(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: -)
نشر البنود على مراقي السعود القسم: أصول الفقه
الكتاب: نشر البنود على مراقي السعود
المؤلف: عبد الله بن إبراهيم العلوي الشنقيطي
تقديم: الداي ولد سيدي بابا - أحمد رمزي
الناشر: مطبعة فضالة بالمغرب
الطبعة: (بدون طبعة) (بدون تاريخ)
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة:فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الأولى 1438
নাশরাল বুনুদ আলা মারাকিস সাউদ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: নাশরাল বুনুদ আলা মারাকিস সাউদ
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম আল-আলাওয়ী আশ-শানকীতি
উপস্থাপনা: আদ-দায় ওলাদ সিদি বাবা - আহমদ রামজি
প্রকাশক: মাতবাআতু ফাদালা, মরক্কো
সংস্করণ: (সংস্করণ বিহীন) (তারিখ বিহীন)
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, সৌজন্যে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাল উলা ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة المحقق]يعتبر علم أصول الفقه الذي يعرف منه تقرير مطالب الأحكام الشرعية وطرق استنباطها -من العلوم الإسلامية العريقة، المنمة بموضوعاتها ومنهجها، عن خصائص أساسية في الفكر العلمي عند المسلمين، والمعبرة -بصفتها هذه -عن عمق استشفاف هذا الفكر، للمسائل -وشمولية استيعابه لها، وقدرته العبقرية على الغوص والاستنباط والتنظير والتقرير، والتبحر في ذلك، وارتياد أرحب الآفاق في مضماره.
وقد تألق فكر المسلمين في فروع شتى من المعرفة كالرياضيات والطب وسواهما، واجتهدوا في بحوثهم حولها اجتهادات رائدة أدت بهم إلى الإسهام في تطوير محتواها والتمهيد -من ثم -لما أصابته مثل هذه الفروع العلمية في العصور الحديثة من باهر التقدم على الصعيد النظري والعملي سواء، أما فيما يخص العلوم الإسلامية الصرفة -فإنها تعد بطبيعة الحال -ثمرة كاملة للاجتهاد الفكري عند المسلمين، تختلف في هذا عن غيرها من العلوم التي أسهموا فيها مع غيرهم من الأمم، وتنفرد -بالتالي -بما تنطوي عليه من الدلالة على طبيعة تفكيرهم العلمي في إطاره الخاص، واتجاهاتهم الرائدة في بناء النموذج الثقافي المتسمة به حضارتهم المتميزة.
ويستمد علم أصول الفقه -كما قال الشوكاني من ثلاثة أشياء:
الأول علم الكلام لتوقف الأدلة الشرعية على معرفة الباري سبحانه وتعالى وصدق المبلغ، وهما مبينان فيه مقررة أدلتها في مباحثه.
الثاني: العربية لأن فهم الكتاب والسنة والاستدلال بهما متوقفان عليها إذ هما عربيان.
الثالث: الأحكام الشرعية من حيث تصورها لأن المقصود إثباتها أو نفيها.
وباعتبار سعة الفنون العلمية التي يتطلب الحال -هكذا -الإلمام بها والتبحر فيها لإمكانية خوض لجج هذا العلم، والغوص على لآلئه، فإنه لم يتصد له في القديم والحديث إلا فطاحل العلماء كفقيه السنة الأكبر محمد بن إدريس الشافعي ومن على شاكلته من الجهابذة الأفذاذ.
[সম্পাদকের ভূমিকা]উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র—যার মাধ্যমে শরীয়তের বিধানসমূহের সারসংক্ষেপ নিরূপণ এবং সেগুলো আহরণের পদ্ধতি জানা যায়—মুসলিমদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার মৌলিক বৈশিষ্ট্যাবলীর পরিচায়ক এক প্রাচীন ইসলামী বিদ্যা হিসেবে বিবেচিত। এটি তার বিষয়বস্তু ও পদ্ধতির মাধ্যমে এই চিন্তাধারার অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা, বিষয়ের ব্যাপক অনুধাবন এবং এই শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করে বিধান আহরণ, তাত্ত্বিক রূপদান, পর্যালোচনা ও পাণ্ডিত্যের অসাধারণ ক্ষমতা এবং এই ময়দানে বিস্তৃত দিগন্ত উন্মোচনের প্রতিফলন ঘটায়।
গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং এ জাতীয় জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলিমদের চিন্তাধারা উজ্জ্বল হয়েছে। তারা এসব বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এমন সব অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন যা এগুলোর বিষয়বস্তুর উন্নয়নে অবদান রেখেছে এবং আধুনিক যুগে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞানের শাখাগুলো যে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করেছে তার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞানের বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার এক পূর্ণাঙ্গ ফসল। এই দিক দিয়ে তা অন্যান্য বিজ্ঞানের চেয়ে আলাদা, যেগুলোতে তারা অন্যান্য জাতির সাথে অংশীদার ছিলেন। ফলস্বরূপ, এই শাস্ত্রগুলো মুসলিমদের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যে তাদের বৈজ্ঞানিক চিন্তার প্রকৃতি এবং তাদের স্বতন্ত্র সভ্যতার সাংস্কৃতিক আদর্শ নির্মাণে তাদের অগ্রণী দিকনির্দেশনার প্রমাণ বহন করে।
আল্লামা শাওকানী যেমনটি বলেছেন, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র তিনটি উৎস থেকে আহরিত হয়:
প্রথমত: ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব); কারণ শরীয়তের দলিলসমূহ মহান স্রষ্টাকে জানা এবং রাসুলের সত্যবাদিতা জানার ওপর নির্ভরশীল। আর এই দু’টি বিষয় ইলমুল কালামের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত এবং এর দলিলসমূহ সেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয়ত: আরবি ভাষা; কারণ কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন করা এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ করার বিষয়টি আরবি ভাষার ওপর নির্ভরশীল, যেহেতু এ দু’টিই আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে।
তৃতীয়ত: শরীয়তের বিধানসমূহ, সেগুলোর স্বরূপ অনুধাবনের দিক থেকে; কারণ লক্ষ্য হলো সেই বিধানগুলোকে সাব্যস্ত করা অথবা নাকচ করা।
এই শাস্ত্রের অতল গভীরে প্রবেশ করা এবং এর মুক্তা আহরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে যে গভীর পাণ্ডিত্য ও ব্যুৎপত্তি অর্জনের প্রয়োজন পড়ে, সেই ব্যাপকতার বিচারে প্রাচীন ও আধুনিককালে ফকিহুস সুন্নাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ এবং তাঁর সমমনা অনন্যসাধারণ প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ ব্যতীত অন্য কেউ এই কঠিন কাজে অগ্রসর হননি।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأول من ألف فيه كما هو معلوم الإمام الهاشمي المطلبي محمد بن إدريس رحمه الله تعالى 150/ 204 عندما أشار عليه شيخه عبد الرحمان بن مهدي فجمع بعض القواعد في كتابه المسمى الرسالة وهو مطبوع.
ثم توالت فيه المؤلفات المختلفة ذات المناحي المتعددة فكتب أتباع الشافعي في منحاه. وأصحاب أبي حنيفة في منحاه، كذلك ومثلهم أصحاب الإمام مالك والإمام أحمد، وحاول آخرون الجمع بين الطريقة الشافعية والحنفية، وهما الطريقتان البارزتان في هذا العلم. وكانت الكتب ما بين مختصر، ومتوسط يأخذ اللاحق من السابق، ويناقشه ويرد عليه أحيانًا لاسيما إذا كان من غير مذهبه.
ومن أهم المؤلفات في هذا الميدان، الرسالة للإمام الشافعي، وأحكام الأحكام لابن حزم الأندلسي والمستصفي للغزالي، وأصول البزدوى، وأوصل السرخيسي، وروضة الناظر لابن قدامة المقدسي والأحكام لسيف الدين الأمدي والموافقات لأبي إسحاق الشاطبي، وإرشاد الفحول للشوكاني، وجمع الجوامع لتاج الدين السبكي وغيرها.
والملاحظ بصفة عامة أن كتب المتقدمين أجزل عبارة وأظهر معنى وأسهل موردًا، وغالبًا ما كانت كتب المتأخرين تلخيصًا واختصارًا أو نظمًا أو شرحًا لأعمال من سبقهم أو تعليقًا عليها، ولكل فائدته.
ويعتبر المؤلف الذي بين أيدينا (نشر البنود على مراقي السعود) واحدً من المصنفات القيمة في هذا الفن.
وقد تفضل مولانا أمير المؤمنين، جلالة الحسن الثاني نصره الله وأيده، فأمر بطبع هذا الأثر العلمي النفيس ونشره، وذلك في إطار اهتمام جلالته الشريفة -حفظه الله روعاه -بإحياء التراث الإسلامي، وإغناء نهضتنا العلمية بكنوزه، وذخائره، ومنح أوسع الفرص للطلبة والباحثين والدارسين، للنهل من موارده، والكرع من حياضه وصلا لماضينا العلمي المجيد، بحاضرنا العلمي الزاهر، وترسيخًا لأصالة النهضة الثقافية العظيمة، التي تشمل مختلف الآفاق في هذا البلد الأمين، تحت ظل قيادة جلالته الحكيمة النيرة.
ومادة الكتاب عبارة عن شرح أرجوزة في هذا الفن، للمؤلف سيدي عبد الله بن إبراهيم العلوي الشنقيطي واضع الأرجوزة والشرح معًا، وكما يلاحظ فقد كان يطل إطلالة العالم المتفتح الواعي على بقية المذاهب فيأخذ منها ويناقش ما أخذ ويرجح ويضعف كما ستراه، ولا ينسى مع كل هذا مالكيته التي ارتضاها واقتنع بها.
ولهذا فقد جاء هذا العمل وسطًا بين الإطناب والاقتضاب، تشعر وأنت تقرؤه أنك تقرأ لعالم ضليع من علماء الملة المتأخرين فتعيش مع أسلوب.
যেমনটি সুপরিচিত, এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন ইমাম হাশেমী মুত্তালিবী মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) [১৫০-২০৪ হিজরী], যখন তাঁর উস্তাদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তাঁকে এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর 'আর-রিসালা' নামক গ্রন্থে কিছু মূলনীতি একত্রিত করেন এবং এটি বর্তমানে মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে।
এরপর এই বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন বিবিধ গ্রন্থ রচিত হতে থাকে। ইমাম শাফেয়ীর অনুসারীগণ তাঁদের পদ্ধতিতে এবং ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ তাঁদের পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করেন। একইভাবে ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদের অনুসারীগণও অনুরূপ করেন। আবার অন্য অনেকে শাফেয়ী ও হানাফী পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন, আর এই দুটিই এই শাস্ত্রের দুটি প্রসিদ্ধ পদ্ধতি। গ্রন্থগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত ও মাঝারি মানের; যেখানে পরবর্তী লেখকগণ পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করতেন, তাঁদের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন এবং কখনো কখনো তাঁদের মত খণ্ডন করতেন, বিশেষ করে যদি তাঁরা ভিন্ন মাযহাবের হতেন।
এই ময়দানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমাম শাফেয়ীর আর-রিসালা, ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী'র আল-ইহকাম, আল-গাযালী'র আল-মুস্তাসফা, আল-পাযদবী'র উসুল, আস-সারাকসী'র উসুল, ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী'র রওদাতুন নাযির, সাইফুদ্দীন আল-আমিদী'র আল-ইহকাম, আবু ইসহাক আশ-শাতিবী'র আল-মুওয়াফাকাত, আশ-শাওকানী'র ইরশাদুল ফুহুল এবং তাজউদ্দীন আস-সুবকী'র জামউল জাওয়ামে' সহ অন্যান্য গ্রন্থ।
সাধারণভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পূর্বসূরীদের গ্রন্থগুলোর শব্দচয়ন অনেক বেশি শক্তিশালী, অর্থ অনেক বেশি স্পষ্ট এবং বিষয়বস্তু অনেক বেশি সহজবোধ্য। অন্যদিকে উত্তরসূরীদের গ্রন্থগুলো সাধারণত পূর্ববর্তীদের কাজের সারসংক্ষেপ, সংক্ষিপ্তকরণ, কাব্যানুবাদ, ব্যাখ্যা কিংবা টীকা হয়ে থাকে; তবে প্রত্যেকটিরই নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে।
আমাদের সামনে বর্তমান থাকা গ্রন্থটি (নাশুরুত বুনুদ আলা মারাতিস সউদ) এই শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত মূল্যবান রচনা হিসেবে বিবেচিত।
আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীন, মহামান্য দ্বিতীয় হাসান—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য ও শক্তিশালী করুন—এই মূল্যবান ইলমী নিদর্শনটি মুদ্রণ ও প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন। এটি মহামান্য বাদশাহর—আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন ও রক্ষা করুন—ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা, আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণকে এর অমূল্য ভাণ্ডার ও সম্পদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা এবং ছাত্র, গবেষক ও পাঠকদের জন্য এর উৎসগুলো থেকে জ্ঞান আহরণ করার ও এর ঝর্ণাধারা থেকে পান করার ব্যাপক সুযোগ করে দেওয়ার মহতী উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে আমাদের গৌরবময় ইলমী অতীতকে বর্তমানের প্রস্ফুটিত ইলমী জগতের সাথে সংযুক্ত করা এবং আমাদের এই নিরাপদ ভূখণ্ডে মহামান্য বাদশাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও আলোকিত নেতৃত্বের ছায়াতলে যে মহান সাংস্কৃতিক জাগরণ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করা উদ্দেশ্য।
এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো এই শাস্ত্রের একটি ছন্দবদ্ধ কবিতার (আরজুযা) ব্যাখ্যা। এই কবিতা এবং এর ব্যাখ্যা—উভয়টিই রচনা করেছেন সিদি আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-আলাওয়ী আশ-শিনকীতি। যেমনটি লক্ষ্য করা যায়, তিনি একজন সচেতন ও মুক্তমনা আলেমের ন্যায় অন্যান্য মাযহাবের প্রতিও দৃষ্টিপাত করেছেন; সেখান থেকে গ্রহণ করেছেন এবং যা গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কোনো মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন আবার কোনোটিকে দুর্বল বলেছেন, যা আপনি সামনে দেখতে পাবেন। এসকল কিছুর সাথে তিনি তাঁর মালেকী পরিচয়কেও বিস্মৃত হননি, যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং যার ওপর তিনি তুষ্ট ছিলেন।
এই কারণে এই কাজটি বিস্তারিত বর্ণনা এবং অতি-সংক্ষিপ্তকরণের মাঝামাঝি একটি পর্যায়ে এসেছে। এটি পড়ার সময় আপনি অনুভব করবেন যে, আপনি উম্মতের পরবর্তী যুগের একজন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমের লেখা পড়ছেন এবং তাঁর নিজস্ব শৈলীর সাথে পরিচিত হচ্ছেন।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
عصره الذي يتميز بالمناقشة وسوق الردود للإحاطة بالنقط التي يتعرض لها من مختلف الجوانب، ومع تمحيصه -بهذه الصورة -للمسائل ومناقشته لها، فهو يشعرك أنك منصف في مناقشته، إيجابي الروح في نظرته إليها، فإذا ما وقف أمام خلاف لفظي، أو جدال جانبي عقيم ترفع عنه قائلًا: لا مساحة في الاصطلاح.
ويستوقف فكرك وأنت تقرأ هذا المصنف الجامع، كثرة نقول المؤلف عن غيره، ولا غرابة في هذا، فقد بين منهجه في ذلك علمًا بتقيده بالنقل عن كبار علماء الإسلام بشكل عام وعلماء المذهب المالكي بشكل خاص، ذلك أن يجلي المسألة، ويقربها إلى القارئ بأسهل وأمتع ما يستطيع.
ومما يتميز به، أمانته في النقل إذا نقل، حيث أنه يعزو كل عبارة إلى صاحبها بكامل النزاهة، وهذا ما كان يتسم به أسلافنا من العلماء رحمهم الله تعالى (يعزون الفضل لأهله والقول لصاحبه).
وقد استعرض المؤلف رحمه الله تعالى في شرحه هذا مباحث الأصول كلها كباقة شهية، فدونكها أيها العالم والباحث والطالب وقد أخرجتها إليك وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية في بهاء ورواء وحلة قشيبة وطبعة أنيقة بعد أن نفذت كل نسخ هذا الكتاب التي كانت مطبوعة بفاس بالمطبعة الحجرية، فلم يكن من اليسير الحصول عليه قبل أن يقدم في هذه المطبعة الجديدة المصححة.
حفظ الله مولانا أمير المؤمنين، وأدامه ذخرًا لهذه الأمة يرعى نهضتها، ويصون تراثها، ويبعث مفاخرها العلمية وأمجادها الفكرية، موالاة لمأثرات العرش العلوي، في رعاية العلم والثقافة، ومناقبه الجلي في ترسيخ أصالة هذه البلاد، وإثراء مقومتها الحضارية.
وأقر عين سيدنا الإمام بصاحب السمو الملكي ولي عهده الأمير الجليل سيدي محمد، وصنوه الأمير السعيد مولاي رشيد وكافة أفراد الأسر الملكية الشريفة أنه على ما يشاء قدير، وهو نعم المولى ونعم النصير.
তাঁর যুগটি ছিল বিভিন্ন দিক থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে বেষ্টন করা এবং সেগুলোর উত্তর প্রদানের গতিপ্রবাহের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এই পদ্ধতিতে বিষয়সমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি আপনাকে অনুভব করাবেন যে, আপনি তাঁর আলোচনায় একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি এবং বিষয়টির প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন। যখনই তিনি কোনো শাব্দিক মতবিরোধ বা নিষ্ফল পার্শ্ব-বিতর্কের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি তা থেকে নিজেকে ঊর্ধ্বে রাখতেন এবং বলতেন: পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই।
এই সংকলন গ্রন্থটি পড়ার সময় যে বিষয়টি আপনার চিন্তাকে থমকে দেবে, তা হলো অন্যের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে লেখকের প্রাচুর্য। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি সাধারণভাবে ইসলামের বড় বড় আলেমদের থেকে এবং বিশেষভাবে মালেকী মাযহাবের আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিশ্রুতি ও অনুসৃত পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো মাসআলাটিকে স্পষ্ট করা এবং পাঠকের কাছে তা সহজতম ও আকর্ষণীয় উপায়ে উপস্থাপন করা।
তাঁর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা; কেননা তিনি প্রতিটি বক্তব্য পূর্ণ সততার সাথে তার মূল প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন। আমাদের পূর্বসূরি আলেমগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উপর রহম করুন) এই গুনেই গুণান্বিত ছিলেন—তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বকে তার প্রকৃত হকদারের দিকে এবং বক্তব্যকে তার বক্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করতেন।
লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর রহম করুন) তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে উসূলের সমস্ত বিষয়বস্তুকে একটি সুস্বাদু ফুলের তোড়ার মতো উপস্থাপন করেছেন। সুতরাং হে আলেম, গবেষক এবং শিক্ষার্থী! এটি আপনার সম্মুখে। আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এটিকে অত্যন্ত সুশোভিত, উজ্জ্বল ও মার্জিত পোশাকে এবং রুচিশীল মুদ্রণে আপনার কাছে নিয়ে এসেছে। ইতিপূর্বে ফাস শহরের পাথর ছাপাখানায় মুদ্রিত এই বইটির সমস্ত কপি শেষ হয়ে গিয়েছিল, ফলে এই নতুন সংশোধিত মুদ্রণ আসার আগে এটি সংগ্রহ করা সহজ ছিল না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অভিভাবক আমীরুল মুমিনীনকে রক্ষা করুন এবং এই উম্মতের জন্য তাঁকে সম্পদ হিসেবে দীর্ঘজীবী করুন, যিনি এর জাগরণের দেখাশোনা করেন, এর ঐতিহ্য রক্ষা করেন এবং এর ইলমী গৌরব ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহিমা পুনরুজ্জীবিত করেন। এটি জ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় আলাভী সিংহাসনের ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা, এবং এই দেশের মৌলিকত্বকে সুদৃঢ় করতে ও এর সভ্যতার উপাদানগুলোকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর মহান কীর্তি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা ইমামের চক্ষু শীতল করুন তাঁর রাজকীয় উচ্চপর্যায়ের যুবরাজ মহান আমীর সিদি মুহাম্মাদ, তাঁর সহোদর সৌভাগ্যবান আমীর মওলায় রশীদ এবং রাজপরিবারের সকল সম্মানিত সদস্যের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম, এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক ও কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد ذي الخلق العظيم،
وعلى ءاله الرهط الكريم وأصحابه الذين بهم الدين أقيم.
وبعد فيقول عبد الله بن إبراهيم بن الإمام العلوي أعلاه الله:
لمن من الله تعالى علي بإتمام النظم المسمى مراقي السعود لمبتغى الرقي والصعود، ألهمني الله الاشتغال بشرحه فشرعت فيه مستعينًا بالله ومشيرًا بلفظ المحشي للكمال بن أبي شريف، وبزكرياء لشيخ الإسلام زكرياء، وبالمحشيين لهما، وباللقاني لعلامة عصره بلا نزاع وواحد وقته بلا دفاع ناصر الدين اللقاني، إلا ولأن شافعيان وهذا مالكي. وكلهم محشون على شرح المحلي لجمع الجوامع، وبحلولو لأبي العباس أحمد الشهير بابن حلولو القروي المالكي شارح جمع الجوامع، الشرح المسمى الضياء اللامع، وبالقاضي أبي بكر الباقلاني وبالرازي لفخر الدين الرازي صاحب كتاب المحصول. وحيث قلت قال في التنقيح، أو في شرح التنقيح فمرادي شهاب الدين القرافي وحيث قلت قال في الآيات البينات فالقائل أحمد بن قاسم الشافعي العبادي. والآيات البينات حاشية له على المحلي ثلاثة أسفار ابتداء الثاني من مبحث العام والثالث من الإجماع، وهو كتاب جمع فيه من التحقيق والتدقيق وكثرة الأبحاث والانتصار لصاحب جمع الجوامع وشارحه المحلي ما لا يأتي الزمان بمثله إن الزمان بمثله لبخيل فسميت هذا الشرح «نشر البنود على السعود» يسر الله تعالى لي إتمامه وأجزل علي فيه إنعامه فمرادي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং মহান চরিত্রের অধিকারী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক,
এবং তাঁর সম্মানিত পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর, যাঁদের দ্বারা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহর বান্দা আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহীম ইবনুল ইমাম আল-আলাওয়ী (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন) বলেন:
যেহেতু মহান আল্লাহ ‘মারাকিল সুউদ’ নামক কাব্যগ্রন্থটি পূর্ণ করার মাধ্যমে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যা উন্নতি ও আরোহণ প্রত্যাশীদের লক্ষ্যবস্তু, তাই আল্লাহ আমাকে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) রচনার প্রেরণা দিয়েছেন। অতঃপর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এটি শুরু করলাম। আমি এখানে ‘আল-মুহাশশি’ শব্দ দ্বারা কামাল ইবনে আবি শরীফকে, ‘যাকারিয়া’ দ্বারা শাইখুল ইসলাম যাকারিয়াকে এবং তাঁদের উভয়ের টীকাভাষ্যকারদের (মুহাশশিদ্বয়) ইঙ্গিত করব। আর ‘আল-লাক্কানী’ দ্বারা তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সন্দেহাতীতভাবে অনন্য আলেম নাসিরুদ্দিন আল-লাক্কানীকে নির্দেশ করব; তবে প্রথম দুইজন শাফেয়ী মাযহাবের এবং ইনি মালিকী মাযহাবের অনুসারী। তাঁরা সকলেই ‘জামউল জাওয়ামি’-এর ওপর আল-মহল্লীর ব্যাখ্যার টীকাভাষ্যকার। আর ‘হুলুলু’ দ্বারা আবুল আব্বাস আহমাদ—যিনি ইবনে হুলুলু আল-কায়রাওয়ানী আল-মালিকী নামে প্রসিদ্ধ এবং ‘জামউল জাওয়ামি’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আদ-দিয়াউল লামে’-এর লেখক—তাঁকে বোঝাব। এছাড়া ‘আল-কাযী’ দ্বারা আবু বকর আল-বাকিল্লানীকে এবং ‘আর-রাযী’ দ্বারা ‘আল-মাহসুল’ কিতাবের লেখক ফখরুদ্দিন আর-রাযীকে নির্দেশ করব। আর যখন আমি বলব, ‘আত-তানকীহ’-এ বলা হয়েছে বা ‘শারহুত তানকীহ’-এ বলা হয়েছে, তখন আমার উদ্দেশ্য হবে শিহাবুদ্দিন আল-কারাফী। আর যখন আমি বলব, ‘আল-আয়াতুল বাইয়িনাত’-এ বলা হয়েছে, তখন বক্তা হলেন আহমাদ বিন কাসিম আশ-শাফেয়ী আল-আব্বাদী। ‘আল-আয়াতুল বাইয়িনাত’ হলো আল-মহল্লীর ওপর তাঁর একটি হাশিয়া (টীকা), যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত; এর দ্বিতীয় খণ্ড ‘আল-আম’ (সাধারণ)-এর আলোচনা থেকে এবং তৃতীয় খণ্ড ‘ইজমা’ (ঐক্যমত) থেকে শুরু হয়েছে। এটি এমন এক কিতাব যাতে তিনি এমন সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা, প্রচুর আলোচনা এবং ‘জামউল জাওয়ামি’ ও এর ব্যাখ্যাকার আল-মহল্লীর সমর্থনে এমন সব যুক্তি পেশ করেছেন যার অনুরূপ দ্বিতীয়টি সময় অতিবাহিত হলেও আসবে না; কেননা মহাকাল এর অনুরূপ কিছু উপহার দিতে অত্যন্ত কৃপণ। তাই আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম রেখেছি ‘নাশরুল বুনুদ আলাস সুউদ’। আল্লাহ তাআলা আমার জন্য এর সমাপ্তি সহজ করুন এবং আমার ওপর তাঁর নেয়ামতরাজি পূর্ণ করুন। সুতরাং আমার উদ্দেশ্য হলো—
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فيه إن شاء الله أن أسهل ما استصعب وأجلب كل منتخب من بحث معقول وعلم منقول، حتى لا يعد له كتاب في الإيضاح وتحرير الصواب فإن هذا العلم مما ألوت به الصبا والدبور وصار يبلي على ممر الدهور ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
يقول عبد الله وهو ارتسما
… سمى له والعلوى المنتمى
عبد الله المراد به المسمى ويرجع إليه الضمي المبتدأ باعتبار الاسم وارتسم بمعنى ثبت وسمى بتثليث السين لغة في الاسم حال من الضمير فاعل ارتسم، يعني أن اسمه عبد الله هو أفضل الأسماء لما فيه الحديث من أفضل الأسماء عبد الله وعبد الرحمن، وألحقوا بهما كل ما يدل على العبودية. قوله والعلوي المنتمى، المنتمى بصيغة اسم المفعول أي منتماه ونسبته يقال فيها العلوي بفتح العين واللام نسبه إلى علي بن أبي طالب كرم الله وجهه أو إلى آخر من ذريته.
تنبيه: أعلم أن الله تعالى قد يسر لي الشروع في هذا الشرح بتججك حرسها الله تعالى من الآفات، ووقى أهلها من السيئات، وعمرها بالعلم والدين إلى يوم البعث والدين بعدما يسر لي نظم الأصل بها وذلك يوم الخميس في جمادى الأولى عام سبعة ومائتين بعد الألف وتمام النظم قبله بعام أسأل الله بإنعامه أن يعين على إتمامه وأن يجعله خالصًا، لوجهه للرضى والأمن بمنه، والفوز بالزيادة فالكريم من استزاده زاده.
الحمد لله على ما فاضا
… من الجدى الذي دهورا فاضا
يعني أن أحمد الله على ما أفاض أي أكثر من الجدى بفتح الجيم والدال أي النفع والخير الذي جاء به صلى الله عليه وسلم بعدما فاض أي قل وعدم دهورًا متطاولة قبله صلى الله عليه وسلم.
وجعل الفروع والأصول
… لمن يروم نيلها محصولا.
النيل بفتح النون المراد به التعلم ومحصولا بمعنى حاصلة في الكتب والصدور ويجئ المحصول بمعنى المصدر كالمسعور والمحلوف بالفاء المرأسة لا بالفاء الموحدة والمعقول والمجلود وقد نظمتها بقولي:
এতে ইনশাআল্লাহ আমি কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করব এবং যুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও বর্ণিত ইলম থেকে প্রতিটি নির্বাচিত অংশকে সংকলন করব, যাতে বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং সঠিক বিষয় নির্ধারণে এর সমতুল্য কোনো কিতাব আর না থাকে। কেননা এই ইলম এমন একটি বিষয় যাকে পূর্ব ও পশ্চিমের বায়ু গ্রাস করেছে এবং মহাকালের আবর্তনে তা জীর্ণ হয়ে গেছে। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
আবদুল্লাহ বলছেন, আর তিনি অঙ্কিত হয়েছেন
… নাম তাঁর জন্য এবং আলওয়ি তাঁর পরিচয়।
আবদুল্লাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাঁর নামকরণ করা হয়েছে এবং বিশেষ্য হিসেবে মুবতাদার দিকে সর্বনামটি ফিরছে। 'আরতাসামা' অর্থ স্থির হওয়া বা প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আর 'সামি' শব্দটি 'সিন' বর্ণের তিনটি হরকতসহ হতে পারে যা 'ইসম' শব্দের একটি ভাষাগত রূপ; এটি 'আরতাসামা' ক্রিয়ার কর্তা হতে 'হাল' হয়েছে। এর অর্থ হলো, তাঁর নাম আবদুল্লাহ যা সর্বশ্রেষ্ঠ নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কেননা হাদিসে এসেছে যে, 'সর্বোত্তম নামসমূহ হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান'। ওলামায়ে কেরাম দাসত্ব প্রকাশ করে এমন সকল নামকেই এই দুই নামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁর উক্তি 'আল-আলওয়ি আল-মুনতামা'—'আল-মুনতামা' শব্দটি ইসমে মাফউল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ তাঁর সম্বন্ধ ও বংশ। একে 'আলওয়ি' (আইন ও লাম বর্ণের ফাতহাহসহ) বলা হয় যা আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) অথবা তাঁর বংশধরদের কারো সাথে সম্পৃক্ততাকে বুঝায়।
সতর্কীকরণ: জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য 'তাজাজাক' শহরে এই শারহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শুরু করা সহজ করে দিয়েছেন—আল্লাহ তাআলা শহরটিকে সকল আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করুন, এর অধিবাসীদের পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং পুনরুত্থান ও বিচার দিবস পর্যন্ত একে ইলম ও দ্বীন দ্বারা আবাদ রাখুন। আল্লাহ সেখানে মূল কাব্যগ্রন্থটি রচনা করা সহজ করার পর এটি শুরু হয়েছে। আর তা ছিল ১২০৭ হিজরি সালের জমাদিউল আউয়াল মাসের এক বৃহস্পতিবার। এর মূল কাব্যগ্রন্থটির সমাপ্তি হয়েছিল তার এক বছর আগে। আমি আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি যাতে তিনি এটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর অনুগ্রহে নিরাপত্তা দান করেন এবং সওয়াব বৃদ্ধি করেন; কেননা মহান দাতা তাঁর কাছে যা বর্ধিত চাওয়া হয় তা বাড়িয়ে দেন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যা প্রবহমান হয়েছে
… সেই কল্যাণ থেকে যা যুগ যুগ ধরে কমে গিয়েছিল।
অর্থাৎ, আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যা তিনি প্রচুর পরিমাণে দান করেছেন অর্থাৎ 'আল-জাদা' (জীম ও দাল বর্ণের ফাতহাহসহ), যার অর্থ উপকার ও কল্যাণ যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছেন। এটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দীর্ঘকাল ধরে তা কমে গিয়েছিল বা অনুপস্থিত ছিল।
এবং তিনি শাখা ও মূল মাসআলাসমূহকে
… যে তা অর্জন করতে চায় তার জন্য লভ্য করে দিয়েছেন।
'আন-নাইল' (নুন বর্ণের ফাতহাহসহ) বলতে শেখা বা অর্জন করা বোঝানো হয়েছে। 'মাহসুলান' অর্থ কিতাবসমূহে ও অন্তরে অর্জিত হওয়া। আর 'মাহসুল' শব্দটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল হিসেবেও আসে যেমন 'আল-মাসউর' এবং 'আল-মাহলুফ' (ফা আল-মুরাক্কাসাহ সহ, ফা আল-মুওয়াহহাদাহ নয়), এবং 'আল-মাকুল' ও 'আল-মাজলুদ'। আমি এগুলোকে আমার কবিতায় এভাবে ছন্দবদ্ধ করেছি:
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
محلوفكم مجلودكم معقول
… مصادر يزنها مفعول
كذلك المعسول والمحصول
… فاصغ ليتا أيها النبيل
الليت بالكسر صفح العنق.
وشاد ذا الدين بمن ساد الورى فهو المجلي والورى إلى ورا
شاد الحائط علاه بالشيد بالكسر وهو الجص ونحوه كناية عن تحسينه وشاد كجعل معطوف على أفاض وهو قوله وهو يعني من قوله فهو المجلي عائدًا على من والمجلي السابق في الحلبة قال الشاعر:
أتاني المجلي والمصلي وبعده الـ
… ـمسلي وتال بعده عاطف يسرى
ومرتاحها ثم الحظى ومؤمل
… وجاء اللطيم والسكيت له يجرى
فالمجلي بضم الميم وكسر اللام مشددة، والمصلي على وزنه هو الذي يتبع السابق في الحلبة والمسلي الثالث والتالي الرابع والعاطف الخامس والمرتاح السادس. وفي القاموس: إن المرتاح هو الخامس والخطي هو السابع والمؤمل هو الثامن واللطيم كأمير هو التاسع، والسكيت كزهير ويشدد العاشر وهو أخر خيل الحلبة بفتح الحاء وسكون اللام الدفعة من الخيل في الرهان، وورا في قوله إلى ورا بمعنى خلفه قصر للوزن.
محمد منور القلوب
… وكاشف الكرب لذي الكروب
محمد بالجر بدل من في قوله بمن، وتنويره صلى الله عليه وسلم للقلوب بالإيمان به وبمحبته والصلاة عليه وإتباعه وكاشف الكروب بشفاعته والاستغاثة بجاهه والكرب الحزن.
وشفاعاته في الآخرة ست: الأولى في تعجيل الحساب وهي أعظمها وأعمها وهي مختصة به. والثانية في إدخال أقوام الجنة بغير حساب وهي مختصة به عند النووي، وتردد في ذلك ابن دقيق العيد والسبكي. الثالثة فيمن استحق النار أن لا يدخلها وتردد النووي في اختصاصها به وجزم
আপনাদের শপথকৃত, আপনাদের চাবুক পেটা করা, আপনাদের বোধগম্য
… এমন সব ক্রিয়ামূল যা 'মাফউল' ওজনে আসে।
তেমনিভাবে মধুমিশ্রিত এবং অর্জিত
… অতএব হে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, ঘাড়ের এক পাশ দিয়ে মনোযোগ দিন।
'লীত' শব্দটি কাসরাহ (জের) সহকারে অর্থ হলো ঘাড়ের এক পাশ।
তিনি এই দ্বীনকে সেই ব্যক্তির মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন যিনি সৃষ্টিজগতকে শাসন করেছেন; তিনি হলেন অগ্রগামী, আর সমস্ত সৃষ্টিজগত তাঁর পিছনে।
'শাদা আল-হাইত' অর্থ দেয়ালকে 'শায়্যিদ' (শিন অক্ষরে জের সহকারে) অর্থাৎ চুন বা অনুরূপ কিছু দিয়ে উঁচু বা মজবুত করা, যা দেয়ালকে সুন্দর করার রূপক হিসেবে ব্যবহৃত। 'শাদা' শব্দটি 'জাআলা' এর মতো, যা 'আফাদা' শব্দের ওপর অন্বিত হয়েছে। আর এটি তাঁর বক্তব্য 'তিনি হলেন মুজাল্লি' বাক্য থেকে গৃহীত, যেখানে 'তিনি' সর্বনামটি 'যিনি' এর দিকে ফিরছে। মুজাল্লি হলো ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া ঘোড়া। কবি বলেছেন:
আমার নিকট এলো মুজাল্লি (প্রথম) এবং মুসাল্লি (দ্বিতীয়), অতঃপর মুসাল্লি (তৃতীয়); এবং তালি (চতুর্থ) এর পরে আতিফ (পঞ্চম), যা বাম দিক থেকে চলছে।
এবং তার মুরতাহ (ষষ্ঠ), অতঃপর হাযি (সপ্তম) এবং মুআম্মাল (অষ্টম); আর এলো লাতিম (নবম) এবং সুকাইত (দশম), যা তার পেছনে দৌড়ায়।
মুজাল্লি শব্দটি মীম-এ পেশ এবং লাম-এ তাশদীদসহ জের যোগে গঠিত। মুসাল্লিও একই ওজনে; সে হলো সেই যে প্রতিযোগিতায় প্রথম ঘোড়ার অনুসরণ করে। মুসাল্লি হলো তৃতীয়, তালি হলো চতুর্থ, আতিফ হলো পঞ্চম এবং মুরতাহ হলো ষষ্ঠ। কামুস অভিধানে আছে: মুরতাহ হলো পঞ্চম, হাযি হলো সপ্তম, মুআম্মাল হলো অষ্টম, লাতিম (আমীর-এর ওজনে) হলো নবম এবং সুকাইত (জুহাইর-এর ওজনে এবং তাশদীদসহ হতে পারে) হলো দশম। সে হলো প্রতিযোগিতার ময়দানের সর্বশেষ ঘোড়া। হালবাহ (হা অক্ষরে যবর এবং লাম অক্ষরে জজম সহকারে) অর্থ হলো বাজির ঘোড়াসমূহের একটি দল। আর তাঁর বক্তব্য 'ইলা ওয়ারা' তে 'ওয়ারা' শব্দের অর্থ হলো তার পিছনে, যা ছন্দের প্রয়োজনে হ্রস্ব করা হয়েছে।
মুহাম্মদ হৃদয়ের আলোকবর্তিকা
… এবং দুর্দশাগ্রস্তদের দুর্দশা মোচনকারী।
মুহাম্মদ শব্দটি এখানে 'বি-মান' বাক্যাংশের 'মান' থেকে বদল হিসেবে জের বিশিষ্ট হয়েছে। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে হৃদয়ের আলোকিত হওয়া বলতে তাঁর প্রতি ঈমান, ভালোবাসা, তাঁর ওপর দরুদ পাঠ এবং তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে হওয়াকে বোঝায়। আর তাঁর সুপারিশ এবং তাঁর মর্যাদার অসীলায় সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি দুর্দশা মোচনকারী। কারব অর্থ হলো দুঃখ বা বিষণ্ণতা।
পরকালে তাঁর সুপারিশসমূহ ছয় প্রকার: প্রথমটি হলো বিচারকার্য দ্রুত শুরু করার জন্য, এটি সবচেয়ে মহান ও ব্যাপক সুপারিশ এবং এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট। দ্বিতীয়টি হলো একদল লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করানো; ইমাম নববীর মতে এটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, তবে ইবনে দাকীকুল ঈদ এবং সুবকী এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তৃতীয়টি হলো যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে তাদের তাতে প্রবেশ না করার সুপারিশ; ইমাম নববী এটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং এটি নিশ্চিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عياض بنفيه. الرابعة في إخراج الموحدين من النار ويشاركه فيها الأنبياء والملائكة والمؤمنون، إلا أن الاشتراك في مطلق الإخراج لا في قدره. الخامسة في زيادة الدرجات في الجنة لأقوام ولم ير نص في اختصاصها به. السادسة في تخفيف عذاب من استحق الخلود في النار كأبي طالب. اللهم بجاهه شفعه فينا وفي قرابتنا بدخول الجنة من غير حساب وبزيادة الدرجات في الفردوس بلا مشقة ولا عتاب.
صلى الله عليه ربنا وسلما
… وآله ومن لشرعه انتمى
الشرع: السنة والدين، والانتساب للشرع بالعمل به وتدوينه وتعليمه وتعلمه.
هذا وحين قد رأيت المذهبا
… رجحانه له الكثير ذهبا
وما سواه مثل عنقا مغرب
… في كل قطر من نواحي المغرب
أردت أن أجمع من أصوله
… ما فيه بغية لذي فصوله
هذا مبتدأ حذف خبره، والعكس أي هذا الأمر والأمر هذا يعني أن الذي حملني على هذا النظم في أصول مالك خاصة إني رأيت الكثير من العلماء ذهب إلى ترجيح مذهبه على سائر المذاهب للحديث الصحيح (يوشك أن يضرب الناس أكباد الإبل في طلب العلم ولا يجدون عالمًا أعلم من عالم المدينة)، أو لترجيح السلف الصالح له على مذهب غيره مع حسن تصرفه في كل فن من القرءان والحديث والعربية والأصول وغير ذلك، وأيضًا فإن ما سواه من المذاهب مفقود في كل قطر بالضم أي ناحية من نواحي المغرب فلا تكاد تجد من يحقق مسألة منها فضلًا عن باب ولا كتاب من كتبها كما اختصت أرض الروم وهي، سلاسول وما والاه بمذهب أبي حنيفة حتى أنه لم يكن في وقتنا هذا أحد فيه على غيره إلا رجل من الشيعة يقول في آذانه مكان حي على الصلاة حي على خير العمل، وكما اختص عراق العجم بمذهب الشافعي ولم يختص إقليم بمذهب أحمد.
ইয়াদ এটি অস্বীকার করেছেন। চতুর্থ প্রকার (শাফায়াত) হলো একত্ববাদীদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনা, যাতে নবীগণ, ফেরেশতাগণ এবং মুমিনগণও শরিক হবেন; তবে এই অংশীদারিত্ব কেবল বের করে আনার মূল বিষয়ে, এর পরিমাণের ক্ষেত্রে নয়। পঞ্চম প্রকার হলো জান্নাতে কিছু লোকের মর্তবা বৃদ্ধি করা, যদিও এটি কেবল তাঁর (নবীজির) জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে কোনো অকাট্য দলিল পাওয়া যায়নি। ষষ্ঠ প্রকার হলো যারা জাহান্নামে চিরকাল থাকার যোগ্য, তাদের শাস্তি হালকা করা, যেমন আবু তালিবের ক্ষেত্রে। হে আল্লাহ! তাঁর সম্মানে আমাদের এবং আমাদের আত্মীয়স্বজনের জন্য তাঁকে শাফায়াতকারী বানিয়ে দিন, যেন বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করা যায় এবং কোনো কষ্ট ও তিরস্কার ছাড়াই জান্নাতুল ফিরদাউসে মর্তবা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের পালনকর্তা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও যারা তাঁর শরীয়তের অনুসারী তাদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন
…শরীয়ত হলো সুন্নাহ এবং দ্বীন; আর শরীয়তের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ হলো এর ওপর আমল করা, একে সংকলিত করা এবং এর শিক্ষা দান ও শিক্ষা গ্রহণ করা।
যখন আমি এই মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব দেখেছি, যার দিকে বহু আলেম ধাবিত হয়েছেন
…আর এটি ছাড়া অন্য সব কিছু মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চল) প্রতিটি প্রান্তে ‘আনকা মুগরিব’ (অস্তিত্বহীন কাল্পনিক পাখি)-এর ন্যায় হয়ে পড়েছে
…তাই আমি এর উসুল বা মূলনীতিগুলো থেকে এমন কিছু সংকলন করার ইচ্ছা করেছি, যাতে এর শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়
…এখানে ‘এটি’ হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) উহ্য রয়েছে; অথবা এর বিপরীত, অর্থাৎ ‘এই বিষয়টি হলো এটি’। এর অর্থ হলো, ইমাম মালিকের উসুল বা মূলনীতি বিষয়ে বিশেষভাবে এই পদ্য রচনায় যা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো এই যে, আমি দেখেছি অনেক আলেম অন্যান্য সমস্ত মাযহাবের ওপর তাঁর মাযহাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এর কারণ হলো সেই সহীহ হাদীস: (অচিরেই মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের পিঠে চড়ে কঠোর সফর করবে, কিন্তু তারা মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না)। অথবা সালাফে সালেহীন কর্তৃক অন্য মাযহাবের তুলনায় তাঁর মাযহাবকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে, কারণ কুরআন, হাদীস, আরবী ভাষা, উসুল এবং অন্যান্য সকল শাস্ত্রে তাঁর সুদক্ষ বিচরণ ও গভীর জ্ঞান ছিল। এছাড়া মাগরিবের প্রতিটি অঞ্চলে—অর্থাৎ প্রতিটি এলাকায়—তাঁর মাযহাব ব্যতীত অন্য মাযহাবগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেখানে কোনো একটি মাসআলা যাচাই করার মতো কাউকেও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, কোনো অধ্যায় বা কিতাব তো দূরের কথা। ঠিক যেমন রোম সাম্রাজ্যের দেশগুলো—অর্থাৎ সালাসুল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো—আবু হানিফার মাযহাবের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, এমনকি বর্তমানে সেখানে তাঁর মাযহাবের বাইরে কাউকেও পাওয়া যায় না; কেবল একজন শিয়া লোক ব্যতীত যে আযানে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’-এর পরিবর্তে ‘হাইয়া আলা খাইরিল আমাল’ বলে থাকে। একইভাবে অনারব ইরাক শাফেয়ী মাযহাবের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের জন্য এভাবে নির্দিষ্ট হয়নি।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعنقاء كحمراء وزنًا مضاف إلى مغرب اسم فاعل من أغرب في البلاد أي أبعد فيها، قيل فيها ذلك لبعدها في طيرانها، ويجوز أن يكون مغرب وصفًا لعنقاء. وذكروا مغربا لإرادة النسبة كما قالوا ناقة ضامر وهو مثل يضرب للشيء الذي يوجد وهي طائر تخطف الأطفال فدعا عليها حنظلة بن صفوان نبي أصحاب الرس فأهلكها الله وقطع نسلها. وقيل ذهب بها إلى جزيرة، وهي جزيرة لا يصل إليها الناس في المحيط وراء خط الاستواء وانظر حياة الحيوان الكبرى تجد شفاء العليل. والبغية بضم الباء وكسرها المطلوب. والمراد بالفصول الفروع.
منتبذا عن مقصد ما ذكرا
… لدى الفنون غيره محررا
منتبذا حال من فاعل أجمع والموصول مفعوله ومحررا بصيغة اسم الفاعل حال منه أيضًا. يعني أني غير ذاكر في هذا النظم كل ما ذكر في الفنون غير الأصول من نحو كمعاني الحروف أو بيان كمسائل الحقيقة والمجاز مع كثرتها أو منطق كدلالة المطابقة والتضمن والالتزام مع تحريره أي سلامته من التطويل والحشو.
سميته مراقي السعود
… لمبتغى الرقي والصعود
يعني: أني سميت هذا النظام مراقي السعود بضم السين جمع سعد بمعنى السعادة لمن أراد الرقي إلى سماء الفقه وفهم موارده الشرع ومقاصده. والمراقي جمع مرقاة بالكسر ما يرقى به كالسلم والرقى بضم الراء وتشديد التحتية وهو والصعود بمعنى.
استوهب الله الكريم المددا
… ونفعه للقارئين أبدا
يعني: أني أسأل الله أن يهب لي المدد أي الزيادة في العقل والتأييد على إكمال هذا النظام وأسأله أن ينفع به كل من قرأه إلى يوم القيامة نفعًا كاملًا شاملًا.
'আনকা' শব্দটি 'হামরা' এর ওজনে, যা 'মুবরিব' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। 'মুবরিব' শব্দটি 'আগরবা ফিল বিলাদ' থেকে উৎপন্ন ইসমে ফায়েল, যার অর্থ হলো—দেশের অনেক দূরে যাওয়া। এর উড়াল অনেক দূর পর্যন্ত হয় বলে একে এমন বলা হয়। আবার 'মুবরিব' শব্দটি 'আনকা' এর বিশেষণ হওয়াও বৈধ। তারা সম্বন্ধ বুঝানোর জন্য 'মুবরিব' শব্দটি উল্লেখ করেছেন, যেমন তারা বলে থাকেন 'ক্ষীণকায় উটনী'। এটি এমন বস্তুর ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা পাওয়া যায় না। এটি একটি পাখি ছিল যা শিশুদের ছিনতাই করত। আসহাবে রাস-এর নবী হানজালা বিন সাফওয়ান এর বিরুদ্ধে বদদোয়া করলে আল্লাহ একে ধ্বংস করেন এবং এর বংশধারা বিলুপ্ত করে দেন। বলা হয়ে থাকে যে, একে একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; এটি মহাসাগরের এমন এক দ্বীপ যেখানে মানুষ পৌঁছাতে পারে না এবং যা বিষুবরেখার ওপারে অবস্থিত। 'হায়াতুল হাইওয়ান আল-কুবরা' গ্রন্থটি দেখলে আপনি এ বিষয়ে বিস্তারিত সমাধান পাবেন। 'আল-বুগইয়াহ' শব্দটিতে 'বা' বর্ণে পেশ অথবা যের উভয়টি হতে পারে, যার অর্থ 'উদ্দেশ্য'। আর 'ফুসুল' দ্বারা এখানে 'ফুরু' বা শাখা-প্রশাখা উদ্দেশ্য।
অন্যান্য শাস্ত্রে যা কিছু সুসংহতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ হয়ে...
… অন্যান্য শাস্ত্রে যা সুসংহত হয়েছে।
'মুনতাবিদান' শব্দটি 'আজমাউ' এর কর্তার অবস্থা (হাল) এবং ইসমে মউসুলটি তার কর্ম (মাফউল)। 'মুহাররিরান' শব্দটি ইসমে ফায়েল হিসেবে এটিও তার একটি অবস্থা (হাল)। এর অর্থ হলো—উসূল ব্যতীত অন্যান্য শাস্ত্রে বর্ণিত সবকিছু আমি এই পদ্যে উল্লেখ করছি না। যেমন নাহু শাস্ত্রের হরফের অর্থসমূহ, কিংবা বালাগাতের বয়ান শাস্ত্রের হাকীকত ও মাজাযের মাসআলাসমূহ—তা প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও; অথবা মানতিক শাস্ত্রের দালালাতে মুতবাকিয়্যাহ, তাযাম্মুনিয়্যাহ ও ইলতিযামিয়্যাহ-এর মতো বিষয়গুলো, যদিও তা সুসংহত—অর্থাৎ দীর্ঘসূত্রিতা ও অপ্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত।
আমি এর নাম রেখেছি 'মারাকিস সাউদ'
… যারা আরোহণ ও উন্নতির উচ্চাকাঙ্ক্ষী তাদের জন্য।
অর্থাৎ: আমি এই কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছি 'মারাকিস সাউদ' (সীন বর্ণে পেশ যোগে), যা 'সা'দ' এর বহুবচন এবং এর অর্থ হলো সৌভাগ্য। এটি তাদের জন্য যারা ফিকহ শাস্ত্রের আকাশে আরোহণ করতে এবং শরীয়তের উৎস ও উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে চায়। 'আল-মারাকি' শব্দটি 'মিরকাত' (মীম বর্ণে যের যোগে) এর বহুবচন, যার অর্থ—যার মাধ্যমে উপরে আরোহণ করা হয়, যেমন সিঁড়ি। 'রুকা' (রা বর্ণে পেশ ও ইয়া বর্ণে তাশদীদ যোগে) এবং 'সুউদ' একই অর্থবোধক।
মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য ও পুষ্টি প্রার্থনা করছি
… আর পাঠকদের জন্য এর চিরস্থায়ী উপকার কামনা করছি।
অর্থাৎ: আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে সাহায্য (মাদাদ) দান করেন, তথা বুদ্ধি বৃদ্ধি করেন এবং এই কাব্যটি সমাপ্ত করার জন্য শক্তি দান করেন। আর আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি কিয়ামত পর্যন্ত এর প্রত্যেক পাঠকের জন্য একে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপকভাবে উপকারী করে দেন।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مقدمة
أي في علم الأصول وهي بكسر الدال أفصح من فتحها، من قدم اللازم بمعنى تقدم، وهي ما يتوقف عليها الشروع في الفن. ومقدمة الكتاب أعم منها مطلقًا وهي ما قدم أمام المطلوب لارتباط بينهما توقف على معرفته الشروع في المطلوب أم لا، فمعرفة الأحكام الخمسة مقدمتها وخطبة ألفية بن مالك مقدمة الكتاب فقط.
أول من ألفه في الكتب
… محمد بن شافع المطلبي
يعني: أن أول من ألف علم الأصول في الكتب الإمام الشافعي وهو محمد بن إدريس بن عباس بن عثمان بن شافع المطلبي، ألف فيه كتاب الرسالة الذي أرسل به إلى ابن مهدي وهو أيضًا أول من ألف في مختلف الحديث المشار إليه في طلعة الأنوار بقولنا
أولا وجمع ممكن فمختلف
… يضيفه إلى الحديث المحترف
وغيره كان له سليقه
… مثل الذي للعرب من خليقه
يعني: أن غير الشافعي من المجتهدين كالصحابة فمن بعدهم كان معرفة علم الأصول سليقة له، أي مركوزًا في طبيعته كما كان علم العربية من نحو وتصريف وبيان خليقة أي مركوزًا في طبائع العرب فطرة فطرهم الله عليها. والألقاب كاسم المبتدأ والخبر والفاعل والمفعول وغير ذلك اصطلاحات وضعها أئمة النحو، وكذلك وضع أئمة الأصول الذين صنفوا فيه اسم المنطوق والمفهوم والفحوى، والمخالفة والعام والخاص والمطلق والمقيد وغير ذلك.
الأحكام والأدلة الموضوع
… وكونه هذي فقط مسموع
ভূমিকা
অর্থাৎ উসুল শাস্ত্রের ভূমিকা। এটি দাল বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে পড়া ফাতহা (জবর) পড়ার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ; এটি 'কাদ্দামা' اللازم ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত যা 'তাকাদ্দামা' (অগ্রগামী হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত। এটি এমন বিষয় যার ওপর কোনো বিদ্যায় প্রবেশ করা নির্ভর করে। আর 'কিতাবের ভূমিকা' (মুকাদ্দিমাতুল কিতাব) এর চেয়ে নিরঙ্কুশভাবে অধিক ব্যাপক। এটি এমন বিষয় যা মূল উদ্দেশ্য বা বিষয়ের আগে উপস্থাপন করা হয় উভয়ের মধ্যকার কোনো সম্পর্কের কারণে, চাই মূল বিষয়ে প্রবেশ করা সেটির জ্ঞানের ওপর নির্ভর করুক বা না করুক। সুতরাং পাঁচটি বিধানের (আহকামুল খামসাহ) পরিচয় প্রদান করা হলো উসুল শাস্ত্রের ভূমিকা, আর আলফিয়্যা ইবনে মালিকের ভূমিকা কেবল কিতাবের ভূমিকা মাত্র।
গ্রন্থাকারে এটি সর্বপ্রথম যিনি সংকলন করেছেন
… মুহাম্মাদ বিন শাফি আল-মুত্তালিবি
অর্থাৎ: উসুল শাস্ত্র গ্রন্থাকারে সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন ইমাম শাফেয়ী; তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইদরিস বিন আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি আল-মুত্তালিবি। তিনি এ বিষয়ে 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি রচনা করেছেন যা তিনি ইবনে মাহদীর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি 'মুখতালিফুল হাদিস' (পরস্পর বিরোধী প্রতীয়মান হাদিস) বিষয়েও প্রথম গ্রন্থকার, যার প্রতি 'ত্বলাআতুল আনওয়ার'-এ আমাদের এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে:
প্রথমত এবং সমন্বয় সম্ভব হলে তা মুখতালিফ
… যা পারদর্শীগণ হাদিসের দিকে সম্বন্ধ করেন
তিনি ব্যতীত অন্যদের এটি মজ্জাগত ছিল
… যেমনটি ছিল আরবদের মজ্জাগত স্বভাব
অর্থাৎ: ইমাম শাফেয়ী ব্যতীত অন্য মুজতাহিদগণ, যেমন সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তীগণ—তাদের নিকট উসুল শাস্ত্রের জ্ঞান ছিল মজ্জাগত। অর্থাৎ এটি তাদের প্রকৃতিতে প্রোথিত ছিল, যেমনটি আরবি ভাষা তথা নাহু, সরফ এবং বালাগাতের জ্ঞান আরবদের প্রকৃতিতে প্রোথিত ছিল, যে স্বভাবের ওপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর উপাধি বা পরিভাষাগুলো যেমন মুবতাদা, খবর, ফায়েল, মাফউল এবং অন্যান্য—এগুলো নাহু শাস্ত্রের ইমামগণ কর্তৃক প্রণীত পরিভাষা। অনুরূপভাবে উসুল শাস্ত্রের ইমামগণ যারা এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারা মানতুক, মাফহুম, ফাহওয়া, মুখালাফাহ, আম, খাস, মুতলাক, মুকাইয়াদ এবং এই জাতীয় পরিভাষাগুলো প্রণয়ন করেছেন।
বিধান এবং দলিলসমূহ হলো এর আলোচ্য বিষয়
… এবং কেবল এই দুটিই আলোচ্য বিষয় হওয়া সুপ্রসিদ্ধ
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يعني، أن مما يتوقف عليه الشروع في الفن معرفة موضوعه. وموضوع كل فن ما يبحث فيه عن عوارضه الذاتية كبدن الإنسان لعلم الطب، وعوارضه الذاتية الصحة والمرض اللذان لا يبحث الطبيب إلا عنهما.
وموضع الأصول الأدلة الشرعية والأحكام. وعند بعضهم الأدلة الشرعية فقط. وإلى هذا أشار بقوله: وكونه .. الخ. وهذا مذهب الجمهور لأنه يبحث فيه عن عوارضها الذاتية كقولهم: الأمر يفيد الوجوب، ويتمسك بالعام في حياته صلى الله عليه وسلم قبل البحث عن المخصص، والعام المخصص حجة فيما يبقى.
وحجة الأول: أن جميع مباحث الأصول راجعة إلى إثبات أعراض ذاتية للأدلة والأحكام من حيث إثبات الأدلة للأحكام وثبوت الأحكام بالأدلة. فالفن منحصر في الإثبات والثبوت وفيما له نفع في ذلك كالمرجحات فلا خلاف بين القولين في المعنى.
অর্থাৎ, কোনো শাস্ত্রে পদার্পণ করা যে বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল তা হলো সেই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (মাওজু) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো এমন বস্তু যাতে তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (আওয়ারেজে জাতিয়্যাহ) নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানবদেহ; আর এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সুস্থতা ও অসুস্থতা, চিকিৎসক কেবল এ দুটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করেন।
আর উসূলের আলোচ্য বিষয় হলো শরয়ি দলিলসমূহ এবং আহকাম (বিধানসমূহ)। কোনো কোনো আলেমের মতে তা কেবল শরয়ি দলিলসমূহ। তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "এবং এর হওয়া... ইত্যাদি"। এটিই জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলেমের অভিমত; কারণ এতে এদের (দলিল ও আহকামের) মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন তাঁদের উক্তি: 'নির্দেশ (আমর) ওয়াজিব হওয়ার বিধান প্রদান করে'। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় কোনো বিশেষকারী (মুখাসসিস) অনুসন্ধানের পূর্বেই সাধারণ অর্থবোধক শব্দের (আম) ওপর আমল করা হতো। আর বিশেষায়িত সাধারণ শব্দ (আম-মুখাসসাস) অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথম মতের দলিল হলো: উসূলের যাবতীয় আলোচনা মূলত দলিল ও আহকামের জন্য এমন কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রমাণের দিকেই ফিরে যায়, যেখানে দলিলসমূহ বিধানকে সাব্যস্ত করে এবং বিধানসমূহ দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। সুতরাং এই শাস্ত্রটি সাব্যস্ত করা এবং সাব্যস্ত হওয়া এবং এক্ষেত্রে যা কিছু ফলপ্রসূ—যেমন অগ্রাধিকার প্রদানকারী বিষয়সমূহ (মুরাজ্জিহাত)—এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই উভয় উক্তির মাঝে মর্মগত কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أصول الفقهالأصل لغة: ما يبنى الشيء عليه حسًا كالجدار للسقف، ومعنى كالحقيقة للمجاز والدليل للمدلول.
ولما كان تصور المطلوب في النفس أو الشعور به شرطًا في تصور المطلب عقلًا جرت عادة المحققين في التصنيف بالبداءة بتعريف الحقيقة. فالشارع في فن لابد أن يتصوره أولا بوجه ما وإلا امتنع الشروع فيه.
وأصول الفقه مركب إضافي، يطلق تارة على جزأي الإضافة، وتارة لقبًا لهذا العلم وعلمًا له. واختلف في المركب الإضافي هل يتوقف حده اللقبي على معرفة جزأيه أو لا؟ إذ التسمية به سلبت كلا من جزأيه عن معناه الإفرادي وصيرت الجميع اسمًا لمعنى آخر، وعلى الأول فلابد من معرفة جزأيه ولذلك قال: (أصوله دلائل الإجمال).
يعني: أن أصول الفقه أدلته الإجمالية، لأن الأصل في الاصطلاح هو: الدليل، أو الأمر الراجح كما يأتي. والدليل الإجمالي هو، الذي لا يعين مسألة جزأيه كقاعدة مطلق الأمر والنهي، وفعله صلى الله عليه وسلم والإجماع والقياس والاستصحاب والعام والخاص والمطلق والمقيد والمجمل والمبين والظاهر والمؤول والناسخ والمنسوخ وخبر الآحاد، فالتحقيق أن الأدلة نفسها ليست أصولًا، لأنها موضوع الفن وموضوع الشيء غيره ضرورة، وكذا معرفة الدلائل ليست هي الأصول على التحقيق. فمراد من قال: أن أصول الفقه معرفة دلائل الفقه الإجمالية، التصديق بتلك القواعد، أي العلم بثبوت المحمول للموضوع ومراد الأكثر القائلين أنها الأدلة: القواعد الباحثة عن أحوال الأدلة.
উসুলুল ফিকহআভিধানিক অর্থে আসল (মূল) হলো: এমন বিষয় যার উপর অন্য কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়; তা বাহ্যিক বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হতে পারে, যেমন ছাদের জন্য দেয়াল; অথবা অর্থগত হতে পারে, যেমন রূপক অর্থের (মাজায) জন্য প্রকৃত অর্থ (হাকিকত) এবং যা প্রমাণিত হয় (মাদলুল) তার জন্য দলিল।
যেহেতু কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কে মনে ধারণা লাভ করা বা তা উপলব্ধি করা বুদ্ধিগতভাবে সেই বিষয়টি অনুধাবনের শর্ত, তাই গবেষকদের রীতি হলো রচনার শুরুতে কোনো বিষয়ের প্রকৃত সংজ্ঞার মাধ্যমে আরম্ভ করা। সুতরাং কোনো শাস্ত্র বা বিদ্যায় প্রবেশকারীর জন্য আবশ্যক হলো প্রথমে তা কোনো একভাবে কল্পনা বা ধারণা করা, অন্যথায় তাতে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
‘উসুলুল ফিকহ’ একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দসমষ্টি (মুরাক্কাব-এ ইদাফি); কখনো এটি এর দুটি অংশের (উসুল ও ফিকহ) সমন্বিত অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো এই বিশেষ শাস্ত্রের শিরোনাম বা পারিভাষিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই পারিভাষিক নামের সংজ্ঞায়ন কি এর অংশদ্বয়ের পরিচিতির ওপর নির্ভরশীল কি না, সে বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। কেননা, যখন এটি একটি শাস্ত্রের নাম হয়, তখন এর প্রতিটি অংশ তার পৃথক অর্থ হারিয়ে ফেলে এবং পূর্ণ শব্দটি একটি অন্য অর্থের নামে পরিণত হয়। প্রথম মতানুসারে, এর অংশদ্বয়ের পরিচিতি আবশ্যক, আর একারণেই বলা হয়েছে: (এর মূলনীতি হলো সামগ্রিক দলিলসমূহ)।
অর্থাৎ: উসুলুল ফিকহ হলো এর সামগ্রিক দলিলসমূহ। কারণ পরিভাষায় ‘আসল’ (মূল) বলতে দলিল বা অধিকতর শক্তিশালী বিষয়কে বোঝানো হয়, যা সামনে আসবে। আর সামগ্রিক দলিল হলো তা-ই, যা নির্দিষ্ট কোনো গৌণ বিষয়কে নির্দিষ্ট করে না; যেমন—সাধারণ আদেশ (আমর) ও নিষেধ (নহি)-এর নিয়মাবলি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্ম, ইজমা (ঐকমত্য), কিয়াস (অনুমান), ইস্তিসহাব (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা), আম (সাধারণ), খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিঃশর্ত), মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুবাইয়্যান (সুস্পষ্ট), জহির (প্রকাশ্য), মুআউওয়াল (ব্যাখ্যাকৃত), নাসিখ (রহিতকারী), মানসুখ (রহিত) এবং খবরে ওয়াহিদ। সঠিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, দলিলসমূহ স্বয়ং ‘উসুল’ বা মূলনীতি নয়; কারণ এগুলো এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (মাওজু), আর কোনো বিষয়ের আলোচ্য বিষয় এবং সেই বিষয়টি যে ভিন্ন হবে তা অনস্বীকার্য। একইভাবে, দলিলসমূহের পরিচিতিও প্রকৃত অর্থে ‘উসুল’ নয়। সুতরাং যারা বলেন ‘উসুলুল ফিকহ হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহের পরিচিতি’, তাদের উদ্দেশ্য হলো সেই নিয়মাবলিকে সত্য বলে স্বীকার করা; অর্থাৎ কোনো বিষয়ের জন্য তার বিধেয় সাব্যস্ত হওয়ার জ্ঞান। আর অধিকাংশের মতানুসারে—যারা বলেন এগুলোই দলিল—তাদের উদ্দেশ্য হলো: সেই সকল নিয়মাবলি যা দলিলের অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والقاعدة قضية كلية تعرف منها أحكام جزئياتها، نحو مطلق الأمر للوجوب ومطلق النهي للتحريم، والإجماع والقياس والاستصحاب حجة، والعام يقبل التخصيص والخاص يقضي على العام والمطلق يحمل على المقيد بشرطه، وخبر الآحاد يجب العمل به إلى غير ذلك مما يعلم في مواضعه واحترز بالإجمالية عن التفصيلية نحو ((أقيموا الصلاة)) ((ولا تقربوا الزنى)) وصلاته صلى الله عليه وسلم في الكعبة، والإجماع على أن لابنة الابن السدس مع بنت الصلب حيث لا عاصب، وقياس الأرز على البر في امتناع ربا الفضل والنساء.
قال العابدي في الآيات البينات، والشيخ زكرياء: ليس بين الإجمالية والتفصيلية تغاير بالذات بل بالاعتبار، إذ هما شيء واحد له جهتان فأقيموا الصلاة له جهة إجمال طي كونه أمرًا وجهة تفصيل هي كون متعلقة خاصًا. وهي: إقامة الصلاة. فالأصولي يعرف الدلائل من الجهة الأولى والفقيه من الثانية.
تنبيه: اعلم أن أسماء العلوم كالفقه والبيان والأصول والنحو مثلًا يطلق كل واحد منها مرادًا به قواعد ذلك الفن وتارة مرادًا به إدراك تلك القواعد، وتارة مرادًا بها الملكة -بالتحريك -وهي سجية راسخة في النفس تحصل للمدرك بعد إدراك مسائل الفن وممارستها. فمن عرف أصول الفقه بأنه أدلة الفقه الإجمالية نظرًا إلى المعنى الأول ومن قال معرفة أدلة الفقه الإجمالية نظر إلى الثاني (وطرق الترجيح قيد تال).
يعني: أن طرق الترجيح للأدلة عند تعارضها قيد تابع للدلائل الإجمالية في الاندراج في حقيقة الأصول. والمراد بالطرق وجوه الترجيح. (وما للاجتهاد من شرط وضح).
ما مبتدأ، ووضح خبره. يعني: أن شروط الاجتهاد الآتي ذكرها في كتابه وضح، أي ظهر دخولها في مسمى الأصول. يعني: أن أصول الفقه هي الأدلة الإجمالية وكيفيات الترجيح وشروط الاجتهاد. وقيل: معرفة كل من الثلاثة. وقال ابن أبي شريف: أن التحقيق دخول مباحث الترجيح في مسمى الأصول دون مباحث الاجتهاد فإنما
আর মূলনীতি হলো এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যার মাধ্যমে তার অন্তর্গত শাখা-প্রশাখাসমূহের বিধান জানা যায়। যেমন: সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং সাধারণ নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য। ইজমা, কিয়াস এবং ইস্তিসহাব হলো দলিল। সাধারণ (আম) সুনির্দিষ্টকরণ (তাখসিস) গ্রহণ করে এবং বিশেষ (খাস) সাধারণের ওপর প্রাধান্য পায়। আর শর্ত সাপেক্ষে শর্তহীন বিষয়কে (মুতলাক) শর্তযুক্তের (মুকাইয়্যাদ) ওপর প্রয়োগ করা হয়। একক বর্ণনার (আখবারে আহাদ) ওপর আমল করা ওয়াজিব—এরূপ আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা স্ব-স্ব স্থানে জানা যায়। 'সামগ্রিক' শব্দটির মাধ্যমে বিস্তারিত (তাফসিলি) দলিলসমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেমন: "তোমরা সালাত কায়েম করো", "তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না", কাবার অভ্যন্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় করা, এবং কোনো আসাবাকারীর অবর্তমানে সহোদর কন্যার সাথে পৌত্রীর (ছেলের ঘরের মেয়ে) ছয় ভাগের এক ভাগ পাওয়ার বিষয়ে ইজমা হওয়া, এবং 'রিবা আল-ফজল' ও 'রিবা আন-নাসিয়া' (বাকিতে সুদ) নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে চালকে গমের ওপর কিয়াস করা।
আল-আবিদি 'আল-আয়াতুল বাইয়িনাত' গ্রন্থে এবং শেখ জাকারিয়া বলেছেন: সামগ্রিক ও বিস্তারিত দলিলের মধ্যে সত্তাগত কোনো পার্থক্য নেই, বরং পার্থক্যটি কেবল দৃষ্টিভঙ্গিগত। কারণ উভয়ই মূলত একটিই বস্তু যার দুটি দিক রয়েছে। যেমন "তোমরা সালাত কায়েম করো"—এর একটি সামগ্রিক দিক রয়েছে যে এটি একটি 'নির্দেশ', আর একটি বিস্তারিত দিক হলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হওয়া, আর তা হলো 'সালাত কায়েম করা'। সুতরাং উসূলবিদ দলিলসমূহকে প্রথম দিক থেকে এবং ফকিহ দ্বিতীয় দিক থেকে চিনে থাকেন।
সতর্কবার্তা: জেনে রাখুন যে, বিভিন্ন শাস্ত্রের নাম যেমন ফিকহ, বায়ান, উসূল এবং নাহু—এর প্রত্যেকটি কখনো সেই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ অর্থে ব্যবহৃত হয়, কখনো সেই মূলনীতিগুলো অনুধাবন করা অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো তা 'মালাকাহ' বা যোগ্যতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'মালাকাহ' হলো আত্মার গভীরে প্রোথিত এমন এক স্বভাব যা শাস্ত্রের মাসআলাগুলো অনুধাবন ও তা চর্চার পর শিক্ষার্থীর অর্জিত হয়। সুতরাং যারা উসূলে ফিকহকে 'ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তারা প্রথম অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। আর যারা বলেছেন এটি হলো 'ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহের জ্ঞান', তারা দ্বিতীয় অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। (এবং অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতিসমূহ হলো এর পরবর্তী একটি শর্ত)।
অর্থাৎ: দলিলের পারস্পরিক বিরোধের সময় অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতিসমূহ সামগ্রিক দলিলের অনুগামী একটি শর্ত হিসেবে উসূলের হাকিকত বা সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর 'পদ্ধতি' দ্বারা অগ্রাধিকার প্রদানের দিকসমূহ বুঝানো হয়েছে। (এবং ইজতিহাদের যা কিছু শর্ত রয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে)।
'মা' (যা কিছু) শব্দটি মুবতাদা এবং 'ওয়াদাহা' (স্পষ্ট হয়েছে) তার খবর। অর্থাৎ: ইজতিহাদের যে শর্তসমূহ কিতাবে সামনে উল্লেখ করা হবে তা স্পষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ উসূলের সংজ্ঞায় সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রতীয়মান হয়েছে। এর অর্থ হলো, উসূলে ফিকহ হলো সামগ্রিক দলিলসমূহ, অগ্রাধিকার প্রদানের নিয়মাবলি এবং ইজতিহাদের শর্তসমূহ। কেউ কেউ বলেছেন: এই তিনটির প্রত্যেকটির জ্ঞানই হলো উসূলে ফিকহ। ইবনে আবি শরিফ বলেছেন: সঠিক বিশ্লেষণ হলো যে, অগ্রাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা উসূলের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত, তবে ইজতিহাদের আলোচনা নয়; কেননা তা কেবল
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هي تتمات. وعليه فيقال: أصول الفقه أدلة الفقه الإجمالية وكيفية الاستفادة منها وقيل العلم بها اهـ.
وأما مسائل الاجتهاد فبعضها فقهية موضوعها فعل المكلف محمولها الحكم الشرعي، كمسألة جواز الاجتهاد له صلى الله عليه وسلم ولغيره في عصره ومسألة لزوم التقليد لغير المجتهد، وبعضها اعتقاديه كقولهم: المجتهد فيما لا قاطع فيه مصيب، وقولهم: خلو الزمان عن المجتهد غير جائز، ونحوهما. قال القشيري: لكن جرت العادة بإدخال شروط الاجتهاد في الأصول وضعا فأدخلت فيه حدًا، وإنما أدخلت فيه وضعًا لأن غاية فن الأصول الإقدار عل الاستنباط، والاستنباط متوقف على شروط الاجتهاد، وليست داخلة في قواعد الفن بخلاف مباحث الترجيح، فإن البحث فيها عن أحوال الأدلة التفصيلية على وجه كلي باعتبار تعارضها، ولا يدخل في الأصول علم الخلاف، إذ لا يتوصل به إلى الفقه توصلًا قريبًا لأن الجدلي إما مجيب بحفظ حكم أو متعرض بإبطاله كان الحكم فقهًا أو غيره. لكن الفقهاء أكثروا فيه من مسائل الفقه وبنو أركانها عليها، حتى توهم اختصاصه بالفقه. وأصول الفقه، وإن كان أصلًا للفقه لاحتياجه إليه فرع لأصول الدين لاحتياج كون الأدلة حجة إلى معرفة الصانع وصفاته.
(ويطلق الأصل على ما قد رجح)
يعني: أن الأصل يطلق في الاصطلاح أيضًا على الأمر الراجح نحو: الأصل براءة الذمة، والأصل عدم المجاز والأصل إبقاء ما كان على ما كان عليه قاله القرافي في التنقيح.
এগুলো হলো পরিশিষ্ট। এর ভিত্তিতে বলা হয়: উসূলে ফিকহ হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ এবং সেগুলো থেকে ফায়দা হাসিল করার পদ্ধতি, আর কেউ কেউ বলেছেন এগুলোর জ্ঞান। সমাপ্ত।
আর ইজতিহাদ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের কিছু হলো ফিকহী মাসআলা, যার বিষয়বস্তু হলো মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল ব্যক্তির) কর্ম এবং এর বিধেয় হলো শরঈ বিধান। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর যুগে অন্যদের জন্য ইজতিহাদ জায়েজ হওয়ার মাসআলা এবং মুজতাহিদ ব্যতীত অন্যদের জন্য তাকলীদ আবশ্যক হওয়ার মাসআলা। আর এগুলোর কিছু আকিদাগত মাসআলা, যেমন তাদের কথা: যে বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল নেই তাতে মুজতাহিদ সঠিক পথে আছেন, এবং তাদের কথা: কোনো এক সময়কাল মুজতাহিদ শূন্য হওয়া জায়েজ নয়, এবং এই জাতীয় মাসআলাসমূহ। কুশাইরী বলেন: তবে প্রথাগতভাবে উসূলে ইজতিহাদের শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রচনার ক্ষেত্রে, তাই একে এর সংজ্ঞায় প্রবেশ করানো হয়েছে। আর এটি রচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই জন্য যে, উসূল শাস্ত্রের চরম লক্ষ্য হলো ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) করার সক্ষমতা প্রদান করা, আর ইস্তিনবাত ইজতিহাদের শর্তাবলির ওপর নির্ভরশীল। তবে এগুলো এই শাস্ত্রের মূল নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত নয়, তারজীহ (প্রাধান্য দান) সংক্রান্ত আলোচনার বিপরীত। কেননা সেখানের আলোচনা হলো বিস্তারিত দলিলসমূহের অবস্থা নিয়ে সামগ্রিকভাবে তাদের পরস্পর বিরোধপূর্ণ হওয়ার দিক বিবেচনায়। আর উসূলে 'ইলমুল খিলাফ' (মতপার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্র) অন্তর্ভুক্ত হয় না, যেহেতু এর মাধ্যমে ফিকহ পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছানো যায় না। কারণ বিতর্ককারী ব্যক্তি হয় কোনো বিধান সংরক্ষণের মাধ্যমে উত্তর দাতা হন অথবা তা বাতিলের উদ্দেশ্যে আক্রমণকারী হন, চাই বিধানটি ফিকহী হোক বা অন্য কিছু। কিন্তু ফকীহগণ এতে ফিকহী মাসআলা অধিকহারে নিয়ে এসেছেন এবং এর রুকনগুলোকে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন, এমনকি ধারণা করা হয় যে এটি ফিকহের সাথেই নির্দিষ্ট। আর উসূলে ফিকহ যদিও ফিকহের জন্য মূল ভিত্তি—যেহেতু ফিকহ এর মুখাপেক্ষী—তবে এটি উসূলে দ্বীনের (আকিদার) একটি শাখা। কারণ দলিলসমূহ হুজ্জত বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হওয়ার বিষয়টি সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর গুণাবলি জানার ওপর নির্ভরশীল।
(আর 'আসল' শব্দটি সেই বিষয়ের ওপরও প্রয়োগ করা হয় যা প্রাধান্য পেয়েছে)
অর্থাৎ: পরিভাষায় 'আসল' শব্দটি অগ্রগণ্য বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত বিষয়ের ওপরও ব্যবহৃত হয়। যেমন: মূল হলো দায়মুক্তি, এবং মূল হলো রূপক না হওয়া, এবং মূল হলো কোনো বিষয় যেভাবে ছিল সেভাবে রেখে দেওয়া। কারাফী তাঁর 'আত-তানকীহ' গ্রন্থে এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فصلوالفرع حكم الشرع قد تعلقا
… بصفة الفعل كندب مطلقا
يعني: أن الفرع هو حكم الشرع المتعلق بصفة فعل المكلف وتلك الصفة ككونه مندوبًا أو غيره من الأحكام الخمسة مطلقًا، أي سواء كان الفعل قلبيًا كالنية أو بدنيًا كالضوء، قال الناصر اللقاني عند قول خليل: فذلك لعدم إطلاعي في الفرع على أرجحية منصوصة.
والفقه هو العلم بالأحكام
… للشرع والفعل نماها النامي
أدلة التفصيل منها مكتسب
الفقه لغة: الفهم والشعر والطب، واصطلاحًا هو: العلم بجميع الأحكام الشرعية العملية المكتسب من الأدلة التفصيلية. والمراد بالأحكام: النسب التامة التي هي ثبوت أمر لأخر إيجابًا أو سلبًا، احترازًا على العلم بالذوات والصفات والأفعال وعن النسبة التقييدية والشرعية المأخوذة من الشرع تصريحًا واستنباطًا احترازًا عن الأحكام العقلية والحسية والاصطلاحية كالعلم بأن الواحد نصف الاثنين، وإن النار محرقة، وإن الفاعل مرفوع وإن كان الحاكم في الحقيقة في الأخيرين إنما هو العقل على المشهور، ولكن بواسطة الحس والاصطلاح.
والعملية المتعلقة بكيفية عمل قلبي كالعلم بوجوب النية في الوضوء وبدني كالعلم بسنية الوتر فيشمل العمل عمل غير المكلف لأن الفقه يبحث عن أفعال غير المكلف فالعلم بها من الفقه. لأنه يمنع من المحرمات كالزنى وشرب الخمر ويؤمر بالطاعات.
পরিচ্ছেদআর শাখা হলো শরীয়তের বিধান যা সংশ্লিষ্ট হয়েছে
… কাজের বৈশিষ্ট্যের সাথে যেমন নিঃশর্তভাবে মুস্তাহাব হওয়া।
অর্থাৎ: শাখা হলো শরীয়তের ঐ বিধান যা মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির কাজের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর সেই বৈশিষ্ট্য হলো সেটি মুস্তাহাব হওয়া বা নিঃশর্তভাবে অন্য কোনো পঞ্চ-বিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া; অর্থাৎ কাজটি অন্তরের হোক যেমন নিয়ত, অথবা শরীরের হোক যেমন ওজু। নাসির আল-লাক্কানী রহ. খলীল রহ.-এর উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন: "সেটি শাখার ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণিত প্রাধান্যপ্রাপ্ত দলিলের ব্যাপারে আমার অবগত না থাকার কারণে।"
আর ফিকহ হলো ঐ সকল বিধানের জ্ঞান
… যা শরীয়ত ও কর্মের দিকে সম্পৃক্ত এবং যা বিকাশকারী কর্তৃক বর্ধিত।
বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে যা অর্জিত।
ফিকহের শাব্দিক অর্থ হলো: উপলব্ধি করা, কাব্য ও চিকিৎসাবিদ্যা। আর পারিভাষিক অর্থে ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত শরীয়তের যাবতীয় আমলি বা ব্যবহারিক বিধানের জ্ঞান। আর 'বিধানসমূহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পূর্ণ সম্বন্ধ, যা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করে; এর মাধ্যমে সত্তা, গুণাবলি এবং কার্যাবলির জ্ঞান এবং অপ্রত্যক্ষ সম্বন্ধ বাদ পড়ে গেছে। আর 'শরয়ী' বা শরীয়তসম্মত বলা হয়েছে যা সরাসরি বা গবেষণার মাধ্যমে শরীয়ত থেকে গৃহীত হয়, যাতে করে যৌক্তিক, ইন্দ্রিয়জাত এবং পারিভাষিক বিধানসমূহ বাদ পড়ে যায়। যেমন: এই জ্ঞান যে এক হলো দুইয়ের অর্ধেক, আগুন দহনকারী এবং ফায়েল বা কর্তা পেশযুক্ত হয়—যদিও শেষোক্ত দুটিতে প্রসিদ্ধ মতানুসারে প্রকৃত বিচারক হলো বিবেক, তবে তা ইন্দ্রিয় ও পরিভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
আর 'আমলি' বা ব্যবহারিক হলো যা অন্তরের কাজের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন ওজুতে নিয়ত ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞান, অথবা শরীরের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন বিতর নামাজ সুন্নাত হওয়ার জ্ঞান। এটি মুকাল্লাফ নয় এমন ব্যক্তির কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ ফিকহ মুকাল্লাফ নয় এমন ব্যক্তির কাজ নিয়েও আলোচনা করে, তাই সেগুলোর জ্ঞানও ফিকহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাকেও ব্যভিচার ও মদ্যপানের মতো হারাম কাজ থেকে বিরত রাখা হয় এবং আনুগত্যের কাজের আদেশ দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والمراد بكيفية العمل وجوبه أو ندبه أو ضدهما أو إباحته وهي المسماة عن المناطقة بالمادة وهي الدوام والضرورة وما يقابل الأمرين في نقضهما، فخرج العلم بالأحكام الشرعية الاعتقادية أي المتعلقة بحصول العلم في القلب كالعلم بأن الله تعالى واحد، وأنه يرى في الآخرة فعلمك بوجوب اعتقاد أن الله واحد فقه، وعلمك أن الله واحد ليس به، بل هو من علم الكلام، فالمتكلم يثبت الوحدة، والفقيه يثبت وجوبها. فالحق أن الاعتقاد وسائر الإدراكات انفعال لا فعل للنفس وإذا لم يكن فعلا فلا يكون عملًا إلا على سبيل التسامح قاله في الآيات البينات.
واعترض بعضهم على التقييد بالعمل بأنه يخرج ما ليس بعمل كالطهارة الحاصلة باستحالة الخمر خلا والبيضة فرخا. وكالرق المانع من الإرث ولزوم التصرف وكالسفه المانع من لزوم التصرف مع أن الظاهر أن العلم بها من الفقه لأنه يبحث عنها فيه. وجوابه عندي: أن الطهارة تستلزم حلية تناول الشيء وهو عمل، والرق يمنع أخذ الإرث وهو عمل وانح ذلك النحو.
ويقيد المكتسب خرج علمه تعالى لتعاليه عن الاكتساب والضرورة، وعلم كل نبي وملك بما ذكر، إذ هو ضروري حاصل مع العلم بالأدلة لا مكتسب عنها. فإن قيل: هل يدخل في التعريف علم النبي صلى الله عليه وسلم الحاصل عن اجتهاد بناء على الأصح من جواز الاجتهاد له صلى الله عليه وسلم فيسمى فقها أو لا يسمى فيكون التعريف غير مانع؟ فالجواب كما لابن أبي شريف: إن ذلك العلم دليل شرعي للحكم فبهذا الاعتبار لا يعد فقهًا بل هو من أدلة الفقه وباعتبار حصوله من دليل شرعي يصح أن يسمى فقهًا إلا أن يقال أنه بواسطة تقرير الله تعالى له عليه يكون ضروريًا فيكون بمنزلة الثابت بالوحي، وذكر الأدلة للبيان لا للاحتراز، إذ لا اكتساب إلا من الدليل. وبقيد التفصيلية خرج علم المقلد فإنه مكتسب من دليل إجمالي لأنه فتوى مجتهد وفتواه حكم الله في حقه. وقال المحلي يخرج به العلم بذلك المكتسب للخلافي من المقتضى، والنافي المثبت بهما ما يأخذه من الفقيه ليحفظه عن إبطال
কর্মের ধরন বলতে এর আবশ্যকতা, সুপারিশযোগ্যতা, এ দুটির বিপরীত অবস্থা কিংবা এর বৈধতাকে বোঝায়। যুক্তিবিদদের পরিভাষায় একে 'মাদা' (উপাদান) বলা হয়, যা স্থায়িত্ব, অনিবার্যতা এবং এ দুটির বিপরীত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে শরীয়তের বিশ্বাসগত বিধানসমূহের জ্ঞান সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, অর্থাৎ যা অন্তরে জ্ঞান অর্জনের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আল্লাহ তাআলা এক হওয়ার জ্ঞান এবং পরকালে তাঁকে দেখা যাওয়ার জ্ঞান। আল্লাহ এক—এরূপ বিশ্বাস করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আপনার জ্ঞান হলো ফিকহ, কিন্তু আল্লাহ এক—এই জ্ঞানটি ফিকহ নয়, বরং এটি ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত। কারণ ধর্মতাত্ত্বিকগণ আল্লাহর একত্ব প্রমাণ করেন, আর ফকিহ বা আইনবিদগণ সেই বিশ্বাসের আবশ্যকতা প্রমাণ করেন। প্রকৃত কথা হলো, বিশ্বাস ও অন্যান্য উপলব্ধিগুলো হলো মনের একটি অবস্থা বা প্রতিক্রিয়া, নফসের কোনো কর্ম নয়। আর যখন এটি কর্ম নয়, তখন রূপক অর্থ ছাড়া একে আমল বা কাজ বলা যায় না—একথা 'আল-আয়াতুল বাইয়িনাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
কেউ কেউ 'কাজ' বা 'আমল' দ্বারা সংজ্ঞাকে সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন যে, এর ফলে এমন বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায় যা মূলত কাজ নয়; যেমন মদের সিরকায় রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতা কিংবা ডিম থেকে ছানা হওয়া। অনুরূপভাবে দাসত্ব যা উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে বাধা দেয় এবং লেনদেন কার্যকর হওয়া রোধ করে, কিংবা নির্বুদ্ধিতা যা লেনদেনের বৈধতা রোধ করে; অথচ দৃশ্যত এগুলোর জ্ঞান ফিকহেরই অংশ, কারণ ফিকহশাস্ত্রে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর জবাবে আমি বলব: পবিত্রতা কোনো বস্তু গ্রহণের বৈধতাকে আবশ্যক করে, যা একটি কাজ। আর দাসত্ব উত্তরাধিকার লাভে বাধা দেয়, যা একটি কাজ। অন্যান্য বিষয়গুলোও ঠিক এমন।
'অর্জিত' শর্তটি যুক্ত করার ফলে আল্লাহ তাআলার জ্ঞান সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে, কারণ তিনি জ্ঞান অর্জন বা অনিবার্যতার ঊর্ধ্বে। অনুরূপভাবে প্রত্যেক নবী ও ফেরেশতার জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তাদের জ্ঞান হলো অনিবার্য বা জরুরি, যা দলিলের জ্ঞানের সাথেই উপস্থিত থাকে, দলিল থেকে আহরিত বা অর্জিত নয়। যদি প্রশ্ন করা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ থেকে অর্জিত জ্ঞান কি এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে? (নবীজির জন্য ইজতিহাদ জায়েজ হওয়ার বিশুদ্ধ মতানুসারে)। একে কি ফিকহ বলা হবে নাকি হবে না? যদি না বলা হয় তবে সংজ্ঞাটি কি বর্জনকারী হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ হবে না? এর উত্তরে ইবনে আবি শরীফ যেমন বলেছেন: সেই জ্ঞানটি বিধানের জন্য একটি শরয়ি দলিল, তাই এই বিচারে একে ফিকহ বলা হয় না, বরং এটি ফিকহের দলিলের অন্তর্ভুক্ত। তবে শরয়ি দলিল থেকে অর্জিত হওয়ার বিচারে একে ফিকহ বলা সঠিক হতে পারে; যদি না বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার সমর্থনের কারণে এটি অনিবার্য জ্ঞানে পরিণত হয়, ফলে তা ওহীর মাধ্যমে সাব্যস্ত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর দলিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য, অন্য কিছু বর্জনের জন্য নয়; কারণ দলিল ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। 'বিস্তারিত' শর্তের মাধ্যমে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর জ্ঞান সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, কারণ তার জ্ঞান সামগ্রিক দলিল থেকে অর্জিত; কেননা তা হলো একজন মুজতাহিদের ফতোয়া এবং সেই ফতোয়াই তার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান। আল-মহাল্লি বলেন, এর মাধ্যমে বিতর্ককারী ব্যক্তি ফকিহর কাছ থেকে যা কিছু গ্রহণ করে—যাতে তার অর্জিত জ্ঞানটি বাতিল হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে—সেই জ্ঞানও সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
خصمه؟ فعمله مثلًا بوجوب النية في الوضوء لوجود المقتضى أو بعدم وجوب الوتر لوجود النافي ليس من الفقه وهذا إذا قلنا أن الخلافي يستفيد علمًا بثبوت الوجوب أو انتفائه من مجرد تسليمه من المجتهد وجود المقتضي أو النافي إجمالًا، وإنه يمكنه بمجرد ذلك حفظه عن إبطال خصمه، والحق أنه لا يستفيد علمًا ولا يمكنه الحفظ المذكور حتى يتعين المقتضي أو النافي كأن يقول له: تجب النية في الوضوء لحديث (إنما الأعمال بالنيات) ولم يجب الوتر لحديث (خمس صلوات كتبهن الله على العباد) فيكون هو الدليل المستفاد منه ذلك وحينئذ إن كان الخلافي أهل للاستفادة منه كان فقيهًا قاله المحشيان وهما ابن أبي شريف وزكرياء.
والخلافي صاحب علم الخلاف وهو علم الجدل. وأل في قوله: بالأحكام، للاستغراق وقوله نماها النامي: أي نسبها الناسب فيقول: الشرعية، الفعلية، أي العملية. (والعلم بالصلاح فيها قد ذهب).
المراد بالعلم في حد الفقه ما يشمل الظن كما فسر به الرهوني كلام ابن الحاجب، وجعله القرافي على بابه واستشكل بأن الفقه كما سيأتي في تعريف الاجتهاد ظن لأن أدلته ظنية والمستفاد من الظن ظن فكيف عبر عنه بالعلم في التعريف؟ وأجيب: بأنه لما كان الفقه ظن المجتهد الذي يجب عليه وعلى مقلديه إتباعه كان لقوته بهذا الاعتبار قريبًا من العلم ويعبر عنه به، وأجاب القرافي بقوله: كل حكم شرعي فهو معلوم أي مقطوع به لثبوته بالإجماع، وكل ما يثبت بالإجماع فهو معلوم. وثبوت الإجماع فيه الحكم المختلف فيه هو الإجماع على أن ظن المجتهد حكم الله في حقه وحق من قلده.
وأجاب بعضهم بقوله: مظنون المجتهد مقطوع بوجوب العمل به وكل مقطوع بوجوب العمل به فهو مقطوع به، فمظنون المجتهد مقطوع به. ابن أبي شريف. وهذا الدليل إنما يصح عند المصوبة أي القائلين كل مجتهد مصيب وإلا فهو ممنوع الكبرى عند غير المصوبة.
يعني: أن المراد بالعلم بجميع الأحكام في تعريف الفقه العلم بمعنى
তার প্রতিপক্ষ? সুতরাং তার কাজ, উদাহরণস্বরূপ, ওযুতে নিয়ত ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত দলিল বিদ্যমান থাকার কারণে তা পালন করা, অথবা দলিল না থাকার কারণে বিতর ওয়াজিব না হওয়া মেনে নেওয়া ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি তখন প্রযোজ্য যখন আমরা বলি যে, বিতর শাস্ত্রীয় আলিম (খিলাফি) কোনো মুজতাহিদের কাছ থেকে ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি কেবলমাত্র সামগ্রিকভাবে কারণ বা নিবারক বিদ্যমান থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করেন, এবং কেবলমাত্র এইটুকুর মাধ্যমেই তিনি তার প্রতিপক্ষের খণ্ডন থেকে এটিকে রক্ষা করতে পারেন। তবে সঠিক কথা হলো, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো জ্ঞান লাভ করেন না এবং উল্লিখিত রক্ষণও করতে পারেন না যতক্ষণ না কারণ বা নিবারকটি সুনির্দিষ্ট হয়। যেমন তাকে বলা হবে: 'কাজ কেবল নিয়তের সাথেই সংপৃক্ত' হাদিসের কারণে ওযুতে নিয়ত ওয়াজিব, এবং 'আল্লাহ বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করেছেন' হাদিসের কারণে বিতর ওয়াজিব নয়। তখন এটিই হবে সেই দলিল যা থেকে বিষয়টি লাভ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি সেই খিলাফি বা বিতর শাস্ত্রীয় আলিম তা থেকে জ্ঞান লাভের যোগ্য হন, তবে তিনি ফকিহ বা ফিকহবিদ হিসেবে গণ্য হবেন। আল-মুহাশশিদ্বয় অর্থাৎ ইবনে আবি শারিফ এবং যাকারিয়া এ কথা বলেছেন।
খিলাফি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইলমে খিলাফ বা মতভেদ শাস্ত্রের অধিকারী, আর তা হলো ইলমে জাদল বা বিতর্ক শাস্ত্র। আর 'আহকাম' (বিধানসমূহ) শব্দে যে 'আল' যুক্ত হয়েছে তা সামগ্রিকতা বুঝানোর জন্য। এবং গ্রন্থকারের উক্তি 'তাকে বর্ধনকারী বর্ধিত করেছেন' এর অর্থ হলো 'বর্ণনাকারী তা বর্ণনা করেছেন'। সুতরাং তিনি বলেন: শরয়ি এবং কর্মগত বিধান। (এবং তাতে বিশদ জ্ঞান বিলুপ্ত হয়েছে)।
ফিকহের সংজ্ঞায় জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা প্রবল ধারণাকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি রাহউনি ইবনুল হাজিবের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। আল-কারাফি একে তার মূল অর্থেই গ্রহণ করেছেন এবং প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে, ইজতিহাদের সংজ্ঞায় যেমন সামনে আসবে যে ফিকহ হলো একটি প্রবল ধারণা, কারণ এর দলিলসমূহ ধারণাভিত্তিক এবং ধারণা থেকে যা অর্জিত হয় তাও ধারণা; তবে সংজ্ঞায় একে জ্ঞান হিসেবে কেন ব্যক্ত করা হলো? এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: ফিকহ যখন মুজতাহিদের এমন এক প্রবল ধারণা যার অনুসরণ করা তার নিজের ওপর এবং তার অনুসারীদের ওপর ওয়াজিব, তখন এই বিবেচনায় শক্তিশালী হওয়ার কারণে এটি জ্ঞানের নিকটবর্তী এবং একে জ্ঞান হিসেবেই ব্যক্ত করা হয়। আল-কারাফি উত্তর দিয়ে বলেছেন: প্রত্যেকটি শরয়ি বিধানই সুনিশ্চিতভাবে পরিজ্ঞাত, অর্থাৎ ইজমার (ঐক্যমত্য) মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তা অকাট্য। আর যা ইজমার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় তা সুনিশ্চিত। আর এক্ষেত্রে মতভেদপূর্ণ বিধানের মাঝে ইজমার উপস্থিতি এই অর্থে যে, এই বিষয়ে ইজমা রয়েছে যে—মুজতাহিদের প্রবল ধারণাটিই তার নিজের ক্ষেত্রে এবং যারা তাকে অনুসরণ করে তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ উত্তর দিয়েছেন যে: মুজতাহিদের প্রবল ধারণা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়াটা সুনিশ্চিত, আর যার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া সুনিশ্চিত তা সুনিশ্চিত হিসেবেই গণ্য। সুতরাং মুজতাহিদের প্রবল ধারণাকৃত বিষয়টি সুনিশ্চিত। ইবনে আবি শারিফ এটি উল্লেখ করেছেন। আর এই দলিলটি কেবল তাদের নিকট সঠিক হবে যারা মনে করেন প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক, অন্যথায় যারা এই মত পোষণ করেন না তাদের নিকট এর প্রধান ভিত্তিটি অসিদ্ধ।
অর্থাৎ: ফিকহের সংজ্ঞায় সমস্ত বিধানের জ্ঞান বলতে সেই জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে যার অর্থ—
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصلاحية والتهيؤ لذلك بأن يكون له ملكة يقتدر بها على إدراك جزئيات الأحكام. وقد اشتهر عرفًا إطلاق العلم على هذه الملكة.
فالكل من أهل المناحي الأربعة
… يقول لا أدري فكن متبعه
يعني: أنه إذا كان المراد التهيؤ والصلاحية لا يقدح في أيمة المناحي الأربعة أي المذاهب قولهم لا أدري فأتبع ذلك القول فإنه يدل على الورع. ولله در القائل:
ومن كان يهوى أن يرى متصدرا
… ويكره لا أدري أصيب مقاتله
فقد سئل ملك رحمه الله عن أربعين مسألة، فقال في ست وثلاثين منها لا أدري. هذا ما اشتهر في كتب الأصول والذي رواه ابن عبد البر في مقدمة التمهيد على الموطأ أنه سئل عن ثمان وأربعين مسألة فقال في اثنين وثلاثين منها لا أدري. وقال أبو حنيفة في ثمان مسائل لا أدري ما الدهر، ومحل أطفال المسلمين، ووقت الختان، وإذا بال الخنثى من الفرجين، والملائكة أفضل أم الإنسان، ومتى يصير الكلب معلمًا وسؤر الحمار ومتى يطيب لحم الجلالة. وكان أحمد يكثر من لا أدري. وسئل الشافعي عن المتعة أفيها طلاق أم ميراث أو نفقة تجب؟ فقال: والله ما أدري. وروى عن النبي صلى الله عليه وسلم وجبريل. فسبحان من أحاط بكل شيء علما.
كلام ربي أن تعلق بما
… يصح فعلا للمكلف أعلما
فذاك بالحكم لديهم يعرف
لما ذكر الحكم في تعريف الفقه شرع في تعريفه فتكون ال للعهد الذكرى والصواب تغايرهما لأن المذكور هنا الحكم المتعارف عند الأصوليين وهو خطاب التكليف وهو خطاب الله تعالى والحكم المذكور في تعريف الفقه ليس خطاب الله تعالى بدليل تقييده بالشرع وما هنا لا يكون إلا شرعيًا، وإنما ذكر هنا لكونه من المقدمات التي يتوقف عليها المقصود إذ الأصولي تارة يثبت الحكم وتارة ينفيه، والحكم على الشيء
এর যোগ্যতা ও প্রস্তুতি হলো এমন এক সক্ষমতা (মালকা) থাকা, যার মাধ্যমে বিধানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা সম্ভব হয়। আর পরিভাষায় এই সক্ষমতাকেই 'ইলম' বা জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
চার মাযহাবের ইমামগণের প্রত্যেকেই
… 'আমি জানি না' বলতেন, সুতরাং আপনি তাদেরই অনুসরণ করুন।
অর্থাৎ: উদ্দেশ্য যদি প্রস্তুতি ও যোগ্যতা হয়, তবে চার মাযহাবের অর্থাৎ মাযহাবসমূহের ইমামগণের 'আমি জানি না' বলা তাঁদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না। সুতরাং এই কথাটিই অনুসরণ করুন, কারণ এটি তাঁদের তাকওয়া ও খোদাভীতির পরিচয় দেয়। কতই না চমৎকার বলেছেন সেই কবি:
যে ব্যক্তি নিজেকে বড় পণ্ডিত হিসেবে প্রকাশ করতে ভালোবাসে
… এবং 'আমি জানি না' বলাকে অপছন্দ করে, সে মূলত নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে।
ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহিকে চল্লিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছত্রিশটি সম্পর্কেই তিনি বলেছিলেন, "আমি জানি না"। উসূলের কিতাবসমূহে এটিই প্রসিদ্ধ। তবে ইবনে আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি 'আত-তামহীদ' (মুয়াত্তা মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ) এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে আটচল্লিশটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তিনি তার মধ্যে বত্রিশটি বিষয়ে বলেছিলেন, "আমি জানি না"। ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি আটটি মাসআলায় 'আমি জানি না' বলেছেন: কাল বা যামানা কী, মুসলিম শিশুদের (পরকালীন) অবস্থান, খতনার সময়, যখন হিজড়া ব্যক্তি উভয় লিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে, ফেরেশতাগণ উত্তম নাকি মানুষ, শিকারি কুকুর কখন প্রশিক্ষিত বলে গণ্য হয়, গাধার উচ্ছিষ্ট পানি এবং কখন নাপাকি ভক্ষণকারী পশুর (জাল্লালাহ) গোশত পবিত্র হয়। ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি অধিক পরিমাণে 'আমি জানি না' বলতেন। ইমাম শাফিঈ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মুতআ বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এতে কি তালাক, উত্তরাধিকার কিংবা ভরণপোষণ ওয়াজিব হয়? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, আমি জানি না। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
আমার রবের বাণী যদি এমন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়
… যা মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কর্ম হিসেবে গণ্য হওয়া সঠিক, তবে তা জেনে রাখুন।
তাদের নিকট সেটিই 'হুকুম' (বিধান) হিসেবে পরিচিত।
যেহেতু ফিকহ-এর সংজ্ঞায় 'হুকুম' শব্দটির উল্লেখ এসেছে, তাই তিনি এর সংজ্ঞা প্রদান শুরু করেছেন। এখানে 'হুকুম' শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম (ال) পূর্বোক্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিতবাহী। তবে সঠিক মত হলো, এই দুই হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ এখানে যে হুকুমের কথা বলা হয়েছে তা উসূলবিদদের নিকট সুপরিচিত পরিভাষা, যা মূলত 'খিতাবে তাকলীফ' (দায়িত্বারোপকারী সম্বোধন) এবং তা মহান আল্লাহর বাণী। পক্ষান্তরে ফিকহ-এর সংজ্ঞায় যে হুকুমের উল্লেখ রয়েছে, তা সরাসরি আল্লাহর বাণী নয়; এর প্রমাণ হলো সেখানে বিষয়টিকে 'শরীয়ত' দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, অথচ এখানকার বিষয়টি কেবল শরয়ীই হয়ে থাকে। আর এখানে এর আলোচনা করার কারণ হলো, এটি সেই সকল ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত যার ওপর মূল উদ্দেশ্য নির্ভরশীল। কেননা উসূলবিদ কখনো কোনো বিধানকে সাব্যস্ত করেন আবার কখনো তা অস্বীকার করেন। আর কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান...
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فرع تصوره. يعني أن الحكم المتعارف عند الأصوليين هو كلام الله المتعلق بفعل المكلف من حيث إنه مكلف به ومعنى تعلق الخطاب بشيء بيان حاله من كونه مطلوبًا أو غيره قاله في الآيات البينات.
قولهم المتعلق يعني تلعقًا معنويًا قبل وجود المكلف متصفًا بشروط التكليف من البلوغ والعقل ومن العلم بالبعثة وبلوغ الأحكام وغير ذلك، وتنجيزيًا بعد ذلك قولهم بفعل المكلف يعني بما يصح أن يكون فعلًا للمكلف واخترتها على عبارتهم لما في عبارتهم من المجاز الذي لا يليق بالحدود إلا بقرينة واضحة وذلك لأن التكليف الأزلي لا يتعلق إلا بمعدوم يمكن حدوثه والمعدوم ليس بفعل في الحقيقة وتوضيحه أن لفظ الفعل يطلق على المعنى الذي هو وصف للفاعل موجود كالهيئة المسماة بالصلاة والهيئة المسماة بالصوم، ويقال له الفعل بالمعنى الحاصل بالمصدر وهذا هو متعلق التكليف، ويطلق لفظ الفعل على نفس إيقاع الفاعل هذا المعنى ويقال فيه: الفعل بالمعنى المصدري، الذي هو أحد مدلولي الفعل النحوي وليس هذا متعلق التكليف لأنه أمر اعتباري لا وجود له في الخارج، قاله ابن أبي شريف.
والمكلف العاقل البالغ الذي ليس بغافل ولا ملجأ ولا مكره.
قولهم: من حيث أنه مكلف بكسر الهمزة ويجوز فتحها على رأي الكسائي إضافة حيث إلى المفرد، أي: ملزم ما فيه كفلة أو مطلوب منه ووجه تناول الراجح للطلب غير الجازم والتخيير.
وتناول الثاني التخيير إن اعتبار حيثية التكليف أعم من أن يكون بحسب الثبوت كما في الوجوب والتحريم أو بحسب السلب كما في بقية الأحكام، فإن تجويز الفعل والترك برفع الكلفة عن العبد قاله الأبهري فتناول الفعل ما كان قبليًا أو غيره قوليًا كتكبيرة الإحرام أو غيره كأداء الزكاة، والقبلي ما كان منه باب القصود والإرادات كالنية فهو من كسب العبد لأنه فعل لأن القصد إلى الشيء توجه النفس إليه، وما كان منه ما باب العلوم والاعتقادات كالإيمان وسائر الإدراكات فهو تجل وانكشاف يحصل عقب النظر في الدليل أو دونه كالضروري فليس من
এটি তার ধারণার একটি শাখা। অর্থাৎ, উসূলবিদদের নিকট সুপরিচিত হুকুমের সংজ্ঞা হলো আল্লাহর সেই কালাম যা মুকাল্লাফের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, এই দিক থেকে যে তিনি এর মাধ্যমে আদিষ্ট। আর কোনো কিছুর সাথে খিতাব (সম্বোধন) সংশ্লিষ্ট হওয়ার অর্থ হলো তার অবস্থা বর্ণনা করা—সেটি তলবকৃত (চাওয়া হয়েছে এমন) কি না। 'আল-আয়াত আল-বাইয়িনাত' গ্রন্থে তিনি এ কথা বলেছেন।
তাদের উক্তি 'সংশ্লিষ্ট' বলতে মুকাল্লাফের অস্তিত্ব লাভের পূর্বে এবং বালেগ হওয়া, সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া, নবুওয়াত সম্পর্কে জানা ও বিধান পৌঁছানো ইত্যাদি তাকলিফের শর্তাবলী অর্জিত হওয়ার পূর্বে 'মানবী' (তাত্ত্বিক) সংশ্লিষ্টতাকে বোঝায়; আর এরপর 'তানজিযি' (বাস্তবমুখী) সংশ্লিষ্টতাকে বোঝায়। তাদের উক্তি 'মুকাল্লাফের কর্মের সাথে' বলতে যা মুকাল্লাফের কর্ম হওয়া সম্ভব তাকে বোঝায়। আমি তাদের ইবারত বা ভাষ্যের পরিবর্তে এটি বেছে নিয়েছি, কারণ তাদের ভাষ্যে রূপক (মাজায) রয়েছে যা সুস্পষ্ট আলামত ছাড়া সংজ্ঞার জন্য উপযুক্ত নয়। আর তা এজন্য যে, অনাদি তাকলিফ কেবল এমন অনস্তিত্বশীল বিষয়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয় যা ঘটা সম্ভব, আর যা অনস্তিত্বশীল তা প্রকৃতপক্ষে কোনো কর্ম নয়। এর ব্যাখ্যা হলো: 'ফেল' বা কর্ম শব্দটি এমন অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা কর্তার একটি বিদ্যমান গুণ, যেমন সালাত হিসেবে অভিহিত বিশেষ অবস্থা এবং সিয়াম হিসেবে অভিহিত বিশেষ অবস্থা। একে 'হাসিল বিল মাসদার' অর্থে কর্ম বলা হয় এবং এটিই হলো তাকলিফের সংশ্লিষ্ট বিষয়। আবার ফেল শব্দটি কর্তার মাধ্যমে সেই অর্থকে বাস্তবে রূপদান করার ওপরও প্রয়োগ করা হয়, একে বলা হয় 'মাসদারি' অর্থে কর্ম; যা ব্যাকরণগত ফেল-এর দুটি অর্থের একটি। এটি তাকলিফের সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়, কারণ এটি একটি তাত্ত্বিক বিষয় যার বহির্জগতে কোনো অস্তিত্ব নেই। ইবনে আবি শরীফ এ কথা বলেছেন।
আর মুকাল্লাফ হলো সেই বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যে অসচেতন, অপারগ বা বাধ্য নয়।
তাদের উক্তি: 'এই দিক থেকে যে তিনি মুকাল্লিফ (আদেশদাতা)' এখানে হামজায় কাসরা দিয়ে পড়া হবে, তবে কিসায়ীর মতানুসারে এটি ফাতহা দিয়েও পড়া বৈধ—সেক্ষেত্রে 'হাইসু' শব্দটি একবচন বা মুফরাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে। অর্থাৎ, যার ওপর কোনো কষ্টসাধ্য কাজ আবশ্যক করা হয়েছে অথবা যার নিকট কিছু চাওয়া হয়েছে। এটি অনির্বার্য তলব এবং তাখয়ীর (ইচ্ছাধিকার)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়ত, এটি 'তাখয়ীর' বা ইচ্ছাধিকারকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ তাকলিফের বিষয়টি সাব্যস্ত করার নিরিখেও হতে পারে—যেমন ওয়াজিব ও হারামের ক্ষেত্রে; আবার নাকচ করার নিরিখেও হতে পারে—যেমন অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে। কেননা বান্দার ওপর থেকে কষ্ট সরিয়ে নিয়ে কর্মটি করা বা না করার বৈধতা প্রদান করা হয়—একথা আবহারী বলেছেন। সুতরাং 'কর্ম' শব্দটি কলবি (আন্তরিক) হোক বা অন্যকিছু, তাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তা মৌখিক হতে পারে—যেমন তাকবীরে ইহরাম, অথবা অন্যকিছু হতে পারে—যেমন যাকাত প্রদান। কলবি কর্ম হলো নিয়তের মতো উদ্দেশ্য ও ইচ্ছার বিষয়াবলী। এটি বান্দার উপার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কারণ তা একটি কর্ম; কেননা কোনো কিছুর প্রতি সংকল্প করার অর্থ হলো মনের সেদিকে ধাবিত হওয়া। আর যা জ্ঞান ও বিশ্বাসের পর্যায়ের বিষয়—যেমন ঈমান ও অন্যান্য উপলব্ধি—তা মূলত প্রকাশ পাওয়া ও উন্মোচিত হওয়া, যা দলীলের ওপর চিন্তা করার ফলে বা চিন্তা ছাড়াই (অপরিহার্য হিসেবে) অর্জিত হয়। সুতরাং তা কর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়...
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كسب العبد لأنه ليس بفعل ولا تكليف إلا بفعل فالتكليف به التكليف بأسبابه كإلقاء الذهن وصرف النظر وتوجيه الحواس والاستسلام بالقلب له فتسمية التصديق الذي هو الاعتقاد فعلًا بهذا الاعتبار لكنه مجاز وإن وقع في كثير من العبارات.
وأما خطاب الوضع فليس من الحكم المتعارف فلا يذكر في تعريفه. ومنهم من جعله منه فقال: خطاب الله المتعلق بفعل المكلف بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع. والمراد بالتعلق الوضعي أعم من أن يجعل فعل المكلف سببًا أو شرطًا لشيء كجعل إتلافه سببًا للضمان أو يجعل شيء سببًا أو شرطًا له كالزوال فإنه سبب لوجوب فعل الظهر. قاله التفتازاني وغيره.
وقد يرد هنا ما أورده ابن أبي شريف بقوله: قلنا: بتقدير تسليم ذلك في الزوال لا يتمشى في فعل غير المكلف كإتلاف الصبي والمجنون في كونه سببًا لوجوب الضمان وإن كان الصبي مكلف عندنا لكن بغير الوجوب والتحريم.
فخرج بفعل المكلف كلامه المتعلق بذاته وصفاته وذوات العالم وأفعاله وصفاتهم كمدلول ((الله لا إلاه إلا هو خالق كل شيء)) ((ولقد خلقناكم)) ((ويوم نسير الجبال)) وخرج بما بعده مدلول ((وما تعملون)) من قوله تعالى ((والله خلقكم وما تعلمون)) فإنه متعلق بفعل المكلف من حيث إنه مخلوق لله تعالى بناء على أن ما مصدرية. وعلى تقدير إنها موصولة أي الذي تعلمونه فقد خرج بما قبله.
تنبيه: قولهم من حيث كذا يراد به الإطلاق وعدم التقييد، كقولهم: الإنسان من حيث هو إنسان قابل للتعليم. وقد يراد التعليل والتقييد كقولهم: النار من حيث هي حارة تسخن. وقوله من حيث أنه مكلف يحتمل كلا من الأخيرين.
قد كلف الصبي على الذي اعتمى
… بغير ما وجب والمحرم
يعني: أن الصبي مكلف عندنا على ما صححه ابن رشد في البيان والمقدمات، وكذا القرافي في كتاب اليواقيت في أحكام المواقيت، وأن
বান্দার অর্জন (কাসব), কারণ এটি কোনো স্বতন্ত্র কাজ নয়। আর কাজ ব্যতীত কোনো দায়ভার অর্পণ (তাকলিফ) হয় না। সুতরাং এর প্রতি দায়বদ্ধতা মূলত এর কারণ বা উপকরণগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা—যেমন মনোযোগ নিবদ্ধ করা, চিন্তাভাবনা করা, ইন্দ্রিয়সমূহকে পরিচালিত করা এবং অন্তরের মাধ্যমে এর প্রতি সমর্পণ করা। তাই 'তাসদিক' বা সত্যায়নকে—যা মূলত বিশ্বাস বা ইতিকাদ—এই বিবেচনায় 'কাজ' হিসেবে অভিহিত করা একটি রূপক ব্যবহার মাত্র, যদিও এটি অনেক বর্ণনাতেই পাওয়া যায়।
আর নির্ধারণমূলক সম্বোধন (খিতাবে ওয়াজ) প্রচলিত হুকুম বা বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই হুকুমের সংজ্ঞায় এটি উল্লেখ করা হয় না। তবে কেউ কেউ একে হুকুমের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: মুকাল্লাফের কাজের সাথে দাবি (ইকতিদা), পছন্দ করার অধিকার (তাখয়ীর) কিংবা নির্ধারণ (ওয়াজ)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধনই হলো হুকুম। নির্ধারণমূলক সংশ্লিষ্টতার অর্থ এখানে ব্যাপক; চাই তা মুকাল্লাফের কোনো কাজকে কোনো কিছুর কারণ বা শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হোক—যেমন তার কোনো কিছু নষ্ট করাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কারণ সাব্যস্ত করা; অথবা কোনো বিষয়কে তার কাজের জন্য কারণ বা শর্ত করা—যেমন সূর্য ঢলে পড়া (জাওয়াল), যা যোহরের নামায ওয়াজিব হওয়ার কারণ। আল-তাফতাজানি ও অন্যান্যগণ এ কথা বলেছেন।
এখানে ইবনে আবি শরীফ যা উল্লেখ করেছেন তা উত্থাপিত হতে পারে; তিনি বলেছেন: আমরা বলি, সূর্য ঢলে পড়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি মেনে নিলেও, মুকাল্লাফ নয় এমন ব্যক্তির কাজের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। যেমন শিশু বা উন্মাদের কোনো কিছু নষ্ট করা ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হওয়ার কারণ হওয়া। যদিও আমাদের নিকট শিশু মুকাল্লাফ হিসেবে গণ্য, তবে তা ওয়াজিব ও হারাম হওয়া ব্যতিরেকে অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে।
মুকাল্লাফের কাজ (ফে’লুল মুকাল্লাফ) বলার মাধ্যমে তাঁর (আল্লাহর) সত্তা, গুণাবলী এবং জগতের বস্তুনিচয় ও তাদের কাজ ও গুণাবলী সংক্রান্ত কথাগুলো সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়। যেমন: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি সব কিছুর স্রষ্টা", "অবশ্যই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি" এবং "যেদিন আমি পর্বতমালাকে পরিচালিত করব" আয়াতগুলোর মর্মার্থ। আর পরবর্তী অংশ দ্বারা মহান আল্লাহর বাণী "আর আল্লাহ তোমাদের এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন" এর মধ্যে "তোমরা যা করো" অংশটির মর্মার্থ বাদ পড়ে যায়। কারণ এটি মুকাল্লাফের কাজের সাথে এই দিক থেকে সংশ্লিষ্ট যে, তা আল্লাহর সৃষ্টি—যদি 'মা' (ما) অব্যয়টি ক্রিয়ামূলীয় (মাসদারিয়া) ধরা হয়। আর যদি একে সম্বন্ধসূচক (মাওসুলা) ধরা হয়, অর্থাৎ 'যা তোমরা করো', তবে তা পূর্ববর্তী অংশ দ্বারাই সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে।
সতর্কীকরণ: তাঁদের পরিভাষায় 'অমুক দিক থেকে' (মিন হাইসু) বলতে সাধারণ অর্থ এবং কোনো শর্তহীনতাকে বোঝানো হয়, যেমন তাঁদের কথা: 'মানুষ মানুষ হওয়ার দিক থেকে শিক্ষা গ্রহণের যোগ্য'। আবার কখনও এর দ্বারা কারণ বর্ণনা এবং শর্তারোপ উদ্দেশ্য হয়, যেমন তাঁদের কথা: 'আগুন গরম হওয়ার দিক থেকে উত্তপ্ত করে'। আর 'মুকাল্লাফ হওয়ার দিক থেকে'—এই উক্তিতে শেষোক্ত দুটি অর্থের উভয়টিরই সম্ভাবনা রয়েছে।
গৃহীত মতানুসারে শিশুর ওপর দায়ভার অর্পণ করা হয়েছে
… ওয়াজিব ও হারাম বিষয় ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে।
অর্থাৎ: ইবনে রুশদ 'আল-বায়ান' ও 'আল-মুকাদ্দিমাত' গ্রন্থে যেটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, সেই অনুযায়ী আমাদের নিকট শিশু মুকাল্লাফ বা বিধানের আওতাভুক্ত। একইভাবে আল-কারাফি 'আল-ইয়াওয়াকিত ফী আহকামিল মাওয়াকিত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, এবং যে...
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
البلوغ إنما هو شرط في التكليف بالواجب والمحرم لا في الخطاب بالندب والكراهة والإباحة فهو ووليه مندوبان إلى الفعل مأجوران، فإزالة النجاسة مثلًا يخاطب بها لا على وجه الوجوب أو السنية كالبالغ بل على سبيل الندب فقط وعند الشافعية ليس مكلفًا بحكم من الأحكام الخمسة فالأولى أن يقال في التعريف: بما يصح أن يكون فعلًا للعباد. وقد فرق القرافي بين انعقاد أنكحة الصبيان وعدم لزوم طلاقهم بأن عقد النكاح سبب إباحة الوطء وهم أهل للخطاب بالإباحة والندب والكراهة دون الوجوب والتحريم والطلاق سبب تحريم الوطء وليسوا أهلًا للخطاب به فلم ينعقد سببًا في حقهم دليل.
الصحيح حديث الخثعمية التي أخذت بضبعي صبي وقالت يا رسول الله ألهذا حج؟ قال: نعم ولك أجر وقيل المأمور الولي وحده وقيل الصبي وحده وحيث قلنا أن الولي مأمور إما وحده أو مع الصبي هل الأمر على سبيل الوجوب أو الندب وهو المشهور فلا يأثم بترك الأمر. وعلى أن المأمور الولي وحده لا ثواب للصبي وإنما هو لوالديه؟ قيل: على السواء، وقيل: الثلثان للأم والثلث للأب. وقول خليل: وأمر صبي بها لسبع، يحتمل أن يكون الآمر له هو الولي أو الله تعالى بناء على أن الآمر بالأمر بالشيء آمر به.
والأصل في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين وأضربوهم عليها وهم أبناء عشر وفرقوا بينهم في المضاجع.
وهو إلزام الذي يشق
… أو طلب فاه بكل خلق
لكنه ليس يفيد فرعا
… فلا تضق لفقد فرع ذرعا
يعني: إنهم اختلفوا في التكليف هل هو إلزام ما فيه مشقة وكلفة أو هو طلب ما فيه كلفة؟ فاه أي نطق وقال بكل من القولين خلق كثير فعلى الأول يكون المطلوب فعله أو تركه طلبًا غير جازم مكلفاً به. وعلى الثاني يخرج المباح وقال بعضهم المباح مكلف به من حيث وجوب اعتقاده تتميمًا للأقسام، وإلا فغيره مثله في وجوب الاعتقاد لكن الخلاف في كونه
সাবালকত্ব বা বালিগ হওয়া কেবল ওয়াজিব ও হারাম বিষয়ের মাধ্যমে শরয়ি দায়িত্বারোপের (তাকলিফ) শর্ত, পছন্দনীয় (মানদুব), অপছন্দনীয় (কারাহাহ) এবং বৈধ (ইবাহাহ) বিষয়ের সম্বোধনের ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং শিশু এবং তার অভিভাবক উভয়েই সেই কাজের প্রতি আদিষ্ট এবং সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন। উদাহরণস্বরূপ, অপবিত্রতা দূর করার বিষয়টি শিশুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তবে এটি সাবালকের ন্যায় ওয়াজিব বা সুন্নাত হিসেবে নয়, বরং কেবল পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব হিসেবে। শাফেয়ি মাজহাব মতে, শিশু শরয়ি পঞ্চবিধ বিধানের কোনোটির মাধ্যমেই দায়বদ্ধ নয়। তাই সংজ্ঞায় এটি বলাই অধিকতর উত্তম যে: "যা বান্দার কাজ হওয়া সঠিক বা সহিহ হতে পারে"। আল-কারাফি শিশুদের বিয়ের আকদ সংঘটিত হওয়া এবং তাদের তালাক কার্যকর না হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই মর্মে যে, বিয়ের আকদ হলো সহবাসের বৈধতার (ইবাহাহ) কারণ, আর শিশুরা বৈধতা, পছন্দনীয়তা এবং অপছন্দনীয়তার সম্বোধনের যোগ্য, কিন্তু ওয়াজিব ও হারামের ক্ষেত্রে নয়। পক্ষান্তরে তালাক হলো সহবাস হারাম হওয়ার কারণ, অথচ শিশুরা এই হারামের সম্বোধনের যোগ্য নয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে তালাক কোনো কারণ হিসেবে কার্যকর হয় না।
এর স্বপক্ষে দলিল হলো খাশআমিয়া গোত্রের সেই মহিলার সহিহ হাদিস, যিনি একটি শিশুর বাহু ধরে উপরে তুললেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এর জন্যও কি হজ আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আর তোমার জন্যও সওয়াব রয়েছে।" কেউ কেউ বলেছেন, এখানে কেবল অভিভাবকই আদিষ্ট। আবার কেউ বলেছেন, কেবল শিশু আদিষ্ট। যখন আমরা বলি যে অভিভাবক আদিষ্ট—সেটি একাই হোক বা শিশুর সাথে—তখন সেই আদেশটি কি ওয়াজিব হিসেবে নাকি পছন্দনীয় (মানদুব) হিসেবে? প্রসিদ্ধ মত হলো এটি পছন্দনীয়, সুতরাং আদেশ না করলে গুনাহ হবে না। আর যদি আদেশ কেবল অভিভাবকের প্রতি হয়, তবে কি শিশু কোনো সওয়াব পাবে না এবং তা কেবল তার পিতামাতার জন্যই হবে? এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: তারা সমান সওয়াব পাবেন। আবার বলা হয়েছে: দুই-তৃতীয়াংশ মায়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ পিতার জন্য। খলিল-এর উক্তি: "সাত বছর বয়সে শিশুকে তার (নামাজের) আদেশ দেওয়া হবে"—এখানে আদেশদাতা অভিভাবক হতে পারেন অথবা স্বয়ং আল্লাহ তাআলাও হতে পারেন; এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে, কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া মানেই হলো সেই বিষয়ের আদেশ করা।
আর এই বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও, আর দশ বছর বয়সে তার (সালাতের) জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।
আর তা হলো সেই বিষয়কে আবশ্যক করা যা কষ্টসাধ্য... অথবা এটি এক তলব বা দাবি, যা অনেক আলিম ব্যক্ত করেছেন।
তবে এটি কোনো শাখা মাসআলা প্রদান করে না... তাই শাখা মাসআলার অভাবে আপনি সংকীর্ণমনা হবেন না।
অর্থাৎ: দায়িত্বারোপ বা তাকলিফ-এর সংজ্ঞায় তারা মতভেদ করেছেন যে, এটি কি শ্রমসাধ্য ও কষ্টসাধ্য কোনো বিষয়কে আবশ্যক করা, নাকি কেবল কষ্টসাধ্য কোনো বিষয়ের তলব বা দাবি করা? "ফাহ" অর্থাৎ উচ্চারণ করেছেন বা বলেছেন; উভয় মতের পক্ষেই বহু আলিম রয়েছেন। প্রথম মতানুসারে, কোনো কাজ করার বা বর্জন করার ক্ষেত্রে দাবিটি যখন দৃঢ় হয় না, তখন সেটিও তাকলিফের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর দ্বিতীয় মতানুসারে, মোবাহ (বৈধ) বিষয়গুলো এর বাইরে চলে যাবে। কেউ কেউ বলেছেন, মোবাহ বিষয়গুলোও তাকলিফের অন্তর্ভুক্ত এই দিক থেকে যে, বিভাগগুলো পূর্ণ করার নিমিত্তে এর ওপর বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব। অন্যথা, বিশ্বাস ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য বিষয়গুলোও তো এরই মতো। তবে মতভেদটি মূলত একে দায়িত্বারোপ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إلزام ما فيه كلفة أو طلبه لا يفيد فرعًا من الفروع لعدم بناء حكم عليه قال أبو إسحاق الشاطبي فليست من أصول الفقه ولا عونًا فيه وكل ما كان كذلك فلا ينبغي ذكره في الفن.
قوله فلا تضق .. الخ، الذرع بفتح الذال المعجمة تمييز محول عن الفاعل يقال ضاق به ذرعًا ضعفت طاقته ولم يجد من المكروه فيه مخلصًا.
والحكم ما به يجيء الشرع
… وأصل كل ما يضر المنع
يعني: إن الحكم التنجيزي هو ما جاء به الشرع أي البعثة فلا حكم تنجيزيا يتعلق بنا قبل البعثة لأحد من الرسل. والدليل على انتفاء وجوده انتفاء لازمه من الثواب والعقاب بقوله تعالى ((وما كنا معذبي حتى نبعث رسولا)) ولا مثيبين ولا فرق بين الحكم الأصلي والفرعي فاستغنى في الآية عن ذكر الثواب بذكر مقابله الذي هو العذاب الذي هو أظهر في تحقيق معنى التكليف لأن العقاب لا يكون إلا على شيء ملزم من فعل أو ترك والثواب يكون على ذلك تارة وعلى غيره.
وحكمت المعتزلة العقل حيث جعلوه طريقًا إلى العلم بالحكم الشرعي يمكن إدراكه به من غير ورود سمع فالحكم الشرعي عندهم تابع للمصالح والمفاسد، فما كان حسنا عقلًا جوزه الشرع وما كان قبيحًا عقلًا منعه، ولهذا يقولون: إنه مؤكد لحكم العقل فيما أدركه من حسن الأشياء وقبحها.
والحق عندنا أن الحسن ما حسنه والقبيح ما قبحه، وإنما قيدنا الحكم بالتنجيزي لأن الحكم الذي هو خطاب الله تعالى قديم وإنما الحادث التعلق التنجيزي عند وجود المكلف بصفة التكليف، وأما بعد مجيء الشرع إذا تعارضت الأدلة أو عدمت ولم يظهر لنا نص في شيء بخصوصه فالحكم الأصلي في الأشياء قبل عروض ما تخرج لأجله عن ذلك الأصل المنع كراهة أو تحريمًا في الضار على قدر رتبته في المضرة كأكل التراب وشرب تبعة وشمها لقوله صلى الله عليه وسلم (لا ضرر ولا ضرار) أي في ديننا.
কষ্টসাধ্য কোনো বিষয়কে অপরিহার্য করা বা এমন কিছু তলব করা যা কোনো উপশাখার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ নয়, কারণ তার ওপর কোনো বিধান ভিত্তি লাভ করে না। আবু ইসহাক আল-শাতিবি বলেছেন, এটি উসুলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এতে কোনো সাহায্যকারীও নয়। আর যা এমন, এই শাস্ত্রে তা উল্লেখ করা উচিত নয়।
তাঁর উক্তি "সুতরাং সংকীর্ণ করবেন না..." ইত্যাদি। এখানে 'যারউ' শব্দটি যা-এর ওপর ফাতহা দিয়ে একটি তামিয হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা কর্তা থেকে পরিবর্তিত। বলা হয় "যাকা বিহি যারআন", অর্থাৎ তার সামর্থ্য ফুরিয়ে গেছে এবং এই অপ্রীতিকর বিষয় থেকে সে মুক্তির কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না।
আর বিধান হলো তা-ই যা শরিয়ত নিয়ে আসে... এবং ক্ষতিকর প্রতিটি জিনিসের মূল হলো নিষেধাজ্ঞা।
অর্থাৎ: কার্যকরী বিধান হলো তা-ই যা শরিয়ত অর্থাৎ রাসুল প্রেরণের মাধ্যমে আসে। সুতরাং কোনো রাসুল প্রেরণের পূর্বে আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যকরী বিধান নেই। এর অস্তিত্ব না থাকার দলিল হলো এর অপরিহার্য অনুষঙ্গ—সওয়াব ও আজাব—না থাকা। আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি প্রদানকারী নই, যতক্ষণ না একজন রাসুল প্রেরণ করি।" তেমনি সওয়াব প্রদানকারীও নই। আর মৌলিক ও শাখা বিধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আয়াতে সওয়াবের বর্ণনার পরিবর্তে এর বিপরীত আজাবের বর্ণনা দিয়েই যথেষ্ট করা হয়েছে, কারণ বিধানের বাধ্যবাধকতা বা তাকলিফের অর্থ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আজাবই অধিকতর কার্যকর। কেননা আজাব কেবল কোনো কাজ করা বা বর্জনের মতো বাধ্যতামূলক বিষয়ের ওপরই হয়, আর সওয়াব কখনো তার ওপর হয় আবার কখনো অন্য বিষয়ের ওপরও হয়।
মুতাজিলারা বিবেককে বিচারক সাব্যস্ত করেছে, যেহেতু তারা বিবেককে শারয়ি বিধান জানার এমন এক পথ হিসেবে গণ্য করেছে যার মাধ্যমে ওহি আসার আগেই বিধান অনুধাবন করা সম্ভব। তাদের নিকট শারয়ি বিধান কল্যাণ ও অকল্যাণের অনুগামী। সুতরাং বিবেক যা ভালো মনে করে শরিয়ত তা বৈধ করেছে এবং বিবেক যা মন্দ মনে করে শরিয়ত তা নিষিদ্ধ করেছে। একারণেই তারা বলে: কোনো জিনিসের ভালো ও মন্দের ব্যাপারে বিবেক যা অনুধাবন করে, শরিয়ত মূলত সেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানেরই সমর্থনকারী।
আর আমাদের নিকট সত্য হলো এই যে, ভালো তা-ই যা আল্লাহ ভালো বলেছেন এবং মন্দ তা-ই যা আল্লাহ মন্দ বলেছেন। আমরা বিধানকে 'কার্যকরী' বলে সীমাবদ্ধ করেছি কারণ বিধান—যা আল্লাহর কালাম—তা অনাদি। আর বিধানের বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্বের সময় তার সাথে কার্যকরী সংশ্লিষ্টতা হলো নব্য বা সৃষ্ট। আর শরিয়ত আগমনের পর যখন দলিলসমূহ পরস্পরবিরোধী হয় অথবা দলিল পাওয়া না যায় এবং নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আমাদের নিকট কোনো স্পষ্ট পাঠ প্রকাশ না পায়, তখন ক্ষতিকর জিনিসের ক্ষেত্রে সেই মূল থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ ঘটার আগে আদি বিধান হলো—ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী মাকরুহ বা হারাম হিসেবে—নিষেধাজ্ঞা। যেমন মাটি খাওয়া এবং ক্ষতিকর বস্তু পান করা ও তা শোঁকা। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না", অর্থাৎ আমাদের দ্বীনের মধ্যে।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والأصل في المنافع كأكل فاكهة لمجرد التشهي والتفكه الإذن ندبًا أو وجوبًا على قدر مصلحته لقوله تعالى في معرض الامتنان ((خلق ما في الأرض جميعا)) ولا يمتن إلا بجائز فيه نفع.
قولنا قبل عروض .. الخ، كالأموال والدماء والأعراض الأصل فيها التحريم وقد يعرض لها ما يجوزها مع أن هذه ورد فيها نص وهو قوله صلى الله عليه وسلم: ((إن دماءكم وأموالكم وأعراضكم عليكم حرام)) .. الحديث، والكلام فيما لا نص فيه.
وذهب أبو الفرج المالكي وكثير من الشافعية إلى الحكم بالإباحة قبل وجود الشرع، والأبهري إلى المنع مستدلًا بقوله تعالى ((وما ءاتاكم الرسول فخذوه)) أي وما لا فلا. قال حلولوا في أكل التراب بعد ما ذكر أنه يضر: لكن يتردد النظر في مفسدته هل تنتهي إلى رتبة التحريم أو لا؟ وسكت القول المفصل عن الشيء إذا لم تكن فيه مصلحة ولا مفسدة ولعله لعدم وجوده.
ذو فترة بالفرع لا يراع
… وفي الأصول بينهم نزاع
راع كروع أفزع متعد، ولازم يعني: أن أهل الفترة لا يروعون أي يعذبون بسبب تركهم للفرع كالصلاة مثلًا لعدم تكليفهم بها. وهم من كان بين رسولين لم يرسل الأول لهم، ولا أدركوا الثاني. قاله في الآيات البينات، ثم قال: فلا خلاف بينهم أنها لا تثبت إلا في حق من أرسل إليهم، نعم من اتفق عليه الملل من الفروع هل هو كالإيمان حتى يجري فيه هذا النزاع؟ فيه نظر اهـ. والمتفق عليه نظمه الجزائري بقوله:
قد أجمع الانبيا والرسل قاطبة
… على الديانة بالتوحيد في الملل
وحفظ مال ونفس معهما نسب
… وحفظ عقل وعرض غير مبتذل
واختلف في تعذيبهم بترك الأصول من الإيمان والتوحيد. ومثلهم من لم يسمع قط بدين ولا دعوة نبي ولا عرف أن في العالم من يثبت الاها.
উপকরণের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো—যেমন নিছক স্বাদ গ্রহণ ও উপভোগের জন্য ফল খাওয়া—অনুমতি, যা তার উপকারের পরিমাণ অনুযায়ী মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হতে পারে। কারণ আল্লাহ তাআলা নেয়ামতের বর্ণনা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন: "যিনি যমীনে যা কিছু আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।" আর বৈধ ও উপকারী বিষয় ছাড়া নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয় না।
আমাদের কথা: "আপতিত হওয়ার পূর্বে..." ইত্যাদি। যেমন সম্পদ, রক্ত এবং সম্মান—এগুলোর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো হারাম হওয়া। তবে কখনো এমন কিছু আপতিত হতে পারে যা এগুলোকে বৈধ করে দেয়। যদিও এগুলোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নস (দলিল) বিদ্যমান রয়েছে, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য হারাম..." (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। আর এখানে আলোচনা হচ্ছে এমন বিষয়ে যার ব্যাপারে কোনো নস নেই।
শরীয়ত আগমনের পূর্বে মূল বিধানের ব্যাপারে আবুল ফারাজ আল-মালিকী এবং শাফেয়ীদের অনেকে 'ইবাহাত' বা বৈধতার প্রবক্তা। আর আল-আবহারী 'মান' বা নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, যার সপক্ষে তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো", অর্থাৎ যা দেন না তা করো না। মাটি খাওয়ার ব্যাপারে এটি ক্ষতিকর উল্লেখ করার পর হুলুলু বলেন: তবে এর ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যে, তা কি হারামের পর্যায়ে পৌঁছাবে কি না? আর যদি কোনো বিষয়ে উপকার বা অপকার কোনোটিই না থাকে, তবে বিস্তারিত মতানুসারে সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, সম্ভবত এমন বিষয়ের অস্তিত্ব না থাকার কারণেই।
ফাতরা যুগের লোক বিধানের শাখাগত বিষয়ে ভীত হবে না
… এবং মূল বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ আছে
'রাআ' শব্দটি 'রুউ' থেকে এসেছে যার অর্থ ভীত করা, যা সকর্মক ও অকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো: ফাতরা বা অন্তর্বর্তীকালীন যুগের অধিবাসীরা আতঙ্কিত হবে না, অর্থাৎ শাখাগত বিধান (যেমন: সালাত) ত্যাগ করার কারণে তাদের আযাব দেওয়া হবে না; কারণ তাদের ওপর এগুলো পালনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ যারা দুইজন রাসূলের মধ্যবর্তী সময়ে অতিবাহিত হয়েছেন, যাদের নিকট প্রথম রাসূল প্রেরিত হননি এবং তারা দ্বিতীয় রাসূলকেও পাননি। 'আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত' গ্রন্থে এটি বলা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, রাসূল যাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তারা ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে বিধান সাব্যস্ত হবে না। তবে শাখাগত বিধানের মধ্যে যে বিষয়গুলো সকল ধর্মের মধ্যে সর্বসম্মত, সেগুলো কি ঈমানের মতো হবে যাতে এই মতভেদ কার্যকর হয়? এ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর এ সকল সর্বসম্মত বিষয়গুলোকে আল-জাজায়েরী তাঁর কবিতায় এভাবে গেঁথেছেন:
সকল নবী ও রাসূল সর্বসম্মতভাবে ঐক্যমত পোষণ করেছেন
… সকল ধর্মে তাওহীদের দ্বীনের ওপর
এবং সম্পদ ও জীবনের সুরক্ষা, সাথে বংশধারাও
… এবং বুদ্ধি ও সম্মানের সুরক্ষা যা তুচ্ছ নয়
আর ঈমান ও তাওহীদের মতো মূল বিষয়গুলো ত্যাগের কারণে তাদের শাস্তি হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তাদের মতোই ওই ব্যক্তি যে কখনও কোনো দ্বীন বা নবীর দাওয়াতের কথা শোনেনি এবং জানেও না যে এই পৃথিবীতে এমন কেউ আছেন যিনি ইলাহ সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال العبادي: وما نرى أن ذلك يكون. قلت: يمكن في الأصم إذا لم يهتد بالإشارة والقرائن، ومبني الخلاف هل يجب الإيمان والتوحيد بمجرد العقل؟ أو لابد من انضمام النقل. العبادي. وهذا صريح في ثبوت تكليف كل أحد بالإيمان والتوحيد بعد وجود دعوة أحد من الرسل وإن لم يرسل إليه وفي تعذيب أهل الفترة بترك التوحيد. وهذا اعتمده النووي في شرح مسلم لإخبار النبي صلى الله عليه وسلم أن الذين مضوا في الجاهلية في النار.
وحكى القرافي في شرح التنقيح الإجماع على تعذيب موتى الجاهلية في النار وعلى كفرهم ولولا التكليف لما عذبوا. والذي عليه الأشاعرة من أهل الأصول والكلام أنهم لا يعذبون وأجابوا عن جماعة منهم صح تعذيبهم بأن أحاديثهم آحاد لا تعارض القاطع الذي هو ((وما كنا معذبين حتى نبعث رسولًا)) وبأنه يحتمل أن يكون لأمر مختص به يقتضي ذلك، علمه الله ورسوله نظير ما قيل في الحكم بكفر الغلام الذي قتله الخضر عليه السلام مع صباه وبأن ذلك خاص بمن بدل وغير بما لا يعذبه كعبادة الأوثان.
ثم الخطاب المقتضي للفعل
… جزما فإيجاب لدى ذي النقل
يعني: أن الخطاب الذي هو كلامه تعالى النفسي إذا اقتضى، أي طلب من المكلف فعل الشيء أي إيجاده اقتضاء جازمًا فذلك الخطاب يسمى إيجابًا، ومتعلقه واجب ومتعلق الندب مندوب، أو متعلق الكراهة مكروه، ومتعلق التحريم حرام، ومتعلق الإباحة مباح، قاله حلولوا.
والمراد بذي النقل، الأصولي الذي ينقل مسائل الفن في الكتب أو يرويها دون تأليف.
(وغيره الندب). يعني: أن الخطاب المقتضى من المكلف أو الصبي إيجاد الفعل اقتضاء غير جازم بأن جوز تركه فذلك الخطاب ندب أي يسمى به. فخرج بغير جازم الإيجاب لأنه لم يجوز تركه.
আল-ইবাদি বলেন: আমরা মনে করি না যে এমনটি ঘটবে। আমি (লেখক) বলছি: এটি বধিরের ক্ষেত্রে সম্ভব হতে পারে যদি সে ইশারা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে পথনির্দেশ না পায়। মতভেদের ভিত্তি হলো—কেবলমাত্র বিবেকের দ্বারা কি ঈমান ও তাওহিদ আবশ্যক হবে? নাকি এর সাথে ওহীর বর্ণনা যুক্ত হওয়া আবশ্যক? ইবাদি। এটি রাসূলগণের দাওয়াতের অস্তিত্বের পর প্রত্যেকের ওপর ঈমান ও তাওহিদের দায়িত্ব সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট, যদিও তার কাছে সরাসরি কোনো রাসূল প্রেরিত না হন; এবং তাওহিদ বর্জন করার কারণে আহলে ফাতরাহ বা দাওয়াতহীন যুগের লোকদের শাস্তির বিষয়েও এটি সুস্পষ্ট। এটিই ইমাম নববী 'শরহে মুসলিম'-এ গ্রহণ করেছেন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, জাহেলিয়াত যুগে যারা গত হয়েছে তারা জাহান্নামে।
আল-কারাফি 'শরহুত তানকিহ'-এ জাহেলিয়াত যুগের মৃতদের জাহান্নামে শাস্তি হওয়া এবং তাদের কুফরির ওপর ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন। আর যদি কোনো দায়িত্ব অর্পিত না হতো, তবে তারা শাস্তি পেত না। উসুল ও ইলমে কালামের বিশেষজ্ঞ আশআরিগণের অভিমত হলো যে, তাদের শাস্তি হবে না। আর যাদের শাস্তির বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তারা উত্তর দিয়েছেন যে, এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো একক বর্ণনা (আহাদ), যা অকাট্য প্রমাণের সাথে বিরোধ করতে পারে না; আর সেই অকাট্য দলিল হলো: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দেই না যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি।" এবং এর সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি কোনো বিশেষ বিষয়ের কারণে হতে পারে যা এর দাবি রাখে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল জানেন; যেমনটি খিজির আলাইহিস সালাম কর্তৃক নিহত বালকের কুফরির হুকুমের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যদিও সে শিশু ছিল। অথবা এটি কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা দ্বীন পরিবর্তন ও বিকৃত করেছিল এবং এমন কাজ করেছিল যার কারণে শাস্তি অনিবার্য হয়, যেমন মূর্তিপূজা।
অতঃপর কার্যের দাবিদার যে সম্বোধন
… দৃঢ়ভাবে, তা শাস্ত্রবিদদের নিকট 'ইজাব' বা আবশ্যকতা।
অর্থাৎ: সম্বোধন যা মহান আল্লাহর কালামে নাফসি, যখন তা কোনো বিষয়ের দাবি করে, অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে কোনো কাজ করার বা তা সম্পাদন করার দৃঢ় দাবি জানায়, তবে সেই সম্বোধনকে 'ইজাব' বলা হয়। এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে 'ওয়াজিব', মানদুবের সংশ্লিষ্ট বিষয়কে 'মানদুব', অপছন্দনীয়তার সংশ্লিষ্ট বিষয়কে 'মাকরূহ', হারামের সংশ্লিষ্ট বিষয়কে 'হারাম' এবং অনুমতির সংশ্লিষ্ট বিষয়কে 'মুবাহ' বলা হয়। এটি হুলুলু বলেছেন।
'যি-নাকল' বা শাস্ত্রবিদ বলতে সেই উসুলবিদকে বোঝানো হয়েছে যিনি এই শাস্ত্রের মাসআলাগুলো কিতাবসমূহে বর্ণনা করেন অথবা গ্রন্থাকারে সংকলন করা ছাড়াই তা বর্ণনা করেন।
(এবং দৃঢ়তা ছাড়া হলে তা 'নদব' বা পছন্দনীয়)। অর্থাৎ: যে সম্বোধনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা শিশুর কাছে কোনো কাজ করার দাবি করা হয়েছে কিন্তু তা দৃঢ়ভাবে নয়—বরং তা ত্যাগ করারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে—সেই সম্বোধনকে 'নদব' বলা হয়। 'দৃঢ়তা ছাড়া' বলার মাধ্যমে 'ইজাব' বা আবশ্যকতা বাদ পড়ে গেছে, কারণ তাতে কাজ বর্জন করার অনুমতি নেই।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ما الترك طلب
… جزمًا فتحريم له الإثم انتسب
الترك مفعول طلب قدم عليه. إن الخطاب الذي اقتضى الترك للشيء بمعنى الكف عنه طلبًا جازمًا فذلك الخطاب يسمى تحريمًا. قوله له أي لفعل المحرم انتسب الإثم كما ثبت الأجر في تركه. وجزمًا بمعنى مجزوم يعني طلبًا مجزومًا به.
أولا مع الخصوص أولا فع ذا
… خلاف الأولى وكراهة خذا
لذاك
بسكون واو أولا. يعني: أن الخطاب الطالب للترك طلبًا غير جازم فإن كان مدلولًا عليه بالخصوص أي التنصيص على النهي عنه فهو الكراهة وإن كان غير مخصوص بل استفيد النهي من الأوامر إذ الأمر بالشيء نهى عن تركه فهو خلاف الأولى. قوله أولا الأول معناه أولا جزم لكن مع الخصوص كالنهي في حديث الصحيحين (إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين) والإشارة في قوله فع ذا للخطاب المدلول عليه بغير المخصوص وهو النهي عن ترك المندوبات المستفاد من أوامرها. والإشارة في قوله لذلك للخطاب المدلول عليه بالنهي المخصوص ولا يخرج عن المخصوص دليل المكروه حال كون الدليل إجماعًا أو قياسًا، لأن دليله في الحقيقة مستند الإجماع أو دليل المقيس عليه وذلك من المخصوص وكما يسمى الخطاب المدلول عليه بغير المخصوص خلاف الأولى يسمى متعلقة بذلك. وتسمية الخطاب بالكراهة أو خلاف الأولى بمعنى أنه مثبت لهما، وسواء كان متعلق خلاف الأولى فعلا كفطر مسافر لا يتضرر بالصوم أو تركا كترك صلاة الضحى إذ لم يرد فيه نهي مخصوص لكن الإنسان في الجملة منهي نهي تنزيه عن ترك مندوبات الشرع فالطلب في المطلوب بالمخصوص أشد منه في المطلوب بغير المخصوص فالاختلاف في شيء أمكروه هو أم خلاف الأولى، اختلاف في وجود المخصوص فيه كصوم يوم عرفة للحاج، فهو مكروه لأنه صلى الله عليه وسلم نهى عن صيام عرفة بعرفة. وقيل خلاف الأولى لأنه صح أنه عليه السلام كان مفطرًا فيه. وزيادة قسم خلاف الأولى من صنع المتأخرين للفرق بين
যা বর্জন করার দাবি
… দৃঢ়ভাবে করা হয়, তবে তা হারাম (নিষিদ্ধকরণ), যার সাথে পাপ সংশ্লিষ্ট।
'বর্জন' শব্দটি 'দাবি' ক্রিয়ার কর্ম যা তার পূর্বে আনা হয়েছে। যে সম্বোধন কোনো কিছু বর্জন করার দাবি রাখে—অর্থাৎ তা থেকে বিরত থাকার অর্থে দৃঢ়ভাবে দাবি করে—তবে সেই সম্বোধনকে 'তাহরীম' (নিষিদ্ধকরণ) বলা হয়। তার কথা 'তার জন্য' অর্থাৎ হারামের কার্যের জন্য পাপ সংশ্লিষ্ট হয়, যেমনটি তা বর্জনের ক্ষেত্রে সওয়াব সাব্যস্ত হয়। আর 'জাযমান' অর্থ হলো দৃঢ়ভাবে দাবিকৃত।
প্রথমত দৃঢ়তা ব্যতিরেকে কিন্তু নির্দিষ্টভাবে হলে... অন্যথায় এটি হলো... খিলাফে আওলা এবং তার জন্য 'কারাহাত' (মাকরূহ) গ্রহণ করো।
তার জন্য
'আওলা' শব্দের ওয়াও-এ সুকুনসহ। অর্থাৎ: যে সম্বোধন বর্জনের দাবি করে কিন্তু তা দৃঢ় নয়, যদি তা নির্দিষ্টভাবে নির্দেশিত হয়—অর্থাৎ তার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকে—তবে তা 'কারাহাত' (মাকরূহ)। আর যদি তা নির্দিষ্ট না হয় বরং আদেশসমূহ থেকে নিষেধাজ্ঞাটি অনুমিত হয় (কেননা কোনো কিছুর আদেশ মানেই তা বর্জন করা থেকে নিষেধ করা), তবে তা 'খিলাফে আওলা'। তার উক্তি 'প্রথমত' এর অর্থ হলো দৃঢ়তা ব্যতিরেকে কিন্তু নির্দিষ্টভাবে, যেমন বুখারী ও মুসলিমের হাদীসের নিষেধাজ্ঞা: (যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করার পূর্বে না বসে)। আর 'ফা যা' দ্বারা সেই সম্বোধনের দিকে ইশারা করা হয়েছে যা অনির্দিষ্টভাবে নির্দেশিত, আর তা হলো মুস্তাহাব কার্যাবলি বর্জন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা যা সেগুলোর আদেশ থেকে গৃহীত। আর 'লি যালিকা' দ্বারা সেই সম্বোধনের দিকে ইশারা করা হয়েছে যা নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নির্দেশিত। মাকরূহের দলিল ইজমা বা কিয়াস হলেও তা নির্দিষ্টের বাইরে যায় না, কারণ তার দলিল প্রকৃতপক্ষে ইজমার ভিত্তি অথবা যার উপর কিয়াস করা হয়েছে তার দলিল, আর সেটি নির্দিষ্টের অন্তর্ভুক্ত। আর অনির্দিষ্টভাবে নির্দেশিত সম্বোধনকে যেমন 'খিলাফে আওলা' বলা হয়, তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকেও তাই বলা হয়। সম্বোধনকে 'কারাহাত' বা 'খিলাফে আওলা' হিসেবে নামকরণ করার অর্থ হলো এটি সে দুটিকে সাব্যস্তকারী। 'খিলাফে আওলা' সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কোনো কাজ হতে পারে যেমন এমন মুসাফিরের রোজা ভঙ্গ করা যার রোজার কারণে কোনো ক্ষতি হয় না, অথবা কোনো কিছু বর্জন করা হতে পারে যেমন চাশতের সালাত বর্জন করা—যেহেতু এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আসেনি—তবে মানুষ সামগ্রিকভাবে শরীয়তের মুস্তাহাব বিষয়গুলো বর্জন করা থেকে হালকা নিষেধাজ্ঞা দ্বারা নিষিদ্ধ। সুতরাং নির্দিষ্টভাবে দাবিকৃত বিষয়ের দাবি অনির্দিষ্টভাবে দাবিকৃত বিষয়ের তুলনায় অধিক জোরালো। কোনো বিষয় মাকরূহ নাকি খিলাফে আওলা তা নিয়ে যে মতপার্থক্য, তা মূলত তাতে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান থাকা বা না থাকা নিয়ে মতপার্থক্য; যেমন হাজীর জন্য আরাফার দিনের রোজা। এটি মাকরূহ কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরাফায় অবস্থানকালে আরাফার রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। আবার বলা হয়েছে এটি খিলাফে আওলা, কারণ এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেদিন রোজা ভঙ্গ অবস্থায় ছিলেন। খিলাফে আওলার এই অতিরিক্ত বিভাগটি পরবর্তী যুগের আলেমদের উদ্ভাবন যাতে পার্থক্য করা যায়।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ما هو أشد وغيره. وأما الأقدمون فيطلقون المكروه على القسمين. وقد يقولون في ذي النهي المخصوص مكروه كراهة شديدة وينبني عليهما كون الأحكام خمسة أو ستة وبعضهم يعبر بالنهي المقصود وغير المقصود وهو المستفاد من الأمر. وفسروا المقصود بالصريح وغير المقصود بغير الصريح فرارًا مما يقتضي غير المقصود من كون الشارع لم يقصد النهي في ضمن الأمر، ولا مانع أن يراد بالمقصود بالأصالة وبغير المقصود بالتبع. قاله في الآيات البينات.
وقد يعبر عن المحرم بالمكروه فكثيرًا ما يقول المجتهد أكره كذا يعني أنه حرام.
والإباحة الخطاب
… فيه استوى الفعل والاجتناب
يعني: إن الإباحة التي هي القسم الخامس أو السادس من الأحكام الشرعية هي الخطاب المستوي بين فعل شيء وتركه كالاستمتاع بالمطعم والمأكل والمشرب المباحة.
وذهب بعض المعتزلة إلى أن الأحكام أربعة بإسقاط الإباحة. قال الفهري: والصحيح إنها خطاب تسوية فهو حكم شرعي إذ هي التخيير بين الفعل والترك المتوقف وجوده كغيره من الحكم على الشرع، ورفع الإباحة نسخ، وقيل الأحكام اثنان التحريم والإباحة وفسرت بجواز الإقدام الشامل لبقية الخمسة وعليه يتخرج قوله صلى الله عليه وسلم (أبغض المباح إلى الله الطلاق) فإن البعض يقتضي رجحان طرف الترك والرجحان مع التساوي محال إلا أن ما أخذ من البراءة الأصلية ليس بحكم شرعي وإليه أشار بقوله:
وما من البراءة الأصلية
… قد أخذت فليست الشرعية
يعني: إن الإباحة المأخوذة من البراءة ليست حكمًا شرعيًا بخلاف ما أخذت من الشرع. فالأولى كشربهم للخمر في صدر الإسلام قبل أن يرد في إباحتها نص من تقريره أو غيره بل هي إباحة عقلية.
وهي والجواز قد ترادفا
… في مطلق الإذن لدى من سلفا
যা অধিক কঠোর এবং যা তা নয়। আর প্রাচীন উলামাগণ মাকরূহ শব্দটিকে উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতেন। তাঁরা কখনও কখনও নির্দিষ্ট নিষেধের ক্ষেত্রে 'তীব্র অপছন্দনীয় মাকরূহ' বলতেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই শরয়ী বিধান পাঁচটি নাকি ছয়টি তা নির্ধারিত হয়। কেউ কেউ একে 'উদ্দেশ্যমূলক নিষেধ' এবং 'উদ্দেশ্যহীন নিষেধ' হিসেবে ব্যক্ত করেন, যা আদেশ থেকে প্রাপ্ত হয়। তাঁরা উদ্দেশ্যমূলক নিষেধকে 'সুস্পষ্ট' এবং উদ্দেশ্যহীনকে 'অ-সুস্পষ্ট' দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, যাতে এমন ধারণা সৃষ্টি না হয় যে শরীয়তদাতা আদেশের অন্তর্ভুক্ত বিষয়টিতে নিষেধ করার উদ্দেশ্য করেননি। তবে মূলগতভাবে উদ্দেশ্য হওয়া এবং অনুবর্তী হিসেবে উদ্দেশ্য হওয়া বুঝানোতে কোনো বাধা নেই। এটি 'আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
কখনও কখনও হারামকেও মাকরূহ হিসেবে ব্যক্ত করা হয়। অনেক সময় মুজতাহিদগণ বলে থাকেন, "আমি এটি অপছন্দ করি", যার অর্থ হলো এটি হারাম।
আর ইবাহাহ (বৈধতা) হলো সেই সম্বোধন
… যাতে কাজ করা এবং তা বর্জন করা সমান পর্যায়ে থাকে।
অর্থাৎ: ইবাহাহ বা বৈধতা যা শরয়ী বিধানের পঞ্চম বা ষষ্ঠ প্রকার, তা হলো সেই সম্বোধন যা কোনো কাজ করা এবং তা ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে সমতা রক্ষা করে; যেমন বৈধ আহার ও পানীয় উপভোগ করা।
মুতাজিলা সম্প্রদায়ের কেউ কেউ মনে করেন যে, ইবাহাহ বা বৈধতাকে বাদ দিলে বিধান হলো চারটি। আল-ফিহরী বলেন: সঠিক মত হলো এটি সমতাসূচক সম্বোধন, সুতরাং এটি একটি শরয়ী বিধান। যেহেতু এতে কাজ করা বা বর্জন করার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ রয়েছে, যার অস্তিত্ব অন্য সব বিধানের মতো শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর বৈধতা তুলে নেওয়া হলো রহিতকরণ (নাসখ)। বলা হয়ে থাকে যে, বিধান মূলত দুটি: হারাম এবং বৈধতা (মুবাহ), এবং একে কাজ করার অনুমতির দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা অবশিষ্ট পাঁচটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ওপর ভিত্তি করেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী উদ্ভূত হয়েছে: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় বৈধ কাজ হলো তালাক।" কারণ কোনো কিছুকে 'অপ্রিয়' বলা বর্জন করার দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি রাখে, আর সমতার সাথে সাথে কোনো এক দিককে প্রাধান্য দেওয়া অসম্ভব। তবে মূল দায়মুক্তি (বারায়াতে আসলিয়া) থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে তা শরয়ী বিধান নয়। এ দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:
আর যা মূল দায়মুক্তি থেকে
… গ্রহণ করা হয়েছে, তা শরয়ী বিধান নয়।
অর্থাৎ: দায়মুক্তি থেকে প্রাপ্ত বৈধতা কোনো শরয়ী বিধান নয়, যা শরীয়ত থেকে প্রাপ্ত বৈধতার বিপরীত। প্রথমটির উদাহরণ হলো ইসলামের প্রাথমিক যুগে তাদের মদ পান করা, যার বৈধতা সম্পর্কে তাঁর (রাসূলের) মৌন সম্মতি বা অন্য কোনো টেক্সট আসার আগে ছিল; বরং এটি ছিল বুদ্ধিভিত্তিক বৈধতা।
এটি এবং জাওয়ায (অনুমতি) শব্দ দুটি সমার্থক হয়েছে
… পূর্ববর্তীদের নিকট নিঃশর্ত অনুমতির ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يعني: إن لفظي الإباحة والجواز قد ترادفا عند بعضهم على معنى هو مطلق الإذن في الفعل، فعلى هذا يدخل فيهما المخير فيه والمندوب والواجب وتكون الأحكام اثنين باعتبار المنهي والمأذون فيه.
والعلم والوسع على المعروف
… شرط يعم كل ذي تكليف
يعني: إن الخطاب على قسمين خطاب وضع لا يشترط في أكثره علم المخاطب ولا قدرته، وخطاب تكليف يشترط في جوازه ذلك. فالغافل والساهي والنائم غير ملكفين عن الأكثر. وجوزه قوم، والقولان عن الأشعري بناء على أنها مانعة من الوجوب والأداء، وجه الأول أن الذي يطلب بالتكليف قصد إيقاع الفعل المأمور به على وجه الامتثال وذلك يتوقف على العلم بالتكليف به والغافل ومن في حكمه لا يعلم ذلك فيمتنع تكليفه، وإن وجب عليه بعد يقظته ضمان ما أتلفه من المال وقضاء ما فاته من الصلاة غافلًا لوجود سببيهما ودليل اشتراط العلم في التكليف قوله تعالى ((وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا)) وقوله تعالى ((مبشرين ومنذرين ليلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل)) والفرق بين التكليف المحال كما هنا والتكليف بالمحال الآتي في الملجأ والمكره هو كما قال ابن العربي: إن الأول الخلل فيه من جهة المأمور، والثاني من جهة المأمور به. وما ذكره عياض في الشفاء من الاتفاق على خروج الساهي والنائم عن حكم التكليف، وقول ابن الحاجب في المنتهى المخطئ غير مكلف اتفاقًا، قال حلولوا: إنما ذلك في عدم المواخذة بالإثم.
(واعلم) إن الشأن عند أهل الأصول أن يتكلموا أولًا في المسألة على الجواز العقلي فإن امتنع الشيء عقلًا علم ضرورة امتناع وقوعه، وإن جاز عقلًا نظروا بعد ذلك هل وقع في الشرع أو لا؟ فإذا قال في الأصولي: يجوز ذلك أو يمتنع فإنما مراده في العقل، وكذلك يشترط في خطاب التكليف القدرة على المكلف به فالعاجز عن شيء غير مكلف بفعله لقوله تعالى ((لا يكلف الله نفسًا إلى وسعها)) أي طاقتها فلا يجوز تكليف الملجأ وهو من لا مندوحة له عما ألجئ إليه كالملقى من شاهق جبل على شخص يقتله يمتنع تكليفه بالملجأ إليه أو بنقيضه لعدم
অর্থাৎ: কারো কারো নিকট ইবাহাত (বৈধতা) এবং জাওয়াজ (অনুমোদন) শব্দ দুটি কাজের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ অনুমতির অর্থে সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ভিত্তিতে যার মধ্যে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, মুস্তাহাব এবং ওয়াজিব—সবই এর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নিষিদ্ধ ও অনুমোদিত হওয়ার বিবেচনায় বিধানসমূহ হবে দুই প্রকার।
এবং প্রসিদ্ধ মতে জ্ঞান ও সক্ষমতা
… এমন শর্ত যা প্রতিটি মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।
অর্থাৎ: খিতাব (সম্বোধন) দুই প্রকার: খিতাবে ওয়াদই (প্রাসঙ্গিক সম্বোধন), যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্বোধিত ব্যক্তির জ্ঞান বা সক্ষমতা থাকা শর্ত নয়। দ্বিতীয়টি হলো খিতাবে তাকলিফ (আদেশমূলক সম্বোধন), যার বৈধতার জন্য এ শর্তগুলো জরুরি। ফলে অসতর্ক, বিস্মৃত এবং নিদ্রিত ব্যক্তি অধিকাংশের মতে মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নয়। তবে একদল একে বৈধ বলেছেন। আল-আشআরীর পক্ষ থেকে উভয় মত বর্ণিত হয়েছে এই ভিত্তিতে যে, এ অবস্থাগুলো ওয়াজিব হওয়া এবং তা আদায়ের পথে অন্তরায়। প্রথম মতের কারণ হলো, তাকলিফের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো আনুগত্যের সাথে আদেশকৃত কাজটি সম্পাদন করার ইচ্ছা পোষণ করা। আর এটি তাকলিফ বা আদেশ সম্পর্কে জ্ঞান থাকার ওপর নির্ভরশীল। অথচ অসতর্ক ব্যক্তি এবং এই পর্যায়ের অন্যান্য ব্যক্তিরা এ বিষয়ে অবগত নয়, ফলে তাদের ক্ষেত্রে তাকলিফ অসম্ভব। যদিও জাগ্রত হওয়ার পর তার নষ্ট করা মালের জরিমানা প্রদান এবং অসতর্ক অবস্থায় যে সালাত ছুটে গেছে তার কাজা করা ওয়াজিব, কারণ এগুলোর কারণসমূহ (সাবাব) বিদ্যমান। তাকলিফের ক্ষেত্রে জ্ঞান শর্ত হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: ((আমি রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি দেই না)) এবং মহান আল্লাহর বাণী: ((সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসুলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে))। এখানে বর্ণিত অসম্ভব তাকলিফ (অসম্ভব ব্যক্তির ওপর অর্পিত দায়িত্ব) এবং সামনে আগত অসম্ভব বিষয়ের তাকলিফের (নিরুপায় ও বাধ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে) মধ্যে পার্থক্য হলো—যেমনটি ইবনুল আরাবী বলেছেন—প্রথমটির ক্ষেত্রে ত্রুটি হলো যাকে আদেশ করা হয়েছে তার পক্ষ থেকে, আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ত্রুটি হলো যা আদেশ করা হয়েছে সেই বিষয়ের দিক থেকে। কাযী আয়াদ 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বিস্মৃত ও নিদ্রিত ব্যক্তি তাকলিফের বিধানের বাইরে থাকার বিষয়ে যে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, এবং ইবনুল হাজিব 'আল-মুনতাহা' গ্রন্থে ভুলকারী ব্যক্তি সর্বসম্মতিক্রমে মুকাল্লাফ নয় বলে যা বলেছেন, সে সম্পর্কে হুলুলু বলেন: এটি কেবল গুনাহের মাধ্যমে পাকড়াও না হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(জেনে রাখুন) উসুলবিদগণের নিকট নিয়ম হলো, তারা কোনো বিষয়ে প্রথমে যৌক্তিক বৈধতা নিয়ে আলোচনা করেন। যদি বিষয়টি যৌক্তিকভাবে অসম্ভব হয়, তবে অবধারিতভাবে জানা যায় যে সেটি সংঘটিত হওয়াও অসম্ভব। আর যদি তা যৌক্তিকভাবে সম্ভব হয়, তবে তারা দেখেন যে শরিয়তে তা ঘটেছে কি না। সুতরাং উসুলবিদ যখন বলেন: এটি বৈধ বা অসম্ভব, তখন তিনি এর দ্বারা যৌক্তিক দিকটিই বুঝিয়ে থাকেন। একইভাবে খিতাবে তাকলিফের ক্ষেত্রে আদিষ্ট বিষয়টি পালনের সক্ষমতা থাকাও শর্ত। ফলে কোনো বিষয়ে অক্ষম ব্যক্তি তা পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: ((আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না)) অর্থাৎ তার সক্ষমতা অনুযায়ী। সুতরাং নিরুপায় ব্যক্তিকে তাকলিফ বা দায়িত্ব প্রদান করা বৈধ নয়। নিরুপায় ব্যক্তি হলো সে, যার ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিষয় থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। যেমন পাহাড়ের চূড়া থেকে কাউকে অন্য একজনের ওপর ফেলে দেওয়া হলো যার ফলে সে মারা যায়; এমতাবস্থায় তার ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটি বা তার বিপরীত কোনো কিছুর দায়িত্ব প্রদান করা অসম্ভব, কারণ তার সক্ষমতা নেই।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قدرته على ذلك، وقيل يجوز تكليف الغافل والملجأ بناء على جواز التكليف بالمحال، وكذا يمتنع تكليف المكره وهو من لا مندوحه له عما أكره عليه إلا بالصبر على ما أكره به يمتنع تكليفه بالمكره عليه أو بمقابله على الصواب لعدم قدرته على الامتثال فإن الفعل للإكراه لا يحصل به الامتثال ولا يمكن الإتيان معه بنقيضه.
والمراد بالمكره الذي لا اختيار له بل صار مضطرًا وأما من له اختيار وتتحرك دواعيه فمذهب أهل الحق فيه إنه مكلف بالمأمورات والمنهيات. وأجازت المعتزلة أن يكره على فعل المنهي عنه ومنعوا أن يكره على فعل العبادات؟ وأما حكاية إمام الحرمين وغيره الإجماع على تكليف المكره بنقيض القتل فمحموله على التكليف من حيث إيثاره نفسه على المقتول بالبقاء على مكافئة الذي خيره بينهما المكره بقوله اقتل هذا وإلا قتلتك. فيأثم بالقتل من جهة الإيثار لا من جهة الإكراه.
وقولنا: لإيثاره نفسه بالبقاء هو هكذا في عبارة المحلي، وتعقبه في الآيات البينات بما نصه (هذا لا يأتي إذا كان المكره به غير القتل كالقطع إذ لا يتحقق الإيثار بالبقاء إلا إذا كان المكره به مفوتًا لنفسه إلا أن يجاب إن هذا مفهوم بالأولى). وفيه أيضًا ما نصه (ربما يقال في غير المكافي يكلف بالمكره عليه ارتكابًا لأخف الضررين هذا إذا كان المقتول غير مكافي للمكره وإما إذا كان المكره مكافئًا للمقتول فعلى قياس ذلك ربما يقال يكلف بنقيض المكره عليه صابرًا على العقوبة ارتكابًا لأخف الضررين لأن قتل المكره أخف لأن المأمور بقتله أعظم حرمة) بقى إن هذا كله واضح إذا كان كل من المكره به والمكره عليه القتل إما إذا كان المكره عليه القتل والمكره به القطع مثلًا فلا يظهر هذا التوجيه. قال ابن العربي: والمشهور قتل المكره بفتح الراء وكسرها. حلولوا: ولعله فيمن يصح منه الإكراه كالسلطان والسيد لا مطلقًا ويشترط مع العلم والقدرة شروط أخرى يختص بكل عبادة شروط منها. والامتثال: هو افتعال من مثل بوزن ضرب أي قام وانتصب فمعناه القيام والانتصاب للإتيان بالمأمور به أو من المثل بمعنى الشبه فمعناه على هذا: الإتيان بمثل المأمور به، والمندوحة: السعة كالمنتدح من ندحت الشيء إذا وسعته.
সে বিষয়ে তার সক্ষমতা। বলা হয়েছে যে, গাফেল (অমনোযোগী) এবং নিরুপায় ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করা বৈধ, যা অসম্ভব বিষয়ের ওপর দায়িত্বারোপ করার বৈধতার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। অনুরূপভাবে, যাকে কোনো কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সেই বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো প্রশস্ততা তার নেই কেবল সে বিষয়ের ওপর ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া, তাকে সেই আদিষ্ট বিষয় বা তার বিপরীত কোনো বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া সঠিক মতানুসারে অসম্ভব; কারণ তার তা পালন করার সক্ষমতা নেই। কেননা বাধ্যবাধকতার অধীনে সম্পাদিত কর্মের মাধ্যমে হুকুম পালন বা আনুগত্য অর্জিত হয় না এবং এমতাবস্থায় তার বিপরীতটি করাও সম্ভবপর নয়।
বাধ্যকৃত ব্যক্তি বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার কোনো নিজস্ব ইখতিয়ার বা সক্ষমতা নেই, বরং সে নিরুপায় হয়ে পড়েছে। তবে যার ইখতিয়ার আছে এবং কর্মের প্রেরণা কাজ করছে, আহলুল হকের মাযহাব অনুযায়ী সে আদেশ ও নিষেধের অনুগামী বা দায়বদ্ধ। মুতাযিলারা নিষিদ্ধ কাজ করার জন্য বাধ্য করাকে বৈধ বলেছে, কিন্তু ইবাদত পালনে বাধ্য করার বিষয়টিকে তারা অস্বীকার করেছে। ইমামুল হারামাইন এবং অন্যরা হত্যার নির্দেশের বিপরীতে বাধ্যকৃত ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল গণ্য করার ওপর যে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে সে যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার জীবনের তুলনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়। যেমন বাধ্যকারী ব্যক্তি তাকে বলল, 'একে হত্যা করো, অন্যথায় তোমাকে হত্যা করব'। এমতাবস্থায় সে হত্যার কারণে গুনাহগার হবে নিজের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে, বাধ্য হওয়ার কারণে নয়।
আমাদের বক্তব্য: 'জীবন রক্ষায় নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া'—এটি আল-মাহাল্লীর বক্তব্য। 'আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত' গ্রন্থে এর ওপর টীকায় বলা হয়েছে: (এটি তখন কার্যকর হবে না যখন বাধ্য করার মাধ্যমটি হত্যা ব্যতিরেকে অন্য কিছু হয়, যেমন কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা; কারণ জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি তখন স্পষ্ট হয় না যদি না বাধ্য করার মাধ্যমটি প্রাণনাশের কারণ হয়। তবে এর উত্তরে বলা যায় যে, এটি অগ্রাধিকারমূলকভাবেই বোধগম্য)। সেখানে আরও বলা হয়েছে: (সম্ভবত সমমর্যাদাসম্পন্ন না হওয়ার ক্ষেত্রে কম ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে বাধ্যকৃত ব্যক্তিকে আদিষ্ট বিষয়ের জন্য দায়ী করা হতে পারে। এটি তখন হবে যখন যাকে হত্যা করা হবে সে বাধ্যকৃত ব্যক্তির সমমর্যাদার হবে না। আর যদি বাধ্যকৃত ব্যক্তি যাকে হত্যা করা হবে তার সমপর্যায়ের হয়, তবে এই কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে সম্ভবত বলা যায় যে, শাস্তির ওপর ধৈর্য ধারণ করে কম ক্ষতি অবলম্বনের স্বার্থে তাকে আদিষ্ট বিষয়ের বিপরীতে কাজ করার জন্য দায়ী করা হবে। কারণ বাধ্যকৃত ব্যক্তির নিজের নিহত হওয়া অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর বিষয়, যেহেতু যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার জীবনের মর্যাদা ও পবিত্রতা অধিকতর)। তবে এই পুরো বিষয়টি তখনই স্পষ্ট হয় যদি বাধ্য করার হুমকি এবং নির্দেশিত কাজ—উভয়ই হত্যা হয়। কিন্তু যদি নির্দেশিত কাজ হত্যা হয় এবং বাধ্য করার মাধ্যমটি কেবল অঙ্গহানি হয়, তবে এই বিশ্লেষণ আর প্রযোজ্য থাকে না। ইবনুল আরাবী বলেন: প্রসিদ্ধ মত হলো যাকে বাধ্য করা হয়েছে এবং যে বাধ্য করেছে উভয়কেই হত্যা করা হবে। হালুলু বলেন: সম্ভবত এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার পক্ষ থেকে জবরদস্তি করা আইনত কার্যকর হয়, যেমন শাসক বা মনিব; এটি ঢালাওভাবে সবার জন্য নয়। আর জ্ঞান এবং সক্ষমতার পাশাপাশি আরও কিছু শর্ত রয়েছে যা প্রতিটি ইবাদতের হুকুমের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। 'আল-ইমতিসাল': এটি 'দারাবা'র ওজনে 'মাসাল' ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো উঠে দাঁড়ানো বা সোজা হওয়া। এর পারিভাষিক অর্থ হলো আদিষ্ট বিষয় পালনের জন্য তৎপর হওয়া। অথবা এটি 'আল-মিসল' থেকে উৎপন্ন যার অর্থ সদৃশ; এই অর্থ অনুযায়ী এর মানে হবে আদিষ্ট বিষয়ের অনুরূপ কিছু সম্পাদন করা। আর 'আল-মানদূহাহ' এর অর্থ হলো প্রশস্ততা, যেমন 'মুনতাদাহ' শব্দটি প্রশস্ত করা অর্থ থেকে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم خطاب الوضع هو الوارد
… بأن هذا مانع أو فاسد
أو ضده أو أنه قد أوجبا
… شرطا يكون أو يكون سببا
هذا شروع منه في تعريف خطاب الوضع، سمي خطاب الوضع لأن متعلقه الذي هو كون الشيء سببًا مثلًا ثابت بوضع الله تعالى أي جعله، فمعناه أن الله تعالى قال إذا وقع هذا في الوجود فاعلموا أني حكمت بكذا. قال القرافي.
يعني أن خطاب الوضع هو الخطاب النفسي الوارد بكون الشيء مانعًا من شيء آخر كالحيض فإنه مانع من صحة الصلاة أو بكون الشيء فاسدًا أو صحيحًا أو موجبًا لغيره سواء كان الموجب شرطًا أو سببًا فالشرط يلزم من عدمه العدم والسبب يلزم من وجوده الوجود ومن عدمه العدم، فإن في قوله أو أنه بالفتح والضمير يرجع إلى اسم الإشارة والمشار إليه الشيء، ووصف الخطاب النفسي بالورود مجاز والمراد به التعلق بقرينته استحالة الحقيقة والعلاقة اللزوم، فإن من لازم الوارد بالشيء تعلقه به. قاله في الآيات البينات.
والشيء يتناول فعل المخاطب وقوله واعتقاده ولا يشترط في أكثر خطاب الوضع العلم ولا القدرة. وقد يعرض له أمر خارج يوجب اشتراط ذلك ككل سبب هو جناية بالنسبة إلى العقوبة دون الغرم وكذلك كل سبب في نقل الأملاك في المنافع والأعيان يشترط فيه العلم والرضى وكون الصحة والفساد من خطاب الوضع خلاف ما اختاره ابن الحاجب من أن الحكم بهما أمر عقلي. قال الرهوني: وهو الحق. لأنهما صفتان للفعل الحادث وحدوث الموصوف يوجب حدوث الصفة فلا يكونان حكمين شرعيين وإن توافقا على الشرع هـ.
وعد القرافي من خطاب الوضع التقادير الشرعية وهي إعطاء الموجود حكم المعدوم وعكسه كتقدير الأثمان في الذمم والأعيان في السلم في ذمة المسلم إليه، والذمة نفسها هي من جملة المقدرات لأنها معنى شرعي مقدر في المحل قابل للإلزام والالتزام. قال:
এরপর 'খিতাবে ওয়াজ' (স্থাপনামূলক বিধান) হলো সেই আগত নির্দেশ
… যা কোনো কিছুকে প্রতিবন্ধক অথবা বাতিল হিসেবে সাব্যস্ত করে
অথবা তার বিপরীত (সহীহ) হিসেবে, কিংবা যা সাব্যস্ত করে দেয়
… একটি শর্ত অথবা একটি কারণ হিসেবে
এটি তাঁর (গ্রন্থকারের) পক্ষ থেকে 'খিতাবে ওয়াজ'-এর সংজ্ঞা প্রদানের সূচনা। একে 'খিতাবে ওয়াজ' (স্থাপনামূলক বিধান) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়—যেমন কোনো কিছুর 'কারণ' হওয়া—আল্লাহ তাআলার স্থাপনের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, অর্থাৎ তাঁর নির্ধারণের মাধ্যমে। সুতরাং এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যখন বাস্তবতায় এটি ঘটবে, তখন তোমরা জেনে রেখো যে, আমি অমুক বিধান প্রদান করেছি। ইমাম কারাফী এটি বলেছেন।
এর উদ্দেশ্য হলো, 'খিতাবে ওয়াজ' হলো সেই সত্তাগত বাণী (খিতাবে নাফসি) যা আগত হয়েছে কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য প্রতিবন্ধক সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, যেমন ঋতুস্রাব; কারণ এটি সালাত শুদ্ধ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক। অথবা কোনো কিছু বাতিল (ফাসিদ), সঠিক (সহীহ) কিংবা অন্য কিছুর জন্য আবশ্যককারী হওয়ার মাধ্যমে—চাই সেই আবশ্যককারী বিষয়টি শর্ত হোক অথবা কারণ হোক। কেননা, শর্ত না থাকলে (মাশরুত) না থাকা আবশ্যক হয়; আর কারণ থাকলে (মুসাব্বাব) থাকা এবং না থাকলে না থাকা আবশ্যক হয়। (কাব্যের) "অথবা এটি" উক্তিটিতে 'আন্না' শব্দটি ফাতহা দিয়ে পড়তে হবে এবং এর সর্বনামটি ইশারাসূচক শব্দের দিকে ফিরবে, আর ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'বস্তু'। সত্তাগত বাণীকে 'আগত হওয়া' বিশেষণে বিশেষিত করা একটি রূপক অলংকার (মাজায), আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্টতা (তাআল্লুক)। এর সপক্ষে যুক্তি হলো এর প্রকৃত অর্থের অসম্ভবতা এবং এদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো অনিবার্যতা (লুজুম); কারণ কোনো বিষয়ে যা আগত হয়, তার সাথে সেটির সংশ্লিষ্টতা থাকাও আবশ্যক। এটি 'আল-আয়াতুল বাইয়িনাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
আর 'বস্তু' বা বিষয়টি যাকে সম্বোধন করা হয়েছে তার কর্ম, কথা এবং বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। অধিকাংশ 'খিতাবে ওয়াজ'-এর ক্ষেত্রে জ্ঞান বা সক্ষমতা শর্ত নয়। তবে কখনো কখনো এতে বাহ্যিক কোনো বিষয় আপতিত হতে পারে যা এই শর্তগুলোকে আবশ্যক করে দেয়; যেমন প্রতিটি সেই কারণ যা শাস্তির ক্ষেত্রে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে জরিমানার ক্ষেত্রে নয়। তদ্রূপ মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে—চাই তা ব্যবহারিক সুবিধা হোক কিংবা মূল বস্তু হোক—তাতে জ্ঞান এবং সন্তুষ্টি শর্ত করা হয়। সঠিক (সহীহ) ও বাতিল (ফাসিদ) হওয়া যে 'খিতাবে ওয়াজ'-এর অন্তর্ভুক্ত, এটি ইবনুল হাজিবের মতের বিপরীত; কারণ তিনি মনে করেন এ দুটির মাধ্যমে বিধান প্রদান করা একটি যৌক্তিক বিষয়। ইমাম রাহুনী বলেন: এটিই সত্য। কারণ 'সহীহ' ও 'ফাসিদ' হলো নতুন সৃষ্ট কোনো কর্মের দুটি গুণ, আর গুণান্বিত বস্তুর নতুনত্ব গুণেরও নতুনত্বকে আবশ্যক করে। তাই এগুলো শারঈ বিধান হবে না, যদিও তারা শরীয়তের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। (সমাপ্ত)।
ইমাম কারাফী শারঈ প্রাক্কলনসমূহকে (তাকদীরাত শারঈয়্যাহ) 'খিতাবে ওয়াজ'-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর তা হলো বিদ্যমান বস্তুকে অবিদ্যমান বস্তুর হুকুম দেওয়া অথবা এর বিপরীত করা। যেমন দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে মূল্যের প্রাক্কলন এবং 'সালাম' চুক্তিতে বিক্রেতার জিম্মায় পণ্যের প্রাক্কলন। আর দায়বদ্ধতা (জিম্মা) নিজেই প্রাক্কলিত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি একটি শারঈ অর্থ যা একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত হয় এবং দায়বদ্ধতা গ্রহণ ও প্রদানের উপযুক্ত হয়। তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
নাশরুল বুনূদ আলা মারাকিস সাউদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والشرح للذمة وصف قاما
… يقبل الالتزام والالزاما
وعد الآمدي الرخصة والعزيمة من خطاب الوضع (وهو من ذاك أعم مطلقًا)
يعني: أن خطاب الوضع أعم مطلقًا من خطاب التكليف، يجتمعان في الزنى والسرقة والعقود فإنها أسباب تعلق بها التحريم والإباحة، وهي أسباب العقوبات وانتقال الأملاك. وكذلك الوضوء وستر العورة شرطان فهما خطاب وضع وواجبان فهما خطاب تكليف والنكاح واجب أو مندوب أو مباح وهو سبب في إباحة الوطء. والبيوعات مباحات وسبب لإباحة التصرف في ملك الغير وينفرد الوضع بأوقات الصلوات فإنها أسباب لوجوبها والحيض مانع ولا ينفرد التكليف إذ لا تكليف إلا له سبب أو شرط أو مانع. قاله القرافي في التنقيح، وشرحه. وجعلهما في الفروق بينهما عموم من وجه وهو الصواب.
(والفرض والواجب قد توافقا).
(كالحتم واللازم مكتوب .. )
يعني: أن الواجب والفرض يطلقان اصطلاحًا على ما الإثم في تركه ثبت بدليل قطعي أو ظني فعلي هذا يتراد فإن مع الحتم واللازم والمكتوب إن أريد به ذلك المعنى نحو (إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة) (وخمس صلوات كتبهن الله على العباد) وقد يطلق الواجب على مقابل الركن وقد يطلق الفرض أيضًا على الركن وعلى ما لابد منه.
والفرض عند أبي حنيفة ما ثبت بدليل قطعي كقراءة القرءان في الصلاة الثابتة بقوله تعالى: ((فاقرءوا ما تيسر من القرءان)) والواجب ما ثبت بدليل ظني كقراءة الفاتحة فيها الثابتة بحديث (لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب) وهو آحاد فيأثم بتركها ولا تفسد به الصلاة عنده. قوله (مكتوب) بالجر عطف على الحتم بعاطف محذوف. (وما فيه اشتباه للكراهة انتمى).
এবং জিম্মাহর (দায়বদ্ধতার) ব্যাখ্যা হলো এমন এক বিদ্যমান গুণ
… যা প্রতিশ্রুতি গ্রহণ এবং বাধ্যবাধকতা প্রদানের যোগ্য।
আল-আমেদি রুখসাত (ছাড়) এবং আযীমতকে (সাধারণ বিধান) খিতাবুল ওয়াদের (প্রবর্তক সম্বোধন) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন (আর এটি সেটির তুলনায় নিঃশর্তভাবে অধিক ব্যাপক)।
অর্থাৎ: খিতাবুল ওয়াদ খিতাবুত তাকলিফ (আদেশমূলক সম্বোধন) অপেক্ষা নিঃশর্তভাবে অধিক ব্যাপক। তারা উভয়ে ব্যভিচার, চুরি এবং চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে একত্রিত হয়; কেননা এগুলো এমন সব কারণ (সাবাব) যার সাথে হারাম হওয়া এবং বৈধ হওয়া সংশ্লিষ্ট, আর এগুলো শাস্তির এবং মালিকানা হস্তান্তরের কারণ। অনুরূপভাবে অযু এবং সতর ঢাকা দুটি শর্ত; সুতরাং সে দুটি খিতাবুল ওয়াদের অন্তর্ভুক্ত, আবার সেগুলো ওয়াজিব হওয়ায় খিতাবুত তাকলিফেরও অন্তর্ভুক্ত। বিবাহ ওয়াজিব, পছন্দনীয় অথবা বৈধ হয়ে থাকে এবং এটি সহবাস বৈধ হওয়ার কারণ। ক্রয়-বিক্রয়সমূহ বৈধ বিষয় এবং অন্যের মালিকানাধীন বস্তুর ওপর হস্তক্ষেপের অধিকারের কারণ। আর খিতাবুল ওয়াদ নামাযের ওয়াক্তসমূহের ক্ষেত্রে এককভাবে বিদ্যমান থাকে, কারণ সেগুলো নামায ওয়াজিব হওয়ার কারণ। ঋতুস্রাব একটি বাধা এবং খিতাবুত তাকলিফ এককভাবে থাকতে পারে না, কারণ প্রতিটি তাকলিফের জন্যই কোনো কারণ, শর্ত অথবা বাধা থাকে। আল-কারাফি 'আত-তানকিহ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি বলেছেন। আর তিনি 'আল-ফুরুক' গ্রন্থে তাদের উভয়ের মাঝে পারস্পরিক আংশিক ব্যাপ্তি বিদ্যমান রেখেছেন এবং এটিই সঠিক।
(ফরয এবং ওয়াজিব উভয়ই ঐকমত্য পোষণ করেছে)।
(যেমন অবধারিত, আবশ্যক ও লিখিত... )
অর্থাৎ: পারিভাষিক অর্থে ওয়াজিব এবং ফরয সেই বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা বর্জন করলে গুনাহ হওয়া অকাট্য অথবা ধারণামূলক দলিল দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং এই মতানুসারে এগুলো সমার্থক; কারণ 'হাতম' (অবধারিত), 'লাযিম' (আবশ্যক) এবং 'মাকতুব' (লিখিত) দ্বারা যদি সেই অর্থই উদ্দেশ্য হয় যেমন: (যখন সালাত কায়েম করা হয়, তখন নির্ধারিত ফরয সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত নেই) এবং (পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যা আল্লাহ বান্দাদের ওপর অবধারিত করেছেন)। কখনও কখনও ওয়াজিব শব্দটি রুকনের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়, আবার ফরয শব্দটি রুকন এবং যা অপরিহার্য তার ওপরও ব্যবহৃত হয়।
ইমাম আবু হানিফার নিকট ফরয হলো তা, যা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত; যেমন সালাতে কুরআন পাঠ করা যা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত: ((অতএব কুরআনের যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পাঠ করো))। আর ওয়াজিব হলো তা, যা ধারণামূলক দলিল দ্বারা প্রমাণিত; যেমন সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত: (যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না তার সালাত নেই)। এটি একক বর্ণনার হাদিস; ফলে এটি পরিত্যাগ করার কারণে গুনাহগার হবে কিন্তু তাঁর মতে সালাত নষ্ট হবে না। লেখকের উক্তি "মাকতুব" শব্দটি জের যোগে একটি উহ্য অব্যয়ের মাধ্যমে "হাতম" শব্দের ওপর সংযুক্ত হয়েছে। (আর যে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে তা মাকরূহর অন্তর্ভুক্ত)।