(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: -)
البحر المحيط في أصول الفقه - ط الكتبي القسم: أصول الفقه
الكتاب: البحر المحيط في أصول الفقه
المؤلف: أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي (ت 794 هـ)
الناشر: دار الكتبي
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1994 م
عدد الأجزاء: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসুলিল ফিকহ - দারুল কুতুবী সংস্করণ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি)
গ্রন্থ: আল-বাহরুল মুহীত ফী উসুলিল ফিকহ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হি.)
প্রকাশক: দারুল কুতুবী
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المقدمة]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ أَفْضَلُ الْمُتَأَخِّرِينَ، وَبُرْهَانُ الْمُحَقِّقِينَ، كَهْفُ الْأَئِمَّةِ وَالْفُضَلَاءِ، زُبْدَةُ نَحَارِيرِ الْعُلَمَاءِ، شَيْخُ الْإِسْلَامِ وَعُمْدَةُ فُضَلَاءِ الزَّمَانِ، بَدْرُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَقِيرِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى عَبْدُ اللَّهِ الزَّرْكَشِيُّ الشَّافِعِيُّ، سَقَى اللَّهُ ثَرَاهُ، وَفِي دَارِ الْخُلْدِ مَأْوَاهُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَسَّسَ قَوَاعِدَ الشَّرْعِ بِأُصُولِ أَسَاسِهِ، وَمَلَّكَ مَنْ شَاءَ قِيَادَ قِيَاسِهِ، وَوَهَبَ مَنْ اخْتَصَّهُ بِالسَّبْقِ إلَيْهِ عَلَى أَفْرَادِ أَفْرَاسِهِ، وَأَوْلَى عِنَانَ الْعِنَايَةِ مَنْ وَفَّقَهُ لِاقْتِبَاسِهِ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةً يَتَقَوَّمُ مِنْهَا الْحَدُّ بِفُصُولِهِ وَأَجْنَاسِهِ.
وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الَّذِي رَقَى إلَى السَّبْعِ الطِّبَاقِ بِبَدِيعِ جِنَاسِهِ، وَآنَسَ مِنْ الْعُلَا نُورًا هَدَى الْأُمَّةَ بِإِينَاسِهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا مَا قَامَتْ النُّصُوصُ بِنَفَائِسِ أَنْفَاسِهِ، وَاسْتُخْرِجَتْ الْمَعَانِي مِنْ مِشْكَاةِ نِبْرَاسِهِ.
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শাইখ, ইমাম, মহাজ্ঞানী, গবেষক, পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী, সত্যানুসন্ধানীদের উজ্জ্বল প্রমাণ, ইমাম ও বিদগ্ধজনদের আশ্রয়স্থল, প্রাজ্ঞ আলিমদের সারাংশ, শাইখুল ইসলাম এবং সমকালীন গুণীজনদের নির্ভরতা, বদরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশি আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর কবর সিক্ত করুন এবং চিরস্থায়ী জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মৌলিক ভিত্তির দ্বারা শরীয়তের নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং যাকে ইচ্ছা করেছেন তাকে এর কিয়াসের লাগাম ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়েছেন। আর যাকে তিনি তাঁর দিকে অগ্রগামী হওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন, তাকে তাঁর অনন্য অশ্বারোহীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যাকে এর জ্ঞান আহরণের তাওফিক দিয়েছেন, তাকে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের সান্নিধ্য দান করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার দ্বারা (যৌক্তিক) সংজ্ঞার প্রকার ও শ্রেণি বিন্যাস সুসংহত হয়।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যের মহিমায় সপ্তাকাশে আরোহণ করেছেন এবং ঊর্ধ্বজগত থেকে এমন এক নূরের দর্শন পেয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি উম্মতকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন—যতদিন তাঁর পবিত্র বাণীর অমূল্য সম্পদ দ্বারা শরীয়তের মূল পাঠ্যসমূহ (নস) প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তাঁর হেদায়াতের প্রদীপের আলো থেকে নিগূঢ় অর্থসমূহ আহরিত হতে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৪)
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ أَوْلَى مَا صُرِفَتْ الْهِمَمُ إلَى تَمْهِيدِهِ، وَأَحْرَى مَا عُنِيَتْ بِتَسْدِيدِ قَوَاعِدِهِ وَتَشْيِيدِهِ، الْعِلْمُ الَّذِي هُوَ قِوَامُ الدِّينِ، وَالْمَرْقَى إلَى دَرَجَاتِ الْمُتَّقِينَ. وَكَانَ عِلْمُ أُصُولِ الْفِقْهِ جَوَادَهُ الَّذِي لَا يُلْحَقُ، وَحَبْلَهُ الْمَتِينَ الَّذِي هُوَ أَقْوَى وَأَوْثَقُ، فَإِنَّهُ قَاعِدَةُ الشَّرْعِ، وَأَصْلٌ يُرَدُّ إلَيْهِ كُلُّ فَرْعٍ. وَقَدْ أَشَارَ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم فِي جَوَامِعِ كَلِمِهِ إلَيْهِ، وَنَبَّهَ أَرْبَابُ اللِّسَانِ عَلَيْهِ، فَصَدَرَ فِي الصَّدْرِ الْأَوَّلِ مِنْهُ جُمْلَةٌ سَنِيَّةٌ، وَرُمُوزٌ خَفِيَّةٌ، حَتَّى جَاءَ الْإِمَامُ الْمُجْتَهِدُ مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فَاهْتَدَى بِمَنَارِهِ، وَمَشَى إلَى ضَوْءِ نَارِهِ، فَشَمَّرَ عَنْ سَاعِدِ الِاجْتِهَادِ، وَجَاهَدَ فِي تَحْصِيلِ هَذَا الْغَرَضِ السَّنِيِّ حَقَّ الْجِهَادِ، وَأَظْهَرَ دَفَائِنَهُ وَكُنُوزَهُ وَأَوْضَحَ إشَارَاتِهِ وَرُمُوزَهُ،
অতঃপর: নিশ্চয়ই সংকল্পসমূহ যে বিষয়ের ভিত্তি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যয় হওয়া সবচেয়ে বেশি সমীচীন এবং যার মূলনীতিসমূহ সংশোধন ও সুদৃঢ় করার জন্য যত্নশীল হওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত, তা হলো সেই জ্ঞান (ইলম) যা দ্বীনের স্তম্ভ এবং মুত্তাকীদের সুউচ্চ স্তরে আরোহণের সোপান। আর উসূলুল ফিকহ হলো এর এমন এক দ্রুতগামী অশ্ব যার নাগাল পাওয়া যায় না, এবং এর এমন এক মজবুত রশি যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দৃঢ়। কেননা এটি শরীয়তের বুনিয়াদ এবং এমন এক মূলনীতি যার দিকে প্রতিটি শাখা বিষয়কে ফিরিয়ে নেয়া হয়। নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীসমূহের মাধ্যমে এর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছেন এবং ভাষাবিদগণ এ বিষয়ে সচেতন করেছেন। ফলে ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ থেকে এক মহান সারসংক্ষেপ এবং সূক্ষ্ম সংকেতসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল। পরিশেষে ইমাম মুজতাহিদ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু আবির্ভূত হলেন এবং তিনি এর আলোকবর্তিকার সাহায্যে পথনির্দেশ লাভ করলেন ও এর প্রদীপ্ত আলোর দিকে ধাবিত হলেন। অতঃপর তিনি ইজতিহাদের দৃঢ় সংকল্প করলেন এবং এই মহান উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে যথাযথ প্রচেষ্টা ব্যয় করলেন। তিনি এর প্রোথিত গুপ্তধন ও ভাণ্ডারসমূহ উন্মোচন করলেন এবং এর ইঙ্গিত ও রহস্যসমূহ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَأَبْرَزَ مُخَبَّآتِهِ وَكَانَتْ مَسْتُورَةً، وَأَبْرَزَهَا فِي أَكْمَلِ مَعْنًى وَأَجْمَلِ صُورَةً، حَتَّى نَوَّرَ بِعِلْمِ الْأُصُولِ دُجَى الْآفَاقِ، وَأَعَادَ سُوقَهُ بَعْدَ الْكَسَادِ إلَى نَفَاقٍ. وَجَاءَ مَنْ بَعْدَهُ، فَبَيَّنُوا وَأَوْضَحُوا وَبَسَطُوا وَشَرَحُوا، حَتَّى جَاءَ الْقَاضِيَانِ: قَاضِي السُّنَّةِ أَبُو بَكْرِ بْنُ الطَّيِّبِ وَقَاضِي الْمُعْتَزِلَةِ عَبْدُ الْجَبَّارِ، فَوَسَّعَا الْعِبَارَاتِ، وَفَكَّا الْإِشَارَاتِ، وَبَيَّنَا الْإِجْمَالَ، وَرَفَعَا الْإِشْكَالَ.
وَاقْتَفَى النَّاسُ بِآثَارِهِمْ، وَسَارُوا عَلَى لَاحِبِ نَارِهِمْ، فَحَرَّرُوا وَقَرَّرُوا، وَصَوَّرُوا، فَجَزَاهُمْ اللَّهُ خَيْرَ الْجَزَاءِ، وَمَنَحَهُمْ بِكُلِّ مَسَرَّةٍ وَهَنَاءٍ.
ثُمَّ جَاءَتْ أُخْرَى مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ، فَحَجَرُوا مَا كَانَ وَاسِعًا، وَأَبْعَدُوا مَا كَانَ شَاسِعًا، وَاقْتَصَرُوا عَلَى بَعْضِ رُءُوسِ الْمَسَائِلِ، وَكَثَّرُوا مِنْ الشُّبَهِ وَالدَّلَائِلِ، وَاقْتَصَرُوا عَلَى نَقْلِ مَذَاهِبِ الْمُخَالِفِينَ مِنْ الْفِرَقِ، وَتَرَكُوا أَقْوَالَ
এবং তিনি এর গুপ্ত বিষয়গুলোকে প্রকাশ করেছেন যা ছিল আবৃত, আর সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ অর্থে ও অতি চমৎকার অবয়বে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমনকি তিনি উসূলের জ্ঞান দ্বারা দিগন্তের অন্ধকারসমূহকে আলোকিত করেছেন এবং স্থবিরতার পর এর বাজারকে পুনরায় চাঙ্গা করেছেন। তাঁর পরবর্তীগণ এসে বিষয়গুলো বিবৃত করেছেন, সুস্পষ্ট করেছেন, সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন, শেষ পর্যন্ত দুই কাজীর আবির্ভাব হয়: সুন্নাহর কাজী আবু বকর ইবনুত তৈয়িব এবং মুতাজিলাদের কাজী আব্দুল জব্বার। তাঁরা ভাষাকে বিস্তৃত করেছেন, ইঙ্গিতসমূহকে উন্মোচন করেছেন, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন এবং জটিলতা নিরসন করেছেন।
মানুষ তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের প্রজ্বলিত আলোকবর্তিকার পথ ধরে চলেছে। ফলে তারা বিষয়গুলো পরিমার্জন করেছেন, সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সংজ্ঞায়িত করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদেরকে সকল প্রকার সুখ ও প্রশান্তি দিয়ে ধন্য করুন।
এরপর পরবর্তীদের মধ্য থেকে অন্য এক দল এল, তারা প্রশস্ত বিষয়গুলোকে সংকীর্ণ করে ফেলল এবং যা ছিল সুদূরপ্রসারী তাকে দূরে সরিয়ে দিল। তারা কেবল কতিপয় মূল বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকল এবং সংশয় ও দলিলের প্রাচুর্য ঘটালো। তারা বিভিন্ন ফেরকার বিরোধীদের মতবাদ উদ্ধৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল এবং (পূর্ববর্তীদের) বক্তব্যসমূহ বর্জন করল।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
مَنْ لِهَذَا الْفَنِّ أَصَّلَ، وَإِلَى حَقِيقَتِهِ وَصَّلَ، فَكَادَ يَعُودُ أَمْرُهُ إلَى الْأَوَّلِ، وَتَذْهَبُ عَنْهُ بَهْجَةُ الْمُعَوَّلِ، فَيَقُولُونَ: خِلَافًا لِأَبِي هَاشِمٍ، أَوْ وِفَاقًا لِلْجُبَّائِيِّ، وَتَكُونُ لِلشَّافِعِيِّ مَنْصُوصَةً، وَبَيْنَ أَصْحَابِهِ بِالِاعْتِنَاءِ مَخْصُوصَةً، وَفَاتَهُمْ مِنْ كَلَامِ السَّابِقِينَ عِبَارَاتٌ رَائِقَةٌ، وَتَقْرِيرَاتٌ فَائِقَةٌ، وَنُقُولٌ غَرِيبَةٌ، وَمَبَاحِثُ عَجِيبَةٌ.
[مَنْهَجُ الْمُؤَلِّفِ وَمَصَادِرُهُ]
وَقَدْ اجْتَمَعَ عِنْدِي بِحَمْدِ اللَّهِ مِنْ مُصَنَّفَاتِ الْأَقْدَمِينَ فِي هَذَا الْفَنِّ مَا يَرْبُو عَلَى الْمِئِينَ، وَمَا بَرِحَتْ لِي هِمَّةٌ تَهُمُّ فِي جَمْعِ أَشْتَاتِ كَلِمَاتِهِمْ وَتَجُولُ، وَمِنْ دُونِهَا عَوَائِقُ الْحَالِ تَحُولُ، إلَى أَنْ مَنَّ اللَّهُ سُبْحَانَهُ بِنَيْلِ الْمُرَادِ، وَأَمَدَّ بِلُطْفِهِ بِكَثِيرٍ مِنْ الْمَوَادِّ، فَمَخَضْتُ زُبْدَ كُتُبِ الْقُدَمَاءِ، وَوَرَدْتُ شَرَائِعَ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ الْعُلَمَاءِ، وَجَمَعْت مَا انْتَهَى إلَيَّ مِنْ أَقْوَالِهِمْ، وَنَسَجْت عَلَى مِنْوَالِهِمْ، وَفَتَحْت مِنْهُ مَا كَانَ مُقْفَلًا، وَفَصَّلْت مَا كَانَ مُجْمَلًا، بِعِبَارَةٍ تُسْتَعْذَبُ، وَإِشَارَةٌ لَا تُسْتَصْعَبُ. وَزِدْت فِي هَذَا الْفَنِّ مِنْ الْمَسَائِلِ مَا يُنِيفُ عَلَى الْأُلُوفِ، وَوَلَّدْت مِنْ الْغَرَائِبِ غَيْرَ الْمَأْلُوفِ، وَرَدَدْت كُلَّ فَرْعٍ إلَى أَصْلِهِ وَشَكْلٍ قَدْ حِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ شَكْلِهِ، وَأَتَيْت فِيهِ بِمَا لَمْ أُسْبَقْ إلَيْهِ، وَجَمَعْت شَوَارِدَهُ الْمُتَفَرِّقَاتِ عَلَيْهِ بِمَا يُقْضَى مِنْهُ الْعَجَبُ، وَإِنَّ اللَّهَ يَهَبُ لِعِبَادِهِ مَا يَشَاءُ أَنْ يَهَبَ، وَأَنْظِمُ فِيهِ
যারা এই শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং এর প্রকৃত রূপ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, তাদের বিষয়টি প্রায় আদি অবস্থায় ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং এর ওপর নির্ভরশীলদের সৌন্দর্য বিলুপ্ত হতে চলেছে। ফলে তারা বলে: আবু হাশিমের ভিন্নমত অথবা জুব্বাইয়ীর ঐকমত্যে; যা ইমাম শাফেয়ীর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে গণ্য এবং তার অনুসারীদের নিকট বিশেষ গুরুত্বের সাথে নির্দিষ্ট। অথচ পূর্বসূরিদের বাণী থেকে চমৎকার কিছু অভিব্যক্তি, উচ্চাঙ্গের উপস্থাপনা, দুর্লভ উদ্ধৃতি এবং বিস্ময়কর গবেষণা তাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে।
[লেখকের কর্মপদ্ধতি ও তার উৎসসমূহ]
আল্লাহর প্রশংসায়, এই শাস্ত্রে প্রাচীনদের রচিত শতাধিক গ্রন্থ আমার নিকট একত্রিত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন উক্তিগুলো একত্রিত করার জন্য আমার সুউচ্চ সংকল্প সর্বদা সচেষ্ট ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির নানা প্রতিবন্ধকতা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াত। পরিশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের তাওফিক দান করেছেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে প্রচুর উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছেন। ফলে আমি প্রাচীনদের কিতাবসমূহের সারনির্যাস মন্থন করেছি এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের জ্ঞান-স্রোতস্বিনীতে অবগাহন করেছি। তাদের যে সকল বক্তব্য আমার নিকট পৌঁছেছে তা আমি সংকলন করেছি এবং তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে রচনাশৈলী সাজিয়েছি। আমি এর রুদ্ধ বিষয়সমূহ উন্মুক্ত করেছি এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি—এমন প্রাঞ্জল ভাষায় যা শ্রুতিমধুর এবং এমন ইঙ্গিতের মাধ্যমে যা দুর্বোধ্য নয়। আমি এই শাস্ত্রে সহস্রাধিক মাসআলা বৃদ্ধি করেছি এবং এমন সব অভিনব ও বিরল বিষয় উদ্ভাবন করেছি যা সচরাচর দেখা যায় না। আমি প্রতিটি শাখাকে তার মূলের সাথে সম্পৃক্ত করেছি এবং এমন সব সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছি যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আমি এতে এমন বিষয়াদি নিয়ে এসেছি যাতে ইতিপূর্বে কেউ অগ্রসর হতে পারেনি এবং এর সকল বিক্ষিপ্ত ও দুর্লভ বিষয়গুলোকে এমনভাবে সংকলিত করেছি যা থেকে বিস্ময় অনুভূত হয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যা ইচ্ছা দান করেন। আমি এতে বিন্যস্ত করছি...
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِحَمْدِ اللَّهِ مَا لَمْ يَنْتَظِمْ قَبْلَهُ فِي سِلْكٍ، وَلَا حَصَلَ لِمَالِكٍ فِي مِلْكٍ، وَكَانَ مِنْ الْمُهِمِّ تَحْرِيرُ مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ وَخِلَافِ أَصْحَابِهِ وَكَذَلِكَ سَائِرُ الْمُخَالِفِينَ مِنْ أَرْبَابِ الْمَذَاهِبِ الْمَتْبُوعَةِ.
وَلَقَدْ رَأَيْت فِي كُتُبِ الْمُتَأَخِّرِينَ الْخَلَلَ فِي ذَلِكَ، وَالزَّلَلَ فِي كَثِيرٍ مِنْ التَّقْرِيرَاتِ وَالْمَسَالِكِ، فَأَتَيْت الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا، وَشَافَهْت كُلَّ مَسْأَلَةٍ مِنْ كُتَّابِهَا، وَرُبَّمَا أَسُوقُهَا بِعِبَارَاتِهِمْ لِاشْتِمَالِهَا عَلَى فَوَائِدَ، وَتَنْبِيهًا عَلَى خَلَلٍ نَاقِلٍ وَمَا تَضَمَّنَتْهُ مِنْ الْمَآخِذِ وَالْمَقَاصِدِ.
فَمِنْ كُتُبِ الْإِمَامِ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه الرِّسَالَةُ "، واخْتِلَافُ الْحَدِيثِ " وَأَحْكَامُ الْقُرْآنِ "، وَمَوَاضِعُ مُتَفَرِّقَةٌ مِنْ الْأُمِّ "، وَشَرْحِ الرِّسَالَةِ " لِلصَّيْرَفِيِّ وَلِلْقَفَّالِ الشَّاشِيِّ وَلِلْجُوَيْنِيِّ وَلِأَبِي الْوَلِيدِ النَّيْسَابُورِيِّ وَكِتَابُ الْقِيَاسِ " لِلْمُزَنِيِّ.
আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে এমন এক কিতাব সংকলিত হলো যা ইতিপূর্বে কখনো বিন্যস্ত হয়নি এবং কোনো মালিকের মালিকানাধীন সম্পদেও তা অর্জিত হয়নি। শাফিঈ মাযহাব ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যকার মতভেদ এবং একইভাবে অনুসরণীয় মাযহাবসমূহের ইমামদের মধ্য হতে অন্যান্য ভিন্নমত পোষণকারীদের মতাদর্শ পরিমার্জিতভাবে সংকলন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
আমি পরবর্তী যুগের লেখকদের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে ত্রুটি এবং অনেক উপস্থাপনা ও পদ্ধতিতে বিচ্যুতি লক্ষ্য করেছি। তাই আমি গৃহসমূহে সেগুলোর মূল প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করেছি এবং প্রতিটি মাসআলা সরাসরি সেগুলোর মূল রচয়িতাদের কিতাবসমূহ থেকে গ্রহণ করেছি। অনেক সময় আমি তাঁদের মূল বক্তব্যই উদ্ধৃত করেছি, কারণ তাতে অনেক ফায়দা রয়েছে এবং বর্ণনাকারীর ত্রুটি সম্পর্কে সচেতনতা রয়েছে এবং তাতে কী ধরনের উৎস ও উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে 'আর-রিসালাহ', 'ইখতিলাফুল হাদিস', 'আহকামুল কুরআন', 'আল-উম্ম'-এর বিভিন্ন অংশ, এবং সায়রাফি, কাফফাল শাশী, জুওয়াইনী ও আবু ওয়ালিদ নাইসাবুরী রচিত 'শারহুর রিসালাহ' এবং মুযানির রচিত 'কিতাবুল কিয়াস'।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَكِتَابُ " الرَّدِّ عَلَى دَاوُد فِي إنْكَارِهِ الْقِيَاسَ " لِابْنِ سُرَيْجٍ، وَكِتَابُ " الْإِعْذَارِ وَالْإِنْذَارِ " لَهُ أَيْضًا، وَكِتَابُ الدَّلَائِلِ وَالْأَعْلَامِ " لِلصَّيْرَفِيِّ، وَكِتَابُ الْقَفَّالِ الشَّاشِيِّ، وَأَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ الْقَطَّانِ، وَأَبِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي إِسْحَاقَ الْمَرْوَزِيِّ، وَأَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ الْقَاضِي فِي " رِيَاضِ
এবং ইবনে সুরাইজ রচিত "কিয়াস অস্বীকার করার বিষয়ে দাউদকে প্রদত্ত উত্তর" গ্রন্থ, এবং তাঁরই রচিত "অজুহাত ও সতর্কীকরণ" গ্রন্থ, এবং সায়রাফী রচিত "প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ" গ্রন্থ, এবং আল-কাফফাল আশ-শাশী, আবু আল-হুসাইন বিন আল-কাত্তান, আবু আলী বিন আবু হুরায়রা ও আবু ইসহাক আল-মারওয়াযী-র গ্রন্থসমূহ এবং "রিয়ায" গ্রন্থে আবু আল-আব্বাস বিন আল-কাজী...
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الْمُتَعَلِّمِينَ " وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيِّ وَأَبِي الْحُسَيْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سُرَاقَةَ الْعَامِرِيِّ، وَأَبِي الْقَاسِمِ بْنِ كَجٍّ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ فُورَكٍ، وَالْأُسْتَاذِ أَبِي إِسْحَاقَ الْإسْفَرايِينِيّ، وَالشَّيْخِ أَبِي حَامِدٍ الْإسْفَرايِينِيّ، وَسُلَيْمٍ الرَّازِيَّ
শিক্ষার্থীগণের " এবং আবু আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরী, এবং আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সুরাকাহ আল-আমিরী, এবং আবু আল-কাসিম ইবনে কাজ্জ, এবং আবু বকর ইবনে ফুরাক, এবং উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী, এবং শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী এবং সুলাইম আর-রাযী।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
فِي التَّقْرِيبِ فِي الْأُصُولِ " وَالتَّحْصِيلِ " لِلْأُسْتَاذِ أَبِي مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيِّ، وَشَرْحُ الْكِفَايَةِ وَالْجَدَلِ " لِلْقَاضِي أَبِي الطَّيِّبِ الطَّبَرِيِّ، وَاللُّمَعُ وَشَرْحُهَا " لِلشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ، وَالتَّبْصِرَةُ " وَالْمُلَخَّصُ "، وَالْمَعُونَةُ "، وَالْحُدُودُ " وَغَيْرُهَا مِنْ كُتُبِهِ، وَكِتَابُ الشَّيْخِ أَبِي نَصْرِ بْنِ الْقُشَيْرِيّ، وَكِتَابُ أَبِي الْحُسَيْنِ السُّهَيْلِيِّ مِنْ أَصْحَابِنَا، وَالْأَوْسَطُ "
উস্তাদ আবু মানসুর আল-বাগদাদীর "আত-তাকরাীব ফিল উসুল" ও "আত-তাহসীল" গ্রন্থে; কাজী আবু তাইয়িব আত-তাবারীর "শারহুল কিফায়াহ ওয়াল জাদাল" গ্রন্থে; শায়খ আবু ইসহাকের "আল-লুমাহ" ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "আত-তাবসিরাহ", "আল-মুলাখখাস", "আল-মাউনা", "আল-হুদুদ" ও তাঁর অন্যান্য কিতাবে; শায়খ আবু নাসর ইবনে আল-কুশায়রীর কিতাবে; আমাদের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত আবু আল-হুসাইন আস-সুহাইলীর কিতাবে এবং "আল-আওসাত" গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
لِابْنِ بَرْهَانٍ، وَالْوَجِيزُ " لَهُ، وَالْقَوَاطِعُ " لِأَبِي الْمُظَفَّرِ بْنِ السَّمْعَانِيِّ وَهُوَ أَجَلُّ كِتَابٍ لِلشَّافِعِيَّةِ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ نَقَلَاتٍ وَحِجَاجًا، وَكِتَابُ التَّقْرِيبِ وَالْإِرْشَادِ " لِلْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ أَجَلُّ كِتَابٍ صُنِّفَ فِي هَذَا الْعِلْمِ مُطْلَقًا، وَالتَّلْخِيصُ " مِنْ هَذَا الْكِتَابِ لِإِمَامِ الْحَرَمَيْنِ أَمْلَاهُ بِمَكَّةَ شَرَّفَهَا اللَّهُ، وَالْبُرْهَانُ " لِلْإِمَامِ وَشُرُوحُهُ، وَقَدْ اعْتَنَى بِهِ الْمَالِكِيُّونَ. الْمَازِرِيُّ، وَالْإِبْيَارِيُّ، وَابْنُ الْعَلَّافِ، وَابْنُ الْمُنِيرِ، وَنَكَتَ عَلَيْهِ الشَّيْخُ تَقِيُّ الدِّينِ الْمُقْتَرِحُ
ইবনে বুরহানের (কিতাব), এবং তাঁর রচিত 'আল-ওয়াজিজ'; এবং আবু আল-মুজাফফর বিন আল-সামআনি-র 'আল-কাওয়াতি', যা উদ্ধৃতি ও যুক্তির বিচারে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে শাফিঈদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ; এবং কাযী আবু বকরের 'আত-তাকরিব ওয়াল ইরশাদ' কিতাব, যা নিরঙ্কুশভাবে এই শাস্ত্রে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ; এবং এই কিতাব থেকে ইমামুল হারামাইনের সংক্ষেপিত 'আত-তালখিস', যা তিনি মক্কায়—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করেছিলেন; এবং ইমামের 'আল-বুরহান' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, যার প্রতি মালিকিগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন—যথা: আল-মাযিরি, আল-ইবইয়ারি, ইবনুল আল্লাফ ও ইবনুল মুনির; এবং শায়খ তাকিউদ্দীন আল-মুকতারিহ এর ওপর টীকা লিখেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
جَدُّ الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ بْنِ دَقِيقِ الْعِيدِ لِأُمِّهِ، وَمُخْتَصَرُ النُّكَتِ " لِابْنِ عَطَاءِ اللَّهِ الإسكندراني، " وَمُخْتَصَرُهُ لِابْنِ الْمُنِيرِ، وَالْمُسْتَصْفَى " لِلْغَزَالِيِّ، وَقَدْ اعْتَنَى بِهِ الْمَالِكِيَّةُ أَيْضًا، فَشَرَحَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعَبْدَرِيُّ فِي كِتَابِهِ الْمُسَمَّى بِالْمُسْتَوْفَى "، وَنَكَتَ عَلَيْهِ ابْنُ الْحَاجِّ الْإِشْبِيلِيُّ وَغَيْرُهُ، وَاخْتَصَرَهُ ابْنُ رُشْدٍ
শাইখ তাকিউদ্দীন ইবন দাকীক আল-ঈদের মাতামহ, এবং ইবন আতাউল্লাহ আল-ইসকান্দারির ‘মুখতাসারুল নুকাত’, এবং ইবনুল মুনাইয়িরকৃত এর সংক্ষিপ্তসার, এবং আল-গাজালির ‘আল-মুস্তাসফা’, যার প্রতি মালিকিগণও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন; ফলে আবু আব্দুল্লাহ আল-আবদারি তাঁর ‘আল-মুস্তাওফা’ নামক গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা করেছেন, এবং ইবনুল হাজ আল-ইশবিলি ও অন্যান্যরা এর ওপর টীকা লিখেছেন এবং ইবন রুশদ এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَابْنُ شَاسٍ صَاحِبُ الْجَوَاهِرِ "، وَابْنُ رَشِيقٍ، وَالْمَحْصُولُ وَمُخْتَصَرَاتُهُ وَشُرُوحِهِ لِلْأَصْفَهَانِيِّ وَالْقَرَافِيِّ، وَالْأَحْكَامُ " لِلْآمِدِيِّ، وَمُخْتَصَرُ " ابْنِ الْحَاجِبِ، وَالنِّهَايَةُ " لِلصَّفِيِّ الْهِنْدِيِّ
"আল-জাওয়াহির" এর রচয়িতা ইবনে শাস, ইবনে রাশিক, আল-মাহসুল এবং আল-আসফাহানি ও আল-কারাফি রচিত এর সারসংক্ষেপ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, আল-আমিদির "আল-আহকাম", ইবনে আল-হাজিবের "মুখতাসার", এবং সাফী আল-হিন্দির "আন-নিহায়াহ"।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
، وَالْفَائِقُ " وَالرِّسَالَةُ السَّيْفِيَّةُ " لَهُ، وَابْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ فِي الْعُنْوَانِ "، وَشَرْحُ الْعُمْدَةِ " وَشَرْحُ الْإِلْمَامِ " وَبِهِ خَتَمَ التَّحْقِيقَ فِي هَذَا الْفَنِّ، وَفِي مَوْضِعٍ مِنْ شَرْحِ الْإِلْمَامِ " يَقُولُ: أُصُولُ الْفِقْهِ هُوَ الَّذِي يَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْهِ.
وَمِنْ كُتُبِ الْحَنَفِيَّةِ كِتَابُ أَبِي بَكْرٍ الرَّازِيَّ، وَاللُّبَابُ " لِأَبِي الْحَسَنِ الْبُسْتِيِّ الْجُرْجَانِيِّ، وَكِتَابُ شَمْسِ الْأَئِمَّةِ السَّرَخْسِيِّ، وَتَقْوِيمُ الْأَدِلَّةِ " لِأَبِي زَيْدٍ، وَالْمِيزَانُ " لِلسَّمَرْقَنْدِيِّ وَالْكِبْرِيتُ الْأَحْمَرُ " لِأَبِي الْفَضْلِ الْخُوَارِزْمِيَّ، وَكِتَابُ " الْعَالَمِيِّ " وَالْبَدِيعُ " لِابْنِ السَّاعَاتِي
এবং 'আল-ফায়েক' ও 'আর-রিসালাহ আস-সাইফিয়্যাহ' তাঁরই রচনা; আর ইবনু দাকীকিল ঈদ তাঁর 'আল-উনওয়ান', 'শারহুল উমদাহ' ও 'শারহুল ইলমাম' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি এই শাস্ত্রের সূক্ষ্ম গবেষণার সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। 'শারহুল ইলমাম'-এর এক স্থানে তিনি বলেন: উসূলে ফিকহ হলো এমন এক শাস্ত্র যা সিদ্ধান্ত প্রদান করে, কিন্তু অন্য কিছুর মাধ্যমে এর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
আর হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু বকর আর-রাযীর কিতাব, আবুল হাসান আল-বুসতী আল-জোরজানী রচিত 'আল-লুবাব', শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসী রচিত কিতাব, আবু যায়িদ রচিত 'তাকভীমুল আদিল্লাহ', আস-সামারকান্দী রচিত 'আল-মিযান', আবুল ফাদল আল-খাওয়ারিজমী রচিত 'আল-কিবরীতুল আহমার', 'আল-আলামী' কিতাব এবং ইবনুস সাআতীর 'আল-বাদী' কিতাব।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَكَانَ أَعْلَمَ أَهْلِ زَمَانِهِ بِأُصُولِ الْفِقْهِ
وَمِنْ كُتُبِ الْمَالِكِيَّةِ الْجَامِعُ " لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُجَاهِدِ بْنِ خُوَيْزِ مَنْدَادٍ الْمَالِكِيِّ الْبَصْرِيِّ، وَنَقَلْت عَنْهُ بِالْوَاسِطَةِ وَالْمُلَخَّصُ " لِلْقَاضِي عَبْدِ الْوَهَّابِ وَالْإِفَادَةُ " وَالْأَجْوِبَةُ الْفَاخِرَةُ " لَهُ، وَالْفُصُولُ " لِأَبِي الْوَلِيدِ الْبَاجِيِّ، وَالْمَحْصُولُ " لِابْنِ الْعَرَبِيِّ،
তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন।
আর মালিকি মাজহাবের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মুজাহিদ ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ আল-মালিকি আল-বসরীর ‘আল-জামি’, যা থেকে আমি মধ্যস্থতার মাধ্যমে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি; এবং কাজি আব্দুল ওয়াহহাবের ‘আল-মুলাখখাস’, তাঁরই রচিত ‘আল-ইফাদাহ’ ও ‘আল-আজউয়িবাতুল ফাখিরাহ’, আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজীর ‘আল-ফুসুল’ এবং ইবনুল আরাবীর ‘আল-মাহসুল’।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَكِتَابُ أَبِي الْعَبَّاسِ الْقُرْطُبِيِّ شَارِحِ مُسْلِمٍ، وَالْقَوَاعِدُ " لِلْقَرَافِيِّ وَغَيْرُهُ.
وَمِنْ كُتُبِ الْحَنَابِلَةِ التَّمْهِيدُ لِأَبِي الْخَطَّابِ، وَالْوَاضِحُ " لِابْنِ عَقِيلٍ، وَالرَّوْضَةُ " لِلْمَقْدِسِيِّ وَمُخْتَصَرُهَا لِلطُّوفِيِّ وَغَيْرُهُمْ.
وَمِنْ كُتُبِ الظَّاهِرِيَّةِ كِتَابُ أُصُولِ الْفَتْوَى " لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الدَّاوُدِيِّ وَهُوَ عُمْدَةُ الظَّاهِرِيَّةِ فِيمَا صَحَّ عَنْ دَاوُد، وَكِتَابُ الْإِحْكَامِ " لِابْنِ حَزْمٍ.
এবং সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার আবু আব্বাস আল-কুরতুবীর কিতাব এবং কারাফীর ‘আল-কাওয়াইদ’ ও অন্যান্যদের গ্রন্থসমূহ।
আর হাম্বলী মাযহাবের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু আল-খাত্তাবের ‘আত-তামহীদ’, ইবনে আকীলের ‘আল-ওয়াদিহ’, মাকদিসীর ‘আর-রাওদাহ’ এবং তুফী কর্তৃক প্রণীত এর সংক্ষিপ্তসার ও অন্যান্যদের গ্রন্থসমূহ।
আর যাহিরী মাযহাবের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ আদ-দাউদীর ‘উসুলুল ফতোয়া’—যা ইমাম দাউদ থেকে যা বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে যাহিরী মাযহাবের প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস এবং ইবনে হাজমের ‘আল-ইহকাম’।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَمِنْ كُتُبِ الْمُعْتَزِلَةِ الْعُمْدَةُ " لِأَبِي الْحُسَيْنِ وَالْمُعْتَمَدُ " لَهُ، وَالْوَاضِحُ " لِأَبِي يُوسُفَ عَبْدِ السَّلَامِ، وَالنُّكَتُ " لِابْنِ الْعَارِضِ بِالْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ.
وَمِنْ كُتُبِ الشِّيعَةِ الذَّرِيعَةُ " لِلشَّرِيفِ الرَّضِيِّ، وَالْمَصَادِرُ " لِمَحْمُودِ بْنِ عَلِيٍّ الْحِمْصِيِّ وَهُوَ عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِيَّةِ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِمَّا هُوَ مُبَيَّنٌ فِي مَوَاضِعِهِ. وَسَمَّيْته الْبَحْرَ الْمُحِيطِ " وَاَللَّهَ أَسْأَلَ أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ مُقَرَّبًا لِلْفَوْزِ بِجَنَّاتِ النَّعِيمِ، بِمَنِّهِ وَكَرْمِهِ.
মুতাযিলাদের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে আবুল হুসাইনের ‘আল-উমদাহ’ এবং তাঁরই ‘আল-মুতামাদ’, আবু ইউসুফ আবদুস সালামের ‘আল-ওয়াদিহ’ এবং ইবনুল আরিদের (নুকতাহীন ‘আইন’ বর্ণ দিয়ে) ‘আন-নুকাত’।
আর শিয়াদের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে শরীফ আর-রাদীর ‘আয-যারিয়াহ’ এবং মাহমুদ ইবনে আলী আল-হিমসির ‘আল-মাসাদির’—যিনি ইমামিয়া মাযহাবের অনুসারী ছিলেন—এবং এ ছাড়াও অন্যান্য কিতাব যা সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আমি কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘আল-বাহরুল মুহীত’ এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে নিআমতপূর্ণ জান্নাত লাভের অসীলা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[فَصْلٌ أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي الْأُصُولِ]الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ صَنَّفَ فِيهِ كِتَابَ الرِّسَالَةِ "، وَكِتَابَ أَحْكَامِ الْقُرْآنِ "، وَاخْتِلَافِ الْحَدِيثِ "، وَإِبْطَالِ الِاسْتِحْسَانِ " وَكِتَابَ جِمَاعِ الْعِلْمِ " وَكِتَابَ " الْقِيَاسِ " الَّذِي ذَكَرَ فِيهِ تَضْلِيلَ الْمُعْتَزِلَةِ وَرُجُوعَهُ عَنْ قَبُولِ شَهَادَتِهِمْ، ثُمَّ تَبِعَهُ الْمُصَنِّفُونَ فِي الْأُصُولِ.
قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: لَمْ نَكُنْ نَعْرِفُ الْخُصُوصَ وَالْعُمُومَ حَتَّى وَرَدَ الشَّافِعِيُّ. وَقَالَ الْجُوَيْنِيُّ فِي شَرْحِ الرِّسَالَةِ ": لَمْ يَسْبِقْ الشَّافِعِيَّ أَحَدٌ فِي تَصَانِيفِ الْأُصُولِ وَمَعْرِفَتِهَا.
وَقَدْ حُكِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ تَخْصِيصُ عُمُومٍ، وَعَنْ بَعْضِهِمْ الْقَوْلُ بِالْمَفْهُومِ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ لَمْ يُقَلْ فِي الْأُصُولِ شَيْئًا، وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ فِيهِ قَدَمٌ. فَإِنَّا رَأَيْنَا كُتُبَ السَّلَفِ مِنْ التَّابِعِينَ وَتَابِعِي التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ فَمَا رَأَيْنَاهُمْ صَنَّفُوا فِيهِ. أَلَا تَرَى أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ كَانَ أَكْبَرَ سِنًّا مِنْهُ، وَكَانَ مُتَقَدِّمًا فِي الْعِلْمِ،
[পরিচ্ছেদ: উসূল শাস্ত্রে প্রথম গ্রন্থকার]শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (উসূলে ফিকহ) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এ বিষয়ে 'আর-রিসালাহ', 'আহকামুল কুরআন', 'ইখতিলাফুল হাদিস', 'ইবতালুল ইসতিহসান', 'জিমাউল ইলম' এবং 'আল-কিয়াস' নামক গ্রন্থগুলো রচনা করেছেন, যাতে তিনি মুতাজিলাদের পথভ্রষ্টতা এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের (অসম্মতির) কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর উসূল শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থকারগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: শাফিয়ী আসার পূর্ব পর্যন্ত আমরা 'খাস' (বিশেষ) ও 'আম' (সাধারণ) সম্পর্কে জানতাম না। আল-জুওয়াইনী 'আর-রিসালাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: উসূল শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা ও এ সংক্রান্ত জ্ঞানের ক্ষেত্রে শাফিয়ীর পূর্বে কেউ অগ্রগামী হতে পারেনি।
অবশ্য ইবনে আব্বাস থেকে সাধারণ বিধানকে বিশেষ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং কারো কারো থেকে 'মাফহুম' (বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ) সম্পর্কে বক্তব্য পাওয়া গেছে; তবে তাঁদের পরবর্তী সময়ে উসূল শাস্ত্রে তেমন কিছুই বলা হয়নি এবং এ বিষয়ে তাঁদের কোনো পা (পদচারণা) ছিল না। কেননা আমরা তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী ও অন্যদের মতো পূর্ববর্তীদের যে সকল কিতাব দেখেছি, তাতে আমরা তাঁদেরকে এই বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করতে দেখিনি। আপনি কি দেখেন না যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন এবং ইলমের ক্ষেত্রেও অগ্রগামী ছিলেন,
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَكَانَ يَأْخُذُ بِرِكَابِهِ فَيَتْبَعُهُ، وَيَتَعَلَّمُ مِنْهُ. اهـ. وَلَيْسَ كَمَا قَالَ بَلْ هُوَ أَصْغَرُ مِنْ الشَّافِعِيِّ بِأَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً.
وَاعْلَمْ أَنَّ الشَّيْخَ أَبَا الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيَّ كَانَ يَتْبَعُ الشَّافِعِيَّ فِي الْفُرُوعِ وَالْأُصُولِ وَرُبَّمَا يُخَالِفُهُ فِي الْأُصُولِ، كَقَوْلِهِ بِتَصْوِيبِ الْمُجْتَهِدِينَ فِي الْفُرُوعِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ مَذْهَبَ الشَّافِعِيِّ، وَكَقَوْلِهِ: " لَا صِيغَةَ لِلْعُمُومِ ".
قَالَ الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْجُوَيْنِيُّ. وَنُقِلَ مُخَالَفَتُهُ أُصُولَ الشَّافِعِيِّ وَنُصُوصَهُ وَرُبَّمَا يَنْسُبُ الْمُبْتَدَعُونَ إلَيْهِ مَا هُوَ بَرِيءٌ مِنْهُ كَمَا نَسَبُوا إلَيْهِ أَنَّهُ يَقُولُ: لَيْسَ فِي الْمُصْحَفِ قُرْآنٌ، وَلَا فِي الْقُبُورِ نَبِيٌّ، وَكَذَلِكَ الِاسْتِثْنَاءُ فِي الْإِيمَانِ وَنَفْيُ قُدْرَةِ الْخَالِقِ فِي الْأَزَلِ، وَتَكْفِيرُ الْعَوَامّ، وَإِيجَابُ عِلْمِ الدَّلِيلِ عَلَيْهِمْ. وَقَدْ تَصَفَّحْت مَا تَصَحَّفْت مِنْ كُتُبِهِ، وَتَأَمَّلْت نُصُوصَهُ فِي هَذِهِ الْمَسَائِلِ فَوَجَدْتهَا كُلَّهَا خِلَافَ مَا نُسِبَ إلَيْهِ.
وَقَالَ ابْنُ فُورَكٍ فِي كِتَابِ شَرْحِ كِتَابِ الْمَقَالَاتِ " لِلْأَشْعَرِيِّ فِي مَسْأَلَةِ تَصْوِيبِ الْمُجْتَهِدِينَ: اعْلَمْ أَنَّ شَيْخَنَا أَبَا الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيَّ يَذْهَبُ فِي الْفِقْهِ وَمَسَائِلِ الْفُرُوعِ وَأُصُولِ الْفِقْهِ أَيْضًا مَذْهَبَ الشَّافِعِيِّ وَنَصُّ قَوْلِهِ فِي كِتَابِ التَّفْسِيرِ فِي بَابِ إيجَابِ قِرَاءَةِ الْفَاتِحَةِ عَلَى الْمَأْمُومِ: خِلَافُ قَوْلِ
তিনি তাঁর পাদানিতে হাত রাখতেন এবং তাঁর পিছু পিছু চলতেন, আর তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতেন। (উদ্ধৃতি শেষ)। তবে বিষয়টি এমন নয় যেমনটি তিনি বলেছেন, বরং তিনি শাফিঈর চেয়ে চৌদ্দ বছরের ছোট ছিলেন।
জেনে রাখুন যে, শেখ আবুল হাসান আল-আশআরী শাখা মাসআলা এবং মূলনীতিতে শাফিঈর অনুসরণ করতেন, আবার কখনো কখনো তিনি মূলনীতিতে তাঁর বিরোধিতা করতেন; যেমন শাখা মাসআলায় মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করার বিষয়ে তাঁর অভিমত, যা শাফিঈর মাযহাব নয়, এবং যেমন তাঁর কথা: "ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই।"
শেখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী বলেছেন: শাফিঈর মূলনীতি ও সুস্পষ্ট বক্তব্যের সাথে তাঁর বিরোধিতার কথা বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবত বিদআতিরা তাঁর প্রতি এমন কিছু বিষয়ের সম্বন্ধ করে যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত, যেমন তারা তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করেছে যে তিনি বলেন: মুসহাফের মধ্যে কোনো কুরআন নেই এবং কবরের মধ্যে কোনো নবী নেই; তেমনি ঈমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা, অনাদিকালে স্রষ্টার ক্ষমতাকে অস্বীকার করা, সাধারণ মানুষদের কাফির বলা এবং তাদের ওপর দালিলিক জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক করা। আমি তাঁর যে সকল কিতাব অধ্যয়ন করেছি এবং এই মাসআলাগুলোতে তাঁর বক্তব্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে আমি সেগুলো তাঁর প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত পেয়েছি।
ইবনে ফুরাক আশআরীর 'কিতাবুল মাকালাত'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করার মাসআলায় বলেন: জেনে রাখুন যে, আমাদের শেখ আবুল হাসান আল-আশআরী ফিকহ, শাখা মাসআলা এবং উসুলে ফিকহের ক্ষেত্রেও শাফিঈর মাযহাব অনুসরণ করেন। এবং তাফসির গ্রন্থে মুক্তাদির ওপর সুরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়ার অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্যের সুস্পষ্ট পাঠ হলো: অমুক মতের বিপরীত...
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْجَهْرُ بِالْبَسْمَلَةِ: خِلَافُ قَوْلِ مَالِكٍ، وَفِي إثْبَاتِ آيَةِ الْبَسْمَلَةِ فِي كُلِّ سُورَةٍ آيَةً مِنْهَا قُرْآنًا مُنَزَّلًا فِيهَا، وَلِذَلِكَ قَالَ فِي كِتَابِهِ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ بِمُوَافَقَةِ أُصُولَهُ.
[فَصْلٌ فِي بَيَانِ شَرَفِ عِلْمِ الْأُصُولِ]ِ اعْلَمْ أَنَّ الْعُلُومَ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ:
الْأَوَّلُ: عَقْلِيٌّ مَحْضٌ، كَالْحِسَابِ وَالْهَنْدَسَةِ.
وَالثَّانِي: لُغَوِيٌّ، كَعِلْمِ اللُّغَةِ وَالنَّحْوِ وَالصَّرْفِ وَالْمَعَانِي وَالْبَيَانِ وَالْعَرُوضِ.
وَالثَّالِثُ: الشَّرْعِيُّ وَهُوَ عِلْمُ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ، وَلَا شَكَّ أَنَّهُ أَشْرَفُ
আবু হানিফার (মতামত); এবং বিসমিল্লাহ সশব্দে পাঠ করা ইমাম মালিকের মতের পরিপন্থী। প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহকে তার একটি আয়াত এবং তাতে অবতীর্ণ কুরআন হিসেবে সাব্যস্ত করার বিষয়েও (মালিকের সাথে দ্বিমত রয়েছে); একারণেই তিনি তাঁর উসুলুল ফিকহ গ্রন্থে তাঁর মূলনীতিসমূহের অনুকূলে এ কথা বলেছেন।
[উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ]জেনে রাখুন যে, জ্ঞান তিন প্রকার:
প্রথম: বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান, যেমন গণিত এবং জ্যামিতি।
দ্বিতীয়: ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞান, যেমন অভিধান শাস্ত্র, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দরূপান্তর), মাআনি (অর্থালঙ্কার), বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং আরুজ (ছন্দতত্ত্ব)।
তৃতীয়: শরয়ি জ্ঞান, যা হলো কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান; এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْأَصْنَافِ، ثُمَّ أَشْرَفُ الْعُلُومِ بَعْدَ الِاعْتِقَادِ الصَّحِيحِ مَعْرِفَةُ الْأَحْكَامِ الْعَمَلِيَّةِ، وَمَعْرِفَةُ ذَلِكَ بِالتَّقْلِيدِ وَنَقْلُ الْفُرُوعِ الْمُجَرَّدَةِ يَسْتَفْرِغُ جَمَامَ الذِّهْنِ وَلَا يَنْشَرِحُ بِهَا الصَّدْرُ، لِعَدَمِ أَخْذِهِ بِالدَّلِيلِ، وَشَتَّانَ بَيْنَ مَنْ يَأْتِي بِالْعِبَادَةِ تَقْلِيدًا لِإِمَامِهِ بِمَعْقُولِهِ وَبَيْنَ مَنْ يَأْتِي بِهَا وَقَدْ ثَلَجَ صَدْرُهُ عَنْ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَهَذَا لَا يَحْصُلُ إلَّا بِالِاجْتِهَادِ، وَالنَّاسُ فِي حَضِيضٍ عَنْ ذَلِكَ، إلَّا مَنْ تَغَلْغَلَ بِأُصُولِ الْفِقْهِ، وَكَرَعَ مِنْ مَنَاهِلِهِ الصَّافِيَةِ، وَأَدْرَعَ مَلَابِسَهُ الضَّافِيَةَ، وَسَبَحَ فِي بَحْرِهِ، وَرَبِحَ مِنْ مَكْنُونِ دُرِّهِ.
قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ فِي كِتَابِ الْمَدَارِكِ " وَهُوَ مِنْ أَنْفَسِ كُتُبِهِ: وَالْوَجْهُ لِكُلِّ مُتَصَدٍّ لِلْإِقْلَالِ بِأَعْبَاءِ الشَّرِيعَةِ أَنْ يَجْعَلَ الْإِحَاطَةَ بِالْأُصُولِ شَوْقَهُ الْآكَدَ، وَيَنُصَّ مَسَائِلَ الْفِقْهِ عَلَيْهَا نَصَّ مَنْ يُحَاوِلُ بِإِيرَادِهَا تَهْذِيبَ الْأُصُولِ، وَلَا يَنْزِفُ جَمَامَ الذِّهْنِ فِي وَضْعِ الْوَقَائِعِ مَعَ الْعِلْمِ بِأَنَّهَا لَا تَنْحَصِرُ مَعَ الذُّهُولِ عَنْ الْأُصُولِ.
বিভিন্ন প্রকারের; অতঃপর সহীহ আকিদাহর পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইলম হলো আমল সংক্রান্ত বিধি-বিধানের জ্ঞান। আর কেবল তাকলীদ এবং দলিলবিহীন শাখা-প্রশাখার মাসআলা বর্ণনার মাধ্যমে তা অর্জন করা মেধার প্রশান্তিকে নিঃশেষ করে দেয় এবং এতে বক্ষ প্রশস্ত হয় না, যেহেতু তা দলিল থেকে গ্রহণ করা হয়নি। আর সেই ব্যক্তির মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান যে কেবল নিজের বিবেক খাটিয়ে স্বীয় ইমামের তাকলীদ করে ইবাদত সম্পাদন করে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে হৃদয়কে প্রশান্ত রেখে ইবাদত সম্পাদন করে। আর এটি ইজতিহাদ ব্যতিরেকে অর্জিত হয় না; অথচ মানুষ এই বিষয়ে অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, কেবল তারা ব্যতীত যারা উসূলে ফিকহের গভীরে প্রবেশ করেছে, এর স্বচ্ছ ঝরনাধারা থেকে পান করেছে, এর সুনিপুণ পোশাক পরিধান করেছে, এর সমুদ্রে অবগাহন করেছে এবং এর গুপ্ত মুক্তোরাজি আহরণ করে লাভবান হয়েছে।
ইমামুল হারামাইন তাঁর ‘আল-মাদারিক’ গ্রন্থে বলেন—যা তাঁর অন্যতম মূল্যবান কিতাব—: শরীয়তের গুরুদায়িত্ব পালনে ব্রতী প্রত্যেকের জন্য সমীচীন হলো উসূল বা মূলনীতির ওপর পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করাকে নিজের ঐকান্তিক আগ্রহের বিষয়ে পরিণত করা এবং ফিকহের মাসআলাগুলোকে উসূলের ভিত্তিতে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যেন সেগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে উসূলসমূহকে সুসংহত করার প্রয়াস পাওয়া যায়। আর উসূল সম্পর্কে উদাসীন থেকে বিভিন্ন মাসআলা বা ঘটনাবলী বিন্যস্ত করার পেছনে মেধার শক্তিকে নিঃশেষ না করা, যেখানে সে জানে যে মাসআলাসমূহ অসীম ও অগণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَالَ الْغَزَالِيُّ فِي الْمُسْتَصْفَى ": خَيْرُ الْعِلْمِ مَا ازْدَوَجَ فِيهِ الْعَقْلُ وَالسَّمْعُ وَاصْطَحَبَ فِيهِ الرَّأْيُ وَالشَّرْعُ عِلْمُ الْفِقْهِ، وَأُصُولُ الْفِقْهِ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ، فَإِنَّهُ يَأْخُذُ مِنْ صَفْوِ الْعَقْلِ وَالشَّرْعِ سَوَاءَ السَّبِيلِ، فَلَا هُوَ تَصَرَّفَ بِمَحْضِ الْعُقُولِ بِحَيْثُ لَا يَتَلَقَّاهُ الشَّرْعُ بِالْقَبُولِ، وَلَا هُوَ مَبْنِيٌّ عَلَى التَّقْلِيدِ الَّذِي لَا يَشْهَدُ لَهُ الْعَقْلُ بِالتَّأْيِيدِ وَالتَّسْدِيدِ، وَلِأَجْلِ شَرَفِ عِلْمِ أُصُولِ الْفِقْهِ وَرِفْعَتِهِ وَفَّرَ اللَّهُ دَوَاعِيَ الْخَلْقِ عَلَى طُلْبَتِهِ، وَكَانَ الْعُلَمَاءُ بِهِ أَرْفَعَ مَكَانًا، وَأَجَلَّهُمْ شَأْنًا، وَأَكْثَرَهُمْ أَتْبَاعًا وَأَعْوَانًا.
وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْقَفَّالُ الشَّاشِيُّ فِي كِتَابِهِ " الْأُصُولُ ": اعْلَمْ أَنَّ النَّصَّ عَلَى حُكْمِ كُلِّ حَادِثَةٍ عَيْنًا مَعْدُومٌ، وَأَنَّ لِلْأَحْكَامِ أُصُولًا وَفُرُوعًا، وَأَنَّ الْفُرُوعَ لَا تُدْرَكُ إلَّا بِأُصُولِهَا، وَأَنَّ النَّتَائِجَ لَا تُعْرَفُ حَقَائِقُهَا إلَّا بَعْدَ تَحْصِيلِ الْعِلْمِ بِمُقَدِّمَاتِهَا، فَحُقَّ أَنْ يُبْدَأَ بِالْإِبَانَةِ عَنْ الْأُصُولِ لِتَكُونَ سَبَبًا إلَى مَعْرِفَةِ الْفُرُوعِ.
ثُمَّ اُخْتُلِفَ فِي نِسْبَةِ الْأُصُولِ إلَى الْفِقْهِ، فَقِيلَ: عِلْمُ الْأُصُولِ بِمُجَرَّدِهِ كَالْمَيْلَقِ الَّذِي يُخْتَبَرُ بِهِ جَيِّدُ الذَّهَبِ مِنْ رَدِيئِهِ، وَالْفِقْهُ كَالذَّهَبِ، فَالْفَقِيهُ الَّذِي لَا أُصُولَ عِنْدَهُ كَكَاسِبِ مَالٍ لَا يَعْرِفُ حَقِيقَتَهُ، وَلَا مَا يَدَّخِرُ مِنْهُ مِمَّا لَا يَدَّخِرُ، وَالْأُصُولِيُّ الَّذِي لَا فِقْهَ عِنْدَهُ كَصَاحِبِ الْمَيْلَقِ الَّذِي لَا ذَهَبَ عِنْدَهُ، فَإِنَّهُ لَا يَجِدُ مَا يَخْتَبِرُهُ عَلَى مَيْلَقِهِ.
وَقِيلَ: الْأُصُولِيُّ كَالطَّبِيبِ الَّذِي لَا عَقَارَ عِنْدَهُ، وَالْفَقِيهُ كَالْعَطَّارِ الَّذِي عِنْدَهُ كُلُّ عَقَارٍ، وَلَكِنْ لَا يَعْرِفُ مَا يَضُرُّ وَلَا مَا يَنْفَعُ.
وَقِيلَ: الْأُصُولِيُّ كَصَانِعِ السِّلَاحِ، وَهُوَ جَبَانٌ لَا يُحْسِنُ الْقِتَالَ بِهِ، وَالْفَقِيهُ كَصَاحِبِ سِلَاحٍ وَلَكِنْ لَا يُحْسِنُ إصْلَاحَهَا إذَا فَسَدَتْ، وَلَا جِمَاعَهَا إذَا صَدَعَتْ.
ইমাম আল-গাজালী 'আল-মুস্তাসফা' গ্রন্থে বলেছেন: "সর্বোত্তম জ্ঞান হলো তা, যাতে আকল (বুদ্ধিবৃত্তি) ও সামআ (অহি-ভিত্তিক বর্ণনা) পরস্পর যুক্ত হয় এবং রায় (বিবেচনা) ও শরয় (বিধান) একে অপরের সহগামী হয়; আর ফিকহশাস্ত্র এবং উসূলে ফিকহ এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তা আকল ও শরয়-এর নির্যাস থেকে সঠিক পথ গ্রহণ করে। তা কেবল নিছক আকলের ব্যবহার নয় যে শরীয়ত তাকে গ্রহণ করবে না, আবার তা এমন তাকলীদের (অন্ধ অনুকরণ) ওপর ভিত্তি করেও নয় যাকে আকল সমর্থন বা নির্ভুলতা প্রদান করে না। উসূলে ফিকহ-এর মর্যাদা ও উচ্চতার কারণেই আল্লাহ তাআলা এটি অর্জনে সৃষ্টির আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর বিদগ্ধ আলিমগণ উচ্চতম মর্যাদার অধিকারী, মহিমান্বিত শানের অধিকারী এবং অনুসারী ও সাহায্যকারীর দিক থেকে সংখ্যাধিক্যের অধিকারী।"
আবু বকর আল-কাফফাল আশ-শাশী তাঁর 'আল-উসূল' গ্রন্থে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, প্রতিটি নব্য ঘটনার জন্য নির্দিষ্টভাবে সরাসরি কোনো পাঠ (নস) বিদ্যমান নেই। বিধানের জন্য মূল (উসূল) ও শাখা (ফুরু) রয়েছে। আর শাখাগুলোকে তার মূল ব্যতিরেকে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যেমন ফলাফলসমূহের প্রকৃত স্বরূপ তার ভূমিকার জ্ঞান অর্জন ছাড়া জানা যায় না। সুতরাং মূল বা উসূল স্পষ্ট করার মাধ্যমে শুরু করাই যুক্তিযুক্ত, যাতে তা শাখাগুলো জানার মাধ্যম হতে পারে।"
এরপর ফিকহ-এর সাথে উসূলে ফিকহ-এর সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। বলা হয়েছে: উসূল শাস্ত্র এককভাবে একটি কষ্টিপাথরের মতো, যা দ্বারা ভালো সোনা ও খারাপ সোনার পার্থক্য যাচাই করা হয়; আর ফিকহ হলো সোনার মতো। অতএব যে ফকীহ-র নিকট উসূল নেই, তিনি এমন এক সম্পদ অর্জনকারীর মতো যিনি তার প্রকৃত মূল্য জানেন না এবং কোনটি সঞ্চয়যোগ্য আর কোনটি নয় তাও বোঝেন না। আর যে উসূলবিদ-এর নিকট ফিকহ নেই, তিনি কষ্টিপাথরের মালিকের মতো যার কাছে কোনো সোনা নেই, ফলে তার কষ্টিপাথরে যাচাই করার মতো কিছু তিনি খুঁজে পান না।
আরও বলা হয়েছে: উসূলবিদ হলেন এমন একজন চিকিৎসকের মতো যার নিকট কোনো ঔষধ নেই, আর ফকীহ হলেন এমন একজন ঔষধ বিক্রেতার মতো যার নিকট সব ঔষধ আছে, কিন্তু তিনি জানেন না কোনটি ক্ষতিকর আর কোনটি উপকারী।
আরও বলা হয়েছে: উসূলবিদ হলেন অস্ত্র নির্মাতার মতো, যিনি ভীরু হওয়ার কারণে তা দিয়ে যুদ্ধ করতে জানেন না। আর ফকীহ হলেন অস্ত্র বহনকারীর মতো, কিন্তু অস্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে তিনি তা মেরামত করতে জানেন না এবং তা খণ্ডিত হয়ে গেলে জোড়া দিতে পারেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فَإِنْ قِيلَ: هَلْ أُصُولُ الْفِقْهِ إلَّا نُبَذٌ جُمِعَتْ مِنْ عُلُومٍ مُتَفَرِّقَةٍ؟ نُبْذَةٌ مِنْ النَّحْوِ كَالْكَلَامِ عَلَى مَعَانِي الْحُرُوفِ الَّتِي يَحْتَاجُ الْفَقِيهُ إلَيْهَا، وَالْكَلَامِ فِي الِاسْتِثْنَاءِ، وَعَوْدِ الضَّمِيرِ لِلْبَعْضِ، وَعَطْفِ الْخَاصِّ عَلَى الْعَامِّ وَنَحْوِهِ، وَنُبْذَةٌ مِنْ عِلْمِ الْكَلَامِ كَالْكَلَامِ فِي الْحُسْنِ وَالْقُبْحِ، وَكَوْنِ الْحُكْمِ قَدِيمًا، وَالْكَلَامِ عَلَى إثْبَاتِ النَّسْخِ، وَعَلَى الْأَفْعَالِ وَنَحْوِهِ، وَنُبْذَةٌ مِنْ اللُّغَةِ، كَالْكَلَامِ فِي مَوْضُوعِ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَصِيَغِ الْعُمُومِ، وَالْمُجْمَلِ وَالْمُبَيَّنِ، وَالْمُطْلَقِ وَالْمُقَيَّدِ، وَنُبْذَةٌ مِنْ عِلْمِ الْحَدِيثِ كَالْكَلَامِ فِي الْأَخْبَارِ، فَالْعَارِفُ بِهَذِهِ الْعُلُومِ لَا يَحْتَاجُ إلَى أُصُولِ الْفِقْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ، وَغَيْرُ الْعَارِفِ بِهَا لَا يُغْنِيهِ أُصُولُ الْفِقْهِ فِي الْإِحَاطَةِ بِهَا، فَلَمْ يَبْقَ مِنْ أُصُولِ الْفِقْهِ إلَّا الْكَلَامُ فِي الْإِجْمَاعِ، وَالْقِيَاسِ، وَالتَّعَارُضِ، وَالِاجْتِهَادِ، وَبَعْضِ الْكَلَامِ فِي الْإِجْمَاعِ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ أَيْضًا، وَبَعْضِ الْكَلَامِ فِي الْقِيَاسِ وَالتَّعَارُضِ مِمَّا يَسْتَقِلُّ بِهِ الْفَقِيهُ، فَفَائِدَةُ أُصُولِ الْفِقْهِ بِالذَّاتِ حِينَئِذٍ قَلِيلَةٌ.
فَالْجَوَابُ مَنْعُ ذَلِكَ، فَإِنَّ الْأُصُولِيِّينَ دَقَّقُوا النَّظَرَ فِي فَهْمِ أَشْيَاءَ مِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ لَمْ تَصِلْ إلَيْهَا النُّحَاةُ وَلَا اللُّغَوِيُّونَ، فَإِنَّ كَلَامَ الْعَرَبِ مُتَّسِعٌ، وَالنَّظَرُ فِيهِ مُتَشَعِّبٌ، فَكُتُبُ اللُّغَةِ تَضْبِطُ الْأَلْفَاظَ وَمَعَانِيَهَا الظَّاهِرَةَ دُونَ الْمَعَانِي الدَّقِيقَةِ الَّتِي تَحْتَاجُ إلَى نَظَرِ الْأُصُولِيِّ بِاسْتِقْرَاءٍ زَائِدٍ عَلَى اسْتِقْرَاءِ اللُّغَوِيِّ.
مِثَالُهُ: دَلَالَةُ صِيغَةِ " افْعَلْ " عَلَى الْوُجُوبِ، وَ " لَا تَفْعَلْ " عَلَى التَّحْرِيمِ، وَكَوْنُ " كُلٍّ " وَأَخَوَاتِهَا لِلْعُمُومِ، وَنَحْوُهُ مِمَّا نَصَّ هَذَا السُّؤَالُ عَلَى كَوْنِهِ مِنْ اللُّغَةِ لَوْ فَتَّشْت لَمْ تَجِدْ فِيهَا شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ غَالِبًا وَكَذَلِكَ فِي كُتُبِ النُّحَاةِ فِي الِاسْتِثْنَاءِ مِنْ أَنَّ الْإِخْرَاجَ قَبْلَ الْحُكْمِ أَوْ بَعْدَهُ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ الدَّقَائِقِ الَّتِي تَعَرَّضَ لَهَا الْأُصُولِيُّونَ وَأَخَذُوهَا مِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ بِاسْتِقْرَاءٍ خَاصٍّ، وَأَدِلَّةٍ خَاصَّةٍ لَا تَقْتَضِيهَا صِنَاعَةُ النَّحْوِ، وَسَيَمُرُّ بِك مِنْهُ فِي هَذَا الْكِتَابِ الْعَجَبُ الْعُجَابُ.
যদি বলা হয়: উসূলুল ফিকহ কি বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে সংগৃহীত কিছু সংকলিত সারাংশ ছাড়া আর কিছু? নাহু (ব্যাকরণ) থেকে প্রাপ্ত কিছু অংশ, যেমন ফকীহদের প্রয়োজনীয় হরফ বা অব্যয়সমূহের অর্থ সংক্রান্ত আলোচনা, ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম), সর্বনামের আংশিক প্রত্যাবর্তন, সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন এবং এই জাতীয় বিষয়াবলির আলোচনা। আবার ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব) থেকে প্রাপ্ত কিছু অংশ, যেমন ভালো-মন্দ, বিধানের অনাদিত্ব, রহিতকরণ সাব্যস্ত করা এবং কর্মকাণ্ডের আলোচনা ইত্যাদি। এবং অভিধান শাস্ত্রের কিছু অংশ, যেমন আদেশ-নিষেধের প্রয়োগস্থল, ব্যাপকতাবোধক শব্দাবলি, অস্পষ্ট ও স্পষ্ট এবং শর্তহীন ও শর্তযুক্ত বিষয়াবলির আলোচনা। ইলমুল হাদিস থেকে প্রাপ্ত কিছু অংশ, যেমন সংবাদ বা বর্ণনা সংক্রান্ত আলোচনা। সুতরাং, এই সব শাস্ত্রে বিজ্ঞ ব্যক্তির এসকল বিষয়ের কোনোটিতেই উসূলুল ফিকহের প্রয়োজন নেই, আর যে এগুলোতে বিজ্ঞ নয়, উসূলুল ফিকহ তাকে এসব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান লাভে যথেষ্ট হবে না। এমতাবস্থায় উসূলুল ফিকহের মধ্যে ইজমা (ঐক্যমত), কিয়াস (অনুমান), দালিলিক বৈপরিত্য এবং ইজতিহাদ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। আবার ইজমা সংক্রান্ত কিছু আলোচনা উসূলুদ্দীন বা ধর্মতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত; আর কিয়াস ও বৈপরিত্য সংক্রান্ত কিছু বিষয় ফকীহ এককভাবেই নিরূপণ করেন। ফলে উসূলুল ফিকহের নিজস্ব উপকারিতা তখন সামান্যই অবশিষ্ট থাকে।
এর উত্তর হলো, বিষয়টি এমন নয়। কেননা উসূলবিদগণ আরবি ভাষার রহস্য অনুধাবনে এমন সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাত করেছেন যেখানে ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ পৌঁছাতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে আরবি ভাষা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এর পর্যালোচনার দিকগুলো বহুধা বিভক্ত। অভিধানের কিতাবসমূহ কেবল শব্দ এবং তাদের বাহ্যিক অর্থসমূহকে সংকলন করে; কিন্তু সেই সূক্ষ্ম অর্থগুলো নয়, যার জন্য ভাষাবিদদের অনুসন্ধানের চেয়েও অধিকতর গভীর গবেষণালব্ধ উসূলবিদদের সূক্ষ্ম দৃষ্টির প্রয়োজন হয়।
এর উদাহরণ হলো: 'তুমি করো' এই ক্রিয়ারূপটি দ্বারা কোনো কাজ আবশ্যক হওয়া এবং 'তুমি করো না' দ্বারা তা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া; এবং 'প্রত্যেক' ও এর সমজাতীয় শব্দগুলো ব্যাপকতা প্রকাশের জন্য হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। প্রশ্নকারী এগুলোকে ভাষা বা অভিধান শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন, অথচ আপনি যদি সেগুলো অনুসন্ধান করেন তবে সাধারণত সেখানে এগুলোর কিছুই পাবেন না। অনুরূপভাবে ব্যাকরণবিদদের কিতাবসমূহে 'ইস্তিসনা' (ব্যতিক্রম) এর ক্ষেত্রে যে বর্জন বা বাদ দেওয়া তা বিধানের পূর্বে হয় নাকি পরে—এই জাতীয় সূক্ষ্ম আলোচনাগুলোও পাবেন না যা উসূলবিদগণ বিশেষ অনুসন্ধান এবং বিশেষ দলিলের মাধ্যমে আরবি ভাষা থেকে আহরণ করেছেন, যা ব্যাকরণ শাস্ত্রের জন্য অপরিহার্য নয়। আর এই কিতাবে আপনি এমন সব বিষয়ের সম্মুখীন হবেন যা আপনাকে বিস্ময়ে অভিভূত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[الْمُقَدِّمَاتُ]تَعْرِيفُ أُصُولِ الْفِقْهِ]
أُصُولُ الْفِقْهِ: مُرَكَّبٌ تَتَوَقَّفُ مَعْرِفَتُهُ عَلَى مَعْرِفَةِ مُفْرَدَاتِهِ مِنْ حَيْثُ التَّرْكِيبُ لَا مِنْ حَيْثُ كُلُّ وَجْهٍ. [تَعْرِيفُ الْأَصْلِ] فَالْأُصُولُ: جَمْعُ أَصْلٍ، وَأَصْلُ الشَّيْءِ، مَا مِنْهُ الشَّيْءُ، أَيْ: مَادَّتُهُ، كَالْوَالِدِ لِلْوَلَدِ، وَالشَّجَرَةِ لِلْغُصْنِ. وَرَدَّهُ الْقَرَافِيُّ بِاشْتِرَاكِ " مِنْ " بَيْنَ الِابْتِدَاءِ وَالتَّبْعِيضِ، وَبِأَنَّهُ لَا يَصِحُّ هُنَا مَعْنًى مِنْ مَعَانِيهَا. وَأَجَابَ الْأَصْفَهَانِيُّ عَنْ الْأَوَّلِ: بِأَنَّ الِاشْتِرَاكَ لَازِمٌ لَكِنْ يُصَارُ إلَيْهِ فِي الْحُدُودِ حَيْثُ لَا يُمْكِنُ التَّعْبِيرُ بِغَيْرِهِ، وَعَنْ الثَّانِي: بِأَنَّ " مِنْ " لِابْتِدَاءِ الْغَايَةِ. وَقَالَ الْآمِدِيُّ: مَا اسْتَنَدَ الشَّيْءُ فِي تَحْقِيقِهِ إلَيْهِ. وَقَالَ أَبُو الْحُسَيْنِ: مَا يُبْنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ، وَتَبِعَهُ ابْنُ الْحَاجِبِ فِي بَابِ الْقِيَاسِ، وَرُدَّ بِأَنَّهُ لَا يُقَالُ: إنَّ الْوَلَدَ يُبْنَى عَلَى الْوَالِدِ، بَلْ يُقَالُ: فَرْعُهُ.
[ভূমিকা][উসূলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা]
উসূলুল ফিকহ: এটি এমন একটি যৌগিক পরিভাষা যার পরিচিতি নির্ভর করে তার গঠনগত উপাদানসমূহের পরিচিতির ওপর, প্রতিটি দিকের বিচারে নয়। [আসলের সংজ্ঞা] সুতরাং 'উসূল' হলো 'আসল'-এর বহুবচন। আর কোনো বস্তুর 'আসল' হলো তা, যা থেকে বস্তুটি উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ তার মূল উপাদান; যেমন সন্তানের জন্য পিতা এবং শাখার জন্য বৃক্ষ। ইমাম আল-কারাফী একে প্রত্যাখ্যান করেছেন 'মিন' (হতে/থেকে) অব্যয়টি সূচনা এবং আংশিকতা—উভয় অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এবং এখানে এর কোনো অর্থই সঠিক না হওয়ার কারণে। আল-আসফাহানি প্রথম আপত্তির জবাবে বলেছেন: অর্থের এই অংশীদারিত্ব বা দ্ব্যর্থকতা অনিবার্য, তবে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি তখন গ্রহণ করা হয় যখন অন্য কোনোভাবে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আর দ্বিতীয় আপত্তির জবাবে বলেছেন: এখানে 'মিন' অব্যয়টি সীমার সূচনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আল-আমিদী বলেছেন: কোনো বস্তু তার বাস্তবতা লাভের ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করে। আবু আল-হুসাইন বলেছেন: যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে; ইবনুল হাজিব কিয়াস অধ্যায়ে তার অনুসরণ করেছেন। তবে এটিও খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, এমনটি বলা হয় না যে সন্তান পিতার ওপর নির্মিত বা গড়ে ওঠে, বরং বলা হয় সে তার শাখা।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَ الْإِمَامُ: هُوَ الْمُحْتَاجُ إلَيْهِ، وَرُدَّ بِأَنَّهُ إنْ أُرِيدَ احْتِيَاجُ الْأَثَرِ إلَى الْمُؤَثِّرِ لَزِمَ إطْلَاقُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَإِنْ أُرِيدَ مَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ الشَّيْءُ لَزِمَ إطْلَاقُهُ عَلَى الْجَزَاءِ وَالشَّرْطِ. وَقَدْ الْتَزَمَهُ فِي الْمَبَاحِثِ الْمَشْرِقِيَّةِ " فَقَالَ: لَا تَبْعُدُ تَسْمِيَةُ الشُّرُوطِ وَانْدِفَاعُ الْمَوَانِعِ أُصُولًا بِاعْتِبَارِ تَوَقُّفِ وُجُودِ الشَّيْءِ عَلَيْهَا. وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الصَّيْرَفِيُّ فِي كِتَابِ الدَّلَائِلِ وَالْأَعْلَامِ ": كُلُّ مَا أَثْمَرَ مَعْرِفَةَ شَيْءٍ وَنَبَّهَ عَلَيْهِ فَهُوَ أَصْلٌ لَهُ، فَعُلُومُ الْحِسِّ أَصْلٌ، لِأَنَّهَا تُثْمِرُ مَعْرِفَةَ حَقَائِقِ الْأَشْيَاءِ، وَمَا عَدَاهُ فَرْعٌ لَهُ. وَقَالَ الْقَفَّالُ الشَّاشِيُّ: الْأَصْلُ: مَا تَفَرَّعَ عَنْهُ غَيْرُهُ، وَالْفَرْعُ: مَا تَفَرَّعَ عَنْ غَيْرِهِ، وَهَذَا أَسَدُّ الْحُدُودِ، فَعَلَى هَذَا لَا يُقَالُ فِي الْكِتَابِ: إنَّهُ فَرْعٌ أَصْلُهُ الْحِسُّ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَوَلَّاهُ وَجَعَلَهُ أَصْلًا دَلَّ الْعَقْلُ عَلَيْهِ. قَالَ: وَالْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ أَصْلٌ، لِأَنَّ غَيْرَهُمَا يَتَفَرَّعُ عَنْهُمَا، وَأَمَّا الْقِيَاسُ فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَصْلًا عَلَى مَعْنَى أَنَّ لَهُ فُرُوقًا تَنْشَأُ عَنْهُ، وَيَتَوَصَّلُ إلَى مَعْرِفَتِهَا مِنْ جِهَتِهِ، كَالْكِتَابِ أَصْلٌ لِمَا يَنْبَنِي عَلَيْهِ، وَكَالسُّنَّةِ أَصْلٌ لِمَا يُعْرَفُ مِنْ جِهَتِهَا، وَهُوَ فَرْعٌ عَلَى مَعْنَى أَنَّهُ إنَّمَا عُرِفَ بِغَيْرِهِ وَهُوَ الْكِتَابُ أَوْ غَيْرُهُ، وَكَذَلِكَ السُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ. قَالَ: وَقِيلَ: إنَّ الْقِيَاسَ لَا يُقَالُ لَهُ: أَصْلٌ وَلَا فَرْعٌ، لِأَنَّهُ فِعْلُ الْقَائِسِ، وَلَا تُوصَفُ الْأَفْعَالُ بِالْأَصْلِ وَالْفَرْعِ. وَقَالَ الْأُسْتَاذُ أَبُو مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيُّ: الْأَصْلُ مَا عُرِفَ بِهِ حُكْمُ غَيْرِهِ، وَالْفَرْعُ مَا عُرِفَ بِحُكْمِ غَيْرِهِ قِيَاسًا عَلَيْهِ.
ইমাম বলেছেন: এটি হলো সেই বিষয় যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়। এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে, যদি এর দ্বারা প্রভাবকের প্রতি প্রভাবের মুখাপেক্ষিতা উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর যদি এর দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য হয় যার ওপর কোনো বস্তু নির্ভরশীল, তবে এটি প্রতিদান এবং শর্তের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। তিনি 'আল-মাবাহিছ আল-মাশরিকিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: কোনো বস্তুর অস্তিত্ব শর্তাবলির ওপর এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বিবেচনায় এদেরকে 'আসল' (মূল) নামে অভিহিত করা অসম্ভব নয়। আবু বকর আস-সাইরাফি 'কিতাবুদ দালাইল ওয়াল আ'লাম' গ্রন্থে বলেছেন: যা কিছু কোনো জিনিসের জ্ঞান প্রদান করে এবং সে সম্পর্কে সচেতন করে, তাই তার জন্য 'আসল'। সুতরাং ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞানসমূহ হলো আসল, কারণ এগুলো বস্তুসমূহের প্রকৃত স্বরূপের জ্ঞান প্রদান করে, আর তা ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা এর শাখা। আল-কাফফাল আশ-শাশি বলেছেন: আসল হলো তা যা থেকে অন্য কিছু শাখা হিসেবে বের হয়, আর শাখা হলো তা যা অন্য কিছু থেকে শাখা হিসেবে বের হয়। এটিই সবচেয়ে সঠিক সংজ্ঞা। এই ভিত্তিতে কিতাব (কুরআন) সম্পর্কে বলা যাবে না যে, এটি এমন একটি শাখা যার মূল হলো ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞান; কারণ মহান আল্লাহ নিজেই এর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একে এমন এক আসলে পরিণত করেছেন যার প্রতি বিবেক পথ প্রদর্শন করে। তিনি আরও বলেছেন: কিতাব ও সুন্নাহ হলো আসল, কারণ এই দুটি থেকে অন্য বিষয়সমূহ শাখা হিসেবে নির্গত হয়। আর কিয়াসের ক্ষেত্রে এটি 'আসল' হওয়া জায়েজ এই অর্থে যে, এখান থেকে বিভিন্ন শাখাগত মাসআলা তৈরি হয় এবং এর মাধ্যমেই সেগুলোর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়, যেমন কিতাব তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিষয়গুলোর জন্য আসল এবং সুন্নাহ তার মাধ্যমে জানা যায় এমন বিষয়ের জন্য আসল। আবার এটি (কিয়াস) একটি শাখা এই অর্থে যে, এটি কেবল অন্য কিছুর মাধ্যমে অর্থাৎ কিতাব বা অন্য কিছুর মাধ্যমেই জানা যায়। অনুরূপভাবে সুন্নাহ এবং ইজমাও। তিনি বলেন: আরও বলা হয়েছে যে, কিয়াসকে আসল বা শাখা কোনটিই বলা যাবে না; কারণ এটি কিয়াসকারীর একটি কর্ম, আর কর্মসমূহকে আসল বা শাখা হিসেবে গুণান্বিত করা যায় না। উস্তাদ আবু মানসুর আল-বাগদাদী বলেছেন: আসল হলো তা যার মাধ্যমে অন্য কিছুর বিধান জানা যায়, আর শাখা হলো তা যার বিধান অন্য কিছুর ওপর কিয়াস করার মাধ্যমে জানা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ الْمَاوَرْدِيُّ فِي الْحَاوِي ": قِيلَ: الْأَصْلُ مَا دَلَّ عَلَيْهِ غَيْرُهُ، وَالْفَرْعُ مَا دَلَّ عَلَى غَيْرِهِ، فَعَلَى هَذَا يَجُوزُ أَنْ يُقَالَ فِي الْكِتَابِ: إنَّهُ فَرْعٌ لِعِلْمِ الْحِسِّ، لِأَنَّهُ الدَّالُّ عَلَى صِحَّتِهِ. هَذَا الِاعْتِرَاضُ يَصْلُحُ أَنْ يَدْخُلَ بِهِ كَثِيرٌ مِنْ الْعِبَارَاتِ السَّالِفَةِ عَلَى اخْتِلَافِهَا فَلْيُتَأَمَّلْ. وَقَالَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ فِي الْقَوَاطِعِ ": قِيلَ: الْأَصْلُ مَا انْبَنَى عَلَيْهِ غَيْرُهُ، وَقِيلَ: مَا يَقَعُ التَّوَصُّلُ بِهِ إلَى مَعْرِفَةِ مَا وَرَاءَهُ وَهُمَا مَدْخُولَانِ، لِأَنَّ مِنْ أُصُولِ الشَّرْعِ مَا هُوَ عَقِيمٌ لَا يَقْبَلُ الْفَرْعَ، وَلَا يَقَعُ بِهِ التَّوَصُّلُ إلَى مَا وَرَاءَهُ بِحَالٍ، كَدِيَةِ الْجَنِينِ وَالْقَسَامَةِ، وَتَحَمُّلِ الْعَاقِلَةِ، فَهَذِهِ أُصُولٌ لَيْسَتْ لَهَا فُرُوعٌ، فَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ: الْأَصْلُ كُلُّ مَا ثَبَتَ دَلِيلًا فِي إيجَابِ حُكْمٍ مِنْ الْأَحْكَامِ لِيَتَنَاوَلَ مَا جَلَبَ فَرْعًا أَوْ لَمْ يَجْلِبْ. وَيُطْلَقُ فِي الِاصْطِلَاحِ عَلَى أُمُورٍ: أَحَدُهَا: الصُّورَةُ الْمَقِيسُ عَلَيْهَا عَلَى الْخِلَافِ الْآتِي - إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى - فِي الْقِيَاسِ فِي تَفْسِيرِ الْأَصْلِ. الثَّانِي: الرُّجْحَانُ، كَقَوْلِهِمْ: الْأَصْلُ فِي الْكَلَامِ الْحَقِيقَةُ، أَيْ: الرَّاجِحُ عِنْدَ السَّامِعِ هُوَ الْحَقِيقَةُ لَا الْمَجَازُ. الثَّالِثُ: الدَّلِيلُ، كَقَوْلِهِمْ: أَصْلُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ أَيْ: دَلِيلُهَا، وَمِنْهُ أُصُولُ الْفِقْهِ أَيْ: أَدِلَّتُهُ. الرَّابِعُ: الْقَاعِدَةُ الْمُسْتَمِرَّةُ، كَقَوْلِهِمْ: إبَاحَةُ الْمَيْتَةِ لِلْمُضْطَرِّ عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ. وَهَذِهِ الْأَرْبَعَةُ ذَكَرَهَا الْقَرَافِيُّ وَفِيهِ نَظَرٌ، لِأَنَّ الصُّورَةَ الْمَقِيسَ عَلَيْهَا
আল-মাওয়ারদী 'আল-হাউয়ী' গ্রন্থে বলেছেন: "বলা হয়েছে: 'আসল' (মূল) হলো তা যার দিকে অন্য কিছু নির্দেশ করে, আর 'ফার' (শাখা) হলো তা যা অন্য কিছুর দিকে নির্দেশ করে। এই ভিত্তিতে কিতাব (কুরআন) সম্পর্কে বলা বৈধ হতে পারে যে: এটি ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের একটি শাখা, কারণ ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানই এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়। এই আপত্তিটি পূর্বোক্ত বিভিন্ন সংজ্ঞার অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে, সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত।" ইবনে সামআনী 'আল-কাওয়াত্বি' গ্রন্থে বলেছেন: "বলা হয়েছে: আসল হলো তা যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়। আবার বলা হয়েছে: যার মাধ্যমে পরবর্তী বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। তবে এই উভয় সংজ্ঞাই ত্রুটিপূর্ণ; কারণ শরীয়তের কিছু মূলনীতি (আসল) এমন যা 'বন্ধ্যা', যা কোনো শাখা গ্রহণ করে না এবং যা দ্বারা কোনো অবস্থাতেই পরবর্তী কোনো বিষয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। যেমন: ভ্রূণের রক্তপণ (দিয়াত), কাসামাহ (শপথ অনুষ্ঠান) এবং আকিলার (রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের) রক্তপণ বহন করা। এগুলো এমন সব মূলনীতি যেগুলোর কোনো শাখা নেই। সুতরাং সবচেয়ে উপযোগী সংজ্ঞা হলো: আসল হলো সেই প্রতিটি বিষয় যা কোনো বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়, চাই তা কোনো শাখাকে টেনে আনুক বা না আনুক।" পরিভাষায় এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: যে বিষয়ের ওপর কিয়াস করা হয় (মাক্বীস আলাইহি)—আসলের ব্যাখ্যায় কিয়াসের আলোচনায় এ বিষয়ে মতভেদ সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা। দ্বিতীয়ত: প্রাধান্য (রুজহান), যেমন তাদের উক্তি: 'কথার ক্ষেত্রে আসল হলো প্রকৃত অর্থ (হাকীকত)'। অর্থাৎ শ্রোতার নিকট অগ্রগণ্য হলো প্রকৃত অর্থ, রূপক (মাজায) নয়। তৃতীয়ত: দলিল, যেমন তাদের উক্তি: 'এই মাসআলার আসল হলো কিতাব ও সুন্নাহ', অর্থাৎ এর দলিল। আর এ থেকেই 'উসুলুল ফিকহ' পরিভাষাটি এসেছে, যার অর্থ ফিকহের দলিলসমূহ। চতুর্থত: চলমান সাধারণ নিয়ম (কায়েদায়ে মুস্তামিররাহ), যেমন তাদের উক্তি: 'অসহায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ বৈধ হওয়া আসলের পরিপন্থী'। আল-কারাফী এই চারটি অর্থ উল্লেখ করেছেন, তবে এতে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে; কারণ যে বিষয়ের ওপর কিয়াস করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لَيْسَتْ مَعْنًى زَائِدًا، لِأَنَّ أَصْلَ الْقِيَاسِ اُخْتُلِفَ فِيهِ هَلْ هُوَ مَحَلُّ الْحُكْمِ أَوْ دَلِيلُهُ أَوْ حُكْمُهُ؟ وَأَيًّا مَا كَانَ فَلَيْسَ مَعْنًى زَائِدًا، لِأَنَّهُ إنْ كَانَ أَصْلُ الْقِيَاسِ دَلِيلَهُ فَهُوَ الْمَعْنَى السَّابِقُ، وَإِنْ كَانَ مَحَلَّهُ أَوْ حُكْمَهُ فَهُمَا يُسَمَّيَانِ أَيْضًا دَلِيلًا مَجَازًا، فَلَمْ يَخْرُجْ الْأَصْلُ عَنْ مَعْنَى الدَّلِيلِ. وَبَقِيَ عَلَيْهِ أُمُورٌ: أَحَدُهَا: التَّعَبُّدُ، كَقَوْلِهِمْ: إيجَابُ الطَّهَارَةِ بِخُرُوجِ الْخَارِجِ عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ. يُرِيدُونَ أَنَّهُ لَا يَهْتَدِي إلَيْهِ الْقِيَاسُ. الثَّانِي: الْغَالِبُ فِي الشَّرْعِ، وَلَا يُمْكِنُ ذَلِكَ إلَّا بِاسْتِقْرَاءِ مَوَارِدِ الشَّرْعِ. الثَّالِثُ: اسْتِمْرَارُ الْحُكْمِ السَّابِقِ، كَقَوْلِهِمْ: الْأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ حَتَّى يُوجَدَ الْمُزِيلُ لَهُ. الرَّابِعُ: الْمَخْرَجُ، كَقَوْلِ الْفَرْضِيِّينَ: أَصْلُ الْمَسْأَلَةِ مِنْ كَذَا.
[عَدَدُ الْأُصُولِ الَّتِي يُبْنَى الْفِقْهُ عَلَيْهَا] ثُمَّ اخْتَلَفُوا فِي عَدَدِ الْأُصُولِ، فَالْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهَا أَرْبَعَةٌ: الْكِتَابُ، وَالسُّنَّةُ، وَالْإِجْمَاعُ، وَالْقِيَاسُ. قَالَ الرَّافِعِيُّ فِي بَابِ الْقَضَاءِ: وَقَدْ يُقْتَصَرُ عَلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ،
এটি কোনো অতিরিক্ত অর্থ নয়, কারণ কিয়াসের ভিত্তি (আসল) সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি বিধানের প্রয়োগস্থল, নাকি এর দলিল, নাকি এর বিধান? আর এটি যাই হোক না কেন, তা কোনো অতিরিক্ত অর্থ নয়; কেননা যদি কিয়াসের ভিত্তি তার দলিল হয়, তবে তা পূর্বোক্ত অর্থই। আর যদি এটি এর প্রয়োগস্থল বা এর বিধান হয়, তবে উভয়টিকেই রূপকভাবে দলিল বলা হয়, ফলে 'আসল' শব্দটি দলিলের অর্থ থেকে বের হয়ে যায় না। এর ওপর আরও কিছু বিষয় অবশিষ্ট থাকে: প্রথমত: 'তাআববুদ' (নিছক ইবাদতগত বিষয়), যেমন তাদের কথা: শরীর থেকে কোনো কিছু নির্গত হওয়ার কারণে পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব হওয়াটা মূল নিয়মের (আসল) পরিপন্থী। তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন যে, কিয়াসের মাধ্যমে এর দিশা পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত: শরয়ি বিধানে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, আর তা কেবল শরয়ি উৎসসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। তৃতীয়ত: পূর্ববর্তী বিধানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা, যেমন তাদের কথা: মূল নীতি হলো কোনো বস্তু যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় বহাল থাকা, যতক্ষণ না তা পরিবর্তনকারী কোনো নিদর্শনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চতুর্থত: গাণিতিক ভিত্তি বা উৎস, যেমন ফারায়েজ শাস্ত্রবিদদের কথা: মাসআলার মূল ভিত্তি (আসল) এত থেকে।
[ফিকহ যে মূলনীতিসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত তার সংখ্যা] অতঃপর তারা উসূলের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন; জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মতে তা চারটি: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। ইমাম রাফেয়ী বিচার বিভাগ অধ্যায়ে বলেছেন: কখনো কখনো একে কেবল কিতাব এবং সুন্নাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَيُقَالُ: الْإِجْمَاعُ يَصْدُرُ عَنْ أَحَدِهِمَا، وَالْقِيَاسُ الرَّدُّ إلَى أَحَدِهِمَا فَهُمَا أَصْلَانِ.
قَالَ فِي الْمَطْلَبِ ": وَفِيهِ مُنَازَعَةٌ لِمَنْ جَوَّزَ انْعِقَادَ الْإِجْمَاعِ لَا عَنْ أَمَارَةٍ، وَلَا عَنْ دَلَالَةٍ، وَجُوِّزَ الْقِيَاسُ عَلَى الْمَحَلِّ الْمُجْمَعِ عَلَيْهِ.
وَاخْتَصَرَ بَعْضُهُمْ فَقَالَ: أَصْلٌ وَمَعْقُولُ أَصْلٍ، فَالْأَصْلُ لِلْكِتَابِ، وَالسُّنَّةِ، وَالْإِجْمَاعِ، وَمَعْقُولُ الْأَصْلِ هُوَ الْقِيَاسُ.
قَالَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ: وَأَشَارَ الشَّافِعِيُّ إلَى أَنَّ جِمَاعَ الْأُصُولِ نَصٌّ وَمَعْنًى، فَالْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ دَاخِلٌ تَحْتَ النَّصِّ، وَالْمَعْنَى هُوَ الْقِيَاسُ، وَزَادَ بَعْضُهُمْ الْعَقْلَ فَجَعَلَهَا خَمْسَةً.
وَقَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ الْقَاصِّ: الْأُصُولُ سَبْعَةٌ: الْحِسُّ، وَالْعَقْلُ، وَالْكِتَابُ، وَالسُّنَّةُ، وَالْإِجْمَاعُ، وَالْقِيَاسُ، وَاللُّغَةُ.
وَالصَّحِيحُ: أَنَّهَا أَرْبَعَةٌ. وَأَمَّا الْعَقْلُ: فَلَيْسَ بِدَلِيلٍ يُوجِبُ شَيْئًا أَوْ يَمْنَعُهُ، وَإِنَّمَا تُدْرَكُ بِهِ الْأُمُورُ فَحَسْبُ، إذْ هُوَ آلَةُ الْعَارِفِ، وَكَذَلِكَ الْحِسُّ لَا يَكُونُ دَلِيلًا بِحَالٍ، لِأَنَّهُ يَقَعُ بِهِ دَرْكُ الْأَشْيَاءِ الْحَاضِرَةِ.
وَأَمَّا اللُّغَةُ: فَهِيَ مُدْرَكَةُ اللِّسَانِ، وَمَطِيَّةٌ لِمَعَانِي الْكَلَامِ، وَأَكْثَرُ مَا فِيهِ مَعْرِفَةُ سِمَاتِ الْأَشْيَاءِ وَلَا حَظَّ لَهُ فِي إيجَابِ شَيْءٍ.
وَقَالَ الْجِيلِيُّ فِي الْإِعْجَازِ ": أَرْبَعَةٌ: الْكِتَابُ، وَالسُّنَّةُ،
বলা হয় যে, ইজমা এই দুইটির (কুরআন ও সুন্নাহ) কোনো একটি থেকে উৎসারিত হয়, আর কিয়াস এই দুইটির কোনো একটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে; সুতরাং এই দুইটিই মূল উৎস।
‘আল-মাতলাব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আপত্তি রয়েছে যারা কোনো নিদর্শন বা প্রমাণ ছাড়াই ইজমা সংঘটিত হওয়া বৈধ মনে করেন এবং যারা ইজমা হওয়া বিষয়ের ওপর কিয়াস করা বৈধ মনে করেন।"
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংক্ষেপে বলেছেন: উৎস এবং উৎসের যৌক্তিক নির্যাস; সুতরাং ‘আসল’ বা মূল উৎস হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা; আর ‘মা’কুল আল-আসল’ বা উৎসের যৌক্তিক নির্যাস হলো কিয়াস।
ইবনুল সামআনী বলেন: ইমাম শাফেয়ী ইঙ্গিত করেছেন যে, উসুলের সমষ্টি হলো নাস (সুস্পষ্ট পাঠ) এবং মা’না (মর্মার্থ)। সুতরাং কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা নাসের অন্তর্ভুক্ত, আর মা’না হলো কিয়াস। কেউ কেউ এর সাথে আকল বা বিবেক-বুদ্ধি যোগ করেছেন এবং এগুলোকে পাঁচটি সাব্যস্ত করেছেন।
আবুল আব্বাস ইবনুল কাস বলেছেন: উসুল বা মূল উৎস সাতটি: ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান, বিবেক-বুদ্ধি, কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এবং ভাষা।
সঠিক মত হলো, এগুলো চারটি। আর আকল বা বিবেকের বিষয় হলো: এটি এমন কোনো দলীল নয় যা কোনো কিছুকে ওয়াজিব করে বা নিষিদ্ধ করে; বরং এর মাধ্যমে কেবল বিষয়সমূহ উপলব্ধি করা যায় মাত্র, কারণ এটি হলো জ্ঞানান্বেষীর একটি মাধ্যম বা যন্ত্র। অনুরূপভাবে ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানও কোনো অবস্থাতেই দলীল হতে পারে না, কারণ এর দ্বারা কেবল উপস্থিত বিষয়সমূহ উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।
আর ভাষার বিষয়টি হলো: এটি জিহ্বার মাধ্যমে লব্ধ এবং কথার অর্থ বহনকারী বাহন। এর সর্বোচ্চ কাজ হলো বস্তুসমূহের বৈশিষ্ট্য বা পরিচয় জানা, কোনো কিছুকে ওয়াজিব করার ক্ষেত্রে এর কোনো ভূমিকা নেই।
আল-জিলি ‘আল-ই’জায’ গ্রন্থে বলেছেন: (উসুল) চারটি: কিতাব, সুন্নাহ,
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَالْقِيَاسُ، وَدَلِيلُ الْبَقَاءِ عَلَى النَّفْيِ الْأَصْلِيِّ، وَرَدَّهَا الْقَفَّالُ الشَّاشِيُّ إلَى وَاحِدٍ فَقَالَ: أَصْلُ السَّمْعِ هُوَ كِتَابُ اللَّهِ تَعَالَى، وَأَمَّا السُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ، وَالْقِيَاسُ فَمُضَافٌ إلَى بَيَانِ الْكِتَابِ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] وَقَوْلُهُ: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38]
وَرُوِيَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ لَعَنَ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ، وَقَالَ: مَا لِي لَا أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَهُ اللَّهُ؟ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ: قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَلَمْ أَجِدْ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَالَ: إنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ فَقَدْ وَجَدْتِيهِ {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] وَأَنَّ «النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَعَنَ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ» . فَأَضَافَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ بِلَطِيفِ حِكْمَتِهِ قَوْلَ الرَّسُولِ إلَى كِتَابِ اللَّهِ، وَعَلَى هَذَا إضَافَةُ مَا أُجْمِعَ عَلَيْهِ مِمَّا لَا يُوجَدُ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ نَصًّا.
قُلْت: وَوَقَعَ مِثْلُ ذَلِكَ لِلشَّافِعِيِّ فِي مَسْأَلَةِ قَتْلِ الْمُحْرِمِ لِلزُّنْبُورِ.
قَالَ الْأُسْتَاذُ أَبُو مَنْصُورٍ: وَفِي هَذَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْحُكْمَ الْمَأْخُوذَ مِنْ السُّنَّةِ، أَوْ الْإِجْمَاعِ أَوْ الْقِيَاسِ مَأْخُوذٌ مِنْ كِتَابِهِ سُبْحَانَهُ، لِدَلَالَةِ كِتَابِهِ عَلَى وُجُوبِ اتِّبَاعِ ذَلِكَ كُلِّهِ.
এবং কিয়াস ও মৌলিক নেতিবাচকতার ওপর বহাল থাকার দলিল (ইস্তিশহাব); আল-কাফফাল আশ-শাশী এই সবগুলোকে একটি উৎসের দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং বলেছেন: শ্রুতিগত প্রমাণের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর কিতাব। আর সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস মূলত কিতাবের ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে} [আন-নাহল: ৮৯] এবং তাঁর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি} [আল-আন’আম: ৩৮]।
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কৃত্রিম চুল সংযোজনকারী ও কৃত্রিম চুল সংযোজন করিয়ে গ্রহণকারী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: আল্লাহ যাকে অভিশাপ দিয়েছেন আমি তাকে কেন অভিশাপ দেব না? তখন এক নারী বলল: আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি কিন্তু আপনি যা বলছেন তা তাতে পাইনি। তিনি বললেন: যদি তুমি তা পড়তে তবে অবশ্যই পেতে; {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কৃত্রিম চুল সংযোজনকারী ও যে নারী তা করায় তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার মাধ্যমে রাসূলের বাণীকে আল্লাহর কিতাবের সাথে যুক্ত করেছেন। কিতাব ও সুন্নাহতে সরাসরি পাঠে পাওয়া যায় না এমন সব বিষয়ের ইজমাকেও (ঐক্যমত) এভাবেই কিতাবের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।
আমি বলছি: ইহরাম অবস্থায় মুহরিম ব্যক্তির ভীমরুল মারার মাসআলার ক্ষেত্রে ইমাম শাফিয়ীর সাথেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল।
উস্তাদ আবু মনসুর বলেন: এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, সুন্নাহ, ইজমা বা কিয়াস থেকে গৃহীত বিধান মূলত মহান আল্লাহর কিতাব থেকেই গৃহীত, কারণ তাঁর কিতাবই এই সবগুলোর অনুসরণের আবশ্যকতা নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[تَعْرِيفُ الْفِقْهِ] وَالْفِقْهُ لُغَةً: اُخْتُلِفَ فِيهِ، فَقَالَ ابْنُ فَارِسٍ فِي الْمُجْمَلِ ": هُوَ الْعِلْمُ، وَجَرَى عَلَيْهِ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ فِي التَّلْخِيصِ "، وَإِلْكِيَا الْهِرَّاسِيُّ، وَأَبُو نَصْرِ بْنُ الْقُشَيْرِيِّ، وَالْمَاوَرْدِيُّ إلَّا أَنَّ حَمَلَةَ الشَّرْعِ خَصَّصُوهُ بِضَرْبٍ مِنْ الْعُلُومِ. وَنَقَلَ ابْنُ السَّمْعَانِيِّ عَنْ ابْنِ فَارِسٍ: أَنَّهُ إدْرَاكُ عِلْمِ الشَّيْءِ وَقَالَ الْجَوْهَرِيُّ وَغَيْرُهُ: هُوَ الْفَهْمُ. وَقَالَ الرَّاغِبُ: هُوَ التَّوَسُّلُ إلَى عِلْمٍ غَائِبٍ بِعِلْمٍ شَاهِدٍ فَهُوَ أَخَصُّ مِنْ الْعِلْمِ. وَفِي الْمُحْكَمِ " لِابْنِ سِيدَهْ: الْفِقْهُ الْعِلْمُ بِالشَّيْءِ وَالْفَهْمُ لَهُ وَالظَّاهِرُ أَنَّ مُرَادَهُ بِهِمَا وَاحِدٌ وَهُوَ
[ফিকহ-এর সংজ্ঞা] শাব্দিক অর্থে ফিকহ: এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনে ফারিস ‘আল-মুজমাল’ গ্রন্থে বলেছেন: "এটি হলো জ্ঞান", এবং ইমামুল হারামাইন ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে এটিই অনুসরণ করেছেন, আর ইলকিয়া আল-হিররাসি, আবু নাসর বিন আল-কুশায়রি এবং আল-মাওয়ার্দিও এর ওপর ভিত্তি করে চলেছেন; তবে শরীয়তের বাহকগণ একে বিশেষ এক প্রকার জ্ঞানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। ইবনে আস-সামআনি ইবনে ফারিস থেকে বর্ণনা করেছেন: "এটি হলো কোনো বিষয়ের জ্ঞান উপলব্ধি করা।" আল-জাওহারি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "এটি হলো অনুধাবন।" আর-রাগিব বলেছেন: "এটি হলো দৃশ্যমান জ্ঞানের মাধ্যমে অনুপস্থিত কোনো জ্ঞান অর্জন করা; সুতরাং এটি সাধারণ জ্ঞানের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট।" ইবনে সিদাহর ‘আল-মুহকাম’ গ্রন্থে রয়েছে: "ফিকহ হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান এবং তা অনুধাবন করা।" আর প্রতীয়মান হয় যে, উভয়টি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য একই, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
আল-বাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ - তবাউল কুতুবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْفَهْمُ، لِأَنَّهُ فَسَّرَ الْفَهْمَ بِمَعْرِفَةِ الشَّيْءِ بِالْقَلْبِ، وَمَعْرِفَةُ الشَّيْءِ بِالْقَلْبِ هُوَ الْعِلْمُ بِهِ، وَمِثْلُهُ قَوْلُ الْأَزْهَرِيِّ: فَهِمْت الشَّيْءَ عَقَلْته وَعَرَفْته، وَأَصْرَحُ مِنْهُ قَوْلُ الْجَوْهَرِيِّ: فَهِمْت الشَّيْءَ فَهْمًا عَلِمْته. وَظَهَرَ بِهَذَا أَنَّ الْفَهْمَ الْمُفَسَّرَ بِهِ الْفِقْهُ لَيْسَ فَهْمَ الْمَعْنَى مِنْ اللَّفْظِ، وَلَا فَهْمَ غَرَضِ الْمُتَكَلِّمِ. وَنُقِلَ الْفِقْهُ إلَى عِلْمِ الْفُرُوعِ بِغَلَبَةِ الِاسْتِعْمَالِ كَمَا أَشَارَ إلَيْهِ ابْنُ سِيدَهْ حَيْثُ قَالَ: غَلَبَ عَلَى عِلْمِ الدِّينِ لِسِيَادَتِهِ وَشَرَفِهِ كَالنَّجْمِ عَلَى الثُّرَيَّا، وَالْعُودِ عَلَى الْمِنْدَلِ. قَالَ ابْنُ سُرَاقَةَ: وَقِيلَ: حَدُّهُ فِي اللُّغَةِ الْعِبَارَةُ عَنْ كُلِّ مَعْلُومٍ تَيَقَّنَهُ الْعَالَمُ بِهِ عَنْ فِكْرٍ. وَقَالَ أَبُو الْحُسَيْنِ فِي الْمُعْتَمَدِ "، وَتَبِعَهُ فِي الْمَحْصُولِ ": فَهْمُ غَرَضُ الْمُتَكَلِّمِ، وَرُدَّ بِأَنَّهُ يُوصَفُ بِالْفَهْمِ حَيْثُ لَا كَلَامَ، وَبِأَنَّهُ لَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَمْ يَكُنْ فِي نَفْيِ الْفِقْهِ عَنْهُمْ مَنْقَصَةٌ وَلَا تَعْيِيرٌ، لِأَنَّهُ غَيْرُ مُتَصَوَّرٍ، وَقَدْ قَالَ تَعَالَى: {وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44] .
অনুধাবন, কারণ তিনি অনুধাবনকে অন্তরের মাধ্যমে কোনো কিছু চেনার দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। আর অন্তরের মাধ্যমে কোনো কিছু চেনা হলো তা সম্পর্কে জানা। আল-আযহারীর উক্তিও অনুরূপ: "আমি বিষয়টি বুঝেছি" অর্থাৎ আমি তা অনুধাবন করেছি ও চিনেছি। আল-জওহরীর উক্তি এর চেয়েও স্পষ্ট: "আমি বিষয়টি অনুধাবন করেছি" অর্থাৎ আমি তা জেনেছি। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, ফিকহকে যে অনুধাবন দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তা কেবল শব্দ থেকে অর্থ বোঝা নয়, কিংবা বক্তার উদ্দেশ্য বোঝা নয়। আর ব্যবহারের আধিক্যের কারণে ফিকহ শব্দটি শাখা-প্রশাখার জ্ঞানে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে সীদাহ ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার কারণে এটি দ্বীনী জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে, যেমন নক্ষত্র বলতে সুরাইয়াকে এবং কাঠ বলতে চন্দন কাঠকে বোঝানো হয়ে থাকে।" ইবনে সুরাকাহ বলেন: "বলা হয়েছে যে, অভিধানে এর সংজ্ঞা হলো চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে প্রতিটি জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানীর নিশ্চিত হওয়া।" আর আবুল হুসাইন 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে বলেছেন (এবং 'আল-মাহসুল' গ্রন্থেও তার অনুসরণ করা হয়েছে): "বক্তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা।" তবে এই মতটি খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, যেখানে কোনো কথা নেই সেখানেও অনুধাবনের গুণারোপ করা হয়। দ্বিতীয়ত, যদি বিষয়টি এমন হতো তবে তাদের থেকে বুঝশক্তি নাকচ করার মধ্যে কোনো ত্রুটি বা তিরস্কার থাকতো না, কারণ তা ছিল অকল্পনীয়। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পারো না।" [আল-ইসরা: ৪৪]