(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شذرات الذهب دراسة في البلاغة القرآنية   (محمود توفيق محمد سعد)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: شذرات الذهب دراسة في البلاغة القرآنية

المؤلف: محمود توفيق محمد سعد [ت 1446 هـ]

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 115

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাযারাতুয যাহাব: কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি অধ্যায়ন   (মাহমুদ তাওফীক মুহাম্মাদ সা’দ)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর


গ্রন্থ: শাযারাতুয যাহাব: কুরআনিক অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি অধ্যায়ন

লেখক: মাহমুদ তাওফীক মুহাম্মাদ সা’দ [মৃত্যু: ১৪৪৬ হিজরি]

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৫

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شذرات الذهب

دراسة في البلاغة القرآنية

إعداد

 

محمود توفيق محمد سعد

أستاذ البلاغة والنقد ورئيس القسم

في كلية اللغة العربية جامعة الأزهر الشريف

شبين الكوم

الطبعة الأولي1422

الحقوق محفوظة للمؤلف

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم

اللهم صلِّ على محمد وعلى آله كما صليت على إبراهيم وعلىآل إبراهيم إنّك حميد مجيدٌ، وبارك على محمد وآل محمد كما باركت على إبراهيم وآل إبراهيم إنك حميد مجيد

أمَّا بعد فهذه شذرات الذهب من معدن بيان لسان العربية عن معانى الهدى في بيان الوحي العَلِيِّ: القرآن الكريم، ومن البيِّن أنَّ بيان كل مُبِينٍ على مقدار علمه بما يُبِينُ عنه، وبمقدار اقتداره على الإبانة عنه، فانظر كم يكون كمال وجمال وجلال وإعجاز بيان الله عز وجل الذي وسع كلَّ شيءٍ علما، والذي هو على كلِّ شيء قدير
‌স্বর্ণকণা (شذرات الذهب)

কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর একটি গবেষণা

প্রস্তুতকরণে

 

মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মদ সাদ

অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় আল-শরীফ-এর আরবি ভাষা অনুষদে

শিবিন আল-কূম

প্রথম সংস্করণ ১৪২২ হিজরি

সর্বস্বত্ব গ্রন্থকারের সংরক্ষিত

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহিম এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত

অতঃপর, এগুলি হলো আরবি ভাষার প্রাঞ্জল প্রকাশভঙ্গির আকর হতে আহরিত স্বর্ণকণা (شذرات الذهب), যা সুউচ্চ প্রত্যাদেশ (وحي) তথা পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় হেদায়াতের মর্মার্থসমূহ ব্যক্ত করে। এটি স্বতসিদ্ধ যে, কোনো ব্যক্তকারীর বক্তব্য তার আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান এবং তা প্রকাশ করার পারঙ্গমতার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং লক্ষ্য করুন, মহান আল্লাহর বাণীর পূর্ণতা, সৌন্দর্য, গাম্ভীর্য এবং অলৌকিকত্ব (إعجاز) কতটা সুমহান, যাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وهذه الدراسة إنما تعنى بفقه العربية في هذا الميدان العَلِىِّ من البيان: بيان الوحي القرآن الكريم، والدراسة العربية لأيِّ بيانٍ إنما هى التى لاتتخذ منهاجها إلا من واقع الأمة العربية حين كان ذلك البيان فيها؛ لأنَّ الله عز وعلا إنما خاطب العرب بالقرآن الكريم على ما تعرف العربُ من بيانها: مفردات ومنهج تراكيب وتصوير وتحبيروتغنٍّ، ودلالة ومدلولا، ولم يخاطبها بما تجهل البتة، أو بما يكون في بيان أمة أخرى غيرها، ولذلك قال الله تعالى:" وَلوْ جَعلْناهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْحَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لايُؤْمِنُونَ فِي آذانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ " (فصلت: 44)

فالدراسة التى تؤتى أكلها إنما هي الدراسة العربية المنسول منهاجها من واقع بيان العرب في عصر التنزيل الكريم، وليست التى تُفْتَنُ بمقولات أعجمية نبتت في غير ديارنا العربية المسلمة، فإن تلك المقولات، وإن كانت صالحة مصلحة ما في بيان قومها من الأعاجم فإنها ليست إلا عقيما في ديارنا لاتنتج إلا شؤمًا وإلباسًا وتعمية، ولساننا والحمد لله رب العالمين لسان عربي مبين، فكيف بعاقل يرغب عنه إلى لسان أعجمى بهيم.

ولست بزاعم أن طالب العلم ببيان الكتاب والسنة مصروف عن قراءة ما يتخذ من مناهج درس علوم اللسان الأعجمى، وماتنتجه عبقرياتهم في شتى العلوم، شريطة أن يقرأ ذلك كله بقلب عربي مسلم معتصم بعقيدة الإسلام وأخلاق الكتاب والسنة، فإن وجد ما لايتعاند مع عقيدتنا وآخلاق شريعتنا ومنهاج لساننا، وكان نافعا في فقه لساننا فله أن يسترشد ويستهدي، فإن الحكمة ضالة المسلم يبحث عنها ويقتنيها وبستثمرها فيما يزيده قربًا إلى ربه جل جلاله.
এই গবেষণাটি অলংকারের এই মহান ময়দানে আরবী ভাষাতত্ত্ব (فقه العربية) নিয়ে আলোকপাত করে: যা হলো ওহীর বয়ান—পবিত্র কুরআন। যেকোনো বয়ানের আরবী গবেষণার মানদণ্ড কেবল তখনই সঠিক হয়, যখন তা সেই আরব জাতির বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে গৃহীত হয় যাদের মধ্যে সেই বয়ান বর্তমান ছিল; কারণ, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আরবদের সাথে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে তাদের পরিচিত অলংকারশৈলী অনুযায়ীই সম্বোধন করেছেন: শব্দাবলী, বাক্যগঠনশৈলী, চিত্রায়ন, অলংকরণ, সুরালাপ, নির্দেশকতা (دلالة) এবং নির্দেশিত অর্থ (مدلول) সবকিছুতেই। তিনি তাদের কাছে এমন কিছু দিয়ে সম্বোধন করেননি যা তারা একেবারেই জানত না অথবা যা অন্য কোনো জাতির অলংকারশৈলীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি যদি একে অনারব ভাষায় কুরআন হিসেবে নাজিল করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, ‘এর আয়াতসমূহ পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়নি কেন? ভাষা কি অনারব আর রাসূল কি আরব?’ বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও আরোগ্য। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন এক দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে।’" (ফুসসিলাত: ৪৪)

সুতরাং যে গবেষণা ফলপ্রসূ হয়, তা হলো সেই আরবী গবেষণা যার পদ্ধতি বা মানদণ্ড পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার সময়কার আরবদের বয়ান বা অলংকারশৈলীর বাস্তবতা থেকে আহরিত। এটি সেই গবেষণা নয় যা আমাদের মুসলিম আরব ভূখণ্ডের বাইরে উদ্ভূত অনারব উক্তি বা তত্ত্ব দ্বারা মোহিত হয়। কারণ সেই সব উক্তি বা তত্ত্বগুলো যদিও তাদের অনারব জাতির বয়ানশৈলীর ক্ষেত্রে সঠিক বা সংস্কারমূলক হতে পারে, আমাদের ভূখণ্ডে সেগুলো বন্ধ্যা বৈ কিছু নয়; যা কেবল অশুভ ফল, সংশয় এবং অস্পষ্টতাই তৈরি করে। আমাদের ভাষা—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য—এক সুস্পষ্ট আরবী ভাষা; সুতরাং কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে এই ভাষা বিমুখ হয়ে অস্পষ্ট কোনো অনারব ভাষার প্রতি আগ্রহী হতে পারে?

আমি এটি দাবি করছি না যে, কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র বয়ান সম্পর্কিত জ্ঞান অন্বেষণকারীকে অনারব ভাষাবিজ্ঞানের পাঠ্যপদ্ধতিসমূহ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানে তাদের মেধার বৈচিত্র্যময় উৎপাদনসমূহ অধ্যয়ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে; তবে শর্ত হলো, তাকে এই সবকিছুই একজন মুসলিম আরবের হৃদয় দিয়ে পাঠ করতে হবে, যা ইসলামের আকিদা (عقيدة) এবং কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র নৈতিকতা বা আদর্শের সাথে সুদৃঢ়ভাবে সংযুক্ত। যদি সে এমন কিছু পায় যা আমাদের আকিদা (عقيدة), আমাদের শরিয়ত (شريعة)-এর নীতিমালা এবং আমাদের ভাষার পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং তা আমাদের ভাষা অনুধাবনের (فقه) ক্ষেত্রে উপকারী হয়, তবে সে তা থেকে নির্দেশনা ও পথনির্দেশ গ্রহণ করতে পারে। কেননা প্রজ্ঞা (حكمة) হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, সে এটি অনুসন্ধান করে, সংগ্রহ করে এবং এমন কাজে বিনিয়োগ করে যা তাকে তার সুমহান রবের আরও নৈকট্য দান করে।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وإن من النصيحة لكتاب الله تعالى أن تصرف العناية التامة والاجتهاد البليغ إلى إتقان فقه هذا البيان العَلىِّ، والمصابرة على الغوص في أعماق قاموسه المحيط، فإنك لن تجد فقيها بالكتاب والسنة إلا من فقهه عربية هذا البيان المعجز

وإذاما كان فقه الكتاب والسنة فريضة لازبة، فكذلك ما يكون الطريق إلي ذلك الفقه: العلم بلسان العربية وخصائص الإبانة فيه عن حقائق المعانى ودقائقها ولطائفها هوأيضًا فريضة لازمة لازبة على كل طالب علم بالكتاب والسنة.

ولهذا حرَصت هذه الدراسة العربية على أن تتخذ منهجا يتلبث قليلا عند الكلمات التى بُنِيَ منها هذا البيان العَلِىُّ المعجز وهي كلمات عربية، ليست من العجمة في شيء، فليس في القرآن الكريم كله كلمة أعجمية واحدة هي فيه على ما في أي لسان أعجمى

ما ظُنَّ أنه أعجمي في أصله كما جاء عن بعض أهل العلم، فإن بيان الوحي قد أعاد صياغته بما يوائم عربية البيان، وكأنَّ في هذا إشارةً إلى أن من كان أعجميًا واتخذ الإسلام دينًا فإنه يستحيل بهذا من أعجميته الفكرية والعقدية والبيانية إلى أن يكون عربيا مسلم الفكر والعقيدة والبيان.

تلبثت الدراسة عند بعض المفردات تنظر في صورها وصيغها ودلالاتها لعل في ذلك عونًاعلى حسن فقه معانىالتراكيب والصور.

وحرَصت على أن تتلبث قليلا عند بيان بعض الوجوه الإعرابية لتراكيب هذا البيان تنظر في العلاقات الإعرابية بين الكلمات في بناء الجمل، وفي العلاقات الإعرابية بين بعض الجمل، فإنَّ حسن فقه مواقع الكلمات والجمل وعلاقتها الإعرابية مفتاح عظيم من مفاتح فقه بيان الوحي: كتابا وسنة.

ثم كان لهذه الدراسة تلبثٌ مديدٌ في النظر في السَّمَاتِ البلاغية لهذا البيان، وحرصت على أن تمزج النظر في السمات البلاغية بالنظر في لطائف معانى الوحي، وما تفيض به تراكيب بيان الوحي من دقائق ولطائف معانى الهدى إلى الصراط المستقيم.
আল্লাহ তাআলার কিতাবের প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামিতার অন্তর্ভুক্ত হলো এই মহান বাণীর ফিকহ (فقه) আয়ত্ত করার জন্য পূর্ণ মনোযোগ ও কঠোর সাধনা নিয়োগ করা, এবং এর দিগন্তবিস্তৃত অভিধানের গভীরতায় ডুব দেওয়ার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা। কেননা, আপনি কুরআন ও সুন্নাহর গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন কোনো ফকিহ (فقيه) পাবেন না, যদি না তিনি এই অলৌকিক বাণীর আরবি ভাষা যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করেন।

আর যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ (فقه) অর্জন করা একটি অনিবার্য ফরজ (فريضة), তাই সেই ফিকহ অর্জনের যে পথ—অর্থাৎ আরবি ভাষার জ্ঞান এবং এর মাধ্যমে বাস্তব অর্থ, সূক্ষ্মতা ও গূঢ় রহস্যসমূহ প্রকাশের বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা—তাও কুরআন ও সুন্নাহর প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর জন্য একটি আবশ্যকীয় ও অনিবার্য ফরজ (فريضة)।

এই কারণেই এই আরবি গবেষণাটি এমন একটি মানহাজ (منهج) গ্রহণ করতে সচেষ্ট হয়েছে, যা এই মহান অলৌকিক বাণী যে শব্দাবলি দ্বারা গঠিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর কিছুটা আলোকপাত করবে। আর এগুলি বিশুদ্ধ আরবি শব্দ, যাতে অনারবিত্বের কোনো সংমিশ্রণ নেই। কেননা পুরো পবিত্র কুরআনে এমন একটি অনারবি শব্দও নেই যা কোনো অনারবি ভাষায় যেভাবে ব্যবহৃত হয়, হুবহু সেভাবে এখানে বিদ্যমান।

কিছু আলেমদের পক্ষ থেকে যেসব শব্দকে মূলে অনারবি বলে ধারণা করা হয়েছে, ওহির বয়ান সেগুলোকে আরবি ভাষার শৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নতুনভাবে রূপদান করেছে। যেন এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কোনো অনারবি ব্যক্তি যখন ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সে তার বুদ্ধিবৃত্তিক, আকিদাগত এবং ভাষাগত অনারবিত্ব থেকে রূপান্তরিত হয়ে চিন্তা-চেতনা, আকিদা ও প্রকাশের দিক থেকে একজন আরবি মুসলিমে পরিণত হয়।

গবেষণাটি কিছু একক শব্দের (مفردات) ওপর আলোকপাত করেছে, তাদের রূপ, গঠন এবং অর্থগত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছে; যেন তা বাক্য গঠন ও কাঠামোর অর্থসমূহ উত্তমভাবে অনুধাবন করতে সহায়ক হয়।

আর এই বাণীর বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে কিছু ইরাবগত (إعرابية) দিকের বর্ণনার ওপর কিছুটা সময় দিতে সচেষ্ট হয়েছে, যা বাক্যের কাঠামোর মধ্যে শব্দগুলোর পারস্পরিক ইরাবগত (إعرابية) সম্পর্ক এবং কিছু বাক্যের মধ্যকার ইরাবগত (إعرابية) সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। কেননা শব্দের অবস্থান, বাক্য এবং তাদের ইরাবগত (إعرابية) সম্পর্কের সঠিক উপলব্ধি হলো ওহির বয়ান—অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ (فقه) অর্জনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

অতঃপর এই গবেষণাটি এই বাণীর বালাগাতগত (بلاغية) বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছে। এতে বালাগাতগত (بلاغية) বৈশিষ্ট্যের সাথে ওহির অর্থের গূঢ় রহস্য এবং ওহির বাণীর গঠনশৈলী থেকে উৎসারিত সিরাতাল মুস্তাকিমের দিকে হেদায়েতের যে সূক্ষ্ম ও গভীর অর্থসমূহ প্রবাহিত হয়, তার সমন্বয় ঘটাতে সচেষ্ট হওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد رغبت في أن أجعل بين يدي هذه الدراسة العربية تمهيدًا رأيت أن في وقوف طالب العلم عليه عونًا له على حسن الوفاء ببعض حق العلم ببيان الوحي الكريم.

وجعلت مجال هذه الدراسة آيات من " التوبة" قائمة بمعانى التحريض على الجهاد في سبيل الله تعالى والنِّفار إلى جنة عرضها السموات والأرض أعدت للمتقين ذلك أن تثقيف طلاب العلم بثقافة الجهاد في سبيل الله تعالى أمرٌ لابدَّ من القيام به والإلحاح عليه كمثل إلحاح أخدان أبناء صهيون وعبدة الصليب على أن نبالغ في تلقين أبناء الأُمة ثقافة السلام: الاستسلام لإرادة " أبناءالعم سام"، فالسلام في معجم مفرداتهم إنما يعنى استسلام المسلمين لإرادتهم، وهو يعنى عندنا الاستسلام للحق الذي جاءت به شريعة الإسلام ليس إلا.

وإذا ماكان الله عز وجل يأمر رسوله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم بأن يحرض المؤمنين على القتال، فإن كثيرًا من أخدان الأعجمين يجعلون من" الجهاد " جريمة الجرائم التى لاتغتفر، هو عندهم الفريضة المحرمة،، ولكن ستبقى كلمة" الجهاد" قائمة في مصاحفنا وسنة نبينا صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، وفي قلوبنا ما بقيت الحياة على الأرض.

هذه الأوراق القائمة بين يديك تسعى إلى أن تقيم في قلبك ولسانك عرفانًا بلسان العربية قائما في بيان الوحي الكريم، ولن تجد بيانًا يقيم درسه وتفقهه عرفانًا بلسان العربية مثلما أنت واجده في بيان الوحي الكريم.

وتسعى أيضًا إلى أن تقيم في قلبك وسلوكك استمساكًا وتخلقًا بتأديب الله عز وجل لنا وتثقيف قلوبنا بما يراه هو جل جلاله خيرًا لنا في دنيانا وفي آخرتنا: في مسيرنا ومصيرنا.

ذلك أنى مؤمن إيمانًا راسخًا أن كل دراسة في القرآن الكريم والسنة لايكون منها ما يغير حركة سلوكنا إلى ما هو الأعلى والأقرب إلى رضوان ربنا هي دراسة عقيمة وإن تظاهر على إتقانها أحبار علوم اللسان العربي في مشارق الوطن العربي ومغاربه.
আমি এই আরবি অধ্যয়নের প্রারম্ভে একটি ভূমিকা যুক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি; আমি মনে করি, একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এর ওপর দৃষ্টিপাত করা আল্লাহর পবিত্র ওহীর (الوحي) ইলমের হক বা দাবি যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হবে।

আর আমি এই অধ্যয়নের ক্ষেত্র হিসেবে সুরা "আত-তাওবাহ"-র এমন কিছু আয়াতকে নির্ধারণ করেছি, যা আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد) এবং সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হওয়ার অর্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনব্যাপী এবং যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বস্তুত ইলম অন্বেষণকারীদের আল্লাহর পথে জিহাদের (الجهাদ) চেতনায় শিক্ষিত করা এমন এক অপরিহার্য বিষয় যা সম্পাদন করা এবং যার প্রতি গুরুত্বারোপ করা একান্ত প্রয়োজন; ঠিক যেমনটি জায়নবাদীদের দোসর এবং ক্রুশ পূজারীরা উম্মাহর সন্তানদের 'শান্তির সংস্কৃতি' তথা 'আঙ্কেল স্যাম'-এর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণের দীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে অতিমাত্রায় তৎপরতা প্রদর্শন করে থাকে। তাদের অভিধানে 'শান্তি' মানে হলো মুসলিমদের তাদের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করা; অথচ আমাদের নিকট এর অর্থ হলো কেবল ইসলামের শরীয়াহ (شريعة) যে সত্য নিয়ে এসেছে, তার কাছে আত্মসমর্পণ করা।

আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) মুমিনদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন বিজাতীয়দের অনেক দোসর "জিহাদকে (الجهاد)" এক অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে যা কখনও ক্ষমা করা যায় না। তাদের দৃষ্টিতে এটি যেন একটি 'নিষিদ্ধ ফরজ'। কিন্তু পৃথিবীতে জীবন অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত "জিহাদের (الجهاد)" এই বাণী আমাদের মুসহাফসমূহে, আমাদের নবীর সুন্নাহতে (سنة) এবং আমাদের অন্তরে সদা জাগ্রত থাকবে।

আপনার সম্মুখে থাকা এই পৃষ্ঠাগুলো আপনার অন্তরে ও জিহ্বায় আরবি ভাষার এমন এক পরিচিতি গড়ে তোলার প্রয়াস পায় যা পবিত্র ওহীর (الوحي) বর্ণনায় সমুজ্জ্বল। আপনি আরবি ভাষার এমন কোনো উচ্চতর বর্ণনা, তার পাঠ ও গভীর অনুধাবন পাবেন না, যা পবিত্র ওহীর (الوحي) বর্ণনায় বিদ্যমান পরিচয়ের সমতুল্য হতে পারে।

এটি আপনার অন্তরে ও আচরণে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত শিষ্টাচারের সুদৃঢ় অবলম্বন ও চারিত্রিক গুণাবলি গড়ে তোলারও প্রচেষ্টা চালায় এবং আমাদের অন্তরকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করে যা মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে—অর্থাৎ আমাদের জীবনযাত্রা ও শেষ পরিণতির জন্য কল্যাণকর মনে করেন।

কেননা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) ওপর এমন প্রতিটি গবেষণা যা আমাদের আচরণ ও কর্মপদ্ধতিকে উচ্চতর এবং আমাদের রবের সন্তুষ্টির নিকটতর করার দিকে পরিচালিত করে না, তা একটি নিষ্ফল গবেষণা; যদিও আরব বিশ্বের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আরবি ভাষাবিজ্ঞানের পণ্ডিতগণ তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদনের দাবি করেন না কেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
لايعدو درس علوم لساننا العربي عندي أن يكون وسيلة إلى غاية ماجدة هي حسن فقه بيان الوحي قرآنا وسنة فقهًا يحفزنا على العزم على أن نغير ما بأنفسنا وأمتنا وما حولنا إلى ما فيه رضوان خالقنا جل جلاله

وإذا ما غفلت أي دراسة عن هذه الغاية فهي من العلم الذي استعاذ منه رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.

ونحن اقتداء به نستعيذ بالله من علم لاينفع في الدنيا والآخرة ونبتهل إلى الله تعالى: " اللهم يامعلم إبراهيم علمنا كتابك وسنة نبيك صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم علما يزيدنا قربا إليك

اللهم يامُفَهِّم سليمان فهمنا كتابك وسنة نبيك صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم فَهِّمْنا ما يُسلكنا في عبادك الصديقين.

(اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السموات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدنى لما اختلف فيه من الحق بإذنك إتك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم)

وصلى الله وسلم وبارك على عبده ونبيه ورسوله سيدنا محمد بن عبد الله نبيّ الرحمة والملحمة وعلى آله وصحبه وأمته عدد خلقه ورضاء نفسه ومداد كلماته والحمد لله رب العالمين.

وكتبه

محمود توفيق محمد سعد

الأستاذ في جامعة الأزهر الشريف

 

التمهيد

 

‌‌منزلةالعلم بخصائص لسان العربية ومنهج الإبانة فيه

 

يقررالقرآن الكريم في آيات عديدة أنَّه عربي وبلسان عربي مبين: " إنَّا أنْزَلْناهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُم تَعْقِلُونَ" {يوسف:2}

" وَلَقَدْ نَعْلَمُ أنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّما يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ " {النحل: 1.2}
আমার কাছে আমাদের আরবি ভাষার শাস্ত্রসমূহের অধ্যয়ন কেবল একটি মহৎ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম ছাড়া আর কিছু নয়; আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর ওহির বর্ণনার সঠিক বুঝ অর্জন করা—এমন এক প্রজ্ঞা যা আমাদের নিজেদের, আমাদের উম্মাহর এবং আমাদের চারপাশের অবস্থাকে আমাদের মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির দিকে পরিবর্তন করার সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করে।

আর যদি কোনো জ্ঞানচর্চা এই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা সেই ইলমের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।

আমরা তাঁর অনুসরণ করে আল্লাহর নিকট এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো উপকারে আসে না এবং আমরা মহান আল্লাহর নিকট আকুল প্রার্থনা করি: "হে আল্লাহ! হে ইবরাহিমের শিক্ষক, আমাদের আপনার কিতাব ও আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর এমন জ্ঞান দান করুন যা আমাদের আপনার নৈকট্য বৃদ্ধি করবে।"

হে আল্লাহ! হে সুলাইমানকে সমঝ দানকারী, আমাদের আপনার কিতাব ও আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর সঠিক সমঝ দান করুন; আমাদের এমন এক বোধ দান করুন যা আমাদের আপনার সত্যনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করবে।

(হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফিলের রব, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত আপনি তাদের মধ্যে তার বিচার করবেন। যে সত্যের বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই সত্যের পথে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথের দিশা দান করেন।)

আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি রহমতের নবী ও সংগ্রামের নবী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও উম্মতের ওপর—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান এবং তাঁর কালিমাসমূহের কালির পরিমাণ। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

মাহমুদ তাওফিক মুহাম্মাদ সাদ

আল-আযহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

 

উপক্রমণিকা

 

‌‌আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য এবং এতে স্পষ্টীকরণের পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞানের মর্যাদা

 

কুরআন মাজিদ বিভিন্ন আয়াতে সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছে যে এটি আরবি এবং এক সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে নাজিল করেছি যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।" {ইউসুফ: ২}

"আমি তো অবশ্যই জানি যে তারা বলে, তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। তারা যার দিকে ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারবি, অথচ এটি (কুরআন) তো সুস্পষ্ট আরবি ভাষা।" {আন-নাহল: ১০৩}
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
"وَكَذَلِكَ أَنْزَلْناهُ حُكْمًا عَربِيًّا" {الرعد:37}

" وَكَذَلِكَ أنْزلْناهُ قُرآنًا عَربِيًّا وَصَرَّفْنا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونُ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا" {طه: 113}

" وَإنَّهُ لَتَنْزيلُ رَبِّ العَالَمِينَ {} نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ {} عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرينَ {} بِلِسَاٍن عَرَبِيٍّ مُبِينٍ" {الشعراء: 192-195}

" وَلَقَدْ ضَرَبْنا لِلنَّاسِ فِي هَذا القُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ {} قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُم يَتَّقُونَ " {الزمر:27- 28}

" حَم {} تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ {} كِتابٌ فُصِّلتْ آيَاتُهُ قُرْآنًاعَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ " {فصلت: 1-3}

" وَكَذلِك أوْحيْنا إلَيْكَ قُرْآنا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ القُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لارَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ " {الشورى: 7}

" حَم {} والْكِتابِ المُبينِ {} إنَّا جعلْناهُ قُرْآنًا عَربِيًّا لَعَلَّكُم تَعْقِلُونَ {} {الزخرف: 1-3}

" وَمِنْ قَبْلِهِ كِتابُ مُوسَى إمَامًا وَرَحْمَةً وَهَذا كِتابٌ مُصَدِّقٌ لِسانًا عَرَبِيًّا لِيُنْذِرَ الَّذينَ ظَلَمُوا وَبُشْرَى لِلْمُحْسِنِينَ " {الأحقاف:12}

في كل هذه الآيات دلالة بينة على أن عربية القرآن الكريم إنما هي عربيةمنهج إبانة وليس عربية مصدر تنزُّل،ولذا كثر في هذه الآيات قوله: لعلكم تعقلون، لعلهم يتقون، لعلهم يتذكرون" وهذا كله إنما يكون من منهاج الإبانة على معانيه ومقاصده ومغازيه،ولذا قال الحق عز وعلا:

" وَلَوْ جَعَلْناهُ قرآنًا أعْجميًّا لقالُوا لَوْلا فُصِّلَتْ آيَاتُه أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ … " {فصلت: 44}
"এভাবেই আমি একে আরবি বিধান হিসেবে অবতীর্ণ করেছি।" {আর-রাদ: ৩৭}

"আর এভাবেই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এটি তাদের মনে চেতনার উদ্রেক করে।" {ত্বহা: ১১৩}

"নিশ্চয় এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" {আশ-শুয়ারা: ১৯২-১৯৫}

"আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। এটি বক্রতামুক্ত আরবি কুরআন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।" {আয-যুমার: ২৭- ২৮}

"হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, অতি দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ আরবি কুরআন হিসেবে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।" {ফুসসিলাত: ১-৩}

"এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবি কুরআন ওহি করেছি, যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার চারপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেন এবং সমাবেশের দিন সম্পর্কে সতর্ক করেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেদিন একদল জান্নাতে এবং একদল প্রজ্বলিত আগুনে অবস্থান করবে।" {আশ-শূরা: ৭}

"হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের! নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।" {আয-যুখরুফ: ১-৩}

"আর এর পূর্বে ছিল মূসার কিতাব, যা ছিল আদর্শ ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব (কুরআন) তার সত্যায়নকারী, যা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তা জালিমদের সতর্ক করে এবং সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ হয়।" {আল-আহকাফ: ১২}

এই সকল আয়াতে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, পবিত্র কুরআনের আরবিকরণ মূলত ভাব প্রকাশের একটি পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য, এটি কেবল অবতরণগত কোনো উৎস নয়। এই কারণেই এই আয়াতগুলোতে অধিক হারে বলা হয়েছে: 'যাতে তোমরা বুঝতে পারো', 'যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে', 'যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে'। আর এই সবকিছুই কুরআনের মর্মার্থ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যাভিসার সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই মহান সত্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

"যদি আমি একে অনারবি কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, 'এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে কেন বর্ণিত হলো না? ভাষা কি অনারবি আর রাসূল কি আরবি?' … " {ফুসসিলাত: ৪৪}
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وفي ذلك دلالة بينة على أنه لايسطيع ناظر في القرآن الكريم أيا كان قدره أن يفقه شيئا منه إلا من سبيل فقهه لسان العربية الذي كان في أمة العرب عند نزوله، فذلك هو السبيل الأول إلى الاقتراب من حمى المعنى القرآني الكريم.

وقد حرص الإمام الشافعي في سفره الجليل " الرسالة" أمِّ أسفار علم أصول فقه الكتاب والسنة على أن يبين في جلاء هذه الحقيقة؛لأنها أم الحقائق التى تبنى عليها كافة الحقائق العلمية في هذا الباب:

 

يقول رضي الله عنه وارضاه:

" ومن جماع علم كتاب الله العلم بأن جميع كتاب الله إنما نزل بلسان العرب".

فانظر قوله: " جماع علم كتاب الله" فهذا دال على أن علم ما في كتاب الله عز وعلا من معانى الهدى إنما هو من علم لسان العرب فمن علمه وأتقنه كان أهلا لأن يسلك السبيل، ومن جهله فلن يخطو خطوة واحدة على الطريق، وإن جمع علوم أهل الأرض أجمعين،

فكان لزاما على كل متكلم في معانى القرآن الكريم على تعدد أنواعها وضروبها ومجالاتها الجامعة كافة شئون الحياة أن يكون أول أمره قائما على كمال تحقيق العلم بلسان العربية.

 

وهذا يدل على عظيم ما يتردى فيه كثير من المستجرئيين على القول في معانى القرآن الكريم، والواحد منهم لايكاد يقيم لسانه النطق بجملة عربية واحدة على النحو والنهج العربي القويم.

وقد أنكر " الإمام الشافعي " على من زعم أنَّ في القرآن الكريم حرفا واحدا من غير العربية:

" الواجب على العالمين انَّ لايقولوا إلا من حيث علموا.وقد تكلم في العلم من لو أمسك عن بعض ما تكلم فيه منه لكان الإمساك أولى به وأقرب من السلامة له ـ إن شاء الله.

فقال منهم قائل: إنَّ في القرآن عربيا وأعجميا.

والقرآن يدل على أنْ ليس من كتاب الله شيء إلا بلسان العرب.

ووجد قائل هذا القول من قَبِلَ ذلك منه تقليدًا وتركًا لِلْمسئَلة له عن حُجَّتِه، ومسئلةِ غيره ممَّنْ خالفه.
وفي ذلك دلالة بينة على أنه لايسطيع ناظر في القرآن الكريم أيا كان قدره أن يفقه شيئا منه إلا من سبيل فقهه لسان العربية الذي كان في أمة العرب عند نزوله، فذلك هو السبيل الأول إلى الاقتراب من حمى المعنى القرآني الكريم।

এতে একটি স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, পবিত্র কুরআনের কোনো পাঠক, তার মর্যাদা যাই হোক না কেন, কুরআন নাযিলের সময় আরব জাতির মধ্যে প্রচলিত আরবি ভাষা বোঝার পথ ছাড়া এর কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন না। পবিত্র কুরআনের অর্থবলয়ের নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই হলো প্রথম সোপান।

وقد حرص الإمام الشافعي في سفره الجليل " الرسالة" أمِّ أسفار علم أصول فقه الكتاب والسنة على أن يبين في جلاء هذه الحقيقة؛لأنها أم الحقائق التى تبنى عليها كافة الحقائق العلمية في هذا الباب:

ইমাম শাফেয়ী তাঁর মহান গ্রন্থ "আর-রিসালাহ"-তে—যা কিতাব ও সুন্নাহর ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক গ্রন্থরাজির জননীস্বরূপ—এই সত্যটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে সচেষ্ট হয়েছেন; কারণ এটিই সেই মূল ভিত্তি যার ওপর এই বিষয়ের যাবতীয় ইলমী হাকিকত বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত:

 

يقول رضي الله عنه وارضاه:

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন:

" ومن جماع علم كتاب الله العلم بأن جميع كتاب الله إنما نزل بلسان العرب".

"আল্লাহর কিতাবের সামগ্রিক ইলমের অন্তর্ভুক্ত হলো এই জ্ঞান যে, আল্লাহর কিতাবের সম্পূর্ণ অংশই কেবল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।"

فانظر قوله: " جماع علم كتاب الله" فهذا دال على أن علم ما في كتاب الله عز وعلا من معانى الهدى إنما هو من علم لسان العرب فمن علمه وأتقنه كان أهلا لأن يسلك السبيل، ومن جهله فلن يخطو خطوة واحدة على الطريق، وإن جمع علوم أهل الأرض أجمعين،

তাঁর "আল্লাহর কিতাবের সামগ্রিক ইলম" উক্তিটির দিকে লক্ষ্য করুন। এটি নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহর কিতাবে হিদায়াতের যে অর্থ নিহিত রয়েছে তা মূলত আরবি ভাষার জ্ঞানেরই অংশ। সুতরাং যিনি এই ভাষা জানেন ও এতে পারদর্শী হন, তিনিই এই পথে চলার যোগ্য। আর যিনি এ বিষয়ে অজ্ঞ, তিনি এই পথে এক কদমও অগ্রসর হতে পারবেন না, যদিও তিনি পৃথিবীর সকল মানুষের জ্ঞান একত্রিত করেন।

فكان لزاما على كل متكلم في معانى القرآن الكريم على تعدد أنواعها وضروبها ومجالاتها الجامعة كافة شئون الحياة أن يكون أول أمره قائما على كمال تحقيق العلم بلسান العربية.

তাই জীবনের সর্বস্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন প্রকার ও বিষয়ের অর্থ নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রথম কাজ হলো আরবি ভাষার জ্ঞানে পূর্ণ পাণ্ডিত্য ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করা।

 

وهذا يدل على عظيم ما يتردى فيه كثير من المستجرئيين على القول في معانى القرآن الكريم، والواحد منهم لايكاد يقيم لسانه النطق بجملة عربية واحدة على النحو والنهج العربي القويم.

এটি ঐসব দুঃসাহসীদের চরম বিভ্রান্তিকে ফুটিয়ে তোলে যারা পবিত্র কুরআনের অর্থ নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায়, অথচ তাদের অবস্থা এমন যে তারা শুদ্ধ ব্যাকরণ ও আরবি রীতি অনুযায়ী একটি বাক্যও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে সক্ষম নয়।

وقد أنكر " الإمام الشافعي " على من زعم أنَّ في القرآن الكريم حرفا واحدا من غير العربية:

ইমাম শাফেয়ী ঐ ব্যক্তির দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে দাবি করে যে পবিত্র কুরআনে অনারবি একটি অক্ষরও রয়েছে:

" الواجب على العالمين انَّ لايقولوا إلا من حيث علموا.وقد تكلم في العلم من لو أمسك عن بعض ما تكلم فيه منه لكان الإمساك أولى به وأقرب من السلامة له ـ إن شاء الله.

"আলেমদের জন্য অপরিহার্য (الواجب) হলো তারা যেন কেবল তাদের জানা বিষয়ের আলোকেই কথা বলেন। ইলম সম্পর্কে এমন কিছু লোক কথা বলেছে যে, যদি তারা সেই বিষয়ের কিছু অংশ থেকে বিরত থাকত, তবে সেই নীরবতা বজায় রাখাই তাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর এবং আল্লাহ চাহেন তো নিরাপত্তার অধিকতর নিকটবর্তী হতো।"

فقال منهم قائل: إنَّ في القرآن عربيا وأعجميا.

"তাদের মধ্যে এক বক্তা বলেছেন: কুরআনে আরবি এবং অনারবি শব্দ রয়েছে।"

والقرآن يدل على أنْ ليس من كتاب الله شيء إلا بلسان العرب.

"অথচ কুরআন নিজেই প্রমাণ দেয় যে, আল্লাহর কিতাবের কোনো কিছুই আরবি ভাষা ব্যতিরেকে নাযিল হয়নি।"

ووجد قائل هذا القول من قَبِلَ ذلك منه تقليدًا وتركًا لِلْمسئَلة له عن حُجَّتِه، ومسئلةِ غيره ممَّنْ خالفه.

"এই প্রবক্তা এমন কিছু লোক পেয়েছেন যারা কোনো দলীল (حجة) ছাড়াই এবং তার বিরোধী মতাবলম্বীদের কোনো প্রশ্ন না করেই কেবল অন্ধ অনুকরণের (تقليد) বশবর্তী হয়ে তার কথা গ্রহণ করেছে।"
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وبالتقليد أغفل من أغفل منهم والله يغفر لنا ولهم.

ثمَّ يقول رضي الله عنه وأرضاه:

" فعلى كلِّ مسلم أن يتعلم من لسان العرب ما بلغه جَهدُه....

وما ازداد من العلم باللسان الذي جعله الله لسان من ختم به نبوته وأنزل به آخر كتبه كان خيرًا له....

ثُمَّ بين وجه إعلانه هذه الحقيقة العلمية الراسخة في صدر كتابه قائلا:

" وإنما بدأت بما وصفت من أن القرآن نزل بلسان العرب دون غيره لأنَّه لايَعلمُ من إيضاح جُملِ عِلمِ الكتابِ أحدٌ جهلَ سَعةَ لسانِ العربِ،وكثرةَ وجوهِهِ وجِماعَ معانيهِ وتَفرُّقَها.

ومن علِمه انتفت عنه الشُّبَهُ التى دَخلت على من جهلَ لسانها.

 

فكان تنبيهُ العامَّةِ على أن القرآن نزل بلسان العرب خاصة نصيحةً للمسلمين، والنصيحة لهم فرضٌ لاينبغى تركُه، وإدراكُ نافلةِ خيرٍ لايَدعُها إلا من سفه نفسه وترك موضعَ حَظِّهِ.

وكان يجمع مع النصيحة لهم قياما بإيضاح حقٍ وكان القيامُ بالحقِّ ونصيحةُ المسلمين من طاعةِ اللهِ، وطاعة اللهِ جامعةٌ للخيرِ " (1)

بسطت لك النقل عن بيان الشافعي رضي الله عنه وأرضاه، لتقف ـ أولا ـ بنفسك على بيانه البليغ،فقد كان الشافعي ممن تؤخذ منه اللغة

فهو قرشي قُحٌّ لم يَشُبْ لسانَه هجنة أعجمية أو عامية،وكان عالم لغة وراوية شعر من قبل أن يكون فقيها، فهو الذي أخذ عنه " الأصمعى" شعر الهذليين، فيقوم في صدرك فرق ما بين هذا الإمام الجليل وبين ما يسكب في أذنك صباح مساء من همهمات أعجمية ممن قيل عنهم المفكرون الإسلاميون.

ولتقف ـ ثانيا ـ بنفسك على تقريره الحقيقة العلمية التى لاينبغى أن يُوقَفَ طالبُ علمٍ بمعانى كتاب الله عز وعلا على شيء من قبل أن يوقف عليها وقوفَ تبصرٍ وتدبرٍ وتمثلٍ وتمكنٍ.

--------------------------------------------

(1) - الرسالة: ص4.، 41، 42، 48،49، 5.
আর অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কারণে তাদের মধ্যে যারা উদাসীন হওয়ার তারা উদাসীন হয়েছে, আল্লাহ আমাদের এবং তাদেরকে ক্ষমা করুন।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) বলেন:

"অতএব প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো তার সাধ্য অনুযায়ী আরবি ভাষা শিক্ষা করা...

আর যে ভাষাটিকে আল্লাহ তাঁর নবুওয়াতের পরিসমাপ্তিকারীর ভাষা এবং তাঁর সর্বশেষ কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যম করেছেন, সেই ভাষা সম্পর্কে কোনো ব্যক্তি যতটুকু জ্ঞান বৃদ্ধি করবে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে...

অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবের শুরুতে এই সুদৃঢ় জ্ঞানতাত্ত্বিক সত্যটি ঘোষণার কারণ বর্ণনা করে বলেন:

"আমি কোরআন অন্য কোনো ভাষায় নয় বরং কেবল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে—এই বর্ণনার মাধ্যমে (আলোচনা) শুরু করেছি এ কারণে যে, কিতাবের (কোরআন) জ্ঞানরাশির বিশদ ব্যাখ্যা এমন কেউ বুঝতে পারবে না যে আরবি ভাষার প্রশস্ততা, এর বহুবিধ দিক এবং এর অর্থের ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে অজ্ঞ।

আর যে ব্যক্তি তা জানে, তার নিকট থেকে ঐ সকল সংশয় (شبهة) দূর হয়ে যায় যা এই ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির মনে উদয় হয়।

 

সুতরাং সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সতর্ক করা যে কোরআন বিশেষভাবে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে—এটি ছিল মুসলিমদের জন্য একটি নসিহত (نصيحة), আর তাদের নসিহত (نصيحة) করা একটি আবশ্যক (فرض) বিষয় যা পরিত্যাগ করা উচিত নয়। আর এটি এমন এক অতিরিক্ত কল্যাণ অর্জন যা কেবল ঐ ব্যক্তিই বর্জন করে যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে এবং স্বীয় সৌভাগ্যের অংশ পরিহার করেছে।

তিনি নসিহতের (نصيحة) সাথে সাথে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালনকেও একত্র করেছেন; আর সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং মুসলিমদের নসিহত (نصيحة) করা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহর আনুগত্যই সকল কল্যাণের আধার।" (১)

আমি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর বর্ণনা থেকে এই উদ্ধৃতিটি আপনার জন্য বিস্তারিত তুলে ধরলাম, যাতে প্রথমত আপনি নিজেই তাঁর প্রাঞ্জল বর্ণনা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন; কেননা শাফেয়ী ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নিকট থেকে ভাষা গ্রহণ করা হতো।

তিনি ছিলেন একজন খাঁটি কুরাইশী, যাঁর ভাষায় অনারব বা আঞ্চলিকতার কোনো মিশ্রণ ঘটেনি। ফকিহ (فقيه) হওয়ার পূর্বেই তিনি ছিলেন একজন ভাষাবিদ এবং কাব্যের বর্ণনাকারী (راوية)। স্বয়ং 'আসমায়ি' তাঁর নিকট থেকেই হুযায়লি গোত্রের কাব্য গ্রহণ করেছেন। ফলে আপনার অন্তরে এই মহান ইমাম এবং ঐ সকল ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে, যাদেরকে 'ইসলামি চিন্তাবিদ' বলা হয় কিন্তু যাদের অনারবসুলভ অস্পষ্ট কথা সকাল-সন্ধ্যা আপনার কানে ঢেলে দেওয়া হয়।

এবং দ্বিতীয়ত, যাতে আপনি নিজেই তাঁর সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক ধ্রুব সত্যের সুপ্রতিষ্ঠিত রূপটি দেখতে পান, যা গভীর অন্তর্দৃষ্টি, চিন্তাশীলতা ও পূর্ণ দক্ষতা অর্জন ব্যতিরেকে আল্লাহর কিতাবের অর্থ অন্বেষণকারী কোনো শিক্ষার্থীর জন্য অন্য কোনো বিষয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া অনুচিত।

--------------------------------------------

(১) - আর-রিসালাহ: পৃষ্ঠা ৪, ৪১, ৪২, ৪৮, ৪৯, ৫০।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولو أحسن القائمون على تعليم طلبة العلم في الجامعات الإسلامية النصح إلى القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة والنصح إلى من كلفوا بالولاية عليهم ورعاية مسيرهم في طلب العلم بالكتاب والسنة لكان واجبا أن يجعلوا العلم بلسان علوم العربية مدارسة وممارسة أداء وتذوق وتدبر عديلَ العلم بكافة علوم الكتاب والسنة بل والمقدمَ عليها.

إذا ماكان هذا الذي سمعت من الإمام الشافعي رضي الله عنه وأرضاه المهدي إلينا أول وأجلَّ كتاب في علم أصول فقه معاني الهدى إلى الصراط المستقيم في الكتاب والسنة، فإن "الإمام: أبا إسحاق الشاطبى (ت: 79.) يقتدي به قائلا:

" إن هذه الشريعة المباركة عربية، لامدخل فيها للألسن الأعجمية …

القرآن نزل بلسان العرب على الجملة، فطلب فهمه إنما يكون من هذا الطريق خاصة....

فمن أراد تفهمه فمن جهة لسان العرب يفهم ولا سبيل إلى تطلب فهمه من غير هذه الجهة "

" انه لابد في فهم الشريعة من اتباع معهود الأميين ـ وهم العرب الذين نزل القرآن بلسانهم ـ فإن كان للعرب في لسانهم عرف مستمر فلا يصح العدول عنه في فهم الشريعة،وإن لم يكن ثَمَّ عُرفٌ فلا يصحُّ أن يجري في فهمها على ما تعرفه.

وهذا جار في المعانى والألفاظ والأساليب "

" لايستقيم للمتكلم في كتاب لله أو سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتكلف فيهما فوق ما يسعه لسان العرب،وليكن شأنه الاعتناء بما شأنه أن يعتنِي العربُ به والوقوفَ عند ما حَدَّتْهُ "
যদি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইলম অন্বেষণকারীদের শিক্ষাদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-র প্রতি এবং যাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র ইলম অন্বেষণে যাদের পথচলার তদারকি করার কথা, তাদের প্রতি নিষ্ঠার সাথে সঠিক উপদেশ প্রদান করতেন, তবে আরবি ভাষাবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনকে—চর্চা, অনুশীলন, প্রয়োগ, রসাস্বাদন ও গবেষণার মাধ্যমে—কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র যাবতীয় ইলমের সমতুল্য, বরং তার চেয়েও অগ্রগণ্য করা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল।

ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি আমাদের কাছে কিতাব ও সুন্নাহ (سنة)-র সঠিক পথের দিশা লাভের অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাবটি উপহার দিয়েছেন—তাঁর নিকট থেকে আপনি যা শুনেছেন, ইমাম আবু ইসহাক আশ-শাতিবি (মৃত্যু: ৭৯০ হিজরি) তাঁরই অনুসরণ করে বলেন:

"নিশ্চয়ই এই বরকতময় শরিয়ত (شريعة) আরবি ভাষায় অবতীর্ণ, এতে অনারব ভাষার কোনো প্রবেশাধিকার নেই …

কুরআন সামগ্রিকভাবে আরবদের ভাষায় নাযিল হয়েছে, তাই এটি বোঝার অন্বেষণ কেবল এই পথেই হওয়া নির্দিষ্ট....

সুতরাং যে ব্যক্তি এটি বুঝতে চায়, তাকে অবশ্যই আরবি ভাষার দিক থেকেই বুঝতে হবে এবং এই দিক ছাড়া এটি বোঝার কোনো বিকল্প পথ নেই।"

"নিশ্চয়ই শরিয়ত (شريعة) বোঝার ক্ষেত্রে উম্মি বা নিরক্ষরদের—অর্থাৎ সেই সব আরব যাদের ভাষায় কুরআন নাযিল হয়েছে—তাদের চিরাচরিত রীতির অনুসরণ করা অপরিহার্য। যদি আরবদের ভাষায় কোনো নিরবচ্ছিন্ন প্রথা (عرف) বিদ্যমান থাকে, তবে শরিয়ত (شريعة) বোঝার ক্ষেত্রে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয়। আর যদি সেখানে কোনো প্রথা (عرف) না থাকে, তবে তা বোঝার ক্ষেত্রে এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা সঠিক হবে না যা তাদের নিকট পরিচিত নয়।

আর এটি অর্থ, শব্দ এবং প্রকাশভঙ্গি—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।"

"আল্লাহর কিতাব বা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) নিয়ে আলোচনাকারীর জন্য এটি সংগত নয় যে, তিনি এ দুটির ব্যাখ্যায় আরবি ভাষার সক্ষমতার ঊর্ধ্বে গিয়ে কোনো কৃত্রিমতা করবেন। বরং তার কর্তব্য হওয়া উচিত সেই সব বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া যেগুলোর প্রতি আরবরা গুরুত্ব প্রদান করত এবং সেই সীমার মধ্যে অবস্থান করা যা তারা নির্ধারণ করে দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
" الاعتناء بالمعانى المبثوثة في الخطاب هو المقصود الأعظم بناء على أنَّ العرب إنما كانت عنايتها بالمعانى،وإنما أصلحت الألفاظ من أجلها،وهذا الأصل معلومٌ عند أهلِ العربيةِ، فاللفظ إنما هو وسيلة إلى تحصيل المعنى المراد، والمعنى هو المقصود،ولا أيضا كل المعانى، فإن المعنى الإفرادي قد لايعبأُ به إذا كان المعنى التركيبي مفهوماً دونه " (1)

ويقرر في باب " الاجتهاد " أنه إذا ماكان هنالك علم تتوقف صحة الاجتهاد عليه " فالأقرب في العلوم إلى أن يكون هكذا علمُ اللغة العربية،ولا أعنى بذلك " النحو" وحده،ولا" التصريف " وحده،ولا "اللغة" ولا" علم المعانى" ولا غير ذلك من أنواع العلوم المتعلقة باللسان بل المراد جملة علم اللسان ألفاظ أو معانى كيف تصورت....

فإذا فرضنا مبتدئا في فهم العربية فهو مبتدئ في فهم الشريعة، أو متوسطا فهو متوسط في فهم الشريعة، والمتوسط لم يبلغ درجة النهاية، فإن انتهى إلى درجة الغاية في العربية كان كذلك في الشريعة، فكان فهمه فيها حجة كما كان فهم الصحابة وغيرهم من الفصحاء الذين فهموا القرآن حجة.

فمن لم يبلغ شأوهم فقد نقصه من فهم الشريعة بمقدار التقصير عنهم وكل من قصر فهمه لم يعد حجة ولا كان قوله فيها مقبولا.

فلا بد من أن يبلغ في العربية مبلغ الأئمة فيها،كـ"الخليل" و" سيبويه "و"الأخفش"و"الجرمي"و"المازنى"ومن سواهم" (2) (3) …

--------------------------------------------

(1) - الموافقات للشاطبي:2/64،82،58،87

(2) - السابق:4/114- 115
" বাণীর মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অর্থসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করাই হলো মহান উদ্দেশ্য; যার ভিত্তি হলো এই যে, আরবদের মূল লক্ষ্য ছিল অর্থের প্রতি এবং তারা কেবল অর্থের খাতিরেই শব্দাবলীকে সুসংহত করেছিল। এই মূলনীতি (أصل) আরবী ভাষাবিদদের নিকট সুপরিচিত। কেননা শব্দ কেবল উদ্দিষ্ট অর্থ হাসিলের একটি মাধ্যম মাত্র, আর অর্থই হলো মূল লক্ষ্য। তবে সব ধরনের অর্থও নয়; কেননা একক শব্দের অর্থের (المعنى الإفرادي) প্রতি ততোটা গুরুত্ব না-ও দেওয়া হতে পারে যদি তা ছাড়াই বাক্যিক বা গাঠনিক অর্থ (المعنى التركيبي) বোধগম্য হয়। " (১)

এবং "ইজতিহাদ" (الاجتهاد) অধ্যায়ে এটি নির্ধারিত হয়েছে যে, যদি এমন কোনো জ্ঞান থাকে যার ওপর ইজতিহাদ (الاجتهاد) সঠিক হওয়া নির্ভর করে, তবে বিজ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে আরবী ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞানই এই অবস্থানের সর্বাধিক নিকটবর্তী। আর এর দ্বারা আমি কেবল "নাহু" (النحو) একাকী, কিংবা কেবল "সারফ" (التصريف), কিংবা "লুগাত" (اللغة), কিংবা "ইলমুল মাআনি" (علم المعاني) বা ভাষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জ্ঞানসমূহকে বোঝাচ্ছি না; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিক ভাষাবিজ্ঞান, তা শব্দ হোক বা অর্থ—যেভাবেই তা কল্পিত হোক না কেন....

সুতরাং আমরা যদি কাউকে আরবী ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের (مبتدئ) ধরি, তবে সে শরীয়ত বোঝার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক স্তরের; আর যদি সে মধ্যম স্তরের (متوسط) হয়, তবে শরীয়ত বোঝার ক্ষেত্রেও সে মধ্যম স্তরের। আর মধ্যম স্তরের ব্যক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। যদি সে আরবী ভাষায় চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হয়, তবে শরীয়তের ক্ষেত্রেও সে তদ্রূপ হবে। তখন শরীয়তের বিষয়ে তার উপলব্ধি দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি সাহাবীগণ এবং অন্যান্য প্রাঞ্জল ভাষাবিদদের উপলব্ধি দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়েছিল যারা কুরআন বুঝতে সক্ষম ছিলেন।

সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি, তাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকার অনুপাতে শরীয়ত বোঝার ক্ষেত্রে তার ঘাটতি থেকে যাবে। আর যার উপলব্ধিতে ঘাটতি থাকে, তার কথা আর দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না এবং শরীয়তের বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (مقبول) হয় না।

তাই আরবী ভাষার ক্ষেত্রে তাকে তথাকার ইমামদের স্তরে পৌঁছাতে হবে, যেমন—"খলীল", "সিবওয়াইহ", "আখফাশ", "জারমি", "মাযিনি" এবং তাদের মতন অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ (২) (৩) …

--------------------------------------------

(১) - আশ-শাতিবি রচিত আল-মুয়াফাকাত: ২/৬৪, ৮২, ৫৮, ৮৭

(২) - প্রাগুক্ত: ৪/১১৪-১১৫
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
كل الذي نقلته لك عن " الشاطبي" ومن قبله" الشافعي" دالٌ دلالة بينة محققة على أنه فريضة علمٍ ودينٍ على كل من قام إلى النظر في معانى الهدى في بيان الوحي: الكتاب والسنة أن يكون العليمَ بلسان العربية عما يخرجه عن الجهالة بمنهاج الناطقين به زمن نزول الوحي في الإبانة والتلقي، فلا يتلبس بشيء من الجهالة بخصائص هذا اللسان التى هي قائمة على كمالها في بيان الوحي كيما يتحقق الفهم عن الله عز وجل وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد هدي الله عز وجل إلى أنَّ

من نعمه على خلقه أنْ جعلَ من أرسله إليهم من النبيين والمرسلين بلسان من أُرْسِلُوا اليهم في كلِّ عصرٍ ومصرٍ:

" وَمَا أَرْسَلْنا مِن رسُولٍ إِلَاّ بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ" {ابراهيم:4}

وقد كان من " الشافعي" في الرسالة تبيان لبعض خصائص لسان العربية زمن الوحي يغري به طلاب العلم بمعانى الهدي إلى الصراط المستقيم في كتاب الله عز وعلا وسنة نبيه صلى الله عليه وآله وسلم قائلا:

" إنما خاطب الله بكتاب العرب بلسانها على ما تعرف من معانيها.

وكان مما تعرف من معانيها اتساع لسانها، وأنَّ فِطرتَه أن يُخاطبَ بالشيء منه عاما ظاهرًا يراد به العام الظاهر، ويستغنى بأول هذا منه عن آخره.

وعاما ظاهرا يراد به العام، ويدخله الخاص، فيستدل على هذا ببعض ما خوطب به فيه.

وظاهرًا يراد به الخاص.

وظاهرا يُعرفُ في سياقه أنه يراد به غير ظاهره

فكل هذا موجود علمه في أول الكلام أو وسطه أو آخره.

وتبتدأُ الشيء من كلامِها يُبينُ أوَّلُ لفظها فيه علم آخره

وتبتدئُ الشيْءَ يُبِينُ آخرُ لفظها منه عن أولِه.

وَتَكَلَّمُ بالشيْء تُعَرِّفُهُ بالمعنَى دون الإيضاحِ باللفظِ،كما تُعَرِّفُ اٌشَارةَ، ثُمَّ يكونُ هذا من أعلى كلامها؛لانفرادِ أهلِ علمِها به دون أهلِ جهالتها.
আমি 'আশ-শাতিবি' এবং তার পূর্বে 'আশ-শাফিঈ' থেকে যা কিছু আপনার কাছে বর্ণনা করেছি, তা সুস্পষ্ট এবং অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, ওহির (কিতাব ও সুন্নাহ) বর্ণনায় হেদায়েতের অর্থসমূহ নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আরবি ভাষায় এমনভাবে পারদর্শী হওয়া একটি ইলমি ও দ্বীনি ফরজ, যা তাকে ওহি নাযিল ও তা গ্রহণের সময়কার ভাষাভাষীদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে মুক্ত রাখবে। তিনি যেন এই ভাষার বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে কোনো প্রকার অজ্ঞতায় লিপ্ত না হন, যা ওহির বর্ণনায় তার পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান; যাতে করে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সঠিক উপলব্ধি অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা এ দিকেই পথপ্রদর্শন করেছেন যে,

তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর অন্যতম নেয়ামত হলো, তিনি প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি ভূখণ্ডে নবী ও রাসূলগণকে তাঁদের নিকট প্রেরিত জাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন:

"আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর নিজ জাতির ভাষা দিয়েই পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাঁদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" {ইবরাহিম: ৪}

আশ-শাফিঈ তাঁর 'আর-রিসালা' গ্রন্থে ওহির সময়কার আরবি ভাষার কতিপয় বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন, যা জ্ঞানান্বেষীদের আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর সঠিক পথের দিশা লাভে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবে আরবদেরকে তাদের ভাষাতেই সম্বোধন করেছেন, যেমনটি তারা এর অর্থের ব্যাপারে অবগত।"

"তাদের পরিচিত অর্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো এই ভাষার ব্যাপকতা। এর প্রকৃতি হলো যে, এতে কোনো বিষয়কে সাধারণ (عام) এবং বাহ্যিক (ظاهر) রূপে সম্বোধন করা হয়, যেখানে সেই সাধারণ (عام) ও বাহ্যিক (ظاهر) অর্থই উদ্দেশ্য থাকে এবং বক্তব্যের শুরু দেখেই শেষটুকু বোঝার জন্য তা যথেষ্ট হয়।"

"আবার কখনও সাধারণ (عام) ও বাহ্যিক (ظاهر) শব্দে সম্বোধন করা হয় যেখানে মূল সাধারণ (عام) অর্থই উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু তাতে বিশেষ (خاص) বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন বক্তব্যের কিছু অংশ দ্বারা এর ওপর প্রমাণ পেশ করা হয়।"

"আবার কখনও বাহ্যিক (ظاهر) শব্দ ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা বিশেষ (خاص) অর্থই উদ্দেশ্য থাকে।"

"আবার কখনও এমন বাহ্যিক (ظاهر) শব্দ ব্যবহৃত হয় যার প্রসঙ্গ (سياق) থেকে বোঝা যায় যে, এর দ্বারা বাহ্যিক অর্থ ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য।"

"এই সবকিছুর জ্ঞানই বক্তব্যের শুরুতে, মাঝে অথবা শেষে বিদ্যমান থাকে।"

"আরবদের কথোপকথনে কোনো বিষয় এভাবে শুরু করা হয় যে, এর প্রথমাংশই শেষাংশের অর্থ স্পষ্ট করে দেয়।"

"আবার কোনো বিষয় এভাবে শুরু করা হয় যে, এর শেষাংশ প্রথমাংশের অর্থ স্পষ্ট করে দেয়।"

"তারা কোনো বিষয়ে এমনভাবে কথা বলে যা শব্দের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই অর্থের মাধ্যমে বোঝা যায়, যেমনটি কোনো ইশারা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে বোঝা যায়। এটি তাদের উচ্চতর বাগ্মিতার অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর জ্ঞান কেবল পারদর্শী আলেমরা অর্জন করতে পারেন, অজ্ঞরা নয়।"
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وتسمى الشيء الواحد بالأسماء الكثيرة

وتسمى بالاسم الواحد المعاني الكثيرة.

وكانت هذه الوجوه التى وصفت اجتماعها في معرفة أهل العلم منها به ـ وإن اختلفتْ أسباب معرفتها ـ معرفةً واضحةً عندها، ومستنكرًا عند غيرها ممن جهلَ هذا من لسانها، وبلسانها نزل الكتاب وجاءت السنة، فتكلف القول في علمها تكلُّف مايجهلُ بعضه.

ومن تكلف ما جهل ومالم تثبته معرفته كانت موافقته للصواب ـ إنْ وافقه من حيثُ لا يعرفه ـ غير محمودة،والله أعلم، وكان بخطئه غير معذور، إذا ما نطق فيما لايحيط علمه بالفرق بين الخطأ والصواب فيه (1)

هذا بعض خصائص لسان العربية التى نزل عليها الوحي في بيانه وإفهامه مراد الله عز وجل من عباده،وهي خصائص مذهبية منهجية كلية من تحتها خصائص دقيقة جليلة يقف عليها علماء بيان العربية.

والشافعي قرر فيما قرر قي رسالته الجليلة:

" ولسان العربِ أوسع الألسنة مذهبًا وأكثرها ألفاظا، ولانعلمه يُحيطُ بجميع علمه إنسان غير نبي، ولكنه لايذهب منه شيء على عامتها حتى لايكون موجودًا فيها من يعرفه" (2) (5)

فانظر قوله:" أوسع الألسنة مذهبا وأكثرها ألفاظا" جاعلا الاتساع للمذهب والكثرة للألفاظ،وإذا ما كانت الإحاطة بالألفاظ جد عسيرة فكيف تكون الإحاطة بالمذاهب المتسعة؟!.

وإذا ما كانت المذاهب متسعة وهي في بيان البشر وهم مهما علا علمهم وقدرهم وأطاق اقتدارهم عاجزون عن الإحاطة وعن التَّطَهُّرِ من الغفلة والإبهام في البيان عن المراد، فكيف يكون الأمر حين يكون البيان بيان الله عز وعلا الذي لاتنفد كلماته:

" قُلْ لَوْ كَانَ البَحْرُ مِدَدًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ البَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي ولَو جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا " {الكهف: 1.9}

--------------------------------------------

(1) - الرسالة:51-53

(2) - السابق:42
কখনো একটি বিষয়কে একাধিক নামে অভিহিত করা হয়

আবার কখনো একটি নামের মাধ্যমে একাধিক অর্থ বোঝানো হয়।

আমি যেসব দিক বর্ণনা করেছি, সেগুলোর সমন্বিত রূপ ইলমের অধিকারীদের নিকট অত্যন্ত সুস্পষ্ট—যদিও তা জানার মাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যারা এই ভাষারীতি সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের নিকট বিষয়টি অপরিচিত। এই ভাষাতেই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে এবং সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই ভাষার জ্ঞান সম্পর্কে যার জানাশোনা নেই, সে যদি এ বিষয়ে কিছু বলার প্রয়াস চালায়, তবে তা হবে এক অনর্থক বোঝা বহন করার শামিল।

যে ব্যক্তি তার অজ্ঞাত এবং জ্ঞান দ্বারা অপ্রতিষ্ঠিত বিষয়ে জবরদস্তি করে, তার কথা যদি কাকতালীয়ভাবে সত্যের সঙ্গে মিলেও যায়—যেহেতু সে তা না জেনেই বলেছে—তবুও তা প্রশংসনীয় নয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। আর তার ভুলের জন্য সে ক্ষমাযোগ্য নয়, যখন সে এমন বিষয়ে কথা বলে যেখানে ভুল ও সঠিকের পার্থক্য নিরূপণ করার মতো জ্ঞান তার আয়ত্তে নেই (১)

এগুলো আরবি ভাষার কতিপয় বৈশিষ্ট্য, যে ভাষায় ওহি অবতীর্ণ হয়েছে বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বর্ণনা ও অনুধাবন করানোর জন্য। এগুলো হলো পদ্ধতিগত ও সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য, যার অধীনে নিহিত রয়েছে সূক্ষ্ম ও মহান বিবিধ বৈশিষ্ট্য যা কেবল আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতগণই অনুধাবন করতে পারেন।

ইমাম শাফিঈ তাঁর মহান গ্রন্থ আর-রিসালা-তে যা নির্ধারণ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

"আরবি ভাষা হলো সকল ভাষার মধ্যে অধিক প্রশস্ত রীতির অধিকারী এবং শব্দভাণ্ডারে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। কোনো নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এই ভাষার পূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টন করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। তবে এই ভাষার কোনো অংশই সাধারণ মানুষের নিকট থেকে এমনভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় না যে, তা জানার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকে না।" (২) (৫)

লক্ষ্য করুন তাঁর উক্তি: "অধিক প্রশস্ত রীতির অধিকারী এবং শব্দভাণ্ডারে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।" এখানে তিনি প্রশস্ততাকে রীতির সাথে এবং আধিক্যকে শব্দের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। যদি শব্দভাণ্ডার আয়ত্ত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হয়, তবে এই বিস্তৃত রীতিসমূহ আয়ত্ত করা কতটা দুঃসাধ্য হতে পারে?!

যদি মানুষের বর্ণনার ক্ষেত্রেও রীতিনীতিসমূহ এত প্রশস্ত হয়—অথচ মানুষ তার জ্ঞান ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছালেও এবং তার সামর্থ্য চরম পর্যায়ে থাকলেও পূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টন করতে এবং উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনায় অসতর্কতা ও অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত হতে অক্ষম—তবে সেই সত্তার বর্ণনার ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং যার বাণী কখনো শেষ হওয়ার নয়:

"বলুন: আমার রবের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যে এর সমপরিমাণ কালি আরও নিয়ে আসি।" {কাহাফ: ১০৯}

--------------------------------------------

(১) - আর-রিসালা: ৫১-৫৩

(২) - পূর্বোক্ত: ৪২
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
يقول " أبو الحسنِ الحَرَالَّيُّ " (1) :

" بيان كل مُبِينٍ على قدْرِ إحاطَةِ علمه، فإذا أبانَ الإنسانُ عن الكائن أبان بقدر ما يدرك منه،وهو لايحيطُ به علمًا، فلا يصلُ إلى غايةِ البلاغةِ فيه بيانُهُ.وإذا أنبأ عن الماضي فبقدر ما بقي من ناقص علمه به كائنا في ذكره، لما لزم الإنسانَ من نسيانه.وإذا أراد أن ينبئَ عن الآتى أعوزهُ البيان كله إلَاّ ما يقدِّره أو يُزَوِّرُهُ.

فبيانه عن الكائن ناقص،وبيانه في الماضي أنقص، وبيانه في الآتي ساقط.

ثم يقول:" بلاغة البيان تعلُو على قدر علو المبين،فعلو بيان الله على بيان خلقه بقدر علو الله على خلقه" (2) (7)

 

وقد هدى إلى ذلك ماقاله النبي صلى الله عليه وسلم فيما رواه الترمذي في جامعه الصحيح من " كتاب فضائل القرآن":

" فضل كلام الله على سائر الكلام كفضل الله على خلقه "

وكل هذا الذي بسطت لك القول فيه دال دلالة بينة محققه على أنَّ العرفان بخصائص العربية ضابطٌ حركةَ الناظرِ في كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم يستخرج منهما معانى الهدى إلى مايرضي ربنا جل جلاله، فإن في العلم المحقق بمناهج العرب في الإبانة عن معانيها عونا عظيما على ذلك.

يروي " الزجاجي" أنَّ " أبا عمر: صالح بن إسحق الجرمِيّ" كان يَدِلُّ بمعرفته بالعربية، ويقول أنا من ثلاثين سنة أفُتِي الناس من

كتاب " سيبويهِ" فأُخبر " المبرد" بذلك، فقال: أنا سمعته يقول هذا

--------------------------------------------

(1) - أبو الحسن على بن أحمد بن الحسن الحَرَالِّيّ (ت:637هـ) من آثاره: مفتاح الباب المقفل لفهم الكتاب المنزل، ورسالة الاستقامة ن وشرح اسماء النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

(2) - مفتاح الباب القفل ـ خط ـ ق: 3ب ـ دار الكتب المصرية
"আবুল হাসান আল-হারাল্লি" (১) বলেন:

"প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বর্ণনা (بيان) তার জ্ঞানের পরিধির ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং মানুষ যখন বর্তমান কোনো বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করে, তখন সে তা ততটুকুই প্রকাশ করে যতটুকু সে তা উপলব্ধি করতে পারে; অথচ তার জ্ঞান তা পুরোপুরি পরিবেষ্টন করতে পারে না। ফলে তার বর্ণনা (بيان) সেই বিষয়ের চরম অলঙ্কারিতা (بلاغة) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। আর সে যখন অতীত সম্পর্কে সংবাদ দেয়, তখন মানুষের সহজাত বিস্মৃতি প্রবণতার কারণে তার স্মৃতিতে অবশিষ্ট থাকা অসম্পূর্ণ (ناقص) জ্ঞানের ভিত্তিতেই সে তা করে। আর যদি সে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ দিতে চায়, তবে সে বর্ণনার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, কেবল সেইটুকুই বলতে পারে যা সে অনুমান করে অথবা সাজিয়ে বলে।

অতএব, বর্তমান সম্পর্কে তার বর্ণনা অসম্পূর্ণ (ناقص), অতীত সম্পর্কে তার বর্ণনা অধিকতর অসম্পূর্ণ (أنقص), আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার বর্ণনা ভিত্তিহীন (ساقط)।

অতঃপর তিনি বলেন: 'বর্ণনার অলঙ্কারিতা (بلاغة) বর্ণনাকারীর উচ্চমর্যাদার অনুপাতে বৃদ্ধি পায়। সুতরাং সৃষ্টিকুলের বর্ণনার ওপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনই, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।'" (২) (৭)

 

তিরমিজি তাঁর জামে সহিহ-এর 'কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন'-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তা এ বিষয়টির দিকেই পথনির্দেশ করে:

"অন্যান্য সকল বাণীর ওপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।"

আমি আপনার সামনে যে আলোচনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ নিয়ে গবেষণাকারীর জন্য একটি নিয়ন্ত্রক (ضابط) হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে তিনি উভয়টি থেকে সেই সব হিদায়াতের অর্থ বের করে আনেন যা আমাদের প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করে। কেননা, আরবি ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের পদ্ধতিসমূহের সুনিশ্চিত জ্ঞান এ ক্ষেত্রে এক বিরাট সহায়ক।

'আজ-জুজ্জাজি' বর্ণনা করেন যে, 'আবু আমর সালিহ ইবনে ইসহাক আল-জারমি' তাঁর আরবি ভাষার পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে পথনির্দেশ করতেন এবং বলতেন, "আমি গত ত্রিশ বছর ধরে 'সিবওয়াইহ'-এর কিতাব থেকে মানুষকে ফতোয়া দিচ্ছি।" যখন 'আল-মুবররাদ'-কে এ কথা জানানো হলো, তখন তিনি বললেন: "আমি তাঁকে এটি বলতে শুনেছি।"

--------------------------------------------

(১) - আবু হাসান আলি বিন আহমদ বিন হাসান আল-হারাল্লি (মৃত্যু: ৬৩৭ হিজরি)। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মিফতাহুল বাবুল মুকফাল লি-ফাহমিল কিতাবিল মুনজাল, রিসালাতুল ইস্তিকামাহ এবং শারহু আসমায়িন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম।

(২) - মিফতাহুল বাবিল কুফল - পাণ্ডুলিপি - পৃষ্ঠা: ৩ খ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذلك أنَّ "أبا عمر" كان صاحب حديثٍ فلما علِمَ كتابَ" سيبويهِ " تفقَّهَ في الدِّينِ والحديثِ؛ إذْ كان ذلك أي كتاب " سيبويهِ " يُتَعَلَّمُ منه النظر والتفتيش " (1)

يقول " الشاطبي " في "الموافقات: " والمراد بذلك أن سيبويه وإن تكلم في " النحو" فقد نبه في كلامه على مقاصد العرب،وأنحاء

تصرفاتها في ألفاظها ومعانيها، ولم يقتصر فيه على بيان أنَّ " الفاعل " مرفوع، و" المفعول" منصوب ونحو ذلك

بل هو يبين في كل باب ما يليق به حتى إنه احتوى على " علم المعانى والبيان" ووجوه تصرفات الألفاظ والمعاني "......

" فالحاصل أنه لاغنى بالمجتهد في الشريعة عن بلوغ درجة الاجتهاد في كلام العرب بحيث يصير فهم خطابها له وصفا غير متكلف ولا متوقَّف فيه في الغالب إلَاّ بمقدار توقف الفطن لكلام اللبيب "

وإذا ماكان بلوغ درجة الاجتهاد في فقه مذاهب العربية في الإبانة عن المعانى أداة ريئسة للمتدبر بيان الكتاب والسنة يستخرج منهما أحكام الشريعة فإنَّ ذلك الأمر ليبدو أثرُه قويًا في الوقوفِ على معالم " التثقيف" للنفس الإنسانية في البيان القرآني. وتفاوت العلماء في هذا أعظم من تفاوتهم في إدراك أحكام الحلال والحرام منه.

اتقان فقه العربية من أعظم آلآت العالم في استجلاء مسالك التهذيب للأمة؛ لتقبل على أحكام الله عز وجل إقبالا مبعثه الحب والخوف والرجاء، فتكون إقامتهم في رياض الطاعة الخالدة.

والله عز وجل لم يرض من عباده أن يحتمكوا إلى كتابه الكريم وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فحسب بل أوجب عليهم التسليم والرضا

بذلك،وإلا كانوا الخارجين من حمى الإسلام والإيمان:

" فَلا وَرَبِّكَ لايُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفِسِهِم حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا " {النساء: 65}

--------------------------------------------

(1) - مجالس ثعلب: ص191 – ت: هارون - دار المعارف
আর এর কারণ এই যে, "আবু উমর" ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের একজন পণ্ডিত; অতঃপর যখন তিনি "সিবওয়াইহ"-এর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলেন, তখন তিনি দ্বীন ও হাদিস শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করলেন। কারণ সেই কিতাব অর্থাৎ "সিবওয়াইহ"-এর গ্রন্থ থেকে বিচার-বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম অনুসন্ধান পদ্ধতি শিক্ষা করা যায়। (১)

“আল-মুওয়াফাকাত” গ্রন্থে “শাতবি” বলেন: “এর উদ্দেশ্য হলো, সিবওয়াইহ যদিও ‘নাহু’ (ব্যাকরণ) নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবুও তিনি তাঁর আলোচনার মাধ্যমে আরবদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং তাদের শব্দ ও অর্থের বিচিত্র প্রয়োগরীতি সম্পর্কে সজাগ করেছেন। তিনি কেবল ‘ফায়েল’ (কর্তা) মারফু এবং ‘মাফউল’ (কর্ম) মানসুব হওয়া—এই জাতীয় বিষয়গুলো বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি;

বরং তিনি প্রতিটি অধ্যায়ে তার সাথে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন, এমনকি এটি ‘ইলমুল মাআনি’ ও ‘ইলমুল বায়ান’ (অর্থ ও অলঙ্কার শাস্ত্র) এবং শব্দ ও অর্থের প্রয়োগশৈলীর বিচিত্র রূপসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে...”

“সারকথা হলো, শরিয়তের ক্ষেত্রে একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য আরবি ভাষায় ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছানো অপরিহার্য, যাতে আরবের বাগধারা বোঝা তার জন্য এমন এক সহজাত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয় যাতে কোনো কৃত্রিমতা থাকবে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধাও থাকবে না; কেবল একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তির কথা বুঝতে যতটুকু সময় নেয়, ততটুকুই বিরতি থাকবে।”

অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার বিভিন্ন ধারা ও ব্যাকরণিক প্রজ্ঞায় ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছানো যেহেতু কিতাব ও সুন্নাহর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকারীর জন্য একটি প্রধান হাতিয়ার—যার মাধ্যমে তিনি উভয়টি থেকে শরিয়তের বিধানাবলি (أحكام) আহরণ করেন—সেহেতু কুরআনি বর্ণনায় মানবাত্মার ‘পরিশুদ্ধির’ নিদর্শনগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হয়। আর এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যবধান হালাল-হারামের বিধান (أحكام) অনুধাবনের পার্থক্যের চেয়েও অনেক বেশি।

উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধির পথগুলো স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একজন আলেমের নিকট আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপকরণ; যাতে তারা আল্লাহ তাআলার বিধানাবলির (أحكام) প্রতি ভালোবাসা, ভয় এবং আশার সাথে ধাবিত হয় এবং তাদের অবস্থান যেন হয় চিরস্থায়ী আনুগত্যের উদ্যানে।

আর মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে কেবল এটাই প্রত্যাশা করেন না যে, তারা তাঁর মহিমান্বিত কিতাব এবং তাঁর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর কাছে বিচার প্রার্থনা করবে, বরং তিনি সে ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ ও সন্তুষ্টিকেও তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন। অন্যথায় তারা ইসলাম ও ইমানের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত বলে গণ্য হবে:

“অতঃপর তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন (مؤمن) হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেবে। তারপর তুমি যে ফয়সালা করবে, সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।” {সূরা নিসা: ৬৫}

--------------------------------------------

(১) - মাজালিসু ছালাব: পৃষ্ঠা ১৯১ – সম্পাদনা: হারুন - দারুল মাআরিফ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التحريض على الجهاد في سبيل الله تعالى

 

يقول الله تعالى

 

يَأَيُّها الَّذِيَنَ آمَنُوا مَالَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الأَرْضِ أرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا متَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلا قَلِيلٌ {} إلَاّ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلا تَضُرُّوه شَيْئًا وَاللهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قّديرٌ {} إِلَاّ تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللهُ إِذْ أخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصاحِبِهِ لاتَحْزَنْ إِنَّ اللهَ معَنَا فَأَنْزَلَ اللهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ {} انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بِأَمْوالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ {}

{التوبة:38-41}

 

‌‌السِّياق

 

لهذه الآيات سياقان: سياق نزول وسياق تلاوة، ومن حسن فقه بيان القرآن الكريم أن يُعنى طالب العلم بفقه السياقين معا، فإنَّ لهما أثرًا عظيمًا في تحقيق المعنى وتحريره.

= سياق النزول:

ذكر " ابن جرير الطبرى: (1)

" عن ابن أبي جريج عن مجاهد قوله:" يأيها الذين آمنوا مالكم إذا قيل لكم انفروا في سبيل الله اثاقلتم إلى الأرض "الآية. قال: هذا حين أُمِرُوا بغزوة " تبوك " بعد " الفتح " " وحنين " وبعد " الطائف " أمرهم بالنفير في الصيف حين أخْترَفت النخيلُ، وطابت الثمار واشتهوا الظلالَ، وشقَّ عليهم المَخْرَجُ (2)
মহান আল্লাহর পথে জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণ

 

আল্লাহ তাআলা বলেন

 

হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো, যখন তোমাদের বলা হয় আল্লাহর পথে বের হও, তখন তোমরা মাটির দিকে নুয়ে পড়ো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হয়ে গেছ? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী অতি সামান্যই। তোমরা যদি অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন আর তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তোমরা যদি তাঁকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিররা তাঁকে বের করে দিয়েছিল, তিনি ছিলেন দুই জনের দ্বিতীয় জন, যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন; যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, ‘চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করেন এবং তাঁকে এমন সেনাবাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন যা তোমরা দেখনি। আর তিনি কাফিরদের কথা নিচু করে দেন এবং আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়ো হালকা কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করো; এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে।

{আত-তাওবাহ: ৩৮-৪১}

 

‌প্রেক্ষাপট (السياق)

 

এই আয়াতগুলোর দুটি প্রেক্ষাপট রয়েছে: অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (سياق نزول) এবং তিলাওয়াতের প্রেক্ষাপট (سياق تلاوة)। কুরআনুল কারীমের বর্ণনার সঠিক বোধগম্যতা (فقه)-এর একটি সৌন্দর্য হলো— ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) যেন উভয় প্রেক্ষাপটের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। কেননা অর্থ অনুধাবন ও তা সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে এ দুটির সুমহান প্রভাব রয়েছে।

= অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (سياق النزول):

ইবনে জারীর আত-তাবারী উল্লেখ করেছেন: (১)

ইবনে আবি জুরাইজ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে আল্লাহর এই বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো, যখন তোমাদের বলা হয় আল্লাহর পথে বের হও, তখন তোমরা মাটির দিকে নুয়ে পড়ো" সম্পর্কে বলেন: এটি সেই সময়ের ঘটনা যখন তাঁদেরকে 'তাবুক' যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল 'মক্কা বিজয়', 'হুনাইন' এবং 'তায়েফ' যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা। তাঁদেরকে গ্রীষ্মকালে যুদ্ধের অভিযানে বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যখন খেজুর পেকেছিল, ফল সুস্বাদু হয়েছিল এবং তাঁরা ছায়া পছন্দ করছিলেন; ফলে ঘর থেকে বের হওয়া তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছিল (২)
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وغزة " تبوك" كانت في شهر " رجب" من السنة التاسعة " وتبوك" مكان في شمال الجزيرة، وهذه الغزوة تعرف بغزوة " العسرة"؛ لما أصاب فيها المسلمين من ضيق اليد بالنفقة.

وقد أنفق " عثمان بن عفان " رضي الله عنه في هذه الغزوة نفقة عظيمة: جهز عشرة آلاف، وأنفق عشرة آلاف دينار " أي ما يعادل اثنين وأربعين ألفا وخمس مئة جرام من ذهب، وتسع مئة بعير ومئة فرس وجاء " أبو بكرالصديق" رضي الله عنه بكل ما يملك، وجاء " عمر بن الخطاب " رضي الله عنه بنصف ما يملك، وتطوع كثير من الصحابة رجالا ونساء بأموالهم، وقد بلغ عدد جيش المسلمين ثلاثين ألف مقاتل.

ــ

(1) أبو جعفر محمد بن جرير بن يزيد بن كثير الطبري (224-31.) من آثاره: تفسيره: جامع البيان، وأخبار الرسل والملوك، والقراءات.

(2) جامع البيان للطبري: ج6 / 417 ـ ط: دار الغد العربي ـ القاهرة ـ

 

وقد خلَّف النبي ـ صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم على "المدينة النبوية" عليًّا بن أبي طالب " وقال له: أنت منى بمنزلة هارون من موسى " {البخاري: فضائل أصحاب النبي} هى منزلة استخلاف ولاية موقوتة، وليس منزلة نبوة أومنزلة استخلاف ممدود

وقد كانت هذه الغزوة اختبارًا عظيما لكثير من المسلمين، فقد كانت في زمن الصيف الشديد حرُّه، وهي آخر عزوة غزاها النبي صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.وقد كان من شأنه صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم أن يورِّي حين يريد الغزو إلا في غزوة تبوك فإنه صرح للمسلمين بمقصده حتى يتموا استعدادهم.

يقول " كعب بن مالك " رضي الله عنه، فيما رواه البخاري بسنده:
তাবুক যুদ্ধ নবম হিজরি সনের রজব মাসে সংঘটিত হয়েছিল। তাবুক জাজিরাতুল আরবের উত্তরে অবস্থিত একটি স্থান। এই যুদ্ধটি 'উসরাহ' (কষ্ট) এর যুদ্ধ নামে পরিচিত; কারণ এতে মুসলিমরা ব্যয়নির্বাহের ক্ষেত্রে চরম অভাব-অনটনের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই যুদ্ধে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করেছিলেন: তিনি দশ হাজার সৈন্যের রসদ প্রস্তুত করেছিলেন এবং দশ হাজার দিনার ব্যয় করেছিলেন—যা বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশ গ্রাম স্বর্ণের সমতুল্য। এছাড়া তিনি নয়শ উট এবং একশ ঘোড়া প্রদান করেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সর্বস্ব নিয়ে এসেছিলেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সম্পদের অর্ধেক নিয়ে এসেছিলেন। অনেক সাহাবী নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় তাঁদের সম্পদ দান করেছিলেন। মুসলিম বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার যোদ্ধা।

—

(১) আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে ইয়াজিদ ইবনে কাসির আত-তবারি (২২৪-৩১০ হিজরি)। তাঁর রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: তাঁর তাফসির 'জামেউল বায়ান', 'আখবারুর রুসুল ওয়াল মুলুক' এবং 'আল-কিরাআত'।

(২) তবারির জামেউল বায়ান: খণ্ড ৬ / ৪১৭ — প্রকাশনা: দারুল গাদ আল-আরাবি — কায়রো —

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা মুনাওয়ারায় আলী ইবনে আবি তালিবকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রেখে যান এবং তাঁকে বলেন: "মুসার নিকট হারুনের যে মর্যাদা ছিল, আমার নিকট তোমার মর্যাদা তদ্রূপ।" {সহিহ বুখারি: ফাদায়িলু আসহাবিন নবী}। এটি ছিল একটি সাময়িক দায়িত্ব পালনের স্থলাভিষিক্ততা মাত্র, নবুয়ত বা দীর্ঘস্থায়ী স্থলাভিষিক্ততার পদমর্যাদা নয়।

এই যুদ্ধ ছিল অনেক মুসলিমের জন্য এক মহান পরীক্ষা; কারণ এটি ছিল প্রচণ্ড গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের সময়ে। এটিই ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) পরিচালিত শেষ যুদ্ধ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাধারণ রীতি ছিল যে, যুদ্ধের সংকল্প করলে তিনি তা ইশারায় বা ভিন্ন উপায়ে গোপন রাখতেন, তবে তাবুক যুদ্ধের ক্ষেত্রে তিনি মুসলিমদের নিকট তাঁর গন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যাতে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে।

কা'ব ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, যা ইমাম বুখারি তাঁর নিজস্ব সনদ (سند)-সহ বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قلَّما يريد غزوة يغزوها إلا وَرَّى بغيرها حتى كانت غزوة تبوكٍ، فغزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم في حرٍشديدٍ، واستقبل سفرًا بعيدًا ومفازًا، واستقبل غزو عدوٍ كثيرٍ، فجلّى للمسلمين أمرهم؛ ليتأهبوا أهبة عدوهم، وأخبرهم بوجهه الذي يريد" {البخاري: الجهاد- من أرادغزوة فورى بغيرها)

وفي هذا السبب بيان لعظيم ما كان من بعض الذين أخلدت نفوسهم إلى شيء من نعيم الدنيا، فكان منهم ما لا ينبغي أن يكون: تثاقلٌ عن الفرار إلى جنة عرضها السموات والأرض أعدت للمتقين والإخلادَ إلى الحياة الدنيا ومتاعها الزائل.

وقد كان من النبي الهادي ـ صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم عظيم التحذير من السقوط في حمأة التشاغل بنعيم الدنيا عن الآخرة:

روى " مسلم "بسنده عن عمرو بن عوف " أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال:

" … أَظُنكم سمعْتُم أنَّ " أبَا عُبَيْدَةَ " قدمَ بشَيْءٍ من " البَحْرَيْنِ"؟ فقالوا: أجلْ يارسولَ اللهِ قال:" فأبشِرُوا وأمِّلُوا مايسرُّكُمْ، فواللهِ ماالفقرَ أخشى عليكم، ولكنى أخشى عليكم أنْ تُبسطَ الدنيا عليكم كما بسطت على من كان قبلَكُم، فتنافسوها كما تنافسوها، وتهلككم كما أهلكتهم " [الزهد: ح. ر: 6/2961]

 

وهذا يبين لنا خطر ما نحن فيه، فقد أفعم حب متاع الحياة الدنيا قلوبنا وقيد حركتنا إلى الجنة، ففررنا من جنة العزة بالإسلام في الدنيا إلى هاوية الاستسلام، فنزع الله عز وعلا مهابتنا من قلوب أعدائنا،وملأ قلوبنا حبًا للحياة في رَغْدة الخَبال والفَرَقَ من الموت في سبيل الله عز وعلا.

ونزل قوله تعالى: (انفروا خفافا وثقالا) في الذين اعتذروا بالضيعة والشغل وانتشار الأمر، فأبى الله تعالى أن يعذرهم دون أن ينفروا على ما كان منهم
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা করতেন, তখন সাধারণত তা গোপন রেখে ভিন্ন কোনো ইঙ্গিত দিতেন; যতক্ষণ না তাবুক যুদ্ধ উপস্থিত হলো। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই যুদ্ধটি প্রচণ্ড গরমের সময় পরিচালনা করেছিলেন। তিনি এক সুদীর্ঘ সফর ও বন্ধুর মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার এবং এক বিশাল শত্রুবাহিনীর মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাই তিনি মুসলিমদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন, যেন তারা তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে; এবং তিনি তাদের গন্তব্যস্থল সম্পর্কেও অবহিত করলেন। {বুখারি: জিহাদ- যে যুদ্ধের ইচ্ছা করে তা গোপন রেখে ভিন্ন ইঙ্গিত দেওয়া}

এই প্রেক্ষাপটের মাঝে সেই সব ব্যক্তিদের চরম অবস্থার বর্ণনা রয়েছে যাদের অন্তর পার্থিব জগতের কিছু ভোগবিলাসের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে এমন আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল যা হওয়া সমীচীন ছিল না: যেমন—আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সমান প্রশস্ত জান্নাত, যা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে আলস্য প্রদর্শন করা এবং পার্থিব জীবন ও এর নশ্বর উপকরণের মোহে নিমগ্ন হওয়া।

হিদায়াতের পথপ্রদর্শক নবী (সা.) আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার নিয়ামত নিয়ে ব্যস্ত থাকার পঙ্কিলতায় নিপতিত হওয়া সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন:

ইমাম মুসলিম তার সনদ (سند) সহ আমর ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

" … আমি মনে করি তোমরা শুনেছ যে, আবু উবাইদাহ বাহরাইন থেকে কিছু মাল-সামান নিয়ে এসেছেন? তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: তবে সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং এমন কিছুর আশা করো যা তোমাদের আনন্দিত করবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করি না, বরং আমি তোমাদের জন্য এই আশঙ্কা করি যে, তোমাদের সামনে দুনিয়াকে প্রসারিত করে দেওয়া হবে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সামনে করা হয়েছিল। অতঃপর তোমরা তা নিয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে যেমনটি তারা করেছিল, আর তা তোমাদের ধ্বংস করে দেবে যেমনিভাবে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিল।" [জুহদ: হাদিস নং: ৬/২৯৬১]

 

এটি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়। পার্থিব জীবনের ভোগবিলাসের ভালোবাসা আমাদের অন্তরগুলোকে পূর্ণ করে ফেলেছে এবং জান্নাতের পথে আমাদের গতিকে রুদ্ধ করেছে। ফলে আমরা ইহকালে ইসলামের মাধ্যমে অর্জিত সম্মানের জান্নাত থেকে পলায়ন করে আত্মসমর্পণের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়েছি। মহান আল্লাহ আমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে আমাদের ভীতি অপসারিত করেছেন এবং আমাদের অন্তরগুলোকে ধ্বংসাত্মক সচ্ছল জীবনের মোহ এবং আল্লাহর পথে মৃত্যুর ভয়ে পূর্ণ করে দিয়েছেন।

আর মহান আল্লাহর এই বাণী: (তোমরা অভিযানে বের হও হালকা অবস্থায় কিংবা ভারী অবস্থায়) সেই সব ব্যক্তিদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যারা সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার, ব্যস্ততার ও কাজের ব্যাপ্তির ওজর পেশ করেছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের ওজর কবুল করতে অস্বীকৃতি জানান যতক্ষণ না তারা তাদের প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও অভিযানে বের হয়।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
عن " انس " قال: قرأ " ابو طلحة ": انفروا خفافا وثقالا، فقال: ما أسمع الله عذرَ واحدٍ، فخرج مجاهدًا إلى الشام حتى مات

[] [] [] [] []

سياق الترتيل:

 

جاءت هذه الآيات في سياق سورة " التوبة" وهي سورة معقودة للحث على البراءة مما لا يُرضي الله عز وجل، وممن يدعو إلى مخالفته واتباع الهوى

وهذه السورة جاءت عقب سورة الأنفال " سورة الجهاد،النازلة في شأن غزوة " بدر الكبرى " {البخاري: التفسير} وكان من السُّنة قراءة هذه السورة قبل التحام المقاتلين، فإن فيها من التحفيز والتثبيت ما فيها.

وسورة " التوبة" قد بعث بها النبي صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم " أبابكر"رضي الله عنه في الحج، وأمَرَ"عليا بن أبي طالب " رضي الله عنه أن يتلوها علىالناس {الترمزي: ح. ر"3.9.- 3.92} فكان هذا إعلامًا بليغًا بالبراءة من الكافرين والمشركين التي ينبغي أن يستمسك بها المسلمون إلى يوم الدين.

وهي سورة قد كثر فيها الحث على مجاهدة المخالفين لله عز وجل، لرسوله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، وقد كان من نصح أمير المؤمنين:" عمربن الخطاب " رضي الله عنه:" تعلموا سورة التوبة، وعلموا نساءكم سورة النور"

افتتح الله عز وعلا سياق القول في السورة بإعلان البراءة من عهد المشركين، والحثِّ على قتالهم حيث وُجدوا،وبيان أنه لايكون للمشركين عهد عند الله تعالى وعند رسوله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم وهم الذين لايرقبون في المسلمين إلَاّ (قرابة) ولا ذمة وعهدًا، فهل لنا نحن المسلمين في زماننا هذا أن نستمع إلى قول ربناجلَّ جلالُه وأن نصدقه وأن نطمئن إليه؟ فلا نفتن ونغتر بدعاوى الضالين المضلين أننا في عصر حوار الحضارات مع الإسلام لاعصر صراعها معه.
"আনাস" (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবু তালহা" (রা.) পাঠ করলেন: "তোমরা বের হও হালকা অবস্থায় এবং ভারী অবস্থায়," অতঃপর তিনি বললেন: "আমি দেখছি মহান আল্লাহ কাউকে ওজর প্রদানের অবকাশ দেননি।" ফলে তিনি মুজাহিদ হিসেবে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন।

[] [] [] [] []

তিলাওয়াতের প্রেক্ষাপট:

 

এই আয়াতগুলো সুরা "আত-তাওবা"-এর প্রেক্ষাপটে এসেছে; আর এটি এমন একটি সুরা যা মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয় এমন বিষয় থেকে এবং যারা তাঁর অবাধ্য হতে ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে আহ্বান জানায় তাদের থেকে সম্পর্কছিন্ন করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিবদ্ধ।

এই সুরাটি সুরা আনফাল বা "জিহাদের সুরা"-এর পরে এসেছে, যা "বদরুল কুবরা" যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল {বুখারি: তাফসির}। যোদ্ধাদের লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়ার আগে এই সুরা পাঠ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কারণ এতে ব্যাপক উৎসাহ প্রদান এবং অবিচল রাখার উপাদান রয়েছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) হজের সময় সুরা "আত-তাওবা" দিয়ে "আবু বকর" (রা.)-কে পাঠিয়েছিলেন এবং "আলী বিন আবি তালিব" (রা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তা মানুষের সামনে পাঠ করেন {তিরমিজি: হা. নং ৩০৯০-৩০৯২}। এটি ছিল কাফির ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্কছিন্নের এক বলিষ্ঠ ঘোষণা, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।

এটি এমন একটি সুরা যাতে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার ব্যাপারে ব্যাপক তাকিদ দেওয়া হয়েছে। আমিরুল মুমিনীন "ওমর ইবনুল খাত্তাব" (রা.)-এর নসিহত ছিল: "তোমরা নিজেরা সুরা আত-তাওবা শেখো এবং তোমাদের নারীদের সুরা আন-নূর শেখাও।"

মহান আল্লাহ এই সুরার আলোচনার ধারাটি শুরু করেছেন মুশরিকদের সাথে কৃত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা এবং তাদের যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে। সেই সাথে এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মুশরিকদের কোনো চুক্তির গুরুত্ব নেই, কারণ তারা মুসলিমদের সাথে আত্মীয়তা বা চুক্তির কোনো মর্যাদা রক্ষা করে না। অতএব, বর্তমান সময়ের মুসলিম হিসেবে আমাদের কি উচিত নয় মহান রবের বাণী শোনা, তা বিশ্বাস করা এবং তাতে আশ্বস্ত হওয়া? আমরা যেন পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারীদের এই দাবিতে প্রলুব্ধ বা প্রতারিত না হই যে, আমরা এখন ইসলামের সাথে সভ্যতার সংঘাতের যুগে নয়, বরং সভ্যতার সংলাপের যুগে বাস করছি।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وحثَّ اللهُ عزَّ وعلا وحرَّض على قتال أولئك الناكثين أيمانهم الهامّين بإخراج الرسول صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم البادئين بالعدوان، وحذر من خشيتهم ووعد بتعذيبهم بأيدي المسلمين إن أطاع المسلمون أمر ربهم تعالى، وبيَّن أنَّ المشركين لن يكونوا يوما يعمرون مساجد الله تعالى فذلك من شأن المؤمنين وحدهم، وبين أن الجهاد في سبيل الله عز وجل أجل من تعمير المسجد الحرام

وأعلنت السورة عظيم النهي عن الولاء لمن حارب الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم وإن كانوا الآباء والأبناء والإخوان والأزواج، فكيف حالنا وقد والينا من مزقوا أعراضنا وداسوا مقدستنا، ثم لايكون منا إلا الإعلان بأنا أمة السلام!!!!

 

ويؤكد الله عز وجل لنا أنه هو الناصر للإسلام في مواطن كثيرة، وذلك حين يكون المسلمون أهلا لذلك النصر بطاعتهم لله رب العالمين، فيقصُّ الله عز وعلا علينا ما كان في غزوة " حنين" علَّنَا نتخذ العبرة الهادية

ويحثنا على أن نقاتل الذين لايؤمنون بالله ولا باليوم الآخر حتى يخضعوا ويذلوا لسلطان الإسلام، ويقصُّ علينا ما يكون منهم من إفساد في الأرض ليُغْرِينا بقتالهم ومنع فسادهم في هذه الأرض التى استخلفنا فيها لنعمرها

في هذا السياق المنصوب للحث على البراءة من كل ما لايرضي ربنا جلَّ جلالة، وعلى مقاتلة كل من يدعو إلى تلك المفاسد في الأرض جاءت هاتان الآيتان، وفيهما من معانى الهدى ما فيهما وإنِّى أرى أن كلَّ مسلم وقافٍ عندهما لايكاد تقر نفسه بنوم، مادام على غير التحفز إلى ما تدعو إليه الآيتان الكريمتان، وما تُهَدِّدُ به من ليس قائما لما يُغْرَى به، ويحرَّضُ عَلَيْهِ.

آيات السورة كما ترى متناسل تاليها من أولها، فهى تجمع وحدة المقصد والمغزى إلى وحدة البيان إلى وحدة الموضوع، فتحققت فيها هذه الوحدات على نحو لايكاد يغيم فضلا عن أن يغيب.
আল্লাহ তাআলা ওই সকল অঙ্গীকার ভঙ্গকারী (الناكثين), যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লামকে বহিষ্কারের সংকল্প করেছিল এবং যারা প্রথম আগ্রাসন শুরু করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের ভয় করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যদি মুমিনরা তাদের প্রতিপালকের নির্দেশ পালন করে, তবে তাদের হাতের মাধ্যমেই তিনি ওই কাফেরদের শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মুশরিক (المشركين) গোষ্ঠী কখনো আল্লাহর মাসজিদসমূহ আবাদ করার অধিকারী হবে না, বরং এটি কেবল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد) করা মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ বা আবাদের চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

এই সূরাটি তাদের সাথে আনুগত্য বা বন্ধুত্ব (الولاء) রাখার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, এমনকি তারা যদি তাদের পিতা, সন্তান, ভাই বা স্বামীও হয়। এমতাবস্থায় আমাদের করুণ দশা লক্ষ্য করুন—আমরা তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করছি যারা আমাদের ইজ্জত-আব্রু ছিন্নভিন্ন করেছে এবং আমাদের পবিত্র স্থানগুলোকে পদদলিত করেছে, আর আমরা কেবল এই ঘোষণাই দিচ্ছি যে আমরা একটি শান্তির জাতি!!!!

 

আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট সুনিশ্চিত করেছেন যে, তিনিই অনেক স্থানে ইসলামের সাহায্যকারী (الناصر); আর তা তখনই ঘটে যখন মুসলমানরা মহান রবের আনুগত্যের মাধ্যমে সেই সাহায্যের যোগ্য হয়। তাই আল্লাহ তাআলা আমাদের সামনে 'হুনাইন' যুদ্ধের (غزوة) বিবরণ তুলে ধরেছেন যাতে আমরা সেখান থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।

তিনি আমাদের সেই সব লোকের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দিচ্ছেন যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে না, যতক্ষণ না তারা ইসলামের কর্তৃত্বের নিকট বশ্যতা স্বীকার করে ও লাঞ্ছিত হয়। তিনি আমাদের সামনে তাদের পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কাহিনী বর্ণনা করেছেন যাতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং এই পৃথিবীতে তাদের ফাসাদ বা অনিষ্টতা রোধে উৎসাহিত হই, যেখানে আল্লাহ আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন পৃথিবী আবাদ করার জন্য।

আল্লাহর অসন্তুষ্টি উদ্রেককারী সকল বিষয় থেকে সম্পর্কচ্ছেদ (البراءة) করার এবং যারা পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় (المفاسد) সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে প্রেক্ষাপট (السياق) এখানে তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই এই আয়াত দুটি অবতীর্ণ হয়েছে। এই আয়াত দুটির মধ্যে হেদায়েতের যে গভীর অর্থ নিহিত রয়েছে, তাতে আমি মনে করি—যেকোনো হকপন্থী মুসলিম এই আয়াত দুটির মর্ম অনুধাবন করলে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবে না, যতক্ষণ না সে সেই কর্মতৎপরতায় লিপ্ত হচ্ছে যার দিকে আয়াত দুটি আহ্বান করছে এবং সেই ভয়াবহতা থেকে নিজেকে রক্ষা করছে যার ব্যাপারে অবহেলাকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

সূরার আয়াতগুলো যেমনটি আপনি দেখছেন—একটি আয়াত থেকে পরবর্তী আয়াতের উৎপত্তি; এটি একইসাথে উদ্দেশ্যের ঐক্য, ভাষাশৈলীর ঐক্য এবং বিষয়ের ঐক্যকে ধারণ করেছে। এতে এই সমন্বয়গুলো এমন স্পষ্টভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে তা অস্পষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই, অনুপস্থিত হওয়া তো বহু দূরের কথা।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
......

‌‌القراءات القرآنية في الآيات

 

كان من فضل اللهِ الرَّحمنِ الرَّحيمِ على عباده أن لم ينزل كتابه على وجه واحد من وجوه الترتيل التي يستنبط منها معانى الهدى، بل جاء التنزيل بوجوه عدَّة، كما هدت إلي ذلك السنة المطهَّرة:

" عن عبد الرحمن بن عبد القَارِيَّ قال سمعت عمر بن الخطاب يقول سمعت هشام بن حكيم بن حزام يقرأ سورة "الفرقان" على غير ما أقرؤها وكان رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم أقرأنيها فكدت أن أعجل عليه ثم أمهلته حتى انصرف ثم لببته بردائه فجئت به رسول الله فقلت يا رسول الله إني سمعت هذا يقرأ سورة "الفرقان" على غير ما أقرأتنيها فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم أرسله، اقرأ، فقرأ القراءة التي سمعته يقرأ، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم هكذا أنزلت، ثم قال لي: اقرأ، فقرأت، فقال: هكذا أنزلت؛ إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف فاقرأوا ما تيسر منه"

{الشيخان: البخاري ك: فضائل القرآن:باب أنزل القرآن على سبعة أحرف،و "مسلم" ك: المسافرين ـ باب بيان أن القرآن على سبعة أحرف وبيان معناه، والنص لمسلم ح. ر:27./818}

‌‌আয়াতসমূহে কুরআনিক কিরাআতসমূহ

 

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এটি একটি বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি তাঁর কিতাবকে তিলাওয়াতের কেবল একটি রীতির ওপর অবতীর্ণ করেননি যেখান থেকে হিদায়াতের অর্থসমূহ আহরণ করা যায়; বরং অহি (التنزيل) বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি পবিত্র সুন্নাহ সেদিকে নির্দেশ করেছে:

"আবদুর রহমান ইবনে আবদিল কারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে হাকিম ইবনে হিযামকে সুরা 'আল-ফুরকান' এমন এক পদ্ধতিতে পড়তে শুনলাম যা আমি যেভাবে পড়ি তার থেকে ভিন্ন ছিল। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে এটি শিখিয়েছিলেন। আমি প্রায় তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম, কিন্তু আমি তাকে অবকাশ দিলাম যতক্ষণ না সে নামাজ শেষ করল। এরপর আমি তাকে তার চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে পাকড়াও করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট নিয়ে আসলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একে সুরা 'আল-ফুরকান' এমনভাবে পড়তে শুনেছি যা আপনি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন তার থেকে ভিন্ন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও; পড়ো। সে সেই পদ্ধতিতেই তিলাওয়াত করল যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন, পড়ো। আমি পড়লাম। তখন তিনি বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তা থেকে যা সহজ হয় সেভাবে পাঠ করো।"

{শাইখাইন: বুখারি, কিতাব: ফাদাইলুল কুরআন, পরিচ্ছেদ: কুরআন সাত পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হওয়া; এবং মুসলিম, কিতাব: মুসাফিরিন — পরিচ্ছেদ: কুরআন সাত পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হওয়া ও তার অর্থ বর্ণনা প্রসঙ্গে, এবং পাঠটি মুসলিমের, হাদিস নম্বর: ২৭/৮১৮}
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وفي الباب نفسه روى مسلم بسنده عن مجاهد عن ابن أبي ليلى عن أبي بن كعب أن النبي صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم كان عند أضاة بني غفار قال: فأتاه جبريل عليه السلام، فقال: إن الله يأمرك أن تقرأ أمتك القرآن على حرف، فقال: أسأل الله معافاته ومغفرته وإن أمتي لا تطيق ذلك ثم أتاه الثانية، فقال: إن الله يأمرك أن تقرأ أمتك القرآن على حرفين، فقال: أسأل الله معافاته ومغفرته وإن أمتي لا تطيق ذلك، ثم جاءه الثالثة، فقال: إن الله يأمرك أن تقرأ أمتك القرآن على ثلاثة أحرف، فقال: أسأل الله معافاته ومغفرته وإن أمتي لا تطيق ذلك ثم جاءه الرابعة، فقال: إن الله يأمرك أن تقرأ أمتك القرآن على سبعة أحرف، فأيما حرف قرأوا عليه فقد أصابوا {ح. ر:274/821}

في الرواية الثانية بيان أن هذه القراءات تحمل فيضًا من رحمة التخفيف على هذه الأمة، وهو تخفيف غير مقصور على الأداء والتلاوة،وإن كان هذا أظهرها بل هو تخفيف في التكليف القائم من معانى الهدى المستنبطة من تلك القراءات فمن قرأ بحرف واستنبط منه معانى الهدى استنباطًا صحيحًا على وفق الأصول العلمية للاستنباط، فقد أصاب فكلها كافٍ شافٍ والحمد لله رب العالمين.

يقول " الزركشي" (1) عن معرفة توجيه القراءات وتبيين وجه ما ذهب إليه كل قارىء:"هو فن جليل وبه تعرف جلالة المعانى وجزالتها وقد اعتنى الأئمة به وأفردوا فيه كتبا......

وفائدته … أن يكون دليلا على حسب المدلول عليه او مرجحا (2) ـ

من هذا يتبين لك أن الوقوف على ماجاء في هذه الآيات من قراءات هو من باب العلم النافع، والدراسة العربية تحتفى بمثل هذا،فكثرة القراءات في الآية فيه من فيوض المعانى مايعين العباد على أن يقوموا في رياض الطاعة، وأن تفتح أمامهم سبل القرب من خالقهم وليس كمثل التيسير المحكم بأصول العلم على العباد كَيْمَا لاتنفر نفس عن رحاب الطاعة.

{} {} {}
একই অধ্যায়ে মুসলিম তাঁর সনদের (بسنده) মাধ্যমে মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম বনু গিফারের জলাধারের নিকট অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট এসে বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মত একটি উপভাষায় (حرف) কুরআন পাঠ করে।" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না।" অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মত দুটি উপভাষায় (حرفين) কুরআন পাঠ করে।" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না।" এরপর তিনি তৃতীয়বার আসলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মত তিনটি উপভাষায় (ثلاثة أحرف) কুরআন পাঠ করে।" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর নিশ্চয়ই আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না।" অতঃপর তিনি চতুর্থবার আসলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মত সাতটি উপভাষায় (سبعة أحرف) কুরআন পাঠ করে। সুতরাং তারা এর যে কোনো পদ্ধতিতেই তিলাওয়াত করুক না কেন, তারা সঠিকতা অর্জন করবে (أصابوا)।" {হা. র: ২৭৪/৮২১}

দ্বিতীয় বর্ণনায় (الرواية) এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, এই কিরাতসমূহ এই উম্মতের জন্য সহজীকরণের রহমতের এক প্রাচুর্য বহন করে। এটি এমন এক সহজীকরণ যা কেবল তিলাওয়াত ও শব্দ চয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—যদিও এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট দিক—বরং এটি ওই কিরাতসমূহ থেকে উৎসারিত হিদায়াতের অর্থসমূহের ভিত্তিতে অর্পিত বিধানের (তাকলিফ) ক্ষেত্রেও একটি সহজীকরণ। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো একটি পদ্ধতিতে (حرف) পাঠ করল এবং সেখান থেকে ইস্তিম্বাতের (উদ্ঘাটন) বৈজ্ঞানিক মূলনীতি অনুযায়ী সঠিকভাবে হিদায়াতের মর্মার্থ উদ্ঘাটন করল, সে সঠিকতা অর্জন করল (أصاب)। কেননা এর প্রতিটিই যথেষ্ট ও নিরাময়স্বরূপ। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

যুরকানী (১) কিরাতসমূহের বিশ্লেষণ (توجيه القراءات) এবং প্রত্যেক ক্বারীর অনুসৃত পদ্ধতির স্বরূপ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: "এটি একটি মহিমান্বিত শাস্ত্র, যার মাধ্যমে অর্থসমূহের গাম্ভীর্য ও প্রাঞ্জলতা অনুধাবন করা যায়। ইমামগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন..."

আর এর উপকারিতা হলো … নির্দেশিত বিষয়ের সপক্ষে দলিল হওয়া অথবা অগ্রাধিকার প্রদানকারী (مرجحا) হিসেবে গণ্য হওয়া। (২)—

এ থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয় যে, এই আয়াতসমূহে বর্ণিত কিরাতসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া 'ইলমে নাফে' বা উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত। আরবি ভাষা চর্চায় এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়। কেননা কোনো আয়াতের কিরাতের আধিক্যের মধ্যে এমন অর্থগত প্রাচুর্য নিহিত থাকে যা বান্দাদের আনুগত্যের উদ্যানে বিচরণ করতে সহায়তা করে এবং তাদের জন্য স্রষ্টার নৈকট্য লাভের পথসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়। ইলমের মূলনীতি দ্বারা সুসংহত এই সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই, যাতে কোনো প্রাণই আনুগত্যের আঙিনা থেকে বিমুখ না হয়।

{} {} {}
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
اختاف القراء العشرة في هذه الآيات التى بين يديك في كلمة واحدة هي قوله تعالى (وكلمة الله هي العليا) قرأ العشرة خلا " يعقوب" برفع (كلمة) على (الاستئناف)

وقرأ يعقوب وحده من العشرة بنصب (كل) (3)

--------------------------------------------

(1) الزركشي: بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي الشافعي {745- 794هـ} من تراثه: البحر المحيط في أصول الفقه [ط] ، وإعلام الساجد بأحكام المساجد [ط] ،والإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة [ط] والبرهان في علوم القرآن.

(2) البرهان في علوم القرآن: ج1:ص339ـ ت: محمد ابو الفضل ـ دار المعرفة بيروت ـ

(3) المبسوط في القراءات العشر، لابن مهران: ص 194 ـ ت: سبيع حاكمي ـ ط دار القبلة ـ جدة، والنشر في القراءات العشر ـ لبن الجزري ـج2ص279ـ دار الكتب العلمية ـ بيروت
আপনার সম্মুখে বিদ্যমান এই আয়াতসমূহে দশজন কারী (القراء العشرة) একটি মাত্র শব্দের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য করেছেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আল্লাহর বাণীই হলো সুউচ্চ"। ইয়াকুব ব্যতীত দশজন কারীই 'কালিমা' (كلمة) শব্দটিকে প্রারম্ভিকতা (الاستئناف) হিসেবে পেশ (الرفع) যোগে পাঠ করেছেন।

এবং দশজন কারীর মধ্যে একমাত্র ইয়াকুব উক্ত শব্দটিকে জবর (النصب) যোগে পাঠ করেছেন (৩)

--------------------------------------------

(১) যারকাশী: বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বাহাদুর আল-যারকাশী আশ-শাফিঈ {৭৪৫- ৭৯৪ হিজরি}। তাঁর জ্ঞানগর্ভ ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল-বাহরুল মুহিত ফি উসুলিল ফিকহ [মুদ্রিত], ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ [মুদ্রিত], আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ [মুদ্রিত] এবং আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন।

(২) আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৯; সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবুল ফজল; দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত।

(৩) আল-মাবসুত ফিল কিরাআতিল আশর, ইবনে মিহরান: পৃষ্ঠা ১৯৪; সম্পাদনা: সুবাই হাকিমি; দারুল কিবলাহ, জেদ্দা; এবং আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশর, ইবনুল জাজারি: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৯; দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأهل العلم بكتاب الله على أنَّه لايجوز ردُّ قراءة متواترة،وإن بَدَا أنَّ غيرها أظهر في العربية وأشيع، فليس معيار القبول الرد، والترجيح بين القراءات إلَاّ درجة وثاقة السند إلى رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم

 

يقول ابن الحزري (4) :

 

" كلُّ قراءةٍ وافقت العربيةَ ولو بوجه ووافقت أحد المصاحف العثمانية ولو احتمالا، وصَحَّ سندها فهي القراءة الصحيحة التى لايجوز ردها ولا يحل إنكارها بل هي من الأحرف السبعة التى نزل بها القرآن ووجب على الناس قبولها سواء كانت عن الأئمة السبعة ام العشرة ام عن غيرهم من الأئمة المقبولين … " (5)

 

فانظر كيف أن " ابن الجزري " في الشرط الأول قال: (ولو بوجه) ومن البين أن مذاهب العرب في بيانها متسعة لايحاط بها كما قرره " الشافعي " في " الرسالة"وانظر ما قاله في الشرط الثانى (ولو احتمالا) فاتسعت الدائرة، لكنه في الشرط الثالث (صحة السند) لم يذكر شيئا من ذلك مما يؤكد وجوب صحة السند.وانظر قوله (فهي القرءة الصحيحة) بتعريف الطرفين الدال على التخصيص الحصري، فكان مآل الأمر أن الشرط الأعلى من هذه الثلاثة إنما هو الشرط الثالث (صحة السند عن رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم)

ولهذا " قال الشيخ أبو محمد إبراهيم بن عمر الجعبري (6) :

--------------------------------------------

(4) الحافظ أبو الخير محمدبن محمد بن محمد بن على بن يوسف الجزري (751- 833) من آثاره: النشر في القراءات العشر، ومنجد المقرئين ونهاية الدرايات في أسماء رجال القراءات، والحصن الحصين من كلام سيد المرسلين، والجوهرة في النحو.

(5) النشرفي القراءات العشر: 1/9 - دار الكتب العلمية ـ بيروت (د. ت)

(6) برهان الدين إبراهيم بن عمر بن إبراهيم الجعبري (ت:732) من آثاره: كنز المعانى شرح الشاطبية في القراءات، وروضة الطرائف في رسم المصاحف، وعقود الجمان.
আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে, কোনো মুতাওয়াতির (متواترة) কিরাআত প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, যদিও অন্য কোনোটি আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী অধিকতর সুস্পষ্ট ও প্রচলিত মনে হয়। কেননা কিরাআত গ্রহণ ও বর্জনের মানদণ্ড এবং কিরাআতসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ভিত্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত সনদের (سند) নির্ভরযোগ্যতার (وثاقة) স্তর ছাড়া অন্য কিছু নয়।

 

ইবনুল জাযারি (৪) বলেন:

 

"প্রত্যেকটি কিরাআত যা কোনো একভাবেও আরবি ব্যাকরণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, উসমানি মুসহাফসমূহের কোনো একটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—যদিও তা সম্ভাব্য হয়—এবং তার সনদ (سند) সহিহ (صحيحة) হয়, তবে সেটিই সহিহ (صحيحة) কিরাআত যা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয় এবং তা অস্বীকার করা জায়েজ নয়। বরং তা সেই 'সাবউ আহরুফ' বা সাত হরফের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা গ্রহণ করা মানুষের জন্য আবশ্যক; চাই তা সাত ইমাম থেকে বর্ণিত হোক, দশ ইমাম থেকে হোক অথবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ইমাম থেকে বর্ণিত হোক..." (৫)

 

সুতরাং লক্ষ্য করুন, ইবনুল জাযারি প্রথম শর্তে কীভাবে বলেছেন: (যদিও কোনো একভাবে হয়)। এটা স্পষ্ট যে, আরবদের প্রকাশভঙ্গি ও ভাষাশৈলীর রীতিসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক যা পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়, যেমনটি ইমাম শাফেয়ি 'আর-রিসালা' গ্রন্থে স্থির করেছেন। আর দ্বিতীয় শর্তে তিনি যা বলেছেন তা দেখুন (যদিও সম্ভাব্য হয়), যার ফলে পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় শর্তে অর্থাৎ সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند) প্রসঙ্গে তিনি এরুপ শিথিল কোনো কিছু উল্লেখ করেননি, যা সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند) বজায় রাখার অপরিহার্যতাকেই নিশ্চিত করে। আর তাঁর বক্তব্য (সেটিই সহিহ কিরাআত) লক্ষ্য করুন; যেখানে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়কে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে কেবল এটিকেই নির্দেশ করা হয়েছে। ফলে সারকথা এই দাঁড়ালো যে, এই তিনটি শর্তের মধ্যে সর্বোচ্চ শর্তটি হলো তৃতীয় শর্ত অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند)।

এজন্যই শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবরাহিম ইবনে উমর আল-জা’বারি (৬) বলেছেন:

--------------------------------------------

(৪) আল-হাফিজ আবু আল-খায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-জাযারি (৭৫১-৮৩৩ হিজরি)। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর, মুনজিদুল মুকরিঈন ওয়া নিহায়াতুদ দিরায়াত ফি আসমা ই রিজালিল কিরাআত, আল-হিসনুল হাসিন মিন কালামি সাইয়্যিদিল মুরসালিন এবং আল-জাওহিরাতু ফিন নাহু।

(৫) আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর: ১/৯ - দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।

(৬) বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে ইবরাহিম আল-জা’বারি (মৃত্যু: ৭৩২ হিজরি)। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: কানজুল মাআনি শারহুশ শাতিবিয়্যাহ ফিল কিরাআত, রওদাতুত তারায়েফ ফি রাসমিল মাসাহিফ এবং উকুদুল জুমান।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
" أقول: الشرط واحد وهو صحة النقل، ويلزم الآخران، فهذا ضابط يُعَرِّف ماهو من الأحرف السبعة وغيرها، فمن أحكم معرفة حال النقلة وأمعن في العربية وأتقن الرسم انحلت له هذه الشبهة) (7)

وهذا منه دقيق، فإنه متى صحَّت نسبة النقل عن النبي صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم فلن يثبت عنه إلا ما هو الصحيح العالي بل العَلِيّ في لسان العربية، وما خالفه بالتضاد لاالتبيان لن يكون العالى فضلا عن العلى ومتى صح النقل فإن ما جاء من رسم المصاحف لن يخرج عما صح سنده، إيمانا بأن هذا الرسم لم يك بالتشهي، بل هو علم ذو ضوابط يعقلها أهل العلم بالرسم القرآني، وهي ضوابط تتسع لكل ما صح نقله عن رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم

 

المرجع في هذا ـ إذن ـ صحة النقل وهذا من" الجعبري ثمرة فقه ماجد،فإن قوله (ويلزم الآخران) كلمة عالم فاقه، فافهم

 

وإذا ما تحققت عند صحة النقل، فاجعل ما جاء بهذا في درجة سواء، من غير ترجيح بتفضيل وإعلاء بعضٍ على بعض، وإن كان بعض القراءات أشد ظهورًا في المعنى من الأخرى، وهذا التفاوت في الظهور إنما هو نسبي، فما يكون ظاهرًا لك قد يكون غير ذلك عند غيرك، ولهذا لا أعُدُّ هذا ضربًا من الترجيح والتفضيل، بل مَرَدُّهُ عندي إلى فاعله وقائله لا إلى القراءة القرآنية نفسها.

يقول " بدر الدين الزركشي": " ينبغى التنبيه على شىء وهو أنه قد ترجح إحدى القراءتين على الأخرى ترجيحا يكاد يسقط القراءة الأخرى وهذا غير مرضى لأن كلتيهما متواترة

وقد حكى أبو عمر الزاهد (8) فى كتاب اليواقيت عن ثعلب (9) أنه قال إذا اختلف الإعراب فى القرآن عن السبعة لم أفضل إعرابا على إعراب فى القرآن فإذا خرجت إلى الكلام كلام الناس فضلت الأقوى وهو حسن

--------------------------------------------

(7) النشر: 1/ 13

(8) هو أبو عمر محمد بن عبد الواحد بن أبي هاشم المعروف بغلام ثعلب (ت: 345هـ

(9) أبو العباس أحمد بن يحيي بن يسار الشيباني (2..- 291) من آثاره: إعراب القرآن، والفصيح، وحد النحو، واختلاف النحويين.
আমি বলি: শর্ত কেবল একটি, আর তা হলো বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة النقل), আর বাকি দু’টি এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি এমন একটি মানদণ্ড (ضابط) যা সাব’আ আহরুফ ও অন্যান্য বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি বর্ণনাকারীদের (النقلة) অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করবে, আরবি ভাষার গভীরে প্রবেশ করবে এবং লিখনরীতিতে পারদর্শিতা অর্জন করবে, তার কাছে এই সংশয় নিরসন হয়ে যাবে। (৭)

এটি তার একটি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ। কেননা, যখনই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনার সম্বন্ধ বিশুদ্ধ (صحة) বলে প্রমাণিত হবে, তখন তার থেকে কেবল তা-ই প্রমাণিত হবে যা আরবি ভাষায় বিশুদ্ধ (الصحيح) ও উচ্চাঙ্গের, বরং সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন। আর যা এর বিরোধী—ব্যাখ্যামূলক নয় বরং বৈপরীত্যপূর্ণ—তা উচ্চাঙ্গের তো হবেই না, বরং সর্বোচ্চ স্তরের হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর যখন বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (صح) হবে, তখন মাসহাফসমূহের লিখনরীতি এমন কিছু থেকে বিচ্যুত হবে না যার সূত্র বা সনদ (سنده) বিশুদ্ধ (صح)। এটি এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে, এই লিখনরীতি কেবল খেয়ালখুশি মাফিক হয়নি; বরং এটি এমন এক ইলম বা জ্ঞান যার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে যা কুরআনুল কারিমের লিখনরীতি বিশেষজ্ঞরা অনুধাবন করেন। এই নীতিমালাগুলো এমন ব্যাপক যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিশুদ্ধ (صح) বর্ণনার জন্য প্রযোজ্য।

 

সুতরাং এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة النقل)। আল-জাবারির এই উক্তিটি মূলত প্রজ্ঞাপূর্ণ বুঝের বহিঃপ্রকাশ; কেননা তাঁর বক্তব্য "বাকি দু’টি অপরিহার্যভাবে যুক্ত" এটি একজন অভিজ্ঞ প্রাজ্ঞ আলিমের কথা। সুতরাং বিষয়টি উপলব্ধি করো।

 

আর যখন বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة النقل) তোমার কাছে নিশ্চিত হয়ে যাবে, তখন এই পন্থায় বর্ণিত বিষয়গুলোকে সমান মর্যাদায় স্থান দাও; কোনো একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) ছাড়াই। যদিও কিছু ক্বিরাআত অর্থের দিক থেকে অন্যগুলোর চেয়ে অধিক স্পষ্ট হতে পারে, তবে স্পষ্টতার এই পার্থক্য আপেক্ষিক। যা তোমার কাছে স্পষ্ট, অন্যের কাছে তা অন্যরকম হতে পারে। এ কারণে আমি একে প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) বা শ্রেষ্ঠত্ব দানের অন্তর্ভুক্ত মনে করি না; বরং আমার মতে এর সম্পর্ক বর্ণনাকারী বা বক্তার সাথে, স্বয়ং কুরআনের ক্বিরাআতের সাথে নয়।

বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি বলেন: "একটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক করা প্রয়োজন, আর তা হলো—কখনো কখনো দুই ক্বিরাআতের একটিকে অন্যটির ওপর এমনভাবে প্রাধান্য (ترجح) দেয়া হয় যা অন্য ক্বিরাআতটিকে প্রায় বাতিল করে দেয়; এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ উভয় ক্বিরাআতই মুতাওয়াতির (متواترة)।"

আবু আমর আজ-জাহিদ (৮) 'আল-ইয়াওয়াকিত' গ্রন্থে সা'লাব (৯) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যখন সাব’আ ক্বিরাআতের কারিদের থেকে কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, তখন আমি কুরআনের ক্ষেত্রে একটি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেই না। তবে যখন সাধারণ মানুষের কথোপকথনের বিষয়টি আসে, তখন আমি অধিক শক্তিশালীটিকে প্রাধান্য দেই।" আর এটি একটি উত্তম (حسن) অভিমত।

--------------------------------------------

(৭) আন-নাশর: ১/১৩

(৮) তিনি হলেন আবু আমর মুহাম্মদ ইবনুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাশিম, যিনি 'গুলামু সা'লাব' নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩৪৫ হিজরি)।

(৯) আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াসার আশ-শাইবানি (২০০-২৯১ হিজরি)। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ই'রাবুল কুরআন, আল-ফাসিহ, হাদ্দুন নাহউ এবং ইখতিলাফুন নাহউয়িয়্যিন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال أبو جعفر النحاس (1.) وقد حكى اختلافهم فى ترجيح:"فك رقبة" {البلد: 13} بالمصدرية والفعلية،فقال:والديانة تحظر الطعن على القراءة التى قرأ بها الجماعة ولا يجوز أن تكون مأخوذة إلا عن النبى صلى الله عليه وسلم وقد قال أنزل القرآن على سبعة أحرف فهما قراءتان حسنتان لا يجوز أن تقدم إحداهما على الأخرى

وقال فى سورة " المزمل ": السلامة عند أهل الدين أنه إذا صحت القراءتان عن الجماعة ألا يقال أحدهما أجود؛ لأنهما جميعا عن النبى صلى الله عليه وسلم فيأثم من قال ذلك وكان رؤساء الصحابة رضى الله عنهم ينكرون مثل هذا.

 

وقال الشيخ شهاب الدين أبو شامة رحمه الله (11) : قد أكثر المصنفون فى القراءات والتفاسير من الترجيح بين قراءة:" ملك " و" مالك " حتى إن بعضهم يبالغ إلى حد يكاد يسقط وجه القراءة الأخرى وليس هذا بمحمود بعد ثبوت القِراءَ تَيْن واتصاف الرب تعالى بهما ثم قال حتى إنى أصلى بهذه فى ركعة وبهذه فى ركعة

وقال صاحب التحرير (12) وقد ذكر التوجيه فى قراءة: " وَعَدْنا " و " وَاعَدْنَا " {البقرة: 51} لا وجه للترجيح بين بعض القراءات السبع وبعض فى مشهور كتب الأئمة من المفسرين والقراء والنحويين وليس ذلك راجعا إلى الطريق حتى يأتى هذا القول بل مرجعه بكثرة الاستعمال فى اللغة والقرآن أو ظهور المعنى بالنسبة إلى ذلك المقام

--------------------------------------------

(1.) أبو جعفر أحمد بن محمد بن إسماعيل بن المرادي المعروف بالنحتس، وبالصفارأوابن الصفار (ت:338) من آثاره: العالم والمتعلم في معانى القرآن،والمقنع في النحو،وصناعة الكُتَّاب،ومعانى الشعر،واختصار تهذيب الآثار للطبري، وشرح ديوان الحماسة

(11) عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم المعروف بابي شامة (ت:665هـ) من آثاره: شرح الشاطبية، والذيل على الروضتين

(12) أبوعبد الله الجمال محمد بن سليمان البلخي الحنفي المعروف بابن النقيب (611-698هـ) من آثاره تفسيره:" التحرير والتحبير لأقوال أثمة التفسير.." وهو الذي أشار إليه الزركشي، وقد نشر مقدمته محققة الصديق اد: زكريا سعيد.
আবু জাফর আন-নাহহাস (১.) বলেছেন—যিনি "ফাক্কু রকাবাহ" {আল-বালাদ: ১৩} বাক্যটিকে মাসদার (ক্রিয়ামূল) এবং ক্রিয়াপদ হিসেবে পড়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: "দ্বীনদারি এই বিষয়ে বাধা প্রদান করে যে, সেই পঠনরীতির (ক্বিরাআত) নিন্দা করা হবে যার মাধ্যমে একদল আলিম পাঠ করেছেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। অথচ তিনি বলেছেন যে, কুরআন সাতটি হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব এই উভয়টিই সুন্দর (حسن) পঠনরীতি, যার একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া বৈধ নয়।"

তিনি সূরা "আল-মুয্যাম্মিল"-এ বলেছেন: "ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের নিকট নিরাপদ পন্থা হলো, যখন সাধারণ পঠনরীতি থেকে উভয় পঠনরীতিই বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়, তখন যেন না বলা হয় যে একটি অন্যটির চেয়ে বেশি উত্তম। কেননা উভয়টিই নবী (সালلاًল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। সুতরাং যে ব্যক্তি এমনটি বলবে সে গুনাহগার হবে। সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নেতৃবৃন্দ এই ধরণের আচরণের প্রতিবাদ করতেন।"

 

শাইখ শিহাবুদ্দীন আবু শামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) (১১) বলেছেন: "ক্বিরাআত ও তাফসীর বিষয়ক গ্রন্থকারগণ 'মালিক' ও 'মালিক' পঠনরীতির মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক অতিরঞ্জন করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ এই বিষয়ে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যে, অপর পঠনরীতিটির গ্রহণযোগ্যতাকেই যেন বিলুপ্ত করে দিতে চান। উভয় পঠনরীতি প্রমাণিত (ثبوت) হওয়ার পর এবং মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা উভয় গুণের অধিকারী হওয়ার পর এমনটি করা প্রশংসনীয় নয়।" এরপর তিনি বলেন, "এমনকি আমি এক রাকাতে এই রীতিতে এবং অন্য রাকাতে অন্য রীতিতে নামাজ আদায় করি।"

আত-তাহরীর গ্রন্থের লেখক (১২) "ওয়াআদনা" এবং "ওয়া-আদনা" {আল-বাকারা: ৫১} পঠনরীতির বিশ্লেষণ প্রদানকালে বলেছেন: "মুফাসসির, কারী এবং বৈয়াকরণ ইমামগণের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে সাবআ কিরাআতের (সাতটি পঠনরীতি) এক পঠনরীতির ওপর অন্য পঠনরীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আর এই বিষয়টি সূত্রের (الطريق) সাথে সম্পৃক্ত নয় যে এই কথাটি উত্থাপিত হবে, বরং এর ভিত্তি হলো ভাষা ও কুরআনে এর অধিক ব্যবহার অথবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র অনুযায়ী অর্থের সুস্পষ্টতা।"

--------------------------------------------

(১.) আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-মুরাদী, যিনি আন-নাহহাস এবং আস-সাফফার বা ইবনুল সাফফার (মৃ. ৩৩৮) নামে পরিচিত। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: আল-আলিম ওয়াল-মুতাআল্লিম ফি মাআনিল কুরআন, আল-মুকনি ফিন নাহউ, সিনাআতুল কিতাব, মাআনিল শির, তাবারির তাহযিবুল আসার-এর সংক্ষিপ্তসার এবং শরহু দিওয়ানিল হামাসাহ।

(১১) আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম, যিনি আবু শামাহ (মৃ. ৬৬৫ হি.) নামে পরিচিত। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: শরহুশ শাতিবিয়্যাহ এবং আয-যাইল আলা রওদাতাইন।

(১২) আবু আব্দুল্লাহ আল-জামাল মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বালখি আল-হানাফি, যিনি ইবনুন নাকিব (৬১১-৬৯৮ হি.) নামে পরিচিত। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে তাঁর তাফসীর গ্রন্থ: "আত-তাহরীর ওয়াত-তাহবীর লি-আওয়ালিল আইম্মাতিত তাফসীর..."। আল-যারকাশি এটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং এর ভূমিকাটি আশ-সিদ্দিক ড. যাকারিয়া সাঈদ সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وحاصله أن القارىء يختار رواية هذه القراءة على رواية غيرها أو نحو ذلك وقد تجرأ بعضهم على قراءة الجمهور فى: " فنادته الملائكة " {آل عمران: 39} فقال أكره " التأنيث " لما فيه من موافقة دعوى الجاهلية فى زعمها أن الملائكة إناث وكذلك كره بعضهم قراءة من قرأ بغير تاء لأن الملائكة جمع وهذا كله ليس بجيد والقراءتان متواترتان فلا ينبغى أن ترد إحداهما البتة وفى قراءة عبد الله:" فناداه جبريل " [اي في الآية نفسها] ما يؤيد أن الملائكة مراد به الواحد " (13)

فالتحقيق كما ترى أن القراءات التى صح نقلها عن رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم سواء، فلا يغرنك ما يتصايح به بعض الناس في هذا فهو من التخليط الذي لايؤبه بمثله

والنظر في القراءات القرآنية وتوجيهها واستنباط معانى الهدى منها هو من أصول الدراسة العربية المحكمة لكتاب ربنا عز وعلا، وليس من النصح له في دراساتنا الاقتصار على ما جاء في رواية حفص عن عاصم، فهذا وجه من وجوه الآداء لايليق بنا أن نعرض عن غيره من الوجوه التى صح نقلها عن رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم.

وسوف يأتيك بيان توجيه قراءة " يعقوب" لقوله تعالى (وكلمةُ الله هي العليا) بنصب (كلمة) في مبحث الوجوه الإعرابية، وفي مبحث السمات البلاغية وفقه المعنى إن شاء الله رب العالمين.

 

ــ

(13) البرهان في علوم القرآن (م. س) 1/339
এর সারমর্ম হলো, ক্বারী অন্য কোনো বর্ণনার (رواية) পরিবর্তে এই ক্বিরাআত বা তার অনুরূপ কোনো বর্ণনাকে (رواية) বেছে নেন। কেউ কেউ সূরা আল-ইমরানের ৩৯ নম্বর আয়াতে জুমহুর ক্বিরাআত "ফানাদাতহুল মালাইকা" (অতঃপর ফেরেশতারা তাকে আহ্বান করল) এর ক্ষেত্রে দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এখানে "স্ত্রীলিঙ্গ রূপ" (التأنيث) ব্যবহার করাকে অপছন্দ করি, কারণ এতে জাহেলি যুগের সেই দাবির সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যায় যে ফেরেশতারা নারী। একইভাবে, কেউ কেউ সেই ক্বিরাআতকেও অপছন্দ করেছেন যেখানে 'তা' (ت) ব্যতীত পাঠ করা হয়েছে, কারণ ফেরেশতা হলো বহুবচন। এই সব মন্তব্যই যথাযথ নয়। উভয় ক্বিরাআতই মুতাওয়াতির (متواترتان), তাই এগুলোর কোনোটিকেই কোনোভাবে প্রত্যাখ্যান করা সমীচীন নয়। আর আব্দুল্লাহর ক্বিরাআতে (অর্থাৎ এই আয়াতেই) "ফানাদাহু জিবরীল" (অতঃপর জিবরীল তাকে আহ্বান করলেন) শব্দগুলো রয়েছে, যা সমর্থন করে যে এখানে ফেরেশতা দ্বারা একজনকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (১৩)

সুতরাং প্রকৃত বিষয়টি আপনার নিকট স্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যে সকল ক্বিরাআত সহীহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তা সবই সমান পর্যায়ের। সুতরাং এই বিষয়ে কতিপয় মানুষের হট্টগোল আপনাকে যেন বিভ্রান্ত না করে; কারণ এটি এক প্রকার বিশৃঙ্খলা, যা কোনোভাবেই গ্রাহ্য নয়।

কুরআনুল কারীমের ক্বিরাআতসমূহ নিয়ে গবেষণা করা, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান এবং সেখান থেকে হিদায়াতের মর্মার্থ উদ্ঘাটন করা আমাদের মহান রবের কিতাব সম্পর্কে সুদৃঢ় আরবী জ্ঞানচর্চার অন্যতম মূল ভিত্তি। আমাদের গবেষণায় কেবল আসিমের সূত্রে হাফসের বর্ণনার (رواية) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা কুরআনের প্রতি নিষ্ঠার পরিচায়ক নয়। এটি পাঠরীতির বহু পদ্ধতির একটি পদ্ধতি মাত্র, তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যে সকল পদ্ধতি সহীহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয়।

মহান আল্লাহ তাআলার বাণী "ওয়া কালিমাতুল্লাহি হিয়াল উলিয়া" (এবং আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ)-এর ক্ষেত্রে 'কালিমা' শব্দটিকে নসব (যবর) দিয়ে ইয়াকুবের ক্বিরাআতের ব্যাখ্যার বিবরণ ইনশাআল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, অলঙ্কারশাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং অর্থের নিগূঢ় রহস্য পরিচ্ছেদে আপনার সম্মুখে উপস্থাপিত হবে।

 

--

(১৩) আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন (পূর্বোক্ত সূত্র) ১/৩৩৯
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المفردة القرآنية

 

جاء البيان القرآني الكريم بكلماته الإفرادية من مَعْدِن ما كان في لسان العرب في زمن نزول الوحي: صورة ومدلولا ودلالة، لم يسقط عليهم مفردات لم تكن آذانهم قد سمعتها، ولم تكن ألسنتهم قد نطقتها، وإلا لقالوا ماهذا بلساننا، فأنَّى لنا أن نفهم عنه؟ وقد قال الله عز وجل عنه إنه بلسان عربي مبين: {وَإِنَّه لَتَنْزِيلُ رَبَّ الْعَالَمِينَ * نَزَلَ بِهِ الرُّوح الأمينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِن المُنْذِرينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} (الشعراء)

{وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَاّ بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} (إبراهيم)

وما جاء به القرآن الكريم من مدلولات إسلامية لبعض مفرداته، كالصلاة والزكاة إنَّما نَسَلَها من المدلولات التى كانت ساكنة ألسنتهم في أشعارهم وخطبهم وخطابهم

وهذا يقتضي كلَّ قائم إلى النظر في بيان القرآن الكريم عن معانى الهدى فيه إلى الصراط المستقيم أن يقوم أولا إلى النظر في مفردات الآيات التى هو قائم إلى رياض معانيها، فينظر في صورها ومدلولتها في لسان العربية وطريق دلالتها على تلك المدلولات ليتخذ من ذلك زادًا كريما في سفره المديد في البيان القرآني العليِّ المعجز

وهذا ما أسعى إلى أن أغريك بشيء منه علَّك تذوق فتعرف، ومن ذاق فعرف لزم وعكف،وأبى إلا أن يرابط،وأن يتخلق بذلك النداء الربانى في ذروة المعنى القرآني في سورة الاصطفاء: سورة " آل عمران "

{يَأَ يُّها الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَبِطُوا واتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}

ومن قبل النظر في معجم مفردات البيان القرآني في هذه الآيات نفتقر إلى الوقوف عند أمورمهمة تجدر الإشارة إليها:

فصاحة المفردة القرآنية:

ــ

علماء بيان العربية لهم عناية بالغة بتفرس مفردات البيان العالي وما تتسم به من سمات الفصاحة المنيرة في مجال أدائها وتنغيمها، وفي مجال هيئتها وصورتها التكوينية، وفي مجال دلالتها على معناها وهدايتها إليه، وجعلوا لكل مجال معيارًا يعرف به ما يتحقق في تلك المفردات من سمات فصاحتها:

{} كان من ذلك ما عرف عندهم بخلو الكلمة من تنافر حروفها
‌কুরআনের শব্দাবলি

 

পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারিক বর্ণনা তার একক শব্দাবলি নিয়ে এসেছে সেই আকর থেকে যা ওহি নাজিলের সময় আরবদের ভাষায় বিদ্যমান ছিল—তা শব্দরূপ, বাচ্যার্থ এবং নির্দেশকতার দিক থেকে। তাদের কাছে এমন কোনো শব্দ উপস্থাপন করা হয়নি যা তাদের কর্ণকুহর আগে কখনও শ্রবণ করেনি এবং তাদের জিহ্বা আগে উচ্চারণ করেনি; অন্যথায় তারা অবশ্যই বলত, "আমাদের ভাষায় এটি কী? তবে আমরা এটি কীভাবে বুঝব?" অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এ সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন যে, এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ: {নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আপনার হৃদয়ে এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} (আশ-শুআরা)

{আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে কেবল তার স্বজাতির ভাষাতেই প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।} (ইব্রাহিম)

কুরআন কারিম তার কিছু শব্দের ক্ষেত্রে যে সকল ইসলামি পরিভাষাগত অর্থ নিয়ে এসেছে, যেমন সালাত ও জাকাত—তা মূলত সেই সকল অর্থ থেকেই উৎসারিত যা তাদের কবিতা, ভাষণ এবং কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের ভাষায় সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।

এটি কুরআনের বর্ণনার মাধ্যমে হিদায়াতের অর্থসমূহ অন্বেষণে সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে ধাবিত প্রত্যেক গবেষকের জন্য আবশ্যক করে দেয় যে, সে যেন প্রথমে সেই আয়াতের শব্দাবলির দিকে দৃষ্টিপাত করে যার অর্থের উদ্যানে সে বিচরণ করতে ইচ্ছুক। অতঃপর সে যেন আরবি ভাষায় সেগুলোর রূপ, বাচ্যার্থ এবং সেই অর্থের প্রতি নির্দেশনার পদ্ধতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যাতে সে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও অলৌকিক কুরআনিক বর্ণনার দীর্ঘ সফরে একে এক অনন্য পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি আমি আপনাকে আগ্রহী করতে সচেষ্ট হচ্ছি, যাতে সম্ভবত আপনি এর স্বাদ আস্বাদন করতে পারেন এবং এর গূঢ় রহস্য অনুধাবন করতে পারেন। আর যে স্বাদ গ্রহণ করে সে চিনতে পারে, আর যে চিনতে পারে সে তাকে আঁকড়ে ধরে ও তাতে নিমগ্ন হয়; সে তখন সেখানে অবিচল থাকতে এবং সেই রব্বানি আহ্বানে নিজেকে রঞ্জিত করতে সংকল্পবদ্ধ হয় যা সূরা আল-ইমরানে—যা মূলত মনোনয়নের সূরা (সূরা আল-ইস্তফা)—কুরআনি অর্থের শিখরে বর্ণিত হয়েছে:

{হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো, সীমানা রক্ষায় সচেষ্ট থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।}

এই আয়াতগুলোতে কুরআনি বর্ণনার শব্দকোষ পর্যালোচনার পূর্বে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন, যা উল্লেখ করা সমীচীন:

কুরআনের শব্দাবলির প্রাঞ্জলতা:

--

আরবি অলঙ্কার শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ উচ্চাঙ্গের বর্ণনার শব্দাবলি এবং এর অন্তর্নিহিত উজ্জ্বল প্রাঞ্জলতার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন—তা শব্দের উচ্চারণ ও ছন্দ মাধুর্য, এর গঠন ও গাঠনিক রূপ এবং অর্থের নির্দেশকতা ও সেই অর্থের দিকে পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে হোক না কেন। তারা প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে সেই শব্দাবলির প্রাঞ্জলতার বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত করা যায়:

{} তার মধ্যে একটি হলো শব্দের 'বর্ণসমূহের মধ্যকার অসংগতি' থেকে মুক্ত থাকা যা তাদের নিকট সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وجعلوا مرجع ذلك إلى العلائق النغمية بين أصوات الكلمات، فكل كلمة مكونة من أصوات حروفها وحركاتها، ولكل حرف وحركة مخرج يخرج منه وصفة يكون عليها حين مَخْرَجِه، وهذه المخارج قد تتقارب جدًا وقد تتباعد، وكلما تقاربت المخارج كلما كان ذلك ادعى إلى ان تُمْنَى أصوات الكلمة بالتنافر وكذلك صفات هذه الأصوات قد تتقارب وقد تتباعد، فيؤدي تقاربها إلى تنافرها.

من هنا ذهب البلاغيون إلى فريضة أن تكون مفردات الكلمات قد تحقق في علاقات أصواتها ببعضها مالا يكون معه ذلك التنافر، فعقدوا المباحث في صدور أسفارهم للنظر في مثل هذا، وكان منهم باسط لسانه بالبيان، ومنهم موجزٌموفٍ، ومن أشهرمن بسط"ابن سنان" في كتابه" سر الفصاحة" و"ابن الأثير" في كتابه" المثل السائر ".

{} وكان من ذلك أيضًا ما عرف عندهم بخلو هيئة الكلمة وصورتها التركيبيةمن الخروج على ما هو القياس في صياغة المفردات في لسان العربية، فلكل كلمة من الأسماء والأفعال في لسان العربية قياس لايحسن مخالفته والخروج عنه لأن ذلك الخروج في بناء المفردة هو في حقيقته مدخل إلى المخالفة والخروج على ما هو قائم في لسان العربية من أصول بناء جمل الكلام من تلك المفردات وبناء معاقد الكلام من تلك الجمل، وإذا ما شاع بين الناس خروج المتكلمين ومخالفتهم أصول بناء الكلام في مفرداته وجمله ومعاقده لم يكن للسامعين والمتلقين سبيل يمكن من خلاله الوصول إلى مرادات المتكلمين من كلامهم، فيفقد البيان رسالته التى كان لها

من هنا حرص البلاغيون على أنْ تكونَ الكلمةُ قد صيغتْ هيئتها على وفق أصول صياغة المفردات في العربية، وإلَاّ كانت هذه الكلمة معيبة بمعابة مخالفة القياس

وهو ضرب من ضروب الفِسْقِ البيانى " فإن ترضوا عنهم فإنَّ اللهَ لايَرْضَى عَنِ القَوْمِ الفَاسِقِين " {التوبة}
তারা এই বিষয়ের মূল উৎস নির্ধারণ করেছেন শব্দের ধ্বনিগুলোর মধ্যকার সুরের সম্পর্কের ভিত্তিতে। প্রতিটি শব্দ তার অন্তর্গত বর্ণগুলোর ধ্বনি ও হরকতের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি বর্ণ ও হরকতের একটি মাখরাজ (مخرج) বা উচ্চারণস্থল এবং একটি সিফাত (صفة) বা বৈশিষ্ট্য থাকে, যা তার উচ্চারণের সময় প্রকাশ পায়। এই মাখরাজসমূহ কখনও অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়, আবার কখনও দূরবর্তী হয়। মাখরাজসমূহ যত বেশি নিকটবর্তী হয়, শব্দের ধ্বনিগুলোর মধ্যে শ্রুতিকটুতা বা অসংগতি (تنافر) সৃষ্টির সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। একইভাবে এই ধ্বনিগুলোর সিফাত বা বৈশিষ্ট্যসমূহ কখনও নিকটবর্তী হয় আবার কখনও দূরবর্তী হয়; আর এদের এই নৈকট্যই শ্রুতিকটুতা বা অসংগতির (تنافر) দিকে ধাবিত করে।

এখান থেকেই অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই অপরিহার্য মূলনীতির দিকে গিয়েছেন যে, শব্দের একক রূপগুলোর মধ্যকার ধ্বনিগত সম্পর্ক এমন হতে হবে যাতে কোনো শ্রুতিকটুতা বা অসংগতি (تنافر) সৃষ্টি না হয়। তারা এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য তাদের কিতাবসমূহের প্রারম্ভিক আলোচনায় স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন বিস্তারিত বর্ণনাদানকারী বাগ্মী, আবার কেউ ছিলেন সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বর্ণনাকারী। যারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন ইবনে সিনান, তাঁর সিররুল ফাসাহাহ কিতাবে এবং ইবনুল আসির, তাঁর আল-মাছালুস সা’ইর কিতাবে।

{} এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় ছিল যা তাদের নিকট পরিচিত— শব্দের রূপ ও তার কাঠামোগত অবয়ব আরবি ভাষার শব্দ গঠনের প্রচলিত নিয়ম (قياس) থেকে বিচ্যুত না হওয়া। আরবি ভাষার প্রতিটি বিশেষ্য ও ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম (قياس) রয়েছে, যার বিরোধিতা বা বিচ্যুতি অনুচিত। কারণ, একক শব্দের গঠনে এই বিচ্যুতি মূলত আরবি ভাষার প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহ—যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে শব্দ থেকে বাক্য এবং বাক্য থেকে বক্তব্যের মূল কাঠামো নির্মিত হয়—তা থেকে বিচ্যুতি ও লঙ্ঘনের একটি মাধ্যম। যদি বক্তাদের মধ্যে শব্দের রূপ, বাক্য গঠন ও বক্তব্যের মূল কাঠামোতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে শ্রোতা ও গ্রাহকদের পক্ষে বক্তার বক্তব্যের নিহিত উদ্দেশ্য অনুধাবন করার কোনো পথ থাকবে না। ফলে অলঙ্কারশাস্ত্র (বায়ান) তার সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবে যার জন্য এটি বিদ্যমান।

একারণেই অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন যে, শব্দের রূপ যেন আরবি শব্দ গঠনের মূলনীতি অনুযায়ী হয়; অন্যথায় শব্দটি নিয়ম (قياس) বহির্ভূত হওয়ার কারণে ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য হবে।

আর এটি হলো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অবাধ্যতার (فسق بياني) একটি প্রকার— "অতঃপর তোমরা যদি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী (فاسقين) সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না।" {আত-তাওবাহ}
(খণ্ড: ১) শাযারাতুয যাহাব দিরাসাতুন ফিল বালাগাতিল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
{} وكان من ذلك أيضًا ما عرف عندهم بخلو الكلمة من غرابة معناها، فالنفس تنفر مما هو غريب، ولعل من معانى الإنسانية الأنس بالأشياء، فالغربة فيها ابتعاد بالسامع عن شيء هو من جوهر إنسانيته

الكلمات حين تكون غريبة لاتأنَسُ النفسُ إليها فتكلِّفها فوق طاقتها، وهذا ما لاتحبه النفس المستقبلة البيان، فكان من البلاغيين عنايةٌ بأن تكون كلمات البيان العالى مأنوسة غير مستغربة أو مستجهلة حتى تقبل النفس على تلقيها بالحبور.

وأنت إذا ما نظرت في مفردات البيان القرآني في جميع آياته ألفيت أنها مفردات قد عصمت من أن يكون في شيء منها أدنى شائبة من تلك المعابات، فهى مفردات في ذروة فصاحة بيان العربية لايقال ذلك تَدَيُّنًا، فحسب بل نقوله تَدَيُّنًا أيَّدَهُ الفحصُ العلميُّ ممن آمن بهذا الكتاب المجيد، وممن لم يؤمن به ممن عرف العربية وذاقها.

ولعلك تقول إننا نسلم لك أن مفردات القرآن الكريم قد خلت من تنافر حروفها ومخالفتها القياس، لكن كيف السبيل إلى التسليم بأن بعض مفرداته ليست بالغريبة، والمكتبة القرآنية زاخرة بالأسفار المعقودة لبيان غريب القرآن الكريم؟

الأمر في هذا جِدُّ يسير لايقتضى سوى النظر في مناط الوصف بغربة الكلمة: أمرجعُه إلى الكلمة نفسِها أمْ إلى سامعها؟

إن يكن إلى سامعها، أفكل سامع لها يصلح أن يكون معيلر حكم بغرابة كلمة أم ذلك الذي له بمفردات البيان الذي يسمع علم وسيع فسيح لاتتناظر شطآنه، ولا يبصر شرقيُّه غربيَّه؟

لسان العربية كما قال الإمام الشافعي من أوسع الألسنة مذهبا وأكثرها ألفاظا، ولايحيط به أحدٌ إلا أن يكون نبيا كما يقول في كتابه " الرسالة " فأي شخص ذلك الذي يمكن أن يقيم نفسه أو أن يقيمه أحد معيارًا لغرابة الكلمة القرآنية وأنسها؟
এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল যা তাদের নিকট শব্দের অর্থ অপরিচিতি (غرابة) থেকে মুক্ত থাকা হিসেবে পরিচিত। কেননা মন অপরিচিত (غريب) বিষয় থেকে বিমুখ হয়। সম্ভবত মানবিকতার একটি অর্থ হলো বিষয়ের প্রতি অন্তরঙ্গ হওয়া। অতএব, শব্দে অপরিচিত হওয়া (غربة) শ্রোতাকে এমন কিছু থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যা তার মানবিক সত্তার নির্যাস।

শব্দসমূহ যখন অপরিচিত (غريب) হয়, তখন মন তাতে প্রশান্তি পায় না এবং এটি মনের ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয়। সাবলীল বর্ণনা গ্রহণকারী মন এটি পছন্দ করে না। তাই অলঙ্কারবিদদের বিশেষ মনোযোগ ছিল যাতে উচ্চতর বর্ণনার শব্দগুলো পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ হয়, অপরিচিত (غريب) বা অজ্ঞাত না হয়, যাতে মন তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়।

আপনি যদি কুরআনের বর্ণনার শব্দমালার দিকে এর সমস্ত আয়াতে দৃষ্টিপাত করেন, তবে দেখবেন যে এ শব্দগুলো উপরে উল্লিখিত ত্রুটিগুলোর সামান্যতম কলঙ্ক থেকেও সুরক্ষিত। এগুলো আরবি বাকপটুতার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছে। এটি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকেই বলা হচ্ছে না, বরং আমরা এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সাথে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতেও বলছি—যা এই মহিমান্বিত কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী এবং যারা আরবি ভাষা সম্পর্কে জানেন ও এর রস আস্বাদন করেছেন এমন অবিশ্বাসী উভয় পক্ষ থেকেই সমর্থিত।

আপনি হয়ত বলবেন যে, আমরা আপনার এই দাবি মেনে নিচ্ছি যে কুরআনুল কারিমের শব্দগুলো অক্ষরের কর্কশতা এবং ব্যাকরণিক নিয়মের লঙ্ঘন থেকে মুক্ত; কিন্তু কিছু শব্দ যে অপরিচিত (غريب) নয়—তা মেনে নেওয়ার উপায় কী, যেখানে কুরআন বিষয়ক গ্রন্থাগারগুলো কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলি ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রচিত গ্রন্থে ভরপুর?

বিষয়টি অত্যন্ত সহজ। এটি কেবল শব্দের অপরিচিত হওয়া (غربة) সংক্রান্ত বিশেষণের মানদণ্ড বিবেচনার দাবি রাখে: এর উৎস কি খোদ শব্দটির মধ্যে, নাকি তা শ্রোতার সাথে সম্পৃক্ত?

যদি তা শ্রোতার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে কি প্রত্যেক শ্রোতাই একটি শব্দের অপরিচিত (غريب) হওয়ার ব্যাপারে বিচারের মানদণ্ড হওয়ার যোগ্য? নাকি সেই ব্যক্তি যোগ্য যার কাছে পঠিত বর্ণনার শব্দাবলি সম্পর্কে এমন এক বিশাল ও বিস্তৃত জ্ঞান রয়েছে যার কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না এবং যার পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত দেখা যায় না?

আরবি ভাষা সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ যেমনটি বলেছেন—এটি প্রকাশভঙ্গির দিক থেকে অন্যতম প্রশস্ত এবং শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে সমৃদ্ধতম ভাষা। নবী ছাড়া কেউ একে পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পারে না, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাব আর-রিসালা-তে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় এমন কে আছে যে নিজেকে কুরআনের শব্দের অপরিচিত (غريب) হওয়া বা এর সাবলীলতার মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করাতে পারে অথবা অন্য কেউ তাকে মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারে?