(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: -)
ترتيب العلوم للمرعشي القسم: فهارس الكتب والأدلة
الكتاب: ترتيب العلوم
المؤلف: محمد بن أبي بكر المرعشي الشهير بساجقلي زاده (ت 1145 هـ)
المحقق: محمد بن إسماعيل السيد أحمد
أصل التحقيق: رسالة ماجستير مقدمة لقسم المكتبات والمعلومات بكلية الآداب والعلوم الإنسانية، جامعة الملك عبد العزيز، 1405 هـ
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م.
عدد الصفحات: 241
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1438
মারআশির তারতীবুল উলূম বিভাগ: গ্রন্থ তালিকা ও নির্দেশিকা
কিতাব: তারতীবুল উলূম
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল-মারআশি, যিনি সাজাকলি জাদা নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ১১৪৫ হিজরী)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আস-সাইয়্যিদ আহমাদ
সম্পাদনার মূল উৎস: কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির কলা ও মানবিক অনুষদের লাইব্রেরি ও ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগে উপস্থাপিত একটি মাস্টার্স থিসিস, ১৪০৫ হিজরী
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: কপিরাইট অ্যাসোসিয়েশন টিম (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টার)-এর তত্ত্বাবধানে
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، ربنا آتنا من لدنك رحمة وهيء لنا من أمرنا رشدا وبعد،
فيقول البائس الفقير محمد المرعشي المدعو بساجقلي زاده، أكرمه الله سبحانه بالفوز والسعادة.
أعلموا معاشر الطلبة- أصلح الله أموركم ومد أعماركم وأحيا بكم رسوم الدين وهدى بكم قوما آخرين- أنه كان يوجد في كل قرن من القرون الماضية من هذه الأمة طائفة من العلماء المؤلفين والأعلام المحققين وخلا الآن من أمثالهم الجوانب، وخلف الأسود في غاباتها الأرانب، أترون أن ذا من خواص الأزمنة، وغلبة البلادة على طباع أواخر هذه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজগুলো সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। অতঃপর,
অসহায় দরিদ্র মুহাম্মাদ আল-মারআশি, যাকে সাজাকলিজাদাহ বলা হয়, তিনি বলছেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে সফলতা ও সৌভাগ্য দ্বারা সম্মানিত করুন।
হে ছাত্র সমাজ! তোমরা জেনে রাখো—আল্লাহ তোমাদের বিষয়সমূহ সংশোধন করে দিন, তোমাদের আয়ু বৃদ্ধি করুন, তোমাদের দ্বারা দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে জীবিত রাখুন এবং তোমাদের মাধ্যমে অন্য কওমকে হেদায়েত দান করুন—যে, নিশ্চয়ই এই উম্মতের বিগত প্রতিটি শতাব্দীতে একদল রচয়িতা আলেম ও বিদগ্ধ গবেষক বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে চতুর্দিক তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিদের থেকে শূন্য হয়ে পড়েছে এবং অরণ্যে সিংহদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে খরগোশরা। তোমরা কি মনে করো যে, এটি এই যমানার বৈশিষ্ট্য এবং এই শেষ যুগের মানুষদের স্বভাবের ওপর জড়বুদ্ধিতার আধিপত্যের কারণে?
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮০)
الأمة، بل المنقول من سيرهم والمتبادر من كلماتهم في مؤلفاتهم أنهم تناولوا متون الفنون المعتبرة وهي مسائلها المشهورة. قال في الكشاف: اعلم أن متن كل علم طبقات العلماء فيه متدانية إن سبق العالم العالم لم يسبقه إلا بخطي يسيرة، وإنما الذي تباينت فيه الرتب وعظم التفاضل والتفاوت إلى أن عد ألف بواحد، ما في العلوم من غوامض الأسرار ومحاسن النكت، انتهي مختصرا.
فسأل إلى تجاويف صدورهم من كل فن جدول، فصار ملتقى الجداول بحرا، وما زالوا يزيدون إلى الفنون فوائد، فأنشئوا شروحا لها وأدرجوا تلك الفوائد، ومتونا طويلة وجعلوا للشروح حواشي دقيقة، حتى صار لبعض المتون حاشية على شرحه، ونظم أصحابهم كثيرا من تلك المتون والشروح والحواشي في سلك المذاكرة، فثقل الحمل وطالت المسافة حين قل الزاد وهزلت الراحلة، فآل أمر الطلبة إلى أن تركوا
উম্মাহ, বরং তাদের জীবনী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের রচনাবলীতে তাদের কথা থেকে যা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় তা হলো তারা গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রসমূহের মূল পাঠসমূহ (মতন) গ্রহণ করেছেন, যা তার প্রসিদ্ধ মাসআলাসমূহ। 'কাশশাফ'-এ বলা হয়েছে: জেনে রাখুন যে, প্রতিটি বিদ্যার মূল পাঠে আলেমদের স্তরসমূহ একে অপরের কাছাকাছি। যদি এক আলেম অন্য আলেমের অগ্রবর্তী হন, তবে তিনি কেবল সামান্য পদক্ষেপে এগিয়ে থাকেন। আর যাতে স্তরের ভিন্নতা ঘটে এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও পার্থক্যের আধিক্য বৃদ্ধি পায়—এমনকি একজনকে হাজারের সমান গণ্য করা হয়—তা হলো জ্ঞানসমূহের নিহিত রহস্যের গভীরতা এবং সূক্ষ্ম তথ্যের সৌন্দর্য। সংক্ষেপে সমাপ্ত।
অতঃপর তাদের বক্ষগহ্বরে প্রতিটি শাস্ত্র থেকে একটি করে স্রোতধারা প্রবাহিত হলো, ফলে সেই স্রোতধারাগুলোর মিলনস্থল একটি সমুদ্রে পরিণত হলো। এবং তারা শাস্ত্রসমূহে বিভিন্ন নতুন তথ্য ও উপকারিতা যোগ করতে থাকেন, ফলে তারা সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) রচনা করেন এবং সেখানে সেই উপকারিতাগুলো অন্তর্ভুক্ত করেন; তারা দীর্ঘ মূল পাঠ (মতন) তৈরি করেন এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর জন্য সূক্ষ্ম টীকা (হাশিয়া) প্রণয়ন করেন। এমনকি কিছু মূল পাঠের ক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপরও টীকা তৈরি হলো। আর তাদের অনুসারীরা এই মূল পাঠ, ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং টীকাসমূহকে পর্যালোচনার ধারায় বিন্যস্ত করলেন। ফলে বোঝার ভার ভারী হয়ে গেল এবং পথ দীর্ঘ হয়ে গেল, এমন এক সময়ে যখন পাথেয় কমে গেছে এবং সওয়ারি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিশেষে শিক্ষার্থীদের অবস্থা এই দাঁড়াল যে, তারা ত্যাগ করল...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮১)
بعض الفنون المعتبرة رأسا ومن بعضها ثلثا أو نصفا، والباقي يريدون تناوله أولاً مع الشروح والحواشي، فلا [ت] فرغ أذهانهم من تخيل المباحث المتشعبة والاحتمالات المشتتة والأقوال المضطربة لفهم المسائل المشهورة، وجمعها في الخزانة، وهذا خلاف ما عليه السلف قال في ""تعليم المتعلم": كان المشايخ يحتارون للمبتدئ صغارات المبسوطة لأنه أقرب إلى الفهم والضبط وأبعد من الملالة وأكثر وقوعا بين الناس، انتهى.
ولا يفهمون كثيرا من الحواشي فتذهب فطنتهم لما في "تعليم المتعلم": ينبغي أن يجتهد المتعلم في الفهم فإذا تهاون ولم يفهم مرة أو مرتين يعتاد ذلك فلا يفهم الكلام اليسير، وفيه أيضا: لا يكتب المتعلم شيئا لا يفهمه فإنه يفهم الكلام اليسير، وفيه أيضا: لا يكتب المتعلم شيئا لا يفهمه فإنه يورث كلالة الطبع ويذهب الفطنة.
أقول: فما ظنك باستماعه لما لا يفهم؟ ! نعم ينبغي الاشتغال بحاشية
কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান-শাখা সম্পূর্ণ রূপে, আবার কোনোটি এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধাংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। অবশিষ্টরা চায় শুরুতেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা-টিপ্পনীসহ সেগুলো অধ্যয়ন করতে। ফলে সুপ্রসিদ্ধ মাসআলাগুলো অনুধাবন করতে এবং তা স্মৃতিভাণ্ডারে জমা করতে গিয়ে তাদের মস্তিষ্ক নানামুখী আলোচনা, বিক্ষিপ্ত সম্ভাবনা এবং বিশৃঙ্খল মতামত কল্পনা করা থেকে অবসর পায় না। এটি সালাফগণের (পূর্বসূরিদের) রীতির পরিপন্থী। 'তালীমুল মুতাআল্লিম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "শায়খগণ (শিক্ষকগণ) নবাগত শিক্ষার্থীর জন্য বিশদ কিতাবসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপগুলো নির্বাচন করতেন; কারণ তা উপলব্ধি ও আয়ত্ত করার জন্য অধিক সহজতর, একঘেয়েমি থেকে দূরে এবং মানুষের মাঝে অধিক প্রচলিত।" সমাপ্ত।
আর তারা অধিকাংশ টীকা বুঝতে সক্ষম হয় না, ফলে তাদের মেধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমনটি 'তালীমুল মুতাআল্লিম' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "শিক্ষার্থীর উচিত বোঝার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। যদি সে অবহেলা করে এবং একবার বা দুইবার না বুঝে চলে যায়, তবে সে এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে সহজ কথাগুলোও বুঝতে পারে না।" তাতে আরও বর্ণিত হয়েছে: "শিক্ষার্থী যেন এমন কিছু না লেখে যা সে বোঝে না; কারণ এটি স্বভাবজাত জড়তা তৈরি করে এবং বুদ্ধিমত্তা বিলুপ্ত করে দেয়।"
আমি বলি: তবে যে বিষয় সে বুঝতে অক্ষম, তা শ্রবণ করার ব্যাপারে আপনার ধারণা কী হতে পারে?! হ্যাঁ, টীকা (হাশিয়া) নিয়ে নিমগ্ন হওয়া তখনই সংগত যখন...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮২)
بعض الفنون بعد فهم أصول مسائله وإحاطتها، ويغلط بعض الطلبة في ترتيب الفنون والقدر اللائق من السعي لكل فن، فيشرع في بعض الفنون قبل تحصيل ما يتوقف فهمه عليه. وقد لا يهتم لفهم فن [ت] شتد الحاجة إليه، ويطيل البحث فيما لا يكثر الاحتياج إليه، وأمثال هذه التدبيرات الردية مدار تنزلهم وعدم وصولهم إلى مقاصدهم، فأردت أن أنبئكم معاشر الطلبة بخير من ذلك، وأدلكم على تجارة تنجيكم عما يرديكم بإنشاء رسالة تتضمن: مقدمة ومقصدين وتذييلاً وخاتمة.
المقدمة: في تعداد الفنون النافعة وتقسيمها إلى شرعي وغير شرعي، وتقسيم أحكام الاشتغال بالفنون.
- المقصد الأول في التعريفات الفنون النافعة وبيان التدبيرات الردية.
- المقصد الثاني في بيان الترتيب اللائق للمبتدئ في الاشتغال بتلك الفنون وبيان مراتب العلوم.
কিছু বিদ্যা তার মূলনীতিসমূহ অনুধাবন ও তা আয়ত্ত করার পর অর্জিত হয়। তবে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিদ্যা অর্জনের ক্রমধারা এবং প্রতিটি বিদ্যার পেছনে ব্যয়ের উপযুক্ত শ্রমের পরিমাণ নির্ধারণে ভুল করে বসে। ফলে তারা এমন কিছু বিদ্যা শুরু করে দেয়, যা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় পূর্বশর্তসমূহ তারা আগে অর্জন করেনি। অনেক সময় তারা এমন বিদ্যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না যার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি, অথচ এমন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণা চালিয়ে যায় যার প্রয়োজন সামান্যই। এ জাতীয় ত্রুটিপূর্ণ কর্মপন্থাই তাদের অবনতির কেন্দ্রবিন্দু এবং নিজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারার মূল কারণ। তাই হে শিক্ষার্থী সমাজ! আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম বিষয়ের সংবাদ দিতে চাই এবং তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দিতে চাই যা তোমাদেরকে ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে রক্ষা করবে। আর তা হলো এমন একটি রিসালা (পুস্তিকা) প্রণয়ন করা যা একটি ভূমিকা, দুটি মূল অধ্যায়, একটি সংযোজনী এবং একটি উপসংহার ধারণ করবে।
ভূমিকা: উপকারী বিদ্যাসমূহের সংখ্যা গণনা এবং সেগুলোকে শরয়ি ও অ-শরয়ি ভাগে বিভক্তিকরণ এবং বিদ্যাচর্চায় লিপ্ত হওয়ার বিধানসমূহের শ্রেণিবিভাগ প্রসঙ্গে।
- প্রথম অধ্যায়: উপকারী বিদ্যাসমূহের সংজ্ঞা এবং ভ্রান্ত কর্মপন্থাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: সেই বিদ্যাগুলোতে আত্মনিয়োগ করার ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ ক্রমবিন্যাস এবং জ্ঞানসমূহের স্তরের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
والتذييل في مدح القرآن. والخاتمة فيما يتعلق بالفلسفة.
وسميتها "ترتيب العلوم" إن أريد إلا الإصلاح ما استطعت وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
এবং পরিশিষ্টটি কুরআনের প্রশংসায় এবং উপসংহারটি দর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে।
আমি এর নামকরণ করেছি "তারতীবুল উলূম" (জ্ঞানের বিন্যাস); আমি কেবল আমার সাধ্যমতো সংশোধনই করতে চাই, আর আমার তাওফীক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
"
المقدمة"
أما المقدمة ففيها [فصول]
الفصل "الأول": (في تعداد الفنون النافعة نفعا يعتد به)منها بعض العلوم العربية: وهو علم اللغة والتصريف والاشتقاق والخط العربي والنحو والعروض والقافية والبلاغة والمحاضرات.
ومنها بعض العلوم العقلية: وهو علم الميزان والمناظرة ومبادئ علم الكلام والرياضيات- أعني الهندسة والحساب والهيئة- ومنها العلوم المأخوذة من الكتاب والسنة: وهي علم العقائد والأخلاق والموعظة وعلم الفقه وأصوله.
ومنها العلم اللدني. ومنها [علوم] القرآن: وهي علم نظمه وتجويده ووقفه وابتدائه ومرسوم مصاحفه وقراءته وتفسيره.
ভূমিকাভূমিকা প্রসঙ্গে, এতে রয়েছে [কয়েকটি পরিচ্ছেদ]
প্রথম পরিচ্ছেদ: (উল্লেখযোগ্যভাবে উপকারী জ্ঞান-শাখাগুলোর বর্ণনায়)তন্মধ্যে আরবী ভাষাবিষয়ক কিছু জ্ঞান রয়েছে: আর তা হলো ভাষাতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, ব্যুৎপত্তিবিদ্যা, আরবী ক্যালিগ্রাফি, ব্যাকরণ, ছন্দবিজ্ঞান, অন্ত্যমিলবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাহিত্য-আলোচনা।
তন্মধ্যে কিছু যুক্তিনির্ভর জ্ঞান রয়েছে: আর তা হলো যুক্তিবিদ্যা, বিতর্কবিদ্যা, ইলমুল কালামের মূলনীতিসমূহ এবং গণিতশাস্ত্র—অর্থাৎ জ্যামিতি, পাটিগণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান— এবং তন্মধ্যে রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত জ্ঞানসমূহ: আর সেগুলো হলো আকীদা, চরিত্র, উপদেশ, ফিকহ এবং উসূলে ফিকহ।
তন্মধ্যে রয়েছে ইলমে লাদুন্নি। এবং তন্মধ্যে রয়েছে কুরআন সংক্রান্ত [জ্ঞানসমূহ]: আর সেগুলো হলো কুরআনের বিন্যাস পদ্ধতি, তাজবীদ, ওয়াকফ ও ইবতিদা, মাসহাফসমূহের লিখনরীতি, কিরাত এবং তাফসীর বিষয়ক জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
ومنها علوم الحديث: وهي علم متنع ومعانيه وأحواله من القوة والضعف بحسب اختلاف نقلته ويسمى علم أحواله: "علم أصول الحديث".
ومنها علم التشريح وعلم الطب وعلم الفراسة وعلم تعبير الرؤيا وعلم اللغة الفارسية وكيفية تراكيبها.
فتم تعداد الفنون النافعة، إذ ما عدا المذكورات، إما مضر كالفلسفة والسحر وعلم أحكام النجوم، أولا ينفع علمه نفعا يعتد به ولا يضر جهله كما ذكر في الإحياء أن النبي صلى الله عليه وسلم مر برجل والناس مجتمعون عليه فقال عليه السلام: "ماهذا؟ " فقالوا: رجل علامة، فقال عليه السلام: "بماذا؟ " قالوا: بالشعر وأنساب العرب، فقال عليه السلام: "علم لا ينفع وجهل لا يضر"
الفصل "الثاني": (في فوائد العلوم المذكورة)اعلم أن لكل من المذكورات فائدة ولتلك الفائدة فائدة أخرى إلى أن ينتهي إلى الفوز بسعادة الدارين. كما قال في "شرح المواقف": غاية
এবং এগুলোর মধ্যে হাদীস শাস্ত্র রয়েছে: আর এটি হলো হাদীসের মতন (মূল পাঠ), তার অর্থসমূহ এবং তার বর্ণনাকারীদের বিভিন্নতার প্রেক্ষিতে তার সবলতা ও দুর্বলতার অবস্থাসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান। এর অবস্থাসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞানকে "ইলমে উসূলে হাদীস" বলা হয়।
এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীরতত্ত্ব বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ফিজিওগনোমি (মানুষের অবয়ব দেখে স্বভাব নির্ণয় বিদ্যা), স্বপ্ন ব্যাখ্যা বিদ্যা এবং ফারসি ভাষা ও তার বাক্য গঠন পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞান।
উপকারী শাস্ত্রসমূহের গণনা সমাপ্ত হলো, কেননা উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য বিষয়গুলো হয় ক্ষতিকর যেমন দর্শন, যাদু ও জ্যোতিষশাস্ত্র, অথবা এমন যে তার জ্ঞান উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারে আসে না এবং তার অজ্ঞতা কোনো ক্ষতি করে না। যেমনটি ‘ইহইয়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার চারপাশে মানুষ সমবেত ছিল। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কী?" তারা বলল: একজন বড় পণ্ডিত ব্যক্তি। তিনি (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করলেন: "কোন বিষয়ে?" তারা বলল: কবিতা ও আরবদের বংশলতিকা বিষয়ে। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) বললেন: "এমন জ্ঞান যা কোনো উপকারে আসে না এবং এমন অজ্ঞতা যা কোনো ক্ষতি করে না।"
"দ্বিতীয়" পরিচ্ছেদ: (উল্লেখিত বিজ্ঞানসমূহের উপকারিতা প্রসঙ্গে)জেনে রাখুন যে, উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয়ের একটি করে উপকারিতা রয়েছে এবং সেই উপকারিতার জন্য রয়েছে অন্য একটি উপকারিতা, যা পরিশেষে উভয় জগতের সৌভাগ্য অর্জনের দিকে নিয়ে যায়। যেমনটি ‘শারহুল মাওয়াকিফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: চরম লক্ষ্য...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
فوائد [علم] الكلام هي الفوز بسعادة الدارين فهي منتهي الأغراض وغاية الغايات.
أقول لكن العلوم الشرعية أقرب إلى ذلك الفوز من العلوم الآلية.
واعلم أن كل منفعة تترتب على فعل تسمى فائدة من حيث ترتبها عليه، وغاية من حيث أنها على طرف الفعل ونهايته، وغرضا من حيث أن الفاعل فعل ذلك الفعل لأجل حصوله، وكتبت كلاماً طويلاً متعلقا بالفائدة لكن [ي] تركته عند التبييض خوفا من الإملال.
الفصل "الثالث": (في تقسيم العلم إلى شرعي وغير شرعي)ويطلق على العلم الشرعي العلك الديني لاتحاد الدين والشريعة بالذات.
اعلم أن العلم الشرعي يجيء على ثلاثة معان:
الأول: ما ذكر في "الأحياء" أن العلوم تنقسم إلى شرعية وغير شرعية- أعني بالشرعية ما يستفاد من الأنبياء صلوات الله عليهم- ولا يرشد إليه العقل مثل الحساب ولا التجربة مثل الطب ولا السماع من غير الأنبياء مثل [اللغة]، انتهى.
কালাম শাস্ত্রের উপকারিতা হলো ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভ করা; সুতরাং এটিই সকল উদ্দেশ্যের সমাপ্তি এবং লক্ষ্যসমূহের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
আমি বলছি, তবে উপকরণমূলক শাস্ত্রের তুলনায় শরয়ি শাস্ত্রসমূহ সেই সাফল্য লাভের অধিক নিকটবর্তী।
জেনে রাখুন যে, কোনো কর্মের ফলস্বরূপ যে উপকার অর্জিত হয়, তাকে উপকারিতা (ফায়েদাহ) বলা হয় সেই কর্মের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দিক থেকে; তাকে গন্তব্য (গায়াত) বলা হয় কর্মের শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ার দিক থেকে; এবং তাকে উদ্দেশ্য (গারাদ) বলা হয় এই দিক থেকে যে, কর্তা সেই ফল লাভের জন্যই কর্মটি সম্পাদন করেছেন। উপকারিতা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি দীর্ঘ আলোচনা লিখেছিলাম, কিন্তু বিরক্তি সৃষ্টির ভয়ে পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার সময় তা বাদ দিয়েছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (ইলম বা জ্ঞানকে শরয়ি ও অ-শরয়ি ভাগে বিভক্ত করা প্রসঙ্গে)শরয়ি ইলমকে দ্বীনি ইলমও বলা হয়, কারণ সত্তাগতভাবে দ্বীন ও শরিয়ত অভিন্ন।
জেনে রাখুন যে, শরয়ি ইলম তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমত: 'ইহইয়া' গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্ঞানসমূহ শরয়ি ও অ-শরয়ি—এই দুই ভাগে বিভক্ত। শরয়ি জ্ঞান বলতে আমি তা-ই বোঝাচ্ছি যা নবীগণের (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) নিকট থেকে লাভ করা যায়—যা অর্জনে বিবেক পথ দেখায় না যেমন গণিত শাস্ত্র, অভিজ্ঞতা পথ দেখায় না যেমন চিকিৎসা শাস্ত্র এবং নবীগণ ব্যতীত অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করে অর্জিত হয় না যেমন [ভাষা], সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
أفاد أن ما نطق به النبي إن كان شيئا من هذه الثلاثة لا يعد علماً شرعيا وبالجملة إن العلم الشرعي [على ما ذكره] ما لا يعلم إلا من الشارع.
- والمعني الثاني: ما يستفاد من الشارع أو يستمد منه المستفاد من الشارع مختصا به، أي لا يستمد منه غير المستفاد من الشارع. وهذا المعنى أشار إليه خسروا في "حاشية تفسير البيضاوي"، وهذا المعنى أعم من الأول لأنه لم يقيد بقوله ولا يرشد [إلى أخره]، وزيد فيه ما يستمد منه إذ يدخل فيه علم أصول الفقه ولا يدخل في المعنى الأول، وأما العربية فلا تدخل في شيء من هذين المعنيين إذ لا يختص مدارها بالعلوم الشرعية.
- والمعنى الثالث: [ما] قاله ابن الحجر في "شرح الأربعين": وجب كون المنطق علماً شرعيا، إذ هو ما صدر من الشارع أو توقف عليه الصادر من الشارع توقف وجود كعلم الكلام أو توقف كمال كعلم النحو والمنطق، انتهى. فلم يعتبر الاختصاص المعتبر سابقا في المعنى الثاني، فيدخل في هذا المعنى جميع العلوم الآلية وإنما لا يدخل مثل الطب والتشريح.
ومعنى توقف الوجود ما ذكره شارح المواقف: لولا ثبوت الصانع [بصفاته] لم يتصور علم التفسير والحديث ولا علم الفقه وأصوله، انتهى.
يشعر كلام ابن الحجر أن علم الكلام غير صادر عن الشارع مع أن
তিনি ব্যক্ত করেছেন যে, নবী যা কিছু বলেছেন তা যদি এই তিনটির কোনো একটি হয়, তবে তা শরয়ি জ্ঞান হিসেবে গণ্য হবে না। সারকথা হলো, শরয়ি জ্ঞান [তার বক্তব্য অনুযায়ী] তা-ই যা কেবল শারয়ি বিধানদাতার মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
- দ্বিতীয় অর্থ: যা শারয়ি বিধানদাতার নিকট থেকে আহরিত হয় অথবা যার ভিত্তি এমন বিষয়ের ওপর যা শারয়ি বিধানদাতার সাথেই বিশিষ্ট। অর্থাৎ, শারয়ি বিধানদাতার নিকট থেকে আহরিত বিষয় ব্যতিরেকে অন্য কিছু থেকে এর ভিত্তি গ্রহণ করা হয় না। খোসরু ‘তাফসিরে বায়যাভি’-র পাদটীকায় এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এই অর্থটি প্রথমটির তুলনায় অধিক ব্যাপক; কেননা তিনি একে ‘আর কোনো পথনির্দেশ দেয় না’ [ইত্যাদি] কথা দ্বারা সীমাবদ্ধ করেননি। এতে ‘যা থেকে ভিত্তি নেওয়া হয়’ কথাটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, ফলে এর মধ্যে উসুলে ফিকহ অন্তর্ভুক্ত হয়, যা প্রথম অর্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পক্ষান্তরে আরবি ভাষা এই উভয় অর্থের কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়, কেননা এর চর্চাক্ষেত্র কেবল শরয়ি জ্ঞানসমূহের সাথে বিশিষ্ট নয়।
- তৃতীয় অর্থ: ইবনে হাজার ‘শারহুল আরবাঈন’-এ [যা] বলেছেন: যুক্তিবিদ্যা শরয়ি জ্ঞান হওয়া আবশ্যক, কারণ এটি এমন বিষয় যা হয় শারয়ি বিধানদাতা থেকে উৎসারিত, অথবা শারয়ি বিধানদাতা থেকে উৎসারিত বিষয়াবলি এর ওপর নির্ভরশীল—চাই তা অস্তিত্বগত নির্ভরতা হোক যেমন ইলমুল কালাম, অথবা পূর্ণতাগত নির্ভরতা হোক যেমন ব্যাকরণ শাস্ত্র (নাহু) ও যুক্তিবিদ্যা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এখানে তিনি দ্বিতীয় অর্থে বিবেচিত সেই বিশিষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেননি, ফলে সকল সহায়ক জ্ঞান এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বের ন্যায় বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।
আর অস্তিত্বগত নির্ভরতার অর্থ হলো যা শারহুল মাওয়াকিফের লেখক উল্লেখ করেছেন: যদি [স্বীয় গুণাবলি সহকারে] স্রষ্টার অস্তিত্ব সাব্যস্ত না হতো, তবে তাফসির ও হাদিস শাস্ত্র এবং ফিকহ ও উসুলে ফিকহ কল্পনা করাও সম্ভব হতো না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
ইবনে হাজারের কথা থেকে আভাস পাওয়া যায় যে, ইলমুল কালাম শারয়ি বিধানদাতার পক্ষ থেকে উৎসারিত নয়, যদিও...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
المسائل الاعتقادية كلها مما صرح به الشارع أو أشار إليه، لكن بعضها يستقل فيه العقل وهو ثبوت الصانع بصفاته بالنظر إلى المصنوعات، وثبوت نبوة النبي بالنظر إلى المعجزة، فمراده من علم الكلام هو هذا الباب فقط، ولما أرشد إليه العقل لا يعد مستفاداً من الشارع وإن نطق به الشارع كما عرفت في المعنى الأول.
الفصل "الرابع": (اشتراك أسماء العلوم بين المعاني الثلاثة)اعلم أن أسماء العلوم كالنحو والصرف والمعاني والفقه وغيرها مشتركة بين المعاني الثلاثة، وهي المسائل وإدراكاتها والملكة الحاصلة من تكرر تلك الإدراكات. وتلك الملكة هي القدرة على استحضار كل مسألة كلية من مسائل العلوم متى يرد عليك جزئي من حزئيات موضوع تلك المسألة. وفائدة ذلك الاستحضار استنباط حال ذلك الجزئي من ذلك الكلي، فإن يرد عليه زيد في "ضرب زيد"، فتستحضر كل فاعل مرفوع فتفكر في نفسك أن زيداً هنا فاعل وكل فاعل مرفوع فتعرف أن زيدا مرفوع وتسمى هذه الملكة ملكة الاستحضار، ثم إنه بتكرر تلك الاستنباطات تحصل ملكة الاستنباط، وهي القدرة على استنباط أحكام الجزئيات من المسائل الكلية كما عرفت مثاله.
والملكة الثانية هي ملكة المطالعة، فلابد لحصول ملكة المطالعة من معرفة القواعد الكلية ثم من تكرر معرفتها، - أعني تكرر تذكرها-، ثم
সমস্ত আকিদাগত বিষয়গুলো এমন যা শারিয়াত প্রণেতা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন অথবা সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে এর মধ্যে কিছু বিষয় এমন যাতে বুদ্ধি স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে; আর তা হলো সৃষ্টির নিরিখে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং মুজিজার নিরিখে নবীর নবুওয়াত সাব্যস্ত করা। সুতরাং ইলমুল কালাম দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কেবল এই অধ্যায়টিই। আর যেহেতু বুদ্ধি এগুলোর দিকে পথনির্দেশ করে, তাই এগুলোকে শারিয়াত প্রণেতার নিকট থেকে সংগৃহীত হিসেবে গণ্য করা হয় না, যদিও শারিয়াত প্রণেতা এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন, যেমনটি আপনি প্রথম অর্থের আলোচনায় জেনেছেন।
"চতুর্থ" পরিচ্ছেদ: (তিনটি অর্থের মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যার নামের অংশীদারিত্ব)জেনে রাখুন যে, বিভিন্ন বিদ্যার নাম—যেমন নাহু, সরফ, মাআনি, ফিকহ এবং অন্যান্য—তিনটি অর্থের মধ্যে সাধারণ বা অংশীদার। সেগুলো হলো: মাসআলাসমূহ, সেগুলোর উপলব্ধি এবং সেই উপলব্ধিগুলোর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে অর্জিত যোগ্যতা। আর সেই যোগ্যতা হলো বিজ্ঞানের মাসআলাগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি সামগ্রিক মাসআলাকে উপস্থিত করার ক্ষমতা, যখনই আপনার সামনে সেই মাসআলার বিষয়ের কোনো বিশেষ উদাহরণ উপস্থাপিত হয়। আর এই উপস্থিতকরণের উপকারিতা হলো সেই সামগ্রিক নীতি থেকে সেই বিশেষ উদাহরণটির অবস্থা নিরূপণ করা। যেমন যদি "দারাবা যাইদুন" (যাইদ প্রহার করেছে) বাক্যে "যাইদ" শব্দটি আপনার সামনে আসে, তবে আপনি এই সামগ্রিক মাসআলাটি উপস্থিত করবেন যে "প্রত্যেক ফায়েল মারফু হয়"। তখন আপনি মনে মনে চিন্তা করবেন যে যাইদ এখানে ফায়েল, আর প্রত্যেক ফায়েলই মারফু; ফলে আপনি জানতে পারবেন যে যাইদ শব্দটি মারফু। এই যোগ্যতাকে বলা হয় 'উপস্থিতকরণের যোগ্যতা'। অতঃপর এই নিরূপণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে 'নিরূপণের যোগ্যতা' অর্জিত হয়, যা হলো সামগ্রিক মাসআলাগুলো থেকে বিশেষ উদাহরণগুলোর বিধান নিরূপণ করার ক্ষমতা, যেমনটি আপনি এর উদাহরণে জানলেন।
আর দ্বিতীয় যোগ্যতাটি হলো 'অধ্যয়নের যোগ্যতা'। সুতরাং অধ্যয়নের যোগ্যতা অর্জনের জন্য সামগ্রিক নিয়মাবলি জানা আবশ্যক এবং অতঃপর সেই জ্ঞানের পুনরাবৃত্তি করা প্রয়োজন—অর্থাৎ সেগুলোকে বারবার স্মরণ করা—অতঃপর
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
من استنباط أحكام بعض جزئيات موضوعاتها منها، ثم من تكرر تلك الاستنباطات. وتختلف مراتب الأشخاص في تلك الملكة.
وعلم إن إضافة لفظ العلم إلى النحو والصرف والفقه وغيرها من أسماء العلوم من قبيل شجر الأراك. وأسماء العلوم هي المضافات إليها.
الفصل "الخامس": (في أحكام العلوم)وهي على ما ذكره ابن نجيم في "الأشباه": فرض عين وفرض كفاية ومندوب وحرام ومكروه ومباح. أقول: مدار هذا التقسيم انقسام المعلوم كذلك، إذ قيل أن العلم تابع للمعلوم، وهنا نظر لأن من المعلوم ما يكون واجبا فعلمه واجب. قال في "تعليم المتعلم": إن ما يتوسل به إلى إقامة الواجب يكون واجباً، انتهى.
أقول فأهم العلوم ما هو فرض عين على المكلف قبل كل شيء. وهو علم التوحيد والصفات، ثم ما فرض عليه عيناً بعد ذلك في كل وقت
এর বিষয়বস্তুর কতিপয় খুঁটিনাটি বিষয়ের বিধানসমূহ তা থেকে উদঘাটনের মাধ্যমে এবং অতঃপর সেই উদঘাটন প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে (এই যোগ্যতা অর্জিত হয়)। আর এই যোগ্যতার (মালাকাহ) ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের স্তরে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
আর জেনে রাখুন যে, ইলম (বিজ্ঞান) শব্দটিকে নাহু, সরফ, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রীয় নামের সাথে যুক্ত করা 'আরাক গাছ' (সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য) সদৃশ। আর শাস্ত্রীয় নামসমূহ হলো সেই শব্দ যার দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়: (বিজ্ঞানের বিধানসমূহ প্রসঙ্গে)ইবনে নুজাইম 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী এগুলো হলো: ফরযে আইন, ফরযে কিফায়া, মানদুব, হারাম, মাকরূহ এবং মুবাহ। আমি বলি: এই বিভাজনের আবর্তন হলো জ্ঞাত বিষয়ের (মালুম) অনুরূপ বিভাজনের ওপর; যেহেতু বলা হয়েছে যে, জ্ঞান (ইলম) জ্ঞাত বিষয়ের (মালুম) অনুগামী। তবে এখানে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ জ্ঞাত বিষয়সমূহের মধ্যে যা ওয়াজিব, তার জ্ঞান অর্জন করাও ওয়াজিব। 'তালীমুল মুতাআল্লিম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ওয়াজিব কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তাও ওয়াজিব। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বলি, শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তা, যা প্রতিটি বিষয়ের পূর্বে মুকাল্লাফের ওপর ফরযে আইন। আর তা হলো তাওহীদ ও সিফাতের (গুণাবলির) জ্ঞান, অতঃপর ঐ সকল বিষয় যা সময়ের ব্যবধানে তার ওপর ফরযে আইন হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
كمعرفة فرائض الأخلاق ومحرماتها، ثم ما فرض عليه عيناً في بعض الأوقات كعلم الصلاة والصوم وعند بلوغ المرء إلى وقت افتراضها ثم ما فرض عليه على الكفاية عند عدم وجود القائم به، ثم مستحبات العلوم، ومن مستحبات العلوم تحصيل فروض الكفاية عند وجود القائم بها.
وستعرف تفصيل ذلك إن شاء الله سبحانه فيفترض هذا الترتيب في تحصيل العلوم، ومن أخطأ الترتيب فقد ظلم إنه لا يفلح الظالمون.
الفصل "السادس": (حكم العلم كحكم المعلوم)[اعلم] أن حكم العلم كحكم المعلوم فإن كان المعلوم فرضا أو واجبا أو سنة فعلمه كذلك إذا توقف المعلوم على ذلك العلم، وإنما قيدنا به لأنه إذا لم يتوقف [عليه] لا يكون حكم العلم حكم المعلوم، فإن تجويد القرآن قدر ما يخلص عن اللحن الجلي فرض عين، لكن العلم المدون المسمى بعلم التجويد ليس بفرض كفاية كما صرح به على
যেমন চরিত্রের ফরজসমূহ ও হারামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, এরপর কিছু নির্দিষ্ট সময়ে যা তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (ফরজে আইন), যেমন সালাত ও সওমের জ্ঞান—যখন ব্যক্তি সেগুলোর আবশ্যকতা বা ফরজিয়াতের সময়ে উপনীত হয়। এরপর যা তার ওপর সামষ্টিক ফরজ (ফরজে কিফায়া) হিসেবে গণ্য হয় যখন তা পালনকারী কেউ বিদ্যমান থাকে না। এরপর মুস্তাহাব জ্ঞানসমূহ; আর মুস্তাহাব জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো সামষ্টিক ফরজসমূহ অর্জন করা যখন তা পালনকারী অন্য লোক বিদ্যমান থাকে।
আল্লাহ সুবহানুহু ওয়া তায়ালা চাইলে আপনি এর বিস্তারিত বিবরণ জানতে পারবেন। সুতরাং জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে এই ক্রমধারা রক্ষা করা আবশ্যক; আর যে ব্যক্তি এই ক্রমধারা লঙ্ঘনে ভুল করল সে জুলুম করল, নিশ্চয়ই জালিমরা সফলকাম হয় না।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: (জ্ঞানের বিধান হলো জ্ঞাত বিষয়ের বিধানের অনুরূপ)[জেনে রাখুন] নিশ্চয়ই ইলম বা জ্ঞানের বিধান হলো সেই বিষয়ের (মালুম) বিধানের মতো। সুতরাং যদি বিষয়টি ফরজ, ওয়াজিব কিংবা সুন্নাত হয়, তবে তার ইলম অর্জন করাও অনুরূপ হবে—যদি বিষয়টি সেই ইলম অর্জনের ওপর নির্ভরশীল হয়। আমরা এই শর্তটি যুক্ত করেছি কারণ যদি বিষয়টি সেই ইলমের ওপর নির্ভরশীল না হয়, তবে ইলমের বিধান জ্ঞাত বিষয়ের বিধানের মতো হবে না। উদাহরণস্বরূপ, কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্তত এতটুকু তাজবিদ শেখা যার মাধ্যমে প্রকাশ্য ভুল (লাহনে জলি) থেকে বেঁচে থাকা যায়, তা ফরজে আইন। কিন্তু ‘তাজবিদ শাস্ত্র’ নামে পরিচিত সংকলিত জ্ঞানটি অর্জন করা ফরজে কিফায়াও নয়, যেমনটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
القاري، وسبب ذلك أن تجويد القرآن لا يتوقف على معرفة ذلك الفن بل يمكن تحصيله بمشافهة الشيخ المجود.
وإن كان المعلوم حراما قطعيا أو مكروها تحريميا أو تنزيهياً، فعلمه كذلك إن لم يكن المرء ولا غيره مظنة وقوعه في ذلك المعلوم، ولذا قال في "المدارك" عند قوله تعالى: {وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ} في الآية دليل على أن تعلم السحر واجب الاجتناب كتعلم الفلسفة التي تجر إلى الغواية، انتهى.
الفصل "السابع": (إذا كان مظنة الوقوع في الحرام أو المكروه)وإن كان المرء مظنة الوقوع في الحرام القطعي أو المكروه التحريمي أو التنزيهي، فيفرض عليه معرفة طريق التجنب عن الأول، ويجب عليه معرفة طريق التجنب عن الثاني، ويستحب معرفة طريق التجنب عن الثالث، لأن التجنب عن الأول فرض وعن الثاني واجب وعن الثالث مستحب، ولما وقف معرفة طريق التجنب عن شيء على معرفة ذات ذلك الشيء، لما قال في "تعليم المتعلم"- في بيان محرمات الأخلاق- ولا يمكن التحرز عنها إلا بعلمها وعلم ما يضادها، فيفترض على كل إنسان علمها، انتهى.
يفترض عليه معرفة الأول أي الحرام القطعي، ويجب معرفة الثاني،
পাঠক, আর এর কারণ হলো কুরআনের তাজবিদ সেই বিদ্যার জ্ঞানের উপর নির্ভর করে না, বরং একজন দক্ষ শাইখের সাথে সরাসরি মৌখিক অনুশীলনের মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব।
আর যদি জানা বিষয়টি অকাট্য হারাম কিংবা মাকরূহে তাহরিমি অথবা মাকরূহে তানজিহি হয়, তবে সেটির জ্ঞানও তদ্রূপ হবে, যদি ব্যক্তি নিজে কিংবা অন্য কেউ সেই বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। এ কারণেই 'মাদারিক' গ্রন্থে আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তা শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না}-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, আয়াতে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে জাদুর শিক্ষা অর্জন করা বর্জন করা ওয়াজিব, যেমন দর্শনের শিক্ষা যা ভ্রষ্টতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। সমাপ্ত।
"সপ্তম" অধ্যায়: (যদি হারাম বা মাকরূহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে)আর যদি ব্যক্তির অকাট্য হারাম, মাকরূহে তাহরিমি বা মাকরূহে তানজিহিতে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে প্রথমটি থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানা তার ওপর ফরজ, দ্বিতীয়টি থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানা ওয়াজিব এবং তৃতীয়টি থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানা মুস্তাহাব। কারণ প্রথমটি থেকে বেঁচে থাকা ফরজ, দ্বিতীয়টি থেকে ওয়াজিব এবং তৃতীয়টি থেকে মুস্তাহাব। আর যেহেতু কোনো বিষয় থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানা সেই বিষয়টি জানার ওপর নির্ভরশীল, তাই যেমনটি 'তালীমুল মুতাআল্লিম' গ্রন্থে—চরিত্রের হারাম বিষয়াবলির বর্ণনায়—বলা হয়েছে যে: সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় সেই বিষয়গুলো এবং সেগুলোর বিপরীত বিষয়গুলো জানা ছাড়া; তাই প্রত্যেক মানুষের ওপর এগুলোর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। সমাপ্ত।
প্রথমটি অর্থাৎ অকাট্য হারামের জ্ঞান অর্জন করা তার ওপর ফরজ এবং দ্বিতীয়টির জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব,
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
ويستحب معرفة الثالث. كأن وقع المرء بين السحرة والفلاسفة وخاف أن يفعل السحر أو يعتقد الفلسفة، فإنه يفترض عليه (ح) معرفة السحر والفلسفة لتجنب عنهما.
وهكذا إذا باشر التجارة فإنه مظنة الوقوع في الربا فيفترض عليه معرفة طريقة التجنب عن الربا وهي تتوقف على معرفة نفس الربا. وكذا كل من باشرا أمراً يخاف أن يقع في محرماته أو مكروهاته. وكذا من له عضو سليم يفترض عليه ويجب معرفة محرمات ومكروهات [يخاف] أن يفعلها به فاعرف.
الفصل" الثامن": (حكم علم الحرام والمكروه إذا فشا بين الناس)وإن كان مظنة الوقوع في الحرام أو المكروه كثير من الناس، فعلم ذلك الحرام أو المكروه تحريما أو تنزيها فرض كفاية أو واجب كفاية أو مستحب كفاية على من لم يكن مظنة الوقوع فيها. وفرض عين أو واجب عين أو مستحب عين على من كان مظنة الوقوع فيها. فإن علمه البعض في بدة فيها مظنة الوقوع سواء كان ذلك العالم مظنة الوقوع [أولا] يسقط عن
তৃতীয় প্রকারের জ্ঞান অর্জন করা মুস্তাহাব। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি জাদুকর এবং দার্শনিকদের মাঝে পড়ে যায় এবং সে জাদু করার অথবা দর্শনের আকিদা পোষণ করার ভয় করে, তবে সেসব থেকে বেঁচে থাকার জন্য জাদু এবং দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা তার ওপর (হ) ফরজ।
তদ্রূপ যখন কেউ ব্যবসায় লিপ্ত হয়, তখন তার সুদে পতিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, তাই তার ওপর সুদ থেকে বেঁচে থাকার পদ্ধতি জানা ফরজ হয়ে যায়, যা খোদ সুদ সম্পর্কে জানার ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয় যেখানে তার হারামে বা মাকরূহে পতিত হওয়ার ভয় থাকে, [তার জন্যও একই বিধান]। তেমনিভাবে যার সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে, তার ওপর সেসব হারাম ও মাকরূহ কাজ সম্পর্কে জানা ফরজ ও ওয়াজিব যা সে ঐ অঙ্গ দিয়ে করে ফেলার [ভয় করে]; সুতরাং বিষয়টি জেনে রাখো।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: (হারাম ও মাকরূহ যখন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তখন সে সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের বিধান)যদি অনেক মানুষের হারামে বা মাকরূহে—তা তাহরিমি হোক বা তানজিহি—লিপ্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, তবে যারা এসবে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় নেই, তাদের জন্য সেই হারাম বা মাকরূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়া, ওয়াজিবুল কিফায়া অথবা মুস্তাহাবে কিফায়া। আর যারা এসবে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে, তাদের জন্য তা ফরজে আইন, ওয়াজিবুল আইন অথবা মুস্তাহাবে আইন। সুতরাং যে জনপদে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে যদি কিছু লোক তা শিখে নেয়—চাই সেই আলেম নিজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকুক [বা না থাকুক]—তবে তা অন্যদের থেকে রহিত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الباقين الذين ليسوا بمظنة الوقوع، لا عن الباقين الذين هم مظنة الوقوع، فإن جهله أهل تلك البلدة جميعاً أثموا في ترك الأولين وأساءوا في ترك الثالث، مثال ذلك أنه إذا باشر التجارة كثير من أهل بلدة فمعرفة محرمات التجارة ومعرفة طريق التجنب عنها فرض عين على المتجرين وفرض كفاية على غير المتجرين فإن قام بع واحد من المتجرين أو غير المتجرين يسقط عن الباقين الغير المتجرين لا عن الباقين المتجرين، فإنه فرض عين على كل واحد منهم فاعرف.
وأما إن كان مظنة الوقوع في الحرام أو المكروه قليل من الناس نادر فعلهم ذلك الحرام أو المكروه ليس بفرض كفاية ولا واجب كفاية على أحد، بل فرض عين أو واجب عين أو مستحب عين على ذلك المظنة لما قاله قول أحمد في "حاشية الخيالي": فرض الكفاية هو القيام بما يحتاج إليه عامة
অবশিষ্টদের থেকে যাদের লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের থেকে নয় যাদের লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ঐ জনপদের অধিবাসী সকলে এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকে, তবে তারা প্রথম দুটি বর্জনের জন্য গুনাহগার হবে এবং তৃতীয়টি বর্জনের জন্য মন্দ কাজ করবে। এর উদাহরণ হলো, যদি কোনো জনপদের অনেক লোক ব্যবসায় লিপ্ত হয়, তবে ব্যবসার হারাম বিষয়সমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যবসায়ীদের জন্য ফরজে আইন এবং যারা ব্যবসায়ী নয় তাদের জন্য ফরজে কিফায়া। সুতরাং যদি ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে বা অ-ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে কেউ তা সম্পাদন করে, তবে তা অবশিষ্ট অ-ব্যবসায়ীদের থেকে রহিত হয়ে যাবে, কিন্তু অবশিষ্ট ব্যবসায়ীদের থেকে রহিত হবে না। কারণ এটি তাদের প্রত্যেকের ওপর ফরজে আইন; সুতরাং বিষয়টি জেনে নিন।
আর যদি হারাম বা মাকরূহ কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা অল্পসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে হয়, যাদের পক্ষ থেকে সেই হারাম বা মাকরূহ কাজ সংঘটিত হওয়া বিরল, তবে তা কারো ওপর ফরজে কিফায়া বা ওয়াজিবে কিফায়া নয়। বরং এটি সেই ব্যক্তির ওপর ফরজে আইন বা ওয়াজিবে আইন অথবা মুস্তাহাবে আইন যার লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; যেমনটি আহমদ "হাশিয়া আল-খায়ালী"-তে বলেছেন: "ফরজে কিফায়া হলো এমন বিষয়ের আঞ্জাম দেওয়া যার প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
الخلق من جهة المعاش والمعاد، انتهى. وكلام الغزالي في الإحياء يشعر بذلك. ولعل وجه ذلك أن في التكليف بالقيام بما يحتاج إليه قليل من الناس حرجا عظينا، ومعرفة مقدار الكثرة والقلة هنا موكول إلى عرف الناس والله أعلم.
الفصل "التاسع": (حكم من يخشى على نفسه الغواية من تعلم المحرمات)وإن كان [ما] خيف أن يقع كثير من الناس فيه من المحرمات لا يؤمن من أن يجر من يعلمه إلى الغواية مثل السحر وشبهات الفلاسفة والفرق الضالة فلا يحوز أن يقوم به إلا من يأمن من نفسه أن يفعل السحر أو يقع في شبهات الفلاسفة والفرق الضالة، كما صرح به الغزالي في جواز الاشتغال بمجادلات الفرق وسننقله في بيان علم الكلام. وشرطه السبكي في جواز الاشتغال بالفلسفة. وبالجملة أن من لا يأمن من إصابة الضرر له عند مباشرة دفع ضرر الغير لا يجب عليه مباشرة دفعه، ثم إن كان الضرر دينيا فلا تجوز تلك المباشرة.
জীবনযাত্রা এবং পরকালীন জীবনের দিক থেকে সৃষ্টি, (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। ইহয়াউ উলুমিদ-দীনে ইমাম গাজালীর বক্তব্য সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়। সম্ভবত এর কারণ এই যে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের যে বিষয়গুলোর প্রয়োজন হয়, তা পালনের দায়িত্ব অর্পণ করার মধ্যে ব্যাপক সংকীর্ণতা রয়েছে। আর এক্ষেত্রে আধিক্য এবং অল্পতার পরিমাণ নির্ধারণ করার বিষয়টি মানুষের প্রচলিত প্রথার (উরফ) উপর ন্যস্ত, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
নবম পরিচ্ছেদ: (হারাম বিষয়াদি শেখার মাধ্যমে যে ব্যক্তি নিজের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করে, তার বিধান)আর যদি এমন হারাম বিষয় হয় যা অনেক মানুষ তাতে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তা যে ব্যক্তি শিখছে তাকেও যদি তা পথভ্রষ্টতার দিকে টেনে নেওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ মনে না করা হয়—যেমন জাদু, দার্শনিকদের সংশয়সমূহ এবং পথভ্রষ্ট দলগুলোর বিভ্রান্তি—তবে এমন ব্যক্তির জন্য সেই দায়িত্ব পালন করা জায়েজ নেই, যদি না সে নিজের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় যে সে নিজে জাদু করবে না কিংবা দার্শনিক ও পথভ্রষ্ট দলগুলোর সংশয়ে নিপতিত হবে না। যেমনটি ইমাম গাজালী বিভিন্ন দলের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার বৈধতার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আমরা তা ইলমুল কালামের আলোচনায় উদ্ধৃত করব। ইমাম সুবকীও দর্শনের চর্চা জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে এটি শর্ত করেছেন। সারকথা এই যে, অন্যের ক্ষতি দূর করতে গিয়ে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে, তার উপর সেই ক্ষতি দূর করার কাজে লিপ্ত হওয়া আবশ্যক নয়। আর যদি সেই ক্ষতি দ্বীনি বা ধর্মীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়, তবে সেই কাজে লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
الفصل "العاشر": (في فرض العين من العلوم)وهو علم ما كلفه الله عبده في الحال الذي هو فيه. وما كلفه ثلاثة أنواع: اعتقاد وفعل وترك. كذا في التترخانية.
قيل فرض العين من العلوم علم الحال ومعناه علم ما كلفه الله عبده في الحال الذي هو فيه، فعلم الحال معرفة مسائل الإيمان وما فرض من الأخلاق والأفعال، وما حرم منهما، وتفصيل ذلك ما قال في التتارخانية:
إذا بلغ الإنسان في ضحوة النهار يجب عليه معرفة الله تعالى بصفاته بالنظر والاستدلال وتعلم كلمتي الشهادة مع فهم معناهما، ثم إن عاش إلى وقت الظهر يجب عليه [أن يعلم] الطهارة قبل تعلم صلاة الظهر، ثم تعلم الصلاة وعلم جراً إلى آخره، ثم إن عاش إلى شهر رمضان يجب عليه [تعلم] كيفية الصوم وما يقوم به وما يفسده، فإن استفاد مالاً يجب عليه تعلم كيفية الزكاة ونصابها، وإن بلغ استطاعة الحج وجب عليه تعلم المسافرة إلى مكة وإحرام الحج ومناسكه في مواطنها، هذا إن عاش إلى أشهر الحج،
দশম পরিচ্ছেদ: (ইলমের মধ্য হতে ফরজে আইন সম্পর্কে)আর এটি হলো সেই বিষয়ের জ্ঞান যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে বর্তমান অবস্থায় আদিষ্ট করেছেন। আর যার মাধ্যমে তাকে আদিষ্ট করা হয়েছে তা তিন প্রকার: বিশ্বাস, কার্য সম্পাদন এবং বর্জন। তাতারখানিয়াতে এভাবেই রয়েছে।
বলা হয়েছে যে, ইলমের মধ্য হতে ফরজে আইন হলো 'ইলমে হাল' (তৎকালীন অবস্থার জ্ঞান), আর এর অর্থ হলো সেই বিষয়ের জ্ঞান যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে বর্তমান অবস্থায় আদিষ্ট করেছেন। সুতরাং ইলমে হাল হলো ঈমানের মাসায়েল এবং যা কিছু চরিত্র ও কাজের মধ্য হতে ফরজ করা হয়েছে, আর এগুলোর মধ্য হতে যা কিছু হারাম করা হয়েছে তার পরিচয়। এর বিস্তারিত বিবরণ তাতারখানিয়াতে যা বলা হয়েছে তা হলো:
যদি কোনো মানুষ দিনের দ্বিপ্রহরের সময় বালেগ হয়, তবে চিন্তা ও দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে তাঁর গুণাবলি সহকারে চেনা এবং অর্থসহ শাহাদাত বাক্যদ্বয় শিক্ষা করা তার ওপর ওয়াজিব। অতঃপর যদি সে যোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে যোহরের নামায শিক্ষা করার পূর্বে তাহারাত (পবিত্রতা) শিক্ষা করা তার ওপর ওয়াজিব, এরপর নামায শিক্ষা করা এবং এভাবে শেষ পর্যন্ত। অতঃপর যদি সে রমজান মাস পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে তার ওপর রোজার পদ্ধতি, যা দ্বারা রোজা পালিত হয় এবং যা দ্বারা তা ভঙ্গ হয় তা শিক্ষা করা ওয়াজিব। আর যদি সে সম্পদের মালিক হয়, তবে জাকাতের পদ্ধতি ও এর নিসাব সম্পর্কে শিক্ষা করা তার ওপর ওয়াজিব। আর যদি সে হজের সামর্থ্য লাভ করে, তবে মক্কা সফর, হজের ইহরাম এবং সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে হজের কার্যাবলি শিক্ষা করা তার ওপর ওয়াজিব; এটি তখন যদি সে হজের মাসসমূহ পর্যন্ত জীবিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
وهكذا التدريج إلى علم سائر الأفعال الواجبة التي هي فرض عين. وأما الترك فيجب بحسب ما يتجدد من الحال ويختلف باختلاف الأشخاص، ألا ترى كيف يحرم التكلم بالفواحش والنظر إلى السوءات للصحيح، ولا يجب ذلك على الأبكم والأعمى إلى هنا كلامه.
قوله: إذا بلغ يفهم منه أنه لا يجب عليه معرفة الله تعالى قبل البلوغ، وهذا قول كثير من مشايخنا. وقال الشيخ أبو منصور في الصبي العاقل: إنه يجب عليه معرفة الله تعالى، وهو قول كثير من مشايخ العراق، كذا قاله على القاري في ذيل شرح الفقه الأكبر.
قوله بالنظر والاستدلال: يريد النظر إلى خلق السماوات والأرض والاستدلال الإجمالي بحيث تطمئن نفسه، ولا يريد أدلة أهل الكلام لأن ذلك فرض كفاية لا فرض عين.
قوله: وتعلم كلمتي الشهادة مع فهم معناهما، فيه نظر، إذ لا يجب تعلم الكلمتين بل تعلم معناهما ومضمونهما بأي طريق كان، ويدخل في الاعتقاد برسالة النبي صلى الله عليه وسلم اعتقاد حقيقة جميع ما جاء به.
এভাবেই অন্যান্য সমস্ত ওয়াজিব কাজ যা ফরজে আইন, সেগুলোর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আর বর্জনীয় বিষয়গুলো অবস্থার প্রেক্ষিতে ওয়াজিব হয় এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। আপনি কি দেখেন না যে, সুস্থ ব্যক্তির জন্য অশ্লীল কথা বলা এবং লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো কীভাবে হারাম করা হয়েছে, অথচ বোবা ও অন্ধের জন্য তা প্রযোজ্য নয়—এ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য।
তাঁর বক্তব্য: "যখন সে সাবালক হবে" এখান থেকে বোঝা যায় যে, সাবালক হওয়ার আগে তার ওপর মহান আল্লাহর পরিচয় জানা ওয়াজিব নয়। এটি আমাদের মাশায়েখদের অনেকেরই অভিমত। শায়খ আবু মনসুর বুদ্ধিমান শিশুর ক্ষেত্রে বলেছেন যে, তার ওপর আল্লাহ তাআলার পরিচয় জানা ওয়াজিব; এটি ইরাকের অনেক মাশায়েখের অভিমত। মোল্লা আলী কারী 'শরহুল ফিকহুল আকবার'-এর পরিশিষ্টে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বক্তব্য: "পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে" বলতে তিনি আসমান ও জমিনের সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং সামগ্রিক প্রমাণের কথা বুঝিয়েছেন, যাতে তার অন্তর প্রশান্ত হয়। তিনি ইলমে কালামের পণ্ডিতদের সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক দলিলসমূহ বুঝাননি, কারণ তা ফরজে কিফায়া, ফরজে আইন নয়।
তাঁর বক্তব্য: "এবং অর্থ অনুধাবনসহ শাহাদাহর বাক্যদ্বয় শিক্ষা করা"—এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ শাহাদাহর নির্দিষ্ট শব্দ দুটি শিক্ষা করা ওয়াজিব নয়, বরং যে কোনো উপায়ে সেটির অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করাই যথেষ্ট। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ওপর বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর হাকিকতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
قوله: ثم إن عاش إلى وقت الظهر يجب إلخ
… ، يفهم منه أنه لا يجب عليه شيء من العلوم غير الإيمان إلا أن عاش إلى وقت الظهر، وفيه نظر، لما في "تعليم المتعلم". وكذلك: أي كما يفترض على المكلف علم ما يقع في حاله، يفترض عليه علم أحوال القلب من التوكل والإنابة والخشية والرضاء فإنه واقع في جميع الأحوال، انتهى.
قوله: وهكذا التدريج إلى علم سائر الأفعال الواجبة التي هي فرض عين كما إذا أجنب يجب عليه معرفة كيفية الغسل، وإذا تزوج يجب عليه معرفة حقوق الزوجية.
قوله: وأما الترك، أي ترك شيء فيجب بحسب ما يتجدد من الحال، فمن باشر التجارة يجب عليه ترك الربا أو التحرز عنه، فيجب عليه علم التحرز عنه ولا يجب في حال عدم مباشرته لها، قال في "تعليم المتعلم": وكل من اشتغل بشيء يفترض عليه علم التحرز عن الحرام فيه، انتهى. ثم اعلم أن من فروض العين الاستدلال العقلي على وجود الصانع ووحدته وسائر صفاته المتواترة كما أشار إليه المنقول عن التتارخانية. وأما سمعيات أركان الإيمان فظني أنه لا يفترض الاستدلال العقلي عليها. يومي إلى ذلك ما
তাঁর বক্তব্য: অতপর যদি যোহরের সময় পর্যন্ত জীবিত থাকে তবে ওয়াজিব হবে ইত্যাদি
… , এর থেকে বোঝা যায় যে, ঈমান ব্যতীত অন্য কোনো জ্ঞান তার ওপর ওয়াজিব হবে না যতক্ষণ না সে যোহরের সময় পর্যন্ত জীবিত থাকে। তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ "তালিমুল মুতাআল্লিম" গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে। এবং অনুরূপভাবে: অর্থাৎ যেভাবে মুকাল্লাফের ওপর তার বর্তমান অবস্থার বিধান জানা ফরজ, তেমনিভাবে তার ওপর অন্তরের অবস্থাসমূহ যেমন তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), ইনাবাত (প্রত্যাবর্তন), খাশইয়াত (ভীতি) এবং রিযা (সন্তুষ্টি) সম্পর্কে জানা ফরজ; কারণ এগুলো সকল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। সমাপ্ত।
তাঁর বক্তব্য: আর এভাবেই অন্যান্য সকল ওয়াজিব কার্যাবলির জ্ঞানের দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হবে যা ফরযে আইন; যেমন যদি কেউ অপবিত্র হয় তবে তার ওপর গোসলের নিয়ম জানা ওয়াজিব, এবং যদি কেউ বিবাহ করে তবে তার ওপর দাম্পত্য অধিকারসমূহ জানা ওয়াজিব।
তাঁর বক্তব্য: আর বর্জনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ কোনো কিছু বর্জন করা, তবে তা অবস্থাভেদে ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ব্যবসায় লিপ্ত হয় তার ওপর সুদ বর্জন করা বা তা থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব; ফলে তা থেকে বেঁচে থাকার জ্ঞান অর্জন করা তার ওপর ওয়াজিব হবে, আর ব্যবসায় লিপ্ত না থাকা অবস্থায় তা ওয়াজিব নয়। "তালিমুল মুতাআল্লিম" গ্রন্থে বলা হয়েছে: আর যে ব্যক্তি যে কাজে লিপ্ত হয়, তার ওপর সেই বিষয়ে হারাম থেকে বেঁচে থাকার জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। সমাপ্ত। অতপর জেনে রাখুন যে, ফরযে আইনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর একত্ব এবং তাঁর অপরাপর মুতাওয়াতির গুণাবলির ওপর যৌক্তিক দলিল উপস্থাপন করা, যেমনটি তাতারখানিয়া থেকে উদ্ধৃত বর্ণনায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর ঈমানের রুকনগুলোর মধ্যে যেগুলো শ্রুতি-নির্ভর বিষয়, আমার ধারণা এই যে, সেগুলোর ওপর যৌক্তিক দলিল পেশ করা ফরজ নয়। এই দিকেই ইশারা করে যা...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
في "تعليم المتعلم": ويعرف الله بالدليل، فإن إيمان المقلد وإن كان صحيحا عندنا لكن يكون أثما بترك الاستدلال، انتهى.
وأما الاستدلال الشرعي، أعني به أن تؤخذ العقائد من الشرع، أما بمطابقة الكتاب والسنة، أو بإخبار علماء الشريعة أنها مما أخبر به الشارع ففرض عين البتة، سواء كان"ـت) العقائد مما يستقل فيه العقل كوجود الصانع بصفاته التي تعرف بالنظر إلى المصنوعات أو مما [لا] يستقل فيه العقل لما قال في شرح المواقف: إن العقائد يجب أن تؤخذ من الشرع ليعتد بها وإن كانت مما يستقل فيه العقل، انتهى.
الفصل "الحادي عشر": (العاقل البالغ لا يعذر بالجهل بخالقه)إن العاقل البالغ لا يعذر بالجهل بخالقه وإن لم يبلغ إليه خبره من جهة الرسول. قال على القاري في ذيل الفقه الأكبر، ذكر الحاكم
'তালিমুল মুতাআল্লিম'-এ বর্ণিত হয়েছে: এবং আল্লাহকে দলিলের মাধ্যমে চিনতে হবে। কেননা মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী)-এর ঈমান যদিও আমাদের নিকট সহীহ (সঠিক), তবে দলিল তালাশ বর্জন করার কারণে সে গুনাহগার হবে। সমাপ্ত।
আর শরয়ী দলিলের ক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য হলো আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ শরীয়ত থেকে গ্রহণ করা হবে; হয় কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্য রেখে, অথবা শরীয়তের আলেমদের সংবাদের মাধ্যমে যে এটি শরীয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে বর্ণিত। আর এটি নিশ্চিতভাবেই ফরযে আইন। চাই আকিদাসমূহ এমন হোক যাতে আকল বা বুদ্ধি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—যেমন স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং তাঁর সেই গুণাবলি যা সৃষ্টিরাজি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যায়—অথবা যাতে আকল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ 'শারহুল মাওয়াকিফ'-এ বলা হয়েছে: আকিদাসমূহ অবশ্যই শরীয়ত থেকে গ্রহণ করতে হবে যাতে তা গ্রহণযোগ্য হয়, যদিও তা আকলের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে অনুধাবনযোগ্য হয় তবুও। সমাপ্ত।
একাদশ অধ্যায়: (বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার স্রষ্টা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে ওজর বা অজুহাত দেওয়ার সুযোগ পাবে না)নিশ্চয়ই বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার স্রষ্টা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে ওজর বা অজুহাত দেওয়ার সুযোগ পাবে না, যদিও রাসুলের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো সংবাদ না পৌঁছে থাকে। মোল্লা আলী কারী 'ফিকহুল আকবার'-এর পরিশিষ্টে বলেছেন, আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
الشهيد عن أبي حنيفة أنه قال: لا عذر لأحد في الجعل بخالقه لما يرى في خلق السماوات والأرض وخلقه نفسه، وعليه مشايخنا من أهل السنة والجماعة، يعني أن من مات بدون معرفة خالقه قبل أن يبلغ إليه خبره من جهة الرسول يعذب.
وقال الأشعري: لا تجب يعني يعذر بجهله إذا لم يبلغ إليه من جهة الرسول بقول تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء: 15] وتمام الكلام في شرح علي القاري. وأما سمعيات ما شرط في الإيمان وهي نبوة النبي ووجود الملائكة ونزول الكتب وأحوال الآخرة وفرضية الصلاة وحرمة الزنا وغير ذلك مما علم ضرورة مجيء النبي به من عند الله تعالى، فلا يفترض عليه تصديقها بمجرد العقل قبل أن تبلغ إليه من جهة النبي بطريق التواتر،
আবু হানিফা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং নিজের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করার পর স্রষ্টা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার ক্ষেত্রে কারো কোনো ওজর বা অজুহাত নেই; আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আমাদের মাশায়েখগণ এই মতেরই অনুসারী। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি রাসূলের মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছানোর পূর্বেই নিজ স্রষ্টাকে না চিনে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।
এবং ইমাম আশআরী বলেছেন: তা ওয়াজিব নয়, অর্থাৎ রাসূলের পক্ষ থেকে সংবাদ না পৌঁছালে সে তার অজ্ঞতার কারণে ওজরপ্রাপ্ত হবে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {এবং আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আজাব দেই না যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি} [আল-ইসরা: ১৫]। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আলী আল-কারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে রয়েছে। আর ঈমানের শর্তভুক্ত সেই সকল শ্রুতিজাত বিষয় (সামইয়াত), যা হলো নবীর নবুওয়াত, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব, কিতাবসমূহের অবতরণ, পরকালের অবস্থাসমূহ, সালাতের ফরজ হওয়া, যিনার হারাম হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবীর আনীত দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে পরিচিত, তা কেবল বিবেকের দ্বারা বিশ্বাস করা তার ওপর ফরজ নয়, যতক্ষণ না নবীর পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির বা অকাট্য পন্থায় তা তার নিকট পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
إذ لا يستقل فيه العقل قيعذر بجهلها قبل البلوغ إليه، وأما بعد بلوغها إليه بطريق التواتر فلا يتم إيمانه إلا بتصديقها.
ويفترض عيناً على المكلف المسلم طلب علم ضروريات الدين، وهي على ما في "شرح المقاصد": ما تواتر كونه من الدين بحيث يعلمه عوام المسلمين من غير حاجة إلى نظر واستدلال، كسمعيات مسائل الإيمان. ولا يتوقف افتراض طلبها بوقت فيفترض عليها طلبها حين أمكن، كما يفترض عليه طلب [علم] كيفية أداء المفروضات حين افتراضها. وطلب علم التحرز عن الحرام في أمر باشره حين باشره. وعلى كل ذلك يحمل قوله عليه السلام: طلب العلم فريضة على كل مسلم ومسلمة.
الفصل "الثاني عشر": (علم ما ليس من ضروريات الدين)وأما علم ما أجمع عليه أهل السنة من العقائد مما لم يكن من ضروريات الدين فلا يفترض طلبه عيناً، بل كفاية فقط، وذلك ككون القرآن غير
যেহেতু এ বিষয়ে আকল বা বুদ্ধি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাই এ সংক্রান্ত জ্ঞান পৌঁছানোর পূর্বে অজ্ঞতার কারণে ওজর বা অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন) পদ্ধতিতে তা পৌঁছানোর পর সেগুলো বিশ্বাস করা ব্যতীত ব্যক্তির ঈমান পূর্ণ হবে না।
প্রত্যেক দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) মুসলিমের ওপর দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়সমূহের (জরুরিয়াতে দ্বীন) জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজে আইন। ‘শারহুল মাকাসিদ’ কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী জরুরিয়াতে দ্বীন হলো: যা দ্বীনের অংশ হওয়া মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত, যা সাধারণ মুসলমানগণ কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ও দলিলের মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়াই জানেন; যেমন ঈমান সংক্রান্ত শ্রবণনির্ভর (সামইয়্যাত) বিষয়াবলি। এই জ্ঞান অন্বেষণের আবশ্যকতা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সুযোগ হওয়ামাত্রই তা অর্জন করা ফরজ। ঠিক যেমন কোনো ফরজ ইবাদত আদায়ের পদ্ধতি জানা সেই ইবাদতটি ফরজ হওয়ার সময় থেকে আবশ্যক হয়ে যায়। তদ্রূপ কোনো কাজ সম্পাদন করার সময় তা থেকে হারাম পরিহার করার পদ্ধতি জানার ইলম অর্জন করাও (আবশ্যক)। এ সকল বিষয়ের ওপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী প্রযোজ্য: ‘জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ।’
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: (যা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন ইলম)আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ঐক্যমত্য সম্পন্ন ওই সকল আকিদা যা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলোর ইলম অর্জন করা ফরজে আইন নয়, বরং ফরজে কিফায়া; যেমন কুরআন... না হওয়া (অ-সৃষ্ট হওয়া)।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
مخلوق، وأن الله تعالى مرئي في دار الآخرة، وأن النبي صلى الله عليه وسلم أفضل من الملك. قال علي القاري في "شرح الفقه الأكبر"، ذكر السبكي في تأليف له، لو مكث الإنسان مدة عمره ولم يخطر بباله تفضيل النبي على الملك لم يسأله الله تعالى عنه. وقال في التتارخانية: لو لم يخطر بباله أن القرآن مخلوق أو قديم أو أن الله مرئي أو غير مرئي فهو مات على الإسلام، وأما بعد الخطور والسماع فلابد من معرفة ذلك، انتهى.
قوله: مات على الإسلام، يعني لا يعذبه بـ[ـه] الله تعالى به ولا يكفر بجهله.
قوله: وأما بعد الخطور والسماع، أي بعدهما معاً، أراد بالسماع 0 السماع بطريق التواتر- أن مما أجمع عليه أهل السنة.
قوله: فلا بد من معرفة ذلك، يعني يفترض عليه تصديقه وقبوله ويأثم بجحده. نقل الدواني عن الغزالي أن منكر المجمع عليه إذا لم يكن من ضروريات الدين لا يكفر، انتهى.
...সৃষ্ট, এবং মহান আল্লাহ পরকালে দৃশ্যমান হবেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেরেশতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আলি আল-কারি 'শারহুল ফিকহিল আকবার'-এ বলেছেন, সুবকি তার একটি রচনায় উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো মানুষ তার পুরো জীবন অতিবাহিত করে এবং ফেরেশতার ওপর নবীর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি তার মনে উদিত না হয়, তবে মহান আল্লাহ তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। এবং তাতারখানিয়া-তে বলা হয়েছে: যদি কারো মনে এই চিন্তা না আসে যে কুরআন সৃষ্ট নাকি অনাদি, অথবা আল্লাহ দৃশ্যমান নাকি অদৃশ্যমান, তবে সে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করল। কিন্তু মনে উদয় হওয়ার এবং শোনার পর এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ইতি।
তাঁর কথা: "ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করল", অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাকে এর কারণে শাস্তি দেবেন না এবং তার অজ্ঞতার কারণে তাকে কাফির সাব্যস্ত করা হবে না।
তাঁর কথা: "কিন্তু মনে উদয় হওয়ার এবং শোনার পর", অর্থাৎ এই উভয়টির পর। এখানে 'শোনা' দ্বারা তিনি মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) সূত্রে শোনা বুঝিয়েছেন—যা আহলুস সুন্নাহর ঐকমত্যের বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর কথা: "এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক", অর্থাৎ তা বিশ্বাস করা ও গ্রহণ করা তার ওপর ফরজ এবং তা অস্বীকার করলে সে গুনাহগার হবে। আদ-দাওয়ানি ইমাম গাজালি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সর্বসম্মত (ইজমা) বিষয়ের অস্বীকারকারী যদি দ্বীনের অপরিহার্য (জরুরিয়াতে দ্বীন) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে তাকে কাফির বলা হবে না। ইতি।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
يعني المجمع عليه ما أجمع عليه أهل السنة بعد الصحابة، إذ ما أجمع عليه الصحابة يكفر منكره عند البعض إذا بلغ إليه بطريق التواتر إجماعهم على ذلكن كما عرف ذلك في أصول الفقه وتمييز ضروريات الدين عن المسائل الإجماعية، وتتميز الإجماعية عن الإختلافية، وهو ما اختلف فيه أهل السنة ليس بهيم. ومن أطلع على شرح الفقه الأكبر لعلي القرى مع ذيل شرحه، اطلع على عامة المذكورات، وذلك كنز عظيم جزاه الله تعالى به الزلفي والنعيم المقيم.
الفصل "الثالث عشر": (في فرض الكفاية من المعلوم)وفرض الكفاية مطلقا هو القيام بما يحتاج إليه عامة الخلق من جهة المعاش أو المعاد كما عرفت، وفرض الكفاية من العلوم المدونة على ما ذكر في "الإحياء": علم القراءات الصحيحة وعلم تفسيرها وعلم تجويدها وعلم الأحاديث أي الصحيحة قياسا على القراءات، ولأن في إحاطة كلها حجا عظيماً، وعلم معانيها، وعلم أصول الحديث، وعلم الأخلاق، يعني ما عدا علم التصوف، وعلما الفقه والأصول، وعلم الكلام 0 والمراد بالكلام هنا مقاصده، وهي العقائد مع أدلتها المختصرة التي صنعها المتكلمون-
অর্থাৎ ঐক্যমত্যপূর্ণ (ইজমাযুক্ত) বিষয় বলতে তা-ই বোঝায় যার ওপর সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী আহলুস সুন্নাহর ইমামগণ একমত হয়েছেন। কেননা সাহাবায়ে কেরাম যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, কারও কারও মতে তা অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যাবে যদি তাদের সেই ইজমার বিষয়টি তার কাছে মুতাওয়াতির বা অকাট্য সূত্রে পৌঁছে থাকে, যেমনটি উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে এবং দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়গুলোকে ইজমাযুক্ত মাসয়ালাসমূহ থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে এবং ইজমাযুক্ত বিষয়গুলোকে মতভেদপূর্ণ বিষয় থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে স্বীকৃত। আর আহলুস সুন্নাহর মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তা অস্পষ্ট নয়। আর যে ব্যক্তি মোল্লা আলী কারী রহ.-এর আল-ফিকহুল আকবার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং এর পরিশিষ্ট পাঠ করবে, সে উল্লিখিত অধিকাংশ বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। আর এটি এক মহান জ্ঞানভাণ্ডার; আল্লাহ তাআলা তাকে এর বিনিময়ে নৈকট্য এবং চিরস্থায়ী নেয়ামত দান করুন।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: (জ্ঞানের মধ্য থেকে ফরযে কিফায়া প্রসঙ্গে)সাধারণভাবে ফরযে কিফায়া হলো এমন সব কার্যাবলীর আঞ্জাম দেওয়া, পার্থিব জীবন বা পরকালীন জীবনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যা প্রয়োজন হয়, যেমনটি আপনি জেনেছেন। আর সংকলিত জ্ঞানসমূহের মধ্যে যা ফরযে কিফায়া, 'ইহয়া' গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে তা হলো: সহীহ কিরাত সম্পর্কিত জ্ঞান, তার ব্যাখ্যা এবং তাজবীদ শাস্ত্র, এবং হাদীস শাস্ত্র—অর্থাৎ কিরাতের ওপর কিয়াস করে সহীহ হাদীসসমূহ—কেননা এই সবকিছুর পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের মধ্যে মহান দলীল রয়েছে; হাদীসের অর্থগত জ্ঞান, উসূলে হাদীস এবং চরিত্র বিষয়ক জ্ঞান, অর্থাৎ তাসাউফ শাস্ত্র ব্যতীত। এছাড়া ফিকহ ও উসূলে ফিকহ এবং ইলমুল কালাম। আর এখানে কালাম শাস্ত্র বলতে এর মূল উদ্দেশ্যসমূহকে বোঝানো হয়েছে, আর তা হলো সংক্ষিপ্ত দলীলসহ সেই আকীদাসমূহ যা মুতাকাল্লিমগণ প্রণয়ন করেছেন-
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
ويدخل فيه ما أجمع عليه أهل السنة مما ليس من ضروريات الدين، وأما ما اختلفوا فيه، وهو ما اختلف فيه الأشاعرة والماتريدية، فيحتسب معرفته وترجيح رأي الماتريدية والله أعلم. ولا يدخل في الكلام هنا مجادلة الفرق الضالة والفلاسفة إذ هي ليست بفرض كفاية مطلقا، بل في أقطار خيف أن يقع كثير من الناس في عقائدهم كما سننقله عن الغزالي، وأما مبادئ الكلام: وهي بحث الإدراكات وغيرها من مباحث الجوهر والعرض فداخلة في استقصاء الكلام كما سنفعله عن الغزالي في بيان مراتب العلوم.
وفرض الكفاية من العلوم هو مرتبة الاقتصاد -بالدال- كما سيجيء في الفصل الآتي. وإنما قيد [نا] الأدلة بالمختصرة لما سننقل عن الغزالي في بيان مراتب العلوم: أن من الخارج عن مرتبة الاقتصاد- بالدال- في العقائد زيادة أسئلة وأجوبة وذلك استقصاء لا يزيد إلا ضلالا وجهلا في حق من لا يقنعه قدر الاقتصاد- بالدال-، انتهى.
أراد بقدر الاقتصاد الأدلة المختصرة من غير تعمق، كما صرح به الغزالي في الإحياء، وسننقله أيضا في بيان مراتب العلوم. ومن فروض الكفايات المذكورة في الإحياء: علم الحساب، وعلم متن اللغة وعلم النحو، ويريد بالنحو معنى يشتمل الصرف كما ستعرف ذلك في الإحياء، لأنهما أي اللغة وعلم النحو، ويريد بالنحو معنى يشتمل الصرف كما ستعرف ذلك في الإحياء، لأنهما أي اللغة والنحو آلتان لعلم كتاب الله وسنة رسوله.
أقول: وهذا التعليل يدل على كونه علم البلاغة فرض كفاية أيضا، وعلم الطب فرض كفاية عند الغزالي ومستحب عند الجمهور.
أقول: والحق أن كل بلد غلب فيه الأمراض يكون علم الطب فيه
এর মধ্যে আহলে সুন্নাতের ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত যা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়াবলির (জরুরিয়াতে দ্বীন) অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন, অর্থাৎ আশআরি ও মাতুরিদিদের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহ, সেগুলোর জ্ঞান অর্জন করা এবং মাতুরিদি মতকে প্রাধান্য দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এখানে ইলমে কালামের আলোচনায় বিভ্রান্ত দলসমূহ এবং দার্শনিকদের সাথে বিতর্ক করা অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি নিছকভাবে ফরজে কেফায়া নয়; বরং এটি এমন অঞ্চলসমূহের জন্য প্রযোজ্য যেখানে মানুষের তাদের আকিদাহর ফাঁদে পড়ার ভয় থাকে, যেমনটি আমরা সামনে ইমাম গাজ্জালি থেকে বর্ণনা করব। আর ইলমে কালামের ভূমিকা বা মূলনীতিসমূহ, যেমন—উপলব্ধি (ইদরাক) সংক্রান্ত আলোচনা এবং জাওহার (বস্তু) ও আরদ (গুণ) সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াবলি, এগুলো ইলমে কালামের গভীর পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আমরা জ্ঞানের স্তরবিন্যাস বর্ণনায় ইমাম গাজ্জালির উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করব।
আর জ্ঞানসমূহের মধ্যে ফরজে কেফায়া হলো ‘আল-ইকতিসাদ’ (পরিমিত জ্ঞান) এর স্তর—যা পরবর্তী পরিচ্ছেদে আসবে। আমরা দলীলসমূহকে সংক্ষিপ্ত হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছি এই কারণে যে, আমরা জ্ঞানের স্তরবিন্যাস বর্ণনায় ইমাম গাজ্জালি থেকে উদ্ধৃত করব: আকিদাহর ক্ষেত্রে ‘আল-ইকতিসাদ’ বা পরিমিত স্তরের বাইরে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর করা হলো এমন গভীরতর অনুসন্ধান যা ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতাই বৃদ্ধি করে যার নিকট পরিমিত স্তরই যথেষ্ট নয়। সমাপ্ত।
তিনি ‘কদরে ইকতিসাদ’ বা পরিমিত পরিমাণ বলতে গভীর অনুসন্ধান ছাড়া সংক্ষিপ্ত দলীলসমূহ বুঝিয়েছেন, যেমনটি ইমাম গাজ্জালি ‘এহিয়া’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং জ্ঞানের স্তরবিন্যাস বর্ণনায় আমরাও তা বর্ণনা করব। আর ‘এহিয়া’ গ্রন্থে উল্লিখিত ফরজে কেফায়াগুলোর মধ্যে রয়েছে: গণিতশাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব এবং নাহু (ব্যাকরণ)। তিনি নাহু বলতে এমন এক অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন যা সরফকেও (তথা শব্দগঠন পদ্ধতি) অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি আপনি ‘এহিয়া’ গ্রন্থে জানতে পারবেন। কারণ এই দুটি, অর্থাৎ ভাষা ও নাহু—আর তিনি নাহু বলতে এমন এক অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন যা সরফকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেমনটি আপনি ‘এহিয়া’ গ্রন্থে জানতে পারবেন—কারণ ভাষা ও নাহু হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ বিষয়ক জ্ঞানের দুটি উপকরণ।
আমি বলছি: এই কারণ দর্শানো প্রমাণ করে যে, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) শিক্ষাও ফরজে কেফায়া। আর ইমাম গাজ্জালির নিকট চিকিৎসা বিজ্ঞান ফরজে কেফায়া, তবে জুমহুর বা অধিকাংশ আলিমের মতে এটি মুস্তাহাব।
আমি বলছি: সত্য কথা হলো, যে কোনো ভূখণ্ডে যখন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন সেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞান শেখা...
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
فرض كفاية، ثم أقول: وينبغي أن تكون مباحث الأدلة من المنطق فرض كفاية، لأنه من مبادئ أصول الفقه، ولذا جعلت جزءا من بعض كتبه كـ"مختصر المنتهي" وأما علم المناظرة فلا شك في استحبابه، وإنما الشك في كونه فرض كفاية، والظن الغالب كونه فرض كفاية، إذ كثرت الحاجة إليه في العلوم الآلية.
وينبغي أن يكون من فروض الكفاية علم مرسوم المصاحف، يقول السيوطي في "الإتقان": قال الإمام أحمد: تحرم مخالفة خط مصحف عثمان رضي الله عنه، وقال في المقنع: سئل مالك هل يكتب المصحف على ما أحدثه الناس من الهجاء؟ فقال: لا، إلا على الكتبة الأولى، ولا مخالف له من علماء الأمة، انتهى.
الفصل "الرابع عشر": (مراتب العلوم)إن قلت لكل علم مدون ثلاث مراتب: اقتصار- بالراء- واقتصاد- بالدال- واستقصاء، كما سيأتي بيانها.
ويقال للمرتبة الأخيرة التبحر، فأية هذه المراتب من العلوم المذكورة في الفصل السابق فرض كفاية؟
ফরজ কিফায়া। অতঃপর আমি বলি: মানতিক বা যুক্তিশাস্ত্রের প্রমাণের পরিচ্ছেদগুলো ফরজ কিফায়া হওয়া উচিত, কেননা এটি উসূলুল ফিকহের প্রারম্ভিক মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই একে উসূলের কিছু কিতাব যেমন 'মুখতাসারুল মুনতাহা'-এর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর মুনাজারা বা বিতর্কশাস্ত্র মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তা ফরজ কিফায়া হওয়ার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে; কিন্তু প্রবল ধারণা হলো এটি ফরজ কিফায়া, যেহেতু সহায়ক বিজ্ঞানসমূহে এর প্রয়োজনীয়তা অনেক।
আর মাসহাফসমূহের লিপিশৈলী সংক্রান্ত বিদ্যা (ইলম মারসুমুল মাসাহিফ) ফরজ কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। সুয়ূতী 'আল-ইতকান' গ্রন্থে বলেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাসহাফের লিপিশৈলীর বিরুদ্ধাচরণ করা হারাম। আর 'আল-মুকনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মানুষ নতুন যে বানানরীতি উদ্ভাবন করেছে সেই অনুযায়ী কি মাসহাফ লেখা যাবে? তিনি বললেন: না, বরং প্রথম লিপিশৈলীর অনুসারেই লিখতে হবে। উম্মতের আলেমদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো ভিন্নমত নেই। সমাপ্ত।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: (বিজ্ঞানের স্তরসমূহ)যদি বলা হয় যে, সংকলিত প্রতিটি শাস্ত্রের তিনটি স্তর রয়েছে: ইক্তিসার (শেষে 'র' সহ), ইক্তিসাদ (শেষে 'দ' সহ) এবং ইস্তিকসা (গভীর অনুসন্ধান), যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।
সর্বশেষ স্তরটিকে 'তাবাহহুর' (গভীর পাণ্ডিত্য) বলা হয়। তাহলে পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে উল্লিখিত শাস্ত্রসমূহের এই স্তরগুলোর মধ্যে কোনটি ফরজ কিফায়া?
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
قلت لعل تلك مرتبة الاقتصاد- بالدال- لأن مرتبة الاقتصار- بالراء- لا تفي باندفاع الحاجة العامة.
قال الاستروشني: في الكراهية والاستحسان، بلوغ المرء درجة الفتوى، وبيان الحلال والحرام بين الناس فرض كفاية، انتهى.
وبلوغ درجة الفتوى لا تحصل بمرتبة الاقتصار- بالراء- في الفقه.
وقال الغزالي في الإحياء: الاقتصار- يعني - بالراء- في علم الكلام معرفة عقائد أهل السنة بلا اشتغال بالدليل، وأما الاقتصاد فمعرفتها بأدلة نقلية أو عقلية بحيث يتمكن من مناظرة المبتدع، مع عدم الاشتغال بأقوال المبتدعة ورد أدلتهم إلا نادراً، انتهى.
ولا يخفى أن من لم يشتغل بأدلة العقائد لا يقدر على دفع شبهات الناس في العقائد فلا تندفع الحاجة العامة بمرتبة الاقتصار- بالراء- من الكلام.
أقول: وقس على الفقه والكلام باقي العلوم.
وأما الاستقصاء: ففي كونه فرض كفاية حرج عظيم. قال الغزالي في "الإحياء" بعد بيان فرضية علم الحساب على الكفاية: وأما التعمق في دقائق علم الحساب فهي فضيلة لا فريضة.
আমি বললাম, সম্ভবত এটি হলো 'ইকতিসাদ' (পরিমিত অবস্থা) এর স্তর—যা 'দাল' বর্ণ দ্বারা গঠিত—কারণ 'ইকতিসার' (সংক্ষেপণ) এর স্তর—যা 'রা' বর্ণ দ্বারা গঠিত—সাধারণ প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
আল-উসতুরুশানি 'আল-কারাহিয়্যাহ ওয়াল ইহতিসান' গ্রন্থে বলেছেন: কোনো ব্যক্তির ফাতওয়ার স্তরে পৌঁছানো এবং মানুষের মাঝে হালাল ও হারামের বিবরণ প্রদান করা ফরজে কিফায়া, সমাপ্ত।
আর ফিকহ শাস্ত্রে কেবল 'ইকতিসার' (সংক্ষেপণ)—যা 'রা' বর্ণ দ্বারা গঠিত—এর স্তরের মাধ্যমে ফাতওয়ার স্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
আল-গাজালি 'ইহিয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থে বলেছেন: ইলমুল কালামে 'ইকতিসার'—অর্থাৎ 'রা' বর্ণ দ্বারা গঠিত—বলতে বুঝায় দলিলের চর্চায় লিপ্ত হওয়া ব্যতিরেকে আহলে সুন্নতের আকিদাগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর 'ইকতিসাদ' (পরিমিত জ্ঞান) হলো আকিদাগুলোকে শরয়ী বা যুক্তিনির্ভর দলিলের মাধ্যমে জানা, যাতে করে বিদআতিদের সাথে বিতর্ক করা সম্ভব হয়, তবে খুব নগণ্য ক্ষেত্র ব্যতিরেকে বিদআতিদের বক্তব্য ও তাদের দলিল খণ্ডনের পেছনে লিপ্ত না হওয়া, সমাপ্ত।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, যে ব্যক্তি আকিদার দলিল নিয়ে চর্চা করে না, সে আকিদা বিষয়ে মানুষের সংশয়গুলো দূর করতে সক্ষম হয় না; ফলে ইলমুল কালামের কেবল 'ইকতিসার'—যা 'রা' বর্ণ দ্বারা গঠিত—স্তরের মাধ্যমে সাধারণ প্রয়োজন পূরণ হয় না।
আমি বলছি: ফিকহ ও কালাম শাস্ত্রের ন্যায় বাকি অন্যান্য জ্ঞান শাখাগুলোকেও এর ওপর ভিত্তি করে অনুমান করে নিন।
আর 'ইস্তিকসা' (পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান) সম্পর্কে কথা হলো: একে ফরজে কিফায়া গণ্য করার মধ্যে বড় ধরণের সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য রয়েছে। আল-গাজালি 'ইহিয়া' গ্রন্থে পাটিগণিত ফরজে কিফায়া হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করার পর বলেছেন: পাটিগণিতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করা একটি ফযিলত বা অতিরিক্ত মর্যাদা, তা ফরজ নয়।
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وقال ابن نجيم في "الأشباه": إن التبحر في الفقه وعلم القلب مندوب إليه. أقول: فقس على هذه الثلاثة ما عداها.
فتعين أن فرض الكفاية مرتبة الاقتصاد بالدال.
الفص "الخامس عشر"
(كيفية تحصيل مرتبة الاقتصاد)
إن قلت ما كيفية تحصيل مرتبة الاقتصاد- بالدال- بحيث يتم بها فرض الكفاية؟ قلت: قال الغزالي في الإحياء: وأما الحديث بتصحيح نسخته على رجل خبير يعلم متن الحديث، بحيث يقدر على طلب ما يحتاج إليه وقت الحاجة، ولا يلزم حفظ متون الحديث، كما لا يلزم حفظ أسامي الرجال.
وأما الاقتصاد فيه كأن تضيف إلى الصحيحين الأحاديث المذكورة في المسندات الصحيحة، انتهى.
فلم يشترط في مرتبة الاقتصاد- بالدال- الحفظ/، كما [لم] يشترط "هـ" في مرحلة الاقتصار، وإنما شرط أمرين:
-
এবং ইবনে নুজাইম 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ফিকহশাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করা এবং হৃদয়ের জ্ঞান (ইলমুল কলব) অর্জন করা মুস্তাহাব। আমি বলি: এই তিনটির ওপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট বিষয়গুলোকেও অনুমান করে নিন।
সুতরাং এটি নির্ধারিত হলো যে, ফরজে কিফায়া হলো পরিমিত স্তর (ইকতিসাদ)।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ
(পরিমিত স্তর অর্জনের পদ্ধতি)
আপনি যদি বলেন, পরিমিত স্তর (ইকতিসাদ) অর্জনের পদ্ধতি কী, যার মাধ্যমে ফরজে কিফায়া পূর্ণ হবে? আমি বলব: ইমাম গাজালী 'ইহয়া' গ্রন্থে বলেছেন: আর হাদিসের ক্ষেত্রে পদ্ধতি হলো, এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে নেওয়া যিনি হাদিসের মূল পাঠ (মতন) সম্পর্কে অবগত, যাতে প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় বিষয়টি অনুসন্ধান করতে সক্ষম হওয়া যায়। আর হাদিসের মতনসমূহ মুখস্থ করা আবশ্যক নয়, যেমন বর্ণনাকারীদের নাম মুখস্থ করা আবশ্যক নয়।
আর এতে পরিমিত পর্যায় হলো, 'সহিহাইন'-এর সাথে অন্যান্য সহিহ মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদিসগুলোকে যুক্ত করা। সমাপ্ত।
সুতরাং তিনি পরিমিত স্তরে (ইকতিসাদ) মুখস্থ করাকে শর্ত করেননি, যেমনটি সংক্ষিপ্ত স্তরেও (ইকতিসার) শর্ত করা হয়নি। বরং তিনি কেবল দুটি বিষয় শর্ত করেছেন:
-
(খণ্ড: ১)
তারতীবুল উলূম লিল-মারআশী
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
الأول: العلم لفظاً ومعنى مع تصحيح النسخة على رجل عالم بمتن الأحاديث.
- والثاني: القدرة على طلب ما يحتاج إليه من الأحاديث وقت الحاجة.
أقول: والثاني قلما يكون بدون كتب الفهرس. وقس على الحديث ما عداه من الفنون، وإنما لم يشترط الحفظ لأن فيه حرجاً عظيماً.
الفصل "السادس عشر": (حكم حفظ القرآن)قال السيوطي في "الإتقان": إن من فروض الكفايات على الأمة حفظ قوم منهم، يبلغ عددهم حد التواتر، كل القرآن. وتعليمه أيضا فرض كفاية وهو من أفضل القرب، انتهى.
وبلوغ العدد إلى حد التواتر فيه اختلافات، والصحيح أن العدد ليس بشرط في حد التواتر، بل حده عدم تجويز العقل تواطؤهم على الكذب.
قوله: على الأمة، يشعر أن ذلك ليس بفرض الكفاية على أهل كل بلد، بل على جميع الأمة، فيسقط الفرض عن جميعهم بحفظ قوم منهم، وفيه نظر: لأن معنى كون ذلك فرض كفاية صيانة القرآن عن التحريف والشك فيه، وإمكان أن يراجع إليهم من يشك في شيء من كلمات القرآن أو حروفه
প্রথমত: শব্দগত ও অর্থগত জ্ঞান থাকা এবং হাদীসের মূলপাঠ (মতন) বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির নিকট পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে নেওয়া।
- দ্বিতীয়ত: প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় হাদীস অনুসন্ধান করার সক্ষমতা অর্জন করা।
আমি বলছি: দ্বিতীয় বিষয়টি সূচিপত্র বা নির্ঘণ্ট গ্রন্থ ব্যতীত খুব কমই সম্ভব হয়। হাদীসের ন্যায় অন্যান্য জ্ঞানশাখার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। আর মুখস্থ রাখার শর্ত এজন্যারোপ করা হয়নি যে, এতে ব্যাপক কষ্ট ও সংকীর্ণতা রয়েছে।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: (কুরআন হিফজ করার বিধান)ইমাম সুয়ূতী ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে বলেছেন: উম্মতের ওপর ফরজে কিফায়া হলো তাদের মধ্যকার এমন একদল লোকের সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করা, যাদের সংখ্যা তাওয়াতুরের পর্যায়ে পৌঁছায়। আর তা শিক্ষা দেওয়াও ফরজে কিফায়া এবং এটি সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর সংখ্যা তাওয়াতুরের সীমায় পৌঁছানোর বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সঠিক মত হলো, তাওয়াতুরের সংজ্ঞায় নির্দিষ্ট সংখ্যা কোনো শর্ত নয়; বরং এর সীমা হলো এমন যে, বিবেক তাদের মিথ্যাচারের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে অসম্ভব মনে করে।
তাঁর উক্তি—‘উম্মতের ওপর’—এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের ওপর ফরজে কিফায়া নয়, বরং সমগ্র উম্মতের ওপর। ফলে তাদের মধ্যকার একটি দল হিফজ করলে সকলের পক্ষ থেকে এ ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি ফরজে কিফায়া হওয়ার উদ্দেশ্য হলো কুরআনকে বিকৃতি ও সংশয় থেকে রক্ষা করা এবং কুরআনের কোনো শব্দ বা হরফ সম্পর্কে কেউ সংশয়ে পতিত হলে যেন তাদের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব হয়।