(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 851
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকারসমূহ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকারসমূহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ করা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة]ـ
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418هـ/1997م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাঁর উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারসমূহ]
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি/১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المجلد الأول
مقدمة…مقدمة المؤلف
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيدا.
أرسله بين يدي الساعة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، فهدى به من الضلالة، وبصر به من العمى، وأرشد به من الغي، وفتح به أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا، فبلغ الرسالة وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، وعبد ربه حتى أتاه اليقين من ربه، صلى عليه وعلى آله وسلم تسليما.
أما بعد: فما من بناء إلا وله أصل وأساس يقوم عليه، وإن أساس بناء دين الإسلام يقوم على أصلين هما:
1- عبادة الله وحده لا شريك له.
2- الإيمان برسوله صلى الله عليه وسلم
وهذا حقيقة قول "لا إله إلا الله محمد رسول الله" فمن خرج عن واحد منهما فلا عمل له ولا دين.
ومن أجل ذلك فإن من المتعين على كل مسلم أن يعرف ما يدل عليه كل واحد من هذين الأصلين وما يشتمل عليه من أمور وأحكام، معرفة تخرجه من حد الجهل على أقل الدرجات، وأن يلتزم بذلك اعتقادا وقولا وعملا لينال بذلك الفوز والسعادة في الحياة الدنيا وبعد الممات.
وهذه الرسالة موضوعها الأصل الثاني من أصلي هذا الدين وقد سميتها:
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা…লেখকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তিনি পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দান করেছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং বিভ্রান্তি থেকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরবদ্ধ হৃদয়সমূহ উন্মোচন করেছেন। অতঃপর তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের যথাযথ হক আদায় করেছেন। তিনি তাঁর রবের ইবাদত করেছেন যতক্ষণ না তাঁর কাছে তাঁর রবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) আগমন করেছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: যে কোনো নির্মাণেরই একটি ভিত্তি ও মূল থাকে যার ওপর তা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ইসলাম দীনের প্রাসাদের ভিত্তি দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:
১- এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, যাঁর কোনো শরিক নেই।
২- তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনা।
আর এটাই হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"-এর প্রকৃত মর্ম। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটির কোনো একটি থেকে বের হয়ে যাবে, তার কোনো আমল বা দীন অবশিষ্ট থাকবে না।
আর এই কারণেই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটা অপরিহার্য যে, সে এই দুটি মূলনীতির প্রত্যেকটি কী নির্দেশ করে তা জানবে এবং এগুলো যেসব বিষয় ও আহকাম অন্তর্ভুক্ত করে তা অবগত হবে। অন্তত এমন স্তরের জ্ঞান অর্জন করা যা তাকে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে আনবে। এবং আকিদা, কথা ও কাজের মাধ্যমে এর ওপর অটল থাকা, যাতে এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে এবং মৃত্যুর পর সফলতা ও সৌভাগ্য লাভ করা যায়।
আর এই পুস্তিকাটির বিষয়বস্তু হলো এই দীনের দুটি মূলনীতির মধ্যে দ্বিতীয়টি এবং আমি এর নাম দিয়েছি:
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
"حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة"
وقد دفعني إلى اختيار هذا الموضوع أهميته بالدرجة الأولى فهو كما أسلفت يُعنى بأحد أصلي الدين "شهادة أن محمدا رسول الله"
فمن المهم والمفيد أن تبحث جوانب هذا الأصل وتعرف وتعرض وفق ما جاءت بذلك نصوص القرآن والسنة ووفق ما كان عليه سلفنا الصالح رضوان الله عنهم أجمعين.
وبخاصة أننا نعيش في زمان قد حاد فيه كثير من الناس عن جادة الصواب في هذا الأصل واضطربوا اضطرابا شديدا.
فتجلية الأمر وتوضيح الصواب وبيان الحق في هذا الأصل من الواجبات المتعينة على طلبة العلم في هذا الزمان، نظرا لعدم توفر كتاب بعينه يكون شاملا لجميع جوانب هذا الموضوع وتطمئن له النفس من جهة سلامة ما احتواه يمكن إحالة عامة الناس عليه.
فرأيت أن من الرأي القويم أن أكتب في هذا الموضوع لأجمع فيه ما تفرق وأرتب ما تشتت، وأشرح ما يحتاج إلى شرح، وذلك وفق ما كان عليه منهج سلفنا الصالح من الاعتماد على نصوص الكتاب والسنة ونقل كلام الصحابة والتابعين وأئمة هذا الدين رضي الله عنهم أجمعين.
فأرجو أن أكون قد وفقت في عرض هذا الموضوع على الوجه المطلوب، كما وفقت في حسن الاختيار أولا.
"কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারসমূহ"
এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে প্রথমত এর গুরুত্বই উদ্বুদ্ধ করেছে। কারণ আমি ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, এটি দ্বীনের অন্যতম একটি মূল ভিত্তি অর্থাৎ "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদান" এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
তাই কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী এবং আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যে পন্থায় ছিলেন, সেই অনুযায়ী এই মূল ভিত্তির দিকগুলো নিয়ে গবেষণা করা, তা জানা এবং উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর।
বিশেষ করে আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে অনেক মানুষ এই মূল ভিত্তির ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং চরম বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হয়েছে।
সুতরাং এই বিষয়টি পরিষ্কার করা, সঠিক বিষয়টি ব্যাখ্যা করা এবং এই মূল ভিত্তির সত্যতা উন্মোচন করা এই সময়ের ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর এক সুনির্দিষ্ট অপরিহার্য কর্তব্য। কেননা এমন কোনো নির্দিষ্ট কিতাব পাওয়া যাচ্ছে না যা এই বিষয়ের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যার বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে মন আশ্বস্ত হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষকে সেটির দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়।
তাই আমি এটিকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছি যে, আমি এই বিষয়ে লিখব যাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলো একত্রিত করতে পারি, অগোছালো বিষয়গুলো বিন্যস্ত করতে পারি এবং যা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা করতে পারি। আর তা হবে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভর করা এবং সাহাবী, তাবেঈ ও এই দ্বীনের ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে আমাদের সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুযায়ী।
অতএব আমি আশা করি যে, আমি যেভাবে প্রথমত উত্তম বিষয়টি বেছে নিতে সফল হয়েছি, ঠিক তেমনি এই বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপনেও সফল হব।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
عملي في هذا الكتاب
ويتلخص عملي في النقاط التالية:
1- جمعت المادة العلمية المتعلقة بالموضوع من آيات قرآنية وأحاديث نبوية وآثار مروية عن سلف الأمة، ونقول وأقوال للمتقدمين، والمتأخرين مما له صلة بالموضوع.
2- قسمت ما جمعت على أبواب الرسالة وفصولها ومباحثها ومطالبها ومسائلها ونقاطها، فرتبت ما تشتت وجمعت ما تفرق واختصرت وانتقيت مما توسع فيه حسب ما يقتضيه المقام وتدعو إليه الحاجة.
3- جعلت الآيات القرآنية بين قوسين هكذا {} وأشرت في الحاشية إلى رقم تلك الآية والسورة التي وردت فيها.
4- جعلت الأحاديث النبوية بين فاصلتين مزدوجتين " " مع تخريج كل حديث أوردته حسب ما يقتضيه المقام، وفي حالة ورود الحديث في الصحيحين أو أحدهما أكتفي بذلك عن عزوه إلى غيرهما.
5- عزوت الآثار المروية عن الصحابة والتابعين وأئمة هذا الدين إلى مصادرها بحسب ما وقفت عليه منها.
6- شرحت بعض الكلمات الغريبة معتمدا في ذلك على كتب غريب الحديث وشروحه والمعاجم اللغوية.
لا- وثقت النقول والأقوال والآراء من المصادر والمراجع التي نقلتها منها وذلك بذكر الجزء والصفحة، وما تصرفت فيه أشرت، إلى ذلك بعبارة "بتصرف" في أغلب الأحيان.
8- ترجمت للأعلام الوارد ذكرهم في الرسالة عند أول موضع يرد فيه ذكر العلم.
9- وضعت فهارس للأمور التالية:
এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি
আমার কাজ নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে সারসংক্ষেপ করা হলো:
১- আমি বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট ইলমী উপাদানসমূহ কুরআনের আয়াত, নববী হাদীস, উম্মাহর সালাফদের থেকে বর্ণিত আছার এবং এই বিষয় সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের উদ্ধৃতি ও বাণী থেকে সংগ্রহ করেছি।
২- আমি যা সংগ্রহ করেছি তা এই গবেষণাপত্রের বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ, উপ-অনুচ্ছেদ, মাসআলা এবং পয়েন্টগুলোতে বিন্যস্ত করেছি। যা কিছু বিক্ষিপ্ত ছিল তা সাজিয়েছি, যা বিচ্ছিন্ন ছিল তা একত্রিত করেছি এবং প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা থেকে সারসংক্ষেপ ও সংকলন করেছি।
৩- আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে এই প্রকারের বন্ধনীর {} মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় সেই আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
৪- আমি নববী হাদীসগুলোকে ডাবল কোটেশন চিহ্নের " " মধ্যে রেখেছি এবং প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী বর্ণিত প্রতিটি হাদীসের তাখরীজ করেছি। হাদীসটি যদি সহীহাইনে (বুখারী ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে অন্য কোনো গ্রন্থের উদ্ধৃতি না দিয়ে কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
৫- সাহাবী, তাবিঈ এবং এই দ্বীনের ইমামদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ আমি আমার নাগালে পাওয়া মূল উৎসগুলোর বরাতে উল্লেখ করেছি।
৬- আমি কিছু অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা করেছি, এ ক্ষেত্রে আমি গারীবুল হাদীসের কিতাবসমূহ, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলোর ওপর নির্ভর করেছি।
৭- আমি উদ্ধৃতি, বাণী ও মতামতসমূহ যে মূল উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে গ্রহণ করেছি, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখপূর্বক তার প্রামাণিকতা নিশ্চিত করেছি। আর যেখানে আমি মূল পাঠে কিছুটা পরিবর্তন করেছি, সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে "পরিমার্জিত বা সংক্ষেপিত" শব্দবন্ধ দ্বারা তা নির্দেশ করেছি।
৮- এই গবেষণাপত্রে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রথমবার আসার সময় আমি তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি।
৯- আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর জন্য সূচিপত্র বা নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি:
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ا- فهرس الآيات القرآنية.
2- فهرس الأحاديث المرفوعة والموقوفة.
3- فهرس للآثار على ترتيب أصحابها.
4- فهرس للكلمات الغريبة والمواطن والفرق.
5- فهرس للأعلام المترجم لهم.
6- فهرس للمصادر والمراجع.
7- فهرس لموضوعات الرسالة.
وبعد: فهذا جهد المقل وأستسمح القارئ الكريم عذرا إذا ما وجد في عملي هذا تقصيرا، فهذا جهد بشر، والمرء يستحضر في هذا المقام قول القائل: "إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابا في يوم إلا قال في غده: لو غير هذا لكان أحسن، ولو زيد كذا لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل، ولو ترك هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر"1 وفي الختام: أتوجه بالشكر إلى الله تعالى الذي سهل لي أمر إعداد هذه الرسالة بفضل منه وتوفيق، وأسأله سبحانه أن يجعل عملنا هذا خالصا لوجهه وأن ينفعنا بما علمنا إنه على كل شيء قدير.
ومن ثم أشكر فضيلة الشيخ حماد بن محمد الأنصاري المشرف على هذه الرسالة على بذله من جهد وعون وتوجيه في إعدادها فجزاه الله خيرا، وكذلك كل من بذل المساعدة لي في إنجازها.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
--------------------------------------------
১- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
২- মারফু ও মাওকুফ হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।
৩- বর্ণনাকারীদের ক্রমানুসারে আছারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) নির্ঘণ্ট।
৪- দুর্লভ শব্দাবলী, স্থান এবং ফেরকাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৫- যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে সেই মনীষীদের নির্ঘণ্ট।
৬- উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
৭- গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।
অতঃপর: এটি এক নগণ্য প্রয়াস। আমার এই কাজে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে আমি সম্মানিত পাঠকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এটি মানুষের প্রচেষ্টা মাত্র, আর মানুষ এই মুহূর্তে প্রাজ্ঞজনের সেই উক্তিটি স্মরণ করে: "আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ একদিনে কোনো গ্রন্থ রচনা করলে পরদিন সে অবশ্যই বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে তা আরও ভালো হতো; যদি এটি যোগ করা হতো তবে তা প্রশংসনীয় হতো; যদি একে আগে আনা হতো তবে তা আরও উত্তম হতো; আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো। এটি একটি বড় শিক্ষা এবং এটি মানুষের সামগ্রিক সত্তার ওপর অপূর্ণতার আধিপত্যের প্রমাণ।" ১ পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি তাঁর অনুগ্রহ ও তাওফীক দ্বারা এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুত করার কাজ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কাজকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
অতঃপর আমি এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক ফযীলাতুশ শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারীকে তাঁর শ্রম, সহায়তা এবং নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানাই; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অনুরূপভাবে যারা আমাকে এই কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ।
আর আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيدالحمد لله الذي أكمل لنا ديننا، وأتم علينا نعمته، ورضي لنا الإسلام دينا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالدين القيم، والملة الحنيفية، وجعله على شريعة من الأمر، أمر باتباعها، وأمره بأن يقول {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} 1 صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما.
وبعد: فإن الله عز وجل لم يخلق الخلق عبثا قال تعالى {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} 2.
بل خلقهم لغاية ذكرها في كتابه الكريم في أكثر من موضع فقال تعالى: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} . 3
وقال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} . 4
وقال تعالى {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 5
فالحكمة من خلقه للخلق هي اختبارهم وابتلاؤهم ليجزي المحسن بإحسانه والمسيء بإساءته. فهذه هي الحكمة من خلقهم أولا وبعثهم ثانيا. ولذلك لم يتركهم هملا، بل أرسل إليهم رسله، فكان من سنة الله تبارك وتعالى مواترة
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য আমাদের দীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে সুপ্রতিষ্ঠিত দীন ও একনিষ্ঠ মিল্লাতসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁকে শরীয়তের একটি বিশেষ বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন ও তা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন এই কথা বলতে যে, {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা} ১। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে বৃথা সৃষ্টি করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদের নিরর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?} ২।
বরং তিনি তাদের এক বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন যে—তোমাদের মধ্যে কর্মে কে সর্বোত্তম?} ৩
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে; যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে—তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে কে শ্রেষ্ঠ?} ৪
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।} ৫
অতএব, সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পেছনে হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো তাদের পরীক্ষা ও যাচাই করা, যাতে তিনি সৎকর্মশীলকে তার সৎকর্মের জন্য এবং মন্দকর্মীকে তার মন্দকর্মের জন্য প্রতিফল দিতে পারেন। সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে এটিই হলো প্রথম হিকমত এবং পুনরায় পুনরুত্থিত করার ক্ষেত্রে এটিই দ্বিতীয় হিকমত। আর এই কারণেই তিনি তাদেরকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, বরং তাদের নিকট তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং একের পর এক রাসূল প্রেরণ করা বরকতময় ও মহান আল্লাহর একটি চিরন্তন রীতি হিসেবে চলে আসছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الرسل وتعميم الخلق بهم، بحيث يبعث في كل أمة رسولا ليقيم هداه وحجته كما قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 1، وقال تعالى {إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيراً وَنَذِيراً وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَاّ خَلا فِيهَا نَذِيرٌ} 2، وقال تعالى {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا} 3، وقال تعالى {رُسُلاً مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيما} 4 فالرسل هم الواسطة بين الله عز وجل ودون خلقه في تبليغ أمره ونهيه وإرشاد العباد إلى ما فيه صلاح معاشهم ومعادهم.
وإن الله تبارك وتعالى جعل محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، وأرسله للناس أجمعين، وأكمل له ولأمته الدين، وبعثه على حين فترة من الرسل وظهور الكفر وانطماس السبل، فأحيا به ما درس من معالم الإيمان، وقمع به أهل الشرك والكفر من عبدة الأوثان والنيران والصلبان، وأذل به كفار أهل الكتاب، وأهل الشرك والارتياب، وأقام به منار دينه الذي ارتضاه، وشاد به ذكر من اجتباه من عباده واصطفاه.
فالله سبحانه وتعالى أرسل محمدا صلى الله عليه وسلم للناس رحمة وأنعم به نعمة يا لها من نعمة: قال تعالى {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَاّ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} 5
وقال تعالى {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْراً} 6 وهم الذين لم
--------------------------------------------
রাসূলগণ এবং তাঁদের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির কাছে বার্তা পৌঁছানো, এভাবে যে তিনি প্রতিটি উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেন যাতে তাঁর হেদায়েত ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি প্রতিটি উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।" ১, এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি; আর এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে কোনো সতর্ককারী অতিবাহিত হয়নি।" ২, এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসূলগণকে পাঠিয়েছি।" ৩, এবং মহান আল্লাহ বলেন: "রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে (পাঠিয়েছি), যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ৪ সুতরাং রাসূলগণ হলেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মাধ্যম, তাঁর আদেশ ও নিষেধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং বান্দাদেরকে তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে।
আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী বানিয়েছেন, তাঁকে সকল মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন, তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন। তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন এমন এক সময় যখন রাসূলগণের আগমনের ধারায় দীর্ঘ বিরতি চলছিল, কুফরি প্রকাশ পেয়েছিল এবং সঠিক পথগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তিনি তাঁর মাধ্যমে ঈমানের নিদর্শনসমূহের যা কিছু মিটে গিয়েছিল তা পুনরুজ্জীবিত করেছেন, তাঁর মাধ্যমে মূর্তিপূজক, অগ্নিপূজক ও ক্রুশপূজক শিরক ও কুফরি পোষণকারীদের দমন করেছেন, তাঁর মাধ্যমে কিতাবধারী কাফের এবং শিরক ও সন্দেহে নিমজ্জিত ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করেছেন, তাঁর মাধ্যমে তাঁর মনোনীত দ্বীনের মিনারসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁর সেই বান্দাদের স্মরণকে সমুন্নত করেছেন যাদেরকে তিনি পছন্দ করেছেন ও নির্বাচিত করেছেন।
সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে এমন এক নেয়ামত দান করেছেন যা কতই না মহান নেয়ামত! মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।" ৫
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফরিতে পরিবর্তিত করেছে?" ৬ এবং তারা হলো ঐসব লোক যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وإنما كان إرساله صلى الله عليه وسلم إلى الناس أعظم منة امتن بها على عباده لأن في ذلك تخليص من وفقه الله وهداه منهم من العذاب السرمدي، وذلك بسبب الإيمان بالله ورسوله والابتعاد عن كل ما يوجب دخول النار والخلود فيها.
ولذلك فإن الناس أحوج ما يكونون إلى الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم والأخذ بما جاء به من الدين فهم أحوج إلى ذلك من الطعام والشراب بل ومن نفس الهواء الذي يتنفسونه، فإنهم متى فقدوا ذلك فالنار جزاء من كذب بالرسول وتولى عن طاعته كما قال تعالى: {فَأَنْذَرْتُكُمْ نَاراً تَلَظَّى، لا يَصْلاهَا إِلَاّ الأَشْقَى الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّى} 1 أي كذب به وتولى عن طاعته، فهم محتاجون إلى الإيمان بالرسول وطاعته والأخذ بما جاء به والالتزام بذلك في كل مكان وزمان ليلا ونهارا، سفرا وحضرا سرا وعلانية.
ولما كانت منزلة النبي صلى الله عليه وسلم عند ربه بهذه المرتبة وكانت حاجة الناس إليه بهذه الدرجة، فقد أوجب الله لنبيه صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة جملة من الحقوق والواجبات تنظم العلاقة التي تربطهم به تنظيفا دقيقا لا لبس فيه ولا اشتباه.
وهذه الحقوق منها ما يتصل بجانب الرسالة التي بعث بها، ومنها ما يتعلق بخاصة شخص الرسول صلى الله عليه وسلم تفضيلا وتكريما من الله له.
وقد وردت في شأن تلك الحقوق نصوص كثيرة في كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وضَّحت وفصَّلت وبيَّنت جوانب تلك الحقوق.
وهذه الحقوق في جملتها هي الأصل الثاني من أصلي الدين كما يدل عليه قولنا "أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله".
ولذا فقد كان لزاما على كل من ينطق بهذه الشهادة، ويدين الله بهذا الدين
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই মানুষের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করা ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ। কারণ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে তাওফিক ও হিদায়াত দান করেছেন তাকে চিরস্থায়ী আযাব থেকে নিষ্কৃতি দেন। আর তা সম্ভব হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং জাহান্নামে প্রবেশ ও সেখানে চিরকাল অবস্থানের কারণসমূহ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে।
একারণেই মানুষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা এবং তিনি যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার জন্য সর্বাধিক মুখাপেক্ষী। তারা এ বিষয়ের প্রতি খাদ্য ও পানীয়, এমনকি যে বাতাসে তারা শ্বাস গ্রহণ করে তার চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। কারণ, যখন তারা এটি হারিয়ে ফেলবে, তখন জাহান্নাম হবে সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব আমি তোমাদেরকে লেলিহান আগুন সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। সেখানে সে-ই প্রবেশ করবে যে চরম হতভাগ্য, যে অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} ১ অর্থাৎ রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সুতরাং মানুষ রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করা এবং দিবা-রাত্রি, সফর ও অবস্থানকালে, গোপনে ও প্রকাশ্যে—সর্বত্র ও সর্বদা তা আঁকড়ে ধরার প্রতি মুখাপেক্ষী।
যেহেতু তাঁর রবের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা এই স্তরের এবং তাঁর প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা এই পর্যায়ের, তাই আল্লাহ তাঁর নবীর জন্য এই উম্মতের ওপর একগুচ্ছ অধিকার ও কর্তব্য অপরিহার্য করে দিয়েছেন, যা তাঁর সাথে তাদের সম্পর্ককে এমন এক সুনিপুণ বিন্যাসে বিন্যস্ত করে যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই।
এই অধিকারগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে যা তাঁর প্রেরিত রিসালাতের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর কিছু রয়েছে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান প্রদানের নিমিত্তে স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তার সাথে সম্পর্কিত।
মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে এই অধিকারসমূহ সম্পর্কে অনেক প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে, যা এই অধিকারগুলোর নানাদিক স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে।
সামগ্রিকভাবে এই অধিকারগুলোই হলো দ্বীনের দুটি মূল ভিত্তির দ্বিতীয়টি, যেমনটি আমাদের এই উক্তি প্রমাণ করে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।"
অতএব, যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য উচ্চারণ করে এবং এই দ্বীন অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করে, তার জন্য এটি অপরিহার্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أن يحيط بتلك الحقوق معرفة، ويلتزم بها اعتقادا وقولا وعملا، فذلك عقد من عقود الإيمان الذي لا يحصل إيمان العبد إلا به.
ومما يؤسف له أن كثيرا من المسلمين اليوم هم على درجة كبيرة من الجهل بهذه الحقوق فتراهم لذلك على طرفي نقيض هذا المقام:
- فإما مقصر عن القيام بهذه الحقوق التي أوجبها الله على الأمة فتراه لا يقيم لها وزنا ولا يلقي لها بالا.
- وإما غال مبتدع منكب على ما ابتدعه، يظن أنه بما يفعله من أمور مبتدعة في هذا المقام قد أحسن صنعا وأنه مؤد لما أوجبه الله من حق لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم وكلا الطرفين صاحب حال مذموم غير محمود. فلما كان عامة أصحاب هذين الطرفين إنما أوقعهم فيما هم فيه، جهلهم بمعرفة تلك الحقوق على الوجه المطلوب شرعا.
ولما كانت هذه الحقوق هي من جملة هذا الدين الذي تعبدنا الله به، فكان لا بد فيها من توفر شرطي القبول:
أ- الإخلاص.
2- الصواب (الاتباع) .
كما قال تعالى {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} 1
فقد أحببت أن أوضح تلك الحقوق النبوية وفق ما جاءت بذلك النصوص الشرعية، وما كان عليه سلف هذه الأمة وأئمتها، عسى أن يكون في هذا البيان والتوضيح تعليم للجاهل، وتذكير للغافل، وتحذير وردع للمبتدع، ومدارسة للعارف.
--------------------------------------------
সেই অধিকারসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং বিশ্বাস, কথা ও কাজের মাধ্যমে সেগুলোর ওপর অবিচল থাকা ঈমানের একটি অন্যতম অঙ্গীকার, যা ব্যতীত কোনো বান্দার ঈমান অর্জিত হয় না।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান সময়ের অনেক মুসলিম এই অধিকারগুলো সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার শিকার; ফলে আপনি তাদের এই ক্ষেত্রে দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করতে দেখবেন:
- হয় সে আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের ওপর ওয়াজিবকৃত এই অধিকারগুলো আদায়ে অবহেলাকারী, ফলে সে এগুলোর কোনো গুরুত্ব দেয় না এবং এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপও করে না।
- অথবা সে একজন বিদআতি চরমপন্থী, যে তার উদ্ভাবিত বিদআতের ওপর ঝুঁকে আছে এবং মনে করছে যে সে এই ক্ষেত্রে যেসব নবউদ্ভাবিত কাজ করছে তার মাধ্যমে সে অতি উত্তম কাজ করছে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত হক বা অধিকার আদায় করছে। অথচ উভয় পক্ষই নিন্দনীয় অবস্থার অধিকারী, প্রশংসনীয় নয়। এই দুই পক্ষের অধিকাংশ মানুষকে যে বিষয়টি এই অবস্থায় নিপতিত করেছে তা হলো শরয়ি নির্দেশিত পন্থায় এই অধিকারগুলো সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা।
যেহেতু এই অধিকারগুলো সেই দ্বীনেরই অংশ যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ইবাদতের বিধান দিয়েছেন, তাই এগুলো কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি শর্তের উপস্থিতি অপরিহার্য:
ক- ইখলাস (একনিষ্ঠতা)।
২- সঠিক হওয়া (অনুসরণ করা)।
যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকেও শরিক না করে।} ১
তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই অধিকারগুলো শরয়ি দলিলসমূহ এবং এই উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ যে পদ্ধতির ওপর ছিলেন তদনুযায়ী স্পষ্ট করতে চেয়েছি। আশা করা যায় যে এই বর্ণনা ও ব্যাখ্যা অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য শিক্ষা, গাফেল ব্যক্তির জন্য স্মারক, বিদআতির জন্য সতর্কতা ও প্রতিরোধ এবং বিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য জ্ঞানচর্চার মাধ্যম হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فأسأل الله عز وجل التوفيق والرشاد وأن يرزقنا التمسك بسنة نبيه صلى الله عليه وسلم والسير على هديه والتأسي به، وأن يشرح لذلك صدورنا وينير قلوبنا إنه جواد كريم وعلى كل شيء قدير.
অতএব আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার, তাঁর হেদায়াতের ওপর চলার এবং তাঁকে অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন। আর তিনি যেন এর জন্য আমাদের বক্ষসমূহকে প্রশস্ত করে দেন এবং আমাদের হৃদয়সমূহকে আলোকিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও পরম দাতা এবং সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الباب الأول: وجوب الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وطاعته واتباع سنته
الفصل الأول: وجوب الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم
المبحث الأول: تعريف الإيمان وبيان معنى شهادة أن محمدا رسول الله
المطلب الأول: تعريف الإيمان عموما…المطلب الأول: تعريف الإيمان عموما.
أ- المعنى اللغوي لكلمة "آمن":
الإيمان مصدر آمن يؤمن إيمانا فهو مؤمن
أ- ويرى جمع من أهل اللغة أن الإيمان في اللغة معناه: التصديق وقد حكوا الإجماع على ذلك قال الأزهري1: "واتفق أهل العلم من اللغويين وغيرهم أن الإيمان معناه التصديق"2.
واستدلوا لذلك بقوله تعالى حكاية عن إخوة يوسف لأبيهم {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} 3 فقالوا معناه ما أنت بمصدق لنا4.
2- أما علماء السلف5 فيقولون إن الإيمان يأتي في اللغة لمعنيين هما:
أ- بمعنى صدق به وذلك إذا عدي بالباء كما في قوله تعالى {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ
… } الآية6 أي صدق الرسول7.
ب- وبمعنى أقر له وذلك إذا عدي باللام كما في قوله تعالى {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} ، وقوله تعالى {فَآمَنَ لَهُ لُوط} 8.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করার আবশ্যকতাপ্রথম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতাপ্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানের সংজ্ঞা এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থের বর্ণনাপ্রথম দাবি: সাধারণভাবে ঈমানের সংজ্ঞা...প্রথম দাবি: সাধারণভাবে ঈমানের সংজ্ঞা।
ক- "আমানা" (ঈমান) শব্দের শাব্দিক অর্থ:
ঈমান শব্দটি আমানা-ইউ'মিনু-ঈমানান (ক্রিয়ামূল) থেকে আগত, এর অর্থ বিশ্বাসকারী।
ক- ভাষাবিদদের একদলের মতে, অভিধানে ঈমানের অর্থ হলো: সত্যায়ন করা (বিশ্বাস করা)। তাঁরা এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন। আল-আযহারী বলেন: "ভাষাবিদ ও অন্যান্য আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ঈমানের অর্থ হলো সত্যায়ন করা।"
তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করেছেন, যেখানে ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইদের পক্ষ থেকে তাদের পিতার প্রতি উক্তি বর্ণিত হয়েছে: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}। তাঁরা বলেন, এর অর্থ হলো আপনি আমাদের সত্যায়ন করবেন না।
২- পক্ষান্তরে সালাফী আলেমগণ বলেন যে, অভিধানে ঈমান দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
ক- 'বিশ্বাস করা' (সত্যায়ন করা) অর্থে: যখন এটি 'বা' (ب) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর নিকট তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে...} আয়াতাংশ; অর্থাৎ রাসূল সত্যায়ন করেছেন।
খ- 'স্বীকৃতি প্রদান করা' অর্থে: যখন এটি 'লাম' (ل) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর লূত তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন (স্বীকৃতি দিলেন)}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد اعترض السلف على حصر أهل اللغة لمعنى الإيمان بالتصديق فقط وقالوا: "إن الإيمان وإن كان يتضمن التصديق فليس هو مجرد التصديق، وإنما هو الإقرار1 والطمأنينة أيضا"2 واستدل السلف لقولهم بالأمور التالية:
أولا: إن الترداف التام ممتنع بين التصديق والإيمان من عدة وجوه، يوضحها الجدول التالي
الإيمان
… التصديق
- إن كلمة آمن تتعدى بالباء وباللام وقد تقدم التمثيل لذلك.
- إن كلمة آمن تتضمن ثلاثة معان هي: الأمن، والتصديق، والأمانة
- إن لفظ الإيمان لا يستعمل إلا في الخبر عن الغائب لأن فيه أصل معنى الأمن والائتمان وهذا إنما يكون في الخبر عن الغائب، فلا يقال لمن قال طلعت الشمس آمنا له وإنما يقال صدقناه ولهذا لم يأت في القرآن وغيره لفظ آمن له إلا في الخبر عن الغائب
- إن لفظ الإيمان ضده الكفر، والكفر لا يختص بالتكذيب فقط بل هو أعم منه، إذ يمكن أن يكون مخالفة ومعاداة بلا تكذيب ومع ذلك يسمى كفرا كما لو قال شخص: أنا أعلم أنك صادق، ولكن لا أتبعك بل أعاديك وأبغضك وأخالفك، فهذا كفر أعظم.
…- أما كلمة "صدق" فلا تتعدى باللام فلا يقال "صدق له" إنما يقال "صدق به" فهي تتعدى بالباء وبنفسها فيقال صدقه.
- أما كلمة صدق فلا تتضمن معنى الأمن والأمانة.
- أما لفظ التصديق فيستعمل في كل مخبر عن مشاهد أو غيب، فمن قال السماء فوقنا، قيل له: صدقت
- أما لفظ التصديق ضده التكذيب فقط.
--------------------------------------------
সালাফগণ ভাষাবিদদের পক্ষ হতে ঈমানের অর্থকে কেবল সত্যায়নের (তাসদিক) মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন: "ঈমান যদিও সত্যায়নকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এটি কেবলই সত্যায়ন নয়; বরং এটি স্বীকৃতি এবং প্রশান্তিও বটে।" সালাফগণ তাঁদের এই বক্তব্যের সপক্ষে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: সত্যায়ন এবং ঈমানের মধ্যে পূর্ণ সমার্থকতা কয়েকটি দিক থেকে অসম্ভব, যা নিম্নোক্ত ছকে স্পষ্ট করা হলো:
ঈমান
… সত্যায়ন
- ঈমান শব্দটি 'বা' এবং 'লাম' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, যার উদাহরণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
- ঈমান শব্দটি তিনটি অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে: নিরাপত্তা, সত্যায়ন এবং আমানত।
- ঈমান শব্দটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। কারণ এর মধ্যে নিরাপত্তা ও বিশ্বস্ততার মূল অর্থ বিদ্যমান, আর এটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই কেউ যদি বলে 'সূর্য উদিত হয়েছে', তবে তাকে 'আমরা তাকে ঈমান এনেছি' বলা হয় না, বরং বলা হয় 'আমরা তাকে সত্য বলেছি/সত্যায়ন করেছি'। এই কারণেই কুরআনে এবং অন্য কোথাও অদৃশ্যের সংবাদ ব্যতীত 'ঈমান এনেছে' শব্দটি আসেনি।
- ঈমান শব্দের বিপরীত হলো কুফর। আর কুফর কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার সাথে নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি তার চেয়েও ব্যাপক। কারণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ছাড়াও বিরোধিতা ও শত্রুতা হতে পারে এবং তা সত্ত্বেও তাকে কুফর বলা হয়। যেমন কেউ যদি বলে: "আমি জানি আপনি সত্যবাদী, কিন্তু আমি আপনার অনুসরণ করব না, বরং আপনার সাথে শত্রুতা করব, আপনাকে ঘৃণা করব এবং আপনার বিরোধিতা করব"—তবে এটি হবে চরম কুফর।
…- পক্ষান্তরে, 'সত্যায়ন' শব্দটি 'লাম' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং 'তার জন্য সত্যায়ন করেছে' বলা হয় না, বরং 'তাতে বিশ্বাস করেছে' বলা হয়। এটি 'বা' অব্যয় যোগে অথবা সরাসরি ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয় 'তাকে সত্যায়ন করেছে'।
- পক্ষান্তরে, সত্যায়ন শব্দের মধ্যে নিরাপত্তা ও আমানতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয়।
- পক্ষান্তরে, সত্যায়ন শব্দটি দৃশ্যমান বা অদৃশ্য যেকোনো সংবাদদাতার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং কেউ যদি বলে 'আকাশ আমাদের উপরে', তবে তাকে বলা হয়: "তুমি সত্য বলেছ"।
- পক্ষান্তরে, সত্যায়ন শব্দের বিপরীত হলো কেবলই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبهذا يتبين عدم الترداف التام بين اللفظين، وأن الإيمان ليس التصديق فقط1 كما أن الكفر ليس التكذيب فقط.
ثانيا: من المعلوم أن كلام الله وشرعه إنما هو خبر وأمر.
فالخبر: يستوجب تصديق الخبر.
والأمر يستوجب الانقياد له والاستسلام، وهو عمل في القلب، جماعه: الخضوع والانقياد للأمر، وإن لم يفعل المأمور به.
فإذا قوبل الخبر بالتصديق، والأمر بالانقياد، فقد حصل أصل الإيمان في القلب وهو "الطمأنينة والإقرار" فإن اشتقاقه من الأمن الذي هو القرار والطمأنينة، وذلك إنما يحصل إذا استقر في القلب التصديق والانقياد. فلو فُسِّر الإيمان بالتصديق فقط، كما قال أهل اللغة، فإن التصديق إنما يعرض للجزء الأول من الشرع فقط الذي هو الخبر، ولا يعرض للجزء الثاني وهو الأمر، لأن الأمر ليس فيه تصديق من حيث هو أمر.
ومن المعلوم أن إبليس لم يكفر بسبب عدم تصديقه، فإنه سمع أمر الله فلم يكذب رسولا، ولكن لم ينقد للأمر ولم يخضع له، واستكبر عن الطاعة فصار كافرا، قال تعالى: {إِلَاّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ} 2 فسماه الله كافرا وسلب عنه وصف الإيمان لاستكباره وعدم انقياده لأمرالله له بالسجود لآدم.
لازم القول بأن الإيمان مجرد التصديق فقط.
وهذا موضع زاغ فيه خلق من الخلف تخيل لهم أن الإيمان ليس في الأصل
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, শব্দ দুটির মধ্যে পূর্ণ সমার্থকতা নেই এবং ঈমান কেবল সত্য বলে বিশ্বাস করার নাম নয়, যেমন কুফর কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নাম নয়।
দ্বিতীয়ত: এটি সুবিদিত যে, আল্লাহর কালাম এবং তাঁর শরিয়ত কেবল সংবাদ এবং নির্দেশ।
সুতরাং সংবাদ: সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করার দাবি রাখে।
আর নির্দেশ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ দাবি করে, যা অন্তরের একটি কাজ; এর সারকথা হলো: নির্দেশের প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা, যদিও আদিষ্ট বিষয়টি এখনো পালন না করা হয়ে থাকে।
সুতরাং যখন সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাসের মাধ্যমে এবং নির্দেশকে আনুগত্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, তখন অন্তরে ঈমানের মূল ভিত্তি অর্জিত হয়, আর তা হলো "প্রশান্তি ও স্বীকৃতি"। কেননা ঈমান শব্দটি 'আমন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো স্থিরতা ও প্রশান্তি। আর এটি কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে সত্য বলে বিশ্বাস এবং আনুগত্য স্থির হয়। যদি ভাষাবিদদের বক্তব্য অনুযায়ী ঈমানকে কেবল সত্য বলে বিশ্বাস করার দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তবে 'সত্য বলে বিশ্বাস করা' বিষয়টি শরিয়তের কেবল প্রথম অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যা হলো সংবাদ, আর তা দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ নির্দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কারণ নির্দেশ, নির্দেশ হওয়ার দিক থেকে তাতে সত্য বলে বিশ্বাসের বিষয়টি আসে না।
এটি সুবিদিত যে, ইবলিস সত্য বলে বিশ্বাস না করার কারণে কাফির হয়নি। সে আল্লাহর নির্দেশ শুনেছিল এবং কোনো রাসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি। কিন্তু সে নির্দেশের আনুগত্য করেনি এবং তার সামনে মাথা নত করেনি, বরং আনুগত্য করতে অহংকার প্রদর্শন করেছে, ফলে সে কাফিরে পরিণত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "ইবলিস ছাড়া; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।" সুতরাং আল্লাহ তাকে কাফির হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তার থেকে ঈমানের গুণটি ছিনিয়ে নিয়েছেন তার অহংকার এবং আদমকে সিজদা করার জন্য আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য না করার কারণে।
ঈমান কেবল সত্য বলে বিশ্বাস হওয়ার দাবির অনিবার্য ফলাফল।
এটি এমন এক স্থান যেখানে পরবর্তী যুগের অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে, যাদের কাছে মনে হয়েছে যে ঈমান মূলত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إلا التصديق، ثم يرون مثل إبليس وفرعون مما لم يصدر عنه تكذيب أو صدر عنه تكذيب باللسان لا بالقلب وكفره من أغلظ الكفر فيتحيرون.
ومثل هؤلاء القوم لو أنهم هُدوا لما هُدي إليه السلف الصالح لعلموا أن الإيمان قول وعمل أعني في الأصل قولا في القلب، وعملا في القلب، فإن الإيمان بحسب كلام الله ورسالته- وكلام الله ورسالته يتضمن أخباره وأوامره- فيصدق القلب أخباره تصديقا يوجب حالا في القلب بحسب المصدق به، والتصديق هو من نوع العلم والقول، وينقاد لأمره ويستسلم، وهذا الانقياد والاستسلام هو من نوع الإرادة والعمل، ولا يكون مؤمنا إلا بمجموع الأمرين فمتى ترك الانقياد كان مستكبرا فصار من الكافرين وإن كان مصدقا، لأن الكفر أعم من التكذيب، فالكفر يكون تكذيبا وجهلا، ويكون استكبارا وظلما، ولهذا لم يوصف إبليس إلا بالكفر والاستكبار دون التكذيب، ولهذا كان كفر من يعلم مثل اليهود ونحوهم من جنس كفر إبليس، وكان كفر من يجهل مثل النصارى ونحوهم ضلالا وهو "الجهل" ألا ترى أن نفرا من اليهود جاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وسألوه عن أشياء، فأخبرهم، فقالوا: نشهد أنك نبي، ولم يتبعوه، وكذلك هرقل وغيره، فلم ينفعهم هذا العلم وهذا التصديق.
ألا ترى أن من صدق الرسول بأن ما جاء به هو رسالة الله، وقد تضمنت خبزا وأمرا، فإنه يحتاج إلى مقام ثان، وهو تصديق خبر الله وانقياده لأمر الله، فإذا قال: "أشهد أن لا إله إلا الله" فهذه الشهادة تتضمن تصديق خبره والانقياد لأمره. "وأشهد أن محمدا رسول الله" تضمنت تصديق الرسول فيما جاء به من عند الله.
কেবল সত্যয়ন ব্যতীত; এরপর তারা ইবলিস ও ফেরাউনের মতো উদাহরণ দেখতে পায় যাদের পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ প্রকাশ পায়নি অথবা কেবল মুখে প্রকাশ পেয়েছিল কিন্তু হৃদয়ে নয়, অথচ তাদের কুফর ছিল কঠোরতম কুফর, ফলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে।
এই ধরণের লোকেরা যদি সেই সঠিক পথের দিশা পেত যা সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরিরা পেয়েছিলেন, তবে তারা জানতে পারত যে ঈমান হলো কথা ও কাজ—অর্থাৎ মূলে অন্তরের কথা ও অন্তরের কাজ। কেননা আল্লাহর বাণী ও তাঁর রিসালাত অনুযায়ী ঈমান নির্ধারিত হয়—আর আল্লাহর বাণী ও তাঁর রিসালাত তাঁর সংবাদসমূহ ও তাঁর আদেশসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে অন্তর তাঁর সংবাদসমূহকে এমনভাবে সত্য বলে স্বীকার করে যা স্বীকৃত বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী অন্তরে একটি অবস্থার সৃষ্টি করে। আর এই সত্যয়ন হলো জ্ঞান ও কথার অন্তর্ভুক্ত। এরপর অন্তর তাঁর আদেশের প্রতি অনুগত হয় ও আত্মসমর্পণ করে; আর এই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ হলো ইচ্ছা ও কাজের অন্তর্ভুক্ত। এই উভয় বিষয়ের সমষ্টি ব্যতীত কেউ মুমিন হতে পারে না। সুতরাং যখনই কেউ আনুগত্য ত্যাগ করে, সে অহংকারী হয়ে যায় এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়, যদিও সে মনেপ্রাণে সত্যয়নকারী হয়। কারণ কুফর শব্দটি মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কুফর কখনো মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ ও অজ্ঞতা হয়, আবার কখনো তা অহংকার ও জুলুমের রূপ নেয়। এই কারণেই ইবলিসকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী হিসেবে নয়, বরং কেবল কাফের ও অহংকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই কারণেই যারা সত্য জানার পরেও অস্বীকার করে, যেমন ইহুদি ও তাদের ন্যায় অন্যান্যরা, তাদের কুফর ছিল ইবলিসের কুফরের ন্যায়। পক্ষান্তরে যারা অজ্ঞতার কারণে কুফরি করে, যেমন খ্রিস্টান ও তাদের ন্যায় অন্যান্যরা, তাদের কুফর ছিল পথভ্রষ্টতা যা মূলত 'অজ্ঞতা'। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, ইহুদিদের একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের উত্তর দিলেন; তখন তারা বলল: 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী', অথচ তারা তাঁর অনুসরণ করেনি। একইভাবে হিরাক্লিয়াস এবং অন্যদের অবস্থাও তদ্রূপ ছিল; সুতরাং এই জ্ঞান এবং এই সত্যয়ন তাদের কোনো উপকারে আসেনি।
আপনি কি দেখছেন না যে, যে ব্যক্তি রাসূলকে সত্য বলে স্বীকার করে যে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহরই রিসালাত, এবং তা সংবাদ ও আদেশ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তার জন্য দ্বিতীয় একটি স্তরের প্রয়োজন হয়; আর তা হলো আল্লাহর সংবাদের সত্যয়ন এবং আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা। সুতরাং যখন সে বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', তখন এই সাক্ষ্য প্রদান আল্লাহর সংবাদকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁর আদেশের অনুগত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্যটি রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فبمجموع هاتين الشمهادتين يتم الإقرار.
فلما كان التصديق لا بد منه في كلا الشهادتين- وهو الذي يتلقى الرسالة بالقبول- ظن من ظن أنه أصل لجميع الإيمان وغفل عن أن الأصل الآخر لا بد منه وهو الانقياد، وإلا فقد يصدق الرسول، ظاهرا وباطنا ثم يمتنع من الانقياد للأمر، إذ غايته في تصديق الرسول أن يكون بمنزلة من سمع الرسالة من الله سبحانه كإبليس"1.
ثالثا: ما استدل به أهل اللغة على أن معنى الإيمان في قوله تعالى {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} هو التصديق غير مسلم.
إذ يرى علماء السلف أن تفسيرها بـ "أقررت" أقرب من تفسيرها بـ " صدقت " وذلك لأن لفظ "آمن" متى عُدّي باللام يكون بمعنى "أقر" وليس بمعنى "صدق"، إذ لا يكون بمعنى صدق الا إذا عُدّي بالباء أوبنفسه.
ب- المعنى الشرعي للإيمان:
تنوعت عبارات السلف في تعريف الإيمان:
أ- فتارة يقولون: الإيمان قول وعمل.
2- وتارة يقولون: هو قول وعمل ونية.
3- وتارة يقولون: هو قول وعمل ونية واتباع سنة 2.
4- وتارة يقولون: الإيمان: قول اللسان، واعتقاد بالقلب، وعمل بالجوارح يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية3.
--------------------------------------------
সুতরাং এই দুটি শাহাদাতের সমষ্টির মাধ্যমেই স্বীকৃতি সম্পন্ন হয়।
যেহেতু উভয় শাহাদাতের ক্ষেত্রেই সত্যয়ন (তাসদিক) অপরিহার্য—যা মূলত বার্তাকে কবুলের সাথে গ্রহণ করা—তাই কেউ কেউ মনে করেছেন যে এটিই ঈমানের মূল ভিত্তি এবং তারা এ বিষয়ে গাফেল হয়েছেন যে অন্য একটি মূল ভিত্তিও অপরিহার্য, আর তা হলো আনুগত্য (ইনকিয়াদ)। অন্যথায়, কেউ রাসূলকে প্রকাশ্য ও গোপনে সত্য বলে বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু নির্দেশ পালনে অবাধ্য হতে পারে। রাসূলকে সত্যয়ন করার ক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ অবস্থা হবে সেই ব্যক্তির মতো যে মহান আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি বার্তা শুনেছে, যেমন ইবলিস।১
তৃতীয়ত: ভাষাবিদগণ মহান আল্লাহর বাণী—"এবং আপনি আমাদের বিশ্বাসকারী নন যদিও আমরা সত্যবাদী হই"—এখানে ঈমানের অর্থ 'সত্যয়ন' বলে যে দলীল পেশ করেছেন, তা স্বীকৃত নয়।
কেননা সালাফ ওলামাগণ মনে করেন যে, এর ব্যাখ্যা 'স্বীকৃতি প্রদান' (ইকরার) হওয়া 'সত্যয়ন' (তাসদিক) হওয়ার চেয়ে অধিকতর সঠিক। কারণ 'আমানা' শব্দটি যখন 'লাম' বর্ণের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তখন তা 'স্বীকৃতি প্রদান' অর্থে আসে, 'সত্যয়ন' অর্থে নয়। এটি কেবল তখনই সত্যয়ন অর্থে আসে যখন এটি 'বা' বর্ণের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ব্যবহৃত হয়।
খ- ঈমানের শরয়ী অর্থ:
ঈমানের সংজ্ঞায় সালাফদের উক্তি বিভিন্ন ধরনের হয়েছে:
ক- কখনও তাঁরা বলেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ।
২- কখনও তাঁরা বলেন: এটি হলো কথা, কাজ ও নিয়ত।
৩- কখনও তাঁরা বলেন: এটি হলো কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ।২
৪- কখনও তাঁরা বলেন: ঈমান হলো জিহ্বা দিয়ে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية1 بعد أن أورد التعريفات الثلاثة الأول: "وكل هذا صحيح"2 وعلل ذلك بقوله3:
"فمن قال إن الإيمان قول وعمل فمرداه قول اللسان والقلب وعمل القلب والجوارح".
وقول اللسان وعمل الجوارح معروفان.
وأما المقصود من قول القلب: فهو إقراره ومعرفته وتصديقه.
وأما عمله: فهو انقياده لما صدق به.
ومن عبر عن الإيمان بهذا التعريف ليس مراده كل قول أو عمل وإنما المراد ما كان مشروعا من الأقوال والأعمال.
كما أن تعبير بعض السلف بهذه العبارة في تعريف الإيمان إنما جاء في معرض الرد على المرجئة4 الذين جعلوه قولا فقط، فقال بعض السلف ردا عليهم: بل قول وعمل5.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ১ প্রথম তিনটি সংজ্ঞা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এবং এই সবকটিই সঠিক" ২ এবং এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন ৩:
"সুতরাং যারা বলেন যে ঈমান হচ্ছে কথা ও কাজ, তাদের উদ্দেশ্য হলো জিহবা ও অন্তরের কথা এবং অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ।"
আর জিহবার কথা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ তো সুপরিচিত।
আর অন্তরের কথার উদ্দেশ্য হলো: তার স্বীকৃতি, পরিচিতি ও বিশ্বাস।
আর তার কাজ হলো: সে যা বিশ্বাস করেছে তার প্রতি অনুগত হওয়া।
আর যারা ঈমানকে এই সংজ্ঞার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য প্রতিটি কথা বা কাজ নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীয়তসম্মত কথা ও কাজসমূহ।
যেমন ঈমানের সংজ্ঞায় কোনো কোনো সালাফের এই বাণীর ব্যবহার মূলত মুরজিয়াদের ৪ খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে এসেছে, যারা ঈমানকে শুধুমাত্র 'কথা' মনে করত। তাই কোনো কোনো সালাফ তাদের জবাবে বলেছেন: বরং তা কথা ও কাজ ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما من عرفه بقوله هو قول وعمل ونية، فمقصوده بزيادة لفظ "ونية": أن القول يتناول الاعتقاد وقول اللسان.
وأما العمل فقد لا يفهم منه النية فزاد ذلك1.
وأما من عرفه بأنه قول وعمل ونية واتباع سنة، فقد زاد لفظة "واتباع سنة" لأن ذلك كله لا يكون محبوبا لله إلا باتباع السنة2.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وقد سئل سهل بن عبد الله التستري3 عن الإيمان ما هو؟، فقال: قول وعمل ونية واتباع سنة.
لأن الإيمان إذا كان قولا بلا عمل فهو كفر.
وإذا كان قولا وعملا بلا نية فهو نفاق.
وإذا كان قولا وعملا ونية بلا سنة فهو بدعة4.
وأجمع التعاريف الواردة وأشملها هو: أن الإيمان قول اللسان واعتقاد بالجنان وعمل الجوارح يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية.
--------------------------------------------
আর যারা একে কথা, কাজ ও নিয়ত বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তাদের "নিয়ত" শব্দ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হলো: "কথা" শব্দটি অন্তরের বিশ্বাস ও জিহ্বার কথা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
আর কাজের দ্বারা যেহেতু অনেক সময় নিয়ত বোঝা যায় না, তাই তিনি তা অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন।
আর যারা একে কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তারা "সুন্নাহর অনুসরণ" কথাটি বৃদ্ধি করেছেন কারণ সুন্নাহর অনুসরণ ব্যতীত এগুলোর কোনোটিই আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে না।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ঈমান কী? তিনি বললেন: কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ।
কেননা ঈমান যদি আমল ছাড়া শুধু কথা হয়, তবে তা কুফর।
আর যদি নিয়ত ছাড়া শুধু কথা ও আমল হয়, তবে তা নিফাক।
আর যদি সুন্নাহ ছাড়া শুধু কথা, আমল ও নিয়ত হয়, তবে তা বিদআত।
বর্ণিত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুসংহত ও ব্যাপক সংজ্ঞা হলো: ঈমান হলো জিহ্বার উচ্চারণ, অন্তরের বিশ্বাস এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا التعربف هو الذي يميز قول السلف في مسمى الإيمان عن قول غيرهم من الفرق1 ولهذا كان هذا التعريف هو أجمع التعاريف الواردة عن السلف وأكثرها دقة في بيان قولهم.
ج- دلالة اسم الإيمان:
تتحدد دلالة اسم "الإيمان" بحسب سياق الكلام الذي تستعمل فيه هذه اللفظة فلفظ "الإيمان" إما أن يستعمل:
أ- مطلقا: أي يذكر مطلقا عن لفظ "العمل" و"الإسلام".
2- أو مقيدا: فتارة يقرن بالعمل الصالح، وتارة يقرن بالإسلام.
فإذا استعمل مطلقا: "فجميع ما يحبه الله ورسوله من أقوال العبد وأعماله
1 الذين خالفوا السلف في مسمى الإيمان هم:
أ- المرجئة بطوائفهم الخمس:
ا- الجهمية: وقالوا الإيمان هو معرفة القلب فقط: أى المعرفة الفطرية التي هي المعرفة بربوبية الله.
2- الأشاعرة: وقالوا الإيمان هو التصديق فقط أي التصديق بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم من عند الله.
3- الماتريدية: وقولهم في الإيمان مثل قول الأشاعرة.
4- الكرامية: قالوا الإيمان قول باللسان فقط.
5- مرجئة الأحناف (أو مرجئة الفقهاء) قالوا: الإيمان قول باللسان وتصديق بالجنان. وهو قول الكلابية. وكل هذه الطوائف الخمسة أخرجت العمل عن الإيمان.
ب- الخوارج: قالوا الإيمان قول واعتقاد وعمل ولكنهم يكفرون من أخل بشيء من هذه الثلاثة ويقولون بأنه كافر في الدنيا وفى الآخرة خالد في النار.
ج- المعتزلة: وقالوا بقول الخوارج إلا أنهم يقولون إنه في الدنيا في منزلة بين منزلتين بمعنى أنه ليس بمؤمن ولا كافر، واتفقوا معهم في باقي الأمور.
انظر تفاصيل هذه الأقوال: في كتاب الإيمان لابن تيمية، والجزء السابع من مجموع الفتاوى، وشرح العقيدة الطحاوية (ص 373- 392) وكتاب النبوات (ص 199) .
আর এই সংজ্ঞাই ঈমানের নামকরণের ক্ষেত্রে সালাফদের বক্তব্যকে অন্যান্য ফিরকাদের বক্তব্য থেকে পৃথক করে। একারণেই এই সংজ্ঞাটি সালাফদের থেকে বর্ণিত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংহত এবং তাদের বক্তব্য বর্ণনায় সবচেয়ে নির্ভুল।
গ- ঈমান শব্দের অর্থ বা নির্দেশক:
"ঈমান" শব্দের অর্থ বা নির্দেশক নির্ধারিত হয় সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে যেখানে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং "ঈমান" শব্দটি হয়:
ক- সাধারণভাবে: অর্থাৎ "আমল" ও "ইসলাম" শব্দ দুটি থেকে মুক্ত হয়ে এককভাবে উল্লিখিত হলে।
২- অথবা শর্তযুক্তভাবে: কখনো তা নেক আমলের সাথে যুক্ত হয়ে আসে, আবার কখনো ইসলামের সাথে যুক্ত হয়ে আসে।
যখন এটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়: "তখন বান্দার সেই সকল কথা ও কাজকে বোঝায় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন...
১ যারা ঈমানের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সালাফদের বিরোধিতা করেছেন তারা হলেন:
ক- মুরজিয়া ও তাদের পাঁচটি উপদল:
১- জাহমিয়া: তারা বলেছে ঈমান কেবল অন্তরের জানাশোনার নাম: অর্থাৎ ফিতরাতগত জ্ঞান যা আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব সম্পর্কে জানা।
২- আশায়েরা: তারা বলেছে ঈমান কেবল অন্তরের বিশ্বাসের নাম। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা।
৩- মাতুরিদিয়া: ঈমান সম্পর্কে তাদের বক্তব্য আশায়েরাদের বক্তব্যের মতোই।
৪- কাররামিয়া: তারা বলেছে ঈমান কেবল মুখে বলার নাম।
৫- মুরজিআতুল আহনাফ (বা মুরজিআতুল ফুকাহা) তারা বলেছে: ঈমান হলো মুখে বলা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা। এটি কুল্লাবিয়াদেরও বক্তব্য। এই পাঁচটি উপদলের সবাই আমলকে ঈমান থেকে বহির্ভূত রেখেছে।
খ- খাওয়ারিজ: তারা বলেছে ঈমান হলো কথা, বিশ্বাস ও আমল। কিন্তু তারা এই তিনটির কোনো একটিতে ত্রুটি করলে তাকে কাফির বলে গণ্য করে এবং বলে যে, সে দুনিয়াতে কাফির এবং আখিরাতে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
গ- মুতাযিলা: তারা খারিজিদের মতই বক্তব্য প্রদান করেছে, তবে তারা বলে যে, দুনিয়াতে সে 'দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থানে' থাকবে, অর্থাৎ সে মুমিনও নয় আবার কাফিরও নয়। আর বাকি সকল বিষয়ে তারা খারিজিদের সাথে একমত হয়েছে।
এই বক্তব্যগুলোর বিস্তারিত দেখুন: ইবনে তাইমিয়ার কিতাবুল ঈমান, মাজমুউল ফাতাওয়া-র সপ্তম খণ্ড, শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ৩৭৩-৩৯২) এবং কিতাবুন নুবুওয়াত (পৃষ্ঠা ১৯৯)।
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الباطنة والظاهرة، يدخل في مسمى الإيمان عند عامة السلف والأئمة- من الصحابة والتابعين وتابعيهم- الذين يجعلون الإيمان قولا وعملا، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، ويدخلون جميع الطاعات- فرضها ونفلها- في مسماه"1.
ويلاحظ هنا أن لفظ "الإيمان" على هذا الاستعمال يكون مرادفا للفظ "العبادة" والعبادة كما هو معروف هي: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأعمال والأقوال الظاهرة والباطنة.
ومن استعمال الشارع للفظ الإيمان بهذا المعنى ما جاء في الصحيحين من حديث أبي هريرة2 رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الإيمان بضع وسبعون شعبة أو بضع وستون شعبة، فأفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان" 3.
فالإيمان في هذا الحديث شمل جميع أمور الدين بما في ذلك أمور الإسلام. ومن هذا الاستعمال أيضا ما جاء في حديث عبد الله بن عباس4 رضي الله
--------------------------------------------
অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক, এটি সাধারণ সালাফ এবং ইমামদের—যাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণ—নিকট ঈমান পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা ঈমানকে কথা ও কাজ মনে করেন, যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। তাঁরা সমস্ত আনুগত্যের কাজকে—চাই তা ফরয হোক বা নফল—ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেন।১
এখানে লক্ষণীয় যে, এই ব্যবহারে 'ঈমান' শব্দটি 'ইবাদত' শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ইবাদত যেমনটি সুবিদিত: তা হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সব প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই অর্থে শরীয়ত প্রণেতা কর্তৃক 'ঈমান' শব্দের ব্যবহারের অন্যতম উদাহরণ হলো যা সহীহায়নে আবু হুরায়রা২ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা অথবা ষাটটিরও বেশি শাখা রয়েছে; তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) বলা, এবং তার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।" ৩
সুতরাং এই হাদীসে ঈমান শব্দটির মধ্যে ইসলামের বিষয়াদি সহ দ্বীনের সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস৪ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীসে যা এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عنهما: أن وفد عبد القيس1 لما أتوا النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم بأربع ونهاهم عن أربع: "أمرهم بالإيمان بالله وحده، قال: أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟، قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصيام رمضان، وأن تعطوا من المغنم خمس
… " الحديث2.
فلفظ الإيمان استعمل في الحديث مطلقا فدخل فيه الأمور الظاهرة مع أنها من أمور الإسلام كما جاء في حديث جبريل المشهور.
وأما إذا استعمل اسم الإيمان مقيدا كما في قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} 3، وقوله {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} 4.
وفول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل المشهور: "الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره " 5.
فهنا قد يقال: إنه متناول لذلك وإن عطف ذلك عليه من باب عطف
--------------------------------------------
তাঁদের (ইবনে আব্বাস ও তাঁর পিতা) থেকে বর্ণিত: আবদ আল-কায়েসের প্রতিনিধি দল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন: "তিনি তাঁদেরকে একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং গনিমতের মাল থেকে তোমরা এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে
… " হাদীস।
সুতরাং হাদীসে ঈমান শব্দটি নিঃশর্ত বা সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বাহ্যিক আমলসমূহ, যদিও সেগুলো ইসলামের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেমনটি জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে।
আর যখন ঈমান শব্দটি শর্তযুক্ত বা অন্য বিষয়ের সাথে মিলিতভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাকওয়া অবলম্বন করত}।
এবং জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ঈমান হলো আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি।"
এখানে বলা যেতে পারে যে: এটি সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেটির উপর অন্যটির সংযুক্তি মূলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الخاص على العام كقوله تعالى: {وَمَلائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ} 1، وقوله: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَم} الآية2.
وقد يقال إن دلالة الاسم تنوعت بالإفراد والاقتران كلفظ الفقير والمسكين، فإن أحدهما إذا أفرد تناول الآخر، وإذا جمع بينهما كانا صنفين: كما في آية الصدقة، ولا ريب أن فروع الإيمان مع أصوله كالمعطوفين، وهي مع جميعه كالبعض مع الكل".
قلت: إن القول بأن عطف ذلك عليه من باب عطف الخاص على العام ينطبق على الآية وهي قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} ، وقوله تعالى {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} .
والقول بأن دلالة الاسم تنوعت بالإفراد والاقتران ينطبق على حديث جبريل حيث ذكر الإسلام والإيمان فأصبح كل واحد منهما يختص بأمور معينة فالإسلام اختص بالأمور الظاهرية، والإيمان اختص بالأمور الاعتقادية الباطنية.
"فلفظ الإسلام والإيمان إذا أفرد كل واحد من الاسمين دخل في مسمى الآخر إما تضمنا وإما لزوما، ودخوله فيه تضمنا أظهر، وكون أحدهما لا يدخل في الآخر عند الاقتران لا يدل على أنه لا يدخل فيه عند انفراد الآخر، وهذه قاعدة جليلة من أحاط بها زالت عنه إشكالات كثيرة أشكلت على كثير من الناس"3.
--------------------------------------------
ব্যাপক বিষয়ের ওপর বিশেষ বিষয়ের সংযোজন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ও রাসূলগণের ওপর, আর জিবরাঈল ও মীকাঈলের ওপর} ১, এবং তাঁর বাণী: {আর যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম—আপনার কাছ থেকে এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসা থেকে} আয়াত ২।
আবার এ কথাও বলা হয়ে থাকে যে, কোনো বিশেষ নামের অর্থ একক অবস্থা ও যুক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, যেমন 'ফকির' ও 'মিসকিন' শব্দদ্বয়। কারণ এই দুটির কোনো একটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অপরটির অর্থকেও শামিল করে। আর যখন দুটিকে একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন তারা দুটি ভিন্ন শ্রেণি হিসেবে গণ্য হয়; যেমনটি সদকার আয়াতে এসেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ঈমানের শাখাগুলো তার মূলের সাথে এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত যেমন দুটি সংযোজিত বিষয়, আর পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের প্রেক্ষিতে শাখাগুলো হলো সমষ্টির বিপরীতে অংশের ন্যায়।
আমি বলছি: এটি যে ব্যাপক বিষয়ের ওপর বিশেষের সংযোজন (আতফুল খাস আলাল আম) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত, এই কথাটি মহান আল্লাহর সেই বাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যেখানে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে}, এবং তাঁর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত}।
আর কোনো নামের অর্থ একক ও যুক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্ন হওয়া সংক্রান্ত কথাটি জিবরাঈল (আ.)-এর হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যেখানে ইসলাম ও ঈমানকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের প্রত্যেকটি তখন নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে খাস হয়ে যায়; সেক্ষেত্রে ইসলাম প্রকাশ্য বিষয়সমূহের সাথে নির্দিষ্ট হয় এবং ঈমান অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসগত বিষয়সমূহের সাথে নির্দিষ্ট হয়।
"সুতরাং ইসলাম ও ঈমান শব্দদ্বয়ের মধ্য থেকে প্রত্যেকটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অপরটির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়—তা অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবেই হোক কিংবা অপরিহার্যভাবেই হোক। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়াটাই অধিক স্পষ্ট। আর একত্রে উল্লেখের সময় একটি অন্যটির ভেতর প্রবেশ না করার অর্থ এই নয় যে, তারা একক ব্যবহারের সময়ও একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটি একটি মহান মূলনীতি; যে ব্যক্তি এটি অনুধাবন করতে পারবে, তার থেকে এমন অনেক জটিলতা দূর হয়ে যাবে যা বহু মানুষের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
خلاصة القول:
إن اسم الإيمان إذا أفرد: تناول جميع أمور الدين الظاهرة والباطنة كما في حديث الشعب.
وإذا اقترن اسم الإيمان مع الإسلام دل الإيمان على الأمور الباطنة ودل الإسلام على أمور الدين الظاهرة كما في حديث جبريل.
وإذا اقترن العمل مع الإيمان: فهو من باب عطف الخاص على العام1 كما في قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} .
--------------------------------------------
বক্তব্যের সারসংক্ষেপ:
নিশ্চয়ই ঈমান শব্দটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা দ্বীনের সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ঈমানের শাখা সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
আর যখন ঈমান শব্দটি ইসলামের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, তখন ঈমান বলতে অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি এবং ইসলাম বলতে দ্বীনের প্রকাশ্য কার্যাবলীকে বোঝায়, যেমনটি জিবরীলের হাদীসে এসেছে।
আর যখন আমল বা কাজ ঈমানের সাথে যুক্ত হয়, তখন এটি সাধারণ বিষয়ের ওপর বিশেষ বিষয়কে সংযুক্ত করার অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المطلب الثاني: تعريف الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم"الإيمان بالرسول: هو تصديقه وطاعته واتباع شريعته".1
وهذه الأمور هي الركائز التي يقوم عليها الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وعن بيان هذه الأمور مطلوبة عند الإيمان به بالنبي صلى الله عليه وسلم.
قال العلماء:
أ- أما تصديقه صلى الله عليه وسلم فيتعلق به أمران عظيمان:
أحدهما: إثبات نبوته وصدقه فيما بلغه عن الله، وهذا مختص به صلى الله عليه وسلم2.
ويندرج تحت هذا الإثبات والتصديق عدة أمور منها:
1- الإيمان بعموم رسالته إلى كافة الثقلين إنسهم وجنهم.
2- الإيمان بكونه خاتم النبين ورسالته خاتمة الرسالات.
3- الإيمان بكون رسالته ناسخة لما قبلها من الشرائع.
4- الإيمان بأنه صلى الله عليه وسلم قد بلغ الرسالة وأكملها وأدى الأمانة ونصح لأمته حتى تركهم على البيضاء ليلها كنهارها.
5- الإيمان بعصمته صلى الله عليه وسلم.
6- الإيمان بماله من حقوق خلاف ما تقدم ذكره كمحبته وتعظيمه صلى الله عليه وسلم. وسيأتي تفصيل الأمور الخمسة المتقدمة بأدلتها في المباحث اللاحقة من هذا الفصل بإذن الله تعالى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমানের সংজ্ঞা"রাসূলের প্রতি ঈমান হলো: তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করা।"১
আর এই বিষয়গুলোই হলো সেই ভিত্তি যার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান দণ্ডায়মান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর বর্ণনা আবশ্যক।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন:
ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বিশ্বাসের বিষয়টি দুটি মহান বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট:
প্রথমটি: তাঁর নবুওয়ত সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা পৌঁছে দিয়েছেন তাতে তাঁর সত্যবাদিতা নিশ্চিত করা। আর এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথেই নির্দিষ্ট২।
আর এই সাব্যস্তকরণ ও বিশ্বাসের অধীনে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে আছে:
১- মানব ও জিন—উভয় জাতির অন্তর্ভুক্ত সকল সৃষ্টির প্রতি তাঁর রিসালাত ব্যাপক হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
২- তিনি সর্বশেষ নবী এবং তাঁর রিসালাত সকল রিসালাতের সমাপ্তকারী হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
৩- তাঁর রিসালাত পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিতকারী হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
৪- এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাত যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, তা পূর্ণ করেছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে উপদেশ দিয়েছেন; এমনকি তিনি তাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার।
৫- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
৬- উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও তাঁর অন্যান্য হকের ওপর ঈমান আনা, যেমন তাঁকে ভালোবাসা এবং সম্মান করা। আল্লাহ তাআলা চাইলে এই অধ্যায়ের পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে উল্লিখিত পাঁচটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দলীলসহ আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أما الحقوق الأخرى الواجبة له فسيأتي تفصيلها في الأبواب القادمة إن شاء الله تعالى.
الثاني:" تصديقه فيما جاء به، وأن ما جاء به من عند الله حق يجب اتباعه. وهذا يجب عليه صلى الله عليه وسلم وعلى كل أحد"1.
فيجب تصديق النبي صلى الله عليه وسلم جميع ما أخبر به عن الله عز وجل، من أنباء ما قد سبق وأخبار ما سيأتي، وفيما أحل من حلال وحرّم من حرام، والإيمان بأن ذلك كله من عند الله عز وجل، قال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} 2.
قال شارح العقيدة الطحاوية: "يجب على كل أحد أن يؤمن بما جاء به الرسول إيمانا هملا، ولا ريب أن معرفة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم على التفصيل فرض على الكفاية"3.
ب- طاعته واتباع شريعته: إن الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم كما يتضمن تصديقه فيما جاء به فهو يتضمن كذلك العزم على العمل بما جاء به وهذه هي الركيزة الثانية من ركائز الإيمان به صلى الله عليه وسلم.
وهي تعني: الانقياد له صلى الله عليه وسلم وذلك بفعل ما أمر به واجتناب ما نهى عنه وزجر امتثالا لقوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 4. فيجب على الخلق اتباع شريعته والالتزام بسنته مع الرضا بما قضاه والتسليم
--------------------------------------------
তাঁর প্রাপ্য অন্যান্য ওয়াজিব অধিকারসমূহের বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ সামনের অধ্যায়গুলোতে আসবে।
দ্বিতীয়ত: "তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁকে সত্যয়ন করা, এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য—যা অনুসরণ করা আবশ্যক। আর এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর এবং প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব।"১।
সুতরাং মহান আল্লাহ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন—তা বিগত সময়ের সংবাদ হোক কিংবা ভবিষ্যতের সংবাদ হোক, এবং যা কিছু তিনি হালাল করেছেন ও যা হারাম করেছেন—সেসব বিষয়ে তাঁকে সত্যয়ন করা ওয়াজিব। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, এই সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।"২।
'আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাকার বলেন: "রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর সাধারণভাবে ঈমান আনা প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়া।"৩।
খ- তাঁর আনুগত্য ও তাঁর শরিয়তের অনুসরণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান যেমনিভাবে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁকে সত্যয়ন করাকে শামিল করে, তেমনিভাবে তিনি যা নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী আমল করার দৃঢ় সংকল্পকেও শামিল করে। আর এটিই হচ্ছে তাঁর প্রতি ঈমানের ভিত্তিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ভিত্তি।
আর এর অর্থ হলো: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি অনুগত হওয়া। আর তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি আনুগত্য স্বরূপ তিনি যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা থেকে নিষেধ ও বারণ করেছেন তা বর্জন করার মাধ্যমে: "আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"৪। সুতরাং সৃষ্টির জন্য তাঁর শরিয়ত অনুসরণ করা এবং তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক, সেই সাথে তাঁর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং তা নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়াও আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
له، والاعتقاد الجازم أن طاعته هي طاعة لله وأن معصيته معصية لله لأنه هو الواسطة يين الله وبين الثقلين في التبليغ.
وسيأتي بيان هذه المسألة في الفصل الثاني من هذا الباب إن شاء الله تعالى. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " يجب على الخلق الإقرار1 بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم فما جاء به القرآن العزيز أو السنة المعلومة وجب على الخلق الإقرار به جملة وتفصيلا عند العلم بالتفصيل، فلا يكون الرجل مؤمنا حتى يقر بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم وهو تحقيق شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، فمن شهد أنه رسول الله شهد أنه صادق فيما يخبر به عن الله تعالى فإن هذا حقيقة الشهادة بالرسالة"2.
--------------------------------------------
তাঁর প্রতি, এবং সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে তাঁর আনুগত্য করা হলো আল্লাহরই আনুগত্য এবং তাঁর অবাধ্যতা করা হলো আল্লাহরই অবাধ্যতা; কারণ তিনি হলেন রিসালাত বা বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আল্লাহ এবং জিন ও মানবজাতির মধ্যবর্তী মাধ্যম।
ইন-শা-আল্লাহ তাআলা এই অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই বিষয়ের বর্ণনা সামনে আসবে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার স্বীকৃতি প্রদান করা ১ মাখলুকের ওপর ওয়াজিব। সুতরাং মহান কুরআন বা সুবিদিত সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে, বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের সময় তার প্রতি সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা মাখলুকের ওপর ওয়াজিব। কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার স্বীকৃতি প্রদান করে। আর এটাই হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত বাস্তবায়ন। সুতরাং যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল যে তিনি আল্লাহর রাসূল, সে মূলত সাক্ষ্য দিল যে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা সংবাদ দিচ্ছেন তাতে তিনি সত্যবাদী; কেননা এটাই হলো রিসালাতের সাক্ষ্যের প্রকৃত হাকিকত" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المطلب الثالث: معنى شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلمأ- معناها:
"معنى شهادة أن محمدا رسول الله: طاعته فيما أمر وتصديقه فيما أخبر واجتناب ما نهى عنه وزجر، وأن لا يعبد الله إلا بما شرع"1.
وهذه الشهادة هي الشطر الثاني من الركن الأول من أركان الإسلام الخمسة، كما أن الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم داخل في الركن الرابع من أركان الإيمان الستة، ويشهد لذلك حديث جبريل المشهور. ويلاحظ أننا عرّفنا الشهادة والإيمان به بتعريف واحد، وهذا الأمر يصح في حالة الإفراد كما سبق وأن ذكرت في لفظ الإسلام والإيمان، أما في حالة الاقتران فالإيمان به يختص بتصديق القلب وإقراره، والشهادة يراد بها نطق اللسان واعترافه، ويجب تحقيق هذه الشهادة معرفة وإقرارا وانقيادا وطاعة2.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وأما الإيمان بالرسول فهو المهم، إذ لا يتم الإيمان بالله بدون الإيمان به، ولا تحصل النجاة والسعادة بدونه، إذ هو الطريق إلى الله سبحانه، ولهذا كان ركنا الإسلام: "أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله"3.
ب- شروط الشهادتين:
بعد ذكر معنى "شهادة أن محمدا رسول الله " ناسب المقام أن نشير ههنا
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থক- এর অর্থ:
"মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন ও ধমক দিয়েছেন তা বর্জন করা এবং আল্লাহ যে বিধান দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাঁর ইবাদত না করা।"১
এই সাক্ষ্য প্রদান হলো ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে প্রথম রুকনের দ্বিতীয় অংশ। একইভাবে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঈমান আনা হলো ঈমানের ছয়টি রুকনের মধ্যে চতুর্থ রুকনের অন্তর্ভুক্ত, আর জিবরাঈলের প্রসিদ্ধ হাদিসটি এর সাক্ষ্য দেয়। লক্ষ্যণীয় যে, আমরা এই সাক্ষ্য এবং তাঁর প্রতি ঈমানের সংজ্ঞা একই প্রদান করেছি; এটি এককভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক, যেমনটি ইসলাম ও ঈমান শব্দ দুটির ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করেছি। তবে যখন শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তাঁর প্রতি ঈমান বলতে অন্তরের বিশ্বাস ও স্বীকৃতিকে বোঝায় এবং সাক্ষ্য প্রদান বলতে জবানের উচ্চারণ ও স্বীকারোক্তিকে বোঝানো হয়। জ্ঞান, স্বীকৃতি, আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে এই সাক্ষ্যের পূর্ণতা অর্জন করা আবশ্যক।২
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "আর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেননা তাঁর প্রতি ঈমান ছাড়া আল্লাহর প্রতি ঈমান পূর্ণ হয় না এবং তাঁর নাজাত ও সৌভাগ্য অর্জন সম্ভব নয়, যেহেতু তিনিই মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথ। একারণেই ইসলামের দুটি স্তম্ভ হলো: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল'।"৩
খ- শাহাদাতাইনের (দুইটি সাক্ষ্যের) শর্তাবলি:
"মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ" উল্লেখ করার পর এখানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত করা সংগত যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
إلى شروط هذه الشهادة بشقيها، لأننا في زمان يجهل فيه كثير من الناس هذه الشروط، إذ يعتقد كثير منهم لجهلهم أن التلفظ وحده يكفي لتحقيق الشهادة ويستغنون بهذا عن العمل بالمقتضى المترتب على هذه الشهادة.
وتصويبا لهذا الخطأ وإزالة لهذا الجهل أقول: إنه من المعلوم أن العبد لا يدخل في دين الإسلام إلا بعد الإتيان بالشهادتين "شهادة أن لا إله إلا الله وشهادة أن محمدا رسول الله".
قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} 1
وقال صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله" 2.
ومن المعلوم كذلك أن جميع الدين داخل في الشهادتين إذ مضمونهما أن لا نعبد إلا الله وأن نعبده بما شرع على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم ونطيعه فيما جاء به عن ربه سبحانه وتعالى، والدين كله داخل في هذا.
ولهاتين الشهادتين شروط لا بد من توفرها فيهما، إذ لا يمكن لقائلهما أن ينتفع بهما إلا بعد اجتماعها فيهما، وهذه الشروط مطلوبة في كلا الشهادتين، وذلك لما بينهما من التلازم، فالعبد لا يدخل في الدين إلا بهما معا.
وهي سبعة شروط:
الشرط الأول: العلم:
--------------------------------------------
এই শাহাদাতের (সাক্ষ্যের) উভয় অংশের শর্তাবলির দিকে, কেননা আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে অনেক মানুষ এই শর্তগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ। তাদের অজ্ঞতার কারণে অনেকে মনে করে যে, কেবল মৌখিক উচ্চারণই শাহাদাত অর্জনের জন্য যথেষ্ট এবং এর ফলে তারা এই শাহাদাতের দাবি অনুযায়ী আমল করা থেকে বিরত থাকে।
এই ভুল সংশোধন এবং অজ্ঞতা দূর করার লক্ষ্যে আমি বলছি: এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করতে পারে না যতক্ষণ না সে শাহাদাতাইন তথা "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল"—এই সাক্ষ্য প্রদান করে।
মহান আল্লাহ বলেন: "মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে।" ১
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।" ২
একইভাবে এটিও জানা কথা যে, সমগ্র দ্বীন এই শাহাদাতাইনের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এর মর্মার্থ হলো—আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর ইবাদত করব কেবল তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানে বর্ণিত শরিয়ত মোতাবেক, আর তাঁর রবের পক্ষ থেকে তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন সে ব্যাপারে তাঁর আনুগত্য করব। আর সমগ্র দ্বীন এর মধ্যেই নিহিত।
এই শাহাদাতদ্বয়ের জন্য এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা পূরণ হওয়া আবশ্যিক। কেননা এর উচ্চারণকারী ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত তা থেকে উপকৃত হতে পারবে না যতক্ষণ না তাতে এই শর্তগুলোর সমাবেশ ঘটে। আর উভয় শাহাদাতের ক্ষেত্রেই এই শর্তগুলো কাম্য, কারণ এদের একটি অপরটির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। সুতরাং একজন বান্দা উভয়টি গ্রহণ করা ছাড়া দ্বীনে প্রবেশ করতে পারে না।
আর এই শর্তগুলো হলো সাতটি:
প্রথম শর্ত: জ্ঞান (ইলম):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
إذ العلم بالشيء شرط عند الشهادة به ويشهد لذلك قوله تعالى: {إِلَاّ مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 1.
ومن الأدلة على وجوب العلم بالشهادة قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ} 2، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله دخل الجنة" 3. والعلم المراد به هنا هو معرفة معنى الشهادتين ومقتضاهما واللوازم المترتبة على ذلك.
فلا إله إلا الله معناها: لا معبود بحق إلا الله.
ومقتضاها ولازمها: نفي الشرك وإثبات الوحدانية لله تعالى وإفراده بالعبادة مع الاعتقاد الجازم لما تضمنته من ذلك والعمل به4.
ومعنى شهادة أن محمدا رسول الله: الإقرار والاعتراف للرسول صلى الله عليه وسلم أنه عبد الله ورسوله إلى الناس كافة5.
ومقتضاها ولازمها: طاعته فيما أمر وتصديقه فيما أخبر واجتناب ما نهى عنه وزجر وألا يعبد الله إلا بما شرع.
الشرط الثاني: اليقين:
أي استيقان القلب بالشهادتين، وذلك بأن يعتقدهما اعتقادا جازما لا
--------------------------------------------
যেহেতু কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা একটি শর্ত এবং এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তারা ব্যতীত যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা তা জানে} ১।
শাহাদাহর ক্ষেত্রে জ্ঞানের আবশ্যকতা সম্পর্কে অন্যান্য প্রমাণের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই} ২, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ৩। এখানে জ্ঞান বলতে শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্যবাণী)-এর অর্থ, এর দাবি এবং এর আনুষঙ্গিক আবশ্যকীয় বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
সুতরাং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই।
এর দাবি ও অপরিহার্য বিষয় হলো: শিরককে অস্বীকার করা এবং মহান আল্লাহর একত্ববাদকে সাব্যস্ত করা এবং তাঁকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, সেই সাথে এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা এবং তদনুযায়ী আমল করা ৪।
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে এই স্বীকারোক্তি এবং স্বীকৃতি প্রদান করা যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং সমস্ত মানুষের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল ৫।
এর দাবি ও অপরিহার্য বিষয় হলো: তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন ও ধমক দিয়েছেন তা বর্জন করা এবং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন কেবল তা দিয়েই আল্লাহর ইবাদত করা।
দ্বিতীয় শর্ত: ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাস:
অর্থাৎ শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্যবাণী)-এর ওপর অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস, আর তা হলো এই দুইটির ওপর এমন সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখা যাতে কোনো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকুকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা উম্মাতিহি ফি দৌইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
يصاحبه شك أو ارتياب، لأن الإيمان لا يغني فيه إلا علم اليقين لا علم الظن، قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} 1. وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: "من لقيت وراء هذا الحائط يشهد أن لا إله إلا الله مستقينا بها قلبه فبشره بالجنة" الحديث2. وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله لا يلقى الله بهما عبد غير شاك فيهما إلا دخل الجنة" 3.
الشرط الثالث: الإخلاص:
"وهو تصفية العمل بصالح النية عن جميع شوائب الشرك"4.
قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} الآية5. وقال تعالى: {أَلا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ} 6 "أي لا يقبل الله من العمل إلا ما أخلص فيه العامل لله وحده لا شريك له".
وقال قتادة7 في قوله تبارك وتعالى: {أَلا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ} شهادة أن لا
--------------------------------------------
তার সাথে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা সংশ্লেষ থাকবে না; কেননা ঈমানের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞানই কাজে আসে, ধারণা বা অনুমানমূলক জ্ঞান নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {প্রকৃত মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে, অতঃপর তাতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি} ১। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছেন: "এই দেয়ালের ওপাশে যার সাথে তোমার দেখা হবে এবং সে তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।" —হাদীস ২। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে ব্যক্তি এই দুটির ওপর কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ৩।
তৃতীয় শর্ত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা):
"আর তা হলো নেক নিয়তের মাধ্যমে আমলকে শিরকের সকল কলুষতা থেকে পবিত্র করা" ৪।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে} —আয়াত ৫। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {জেনে রেখো, খাঁটি আনুগত্য কেবল আল্লাহরই জন্য} ৬ "অর্থাৎ, আল্লাহ কোনো আমল কবুল করেন না কেবল সেটি ছাড়া যাতে আমলকারী ব্যক্তি অংশীদারহীন একক আল্লাহর জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে"।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী— {জেনে রেখো, খাঁটি আনুগত্য কেবল আল্লাহরই জন্য} —এ প্রসঙ্গে কাতাদাহ ৭ বলেন: তা হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই...
--------------------------------------------