(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل المفصل إلى فقه الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب القسم: أصول الفقه
الكتاب: المدخل المفصل إلى فقه الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد
تقديم: محمد الحبيب الخوجة [ت 1433 هـ]، الأمين العام لمجمع الفقه الإسلامي - جدة
الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1417 هـ
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، مقابل عليه]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আহমদের ফিকহ এবং সাথীদের উদ্ভাবিত মাসয়ালাসমূহের বিস্তারিত পরিচিতি বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: ইমাম আহমদের ফিকহ এবং সাথীদের উদ্ভাবিত মাসয়ালাসমূহের বিস্তারিত পরিচিতি
লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ
উপস্থাপনা: মুহাম্মদ হাবীব আল-খাওজাহ [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি]، মহাসচিব, ইসলামি ফিকহ একাডেমি - জেদ্দা
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ পাবলিকেশন্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং তার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[المدخل المفصل لمذهب الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب]ـ
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (المتوفى: 1429هـ)
الناشر: دار العاصمة - مطبوعات مجمع الفقه الإسلامي بجدة
الطبعة: الأولى، 1417 هـ
عدد الأجزاء: 2 (في ترقيم مسلسل واحد)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، مقابل عليه، ومذيل بالحواشي]
ইমাম আহমাদ রহ.-এর মাযহাব এবং আসহাবগণের গবেষণালব্ধ মাসআলাসমূহের বিস্তারিত পরিচিতি
লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু: ১৪২৯ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল আসিমা - জেদ্দাস্থ ইসলামিক ফিকহ একাডেমির প্রকাশনা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ২ (একটি ধারাবাহিক ক্রমসংখ্যার অধীনে)
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ, যা মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং টীকা সংযোজন করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
تقديم
معَالي الأمِين العَام لمجمَع الفقه الإسلامي
الشيخ محمد الحبيب ابن الخوجة
উপস্থাপনা
আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির মহামান্য মহাসচিব
শায়খ মুহাম্মদ আল-হাবিব ইবনুল খুজাহ
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
- أ -
بسم الله الرحمن الرحيم
نَحْمَدُكَ اللهم أن جَعَلْتَ مِنْ وَحْيِكَ المُقَدَّس هدى وموعظة وتبياناً لِكُلِّ شيء، وَحَمَلْتَ عبادك المؤمنين على عبادتك حق العبادة بإقامة وجوههم للدين القيم، فطرتك التي فطرت الناس عليها، وفرضت عليهم فروضاً كثيرة، أجلُّها الإيمان تطهيراً لهم من الشرك، والصلاة تنزيها لهم عن الكِبر، والزكاة تسبيبا للرزق، والصيام ابتلاء لإخلاص الخلق، والحج تقوية للدين، والجهاد عزا للإسلام، والأمر بالمعروف مصلحة للعامة، والنهي عن المنكر ردعاً للفساد، وصلة الرحم منماة للعدد، والقصاص حقناً للدماء، وإقامة الحدود إعظاما للمحارم، كما شرعت لهم السلام أماناً من المخاوف، والأَمانات نظاما للأمَّة.
ونصلي ونسلم على عبدك ونبيك خاتم رسلك الأمين محمد بن عبد الله الذي بلغَ الدعوة وأَدَّى الرسالة، وكان حريصا على المؤمنين رؤوفا بهم ورحيما، يدعوهم إلى الخير، ويهديهم إلى صراط الله المستقيم، ويحثهم على التفقه في الدِّين استكمالا للمعرفة، والتزاما بالإسلام، ووقوفا عند حدوده، كما محض لهم النصيحة بحملهم على التمسك بالمصدرين الأساسيين للشريعة الباقية الخالدة في قوله: "تركت فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا بعدي أبداً: كتاب الله وسنتي". فاللهم اجزِ عنا إمامنا وحبيبنا ورسولنا خير خلقك أفضل الجزاء وأَكمله وأتمه، واجعلنا له
- অ -
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করছি যে, আপনি আপনার পবিত্র ওহীকে সবকিছুর জন্য হিদায়াত, উপদেশ এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; এবং আপনি আপনার মুমিন বান্দাদেরকে সেই শাশ্বত দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ করার মাধ্যমে আপনার ইবাদতের প্রকৃত হক আদায়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যা আপনার সেই প্রকৃতি (ফিতরাত) যার ওপর আপনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আপনি তাদের ওপর অনেক ফরয বিধান অবধারিত করেছেন, যার মধ্যে মহান হলো ঈমান—তাদেরকে শিরক থেকে পবিত্র করার জন্য; সালাত—তাদেরকে অহংকার থেকে মুক্ত রাখার জন্য; জাকাত—রিযিকের মাধ্যম হিসেবে; সিয়াম—সৃষ্টির একনিষ্ঠতার পরীক্ষা স্বরূপ; হজ—দ্বীনকে শক্তিশালী করার জন্য; জিহাদ—ইসলামের সম্মানের জন্য; সৎ কাজের আদেশ—সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য; অসৎ কাজের নিষেধ—বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য; আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা—সংখ্যা ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য; কিসাস—রক্তপাত রোধের জন্য; এবং দণ্ডবিধি কার্যকর করা—পবিত্র বিষয়সমূহের মর্যাদা রক্ষার জন্য। যেভাবে আপনি তাদের জন্য সালামকে ভীতি থেকে নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে এবং আমানতসমূহকে উম্মতের শৃঙ্খলার ব্যবস্থা হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছেন।
আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি আপনার বান্দা ও নবী, আপনার আমানতদার শেষ রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর, যিনি দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন এবং রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন; এবং তিনি মুমিনদের কল্যাণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়াময় ছিলেন। তিনি তাদের কল্যাণের দিকে আহ্বান করেন, আল্লাহর সরল পথের দিশা দেন এবং জ্ঞান পূর্ণতা দান, ইসলামের ওপর অবিচল থাকা ও এর সীমারেখা মেনে চলার লক্ষ্যে তাদেরকে দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেন। যেমন তিনি শাশ্বত ও চিরস্থায়ী শরীয়তের মূল দুটি উৎসকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়ে তাদের জন্য একনিষ্ঠ উপদেশ প্রদান করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাত।" অতএব হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের ইমাম, আমাদের প্রিয়তম এবং আমাদের রাসূলকে আপনার সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান, সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের তাঁর অনুগামী হিসেবে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
- ب -
من التابعين، وبه من المهتدين، ولسنته من الحافظين، ولمنهج الله منهجه من المقيمين والمتمسكين به إلى يوم الدين.
أما بعد، فقد شرفنا الله بخدمة دينه، وإقامة شرعه، وحفظ ملته، حين هيأ لنا أسباب الاجتهاد الجماعي في هذا العصر عن طريق المؤسسات الدينية الفقهية مثل: مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف، وهيئة كبار العلماء بالرياض، ومجمع الفقه الإسلامي بمكة المكرمة، ومجمع الفقه الإسلامي الدولي التابع لمنظمة المؤتمر الإسلامي بجدة بوابة الحرمين الشريفين.
وقد التقت في هذا المجمع الكبير أَكثر المذاهب الفقهية الإسلامية الباقية إلى اليوم، ممثلة في المنتسبين إليها والقائمين عليها من علماء الدول الإسلامية جميعها، كما انضم إليه خبراء وأخصائيون من فقهاء، وأصوليين، واقتصاديين، وأطباء، وفلكيين، وحكماء، وغيرهم، من أَهل النظر البعيد، والفكر الإسلامي القويم.
وقد عنَى المجمع فيما عنى به بالتراث الفقهي فأَصدر كتابه الأَول: "عقد الجواهر الثمينة فى مذهب عالم المدينة" لجلال الدين عبد الله بن نجم بن شاس. وهو من أمهات الكتب الفقهية في المذهب المالكي، معدود من بين المصادر الخمسة لكتاب "الذخيرة" للقرافي يعتمده وينقل كثيراً منه، وكان الناس في مسيس الحاجة إليه حتى مَنّ الله علينا بنشره وإصداره برعاية كريمة من خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود، ملك المملكة العربية السعودية، أجزل الله مثوبته.
- ব -
তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, তাঁর মাধ্যমে হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন, তাঁর সুন্নাহর হিফাযতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আল্লাহর সেই মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যা ছিল তাঁর (রাসূলের) মানহাজ।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর দ্বীনের সেবা, তাঁর শরীয়ত প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর মিল্লাতের সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যখন তিনি এই যুগে ধর্মীয় ফিকহি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আমাদের জন্য সামষ্টিক ইজতিহাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। যেমন: আল-আযহার আশ-শরীফের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি, রিয়াদের হাইআতু কিবারিল উলামা (জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদ), মক্কা মুকাররমার ইসলামী ফিকহ একাডেমি এবং পবিত্র দুই হারামের প্রবেশদ্বার জেদ্দায় অবস্থিত ওআইসি-র অধিভুক্ত আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি।
এই বিশাল মজলিসে আজ পর্যন্ত টিকে থাকা অধিকাংশ ইসলামী ফিকহি মাযহাবের মিলন ঘটেছে, যার প্রতিনিধিত্ব করছেন সমস্ত মুসলিম দেশের আলেম সমাজ যারা এসব মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ও সেগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত। এছাড়াও এতে ফকীহ, উসুলবিদ, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এবং দূরদর্শী ও সঠিক ইসলামী চিন্তাধারার অধিকারী অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞগণ যোগদান করেছেন।
এই একাডেমি অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ফিকহি ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং তাদের প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ করেছে: জালালুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন নাজমুদ্দিন বিন শাস-এর রচিত "আকদুল জাওয়াহিরিস সামীনাহ ফী মাযহাবি আলিমিল মাদীনা"। এটি মালিকি মাযহাবের অন্যতম মৌলিক ফিকহি গ্রন্থ এবং আল-কারাফি রচিত "আয-যাখীরা" গ্রন্থের পাঁচটি প্রধান উৎসের মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য, যা এর ওপর নির্ভর করে এবং এর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করে। মানুষের এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, অবশেষে সৌদি আরব রাজতন্ত্রের বাদশাহ খাদেমুল হারামাইন আশ-শরীফাইন ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর মহান পৃষ্ঠপোষকতায় আল্লাহ তাআলা এটি প্রকাশ ও জারি করার মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
- جـ -
واليوم يسعد مجمع الفقه الإسلامي الدولي أن يقدم لحفظة المذهب الحنبلي، والمجتهدين، وللعلماء، والدارسين، وللباحثين، وطلاب الفقه، كتابه الثاني: "المدخل المفصَّل إلى فقه الإمام أحمد بن حنبل وتخريجات الأصحاب" وهو تصنيف وتأليف لا تحقيق ونشر تراث، صنعةُ العلَاّمة الفقيه الأصولي النظار أَبي عبد الله الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد، رئيس مجلس مجمع الفقه الإسلامي الدولي. وهو كتاب يضم ثمانية مداخل: يخدم في الخمسة الأولى منها المذهب، يُعرِّف بأصوله، ويفسِّر مصطلحاته، ويضبط للدارسين طرق معرفته، ومسالك الترجيح فيه، كما يفرد المداخل الثلاثة الباقية بالترجمة للإمام أحمد بن حنبل شيخ السنة وصاحب المنة على الأمة، والتعريف بعلماء المذهب، وكتبه.
وهو من أَجلّ ما كتب من المداخل في هذا العصر جمعا، وإتقانا، وتحليلاً، وعمقا، ونظرا، وتفصيلاً، تسنده المعرفة الواسعة، والفهم الصائب، والتتبع الدقيق لأَعمال النظار والباحثين وتصرفاتهم وما وضعوه من كتب، وصنفوه من دراسات وبحوث ومؤلفات، فجاء كما يؤمل صاحبه جامعا للفوائد، مقيدا للشوارد، حافلاً بالمسائل العلمية النادرة المستجادة، والاستنباطات الفقهية المؤيدة بأدلتها، والمطايبات المختلفة، واللطائف المتعددة المجانسة لها.
وقد رأيته منوهاً بتهذيب الأجوبة لأبي عبد الله الحسن بن حامد بن علي بن مروان البغدادي ت 403، المتميز في تفسير مصطلحات الإمام أحمد، كما ألفيته مقارنا له بكتاب "الرسالة" للإمام الشافعي في التأصيل
- জ -
আজ আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে হাম্বলি মাজহাবের অনুসারী, মুজতাহিদ, উলামা, গবেষক, অনুসন্ধিৎসু এবং ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট তার দ্বিতীয় গ্রন্থটি পেশ করছে: "ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ এবং তাঁর অনুসারীদের উদ্ভাবিত মাসআলাসমূহের (তাখরিজাত) বিস্তারিত ভূমিকা"। এটি কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের সম্পাদনা ও প্রকাশনা নয়, বরং একটি মৌলিক সংকলন ও রচনা। এটি আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি পরিষদের সভাপতি, প্রখ্যাত আল্লামা, ফকিহ, উসুলি এবং গভীর পর্যালোচক আবু আবদুল্লাহ শেখ বকর ইবনে আবদুল্লাহ আবু জাইদ-এর এক অনন্য সৃষ্টি। গ্রন্থটি আটটি ভূমিকা বা পরিচ্ছেদে বিভক্ত: যার প্রথম পাঁচটি পরিচ্ছেদে মাজহাবের সেবা করা হয়েছে; এর মূলনীতিসমূহের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, এর পরিভাষাসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই মাজহাব জানার পদ্ধতি ও এতে বিভিন্ন মতের মাঝে অগ্রাধিকার প্রদানের পথসমূহ সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অবশিষ্ট তিনটি পরিচ্ছেদকে সুন্নাহর প্রধান শাইখ এবং উম্মতের প্রতি অনুগ্রহের অধিকারী ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের জীবনী, মাজহাবের প্রাজ্ঞ আলেমদের পরিচয় এবং এই মাজহাবের গ্রন্থসমূহ আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
সংকলন, নিপুণতা, বিশ্লেষণ, গভীরতা, অন্তর্দৃষ্টি ও বিস্তারিত বর্ণনার দিক থেকে এটি বর্তমান যুগে রচিত এ জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এর নেপথ্যে রয়েছে লেখকের বিস্তৃত জ্ঞান, সঠিক উপলব্ধি এবং গবেষক ও পর্যালোচকদের কর্মকাণ্ড, তাঁদের কর্মপদ্ধতি, তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহ এবং তাঁদের প্রণীত গবেষণা ও রচনার নিখুঁত অনুসরণ। ফলে এটি তাঁর লেখকের প্রত্যাশা অনুযায়ী বহুবিধ উপকারের সংকলন, বিক্ষিপ্ত তথ্যের আধার এবং চমৎকার ও বিরল জ্ঞানতাত্ত্বিক মাসআলায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই সাথে এতে রয়েছে দলিল সমৃদ্ধ ফিকহি ইস্তিনবাত (তত্ত্ব উদ্ঘাটন), বিভিন্ন মনোরম আলোচনা এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বহুবিধ সূক্ষ্ম প্রসঙ্গের সমাবেশ।
আমি দেখেছি যে লেখক আবু আবদুল্লাহ হাসান ইবনে হামিদ ইবনে আলি ইবনে মারওয়ান আল-বাগদাদির (মৃত্যু ৪০৩ হি.) "তাহজিবুল আজবিবা" গ্রন্থটির গুরুত্বারোপ করেছেন, যা ইমাম আহমদের পরিভাষাসমূহ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত গ্রন্থ। তেমনিভাবে আমি তাঁকে মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিয়ির "আর-রিসালা" গ্রন্থের সাথে এটিকে তুলনা করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
- د -
والتقعيد، وحلو العبارة، ودقة الإشارة، وتحليلاته اللغوية، ووجدته في نفس المكان يشيد بالمدخل إلى مذهب أحمد بن حنبل للعلامة عبد القادر ابن بدران الدومي الدمشقي ت 1346، الذي ضمنه صاحبه جُل ما يحتاج إليه المشتغل بالمذهب. فعُدَّ بذلك عملا فريدا، ومصنفا عجيباً؛ لما حواه من مقاصد، وجمعه من مسائل، وفوائد.
وهو يشير إلى ما بين هذين الكتابين المتباعدين زمانا، نحواً من تسعة قرون ونصف، من رصيد كبير وتأسيس متين للفقه الحنبلي، فيعد من ذلك كتب الفقهاء، والأصوليين، وكتب التراجم، والطبقات، ومباحث الاجتهاد والتقليد ونحوها. وهو حين يذكرني بقول ابن بدران في مقدمة مدخله: "وسلكت به مسلكا لم أجد غيري سلكه حتى صار بحيث يستحق أن يكون مدخلا لسائر المذاهب، وليس على المخترع أن يستوفي جميع الأقسام بل عليه أن يفتح الباب": يردد على سمعي قول الآخر: "كم ترك الأول للآخَر"، مؤكدا عليه ببيت أبي العلاء:
وإنِّي وإن كنتُ الأخيرَ زمانُه
… لآتٍ بما لم تستطعه الأوائل
ويحمله ذلك كله على الائتساء بالمتقدمين المقدّمين، بالسير على نهجهم، والاستدراك عليهم بالتتبع والاستقراء لكتب المذهب في الفقه وعلومه من حين تأسيسه وتدوينه إلى اليوم، وبالترجمة والتعريف بعلماء المذهب بحسب أوطانهم، وأعصارهم، وبيوتاتهم، وطبقاتهم، وبإعجام مصطلحات المذهب، والكشف عن معانيها، وتغير المراد منها، اتفاقاً، أو اختلافا، وبيان روايات المذهب وطرائق علمائه في التخريج ومسالك
- দ -
নিয়মবদ্ধকরণ, সুমিষ্ট অভিব্যক্তি, সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এবং তাঁর ভাষাগত বিশ্লেষণ। আমি তাঁকে একই স্থানে আল্লামা আবদুল কাদির ইবনে বদরান আদ-দুমি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৩৪৬ হি.) রচিত 'আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি আহমাদ ইবনে হাম্বল'-এর প্রশংসা করতে দেখেছি, যাতে লেখক মাযহাবের একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে এর উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাপকতা এবং মাসায়েল ও ফায়দাহসমূহের সংকলনের কারণে এটি একটি অনন্য কাজ এবং বিস্ময়কর গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
তিনি সময়ের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে নয় শতাব্দী ব্যবধানে থাকা এই দুই কিতাবের মধ্যবর্তী সময়ে হাম্বলি ফিকহের বিশাল ভাণ্ডার এবং সুদৃঢ় ভিত্তির প্রতি ইঙ্গিত করেন। এর মধ্যে তিনি ফুকাহা ও উসুলবিদগণের গ্রন্থাবলী, জীবনী ও তবকাতের কিতাবসমূহ এবং ইজতিহাদ ও তাকলিদ সংক্রান্ত আলোচনা ও তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়গুলোকে গণনা করেন। তিনি যখন ইবনে বদরানের তাঁর 'মাদখাল'-এর ভূমিকার উক্তিটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেন: "আমি এতে এমন এক পথ অবলম্বন করেছি যা ইতিপূর্বে অন্য কাউকে অবলম্বন করতে দেখিনি, এমনকি এটি অন্যান্য সমস্ত মাযহাবের জন্য একটি প্রবেশদ্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আর কোনো উদ্ভাবকের দায়িত্ব সমস্ত শাখা পূর্ণ করা নয়, বরং তার দায়িত্ব হলো পথ উন্মুক্ত করা"—তখন তিনি আমার শ্রবণে অন্যের এই উক্তিটি প্রতিধ্বনিত করছিলেন: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!", এবং আবুল আলার এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে তিনি এর ওপর গুরুত্বারোপ করছিলেন:
যদিও আমি সময়ের বিচারে সবার শেষে এসেছি
… তবুও আমি এমন কিছু নিয়ে আসব যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি
এসবই তাকে অগ্রবর্তী পূর্বসূরিদের অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে—তাদের পথ অনুসরণ করতে এবং মাযহাবের ফিকহ ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত গভীর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর ওপর পরিপূরক কাজ করতে উৎসাহিত করে। এছাড়া তাদের স্বদেশ, যুগ, বংশ ও স্তর অনুযায়ী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের পরিচিতি তুলে ধরা, মাযহাবের পরিভাষাগুলোর বিশ্লেষণ ও সেগুলোর অর্থের উন্মোচন এবং ঐকমত্য বা মতভেদের ভিত্তিতে সেগুলোর সংজ্ঞার পরিবর্তন বর্ণনা করার পাশাপাশি মাযহাবের রেওয়ায়াতসমূহ এবং তাখরিজ ও গবেষণার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের কর্মপন্থাগুলো বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
- هـ -
الترجيح لديهم. ويتضح ذلك لمن يقارن بين كتاب ابن بدران، وعقوده الثمانية وبين المدخل المفصَّل وأقسامه التي تضمنت هي الأخرى عدداً كبيراً من الفصول والمباحث، ازدادت بها أهميته، وفاقت بها منزلته، ويفصل المؤلف القول في ذلك في ثمانية مداخل يستحق كل واحد منها أن يكون تأليفا مستوفى مستقلا بما وضع له.
فالأول: ذو ستة مباحث تناول فيها تعريف "المذهب" و"الفقه" تعريفا دقيقا، ذاكرا الأنواع الخمسة للفقه المدوّن، وباسطا القول في تاريخ التمذهب بالفقه الحنبلي، وواقفا عند موضوع الاجتهاد وأثره في الفقه، ومنبها إلى شروط نقل المذهب ووجوب الحرص على التوقي من الخطأ في نقله مع الكشف عن أسباب الخطأ.
والثاني: معارف عامة عن المذهب أبرزَ خلالها الأدوار الخمسة للمذهب الحنبلي، منوها بمزاياه، وموردا جملة ما كتب عن التعريف بالمذهب.
الثالث: بيان لأصول المذهب، يلتقي فيه مع العقد الثالث من مدخل ابن بدران.
الرابع: في مصطلحات المذهب التي جَمَعَ قَدْراً منها، ابن بدران في العقد السادس، وهو يتكون من تمهيد وفصول ثلاثة، خص الأول منها بألفاظ الإمام أحمد، والثاني بمصطلحات الأصحاب العامة في نقل المذهب وحكايته والترجيح فيه وهو خمسة أقسام، والثالث بمصطلحات الأصحاب في نقل بعضهم عن بعض.
- ৫ -
তাদের নিকট কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেয়ার পদ্ধতি। যারা ইবনে বদরানের কিতাব ও তাঁর ‘উকুদুস সামানিয়াহ’-এর সাথে ‘আল-মাদখালুল মুফাসসাল’ এবং এর বিভিন্ন অংশের তুলনা করবেন, তাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এই গ্রন্থটিতেও বিপুল সংখ্যক অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মর্যাদা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। লেখক এখানে আটটি উপক্রমণিকায় (মাদখাল) বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যার প্রতিটিই যে বিষয়ের জন্য রচিত হয়েছে, সে বিষয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র গ্রন্থ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
প্রথমটি: ছয়টি পরিচ্ছেদ সংবলিত, যেখানে তিনি ‘মাযহাব’ ও ‘ফিকহ’-এর সূক্ষ্ম সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এতে সংকলিত ফিকহের পাঁচটি প্রকার উল্লেখ করেছেন এবং হাম্বলী ফিকহ অনুসরণের ইতিহাসের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ইজতিহাদের বিষয় ও ফিকহের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন এবং মাযহাব বর্ণনার শর্তাবলি ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল থেকে সতর্কতা অবলম্বনের আবশ্যকতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভুলের কারণগুলোও উন্মোচন করেছেন।
দ্বিতীয়টি: মাযহাব সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান, যার মাধ্যমে তিনি হাম্বলী মাযহাবের পাঁচটি পর্যায় ফুটিয়ে তুলেছেন, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং মাযহাবের পরিচিতি সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থসমূহের একটি সারসংক্ষেপ পেশ করেছেন।
তৃতীয়টি: মাযহাবের উসূল বা মূলনীতিসমূহের বর্ণনা, যা ইবনে বদরানের ‘মাদখাল’-এর তৃতীয় পরিচ্ছেদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
চতুর্থটি: মাযহাবের পারিভাষিক শব্দাবলী সম্পর্কে, যার একটি অংশ ইবনে বদরান তাঁর ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে সংকলন করেছিলেন। এটি একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথম অধ্যায়টি ইমাম আহমদের শব্দাবলীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়টি মাযহাব বর্ণনা, উদ্ধৃতি প্রদান এবং তাতে কোনো মতকে প্রাধান্য (তারজীহ) দেয়ার ক্ষেত্রে ফকীহগণের সাধারণ পরিভাষা সংক্রান্ত, যা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। আর তৃতীয় অধ্যায়টি ফকীহগণের একে অপরের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পরিভাষা সংক্রান্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
- و -
الخامس: في التعريف بطرق معرفة المذهب ومسالك الترجيح فيه وهو جد مفيد، وهو صنو العقد الرابع عند ابن بدران، افتتحه الشيخ المؤلف بتمهيدات ثلاثة تدور حول ماهية المذهب، وعناية الأصحاب به، ومعرفة طرقه، وتحديد مراتب الناس في ذلك.
وعقب ذلك بالحديث عن جملة تلك الطرق وهي: القول، والفعل والسكوت، والتوقف. وفصَّل الحديث عن ذلك في ثلاثة فصول: الأول منها في بيان طرق معرفة المذهب من خط الإمام وأقواله ونحوها ومن كتب الرواية عنه. وقسم أقوال الإمام من جهة القبول والرد إلى خمسة أقسام، ومن جهة إفادتها مرتبة الحكم التكليفي في منطوقها إلى أربعة أَقسام. وأَتبع ذلك بالحديث عن الطريقين الثاني والثالث وهما: الفعل والسكوت، أَما الطريق الرابع وهو التوقف فقد جعله على قسمين: الأَول: توقف الإِمام أَحمد في الجواب لتعارض الأَدلة وتعادلها عنده، والثاني: توقفات الأَصحاب في المذهب.
الفصل الثاني من المدخل الخاص في طرق معرفة المذهب من تصرفات الأصحاب في التخريج على المذهب ولازمه. وبحث في ذلك الاستدلال وتخريج الفروع على الفروع، وتوقفات الأصحاب في المذهب.
والفصل الثالث من هذا المدخل في بيان مسالك الترجيح عند الاختلاف في المذهب عامة، عاقدا لهذا الغرض المهم مباحث خمسة تناول فيها أنواع الاختلاف في المذهب، ومسالك الترجيح عند الاختلاف، ومعرفة المرجحات، وتحديد من له حق الاختيار والترجيح في
- ও -
পঞ্চম: মাযহাব জানার পদ্ধতি এবং এতে অগ্রাধিকার প্রদানের পথসমূহের পরিচিতি বিষয়ক, যা অত্যন্ত উপকারী। এটি ইবনে বদরানের চতুর্থ পরিচ্ছেদের অনুরূপ। লেখক শেখ এটি তিনটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা মাযহাবের স্বরূপ, মাযহাবের অনুসারীদের এ বিষয়ে যত্নশীলতা, এর পদ্ধতিসমূহ জানা এবং এ ক্ষেত্রে মানুষের স্তর নির্ধারণের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
এর পরপরই তিনি উক্ত পদ্ধতিগুলোর সমষ্টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা হলো: কথা, কাজ, নীরবতা এবং বিরত থাকা। তিনি এ বিষয়ে তিনটি পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন: প্রথম পরিচ্ছেদটি ইমামের লেখা, তাঁর উক্তি এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ এবং তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ সম্বলিত গ্রন্থসমূহ থেকে মাযহাব জানার পদ্ধতিসমূহের বর্ণনায়। তিনি ইমামের উক্তিগুলোকে গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের দিক থেকে পাঁচটি ভাগে এবং উক্তিগুলোর শাব্দিক অর্থের মাধ্যমে শরয়ী বিধানের স্তর প্রদানের দিক থেকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদ্ধতি তথা কাজ ও নীরবতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর চতুর্থ পদ্ধতি তথা বিরত থাকার বিষয়টি তিনি দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথমত, দলীলসমূহের মাঝে বৈপরীত্য ও সমতা পরিলক্ষিত হওয়ায় উত্তরের ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ-এর বিরত থাকা। দ্বিতীয়ত, মাযহাবের বিষয়ে অনুসারীদের বিরত থাকা।
বিশেষ ভূমিকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি মাযহাবের অনুসারীদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মাযহাব জানার পদ্ধতি এবং মাযহাবের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবন ও এর আবশ্যকতা বিষয়ক। এতে তিনি দলীল উপস্থাপন, শাখা মাসআলা থেকে শাখা মাসআলা উদ্ভাবন এবং মাযহাবের বিষয়ে অনুসারীদের বিরত থাকা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই ভূমিকার তৃতীয় পরিচ্ছেদটি সাধারণভাবে মাযহাবে মতভেদের সময় অগ্রাধিকার প্রদানের পথসমূহের বর্ণনায়। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি মাযহাবে মতভেদের প্রকারভেদ, মতভেদের সময় অগ্রাধিকার প্রদানের পথসমূহ, অগ্রাধিকারের কারণসমূহ এবং কার নির্বাচন ও অগ্রাধিকার প্রদানের অধিকার রয়েছে তা নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
- ز -
المذهب، وبيان مصطلحات العلماء في حكاية الخلاف والترجيح.
السادس: قصره على ترجمة الإمام أحمد بن حنبل، وفيه مباحث خمسة: تعرض في الأول منها إلى عيون المعارف في ترجمة الإمام، وفي الثاني إِلى بيان منزلته محدثا وفقيها، وفي الثالث إلى تحديد العلاقة بين مذهبه ومذهب الإمام الشافعي، وفي الرابع إلى قضية القول بخلق القرآن وما كان فيه من محنة الإمام التي تطورت على مدى ثلاثة وعشرين عاما من فتنة إِلى محنة ومن محنة إِلى نصرة، وفي الخامس إِلى مناقب الإمام وخصاله رحمه الله. ولهذا المدخل علاقة بما ورد عند ابن بدران في العقد الأول.
السابع: في علماء المذهب وهو ذو فصول ثلاثة: الأول في معرفة التآليف المفردة عن الإمام وعن الآخذين عنه وعن علماء المذهب، والثاني في معرفة طبقات الأصحاب، والثالث في معارف عامة وفيه سبعة مباحث مهمة منها تقريب عددهم استمدادا من طبقاتهم المطبوعة، وآفاق الحنابلة وأوطانهم وبيوتاتهم في مختلف البلاد، وآخر عن التحول المذهبي وما يندرج فيه من أصناف، مع ضبط دقيق لمشتبه الأسماء والكنى والألقاب والمبهمات وهو تكميل لما ورد في العقد الثاني من مدخل ابن بدران.
الثامن: في التعريف بكتب المذهب. وهو ما خصص له ابن بدران العقدين السابع والثامن من مدخله.
وفي هذا المدخل من الشمول والتنوع والتفصيل ما لا يدرك مثله.
- জ -
মাযহাব এবং ইখতিলাফ বর্ণনা ও তারজীহ প্রদানের ক্ষেত্রে আলেমদের পরিভাষা বর্ণনা।
ষষ্ঠ: এটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের জীবনীর ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথমটিতে ইমামের জীবনীর সারনির্যাসসমূহ আলোচিত হয়েছে; দ্বিতীয়টিতে মুহাদ্দিস ও ফকীহ হিসেবে তাঁর মর্যাদার বিবরণ; তৃতীয়টিতে তাঁর মাযহাব ও ইমাম শাফিয়ীর মাযহাবের মধ্যকার সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ; চতুর্থটিতে কুরআন সৃষ্টির বক্তব্য এবং ইমামের ওপর আসা সেই কঠিন পরীক্ষার (মিহনা) প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে, যা ফিতনা থেকে পরীক্ষায় এবং পরীক্ষা থেকে বিজয়ে রূপান্তরিত হয়ে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে চলেছিল; এবং পঞ্চমটিতে ইমামের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত হয়েছে। এই ভূমিকাটির সাথে ইবনে বাদরানের 'আল-ইকদ আল-আউয়াল'-এ বর্ণিত প্রসঙ্গের সম্পর্ক রয়েছে।
সপ্তম: মাযহাবের আলেমদের প্রসঙ্গে, যা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত: প্রথমটি ইমাম সম্পর্কে, তাঁর নিকট থেকে যারা ইলম গ্রহণ করেছেন তাঁদের সম্পর্কে এবং মাযহাবের আলেমদের স্বতন্ত্র রচনাবলি চেনার বিষয়ে; দ্বিতীয়টি ইমামের অনুসারীদের স্তর বা তবকাত চেনার বিষয়ে; এবং তৃতীয়টি সাধারণ জ্ঞান বা পরিচিতি বিষয়ক, যার মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে—মুদ্রিত তবকাত গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁদের একটি আনুমানিক সংখ্যা নির্ণয় করা; বিভিন্ন দেশে হাম্বলিদের বিস্তৃতি, তাঁদের আবাসস্থল ও পরিবারসমূহ; এবং মাযহাব পরিবর্তন ও এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রকারভেদ। সেই সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নাম, কুনিয়াত (উপনাম), লকব (উপাধি) ও অস্পষ্ট বিষয়গুলোর সূক্ষ্ম বিন্যাসও এতে রয়েছে, যা ইবনে বাদরানের মুকাদ্দিমার দ্বিতীয় ইকদে বর্ণিত প্রসঙ্গের পরিপূরক।
অষ্টম: মাযহাবের কিতাবসমূহের পরিচিতি প্রসঙ্গে। ইবনে বাদরান তাঁর মুকাদ্দিমার সপ্তম ও অষ্টম ইকদকে এই প্রসঙ্গের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন।
এই ভূমিকার ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং বিস্তারিত আলোচনার গভীরতা এতটাই যে, এর কোনো সমতুল্য নজির পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
- حـ -
افتتحه المؤلف بتمهيد عن الثروة الفقهية في مذهب الإمام مفصلا القول فيما لإمام المذهب من الكتب، وفيما روي عنه من ذلك في المسائل، وفي الكتب الجامعة للرواية عنه، ثم مستعرضا للمتون وما تبعها من شروح أو تعليقات أو حواشي وهي أَربعة وعشرون كتابا، وللمتون المفردة التي لم يشتغل بها، كما تعرض للمؤلفات المفردة في بعض الموضوعات الفقهية، وللكتب الجوامع وذكر من ذلك تصانيف في الخلاف، وفي المفردات، والاختيارات، وفي الفتاوى، وفي الأَلغاز وفي لغة الفقهاء، وفي الفروق، والقواعد الفقهية والأصولية والضوابط، كما تحدث عن كتب أصول الفقه، وعما نشر من الأبحاث العلمية حول كتب المذهب.
جهد عظيم، وعمل جليل، وقدرة فائقة على التتبع والمراجعة، وسعة نظر، ودقة فهم: تلك سمات هذه المداخل الثمانية. أَغنَت بما جمعت، وأفادت بما وسعت، ووجهت بما صنعت، فلكأن صاحبها، وهو ينظمها نظما بديعا ويعدها هذا الإعداد الكامل المحكم، ليتردد في خاطره قول ابن نُباته:
حاول جسيمات الأمور ولا تقل
… إن المحامد والعلى أرزاق
وارغب بنفسك أن تكون مقصراً
… عن غاية فيها الطلاب سباق
ولكأنه وهو ماض في بحثه وتنقيبه، وضبطه وتحقيقه، وبذله وعطائه؛ ليعيد على أسماعنا قول حسَّان:
إذا قال لم يترك مقالاً لقائل
… بملتقطات لا ترى بينها فصلا
- হা -
লেখক ইমামের মাযহাবের ফিকহী সম্পদ সম্পর্কে একটি উপক্রমণিকা প্রদানের মাধ্যমে এটি শুরু করেছেন, যেখানে তিনি মাযহাবের ইমামের কিতাবসমূহ এবং মাসআলার ক্ষেত্রে তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং তাঁর বর্ণনাগুলো সংকলিত হয়েছে এমন কিতাবসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি মূল পাঠ (মতন) এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ), টীকা (তালিকাত) বা পার্শ্বটীকা (হাশিয়া) পর্যালোচনা করেছেন, যা সংখ্যায় চব্বিশটি কিতাব। এছাড়া তিনি এমন একক মতনসমূহ যা নিয়ে কাজ করা হয়নি, নির্দিষ্ট কিছু ফিকহী বিষয়ের ওপর একক রচনাসমূহ এবং ‘জামে’ (সংকলিত) কিতাবসমূহ নিয়েও আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি ইখতিলাফ (মতভেদ), মুফরাদাত (একক মাসআলা), ইখতিয়ারাত (পছন্দকৃত অভিমত), ফাতাওয়া, আলগায (ফিকহী ধাঁধা), ফকীহদের পরিভাষা, ফুরুক (পার্থক্য), ফিকহী ও উসূলী কায়দা এবং যাবওয়াবিত (নীতিমালা) বিষয়ক রচনাসমূহের উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তিনি উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহ এবং মাযহাবের কিতাবসমূহের ওপর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এক মহান প্রচেষ্টা, এক মহৎ কর্ম, অনুসন্ধান ও পর্যালোচনায় অসামান্য সক্ষমতা, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি এবং সূক্ষ্ম বোধশক্তি—এগুলোই হলো এই আটটি প্রবেশদ্বারের (মাদখাল) বৈশিষ্ট্য। যা কিছু এতে সংগৃহীত হয়েছে তা অভাব মোচন করেছে, এর ব্যাপকতা উপকার সাধন করেছে এবং এর বিন্যাস সঠিক দিশা প্রদান করেছে। যেন এর রচয়িতা যখন একে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করছিলেন এবং এই পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত রূপে প্রস্তুত করছিলেন, তখন তাঁর অন্তরে ইবনে নুবাতাহ-র এই কথাটিই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল:
বিশাল সব বিষয়ের লক্ষ্য স্থির করো এবং বলো না যে
… প্রশংসা ও উচ্চমর্যাদা কেবলই রিযিক (বিনা পরিশ্রমে প্রাপ্য)।
নিজেকে এমন লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে রাখা অপছন্দ করো
… যে লক্ষ্য অর্জনে জ্ঞানান্বেষীরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে।
এবং তিনি যখন তাঁর গবেষণা ও অন্বেষণ, পারঙ্গমতা ও যাচাই এবং তাঁর ত্যাগ ও অবদানের পথে এগিয়ে চলছিলেন, তখন তিনি যেন আমাদের কানে হাসসানের বাণীরই পুনরাবৃত্তি করছিলেন:
তিনি যখন বলেন তখন অন্য কোনো বক্তার জন্য আর কিছু বলার অবকাশ রাখেন না
… তাঁর সংগৃহীত এমন সব মণিমুক্তার মাধ্যমে যার মাঝে কোনো বিচ্ছেদ বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
- ط -
كفى وشفى ما في النفوس فلم يدع
… لذي أرب في القول جدًّا ولا هزلا
هذا وإن الواقف على "المدخل المفصَّل إلى فقه الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب" للدكتور الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد ليعد الظفر بهذا الكتاب نعيما، والنظر فيه فتحا عظيما، كيف وهو في هذا العصر الركيزة في معرفة مذهب الإمام أحمد، الجامعُ لما تفرق في غيره من علوم وفوائد، المرشدُ بأقسامه وفصوله وبحوثه وتنبيهاته، وبما احتوت عليه فهارسه إلى كل المراجع والمصادر المتعلقة بفقه السلف، فقه الإمام ومحاور مذهبه، في أصوله وجذوره، وبتراجم أصحابه ورجاله، وتخريجاتهم واجتهاداتهم فيه، وهو بقدر ما يركز على هذه الجوانب الضرورية لمعرفة المذهب الحنبلي، ينبه على الروايات الغريبة والتخاريج الضعيفة المبثوثة في تضاعيف بعض التصانيف، قصد تنقية المذهب منها، والحيلولة دون قصيري النظر من غير المتمكنين في الفقه وأصوله، من تسليك المناهي في سلك الإباحة المطلقة، فيحيدوا بذلك عن الحق، وينابذوا الدليل، ويخرجوا عن المذهب، ويفتوا الناس بغير علم.
وتزداد الحاجة اليوم إلى هذا الأَمر أمام القضايا المستجدة المتولدة عن التطورات الحضارية والعلمية، وما نجم وينجم عنها من تغيرات فكرية ومذهبية، اقتصادية وطبية ونحوها، فيتأكد العمل وبذل الوسع في ترقية المدرسة الفقهية والنهوض بها، ودعوة المتفقهين إلى اعتماد الأصلين الأساسيين مصدري شريعتنا المطهرة، ومعرفة طرائق الأسلاف
- ত -
অন্তরের পিপাসা নিবারণে এবং রোগমুক্তিতে এটিই যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত হয়েছে, ফলে তা
… কোনো অভিলাষী ব্যক্তির জন্য গুরুত্ব সহকারে বা কৌতুকচ্ছলে কোনো কথা বলার অবকাশ রাখেনি।
বস্তুত, ডক্টর শাইখ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ-এর রচিত "আল-মাদখাল আল-মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব" গ্রন্থটি যিনি পাঠ করেন, তিনি এই কিতাবটি লাভ করাকে এক পরম নেয়ামত এবং এর প্রতি দৃষ্টিপাত করাকে একটি বিশাল বিজয় হিসেবে গণ্য করেন। কেনই বা হবে না, অথচ এটি বর্তমান যুগে ইমাম আহমাদ-এর মাজহাব পরিচিতির ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি; এটি এমন এক সংকলন যা অন্য গ্রন্থে ছড়িয়ে থাকা জ্ঞান ও উপকারিতাসমূহকে একত্রিত করেছে। এর বিভিন্ন বিভাগ, অধ্যায়, গবেষণা ও সতর্কবার্তাসমূহ এবং এর নির্ঘণ্টসমূহ সালাফদের ফিকহ, ইমামের ফিকহ এবং তাঁর মাজহাবের মূল ভিত্তি ও শেকড় সংক্রান্ত সকল তথ্যসূত্র ও উৎসের দিকে সঠিক পথের দিশারী। এতে তাঁর অনুসারী ও মণীষীদের জীবনী এবং তাঁদের উদ্ভাবন ও ইজতিহাদসমূহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি হাম্বলি মাজহাব জানার জন্য এই প্রয়োজনীয় দিকগুলোর ওপর যেমন গুরুত্বারোপ করে, তেমনি বিভিন্ন কিতাবের ভাঁজে ছড়িয়ে থাকা অদ্ভূত বর্ণনা ও দুর্বল উদ্ভাবনগুলোর ব্যাপারেও সতর্ক করে; যার উদ্দেশ্য হলো মাজহাবকে সেসব থেকে পবিত্র করা এবং ফিকহ ও উসূলে অদক্ষ স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে নিঃশর্ত বৈধতার পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা। পাছে তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, দলিলের বিরোধিতা করে, মাজহাব থেকে বের হয়ে যায় এবং জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে ফতোয়া প্রদান করে।
সভ্যতা ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষ থেকে জন্ম নেওয়া সমসাময়িক সমস্যাবলি এবং এর ফলে উদ্ভূত ও উদ্ভব হতে থাকা বুদ্ধিবৃত্তিক, মতাদর্শিক, অর্থনৈতিক, চিকিৎসা ও অন্যান্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়ে এই বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ফিকহি ধারাকে উন্নত ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং শিক্ষার্থীদেরকে আমাদের পবিত্র শরীয়তের প্রধান দুই মূল উৎসের ওপর নির্ভর করার ও পূর্বসূরিদের কর্মপদ্ধতি জানার আহ্বান জানানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
- ي -
في تصرفاتهم واستنباطاتهم، ومناهجهم في استدلالاتهم، ومراعاة مقاصد الشريعة في الأحكام، ومَن سلك الجَدَد أَمِن العثار.
ولتقرير هذا الأَمر في نفوس الناشئة وتمكينهم من الوقوف على الموثوق به من المصنفات والكتب عقد المؤلف مبحثا في إسناد كتب المذهب متحدثا فيه عن الكتب الأم الموثقة، وعن أنواع التوثيق الثلاثة: بإسناد المرويات، وبإسناد الكتب، ويذكر ما وضع من توقيفات ومقابلات على بعض الكتب الموثقة بخطوط العلماء، كما تحدث عن جملة من الأَسانيد عدّ منها الإسناد الشامي، والإسناد المسلسل بالحنابلة المصريين، والإسناد المسلسل بالحنابلة النجديين والأحسائيين، وحرصا منه على الاندراج في رعيل الرواة الموثّقين المأمونين وحفظة المذهب من الفقهاء؛ ذكر المؤلف أسانيده التي تصله بأثبات ومسلسلات ومشيخات الفقه الحنبلي، مثبتا مع ذلك أسانيدهم وطرق رواياتهم العديدة إلى كتب الإِمام، وكتب الرواية عنه، وكتب علماء المذهب، أمثال الخلال، وأَبي بكر عبد العزيز، والخرقي، والحسن بن حامد، وآل أَبي يعلى، وآل قدامة، وآل بني عبد الهادي، وآل مفلح، وآل تيمية، وآل بني قيم الجوزية، وآل عبد الباقي، والحجاوي، والبهوتي، وأضرابهم.
ومثل هذا التخريج الدقيق في المذاهب الفقهية قمين بالبلوغ بصاحبه إلى درجة الاجتهاد في هذا العصر، كما أنه كفيل بأن يكون له الأَثر الكبير في اتساع الأنظار الاجتهادية وتنمية الثروة الفقهية في كل مذهب. وهكذا يمكن لمن بلغت بهم مداركهم ومعارفهم، وسمت بهم
- ই -
তাদের কার্যাবলি ও আহরণ প্রক্রিয়ায়, তাদের দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতিতে এবং বিধানের ক্ষেত্রে শরীয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখার ক্ষেত্রে; আর যে ব্যক্তি সোজা ও স্পষ্ট পথে চলে, সে পদস্খলন থেকে নিরাপদ থাকে।
নবীনদের হৃদয়ে এই বিষয়টি সুদৃঢ় করার জন্য এবং নির্ভরযোগ্য সংকলন ও গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে তাদেরকে অবগত করতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে লেখক মাযহাবের কিতাবসমূহের সনদ (ইসনাদ) নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থসমূহ এবং নির্ভরযোগ্যতার তিনটি প্রকার নিয়ে আলোচনা করেছেন: বর্ণনাগুলোর সনদ, কিতাবসমূহের সনদ, এবং আলেমদের হস্তলিপিতে নির্ভরযোগ্য কিছু কিতাবের ওপর যে সকল সংশোধন ও পাণ্ডুলিপি যাচাই (মুকাবালা) করা হয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি একগুচ্ছ সনদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে শামী (সিরীয়) সনদ, মিশরীয় হাম্বলিদের মাধ্যমে বর্ণিত মুসালসাল সনদ এবং নজদি ও আহসায়ী হাম্বলিদের মাধ্যমে বর্ণিত মুসালসাল সনদ উল্লেখযোগ্য। নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী এবং মাযহাবের ফকিহ হাফেজদের কাফেলায় নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ থেকে লেখক তাঁর সেই সনদগুলো উল্লেখ করেছেন যা তাঁকে হাম্বলি ফিকহের নির্ভরযোগ্য সংকলন (আসবাত), মুসালসালাত এবং মাশায়াখাতসমূহের সাথে সংযুক্ত করে। এর পাশাপাশি তিনি ইমামের কিতাবসমূহ, তাঁর থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ এবং মাযহাবের উলামায়ে কেরাম যেমন: খাল্লাল, আবু বকর আব্দুল আজিজ, খিরাকি, হাসান ইবনে হামিদ, আলে আবু ইয়ালা, আলে কুদামা, বনু আব্দুল হাদি পরিবার, আলে মুফলিহ, আলে তাইমিয়্যাহ, বনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ পরিবার, আলে আব্দুল বাকি, হিজজাবি, বাহুতি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের কিতাবসমূহ পর্যন্ত তাঁর অসংখ্য সনদ ও বর্ণনাপদ্ধতি সাব্যস্ত করেছেন।
ফিকহি মাযহাবসমূহে এই ধরনের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বর্তমান যুগে এর অধিকারীকে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সেই সাথে প্রতিটি মাযহাবে ইজতিহাদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার এবং ফিকহি সম্পদ বৃদ্ধিতে এটি এক বড় প্রভাব রাখতে সক্ষম। এভাবেই যাদের বোধশক্তি ও জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করেছে এবং যাদের মর্যাদা উন্নত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- ك -
قدراتهم ومواهبهم إِلى مراتب العلماء المحققين والفقهاء المتمرسين بالأَحكام الشرعية علما وعملا، أن ينتصبوا إلى إِعمال الفكر وإِجالة النظر في الواقعات المستجدة، والحوادث والنوازل العارضة، بحُسن تفهمهم، وعميق تفقههم، وكمال تدبرهم في فهم النصوص وتطبيقها، وباستخراجهم الأدلة لها من الكتاب والسنة، وبإِعمال القياس فيما لا نص فيه منها على ما وردت به النصوص، وبالاستناد إلى الاستحسان والاستصلاح والعرف وسد الذرائع والقواعد الكلية والمقاصد الشرعية ونحو ذلك، طلبا للحكم الشرعي وتوصلا إلى معرفته.
ولضبط ذلك كله عقد المؤلف مبحثا خاصا بالاجتهاد، وهو المبحث الخامس من المدخل الأَول من كتابه، فصل فيه القول في بيان ماهية الاجتهاد، والتعريف بالمجتهد ومراتبه، ومجالات الاجتهاد وأسبابه وأنواعه وحُكمه وحكمته، ومن العلامات على طريق الاجتهاد التي نصبها المؤلف: تفريقه بين الفقه والشرع، وتقريره شمولية الشرع المطهر وصلاحيته لكل زمان ومكان، واعتباره الجسر الممتد في الإسلام معلنا خلوده ونفاذه، واعتداده بقول ابن مسعود: "اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم وعليكم بالأمر العتيق". وتقسيمه الأَحكام الشرعية إلى قطعيات لا تقبل الخلاف وظنيات في الفقهيات العملية المكتسبة وبعض المصادر التبعية يجوز فيها ذلك، وتفصيله القول في فهوم المجتهدين وفي اختلاف المِذاهب، وتأكيده أن الشرائع مصالح تختلف باختلاف الأحوال والأوقات، فلكل وقت حكم يكتب على العباد، وتنبيهه إلى ما وقع الناس
- ক -
তাদের সক্ষমতা ও মেধা যখন ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে শরয়ী বিধানাবলীতে পারদর্শী অভিজ্ঞ ফকীহ এবং মুহাক্কিক আলেমদের স্তরে পৌঁছায়, তখন তাদের উচিত নবউদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আকস্মিক ঘটনা ও সংকটের ক্ষেত্রে চিন্তা-গবেষণা ও বিচার-বিশ্লেষণে আত্মনিয়োগ করা। এটি তারা করবেন তাদের সুগভীর উপলব্ধি, গভীর প্রজ্ঞা এবং নসসমূহ (মূল পাঠ) অনুধাবন ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ধ্যানের মাধ্যমে। তারা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এগুলোর জন্য দলীল উদঘাটন করবেন এবং যে বিষয়গুলোতে কোনো নস নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে নসে বর্ণিত বিধানের আলোকে কিয়াস (তুলনা) প্রয়োগ করবেন। এছাড়াও তারা ইসতিহসান, ইসতিসলাহ, উরফ (প্রথা), সাদ্দে যারায়ে’ (অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা), মৌলিক নীতিসমূহ এবং মাকাসিদে শরীয়াহ (শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ) ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে শরয়ী বিধান অন্বেষণ ও তা অবগত হওয়ার প্রচেষ্টা চালাবেন।
এই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য লেখক ইজতিহাদ বিষয়ে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ তৈরি করেছেন, যা তাঁর গ্রন্থের প্রথম ভূমিকার পঞ্চম পরিচ্ছেদ। সেখানে তিনি ইজতিহাদের স্বরূপ বর্ণনা, মুজতাহিদের সংজ্ঞা ও তাঁর স্তরসমূহ, ইজতিহাদের ক্ষেত্রসমূহ, এর কারণ, প্রকারভেদ, হুকুম ও হিকমত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইজতিহাদের পথে লেখক যে সব দিকনির্দেশনা স্থাপন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ফিকহ ও শরীয়তের মধ্যে তাঁর পার্থক্য নিরূপণ, পবিত্র শরীয়তের সর্বজনীনতা এবং সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য এর উপযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি একে ইসলামের একটি বিস্তৃত সেতু হিসেবে বিবেচনা করেছেন যা এর চিরন্তনতা ও কার্যকারিতা ঘোষণা করে। এছাড়া তিনি ইবনে মাসউদের এই বাণীর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা-ই যথেষ্ট, আর তোমরা প্রাচীন পথকে আঁকড়ে ধরো।" তিনি শরয়ী বিধানসমূহকে এমন অকাট্য বিষয়াদিতে বিভক্ত করেছেন যা কোনো মতভেদ গ্রহণ করে না এবং অর্জিত ব্যবহারিক ফিকহী মাসআলা ও কিছু আনুষঙ্গিক উৎসের ক্ষেত্রে ধারণাপ্রসূত বিষয়াদিতে বিভক্ত করেছেন যেখানে মতভেদ জায়েজ। এছাড়া তিনি মুজতাহিদগণের উপলব্ধি ও মাযহাবগত মতভেদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন যে, শরীয়তসমূহ হলো মানুষের কল্যাণ যা অবস্থা ও সময়ের ভিন্নতায় ভিন্ন ভিন্ন হয়। সুতরাং প্রতিটি সময়ের জন্য বান্দাদের ওপর পালনীয় নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সেইসাথে মানুষ যে বিষয়গুলোতে নিপতিত হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- ل -
فيه من الخلط ببن تاريخ التشريع الإسلامي الذي اكتمل في عصر الرسالة بوفاة الرسول صلى الله عليه وسلم وبين تاريخ الفقه الإسلامي، وتعريضه بمن اختلَّتْ أذواقهم وساورتهم الأهواء ومجاراة الأغراض، وتحذيره من الفتاوى المغتصبة والفتاوى الطائرة والفتاوى الشاذة الفاسدة، وكل تلك مسائل مهمة تعمق الشيخ بكر درسها بكمال دين، وثبات يقين، وقوة فحص، وعميق نقد:
خدم العلى فخدمته وهي التي
… لا تخدم الأَقوام ما لم تُخدَم
أَجزل الله مثوبته، وأتم عليه نعمته، جزاء من أحسن عملا وبذل نصحا.
وصلى الله على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه وسلم
محمد الحبيب ابن الخوجة
الأمين العام لمجمع الفقه الإسلامي - جدة
- লাম -
এতে ইসলামী শরীয়াহ প্রণয়নের ইতিহাস—যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের মাধ্যমে রিসালাতের যুগেই পূর্ণতা লাভ করেছে—এবং ইসলামী ফিকহের ইতিহাসের মধ্যকার সংমিশ্রণের বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া এতে তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যাদের রুচি বিকৃত হয়েছে, যাদের ওপর কুপ্রবৃত্তি প্রভাব বিস্তার করেছে এবং যারা জাগতিক স্বার্থের অনুগামী হয়েছে। সেই সাথে তিনি জবরদখলকৃত ফতোয়া, ভিত্তিহীন ফতোয়া এবং বিভ্রান্তিকর ও কলুষিত ফতোয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখ বকর পূর্ণাঙ্গ দ্বীনদারিতা, সুদৃঢ় বিশ্বাস, শক্তিশালী অনুসন্ধান এবং গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছেন:
তিনি উচ্চমর্যাদার সেবা করেছেন, ফলে উচ্চমর্যাদাও তাঁর সেবা করেছে; আর তা এমন এক বিষয় যা
… মানুষের সেবা করে না যতক্ষণ না কেউ তার সেবা করে
আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ওপর নিজের নেয়ামত পূর্ণ করুন; সেই ব্যক্তির পুরস্কারস্বরূপ যিনি উত্তম কাজ করেছেন এবং একনিষ্ঠ উপদেশ বিলিয়ে দিয়েছেন।
আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মুহাম্মদ আল-হাবিব ইবনুল খোজা
মহাসচিব, ইসলামিক ফিকহ একাডেমি - জেদ্দা
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل المفصل إلى فقه الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب القسم: أصول الفقه
الكتاب: المدخل المفصل إلى فقه الإمام أحمد وتخريجات الأصحاب
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد
تقديم: محمد الحبيب الخوجة [ت 1433 هـ]، الأمين العام لمجمع الفقه الإسلامي - جدة
الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1417 هـ
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، مقابل عليه]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আহমাদের ফিকহ এবং অনুসারীগণের উদ্ভাবিত সমাধানসমূহের বিস্তারিত ভূমিকা বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকের মূলনীতি)
গ্রন্থ: ইমাম আহমাদের ফিকহ এবং অনুসারীগণের উদ্ভাবিত সমাধানসমূহের বিস্তারিত ভূমিকা
লেখক: বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়দ
ভূমিকা: মুহাম্মদ আল-হাবিব আল-খোজাহ [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি], মহাসচিব, আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি - জেদ্দা
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ প্রকাশনী ও বিতরণী
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়িত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং এর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
المدخل المفصل إلى فقه الإمام أحمد بن حنبل وتخريجات الأصحاب
ولد الإمام في 20/3/164 وتوفي في 12/3/241
عن " 77 " عاما و " 11 " شهرا و " 22 " يوما
رحمه الله تعالى
تأليف
بكر بن عبد الله أبو زيد
رئيس المجمع
تقديم
معالي الأمين العام للمجمع
د. محمد الحبيب ابن الخوجة
الجزء الأول
دار العاصمة
للنشر والتوزيع
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফিকহ এবং তাঁর অনুসারীদের মাসআলাসমূহের বিস্তারিত প্রবেশিকা
ইমাম ২০/৩/১৬৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২/৩/২৪১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন
৭৭ বছর ১১ মাস এবং ২২ দিন বয়সে
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন
রচনা
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
মজমা-এর সভাপতি
উপস্থাপনা
মজমা-এর মাননীয় মহাসচিব
ড. মুহাম্মাদ আল-হাবীব ইবনুল খুজা
প্রথম খণ্ড
দারুল আসিমাহ
প্রকাশনা ও বিতরণী
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولىالحمد لله الذي جعل في كل زمانِ فترةِ من الرسل بقايا من أَهل العلم؛ يَدْعُون من ضل إِلى الهدى، ويَصْبرون منهم على الأَذى، يحيون بكتاب الله تعالى الموتى، ويبصرون بِنُوْرِ الله أَهْلَ العَمَى، فكَمْ مِنْ قَتِيْلٍ لِإبليس قَد أَحيوه، وكم من ضال تائهِ قد هَدَوْه، فما أحسن أَثرهم على الناس، وما أَقبح أَثر الناس عليهم، يَنْفُون عن كتاب الله تعالى تحريفا الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الَّذين عقدوا ألوية البدعة، وأَطلقوا عنان الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، يَقُوْلون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، وَيَتكَلَمُون بالمتشابه من الكلام، ويَخْدعون جهال الناس بما يُشَبِّهون عليهم، فنعوذ بالله من فتنة المضلين (1) .
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলগণের আগমনের মধ্যবর্তী প্রত্যেক বিরতিকালে একদল অবশিষ্ট আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তিকে রেখেছেন; তারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও যাতনার ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তারা মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। ইবলিসের দ্বারা নিহত কত ব্যক্তিকেই না তারা পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং কত পথহারা বিভ্রান্ত ব্যক্তিকেই না তারা সঠিক পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না উত্তম, আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না নিকৃষ্ট! তারা মহান আল্লাহর কিতাব থেকে সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জাহিলদের অপব্যাখ্যা দূর করেন—যারা বিদআতের পতাকা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। ফলে তারা কিতাব বিষয়ে পরস্পর মতভেদকারী; তারা আল্লাহ সম্পর্কে, আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক বাক্যে কথা বলে এবং সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মূর্খদের প্রতারিত করে। সুতরাং আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأَشهد أَن لا إِله إِلَاّ الله وحده لا شريك له في ربوبيَّته، ولا في ألوهيته، ولا في أَسمائه وصفاته، وهو على كلِّ شيءٍ قدير، وعلمه بكلِّ شيء محيط. وأَشهد أَنَّ محمدًا عبده ورسوله المصطفى ونبيه المجتبى صلى الله، وملائكته، وأَنبياؤه، ورسُلُه، والصَّالحون من عباده عليه، وعلى آله، وعلى أَصحابه، وعلى التَّابعين لهم بإحسان إِلى يوم الدِّين وسلَّم تسليما كثيرا
- أَما بعد: فإِنَ التأسي (1) ، والمُتَابَعَةَ، والاقْتِدَاءَ، بِصَاحِبِ هَذه الشَريْعَةِ الإسلامية المُبَارَكَةِ الغَرَّاء، خَاتَمِ الأَنبياء والمرسلين، وسَيِّد وَلَدِ آدم أجمعين، نبينا ورسولنا محمد صلى الله عليه وسلم: هو رَأْسُ مَالِ المسلم، اعتقادا، وقولاً، وعملاً، في مَدَارِجِ الشرع المُطَهَّر، الكَامِنِ في الوحيين الشريفين.
- وهذا- وايم الله- عنوان محبة العبد لربه، كما قال- سبحانه -: " قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ " [آل عمران/31]
- ولُبَابُهُ عِبَادَةُ اللهِ وتوحيده - سبحانه - وهو المقصود من خلق الله للثقلين، كما قال - تعالى -: " وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ " [الذاريات/ 56]
- وهذا مدار دعوة كل نبي ورسول، كما ذكر الله في القرآن عن دعوة: هود، وصالح، وشعيب: " يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ " [الأعراف/ 65، 73، 85]
--------------------------------------------
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), তাঁর উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে কোনো শরিক নেই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর মনোনীত রাসূল ও নির্বাচিত নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে, ফেরেশতামণ্ডলী, নবী ও রাসূলগণ এবং তাঁর নেককার বান্দাদের পক্ষ থেকে অসংখ্য সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: এই বরকতময় ও উজ্জ্বল ইসলামী শরীয়তের প্রবর্তক, সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং সমস্ত আদম সন্তানের সরদার আমাদের নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ (১), অনুগমন ও অনুকরণ করাই হলো একজন মুসলিমের বিশ্বাস, বক্তব্য ও কর্মের মূল পুঁজি, যা পবিত্র দুই ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) মধ্যে নিহিত পবিত্র শরীয়তের স্তরসমূহের পরিক্রমায় প্রকাশ পায়।
আল্লাহর কসম, এটিই হলো তাঁর রবের প্রতি বান্দার ভালোবাসার নিদর্শন, যেমনটি তিনি—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—ইরশাদ করেছেন: “বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” [আল-ইমরান/৩১]
আর এর মূল সারকথা হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর তাওহীদ (একত্ববাদ) প্রতিষ্ঠা করা—সুবহানাহু ওয়া তাআলা। আর জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টির উদ্দেশ্যই এটি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [আয-যারিয়াত/ ৫৬]
এটিই ছিল প্রত্যেক নবী ও রাসূলের দাওয়াতের মূল ভিত্তি, যেমনটি আল্লাহ কুরআনে হুদ, সালিহ এবং শুয়াইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর দাওয়াত সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: “হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।” [আল-আরাফ/ ৬৫, ৭৩, ৮৫]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقال سبحانه- عن دعوة جميعهم: " وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ " [النحل/ 36]
- وهذا مقتضى الشهادتين في الإسلام: أَن لا يعبد إِلَاّ الله، وأَن لا يُعبد الله إلَاّ بما شرع.
وعلى هذا تدور رَحَى التشريع، ولهذا صارت سورة الفاتحة جامعة لمعاني القرآن الكريم. ثم هذه في آية واحدة منها: " إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ".
- وهذا مقتضى أَول أَمر في كتابا الله في أَوائل سورة البقرة: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ " [البقرة/ 21]
وفي هذه الآية والآيتين بعدها مضمون الشهادتين.
- وهذا مقتضى ما أَمر الله به، وقضى وأَوجب، وأَلزم وحكم وهو خير الحاكمين، لا راد لقضائه، ولا معقب لحكمه. قال - تعالى -: " مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ " [يوسف/40]
وقال- سبحانه-: " وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ
মহান আল্লাহ তাঁদের সকলের দাওয়াত সম্পর্কে বলেছেন: "আমি প্রতিটি উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোককে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কিছু লোকের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।" [আন-নাহল: ৩৬]
- আর ইসলামে শাহাদাতাইনের দাবি এটাই: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, এবং আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়ত ব্যতিরেকে তাঁর ইবাদত করা যাবে না।
এর ওপরই শরিয়তের চাকা আবর্তিত হয়, আর এজন্যই সূরা আল-ফাতিহা পবিত্র কুরআনের সকল অর্থের সারসংক্ষেপ হয়েছে। অতঃপর এর একটি আয়াতে রয়েছে: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই।"
- আর আল্লাহর কিতাবে সূরা আল-বাকারার শুরুর দিকে প্রথম আদেশের দাবিও এটাই: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-বাকারা: ২১]
এই আয়াতে এবং এর পরবর্তী দুটি আয়াতে শাহাদাতাইনের মূল বক্তব্য নিহিত রয়েছে।
- আর আল্লাহ যা আদেশ করেছেন, ফয়সালা করেছেন, ওয়াজিব করেছেন এবং আবশ্যক ও নির্ধারিত করেছেন—আর তিনি সর্বোত্তম বিচারক, তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই এবং তাঁর হুকুমের ওপর কোনো মন্তব্যকারী নেই—তার দাবিও এটাই। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে কেবল কতগুলো নামের ইবাদত করছো, যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছো; আল্লাহ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না। এটাই সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" [ইউসুফ: ৪০]
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনার রব ফয়সালা করেছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে..."
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
إِحْسَانًا " [الإسراء/23]
- وهذا الأَمر العظيم، هو فاتحة كتاب الله، وخاتمته، لِإشعار المسلمين، بأَن ما بين الدفتين من آيات القرآن وسُوره، هو لتحقيق عبودية العبد لربه، وتوحيده له، ذلك أَن الله- سبحانه- افتتح كتابه بتوحيده في ألوهيته، وربوبيته، في قوله -تعالى-: (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) وبتوحيده- تعالى- في أَسمائه وصفاته في قوله- عَز َشأنه-: (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، وختم كتابه بذلك في " سورة الناس ": قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ (*) مَلِكِ النَّاسِ (*) إِلَهِ النَّاسِ) . ومعلوم أن توحيد الله في أَسمائه، وصفاته في هذه السورة على طريق التضمن والالتزام في نوعي التوحيد المذكورين نصًّا.
وهذا الاتباع والتأسي للشرع المطهر في أَبواب الدين كافة هو الطريق الموصل للعبد إِلى رضوان الله، ونعيم جنته.
قال الله- تعالى-: (وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا [الإسراء/19] .
وَمَنْ تتبَع أَسْرَارَ التنزيل، وجَدَ فِيْهِ مِنْ تعظيم أَمر هذا الدِّين عجبا.
فمن تعظيم الله لدينه أَن من أَخلَّ بتوحيده - سبحانه - مشركا معه غيره، فإِن الله لا يغفر له شركه، قال- تعالى-: " إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا " [النساء/ 48]
সদাচরণ করো।" [আল-ইসরা/২৩]
- এই মহান বিষয়টি আল্লাহর কিতাবের শুরু এবং শেষ, যাতে মুসলিমদের এটি জানানো যায় যে, দুই মলাটের মাঝে বিদ্যমান কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহ হলো রবের প্রতি বান্দার দাসত্ব এবং তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাব শুরু করেছেন তাঁর উলুহিয়্যাত এবং রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ বর্ণনার মাধ্যমে, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: (সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।) এবং তাঁর সুমহান নামের ও গুণের তাওহীদের মাধ্যমে যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: (পরম করুণাময়, অতি দয়ালু), আর তিনি তাঁর কিতাব সমাপ্ত করেছেন "সূরা আন-নাস" এর মাধ্যমে: (বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে)। এবং এটি সুপরিচিত যে, এই সূরায় আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহীদ বর্ণনা করা হয়েছে শব্দগতভাবে উল্লিখিত পূর্বের দুই প্রকার তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত ও আবশ্যক করার মাধ্যমে।
আর দ্বীনের সকল ক্ষেত্রে এই পবিত্র শরীয়তের অনুসরণ ও অনুকরণই হলো বান্দার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর জান্নাতের নেয়ামত লাভের একমাত্র পথ।
মহান আল্লাহ বলেন: (আর যে ব্যক্তি পরকাল চায় এবং তার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালায় মুমিন অবস্থায়, তবে এমন লোকদের প্রচেষ্টাই হবে সমাদৃত) [আল-ইসরা/১৯]।
আর যে ব্যক্তি ওহীর রহস্যসমূহ অনুসন্ধান করবে, সে তাতে এই দ্বীনের গুরুত্ব ও মহত্ত্বার বর্ণনায় বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পাবে।
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর দ্বীনকে মহান করার একটি বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর তাওহীদে ত্রুটি করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার এই শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে তিনি যাকে চান এর চেয়ে কম গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে তো এক মহাপাপের অপবাদ আরোপ করল।" [আন-নিসা/৪৮]
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال- سبحانه- على لسان عيسى بن مريم- عليه السلام: " إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ " [المائدة/ من الآية 72] .
- ومن تعظيمه- سبحانه- لِشَرِيْعَتِهِ: أَنَّ من خَرَجَ على نِظَامِها الفطري الصافي من الدَّخل، ولم يُحَكِّمْها، فَقَدْ حَكَمَ الله عليه، بأَنه: كافر ظالم. فاسق. في ثلاث آيات من: [سورة المائدة/ 44، 45،47]
وانظر إِلى هذه الآيات من سورة محمد، كأَنما أنزلت الساعة - والعبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب- قال الله- تعالى-:
" إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لَهُمْ (*) ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لِلَّذِينَ كَرِهُوا مَا نَزَّلَ اللَّهُ سَنُطِيعُكُمْ فِي بَعْضِ الْأَمْرِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِسْرَارَهُمْ (*) فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ (*) ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ " [الآيات: 25، 26، 27، 28] .
فليحذر المسلم من: " سنطيعكم في بعض الأمر ".
وليلتفت المسلم إِلى هذا العقاب الكبير ((إحباط الأَعمال)) لمن اتبع ما يُسْخِطُ الله، مثل: طاعة الكافرين، في تحكيم القوانين الوضعية، فإِنه محبط للأَعمال!
إلى غير ذلك من: نواقض الإسلام، ونواقض الإيمان، وكل هذا من تعظيم هذا الدِّين، وتعظيم شعائره، ورعاية حرمته، وحفظه من العاديات عليه. ونحن نشهد بالله، وكل مسلم يشهد: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بَلغَ هذا
এবং তিনি—সুবহানাহু—ঈসা ইবনে মারইয়াম—আলাইহিস সালাম—এর মুখে বলেছেন: "নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে আগুন। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।" [আল-মায়িদাহ/ ৭২ নম্বর আয়াতের অংশ] .
—এবং তাঁর—সুবহানাহু—শরীয়তকে মহিমান্বিত করার একটি দিক হলো: যে ব্যক্তি এর স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক (ফিতরি) ব্যবস্থা থেকে বিচ্যুত হলো এবং একে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করল না, আল্লাহ তার ওপর ফয়সালা দিয়েছেন যে সে: কাফির, যালিম ও ফাসিক। [সূরা আল-মায়িদাহ/ ৪৪, ৪৫, ৪৭] এই তিনটি আয়াতে।
এবং সূরা মুহাম্মাদের এই আয়াতগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন, যেন মনে হয় তা এখনই অবতীর্ণ হয়েছে—আর মূল ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা, বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপট নয়—আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"নিশ্চয় যারা তাদের নিকট হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে, শয়তান তাদের কাজকে সুশোভিত করেছে এবং তাদেরকে দীর্ঘ আশার প্রলোভন দিয়েছে। (*) এটি এজন্য যে, তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা যারা অপছন্দ করে তাদেরকে বলেছিল: আমরা কিছু বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করব। আর আল্লাহ তাদের গোপন বিষয়গুলো জানেন। (*) তখন কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করবে এবং তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করবে? (*) এটি এজন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে রাগান্বিত করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।" [আয়াত: ২৫, ২৬, ২৭, ২৮] .
অতএব মুসলিমের সতর্ক হওয়া উচিত এই কথা থেকে: "আমরা কিছু বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করব।"
এবং মুসলিমের লক্ষ্য রাখা উচিত এই কঠিন শাস্তির প্রতি ((আমলসমূহ নিষ্ফল হওয়া)) যা তার জন্য যে আল্লাহর অসন্তুষ্টির অনুসরণ করে, যেমন: মানবরচিত আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাফিরদের আনুগত্য করা; কারণ তা আমলসমূহকে ধ্বংস করে দেয়!
এ ছাড়াও ইসলামের অন্যান্য বিধ্বংসী বিষয় এবং ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ—আর এই সব কিছুই এই দ্বীনকে মহিমান্বিত করা, এর নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এর পবিত্রতা রক্ষা এবং একে আগ্রাসন থেকে হেফাযত করার অন্তর্ভুক্ত। আমরা আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং প্রত্যেক মুসলিম সাক্ষ্য দেয় যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পৌঁছে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأمر، حق البلاغ، في القرآن العظيم، والسُنَّةِ المشرفة، والسُنَّة قطرة من بحر القرآن الزاخر كما في قوله- تعالى-: " وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ " [من الآية/7 من سورة الحشر] .
فدليل التأسي، والمتابعة، والاقتداء، بلغنا كاملا غير منقوص، وافيا غير مبخوس، على لسان المُبَلِّغ به لأمته صلى الله عليه وسلم
قال الله - تعالى -: " الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا " [المائدة/ من الآية 3]
وبوفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم انتهى " تاريخ التشريع الِإسلامي ".
حاوياً: أَحكام الاعتقاد والفضائل والآداب، والأَحكام الفروعية، تفصيلاً أو تأصيلاً ببيان الأصول والقواعد العامة، التي تتناول مالا يتناهى من واقعات الأَحكام الفروعية، مهما تباعدت الأَوطان، واختلفت الأَزمان، والأَجيال وهذا ينسجم تماما مع عموم الرسالة، كما قال الله- سبحانه-: " وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ " [سبأ/28]
وفي ظل هذه: " الأصول العامة " دخلَ: دور (1) " تاريخ الفقه
--------------------------------------------
আদেশ, প্রচারের প্রকৃত হক মহান কুরআন এবং সম্মানিত সুন্নাহর মধ্যে নিহিত। সুন্নাহ হলো কুরআনের বিশাল সমুদ্রের একটি বিন্দুমাত্র, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [সূরা আল-হাশর: ৭ এর অংশ]।
সুতরাং অনুসরণ, অনুগমন এবং অনুকরণের প্রমাণাদি আমাদের নিকট পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিহীনভাবে পৌঁছেছে, কোনো ঘাটতি ছাড়াই তা পরিপূর্ণ হয়েছে। আর এটি পৌঁছেছে তাঁর উম্মতের কাছে প্রচারকারী রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩ এর অংশ]
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাতের মাধ্যমে "ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নের ইতিহাস" সমাপ্ত হয়েছে।
এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: আকিদা বা বিশ্বাসের বিধান, ফযীলত ও শিষ্টাচার এবং শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধানসমূহ। এগুলি বিস্তারিত বর্ণনা বা মৌলিক নীতিমালা ও সাধারণ কায়দা-কানুন বিবৃতির মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, যা অগণিত শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ঘটনাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা দেশ, কাল ও প্রজন্মের পার্থক্যে যতই সুদূরপ্রসারী হোক না কেন। এটি এই রিসালাতের সর্বজনীনতার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "আমি তো তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" [সূরা সাবা: ২৮]
আর এই "সাধারণ মূলনীতিসমূহের" ছায়াতলে সূচিত হয়েছে: (১) "ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাসের" যুগ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الِإسلامي " على يد علماء أمة محمد صلى الله عليه وسلم من لدن الصحابة- رضي الله عنهم مروراً بالتابعين لهم، فَمَنْ بَعْدَهُم إِلى الآخر بما أمرت به هذه الشريعة من واجب " التحمل " و " البلاغ "، على علماء هذه الأُمة المرحومة، وفيما منحته لهم من " فقه الاستدلال وحق الاستنباط ". من هُنا بقي المجال لعلماء أُمته صلى الله عليه وسلم في وظائفهم العلمية، الثلاث: التحمل. والتبليغ. والاستنباط.
قال الله- تعالى-: " وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ " [التوبة/ 122]
وفي " الفقيه والمتفقه " للخطيب: (2/ 44- 46) : و " الطَّبقات " لابن أبي يعلى: عن الإمام أَحمد بن محمد بن حنبل ت سنة (241 هـ) - رحمه الله تعالى- أَنه قال: " أصول الِإيمان ثلاثة: دَال، وَدلِيْل، ومستدل.
الدَّالُّ هو الله. والدليل: القرآن. والمبلِّغ: رسول الله صلى الله عليه وسلم. والمستدلون: هم العلماء فمن طعن على الله وعلى كتابه وعلى رسوله فقد كفر".
أَمام هذه المنحة الشرعية للعلماء وهي: " مرتبة الاستدلال وحق الاستنباط " لقاء واقعات الناس، ونوازلهم، يبذل الفقيه الوسع لاستخراج الأحكام العملية الاجتهادية من أَدلتها التفصيلية.
وهذه المنحة مستمرة باقية لعلماء الأمة، فلا تلتفت إِلى دعوى سَدّ باب الاجتهاد ووجوب التقليد، كما قاله- أول من قاله-: ابن الصلاح الشافعي، المتوفى سنة (643 هـ) - رحمه الله تعالى- ولا تلتفت إلى ما صنفه اللَّقاني، المتوفى سنة (1041 هـ) - رحمه الله تعالى- من إدخال
ইসলামী [ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়েছে] মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের আলেমদের হাতে, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে শুরু করে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত। এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের আলেমদের ওপর এই শরীয়ত ‘ইলম অর্জন’ ও ‘পৌঁছে দেওয়ার’ যে আবশ্যিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে এবং তাঁদেরকে ‘দলিল ভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ ও বিধান উদ্ঘাটনের যে অধিকার’ প্রদান করেছে, তার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এখান থেকেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের আলেমদের জন্য তাঁদের তিনটি ইলমি দায়িত্বের ক্ষেত্র অবশিষ্ট রয়েছে: ইলম অর্জন, প্রচার এবং বিধান উদ্ঘাটন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর মুমিনদের পক্ষে একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বগোত্রীয়রা যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।” [আত-তাওবাহ: ১২২]
খতিব বাগদাদীর ‘আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ’ (২/৪৪-৪৬) এবং ইবনে আবি ইয়া'লার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “ঈমানের মূল ভিত্তি তিনটি: পথপ্রদর্শক, দলিল এবং দলিল অন্বেষণকারী।
পথপ্রদর্শক হলেন আল্লাহ। দলিল হলো কুরআন। আর প্রচারকারী হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর দলিল অন্বেষণকারী হলেন আলেমগণ; সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের ওপর কটাক্ষ করল, সে কুফরি করল।”
আলেমদের জন্য এই শরয়ী অনুগ্রহ—যা হলো মানুষের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘দলিল প্রয়োগের মর্যাদা এবং বিধান উদ্ঘাটনের অধিকার’—এর সামনে দাঁড়িয়ে ফকিহ ব্যক্তি বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আমলি ইজতিহাদি বিধানসমূহ বের করার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন।
আর এই অনুগ্রহ উম্মতের আলেমদের জন্য অব্যাহত ও চিরস্থায়ী। সুতরাং ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার দাবি এবং তাকলিদ ওয়াজিব হওয়ার মতবাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না, যেমনটি সর্বপ্রথম বলেছিলেন ইবনুস সালাহ আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৬৪৩ হি.) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আল-লাক্কানি (মৃত্যু ১০৪১ হি.) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— যা রচনা করেছেন সেদিকেও লক্ষ্য করবেন না, যেখানে তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وجوب التقليد في قضايا الاعتقاد، بقوله نظماً:
فواجب تقليد حَبْر منهم
… كذا حكى القوم بلفظ يُفهم
ورحم الله الشوكاني، المتوفى سنة (1250 هـ (1)) ، إِذ قال في رَدِّه دَعْوى سَد بَابِ الاجتهاد، ووجوب التقليد، إِنَّها: " رفع للشريعة بأَسرها ونسخ لها ".
إِنَّهُ بهذه المنحة - السلطة الفقهية - اجتهد، أوْلاءِ الهُدَاة المصلحون، أولو البصائر، في الاعتناء بالفقه في دين الله، والتمكن من إِتقان الاستنباط، وَرَصْد النوازل، والواقعات، وعرضها على الدليل، وساروا في ذلك سَيْراً حثيثاَ، واسْتَمَرَّ بهم دُوْلَابُ الحَيَاة إِلى الإمام قُدُماَ، في الاستدلال، والاستنباط، والتعليل، والتدليل، وإِرجاع الأَقاويل إِلى القسطاس المستقيم، والِإذعان للدليل، فكانوا في دَأَبِهِم كما قيل.
" سير السَوَاني سفر لا ينقطع "
فحازوا على إِرث عظيم، كُلٌّ حَسْبَ القَرَائح والفُهوم، ومَاَ أؤتي من عبقرية، ونبوغ في العلم، والفقه، ونبوغٍ في صناعة التأليف:
--------------------------------------------
আকিদার বিষয়সমূহে তাকলিদ করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে কাব্যের আকারে তিনি বলেছেন:
তাদের মধ্য থেকে একজন বিজ্ঞ আলেমের তাকলিদ করা ওয়াজিব... আলেমগণ এভাবেই তা বোধগম্য শব্দে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ইমাম শাওকানিকে (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি (১)) রহম করুন; তিনি যখন ইজতিহাদের দ্বার বন্ধ হওয়ার এবং তাকলিদ ওয়াজিব হওয়ার দাবির খণ্ডন করছিলেন, তখন বলেছিলেন: "এটি মূলত সমগ্র শরিয়তকে তুলে নেওয়া এবং তাকে রহিত করার নামান্তর।"
নিশ্চয়ই এই বিশেষ অনুগ্রহ—যা হলো ফিকহি কর্তৃত্ব—এর মাধ্যমে সেই সকল সংস্কারক পথপ্রদর্শক এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গ আল্লাহর দ্বীনের ফিকহ বা গভীর সমঝের প্রতি মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন। তারা মাসয়ালা উদ্ভাবন, নতুন উদ্ভূত সমস্যা ও ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলোকে দলিলের সামনে পেশ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তারা এ পথে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়েছেন। দলিল উপস্থাপন, মাসয়ালা উদ্ভাবন, কারণ বিশ্লেষণ, প্রমাণ প্রদান এবং বিভিন্ন মতকে সঠিক মাপকাঠিতে ফিরিয়ে আনা ও দলিলের নিকট মস্তক অবনত করার ক্ষেত্রে সময়ের পরিক্রমা তাদের পূর্বসূরি ইমামগণের পথেই এগিয়ে নিয়ে গেছে। তারা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ঠিক তেমনই ছিলেন যেমনটি বলা হয়েছে:
"পানি বহনকারী পশুর বিরামহীন চলার মতো এই সফর কখনও শেষ হয় না।"
ফলে তারা এক মহান উত্তরাধিকার অর্জন করেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ মেধা ও প্রজ্ঞা এবং তাদের প্রদত্ত অনন্য সাধারণ প্রতিভা, ইলম ও ফিকহে গভীর পাণ্ডিত্য এবং গ্রন্থ রচনার শৈল্পিক নিপুণতার অনুপাতে তা লাভ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فِتْيَةٌ لَمْ تَلِدْ سِوَاها المَعَالِي
… والمعالي قليلة الأَوْلَاد
وخَلفوا - أحسن الله إِليهم - هذه الثروة العظيمة: ألوف المؤلفات، فيها آلاف مؤلفة مِن المسائل، والنوازل، والأقضيات، في أصول الشريعة، وأَحكامها الفقهية الاجتهادية، العائدة إِلى حفظ الدِّين، والنفس، والعقل، والعِرض، والمال، حتى إِن الناظر في مآثرهم، وسِيَرِهم، وآثارهم؛ ليعجب مما آتاهم الله، من علم، وعمل، وبصيرة، وفَهْم، بما يَقْطع معه بعدم وجود نظير لهم على مَسْرح العَالَم؛ ولذا طار لهم دَوِيٌّ في أَكناف البسيطة، وَعَكَفَ الهُداة على دراسة شخصياتهم وفقههم، وحسن أَثرهم على الناس، وكانوا شرفا لأَمة محمد صلى الله عليه وسلم تباهي بهم الأمم. وكانت هذه المنحة الإسلامية لهم، من أَسباب سعة هذا الدِّين، وانتشاره، وقبوله، واستقباله ما يرد عليه من قضايا، ومستجدات.
وما أَجْمَلَ ما قاله ابن قتيبة، المتوفى سنة (276 هـ) - رحمه الله تعالى - في وصف حالة صدر هذه الأمة، وسلفها، في طلب العلم، إِذ قال (1) : " كان طالب العلم فيما مضى، يَسمع لِيعلم، ويَعلم لِيعمل، ويَتفقه في دين الله لينتفع وينفع وقد صار الآن: يَسمع ليجمع، ويجمع؛ لِيُذكر، ويحفظ؛ لِيغلِب ويفخر " انتهى
وكان من هؤلاء الأئمة الهُداة، والأثبات الثقات، الذين تبوَّؤا مكان
--------------------------------------------
তারা এমন এক যুবক দল যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব ব্যতিরেকে আর কেউ জন্ম দেয়নি
… আর শ্রেষ্ঠত্বের সন্তান তো অতি নগণ্য।
তারা রেখে গেছেন—আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন—এই মহান সম্পদ: হাজার হাজার গ্রন্থ, যাতে রয়েছে মাসয়ালা, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের হাজার হাজার সংকলন; যা শরীয়তের মূলনীতি ও এর গবেষণালব্ধ ফিকহি বিধান সংশ্লিষ্ট, যা দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, সম্মান ও সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যপূরণ করে। এমনকি যে ব্যক্তি তাদের গৌরবগাথা, জীবনী ও কীর্তিসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তিনি আল্লাহ তাদের যে ইলম, আমল, অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দান করেছেন তা দেখে বিস্মিত হন; যার ফলে তিনি নিশ্চিত হন যে বিশ্বমঞ্চে তাদের কোনো নজির নেই। একারণেই পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে তাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং পথপ্রদর্শকগণ তাদের ব্যক্তিত্ব, ফিকহ এবং মানুষের ওপর তাদের উত্তম প্রভাব অধ্যয়নে নিবিষ্ট হয়েছেন। তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের জন্য ছিলেন এক গৌরব, যাদেরকে নিয়ে এই উম্মত অন্যান্য জাতির সামনে গর্ব করে। তাদের প্রতি এই ইসলামি বিশেষ দান ছিল এই দ্বীনের প্রশস্ততা, প্রসার, গ্রহণযোগ্যতা এবং এর ওপর আপতিত বিভিন্ন নব্য সমস্যা ও বিষয়াবলিকে গ্রহণ করে নেওয়ার অন্যতম কারণ।
ইবনে কুতাইবা (মৃত্যু: ২৭৬ হিজরি)—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে এই উম্মতের প্রথম ভাগ ও সালাফদের অবস্থার বর্ণনায় কতই না চমৎকার বলেছেন! তিনি বলেছেন (১): "অতীতকালে ইলম অন্বেষণকারী জানার জন্য শ্রবণ করত, আমল করার জন্য জানত এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করত যেন নিজে উপকৃত হতে পারে এবং অন্যকে উপকৃত করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে সে হয়েছে এমন: যে জমা করার জন্য শোনে, আর জমা করে যেন তার নাম আলোচিত হয়; সে মুখস্থ করে যেন তর্কে জয়ী হতে পারে এবং গর্ব করতে পারে।" (সমাপ্ত)
আর এই পথপ্রদর্শক ইমাম এবং নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তারা, যারা সুউচ্চ স্থান দখল করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصَّدارة، والإمامة في الأُمة، وَتَطَوَّرَتْ مَرَاحِلُ الفقه عَلَى يَدَيْه، بالابتكار والافْتراع: شيخ الِإسلام والمسلمين- في زمانه- أَبو عبد الله أَحمد بن محمد بن حنبل الشيباني البغدادي المولود في 20/3/164، والمتوفى بها ضحوة: 12/ 3/ 241 هـ.- رحمه الله تعالى-؛ إِذْ صَرَفَ وَجْهَ عِنَايَتهِ إِلَى فِقْهِ الدَّليل، وقَفْوِ السُّنن، واتِّباع الأَثر فاستحق هذا الإمام الحُجَّة، أن يُسَمَّى: " إِمام أَهل السنة "؛ وَلذَا سمى الأثرم كتابه في فقه أحمد: " السُّنن "، ورُزق تلامذة يَحْتَذُوْنَ حَذْوَه، وَيقْتَفُوْنَ قَفْوه، فَدَوَّنوا فقهه، وأَسندوه، وتناقلوه، ونشروه، حتى تم تكَوَّن فقهه في خاتمة الفقهاء الأَربعة المشهورين، عَلَى مَشَارِفِ القرن الرابع الهجري، وصار من أَتباعه: فقهاء مبرزون، وقضاة، ومُفْتون، ومن تلاميذ مدرسته: فقهاء محققون على طريقته، ومؤلفون في فقهه ومذهبه، فاشتغلوا في إِرجاع فروعه إِلى أصولها، وفَسْر مصطلحاته، وتهذيبها، ومَدُّوا فقهه بالتخريج عليه، والتنقيب عن مفهومه، ولازمه، والقياس عليه، وما يتبع ذلك من التخاريج، والنقل والتخريج، والوجه، والاحتمال، والتوجيه.
وقد بلغ المُتَرْجَمُ لَهُم منهم نحو أربعة آلاف عالم موزعين على الأَمصار في قاعدته الأولى: " بغداد " ثم في قاعدته الثانية: " الشام " ثم في مصر وما وراء النهر ثم في قاعدته الثالثة: " جزيرة العرب "، وغيرها من الممالك الإسلامية.
وبلغت آثار نحو خمسمائة عالم منهم في: الفقه، وأصوله، وقواعدهما، وضوابطهما، نحو أربعمائة وألف " 1400 " كتاب، بدءاً مِنْ
উম্মাহর নেতৃত্ব এবং ইমামত এবং তাঁর হাতেই উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ফিকহের বিভিন্ন স্তর বিকশিত হয়েছে। তিনি হলেন তাঁর সময়ের শায়খুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন—আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী আল-বাগদাদী, যিনি ১৬৪ হিজরির ২০/৩ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরির ১২/৩ তারিখে পূর্বাহ্নে সেখানে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। যেহেতু তিনি তাঁর বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন দলীলভিত্তিক ফিকহ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং আসারের (পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক) অনুসরণের দিকে, তাই এই দলীল-প্রমাণসমৃদ্ধ ইমাম 'ইমামু আহলিস সুন্নাহ' (আহলুস সুন্নাহর ইমাম) উপাধি পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। এই কারণেই আল-আছরাম আহমদ (রহ.)-এর ফিকহ বিষয়ক তাঁর কিতাবটির নাম দিয়েছেন 'আস-সুনান'। তিনি এমন সব ছাত্র লাভ করেছিলেন যারা তাঁর পথ অনুসরণ করতেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। ফলে তাঁরা তাঁর ফিকহ সংকলন করেছেন, তা সনদসহ বর্ণনা করেছেন, পরস্পর তা আদান-প্রদান করেছেন এবং প্রচার করেছেন; এমনকি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রাক্কালে প্রসিদ্ধ চার ফকীহের সর্বশেষ হিসেবে তাঁর ফিকহ পূর্ণতা লাভ করে। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশিষ্ট ফকীহগণ, বিচারকগণ এবং মুফতীগণ। তাঁর ইলমী ধারার ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পদ্ধতিতে পারদর্শী গবেষক ফকীহগণ এবং তাঁর ফিকহ ও মাযহাব বিষয়ে গ্রন্থ প্রণেতাগণ। তাঁরা তাঁর ফিকহের শাখাগত বিষয়গুলোকে মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত করতে, তাঁর পারিভাষিক শব্দগুলোর ব্যাখ্যা ও পরিমার্জনে লিপ্ত ছিলেন। তাঁরা 'তাখরীজ' (উপমূলনীতি বের করা), এর অন্তর্নিহিত মর্মার্থ অনুসন্ধান, এর আবশ্যকতা, কিয়াস এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ যেমন—বর্ণনা ও আহরণ, অভিমত (ওয়াজহ), সম্ভাব্যতা (ইহতিমাল) এবং ব্যাখ্যার (তাওজীহ) মাধ্যমে তাঁর ফিকহকে সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত করেছেন।
যাঁদের জীবনী গ্রন্থাবদ্ধ হয়েছে তাঁদের মধ্যে তাঁদের সংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজার আলেম, যাঁরা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে ছিঁড়িয়ে ছিলেন; প্রথমে তাঁদের মূল কেন্দ্র 'বাগদাদে', এরপর দ্বিতীয় কেন্দ্র 'শামে' (সিরিয়া অঞ্চল), তারপর মিশরে ও মা-ওয়ারাউন নাহরে, এবং এরপর তাঁদের তৃতীয় কেন্দ্র 'আরব উপদ্বীপে' ও অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রসমূহে।
তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচশত আলেমের ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং এ দুটির মূলনীতি ও নিয়ামাবলী বিষয়ক রচনার সংখ্যা প্রায় এক হাজার চারশত (১৪০০) কিতাব, যা শুরু হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كُتُبِ الإمام، ثم كُتُب مسائل تلامذته في الرواية عنه، ثم الكتب الجامعة لها، والتي قُدّرَت مسائلها بنحو ستين أَلف مسألة، ومن اشتغال الأَصحاب عليها في متن مختصر، فمتوسط، فمطولٍ، وما يلحق ذلك، من شروح، وحواشٍ، وتفسيرِ غريب، وتخريج أَحاديث، وما يداخل ذلك من تخريجات للأَصحاب في الفرعيات، وفق ضوابط التخريج الفقهي المذهبي.
وقد حصل في طائفة منها: اختلاف في الروايات عن الإمام، واختلاف عن الأَصحاب في التخريجات.
فكانت الحال في هذا المذهب، كالشأن في أي مذهب: من وجود روايتين، أَو قولين، فأَكثر، لِإمام واحد في مسألة واحدة، لكن في وقتين مختلفين أَو أَوقات. وهذا لا إنكار فيه، ولا اعتراض عليه، أَما في وقت واحد فلا يَقَع.
ففي المذهب الحنفي، قال أَبو يوسف، المتوفى سنة (182 هـ) - رحمه الله تعالى- (1) : " ما قلت قولاً خالفت فيه أَبا حنيفة، إلا وهو قول قد قاله أَبو حنيفة، ثم رغب عنه "
وَتعدد الأَقوال والآراء في: " المذهب الحنفي " طبيعة له، يقتضيها الجُنوح إلى الرأي وعن الاختلاف في المذهب المالكي، حَكَى البقاعي، عن شرف الدين يحيى الكندي، أنه سُئِلَ: مَا لمَذهبكم كثير الخلاف؟ قال: " لِكَثْرة
--------------------------------------------
ইমামের কিতাবসমূহ, অতঃপর তাঁর থেকে বর্ণিত তাঁর ছাত্রদের মাসআলা সম্বলিত কিতাবসমূহ, এরপর সেগুলোর সংকলিত গ্রন্থসমূহ—যার মাসআলা সংখ্যা প্রায় ষাট হাজার হিসেবে নিরূপিত হয়েছে; এবং ইমামের অনুসারীগণের (আসহাব) সেই মাসআলাগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত, মাঝারি ও বিস্তারিত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলি যেমন—ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা, দুরূহ শব্দের বিশ্লেষণ, হাদিসের উৎস নির্ণয় এবং মাযহাবী ফিকহি মূলনীতির আলোকে শাখা-প্রশাখায় অনুসারীগণের উদ্ভূত সমস্যার সমাধান (তাখরিজাত) প্রদানের মাধ্যমে এগুলোতে নিয়োজিত থাকা।
এর মধ্যে একটি অংশে ইমামের নিকট থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে এবং অনুসারীগণের গবেষণামূলক সিদ্ধান্তের (তাখরিজাত) ক্ষেত্রে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
সুতরাং এই মাযহাবের অবস্থা অন্য যেকোনো মাযহাবের মতোই ছিল: যেখানে একই মাসআলায় একজন ইমামের নিকট থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনা বা মত পাওয়া যায়, যা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বা প্রেক্ষাপটে ব্যক্ত হয়েছে। এতে কোনো অস্বীকৃতি বা আপত্তির অবকাশ নেই; তবে একই সময়ে বিপরীতধর্মী একাধিক মত ঘটা সম্ভব নয়।
হানাফি মাযহাবের ক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফ (মৃত্যু ১৮২ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— (১) বলেন: "আমি এমন কোনো কথা বলিনি যাতে আমি আবু হানিফার বিরোধিতা করেছি, বরং সেটি এমন এক কথা যা আবু হানিফা নিজেই বলেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি তা থেকে বিমুখ হয়েছেন।"
“হানাফি মাযহাবে” বহুবিধ মত ও দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থিতি এর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, যা রায় বা যৌক্তিক অভিমতের দিকে প্রবণতার কারণে অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর মালিকি মাযহাবের মতপার্থক্য সম্পর্কে আল-বিকায়ি, শারাফুদ্দীন ইয়াহইয়া আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: আপনাদের মাযহাবে এত অধিক মতভেদ কেন? তিনি উত্তর দিলেন: "প্রচুর পরিমাণের কারণে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ ওয়া তাখরিজাতুল আসহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نُظَّاره في زمن إِمامه " (1) .
ولا عجب فقد نُقِلَ عن الإمام مالك- رحمه الله تعالى- إِلى العراق نحو سبعين أَلف مسألة فاختلف الناس في مذهبه لاختلاف نشرها في الآفاق (2) . وعن الاختلاف في المذهب الشافعي، فمعلوم ما للِإمام الشافعي - رحمه الله تعالى - من القول القديم، ثم القول الجديد، بعد نزوحه إِلى مصر، وقد أَلَّف محمد بن إبراهيم المناوي الشافعي ت سنة (746 هـ) - رحمه الله تعالى- كتابه في ذلك: " فرائد الفوائد في اختلاف القولين لمجتهد واحد ".
وأَشار النووي، المتوفى سنة (676 هـ) - رحمه الله تعالى- في مقدمة: " المجموع: 1/ 4- 5 " إلى ما في كتب المذهب الشافعي من الاختلاف الشديد بين الأَصحاب، وطريق تَعيِينِ المذهب.
فهذه الثروة الفقهية المباركة تكونت من " فروع اجتهادية " على رواية واحدة عن الفقيه الواحد، أَو فيها اختلاف في المذهب على روايتين فأكثر أَو مخالفة التلاميذ لشيخهم، والأَصحاب لإمام المذهب.
أَو خلاف عالٍ مع الأَئمة المجتهدين أَو بعضهم.
أَو فرع اجتهادي مخرج من أَصحاب ذلك الإمام على أصول مذهبه، وقواعده، اتفاقا بين الأَصحاب، أَو اختلافاً في التخريج وكل هذه الأنماط مشمولة باسم: " الاختلاف الفقهي بمعناه العام
--------------------------------------------
তাঁর ইমামের সমসাময়িক তাঁর পর্যালোচনাকারীরা (১)।
আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ ইমাম মালিক -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- থেকে ইরাকে প্রায় সত্তর হাজার মাসআলা বর্ণিত হয়েছে, ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে সেগুলো ছড়িয়ে পড়ার ভিন্নতার কারণে তাঁর মাযহাবের বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে (২)। আর শাফেয়ী মাযহাবের মতভেদের বিষয়ে বলতে গেলে, ইমাম শাফেয়ী -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর হিজরত করে মিশরে যাওয়ার পূর্বের 'পুরানো মত' (কওল কদীম) এবং পরবর্তী 'নতুন মত' (কওল জাদীদ) সম্পর্কে যা জানা যায় তা সুবিদিত। মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মুনাওয়ী আল-শাফেয়ী (মৃত্যু: ৭৪৬ হিজরি) -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এই বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেছেন: "ফরাইদুল ফাওয়াইদ ফি ইখতিলাফিল কাওলাইনি লি-মুজতাহিদ ওয়াহিদ"।
ইমাম নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি) -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর "আল-মাজমু: ১/ ৪-৫" গ্রন্থের ভূমিকায় শাফেয়ী মাযহাবের কিতাবসমূহে অনুসারীদের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র মতভেদ এবং মাযহাবের সঠিক মত নির্ধারণের পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
সুতরাং এই বরকতময় ফিকহী সম্পদ এমন সব "ইজতিহাদি শাখা-উপশাখা" থেকে গঠিত হয়েছে যা কোনো একজন ফকীহ থেকে বর্ণিত একটি মাত্র বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, অথবা যাতে মাযহাবের মধ্যে দুই বা ততোধিক বর্ণনার কারণে মতভেদ রয়েছে, কিংবা শাইখের সাথে ছাত্রগণের অথবা মাযহাবের ইমামের সাথে অনুসারীদের মতবিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
অথবা যা মুজতাহিদ ইমামগণের মাঝে বা তাঁদের কয়েকজনের মধ্যে বিদ্যমান উচ্চতর মতভেদ থেকে এসেছে।
অথবা কোনো ইজতিহাদি শাখা-উপশাখা যা সেই ইমামের অনুসারীরা তাঁর মাযহাবের মূলনীতি ও নিয়মাবলীর ভিত্তিতে আহরণ করেছেন, চাই তা অনুসারীদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে হোক বা আহরণ পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে হোক। আর এই সকল প্রকারভেদ "সাধারণ অর্থে ফিকহী মতভেদ" নামের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------