(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: مصطلح الحديث
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: مكتبة العلم، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 60
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিসের পরিভাষা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
গ্রন্থ: হাদিসের পরিভাষা
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (ওফাত ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইলম, কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإن الله بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، ليظهره على الدين كله، وأنزل عليه الكتاب والحكمة - فالكتاب هو: القرآن، والحكمة هي: السنة -؛ ليبيِّن للناس ما نزل إليهم، ولعلهم يتفكرون فيهتدون ويفلحون.
فالكتاب والسنة هما الأصلان اللذان قامت بهما حجة الله على عباده، واللذان تنبني عليهما الأحكام الاعتقادية والعملية إيجاباً ونفياً.
والمستدل بالقرآن يحتاج إلى نظر واحد وهو النظر في دلالة النص على الحكم، ولا يحتاج إلى النظر في مسنده؛ لأنه ثابت ثبوتاً قطعياً بالنقل المتواتر لفظاً ومعنى:) إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (الحجر: 9)
والمستدل بالسنة يحتاج إلى نظرين:
أولها: النظر في ثبوتها عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ إذ ليس كل ما نسب إليه صحيحاً.
ثانيهما: النظر في دلالة النص على الحكم.
ومن أجل النظر الأول احتيج إلى وضع قواعد؛ يميّز بها المقبول من المردود فيما ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وقد قام العلماء رحمهم الله بذلك وسمّوه: (مصطلح الحديث)
وقد وضعنا فيه كتاباً وسطاً، يشتمل على المهم من هذا الفن، - حسب المنهج المقرر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। তিনি তাঁর ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন—কিতাব হলো: কুরআন, আর হিকমত হলো: সুন্নাহ—যাতে তিনি মানুষের নিকট তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন এবং যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারে ও সফলকাম হয়।
সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহ হলো এমন দুটি মূল উৎস যার মাধ্যমে বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং যে দুটির ওপরই বিশ্বাসগত ও আমলগত বিধি-বিধানের ইতিবাচক বা নেতিবাচক হওয়া নির্ভর করে।
কুরআন থেকে দলিল পেশকারীর কেবল একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন, আর তা হলো বিধানের ওপর পাঠ্যের (নস) নির্দেশনার বিষয়টি। তাকে এর সনদের দিকে লক্ষ্য করার প্রয়োজন নেই; কারণ এটি শাব্দিক ও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনার মাধ্যমে অকাট্যভাবে সাব্যস্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমিই এ উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" (সূরা আল-হিজর: ৯)
আর সুন্নাহ থেকে দলিল পেশকারীর দুটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন:
প্রথমত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা; কেননা তাঁর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধ করা হয় তার সবই সহিহ (صحيح) নয়।
দ্বিতীয়ত: বিধানের ওপর পাঠ্যের (নস) নির্দেশনার বিষয়টি লক্ষ্য করা।
আর এই প্রথমোক্ত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনেই কিছু নিয়ম-নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে; যার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয় তার মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) বর্ণনাকে পৃথক করা যায়। আলেমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) এটি সম্পাদন করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: 'মুসতালাহুল হাদিস' (مصطلح الحديث)।
আমরা এ বিষয়ে একটি মধ্যম মানের গ্রন্থ রচনা করেছি, যা এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে—নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৪)
للسنتين الأولى والثانية في القسم الثانوي في المعاهد العلمية وسميناه: (مصطلح الحديث) .
وقد جعلناه قسمين: القسم الأول يتضمن مقرر السنة الأولى، والقسم الثاني يتضمن مقرر السنة الثانية.
والله أسأل أن يجعل عملنا خالصاً لوجهه، موافقاً لمرضاته، نافعاً لعباده إنه جواد كريم.
المؤلف
বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমিক শাখার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের জন্য, এবং আমরা এর নামকরণ করেছি: (হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث))।
আমরা একে দুই ভাগে বিন্যস্ত করেছি: প্রথম ভাগটি প্রথম বর্ষের পাঠ্যসূচি এবং দ্বিতীয় ভাগটি দ্বিতীয় বর্ষের পাঠ্যসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে তাঁর সন্তুষ্টির অনুকূল করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও পরম দয়ালু।
লেখক
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
القسم الأول من كتاب (مصطلح الحديث)مصطلح الحديث:
أ - تعريفه ب - فائدته:
أ - مصطلح الحديث:
علم يعرف به حال الراوي والمروي من حيث القَبول والرد.
ب - وفائدته:
معرفة ما يقبل ويرد من الراوي والمروي.
الحديث - الخبر - الأثر - الحديث القدسي:
الحديث: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو وصف.
الخبر: بمعنى الحديث؛ فَيُعَرَّف بما سبق في تعريف الحديث.
وقيل: الخبر ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم وإلى غيره؛ فيكون أعم من الحديث وأشمل.
الأثر: ما أضيف إلى الصحابي أو التابعي، وقد يراد به ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم مقيداً فيقال: وفي الأثر عن النبي صلى الله عليه وسلم.
الحديث القدسي: ما رواه النبي صلى الله عليه وسلم عن ربه - تعالى -، ويسمى أيضاً (الحديث الرباني) و (الحديث الإلهي)
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه - تعالى - أنه قال: "أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه حين يذكرني، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منهم" (1)
ومرتبة الحديث القدسي بين القرآن والحديث النبوي، فالقرآن الكريم ينسب إلى الله تعالى لفظاً ومعنىً، والحديث النبوي ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم لفظاً ومعنىً (2) ، والحديث القدسي ينسب إلى الله تعالى معنىً لا لفظاً، ولذلك لا يتعبد بتلاوة لفظه، ولا يقرأ في الصلاة، ولم يحصل به التحدي، ولم
--------------------------------------------
(উসুলুল হাদিস) গ্রন্থের প্রথম অংশউসুলুল হাদিস:
ক - এর সংজ্ঞা খ - এর উপযোগিতা:
ক - উসুলুল হাদিস:
এমন এক শাস্ত্র যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা জানা যায় গ্রহণযোগ্যতা (القبول) এবং বর্জনযোগ্যতার (الرد) দিক থেকে।
খ - এর উপযোগিতা:
বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণযোগ্য (يقبل) আর কোনটি বর্জনীয় (يرد) তা অবগত হওয়া।
হাদিস - খবর (الخبر) - আসার (الأثر) - হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي):
হাদিস: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তা হোক উক্তি (قول), কর্ম (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) অথবা বৈশিষ্ট্য (وصف)।
খবর (الخبر): হাদিসের অর্থেই ব্যবহৃত হয়; ফলে এর সংজ্ঞা হাদিসের পূর্বোল্লিখিত সংজ্ঞার অনুরূপ।
আবার বলা হয়: খবর (الخبر) হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; ফলে এটি হাদিসের চেয়ে অধিক সাধারণ (أعم) এবং ব্যাপক।
আসার (الأثر): যা সাহাবী (الصحابي) বা তাবিঈর (التابعي) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। কখনো কখনো এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনাকেও শর্তসাপেক্ষে বোঝানো হয়, তখন বলা হয়: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আছারে (الأثر) বর্ণিত আছে।"
হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—একে 'রব্বানী হাদিস' বা 'ইলাহি হাদিস'ও বলা হয়।
উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর সে যদি আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে (ফেরেশতাদের মাঝে) স্মরণ করি।" (১)
হাদিসে কুদসির মর্যাদা কুরআন এবং হাদিসের মধ্যবর্তী। কুরআন মাজিদ শব্দ (لفظ) এবং অর্থ (معنى) উভয় দিক থেকেই মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর সাধারণ হাদিস শব্দ (لفظ) এবং অর্থ (معنى) উভয় দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (২) অন্যদিকে, হাদিসে কুদসি কেবল অর্থের (معنى) দিক থেকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, শব্দের (لفظ) দিক থেকে নয়। এজন্য এর শব্দাবলি তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় না, নামাজে পাঠ করা হয় না, এর মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদান করা হয়নি এবং এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
ينقل بالتواتر كما نقل القرآن، بل منه ما هو صحيح وضعيف وموضوع.
أقسام الخبر باعتبار طرق نقله إلينا:ينقسم الخبر باعتبار طرق نقله إلينا إلى قسمين: متواتر وآحاد.
الأول - المتواتر:أ - تعريفه ب - أقسامه مع التمثيل ج - ما يفيده:
أ - المتواتر:
ما رواه جماعة يستحيل في العادة أن يتواطؤوا على الكذب، وأسندوه إلى شيء محسوس.
ب - وينقسم المتواتر إلى قسمين:
متواتر لفظاً ومعنىً، ومتواتر معنىً فقط.
فالمتواتر لفظاً ومعنى: ما اتفق الرواة فيه على لفظه ومعناه.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "من كذب عليَّ مُتعمداً فليتبوَّأ مقعدَه من النار" (1) . فقد رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم أكثر من ستين صحابيًّا، منهم العشرة المبشرون بالجنة، ورواه عن هؤلاء خلق كثير.
والمتواتر معنى: ما اتفق فيه الرواة على معنىً كلي، وانفرد كل حديث بلفظه الخاص.
مثاله: أحاديث الشفاعة، والمسح على الخفين، ولبعضهم:
مما تواترَ حديثُ مَنْ كَذَبْ
وَمَنْ بَنَى للهِ بيتاً واحْتَسَبْ
ورؤيةٌ شَفَاعَةٌ والْحَوضُ
وَمْسُحُ خُفَّيْنِ وَهذى بَعْضُ
--------------------------------------------
এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে (متواتر) বর্ণিত হয় যেমনটি কুরআন বর্ণিত হয়েছে; বরং এর মধ্যে সহিহ (صحيح), দুর্বল (ضعيف) এবং জাল (موضوع) হাদিসও রয়েছে।
আমাদের নিকট পৌঁছানোর সূত্রের ভিত্তিতে খবরের প্রকারভেদ:আমাদের নিকট পৌঁছানোর সূত্রের ভিত্তিতে খবর দুই প্রকার: নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) এবং একক (آحاد)।
প্রথম - নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر):ক - এর সংজ্ঞা খ - উদাহরণসহ এর প্রকারভেদ গ - এর দ্বারা যা সাব্যস্ত হয়:
ক - নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر):
যা এমন একদল লোক বর্ণনা করেছেন, যাদের পক্ষে সাধারণত মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব এবং তারা সেটিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত করেছেন।
খ - নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر) সংবাদ দুই প্রকার:
শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر لفظاً ومعنىً), এবং শুধুমাত্র অর্থের দিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر معنىً فقط)।
শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر لفظاً ومعنى) হলো: যাতে বর্ণনাকারীরা শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" (১)। ষাট জনেরও বেশি সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীও রয়েছেন এবং তাঁদের থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী এটি বর্ণনা করেছেন।
অর্থের দিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন (المتواتر معنى) হলো: যাতে বর্ণনাকারীরা একটি সামগ্রিক অর্থের ওপর একমত হয়েছেন, তবে প্রতিটি হাদিস নিজস্ব শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
উদাহরণ: সুপারিশ (শাফায়াত) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, মোজার ওপর মাসাহ করার হাদিসসমূহ। কারও কারও মতে:
নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে’ সেই হাদিসটি,
এবং ‘যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘর নির্মাণ করে’ সেই হাদিসটি,
আর (আল্লাহর) দিদার, সুপারিশ ও হাউজে কাউসার সংক্রান্ত হাদিস,
এবং মোজার ওপর মাসাহ; এগুলো হলো সেই তালিকার অংশবিশেষ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
جـ - والمتواتر بقسميه يفيد:
أولاً: العلم: وهو: القطع بصحة نسبته إلى من نقل عنه.
ثانياً: العمل بما دل عليه بتصديقه إن كان خبراً، وتطبيقه إن كان طلباً.
الثاني - الآحاد:أ - تعريفها ب - أقسامها باعتبار الطرق مع التمثيل ج - أقسامها باعتبار الرتبة مع التمثيل د - ما تفيده.
أ - الآحاد:
ما سوى المتواتر.
ب - وتنقسم باعتبار الطرق إلى ثلاثة أقسام:
مشهور وعزيز وغريب.
1 - فالمشهور: ما رواه ثلاثة فأكثر، ولم يبلغ حد التواتر.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" (1) .
2 - والعزيز: ما رواه اثنان فقط.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين" (2) .
3 - والغريب: ما رواه واحد فقط.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى
… " (3) الحديث.
فإنه لم يروه عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ولا عن عمر إلا علقمة بن وقاص، ولا عن علقمة إلا محمد بن إبراهيم التيمي، ولا عن محمد إلا يحيى بن سعيد الأنصاري، وكلهم من التابعين ثم رواه
--------------------------------------------
গ - উভয় প্রকারের মুতাওয়াতি (متواتر) হাদিস যা প্রদান করে:
প্রথমত: ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم): আর তা হলো যার পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার দিকে হাদিসের সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া (القطع)।
দ্বিতীয়ত: এর নির্দেশনার ওপর আমল করা; তা যদি সংবাদ (خبر) হয় তবে তা বিশ্বাস করার মাধ্যমে, আর যদি তা আদেশ বা দাবি (طلب) হয় তবে তা প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় - আহাদ (الآحاد):ক - এর সংজ্ঞা খ - বর্ণনার সূত্রের (الطرق) বিবেচনায় এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ গ - স্তরের বা মর্যাদার (الرتبة) বিবেচনায় এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ ঘ - এটি যা প্রদান করে।
ক - আহাদ (الآحاد):
মুতাওয়াতির (متواتر) ব্যতীত অন্য সব হাদিস।
খ - বর্ণনার সূত্রের (الطرق) বিবেচনায় এটি তিন ভাগে বিভক্ত:
মশহুর (مشهور), আজিজ (عزيز) এবং গরিব (غريب)।
১ - মশহুর (مشهور): যা তিনজন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা মুতাওয়াতির (متواتر)-এর পর্যায়ে পৌঁছেনি।
উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যাঁর জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে" (১)।
২ - আজিজ (عزيز): যা মাত্র দুইজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই" (২)।
৩ - গরিব (غريب): যা মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে..." (৩) হাদিস।
কেননা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একমাত্র উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি, উমর (রা.) থেকে একমাত্র আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি, আলকামা থেকে একমাত্র মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি এবং মুহাম্মদ থেকে একমাত্র ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি। তাঁরা সকলেই তাবিঈন (التابعين) পর্যায়ের ছিলেন। এরপর এটি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
عن يحيى خلق كثير.
جـ - وتنقسم الآحاد باعتبار الرتبة إلى خمسة أقسام:
صحيح لذاته، ولغيره، وحسن لذاته، ولغيره، وضعيف.
1 - فالصحيح لذاته: ما رواه عدل تام الضبط بسند متصل وسلم من الشذوذ والعلة القادحة.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين" (1) . رواه البخاري ومسلم.
وتعرف صحة الحديث بأمور ثلاثة:
الأول: أن يكون في مصنف التزم فيه الصحة إذا كان مصنفه ممن يعتمد قوله في التصحيح "كصحيحي البخاري ومسلم".
الثاني: أن ينص على صحته إمام يعتمد قوله في التصحيح ولم يكن معروفاً بالتساهل فيه.
الثالث: أن ينظر في رواته وطريقة تخريجهم له، فإذا تمت فيه شروط الصحة حكم بصحته.
2 - والصحيح لغيره: الحسن لذاته إذا تعددت طرقه.
مثاله: حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يجهز جيشاً فنفدت الإبل، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ابتع علينا إبلاً بقلائص من قلائص الصدقة إلى محلها" (2) ؛ فكان يأخذ البعير بالبعيرين والثلاثة. فقد رواه أحمد من طريق محمد بن إسحاق، ورواه البيهقي من طريق عمرو بن شعيب، وكل واحد من الطريقين بانفراده حسن، فبمجموعهما يصير الحديث صحيحاً لغيره.
وإنما سمِّي صحيحاً لغيره، لأنه لو نظر إلى كل طريق بانفراد لم يبلغ رتبة الصحة، فلما نظر إلى مجموعهما قوي حتى بلغها.
--------------------------------------------
ইয়াহিয়া থেকে অসংখ্য (خلق كثير) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
জ - আর স্তরের বিচারে খবরুল আহাদ (الآحاد) পাঁচ ভাগে বিভক্ত:
সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته), সহিহ লি-গয়রিহি (لغيره), হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته), হাসান লি-গয়রিহি (لغيره) এবং দুর্বল (ضعيف)।
১ - সহিহ লি-যাতিহি (فالصحيح لذاته): যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (تام الضبط) অধিকারী বর্ণনাকারী অবিচ্ছিন্ন সনদে (بسند متصل) বর্ণনা করেছেন এবং যা শায (الشذوذ) ও ক্ষতিকর ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত।
উদাহরণ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন।" (১)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের বিশুদ্ধতা তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়:
প্রথমত: এটি এমন একটি গ্রন্থে সংকলিত হওয়া যাতে বিশুদ্ধতার (الصحة) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যদি সেই গ্রন্থের সংকলক এমন ব্যক্তি হন যার বিশুদ্ধকরণের (التصحيح) ক্ষেত্রে মতামত নির্ভরযোগ্য হয়; যেমন—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
দ্বিতীয়ত: এমন কোনো ইমাম হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحته) ওপর স্পষ্টভাবে বক্তব্য প্রদান করেছেন যার মতামত বিশুদ্ধকরণের (التصحيح) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য এবং যিনি এক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের (بالتساهل) জন্য পরিচিত নন।
তৃতীয়ত: হাদিসটির বর্ণনাকারীগণ এবং তাদের চয়ন বা তাহকিকের (تخريجهم) পদ্ধতির ওপর দৃষ্টিপাত করা; যদি তাতে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি (شروط الصحة) পূর্ণ হয়, তবে এর বিশুদ্ধতার (بصحته) ফয়সালা প্রদান করা হবে।
২ - সহিহ লি-গয়রিহি (والصحيح لغيره): এটি মূলত হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته) হাদিস, যখন এর একাধিক সূত্র (طرقه) বিদ্যমান থাকে।
উদাহরণ: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি বাহিনী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু উট শেষ হয়ে গেল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সদকার উটগুলো আসার সময়ের ওয়াদায় আমাদের জন্য উট সংগ্রহ করো।" ফলে তিনি একটি উটের বদলে দুটি বা তিনটি উট নিতেন। এটি আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি আমর ইবনে শুআইব-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই দুটি সূত্রের প্রতিটি পৃথকভাবে হাসান (حسن); সুতরাং এই দুটির সমন্বয়ে হাদিসটি সহিহ লি-গয়রিহি (صحيحاً لغيره) হিসেবে গণ্য হবে।
একে সহিহ লি-গয়রিহি (صحيحاً لغيره) নামকরণ করা হয়েছে কারণ, যদি প্রতিটি সূত্রের ওপর এককভাবে দৃষ্টিপাত করা হতো তবে তা সহিহ-এর স্তরে পৌঁছাত না; কিন্তু যখন এগুলোর সমষ্টির ওপর দৃষ্টিপাত করা হয়েছে, তখন তা শক্তিশালী হয়ে সেই স্তরে উপনীত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
3 - والحسن لذاته: ما رواه عدل خفيف الضبط بسند متصل وسلم من الشذوذ والعلة القادحة.
فليس بينه وبين الصحيح لذاته فرق سوى اشتراط تمام الضبط في الصحيح، فالحسن دونه.
مثاله: قوله صلى الله عليه وسلم: "مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم" (1) .
ومن مظان الحسن: ما رواه أبو داود منفرداً به، قاله ابن الصلاح (2) .
4 - والحسن لغيره: الضعيف إذا تعددت طرقه على وجه يجبر بعضها بعضاً، بحيث لا يكون فيها كذاب، ولا متهم بالكذب.
مثاله: حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا مد يديه (3) في الدعاء لم يردهما حتى يمسح بهما وجهه وأخرجه الترمذي، قال في "بلوغ المرام": وله شواهد عند أبي داود وغيره، ومجموعها يقضي بأنه حديث حسن.
وإنما سمي حسناً لغيره؛ لأنه لو نظر إلى كل طريق بانفراده لم يبلغ رتبة الحسن، فلما نظر إلى مجموع طرقه قوي حتى بلغها.
5 - والضعيف: ما خلا عن شروط الصحيح والحسن.
مثاله: حديث: "احترسوا من الناس بسوء الظن".
ومن مظان الضعيف: ما انفرد به العقيلي، أو ابن عدي، أو الخطيب البغدادي، أو ابن عساكر في "تأريخه"، أو الديلمي في "مسند الفردوس"، أو الترمذي الحكيم في "نوادر الأصول" - وهو غير صاحب السنن - أو الحاكم وابن الجارود في "تأريخيهما".
د - وتفيد أخبار الآحاد سوى الضعيف:
أولاً: الظن وهو: رجحان صحة نسبتها إلى من نقلت عنه، ويختلف ذلك بحسب مراتبها السابقة، وربما تفيد العلم إذا احتفت بها القرائن، وشهدت بها الأصول.
ثانياً: العمل بما دلت عليه بتصديقه إن كان خبراً، وتطبيقه إن كان طلباً.
--------------------------------------------
৩ - স্বয়ং হাসান (الحسن لذاته): যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যার স্মৃতিশক্তি কিছুটা শিথিল (خفيف الضبط), এবং যার সনদটি নিরবচ্ছিন্ন (سند متصل) এবং তা শায (الشذوذ) ও কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত।
এর সাথে স্বয়ং সহিহ (الصحيহ لذاته) এর পার্থক্য কেবল এই যে, সহিহ হওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তি (تمام الضبط) থাকা শর্ত, আর হাসান (الحسن) এর স্তর তার নিচে।
এর উদাহরণ: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, তার তাহরিম (শুরু) হলো তাকবির এবং তার তাহলিল (শেষ) হলো তাসলিম।" (১)।
হাসান (الحسن) হাদিস পাওয়ার অন্যতম উৎস হলো: যা আবু দাউদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন; এ কথা ইবনে সালাহ (২) বলেছেন।
৪ - অন্যের মাধ্যমে হাসান (الحسن لغيره): তা হলো এমন দুর্বল (الضعيف) হাদিস যার একাধিক সূত্র এমনভাবে বিদ্যমান যে একটি অন্যটির অভাব পূরণ করে এবং শক্তিশালী করে, তবে শর্ত হলো তাতে কোনো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) বা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) ব্যক্তি না থাকা।
এর উদাহরণ: ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়ায় হাত তুলতেন (৩), তখন তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল মোছার আগে হাত নামাতেন না। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর জন্য আবু দাউদ ও অন্যদের কাছে সাক্ষী বা সমার্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যার সমষ্টিগত রূপ হাদিসটিকে হাসান (حسن) স্তরে পৌঁছে দেয়।
একে অন্যের মাধ্যমে হাসান (الحسن لغيره) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর প্রতিটি সূত্রের দিকে এককভাবে তাকালে তা হাসানের স্তরে পৌঁছায় না, কিন্তু যখন সবকটি সূত্রের সমষ্টির দিকে লক্ষ্য করা হয়, তখন তা শক্তিশালী হয়ে সেই স্তরে পৌঁছে যায়।
৫ - দুর্বল (الضعيف): যা সহিহ ও হাসান হওয়ার শর্তাবলি থেকে মুক্ত।
এর উদাহরণ: হাদিস: "মানুষের ব্যাপারে মন্দ ধারণা রাখার মাধ্যমে সতর্ক থাকো।"
দুর্বল (الضعيف) হাদিস পাওয়ার অন্যতম উৎস হলো: যা এককভাবে উকাইলি, ইবনে আদি, খাতিব বাগদাদি, ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ'-এ, দাইলামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ, হাকিম তিরমিজি 'নাওয়াদিরুল উসুল'-এ (যিনি সুনান গ্রন্থের লেখক নন) অথবা হাকিম ও ইবনুল জারুদ তাঁদের 'তারিখ' গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।
দ - দুর্বল ব্যতীত খবরুল আহাদ (أخبار الآحاد) যা প্রদান করে:
প্রথমত: প্রবল ধারণা (الظن), আর তা হলো: যাঁর থেকে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তাঁর দিকে এর সম্পৃক্ততা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হওয়া। এটি পূর্বোল্লিখিত হাদিসের স্তরভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আবার কখনো এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে যখন এর সাথে আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি (قرائن) যুক্ত হয় এবং মূলনীতিসমূহ (أصول) এর সাক্ষ্য দেয়।
দ্বিতীয়ত: এর নির্দেশিত বিষয়ের ওপর আমল করা। যদি সেটি কোনো সংবাদ (خبر) হয় তবে তা সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং যদি তা কোনো দাবি বা আদেশ (طلب) হয় তবে তা বাস্তবায়ন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
أما الضعيف فلا يفيد الظن ولا العمل، ولا يجوز اعتباره دليلاً، ولا ذكره غير مقرون ببيان ضعفه إلا في الترغيب والترهيب؛ فقد سهّل في ذِكْره جماعة بثلاثة شروط:
1 - أن لا يكون الضعف شديداً.
2 - أن يكون أصل العمل الذي ذكر فيه الترغيب والترهيب ثابتاً.
3 - أن لا يعتقد أن النبي صلى الله عليه وسلم قاله.
وعلى هذا فيكون فائدة ذكره في الترغيب: حث النفس على العمل المرغب فيه، لرجاء حصول ذلك الثواب، ثم إن حصل وإلا لم يضره اجتهاده في العبادة، ولم يفته الثواب الأصلي المرتب على القيام بالمأمور.
وفائدة ذكره في الترهيب تنفير النفس عن العمل المرهب عنه للخوف من وقوع ذلك العقاب، ولا يضره إذا اجتنبه ولم يقع العقاب المذكور.
شرح تعريف الصحيح لذاته:سبق أن الصحيح لذاته: ما رواه عدل تام الضبط بسند متصل، وسلم من الشذوذ والعلة القادحة.
فالعدالة: استقامة الدين والمروءة.
فاستقامة الدين: أداء الواجبات، واجتناب ما يوجب الفسق من المحرمات.
واستقامة المروءة: أن يفعل ما يحمده الناس عليه من الآداب والأخلاق، ويترك ما يذمّه الناس عليه من ذلك
وتعرف عدالة الراوي بالاستفاضة كالأئمة المشهورين: مالك وأحمد والبخاري ونحوهم، وبالنص عليها ممن يعتبر قوله في ذلك.
وتمام الضبط: أن يؤدي ما تحمّله من مسموع، أو مرئي على الوجه الذي تحمله من
পক্ষান্তরে দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা কোনো প্রবল ধারণা (ظن) তৈরি হয় না এবং আমলও করা যায় না। একে দলিল হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয় এবং এর দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনা করা ছাড়া এটি উল্লেখ করাও জায়েজ নয়; তবে তারগিব (উৎসাহ প্রদান) ও তারহিব (ভীতি প্রদর্শন)-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। একদল আলেম তিনটি শর্তে তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন:
১ - দুর্বলতা (ضعف) যেন অত্যন্ত বেশি না হয়।
২ - যে আমলের বিষয়ে তারগিব ও তারহিব বর্ণিত হয়েছে, সেই আমলটির মূল ভিত্তি যেন শরয়ি দলিলে সাব্যস্ত থাকে।
৩ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেছেন বলে বিশ্বাস না করা।
এর ওপর ভিত্তি করে তারগিবের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস উল্লেখ করার ফায়দা হলো: কাঙ্ক্ষিত সওয়াব অর্জনের আশায় মনকে সেই আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। এরপর যদি সেই সওয়াব অর্জিত হয় (তবে ভালো), অন্যথায় ইবাদতে তার এই প্রচেষ্টা কোনো ক্ষতি করবে না এবং আদিষ্ট কাজ পালন করার কারণে যে মূল সওয়াব নির্ধারিত রয়েছে তা থেকেও সে বঞ্চিত হবে না।
আর তারহিবের ক্ষেত্রে তা উল্লেখ করার ফায়দা হলো: শাস্তির ভয়ে নির্দিষ্ট মন্দ কাজ থেকে মনকে দূরে সরিয়ে রাখা। আর যদি সে তা বর্জন করে এবং উল্লেখিত শাস্তি সংঘটিত না-ও হয়, তবে এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।
সহিহ লি-যাতিহি (الصحيح لذاته)-এর সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সহিহ লি-যাতিহি (الصحيح لذاته) হলো: যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (تام الضبط) অধিকারী বর্ণনাকারী (راوي) নিরবচ্ছিন্ন সনদে (سند متصل) বর্ণনা করেছেন, যা শায (شذوذ) এবং ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত।
ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) হলো: দ্বীনদারি ও সৌজন্যবোধের (مروءة) ওপর অবিচল থাকা।
দ্বীনদারিতে অবিচল থাকা হলো: ওয়াজিব কাজসমূহ সম্পাদন করা এবং পাপাচার (فسق) সাব্যস্তকারী হারাম বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকা।
সৌজন্যবোধের (مروءة) ওপর অবিচল থাকা হলো: এমন আদব ও আখলাক অবলম্বন করা যার কারণে মানুষ প্রশংসা করে এবং এমন আচরণ বর্জন করা যার কারণে মানুষ নিন্দা করে।
বর্ণনাকারীর (راوي) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দুইভাবে জানা যায়: প্রসিদ্ধির (استفاضة) মাধ্যমে, যেমন ইমাম মালেক, আহমদ, বুখারি ও তাঁদের সমগোত্রীয় প্রসিদ্ধ ইমামগণ; এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য প্রদানের (نص) মাধ্যমে।
পূর্ণ স্মৃতিশক্তি (تام الضبط) হলো: যা শোনা হয়েছে বা দেখা হয়েছে, তা যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল ঠিক সেভাবেই যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
غير زيادة ولا نقص، لكن لا يضر خطأ يسير؛ لأنه لا يسلم منه أحد.
ويعرف ضبط الراوي بموافقته الثقات والحفاظ ولو غالباً، وبالنص عليه ممن يعتبر قوله في ذلك.
واتصال السند: أن يتلقى كل راو ممن روى عنه مباشرة أو حكماً.
فالمباشرة: أن يلاقي من روى عنه فيسمع منه، أو يرى، ويقول: حدثني، أو سمعت، أو رأيت فلاناً ونحوه.
والحكم: أن يروي عمن عاصره بلفظ يحتمل السماع والرؤية، مثل: قال فلان، أو: عن فلان، أو: فعل فلان، ونحوه.
وهل يشترط مع المعاصرة ثبوت الملاقاة أو يكفي إمكانها؟
على قولين؛ قال بالأول البخاري، وقال بالثاني مسلم.
قال النووي عن قول مسلم: أنكره المحققون، قال: وإن كنا لا نحكم على مسلم بعمله في "صحيحه" بهذا المذهب لكونه يجمع طرقاً كثيرة يتعذر معها وجود هذا الحكم الذي جوزه، والله أعلم (1) .
ومحل هذا في غير المدلِّس، أما المدلِّس فلا يحكم لحديثه بالاتصال إلا ما صرح فيه بالسماع أو الرؤية.
ويعرف عدم اتصال السند بأمرين:
أحدهما: العلم بأن المروي عنه مات قبل أن يبلغ الراوي سن التمييز.
ثانيهما: أن ينص الراوي أو أحد أئمة الحديث على أنه لم يتصل بمن روى عنه، أو لم يسمع، أو ير منه ما حَدَّث به عنه.
والشذوذ: أن يخالف الثقة من هو أرجح منه إما: بكمال العدالة، أو تمام الضبط، وكثرة العدد، أو
--------------------------------------------
অতিরিক্ত বা ঘাটতি ছাড়াই, তবে সামান্য ভুল ক্ষতিকর নয়; কারণ কেউই তা থেকে মুক্ত নয়।
বর্ণনাকারীর সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط الراوي) চেনা যায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (ثقات) এবং হাফিজদের (حفاظ) সাথে তার বর্ণনার মিল থাকার মাধ্যমে, যদিও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়। এছাড়া এ বিষয়ে যাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য তাদের সুস্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমেও তা জানা যায়।
আর সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال السند) হলো: প্রত্যেক বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে সরাসরি (مباشرة) কিংবা পরোক্ষভাবে (حكماً) বর্ণনা গ্রহণ করা।
সরাসরি (المباشرة) গ্রহণের অর্থ হলো: যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তার সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তার থেকে শোনা বা তাকে দেখা। এক্ষেত্রে বর্ণনাকারী বলেন: 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন', অথবা 'আমি শুনেছি', অথবা 'আমি অমুককে দেখেছি' ইত্যাদি।
আর পরোক্ষভাবে (الحكم) গ্রহণের অর্থ হলো: সমসাময়িক কারো থেকে এমন শব্দে বর্ণনা করা যা শোনা বা দেখার সম্ভাবনা রাখে। যেমন: 'অমুক বলেছেন', অথবা 'অমুক থেকে বর্ণিত', অথবা 'অমুক করেছেন' ইত্যাদি।
আর সমসাময়িক হওয়ার সাথে কি সাক্ষাতের প্রমাণ থাকা শর্ত, নাকি সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট?
এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে; ইমাম বুখারি প্রথম মতটি প্রদান করেছেন এবং ইমাম মুসলিম দ্বিতীয় মতটি প্রদান করেছেন।
ইমাম নববী ইমাম মুসলিমের মত সম্পর্কে বলেন: "গবেষকগণ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।" তিনি আরও বলেন: "যদিও আমরা ইমাম মুসলিমের 'সহিহ' গ্রন্থে তার এই মতের ওপর আমল করার ব্যাপারে হুকুম দেই না, কারণ তিনি এমন অনেকগুলো সূত্র একত্র করেন যার ফলে তার অনুমোদিত এই পরোক্ষ হুকুমটি থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর আল্লাহই ভালো জানেন (১)।"
এটি কেবল অ-তাদলিসকারী (غير المدلس) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে তাদলিসকারী (مدلس) ব্যক্তির হাদিসকে অবিচ্ছিন্ন (اتصال) বলে হুকুম দেওয়া হবে না, যতক্ষণ না তিনি তাতে স্পষ্টভাবে শ্রবণ করা বা দেখার কথা উল্লেখ করেন।
আর সনদের বিচ্ছিন্নতা (عدم اتصال السند) দুটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়:
প্রথমত: এটি নিশ্চিতভাবে জানা যে, যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তিনি এমন সময় মৃত্যুবরণ করেছেন যখন বর্ণনাকারী সমঝদার হওয়ার বয়সে (سن التمييز) পৌঁছাননি।
দ্বিতীয়ত: স্বয়ং বর্ণনাকারী অথবা হাদিসের ইমামগণের মধ্যে কেউ এই মর্মে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করা যে, বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করেছেন তার সাথে তার কোনো সংযোগ বা অবিচ্ছিন্নতা নেই, অথবা তিনি যার থেকে বর্ণনা করেছেন তার থেকে তা শোনেননি কিংবা দেখেননি।
আর বিচ্যুতি (الشذوذ) হলো: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (ثقة) কর্তৃক এমন একজনের বিরোধিতা করা যিনি তার চেয়েও বেশি অগ্রগণ্য; হয় পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) কারণে, অথবা পূর্ণ সংরক্ষণ ক্ষমতার (ضبط) কারণে, অথবা বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্যের কারণে, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
ملازمة المروي عنه، أو نحو ذلك.
مثاله: حديث عبد الله بن زيد (1) في صفة وضوء النبي صلى الله عليه وسلم: أنه مسح برأسه بماء غير فضل يده، فقد رواه مسلم بهذا اللفظ من طريق ابن وهب، ورواه البيهقي من طريقه أيضاً بلفظ: أنه أخذ لأذنيه ماء خلاف الماء الذي أخذه لرأسه. ورواية البيهقي شاذة؛ لأن راويه عن ابن وهب ثقة، لكنه مخالف لمن هو أكثر منه. حيث رواه جماعة عن ابن وهب بلفظ رواية مسلم، وعليه فرواية البيهقي غير صحيحة، وإن كان رواتها ثقات؛ لعدم سلامتها من الشذوذ.
والعلة القادحة: أن يتبين بعد البحث في الحديث سبب يقدح في قبوله. بأن يتبين أنه منقطع، أو موقوف، أو أن الراوي فاسق، أو سيِّئ الحفظ، أو مبتدع والحديث يقوي بدعته، ونحو ذلك؛ فلا يحكم للحديث بالصحة حينئذٍ؛ لعدم سلامته من العلة القادحة.
مثاله: حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئاً من القرآن" (2) . فقد رواه الترمذي وقال: لا نعرفه إلا من حديث إسماعيل بن عياش عن موسى بن عقبة
… إلخ.
فظاهر الإسناد الصحة، لكن أُعلّ بأن رواية إسماعيل عن الحجازيين ضعيفة، وهذا منها، وعليه فهو غير صحيح لعدم سلامته من العلة القادحة.
فإن كانت العلة غير قادحة لم تمنع من صحة الحديث أو حسنه.
مثاله: حديث أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من صام رمضان ثم أتبعه ستًّا من شوال كان كصيام الدهر" (3) . فقد رواه مسلم من طريق سعد بن سعيد، وأُعلَّ الحديث به، لأن الإمام أحمد ضعفه. وهذه العلة غير قادحة؛ لأن بعض الأئمة وثّقه، ولأن له متابعاً، وإيراد مسلم له في "صحيحه"
--------------------------------------------
বর্ণিত ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করা, অথবা অনুরূপ বিষয়।
এর উদাহরণ: আবদুল্লাহ ইবনে যাইদ (১) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর বর্ণনা সম্বলিত হাদিস: তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করেছেন হাতের অতিরিক্ত পানি ছাড়া নতুন পানি দিয়ে। ইমাম মুসলিম এই শব্দে ইবনে ওয়াহাব এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকিও তাঁর সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি তাঁর দুই কানের জন্য মাথার জন্য নেওয়া পানি ছাড়া ভিন্ন পানি গ্রহণ করেছেন। বায়হাকির এই বর্ণনাটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذة); কারণ ইবনে ওয়াহাব থেকে এর বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু তিনি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করেছেন। যেহেতু একদল বর্ণনাকারী ইবনে ওয়াহাব থেকে মুসলিমের বর্ণিত শব্দেই বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বায়হাকির বর্ণনাটি সহিহ নয় (غير صحيحة), যদিও এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات); কারণ এটি শায বা ব্যত্যয় (الشذوذ) থেকে মুক্ত নয়।
ক্ষতিকর ত্রুটি (العلة القادحة): হাদিসটি নিয়ে গবেষণার পর এমন একটি কারণ প্রকাশ পাওয়া যা তার গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেমন এটি প্রকাশ পাওয়া যে, হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), বা মাওকুফ (موقوف), অথবা বর্ণনাকারী পাপাচারী (فاسق), বা দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (سيئ الحفظ), অথবা সে বিদয়াতি (مبتدع) এবং হাদিসটি তার বিদয়াতকে শক্তিশালী করছে, বা অনুরূপ কিছু; এমতাবস্থায় হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে (بالصحة) হুকুম দেওয়া হবে না; কারণ এটি ক্ষতিকর ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত নয়।
এর উদাহরণ: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঋতুবতী নারী এবং অপবিত্র ব্যক্তি কুরআনের কিছুই পড়বে না" (২)। ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমরা এটি ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ এর সূত্রে মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণিত হাদিস ছাড়া অন্য কোনোভাবে জানি না... ইত্যাদি।
বাহ্যিক সনদ সহিহ (ظاهر الإسناد الصحة) মনে হলেও একে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত (أُعل) করা হয়েছে এই কারণে যে, হিজাজীদের থেকে ইসমাইলের বর্ণনা দুর্বল (ضعيفة), আর এটি তারই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটি সহিহ নয় (غير صحيح) কারণ এটি ক্ষতিকর ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত নয়।
যদি ত্রুটিটি ক্ষতিকর না হয় (العلة غير قادحة), তবে তা হাদিসের সহিহ হওয়া (صحة) বা হাসান হওয়াকে (حسنه) বাধাগ্রস্ত করে না।
এর উদাহরণ: আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, তা যেন পুরো বছর রোজা রাখার সমান" (৩)। এটি ইমাম মুসলিম সা'দ ইবনে সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটিকে তাঁর কারণে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত (أُعل) করা হয়েছে, কারণ ইমাম আহমাদ তাঁকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। এই ত্রুটিটি ক্ষতিকর নয় (العلة غير قادحة); কারণ কোনো কোনো ইমাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য সমর্থক বর্ণনা (متابعاً) রয়েছে, আর মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يدل على صحته عنده، وأن العلة غير قادحة.
الجمع بين وصفي الصحة والحسن في حديث واحد:سبق أن الحديث الصحيح قسيم للحديث الحسن، فهما متغايران، ولكنه يمر بنا أحياناً حديث يوصف بأنه صحيح حسن فكيف نوفق بين هذين الوصفين مع التغاير بينهما؟
نقول: إن كان للحديث طريقان فمعنى ذلك أن أحد الطريقين صحيح، والثاني حسن فجمع فيه بين الوصفين باعتبار الطريقين.
وإن كان للحديث طريق واحد فمعناه التردد هل بلغ الحديث مرتبة الصحيح أو أنه في مرتبة الحسن؟
منقطع السند:أ - تعريفه ب - أقسامه ج - حكمه:
أ - منقطع السند:
هو الذي لم يتصل سنده، وقد سبق أن من شروط الحديث الصحيح والحسن أن يكون بسند متصل.
ب - وينقسم إلى أربعة أقسام:
مرسل ومعلق ومعضل ومنقطع.
1 - فالمرسل: ما رفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم صحابي لم يسمع منه أو تابعي.
2 - والمعلق: ما حذف أول إسناده.
وقد يراد به: ما حذف جميع إسناده كقول البخاري: وكان النبي صلى الله عليه وسلم يذكر الله في كل أحيانه (1)
فأما ما ينقله المصنفون كصاحب "العمدة" - مثلاً - منسوباً إلى أصله بدون إسناد؛ فلا
--------------------------------------------
এটি তাঁর নিকট এর বিশুদ্ধতা (صحة) নির্দেশ করে এবং এটি যে ত্রুটি (العلة) তা ক্ষতিকারক নয়।
একই হাদিসে সহিহ (الصحة) এবং হাসান (الحسن) বৈশিষ্ট্যের একত্রীকরণ:ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সহিহ (الصحيح) হাদিস হাসান (الحسن) হাদিসের সমান্তরাল বিভাগ, সুতরাং তারা উভয়ই ভিন্ন। তবে আমাদের সামনে অনেক সময় এমন হাদিস আসে যাকে সহিহ হাসান (صحيح حسن) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাহলে এই ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই দুই বৈশিষ্ট্যের মাঝে আমরা কীভাবে সমন্বয় করব?
আমরা বলি: যদি হাদিসটির দুটি সূত্র (طريقان) থাকে, তবে এর অর্থ হলো সূত্র দুটির একটি সহিহ (صحيح) এবং দ্বিতীয়টি হাসান (حسن)। ফলে উভয় সূত্রের বিবেচনায় এখানে দুটি বৈশিষ্ট্যের একত্রীকরণ করা হয়েছে।
আর যদি হাদিসটির একটিমাত্র সূত্র (طريق واحد) থাকে, তবে এর অর্থ হলো দ্বিধা যে, হাদিসটি কি সহিহ (الصحيح) এর স্তরে পৌঁছেছে নাকি হাসান (الحسن) এর স্তরে রয়েছে?
বিচ্ছিন্ন সনদ (منقطع السند):ক - সংজ্ঞা খ - প্রকারভেদ গ - বিধান:
ক - বিচ্ছিন্ন সনদ (منقطع السند):
এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন নয়। ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সহিহ (الصحيح) এবং হাসান (الحسن) হাদিসের শর্তাবলির অন্যতম হলো এর সনদটি অবিচ্ছিন্ন (متصل) হতে হবে।
খ - এটি চার প্রকারে বিভক্ত:
মুরসাল (مرسل), মুয়াল্লাক (معلق), মুদাল (معضل) এবং মুনকাতি (منقطع)।
১ - মুরসাল (المرسل): যা এমন কোনো সাহাবী (صحابي) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন যিনি তাঁর থেকে শোনেননি, অথবা কোনো তাবিঈ (تابعي) সম্বন্ধ করেছেন।
২ - মুয়াল্লাক (المعلق): যার সনদের (إسناد) শুরু থেকে কোনো অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।
কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: যার সম্পূর্ণ সনদ (إسناد) বাদ দেওয়া হয়েছে; যেমন ইমাম বুখারীর বক্তব্য: "আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন।" (১)
আর গ্রন্থকারগণ যা বর্ণনা করেন, যেমন উদাহরণস্বরূপ 'উমদাহ' প্রণেতা—সনদ (إسنাদ) ছাড়াই মূল গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করে; তা নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يحكم عليه بالتعليق حتى ينظر في الأصل المنسوب إليه. لأن ناقله غير مسندٍ له، وإنما هو فرع، والفرع له حكم الأصل.
3 - والمعضل: ما حذف من أثناء سنده راويان فأكثر على التوالي.
4 - والمنقطع: ما حذف من أثناء سنده راوٍ واحد، أو راويان فأكثر لا على التوالي.
وقد يراد به: كل ما لم يتصل سنده، فيشمل الأقسام الأربعة كلها.
مثال ذلك: ما رواه البخاري؛ قال: حدثنا الحميدي عبد الله بن الزبير قال: حدثنا سفيان، قال: حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري قال: أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات
… " (1) إلخ.
فإذا حذف من هذا السند عمر بن الخطاب رضي الله عنه؛ سمي مرسلاً.
وإذا حذف منه الحميدي؛ سمي معلقاً.
وإذا حذف منه سفيان ويحيى بن سعيد؛ سمي معضلاً.
وإذا حذف منه سفيان وحده أو مع التيمي؛ سمي منقطعاً.
جـ - حكمه:
ومنقطع السند بجميع أقسامه مردود؛ للجهل بحال المحذوف، سوى ما يأتي:
1 - مرسل الصحابي.
2 - مرسل كبار التابعين (2) عند كثير من أهل العلم، إذا عضده مرسل آخر، أو عمل صحابي أو قياس.
3 - المعلَّق إذا كان بصيغة الجزم في كتابِ الْتُزِمت صحته "كصحيح البخاري".
4 - ما جاء متصلاً من طريق آخر، وتمت فيه شروط القَبول.
--------------------------------------------
এর উপর ঝুলন্ত (تعليق) হিসেবে হুকুম লাগানো হবে যতক্ষণ না যে মূল উৎসের দিকে এটি সম্বন্ধিত করা হয়েছে তা পর্যালোচনা করা হয়। কারণ এর বর্ণনাকারী এটি তার নিজের জন্য সনদযুক্ত (مسند) করেননি, বরং এটি একটি শাখা, আর শাখার বিধান মূলের বিধানের অনুরূপ।
৩ - এবং অতি-বিচ্ছিন্ন (معضل): যার সনদের মধ্য থেকে পরপর দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে।
৪ - এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع): যার সনদের মধ্য থেকে একজন বর্ণনাকারী, অথবা পরপর নয় এমন দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে।
আর কখনও এর দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়: যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন নয় এমন প্রতিটি প্রকার, ফলে এটি চারটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
এর উদাহরণ: যা বুখারি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুমাইদি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তাইমি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস লাইসিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট
… " (১) ইত্যাদি।
যদি এই সনদ থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বাদ দেওয়া হয়, তবে একে অপ্রত্যক্ষ-বিচ্ছিন্ন (مرسل) বলা হবে।
যদি এখান থেকে হুমাইদিকে বাদ দেওয়া হয়, তবে একে ঝুলন্ত (معلق) বলা হবে।
যদি এখান থেকে সুফিয়ান এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বাদ দেওয়া হয়, তবে একে অতি-বিচ্ছিন্ন (معضل) বলা হবে।
যদি এখান থেকে শুধু সুফিয়ানকে অথবা তার সাথে তাইমিকে বাদ দেওয়া হয়, তবে একে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হবে।
গ - এর বিধান:
সনদ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সকল প্রকারই প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود); কারণ যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে তার অবস্থা অজ্ঞাত থাকার কারণে। তবে নিচের বিষয়গুলো এর ব্যতিক্রম:
১ - সাহাবীর অপ্রত্যক্ষ-বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা।
২ - প্রবীণ তাবেয়ীদের অপ্রত্যক্ষ-বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা অনেক বিশেষজ্ঞ আলিমের নিকট গ্রহণযোগ্য, যখন অন্য কোনো অপ্রত্যক্ষ-বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা, অথবা কোনো সাহাবীর আমল কিংবা কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) দ্বারা একে সমর্থন করা হয়।
৩ - ঝুলন্ত (معلق) বর্ণনা যদি এমন কিতাবে নিশ্চয়তাসূচক শব্দের সাথে উল্লেখ থাকে যেখানে কেবল বিশুদ্ধতা (صحة) রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেমন: "সহিহ বুখারি"।
৪ - যা অন্য কোনো সূত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে গ্রহণযোগ্যতার (قبول) শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
التدليس:أ - تعريفه ب - أقسامه ج - طائفة من المدلسين د - حكم حديث المدلس:
أ - التدليس:
سياق الحديث بسند؛ يوهم أنه أعلى مما كان عليه في الواقع.
ب - وينقسم إلى قسمين:
تدليس الإسناد، وتدليس الشيوخ.
فتدليس الإسناد: أن يروي عمن لقيه ما لم يسمعه من قوله أو يره من فعله، بلفظ يوهم أنه سمعه أو رآه مثل: قال، أو فعل، أو عن فلان، أو أن فلاناً قال، أو فعل، ونحو ذلك.
وتدليس الشيوخ: أن يسمّي الراوي شيخه، أو يصفه بغير ما اشتهر به فيوهم أنه غيره؛ إما لكونه أصغر منه، فلا يحب أن يظهر روايته عمن دونه، وإما ليظن الناس كثرة شيوخه، وإما لغيرهما من المقاصد.
ج - والمدلسون كثيرون، وفيهم الضعفاء والثقات؛ كالحسن البصري، وحميد الطويل، وسليمان بن مهران الأعمش، ومحمد بن إسحاق والوليد بن مسلم، وقد رتبهم الحافظ إلى خمس مراتب:
الأولى - من لم يوصف به إلا نادراً؛ كيحيى بن سعيد.
الثانية - من احتمل الأئمة تدليسه، وأخرجوا له في "الصحيح"؛ لإمامته، وقلة تدليسه في جنب ما روى؛ كسفيان الثوري، أو كان لا يدلس إلا عن ثقة؛ كسفيان بن عيينة.
الثالثة - من أكثر من التدليس غير متقيد بالثقات؛ كأبي الزبير المكي.
الرابعة - من كان أكثر تدليسه عن الضعفاء والمجاهيل؛ كبقية بن الوليد.
الخامسة - من انضم إليه ضعف بأمر آخر؛ كعبد الله بن لهيعة.
د - وحديث المدلس غير مقبول إلا أن يكون ثقة، ويصرح بأخذه مباشرة عمن روى عنه، فيقول: سمعت فلاناً يقول، أو رأيته يفعل، أو حدثني ونحوه، لكن ما جاء في
তাদলিস (تدليس):ক - এর সংজ্ঞা, খ - এর প্রকারভেদ, গ - মুদাল্লিস (مدلس)-দের একটি দল, ঘ - মুদাল্লিস (مدلس)-এর হাদিসের বিধান:
ক - তাদলিস (تدليس):
হাদিসের সনদ (سند) এমনভাবে বর্ণনা করা; যা এই ভ্রম বা ধারণা তৈরি করে যে, এটি বাস্তবে যেমন তার চেয়েও উচ্চতর পর্যায়ের।
খ - এটি দুই ভাগে বিভক্ত:
সনদের তাদলিস (تدليس الإسناد) এবং শায়খদের তাদলিস (تدليس الشيوخ)।
সনদের তাদলিস (تدليس الإسناد) হলো: বর্ণনাকারী যার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তার থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তার মুখে শোনেননি কিংবা তার কাজে দেখেননি, তবে এমন শব্দ ব্যবহার করা যাতে ভ্রম হয় যে তিনি তা শুনেছেন বা দেখেছেন। যেমন: 'তিনি বলেছেন', 'তিনি করেছেন', 'অমুক থেকে', 'অমুক বলেছেন' বা 'করেছেন' এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা।
শায়খদের তাদলিস (تدليس الشيوخ) হলো: বর্ণনাকারী তার শায়খ (শিক্ষক)-এর নাম উল্লেখ করবেন বা তার এমন কোনো গুণাবলি দ্বারা পরিচয় দেবেন যা দিয়ে তিনি প্রসিদ্ধ নন, যাতে ধারণা হয় যে তিনি অন্য কেউ। এটি হতে পারে শায়খ বর্ণনাকারীর চেয়ে বয়সে ছোট হওয়ার কারণে, ফলে তিনি তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কারো থেকে বর্ণনা করা প্রকাশ করতে পছন্দ করেন না; অথবা মানুষের নিকট নিজের অধিক সংখ্যক শায়খ আছে বলে জাহির করার জন্য, কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে।
গ - মুদাল্লিস (مدلس) সংখ্যায় অনেক, এবং তাদের মধ্যে দুর্বল (ضعيف) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) উভয়ই রয়েছেন; যেমন: হাসান বসরী, হুমাইদ আত-তবীল, সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আমাশ, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এবং ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম। হাফিজ তাদের পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন:
প্রথম স্তর - যাদের মধ্যে অত্যন্ত দুর্লভ বা কদাচিৎ এটি পাওয়া যায়; যেমন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ।
দ্বিতীয় স্তর - ইমামগণ যাদের তাদলিস (تدليس) গ্রহণ করেছেন এবং তাদের সুউচ্চ ইমামত ও তাদের বিপুল বর্ণনার তুলনায় তাদলিসের পরিমাণ নগণ্য হওয়ার কারণে 'সহিহ' গ্রন্থসমূহে তাদের হাদিস সংকলন করেছেন; যেমন: সুফিয়ান সাওরী। অথবা যারা কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ছাড়া তাদলিস (تدليس) করতেন না; যেমন: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ।
তৃতীয় স্তর - যারা অধিক মাত্রায় তাদলিস (تدليس) করতেন এবং কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন না; যেমন: আবু যুবাইর আল-মাক্কী।
চতুর্থ স্তর - যাদের অধিকাংশ তাদলিস (تدليس) ছিল দুর্বল (ضعيف) ও অপরিচিত (مجهول) বর্ণনাকারীদের থেকে; যেমন: বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালীদ।
পঞ্চম স্তর - যাদের মধ্যে তাদলিস ছাড়াও অন্য কোনো কারণে দুর্বলতা (ضعف) বিদ্যমান; যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া।
ঘ - মুদাল্লিস (مدلس)-এর হাদিস ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ না তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন এবং যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। যেমন তিনি বলবেন: 'আমি অমুককে বলতে শুনেছি', 'আমি তাকে করতে দেখেছি', 'তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' ইত্যাদি। তবে যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
"صحيحي البخاري ومسلم" بصيغة التدليس عن ثقات المدلسين فمقبول؛ لتلقي الأمة لما جاء فيهما بالقَبول من غير تفصيل.
المضطرب:أ - تعريفه ب - حكمه:
أ - المضطرب:
ما اختلف الرواة في سنده، أو متنه، وتعذر الجمع في ذلك والترجيح.
مثاله: ما روي عن أبي بكر رضي الله عنه أنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: أراك شبت قال: "شيبتني هود وأخواتها" (1) . فقد اختلف فيه على نحو عشرة أوجه: فروي موصولاً ومرسلاً، وروي من مسند أبي بكر وعائشة وسعد، إلى غير ذلك من الاختلافات التي لا يمكن الجمع بينها ولا الترجيح.
فإن أمكن الجمع وجب، وانتفى الاضطراب.
مثاله: اختلاف الروايات فيما أحرم به النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، ففي بعضها أنه أحرم بالحج، وفي بعضها أنه تمتع، وفي بعضها أنه قرن بين العمرة والحج، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ولا تناقض بين ذلك، فإنه تمتع تمتع قران، وأفرد أعمال الحج، وقرن بين النسكين العمرة والحج، فكان قارناً باعتبار جمعه النسكين ومفرداً باعتبار اقتصاره على أحد الطوافين والسعيين، ومتمتعاً باعتبار ترفهه بترك أحد السفرين (2) .
وإن أمكن الترجيح عمل بالراجح، وانتفى الاضطراب أيضاً.
مثاله: اختلاف الروايات في حديث بريرة رضي الله عنها حين عتقت فخيرها النبي صلى الله عليه وسلم بين أن تبقى مع زوجها أو تفارقه؛ هل كان زوجها حرًّا أو عبداً؟ (3)
فروى الأسود عن عائشة رضي الله عنها أنه كان حرًّا، وروى عروة بن الزبير والقاسم بن محمد بن أبي بكر عنها أنه كان عبداً، ورجحت روايتهما على
--------------------------------------------
Sahih Bukhari এবং Sahih Muslim-এ নির্ভরযোগ্য (ثقة) মুদাল্লিস (مدلس) বর্ণনাকারীদের তাদলিস (تدليس) এর শব্দে বর্ণিত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبول); কারণ উম্মাহ এই দুই কিতাবে যা এসেছে তা কোনো বিস্তারিত বাছবিচার ছাড়াই কবুল করে নিয়েছে।
মুদতারিব (المضطرب):ক - এর সংজ্ঞা খ - এর হুকুম:
ক - মুদতারিব (المضطرب):
যে হাদিসের সনদ (سند) বা মতনে (متن) বর্ণনাকারীরা মতভেদ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন কিংবা কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উদাহরণ: আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: "আমি আপনাকে বৃদ্ধ হতে দেখছি।" তিনি বললেন: "আমাকে হুদ এবং এর সমজাতীয় সূরাগুলো বৃদ্ধ করে দিয়েছে।" (১)। এই বর্ণনায় প্রায় দশটি উপায়ে মতভেদ পাওয়া যায়: এটি মুত্তাসিল (موصول) এবং মুরসাল (مرسل) উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবার এটি আবু বকর, আয়েশা ও সা’দ (রা.)-এর মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক মতভেদ রয়েছে যার মধ্যে সমন্বয় সাধন বা প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) সম্ভব নয়।
যদি সমন্বয় সাধন সম্ভব হয়, তবে তা করা ওয়াজিব এবং তখন ইদতিরাব (اضطراب) দূরীভূত হয়ে যায়।
উদাহরণ: বিদায় হজের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ধরনের ইহরাম বেঁধেছিলেন তা নিয়ে বর্ণনার বিভিন্নতা। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে তিনি হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন, কোনোটিতে তামাত্তু করার কথা এসেছে, আবার কোনোটিতে তিনি হজ ও উমরাহর মধ্যে কিরান করেছিলেন বলে বর্ণিত হয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ তিনি কিরান তামাত্তু করেছিলেন, হজের কার্যাবলি এককভাবে সম্পন্ন করেছিলেন এবং দুই ইবাদত উমরাহ ও হজকে একত্রে (কিরান) আদায় করেছিলেন। ফলে দুই ইবাদতকে একত্রিত করার কারণে তিনি ছিলেন কারিন (قارن), তাওয়াফ ও সাঈ একটি করার বিবেচনায় তিনি মুফরিদ (مفرد), এবং দুই সফরের একটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কারণে তিনি মুতামাত্তি (متمتع) হিসেবে গণ্য। (২)।
আর যদি প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) সম্ভব হয়, তবে অগ্রগণ্য (راجح) মতের ওপর আমল করা হবে এবং সেক্ষেত্রেও ইদতিরাব (اضطراب) দূরীভূত হয়ে যাবে।
উদাহরণ: বারীরা (রা.)-কে যখন মুক্ত করা হয় তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে স্বামীর সঙ্গে থাকা বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার এখতিয়ার দিয়েছিলেন। তখন তাঁর স্বামী কি স্বাধীন ছিল না দাস ছিল? (৩)
আসওয়াদ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে সে স্বাধীন ছিল। আর উরওয়াহ ইবনে যুবাইর ও কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর তাঁর থেকে বর্ণনা করেন যে সে দাস ছিল। এবং এই দুইজনের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رواية الأسود، لقربهما منها لأنها خالة عروة وعمة القاسم، وأما الأسود فأجنبي منها؛ مع أن في روايته انقطاعاً.
ب - والمضطرب:
ضعيف لا يحتج به، لأن اضطرابه يدل على عدم ضبط رواته، إلا إذا كان الاضطراب لا يرجع إلى أصل الحديث، فإنه لا يضر.
مثاله: اختلاف الروايات في حديث فضالة بن عبيد رضي الله عنه أنه اشترى قلادة يوم خيبر باثني عشر ديناراً فيها ذهب وخرز، قال: ففصلتها فوجدت فيها أكثر من اثني عشر ديناراً، فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: "لا تباع حتى تفصل". ففي بعض الروايات أن فضالة اشتراها، وفي بعضها أن غيره سأله عن شرائها، وفي بعض الروايات أنه ذهب وخرز، وفي بعضها ذهب وجوهر، وفي بعضها خرز معلقة بذهب، وفي بعضها باثني عشر ديناراً، وفي بعضها بتسعة دنانير، وفي بعضها سبعة (1) .
قال الحافظ ابن حجر: وهذا لا يوجب ضعفاً (يعني الحديث) بل المقصود من الاستدلال محفوظ لا اختلاف فيه؛ وهو النهي عن بيع ما لم يفصل، وأما جنسها أو مقدار ثمنها فلا يتعلق به في هذه الحال ما يوجب الاضطراب. اهـ.
وكذلك لا يوجب الاضطراب: ما يقع من الاختلاف في اسم الراوي أو كنيته، أو نحو ذلك، مع الاتفاق على عينه، كما يوجد كثيراً في الأحاديث الصحيحة.
الإدراج في المتن:أ - تعريفه ب - مكانه مع التمثيل - ج - متى يحكم به:
أ - الإدراج في المتن:
أن يدخل أحد الرواة في الحديث كلاماً من عنده بدون بيان، إما: تفسيراً لكلمة، أو استنباطاً لحكم، أو بياناً لحكمة.
ب - مكانه مع التمثيل:
ويكون في أول الحديث ووسطه وآخره.
مثاله في أوله: حديث أبي هريرة رضي الله عنه: "أسبغوا الوضوء" (2) "ويل
--------------------------------------------
আসওয়াদের বর্ণনা, কারণ তারা (উরওয়াহ ও কাসিম) তাঁর (আয়িশা রা.) নিকটাত্মীয় ছিলেন; যেহেতু তিনি উরওয়াহর খালা এবং কাসিমের ফুফু ছিলেন। কিন্তু আসওয়াদ তাঁর জন্য একজন পরপুরুষ (গায়রে মাহরাম); তাছাড়া তাঁর বর্ণনায় বিচ্ছিন্নতা (انقطاعا) রয়েছে।
খ - অস্থির (المضطرب):
এটি দুর্বল (ضعيف) যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এর অস্থিরতা বর্ণনাকারীদের হেফজ বা স্মৃতির সংহতি (ضبط)-র অভাব নির্দেশ করে। তবে যদি অস্থিরতা হাদিসের মূল ভিত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তা কোনো ক্ষতি করে না।
উদাহরণ: ফাদালাহ বিন উবাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনাসমূহের ভিন্নতা। তিনি খায়বারের যুদ্ধের দিন বারো দিনারের বিনিময়ে একটি হার ক্রয় করেছিলেন যাতে স্বর্ণ ও পুঁতি ছিল। তিনি বলেন: আমি তা পৃথক করলাম এবং তাতে বারো দিনারের চেয়েও বেশি স্বর্ণ পেলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তা পৃথক না করা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে না।" কিছু বর্ণনায় এসেছে যে ফাদালাহ নিজে তা ক্রয় করেছেন, আবার কিছু বর্ণনায় এসেছে অন্য কেউ তাঁকে এর ক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। কিছু বর্ণনায় এসেছে যে তাতে স্বর্ণ ও পুঁতি ছিল, কিছু বর্ণনায় স্বর্ণ ও মণি-মুক্তা, কিছু বর্ণনায় স্বর্ণের সাথে ঝুলানো পুঁতি, কিছু বর্ণনায় বারো দিনারের কথা, আবার কিছু বর্ণনায় নয় দিনারের এবং কিছু বর্ণনায় সাত দিনারের কথা উল্লেখ আছে (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: এটি হাদিসটির দুর্বলতা (ضعفا) সাব্যস্ত করে না, বরং দলিল পেশ (الاستدلال)-এর মূল উদ্দেশ্যটি সংরক্ষিত (محفوظ) যাতে কোনো মতভেদ নেই; আর তা হলো যা পৃথক করা হয়নি তা বিক্রি করার নিষেধাজ্ঞা। আর হারের উপাদান বা এর দামের পরিমাণ— এই ক্ষেত্রে এমন কোনো বিষয় নয় যা অস্থিরতা (الاضطراب) সৃষ্টি করে। সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে যা অস্থিরতা (الاضطراب) সৃষ্টি করে না: বর্ণনাকারীর নাম, উপনাম বা এই জাতীয় বিষয়ে সংঘটিত মতভেদ, যদি ব্যক্তিটি কে সে ব্যাপারে ঐকমত্য থাকে; যেমনটি বিশুদ্ধ (الصحيحة) হাদিসসমূহে প্রচুর দেখা যায়।
মূল পাঠে অনুপ্রবেশ (الإدراج في المتن):ক - সংজ্ঞা খ - উদাহরণসহ এর স্থান গ - কখন এর হুকুম দেওয়া হয়:
ক - মূল পাঠে অনুপ্রবেশ (الإدراج في المتن):
কোনো বর্ণনাকারীর হাদিসের মূল পাঠের (المتن) মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রবেশ করিয়ে দেওয়া। এটি হতে পারে: কোনো শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে, অথবা কোনো বিধান উদ্ভাবনের (استنباطا) জন্য, অথবা কোনো হিকমত বর্ণনার জন্য।
খ - উদাহরণসহ এর স্থান:
এটি হাদিসের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে হতে পারে।
শুরুতে হওয়ার উদাহরণ: আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: "তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পাদন করো" (২) "ধ্বংস..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
للأعقاب من النار".
فقوله: "أسبغوا الوضوء" مدرج من كلام أبي هريرة، بينته رواية للبخاري عنه أنه قال: أسبغوا الوضوء؛ فإن أبا القاسم صلى الله عليه وسلم قال: "ويل للأعقاب من النار".
ومثاله في وسطه: حديث عائشة رضي الله عنها في بدء الوحي (1) برسول الله صلى الله عليه وسلم وفيه:
وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد.
فقوله: وهو التعبد مدرج من كلام الزهري، بيّنته رواية للبخاري من طريقه بلفظ: وكان يلحق بغار حراء فيتحنث فيه - قال: والتحنث: التعبد - الليالي ذوات العدد.
ومثاله في آخره: حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن أمتي يدعون يوم القيامة غرًّا محجلين من آثار الوضوء"، فمن استطاع منكم أن يطيل غرته فليفعل (2) .
فقوله: "فمن استطاع منكم أن يطيل غرته فليفعل"، مدرج من كلام أبي هريرة انفرد بها نعيم بن المجمر عن أبي هريرة وذكر في "المسند" عنه أنه قال: لا أدري قوله: "فمن استطاع
… "، من قول النبي صلى الله عليه وسلم، أو من قول أبي هريرة! وقد بيّن غير واحد من الحفاظ أنها مدرجة، وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: لا يمكن أن تكون من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.
ج - متى يحكم به:
ولا يحكم بالإدراج إلا بدليل إما من كلام الراوي، أو من كلام أحد الأئمة المعتبرين، أو من الكلام المدرج بحيث يستحيل أن يقوله النبي صلى الله عليه وسلم.
الزيادة في الحديث:أ - تعريفها - ب - أقسامها وبيان حكم كل قسم مع التمثيل:
أ - الزيادة في الحديث:
أن يضيف أحد الرواة إلى الحديث ما ليس منه.
ب - وتنقسم إلى قسمين:
1 - أن تكون من قبيل الإدراج، وهي التي زادها أحد الرواة من عنده لا على أنها
--------------------------------------------
গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুন রয়েছে।"
তাঁর এই উক্তি: "তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করো" অংশটুকু আবু হুরায়রা (রা.)-এর কথা থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), যা বুখারি-তে তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি বলেছেন: তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করো; কেননা আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুন রয়েছে।"
আর মধ্যভাগে এর উদাহরণের মধ্যে রয়েছে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা (১) প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে:
তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে 'তাহান্নুস' তথা ইবাদত করতেন—টানা কয়েক রাত পর্যন্ত।
এখানে "অর্থাৎ ইবাদত করা" উক্তিটি জুহরি-র কথা থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), যা বুখারি-তে তাঁর সূত্রে বর্ণিত একটি বর্ণনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে, যার শব্দগুলো হলো: "তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করতেন এবং সেখানে 'তাহান্নুস' করতেন—তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তাহান্নুস অর্থ ইবাদত করা—টানা কয়েক রাত পর্যন্ত।"
আর শেষভাগে এর উদাহরণের মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ওজুর চিহ্নের কারণে মুখমণ্ডল ও হাত-পা উজ্জ্বল অবস্থায় ডাকা হবে; অতএব তোমাদের মধ্যে যে তার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।" (২)
এখানে "অতএব তোমাদের মধ্যে যে তার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম, সে যেন তা করে" উক্তিটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর কথা থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج)। নুয়াইম ইবনুল মুজমির এককভাবে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসনাদ-এ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি জানি না "অতএব যে সক্ষম..." উক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, নাকি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিজের কথা! হাফেজদের (الحفاظ) মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি স্পষ্ট করেছেন যে এটি অনুপ্রবিষ্ট (مدرج)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হওয়া অসম্ভব।
গ - কখন এর হুকুম দেওয়া হয়:
কোনো দলীল ছাড়া অনুপ্রবিষ্ট (مدرج) হওয়ার হুকুম দেওয়া যায় না; তা হতে পারে বর্ণনাকারীর (الراوي) নিজের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে, অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের বক্তব্যের মাধ্যমে, কিংবা অনুপ্রবিষ্ট (مدرج) হওয়া বাক্যটির বিষয়বস্তুর মাধ্যমে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষে বলা অসম্ভব।
হাদিসে অতিরিক্ত সংযোজন (الزيادة):ক - এর সংজ্ঞা - খ - এর প্রকারভেদ এবং উদাহরণসহ প্রতিটি প্রকারের হুকুমের বর্ণনা:
ক - হাদিসে অতিরিক্ত সংযোজন (الزيادة):
বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্য থেকে কেউ হাদিসের মধ্যে এমন কিছু যোগ করা যা হাদিসের অংশ নয়।
খ - এটি দুই ভাগে বিভক্ত:
১ - যা অনুপ্রবিষ্ট (مدرج) পর্যায়ের; আর এটি হলো যা বর্ণনাকারীদের কেউ নিজের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করেন এই হিসেবে নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من الحديث، وسبق بيان متى يحكم بها.
2 - أن يأتي بها بعض الرواة على أنها من الحديث نفسه.
فإن كانت من غير ثقة لم تقبل؛ لأنه لا يقبل ما انفرد به، فما زاده على غيره أولى بالرد، وإن كانت من ثقة، فإن كانت منافية لرواية غيره ممن هو أكثر منه، أو أوثق لم تقبل لأنها حينئذٍ شاذة.
مثاله: ما رواه مالك في "الموطأ": أن ابن عمر رضي الله عنهما إذا افتتح الصلاة رفع يديه حذو منكبيه، وإذا رفع رأسه من الركوع رفعهما دون ذلك (1) .
قال أبو داود: لم يذكر: (رفعهما دون ذلك) أحد غير مالك فيما أعلم. اهـ.
وقد صح عن ابن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يرفع يديه حتى يجعلهما حذو منكبيه، إذا افتتح الصلاة، وعند الركوع، وعند الرفع منه؛ بدون تفريق (2) .
وإن كانت غير منافية لرواية غيره قبلت؛ لأن فيها زيادة علم.
مثاله: حديث عمر رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "ما منكم من أحد يتوضأ فيبلغ، أو فيسبغ الوضوء ثم يقول: أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبد الله ورسوله إلا فتحت له أبواب الجنة الثمانية يدخل من أيها شاء" (3) .
فقد رواه مسلم من طريقين وفي أحدهما زيادة: (وحده لا شريك له) بعد قوله: (إلا الله) .
اختصار الحديث:أ - تعريفه ب - حكمه:
أ - اختصار الحديث:
أن يحذف راويه، أو ناقله شيئاً منه.
ب - ولا يجوز إلا بشروط خمسة:
الأول - أن لا يخل بمعنى الحديث: كالاستثناء، والغاية، والحال، والشرط، ونحوها.
--------------------------------------------
হাদিসের অংশ হিসেবে; আর এর মাধ্যমে কখন হুকুম দেওয়া হবে তা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
২ - কিছু বর্ণনাকারী তা এমনভাবে উল্লেখ করেন যেন তা হাদিসেরই অংশ।
যদি তা নির্ভরযোগ্য (ثقة) নয় এমন কারো পক্ষ থেকে হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না; কারণ তার একক বর্ণনা (انفراد) গ্রহণ করা হয় না, সুতরাং অন্যদের বর্ণনার ওপর তার অতিরিক্ত অংশ তো প্রত্যাখ্যানযোগ্য হওয়ার অধিক দাবিদার। আর যদি তা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়, তবে তা যদি তার চেয়ে সংখ্যায় অধিক বা অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পরিপন্থী হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না; কারণ তখন তা শাজ (شاذة) হিসেবে গণ্য হবে।
উদাহরণস্বরূপ: ইমাম মালিক মুওয়াত্তা-এ বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন সালাত শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর দুই হাত তুলতেন, আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন তার চেয়ে কম উচ্চতায় হাত তুলতেন (১)।
আবু দাউদ বলেন: আমার জানা মতে মালিক ব্যতীত অন্য কেউ 'তার চেয়ে কম উচ্চতায় হাত তুলতেন' কথাটি উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত।
অথচ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু (مرفوعاً) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন, রুকুতে যেতেন এবং রুকু থেকে মাথা তুলতেন, তখন কোনো পার্থক্য ছাড়াই উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন (২)।
আর যদি তা অন্যের বর্ণনার পরিপন্থী না হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে; কারণ তাতে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ উত্তমরূপে পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করে, তারপর বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল', তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারে" (৩)।
ইমাম মুসলিম এটি দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের একটিতে 'ইল্লাল্লাহ' শব্দের পর 'ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ' (একক সত্তা, তাঁর কোনো শরিক নেই) কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে।
হাদিস সংক্ষেপকরণ:ক - এর সংজ্ঞা খ - এর বিধান:
ক - হাদিস সংক্ষেপকরণ:
বর্ণনাকারী বা উদ্ধৃতি প্রদানকারী কর্তৃক হাদিসের কোনো অংশ ফেলে দেওয়া।
খ - আর এটি পাঁচটি শর্ত ছাড়া জায়েজ নয়:
প্রথমত - এর ফলে যেন হাদিসের অর্থের কোনো হানি না ঘটে; যেমন: ব্যতিক্রম, সীমা, অবস্থা, শর্ত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
مثل قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تبيعوا الذهب بالذهب إلا مثلاً بمثل" (1) .
"لا تبيعوا الثمر حتى يبدو صلاحه" (2) .
"لا يقضين حكم بين اثنين وهو غضبان" (3) .
"نعم إذا هي رأت الماء" (4) ؛ قاله جواباً لأم سليم حين سألته: هل على المرأة من غسل إذا هي احتلمت؟
"لا يقل أحدكم: اللهم! اغفر لي إن شئت" (5) .
"الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة" (6) .
فلا يجوز حذف قوله:
(إلا مثلاً بمثل)
(حتى يبدو صلاحه)
(وهو غضبان)
(إذا هي رأت الماء)
(إن شئت)
(المبرور) ؛ لأن حذف هذه الأشياء يخلّ بمعنى الحديث.
الثاني - أن لا يحذف ما جاء الحديث من أجله.
مثل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رجلاً سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إنا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضأنا به عطشنا! أفنتوضأ بماء البحر؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "هو الطهور ماؤه، الحل ميتته" (7) .
فلا يجوز حذف قوله: (هو الطهور ماؤه) ؛ لأن الحديث جاء من أجله، فهو المقصود بالحديث.
الثالث - أن لا يكون وارداً لبيان صفة عبادة قولية أو فعلية.
مثل حديث ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا جلس أحدكم في الصلاة فليقل: التحيات لله، والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله" (8) .
فلا يجوز حذف شيء من هذا الحديث؛ لإخلاله بالصفة المشروعة إلا أن يشير إلى أن فيه حذفاً.
الرابع - أن يكون من عالم بمدلولات الألفاظ، وما يخل حذفه بالمعنى وما لا يخل؛ لئلا يحذف ما يخل بالمعنى من غير شعور بذلك.
الخامس - أن لا يكون الراوي محلاً للتهمة، بحيث يظن به سوء الحفظ إن اختصره، أو
--------------------------------------------
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করো না, সমান সমান ব্যতীত" (১)।
"তোমরা ফল বিক্রি করো না, যতক্ষণ না তার উপযুক্ততা স্পষ্ট হয়" (২)।
"কোনো বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচার না করে" (৩)।
"হ্যাঁ, যখন সে বীর্যপাত দেখতে পায়" (৪); উম্মে সুলাইম যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মহিলার কি স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা আবশ্যক? তখন তিনি এর উত্তরে এটি বলেছিলেন।
"তোমাদের কেউ যেন না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন" (৫)।
"মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়" (৬)।
সুতরাং তাঁর এই বাণীগুলো বাদ দেওয়া বৈধ নয়:
(সমান সমান ব্যতীত)
(যতক্ষণ না তার উপযুক্ততা স্পষ্ট হয়)
(রাগান্বিত অবস্থায়)
(যখন সে বীর্যপাত দেখতে পায়)
(যদি আপনি চান)
(মকবুল); কারণ এই অংশগুলো বাদ দিলে হাদিসের অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দ্বিতীয়ত—যে কারণে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, সেই বিষয়টি বাদ না দেওয়া।
উদাহরণস্বরূপ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে অজু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করতে পারি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত জীব হালাল" (৭)।
সুতরাং তাঁর এই কথাটি বাদ দেওয়া বৈধ নয়: (এর পানি পবিত্র); কারণ এর জন্যই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই হাদিসের মূল উদ্দেশ্য।
তৃতীয়ত—হাদিসটি যেন কোনো মৌখিক বা ব্যবহারিক ইবাদতের পদ্ধতি বর্ণনার জন্য না হয়।
যেমন ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন নামাজে বসবে তখন সে যেন বলে: সমস্ত সম্মান আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল" (৮)।
এই হাদিসের কোনো অংশ বাদ দেওয়া জায়েজ নয়; কারণ এটি শরয়ি পদ্ধতিতে ব্যাঘাত ঘটায়, যদি না সেখানে কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত করা হয়।
চতুর্থত—বর্ণনাকারী যেন শব্দের অর্থ এবং কোনো অংশ বাদ দিলে অর্থের বিকৃতি ঘটে কি না সে বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেম হন; যাতে তিনি অজান্তেই এমন কিছু বাদ না দেন যা অর্থের বিকৃতি ঘটায়।
পঞ্চমত—বর্ণনাকারী (الراوي) যেন অভিযুক্ত (محلاً للتهمة) না হন, যাতে হাদিস সংক্ষেপ করার কারণে তাঁর মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এর সন্দেহ তৈরি না হয়, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
الزيادة فيه إن أتمه؛ لأن اختصاره في هذه الحال يستلزم التردد في قَبوله، فيضعف به الحديث.
ومحل هذا الشرط في غير الكتب المدونة المعروفة؛ لأنه يمكن الرجوع إليها فينتفي التردد.
فإذا تمت هذه الشروط جاز اختصار الحديث، ولا سيما تقطيعه للاحتجاج بكل قطعة منه في موضعها، فقد فعله كثير من المحدثين والفقهاء.
والأَولى أن يشير عند اختصار الحديث إلى أن فيه اختصاراً فيقول: إلى آخر الحديث، أو: ذكر الحديث ونحوه.
رواية الحديث بالمعنى:أ - تعريفها ب - حكمها:
أ - رواية الحديث بالمعنى:
نقله بلفظ غير لفظ المروي عنه.
ب - ولا تجوز إلا بشروط ثلاثة:
1 - أن تكون من عارف بمعناه: من حيث اللغة، ومن حيث مراد المروي عنه.
2 - أن تدعو الضرورة إليها، بأن يكون الراوي ناسياً للفظ الحديث حافظاً لمعناه. فإن كان ذاكراً للفظه لم يجز تغييره، إلا أن تدعو الحاجة إلى إفهام المخاطب بلغته.
3 - أن لا يكون اللفظ متعبداً به: كألفاظ الأذكار ونحوها.
وإذا رواه بالمعنى فليأت بما يشعر بذلك فيقول عقب الحديث: أو كما قال، أو نحوه، كما في حديث أنس رضي الله عنه في قصة الأعرابي الذي بال في المسجد قال: ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه فقال له: "إن هذه المساجد لا تصلح
এতে সংযোজন করা যদি তিনি তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন; কারণ এই অবস্থায় সংক্ষেপ (اختصار) করা হলে তা গ্রহণের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করে, ফলে এর দ্বারা হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হয়ে যায়।
আর এই শর্তটি সুপরিচিত সংকলিত গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ সেসব গ্রন্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব, ফলে সংশয় দূর হয়ে যায়।
সুতরাং এই শর্তসমূহ পূর্ণ হলে হাদিস সংক্ষেপ (اختصار) করা বৈধ, বিশেষ করে এর প্রতিটি অংশকে নিজ নিজ স্থানে দলিল (احتجاج) হিসেবে পেশ করার জন্য খণ্ডিতভাবে বর্ণনা করা; কেননা অনেক মুহাদ্দিস (محدث) ও ফকিহ (فقيه) এটি করেছেন।
আর উত্তম হলো হাদিস সংক্ষেপ (اختصار) করার সময় এতে যে সংক্ষেপণ করা হয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত করা। যেমন বলা: "হাদিসের শেষ পর্যন্ত" অথবা "তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন" এবং অনুরূপ কিছু।
মর্মগতভাবে হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى):ক - এর সংজ্ঞা খ - এর বিধান:
ক - মর্মগতভাবে হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى):
যার নিকট থেকে বর্ণিত হচ্ছে তার শব্দ ব্যতীত ভিন্ন শব্দে তা বর্ণনা করা।
খ - আর এটি তিনটি শর্ত ব্যতীত বৈধ নয়:
1 - বর্ণনাকারীকে এর মর্মার্থ সম্পর্কে বিজ্ঞ হতে হবে: ভাষার দিক থেকে এবং যার নিকট থেকে বর্ণিত হচ্ছে তার উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায়ের দিক থেকে।
2 - এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়া, যেমন রাবী (راوي) হাদিসের শব্দ ভুলে গিয়ে এর মর্মার্থ স্মরণে রেখেছেন। তবে যদি তার শব্দ মনে থাকে, তবে তা পরিবর্তন করা বৈধ নয়; তবে সম্বোধিত ব্যক্তিকে তার ভাষায় বোঝানোর প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা।
3 - শব্দগুলো এমন না হওয়া যার শব্দগত পাঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য: যেমন জিকিরের শব্দসমূহ ও অনুরূপ অন্যান্য।
আর যখন কেউ মর্মগতভাবে হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى) করবেন, তখন এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করবেন যা এর প্রতি ইঙ্গিত করে। যেমন হাদিস শেষে বলা: "অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন" কিংবা "অনুরূপ কিছু", যেমন আনাস (রা.)-এর হাদিসে মসজিদে পেশাবকারী গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনায় এসেছে, তিনি বলেন: অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই এই মসজিদসমূহ উপযুক্ত নয়...
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
لشيء من هذا البول ولا القذر، إنما هي لذكر الله عز وجل، والصلاة، وقراءة القرآن" (1) ، أو كما قال صلى الله عليه وسلم.
وكما في حديث معاوية بن الحكم - وقد تكلم في الصلاة لا يدري - فلما صلى النبي صلى الله عليه وسلم قال له: "إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس إنما هو التسبيح، والتكبير، وقراءة القرآن" (2) ، أو كما قال صلى الله عليه وسلم.
الموضوع:أ - تعريفه ب - حكمه ج - ما يعرف به الوضع د - طائفة من الأحاديث الموضوعة وبعض الكتب المؤلفة فيها هـ - طائفة من الوضاعين:
أ - الموضوع:
الحديث المكذوب على النبي صلى الله عليه وسلم.
ب - حكمه:
وهو المردود، ولا يجوز ذكره إلا مقروناً ببيان وضعه؛ للتحذير منه؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين" (3) . رواه مسلم.
ج - ويعرف الوضع بأمور منها:
1 - إقرار الواضع به.
2 - مخالفة الحديث للعقل، مثل: أن يتضمن جمعاً بين النقيضين، أو إثبات وجود مستحيل، أو نفي وجود واجب ونحوه.
3 - مخالفته للمعلوم بالضرورة من الدين، مثل: أن يتضمن إسقاط ركن من أركان الإسلام، أو تحليل الربا ونحوه، أو تحديد وقت قيام الساعة، أو جواز إرسال نبي بعد محمد صلى الله عليه وسلم، ونحو ذلك.
د - والأحاديث الموضوعة كثيرة منها:
1 - أحاديث في زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
...এই প্রস্রাব বা অপবিত্রতার কোনোটির জন্যই নয়; বরং এটি কেবল আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার জিকির, নামাজ এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।" (১), অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন।
এবং যেমনটি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকামের হাদিসে এসেছে—তিনি না বুঝে নামাজের মধ্যে কথা বলেছিলেন—অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করলেন, তিনি তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই এই নামাজে মানুষের কথাবার্তার কোনো কিছু শোভা পায় না; এটি কেবল তাসবিহ, তাকবির এবং কুরআন তিলাওয়াত।" (২), অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন।
বিষয়: জাল বা বানোয়াট (الموضوع):ক - এর সংজ্ঞা খ - এর বিধান গ - যা দ্বারা জালকরণ (الوضع) শনাক্ত করা হয় ঘ - জাল বা বানোয়াট (الموضوعة) হাদিসের একটি দল এবং এ বিষয়ে রচিত কিছু গ্রন্থ ঙ - জালকারী বা মিথ্যাবাদীদের (الوضاعين) একটি দল:
ক - জাল বা বানোয়াট (الموضوع):
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা আরোপিত হাদিস।
খ - এর বিধান:
এটি প্রত্যাখ্যাত (المردود), এবং এর জাল হওয়ার বর্ণনা স্পষ্ট করা ছাড়া এটি উল্লেখ করা বৈধ নয়; যাতে এ থেকে মানুষকে সতর্ক করা যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সম্পর্কে সে মনে করে যে এটি মিথ্যা, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।" (৩)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
গ - হাদিস জালকরণ (الوضع) কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে চেনা যায়, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - জালকারীর (الواضع) স্বীকৃতি।
২ - হাদিসটি আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির পরিপন্থী হওয়া, যেমন: কোনো বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়ের একত্র হওয়া, অথবা কোনো অসম্ভব জিনিসের অস্তিত্ব প্রমাণ করা, কিংবা কোনো আবশ্যকীয় বিষয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং এই জাতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা।
৩ - দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত বিষয়ের পরিপন্থী হওয়া, যেমন: ইসলামের কোনো রুকন বা স্তম্ভ বাতিল করা, অথবা সুদ হালাল করা বা এই জাতীয় বিষয়, অথবা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করা, অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে কোনো নবী প্রেরণের বৈধতা এবং এই জাতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা।
ঘ - জাল বা বানোয়াট (الموضوعة) হাদিস অনেক রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর জিয়ারত সংক্রান্ত কিছু হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - أحاديث في فضائل شهر رجب ومزية الصلاة فيه.
3 - أحاديث في حياة الخضر - صاحب موسى عليه الصلاة والسلام وأنه جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وحضر دفنه.
4 - أحاديث في أبواب مختلفة نذكر منها ما يلي:
"أحبوا العرب لثلاث: لأني عربي، والقرآن عربي، ولسان أهل الجنة عربي" (1) .
"اختلاف أمتي رحمة" (2) .
"اعمل لدنياك كأنك تعيش أبداً، واعمل لآخرتك كأنك تموت غداً" (3) .
"حب الدنيا رأس كل خطيئة" (4) .
"حب الوطن من الإيمان" (5) .
"خير الأسماء ما حمد وعبد" (6) .
"نهى عن بيع وشرط" (7) .
"يوم صومكم يوم نحركم" (8) .
وقد ألّف كثير من أهل الحديث في بيان الأحاديث الموضوعة؛ دفاعاً عن السنة، وتحذيراً للأمة مثل:
1 - "الموضوعات الكبرى" للإمام عبد الرحمن بن الجوزي المتوفى سنة 597هـ، لكنه لم يستوعبها وأدخل فيها ما ليس منها.
2 - "الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة" للإمام الشوكاني المتوفى سنة 1250هـ، وفيها تساهل بإدخال ما ليس بموضوع.
3 - "تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأحاديث الشنيعة الموضوعة" لابن عراق المتوفى سنة 963هـ وهو من أجمع ما كتب فيها.
هـ - والوضاعون كثيرون ومن أكابرهم المشهورين:
إسحاق بن نجيح الملطي، ومأمون بن أحمد الهروي ومحمد بن السائب الكلبي، والمغيرة بن سعيد الكوفي، ومقاتل بن سليمان، والواقدي بن أبي يحيى.
وهم أصناف فمنهم:
أولاً - الزنادقة الذين يريدون إفساد عقيدة المسلمين، وتشويه الإسلام، وتغيير أحكامه مثل: محمد بن سعيد المصلوب الذي قتله أبو جعفر المنصور، وضع حديثاً عن
--------------------------------------------
২ - রজব মাসের ফজিলত এবং তাতে নামাজের বিশেষত্ব সম্পর্কে হাদিসসমূহ।
৩ - মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর সঙ্গী খিজির-এর জীবন সম্পর্কিত হাদিসসমূহ; এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন এবং তাঁর জানাজায় শরিক হয়েছিলেন।
৪ - বিভিন্ন অধ্যায়ের হাদিসসমূহ, যার মধ্য থেকে আমরা নিম্নোক্তগুলো উল্লেখ করছি:
"তোমরা তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো: যেহেতু আমি আরব, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি" (১) ।
"আমার উম্মতের মতভেদ রহমত" (২) ।
"তোমার দুনিয়ার জন্য এমনভাবে কাজ করো যেন তুমি চিরকাল বেঁচে থাকবে, আর তোমার আখিরাতের জন্য এমনভাবে কাজ করো যেন তুমি আগামীকালই মৃত্যুবরণ করবে" (৩) ।
"দুনিয়ার মোহ সকল পাপের মূল" (৪) ।
"দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ" (৫) ।
"সর্বোত্তম নাম হলো যাতে প্রশংসা (হামদ) এবং দাসত্ব (আবদ) প্রকাশ পায়" (৬) ।
"কেনাবেচা এবং শর্ত (যুক্ত লেনদেন) থেকে নিষেধ করা হয়েছে" (৭) ।
"তোমাদের রোজা শুরু হওয়ার দিনটিই হবে তোমাদের কোরবানির দিন" (৮) ।
অনেক মুহাদ্দিস সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং উম্মতকে সতর্ক করার জন্য জাল (موضوع) হাদিসসমূহ বর্ণনায় কিতাব রচনা করেছেন; যেমন:
১ - ইমাম আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হি.) রচিত "আল-মাওদুআত আল-কুবরা"; তবে তিনি এতে সমস্ত জাল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি এবং এমন কিছু বিষয় এতে প্রবেশ করিয়েছেন যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
২ - ইমাম শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হি.) রচিত "আল-فাওয়ায়িদ আল-মাজমুআ ফিল আহাদিস আল-মাওদুআ"; এতে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে যা জাল (موضوع) নয়।
৩ - ইবনে ইরাক (মৃত্যু ৯৬৩ হি.) রচিত "তানজিহুশ শারীয়াহ আল-মারফুআ আনিল আহাদিস আশ-শানিআ আল-মাওদুআ"; এটি এই বিষয়ে রচিত সবচেয়ে সমৃদ্ধ কিতাবগুলোর অন্যতম।
৫ - হাদিস জালকারীগণ (وضاعون) অনেক এবং তাদের মধ্যে বড় ও প্রসিদ্ধরা হলেন:
ইসহাক ইবনে নাজিহ আল-মালাতি, মামুন ইবনে আহমদ আল-হারাউই, মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবি, মুগিরা ইবনে সাঈদ আল-কুফি, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং ওয়াকিদি ইবনে আবু ইয়াহইয়া।
তারা বিভিন্ন শ্রেণীর, তাদের মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত - জিন্দিক (زنادقة) সম্প্রদায়, যারা মুসলিমদের আকিদাহ নষ্ট করতে, ইসলামকে কলঙ্কিত করতে এবং এর বিধানগুলো পরিবর্তন করতে চায়। যেমন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মাসলুব যাকে আবু জাফর আল-মানসুর হত্যা করেছিলেন; সে হাদিস জাল (وضع) করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أنس مرفوعاً: "أنا خاتم النبيين لا نبي بعدي إلا أن يشاء الله" (1) .
ومثل عبد الكريم بن أبي العوجاء (2) الذي قتله أحد الأمراء العباسيين في البصرة، وقال حين قدم للقتل: لقد وضعت فيكم أربعة آلاف حديث، أحرم فيها الحلال، وأحلل فيها الحرام.
وقد قيل: إن الزنادقة وضعوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة عشر ألف حديث.
ثانياً - المتزلفون إلى الخلفاء والأمراء: مثل غياث بن إبراهيم دخل على المهدي، وهو يلعب بالحمام فقيل له: حدث أمير المؤمنين! فَسَاقَ سنداً وضع به حديثاً على النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا سبق إلا في خفٍّ أو نصل أو حافر أو جناح" (3) فقال المهدي: أنا حملته على ذلك! ثم ترك الحمام، وأمر بذبحها.
ثالثاً - المتزلفون إلى العامة بذكر الغرائب ترغيباً، أو ترهيباً، أو التماساً لمال، أو جاه مثل: القصاص الذين يتكلمون في المساجد والمجتمعات بما يثير الدهشة من غرائب.
نقل عن الإمام أحمد بن حنبل ويحيى بن معين (4) أنهما صليا في مسجد الرصافة، فقام قاص يقص فقال: حدثنا أحمد بن حنبل ويحيى بن معين، ثم ساق سنداً إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من قال لا إله إلا الله خلق الله من كل كلمة طيراً منقاره من ذهب وريشه من مرجان
… "، وذكر قصة طويلة، فلما فرغ من قصصه، وأخذ العطيات، أشار إليه يحيى بيده، فأقبل متوهماً لنوال، فقال له يحيى: من حدثك بهذا الحديث؟ قال: أحمد بن حنبل ويحيى بن معين! فقال: أنا يحيى بن معين وهذا أحمد بن حنبل، ما سمعنا بهذا قط في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم! فقال القاص: لم أزل أسمع أن يحيى بن معين أحمق ما تحققت هذا إلا هذه الساعة، كأن ليس فيها يحيى بن معين وأحمد بن حنبل غيركما! لقد كتبت عن سبعة عشر أحمد بن حنبل ويحيى بن معين، فوضع أحمد كمه على وجهه وقال: دعه يقوم! فقام كالمستهزئ بهما.
--------------------------------------------
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহর সাথে সংযুক্ত (مرفوعاً): "আমিই শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই, তবে আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন।" (১)।
এবং যেমন আব্দুল কারিম বিন আবিল আওজা (২), যাকে বসরার জনৈক আব্বাসীয় আমির হত্যা করেছিলেন। যখন তাকে হত্যার জন্য আনা হলো, সে বলল: আমি তোমাদের মাঝে চার হাজার বানোয়াট (موضوع) হাদিস প্রচার করেছি, যাতে আমি হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করেছি।
এবং বলা হয়েছে যে, নাস্তিক-ধর্মদ্রোহীরা (زنادقة) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে চৌদ্দ হাজার জাল হাদিস রচনা করেছে।
দ্বিতীয় - খলিফা ও আমিরদের তোষামোদকারী: যেমন গিয়াছ বিন ইব্রাহিম, সে খলিফা মাহদীর দরবারে প্রবেশ করল যখন তিনি কবুতর নিয়ে খেলছিলেন। তাকে বলা হলো: আমিরুল মুমিনীনকে হাদিস শোনান! তখন সে একটি সনদ (سند) বর্ণনা করল এবং তার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে একটি বানোয়াট (موضوع) হাদিস বর্ণনা করে বলল: "উট, তীর অথবা ঘোড়ার প্রতিযোগিতা ব্যতীত অন্য কিছুতে কোনো পুরস্কার নেই; অথবা কবুতরের পাখা।" (৩)। তখন মাহদী বললেন: আমিই তাকে এ কাজ করতে প্ররোচিত করেছি! অতঃপর তিনি কবুতর ছেড়ে দিলেন এবং সেগুলো জবাই করার নির্দেশ দিলেন।
তৃতীয় - উৎসাহ প্রদান (ترغيب) অথবা ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) জন্য, কিংবা অর্থ বা সম্মানের লালসায় জনসাধারণের নিকট অদ্ভুত বিষয়াবলী (غرائب) বর্ণনার মাধ্যমে তোষামোদকারী; যেমন: গল্পকাররা (القصاص) যারা মসজিদ ও সমাবেশে বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বর্ণনা (غرائب) দ্বারা মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মঈন (৪) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা উভয়ে রুসাফা মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তখন জনৈক গল্পকার (قاص) দাঁড়িয়ে কাহিনী বলতে শুরু করল এবং বলল: আমাদের নিকট আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মঈন বর্ণনা করেছেন... অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত একটি সনদ (سند) উল্লেখ করল যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ তার প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে একটি করে পাখি সৃষ্টি করবেন যার ঠোঁট হবে সোনার এবং পালক হবে প্রবালের
…", সে এক দীর্ঘ কাহিনী বর্ণনা করল। যখন সে গল্প শেষ করল এবং হাদিয়া গ্রহণ করল, ইয়াহইয়া তাকে হাত দিয়ে ইশারা করলেন। সে কিছু পাওয়ার আশায় এগিয়ে এল। ইয়াহইয়া তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমাকে এই হাদিস কে শুনিয়েছে? সে বলল: আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মঈন! তিনি বললেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মঈন আর ইনি আহমাদ বিন হাম্বল। আমরা তো রাসূলুল্লাহর কোনো হাদিসে কখনোই এটি শুনিনি! গল্পকার বলল: আমি তো সবসময় শুনতাম যে ইয়াহইয়া বিন মঈন একজন নির্বোধ, কিন্তু এই মুহূর্তের আগে তা নিশ্চিত হতে পারিনি। পৃথিবীতে কি তোমরা দুজন ছাড়া আর কোনো ইয়াহইয়া বিন মঈন এবং আহমাদ বিন হাম্বল নেই? আমি তো সতেরো জন আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মঈনের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি! তখন আহমাদ নিজের চেহারা আস্তিন দিয়ে ঢেকে ফেললেন এবং বললেন: তাকে যেতে দাও। সে তাদের উপহাস করতে করতে প্রস্থান করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رابعاً - المتحمسون للدين يضعون أحاديث في فضائل الإسلام، وما يتصل فيه، وفي الزهد في الدنيا، ونحو ذلك. لقصد إقبال الناس على الدين وزهدهم في الدنيا مثل: أبي عصمة نوح بن أبي مريم قاضي مرو، وضع حديثاً في فضائل سور القرآن سورة سورة وقال: إني رأيت الناس أعرضوا عن القرآن، واشتغلوا بفقه أبي حنيفة ومغازي ابن إسحاق، يعني فوضع ذلك.
خامساً - المتعصبون لمذهب، أو طريقة، أو بلد، أو متبوع، أو قبيلة: يضعون أحاديث في فضائل ما تعصبوا له، والثناء عليه مثل: ميسرة بن عبد ربه الذي أقر أنه وضع على النبي صلى الله عليه وسلم سبعين حديثاً في فضائل علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
الجرح والتعديل:الجرح:
أ - تعريفه ب - أقسامه - ج - مراتبه د - شروط قبوله:
أ - الجرح:
هو أن يذكر الراوي بما يوجب رد روايته من إثبات صفة رد، أو نفي صفة قبول مثل أن يقال:
هو كذاب، أو فاسق، أو ضعيف، أو ليس بثقة، أو لا يعتبر، أو لا يكتب حديثه.
ب - وينقسم الجرح إلى قسمين: مطلق ومقيد:
1 - فالمطلق: أن يذكر الراوي بالجرح بدون تقييد، فيكون قادحاً فيه بكل حال.
2 - والمقيد: أن يذكر الراوي بالجرح بالنسبة لشيء معين من شيخ، أو طائفة، أو نحو ذلك؛ فيكون قادحاً فيه بالنسبة إلى ذلك الشيء المعينّ دون غيره.
চতুর্থত - দীনের ব্যাপারে অতি-উৎসাহীগণ ইসলাম ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) ও অনুরূপ বিষয়ে হাদিস জাল করেন (يضعون)। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দীনের প্রতি ধাবিত করা এবং দুনিয়ার প্রতি বিমুখ করা। যেমন: মার্ভের কাজী আবু ইসমাহ নূহ ইবনে আবি মারিয়াম; তিনি কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কে একটি একটি করে হাদিস জাল করেছেন (وضع) এবং বলেছেন: আমি দেখলাম মানুষ কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং আবু হানিফার ফিকহ ও ইবনে ইসহাকের মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাই আমি এইগুলো (হাদিসগুলো) জাল করেছি।
পঞ্চমত - কোনো মাজহাব, তরীকা, দেশ, নেতা বা গোত্রের প্রতি অন্ধ অনুসারীগণ: তারা যাদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট তাদের ফজিলত এবং প্রশংসায় হাদিস জাল করেন (يضعون)। যেমন: মাইসারাহ ইবনে আবদে রাব্বিহ, যিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলতে সত্তরটি হাদিস জাল করেছেন (وضع)।
জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل):জারহ (الجرح):
ক - এর সংজ্ঞা খ - এর প্রকারভেদ - গ - এর স্তরসমূহ ঘ - এটি গ্রহণের শর্তাবলি:
ক - জারহ (الجرح):
এটি হলো বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান (رد) করাকে আবশ্যক করে—চাই তা কোনো প্রত্যাখ্যানযোগ্য গুণ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে হোক, অথবা গ্রহণযোগ্যতার কোনো গুণ অস্বীকার করার মাধ্যমে। যেমন বলা হয়:
তিনি চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), অথবা পাপাচারী (فاسق), অথবা দুর্বল (ضعيف), অথবা নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة), অথবা তার বর্ণনা বিবেচনাযোগ্য নয় (لا يعتبر), অথবা তার হাদিস লেখা যাবে না (لا يكتب حديثه)।
খ - জারহ (الجرح) দুই ভাগে বিভক্ত: সাধারণ (مطلق) এবং আপেক্ষিক (مقيد):
1 - সাধারণ (مطلق): বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জারহ (الجرح) উল্লেখ করা, যা তাকে সর্বাবস্থায় ত্রুটিযুক্ত করে।
2 - আপেক্ষিক (مقيد): কোনো নির্দিষ্ট শায়খ, বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা অনুরূপ কিছুর প্রেক্ষিতে বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে জারহ (الجرح) উল্লেখ করা; এমতাবস্থায় তা কেবল সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেই তাকে ত্রুটিযুক্ত করবে, অন্য ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مثاله: قول ابن حجر في "التقريب" في زيد بن الحباب - وقد روى عنه مسلم -: صدوق يخطئ في حديث الثوري؛ فيكون ضعيفاً في حديثه عن الثوري دون غيره.
وقول صاحب "الخلاصة" في إسماعيل بن عياش: وثقه أحمد، وابن معين، والبخاري في أهل الشام. وضعفوه في الحجازيين؛ فيكون ضعيفاً في حديثه عن الحجازيين دون أهل الشام.
ومثل ذلك إذا قيل: هو ضعيف في أحاديث الصفات مثلاً فلا يكون ضعيفاً في رواية غيرها.
لكن إذا كان المقصود بتقييد الجرح دفع دعوى توثيقه في ذلك المقيد، لم يمنع أن يكون ضعيفاً في غيره أيضاً
ج - وللجرح مراتب:
* أعلاها: ما دل على بلوغ الغاية فيه مثل: أكذب الناس، أو ركن الكذب.
* ثم ما دل على المبالغة مثل: كذاب، ووضاع، ودجال.
* وأسهلها ليّن، أو سيِّئ الحفظ، أو فيه مقال.
وبَيْن ذلك مراتب معلومة.
د - ويشترط لقَبول الجرح شروط خمسة:
1 - أن يكون من عدل؛ فلا يقبل من فاسق.
2 - أن يكون من متيقظ؛ فلا يقبل من مغفل.
3 - أن يكون من عارف بأسبابه؛ فلا يقبل ممن لا يعرف القوادح.
4 - أن يبيِّن سبب الجرح؛ فلا يقبل الجرح المبهم، مثل أن يقتصر على قوله: ضعيف، أو يرد حديثه، حتى يبيّن سبب ذلك؛ لأنه قد يجرحه بسبب لا يقتضي الجرح، هذا هو المشهور، واختار ابن حجر رحمه الله قَبول الجرح المبهم إلا فيمن علمت عدالته، فلا يقبل جرحه إلا ببيان السبب. وهذا هو القول الراجح لا سيما إذا كان الجارح من أئمة هذا الشأن.
উদাহরণস্বরূপ: ‘তাকরিব’ গ্রন্থে যায়িদ বিন আল-হুবাব —যার থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন— সম্পর্কে ইবনে হাজারের উক্তি: “তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে সাওরির হাদিসের ক্ষেত্রে ভুল করেন (يخطئ)”; সুতরাং তিনি সাওরি থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيفاً), অন্য কারও ক্ষেত্রে নয়।
এবং ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থের লেখকের উক্তি ইসমাইল বিন আইয়াশ সম্পর্কে: “আহমাদ, ইবনে মাইন এবং বুখারি তাঁকে শামের অধিবাসীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে গণ্য করেছেন। আর হিজাজিদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁকে দুর্বল (ضعفوه) সাব্যস্ত করেছেন”; সুতরাং তিনি হিজাজিদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيفاً), শামের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে নয়।
অনুরূপভাবে যখন বলা হয়: উদাহরণস্বরূপ তিনি সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক হাদিসগুলোতে দুর্বল (ضعيف); তখন অন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল (ضعيفاً) বলে গণ্য হবেন না।
কিন্তু যদি জারহ বা সমালোচনাকল (الجرح) সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হয় সেই নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (توثيقه) দাবিকে নাকচ করা, তবে এটি অন্য ক্ষেত্রেও তাঁর দুর্বল (ضعيفاً) হওয়াকে বাধা দেয় না।
গ - এবং জারহ বা সমালোচনার (الجرح) বিভিন্ন স্তর (مراتب) রয়েছে:
* সর্বোচ্চ স্তর: যা এতে চরম সীমা বোঝায়, যেমন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী (أكذب الناس), অথবা মিথ্যার স্তম্ভ (ركن الكذب)।
* অতঃপর যা অতিরঞ্জন বোঝায়, যেমন: চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), হাদিস জালকারী (وضاع) এবং চরম প্রতারক (دجال)।
* আর সবচেয়ে সহজ বা নমনীয় স্তর হলো: শিথিল (ليّن), অথবা মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল (سيِّئ الحفظ), অথবা তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে (فيه مقال)।
আর এর মধ্যবর্তী আরও সুপরিচিত স্তরসমূহ (مراتب) রয়েছে।
ঘ - এবং জারহ বা সমালোচনা (الجرح) গ্রহণের জন্য পাঁচটি শর্ত (شروط) রয়েছে:
1 - এটি হতে হবে একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে; সুতরাং কোনো পাপাচারীর (فاسق) সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না।
2 - এটি হতে হবে একজন সচেতন (متيقظ) ব্যক্তির পক্ষ থেকে; সুতরাং কোনো অসতর্ক (مغفل) ব্যক্তির সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না।
3 - এটি হতে হবে জারহ বা সমালোচনার (الجرح) কারণসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষ থেকে; সুতরাং এমন ব্যক্তির সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না যে সমালোচনার কারণসমূহ (القوادح) সম্পর্কে জানে না।
4 - জারহ বা সমালোচনার (الجرح) কারণ স্পষ্ট করতে হবে; সুতরাং অস্পষ্ট সমালোচনা (الجرح المبهم) গ্রহণযোগ্য হবে না, যেমন কেবল এটুকু বলা: ‘তিনি দুর্বল (ضعيف)’, অথবা ‘তাঁর হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হবে’—যতক্ষণ না এর কারণ স্পষ্ট করা হয়। কেননা, অনেক সময় সমালোচক এমন কোনো কারণে সমালোচনা করেন যা মূলত জারহ বা সমালোচনার (الجرح) দাবি রাখে না। এটিই প্রসিদ্ধ মত। তবে ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) অস্পষ্ট সমালোচনা (الجرح المبهم) গ্রহণ করাকে পছন্দ করেছেন, কেবল ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাড়া যাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالته) সর্বজনবিদিত; সেক্ষেত্রে কারণ বর্ণনা ছাড়া তাঁর সমালোচনা (جرحه) গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এটিই অগ্রগণ্য মত (القول الراجح), বিশেষ করে যখন সমালোচক (الجارح) এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - أن لا يكون واقعاً على من تواترت عدالته، واشتهرت إمامته. كنافع، وشعبة، ومالك، والبخاري، فلا يقبل الجرح في هؤلاء وأمثالهم.
التعديل:أ - تعريفه ب - أقسامه ج - مراتبه د - شروط قبوله:
أ - التعديل:
أن يذكر الراوي بما يوجب قَبول روايته: من إثبات صفة قَبول أو نفي صفة رد، مثل أن يقال: هو ثقة، أو ثبت، أو لا بأس به، أو لا يرد حديثه.
ب - وينقسم التعديل إلى قسمين: مطلق ومقيد:
1 - فالمطلق: أن يذكر الراوي بالتعديل بدون تقييد؛ فيكون توثيقاً له بكل حال.
2 - والمقيد: أن يذكر الراوي بالتعديل بالنسبة لشيء معين من شيخ، أو طائفة، أو نحو ذلك؛ فيكون توثيقاً له بالنسبة إلى ذلك الشيء المعيّن دون غيره.
مثل أن يقال: هو ثقة في حديث الزهري، أو في الحديث عن الحجازيين، فلا يكون ثقة في حديثه من غير من وثق فيهم، لكن إذا كان المقصود دفع دعوى ضعفه فيهم، فلا يمنع حينئذٍ أن يكون ثقة في غيرهم أيضاً.
ج - وللتعديل مراتب:
* أعلاها: ما دل على بلوغ الغاية فيه مثل: أوثق الناس، أو إليه المنتهى في التثبت.
* ثم ما تأكد بصفة، أو صفتين مثل: ثقة ثقة أو ثقة ثبت، أو نحو ذلك.
* وأدناها: ما أشعر بالقرب من أسهل الجرح مثل: صالح، أو مقارب، أو يروى حديثه، أو نحو ذلك، وبين هذا مراتب معلومة.
৫ - এটি এমন ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হবে না যার ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের এবং যার ইমামত (নেতৃত্ব) সুপ্রসিদ্ধ। যেমন: নাফে, শু'বা, মালিক এবং বুখারি। সুতরাং এদের ব্যাপারে এবং এদের ন্যায় ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে সমালোচনা (جرح) গ্রহণ করা হবে না।
আত-তা'দিল (تعدিল):ক - এর সংজ্ঞা খ - এর প্রকারভেদ গ - এর স্তরসমূহ ঘ - এটি গ্রহণের শর্তাবলি:
ক - তা'দিল (تعديل):
রাবি বা বর্ণনাকারী সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা কবুল করাকে আবশ্যক করে তোলে: যেমন কবুলযোগ্য কোনো গুণ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে অথবা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কোনো গুণ নাকচ করার মাধ্যমে। যেমন বলা হয়: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), অথবা সুদৃঢ় (ثبت), অথবা তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), অথবা তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয় না।
খ - তা'দিল দুই ভাগে বিভক্ত: নিরঙ্কুশ (مطلق) এবং শর্তযুক্ত (مقيد):
১ - নিরঙ্কুশ (مطلق): রাবিকে কোনো শর্ত ছাড়াই তা'দিল করা; ফলে এটি সব অবস্থায় তার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) হিসেবে গণ্য হবে।
২ - শর্তযুক্ত (مقيد): কোনো নির্দিষ্ট শায়খ, নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ের প্রেক্ষিতে রাবির তা'দিল উল্লেখ করা; ফলে এটি কেবল সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রেক্ষিতেই তার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) সাব্যস্ত করবে, অন্য ক্ষেত্রে নয়।
যেমন বলা হয়: তিনি যুহরির হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة), অথবা হিজাজিদের থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। এমতাবস্থায় তিনি যাদের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত হয়েছেন তারা ব্যতীত অন্যদের বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে গণ্য হবেন না। তবে যদি উদ্দেশ্য হয় তাদের ক্ষেত্রে তার দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কিত দাবি নাকচ করা, তবে তা অন্যদের ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার পথে বাধা হবে না।
গ - তা'দিলের স্তরসমূহ (مراتب):
* সর্বোচ্চ স্তর: যা এ ক্ষেত্রে পূর্ণতা বা চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে। যেমন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق الناس), অথবা নির্ভুলতার (تثبت) দিক থেকে তিনি শেষ কথা।
* এরপর যা এক বা একাধিক গুণ দ্বারা তাকিদ করা হয়েছে। যেমন: নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য (ثقة ثقة), অথবা নির্ভরযোগ্য সুদৃঢ় (ثقة ثبت), অথবা এই জাতীয় শব্দাবলি।
* এবং সর্বনিম্ন স্তর: যা সমালোচনা (جرح)-এর সহজতম পর্যায়ের নিকটবর্তী হওয়া নির্দেশ করে। যেমন: সৎ (صالح), অথবা কাছাকাছি মানের (مقارب), অথবা তার হাদিস বর্ণনা করা হয় (يروى حديثه), অথবা এই জাতীয় শব্দ। আর এর মাঝে আরও অনেক সুপরিচিত স্তরসমূহ (مراتب) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
د - ويشترط لقبول التعديل شروط أربعة:
1 - أن يكون من عدل؛ فلا يقبل من فاسق.
2 - أن يكون من متيقظ؛ فلا يقبل من مغفل يغتر بظاهر الحال.
3 - أن يكون من عارف بأسبابه؛ فلا يقبل ممن لا يعرف صفات القَبول والرد.
4 - أن لا يكون واقعاً على من اشتهر بما يوجب رد روايته: من كذب، أو فسق ظاهر، أو غيرهما.
تعارض الجرح والتعديل:أ - تعريفه ب - أحواله:
أ - تعارض الجرح والتعديل:
أن يذكر الراوي بما يوجب رد روايته، وبما يوجب قبولها، مثل: أن يقول بعض العلماء فيه: إنه ثقة، ويقول بعض: إنه ضعيف.
ب - وللتعارض أحوال أربع:
الحال الأولى: أن يكونا مبهمين؛ أي: غير مبين فيهما سبب الجرح أو التعديل، فإن قلنا بعدم قَبول الجرح المبهم أخذ بالتعديل، لأنه لا معارض له في الواقع، وإن قلنا بقَبوله - وهو الراجح - حصل التعارض، فيؤخذ بالأرجح منهما؛ إما في عدالة قائله، أو في معرفته بحال الشخص، أو بأسباب الجرح والتعديل، أو في كثرة العدد.
الحال الثانية: أن يكونا مفسَّرين؛ أي: مبيناً فيهما سبب الجرح والتعديل، فيؤخذ بالجرح؛ لأن مع قائله زيادة علم، إلا أن يقول صاحب التعديل: أنا أعلم أن السبب الذي جرحه به قد زال؛ فيؤخذ حينئذٍ بالتعديل؛ لأن مع قائله زيادة علم.
الحال الثالثة: أن يكون التعديل مبهماً؛ والجرح مفسَّراً فيؤخذ بالجرح لأن مع قائله زيادة علم.
ঘ - নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) গ্রহণের জন্য চারটি শর্ত রয়েছে:
১ - তাকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে; সুতরাং পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।
২ - তাকে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে; সুতরাং এমন কোনো বেখেয়াল ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না, যে বাহ্যিক অবস্থা দেখে বিভ্রান্ত হয়।
৩ - তাকে এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে হবে; সুতরাং যে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গুণাবলি সম্পর্কে জানে না, তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।
৪ - যার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করা হচ্ছে, সে যেন এমন ব্যক্তি না হয় যে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক করে দেয় এমন কোনো বিষয়ে প্রসিদ্ধ; যেমন: মিথ্যাচার, প্রকাশ্য পাপাচার (فسق), অথবা অন্য কিছু।
সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) পারস্পরিক বিরোধ:ক - এর সংজ্ঞা খ - এর অবস্থাসমূহ:
ক - সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) পারস্পরিক বিরোধ:
রাবী সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক করে এবং একই সাথে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তা গ্রহণ করা আবশ্যক করে। যেমন: কিছু আলেম তার ব্যাপারে বললেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবার কেউ কেউ বললেন যে, তিনি দুর্বল (ضعيف)।
খ - এই বিরোধের চারটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: উভয়ই অস্পষ্ট (مبهم) হওয়া; অর্থাৎ কোনোটিতেই সমালোচনা (جرح) বা নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) কারণ বর্ণনা করা হয়নি। এমতাবস্থায় যদি আমরা বলি যে অস্পষ্ট (مبهم) সমালোচনা (جرح) গ্রহণযোগ্য নয়, তবে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) গ্রহণ করা হবে; কারণ বাস্তবে এর কোনো বিরোধী নেই। আর যদি আমরা বলি যে তা গ্রহণযোগ্য—এবং এটিই অগ্রগণ্য (راجح) মত—তবে সেখানে বিরোধ সৃষ্টি হবে। তখন এই দুটির মধ্যে যেটি অধিকতর শক্তিশালী, সেটি গ্রহণ করা হবে; তা বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তার জ্ঞান, অথবা সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) কারণসমূহ সম্পর্কে তার জ্ঞান, কিংবা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে হতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থা: উভয়ই সবিস্তার বর্ণিত (مفسر) হওয়া; অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (تعديل) কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সমালোচনা (جرح) গ্রহণ করা হবে; কারণ সমালোচনাকারীর কাছে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে। তবে যদি নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকারী বলেন: ‘আমি জানি যে কারণে তাকে সমালোচনা করা হয়েছিল তা দূর হয়ে গেছে’; তবে সেক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) গ্রহণ করা হবে; কারণ এমতাবস্থায় তার কাছেই অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে।
তৃতীয় অবস্থা: নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) অস্পষ্ট (مبهم) হওয়া এবং সমালোচনা (جرح) সবিস্তার বর্ণিত (مفسر) হওয়া; এমতাবস্থায় সমালোচনা (جرح) গ্রহণ করা হবে, কারণ সমালোচনাকারীর কাছে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحال الرابعة: أن يكون الجرح مبهماً، والتعديل مفسَّراً، فيؤخذ بالتعديل لرجحانه.
وإلى هنا انتهى مقرر السنة الأولى الثانوية في المعاهد العلمية في المصطلح على يد مؤلفه محمد صالح العثيمين، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات وتطيب الأوقات، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
تم القسم الأول.
ويتلوه القسم الثاني وأوله:
أقسام الحديث باعتبار من يضاف إليه.
চতুর্থ অবস্থা: দোষারোপ (الجرح) অস্পষ্ট (مبهم) হওয়া এবং প্রশংসা (التعديل) সবিস্তার (مفسر) হওয়া; এমতাবস্থায় এর প্রাবল্যের কারণে প্রশংসাসূচক (التعديل) মন্তব্যটিই গ্রহণ করা হবে।
আর এখানেই এর লেখক মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের মাধ্যমে ইলমি ইনস্টিটিউটসমূহের জন্য নির্ধারিত উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের হাদিস পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ের পাঠ্যসূচি সমাপ্ত হলো। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয় এবং সময় বরকতময় হয়। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রথম অংশ সমাপ্ত হলো।
এর পরেই আসবে দ্বিতীয় অংশ এবং তার প্রারম্ভ হলো:
যাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, সেই বিবেচনায় হাদিসের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القسم الثاني من كتاب (مصطلح الحديث)
أقسام الخبر باعتبار من يضاف إليه:ينقسم الخبر باعتبار من يضاف إليه إلى ثلاثة أقسام: أ - المرفوع ب - الموقوف ج - المقطوع.
أ - فالمرفوع:
ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
وينقسم إلى قسمين: مرفوع صريحاً، ومرفوع حكماً.
1 - فالمرفوع صريحاً: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم نفسه من قول، أو فعل، أو تقرير، أو وصف في خُلُقه، أو خِلْقَتِه.
مثاله من القول: قول النبي صلى الله عليه وسلم: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد" (1) .
ومثاله من الفعل: كان صلى الله عليه وسلم إذا دخل بيته بدأ بالسواك (2) .
ومثاله من التقرير: تقريره الجارية حين سألها: "أين الله؟ " (3) قالت: في السماء، فأقرها على ذلك صلى الله عليه وسلم.
وهكذا كل قول، أو فعل علم به النبي صلى الله عليه وسلم ولم ينكره، فهو مرفوع صريحاً من التقرير.
ومثاله من الوصف في خُلُقه: كان النبي صلى الله عليه وسلم أجود الناس وأشجع الناس، ما سئل شيئاً قط فقال: لا. وكان دائم البشر سهل الخلق، لين الجانب، ما خير بين أمرين إلا اختار أيسرهما إلا أن يكون إثماً فيكون أبعد الناس عنه.
ومثاله من الوصف في خِلْقَتِه: كان النبي صلى الله عليه وسلم ربعة من الرجال: ليس بالطويل، ولا بالقصير، بعيد ما بين المنكبين، له شعر يبلغ شحمة أذنيه، وربما يبلغ منكبيه، حسن اللحية، فيه شعرات من شيب.
2 - والمرفوع حكماً: ما كان له حكم المضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو أنواع:
--------------------------------------------
(মুসতালাহুল হাদিস) গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ
যাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে খবরের প্রকারভেদ:যাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে খবর তিন ভাগে বিভক্ত: ক - মারফূ (المرفوع), খ - মাওকূফ (الموقوف), গ - মাকতূ (المقطوع)।
ক - মারফূ (المرفوع):
যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
এটি দুই ভাগে বিভক্ত: সরাসরি মারফূ (مرفوع صريحاً) এবং পরোক্ষভাবে মারফূ (مرفوع حكماً)।
১ - সরাসরি মারফূ (المرفوع صريحاً): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) অথবা তাঁর চারিত্রিক বা দৈহিক গুণাবলির বিবরণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
কথার উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)।" (১)
কাজের উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন। (২)
মৌনসম্মতির (تقرير) উদাহরণ: জনৈকা দাসীকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর সম্মতি, যখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আল্লাহ কোথায়?" (৩) সে উত্তর দিল: আকাশে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই উত্তরে বহাল রাখলেন (মৌনসম্মতি দিলেন)।
এভাবে প্রতিটি কথা বা কাজ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবগত হয়েছেন এবং তা নিষেধ করেননি, তা মৌনসম্মতিমূলক সরাসরি মারফূ (مرفوع صريحاً من التقرير)।
চারিত্রিক গুণের উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ও সাহসী। তাঁর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনও 'না' বলতেন না। তিনি সর্বদা প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী, কোমল স্বভাবের ও বিনম্র ছিলেন। যখনই তাঁকে দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যদি না সেটি গুনাহের কাজ হতো। আর যদি সেটি গুনাহের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করতেন।
দৈহিক গুণের উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন; অতি দীর্ঘও ছিলেন না, আবার অতি খাটোও ছিলেন না। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত, কখনও কখনও তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত। তাঁর দাড়ি ছিল সুন্দর এবং তাতে কিছু পক্ক কেশ (সাদা চুল) ছিল।
২ - পরোক্ষভাবে মারফূ (المرفوع حكماً): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিধান (হুকুম) রাখে; এটি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসত্বলাহুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأول - قول الصحابي إذا لم يمكن أن يكون من قبيل الرأي ولم يكن تفسيراً، ولا معروفاً قائله بالأخذ عن الإسرائيليات، مثل أن يكون خبراً عن أشراط الساعة، أو أحوال القيامة، أو الجزاء.
فإن كان من قبيل الرأي فهو موقوف.
وإن كان تفسيراً فالأصل: له حكم نفسه، والتفسير موقوف.
وإن كان قائله معروفاً بالأخذ عن الإسرائيليات، فهو متردد بين أن يكون خبراً إسرائيلياً، أو حديثاً مرفوعاً، فلا يحكم فيه بأنه حديث للشك فيه.
وقد ذكروا أن العبادلة وهم: عبد الله بن عباس، وعبد الله بن الزبير، وعبد الله بن عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عمرو بن العاص، أخذوا عن أحبار بني إسرائيل: من كعب الأحبار، أو غيره.
الثاني - فعل الصحابي إذا لم يمكن أن يكون من قبيل الرأي، ومثلوا لذلك بصلاة علي رضي الله عنه في الكسوف أكثر من ركوعين في كل ركعة.
الثالث - أن يضيف الصحابي شيئاً إلى عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكر أنه علم به. كقول أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها: ذبحنا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فرساً، ونحن في المدينة فأكلناه (1) .
الرابع - أن يقول الصحابي عن شيء بأنه من السنة. كقول ابن مسعود رضي الله عنه: من السنة أن يخفي التشهد، يعني في الصلاة (2) .
فإن قاله تابعي، فقيل: مرفوع، وقيل: موقوف. كقول عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود: السنة أن يخطب الإمام في العيدين خطبتين يفصل بينهما بجلوس (3) .
الخامس - قول الصحابي: أمرنا أو نهينا أو أمر الناس ونحوه، كقول أم عطية رضي الله عنها: أمرنا أن نخرج في العيدين العواتق (4) ، وقولها: نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا (5) ،
--------------------------------------------
প্রথম - সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য যদি এমন হয় যা রায়ের (الرأي) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, তা তাফসির (تفسير) নয় এবং এর বক্তা ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) গ্রহণের জন্য পরিচিত নন; যেমন কিয়ামতের আলামত, কিয়ামতের অবস্থা অথবা প্রতিদান সম্পর্কিত সংবাদ হওয়া।
যদি তা রায়ের (الرأي) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা স্থগিত (موقوف)।
আর যদি তা তাফসির (تفسير) হয়, তবে মূলনীতি (الأصل) হলো: এর বিধান তার নিজস্ব স্বরূপ অনুযায়ী হবে এবং তাফসির স্থগিত (موقوف)।
যদি এর বক্তা ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) গ্রহণের জন্য পরিচিত হন, তবে তা ইসরাঈলি সংবাদ নাকি রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিস—এই দুইয়ের মধ্যে দোলায়মান থাকে; তাই সন্দেহের কারণে একে হাদিস হিসেবে গণ্য করা হবে না।
উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, 'আবাদিলা' তথা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের, আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন খাত্তাব এবং আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস বনী ইসরাঈলের পণ্ডিতদের থেকে যেমন কাব আল-আহবার বা অন্যদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
দ্বিতীয় - সাহাবীর (صحابي) কর্ম যখন রায়ের (الرأي) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব হয় না। এর উদাহরণ হিসেবে তাঁরা আলী (রা.)-এর কুসূফ (সূর্যগ্রহণ)-এর সালাতে প্রতি রাকাতে দুটির বেশি রুকু করাকে উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় - সাহাবী (صحابي) কোনো বিষয়কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের দিকে সম্বন্ধ করবেন অথচ এটি উল্লেখ করবেন না যে তিনি তা জানতেন। যেমন আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর উক্তি: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি ঘোড়া জবাই করেছিলাম যখন আমরা মদীনায় ছিলাম, অতঃপর আমরা তা খেয়েছিলাম।" (১)।
চতুর্থ - সাহাবী (صحابي) কোনো বিষয় সম্পর্কে বলবেন যে এটি সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত। যেমন ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি: "সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত হলো তাশাহহুদ গোপনে পড়া", অর্থাৎ সালাতের মধ্যে। (২)।
আর যদি কোনো তাবেঈ (تابعي) তা বলেন, তবে একমতে তা রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) এবং অন্যমতে তা স্থগিত (موقوف)। যেমন উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদের উক্তি: "সুন্নাহ (السنة) হলো ইমাম দুই ঈদের সালাতে দুটি খুতবা দেবেন এবং তার মাঝে বসার মাধ্যমে পার্থক্য করবেন।" (৩)।
পঞ্চম - সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য: "আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" অথবা "আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে" অথবা "মানুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" এবং তদ্রূপ। যেমন উম্মে আতিয়্যাহ (রা.)-এর উক্তি: "আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা দুই ঈদের সালাতে পর্দানশীন যুবতীদের বের করি" (৪), এবং তার উক্তি: "আমাদেরকে জানাজার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের ওপর কঠোরতা করা হয়নি" (৫),
--------------------------------------------