(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[المجموع شرح المهذب ((مع تكملة السبكي والمطيعي)) ]ـ
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (المتوفى: 676هـ)
الناشر: دار الفكر
(طبعة كاملة معها تكملة السبكي والمطيعي)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (المتوفى: 676هـ)
الناشر: دار الفكر
(طبعة كاملة معها تكملة السبكي والمطيعي)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
আল-মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব ((আস-সুবকী ও আল-মুতী'ঈ-এর পরিপূরক সহ))
লেখক: আবূ যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনু শারাফ আন-নাওয়াবী (মৃত্যু: ৬৭৬ হি.)
প্রকাশক: দারুল ফিকর
(সম্পূর্ণ সংস্করণ, এর সাথে আস-সুবকী ও আল-মুতী'ঈ-এর পরিপূরক সংযুক্ত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাঙ্কন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
লেখক: আবূ যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনু শারাফ আন-নাওয়াবী (মৃত্যু: ৬৭৬ হি.)
প্রকাশক: দারুল ফিকর
(সম্পূর্ণ সংস্করণ, এর সাথে আস-সুবকী ও আল-মুতী'ঈ-এর পরিপূরক সংযুক্ত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাঙ্কন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد الله الْبَرِّ الْجَوَّادِ. الَّذِي جَلَّتْ نِعَمُهُ عَنْ الْإِحْصَاءِ بِالْأَعْدَادِ. خَالِقِ اللُّطْفِ وَالْإِرْشَادِ. الْهَادِي إلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ. الْمُوَفِّقِ بِكَرَمِهِ لِطُرُقِ السَّدَادِ. الْمَانِّ بِالتَّفَقُّهِ فِي الدِّينِ عَلَى مَنْ لَطَفَ بِهِ مِنْ الْعِبَادِ. الَّذِي كَرَّمَ هَذِهِ الْأُمَّةَ زَادَهَا اللَّهُ شَرَفًا بِالِاعْتِنَاءِ بِتَدْوِينِ مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِفْظًا لَهُ عَلَى تَكَرُّرِ الْعُصُورِ وَالْآبَادِ. وَنَصَّبَ كَذَلِكَ جَهَابِذَةً مِنْ الْحُفَّاظِ النُّقَّادِ: وَجَعَلَهُمْ دَائِبِينَ فِي إيضَاحِ ذَلِكَ فِي جَمِيعِ الْأَزْمَانِ وَالْبِلَادِ. بَاذِلِينَ وُسْعَهُمْ مُسْتَفْرِغِينَ جُهْدَهُمْ فِي ذَلِكَ فِي جَمَاعَاتٍ وَآحَادٍ. مُسْتَمِرِّينَ عَلَى ذَلِكَ مُتَابِعِينَ فِي الْجُهْدِ وَالِاجْتِهَادِ. أَحْمَدُهُ أَبْلَغَ الْحَمْدِ وَأَكْمَلَهُ وَأَزْكَاهُ وَأَشْمَلَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ. الْكَرِيمُ الْغَفَّارُ * وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. وَحَبِيبُهُ وَخَلِيلُهُ. الْمُصْطَفَى بِتَعْمِيمِ دَعَوْتِهِ وَرِسَالَتِهِ. الْمُفَضَّلُ عَلَى الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ مِنْ بَرِيَّتِهِ. الْمُشَرَّفُ عَلَى الْعَالَمِينَ قَاطِبَةً بِشُمُولِ شَفَاعَتِهِ. الْمَخْصُوصُ بِتَأْيِيدِ مِلَّتِهِ وَسَمَاحَةِ شَرِيعَتِهِ. الْمُكَرَّمُ بِتَوْفِيقِ أُمَّتِهِ لِلْمُبَالَغَةِ فِي إيضَاحِ مِنْهَاجِهِ وَطَرِيقَتِهِ. وَالْقِيَامِ بِتَبْلِيغِ مَا أُرْسِلَ بِهِ إلَى أُمَّتِهِ. صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى إخْوَانِهِ مِنْ النَّبِيِّينَ وَآلِ كُلٍّ وَسَائِرِ الصَّالِحِينَ. وَتَابِعِيهِمْ بِإِحْسَانٍ إلَى يَوْمِ الدِّينِ (أَمَّا بَعْدُ)
فَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى الْعَظِيمُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (وَمَا خَلَقْتُ الجن والانس إلا ليعبدون مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أن يطعمون) وَهَذَا نَصٌّ فِي أَنَّ الْعِبَادَ خُلِقُوا لِلْعِبَادَةِ وَلِعَمَلِ الْآخِرَةِ وَالْإِعْرَاضِ عَنْ الدُّنْيَا بِالزَّهَادَةِ: فَكَانَ أَوْلَى مَا اشْتَغَلَ بِهِ الْمُحَقِّقُونَ: وَاسْتَغْرَقَ الْأَوْقَاتِ فِي تَحْصِيلِهِ الْعَارِفُونَ. وَبَذَلَ الْوُسْعَ فِي إدْرَاكِهِ الْمَشْهُورُونَ. وَهَجَرَ مَا سِوَاهُ لِنَيْلِهِ الْمُتَيَقِّظُونَ بَعْدَ مَعْرِفَةِ اللَّهِ وَعَمَلِ الْوَاجِبَاتِ التَّشْمِيرُ فِي تَبْيِينِ مَا كَانَ مُصَحِّحًا لِلْعِبَادَاتِ الَّتِي هِيَ دَأَبُ أَرْبَابِ الْعُقُولِ وَأَصْحَابِ الْأَنْفُسِ الزَّكِيَّاتِ، إذْ لَيْسَ يَكْفِي فِي الْعِبَادَاتِ صُوَرُ الطَّاعَاتِ بَلْ لَا بُدَّ مِنْ كَوْنِهَا عَلَى وَفْقِ الْقَوَاعِدِ الشَّرْعِيَّاتِ وَهَذَا فِي هَذِهِ الْأَزْمَانِ وَقَبْلِهَا بِأَعْصَارٍ خَالِيَاتٍ: قَدْ انْحَصَرَتْ مَعْرِفَتُهُ فِي الْكُتُبِ الْفِقْهِيَّاتِ الْمُصَنَّفَةِ فِي أَحْكَامِ الدِّيَانَاتِ، فَهِيَ الْمَخْصُوصَةُ بِبَيَانِ ذَلِكَ وَإِيضَاحِ الْخَفِيَّاتِ مِنْهَا وَالْجَلِيَّاتِ، وَهِيَ الَّتِي أُوضِحَ فِيهَا جَمِيعُ أَحْكَامِ الدِّينِ وَالْوَقَائِعُ الْغَالِبَاتُ وَالنَّادِرَاتُ، وَحُرِّرَ فِيهَا الْوَاضِحَاتُ وَالْمُشْكِلَاتُ، وَقَدْ
الحمد الله الْبَرِّ الْجَوَّادِ. الَّذِي جَلَّتْ نِعَمُهُ عَنْ الْإِحْصَاءِ بِالْأَعْدَادِ. خَالِقِ اللُّطْفِ وَالْإِرْشَادِ. الْهَادِي إلَى سَبِيلِ الرَّشَادِ. الْمُوَفِّقِ بِكَرَمِهِ لِطُرُقِ السَّدَادِ. الْمَانِّ بِالتَّفَقُّهِ فِي الدِّينِ عَلَى مَنْ لَطَفَ بِهِ مِنْ الْعِبَادِ. الَّذِي كَرَّمَ هَذِهِ الْأُمَّةَ زَادَهَا اللَّهُ شَرَفًا بِالِاعْتِنَاءِ بِتَدْوِينِ مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِفْظًا لَهُ عَلَى تَكَرُّرِ الْعُصُورِ وَالْآبَادِ. وَنَصَّبَ كَذَلِكَ جَهَابِذَةً مِنْ الْحُفَّاظِ النُّقَّادِ: وَجَعَلَهُمْ دَائِبِينَ فِي إيضَاحِ ذَلِكَ فِي جَمِيعِ الْأَزْمَانِ وَالْبِلَادِ. بَاذِلِينَ وُسْعَهُمْ مُسْتَفْرِغِينَ جُهْدَهُمْ فِي ذَلِكَ فِي جَمَاعَاتٍ وَآحَادٍ. مُسْتَمِرِّينَ عَلَى ذَلِكَ مُتَابِعِينَ فِي الْجُهْدِ وَالِاجْتِهَادِ. أَحْمَدُهُ أَبْلَغَ الْحَمْدِ وَأَكْمَلَهُ وَأَزْكَاهُ وَأَشْمَلَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ. الْكَرِيمُ الْغَفَّارُ * وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. وَحَبِيبُهُ وَخَلِيلُهُ. الْمُصْطَفَى بِتَعْمِيمِ دَعَوْتِهِ وَرِسَالَتِهِ. الْمُفَضَّلُ عَلَى الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ مِنْ بَرِيَّتِهِ. الْمُشَرَّفُ عَلَى الْعَالَمِينَ قَاطِبَةً بِشُمُولِ شَفَاعَتِهِ. الْمَخْصُوصُ بِتَأْيِيدِ مِلَّتِهِ وَسَمَاحَةِ شَرِيعَتِهِ. الْمُكَرَّمُ بِتَوْفِيقِ أُمَّتِهِ لِلْمُبَالَغَةِ فِي إيضَاحِ مِنْهَاجِهِ وَطَرِيقَتِهِ. وَالْقِيَامِ بِتَبْلِيغِ مَا أُرْسِلَ بِهِ إلَى أُمَّتِهِ. صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى إخْوَانِهِ مِنْ النَّبِيِّينَ وَآلِ كُلٍّ وَسَائِرِ الصَّالِحِينَ. وَتَابِعِيهِمْ بِإِحْسَانٍ إلَى يَوْمِ الدِّينِ (أَمَّا بَعْدُ)
فَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى الْعَظِيمُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (وَمَا خَلَقْتُ الجن والانس إلا ليعبدون مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أن يطعمون) وَهَذَا نَصٌّ فِي أَنَّ الْعِبَادَ خُلِقُوا لِلْعِبَادَةِ وَلِعَمَلِ الْآخِرَةِ وَالْإِعْرَاضِ عَنْ الدُّنْيَا بِالزَّهَادَةِ: فَكَانَ أَوْلَى مَا اشْتَغَلَ بِهِ الْمُحَقِّقُونَ: وَاسْتَغْرَقَ الْأَوْقَاتِ فِي تَحْصِيلِهِ الْعَارِفُونَ. وَبَذَلَ الْوُسْعَ فِي إدْرَاكِهِ الْمَشْهُورُونَ. وَهَجَرَ مَا سِوَاهُ لِنَيْلِهِ الْمُتَيَقِّظُونَ بَعْدَ مَعْرِفَةِ اللَّهِ وَعَمَلِ الْوَاجِبَاتِ التَّشْمِيرُ فِي تَبْيِينِ مَا كَانَ مُصَحِّحًا لِلْعِبَادَاتِ الَّتِي هِيَ دَأَبُ أَرْبَابِ الْعُقُولِ وَأَصْحَابِ الْأَنْفُسِ الزَّكِيَّاتِ، إذْ لَيْسَ يَكْفِي فِي الْعِبَادَاتِ صُوَرُ الطَّاعَاتِ بَلْ لَا بُدَّ مِنْ كَوْنِهَا عَلَى وَفْقِ الْقَوَاعِدِ الشَّرْعِيَّاتِ وَهَذَا فِي هَذِهِ الْأَزْمَانِ وَقَبْلِهَا بِأَعْصَارٍ خَالِيَاتٍ: قَدْ انْحَصَرَتْ مَعْرِفَتُهُ فِي الْكُتُبِ الْفِقْهِيَّاتِ الْمُصَنَّفَةِ فِي أَحْكَامِ الدِّيَانَاتِ، فَهِيَ الْمَخْصُوصَةُ بِبَيَانِ ذَلِكَ وَإِيضَاحِ الْخَفِيَّاتِ مِنْهَا وَالْجَلِيَّاتِ، وَهِيَ الَّتِي أُوضِحَ فِيهَا جَمِيعُ أَحْكَامِ الدِّينِ وَالْوَقَائِعُ الْغَالِبَاتُ وَالنَّادِرَاتُ، وَحُرِّرَ فِيهَا الْوَاضِحَاتُ وَالْمُشْكِلَاتُ، وَقَدْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি পরম দাতা, মহাদাতা; যাঁর নিআমতসমূহ সংখ্যা দ্বারা গণনা করা অসম্ভব; যিনি অনুগ্রহ ও পথনির্দেশের স্রষ্টা; যিনি সঠিক পথের দিশারী; যিনি তাঁর অনুগ্রহে সঠিক পথসমূহের তাওফীক দান করেন; যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (তাফাক্কুহ) দান করে ধন্য করেন। যিনি এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন – আল্লাহ তাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তা লিপিবদ্ধ করার প্রতি যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে, যুগ যুগ ধরে এবং অনন্তকাল ধরে তা সংরক্ষণের জন্য। এবং তিনি অনুরূপভাবে হাফিয ও সমালোচক (মুহাদ্দিস) পণ্ডিতদের নিযুক্ত করেছেন; এবং তাদেরকে সকল যুগে ও সকল দেশে তা স্পষ্ট করার কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। তারা দলবদ্ধভাবে ও এককভাবে এ বিষয়ে তাদের সর্বশক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তারা এই কাজে অবিচল ছিলেন এবং প্রচেষ্টা ও ইজতিহাদে একে অপরের অনুগামী ছিলেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা সর্বাধিক ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ, পবিত্র ও সর্বজনীন।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি একক, পরাক্রমশালী, পরম দাতা, ক্ষমাশীল। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল; এবং তাঁর প্রিয়পাত্র ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। যাকে তাঁর দাওয়াত ও রিসালাতের ব্যাপকতার দ্বারা মনোনীত করা হয়েছে; তাঁর সৃষ্টির মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের উপর যাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে; যাকে তাঁর শাফাআতের ব্যাপকতার দ্বারা সমগ্র বিশ্বের উপর সম্মানিত করা হয়েছে; যাকে তাঁর দ্বীনের সমর্থন ও তাঁর শরীয়তের উদারতার দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে; যাকে তাঁর উম্মতকে তাঁর পদ্ধতি ও পথকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য তাওফীক দানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে; এবং তাঁর উম্মতের কাছে যা নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছেন, তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর নবী ভাইদের উপর, এবং তাঁদের সকলের পরিবারবর্গ ও অন্যান্য সকল নেককার বান্দাদের উপর, এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের উপরও।
অতঃপর, মহান, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাক।" এটি একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (নাস্স) যে, বান্দাদেরকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আখিরাতের কাজ ও দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে যুহদ (বৈরাগ্য) অবলম্বনের জন্য। সুতরাং, আল্লাহকে জানার পর এবং ওয়াজিবসমূহ পালনের পর, যা নিয়ে গবেষকগণ (মুহাক্কিকুন) সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন, এবং আরেফগণ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারীগণ) যা অর্জনে তাদের সময় ব্যয় করেছেন, এবং প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণ যা উপলব্ধিতে তাদের সর্বশক্তি ব্যয় করেছেন, এবং সতর্ক ব্যক্তিগণ যা অর্জনের জন্য অন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন, তা হলো ইবাদতসমূহকে সহীহকারী বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য কোমর বাঁধা; যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ ও পবিত্র আত্মার অধিকারীগণের নিত্যকর্ম। কারণ, ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল আনুগত্যের বাহ্যিক রূপই যথেষ্ট নয়; বরং তা অবশ্যই শরীয়তের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী হতে হবে। আর এই যুগে এবং এর পূর্ববর্তী বিগত যুগসমূহে, এর জ্ঞান দ্বীনের বিধানাবলী সম্পর্কে রচিত ফিকহী গ্রন্থাবলীতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সুতরাং, এই গ্রন্থাবলীই সেগুলোর ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার জন্য নির্দিষ্ট। এবং এই গ্রন্থাবলীতেই দ্বীনের সকল বিধান, সাধারণ ও বিরল ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করা হয়েছে, এবং এতে সুস্পষ্ট ও জটিল বিষয়সমূহকে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। আর
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি পরম দাতা, মহাদাতা; যাঁর নিআমতসমূহ সংখ্যা দ্বারা গণনা করা অসম্ভব; যিনি অনুগ্রহ ও পথনির্দেশের স্রষ্টা; যিনি সঠিক পথের দিশারী; যিনি তাঁর অনুগ্রহে সঠিক পথসমূহের তাওফীক দান করেন; যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (তাফাক্কুহ) দান করে ধন্য করেন। যিনি এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন – আল্লাহ তাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তা লিপিবদ্ধ করার প্রতি যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে, যুগ যুগ ধরে এবং অনন্তকাল ধরে তা সংরক্ষণের জন্য। এবং তিনি অনুরূপভাবে হাফিয ও সমালোচক (মুহাদ্দিস) পণ্ডিতদের নিযুক্ত করেছেন; এবং তাদেরকে সকল যুগে ও সকল দেশে তা স্পষ্ট করার কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। তারা দলবদ্ধভাবে ও এককভাবে এ বিষয়ে তাদের সর্বশক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তারা এই কাজে অবিচল ছিলেন এবং প্রচেষ্টা ও ইজতিহাদে একে অপরের অনুগামী ছিলেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা সর্বাধিক ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ, পবিত্র ও সর্বজনীন।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি একক, পরাক্রমশালী, পরম দাতা, ক্ষমাশীল। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল; এবং তাঁর প্রিয়পাত্র ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। যাকে তাঁর দাওয়াত ও রিসালাতের ব্যাপকতার দ্বারা মনোনীত করা হয়েছে; তাঁর সৃষ্টির মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের উপর যাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে; যাকে তাঁর শাফাআতের ব্যাপকতার দ্বারা সমগ্র বিশ্বের উপর সম্মানিত করা হয়েছে; যাকে তাঁর দ্বীনের সমর্থন ও তাঁর শরীয়তের উদারতার দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে; যাকে তাঁর উম্মতকে তাঁর পদ্ধতি ও পথকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য তাওফীক দানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে; এবং তাঁর উম্মতের কাছে যা নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছেন, তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর নবী ভাইদের উপর, এবং তাঁদের সকলের পরিবারবর্গ ও অন্যান্য সকল নেককার বান্দাদের উপর, এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের উপরও।
অতঃপর, মহান, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাক।" এটি একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (নাস্স) যে, বান্দাদেরকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আখিরাতের কাজ ও দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে যুহদ (বৈরাগ্য) অবলম্বনের জন্য। সুতরাং, আল্লাহকে জানার পর এবং ওয়াজিবসমূহ পালনের পর, যা নিয়ে গবেষকগণ (মুহাক্কিকুন) সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন, এবং আরেফগণ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারীগণ) যা অর্জনে তাদের সময় ব্যয় করেছেন, এবং প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণ যা উপলব্ধিতে তাদের সর্বশক্তি ব্যয় করেছেন, এবং সতর্ক ব্যক্তিগণ যা অর্জনের জন্য অন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন, তা হলো ইবাদতসমূহকে সহীহকারী বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য কোমর বাঁধা; যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ ও পবিত্র আত্মার অধিকারীগণের নিত্যকর্ম। কারণ, ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল আনুগত্যের বাহ্যিক রূপই যথেষ্ট নয়; বরং তা অবশ্যই শরীয়তের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী হতে হবে। আর এই যুগে এবং এর পূর্ববর্তী বিগত যুগসমূহে, এর জ্ঞান দ্বীনের বিধানাবলী সম্পর্কে রচিত ফিকহী গ্রন্থাবলীতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সুতরাং, এই গ্রন্থাবলীই সেগুলোর ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার জন্য নির্দিষ্ট। এবং এই গ্রন্থাবলীতেই দ্বীনের সকল বিধান, সাধারণ ও বিরল ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করা হয়েছে, এবং এতে সুস্পষ্ট ও জটিল বিষয়সমূহকে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। আর
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
أَكْثَرَ الْعُلَمَاءُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ التَّصْنِيفَ فِيهَا مِنْ الْمُخْتَصَرَاتِ وَالْمَبْسُوطَاتِ، وَأَوْدَعُوا فِيهَا مِنْ الْمَبَاحِثِ والتحقيقات والنفائس الجليلات
* وجميع مَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ وَمَا يُتَوَقَّعُ وُقُوعُهُ وَلَوْ عَلَى أَنْدَرِ الِاحْتِمَالَاتِ الْبَدَائِعَ وَغَايَاتِ النِّهَايَاتِ، حَتَّى لَقَدْ تَرَكُونَا مِنْهَا عَلَى الْجَلِيَّاتِ الْوَاضِحَاتِ، فَشَكَرَ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُمْ سَعْيَهُمْ وَأَجْزَلَ لَهُمْ الْمَثُوبَاتِ، وَأَحَلَّهُمْ فِي دَارِ كَرَامَتِهِ أَعْلَى الْمَقَامَاتِ، وَجَعَلَ لَنَا نَصِيبًا مِنْ ذَلِكَ وَمِنْ جَمِيعِ أَنْوَاعِ الْخَيْرَاتِ، وَأَدَامَنَا عَلَى ذَلِكَ فِي ازْدِيَادٍ حَتَّى الْمَمَاتِ، وَغَفَرَ لَنَا مَا جَرَى وَمَا يَجْرِي مِنَّا مِنْ الزَّلَّاتِ، وَفَعَلَ ذَلِكَ بِوَالِدَيْنَا وَمَشَايِخِنَا وَسَائِرِ مَنْ نُحِبُّهُ وَيُحِبُّنَا وَمَنْ أَحْسَنَ إلَيْنَا وَسَائِرِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ، إنَّهُ سَمِيعُ الدَّعَوَاتِ جَزِيلُ الْعَطِيَّاتِ
* ثُمَّ إنَّ أَصْحَابَنَا الْمُصَنِّفِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ وَعَنْ سَائِرِ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ أَكْثَرُوا التَّصَانِيفَ كَمَا قَدَّمْنَا وَتَنَوَّعُوا فِيهَا كَمَا ذَكَرْنَا وَاشْتَهَرَ مِنْهَا لِتَدْرِيسِ الْمُدَرِّسِينَ وَبَحْثِ الْمُشْتَغِلِينَ الْمُهَذَّبُ وَالْوَسِيطُ وَهُمَا كِتَابَانِ عَظِيمَانِ صَنَّفَهُمَا إمَامَانِ جَلِيلَانِ: أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ الشيرازي: وأبو حامد محمد بن مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَزَالِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا وَتَقَبَّلَ ذَلِكَ وَسَائِرَ أَعْمَالِهِمَا مِنْهُمَا وَقَدْ وَفَرَّ اللَّهُ الْكَرِيمُ دَوَاعِيَ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِنَا رَحِمَهُمْ الله على الِاشْتِغَالِ بِهَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ وَمَا ذَاكَ إلَّا لِجَلَالَتِهِمَا وَعِظَمِ فَائِدَتِهِمَا وَحُسْنِ نِيَّةِ ذَيْنِكَ الْإِمَامَيْنِ، وَفِي هَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ دُرُوسُ الْمُدَرِّسِينَ وَبَحْثُ الْمُحَصِّلِينَ الْمُحَقِّقِينَ، وَحِفْظُ الطُّلَّابِ الْمُعْتَنِينَ فِيمَا مَضَى وَفِي هَذِهِ الْأَعْصَارِ فِي جَمِيعِ النَّوَاحِي وَالْأَمْصَارِ: فَإِذَا كَانَا كَمَا وَصَفْنَا وَجَلَالَتُهُمَا عِنْدَ الْعُلَمَاءِ كَمَا ذَكَرْنَا. كان من هم الْأُمُورِ الْعِنَايَةُ بِشَرْحِهِمَا إذْ فِيهِمَا أَعْظَمُ الْفَوَائِدِ وَأَجْزَلُ الْعَوَائِدِ فَإِنَّ فِيهِمَا مَوَاضِعَ كَثِيرَةً أَنْكَرَهَا أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ وَفِيهَا كُتُبٌ مَعْرُوفَةٌ مُؤَلَّفَةٌ فَمِنْهَا مَا لَيْسَ عَنْهُ جَوَابٌ سَدِيدٌ وَمِنْهَا مَا جَوَابُهُ صَحِيحٌ مَوْجُودٌ عَتِيدٌ فَيَحْتَاجُ إلَى الْوُقُوفِ على ذلك من لم تخصره مَعْرِفَتُهُ، وَيَفْتَقِرُ إلَى الْعِلْمِ بِهِ مَنْ لَمْ تُحِطْ بِهِ خِبْرَتُهُ: وَكَذَلِكَ فِيهِمَا مِنْ الْأَحَادِيثِ واللغات وأسماء النقلة والرواة والاحترازات والمسائل المشكلات، والاصول المفتقرة إلى فروع وتتمات مالا بُدَّ مِنْ تَحْقِيقِهِ وَتَبْيِينِهِ بِأَوْضَحِ الْعِبَارَاتِ
* فَأَمَّا الْوَسِيطُ فَقَدْ جَمَعْتُ فِي شَرْحِهِ جُمَلًا مُفَرَّقَاتٍ سَأُهَذِّبُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابٍ مُفْرَدٍ وَاضِحَاتٍ مُتَمَّمَاتٍ، وَأَمَّا الْمُهَذَّبُ فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ الكريم الرؤوف الرَّحِيمَ فِي جَمْعِ كِتَابٍ فِي شَرْحِهِ سَمَّيْته بالمجموع وَاَللَّهَ الْكَرِيمَ أَسْأَلُ أَنْ يَجْعَلَ نَفْعِي وَسَائِرَ الْمُسْلِمِينَ بِهِ مِنْ الدَّائِمِ غَيْرِ الْمَمْنُوعِ، أَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى جُمَلًا مِنْ عُلُومِهِ الزَّاهِرَاتِ، وَأُبَيِّنُ فِيهِ أَنْوَاعًا مِنْ فُنُونِهِ الْمُتَعَدِّدَاتِ فَمِنْهَا تَفْسِيرُ الْآيَاتِ الْكَرِيمَاتِ، وَالْأَحَادِيثِ النَّبَوِيَّاتِ، وَالْآثَارُ الْمَوْقُوفَاتُ، وَالْفَتَاوَى الْمَقْطُوعَاتُ، وَالْأَشْعَارُ الاسْتِشْهاديَّات، وَالْأَحْكَامُ الِاعْتِقَادِيَّاتُ والفُروعِيَّات، وَالْأَسْمَاءُ وَاللُّغَاتُ،وَالْقُيُودُ وَالِاحْتِرَازَاتُ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ فُنُونِهِ الْمَعْرُوفَاتِ، وَأُبَيِّنُ مِنْ الْأَحَادِيثِ صَحِيحَهَا وَحَسَنَهَا وَضَعِيفَهَا مَرْفُوعَهَا وَمَوْقُوفَهَا مُتَّصِلَهَا وَمُرْسَلَهَا وَمُنْقَطِعَهَا وَمُعْضِلَهَا وَمَوْضُوعَهَا مَشْهُورَهَا وَغَرِيبَهَا وَشَاذَّهَا وَمُنْكَرَهَا ومقاربها وَمُعَلَّلَهَا وَمَدْرَجَهَا وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنْ أَقْسَامِهَا مِمَّا سَتَرَاهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَوَاطِنِهَا وَهَذِهِ الْأَقْسَامُ الَّتِي ذَكَرْتُهَا كُلُّهَا مَوْجُودَةٌ فِي الْمُهَذَّبِ وَسَنُوَضِّحُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
*
* وجميع مَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ وَمَا يُتَوَقَّعُ وُقُوعُهُ وَلَوْ عَلَى أَنْدَرِ الِاحْتِمَالَاتِ الْبَدَائِعَ وَغَايَاتِ النِّهَايَاتِ، حَتَّى لَقَدْ تَرَكُونَا مِنْهَا عَلَى الْجَلِيَّاتِ الْوَاضِحَاتِ، فَشَكَرَ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُمْ سَعْيَهُمْ وَأَجْزَلَ لَهُمْ الْمَثُوبَاتِ، وَأَحَلَّهُمْ فِي دَارِ كَرَامَتِهِ أَعْلَى الْمَقَامَاتِ، وَجَعَلَ لَنَا نَصِيبًا مِنْ ذَلِكَ وَمِنْ جَمِيعِ أَنْوَاعِ الْخَيْرَاتِ، وَأَدَامَنَا عَلَى ذَلِكَ فِي ازْدِيَادٍ حَتَّى الْمَمَاتِ، وَغَفَرَ لَنَا مَا جَرَى وَمَا يَجْرِي مِنَّا مِنْ الزَّلَّاتِ، وَفَعَلَ ذَلِكَ بِوَالِدَيْنَا وَمَشَايِخِنَا وَسَائِرِ مَنْ نُحِبُّهُ وَيُحِبُّنَا وَمَنْ أَحْسَنَ إلَيْنَا وَسَائِرِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ، إنَّهُ سَمِيعُ الدَّعَوَاتِ جَزِيلُ الْعَطِيَّاتِ
* ثُمَّ إنَّ أَصْحَابَنَا الْمُصَنِّفِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ وَعَنْ سَائِرِ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ أَكْثَرُوا التَّصَانِيفَ كَمَا قَدَّمْنَا وَتَنَوَّعُوا فِيهَا كَمَا ذَكَرْنَا وَاشْتَهَرَ مِنْهَا لِتَدْرِيسِ الْمُدَرِّسِينَ وَبَحْثِ الْمُشْتَغِلِينَ الْمُهَذَّبُ وَالْوَسِيطُ وَهُمَا كِتَابَانِ عَظِيمَانِ صَنَّفَهُمَا إمَامَانِ جَلِيلَانِ: أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ الشيرازي: وأبو حامد محمد بن مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَزَالِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا وَتَقَبَّلَ ذَلِكَ وَسَائِرَ أَعْمَالِهِمَا مِنْهُمَا وَقَدْ وَفَرَّ اللَّهُ الْكَرِيمُ دَوَاعِيَ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِنَا رَحِمَهُمْ الله على الِاشْتِغَالِ بِهَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ وَمَا ذَاكَ إلَّا لِجَلَالَتِهِمَا وَعِظَمِ فَائِدَتِهِمَا وَحُسْنِ نِيَّةِ ذَيْنِكَ الْإِمَامَيْنِ، وَفِي هَذَيْنِ الْكِتَابَيْنِ دُرُوسُ الْمُدَرِّسِينَ وَبَحْثُ الْمُحَصِّلِينَ الْمُحَقِّقِينَ، وَحِفْظُ الطُّلَّابِ الْمُعْتَنِينَ فِيمَا مَضَى وَفِي هَذِهِ الْأَعْصَارِ فِي جَمِيعِ النَّوَاحِي وَالْأَمْصَارِ: فَإِذَا كَانَا كَمَا وَصَفْنَا وَجَلَالَتُهُمَا عِنْدَ الْعُلَمَاءِ كَمَا ذَكَرْنَا. كان من هم الْأُمُورِ الْعِنَايَةُ بِشَرْحِهِمَا إذْ فِيهِمَا أَعْظَمُ الْفَوَائِدِ وَأَجْزَلُ الْعَوَائِدِ فَإِنَّ فِيهِمَا مَوَاضِعَ كَثِيرَةً أَنْكَرَهَا أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ وَفِيهَا كُتُبٌ مَعْرُوفَةٌ مُؤَلَّفَةٌ فَمِنْهَا مَا لَيْسَ عَنْهُ جَوَابٌ سَدِيدٌ وَمِنْهَا مَا جَوَابُهُ صَحِيحٌ مَوْجُودٌ عَتِيدٌ فَيَحْتَاجُ إلَى الْوُقُوفِ على ذلك من لم تخصره مَعْرِفَتُهُ، وَيَفْتَقِرُ إلَى الْعِلْمِ بِهِ مَنْ لَمْ تُحِطْ بِهِ خِبْرَتُهُ: وَكَذَلِكَ فِيهِمَا مِنْ الْأَحَادِيثِ واللغات وأسماء النقلة والرواة والاحترازات والمسائل المشكلات، والاصول المفتقرة إلى فروع وتتمات مالا بُدَّ مِنْ تَحْقِيقِهِ وَتَبْيِينِهِ بِأَوْضَحِ الْعِبَارَاتِ
* فَأَمَّا الْوَسِيطُ فَقَدْ جَمَعْتُ فِي شَرْحِهِ جُمَلًا مُفَرَّقَاتٍ سَأُهَذِّبُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابٍ مُفْرَدٍ وَاضِحَاتٍ مُتَمَّمَاتٍ، وَأَمَّا الْمُهَذَّبُ فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ الكريم الرؤوف الرَّحِيمَ فِي جَمْعِ كِتَابٍ فِي شَرْحِهِ سَمَّيْته بالمجموع وَاَللَّهَ الْكَرِيمَ أَسْأَلُ أَنْ يَجْعَلَ نَفْعِي وَسَائِرَ الْمُسْلِمِينَ بِهِ مِنْ الدَّائِمِ غَيْرِ الْمَمْنُوعِ، أَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى جُمَلًا مِنْ عُلُومِهِ الزَّاهِرَاتِ، وَأُبَيِّنُ فِيهِ أَنْوَاعًا مِنْ فُنُونِهِ الْمُتَعَدِّدَاتِ فَمِنْهَا تَفْسِيرُ الْآيَاتِ الْكَرِيمَاتِ، وَالْأَحَادِيثِ النَّبَوِيَّاتِ، وَالْآثَارُ الْمَوْقُوفَاتُ، وَالْفَتَاوَى الْمَقْطُوعَاتُ، وَالْأَشْعَارُ الاسْتِشْهاديَّات، وَالْأَحْكَامُ الِاعْتِقَادِيَّاتُ والفُروعِيَّات، وَالْأَسْمَاءُ وَاللُّغَاتُ،وَالْقُيُودُ وَالِاحْتِرَازَاتُ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ فُنُونِهِ الْمَعْرُوفَاتِ، وَأُبَيِّنُ مِنْ الْأَحَادِيثِ صَحِيحَهَا وَحَسَنَهَا وَضَعِيفَهَا مَرْفُوعَهَا وَمَوْقُوفَهَا مُتَّصِلَهَا وَمُرْسَلَهَا وَمُنْقَطِعَهَا وَمُعْضِلَهَا وَمَوْضُوعَهَا مَشْهُورَهَا وَغَرِيبَهَا وَشَاذَّهَا وَمُنْكَرَهَا ومقاربها وَمُعَلَّلَهَا وَمَدْرَجَهَا وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنْ أَقْسَامِهَا مِمَّا سَتَرَاهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَوَاطِنِهَا وَهَذِهِ الْأَقْسَامُ الَّتِي ذَكَرْتُهَا كُلُّهَا مَوْجُودَةٌ فِي الْمُهَذَّبِ وَسَنُوَضِّحُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
*
আল্লাহ তায়ালা যাদের প্রতি সন্তুষ্ট, সেই উলামায়ে কেরামগণ এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয় প্রকার গ্রন্থ রচনা করেছেন। এবং তাতে তারা অন্তর্ভুক্ত করেছেন গভীর গবেষণা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও মূল্যবান রত্নরাজি। এমন সব বিষয় যা প্রয়োজন হতে পারে এবং যা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি বিরলতম সম্ভাবনার বিষয়গুলোও, যা অভিনব ও চূড়ান্ত পর্যায়ের। এমনকি তারা আমাদের জন্য সেগুলোকে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য করে রেখে গেছেন। অতএব, আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রচেষ্টার উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের পুরস্কারকে মহিমান্বিত করুন। এবং তাঁর সম্মানিত আবাসে তাদের জন্য সর্বোচ্চ স্থান নির্ধারণ করুন। আর আমাদের জন্য এর থেকে এবং সকল প্রকার কল্যাণ থেকে অংশ দান করুন। এবং মৃত্যু পর্যন্ত আমাদেরকে এর উপর ক্রমবর্ধমান অবস্থায় অটল রাখুন। এবং আমাদের দ্বারা সংঘটিত ও ভবিষ্যতে সংঘটিত হতে পারে এমন সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করুন। এবং আমাদের পিতামাতা, আমাদের উস্তাদগণ, যাদেরকে আমরা ভালোবাসি ও যারা আমাদেরকে ভালোবাসেন, যারা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং সকল মুসলিম পুরুষ ও নারীর প্রতিও অনুরূপ করুন। নিশ্চয়ই তিনি দু'আ শ্রবণকারী এবং মহাদানশীল।
অতঃপর, আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের গ্রন্থপ্রণেতা উলামায়ে কেরামগণ, আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের প্রতি এবং সকল মুসলিম উলামার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তারা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন। তাদের মধ্যে থেকে শিক্ষকগণের পাঠদান এবং গবেষকদের গবেষণার জন্য 'আল-মুহাযযাব' ও 'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থদ্বয় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এই দুটি মহান গ্রন্থ রচনা করেছেন দুজন মহান ইমাম: আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আশ-শিরাযী এবং আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গাযালী, আল্লাহ তায়ালা তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের এই কাজ ও অন্যান্য সকল আমল কবুল করুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের উলামায়ে কেরামকে (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) এই দুটি গ্রন্থ নিয়ে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আর এর কারণ এই দুটি গ্রন্থের মহত্ত্ব, এদের বিশাল উপকারিতা এবং এই দুই ইমামের উত্তম নিয়ত ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দুটি গ্রন্থেই শিক্ষকগণের পাঠদান, সূক্ষ্মদর্শী গবেষকদের গবেষণা এবং যত্নশীল শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করার বিষয়বস্তু রয়েছে, যা অতীত কাল থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত সকল অঞ্চল ও শহরে প্রচলিত। সুতরাং, যখন এই দুটি গ্রন্থ আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী এবং উলামায়ে কেরামের নিকট এদের মহত্ত্ব আমাদের উল্লেখ অনুযায়ী, তখন এদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এগুলোতে রয়েছে মহত্তম উপকারিতা ও বিশাল প্রতিদান। কেননা, এগুলোতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা জ্ঞানীরা অস্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে সুপরিচিত গ্রন্থাবলীও রচিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু এমন যার কোনো সঠিক উত্তর নেই, আবার কিছু এমন যার সঠিক ও প্রস্তুত উত্তর বিদ্যমান। সুতরাং, যার জ্ঞান সীমিত, তার জন্য এ বিষয়ে অবগত হওয়া প্রয়োজন এবং যার অভিজ্ঞতা ব্যাপক নয়, তার জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। অনুরূপভাবে, এই গ্রন্থদ্বয়ে এমন অনেক হাদীস, ভাষাগত ব্যাখ্যা, বর্ণনাকারী ও রাবীদের নাম, সতর্কতামূলক বিধান (احترازات), জটিল মাসআলা এবং মূলনীতি রয়েছে যার জন্য শাখা-প্রশাখা ও পরিপূরক ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এগুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য।
'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় আমি বিক্ষিপ্ত কিছু বিষয় একত্রিত করেছি, ইনশাআল্লাহ, আমি সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সুবিন্যস্ত, সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করব। আর 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় একটি গ্রন্থ রচনার জন্য আমি পরম দয়ালু, পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং এর নাম দিয়েছি 'আল-মাজমু' (المجموع)। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর দ্বারা আমার এবং সকল মুসলিমের উপকারকে স্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন করে দেন। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে এর উজ্জ্বল জ্ঞানসমূহের কিছু অংশ উল্লেখ করব এবং এর বহুবিধ শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকার ব্যাখ্যা করব। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: পবিত্র আয়াতসমূহের তাফসীর, নববী হাদীসসমূহ, মাওকুফ আসারসমূহ, চূড়ান্ত ফাতওয়াসমূহ, প্রমাণস্বরূপ কবিতাংশ, আকীদাগত ও ফিকহী বিধানসমূহ, নাম ও ভাষাগত ব্যাখ্যা, শর্তাবলী ও সতর্কতামূলক বিধান (احترازات) এবং এর অন্যান্য সুপরিচিত শাস্ত্রসমূহ। এবং আমি হাদীসসমূহের মধ্যে সহীহ, হাসান, যঈফ, মারফূ', মাওকুফ, মুত্তাসিল, মুরসাল, মুনকাতি', মু'দাল, মাওযূ', মাশহূর, গারীব, শা'য, মুনকার, মুকারাব, মু'আল্লাল, মুদরাজ এবং এর অন্যান্য প্রকারসমূহ ব্যাখ্যা করব, যা ইনশাআল্লাহ আপনি যথাস্থানে দেখতে পাবেন। আর আমি যে সকল প্রকারের কথা উল্লেখ করেছি, তার সবগুলোই 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সেগুলোর ব্যাখ্যা করব।
অতঃপর, আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের গ্রন্থপ্রণেতা উলামায়ে কেরামগণ, আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের প্রতি এবং সকল মুসলিম উলামার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তারা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন। তাদের মধ্যে থেকে শিক্ষকগণের পাঠদান এবং গবেষকদের গবেষণার জন্য 'আল-মুহাযযাব' ও 'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থদ্বয় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এই দুটি মহান গ্রন্থ রচনা করেছেন দুজন মহান ইমাম: আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আশ-শিরাযী এবং আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গাযালী, আল্লাহ তায়ালা তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের এই কাজ ও অন্যান্য সকল আমল কবুল করুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের উলামায়ে কেরামকে (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) এই দুটি গ্রন্থ নিয়ে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আর এর কারণ এই দুটি গ্রন্থের মহত্ত্ব, এদের বিশাল উপকারিতা এবং এই দুই ইমামের উত্তম নিয়ত ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দুটি গ্রন্থেই শিক্ষকগণের পাঠদান, সূক্ষ্মদর্শী গবেষকদের গবেষণা এবং যত্নশীল শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করার বিষয়বস্তু রয়েছে, যা অতীত কাল থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত সকল অঞ্চল ও শহরে প্রচলিত। সুতরাং, যখন এই দুটি গ্রন্থ আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী এবং উলামায়ে কেরামের নিকট এদের মহত্ত্ব আমাদের উল্লেখ অনুযায়ী, তখন এদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এগুলোতে রয়েছে মহত্তম উপকারিতা ও বিশাল প্রতিদান। কেননা, এগুলোতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা জ্ঞানীরা অস্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে সুপরিচিত গ্রন্থাবলীও রচিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু এমন যার কোনো সঠিক উত্তর নেই, আবার কিছু এমন যার সঠিক ও প্রস্তুত উত্তর বিদ্যমান। সুতরাং, যার জ্ঞান সীমিত, তার জন্য এ বিষয়ে অবগত হওয়া প্রয়োজন এবং যার অভিজ্ঞতা ব্যাপক নয়, তার জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। অনুরূপভাবে, এই গ্রন্থদ্বয়ে এমন অনেক হাদীস, ভাষাগত ব্যাখ্যা, বর্ণনাকারী ও রাবীদের নাম, সতর্কতামূলক বিধান (احترازات), জটিল মাসআলা এবং মূলনীতি রয়েছে যার জন্য শাখা-প্রশাখা ও পরিপূরক ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এগুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য।
'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় আমি বিক্ষিপ্ত কিছু বিষয় একত্রিত করেছি, ইনশাআল্লাহ, আমি সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সুবিন্যস্ত, সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করব। আর 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় একটি গ্রন্থ রচনার জন্য আমি পরম দয়ালু, পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং এর নাম দিয়েছি 'আল-মাজমু' (المجموع)। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর দ্বারা আমার এবং সকল মুসলিমের উপকারকে স্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন করে দেন। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে এর উজ্জ্বল জ্ঞানসমূহের কিছু অংশ উল্লেখ করব এবং এর বহুবিধ শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকার ব্যাখ্যা করব। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: পবিত্র আয়াতসমূহের তাফসীর, নববী হাদীসসমূহ, মাওকুফ আসারসমূহ, চূড়ান্ত ফাতওয়াসমূহ, প্রমাণস্বরূপ কবিতাংশ, আকীদাগত ও ফিকহী বিধানসমূহ, নাম ও ভাষাগত ব্যাখ্যা, শর্তাবলী ও সতর্কতামূলক বিধান (احترازات) এবং এর অন্যান্য সুপরিচিত শাস্ত্রসমূহ। এবং আমি হাদীসসমূহের মধ্যে সহীহ, হাসান, যঈফ, মারফূ', মাওকুফ, মুত্তাসিল, মুরসাল, মুনকাতি', মু'দাল, মাওযূ', মাশহূর, গারীব, শা'য, মুনকার, মুকারাব, মু'আল্লাল, মুদরাজ এবং এর অন্যান্য প্রকারসমূহ ব্যাখ্যা করব, যা ইনশাআল্লাহ আপনি যথাস্থানে দেখতে পাবেন। আর আমি যে সকল প্রকারের কথা উল্লেখ করেছি, তার সবগুলোই 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সেগুলোর ব্যাখ্যা করব।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَأُبَيِّنُ مِنْهَا أَيْضًا لُغَاتِهَا وَضَبْطَ نَقَلَتِهَا وَرُوَاتَهَا
* وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ فِي صَحِيحَيْ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا اقْتَصَرْتُ عَلَى إضَافَتِهِ إلَيْهِمَا وَلَا أُضِيفُهُ مَعَهُمَا إلَى غَيْرِهِمَا إلَّا نَادِرًا لِغَرَضٍ فِي بَعْضِ الْمَوَاطِنِ لِأَنَّ مَا كَانَ فِيهِمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا غَنِيٌّ عَنْ التَّقْوِيَةِ بِالْإِضَافَةِ إلَى مَا سِوَاهُمَا
* وَأَمَّا مَا لَيْسَ فِي وَاحِدٍ مِنْهُمَا فَأُضِيفُهُ إلَى مَا تَيَسَّرَ مِنْ كُتُبِ السُّنَنِ وَغَيْرِهَا أَوْ إلَى بَعْضِهَا: فَإِذَا كَانَ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيِّ: وَالنَّسَائِيَّ الَّتِي هِيَ تَمَامُ أُصُولِ الْإِسْلَامِ الْخَمْسَةِ أَوْ فِي بَعْضِهَا اقْتَصَرْتُ أَيْضًا عَلَى إضَافَتِهِ إلَيْهَا: وَمَا خَرَجَ عَنْهَا أُضِيفُهُ إلَى مَا تَيَسَّرَ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مُبَيِّنًا صِحَّتَهُ أَوْ ضَعْفَهُ: وَمَتَى كَانَ الْحَدِيثُ ضَعِيفًا بَيَّنْتُ ضَعْفَهُ وَنَبَّهْتُ عَلَى سَبَبِ ضَعْفِهِ إنْ لَمْ يَطُلْ الْكَلَامُ بِوَصْفِهِ: وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ الضَّعِيفُ هُوَ الَّذِي احْتَجَّ بِهِ الْمُصَنِّفُ أَوْ هُوَ الَّذِي اعْتَمَدَهُ أَصْحَابُنَا صَرَّحْتُ بِضَعْفِهِ ثُمَّ أَذْكُرُ دَلِيلًا لِلْمَذْهَبِ مِنْ الْحَدِيثِ إنْ وَجَدْتُهُ وَإِلَّا فَمِنْ الْقِيَاسِ وَغَيْرِهِ
* وَأُبَيِّنُ فِيهِ مَا وَقَعَ فِي الْكِتَابِ مِنْ أَلْفَاظِ اللُّغَاتِ وَأَسْمَاءِ الْأَصْحَابِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَالنَّقَلَةِ وَالرُّوَاةِ مَبْسُوطًا فِي وَقْتٍ وَمُخْتَصَرًا فِي وَقْتٍ بِحَسْبِ الْمَوَاطِنِ وَالْحَاجَةِ: وَقَدْ جَمَعْتُ فِي هَذَا النوع كتابا سميته بتهذيب الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ جَمَعْتُ فِيهِ مَا يَتَعَلَّقُ بِمُخْتَصَرِ الْمُزَنِيِّ وَالْمُهَذَّبِ وَالْوَسِيطِ وَالتَّنْبِيهِ وَالْوَجِيزِ وَالرَّوْضَةِ الَّذِي اخْتَصَرْتُهُ مِنْ شَرْحِ الْوَجِيزِ لِلْإِمَامِ أَبِي الْقَاسِمِ الرَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَلْفَاظِ الْعَرَبِيَّةِ وَالْعَجَمِيَّةِ وَالْأَسْمَاءِ وَالْحُدُودِ وَالْقُيُودِ وَالْقَوَاعِدِ وَالضَّوَابِطِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مما له ذكر في شئ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ وَلَا يَسْتَغْنِي طَالِبُ عِلْمٍ عَنْ مِثْلِهِ فَمَا وَقَعَ هُنَا مُخْتَصَرًا لِضَرُورَةٍ أَحَلْتُهُ عَلَى ذَلِكَ وَأُبَيِّنُ فِيهِ الِاحْتِرَازَاتِ وَالضَّوَابِطَ الْكُلِّيَّاتِ
* وَأَمَّا الْأَحْكَامُ فَهُوَ مَقْصُودُ الْكِتَابِ فَأُبَالِغُ فِي إيضَاحِهَا بِأَسْهَلِ الْعِبَارَاتِ، وَأَضُمُّ إلَى ما في الاصل من الفروع والتتمات، والزوائد الْمُسْتَجَادَاتِ، وَالْقَوَاعِدِ الْمُحَرَّرَاتِ، وَالضَّوَابِطِ الْمُمَهِّدَاتِ، مَا تَقَرُّ بِهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَعْيُنَ أُولِي الْبَصَائِرِ وَالْعِنَايَاتِ، وَالْمُبَرَّئِينَ مِنْ أَدْنَاسِ الزَّيْغِ وَالْجَهَالَاتِ، ثُمَّ مِنْ هَذِهِ الزِّيَادَاتِ مَا أَذْكُرُهُ فِي أَثْنَاءِ كَلَامِ صَاحِبِ الْكِتَابِ: وَمِنْهَا مَا أَذْكُرُهُ فِي آخِرِ الْفُصُولِ وَالْأَبْوَابِ وَأُبَيِّنُ مَا ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ وَقَدْ اتَّفَقَ الْأَصْحَابُ عَلَيْهِ وَمَا وَافَقَهُ عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ وَمَا انْفَرَدَ بِهِ أَوْ خَالَفَهُ فِيهِ الْمُعْظَمُ.
وَهَذَا النَّوْعُ قَلِيلٌ جِدًّا: وَأُبَيِّنُ فِيهِ مَا أُنْكِرَ عَلَى الْمُصَنِّفِ مِنْ الْأَحَادِيثِ وَالْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ، وَالْمَسَائِلِ الْمُشْكِلَاتِ مَعَ جَوَابِهِ إنْ كَانَ مِنْ الْمُرْضِيَاتِ
* وَكَذَلِكَ أُبَيِّنُ فِيهِ جُمَلًا مِمَّا أُنْكِرَ عَلَى الْإِمَامِ أَبِي إبْرَاهِيمَ إسْمَاعِيلَ بْنِ يَحْيَى الْمُزَنِيّ فِي مُخْتَصَرِهِ وَعَلَى الْإِمَامِ أَبِي حَامِدٍ الْغَزَالِيِّ فِي الْوَسِيطِ وَعَلَى الْمُصَنِّفِ فِي التَّنْبِيهِ مَعَ الْجَوَابِ عَنْهُ إنْ أَمْكَنَ فَإِنَّ الْحَاجَةَ إلَيْهَا كَالْحَاجَةِ إلَى الْمُهَذَّبِ: وَأَلْتَزِمُ فِيهِ بَيَانَ الرَّاجِحِ مِنْ الْقَوْلَيْنِ وَالْوَجْهَيْنِ وَالطَّرِيقَيْنِ وَالْأَقْوَالِ وَالْأَوْجُهِ وَالطُّرُقِ مِمَّا لَمْ يَذْكُرْهُ الْمُصَنِّفُ أَوْ ذَكَرَهُ وَوَافَقُوهُ عَلَيْهِ أَوْ خَالَفُوهُ
* وَاعْلَمْ أَنَّ كُتُبَ الْمَذْهَبِ فِيهَا اخْتِلَافٌ شَدِيدٌ بَيْنَ الاصحاب بحيث لا يحصل للمطالع وثوق بكون مَا قَالَهُ مُصَنِّفٌ مِنْهُمْ هُوَ الْمَذْهَبُ حَتَّى يُطَالِعَ مُعْظَمَ كُتُبِ الْمَذْهَبِ الْمَشْهُورَةِ فَلِهَذَا لَا أَتْرُكُ قَوْلًا وَلَا وَجْهًا وَلَا نَقْلًا وَلَوْ كَانَ ضَعِيفًا أَوْ وَاهِيًا إلَّا ذَكَرْتُهُ إذَا وَجَدْتُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَعَ بَيَانِ رجحان
* وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ فِي صَحِيحَيْ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا اقْتَصَرْتُ عَلَى إضَافَتِهِ إلَيْهِمَا وَلَا أُضِيفُهُ مَعَهُمَا إلَى غَيْرِهِمَا إلَّا نَادِرًا لِغَرَضٍ فِي بَعْضِ الْمَوَاطِنِ لِأَنَّ مَا كَانَ فِيهِمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا غَنِيٌّ عَنْ التَّقْوِيَةِ بِالْإِضَافَةِ إلَى مَا سِوَاهُمَا
* وَأَمَّا مَا لَيْسَ فِي وَاحِدٍ مِنْهُمَا فَأُضِيفُهُ إلَى مَا تَيَسَّرَ مِنْ كُتُبِ السُّنَنِ وَغَيْرِهَا أَوْ إلَى بَعْضِهَا: فَإِذَا كَانَ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيِّ: وَالنَّسَائِيَّ الَّتِي هِيَ تَمَامُ أُصُولِ الْإِسْلَامِ الْخَمْسَةِ أَوْ فِي بَعْضِهَا اقْتَصَرْتُ أَيْضًا عَلَى إضَافَتِهِ إلَيْهَا: وَمَا خَرَجَ عَنْهَا أُضِيفُهُ إلَى مَا تَيَسَّرَ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مُبَيِّنًا صِحَّتَهُ أَوْ ضَعْفَهُ: وَمَتَى كَانَ الْحَدِيثُ ضَعِيفًا بَيَّنْتُ ضَعْفَهُ وَنَبَّهْتُ عَلَى سَبَبِ ضَعْفِهِ إنْ لَمْ يَطُلْ الْكَلَامُ بِوَصْفِهِ: وَإِذَا كَانَ الْحَدِيثُ الضَّعِيفُ هُوَ الَّذِي احْتَجَّ بِهِ الْمُصَنِّفُ أَوْ هُوَ الَّذِي اعْتَمَدَهُ أَصْحَابُنَا صَرَّحْتُ بِضَعْفِهِ ثُمَّ أَذْكُرُ دَلِيلًا لِلْمَذْهَبِ مِنْ الْحَدِيثِ إنْ وَجَدْتُهُ وَإِلَّا فَمِنْ الْقِيَاسِ وَغَيْرِهِ
* وَأُبَيِّنُ فِيهِ مَا وَقَعَ فِي الْكِتَابِ مِنْ أَلْفَاظِ اللُّغَاتِ وَأَسْمَاءِ الْأَصْحَابِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْعُلَمَاءِ وَالنَّقَلَةِ وَالرُّوَاةِ مَبْسُوطًا فِي وَقْتٍ وَمُخْتَصَرًا فِي وَقْتٍ بِحَسْبِ الْمَوَاطِنِ وَالْحَاجَةِ: وَقَدْ جَمَعْتُ فِي هَذَا النوع كتابا سميته بتهذيب الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ جَمَعْتُ فِيهِ مَا يَتَعَلَّقُ بِمُخْتَصَرِ الْمُزَنِيِّ وَالْمُهَذَّبِ وَالْوَسِيطِ وَالتَّنْبِيهِ وَالْوَجِيزِ وَالرَّوْضَةِ الَّذِي اخْتَصَرْتُهُ مِنْ شَرْحِ الْوَجِيزِ لِلْإِمَامِ أَبِي الْقَاسِمِ الرَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ مِنْ الْأَلْفَاظِ الْعَرَبِيَّةِ وَالْعَجَمِيَّةِ وَالْأَسْمَاءِ وَالْحُدُودِ وَالْقُيُودِ وَالْقَوَاعِدِ وَالضَّوَابِطِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مما له ذكر في شئ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ وَلَا يَسْتَغْنِي طَالِبُ عِلْمٍ عَنْ مِثْلِهِ فَمَا وَقَعَ هُنَا مُخْتَصَرًا لِضَرُورَةٍ أَحَلْتُهُ عَلَى ذَلِكَ وَأُبَيِّنُ فِيهِ الِاحْتِرَازَاتِ وَالضَّوَابِطَ الْكُلِّيَّاتِ
* وَأَمَّا الْأَحْكَامُ فَهُوَ مَقْصُودُ الْكِتَابِ فَأُبَالِغُ فِي إيضَاحِهَا بِأَسْهَلِ الْعِبَارَاتِ، وَأَضُمُّ إلَى ما في الاصل من الفروع والتتمات، والزوائد الْمُسْتَجَادَاتِ، وَالْقَوَاعِدِ الْمُحَرَّرَاتِ، وَالضَّوَابِطِ الْمُمَهِّدَاتِ، مَا تَقَرُّ بِهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَعْيُنَ أُولِي الْبَصَائِرِ وَالْعِنَايَاتِ، وَالْمُبَرَّئِينَ مِنْ أَدْنَاسِ الزَّيْغِ وَالْجَهَالَاتِ، ثُمَّ مِنْ هَذِهِ الزِّيَادَاتِ مَا أَذْكُرُهُ فِي أَثْنَاءِ كَلَامِ صَاحِبِ الْكِتَابِ: وَمِنْهَا مَا أَذْكُرُهُ فِي آخِرِ الْفُصُولِ وَالْأَبْوَابِ وَأُبَيِّنُ مَا ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ وَقَدْ اتَّفَقَ الْأَصْحَابُ عَلَيْهِ وَمَا وَافَقَهُ عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ وَمَا انْفَرَدَ بِهِ أَوْ خَالَفَهُ فِيهِ الْمُعْظَمُ.
وَهَذَا النَّوْعُ قَلِيلٌ جِدًّا: وَأُبَيِّنُ فِيهِ مَا أُنْكِرَ عَلَى الْمُصَنِّفِ مِنْ الْأَحَادِيثِ وَالْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ، وَالْمَسَائِلِ الْمُشْكِلَاتِ مَعَ جَوَابِهِ إنْ كَانَ مِنْ الْمُرْضِيَاتِ
* وَكَذَلِكَ أُبَيِّنُ فِيهِ جُمَلًا مِمَّا أُنْكِرَ عَلَى الْإِمَامِ أَبِي إبْرَاهِيمَ إسْمَاعِيلَ بْنِ يَحْيَى الْمُزَنِيّ فِي مُخْتَصَرِهِ وَعَلَى الْإِمَامِ أَبِي حَامِدٍ الْغَزَالِيِّ فِي الْوَسِيطِ وَعَلَى الْمُصَنِّفِ فِي التَّنْبِيهِ مَعَ الْجَوَابِ عَنْهُ إنْ أَمْكَنَ فَإِنَّ الْحَاجَةَ إلَيْهَا كَالْحَاجَةِ إلَى الْمُهَذَّبِ: وَأَلْتَزِمُ فِيهِ بَيَانَ الرَّاجِحِ مِنْ الْقَوْلَيْنِ وَالْوَجْهَيْنِ وَالطَّرِيقَيْنِ وَالْأَقْوَالِ وَالْأَوْجُهِ وَالطُّرُقِ مِمَّا لَمْ يَذْكُرْهُ الْمُصَنِّفُ أَوْ ذَكَرَهُ وَوَافَقُوهُ عَلَيْهِ أَوْ خَالَفُوهُ
* وَاعْلَمْ أَنَّ كُتُبَ الْمَذْهَبِ فِيهَا اخْتِلَافٌ شَدِيدٌ بَيْنَ الاصحاب بحيث لا يحصل للمطالع وثوق بكون مَا قَالَهُ مُصَنِّفٌ مِنْهُمْ هُوَ الْمَذْهَبُ حَتَّى يُطَالِعَ مُعْظَمَ كُتُبِ الْمَذْهَبِ الْمَشْهُورَةِ فَلِهَذَا لَا أَتْرُكُ قَوْلًا وَلَا وَجْهًا وَلَا نَقْلًا وَلَوْ كَانَ ضَعِيفًا أَوْ وَاهِيًا إلَّا ذَكَرْتُهُ إذَا وَجَدْتُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَعَ بَيَانِ رجحان
এবং আমি এর ভাষাগত অর্থসমূহ এবং এর বর্ণনাকারী ও রাবীদের নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে উল্লেখ করব।
* যখন কোনো হাদীস সহীহ বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তা'আলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উভয়ের মধ্যে অথবা তাদের কোনো একটিতে থাকবে, তখন আমি কেবল তাদের দিকেই এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব। তাদের সাথে অন্য কারো দিকে এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব না, তবে কদাচিৎ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কিছু স্থানে তা করতে পারি। কারণ যা তাদের উভয়ের মধ্যে অথবা তাদের কোনো একটিতে বিদ্যমান, তা অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে শক্তিশালী করার প্রয়োজন থেকে মুক্ত।
* আর যা তাদের কোনো একটিতেও নেই, তা আমি সুন্নাহর গ্রন্থাবলি ও অন্যান্য যা সহজলভ্য হবে, সেগুলোর দিকে অথবা সেগুলোর কোনো কোনোটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করব। অতঃপর যখন তা সুনানে আবি দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী-তে থাকবে, যা ইসলামের পাঁচটি মূল গ্রন্থের পূর্ণতা বিধান করে, অথবা সেগুলোর কোনো একটিতে থাকবে, তখন আমি কেবল সেগুলোর দিকেই এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব। আর যা এগুলোর বাইরে থাকবে, তা আমি আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় সহজলভ্য যে কোনো গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করব, এর সহীহ বা যঈফ হওয়া স্পষ্ট করে। এবং যখন হাদীস যঈফ হবে, আমি এর দুর্বলতা স্পষ্ট করব এবং এর দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করব, যদি এর বর্ণনা দীর্ঘ না হয়। আর যখন যঈফ হাদীসটি এমন হবে যা গ্রন্থকার দলীল হিসেবে পেশ করেছেন অথবা আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরাম যার উপর নির্ভর করেছেন, তখন আমি এর দুর্বলতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করব। অতঃপর মাযহাবের জন্য হাদীস থেকে দলীল উল্লেখ করব, যদি তা পাই; অন্যথায় কিয়াস (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) ও অন্যান্য উৎস থেকে (দলীল উল্লেখ করব)।
* এবং আমি এতে কিতাবে উল্লিখিত ভাষাগত শব্দাবলি, সাহাবীগণ ও অন্যান্য উলামা, বর্ণনাকারী ও রাবীদের নামসমূহ স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো বিস্তারিতভাবে এবং কখনো সংক্ষেপে স্পষ্ট করব। আর আমি এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছি, যার নাম দিয়েছি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত'। আমি তাতে ইমাম আবুল কাসিম আর-রাফি'ঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর 'শারহুল ওয়াজিজ' থেকে সংক্ষিপ্ত করা 'রওযা' এবং 'মুখতাসারুল মুযানী', 'আল-মুহাযযাব', 'আল-ওয়াসীত', 'আত-তানবীহ' ও 'আল-ওয়াজিজ' - এই ছয়টি কিতাবের সাথে সম্পর্কিত আরবি ও অনারবি শব্দাবলি, নামসমূহ, সংজ্ঞা, শর্তাবলি, মূলনীতি ও নিয়মাবলি এবং এগুলোর কোনোটিতে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়াদি একত্রিত করেছি। এবং কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী এর মতো গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। সুতরাং যা এখানে প্রয়োজনের তাগিদে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি সেটিকে ওই গ্রন্থের দিকে নির্দেশ করব। এবং আমি এতে সতর্কতামূলক বিষয়াবলি ও সার্বিক নিয়মাবলি স্পষ্ট করব।
* আর আহকাম (বিধানাবলি) হলো এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য, তাই আমি সহজতম বাক্যবিন্যাসে সেগুলোর ব্যাখ্যায় সবিশেষ যত্নবান হব। এবং মূল কিতাবে বিদ্যমান মাসআলার শাখা-প্রশাখা, পরিপূরক বিষয়াবলি, উত্তম সংযোজনসমূহ, সুবিন্যস্ত মূলনীতিসমূহ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলির সাথে আমি এমন বিষয়াদি যোগ করব, যা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও যত্নশীল ব্যক্তিদের এবং ভ্রান্তি ও অজ্ঞতার কলুষতা থেকে মুক্তদের চোখকে শীতল করবে। অতঃপর এই সংযোজনসমূহের কিছু আমি গ্রন্থকারের আলোচনার মাঝে উল্লেখ করব এবং কিছু অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের শেষে উল্লেখ করব। এবং আমি স্পষ্ট করব যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন এবং যার উপর আমাদের মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরাম একমত হয়েছেন, এবং যা অধিকাংশ উলামা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, এবং যা তিনি এককভাবে বলেছেন অথবা অধিকাংশ উলামা তাঁর বিরোধিতা করেছেন। এই প্রকারের বিষয়াদি খুবই কম। এবং আমি এতে গ্রন্থকারের উপর হাদীস, নাম, ভাষাগত শব্দাবলি এবং জটিল মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো স্পষ্ট করব, সন্তোষজনক উত্তর থাকলে তার উত্তরসহ।
* অনুরূপভাবে, আমি এতে ইমাম আবি ইবরাহীম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানী (রহ.)-এর 'মুখতাসার' গ্রন্থে, ইমাম আবি হামিদ আল-গাযালী (রহ.)-এর 'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থে এবং গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী)-এর 'আত-তানবীহ' গ্রন্থে যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ স্পষ্ট করব, সম্ভব হলে সেগুলোর উত্তরসহ। কারণ সেগুলোর প্রয়োজন 'আল-মুহাযযাব'-এর প্রয়োজনের মতোই। এবং আমি এতে দুটি 'কওল' (উক্তি), দুটি 'ওয়াজহ' (দৃষ্টিভঙ্গি), দুটি 'তারীক' (পদ্ধতি) এবং একাধিক 'আকওয়াল' (উক্তি), 'আওজুহ' (দৃষ্টিভঙ্গি) ও 'তুরুক' (পদ্ধতি)-এর মধ্যে কোনটি 'রাজ়েহ' (প্রাধান্যপ্রাপ্ত) তা স্পষ্ট করার অঙ্গীকার করছি, যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেননি অথবা উল্লেখ করেছেন এবং ফুকাহায়ে কেরাম তাঁর সাথে একমত হয়েছেন অথবা তাঁর বিরোধিতা করেছেন।
* জেনে রাখুন, মাযহাবের গ্রন্থাবলিতে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে তীব্র মতানৈক্য বিদ্যমান, এমনভাবে যে, একজন পাঠক তাদের কোনো গ্রন্থকারের বক্তব্যই মাযহাবের চূড়ান্ত মত হিসেবে নিশ্চিত হতে পারে না, যতক্ষণ না সে মাযহাবের অধিকাংশ প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করে। এই কারণে, আমি কোনো 'কওল' (উক্তি), 'ওয়াজহ' (দৃষ্টিভঙ্গি) অথবা 'নাকল' (বর্ণনা) বাদ দেব না, যদিও তা যঈফ (দুর্বল) বা ওয়াহী (অত্যন্ত দুর্বল) হয়, বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় যখনই তা পাব, তখনই উল্লেখ করব, এর 'রুজহান' (প্রাধান্য) স্পষ্ট করার সাথে।
* যখন কোনো হাদীস সহীহ বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তা'আলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উভয়ের মধ্যে অথবা তাদের কোনো একটিতে থাকবে, তখন আমি কেবল তাদের দিকেই এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব। তাদের সাথে অন্য কারো দিকে এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব না, তবে কদাচিৎ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কিছু স্থানে তা করতে পারি। কারণ যা তাদের উভয়ের মধ্যে অথবা তাদের কোনো একটিতে বিদ্যমান, তা অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে শক্তিশালী করার প্রয়োজন থেকে মুক্ত।
* আর যা তাদের কোনো একটিতেও নেই, তা আমি সুন্নাহর গ্রন্থাবলি ও অন্যান্য যা সহজলভ্য হবে, সেগুলোর দিকে অথবা সেগুলোর কোনো কোনোটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করব। অতঃপর যখন তা সুনানে আবি দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী-তে থাকবে, যা ইসলামের পাঁচটি মূল গ্রন্থের পূর্ণতা বিধান করে, অথবা সেগুলোর কোনো একটিতে থাকবে, তখন আমি কেবল সেগুলোর দিকেই এর সম্বন্ধ উল্লেখ করব। আর যা এগুলোর বাইরে থাকবে, তা আমি আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় সহজলভ্য যে কোনো গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করব, এর সহীহ বা যঈফ হওয়া স্পষ্ট করে। এবং যখন হাদীস যঈফ হবে, আমি এর দুর্বলতা স্পষ্ট করব এবং এর দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করব, যদি এর বর্ণনা দীর্ঘ না হয়। আর যখন যঈফ হাদীসটি এমন হবে যা গ্রন্থকার দলীল হিসেবে পেশ করেছেন অথবা আমাদের শাফি'ঈ মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরাম যার উপর নির্ভর করেছেন, তখন আমি এর দুর্বলতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করব। অতঃপর মাযহাবের জন্য হাদীস থেকে দলীল উল্লেখ করব, যদি তা পাই; অন্যথায় কিয়াস (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) ও অন্যান্য উৎস থেকে (দলীল উল্লেখ করব)।
* এবং আমি এতে কিতাবে উল্লিখিত ভাষাগত শব্দাবলি, সাহাবীগণ ও অন্যান্য উলামা, বর্ণনাকারী ও রাবীদের নামসমূহ স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো বিস্তারিতভাবে এবং কখনো সংক্ষেপে স্পষ্ট করব। আর আমি এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছি, যার নাম দিয়েছি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত'। আমি তাতে ইমাম আবুল কাসিম আর-রাফি'ঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর 'শারহুল ওয়াজিজ' থেকে সংক্ষিপ্ত করা 'রওযা' এবং 'মুখতাসারুল মুযানী', 'আল-মুহাযযাব', 'আল-ওয়াসীত', 'আত-তানবীহ' ও 'আল-ওয়াজিজ' - এই ছয়টি কিতাবের সাথে সম্পর্কিত আরবি ও অনারবি শব্দাবলি, নামসমূহ, সংজ্ঞা, শর্তাবলি, মূলনীতি ও নিয়মাবলি এবং এগুলোর কোনোটিতে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়াদি একত্রিত করেছি। এবং কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী এর মতো গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। সুতরাং যা এখানে প্রয়োজনের তাগিদে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি সেটিকে ওই গ্রন্থের দিকে নির্দেশ করব। এবং আমি এতে সতর্কতামূলক বিষয়াবলি ও সার্বিক নিয়মাবলি স্পষ্ট করব।
* আর আহকাম (বিধানাবলি) হলো এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য, তাই আমি সহজতম বাক্যবিন্যাসে সেগুলোর ব্যাখ্যায় সবিশেষ যত্নবান হব। এবং মূল কিতাবে বিদ্যমান মাসআলার শাখা-প্রশাখা, পরিপূরক বিষয়াবলি, উত্তম সংযোজনসমূহ, সুবিন্যস্ত মূলনীতিসমূহ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলির সাথে আমি এমন বিষয়াদি যোগ করব, যা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও যত্নশীল ব্যক্তিদের এবং ভ্রান্তি ও অজ্ঞতার কলুষতা থেকে মুক্তদের চোখকে শীতল করবে। অতঃপর এই সংযোজনসমূহের কিছু আমি গ্রন্থকারের আলোচনার মাঝে উল্লেখ করব এবং কিছু অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের শেষে উল্লেখ করব। এবং আমি স্পষ্ট করব যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন এবং যার উপর আমাদের মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরাম একমত হয়েছেন, এবং যা অধিকাংশ উলামা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, এবং যা তিনি এককভাবে বলেছেন অথবা অধিকাংশ উলামা তাঁর বিরোধিতা করেছেন। এই প্রকারের বিষয়াদি খুবই কম। এবং আমি এতে গ্রন্থকারের উপর হাদীস, নাম, ভাষাগত শব্দাবলি এবং জটিল মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো স্পষ্ট করব, সন্তোষজনক উত্তর থাকলে তার উত্তরসহ।
* অনুরূপভাবে, আমি এতে ইমাম আবি ইবরাহীম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানী (রহ.)-এর 'মুখতাসার' গ্রন্থে, ইমাম আবি হামিদ আল-গাযালী (রহ.)-এর 'আল-ওয়াসীত' গ্রন্থে এবং গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী)-এর 'আত-তানবীহ' গ্রন্থে যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ স্পষ্ট করব, সম্ভব হলে সেগুলোর উত্তরসহ। কারণ সেগুলোর প্রয়োজন 'আল-মুহাযযাব'-এর প্রয়োজনের মতোই। এবং আমি এতে দুটি 'কওল' (উক্তি), দুটি 'ওয়াজহ' (দৃষ্টিভঙ্গি), দুটি 'তারীক' (পদ্ধতি) এবং একাধিক 'আকওয়াল' (উক্তি), 'আওজুহ' (দৃষ্টিভঙ্গি) ও 'তুরুক' (পদ্ধতি)-এর মধ্যে কোনটি 'রাজ়েহ' (প্রাধান্যপ্রাপ্ত) তা স্পষ্ট করার অঙ্গীকার করছি, যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেননি অথবা উল্লেখ করেছেন এবং ফুকাহায়ে কেরাম তাঁর সাথে একমত হয়েছেন অথবা তাঁর বিরোধিতা করেছেন।
* জেনে রাখুন, মাযহাবের গ্রন্থাবলিতে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে তীব্র মতানৈক্য বিদ্যমান, এমনভাবে যে, একজন পাঠক তাদের কোনো গ্রন্থকারের বক্তব্যই মাযহাবের চূড়ান্ত মত হিসেবে নিশ্চিত হতে পারে না, যতক্ষণ না সে মাযহাবের অধিকাংশ প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করে। এই কারণে, আমি কোনো 'কওল' (উক্তি), 'ওয়াজহ' (দৃষ্টিভঙ্গি) অথবা 'নাকল' (বর্ণনা) বাদ দেব না, যদিও তা যঈফ (দুর্বল) বা ওয়াহী (অত্যন্ত দুর্বল) হয়, বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় যখনই তা পাব, তখনই উল্লেখ করব, এর 'রুজহান' (প্রাধান্য) স্পষ্ট করার সাথে।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مَا كَانَ رَاجِحًا وَتَضْعِيفِ مَا كَانَ ضَعِيفًا وَتَزْيِيفِ مَا كَانَ زَائِفًا وَالْمُبَالَغَةِ فِي تَغْلِيطِ قَائِلِهِ وَلَوْ كَانَ مِنْ الْأَكَابِرِ: وَإِنَّمَا أَقْصِدُ بِذَلِكَ التَّحْذِيرَ مِنْ الِاغْتِرَارِ بِهِ: وَأَحْرِصُ عَلَى تَتَبُّعِ كُتُبِ الْأَصْحَابِ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتَأَخِّرِينَ إلَى زَمَانِي مِنْ الْمَبْسُوطَاتِ وَالْمُخْتَصَرَاتِ: وَكَذَلِكَ نُصُوصُ الْإِمَامِ الشَّافِعِيِّ صَاحِبِ الْمَذْهَبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَنْقُلُهَا من نفس كتبه المتيسرة عندي كالامام وَالْمُخْتَصَرِ وَالْبُوَيْطِيِّ وَمَا نَقَلَهُ الْمُفْتُونَ الْمُعْتَمَدُونَ مِنْ الْأَصْحَابِ: وَكَذَلِكَ أَتَتَبَّعُ فَتَاوَى الْأَصْحَابِ وَمُتَفَرِّقَاتِ كَلَامِهِمْ فِي الْأُصُولِ وَالطَّبَقَاتِ وَشُرُوحِهِمْ لِلْحَدِيثِ وَغَيْرِهَا وَحَيْثُ أَنْقُلُ حُكْمًا أَوْ قَوْلًا أَوْ وَجْهًا أَوْ طَرِيقًا أَوْ لَفْظَةَ لُغَةٍ أَوْ اسْمَ رَجُلٍ أَوْ حَالَةً أَوْ ضَبْطَ لَفْظَةٍ أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ وَهُوَ مِنْ الْمَشْهُورِ أَقْتَصِرُ عَلَى ذِكْرِهِ مِنْ غَيْرِ تَعْيِينِ قَائِلِيهِ لِكَثْرَتِهِمْ إلَّا أَنْ أُضْطَرَّ إلَى بَيَانِ قَائِلِيهِ لِغَرَضٍ مُهِمٍّ فَأَذْكُرُ جَمَاعَةً مِنْهُمْ ثُمَّ أَقُولُ وَغَيْرُهُمْ وَحَيْثُ كَانَ مَا أَنْقُلُهُ غَرِيبًا أُضِيفُهُ إلَى قَائِلِهِ فِي الْغَالِبِ وَقَدْ أُذْهَلُ عَنْهُ فِي بَعْضِ الْمَوَاطِنِ: وَحَيْثُ أَقُولُ الَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ كَذَا أَوْ الَّذِي عَلَيْهِ الْمُعْظَمُ أَوْ قَالَ الْجُمْهُورُ أَوْ الْمُعْظَمُ أَوْ الْأَكْثَرُونَ كَذَا ثُمَّ أَنْقُلُ عَنْ جَمَاعَةٍ خِلَافَ ذَلِكَ فَهُوَ كَمَا أَذْكُرُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى: وَلَا يَهُولَنَّك كَثْرَةُ مَنْ أَذْكُرُهُ فِي بَعْضِ الْمَوَاضِعِ عَلَى خِلَافِ الْجُمْهُورِ أَوْ خِلَافِ الْمَشْهُورِ أَوْ الْأَكْثَرِينَ وَنَحْوِ ذَلِكَ فَإِنِّي إنَّمَا أَتْرُكُ تَسْمِيَةَ الْأَكْثَرِينَ لِعِظَمِ كَثْرَتِهِمْ كَرَاهَةً لِزِيَادَةِ التَّطْوِيلِ وَقَدْ أَكْثَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى وَلَهُ الْحَمْدُ وَالنِّعْمَةُ كُتُبَ الْأَصْحَابِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْعُلَمَاءِ مِنْ مَبْسُوطٍ وَمُخْتَصَرٍ وَغَرِيبٍ وَمَشْهُورٍ: وَسَتَرَى مِنْ ذَلِكَ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي هَذَا الْكِتَابِ مَا تَقَرُّ بِهِ عَيْنُكَ وَيَزِيدُ رَغْبَتَك فِي الِاشْتِغَالِ وَالْمُطَالَعَةِ وَتَرَى كُتُبًا وَأَئِمَّةً قَلَّمَا طَرَقُوا سَمْعَكَ وَقَدْ أَذْكُرُ الْجُمْهُورَ بِأَسْمَائِهِمْ فِي نَادِرٍ مِنْ الْمَوَاضِعِ لِضَرُورَةٍ تَدْعُو إلَيْهِمْ وَقَدْ أُنَبِّهُ عَلَى تِلْكَ الضَّرُورَةِ
* وَأَذْكُرُ فِي هَذَا الْكِتَابِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَذَاهِبَ السَّلَفِ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ فَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ بِأَدِلَّتِهَا مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ: وَأُجِيبُ عَنْهَا مَعَ الْإِنْصَافِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَأَبْسُطُ الْكَلَامَ فِي الْأَدِلَّةِ فِي بَعْضِهَا وَأَخْتَصِرُهُ فِي بَعْضِهَا بِحَسْبِ كَثْرَةِ الْحَاجَةِ إلَى تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ وَقِلَّتِهَا وَأَعْرِضُ فِي جَمِيعِ ذَلِكَ عَنْ الْأَدِلَّةِ الْوَاهِيَةِ وَإِنْ كَانَتْ مَشْهُورَةً:
فَإِنَّ الْوَقْتَ يَضِيقُ عَنْ الْمُهِمَّاتِ: فَكَيْفَ يَضِيعُ فِي الْمُنْكَرَاتِ وَالْوَاهِيَاتِ: وَإِنْ ذَكَرْتُ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ عَلَى نُدُورٍ نَبَّهْتُ عَلَى ضَعْفِهِ
* وَاعْلَمْ أَنَّ مَعْرِفَةَ مَذَاهِبِ السَّلَفِ بِأَدِلَّتِهَا مِنْ أَهَمِّ مَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ لِأَنَّ اخْتِلَافَهُمْ فِي الْفُرُوعِ رَحْمَةٌ وَبِذِكْرِ مَذَاهِبِهِمْ بِأَدِلَّتِهَا يَعْرِفُ الْمُتَمَكِّنُ الْمَذَاهِبَ عَلَى وَجْهِهَا وَالرَّاجِحَ مِنْ الْمَرْجُوحِ وَيَتَّضِحُ لَهُ وَلِغَيْرِهِ الْمُشْكِلَاتُ: وَتَظْهَرُ الْفَوَائِدُ النَّفِيسَاتُ: وَيَتَدَرَّبُ النَّاظِرُ فِيهَا بِالسُّؤَالِ والجواب: ويفتح ذِهْنُهُ وَيَتَمَيَّزُ عِنْدَ ذَوِي الْبَصَائِرِ وَالْأَلْبَابِ: وَيَعْرِفُ الْأَحَادِيثَ الصَّحِيحَةَ مِنْ الضَّعِيفَةِ وَالدَّلَائِلَ الرَّاجِحَةَ مِنْ الْمَرْجُوحَةِ وَيَقُومُ بِالْجَمْعِ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَعَارِضَاتِ وَالْمَعْمُولِ بظاهرها من المؤولاات وَلَا يُشْكِلُ عَلَيْهِ إلَّا أَفْرَادٌ مِنْ النَّادِرِ: وَأَكْثَرُ مَا أَنْقُلُهُ مِنْ مَذَاهِبِ الْعُلَمَاءِ مِنْ كِتَابِ الْإِشْرَافِ وَالْإِجْمَاعِ لِابْنِ الْمُنْذِرِ وَهُوَ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْذِرِ النَّيْسَابُورِيُّ الشَّافِعِيُّ الْقُدْوَةُ فِي هَذَا الْفَنِّ وَمِنْ كُتُبِ أَصْحَابِ أَئِمَّةِ الْمَذَاهِبِ وَلَا أَنْقُلُ مِنْ كُتُبِ أَصْحَابِنَا مِنْ ذَلِكَ إلَّا الْقَلِيلَ لِأَنَّهُ وَقَعَ فِي كَثِيرٍ
* وَأَذْكُرُ فِي هَذَا الْكِتَابِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَذَاهِبَ السَّلَفِ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ فَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ بِأَدِلَّتِهَا مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ: وَأُجِيبُ عَنْهَا مَعَ الْإِنْصَافِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَأَبْسُطُ الْكَلَامَ فِي الْأَدِلَّةِ فِي بَعْضِهَا وَأَخْتَصِرُهُ فِي بَعْضِهَا بِحَسْبِ كَثْرَةِ الْحَاجَةِ إلَى تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ وَقِلَّتِهَا وَأَعْرِضُ فِي جَمِيعِ ذَلِكَ عَنْ الْأَدِلَّةِ الْوَاهِيَةِ وَإِنْ كَانَتْ مَشْهُورَةً:
فَإِنَّ الْوَقْتَ يَضِيقُ عَنْ الْمُهِمَّاتِ: فَكَيْفَ يَضِيعُ فِي الْمُنْكَرَاتِ وَالْوَاهِيَاتِ: وَإِنْ ذَكَرْتُ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ عَلَى نُدُورٍ نَبَّهْتُ عَلَى ضَعْفِهِ
* وَاعْلَمْ أَنَّ مَعْرِفَةَ مَذَاهِبِ السَّلَفِ بِأَدِلَّتِهَا مِنْ أَهَمِّ مَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ لِأَنَّ اخْتِلَافَهُمْ فِي الْفُرُوعِ رَحْمَةٌ وَبِذِكْرِ مَذَاهِبِهِمْ بِأَدِلَّتِهَا يَعْرِفُ الْمُتَمَكِّنُ الْمَذَاهِبَ عَلَى وَجْهِهَا وَالرَّاجِحَ مِنْ الْمَرْجُوحِ وَيَتَّضِحُ لَهُ وَلِغَيْرِهِ الْمُشْكِلَاتُ: وَتَظْهَرُ الْفَوَائِدُ النَّفِيسَاتُ: وَيَتَدَرَّبُ النَّاظِرُ فِيهَا بِالسُّؤَالِ والجواب: ويفتح ذِهْنُهُ وَيَتَمَيَّزُ عِنْدَ ذَوِي الْبَصَائِرِ وَالْأَلْبَابِ: وَيَعْرِفُ الْأَحَادِيثَ الصَّحِيحَةَ مِنْ الضَّعِيفَةِ وَالدَّلَائِلَ الرَّاجِحَةَ مِنْ الْمَرْجُوحَةِ وَيَقُومُ بِالْجَمْعِ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَعَارِضَاتِ وَالْمَعْمُولِ بظاهرها من المؤولاات وَلَا يُشْكِلُ عَلَيْهِ إلَّا أَفْرَادٌ مِنْ النَّادِرِ: وَأَكْثَرُ مَا أَنْقُلُهُ مِنْ مَذَاهِبِ الْعُلَمَاءِ مِنْ كِتَابِ الْإِشْرَافِ وَالْإِجْمَاعِ لِابْنِ الْمُنْذِرِ وَهُوَ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْذِرِ النَّيْسَابُورِيُّ الشَّافِعِيُّ الْقُدْوَةُ فِي هَذَا الْفَنِّ وَمِنْ كُتُبِ أَصْحَابِ أَئِمَّةِ الْمَذَاهِبِ وَلَا أَنْقُلُ مِنْ كُتُبِ أَصْحَابِنَا مِنْ ذَلِكَ إلَّا الْقَلِيلَ لِأَنَّهُ وَقَعَ فِي كَثِيرٍ
যা প্রাধান্যপ্রাপ্ত (রাজেহ) তাকে প্রাধান্য দেওয়া, যা দুর্বল (দাইফ) তাকে দুর্বল প্রমাণ করা, যা ত্রুটিপূর্ণ (যাইফ) তাকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা এবং এর প্রবক্তার ভুলকে জোরালোভাবে তুলে ধরা, যদিও তিনি বড় মাপের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো, এ ধরনের মতামতের দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে সতর্ক করা। আমি শাফি'ঈ মাযহাবের অনুসারী আলেমগণের (আসহাব) কিতাবসমূহ অনুসরণ করতে সচেষ্ট থাকি, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের, আমার সময় পর্যন্ত, বিস্তারিত (মাবসূতাত) ও সংক্ষিপ্ত (মুখতাসারাত) উভয় প্রকারের। অনুরূপভাবে, মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম শাফি'ঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মূল বক্তব্যসমূহ (নুসূস) আমি তাঁর নিজের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করি, যা আমার কাছে সহজলভ্য, যেমন 'আল-উম্ম', 'আল-মুখতাসার' এবং 'আল-বুওয়াইতী'। এবং শাফি'ঈ মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মুফতি আলেমগণ (আসহাব) যা বর্ণনা করেছেন তাও (উদ্ধৃত করি)। তেমনিভাবে, আমি শাফি'ঈ আলেমগণের ফাতওয়া এবং উসূল (নীতিশাস্ত্র), তাবাকাত (স্তরবিন্যাস), হাদীসের ব্যাখ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের বিক্ষিপ্ত আলোচনা অনুসরণ করি। যখন আমি কোনো বিধান (হুকুম), মত (কওল), অভিমত (ওয়াজহ), পদ্ধতি (তারীক), আভিধানিক শব্দ (লুগাতান), কোনো ব্যক্তির নাম, অবস্থা, শব্দের সঠিক উচ্চারণ (দাবত) অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু উদ্ধৃত করি এবং তা যদি প্রসিদ্ধ (মাশহুর) হয়, তবে আমি কেবল তা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, এর প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করি না, কারণ তাদের সংখ্যা অনেক। তবে যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে তাদের প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করতে বাধ্য হই, তখন তাদের একটি দলকে উল্লেখ করি এবং তারপর বলি, 'এবং অন্যান্যরা'। আর যখন আমি যা উদ্ধৃত করি তা অপরিচিত (গরীব) হয়, তখন সাধারণত আমি তা তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি। তবে কিছু ক্ষেত্রে আমি তা ভুলে যেতে পারি। আর যখন আমি বলি, 'জুমহুর (অধিকাংশ)-এর উপর এই মত', অথবা 'অধিকাংশের (মু'জাম) উপর এই মত', অথবা 'জুমহুর বা অধিকাংশ বা বেশিরভাগ আলেম (আকছারুন) এই কথা বলেছেন', তারপর যদি আমি একটি দলের থেকে এর বিপরীত মত (খিলাফ) উদ্ধৃত করি, তবে ইনশাআল্লাহ তা'আলা আমি যেমন উল্লেখ করেছি তেমনই হবে। কিছু স্থানে আমি জুমহুর (অধিকাংশ), মাশহুর (প্রসিদ্ধ) বা আকছারীন (বেশিরভাগ)-এর মতের বিপরীত যাদের উল্লেখ করি, তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আপনাকে ভীত না করে। কারণ আমি কেবল দীর্ঘায়িত হওয়ার অপছন্দ হেতু অধিকাংশের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকি, তাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা, যার জন্য সকল প্রশংসা ও নেয়ামত, শাফি'ঈ আলেমগণ (আসহাব) এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহকে প্রচুর পরিমাণে করেছেন; বিস্তারিত (মাবসূত), সংক্ষিপ্ত (মুখতাসার), অপরিচিত (গরীব) এবং প্রসিদ্ধ (মাশহুর) উভয় প্রকারের। ইনশাআল্লাহ তা'আলা, এই কিতাবে আপনি এমন কিছু দেখতে পাবেন যা আপনার চোখকে শীতল করবে এবং ইলম চর্চা ও অধ্যয়নের প্রতি আপনার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এবং আপনি এমন কিতাব ও ইমামদের দেখতে পাবেন যাদের নাম আপনার কানে খুব কমই এসেছে। এবং কিছু বিরল ক্ষেত্রে, প্রয়োজনের তাগিদে আমি জুমহুর (অধিকাংশ)-এর নাম উল্লেখ করতে পারি। এবং আমি সেই প্রয়োজনের প্রতিও ইঙ্গিত দিতে পারি।
* ইনশাআল্লাহ তা'আলা, এই কিতাবে আমি সালাফদের মাযহাবসমূহ উল্লেখ করব, সাহাবীগণ, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী বিভিন্ন শহরের ফকীহগণ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সহ, কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা' (ঐকমত্য) এবং কিয়াস (উপমা)-এর দলীলসহ। ইনশাআল্লাহ তা'আলা, আমি ন্যায়পরায়ণতার সাথে সেগুলোর জবাব দেব। এবং কিছু ক্ষেত্রে আমি দলীলসমূহের আলোচনা বিস্তারিত করব, আবার কিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত করব, সেই মাসআলার প্রয়োজনীয়তার আধিক্য বা স্বল্পতা অনুসারে। এবং এই সব আলোচনায় আমি দুর্বল (ওয়াহিয়াহ) দলীলসমূহ থেকে বিরত থাকব, যদিও সেগুলো প্রসিদ্ধ হয়। কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির জন্য সময়ই সংকীর্ণ, তাহলে কীভাবে তা আপত্তিকর ও দুর্বল বিষয়াদিতে নষ্ট করা যেতে পারে? আর যদি আমি বিরলভাবে এমন কিছু উল্লেখ করি, তবে তার দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত দেব।
* জেনে রাখুন, সালাফদের মাযহাবসমূহ তাদের দলীলসহ জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ ফুরু' (শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য রহমতস্বরূপ। তাদের মাযহাবসমূহ দলীলসহ উল্লেখ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞ ব্যক্তি মাযহাবগুলোকে সঠিকভাবে জানতে পারে এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত (রাজেহ) ও অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (মারজুহ) মতের পার্থক্য করতে পারে। এতে তার ও অন্যদের জন্য জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মূল্যবান উপকারিতা প্রকাশ পায়, অধ্যয়নকারী প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে অনুশীলন করতে পারে, তার মন উন্মুক্ত হয় এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বুদ্ধিমানদের কাছে সে স্বতন্ত্রতা লাভ করে। এবং সে সহীহ হাদীসকে দুর্বল হাদীস থেকে, প্রাধান্যপ্রাপ্ত দলীলকে অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত দলীল থেকে চিনতে পারে। সে পরস্পর বিরোধী হাদীসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং ব্যাখ্যাকৃত (মুআওওয়ালাত) হাদীস থেকে বাহ্যিক অর্থের উপর আমলযোগ্য হাদীসকে পৃথক করতে পারে। খুব কমই কোনো বিরল বিষয় ছাড়া অন্য কিছু তার কাছে জটিল মনে হয় না। আমি উলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহ থেকে যা উদ্ধৃত করি, তার বেশিরভাগই ইবনুল মুনযির-এর 'আল-ইশরাফ' ও 'আল-ইজমা'' নামক কিতাব থেকে। তিনি হলেন ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম ইবনুল মুনযির আন-নায়সাবুরী আশ-শাফি'ঈ, যিনি এই ফনে (বিষয়ে) একজন আদর্শ। এবং (আমি উদ্ধৃত করি) মাযহাবের ইমামদের অনুসারীদের কিতাবসমূহ থেকেও। তবে আমাদের (শাফি'ঈ) অনুসারীদের কিতাব থেকে এ বিষয়ে (অর্থাৎ, অন্যান্য মাযহাবের মতামতের ক্ষেত্রে) খুব কমই উদ্ধৃত করি, কারণ (আমাদের মাযহাবের বিবরণ) এই কিতাবের অনেক স্থানেই বিস্তারিতভাবে এসেছে।
* ইনশাআল্লাহ তা'আলা, এই কিতাবে আমি সালাফদের মাযহাবসমূহ উল্লেখ করব, সাহাবীগণ, তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী বিভিন্ন শহরের ফকীহগণ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সহ, কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা' (ঐকমত্য) এবং কিয়াস (উপমা)-এর দলীলসহ। ইনশাআল্লাহ তা'আলা, আমি ন্যায়পরায়ণতার সাথে সেগুলোর জবাব দেব। এবং কিছু ক্ষেত্রে আমি দলীলসমূহের আলোচনা বিস্তারিত করব, আবার কিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত করব, সেই মাসআলার প্রয়োজনীয়তার আধিক্য বা স্বল্পতা অনুসারে। এবং এই সব আলোচনায় আমি দুর্বল (ওয়াহিয়াহ) দলীলসমূহ থেকে বিরত থাকব, যদিও সেগুলো প্রসিদ্ধ হয়। কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির জন্য সময়ই সংকীর্ণ, তাহলে কীভাবে তা আপত্তিকর ও দুর্বল বিষয়াদিতে নষ্ট করা যেতে পারে? আর যদি আমি বিরলভাবে এমন কিছু উল্লেখ করি, তবে তার দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত দেব।
* জেনে রাখুন, সালাফদের মাযহাবসমূহ তাদের দলীলসহ জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ ফুরু' (শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য রহমতস্বরূপ। তাদের মাযহাবসমূহ দলীলসহ উল্লেখ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞ ব্যক্তি মাযহাবগুলোকে সঠিকভাবে জানতে পারে এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত (রাজেহ) ও অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (মারজুহ) মতের পার্থক্য করতে পারে। এতে তার ও অন্যদের জন্য জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মূল্যবান উপকারিতা প্রকাশ পায়, অধ্যয়নকারী প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে অনুশীলন করতে পারে, তার মন উন্মুক্ত হয় এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বুদ্ধিমানদের কাছে সে স্বতন্ত্রতা লাভ করে। এবং সে সহীহ হাদীসকে দুর্বল হাদীস থেকে, প্রাধান্যপ্রাপ্ত দলীলকে অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত দলীল থেকে চিনতে পারে। সে পরস্পর বিরোধী হাদীসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং ব্যাখ্যাকৃত (মুআওওয়ালাত) হাদীস থেকে বাহ্যিক অর্থের উপর আমলযোগ্য হাদীসকে পৃথক করতে পারে। খুব কমই কোনো বিরল বিষয় ছাড়া অন্য কিছু তার কাছে জটিল মনে হয় না। আমি উলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহ থেকে যা উদ্ধৃত করি, তার বেশিরভাগই ইবনুল মুনযির-এর 'আল-ইশরাফ' ও 'আল-ইজমা'' নামক কিতাব থেকে। তিনি হলেন ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম ইবনুল মুনযির আন-নায়সাবুরী আশ-শাফি'ঈ, যিনি এই ফনে (বিষয়ে) একজন আদর্শ। এবং (আমি উদ্ধৃত করি) মাযহাবের ইমামদের অনুসারীদের কিতাবসমূহ থেকেও। তবে আমাদের (শাফি'ঈ) অনুসারীদের কিতাব থেকে এ বিষয়ে (অর্থাৎ, অন্যান্য মাযহাবের মতামতের ক্ষেত্রে) খুব কমই উদ্ধৃত করি, কারণ (আমাদের মাযহাবের বিবরণ) এই কিতাবের অনেক স্থানেই বিস্তারিতভাবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مِنْ ذَلِكَ مَا يُنْكِرُونَهُ: وَإِذَا مَرَرْتُ بِاسْمِ أَحَدٍ (1) مِنْ أَصْحَابِنَا أَصْحَابِ الْوُجُوهِ أَوْ غَيْرِهِمْ أَشَرْتُ إلَى بَيَانِ اسْمِهِ وَكُنْيَتِهِ وَنَسَبِهِ وَرُبَّمَا ذَكَرْتُ مَوْلِدَهُ وَوَفَاتَهُ وَرُبَّمَا ذَكَرْتُ طَرَفًا مِنْ مَنَاقِبِهِ: وَالْمَقْصُودُ بِذَلِكَ التَّنْبِيهُ عَلَى جَلَالَتِهِ: وَإِذَا كَانَتْ الْمَسْأَلَةُ أَوْ الْحَدِيثُ أَوْ الِاسْمُ أَوْ اللَّفْظَةُ أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ لَهُ مَوْضِعَانِ يَلِيقُ ذِكْرُهُ فِيهِمَا ذَكَرْتُهُ فِي أَوَّلِهِمَا فَإِنْ وَصَلْتُ إلَى الثَّانِي نَبَّهْتُ عَلَى أَنَّهُ تَقَدَّمَ فِي الْمَوْضِعِ الْفُلَانِيِّ: وَأُقَدِّمُ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ أَبْوَابًا وَفُصُولًا تَكُونُ لِصَاحِبِهِ قَوَاعِدَ وَأُصُولًا: أَذْكُرُ فِيهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ نَسَبَ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَأَطْرَافًا مِنْ أَحْوَالِهِ وَأَحْوَالِ الْمُصَنِّفِ الشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ رَحِمَهُ اللَّهُ وَفَضْلَ الْعِلْمِ وَبَيَانَ أَقْسَامِهِ وَمُسْتَحِقِّي فَضْلِهِ وَآدَابَ الْعَالِمِ وَالْمُعَلِّمِ وَالْمُتَعَلِّمِ: وَأَحْكَامَ الْمُفْتِي وَالْمُسْتَفْتِي وَصِفَةَ الْفَتْوَى وَآدَابَهَا وَبَيَانَ الْقَوْلَيْنِ وَالْوَجْهَيْنِ وَالطَّرِيقَيْنِ وَمَاذَا يَعْمَلُ الْمُفْتِي الْمُقَلِّدُ فِيهَا: وَبَيَانَ صَحِيحِ الْحَدِيثِ وَحَسَنِهِ وَضَعِيفِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مما يتعلق به كاختصار الحديث: وزيادة الثقاة: وَاخْتِلَافِ الرُّوَاةِ فِي رَفْعِهِ وَوَقْفِهِ وَوَصْلِهِ وَإِرْسَالِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ: وَبَيَانَ الْإِجْمَاعِ وَأَقْوَالِ الصَّحَابَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ: وَبَيَانَ الْحَدِيثِ الْمُرْسَلِ وَتَفْصِيلِهِ: وَبَيَانَ حُكْمِ قَوْلِ الصَّحَابَةِ أُمِرْنَا بِكَذَا أَوْ نَحْوِهِ: وَبَيَانَ حُكْمِ الْحَدِيثِ الَّذِي نَجِدُهُ يُخَالِفُ نَصَّ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَبَيَانَ جُمْلَةٍ مِنْ ضَبْطِ الْأَسْمَاءِ الْمُتَكَرِّرَةِ أَوْ غَيْرِهَا كَالرَّبِيعِ الْمُرَادِيِّ وَالْجِيزِيِّ وَالْقَفَّالِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* ثُمَّ إنِّي أُبَالِغُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي إيضَاحِ جَمِيعِ مَا أَذْكُرُهُ فِي هَذَا الْكِتَابِ وَإِنْ أَدَّى إلَى التَّكْرَارِ وَلَوْ كَانَ وَاضِحًا مَشْهُورًا وَلَا أَتْرُكُ الْإِيضَاحَ وَإِنْ أَدَّى إلَى التَّطْوِيلِ بِالتَّمْثِيلِ.
وَإِنَّمَا أَقْصِدُ بِذَلِكَ النَّصِيحَةَ وَتَيْسِيرَ الطَّرِيقِ إلَى فَهْمِهِ فَهَذَا هُوَ مَقْصُودُ الْمُصَنِّفِ النَّاصِحِ: وَقَدْ كُنْتُ جَمَعْتُ هَذَا الشَّرْحَ مَبْسُوطًا جِدًّا بِحَيْثُ بَلَغَ إلَى آخِرِ بَابِ الْحَيْضِ ثَلَاثَ مجلدات ضخمات ثم رأيت الِاسْتِمْرَارَ عَلَى هَذَا الْمِنْهَاجِ يُؤَدِّي إلَى سَآمَةِ مُطَالِعِهِ: وَيَكُونُ سَبَبًا لِقِلَّةِ الِانْتِفَاعِ بِهِ لِكَثْرَتِهِ.
وَالْعَجْزِ عَنْ تَحْصِيلِ نُسْخَةٍ مِنْهُ فَتَرَكْتُ ذَلِكَ الْمِنْهَاجَ فَأَسْلُكُ الْآنَ طَرِيقَةً مُتَوَسِّطَةً إنْ شَاءَ الله تعالى لا من المطولات المملات: وَلَا مِنْ الْمُخْتَصَرَاتِ الْمُخِلَّاتِ: وَأَسْلُكُ (2) فِيهِ أَيْضًا مَقْصُودًا صَحِيحًا وَهُوَ أَنَّ مَا كَانَ مِنْ الْأَبْوَابِ الَّتِي لَا يَعُمُّ الِانْتِفَاعُ بِهَا لَا أَبْسُطُ الْكَلَامَ فِيهَا لِقِلَّةِ الِانْتِفَاعِ بِهَا وَذَلِكَ كَكِتَابِ اللِّعَانِ وَعَوِيصِ الْفَرَائِضِ وَشَبَهِ ذَلِكَ لَكِنْ لَا بُدَّ مِنْ ذِكْرِ مَقَاصِدِهَا
* وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ وَإِنْ سَمَّيْتُهُ شَرْحَ الْمُهَذَّبِ فَهُوَ شَرْحٌ لِلْمَذْهَبِ كُلِّهِ بَلْ لِمَذَاهِبِ الْعُلَمَاءِ كُلِّهِمْ وللحديث وجعل من اللغة والتاربخ وَالْأَسْمَاءِ وَهُوَ أَصْلٌ عَظِيمٌ فِي مَعْرِفَةِ صَحِيحِ الْحَدِيثِ وَحَسَنِهِ وَضَعِيفِهِ: وَبَيَانِ عِلَلِهِ وَالْجَمْعِ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَعَارِضَاتِ.
وَتَأْوِيلِ الْخَفِيَّاتِ. وَاسْتِنْبَاطِ الْمُهِمَّاتِ.
وَاسْتِمْدَادِي في كل ذلك وغيره اللطف والمعونة من الله الكريم الرؤوف الرَّحِيمِ وَعَلَيْهِ اعْتِمَادِي وَإِلَيْهِ تَفْوِيضِي وَاسْتِنَادِي: أَسْأَلُهُ سُلُوكَ سَبِيلِ الرَّشَادِ. وَالْعِصْمَةَ مِنْ أَحْوَالِ أَهْلِ الزَّيْغِ وَالْعِنَادِ. وَالدَّوَامَ عَلَى جَمِيعِ أَنْوَاعِ الْخَيْرِ فِي ازْدِيَادٍ. وَالتَّوْفِيقَ فِي الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ لِلصَّوَابِ.
وَالْجَرْيَ عَلَى آثَارِ ذَوِي الْبَصَائِرِ وَالْأَلْبَابِ. وَأَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ بِوَالِدَيْنَا وَمَشَايِخِنَا وَجَمِيعِ مَنْ نُحِبُّهُ وَيُحِبُّنَا وَسَائِرِ الْمُسْلِمِينَ إنَّهُ الْوَاسِعُ الْوَهَّابُ.
وَمَا تَوْفِيقِي إلَّا بِاَللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابٌ.
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاَللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
*
__________
(1) وفى نسخة بدل احد: رجل (2) وفي نسخة الاذرعى بدل اسلك أقصد وهو أوجه
* ثُمَّ إنِّي أُبَالِغُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي إيضَاحِ جَمِيعِ مَا أَذْكُرُهُ فِي هَذَا الْكِتَابِ وَإِنْ أَدَّى إلَى التَّكْرَارِ وَلَوْ كَانَ وَاضِحًا مَشْهُورًا وَلَا أَتْرُكُ الْإِيضَاحَ وَإِنْ أَدَّى إلَى التَّطْوِيلِ بِالتَّمْثِيلِ.
وَإِنَّمَا أَقْصِدُ بِذَلِكَ النَّصِيحَةَ وَتَيْسِيرَ الطَّرِيقِ إلَى فَهْمِهِ فَهَذَا هُوَ مَقْصُودُ الْمُصَنِّفِ النَّاصِحِ: وَقَدْ كُنْتُ جَمَعْتُ هَذَا الشَّرْحَ مَبْسُوطًا جِدًّا بِحَيْثُ بَلَغَ إلَى آخِرِ بَابِ الْحَيْضِ ثَلَاثَ مجلدات ضخمات ثم رأيت الِاسْتِمْرَارَ عَلَى هَذَا الْمِنْهَاجِ يُؤَدِّي إلَى سَآمَةِ مُطَالِعِهِ: وَيَكُونُ سَبَبًا لِقِلَّةِ الِانْتِفَاعِ بِهِ لِكَثْرَتِهِ.
وَالْعَجْزِ عَنْ تَحْصِيلِ نُسْخَةٍ مِنْهُ فَتَرَكْتُ ذَلِكَ الْمِنْهَاجَ فَأَسْلُكُ الْآنَ طَرِيقَةً مُتَوَسِّطَةً إنْ شَاءَ الله تعالى لا من المطولات المملات: وَلَا مِنْ الْمُخْتَصَرَاتِ الْمُخِلَّاتِ: وَأَسْلُكُ (2) فِيهِ أَيْضًا مَقْصُودًا صَحِيحًا وَهُوَ أَنَّ مَا كَانَ مِنْ الْأَبْوَابِ الَّتِي لَا يَعُمُّ الِانْتِفَاعُ بِهَا لَا أَبْسُطُ الْكَلَامَ فِيهَا لِقِلَّةِ الِانْتِفَاعِ بِهَا وَذَلِكَ كَكِتَابِ اللِّعَانِ وَعَوِيصِ الْفَرَائِضِ وَشَبَهِ ذَلِكَ لَكِنْ لَا بُدَّ مِنْ ذِكْرِ مَقَاصِدِهَا
* وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ وَإِنْ سَمَّيْتُهُ شَرْحَ الْمُهَذَّبِ فَهُوَ شَرْحٌ لِلْمَذْهَبِ كُلِّهِ بَلْ لِمَذَاهِبِ الْعُلَمَاءِ كُلِّهِمْ وللحديث وجعل من اللغة والتاربخ وَالْأَسْمَاءِ وَهُوَ أَصْلٌ عَظِيمٌ فِي مَعْرِفَةِ صَحِيحِ الْحَدِيثِ وَحَسَنِهِ وَضَعِيفِهِ: وَبَيَانِ عِلَلِهِ وَالْجَمْعِ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَعَارِضَاتِ.
وَتَأْوِيلِ الْخَفِيَّاتِ. وَاسْتِنْبَاطِ الْمُهِمَّاتِ.
وَاسْتِمْدَادِي في كل ذلك وغيره اللطف والمعونة من الله الكريم الرؤوف الرَّحِيمِ وَعَلَيْهِ اعْتِمَادِي وَإِلَيْهِ تَفْوِيضِي وَاسْتِنَادِي: أَسْأَلُهُ سُلُوكَ سَبِيلِ الرَّشَادِ. وَالْعِصْمَةَ مِنْ أَحْوَالِ أَهْلِ الزَّيْغِ وَالْعِنَادِ. وَالدَّوَامَ عَلَى جَمِيعِ أَنْوَاعِ الْخَيْرِ فِي ازْدِيَادٍ. وَالتَّوْفِيقَ فِي الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ لِلصَّوَابِ.
وَالْجَرْيَ عَلَى آثَارِ ذَوِي الْبَصَائِرِ وَالْأَلْبَابِ. وَأَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ بِوَالِدَيْنَا وَمَشَايِخِنَا وَجَمِيعِ مَنْ نُحِبُّهُ وَيُحِبُّنَا وَسَائِرِ الْمُسْلِمِينَ إنَّهُ الْوَاسِعُ الْوَهَّابُ.
وَمَا تَوْفِيقِي إلَّا بِاَللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابٌ.
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاَللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
*
__________
(1) وفى نسخة بدل احد: رجل (2) وفي نسخة الاذرعى بدل اسلك أقصد وهو أوجه
এর মধ্যে এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা (অন্যরা) আপত্তি করতে পারে: যখন আমি আমাদের উজুহপন্থি (১) বা অন্যান্য সাথীদের কারো নামের পাশ দিয়ে যাবো, তখন আমি তার নাম, কুনিয়াত (উপনাম) ও নসব (বংশপরিচয়) উল্লেখ করার দিকে ইঙ্গিত করবো। কখনো তার জন্ম ও ওফাতও উল্লেখ করবো এবং কখনো তার কিছু গুণাবলীও বর্ণনা করবো। এর উদ্দেশ্য হলো তার মহত্ত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
যদি কোনো মাসআলা, হাদিস, নাম, শব্দ বা এ ধরনের কোনো বিষয় এমন হয় যে, তা উল্লেখ করার জন্য দুটি উপযুক্ত স্থান রয়েছে, তবে আমি সেটিকে প্রথম স্থানে উল্লেখ করবো। এরপর যদি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছাই, তবে আমি সতর্ক করে দেবো যে, তা অমুক স্থানে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিতাবের শুরুতে আমি এমন কিছু অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ পেশ করবো যা পাঠকের জন্য কায়েদা (নীতি) ও উসূল (মূলনীতি) হিসেবে কাজ করবে। সেখানে ইনশাআল্লাহ আমি ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর বংশপরিচয় এবং তার জীবনের কিছু দিক উল্লেখ করবো। অনুরূপভাবে মূল গ্রন্থকার শায়খ আবু ইসহাক (রহ.)-এর জীবনবৃত্তান্ত, ইলমের ফযীলত, এর প্রকারভেদ, এর ফযীলতের হকদারগণ, আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদবসমূহ, মুফতি ও মুস্তাফতির আহকাম, ফাতওয়ার ধরণ ও আদবসমূহ, দুই কওল, দুই ওয়াজহ ও দুই ত্বরীকা (২) এবং এগুলোর ক্ষেত্রে মুকাল্লিদ মুফতির করণীয় কী, তা বর্ণনা করবো।
এছাড়াও সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদিসের ব্যাখ্যা এবং হাদিস সংক্ষিপ্তকরণ, ছিকাহ রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা, রাবীদের মধ্যে হাদিসকে মারফূ', মাওকূফ, মাওসূল ও মুরসাল রূপে বর্ণনা নিয়ে মতানৈক্য ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও উল্লেখ করবো। ইজমা' এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর উক্তি, মুরসাল হাদিসের ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ, সাহাবীদের 'আমাদেরকে অমুক বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' বা এ ধরনের উক্তির হুকুম, এবং যে হাদিস ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্যের (নস) বিরোধী পাওয়া যায়, তার হুকুমও বর্ণনা করবো।
পুনরাবৃত্ত বা অন্যান্য নামসমূহের কিছু ضبط (সঠিক উচ্চারণ) যেমন রাবী' আল-মুরাদী, আল-জীযী, আল-কাফ্ফাল ইত্যাদি সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দেবো। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
এরপর, ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি এই কিতাবে যা কিছু উল্লেখ করবো, তার সবকিছুর ব্যাখ্যায় পূর্ণ চেষ্টা করবো, যদিও তাতে পুনরাবৃত্তি হয় এবং যদিও তা স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ হয়। আমি ব্যাখ্যা প্রদান থেকে বিরত থাকবো না, যদিও তাতে উদাহরণসহ দীর্ঘায়িত হয়।
এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য কেবল নসীহত (সৎ উপদেশ) এবং তা বোঝার পথকে সহজ করা। কেননা, এটাই একজন নসীহতকারী গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য।
আমি পূর্বে এই শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে সংকলন করেছিলাম, এমনকি তা হায়েজ অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত তিনটি বিশাল খণ্ডে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর আমি দেখলাম যে, এই পদ্ধতিতে চলতে থাকলে পাঠকের বিরক্তি আসবে এবং এর বিশালতার কারণে এর থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।
এবং এর একটি কপি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমি সেই পদ্ধতি পরিত্যাগ করেছি। এখন আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা একটি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করছি, যা বিরক্তিকর দীর্ঘায়িত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্তও নয় এবং ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্তও নয়।
আমি এতে একটি সঠিক উদ্দেশ্যও অনুসরণ করবো, আর তা হলো, যে সকল অধ্যায়ের উপকারিতা ব্যাপক নয়, সেগুলোর আলোচনা আমি বিস্তারিত করবো না, কারণ সেগুলোর উপকারিতা কম। যেমন কিতাবুল লি'আন (মিথ্যা অপবাদের অধ্যায়), ফারায়েযের জটিল মাসআলাসমূহ এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়। তবে সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যগুলো উল্লেখ করা অপরিহার্য।
এবং জেনে রাখো যে, এই কিতাবকে যদিও আমি 'শারহুল মুহাযযাব' নাম দিয়েছি, তবে এটি পুরো মাযহাবের, বরং সকল উলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহের, হাদিসের, এবং ভাষা, ইতিহাস ও নামসমূহের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদিস জানার জন্য একটি মহান মূলনীতি।
এর ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) বর্ণনা, পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন, অস্পষ্ট বিষয়াবলীর ব্যাখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এটি একটি মহান উৎস।
এসব এবং অন্যান্য সকল বিষয়ে আমি আল্লাহ তাআলা, যিনি পরম দাতা, দয়ালু ও মেহেরবান, তাঁরই অনুগ্রহ ও সাহায্য প্রার্থনা করি। তাঁর উপরই আমার নির্ভরতা, তাঁর কাছেই আমার সমর্পণ এবং তাঁরই উপর আমার ভরসা। আমি তাঁর কাছে সরল পথের উপর অবিচল থাকার, পথভ্রষ্ট ও একগুঁয়েদের অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার, সকল প্রকার কল্যাণে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার এবং কথা ও কাজে সঠিকতার তাওফীক কামনা করি।
এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফীক চাই। আর তিনি যেন আমাদের পিতামাতা, আমাদের শায়খগণ, আমরা যাদের ভালোবাসি এবং যারা আমাদের ভালোবাসে, এবং সকল মুসলিমের প্রতিও এমনটি করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বব্যাপী ও মহাদাতা।
আমার সকল তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাঁর উপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাআলা, যিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়, তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
__________
(১) কোনো কোনো নুসখায় 'আহাদ' (এক) এর পরিবর্তে 'রাজুল' (ব্যক্তি) রয়েছে।
(২) আযরাঈর নুসখায় 'আস্লুকু' (আমি অবলম্বন করি) এর পরিবর্তে 'আকসিদু' (আমি উদ্দেশ্য করি) রয়েছে এবং এটি অধিকতর সঠিক।
যদি কোনো মাসআলা, হাদিস, নাম, শব্দ বা এ ধরনের কোনো বিষয় এমন হয় যে, তা উল্লেখ করার জন্য দুটি উপযুক্ত স্থান রয়েছে, তবে আমি সেটিকে প্রথম স্থানে উল্লেখ করবো। এরপর যদি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছাই, তবে আমি সতর্ক করে দেবো যে, তা অমুক স্থানে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিতাবের শুরুতে আমি এমন কিছু অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ পেশ করবো যা পাঠকের জন্য কায়েদা (নীতি) ও উসূল (মূলনীতি) হিসেবে কাজ করবে। সেখানে ইনশাআল্লাহ আমি ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর বংশপরিচয় এবং তার জীবনের কিছু দিক উল্লেখ করবো। অনুরূপভাবে মূল গ্রন্থকার শায়খ আবু ইসহাক (রহ.)-এর জীবনবৃত্তান্ত, ইলমের ফযীলত, এর প্রকারভেদ, এর ফযীলতের হকদারগণ, আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদবসমূহ, মুফতি ও মুস্তাফতির আহকাম, ফাতওয়ার ধরণ ও আদবসমূহ, দুই কওল, দুই ওয়াজহ ও দুই ত্বরীকা (২) এবং এগুলোর ক্ষেত্রে মুকাল্লিদ মুফতির করণীয় কী, তা বর্ণনা করবো।
এছাড়াও সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদিসের ব্যাখ্যা এবং হাদিস সংক্ষিপ্তকরণ, ছিকাহ রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা, রাবীদের মধ্যে হাদিসকে মারফূ', মাওকূফ, মাওসূল ও মুরসাল রূপে বর্ণনা নিয়ে মতানৈক্য ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও উল্লেখ করবো। ইজমা' এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর উক্তি, মুরসাল হাদিসের ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ, সাহাবীদের 'আমাদেরকে অমুক বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' বা এ ধরনের উক্তির হুকুম, এবং যে হাদিস ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্যের (নস) বিরোধী পাওয়া যায়, তার হুকুমও বর্ণনা করবো।
পুনরাবৃত্ত বা অন্যান্য নামসমূহের কিছু ضبط (সঠিক উচ্চারণ) যেমন রাবী' আল-মুরাদী, আল-জীযী, আল-কাফ্ফাল ইত্যাদি সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দেবো। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
এরপর, ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি এই কিতাবে যা কিছু উল্লেখ করবো, তার সবকিছুর ব্যাখ্যায় পূর্ণ চেষ্টা করবো, যদিও তাতে পুনরাবৃত্তি হয় এবং যদিও তা স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ হয়। আমি ব্যাখ্যা প্রদান থেকে বিরত থাকবো না, যদিও তাতে উদাহরণসহ দীর্ঘায়িত হয়।
এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য কেবল নসীহত (সৎ উপদেশ) এবং তা বোঝার পথকে সহজ করা। কেননা, এটাই একজন নসীহতকারী গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য।
আমি পূর্বে এই শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে সংকলন করেছিলাম, এমনকি তা হায়েজ অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত তিনটি বিশাল খণ্ডে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর আমি দেখলাম যে, এই পদ্ধতিতে চলতে থাকলে পাঠকের বিরক্তি আসবে এবং এর বিশালতার কারণে এর থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।
এবং এর একটি কপি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমি সেই পদ্ধতি পরিত্যাগ করেছি। এখন আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা একটি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করছি, যা বিরক্তিকর দীর্ঘায়িত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্তও নয় এবং ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্তও নয়।
আমি এতে একটি সঠিক উদ্দেশ্যও অনুসরণ করবো, আর তা হলো, যে সকল অধ্যায়ের উপকারিতা ব্যাপক নয়, সেগুলোর আলোচনা আমি বিস্তারিত করবো না, কারণ সেগুলোর উপকারিতা কম। যেমন কিতাবুল লি'আন (মিথ্যা অপবাদের অধ্যায়), ফারায়েযের জটিল মাসআলাসমূহ এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়। তবে সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যগুলো উল্লেখ করা অপরিহার্য।
এবং জেনে রাখো যে, এই কিতাবকে যদিও আমি 'শারহুল মুহাযযাব' নাম দিয়েছি, তবে এটি পুরো মাযহাবের, বরং সকল উলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহের, হাদিসের, এবং ভাষা, ইতিহাস ও নামসমূহের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি সহীহ, হাসান ও যঈফ হাদিস জানার জন্য একটি মহান মূলনীতি।
এর ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) বর্ণনা, পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন, অস্পষ্ট বিষয়াবলীর ব্যাখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এটি একটি মহান উৎস।
এসব এবং অন্যান্য সকল বিষয়ে আমি আল্লাহ তাআলা, যিনি পরম দাতা, দয়ালু ও মেহেরবান, তাঁরই অনুগ্রহ ও সাহায্য প্রার্থনা করি। তাঁর উপরই আমার নির্ভরতা, তাঁর কাছেই আমার সমর্পণ এবং তাঁরই উপর আমার ভরসা। আমি তাঁর কাছে সরল পথের উপর অবিচল থাকার, পথভ্রষ্ট ও একগুঁয়েদের অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার, সকল প্রকার কল্যাণে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার এবং কথা ও কাজে সঠিকতার তাওফীক কামনা করি।
এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফীক চাই। আর তিনি যেন আমাদের পিতামাতা, আমাদের শায়খগণ, আমরা যাদের ভালোবাসি এবং যারা আমাদের ভালোবাসে, এবং সকল মুসলিমের প্রতিও এমনটি করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বব্যাপী ও মহাদাতা।
আমার সকল তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাঁর উপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাআলা, যিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়, তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
__________
(১) কোনো কোনো নুসখায় 'আহাদ' (এক) এর পরিবর্তে 'রাজুল' (ব্যক্তি) রয়েছে।
(২) আযরাঈর নুসখায় 'আস্লুকু' (আমি অবলম্বন করি) এর পরিবর্তে 'আকসিদু' (আমি উদ্দেশ্য করি) রয়েছে এবং এটি অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فَصْلٌ فِي نَسَبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
وَقَدَّمْتُهُ لِمَقَاصِدَ مِنْهَا تَبَرُّكُ الْكِتَابِ بِهِ: وَمِنْهَا أَنْ يُحَالَ عَلَيْهِ مَا سَأَذْكُرُهُ مِنْ الْأَنْسَابِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَقَدْ ذكره المصنف مستوفى في باب قسم الفئ فَهُوَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ بْنِ إلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعْدِ بْنِ عَدْنَانَ
* إلَى هُنَا مُجْمَعٌ عَلَيْهِ وَمَا بَعْدَهُ إلَى آدَمَ مُخْتَلَفٌ فِيهِ ولا يثبت فيه شئ: وَقَدْ ذَكَرْتُ فِي تَهْذِيبِ الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلْفَ اسْمٍ وَذَكَرْتُ فِيهِ قِطْعَةً تَتَعَلَّقُ بِأَسْمَائِهِ وَأَحْوَالِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* بَابٌ فِي نَسَبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ: وَطَرَفٌ مِنْ أُمُورِهِ وَأَحْوَالِهِ
هُوَ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ شَافِعِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ عَبْدِ الله بن عبد يَزِيدَ بْنِ هَاشِمِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيٍّ الْقُرَشِيُّ الْمُطَّلِبِيُّ الشَّافِعِيُّ الْحِجَازِيُّ الْمَكِّيُّ يَلْتَقِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَبْدِ مَنَافٍ.
وَقَدْ أَكْثَرَ الْعُلَمَاءُ مِنْ الْمُصَنَّفَاتِ فِي مَنَاقِبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَأَحْوَالِهِ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ كَدَاوُد الظَّاهِرِيِّ وَآخَرِينَ: وَمِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ كَالْبَيْهَقِيِّ وَخَلَائِقَ لَا يُحْصَوْنَ وَمِنْ أَحْسَنِهَا تَصْنِيفُ الْبَيْهَقِيّ وَهُوَ مُجَلَّدَتَانِ مُشْتَمِلَتَانِ عَلَى نَفَائِسَ مِنْ كُلِّ فَنٍّ: وَقَدْ شَرَعْتُ أَنَا فِي جَمْعِ مُتَفَرِّقَاتِ كَلَامِ الْأَئِمَّةِ فِي ذَلِكَ وَجَمَعْتُ مِنْ مُصَنَّفَاتِهِمْ فِي مَنَاقِبِهِ: وَمِنْ كُتُبِ أهل التفسير والحديث والتاريخ والاخبار وَالْفُقَهَاءِ وَالزُّهَّادِ وَغَيْرِهِمْ فِي مُصَنَّفٍ مُتَوَسِّطٍ بَيْنَ الِاخْتِصَارِ وَالتَّطْوِيلِ وَأَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ النَّفَائِسِ مَا لَا يَسْتَغْنِي طَالِبُ عِلْمٍ عَنْ مَعْرِفَتِهِ لَا سِيَّمَا الْمُحَدِّثُ وَالْفَقِيهُ وَلَا سِيَّمَا مُنْتَحِلُ مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
وَأَرْجُو مِنْ فَضْلِ اللَّهِ أَنْ يُوَفِّقَنِي لِإِتْمَامِهِ عَلَى أَحْسَنِ الْوُجُوهِ: وَأَمَّا هَذَا الْمَوْضِعُ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ فَلَا يَحْتَمِلُ إلَّا الْإِشَارَةَ إلَى بَعْضِ تِلْكَ الْمَقَاصِدِ.
وَالرَّمْزَ إلَى أَطْرَافٍ مِنْ تِلْكَ الْكُلِّيَّاتِ وَالْمَعَاقِدِ. فَأَقُولُ مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ مُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا أَمْرِي إلَيْهِ.
الشَّافِعِيُّ قُرَيْشِيٌّ مُطَّلِبِيٌّ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ النَّقْلِ مِنْ جَمِيعِ الطَّوَائِفِ وَأُمُّهُ أَزْدِيَّةٌ وَقَدْ تَظَاهَرَتْ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ فِي فَضَائِلِ قُرَيْشٍ وَانْعَقَدَ إجْمَاعُ الْأُمَّةِ عَلَى تَفْضِيلِهِمْ عَلَى جَمِيعِ قَبَائِلِ الْعَرَبِ وَغَيْرِهِمْ: وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ رسول الله صلى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَئِمَّةُ مِنْ قُرَيْشٍ (1) وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` قَالَ النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ ` وَفِي كِتَابِ التِّرْمِذِيِّ أَحَادِيثُ في فضائل الازد
*
__________
(1) الذى في الصحيحين ` لا يزال هذا الامر في قريش ` الحديث ولعل نسبته إلى الصحيحين من حيث المغني: والذي رواه بهذا اللفظ البخاري في تاريخه: والنسائي في سننه وابو يعلى والامام احمد بن حنبل وابو داود الطيالسي والبزار: والله اعلم
وَقَدَّمْتُهُ لِمَقَاصِدَ مِنْهَا تَبَرُّكُ الْكِتَابِ بِهِ: وَمِنْهَا أَنْ يُحَالَ عَلَيْهِ مَا سَأَذْكُرُهُ مِنْ الْأَنْسَابِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَقَدْ ذكره المصنف مستوفى في باب قسم الفئ فَهُوَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ بْنِ إلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعْدِ بْنِ عَدْنَانَ
* إلَى هُنَا مُجْمَعٌ عَلَيْهِ وَمَا بَعْدَهُ إلَى آدَمَ مُخْتَلَفٌ فِيهِ ولا يثبت فيه شئ: وَقَدْ ذَكَرْتُ فِي تَهْذِيبِ الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلْفَ اسْمٍ وَذَكَرْتُ فِيهِ قِطْعَةً تَتَعَلَّقُ بِأَسْمَائِهِ وَأَحْوَالِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* بَابٌ فِي نَسَبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ: وَطَرَفٌ مِنْ أُمُورِهِ وَأَحْوَالِهِ
هُوَ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ شَافِعِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ عَبْدِ الله بن عبد يَزِيدَ بْنِ هَاشِمِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيٍّ الْقُرَشِيُّ الْمُطَّلِبِيُّ الشَّافِعِيُّ الْحِجَازِيُّ الْمَكِّيُّ يَلْتَقِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَبْدِ مَنَافٍ.
وَقَدْ أَكْثَرَ الْعُلَمَاءُ مِنْ الْمُصَنَّفَاتِ فِي مَنَاقِبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَأَحْوَالِهِ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ كَدَاوُد الظَّاهِرِيِّ وَآخَرِينَ: وَمِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ كَالْبَيْهَقِيِّ وَخَلَائِقَ لَا يُحْصَوْنَ وَمِنْ أَحْسَنِهَا تَصْنِيفُ الْبَيْهَقِيّ وَهُوَ مُجَلَّدَتَانِ مُشْتَمِلَتَانِ عَلَى نَفَائِسَ مِنْ كُلِّ فَنٍّ: وَقَدْ شَرَعْتُ أَنَا فِي جَمْعِ مُتَفَرِّقَاتِ كَلَامِ الْأَئِمَّةِ فِي ذَلِكَ وَجَمَعْتُ مِنْ مُصَنَّفَاتِهِمْ فِي مَنَاقِبِهِ: وَمِنْ كُتُبِ أهل التفسير والحديث والتاريخ والاخبار وَالْفُقَهَاءِ وَالزُّهَّادِ وَغَيْرِهِمْ فِي مُصَنَّفٍ مُتَوَسِّطٍ بَيْنَ الِاخْتِصَارِ وَالتَّطْوِيلِ وَأَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ النَّفَائِسِ مَا لَا يَسْتَغْنِي طَالِبُ عِلْمٍ عَنْ مَعْرِفَتِهِ لَا سِيَّمَا الْمُحَدِّثُ وَالْفَقِيهُ وَلَا سِيَّمَا مُنْتَحِلُ مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
وَأَرْجُو مِنْ فَضْلِ اللَّهِ أَنْ يُوَفِّقَنِي لِإِتْمَامِهِ عَلَى أَحْسَنِ الْوُجُوهِ: وَأَمَّا هَذَا الْمَوْضِعُ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ فَلَا يَحْتَمِلُ إلَّا الْإِشَارَةَ إلَى بَعْضِ تِلْكَ الْمَقَاصِدِ.
وَالرَّمْزَ إلَى أَطْرَافٍ مِنْ تِلْكَ الْكُلِّيَّاتِ وَالْمَعَاقِدِ. فَأَقُولُ مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ مُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا أَمْرِي إلَيْهِ.
الشَّافِعِيُّ قُرَيْشِيٌّ مُطَّلِبِيٌّ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ النَّقْلِ مِنْ جَمِيعِ الطَّوَائِفِ وَأُمُّهُ أَزْدِيَّةٌ وَقَدْ تَظَاهَرَتْ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ فِي فَضَائِلِ قُرَيْشٍ وَانْعَقَدَ إجْمَاعُ الْأُمَّةِ عَلَى تَفْضِيلِهِمْ عَلَى جَمِيعِ قَبَائِلِ الْعَرَبِ وَغَيْرِهِمْ: وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ رسول الله صلى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَئِمَّةُ مِنْ قُرَيْشٍ (1) وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` قَالَ النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ ` وَفِي كِتَابِ التِّرْمِذِيِّ أَحَادِيثُ في فضائل الازد
*
__________
(1) الذى في الصحيحين ` لا يزال هذا الامر في قريش ` الحديث ولعل نسبته إلى الصحيحين من حيث المغني: والذي رواه بهذا اللفظ البخاري في تاريخه: والنسائي في سننه وابو يعلى والامام احمد بن حنبل وابو داود الطيالسي والبزار: والله اعلم
**পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারা প্রসঙ্গে**
আমি এটিকে কয়েকটি উদ্দেশ্যে সামনে এনেছি। এর মধ্যে একটি হলো, এই কিতাব তাঁর মাধ্যমে বরকতময় হবে। আরেকটি হলো, ইনশাআল্লাহ আমি পরবর্তীতে যে সকল বংশধারার উল্লেখ করব, সেগুলোর জন্য এটি একটি সূত্র হিসেবে কাজ করবে।
গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী) 'কিসমুল ফাই' অধ্যায়ে এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালিব ইবন ফিহর ইবন মালিক ইবন নাদর ইবন কিনানাহ ইবন খুযাইমাহ ইবন মুদরিকাহ ইবন ইলিয়াস ইবন মুদার ইবন নিযার ইবন মা'আদ ইবন আদনান।
আদনান পর্যন্ত বংশধারা সর্বসম্মত (মুজমা' আলাইহি)। এর পরবর্তী অংশ অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশধারা মতানৈক্যপূর্ণ (মুখতালাফুন ফিহি) এবং এর কোনো কিছুই প্রমাণিত (সাবিত) নয়। আমি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত' গ্রন্থে কিছু বিদ্বানের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক হাজার নাম রয়েছে। আমি সেখানে তাঁর নামসমূহ ও তাঁর অবস্থা (আহওয়াল) সম্পর্কিত একটি অংশও উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
**অধ্যায়: ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর বংশধারা এবং তাঁর কিছু বিষয় ও অবস্থা প্রসঙ্গে**
তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রিস ইবন আব্বাস ইবন উসমান ইবন শাফি' ইবন সাইব ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবদে ইয়াযিদ ইবন হাশিম ইবন মুত্তালিব ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই আল-কুরাশী আল-মুত্তালিবী আশ-শাফিঈ আল-হিজাযী আল-মাক্কী। তাঁর বংশধারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার সাথে আবদে মানাফ-এ গিয়ে মিলিত হয়েছে।
পূর্ববর্তী বিদ্বানগণ, যেমন দাউদ আয-যাহিরী ও অন্যান্যরা, এবং পরবর্তী বিদ্বানগণ, যেমন বাইহাকী ও অগণিত অন্যান্যরা, ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর গুণাবলী (মানাকিব) ও অবস্থা (আহওয়াল) সম্পর্কে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে বাইহাকীর সংকলনটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে প্রতিটি শাস্ত্রের অমূল্য রত্ন (নাফায়েস) বিদ্যমান। আমি নিজেও এ বিষয়ে ইমামগণের বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলো একত্রিত করতে শুরু করেছি এবং তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলী থেকে, তাফসীর, হাদীস, ইতিহাস, সংবাদ, ফিকহ ও যুহদ বিষয়ক গ্রন্থাবলী থেকে এবং অন্যান্যদের গ্রন্থাবলী থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি মধ্যম আকারের গ্রন্থ সংকলন করেছি, যা সংক্ষিপ্তও নয় আবার দীর্ঘও নয়। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে এমন সব মূল্যবান বিষয় উল্লেখ করব, যা কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারীর, বিশেষত মুহাদ্দিস ও ফকীহদের, এবং বিশেষভাবে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য জানা অপরিহার্য। আমি আল্লাহর অনুগ্রহে আশা করি যে, তিনি আমাকে এটিকে সর্বোত্তম পন্থায় সম্পন্ন করার তাওফীক দান করবেন। তবে, আমরা বর্তমানে যে স্থানে (অর্থাৎ এই গ্রন্থে) রয়েছি, তা কেবল সেই উদ্দেশ্যগুলোর কিছু অংশের প্রতি ইঙ্গিত এবং সেই সামগ্রিক নীতি ও মূল বিষয়গুলোর কিছু প্রান্তের প্রতি ইশারা করার সুযোগ দেয়।
সুতরাং, আমি আল্লাহর সাহায্যপ্রার্থী হয়ে, তাঁর উপর ভরসা করে এবং আমার সকল বিষয় তাঁর উপর সোপর্দ করে বলছি:
সকল সম্প্রদায়ের বর্ণনাকারীদের সর্বসম্মত মত (ইজমা') অনুযায়ী, শাফিঈ কুরাইশী ও মুত্তালিবী বংশোদ্ভূত। তাঁর মাতা আযদ গোত্রের ছিলেন। কুরাইশদের ফাযাইল (গুণাবলী) সম্পর্কে অসংখ্য সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে এবং উম্মাহর ইজমা' (সর্বসম্মত মত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারা সকল আরব গোত্র ও অন্যান্যদের উপর শ্রেষ্ঠ। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে: "ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) কুরাইশ বংশীয় হবেন।" (১) সহীহ মুসলিম-এ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "মানুষ ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রে কুরাইশদের অনুসারী।" তিরমিযীর কিতাবে আযদ গোত্রের ফাযাইল সম্পর্কে হাদীসসমূহ রয়েছে।
__________
(১) সহীহাইন-এ যা রয়েছে তা হলো: "এই নেতৃত্ব কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে" – হাদীসটি। সম্ভবত এর অর্থগত দিক থেকে সহীহাইন-এর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর এই শব্দে ("ইমামগণ কুরাইশ বংশীয়") যারা বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন বুখারী তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে, নাসাঈ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে, আবু ইয়া'লা, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল, আবু দাউদ তাইয়ালিসী এবং বাযযার। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
আমি এটিকে কয়েকটি উদ্দেশ্যে সামনে এনেছি। এর মধ্যে একটি হলো, এই কিতাব তাঁর মাধ্যমে বরকতময় হবে। আরেকটি হলো, ইনশাআল্লাহ আমি পরবর্তীতে যে সকল বংশধারার উল্লেখ করব, সেগুলোর জন্য এটি একটি সূত্র হিসেবে কাজ করবে।
গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী) 'কিসমুল ফাই' অধ্যায়ে এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররাহ ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালিব ইবন ফিহর ইবন মালিক ইবন নাদর ইবন কিনানাহ ইবন খুযাইমাহ ইবন মুদরিকাহ ইবন ইলিয়াস ইবন মুদার ইবন নিযার ইবন মা'আদ ইবন আদনান।
আদনান পর্যন্ত বংশধারা সর্বসম্মত (মুজমা' আলাইহি)। এর পরবর্তী অংশ অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশধারা মতানৈক্যপূর্ণ (মুখতালাফুন ফিহি) এবং এর কোনো কিছুই প্রমাণিত (সাবিত) নয়। আমি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত' গ্রন্থে কিছু বিদ্বানের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক হাজার নাম রয়েছে। আমি সেখানে তাঁর নামসমূহ ও তাঁর অবস্থা (আহওয়াল) সম্পর্কিত একটি অংশও উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
**অধ্যায়: ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর বংশধারা এবং তাঁর কিছু বিষয় ও অবস্থা প্রসঙ্গে**
তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রিস ইবন আব্বাস ইবন উসমান ইবন শাফি' ইবন সাইব ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবদে ইয়াযিদ ইবন হাশিম ইবন মুত্তালিব ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই আল-কুরাশী আল-মুত্তালিবী আশ-শাফিঈ আল-হিজাযী আল-মাক্কী। তাঁর বংশধারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার সাথে আবদে মানাফ-এ গিয়ে মিলিত হয়েছে।
পূর্ববর্তী বিদ্বানগণ, যেমন দাউদ আয-যাহিরী ও অন্যান্যরা, এবং পরবর্তী বিদ্বানগণ, যেমন বাইহাকী ও অগণিত অন্যান্যরা, ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ-এর গুণাবলী (মানাকিব) ও অবস্থা (আহওয়াল) সম্পর্কে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে বাইহাকীর সংকলনটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে প্রতিটি শাস্ত্রের অমূল্য রত্ন (নাফায়েস) বিদ্যমান। আমি নিজেও এ বিষয়ে ইমামগণের বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলো একত্রিত করতে শুরু করেছি এবং তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলী থেকে, তাফসীর, হাদীস, ইতিহাস, সংবাদ, ফিকহ ও যুহদ বিষয়ক গ্রন্থাবলী থেকে এবং অন্যান্যদের গ্রন্থাবলী থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি মধ্যম আকারের গ্রন্থ সংকলন করেছি, যা সংক্ষিপ্তও নয় আবার দীর্ঘও নয়। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে এমন সব মূল্যবান বিষয় উল্লেখ করব, যা কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারীর, বিশেষত মুহাদ্দিস ও ফকীহদের, এবং বিশেষভাবে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্য জানা অপরিহার্য। আমি আল্লাহর অনুগ্রহে আশা করি যে, তিনি আমাকে এটিকে সর্বোত্তম পন্থায় সম্পন্ন করার তাওফীক দান করবেন। তবে, আমরা বর্তমানে যে স্থানে (অর্থাৎ এই গ্রন্থে) রয়েছি, তা কেবল সেই উদ্দেশ্যগুলোর কিছু অংশের প্রতি ইঙ্গিত এবং সেই সামগ্রিক নীতি ও মূল বিষয়গুলোর কিছু প্রান্তের প্রতি ইশারা করার সুযোগ দেয়।
সুতরাং, আমি আল্লাহর সাহায্যপ্রার্থী হয়ে, তাঁর উপর ভরসা করে এবং আমার সকল বিষয় তাঁর উপর সোপর্দ করে বলছি:
সকল সম্প্রদায়ের বর্ণনাকারীদের সর্বসম্মত মত (ইজমা') অনুযায়ী, শাফিঈ কুরাইশী ও মুত্তালিবী বংশোদ্ভূত। তাঁর মাতা আযদ গোত্রের ছিলেন। কুরাইশদের ফাযাইল (গুণাবলী) সম্পর্কে অসংখ্য সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে এবং উম্মাহর ইজমা' (সর্বসম্মত মত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারা সকল আরব গোত্র ও অন্যান্যদের উপর শ্রেষ্ঠ। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে: "ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) কুরাইশ বংশীয় হবেন।" (১) সহীহ মুসলিম-এ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "মানুষ ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রে কুরাইশদের অনুসারী।" তিরমিযীর কিতাবে আযদ গোত্রের ফাযাইল সম্পর্কে হাদীসসমূহ রয়েছে।
__________
(১) সহীহাইন-এ যা রয়েছে তা হলো: "এই নেতৃত্ব কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে" – হাদীসটি। সম্ভবত এর অর্থগত দিক থেকে সহীহাইন-এর প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর এই শব্দে ("ইমামগণ কুরাইশ বংশীয়") যারা বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন বুখারী তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে, নাসাঈ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে, আবু ইয়া'লা, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল, আবু দাউদ তাইয়ালিসী এবং বাযযার। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَصْلٌ فِي مَوْلِدِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَوَفَاتِهِ وَذِكْرِ نُبَذٍ مِنْ أُمُورِهِ وَحَالَاتِهِ
وَأَجْمَعُوا أَنَّهُ وُلِدَ سَنَةَ خَمْسِينَ وَمِائَةٍ وَهِيَ السَّنَةُ الَّتِي تُوُفِّيَ فِيهَا أَبُو حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ.
وَقِيلَ إنَّهُ تُوُفِّيَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ الشَّافِعِيُّ وَلَمْ يَثْبُتْ التَّقْيِيدُ بِالْيَوْمِ ثُمَّ الْمَشْهُورُ الَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ أَنَّ الشَّافِعِيَّ وُلِدَ بِغَزَّةَ وَقِيلَ بِعَسْقَلَانَ وَهُمَا مِنْ الْأَرَاضِي الْمُقَدَّسَةِ الَّتِي بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا فَإِنَّهُمَا عَلَى نَحْوِ مَرْحَلَتَيْنِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ حُمِلَ إلَى مَكَّةَ وَهُوَ ابْنُ سَنَتَيْنِ وَتُوُفِّيَ بِمِصْرَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَتَيْنِ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً قَالَ الرَّبِيعُ تُوُفِّيَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَأَنَا عِنْدَهُ وَدُفِنَ بَعْدَ الْعَصْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ آخِرَ يَوْمٍ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَتَيْنِ وَقَبْرُهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمِصْرَ عَلَيْهِ مِنْ الْجَلَالَةِ وَلَهُ مِنْ الِاحْتِرَامِ مَا هُوَ لَائِقٌ بِمَنْصِبِ ذَلِكَ الْإِمَامِ.
قَالَ الرَّبِيعُ رَأَيْت فِي الْمَنَامِ أَنَّ آدَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ فَسَأَلْت عَنْ ذَلِكَ فَقِيلَ هَذَا مَوْتُ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا فَمَا كان الايسيرا فمات الشَّافِعِيُّ وَرَأَى غَيْرُهُ لَيْلَةَ مَاتَ الشَّافِعِيُّ قَائِلًا يَقُولُ اللَّيْلَةَ مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: نشأ يَتِيمًا فِي حِجْرِ أُمِّهِ فِي قِلَّةٍ مِنْ الْعَيْشِ وَضِيقِ حَالٍ وَكَانَ فِي صِبَاهُ يُجَالِسُ الْعُلَمَاءَ وَيَكْتُبُ مَا يَسْتَفِيدُهُ فِي الْعِظَامِ وَنَحْوِهَا حَتَّى مَلَأَ مِنْهَا خَبَايَا: وَعَنْ مُصْعَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيِّ قَالَ كَانَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ الله في ابتدأ أَمْرِهِ يَطْلُبُ الشِّعْرَ وَأَيَّامَ الْعَرَبِ وَالْأَدَبَ ثُمَّ أَخَذَ فِي الْفِقْهِ بَعْدُ: قَالَ وَكَانَ سَبَبُ أَخْذِهِ فِي الْعِلْمِ أَنَّهُ كَانَ يَوْمًا يَسِيرُ عَلَى دَابَّةٍ لَهُ وَخَلْفَهُ كَاتِبٌ لِأَبِي فَتَمَثَّلَ الشافعي بِبَيْتِ شِعْرٍ فَقَرَعَهُ كَاتِبُ أَبِي بِسَوْطِهِ ثُمَّ قال له مثلك يذهب بمرؤته فِي مِثْلِ هَذَا أَيْنَ أَنْتَ مِنْ الْفِقْهِ فَهَزَّهُ ذَلِكَ فَقَصَدَ مُجَالَسَةَ الزِّنْجِيِّ مُسْلِمِ بْنِ خَالِدٍ وَكَانَ مُفْتِي مَكَّةَ ثُمَّ قَدِمَ عَلَيْنَا فَلَزِمَ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ: وَعَنْ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ كُنْتُ أَنْظُرُ فِي الشِّعْرِ فَارْتَقَيْتُ عَقَبَةً بِمِنًى فَإِذَا صَوْتٌ مِنْ خَلْفِي عَلَيْكَ بِالْفِقْهِ: وَعَنْ الْحُمَيْدِيِّ قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ خَرَجْت أَطْلُبُ النَّحْوَ وَالْأَدَبَ فَلَقِيَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزنجي فقال يافتى مِنْ أَيْنَ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ أَيْنَ مَنْزِلُكَ قُلْتُ شِعْبٌ بِالْخَيْفِ قَالَ مِنْ أَيِّ قَبِيلَةٍ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ عَبْدِ مَنَافٍ قَالَ بَخٍ بَخٍ لَقَدْ شَرَّفَكَ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ أَلَا جَعَلْتَ فَهْمَكَ فِي هَذَا الْفِقْهِ فَكَانَ أَحْسَنَ بِك: ثُمَّ رَحَلَ الشَّافِعِيُّ مِنْ مَكَّةَ إلَى الْمَدِينَةِ قَاصِدًا الْأَخْذَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: وَفِي رِحْلَتِهِ مُصَنِّفٌ مَشْهُورٌ مَسْمُوعٌ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ قَرَأَ عَلَيْهِ الْمُوَطَّأَ حِفْظًا فَأَعْجَبَتْهُ قِرَاءَتُهُ وَلَازَمَهُ وَقَالَ لَهُ مَالِكٌ اتَّقِ اللَّهَ وَاجْتَنِبْ الْمَعَاصِيَ فَإِنَّهُ سَيَكُونُ لَكَ شَأْنٌ: وفي رواية أخرى أنه قال له انه اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَلْقَى عَلَى قَلْبِكَ نُورًا فَلَا تُطْفِهِ بِالْمَعَاصِي: وَكَانَ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ حِينَ أَتَى مَالِكًا ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً ثم ولى باليمين: وَاشْتُهِرَ مِنْ حُسْنِ سِيرَتِهِ وَحَمْلِهِ النَّاسَ عَلَى السُّنَّةِ وَالطَّرَائِقِ الْجَمِيلَةِ أَشْيَاءَ كَثِيرَةٍ مَعْرُوفَةٍ.
ثُمَّ تَرَكَ ذَلِكَ وَأَخَذَ فِي الِاشْتِغَالِ بِالْعُلُومِ وَرَحَلَ إلَى الْعِرَاقِ وَنَاظَرَ مُحَمَّدَ بْنَ الْحَسَنِ وَغَيْرَهُ وَنَشَرَ عِلْمَ الْحَدِيثِ وَمَذْهَبَ أَهْلِهِ وَنَصَرَ السُّنَّةَ وَشَاعَ ذِكْرُهُ وَفَضْلُهُ وَطَلَبَ مِنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ إمَامُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي عَصْرِهِ أَنْ يُصَنِّفَ كِتَابًا فِي أُصُولِ الْفِقْهِ فَصَنَّفَ كِتَابَ الرِّسَالَةِ وَهُوَ أَوَّلُ كِتَابٍ صُنِّفَ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ: وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ سعيد
وَأَجْمَعُوا أَنَّهُ وُلِدَ سَنَةَ خَمْسِينَ وَمِائَةٍ وَهِيَ السَّنَةُ الَّتِي تُوُفِّيَ فِيهَا أَبُو حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ.
وَقِيلَ إنَّهُ تُوُفِّيَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ الشَّافِعِيُّ وَلَمْ يَثْبُتْ التَّقْيِيدُ بِالْيَوْمِ ثُمَّ الْمَشْهُورُ الَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ أَنَّ الشَّافِعِيَّ وُلِدَ بِغَزَّةَ وَقِيلَ بِعَسْقَلَانَ وَهُمَا مِنْ الْأَرَاضِي الْمُقَدَّسَةِ الَّتِي بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا فَإِنَّهُمَا عَلَى نَحْوِ مَرْحَلَتَيْنِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ حُمِلَ إلَى مَكَّةَ وَهُوَ ابْنُ سَنَتَيْنِ وَتُوُفِّيَ بِمِصْرَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَتَيْنِ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً قَالَ الرَّبِيعُ تُوُفِّيَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَأَنَا عِنْدَهُ وَدُفِنَ بَعْدَ الْعَصْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ آخِرَ يَوْمٍ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَتَيْنِ وَقَبْرُهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمِصْرَ عَلَيْهِ مِنْ الْجَلَالَةِ وَلَهُ مِنْ الِاحْتِرَامِ مَا هُوَ لَائِقٌ بِمَنْصِبِ ذَلِكَ الْإِمَامِ.
قَالَ الرَّبِيعُ رَأَيْت فِي الْمَنَامِ أَنَّ آدَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ فَسَأَلْت عَنْ ذَلِكَ فَقِيلَ هَذَا مَوْتُ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا فَمَا كان الايسيرا فمات الشَّافِعِيُّ وَرَأَى غَيْرُهُ لَيْلَةَ مَاتَ الشَّافِعِيُّ قَائِلًا يَقُولُ اللَّيْلَةَ مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: نشأ يَتِيمًا فِي حِجْرِ أُمِّهِ فِي قِلَّةٍ مِنْ الْعَيْشِ وَضِيقِ حَالٍ وَكَانَ فِي صِبَاهُ يُجَالِسُ الْعُلَمَاءَ وَيَكْتُبُ مَا يَسْتَفِيدُهُ فِي الْعِظَامِ وَنَحْوِهَا حَتَّى مَلَأَ مِنْهَا خَبَايَا: وَعَنْ مُصْعَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيِّ قَالَ كَانَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ الله في ابتدأ أَمْرِهِ يَطْلُبُ الشِّعْرَ وَأَيَّامَ الْعَرَبِ وَالْأَدَبَ ثُمَّ أَخَذَ فِي الْفِقْهِ بَعْدُ: قَالَ وَكَانَ سَبَبُ أَخْذِهِ فِي الْعِلْمِ أَنَّهُ كَانَ يَوْمًا يَسِيرُ عَلَى دَابَّةٍ لَهُ وَخَلْفَهُ كَاتِبٌ لِأَبِي فَتَمَثَّلَ الشافعي بِبَيْتِ شِعْرٍ فَقَرَعَهُ كَاتِبُ أَبِي بِسَوْطِهِ ثُمَّ قال له مثلك يذهب بمرؤته فِي مِثْلِ هَذَا أَيْنَ أَنْتَ مِنْ الْفِقْهِ فَهَزَّهُ ذَلِكَ فَقَصَدَ مُجَالَسَةَ الزِّنْجِيِّ مُسْلِمِ بْنِ خَالِدٍ وَكَانَ مُفْتِي مَكَّةَ ثُمَّ قَدِمَ عَلَيْنَا فَلَزِمَ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ: وَعَنْ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ كُنْتُ أَنْظُرُ فِي الشِّعْرِ فَارْتَقَيْتُ عَقَبَةً بِمِنًى فَإِذَا صَوْتٌ مِنْ خَلْفِي عَلَيْكَ بِالْفِقْهِ: وَعَنْ الْحُمَيْدِيِّ قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ خَرَجْت أَطْلُبُ النَّحْوَ وَالْأَدَبَ فَلَقِيَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزنجي فقال يافتى مِنْ أَيْنَ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ أَيْنَ مَنْزِلُكَ قُلْتُ شِعْبٌ بِالْخَيْفِ قَالَ مِنْ أَيِّ قَبِيلَةٍ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ عَبْدِ مَنَافٍ قَالَ بَخٍ بَخٍ لَقَدْ شَرَّفَكَ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ أَلَا جَعَلْتَ فَهْمَكَ فِي هَذَا الْفِقْهِ فَكَانَ أَحْسَنَ بِك: ثُمَّ رَحَلَ الشَّافِعِيُّ مِنْ مَكَّةَ إلَى الْمَدِينَةِ قَاصِدًا الْأَخْذَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: وَفِي رِحْلَتِهِ مُصَنِّفٌ مَشْهُورٌ مَسْمُوعٌ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ قَرَأَ عَلَيْهِ الْمُوَطَّأَ حِفْظًا فَأَعْجَبَتْهُ قِرَاءَتُهُ وَلَازَمَهُ وَقَالَ لَهُ مَالِكٌ اتَّقِ اللَّهَ وَاجْتَنِبْ الْمَعَاصِيَ فَإِنَّهُ سَيَكُونُ لَكَ شَأْنٌ: وفي رواية أخرى أنه قال له انه اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَلْقَى عَلَى قَلْبِكَ نُورًا فَلَا تُطْفِهِ بِالْمَعَاصِي: وَكَانَ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ حِينَ أَتَى مَالِكًا ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً ثم ولى باليمين: وَاشْتُهِرَ مِنْ حُسْنِ سِيرَتِهِ وَحَمْلِهِ النَّاسَ عَلَى السُّنَّةِ وَالطَّرَائِقِ الْجَمِيلَةِ أَشْيَاءَ كَثِيرَةٍ مَعْرُوفَةٍ.
ثُمَّ تَرَكَ ذَلِكَ وَأَخَذَ فِي الِاشْتِغَالِ بِالْعُلُومِ وَرَحَلَ إلَى الْعِرَاقِ وَنَاظَرَ مُحَمَّدَ بْنَ الْحَسَنِ وَغَيْرَهُ وَنَشَرَ عِلْمَ الْحَدِيثِ وَمَذْهَبَ أَهْلِهِ وَنَصَرَ السُّنَّةَ وَشَاعَ ذِكْرُهُ وَفَضْلُهُ وَطَلَبَ مِنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ إمَامُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي عَصْرِهِ أَنْ يُصَنِّفَ كِتَابًا فِي أُصُولِ الْفِقْهِ فَصَنَّفَ كِتَابَ الرِّسَالَةِ وَهُوَ أَوَّلُ كِتَابٍ صُنِّفَ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ: وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ سعيد
একটি পরিচ্ছেদ: ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্ম ও ওফাত এবং তাঁর জীবন ও অবস্থা সম্পর্কে কিছু আলোচনা।
বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। এটি সেই বছর, যে বছর ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করেন। এবং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (আবু হানিফা) সেই দিনই ইন্তেকাল করেন যেদিন শাফিঈ জন্মগ্রহণ করেন, তবে দিনের এই নির্দিষ্টতা প্রমাণিত নয়। অতঃপর, প্রসিদ্ধ মত, যার উপর জমহুর (অধিকাংশ বিদ্বান) রয়েছেন, তা হলো ইমাম শাফিঈ গাজায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার বলা হয়েছে, আসকালানে। এই উভয় স্থানই সেই পবিত্র ভূমিগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেখানে আল্লাহ বরকত দান করেছেন, কারণ এ দুটি বাইতুল মাকদিস থেকে প্রায় দুই মারহালা (মঞ্জিল) দূরে অবস্থিত। অতঃপর দুই বছর বয়সে তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং তিনি মিশরে ২০৪ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চুয়ান্ন বছর। রাবী' বলেন: ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) জুমার রাতে মাগরিবের পর ইন্তেকাল করেন, যখন আমি তাঁর কাছেই ছিলাম। এবং তাঁকে জুমার দিন আসরের পর, রজব মাসের শেষ দিনে, ২০৪ হিজরী সনে দাফন করা হয়। মিশরে অবস্থিত তাঁর কবর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর এমন মহিমা ও সম্মান রয়েছে যা সেই ইমামের মর্যাদার সাথে মানানসই।
রাবী' বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আদম (আলাইহিস সালাম) ইন্তেকাল করেছেন। আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো: "এটি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির মৃত্যু, কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন।" তা বুঝতে সহজই ছিল, অতঃপর শাফিঈ ইন্তেকাল করেন। ইমাম শাফিঈ যেদিন রাতে ইন্তেকাল করেন, সেদিন রাতে অন্য একজন স্বপ্নে দেখলেন যে, একজন ঘোষণাকারী বলছেন: "আজ রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন।"
তিনি এতিম অবস্থায় তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন, জীবনযাপনে ছিল অভাব এবং আর্থিক অবস্থা ছিল সংকীর্ণ। তাঁর শৈশবে তিনি উলামাদের মজলিসে বসতেন এবং যা কিছু শিখতেন তা হাড় ও অনুরূপ বস্তুতে লিখে রাখতেন, এমনকি তিনি সেগুলোতে অনেক গোপন স্থান পূর্ণ করে ফেলেছিলেন। মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রাথমিক জীবনে কবিতা, আরবদের ইতিহাস (আইয়ামুল আরব) এবং সাহিত্য অন্বেষণ করতেন। অতঃপর তিনি ফিকহ চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি (মুসআব) বলেন: তাঁর (শাফিঈর) জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করার কারণ ছিল এই যে, একদিন তিনি তাঁর বাহনে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর পেছনে ছিলেন আমার পিতার একজন লেখক। ইমাম শাফিঈ একটি কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করলেন। তখন আমার পিতার লেখক তাঁর চাবুক দিয়ে তাঁকে আঘাত করে বললেন: "তোমার মতো ব্যক্তি এমন বিষয়ে তার মর্যাদা নষ্ট করে! তুমি ফিকহ থেকে কোথায়?" এটি তাঁকে নাড়া দেয়। অতঃপর তিনি মক্কার মুফতি আয-যিনজি মুসলিম ইবনে খালিদের মজলিসে বসার ইচ্ছা করেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আসেন এবং মালিক ইবনে আনাসের সাহচর্য গ্রহণ করেন।
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কবিতা নিয়ে গবেষণা করছিলাম। অতঃপর আমি মিনার একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করলাম। হঠাৎ আমার পেছন থেকে একটি আওয়াজ এলো: "তোমার জন্য ফিকহ অপরিহার্য!" হুমাইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ বলেছেন: আমি নাহু (ব্যাকরণ) ও আদব (সাহিত্য) অন্বেষণ করতে বের হলাম। তখন মুসলিম ইবনে খালিদ আয-যিনজি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: "হে যুবক, তুমি কোথা থেকে এসেছ?" আমি বললাম: "মক্কার অধিবাসী।" তিনি বললেন: "তোমার বাসস্থান কোথায়?" আমি বললাম: "আল-খাইফের একটি উপত্যকায়।" তিনি বললেন: "তুমি কোন গোত্রের?" আমি বললাম: "আব্দ মানাফ গোত্রের।" তিনি বললেন: "বাহ! বাহ! আল্লাহ তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন। তুমি কেন তোমার প্রজ্ঞা এই ফিকহের কাজে লাগাও না? এটি তোমার জন্য আরও উত্তম হতো।"
অতঃপর ইমাম শাফিঈ মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের অভিপ্রায়ে। তাঁর এই সফর সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ ও শ্রুত সংকলন (বা বিবরণ) রয়েছে। যখন তিনি তাঁর (মালিকের) কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁকে (মালিককে) আল-মুওয়াত্তা মুখস্থ শোনালেন। তাঁর তেলাওয়াত তাঁকে (মালিককে) মুগ্ধ করলো, অতঃপর তিনি (শাফিঈ) তাঁর সাহচর্যে লেগে রইলেন। এবং মালিক তাঁকে বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিশ্চয়ই তোমার এক মহান মর্যাদা হবে।" অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি (মালিক) তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার অন্তরে এক নূর (আলো) দান করেছেন, সুতরাং গুনাহের মাধ্যমে তা নিভিয়ে দিও না।" ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন মালিকের কাছে আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর। অতঃপর তাঁকে ইয়েমেনে একটি পদে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর উত্তম চরিত্র এবং মানুষকে সুন্নাহ ও সুন্দর রীতিনীতির দিকে পরিচালিত করার কারণে বহু প্রসিদ্ধ বিষয় খ্যাতি লাভ করে।
অতঃপর তিনি তা (ইয়েমেনের পদ) ত্যাগ করে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ইরাকে সফর করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসান ও অন্যান্যদের সাথে বিতর্ক করেন। তিনি হাদীস শাস্ত্র ও এর অনুসারীদের মাযহাব প্রচার করেন, সুন্নাহকে সমর্থন করেন এবং তাঁর খ্যাতি ও শ্রেষ্ঠত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর যুগের আহলে হাদীসের ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তাঁকে উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার অনুরোধ করেন। অতঃপর তিনি "কিতাবুর রিসালাহ" রচনা করেন, যা উসুলুল ফিকহ বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ। এবং আব্দুর রহমান ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ...
বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। এটি সেই বছর, যে বছর ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করেন। এবং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (আবু হানিফা) সেই দিনই ইন্তেকাল করেন যেদিন শাফিঈ জন্মগ্রহণ করেন, তবে দিনের এই নির্দিষ্টতা প্রমাণিত নয়। অতঃপর, প্রসিদ্ধ মত, যার উপর জমহুর (অধিকাংশ বিদ্বান) রয়েছেন, তা হলো ইমাম শাফিঈ গাজায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার বলা হয়েছে, আসকালানে। এই উভয় স্থানই সেই পবিত্র ভূমিগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেখানে আল্লাহ বরকত দান করেছেন, কারণ এ দুটি বাইতুল মাকদিস থেকে প্রায় দুই মারহালা (মঞ্জিল) দূরে অবস্থিত। অতঃপর দুই বছর বয়সে তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং তিনি মিশরে ২০৪ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চুয়ান্ন বছর। রাবী' বলেন: ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) জুমার রাতে মাগরিবের পর ইন্তেকাল করেন, যখন আমি তাঁর কাছেই ছিলাম। এবং তাঁকে জুমার দিন আসরের পর, রজব মাসের শেষ দিনে, ২০৪ হিজরী সনে দাফন করা হয়। মিশরে অবস্থিত তাঁর কবর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর এমন মহিমা ও সম্মান রয়েছে যা সেই ইমামের মর্যাদার সাথে মানানসই।
রাবী' বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আদম (আলাইহিস সালাম) ইন্তেকাল করেছেন। আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো: "এটি পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির মৃত্যু, কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন।" তা বুঝতে সহজই ছিল, অতঃপর শাফিঈ ইন্তেকাল করেন। ইমাম শাফিঈ যেদিন রাতে ইন্তেকাল করেন, সেদিন রাতে অন্য একজন স্বপ্নে দেখলেন যে, একজন ঘোষণাকারী বলছেন: "আজ রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন।"
তিনি এতিম অবস্থায় তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন, জীবনযাপনে ছিল অভাব এবং আর্থিক অবস্থা ছিল সংকীর্ণ। তাঁর শৈশবে তিনি উলামাদের মজলিসে বসতেন এবং যা কিছু শিখতেন তা হাড় ও অনুরূপ বস্তুতে লিখে রাখতেন, এমনকি তিনি সেগুলোতে অনেক গোপন স্থান পূর্ণ করে ফেলেছিলেন। মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রাথমিক জীবনে কবিতা, আরবদের ইতিহাস (আইয়ামুল আরব) এবং সাহিত্য অন্বেষণ করতেন। অতঃপর তিনি ফিকহ চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি (মুসআব) বলেন: তাঁর (শাফিঈর) জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করার কারণ ছিল এই যে, একদিন তিনি তাঁর বাহনে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর পেছনে ছিলেন আমার পিতার একজন লেখক। ইমাম শাফিঈ একটি কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করলেন। তখন আমার পিতার লেখক তাঁর চাবুক দিয়ে তাঁকে আঘাত করে বললেন: "তোমার মতো ব্যক্তি এমন বিষয়ে তার মর্যাদা নষ্ট করে! তুমি ফিকহ থেকে কোথায়?" এটি তাঁকে নাড়া দেয়। অতঃপর তিনি মক্কার মুফতি আয-যিনজি মুসলিম ইবনে খালিদের মজলিসে বসার ইচ্ছা করেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আসেন এবং মালিক ইবনে আনাসের সাহচর্য গ্রহণ করেন।
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কবিতা নিয়ে গবেষণা করছিলাম। অতঃপর আমি মিনার একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করলাম। হঠাৎ আমার পেছন থেকে একটি আওয়াজ এলো: "তোমার জন্য ফিকহ অপরিহার্য!" হুমাইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ বলেছেন: আমি নাহু (ব্যাকরণ) ও আদব (সাহিত্য) অন্বেষণ করতে বের হলাম। তখন মুসলিম ইবনে খালিদ আয-যিনজি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: "হে যুবক, তুমি কোথা থেকে এসেছ?" আমি বললাম: "মক্কার অধিবাসী।" তিনি বললেন: "তোমার বাসস্থান কোথায়?" আমি বললাম: "আল-খাইফের একটি উপত্যকায়।" তিনি বললেন: "তুমি কোন গোত্রের?" আমি বললাম: "আব্দ মানাফ গোত্রের।" তিনি বললেন: "বাহ! বাহ! আল্লাহ তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন। তুমি কেন তোমার প্রজ্ঞা এই ফিকহের কাজে লাগাও না? এটি তোমার জন্য আরও উত্তম হতো।"
অতঃপর ইমাম শাফিঈ মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের অভিপ্রায়ে। তাঁর এই সফর সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ ও শ্রুত সংকলন (বা বিবরণ) রয়েছে। যখন তিনি তাঁর (মালিকের) কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁকে (মালিককে) আল-মুওয়াত্তা মুখস্থ শোনালেন। তাঁর তেলাওয়াত তাঁকে (মালিককে) মুগ্ধ করলো, অতঃপর তিনি (শাফিঈ) তাঁর সাহচর্যে লেগে রইলেন। এবং মালিক তাঁকে বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিশ্চয়ই তোমার এক মহান মর্যাদা হবে।" অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি (মালিক) তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমার অন্তরে এক নূর (আলো) দান করেছেন, সুতরাং গুনাহের মাধ্যমে তা নিভিয়ে দিও না।" ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন মালিকের কাছে আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর। অতঃপর তাঁকে ইয়েমেনে একটি পদে নিযুক্ত করা হয়। তাঁর উত্তম চরিত্র এবং মানুষকে সুন্নাহ ও সুন্দর রীতিনীতির দিকে পরিচালিত করার কারণে বহু প্রসিদ্ধ বিষয় খ্যাতি লাভ করে।
অতঃপর তিনি তা (ইয়েমেনের পদ) ত্যাগ করে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ইরাকে সফর করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসান ও অন্যান্যদের সাথে বিতর্ক করেন। তিনি হাদীস শাস্ত্র ও এর অনুসারীদের মাযহাব প্রচার করেন, সুন্নাহকে সমর্থন করেন এবং তাঁর খ্যাতি ও শ্রেষ্ঠত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর যুগের আহলে হাদীসের ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তাঁকে উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার অনুরোধ করেন। অতঃপর তিনি "কিতাবুর রিসালাহ" রচনা করেন, যা উসুলুল ফিকহ বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ। এবং আব্দুর রহমান ও ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ...
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الْقَطَّانُ يُعْجَبَانِ بِهِ: وَكَانَ الْقَطَّانُ وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ يَدْعُوَانِ لِلشَّافِعِيِّ فِي صَلَاتِهِمَا وَأَجْمَعَ النَّاسُ عَلَى اسْتِحْسَانِ رِسَالَتِهِ وَأَقْوَالُهُمْ فِي ذَلِكَ مَشْهُورَةٌ: وقال المزني قرأت الرسالة خمس مائة مرة مامن مَرَّةٍ إلَّا وَاسْتَفَدْتُ مِنْهَا فَائِدَةً جَدِيدَةً وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ قَالَ أَنَا أَنْظُرُ فِي الرِّسَالَةِ مِنْ خَمْسِينَ سَنَةٍ مَا أَعْلَمُ أَنِّي نَظَرْتُ فِيهَا مَرَّةً إلَّا وَاسْتَفَدْتُ شَيْئًا لَمْ أَكُنْ عَرَفْتُهُ: وَاشْتَهَرَتْ جَلَالَةُ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي الْعِرَاقِ وَسَارَ ذِكْرُهُ فِي الْآفَاقِ وَأَذْعَنَ بِفَضْلِهِ الْمُوَافِقُونَ وَالْمُخَالِفُونَ
* وَاعْتَرَفَ بِذَلِكَ الْعُلَمَاءُ أَجْمَعُونَ وَعَظُمَتْ عِنْدَ الْخُلَفَاءِ وَوُلَاةِ الْأُمُورِ مَرْتَبَتُهُ وَاسْتَقَرَّتْ عِنْدَهُمْ جَلَالَتُهُ وَإِمَامَتُهُ وَظَهَرَ مِنْ فَضْلِهِ فِي مُنَاظَرَاتِهِ أَهْلَ الْعِرَاقِ وَغَيْرَهُمْ مَا لَمْ يَظْهَرْ لِغَيْرِهِ.
وَأَظْهَرَ مِنْ بَيَانِ الْقَوَاعِدِ وَمُهِمَّاتِ الْأُصُولِ مَا لا يعرف لسواه: وامتحن في مواطن ما لَا يُحْصَى مِنْ الْمَسَائِلِ فَكَانَ جَوَابُهُ فِيهَا مِنْ الصَّوَابِ وَالسَّدَادِ بِالْمَحِلِّ الْأَعْلَى وَالْمَقَامِ الْأَسْمَى: وَعَكَفَ عَلَيْهِ لِلِاسْتِفَادَةِ مِنْهُ الصِّغَارُ وَالْكِبَارُ وَالْأَئِمَّةُ والاحبار مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ وَغَيْرِهِمْ
* وَرَجَعَ كَثِيرُونَ مِنْهُمْ عَنْ مَذَاهِبَ كَانُوا عَلَيْهَا إلَى مَذْهَبِهِ وَتَمَسَّكُوا بِطَرِيقَتِهِ كَأَبِي ثَوْرٍ وَخَلَائِقَ لَا يُحْصَوْنَ
* وَتَرَكَ كَثِيرٌ مِنْهُمْ الْأَخْذَ عَنْ شُيُوخِهِمْ وَكِبَارِ الائمة لانقاطاعهم إلَى الشَّافِعِيِّ لَمَّا رَأَوْا عِنْدَهُ مَا لَا يَجِدُونَهُ عِنْدَ غَيْرِهِ وَبَارَكَ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُ وَلَهُمْ فِي تِلْكَ الْعُلُومِ الْبَاهِرَةِ وَالْمَحَاسِنِ الْمُتَظَاهِرَةِ وَالْخَيْرَاتِ الْمُتَكَاثِرَةِ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ عَلَى ذَلِكَ وَعَلَى سَائِرِ نِعَمِهِ الَّتِي لَا تُحْصَى: وَصَنَّفَ فِي الْعِرَاقِ كِتَابَهُ الْقَدِيمِ وَيُسَمَّى كِتَابَ الْحُجَّةِ وَيَرْوِيهِ عَنْهُ أَرْبَعَةٌ مِنْ جُلَّةِ أَصْحَابِهِ وَهُمْ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَأَبُو ثَوْرٍ وَالزَّعْفَرَانِيّ وَالْكَرَابِيسِيُّ ثُمَّ خَرَجَ إلَى مِصْرَ سَنَةَ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ.
قال أبو عبد الله حرملة بن يحي قدم علينا الشافعي سنة تسع وتسعين: وَقَالَ الرَّبِيعُ سَنَةَ مِائَتَيْنِ وَلَعَلَّهُ قَدِمَ فِي آخِرِ سَنَةِ تِسْعٍ جَمْعًا بَيْنَ الرِّوَايَتَيْنِ: وَصَنَّفَ كُتُبَهُ الْجَدِيدَةَ كُلَّهَا بِمِصْرَ وَسَارَ ذِكْرُهُ فِي البلدان وقصده الناس من الشام والعراق واليمين وَسَائِرِ النَّوَاحِي لِلْأَخْذِ عَنْهُ وَسَمَاعِ كُتُبِهِ الْجَدِيدَةِ وَأَخْذِهَا عَنْهُ وَسَادَ أَهْلَ مِصْرَ وَغَيْرَهُمْ وَابْتَكَرَ كُتُبًا لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا مِنْهَا أُصُولُ الْفِقْهِ.
وَمِنْهَا كِتَابُ الْقَسَامَةِ. وَكِتَابُ الْجِزْيَةِ وَقِتَالُ أَهْلِ الْبَغْيِ وَغَيْرُهَا: قَالَ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ الرَّازِيّ فِي كتابه مناقب الشافعي سمعت ابا عمر واحمد بْنَ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ قَالَ سَمِعْتُ محمد بن حمدان بن سفيان الطرايفي الْبَغْدَادِيَّ يَقُولُ حَضَرْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَوْمًا وَقَدْ حَطَّ عَلَى بَابِ دَارِهِ سَبْعُمِائَةِ رَاحِلَةٍ فِي سَمَاعِ كُتُبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
*
فَصْلٌ فِي تَلْخِيصِ جُمْلَةٍ مِنْ حَالِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
اعْلَمْ أَنَّهُ كَانَ مِنْ أَنْوَاعِ الْمَحَاسِنِ بِالْمَقَامِ الْأَعْلَى وَالْمَحَلِّ الْأَسْنَى
* لِمَا جَمَعَهُ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُ مِنْ الْخَيْرَاتِ
* وَوَفَّقَهُ لَهُ مِنْ جَمِيلِ الصِّفَاتِ
* وَسَهَّلَهُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْوَاعِ الْمَكْرُمَاتِ
* فَمِنْ ذَلِكَ شَرَفُ النَّسَبِ الطَّاهِرِ وَالْعُنْصُرِ الْبَاهِرِ وَاجْتِمَاعِهِ هُوَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّسَبِ: وَذَلِكَ غَايَةُ الْفَضْلِ وَنِهَايَةُ الْحَسَبِ: وَمِنْ ذَلِكَ شَرَفُ الْمَوْلِدِ وَالْمَنْشَأِ فَإِنَّهُ وُلِدَ بِالْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ وَنَشَأَ بِمَكَّةَ: وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُ جَاءَ بَعْدَ أَنْ مُهِّدَتْ الْكُتُبُ وَصُنِّفَتْ.
وَقُرِّرَتْ الْأَحْكَامُ وَنُقِّحَتْ.
فَنَظَرَ فِي مَذَاهِبِ الْمُتَقَدِّمِينَ وَأَخَذَ عَنْ الْأَئِمَّةِ الْمُبْرَزِينَ وَنَاظَرَ الْحُذَّاقَ
* وَاعْتَرَفَ بِذَلِكَ الْعُلَمَاءُ أَجْمَعُونَ وَعَظُمَتْ عِنْدَ الْخُلَفَاءِ وَوُلَاةِ الْأُمُورِ مَرْتَبَتُهُ وَاسْتَقَرَّتْ عِنْدَهُمْ جَلَالَتُهُ وَإِمَامَتُهُ وَظَهَرَ مِنْ فَضْلِهِ فِي مُنَاظَرَاتِهِ أَهْلَ الْعِرَاقِ وَغَيْرَهُمْ مَا لَمْ يَظْهَرْ لِغَيْرِهِ.
وَأَظْهَرَ مِنْ بَيَانِ الْقَوَاعِدِ وَمُهِمَّاتِ الْأُصُولِ مَا لا يعرف لسواه: وامتحن في مواطن ما لَا يُحْصَى مِنْ الْمَسَائِلِ فَكَانَ جَوَابُهُ فِيهَا مِنْ الصَّوَابِ وَالسَّدَادِ بِالْمَحِلِّ الْأَعْلَى وَالْمَقَامِ الْأَسْمَى: وَعَكَفَ عَلَيْهِ لِلِاسْتِفَادَةِ مِنْهُ الصِّغَارُ وَالْكِبَارُ وَالْأَئِمَّةُ والاحبار مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ وَغَيْرِهِمْ
* وَرَجَعَ كَثِيرُونَ مِنْهُمْ عَنْ مَذَاهِبَ كَانُوا عَلَيْهَا إلَى مَذْهَبِهِ وَتَمَسَّكُوا بِطَرِيقَتِهِ كَأَبِي ثَوْرٍ وَخَلَائِقَ لَا يُحْصَوْنَ
* وَتَرَكَ كَثِيرٌ مِنْهُمْ الْأَخْذَ عَنْ شُيُوخِهِمْ وَكِبَارِ الائمة لانقاطاعهم إلَى الشَّافِعِيِّ لَمَّا رَأَوْا عِنْدَهُ مَا لَا يَجِدُونَهُ عِنْدَ غَيْرِهِ وَبَارَكَ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُ وَلَهُمْ فِي تِلْكَ الْعُلُومِ الْبَاهِرَةِ وَالْمَحَاسِنِ الْمُتَظَاهِرَةِ وَالْخَيْرَاتِ الْمُتَكَاثِرَةِ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ عَلَى ذَلِكَ وَعَلَى سَائِرِ نِعَمِهِ الَّتِي لَا تُحْصَى: وَصَنَّفَ فِي الْعِرَاقِ كِتَابَهُ الْقَدِيمِ وَيُسَمَّى كِتَابَ الْحُجَّةِ وَيَرْوِيهِ عَنْهُ أَرْبَعَةٌ مِنْ جُلَّةِ أَصْحَابِهِ وَهُمْ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَأَبُو ثَوْرٍ وَالزَّعْفَرَانِيّ وَالْكَرَابِيسِيُّ ثُمَّ خَرَجَ إلَى مِصْرَ سَنَةَ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ.
قال أبو عبد الله حرملة بن يحي قدم علينا الشافعي سنة تسع وتسعين: وَقَالَ الرَّبِيعُ سَنَةَ مِائَتَيْنِ وَلَعَلَّهُ قَدِمَ فِي آخِرِ سَنَةِ تِسْعٍ جَمْعًا بَيْنَ الرِّوَايَتَيْنِ: وَصَنَّفَ كُتُبَهُ الْجَدِيدَةَ كُلَّهَا بِمِصْرَ وَسَارَ ذِكْرُهُ فِي البلدان وقصده الناس من الشام والعراق واليمين وَسَائِرِ النَّوَاحِي لِلْأَخْذِ عَنْهُ وَسَمَاعِ كُتُبِهِ الْجَدِيدَةِ وَأَخْذِهَا عَنْهُ وَسَادَ أَهْلَ مِصْرَ وَغَيْرَهُمْ وَابْتَكَرَ كُتُبًا لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا مِنْهَا أُصُولُ الْفِقْهِ.
وَمِنْهَا كِتَابُ الْقَسَامَةِ. وَكِتَابُ الْجِزْيَةِ وَقِتَالُ أَهْلِ الْبَغْيِ وَغَيْرُهَا: قَالَ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ الرَّازِيّ فِي كتابه مناقب الشافعي سمعت ابا عمر واحمد بْنَ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ قَالَ سَمِعْتُ محمد بن حمدان بن سفيان الطرايفي الْبَغْدَادِيَّ يَقُولُ حَضَرْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَوْمًا وَقَدْ حَطَّ عَلَى بَابِ دَارِهِ سَبْعُمِائَةِ رَاحِلَةٍ فِي سَمَاعِ كُتُبِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
*
فَصْلٌ فِي تَلْخِيصِ جُمْلَةٍ مِنْ حَالِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
اعْلَمْ أَنَّهُ كَانَ مِنْ أَنْوَاعِ الْمَحَاسِنِ بِالْمَقَامِ الْأَعْلَى وَالْمَحَلِّ الْأَسْنَى
* لِمَا جَمَعَهُ اللَّهُ الْكَرِيمُ لَهُ مِنْ الْخَيْرَاتِ
* وَوَفَّقَهُ لَهُ مِنْ جَمِيلِ الصِّفَاتِ
* وَسَهَّلَهُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْوَاعِ الْمَكْرُمَاتِ
* فَمِنْ ذَلِكَ شَرَفُ النَّسَبِ الطَّاهِرِ وَالْعُنْصُرِ الْبَاهِرِ وَاجْتِمَاعِهِ هُوَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّسَبِ: وَذَلِكَ غَايَةُ الْفَضْلِ وَنِهَايَةُ الْحَسَبِ: وَمِنْ ذَلِكَ شَرَفُ الْمَوْلِدِ وَالْمَنْشَأِ فَإِنَّهُ وُلِدَ بِالْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ وَنَشَأَ بِمَكَّةَ: وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُ جَاءَ بَعْدَ أَنْ مُهِّدَتْ الْكُتُبُ وَصُنِّفَتْ.
وَقُرِّرَتْ الْأَحْكَامُ وَنُقِّحَتْ.
فَنَظَرَ فِي مَذَاهِبِ الْمُتَقَدِّمِينَ وَأَخَذَ عَنْ الْأَئِمَّةِ الْمُبْرَزِينَ وَنَاظَرَ الْحُذَّاقَ
আল-কাত্তান ও আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর প্রতি মুগ্ধ ছিলেন। আল-কাত্তান ও আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁদের সালাতে ইমাম শাফিঈর জন্য দু'আ করতেন। আর মানুষ তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের প্রশংসায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের উক্তিগুলো সুপ্রসিদ্ধ। আল-মুযানী বলেছেন, "আমি 'আর-রিসালাহ' পাঁচশত বার পাঠ করেছি। এমন একবারও হয়নি যে, আমি তা থেকে নতুন কোনো ফায়দা (উপকার) লাভ করিনি।" তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, "আমি পঞ্চাশ বছর ধরে 'আর-রিসালাহ' অধ্যয়ন করছি। আমি জানি না যে, একবারও আমি তা অধ্যয়ন করেছি আর এমন কিছু লাভ করিনি যা আমি আগে জানতাম না।" ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহর মহত্ত্ব ইরাকে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তাঁর খ্যাতি দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে তাঁর অনুসারী ও বিরোধীরা উভয়েই স্বীকার করে নিয়েছিল।
* এবং সকল উলামা এ বিষয়ে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খলিফা ও শাসকবর্গের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের কাছে তাঁর মহত্ত্ব ও ইমামত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের সাথে তাঁর বিতর্কে তাঁর এমন শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় যা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়নি।
তিনি উসূলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও মূলনীতিসমূহ এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা তাঁর পূর্বে অন্য কারো ক্ষেত্রে জানা যায়নি। অগণিত মাসআলায় তাঁকে পরীক্ষা করা হয়েছে, আর সেগুলোর জবাবে তাঁর নির্ভুলতা ও সঠিকতা ছিল সর্বোচ্চ স্তরের ও শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার। তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য ছোট-বড়, ইমামগণ ও আহবারগণ (পণ্ডিতগণ) – হাদীস ও ফিকাহবিদ এবং অন্যান্যরা তাঁর কাছে ভিড় জমাতেন।
* তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের পূর্বের মাযহাব ত্যাগ করে তাঁর মাযহাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর পদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরেন, যেমন আবু সাওরের মতো অগণিত মানুষ।
* তাঁদের অনেকেই তাঁদের শায়খ ও বড় বড় ইমামদের থেকে জ্ঞানার্জন ছেড়ে দেন এবং ইমাম শাফিঈর প্রতি ঝুঁকে পড়েন, কারণ তাঁরা তাঁর কাছে এমন কিছু দেখতে পেয়েছিলেন যা অন্য কারো কাছে পাননি। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর ও তাঁদের জন্য সেই উজ্জ্বল জ্ঞান, প্রকাশ্য সৌন্দর্য এবং অগণিত কল্যাণসমূহে বরকত দান করুন। আর এর জন্য এবং তাঁর অগণিত অন্যান্য নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি ইরাকে তাঁর পুরাতন গ্রন্থ রচনা করেন, যা 'কিতাবুল হুজ্জাহ' নামে পরিচিত। তাঁর চারজন শ্রেষ্ঠ ছাত্র তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁরা হলেন আহমদ ইবনে হাম্বল, আবু সাওরের, আয-জাফরানী এবং আল-কারাবিসি। এরপর তিনি একশত নিরানব্বই (১৯৯) হিজরীতে মিসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
আবু আব্দুল্লাহ হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া বলেছেন, "ইমাম শাফিঈ নিরানব্বই (৯৯) হিজরীতে আমাদের কাছে আগমন করেন।" আর রাবী' বলেছেন, "দুইশত (২০০) হিজরীতে।" সম্ভবত তিনি নিরানব্বই (১৯৯) হিজরীর শেষ দিকে আগমন করেছিলেন, উভয় বর্ণনাকে একত্রিত করার জন্য। তিনি তাঁর সকল নতুন গ্রন্থ মিসরে রচনা করেন। তাঁর খ্যাতি বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শাম, ইরাক, ইয়ামান ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে মানুষ তাঁর থেকে জ্ঞানার্জন করতে, তাঁর নতুন গ্রন্থসমূহ শুনতে ও গ্রহণ করতে তাঁর কাছে আসতেন। তিনি মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের নেতা হয়ে ওঠেন এবং এমন গ্রন্থসমূহ উদ্ভাবন করেন যা পূর্বে কেউ রচনা করেনি, যার মধ্যে অন্যতম হলো 'উসূলুল ফিকাহ'।
এর মধ্যে রয়েছে 'কিতাবুল কাসামাহ', 'কিতাবুল জিজিয়াহ', 'কিতালু আহলিল বাগয়ি' এবং অন্যান্য গ্রন্থ। ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাযী তাঁর 'মানাকিব আশ-শাফিঈ' গ্রন্থে বলেছেন, "আমি আবু উমার আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-বাসরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে হামদান ইবনে সুফিয়ান আত-তারাইফী আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি যে, আমি একদিন রাবী' ইবনে সুলাইমানের কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন তাঁর বাড়ির দরজায় ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহর গ্রন্থসমূহ শোনার জন্য সাতশত উট (বা সওয়ারী) ভিড় করেছিল। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।"
* **পরিচ্ছেদ: ইমাম শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ**
জেনে রাখুন, তিনি সকল প্রকার সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
* কারণ আল্লাহ তা'আলা তাঁর জন্য সকল কল্যাণ একত্রিত করেছিলেন।
* এবং তাঁকে সুন্দর গুণাবলী অর্জনে তাওফীক দিয়েছিলেন।
* এবং তাঁর জন্য সকল প্রকার মহৎ গুণাবলী সহজ করে দিয়েছিলেন।
* এর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর পবিত্র বংশের শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর উজ্জ্বল উৎস এবং বংশগতভাবে তাঁর ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলন। আর এটিই শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায় এবং মর্যাদার শেষ সীমা।
এর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর জন্ম ও প্রতিপালনের শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ তিনি পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মক্কায় বেড়ে ওঠেন। এর মধ্যে আরও একটি হলো, তিনি এমন এক সময়ে আগমন করেন যখন গ্রন্থসমূহ সুবিন্যস্ত ও সংকলিত হয়েছিল এবং আহকাম (বিধানাবলী) সুপ্রতিষ্ঠিত ও পরিমার্জিত হয়েছিল। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী আলেমদের মাযহাবসমূহ অধ্যয়ন করেন, প্রসিদ্ধ ইমামদের থেকে জ্ঞানার্জন করেন এবং বিজ্ঞ আলেমদের সাথে বিতর্ক করেন।
* এবং সকল উলামা এ বিষয়ে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খলিফা ও শাসকবর্গের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের কাছে তাঁর মহত্ত্ব ও ইমামত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের সাথে তাঁর বিতর্কে তাঁর এমন শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় যা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়নি।
তিনি উসূলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও মূলনীতিসমূহ এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা তাঁর পূর্বে অন্য কারো ক্ষেত্রে জানা যায়নি। অগণিত মাসআলায় তাঁকে পরীক্ষা করা হয়েছে, আর সেগুলোর জবাবে তাঁর নির্ভুলতা ও সঠিকতা ছিল সর্বোচ্চ স্তরের ও শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার। তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য ছোট-বড়, ইমামগণ ও আহবারগণ (পণ্ডিতগণ) – হাদীস ও ফিকাহবিদ এবং অন্যান্যরা তাঁর কাছে ভিড় জমাতেন।
* তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের পূর্বের মাযহাব ত্যাগ করে তাঁর মাযহাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর পদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরেন, যেমন আবু সাওরের মতো অগণিত মানুষ।
* তাঁদের অনেকেই তাঁদের শায়খ ও বড় বড় ইমামদের থেকে জ্ঞানার্জন ছেড়ে দেন এবং ইমাম শাফিঈর প্রতি ঝুঁকে পড়েন, কারণ তাঁরা তাঁর কাছে এমন কিছু দেখতে পেয়েছিলেন যা অন্য কারো কাছে পাননি। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর ও তাঁদের জন্য সেই উজ্জ্বল জ্ঞান, প্রকাশ্য সৌন্দর্য এবং অগণিত কল্যাণসমূহে বরকত দান করুন। আর এর জন্য এবং তাঁর অগণিত অন্যান্য নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি ইরাকে তাঁর পুরাতন গ্রন্থ রচনা করেন, যা 'কিতাবুল হুজ্জাহ' নামে পরিচিত। তাঁর চারজন শ্রেষ্ঠ ছাত্র তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁরা হলেন আহমদ ইবনে হাম্বল, আবু সাওরের, আয-জাফরানী এবং আল-কারাবিসি। এরপর তিনি একশত নিরানব্বই (১৯৯) হিজরীতে মিসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
আবু আব্দুল্লাহ হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া বলেছেন, "ইমাম শাফিঈ নিরানব্বই (৯৯) হিজরীতে আমাদের কাছে আগমন করেন।" আর রাবী' বলেছেন, "দুইশত (২০০) হিজরীতে।" সম্ভবত তিনি নিরানব্বই (১৯৯) হিজরীর শেষ দিকে আগমন করেছিলেন, উভয় বর্ণনাকে একত্রিত করার জন্য। তিনি তাঁর সকল নতুন গ্রন্থ মিসরে রচনা করেন। তাঁর খ্যাতি বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শাম, ইরাক, ইয়ামান ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে মানুষ তাঁর থেকে জ্ঞানার্জন করতে, তাঁর নতুন গ্রন্থসমূহ শুনতে ও গ্রহণ করতে তাঁর কাছে আসতেন। তিনি মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের নেতা হয়ে ওঠেন এবং এমন গ্রন্থসমূহ উদ্ভাবন করেন যা পূর্বে কেউ রচনা করেনি, যার মধ্যে অন্যতম হলো 'উসূলুল ফিকাহ'।
এর মধ্যে রয়েছে 'কিতাবুল কাসামাহ', 'কিতাবুল জিজিয়াহ', 'কিতালু আহলিল বাগয়ি' এবং অন্যান্য গ্রন্থ। ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাযী তাঁর 'মানাকিব আশ-শাফিঈ' গ্রন্থে বলেছেন, "আমি আবু উমার আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-বাসরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে হামদান ইবনে সুফিয়ান আত-তারাইফী আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি যে, আমি একদিন রাবী' ইবনে সুলাইমানের কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন তাঁর বাড়ির দরজায় ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহর গ্রন্থসমূহ শোনার জন্য সাতশত উট (বা সওয়ারী) ভিড় করেছিল। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।"
* **পরিচ্ছেদ: ইমাম শাফিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ**
জেনে রাখুন, তিনি সকল প্রকার সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
* কারণ আল্লাহ তা'আলা তাঁর জন্য সকল কল্যাণ একত্রিত করেছিলেন।
* এবং তাঁকে সুন্দর গুণাবলী অর্জনে তাওফীক দিয়েছিলেন।
* এবং তাঁর জন্য সকল প্রকার মহৎ গুণাবলী সহজ করে দিয়েছিলেন।
* এর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর পবিত্র বংশের শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর উজ্জ্বল উৎস এবং বংশগতভাবে তাঁর ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলন। আর এটিই শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায় এবং মর্যাদার শেষ সীমা।
এর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর জন্ম ও প্রতিপালনের শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ তিনি পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মক্কায় বেড়ে ওঠেন। এর মধ্যে আরও একটি হলো, তিনি এমন এক সময়ে আগমন করেন যখন গ্রন্থসমূহ সুবিন্যস্ত ও সংকলিত হয়েছিল এবং আহকাম (বিধানাবলী) সুপ্রতিষ্ঠিত ও পরিমার্জিত হয়েছিল। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী আলেমদের মাযহাবসমূহ অধ্যয়ন করেন, প্রসিদ্ধ ইমামদের থেকে জ্ঞানার্জন করেন এবং বিজ্ঞ আলেমদের সাথে বিতর্ক করেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الْمُتْقِنِينَ فَنَظَرَ مَذَاهِبَهُمْ وَسَبَرَهَا وَتَحَقَّقَهَا وَخَبَرَهَا فَلَخَّصَ مِنْهَا طَرِيقَةً جَامِعَةً لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ وَلَمْ يَقْتَصِرْ عَلَى بَعْضِ ذَلِكَ وَتَفَرَّغَ لِلِاخْتِيَارِ والترجيح والتكميل والتنقيح مع كمال قُوَّتِهِ وَعُلُوِّ هِمَّتِهِ وَبَرَاعَتِهِ فِي جَمِيعِ أَنْوَاعِ الفنون واضطلاعه منها أشد اضطلاح وَهُوَ الْمُبَرِّزُ فِي الِاسْتِنْبَاطِ مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ الْبَارِعُ فِي مَعْرِفَةِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ وَالْمُجْمَلِ وَالْمُبَيَّنِ وَالْخَاصِّ وَالْعَامِّ وَغَيْرِهَا مِنْ تَقَاسِيمِ الْخِطَابِ فَلَمْ يَسْبِقْهُ أَحَدٌ إلَى فَتْحِ هَذَا الْبَابِ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ أُصُولَ الْفِقْهِ بِلَا خِلَافٍ وَلَا ارْتِيَابٍ وَهُوَ الَّذِي لَا يُسَاوَى بَلْ لَا يُدَانَى فِي مَعْرِفَةِ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَدِّ بَعْضِهَا إلَى بَعْضٍ وَهُوَ الْإِمَامُ الْحُجَّةُ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ وَنَحْوِهِمْ فَقَدْ اشْتَغَلَ فِي الْعَرَبِيَّةِ عِشْرِينَ سَنَةً مَعَ بَلَاغَتِهِ وَفَصَاحَتِهِ وَمَعَ أَنَّهُ عَرَبِيُّ اللِّسَانِ وَالدَّارِ وَالْعَصْرِ وَبِهَا يُعْرَفُ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ: وَهُوَ الَّذِي قَلَّدَ الْمِنَنَ الْجَسِيمَةَ جَمِيعَ أَهْلِ الْآثَارِ وَحَمَلَةَ الْأَحَادِيثِ وَنَقْلَةَ الْأَخْبَارِ بِتَوْقِيفِهِ إيَّاهُمْ عَلَى مَعَانِي السُّنَنِ وَتَنْبِيهِهِمْ وَقَذْفِهِ بالحق على باطن مُخَالِفِي السُّنَنِ وَتَمْوِيهِهِمْ فَنَعَّشَهُمْ بَعْدَ أَنْ كَانُوا خَامِلِينَ وَظَهَرَتْ كَلِمَتُهُمْ عَلَى جَمِيعِ الْمُخَالِفِينَ وَدَمَغُوهُمْ بِوَاضِحَاتِ الْبَرَاهِينِ حَتَّى ظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ
* قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحِمَهُ اللَّهُ إنْ تَكَلَّمَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ يَوْمًا مَا فَبِلِسَانِ الشَّافِعِيِّ يَعْنِي لِمَا وَضَعَ مِنْ كُتُبِهِ
* وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ كَانَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ رُقُودًا فَأَيْقَظَهُمْ الشَّافِعِيُّ فَتَيَقَّظُوا
* وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ مَا أَحَدٌ مَسَّ بِيَدِهِ مِحْبَرَةً وَلَا قَلَمًا إلَّا وَلِلشَّافِعِيِّ فِي رَقَبَتِهِ مِنَّةٌ فَهَذَا قَوْلُ إمَامِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ وَمَنْ لَا يَخْتَلِفُونَ فِي وَرَعِهِ وَفَضْلِهِ
* وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّ الشَّافِعِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ مَكَّنَهُ اللَّهُ مِنْ أَنْوَاعِ الْعُلُومِ حَتَّى عَجَزَ لَدَيْهِ الْمُنَاظِرُونَ مِنْ الطَّوَائِفِ وَأَصْحَابُ الْفُنُونِ وَاعْتَرَفَ بِتَبْرِيزِهِ وَأَذْعَنَ الْمُوَافِقُونَ وَالْمُخَالِفُونَ فِي الْمَحَافِلِ الْمَشْهُورَةِ الْكَبِيرَةِ الْمُشْتَمِلَةِ عَلَى أَئِمَّةِ عَصْرِهِ فِي الْبُلْدَانِ وَهَذِهِ الْمُنَاظَرَاتُ مَعْرُوفَةٌ مَوْجُودَةٌ فِي كُتُبِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَفِي كتب الائمة المتقدمين والمتأخرين وَفِي كِتَابِ الْأُمِّ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ مِنْ هَذِهِ الْمُنَاظَرَاتِ جُمَلٌ مِنْ الْعَجَائِبِ وَالْآيَاتِ، وَالنَّفَائِسِ الْجَلِيلَاتِ، وَالْقَوَاعِدِ الْمُسْتَفَادَاتِ
* وَكَمْ مِنْ مُنَاظَرَةٍ وَقَاعِدَةٍ فِيهِ يَقْطَعُ كُلُّ مَنْ وَقَفَ عَلَيْهَا وَأَنْصَفَ وَصَدَقَ أَنَّهُ لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا
* وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُ تَصَدَّرَ فِي عَصْرِ الْأَئِمَّةِ الْمُبْرَزِينَ لِلْإِفْتَاءِ وَالتَّدْرِيسِ وَالتَّصْنِيفِ وَقَدْ أَمَرَهُ بِذَلِكَ شَيْخُهُ أَبُو خَالِدٍ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ إمَامُ أَهْلِ مَكَّةَ وَمُفْتِيهَا وَقَالَ لَهُ افْتِ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ فَقَدْ وَاَللَّهِ آنَ لَكَ أَنْ تُفْتِيَ وَكَانَ لِلشَّافِعِيِّ إذْ ذَاكَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً: وَأَقَاوِيلُ أَهْلِ عَصْرِهِ فِي هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ وَأُخِذَ عَنْ الشَّافِعِيِّ الْعِلْمُ فِي سِنِّ الْحَدَاثَةِ مَعَ تَوَفُّرِ الْعُلَمَاءِ فِي ذَلِكَ الْعَصْرِ وَهَذَا مِنْ الدَّلَائِلِ الصَّرِيحَةِ لِعِظَمِ جَلَالَتِهِ وَعُلُوِّ مَرْتَبَتِهِ وَهَذَا كُلُّهُ مِنْ الْمَشْهُورِ الْمَعْرُوفِ فِي كُتُبِ مَنَاقِبِهِ وَغَيْرِهَا
* وَمِنْ ذَلِكَ شِدَّةُ اجْتِهَادِهِ فِي نُصْرَةِ الْحَدِيثِ وَاتِّبَاعُ السُّنَّةِ وَجَمْعُهُ فِي مَذْهَبِهِ بَيْنَ أَطْرَافِ الْأَدِلَّةِ مَعَ الْإِتْقَانِ وَالتَّحْقِيقِ وَالْغَوْصِ التَّامِّ عَلَى الْمَعَانِي وَالتَّدْقِيقِ: حَتَّى لُقِّبَ حِينَ قَدِمَ الْعِرَاقَ بِنَاصِرِ الْحَدِيثِ وَغَلَبَ فِي عُرْفِ الْعُلَمَاءِ الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْفُقَهَاءِ الْخُرَاسَانِيِّينَ عَلَى مُتَّبِعِي مَذْهَبِهِ لَقَبُ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ: وَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ الْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ الْمَعْرُوفِ بِإِمَامِ الْأَئِمَّةِ وَكَانَ مِنْ حِفْظِ الْحَدِيثِ وَمَعْرِفَةِ السُّنَّةِ بِالْغَايَةِ الْعَالِيَةِ أَنَّهُ سُئِلَ هَلْ تَعْلَمُ سُنَّةً صَحِيحَةً لَمْ يُودِعْهَا الشَّافِعِيُّ كُتُبَهُ قَالَ لَا: وَمَعَ هَذَا فَاحْتَاطَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لِكَوْنِ الْإِحَاطَةِ مُمْتَنِعَةً عَلَى الْبَشَرِ فَقَالَ مَا قَدْ ثَبَتَ عنه رضى عَنْهُ مِنْ أَوْجُهٍ مِنْ وَصِيَّتِهِ
* قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحِمَهُ اللَّهُ إنْ تَكَلَّمَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ يَوْمًا مَا فَبِلِسَانِ الشَّافِعِيِّ يَعْنِي لِمَا وَضَعَ مِنْ كُتُبِهِ
* وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ كَانَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ رُقُودًا فَأَيْقَظَهُمْ الشَّافِعِيُّ فَتَيَقَّظُوا
* وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ مَا أَحَدٌ مَسَّ بِيَدِهِ مِحْبَرَةً وَلَا قَلَمًا إلَّا وَلِلشَّافِعِيِّ فِي رَقَبَتِهِ مِنَّةٌ فَهَذَا قَوْلُ إمَامِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ وَمَنْ لَا يَخْتَلِفُونَ فِي وَرَعِهِ وَفَضْلِهِ
* وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّ الشَّافِعِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ مَكَّنَهُ اللَّهُ مِنْ أَنْوَاعِ الْعُلُومِ حَتَّى عَجَزَ لَدَيْهِ الْمُنَاظِرُونَ مِنْ الطَّوَائِفِ وَأَصْحَابُ الْفُنُونِ وَاعْتَرَفَ بِتَبْرِيزِهِ وَأَذْعَنَ الْمُوَافِقُونَ وَالْمُخَالِفُونَ فِي الْمَحَافِلِ الْمَشْهُورَةِ الْكَبِيرَةِ الْمُشْتَمِلَةِ عَلَى أَئِمَّةِ عَصْرِهِ فِي الْبُلْدَانِ وَهَذِهِ الْمُنَاظَرَاتُ مَعْرُوفَةٌ مَوْجُودَةٌ فِي كُتُبِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَفِي كتب الائمة المتقدمين والمتأخرين وَفِي كِتَابِ الْأُمِّ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ مِنْ هَذِهِ الْمُنَاظَرَاتِ جُمَلٌ مِنْ الْعَجَائِبِ وَالْآيَاتِ، وَالنَّفَائِسِ الْجَلِيلَاتِ، وَالْقَوَاعِدِ الْمُسْتَفَادَاتِ
* وَكَمْ مِنْ مُنَاظَرَةٍ وَقَاعِدَةٍ فِيهِ يَقْطَعُ كُلُّ مَنْ وَقَفَ عَلَيْهَا وَأَنْصَفَ وَصَدَقَ أَنَّهُ لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا
* وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُ تَصَدَّرَ فِي عَصْرِ الْأَئِمَّةِ الْمُبْرَزِينَ لِلْإِفْتَاءِ وَالتَّدْرِيسِ وَالتَّصْنِيفِ وَقَدْ أَمَرَهُ بِذَلِكَ شَيْخُهُ أَبُو خَالِدٍ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ إمَامُ أَهْلِ مَكَّةَ وَمُفْتِيهَا وَقَالَ لَهُ افْتِ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ فَقَدْ وَاَللَّهِ آنَ لَكَ أَنْ تُفْتِيَ وَكَانَ لِلشَّافِعِيِّ إذْ ذَاكَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً: وَأَقَاوِيلُ أَهْلِ عَصْرِهِ فِي هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ وَأُخِذَ عَنْ الشَّافِعِيِّ الْعِلْمُ فِي سِنِّ الْحَدَاثَةِ مَعَ تَوَفُّرِ الْعُلَمَاءِ فِي ذَلِكَ الْعَصْرِ وَهَذَا مِنْ الدَّلَائِلِ الصَّرِيحَةِ لِعِظَمِ جَلَالَتِهِ وَعُلُوِّ مَرْتَبَتِهِ وَهَذَا كُلُّهُ مِنْ الْمَشْهُورِ الْمَعْرُوفِ فِي كُتُبِ مَنَاقِبِهِ وَغَيْرِهَا
* وَمِنْ ذَلِكَ شِدَّةُ اجْتِهَادِهِ فِي نُصْرَةِ الْحَدِيثِ وَاتِّبَاعُ السُّنَّةِ وَجَمْعُهُ فِي مَذْهَبِهِ بَيْنَ أَطْرَافِ الْأَدِلَّةِ مَعَ الْإِتْقَانِ وَالتَّحْقِيقِ وَالْغَوْصِ التَّامِّ عَلَى الْمَعَانِي وَالتَّدْقِيقِ: حَتَّى لُقِّبَ حِينَ قَدِمَ الْعِرَاقَ بِنَاصِرِ الْحَدِيثِ وَغَلَبَ فِي عُرْفِ الْعُلَمَاءِ الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْفُقَهَاءِ الْخُرَاسَانِيِّينَ عَلَى مُتَّبِعِي مَذْهَبِهِ لَقَبُ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ: وَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ الْإِمَامِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ الْمَعْرُوفِ بِإِمَامِ الْأَئِمَّةِ وَكَانَ مِنْ حِفْظِ الْحَدِيثِ وَمَعْرِفَةِ السُّنَّةِ بِالْغَايَةِ الْعَالِيَةِ أَنَّهُ سُئِلَ هَلْ تَعْلَمُ سُنَّةً صَحِيحَةً لَمْ يُودِعْهَا الشَّافِعِيُّ كُتُبَهُ قَالَ لَا: وَمَعَ هَذَا فَاحْتَاطَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لِكَوْنِ الْإِحَاطَةِ مُمْتَنِعَةً عَلَى الْبَشَرِ فَقَالَ مَا قَدْ ثَبَتَ عنه رضى عَنْهُ مِنْ أَوْجُهٍ مِنْ وَصِيَّتِهِ
সুনিপুণগণ তাদের মাযহাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন, গভীরভাবে পরীক্ষা করেছেন, যাচাই করেছেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অতঃপর তিনি (ইমাম শাফিঈ) তা থেকে কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা' ও কিয়াসের সমন্বিত একটি পদ্ধতি সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি এর কোনো অংশে নিজেকে সীমিত রাখেননি, বরং পূর্ণ শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সকল প্রকার জ্ঞানে তার পারদর্শিতা ও গভীর জ্ঞান সহকারে নির্বাচন, অগ্রাধিকার প্রদান, পূর্ণতা দান ও পরিশোধনের কাজে নিবিষ্ট ছিলেন।
তিনি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান উদ্ভাবনে (ইস্তিম্বাত) শ্রেষ্ঠ ছিলেন, নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), মুজমাল ও মুবাইয়্যান (সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত), খাস ও আম (বিশেষ ও সাধারণ) এবং বক্তৃতার অন্যান্য বিভাজন সম্পর্কে জ্ঞান লাভে পারদর্শী ছিলেন। এই দ্বার উন্মোচনে কেউ তার পূর্বে অগ্রগামী হতে পারেনি, কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূলুল ফিকহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কোনো মতানৈক্য বা সন্দেহ ব্যতিরেকে।
তিনি এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানে তুলনাহীন, বরং তার নিকটবর্তীও নন, এবং সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির সম্পর্ক স্থাপনেও। তিনি আরবি ভাষা ও ব্যাকরণে ইমাম ও প্রমাণ (হুজ্বাহ) ছিলেন। তিনি বিশ বছর আরবি ভাষা চর্চায় ব্যয় করেছেন, তার বাগ্মিতা ও সাবলীলতা থাকা সত্ত্বেও, এবং তিনি আরবভাষী, আরব ভূমি ও আরব যুগের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও। আর এই আরবি ভাষার মাধ্যমেই কিতাব ও সুন্নাহ বোঝা যায়।
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি আসারপন্থীগণ, হাদীস বহনকারীগণ এবং সংবাদ বর্ণনাকারীগণের সকলের উপর অগণিত অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন; তাদেরকে সুন্নাহর অর্থ সম্পর্কে অবহিত করে, তাদেরকে সচেতন করে এবং সুন্নাহর বিরোধিতাকারীগণের অভ্যন্তরীণ মিথ্যা ও প্রতারণার উপর সত্য দ্বারা আঘাত করে। তিনি তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন যখন তারা অজ্ঞাত ছিলেন, এবং তাদের কথা সকল বিরোধীর উপর প্রকাশিত হয়েছে। তারা স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা বিরোধীদের পরাভূত করেছেন, এমনকি তাদের ঘাড় তাদের (সুন্নাহপন্থীদের) সামনে নত হয়ে গেছে।
*মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি হাদীসপন্থীগণ কোনো দিন কথা বলেন, তবে তা শাফিঈর ভাষায়ই বলেন।" অর্থাৎ, তার রচিত গ্রন্থাবলীর কারণে।*
*হাসান ইবনু মুহাম্মদ আয-জাফরানী বলেন: "হাদীসপন্থীগণ ঘুমন্ত ছিলেন, অতঃপর শাফিঈ তাদেরকে জাগিয়ে তুললেন, ফলে তারা জেগে উঠলেন।"*
*আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কেউ তার হাতে দোয়াত বা কলম স্পর্শ করেনি, অথচ শাফিঈর অনুগ্রহ তার ঘাড়ে নেই।" এটি হাদীসপন্থীগণের ইমাম ও তাদের অনুসারীদের উক্তি, যাদের ধার্মিকতা ও শ্রেষ্ঠত্বে তারা কোনো মতানৈক্য করেন না।*
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, আল্লাহ তায়ালা শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানে এমনভাবে সক্ষম করেছেন যে, বিভিন্ন দল ও শিল্পের অধিকারী বিতর্ককারীগণ তার সামনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তার সমসাময়িক যুগের বিভিন্ন শহরের ইমামগণকে নিয়ে গঠিত বিখ্যাত ও বৃহৎ মজলিসসমূহে তার সমর্থক ও বিরোধিতাকারী উভয়ই তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন এবং অনুগত হয়েছেন। এই বিতর্কসমূহ সুপরিচিত এবং তার গ্রন্থাবলীতে (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণের গ্রন্থাবলীতে বিদ্যমান। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুল উম্মে এই বিতর্কসমূহ থেকে আশ্চর্যজনক ও অলৌকিক, মূল্যবান ও মহিমান্বিত জ্ঞান এবং উপকারী নীতিসমূহের অনেক অংশ রয়েছে।
এবং তাতে কতই না বিতর্ক ও নীতি রয়েছে, যা যে কেউ তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ন্যায়পরায়ণ ও সত্যবাদী হবে, সে নিশ্চিতভাবে স্বীকার করবে যে, তার পূর্বে কেউ এতে অগ্রগামী হয়নি।
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, তিনি ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ইমামগণের যুগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার শিক্ষক আবু খালিদ মুসলিম ইবনু খালিদ আয-যানজি, যিনি মক্কার ইমাম ও মুফতি ছিলেন, তাকে এ বিষয়ে আদেশ করেন এবং তাকে বলেন: "ফতোয়া দিন, হে আবু আব্দুল্লাহ! আল্লাহর কসম, আপনার জন্য ফতোয়া দেওয়ার সময় হয়েছে।" তখন শাফিঈর বয়স ছিল পনেরো বছর। এ বিষয়ে তার সমসাময়িকদের উক্তি অসংখ্য ও সুপরিচিত। সেই যুগে আলেমদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও শাফিঈ থেকে তারুণ্যেই জ্ঞান গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি তার মহান মর্যাদা ও উচ্চ পদমর্যাদার স্পষ্ট প্রমাণসমূহের অন্যতম। এই সবকিছুই তার গুণাবলী বিষয়ক গ্রন্থাবলী ও অন্যান্য গ্রন্থে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ।
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, হাদীসের সমর্থনে ও সুন্নাহর অনুসরণে তার তীব্র পরিশ্রম, এবং তার মাযহাবে প্রমাণের বিভিন্ন দিককে সুনিপুণতা, যাচাই-বাছাই, অর্থের গভীরে প্রবেশ ও সূক্ষ্মতা সহকারে সমন্বয় করা। এমনকি তিনি যখন ইরাকে আগমন করেন, তখন তাকে "নাসিরুল হাদীস" (হাদীসের সাহায্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। এবং পূর্ববর্তী আলেমগণ ও খোরাসানের ফকীহগণের মধ্যে তার মাযহাবের অনুসারীগণের উপর "আসহাবুল হাদীস" (হাদীসপন্থী) উপাধিটি প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে প্রচলিত হয়ে যায়।
আমরা ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু খুযাইমাহ থেকে বর্ণনা করেছি, যিনি "ইমামুল আইম্মাহ" (ইমামগণের ইমাম) নামে পরিচিত ছিলেন এবং হাদীস মুখস্থকরণ ও সুন্নাহর জ্ঞানে সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী ছিলেন, যে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি এমন কোনো সহীহ সুন্নাহ জানেন যা শাফিঈ তার গ্রন্থাবলীতে অন্তর্ভুক্ত করেননি?" তিনি বললেন: "না।"
এতদসত্ত্বেও, শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, কারণ মানুষের পক্ষে সবকিছু পরিবেষ্টন করা অসম্ভব। তাই তিনি তার উপদেশসমূহের বিভিন্ন সূত্রে যা তার থেকে (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রমাণিত হয়েছে, তা বলেছেন।
তিনি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান উদ্ভাবনে (ইস্তিম্বাত) শ্রেষ্ঠ ছিলেন, নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), মুজমাল ও মুবাইয়্যান (সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত), খাস ও আম (বিশেষ ও সাধারণ) এবং বক্তৃতার অন্যান্য বিভাজন সম্পর্কে জ্ঞান লাভে পারদর্শী ছিলেন। এই দ্বার উন্মোচনে কেউ তার পূর্বে অগ্রগামী হতে পারেনি, কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূলুল ফিকহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কোনো মতানৈক্য বা সন্দেহ ব্যতিরেকে।
তিনি এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানে তুলনাহীন, বরং তার নিকটবর্তীও নন, এবং সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির সম্পর্ক স্থাপনেও। তিনি আরবি ভাষা ও ব্যাকরণে ইমাম ও প্রমাণ (হুজ্বাহ) ছিলেন। তিনি বিশ বছর আরবি ভাষা চর্চায় ব্যয় করেছেন, তার বাগ্মিতা ও সাবলীলতা থাকা সত্ত্বেও, এবং তিনি আরবভাষী, আরব ভূমি ও আরব যুগের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও। আর এই আরবি ভাষার মাধ্যমেই কিতাব ও সুন্নাহ বোঝা যায়।
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি আসারপন্থীগণ, হাদীস বহনকারীগণ এবং সংবাদ বর্ণনাকারীগণের সকলের উপর অগণিত অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন; তাদেরকে সুন্নাহর অর্থ সম্পর্কে অবহিত করে, তাদেরকে সচেতন করে এবং সুন্নাহর বিরোধিতাকারীগণের অভ্যন্তরীণ মিথ্যা ও প্রতারণার উপর সত্য দ্বারা আঘাত করে। তিনি তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন যখন তারা অজ্ঞাত ছিলেন, এবং তাদের কথা সকল বিরোধীর উপর প্রকাশিত হয়েছে। তারা স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা বিরোধীদের পরাভূত করেছেন, এমনকি তাদের ঘাড় তাদের (সুন্নাহপন্থীদের) সামনে নত হয়ে গেছে।
*মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি হাদীসপন্থীগণ কোনো দিন কথা বলেন, তবে তা শাফিঈর ভাষায়ই বলেন।" অর্থাৎ, তার রচিত গ্রন্থাবলীর কারণে।*
*হাসান ইবনু মুহাম্মদ আয-জাফরানী বলেন: "হাদীসপন্থীগণ ঘুমন্ত ছিলেন, অতঃপর শাফিঈ তাদেরকে জাগিয়ে তুললেন, ফলে তারা জেগে উঠলেন।"*
*আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "কেউ তার হাতে দোয়াত বা কলম স্পর্শ করেনি, অথচ শাফিঈর অনুগ্রহ তার ঘাড়ে নেই।" এটি হাদীসপন্থীগণের ইমাম ও তাদের অনুসারীদের উক্তি, যাদের ধার্মিকতা ও শ্রেষ্ঠত্বে তারা কোনো মতানৈক্য করেন না।*
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, আল্লাহ তায়ালা শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানে এমনভাবে সক্ষম করেছেন যে, বিভিন্ন দল ও শিল্পের অধিকারী বিতর্ককারীগণ তার সামনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তার সমসাময়িক যুগের বিভিন্ন শহরের ইমামগণকে নিয়ে গঠিত বিখ্যাত ও বৃহৎ মজলিসসমূহে তার সমর্থক ও বিরোধিতাকারী উভয়ই তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন এবং অনুগত হয়েছেন। এই বিতর্কসমূহ সুপরিচিত এবং তার গ্রন্থাবলীতে (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণের গ্রন্থাবলীতে বিদ্যমান। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুল উম্মে এই বিতর্কসমূহ থেকে আশ্চর্যজনক ও অলৌকিক, মূল্যবান ও মহিমান্বিত জ্ঞান এবং উপকারী নীতিসমূহের অনেক অংশ রয়েছে।
এবং তাতে কতই না বিতর্ক ও নীতি রয়েছে, যা যে কেউ তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ন্যায়পরায়ণ ও সত্যবাদী হবে, সে নিশ্চিতভাবে স্বীকার করবে যে, তার পূর্বে কেউ এতে অগ্রগামী হয়নি।
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, তিনি ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ইমামগণের যুগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার শিক্ষক আবু খালিদ মুসলিম ইবনু খালিদ আয-যানজি, যিনি মক্কার ইমাম ও মুফতি ছিলেন, তাকে এ বিষয়ে আদেশ করেন এবং তাকে বলেন: "ফতোয়া দিন, হে আবু আব্দুল্লাহ! আল্লাহর কসম, আপনার জন্য ফতোয়া দেওয়ার সময় হয়েছে।" তখন শাফিঈর বয়স ছিল পনেরো বছর। এ বিষয়ে তার সমসাময়িকদের উক্তি অসংখ্য ও সুপরিচিত। সেই যুগে আলেমদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও শাফিঈ থেকে তারুণ্যেই জ্ঞান গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি তার মহান মর্যাদা ও উচ্চ পদমর্যাদার স্পষ্ট প্রমাণসমূহের অন্যতম। এই সবকিছুই তার গুণাবলী বিষয়ক গ্রন্থাবলী ও অন্যান্য গ্রন্থে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ।
তার গুণাবলীর মধ্যে এটিও যে, হাদীসের সমর্থনে ও সুন্নাহর অনুসরণে তার তীব্র পরিশ্রম, এবং তার মাযহাবে প্রমাণের বিভিন্ন দিককে সুনিপুণতা, যাচাই-বাছাই, অর্থের গভীরে প্রবেশ ও সূক্ষ্মতা সহকারে সমন্বয় করা। এমনকি তিনি যখন ইরাকে আগমন করেন, তখন তাকে "নাসিরুল হাদীস" (হাদীসের সাহায্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। এবং পূর্ববর্তী আলেমগণ ও খোরাসানের ফকীহগণের মধ্যে তার মাযহাবের অনুসারীগণের উপর "আসহাবুল হাদীস" (হাদীসপন্থী) উপাধিটি প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে প্রচলিত হয়ে যায়।
আমরা ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু খুযাইমাহ থেকে বর্ণনা করেছি, যিনি "ইমামুল আইম্মাহ" (ইমামগণের ইমাম) নামে পরিচিত ছিলেন এবং হাদীস মুখস্থকরণ ও সুন্নাহর জ্ঞানে সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী ছিলেন, যে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি এমন কোনো সহীহ সুন্নাহ জানেন যা শাফিঈ তার গ্রন্থাবলীতে অন্তর্ভুক্ত করেননি?" তিনি বললেন: "না।"
এতদসত্ত্বেও, শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, কারণ মানুষের পক্ষে সবকিছু পরিবেষ্টন করা অসম্ভব। তাই তিনি তার উপদেশসমূহের বিভিন্ন সূত্রে যা তার থেকে (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রমাণিত হয়েছে, তা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِالْعَمَلِ بِالْحَدِيثِ الصَّحِيحِ وَتَرْكِ قَوْلِهِ الْمُخَالِفِ لِلنَّصِّ الثَّابِتِ الصَّرِيحِ وَقَدْ امْتَثَلَ أَصْحَابُنَا رَحِمَهُمُ اللَّهُ وَصِيَّتَهُ وَعَمِلُوا بِهَا فِي مَسَائِلَ كَثِيرَةٍ مَشْهُورَةٍ كمسألة التثويب في الصبح ومسألة اشتراط التحلل فِي الْحَجِّ بِعُذْرٍ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَسَتَرَاهَا فِي مَوَاضِعِهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
* وَمِنْ ذَلِكَ تمسكه بالاحاديث الصحيحة: واعراضه عن الْأَخْبَارِ الْوَاهِيَةِ الضَّعِيفَةِ: وَلَا نَعْلَمُ أَحَدًا مِنْ الْفُقَهَاءِ اعْتَنَى فِي الِاحْتِجَاجِ بِالتَّمْيِيزِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالضَّعِيفِ كَاعْتِنَائِهِ وَلَا قَرِيبًا مِنْهُ فَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
* وَمَنْ ذَلِكَ أَخْذُهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِالِاحْتِيَاطِ فِي مَسَائِلِ الْعِبَادَاتِ وَغَيْرِهَا كَمَا هُوَ مَعْرُوفٌ مِنْ مَذْهَبِهِ.
وَمَنْ ذَلِكَ شِدَّةُ اجْتِهَادِهِ فِي الْعِبَادَةِ وَسُلُوكُ طَرَائِقِ الْوَرَعِ وَالسَّخَاءِ وَالزَّهَادَةِ
* وَهَذَا مِنْ خُلُقِهِ وَسِيرَتِهِ مَشْهُورٌ مَعْرُوفٌ: وَلَا يَتَمَارَى فِيهِ إلَّا جَاهِلٌ أَوْ ظَالِمٌ عَسُوفٌ: فَكَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِالْمَحِلِّ الْأَعْلَى مِنْ مَتَانَةِ الدِّينِ وَهُوَ مِنْ الْمَقْطُوعِ بِمَعْرِفَتِهِ عِنْدَ الموافقين والمخالفين وليس يصح في الاذهان شئ
* إذَا احْتَاجَ النَّهَارُ إلَى دَلِيلِ وَأَمَّا سَخَاؤُهُ وَشَجَاعَتُهُ وَكَمَالُ عَقْلِهِ وَبَرَاعَتُهُ فَإِنَّهُ مِمَّا اشْتَرَكَ الْخَوَاصُّ وَالْعَوَامُّ فِي مَعْرِفَتِهِ فَلِهَذَا لَا أَسْتَدِلُّ لَهُ لِشُهْرَتِهِ وَكُلُّ هَذَا مَشْهُورٌ فِي كُتُبِ الْمَنَاقِبِ مِنْ طُرُقٍ
* وَمَنْ ذَلِكَ مَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ الْمَشْهُورِ ` إنَّ عَالِمَ قُرَيْشٍ يَمْلَأُ طِبَاقَ الْأَرْضِ عِلْمًا ` وَحَمَلَهُ الْعُلَمَاءُ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ وَغَيْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَصْحَابِنَا عَلَى الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَاسْتَدَلُّوا لَهُ بِأَنَّ الْأَئِمَّةَ مِنْ الصَّحَابَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ الَّذِينَ هُمْ أَعْلَامُ الدِّينِ لَمْ يُنْقَلْ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ إلَّا مَسَائِلُ مَعْدُودَةٌ إذْ كَانَتْ فَتَاوَاهُمْ مَقْصُورَةً عَلَى الوقائع بل كانوا ينهون عن السؤال عن ما لَمْ يَقَعْ وَكَانَتْ هِمَمُهُمْ مَصْرُوفَةً إلَى قِتَالِ (1) الْكُفَّارِ لِإِعْلَاءِ كَلِمَةِ الْإِسْلَامِ وَإِلَى مُجَاهِدَةِ النُّفُوسِ وَالْعِبَادَةِ فَلَمْ يَتَفَرَّغُوا لِلتَّصْنِيفِ
* وَأَمَّا مَنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ وَصَنَّفَ مِنْ الْأَئِمَّةِ فَلَمْ يَكُنْ فِيهِمْ قريش قَبْلَ الشَّافِعِيِّ وَلَمْ يَتَّصِفْ بِهَذِهِ الصِّفَةِ أَحَدٌ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ: وَقَدْ قَالَ الْإِمَامُ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا السَّاجِيُّ فِي كِتَابِهِ الْمَشْهُورِ فِي الْخِلَافِ إنَّمَا بَدَأْتُ بِالشَّافِعِيِّ قَبْلَ جَمِيعِ الْفُقَهَاءِ وَقَدَّمْتُهُ عَلَيْهِمْ وَإِنْ كَانَ فِيهِمْ أقدم منه اتباعه لِلسُّنَّةِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ` قَدِّمُوا قُرَيْشًا وَتَعَلَّمُوا مِنْ قُرَيْشٍ ` وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ محمد بن عدي الاستراباذى (2) صَاحِبُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَلَامَةٌ بَيِّنَةٌ إذَا تَأَمَّلَهُ النَّاظِرُ الْمُمَيِّزُ عَلِمَ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ رَجُلٌ مِنْ عُلَمَاءِ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ قُرَيْشٍ ظَهَرَ عِلْمُهُ وَانْتَشَرَ فِي الْبِلَادِ وَكُتِبَ كَمَا تُكْتَبُ الْمَصَاحِفُ وَدَرَسَهُ الْمَشَايِخُ وَالشُّبَّانُ فِي مَجَالِسِهِمْ وَاسْتَظْهَرُوا أَقَاوِيلَهُ وَأَجْرُوهَا فِي مَجَالِسِ الْحُكَّامِ وَالْأُمَرَاءِ وَالْقُرَّاءِ وَأَهْلِ الْآثَارِ وَغَيْرِهِمْ قَالَ وَهَذِهِ صِفَةٌ لَا نَعْلَمُ أَنَّهَا أَحَاطَتْ بِأَحَدٍ إلَّا بِالشَّافِعِيِّ فَهُوَ عَالِمُ قُرَيْشٍ الَّذِي دَوَّنَ الْعِلْمَ وَشَرَحَ الْأُصُولَ وَالْفُرُوعَ وَمَهَّدَ الْقَوَاعِدَ: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ بَعْدَ رِوَايَةِ كَلَامِ أَبِي نُعَيْمٍ وَإِلَى هَذَا ذَهَبَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي تَأْوِيلِ الْخَبَرِ: وَمِنْ ذَلِكَ مُصَنَّفَاتُ الشَّافِعِيِّ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ الَّتِي لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا كَثْرَةً وَحُسْنًا فَإِنَّ مُصَنَّفَاتِهِ كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ كَالْأُمِّ فِي نَحْوِ عِشْرِينَ مُجَلَّدًا وَهُوَ مَشْهُورٌ وَجَامِعِ الْمُزَنِيِّ الْكَبِيرِ وَجَامِعِهِ الصَّغِيرِ وَمُخْتَصَرَيْهِ الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ.
وَمُخْتَصَرِ الْبُوَيْطِيِّ وَالرَّبِيعِ وَكِتَابِ حَرْمَلَةَ وَكِتَابِ الْحُجَّةِ وَهُوَ الْقَدِيمُ وَالرِّسَالَةِ الْقَدِيمَةِ وَالرِّسَالَةِ الْجَدِيدَةِ وَالْأَمَالِي وَالْإِمْلَاءِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا هُوَ مَعْلُومٌ مِنْ كُتُبِهِ: وَقَدْ جَمَعَهَا الْبَيْهَقِيُّ فِي الْمَنَاقِبِ: قَالَ القاضى الامام أبو محمد الحسين
__________
1) وفى نسخة بدل قتال: جهاد (2) هو احد أئمة المسلمين وكان مقدما في الفقه والحديث توفى سنة 320
* وَمِنْ ذَلِكَ تمسكه بالاحاديث الصحيحة: واعراضه عن الْأَخْبَارِ الْوَاهِيَةِ الضَّعِيفَةِ: وَلَا نَعْلَمُ أَحَدًا مِنْ الْفُقَهَاءِ اعْتَنَى فِي الِاحْتِجَاجِ بِالتَّمْيِيزِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالضَّعِيفِ كَاعْتِنَائِهِ وَلَا قَرِيبًا مِنْهُ فَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
* وَمَنْ ذَلِكَ أَخْذُهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِالِاحْتِيَاطِ فِي مَسَائِلِ الْعِبَادَاتِ وَغَيْرِهَا كَمَا هُوَ مَعْرُوفٌ مِنْ مَذْهَبِهِ.
وَمَنْ ذَلِكَ شِدَّةُ اجْتِهَادِهِ فِي الْعِبَادَةِ وَسُلُوكُ طَرَائِقِ الْوَرَعِ وَالسَّخَاءِ وَالزَّهَادَةِ
* وَهَذَا مِنْ خُلُقِهِ وَسِيرَتِهِ مَشْهُورٌ مَعْرُوفٌ: وَلَا يَتَمَارَى فِيهِ إلَّا جَاهِلٌ أَوْ ظَالِمٌ عَسُوفٌ: فَكَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِالْمَحِلِّ الْأَعْلَى مِنْ مَتَانَةِ الدِّينِ وَهُوَ مِنْ الْمَقْطُوعِ بِمَعْرِفَتِهِ عِنْدَ الموافقين والمخالفين وليس يصح في الاذهان شئ
* إذَا احْتَاجَ النَّهَارُ إلَى دَلِيلِ وَأَمَّا سَخَاؤُهُ وَشَجَاعَتُهُ وَكَمَالُ عَقْلِهِ وَبَرَاعَتُهُ فَإِنَّهُ مِمَّا اشْتَرَكَ الْخَوَاصُّ وَالْعَوَامُّ فِي مَعْرِفَتِهِ فَلِهَذَا لَا أَسْتَدِلُّ لَهُ لِشُهْرَتِهِ وَكُلُّ هَذَا مَشْهُورٌ فِي كُتُبِ الْمَنَاقِبِ مِنْ طُرُقٍ
* وَمَنْ ذَلِكَ مَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ الْمَشْهُورِ ` إنَّ عَالِمَ قُرَيْشٍ يَمْلَأُ طِبَاقَ الْأَرْضِ عِلْمًا ` وَحَمَلَهُ الْعُلَمَاءُ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ وَغَيْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَصْحَابِنَا عَلَى الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَاسْتَدَلُّوا لَهُ بِأَنَّ الْأَئِمَّةَ مِنْ الصَّحَابَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ الَّذِينَ هُمْ أَعْلَامُ الدِّينِ لَمْ يُنْقَلْ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ إلَّا مَسَائِلُ مَعْدُودَةٌ إذْ كَانَتْ فَتَاوَاهُمْ مَقْصُورَةً عَلَى الوقائع بل كانوا ينهون عن السؤال عن ما لَمْ يَقَعْ وَكَانَتْ هِمَمُهُمْ مَصْرُوفَةً إلَى قِتَالِ (1) الْكُفَّارِ لِإِعْلَاءِ كَلِمَةِ الْإِسْلَامِ وَإِلَى مُجَاهِدَةِ النُّفُوسِ وَالْعِبَادَةِ فَلَمْ يَتَفَرَّغُوا لِلتَّصْنِيفِ
* وَأَمَّا مَنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ وَصَنَّفَ مِنْ الْأَئِمَّةِ فَلَمْ يَكُنْ فِيهِمْ قريش قَبْلَ الشَّافِعِيِّ وَلَمْ يَتَّصِفْ بِهَذِهِ الصِّفَةِ أَحَدٌ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ: وَقَدْ قَالَ الْإِمَامُ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا السَّاجِيُّ فِي كِتَابِهِ الْمَشْهُورِ فِي الْخِلَافِ إنَّمَا بَدَأْتُ بِالشَّافِعِيِّ قَبْلَ جَمِيعِ الْفُقَهَاءِ وَقَدَّمْتُهُ عَلَيْهِمْ وَإِنْ كَانَ فِيهِمْ أقدم منه اتباعه لِلسُّنَّةِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ` قَدِّمُوا قُرَيْشًا وَتَعَلَّمُوا مِنْ قُرَيْشٍ ` وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ محمد بن عدي الاستراباذى (2) صَاحِبُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَلَامَةٌ بَيِّنَةٌ إذَا تَأَمَّلَهُ النَّاظِرُ الْمُمَيِّزُ عَلِمَ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ رَجُلٌ مِنْ عُلَمَاءِ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ قُرَيْشٍ ظَهَرَ عِلْمُهُ وَانْتَشَرَ فِي الْبِلَادِ وَكُتِبَ كَمَا تُكْتَبُ الْمَصَاحِفُ وَدَرَسَهُ الْمَشَايِخُ وَالشُّبَّانُ فِي مَجَالِسِهِمْ وَاسْتَظْهَرُوا أَقَاوِيلَهُ وَأَجْرُوهَا فِي مَجَالِسِ الْحُكَّامِ وَالْأُمَرَاءِ وَالْقُرَّاءِ وَأَهْلِ الْآثَارِ وَغَيْرِهِمْ قَالَ وَهَذِهِ صِفَةٌ لَا نَعْلَمُ أَنَّهَا أَحَاطَتْ بِأَحَدٍ إلَّا بِالشَّافِعِيِّ فَهُوَ عَالِمُ قُرَيْشٍ الَّذِي دَوَّنَ الْعِلْمَ وَشَرَحَ الْأُصُولَ وَالْفُرُوعَ وَمَهَّدَ الْقَوَاعِدَ: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ بَعْدَ رِوَايَةِ كَلَامِ أَبِي نُعَيْمٍ وَإِلَى هَذَا ذَهَبَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي تَأْوِيلِ الْخَبَرِ: وَمِنْ ذَلِكَ مُصَنَّفَاتُ الشَّافِعِيِّ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ الَّتِي لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهَا كَثْرَةً وَحُسْنًا فَإِنَّ مُصَنَّفَاتِهِ كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ كَالْأُمِّ فِي نَحْوِ عِشْرِينَ مُجَلَّدًا وَهُوَ مَشْهُورٌ وَجَامِعِ الْمُزَنِيِّ الْكَبِيرِ وَجَامِعِهِ الصَّغِيرِ وَمُخْتَصَرَيْهِ الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ.
وَمُخْتَصَرِ الْبُوَيْطِيِّ وَالرَّبِيعِ وَكِتَابِ حَرْمَلَةَ وَكِتَابِ الْحُجَّةِ وَهُوَ الْقَدِيمُ وَالرِّسَالَةِ الْقَدِيمَةِ وَالرِّسَالَةِ الْجَدِيدَةِ وَالْأَمَالِي وَالْإِمْلَاءِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا هُوَ مَعْلُومٌ مِنْ كُتُبِهِ: وَقَدْ جَمَعَهَا الْبَيْهَقِيُّ فِي الْمَنَاقِبِ: قَالَ القاضى الامام أبو محمد الحسين
__________
1) وفى نسخة بدل قتال: جهاد (2) هو احد أئمة المسلمين وكان مقدما في الفقه والحديث توفى سنة 320
সহীহ হাদীসের উপর আমল করা এবং তাঁর (ইমাম শাফিঈর) এমন উক্তি পরিত্যাগ করা যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুস্পষ্ট নসের (কুরআন-সুন্নাহর মূল পাঠ) বিরোধী। আমাদের সাথীগণ (শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীগণ), আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন, তাঁর এই ওসিয়ত (উপদেশ) পালন করেছেন এবং বহু প্রসিদ্ধ মাসআলায় এর উপর আমল করেছেন; যেমন ফজরের আযানে 'তাছবীফ' (الصلاة خير من النوم বলা) এর মাসআলা এবং ওজরের কারণে হজ্জে হালাল হওয়ার শর্তারোপের মাসআলা ইত্যাদি। ইনশাআল্লাহ আপনি এগুলো নিজ নিজ স্থানে দেখতে পাবেন।
* এর মধ্যে অন্যতম হলো সহীহ হাদীসসমূহকে আঁকড়ে ধরা এবং দুর্বল ও ওয়াহী (অত্যন্ত দুর্বল) রেওয়ায়েতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। আমরা এমন কোনো ফকীহকে জানি না যিনি সহীহ ও দুর্বল হাদীসের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে তাঁর (ইমাম শাফিঈর) মতো বা তাঁর কাছাকাছি মনোযোগ দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, ইবাদত ও অন্যান্য মাসআলায় সতর্কতা (ইহতিয়াত) অবলম্বন করা, যেমনটি তাঁর মাযহাব থেকে সুপরিচিত।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো ইবাদতে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং পরহেজগারী (ওয়ারঅ'), দানশীলতা (সাকাআ') ও দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ)-এর পথ অবলম্বন করা।
* এটি তাঁর চরিত্র ও জীবনধারার একটি সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত দিক। অজ্ঞ ব্যক্তি অথবা অত্যাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারী ছাড়া কেউ এতে সন্দেহ পোষণ করে না। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি দ্বীনের দৃঢ়তার সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর এই গুণাবলী সম্পর্কে তাঁর অনুসারী ও বিরোধীরা সকলেই নিশ্চিতভাবে অবগত। "যদি দিনের আলোর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয়, তবে মনে আর কিছুই সঠিক থাকে না।" (অর্থাৎ, যা সুস্পষ্ট, তার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই)।
* আর তাঁর দানশীলতা, বীরত্ব, বুদ্ধিমত্তার পূর্ণতা এবং পারদর্শিতা এমন বিষয় যা সম্পর্কে বিশেষ ও সাধারণ সকলেই অবগত। এই কারণে আমি এর জন্য কোনো প্রমাণ পেশ করছি না, কারণ এটি এতটাই প্রসিদ্ধ। আর এই সবকিছুই বিভিন্ন সূত্রে মানাকিব (গুণাবলী) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো প্রসিদ্ধ হাদীসে যা এসেছে: "নিশ্চয়ই কুরাইশের একজন আলেম পৃথিবীর স্তরসমূহকে জ্ঞানে পূর্ণ করে দেবেন।" মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী) ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম, এমনকি আমাদের মাযহাবের বাইরের উলামারাও এই হাদীসকে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর উপর প্রয়োগ করেছেন। এবং তাঁরা এর স্বপক্ষে দলীল হিসেবে বলেছেন যে, সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে যারা দ্বীনের ইমাম ও স্তম্ভ ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের থেকে হাতে গোনা কিছু মাসআলা ছাড়া বেশি কিছু বর্ণিত হয়নি। কারণ তাদের ফাতওয়াগুলো কেবল সংঘটিত ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; বরং তারা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করতেন যা এখনো ঘটেনি। এবং তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসলামের বাণীকে সমুন্নত করা, নফসের সাথে জিহাদ করা এবং ইবাদতে। তাই তারা গ্রন্থ রচনার জন্য সময় পাননি।
* আর তাদের (সাহাবীদের) পরে যারা এসেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন ইমামদের মধ্যে ইমাম শাফিঈর পূর্বে কুরাইশী কেউ ছিলেন না এবং তাঁর পূর্বে বা পরে কেউই এই গুণে গুণান্বিত হননি। ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আস-সাজী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'আল-খিলাফ'-এ বলেছেন: "আমি সকল ফকীহের পূর্বে শাফিঈ (রহ.)-কে দিয়ে শুরু করেছি এবং তাঁদের উপর তাঁকে প্রাধান্য দিয়েছি, যদিও তাঁদের মধ্যে তাঁর চেয়ে প্রাচীন ব্যক্তিও ছিলেন, কারণ তিনি সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'কুরাইশদেরকে অগ্রাধিকার দাও এবং কুরাইশদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো'।" ইমাম আবু নু'আইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আদী আল-ইস্ত্রাবাযী (২), যিনি রাবী' ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদীর সাথী ছিলেন, এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। যখন একজন বিচক্ষণ পর্যবেক্ষক এটি নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন তিনি বুঝতে পারবেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই উম্মতের কুরাইশী আলেমদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি যার জ্ঞান প্রকাশ পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মাসহাফ (কুরআন) লেখার মতো করে লেখা হয়েছে, এবং যার জ্ঞান শায়খ ও যুবকেরা তাদের মজলিসে অধ্যয়ন করেছে, তাঁর উক্তিগুলো মুখস্থ করেছে এবং শাসক, আমীর, ক্বারী, আহলে আসার (হাদীস বিশারদ) ও অন্যান্যদের মজলিসে তা প্রয়োগ করেছে।" তিনি (আবু নু'আইম) বলেন: "এই গুণাবলী ইমাম শাফিঈ (রহ.) ছাড়া অন্য কারো মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল বলে আমরা জানি না। সুতরাং তিনিই সেই কুরাইশী আলেম যিনি জ্ঞানকে সংকলিত করেছেন, উসুল (নীতি) ও ফুরু' (শাখা-মাসআলা) ব্যাখ্যা করেছেন এবং কায়দা-কানুন প্রতিষ্ঠা করেছেন।" ইমাম বায়হাকী আবু নু'আইমের বক্তব্য বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলও এই মত পোষণ করতেন।"
* এর মধ্যে আরও একটি হলো ইমাম শাফিঈর উসুল (নীতি) ও ফুরু' (শাখা-মাসআলা) বিষয়ক গ্রন্থাবলী, যা সংখ্যায় ও গুণগত মানে অতুলনীয়। কারণ তাঁর গ্রন্থাবলী অনেক এবং প্রসিদ্ধ, যেমন 'আল-উম্ম' যা প্রায় বিশ খণ্ডে বিভক্ত এবং এটি সুপরিচিত। আরও রয়েছে 'জামি' আল-মুযানী আল-কাবীর', 'জামি' আল-মুযানী আস-সাগীর', তাঁর (মুযানীর) দুটি সংক্ষিপ্তসার 'আল-কাবীর' ও 'আস-সাগীর', 'মুখতাসার আল-বুওয়াইতী', 'মুখতাসার আর-রাবী'', 'কিতাব হারমালা', 'কিতাব আল-হুজ্জাহ' (যা তাঁর প্রাচীন মত), 'আর-রিসালাহ আল-কাদীমাহ' (প্রাচীন রিসালা), 'আর-রিসালাহ আল-জাদীদাহ' (নতুন রিসালা), 'আল-আমালী', 'আল-ইমলা' এবং তাঁর অন্যান্য সুপরিচিত গ্রন্থাবলী। ইমাম বায়হাকী তাঁর 'আল-মানাকিব' গ্রন্থে এগুলো সংকলন করেছেন। কাযী ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন বলেছেন:
**পাদটীকা:**
(১) একটি নুসখায় 'কিতাল' (যুদ্ধ) এর পরিবর্তে 'জিহাদ' রয়েছে।
(২) তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম ছিলেন এবং ফিকহ ও হাদীসে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ৩২০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
* এর মধ্যে অন্যতম হলো সহীহ হাদীসসমূহকে আঁকড়ে ধরা এবং দুর্বল ও ওয়াহী (অত্যন্ত দুর্বল) রেওয়ায়েতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। আমরা এমন কোনো ফকীহকে জানি না যিনি সহীহ ও দুর্বল হাদীসের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে তাঁর (ইমাম শাফিঈর) মতো বা তাঁর কাছাকাছি মনোযোগ দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, ইবাদত ও অন্যান্য মাসআলায় সতর্কতা (ইহতিয়াত) অবলম্বন করা, যেমনটি তাঁর মাযহাব থেকে সুপরিচিত।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো ইবাদতে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং পরহেজগারী (ওয়ারঅ'), দানশীলতা (সাকাআ') ও দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ)-এর পথ অবলম্বন করা।
* এটি তাঁর চরিত্র ও জীবনধারার একটি সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত দিক। অজ্ঞ ব্যক্তি অথবা অত্যাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারী ছাড়া কেউ এতে সন্দেহ পোষণ করে না। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি দ্বীনের দৃঢ়তার সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর এই গুণাবলী সম্পর্কে তাঁর অনুসারী ও বিরোধীরা সকলেই নিশ্চিতভাবে অবগত। "যদি দিনের আলোর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয়, তবে মনে আর কিছুই সঠিক থাকে না।" (অর্থাৎ, যা সুস্পষ্ট, তার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই)।
* আর তাঁর দানশীলতা, বীরত্ব, বুদ্ধিমত্তার পূর্ণতা এবং পারদর্শিতা এমন বিষয় যা সম্পর্কে বিশেষ ও সাধারণ সকলেই অবগত। এই কারণে আমি এর জন্য কোনো প্রমাণ পেশ করছি না, কারণ এটি এতটাই প্রসিদ্ধ। আর এই সবকিছুই বিভিন্ন সূত্রে মানাকিব (গুণাবলী) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ।
* এর মধ্যে আরও একটি হলো প্রসিদ্ধ হাদীসে যা এসেছে: "নিশ্চয়ই কুরাইশের একজন আলেম পৃথিবীর স্তরসমূহকে জ্ঞানে পূর্ণ করে দেবেন।" মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী) ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম, এমনকি আমাদের মাযহাবের বাইরের উলামারাও এই হাদীসকে ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর উপর প্রয়োগ করেছেন। এবং তাঁরা এর স্বপক্ষে দলীল হিসেবে বলেছেন যে, সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যে যারা দ্বীনের ইমাম ও স্তম্ভ ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের থেকে হাতে গোনা কিছু মাসআলা ছাড়া বেশি কিছু বর্ণিত হয়নি। কারণ তাদের ফাতওয়াগুলো কেবল সংঘটিত ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; বরং তারা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করতেন যা এখনো ঘটেনি। এবং তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসলামের বাণীকে সমুন্নত করা, নফসের সাথে জিহাদ করা এবং ইবাদতে। তাই তারা গ্রন্থ রচনার জন্য সময় পাননি।
* আর তাদের (সাহাবীদের) পরে যারা এসেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন ইমামদের মধ্যে ইমাম শাফিঈর পূর্বে কুরাইশী কেউ ছিলেন না এবং তাঁর পূর্বে বা পরে কেউই এই গুণে গুণান্বিত হননি। ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আস-সাজী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'আল-খিলাফ'-এ বলেছেন: "আমি সকল ফকীহের পূর্বে শাফিঈ (রহ.)-কে দিয়ে শুরু করেছি এবং তাঁদের উপর তাঁকে প্রাধান্য দিয়েছি, যদিও তাঁদের মধ্যে তাঁর চেয়ে প্রাচীন ব্যক্তিও ছিলেন, কারণ তিনি সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'কুরাইশদেরকে অগ্রাধিকার দাও এবং কুরাইশদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো'।" ইমাম আবু নু'আইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আদী আল-ইস্ত্রাবাযী (২), যিনি রাবী' ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদীর সাথী ছিলেন, এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। যখন একজন বিচক্ষণ পর্যবেক্ষক এটি নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন তিনি বুঝতে পারবেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই উম্মতের কুরাইশী আলেমদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি যার জ্ঞান প্রকাশ পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মাসহাফ (কুরআন) লেখার মতো করে লেখা হয়েছে, এবং যার জ্ঞান শায়খ ও যুবকেরা তাদের মজলিসে অধ্যয়ন করেছে, তাঁর উক্তিগুলো মুখস্থ করেছে এবং শাসক, আমীর, ক্বারী, আহলে আসার (হাদীস বিশারদ) ও অন্যান্যদের মজলিসে তা প্রয়োগ করেছে।" তিনি (আবু নু'আইম) বলেন: "এই গুণাবলী ইমাম শাফিঈ (রহ.) ছাড়া অন্য কারো মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল বলে আমরা জানি না। সুতরাং তিনিই সেই কুরাইশী আলেম যিনি জ্ঞানকে সংকলিত করেছেন, উসুল (নীতি) ও ফুরু' (শাখা-মাসআলা) ব্যাখ্যা করেছেন এবং কায়দা-কানুন প্রতিষ্ঠা করেছেন।" ইমাম বায়হাকী আবু নু'আইমের বক্তব্য বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলও এই মত পোষণ করতেন।"
* এর মধ্যে আরও একটি হলো ইমাম শাফিঈর উসুল (নীতি) ও ফুরু' (শাখা-মাসআলা) বিষয়ক গ্রন্থাবলী, যা সংখ্যায় ও গুণগত মানে অতুলনীয়। কারণ তাঁর গ্রন্থাবলী অনেক এবং প্রসিদ্ধ, যেমন 'আল-উম্ম' যা প্রায় বিশ খণ্ডে বিভক্ত এবং এটি সুপরিচিত। আরও রয়েছে 'জামি' আল-মুযানী আল-কাবীর', 'জামি' আল-মুযানী আস-সাগীর', তাঁর (মুযানীর) দুটি সংক্ষিপ্তসার 'আল-কাবীর' ও 'আস-সাগীর', 'মুখতাসার আল-বুওয়াইতী', 'মুখতাসার আর-রাবী'', 'কিতাব হারমালা', 'কিতাব আল-হুজ্জাহ' (যা তাঁর প্রাচীন মত), 'আর-রিসালাহ আল-কাদীমাহ' (প্রাচীন রিসালা), 'আর-রিসালাহ আল-জাদীদাহ' (নতুন রিসালা), 'আল-আমালী', 'আল-ইমলা' এবং তাঁর অন্যান্য সুপরিচিত গ্রন্থাবলী। ইমাম বায়হাকী তাঁর 'আল-মানাকিব' গ্রন্থে এগুলো সংকলন করেছেন। কাযী ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন বলেছেন:
**পাদটীকা:**
(১) একটি নুসখায় 'কিতাল' (যুদ্ধ) এর পরিবর্তে 'জিহাদ' রয়েছে।
(২) তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম ছিলেন এবং ফিকহ ও হাদীসে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ৩২০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ابن مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ فِي خُطْبَةِ تَعْلِيقِهِ قِيلَ إنَّ الشَّافِعِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ صَنَّفَ مِائَةً وَثَلَاثَةَ عَشَرَ كِتَابًا فِي التَّفْسِيرِ وَالْفِقْهِ وَالْأَدَبِ وَغَيْرِ ذَلِكَ
* وَأَمَّا حُسْنُهَا فَأَمْرٌ يُدْرَكُ بِمُطَالَعَتِهَا فَلَا يَتَمَارَى فِي حُسْنِهَا مُوَافِقٌ وَلَا مُخَالِفٌ: وَأَمَّا كُتُبُ أَصْحَابِهِ الَّتِي هِيَ شُرُوحٌ لِنُصُوصِهِ وَمُخَرَّجَةٌ عَلَى أُصُولِهِ مَفْهُومَةٌ مِنْ قَوَاعِدِهِ فَلَا يُحْصِيهَا مَخْلُوقٌ
مَعَ عِظَمِ فَوَائِدِهَا وَكَثْرَةِ عَوَائِدِهَا وَكِبَرِ حَجْمِهَا وَحُسْنِ تَرْتِيبِهَا وَنَظْمِهَا كَتَعْلِيقِ الشَّيْخِ أَبِي حَامِدٍ الاسفراينى وَصَاحِبِيهِ الْقَاضِي أَبِي الطَّيِّبِ وَصَاحِبِ الْحَاوِي وَنِهَايَةِ الْمَطْلَبِ لِإِمَامِ الْحَرَمَيْنِ وَغَيْرِهَا مِمَّا هُوَ مَشْهُورٌ مَعْرُوفٌ وَهَذَا مِنْ الْمَشْهُورِ الَّذِي هُوَ أَظْهَرُ مِنْ أَنْ يُظْهَرَ.
وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ يُشْهَرَ.
وَكُلُّ هَذَا مُصَرِّحٌ بِغَزَارَةِ عِلْمِهِ وَجَزَالَةِ كَلَامِهِ وَصِحَّةِ نِيَّتِهِ فِي عِلْمِهِ وَقَدْ نُقِلَ عَنْهُ مُسْتَفِيضًا مِنْ صِحَّةِ نِيَّتِهِ فِي عِلْمِهِ نُقُولٌ كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ وَكَفَى بِالِاسْتِقْرَاءِ فِي ذَلِكَ دَلِيلًا قَاطِعًا وَبُرْهَانًا صَادِعًا
* قَالَ السَّاجِيُّ فِي أَوَّلِ كتابه في الخلافة سَمِعْتُ الرَّبِيعَ يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ وَدِدْتُ أَنَّ الْخَلْقَ تَعَلَّمُوا هَذَا الْعِلْمَ عَلَى أَنْ لَا يُنْسَبَ إلَيَّ حَرْفٌ مِنْهُ فَهَذَا إسْنَادٌ لَا يُتَمَارَى فِي صِحَّتِهِ فَكِتَابُ السَّاجِيِّ مُتَوَاتِرٌ عَنْهُ وَسَمِعَهُ مِنْ إمَامٍ عَنْ إمَامٍ
* وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الْغَلَبَةِ وَوَدِدْتُ إذَا نَاظَرْتُ أَحَدًا أَنْ يُظْهِرَ اللَّهُ الْحَقَّ عَلَى يَدَيْهِ: وَنَظَائِرُ هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ عَنْهُ
* وَمِنْ ذَلِكَ مُبَالَغَتُهُ فِي الشَّفَقَةِ عَلَى الْمُتَعَلِّمِينَ وَغَيْرِهِمْ وَنَصِيحَتُهُ لِلَّهِ تَعَالَى وَكِتَابِهِ وَرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُسْلِمِينَ وَذَلِكَ هُوَ الدِّينُ كَمَا صَحَّ عَنْ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَذَا الَّذِي ذَكَرْتُهُ وَإِنْ كَانَ كُلُّهُ مَعْلُومًا مَشْهُورًا فَلَا بَأْسَ بِالْإِشَارَةِ إلَيْهِ لِيَعْرِفَهُ مَنْ لَمْ يَقِفْ عَلَيْهِ فَإِنَّ هَذَا الْمَجْمُوعَ لَيْسَ مَخْصُوصًا بِبَيَانِ الخفيات وحل المشكلات فصل (في نوادر من حكم الشافغى وَأَحْوَالِهِ أَذْكُرُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى رُمُوزًا لِلِاخْتِصَارِ) قَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ طَلَبُ الْعِلْمِ أَفْضَلُ من صلاة النافلة: وقال من اراد الدينا فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ: وقال ما تقرب إلى الله تعالى بشئ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلَ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَقَالَ مَا أَفْلَحَ فِي الْعِلْمِ إلَّا مَنْ طَلَبَهُ بِالْقِلَّةِ: وَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ النَّاسُ فِي غَفْلَةٍ عن هذه السورة (والعصر ان الانسان لفى خسر) وكان جَزَّأَ اللَّيْلَ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ الثُّلُثُ الْأَوَّلُ يَكْتُبُ وَالثَّانِي يُصَلِّي وَالثَّالِثُ يَنَامُ
* وَقَالَ الرَّبِيعُ نِمْتُ فِي مَنْزِلِ الشَّافِعِيِّ لَيَالِيَ فَلَمْ يَكُنْ يَنَامُ مِنْ اللَّيْلِ إلَّا أَيْسَرَهُ: وَقَالَ بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ مَا رَأَيْتُ وَلَا سَمِعْتُ كَانَ فِي عَصْرِ الشَّافِعِيِّ أَتْقَى لِلَّهِ وَلَا أَوْرَعَ وَلَا أَحْسَنَ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ مِنْهُ: وَقَالَ الْحُمَيْدِيُّ كَانَ الشَّافِعِيُّ يَخْتِمُ فِي كُلِّ شَهْرٍ سِتِّينَ خَتْمَةً: وَقَالَ حَرْمَلَةُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ وَدِدْتُ أَنَّ كُلَّ عِلْمٍ أَعْلَمُهُ تَعَلَّمَهُ النَّاسُ أُؤْجَرُ عَلَيْهِ وَلَا يَحْمَدُونَنِي: وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ كَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ جَمَعَ فِي الشَّافِعِيِّ كُلَّ خَيْرٍ.
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ الظرف الوقوف مع الحق كما وَقَفَ: وَقَالَ مَا كَذَبْتُ قَطُّ وَلَا حَلَفْتُ بِاَللَّهِ تَعَالَى صَادِقًا وَلَا كَاذِبًا: وَقَالَ مَا تَرَكْتُ غُسْلَ الْجُمُعَةِ فِي بَرْدٍ وَلَا سَفَرٍ وَلَا غَيْرِهِ: وَقَالَ مَا شَبِعْتُ مُنْذُ سِتَّ عشر سَنَةً إلَّا شَبْعَةً طَرَحْتُهَا مِنْ سَاعَتِي: وَفِي رِوَايَةٍ مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً: وَقَالَ مَنْ لَمْ تُعِزُّهُ التَّقْوَى فَلَا عِزَّ لَهُ: وَقَالَ مَا فزعت من الفقر قط: وقال طلب فضول الدينا عُقُوبَةٌ عَاقَبَ اللَّهُ بِهَا أَهْلَ التَّوْحِيدِ: وَقِيلَ لِلشَّافِعِيِّ مَالَكَ تُدْمِنُ
* وَأَمَّا حُسْنُهَا فَأَمْرٌ يُدْرَكُ بِمُطَالَعَتِهَا فَلَا يَتَمَارَى فِي حُسْنِهَا مُوَافِقٌ وَلَا مُخَالِفٌ: وَأَمَّا كُتُبُ أَصْحَابِهِ الَّتِي هِيَ شُرُوحٌ لِنُصُوصِهِ وَمُخَرَّجَةٌ عَلَى أُصُولِهِ مَفْهُومَةٌ مِنْ قَوَاعِدِهِ فَلَا يُحْصِيهَا مَخْلُوقٌ
مَعَ عِظَمِ فَوَائِدِهَا وَكَثْرَةِ عَوَائِدِهَا وَكِبَرِ حَجْمِهَا وَحُسْنِ تَرْتِيبِهَا وَنَظْمِهَا كَتَعْلِيقِ الشَّيْخِ أَبِي حَامِدٍ الاسفراينى وَصَاحِبِيهِ الْقَاضِي أَبِي الطَّيِّبِ وَصَاحِبِ الْحَاوِي وَنِهَايَةِ الْمَطْلَبِ لِإِمَامِ الْحَرَمَيْنِ وَغَيْرِهَا مِمَّا هُوَ مَشْهُورٌ مَعْرُوفٌ وَهَذَا مِنْ الْمَشْهُورِ الَّذِي هُوَ أَظْهَرُ مِنْ أَنْ يُظْهَرَ.
وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ يُشْهَرَ.
وَكُلُّ هَذَا مُصَرِّحٌ بِغَزَارَةِ عِلْمِهِ وَجَزَالَةِ كَلَامِهِ وَصِحَّةِ نِيَّتِهِ فِي عِلْمِهِ وَقَدْ نُقِلَ عَنْهُ مُسْتَفِيضًا مِنْ صِحَّةِ نِيَّتِهِ فِي عِلْمِهِ نُقُولٌ كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ وَكَفَى بِالِاسْتِقْرَاءِ فِي ذَلِكَ دَلِيلًا قَاطِعًا وَبُرْهَانًا صَادِعًا
* قَالَ السَّاجِيُّ فِي أَوَّلِ كتابه في الخلافة سَمِعْتُ الرَّبِيعَ يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ وَدِدْتُ أَنَّ الْخَلْقَ تَعَلَّمُوا هَذَا الْعِلْمَ عَلَى أَنْ لَا يُنْسَبَ إلَيَّ حَرْفٌ مِنْهُ فَهَذَا إسْنَادٌ لَا يُتَمَارَى فِي صِحَّتِهِ فَكِتَابُ السَّاجِيِّ مُتَوَاتِرٌ عَنْهُ وَسَمِعَهُ مِنْ إمَامٍ عَنْ إمَامٍ
* وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الْغَلَبَةِ وَوَدِدْتُ إذَا نَاظَرْتُ أَحَدًا أَنْ يُظْهِرَ اللَّهُ الْحَقَّ عَلَى يَدَيْهِ: وَنَظَائِرُ هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ عَنْهُ
* وَمِنْ ذَلِكَ مُبَالَغَتُهُ فِي الشَّفَقَةِ عَلَى الْمُتَعَلِّمِينَ وَغَيْرِهِمْ وَنَصِيحَتُهُ لِلَّهِ تَعَالَى وَكِتَابِهِ وَرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُسْلِمِينَ وَذَلِكَ هُوَ الدِّينُ كَمَا صَحَّ عَنْ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَذَا الَّذِي ذَكَرْتُهُ وَإِنْ كَانَ كُلُّهُ مَعْلُومًا مَشْهُورًا فَلَا بَأْسَ بِالْإِشَارَةِ إلَيْهِ لِيَعْرِفَهُ مَنْ لَمْ يَقِفْ عَلَيْهِ فَإِنَّ هَذَا الْمَجْمُوعَ لَيْسَ مَخْصُوصًا بِبَيَانِ الخفيات وحل المشكلات فصل (في نوادر من حكم الشافغى وَأَحْوَالِهِ أَذْكُرُهَا إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى رُمُوزًا لِلِاخْتِصَارِ) قَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ طَلَبُ الْعِلْمِ أَفْضَلُ من صلاة النافلة: وقال من اراد الدينا فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ: وقال ما تقرب إلى الله تعالى بشئ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلَ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَقَالَ مَا أَفْلَحَ فِي الْعِلْمِ إلَّا مَنْ طَلَبَهُ بِالْقِلَّةِ: وَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ النَّاسُ فِي غَفْلَةٍ عن هذه السورة (والعصر ان الانسان لفى خسر) وكان جَزَّأَ اللَّيْلَ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ الثُّلُثُ الْأَوَّلُ يَكْتُبُ وَالثَّانِي يُصَلِّي وَالثَّالِثُ يَنَامُ
* وَقَالَ الرَّبِيعُ نِمْتُ فِي مَنْزِلِ الشَّافِعِيِّ لَيَالِيَ فَلَمْ يَكُنْ يَنَامُ مِنْ اللَّيْلِ إلَّا أَيْسَرَهُ: وَقَالَ بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ مَا رَأَيْتُ وَلَا سَمِعْتُ كَانَ فِي عَصْرِ الشَّافِعِيِّ أَتْقَى لِلَّهِ وَلَا أَوْرَعَ وَلَا أَحْسَنَ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ مِنْهُ: وَقَالَ الْحُمَيْدِيُّ كَانَ الشَّافِعِيُّ يَخْتِمُ فِي كُلِّ شَهْرٍ سِتِّينَ خَتْمَةً: وَقَالَ حَرْمَلَةُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ وَدِدْتُ أَنَّ كُلَّ عِلْمٍ أَعْلَمُهُ تَعَلَّمَهُ النَّاسُ أُؤْجَرُ عَلَيْهِ وَلَا يَحْمَدُونَنِي: وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ كَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ جَمَعَ فِي الشَّافِعِيِّ كُلَّ خَيْرٍ.
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ الظرف الوقوف مع الحق كما وَقَفَ: وَقَالَ مَا كَذَبْتُ قَطُّ وَلَا حَلَفْتُ بِاَللَّهِ تَعَالَى صَادِقًا وَلَا كَاذِبًا: وَقَالَ مَا تَرَكْتُ غُسْلَ الْجُمُعَةِ فِي بَرْدٍ وَلَا سَفَرٍ وَلَا غَيْرِهِ: وَقَالَ مَا شَبِعْتُ مُنْذُ سِتَّ عشر سَنَةً إلَّا شَبْعَةً طَرَحْتُهَا مِنْ سَاعَتِي: وَفِي رِوَايَةٍ مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً: وَقَالَ مَنْ لَمْ تُعِزُّهُ التَّقْوَى فَلَا عِزَّ لَهُ: وَقَالَ مَا فزعت من الفقر قط: وقال طلب فضول الدينا عُقُوبَةٌ عَاقَبَ اللَّهُ بِهَا أَهْلَ التَّوْحِيدِ: وَقِيلَ لِلشَّافِعِيِّ مَالَكَ تُدْمِنُ
ইবনু মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী তাঁর তা'লীক-এর ভূমিকায় বলেছেন যে, বলা হয়েছে, ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) তাফসীর, ফিকহ, আদব ও অন্যান্য বিষয়ে একশত তেরোটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
* আর সেগুলোর সৌন্দর্য এমন এক বিষয় যা অধ্যয়নের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়। সুতরাং, সেগুলোর সৌন্দর্য নিয়ে কোনো সমর্থক বা বিরোধী কেউই সন্দেহ পোষণ করে না। আর তাঁর শিষ্যদের গ্রন্থাবলী, যা তাঁর মূল পাঠসমূহের ব্যাখ্যা, তাঁর উসূলের ভিত্তিতে প্রণীত এবং তাঁর কায়দা-কানুন থেকে অনুধাবনকৃত, সেগুলোর সংখ্যা কোনো সৃষ্টিজীব গণনা করতে পারবে না।
এগুলোর বিশাল উপকারিতা, অসংখ্য প্রতিদান, বৃহৎ কলেবর এবং সুন্দর বিন্যাস ও সুসংগঠিত পদ্ধতি সহকারে। যেমন: শাইখ আবু হামিদ আল-ইসফারায়েনী-এর তা'লীক, তাঁর দুই শিষ্য কাযী আবুল তাইয়্যিব এবং সাহিবুল হাওয়ী-এর গ্রন্থাবলী, ইমামুল হারামাইন-এর 'নিহায়াতুল মাতলাব' এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত গ্রন্থাবলী। আর এটি এমন প্রসিদ্ধ বিষয় যা প্রকাশ করার চেয়েও অধিক সুস্পষ্ট এবং পরিচিত করার চেয়েও অধিক পরিচিত।
আর এই সবকিছু তাঁর জ্ঞানের প্রাচুর্য, তাঁর বাণীর বলিষ্ঠতা এবং তাঁর ইলম অর্জনের বিশুদ্ধ নিয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর ইলম অর্জনের বিশুদ্ধ নিয়ত সম্পর্কে তাঁর থেকে বহু প্রসিদ্ধ ও ব্যাপক বর্ণনা (নুকুল) এসেছে। আর এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ ও অকাট্য যুক্তি হিসেবে ইস্তিকরা' (ব্যাপক অনুসন্ধান) যথেষ্ট।
* আস-সাজী তাঁর 'কিতাবুল খিলাফাহ'-এর শুরুতে বলেছেন: আমি রাবী'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, 'আমি চাই যে, সকল সৃষ্টি এই জ্ঞান অর্জন করুক, তবে এর একটি অক্ষরও যেন আমার দিকে সম্বন্ধিত না হয়।' সুতরাং, এই ইসনাদটির বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আস-সাজীর কিতাবটি তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত এবং তিনি তা ইমাম থেকে ইমামের সূত্রে শুনেছেন।
* ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: 'আমি কখনো কারো সাথে বিতর্কে জয়লাভের উদ্দেশ্যে লিপ্ত হইনি। বরং আমি যখন কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, তখন চেয়েছি যে, আল্লাহ যেন তার হাতেই সত্যকে প্রকাশ করেন।' তাঁর থেকে এ ধরনের বহু প্রসিদ্ধ উক্তি বর্ণিত আছে।
* এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও অন্যদের প্রতি তাঁর অত্যধিক সহানুভূতি এবং আল্লাহ তা'আলা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর নসিহত (আন্তরিক উপদেশ)। আর এটিই হলো দ্বীন, যেমনটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত। আমি যা উল্লেখ করেছি, যদিও এর সবকিছুই জ্ঞাত ও প্রসিদ্ধ, তবুও এর প্রতি ইঙ্গিত করতে কোনো অসুবিধা নেই, যাতে যারা এ সম্পর্কে অবগত নন, তারা জানতে পারেন। কারণ, এই 'আল-মাজমু'' কেবল গোপন বিষয়াবলী ব্যাখ্যা করা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নয়।
পরিচ্ছেদ: (ইমাম শাফিঈর কিছু বিরল হিকমত ও অবস্থা সম্পর্কে, যা আমি ইনশাআল্লাহ সংক্ষেপে প্রতীকীভাবে উল্লেখ করব)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'ইলম অন্বেষণ নফল সালাতের চেয়েও উত্তম।' তিনি আরও বলেছেন: 'যে দুনিয়া চায়, তার জন্য ইলম অপরিহার্য। আর যে আখিরাত চায়, তার জন্যও ইলম অপরিহার্য।' তিনি বলেছেন: 'ফরয ইবাদতের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে উত্তম কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা যায় না।'
* তিনি বলেছেন: 'ইলমে কেবল সেই সফল হয়েছে, যে তা অল্পতার সাথে (অর্থাৎ অল্প সম্পদ, অল্প ঘুম, অল্প খাবার ইত্যাদি নিয়ে) অন্বেষণ করেছে।' তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'মানুষ এই সূরা (ওয়াল আসর, ইন্না আল-ইনসানা লাফি খুসর) সম্পর্কে গাফেল (উদাসীন)।' তিনি রাতকে তিন ভাগে বিভক্ত করতেন: প্রথম ভাগ লিখতেন, দ্বিতীয় ভাগ সালাত আদায় করতেন এবং তৃতীয় ভাগ ঘুমাতেন।
* রাবী' বলেছেন: 'আমি কয়েক রাত শাফিঈর বাড়িতে ঘুমিয়েছি, তিনি রাতের সামান্য অংশ ছাড়া ঘুমাতেন না।' বাহর ইবনু নাসর বলেছেন: 'আমি শাফিঈর যুগে তাঁর চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু, অধিক পরহেজগার এবং কুরআনে অধিক সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী কাউকে দেখিনি বা শুনিনি।' আল-হুমাইদী বলেছেন: 'শাফিঈ প্রতি মাসে ষাটবার কুরআন খতম করতেন।' হারমালা বলেছেন: 'আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, 'আমি চাই যে, আমি যে জ্ঞান জানি, তা মানুষ শিখুক, যাতে আমি এর প্রতিদান পাই, কিন্তু তারা যেন আমার প্রশংসা না করে।' আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'যেন আল্লাহ তা'আলা শাফিঈর মধ্যে সকল কল্যাণ একত্রিত করে দিয়েছেন।'
ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'বুদ্ধিমত্তা হলো সত্যের সাথে স্থির থাকা, যেমনটি তা স্থির থাকে।' তিনি বলেছেন: 'আমি কখনো মিথ্যা বলিনি এবং আল্লাহ তা'আলার নামে সত্য বা মিথ্যা কোনো শপথ করিনি।' তিনি বলেছেন: 'আমি ঠান্ডা, সফর বা অন্য কোনো অবস্থায় জুমার গোসল ত্যাগ করিনি।' তিনি বলেছেন: 'আমি ষোল বছর ধরে কখনো পেট ভরে খাইনি, তবে একবার পেট ভরে খেয়েছিলাম, যা তৎক্ষণাৎ বমি করে ফেলেছিলাম।' অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: 'বিশ বছর ধরে।' তিনি বলেছেন: 'যাকে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) সম্মানিত করে না, তার কোনো সম্মান নেই।' তিনি বলেছেন: 'আমি কখনো দারিদ্র্যকে ভয় পাইনি।' তিনি বলেছেন: 'দুনিয়ার অতিরিক্ত জিনিস অন্বেষণ করা এমন এক শাস্তি, যা আল্লাহ তা'আলা তাওহীদপন্থীদেরকে দিয়েছেন।' ইমাম শাফিঈকে বলা হলো: 'আপনার কী হয়েছে যে আপনি আসক্ত থাকেন...'
* আর সেগুলোর সৌন্দর্য এমন এক বিষয় যা অধ্যয়নের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়। সুতরাং, সেগুলোর সৌন্দর্য নিয়ে কোনো সমর্থক বা বিরোধী কেউই সন্দেহ পোষণ করে না। আর তাঁর শিষ্যদের গ্রন্থাবলী, যা তাঁর মূল পাঠসমূহের ব্যাখ্যা, তাঁর উসূলের ভিত্তিতে প্রণীত এবং তাঁর কায়দা-কানুন থেকে অনুধাবনকৃত, সেগুলোর সংখ্যা কোনো সৃষ্টিজীব গণনা করতে পারবে না।
এগুলোর বিশাল উপকারিতা, অসংখ্য প্রতিদান, বৃহৎ কলেবর এবং সুন্দর বিন্যাস ও সুসংগঠিত পদ্ধতি সহকারে। যেমন: শাইখ আবু হামিদ আল-ইসফারায়েনী-এর তা'লীক, তাঁর দুই শিষ্য কাযী আবুল তাইয়্যিব এবং সাহিবুল হাওয়ী-এর গ্রন্থাবলী, ইমামুল হারামাইন-এর 'নিহায়াতুল মাতলাব' এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত গ্রন্থাবলী। আর এটি এমন প্রসিদ্ধ বিষয় যা প্রকাশ করার চেয়েও অধিক সুস্পষ্ট এবং পরিচিত করার চেয়েও অধিক পরিচিত।
আর এই সবকিছু তাঁর জ্ঞানের প্রাচুর্য, তাঁর বাণীর বলিষ্ঠতা এবং তাঁর ইলম অর্জনের বিশুদ্ধ নিয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর ইলম অর্জনের বিশুদ্ধ নিয়ত সম্পর্কে তাঁর থেকে বহু প্রসিদ্ধ ও ব্যাপক বর্ণনা (নুকুল) এসেছে। আর এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ ও অকাট্য যুক্তি হিসেবে ইস্তিকরা' (ব্যাপক অনুসন্ধান) যথেষ্ট।
* আস-সাজী তাঁর 'কিতাবুল খিলাফাহ'-এর শুরুতে বলেছেন: আমি রাবী'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, 'আমি চাই যে, সকল সৃষ্টি এই জ্ঞান অর্জন করুক, তবে এর একটি অক্ষরও যেন আমার দিকে সম্বন্ধিত না হয়।' সুতরাং, এই ইসনাদটির বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আস-সাজীর কিতাবটি তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত এবং তিনি তা ইমাম থেকে ইমামের সূত্রে শুনেছেন।
* ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: 'আমি কখনো কারো সাথে বিতর্কে জয়লাভের উদ্দেশ্যে লিপ্ত হইনি। বরং আমি যখন কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, তখন চেয়েছি যে, আল্লাহ যেন তার হাতেই সত্যকে প্রকাশ করেন।' তাঁর থেকে এ ধরনের বহু প্রসিদ্ধ উক্তি বর্ণিত আছে।
* এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও অন্যদের প্রতি তাঁর অত্যধিক সহানুভূতি এবং আল্লাহ তা'আলা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর নসিহত (আন্তরিক উপদেশ)। আর এটিই হলো দ্বীন, যেমনটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত। আমি যা উল্লেখ করেছি, যদিও এর সবকিছুই জ্ঞাত ও প্রসিদ্ধ, তবুও এর প্রতি ইঙ্গিত করতে কোনো অসুবিধা নেই, যাতে যারা এ সম্পর্কে অবগত নন, তারা জানতে পারেন। কারণ, এই 'আল-মাজমু'' কেবল গোপন বিষয়াবলী ব্যাখ্যা করা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নয়।
পরিচ্ছেদ: (ইমাম শাফিঈর কিছু বিরল হিকমত ও অবস্থা সম্পর্কে, যা আমি ইনশাআল্লাহ সংক্ষেপে প্রতীকীভাবে উল্লেখ করব)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'ইলম অন্বেষণ নফল সালাতের চেয়েও উত্তম।' তিনি আরও বলেছেন: 'যে দুনিয়া চায়, তার জন্য ইলম অপরিহার্য। আর যে আখিরাত চায়, তার জন্যও ইলম অপরিহার্য।' তিনি বলেছেন: 'ফরয ইবাদতের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে উত্তম কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা যায় না।'
* তিনি বলেছেন: 'ইলমে কেবল সেই সফল হয়েছে, যে তা অল্পতার সাথে (অর্থাৎ অল্প সম্পদ, অল্প ঘুম, অল্প খাবার ইত্যাদি নিয়ে) অন্বেষণ করেছে।' তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'মানুষ এই সূরা (ওয়াল আসর, ইন্না আল-ইনসানা লাফি খুসর) সম্পর্কে গাফেল (উদাসীন)।' তিনি রাতকে তিন ভাগে বিভক্ত করতেন: প্রথম ভাগ লিখতেন, দ্বিতীয় ভাগ সালাত আদায় করতেন এবং তৃতীয় ভাগ ঘুমাতেন।
* রাবী' বলেছেন: 'আমি কয়েক রাত শাফিঈর বাড়িতে ঘুমিয়েছি, তিনি রাতের সামান্য অংশ ছাড়া ঘুমাতেন না।' বাহর ইবনু নাসর বলেছেন: 'আমি শাফিঈর যুগে তাঁর চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু, অধিক পরহেজগার এবং কুরআনে অধিক সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী কাউকে দেখিনি বা শুনিনি।' আল-হুমাইদী বলেছেন: 'শাফিঈ প্রতি মাসে ষাটবার কুরআন খতম করতেন।' হারমালা বলেছেন: 'আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, 'আমি চাই যে, আমি যে জ্ঞান জানি, তা মানুষ শিখুক, যাতে আমি এর প্রতিদান পাই, কিন্তু তারা যেন আমার প্রশংসা না করে।' আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'যেন আল্লাহ তা'আলা শাফিঈর মধ্যে সকল কল্যাণ একত্রিত করে দিয়েছেন।'
ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'বুদ্ধিমত্তা হলো সত্যের সাথে স্থির থাকা, যেমনটি তা স্থির থাকে।' তিনি বলেছেন: 'আমি কখনো মিথ্যা বলিনি এবং আল্লাহ তা'আলার নামে সত্য বা মিথ্যা কোনো শপথ করিনি।' তিনি বলেছেন: 'আমি ঠান্ডা, সফর বা অন্য কোনো অবস্থায় জুমার গোসল ত্যাগ করিনি।' তিনি বলেছেন: 'আমি ষোল বছর ধরে কখনো পেট ভরে খাইনি, তবে একবার পেট ভরে খেয়েছিলাম, যা তৎক্ষণাৎ বমি করে ফেলেছিলাম।' অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: 'বিশ বছর ধরে।' তিনি বলেছেন: 'যাকে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) সম্মানিত করে না, তার কোনো সম্মান নেই।' তিনি বলেছেন: 'আমি কখনো দারিদ্র্যকে ভয় পাইনি।' তিনি বলেছেন: 'দুনিয়ার অতিরিক্ত জিনিস অন্বেষণ করা এমন এক শাস্তি, যা আল্লাহ তা'আলা তাওহীদপন্থীদেরকে দিয়েছেন।' ইমাম শাফিঈকে বলা হলো: 'আপনার কী হয়েছে যে আপনি আসক্ত থাকেন...'
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إمساك العصا ولست بضعيف فقال لا ذكر أَنِّي مُسَافِرٌ يَعْنِي فِي الدُّنْيَا. وَقَالَ مَنْ شَهِدَ الضَّعْفَ مِنْ نَفْسِهِ نَالَ الِاسْتِقَامَةَ: وَقَالَ مَنْ غَلَبَتْهُ شِدَّةُ الشَّهْوَةِ لِلدُّنْيَا لَزِمَتْهُ الْعُبُودِيَّةُ لِأَهْلِهَا وَمَنْ رَضِيَ بِالْقُنُوعِ زَالَ عَنْهُ الْخُضُوعُ. وَقَالَ خَيْرُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فِي خَمْسِ خِصَالٍ غِنَى النَّفْسِ وَكَفِّ الْأَذَى وَكَسْبِ الْحَلَالِ وَلِبَاسِ التَّقْوَى وَالثِّقَةِ بِاَللَّهِ تَعَالَى عَلَى كُلِّ حَالٍ. وقال للربيع عليك بالزهد: وقال أنفع الذخائز التَّقْوَى وَأَضَرُّهَا الْعُدْوَانُ: وَقَالَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يقتح اللَّهُ قَلْبَهُ أَوْ يُنَوِّرَهُ فَعَلَيْهِ بِتَرْكِ الْكَلَامِ فيما لا يعنيه وا جتناب الْمَعَاصِي وَيَكُونُ لَهُ خَبِيئَةٌ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ عَمَلٍ: وَفِي رِوَايَةٍ فَعَلَيْهِ بِالْخَلْوَةِ وَقِلَّةِ الْأَكْلِ وَتَرْكِ مُخَالَطَةِ السُّفَهَاءِ وَبُغْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ الَّذِينَ لَيْسَ مَعَهُمْ إنْصَافٌ وَلَا أَدَبٌ: وَقَالَ يَا رَبِيعُ لَا تَتَكَلَّمْ فِيمَا لَا يَعْنِيكَ فَإِنَّكَ إذَا تَكَلَّمْتَ بِالْكَلِمَةِ مَلَكَتْكَ وَلَمْ تَمْلِكْهَا وَقَالَ لِيُونُسَ بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى لَوْ اجْتَهَدْتَ كُلَّ الْجُهْدِ عَلَى أَنْ تُرْضِيَ النَّاسَ كُلَّهُمْ فَلَا سَبِيلَ فَأَخْلِصْ عَمَلَكَ وَنِيَّتَكَ لله عزوجل: وقال لا يعرف الرياء إلا مخلص وقال لو أوصى رجل بشئ لا عقل النَّاسِ صُرِفَ إلَى الزُّهَّادِ: وَقَالَ سِيَاسَةُ النَّاسِ أَشَدُّ مِنْ سِيَاسَةِ الدَّوَابِّ: وَقَالَ الْعَاقِلُ مَنْ عَقَلَهُ عَقْلُهُ عَنْ كُلِّ مَذْمُومٍ: وَقَالَ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّ شُرْبَ الْمَاءِ الْبَارِدِ يُنْقِصُ مِنْ مُرُوءَتِي مَا شَرِبْتُهُ (1) وَقَالَ لِلْمُرُوءَةِ أَرْبَعَةُ أَرْكَانٍ حُسْنُ الْخُلُقِ وَالسَّخَاءُ وَالتَّوَاضُعُ وَالنُّسُكُ: وَقَالَ الْمُرُوءَةُ عِفَّةُ الْجَوَارِحِ عَمَّا لَا يَعْنِيهَا: وَقَالَ أَصْحَابُ المروءات فِي جُهْدٍ: وَقَالَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْضِيَ اللَّهُ لَهُ بِالْخَيْرِ فَلْيُحْسِنْ الظَّنَّ بِالنَّاسِ: وَقَالَ لَا يَكْمُلُ الرِّجَالُ فِي الدُّنْيَا إلَّا بِأَرْبَعٍ بِالدِّيَانَةِ وَالْأَمَانَةِ وَالصِّيَانَةِ وَالرَّزَانَةِ: وَقَالَ أَقَمْتُ أَرْبَعِينَ سَنَةً أَسْأَلُ إخْوَانِي الَّذِينَ تَزَوَّجُوا عَنْ أَحْوَالِهِمْ فِي تَزَوُّجِهِمْ فَمَا مِنْهُمْ أَحَدٌ قَالَ إنَّهُ رَأَى خَيْرًا: وَقَالَ لَيْسَ بِأَخِيكَ مَنْ احْتَجْتَ إلَى مُدَارَاتِهِ: وَقَالَ مَنْ صَدَقَ فِي أُخُوَّةِ أَخِيهِ قَبِلَ عِلَلَهُ وَسَدَّ خَلَلَهُ وَغَفَرَ زَلَلَهُ: وَقَالَ مِنْ عَلَامَةِ الصَّدِيقِ أَنْ يَكُونَ لِصَدِيقِ صَدِيقِهِ صَدِيقًا: وَقَالَ لَيْسَ سُرُورٌ يَعْدِلُ صُحْبَةَ الْإِخْوَانِ وَلَا غَمٌّ يَعْدِلُ فِرَاقَهُمْ: وَقَالَ لَا تُقَصِّرْ فِي حَقِّ أَخِيكَ اعْتِمَادًا عَلَى مَوَدَّتِهِ: وَقَالَ لَا تَبْذُلْ وَجْهَكَ إلَى مَنْ يَهُونُ عَلَيْهِ رَدُّكَ: وَقَالَ مَنْ بَرَّكَ فَقَدْ أَوْثَقَكَ وَمَنْ جَفَاكَ فَقَدْ أَطْلَقَكَ: وَقَالَ مَنْ نَمَّ لَكَ نَمَّ بِكَ وَمَنْ إذَا أَرْضَيْتَهُ قَالَ فِيكَ مَا لَيْسَ فِيكَ وَإِذَا أَغْضَبَتْهُ قَالَ فِيكَ مَا لَيْسَ فِيكَ: وَقَالَ الْكَيِّسُ الْعَاقِلُ هُوَ الْفَطِنُ الْمُتَغَافِلُ: وَقَالَ مَنْ وَعَظَ أَخَاهُ سِرًّا فَقَدْ نَصَحَهُ وَزَانَهُ وَمَنْ وَعَظَهُ عَلَانِيَةً فَقَدْ فَضَحَهُ وَشَانَهُ: وَقَالَ مَنْ سَامَ بِنَفْسِهِ فَوْقَ مَا يُسَاوِي رَدَّهُ اللَّهُ إلَى قِيمَتِهِ: وَقَالَ الْفُتُوَّةُ حُلِيُّ الْأَحْرَارِ: وَقَالَ مَنْ تَزَيَّنَّ بِبَاطِلٍ هُتِكَ سِتْرُهُ: وَقَالَ التَّوَاضُعُ مِنْ أَخْلَاقِ الْكِرَامِ وَالتَّكَبُّرُ مِنْ شِيَمِ اللِّئَامِ: وَقَالَ التَّوَاضُعُ يورث المحبة والقناعة تورث الْمَحَبَّةَ وَالْقَنَاعَةُ تُورِثُ الرَّاحَةَ: وَقَالَ أَرْفَعُ النَّاسِ قَدْرًا مَنْ لَا يَرَى قَدْرَهُ وَأَكْثَرُهُمْ فَضْلًا مَنْ لَا يَرَى فَضْلَهُ: وَقَالَ إذَا كَثُرَتْ الْحَوَائِجُ فَابْدَأْ بِأَهَمِّهَا: وَقَالَ مَنْ كَتَمَ سِرَّهُ كَانَتْ الْخِيرَةُ فِي يَدِهِ: وَقَالَ الشَّفَاعَاتُ زَكَاةُ المروءات: وَقَالَ مَا ضَحِكَ مِنْ خَطَأٍ رَجُلٌ إلَّا ثبت صوابه في قبله
* وَهَذَا الْبَابُ وَاسِعٌ جِدًّا لَكِنْ نَبَّهْتُ بِهَذِهِ الاحرف على ما سواها
*
__________
(1) بهامش نسخة الاذرعى ما نصه: ولو كنت اليوم ممن يقول الشعر لرثيت المروءة كذا روى المصنف هذه الزيادة في هذا الموضع من كتاب تهذيب الاسماء تتمة للكلام المذكور هنا:
* وَهَذَا الْبَابُ وَاسِعٌ جِدًّا لَكِنْ نَبَّهْتُ بِهَذِهِ الاحرف على ما سواها
*
__________
(1) بهامش نسخة الاذرعى ما نصه: ولو كنت اليوم ممن يقول الشعر لرثيت المروءة كذا روى المصنف هذه الزيادة في هذا الموضع من كتاب تهذيب الاسماء تتمة للكلام المذكور هنا:
লাঠি ধারণ করা, যদিও আমি দুর্বল নই। তিনি বললেন, "না, এটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমি একজন মুসাফির," অর্থাৎ এই দুনিয়াতে।
তিনি আরও বলেন, "যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করে, সে ইস্তিকামাত (দৃঢ়তা ও অবিচলতা) লাভ করে।"
তিনি বলেন, "যাকে দুনিয়ার তীব্র ভোগাকাঙ্ক্ষা পরাভূত করে, তার উপর দুনিয়াদারদের দাসত্ব আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট থাকে, তার থেকে বিনয় (বা অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষিতা) দূরীভূত হয়।"
তিনি বলেন, "দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ পাঁচটি বৈশিষ্ট্যে নিহিত: আত্মিক প্রাচুর্য, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, হালাল উপার্জন, তাকওয়ার পোশাক পরিধান এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা রাখা।"
তিনি রাবী'কে বললেন, "তোমার জন্য যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) অবলম্বন করা আবশ্যক।"
তিনি বলেন, "সবচেয়ে উপকারী পাথেয় হলো তাকওয়া (আল্লাহভীতি), আর সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো সীমালঙ্ঘন (বা শত্রুতা)।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তার হৃদয় উন্মুক্ত করে দিন অথবা আলোকিত করুন, তার উচিত অনর্থক কথা পরিহার করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার ও আল্লাহ তা'আলার মাঝে গোপন কোনো আমল থাকা।"
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, "তার উচিত নির্জনতা অবলম্বন করা, কম আহার করা, নির্বোধদের সাথে মেলামেশা পরিহার করা এবং সেইসব জ্ঞানীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাদের মধ্যে ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা) ও আদব (শিষ্টাচার) নেই।"
তিনি বলেন, "হে রাবী', যা তোমার জন্য অর্থহীন, সে বিষয়ে কথা বলো না। কারণ, যখন তুমি কোনো কথা বলো, তখন তা তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তুমি তাকে নিয়ন্ত্রণ করো না।" তিনি ইউনুস ইবনে আব্দুল আ'লাকে বললেন, "যদি তুমি সমস্ত মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো, তবে তার কোনো পথ নেই। সুতরাং, তোমার আমল ও নিয়তকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর জন্য একনিষ্ঠ করো।"
তিনি বলেন, "রিয়া (লোক-দেখানো ইবাদত) কেবল মুখলিস (একনিষ্ঠ ব্যক্তি)ই চিনতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো ব্যক্তি 'মানুষের বুদ্ধিমত্তার জন্য' কিছু ওসিয়ত করে, তবে তা যুহহাদ (দুনিয়াবিমুখ সাধকদের) এর জন্য ব্যয় করা হবে।"
তিনি বলেন, "মানুষকে পরিচালনা করা চতুষ্পদ জন্তু পরিচালনার চেয়েও কঠিন।"
তিনি বলেন, "প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যার বুদ্ধি তাকে সকল নিন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখে।"
তিনি বলেন, "যদি আমি জানতাম যে ঠান্ডা পানি পান করা আমার 'মুরুওয়াত' (মর্যাদা/পুরুষত্ব/সদাচার) হ্রাস করবে, তবে আমি তা পান করতাম না।" (১)
তিনি বলেন, "মুরুওয়াতের চারটি স্তম্ভ রয়েছে: উত্তম চরিত্র, দানশীলতা, বিনয় এবং ইবাদত-বন্দেগী (নুসুক)।"
তিনি বলেন, "মুরুওয়াত হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সেইসব বিষয় থেকে পবিত্রতা যা তাদের জন্য অর্থহীন।"
তিনি বলেন, "মুরুওয়াতের অধিকারী ব্যক্তিরা সর্বদা প্রচেষ্টারত থাকে।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন, সে যেন মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করে।"
তিনি বলেন, "দুনিয়াতে পুরুষদের পূর্ণতা আসে না চারটি বিষয় ছাড়া: দ্বীনদারী, আমানতদারী, সিয়ানাত (আত্মমর্যাদা রক্ষা) এবং রযানাত (গাম্ভীর্য)।"
তিনি বলেন, "আমি চল্লিশ বছর ধরে আমার বিবাহিত ভাইদের তাদের বিবাহিত জীবনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই বলেনি যে তারা এতে কোনো কল্যাণ দেখেছে।"
তিনি বলেন, "সে তোমার ভাই নয়, যার সাথে তোমাকে তোষামোদ করে চলতে হয়।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ভ্রাতৃত্বে সত্যবাদী, সে তার ত্রুটিগুলো মেনে নেয়, তার দুর্বলতাগুলো ঢেকে রাখে এবং তার পদস্খলন ক্ষমা করে।"
তিনি বলেন, "বন্ধুর অন্যতম নিদর্শন হলো, সে তার বন্ধুর বন্ধুরও বন্ধু হবে।"
তিনি বলেন, "ভাইদের সাহচর্যের সমতুল্য কোনো আনন্দ নেই, আর তাদের বিচ্ছেদের সমতুল্য কোনো দুঃখ নেই।"
তিনি বলেন, "তোমার ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসার উপর নির্ভর করে তার অধিকার পূরণে ত্রুটি করো না।"
তিনি বলেন, "তোমার মুখ (মর্যাদা/অনুরোধ) এমন ব্যক্তির কাছে পেশ করো না, যার কাছে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করা সহজ।"
তিনি বলেন, "যে তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করে, সে তোমাকে আবদ্ধ করে; আর যে তোমার প্রতি রূঢ় আচরণ করে, সে তোমাকে মুক্ত করে।"
তিনি বলেন, "যে তোমার কাছে চোগলখুরি করে, সে তোমার সম্পর্কেও চোগলখুরি করবে। আর যে ব্যক্তি, যখন তুমি তাকে সন্তুষ্ট করো, তখন তোমার সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তোমার মধ্যে নেই; এবং যখন তুমি তাকে রাগান্বিত করো, তখনও তোমার সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তোমার মধ্যে নেই।"
তিনি বলেন, "চতুর ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই, যে বিচক্ষণ হওয়া সত্ত্বেও (কিছু বিষয়ে) উদাসীনতা দেখায়।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইকে গোপনে উপদেশ দেয়, সে তাকে প্রকৃতই নসিহত করে এবং তাকে শোভিত করে। আর যে তাকে প্রকাশ্যে উপদেশ দেয়, সে তাকে অপমানিত ও কলঙ্কিত করে।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি মূল্য দেয়, আল্লাহ তাকে তার প্রকৃত মূল্যে ফিরিয়ে দেন।"
তিনি বলেন, "ফুতুওয়াত (মহানুভবতা/তারুণ্যের উদারতা) হলো স্বাধীনচেতা মানুষের অলংকার।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি বাতিল দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করে, তার পর্দা উন্মোচিত হয়।"
তিনি বলেন, "বিনয় হলো সম্মানিত ব্যক্তিদের চরিত্র থেকে, আর অহংকার হলো নীচ ব্যক্তিদের স্বভাব থেকে।"
তিনি বলেন, "বিনয় ভালোবাসা নিয়ে আসে, আর অল্পে তুষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে।"
তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে মর্যাদায় সর্বোচ্চ সেই ব্যক্তি, যে নিজের মর্যাদা দেখে না; আর তাদের মধ্যে গুণে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে নিজের গুণ দেখে না।"
তিনি বলেন, "যখন প্রয়োজনসমূহ বৃদ্ধি পায়, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি দিয়ে শুরু করো।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার গোপন কথা গোপন রাখে, তার হাতেই থাকে পছন্দের স্বাধীনতা।"
তিনি বলেন, "সুপারিশ হলো মুরুওয়াতের (সদাচার/মর্যাদার) যাকাত।"
তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি অন্যের ভুল দেখে হাসেনি, তবে তার নিজের সঠিকতা তার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
এই অধ্যায়টি অত্যন্ত বিস্তৃত, তবে আমি এই কয়েকটি অক্ষর দ্বারা এর বাইরের বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
__________
(১) আযরাঈ-এর নুসখার টীকায় যা উল্লেখ আছে: "যদি আমি আজ কবিতা রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম, তবে আমি মুরুওয়াতের জন্য শোকগাথা রচনা করতাম।" লেখক 'তাহযীবুল আসমা' নামক কিতাবের এই স্থানে উল্লিখিত আলোচনার পরিপূরক হিসেবে এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করে, সে ইস্তিকামাত (দৃঢ়তা ও অবিচলতা) লাভ করে।"
তিনি বলেন, "যাকে দুনিয়ার তীব্র ভোগাকাঙ্ক্ষা পরাভূত করে, তার উপর দুনিয়াদারদের দাসত্ব আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট থাকে, তার থেকে বিনয় (বা অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষিতা) দূরীভূত হয়।"
তিনি বলেন, "দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ পাঁচটি বৈশিষ্ট্যে নিহিত: আত্মিক প্রাচুর্য, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, হালাল উপার্জন, তাকওয়ার পোশাক পরিধান এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা রাখা।"
তিনি রাবী'কে বললেন, "তোমার জন্য যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) অবলম্বন করা আবশ্যক।"
তিনি বলেন, "সবচেয়ে উপকারী পাথেয় হলো তাকওয়া (আল্লাহভীতি), আর সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো সীমালঙ্ঘন (বা শত্রুতা)।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তার হৃদয় উন্মুক্ত করে দিন অথবা আলোকিত করুন, তার উচিত অনর্থক কথা পরিহার করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তার ও আল্লাহ তা'আলার মাঝে গোপন কোনো আমল থাকা।"
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, "তার উচিত নির্জনতা অবলম্বন করা, কম আহার করা, নির্বোধদের সাথে মেলামেশা পরিহার করা এবং সেইসব জ্ঞানীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাদের মধ্যে ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা) ও আদব (শিষ্টাচার) নেই।"
তিনি বলেন, "হে রাবী', যা তোমার জন্য অর্থহীন, সে বিষয়ে কথা বলো না। কারণ, যখন তুমি কোনো কথা বলো, তখন তা তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তুমি তাকে নিয়ন্ত্রণ করো না।" তিনি ইউনুস ইবনে আব্দুল আ'লাকে বললেন, "যদি তুমি সমস্ত মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো, তবে তার কোনো পথ নেই। সুতরাং, তোমার আমল ও নিয়তকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর জন্য একনিষ্ঠ করো।"
তিনি বলেন, "রিয়া (লোক-দেখানো ইবাদত) কেবল মুখলিস (একনিষ্ঠ ব্যক্তি)ই চিনতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো ব্যক্তি 'মানুষের বুদ্ধিমত্তার জন্য' কিছু ওসিয়ত করে, তবে তা যুহহাদ (দুনিয়াবিমুখ সাধকদের) এর জন্য ব্যয় করা হবে।"
তিনি বলেন, "মানুষকে পরিচালনা করা চতুষ্পদ জন্তু পরিচালনার চেয়েও কঠিন।"
তিনি বলেন, "প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যার বুদ্ধি তাকে সকল নিন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখে।"
তিনি বলেন, "যদি আমি জানতাম যে ঠান্ডা পানি পান করা আমার 'মুরুওয়াত' (মর্যাদা/পুরুষত্ব/সদাচার) হ্রাস করবে, তবে আমি তা পান করতাম না।" (১)
তিনি বলেন, "মুরুওয়াতের চারটি স্তম্ভ রয়েছে: উত্তম চরিত্র, দানশীলতা, বিনয় এবং ইবাদত-বন্দেগী (নুসুক)।"
তিনি বলেন, "মুরুওয়াত হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সেইসব বিষয় থেকে পবিত্রতা যা তাদের জন্য অর্থহীন।"
তিনি বলেন, "মুরুওয়াতের অধিকারী ব্যক্তিরা সর্বদা প্রচেষ্টারত থাকে।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন, সে যেন মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করে।"
তিনি বলেন, "দুনিয়াতে পুরুষদের পূর্ণতা আসে না চারটি বিষয় ছাড়া: দ্বীনদারী, আমানতদারী, সিয়ানাত (আত্মমর্যাদা রক্ষা) এবং রযানাত (গাম্ভীর্য)।"
তিনি বলেন, "আমি চল্লিশ বছর ধরে আমার বিবাহিত ভাইদের তাদের বিবাহিত জীবনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই বলেনি যে তারা এতে কোনো কল্যাণ দেখেছে।"
তিনি বলেন, "সে তোমার ভাই নয়, যার সাথে তোমাকে তোষামোদ করে চলতে হয়।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ভ্রাতৃত্বে সত্যবাদী, সে তার ত্রুটিগুলো মেনে নেয়, তার দুর্বলতাগুলো ঢেকে রাখে এবং তার পদস্খলন ক্ষমা করে।"
তিনি বলেন, "বন্ধুর অন্যতম নিদর্শন হলো, সে তার বন্ধুর বন্ধুরও বন্ধু হবে।"
তিনি বলেন, "ভাইদের সাহচর্যের সমতুল্য কোনো আনন্দ নেই, আর তাদের বিচ্ছেদের সমতুল্য কোনো দুঃখ নেই।"
তিনি বলেন, "তোমার ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসার উপর নির্ভর করে তার অধিকার পূরণে ত্রুটি করো না।"
তিনি বলেন, "তোমার মুখ (মর্যাদা/অনুরোধ) এমন ব্যক্তির কাছে পেশ করো না, যার কাছে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করা সহজ।"
তিনি বলেন, "যে তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করে, সে তোমাকে আবদ্ধ করে; আর যে তোমার প্রতি রূঢ় আচরণ করে, সে তোমাকে মুক্ত করে।"
তিনি বলেন, "যে তোমার কাছে চোগলখুরি করে, সে তোমার সম্পর্কেও চোগলখুরি করবে। আর যে ব্যক্তি, যখন তুমি তাকে সন্তুষ্ট করো, তখন তোমার সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তোমার মধ্যে নেই; এবং যখন তুমি তাকে রাগান্বিত করো, তখনও তোমার সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তোমার মধ্যে নেই।"
তিনি বলেন, "চতুর ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই, যে বিচক্ষণ হওয়া সত্ত্বেও (কিছু বিষয়ে) উদাসীনতা দেখায়।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইকে গোপনে উপদেশ দেয়, সে তাকে প্রকৃতই নসিহত করে এবং তাকে শোভিত করে। আর যে তাকে প্রকাশ্যে উপদেশ দেয়, সে তাকে অপমানিত ও কলঙ্কিত করে।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি নিজেকে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি মূল্য দেয়, আল্লাহ তাকে তার প্রকৃত মূল্যে ফিরিয়ে দেন।"
তিনি বলেন, "ফুতুওয়াত (মহানুভবতা/তারুণ্যের উদারতা) হলো স্বাধীনচেতা মানুষের অলংকার।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি বাতিল দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করে, তার পর্দা উন্মোচিত হয়।"
তিনি বলেন, "বিনয় হলো সম্মানিত ব্যক্তিদের চরিত্র থেকে, আর অহংকার হলো নীচ ব্যক্তিদের স্বভাব থেকে।"
তিনি বলেন, "বিনয় ভালোবাসা নিয়ে আসে, আর অল্পে তুষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে।"
তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে মর্যাদায় সর্বোচ্চ সেই ব্যক্তি, যে নিজের মর্যাদা দেখে না; আর তাদের মধ্যে গুণে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে নিজের গুণ দেখে না।"
তিনি বলেন, "যখন প্রয়োজনসমূহ বৃদ্ধি পায়, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি দিয়ে শুরু করো।"
তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি তার গোপন কথা গোপন রাখে, তার হাতেই থাকে পছন্দের স্বাধীনতা।"
তিনি বলেন, "সুপারিশ হলো মুরুওয়াতের (সদাচার/মর্যাদার) যাকাত।"
তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি অন্যের ভুল দেখে হাসেনি, তবে তার নিজের সঠিকতা তার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
এই অধ্যায়টি অত্যন্ত বিস্তৃত, তবে আমি এই কয়েকটি অক্ষর দ্বারা এর বাইরের বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
__________
(১) আযরাঈ-এর নুসখার টীকায় যা উল্লেখ আছে: "যদি আমি আজ কবিতা রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম, তবে আমি মুরুওয়াতের জন্য শোকগাথা রচনা করতাম।" লেখক 'তাহযীবুল আসমা' নামক কিতাবের এই স্থানে উল্লিখিত আলোচনার পরিপূরক হিসেবে এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فَصْلٌ
قَدْ أَشَرْتُ فِي هَذِهِ الْفُصُولِ إلَى طَرَفٍ مِنْ حَالِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَبَيَانِ رُجْحَانِ نَفْسِهِ وَطَرِيقَتِهِ وَمَذْهَبِهِ وَمَنْ أَرَادَ تَحْقِيقَ ذَلِكَ فَلْيُطَالِعْ كُتُبَ الْمَنَاقِبِ الَّتِي ذَكَرْتُهَا: وَمِنْ أَهَمِّهَا كِتَابُ الْبَيْهَقِيّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَقْتَصِرَ عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَاتِ لِئَلَّا أَخْرُجَ عَنْ حَدِّ هَذَا الْكِتَابِ وَأَرْجُو بِمَا أَذْكُرُهُ وَأُشِيعُهُ مِنْ مَحَاسِنِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَدْعُو لَهُ فِي كِتَابَتِي وَغَيْرِهَا مِنْ أَحْوَالِي أَنْ أَكُونَ مُوفِيًا لَحَقِّهِ أَوْ بَعْضِ حَقِّهِ عَلَيَّ لِمَا وَصَلَنِي مِنْ كَلَامِهِ وَعِلْمِهِ وَانْتَفَعْتُ بِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ إحْسَانِهِ إلَيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَاهُ وَأَكْرَمَ نُزُلَهُ وَمَثْوَاهُ: وَجَمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ مَعَ أَحْبَابِنَا فِي دَارِ كَرَامَتِهِ: وَنَفَعَنِي بِانْتِسَابِي إلَيْهِ وَانْتِمَائِي إلَى صُحْبَتِهِ
* فَصْلٌ فِي أَحْوَالِ الشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ مُصَنِّفِ الْكِتَابِ
اعْلَمْ أَنَّ أَحْوَالَهُ رَحِمَهُ اللَّهُ كَثِيرَةٌ لَا يُمْكِنُ أَنْ تُسْتَقْصَى لِخُرُوجِهَا عَنْ أَنْ تُحْصَى لَكِنْ أُشِيرُ إلَى كَلِمَاتٍ يَسِيرَةٍ مِنْ ذَلِكَ لِيُعْلَمَ بِهَا مَا سِوَاهَا مِمَّا هنا لك وَأُبَالِغُ فِي اخْتِصَارِهَا لِعِظَمِهَا وَكَثْرَةِ انْتِشَارِهَا
* هُوَ الْإِمَامُ الْمُحَقِّقُ الْمُتْقِنُ الْمُدَقِّقُ ذُو الْفُنُونِ مِنْ الْعُلُومِ الْمُتَكَاثِرَاتِ وَالتَّصَانِيفِ النَّافِعَةِ الْمُسْتَجَادَاتِ
* الزَّاهِدُ الْعَابِدُ الْوَرِعُ الْمُعْرِضُ عَنْ الدُّنْيَا الْمُقْبِلُ بِقَلْبِهِ عَلَى الْآخِرَةِ الْبَاذِلُ نَفْسَهُ فِي نُصْرَةِ دِينِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُجَانِبُ لِلْهَوَى أَحَدُ الْعُلَمَاءِ الصَّالِحِينَ وَعِبَادِ اللَّهِ الْعَارِفِينَ الْجَامِعِينَ بَيْنَ الْعِلْمِ وَالْعِبَادَةِ وَالْوَرَعِ وَالزَّهَادَةِ الْمُوَاظِبِينَ عَلَى وَظَائِفِ الدِّينِ وَاتِّبَاعِ هَدْيِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَضِيَ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ
* أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بن يوسف بن عبد الله الشيرازي الفيروزبادى رحمه الله ورضى الله عنه منسوب إلى فيروزباد بليدة مِنْ بِلَادِ شِيرَازَ وُلِدَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ وثلثمائة وتفقه بفارس على أبى الفرج ابن البيضاوى وبالبصرة على الخرزى: ثم دخل بغداد سنة خمس عشرة وأربع مائة وَتَفَقَّهَ عَلَى شَيْخِهِ الْإِمَامِ الْجَلِيلِ الْفَاضِلِ أَبِي الطَّيِّبِ طَاهِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطَّبَرِيِّ وَجَمَاعَاتٍ مِنْ مَشَايِخِهِ الْمَعْرُوفِينَ: وَسَمِعَ الْحَدِيثَ عَلَى الْإِمَامِ الْفَقِيهِ الْحَافِظِ أَبِي بَكْرٍ الْبَرْقَانِيِّ وَأَبِي عَلِيِّ بْنِ شَاذَانَ وَغَيْرِهِمَا مِنْ الْأَئِمَّةِ الْمَشْهُورِينَ: وَرَأَى رسول الله صلى الله عليه في المنام فقال له يا شَيْخٌ فَكَانَ يَفْرَحُ وَيَقُولُ سَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْخًا قَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ كُنْتُ أُعِيدُ كُلَّ دَرْسٍ مِائَةَ مَرَّةٍ وَإِذَا كَانَ فِي الْمَسْأَلَةِ بَيْتُ شِعْرٍ يُسْتَشْهَدُ بِهِ حَفِظْتُ الْقَصِيدَةَ كُلَّهَا مِنْ أَجْلِهِ: وَكَانَ عَامِلًا بِعِلْمِهِ صَابِرًا عَلَى خُشُونَةِ الْعَيْشِ مُعَظِّمًا للعلم مراعيا للعمل بدفائق الْفِقْهِ وَالِاحْتِيَاطِ: كَانَ يَوْمًا يَمْشِي وَمَعَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ فَعَرَضَ فِي الطَّرِيقِ كَلْبٌ فَزَجَرَهُ صَاحِبُهُ فَنَهَاهُ الشَّيْخُ وَقَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الطَّرِيقَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ مُشْتَرَكٌ: وَدَخَلَ يَوْمًا مَسْجِدًا لِيَأْكُلَ طَعَامًا عَلَى عَادَتِهِ فَنَسِيَ فِيهِ دِينَارًا فَذَكَرَهُ فِي الطَّرِيقِ فَرَجَعَ فَوَجَدَهُ فَفَكَّرَ سَاعَةً وَقَالَ رُبَّمَا وَقَعَ هَذَا الدِّينَارُ مِنْ غَيْرِي فَتَرَكَهُ وَلَمْ يَمَسَّهُ
* قَالَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو سَعْدٍ السَّمْعَانِيُّ كَانَ الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ إمَامَ الشَّافِعِيَّةِ وَالْمُدَرِّسَ بِبَغْدَادَ فِي النِّظَامِيَّةِ شَيْخَ الدَّهْرِ وَإِمَامَ الْعَصْرِ رَحَلَ إلَيْهِ النَّاسُ مِنْ الْأَمْصَارِ وَقَصَدُوهُ مِنْ كُلِّ الْجَوَانِبِ وَالْأَقْطَارِ وَكَانَ يَجْرِي مَجْرَى أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ سُرَيْجٍ
قَدْ أَشَرْتُ فِي هَذِهِ الْفُصُولِ إلَى طَرَفٍ مِنْ حَالِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَبَيَانِ رُجْحَانِ نَفْسِهِ وَطَرِيقَتِهِ وَمَذْهَبِهِ وَمَنْ أَرَادَ تَحْقِيقَ ذَلِكَ فَلْيُطَالِعْ كُتُبَ الْمَنَاقِبِ الَّتِي ذَكَرْتُهَا: وَمِنْ أَهَمِّهَا كِتَابُ الْبَيْهَقِيّ رَحِمَهُ اللَّهُ وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَقْتَصِرَ عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَاتِ لِئَلَّا أَخْرُجَ عَنْ حَدِّ هَذَا الْكِتَابِ وَأَرْجُو بِمَا أَذْكُرُهُ وَأُشِيعُهُ مِنْ مَحَاسِنِ الشَّافِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَدْعُو لَهُ فِي كِتَابَتِي وَغَيْرِهَا مِنْ أَحْوَالِي أَنْ أَكُونَ مُوفِيًا لَحَقِّهِ أَوْ بَعْضِ حَقِّهِ عَلَيَّ لِمَا وَصَلَنِي مِنْ كَلَامِهِ وَعِلْمِهِ وَانْتَفَعْتُ بِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ وُجُوهِ إحْسَانِهِ إلَيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَاهُ وَأَكْرَمَ نُزُلَهُ وَمَثْوَاهُ: وَجَمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ مَعَ أَحْبَابِنَا فِي دَارِ كَرَامَتِهِ: وَنَفَعَنِي بِانْتِسَابِي إلَيْهِ وَانْتِمَائِي إلَى صُحْبَتِهِ
* فَصْلٌ فِي أَحْوَالِ الشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ مُصَنِّفِ الْكِتَابِ
اعْلَمْ أَنَّ أَحْوَالَهُ رَحِمَهُ اللَّهُ كَثِيرَةٌ لَا يُمْكِنُ أَنْ تُسْتَقْصَى لِخُرُوجِهَا عَنْ أَنْ تُحْصَى لَكِنْ أُشِيرُ إلَى كَلِمَاتٍ يَسِيرَةٍ مِنْ ذَلِكَ لِيُعْلَمَ بِهَا مَا سِوَاهَا مِمَّا هنا لك وَأُبَالِغُ فِي اخْتِصَارِهَا لِعِظَمِهَا وَكَثْرَةِ انْتِشَارِهَا
* هُوَ الْإِمَامُ الْمُحَقِّقُ الْمُتْقِنُ الْمُدَقِّقُ ذُو الْفُنُونِ مِنْ الْعُلُومِ الْمُتَكَاثِرَاتِ وَالتَّصَانِيفِ النَّافِعَةِ الْمُسْتَجَادَاتِ
* الزَّاهِدُ الْعَابِدُ الْوَرِعُ الْمُعْرِضُ عَنْ الدُّنْيَا الْمُقْبِلُ بِقَلْبِهِ عَلَى الْآخِرَةِ الْبَاذِلُ نَفْسَهُ فِي نُصْرَةِ دِينِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُجَانِبُ لِلْهَوَى أَحَدُ الْعُلَمَاءِ الصَّالِحِينَ وَعِبَادِ اللَّهِ الْعَارِفِينَ الْجَامِعِينَ بَيْنَ الْعِلْمِ وَالْعِبَادَةِ وَالْوَرَعِ وَالزَّهَادَةِ الْمُوَاظِبِينَ عَلَى وَظَائِفِ الدِّينِ وَاتِّبَاعِ هَدْيِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَضِيَ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ
* أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بن يوسف بن عبد الله الشيرازي الفيروزبادى رحمه الله ورضى الله عنه منسوب إلى فيروزباد بليدة مِنْ بِلَادِ شِيرَازَ وُلِدَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ وثلثمائة وتفقه بفارس على أبى الفرج ابن البيضاوى وبالبصرة على الخرزى: ثم دخل بغداد سنة خمس عشرة وأربع مائة وَتَفَقَّهَ عَلَى شَيْخِهِ الْإِمَامِ الْجَلِيلِ الْفَاضِلِ أَبِي الطَّيِّبِ طَاهِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطَّبَرِيِّ وَجَمَاعَاتٍ مِنْ مَشَايِخِهِ الْمَعْرُوفِينَ: وَسَمِعَ الْحَدِيثَ عَلَى الْإِمَامِ الْفَقِيهِ الْحَافِظِ أَبِي بَكْرٍ الْبَرْقَانِيِّ وَأَبِي عَلِيِّ بْنِ شَاذَانَ وَغَيْرِهِمَا مِنْ الْأَئِمَّةِ الْمَشْهُورِينَ: وَرَأَى رسول الله صلى الله عليه في المنام فقال له يا شَيْخٌ فَكَانَ يَفْرَحُ وَيَقُولُ سَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْخًا قَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ كُنْتُ أُعِيدُ كُلَّ دَرْسٍ مِائَةَ مَرَّةٍ وَإِذَا كَانَ فِي الْمَسْأَلَةِ بَيْتُ شِعْرٍ يُسْتَشْهَدُ بِهِ حَفِظْتُ الْقَصِيدَةَ كُلَّهَا مِنْ أَجْلِهِ: وَكَانَ عَامِلًا بِعِلْمِهِ صَابِرًا عَلَى خُشُونَةِ الْعَيْشِ مُعَظِّمًا للعلم مراعيا للعمل بدفائق الْفِقْهِ وَالِاحْتِيَاطِ: كَانَ يَوْمًا يَمْشِي وَمَعَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ فَعَرَضَ فِي الطَّرِيقِ كَلْبٌ فَزَجَرَهُ صَاحِبُهُ فَنَهَاهُ الشَّيْخُ وَقَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الطَّرِيقَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ مُشْتَرَكٌ: وَدَخَلَ يَوْمًا مَسْجِدًا لِيَأْكُلَ طَعَامًا عَلَى عَادَتِهِ فَنَسِيَ فِيهِ دِينَارًا فَذَكَرَهُ فِي الطَّرِيقِ فَرَجَعَ فَوَجَدَهُ فَفَكَّرَ سَاعَةً وَقَالَ رُبَّمَا وَقَعَ هَذَا الدِّينَارُ مِنْ غَيْرِي فَتَرَكَهُ وَلَمْ يَمَسَّهُ
* قَالَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو سَعْدٍ السَّمْعَانِيُّ كَانَ الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ إمَامَ الشَّافِعِيَّةِ وَالْمُدَرِّسَ بِبَغْدَادَ فِي النِّظَامِيَّةِ شَيْخَ الدَّهْرِ وَإِمَامَ الْعَصْرِ رَحَلَ إلَيْهِ النَّاسُ مِنْ الْأَمْصَارِ وَقَصَدُوهُ مِنْ كُلِّ الْجَوَانِبِ وَالْأَقْطَارِ وَكَانَ يَجْرِي مَجْرَى أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ سُرَيْجٍ
**পরিচ্ছেদ**
আমি এই পরিচ্ছেদগুলোতে ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থা ও গুণাবলির কিঞ্চিৎ আলোচনা করেছি এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব, পদ্ধতি ও মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক, সে যেন আমি পূর্বে উল্লিখিত মানাকিব (গুণাবলি) বিষয়ক গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করে। সেগুলোর মধ্যে ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমি এই কিতাবের পরিসীমা অতিক্রম না করার জন্য এই কয়েকটি কথায় সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশা করি, ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যে সকল গুণাবলি আমি উল্লেখ করছি ও প্রচার করছি এবং আমার এই লেখায় ও অন্যান্য অবস্থায় তাঁর জন্য যে দু'আ করছি, এর মাধ্যমে আমি তাঁর প্রতি আমার উপর অর্পিত অধিকারের পূর্ণতা বা কিয়দংশ আদায় করতে সক্ষম হবো। কারণ তাঁর বাণী ও জ্ঞান আমার কাছে পৌঁছেছে এবং আমি তা থেকে উপকৃত হয়েছি, এছাড়াও তাঁর পক্ষ থেকে আমার প্রতি আরও অনেক অনুগ্রহ রয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, তাঁর আতিথেয়তা ও বাসস্থানকে সম্মানিত করুন। এবং তাঁর সম্মানিত আবাসে আমাদের প্রিয়জনদের সাথে আমাকে ও তাঁকে একত্রিত করুন। আর তাঁর প্রতি আমার সম্বন্ধ ও তাঁর সাহচর্যের সাথে আমার সম্পর্ক দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন।
**কিতাবের রচয়িতা শায়খ আবু ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনাবস্থা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ**
জেনে রাখো, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনাবস্থা এত বেশি যে, তা গণনা করা সম্ভব নয়, তাই এর পূর্ণ বিবরণ দেওয়াও সম্ভব নয়। তবে আমি এর কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয় উল্লেখ করব, যাতে এর মাধ্যমে তাঁর অন্যান্য গুণাবলি সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়। এবং তাঁর মহত্ত্ব ও ব্যাপক পরিচিতির কারণে আমি তা অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করব।
* তিনি ছিলেন ইমাম, মুহাক্কিক (গবেষক), মুতকিন (সুনিপুণ), মুদাক্কিক (সূক্ষ্মদর্শী), বহুবিধ জ্ঞানের অধিকারী এবং উপকারী ও উৎকৃষ্ট গ্রন্থাবলির রচয়িতা।
* তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার, পরহেজগার, দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে আখিরাতের প্রতি হৃদয়ের পূর্ণ মনোযোগ দানকারী, আল্লাহ তা'আলার দ্বীনের সাহায্যে আত্মনিয়োগকারী এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে অবস্থানকারী। তিনি ছিলেন নেককার আলেমগণ এবং আল্লাহ তা'আলার আরেফ বান্দাদের অন্যতম, যারা জ্ঞান, ইবাদত, পরহেজগারী ও দুনিয়াবিমুখতাকে একত্রিত করেছিলেন। যারা দ্বীনের কর্তব্যসমূহ পালনে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েতের অনুসরণে অবিচল ছিলেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
* তিনি হলেন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শিরাযী আল-ফিরোযাবাদী (রাহিমাহুল্লাহ ওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি শিরাজ অঞ্চলের একটি ছোট শহর ফিরোযাবাদের সাথে সম্পর্কিত। তাঁর জন্ম ৩৯৩ হিজরীতে। তিনি ফারসে আবুল ফারাজ ইবনুল বাইদাওয়ী এবং বসরায় আল-খারাজী-এর কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি ৪১৫ হিজরীতে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং তাঁর শায়খ, মহান ও শ্রেষ্ঠ ইমাম আবুল তাইয়্যিব তাহির ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাবারী এবং তাঁর পরিচিত শায়খদের একটি দলের কাছে ফিকহ শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ইমাম, ফকীহ, হাফিয আবু বকর আল-বারকানী এবং আবু আলী ইবনে শাযান ও অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমামদের কাছে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেছিলেন, "হে শায়খ!" এতে তিনি আনন্দিত হতেন এবং বলতেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে শায়খ বলে ডেকেছেন।" তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "আমি প্রতিটি দরস একশ' বার পুনরাবৃত্তি করতাম। আর যদি কোনো মাসআলায় এমন কোনো কবিতার পঙক্তি থাকত যা দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হতো, তবে আমি তার জন্য পুরো কবিতাটি মুখস্থ করে ফেলতাম।" তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী, কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্যশীল, জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ফিকহের সূক্ষ্ম বিষয় ও সতর্কতার সাথে আমলকারী ছিলেন। একদিন তিনি তাঁর কিছু সাথীর সাথে হাঁটছিলেন, পথে একটি কুকুর সামনে এলো। তাঁর সাথী কুকুরটিকে ধমক দিলে শায়খ তাকে নিষেধ করে বললেন, "তুমি কি জানো না যে, রাস্তা আমার ও তার মাঝে যৌথ?" একদিন তিনি তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী খাবার খাওয়ার জন্য একটি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে একটি দিনার ভুলে রেখে এলেন। পথে তাঁর মনে পড়লে তিনি ফিরে গিয়ে সেটি পেলেন। তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, "হয়তো এই দিনারটি আমার নয়, অন্য কারো পড়ে গেছে।" অতঃপর তিনি সেটি স্পর্শ না করে রেখে দিলেন।
* ইমাম হাফিয আবু সা'দ আস-সাম'আনী বলেছেন: শায়খ আবু ইসহাক ছিলেন শাফিঈ মাযহাবের ইমাম এবং বাগদাদের নিযামিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ছিলেন যুগের শায়খ এবং সময়ের ইমাম। বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ তাঁর কাছে সফর করত এবং সকল দিক ও অঞ্চল থেকে তাঁর উদ্দেশ্যে আসত। এবং তিনি আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরাইজ-এর সমতুল্য ছিলেন।
আমি এই পরিচ্ছেদগুলোতে ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থা ও গুণাবলির কিঞ্চিৎ আলোচনা করেছি এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব, পদ্ধতি ও মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক, সে যেন আমি পূর্বে উল্লিখিত মানাকিব (গুণাবলি) বিষয়ক গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করে। সেগুলোর মধ্যে ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমি এই কিতাবের পরিসীমা অতিক্রম না করার জন্য এই কয়েকটি কথায় সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আশা করি, ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যে সকল গুণাবলি আমি উল্লেখ করছি ও প্রচার করছি এবং আমার এই লেখায় ও অন্যান্য অবস্থায় তাঁর জন্য যে দু'আ করছি, এর মাধ্যমে আমি তাঁর প্রতি আমার উপর অর্পিত অধিকারের পূর্ণতা বা কিয়দংশ আদায় করতে সক্ষম হবো। কারণ তাঁর বাণী ও জ্ঞান আমার কাছে পৌঁছেছে এবং আমি তা থেকে উপকৃত হয়েছি, এছাড়াও তাঁর পক্ষ থেকে আমার প্রতি আরও অনেক অনুগ্রহ রয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, তাঁর আতিথেয়তা ও বাসস্থানকে সম্মানিত করুন। এবং তাঁর সম্মানিত আবাসে আমাদের প্রিয়জনদের সাথে আমাকে ও তাঁকে একত্রিত করুন। আর তাঁর প্রতি আমার সম্বন্ধ ও তাঁর সাহচর্যের সাথে আমার সম্পর্ক দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন।
**কিতাবের রচয়িতা শায়খ আবু ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনাবস্থা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ**
জেনে রাখো, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনাবস্থা এত বেশি যে, তা গণনা করা সম্ভব নয়, তাই এর পূর্ণ বিবরণ দেওয়াও সম্ভব নয়। তবে আমি এর কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয় উল্লেখ করব, যাতে এর মাধ্যমে তাঁর অন্যান্য গুণাবলি সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়। এবং তাঁর মহত্ত্ব ও ব্যাপক পরিচিতির কারণে আমি তা অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করব।
* তিনি ছিলেন ইমাম, মুহাক্কিক (গবেষক), মুতকিন (সুনিপুণ), মুদাক্কিক (সূক্ষ্মদর্শী), বহুবিধ জ্ঞানের অধিকারী এবং উপকারী ও উৎকৃষ্ট গ্রন্থাবলির রচয়িতা।
* তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার, পরহেজগার, দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে আখিরাতের প্রতি হৃদয়ের পূর্ণ মনোযোগ দানকারী, আল্লাহ তা'আলার দ্বীনের সাহায্যে আত্মনিয়োগকারী এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে অবস্থানকারী। তিনি ছিলেন নেককার আলেমগণ এবং আল্লাহ তা'আলার আরেফ বান্দাদের অন্যতম, যারা জ্ঞান, ইবাদত, পরহেজগারী ও দুনিয়াবিমুখতাকে একত্রিত করেছিলেন। যারা দ্বীনের কর্তব্যসমূহ পালনে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েতের অনুসরণে অবিচল ছিলেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
* তিনি হলেন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শিরাযী আল-ফিরোযাবাদী (রাহিমাহুল্লাহ ওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি শিরাজ অঞ্চলের একটি ছোট শহর ফিরোযাবাদের সাথে সম্পর্কিত। তাঁর জন্ম ৩৯৩ হিজরীতে। তিনি ফারসে আবুল ফারাজ ইবনুল বাইদাওয়ী এবং বসরায় আল-খারাজী-এর কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি ৪১৫ হিজরীতে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং তাঁর শায়খ, মহান ও শ্রেষ্ঠ ইমাম আবুল তাইয়্যিব তাহির ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাবারী এবং তাঁর পরিচিত শায়খদের একটি দলের কাছে ফিকহ শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ইমাম, ফকীহ, হাফিয আবু বকর আল-বারকানী এবং আবু আলী ইবনে শাযান ও অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমামদের কাছে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেছিলেন, "হে শায়খ!" এতে তিনি আনন্দিত হতেন এবং বলতেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে শায়খ বলে ডেকেছেন।" তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "আমি প্রতিটি দরস একশ' বার পুনরাবৃত্তি করতাম। আর যদি কোনো মাসআলায় এমন কোনো কবিতার পঙক্তি থাকত যা দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হতো, তবে আমি তার জন্য পুরো কবিতাটি মুখস্থ করে ফেলতাম।" তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী, কঠিন জীবনযাপনে ধৈর্যশীল, জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ফিকহের সূক্ষ্ম বিষয় ও সতর্কতার সাথে আমলকারী ছিলেন। একদিন তিনি তাঁর কিছু সাথীর সাথে হাঁটছিলেন, পথে একটি কুকুর সামনে এলো। তাঁর সাথী কুকুরটিকে ধমক দিলে শায়খ তাকে নিষেধ করে বললেন, "তুমি কি জানো না যে, রাস্তা আমার ও তার মাঝে যৌথ?" একদিন তিনি তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী খাবার খাওয়ার জন্য একটি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে একটি দিনার ভুলে রেখে এলেন। পথে তাঁর মনে পড়লে তিনি ফিরে গিয়ে সেটি পেলেন। তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, "হয়তো এই দিনারটি আমার নয়, অন্য কারো পড়ে গেছে।" অতঃপর তিনি সেটি স্পর্শ না করে রেখে দিলেন।
* ইমাম হাফিয আবু সা'দ আস-সাম'আনী বলেছেন: শায়খ আবু ইসহাক ছিলেন শাফিঈ মাযহাবের ইমাম এবং বাগদাদের নিযামিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ছিলেন যুগের শায়খ এবং সময়ের ইমাম। বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ তাঁর কাছে সফর করত এবং সকল দিক ও অঞ্চল থেকে তাঁর উদ্দেশ্যে আসত। এবং তিনি আবু আল-আব্বাস ইবনে সুরাইজ-এর সমতুল্য ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قَالَ وَكَانَ زَاهِدًا وَرِعًا مُتَوَاضِعًا مُتَخَلِّقًا ظَرِيفًا كَرِيمًا سَخِيًّا جَوَّادًا طَلْقَ الْوَجْهِ دَائِمَ الْبِشْرِ: حَسَنَ الْمُجَالَسَةِ مَلِيحَ الْمُحَاوَرَةِ وَكَانَ يَحْكِي الْحِكَايَاتِ وَالْأَشْعَارَ الْمُسْتَبْدَعَةَ الْمَلِيحَةَ وَكَانَ يَحْفَظُ مِنْهَا كَثِيرًا وَكَانَ يُضْرَبُ بِهِ الْمَثَلُ فِي الْفَصَاحَةِ: وَقَالَ السمعاني أيضا تفرد الامام أبو اسحق بِالْعِلْمِ الْوَافِرِ كَالْبَحْرِ الزَّاخِرِ مَعَ السِّيرَةِ الْجَمِيلَةِ والطريقة المرضية جاءته الدنيا فَأَبَاهَا وَاطَّرَحَهَا وَقَلَاهَا قَالَ وَكَانَ عَامَّةُ الْمُدَرِّسِينَ بِالْعِرَاقِ وَالْجِبَالِ تَلَامِيذَهُ وَأَصْحَابَهُ صَنَّفَ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَالْخِلَافِ وَالْجَدَلِ وَالْمَذْهَبِ كُتُبًا أَضْحَتْ لِلدِّينِ أَنْجُمًا وَشُهُبًا: وَكَانَ يُكْثِرُ مُبَاسَطَةَ أَصْحَابِهِ بِمَا سَنَحَ لَهُ مِنْ الرَّجَزِ وَكَانَ يُكْرِمُهُمْ وَيُطْعِمُهُمْ: حَكَى السَّمْعَانِيُّ أَنَّهُ كَانَ يَشْتَرِي طَعَامًا كَثِيرًا وَيَدْخُلُ بَعْضَ الْمَسَاجِدِ وَيَأْكُلُ مَعَ أَصْحَابِهِ وَمَا فَضَلَ قَالَ لَهُمْ اُتْرُكُوهُ لِمَنْ يَرْغَبُ فِيهِ: وَكَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ طَارِحًا لِلتَّكَلُّفِ قَالَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْأَنْصَارِيُّ حملت فتوى إلى الشيخ أبى اسحق فَرَأَيْتُهُ فِي الطَّرِيقِ فَمَضَى إلَى دُكَّانِ خَبَّازٍ أَوْ بَقَّالٍ وَأَخَذَ قَلَمَهُ وَدَوَاتَهُ وَكَتَبَ جَوَابَهُ وَمَسَحَ الْقَلَمَ فِي ثَوْبِهِ: وَكَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ ذَا نَصِيبٍ وَافِرٍ مِنْ مُرَاقَبَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَالْإِخْلَاصِ لَهُ وَإِرَادَةِ إظْهَارِ الْحَقِّ وَنُصْحِ الْخَلْقِ: قال أبو الوفاء ابن عُقَيْلٍ شَاهَدْتُ شَيْخَنَا أَبَا إِسْحَاقَ لَا يُخْرِجُ شَيْئًا إلَى فَقِيرٍ إلَّا أَحْضَرَ النِّيَّةَ وَلَا يتكلم في مسألة الاقدم الِاسْتِعَانَةَ بِاَللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَأَخْلَصَ الْقَصْدَ فِي نُصْرَةِ الْحَقِّ: وَلَا صَنَّفَ مَسْأَلَةً إلَّا بَعْدَ أَنْ صَلَّى رَكَعَاتٍ فَلَا جَرَمَ شَاعَ اسْمُهُ وَانْتَشَرَتْ تَصَانِيفُهُ شَرْقًا وَغَرْبًا لِبَرَكَةِ إخْلَاصِهِ
* قُلْتُ وَقَدْ ذَكَرَ الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ فِي أَوَّلِ كِتَابِهِ الْمُلَخَّصِ فِي الْجَدَلِ جُمَلًا مِنْ الْآدَابِ لِلْمُنَاظَرَةِ وَإِخْلَاصِ النِّيَّةِ وَتَقْدِيمِ ذَلِكَ بَيْنَ يَدَيْ شُرُوعِهِ فِيهَا وَكَانَ فِيمَا نَعْتَقِدُهُ مُتَّصِفًا بِكُلِّ ذَلِكَ: أَنْشَدَ السَّمْعَانِيُّ وَغَيْرُهُ لِلرَّئِيسِ أَبِي الْخَطَّابِ على بن عبد الرحمن بن هرون بْنِ الْجَرَّاحِ
* سَقْيًا لِمَنْ صَنَّفَ التَّنْبِيهَ مُخْتَصِرًا
* أَلْفَاظَهُ الْغُرَّ وَاسْتَقْصَى مَعَانِيَهُ
إنَّ الْإِمَامَ أَبَا اسحاق صنفه
* لله والدين لا للكبر والنيه
رَأَى عُلُومًا عَنْ الْأَفْهَامِ شَارِدَةً
* فَحَازَهَا ابْنُ عَلِيٍّ كُلَّهَا
فِيهِ بَقِيَتْ لِلشَّرْعِ إبْرَاهِيمَ مُنْتَصِرًا
* تذود عنه اعاديه وتحميه
قوله مختصرا بِكَسْرِ الصَّادِ وَأَلْفَاظَهُ مَنْصُوبٌ بِهِ
وَلِأَبِي الْخَطَّابِ أَيْضًا:
أَضْحَتْ بِفَضْلِ أَبِي إِسْحَاقَ نَاطِقَةً
* صَحَائِفُ شَهِدَتْ بِالْعِلْمِ وَالْوَرَعِ
بِهَا الْمَعَانِي كَسِلْكِ الْعِقْدِ كامنة
* واللفط كَالدُّرِّ سَهْلٌ جِدُّ مُمْتَنِعِ
رَأَى الْعُلُومَ وَكَانَتْ قَبْلُ شَارِدَةً
* فَحَازَهَا الْأَلْمَعِيُّ النَّدْبُ فِي اللُّمَعِ
لا زال عِلْمُكَ مَمْدُودًا سُرَادِقُهُ
* عَلَى الشَّرِيعَةِ مَنْصُورًا عَلَى الْبِدَعِ
وَلِأَبِي الْحَسَنِ الْقَيْرَوَانِيِّ:
إنْ شِئْتَ شَرْعَ رَسُولِ اللَّهِ مُجْتَهِدًا
* تُفْتِي وَتَعْلَمُ حَقًّا كُلَّ مَا شُرِعَا
فَاقْصِدْ هُدِيتَ أَبَا إِسْحَاقَ مُغْتَنِمًا
* وَادْرُسْ تَصَانِيفَهُ ثُمَّ احْفَظْ اللُّمَعَا
وَنُقِلَ عَنْهُ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ بَدَأْتُ فِي تَصْنِيفِ الْمُهَذَّبِ سنة خمس وخمسين وأربع مائة وفرغت يوم
* قُلْتُ وَقَدْ ذَكَرَ الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ فِي أَوَّلِ كِتَابِهِ الْمُلَخَّصِ فِي الْجَدَلِ جُمَلًا مِنْ الْآدَابِ لِلْمُنَاظَرَةِ وَإِخْلَاصِ النِّيَّةِ وَتَقْدِيمِ ذَلِكَ بَيْنَ يَدَيْ شُرُوعِهِ فِيهَا وَكَانَ فِيمَا نَعْتَقِدُهُ مُتَّصِفًا بِكُلِّ ذَلِكَ: أَنْشَدَ السَّمْعَانِيُّ وَغَيْرُهُ لِلرَّئِيسِ أَبِي الْخَطَّابِ على بن عبد الرحمن بن هرون بْنِ الْجَرَّاحِ
* سَقْيًا لِمَنْ صَنَّفَ التَّنْبِيهَ مُخْتَصِرًا
* أَلْفَاظَهُ الْغُرَّ وَاسْتَقْصَى مَعَانِيَهُ
إنَّ الْإِمَامَ أَبَا اسحاق صنفه
* لله والدين لا للكبر والنيه
رَأَى عُلُومًا عَنْ الْأَفْهَامِ شَارِدَةً
* فَحَازَهَا ابْنُ عَلِيٍّ كُلَّهَا
فِيهِ بَقِيَتْ لِلشَّرْعِ إبْرَاهِيمَ مُنْتَصِرًا
* تذود عنه اعاديه وتحميه
قوله مختصرا بِكَسْرِ الصَّادِ وَأَلْفَاظَهُ مَنْصُوبٌ بِهِ
وَلِأَبِي الْخَطَّابِ أَيْضًا:
أَضْحَتْ بِفَضْلِ أَبِي إِسْحَاقَ نَاطِقَةً
* صَحَائِفُ شَهِدَتْ بِالْعِلْمِ وَالْوَرَعِ
بِهَا الْمَعَانِي كَسِلْكِ الْعِقْدِ كامنة
* واللفط كَالدُّرِّ سَهْلٌ جِدُّ مُمْتَنِعِ
رَأَى الْعُلُومَ وَكَانَتْ قَبْلُ شَارِدَةً
* فَحَازَهَا الْأَلْمَعِيُّ النَّدْبُ فِي اللُّمَعِ
لا زال عِلْمُكَ مَمْدُودًا سُرَادِقُهُ
* عَلَى الشَّرِيعَةِ مَنْصُورًا عَلَى الْبِدَعِ
وَلِأَبِي الْحَسَنِ الْقَيْرَوَانِيِّ:
إنْ شِئْتَ شَرْعَ رَسُولِ اللَّهِ مُجْتَهِدًا
* تُفْتِي وَتَعْلَمُ حَقًّا كُلَّ مَا شُرِعَا
فَاقْصِدْ هُدِيتَ أَبَا إِسْحَاقَ مُغْتَنِمًا
* وَادْرُسْ تَصَانِيفَهُ ثُمَّ احْفَظْ اللُّمَعَا
وَنُقِلَ عَنْهُ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ بَدَأْتُ فِي تَصْنِيفِ الْمُهَذَّبِ سنة خمس وخمسين وأربع مائة وفرغت يوم
তিনি বলেছেন: তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ), আল্লাহভীরু (ওয়ারি'), বিনয়ী (মুতাওয়াযি'), সদাচারী (মুতাকাল্লিক), মার্জিত (যারিফ), সম্মানিত (কারিম), উদার (সাকি), দানশীল (জাওয়াদ), প্রফুল্ল বদন এবং সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল। তাঁর মজলিস ছিল আনন্দদায়ক, আর তাঁর কথোপকথন ছিল মনোমুগ্ধকর। তিনি চমৎকার ও মনোজ্ঞ গল্প ও কবিতা বর্ণনা করতেন এবং এর অনেক কিছু মুখস্থ রাখতেন। বাগ্মিতায় তাঁর দৃষ্টান্ত দেওয়া হতো।
সাম'আনী আরও বলেছেন: ইমাম আবু ইসহাক বিপুল জ্ঞানে একক ছিলেন, যেন তিনি ছিলেন এক উত্তাল সমুদ্র; এর সাথে ছিল তাঁর সুন্দর জীবনযাপন ও সন্তোষজনক পদ্ধতি। দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, বর্জন করেছেন এবং ঘৃণা করেছেন। তিনি (সাম'আনী) বলেছেন, ইরাক ও জিবালের অধিকাংশ শিক্ষক তাঁর ছাত্র ও সঙ্গী ছিলেন। তিনি উসূল (নীতিশাস্ত্র), ফুরু' (শাখা-প্রশাখা), ইখতিলাফ (মতপার্থক্য), জাদাল (বিতর্কশাস্ত্র) এবং মাযহাব (ফিকহী মাযহাব) বিষয়ে এমন গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন যা দ্বীনের জন্য নক্ষত্র ও উল্কাপিণ্ডে পরিণত হয়েছে।
তিনি তাঁর সঙ্গীদের সাথে প্রায়শই রজয (এক প্রকার কবিতা) আবৃত্তি করে আনন্দ করতেন। তিনি তাদের সম্মান করতেন এবং তাদের খাবার খাওয়াতেন। সাম'আনী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি প্রচুর খাবার কিনতেন এবং কিছু মসজিদে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গীদের সাথে খেতেন। যা অবশিষ্ট থাকত, তিনি তাদের বলতেন, "যারা এটি খেতে চায়, তাদের জন্য রেখে দাও।"
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আনুষ্ঠানিকতা ও কৃত্রিমতা পরিহার করতেন। কাযী আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-আনসারী বলেছেন: আমি শায়খ আবু ইসহাকের কাছে একটি ফাতওয়া নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাঁকে রাস্তায় দেখতে পেলাম। তিনি একজন রুটি বিক্রেতা বা মুদি দোকানের দিকে গেলেন, তাঁর কলম ও দোয়াত নিলেন এবং তার উত্তর লিখলেন। এরপর কলমটি তাঁর পোশাকে মুছে নিলেন।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আল্লাহ তা'আলার মুরাকাবা (সতর্ক পর্যবেক্ষণ), তাঁর প্রতি ইখলাস (আন্তরিকতা), সত্যকে প্রকাশ করার ইচ্ছা এবং সৃষ্টির কল্যাণ কামনার এক বিশাল অংশীদার ছিলেন। আবুল ওয়াফা ইবনে আকীল বলেছেন: আমি আমাদের শায়খ আবু ইসহাককে দেখেছি, তিনি কোনো দরিদ্রকে কিছু দিতেন না, যতক্ষণ না তিনি নিয়তকে বিশুদ্ধ করতেন। এবং তিনি কোনো মাসআলা (ধর্মীয় বিষয়) নিয়ে কথা বলতেন না, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে সাহায্য চাইতেন এবং সত্যের সমর্থনে তাঁর উদ্দেশ্যকে বিশুদ্ধ করতেন। এবং তিনি কোনো মাসআলা রচনা করতেন না, যতক্ষণ না তিনি কয়েক রাকাত সালাত আদায় করতেন। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর নাম সুপরিচিত হয়েছিল এবং তাঁর গ্রন্থাবলী তাঁর ইখলাসের বরকতে পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আমি (নবাবী) বলি: শায়খ আবু ইসহাক তাঁর 'আল-মুলাখ্খাস ফিল জাদাল' নামক গ্রন্থের শুরুতে বিতর্ক (মুনাযারা) এবং নিয়তের ইখলাস (আন্তরিকতা) সম্পর্কিত কিছু আদব (শিষ্টাচার) উল্লেখ করেছেন এবং তাতে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে সেগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এবং আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি এসব গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন।
সাম'আনী ও অন্যান্যরা রাইস আবুল খাত্তাব আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হারুন ইবনে আল-জাররাহ-এর জন্য আবৃত্তি করেছেন:
যিনি 'আত-তানবীহ' গ্রন্থটি সংক্ষিপ্তাকারে রচনা করেছেন, তাঁর প্রতি বর্ষিত হোক রহমত,
যার উজ্জ্বল শব্দাবলী এবং গভীর অর্থ তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন।
নিশ্চয়ই ইমাম আবু ইসহাক এটি রচনা করেছেন,
আল্লাহর জন্য এবং দ্বীনের জন্য, অহংকার বা (দুনিয়াবী) উদ্দেশ্য/নিয়তের জন্য নয়।
তিনি এমন জ্ঞানসমূহ দেখেছেন যা বোধগম্যতা থেকে দূরে ছিল,
অতঃপর ইবনে আলী (আবু ইসহাক) সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করেছেন।
তাতে ইব্রাহিম (আবু ইসহাক) শরীয়তের জন্য বিজয়ী হয়ে রইলেন,
তার শত্রুদের থেকে তাকে রক্ষা করে এবং তাকে সুরক্ষা দিয়ে।
তাঁর উক্তি 'মুখতাসিরান' (مختصرا)-এর 'সাদ' (ص) বর্ণে কাসরা (যের) হবে এবং 'আলফাযাহু' (ألفاظه) শব্দটি এর দ্বারা মানসূব (কর্মকারক) হবে।
আবুল খাত্তাবের আরও (কবিতা):
আবু ইসহাকের অনুগ্রহে (জ্ঞান) কথা বলতে শুরু করেছে,
এমন গ্রন্থাবলী যা জ্ঞান ও আল্লাহভীতির সাক্ষ্য দেয়।
তাতে অর্থসমূহ যেন মুক্তার মালার সুতার মতো লুকায়িত,
আর শব্দাবলী মুক্তার মতো, যা সহজ অথচ অত্যন্ত দুর্লভ।
তিনি জ্ঞানসমূহ দেখেছেন, যা পূর্বে ছিল বিক্ষিপ্ত,
অতঃপর সেই প্রতিভাবান, মহৎ ব্যক্তি সেগুলোকে 'আল-লুমা' গ্রন্থে একত্রিত করেছেন।
আপনার জ্ঞানের তাঁবু যেন সর্বদা প্রসারিত থাকে,
শরীয়তের উপর, বিদ'আতের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে।
আবুল হাসান আল-কাইরাওয়ানী-এর (কবিতা):
যদি তুমি রাসূলুল্লাহর শরীয়তকে ইজতিহাদ সহকারে জানতে চাও,
ফাতওয়া দিতে এবং যা কিছু শরীয়তসম্মত হয়েছে তা সত্যভাবে জানতে চাও,
তবে তুমি হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়ে আবু ইসহাকের দিকে মনোনিবেশ করো, সুযোগ গ্রহণকারী হিসেবে,
এবং তাঁর গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করো, অতঃপর 'আল-লুমা' মুখস্থ করো।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলেছেন: আমি 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থটি ৪৫৫ হিজরীতে রচনা শুরু করেছিলাম এবং (অমুক) দিনে শেষ করেছিলাম।
সাম'আনী আরও বলেছেন: ইমাম আবু ইসহাক বিপুল জ্ঞানে একক ছিলেন, যেন তিনি ছিলেন এক উত্তাল সমুদ্র; এর সাথে ছিল তাঁর সুন্দর জীবনযাপন ও সন্তোষজনক পদ্ধতি। দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, বর্জন করেছেন এবং ঘৃণা করেছেন। তিনি (সাম'আনী) বলেছেন, ইরাক ও জিবালের অধিকাংশ শিক্ষক তাঁর ছাত্র ও সঙ্গী ছিলেন। তিনি উসূল (নীতিশাস্ত্র), ফুরু' (শাখা-প্রশাখা), ইখতিলাফ (মতপার্থক্য), জাদাল (বিতর্কশাস্ত্র) এবং মাযহাব (ফিকহী মাযহাব) বিষয়ে এমন গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন যা দ্বীনের জন্য নক্ষত্র ও উল্কাপিণ্ডে পরিণত হয়েছে।
তিনি তাঁর সঙ্গীদের সাথে প্রায়শই রজয (এক প্রকার কবিতা) আবৃত্তি করে আনন্দ করতেন। তিনি তাদের সম্মান করতেন এবং তাদের খাবার খাওয়াতেন। সাম'আনী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি প্রচুর খাবার কিনতেন এবং কিছু মসজিদে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গীদের সাথে খেতেন। যা অবশিষ্ট থাকত, তিনি তাদের বলতেন, "যারা এটি খেতে চায়, তাদের জন্য রেখে দাও।"
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আনুষ্ঠানিকতা ও কৃত্রিমতা পরিহার করতেন। কাযী আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-আনসারী বলেছেন: আমি শায়খ আবু ইসহাকের কাছে একটি ফাতওয়া নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাঁকে রাস্তায় দেখতে পেলাম। তিনি একজন রুটি বিক্রেতা বা মুদি দোকানের দিকে গেলেন, তাঁর কলম ও দোয়াত নিলেন এবং তার উত্তর লিখলেন। এরপর কলমটি তাঁর পোশাকে মুছে নিলেন।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আল্লাহ তা'আলার মুরাকাবা (সতর্ক পর্যবেক্ষণ), তাঁর প্রতি ইখলাস (আন্তরিকতা), সত্যকে প্রকাশ করার ইচ্ছা এবং সৃষ্টির কল্যাণ কামনার এক বিশাল অংশীদার ছিলেন। আবুল ওয়াফা ইবনে আকীল বলেছেন: আমি আমাদের শায়খ আবু ইসহাককে দেখেছি, তিনি কোনো দরিদ্রকে কিছু দিতেন না, যতক্ষণ না তিনি নিয়তকে বিশুদ্ধ করতেন। এবং তিনি কোনো মাসআলা (ধর্মীয় বিষয়) নিয়ে কথা বলতেন না, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে সাহায্য চাইতেন এবং সত্যের সমর্থনে তাঁর উদ্দেশ্যকে বিশুদ্ধ করতেন। এবং তিনি কোনো মাসআলা রচনা করতেন না, যতক্ষণ না তিনি কয়েক রাকাত সালাত আদায় করতেন। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর নাম সুপরিচিত হয়েছিল এবং তাঁর গ্রন্থাবলী তাঁর ইখলাসের বরকতে পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আমি (নবাবী) বলি: শায়খ আবু ইসহাক তাঁর 'আল-মুলাখ্খাস ফিল জাদাল' নামক গ্রন্থের শুরুতে বিতর্ক (মুনাযারা) এবং নিয়তের ইখলাস (আন্তরিকতা) সম্পর্কিত কিছু আদব (শিষ্টাচার) উল্লেখ করেছেন এবং তাতে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে সেগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এবং আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি এসব গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন।
সাম'আনী ও অন্যান্যরা রাইস আবুল খাত্তাব আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হারুন ইবনে আল-জাররাহ-এর জন্য আবৃত্তি করেছেন:
যিনি 'আত-তানবীহ' গ্রন্থটি সংক্ষিপ্তাকারে রচনা করেছেন, তাঁর প্রতি বর্ষিত হোক রহমত,
যার উজ্জ্বল শব্দাবলী এবং গভীর অর্থ তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন।
নিশ্চয়ই ইমাম আবু ইসহাক এটি রচনা করেছেন,
আল্লাহর জন্য এবং দ্বীনের জন্য, অহংকার বা (দুনিয়াবী) উদ্দেশ্য/নিয়তের জন্য নয়।
তিনি এমন জ্ঞানসমূহ দেখেছেন যা বোধগম্যতা থেকে দূরে ছিল,
অতঃপর ইবনে আলী (আবু ইসহাক) সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করেছেন।
তাতে ইব্রাহিম (আবু ইসহাক) শরীয়তের জন্য বিজয়ী হয়ে রইলেন,
তার শত্রুদের থেকে তাকে রক্ষা করে এবং তাকে সুরক্ষা দিয়ে।
তাঁর উক্তি 'মুখতাসিরান' (مختصرا)-এর 'সাদ' (ص) বর্ণে কাসরা (যের) হবে এবং 'আলফাযাহু' (ألفاظه) শব্দটি এর দ্বারা মানসূব (কর্মকারক) হবে।
আবুল খাত্তাবের আরও (কবিতা):
আবু ইসহাকের অনুগ্রহে (জ্ঞান) কথা বলতে শুরু করেছে,
এমন গ্রন্থাবলী যা জ্ঞান ও আল্লাহভীতির সাক্ষ্য দেয়।
তাতে অর্থসমূহ যেন মুক্তার মালার সুতার মতো লুকায়িত,
আর শব্দাবলী মুক্তার মতো, যা সহজ অথচ অত্যন্ত দুর্লভ।
তিনি জ্ঞানসমূহ দেখেছেন, যা পূর্বে ছিল বিক্ষিপ্ত,
অতঃপর সেই প্রতিভাবান, মহৎ ব্যক্তি সেগুলোকে 'আল-লুমা' গ্রন্থে একত্রিত করেছেন।
আপনার জ্ঞানের তাঁবু যেন সর্বদা প্রসারিত থাকে,
শরীয়তের উপর, বিদ'আতের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে।
আবুল হাসান আল-কাইরাওয়ানী-এর (কবিতা):
যদি তুমি রাসূলুল্লাহর শরীয়তকে ইজতিহাদ সহকারে জানতে চাও,
ফাতওয়া দিতে এবং যা কিছু শরীয়তসম্মত হয়েছে তা সত্যভাবে জানতে চাও,
তবে তুমি হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়ে আবু ইসহাকের দিকে মনোনিবেশ করো, সুযোগ গ্রহণকারী হিসেবে,
এবং তাঁর গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করো, অতঃপর 'আল-লুমা' মুখস্থ করো।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলেছেন: আমি 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থটি ৪৫৫ হিজরীতে রচনা শুরু করেছিলাম এবং (অমুক) দিনে শেষ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الاحد آخر رجب سنة تسع وستين واربع مائة تُوُفِّيَ رَحِمَهُ اللَّهُ بِبَغْدَادَ يَوْمَ الْأَحَدِ: وَقِيلَ لَيْلَةَ الْأَحَدِ الْحَادِي وَالْعِشْرِينَ مِنْ جُمَادَى الْآخِرَةِ وقيل الاولى سنة ست وسبعين واربع مائة وَدُفِنَ مِنْ الْغَدِ وَاجْتَمَعَ فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِ خلق عظيم: قيل وأول مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ الْمُقْتَدِي بِأَمْرِ الله: ورؤي فِي النَّوْمِ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ بِيضٌ فَقِيلَ لَهُ مَا هَذَا فَقَالَ عِزُّ الْعِلْمِ فَهَذِهِ أَحْرُفٌ يَسِيرَةٌ مِنْ بَعْضِ صِفَاتِهِ أَشَرْتُ بِهَا إلَى مَا سِوَاهَا مِنْ جَمِيلِ حَالَاتِهِ وَقَدْ بَسَطْتُهَا فِي تَهْذِيبِ الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ وَفِي كِتَابِ طَبَقَاتِ الْفُقَهَاءِ فَرَحِمَهُ اللَّهُ وَرَضِيَ عَنْهُ وَأَرْضَاهُ وَجَمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَسَائِرِ أَصْحَابِنَا فِي دَارِ كَرَامَتِهِ
* وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أُقَدِّمَ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ فُصُولًا: تَكُونُ لِمُحَصَّلِهِ وَغَيْرِهِ مِنْ طَالِبِي جَمِيعِ الْعُلُومِ وَغَيْرِهَا مِنْ وُجُوهِ الْخَيْرِ ذُخْرًا وَأُصُولًا: وَأَحْرِصُ مَعَ الْإِيضَاحِ عَلَى اخْتِصَارِهَا وَحَذْفِ الْأَدِلَّةِ وَالشَّوَاهِدِ فِي مُعْظَمِهَا خَوْفًا مِنْ انْتِشَارِهَا مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ مُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا أَمْرِي إلَيْهِ فَصْلٌ (في الْإِخْلَاصِ وَالصِّدْقِ وَإِحْضَارِ النِّيَّةِ فِي جَمِيعِ الْأَعْمَالِ الْبَارِزَةِ وَالْخَفِيَّةِ) قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا الله مخلصين له الدين) وقال تعالى (فاعبد الله مخلصا) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وقع أجره على الله) وَرَوَيْنَا عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ` قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ ` حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُتَّفَقُ عَلَى صِحَّتِهِ مُجْمَعٌ عَلَى عِظَمِ مَوْقِعِهِ وَجَلَالَتِهِ وَهُوَ إحْدَى قَوَاعِدِ الْإِيمَانِ وَأَوَّلُ دَعَائِمِهِ وَآكَدُ الْأَرْكَانِ
* قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ يَدْخُلُ هَذَا الْحَدِيثُ فِي سَبْعِينَ بَابًا مِنْ الْفِقْهِ: وَقَالَ أَيْضًا هُوَ ثُلُثُ الْعِلْمِ: وَكَذَا قَالَهُ أَيْضًا غَيْرُهُ وَهُوَ أَحَدُ الْأَحَادِيثِ الَّتِي عَلَيْهَا مَدَارُ الْإِسْلَامِ.
وَقَدْ اُخْتُلِفَ فِي عَدِّهَا فَقِيلَ ثَلَاثَةٌ وَقِيلَ أَرْبَعَةٌ وَقِيلَ اثْنَانِ وَقِيلَ حَدِيثٌ: وَقَدْ جَمَعْتُهَا كُلَّهَا فِي جُزْءِ الْأَرْبَعِينَ فَبَلَغَتْ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا لَا يَسْتَغْنِي مُتَدَيِّنٌ عَنْ مَعْرِفَتِهَا لِأَنَّهَا كُلَّهَا صَحِيحَةٌ جَامِعَةٌ قَوَاعِدَ الْإِسْلَامِ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَالزُّهْدِ وَالْآدَابِ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَإِنَّمَا بَدَأْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ تَأَسِّيًا بِأَئِمَّتِنَا وَمُتَقَدِّمِي أَسْلَافِنَا مِنْ الْعُلَمَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَقَدْ ابْتَدَأَ بِهِ إمَامُ أَهْلِ الْحَدِيثِ بِلَا مُدَافَعَةٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ البخاري صَحِيحِهِ وَنَقَلَ جَمَاعَةٌ أَنَّ السَّلَفَ كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ افْتِتَاحَ الْكُتُبَ بِهَذَا الْحَدِيثِ تَنْبِيهًا لِلطَّالِبِ عَلَى تَصْحِيحِ النِّيَّةِ وَإِرَادَتِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى بِجَمِيعِ أَعْمَالِهِ الْبَارِزَةِ وَالْخَفِيَّةِ: وَرَوَيْنَا عَنْ الْإِمَامِ أَبِي سَعِيدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ لَوْ صَنَّفْتُ كِتَابًا بَدَأْتُ فِي أَوَّلِ كُلِّ بَابٍ مِنْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ: وَرَوَيْنَا عَنْهُ أيضا قال من راد أَنْ يُصَنِّفَ كِتَابًا فَلْيَبْدَأْ بِهَذَا الْحَدِيثِ: وَقَالَ الامام أبو سليمان احمد بْنِ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْخَطَّابِ الْخَطَّابِيُّ الشَّافِعِيُّ الْإِمَامُ في علوم رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى كَانَ الْمُتَقَدِّمُونَ مِنْ شُيُوخِنَا يَسْتَحِبُّونَ تَقْدِيمَ حَدِيثِ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ أَمَامَ كُلِّ شئ يُنْشَأُ وَيُبْتَدَأُ مِنْ أُمُورِ الدِّينِ لِعُمُومِ الْحَاجَةِ إلَيْهِ فِي جَمِيعِ أَنْوَاعِهَا
* وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أُقَدِّمَ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ فُصُولًا: تَكُونُ لِمُحَصَّلِهِ وَغَيْرِهِ مِنْ طَالِبِي جَمِيعِ الْعُلُومِ وَغَيْرِهَا مِنْ وُجُوهِ الْخَيْرِ ذُخْرًا وَأُصُولًا: وَأَحْرِصُ مَعَ الْإِيضَاحِ عَلَى اخْتِصَارِهَا وَحَذْفِ الْأَدِلَّةِ وَالشَّوَاهِدِ فِي مُعْظَمِهَا خَوْفًا مِنْ انْتِشَارِهَا مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ مُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا أَمْرِي إلَيْهِ فَصْلٌ (في الْإِخْلَاصِ وَالصِّدْقِ وَإِحْضَارِ النِّيَّةِ فِي جَمِيعِ الْأَعْمَالِ الْبَارِزَةِ وَالْخَفِيَّةِ) قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا الله مخلصين له الدين) وقال تعالى (فاعبد الله مخلصا) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وقع أجره على الله) وَرَوَيْنَا عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ` قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ ` حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُتَّفَقُ عَلَى صِحَّتِهِ مُجْمَعٌ عَلَى عِظَمِ مَوْقِعِهِ وَجَلَالَتِهِ وَهُوَ إحْدَى قَوَاعِدِ الْإِيمَانِ وَأَوَّلُ دَعَائِمِهِ وَآكَدُ الْأَرْكَانِ
* قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ يَدْخُلُ هَذَا الْحَدِيثُ فِي سَبْعِينَ بَابًا مِنْ الْفِقْهِ: وَقَالَ أَيْضًا هُوَ ثُلُثُ الْعِلْمِ: وَكَذَا قَالَهُ أَيْضًا غَيْرُهُ وَهُوَ أَحَدُ الْأَحَادِيثِ الَّتِي عَلَيْهَا مَدَارُ الْإِسْلَامِ.
وَقَدْ اُخْتُلِفَ فِي عَدِّهَا فَقِيلَ ثَلَاثَةٌ وَقِيلَ أَرْبَعَةٌ وَقِيلَ اثْنَانِ وَقِيلَ حَدِيثٌ: وَقَدْ جَمَعْتُهَا كُلَّهَا فِي جُزْءِ الْأَرْبَعِينَ فَبَلَغَتْ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا لَا يَسْتَغْنِي مُتَدَيِّنٌ عَنْ مَعْرِفَتِهَا لِأَنَّهَا كُلَّهَا صَحِيحَةٌ جَامِعَةٌ قَوَاعِدَ الْإِسْلَامِ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَالزُّهْدِ وَالْآدَابِ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَإِنَّمَا بَدَأْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ تَأَسِّيًا بِأَئِمَّتِنَا وَمُتَقَدِّمِي أَسْلَافِنَا مِنْ الْعُلَمَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَقَدْ ابْتَدَأَ بِهِ إمَامُ أَهْلِ الْحَدِيثِ بِلَا مُدَافَعَةٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ البخاري صَحِيحِهِ وَنَقَلَ جَمَاعَةٌ أَنَّ السَّلَفَ كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ افْتِتَاحَ الْكُتُبَ بِهَذَا الْحَدِيثِ تَنْبِيهًا لِلطَّالِبِ عَلَى تَصْحِيحِ النِّيَّةِ وَإِرَادَتِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى بِجَمِيعِ أَعْمَالِهِ الْبَارِزَةِ وَالْخَفِيَّةِ: وَرَوَيْنَا عَنْ الْإِمَامِ أَبِي سَعِيدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ لَوْ صَنَّفْتُ كِتَابًا بَدَأْتُ فِي أَوَّلِ كُلِّ بَابٍ مِنْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ: وَرَوَيْنَا عَنْهُ أيضا قال من راد أَنْ يُصَنِّفَ كِتَابًا فَلْيَبْدَأْ بِهَذَا الْحَدِيثِ: وَقَالَ الامام أبو سليمان احمد بْنِ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْخَطَّابِ الْخَطَّابِيُّ الشَّافِعِيُّ الْإِمَامُ في علوم رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى كَانَ الْمُتَقَدِّمُونَ مِنْ شُيُوخِنَا يَسْتَحِبُّونَ تَقْدِيمَ حَدِيثِ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ أَمَامَ كُلِّ شئ يُنْشَأُ وَيُبْتَدَأُ مِنْ أُمُورِ الدِّينِ لِعُمُومِ الْحَاجَةِ إلَيْهِ فِي جَمِيعِ أَنْوَاعِهَا
রবিবার, রজব মাসের শেষ দিন, ৪৬৯ হিজরীতে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বাগদাদে রবিবার ইন্তেকাল করেন। এবং বলা হয়েছে, ৪৭৬ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসের ২১ তারিখ রবিবার রাতে (অথবা জুমাদাল উলা)। পরদিন তাকে দাফন করা হয় এবং তার জানাযার নামাযে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। বলা হয়, আমীরুল মু'মিনীন আল-মুকতাদি বি-আমরিল্লাহ সর্বপ্রথম তার জানাযার নামায পড়েন। তাকে স্বপ্নে দেখা গিয়েছিল, তার পরনে ছিল সাদা পোশাক। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "এটা কী?" তিনি বললেন, "ইলমের সম্মান।" এগুলো তার কিছু গুণাবলীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, যা তার অন্যান্য সুন্দর অবস্থাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে। আমি এগুলো 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল-লুগাত' এবং 'তাবাকাতুল ফুকাহা' কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাকে সন্তুষ্ট করুন এবং তাকে সন্তুষ্ট রাখুন। আর আমাকে, তাকে এবং আমাদের সকল সাথীদেরকে তাঁর সম্মানিত আবাসে একত্রিত করুন।
* আমি এই কিতাবের শুরুতে কিছু অধ্যায় (ফসল) পেশ করা সমীচীন মনে করেছি, যা এর পাঠক এবং অন্যান্য সকল ইলম ও কল্যাণের অন্বেষণকারীদের জন্য সঞ্চয় ও মূলনীতি হিসেবে কাজ করবে। আমি স্পষ্টতার সাথে এগুলোকে সংক্ষিপ্ত করতে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলিল ও প্রমাণাদি বাদ দিতে সচেষ্ট থাকব, যাতে এর কলেবর বৃদ্ধি না পায়। আমি আল্লাহর সাহায্যপ্রার্থী, তাঁর উপর ভরসাকারী এবং আমার সকল বিষয় তাঁর কাছে সোপর্দকারী।
**অধ্যায়: প্রকাশ্য ও গোপন সকল কাজে ইখলাস, সততা এবং নিয়তের উপস্থিতি প্রসঙ্গে**
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর প্রতি দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।" (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫) এবং তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন, তাঁর প্রতি দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।" (সূরা আয-যুমার: ২) এবং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ থেকে বের হয়, অতঃপর পথেই তার মৃত্যু হয়, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর উপর অবধারিত হয়ে যায়।" (সূরা আন-নিসা: ১০০)
এবং আমরা আমীরুল মু'মিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য, তার হিজরত সেদিকেই যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যার বিশুদ্ধতার উপর ঐকমত্য রয়েছে। এর গুরুত্ব ও মহত্ত্বের উপরও ইজমা রয়েছে। এটি ঈমানের অন্যতম মূলনীতি, এর প্রথম স্তম্ভ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকনসমূহের একটি।
* ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এই হাদীসটি ফিকহের সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেছেন: এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ। অন্যরাও অনুরূপ কথা বলেছেন। এটি সেই হাদীসগুলোর অন্যতম যার উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এই হাদীসগুলোর সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ বলেছেন তিনটি, কেউ চারটি, কেউ দুটি, এবং কেউ একটি হাদীস। আমি এই সবগুলো 'জুযউল আরবাঈন' (চল্লিশ হাদীসের সংকলন) গ্রন্থে একত্রিত করেছি, যা চল্লিশটি হাদীসে পৌঁছেছে। কোনো দ্বীনদার ব্যক্তির পক্ষে এগুলো জানা ছাড়া উপায় নেই, কারণ এগুলো সবই সহীহ এবং উসুল (মূলনীতি), ফুরু' (শাখা), যুহদ (বৈরাগ্য), আদাব (শিষ্টাচার), মাকারিমুল আখলাক (উত্তম চরিত্র) এবং অন্যান্য বিষয়ে ইসলামের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করেছে। আমি এই হাদীস দিয়ে শুরু করেছি আমাদের ইমামগণ এবং পূর্ববর্তী সালাফী উলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অনুসরণ করে। হাদীস বিশারদদের ইমাম, আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারী নিঃসন্দেহে তার সহীহ গ্রন্থে এটি দিয়ে শুরু করেছেন। এবং একদল বর্ণনা করেছেন যে, সালাফগণ এই হাদীস দিয়ে কিতাব শুরু করা পছন্দ করতেন, যাতে শিক্ষার্থীকে তার নিয়ত বিশুদ্ধ করার এবং তার সকল প্রকাশ্য ও গোপন আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতি সতর্ক করা যায়। এবং আমরা ইমাম আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: "যদি আমি কোনো কিতাব রচনা করতাম, তবে তার প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে এই হাদীসটি দিয়ে শুরু করতাম।" এবং আমরা তার থেকে আরও বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনা করতে চায়, সে যেন এই হাদীস দিয়ে শুরু করে।" এবং ইমাম আবু সুলাইমান আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনুল খাত্তাব আল-খাত্তাবী আশ-শাফিঈ, যিনি ইলমের ইমাম ছিলেন, রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আমাদের পূর্ববর্তী শায়খগণ দ্বীনের সকল নতুন কাজ ও সূচনার পূর্বে 'আল-আ'মালু বিন-নিয়্যাত' হাদীসটি উল্লেখ করা পছন্দ করতেন, কারণ এর সকল প্রকারের প্রতি ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।"
* আমি এই কিতাবের শুরুতে কিছু অধ্যায় (ফসল) পেশ করা সমীচীন মনে করেছি, যা এর পাঠক এবং অন্যান্য সকল ইলম ও কল্যাণের অন্বেষণকারীদের জন্য সঞ্চয় ও মূলনীতি হিসেবে কাজ করবে। আমি স্পষ্টতার সাথে এগুলোকে সংক্ষিপ্ত করতে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলিল ও প্রমাণাদি বাদ দিতে সচেষ্ট থাকব, যাতে এর কলেবর বৃদ্ধি না পায়। আমি আল্লাহর সাহায্যপ্রার্থী, তাঁর উপর ভরসাকারী এবং আমার সকল বিষয় তাঁর কাছে সোপর্দকারী।
**অধ্যায়: প্রকাশ্য ও গোপন সকল কাজে ইখলাস, সততা এবং নিয়তের উপস্থিতি প্রসঙ্গে**
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর প্রতি দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।" (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫) এবং তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন, তাঁর প্রতি দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।" (সূরা আয-যুমার: ২) এবং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ থেকে বের হয়, অতঃপর পথেই তার মৃত্যু হয়, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর উপর অবধারিত হয়ে যায়।" (সূরা আন-নিসা: ১০০)
এবং আমরা আমীরুল মু'মিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য, তার হিজরত সেদিকেই যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যার বিশুদ্ধতার উপর ঐকমত্য রয়েছে। এর গুরুত্ব ও মহত্ত্বের উপরও ইজমা রয়েছে। এটি ঈমানের অন্যতম মূলনীতি, এর প্রথম স্তম্ভ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকনসমূহের একটি।
* ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এই হাদীসটি ফিকহের সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেছেন: এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ। অন্যরাও অনুরূপ কথা বলেছেন। এটি সেই হাদীসগুলোর অন্যতম যার উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এই হাদীসগুলোর সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ বলেছেন তিনটি, কেউ চারটি, কেউ দুটি, এবং কেউ একটি হাদীস। আমি এই সবগুলো 'জুযউল আরবাঈন' (চল্লিশ হাদীসের সংকলন) গ্রন্থে একত্রিত করেছি, যা চল্লিশটি হাদীসে পৌঁছেছে। কোনো দ্বীনদার ব্যক্তির পক্ষে এগুলো জানা ছাড়া উপায় নেই, কারণ এগুলো সবই সহীহ এবং উসুল (মূলনীতি), ফুরু' (শাখা), যুহদ (বৈরাগ্য), আদাব (শিষ্টাচার), মাকারিমুল আখলাক (উত্তম চরিত্র) এবং অন্যান্য বিষয়ে ইসলামের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করেছে। আমি এই হাদীস দিয়ে শুরু করেছি আমাদের ইমামগণ এবং পূর্ববর্তী সালাফী উলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অনুসরণ করে। হাদীস বিশারদদের ইমাম, আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারী নিঃসন্দেহে তার সহীহ গ্রন্থে এটি দিয়ে শুরু করেছেন। এবং একদল বর্ণনা করেছেন যে, সালাফগণ এই হাদীস দিয়ে কিতাব শুরু করা পছন্দ করতেন, যাতে শিক্ষার্থীকে তার নিয়ত বিশুদ্ধ করার এবং তার সকল প্রকাশ্য ও গোপন আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতি সতর্ক করা যায়। এবং আমরা ইমাম আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: "যদি আমি কোনো কিতাব রচনা করতাম, তবে তার প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে এই হাদীসটি দিয়ে শুরু করতাম।" এবং আমরা তার থেকে আরও বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনা করতে চায়, সে যেন এই হাদীস দিয়ে শুরু করে।" এবং ইমাম আবু সুলাইমান আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনুল খাত্তাব আল-খাত্তাবী আশ-শাফিঈ, যিনি ইলমের ইমাম ছিলেন, রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "আমাদের পূর্ববর্তী শায়খগণ দ্বীনের সকল নতুন কাজ ও সূচনার পূর্বে 'আল-আ'মালু বিন-নিয়্যাত' হাদীসটি উল্লেখ করা পছন্দ করতেন, কারণ এর সকল প্রকারের প্রতি ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَهَذِهِ أَحْرُفٌ مِنْ كَلَامِ الْعَارِفِينَ فِي الْإِخْلَاصِ وَالصِّدْقِ: قَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا إنَّمَا يُعْطَى الرَّجُلُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ: وَقَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التُّسْتَرِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ نَظَرَ الْأَكْيَاسُ فِي تَفْسِيرِ الْإِخْلَاصِ فَلَمْ يَجِدُوا غَيْرَ هَذَا أَنْ تَكُونَ حَرَكَاتُهُ وَسُكُونُهُ فِي سِرِّهِ وعلانيته لله تعالى وحده لا يمازجه شئ لَا نَفْسٌ وَلَا هَوًى وَلَا دُنْيَا: وَقَالَ السَّرِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ لَا تَعْمَلْ لِلنَّاسِ شَيْئًا وَلَا تَتْرُكْ لَهُمْ شَيْئًا وَلَا تُعْطِ لَهُمْ وَلَا تَكْشِفْ لَهُمْ شَيْئًا: وَرَوَيْنَا عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ التَّابِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّهُ قيل له حدثنا فقال حتى تجئ النِّيَّةُ: وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ سُفْيَانِ بْنِ سَعِيدٍ الثَّوْرِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ مَا عَالَجْتُ شَيْئًا أَشَدَّ عَلَيَّ مِنْ نِيَّتِي إنَّهَا تَتَقَلَّبُ عَلَيَّ: وَرَوَيْنَا عَنْ الْأُسْتَاذِ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي رِسَالَتِهِ الْمَشْهُورَةِ قَالَ الْإِخْلَاصُ إفْرَادُ الْحَقِّ فِي الطَّاعَةِ بِالْقَصْدِ وَهُوَ أَنْ يُرِيدَ بِطَاعَتِهِ التَّقَرُّبَ إلى الله تعالى دون شئ آخَرَ مِنْ تَصَنُّعٍ لِمَخْلُوقٍ أَوْ اكْتِسَابِ مَحْمَدَةٍ عِنْدَ النَّاسِ أَوْ مَحَبَّةِ مَدْحٍ مِنْ الْخَلْقِ أو شئ سِوَى التَّقَرُّبِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ وَيَصِحُّ أَنْ يُقَالَ الْإِخْلَاصُ تَصْفِيَةُ الْعَقْلِ عَنْ مُلَاحَظَةِ المخلوقين قال وسمعت ابا على الدقاق رحمه الله يقول الاخلاص التوقى عَنْ مُلَاحَظَةِ الْخَلْقِ وَالصِّدْقُ التَّنَقِّي عَنْ مُطَالَعَةِ النَّفْسِ (1) فَالْمُخْلِصُ لَا رِيَاءَ لَهُ وَالصَّادِقُ لَا إعْجَابَ لَهُ: وَعَنْ أَبِي يَعْقُوبَ السُّوسِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ مَتَى شَهِدُوا فِي إخْلَاصِهِمْ الْإِخْلَاصَ احْتَاجَ إخْلَاصُهُمْ إلَى إخْلَاصٍ: وَعَنْ ذِي النُّونِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ ثَلَاثَةٌ مِنْ عَلَامَاتِ الْإِخْلَاصِ اسْتِوَاءُ الْمَدْحِ وَالذَّمِّ مِنْ الْعَامَّةِ وَنِسْيَانُ رُؤْيَةِ الْأَعْمَالِ فِي الْأَعْمَالِ وَاقْتِضَاءُ ثَوَابِ الْعَمَلِ فِي الْآخِرَةِ: وَعَنْ أَبِي عُثْمَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الْإِخْلَاصُ نِسْيَانُ رُؤْيَةِ الْخَلْقِ بِدَوَامِ النَّظَرِ إلَى الْخَالِقِ.
وَعَنْ حُذَيْفَةَ الْمَرْعَشِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الْإِخْلَاصُ أَنْ تَسْتَوِيَ أَفْعَالُ الْعَبْدِ فِي الظَّاهِرِ والباطن: وعن ابى على الفضيل ابن عِيَاضٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ تَرْكُ الْعَمَلِ لِأَجْلِ النَّاسِ رِيَاءٌ وَالْعَمَلُ لِأَجْلِ النَّاسِ شِرْكٌ وَالْإِخْلَاصُ أَنْ يُعَافِيَكَ اللَّهُ مِنْهُمَا: وَعَنْ رُوَيْمٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الْإِخْلَاصُ أَنْ لَا يُرِيدَ عَلَى عَمَلِهِ عِوَضًا مِنْ الدَّارَيْنِ وَلَا حَظًّا مِنْ الْمُلْكَيْنِ: وَعَنْ يُوسُفَ بْنِ الْحُسَيْنِ رَحِمَهُ اللَّهُ قال أعز شئ فِي الدُّنْيَا الْإِخْلَاصُ: وَعَنْ أَبِي عُثْمَانَ قَالَ إخْلَاصُ الْعَوَامّ مَا لَا يَكُونُ لِلنَّفْسِ فِيهِ حظ واخلاص الخواص ما يجرى عليهم لابهم فَتَبْدُو مِنْهُمْ الطَّاعَاتُ وَهُمْ عَنْهَا بِمَعْزِلٍ وَلَا يَقَعُ لَهُمْ عَلَيْهَا رُؤْيَةٌ وَلَا بِهَا اعْتِدَادٌ: وَأَمَّا الصِّدْقُ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ) قَالَ الْقُشَيْرِيُّ الصِّدْقُ عِمَادُ الْأَمْرِ وَبِهِ تَمَامُهُ وَفِيهِ نِظَامُهُ وَأَقَلُّهُ اسْتِوَاءُ السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ: وَرَوَيْنَا عَنْ سَهْلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التُّسْتَرِيِّ قَالَ لَا يَشُمُّ رَائِحَةَ الصِّدْقِ عَبْدٌ دَاهَنَ نَفْسَهُ أَوْ غَيْرَهُ: وَعَنْ ذِي النُّونِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الصِّدْقُ سَيْفُ اللَّهِ مَا وُضِعَ عَلَى شئ إلَّا قَطَعَهُ: وَعَنْ الْحَارِثِ بْنِ أَسَدٍ الْمُحَاسِبِيِّ بِضَمِّ الْمِيمِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الصَّادِقُ هُوَ الَّذِي لَا يُبَالِي لَوْ خَرَجَ كُلُّ قَدْرٍ لَهُ فِي قُلُوبِ الْخَلْقِ مِنْ أَجْلِ صَلَاحِ قَلْبِهِ وَلَا يُحِبُّ اطِّلَاعَ النَّاسِ عَلَى مَثَاقِيلِ الذَّرِّ مِنْ حُسْنِ عَمَلِهِ وَلَا يَكْرَهُ اطِّلَاعَهُمْ على السئ مِنْ عَمَلِهِ لِأَنَّ كَرَاهَتَهُ ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ يُحِبُّ الزِّيَادَةَ عِنْدَهُمْ وَلَيْسَ هَذَا مِنْ أَخْلَاقِ الصِّدِّيقِينَ: وَعَنْ أَبِي الْقَاسِمِ الْجُنَيْدِ بْنِ محمد رحمه الله
__________
(1) هكذا نسخة الاذرعى: وفى الاذكار للمؤلف: التنقى عن مطاوعة النفس
وَعَنْ حُذَيْفَةَ الْمَرْعَشِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الْإِخْلَاصُ أَنْ تَسْتَوِيَ أَفْعَالُ الْعَبْدِ فِي الظَّاهِرِ والباطن: وعن ابى على الفضيل ابن عِيَاضٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ تَرْكُ الْعَمَلِ لِأَجْلِ النَّاسِ رِيَاءٌ وَالْعَمَلُ لِأَجْلِ النَّاسِ شِرْكٌ وَالْإِخْلَاصُ أَنْ يُعَافِيَكَ اللَّهُ مِنْهُمَا: وَعَنْ رُوَيْمٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الْإِخْلَاصُ أَنْ لَا يُرِيدَ عَلَى عَمَلِهِ عِوَضًا مِنْ الدَّارَيْنِ وَلَا حَظًّا مِنْ الْمُلْكَيْنِ: وَعَنْ يُوسُفَ بْنِ الْحُسَيْنِ رَحِمَهُ اللَّهُ قال أعز شئ فِي الدُّنْيَا الْإِخْلَاصُ: وَعَنْ أَبِي عُثْمَانَ قَالَ إخْلَاصُ الْعَوَامّ مَا لَا يَكُونُ لِلنَّفْسِ فِيهِ حظ واخلاص الخواص ما يجرى عليهم لابهم فَتَبْدُو مِنْهُمْ الطَّاعَاتُ وَهُمْ عَنْهَا بِمَعْزِلٍ وَلَا يَقَعُ لَهُمْ عَلَيْهَا رُؤْيَةٌ وَلَا بِهَا اعْتِدَادٌ: وَأَمَّا الصِّدْقُ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ) قَالَ الْقُشَيْرِيُّ الصِّدْقُ عِمَادُ الْأَمْرِ وَبِهِ تَمَامُهُ وَفِيهِ نِظَامُهُ وَأَقَلُّهُ اسْتِوَاءُ السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ: وَرَوَيْنَا عَنْ سَهْلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التُّسْتَرِيِّ قَالَ لَا يَشُمُّ رَائِحَةَ الصِّدْقِ عَبْدٌ دَاهَنَ نَفْسَهُ أَوْ غَيْرَهُ: وَعَنْ ذِي النُّونِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الصِّدْقُ سَيْفُ اللَّهِ مَا وُضِعَ عَلَى شئ إلَّا قَطَعَهُ: وَعَنْ الْحَارِثِ بْنِ أَسَدٍ الْمُحَاسِبِيِّ بِضَمِّ الْمِيمِ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ الصَّادِقُ هُوَ الَّذِي لَا يُبَالِي لَوْ خَرَجَ كُلُّ قَدْرٍ لَهُ فِي قُلُوبِ الْخَلْقِ مِنْ أَجْلِ صَلَاحِ قَلْبِهِ وَلَا يُحِبُّ اطِّلَاعَ النَّاسِ عَلَى مَثَاقِيلِ الذَّرِّ مِنْ حُسْنِ عَمَلِهِ وَلَا يَكْرَهُ اطِّلَاعَهُمْ على السئ مِنْ عَمَلِهِ لِأَنَّ كَرَاهَتَهُ ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ يُحِبُّ الزِّيَادَةَ عِنْدَهُمْ وَلَيْسَ هَذَا مِنْ أَخْلَاقِ الصِّدِّيقِينَ: وَعَنْ أَبِي الْقَاسِمِ الْجُنَيْدِ بْنِ محمد رحمه الله
__________
(1) هكذا نسخة الاذرعى: وفى الاذكار للمؤلف: التنقى عن مطاوعة النفس
এটি ইখলাস ও সিদক্ব (আন্তরিকতা ও সত্যবাদিতা) সম্পর্কে আরেফীনদের (আল্লাহর পরিচয়প্রাপ্ত জ্ঞানীগণ) কিছু উক্তি।
আবূ আল-আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: মানুষকে তার নিয়তের (উদ্দেশ্যের) পরিমাণ অনুযায়ীই দেওয়া হয়।
আবূ মুহাম্মাদ সাহল ইবনু আব্দুল্লাহ আত-তুসতারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ ইখলাসের ব্যাখ্যায় গভীরভাবে চিন্তা করে এর বাইরে আর কিছু পাননি যে, তার সকল নড়াচড়া ও স্থিরতা, গোপনে ও প্রকাশ্যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই হবে; এর সাথে কোনো কিছু মিশ্রিত হবে না – না নফস (প্রবৃত্তি), না কামনা, না দুনিয়া।
আস-সারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: মানুষের জন্য কোনো কাজ করো না, তাদের কারণে কোনো কাজ ছেড়েও দিও না, তাদের জন্য কিছু দিও না এবং তাদের কাছে কিছু প্রকাশও করো না।
আমরা তাবেঈ হাবীব ইবনু আবী সাবিত রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছি যে, তাকে বলা হয়েছিল: "আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করুন।" তখন তিনি বলেছিলেন: "যতক্ষণ না নিয়ত (সঠিক উদ্দেশ্য) আসে।"
আবূ আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনু সাঈদ আস-সাওরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আমার নিয়তের (উদ্দেশ্যের) চেয়ে কঠিন আর কোনো কিছুর মোকাবিলা করিনি; কারণ তা আমার উপর বারবার পরিবর্তিত হয়।
আমরা উস্তাদ আবুল কাসিম আব্দুল কারীম ইবনু হাওয়াযিন আল-কুশাইরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালায় বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো আনুগত্যে উদ্দেশ্য দ্বারা হক্ব (আল্লাহকে) একক করা। আর তা হলো, বান্দা তার আনুগত্যের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য কামনা করবে, অন্য কোনো কিছুর উদ্দেশ্য থাকবে না – যেমন কোনো সৃষ্টির জন্য কৃত্রিমতা (লোক দেখানো), অথবা মানুষের কাছে প্রশংসা অর্জন, অথবা সৃষ্টির কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অথবা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য ব্যতীত অন্য কিছু। তিনি আরও বলেছেন: এটিও বলা সঠিক যে, ইখলাস হলো সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ থেকে মনকে পবিত্র করা। তিনি বলেছেন: আমি আবূ আলী আদ-দাক্কাক রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি: ইখলাস হলো সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা, আর সিদক্ব হলো নফসের (আত্ম-অহংকার) প্রতি দৃষ্টিপাত থেকে নিজেকে পবিত্র করা। সুতরাং, মুখলিস (আন্তরিক ব্যক্তি) এর মধ্যে রিয়া (লোক দেখানো) থাকে না, আর সাদিক্ব (সত্যবাদী ব্যক্তি) এর মধ্যে আত্ম-মুগ্ধতা (উজব) থাকে না।
আবূ ইয়া'কুব আস-সুসী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন তারা তাদের ইখলাসের মধ্যে ইখলাসকে (আন্তরিকতাকে) প্রত্যক্ষ করে, তখন তাদের ইখলাসের জন্য আরও ইখলাসের প্রয়োজন হয়।
যুন-নূন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাসের তিনটি আলামত (লক্ষণ) রয়েছে: সাধারণ মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা তার কাছে সমান হওয়া, আমল করার সময় নিজের আমলকে (গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে) দেখা ভুলে যাওয়া, এবং আমলের প্রতিদান আখেরাতে চাওয়া।
আবূ উসমান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিরন্তর দৃষ্টি রাখার মাধ্যমে সৃষ্টিকুলের প্রতি দৃষ্টি ভুলে যাওয়া।
হুযাইফা আল-মার'আশী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আমল সমান হওয়া।
আবূ আলী আল-ফুযাইল ইবনু আইয়াদ্ব রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেওয়া রিয়া (লোক দেখানো), আর মানুষের জন্য আমল করা শিরক (অংশীদারিত্ব স্থাপন)। আর ইখলাস হলো আল্লাহ তোমাকে এই উভয় থেকে রক্ষা করা।
রুওয়াইম রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো বান্দা তার আমলের বিনিময়ে উভয় জগত (দুনিয়া ও আখেরাত) থেকে কোনো প্রতিদান বা উভয় সাম্রাজ্য (দুনিয়া ও আখেরাত) থেকে কোনো অংশ কামনা করবে না।
ইউসুফ ইবনু আল-হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: দুনিয়াতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হলো ইখলাস।
আবূ উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সাধারণ মানুষের ইখলাস হলো এমন কিছু, যাতে নফসের (প্রবৃত্তির) কোনো অংশ থাকে না। আর বিশেষ ব্যক্তিদের ইখলাস হলো এমন কিছু যা তাদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তাদের নিজেদের থেকে নয়। ফলে তাদের থেকে আনুগত্য প্রকাশ পায়, অথচ তারা সেগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেগুলোকে নিজেদের কাজ হিসেবে দেখে না বা সেগুলোর উপর নির্ভর করে না।
আর সিদক্ব (সত্যবাদিতা) সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো)। আল-কুশাইরী বলেছেন: সিদক্ব হলো সকল বিষয়ের ভিত্তি, এর দ্বারাই তা পূর্ণতা লাভ করে এবং এর মধ্যেই তার শৃঙ্খলা নিহিত। আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থা সমান হওয়া।
আমরা সাহল ইবনু আব্দুল্লাহ আত-তুসতারী থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: যে বান্দা নিজের বা অন্যের সাথে কপটতা করে, সে সিদক্বের (সত্যবাদিতার) ঘ্রাণও পাবে না।
যুন-নূন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সিদক্ব হলো আল্লাহর তরবারি; এটি কোনো কিছুর উপর রাখা হলে তা অবশ্যই কেটে ফেলে।
আল-হারিস ইবনু আসাদ আল-মুহাসিবী (মীম-এ পেশ সহ) রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সাদিক্ব (সত্যবাদী) সেই ব্যক্তি, যে তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতার জন্য সৃষ্টিকুলের অন্তরে তার সকল মর্যাদা চলে গেলেও পরোয়া করে না। সে তার ভালো কাজের অণু পরিমাণও মানুষের কাছে প্রকাশ হওয়া পছন্দ করে না, এবং তার মন্দ কাজ মানুষের কাছে প্রকাশ হওয়া অপছন্দও করে না। কারণ, এটি অপছন্দ করা এই কথার প্রমাণ যে, সে তাদের কাছে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চায়। আর এটি সিদ্দীক্বীনদের (পরম সত্যবাদীদের) আখলাক (চরিত্র) নয়।
আবূ আল-কাসিম আল-জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত...
---
(১) আযরাঈ-এর নুসখায় (কপিতে) এভাবেই আছে। আর লেখকের (ইমাম নববীর) 'আল-আযকার' গ্রন্থে আছে: "নফসের আনুগত্য থেকে নিজেকে পবিত্র করা।"
আবূ আল-আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: মানুষকে তার নিয়তের (উদ্দেশ্যের) পরিমাণ অনুযায়ীই দেওয়া হয়।
আবূ মুহাম্মাদ সাহল ইবনু আব্দুল্লাহ আত-তুসতারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ ইখলাসের ব্যাখ্যায় গভীরভাবে চিন্তা করে এর বাইরে আর কিছু পাননি যে, তার সকল নড়াচড়া ও স্থিরতা, গোপনে ও প্রকাশ্যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই হবে; এর সাথে কোনো কিছু মিশ্রিত হবে না – না নফস (প্রবৃত্তি), না কামনা, না দুনিয়া।
আস-সারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: মানুষের জন্য কোনো কাজ করো না, তাদের কারণে কোনো কাজ ছেড়েও দিও না, তাদের জন্য কিছু দিও না এবং তাদের কাছে কিছু প্রকাশও করো না।
আমরা তাবেঈ হাবীব ইবনু আবী সাবিত রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছি যে, তাকে বলা হয়েছিল: "আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করুন।" তখন তিনি বলেছিলেন: "যতক্ষণ না নিয়ত (সঠিক উদ্দেশ্য) আসে।"
আবূ আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনু সাঈদ আস-সাওরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আমার নিয়তের (উদ্দেশ্যের) চেয়ে কঠিন আর কোনো কিছুর মোকাবিলা করিনি; কারণ তা আমার উপর বারবার পরিবর্তিত হয়।
আমরা উস্তাদ আবুল কাসিম আব্দুল কারীম ইবনু হাওয়াযিন আল-কুশাইরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালায় বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো আনুগত্যে উদ্দেশ্য দ্বারা হক্ব (আল্লাহকে) একক করা। আর তা হলো, বান্দা তার আনুগত্যের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য কামনা করবে, অন্য কোনো কিছুর উদ্দেশ্য থাকবে না – যেমন কোনো সৃষ্টির জন্য কৃত্রিমতা (লোক দেখানো), অথবা মানুষের কাছে প্রশংসা অর্জন, অথবা সৃষ্টির কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অথবা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য ব্যতীত অন্য কিছু। তিনি আরও বলেছেন: এটিও বলা সঠিক যে, ইখলাস হলো সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ থেকে মনকে পবিত্র করা। তিনি বলেছেন: আমি আবূ আলী আদ-দাক্কাক রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি: ইখলাস হলো সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা, আর সিদক্ব হলো নফসের (আত্ম-অহংকার) প্রতি দৃষ্টিপাত থেকে নিজেকে পবিত্র করা। সুতরাং, মুখলিস (আন্তরিক ব্যক্তি) এর মধ্যে রিয়া (লোক দেখানো) থাকে না, আর সাদিক্ব (সত্যবাদী ব্যক্তি) এর মধ্যে আত্ম-মুগ্ধতা (উজব) থাকে না।
আবূ ইয়া'কুব আস-সুসী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন তারা তাদের ইখলাসের মধ্যে ইখলাসকে (আন্তরিকতাকে) প্রত্যক্ষ করে, তখন তাদের ইখলাসের জন্য আরও ইখলাসের প্রয়োজন হয়।
যুন-নূন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাসের তিনটি আলামত (লক্ষণ) রয়েছে: সাধারণ মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা তার কাছে সমান হওয়া, আমল করার সময় নিজের আমলকে (গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে) দেখা ভুলে যাওয়া, এবং আমলের প্রতিদান আখেরাতে চাওয়া।
আবূ উসমান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিরন্তর দৃষ্টি রাখার মাধ্যমে সৃষ্টিকুলের প্রতি দৃষ্টি ভুলে যাওয়া।
হুযাইফা আল-মার'আশী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আমল সমান হওয়া।
আবূ আলী আল-ফুযাইল ইবনু আইয়াদ্ব রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেওয়া রিয়া (লোক দেখানো), আর মানুষের জন্য আমল করা শিরক (অংশীদারিত্ব স্থাপন)। আর ইখলাস হলো আল্লাহ তোমাকে এই উভয় থেকে রক্ষা করা।
রুওয়াইম রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইখলাস হলো বান্দা তার আমলের বিনিময়ে উভয় জগত (দুনিয়া ও আখেরাত) থেকে কোনো প্রতিদান বা উভয় সাম্রাজ্য (দুনিয়া ও আখেরাত) থেকে কোনো অংশ কামনা করবে না।
ইউসুফ ইবনু আল-হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: দুনিয়াতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হলো ইখলাস।
আবূ উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সাধারণ মানুষের ইখলাস হলো এমন কিছু, যাতে নফসের (প্রবৃত্তির) কোনো অংশ থাকে না। আর বিশেষ ব্যক্তিদের ইখলাস হলো এমন কিছু যা তাদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তাদের নিজেদের থেকে নয়। ফলে তাদের থেকে আনুগত্য প্রকাশ পায়, অথচ তারা সেগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সেগুলোকে নিজেদের কাজ হিসেবে দেখে না বা সেগুলোর উপর নির্ভর করে না।
আর সিদক্ব (সত্যবাদিতা) সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো)। আল-কুশাইরী বলেছেন: সিদক্ব হলো সকল বিষয়ের ভিত্তি, এর দ্বারাই তা পূর্ণতা লাভ করে এবং এর মধ্যেই তার শৃঙ্খলা নিহিত। আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থা সমান হওয়া।
আমরা সাহল ইবনু আব্দুল্লাহ আত-তুসতারী থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: যে বান্দা নিজের বা অন্যের সাথে কপটতা করে, সে সিদক্বের (সত্যবাদিতার) ঘ্রাণও পাবে না।
যুন-নূন রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সিদক্ব হলো আল্লাহর তরবারি; এটি কোনো কিছুর উপর রাখা হলে তা অবশ্যই কেটে ফেলে।
আল-হারিস ইবনু আসাদ আল-মুহাসিবী (মীম-এ পেশ সহ) রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সাদিক্ব (সত্যবাদী) সেই ব্যক্তি, যে তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতার জন্য সৃষ্টিকুলের অন্তরে তার সকল মর্যাদা চলে গেলেও পরোয়া করে না। সে তার ভালো কাজের অণু পরিমাণও মানুষের কাছে প্রকাশ হওয়া পছন্দ করে না, এবং তার মন্দ কাজ মানুষের কাছে প্রকাশ হওয়া অপছন্দও করে না। কারণ, এটি অপছন্দ করা এই কথার প্রমাণ যে, সে তাদের কাছে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চায়। আর এটি সিদ্দীক্বীনদের (পরম সত্যবাদীদের) আখলাক (চরিত্র) নয়।
আবূ আল-কাসিম আল-জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত...
---
(১) আযরাঈ-এর নুসখায় (কপিতে) এভাবেই আছে। আর লেখকের (ইমাম নববীর) 'আল-আযকার' গ্রন্থে আছে: "নফসের আনুগত্য থেকে নিজেকে পবিত্র করা।"
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ الصَّادِقُ يَتَقَلَّبُ فِي الْيَوْمِ أَرْبَعِينَ مَرَّةً والمراءى (1) يَثْبُتُ عَلَى حَالَةٍ وَاحِدَةً أَرْبَعِينَ سَنَةً: (قُلْتُ) مَعْنَاهُ أَنَّ الصَّادِقَ يَدُورُ مَعَ الْحَقِّ حَيْثُ دَار فَإِذَا كَانَ الْفَضْلُ الشَّرْعِيُّ فِي الصَّلَاةِ مَثَلًا صَلَّى وَإِذَا كَانَ فِي مُجَالَسَةِ الْعُلَمَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَالضِّيفَانِ وَالْعِيَالِ وَقَضَاءِ حَاجَةِ مُسْلِمٍ وَجَبْرِ قَلْبٍ مَكْسُورٍ وَنَحْوِ ذَلِكَ فَعَلَ ذَلِكَ الْأَفْضَلَ وَتَرَكَ عَادَتَهُ: وَكَذَلِكَ الصَّوْمُ وَالْقِرَاءَةُ وَالذِّكْرُ وَالْأَكْلُ والشرب والجد والمزح والاختلاط والاعتزال والتنعم والا بتذال ونحوها فحيث رأى الفضيلة الشرعية في شئ مِنْ هَذَا فَعَلَهُ وَلَا يَرْتَبِطُ بِعَادَةٍ وَلَا بِعِبَادَةٍ مَخْصُوصَةٍ كَمَا يَفْعَلُهُ الْمُرَائِي وَقَدْ كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْوَالٌ فِي صَلَاتِهِ وَصِيَامِهِ وَأَوْرَادِهِ وَأَكْلِهِ وَشُرْبِهِ وَلُبْسِهِ وركوبه ومعاشرة أهله وجده ومزحه وَسُرُورِهِ وَغَضَبِهِ وَإِغْلَاظِهِ فِي إنْكَارِ الْمُنْكَرِ وَرِفْقِهِ فيه وعقوبته مستحقي التعزيز وَصَفْحِهِ عَنْهُمْ وَغَيْرِ ذَلِكَ بِحَسْبِ الْإِمْكَانِ وَالْأَفْضَلِ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ وَالْحَالِ: وَلَا شَكَّ فِي اختلاف أحوال الشئ في الا فضيلة فَإِنَّ الصَّوْمَ حَرَامٌ يَوْمَ الْعِيدِ وَاجِبٌ قَبْلَهُ مَسْنُونٌ بَعْدَهُ وَالصَّلَاةُ مَحْبُوبَةٌ فِي مُعْظَمِ الْأَوْقَاتِ وتكره في أوقات وأحوال كمدافعة الا خبثين: وَقِرَاءَةَ الْقُرْآنِ مَحْبُوبَةٌ وَتُكْرَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَغَيْرِ ذَلِكَ: وَكَذَلِكَ تَحْسِينُ اللِّبَاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْعِيدِ وَخِلَافُهُ يَوْمَ الِاسْتِسْقَاءِ وَكَذَلِكَ مَا أَشْبَهَ هَذِهِ الْأَمْثِلَةَ.
وَهَذِهِ نُبْذَةٌ يَسِيرَةٌ تُرْشِدُ الْمُوَفَّقَ إلَى السَّدَادِ وَتَحْمِلُهُ عَلَى الِاسْتِقَامَةِ وَسُلُوكِ طَرِيقِ الرَّشَادِ
* بَابٌ (فِي فَضِيلَة الِاشْتِغَال بِالْعِلْمِ وَتَصْنِيفِهِ وَتَعَلُّمِهِ وَتَعْلِيمِهِ وَالْحَثِّ عَلَيْهِ وَالْإِرْشَادِ إلَى طُرُقِهِ) قَدْ تَكَاثَرَتْ الْآيَاتُ وَالْأَخْبَارُ وَالْآثَارُ وَتَوَاتَرَتْ.
وَتَطَابَقَتْ الدَّلَائِلُ الصَّرِيحَةُ وَتَوَافَقَتْ عَلَى فَضِيلَةِ الْعِلْمِ وَالْحَثِّ عَلَى تَحْصِيلِهِ وَالِاجْتِهَادِ فِي اقْتِبَاسِهِ وَتَعْلِيمِهِ.
وَأَنَا أَذْكُرُ طَرَفًا مِنْ ذَلِكَ تَنْبِيهًا عَلَى مَا هُنَالِكَ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الذين يعلمون والذين لا يعلمون) .
وقال تعالى (وقل رب زدني علما) .
وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العلماء) .
وَقَالَ تَعَالَى (يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ والذين أوتوا العلم درجات) .
وَالْآيَاتُ كَثِيرَةٌ مَعْلُومَةٌ.
وَرَوَيْنَا عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ ` رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` إنَّ مَثَلَ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنْ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ طَيِّبَةٌ قَبِلَتْ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتْ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ وَكَانَ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتْ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا وَأَصَابَ طَائِفَةً مِنْهَا أُخْرَى إنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ الْمَاءَ وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً فَذَلِكَ مَثَلُ من فقه في دين الله ونفعه ما بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ ` رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ (2) .
وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` لَا حسد الا في اثنين رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحق ورجل أتاه الله الحكمة
__________
(1) هكذا نسخة الاذرعى وفي نسخة اخرى المماري (2) وهذا لفط مسلم:
وَهَذِهِ نُبْذَةٌ يَسِيرَةٌ تُرْشِدُ الْمُوَفَّقَ إلَى السَّدَادِ وَتَحْمِلُهُ عَلَى الِاسْتِقَامَةِ وَسُلُوكِ طَرِيقِ الرَّشَادِ
* بَابٌ (فِي فَضِيلَة الِاشْتِغَال بِالْعِلْمِ وَتَصْنِيفِهِ وَتَعَلُّمِهِ وَتَعْلِيمِهِ وَالْحَثِّ عَلَيْهِ وَالْإِرْشَادِ إلَى طُرُقِهِ) قَدْ تَكَاثَرَتْ الْآيَاتُ وَالْأَخْبَارُ وَالْآثَارُ وَتَوَاتَرَتْ.
وَتَطَابَقَتْ الدَّلَائِلُ الصَّرِيحَةُ وَتَوَافَقَتْ عَلَى فَضِيلَةِ الْعِلْمِ وَالْحَثِّ عَلَى تَحْصِيلِهِ وَالِاجْتِهَادِ فِي اقْتِبَاسِهِ وَتَعْلِيمِهِ.
وَأَنَا أَذْكُرُ طَرَفًا مِنْ ذَلِكَ تَنْبِيهًا عَلَى مَا هُنَالِكَ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الذين يعلمون والذين لا يعلمون) .
وقال تعالى (وقل رب زدني علما) .
وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العلماء) .
وَقَالَ تَعَالَى (يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ والذين أوتوا العلم درجات) .
وَالْآيَاتُ كَثِيرَةٌ مَعْلُومَةٌ.
وَرَوَيْنَا عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ ` رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` إنَّ مَثَلَ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنْ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ طَيِّبَةٌ قَبِلَتْ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتْ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ وَكَانَ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتْ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا وَأَصَابَ طَائِفَةً مِنْهَا أُخْرَى إنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ الْمَاءَ وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً فَذَلِكَ مَثَلُ من فقه في دين الله ونفعه ما بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ ` رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ (2) .
وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` لَا حسد الا في اثنين رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحق ورجل أتاه الله الحكمة
__________
(1) هكذا نسخة الاذرعى وفي نسخة اخرى المماري (2) وهذا لفط مسلم:
সত্যবাদী ব্যক্তি দিনে চল্লিশবার তার অবস্থা পরিবর্তন করে, আর রিয়াকারী ব্যক্তি চল্লিশ বছর ধরে একই অবস্থায় স্থির থাকে। (আমি বলি) এর অর্থ হলো, সত্যবাদী ব্যক্তি যেখানেই সত্য থাকে, সেখানেই তার সাথে চলে। উদাহরণস্বরূপ, যখন শরীয়তের দৃষ্টিতে সালাতে কল্যাণ থাকে, তখন সে সালাত আদায় করে। আর যখন আলেম, সৎকর্মশীল, মেহমান ও পরিবারের সাথে বসা, কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করা, কোনো ভগ্নহৃদয়কে সান্ত্বনা দেওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজে কল্যাণ থাকে, তখন সে সেই উত্তম কাজটি করে এবং তার অভ্যাস ত্যাগ করে। অনুরূপভাবে রোজা, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, পানাহার, গাম্ভীর্য, কৌতুক, জনসমাজে মেলামেশা, নির্জনতা, বিলাসিতা, সাদাসিধে জীবনযাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও। যখন সে এর কোনোটিতে শরীয়তসম্মত শ্রেষ্ঠত্ব দেখে, তখন সে তা-ই করে। সে কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস বা নির্দিষ্ট ইবাদতের সাথে নিজেকে আবদ্ধ রাখে না, যেমনটি রিয়াকারীরা করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত, সিয়াম, যিকির-আযকার, পানাহার, পোশাক, আরোহণ, পরিবারের সাথে মেলামেশা, গাম্ভীর্য, কৌতুক, আনন্দ, ক্রোধ, মন্দ কাজে কঠোরতা, তাতে নম্রতা, তা'যীর (শাস্তি) পাওয়ার যোগ্যদের শাস্তি প্রদান, তাদের ক্ষমা করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন অবস্থা ছিল, যা সেই সময় ও অবস্থার সাপেক্ষে সম্ভব ও সর্বোত্তম ছিল।
কোনো বস্তুর শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তার অবস্থার ভিন্নতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম, তার পূর্বে (যেমন আরাফার দিন) ওয়াজিব বা সুন্নাত, এবং তার পরে (যেমন আইয়ামে বীয) মাসনুন। আর সালাত অধিকাংশ সময়েই পছন্দনীয়, কিন্তু কিছু সময় ও অবস্থায় তা মাকরুহ, যেমন পেশাব-পায়খানার চাপ অনুভব করা অবস্থায়। কুরআন তেলাওয়াত পছন্দনীয়, কিন্তু রুকু ও সিজদায় তা মাকরুহ, এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও। অনুরূপভাবে জুমু'আ ও ঈদের দিনে উত্তম পোশাক পরিধান করা (পছন্দনীয়), আর ইস্তিস্কার (বৃষ্টি প্রার্থনার) দিনে এর বিপরীত (সাদাসিধে পোশাক) (পছন্দনীয়)। এবং এ ধরনের অন্যান্য উদাহরণও।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যা আল্লাহ কর্তৃক তাওফীকপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে দৃঢ়তা ও হেদায়েতের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
* অধ্যায় (ইলম চর্চা, গ্রন্থ রচনা, ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে)
আয়াতসমূহ, হাদীসসমূহ এবং সাহাবীদের উক্তি (আছার) অসংখ্য ও মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত) হয়েছে। সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব, তা অর্জনের প্রতি উৎসাহ এবং তা আহরণ ও শিক্ষাদানে কঠোর পরিশ্রমের বিষয়ে একমত ও সুসংগত হয়েছে।
আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করব, যা এ বিষয়ে (আরও গভীরতার প্রতি) দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: (বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?) [সূরা আয-যুমার: ৯]
তিনি আরও বলেছেন: (এবং বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।) [সূরা ত্বাহা: ১১৪]
তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই তাঁকে ভয় করে।) [সূরা ফাতির: ২৮]
তিনি আরও বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু গুণে উন্নীত করবেন।) [সূরা মুজাদালা: ১১]
এবং এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক ও সুপরিচিত।
আমরা মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু মূসা আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স আল-আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে যে হেদায়েত ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো এমন বৃষ্টির মতো যা কোনো ভূমিতে পতিত হলো। তার কিছু অংশ ছিল উর্বর, যা পানি শোষণ করে নিল এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করল। আর কিছু অংশ ছিল শক্ত ভূমি, যা পানি ধরে রাখল। অতঃপর আল্লাহ তা দ্বারা মানুষকে উপকৃত করলেন, তারা তা থেকে পান করল, (পশুকে) পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির কিছু অংশ পতিত হলো অন্য এক প্রকার ভূমিতে, যা ছিল সমতল ও নিচু, যা পানি ধরে রাখতে পারে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে আল্লাহর দ্বীনে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে, অতঃপর সে নিজে জেনেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে এ বিষয়ে মাথা উঁচু করেনি (অর্থাৎ গুরুত্ব দেয়নি) এবং আল্লাহর হেদায়েত গ্রহণ করেনি, যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দু'টি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা (গিবতাহ) করা জায়েজ নয়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সত্য পথে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; এবং আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (জ্ঞান) দান করেছেন..."
কোনো বস্তুর শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তার অবস্থার ভিন্নতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম, তার পূর্বে (যেমন আরাফার দিন) ওয়াজিব বা সুন্নাত, এবং তার পরে (যেমন আইয়ামে বীয) মাসনুন। আর সালাত অধিকাংশ সময়েই পছন্দনীয়, কিন্তু কিছু সময় ও অবস্থায় তা মাকরুহ, যেমন পেশাব-পায়খানার চাপ অনুভব করা অবস্থায়। কুরআন তেলাওয়াত পছন্দনীয়, কিন্তু রুকু ও সিজদায় তা মাকরুহ, এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও। অনুরূপভাবে জুমু'আ ও ঈদের দিনে উত্তম পোশাক পরিধান করা (পছন্দনীয়), আর ইস্তিস্কার (বৃষ্টি প্রার্থনার) দিনে এর বিপরীত (সাদাসিধে পোশাক) (পছন্দনীয়)। এবং এ ধরনের অন্যান্য উদাহরণও।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যা আল্লাহ কর্তৃক তাওফীকপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে দৃঢ়তা ও হেদায়েতের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
* অধ্যায় (ইলম চর্চা, গ্রন্থ রচনা, ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে)
আয়াতসমূহ, হাদীসসমূহ এবং সাহাবীদের উক্তি (আছার) অসংখ্য ও মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত) হয়েছে। সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব, তা অর্জনের প্রতি উৎসাহ এবং তা আহরণ ও শিক্ষাদানে কঠোর পরিশ্রমের বিষয়ে একমত ও সুসংগত হয়েছে।
আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করব, যা এ বিষয়ে (আরও গভীরতার প্রতি) দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: (বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?) [সূরা আয-যুমার: ৯]
তিনি আরও বলেছেন: (এবং বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।) [সূরা ত্বাহা: ১১৪]
তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই তাঁকে ভয় করে।) [সূরা ফাতির: ২৮]
তিনি আরও বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু গুণে উন্নীত করবেন।) [সূরা মুজাদালা: ১১]
এবং এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক ও সুপরিচিত।
আমরা মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু মূসা আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স আল-আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে যে হেদায়েত ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো এমন বৃষ্টির মতো যা কোনো ভূমিতে পতিত হলো। তার কিছু অংশ ছিল উর্বর, যা পানি শোষণ করে নিল এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করল। আর কিছু অংশ ছিল শক্ত ভূমি, যা পানি ধরে রাখল। অতঃপর আল্লাহ তা দ্বারা মানুষকে উপকৃত করলেন, তারা তা থেকে পান করল, (পশুকে) পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির কিছু অংশ পতিত হলো অন্য এক প্রকার ভূমিতে, যা ছিল সমতল ও নিচু, যা পানি ধরে রাখতে পারে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে আল্লাহর দ্বীনে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে, অতঃপর সে নিজে জেনেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে এ বিষয়ে মাথা উঁচু করেনি (অর্থাৎ গুরুত্ব দেয়নি) এবং আল্লাহর হেদায়েত গ্রহণ করেনি, যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দু'টি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা (গিবতাহ) করা জায়েজ নয়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সত্য পথে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; এবং আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (জ্ঞান) দান করেছেন..."
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا ` رَوَيَاهُ.
وَالْمُرَادُ بِالْحَسَدِ الْغِبْطَةُ وَهِيَ أَنْ يَتَمَنَّى مِثْلَهُ.
وَمَعْنَاهُ يَنْبَغِي أَنْ لَا يَغْبِطَ أَحَدًا إلَّا فِي هَاتَيْنِ الْمُوصِلَتَيْنِ إلَى رِضَاءِ اللَّهِ تَعَالَى.
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَلِيٍّ الله عنه ` فو الله لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ` رَوَيَاهُ.
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` مَنْ دَعَا إلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عليه من الاتم مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ أَوْ عِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ: وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حتى النملة في حجرها وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِي النَّاسِ الْخَيْرَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَنْ
يَشْبَعَ مُؤْمِنٌ مِنْ خَيْرٍ حَتَّى يَكُونَ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وَسَلَّمَ قَالَ فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
* وَعَنْ أَبِي هريرة مثله وزاد لكل شئ عِمَادٌ وَعِمَادُ هَذَا الدِّينِ الْفِقْهُ وَمَا عُبِدَ اللَّهُ بِأَفْضَلَ مِنْ فِقْهٍ فِي الدِّينِ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إلَّا ذِكْرَ اللَّهِ وَمَا وَالَاهُ وَعَالِمًا وَمُتَعَلِّمًا رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِي فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضَاءً وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الانبياء ان الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُمَا
* وَفِي الْبَابِ أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ وَفِيمَا أَشَرْنَا إلَيْهِ كِفَايَةٌ
* وَأَمَّا الْآثَارُ عَنْ السَّلَفِ فَأَكْثَرُ مِنْ أَنْ تُحْصَرَ وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ تَذْكُرَ لَكِنْ نَذْكُرُ مِنْهَا أَحْرُفًا مُتَبَرِّكِينَ مُشِيرِينَ إلَى غَيْرِهَا وَمُنَبَّهِينَ
* عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَفَى بِالْعِلْمِ شَرَفًا أَنْ يَدَّعِيَهُ مَنْ لَا يُحْسِنُهُ وَيَفْرَحَ إذَا نُسِبَ إلَيْهِ وَكَفَى بِالْجَهْلِ ذَمًّا أَنْ يَتَبَرَّأَ مِنْهُ مَنْ هُوَ فِيهِ
* وَعَنْ مُعَاذٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ فَإِنَّ تَعَلُّمَهُ لِلَّهِ خَشْيَةٌ وَطَلَبَهُ عِبَادَةٌ وَمُذَاكَرَتَهُ تَسْبِيحٌ وَالْبَحْثَ عَنْهُ جِهَادٌ وَتَعْلِيمَهُ مَنْ لَا يَعْلَمُهُ صَدَقَةٌ وَبَذْلَهُ لاهله قربة
* وقال أَبُو مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيُّ مَثَلُ الْعُلَمَاءِ فِي الْأَرْضِ مَثَلُ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ إذَا بَدَتْ لِلنَّاسِ اهْتَدَوْا بِهَا وَاذَا خَفِيَتْ عَلَيْهِمْ تَحَيَّرُوا
* عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ يَتَشَعَّبُ مِنْ
وَالْمُرَادُ بِالْحَسَدِ الْغِبْطَةُ وَهِيَ أَنْ يَتَمَنَّى مِثْلَهُ.
وَمَعْنَاهُ يَنْبَغِي أَنْ لَا يَغْبِطَ أَحَدًا إلَّا فِي هَاتَيْنِ الْمُوصِلَتَيْنِ إلَى رِضَاءِ اللَّهِ تَعَالَى.
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَلِيٍّ الله عنه ` فو الله لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ` رَوَيَاهُ.
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ` مَنْ دَعَا إلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عليه من الاتم مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ أَوْ عِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ: وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ حتى النملة في حجرها وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِي النَّاسِ الْخَيْرَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَنْ
يَشْبَعَ مُؤْمِنٌ مِنْ خَيْرٍ حَتَّى يَكُونَ مُنْتَهَاهُ الْجَنَّةَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وَسَلَّمَ قَالَ فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
* وَعَنْ أَبِي هريرة مثله وزاد لكل شئ عِمَادٌ وَعِمَادُ هَذَا الدِّينِ الْفِقْهُ وَمَا عُبِدَ اللَّهُ بِأَفْضَلَ مِنْ فِقْهٍ فِي الدِّينِ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إلَّا ذِكْرَ اللَّهِ وَمَا وَالَاهُ وَعَالِمًا وَمُتَعَلِّمًا رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِي فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضَاءً وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الانبياء ان الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُمَا
* وَفِي الْبَابِ أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ وَفِيمَا أَشَرْنَا إلَيْهِ كِفَايَةٌ
* وَأَمَّا الْآثَارُ عَنْ السَّلَفِ فَأَكْثَرُ مِنْ أَنْ تُحْصَرَ وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ تَذْكُرَ لَكِنْ نَذْكُرُ مِنْهَا أَحْرُفًا مُتَبَرِّكِينَ مُشِيرِينَ إلَى غَيْرِهَا وَمُنَبَّهِينَ
* عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَفَى بِالْعِلْمِ شَرَفًا أَنْ يَدَّعِيَهُ مَنْ لَا يُحْسِنُهُ وَيَفْرَحَ إذَا نُسِبَ إلَيْهِ وَكَفَى بِالْجَهْلِ ذَمًّا أَنْ يَتَبَرَّأَ مِنْهُ مَنْ هُوَ فِيهِ
* وَعَنْ مُعَاذٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ فَإِنَّ تَعَلُّمَهُ لِلَّهِ خَشْيَةٌ وَطَلَبَهُ عِبَادَةٌ وَمُذَاكَرَتَهُ تَسْبِيحٌ وَالْبَحْثَ عَنْهُ جِهَادٌ وَتَعْلِيمَهُ مَنْ لَا يَعْلَمُهُ صَدَقَةٌ وَبَذْلَهُ لاهله قربة
* وقال أَبُو مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيُّ مَثَلُ الْعُلَمَاءِ فِي الْأَرْضِ مَثَلُ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ إذَا بَدَتْ لِلنَّاسِ اهْتَدَوْا بِهَا وَاذَا خَفِيَتْ عَلَيْهِمْ تَحَيَّرُوا
* عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ يَتَشَعَّبُ مِنْ
সুতরাং সে এর দ্বারা বিচার করে এবং তা শিক্ষা দেয়। উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন।
আর এখানে 'হাসাদ' (হিংসা) দ্বারা 'গিবতাহ' (সদগুণে ঈর্ষা) উদ্দেশ্য, যা হলো অন্যের অনুরূপ কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। আর এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির দিকে ধাবিতকারী এই দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কারো প্রতি ঈর্ষা করা উচিত নয়।
সাহল ইবনু সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: 'আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (মূল্যবান সম্পদ) অপেক্ষা উত্তম।' উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য তার অনুসারীদের পুরস্কারের অনুরূপ পুরস্কার রয়েছে, এতে তাদের পুরস্কার থেকে কিছুই হ্রাস পাবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে, এতে তাদের পাপ থেকে কিছুই হ্রাস পাবে না।' এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়াহ (প্রবহমান দান), এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।' এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন আবিদ (ইবাদতকারী) এর উপর একজন আলিম (জ্ঞানী) এর শ্রেষ্ঠত্ব আমার তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যক্তির উপর শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়।' অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমান ও যমীনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং মাছও মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদানকারীদের জন্য দোয়া করে।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন মুমিন কল্যাণের প্রতি কখনো তৃপ্ত হবে না, যতক্ষণ না তার শেষ গন্তব্য জান্নাত হয়।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন ফকীহ (ইসলামী আইনজ্ঞ) শয়তানের জন্য এক হাজার আবিদ (ইবাদতকারী) অপেক্ষা অধিক কঠিন।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
* আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং তিনি অতিরিক্ত বলেছেন: 'প্রত্যেক জিনিসের একটি খুঁটি আছে, আর এই দ্বীনের খুঁটি হলো ফিকহ (ধর্মীয় জ্ঞান)। দ্বীনের ফিকহ অপেক্ষা উত্তম কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।'
* আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া অভিশপ্ত, এবং দুনিয়াতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর যিকির এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর আলিম (জ্ঞানী) ও মুতাআল্লিম (শিক্ষার্থী) ব্যতীত।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর ফেরেশতাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন। নিশ্চয়ই আলিমের জন্য আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, এমনকি পানির মাছও ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আবিদ (ইবাদতকারী) এর উপর আলিম (জ্ঞানী) এর শ্রেষ্ঠত্ব তারকাসমূহের উপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। নিশ্চয়ই উলামাগণ (আলিমগণ) নবীদের ওয়ারিশ। নবীরা দিনার বা দিরহামের উত্তরাধিকারী করেননি, বরং তারা জ্ঞানের উত্তরাধিকারী করেছেন। সুতরাং যে তা গ্রহণ করলো, সে এক বিরাট অংশ গ্রহণ করলো।' এটি আবু দাউদ, তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
* এই অধ্যায়ে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা যথেষ্ট।
* আর সালাফদের (পূর্ববর্তী নেককারগণ) থেকে বর্ণিত আসার (উক্তি) এত বেশি যে, তা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এত প্রসিদ্ধ যে, তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে আমরা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং অন্যান্য আসার প্রতি ইঙ্গিত ও মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।
* আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'জ্ঞানের জন্য এতটুকু সম্মানই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি তা ভালোভাবে জানে না, সেও এর দাবি করে এবং যখন তার দিকে জ্ঞানকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন সে আনন্দিত হয়। আর অজ্ঞতার জন্য এতটুকু নিন্দাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি অজ্ঞতার মধ্যে আছে, সেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করে।'
* মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। কেননা আল্লাহর জন্য জ্ঞান অর্জন করা হলো আল্লাহভীতি, তা অন্বেষণ করা ইবাদত, তা আলোচনা করা তাসবীহ, তা নিয়ে গবেষণা করা জিহাদ, যে জানে না তাকে তা শিক্ষা দেওয়া সদকা, এবং এর যোগ্য ব্যক্তিকে তা দান করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।'
* আবু মুসলিম আল-খাওলানী বলেছেন: 'পৃথিবীতে উলামাদের (জ্ঞানীগণের) দৃষ্টান্ত আসমানের তারকাসমূহের দৃষ্টান্তের ন্যায়। যখন তারা মানুষের কাছে প্রকাশিত হন, তখন মানুষ তাদের দ্বারা পথ খুঁজে পায়। আর যখন তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, তখন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।'
* ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'তা থেকে শাখা-প্রশাখা বের হয়...'
আর এখানে 'হাসাদ' (হিংসা) দ্বারা 'গিবতাহ' (সদগুণে ঈর্ষা) উদ্দেশ্য, যা হলো অন্যের অনুরূপ কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। আর এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির দিকে ধাবিতকারী এই দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কারো প্রতি ঈর্ষা করা উচিত নয়।
সাহল ইবনু সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: 'আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (মূল্যবান সম্পদ) অপেক্ষা উত্তম।' উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য তার অনুসারীদের পুরস্কারের অনুরূপ পুরস্কার রয়েছে, এতে তাদের পুরস্কার থেকে কিছুই হ্রাস পাবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে, এতে তাদের পাপ থেকে কিছুই হ্রাস পাবে না।' এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়াহ (প্রবহমান দান), এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।' এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে থাকে।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন আবিদ (ইবাদতকারী) এর উপর একজন আলিম (জ্ঞানী) এর শ্রেষ্ঠত্ব আমার তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যক্তির উপর শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়।' অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমান ও যমীনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং মাছও মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদানকারীদের জন্য দোয়া করে।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন মুমিন কল্যাণের প্রতি কখনো তৃপ্ত হবে না, যতক্ষণ না তার শেষ গন্তব্য জান্নাত হয়।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'একজন ফকীহ (ইসলামী আইনজ্ঞ) শয়তানের জন্য এক হাজার আবিদ (ইবাদতকারী) অপেক্ষা অধিক কঠিন।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
* আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং তিনি অতিরিক্ত বলেছেন: 'প্রত্যেক জিনিসের একটি খুঁটি আছে, আর এই দ্বীনের খুঁটি হলো ফিকহ (ধর্মীয় জ্ঞান)। দ্বীনের ফিকহ অপেক্ষা উত্তম কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।'
* আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া অভিশপ্ত, এবং দুনিয়াতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর যিকির এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর আলিম (জ্ঞানী) ও মুতাআল্লিম (শিক্ষার্থী) ব্যতীত।' এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদীস।
* আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আর ফেরেশতাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন। নিশ্চয়ই আলিমের জন্য আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, এমনকি পানির মাছও ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আবিদ (ইবাদতকারী) এর উপর আলিম (জ্ঞানী) এর শ্রেষ্ঠত্ব তারকাসমূহের উপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। নিশ্চয়ই উলামাগণ (আলিমগণ) নবীদের ওয়ারিশ। নবীরা দিনার বা দিরহামের উত্তরাধিকারী করেননি, বরং তারা জ্ঞানের উত্তরাধিকারী করেছেন। সুতরাং যে তা গ্রহণ করলো, সে এক বিরাট অংশ গ্রহণ করলো।' এটি আবু দাউদ, তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
* এই অধ্যায়ে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা যথেষ্ট।
* আর সালাফদের (পূর্ববর্তী নেককারগণ) থেকে বর্ণিত আসার (উক্তি) এত বেশি যে, তা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এত প্রসিদ্ধ যে, তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে আমরা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং অন্যান্য আসার প্রতি ইঙ্গিত ও মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।
* আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'জ্ঞানের জন্য এতটুকু সম্মানই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি তা ভালোভাবে জানে না, সেও এর দাবি করে এবং যখন তার দিকে জ্ঞানকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন সে আনন্দিত হয়। আর অজ্ঞতার জন্য এতটুকু নিন্দাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি অজ্ঞতার মধ্যে আছে, সেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করে।'
* মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। কেননা আল্লাহর জন্য জ্ঞান অর্জন করা হলো আল্লাহভীতি, তা অন্বেষণ করা ইবাদত, তা আলোচনা করা তাসবীহ, তা নিয়ে গবেষণা করা জিহাদ, যে জানে না তাকে তা শিক্ষা দেওয়া সদকা, এবং এর যোগ্য ব্যক্তিকে তা দান করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।'
* আবু মুসলিম আল-খাওলানী বলেছেন: 'পৃথিবীতে উলামাদের (জ্ঞানীগণের) দৃষ্টান্ত আসমানের তারকাসমূহের দৃষ্টান্তের ন্যায়। যখন তারা মানুষের কাছে প্রকাশিত হন, তখন মানুষ তাদের দ্বারা পথ খুঁজে পায়। আর যখন তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান, তখন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।'
* ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'তা থেকে শাখা-প্রশাখা বের হয়...'
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْعِلْمِ الشَّرَفُ وَإِنْ كَانَ صَاحِبُهُ دَنِيئًا: وَالْعِزُّ وَإِنْ كَانَ مَهِينًا وَالْقُرْبُ وَإِنْ كَانَ قَصِيًّا: وَالْغِنَى وَإِنْ كَانَ فَقِيرًا وَالنُّبْلُ وَإِنْ كَانَ حَقِيرًا وَالْمَهَابَةُ وَإِنْ كَانَ وَضِيعًا: وَالسَّلَامَةُ وَإِنْ كَانَ سَفِيهًا
* وَعَنْ الْفُضَيْلِ قَالَ عَالِمٌ عَامِلٌ بِعِلْمِهِ يُدْعَى كَبِيرًا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوَاتِ
* وَقَالَ غيره اليس يستغفر لطالب العلم كل شئ أَفَكَهَذَا مَنْزِلَةٌ وَقِيلَ الْعَالِمُ كَالْعَيْنِ الْعَذْبَةِ نَفْعُهَا دَائِمٌ
* وَقِيلَ الْعَالِمُ كَالسِّرَاجِ مَنْ مَرَّ بِهِ اقْتَبَسَ
*
وَقِيلَ الْعِلْمُ يَحْرُسُكَ وَأَنْتَ تَحْرُسُ الْمَالَ وَهُوَ يَدْفَعُ عَنْكَ وَأَنْتَ تَدْفَعُ عَنْ الْمَالِ
* وَقِيلَ الْعِلْمُ حَيَاةُ الْقُلُوبِ مِنْ الْجَهْلِ وَمِصْبَاحُ الْبَصَائِرِ فِي الظُّلَمِ بِهِ تُبْلَغُ مَنَازِلُ الْأَبْرَارِ وَدَرَجَاتِ الْأَخْيَارِ وَالتَّفَكُّرُ فِيهِ وَمُدَارَسَتُهُ تُرَجَّحُ عَلَى الصَّلَاةِ وَصَاحِبُهُ مُبَجَّلٌ مُكَرَّمٌ
* وَقِيلَ مَثَلُ الْعَالِمِ مَثَلُ الْحَمَّةِ تَأْتِيهَا الْبُعَدَاءُ وَيَتْرُكُهَا الْأَقْرِبَاءُ فَبَيْنَا هِيَ كَذَلِكَ إذْ غَارَ مَاؤُهَا وَقَدْ انْتَفَعَ بِهَا وَبَقِيَ قَوْمٌ يَتَفَكَّنُونَ أَيْ يَتَنَدَّمُونَ
* قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الْحَمَّةُ بِفَتْحِ الْحَاءِ عَيْنُ مَاءٍ حَارٍّ يُسْتَشْفَى بِالِاغْتِسَالِ فِيهَا
* وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ طَلَبُ الْعِلْمِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ النَّافِلَةِ
* وَقَالَ لَيْسَ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلُ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَقَالَ مَنْ أَرَادَ الدُّنْيَا فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ
* وَقَالَ مِنْ لَا يُحِبُّ الْعِلْمَ فَلَا خَيْرَ فِيهِ فَلَا يَكُنْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ مَعْرِفَةٌ وَلَا صَدَاقَةٌ
* وَقَالَ الْعِلْمُ مُرُوءَةُ مَنْ لَا مُرُوءَةَ لَهُ
* وَقَالَ ان لم تكن الْفُقَهَاءُ الْعَامِلُونَ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ
* وَقَالَ مَا أَحَدٌ أَوْرَعُ لِخَالِقِهِ مِنْ الْفُقَهَاءِ
* وَقَالَ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ عَظُمَتْ قِيمَتُهُ وَمَنْ نَظَرَ فِي الْفِقْهِ نَبُلَ قَدْرُهُ: وَمَنْ نَظَرَ فِي اللُّغَةِ رَقَّ طَبْعُهُ: وَمَنْ نَظَرَ فِي الْحِسَابِ جَزُلَ رَأْيُهُ وَمَنْ كَتَبَ الْحَدِيثَ قَوِيَتْ حُجَّتُهُ وَمَنْ لَمْ يَصُنْ نَفْسَهُ لَمْ يَنْفَعْهُ عِلْمُهُ
*) وَقَالَ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْفَرَائِضِ مِنْ صَحِيحِهِ قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَعَلَّمُوا قَبْلَ الظَّانِّينَ قَالَ الْبُخَارِيُّ يَعْنِي الَّذِينَ يَتَكَلَّمُونَ بِالظَّنِّ: وَمَعْنَاهُ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ مِنْ أَهْلِهِ الْمُحَقِّقِينَ الْوَرِعِينَ قَبْلَ ذهابهم ومجئ قَوْمٍ يَتَكَلَّمُونَ فِي الْعِلْمِ بِمِثْلِ نُفُوسِهِمْ وَظُنُونِهِمْ التى ليس لها مستند شرعي
* فَصْلٌ (فِي تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ الْعِبَادَاتِ الْقَاصِرَةِ عَلَى فَاعِلِهَا) قَدْ تَقَدَّمَتْ الْآيَاتُ الْكَرِيمَاتُ فِي هَذَا الْمَعْنَى كَقَوْلِهِ تَعَالَى (هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يعلمون) وقَوْله تَعَالَى (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العلماء) وَغَيْرِ ذَلِكَ
* وَمِنْ الْأَحَادِيثِ مَا سَبَقَ كَحَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ لَا حَسَدَ إلَّا فِي اثْنَتَيْنِ وَحَدِيثِ مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَحَدِيثِ إذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إلَّا مِنْ ثَلَاثٍ
* وَحَدِيثِ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ
* وَحَدِيثِ فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ
* وَحَدِيثِ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا
* وَحَدِيثِ مَنْ دَعَا إلَى هُدًى
* وَحَدِيثِ لا ن يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا تَقَدَّمَ
* وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِي الْمَسْجِدِ مَجْلِسَانِ مَجْلِسٌ يَتَفَقَّهُونَ وَمَجْلِسٌ يَدْعُونَ اللَّهَ وَيَسْأَلُونَهُ فَقَالَ كِلَا الْمَجْلِسَيْنِ إلَى خَيْرٍ أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ وَيُفَقِّهُونَ الْجَاهِلَ.
هَؤُلَاءِ أَفْضَلُ: بِالتَّعْلِيمِ أُرْسِلْتُ ثُمَّ قَعَدَ مَعَهُمْ.
رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بن ماجه
* وروى الْخَطِيبُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ
* وَعَنْ الْفُضَيْلِ قَالَ عَالِمٌ عَامِلٌ بِعِلْمِهِ يُدْعَى كَبِيرًا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوَاتِ
* وَقَالَ غيره اليس يستغفر لطالب العلم كل شئ أَفَكَهَذَا مَنْزِلَةٌ وَقِيلَ الْعَالِمُ كَالْعَيْنِ الْعَذْبَةِ نَفْعُهَا دَائِمٌ
* وَقِيلَ الْعَالِمُ كَالسِّرَاجِ مَنْ مَرَّ بِهِ اقْتَبَسَ
*
وَقِيلَ الْعِلْمُ يَحْرُسُكَ وَأَنْتَ تَحْرُسُ الْمَالَ وَهُوَ يَدْفَعُ عَنْكَ وَأَنْتَ تَدْفَعُ عَنْ الْمَالِ
* وَقِيلَ الْعِلْمُ حَيَاةُ الْقُلُوبِ مِنْ الْجَهْلِ وَمِصْبَاحُ الْبَصَائِرِ فِي الظُّلَمِ بِهِ تُبْلَغُ مَنَازِلُ الْأَبْرَارِ وَدَرَجَاتِ الْأَخْيَارِ وَالتَّفَكُّرُ فِيهِ وَمُدَارَسَتُهُ تُرَجَّحُ عَلَى الصَّلَاةِ وَصَاحِبُهُ مُبَجَّلٌ مُكَرَّمٌ
* وَقِيلَ مَثَلُ الْعَالِمِ مَثَلُ الْحَمَّةِ تَأْتِيهَا الْبُعَدَاءُ وَيَتْرُكُهَا الْأَقْرِبَاءُ فَبَيْنَا هِيَ كَذَلِكَ إذْ غَارَ مَاؤُهَا وَقَدْ انْتَفَعَ بِهَا وَبَقِيَ قَوْمٌ يَتَفَكَّنُونَ أَيْ يَتَنَدَّمُونَ
* قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ الْحَمَّةُ بِفَتْحِ الْحَاءِ عَيْنُ مَاءٍ حَارٍّ يُسْتَشْفَى بِالِاغْتِسَالِ فِيهَا
* وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ طَلَبُ الْعِلْمِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ النَّافِلَةِ
* وَقَالَ لَيْسَ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلُ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَقَالَ مَنْ أَرَادَ الدُّنْيَا فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ فَعَلَيْهِ بِالْعِلْمِ
* وَقَالَ مِنْ لَا يُحِبُّ الْعِلْمَ فَلَا خَيْرَ فِيهِ فَلَا يَكُنْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ مَعْرِفَةٌ وَلَا صَدَاقَةٌ
* وَقَالَ الْعِلْمُ مُرُوءَةُ مَنْ لَا مُرُوءَةَ لَهُ
* وَقَالَ ان لم تكن الْفُقَهَاءُ الْعَامِلُونَ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ
* وَقَالَ مَا أَحَدٌ أَوْرَعُ لِخَالِقِهِ مِنْ الْفُقَهَاءِ
* وَقَالَ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ عَظُمَتْ قِيمَتُهُ وَمَنْ نَظَرَ فِي الْفِقْهِ نَبُلَ قَدْرُهُ: وَمَنْ نَظَرَ فِي اللُّغَةِ رَقَّ طَبْعُهُ: وَمَنْ نَظَرَ فِي الْحِسَابِ جَزُلَ رَأْيُهُ وَمَنْ كَتَبَ الْحَدِيثَ قَوِيَتْ حُجَّتُهُ وَمَنْ لَمْ يَصُنْ نَفْسَهُ لَمْ يَنْفَعْهُ عِلْمُهُ
*) وَقَالَ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْفَرَائِضِ مِنْ صَحِيحِهِ قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَعَلَّمُوا قَبْلَ الظَّانِّينَ قَالَ الْبُخَارِيُّ يَعْنِي الَّذِينَ يَتَكَلَّمُونَ بِالظَّنِّ: وَمَعْنَاهُ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ مِنْ أَهْلِهِ الْمُحَقِّقِينَ الْوَرِعِينَ قَبْلَ ذهابهم ومجئ قَوْمٍ يَتَكَلَّمُونَ فِي الْعِلْمِ بِمِثْلِ نُفُوسِهِمْ وَظُنُونِهِمْ التى ليس لها مستند شرعي
* فَصْلٌ (فِي تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ الْعِبَادَاتِ الْقَاصِرَةِ عَلَى فَاعِلِهَا) قَدْ تَقَدَّمَتْ الْآيَاتُ الْكَرِيمَاتُ فِي هَذَا الْمَعْنَى كَقَوْلِهِ تَعَالَى (هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يعلمون) وقَوْله تَعَالَى (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العلماء) وَغَيْرِ ذَلِكَ
* وَمِنْ الْأَحَادِيثِ مَا سَبَقَ كَحَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ لَا حَسَدَ إلَّا فِي اثْنَتَيْنِ وَحَدِيثِ مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَحَدِيثِ إذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إلَّا مِنْ ثَلَاثٍ
* وَحَدِيثِ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ
* وَحَدِيثِ فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ
* وَحَدِيثِ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا
* وَحَدِيثِ مَنْ دَعَا إلَى هُدًى
* وَحَدِيثِ لا ن يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا تَقَدَّمَ
* وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِي الْمَسْجِدِ مَجْلِسَانِ مَجْلِسٌ يَتَفَقَّهُونَ وَمَجْلِسٌ يَدْعُونَ اللَّهَ وَيَسْأَلُونَهُ فَقَالَ كِلَا الْمَجْلِسَيْنِ إلَى خَيْرٍ أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ وَيُفَقِّهُونَ الْجَاهِلَ.
هَؤُلَاءِ أَفْضَلُ: بِالتَّعْلِيمِ أُرْسِلْتُ ثُمَّ قَعَدَ مَعَهُمْ.
رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بن ماجه
* وروى الْخَطِيبُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ
জ্ঞানের রয়েছে মর্যাদা, যদিও তার অধিকারী নিম্নবংশীয় হয়; এবং সম্মান, যদিও সে তুচ্ছ হয়; এবং নৈকট্য, যদিও সে দূরবর্তী হয়; এবং প্রাচুর্য, যদিও সে দরিদ্র হয়; এবং আভিজাত্য, যদিও সে হেয় হয়; এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি, যদিও সে সাধারণ হয়; এবং নিরাপত্তা, যদিও সে নির্বোধ হয়।
* ফুযাইল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে আলেম তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, তাকে আসমানসমূহের রাজত্বে মহান বলে ডাকা হয়।
* অন্যরা বলেছেন: জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য কি সবকিছু ক্ষমা প্রার্থনা করে না? এমন মর্যাদা আর কি আছে?
* এবং বলা হয়েছে: আলেম মিষ্টি পানির ঝর্ণার মতো, যার উপকারিতা চিরস্থায়ী।
* এবং বলা হয়েছে: আলেম প্রদীপের মতো, যে তার পাশ দিয়ে যায়, সে আলো গ্রহণ করে।
* এবং বলা হয়েছে: জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করে, আর তুমি সম্পদ রক্ষা করো। জ্ঞান তোমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করে, আর তুমি সম্পদকে রক্ষা করো।
* এবং বলা হয়েছে: জ্ঞান হলো অজ্ঞতা থেকে হৃদয়ের জীবন, এবং অন্ধকারের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টির প্রদীপ। এর মাধ্যমেই নেককারদের উচ্চ স্থান এবং সৎকর্মশীলদের মর্যাদা লাভ করা যায়। এতে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর চর্চা করা (নফল) সালাতের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। আর এর অধিকারী সম্মানিত ও মর্যাদাবান।
* এবং বলা হয়েছে: আলেমের উপমা হলো উষ্ণ প্রস্রবণের মতো, দূরবর্তী লোকেরা তার কাছে আসে, আর নিকটবর্তী লোকেরা তাকে ছেড়ে যায়। এমন অবস্থায় যখন তার পানি শুকিয়ে যায়, তখন লোকেরা তা থেকে উপকৃত হয়ে গেছে। আর একদল লোক আফসোস করতে থাকে, অর্থাৎ অনুতপ্ত হয়।
* ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'আল-হাম্মাহ' (ح অক্ষর ফাতহা সহ) হলো উষ্ণ পানির ঝর্ণা, যার পানিতে গোসল করে আরোগ্য লাভ করা হয়।
* ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইলম অন্বেষণ নফল সালাতের চেয়ে উত্তম।
* এবং তিনি বলেছেন: ফরয ইবাদতসমূহের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যে দুনিয়া চায়, সে যেন ইলম অর্জন করে। আর যে আখিরাত চায়, সেও যেন ইলম অর্জন করে।
* এবং তিনি বলেছেন: যে ইলমকে ভালোবাসে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। সুতরাং তোমার ও তার মাঝে কোনো পরিচয় বা বন্ধুত্ব যেন না থাকে।
* এবং তিনি বলেছেন: জ্ঞান হলো তার জন্য পৌরুষত্ব (বা আত্মমর্যাদা), যার কোনো পৌরুষত্ব নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যদি আমলকারী ফকীহগণ আল্লাহর ওলী না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলী নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: ফকীহগণের চেয়ে তাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি অধিক পরহেজগার আর কেউ নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যে কুরআন শেখে, তার মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর যে ফিকহ অধ্যয়ন করে, তার মর্যাদা মহৎ হয়। আর যে ভাষা অধ্যয়ন করে, তার স্বভাব কোমল হয়। আর যে হিসাবশাস্ত্র অধ্যয়ন করে, তার মতামত সুদৃঢ় হয়। আর যে হাদীস লিপিবদ্ধ করে, তার যুক্তি শক্তিশালী হয়। আর যে নিজেকে (পাপ থেকে) রক্ষা করে না, তার জ্ঞান তাকে কোনো উপকার দেয় না।
* ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ফারাইয'-এর শুরুতে বলেছেন: উকবাহ ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "অনুমানকারীদের (আয-যান্নীন) আসার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো।" ইমাম বুখারী বলেছেন: "এর অর্থ হলো, যারা অনুমান (যান্ন) দ্বারা কথা বলে।" আর এর তাৎপর্য হলো: "জ্ঞান অর্জন করো তার প্রকৃত অধিকারী, পরহেজগার আলেমদের কাছ থেকে, তাদের চলে যাওয়ার পূর্বে এবং এমন একদল লোকের আসার পূর্বে, যারা নিজেদের খেয়াল-খুশি ও অনুমান দ্বারা ইলম সম্পর্কে কথা বলবে, যার কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই।"
**পরিচ্ছেদ: (নামাজ, রোজা এবং অন্যান্য ইবাদতের উপর ইলম চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রসঙ্গে, যা কেবল তার সম্পাদনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে)**
এই অর্থে পূর্বে সম্মানিত আয়াতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী: "যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?" (সূরা যুমার: ৯) এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।" (সূরা ফাতির: ২৮) এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
* এবং হাদীসসমূহের মধ্যে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস: "দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা জায়েজ নয়।"
* এবং হাদীস: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।"
* এবং হাদীস: "যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া।"
* এবং হাদীস: "আবেদের উপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের সর্বনিম্ন ব্যক্তির উপর যেমন।"
* এবং হাদীস: "একজন ফকীহ শয়তানের উপর এক হাজার আবেদের চেয়েও কঠিন।"
* এবং হাদীস: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে..."
* এবং হাদীস: "যে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে..."
* এবং হাদীস: "আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকে হেদায়েত দান করেন..." এবং এ জাতীয় অন্যান্য যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
* আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বের হলেন। তখন মসজিদে দুটি মজলিস ছিল: একটি মজলিসে লোকেরা ফিকহ চর্চা করছিল, আর অন্য মজলিসে লোকেরা আল্লাহর কাছে দু'আ করছিল এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করছিল। তখন তিনি বললেন: "উভয় মজলিসই কল্যাণের উপর রয়েছে। তবে এরা তো আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করছে। আর এরা জ্ঞান অর্জন করছে এবং অজ্ঞদেরকে ফিকহ শেখাচ্ছে।" এরপর তিনি বললেন: "এরা (জ্ঞান চর্চাকারীরা) উত্তম। আমাকে তো শিক্ষক হিসেবেই পাঠানো হয়েছে।" অতঃপর তিনি তাদের সাথে বসলেন। এটি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
* আর খতীব আল-হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন...
* ফুযাইল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে আলেম তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, তাকে আসমানসমূহের রাজত্বে মহান বলে ডাকা হয়।
* অন্যরা বলেছেন: জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য কি সবকিছু ক্ষমা প্রার্থনা করে না? এমন মর্যাদা আর কি আছে?
* এবং বলা হয়েছে: আলেম মিষ্টি পানির ঝর্ণার মতো, যার উপকারিতা চিরস্থায়ী।
* এবং বলা হয়েছে: আলেম প্রদীপের মতো, যে তার পাশ দিয়ে যায়, সে আলো গ্রহণ করে।
* এবং বলা হয়েছে: জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করে, আর তুমি সম্পদ রক্ষা করো। জ্ঞান তোমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করে, আর তুমি সম্পদকে রক্ষা করো।
* এবং বলা হয়েছে: জ্ঞান হলো অজ্ঞতা থেকে হৃদয়ের জীবন, এবং অন্ধকারের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টির প্রদীপ। এর মাধ্যমেই নেককারদের উচ্চ স্থান এবং সৎকর্মশীলদের মর্যাদা লাভ করা যায়। এতে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর চর্চা করা (নফল) সালাতের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। আর এর অধিকারী সম্মানিত ও মর্যাদাবান।
* এবং বলা হয়েছে: আলেমের উপমা হলো উষ্ণ প্রস্রবণের মতো, দূরবর্তী লোকেরা তার কাছে আসে, আর নিকটবর্তী লোকেরা তাকে ছেড়ে যায়। এমন অবস্থায় যখন তার পানি শুকিয়ে যায়, তখন লোকেরা তা থেকে উপকৃত হয়ে গেছে। আর একদল লোক আফসোস করতে থাকে, অর্থাৎ অনুতপ্ত হয়।
* ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'আল-হাম্মাহ' (ح অক্ষর ফাতহা সহ) হলো উষ্ণ পানির ঝর্ণা, যার পানিতে গোসল করে আরোগ্য লাভ করা হয়।
* ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইলম অন্বেষণ নফল সালাতের চেয়ে উত্তম।
* এবং তিনি বলেছেন: ফরয ইবাদতসমূহের পর ইলম অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যে দুনিয়া চায়, সে যেন ইলম অর্জন করে। আর যে আখিরাত চায়, সেও যেন ইলম অর্জন করে।
* এবং তিনি বলেছেন: যে ইলমকে ভালোবাসে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। সুতরাং তোমার ও তার মাঝে কোনো পরিচয় বা বন্ধুত্ব যেন না থাকে।
* এবং তিনি বলেছেন: জ্ঞান হলো তার জন্য পৌরুষত্ব (বা আত্মমর্যাদা), যার কোনো পৌরুষত্ব নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যদি আমলকারী ফকীহগণ আল্লাহর ওলী না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলী নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: ফকীহগণের চেয়ে তাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি অধিক পরহেজগার আর কেউ নেই।
* এবং তিনি বলেছেন: যে কুরআন শেখে, তার মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর যে ফিকহ অধ্যয়ন করে, তার মর্যাদা মহৎ হয়। আর যে ভাষা অধ্যয়ন করে, তার স্বভাব কোমল হয়। আর যে হিসাবশাস্ত্র অধ্যয়ন করে, তার মতামত সুদৃঢ় হয়। আর যে হাদীস লিপিবদ্ধ করে, তার যুক্তি শক্তিশালী হয়। আর যে নিজেকে (পাপ থেকে) রক্ষা করে না, তার জ্ঞান তাকে কোনো উপকার দেয় না।
* ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ফারাইয'-এর শুরুতে বলেছেন: উকবাহ ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "অনুমানকারীদের (আয-যান্নীন) আসার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো।" ইমাম বুখারী বলেছেন: "এর অর্থ হলো, যারা অনুমান (যান্ন) দ্বারা কথা বলে।" আর এর তাৎপর্য হলো: "জ্ঞান অর্জন করো তার প্রকৃত অধিকারী, পরহেজগার আলেমদের কাছ থেকে, তাদের চলে যাওয়ার পূর্বে এবং এমন একদল লোকের আসার পূর্বে, যারা নিজেদের খেয়াল-খুশি ও অনুমান দ্বারা ইলম সম্পর্কে কথা বলবে, যার কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই।"
**পরিচ্ছেদ: (নামাজ, রোজা এবং অন্যান্য ইবাদতের উপর ইলম চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রসঙ্গে, যা কেবল তার সম্পাদনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে)**
এই অর্থে পূর্বে সম্মানিত আয়াতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী: "যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?" (সূরা যুমার: ৯) এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।" (সূরা ফাতির: ২৮) এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
* এবং হাদীসসমূহের মধ্যে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস: "দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা জায়েজ নয়।"
* এবং হাদীস: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।"
* এবং হাদীস: "যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া।"
* এবং হাদীস: "আবেদের উপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের সর্বনিম্ন ব্যক্তির উপর যেমন।"
* এবং হাদীস: "একজন ফকীহ শয়তানের উপর এক হাজার আবেদের চেয়েও কঠিন।"
* এবং হাদীস: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের পথে চলে..."
* এবং হাদীস: "যে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে..."
* এবং হাদীস: "আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকে হেদায়েত দান করেন..." এবং এ জাতীয় অন্যান্য যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
* আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বের হলেন। তখন মসজিদে দুটি মজলিস ছিল: একটি মজলিসে লোকেরা ফিকহ চর্চা করছিল, আর অন্য মজলিসে লোকেরা আল্লাহর কাছে দু'আ করছিল এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করছিল। তখন তিনি বললেন: "উভয় মজলিসই কল্যাণের উপর রয়েছে। তবে এরা তো আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করছে। আর এরা জ্ঞান অর্জন করছে এবং অজ্ঞদেরকে ফিকহ শেখাচ্ছে।" এরপর তিনি বললেন: "এরা (জ্ঞান চর্চাকারীরা) উত্তম। আমাকে তো শিক্ষক হিসেবেই পাঠানো হয়েছে।" অতঃপর তিনি তাদের সাথে বসলেন। এটি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
* আর খতীব আল-হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ابن ثَابِتٍ الْبَغْدَادِيُّ فِي كِتَابِهِ كِتَابُ الْفَقِيهِ وَالْمُتَفَقِّهِ أَحَادِيثَ وَآثَارًا كَثِيرَةً بِأَسَانِيدِهَا الْمُطَرَّقَةِ مِنْهَا عَنْ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالُوا يَا رَسُولَ الله وما رياض الجنة قال خلق الذِّكْرِ فَإِنَّ لِلَّهِ سَيَّارَاتٌ مِنْ الْمَلَائِكَةِ يَطْلُبُونَ حِلَقَ الذِّكْرِ فَإِذَا أَتَوْا عَلَيْهِمْ حَفُّوا بِهِمْ
* وعن عطاء قال مجالس الذكر هي مجال الخلال والحرام كيف تشترى وتبيع وتصلى وتصوم تنكح وَتُطَلِّقُ وَتَحُجُّ وَأَشْبَاهُ هَذَا
* وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَجْلِسُ فِقْهٍ خَيْرٌ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةً
* وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَسِيرُ الْفِقْهِ خَيْرٌ مِنْ كَثِيرِ الْعِبَادَةِ
* وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقيه أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ
* وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الْعِبَادَةِ الْفِقْهُ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ مَا نَحْنُ لَوْلَا كَلِمَاتُ الْفُقَهَاءِ: وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْعَالِمُ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ
* وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا بَابٌ مِنْ الْعِلْمِ نَتَعَلَّمُهُ أَحَبُّ إلَيْنَا مِنْ أَلْفِ رَكْعَةِ تَطَوُّعٍ.
وَبَابٌ مِنْ الْعِلْمِ نَعْلَمُهُ عُمِلَ بِهِ أَوْ لَمْ يُعْمَلْ أَحَبُّ إلَيْنَا مِنْ مِائَةِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا
* وَقَالَا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إذَا جَاءَ الْمَوْتُ طَالِبَ الْعِلْمِ وَهُوَ عَلَى هَذِهِ الْحَالِ مَاتَ وَهُوَ شَهِيدٌ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَأَنْ أَعْلَمَ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ فِي أَمْرٍ وَنَهْيٍ أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ سَبْعِينَ غَزْوَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ مُذَاكَرَةُ الْعِلْمِ سَاعَةً خَيْرٌ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةٍ
* وَعَنْ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ.
قَالَ لَأَنْ أَتَعَلَّمَ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ فَأُعَلِّمَهُ مُسْلِمًا أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ أَنْ تَكُونَ لِي الدُّنْيَا كُلُّهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى
* وَعَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ.
دِرَاسَةُ الْعِلْمِ صَلَاةٌ
* وَعَنْ سفيان الثوري والشافعي ليس شئ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلَ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَعَنْ احمد بن حنبل وقيل له أي شئ أَحَبُّ إلَيْكَ.
أَجْلِسُ بِاللَّيْلِ أَنْسَخُ أَوْ أُصَلِّي تَطَوُّعًا.
قَالَ فَنُسَخُكَ (1) تَعْلَمُ
بِهَا أَمْرَ دِينِكَ فهو أَحَبُّ
* وَعَنْ مَكْحُولٍ مَا عُبِدَ اللَّهُ بِأَفْضَلَ مِنْ الْفِقْهِ
* وَعَنْ الزُّهْرِيِّ مَا عُبِدَ اللَّهُ بِمِثْلِ الْفِقْهِ
* وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ ليست عبادة بِالصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَلَكِنْ بِالْفِقْهِ فِي دِينِهِ يَعْنِي لَيْسَ أَعْظَمُهَا وَأَفْضَلُهَا الصَّوْمَ بَلْ الْفِقْهَ
* وَعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ أَقْرَبُ النَّاسِ مِنْ دَرَجَةِ النُّبُوَّةِ أَهْلُ الْعِلْمِ وَأَهْلُ الْجِهَادِ فَالْعُلَمَاءُ دَلُّوا النَّاسَ عَلَى مَا جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَأَهْلُ الْجِهَادِ جَاهَدُوا عَلَى مَا جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ
* وَعَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ أَرْفَعُ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مَنْزِلَةً مَنْ كَانَ بَيْنَ اللَّهِ وَعِبَادِهِ وَهُمْ الرُّسُلُ وَالْعُلَمَاءُ
* وَعَنْ سَهْلٍ التُّسْتَرِيِّ مَنْ أَرَادَ النَّظَرَ إلَى مَجَالِسِ الْأَنْبِيَاءِ فَلْيَنْظُرْ إلَى مَجَالِسِ الْعُلَمَاءِ فَاعْرِفُوا لَهُمْ ذَلِكَ
* فَهَذِهِ أَحْرُفٌ مِنْ أَطْرَافِ مَا جَاءَ فِي تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الْعِبَادَةِ.
وَجَاءَ عَنْ جَمَاعَاتٍ مِنْ السَّلَفِ مِمَّنْ لَمْ أَذْكُرْهُ نَحْوُ مَا ذَكَرْتُهُ
* وَالْحَاصِلُ أَنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ الِاشْتِغَالَ بِالْعِلْمِ أَفْضَلُ مِنْ الاشتغال بِنَوَافِلِ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَالتَّسْبِيحِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ نَوَافِلِ عِبَادَاتِ الْبَدَنِ: وَمِنْ دَلَائِلِهِ سِوَى مَا سَبَقَ أَنَّ نَفْعَ الْعِلْمِ يَعُمُّ صَاحِبَهُ وَالْمُسْلِمِينَ وَالنَّوَافِلُ الْمَذْكُورَةُ مُخْتَصَّةٌ بِهِ وَلِأَنَّ الْعِلْمَ مُصَحِّحٌ فَغَيْرُهُ مِنْ الْعِبَادَاتِ مُفْتَقِرٌ إلَيْهِ وَلَا يَنْعَكِسُ: وَلِأَنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَلَا يُوصَفُ الْمُتَعَبِّدُونَ بِذَلِكَ: وَلِأَنَّ الْعَابِدَ تَابِعٌ لِلْعَالِمِ مُقْتَدٍ بِهِ مقلد له في عبادته
__________
(1) هكذا في الاصل ولعل المعنى فنسخك مسألة الخ
* وعن عطاء قال مجالس الذكر هي مجال الخلال والحرام كيف تشترى وتبيع وتصلى وتصوم تنكح وَتُطَلِّقُ وَتَحُجُّ وَأَشْبَاهُ هَذَا
* وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَجْلِسُ فِقْهٍ خَيْرٌ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةً
* وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَسِيرُ الْفِقْهِ خَيْرٌ مِنْ كَثِيرِ الْعِبَادَةِ
* وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقيه أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ
* وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الْعِبَادَةِ الْفِقْهُ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ مَا نَحْنُ لَوْلَا كَلِمَاتُ الْفُقَهَاءِ: وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْعَالِمُ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ
* وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا بَابٌ مِنْ الْعِلْمِ نَتَعَلَّمُهُ أَحَبُّ إلَيْنَا مِنْ أَلْفِ رَكْعَةِ تَطَوُّعٍ.
وَبَابٌ مِنْ الْعِلْمِ نَعْلَمُهُ عُمِلَ بِهِ أَوْ لَمْ يُعْمَلْ أَحَبُّ إلَيْنَا مِنْ مِائَةِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا
* وَقَالَا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إذَا جَاءَ الْمَوْتُ طَالِبَ الْعِلْمِ وَهُوَ عَلَى هَذِهِ الْحَالِ مَاتَ وَهُوَ شَهِيدٌ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَأَنْ أَعْلَمَ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ فِي أَمْرٍ وَنَهْيٍ أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ سَبْعِينَ غَزْوَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
* وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ مُذَاكَرَةُ الْعِلْمِ سَاعَةً خَيْرٌ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةٍ
* وَعَنْ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ.
قَالَ لَأَنْ أَتَعَلَّمَ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ فَأُعَلِّمَهُ مُسْلِمًا أَحَبُّ إلَيَّ مِنْ أَنْ تَكُونَ لِي الدُّنْيَا كُلُّهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى
* وَعَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ.
دِرَاسَةُ الْعِلْمِ صَلَاةٌ
* وَعَنْ سفيان الثوري والشافعي ليس شئ بَعْدَ الْفَرَائِضِ أَفْضَلَ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ
* وَعَنْ احمد بن حنبل وقيل له أي شئ أَحَبُّ إلَيْكَ.
أَجْلِسُ بِاللَّيْلِ أَنْسَخُ أَوْ أُصَلِّي تَطَوُّعًا.
قَالَ فَنُسَخُكَ (1) تَعْلَمُ
بِهَا أَمْرَ دِينِكَ فهو أَحَبُّ
* وَعَنْ مَكْحُولٍ مَا عُبِدَ اللَّهُ بِأَفْضَلَ مِنْ الْفِقْهِ
* وَعَنْ الزُّهْرِيِّ مَا عُبِدَ اللَّهُ بِمِثْلِ الْفِقْهِ
* وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ ليست عبادة بِالصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَلَكِنْ بِالْفِقْهِ فِي دِينِهِ يَعْنِي لَيْسَ أَعْظَمُهَا وَأَفْضَلُهَا الصَّوْمَ بَلْ الْفِقْهَ
* وَعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ أَقْرَبُ النَّاسِ مِنْ دَرَجَةِ النُّبُوَّةِ أَهْلُ الْعِلْمِ وَأَهْلُ الْجِهَادِ فَالْعُلَمَاءُ دَلُّوا النَّاسَ عَلَى مَا جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَأَهْلُ الْجِهَادِ جَاهَدُوا عَلَى مَا جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ
* وَعَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ أَرْفَعُ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مَنْزِلَةً مَنْ كَانَ بَيْنَ اللَّهِ وَعِبَادِهِ وَهُمْ الرُّسُلُ وَالْعُلَمَاءُ
* وَعَنْ سَهْلٍ التُّسْتَرِيِّ مَنْ أَرَادَ النَّظَرَ إلَى مَجَالِسِ الْأَنْبِيَاءِ فَلْيَنْظُرْ إلَى مَجَالِسِ الْعُلَمَاءِ فَاعْرِفُوا لَهُمْ ذَلِكَ
* فَهَذِهِ أَحْرُفٌ مِنْ أَطْرَافِ مَا جَاءَ فِي تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الْعِبَادَةِ.
وَجَاءَ عَنْ جَمَاعَاتٍ مِنْ السَّلَفِ مِمَّنْ لَمْ أَذْكُرْهُ نَحْوُ مَا ذَكَرْتُهُ
* وَالْحَاصِلُ أَنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ الِاشْتِغَالَ بِالْعِلْمِ أَفْضَلُ مِنْ الاشتغال بِنَوَافِلِ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَالتَّسْبِيحِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ نَوَافِلِ عِبَادَاتِ الْبَدَنِ: وَمِنْ دَلَائِلِهِ سِوَى مَا سَبَقَ أَنَّ نَفْعَ الْعِلْمِ يَعُمُّ صَاحِبَهُ وَالْمُسْلِمِينَ وَالنَّوَافِلُ الْمَذْكُورَةُ مُخْتَصَّةٌ بِهِ وَلِأَنَّ الْعِلْمَ مُصَحِّحٌ فَغَيْرُهُ مِنْ الْعِبَادَاتِ مُفْتَقِرٌ إلَيْهِ وَلَا يَنْعَكِسُ: وَلِأَنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَلَا يُوصَفُ الْمُتَعَبِّدُونَ بِذَلِكَ: وَلِأَنَّ الْعَابِدَ تَابِعٌ لِلْعَالِمِ مُقْتَدٍ بِهِ مقلد له في عبادته
__________
(1) هكذا في الاصل ولعل المعنى فنسخك مسألة الخ
ইবনু ছাবিত আল-বাগদাদী তাঁর 'কিতাবুল ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' গ্রন্থে বহু হাদীস ও আসার তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত সনদসহ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে ইবনু উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা জান্নাতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাতে বিচরণ করো।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতের বাগানসমূহ কী?" তিনি বললেন: "যিকিরের মজলিসসমূহ। নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন পরিভ্রমণকারী ফেরেশতাগণ রয়েছেন, যারা যিকিরের মজলিসসমূহ অন্বেষণ করেন। যখন তারা সেগুলোর সন্ধান পান, তখন সেগুলোকে ঘিরে ফেলেন।"
* আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যিকিরের মজলিসসমূহ হলো হালাল ও হারামের ক্ষেত্র; কীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করবে, কীভাবে সালাত আদায় করবে ও সাওম পালন করবে, কীভাবে বিবাহ করবে ও তালাক দেবে, কীভাবে হজ্ব করবে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।"
* ইবনু উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফিক্বহের একটি মজলিস ষাট বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।"
* আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সামান্য ফিক্বহ অনেক ইবাদতের চেয়ে উত্তম।"
* আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর নিকট একজন ফক্বীহ (ইসলামী আইনজ্ঞ) এক হাজার আবিদ (ইবাদতকারী)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
* ইবনু উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ফিক্বহ।"
* আবুদ দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফক্বীহগণের (ইসলামী আইনজ্ঞদের) কথা না থাকলে আমরা কী হতাম!"
* আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একজন আলিম (জ্ঞানী) সাওম পালনকারী, রাত জেগে সালাত আদায়কারী এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীর চেয়ে অধিক প্রতিদানপ্রাপ্ত।"
* আবূ যার ও আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: "জ্ঞানের একটি অধ্যায় যা আমরা শিখি, তা আমাদের নিকট এক হাজার রাকআত নফল সালাতের চেয়ে অধিক প্রিয়। এবং জ্ঞানের একটি অধ্যায় যা আমরা জানি, সে অনুযায়ী আমল করা হোক বা না হোক, তা আমাদের নিকট একশত রাকআত নফল সালাতের চেয়ে অধিক প্রিয়।"
* তাঁরা উভয়ে আরও বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যখন জ্ঞান অন্বেষণকারীর মৃত্যু আসে, আর সে এই অবস্থায় (জ্ঞান অন্বেষণে রত) থাকে, তখন সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।'"
* আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত জ্ঞানের একটি অধ্যায় শেখা আল্লাহর পথে সত্তরটি যুদ্ধের চেয়ে অধিক প্রিয়।"
* আবুদ দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ঘণ্টা জ্ঞান আলোচনা করা এক রাত ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে উত্তম।"
* হাসান আল-বাসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট জ্ঞানের একটি অধ্যায় শেখা এবং তা একজন মুসলিমকে শিক্ষা দেওয়া, এই সমগ্র দুনিয়া আল্লাহর পথে আমার মালিকানাধীন হওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।"
* ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জ্ঞানচর্চা (ইলমের গবেষণা) হলো সালাত।"
* সুফিয়ান আস-সাওরী ও ইমাম শাফিঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: "ফরয ইবাদতসমূহের পর জ্ঞান অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।"
* ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনার নিকট কোনটি অধিক প্রিয়: আমি রাতে বসে কিতাব নকল করি, নাকি নফল সালাত আদায় করি?" তিনি বললেন: "আপনার নকল করা, যার মাধ্যমে আপনি আপনার দ্বীনের বিষয়াদি জানতে পারেন, সেটিই অধিক প্রিয়।"
* মাকহুল (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফিক্বহের চেয়ে উত্তম কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।"
* আয-যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফিক্বহের মতো কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।"
* সাঈদ ইবনু আল-মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবাদত কেবল সাওম ও সালাতের মাধ্যমে নয়, বরং দ্বীনের ফিক্বহের মাধ্যমে।" অর্থাৎ, তিনি বুঝিয়েছেন: "এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ সাওম নয়, বরং ফিক্বহ।"
* ইসহাক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবী ফারওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবুওয়াতের মর্যাদার নিকটতম মানুষ হলো জ্ঞানীরা এবং জিহাদকারীরা। কেননা উলামাগণ (জ্ঞানীগণ) মানুষকে সেই পথের দিশা দেন যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন, আর জিহাদকারীরা সেই পথে জিহাদ করেন যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন।"
* সুফিয়ান ইবনু উয়ায়নাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট মানুষের মধ্যে মর্যাদায় সর্বোচ্চ তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে অবস্থান করেন, আর তাঁরা হলেন রাসূলগণ ও উলামাগণ (জ্ঞানীগণ)।"
* সাহল আত-তুসতারী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি নবীগণের মজলিসসমূহ দেখতে চায়, সে যেন উলামাগণের (জ্ঞানীগণের) মজলিসসমূহের দিকে তাকায়। সুতরাং তাদের এই মর্যাদা তোমরা উপলব্ধি করো।"
জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগকে ইবাদতের উপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, এগুলি তার সামান্য কিছু অংশ মাত্র। এবং আমি যাদের উল্লেখ করিনি, এমন অনেক সালাফ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে।
সারকথা হলো, তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে, জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করা নফল সাওম, সালাত, তাসবীহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য নফল শারীরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার চেয়ে উত্তম। পূর্বোক্ত প্রমাণাদি ছাড়াও এর অন্যতম প্রমাণ হলো, জ্ঞানের উপকারিতা তার অধিকারী এবং সকল মুসলিমকে পরিব্যাপ্ত করে, অথচ উল্লিখিত নফল ইবাদতসমূহ কেবল ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট। এবং এই কারণেও যে, জ্ঞান হলো সংশোধক (যা ইবাদতকে শুদ্ধ করে), তাই অন্যান্য ইবাদত এর মুখাপেক্ষী, কিন্তু এর বিপরীত নয় (অর্থাৎ জ্ঞান ইবাদতের মুখাপেক্ষী নয়)। এবং এই কারণেও যে, উলামাগণ (জ্ঞানীগণ) হলেন নবীগণের উত্তরাধিকারী, অথচ ইবাদতকারীদেরকে এই গুণে ভূষিত করা হয় না। এবং এই কারণেও যে, ইবাদতকারী আলিমের (জ্ঞানীর) অনুসারী, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং তাঁর ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁরই তাক্বলীদকারী (অনুসরণকারী)।
* আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যিকিরের মজলিসসমূহ হলো হালাল ও হারামের ক্ষেত্র; কীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করবে, কীভাবে সালাত আদায় করবে ও সাওম পালন করবে, কীভাবে বিবাহ করবে ও তালাক দেবে, কীভাবে হজ্ব করবে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।"
* ইবনু উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফিক্বহের একটি মজলিস ষাট বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।"
* আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সামান্য ফিক্বহ অনেক ইবাদতের চেয়ে উত্তম।"
* আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর নিকট একজন ফক্বীহ (ইসলামী আইনজ্ঞ) এক হাজার আবিদ (ইবাদতকারী)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
* ইবনু উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ফিক্বহ।"
* আবুদ দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফক্বীহগণের (ইসলামী আইনজ্ঞদের) কথা না থাকলে আমরা কী হতাম!"
* আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একজন আলিম (জ্ঞানী) সাওম পালনকারী, রাত জেগে সালাত আদায়কারী এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীর চেয়ে অধিক প্রতিদানপ্রাপ্ত।"
* আবূ যার ও আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: "জ্ঞানের একটি অধ্যায় যা আমরা শিখি, তা আমাদের নিকট এক হাজার রাকআত নফল সালাতের চেয়ে অধিক প্রিয়। এবং জ্ঞানের একটি অধ্যায় যা আমরা জানি, সে অনুযায়ী আমল করা হোক বা না হোক, তা আমাদের নিকট একশত রাকআত নফল সালাতের চেয়ে অধিক প্রিয়।"
* তাঁরা উভয়ে আরও বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যখন জ্ঞান অন্বেষণকারীর মৃত্যু আসে, আর সে এই অবস্থায় (জ্ঞান অন্বেষণে রত) থাকে, তখন সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।'"
* আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত জ্ঞানের একটি অধ্যায় শেখা আল্লাহর পথে সত্তরটি যুদ্ধের চেয়ে অধিক প্রিয়।"
* আবুদ দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ঘণ্টা জ্ঞান আলোচনা করা এক রাত ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে উত্তম।"
* হাসান আল-বাসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট জ্ঞানের একটি অধ্যায় শেখা এবং তা একজন মুসলিমকে শিক্ষা দেওয়া, এই সমগ্র দুনিয়া আল্লাহর পথে আমার মালিকানাধীন হওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।"
* ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জ্ঞানচর্চা (ইলমের গবেষণা) হলো সালাত।"
* সুফিয়ান আস-সাওরী ও ইমাম শাফিঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: "ফরয ইবাদতসমূহের পর জ্ঞান অন্বেষণের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।"
* ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনার নিকট কোনটি অধিক প্রিয়: আমি রাতে বসে কিতাব নকল করি, নাকি নফল সালাত আদায় করি?" তিনি বললেন: "আপনার নকল করা, যার মাধ্যমে আপনি আপনার দ্বীনের বিষয়াদি জানতে পারেন, সেটিই অধিক প্রিয়।"
* মাকহুল (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফিক্বহের চেয়ে উত্তম কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।"
* আয-যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ফিক্বহের মতো কোনো কিছু দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।"
* সাঈদ ইবনু আল-মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবাদত কেবল সাওম ও সালাতের মাধ্যমে নয়, বরং দ্বীনের ফিক্বহের মাধ্যমে।" অর্থাৎ, তিনি বুঝিয়েছেন: "এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ সাওম নয়, বরং ফিক্বহ।"
* ইসহাক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবী ফারওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবুওয়াতের মর্যাদার নিকটতম মানুষ হলো জ্ঞানীরা এবং জিহাদকারীরা। কেননা উলামাগণ (জ্ঞানীগণ) মানুষকে সেই পথের দিশা দেন যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন, আর জিহাদকারীরা সেই পথে জিহাদ করেন যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন।"
* সুফিয়ান ইবনু উয়ায়নাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট মানুষের মধ্যে মর্যাদায় সর্বোচ্চ তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে অবস্থান করেন, আর তাঁরা হলেন রাসূলগণ ও উলামাগণ (জ্ঞানীগণ)।"
* সাহল আত-তুসতারী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি নবীগণের মজলিসসমূহ দেখতে চায়, সে যেন উলামাগণের (জ্ঞানীগণের) মজলিসসমূহের দিকে তাকায়। সুতরাং তাদের এই মর্যাদা তোমরা উপলব্ধি করো।"
জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগকে ইবাদতের উপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, এগুলি তার সামান্য কিছু অংশ মাত্র। এবং আমি যাদের উল্লেখ করিনি, এমন অনেক সালাফ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে।
সারকথা হলো, তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে, জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করা নফল সাওম, সালাত, তাসবীহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য নফল শারীরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার চেয়ে উত্তম। পূর্বোক্ত প্রমাণাদি ছাড়াও এর অন্যতম প্রমাণ হলো, জ্ঞানের উপকারিতা তার অধিকারী এবং সকল মুসলিমকে পরিব্যাপ্ত করে, অথচ উল্লিখিত নফল ইবাদতসমূহ কেবল ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট। এবং এই কারণেও যে, জ্ঞান হলো সংশোধক (যা ইবাদতকে শুদ্ধ করে), তাই অন্যান্য ইবাদত এর মুখাপেক্ষী, কিন্তু এর বিপরীত নয় (অর্থাৎ জ্ঞান ইবাদতের মুখাপেক্ষী নয়)। এবং এই কারণেও যে, উলামাগণ (জ্ঞানীগণ) হলেন নবীগণের উত্তরাধিকারী, অথচ ইবাদতকারীদেরকে এই গুণে ভূষিত করা হয় না। এবং এই কারণেও যে, ইবাদতকারী আলিমের (জ্ঞানীর) অনুসারী, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং তাঁর ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁরই তাক্বলীদকারী (অনুসরণকারী)।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَغَيْرِهَا وَاجِبٌ عَلَيْهِ طَاعَتُهُ وَلَا يَنْعَكِسُ: وَلِأَنَّ الْعِلْمَ تَبْقَى فَائِدَتُهُ وَأَثَرُهُ بَعْدَ صَاحِبِهِ وَالنَّوَافِلُ تَنْقَطِعُ بِمَوْتِ صَاحِبِهَا.
وَلِأَنَّ الْعِلْمَ صِفَةٌ لِلَّهِ تَعَالَى.
وَلِأَنَّ الْعِلْمَ فَرْضُ كِفَايَةٍ أَعْنِي الْعِلْمَ الذي كلا منا فِيهِ فَكَانَ أَفْضَلَ مِنْ النَّافِلَةِ: وَقَدْ قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ الْغِيَاثِيِّ فَرْضُ الْكِفَايَةِ أَفْضَلُ مِنْ فَرْضِ الْعَيْنِ مِنْ حَيْثُ إنَّ فَاعِلَهُ يَسُدُّ مَسَدَّ الْأُمَّةِ وَيُسْقِطُ الْحَرَجَ عَنْ الْأُمَّةِ وَفَرْضُ الْعَيْنِ قَاصِرٌ عَلَيْهِ وَبِاَللَّهِ التَّوْفِيقُ
*
فَصْلٌ فِيمَا أَنْشَدُوهُ فِي فَضْلِ طلب العلم
هذا وَاسِعٌ جِدًّا وَلَكِنْ مِنْ عُيُونِهِ مَا جَاءَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ ظَالِمِ بْنِ عَمْرٍو التَّابِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ* الْعِلْمُ زَيْنٌ وَتَشْرِيفٌ لِصَاحِبِهِ
* فَاطْلُبْ هُدِيتَ فُنُونَ الْعِلْمِ وَالْأَدَبَا
لَا خَيْرَ فِيمَنْ لَهُ أَصْلٌ بِلَا أَدَبٍ
* حَتَّى يَكُونَ عَلَى مَا زَانَهُ حَدَبَا
كَمْ مِنْ كَرِيمٍ أَخِي عَيٍّ وَطَمْطَمَةٍ
* فَدْمٌ لَدَى الْقَوْمِ مَعْرُوفٌ إذَا انْتَسَبَا
فِي بَيْتِ مَكْرُمَةٍ آبَاؤُهُ نُجُبُ
* كانوا الرؤوس فامسى يعدهم ذَنَبَا
وَخَامِلٍ مُقْرِفِ الْآبَاءِ ذِي أَدَبٍ
* نَالَ الْمَعَالِيَ بِالْآدَابِ وَالرُّتَبَا
أَمْسَى عَزِيزًا عَظِيمَ الشَّأْنِ مُشْتَهِرَا
* فِي خَدِّهِ صَعَرٌ قَدْ ظَلَّ مُحْتَجِبَا
العلم كنز ذخر لا نفاد له لَهُ
* نِعْمَ الْقَرِينُ إذَا مَا صَاحِبٌ صَحِبَا
قد يجمع المرء ما لا ثُمَّ يُحْرَمُهُ
* عَمَّا قَلِيلٍ فَيَلْقَى الذُّلَّ وَالْحَرْبَا
وَجَامِعُ الْعِلْمِ مَغْبُوطٌ بِهِ أَبَدَا
* وَلَا يُحَاذِرُ مِنْهُ الْفَوْتَ وَالسَّلَبَا
يَا جَامِعَ الْعِلْمِ نِعْمَ الذُّخْرُ تَجْمَعُهُ
* لَا تَعْدِلَنَّ بِهِ دُرًّا وَلَا ذَهَبَا
غَيْرُهُ:
تَعَلَّمْ فَلَيْسَ الْمَرْءُ يُولَدُ عَالِمَا
* وَلَيْسَ أَخُو عِلْمٍ كَمَنْ هُوَ جَاهِلُ
وَإِنَّ كَبِيرَ الْقَوْمِ لَا عِلْمَ عِنْدَهُ
* صَغِيرٌ إذَا الْتَفَّتْ عَلَيْهِ الْمَحَافِلُ
وَلِآخَرَ:
عَلِّمْ الْعِلْمَ مَنْ أَتَاكَ لِعِلْمٍ
* وَاغْتَنِمْ مَا حَيِيتَ مِنْهُ الدُّعَاءَ
وَلْيَكُنْ عِنْدَكَ الْغَنِيُّ إذَا مَا
* طَلَبَ الْعِلْمَ وَالْفَقِيرُ سَوَاءَ
وَلِآخَرَ:
مَا الْفَخْرُ إلَّا لِأَهْلِ العلم انهموا
* عَلَى الْهُدَى لِمَنْ اسْتَهْدَى أَدِلَّاءُ
وَقَدْرُ كُلِّ امرئ ما كان يحسنه
* والجاهلون لا هل الْعِلْمِ أَعْدَاءُ
وَلِآخَرَ:
صَدْرُ الْمَجَالِسِ حَيْثُ حَلَّ لَبِيبُهَا
* فَكُنْ اللَّبِيبَ وَأَنْتَ صَدْرُ الْمَجْلِسِ
وَلِأَنَّ الْعِلْمَ صِفَةٌ لِلَّهِ تَعَالَى.
وَلِأَنَّ الْعِلْمَ فَرْضُ كِفَايَةٍ أَعْنِي الْعِلْمَ الذي كلا منا فِيهِ فَكَانَ أَفْضَلَ مِنْ النَّافِلَةِ: وَقَدْ قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ الْغِيَاثِيِّ فَرْضُ الْكِفَايَةِ أَفْضَلُ مِنْ فَرْضِ الْعَيْنِ مِنْ حَيْثُ إنَّ فَاعِلَهُ يَسُدُّ مَسَدَّ الْأُمَّةِ وَيُسْقِطُ الْحَرَجَ عَنْ الْأُمَّةِ وَفَرْضُ الْعَيْنِ قَاصِرٌ عَلَيْهِ وَبِاَللَّهِ التَّوْفِيقُ
*
فَصْلٌ فِيمَا أَنْشَدُوهُ فِي فَضْلِ طلب العلم
هذا وَاسِعٌ جِدًّا وَلَكِنْ مِنْ عُيُونِهِ مَا جَاءَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ ظَالِمِ بْنِ عَمْرٍو التَّابِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ* الْعِلْمُ زَيْنٌ وَتَشْرِيفٌ لِصَاحِبِهِ
* فَاطْلُبْ هُدِيتَ فُنُونَ الْعِلْمِ وَالْأَدَبَا
لَا خَيْرَ فِيمَنْ لَهُ أَصْلٌ بِلَا أَدَبٍ
* حَتَّى يَكُونَ عَلَى مَا زَانَهُ حَدَبَا
كَمْ مِنْ كَرِيمٍ أَخِي عَيٍّ وَطَمْطَمَةٍ
* فَدْمٌ لَدَى الْقَوْمِ مَعْرُوفٌ إذَا انْتَسَبَا
فِي بَيْتِ مَكْرُمَةٍ آبَاؤُهُ نُجُبُ
* كانوا الرؤوس فامسى يعدهم ذَنَبَا
وَخَامِلٍ مُقْرِفِ الْآبَاءِ ذِي أَدَبٍ
* نَالَ الْمَعَالِيَ بِالْآدَابِ وَالرُّتَبَا
أَمْسَى عَزِيزًا عَظِيمَ الشَّأْنِ مُشْتَهِرَا
* فِي خَدِّهِ صَعَرٌ قَدْ ظَلَّ مُحْتَجِبَا
العلم كنز ذخر لا نفاد له لَهُ
* نِعْمَ الْقَرِينُ إذَا مَا صَاحِبٌ صَحِبَا
قد يجمع المرء ما لا ثُمَّ يُحْرَمُهُ
* عَمَّا قَلِيلٍ فَيَلْقَى الذُّلَّ وَالْحَرْبَا
وَجَامِعُ الْعِلْمِ مَغْبُوطٌ بِهِ أَبَدَا
* وَلَا يُحَاذِرُ مِنْهُ الْفَوْتَ وَالسَّلَبَا
يَا جَامِعَ الْعِلْمِ نِعْمَ الذُّخْرُ تَجْمَعُهُ
* لَا تَعْدِلَنَّ بِهِ دُرًّا وَلَا ذَهَبَا
غَيْرُهُ:
تَعَلَّمْ فَلَيْسَ الْمَرْءُ يُولَدُ عَالِمَا
* وَلَيْسَ أَخُو عِلْمٍ كَمَنْ هُوَ جَاهِلُ
وَإِنَّ كَبِيرَ الْقَوْمِ لَا عِلْمَ عِنْدَهُ
* صَغِيرٌ إذَا الْتَفَّتْ عَلَيْهِ الْمَحَافِلُ
وَلِآخَرَ:
عَلِّمْ الْعِلْمَ مَنْ أَتَاكَ لِعِلْمٍ
* وَاغْتَنِمْ مَا حَيِيتَ مِنْهُ الدُّعَاءَ
وَلْيَكُنْ عِنْدَكَ الْغَنِيُّ إذَا مَا
* طَلَبَ الْعِلْمَ وَالْفَقِيرُ سَوَاءَ
وَلِآخَرَ:
مَا الْفَخْرُ إلَّا لِأَهْلِ العلم انهموا
* عَلَى الْهُدَى لِمَنْ اسْتَهْدَى أَدِلَّاءُ
وَقَدْرُ كُلِّ امرئ ما كان يحسنه
* والجاهلون لا هل الْعِلْمِ أَعْدَاءُ
وَلِآخَرَ:
صَدْرُ الْمَجَالِسِ حَيْثُ حَلَّ لَبِيبُهَا
* فَكُنْ اللَّبِيبَ وَأَنْتَ صَدْرُ الْمَجْلِسِ
এবং অন্যান্যদের জন্য তার (জ্ঞানীর) আনুগত্য করা ওয়াজিব, এর বিপরীত নয়। কারণ ইলমের উপকারিতা ও তার প্রভাব তার অধিকারীর মৃত্যুর পরেও অবশিষ্ট থাকে, পক্ষান্তরে নফল ইবাদত তার অধিকারীর মৃত্যুর সাথে সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আর এই কারণেও যে, ইলম আল্লাহ তা'আলার একটি গুণ।
এবং এই কারণেও যে, ইলম ফরযে কিফায়াহ – অর্থাৎ যে ইলম নিয়ে আমরা আলোচনা করছি – সুতরাং তা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। ইমামুল হারামাইন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'আল-গিয়াসি' নামক কিতাবে বলেছেন: ফরযে কিফায়াহ ফরযে আইনের চেয়ে উত্তম এই দিক থেকে যে, এর সম্পাদনকারী উম্মাহর প্রয়োজন পূরণ করে এবং উম্মাহ থেকে কষ্ট দূর করে, পক্ষান্তরে ফরযে আইন কেবল তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা।
*
পরিচ্ছেদ: ইলম অন্বেষণের ফযীলত সম্পর্কে যা তারা আবৃত্তি করেছেন
এটি অত্যন্ত ব্যাপক বিষয়, তবে এর শ্রেষ্ঠ উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে যা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, যালিম ইবনে আমর আত-তাবেঈ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে:
জ্ঞান তার অধিকারীর জন্য সৌন্দর্য ও সম্মান।
সুতরাং, হে হেদায়েতপ্রাপ্ত, জ্ঞান ও আদবের বিভিন্ন শাখা অন্বেষণ করো।
যার আদব নেই, তার বংশমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাতে কোনো কল্যাণ নেই,
যতক্ষণ না সে নিজেকে সজ্জিত করার জন্য সচেষ্ট হয়।
কতই না সম্মানিত ব্যক্তি আছে যে অযোগ্যতা ও তোতলামির অধিকারী,
মানুষের কাছে সে অমার্জিত বলে পরিচিত, যদিও তার বংশপরিচয় জানা যায়।
এমন এক সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, যার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন মহৎ,
তারা ছিলেন নেতা, কিন্তু সে তাদের লেজ (নিকৃষ্ট) হিসেবে গণ্য হয়।
আর কতই না অজ্ঞাত ব্যক্তি আছে যার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন সাধারণ, কিন্তু সে আদবসম্পন্ন,
সে আদব ও মর্যাদার মাধ্যমে উচ্চ স্থান অর্জন করেছে।
সে সম্মানিত, মহান মর্যাদার অধিকারী ও সুপরিচিত হয়েছে,
তার গালে অহংকার লুকিয়ে ছিল (অর্থাৎ সে বিনয়ী ছিল)।
জ্ঞান এক সঞ্চিত ধন, যার কোনো শেষ নেই,
কতই না উত্তম সঙ্গী সে, যখন কেউ তার সঙ্গ নেয়।
মানুষ হয়তো সম্পদ জমা করে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা থেকে বঞ্চিত হয়,
ফলে সে অপমান ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আর জ্ঞান সংগ্রহকারী সর্বদা এর জন্য প্রশংসিত হয়,
এবং সে এর হারানো বা ছিনিয়ে নেওয়া যাওয়ার ভয় করে না।
হে জ্ঞান সংগ্রহকারী, তুমি কতই না উত্তম সম্পদ সংগ্রহ করছো!
এর সাথে মুক্তা বা স্বর্ণের তুলনা করো না।
অন্যের উক্তি:
শিক্ষা গ্রহণ করো, কারণ মানুষ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না।
আর জ্ঞানী ব্যক্তি মূর্খের মতো নয়।
নিশ্চয়ই কোনো গোত্রের নেতা, যার জ্ঞান নেই,
সে ছোট হয়ে যায় যখন মজলিসগুলো তাকে ঘিরে বসে।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
যে তোমার কাছে জ্ঞান অন্বেষণে আসে, তাকে জ্ঞান শিক্ষা দাও।
এবং যতদিন জীবিত থাকবে, তার দু'আ লাভের সুযোগ গ্রহণ করো।
আর তোমার কাছে ধনী ব্যক্তি যখন জ্ঞান অন্বেষণ করে,
এবং দরিদ্র ব্যক্তি – উভয়ই যেন সমান হয়।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
গৌরব কেবল জ্ঞানীদের জন্য, কারণ তারাই
যারা হেদায়েত চায়, তাদের জন্য হেদায়েতের পথপ্রদর্শক।
আর প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা ততটুকু, যতটুকু সে ভালো জানে।
এবং মূর্খরা জ্ঞানীদের শত্রু।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
মজলিসের প্রধান স্থান সেখানেই যেখানে জ্ঞানী ব্যক্তি অবস্থান করে।
সুতরাং তুমি জ্ঞানী হও, আর তুমিই হবে মজলিসের প্রধান।
আর এই কারণেও যে, ইলম আল্লাহ তা'আলার একটি গুণ।
এবং এই কারণেও যে, ইলম ফরযে কিফায়াহ – অর্থাৎ যে ইলম নিয়ে আমরা আলোচনা করছি – সুতরাং তা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। ইমামুল হারামাইন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'আল-গিয়াসি' নামক কিতাবে বলেছেন: ফরযে কিফায়াহ ফরযে আইনের চেয়ে উত্তম এই দিক থেকে যে, এর সম্পাদনকারী উম্মাহর প্রয়োজন পূরণ করে এবং উম্মাহ থেকে কষ্ট দূর করে, পক্ষান্তরে ফরযে আইন কেবল তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা।
*
পরিচ্ছেদ: ইলম অন্বেষণের ফযীলত সম্পর্কে যা তারা আবৃত্তি করেছেন
এটি অত্যন্ত ব্যাপক বিষয়, তবে এর শ্রেষ্ঠ উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে যা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, যালিম ইবনে আমর আত-তাবেঈ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে:
জ্ঞান তার অধিকারীর জন্য সৌন্দর্য ও সম্মান।
সুতরাং, হে হেদায়েতপ্রাপ্ত, জ্ঞান ও আদবের বিভিন্ন শাখা অন্বেষণ করো।
যার আদব নেই, তার বংশমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাতে কোনো কল্যাণ নেই,
যতক্ষণ না সে নিজেকে সজ্জিত করার জন্য সচেষ্ট হয়।
কতই না সম্মানিত ব্যক্তি আছে যে অযোগ্যতা ও তোতলামির অধিকারী,
মানুষের কাছে সে অমার্জিত বলে পরিচিত, যদিও তার বংশপরিচয় জানা যায়।
এমন এক সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, যার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন মহৎ,
তারা ছিলেন নেতা, কিন্তু সে তাদের লেজ (নিকৃষ্ট) হিসেবে গণ্য হয়।
আর কতই না অজ্ঞাত ব্যক্তি আছে যার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন সাধারণ, কিন্তু সে আদবসম্পন্ন,
সে আদব ও মর্যাদার মাধ্যমে উচ্চ স্থান অর্জন করেছে।
সে সম্মানিত, মহান মর্যাদার অধিকারী ও সুপরিচিত হয়েছে,
তার গালে অহংকার লুকিয়ে ছিল (অর্থাৎ সে বিনয়ী ছিল)।
জ্ঞান এক সঞ্চিত ধন, যার কোনো শেষ নেই,
কতই না উত্তম সঙ্গী সে, যখন কেউ তার সঙ্গ নেয়।
মানুষ হয়তো সম্পদ জমা করে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা থেকে বঞ্চিত হয়,
ফলে সে অপমান ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আর জ্ঞান সংগ্রহকারী সর্বদা এর জন্য প্রশংসিত হয়,
এবং সে এর হারানো বা ছিনিয়ে নেওয়া যাওয়ার ভয় করে না।
হে জ্ঞান সংগ্রহকারী, তুমি কতই না উত্তম সম্পদ সংগ্রহ করছো!
এর সাথে মুক্তা বা স্বর্ণের তুলনা করো না।
অন্যের উক্তি:
শিক্ষা গ্রহণ করো, কারণ মানুষ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না।
আর জ্ঞানী ব্যক্তি মূর্খের মতো নয়।
নিশ্চয়ই কোনো গোত্রের নেতা, যার জ্ঞান নেই,
সে ছোট হয়ে যায় যখন মজলিসগুলো তাকে ঘিরে বসে।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
যে তোমার কাছে জ্ঞান অন্বেষণে আসে, তাকে জ্ঞান শিক্ষা দাও।
এবং যতদিন জীবিত থাকবে, তার দু'আ লাভের সুযোগ গ্রহণ করো।
আর তোমার কাছে ধনী ব্যক্তি যখন জ্ঞান অন্বেষণ করে,
এবং দরিদ্র ব্যক্তি – উভয়ই যেন সমান হয়।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
গৌরব কেবল জ্ঞানীদের জন্য, কারণ তারাই
যারা হেদায়েত চায়, তাদের জন্য হেদায়েতের পথপ্রদর্শক।
আর প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা ততটুকু, যতটুকু সে ভালো জানে।
এবং মূর্খরা জ্ঞানীদের শত্রু।
অন্য আরেকজনের উক্তি:
মজলিসের প্রধান স্থান সেখানেই যেখানে জ্ঞানী ব্যক্তি অবস্থান করে।
সুতরাং তুমি জ্ঞানী হও, আর তুমিই হবে মজলিসের প্রধান।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَلِآخَرَ:
عَابَ التَّفَقُّهَ قَوْمٌ لَا عُقُولَ لَهُمْ
* وَمَا عَلَيْهِ إذَا عَابُوهُ مِنْ ضَرَرِ
مَا ضَرَّ شَمْسُ الضُّحَى وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ
* أَنْ لَا يَرَى ضَوْءَهَا مَنْ لَيْسَ ذَا بَصَرِ
فَصْلٌ فِي ذَمِّ مَنْ أَرَادَ بِفِعْلِهِ غَيْرَ اللَّهِ تَعَالَى
اعْلَمْ أَنَّ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ الْفَضْلِ في طلب انما هو في من طَلَبَهُ مُرِيدًا بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى لَا لِغَرَضٍ مِنْ الدُّنْيَا وَمَنْ أَرَادَهُ لِغَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ كَمَالٍ أَوْ رِيَاسَةٍ أَوْ مَنْصِبٍ أَوْ وَجَاهَةٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ اسْتِمَالَةِ النَّاسِ إلَيْهِ أَوْ قَهْرِ الْمُنَاظِرِينَ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ فَهُوَ مَذْمُومٌ
* قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يريد حرث الدنيا نؤته منها وماله في الآخرة من نصيب
*.
وَقَالَ تَعَالَى (مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جعلنا له جهنم يصلاها مذموما مدحورا) الآية: وقال تعالى (ان ربك لبالمرصاد) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ له الدين حنفاء) .
وَالْآيَاتُ فِيهِ كَثِيرَةٌ
* وَرَوَيْنَا فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اُسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اُسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ ليقال جرئ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا.
قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ لِيُقَالَ عَالِمٌ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ
* وَرَوَيْنَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَيْضًا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنْ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيْرُهُ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
* وَرَوَيْنَا عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا يُنْتَفَعُ بِهِ فِي الْآخِرَةِ يُرِيدُ بِهِ عَرَضًا مِنْ الدُّنْيَا لَمْ يُرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ: رُوِيَ بِفَتْحِ الْيَاءِ مَعَ فَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِهَا وَرُوِيَ بِضَمِّ الْيَاءِ مَعَ كَسْرِ الرَّاءِ وَهِيَ ثَلَاثُ لُغَاتٍ مَشْهُورَةٍ: وَمَعْنَاهُ لَمْ يَجِدْ رِيحَهَا
* وَعَنْ أَنَسٍ وَحُذَيْفَةَ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ وَيُكَاثِرَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أو يصرف به وجوه الناس إليه فليتبوء مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
* وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ رِوَايَةِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَقَالَ فِيهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صلى االله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَالِمٌ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ
* وَعَنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِرَارُ النَّاسِ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ
* وَرَوَيْنَا فِي مُسْنَدِ الدَّارِمِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: يا حملة اعْمَلُوا بِهِ فَإِنَّمَا الْعَالِمُ مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ وَوَافَقَ عِلْمَهُ عَمَلُهُ وَسَيَكُونُ أَقْوَامٌ يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يُخَالِفُ عَمَلُهُمْ عِلْمَهُمْ وَيُخَالِفُ سَرِيرَتُهُمْ عَلَانِيَتَهُمْ
عَابَ التَّفَقُّهَ قَوْمٌ لَا عُقُولَ لَهُمْ
* وَمَا عَلَيْهِ إذَا عَابُوهُ مِنْ ضَرَرِ
مَا ضَرَّ شَمْسُ الضُّحَى وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ
* أَنْ لَا يَرَى ضَوْءَهَا مَنْ لَيْسَ ذَا بَصَرِ
فَصْلٌ فِي ذَمِّ مَنْ أَرَادَ بِفِعْلِهِ غَيْرَ اللَّهِ تَعَالَى
اعْلَمْ أَنَّ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ الْفَضْلِ في طلب انما هو في من طَلَبَهُ مُرِيدًا بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى لَا لِغَرَضٍ مِنْ الدُّنْيَا وَمَنْ أَرَادَهُ لِغَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ كَمَالٍ أَوْ رِيَاسَةٍ أَوْ مَنْصِبٍ أَوْ وَجَاهَةٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ اسْتِمَالَةِ النَّاسِ إلَيْهِ أَوْ قَهْرِ الْمُنَاظِرِينَ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ فَهُوَ مَذْمُومٌ
* قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يريد حرث الدنيا نؤته منها وماله في الآخرة من نصيب
*.
وَقَالَ تَعَالَى (مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جعلنا له جهنم يصلاها مذموما مدحورا) الآية: وقال تعالى (ان ربك لبالمرصاد) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ له الدين حنفاء) .
وَالْآيَاتُ فِيهِ كَثِيرَةٌ
* وَرَوَيْنَا فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اُسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اُسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ ليقال جرئ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا.
قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ لِيُقَالَ عَالِمٌ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ
* وَرَوَيْنَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَيْضًا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنْ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيْرُهُ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
* وَرَوَيْنَا عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا يُنْتَفَعُ بِهِ فِي الْآخِرَةِ يُرِيدُ بِهِ عَرَضًا مِنْ الدُّنْيَا لَمْ يُرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ: رُوِيَ بِفَتْحِ الْيَاءِ مَعَ فَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِهَا وَرُوِيَ بِضَمِّ الْيَاءِ مَعَ كَسْرِ الرَّاءِ وَهِيَ ثَلَاثُ لُغَاتٍ مَشْهُورَةٍ: وَمَعْنَاهُ لَمْ يَجِدْ رِيحَهَا
* وَعَنْ أَنَسٍ وَحُذَيْفَةَ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ وَيُكَاثِرَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أو يصرف به وجوه الناس إليه فليتبوء مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
* وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ رِوَايَةِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَقَالَ فِيهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ
* وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صلى االله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَالِمٌ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ
* وَعَنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِرَارُ النَّاسِ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ
* وَرَوَيْنَا فِي مُسْنَدِ الدَّارِمِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: يا حملة اعْمَلُوا بِهِ فَإِنَّمَا الْعَالِمُ مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ وَوَافَقَ عِلْمَهُ عَمَلُهُ وَسَيَكُونُ أَقْوَامٌ يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يُخَالِفُ عَمَلُهُمْ عِلْمَهُمْ وَيُخَالِفُ سَرِيرَتُهُمْ عَلَانِيَتَهُمْ
অন্য এক কবির উক্তি:
জ্ঞানচর্চাকে নিন্দা করে কিছু নির্বোধ লোক,
* তাদের নিন্দায় জ্ঞানের কোনো ক্ষতি নেই।
যেমন প্রভাতের সূর্য উদিত হলে তার কোনো ক্ষতি হয় না,
* যদি কোনো অন্ধ তার আলো দেখতে না পায়।
**আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর উদ্দেশ্যে কর্মকারীর নিন্দা প্রসঙ্গে একটি পরিচ্ছেদ**
জেনে রাখুন, জ্ঞান অন্বেষণের যে ফযীলত আমরা উল্লেখ করেছি, তা কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করে, দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য নয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ করে, যেমন সম্পদ, নেতৃত্ব, পদমর্যাদা, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ, প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, তবে সে নিন্দিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে বৃদ্ধি করে দেই। আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই, কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।"
তিনি আরও বলেন:
"যে ব্যক্তি ইহকাল কামনা করে, আমি যাকে যা ইচ্ছা করি, দ্রুত দিয়ে দেই। অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি, যেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে।" (আয়াত)
তিনি আরও বলেন:
"নিশ্চয় আপনার রব সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।"
তিনি আরও বলেন:
"তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে এবং একনিষ্ঠ হয়।"
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক।
আমরা সহীহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ চেনাবেন, আর সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আমি আপনার পথে যুদ্ধ করেছি, এমনকি শহীদ হয়েছি।' আল্লাহ বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি যুদ্ধ করেছ যেন বলা হয়, 'সে সাহসী', আর তা বলা হয়েছে।' অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আর এক ব্যক্তি যে জ্ঞান অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে আনা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ চেনাবেন, আর সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আমি জ্ঞান অর্জন করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার জন্য কুরআন পাঠ করেছি।' আল্লাহ বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ যেন বলা হয়, 'সে একজন আলেম', আর তুমি কুরআন পাঠ করেছ যেন বলা হয়, 'সে একজন ক্বারী', আর তা বলা হয়েছে।' অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।"
আমরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে, যার দ্বারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়ার কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্জন করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।" অর্থাৎ তার ঘ্রাণ। এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
আমরা আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে যা দ্বারা আখিরাতে উপকৃত হওয়া যায়, কিন্তু সে এর দ্বারা দুনিয়ার কোনো স্বার্থ কামনা করে, সে জান্নাতের সুগন্ধ পাবে না।"
'يُرِحْ' শব্দটি 'ইয়া' তে ফাতহা এবং 'রা' তে ফাতহা অথবা কাসরা সহকারে বর্ণিত হয়েছে। আবার 'ইয়া' তে যম্মা এবং 'রা' তে কাসরা সহকারেও বর্ণিত হয়েছে। এগুলো তিনটি প্রসিদ্ধ ভাষাগত রূপ। এর অর্থ হলো: সে তার ঘ্রাণ পাবে না।
আনাস ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণ করে নির্বোধদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, অথবা আলেমদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য, অথবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে ফেরানোর জন্য, সে যেন জাহান্নামে তার আসন প্রস্তুত করে নেয়।"
এটি তিরমিযী কা'ব ইবন মালিকের বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।"
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে সেই আলেমের, যার জ্ঞান দ্বারা কোনো উপকার হয়নি।"
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত:
"মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো নিকৃষ্টতম আলেমগণ।"
আমরা মুসনাদে দারিমী-তে আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন:
"হে জ্ঞানের ধারকগণ, তোমরা এর উপর আমল করো! কেননা আলেম তো সেই, যে যা জানে তার উপর আমল করে এবং যার জ্ঞান তার আমলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। আর এমন কিছু লোক আসবে যারা জ্ঞান বহন করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের আমল তাদের জ্ঞানের বিপরীত হবে এবং তাদের ভেতরের অবস্থা তাদের বাইরের অবস্থার বিপরীত হবে।"
জ্ঞানচর্চাকে নিন্দা করে কিছু নির্বোধ লোক,
* তাদের নিন্দায় জ্ঞানের কোনো ক্ষতি নেই।
যেমন প্রভাতের সূর্য উদিত হলে তার কোনো ক্ষতি হয় না,
* যদি কোনো অন্ধ তার আলো দেখতে না পায়।
**আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর উদ্দেশ্যে কর্মকারীর নিন্দা প্রসঙ্গে একটি পরিচ্ছেদ**
জেনে রাখুন, জ্ঞান অন্বেষণের যে ফযীলত আমরা উল্লেখ করেছি, তা কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করে, দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য নয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ করে, যেমন সম্পদ, নেতৃত্ব, পদমর্যাদা, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ, প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, তবে সে নিন্দিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে বৃদ্ধি করে দেই। আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই, কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।"
তিনি আরও বলেন:
"যে ব্যক্তি ইহকাল কামনা করে, আমি যাকে যা ইচ্ছা করি, দ্রুত দিয়ে দেই। অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি, যেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত হয়ে প্রবেশ করবে।" (আয়াত)
তিনি আরও বলেন:
"নিশ্চয় আপনার রব সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।"
তিনি আরও বলেন:
"তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে এবং একনিষ্ঠ হয়।"
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক।
আমরা সহীহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ চেনাবেন, আর সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আমি আপনার পথে যুদ্ধ করেছি, এমনকি শহীদ হয়েছি।' আল্লাহ বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি যুদ্ধ করেছ যেন বলা হয়, 'সে সাহসী', আর তা বলা হয়েছে।' অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আর এক ব্যক্তি যে জ্ঞান অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে আনা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ চেনাবেন, আর সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আমি জ্ঞান অর্জন করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার জন্য কুরআন পাঠ করেছি।' আল্লাহ বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ যেন বলা হয়, 'সে একজন আলেম', আর তুমি কুরআন পাঠ করেছ যেন বলা হয়, 'সে একজন ক্বারী', আর তা বলা হয়েছে।' অতঃপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।"
আমরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে, যার দ্বারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়ার কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য অর্জন করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।" অর্থাৎ তার ঘ্রাণ। এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
আমরা আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে যা দ্বারা আখিরাতে উপকৃত হওয়া যায়, কিন্তু সে এর দ্বারা দুনিয়ার কোনো স্বার্থ কামনা করে, সে জান্নাতের সুগন্ধ পাবে না।"
'يُرِحْ' শব্দটি 'ইয়া' তে ফাতহা এবং 'রা' তে ফাতহা অথবা কাসরা সহকারে বর্ণিত হয়েছে। আবার 'ইয়া' তে যম্মা এবং 'রা' তে কাসরা সহকারেও বর্ণিত হয়েছে। এগুলো তিনটি প্রসিদ্ধ ভাষাগত রূপ। এর অর্থ হলো: সে তার ঘ্রাণ পাবে না।
আনাস ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণ করে নির্বোধদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, অথবা আলেমদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য, অথবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে ফেরানোর জন্য, সে যেন জাহান্নামে তার আসন প্রস্তুত করে নেয়।"
এটি তিরমিযী কা'ব ইবন মালিকের বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।"
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে সেই আলেমের, যার জ্ঞান দ্বারা কোনো উপকার হয়নি।"
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত:
"মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো নিকৃষ্টতম আলেমগণ।"
আমরা মুসনাদে দারিমী-তে আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন:
"হে জ্ঞানের ধারকগণ, তোমরা এর উপর আমল করো! কেননা আলেম তো সেই, যে যা জানে তার উপর আমল করে এবং যার জ্ঞান তার আমলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। আর এমন কিছু লোক আসবে যারা জ্ঞান বহন করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের আমল তাদের জ্ঞানের বিপরীত হবে এবং তাদের ভেতরের অবস্থা তাদের বাইরের অবস্থার বিপরীত হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يَجْلِسُونَ حِلَقًا يُبَاهِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا حَتَّى إنَّ الرَّجُلَ لَيَغْضَبُ عَلَى جَلِيسِهِ أَنْ يَجْلِسَ إلَى غَيْرِهِ وَيَدَعَهُ أُولَئِكَ لَا تَصْعَدُ أَعْمَالُهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ تِلْكَ إلَى اللَّهِ تَعَالَى
* وَعَنْ سُفْيَانَ مَا ازْدَادَ عَبْدٌ عِلْمًا فَازْدَادَ فِي الدُّنْيَا رَغْبَةً إلَّا ازْدَادَ مِنْ اللَّهِ بُعْدًا
* وَعَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ مَنْ طَلَبَ الْحَدِيثَ لِغَيْرِ اللَّهِ مَكَرَ بِهِ وَالْآثَارُ بِهِ كَثِيرَةٌ
* فَصْلٌ فِي النَّهْيِ الْأَكِيدِ وَالْوَعِيدِ الشَّدِيدِ لِمَنْ يُؤْذِي أَوْ يَنْتَقِصُ الْفُقَهَاءَ وَالْمُتَفَقِّهِينَ وَالْحَثُّ عَلَى إكْرَامِهِمْ وَتَعْظِيمِ حُرُمَاتِهِمْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فانها من تقوى القلوب) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خير له عند ربه) وقال تعالى (واخفض جناحك للمؤمنين) وَقَالَ تَعَالَى (وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإنما مبينا) وَثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ مَنْ آذَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
* وَرَوَى الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ عَنْ الشَّافِعِيِّ وَأَبِي حَنِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا إنْ لَمْ تَكُنْ الْفُقَهَاءُ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ
* وَفِي كَلَامِ الشَّافِعِيِّ الْفُقَهَاءُ الْعَامِلُونَ
* وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: مَنْ آذَى فَقِيهًا فَقَدْ آذَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ آذَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ آذَى اللَّهَ تَعَالَى عَزَّ وَجَلَّ
* وَفِي الصَّحِيحِ عَنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ الله فلا يطلبنكم الله بشئ من ذمته
* وفي رواية فلا تخفروا الله فِي ذِمَّتِهِ وَقَالَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: اعْلَمْ يَا أَخِي وَفَّقَنِي اللَّهُ وَإِيَّاكَ لِمَرْضَاتِهِ وَجَعَلَنَا مِمَّنْ يَخْشَاهُ وَيَتَّقِيهِ حَقَّ تُقَاتِهِ أَنَّ لُحُومَ الْعُلَمَاءِ مَسْمُومَةٌ، وعادة الله في هتك أستار منتقصيهم مَعْلُومَةٌ، وَأَنَّ مَنْ أَطْلَقَ لِسَانَهُ فِي الْعُلَمَاءِ بِالثَّلَبِ، بَلَاهُ اللَّهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِمَوْتِ الْقَلْبِ (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فتنة أو يصيبهم عذاب أليم)
*بَابُ أَقْسَامِ الْعِلْمِ الشَّرْعِيِّ
هِيَ ثَلَاثَةٌ: الْأَوَّلُ فرض العين وهو تعلم المكلف مالا يَتَأَدَّى الْوَاجِبُ الَّذِي تَعَيَّنَ عَلَيْهِ فِعْلُهُ إلَّا به ككيفية الوضؤ وَالصَّلَاةِ وَنَحْوِهِمَا وَعَلَيْهِ حَمَلَ جَمَاعَاتٌ الْحَدِيثَ الْمَرْوِيَّ فِي مُسْنَدِ أَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَهَذَا الْحَدِيثُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ثَابِتًا فَمَعْنَاهُ صَحِيحٌ: وَحَمَلَهُ آخَرُونَ عَلَى فَرْضِ الْكِفَايَةِ: وَأَمَّا أَصْلُ وَاجِبِ الْإِسْلَامِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِالْعَقَائِدِ فَيَكْفِي فِيهِ التَّصْدِيقُ بِكُلِّ مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاعْتِقَادُهُ اعْتِقَادًا جَازِمًا سَلِيمًا مِنْ كُلِّ شَكٍّ وَلَا يَتَعَيَّنُ عَلَى مَنْ حَصَلَ لَهُ هَذَا تَعَلُّمُ أَدِلَّةِ الْمُتَكَلِّمِينَ هَذَا هُوَ الصَّحِيحُ الَّذِي أَطْبَقَ عَلَيْهِ السَّلَفُ وَالْفُقَهَاءُ وَالْمُحَقِّقُونَ مِنْ الْمُتَكَلِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا وَغَيْرِهِمْ فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُطَالِبْ
* وَعَنْ سُفْيَانَ مَا ازْدَادَ عَبْدٌ عِلْمًا فَازْدَادَ فِي الدُّنْيَا رَغْبَةً إلَّا ازْدَادَ مِنْ اللَّهِ بُعْدًا
* وَعَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ مَنْ طَلَبَ الْحَدِيثَ لِغَيْرِ اللَّهِ مَكَرَ بِهِ وَالْآثَارُ بِهِ كَثِيرَةٌ
* فَصْلٌ فِي النَّهْيِ الْأَكِيدِ وَالْوَعِيدِ الشَّدِيدِ لِمَنْ يُؤْذِي أَوْ يَنْتَقِصُ الْفُقَهَاءَ وَالْمُتَفَقِّهِينَ وَالْحَثُّ عَلَى إكْرَامِهِمْ وَتَعْظِيمِ حُرُمَاتِهِمْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فانها من تقوى القلوب) وَقَالَ تَعَالَى (وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خير له عند ربه) وقال تعالى (واخفض جناحك للمؤمنين) وَقَالَ تَعَالَى (وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإنما مبينا) وَثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ مَنْ آذَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
* وَرَوَى الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ عَنْ الشَّافِعِيِّ وَأَبِي حَنِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا إنْ لَمْ تَكُنْ الْفُقَهَاءُ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ
* وَفِي كَلَامِ الشَّافِعِيِّ الْفُقَهَاءُ الْعَامِلُونَ
* وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: مَنْ آذَى فَقِيهًا فَقَدْ آذَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ آذَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ آذَى اللَّهَ تَعَالَى عَزَّ وَجَلَّ
* وَفِي الصَّحِيحِ عَنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ الله فلا يطلبنكم الله بشئ من ذمته
* وفي رواية فلا تخفروا الله فِي ذِمَّتِهِ وَقَالَ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: اعْلَمْ يَا أَخِي وَفَّقَنِي اللَّهُ وَإِيَّاكَ لِمَرْضَاتِهِ وَجَعَلَنَا مِمَّنْ يَخْشَاهُ وَيَتَّقِيهِ حَقَّ تُقَاتِهِ أَنَّ لُحُومَ الْعُلَمَاءِ مَسْمُومَةٌ، وعادة الله في هتك أستار منتقصيهم مَعْلُومَةٌ، وَأَنَّ مَنْ أَطْلَقَ لِسَانَهُ فِي الْعُلَمَاءِ بِالثَّلَبِ، بَلَاهُ اللَّهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِمَوْتِ الْقَلْبِ (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فتنة أو يصيبهم عذاب أليم)
*بَابُ أَقْسَامِ الْعِلْمِ الشَّرْعِيِّ
هِيَ ثَلَاثَةٌ: الْأَوَّلُ فرض العين وهو تعلم المكلف مالا يَتَأَدَّى الْوَاجِبُ الَّذِي تَعَيَّنَ عَلَيْهِ فِعْلُهُ إلَّا به ككيفية الوضؤ وَالصَّلَاةِ وَنَحْوِهِمَا وَعَلَيْهِ حَمَلَ جَمَاعَاتٌ الْحَدِيثَ الْمَرْوِيَّ فِي مُسْنَدِ أَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَهَذَا الْحَدِيثُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ثَابِتًا فَمَعْنَاهُ صَحِيحٌ: وَحَمَلَهُ آخَرُونَ عَلَى فَرْضِ الْكِفَايَةِ: وَأَمَّا أَصْلُ وَاجِبِ الْإِسْلَامِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِالْعَقَائِدِ فَيَكْفِي فِيهِ التَّصْدِيقُ بِكُلِّ مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاعْتِقَادُهُ اعْتِقَادًا جَازِمًا سَلِيمًا مِنْ كُلِّ شَكٍّ وَلَا يَتَعَيَّنُ عَلَى مَنْ حَصَلَ لَهُ هَذَا تَعَلُّمُ أَدِلَّةِ الْمُتَكَلِّمِينَ هَذَا هُوَ الصَّحِيحُ الَّذِي أَطْبَقَ عَلَيْهِ السَّلَفُ وَالْفُقَهَاءُ وَالْمُحَقِّقُونَ مِنْ الْمُتَكَلِّمِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا وَغَيْرِهِمْ فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُطَالِبْ
তারা বৃত্তাকারে বসে, একে অপরের উপর গর্ব করে। এমনকি একজন ব্যক্তি তার সঙ্গীর উপর রাগান্বিত হয় যে, সে তাকে ছেড়ে অন্যের কাছে বসেছে। তাদের সেই মজলিসের আমলসমূহ আল্লাহ তা'আলার কাছে উন্নীত হয় না।
* সুফিয়ান (রহ.) থেকে বর্ণিত: কোনো বান্দা জ্ঞান অর্জন করে যদি দুনিয়ার প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়, তবে আল্লাহ থেকে তার দূরত্বই বৃদ্ধি পায়।
* হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হাদীস অন্বেষণ করে, তাকে এর দ্বারা প্রতারিত করা হয়। এ বিষয়ে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।
**পরিচ্ছেদ: ফকীহ ও মুতাফাক্কিহীনদের (ফিকহ অন্বেষণকারীদের) কষ্ট দেওয়া বা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান**
আল্লাহ তা'আলা বলেন: (وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فانها من تقوى القلوب) "আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, তবে তা তো অন্তরসমূহের তাকওয়া থেকেই।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)
এবং তিনি আরও বলেন: (وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خير له عند ربه) "আর যে আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিষয়সমূহকে সম্মান করে, তবে তা তার রবের নিকট তার জন্য উত্তম।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩০)
এবং তিনি আরও বলেন: (واخفض جناحك للمؤمنين) "আর মুমিনদের প্রতি তোমার ডানা অবনত করো।" (সূরা আল-হিজর: ৮৮)
এবং তিনি আরও বলেন: (وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإنما مبينا) "আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে এমন বিষয়ে কষ্ট দেয় যা তারা অর্জন করেনি, তবে তারা অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করলো।" (সূরা আল-আহযাব: ৫৮)
সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সূত্রে প্রমাণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "যে আমার কোনো ওলীকে কষ্ট দেয়, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম।"
* খতীব বাগদাদী (রহ.) ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানীফা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "যদি ফকীহগণ আল্লাহর ওলী না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলী নেই।"
* ইমাম শাফিঈর বক্তব্যে (উদ্দেশ্য) হলো 'আমলকারী ফকীহগণ'।
* ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি কোনো ফকীহকে কষ্ট দিল, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিল। আর যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিল, সে যেন আল্লাহ তা'আলাকে কষ্ট দিল।"
* সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর নিরাপত্তায় (যিম্মায়) রইলো। সুতরাং আল্লাহ যেন তোমাদেরকে তাঁর যিম্মার কোনো বিষয়ে তলব না করেন।"
* অন্য এক বর্ণনায় আছে: "সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মার বিষয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।"
ইমাম হাফিয আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (রহ.) বলেছেন: "জেনে রাখো হে আমার ভাই! আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে যথার্থভাবে ভয় করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে। নিশ্চয়ই উলামাদের গোশত বিষাক্ত। এবং যারা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, তাদের পর্দা উন্মোচন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি সুপরিচিত। আর যে ব্যক্তি উলামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় তার জিহ্বাকে লাগামহীন করে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর পূর্বে অন্তরের মৃত্যু দ্বারা আক্রান্ত করেন। (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) 'সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের উপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসতে পারে।'" (সূরা আন-নূর: ৬৩)
**শরীয়তী জ্ঞানের প্রকারভেদ অধ্যায়**
তা তিন প্রকার:
প্রথমত, **ফরযে আইন**: আর তা হলো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর এমন জ্ঞান অর্জন করা, যা ছাড়া তার উপর ফরযকৃত ওয়াজিব আদায় হয় না। যেমন ওযু ও সালাতের পদ্ধতি এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। একদল আলেম এই বিষয়ের উপর আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলীর মুসনাদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদীসটিকে ব্যাখ্যা করেছেন: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।" এই হাদীসটি যদিও (সনদের দিক থেকে) সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তবে এর অর্থ সহীহ। এবং অন্যেরা এটিকে ফরযে কিফায়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আর ইসলামের মূল ওয়াজিব এবং আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কিত বিষয়ে, তাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুকে সত্যায়ন করা এবং কোনো প্রকার সন্দেহমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই যথেষ্ট। আর যার এই বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে, তার উপর মুতাকাল্লিমীনদের (ধর্মতত্ত্ববিদদের) প্রমাণাদি শেখা ফরযে আইন নয়। এটিই সহীহ (সঠিক মত), যার উপর সালাফ, ফকীহগণ এবং আমাদের ও অন্যদের মুতাকাল্লিমীনদের মধ্যে যারা মুহাক্কিক (গবেষক) তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কারণ নবী (সা.) (সাধারণ মানুষকে) দাবি করেননি...
* সুফিয়ান (রহ.) থেকে বর্ণিত: কোনো বান্দা জ্ঞান অর্জন করে যদি দুনিয়ার প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়, তবে আল্লাহ থেকে তার দূরত্বই বৃদ্ধি পায়।
* হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হাদীস অন্বেষণ করে, তাকে এর দ্বারা প্রতারিত করা হয়। এ বিষয়ে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।
**পরিচ্ছেদ: ফকীহ ও মুতাফাক্কিহীনদের (ফিকহ অন্বেষণকারীদের) কষ্ট দেওয়া বা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান**
আল্লাহ তা'আলা বলেন: (وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فانها من تقوى القلوب) "আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, তবে তা তো অন্তরসমূহের তাকওয়া থেকেই।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)
এবং তিনি আরও বলেন: (وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خير له عند ربه) "আর যে আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিষয়সমূহকে সম্মান করে, তবে তা তার রবের নিকট তার জন্য উত্তম।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩০)
এবং তিনি আরও বলেন: (واخفض جناحك للمؤمنين) "আর মুমিনদের প্রতি তোমার ডানা অবনত করো।" (সূরা আল-হিজর: ৮৮)
এবং তিনি আরও বলেন: (وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإنما مبينا) "আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে এমন বিষয়ে কষ্ট দেয় যা তারা অর্জন করেনি, তবে তারা অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করলো।" (সূরা আল-আহযাব: ৫৮)
সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সূত্রে প্রমাণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "যে আমার কোনো ওলীকে কষ্ট দেয়, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম।"
* খতীব বাগদাদী (রহ.) ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানীফা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "যদি ফকীহগণ আল্লাহর ওলী না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলী নেই।"
* ইমাম শাফিঈর বক্তব্যে (উদ্দেশ্য) হলো 'আমলকারী ফকীহগণ'।
* ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি কোনো ফকীহকে কষ্ট দিল, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিল। আর যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিল, সে যেন আল্লাহ তা'আলাকে কষ্ট দিল।"
* সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর নিরাপত্তায় (যিম্মায়) রইলো। সুতরাং আল্লাহ যেন তোমাদেরকে তাঁর যিম্মার কোনো বিষয়ে তলব না করেন।"
* অন্য এক বর্ণনায় আছে: "সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মার বিষয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।"
ইমাম হাফিয আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (রহ.) বলেছেন: "জেনে রাখো হে আমার ভাই! আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে যথার্থভাবে ভয় করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে। নিশ্চয়ই উলামাদের গোশত বিষাক্ত। এবং যারা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, তাদের পর্দা উন্মোচন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি সুপরিচিত। আর যে ব্যক্তি উলামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় তার জিহ্বাকে লাগামহীন করে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর পূর্বে অন্তরের মৃত্যু দ্বারা আক্রান্ত করেন। (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) 'সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের উপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসতে পারে।'" (সূরা আন-নূর: ৬৩)
**শরীয়তী জ্ঞানের প্রকারভেদ অধ্যায়**
তা তিন প্রকার:
প্রথমত, **ফরযে আইন**: আর তা হলো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর এমন জ্ঞান অর্জন করা, যা ছাড়া তার উপর ফরযকৃত ওয়াজিব আদায় হয় না। যেমন ওযু ও সালাতের পদ্ধতি এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। একদল আলেম এই বিষয়ের উপর আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলীর মুসনাদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদীসটিকে ব্যাখ্যা করেছেন: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।" এই হাদীসটি যদিও (সনদের দিক থেকে) সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তবে এর অর্থ সহীহ। এবং অন্যেরা এটিকে ফরযে কিফায়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আর ইসলামের মূল ওয়াজিব এবং আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কিত বিষয়ে, তাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুকে সত্যায়ন করা এবং কোনো প্রকার সন্দেহমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই যথেষ্ট। আর যার এই বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে, তার উপর মুতাকাল্লিমীনদের (ধর্মতত্ত্ববিদদের) প্রমাণাদি শেখা ফরযে আইন নয়। এটিই সহীহ (সঠিক মত), যার উপর সালাফ, ফকীহগণ এবং আমাদের ও অন্যদের মুতাকাল্লিমীনদের মধ্যে যারা মুহাক্কিক (গবেষক) তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কারণ নবী (সা.) (সাধারণ মানুষকে) দাবি করেননি...
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أحدا بشئ سِوَى مَا ذَكَرْنَاهُ: وَكَذَلِكَ الْخُلَفَاءُ الرَّاشِدُونَ وَمَنْ سِوَاهُمْ مِنْ الصَّحَابَةِ فَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنْ الصَّدْرِ الْأَوَّلِ بَلْ الصَّوَابُ لِلْعَوَامِّ وَجَمَاهِيرِ الْمُتَفَقِّهِينَ وَالْفُقَهَاءِ الْكَفُّ عَنْ الْخَوْضِ فِي دَقَائِقِ الْكَلَامِ مَخَافَةً مِنْ اخْتِلَالٍ يَتَطَرَّقُ إلَى عَقَائِدِهِمْ يَصْعُبُ عَلَيْهِمْ إخْرَاجُهُ بَلْ الصَّوَابُ لَهُمْ الِاقْتِصَارُ عَلَى مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ الِاكْتِفَاءِ بِالتَّصْدِيقِ الْجَازِمِ: وَقَدْ نَصَّ عَلَى هَذِهِ الْجُمْلَةِ جَمَاعَاتٌ مِنْ حُذَّاقِ أَصْحَابِنَا وَغَيْرِهِمْ: وَقَدْ بَالَغَ إمَامُنَا الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي تَحْرِيمِ الِاشْتِغَالِ بِعِلْمِ الْكَلَامِ أَشَدَّ مُبَالَغَةٍ وَأَطْنَبَ فِي تَحْرِيمِهِ وَتَغْلِيظِ الْعُقُوبَةِ لِمُتَعَاطِيهِ وَتَقْبِيحِ فِعْلِهِ وَتَعْظِيمِ الْإِثْمِ فِيهِ فَقَالَ لَأَنْ يَلْقَى اللَّهُ الْعَبْدَ بِكُلِّ ذَنْبٍ مَا خَلَا الشرك خير من أن يلقاه بشئ مِنْ الْكَلَامِ: وَأَلْفَاظُهُ بِهَذَا الْمَعْنَى كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ: وَقَدْ صَنَّفَ الْغَزَالِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي آخِرِ أَمْرِهِ كِتَابَهُ الْمَشْهُورَ الَّذِي سَمَّاهُ إلْجَامُ الْعَوَامّ عَنْ عِلْمِ الْكَلَامِ وَذَكَرَ أَنَّ النَّاسَ كُلَّهُمْ عَوَامُّ فِي هَذَا الْفَنِّ مِنْ الْفُقَهَاءِ وَغَيْرِهِمْ إلَّا الشَّاذَّ النَّادِرَ الَّذِي لَا تَكَادُ الْأَعْصَارُ تَسْمَحُ بِوَاحِدٍ مِنْهُمْ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* وَلَوْ تَشَكَّكَ والعياذ بالله في شئ مِنْ أُصُولِ الْعَقَائِدِ مِمَّا لَا بُدَّ مِنْ اعْتِقَادِهِ وَلَمْ يَزُلْ شَكُّهُ إلَّا بِتَعْلِيمِ دَلِيلٍ من أدلة المتكلمين وجب تعلم ذلك لا زالة الشك وتحصيل ذلك الاصل
* (فَرْعٌ) .
اخْتَلَفُوا فِي آيَاتِ الصِّفَاتِ وَأَخْبَارِهَا هَلْ يُخَاضُ فِيهَا بِالتَّأْوِيلِ أَمْ لَا فَقَالَ قَائِلُونَ تُتَأَوَّلُ عَلَى مَا يَلِيقُ بِهَا وَهَذَا أَشْهَرُ الْمَذْهَبَيْنِ لِلْمُتَكَلِّمِينَ: وَقَالَ آخَرُونَ لَا تُتَأَوَّلُ بَلْ يُمْسِكُ عَنْ الْكَلَامِ فِي مَعْنَاهَا وَيُوكَلُ عِلْمُهَا إلَى اللَّهِ تَعَالَى وَيَعْتَقِدُ مَعَ ذَلِكَ تَنْزِيهَ اللَّهِ تَعَالَى وَانْتِفَاءَ صِفَاتِ الْحَادِثِ عَنْهُ: فَيُقَالُ مَثَلًا نُؤْمِنُ بِأَنَّ الرَّحْمَنَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَلَا نَعْلَمُ حَقِيقَةَ مَعْنَى ذَلِكَ وَالْمُرَادَ بِهِ مَعَ أَنَّا نَعْتَقِدُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى (لَيْسَ كمثله شئ) وَأَنَّهُ مُنَزَّهٌ عَنْ الْحُلُولِ وَسِمَاتِ الْحُدُوثِ وَهَذِهِ طَرِيقَةُ السَّلَفِ أَوْ جَمَاهِيرِهِمْ وَهِيَ أَسْلَمُ إذْ لَا يُطَالَبُ الْإِنْسَانُ بِالْخَوْضِ فِي ذَلِكَ فَإِذَا اعْتَقَدَ التَّنْزِيهَ فَلَا حَاجَةَ إلَى الْخَوْضِ فِي ذَلِكَ وَالْمُخَاطَرَةِ فِيمَا لَا ضَرُورَةَ بَلْ لَا حَاجَةَ إلَيْهِ فَإِنْ دَعَتْ الْحَاجَةُ إلَى التَّأْوِيلِ لِرَدِّ مُبْتَدِعٍ وَنَحْوِهِ تَأَوَّلُوا حِينَئِذٍ: وَعَلَى هَذَا يُحْمَلُ مَا جَاءَ عَنْ الْعُلَمَاءِ فِي هَذَا والله أعلم
* (فرع)
لا يَلْزَمُ الْإِنْسَانَ تَعَلُّمَ كَيْفِيَّةِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ وَشَبَهِهِمَا الا بعد وجوب ذلك الشئ فَإِنْ كَانَ بِحَيْثُ لَوْ صَبَرَ إلَى دُخُولِ الْوَقْتِ لَمْ يَتَمَكَّنْ مِنْ تَمَامِ تَعَلُّمِهَا مَعَ الْفِعْلِ فِي الْوَقْتِ فَهَلْ يَلْزَمُهُ التَّعَلُّمُ قَبْلَ الْوَقْتِ تَرَدَّدَ فِيهِ الْغَزَالِيُّ وَالصَّحِيحُ مَا جَزَمَ بِهِ غَيْرُهُ أَنَّهُ يَلْزَمُهُ تَقْدِيمُ التَّعَلُّمِ كَمَا يَلْزَمُ السَّعْيُ إلَى الْجُمُعَةِ لِمَنْ بَعُدَ مَنْزِلُهُ قَبْلَ الْوَقْتِ ثُمَّ إذَا كَانَ الْوَاجِبُ عَلَى الْفَوْرِ كَانَ تَعَلُّمُ الْكَيْفِيَّةِ عَلَى الْفَوْرِ وَإِنْ كَانَ عَلَى التَّرَاخِي كَالْحَجِّ فَعَلَى التَّرَاخِي: ثُمَّ الَّذِي يَجِبُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ مَا يَتَوَقَّفُ أَدَاءُ الْوَاجِبِ عَلَيْهِ غَالِبًا دُونَ مَا يَطْرَأُ نَادِرًا فَإِنْ وَقَعَ وَجَبَ التَّعَلُّمُ حِينَئِذٍ: وَفِي تَعَلُّمِ أَدِلَّةِ الْقِبْلَةِ أَوْجُهٌ أَحَدُهَا فَرْضُ عَيْنٍ وَالثَّانِي كِفَايَةٌ وَأَصَحُّهُمَا فَرْضُ كِفَايَةٍ إلَّا أَنْ يُرِيدَ سَفَرًا فَيَتَعَيَّنُ لِعُمُومِ حَاجَةِ الْمُسَافِرِ إلَى ذَلِكَ
* (فَرْعٌ)
أَمَّا الْبَيْعُ وَالنِّكَاحُ وَشَبَهُهُمَا مِمَّا لَا يَجِبُ أَصْلُهُ فَقَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ وَالْغَزَالِيُّ وَغَيْرُهُمَا يَتَعَيَّنُ عَلَى مَنْ أَرَادَهُ تَعَلُّمُ كَيْفِيَّتِهِ وَشَرْطِهِ وَقِيلَ لَا يُقَالُ يَتَعَيَّنُ بَلْ يُقَالُ يَحْرُمُ الْإِقْدَامُ عَلَيْهِ إلَّا بَعْدَ مَعْرِفَةِ شَرْطِهِ وَهَذِهِ الْعِبَارَةُ أَصَحُّ: وَعِبَارَتُهُمَا مَحْمُولَةٌ عَلَيْهَا: وَكَذَا يُقَالُ فِي صَلَاةِ النَّافِلَةِ يَحْرُمُ التَّلَبُّسُ بِهَا عَلَى مَنْ لَمْ يَعْرِفْ كَيْفِيَّتَهَا وَلَا يُقَالُ يجب تعلم كيفيتها
*
* وَلَوْ تَشَكَّكَ والعياذ بالله في شئ مِنْ أُصُولِ الْعَقَائِدِ مِمَّا لَا بُدَّ مِنْ اعْتِقَادِهِ وَلَمْ يَزُلْ شَكُّهُ إلَّا بِتَعْلِيمِ دَلِيلٍ من أدلة المتكلمين وجب تعلم ذلك لا زالة الشك وتحصيل ذلك الاصل
* (فَرْعٌ) .
اخْتَلَفُوا فِي آيَاتِ الصِّفَاتِ وَأَخْبَارِهَا هَلْ يُخَاضُ فِيهَا بِالتَّأْوِيلِ أَمْ لَا فَقَالَ قَائِلُونَ تُتَأَوَّلُ عَلَى مَا يَلِيقُ بِهَا وَهَذَا أَشْهَرُ الْمَذْهَبَيْنِ لِلْمُتَكَلِّمِينَ: وَقَالَ آخَرُونَ لَا تُتَأَوَّلُ بَلْ يُمْسِكُ عَنْ الْكَلَامِ فِي مَعْنَاهَا وَيُوكَلُ عِلْمُهَا إلَى اللَّهِ تَعَالَى وَيَعْتَقِدُ مَعَ ذَلِكَ تَنْزِيهَ اللَّهِ تَعَالَى وَانْتِفَاءَ صِفَاتِ الْحَادِثِ عَنْهُ: فَيُقَالُ مَثَلًا نُؤْمِنُ بِأَنَّ الرَّحْمَنَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَلَا نَعْلَمُ حَقِيقَةَ مَعْنَى ذَلِكَ وَالْمُرَادَ بِهِ مَعَ أَنَّا نَعْتَقِدُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى (لَيْسَ كمثله شئ) وَأَنَّهُ مُنَزَّهٌ عَنْ الْحُلُولِ وَسِمَاتِ الْحُدُوثِ وَهَذِهِ طَرِيقَةُ السَّلَفِ أَوْ جَمَاهِيرِهِمْ وَهِيَ أَسْلَمُ إذْ لَا يُطَالَبُ الْإِنْسَانُ بِالْخَوْضِ فِي ذَلِكَ فَإِذَا اعْتَقَدَ التَّنْزِيهَ فَلَا حَاجَةَ إلَى الْخَوْضِ فِي ذَلِكَ وَالْمُخَاطَرَةِ فِيمَا لَا ضَرُورَةَ بَلْ لَا حَاجَةَ إلَيْهِ فَإِنْ دَعَتْ الْحَاجَةُ إلَى التَّأْوِيلِ لِرَدِّ مُبْتَدِعٍ وَنَحْوِهِ تَأَوَّلُوا حِينَئِذٍ: وَعَلَى هَذَا يُحْمَلُ مَا جَاءَ عَنْ الْعُلَمَاءِ فِي هَذَا والله أعلم
* (فرع)
لا يَلْزَمُ الْإِنْسَانَ تَعَلُّمَ كَيْفِيَّةِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ وَشَبَهِهِمَا الا بعد وجوب ذلك الشئ فَإِنْ كَانَ بِحَيْثُ لَوْ صَبَرَ إلَى دُخُولِ الْوَقْتِ لَمْ يَتَمَكَّنْ مِنْ تَمَامِ تَعَلُّمِهَا مَعَ الْفِعْلِ فِي الْوَقْتِ فَهَلْ يَلْزَمُهُ التَّعَلُّمُ قَبْلَ الْوَقْتِ تَرَدَّدَ فِيهِ الْغَزَالِيُّ وَالصَّحِيحُ مَا جَزَمَ بِهِ غَيْرُهُ أَنَّهُ يَلْزَمُهُ تَقْدِيمُ التَّعَلُّمِ كَمَا يَلْزَمُ السَّعْيُ إلَى الْجُمُعَةِ لِمَنْ بَعُدَ مَنْزِلُهُ قَبْلَ الْوَقْتِ ثُمَّ إذَا كَانَ الْوَاجِبُ عَلَى الْفَوْرِ كَانَ تَعَلُّمُ الْكَيْفِيَّةِ عَلَى الْفَوْرِ وَإِنْ كَانَ عَلَى التَّرَاخِي كَالْحَجِّ فَعَلَى التَّرَاخِي: ثُمَّ الَّذِي يَجِبُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ مَا يَتَوَقَّفُ أَدَاءُ الْوَاجِبِ عَلَيْهِ غَالِبًا دُونَ مَا يَطْرَأُ نَادِرًا فَإِنْ وَقَعَ وَجَبَ التَّعَلُّمُ حِينَئِذٍ: وَفِي تَعَلُّمِ أَدِلَّةِ الْقِبْلَةِ أَوْجُهٌ أَحَدُهَا فَرْضُ عَيْنٍ وَالثَّانِي كِفَايَةٌ وَأَصَحُّهُمَا فَرْضُ كِفَايَةٍ إلَّا أَنْ يُرِيدَ سَفَرًا فَيَتَعَيَّنُ لِعُمُومِ حَاجَةِ الْمُسَافِرِ إلَى ذَلِكَ
* (فَرْعٌ)
أَمَّا الْبَيْعُ وَالنِّكَاحُ وَشَبَهُهُمَا مِمَّا لَا يَجِبُ أَصْلُهُ فَقَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ وَالْغَزَالِيُّ وَغَيْرُهُمَا يَتَعَيَّنُ عَلَى مَنْ أَرَادَهُ تَعَلُّمُ كَيْفِيَّتِهِ وَشَرْطِهِ وَقِيلَ لَا يُقَالُ يَتَعَيَّنُ بَلْ يُقَالُ يَحْرُمُ الْإِقْدَامُ عَلَيْهِ إلَّا بَعْدَ مَعْرِفَةِ شَرْطِهِ وَهَذِهِ الْعِبَارَةُ أَصَحُّ: وَعِبَارَتُهُمَا مَحْمُولَةٌ عَلَيْهَا: وَكَذَا يُقَالُ فِي صَلَاةِ النَّافِلَةِ يَحْرُمُ التَّلَبُّسُ بِهَا عَلَى مَنْ لَمْ يَعْرِفْ كَيْفِيَّتَهَا وَلَا يُقَالُ يجب تعلم كيفيتها
*
আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কাউকে (গভীরে প্রবেশ করতে জোর করেননি)। অনুরূপভাবে, খুলাফায়ে রাশিদীন এবং তাদের ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীগণ ও তাদের পরবর্তী প্রথম যুগের সালাফগণও (জোর করেননি)। বরং সাধারণ মানুষ, অধিকাংশ মুতাফাক্কিহ (ফিকহ শিক্ষার্থী) ও ফকীহদের জন্য সঠিক হলো কালাম শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়াদিতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা। কারণ এতে তাদের আকিদায় এমন ত্রুটি প্রবেশ করার আশঙ্কা থাকে যা থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বরং তাদের জন্য সঠিক হলো আমরা যা উল্লেখ করেছি, অর্থাৎ দৃঢ় প্রত্যয় সহকারে বিশ্বাস স্থাপনের উপর সীমাবদ্ধ থাকা। আমাদের বিজ্ঞ উলামায়ে কিরাম ও অন্যান্যদের একটি দল এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ইলমুল কালামে (ধর্মতত্ত্ব) লিপ্ত হওয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোর দিয়েছেন, এর হারাম হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন, এর চর্চাকারীর জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন, এর কাজকে জঘন্য বলেছেন এবং এতে জড়িত হওয়ার পাপকে গুরুতর আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাৎ শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ নিয়ে হওয়া, ইলমুল কালামের কোনো বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ হওয়ার চেয়ে উত্তম।" এই অর্থে তাঁর উক্তি অনেক এবং প্রসিদ্ধ। ইমাম গাযযালী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষ দিকে তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'ইলজামুল আওয়াম আন ইলমিল কালাম' (সাধারণ মানুষকে ইলমুল কালাম থেকে বিরত রাখা) রচনা করেছেন। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফকীহ ও অন্যান্যদের মধ্যে এই শাস্ত্রে (ইলমুল কালাম) সকলেই সাধারণ মানুষ, ব্যতিক্রম শুধু বিরল কিছু ব্যক্তি, যাদের মতো একজন ব্যক্তিও যুগে যুগে খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহই ভালো জানেন।
* যদি কোনো ব্যক্তি, আল্লাহ রক্ষা করুন, আকিদার মৌলিক বিষয়াদির কোনো একটিতে সন্দেহ পোষণ করে, যা বিশ্বাস করা অপরিহার্য, এবং তার সন্দেহ দূর না হয় মুতাকাল্লিমীনদের (কালাম শাস্ত্রবিদদের) কোনো দলিল শেখা ব্যতীত, তাহলে সেই সন্দেহ দূর করার জন্য এবং সেই মূলনীতি অর্জন করার জন্য তা শেখা ওয়াজিব।
* **(মাসআলা)**
সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসসমূহে তা'বীল (ব্যাখ্যা) করা হবে নাকি হবে না, এ বিষয়ে উলামায়ে কিরাম মতানৈক্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, সেগুলোর উপযুক্ত তা'বীল করা হবে। মুতাকাল্লিমীনদের (কালাম শাস্ত্রবিদদের) মধ্যে এটিই দুটি প্রসিদ্ধ মতের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ। অন্যরা বলেছেন, সেগুলোর তা'বীল করা হবে না, বরং সেগুলোর অর্থ নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা হবে এবং সেগুলোর জ্ঞান আল্লাহর উপর সোপর্দ করা হবে। এর সাথে আল্লাহর পবিত্রতা ও সৃষ্ট বস্তুর গুণাবলী থেকে তাঁর মুক্ত থাকার বিশ্বাস রাখা হবে। যেমন বলা হবে: 'আমরা বিশ্বাস করি যে, দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন', কিন্তু আমরা এর প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য জানি না। এর সাথে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তায়ালা "কোনো কিছুর সাথে তুলনীয় নন" (সূরা শুরা: ১১) এবং তিনি কোনো কিছুর মধ্যে প্রবেশ করা (হুলুল) ও সৃষ্ট বস্তুর বৈশিষ্ট্য থেকে পবিত্র। এটি সালাফদের বা তাদের অধিকাংশের পদ্ধতি, এবং এটিই অধিক নিরাপদ। কারণ মানুষকে এ বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করতে বলা হয়নি। সুতরাং যখন পবিত্রতার বিশ্বাস স্থাপন করা হলো, তখন এ বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করার এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন থাকে না, বরং কোনো প্রয়োজনই নেই। তবে যদি কোনো বিদআতীকে খণ্ডন করার জন্য বা অনুরূপ কোনো প্রয়োজনে তা'বীল করার প্রয়োজন হয়, তখন তারা তা'বীল করতেন। উলামায়ে কিরাম থেকে এ বিষয়ে যা এসেছে, তা এই নীতির উপরই ব্যাখ্যা করা হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
* **(মাসআলা)**
মানুষের উপর ওযু, সালাত ও অনুরূপ ইবাদতের পদ্ধতি শেখা আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ না সেই ইবাদত ওয়াজিব হয়। যদি এমন হয় যে, ওয়াক্ত প্রবেশ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সে ওয়াক্তের মধ্যে আমল করার সাথে সাথে তা সম্পূর্ণরূপে শিখতে পারবে না, তাহলে কি ওয়াক্তের পূর্বে শেখা তার উপর আবশ্যক হবে? এ বিষয়ে ইমাম গাযযালী (রহিমাহুল্লাহ) দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তবে অন্যদের দৃঢ় মত (আস-সাহীহ) হলো, তার উপর শেখা অগ্রিম করা আবশ্যক, যেমন যার বাড়ি দূরে তার জন্য ওয়াক্তের পূর্বে জুমার দিকে যাওয়া আবশ্যক। তারপর, যদি ওয়াজিবটি তাৎক্ষণিক (আলাল ফাওর) হয়, তাহলে পদ্ধতি শেখাও তাৎক্ষণিক হবে। আর যদি তা বিলম্বিত (আলাত তারাক্বী) হয়, যেমন হজ, তাহলে শেখাও বিলম্বিত হবে। তারপর, এই সবের মধ্যে যা ওয়াজিব, তা হলো যা ছাড়া সাধারণত ওয়াজিব আদায় করা সম্ভব হয় না, বিরল ঘটনা নয়। তবে যদি বিরল ঘটনা ঘটে, তখন তা শেখা ওয়াজিব হবে। কিবলার দিক নির্ণয়ের দলিলসমূহ শেখার বিষয়ে কয়েকটি মত রয়েছে: প্রথমত, ফরযে আইন; দ্বিতীয়ত, ফরযে কিফায়া। আর তাদের মধ্যে আস-সাহীহ (সর্বাধিক বিশুদ্ধ) মত হলো, ফরযে কিফায়া। তবে যদি কেউ সফরে যেতে চায়, তাহলে তার জন্য তা ফরযে আইন হয়ে যায়, কারণ মুসাফিরের এর ব্যাপক প্রয়োজন হয়।
* **(মাসআলা)**
তবে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং অনুরূপ বিষয়াদি, যার মূল (আসল) ওয়াজিব নয়, সে সম্পর্কে ইমামুল হারামাইন, গাযযালী ও অন্যান্যরা বলেছেন যে, যে ব্যক্তি তা করতে চায়, তার উপর এর পদ্ধতি ও শর্তাবলী শেখা ফরযে আইন (ওয়াজিব)। তবে বলা হয়েছে যে, 'ফরযে আইন' বলা হবে না, বরং বলা হবে যে, এর শর্তাবলী না জেনে এতে অগ্রসর হওয়া হারাম। এই অভিব্যক্তিটিই আস-সাহীহ (অধিক বিশুদ্ধ)। আর তাদের (ইমামুল হারামাইন ও গাযযালীর) অভিব্যক্তিকে এর উপরই ব্যাখ্যা করা হবে। অনুরূপভাবে নফল সালাতের ক্ষেত্রেও বলা হবে যে, যে ব্যক্তি এর পদ্ধতি জানে না, তার জন্য এতে লিপ্ত হওয়া হারাম। তবে 'এর পদ্ধতি শেখা ওয়াজিব' বলা হবে না।
* যদি কোনো ব্যক্তি, আল্লাহ রক্ষা করুন, আকিদার মৌলিক বিষয়াদির কোনো একটিতে সন্দেহ পোষণ করে, যা বিশ্বাস করা অপরিহার্য, এবং তার সন্দেহ দূর না হয় মুতাকাল্লিমীনদের (কালাম শাস্ত্রবিদদের) কোনো দলিল শেখা ব্যতীত, তাহলে সেই সন্দেহ দূর করার জন্য এবং সেই মূলনীতি অর্জন করার জন্য তা শেখা ওয়াজিব।
* **(মাসআলা)**
সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসসমূহে তা'বীল (ব্যাখ্যা) করা হবে নাকি হবে না, এ বিষয়ে উলামায়ে কিরাম মতানৈক্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, সেগুলোর উপযুক্ত তা'বীল করা হবে। মুতাকাল্লিমীনদের (কালাম শাস্ত্রবিদদের) মধ্যে এটিই দুটি প্রসিদ্ধ মতের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ। অন্যরা বলেছেন, সেগুলোর তা'বীল করা হবে না, বরং সেগুলোর অর্থ নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা হবে এবং সেগুলোর জ্ঞান আল্লাহর উপর সোপর্দ করা হবে। এর সাথে আল্লাহর পবিত্রতা ও সৃষ্ট বস্তুর গুণাবলী থেকে তাঁর মুক্ত থাকার বিশ্বাস রাখা হবে। যেমন বলা হবে: 'আমরা বিশ্বাস করি যে, দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন', কিন্তু আমরা এর প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য জানি না। এর সাথে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তায়ালা "কোনো কিছুর সাথে তুলনীয় নন" (সূরা শুরা: ১১) এবং তিনি কোনো কিছুর মধ্যে প্রবেশ করা (হুলুল) ও সৃষ্ট বস্তুর বৈশিষ্ট্য থেকে পবিত্র। এটি সালাফদের বা তাদের অধিকাংশের পদ্ধতি, এবং এটিই অধিক নিরাপদ। কারণ মানুষকে এ বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করতে বলা হয়নি। সুতরাং যখন পবিত্রতার বিশ্বাস স্থাপন করা হলো, তখন এ বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করার এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন থাকে না, বরং কোনো প্রয়োজনই নেই। তবে যদি কোনো বিদআতীকে খণ্ডন করার জন্য বা অনুরূপ কোনো প্রয়োজনে তা'বীল করার প্রয়োজন হয়, তখন তারা তা'বীল করতেন। উলামায়ে কিরাম থেকে এ বিষয়ে যা এসেছে, তা এই নীতির উপরই ব্যাখ্যা করা হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
* **(মাসআলা)**
মানুষের উপর ওযু, সালাত ও অনুরূপ ইবাদতের পদ্ধতি শেখা আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ না সেই ইবাদত ওয়াজিব হয়। যদি এমন হয় যে, ওয়াক্ত প্রবেশ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সে ওয়াক্তের মধ্যে আমল করার সাথে সাথে তা সম্পূর্ণরূপে শিখতে পারবে না, তাহলে কি ওয়াক্তের পূর্বে শেখা তার উপর আবশ্যক হবে? এ বিষয়ে ইমাম গাযযালী (রহিমাহুল্লাহ) দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তবে অন্যদের দৃঢ় মত (আস-সাহীহ) হলো, তার উপর শেখা অগ্রিম করা আবশ্যক, যেমন যার বাড়ি দূরে তার জন্য ওয়াক্তের পূর্বে জুমার দিকে যাওয়া আবশ্যক। তারপর, যদি ওয়াজিবটি তাৎক্ষণিক (আলাল ফাওর) হয়, তাহলে পদ্ধতি শেখাও তাৎক্ষণিক হবে। আর যদি তা বিলম্বিত (আলাত তারাক্বী) হয়, যেমন হজ, তাহলে শেখাও বিলম্বিত হবে। তারপর, এই সবের মধ্যে যা ওয়াজিব, তা হলো যা ছাড়া সাধারণত ওয়াজিব আদায় করা সম্ভব হয় না, বিরল ঘটনা নয়। তবে যদি বিরল ঘটনা ঘটে, তখন তা শেখা ওয়াজিব হবে। কিবলার দিক নির্ণয়ের দলিলসমূহ শেখার বিষয়ে কয়েকটি মত রয়েছে: প্রথমত, ফরযে আইন; দ্বিতীয়ত, ফরযে কিফায়া। আর তাদের মধ্যে আস-সাহীহ (সর্বাধিক বিশুদ্ধ) মত হলো, ফরযে কিফায়া। তবে যদি কেউ সফরে যেতে চায়, তাহলে তার জন্য তা ফরযে আইন হয়ে যায়, কারণ মুসাফিরের এর ব্যাপক প্রয়োজন হয়।
* **(মাসআলা)**
তবে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং অনুরূপ বিষয়াদি, যার মূল (আসল) ওয়াজিব নয়, সে সম্পর্কে ইমামুল হারামাইন, গাযযালী ও অন্যান্যরা বলেছেন যে, যে ব্যক্তি তা করতে চায়, তার উপর এর পদ্ধতি ও শর্তাবলী শেখা ফরযে আইন (ওয়াজিব)। তবে বলা হয়েছে যে, 'ফরযে আইন' বলা হবে না, বরং বলা হবে যে, এর শর্তাবলী না জেনে এতে অগ্রসর হওয়া হারাম। এই অভিব্যক্তিটিই আস-সাহীহ (অধিক বিশুদ্ধ)। আর তাদের (ইমামুল হারামাইন ও গাযযালীর) অভিব্যক্তিকে এর উপরই ব্যাখ্যা করা হবে। অনুরূপভাবে নফল সালাতের ক্ষেত্রেও বলা হবে যে, যে ব্যক্তি এর পদ্ধতি জানে না, তার জন্য এতে লিপ্ত হওয়া হারাম। তবে 'এর পদ্ধতি শেখা ওয়াজিব' বলা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(فَرْعٌ)
يَلْزَمُهُ مَعْرِفَةُ مَا يَحِلُّ وَمَا يَحْرُمُ مِنْ الْمَأْكُولِ وَالْمَشْرُوبِ وَالْمَلْبُوسِ وَنَحْوِهَا مِمَّا لَا غِنًى لَهُ عَنْهُ غَالِبًا: وَكَذَلِكَ أَحْكَامِ عِشْرَةِ النِّسَاءِ إنْ كَانَ لَهُ زَوْجَةٌ وَحُقُوقِ الْمَمَالِيكِ إنْ كَانَ لَهُ مَمْلُوكٌ وَنَحْوِ ذَلِكَ
* (فَرْعٌ)
قَالَ الشَّافِعِيُّ وَالْأَصْحَابُ رَحِمَهُمُ اللَّهُ عَلَى الْآبَاءِ وَالْأُمَّهَاتِ تَعْلِيمُ أَوْلَادِهِمْ الصِّغَارِ مَا سَيَتَعَيَّنُ عَلَيْهِمْ بَعْدَ الْبُلُوغِ فَيُعَلِّمُهُ الْوَلِيُّ الطَّهَارَةَ وَالصَّلَاةَ وَالصَّوْمَ وَنَحْوَهَا وَيُعَرِّفُهُ تَحْرِيمَ الزِّنَا وَاللِّوَاطِ وَالسَّرِقَةِ وَشُرْبِ الْمُسْكِرِ وَالْكَذِبِ وَالْغِيبَةِ وَشَبَهِهَا: وَيُعَرِّفُهُ أَنَّ بِالْبُلُوغِ يَدْخُلُ فِي التَّكْلِيفِ وَيُعَرِّفُهُ مَا يَبْلُغُ بِهِ: وَقِيلَ هَذَا التَّعْلِيمُ مُسْتَحَبٌّ وَالصَّحِيحُ وُجُوبُهُ وَهُوَ ظَاهِرُ نَصِّهِ وَكَمَا يَجِبُ عَلَيْهِ النَّظَرُ فِي ماله وهذا أَوْلَى وَإِنَّمَا الْمُسْتَحَبُّ مَا زَادَ عَلَى هَذَا مِنْ تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَفِقْهٍ وَأَدَبٍ: وَيُعَرِّفُهُ مَا يصلح به مَعَاشَهُ وَدَلِيلُ وُجُوبِ تَعْلِيمِ الْوَلَدِ الصَّغِيرِ وَالْمَمْلُوكِ قول الله عزوجل (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نارا) قَالَ عَلِيُّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَمُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ مَعْنَاهُ عَلِّمُوهُمْ مَا يَنْجُونَ بِهِ مِنْ النَّارِ وَهَذَا ظَاهِرٌ: وَثَبَتَ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ثُمَّ أُجْرَةُ التَّعْلِيمِ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ فِي مَالِ الصَّبِيِّ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ فَعَلَى مَنْ تَلْزَمُهُ نَفَقَتُهُ
* وَأَمَّا الثَّانِي فَذَكَرَ الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ الْبَغَوِيّ صَاحِبُ التَّهْذِيبِ فِيهِ وَجْهَيْنِ وَحَكَاهُمَا غَيْرُهُ أَصَحُّهُمَا فِي مَالِ الصَّبِيِّ لِكَوْنِهِ مَصْلَحَةً لَهُ: وَالثَّانِي فِي مَالِ الْوَلِيِّ لِعَدَمِ الضَّرُورَةِ إلَيْهِ
* وَاعْلَمْ أَنَّ الشَّافِعِيَّ وَالْأَصْحَابَ إنَّمَا جَعَلُوا لِلْأُمِّ مَدْخَلًا فِي وُجُوبِ التَّعْلِيمِ لِكَوْنِهِ مِنْ التَّرْبِيَةِ وَهِيَ وَاجِبَةٌ عليها (1) كالنفقة والله أعلم* (فَرْعٌ)
أَمَّا عِلْمُ الْقَلْبِ وَهُوَ مَعْرِفَةُ أَمْرَاضِ الْقَلْبِ كَالْحَسَدِ وَالْعُجْبِ وَشَبَهِهِمَا فَقَالَ الْغَزَالِيُّ مَعْرِفَةُ حُدُودِهَا وَأَسْبَابِهَا وَطِبِّهَا وَعِلَاجِهَا فَرْضُ عَيْنٍ: وَقَالَ غَيْرُهُ إنْ رُزِقَ الْمُكَلَّفُ قَلْبًا سَلِيمًا مِنْ هَذِهِ الْأَمْرَاضِ الْمُحَرَّمَةِ كَفَاهُ ذَلِكَ وَلَا يَلْزَمُهُ تَعَلُّمُ دَوَائِهَا وَإِنْ لَمْ يَسْلَمْ نَظَرَ إنْ تَمَكَّنَ مِنْ تَطْهِيرِ قَلْبِهِ مِنْ ذَلِكَ بِلَا نعلم لَزِمَهُ التَّطْهِيرُ كَمَا يَلْزَمُهُ تَرْكُ الزِّنَا وَنَحْوِهِ مِنْ غَيْرِ تَعَلُّمِ أَدِلَّةِ التَّرْكِ وَإِنْ لَمْ يَتَمَكَّنْ مِنْ التَّرْكِ إلَّا بِتَعَلُّمِ الْعِلْمِ الْمَذْكُورِ تَعَيَّنَ حِينَئِذٍ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ* (الْقِسْمُ الثَّانِي) فَرْضُ الْكِفَايَةِ وَهُوَ تَحْصِيلُ مَا لَا بُدَّ لِلنَّاسِ مِنْهُ فِي إقَامَةِ دِينِهِمْ مِنْ الْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ كَحِفْظِ الْقُرْآنِ وَالْأَحَادِيثِ وَعُلُومِهِمَا وَالْأُصُولِ وَالْفِقْهِ وَالنَّحْوِ وَاللُّغَةِ وَالتَّصْرِيفِ: وَمَعْرِفَةِ رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْخِلَافِ: وَأَمَّا مَا لَيْسَ عِلْمًا شَرْعِيًّا وَيُحْتَاجُ إلَيْهِ فِي قِوَامِ أَمْرِ الدُّنْيَا كَالطِّبِّ وَالْحِسَابِ فَفَرْضُ كِفَايَةٍ أَيْضًا نَصَّ عَلَيْهِ الْغَزَالِيُّ: وَاخْتَلَفُوا فِي تَعَلُّمِ الصَّنَائِعِ الَّتِي هِيَ سَبَبُ قِيَامِ مَصَالِحِ الدُّنْيَا كَالْخِيَاطَةِ وَالْفِلَاحَةِ وَنَحْوِهِمَا وَاخْتَلَفُوا أَيْضًا فِي أَصْلِ فِعْلِهَا فَقَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ وَالْغَزَالِيُّ لَيْسَتْ فَرْضَ كِفَايَةٍ: وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الطَّبَرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالْكِيَا الْهِرَّاسِيِّ صَاحِبُ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ هِيَ فَرْضُ كِفَايَةٍ وَهَذَا أَظْهَرُ: قَالَ أَصْحَابُنَا وَفَرْضُ الْكِفَايَةِ الْمُرَادُ به تحصيل ذلك الشئ مِنْ الْمُكَلَّفِينَ بِهِ أَوْ بَعْضِهِمْ وَيَعُمُّ وُجُوبُهُ جَمِيعَ الْمُخَاطَبِينَ بِهِ فَإِذَا فَعَلَهُ مَنْ تَحْصُلُ بِهِ الْكِفَايَةُ سَقَطَ الْحَرَجُ عَنْ الْبَاقِينَ وَإِذَا قَامَ بِهِ جَمْعٌ تَحْصُلُ الْكِفَايَةُ بِبَعْضِهِمْ فَكُلُّهُمْ سَوَاءٌ فِي حُكْمِ الْقِيَامِ بِالْفَرْضِ فِي الثَّوَابِ
__________
(1) هكذا في نسخة: وفي نسخة أخرى: واجبة عليها إذا وجبت عليها النفقة:
يَلْزَمُهُ مَعْرِفَةُ مَا يَحِلُّ وَمَا يَحْرُمُ مِنْ الْمَأْكُولِ وَالْمَشْرُوبِ وَالْمَلْبُوسِ وَنَحْوِهَا مِمَّا لَا غِنًى لَهُ عَنْهُ غَالِبًا: وَكَذَلِكَ أَحْكَامِ عِشْرَةِ النِّسَاءِ إنْ كَانَ لَهُ زَوْجَةٌ وَحُقُوقِ الْمَمَالِيكِ إنْ كَانَ لَهُ مَمْلُوكٌ وَنَحْوِ ذَلِكَ
* (فَرْعٌ)
قَالَ الشَّافِعِيُّ وَالْأَصْحَابُ رَحِمَهُمُ اللَّهُ عَلَى الْآبَاءِ وَالْأُمَّهَاتِ تَعْلِيمُ أَوْلَادِهِمْ الصِّغَارِ مَا سَيَتَعَيَّنُ عَلَيْهِمْ بَعْدَ الْبُلُوغِ فَيُعَلِّمُهُ الْوَلِيُّ الطَّهَارَةَ وَالصَّلَاةَ وَالصَّوْمَ وَنَحْوَهَا وَيُعَرِّفُهُ تَحْرِيمَ الزِّنَا وَاللِّوَاطِ وَالسَّرِقَةِ وَشُرْبِ الْمُسْكِرِ وَالْكَذِبِ وَالْغِيبَةِ وَشَبَهِهَا: وَيُعَرِّفُهُ أَنَّ بِالْبُلُوغِ يَدْخُلُ فِي التَّكْلِيفِ وَيُعَرِّفُهُ مَا يَبْلُغُ بِهِ: وَقِيلَ هَذَا التَّعْلِيمُ مُسْتَحَبٌّ وَالصَّحِيحُ وُجُوبُهُ وَهُوَ ظَاهِرُ نَصِّهِ وَكَمَا يَجِبُ عَلَيْهِ النَّظَرُ فِي ماله وهذا أَوْلَى وَإِنَّمَا الْمُسْتَحَبُّ مَا زَادَ عَلَى هَذَا مِنْ تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَفِقْهٍ وَأَدَبٍ: وَيُعَرِّفُهُ مَا يصلح به مَعَاشَهُ وَدَلِيلُ وُجُوبِ تَعْلِيمِ الْوَلَدِ الصَّغِيرِ وَالْمَمْلُوكِ قول الله عزوجل (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نارا) قَالَ عَلِيُّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَمُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ مَعْنَاهُ عَلِّمُوهُمْ مَا يَنْجُونَ بِهِ مِنْ النَّارِ وَهَذَا ظَاهِرٌ: وَثَبَتَ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ثُمَّ أُجْرَةُ التَّعْلِيمِ فِي النَّوْعِ الْأَوَّلِ فِي مَالِ الصَّبِيِّ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ فَعَلَى مَنْ تَلْزَمُهُ نَفَقَتُهُ
* وَأَمَّا الثَّانِي فَذَكَرَ الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ الْبَغَوِيّ صَاحِبُ التَّهْذِيبِ فِيهِ وَجْهَيْنِ وَحَكَاهُمَا غَيْرُهُ أَصَحُّهُمَا فِي مَالِ الصَّبِيِّ لِكَوْنِهِ مَصْلَحَةً لَهُ: وَالثَّانِي فِي مَالِ الْوَلِيِّ لِعَدَمِ الضَّرُورَةِ إلَيْهِ
* وَاعْلَمْ أَنَّ الشَّافِعِيَّ وَالْأَصْحَابَ إنَّمَا جَعَلُوا لِلْأُمِّ مَدْخَلًا فِي وُجُوبِ التَّعْلِيمِ لِكَوْنِهِ مِنْ التَّرْبِيَةِ وَهِيَ وَاجِبَةٌ عليها (1) كالنفقة والله أعلم* (فَرْعٌ)
أَمَّا عِلْمُ الْقَلْبِ وَهُوَ مَعْرِفَةُ أَمْرَاضِ الْقَلْبِ كَالْحَسَدِ وَالْعُجْبِ وَشَبَهِهِمَا فَقَالَ الْغَزَالِيُّ مَعْرِفَةُ حُدُودِهَا وَأَسْبَابِهَا وَطِبِّهَا وَعِلَاجِهَا فَرْضُ عَيْنٍ: وَقَالَ غَيْرُهُ إنْ رُزِقَ الْمُكَلَّفُ قَلْبًا سَلِيمًا مِنْ هَذِهِ الْأَمْرَاضِ الْمُحَرَّمَةِ كَفَاهُ ذَلِكَ وَلَا يَلْزَمُهُ تَعَلُّمُ دَوَائِهَا وَإِنْ لَمْ يَسْلَمْ نَظَرَ إنْ تَمَكَّنَ مِنْ تَطْهِيرِ قَلْبِهِ مِنْ ذَلِكَ بِلَا نعلم لَزِمَهُ التَّطْهِيرُ كَمَا يَلْزَمُهُ تَرْكُ الزِّنَا وَنَحْوِهِ مِنْ غَيْرِ تَعَلُّمِ أَدِلَّةِ التَّرْكِ وَإِنْ لَمْ يَتَمَكَّنْ مِنْ التَّرْكِ إلَّا بِتَعَلُّمِ الْعِلْمِ الْمَذْكُورِ تَعَيَّنَ حِينَئِذٍ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ* (الْقِسْمُ الثَّانِي) فَرْضُ الْكِفَايَةِ وَهُوَ تَحْصِيلُ مَا لَا بُدَّ لِلنَّاسِ مِنْهُ فِي إقَامَةِ دِينِهِمْ مِنْ الْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ كَحِفْظِ الْقُرْآنِ وَالْأَحَادِيثِ وَعُلُومِهِمَا وَالْأُصُولِ وَالْفِقْهِ وَالنَّحْوِ وَاللُّغَةِ وَالتَّصْرِيفِ: وَمَعْرِفَةِ رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْخِلَافِ: وَأَمَّا مَا لَيْسَ عِلْمًا شَرْعِيًّا وَيُحْتَاجُ إلَيْهِ فِي قِوَامِ أَمْرِ الدُّنْيَا كَالطِّبِّ وَالْحِسَابِ فَفَرْضُ كِفَايَةٍ أَيْضًا نَصَّ عَلَيْهِ الْغَزَالِيُّ: وَاخْتَلَفُوا فِي تَعَلُّمِ الصَّنَائِعِ الَّتِي هِيَ سَبَبُ قِيَامِ مَصَالِحِ الدُّنْيَا كَالْخِيَاطَةِ وَالْفِلَاحَةِ وَنَحْوِهِمَا وَاخْتَلَفُوا أَيْضًا فِي أَصْلِ فِعْلِهَا فَقَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ وَالْغَزَالِيُّ لَيْسَتْ فَرْضَ كِفَايَةٍ: وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الطَّبَرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالْكِيَا الْهِرَّاسِيِّ صَاحِبُ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ هِيَ فَرْضُ كِفَايَةٍ وَهَذَا أَظْهَرُ: قَالَ أَصْحَابُنَا وَفَرْضُ الْكِفَايَةِ الْمُرَادُ به تحصيل ذلك الشئ مِنْ الْمُكَلَّفِينَ بِهِ أَوْ بَعْضِهِمْ وَيَعُمُّ وُجُوبُهُ جَمِيعَ الْمُخَاطَبِينَ بِهِ فَإِذَا فَعَلَهُ مَنْ تَحْصُلُ بِهِ الْكِفَايَةُ سَقَطَ الْحَرَجُ عَنْ الْبَاقِينَ وَإِذَا قَامَ بِهِ جَمْعٌ تَحْصُلُ الْكِفَايَةُ بِبَعْضِهِمْ فَكُلُّهُمْ سَوَاءٌ فِي حُكْمِ الْقِيَامِ بِالْفَرْضِ فِي الثَّوَابِ
__________
(1) هكذا في نسخة: وفي نسخة أخرى: واجبة عليها إذا وجبت عليها النفقة:
**(একটি শাখা মাসআলা)**
সাধারণত যা ছাড়া তার চলে না, এমন পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বস্তুর হালাল ও হারাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য আবশ্যক। অনুরূপভাবে, যদি তার স্ত্রী থাকে, তবে স্ত্রীর সাথে সহবাসের বিধানাবলী এবং যদি তার দাস থাকে, তবে দাসদের অধিকার ও এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও আবশ্যক।
**(একটি শাখা মাসআলা)**
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বলেছেন যে, পিতা-মাতার উপর তাদের ছোট সন্তানদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক যা বালেগ হওয়ার পর তাদের উপর ফরয হবে। সুতরাং অভিভাবক তাকে পবিত্রতা, সালাত, সাওম এবং এ জাতীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেবেন। এবং তাকে যিনা, সমকামিতা (লিবাত), চুরি, মাদকদ্রব্য পান, মিথ্যা ও গীবত এবং এ জাতীয় অন্যান্য হারাম বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবেন। তাকে এও অবহিত করবেন যে, বালেগ হওয়ার মাধ্যমে সে শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত হবে এবং তাকে বালেগ হওয়ার লক্ষণসমূহ সম্পর্কেও অবহিত করবেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, এই শিক্ষা দেওয়া মুস্তাহাব। তবে সহীহ মত হলো, এটি ওয়াজিব। আর এটিই তাঁর (ইমাম শাফিঈর) সুস্পষ্ট উক্তির বাহ্যিক অর্থ। যেমন তার (সন্তানের) সম্পদের প্রতি দৃষ্টি রাখা তার (অভিভাবকের) উপর ওয়াজিব, তেমনি এটি (শিক্ষা দেওয়া) আরও বেশি অগ্রগণ্য। আর মুস্তাহাব হলো এর অতিরিক্ত বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া, যেমন কুরআন, ফিকহ ও আদব শিক্ষা দেওয়া। এবং তাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবেন যা দ্বারা তার জীবিকা নির্বাহ সহজ হয়। ছোট সন্তান ও দাসকে শিক্ষা দেওয়ার আবশ্যিকতার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نارا) "হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" (সূরা তাহরীম: ৬)। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), মুজাহিদ ও কাতাদাহ (রহ.) বলেছেন, এর অর্থ হলো: "তাদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দাও যা দ্বারা তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।" আর এটিই সুস্পষ্ট। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" অতঃপর, প্রথম প্রকারের শিক্ষার (যা বালেগ হওয়ার পর ফরয হবে) মজুরি সন্তানের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে। যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে, তবে যার উপর তার ভরণপোষণ আবশ্যক, তার উপর (মজুরি) বর্তাবে।
আর দ্বিতীয় প্রকারের (শিক্ষার মজুরির) ক্ষেত্রে, ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাভী, 'আত-তাহযীব' গ্রন্থের রচয়িতা, এ বিষয়ে দুটি 'ওয়াজহ' (মত) উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরাও তা বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে 'আসাহ' (সর্বাধিক বিশুদ্ধ) মত হলো, তা সন্তানের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে, কারণ এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর দ্বিতীয় মত হলো, তা অভিভাবকের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে, কারণ এর (এই শিক্ষার) প্রতি কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন নেই।
জেনে রাখো যে, ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ এই শিক্ষার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে মায়েরও একটি ভূমিকা রেখেছেন। কারণ এটি প্রতিপালনের অংশ, আর প্রতিপালন তার (মায়ের) উপর ওয়াজিব, যেমন ভরণপোষণ (ওয়াজিব)। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
(১) এক নুসখায় এমন আছে: "ওয়াজিবাতুন আলাইহা"। অন্য নুসখায় আছে: "ওয়াজিবাতুন আলাইহা ইযা ওয়াজাবাত আলাইহা আন-নাফাকাহ" (অর্থাৎ, তার উপর ভরণপোষণ ওয়াজিব হলে এটিও তার উপর ওয়াজিব)।
**(একটি শাখা মাসআলা)**
আর কলবের ইলম (জ্ঞান), যা হলো হিংসা, আত্মম্ভরিতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কলবের ব্যাধি সম্পর্কে জ্ঞান। এ বিষয়ে ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন, এগুলোর সীমা, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন। আর অন্যেরা বলেছেন, যদি মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত ব্যক্তি) এই হারাম ব্যাধিসমূহ থেকে মুক্ত একটি সুস্থ কলব লাভ করে, তবে তার জন্য সেটাই যথেষ্ট। তার জন্য এগুলোর প্রতিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক নয়। আর যদি সে মুক্ত না থাকে, তবে দেখতে হবে: যদি সে জ্ঞান অর্জন ছাড়াই তার কলবকে তা থেকে পবিত্র করতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য পবিত্র করা আবশ্যক, যেমন তার জন্য যিনা ও এ জাতীয় অন্যান্য হারাম কাজ পরিত্যাগ করা আবশ্যক, সেগুলোর পরিত্যাগের দলীল না জেনেও। আর যদি সে উল্লিখিত জ্ঞান অর্জন ছাড়া তা পরিত্যাগ করতে সক্ষম না হয়, তবে তখন সেই জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**(দ্বিতীয় প্রকার)**
ফরযে কিফায়া হলো শরঈ জ্ঞানসমূহের মধ্যে এমন জ্ঞান অর্জন করা যা মানুষের জন্য তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। যেমন কুরআন ও হাদীস মুখস্থ করা এবং এ দুটোর জ্ঞান, উসুল (ফিকহের মূলনীতি), ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), লুগাহ (ভাষা) ও তাসরীফ (রূপতত্ত্ব)। এবং হাদীসের বর্ণনাকারীগণ, ইজমা (ঐকমত্য) ও ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) সম্পর্কে জ্ঞান। আর যা শরঈ জ্ঞান নয়, কিন্তু দুনিয়ার বিষয়াদি পরিচালনার জন্য যার প্রয়োজন হয়, যেমন চিকিৎসাশাস্ত্র ও গণিতশাস্ত্র, সেগুলোও ফরযে কিফায়া। ইমাম গাযালী (রহ.) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট উক্তি করেছেন। আর তারা (উলামায়ে কেরাম) সেই শিল্প ও কারুশিল্প শিক্ষা করার বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন যা দুনিয়ার কল্যাণ প্রতিষ্ঠার কারণ, যেমন সেলাই, কৃষি এবং এ জাতীয় অন্যান্য। এবং তারা এগুলোর মূল কাজ করার বিষয়েও মতপার্থক্য করেছেন। ইমামুল হারামাইন ও ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন, এগুলো ফরযে কিফায়া নয়। আর ইমামুল হারামাইনের ছাত্র ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আত-তাবারী, যিনি কিয়া আল-হাররাসী নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন, এগুলো ফরযে কিফায়া। আর এটিই অধিক সুস্পষ্ট (আযহার)। আমাদের আসহাবগণ (শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীগণ) বলেছেন যে, ফরযে কিফায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুকাল্লাফীন (শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত ব্যক্তিগণ) বা তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সেই কাজটি সম্পন্ন করা। আর এর আবশ্যকতা সকল সম্বোধিত ব্যক্তিকে (যাদের উপর এটি ফরয) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং, যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তি তা সম্পন্ন করে, তখন বাকিদের থেকে গুনাহ উঠে যায়। আর যখন এমন একটি দল তা সম্পাদন করে যার কিছু সংখ্যক সদস্যের দ্বারাও কাজটি সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন ফরয আদায়ের সওয়াবের ক্ষেত্রে তাদের সকলেই সমান।
সাধারণত যা ছাড়া তার চলে না, এমন পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বস্তুর হালাল ও হারাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য আবশ্যক। অনুরূপভাবে, যদি তার স্ত্রী থাকে, তবে স্ত্রীর সাথে সহবাসের বিধানাবলী এবং যদি তার দাস থাকে, তবে দাসদের অধিকার ও এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও আবশ্যক।
**(একটি শাখা মাসআলা)**
ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বলেছেন যে, পিতা-মাতার উপর তাদের ছোট সন্তানদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক যা বালেগ হওয়ার পর তাদের উপর ফরয হবে। সুতরাং অভিভাবক তাকে পবিত্রতা, সালাত, সাওম এবং এ জাতীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেবেন। এবং তাকে যিনা, সমকামিতা (লিবাত), চুরি, মাদকদ্রব্য পান, মিথ্যা ও গীবত এবং এ জাতীয় অন্যান্য হারাম বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবেন। তাকে এও অবহিত করবেন যে, বালেগ হওয়ার মাধ্যমে সে শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত হবে এবং তাকে বালেগ হওয়ার লক্ষণসমূহ সম্পর্কেও অবহিত করবেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, এই শিক্ষা দেওয়া মুস্তাহাব। তবে সহীহ মত হলো, এটি ওয়াজিব। আর এটিই তাঁর (ইমাম শাফিঈর) সুস্পষ্ট উক্তির বাহ্যিক অর্থ। যেমন তার (সন্তানের) সম্পদের প্রতি দৃষ্টি রাখা তার (অভিভাবকের) উপর ওয়াজিব, তেমনি এটি (শিক্ষা দেওয়া) আরও বেশি অগ্রগণ্য। আর মুস্তাহাব হলো এর অতিরিক্ত বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া, যেমন কুরআন, ফিকহ ও আদব শিক্ষা দেওয়া। এবং তাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবেন যা দ্বারা তার জীবিকা নির্বাহ সহজ হয়। ছোট সন্তান ও দাসকে শিক্ষা দেওয়ার আবশ্যিকতার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نارا) "হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" (সূরা তাহরীম: ৬)। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), মুজাহিদ ও কাতাদাহ (রহ.) বলেছেন, এর অর্থ হলো: "তাদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দাও যা দ্বারা তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।" আর এটিই সুস্পষ্ট। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" অতঃপর, প্রথম প্রকারের শিক্ষার (যা বালেগ হওয়ার পর ফরয হবে) মজুরি সন্তানের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে। যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে, তবে যার উপর তার ভরণপোষণ আবশ্যক, তার উপর (মজুরি) বর্তাবে।
আর দ্বিতীয় প্রকারের (শিক্ষার মজুরির) ক্ষেত্রে, ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাভী, 'আত-তাহযীব' গ্রন্থের রচয়িতা, এ বিষয়ে দুটি 'ওয়াজহ' (মত) উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরাও তা বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে 'আসাহ' (সর্বাধিক বিশুদ্ধ) মত হলো, তা সন্তানের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে, কারণ এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর দ্বিতীয় মত হলো, তা অভিভাবকের সম্পদ থেকে নেওয়া হবে, কারণ এর (এই শিক্ষার) প্রতি কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন নেই।
জেনে রাখো যে, ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ এই শিক্ষার আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে মায়েরও একটি ভূমিকা রেখেছেন। কারণ এটি প্রতিপালনের অংশ, আর প্রতিপালন তার (মায়ের) উপর ওয়াজিব, যেমন ভরণপোষণ (ওয়াজিব)। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
(১) এক নুসখায় এমন আছে: "ওয়াজিবাতুন আলাইহা"। অন্য নুসখায় আছে: "ওয়াজিবাতুন আলাইহা ইযা ওয়াজাবাত আলাইহা আন-নাফাকাহ" (অর্থাৎ, তার উপর ভরণপোষণ ওয়াজিব হলে এটিও তার উপর ওয়াজিব)।
**(একটি শাখা মাসআলা)**
আর কলবের ইলম (জ্ঞান), যা হলো হিংসা, আত্মম্ভরিতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কলবের ব্যাধি সম্পর্কে জ্ঞান। এ বিষয়ে ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন, এগুলোর সীমা, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন। আর অন্যেরা বলেছেন, যদি মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত ব্যক্তি) এই হারাম ব্যাধিসমূহ থেকে মুক্ত একটি সুস্থ কলব লাভ করে, তবে তার জন্য সেটাই যথেষ্ট। তার জন্য এগুলোর প্রতিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক নয়। আর যদি সে মুক্ত না থাকে, তবে দেখতে হবে: যদি সে জ্ঞান অর্জন ছাড়াই তার কলবকে তা থেকে পবিত্র করতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য পবিত্র করা আবশ্যক, যেমন তার জন্য যিনা ও এ জাতীয় অন্যান্য হারাম কাজ পরিত্যাগ করা আবশ্যক, সেগুলোর পরিত্যাগের দলীল না জেনেও। আর যদি সে উল্লিখিত জ্ঞান অর্জন ছাড়া তা পরিত্যাগ করতে সক্ষম না হয়, তবে তখন সেই জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**(দ্বিতীয় প্রকার)**
ফরযে কিফায়া হলো শরঈ জ্ঞানসমূহের মধ্যে এমন জ্ঞান অর্জন করা যা মানুষের জন্য তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। যেমন কুরআন ও হাদীস মুখস্থ করা এবং এ দুটোর জ্ঞান, উসুল (ফিকহের মূলনীতি), ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), লুগাহ (ভাষা) ও তাসরীফ (রূপতত্ত্ব)। এবং হাদীসের বর্ণনাকারীগণ, ইজমা (ঐকমত্য) ও ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) সম্পর্কে জ্ঞান। আর যা শরঈ জ্ঞান নয়, কিন্তু দুনিয়ার বিষয়াদি পরিচালনার জন্য যার প্রয়োজন হয়, যেমন চিকিৎসাশাস্ত্র ও গণিতশাস্ত্র, সেগুলোও ফরযে কিফায়া। ইমাম গাযালী (রহ.) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট উক্তি করেছেন। আর তারা (উলামায়ে কেরাম) সেই শিল্প ও কারুশিল্প শিক্ষা করার বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন যা দুনিয়ার কল্যাণ প্রতিষ্ঠার কারণ, যেমন সেলাই, কৃষি এবং এ জাতীয় অন্যান্য। এবং তারা এগুলোর মূল কাজ করার বিষয়েও মতপার্থক্য করেছেন। ইমামুল হারামাইন ও ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন, এগুলো ফরযে কিফায়া নয়। আর ইমামুল হারামাইনের ছাত্র ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আত-তাবারী, যিনি কিয়া আল-হাররাসী নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন, এগুলো ফরযে কিফায়া। আর এটিই অধিক সুস্পষ্ট (আযহার)। আমাদের আসহাবগণ (শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীগণ) বলেছেন যে, ফরযে কিফায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুকাল্লাফীন (শরীয়তের বিধি-নিষেধের আওতাভুক্ত ব্যক্তিগণ) বা তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সেই কাজটি সম্পন্ন করা। আর এর আবশ্যকতা সকল সম্বোধিত ব্যক্তিকে (যাদের উপর এটি ফরয) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং, যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যক্তি তা সম্পন্ন করে, তখন বাকিদের থেকে গুনাহ উঠে যায়। আর যখন এমন একটি দল তা সম্পাদন করে যার কিছু সংখ্যক সদস্যের দ্বারাও কাজটি সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন ফরয আদায়ের সওয়াবের ক্ষেত্রে তাদের সকলেই সমান।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَغَيْرِهِ فَإِذَا صَلَّى عَلَى جِنَازَةِ جَمْعٌ ثُمَّ جَمْعٌ ثُمَّ جَمْعٌ فَالْكُلُّ يَقَعُ فَرْضَ كِفَايَةٍ وَلَوْ أَطْبَقُوا كُلُّهُمْ عَلَى تَرْكِهِ أَثِمَ كُلُّ مَنْ لَا عُذْرَ لَهُ مِمَّنْ عَلِمَ ذَلِكَ وَأَمْكَنَهُ الْقِيَامُ بِهِ أَوْ لَمْ يَعْلَمْ وَهُوَ قَرِيبٌ أَمْكَنَهُ الْعِلْمُ بِحَيْثُ يُنْسَبُ إلَى تَقْصِيرٍ وَلَا يَأْثَمُ مَنْ لَمْ يَتَمَكَّنْ لِكَوْنِهِ غَيْرَ أَهْلٍ أَوْ لِعُذْرٍ: وَلَوْ اشْتَغَلَ بِالْفِقْهِ وَنَحْوِهِ وَظَهَرَتْ نَجَابَتُهُ فِيهِ وَرُجِيَ فَلَاحُهُ وَتَبْرِيزُهُ فَوَجْهَانِ أَحَدُهُمَا يَتَعَيَّنُ عَلَيْهِ الِاسْتِمْرَارُ لِقِلَّةِ مَنْ يُحَصِّلُ هَذِهِ الْمَرْتَبَةَ فَيَنْبَغِي أَلَّا يُضَيِّعَ مَا حَصَّلَهُ وَمَا هُوَ بِصَدَدِ تَحْصِيلِهِ.
وَأَصَحُّهُمَا لَا يَتَعَيَّنُ لِأَنَّ الشُّرُوعَ لَا يُغَيِّرُ الْمَشْرُوعَ فِيهِ عِنْدَنَا إلَّا فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ: وَلَوْ خَلَتْ الْبَلْدَةُ مِنْ مُفْتٍ فَقِيلَ يَحْرُمُ الْمُقَامُ بِهَا وَالْأَصَحُّ لَا يَحْرُمُ إنْ أَمْكَنَ الذَّهَابُ إلَى مُفْتٍ وَإِذَا قَامَ بِالْفَتْوَى إنْسَانٌ فِي مَكَان سَقَطَ بِهِ فَرْضُ الْكِفَايَةِ إلَى مَسَافَةِ الْقَصْرِ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ
* وَاعْلَمْ أَنَّ لِلْقَائِمِ بِفَرْضِ الْكِفَايَةِ مَزِيَّةً عَلَى الْقَائِمِ بِفَرْضِ الْعَيْنِ لِأَنَّهُ أَسْقَطَ الْحَرَجَ عَنْ الْأُمَّةِ وَقَدْ قَدَّمْنَا كَلَامَ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ فِي هَذَا فِي فَصْلِ تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الْعِبَادَةِ الْقَاصِرَةِ* (الْقِسْمُ الثَّالِثُ) النَّفَلُ وَهُوَ كَالتَّبَحُّرِ فِي أُصُولِ الْأَدِلَّةِ وَالْإِمْعَانِ فِيمَا وَرَاءَ الْقَدْرِ الَّذِي يَحْصُلُ بِهِ فَرْضُ الْكِفَايَةِ: وَكَتَعَلُّمِ الْعَامِّيِّ نَوَافِلَ الْعِبَادَاتِ لِغَرَضِ الْعَمَلِ لَا مَا يَقُومُ بِهِ الْعُلَمَاءُ مِنْ تَمْيِيزِ الْفَرْضِ مِنْ النَّفْلِ فَإِنَّ ذَلِكَ فَرْضُ كِفَايَةٍ فِي حَقِّهِمْ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* فَصْلٌ قَدْ ذَكَرْنَا أَقْسَامَ الْعِلْمِ الشَّرْعِيِّ: وَمِنْ الْعُلُومِ الْخَارِجَةِ عَنْهُ مَا هو محرم أو مكروه ومباح: فَالْمُحَرَّمُ كَتَعَلُّمِ السِّحْرِ فَإِنَّهُ حَرَامٌ عَلَى الْمَذْهَبِ الصَّحِيحِ وَبِهِ قَطَعَ الْجُمْهُورُ وَفِيهِ خِلَافٌ نَذْكُرُهُ فِي الْجِنَايَاتِ حَيْثُ ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى: وكالفلسفة والشعبذة والتنجيم وعلوم الطبائعبين وكل ما كان سببا لا ثارة الشُّكُوكِ وَيَتَفَاوَتُ فِي التَّحْرِيمِ: وَالْمَكْرُوهِ كَأَشْعَارِ الْمُوَلَّدِينَ الَّتِي فِيهَا الْغَزْلُ وَالْبَطَالَةُ
* وَالْمُبَاحُ كَأَشْعَارِ الْمُوَلَّدِينَ التى ليس فيها سخف ولا شئ مِمَّا يُكْرَهُ وَلَا مَا يُنَشِّطُ إلَى الشَّرِّ ولا ما يثبط عن الخير ولا مَا يَحُثُّ عَلَى خَيْرٍ أَوْ يُسْتَعَانُ بِهِ عليه
* فَصْلٌ تَعْلِيمُ الطَّالِبِينَ وَإِفْتَاءُ الْمُسْتَفْتِينَ فَرْضُ كِفَايَةٍ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ مَنْ يَصْلُحُ إلَّا وَاحِدٌ تَعَيَّنَ عَلَيْهِ وَإِنْ كَانَ جَمَاعَةٌ يَصْلُحُونَ فَطُلِبَ ذَلِكَ مِنْ أَحَدِهِمْ فَامْتَنَعَ فَهَلْ يَأْثَمُ ذَكَرُوا وَجْهَيْنِ فِي الْمُفْتِي وَالظَّاهِرُ جَرَيَانُهُمَا فِي الْمُعَلِّمِ وَهُمَا كَالْوَجْهَيْنِ فِي امْتِنَاعِ أَحَدِ الشُّهُودِ وَالْأَصَحُّ لَا يَأْثَمُ: وَيُسْتَحَبُّ لِلْمُعَلِّمِ أَنْ يَرْفُقَ بِالطَّالِبِ وَيُحْسِنَ إلَيْهِ مَا أَمْكَنَهُ فَقَدْ رَوَى الترمذي باسناده عن أبى هرون الْعَبْدِيِّ قَالَ كُنَّا نَأْتِي أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَيَقُولُ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّ رِجَالًا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بهم خيرا
*
وَأَصَحُّهُمَا لَا يَتَعَيَّنُ لِأَنَّ الشُّرُوعَ لَا يُغَيِّرُ الْمَشْرُوعَ فِيهِ عِنْدَنَا إلَّا فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ: وَلَوْ خَلَتْ الْبَلْدَةُ مِنْ مُفْتٍ فَقِيلَ يَحْرُمُ الْمُقَامُ بِهَا وَالْأَصَحُّ لَا يَحْرُمُ إنْ أَمْكَنَ الذَّهَابُ إلَى مُفْتٍ وَإِذَا قَامَ بِالْفَتْوَى إنْسَانٌ فِي مَكَان سَقَطَ بِهِ فَرْضُ الْكِفَايَةِ إلَى مَسَافَةِ الْقَصْرِ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ
* وَاعْلَمْ أَنَّ لِلْقَائِمِ بِفَرْضِ الْكِفَايَةِ مَزِيَّةً عَلَى الْقَائِمِ بِفَرْضِ الْعَيْنِ لِأَنَّهُ أَسْقَطَ الْحَرَجَ عَنْ الْأُمَّةِ وَقَدْ قَدَّمْنَا كَلَامَ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ فِي هَذَا فِي فَصْلِ تَرْجِيحِ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ عَلَى الْعِبَادَةِ الْقَاصِرَةِ* (الْقِسْمُ الثَّالِثُ) النَّفَلُ وَهُوَ كَالتَّبَحُّرِ فِي أُصُولِ الْأَدِلَّةِ وَالْإِمْعَانِ فِيمَا وَرَاءَ الْقَدْرِ الَّذِي يَحْصُلُ بِهِ فَرْضُ الْكِفَايَةِ: وَكَتَعَلُّمِ الْعَامِّيِّ نَوَافِلَ الْعِبَادَاتِ لِغَرَضِ الْعَمَلِ لَا مَا يَقُومُ بِهِ الْعُلَمَاءُ مِنْ تَمْيِيزِ الْفَرْضِ مِنْ النَّفْلِ فَإِنَّ ذَلِكَ فَرْضُ كِفَايَةٍ فِي حَقِّهِمْ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
* فَصْلٌ قَدْ ذَكَرْنَا أَقْسَامَ الْعِلْمِ الشَّرْعِيِّ: وَمِنْ الْعُلُومِ الْخَارِجَةِ عَنْهُ مَا هو محرم أو مكروه ومباح: فَالْمُحَرَّمُ كَتَعَلُّمِ السِّحْرِ فَإِنَّهُ حَرَامٌ عَلَى الْمَذْهَبِ الصَّحِيحِ وَبِهِ قَطَعَ الْجُمْهُورُ وَفِيهِ خِلَافٌ نَذْكُرُهُ فِي الْجِنَايَاتِ حَيْثُ ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى: وكالفلسفة والشعبذة والتنجيم وعلوم الطبائعبين وكل ما كان سببا لا ثارة الشُّكُوكِ وَيَتَفَاوَتُ فِي التَّحْرِيمِ: وَالْمَكْرُوهِ كَأَشْعَارِ الْمُوَلَّدِينَ الَّتِي فِيهَا الْغَزْلُ وَالْبَطَالَةُ
* وَالْمُبَاحُ كَأَشْعَارِ الْمُوَلَّدِينَ التى ليس فيها سخف ولا شئ مِمَّا يُكْرَهُ وَلَا مَا يُنَشِّطُ إلَى الشَّرِّ ولا ما يثبط عن الخير ولا مَا يَحُثُّ عَلَى خَيْرٍ أَوْ يُسْتَعَانُ بِهِ عليه
* فَصْلٌ تَعْلِيمُ الطَّالِبِينَ وَإِفْتَاءُ الْمُسْتَفْتِينَ فَرْضُ كِفَايَةٍ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ مَنْ يَصْلُحُ إلَّا وَاحِدٌ تَعَيَّنَ عَلَيْهِ وَإِنْ كَانَ جَمَاعَةٌ يَصْلُحُونَ فَطُلِبَ ذَلِكَ مِنْ أَحَدِهِمْ فَامْتَنَعَ فَهَلْ يَأْثَمُ ذَكَرُوا وَجْهَيْنِ فِي الْمُفْتِي وَالظَّاهِرُ جَرَيَانُهُمَا فِي الْمُعَلِّمِ وَهُمَا كَالْوَجْهَيْنِ فِي امْتِنَاعِ أَحَدِ الشُّهُودِ وَالْأَصَحُّ لَا يَأْثَمُ: وَيُسْتَحَبُّ لِلْمُعَلِّمِ أَنْ يَرْفُقَ بِالطَّالِبِ وَيُحْسِنَ إلَيْهِ مَا أَمْكَنَهُ فَقَدْ رَوَى الترمذي باسناده عن أبى هرون الْعَبْدِيِّ قَالَ كُنَّا نَأْتِي أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَيَقُولُ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّ رِجَالًا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بهم خيرا
*
**এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও:** যখন কোনো জানাযার সালাতে একদল লোক সালাত আদায় করে, অতঃপর আরেক দল, অতঃপর আরেক দল, তখন তাদের সকলের সালাতই ফরযে কিফায়া হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তারা সকলেই সর্বসম্মতিক্রমে তা বর্জন করে, তবে প্রত্যেক সেই ব্যক্তি গুনাহগার হবে যার কোনো ওজর নেই, যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং তা আদায় করার সামর্থ্য রাখত। অথবা যে অবগত ছিল না, কিন্তু সে নিকটবর্তী ছিল এবং তার পক্ষে অবগত হওয়া সম্ভব ছিল, এমনভাবে যে তাকে ত্রুটির জন্য দায়ী করা যায়। আর যে ব্যক্তি উপযুক্ত না হওয়ার কারণে অথবা কোনো ওজরের কারণে সামর্থ্য রাখত না, সে গুনাহগার হবে না।
যদি কোনো ব্যক্তি ফিকহ ও অনুরূপ শাস্ত্রে নিয়োজিত হয় এবং তাতে তার মেধা ও প্রজ্ঞা প্রকাশ পায়, আর তার সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্বের আশা করা যায়, তবে এ বিষয়ে দুটি ওয়াজহ (অভিমত) রয়েছে:
প্রথম ওয়াজহ হলো, তার জন্য এই কাজে অবিচল থাকা ফরযে আইন হয়ে যায়। কারণ, এই স্তর অর্জনকারী লোকের সংখ্যা বিরল। সুতরাং, তার উচিত নয় যে সে যা অর্জন করেছে এবং যা অর্জনের পথে রয়েছে, তা নষ্ট করে।
উভয় ওয়াজহের মধ্যে **আসাহ্** (অধিকতর বিশুদ্ধ মত) হলো, তা ফরযে আইন হয় না। কারণ, আমাদের মতে, কোনো কাজে শুরু করা সেই কাজের মূল বিধানকে পরিবর্তন করে না, তবে হজ ও উমরার ক্ষেত্রে ভিন্ন।
যদি কোনো জনপদ মুফতিশূন্য হয়ে যায়, তবে কেউ কেউ বলেছেন যে, সেখানে অবস্থান করা হারাম। তবে **আসাহ্** হলো, যদি অন্য কোনো মুফতির কাছে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে সেখানে অবস্থান করা হারাম নয়। আর যখন কোনো স্থানে একজন ব্যক্তি ফাতওয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সেই স্থান থেকে কসর করার দূরত্ব পর্যন্ত (চারিদিকে) ফরযে কিফায়া আদায় হয়ে যায়।
*জেনে রাখুন, ফরযে কিফায়া আদায়কারীর ফরযে আইন আদায়কারীর উপর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কারণ, সে উম্মাহ থেকে কষ্ট দূর করে। আমরা এই বিষয়ে ইমামুল হারামাইনের বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করেছি, 'সীমিত ইবাদতের উপর ইলম চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া' শীর্ষক পরিচ্ছেদে।*
**(তৃতীয় প্রকার) নফল:** এটি হলো দলিলের মূলনীতিসমূহে গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং ফরযে কিফায়া আদায়ের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা। যেমন, সাধারণ মানুষের জন্য আমলের উদ্দেশ্যে নফল ইবাদতসমূহ শেখা। তবে আলেমগণ ফরয ও নফলের মধ্যে যে পার্থক্য করেন, তা নফলের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তাদের ক্ষেত্রে তা ফরযে কিফায়া। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**পরিচ্ছেদ:** আমরা শরয়ী ইলমের প্রকারভেদ উল্লেখ করেছি। আর শরয়ী ইলমের বাইরের জ্ঞানসমূহের মধ্যে কিছু হারাম, কিছু মাকরুহ এবং কিছু মুবাহ (বৈধ)।
**হারাম** হলো, যেমন জাদু শেখা। কারণ, **মাযহাবের বিশুদ্ধ মত** অনুযায়ী তা হারাম, এবং জমহুর (অধিকাংশ উলামা) এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে, যা আমরা 'জিনায়াত' (অপরাধ) অধ্যায়ে উল্লেখ করব, যেখানে গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী) এটি উল্লেখ করেছেন, ইনশাআল্লাহ তায়ালা। অনুরূপভাবে, দর্শনশাস্ত্র, ভেলকিবাজি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং প্রকৃতি বিজ্ঞান (علوم الطبائع), এবং এমন সবকিছু যা সন্দেহ সৃষ্টি করে, এগুলোর হারাম হওয়ার মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়।
**মাকরুহ** হলো, যেমন মুওয়াল্লাদীনদের (পরবর্তী যুগের কবিদের) সেইসব কবিতা, যাতে প্রেমমূলক বর্ণনা ও অসারতা রয়েছে।
**মুবাহ** হলো, মুওয়াল্লাদীনদের সেইসব কবিতা, যাতে কোনো অসারতা বা অপছন্দনীয় কিছু নেই, যা মন্দের প্রতি উৎসাহিত করে না, ভালো কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করে না, এবং যা কোনো কল্যাণের প্রতি উৎসাহিত করে না বা তাতে সহায়ক হয় না।
**পরিচ্ছেদ:** শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া এবং ফাতওয়া প্রার্থীদের ফাতওয়া দেওয়া ফরযে কিফায়া। যদি সেখানে একজন ব্যতীত আর কেউ উপযুক্ত না থাকে, তবে তার উপর তা ফরযে আইন হয়ে যায়। আর যদি একাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি থাকে এবং তাদের মধ্যে একজনকে এই দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়, কিন্তু সে অস্বীকার করে, তবে কি সে গুনাহগার হবে? এ বিষয়ে মুফতির ক্ষেত্রে দুটি ওয়াজহ উল্লেখ করা হয়েছে, এবং বাহ্যত এই দুটি ওয়াজহ শিক্ষকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই দুটি ওয়াজহ সাক্ষীদের মধ্যে একজন সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুটি ওয়াজহের মতোই। আর **আসাহ্** হলো, সে গুনাহগার হবে না।
শিক্ষকের জন্য মুস্তাহাব হলো, সে শিক্ষার্থীর প্রতি কোমল হবে এবং যথাসম্ভব তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কারণ, তিরমিযী তাঁর সনদসহ আবু হারুন আল-আবদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসতাম, তখন তিনি বলতেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের প্রতি স্বাগতম! নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের অনুসারী। আর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকেরা তোমাদের কাছে দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে আসবে। সুতরাং, যখন তারা তোমাদের কাছে আসবে, তখন তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।'"
যদি কোনো ব্যক্তি ফিকহ ও অনুরূপ শাস্ত্রে নিয়োজিত হয় এবং তাতে তার মেধা ও প্রজ্ঞা প্রকাশ পায়, আর তার সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্বের আশা করা যায়, তবে এ বিষয়ে দুটি ওয়াজহ (অভিমত) রয়েছে:
প্রথম ওয়াজহ হলো, তার জন্য এই কাজে অবিচল থাকা ফরযে আইন হয়ে যায়। কারণ, এই স্তর অর্জনকারী লোকের সংখ্যা বিরল। সুতরাং, তার উচিত নয় যে সে যা অর্জন করেছে এবং যা অর্জনের পথে রয়েছে, তা নষ্ট করে।
উভয় ওয়াজহের মধ্যে **আসাহ্** (অধিকতর বিশুদ্ধ মত) হলো, তা ফরযে আইন হয় না। কারণ, আমাদের মতে, কোনো কাজে শুরু করা সেই কাজের মূল বিধানকে পরিবর্তন করে না, তবে হজ ও উমরার ক্ষেত্রে ভিন্ন।
যদি কোনো জনপদ মুফতিশূন্য হয়ে যায়, তবে কেউ কেউ বলেছেন যে, সেখানে অবস্থান করা হারাম। তবে **আসাহ্** হলো, যদি অন্য কোনো মুফতির কাছে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে সেখানে অবস্থান করা হারাম নয়। আর যখন কোনো স্থানে একজন ব্যক্তি ফাতওয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সেই স্থান থেকে কসর করার দূরত্ব পর্যন্ত (চারিদিকে) ফরযে কিফায়া আদায় হয়ে যায়।
*জেনে রাখুন, ফরযে কিফায়া আদায়কারীর ফরযে আইন আদায়কারীর উপর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কারণ, সে উম্মাহ থেকে কষ্ট দূর করে। আমরা এই বিষয়ে ইমামুল হারামাইনের বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করেছি, 'সীমিত ইবাদতের উপর ইলম চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া' শীর্ষক পরিচ্ছেদে।*
**(তৃতীয় প্রকার) নফল:** এটি হলো দলিলের মূলনীতিসমূহে গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং ফরযে কিফায়া আদায়ের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা। যেমন, সাধারণ মানুষের জন্য আমলের উদ্দেশ্যে নফল ইবাদতসমূহ শেখা। তবে আলেমগণ ফরয ও নফলের মধ্যে যে পার্থক্য করেন, তা নফলের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তাদের ক্ষেত্রে তা ফরযে কিফায়া। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**পরিচ্ছেদ:** আমরা শরয়ী ইলমের প্রকারভেদ উল্লেখ করেছি। আর শরয়ী ইলমের বাইরের জ্ঞানসমূহের মধ্যে কিছু হারাম, কিছু মাকরুহ এবং কিছু মুবাহ (বৈধ)।
**হারাম** হলো, যেমন জাদু শেখা। কারণ, **মাযহাবের বিশুদ্ধ মত** অনুযায়ী তা হারাম, এবং জমহুর (অধিকাংশ উলামা) এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে, যা আমরা 'জিনায়াত' (অপরাধ) অধ্যায়ে উল্লেখ করব, যেখানে গ্রন্থকার (ইমাম শিরাজী) এটি উল্লেখ করেছেন, ইনশাআল্লাহ তায়ালা। অনুরূপভাবে, দর্শনশাস্ত্র, ভেলকিবাজি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং প্রকৃতি বিজ্ঞান (علوم الطبائع), এবং এমন সবকিছু যা সন্দেহ সৃষ্টি করে, এগুলোর হারাম হওয়ার মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়।
**মাকরুহ** হলো, যেমন মুওয়াল্লাদীনদের (পরবর্তী যুগের কবিদের) সেইসব কবিতা, যাতে প্রেমমূলক বর্ণনা ও অসারতা রয়েছে।
**মুবাহ** হলো, মুওয়াল্লাদীনদের সেইসব কবিতা, যাতে কোনো অসারতা বা অপছন্দনীয় কিছু নেই, যা মন্দের প্রতি উৎসাহিত করে না, ভালো কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করে না, এবং যা কোনো কল্যাণের প্রতি উৎসাহিত করে না বা তাতে সহায়ক হয় না।
**পরিচ্ছেদ:** শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া এবং ফাতওয়া প্রার্থীদের ফাতওয়া দেওয়া ফরযে কিফায়া। যদি সেখানে একজন ব্যতীত আর কেউ উপযুক্ত না থাকে, তবে তার উপর তা ফরযে আইন হয়ে যায়। আর যদি একাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি থাকে এবং তাদের মধ্যে একজনকে এই দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়, কিন্তু সে অস্বীকার করে, তবে কি সে গুনাহগার হবে? এ বিষয়ে মুফতির ক্ষেত্রে দুটি ওয়াজহ উল্লেখ করা হয়েছে, এবং বাহ্যত এই দুটি ওয়াজহ শিক্ষকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই দুটি ওয়াজহ সাক্ষীদের মধ্যে একজন সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুটি ওয়াজহের মতোই। আর **আসাহ্** হলো, সে গুনাহগার হবে না।
শিক্ষকের জন্য মুস্তাহাব হলো, সে শিক্ষার্থীর প্রতি কোমল হবে এবং যথাসম্ভব তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কারণ, তিরমিযী তাঁর সনদসহ আবু হারুন আল-আবদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসতাম, তখন তিনি বলতেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের প্রতি স্বাগতম! নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের অনুসারী। আর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকেরা তোমাদের কাছে দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে আসবে। সুতরাং, যখন তারা তোমাদের কাছে আসবে, তখন তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।'"
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
باب آداب المعلم
هذا الباب واسع جدل وَقَدْ جَمَعْتُ فِيهِ نَفَائِسَ كَثِيرَةً لَا يَحْتَمِلُ هَذَا الْكِتَابُ عُشْرَهَا فَأَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى نُبَذًا مِنْهُ: فَمِنْ آدَابِهِ أَدَبُهُ فِي نَفْسِهِ وَذَلِكَ فِي أُمُورٍ: مِنْهَا أَنْ يَقْصِدَ بِتَعْلِيمِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى وَلَا يَقْصِدُ تَوَصُّلًا إلَى غَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ كَتَحْصِيلِ مَالٍ أَوْ جَاهٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ سُمْعَةٍ أَوْ تَمَيُّزٍ عن الاشباه أو تكثر بالمشتغلين عليه الْمُخْتَلِفِينَ إلَيْهِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ: وَلَا يَشِينُ علمه وتعليمه بشئ مِنْ الطَّمَعِ فِي رِفْقٍ تَحَصَّلَ
لَهُ مِنْ مُشْتَغِلٍ عَلَيْهِ مِنْ خِدْمَةٍ أَوْ مَالٍ أَوْ نَحْوِهِمَا وَإِنْ قَلَّ وَلَوْ كَانَ عَلَى صُورَةِ الْهَدِيَّةِ الَّتِي لَوْلَا اشْتِغَالُهُ عَلَيْهِ لَمَا أَهْدَاهَا إليه.
ودليل هذا كله ما سَبَقَ فِي بَابِ ذَمِّ مَنْ أَرَادَ بِعِلْمِهِ غَيْرَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ الْآيَاتِ وَالْأَحَادِيثِ: وَقَدْ صَحَّ عَنْ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ وَدِدْتُ أَنَّ الْخَلْقَ تَعَلَّمُوا هَذَا الْعِلْمَ عَلَى أَنْ لَا يُنْسَبَ إلَيَّ حَرْفٌ مِنْهُ: وَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الْغَلَبَةِ وَوَدِدْتُ إذَا نَاظَرْتُ أَحَدًا أَنْ يَظْهَرَ الْحَقُّ عَلَى يَدَيْهِ: وَقَالَ مَا كَلَّمْتُ أَحَدًا قَطُّ إلَّا وَدِدْتُ أَنْ يُوَفَّقَ وَيُسَدَّدَ وَيُعَانَ وَيَكُونَ عَلَيْهِ رِعَايَةٌ مِنْ اللَّهِ وَحِفْظٌ
* وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قَالَ يَا قَوْمِ أَرِيدُوا بِعِلْمِكُمْ اللَّهَ فَإِنِّي لَمْ أَجْلِسْ مَجْلِسًا قَطُّ أَنْوِي فِيهِ أَنْ أَتَوَاضَعَ إلَّا لَمْ أَقُمْ حَتَّى أَعْلُوَهُمْ وَلَمْ أَجْلِسْ مَجْلِسًا قَطُّ أَنْوِي فِيهِ أَنْ أَعْلُوَهُمْ إلَّا لَمْ أَقُمْ حَتَّى أَفْتَضِحَ
* وَمِنْهَا أَنْ يَتَخَلَّقَ بِالْمَحَاسِنِ الَّتِي وَرَدَ الشَّرْعُ بِهَا وَحَثَّ عَلَيْهَا وَالْخِلَالِ الْحَمِيدَةِ وَالشِّيَمِ الْمُرْضِيَةِ الَّتِي أَرْشَدَ إلَيْهَا مِنْ التَّزَهُّدِ فِي الدُّنْيَا وَالتَّقَلُّلِ مِنْهَا وَعَدَمِ الْمُبَالَاةِ بِفَوَاتِهَا وَالسَّخَاءِ وَالْجُودِ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَطَلَاقَةِ الْوَجْهِ مِنْ غَيْرِ خُرُوجٍ إلَى حَدِّ الخلاعة والحلم والصبر والتنزه عن دنئ الِاكْتِسَابِ وَمُلَازَمَةِ الْوَرَعِ وَالْخُشُوعِ وَالسَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ وَالتَّوَاضُعِ وَالْخُضُوعِ وَاجْتِنَابِ الضَّحِكِ وَالْإِكْثَارِ مِنْ الْمَزْحِ وَمُلَازَمَةِ الْآدَابِ الشَّرْعِيَّةِ الظَّاهِرَةِ وَالْخَفِيَّةِ كَالتَّنْظِيفِ بِإِزَالَةِ الْأَوْسَاخِ وَتَنْظِيفِ الْإِبْطِ وَإِزَالَةِ الرَّوَائِحِ الْكَرِيهَةِ وَاجْتِنَابِ الرَّوَائِحِ الْمَكْرُوهَةِ وَتَسْرِيحِ اللِّحْيَةِ: وَمِنْهَا الْحَذَرُ مِنْ الْحَسَدِ وَالرِّيَاءِ وَالْإِعْجَابِ وَاحْتِقَارِ النَّاسِ وَإِنْ كَانُوا دُونَهُ بِدَرَجَاتٍ وَهَذِهِ أَدْوَاءٌ وَأَمْرَاضٌ يُبْتَلَى بِهَا كَثِيرُونَ مِنْ أَصْحَابِ الْأَنْفُسِ الْخَسِيسَاتِ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الْحَسَدِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ حِكْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى اقْتَضَتْ جَعْلَ هَذَا الْفَضْلِ فِي هَذَا الْإِنْسَانِ فَلَا يَعْتَرِضُ وَلَا يَكْرَهُ مَا اقْتَضَتْهُ الْحِكْمَةُ ولم (1) يذم اللَّهِ احْتِرَازًا مِنْ الْمَعَاصِي
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الرِّيَاءِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ الْخَلْقَ لَا يَنْفَعُونَهُ وَلَا يَضُرُّونَهُ حَقِيقَةً فَلَا يَتَشَاغَلُ بِمُرَاعَاتِهِمْ فَيُتْعِبَ نفسه ويضر دينه ويحبط عمله ويرتكب سخط الله تعالى وَيُفَوِّتَ رِضَاهُ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الْإِعْجَابِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ الْعِلْمَ فَضْلٌ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى ومعه عارية فان لله ما اخذو له ما أعطى وكل شئ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَيَنْبَغِي أَنْ لَا يُعْجَبَ بشئ لَمْ يَخْتَرِعْهُ وَلَيْسَ مَالِكًا لَهُ وَلَا عَلَى يَقِينٍ مِنْ دَوَامِهِ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الِاحْتِقَارِ التأدب بما ادبنا اللَّهُ تَعَالَى (فَلا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بمن اتقى) وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ) فَرُبَّمَا كَانَ هَذَا الَّذِي يَرَاهُ دُونَهُ أَتْقَى لِلَّهِ تَعَالَى وَأَطْهَرُ
قَلْبًا وَأَخْلَصُ نِيَّةً وَأَزْكَى عَمَلًا ثُمَّ إنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَاذَا يُخْتَمُ لَهُ بِهِ فَفِي الصَّحِيحِ إنَّ أَحَدَكُمْ يَعْمَلُ
__________
(1) هكذا في نسخة وفي أخرى ولم يذمه الله وكلتا العبارتين تحتاج إلى تأمل وتحرير
هذا الباب واسع جدل وَقَدْ جَمَعْتُ فِيهِ نَفَائِسَ كَثِيرَةً لَا يَحْتَمِلُ هَذَا الْكِتَابُ عُشْرَهَا فَأَذْكُرُ فِيهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى نُبَذًا مِنْهُ: فَمِنْ آدَابِهِ أَدَبُهُ فِي نَفْسِهِ وَذَلِكَ فِي أُمُورٍ: مِنْهَا أَنْ يَقْصِدَ بِتَعْلِيمِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى وَلَا يَقْصِدُ تَوَصُّلًا إلَى غَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ كَتَحْصِيلِ مَالٍ أَوْ جَاهٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ سُمْعَةٍ أَوْ تَمَيُّزٍ عن الاشباه أو تكثر بالمشتغلين عليه الْمُخْتَلِفِينَ إلَيْهِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ: وَلَا يَشِينُ علمه وتعليمه بشئ مِنْ الطَّمَعِ فِي رِفْقٍ تَحَصَّلَ
لَهُ مِنْ مُشْتَغِلٍ عَلَيْهِ مِنْ خِدْمَةٍ أَوْ مَالٍ أَوْ نَحْوِهِمَا وَإِنْ قَلَّ وَلَوْ كَانَ عَلَى صُورَةِ الْهَدِيَّةِ الَّتِي لَوْلَا اشْتِغَالُهُ عَلَيْهِ لَمَا أَهْدَاهَا إليه.
ودليل هذا كله ما سَبَقَ فِي بَابِ ذَمِّ مَنْ أَرَادَ بِعِلْمِهِ غَيْرَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ الْآيَاتِ وَالْأَحَادِيثِ: وَقَدْ صَحَّ عَنْ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ وَدِدْتُ أَنَّ الْخَلْقَ تَعَلَّمُوا هَذَا الْعِلْمَ عَلَى أَنْ لَا يُنْسَبَ إلَيَّ حَرْفٌ مِنْهُ: وَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الْغَلَبَةِ وَوَدِدْتُ إذَا نَاظَرْتُ أَحَدًا أَنْ يَظْهَرَ الْحَقُّ عَلَى يَدَيْهِ: وَقَالَ مَا كَلَّمْتُ أَحَدًا قَطُّ إلَّا وَدِدْتُ أَنْ يُوَفَّقَ وَيُسَدَّدَ وَيُعَانَ وَيَكُونَ عَلَيْهِ رِعَايَةٌ مِنْ اللَّهِ وَحِفْظٌ
* وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قَالَ يَا قَوْمِ أَرِيدُوا بِعِلْمِكُمْ اللَّهَ فَإِنِّي لَمْ أَجْلِسْ مَجْلِسًا قَطُّ أَنْوِي فِيهِ أَنْ أَتَوَاضَعَ إلَّا لَمْ أَقُمْ حَتَّى أَعْلُوَهُمْ وَلَمْ أَجْلِسْ مَجْلِسًا قَطُّ أَنْوِي فِيهِ أَنْ أَعْلُوَهُمْ إلَّا لَمْ أَقُمْ حَتَّى أَفْتَضِحَ
* وَمِنْهَا أَنْ يَتَخَلَّقَ بِالْمَحَاسِنِ الَّتِي وَرَدَ الشَّرْعُ بِهَا وَحَثَّ عَلَيْهَا وَالْخِلَالِ الْحَمِيدَةِ وَالشِّيَمِ الْمُرْضِيَةِ الَّتِي أَرْشَدَ إلَيْهَا مِنْ التَّزَهُّدِ فِي الدُّنْيَا وَالتَّقَلُّلِ مِنْهَا وَعَدَمِ الْمُبَالَاةِ بِفَوَاتِهَا وَالسَّخَاءِ وَالْجُودِ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَطَلَاقَةِ الْوَجْهِ مِنْ غَيْرِ خُرُوجٍ إلَى حَدِّ الخلاعة والحلم والصبر والتنزه عن دنئ الِاكْتِسَابِ وَمُلَازَمَةِ الْوَرَعِ وَالْخُشُوعِ وَالسَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ وَالتَّوَاضُعِ وَالْخُضُوعِ وَاجْتِنَابِ الضَّحِكِ وَالْإِكْثَارِ مِنْ الْمَزْحِ وَمُلَازَمَةِ الْآدَابِ الشَّرْعِيَّةِ الظَّاهِرَةِ وَالْخَفِيَّةِ كَالتَّنْظِيفِ بِإِزَالَةِ الْأَوْسَاخِ وَتَنْظِيفِ الْإِبْطِ وَإِزَالَةِ الرَّوَائِحِ الْكَرِيهَةِ وَاجْتِنَابِ الرَّوَائِحِ الْمَكْرُوهَةِ وَتَسْرِيحِ اللِّحْيَةِ: وَمِنْهَا الْحَذَرُ مِنْ الْحَسَدِ وَالرِّيَاءِ وَالْإِعْجَابِ وَاحْتِقَارِ النَّاسِ وَإِنْ كَانُوا دُونَهُ بِدَرَجَاتٍ وَهَذِهِ أَدْوَاءٌ وَأَمْرَاضٌ يُبْتَلَى بِهَا كَثِيرُونَ مِنْ أَصْحَابِ الْأَنْفُسِ الْخَسِيسَاتِ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الْحَسَدِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ حِكْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى اقْتَضَتْ جَعْلَ هَذَا الْفَضْلِ فِي هَذَا الْإِنْسَانِ فَلَا يَعْتَرِضُ وَلَا يَكْرَهُ مَا اقْتَضَتْهُ الْحِكْمَةُ ولم (1) يذم اللَّهِ احْتِرَازًا مِنْ الْمَعَاصِي
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الرِّيَاءِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ الْخَلْقَ لَا يَنْفَعُونَهُ وَلَا يَضُرُّونَهُ حَقِيقَةً فَلَا يَتَشَاغَلُ بِمُرَاعَاتِهِمْ فَيُتْعِبَ نفسه ويضر دينه ويحبط عمله ويرتكب سخط الله تعالى وَيُفَوِّتَ رِضَاهُ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الْإِعْجَابِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ الْعِلْمَ فَضْلٌ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى ومعه عارية فان لله ما اخذو له ما أعطى وكل شئ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَيَنْبَغِي أَنْ لَا يُعْجَبَ بشئ لَمْ يَخْتَرِعْهُ وَلَيْسَ مَالِكًا لَهُ وَلَا عَلَى يَقِينٍ مِنْ دَوَامِهِ
* وَطَرِيقُهُ فِي نَفْيِ الِاحْتِقَارِ التأدب بما ادبنا اللَّهُ تَعَالَى (فَلا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بمن اتقى) وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ) فَرُبَّمَا كَانَ هَذَا الَّذِي يَرَاهُ دُونَهُ أَتْقَى لِلَّهِ تَعَالَى وَأَطْهَرُ
قَلْبًا وَأَخْلَصُ نِيَّةً وَأَزْكَى عَمَلًا ثُمَّ إنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَاذَا يُخْتَمُ لَهُ بِهِ فَفِي الصَّحِيحِ إنَّ أَحَدَكُمْ يَعْمَلُ
__________
(1) هكذا في نسخة وفي أخرى ولم يذمه الله وكلتا العبارتين تحتاج إلى تأمل وتحرير
**শিক্ষকের আদব-আখলাক অধ্যায়**
এই অধ্যায়টি অত্যন্ত বিস্তৃত। আমি এতে বহু মূল্যবান বিষয় সংগ্রহ করেছি, যার দশ ভাগের এক ভাগও এই কিতাবে ধারণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং, ইনশাআল্লাহ, আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।
শিক্ষকের আদবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো তার ব্যক্তিগত শিষ্টাচার, যা কয়েকটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করবেন এবং কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইবেন না। যেমন, সম্পদ অর্জন, পদমর্যাদা, খ্যাতি, সুখ্যাতি, সমবয়সীদের থেকে স্বতন্ত্রতা লাভ, অথবা তার কাছে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, কিংবা এ জাতীয় অন্য কিছু। এবং তিনি তার জ্ঞান ও শিক্ষাদানকে কোনো প্রকার লোভ দ্বারা কলুষিত করবেন না, যা তার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেবা, অর্থ বা এ জাতীয় কোনো সুবিধা হিসেবে আসে, যদিও তা সামান্য হয়। এমনকি যদি তা এমন কোনো উপহারের আকারেও হয়, যা যদি শিক্ষার্থী তার কাছে অধ্যয়ন না করত, তবে তাকে দেওয়া হতো না।
এসবের প্রমাণ হলো, যে ব্যক্তি তার জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করে, তার নিন্দাসংক্রান্ত অধ্যায়ে পূর্বে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসসমূহ। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি কামনা করি যে, মানুষ এই জ্ঞান অর্জন করুক, যদিও এর একটি অক্ষরও আমার দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয়।" তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "আমি কখনো কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হইনি বিজয়ের উদ্দেশ্যে। বরং আমি যখন কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, তখন কামনা করেছি যে, সত্য যেন তার হাতেই প্রকাশিত হয়।" তিনি বলেছেন: "আমি কখনো কারো সাথে কথা বলিনি, তবে আমি কামনা করেছি যে, সে যেন তাওফীকপ্রাপ্ত হয়, সঠিক পথে পরিচালিত হয়, সাহায্যপ্রাপ্ত হয় এবং তার উপর আল্লাহর তত্ত্বাবধান ও সুরক্ষা থাকে।"
* আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করো। কারণ, আমি কখনো এমন কোনো মজলিসে বসিনি যেখানে আমি বিনয়ী হওয়ার নিয়ত করেছি, কিন্তু আমি তাদের উপর প্রাধান্য লাভ না করে উঠেছি। আর আমি কখনো এমন কোনো মজলিসে বসিনি যেখানে আমি তাদের উপর প্রাধান্য লাভের নিয়ত করেছি, কিন্তু আমি অপদস্থ না হয়ে উঠেছি।"
* এর মধ্যে আরেকটি হলো, তিনি সেসব উত্তম গুণাবলীতে ভূষিত হবেন যা শরীয়ত নিয়ে এসেছে এবং উৎসাহিত করেছে, এবং সেসব প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য ও সন্তোষজনক চরিত্রে নিজেকে সজ্জিত করবেন যার প্রতি শরীয়ত নির্দেশনা দিয়েছে। যেমন, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, দুনিয়ার ভোগ কমিয়ে আনা এবং এর হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পরোয়া না করা; দানশীলতা, বদান্যতা, উন্নত চরিত্র, এবং মুখমণ্ডল প্রফুল্ল রাখা—তবে তা যেন অশালীনতার সীমায় না পৌঁছায়; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা এবং নিকৃষ্ট উপার্জন থেকে বিরত থাকা; পরহেজগারী, বিনয়, প্রশান্তি, গাম্ভীর্য, নম্রতা, আনুগত্যের সাথে লেগে থাকা, এবং অতিরিক্ত হাসি ও ঠাট্টা-মশকরা পরিহার করা; এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শরীয়তসম্মত আদবসমূহ মেনে চলা, যেমন ময়লা দূর করে পরিচ্ছন্ন থাকা, বগলের পরিচ্ছন্নতা, দুর্গন্ধ দূর করা, অপছন্দনীয় গন্ধ পরিহার করা এবং দাড়ি আঁচড়ানো।
* এর মধ্যে আরেকটি হলো, হিংসা, রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত), আত্মমুগ্ধতা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা থেকে সতর্ক থাকা, যদিও তারা তার চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের হয়। আর এগুলো এমন ব্যাধি ও রোগ, যা নিকৃষ্ট আত্মার অধিকারী বহু মানুষকে আক্রান্ত করে।
* হিংসা দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, আল্লাহ তাআলার হিকমতই এই ব্যক্তিকে এই অনুগ্রহ দান করাকে অপরিহার্য করেছে। সুতরাং, সে যেন হিকমতের দাবিকে আপত্তি না করে এবং অপছন্দ না করে, আর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহকে দোষারোপ না করে।
* রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, সৃষ্টি প্রকৃতপক্ষে তার কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। সুতরাং, সে যেন তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত না হয়, যার ফলে সে নিজেকে ক্লান্ত করবে, তার দ্বীনের ক্ষতি করবে, তার আমল নষ্ট করবে, আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং তাঁর সন্তুষ্টি হারাবে।
* আত্মমুগ্ধতা দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, জ্ঞান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ এবং এটি তার কাছে একটি আমানত (ধার)। কারণ, যা কিছু তিনি গ্রহণ করেন তা আল্লাহরই, এবং যা কিছু তিনি দান করেন তাও আল্লাহরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। সুতরাং, এমন কোনো বিষয়ে তার আত্মমুগ্ধ হওয়া উচিত নয় যা সে নিজে উদ্ভাবন করেনি, যার সে মালিক নয় এবং যার স্থায়িত্ব সম্পর্কে সে নিশ্চিত নয়।
* মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা দূর করার উপায় হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে আদব শিখিয়েছেন, তা দ্বারা আদব গ্রহণ করা: "সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র দাবি করো না; তিনিই ভালো জানেন কে মুত্তাকী।" (সূরা নাজম: ৩২) এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী।" (সূরা হুজুরাত: ১৩) কারণ, সম্ভবত এই ব্যক্তি যাকে সে নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের মনে করে, সে আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক মুত্তাকী, অধিক পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, অধিক বিশুদ্ধ নিয়তের অধিকারী এবং অধিক পবিত্র আমলকারী। অতঃপর, সে জানে না তার শেষ পরিণতি কী হবে। কারণ, সহীহ হাদিসে এসেছে: "তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমল করে..."
__________
(১) এভাবে একটি পাণ্ডুলিপিতে আছে, এবং অন্যটিতে আছে 'ولم يذمه الله' (এবং সে আল্লাহকে নিন্দা করেনি)। উভয় বাক্যই পর্যালোচনা ও সম্পাদনার দাবি রাখে।
এই অধ্যায়টি অত্যন্ত বিস্তৃত। আমি এতে বহু মূল্যবান বিষয় সংগ্রহ করেছি, যার দশ ভাগের এক ভাগও এই কিতাবে ধারণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং, ইনশাআল্লাহ, আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।
শিক্ষকের আদবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো তার ব্যক্তিগত শিষ্টাচার, যা কয়েকটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করবেন এবং কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইবেন না। যেমন, সম্পদ অর্জন, পদমর্যাদা, খ্যাতি, সুখ্যাতি, সমবয়সীদের থেকে স্বতন্ত্রতা লাভ, অথবা তার কাছে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, কিংবা এ জাতীয় অন্য কিছু। এবং তিনি তার জ্ঞান ও শিক্ষাদানকে কোনো প্রকার লোভ দ্বারা কলুষিত করবেন না, যা তার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেবা, অর্থ বা এ জাতীয় কোনো সুবিধা হিসেবে আসে, যদিও তা সামান্য হয়। এমনকি যদি তা এমন কোনো উপহারের আকারেও হয়, যা যদি শিক্ষার্থী তার কাছে অধ্যয়ন না করত, তবে তাকে দেওয়া হতো না।
এসবের প্রমাণ হলো, যে ব্যক্তি তার জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করে, তার নিন্দাসংক্রান্ত অধ্যায়ে পূর্বে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসসমূহ। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি কামনা করি যে, মানুষ এই জ্ঞান অর্জন করুক, যদিও এর একটি অক্ষরও আমার দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয়।" তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "আমি কখনো কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হইনি বিজয়ের উদ্দেশ্যে। বরং আমি যখন কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, তখন কামনা করেছি যে, সত্য যেন তার হাতেই প্রকাশিত হয়।" তিনি বলেছেন: "আমি কখনো কারো সাথে কথা বলিনি, তবে আমি কামনা করেছি যে, সে যেন তাওফীকপ্রাপ্ত হয়, সঠিক পথে পরিচালিত হয়, সাহায্যপ্রাপ্ত হয় এবং তার উপর আল্লাহর তত্ত্বাবধান ও সুরক্ষা থাকে।"
* আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করো। কারণ, আমি কখনো এমন কোনো মজলিসে বসিনি যেখানে আমি বিনয়ী হওয়ার নিয়ত করেছি, কিন্তু আমি তাদের উপর প্রাধান্য লাভ না করে উঠেছি। আর আমি কখনো এমন কোনো মজলিসে বসিনি যেখানে আমি তাদের উপর প্রাধান্য লাভের নিয়ত করেছি, কিন্তু আমি অপদস্থ না হয়ে উঠেছি।"
* এর মধ্যে আরেকটি হলো, তিনি সেসব উত্তম গুণাবলীতে ভূষিত হবেন যা শরীয়ত নিয়ে এসেছে এবং উৎসাহিত করেছে, এবং সেসব প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য ও সন্তোষজনক চরিত্রে নিজেকে সজ্জিত করবেন যার প্রতি শরীয়ত নির্দেশনা দিয়েছে। যেমন, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, দুনিয়ার ভোগ কমিয়ে আনা এবং এর হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পরোয়া না করা; দানশীলতা, বদান্যতা, উন্নত চরিত্র, এবং মুখমণ্ডল প্রফুল্ল রাখা—তবে তা যেন অশালীনতার সীমায় না পৌঁছায়; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা এবং নিকৃষ্ট উপার্জন থেকে বিরত থাকা; পরহেজগারী, বিনয়, প্রশান্তি, গাম্ভীর্য, নম্রতা, আনুগত্যের সাথে লেগে থাকা, এবং অতিরিক্ত হাসি ও ঠাট্টা-মশকরা পরিহার করা; এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শরীয়তসম্মত আদবসমূহ মেনে চলা, যেমন ময়লা দূর করে পরিচ্ছন্ন থাকা, বগলের পরিচ্ছন্নতা, দুর্গন্ধ দূর করা, অপছন্দনীয় গন্ধ পরিহার করা এবং দাড়ি আঁচড়ানো।
* এর মধ্যে আরেকটি হলো, হিংসা, রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত), আত্মমুগ্ধতা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা থেকে সতর্ক থাকা, যদিও তারা তার চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের হয়। আর এগুলো এমন ব্যাধি ও রোগ, যা নিকৃষ্ট আত্মার অধিকারী বহু মানুষকে আক্রান্ত করে।
* হিংসা দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, আল্লাহ তাআলার হিকমতই এই ব্যক্তিকে এই অনুগ্রহ দান করাকে অপরিহার্য করেছে। সুতরাং, সে যেন হিকমতের দাবিকে আপত্তি না করে এবং অপছন্দ না করে, আর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহকে দোষারোপ না করে।
* রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, সৃষ্টি প্রকৃতপক্ষে তার কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। সুতরাং, সে যেন তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত না হয়, যার ফলে সে নিজেকে ক্লান্ত করবে, তার দ্বীনের ক্ষতি করবে, তার আমল নষ্ট করবে, আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং তাঁর সন্তুষ্টি হারাবে।
* আত্মমুগ্ধতা দূর করার উপায় হলো, সে যেন জানে যে, জ্ঞান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ এবং এটি তার কাছে একটি আমানত (ধার)। কারণ, যা কিছু তিনি গ্রহণ করেন তা আল্লাহরই, এবং যা কিছু তিনি দান করেন তাও আল্লাহরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। সুতরাং, এমন কোনো বিষয়ে তার আত্মমুগ্ধ হওয়া উচিত নয় যা সে নিজে উদ্ভাবন করেনি, যার সে মালিক নয় এবং যার স্থায়িত্ব সম্পর্কে সে নিশ্চিত নয়।
* মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা দূর করার উপায় হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে আদব শিখিয়েছেন, তা দ্বারা আদব গ্রহণ করা: "সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র দাবি করো না; তিনিই ভালো জানেন কে মুত্তাকী।" (সূরা নাজম: ৩২) এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী।" (সূরা হুজুরাত: ১৩) কারণ, সম্ভবত এই ব্যক্তি যাকে সে নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের মনে করে, সে আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক মুত্তাকী, অধিক পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, অধিক বিশুদ্ধ নিয়তের অধিকারী এবং অধিক পবিত্র আমলকারী। অতঃপর, সে জানে না তার শেষ পরিণতি কী হবে। কারণ, সহীহ হাদিসে এসেছে: "তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমল করে..."
__________
(১) এভাবে একটি পাণ্ডুলিপিতে আছে, এবং অন্যটিতে আছে 'ولم يذمه الله' (এবং সে আল্লাহকে নিন্দা করেনি)। উভয় বাক্যই পর্যালোচনা ও সম্পাদনার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْحَدِيثُ نَسْأَلُ اللَّهَ الْعَافِيَةَ مِنْ كُلِّ دَاءٍ
* وَمِنْهَا اسْتِعْمَالُهُ أَحَادِيثَ التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَنَحْوِهِمَا مِنْ الْأَذْكَارِ وَالدَّعَوَاتِ وَسَائِرِ الْآدَابِ الشَّرْعِيَّاتِ: وَمِنْهَا دَوَامُ مُرَاقَبَتِهِ لِلَّهِ تَعَالَى فِي عَلَانِيَتِهِ وَسِرِّهِ مُحَافِظًا عَلَى قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَنَوَافِلِ الصلوات والصوم وغيرهما مُعَوِّلًا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي كُلِّ أَمْرِهِ مُعْتَمِدًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ أَمْرَهُ إلَيْهِ
* وَمِنْهَا وَهُوَ مِنْ أَهَمِّهَا أَنْ لَا يَذِلَّ الْعِلْمَ وَلَا يَذْهَبَ بِهِ إلَى مَكَان يَنْتَسِبُ إلَى مَنْ يَتَعَلَّمُهُ مِنْهُ وَإِنْ كَانَ الْمُتَعَلِّمُ كَبِيرَ الْقَدْرِ بَلْ يَصُونُ الْعِلْمَ عَنْ ذَلِكَ كَمَا صَانَهُ السَّلَفُ: وَأَخْبَارُهُمْ فِي هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ مَعَ الْخُلَفَاءِ وَغَيْرِهِمْ: فَإِنْ دَعَتْ إلَيْهِ ضَرُورَةٌ أَوْ اقْتَضَتْ مَصْلَحَةٌ رَاجِحَةٌ عَلَى مَفْسَدَةِ ابْتِذَالِهِ رَجَوْنَا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ مَا دَامَتْ الْحَالَةُ هَذِهِ: وَعَلَى هَذَا يُحْمَلُ مَا جَاءَ عَنْ بَعْضِ السَّلَفِ فِي هَذَا
* وَمِنْهَا أَنَّهُ إذَا فَعَلَ فِعْلًا صَحِيحًا جَائِزًا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ وَلَكِنَّ ظَاهِرَهُ أَنَّهُ حَرَامٌ أَوْ مَكْرُوهٌ أَوْ مُخِلٌّ بِالْمُرُوءَةِ وَنَحْوُ ذَلِكَ فَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُخْبِرَ أَصْحَابَهُ وَمَنْ يَرَاهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِحَقِيقَةِ ذَلِكَ الْفِعْلِ لِيَنْتَفِعُوا وَلِئَلَّا يَأْثَمُوا بِظَنِّهِمْ الْبَاطِلَ وَلِئَلَّا يَنْفِرُوا عَنْهُ وَيَمْتَنِعَ الانتفاع بعمله: وَمِنْ هَذَا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ إنَّهَا صَفِيَّةُ فَصَلِّ ومن آدابه أدبه فِي دَرْسِهِ وَاشْتِغَالِهِ: فَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَزَالَ مجتهدا في الاشتغال بالعلم قراءة واقراءا وَمُطَالَعَةً وَتَعْلِيقًا وَمُبَاحَثَةً وَمُذَاكَرَةً وَتَصْنِيفًا: وَلَا يَسْتَنْكِفُ مِنْ التَّعَلُّمِ مِمَّنْ هُوَ دُونَهُ فِي سِنٍّ أَوْ نَسَبٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ دِينٍ أَوْ فِي عِلْمٍ آخَرَ بَلْ يَحْرِصُ عَلَى الْفَائِدَةِ مِمَّنْ كَانَتْ عِنْدَهُ وَإِنْ كَانَ دُونَهُ فِي جميع هذا: ولا يستحيى مِنْ السُّؤَالِ عَمَّا لَمْ يَعْلَمْ فَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ عُمَرَ وَابْنِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا مَنْ رَقَّ وَجْهُهُ رَقَّ عِلْمُهُ
* وَعَنْ مُجَاهِدٍ لَا يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ مُسْتَحٍ وَلَا مُسْتَكْبِرٌ: وَفِي الصَّحِيحِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءَ الْأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنَّ الْحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقَّهْنَ فِي الدِّينِ
* وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ لَا يَزَالُ الرَّجُلُ عَالِمًا مَا تَعَلَّمَ فَإِذَا تَرَكَ الْعِلْمَ وَظَنَّ أَنَّهُ قَدْ اسْتَغْنَى وَاكْتَفَى بِمَا عِنْدَهُ فَهُوَ أَجْهَلُ مَا يَكُونُ: وَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَمْنَعَهُ
ارْتِفَاعُ مَنْصِبِهِ وَشُهْرَتِهِ مِنْ اسْتِفَادَةِ مَا لَا يَعْرِفُهُ فَقَدْ كَانَ كَثِيرُونَ مِنْ السَّلَفِ يَسْتَفِيدُونَ مِنْ تَلَامِذَتِهِمْ مَا لَيْسَ عِنْدَهُمْ: وَقَدْ ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ رِوَايَةُ جَمَاعَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ عَنْ التَّابِعِينَ وَرَوَى جَمَاعَاتٌ مِنْ التَّابِعِينَ عَنْ تَابِعِي التَّابِعِينَ: وَهَذَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ لَيْسَ تَابِعِيًّا وَرَوَى عَنْهُ أَكْثَرُ مِنْ سَبْعِينَ مِنْ التَّابِعِينَ: وَثَبَتَ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قرأ لم يكن الذين كفروا عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ أَمَرَنِي اللَّهُ أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ فَاسْتَنْبَطَ الْعُلَمَاءُ مِنْ هَذَا فَوَائِدَ
* مِنْهَا بَيَانُ التَّوَاضُعِ وَأَنَّ الْفَاضِلَ لَا يَمْتَنِعُ مِنْ الْقِرَاءَةِ عَلَى الْمَفْضُولِ: وَيَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ مُلَازَمَةُ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ هي مطلوبه ورأس ما له فَلَا يَشْتَغِلُ بِغَيْرِهِ فَإِنْ اُضْطُرَّ إلَى غَيْرِهِ فِي وَقْتٍ فَعَلَ ذَلِكَ الْغَيْرَ بَعْدَ تَحْصِيلِ وَظِيفَتِهِ مِنْ الْعِلْمِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَعْتَنِيَ بِالتَّصْنِيفِ إذا تأهل له فبه يَطَّلِعُ عَلَى حَقَائِقِ الْعِلْمِ وَدَقَائِقِهِ وَيَثْبُتُ مَعَهُ لِأَنَّهُ يَضْطَرُّهُ إلَى كَثْرَةِ التَّفْتِيشِ وَالْمُطَالَعَةِ وَالتَّحْقِيقِ وَالْمُرَاجَعَةِ وَالِاطِّلَاعِ عَلَى مُخْتَلَفِ كَلَامِ الْأَئِمَّةِ وَمُتَّفِقِهِ وَوَاضِحِهِ مِنْ مُشْكِلِهِ: وَصَحِيحِهِ مِنْ ضَعِيفِهِ: وَجَزْلِهِ مِنْ رَكِيكِهِ وَمَا لَا اعْتِرَاضَ عَلَيْهِ مِنْ غَيْرِهِ وَبِهِ يَتَّصِفُ الْمُحَقِّقُ بِصِفَةِ
* وَمِنْهَا اسْتِعْمَالُهُ أَحَادِيثَ التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَنَحْوِهِمَا مِنْ الْأَذْكَارِ وَالدَّعَوَاتِ وَسَائِرِ الْآدَابِ الشَّرْعِيَّاتِ: وَمِنْهَا دَوَامُ مُرَاقَبَتِهِ لِلَّهِ تَعَالَى فِي عَلَانِيَتِهِ وَسِرِّهِ مُحَافِظًا عَلَى قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَنَوَافِلِ الصلوات والصوم وغيرهما مُعَوِّلًا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي كُلِّ أَمْرِهِ مُعْتَمِدًا عَلَيْهِ مُفَوِّضًا فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ أَمْرَهُ إلَيْهِ
* وَمِنْهَا وَهُوَ مِنْ أَهَمِّهَا أَنْ لَا يَذِلَّ الْعِلْمَ وَلَا يَذْهَبَ بِهِ إلَى مَكَان يَنْتَسِبُ إلَى مَنْ يَتَعَلَّمُهُ مِنْهُ وَإِنْ كَانَ الْمُتَعَلِّمُ كَبِيرَ الْقَدْرِ بَلْ يَصُونُ الْعِلْمَ عَنْ ذَلِكَ كَمَا صَانَهُ السَّلَفُ: وَأَخْبَارُهُمْ فِي هَذَا كَثِيرَةٌ مَشْهُورَةٌ مَعَ الْخُلَفَاءِ وَغَيْرِهِمْ: فَإِنْ دَعَتْ إلَيْهِ ضَرُورَةٌ أَوْ اقْتَضَتْ مَصْلَحَةٌ رَاجِحَةٌ عَلَى مَفْسَدَةِ ابْتِذَالِهِ رَجَوْنَا أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِهِ مَا دَامَتْ الْحَالَةُ هَذِهِ: وَعَلَى هَذَا يُحْمَلُ مَا جَاءَ عَنْ بَعْضِ السَّلَفِ فِي هَذَا
* وَمِنْهَا أَنَّهُ إذَا فَعَلَ فِعْلًا صَحِيحًا جَائِزًا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ وَلَكِنَّ ظَاهِرَهُ أَنَّهُ حَرَامٌ أَوْ مَكْرُوهٌ أَوْ مُخِلٌّ بِالْمُرُوءَةِ وَنَحْوُ ذَلِكَ فَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُخْبِرَ أَصْحَابَهُ وَمَنْ يَرَاهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِحَقِيقَةِ ذَلِكَ الْفِعْلِ لِيَنْتَفِعُوا وَلِئَلَّا يَأْثَمُوا بِظَنِّهِمْ الْبَاطِلَ وَلِئَلَّا يَنْفِرُوا عَنْهُ وَيَمْتَنِعَ الانتفاع بعمله: وَمِنْ هَذَا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ إنَّهَا صَفِيَّةُ فَصَلِّ ومن آدابه أدبه فِي دَرْسِهِ وَاشْتِغَالِهِ: فَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَزَالَ مجتهدا في الاشتغال بالعلم قراءة واقراءا وَمُطَالَعَةً وَتَعْلِيقًا وَمُبَاحَثَةً وَمُذَاكَرَةً وَتَصْنِيفًا: وَلَا يَسْتَنْكِفُ مِنْ التَّعَلُّمِ مِمَّنْ هُوَ دُونَهُ فِي سِنٍّ أَوْ نَسَبٍ أَوْ شُهْرَةٍ أَوْ دِينٍ أَوْ فِي عِلْمٍ آخَرَ بَلْ يَحْرِصُ عَلَى الْفَائِدَةِ مِمَّنْ كَانَتْ عِنْدَهُ وَإِنْ كَانَ دُونَهُ فِي جميع هذا: ولا يستحيى مِنْ السُّؤَالِ عَمَّا لَمْ يَعْلَمْ فَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ عُمَرَ وَابْنِهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا مَنْ رَقَّ وَجْهُهُ رَقَّ عِلْمُهُ
* وَعَنْ مُجَاهِدٍ لَا يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ مُسْتَحٍ وَلَا مُسْتَكْبِرٌ: وَفِي الصَّحِيحِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءَ الْأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنَّ الْحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقَّهْنَ فِي الدِّينِ
* وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ لَا يَزَالُ الرَّجُلُ عَالِمًا مَا تَعَلَّمَ فَإِذَا تَرَكَ الْعِلْمَ وَظَنَّ أَنَّهُ قَدْ اسْتَغْنَى وَاكْتَفَى بِمَا عِنْدَهُ فَهُوَ أَجْهَلُ مَا يَكُونُ: وَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَمْنَعَهُ
ارْتِفَاعُ مَنْصِبِهِ وَشُهْرَتِهِ مِنْ اسْتِفَادَةِ مَا لَا يَعْرِفُهُ فَقَدْ كَانَ كَثِيرُونَ مِنْ السَّلَفِ يَسْتَفِيدُونَ مِنْ تَلَامِذَتِهِمْ مَا لَيْسَ عِنْدَهُمْ: وَقَدْ ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ رِوَايَةُ جَمَاعَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ عَنْ التَّابِعِينَ وَرَوَى جَمَاعَاتٌ مِنْ التَّابِعِينَ عَنْ تَابِعِي التَّابِعِينَ: وَهَذَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ لَيْسَ تَابِعِيًّا وَرَوَى عَنْهُ أَكْثَرُ مِنْ سَبْعِينَ مِنْ التَّابِعِينَ: وَثَبَتَ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قرأ لم يكن الذين كفروا عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ أَمَرَنِي اللَّهُ أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ فَاسْتَنْبَطَ الْعُلَمَاءُ مِنْ هَذَا فَوَائِدَ
* مِنْهَا بَيَانُ التَّوَاضُعِ وَأَنَّ الْفَاضِلَ لَا يَمْتَنِعُ مِنْ الْقِرَاءَةِ عَلَى الْمَفْضُولِ: وَيَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ مُلَازَمَةُ الِاشْتِغَالِ بِالْعِلْمِ هي مطلوبه ورأس ما له فَلَا يَشْتَغِلُ بِغَيْرِهِ فَإِنْ اُضْطُرَّ إلَى غَيْرِهِ فِي وَقْتٍ فَعَلَ ذَلِكَ الْغَيْرَ بَعْدَ تَحْصِيلِ وَظِيفَتِهِ مِنْ الْعِلْمِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَعْتَنِيَ بِالتَّصْنِيفِ إذا تأهل له فبه يَطَّلِعُ عَلَى حَقَائِقِ الْعِلْمِ وَدَقَائِقِهِ وَيَثْبُتُ مَعَهُ لِأَنَّهُ يَضْطَرُّهُ إلَى كَثْرَةِ التَّفْتِيشِ وَالْمُطَالَعَةِ وَالتَّحْقِيقِ وَالْمُرَاجَعَةِ وَالِاطِّلَاعِ عَلَى مُخْتَلَفِ كَلَامِ الْأَئِمَّةِ وَمُتَّفِقِهِ وَوَاضِحِهِ مِنْ مُشْكِلِهِ: وَصَحِيحِهِ مِنْ ضَعِيفِهِ: وَجَزْلِهِ مِنْ رَكِيكِهِ وَمَا لَا اعْتِرَاضَ عَلَيْهِ مِنْ غَيْرِهِ وَبِهِ يَتَّصِفُ الْمُحَقِّقُ بِصِفَةِ
জান্নাতবাসীদের আমল সংক্রান্ত হাদীস। আমরা আল্লাহর কাছে সকল রোগ থেকে সুস্থতা কামনা করি।
* এর (আদবসমূহের) মধ্যে রয়েছে তাসবীহ, তাহলীল এবং এ জাতীয় অন্যান্য যিকির, দু'আ ও শরীয়তসম্মত অন্যান্য আদব সংক্রান্ত হাদীসসমূহের অনুশীলন। এর মধ্যে আরও রয়েছে প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বদা আল্লাহ তা'আলার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা, কুরআন তিলাওয়াত, নফল সালাত, সাওম ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ নিয়মিত পালন করা। সকল বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করা, তাঁর উপর নির্ভর করা এবং সর্বাবস্থায় তাঁর কাছেই নিজের সকল বিষয় সোপর্দ করা।
* এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইলমকে হেয় প্রতিপন্ন না করা এবং ইলম নিয়ে এমন কোনো স্থানে না যাওয়া যা ইলম অর্জনকারীর সাথে সম্পর্কিত, যদিও সেই ইলম অর্জনকারী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হন। বরং ইলমকে এ ধরনের বিষয় থেকে রক্ষা করা, যেমনটি সালাফগণ রক্ষা করেছেন। এ বিষয়ে খলীফাগণ ও অন্যান্যদের সাথে তাদের অনেক প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। তবে যদি কোনো অনিবার্য প্রয়োজন দেখা দেয় অথবা ইলমের অবমাননার ক্ষতির চেয়ে অধিকতর কল্যাণ (মাসলাহাতুন রাজিহা) দাবি করে, তাহলে আমরা আশা করি যে, এই অবস্থা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সালাফদের থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এই নীতির উপরই ব্যাখ্যা করা হবে।
* এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, যদি সে এমন কোনো কাজ করে যা প্রকৃতপক্ষে সঠিক ও বৈধ, কিন্তু বাহ্যিকভাবে তা হারাম, মাকরূহ অথবা মুরাওয়াত (মর্যাদা/ভদ্রতা) পরিপন্থী মনে হয়, তাহলে তার উচিত তার সাথী ও যারা তাকে তা করতে দেখে, তাদেরকে সেই কাজের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা। যাতে তারা উপকৃত হতে পারে এবং তাদের ভ্রান্ত ধারণার কারণে তারা যেন গুনাহগার না হয়, আর তার থেকে যেন বিমুখ না হয় এবং তার আমল থেকে উপকৃত হওয়া থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। এ থেকেই সহীহ হাদীসটি এসেছে: "এটি সাফিয়্যাহ।" (অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে থাকা মহিলাকে দেখে সন্দেহ পোষণকারী সাহাবীগণকে জানিয়ে দেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়)।
* তার আদবসমূহের মধ্যে রয়েছে তার পাঠদান ও জ্ঞানচর্চার আদব। সুতরাং তার উচিত জ্ঞানচর্চায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা – পাঠ, পাঠদান, অধ্যয়ন, টীকা লিখন, আলোচনা, পুনরালোচনা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে। সে যেন এমন ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনে কুণ্ঠাবোধ না করে যে বয়স, বংশ, খ্যাতি, দ্বীনদারী অথবা অন্য কোনো জ্ঞানে তার চেয়ে নিম্নস্তরের। বরং যার কাছেই জ্ঞান থাকুক না কেন, সে যেন তার থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য আগ্রহী হয়, যদিও সে উল্লেখিত সকল বিষয়ে তার চেয়ে নিম্নস্তরের হয়। আর সে যা জানে না, তা জিজ্ঞাসা করতে যেন লজ্জা না করে। কেননা আমরা উমার ও তাঁর পুত্র (আব্দুল্লাহ ইবনে উমার) রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছি, তাঁরা বলেছেন: "যার মুখমণ্ডল নরম হয় (অর্থাৎ যে লজ্জিত হয়), তার জ্ঞানও নরম হয়ে যায় (অর্থাৎ কমে যায়)।"
* মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "লজ্জাশীল ব্যক্তি ও অহংকারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।" আর সহীহ গ্রন্থে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: "আনসারী নারীরা কতই না উত্তম! লজ্জা তাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা থেকে বিরত রাখেনি।"
* সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহ.) বলেছেন: "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞানী থাকে, যতক্ষণ সে জ্ঞান অর্জন করে। কিন্তু যখন সে জ্ঞানচর্চা ছেড়ে দেয় এবং মনে করে যে, সে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে ও তার কাছে যা আছে তাতেই যথেষ্ট, তখন সে সবচেয়ে অজ্ঞ হয়ে যায়।"
* তার উচ্চ পদমর্যাদা ও খ্যাতি যেন তাকে অজানা বিষয় থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সালাফদের অনেকেই তাদের ছাত্রদের কাছ থেকে এমন জ্ঞান অর্জন করতেন যা তাদের নিজেদের কাছে ছিল না। সহীহ গ্রন্থে প্রমাণিত আছে যে, সাহাবীগণের একটি দল তাবেয়ীগণের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাবেয়ীগণের অনেক দল তাবেয়ী-তাবেয়ীগণের থেকে বর্ণনা করেছেন। এই আমর ইবনে শুআইব তাবেয়ী নন, অথচ সত্তরজনেরও অধিক তাবেয়ী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থে প্রমাণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সূরা 'লাম ইয়াকুনিল লাযীনা কাফারু' (সূরা বাইয়্যিনাহ) পাঠ করে শোনান এবং বলেন: "আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে পাঠ করে শোনাই।" উলামায়ে কেরাম এ থেকে অনেক উপকারিতা বের করেছেন।
* এর মধ্যে একটি হলো বিনয়ের প্রকাশ এবং এই যে, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নিকৃষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।
* তার উচিত জ্ঞানচর্চায় অবিচল থাকা, এটিই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং তার সকল কাজের মূল হওয়া উচিত। সুতরাং সে যেন অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হয়। তবে যদি কোনো সময়ে অন্য কোনো কাজে বাধ্য হয়, তাহলে জ্ঞানচর্চার তার নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পরেই সে অন্য কাজটি করবে।
* তার উচিত গ্রন্থ রচনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া, যদি সে এর জন্য যোগ্য হয়। কারণ এর মাধ্যমেই সে ইলমের বাস্তবতা ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং তা তার সাথে সুদৃঢ় হয়। কেননা এটি তাকে বাধ্য করে অধিক অনুসন্ধান, অধ্যয়ন, যাচাই-বাছাই, পর্যালোচনা এবং ইমামগণের বিভিন্ন ও ঐকমত্যপূর্ণ উক্তি, স্পষ্ট ও জটিল উক্তি, সহীহ ও যঈফ উক্তি, বলিষ্ঠ ও দুর্বল উক্তি এবং যা আপত্তিহীন ও যা আপত্তিযুক্ত – এসব সম্পর্কে অবগত হতে। আর এর মাধ্যমেই একজন মুহাক্কিক (গবেষক) এই গুণে গুণান্বিত হন...
* এর (আদবসমূহের) মধ্যে রয়েছে তাসবীহ, তাহলীল এবং এ জাতীয় অন্যান্য যিকির, দু'আ ও শরীয়তসম্মত অন্যান্য আদব সংক্রান্ত হাদীসসমূহের অনুশীলন। এর মধ্যে আরও রয়েছে প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বদা আল্লাহ তা'আলার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা, কুরআন তিলাওয়াত, নফল সালাত, সাওম ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ নিয়মিত পালন করা। সকল বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করা, তাঁর উপর নির্ভর করা এবং সর্বাবস্থায় তাঁর কাছেই নিজের সকল বিষয় সোপর্দ করা।
* এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইলমকে হেয় প্রতিপন্ন না করা এবং ইলম নিয়ে এমন কোনো স্থানে না যাওয়া যা ইলম অর্জনকারীর সাথে সম্পর্কিত, যদিও সেই ইলম অর্জনকারী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হন। বরং ইলমকে এ ধরনের বিষয় থেকে রক্ষা করা, যেমনটি সালাফগণ রক্ষা করেছেন। এ বিষয়ে খলীফাগণ ও অন্যান্যদের সাথে তাদের অনেক প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। তবে যদি কোনো অনিবার্য প্রয়োজন দেখা দেয় অথবা ইলমের অবমাননার ক্ষতির চেয়ে অধিকতর কল্যাণ (মাসলাহাতুন রাজিহা) দাবি করে, তাহলে আমরা আশা করি যে, এই অবস্থা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সালাফদের থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এই নীতির উপরই ব্যাখ্যা করা হবে।
* এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, যদি সে এমন কোনো কাজ করে যা প্রকৃতপক্ষে সঠিক ও বৈধ, কিন্তু বাহ্যিকভাবে তা হারাম, মাকরূহ অথবা মুরাওয়াত (মর্যাদা/ভদ্রতা) পরিপন্থী মনে হয়, তাহলে তার উচিত তার সাথী ও যারা তাকে তা করতে দেখে, তাদেরকে সেই কাজের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা। যাতে তারা উপকৃত হতে পারে এবং তাদের ভ্রান্ত ধারণার কারণে তারা যেন গুনাহগার না হয়, আর তার থেকে যেন বিমুখ না হয় এবং তার আমল থেকে উপকৃত হওয়া থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। এ থেকেই সহীহ হাদীসটি এসেছে: "এটি সাফিয়্যাহ।" (অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে থাকা মহিলাকে দেখে সন্দেহ পোষণকারী সাহাবীগণকে জানিয়ে দেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়)।
* তার আদবসমূহের মধ্যে রয়েছে তার পাঠদান ও জ্ঞানচর্চার আদব। সুতরাং তার উচিত জ্ঞানচর্চায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা – পাঠ, পাঠদান, অধ্যয়ন, টীকা লিখন, আলোচনা, পুনরালোচনা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে। সে যেন এমন ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনে কুণ্ঠাবোধ না করে যে বয়স, বংশ, খ্যাতি, দ্বীনদারী অথবা অন্য কোনো জ্ঞানে তার চেয়ে নিম্নস্তরের। বরং যার কাছেই জ্ঞান থাকুক না কেন, সে যেন তার থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য আগ্রহী হয়, যদিও সে উল্লেখিত সকল বিষয়ে তার চেয়ে নিম্নস্তরের হয়। আর সে যা জানে না, তা জিজ্ঞাসা করতে যেন লজ্জা না করে। কেননা আমরা উমার ও তাঁর পুত্র (আব্দুল্লাহ ইবনে উমার) রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছি, তাঁরা বলেছেন: "যার মুখমণ্ডল নরম হয় (অর্থাৎ যে লজ্জিত হয়), তার জ্ঞানও নরম হয়ে যায় (অর্থাৎ কমে যায়)।"
* মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "লজ্জাশীল ব্যক্তি ও অহংকারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।" আর সহীহ গ্রন্থে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: "আনসারী নারীরা কতই না উত্তম! লজ্জা তাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা থেকে বিরত রাখেনি।"
* সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহ.) বলেছেন: "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞানী থাকে, যতক্ষণ সে জ্ঞান অর্জন করে। কিন্তু যখন সে জ্ঞানচর্চা ছেড়ে দেয় এবং মনে করে যে, সে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে ও তার কাছে যা আছে তাতেই যথেষ্ট, তখন সে সবচেয়ে অজ্ঞ হয়ে যায়।"
* তার উচ্চ পদমর্যাদা ও খ্যাতি যেন তাকে অজানা বিষয় থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সালাফদের অনেকেই তাদের ছাত্রদের কাছ থেকে এমন জ্ঞান অর্জন করতেন যা তাদের নিজেদের কাছে ছিল না। সহীহ গ্রন্থে প্রমাণিত আছে যে, সাহাবীগণের একটি দল তাবেয়ীগণের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাবেয়ীগণের অনেক দল তাবেয়ী-তাবেয়ীগণের থেকে বর্ণনা করেছেন। এই আমর ইবনে শুআইব তাবেয়ী নন, অথচ সত্তরজনেরও অধিক তাবেয়ী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থে প্রমাণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সূরা 'লাম ইয়াকুনিল লাযীনা কাফারু' (সূরা বাইয়্যিনাহ) পাঠ করে শোনান এবং বলেন: "আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে পাঠ করে শোনাই।" উলামায়ে কেরাম এ থেকে অনেক উপকারিতা বের করেছেন।
* এর মধ্যে একটি হলো বিনয়ের প্রকাশ এবং এই যে, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নিকৃষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।
* তার উচিত জ্ঞানচর্চায় অবিচল থাকা, এটিই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এবং তার সকল কাজের মূল হওয়া উচিত। সুতরাং সে যেন অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হয়। তবে যদি কোনো সময়ে অন্য কোনো কাজে বাধ্য হয়, তাহলে জ্ঞানচর্চার তার নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পরেই সে অন্য কাজটি করবে।
* তার উচিত গ্রন্থ রচনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া, যদি সে এর জন্য যোগ্য হয়। কারণ এর মাধ্যমেই সে ইলমের বাস্তবতা ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং তা তার সাথে সুদৃঢ় হয়। কেননা এটি তাকে বাধ্য করে অধিক অনুসন্ধান, অধ্যয়ন, যাচাই-বাছাই, পর্যালোচনা এবং ইমামগণের বিভিন্ন ও ঐকমত্যপূর্ণ উক্তি, স্পষ্ট ও জটিল উক্তি, সহীহ ও যঈফ উক্তি, বলিষ্ঠ ও দুর্বল উক্তি এবং যা আপত্তিহীন ও যা আপত্তিযুক্ত – এসব সম্পর্কে অবগত হতে। আর এর মাধ্যমেই একজন মুহাক্কিক (গবেষক) এই গুণে গুণান্বিত হন...
(খণ্ড: ১)
আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব - ত মুনীরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْمُجْتَهِدِ وَلْيَحْذَرْ كُلَّ الْحَذَرِ أَنْ يَشْرَعَ فِي تَصْنِيفِ مَا لَمْ يَتَأَهَّلْ لَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ يَضُرُّهُ فِي دِينِهِ وَعِلْمِهِ وَعِرْضِهِ وَلْيَحْذَرْ أَيْضًا مِنْ إخْرَاجِ تَصْنِيفِهِ مِنْ يَدِهِ إلَّا بَعْدَ تَهْذِيبِهِ وَتَرْدَادِ نَظَرِهِ فِيهِ وَتَكْرِيرِهِ: وَلْيَحْرِصْ عَلَى إيضَاحِ الْعِبَارَةِ وَإِيجَازِهَا فَلَا يُوَضِّحُ إيضَاحًا يَنْتَهِي إلَى الرَّكَاكَةِ وَلَا يُوجِزُ إيجَازًا يُفْضِي إلَى الْمَحْقِ وَالِاسْتِغْلَاقِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ اعْتِنَاؤُهُ مِنْ التَّصْنِيفِ بِمَا لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهِ أَكْثَرَ.
وَالْمُرَادُ بِهَذَا أَنْ لَا يَكُونَ هُنَاكَ مُصَنَّفٌ يُغْنِي عَنْ مُصَنَّفِهِ فِي جَمِيعِ أَسَالِيبِهِ فَإِنْ أَغْنَى عن بَعْضُهَا فَلْيُصَنِّفْ مِنْ جِنْسِهِ مَا يَزِيدُ زِيَادَاتٍ يُحْتَفَلُ بِهَا مَعَ ضَمِّ مَا فَاتَهُ مِنْ الا ساليب وَلْيَكُنْ تَصْنِيفُهُ فِيمَا يَعُمُّ الِانْتِفَاعُ بِهِ وَيَكْثُرُ الِاحْتِيَاجُ إلَيْهِ: وَلْيَعْتَنِ بِعِلْمِ الْمَذْهَبِ فَإِنَّهُ مِنْ أَعْظَمِ الْأَنْوَاعِ نَفْعًا وَبِهِ يَتَسَلَّطُ الْمُتَمَكِّنُ عَلَى المعظم من باقي العلوم
* ومن آدابه آداب تَعْلِيمِهِ
* اعْلَمْ أَنَّ التَّعْلِيمَ هُوَ الْأَصْلُ الَّذِي بِهِ قِوَامُ الدِّينِ وَبِهِ يُؤْمَنُ إمْحَاقُ الْعِلْمِ فَهُوَ مِنْ أَهَمِّ أُمُورِ الدِّينِ وَأَعْظَمِ الْعِبَادَاتِ وَآكَدِ فُرُوضِ الْكِفَايَاتِ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَإِذْ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب ليبيننه للناس ولا تكتمونه) وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا) الْآيَةُ: وَفِي الصَّحِيحِ مِنْ طُرُقٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيُبَلِّغ الشَّاهِدُ مِنْكُمْ الْغَائِبَ
وَالْأَحَادِيثُ بِمَعْنَاهُ كَثِيرَةٌ وَالْإِجْمَاعُ مُنْعَقِدٌ عَلَيْهِ: وَيَجِبُ عَلَى الْمُعَلِّمِ أَنْ يَقْصِدَ بِتَعْلِيمِهِ وجه الله تعالى لما سبق والايجعله وَسِيلَةً إلَى غَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ فَيَسْتَحْضِرُ الْمُعَلِّمُ فِي ذهنه كون التعليم آكد العبادات ليكون ذَلِكَ حَاثًّا لَهُ عَلَى تَصْحِيحِ النِّيَّةِ وَمُحَرِّضًا لَهُ عَلَى صِيَانَتِهِ مِنْ مُكَدَّرَاتِهِ وَمِنْ مَكْرُوهَاتِهِ مَخَافَةَ فَوَاتِ هَذَا الْفَضْلِ الْعَظِيمِ وَالْخَيْرِ الْجَسِيمِ: قَالُوا وَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَمْتَنِعَ مِنْ تَعْلِيمِ أَحَدٍ لِكَوْنِهِ غَيْرَ صَحِيحِ النِّيَّةِ فَإِنَّهُ يُرْجَى لَهُ حُسْنُ النِّيَّةِ وَرُبَّمَا عَسُرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ الْمُبْتَدِئِينَ بِالِاشْتِغَالِ تَصْحِيحُ النِّيَّةِ لِضَعْفِ نُفُوسِهِمْ وَقِلَّةِ أُنْسِهِمْ بِمُوجِبَاتِ تَصْحِيحِ النِّيَّةِ فَالِامْتِنَاعُ مِنْ تَعْلِيمِهِمْ يُؤَدِّي إلَى تَفْوِيتِ كَثِيرٍ مِنْ الْعِلْمِ مع انه يرجي ببركة العلم تصحيحها إذَا أَنِسَ بِالْعِلْمِ: وَقَدْ قَالُوا طَلَبْنَا الْعِلْمَ لِغَيْرِ اللَّهِ فَأَبَى أَنْ يَكُونَ إلَّا لِلَّهِ: مَعْنَاهُ كَانَتْ عَاقِبَتُهُ أَنْ صَارَ لِلَّهِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُؤَدِّبَ الْمُتَعَلِّمَ عَلَى التَّدْرِيجِ بِالْآدَابِ السُّنِّيَّةِ والشم الْمُرْضِيَةِ وَرِيَاضَةِ نَفْسِهِ بِالْآدَابِ وَالدَّقَائِقِ الْخَفِيَّةِ وَتَعَوُّدِهِ الصِّيَانَةَ فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ الْكَامِنَةِ وَالْجَلِيَّةِ
* فَأَوَّلُ ذَلِكَ أَنْ يُحَرِّضَهُ بِأَقْوَالِهِ وَأَحْوَالِهِ الْمُتَكَرِّرَاتِ عَلَى الْإِخْلَاصِ وَالصِّدْقِ وَحُسْنِ النِّيَّاتِ: وَمُرَاقَبَةِ اللَّهِ تَعَالَى فِي جَمِيعِ اللَّحَظَاتِ: وَأَنْ يَكُونَ دَائِمًا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى الْمَمَاتِ: وَيُعَرِّفَهُ أَنَّ بِذَلِكَ تَنْفَتِحُ عليه أبواب المعارف: وينشرح صدره وتتفجر من قبله يَنَابِيعُ الْحِكَمِ وَاللَّطَائِفِ: وَيُبَارَكُ لَهُ فِي حَالِهِ وَعِلْمِهِ وَيُوَفَّقُ لِلْإِصَابَةِ فِي قَوْلِهِ وَفِعْلِهِ وَحُكْمِهِ: وَيُزَهِّدَهُ فِي الدُّنْيَا وَيَصْرِفَهُ عَنْ التَّعَلُّقِ بِهَا وَالرُّكُونِ إلَيْهَا وَالِاغْتِرَارِ بِهَا: وَيُذَكِّرَهُ أَنَّهَا فَانِيَةٌ وَالْآخِرَةُ آتِيَةٌ بَاقِيَةٌ وَالتَّأَهُّبُ لِلْبَاقِي وَالْإِعْرَاضُ عَنْ القاني هُوَ طَرِيقُ الْحَازِمِينَ: وَدَأْبُ عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُرَغِّبَهُ فِي الْعِلْمِ وَيُذَكِّرَهُ بِفَضَائِلِهِ وَفَضَائِلِ الْعُلَمَاءِ وَأَنَّهُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ وسلامه عليهم: ولا رتبة في الوجود أَعْلَى مِنْ هَذِهِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَحْنُوَ عَلَيْهِ وَيَعْتَنِيَ بِمَصَالِحِهِ كَاعْتِنَائِهِ بِمَصَالِحِ نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَيُجْرِيَهُ مَجْرَى وَلَدِهِ فِي الشَّفَقَةِ عَلَيْهِ وَالِاهْتِمَامِ بِمَصَالِحِهِ والصبر عل جفائه وسوء أدبه: ويعذره فِي سُوءِ أَدَبٍ وَجَفْوَةٍ تَعْرُضُ مِنْهُ فِي بَعْضِ الْأَحْيَانِ فَإِنَّ الْإِنْسَانَ مُعَرَّضٌ لِلنَّقَائِصِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُحِبَّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنْ الْخَيْرِ وَيَكْرَهَ لَهُ مَا يَكْرَهُهُ لِنَفْسِهِ مِنْ
وَالْمُرَادُ بِهَذَا أَنْ لَا يَكُونَ هُنَاكَ مُصَنَّفٌ يُغْنِي عَنْ مُصَنَّفِهِ فِي جَمِيعِ أَسَالِيبِهِ فَإِنْ أَغْنَى عن بَعْضُهَا فَلْيُصَنِّفْ مِنْ جِنْسِهِ مَا يَزِيدُ زِيَادَاتٍ يُحْتَفَلُ بِهَا مَعَ ضَمِّ مَا فَاتَهُ مِنْ الا ساليب وَلْيَكُنْ تَصْنِيفُهُ فِيمَا يَعُمُّ الِانْتِفَاعُ بِهِ وَيَكْثُرُ الِاحْتِيَاجُ إلَيْهِ: وَلْيَعْتَنِ بِعِلْمِ الْمَذْهَبِ فَإِنَّهُ مِنْ أَعْظَمِ الْأَنْوَاعِ نَفْعًا وَبِهِ يَتَسَلَّطُ الْمُتَمَكِّنُ عَلَى المعظم من باقي العلوم
* ومن آدابه آداب تَعْلِيمِهِ
* اعْلَمْ أَنَّ التَّعْلِيمَ هُوَ الْأَصْلُ الَّذِي بِهِ قِوَامُ الدِّينِ وَبِهِ يُؤْمَنُ إمْحَاقُ الْعِلْمِ فَهُوَ مِنْ أَهَمِّ أُمُورِ الدِّينِ وَأَعْظَمِ الْعِبَادَاتِ وَآكَدِ فُرُوضِ الْكِفَايَاتِ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (وَإِذْ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب ليبيننه للناس ولا تكتمونه) وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا) الْآيَةُ: وَفِي الصَّحِيحِ مِنْ طُرُقٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيُبَلِّغ الشَّاهِدُ مِنْكُمْ الْغَائِبَ
وَالْأَحَادِيثُ بِمَعْنَاهُ كَثِيرَةٌ وَالْإِجْمَاعُ مُنْعَقِدٌ عَلَيْهِ: وَيَجِبُ عَلَى الْمُعَلِّمِ أَنْ يَقْصِدَ بِتَعْلِيمِهِ وجه الله تعالى لما سبق والايجعله وَسِيلَةً إلَى غَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ فَيَسْتَحْضِرُ الْمُعَلِّمُ فِي ذهنه كون التعليم آكد العبادات ليكون ذَلِكَ حَاثًّا لَهُ عَلَى تَصْحِيحِ النِّيَّةِ وَمُحَرِّضًا لَهُ عَلَى صِيَانَتِهِ مِنْ مُكَدَّرَاتِهِ وَمِنْ مَكْرُوهَاتِهِ مَخَافَةَ فَوَاتِ هَذَا الْفَضْلِ الْعَظِيمِ وَالْخَيْرِ الْجَسِيمِ: قَالُوا وَيَنْبَغِي أَنْ لَا يَمْتَنِعَ مِنْ تَعْلِيمِ أَحَدٍ لِكَوْنِهِ غَيْرَ صَحِيحِ النِّيَّةِ فَإِنَّهُ يُرْجَى لَهُ حُسْنُ النِّيَّةِ وَرُبَّمَا عَسُرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ الْمُبْتَدِئِينَ بِالِاشْتِغَالِ تَصْحِيحُ النِّيَّةِ لِضَعْفِ نُفُوسِهِمْ وَقِلَّةِ أُنْسِهِمْ بِمُوجِبَاتِ تَصْحِيحِ النِّيَّةِ فَالِامْتِنَاعُ مِنْ تَعْلِيمِهِمْ يُؤَدِّي إلَى تَفْوِيتِ كَثِيرٍ مِنْ الْعِلْمِ مع انه يرجي ببركة العلم تصحيحها إذَا أَنِسَ بِالْعِلْمِ: وَقَدْ قَالُوا طَلَبْنَا الْعِلْمَ لِغَيْرِ اللَّهِ فَأَبَى أَنْ يَكُونَ إلَّا لِلَّهِ: مَعْنَاهُ كَانَتْ عَاقِبَتُهُ أَنْ صَارَ لِلَّهِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُؤَدِّبَ الْمُتَعَلِّمَ عَلَى التَّدْرِيجِ بِالْآدَابِ السُّنِّيَّةِ والشم الْمُرْضِيَةِ وَرِيَاضَةِ نَفْسِهِ بِالْآدَابِ وَالدَّقَائِقِ الْخَفِيَّةِ وَتَعَوُّدِهِ الصِّيَانَةَ فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ الْكَامِنَةِ وَالْجَلِيَّةِ
* فَأَوَّلُ ذَلِكَ أَنْ يُحَرِّضَهُ بِأَقْوَالِهِ وَأَحْوَالِهِ الْمُتَكَرِّرَاتِ عَلَى الْإِخْلَاصِ وَالصِّدْقِ وَحُسْنِ النِّيَّاتِ: وَمُرَاقَبَةِ اللَّهِ تَعَالَى فِي جَمِيعِ اللَّحَظَاتِ: وَأَنْ يَكُونَ دَائِمًا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى الْمَمَاتِ: وَيُعَرِّفَهُ أَنَّ بِذَلِكَ تَنْفَتِحُ عليه أبواب المعارف: وينشرح صدره وتتفجر من قبله يَنَابِيعُ الْحِكَمِ وَاللَّطَائِفِ: وَيُبَارَكُ لَهُ فِي حَالِهِ وَعِلْمِهِ وَيُوَفَّقُ لِلْإِصَابَةِ فِي قَوْلِهِ وَفِعْلِهِ وَحُكْمِهِ: وَيُزَهِّدَهُ فِي الدُّنْيَا وَيَصْرِفَهُ عَنْ التَّعَلُّقِ بِهَا وَالرُّكُونِ إلَيْهَا وَالِاغْتِرَارِ بِهَا: وَيُذَكِّرَهُ أَنَّهَا فَانِيَةٌ وَالْآخِرَةُ آتِيَةٌ بَاقِيَةٌ وَالتَّأَهُّبُ لِلْبَاقِي وَالْإِعْرَاضُ عَنْ القاني هُوَ طَرِيقُ الْحَازِمِينَ: وَدَأْبُ عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُرَغِّبَهُ فِي الْعِلْمِ وَيُذَكِّرَهُ بِفَضَائِلِهِ وَفَضَائِلِ الْعُلَمَاءِ وَأَنَّهُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ وسلامه عليهم: ولا رتبة في الوجود أَعْلَى مِنْ هَذِهِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَحْنُوَ عَلَيْهِ وَيَعْتَنِيَ بِمَصَالِحِهِ كَاعْتِنَائِهِ بِمَصَالِحِ نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَيُجْرِيَهُ مَجْرَى وَلَدِهِ فِي الشَّفَقَةِ عَلَيْهِ وَالِاهْتِمَامِ بِمَصَالِحِهِ والصبر عل جفائه وسوء أدبه: ويعذره فِي سُوءِ أَدَبٍ وَجَفْوَةٍ تَعْرُضُ مِنْهُ فِي بَعْضِ الْأَحْيَانِ فَإِنَّ الْإِنْسَانَ مُعَرَّضٌ لِلنَّقَائِصِ: وَيَنْبَغِي أَنْ يُحِبَّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنْ الْخَيْرِ وَيَكْرَهَ لَهُ مَا يَكْرَهُهُ لِنَفْسِهِ مِنْ
একজন সংকলকের (বা লেখকের) উচিত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা, যেন তিনি এমন কিছু রচনা বা সংকলন শুরু না করেন যার জন্য তিনি যোগ্য নন। কারণ তা তার দ্বীন, তার জ্ঞান এবং তার সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে তার সংকলনটি প্রকাশ করা থেকে, তবে তা পরিমার্জন, বারবার পর্যালোচনা এবং পুনরাবৃত্তির পর। তাকে ভাষার স্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততার প্রতি যত্নবান হতে হবে; অতএব, তিনি এমনভাবে স্পষ্ট করবেন না যা দুর্বলতায় পর্যবসিত হয়, এবং এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করবেন না যা অর্থ বিলোপ বা দুর্বোধ্যতার দিকে নিয়ে যায়।
এবং উচিত হলো, তার রচনায় এমন বিষয়ের প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়া, যা পূর্বে কেউ রচনা করেনি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এমন কোনো বিদ্যমান রচনা যেন না থাকে যা তার রচনার সকল দিক থেকে যথেষ্ট। যদি কিছু দিক থেকে যথেষ্ট হয়, তাহলে তিনি এমন ধরনের রচনা করবেন যা উল্লেখযোগ্য সংযোজন করে, এবং বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোতে যা বাদ পড়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করবে। তার রচনা এমন বিষয়ে হওয়া উচিত যার উপকারিতা ব্যাপক এবং যার প্রয়োজন অনেক বেশি। তাকে মাযহাবের জ্ঞানের প্রতি যত্নবান হতে হবে, কারণ এটি সবচেয়ে উপকারী জ্ঞানসমূহের অন্যতম, এবং এর মাধ্যমেই একজন পারদর্শী আলেম অন্যান্য অধিকাংশ বিজ্ঞানের উপর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
* **শিক্ষাদানের আদবসমূহ**
জেনে রাখো যে, শিক্ষাদানই সেই মূল ভিত্তি যার উপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত, এবং এর মাধ্যমেই জ্ঞানের বিলুপ্তি থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যায়। সুতরাং এটি দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির অন্যতম, সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং ফরযে কিফায়ার মধ্যে সর্বাধিক জোরদার। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে অবশ্যই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৭)। এবং তিনি তায়ালা বলেছেন: "নিশ্চয় যারা গোপন করে যা আমরা অবতীর্ণ করেছি..." (আয়াত)। এবং সহীহ গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" এই অর্থে হাদীস অনেক রয়েছে এবং এর উপর ইজমা' প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষকের উপর ওয়াজিব হলো, তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এটিকে কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা। সুতরাং শিক্ষক তার মনে শিক্ষাদানকে সর্বাধিক জোরদার ইবাদত হিসেবে উপস্থিত রাখবেন, যাতে এটি তাকে নিয়ত শুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করে এবং তাকে এর কলুষতা ও মাকরূহ বিষয়াদি থেকে রক্ষা করতে প্ররোচিত করে, এই মহান ফযীলত ও বিশাল কল্যাণ হারানোর ভয়ে।
তারা বলেছেন: এবং উচিত হলো, কারো নিয়ত বিশুদ্ধ না হওয়ার কারণে তাকে শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত না থাকা। কারণ তার নিয়ত ভালো হওয়ার আশা করা যায়। এবং অনেক নতুন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য নিয়ত শুদ্ধ করা কঠিন হতে পারে তাদের আত্মার দুর্বলতা এবং নিয়ত শুদ্ধ করার কারণগুলির সাথে তাদের কম পরিচিতির কারণে। সুতরাং তাদের শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকা অনেক জ্ঞান হারানোর কারণ হয়, যদিও আশা করা যায় যে, জ্ঞানের বরকতে তাদের নিয়ত শুদ্ধ হয়ে যাবে যখন তারা জ্ঞানের সাথে অভ্যস্ত হবে। তারা আরও বলেছেন: "আমরা আল্লাহর ব্যতীত অন্যের জন্য জ্ঞান অন্বেষণ করেছি, কিন্তু জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হতে অস্বীকার করেছে।" এর অর্থ হলো, এর পরিণতি এমন হয়েছিল যে তা আল্লাহর জন্যই হয়ে গিয়েছিল।
এবং উচিত হলো, তিনি শিক্ষার্থীকে ধীরে ধীরে সুন্নাহসম্মত আদব ও সন্তোষজনক গুণাবলীতে অভ্যস্ত করাবেন, এবং আদব ও সূক্ষ্ম বিষয়াদির মাধ্যমে তার আত্মাকে প্রশিক্ষণ দেবেন, এবং তাকে তার সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে সংযম পালনে অভ্যস্ত করাবেন।
* **প্রথমত**
তিনি তার বারবার উচ্চারিত কথা ও কর্মের মাধ্যমে তাকে ইখলাস, সততা ও উত্তম নিয়তের প্রতি উৎসাহিত করবেন; এবং সকল মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার পর্যবেক্ষণ অনুভব করা শেখাবেন; এবং মৃত্যু পর্যন্ত যেন সে এর উপর সর্বদা অটল থাকে। এবং তাকে জানাবেন যে, এর মাধ্যমেই তার জন্য জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত হবে, এবং তার বক্ষ প্রশস্ত হবে, এবং তার অন্তর থেকে হিকমত ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে। এবং তার অবস্থা ও জ্ঞানে বরকত দেওয়া হবে, এবং তার কথা, কাজ ও সিদ্ধান্তে সঠিকতার তাওফীক দেওয়া হবে।
এবং তাকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত করবেন, এবং তাকে এর প্রতি আসক্তি, এর উপর নির্ভরতা এবং এর দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে বিরত রাখবেন। এবং তাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন যে, দুনিয়া নশ্বর এবং আখিরাত আগমনকারী ও চিরস্থায়ী। এবং চিরস্থায়ীর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং নশ্বরের প্রতি বিমুখ হওয়া বিচক্ষণদের পথ এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের রীতি।
এবং উচিত হলো, তিনি তাকে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন, এবং তাকে জ্ঞানের ফযীলত ও আলেমদের ফযীলত স্মরণ করিয়ে দেবেন, এবং তারা নবীগণের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাদের উপর বর্ষিত হোক) ওয়ারিশ। এবং অস্তিত্বে এর চেয়ে উচ্চতর কোনো মর্যাদা নেই।
এবং উচিত হলো, তিনি তার প্রতি স্নেহশীল হবেন এবং তার স্বার্থের প্রতি এমনভাবে যত্নবান হবেন যেমন নিজের ও সন্তানের স্বার্থের প্রতি যত্নবান হন। এবং তার প্রতি মমতা ও তার স্বার্থের প্রতি মনোযোগের ক্ষেত্রে তাকে নিজের সন্তানের মতো গণ্য করবেন, এবং তার রূঢ়তা ও খারাপ আদবের উপর ধৈর্য ধারণ করবেন। এবং তার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে যে খারাপ আদব বা রূঢ়তা প্রকাশ পায়, তার জন্য তাকে ক্ষমা করবেন, কারণ মানুষ ত্রুটির শিকার হতে পারে। এবং উচিত হলো, তিনি তার জন্য সেই কল্যাণ পছন্দ করবেন যা নিজের জন্য পছন্দ করেন, এবং তার জন্য সেই মন্দ অপছন্দ করবেন যা নিজের জন্য অপছন্দ করেন।
এবং উচিত হলো, তার রচনায় এমন বিষয়ের প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়া, যা পূর্বে কেউ রচনা করেনি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এমন কোনো বিদ্যমান রচনা যেন না থাকে যা তার রচনার সকল দিক থেকে যথেষ্ট। যদি কিছু দিক থেকে যথেষ্ট হয়, তাহলে তিনি এমন ধরনের রচনা করবেন যা উল্লেখযোগ্য সংযোজন করে, এবং বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোতে যা বাদ পড়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করবে। তার রচনা এমন বিষয়ে হওয়া উচিত যার উপকারিতা ব্যাপক এবং যার প্রয়োজন অনেক বেশি। তাকে মাযহাবের জ্ঞানের প্রতি যত্নবান হতে হবে, কারণ এটি সবচেয়ে উপকারী জ্ঞানসমূহের অন্যতম, এবং এর মাধ্যমেই একজন পারদর্শী আলেম অন্যান্য অধিকাংশ বিজ্ঞানের উপর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
* **শিক্ষাদানের আদবসমূহ**
জেনে রাখো যে, শিক্ষাদানই সেই মূল ভিত্তি যার উপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত, এবং এর মাধ্যমেই জ্ঞানের বিলুপ্তি থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যায়। সুতরাং এটি দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির অন্যতম, সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং ফরযে কিফায়ার মধ্যে সর্বাধিক জোরদার। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "স্মরণ করো, যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে অবশ্যই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৭)। এবং তিনি তায়ালা বলেছেন: "নিশ্চয় যারা গোপন করে যা আমরা অবতীর্ণ করেছি..." (আয়াত)। এবং সহীহ গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" এই অর্থে হাদীস অনেক রয়েছে এবং এর উপর ইজমা' প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষকের উপর ওয়াজিব হলো, তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এটিকে কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা। সুতরাং শিক্ষক তার মনে শিক্ষাদানকে সর্বাধিক জোরদার ইবাদত হিসেবে উপস্থিত রাখবেন, যাতে এটি তাকে নিয়ত শুদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করে এবং তাকে এর কলুষতা ও মাকরূহ বিষয়াদি থেকে রক্ষা করতে প্ররোচিত করে, এই মহান ফযীলত ও বিশাল কল্যাণ হারানোর ভয়ে।
তারা বলেছেন: এবং উচিত হলো, কারো নিয়ত বিশুদ্ধ না হওয়ার কারণে তাকে শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত না থাকা। কারণ তার নিয়ত ভালো হওয়ার আশা করা যায়। এবং অনেক নতুন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য নিয়ত শুদ্ধ করা কঠিন হতে পারে তাদের আত্মার দুর্বলতা এবং নিয়ত শুদ্ধ করার কারণগুলির সাথে তাদের কম পরিচিতির কারণে। সুতরাং তাদের শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকা অনেক জ্ঞান হারানোর কারণ হয়, যদিও আশা করা যায় যে, জ্ঞানের বরকতে তাদের নিয়ত শুদ্ধ হয়ে যাবে যখন তারা জ্ঞানের সাথে অভ্যস্ত হবে। তারা আরও বলেছেন: "আমরা আল্লাহর ব্যতীত অন্যের জন্য জ্ঞান অন্বেষণ করেছি, কিন্তু জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হতে অস্বীকার করেছে।" এর অর্থ হলো, এর পরিণতি এমন হয়েছিল যে তা আল্লাহর জন্যই হয়ে গিয়েছিল।
এবং উচিত হলো, তিনি শিক্ষার্থীকে ধীরে ধীরে সুন্নাহসম্মত আদব ও সন্তোষজনক গুণাবলীতে অভ্যস্ত করাবেন, এবং আদব ও সূক্ষ্ম বিষয়াদির মাধ্যমে তার আত্মাকে প্রশিক্ষণ দেবেন, এবং তাকে তার সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে সংযম পালনে অভ্যস্ত করাবেন।
* **প্রথমত**
তিনি তার বারবার উচ্চারিত কথা ও কর্মের মাধ্যমে তাকে ইখলাস, সততা ও উত্তম নিয়তের প্রতি উৎসাহিত করবেন; এবং সকল মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার পর্যবেক্ষণ অনুভব করা শেখাবেন; এবং মৃত্যু পর্যন্ত যেন সে এর উপর সর্বদা অটল থাকে। এবং তাকে জানাবেন যে, এর মাধ্যমেই তার জন্য জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত হবে, এবং তার বক্ষ প্রশস্ত হবে, এবং তার অন্তর থেকে হিকমত ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে। এবং তার অবস্থা ও জ্ঞানে বরকত দেওয়া হবে, এবং তার কথা, কাজ ও সিদ্ধান্তে সঠিকতার তাওফীক দেওয়া হবে।
এবং তাকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত করবেন, এবং তাকে এর প্রতি আসক্তি, এর উপর নির্ভরতা এবং এর দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে বিরত রাখবেন। এবং তাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন যে, দুনিয়া নশ্বর এবং আখিরাত আগমনকারী ও চিরস্থায়ী। এবং চিরস্থায়ীর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং নশ্বরের প্রতি বিমুখ হওয়া বিচক্ষণদের পথ এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের রীতি।
এবং উচিত হলো, তিনি তাকে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন, এবং তাকে জ্ঞানের ফযীলত ও আলেমদের ফযীলত স্মরণ করিয়ে দেবেন, এবং তারা নবীগণের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাদের উপর বর্ষিত হোক) ওয়ারিশ। এবং অস্তিত্বে এর চেয়ে উচ্চতর কোনো মর্যাদা নেই।
এবং উচিত হলো, তিনি তার প্রতি স্নেহশীল হবেন এবং তার স্বার্থের প্রতি এমনভাবে যত্নবান হবেন যেমন নিজের ও সন্তানের স্বার্থের প্রতি যত্নবান হন। এবং তার প্রতি মমতা ও তার স্বার্থের প্রতি মনোযোগের ক্ষেত্রে তাকে নিজের সন্তানের মতো গণ্য করবেন, এবং তার রূঢ়তা ও খারাপ আদবের উপর ধৈর্য ধারণ করবেন। এবং তার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে যে খারাপ আদব বা রূঢ়তা প্রকাশ পায়, তার জন্য তাকে ক্ষমা করবেন, কারণ মানুষ ত্রুটির শিকার হতে পারে। এবং উচিত হলো, তিনি তার জন্য সেই কল্যাণ পছন্দ করবেন যা নিজের জন্য পছন্দ করেন, এবং তার জন্য সেই মন্দ অপছন্দ করবেন যা নিজের জন্য অপছন্দ করেন।