(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب الله عز وجل ومكانته العظيمة القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: كتاب الله عز وجل ومكانته العظيمة
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب
عدد الصفحات: 49
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র কিতাব এবং এর সুমহান মর্যাদা বিভাগ: কুরআনের জ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র কিতাব এবং এর সুমহান মর্যাদা
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا، قيما لينذر بأسا شديدا من لدنه ويبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات أن لهم أجرا حسنا، ماكثين فيه أبدا، وينذر الذين قالوا اتخذ الله ولدا، والحمد لله الذي أنزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرا، والصلاة والسلام على نبينا محمد المبعوث بالهدى والرحمة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، صلى الله عليه وآله وصحبه، ومن سار على دربه واقتفى أثره إلى يوم الدين. أما بعد:
فإن الله سبحانه قد من على خلقه وخاصة المؤمن منهم بأن بعث فيهم رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم، وأنزل معه أفضل كتبه وخاتمها، والمهيمن عليها، يقول الله عز وجل: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} (1)
وفي [صحيح مسلم] من حديث عياض بن حمار
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তা তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান; সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর তা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে হিদায়াত ও রহমতসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, এবং আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির ওপর এবং বিশেষভাবে মুমিনদের ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট তাঁর সম্মানিত রাসূল (সা.)-কে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ করেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠতম ও সর্বশেষ কিতাব, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সংরক্ষক। মহান আল্লাহ বলেন: “অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।” (১)
এবং [সহীহ মুসলিম]-এ ইয়াজ ইবনে হিমার বর্ণিত হাদিস থেকে পাওয়া যায়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المجاشعي رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم في خطبته: «ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا، كل مال نحلته عبدا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا، وإن الله نظر إلى أهل الأرض فمقتهم، عربهم وعجمهم، إلا بقايا من أهل الكتاب، وقال: إنما بعثتك لأبتليك وأبتلي بك، وأنزلت عليك كتابا لا يغسله الماء، تقرؤه نائما ويقظان (1) » . . . الحديث.
هذا الكتاب هو المهيمن على الكتب السابقة كلها، يقول الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} (2)
والمعنى: أنه عال ومرتفع على ما تقدمه من الكتب، وهو أمين عليها وحاكم وشاهد وقيم عليها.
--------------------------------------------
আল-মুজাশিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবায় বললেন: «জেনে রেখো, আমার প্রতিপালক আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজকের দিনে শিখিয়েছেন। (আল্লাহ বলেছেন:) আমি আমার বান্দাকে যে সম্পদ দান করেছি তা তার জন্য হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ তাওহিদবাদী হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তানরা তাদের নিকট আসে এবং তাদের দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুত করে দেয়। আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম শয়তানরা তা তাদের ওপর হারাম করে দেয় এবং তাদের নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি। আর আল্লাহ তাআলা জমিনবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং আহলে কিতাবদের সামান্য কিছু অবশিষ্ট লোক ব্যতীত আরব ও অনারব সকলের ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। আর তিনি বললেন: আমি আপনাকে কেবল আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং আপনার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা করার জন্যই প্রেরণ করেছি। আর আমি আপনার ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি ধুয়ে ফেলতে পারে না, যা আপনি নিদ্রিত ও জাগ্রত (১) উভয় অবস্থায় পাঠ করবেন»। . . . হাদিস।
এই কিতাবটি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের ওপর রক্ষক ও নিয়ন্ত্রণকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর রক্ষক} (২)
এর অর্থ হলো: এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের তুলনায় সুউচ্চ ও সমুন্নত এবং সেগুলোর আমানতদার, ফয়সালাকারী, সাক্ষী ও তত্ত্বাবধায়ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يقول ابن جرير رحمه الله: (القرآن أمين على الكتب المتقدمة قبله، فما وافقه منها فهو حق، وما خالفه منها فهو باطل) . اهـ.
وكتاب الله له المكانة العظيمة في قلب كل مسلم، وهو أيضا عظيم في نفسه، كريم مجيد عزيز.
ইবনে জারীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল-কুরআন তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর আমানতদার (أمين); সুতরাং সেগুলোর মধ্যে যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ তা সত্য (حق), আর যা এর পরিপন্থী তা বাতিল (باطل))। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আল্লাহর কিতাব প্রত্যেক মুসলিমের হৃদয়ে এক সুমহান মর্যাদার অধিকারী, আর এটি স্বয়ং মহিমান্বিত, সম্মানিত (كريم), গৌরবান্বিত (مجيد) ও পরাক্রমশালী (عزيز)।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ونحن في هذه الرسالة نحب أن نعرض لهذا الموضوع بإشارات وتنبيهات؛ لعل الله أن ينفعنا بها وينفع بها إخواننا وأخواتنا من القراء، أو من بلغه هذا الكلام، إنه سميع مجيب.
فأقول مستعينا بالله: القرآن: مصدر قرأ قرآن، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} (1) {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} (2) {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (3) والكلام المقروء نفسه يسمى قرآنا، كما في قوله تعالى: {فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} (4) والقرآن كلام الله حقيقة، لفظه ومعناه من الله، أنزله على عبده محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وحيا، فهو منزل غير مخلوق، يقول الله:
--------------------------------------------
আমরা এই পুস্তিকায় (رسالة) কিছু ইঙ্গিত ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে এই বিষয়টি উপস্থাপন করতে চাই; সম্ভবত আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাদের এবং আমাদের পাঠক ভাই-বোনদের কিংবা যাদের কাছে এই বক্তব্য পৌঁছাবে তাদের উপকৃত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
অতঃপর আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে বলছি: কুরআন: এটি 'কারাআ কুরআন' এর ক্রিয়ামূল (مصدر)। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব} (১) {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} (২) {অতঃপর এর বর্ণনা প্রদান করা আমাদেরই দায়িত্ব} (৩)। আর পঠিত কালাম বা বাণীকেও কুরআন বলা হয়, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন} (৪)। আর কুরআন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম (বাণী), এর শব্দ ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি তা তাঁর বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং এটি অবতীর্ণ (منزل), সৃষ্ট (مخلوق) নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
{تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} (1) ويقول سبحانه: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ} (2) ويقول: {حم} (3) {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} (4) ويقول: {تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} (5) ويقول: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} (6) والآيات في هذا المعنى كثيرة، وعلى هذا أجمع سلف الأمة، رحمهم الله جميعا.
وقد سمى الله هذا الكتاب بأسماء كثيرة في كتابه، ووصفه كذلك بصفات كثيرة، وإنما يدل هذا على شرف هذا الكتاب وعظمته، فهو القرآن، والفرقان، والكتاب، والهدى، والنور، والشفاء، والبيان، والموعظة، والرحمة، والبصائر، والبلاغ، وهو العربي، والمبين، والكريم، والعظيم، والمجيد، والمبارك، والتنزيل، والصراط المستقيم، والذكر الحكيم، وهو حبل الله، وهو الذكرى، والتذكرة، والبشرى،
--------------------------------------------
{এই কিতাবের অবতারণ (تنزيل) মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।} (১) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, একে আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পবিত্র আত্মা (روح القدس) অবতীর্ণ করেছেন।} (২) এবং তিনি বলেন: {হা-মীম।} (৩) {এই কিতাবের অবতারণ (تنزيل) মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে।} (৪) এবং তিনি বলেন: {এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)।} (৫) এবং তিনি বলেন: {আর আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ (تنزيل) করেছি।} (৬) এই মর্মার্থের আয়াতসমূহ অনেক এবং এর ওপরই উম্মতের পূর্বসূরিগণ (سلف) ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন, আল্লাহ তাদের সবার ওপর রহম করুন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এই গ্রন্থকে বহু নামে নামায়িত করেছেন এবং একে বহু গুণাবলীতেও ভূষিত করেছেন। মূলত এটি এই কিতাবের মর্যাদা ও মাহাত্ম্যেরই প্রমাণ বহন করে। অতএব এটি হলো আল-কুরআন, আল-ফুরকান, আল-কিতাব, পথনির্দেশ (هدى), আলো (نور), নিরাময় (شفاء), সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان), উপদেশ (موعظة), রহমত (رحمة), অন্তর্দৃষ্টি (بصائر) এবং বার্তা (بلاغ)। এটি আরবি (عربي), সুস্পষ্ট (مبين), সম্মানিত (كريم), মহান (عظيم), মহিমান্বিত (مجيد), বরকতময় (مبارك), অবতারণ (تنزيل), সরল পথ (صراط مستقيم) এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশ (الذكر الحكيم)। আর এটি আল্লাহর রজ্জু (حبل الله), এটি পরম স্মরণ (ذكرى), উপদেশবাণী (تذكرة) এবং সুসংবাদ (بشرى)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهو المصدق لما بين يديه من الكتاب، وهو المهيمن عليها، وهو المثاني، وفيه تفصيل كل شيء وتبيان كل شيء، وهو الذي لا ريب فيه ولا عوج فيه، يقول الله: {قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} (1) ويقول سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ} (2) ويقول سبحانه: {الم} (3) {ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} (4) ويقول سبحانه: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} (5) ويقول سبحانه: {ذَلِكَ نَتْلُوهُ عَليْكَ مِنَ الْآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ} (6) ويقول عز وجل: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا} (7) ويقول سبحانه: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} (8)
--------------------------------------------
আর এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী। আর এটি বারবার পঠিত (المثاني), যাতে রয়েছে প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ ও সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা। এটি এমন এক কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কোনো বক্রতা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আরবি ভাষার কুরআন, যাতে কোনো বক্রতা নেই, যেন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে} (১) মহান আল্লাহ বলেন: {বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন} (২) মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-মীম} (৩) {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত} (৪) মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর নির্দেশে এটি আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ} (৫) মহান আল্লাহ বলেন: {এগুলো আমি আপনার কাছে আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে পাঠ করছি} (৬) মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট জ্যোতি নাযিল করেছি} (৭) মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত} (৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويقول -سبحانه-: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا} (1) ويقول جل وعلا: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا} (2) {قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا} (3) ويقول عز من قائل سبحانه: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ} (4) {فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} (5) ويقول عز وجل: {إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ} (6) {فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ} (7) {لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ} (8) {تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (9)
وغير ذلك من الآيات كثير، فيها أسماء هذا الكتاب العظيم وصفاته، مما ينبيك عن عظيم قدره، وجليل شرفه، كيف والمتكلم به هو رب الأرباب - سبحانه - عالم الغيب والشهادة، القائل:
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে এক মহাপুরস্কার।} (১) এবং মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।} (২) {যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।} (৩) এবং প্রজ্ঞাময় সত্তা হিসেবে মহান আল্লাহ বলেন: {বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন,} (৪) {যা সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) বিদ্যমান।} (৫) এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন,} (৬) {যা এক সুরক্ষিত কিতাবে রয়েছে,} (৭) {পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।} (৮) {এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} (৯)
এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যাতে এই মহান কিতাবের বিভিন্ন নাম ও গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, যা আপনাকে এর সুমহান মর্যাদা ও সুউচ্চ সম্মান সম্পর্কে অবহিত করে। আর কেনই বা হবে না, যখন এর বক্তা হলেন স্বয়ং প্রতিপালকদের প্রতিপালক —পবিত্রতা তাঁরই— যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, এবং তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
{وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (1)
ومما ينبغي أن يعلم: أن كل اسم أو صفة لهذا الكتاب العزيز فهو دال على معنى اختص به، ولولا خشية الإطالة لنبهنا على جملة تكون معينة على فهم ما بقي.
هذا وإن مما اختص به هذا الكتاب الكريم أن الله سبحانه تكفل بحفظه، ولم يكل حفظه إلى أحد من خلقه، يقول -سبحانه-: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2) ويقول -سبحانه-: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ} (3) {فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} (4)
ويقول ابن القيم رحمه الله: (فوصفه -سبحانه- بأنه محفوظ في قوله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (5) ووصف محله بالحفظ في هذه السورة – أي: البروج – فالله –سبحانه- حفظ محله وحفظه من الزيادة والنقصان والتبديل، وحفظ معانيه من التحريف، كما حفظ ألفاظه من التبديل، وأقام له من يحفظ حروفه من الزيادة
--------------------------------------------
{আর যদি পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা সব কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (১)
আরও যা জানা আবশ্যক তা হলো: এই সম্মানিত কিতাবের প্রতিটি নাম বা গুণ এমন এক বিশেষ অর্থের নির্দেশক যা কেবল এরই বৈশিষ্ট্য। যদি দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এমন কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতাম যা অবশিষ্ট অংশ বুঝতে সহায়ক হতো।
এই মহিমান্বিত কিতাবটি যে সকল বৈশিষ্ট্যে অনন্য তার মধ্যে একটি হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর সংরক্ষণের ভার তাঁর সৃষ্টির কারও ওপর ন্যস্ত করেননি। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (২) এবং তিনি বলেন: {বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন} (৩) {সংরক্ষিত (محفوظ) ফলকে} (৪)
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীতে একে সংরক্ষিত (محفوظ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (৫) এবং তিনি এই সূরায়—অর্থাৎ সূরা বুরুজে—এর আধারকেও সংরক্ষিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতএব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর আধারকে হিফাজত করেছেন এবং একে অতিরিক্ত (زيادة), হ্রাস ও রদবদল থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি এর অর্থসমূহকে বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা করেছেন, ঠিক যেমন তিনি এর শব্দসমূহকে পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন। আর তিনি এর জন্য এমন মানুষ তৈরি করেছেন যারা এর বর্ণগুলোকে অতিরিক্ত (زيادة) হওয়া থেকে হিফাজত করবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
والنقصان، ومعانيه من التحريف والتغير) اهـ
كتاب الله الكريم هو المنجي من الفتن، وهو أنيس المؤمن، ونور قلبه، وربيع صدره، وجلاء همه وغمه، كتاب الله نبأ ما قبلنا، وخبر ما بعدنا، وحكم ما بيننا، هو الفصل ليس بالهزل، ومن تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، فهو حبل الله المتين والذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق عن كثرة الرد، لا تنقضي عجائبه، ولا تفنى عبره، هو الذي لم تنته الجن إذ سمعته أن قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا} (1)
من قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن عمل به أجر، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم، هو الآية الكبرى والمعجزة العظمى التي أوتيها نبينا صلى الله عليه وسلم، حيث
--------------------------------------------
...এবং হ্রাসকরণ, আর এর অর্থসমূহ বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে [সুরক্ষিত]) [সমাপ্ত]
আল্লাহর সম্মানিত কিতাব হলো ফিতনা থেকে মুক্তিদানকারী; এটি মুমিনের পরম সুহৃদ, তার হৃদয়ের জ্যোতি, বক্ষদেশের প্রশান্তি এবং তার দুঃখ ও বিষণ্ণতা দূরকারী। আল্লাহর কিতাবে রয়েছে আমাদের পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত, আমাদের পরবর্তীদের সংবাদ এবং আমাদের মধ্যকার বিষয়ের ফয়সালা। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো কৌতুক নয়। কোনো উদ্ধত ব্যক্তি একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু এবং প্রজ্ঞাময় যিকির; এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, ভাষা বিভ্রান্ত হয় না এবং আলেম সমাজ এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না (তথা বারবার পাঠের তৃষ্ণা মেটে না)। বারবার আবৃত্তিতে এটি পুরোনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো কখনো শেষ হয় না। এর শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ কখনো ফুরিয়ে যায় না। এটি সেই কিতাব, যা শোনার পর জিনেরা না বলে থাকতে পারেনি: 'নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি' (১)
যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর মাধ্যমে বিচার করে সে ন্যায়বিচার করে, যে এর ওপর আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয় এবং যে এর দিকে আহ্বান জানায় সে সরল পথের দিশা পায়। এটিই সেই মহান নিদর্শন ও সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা যা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করা হয়েছে, যেখানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يقول: «ما من الأنبياء من نبي إلا قد أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيت وحيا أوحى الله إلي، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة (1) » أخرجاه في [الصحيحين]
--------------------------------------------
তিনি বলেন: «নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন সব নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার মতো নিদর্শন দেখে মানুষ ঈমান এনেছে; আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি (وحي) যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন অনুসারীদের সংখ্যায় আমি তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি হব (১)» তাঁরা উভয়ে এটি দুই সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
معجز في لفظه وبيانه: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (1)
معجز في تيسير تلاوته وقرآنه: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (2)
معجز فيما حواه من قصص الماضين لنعتبر: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ} (3) ويقول -سبحانه-:
--------------------------------------------
শব্দশৈলী ও বর্ণনায় অলৌকিক: {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} (১)
এর তিলাওয়াত ও পাঠ সহজীকরণে অলৌকিক: {আর আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (২)
শিক্ষা গ্রহণের নিমিত্তে এতে অন্তর্ভুক্ত পূর্ববর্তীদের কাহিনীর বর্ণনায় অলৌকিক: {আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, আপনার নিকট এই কুরআন ওহি হিসেবে অবতীর্ণ করার মাধ্যমে; যদিও ইতিপূর্বে আপনি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।} (৩) এবং তিনি —পবিত্র ও মহান— বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
{لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (1)
معجز فيما حواه من عقائد وشرائع الدين؛ لنمثل: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (2) {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (3) {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} (4) {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (5)
معجز بما حواه من أخبار الغيب؛ لنؤمن ونسلم: {الم} (6) {ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} (7)
--------------------------------------------
{নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; এটি এমন কোনো হাদিস নয় যা উদ্ভাবিত (مفترى), বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সকল বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।} (১)
দ্বীনের আকিদা ও শরিয়তসমূহের যে বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলোর দিক থেকে এটি অলৌকিক (معجز); উদাহরণস্বরূপ: {আলিফ লাম রা; এটি একটি কিতাব যা আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে।} (২) {এবং আমরা আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ।} (৩) {নিশ্চয়ই আমরা আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।} (৪) {এবং এটি একটি কিতাব যা আমরা অবতীর্ণ করেছি, বরকতময়; সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} (৫)
অদৃশ্যের সংবাদের যে বিষয়গুলো এতে নিহিত রয়েছে, সেগুলোর দিক থেকে এটি অলৌকিক (معجز); যাতে আমরা ঈমান আনি ও আত্মসমর্পণ করি: {আলিফ লাম মিম।} (৬) {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমরা তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।} (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
آية ظاهرة، وحجة باهرة من بعثة النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن يأذن الله برفعه، تحدى الله به أفصح الناس فلم يستطيعوا، بل تحدى به الجن والإنس مجتمعين فأعياهم: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (1) امتن الله به على نبيه صلى الله عليه وسلم: {وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ} (2) يهدي إلى الطريق القويم والمنهج المستقيم: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (3)
--------------------------------------------
এটি একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন (آية ظاهرة) এবং এক উজ্জ্বল প্রমাণ (حجة باهرة), যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি (بعثة) থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা এটি তুলে নেওয়ার অনুমতি প্রদান করা পর্যন্ত কার্যকর। আল্লাহ এর মাধ্যমে সর্বাধিক সাবলীল ও বাগ্মী ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ করেছেন, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি; বরং তিনি এর মাধ্যমে জিন ও মানবজাতিকে সম্মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যা তাদের অপারগ করে দিয়েছে: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (১) আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি এর মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন: {আর আমি অবশ্যই আপনাকে সাতটি বারবার পঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি} (২) এটি সঠিক পথ ও সরল আদর্শের দিকে পরিচালিত করে: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সরল} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا وإن لتلاوة هذا الكتاب أجرا عظيما، وفضلا كبيرا، يقول الله: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ} (1) {لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ} (2)
وعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء
(3)--------------------------------------------
বস্তুত এই কিতাব তিলাওয়াতের মধ্যে রয়েছে মহান প্রতিদান এবং বিপুল ফজিলত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না} (১) {যাতে তিনি তাদের পূর্ণ প্রতিদান দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম গুণগ্রাহী} (২)
ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন: "কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, ফলে সে দিবা-রাত্রির প্রহরগুলোতে তা নিয়ে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে..."
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الليل وآناء النهار، ورجل آتاه الله مالا فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار» رواه البخاري ومسلم.
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ حرفا من كتاب الله تعالى فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: الم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف (1) »
--------------------------------------------
রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে; এবং এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, ফলে সে তা রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে ব্যয় করে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার বিনিময়ে সে একটি নেকি লাভ করবে; আর প্রতিটি নেকি তার দশ গুণ হিসেবে গণ্য হয়। আমি বলছি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর (১)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وصاحب القرآن هو المقدم في الدنيا والآخرة، وهم
কুরআনের ধারকই দুনিয়া ও আখেরাতে অগ্রগণ্য, এবং তারা
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أهل الإكرام والإجلال، فعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله تعالى يرفع بهذا الكتاب أقواما ويضع به آخرين (1) » أخرجه مسلم.
وعن أبي مسعود الأنصاري البدري رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله (2) » . . . الحديث، أخرجه مسلم. وقال ابن عباس رضي الله عنهما: (كان القراء أصحاب مجلس عمر رضي الله عنه ومشاورته كهولا كانوا أو شبانا) (3) وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن من إجلال الله تعالى إكرام ذي الشيبة المسلم، وحامل القرآن غير الغالي فيه والجافي عنه، وإكرام ذي السلطان المقسط (4) » أخرجه أبو داود، وحسنه النووي.
--------------------------------------------
সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিবর্গ; উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উচ্চমর্যাদা দান করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের অবনতি ঘটান (১)» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু মাসউদ আল-আনসারি আল-বদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব পাঠে যে সবচেয়ে পারদর্শী (২)» . . . হাদিস, এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: (কুরআন পাঠকারীগণই ছিলেন উমর (রা.)-এর মজলিস ও পরামর্শ সভার সদস্য, তারা প্রবীণ হোন কিংবা তরুণ) (৩)। আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের এমন বাহককে সম্মান করা যে তাতে বাড়াবাড়ি করে না এবং তা থেকে বিমুখও থাকে না, এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা মহান আল্লাহর মহিমার অন্তর্ভুক্ত (৪)» এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নববী একে হাসান (حسن) বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن كمثل الأترجة، ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن مثل التمرة، لا ريح لها وطعمها حلو، ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة، ريحها طيب وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة، ليس لها ريح وطعمها مر (1) » متفق عليه.
هذا في الدنيا، أما في الآخرة فثوابه أعظم إن عمل به وأجره أكبر، عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق، له أجران (2) » أخرجه مسلم، وأخرجه البخاري بنحوه.
وعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اقرءوا القرآن، فإنه يأتي يوم القيامة
(3)--------------------------------------------
আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো সুগন্ধি লতার মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত (১)» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
এটি ইহকালের ক্ষেত্রে, আর পরকালে এর সওয়াব আরও মহান যদি সে অনুযায়ী আমল করা হয় এবং এর প্রতিদান হবে আরও বড়। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত ও পুণ্যবান দূতদের (ফেরেশতা) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে যায় ও তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান (২)» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবু উমামা আল-বাহিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা তা কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
شفيعا لأصحابه» أخرجه مسلم.
وصاحب القرآن هو المقدم في أول منازل الآخرة، فعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين الرجلين من قتلى أحد في ثوب واحد، ثم يقول: " أيهم أكثر أخذا للقرآن؟ " فإذا أشير له إلى أحدهما قدمه في اللحد (1) » أخرجه البخاري.
ولا يزال صاحب القرآن يترقى في منازل الجنة على قدر ما معه من القرآن، فعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يقال لصاحب القرآن: اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها (2) » أخرجه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن صحيح.
--------------------------------------------
...সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আর কুরআনের বাহক পরকালের প্রথম মনজিলসমূহে অগ্রগণ্য। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহুদের শহীদদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে এক কাপড়ে একত্রিত করতেন, অতঃপর বলতেন: 'তাদের মধ্যে কে কুরআন অধিক আয়ত্ত করেছে?' যখন তাদের মধ্যে একজনের দিকে ইশারা করা হতো, তিনি তাকে কবরের পার্শ্বখাতে (لحد) অগ্রগণ্য করতেন।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
আর কুরআনের বাহক জান্নাতের স্তরসমূহে তার নিকট থাকা কুরআনের পরিমাণ অনুযায়ী আরোহণ করতে থাকবে। আবু উমামা আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআনের বাহককে বলা হবে: পাঠ করো এবং আরোহণ করো, আর তেমনিভাবে তারতিলের সাথে পাঠ করো যেমনটি দুনিয়াতে তারতিলের সাথে পাঠ করতে; নিশ্চয়ই তোমার অবস্থান হবে তোমার পাঠ করা সর্বশেষ আয়াতের নিকট।" আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا شك أن العناية بحفظ القرآن من أجل ما تنصرف إليه الهمم؛ لما في ذلك من الأجر العظيم، وقد كان وصف هذه الأمة في الكتب السابقة بأن أناجيلهم في
নিঃসন্দেহে পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হওয়া সেই সকল মহান বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের সংকল্প নিবিষ্ট হয়; কারণ এতে রয়েছে মহান প্রতিদান। আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের ইঞ্জিলসমূহ থাকবে তাদের...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
صدورهم وهكذا فإن الله سبحانه قد أخبر في كتابه: أن هذا الكتاب محفوظ في صدور الرجال، يقول الله -سبحانه-: {وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ} (1) {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ} (2)
فأخبر سبحانه أنه في صدور العلماء محفوظ، وهذا يصدق الحديث القدسي الذي فيه: «.. إنما بعثتك لأبتليك وأبتلي بك، وأنزلت عليك كتابا لا يغسله الماء (3) » . . . أخرجه مسلم، والمعنى: أن الماء لا يمحوه، إذ هو محفوظ في الصدور.
وقد شبه النبي صلى الله عليه وسلم من لم يحفظ شيئا من القرآن بالبيت الخرب، فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول
--------------------------------------------
...তাদের অন্তরসমূহ। এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, এই কিতাব মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন: {আর আপনি এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না, অন্যথায় মিথ্যাশ্রয়ীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।} (১) {বরং যাদেরকে ইলম প্রদান করা হয়েছে তাদের অন্তরে এটি এক সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর কেবল জালিমরাই আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।} (২)
সুতরাং মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি আলেমদের অন্তরে সংরক্ষিত। আর এটি সেই হাদিসে কুদসিকে (الحديث القدسي) সত্যায়ন করে যাতে বর্ণিত হয়েছে: «...নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং আপনার মাধ্যমে (অন্যদের) পরীক্ষা করার জন্য। আর আমি আপনার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি ধুয়ে ফেলতে পারবে না (৩)»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো: পানি একে মুছে ফেলতে পারবে না, কারণ এটি অন্তরসমূহে সংরক্ষিত।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার কুরআনের কিছুই মুখস্থ নেই তাকে একটি বিরান ঘরের সাথে তুলনা করেছেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الله صلى الله عليه وسلم: «إن الذي ليس في جوفه شيء من القرآن كالبيت الخرب (1) » أخرجه الترمذي، وقال: حسن صحيح.
وقد تقدمت معنا الأحاديث الدالة على إكرام حامل القرآن وعظيم منزلته.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই যার অভ্যন্তরে কুরআনের কোনো অংশ নেই, সে একটি পরিত্যক্ত গৃহের সমতুল্য (১)» তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
কুরআনের বাহককে সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর মহান মর্যাদা নির্দেশকারী হাদিসসমূহ ইতঃপূর্বে আমাদের সামনে আলোচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وحفظ القرآن مشروع للمسلم، والقدر الواجب عليه منه هو ما يحتاج إليه في تصحيح عبادته.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (وأما حفظ جميع القرآن وفهم جميع معانيه ومعرفة جميع السنة – فلا يجب على كل أحد، لكن يجب على العبد أن يحفظ من القرآن ويعلم معانيه ويعرف من السنة ما يحتاج إليه) اهـ
একজন মুসলিমের জন্য কুরআন হিফজ করা বিধিবদ্ধ, এবং এর যতটুকু পরিমাণ তার ওপর ওয়াজিব তা হলো নিজের ইবাদত শুদ্ধ করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আর সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করা, এর সকল অর্থ অনুধাবন করা এবং যাবতীয় সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে অবগত হওয়া—প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব নয়। তবে বান্দার জন্য কুরআন থেকে ততটুকু হিফজ করা ও তার অর্থ জানা এবং সুন্নাহ (السنة) থেকে ততটুকু জানা ওয়াজিব যা তার প্রয়োজন।) সমাপ্ত
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإن مما ينبغي العناية به لمن أراد تلاوة القرآن وحفظه أمور:
أولها: وجوب الإخلاص لله في العمل الذي يقدم عليه، وألا يكون مراده به حظا من الدنيا قريب حقير، فإن الله تعالى يقول:
যারা কুরআন তিলাওয়াত ও তা হিফজ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য কতিপয় বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া আবশ্যক:
প্রথমটি হলো: তিনি যে আমলের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা ওয়াজিব; এবং এর মাধ্যমে পার্থিব কোনো তুচ্ছ ও নগণ্য স্বার্থ হাসিল করা যেন তার লক্ষ্য না হয়। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
{مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ} (1) {أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (2)
ويقول -سبحانه-: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ} (3) ويقول -جل وعلا-: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا} (4)
وفي [صحيح مسلم] من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن أول الناس يقضى يوم القيامة عليه رجل استشهد، فأتي به فعرفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها؟ قال: قاتلت فيك حتى استشهدت، قال: كذبت، ولكنك قاتلت لأن يقال: جريء، فقد قيل، ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار. ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن، فأتي به فعرفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها؟ قال: تعلمت العلم وعلمته، وقرأت فيك القرآن، قال: كذبت ولكنك تعلمت العلم ليقال: عالم،
(5)--------------------------------------------
{যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, আমি দুনিয়াতেই তাদের আমলের পূর্ণ ফল দিয়ে দিই এবং সেখানে তাদের প্রাপ্য হ্রাস করা হয় না। (১) এরাই তারা, আখিরাতে যাদের জন্য অগ্নি ছাড়া অন্য কিছু নেই এবং তারা যা কিছু করেছিল তা সেখানে নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তারা যা কিছু আমল করত তা অসার সাব্যস্ত হবে। (২)}
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি; আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু অংশ দিই, কিন্তু আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।} (৩) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি নগদ প্রাপ্তব্য (দুনিয়া) কামনা করে, আমি যাকে ইচ্ছা যা দিতে চাই দ্রুত দিয়ে দিই। অতঃপর তার জন্য আমি জাহান্নাম নির্ধারিত করি, সেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।} (৪)
এবং [সহীহ মুসলিম]-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির বিচার ফয়সালা করা হবে যে শহিদ হয়েছে। তাকে (আল্লাহর সামনে) উপস্থিত করা হবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্বীকার করবে। আল্লাহ বলবেন: তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি এমনকি শহিদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি এ জন্য লড়াই করেছ যেন তোমাকে ‘বীর’ বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি যে ইলম (জ্ঞান) অর্জন করেছে, অন্যকে তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্বীকার করবে। আল্লাহ বলবেন: তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম অর্জন করেছি, তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি ইলম অর্জন করেছ যেন তোমাকে ‘আলেম’ বলা হয়...»
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقرأت القرآن ليقال: هو قارئ، فقد قيل، ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار» . . . الحديث. عياذا بالله من حالة السوء.
قال ابن القيم رحمه الله بعدما أورد هذا الحديث: (وسمعت شيخ الإسلام يقول: كما أن خير الناس الأنبياء، فشر الناس من تشبه بهم من الكذابين، وادعى أنه منهم وليس منهم، فخير الناس بعدهم العلماء والشهداء والصديقون والمخلصون، وشر الناس من تشبه بهم، يوهم أنه منهم وليس منهم) اهـ
ثانيا: ينبغي لمن أراد حفظ القرآن أن يكرره ويتعاهده حتى يتمكن من حفظه، والله تعالى إن علم من عبده الصدق يسر له طريق الحفظ {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (1)
ثالثا: من كان معه شيء من القرآن قد حفظه فليتعاهده
--------------------------------------------
...আর তুমি কুরআন পড়েছ যাতে বলা হয় যে, ‘সে একজন ক্বারী’; আর তা বলাও হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" ... হাদিস। এই মন্দ অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: (আমি শাইখুল ইসলামকে বলতে শুনেছি: মানুষের মধ্যে যেমন শ্রেষ্ঠ হলেন নবীগণ, তেমনি মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো তারা যারা মিথ্যাবাদীদের (كذابين) মধ্য থেকে তাঁদের সদৃশ হওয়ার চেষ্টা করে এবং দাবি করে যে সে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত অথচ সে তাঁদের কেউ নয়। নবীদের পরে সর্বোত্তম মানুষ হলেন আলেম, শহীদ, সত্যনিষ্ঠ এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ; আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলো তারা যারা তাঁদের সদৃশ হওয়ার অভিনয় করে এবং এই বিভ্রান্তি ছড়ায় যে সে তাঁদেরই একজন অথচ সে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয়।) সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি কুরআন হিফজ করতে চায়, তার উচিত বারবার পাঠ করা এবং নিয়মিত চর্চা করা যাতে সে তা আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়। আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর বান্দার মাঝে সত্যনিষ্ঠা দেখতে পান, তবে তিনি তার জন্য হিফজের পথ সহজ করে দেন। {আর আমি অবশ্যই কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (১)
তৃতীয়ত: যার কাছে কুরআনের কিছু অংশ হিফজ করা আছে, সে যেন তা নিয়মিত তদারকি (চর্চা) করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بالتكرار والمراجعة حتى لا يضيع منه، وليستعن على ذلك بالصلاة، فإن من قام بحزبه من القرآن لم ينسه.
فعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنما مثل صاحب القرآن كمثل الإبل المعلقة، إن عاهد عليها أمسكها، وإن أطلقها ذهبت (1) » متفق عليه. وزاد مسلم في رواية: «وإذا قام صاحب القرآن فقرأه بالليل والنهار ذكره، وإذا لم يقم به نسيه (2) »
رابعا: مما يعين على حفظ القرآن مدارسته، وقد كان جبريل عليه السلام يدارس رسول الله صلى الله عليه وسلم القرآن في كل سنة مرة، إلا عام قبض فقد عارضه القرآن مرتين، ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم في فضل مدارسة القرآن: «وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله، يتلون كتاب الله، ويتدارسونه بينهم، إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفتهم الملائكة، وذكرهم الله فيمن عنده (3) » . . . . الحديث
--------------------------------------------
বারবার পাঠ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে তা (কুরআন) সংরক্ষণ করতে হবে যাতে তা হারিয়ে না যায়। এক্ষেত্রে সালাতের সাহায্য নেওয়া উচিত, কেননা যে ব্যক্তি সালাতে তার কুরআনের অংশ (হিযব) পাঠ করে, সে তা ভুলে যায় না।
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআনের অধিকারীর উদাহরণ হলো রশি দিয়ে বাঁধা উটের ন্যায়; যদি সে তার তদারকি করে তবে তাকে আটকে রাখতে পারে, আর যদি ছেড়ে দেয় তবে তা চলে যায়।" (১) এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)-তে অতিরিক্ত এসেছে: "আর যখন কুরআনের অধিকারী দাঁড়িয়ে রাত-দিন তা তিলাওয়াত করে, তখন সে তা স্মরণে রাখে, আর যখন সে তা নিয়ে না দাঁড়ায় (তিলাওয়াত না করে), তখন সে তা ভুলে যায়।" (২)
চতুর্থত: কুরআন হিফজ করতে যা সাহায্য করে তা হলো মুদারাসা (পরস্পর পাঠ)। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিয়ে কুরআনের মুদারাসা করতেন, তবে যে বছর তাঁর ওফাত হয়েছে সে বছর তিনি দুবার কুরআন পেশ করেছেন। কুরআনের মুদারাসার ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "কোনো সম্প্রদায় যখন আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা মুদারাসা করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন।" (৩) . . . . হাদিস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خامسا: ينبغي للمسلم ألا يغفل عن كتاب الله، وليجعل له فيه ختمة، وقد كان السلف لهم عادات في ختم كتاب الله، فمنهم من كان يختمه كل شهرين مرة، ومنهم من كان يختم كل شهر مرة، ومنهم من كان يختم كل عشر ليال، ومنهم من كان يختم في ثمان ليال، وعن الأكثرين في كل سبع ليال، ومنهم من يختم في أقل من ذلك.
والأفضل: أن يختم المسلم كل سبع؛ لفعل جمع من الصحابة حيث كانوا يحزبون القرآن إلى سبعة أحزاب، فعن أوس بن حذيفة قال: (سألت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف يحزبون القرآن؟ قالوا: ثلاث، وخمس، وسبع، وتسع، وإحدى عشرة، وثلاث عشرة، وحزب المفصل وحده) (1) رواه أبو داود. وحزب المفصل من سورة (ق) إلى آخر القرآن العظيم، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما: «اقرأ القرآن في شهر " قلت: إني أجد قوة، قال: " فاقرأه في سبع ولا تزد على ذلك (2) »
--------------------------------------------
পঞ্চম: একজন মুসলিমের উচিত নয় আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে গাফেল হওয়া, বরং তার উচিত এতে খতমের একটি নিয়মিত অভ্যাস রাখা। আল্লাহর কিতাব খতম করার ক্ষেত্রে সালাফদের বিভিন্ন অভ্যাস ছিল; তাঁদের মধ্যে কেউ প্রতি দুই মাসে একবার খতম করতেন, কেউ প্রতি মাসে একবার খতম করতেন, কেউ প্রতি দশ রাতে একবার, কেউ প্রতি আট রাতে একবার, আর অধিকাংশের আমল ছিল প্রতি সাত রাতে একবার। আবার তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি এর চেয়েও কম সময়ে খতম করতেন।
আর সর্বোত্তম হলো: মুসলিম ব্যক্তি যেন প্রতি সাত দিনে একবার খতম করেন; কারণ একদল সাহাবীর আমল এমনই ছিল যে তাঁরা কুরআনকে সাতটি হিযব বা অংশে বিভক্ত করতেন। আউস ইবনে হুযাইফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা কীভাবে কুরআনকে হিযব বা ভাগে বিভক্ত করেন? তাঁরা বললেন: তিন, পাঁচ, সাত, নয়, এগারো, তেরো এবং স্বতন্ত্রভাবে হিযবুল মুফাসসাল) (১) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। হিযবুল মুফাসসাল হলো সূরা ‘ক্বাফ’ থেকে মহান কুরআনের শেষ পর্যন্ত। আর এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছিলেন: «তুমি এক মাসে কুরআন তিলাওয়াত করো», আমি বললাম: «আমি আরও সামর্থ্য অনুভব করছি», তিনি বললেন: «তবে তা সাত দিনে তিলাওয়াত করো এবং এর চেয়ে বাড়িয়ো না (২)»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া মাকানাতুহু আল-আযীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أخرجه البخاري ومسلم، واللفظ للبخاري.
وأما من قرأه في أقل من ذلك فالغالب أنه يهذه هذا، ولا يفهم معاني ما يقرأ، وهذا لا ينبغي من المسلم، والنبي صلى الله عليه وسلم قال – كما في حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما: «لا يفقه من قرأ القرآن في أقل من ثلاث (1) » أخرجه أصحاب السنن الأربعة، وقال الترمذي: حسن صحيح.
فالسنة ألا يختم في أقل من ثلاث.
والناس يختلفون في هذا، فمنهم من هو كثير العلم دقيق الفهم سريع القراءة قليل الشغل، فهذا يقرأ من القرآن أكثر ممن هو دونه في ذلك.
وقد استحب جمع من السلف: أن تكون الختمة إما أول الليل أو أول النهار؛ لأجل أن الملائكة تصلي على من ختم بالليل حتى يصبح ومن ختم بالنهار حتى يمسي، روي ذلك موقوفا على سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه،
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, আর শব্দাবলি বুখারির।
আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে কম সময়ে কুরআন পাঠ করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে তা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পাঠ করে এবং যা পাঠ করে তার অর্থ বুঝতে পারে না; আর একজন মুসলিমের জন্য এমনটি করা সমীচীন নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—যেমনটি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন পাঠ করল সে তা অনুধাবন করতে পারল না (১)।” এটি চার সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) বলেছেন।
সুতরাং সুন্নত হলো তিন দিনের কম সময়ে খতম না করা।
আর মানুষ এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ আছেন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, সূক্ষ্ম বোধশক্তিসম্পন্ন, দ্রুত পাঠে অভ্যস্ত এবং অল্প ব্যস্ততার অধিকারী; এমতাবস্থায় এমন ব্যক্তি তার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তির তুলনায় বেশি কুরআন পাঠ করতে পারেন।
সালাফদের একটি দল মুস্তাহাব মনে করেছেন যে, কুরআন খতম যেন হয় রাতের শুরুতে অথবা দিনের শুরুতে; যাতে করে ফেরেশতারা ওই ব্যক্তির জন্য রহমতের দোয়া করে যে রাতে খতম করে যতক্ষণ না সকাল হয়, আর যে দিনে খতম করে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। এটি সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------