব্যাখ্যায় কোনো প্রকার বিকৃতি বা অপব্যাখ্যা রোধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। তাই তারা বিস্তারিত অনুসন্ধান ও সংগ্রহের পর একদল মূলনীতি উদ্ঘাটন করেছেন যা সঠিক তাফসিরের ক্ষেত্রে সাহায্য করে এবং যা একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে যার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য তাফসিরকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করা যায়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "মানুষের কাছে এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি (উসূলে কুল্লিয়া) থাকা আবশ্যক যেগুলোর দিকে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো (জুযইয়াত) ফিরিয়ে আনা যায়, যাতে সে জ্ঞান ও ন্যায়ের সাথে কথা বলতে পারে। এরপর সে জানবে যে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কীভাবে সংঘটিত হয়েছে। অন্যথায় সে খুঁটিনাটি বিষয়ে মিথ্যা ও মূর্খতার মধ্যে এবং সামগ্রিক মূলনীতিতে অজ্ঞতা ও অন্যায়ের মধ্যে নিপতিত থাকবে, ফলে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
عظيم "اهـ (1).
ومعلوم أن الأصول والقواعد للعلوم بمنزلة الأساس للبنيان، من خلالها نعرف أصح الأقوال وأولاها بالقبول في تفسير كتاب الله تعالى.
ولقد آتت هذه الضوابط والمعالم ثمارها، وبرزت آثارها، فصار لها حضور مشهود لدى مفسري القرآن الكريم، والتي صارت تعرف فيما بعد بقواعد الترجيح، والتي صاحبها كذلك قواعد عرفت بقواعد التفسير.
ولقد تفاوتت عناية المفسرين بهذه القواعد، من حيث الإشارة إليها أو التأصيل لها، وكان الإمام محمد الطاهر بن عاشور ممن عني بها في تفسيره المسمى" التحرير والتنوير" والذي اختصره من اسمه الأصلي " تحرير المعنى السديد، وتنوير العقل الجديد، وتفسير الكتاب المجيد "، والمتأمل فيه يجد لمؤلفه عقلاً راجحاً، ورأياً صائباً، وسعة فكر، وقوة بيان، وحجةً قويةً، وبرهاناً قاطعاً.
قال ابن عاشور: " إن علم التفسير لا يخلو من قواعد كلية في أثنائه مثل تقرير قواعد النسخ عند تفسير {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ} (2) وتقرير قواعد التأويل عند تقرير {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} (3) وقواعد المحكم عند تقرير {مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ} (4) فسمي مجموع ذلك وما معه علما تغليبا " (5).
--------------------------------------------
মহান।" সমাপ্ত (১)।
এটি সুবিদিত যে, জ্ঞানবিজ্ঞানের মূলনীতি ও নিয়মাবলি অট্টালিকার ভিত্তিস্বরূপ; এগুলোর মাধ্যমেই আমরা মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক এবং গ্রহণের জন্য সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য মতসমূহ জানতে পারি।
এই মানদণ্ড ও দিকনির্দেশনাসমূহ ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এগুলোর প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে কুরআনুল কারীমের মুফাসসিরদের নিকট এগুলোর এক দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে 'কাওয়ায়িদুত তারজীহ' (প্রাধান্যদানের নিয়মাবলি) নামে পরিচিতি লাভ করে। এর পাশাপাশি আরও কিছু নিয়ম ছিল যা 'কাওয়ায়িদুত তাফসীর' (তাফসীরের নিয়মাবলি) নামে পরিচিত।
এই নিয়মাবলির প্রতি মুফাসসিরগণের মনোযোগের ক্ষেত্রে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়—তা এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করার ক্ষেত্রেই হোক কিংবা সেগুলোর তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রেই হোক। ইমাম মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম, যারা তাঁর 'আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর' নামক তাফসীর গ্রন্থে এই নিয়মাবলির প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই নামটি তিনি এর মূল নাম 'তাহরীরুল মা’নাস সাদীদ, ওয়া তানবীরুল আকলিল জাদীদ, ওয়া তাফসীরুল কিতাবিল মাজীদ' থেকে সংক্ষেপিত করেছেন। এর পাঠক এতে লেখকের প্রখর বুদ্ধি, সঠিক অভিমত, চিন্তার বিশালতা, শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি, জোরালো যুক্তি ও অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পাবেন।
ইবনে আশুর বলেন: "তাফসীর শাস্ত্র এর মধ্যবর্তী আলোচনাগুলোতে বিদ্যমান থাকা সামষ্টিক নিয়মাবলি থেকে মুক্ত নয়। যেমন—‘আমরা কোনো আয়াত মানসুখ (রহিত) করলে’ (২) আয়াতের তাফসীরের সময় নাসেখ-মানসুখের (রহিতকরণ) নিয়মাবলি নির্ধারণ করা; ‘আল্লাহ ব্যতীত এর ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না’ (৩) আয়াতের আলোচনার সময় তাবীল বা ব্যাখ্যার নিয়মাবলি নির্ধারণ করা; এবং ‘তাতে কিছু আয়াত রয়েছে মুহকাম (সুস্পষ্ট)’ (৪) আলোচনার সময় মুহকাম সংক্রান্ত নিয়মাবলি নির্ধারণ করা। সুতরাং এই সবকিছু এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে একত্রে একটি 'ইলম' বা শাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكون هذا الكتاب له قيمته العلمية التي لا تخفى على كل مهتم بعلم التفسير، فقد عزمت البحث مستعينة بالله العظيم على استنباط ودراسة قواعد الترجيح المتعلقة بالنص القرآني والتي اعتمدها ابن عاشور في الترجيح في تفسيره، فكانت هذا الدراسة بعنوان:
(قواعد الترجيح المتعلقة بالنص عند ابن عاشور في تفسيره "التحرير والتنوير")
مشكلة البحث:تتجلى مشكلة البحث في أن كثيراً من المفسرين يذكر الأقوال المختلفة في الآية دون ترجيح فيكتفي بعرضها فقط، أو عرض الرأي الذي يراه مجرداً، أو على سبيل الحكاية، حتى كثرت هذه الأقوال واختلط الحق فيها بالباطل، الأمر الذي جعل التمييز بين هذه الأقوال ودراستها والتعمق فيها ضرورة ملحة، لذا لزم الأمر أن تُدرس كتب التفسير ويبين فيها صحة اختيارات وترجيحات المفسرين أو خطؤها، وبيان القواعد التي أقام عليها هؤلاء المفسرين ترجيحاتهم.
ولما كان الرجوع إلى النص القرآني يعد من القواعد المهمة في الترجيح بين الأقوال من خلال معرفة الناسخ والمنسوخ، والقراءات، والسياق القرآني، والغالب من أسلوب القرآن، وغيرها من الأمور المتعلقة بالنص رأيت من الأهمية دراسة هذه القواعد.
وكون ابن عاشور أحد المفسرين الذين اعتنوا بدلالة النص القرآني، حيث كان لها أثر ظاهر في اختياراته وترجيحاته، آثرت إبراز هذا الجهد بالبيان والتمثيل من خلال هذه الدراسة.
এই গ্রন্থটির ইলমি গুরুত্ব তাফসির শাস্ত্রের প্রতি আগ্রহী যে কারো কাছে সুস্পষ্ট হওয়ায়, আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে কুরআনের পাঠ সংশ্লিষ্ট সেই সকল অগ্রাধিকারের নীতিসমূহ উদ্ঘাটন ও অধ্যয়নের সংকল্প করেছি যা ইবনে আশুর তাঁর তাফসিরে অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে অবলম্বন করেছেন। ফলে এই গবেষণাটির শিরোনাম হলো:
(ইবনে আশুরের নিকট তাঁর তাফসির "আত-তাহরির ওয়াত-তানভির"-এ পাঠ সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের নীতিসমূহ)
গবেষণার সমস্যা:গবেষণার সমস্যাটি এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যে, অনেক মুফাসসির কোনো প্রকার অগ্রাধিকার প্রদান ছাড়াই আয়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতসমূহ উল্লেখ করেন; তারা কেবল তা উপস্থাপন করেই ক্ষান্ত হন, অথবা নিজের মতামতকে এককভাবে তুলে ধরেন, কিংবা বর্ণনার ছলে পেশ করেন। ফলে এই মতামতের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মধ্যে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটেছে যে, এই সকল মতের মধ্যে পার্থক্য করা এবং এ নিয়ে গভীর গবেষণা ও অধ্যয়ন করা এক জরুরি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। তাই তাফসির গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোতে মুফাসসিরগণের চয়ন ও অগ্রাধিকারসমূহের নির্ভুলতা বা ভুল নির্দেশ করা এবং যে সকল মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই মুফাসসিরগণ তাদের অগ্রাধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
যেহেতু নাসিখ ও মানসুখ, কিরাতসমূহ, কুরআনের প্রেক্ষাপট, কুরআনের শৈলীর সাধারণ ধারা এবং পাঠ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি জানার মাধ্যমে কুরআনের মূল পাঠের দিকে ফিরে আসাকে বিভিন্ন মতের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই আমি এই নীতিগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি।
আর ইবনে আশুর এমন একজন মুফাসসির ছিলেন যিনি কুরআনের পাঠের অর্থের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, যার সুস্পষ্ট প্রভাব তাঁর চয়ন ও অগ্রাধিকারসমূহের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। তাই আমি এই গবেষণার মাধ্যমে তাঁর সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাখ্যা ও উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলাকে শ্রেয় মনে করেছি।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
حدود البحث:يقتصر البحث على ترجيحات ابن عاشور في ضوء قواعد الترجيح المتعلقة بالنص القرآني، وذلك من خلال تفسيره "التحرير والتنوير"، والطبعة المعتمدة في هذا البحث: طبعة دار سحنون التونسية للنشر والتوزيع.
أهمية البحث وأسباب اختياره:1 - الرغبة الملحة في قراءة هذا التفسير الضخم المبسوط في حجمه، والذي قضى المؤلف في تأليفه ما يقارب أربعين عاماً، حتى صيّره دائرة معارف أو موسوعة علمية.
2 - أهمية قواعد الترجيح في استنباط معاني القرآن، وفهمها على الوجه الصحيح، وضبط التفسير بقواعده الصحيحة لا سيما والمتعلقة بالنص القرآني، موضع عناية البحث.
3 - ما يورثه التعامل مع قواعد الترجيح من ملكة علمية، وفائدة عظيمة تعين على فهم القرآن، ومعرفة تفسيره.
4 - بيان مدى إنزال ابن عاشور قواعد الترجيح المتعلقة بالنص منزلتها بين القواعد.
5 - بيان مدى موافقته أو مخالفته لمن سبقه من المفسرين ممن عنوا بهذا الجانب.
6 - معرفة وجوه الترجيح التي يستعملها العلماء في الترجيح في التفسير والمقارنة والموازنة بين هذه الأقوال.
গবেষণার পরিধি:এই গবেষণাটি কুরআনি পাঠ (Text) সংক্রান্ত প্রাবল্য প্রদানের নীতিমালার (তারজিহ) আলোকে ইবনে আশুরের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতামতের (তারজিহাত) মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা তাঁর তাফসির ‘আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর’-এর মাধ্যমে করা হয়েছে। এই গবেষণায় নির্ভরযোগ্য হিসেবে গৃহীত সংস্করণটি হলো: তিউনিসিয়ার দার সাহনুন পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন-এর মুদ্রিত সংস্করণ।
গবেষণার গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:১ - এই বিশাল ও বিস্তৃত তাফসিরটি পড়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, যার রচনায় লেখক প্রায় চল্লিশ বছর সময় ব্যয় করেছেন, যতক্ষণ না তিনি এটিকে একটি বিশ্বকোষ বা জ্ঞানকোষে পরিণত করেছেন।
২ - কুরআনের অর্থ আহরণ, সঠিকভাবে তা অনুধাবন এবং সঠিক নিয়মের মাধ্যমে তাফসিরকে সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে প্রাবল্য প্রদানের নীতিমালার গুরুত্ব; বিশেষ করে কুরআনি পাঠ সংক্রান্ত নীতিমালাগুলো, যা এই গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
৩ - প্রাবল্য প্রদানের নীতিমালার চর্চা যে পাণ্ডিত্যপূর্ণ যোগ্যতা ও প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনে, যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির জানতে সহায়ক হয়।
৪ - পাঠ সংক্রান্ত প্রাবল্য প্রদানের নীতিমালাসমূহকে অন্যান্য নীতিমালার মাঝে ইবনে আশুর কতটুকু যথাযথ মর্যাদা ও স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন তা বর্ণনা করা।
৫ - এই বিষয়ে যত্নবান পূর্ববর্তী মুফাসসিরদের সাথে তাঁর ঐকমত্য বা মতভেদের মাত্রা স্পষ্ট করা।
৬ - তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রাবল্য প্রদানের যেসব দিক আলেমগণ ব্যবহার করেন তা জানা এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে তুলনা ও ভারসাম্য নিরূপণ করা।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
7 - أهمية هذه الدراسة في إبراز قواعد الترجيح المتعلقة بالنص، وتفاوتها في القوة مع القواعد الأخرى ذات الصلة بالآثار واللغة، وبيان كيفية التعامل مع القواعد الترجيحية، وأيها يقدم حال تنازعها.
8 - لم يسبق أحد - فيما أعلم - إلى تحرير هذا الموضوع مع عظيم أهميته، وشدة الحاجة إليه.
الدراسات السابقة:بعد البحث والسؤال لدى كل من مؤسسة الملك فيصل، ومكتبة الملك فهد الوطنية، وبعض الجامعات، وبعض المختصين، تبين أنه ليس هناك أي دراسة خاصة مستقلة في هذا الموضوع، وإنما هناك دراسات عامة في ابن عاشور وتفسيره ،من أهمها:
1 - ابن عاشور ومنهجه في تفسيره التحرير والتنوير / للباحث عبد الله بن إبراهيم الريس، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، رسالة ماجستير، 1408 هـ.
اعتنى الباحث في القسم الأول من الرسالة بترجمة ابن عاشور من الناحية السياسية، والعلمية، والاجتماعية، وجعل القسم الثاني من الرسالة في منهج ابن عاشور في تفسيره تحدث فيه عن أسلوبه وطريقته في عرض المعلومات، ومدى عنايته بالتفسير بالمأثور، وموقفه من التفسير بالرأي، ومنهجه في تفسير آيات الأحكام، ثم جعل القسم الثالث من الرسالة في تقويم تفسيره من حيث المميزات والمؤاخذات عليه.
৭ - মূল পাঠ (নস) সংশ্লিষ্ট প্রাবল্য নির্ধারণের নিয়মাবলি (কাওয়ায়িদুল তারজিহ) ফুটিয়ে তোলা, বর্ণনা (আসার) ও ভাষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়মের সাথে এগুলোর শক্তির তারতম্য স্পষ্ট করা, প্রাবল্য নির্ধারণী নিয়মাবলির প্রয়োগ পদ্ধতি বর্ণনা করা এবং এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বৈপরীত্য দেখা দিলে কোনটি অগ্রগণ্য হবে তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এই গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে।
৮ - আমার জানামতে, এই বিষয়ের সুগভীর গুরুত্ব এবং এর প্রতি প্রবল প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও ইতিপূর্বে কেউ এটি সম্পাদনা বা বিস্তারিত পর্যালোচনা করেননি।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:কিং ফয়সাল ফাউন্ডেশন, কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকজন বিশেষজ্ঞের নিকট অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বিষয়ে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কোনো গবেষণা নেই; বরং ইবনে আশুর এবং তাঁর তাফসির সম্পর্কে কিছু সাধারণ গবেষণা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - ইবনে আশুর এবং তাঁর তাফসির 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির'-এ তাঁর পদ্ধতি / গবেষক আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আর-রাইস, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার্স থিসিস, ১৪০৮ হিজরি।
গবেষক এই অভিসন্দর্ভের প্রথম অংশে রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইবনে আশুরের জীবনী আলোচনায় মনোনিবেশ করেছেন। অভিসন্দর্ভের দ্বিতীয় অংশটি তিনি ইবনে আশুরের তাফসির পদ্ধতির জন্য নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি তথ্য উপস্থাপনের শৈলী ও পন্থা, বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের (তাফসির বিল মাসুর) প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপের মাত্রা, যুক্তিভিত্তিক তাফসির (তাফসির বিুর রাঈ) সম্পর্কে তাঁর অবস্থান এবং বিধান সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের (আয়াতুল আহকাম) তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি অভিসন্দর্ভের তৃতীয় অংশটি তাঁর তাফসিরের বৈশিষ্ট্য ও ত্রুটি-বিচ্যুতির আলোকে মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
2 - استدراكات الإمام محمد الطاهر ابن عاشور في تفسيره على من سبقه في أسباب النزول جمعا ودراسة / سعيد محمد بن سعد الشهراني، جامعة الملك سعود، (1421 هـ) ، بيَّن فيها الباحث مدى عناية ابن عاشور بأسباب النزول من حيث المصادر التي اعتمد عليها، ومنهجه في التعامل معها. كما جعل قسماً من الرسالة في بيان أسباب النزول التي ردّها لعلة في السند ومنها الضعيفة والموضوعة، وجعل قسماً آخر في بيان أسباب النزول التي ردّها لعلة في المتن ومنها أسباب النزول التي ردّها لمخالفتها السياق، ومنها أسباب النزول التي ردّها لوجود سبب نزول أقوى منها، ومنها أسباب النزول التي ردّها لنزول الآية قبل وقوع الحادثة أو بعدها بفترة طويلة.
3 - الإمام الطاهر محمد ابن عاشور ومنهجه في توجيه القراءات من خلال كتابه التحرير والتنوير / محمد سعد عبد الله القرني، جامعة أم القرى، رسالة ماجستير، (1424 هـ)، اعتنى فيها الباحث بشروط القراءات وفوائدها عند ابن عاشور ومنهجه في عزوها، وطريقة عرضها، كما بيّن فيها وهو لب رسالته توجيه القراءات عند ابن عاشور من حيث مصادره في توجيه القراءات، وتعبيراته، وموقفه من الترجيح بين القراءات المتواترة، ودفاعه عنها ضد الطاعنين بها، وكذلك موقفه من القراءات الشاذة.
4 - محمد الطاهر ابن عاشور وكتابه مقاصد الشريعة الإسلامية / الشيخ محمد الحبيب ابن الخوجة، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية: دولة قطر، (1425 هـ) اعتنى فيها المؤلف بكتاب الشيخ ابن عاشور مقاصد الشريعة
২ - ইমাম মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর তাঁর তাফসিরে আসবাবুন নুযুলের (কুরআন অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট) ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর যেসব পর্যালোচনা ও সংশোধনী দিয়েছেন সেগুলোর সংকলন ও গবেষণা / সাঈদ মুহাম্মাদ বিন সাদ আল-শাহরানি, কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, (১৪২১ হিজরি)। এতে গবেষক আসবাবুন নুযুলের প্রতি ইবনে আশুরের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে তিনি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর কর্মপদ্ধতি। এছাড়াও তিনি এই গবেষণাপত্রটির একটি অংশ বরাদ্দ করেছেন সেই সমস্ত আসবাবুন নুযুল বর্ণনার জন্য যা তিনি সনদের (সূত্র) ত্রুটির কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার মধ্যে দুর্বল ও জাল বর্ণনাও রয়েছে। আরেকটি অংশ রাখা হয়েছে সেই সমস্ত আসবাবুন নুযুল বর্ণনার জন্য যা তিনি মতনের (মূল পাঠ্য) ত্রুটির কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেই সব বর্ণনা যা তিনি প্রসঙ্গের সাথে সংগতিহীন হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কোনোটি তাঁর চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো আসবাবুন নুযুল থাকার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন, আবার কোনোটি আয়াতটি সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটার অনেক আগে বা দীর্ঘ সময় পরে নাযিল হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
৩ - ইমাম আত-তাহির মুহাম্মাদ ইবনে আশুর এবং তাঁর 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির' গ্রন্থের আলোকে কিরাআতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি / মুহাম্মাদ সাদ আব্দুল্লাহ আল-কারনি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার্স থিসিস, (১৪২৪ হিজরি)। এতে গবেষক ইবনে আশুরের নিকট কিরাআতের শর্তাবলি ও এর উপকারিতা এবং কিরাআতগুলোর সূত্র নির্দেশ ও তা উপস্থাপনের পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও তিনি এতে স্পষ্ট করেছেন—যা এই গবেষণাপত্রের মূল বিষয়—ইবনে আশুরের কিরাআত সংক্রান্ত ব্যাখ্যার উৎসসমূহ, তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ এবং মুতাওয়াতির কিরাআতগুলোর মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান, সমালোচকদের বিরুদ্ধে এগুলোর সপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা এবং শায কিরাআতগুলোর ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।
৪ - মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর এবং তাঁর 'মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থ / শেখ মুহাম্মাদ আল-হাবিব ইবনে আল-খুজা, আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়: কাতার রাষ্ট্র, (১৪২৫ হিজরি)। এতে লেখক শেখ ইবনে আশুরের মাকাসিদুশ শারিয়াহ গ্রন্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإسلامية وبحثه في ثلاثة أجزاء، الجزء الأول جعلها في ترجمته وبيان حركته الإصلاحية، والحديث عن مؤلفاته، والثاني ساير فيه مقاصد الشريعة مضيفاً إليها جملة من البحوث الأصولية، والثالث في كتاب المقاصد المتميز بمباحثه وأصوله واعتنى به من حيث تحقيقه ونشره بعد إقامة نصه، والتقديم له والتعليق عليه ليكون ميسوراً على من يقف عليه من طلاب العلم والمراجعين.
5 - قواعد الترجيح المتعلقة بلغة العرب في تفسير ابن عاشور / عليوي بن عبد الله الشمراني / رسالة دكتوراه: جامعة الملك سعود، والدراسة لا زالت قيد البحث.
ইসলামি এবং তার গবেষণাটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত; প্রথম খণ্ডটি তিনি তার জীবনী, তার সংস্কার আন্দোলনের বিবরণ এবং তার রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি মাকাসিদুশ শারিয়াহর অনুসরণ করেছেন এবং এর সাথে উসূল সংক্রান্ত বেশ কিছু গবেষণা যুক্ত করেছেন। আর তৃতীয় খণ্ডটি মাকাসিদ বিষয়ক গ্রন্থের ওপর, যা এর বিষয়বস্তু ও মূলনীতির জন্য স্বতন্ত্র; তিনি এর পাঠ্য বিন্যাস, ভূমিকা প্রদান এবং টীকা সংযোজনের মাধ্যমে এর সম্পাদনা ও প্রকাশনার প্রতি যত্নশীল হয়েছেন, যেন ইলম অন্বেষী এবং গবেষকদের জন্য এটি সহজসাধ্য হয়।
৫ - ইবনে আশুরের তাফসিরে আরবি ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য দেওয়ার নীতিসমূহ / উলাইভি বিন আব্দুল্লাহ আশ-শামরানি / পিএইচডি থিসিস: কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়; এবং গবেষণাটি এখনো চলমান।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أهداف البحث:1 - معرفة قواعد الترجيح المتعلقة بالنص في تفسير ابن عاشور.
2 - بيان مدى عناية ابن عاشور بقواعد الترجيح المتعلقة بالنص.
3 - التعرف على منهج ابن عاشور في الترجيح، وموقفه من الأقوال الأخرى.
4 - بيان مدى اهتمام ابن عاشور بالتعليل للقواعد التي يرجح قوله بناءً عليها.
5 - إيضاح منهج ابن عاشور في ترجيحه عند تنازع قواعد الترجيح في المثال الواحد.
6 - تقييم منهج ابن عاشور في الترجيح.
7 - الكشف عن الطريق الأمثل للوصول إلى الراجح من الأقوال في التفسير.
أسئلة البحث:- ماهي قواعد الترجيح المتعلقة بالنص في تفسير ابن عاشور؟
- ما مدى عناية ابن عاشور بقواعد الترجيح المتعلقة بالنص في تفسيره؟
- كيف تعامل ابن عاشور مع هذه القواعد عند الترجيح بها؟ .
- هل التزم ابن عاشور التعليل لهذه القواعد عند اختياره؟ .
- هل كان ابن عاشور يقدّم قواعد الترجيح المتعلقة بالنص على غيرها من القواعد؟
গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:১ - ইবনে আশুরের তাফসীরে পাঠ (নস) সংক্রান্ত তারজীহ বা প্রাধান্য প্রদানের মূলনীতিসমূহ জানা।
২ - পাঠ সংক্রান্ত তারজীহের মূলনীতিসমূহের প্রতি ইবনে আশুরের গুরুত্ব প্রদানের মাত্রা স্পষ্ট করা।
৩ - তারজীহ প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আশুরের পদ্ধতি এবং অন্যান্য মতামতের ব্যাপারে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়া।
৪ - ইবনে আশুর যে মূলনীতিগুলোর ভিত্তিতে নিজের মতকে প্রাধান্য দেন, সেগুলোর কারণ দর্শানোর (তা’লীল) প্রতি তাঁর আগ্রহের মাত্রা বর্ণনা করা।
৫ - একই উদাহরণের ক্ষেত্রে যখন তারজীহের একাধিক মূলনীতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তখন ইবনে আশুরের তারজীহ প্রদানের পদ্ধতিটি স্পষ্ট করা।
৬ - তারজীহ প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আশুরের পদ্ধতির মূল্যায়ন করা।
৭ - তাফসীরের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে রাজেহ বা অগ্রগণ্য মতটিতে পৌঁছানোর সর্বোত্তম পথ উন্মোচন করা।
গবেষণার প্রশ্নাবলী:- ইবনে আশুরের তাফসীরে পাঠ (নস) সংক্রান্ত তারজীহের মূলনীতিসমূহ কী কী?
- ইবনে আশুর তাঁর তাফসীরে পাঠ সংক্রান্ত তারজীহের মূলনীতিসমূহের প্রতি কতটুকু গুরুত্বারোপ করেছেন?
- তারজীহ প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আশুর এই মূলনীতিগুলোর সাথে কেমন আচরণ করেছেন? .
- ইবনে আশুর কি তাঁর পছন্দের ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলোর কারণ দর্শানোর (তা’লীল) ব্যাপারে দায়বদ্ধ ছিলেন? .
- ইবনে আশুর কি পাঠ সংক্রান্ত তারজীহের মূলনীতিগুলোকে অন্যান্য মূলনীতির ওপর প্রাধান্য দিতেন?
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- ما منهج ابن عاشور في الرد على الأقوال المرجوحة؟
- ماهو الطريق الأمثل للوصول إلى القول الراجح عند اختلاف الأقوال؟ .
المنهج في كتابة البحث:اتبعت في هذا البحث المنهج الاستقرائي الموصول بالتحليل، ويتمثل في استقصاء كل القواعد المتعلقة بالنص القرآني والتي نص عليها ابن عاشور في تفسيره، ثم المناقشة من خلال الجمع وتحليل الأقوال للوصول إلى النتائج.
إجراءات البحث:- استخراج واستنباط قواعد الترجيح المتعلقة بالنص من تفسير ابن عاشور.
ومنهجي في دراسة هذه القواعد كالآتي:1 - عرّفتُ بالقاعدة، وشرحتُ مفرداتها إذا كانت تحتاج إلى الشرح، ثم بيّنتُ مدى اهتمام ابن عاشور بها وموقف العلماء منها.
وهذه القواعد منها مانصّ عليها ابن عاشور بلفظه، ومنها ما ذكرها بمعناها، ومنها ماهو موافق للقواعد المشهورة عند العلماء، ومنها ماتفردّ به ابن عاشور.
كما أن بعض هذه القواعد الترجيحية قواعد تفسيرية، تفسّر بها آيات القرآن ابتداء، وذكرتها هنا لمخالفة بعض الأقوال لها، فهي تفسيرية من حيث إنه ينبغي أن تفسر الآية ابتداء، وترجيحية من حيث النظر بها بين الأقوال المختلفة في التفسير، فهي تفسيرية من وجه وترجيحية من وجه آخر.
2 - ذكرتُ عدداً من الأمثلة التطبيقية لهذه القواعد فيما لا يقل عن خمسة
- ইবনে আশুরের দুর্বল মতসমূহ খণ্ডন করার পদ্ধতি কী?
- বিভিন্ন মতের পার্থক্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (রাজীহ) মতে পৌঁছানোর সর্বোত্তম পথ কী? .
গবেষণা রচনার পদ্ধতি:আমি এই গবেষণায় বিশ্লেষণধর্মী আরোহী (Inductive) পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; যা কুরআনের পাঠ (নস) সংশ্লিষ্ট সেই সকল মূলনীতি অনুসন্ধানের প্রতিনিধিত্ব করে যেগুলো ইবনে আশুর তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মতের সমন্বয় ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যালোচনার রূপ পরিগ্রহ করেছে।
গবেষণার পদক্ষেপসমূহ:- ইবনে আশুরের তাফসির থেকে পাঠ (নস) সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রদানের (তারজিহ) মূলনীতিসমূহ নিষ্কাশন ও উদ্ভাবন করা।
এই মূলনীতিগুলো অধ্যয়নে আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:১ - আমি মূলনীতিটির পরিচয় দিয়েছি এবং এর শব্দাবলির ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তা ব্যাখ্যা করেছি, অতঃপর এর প্রতি ইবনে আশুরের গুরুত্বের মাত্রা এবং এ বিষয়ে আলেমদের অবস্থান বর্ণনা করেছি।
এই মূলনীতিগুলোর মধ্যে কিছু ইবনে আশুর সশব্দে উল্লেখ করেছেন, কিছু তিনি মর্মার্থের আলোকে উল্লেখ করেছেন, কিছু আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ইবনে আশুর একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
তেমনিভাবে অগ্রাধিকার প্রদানের এই কিছু মূলনীতি মূলত তাফসির সংক্রান্ত মূলনীতি, যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়। আমি এগুলো এখানে উল্লেখ করেছি কারণ কিছু মত এগুলোর পরিপন্থী। সুতরাং এগুলো তাফসির সংক্রান্ত মূলনীতি এই দিক থেকে যে, প্রাথমিকভাবে এই অনুযায়ী আয়াতের ব্যাখ্যা করা বাঞ্ছনীয়; আবার এগুলো অগ্রাধিকারমূলক মূলনীতি এই দিক থেকে যে, তাফসিরের বিভিন্ন মতের মধ্যে এর মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে এগুলো একদিক থেকে তাফসিরি এবং অন্যদিক থেকে অগ্রাধিকারমূলক।
২ - আমি এই মূলনীতিগুলোর কমপক্ষে পাঁচটি প্রায়োগিক উদাহরণ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أمثلة، مع الإحالة في نهاية المثال في الهامش إلى نظائره من تفسير ابن عاشور إن أمكن، وأذكر فيها الشاهد من كلامه في الترجيح مع ذكر الجزء ورقم الصفحة.
أما المنهج المتبع في دراسة تلك الأمثلة فهو الآتي:- أذكر الآية والأقوال المختلفة في تفسيرها، وغالباً ما أذكرها من تفسير ابن عاشور إن كان مستوعباً لها ثم أذكر اختيار ابن عاشور فيها، وأبرز القاعدة التي اعتمد عليها في ترجيحه، وإن خالف القاعدة التي اعتمدها فإنني أبين سبب ذلك، ثم أُثِّّني بموقف المفسرين منها ببيان أقوالهم وحججهم التي استندوا إليها.
- لا أخرِّج النصوص التي يذكرها ابن عاشور وغيره من المفسرين سواءٍ كانت أحاديث أو أقوالاً للمفسرين إلا إذا لزم الأمر؛ كأن يكون النص له علاقة بالترجيح.
- أذكر توجيهات العلماء لتلك الأقوال، وأسعى إلى الترجيح حسب قواعد الترجيح وضوابطها المعتبرة عند العلماء مجتهدة في ذكر القواعد التي تعضد الرأي الراجح ما أمكن.
- أسرد أقوال أهل العلم في الدراسة التأصيلية حسب تواريخ وفاتهم، وقد أعدل قليلاً عن هذا المنهج لضرورة، وذلك مثلاً إذا كان قول المتأخر شرحاً أو تعليقاً لقول المتقدم، وهكذا في الإحالات الواردة في الحاشية يقدم المتقدم على المتأخر في الوفاة.
উদাহরণসমূহ, সম্ভব হলে উদাহরণের শেষে পাদটীকায় ইবনে আশুরের তাফসীর থেকে এর সমরূপ উদাহরণগুলোর রেফারেন্স প্রদানসহ; এবং সেখানে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখপূর্বক প্রাধান্য নির্ধারণ (তারজিহ) বিষয়ে তার বক্তব্য থেকে প্রমাণ পেশ করব।
উক্ত উদাহরণগুলো অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি নিম্নরূপ:- আমি আয়াতটি এবং এর তাফসীর সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত উল্লেখ করি। যদি ইবনে আশুরের তাফসীরে সেগুলো বিস্তারিতভাবে থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি সেখান থেকেই তা উল্লেখ করি। এরপর উক্ত বিষয়ে ইবনে আশুরের পছন্দনীয় মতটি উল্লেখ করি এবং তিনি তার তারজিহ-এর ক্ষেত্রে যে নিয়মের ওপর নির্ভর করেছেন তা ফুটিয়ে তুলি। আর যদি তিনি তার অনুসৃত নিয়মের ব্যতিক্রম করেন, তবে আমি তার কারণ ব্যাখ্যা করি। অতঃপর মুফাসসিরগণের অবস্থান এবং তাদের উপস্থাপিত দলিল ও যুক্তি বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিপূরণ করি।
- ইবনে আশুর এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণ যেসকল উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন—চাই তা হাদিস হোক বা মুফাসসিরদের বক্তব্য—প্রয়োজন ছাড়া আমি সেগুলোর উৎস অনুসন্ধান (তাখরিজ) করি না; যেমন উদ্ধৃতিটি যদি তারজিহ বা প্রাধান্য নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।
- উক্ত মতামতগুলোর ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যাসমূহ উল্লেখ করি এবং ওলামায়ে কেরামের নিকট গ্রহণযোগ্য প্রাধান্য নির্ধারণের নিয়ম ও মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক মতটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে যথাসম্ভব অগ্রগণ্য মতটিকে শক্তিশালী করে এমন নিয়মসমূহ উল্লেখ করার প্রয়াস পাই।
- মূল তাত্ত্বিক আলোচনায় আলেমদের মৃত্যু সাল অনুযায়ী ক্রমানুসারে তাঁদের বক্তব্যগুলো বর্ণনা করি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে আমি এই পদ্ধতি থেকে কিছুটা সরে আসতে পারি; উদাহরণস্বরূপ, যদি পরবর্তী কোনো আলেমের বক্তব্য পূর্ববর্তী আলেমের বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা টীকা হিসেবে আসে। একইভাবে পাদটীকায় উল্লেখিত রেফারেন্সের ক্ষেত্রেও ইন্তেকালের সময় অনুযায়ী অগ্রবর্তী আলেমকে পরবর্তী আলেমের পূর্বে স্থান দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- أذكر ترجيح ابن عاشور في كل مسألة، وأبيّن مدى موافقته للصواب.
- اخترت عشرة تفاسير لمقارنة قول ابن عاشور بها، وراعيت في ذلك تنوع أسلوب عرضها بعداً عن التكرار، وهذه الكتب هي:
1 - تفسير الإمام الطبري (جامع البيان)، ت 310 هـ.
2 - المحرر الوجيز / ابن عطية، ت 542 هـ.
3 - التفسير الكبير/ الرازي، ت 606 هـ.
4 - الجامع لأحكام القرآن / القرطبي، ت 671 هـ.
5 - البحر المحيط / أبو حيان، ت 745 هـ.
6 - تفسير القرآن العظيم / ابن كثير، ت 774 هـ.
7 - فتح القدير / الشوكاني، ت 1250 هـ.
8 - روح المعاني / الألوسي، ت 1270 هـ.
9 - محاسن التأويل / القاسمي، 1332 هـ
10 - أضواء البيان / الشنقيطي، ت 1393 هـ.
ولا يعني اختيار هذه الكتب إغفال بقية كتب التفسير الأخرى، فقد رجعت بعون من الله إلى العديد من كتب التفسير التي يظهر لي اهتمامها بالخلاف والترجيح حول قاعدة معينة.
- قد أحتاج أحياناً إلى إدخال بعض كلامي أثناء نص منقول بلفظه لأحد من العلماء لإيضاح ونحوه، فأميزه بوضعه معترضاً بين شرطتين هكذا -
… -.
- توثيق المادة العلمية على النحو التالي:
- প্রতিটি বিষয়ে আমি ইবনে আশুরের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত উল্লেখ করেছি এবং তা সঠিক হওয়ার মাত্রা বর্ণনা করেছি।
- ইবনে আশুরের বক্তব্যের সাথে তুলনা করার জন্য আমি দশটি তাফসীর গ্রন্থ নির্বাচন করেছি এবং এক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য সেগুলোর উপস্থাপনা শৈলীর বৈচিত্র্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। গ্রন্থগুলো হলো:
১ - ইমাম তাবারীর তাফসীর (জামি'উল বায়ান), মৃত্যু ৩১০ হিজরী।
২ - আল-মুহাররারুল ওয়াজীয় / ইবনে আতিয়্যাহ, মৃত্যু ৫৪২ হিজরী।
৩ - আত-তাফসীরুল কাবীর / আর-রাযী, মৃত্যু ৬০৬ হিজরী।
৪ - আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন / আল-কুরতুবী, মৃত্যু ৬৭১ হিজরী।
৫ - আল-বাহরুল মুহীত / আবু হাইয়ান, মৃত্যু ৭৪৫ হিজরী।
৬ - তাফসীরুল কুরআনিল আযীম / ইবনে কাসীর, মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী।
৭ - ফাতহুল কাদীর / আশ-শাওকানী, মৃত্যু ১২৫০ হিজরী।
৮ - রূহুল মাআনী / আল-আলুসী, মৃত্যু ১২৭০ হিজরী।
৯ - মাহাসিনুত তাওয়ীল / আল-কাসিমী, ১৩৩২ হিজরী।
১০ - আদওয়াউল বায়ান / আশ-শানকীতী, মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরী।
এই গ্রন্থগুলো নির্বাচনের অর্থ এই নয় যে, অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং আল্লাহর সাহায্যে আমি এমন অনেক তাফসীর গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছি যেগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালার ক্ষেত্রে মতভেদ ও অগ্রাধিকার (তারজীহ) প্রদানের গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে।
- কোনো আলেমের হুবহু উদ্ধৃতি প্রদানের সময় কখনো কখনো ব্যাখ্যার প্রয়োজনে মাঝখানে আমার নিজস্ব কোনো কথা যোগ করার প্রয়োজন হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি সেটিকে আলাদা করার জন্য দুটি ড্যাশের মাঝখানে এভাবে -
… - রেখেছি।
- ইলমী তথ্যের উৎস নির্দেশ করার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أعزو الآيات القرآنية إلى سورها.
ب-عزو القراءات القرآنية الواردة في الدراسة إلى مصادرها الأصلية مع بيان المتواتر منها والشاذ.
ج- تخريج الأحاديث والآثار من مصادرها الأصلية.
د-شرح غريب الألفاظ والمصطلحات، وضبط ذلك بالشكل.
هـ-التعريف بالأعلام غير المشهورين، وهم قليل لأن أغلب من ذكر في هذه الرسالة هم من المشهورين.
و- عمل الفهارس اللازمة.
وسرت في بحثي هذا على خطة مرسومة مكونة من: مقدمة وتمهيد وسبعة فصول وخاتمة.
আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ সূরার সাথে সম্পৃক্ত করেছি।
খ- গবেষণায় উল্লিখিত কুরআনের কিরাতসমূহকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং তার মধ্যে মুতাওয়াতির ও শাজ কিরাতগুলো বর্ণনা করা।
গ- হাদিস ও আসারসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে তাখরিজ করা।
ঘ- দুর্বোধ্য শব্দ ও পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলো হরকতের মাধ্যমে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করা।
ঙ- স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় প্রদান করা; তারা সংখ্যায় সামান্য, কারণ এই অভিসন্দর্ভে উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তিই প্রসিদ্ধ।
চ- প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্টসমূহ প্রস্তুত করা।
আমি আমার এই গবেষণায় একটি সুনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি যা একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, সাতটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خطة البحثيشتمل هذا البحث على مقدمة وتمهيد وسبعة فصول وخاتمة.
المقدمة وتشمل:
أسباب اختيار الموضوع، وأهداف البحث، وأسئلته، والدراسات السابقة، ومنهج البحث ، وإجراءاته.
التمهيد:
وفيه مبحثان:
المبحث الأول - التعريف بالمؤلف.
المبحث الثاني - التعريف بتفسيره، وبيان منهجه فيه.
الفصل الأول: مقدمات في قواعد التفسير والترجيح
وفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: معنى القاعدة والتفسير والترجيح، وبيان مفهومهما عند المفسرين.
المبحث الثاني
… : الفرق بين قواعد الترجيح وقواعد التفسير.
المبحث الثالث: نشأة قواعد الترجيح.
المبحث الرابع: أنواع قواعد الترجيح.
المبحث الخامس: الأسباب الموجبة للترجيح.
المبحث السادس: قواعد التفسير عند ابن عاشور.
الفصل الثاني: قواعد الترجيح المتعلقة بذات النص القرآني
وفيه خمسة مباحث:
গবেষণার পরিকল্পনাএই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, সাতটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
ভূমিকা, যা অন্তর্ভুক্ত করে:
বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ, গবেষণার প্রশ্নাবলি, পূর্ববর্তী অধ্যায়নসমূহ, গবেষণার পদ্ধতি এবং এর কার্যপ্রণালী।
উপক্রমণিকা:
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ - লেখকের পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - তাঁর তাফসীরের পরিচিতি এবং এতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা।
প্রথম অধ্যায়: তাফসীর ও তারজীহ-এর মূলনীতিমালার প্রারম্ভিক আলোচনা
এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কায়িদাহ (মূলনীতি), তাফসীর ও তারজীহ-এর অর্থ এবং মুফাসসিরগণের নিকট এগুলোর ধারণার বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
… : তারজীহ-এর মূলনীতি এবং তাফসীরের মূলনীতির মধ্যকার পার্থক্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তারজীহ-এর মূলনীতিমালার উদ্ভব।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তারজীহ-এর মূলনীতিমালার প্রকারভেদ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তারজীহ প্রদানের আবশ্যিক কারণসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইবনে আশুর-এর নিকট তাফসীরের মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআন মাজীদের মূল পাঠের (নস) সাথে সংশ্লিষ্ট তারজীহ-এর মূলনীতিসমূহ
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: القول الذي تؤيده الآيات القرآنية مقدم على غيره.
المبحث الثاني: الأصل إطلاق اللفظ على ظاهره مالم يرد دليل يصرفه عن ظاهره.
المبحث الثالث: الأولى إعمال اللفظ بكلا معنييه الحقيقي والمجازي متى أمكن.
المبحث الرابع: يقدم المجاز على الحقيقة إذا وجدت القرينة.
المبحث الخامس: إذا خلت الأقوال في الآية من مستند شرعي وكانت متساوية في القوة، فالقول الموافق لما جاء في التوراة مقدم على غيره.
الفصل الثالث: قواعد الترجيح المتعلقة بالنسخ
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: الأصل عدم النسخ ما لم يقم دليل صحيح صريح على خلاف ذلك.
المبحث الثاني: النسخ لا يقع في الأخبار.
المبحث الثالث: إن الزيادة على النص ليست بنسخ.
المبحث الرابع: الإجماع يعد ناسخاً.
المبحث الخامس: التخصيص بعد العمل بالعام، والتقييد بعد العمل بالمطلق لا يُعدُّ نسخاً.
الفصل الرابع: قواعد الترجيح المتعلقة بالقراءات ورسم المصحف
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: القراءات المتواترة حق كلها نصاً ومعنى لا يجوز ردها أو رد معناها.
المبحث الثاني: الأصل توافق القراءات في المعنى.
প্রথম পরিচ্ছেদ: যে বক্তব্যটি কুরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত, তা অন্যের ওপর প্রাধান্য পাবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি হলো শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ করা, যতক্ষণ না এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় যা তাকে বাহ্যিক অর্থ থেকে ফিরিয়ে দেয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সম্ভব হলে শব্দকে তার প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থেই কার্যকর করা উত্তম।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যদি কোনো আলামত পাওয়া যায়, তবে প্রকৃত অর্থের ওপর রূপক অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যদি আয়াত সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলোর কোনো শরয়ী ভিত্তি না থাকে এবং সেগুলো শক্তির দিক থেকে সমান হয়, তবে তাওরাতের সাথে সংগতিপূর্ণ বক্তব্যটি অন্যের ওপর প্রাধান্য পাবে।
তৃতীয় অধ্যায়: নাসখ (রহিতকরণ) সংক্রান্ত প্রাধান্যদানের মূলনীতিসমূহ
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি হলো নাসখ না হওয়া, যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংবাদ বা খবরের ক্ষেত্রে নাসখ ঘটে না।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূল পাঠের (নস) ওপর অতিরিক্ত কিছু যুক্ত হওয়া নাসখ নয়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইজমা নাসখকারী হিসেবে গণ্য হয়।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আম-এর ওপর আমল করার পর তাখসীস এবং মুতলাক-এর ওপর আমল করার পর তাকয়ীদ করাকে নাসখ বলা হয় না।
চতুর্থ অধ্যায়: কিরাআত এবং মুসহাফের লিখনরীতি সংক্রান্ত প্রাধান্যদানের মূলনীতিসমূহ
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির কিরাআতসমূহ শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই সত্য, এগুলোকে বা এগুলোর অর্থকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি হলো কিরাআতসমূহ অর্থের দিক থেকে পরস্পর সংগতিপূর্ণ হওয়া।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالث: اختلاف القراءات في ألفاظ القرآن يكثر المعاني في الآية الواحدة.
المبحث الرابع: تأتي القراءة في معنى الترجيح لأحد المعاني القائمة من الآية.
المبحث الخامس: التفسير الموافق لرسم المصحف مقدم على غيره من التفاسير.
الفصل الخامس: قواعد الترجيح المتعلقة بالسياق القرآني
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: القول الذي يدل عليه السياق أولى من غيره، مالم توجد حجة يجب إعمالها.
المبحث الثاني: القول المبني على مراعاة النظم، وظاهر ترتيب الكلام أولى من غيره.
المبحث الثالث: لكل آية مقامها الذي يجري عليه استعمال كلماتها، فلا تعارض بين الآيات.
الفصل السادس: قواعد الترجيح المتعلقة بالمفردة القرآنية
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: إعمال الأغلب في القرآن وتقديم المفهوم الجاري في استعماله أولى.
المبحث الثاني: زيادة المبنى تدل على زيادة المعنى.
المبحث الثالث: إذا احتمل اللفظ معان عدة ولم يمتنع إرادة الجميع حمل عليها.
الفصل السابع: تقويم منهج ابن عاشور في الترجيح
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: معالم منهج ابن عاشور في الترجيح ومميزاته،
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের শব্দাবলিতে কিরাআতের বৈচিত্র্য একটি আয়াতের অর্থকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কিরাআত আয়াতের বিদ্যমান অর্থগুলোর মধ্য হতে কোনো একটিকে প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাসহাফের লিখনরীতির (রাসমে মাসহাফ) সাথে সংগতিপূর্ণ তাফসীর অন্য সব তাফসীরের ওপর অগ্রাধিকার পাবে।
পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনিক প্রেক্ষাপট (সিয়াক) সম্পর্কিত প্রাধান্য নির্ধারণের নীতিমালা
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রেক্ষাপট যে উক্তির দিকে নির্দেশ করে তা অন্য উক্তির চেয়ে অধিকতর যোগ্য, যতক্ষণ না এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় যা অনুসরণ করা আবশ্যক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিন্যাস এবং বাক্যের বাহ্যিক গঠনশৈলীর ওপর ভিত্তি করে প্রদত্ত মত অন্য সব মতের চেয়ে অগ্রগণ্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রতিটি আয়াতের নিজস্ব একটি প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট রয়েছে যার আলোকে শব্দসমূহ ব্যবহৃত হয়, সুতরাং আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।
ষষ্ঠ অধ্যায়: কুরআনের একক শব্দ (মুফরাদাহ) সম্পর্কিত প্রাধান্য নির্ধারণের নীতিমালা
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রয়োগকে কার্যকর করা এবং প্রচলিত অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া অধিকতর শ্রেয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শব্দের গঠনগত আধিক্য অর্থের আধিক্য বা ব্যাপকতার প্রমাণ দেয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যদি কোনো শব্দ একাধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে এবং সবগুলো অর্থ গ্রহণ করতে কোনো বাধা না থাকে, তবে তাকে সবগুলো অর্থের ওপরই প্রয়োগ করা হবে।
সপ্তম অধ্যায়: প্রাধান্য নির্ধারণে ইবনে আশুরের পদ্ধতির মূল্যায়ন
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাধান্য নির্ধারণে ইবনে আশুরের পদ্ধতির রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ,
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: صيغ الترجيح عند ابن عاشور.
المطلب الثاني: منهج ابن عاشور في استعمال وجوه الترجيح.
المطلب الثالث: مميزات الترجيح عند ابن عاشور.
المبحث الثاني: المؤاخذات على منهج ابن عاشور في الترجيح.
المبحث الثالث: أثر عقيدة ابن عاشور في صياغة القواعد والترجيح بها.
الخاتمة: وفيها أهم النتائج العامة والتوصيات الهامة على ضوء هذا البحث.
الفهارس وتضمنت ما يلي:
- فهرس الآيات القرآنية.
- فهرس الأحاديث والآثار.
- فهرس الأعلام المترجم لهم.
- فهرس المصادر والمراجع.
- فهرس الموضوعات.
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে আশুরের নিকট প্রাধান্য প্রদানের শব্দাবলি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাধান্য প্রদানের দিকসমূহ ব্যবহারে ইবনে আশুরের পদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে আশুরের নিকট প্রাধান্য প্রদানের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আশুরের পদ্ধতির ওপর আপত্তিসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মূলনীতি প্রণয়ন এবং এর মাধ্যমে প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আশুরের আকিদার প্রভাব।
উপসংহার: এতে এই গবেষণার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসমূহ রয়েছে।
নির্ঘণ্টসমূহ এবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।
- হাদিস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।
- জীবনচরিত বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
- উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
- বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
كلمة شكر وتقدير{رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ} (1).
فبتوفيق الله وإعانته أنجزت هذا البحث، فله الحمد والشكر والثناء الحسن في الأولى والآخرة على تيسيره وتسهيله.
ثم أتقدم بالشكر الجزيل والدعاء العريض لوالدي الكريمين اللذين لا أستطيع أن أوفيهما حقهما، فنور عينيهما يضيء لي طريقي، وبركة دعاؤهما فتحت لي أبواباً كانت مغلقة، فأسأل الله العلي العظيم أن يجزهما عني من الخير أجزله، ومن الثواب أعظمه، وأن يحفظهما ويبارك لهما في حياتهما ويمدهما بالصحة والقوة والعافية.
ثم أتقدّم بالشكر الجزيل لجامعة الملك سعود والقائمين عليها، ولا يفوتني أن أشكر وأدعو لجميع أساتذتي الكرام الذين درست على أيديهم فلهم الفضل بعد الله تعالى في وصولي لهذه المرحلة، وأخص بالشكر والتقدير وفائق الاحترام أستاذي الفاضل المشرف على هذا البحث فضيلة الأستاذ الدكتور الشيخ / ناصر بن محمد المنيع أستاذ التفسير وعلومه المشارك بكلية التربية في جامعة الملك سعود بالرياض على تفضله بقبول الإشراف على رسالتي، وعلى ما منحني من جهده ووقته وعلمه، وقد أفادني بتوجيهاته السديدة وإرشاداته القيمة،
--------------------------------------------
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ{হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আপনার রহমতে আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।} (১)।
আল্লাহর তাওফীক ও তাঁর সাহায্যের মাধ্যমেই আমি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছি; সুতরাং ইহকাল ও পরকালে তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা এবং উত্তম গুণগান—সবকিছু সহজ ও সুগম করে দেওয়ার জন্য।
অতঃপর আমি আমার সম্মানিত পিতামাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং অবারিত দুআ পেশ করছি, যাঁদের প্রাপ্য হক পূর্ণরূপে আদায় করার সাধ্য আমার নেই। তাঁদের চোখের আলো আমার পথকে আলোকিত করে এবং তাঁদের দুআর বরকত আমার জন্য রুদ্ধ দ্বারগুলো উন্মোচন করে দিয়েছে। আমি সুউচ্চ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম কল্যাণ এবং সর্বমহান প্রতিদান দান করেন; আর তিনি যেন তাঁদেরকে হিফাযত করেন, তাঁদের জীবনে বরকত দান করেন এবং তাঁদেরকে স্বাস্থ্য, শক্তি ও নিরাপত্তা দান করেন।
অতঃপর আমি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে আমার সকল সম্মানিত উস্তাদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও তাঁদের জন্য দুআ করছি যাঁদের নিকট আমি পাঠ গ্রহণ করেছি; কেননা আল্লাহ তাআলার পর এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে তাঁদেরই অবদান রয়েছে। বিশেষভাবে আমি কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ফযীলতশায়খ প্রফেসর ড. নাসির বিন মুহাম্মদ আল-মানী-এর প্রতি—যিনি রিয়াদে অবস্থিত কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের তাফসীর ও উলূমুল কুরআনের সহযোগী অধ্যাপক—আমার থিসিসটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য এবং তাঁর শ্রম, সময় ও জ্ঞান দিয়ে আমাকে ধন্য করার জন্য। তিনি তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা ও মূল্যবান পরামর্শের মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأعارني بعض المراجع المهمة، فله الشكر الجزيل، والثناء العاطر، والدعاء المتواصل أن يجزيه الله خير الجزاء، وأن يوفقه لصالح العمل، ويشرّفه بخدمة كتاب الله تعالى، ويبارك في حياته إنه سميع الدعاء.
كما أتقدم بالشكر والعرفان لفضيلة المناقشين الفاضلين: فضيلة الأستاذ الدكتور إبراهيم بن سليمان الهويمل وكيل الرئيس العام لهيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وأستاذ التفسير وعلومه المشارك بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.
وفضيلة الأستاذ الدكتور زيد بن عمر بن عبد الله العيص أستاذ التفسير وعلومه المشارك في قسم الثقافة الإسلامية بجامعة الملك سعود على قيامهما بتقويم هذه الرسالة، ومناقشتها، وإبداء ملاحظاتهما القيمة. فجزاهما الله كل خير، وجعلهما عوناً لطلاب العلم على إتمام المسيرة العلمية.
ويقف قلمي حائراً عند تسطير شكري وجل تقديري لزوجي العزيز أ / محمد عبد الله النعيم، الذي ساهم في دفع عجلة هذا البحث للوصول به إلى النور، حيث أحاطني بجو مفعم بالراحة والاطمئنان، ولم يتوان في تقديم المساعدات المتوالية لدعم مسيرتي العلمية، فأسأل الله تعالى أن يحفظه، وأن يديمه سنداً وعزاً لي، وأن يجزيه من خيري الدنيا ولآخرة.
وباقة ورد معطرة تعبق بالحب والحنان أتوج بها أولادي؛ لما عانوه في مسيرتي العلمية، من انشغالي عنهم، فأسأل الله تبارك وتعالى أن يحفظهم، ويوفقهم، ويقرّ عيني بهم
وأرجو الله أن يتقبل عملي هذا، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، ولا أدّعي
তিনি আমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র ধার দিয়েছেন, তাই তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা, সুগন্ধি প্রশংসা এবং নিরন্তর দোয়া রইল যেন আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁকে নেক আমল করার তাওফিক দান করেন, তাঁকে মহান আল্লাহর কিতাবের খিদমতের মাধ্যমে সম্মানিত করেন এবং তাঁর জীবনে বরকত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
একইভাবে আমি আমার শ্রদ্ধেয় দুই পরীক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি: মান্যবর প্রফেসর ডক্টর ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-হুওয়াইমেল, যিনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ বিষয়ক সংস্থার প্রধানের প্রতিনিধি এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
এবং মান্যবর প্রফেসর ডক্টর যায়েদ বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ আল-আইস, যিনি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক; এই থিসিসটির মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করার জন্য এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদানের জন্য। আল্লাহ তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তাঁদেরকে জ্ঞানতাত্ত্বিক সফর সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তাকারী হিসেবে কবুল করুন।
আমার কলম আজ দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছে আমার প্রিয় স্বামী জনাব মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-নাঈম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে, যিনি এই গবেষণার চাকা সচল রাখতে এবং একে আলোর মুখ দেখাতে অবদান রেখেছেন। তিনি আমাকে এক প্রশান্তিময় ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে রেখেছিলেন এবং আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে হিফাজত করেন, তাঁকে সর্বদা আমার অবলম্বন ও সম্মানের উৎস হিসেবে বজায় রাখেন এবং তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করেন।
এবং ভালোবাসা ও মমতায় সুবাসিত এক গুচ্ছ পুষ্পের মাধ্যমে আমি আমার সন্তানদের অলঙ্কৃত করছি; আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যস্ততার কারণে তাদের প্রতি বিমুখ থাকার ফলে তারা যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে তার জন্য। আমি মহান ও বরকতময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাদের হিফাজত করেন, তাদের তাওফিক দান করেন এবং তাদের মাধ্যমে আমার চক্ষু শীতল করেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন এবং একে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। আর আমি দাবি করি না...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أني استكملت جوانب الموضوع فإن الكمال لله عز وجل، والنقص من طبيعة البشر، ولكنني بذلت وسعي، فما كان فيه من صواب فمن توفيق الله عز وجل، وما كان غير ذلك، فأستغفر الله منه، هو حسبي ونعم الوكيل.
سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله، محمد إمام المتقين، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.
আমি এই বিষয়ের সকল দিক পূর্ণ করেছি (তা নয়), কেননা পূর্ণতা কেবল মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য, আর অপূর্ণতা মানুষের স্বভাবজাত। তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক স্বরূপ। আর যা এর ব্যতিক্রম হয়েছে, আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তিনি তা থেকে পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি সালাম। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসুল, মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التمهيدوفيه مبحثان:
المبحث الأول: التعريف بابن عاشور.
المبحث الثاني: التعريف بكتا ب» التحرير والتنوير «.
উপক্রমণিকাএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে আশুর-এর পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আত-তাহরির ওয়াত-তানভির’ কিতাবের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الأولالتعريف بابن عاشوروفيه مطالب:
المطلب الأول: نشأته وبيئته العلمية.
المطلب الثاني: مذهبه الفقهي والعقدي ومؤلفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদইবনে আশুরের পরিচয়এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলমি পরিবেশ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী ও আকিদাগত মাজহাব এবং তাঁর রচনাবলি।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الأولنشأته وبيئته العلمية
اسمه ونسبه:هو العلامة الإمام الشيخ محمد الطاهر الثاني بن الشيخ محمد بن محمد الطاهر الأول بن محمد الشاذلي بن عبد القادر محمد بن عاشور الشريف الأندلسي ثم التونسي (1).
مولده:ولد الشيخ محمد الطاهر ابن عاشور بقصر جده لأمه الوزير الشيخ محمد العزيز بو عتور، بالمرسى (2) ضاحية من ضواحي العاصمة التونسية في جمادى الأولى سنة (1296 هـ) الموافق لشهر سبتمبر (1879 م) (3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদতাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলমি পরিবেশ
নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন আল্লামা ইমাম শাইখ মুহাম্মদ আল-তাহির দ্বিতীয় বিন শাইখ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-তাহির প্রথম বিন মুহাম্মদ আশ-শাজিলি বিন আব্দুল কাদির মুহাম্মদ বিন আশুর আশ-শারিফ আল-আন্দালুসি অতঃপর তিউনিসি (১)।
জন্ম:শাইখ মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুর ১২৯৬ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে, যা ১৮৭৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সমসাময়িক (৩), তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসের উপকণ্ঠ আল-মারসায় (২) তাঁর মাতামহ উজির শাইখ মুহাম্মদ আল-আজিজ বু-আতুর-এর প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نشأته:نشأ الشيخ في بيئة علمية؛ فجده لأبيه عالم وهو قاضي قضاة الحاضرة التونسية، وجده لأمه الشيخ محمد العزيز بو عتور عالم أيضاً، تولى الوزارة، والأسرة من أفضل أسر العاصمة، ومن ذوي اليسار لها مكتبات علمية كالمكتبة العاشورية وغيرها تشتمل على مخطوطات نادرة في الأدب والدين والقانون، في هذا الوسط العلمي والسياسي والإصلاحي شبّ مترجمنا فحفظ القرآن الكريم حفظًا متقنًا منذ صغر سنه، وحفظ المتون العلمية كسائر أبناء عصره من التلاميذ، ثم تعلم ما تيسر له من اللغة الفرنسية (1).
مسيرته العلمية والعملية:التحق الشيخ محمد الطاهر ابن عاشور بجامع الزيتونة في سنة (1303 هـ-1886 م) وثابر على تعليمه به حتى أحرز شهادة التطويع (2) سنة (1317 هـ-1899 م) وسمي عدلاً مبرزًا، وابتداءً من سنة (1900 م) إلى سنة (1932 م) أقبل على التدريس بجامع الزيتونة والمدرسة الصادقية كمدرس من الدرجة
--------------------------------------------
তাঁর বেড়ে ওঠা:শেখ একটি ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন; তাঁর দাদা ছিলেন একজন আলেম এবং তিউনিসিয়ার রাজধানী শহরের প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুদাত), এবং তাঁর নানা শেখ মুহাম্মদ আল-আজিজ বু আত্তুরও একজন আলেম ছিলেন, যিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবারটি রাজধানীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিবার এবং বিত্তশালী ছিল; তাঁদের ব্যক্তিগত ইলমি গ্রন্থাগার ছিল—যেমন আশুরিয়া লাইব্রেরি এবং অন্যান্য—যেগুলোতে সাহিত্য, ধর্ম ও আইন বিষয়ক বিরল পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল। এই ইলমি, রাজনৈতিক এবং সংস্কারমূলক পরিবেশে আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব বেড়ে ওঠেন; তিনি শৈশবেই অত্যন্ত নিপুণভাবে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং সমসাময়িক শিক্ষার্থীদের মতো বিভিন্ন শাস্ত্রীয় মূলপাঠ (মুতুন) মুখস্থ করেন। অতঃপর তিনি ফরাসি ভাষার যতটুকু সম্ভব আয়ত্ত করেন (১)।
তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবন:শেখ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর ১৩০৩ হিজরি (১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে জামিয়া যায়তুনায় ভর্তি হন এবং সেখানে অধ্যয়নে নিরলস পরিশ্রম করেন, যতক্ষণ না তিনি ১৩১৭ হিজরি (১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) সালে 'তাতউয়ি' (২) সনদ লাভ করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট 'আদল' (আইন বিভাগীয় কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি জামিয়া যায়তুনা এবং মাদরাসা সাদিকিয়ায় উচ্চতর স্তরের শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনায় মনোনিবেশ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুত তারজীহ আল-মুতাআল্লিকা বিন নাসি ইনদা ইবনি আশুর ফী তাফসীরিহিত তাহরীরি ওয়াত তানবীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الثانية، فمدرسًا من الدرجة الأولى سنة (1905 م)، ثم عضوًا مؤسسًا للجنة إصلاح التعليم بجامع الزيتونة سنة (1910 م).
التحق الشيخ محمد الطاهر ابن عاشور بالقضاء سنة (1911 م) فكان عضوًا بالمحكمة العقارية وقاضيًا مالكيًا، ثم مفتيًا مالكيًا سنة (1923 م) فكبير المفتين سنة (1924 م) فشيخ الإسلام للمذهب المالكي سنة (1932 م)، وقد باشر كل هذه المهام بمهارة ودقة علمية نادرة، وبنزاهة وحسن نظر، فكان حجة ومرجعًا فيما يقضي به، سمي شيخ جامع الزيتونة وفروعه لأول مرة في سبتمبر عام (1932 م) بعد أن اشترك في إدارة الكلية الزيتونية، ولكنه استقال من مشيخة جامع الزيتونة بعد سبتمبر عام (1933 م) بعد اضطرابات وقلاقل ظهرت دون ترو بسبب دسائس ترمي لمعارضة موقفه حيث اتهم باطلا بقضية فتوى التجنيس .. ، ثم سمي من جديد شيخًا لجامع الزيتونة سنة (1945 م) وفي سنة (1956 م) شيخًا عميدًا للكلية الزيتونية للشريعة وأصول الدين حتى سنة (1960 م)، حيث أحيل إلى الراحة بسبب موقفه تجاه الحملة التي شنها بورقيبة يومئذ ضد فريضة الصيام في رمضان، حيث أعلن بورقيبة سنة (1945 م) قبل إعلان الاستقلال بسنتين أنه ينوي إقامة حكم لا ديني في البلد، حيث قرر وحزبه تجريد البلد من كل مقوماته الإسلامية، وتهجم على القرآن الكريم والسنة النبوية، والآداب الشرعية والعادات الإسلامية، وشن حرباً ضد الصيام، ودعا بورقيبة الشيخ ابن عاشور ليفتي في الإذاعة بفتوى تبيح الفطر في رمضان للعمال بدعوى زيادة الإنتاج بما يوافق هذا، لكن الشيخ رفض ذلك رفضاً قاطعاً
দ্বিতীয়ত, তিনি ১৯০৫ সালে প্রথম শ্রেণির শিক্ষক হন, তারপর ১৯১০ সালে জামে যয়তুনার শিক্ষা সংস্কার কমিটির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন।
শেখ মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর ১৯১১ সালে বিচার বিভাগে যোগদান করেন। তিনি রিয়েল এস্টেট আদালতের সদস্য এবং মালিকি মাযহাবের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯২৩ সালে তিনি মালিকি মুফতি, ১৯২৪ সালে প্রধান মুফতি এবং ১৯৩২ সালে মালিকি মাযহাবের শায়খুল ইসলাম নিযুক্ত হন। তিনি বিরল দক্ষতা ও ইলমি সূক্ষ্মতা এবং সততা ও উত্তম অন্তর্দৃষ্টির সাথে এই সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তিনি তার বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একজন প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন। যয়তুনা কলেজের ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের পর ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো জামে যয়তুনা ও এর শাখাগুলোর প্রধান শায়খ হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু ১৯৩৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর তিনি জামে যয়তুনার শায়খ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ঘটেছিল তার অবস্থানের বিরোধিতা করার জন্য ষড়যন্ত্রের ফলে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার কারণে, যেখানে তাকে 'নাগরিকত্ব ফতোয়া'র (তাজনিস) ইস্যুতে মিথ্যা অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর ১৯৪৫ সালে তাকে পুনরায় জামে যয়তুনার শায়খ হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং ১৯৫৬ সালে তিনি 'যয়তুনা শরীয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ'-এর ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬০ সাল পর্যন্ত। এ সময় রমজানের রোজার ফরয বিধানের বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুর্গুইবা কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের প্রতি তার বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। বুর্গুইবা স্বাধীনতার দুই বছর আগে ১৯৪৫ সালে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি দেশে একটি ধর্মহীন শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চান। তিনি এবং তার দল দেশকে সমস্ত ইসলামি বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ নববী, শরয়ী শিষ্টাচার ও ইসলামি রীতিনীতির ওপর আক্রমণ চালান এবং রোজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। বুর্গুইবা শেখ ইবনে আশুরকে রেডিওতে এমন একটি ফতোয়া দেওয়ার আহ্বান জানান যা উৎপাদন বৃদ্ধির অজুহাতে শ্রমিকদের জন্য রমজানে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ করে দেয়, কিন্তু শেখ তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।