Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: -)
المدائح النبوية حتى نهاية العصر الملوكي   (محمود سالم محمد)

القسم: فهارس الكتب والأدلة


الكتاب: المدائح النبوية حتى نهاية العصر الملوكي

المؤلف: د محمود سالم محمد

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الأولى - 1417 هـ

عدد الصفحات: 589

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ (নবী প্রশস্তিমূলক কবিতা) মামলুকি যুগের সমাপ্তি পর্যন্ত   (মাহমুদ সালিম মুহাম্মাদ)

বিভাগ: গ্রন্থের নির্ঘণ্ট ও নির্দেশিকা


গ্রন্থ: মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ (নবী প্রশস্তিমূলক কবিতা) মামলুকি যুগের সমাপ্তি পর্যন্ত

লেখক: ড. মাহমুদ সালিম মুহাম্মাদ

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المحتوى

الموضوع الصفحة المحتوى 5

المقدمة 9

الباب الأول: بواعث ازدهار المديح النبوي وانتشاره 15

الفصل الأول: الأسباب السياسية 19

الصراع الخارجي 19

الصراع الداخلي 20

الفصل الثاني: الأسباب الاجتماعية 23

المظالم والكوارث 23

المفاسد الاجتماعية 24

الفصل الثالث: الأسباب الدينية 26

مجادلة أهل الكتاب 27

مخالفة الشريعة 30

المظاهر الدينية 31

الجدل المذهبي 37

انتشار التصوف 39

الرؤيا 41

الباب الثاني: نشأة المدح النبوي وحدوده 45

الفصل الأول: نشأة المدح النبوي 47

القسم الأول- المديح والرثاء والمديح النبوي 47

القسم الثاني- المدح النبوي في حياة الرسول 57

القسم الثالث- في العصر الراشدي والأموي 75

القسم الرابع- في العصر العباسي 87
সূচিপত্র

বিষয় পৃষ্ঠা বিষয়বস্তু ৫

ভূমিকা ৯

প্রথম অধ্যায়: নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্যের সমৃদ্ধি ও বিস্তারের কারণসমূহ ১৫

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক কারণসমূহ ১৯

বাহ্যিক সংঘাত ১৯

অভ্যন্তরীণ সংঘাত ২০

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক কারণসমূহ ২৩

জুলুম-অবিচার ও দুর্যোগসমূহ ২৩

সামাজিক অনাচারসমূহ ২৪

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় কারণসমূহ ২৬

আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক ২৭

শরিয়ত বিরোধী কার্যকলাপ ৩০

ধর্মীয় রূপসমূহ ৩১

মাযহাবি বিতর্ক ৩৭

তাসাউফের বিস্তার ৩৯

স্বপ্ন ৪১

দ্বিতীয় অধ্যায়: নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্যের উদ্ভব ও এর সীমা ৪৫

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্যের উদ্ভব ৪৭

প্রথম অনুচ্ছেদ- প্রশংসা, শোকগাঁথা ও নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্য ৪৭

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্য ৫৭

তৃতীয় অনুচ্ছেদ- রাশিদুন ও উমাইয়া যুগে ৭৫

চতুর্থ অনুচ্ছেদ- আব্বাসীয় যুগে ৮৭
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৬)
الموضوع الصفحة

القسم الخامس- في العصر الفاطمي والأيوبي 106

الفصل الثاني: حدود المديح النبوي 125

القسم الثاني- مدح آل البيت 129

القسم الثالث- الشعر الصوفي 150

القسم الرابع- التشوق إلى المقدسات 171

القسم الخامس: المولد النبوي 185

الباب الثالث: المدحة النبوية 205

الفصل الأول: المضمون 209

القسم الأول- المدح بالقيم التقليدية 209

القسم الثاني- المدح الديني 218

محبته 219

فضائله 220

هديه 222

السيرة 226

المعجزات 230

تفضيله 242

الحقيقة المحمدية 247

الرسول والبشرية 254

التوسل به والصلاة عليه 259

آثار النبي الكريم 276

ذكر الآل والصحابة 278

القسم الثالث- مواضيع أخرى 280

الحديث عن المديح النبوي في قصائد المديح 285

القسم الرابع- المعاني 291
বিষয় পৃষ্ঠা

পঞ্চম বিভাগ- ফাতিমি ও আইয়ুবি যুগে ১০৬

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী-প্রশস্তির সীমানা ১২৫

দ্বিতীয় বিভাগ- আহলে বায়তের প্রশংসা ১২৯

তৃতীয় বিভাগ- সুফি কবিতা ১৫০

চতুর্থ বিভাগ- পবিত্র স্থানসমূহের প্রতি ব্যাকুলতা ১৭১

পঞ্চম বিভাগ: ঈদে মিলাদুন্নবী ১৮৫

তৃতীয় অধ্যায়: নবী-প্রশস্তি ২০৫

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিষয়বস্তু ২০৯

প্রথম বিভাগ- ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের মাধ্যমে প্রশংসা ২০৯

দ্বিতীয় বিভাগ- ধর্মীয় প্রশংসা ২১৮

তাঁর প্রতি ভালোবাসা ২১৯

তাঁর গুণাবলী ২২০

তাঁর আদর্শ ২২২

সিরাত ২২৬

মুজিজাসমূহ ২৩০

তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ২৪২

হাকিকতে মুহাম্মাদিয়া ২৪৭

রাসূল এবং মানবতা ২৫৪

তাঁর মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ ও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ ২৫৯

নবি করিমের স্মৃতিচিহ্ন ২৭৬

আহলে বায়ত ও সাহাবায়ে কেরামের আলোচনা ২৭৮

তৃতীয় বিভাগ- অন্যান্য বিষয় ২৮০

প্রশংসামূলক কবিতায় নবী-প্রশস্তি সম্পর্কে আলোচনা ২৮৫

চতুর্থ বিভাগ- অর্থসমূহ ২৯১
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৭)
الموضوع الصفحة

الفصل الثاني- الأسلوب 310

القسم الأول- الشكل الشعري 316

ذكر الأماكن 316

الغزل 320

الرحلة 324

وصف الطبيعة 325

الوعظ 327

الدعاء 329

المباشرة بالمدح 330

الانتقال 332

الرجز 334

المقطوعات 335

ضروب النظم 337

الأشكال المتميزة 349

القيود الشكلية 352

النظم 354

المعارضة 358

الوزن والقافية 362

القسم الثاني- الصياغة والأسلوب 377

النظم 383

التصنع 389

الألفاظ 397

القسم الثالث- الصنعة الفنية 406

الصنعة الخيالية 409

الصنعة اللفظية 419
বিষয় পৃষ্ঠা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ- শৈলী ৩১০

প্রথম অংশ- কাব্যিক রূপ ৩১৬

স্থানের উল্লেখ ৩১৬

গজল ৩২০

ভ্রমণ ৩২৪

প্রকৃতি বর্ণনা ৩২৫

উপদেশ ৩২৭

দোয়া ৩২৯

সরাসরি প্রশংসা ৩৩০

উত্তরণ ৩৩২

রাজাজ ৩৩৪

খণ্ড কবিতা ৩৩৫

ছন্দোবদ্ধ রচনার প্রকারভেদ ৩৩৭

বিশিষ্ট রূপসমূহ ৩৪৯

রূপগত বিধি-নিষেধ ৩৫২

ছন্দোবদ্ধ রচনা ৩৫৪

মুয়ারাদা ৩৫৮

ছন্দ ও অন্ত্যমিল ৩৬২

দ্বিতীয় অংশ- শব্দবিন্যাস ও শৈলী ৩৭৭

ছন্দোবদ্ধ রচনা ৩৮৩

কৃত্রিমতা ৩৮৯

শব্দাবলি ৩৯৭

তৃতীয় অংশ- শৈল্পিক কারুকার্য ৪০৬

কাল্পনিক কারুকার্য ৪০৯

শাব্দিক কারুকার্য ৪১৯
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৮)
الموضوع الصفحة

الباب الرابع: أثر المدائح النبوية 427

الفصل الأول: أثر المدائح النبوية في المجتمع 429

القسم الأول- الأثر الاجتماعي 429

النصح والإرشاد 431

الاعتقاد بالمدائح النبوية 432

الجدل العقائدي 442

إظهار النزعة العربية 448

القسم الثاني- الأثر التعليمي للمدائح النبوية 458

القدوة والمثل 459

المعرفة 469

الفصل الثاني: أثر المدائح النبوية في الثقافة 473

القسم الأول- أثر المدائح النبوية في الشعر 473

أثره في الإبداع الشعري 474

أثره في قصائد الشعر الآخرى 477

الملاحم 487

القسم الثاني- البديع 506

القسم الثالث- التأليف 519

الخاتمة 527

المصادر والمراجع 545

المصادر المخطوطة 545

المصادر المطبوعة 546

المراجع 566

الفهارس 569

فهرس الآيات الكريمة 570

فهرس الأحاديث الشريفة 571

الفهرس التفصيلي العام 573
বিষয়বস্তু ও পৃষ্ঠা

চতুর্থ অধ্যায়: নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্যের প্রভাব ৪২৭

প্রথম পরিচ্ছেদ: সমাজে নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্যের প্রভাব ৪২৯

প্রথম বিভাগ: সামাজিক প্রভাব ৪২৯

উপদেশ ও পথনির্দেশ ৪৩১

নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্য বিষয়ক বিশ্বাস ৪৩২

আকিদাগত বিতর্ক ৪৪২

আরবীয় প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ ৪৪৮

দ্বিতীয় বিভাগ: নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্যের শিক্ষামূলক প্রভাব ৪৫৮

আদর্শ ও দৃষ্টান্ত ৪৫৯

জ্ঞান ৪৬৯

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংস্কৃতিতে নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্যের প্রভাব ৪৭৩

প্রথম বিভাগ: কবিতায় নবী-প্রশস্তিমূলক কাব্যের প্রভাব ৪৭৩

কাব্যিক সৃজনশীলতায় এর প্রভাব ৪৭৪

অন্যান্য কাব্যগাথায় এর প্রভাব ৪৭৭

মহাকাব্য ৪৮৭

দ্বিতীয় বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র ৫০৬

তৃতীয় বিভাগ: গ্রন্থ রচনা ৫১৯

উপসংহার ৫২৭

উৎস ও তথ্যসূত্র ৫৪৫

পাণ্ডুলিপি উৎসসমূহ ৫৪৫

মুদ্রিত উৎসসমূহ ৫৪৬

তথ্যসূত্রসমূহ ৫৬৬

নির্ঘণ্টসমূহ ৫৬৯

কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট ৫৭০

হাদিস শরিফের নির্ঘণ্ট ৫৭১

সাধারণ বিস্তারিত নির্ঘণ্ট ৫৭৩
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

حين بدأت الاطلاع على أدب العصر المملوكي، لاحظت ظواهر أدبية مختلفة، لا زالت بحاجة إلى الدرس الجاد والمتأني، ولا زالت تنتظر من يخرجها إلى النور بعد أن قبعت قرونا متطاولة في ظلام الإهمال الذي تعامل به الدارسون مع أدب العصر المملوكي بحجج مختلفة ومسوغات واهية.

فقد أعرض معظم الباحثين عن دراسة أدب العصر، ورموه بالانحطاط والتقليد والجمود، ولم يقفوا عنده إلا وقفة عجلى لا تغني ولا تفيد، فاكتنفه الغموض في أذهان طلاب الأدب وشداته، لا يعرفون عنه غير الأحكام الجاهزة الظالمة التي اعتدنا إطلاقها عند الحديث عن أدب العصر المملوكي وما بعده.

ولم تقتصر أوصاف الجمود والانحطاط على الأدب فقط، بل أطلقت على العصر كله، وجوانب الحياة فيه، ولا ندري ما مسوغات أصحاب هذه الأحكام، ولكنها بلا شك لم تأت نتيجة دراسة مستفيضة، وأبحاث جادة، وتقييم منصف، ويبدو أن إهمال أنشطة العصر المختلفة وظلمها، يرجع إلى أمور خارجة عن نطاق الأدب والثقافة، وتتعلق بقضايا أخرى تخص الدارسين أنفسهم، الذين تابعوا في دراستهم للأدب العربي ما جاء به المستشرقون، وهؤلاء لهم نظرتهم الخاصة إلى التاريخ العربي والأدب العربي، تختلف عن نظرتنا إليهما. والعصر المملوكي هو عصر إنهاء الوجود الصليبي من وطننا العربي، وعصر رد الاجتياح المغولي المدمر، وعصر توقيف الامتداد الأوروبي نحو الشرق، وأدبه يطفح بتمجيد الانتصارات العربية على الفرنجة الأوربيين، ويظهر ذلّهم حين أرادوا سلخ بلاد الشام عن الجسد العربي الإسلامي، والقضاء على الوجود العربي الإسلامي المستقل.
ভূমিকা

যখন আমি মামলুক যুগের সাহিত্যের অধ্যয়ন শুরু করি, তখন আমি বিভিন্ন সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ্য করি, যা আজও গভীর ও নিবিড় গবেষণার মুখাপেক্ষী। এগুলো আজও এমন একজনের প্রতীক্ষায় রয়েছে যে একে আলোর মুখ দেখাবে, কারণ গবেষকরা বিভিন্ন অজুহাত ও অসার যুক্তিতে মামলুক যুগের সাহিত্যের সাথে যে অবজ্ঞার আচরণ করেছেন, তার ফলে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী যাবৎ এটি অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।

অধিকাংশ গবেষকই এ যুগের সাহিত্যের অধ্যয়ন থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং একে অধঃপতন, অনুকরণ ও স্থবিরতার অপবাদ দিয়েছেন। তারা এর প্রতি কেবল এমন এক অতিদ্রুত দৃষ্টিপাত করেছেন যা কোনো কাজে আসে না বা ফলপ্রসূ হয় না। ফলে সাহিত্যের শিক্ষার্থী ও অনুরাগীদের মনে এটি অস্পষ্টতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে; তারা এই যুগের সাহিত্য সম্পর্কে সেই অন্যায় ও গৎবাঁধা রায়গুলো ছাড়া আর কিছুই জানে না, যা আমরা মামলুক যুগ ও তার পরবর্তী সময়ের সাহিত্য নিয়ে আলোচনার সময় প্রদান করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।

স্থবিরতা ও অধঃপতনের এই তকমা কেবল সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সমগ্র যুগ এবং সে সময়ের জীবনের সকল দিকের ওপর আরোপ করা হয়েছে। আমরা জানি না এই বিচারের স্বপক্ষে তাদের যুক্তি কী ছিল, তবে নিঃসন্দেহে এগুলো কোনো বিস্তারিত অধ্যয়ন, গভীর গবেষণা বা ইনসাফপূর্ণ মূল্যায়নের ফলাফল নয়। এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই যুগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অবহেলা ও এর প্রতি অবিচার করার বিষয়টি সাহিত্য ও সংস্কৃতির গণ্ডির বাইরের কিছু বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এটি মূলত সেই গবেষকদের নিজস্ব কিছু বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যারা আরবি সাহিত্যের গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের অনুসরণ করেছেন। আর এই প্রাচ্যবিদদের আরব ইতিহাস ও সাহিত্যের প্রতি নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন। মামলুক যুগ হলো আমাদের আরব ভূখণ্ড থেকে ক্রুসেডারদের উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটানোর যুগ, ধ্বংসাত্মক মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করার যুগ এবং প্রাচ্যের দিকে ইউরোপীয় সম্প্রসারণকে রুখে দেওয়ার যুগ। এ যুগের সাহিত্য ইউরোপীয় ফ্রাঙ্কদের বিরুদ্ধে আরবদের বিজয়ের মহিমা কীর্তনে ভরপুর, এবং এটি তাদের লাঞ্ছনাকেই ফুটিয়ে তোলে যখন তারা আরব-ইসলামী দেহ থেকে শাম অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং স্বাধীন আরব-ইসলামী অস্তিত্ব বিলুপ্ত করতে চেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن التناقض الظاهر في أحكام هؤلاء الدارسين أنهم وسموا العصر المملوكي بأنه عصر انحطاط، وأن وسائل التعبير فيه عاجزة قاصرة، يفتقر إلى الأديب الكبير والشاعر العظيم، وإلى جانب ذلك ازدهر فن العمارة، واتسعت دائرة الفنون الزخرفية، وشهد ظهور الموسوعات الكبيرة، والمؤلفات العظيمة في حقول المعرفة المختلفة، ولا ندري كيف استقامت لهم هذه الأحكام المتناقضة.

لكن سرعان ما تصدى الباحثون المخلصون للتراث العربي، والحريصون على إظهار حقائقه، لمثل هذه الآراء، فأشادوا بهذا العصر ذي الأثر العظيم، وبما أنجزته أمتنا خلاله في مناحي الحياة المختلفة.

وقد تعود قلة الاهتمام بالعصر المملوكي وأدبه- كما قيل- إلى أن الباحثين توجهوا في دراساتهم إلى عصور الإسلام الأولى التي شهدت قيام الدولة العربية الإسلامية وفتوحاتها، وازدهار حضارتها، حتى إذا وصلوا إلى العصر المملوكي فترت همّتهم، واكتفوا بما أشيع حول هذا العصر من آراء، ورددوا ما أطلق عليه من أحكام.

والذي أشيع عن الأدب المملوكي، أنه أدب الزينة الثقيلة والألاعيب اللفظية، وأنه خلا من الإبداع، وقد يكون في هذا شيء من الصحة، لكنه لا ينطبق على الأدب المملوكي كله، والشعر منه خاصة، ففيه ما هو جيد، وفيه ما هو غير ذلك، وهذه ميزة عصور الأدب جميعها، بل هي ميزة كل شاعر، وربما زادت نسبة الشعر الذي لم يرق للدارسين في هذا العصر عن غيرها في العصور السابقة، وكان هذا الشعر مقبولا عند أهله، وليس لنا أن نحاكمه بغير حكمهم، وليس لنا أن نهمله لأنه لم يجد قبولا في أنفسنا، فالناس كانوا يقبلون على شعر عصرهم ويستسيغونه، ويتذاكرونه وينفعلون به.

إن الغبن الذي لحق بالأدب المملوكي، وسوء الحكم عليه، جعلني أبحث عن
এই গবেষকদের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি প্রকাশ্য বৈপরীত্য হলো, তারা মামলুক যুগকে একটি অধঃপতনের যুগ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এই যুগে অভিব্যক্তির মাধ্যমগুলো ছিল অক্ষম ও অপূর্ণাঙ্গ এবং এতে বড় কোনো সাহিত্যিক বা মহান কবির অভাব ছিল। অথচ এর পাশাপাশি স্থাপত্যশিল্প সমৃদ্ধ হয়েছিল, অলঙ্করণ শিল্পের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল এবং বিভিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রে বড় বড় বিশ্বকোষ ও মহান গ্রন্থাবলির আবির্ভাব ঘটেছিল। আমরা জানি না কীভাবে এই পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তগুলো তাদের কাছে সংগতিপূর্ণ মনে হলো।

কিন্তু অতি শীঘ্রই আরবি ঐতিহ্যের প্রতি একনিষ্ঠ এবং এর সত্যতা উদ্ঘাটনে আগ্রহী গবেষকরা এ জাতীয় মতামতের মোকাবিলা করেছেন। তারা এই মহান প্রভাববিস্তারকারী যুগের প্রশংসা করেছেন এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সময়ে আমাদের উম্মাহ যা অর্জন করেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মামলুক যুগ ও এর সাহিত্যের প্রতি এই অনাগ্রহের কারণ সম্ভবত এটি হতে পারে—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—যে গবেষকরা তাদের গবেষণায় ইসলামের প্রাথমিক যুগগুলোর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছিলেন, যে যুগগুলো আরব-ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, তার বিজয় অভিযান এবং সভ্যতার উৎকর্ষ প্রত্যক্ষ করেছিল। এমনকি তারা যখন মামলুক যুগ পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তাদের উদ্যম স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা এই যুগ সম্পর্কে প্রচলিত মতামতের ওপরই তুষ্ট থাকলেন এবং এর ওপর আরোপিত সিদ্ধান্তগুলোরই পুনরাবৃত্তি করলেন।

মামলুক সাহিত্য সম্পর্কে যা রটানো হয়েছে তা হলো, এটি ছিল ভারী অলঙ্করণ ও শব্দশৈলীর মারপ্যাঁচ সমৃদ্ধ সাহিত্য এবং এতে সৃজনশীলতার অভাব ছিল। হয়তো এর মধ্যে কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে, কিন্তু এটি সামগ্রিক মামলুক সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ এর মধ্যে যেমন উৎকৃষ্ট মানের কাজ রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানের কাজও আছে। আর এটি তো সাহিত্যের সকল যুগেরই বৈশিষ্ট্য, বরং এটি প্রতিটি কবিরই বৈশিষ্ট্য। হয়তো এই যুগে গবেষকদের কাছে পছন্দ হয়নি এমন কবিতার অনুপাত পূর্ববর্তী যুগগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে এই কবিতা তার সমসাময়িকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল। তাদের মানদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো মানদণ্ডে এটি বিচার করার অধিকার আমাদের নেই। আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ার কারণে একে অবজ্ঞা করাও আমাদের জন্য সমীচীন নয়। কারণ তৎকালীন মানুষ তাদের যুগের কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হতো, তা উপভোগ করত, একে অপরকে শুনিয়ে আনন্দ পেত এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হতো।

মামলুক সাহিত্যের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে এবং এর ওপর যে ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা আমাকে অনুসন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১১)
صورة مشرقة من صور الأدب المملوكي، تترك لدى المطلع انطباعا مغايرا لما هو سائد عنه، فوقعت على المدائح النبوية، الفن الشعري الذي نما وتكامل في هذا العصر، فكان أبرز فنونه وأرقاها، وأكثرها تأثيرا في الحركة الشعرية وفي مجتمع ذلك الوقت، وهو الفن الذي استمر وجوده والإقبال عليه إلى أيامنا هذه.

ولم يرزق هذا الفن إلى الآن من يدرسه دراسة جادة متأنية، تحيط بكل قضاياه، وتبرز أهميته وأثره، ومن التفت إليه كانت التفاتته عجلى، اقتصرت على الوصف والتعداد دون الدخول إلى جوهره، وبسط النظر في تركيبه، وبيان تطوره، وإذا غاص فيه، قصر ذلك على قصائد بعينها أو شاعر بعينه، فاحتاج الأمر إلى بسط القول فيه، وإيضاح معالمه في أذهان من سمعوا به أو قرؤوا شيئا منه، وفي أذهان من يهتزون طربا للمدائح النبوية المنشدة، ولمعانيها البديعة في أيامنا هذه.

وربما تساءل بعض المطلعين حول صحة هذا الادعاء، فللدكتور (زكي مبارك) كتاب بعنوان (المدائح النبوية في الأدب العربي) ، وهو يظهر من عنوانه أنه أوسع وأشمل من عنوان البحث الذي اخترته، وهذا صحيح، فللدكتور مبارك فضل الريادة في هذا الباب، لكنه لم يكن يقصد التأليف في المدائح النبوية، ولم يتوسع في دراستها، وجاء كتابه أقرب إلى التعريف منه إلى الدراسة المستأنية، خلط فيه المديح النبوي مع الشعر الديني باتجاهاته المختلفة. فقد عرضه ضمن دراسة أخرى، ثم فصله عنها كما قال في مقدمة كتابه: «هذا كتاب لم يكن ظهوره في الحسبان، فهو في الأصل باب من كتاب قدمته إلى الجامعة المصرية عن (أثر التصوف في الأدب والأخلاق) ورأت اللجنة المؤلفة بدرسه أن الباب الخاص بالمدائح النبوية خليق بأن يظهر مستقلا عن الأصل بعض الاستقلال» «1» .

--------------------------------------------

(1) مبارك، د. زكي: المدائح النبوية في الأدب العربي ص 8.
মামলুক সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল চিত্র, যা পাঠকের মাঝে এ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এক ভিন্ন ছাপ ফেলে। আমি রাসূল (সা.)-এর প্রশস্তিমূলক কবিতা (মাদায়িহুন নাবাবিয়্যাহ)-র ওপর দৃষ্টিপাত করেছি; এটি এমন এক কাব্যকলা যা এই যুগে বিকশিত ও পূর্ণতা লাভ করেছে। এটি ছিল এই যুগের সবচেয়ে বিশিষ্ট ও মার্জিত শিল্পকলা এবং তৎকালীন কাব্য আন্দোলন ও সমাজে সর্বাধিক প্রভাবশালী। এটি এমন এক শিল্পকলা যার অস্তিত্ব এবং এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই শিল্পকলাটি এখন পর্যন্ত এমন কোনো গবেষকের দেখা পায়নি যিনি এর ওপর গুরুত্বের সাথে গভীর ও নিবিড় গবেষণা করবেন, যা এর সমস্ত বিষয়কে পরিবেষ্টন করবে এবং এর গুরুত্ব ও প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলবে। যারা এর প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, তাদের সেই দৃষ্টি ছিল অতি সংক্ষিপ্ত, যা কেবল বর্ণনা ও তালিকা প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; এর সারবত্তায় প্রবেশ করা, এর কাঠামোর ওপর গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করা এবং এর বিবর্তন ব্যাখ্যা করার ধারেকাছেও তা যায়নি। আর যদি কেউ এতে গভীর ডুব দিতেও চেয়েছেন, তবে তা নির্দিষ্ট কিছু কবিতা বা নির্দিষ্ট কবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। তাই এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যাতে যারা এ সম্পর্কে শুনেছেন বা এর কিছু অংশ পড়েছেন, এবং যারা বর্তমানে গীত হওয়া নববী প্রশস্তিমূলক কবিতার সুরে ও এর চমৎকার অর্থে বিমোহিত হন, তাদের কাছে এর বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

সম্ভবত কোনো কোনো পাঠক এই দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন; কারণ ডক্টর (জাকি মুবারক)-এর 'আল-মাদায়িহুন নাবাবিয়্যাহ ফিল আদাবিল আরাবি' (আরবি সাহিত্যে নববী প্রশস্তিগীতি) শিরোনামের একটি গ্রন্থ রয়েছে। এর শিরোনাম থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি আমার নির্বাচিত গবেষণার শিরোনামের চেয়েও ব্যাপক ও বিস্তৃত। এটি সত্য, এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার কৃতিত্ব ডক্টর মুবারকেরই প্রাপ্য। কিন্তু তিনি মূলত নববী প্রশস্তিগীতির ওপর বিশেষায়িত গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য রাখেননি এবং এর গবেষণায় বিস্তৃতিও ঘটাননি। তাঁর গ্রন্থটি গভীর পর্যালোচনার চেয়ে পরিচিতিমূলক বর্ণনারই বেশি নিকটবর্তী হয়েছে। এতে তিনি নববী প্রশস্তিকে বিভিন্ন ধারার ধর্মীয় কবিতার সাথে মিশ্রিত করে ফেলেছেন। মূলত তিনি এটি অন্য একটি গবেষণার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, অতঃপর তা থেকে পৃথক করেন, যেমনটি তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "এটি এমন একটি বই যার প্রকাশ সম্পর্কে আগে থেকে ভাবা হয়নি। এটি মূলত 'আদব ও আখলাকে তাসাউউফের প্রভাব' বিষয়ে মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশ করা আমার একটি গ্রন্থের একটি অধ্যায় ছিল। পরীক্ষক কমিটি মনে করেছেন যে, নববী প্রশস্তিমূলক অধ্যায়টি মূল গ্রন্থ থেকে কিছুটা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হওয়ার যোগ্য।" «১» ।

--------------------------------------------

(১) মুবারক, ড. জাকি: আল-মাদায়িহুন নাবাবিয়্যাহ ফিল আদাবিল আরাবি, পৃষ্ঠা ৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১২)
«ومن الخير أن أصارح القارئ بأن هذه الفصول نسخت نسخا من الكتاب الأصيل، فلم يحذف منها شيء، ولم يضف إليها شيء» «1» .

ولم يكن فن المدائح النبوية لذلك العصر فنا طارئا على الأدب العربي، فقد عرف في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو جزء من الشعر الديني، الذي يعد أقدم ألوان الشعر عند الأمم جميعها، فالتقاء الفن بالدين قديم ضارب في أعماق التاريخ، فقبل الأديان السماوية كانت الصلاة مقرونة بالرقص والترنّم بالأغاني تقربا للإله، وكانت العبادة ألوانا من الفنون إلى جانب النصوص التي كانت تتلى، والتي كانت تعد من الأدب الجميل، الذي يحتفل في إنشائه ليؤثر في سامعيه.

وكان الدين وما يزال من المصادر الهامة التي تمد الأدباء بموضوعات أدبهم، وترقق مشاعرهم وأحاسيسهم وتوحي لهم بكثير من إبداعاتهم.

ويلتقي الدين والأدب في هدفهما، وهو تقويم النفس الإنسانية والمجتمع الإنساني، وإشباع الحاجة الإنسانية إلى الخير والجمال، وقد خدم الأدب العقيدة منذ القدم، فسجل دعوتها، وبث شعائرها بين البشر، وشرح مضامينها، وشاركها في بث الفضائل في نفوس الناس، وترغيبهم بالأخلاق الحسنة وتنفيرهم من الرذائل.

ومن هنا جاءت المدائح النبوية فنا أصيلا من فنون الشعر الديني، له خطره وله مكانته عند المسلمين فهو متعلق بصاحب الدين والمثل الإنساني الأعلى، فرسول الله صلى الله عليه وسلم شخصية إنسانية فريدة، هي أعظم شخصيات التاريخ الإنساني، فكان لا بد للأدب من أن يغتني بالحديث عنها، وكان لا بد للأدب من أن يشيد بها وبفضائلها، ويقدم للناس فيضا من خصائص الإنسان الكامل، ليقتدوا بها، وتصفو نفوسهم بتملّيها، وشخصية رسول الله صلى الله عليه وسلم استوجبت المدح من المسلمين وغيرهم لعظمتها وسموها.

--------------------------------------------

(1) مبارك، د. زكي: المدائح النبوية في الأدب العربي ص 9.
«পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট করে বলা ভালো যে, এই অধ্যায়গুলো মূল গ্রন্থ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে, এতে কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়নি এবং নতুন কিছু যোগ করাও হয়নি» «১» .

সেই যুগে নববী প্রশংসা-গীতির (মাদাইহে নববী) শিল্পটি আরবি সাহিত্যে কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই পরিচিত ছিল এবং এটি ধর্মীয় কাব্যের একটি অংশ, যা সকল জাতির কাছে কাব্যের প্রাচীনতম রূপ হিসেবে বিবেচিত। শিল্প ও ধর্মের মিলন ইতিহাসেও অত্যন্ত প্রাচীন ও সুগভীর। আসমানি ধর্মগুলোর পূর্বেও উপাসনা ছিল নাচ এবং উপাস্যের নৈকট্য লাভের জন্য গান গাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। ইবাদত ছিল বিভিন্ন প্রকার শিল্পের সমন্বয় এবং এর পাশাপাশি এমন কিছু পাঠ্য বিষয় ছিল যা সুন্দর সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হতো, যা শ্রোতাদের প্রভাবিত করার জন্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে রচনা করা হতো।

ধর্ম ছিল এবং এখনও আছে সেই গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি, যা সাহিত্যিকদের তাদের সাহিত্যের বিষয়বস্তু সরবরাহ করে, তাদের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতাকে কোমল করে এবং তাদের অনেক সৃজনশীলতার অনুপ্রেরণা জোগায়।

ধর্ম ও সাহিত্য তাদের লক্ষ্যে একে অপরের সাথে মিলিত হয়, আর তা হলো মানবাত্মা ও মানব সমাজের সংশোধন এবং কল্যাণ ও সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের চাহিদাকে তৃপ্ত করা। প্রাচীনকাল থেকেই সাহিত্য আকিদাহর সেবা করে আসছে। এটি তার দাওয়াত লিপিবদ্ধ করেছে, মানুষের মধ্যে এর নিদর্শনসমূহ প্রচার করেছে, এর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেছে এবং মানুষের মনে সদগুণাবলি সঞ্চার করা, তাদের সচ্চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিমুখ করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছে।

এখান থেকেই নববী প্রশংসা-গীতি ধর্মীয় কাব্যের একটি মৌলিক শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার গুরুত্ব ও মর্যাদা মুসলমানদের কাছে অপরিসীম। কারণ এটি ধর্মের প্রবর্তক এবং অনন্য মানবিক আদর্শের সাথে সম্পর্কিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অনন্য মানব ব্যক্তিত্ব, যিনি মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তাই সাহিত্যের জন্য তাঁর সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ হওয়া ছিল অপরিহার্য। সাহিত্যের জন্য এটিও আবশ্যক ছিল যে, তাঁর ও তাঁর গুণাবলির প্রশংসা করা এবং মানুষের কাছে একজন পূর্ণমানবের বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রাচুর্য তুলে ধরা, যাতে তারা সেগুলোকে অনুসরণ করতে পারে এবং তাঁর চিন্তায় তাদের মন পবিত্র হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমদের কাছেও তাঁর প্রশংসা অবধারিত হয়ে পড়েছিল।

--------------------------------------------

(১) মুবারক, ড. জাকি: আরবি সাহিত্যে নববী প্রশংসা-গীতি, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
نعم إن لرسول الله صلى الله عليه وسلم حق الحمد أو المدح على الناس، وهو الذي أثنى عليه الله تعالى في كتابه العزيز، وهو الذي شجع الشعراء على أن يرتقوا بفنهم إلى آفاق إنسانية رحبة، ووجههم نحن الحق والخير بالقول والفعل، فقال: «إن من البيان لسحرا، وإن من الشعر لحكمة» «1» .

ورمى إلى كعب بن زهير بردته حين مدحه، وكان إذا أنشد حسان شعره يشرق وجهه الكريم ويدعو له ويشجعه ويثيبه، وكذلك كان يفعل مع عبد الله بن رواحة وكعب ابن مالك.

فكان المديح النبوي الفن الشعري الصادق الذي لا يخالطه رياء ولا يشوبه غرض، وكان المديح النبوي المضمون السامي لشعر انتشر انتشارا كبيرا بين الناس.

لقد عرف المديح النبوي منذ بعثة رسول الله هاديا ونذيرا، ونظمه الشعراء من الصحابة وشعراء العصور اللاحقة، لكنه لم يصبح ظاهرة متفردة إلا بعد مدة طويلة من الزمن، ولم يستقر ويتكامل إلا في العصر المملوكي، أو قبيله بقليل؛ إذ أضحت له قواعده وأصوله، وتقاليده المعنوية والفنية.

لقد كانت المدائح النبوية أرقى الفنون الشعرية في ذلك الوقت، وأكثرها سيرورة وتأثيرا، فجمعت بين الفن الرفيع والقبول العام، تذاكرها الناس على اختلاف مشاربهم وتباين ثقافاتهم، ورددوها وحفظوها.

لذلك كله، استحق فن ذلك العصر، المدائح النّبوية، دراسة شاملة، تخلّصه من أي لبس يحيق به وبحقيقته، وتظهر تأثيره وجماله، وتبرز ماله من انتشار وفاعلية، ما زالت حية بيننا، وأظنها ستظل كذلك إلى أن يرث الله الأرض وما عليها.

--------------------------------------------

(1) الحديث صحّحه السيوطي في الجامع الصغير 1/ 331.
হ্যাঁ, মানুষের ওপর আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) প্রশংসা বা গুণকীর্তনের অধিকার রয়েছে। তিনিই সেই সত্তা, যাঁর প্রশংসা মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে করেছেন। তিনিই কবিদের উৎসাহিত করেছেন যেন তাঁরা তাঁদের শিল্পকে প্রশস্ত মানবিক দিগন্ত পর্যন্ত নিয়ে যান এবং তাঁদের কথা ও কাজের মাধ্যমে সত্য ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো বর্ণনায় জাদু রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে" (১)।

কা'ব ইবনে যুহাইর যখন তাঁর প্রশংসা করলেন, তখন তিনি তাঁকে নিজের চাদরটি প্রদান করেন। আর যখন হাসসান তাঁর কবিতা আবৃত্তি করতেন, তখন তাঁর সম্মানিত চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠত, তিনি তাঁর জন্য দোয়া করতেন, তাঁকে উৎসাহিত করতেন এবং পুরস্কৃত করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং কা'ব ইবনে মালিকের সাথেও তিনি অনুরূপ আচরণ করতেন।

সুতরাং নবুওয়াতী প্রশংসা ছিল একটি সত্যনিষ্ঠ কাব্যকলা, যাতে কোনো লোকদেখানো ভাব ছিল না এবং কোনো বৈষয়িক উদ্দেশ্যও মিশে ছিল না। নবুওয়াতী প্রশংসা ছিল সেই কবিতার সুমহান বিষয়বস্তু, যা মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আল্লাহর রাসূলের পথপ্রদর্শক ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণের পর থেকেই নবুওয়াতী প্রশংসা পরিচিতি পায়। সাহাবী কবিগণ এবং পরবর্তী যুগের কবিগণ এটি রচনা করেছেন। কিন্তু দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার আগে এটি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ধারা হিসেবে গড়ে ওঠেনি। মামলুক যুগে বা তার কিছু আগে ছাড়া এটি সুসংহত ও পূর্ণতা লাভ করেনি; কারণ তখনই এর নিয়ম-কানুন, মূলনীতি এবং আত্মিক ও শৈল্পিক ঐতিহ্যসমূহ নির্ধারিত হয়েছিল।

সেই সময়ে নবুওয়াতী প্রশংসাসমূহ ছিল কাব্যকলার সর্বোচ্চ স্তর এবং সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও প্রভাবশালী। এটি উচ্চাঙ্গের শিল্পকলা ও সাধারণ গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয় ঘটিয়েছিল। মানুষ তাদের মতাদর্শের ভিন্নতা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও এটি একে অপরের সাথে আলোচনা করত এবং এটি বারবার পাঠ করত ও মুখস্থ রাখত।

এই সব কারণেই সেই যুগের শিল্প—নবুওয়াতী প্রশংসা—একটি সামগ্রিক গবেষণার দাবি রাখে, যা একে এবং এর প্রকৃত স্বরূপকে ঘিরে থাকা যেকোনো অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত করবে, এর প্রভাব ও সৌন্দর্য প্রকাশ করবে এবং এর সেই বিস্তার ও কার্যকারিতাকে ফুটিয়ে তুলবে যা আমাদের মাঝে আজও জীবিত আছে। আমি মনে করি, আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত এই পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী না হবেন (অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত), ততক্ষণ পর্যন্ত এটি এভাবেই বলবৎ থাকবে।

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী 'আল-জামি' আস-সাগীর' গ্রন্থে এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, ১/৩৩১।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم أشأ أن أقيد نفسي بقيود شديدة من الزمان والمكان، فأشرت إلى فن المدح النبوي قبيل العصر المملوكي وبعده بقليل، وإلى ما جادت به قرائح الشعراء خارج حدود الدولة المملوكية في مشرق الوطن العربي ومغربه، لأن الأدب لا ينقسم ويتميز بانتهاء دولة وقيام دولة، ولأن الحدود لم تكن تمنع الانتقال والتواصل والتكامل، ولو اقتصرت على الحدود الزمانية والمكانية لدولة المماليك، لجاء البحث ناقصا مفتقرا إلى جوانب هامة من المدح النبوي، وإلى النظرة الشمولية إليه.

وآمل أن تكون هذه الدراسة إضافة للدراسات التي توضح حقيقة الأدب المملوكي، وتخدم الأدب العربي ولغته الشريفة.

فلم أقصد في هذا البحث إلا الحق وإيضاح إحدى ظواهر الأدب العربي، ولم أعمد إلى الإساءة لمذهب أو التشكيك في معتقد، فالصعوبات والإشكالات الفكرية تحيط بالموضوع، وتجعل التصرف به عسيرا، فالمواقف بنت زمنها وظروفها، وعرضها من مستلزمات البحث العلمي.

د. محمود سالم محمد
আমি নিজেকে কাল ও পাত্রের কঠোর সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ করতে চাইনি, তাই আমি মামলুক যুগের ঠিক পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে নববী প্রশস্তির শিল্পের প্রতি এবং আরব ভূখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিমে মামলুক রাষ্ট্রের সীমানার বাইরে কবিদের মেধা থেকে যা নিঃসৃত হয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত করেছি। কারণ একটি রাষ্ট্রের অবসান বা অন্যটির উত্থানের মাধ্যমে সাহিত্য বিভক্ত বা স্বতন্ত্র হয়ে যায় না এবং ভৌগোলিক সীমানা কোনোকালেই যাতায়াত, যোগাযোগ ও সমন্বয়ের পথে বাধা ছিল না। আমি যদি কেবল মামলুক রাষ্ট্রের সময় ও স্থানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতাম, তবে গবেষণাটি অসম্পূর্ণ থেকে যেত এবং নববী প্রশস্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ ও এর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব পরিলক্ষিত হতো।

আমি আশা করি এই গবেষণাটি সেই সকল গবেষণার সাথে একটি নতুন সংযোজন হবে যা মামলুক সাহিত্যের স্বরূপ উন্মোচন করে এবং আরবি সাহিত্য ও তার মহান ভাষার সেবা করে।

এই গবেষণার মাধ্যমে আমি কেবল সত্য তুলে ধরতে এবং আরবি সাহিত্যের অন্যতম একটি নিদর্শনের ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছি। কোনো মাযহাবের প্রতি অবমাননা করা কিংবা কোনো বিশ্বাসের প্রতি সংশয় তৈরি করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নানা বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতা ও সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে, যা এর বিচার-বিশ্লেষণকে কঠিন করে তোলে। প্রতিটি অবস্থানই তার সমকালীন প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির ফল, আর সেগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা বস্তুনিষ্ঠ গবেষণারই অন্যতম শর্ত।

ড. মাহমুদ সালেম মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الباب الأول بواعث ازدهار المديح النبوي وانتشاره
প্রথম অধ্যায়: নবি-প্রশস্তিমূলক কাব্যের সমৃদ্ধি ও বিস্তারের কারণসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
بواعث ازدهار المديح النبوي وانتشاره اتسعت المدائح النبوية في العصر المملوكي اتساعا كبيرا، وانتشرت بين الأدباء والعلماء، يتنافسون في نظمها، ويذهبون بها كل مذهب، ويسارعون إلى إنشادها في المجالس الخاصة والمحافل العامة، وفي المناسبات الدينية المختلفة التي كثرت في هذا العصر كثرة مفرطة.

وعدّ منشدو المدائح النبوية من أصحاب الشهرة، وصاروا يذكرون في كبار القوم، فابن إياس يقول في وفيات سنة (841 هـ) : «توفي ابن القرداح، المادح المنشد الواعظ، وكان فريد عصره في فن الموسيقا» «1» . ويقول في وفيات سنة (873 هـ) : «توفي الواعظ المادح المنشد عبد القادر بن محمد الوفائي، وكان ممن له ذكر وشهرة في فنه، وكان لا بأس به» «2» .

وصار للمنشد صفات ومؤهلات، عليه أن يتحلى بها ويحصّلها، ذكرها السبكي، فقال: «وينبغي أن يذكر من الأشعار ما هو واضح اللفظ، صحيح المعنى، مشتملا على مدائح سيدنا ومولانا وحبيبنا محمد صلى الله عليه وسلم» «3» .

وقد أولع الشعراء بفن المدائح النبوية في الأقطار العربية الإسلامية جميعها، وانشغلوا به، وقدموه ووضعوه في مقدمة فنون الشعر.

وإذا كان ظهور المدائح النبوية ظهورا مستقلا ذا شأن قد تمّ في المرحلة السابقة

--------------------------------------------

(1) ابن إياس: بدائع الزهور: 2/ 187.

(2) المصدر نفسه: 3/ 37.

(3) السبكي: معيد النعم 145.
নবী-প্রশস্তি গাথার সমৃদ্ধি ও প্রসারের কারণসমূহ: মামলুক যুগে নবী-প্রশস্তি গাথা (মাদিহ নাবাউই) ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে এবং সাহিত্যিক ও আলিমদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তারা এগুলো রচনায় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন এবং এর প্রতিটি ধারায় নিজেদের নিয়োজিত করতেন। তারা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা এই যুগে অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেগুলোর ব্যক্তিগত মজলিস ও সাধারণ জনসমাবেশে এগুলো আবৃত্তি করতে তৎপর হতেন।

নবী-প্রশস্তি আবৃত্তিকারীরা বিশেষ খ্যাতির অধিকারী হিসেবে গণ্য হতেন এবং জাতির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাঝে তাদের নাম আলোচিত হতো। ইবনে ইয়াস ৮৪১ হিজরি সনের মৃত্যু সংবাদের বর্ণনায় বলেন: "ইবনুল কুরদাহ ইন্তেকাল করেছেন; তিনি ছিলেন একজন প্রশংসাকারী, আবৃত্তিকার ও উপদেশদাতা। তিনি সঙ্গীতবিদ্যায় নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।" ১। তিনি ৮৭৩ হিজরি সনের মৃত্যু সংবাদের বিবরণে আরও বলেন: "উপদেশদাতা, প্রশংসাকারী ও আবৃত্তিকার আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াফায়ী ইন্তেকাল করেছেন। তিনি আপন শিল্পে সুনাম ও সুখ্যাতির অধিকারী ছিলেন এবং তিনি একজন যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।" ২।

একজন আবৃত্তিকারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলী ও যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল, যা অর্জন করা এবং যা দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করা তার জন্য আবশ্যক ছিল। আল-সুবকী এগুলো উল্লেখ করে বলেছেন: "এমন কবিতা আবৃত্তি করা উচিত যার শব্দ চয়ন সুস্পষ্ট এবং অর্থ সঠিক, যা আমাদের নেতা, অভিভাবক ও প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসাকে ধারণ করে।" ৩।

কবিরা সমস্ত আরব-ইসলামি ভূখণ্ডে নবী-প্রশস্তি শিল্পের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা এতে নিবিষ্ট থাকতেন এবং একে কাব্যশিল্পের শীর্ষস্থানে স্থান দিয়েছিলেন।

যদিও স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে নবী-প্রশস্তির আবির্ভাব পূর্ববর্তী পর্যায়েই সম্পন্ন হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) ইবনে ইয়াস: বাদায়িউয যুহুর: ২/ ১৮৭।

(২) একই উৎস: ৩/ ৩৭।

(৩) আল-সুবকী: মুঈদুন্ নিআম ১৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
للعصر المملوكي، إلا أن المديح النبوي قد اتسع ورسخ واتضحت معالمه في العصر المملوكي، وأضحت له تقاليده وأصوله، وظهر الشعراء الذين اشتهروا به وأجادوه، فشغلت المدائح النبوية قدرا كبيرا من دواوين الشعراء، ثم استقلت بدواوين خاصة بها.

إن السيرورة التي رزقها فن المدائح النبوية، لم تتهيأ في العصر المملوكي لفن شعريّ آخر، فنكاد لا نجد شاعرا من هذا العصر لم تكن له مشاركة في هذا الفن الشعري، وبلغ من الانتشار والكثرة والاتساع حدا استعصى معه على الحصر، وأي نظرة على فهرس مخطوطات أية مكتبة تثبت ذلك، وتجعل المرء في عجب من مشاركة معظم الشعراء في هذا الفن، فكيف تهيأت لهم المشاركة بعد أن أفنى غيرهم أعمارهم في نظمه والتفنن فيه؟.

وتميز قدر كبير من المدائح النبوية بطول لم نعهده في الشعر العربي، فتجاوز عدد أبياتها المئين، وذكرت قصائد مفرطة في الطول، يكاد المرء لا يصدق أن قصيدة عربية بلغت هذا العدد من الأبيات.

ومما يدل على احتفال الشعراء بفن المديح النبوي، إطلاق أسماء مختلفة على القصائد النبوية، فهذه (البردة) ، وتلك (نهج البردة) ، وهذه اسمها (تفصيل البردة) ، وتلك (أمان الخائف) ، وأخرى اسمها (ذخر المعاد على وزن بانت سعاد) ، فقصائد البوصيري وعائشة الباعونية مثلا، كلها لها أسماء، واحدة اسمها (الغرر في مدح سيد البشر) ، وأخرى اسمها (الفتح المبين) ، وثالثة (فتوح الحق) ، وهكذا …

فما السبب وراء هذا الاتساع الكبير في فن المدائح النبوية؟ وما دواعي الإكثار منه؟

وما الغاية المتوخاة من وراء هذه الكثرة الكاثرة من المدائح؟.

إن إمعان النظر في جوانب العصر المملوكي المختلفة، وفي المدائح التي قيلت فيه، يقودنا إلى بعض الأسباب الظاهرة التي دفعت الشعراء إلى الاتساع في نظم المدائح النبوية، نستطيع إرجاعها إلى أسباب سياسية وأسباب اجتماعية، وأسباب دينية، إضافة إلى الانسياق وراء التوجه العام والتقليد.
মামলুক যুগে নবী-প্রশস্তি (আল-মাদিহ আন-নববি) শিল্প ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও সুসংহত হয় এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এমন সব কবিদের আবির্ভাব ঘটে যারা এই শিল্পে প্রসিদ্ধি লাভ করেন ও পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন। ফলে নবী-প্রশস্তিগুলো কবিদের কাব্যগ্রন্থের (দিওয়ান) এক বিশাল অংশ দখল করে নেয় এবং পরবর্তীকালে এগুলো স্বতন্ত্র কাব্যগ্রন্থে রূপ লাভ করে।

নবী-প্রশস্তি শিল্প যে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিল, মামলুক যুগে অন্য কোনো কাব্যশিল্পের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। আমরা এমন কোনো কবির দেখা পাই না বললেই চলে, যিনি এই কাব্যশিল্পে অংশগ্রহণ করেননি। এর বিস্তার ও সংখ্যাধিক্য এতই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা গণনা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। যেকোনো গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি সূচির দিকে তাকালেই এর প্রমাণ মেলে এবং অধিকাংশ কবির এই শিল্পে অংশগ্রহণ দেখে মানুষ বিস্মিত হয়। কীভাবে তাদের পক্ষে এই অংশগ্রহণ সম্ভব হলো যেখানে অন্য কবিরা এর রচনা ও শৈল্পিক উৎকর্ষ সাধনে তাদের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন?

নবী-প্রশস্তিমূলক কবিতার একটি বিশাল অংশ এমন দীর্ঘতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল যা আরবি কবিতায় সচরাচর দেখা যায় না। এর পঙক্তি সংখ্যা শতকের ঘর ছাড়িয়ে যেত। এমন কিছু অত্যধিক দীর্ঘ কবিতার কথা উল্লেখ করা হয় যা শুনে মানুষের বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে যে একটি আরবি কবিতা এত বেশি সংখ্যক পঙক্তির হতে পারে।

নবী-প্রশস্তি শিল্পের প্রতি কবিদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের অন্যতম প্রমাণ হলো এই কাব্যগুলোর বিভিন্ন নামকরণ। কোনোটি 'আল-বুরদাহ', কোনোটি 'নাহজুল বুরদাহ', কোনোটির নাম 'তাফশিলুল বুরদাহ', আবার কোনোটি 'আমানুল খয়িফ', অন্যটির নাম 'যুখরুল মাআদ আলা ওয়াযনি বানাত সুয়াদ'। উদাহরণস্বরূপ, আল-বুসিরি এবং আয়েশা আল-বাউনিয়ার সকল কবিতারই নাম রয়েছে; একটির নাম 'আল-গুরার ফি মাদহি সাইয়্যিদিল বাশার', অন্যটির নাম 'আল-ফাতহুল মুবিন', এবং তৃতীয়টির নাম 'ফুতুহুল হাক্ব'। এভাবেই চলতে থাকে ...

নবী-প্রশস্তি শিল্পের এই ব্যাপক বিস্তৃতির পেছনের কারণ কী? এবং এর এত অধিক চর্চার হেতু কী?

এই বিপুল সংখ্যক প্রশস্তিমূলক রচনার পেছনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যই বা কী ছিল?

মামলুক যুগের বিভিন্ন দিক এবং সেই সময়ে রচিত নবী-প্রশস্তিগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে আমরা কিছু প্রকাশ্য কারণ খুঁজে পাই যা কবিদেরকে অধিক পরিমাণে নবী-প্রশস্তি রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। আমরা এই কারণগুলোকে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি, যার পাশাপাশি সাধারণ প্রবণতা ও অনুকরণের ধারাটিও বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول الأسباب السياسية

 

‌‌الصراع الخارجي:

كان وصول المماليك إلى الحكم في خضم اضطراب سياسي كبير، وأثناء تعرّض البلاد العربية الإسلامية إلى غزوات عاتية من الشرق والغرب. فلم تزل ممالك الصليبيين قائمة في بلاد الشام، وعادوا إلى التوسع مجددا، وجرّدوا حملة استهدفت مصر.

وكانوا في الأندلس يقتطعون الناحية إثر الناحية، وسفنهم تعتدي على الثغور العربية، وهدفهم احتلال المنطقة العربية واستيطانها ونهب خيراتها.

وفي هذه الحقبة بدأ الغزو المغولي للشرق العربي، فاجتاحوا العراق، وقضوا على الخلافة العباسية واحتلوا معظم بلاد الشام، وتقدموا نحو مصر ناشرين الذعر والدمار.

فالتقى الخطر المغولي والخطر الصليبي لتهديد الوجود العربي الإسلامي، وأدرك العرب أن هذه الغزوات تريد اقتلاعهم من الوجود، فنهضوا بقيادة المماليك لدرء الخطر الداهم عن أنفسهم.

وكان للشعراء مشاركة في حركة الجهاد العارمة لمواجهة الغزاة، فجاهد قسم منهم بنفسه وبشعره، وحث الناس على البذل والتضحية، وهاجم الغزاة وقلّل من شأنهم، ولجأ قسم آخر إلى الدين، يطلب الطمأنينة والمدد وكفّ شرّ الغزاة عن الأمة، ويدعو إلى الصلاح طريقا للخلاص من النكبات والويلات.

وقد اتخذ الفرنجة الصليب شعارا لهم في غزوهم، وتستروا بالدين لإخفاء مطامعهم السياسية والاقتصادية، وهاجموا الإسلام، فدافع الشعراء عن الإسلام ومقدساته، وردّوا على الغزاة انتقاصهم من قدر الإسلام ونبيه، فمدحوا رسول الله
প্রথম অধ্যায়: রাজনৈতিক কারণসমূহ

 

‌বৈদেশিক সংঘাত:

মামলুকদের ক্ষমতায় আরোহণ ঘটেছিল এক বিশাল রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এবং এমন এক সময়ে যখন আরব-ইসলামী ভূখণ্ডগুলো পূর্ব ও পশ্চিম থেকে আসা প্রচণ্ড আক্রমণের সম্মুখীন ছিল। শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে তখনো ক্রুসেডারদের রাজ্যগুলো বিদ্যমান ছিল, তারা পুনরায় বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছিল এবং মিশরকে লক্ষ্য করে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।

তারা আন্দালুসে একের পর এক অঞ্চল দখল করে নিচ্ছিল এবং তাদের জাহাজগুলো আরব উপকূলীয় সীমান্তগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছিল; তাদের লক্ষ্য ছিল আরব অঞ্চল দখল করা, সেখানে বসতি স্থাপন করা এবং এর ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা।

এই যুগেই আরব প্রাচ্যে মঙ্গোল আক্রমণ শুরু হয়, তারা ইরাক তছনছ করে দেয়, আব্বাসীয় খিলাফত ধ্বংস করে এবং শামের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়; এরপর তারা আতঙ্ক ও ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে মিশরের দিকে অগ্রসর হয়।

এভাবে মঙ্গোল ও ক্রুসেডারদের যৌথ বিপদ আরব-ইসলামী অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং আরবরা বুঝতে পেরেছিল যে, এই আক্রমণগুলো তাদের অস্তিত্ব নির্মূল করে দিতে চায়। ফলে তারা নিজেদের ওপর ধেয়ে আসা আসন্ন বিপদ প্রতিহত করতে মামলুকদের নেতৃত্বে জেগে ওঠে।

আক্রমণকারীদের মোকাবিলায় এই ব্যাপক জিহাদী আন্দোলনে কবিদেরও অংশগ্রহণ ছিল; তাদের একদল সশরীরে এবং কবিতার মাধ্যমে জিহাদ করেন, মানুষকে দান ও আত্মত্যাগে উৎসাহিত করেন এবং আক্রমণকারীদের ওপর শব্দশৈলীর মাধ্যমে আঘাত হানেন ও তাদের তুচ্ছজ্ঞান করেন। অন্য একদল ধর্মের আশ্রয় গ্রহণ করেন, প্রশান্তি ও সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং উম্মাহর ওপর থেকে আক্রমণকারীদের অনিষ্ট দূর করার আবেদন জানান; তারা বিপর্যয় ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে আত্মসংশোধনের আহ্বান জানান।

ইউরোপীয়রা তাদের আক্রমণে ক্রুশকে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসা আড়াল করতে ধর্মের আড়ালে নিজেদের ঢেকে রেখেছিল। তারা ইসলামের ওপর আক্রমণ চালালে কবিরা ইসলাম ও এর পবিত্র নিদর্শনাদির প্রতিরক্ষা করেন এবং আক্রমণকারীরা ইসলাম ও এর নবীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল তার জবাব দেন; ফলে তারা আল্লাহর রাসূলের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২০)
صلّى الله عليه وسلّم، وجاءت مدائحهم النبوية دفاعا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وإشادة بعظمته، ودعوة لنصرة الإسلام ومقاتلة أعدائه، وللجهاد في سبيل الله. وقدّمت القدوة والمثل من جهاد رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحبه، وشجاعتهم وصبرهم ومجالدتهم، إضافة إلى التشفّع برسول الله صلى الله عليه وسلم وطلب نصرته.

 

‌‌الصراع الداخلي:

إذا كانت قضايا السياسة الخارجية الناتجة عن علاقة العرب المسلمين بغيرهم- وهي علاقة قتال وحرب وغزو- قد دفعت الشعراء إلى مدح الرسول الكريم والتشفع به، وطلب مدده وعونه. فإن قضايا السياسة الداخلية قد تضافرت معها على تقوية هذا التوجه نحو المدح النبوي. فالمماليك استأثروا بالسلطة، ولم يتركوا منها لرعيتهم العرب إلا بقدر ما يحتاجون إليه، فتألّم العرب من ذلك لاعتقادهم بأنهم أحق من المماليك بالملك، فهم أصحاب البلاد، ومنهم رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وإلى جانب ذلك كان كثير من سلاطين المماليك وأمرائهم مستبدّين، يأخذون المرء بأدنى جريرة أو دونها. ولذلك كان العرب الذين ابتعدوا قليلا عن القبضة المملوكية- أو (العربان) كما كان المؤرخون يطلقون عليهم- يثورون الثورة تلو الثورة، معبرين عن سخطهم على حكم غريب عنهم وعن بلادهم.

وكان العرب يعبرون عن هذا الشعور بالتفافهم حول آل البيت، مازجين الشعور السياسي بالشعور الديني، فال البيت عرب وهم قريبون من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأصحاب حق بالسلطة، وهو ما صرّح به حصن الدين ثعلب بن يعقوب حين قاد ثورة كبيرة ضد المماليك بقوله «نحن أحقّ بالملك من المماليك» «1» .

--------------------------------------------

(1) المقريزي: البيان والإعراب ص 10، و 37 ص.
তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। তাঁদের না’ত বা রাসূলের প্রশংসামূলক কবিতাগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিরক্ষা, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বন্দনা এবং ইসলামের সাহায্য ও এর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আল্লাহর পথে জিহাদের আহ্বান হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল। এগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের জিহাদ, তাঁদের বীরত্ব, ধৈর্য ও সংগ্রামের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত পেশ করেছিল। এর পাশাপাশি এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ কামনা এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

‌‌অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব:

মুসলিম আরবদের সাথে অন্যদের সম্পর্কের ফলে সৃষ্ট বৈদেশিক রাজনৈতিক বিষয়গুলো—যা ছিল লড়াই, যুদ্ধ ও অভিযানের সম্পর্ক—যদি কবিদেরকে মহান রাসূলের প্রশংসা করতে, তাঁর সুপারিশ কামনা করতে এবং তাঁর মদদ ও সাহায্য প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়গুলোও এর সাথে যুক্ত হয়ে না’ত বা রাসূলের প্রশংসামূলক কবিতার এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল। মামলুকরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল এবং তাদের আরব প্রজাদের জন্য কেবল ততটুকুই সুযোগ অবশিষ্ট রেখেছিল যতটুকু তাদের প্রয়োজন ছিল। আরবরা এতে ব্যথিত হয়েছিল, কারণ তারা বিশ্বাস করত যে মামলুকদের তুলনায় তারাই রাজত্বের অধিক হকদার; যেহেতু তারা এ দেশের অধিবাসী এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরই মধ্য থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

এর পাশাপাশি অনেক মামলুক সুলতান ও আমির ছিলেন স্বৈরাচারী, যারা সামান্যতম অপরাধে বা অপরাধ ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে পাকড়াও করতেন। এ কারণেই যে আরবরা মামলুকদের নিয়ন্ত্রণ থেকে কিছুটা দূরে থাকত—কিংবা ঐতিহাসিকরা যাদের ‘আরবান’ নামে অভিহিত করতেন—তারা একের পর এক বিদ্রোহ করত। এর মাধ্যমে তারা তাদের এবং তাদের দেশের ওপর এক বিদেশি শাসনের প্রতি তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করত।

আরবরা তাদের এই অনুভূতি ব্যক্ত করত আহলে বাইতের প্রতি একাত্মতা প্রকাশের মাধ্যমে, যেখানে তারা রাজনৈতিক অনুভূতির সাথে ধর্মীয় অনুভূতির সমন্বয় ঘটিয়েছিল। কেননা আহলে বাইত ছিলেন আরব এবং তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটাত্মীয় ও ক্ষমতার প্রকৃত হকদার। এটিই হিসনুদ্দিন সা’লাব ইবনে ইয়াকুব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন যখন তিনি মামলুকদের বিরুদ্ধে এক বড় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “মামলুকদের চেয়ে রাজত্বের অধিক হকদার আমরাই।” (১)

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজি: আল-বায়ান ওয়াল ই’রাব, পৃষ্ঠা ১০ এবং ৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২১)
ومنهم من عاد إلى فكرة السفياني المنتظر التي راجت أيام بني أمية في موازاة فكرة المهدي المنتظر، فظهر في بلاد الشام رجل ادّعى أنه السفياني المنتظر، ناصره الفقهاء والعربان، ونادى ببطلان حكم الترك «1» .

أما الرمز العربي في السلطنة فهو الخلافة العباسية، التي أحياها المماليك عندما استقدموا أحد أبناء الخلفاء العباسيين، وبايعوه بالخلافة، ليعطوا لدولتهم الشرعية التي تفتقدها، وليأخذ كل سلطان شرعية حكمه منه، لكن الخليفة كان رمزا دينيا، ولم يكن له أي أثر محسوس في مجرى الأحداث إلا في أحيان قليلة. فالمماليك لم يحتفظوا بالخلافة العباسية إلا لإتمام إجراآت التقليد وتنصيب السلاطين، ولم يسمحوا للخليفة أن يقوم بأي عمل من أعمال السلطنة.

وكان الشعراء الذين يعتزّون بعروبتهم، يغتنمون كل فرصة لإظهار شعورهم هذا، ولو كان ذلك في الغزل بالعربيات في عصر شهد تمجيد كل ما هو تركي حتى في الجمال النسائي.

وظهر هذا الأمر في المدائح النبوية، فأكثر الشعراء العرب ذكر عروبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشادوا في مدحه بالعرب، وعرّضوا بغيرهم، لأن الإشادة بالعرب في هذا العصر قد تثير نقمة الأتراك، أو توغر صدورهم، فهي تعبر عن موقف سياسي مناوئ للحكام الغرباء، ولكن إدراجها ضمن المدائح النبوية لا تتيح لمعترض اعتراضا، وتظهر أنها إشادة بأهل الرسول الكريم وقومه، فلا يجرؤ أحد على إنكار ذلك. ومدح الرسول صلى الله عليه وسلم يذكّر العرب أن صاحب الأمة ومنشئها منهم، وأن الصحابة الذين حملوا رسالة الإسلام إلى العالم منهم، وأنهم من أمة عزيزة عريقة، عليهم أن يعيدوا أمجادها، وليعي المماليك أنهم أتباع نبي عربي، يحق لأهله الكرامة.

--------------------------------------------

(1) ابن إياس: بدائع الزهور 2/ 7.
তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতীক্ষিত সুফিয়ানীর ধারণায় ফিরে গিয়েছিলেন, যা উমাইয়া যুগে প্রতীক্ষিত মাহদীর ধারণার সমান্তরালে জনপ্রিয় হয়েছিল। ফলে শাম দেশে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে যে নিজেকে প্রতীক্ষিত সুফিয়ানী বলে দাবি করে। ফকিহগণ এবং আরবরা তাকে সমর্থন করেন এবং তিনি তুর্কি শাসনের অবৈধতা ঘোষণা করেন।

সালতানাতে আরবীয় প্রতীক ছিল আব্বাসীয় খিলাফত, যা মামলুকরা পুনরুজ্জীবিত করেছিল যখন তারা আব্বাসীয় খলিফাদের এক সন্তানকে নিয়ে আসে এবং তার হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের রাষ্ট্রের জন্য সেই বৈধতা অর্জন করা যা তাদের ছিল না এবং যেন প্রত্যেক সুলতান তার কাছ থেকে নিজ শাসনের বৈধতা গ্রহণ করতে পারেন। তবে খলিফা ছিলেন কেবলই একজন ধর্মীয় প্রতীক এবং ঘটনাবলির প্রবাহে খুব কম সময় ছাড়া তার কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ছিল না। মামলুকরা কেবল অভিষেক অনুষ্ঠান এবং সুলতানদের পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই আব্বাসীয় খিলাফত টিকিয়ে রেখেছিল এবং তারা খলিফাকে সালতানাতের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দিত না।

যেসব কবি তাদের আরবীয় পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতেন, তারা তাদের এই অনুভূতি প্রকাশের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতেন। এমন এক যুগে যেখানে নারী সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও তুর্কি প্রভাবের জয়গান গাওয়া হতো, সেখানে তারা আরব নারীদের প্রশংসায় গজল রচনার মাধ্যমেও তা প্রকাশ করতেন।

এই বিষয়টি নবীজির প্রশংসামূলক কাব্যে (মাদাইহ নববীয়াহ) স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। অধিকাংশ আরব কবি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরবীয় পরিচয়ের কথা বারবার উল্লেখ করতেন এবং তাঁর প্রশংসার ছলে আরবদের গুণকীর্তন করতেন এবং অন্যদের প্রতি বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিত করতেন। কারণ, সেই যুগে আরবদের প্রশংসা করা তুর্কিদের ক্ষোভের কারণ হতে পারত বা তাদের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারত, কেননা এটি ছিল বিদেশি শাসকদের বিরুদ্ধে এক প্রকার রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু নবীজির প্রশংসার মাঝে একে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে কোনো প্রতিবাদকারীর প্রতিবাদের সুযোগ থাকত না এবং এটি মহান রাসূলের পরিবার ও তাঁর কওমের প্রশংসা হিসেবেই প্রতীয়মান হতো, যা অস্বীকার করার সাহস কারো ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা আরবদের স্মরণ করিয়ে দিত যে, এই উম্মাহর অধিপতি ও নির্মাতা তাদের মধ্য থেকেই ছিলেন এবং যে সাহাবীগণ বিশ্বজুড়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন তারাও তাদের মধ্য থেকেই ছিলেন। এটি তাদের বোঝাত যে তারা এক মর্যাদাবান ও প্রাচীন উম্মাহর অংশ যাদের হৃত গৌরব তাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি এটি মামলুকদেরও বুঝিয়ে দিত যে তারা একজন আরব নবীর অনুসারী, যাঁর স্বজাতি সম্মানের দাবিদার।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ইয়াস: বাদাউয যুহুর ২/৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২২)
إن كثيرا من المدائح النبوية قد حملت في ثناياها إشارات هامة إلى الأوضاع السياسية التي كانت سائدة في العصر المملوكي، مثل الغزو الخارجي الذي هدّد وجود الدولة العربية الإسلامية، ومثل استئثار فئة قليلة بالحكم وحرمان الأكثرية العربية منه، وهذا يظهر أن الآراء والمشاعر السياسية كانت وراء نظم بعض المدائح النبوية، أو أنها اشتركت مع مشاعر أخرى، دفعت الشعراء إلى نظم المديح النبوي، واتخاذه وسيلة لحمل هذه المشاعر وإظهارها، لأنها تداخلت مع المشاعر الدينية في معرض الحديث عن رسول الله، وهذا يمنع الاعتراض عليها، أو عقاب من يظهرها بالإضافة إلى أن النبي الكريم عربي، أنشأ الأمة العربية، وجعل لها مكانة سامية بين الأمم، وحمّلها رسالة سماوية خالدة إلى العالم، ومدحه يذكّر الناس بهذه الحقائق ويعلي من شأن الأمة التي بعث منها.

وكذلك الأمر في صراع الأمة العربية مع أعدائها، فإن هذا الصراع لبس لبوسا مغايرا لحقيقته، حين ادعى الغزاة أن عدوانهم على الأمة العربية دافعه الدين، فهاجموا الإسلام ونبيه، فكان الرد العربي الإسلامي في هذه الحال هو مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم والإشادة به، فكانت مدائحه من هذه الناحية سلاحا سياسيا يجابه به العرب أعداءهم.

وهكذا ظهر لنا بوضوح أن الدافع السياسي كان أحد الدوافع وراء نظم المدائح النبوية وانتشارها في هذا العصر.
নিশ্চয়ই অনেক নবি-প্রশস্তি কাব্য তার অন্তরালে মামলুক যুগে প্রচলিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করেছে, যেমন—বহিরাগত আক্রমণ যা আরব-ইসলামি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল, এবং ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও আরব সংখ্যাগুরুদের তা থেকে বঞ্চিত করা। এটি স্পষ্ট করে যে, কিছু নবি-প্রশস্তি রচনার পেছনে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আবেগ সক্রিয় ছিল, অথবা তা অন্যান্য আবেগের সাথে মিশে কবিদের না’ত রচনা করতে এবং এসব অনুভূতি প্রকাশ ও বহনের মাধ্যম হিসেবে একে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কারণ আল্লাহর রাসুল সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক অনুভূতিগুলো ধর্মীয় অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছিল, যা এই কাব্যের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলা বা এটি প্রকাশকারীকে শাস্তি দেওয়া অসম্ভব করে তুলেছিল। এছাড়া সম্মানিত নবি ছিলেন আরব, তিনি আরব উম্মাহর ভিত্তি স্থাপন করেছেন, জাতিসমূহের মধ্যে একে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং একে বিশ্ববাসীর কাছে একটি শাশ্বত আসমানি বার্তার বাহক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর প্রশংসা মানুষকে এই সত্যগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় এবং যে উম্মাহর মধ্যে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

তেমনিভাবে শত্রুদের সাথে আরব উম্মাহর সংগ্রামের বিষয়টিতেও একই চিত্র দেখা যায়। কেননা এই সংঘাত তার প্রকৃত রূপের চেয়ে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল যখন আক্রমণকারীরা দাবি করেছিল যে আরব উম্মাহর ওপর তাদের এই আগ্রাসনের মূল চালিকাশক্তি হলো ধর্ম। তারা ইসলাম ও এর নবিকে আক্রমণ করেছিল, এমতাবস্থায় আরব-ইসলামি প্রতিক্রিয়া ছিল আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসা করা ও তাঁর গুণকীর্তন করা। ফলে এই প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রশংসামূলক কাব্যগুলো একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল যার মাধ্যমে আরবরা তাদের শত্রুদের মোকাবিলা করত।

এভাবে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই যুগে নবি-প্রশস্তি রচনা ও এর প্রসারের পেছনে রাজনৈতিক প্রেরণা অন্যতম একটি কারণ ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الثاني الأسباب الاجتماعية

 

‌‌المظالم والكوارث:

كان المجتمع المملوكي مجتمعا طبقيا، يسوده نظام الإقطاع العسكري، وكان المماليك على رأس الهرم الاجتماعي، ويشكلون الطبقة الحاكمة، التي تستأثر بثروة البلاد وبالوظائف الكبرى في الدولة، ولا تترك لسواها من أمور الدولة إلا بقدر ما تحتاج إليه ولا تجيده.

وكان المماليك يؤلفون طبقة متميزة، سلطتهم مطلقة، لا يحدها إلا الشرع الإسلامي، وتجاوزوه أحيانا وخاصة عندما يكون السلطان وأمراؤه ممن لا تأخذهم في غيرهم رحمة ولا حرمة، ولذلك حفل تاريخهم بصور من المظالم، وإلى جانبها مظاهر العظمة التي أحاطوا أنفسهم بها، فبذخوا بذخا فاحشا وتركوا بقية الناس عرضة للفقر والجوع، وفريسة للأوبئة والكوارث.

بيد أن ما اتصف به حكم بعضهم من ظلم واضطهاد، وتناقض بين الحاكم والمحكوم في الوضع الاجتماعي، لم يأتوا به جملة، بل كانت هذه المظاهر موجودة من قبل، ولم تكن عند المماليك جميعهم، ولم تجتمع كلها في وقت واحد فكان من سلاطين المماليك وأمرائهم الحريص على العدل، وعلى رفع الكرب والضيق عن الناس.

وكانت العامة تعلن سخطها على المظالم، وتثور المرة تلو المرة، لترفعها عن كاهلها، وكان بعض العلماء يقولون كلمة الحق في وجه من يجور من المماليك، وينبهونهم على واجباتهم ومسؤولياتهم اتجاه من يحكمون، ويظهرون حكم الشرع فيما يتصرفون.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক কারণসমূহ

 

‌জুলুম-অবিচার এবং বিপর্যয়সমূহ:

মামলুক সমাজ ছিল একটি শ্রেণিবিভক্ত সমাজ, যেখানে সামরিক জায়গিরদারি প্রথা বিদ্যমান ছিল। সামাজিক পিরামিডের শীর্ষে ছিল মামলুকরা; তারা শাসক শ্রেণি গঠন করেছিল, যারা দেশের সম্পদ এবং রাষ্ট্রের বড় বড় পদগুলো এককভাবে ভোগ করত। রাষ্ট্রের অন্যান্য বিষয়ে অন্যদের জন্য তারা ততটুকুই অবশিষ্ট রাখত, যতটুকু তাদের প্রয়োজন হতো এবং যা তারা নিজেরা সম্পন্ন করতে পারদর্শী ছিল না।

মামলুকরা একটি স্বতন্ত্র শ্রেণি হিসেবে গড়ে উঠেছিল; তাদের ক্ষমতা ছিল নিরঙ্কুশ, যা কেবল ইসলামি শরিয়ত দ্বারাই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে কখনো কখনো তারা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করত, বিশেষ করে যখন সুলতান এবং তার আমিররা এমন হতেন যাদের হৃদয়ে অন্যদের প্রতি কোনো দয়া বা শ্রদ্ধাবোধ থাকত না। এ কারণে তাদের ইতিহাস জুলুম-অবিচারের নানা চিত্রে পরিপূর্ণ, আর এর পাশাপাশি ছিল সেই জাঁকজমক ও শানশওকত যা তারা নিজেদের চারপাশে বেষ্টন করে রেখেছিল। তারা অত্যন্ত বিলাসিতায় মগ্ন থাকত এবং অবশিষ্ট সাধারণ মানুষকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মুখে ঠেলে দিত, যার ফলে তারা মহামারি ও বিপর্যয়ের শিকারে পরিণত হতো।

তবে তাদের কারো কারো শাসনে যে জুলুম, নিপীড়ন এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে সামাজিক অবস্থানের বৈপরীত্য দেখা গিয়েছিল, তা তারা হুট করে বা একযোগে নিয়ে আসেনি; বরং এই বৈশিষ্ট্যগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। এছাড়া সব মামলুক শাসকের মধ্যে এমনটা ছিল না এবং সব নেতিবাচক বিষয় একই সময়ে পুঞ্জীভূত হয়নি। কারণ মামলুক সুলতান ও আমিরদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও সংকীর্ণতা দূর করতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন।

সাধারণ জনগণ জুলুম-অবিচারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করত এবং তা থেকে মুক্তি পেতে বারবার বিদ্রোহ করত। কিছু আলেম মামলুকদের মধ্য থেকে যারা অত্যাচারী ছিল, তাদের সামনে সত্য কথা বলতেন এবং যাদের ওপর তারা শাসন করছে, তাদের প্রতি তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে তাদের সতর্ক করতেন। সেই সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শরিয়তের বিধান স্পষ্ট করে দিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولم يكن الشعراء بعيدين عن هذا الموقف، فكانوا يسجلون في شعرهم مشاعر السخط على مظاهر البؤس الذي يحكم حياة العامة، وإذا لم تسعف بعضهم الشجاعة الكافية للتصريح بما يجول في أنفسهم كانوا يعتمدون طريقة غير مباشرة، ويتجهون إلى الدين ومدح النبي الكريم، فيقدمون المثل الأعلى للعدل والرحمة بالناس، ويقارنون بين ما كان عليه المسلمون الأوائل، وبين ما آل إليه الأمر في عهدهم لعل حكامهم الذين يتمسّكون بالدين ويظلمونهم ينتبهون لذلك، فلا يستمرون فيما هم عليه، ولعل الناس تعي حقوقها، فتهب للمطالبة بها، وتضع حدا للأوضاع الخاطئة التي أضحت شيئا اعتاده الناس، فظنوه قدرا لا مفر منه.

وقد شهد العصر المملوكي الكثير من الأزمات الخانقة، وحدثت كوارث طبيعية حصدت الناس حصدا بالإضافة إلى المجاعات المتكررة التي أوصلت الناس إلى أكل لحوم البشر، فكانوا عندما تلمّ بهم مصيبة من هذه المصائب يضجون بالدعاء إلى الله تعالى، ويستشفعون برسوله، ليرفع عنهم هذا الكرب.

 

‌‌المفاسد الاجتماعية:

عرف العصر المملوكي بعض صور اللهو والمجون، والمفاسد الاجتماعية، وخاصة في أعياد النصارى، حيث يجهر الناس باللهو وشرب الخمر، ففي عيد الشهيد «يخرج عامة أهل القاهرة ومصر على اختلاف طبقاتهم، وينصبون الخيام على شطوط النيل وفي الجزائر، ولا يبقى مغني ولا مغنية، ولا صاحب لهو ولا رب ملعوب، ولا بغي ولا مخنث ولا ماجن ولا خليع ولا فاتك ولا فاسق إلا ويخرج لهذا العيد، فيجتمع عالم عظيم جدا، لا يحصيهم إلا خالقهم، وتصرف أموال لا تنحصر، ويتجاهر هناك بما لا يحتمل من المعاصي والفسوق وتثور فتن، وتقتل أناس، ويباع الخمر … » «1» .

--------------------------------------------

(1) الخطط المقريزية: 1/ 110.

কবিরাও এই অবস্থান থেকে দূরে ছিলেন না; তাঁরা তাঁদের কবিতার মাধ্যমে জনজীবনের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র এবং সেই অব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষের অনুভূতিগুলো ফুটিয়ে তুলতেন। যখন তাঁদের কারো মধ্যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার মতো যথেষ্ট সাহসের অভাব দেখা দিত, তখন তাঁরা পরোক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করতেন এবং ধর্মের দিকে ও মহানবীর প্রশংসার দিকে ধাবিত হতেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার ও করুণার এক সুউচ্চ আদর্শ উপস্থাপন করতেন এবং প্রথম যুগের মুসলিমদের অবস্থার সাথে তাঁদের সমসাময়িক শাসনব্যবস্থার তুলনা করতেন। উদ্দেশ্য ছিল, হয়তো এর মাধ্যমে তাঁদের শাসকরা—যারা ধর্ম আঁকড়ে ধরেও তাঁদের ওপর জুলুম করত—সচেতন হবে এবং বর্তমানে তারা যে পথে আছে তাতে অটল থাকবে না। আর সম্ভবত সাধারণ মানুষও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে, ফলে তারা তা আদায়ের দাবিতে সোচ্চার হবে এবং এই ভুল পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে, যা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হওয়ায় তারা একে এক অনিবার্য নিয়তি বলে ধরে নিয়েছিল।

মামলুক যুগ অনেক শ্বাসরুদ্ধকর সংকটের সাক্ষী ছিল এবং এমন কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছিল যা মানুষকে শস্য কাটার মতো উজাড় করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি বারবার দেখা দেওয়া দুর্ভিক্ষের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মানুষ মানুষের মাংস পর্যন্ত খেয়েছিল। যখনই তাদের ওপর এই জাতীয় কোনো বিপদ নেমে আসত, তারা মহান আল্লাহর কাছে ব্যাকুল হয়ে দোয়া করত এবং এই দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য তাঁর রাসুলের সুপারিশ পেশ করত।

 

‌‌সামাজিক অবক্ষয়সমূহ:

মামলুক যুগে আমোদ-প্রমোদ, নির্লজ্জতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের কিছু চিত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বিশেষ করে খ্রিস্টানদের উৎসবগুলোতে; যেখানে মানুষ প্রকাশ্যেই আনন্দ-স্ফুর্তি ও মদ্যপানে লিপ্ত হতো। যেমন ‘শহীদ দিবস’ (ঈদুশ শহীদ) উপলক্ষে: «কায়রো ও মিসরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ বেরিয়ে পড়ত এবং নীল নদের তীরে ও দ্বীপগুলোতে তাবু স্থাপন করত। কোনো গায়ক-গায়িকা, আমোদ-প্রমোদকারী, তামাশা প্রদর্শনকারী, ব্যভিচারিণী, হিজড়া, নির্লজ্জ, বেহায়া, দুরাচার কিংবা পাপাচারী বাকি থাকত না যে এই উৎসবে যোগ দিত না। ফলে সেখানে এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটত যাদের গণনা করা কেবল তাদের স্রষ্টার পক্ষেই সম্ভব। সেখানে অঢেল অর্থ ব্যয় করা হতো এবং এমন অসহনীয় পাপাচার ও অশ্লীলতা প্রকাশ্যে চলত যে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হতো, মানুষ খুন হতো এবং মদ বিক্রি হতো … » «১»।

--------------------------------------------

(১) আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়া: ১/ ১১০।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
ووصل الأمر في عهد بعض السلاطين إلى حد ضمان الخمارات وأماكن الفسق، وحماية الفجور لقاء المال الذي يدفع إلى ضامن هذه الضروب من المفاسد، والذي يدفع قدرا معينا من المال للدولة.

وكانت هذه المظاهر في مد وجزر، وفقا لظروف الدولة من حروب وسواها، وحسب شخصية السلطان الحاكم، فإذا كان السلطان محبّا للهو، مجاهرا به، جاهر الناس بالمعاصي، واشتدّ ولعهم باللهو، وإذا كان السلطان جادا، منصرفا عن الملذات المحرّمة، استتر طالبو اللذة الرخيصة، وهدمت أماكن المجون، التي تباح فيها المفاسد.

وربما كان لاختلاط العناصر المختلفة، والأجناس المتباينة، أثر في انتشار مظاهر الفساد الاجتماعي، وظهور العادات الغريبة عن العرب والإسلام، وقد يكون إقبال الناس على اللهو والمجون من قبيل الهرب من قسوة الحياة، واشتداد الظلم والعسف، إلا أن هذه الحياة اللاهية لم ترق لكثير من الناس، وهاجمها رجال الدين، وعدوها أحد أسباب المصائب التي تحلّ بالأمة، وهذا ما جعل بعض الشعراء يضجّون بالدعاء إلى الله تعالى، ليخلّص المجتمع من هذه المفاسد، ويتوسلون برسوله مادحين مستشفعين ليذكّروا الناس بتعاليم الدين وحدوده، والحياة الإنسانية الحقة التي دعا إليها الإسلام، وطبقها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وليشيعوا الروح الدينية بين الناس، ليعدلوا عن هذه المفاسد، أو ليقاوموها.

وقد نظم كثير من الشعراء القصائد الدينية، والمدائح النبوية منها خاصة، للتكفير عن مشاركتهم في اللهو والمجون بالفعل والقول، يطلبون فيها شفاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم للخلاص من ذنوبهم، ويعلنون فيها توبتهم عمّا كانوا عليه، ويأملون الأجر والثواب والمغفرة من وراء مدحهم للنبي الكريم.
কিছু সুলতানের শাসনামলে পরিস্থিতি এতটাই গড়িয়েছিল যে, মদের দোকান ও পাপাচারের আড্ডাখানাগুলোর ইজারা প্রদান এবং এই ধরণের অনিষ্টগুলোর রক্ষাকারীদের থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিনিময়ে ব্যভিচারকে সুরক্ষা দেওয়া হতো, যারা রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করত।

রাষ্ট্রের যুদ্ধবিগ্রহ বা অন্যান্য পরিস্থিতি এবং শাসক সুলতানের ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে এই বিষয়গুলো কখনও জোয়ারের ন্যায় বৃদ্ধি পেত আবার কখনও ভাটার ন্যায় হ্রাস পেত। যদি সুলতান আমোদ-প্রমোদ প্রিয় হতেন এবং তা প্রকাশ্যেই করতেন, তবে সাধারণ মানুষও প্রকাশ্যে পাপাচার করত এবং ভোগ-বিলাসের প্রতি তাদের আসক্তি তীব্রতর হতো। আর সুলতান যদি গম্ভীর ও কঠোর হতেন এবং নিষিদ্ধ ভোগ-বিলাস থেকে বিমুখ থাকতেন, তবে সস্তা লালসা অন্বেষণকারীরা আত্মগোপন করত এবং অশ্লীলতার সেই আড্ডাখানাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হতো যেখানে অনৈতিক কাজ পরিচালিত হতো।

সম্ভবত বিভিন্ন উপাদান ও ভিন্ন ভিন্ন জাতির সংমিশ্রণের প্রভাব সামাজিক দুর্নীতির বিস্তার এবং আরব ও ইসলামের ঐতিহ্যের বিজাতীয় অভ্যাসগুলোর আবির্ভাবে ভূমিকা রেখেছিল। মানুষের আমোদ-প্রমোদ ও অশ্লীলতার দিকে ঝুঁকে পড়া জীবনের রূঢ়তা এবং ক্রমবর্ধমান জুলুম ও নিপীড়ন থেকে পলায়নের একটি মাধ্যমও হতে পারে। তবে এই ভোগবাদী জীবন অনেক মানুষের কাছে পছন্দনীয় ছিল না এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ এর তীব্র সমালোচনা করতেন। তারা একে উম্মাহর ওপর নেমে আসা বিপদ-আপদগুলোর অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করতেন। এর ফলে কিছু কবি মহান আল্লাহর দরবারে উচ্চস্বরে প্রার্থনা শুরু করেন যেন তিনি সমাজকে এসব অনিষ্ট থেকে মুক্তি দেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করে এবং তাঁর সুপারিশ কামনা করে অসিলা গ্রহণ করতেন যাতে মানুষকে দ্বীনের শিক্ষা ও সীমারেখা এবং ইসলামের আহ্বানকৃত ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকৃত মানবজীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন। তারা মানুষের মাঝে ধর্মীয় চেতনা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন যেন মানুষ এসব অনিষ্ট থেকে ফিরে আসে অথবা এগুলোকে প্রতিরোধ করে।

অনেক কবি ধর্মীয় কবিতা, বিশেষ করে না'তে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রচনা করেছেন তাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে আমোদ-প্রমোদ ও অশ্লীলতায় অংশগ্রহণের কাফফারা হিসেবে। সেখানে তারা তাদের পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ প্রার্থনা করতেন এবং তাদের পূর্ববর্তী আচরণের জন্য তওবা ঘোষণা করতেন। তারা এই মহান নবীর প্রশংসার মাধ্যমে প্রতিদান, সওয়াব ও ক্ষমা লাভের আশা পোষণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الفصل الثالث الأسباب الدينية

إن المتتبع لأحوال الناس في القرنين السادس والسابع، يلاحظ بوضوح غلبة الروح الدينية على مجمل النشاط الإنساني في الأمصار العربية الإسلامية، ويظهر أن ما شهدته من اضطرابات عنيفة بسبب الغزو الخارجي من جهة، وبسبب النزاع السياسي الذي تستر بالعقيدة بين القوى المتصارعة على السلطة من جهة ثانية، كان وراء التمسك بالدين والحرص على شعائره، طلبا للراحة والطمأنينة حينا واتخاذه سلاحا في الصراع الداخلي والخارجي حينا آخر.

فالغزو الفرنجي للأقطار العربية اتخذ الطابع الديني، وتستر بإنقاذ المقدسات المسيحية من أيدي المسلمين، لذلك عرف ذلك الغزو بالحروب الصليبية وعرف الغزاة بالصليبيين الذين لم يكتفوا بإظهار طمعهم بالأرض العربية وخيراتها، وإظهار عدائهم السياسي للعرب، بل أخذوا في مهاجمة الدين الإسلامي وصاحبه، وإنكار نبوته، وهذا ما دعا المسلمين إلى الرد عليهم، ومجادلتهم جدالا دينيا، كان له أثره في بعض المعتقدات الدينية، وفي الأدب والفكر.

وكان يوجد قبيل العصر المملوكي دولتان، تتنافسان تنافسا سياسيا وعقائديا، هما الدولة العباسية والدولة الفاطمية، وقد وصلت آثار هذا التنافس إلى العصر المملوكي.

ويضاف إلى ذلك أن تيار التصوف اشتد قوة واتساعا، وتعددت فرقه.

فكان من نتائج ذلك كله ظهور فرق متباينة، وجدال ديني، أعطى نشاطا ملحوظا للحركة الدينية، تجلّت في إقبال الناس على علوم الدين، وكثرة التأليف فيها، وفي الأدب الديني الذي تجسد في الشعر الصوفي وإضغاء الصفة الدينية على الممدوح، وفي المدائح النبوية.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় কারণসমূহ

ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী আরব-ইসলামী জনপদসমূহে সামগ্রিক মানবিক কর্মকাণ্ডের ওপর ধর্মীয় চেতনার স্পষ্ট আধিপত্য লক্ষ্য করেন। প্রতীয়মান হয় যে, একদিকে বৈদেশিক আক্রমণের কারণে সৃষ্ট প্রচণ্ড অস্থিরতা এবং অন্যদিকে ক্ষমতার জন্য বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আকীদার আড়ালে চলা রাজনৈতিক সংঘাত—মানুষের ধর্মকে আঁকড়ে ধরার এবং এর নিদর্শনগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়ার মূল কারণ ছিল। কখনও তারা প্রশান্তি ও স্থিরতার অন্বেষায় এটি করতেন, আবার কখনও একে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দ্বন্দ্বে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।

আরব দেশগুলোতে ফ্রাঙ্কদের আক্রমণ ধর্মীয় রূপ পরিগ্রহ করেছিল এবং তারা খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থানসমূহ মুসলিমদের হাত থেকে উদ্ধারের অজুহাতে তা ঢেকে রেখেছিল। এই কারণেই সেই আক্রমণ ক্রুসেড এবং আক্রমণকারীরা ক্রুসেডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তারা কেবল আরব ভূমি ও এর সম্পদের প্রতি তাদের লোভ এবং আরবদের প্রতি তাদের রাজনৈতিক শত্রুতা প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা ইসলাম ধর্ম ও এর প্রবর্তকের ওপর আক্রমণ শুরু করে এবং তাঁর নবুওয়াত অস্বীকার করে। এটিই মুসলিমদেরকে তাদের জবাব দিতে এবং তাদের সাথে ধর্মীয় তর্কে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার প্রভাব কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাহিত্য ও চিন্তাধারার ওপর পড়েছিল।

মামলুক যুগের ঠিক আগে দুটি রাষ্ট্র ছিল যারা রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল, সেগুলো হলো আব্বাসীয় রাষ্ট্র ও ফাতিমী রাষ্ট্র। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব মামলুক যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে যে, তাসাউফের ধারা আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছিল এবং এর বিভিন্ন তরীকা বা দল বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এই সবকিছুর ফলাফল ছিল বিভিন্ন ভিন্নধর্মী দলের উদ্ভব এবং ধর্মীয় বিতর্ক, যা ধর্মীয় আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য গতিশীলতা দান করে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে ধর্মীয় বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, তাতে প্রচুর গ্রন্থ রচনা এবং ধর্মীয় সাহিত্যের বিকাশের মাধ্যমে—যা সুফিবাদী কবিতা, প্রশংসিত ব্যক্তির ওপর ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য আরোপ এবং নববী প্রশংসামূলক কাব্যের (মাদায়িহুন নববী) মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهكذا أخذ الشعور الديني ينمو ويشتد، ليتهيّأ الناس لصد الغزو الصليبي، فعمل الحكام على تغذية هذا الشعور بتقريب رجال الدين وتشجيعهم، ليتقرّبوا من العامة، فبنوا المساجد والمدارس والزوايا، وأحيوا الاحتفالات الدينية بأنفسهم.

وظهر أثر هذا الشعور الديني على مجمل نشاطات الحياة في الدولة المملوكية، والدول التي سبقتها، ووصل إلى الأسماء والكنى والألقاب، فكانت مضافة إلى الدين أو منسوبة إليه.

وهذا الشعور هو الذي هيّأ للأجناس المختلفة أن تحيا في مجتمع واحد، وأن تجاهد معا لدرء خطر الغزوات العاتية، وأن تواصل بناء الحضارة العربية الإسلامية وإثرائها.

 

‌‌مجادلة أهل الكتاب:

ظهر التوجه الديني في الأدب ظهورا كبيرا وعميقا، فكان ينشأ في سبيل الدين ويعكس المشاعر الدينية المتأججة، ويحمل آثار المناظرات والمجادلات التي كانت تحدث بين فرق المسلمين المختلفة من جهة، وبين المسلمين وأهل الكتاب من جهة أخرى، واشتدت هذه المناظرات خلال الحروب الصليبية إذ أخذ المسلمون يدافعون عن دينهم ونبيهم، ويثبتون له النبوة بدلائل مختلفة، فصنفوا في ذلك الكتب الكثيرة، واطلعوا على كتب النصارى واليهود، ليثبتوا ما يذهبون إليه، فشاع بينهم مثلا ما نسب إلى كعب الأحبار أنه قال:

«تجد مكتوبا- يعني في التوراة- محمد رسول الله، عبد مختار، لا فظ ولا غليظ ولا صخّاب في الأسواق ولا يجزي بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويغفر.. مولده بمكة ومهاجره بطابة، وملكه بالشام» «1» .

--------------------------------------------

(1) الديار بكري حسين: تاريخ الخميس ص 24.
এভাবে ধর্মীয় অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে ও প্রবল হতে শুরু করে, যাতে মানুষ ক্রুসেডার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। শাসকগণ আলেমদের সান্নিধ্যে রেখে এবং তাদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে এই অনুভূতিকে উজ্জীবিত করার কাজ করেন, যাতে তারা সাধারণ মানুষের নিকটবর্তী হতে পারেন। ফলে তারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ নির্মাণ করেন এবং তারা নিজেরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ উদ্‌যাপন করেন।

এই ধর্মীয় অনুভূতির প্রভাব মামলুক সালতানাত এবং তার পূর্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। এমনকি এটি নাম, কুনিয়াত (উপনাম) ও উপাধি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা দ্বীনের সাথে যুক্ত বা সম্পর্কিত ছিল।

এই অনুভূতিই বিভিন্ন জাতিকে একটি সমাজে বসবাস করতে, প্রবল আক্রমণের বিপদ দূর করতে সম্মিলিতভাবে জিহাদ করতে এবং আরব-ইসলামী সভ্যতার বিনির্মাণ ও সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছিল।

 

‌‌আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক:

সাহিত্যে ধর্মীয় প্রবণতা অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীরভাবে প্রকাশ পায়। এটি ধর্মের খাতিরেই সৃষ্টি হয়েছিল এবং এতে উত্তাল ধর্মীয় আবেগ প্রতিফলিত হতো। এতে একদিকে বিভিন্ন মুসলিম দলগুলোর মধ্যে এবং অন্যদিকে মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যে সংঘটিত বিতর্ক ও বাদানুবাদের প্রভাব বিদ্যমান ছিল। ক্রুসেড যুদ্ধের সময় এই বিতর্কগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যখন মুসলিমরা তাদের ধর্ম ও নবীর পক্ষাবলম্বন করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াত প্রমাণ করেন। এ বিষয়ে তারা অসংখ্য কিতাব রচনা করেন এবং খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন যাতে তারা যা বিশ্বাস করেন তা প্রমাণ করতে পারেন। তাদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ কাব আল-আহবার এর প্রতি নিসবতকৃত এই কথাটি প্রচলিত ছিল যে, তিনি বলেছিলেন:

«তুমি লিখিত পাবে—অর্থাৎ তাওরাতে—মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, তিনি মনোনীত বান্দা, তিনি কর্কশভাষী নন, কঠোর হৃদয়ের নন, বাজারে শোরগোলকারী নন এবং মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর জন্ম মক্কায়, তাঁর হিজরতস্থল তাবাহ (মদিনা) এবং তাঁর রাজত্ব শামে» «১» ।

--------------------------------------------

(১) আদ-দিয়ার বাকরি হুসাইন: তারিখুল খামিস, পৃষ্ঠা ২৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي وصايا موسى عليه السلام لبني إسرائيل «سيأتيكم نبي من بني إخوتكم- أي أعمامكم فله صدّقوا ومنه فاسمعوا» «1» ومما ترجموا من الإنجيل أن عيسى عليه السلام قال: «إذا جاء الفارقليط، فهو يشهد لي، وأنتم تشهدون لي أيضا لكينونتكم معي من أوّل أمري.

قوله الفارقليط، معناه الحكم السر، يعرف السر، والمراد به رسول الله صلى الله عليه وسلم» «2»

وأورد السيوطي في كتابه (الخصائص الكبرى) فيضا من مثل هذه الروايات، أيّد المحقق بعضها، وردّ بعضها الآخر، ومما أيّده ما ذهب إليه السيوطي من أن الأناجيل اشتملت «لا سيما إنجيل برنابا على بشارات صريحة بالنبي صلى الله عليه وسلم» «3» .

ومن ذلك أيضا ما جاء في التوراة: «طلع الرب من سينا، وأشرق من ساعير، واستعلن من جبل فاران، ومعلوم أن بريّة فاران هي الحجاز «4» .

ومسألة الجدال بين المسلمين وأهل الكتاب قديمة العهد، وتعود إلى بداية العصر العباسي حين أخذ العرب المسلمون يترجمون كتب العلوم المختلفة، ويظهر أنّ جدالا قد وقع بين بعض رجال الدين المسلمين وأحبار النّصارى واليهود، وقد عكس هذا الجدال في كتاب (الدين والدولة في إثبات النبوة) حيث قال مؤلّفه (شهادات الحق، ومقاييس العبر متوافرة مجتمعة للنبي صلى الله عليه وسلم في عشرة معان، لم تجتمع إلّا للمسيح عليه السلام، منها.. ما كان عليه نسكه وعفته وصدقه ومحمود سنّته وشرائعه.. غلبته الأمم آية بيّنة بالضرورة والحجج التي لا تدفع.. الأنبياء عليهم السلام قد تنبّأت عليه قبل ظهوره بدهر طويل، ووصفت مبعثه وبلده ومسيرة وخضوع الأمم له، والملوك لأمته» «5» .

--------------------------------------------

(1) الديار بكري حسين: تاريخ الخميس ص 25.

(2) الديار بكري حسين: تاريخ الخميس ص 25.

(3) السيوطي: الخصائص الكبرى ص 23.

(4) المصدر نفسه ص 26.

(5) الطبري، علي بن ربّن: كتاب الدين ص 16.
বনী ইসরাঈলের প্রতি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর অসিয়তসমূহে রয়েছে: "তোমাদের কাছে তোমাদের ভাইদের সন্তানদের থেকে—অর্থাৎ তোমাদের চাচাতো ভাইদের মধ্য থেকে—একজন নবী আসবেন; তোমরা তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করো এবং তাঁর কথা শোনো।" এবং ইঞ্জিলের যে অংশসমূহ তারা অনুবাদ করেছেন তাতে রয়েছে যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যখন ফারাকলিত আসবে, তখন সে আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে, আর তোমরাও আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে; কারণ তোমরা আমার সূচনালগ্ন থেকেই আমার সাথে ছিলে।"

তাঁর উক্তি 'ফারাকলিত'-এর অর্থ হলো 'গোপন বিচারক' বা 'যিনি রহস্য জানেন', আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

সুয়ূতী তাঁর 'আল-খাসায়েসুল কুবরা' গ্রন্থে এই ধরণের বর্ণনার এক বিশাল ভাণ্ডার উপস্থাপন করেছেন। গবেষক এর কিছু অংশ সমর্থন করেছেন এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুয়ূতী যে মত পোষণ করেছেন এবং গবেষক যা সমর্থন করেছেন তা হলো, ইঞ্জিলসমূহ—বিশেষ করে বার্নাবাসের ইঞ্জিল—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুস্পষ্ট সুসংবাদ বহন করে।

অনুরূপভাবে তাওরাতেও এসেছে: "রব সিনাই থেকে আবির্ভূত হয়েছেন, সায়ীর থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং ফায়রান পর্বত থেকে নিজেকে প্রকাশ করেছেন।" আর এটি সুপরিচিত যে, ফায়রান প্রান্তর হলো হিজাজ এলাকা।

মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যকার বিতর্কের বিষয়টি অনেক প্রাচীন। এটি আব্বাসীয় যুগের শুরুর দিকে ফিরে যায় যখন আরবের মুসলিমরা বিভিন্ন বিজ্ঞানের গ্রন্থ অনুবাদ করতে শুরু করে। এটি প্রতীয়মান হয় যে, কিছু মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ এবং খ্রিষ্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক সংঘটিত হয়েছিল। এই বিতর্ক 'আদ-দীন ওয়াদ-দাওলাহ ফী ইসবাতিন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে এর লেখক বলেছেন: "সত্যের সাক্ষ্য এবং উপদেশের মানদণ্ডসমূহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে দশটি বৈশিষ্ট্যে পূর্ণতা পেয়েছে, যা মসীহ (আলাইহিস সালাম) ছাড়া আর কারো মধ্যে একত্রিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে... তাঁর ইবাদত-বন্দেগি, চারিত্রিক পবিত্রতা, সততা এবং তাঁর প্রশংসিত সুন্নাত ও শরীয়ত... জাতিসমূহের ওপর তাঁর বিজয় যা অকাট্য নিদর্শন ও অখণ্ডনীয় যুক্তির মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত... পূর্ববর্তী নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাঁর আবির্ভাবের দীর্ঘকাল পূর্বেই তাঁর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তাঁর প্রেরিত হওয়ার স্থান, তাঁর দেশ, তাঁর জীবনযাত্রা এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের প্রতি জাতিসমূহ ও রাজাদের বশ্যতা স্বীকার করার বর্ণনা দিয়েছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) দিয়ার বাকরি হুসাইন: তারিখুল খামিস, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) দিয়ার বাকরি হুসাইন: তারিখুল খামিস, পৃষ্ঠা ২৫।

(৩) সুয়ূতী: আল-খাসায়েসুল কুবরা, পৃষ্ঠা ২৩।

(৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২৬।

(৫) তাবারী, আলী বিন রাব্বান: কিতাবুদ দীন, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد ظهر هذا الجدال في الشعر، وخاصة عند البوصيري «1» الذي لم تخل نبوية له من مجادلة النصارى واليهود في عقائدهم، والمقارنة بينها وبين العقيدة الإسلامية ونظم ذلك في قصيدة طويلة، شرحها بنفسه، سمّاها (المخرج والمردود على النصارى واليهود) أبدى فيها معرفته الواسعة بالتوراة والإنجيل، ومطالعته لكتب النصارى واليهود، والتمعن فيها، ومنها قوله عمّا جاء فيهما من إشارات تدلّ على رسول الله صلى الله عليه وسلم:

تخبركم التوراة أن قد بشّرت … قدما بأحمد أم بإسماعيلا

طوبى لموسى حين بشّر باسمه … ولسامع من فضله ما قيلا

وجبال فاران الرّواسي إنّها … نالت على الدّنيا به التّفضيلا

إن يدعه الإنجيل فارقليطه … فلقد دعاه قبل ذلك إيلا

يأتي على اسم الله منه مبارك … ما كان موعد بعثه ممطولا

وكما شهدت له سيشهد لي إذا … صار العليم بما أتيت جهولا

والمنحمّنا لا تشكّوا إن أتى … لكم فليس مجيئه مجهولا «2»

ثم ينتقل ليثبت نبوة رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يعتقده المسلمون بعد ما أثبت ذلك بما جاء في التوراة والإنجيل ليخلص إلى أن تخرّصات أهل الكتاب حول رسول الله صلى الله عليه وسلم ليست عائدة إلى أمور دينية وإنما إلى أمور سياسية وأحقاد قديمة، إذ استطاع رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ينتصر عليهم، ويظهر انحرافهم عن حقيقة الشريعة السماوية، فقال:

لم يجهلوه غير أنّ سيوفه … أبقت حقودا عندهم وذحولا

ما لي أجادل فيه كلّ أخي عمىّ … كيما أقيم على النّهار دليلا

--------------------------------------------

(1) البوصيري: محمد بن سعيد بن حماد الصنهاجي، أشهر شعراء المديح النبوي، كان متصوفا وشاعرا منطلق اللسان في عمال الدولة، تولى الحسبة، وتوفي سنة (696 هـ) ، ديوانه: ص 5.

(2) ديوان البوصيري ص 182.
এই বিতর্ক কবিতায় ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে আল-বুসিরির «১» ক্ষেত্রে, যার কোনো নবুওয়াত-বিষয়ক কবিতাই খ্রিস্টান ও ইহুদিদের সাথে তাদের আকিদা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সেগুলোর সাথে ইসলামি আকিদার তুলনা থেকে মুক্ত ছিল না। তিনি এটি একটি দীর্ঘ কবিতায় বিন্যস্ত করেছেন, যা তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন (আল-মাখরাজ ওয়াল-মারদুদ আলা আন-নাসারা ওয়াল-ইয়াহুদ)। এতে তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিল সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক জ্ঞান এবং খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার কথা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নির্দেশ করে এমন ইশারা সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য অন্যতম:

তাওরাত তোমাদের খবর দিচ্ছে যে সে সুসংবাদ দিয়েছে … প্রাচীনকাল থেকে আহমাদের নাকি ইসমাইলের?

সৌভাগ্য মুসার জন্য যখন তিনি তাঁর নাম নিয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন … এবং সেই শ্রোতার জন্য যার কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা হয়েছে।

আর ফারানের সুদৃঢ় পাহাড়গুলো, নিশ্চয়ই সেগুলো … তাঁর কারণে সারা বিশ্বের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।

ইঞ্জিল যদি তাঁকে 'পারাক্লিত' (ফরাকলিত) বলে ডাকে … তবে তার আগে তাঁকে 'ইলা' বলা হয়েছে।

আল্লাহর নামে তাঁর পক্ষ থেকে একজন বরকতময় ব্যক্তি আসবেন … যাঁর আবির্ভাবের নির্ধারিত সময় দীর্ঘায়িত হয়নি।

আর আপনি যেভাবে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনিও আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন যখন … আমার আনীত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানী ব্যক্তিটি অজ্ঞ হয়ে যাবে।

আর 'আল-মুনহামান্না' (প্রশংসিত ব্যক্তি) যখন তোমাদের কাছে আসবেন, তখন তোমরা সন্দেহ করো না … কারণ তাঁর আগমন অজানা নয়। «২»

অতঃপর তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণের পর মুসলমানদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে তা প্রমাণ করতে অগ্রসর হন। তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে আহলে কিতাবদের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যগুলো কোনো ধর্মীয় কারণে নয়, বরং তা রাজনৈতিক বিষয় এবং প্রাচীন বিদ্বেষের কারণে। যেহেতু আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর বিজয়ী হতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং আসমানি শরিয়তের প্রকৃত সত্য থেকে তাদের বিচ্যুতি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন, তাই তিনি বলেছেন:

তারা তাঁকে চিনতে ভুল করেনি, তবে তাঁর তরবারিগুলো … তাদের মধ্যে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা জিইয়ে রেখেছে।

অন্ধ ব্যক্তির সাথে বিতর্ক করার আমার কী প্রয়োজন … দিনের আলোর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কি প্রমাণের দরকার আছে?

--------------------------------------------

(১) আল-বুসিরি: মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন হাম্মাদ আল-সিনহাজি, রাসুলের প্রশংসামূলক (নাতিয়া) কবিতার সবচেয়ে বিখ্যাত কবি। তিনি একজন সুফি এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সমালোচনায় স্পষ্টভাষী কবি ছিলেন। তিনি হিসবাহ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং (৬৯৬ হিজরিতে) মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দিওয়ান: পৃষ্ঠা ৫।

(২) দিওয়ান আল-বুসিরি, পৃষ্ঠা ১৮২।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فالصليبيون كانوا دائمي الانتقاد للإسلام ومهاجمة نبيّه، لذلك ردّ المسلمون على ذلك بالدفاع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومدحه.

 

‌‌مخالفة الشريعة:

كان الشعور الديني في عهد المماليك متّقدا، تذكيه في بعض الأحيان الحوادث المخالفة للدين التي كانت تظهر على يدي المماليك وعمّال الدولة، إذ عدّ الناس المظاهر المخالفة للشريعة من أهم أسباب انكسار المسلمين في حروبهم مع أعدائهم، وأسباب النكبات والكوارث التي كانت تحل بهم، وكأنها عقوبة لهم على سكوتهم عن كل ما ينافي الشريعة، وقد قيل في ذلك: «فالحوادث المخالفة للدين، إذا حدثت في هذه الأمة، فهي داء، والقيام بالحق- كما جاء عن الله ورسوله- هو الشفاء «1» .

فعندما ما يشعر الناس أن هناك ما يخالف الشريعة الإسلامية السمحة، عليهم أن يغيروا ذلك بكل استطاعتهم فإذا عجزوا عن ذلك، التفتوا إلى التشدد في تأدية الشعائر الدينية، وإلى الدعاء والاستغفار، حتى لا يلحقهم وزر ما يجري أمامهم.

وقد استعرض السبكي بعض مظاهر مخالفة الشريعة على أيامه، وقارن بين أصحاب الأمر في زمانه، وما كان عليه أولو الأمر أيام رسول الله والخلفاء الراشدين رضوان الله عليهم-، ثم خلص من ذلك كله إلى النتيجة التالية: «ومصلحة الخلق فيما شرعه خالقهم، وهو أعلم بمصالحهم ومفاسدهم، وشريعة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم متكفلة بجميع مصالح الخلق في معاشهم ومعادهم، ولا يأتي الفساد إلا من الخروج عنها، ومن لزمها صلحت أيامه واطمأنت» «2» .

--------------------------------------------

(1) الأسدي، محمد: التيسير والاعتبار ص 46.

(2) السبكي: معيد النعم ص 51.
ক্রুসেডাররা ইসলামের সমালোচনায় এবং তাঁর নবীর ওপর আক্রমণে লিপ্ত ছিল, তাই মুসলমানরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিরক্ষা ও তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছিলেন।

 

‌‌শরীয়তের বিরোধিতা:

মামলুক যুগে ধর্মীয় অনুভূতি ছিল অত্যন্ত প্রখর, যা মাঝে মাঝে মামলুক এবং রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হাতে সংঘটিত ধর্মবিরোধী ঘটনার কারণে আরও বৃদ্ধি পেত। কেননা, মানুষ শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ডকে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এবং তাদের ওপর নেমে আসা মুসিবত ও বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে গণ্য করত। যেন এটি শরীয়ত পরিপন্থী সবকিছুর ব্যাপারে তাদের নীরবতার জন্য একটি শাস্তি ছিল। এই বিষয়ে বলা হয়েছে: «যখন এই উম্মতের মধ্যে ধর্মবিরোধী ঘটনা ঘটে, তখন তা একটি রোগ, আর হকের ওপর অটল থাকা—যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে—তাই হলো আরোগ্য «১»।

সুতরাং মানুষ যখন অনুভব করে যে সেখানে উদার ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থী কিছু ঘটছে, তখন তাদের উচিত তাদের সাধ্যমতো তা পরিবর্তন করা। যদি তারা তাতে অক্ষম হয়, তবে তারা ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে কঠোরতা এবং দুআ ও ইস্তিগফারের দিকে মনোনিবেশ করে, যাতে তাদের সামনে যা ঘটছে তার পাপ তাদের স্পর্শ না করে।

আস-সুবকী তাঁর সময়ের শরীয়ত লঙ্ঘনের কিছু দিক তুলে ধরেছেন এবং তাঁর সময়ের শাসকবর্গের সাথে আল্লাহর রাসূল ও খুলাফায়ে রাশেদীনের (তাঁদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) সময়ের শাসকদের তুলনা করেছেন। অতঃপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে: «সৃষ্টির কল্যাণ নিহিত রয়েছে তাদের স্রষ্টা যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার মধ্যে, এবং তিনি তাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরীয়ত মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যাণের নিশ্চয়তা দেয়। এর থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া কোনো বিপর্যয় আসে না, আর যে একে আঁকড়ে ধরে তার দিনকাল সুন্দর ও শান্তিময় হয় «২»।

--------------------------------------------

(১) আল-আসাদী, মুহাম্মদ: আত-তায়সীর ওয়াল ই'তিবার, পৃষ্ঠা ৪৬।

(২) আস-সুবকী: মুয়ীদুল নি'আম, পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن أمثلة الخروج على أحكام الشريعة، محاولة بعض المماليك التهرب من دفع الزكاة باستصدار فتوى من أحد القضاة الذين باعوا ذممهم من أجل المال والمنصب والجاه، فقال ابن العطار في ذلك:

أمرت تركنا بمودع حكم … حنفي لأجل منع الزّكاة

ربّ خذهم فإنّهم إن أقاموا … نخشى أن يأمروا بترك الصّلاة «1»

ووصلت بعض الحوادث المخالفة للشريعة إلى حد الكفر الصريح، أو ما يقرب منه، فكان رجال الدين والعامة يضجّون منها، فيصل الأمر بمظهري ما يخالف الإسلام إلى القتل، ومن أمثلة ذلك، ضرب «عنق ابن سويرات بسبب أمور تنافي الشريعة» «2» .

وقد ظهر «شخص أعجمي ادعى أنه يصعد إلى السماء، ويكلم الباري- عز وجل في كل يوم، وأنه صرّفه في الكون فاعتقده جماعة كثيرة، وثبت أن في عقله خللا» «3» .

هذه الأمور كلها دفعت الشعراء إلى مدح رسول الله، يتشفعون به من نقمة الله تعالى- على ما يغضبه، ويقدمون للناس المثل الأعلى في الأخلاق الطاهرة، والسيرة القويمة، ليقتدوا به، ويبتعدوا عن المفاسد ويتوقفوا عن مخالفة الشريعة.

 

‌‌المظاهر الدينية:

اهتم المماليك بالمظاهر الدينية التي تظهر تقاهم وتدينهم، واحتفلوا بالمناسبات الدينية والأعياد، ليتقربوا من الناس، ولظنهم أن ذلك يكفّر خطاياهم، فكانوا في كل

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: إنباء الغمر ص 223. ابن العطار هو: شهاب الدين أحمد بن محمد بن علي. كان شاعرا جيدا وله تصانيف حسنة. توفي سنة (794 هـ) . ابن إياس: بدائع الزهور 2/ 1- 452.

(2) ابن شاكر: فوات الوفيات: 1/ 245.

(3) ابن إياس: بدائع الزهور: 2/ 28.
শরীয়তের বিধান লঙ্ঘনের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে কিছু মামলুকের যাকাত প্রদান থেকে বাঁচার চেষ্টা করা, যা তারা অর্থ, পদমর্যাদা এবং প্রতিপত্তির মোহে নিজেদের বিবেক বিসর্জন দেওয়া জনৈক বিচারকের কাছ থেকে ফতোয়া সংগ্রহের মাধ্যমে করেছিল। এ প্রসঙ্গে ইবনুল আত্তার বলেন:

আমাদের তুর্কিরা (মামলুকরা) যাকাত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এক হানাফি বিচারকের কাছে বিধান গচ্ছিত রাখার আদেশ দিয়েছে … হানাফি যাকাত প্রতিরোধের জন্য

হে রব! আপনি তাদের পাকড়াও করুন, কারণ তারা যদি টিকে থাকে … তবে আমরা আশঙ্কা করি যে তারা নামাজ ত্যাগেরও আদেশ দিবে «১»

শরীয়তবিরোধী কিছু ঘটনা স্পষ্ট কুফর বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যার ফলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ প্রকাশকারীদের শাস্তি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত গড়াত। এর একটি উদাহরণ হলো, "শরীয়ত পরিপন্থী কাজের কারণে ইবনে সুওয়াইরাতের শিরশ্ছেদ করা" «২»।

এবং "এক অনারব ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল যে দাবি করত সে আসমানে উঠে এবং প্রতিদিন মহান স্রষ্টা—যিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—তাঁর সাথে কথা বলে, আর আল্লাহ তাকে মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছেন। এক বিশাল গোষ্ঠী তাকে বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু পরে প্রমাণিত হয়েছিল যে তার মস্তিস্কে বিকৃতি রয়েছে" «৩»।

এই সমস্ত বিষয় কবিদেরকে রাসূলুল্লাহর প্রশংসাগীতি গাইতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তারা আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচতে তাঁর শাফায়াত কামনা করতেন এবং মানুষের সামনে পবিত্র চরিত্র ও সঠিক জীবনধারার সর্বোত্তম আদর্শ তুলে ধরতেন, যাতে তারা তাঁকে অনুসরণ করে, মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকে এবং শরীয়তের অবাধ্যতা করা বন্ধ করে।

 

‌‌ধর্মীয় রূপরেখা:

মামলুকরা তাদের তাকওয়া ও ধার্মিকতা প্রদর্শনের জন্য ধর্মীয় রূপরেখার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। তারা মানুষের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী নিজেদের পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উপলক্ষ ও উৎসবগুলো উদযাপন করত। তারা প্রতিটি...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: ইনবাউল গুমর, পৃষ্ঠা ২২৩। ইবনুল আত্তার হলেন: শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী। তিনি একজন দক্ষ কবি ছিলেন এবং তাঁর চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে। তিনি ৭৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে ইয়াস: বাদায়েউয যুহুর ২/ ১- ৪৫২।

(২) ইবনে শাকির: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত: ১/ ২৪৫।

(৩) ইবনে ইয়াস: বাদায়েউয যুহুর: ২/ ২৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৩২)
عام يظهرون اهتماما فائقا بمحمل الحج، ويحتفلون لذلك، ويدورون به في شوارع القاهرة قبل خروجه إلى مكة المكرمة، مملوآ بالأموال وكسوة الكعبة والإعانات لأهلها «1» ، فيضفون على الحج هالة من القداسة، ويثيرون شوق الناس إلى تأديته، ويحركون كوامن نفوس الشعراء الذين ينظمون قصائد التشوق للمقدسات، وقصائد مديح رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل قول نجم الدين القحفازي «2» معبرا عن عواطفه الدينية حين رأى موكب الحج قادما من الحجاز:

يا نياق الحجيج لا ذقت سهدا … بعدها لا ولا تجشّمت وخدا

لا فدينا سواك بالرّوح منّا … أنت أولى من بات بالرّوح يفدى

مرحبا مرحبا وأهلا وسهلا … بوجوه رأت معالم سعدى «3»

ويظهر أن الحديث في هذا العصر حول زيارة قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اتسع، وتباينت آراء رجال الدين حولها، فمنهم من جعلها قريبة من الفرض، ومنهم من جعلها سنّة محمودة، ومنهم من أنكر التوسل برسول الله صلى الله عليه وسلم عند زيارته، وطالب بأن يتوجه الناس بالدعاء إلى الله- تعالى- مباشرة، لكن جميع المسلمين اتفقوا على تعظيم النبي الكريم وتبجيله، وتفضيله على الناس أجمعين، فقيل في ذلك: «اعلم أن زيارة قبره الشريف صلى الله عليه وسلم، والسفر إليه من أحسن وجوه تعظيمه المتّفق على مشروعيته، وهي مع ذلك من أكبر أنواع التوسل به صلى الله عليه وسلم إلى الله- تعالى- لقضاء الحاجات الدنيوية والآخروية» «4» .

إلا أن منتقدي طريقة زيارة قبر رسول الله والتوسل به لم يرضوا عن ذلك، فألّف

--------------------------------------------

(1) المقريزي: السلوك 1/ 1177.

(2) نجم الدين القحفازي: علي بن داود بن يحيى، شيخ أهل دمشق في عصره، وخاصة في العربية، له النظم والنثر والكتابة الفائقة، درّس وخطب، وكان يعرف الأسطرلاب ويحل التقاويم، توفي سنة (744 هـ) .

(3) ابن شاكر: فوات الوفيات 3/ 25.

(4) النبهاني: شواهد الحق ص 30.
সাধারণত তারা হজের মাহমালের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ প্রদর্শন করত এবং এজন্য উৎসব পালন করত। তারা কায়রোর রাস্তাঘাটে এটি নিয়ে প্রদক্ষিণ করত মক্কা মুকাররমার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে। এটি অর্থ-সম্পদ, কাবার গিলাফ এবং সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য সাহায্যের উপকরণে পূর্ণ থাকত «১»। এর মাধ্যমে তারা হজের ওপর একটি পবিত্রতার আভা লেপন করত, মানুষের মনে তা আদায়ের ব্যাকুলতা সৃষ্টি করত এবং কবিদের মনের সুপ্ত আবেগকে জাগ্রত করত, যারা পবিত্র স্থানগুলোর প্রতি ব্যাকুলতার কসিদা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসামূলক কসিদা রচনা করতেন। যেমন নজম উদ্দিন আল-কাহফাজি «২» হিজাজ থেকে আগত হজের কাফেলা দেখে তাঁর ধর্মীয় আবেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন:

হে হজযাত্রীদের উষ্ট্রীসমূহ! তোমরা যেন আর অনিদ্রার কষ্ট ভোগ না করো … এরপর আর যেন তোমাদের দ্রুত চলার পরিশ্রমে ক্লান্ত হতে না হয়।

আমরা আমাদের প্রাণ দিয়ে তোমাদের পরিবর্তে অন্য কাউকে রক্ষা করব না … আমাদের প্রাণের বিনিময়ে মুক্তি পাওয়ার জন্য তোমরাই অধিক যোগ্য।

খোশ আমদেদ, স্বাগতম ও মোবারকবাদ … সেই মুখগুলোর প্রতি যারা সৌভাগ্যের নিদর্শনসমূহ (পবিত্র স্থানগুলো) অবলোকন করেছে «৩»।

প্রতীয়মান হয় যে, এই যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মোবারক জিয়ারত সম্পর্কে আলোচনা ব্যাপকতা লাভ করেছিল এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতামতের ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ একে ওয়াজিব বা ফরজের নিকটবর্তী মনে করতেন, কেউ একে উত্তম সুন্নাত গণ্য করতেন, আবার কেউ জিয়ারতের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে অসীলা গ্রহণকে অস্বীকার করতেন এবং মানুষের কাছে এই দাবি জানাতেন যেন তারা সরাসরি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। তবে সকল মুসলমানই সম্মানিত নবীকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া এবং তাঁকে সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ব্যাপারে একমত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: «জেনে রেখো যে, তাঁর পবিত্র রওজা জিয়ারত করা এবং এর উদ্দেশ্যে সফর করা তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের সর্বোত্তম পদ্ধতিগুলোর একটি, যার বৈধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। তদুপরি এটি ইহকালীন ও পরকালীন প্রয়োজন পূরণের জন্য মহান আল্লাহর নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে অসীলা গ্রহণের অন্যতম বৃহৎ মাধ্যম» «৪»।

তবে রাসুলুল্লাহর রওজা জিয়ারতের পদ্ধতি এবং তাঁর মাধ্যমে অসীলা গ্রহণের সমালোচকরা এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাই তারা রচনা করলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজি: আস-সুলুক ১/১১৭৭।

(২) নজম উদ্দিন আল-কাহফাজি: আলি ইবনে দাউদ ইবনে ইয়াহইয়া, তাঁর যুগের দামেস্কের আলেমদের শায়খ, বিশেষ করে আরবি ভাষায়। তাঁর কবিতা, গদ্য এবং চমৎকার লেখনী রয়েছে। তিনি শিক্ষকতা ও খুতবা প্রদান করতেন এবং অ্যাস্ট্রোলেব সম্পর্কে জানতেন ও পঞ্জিকার হিসাব বের করতেন। তিনি (৭৪৪ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) ইবনে শাকির: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ৩/২৫।

(৪) আন-নাবহানি: শাওয়াহিদ আল-হক, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابن تيمية كتابا في ذلك اسمه (قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة) ، أنكر فيه مخاطبة الأنبياء والصالحين بعد موتهم عند قبورهم، وفي مغيبهم، وخطاب تماثيلهم، وجعل ذلك نوعا من أنواع الشرك «1» .

وعلى الرغم من ذلك حرص المسلمون على زيارة قبر النبي العطر، وطلب الشفاعة عنده، وظلوا دائمي الشوق إلى المعاهد النبوية، يبثونها لواعج نفوسهم، ويرسلون إليها التحيات، ويدعون لها بالسقيا.

فزيارة رسول الله والتشوق إلى معاهده، استدعت من الشعراء أن يمدحوا رسول الله، وأن يعبروا عن حبهم له، وتعظيمهم لمقامه الكريم، ومنهم الصرصري «2» الذي أظهر هيامه بمعاهد المدينة المنورة، وأبدى رغبته العارمة في زيارة الروضة الشريفة، لينشد فيها مدحه لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال:

ألا ليت شعري هل أزور قبابها … فتحمد فيها العيس شدّي ورحلتي

وأنشد في أكنافها متعرّضا … لمن نظم مدحي فيه تاجي وحليتي «3»

أما البرعي «4» فإنه يجعل من زيارة رسول الله مخرجا لمعاناته وثقل ذنوبه، ومجلبة للمغفرة، فيقول:

ألوذ إلى ذاك الجناب فأحتمي … بمن هو عند الكرب للكرب يفرج

وأدعوه في الدّنيا فتقضى حوائجي … وإنّي إليه في القيامة أحوج «5»

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: قاعدة جليلة ص 18.

(2) الصرصري: يحيى بن يوسف الأنصاري، فقيه أديب لغوي، كان حسان وقته في المديح النبوي. قتله التتار عند دخولهم بغداد سنة (656 هـ) ، وكان أعمى. ديوانه، ورقة 1.

(3) ديوان الصرصري، ورقة 13.

(4) البرعي: عبد الرحيم بن أحمد اليماني، شاعر متصوف، أفتى ودرّس، له ديوان شعر، ت (803 هـ) : ابن زيارة اليمني: ملحق البدر الطالع: ص 120.

(5) ديوان البرعي ص 211.
ইবনে তাইমিয়া এই বিষয়ে একটি বই লিখেছেন যার নাম (কায়েদাহ জালিল্লাহ ফিত-তাওয়াসসুল ওয়াল-ওয়াসিলাহ), এতে তিনি নবী ও নেককার ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাঁদের কবরের নিকট কিংবা তাঁদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের সম্বোধন করা এবং তাঁদের প্রতিকৃতি বা মূর্তিসমূহকে সম্বোধন করাকে অস্বীকার করেছেন, এবং একে শিরকের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন (১)।

তা সত্ত্বেও মুসলমানরা নবীর সুগন্ধিময় কবর জিয়ারত করতে এবং তাঁর নিকট শাফায়াত বা সুপারিশ প্রার্থনা করতে আগ্রহী থেকেছেন। তাঁরা সর্বদা নববী স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন, সেগুলোর কাছে নিজেদের মনের দুঃখ-বেদনা প্রকাশ করেছেন, সেখানে সালাম পাঠিয়েছেন এবং সেগুলোর জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করেছেন।

সুতরাং রাসূলুল্লাহর জিয়ারত এবং তাঁর স্মৃতিস্থানগুলোর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কবিদের উৎসাহিত করেছে রাসূলুল্লাহর প্রশংসা করতে এবং তাঁর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও তাঁর মর্যাদাপূর্ণ স্থানের প্রতি সম্মান প্রকাশ করতে। তাঁদের মধ্যে সারসারী (২) অন্যতম, যিনি মদিনা মুনাওয়ারার স্মৃতিচিহ্নগুলোর প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন এবং রওজা শরীফ জিয়ারত করার তীব্র ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, যাতে তিনি সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে তাঁর রচিত প্রশংসাগীতি পাঠ করতে পারেন। তিনি বলেছেন:

হায়! যদি আমি জানতাম, আমি কি তাঁর গম্বুজগুলো জিয়ারত করতে পারব? তবে সেখানে আমার উটগুলো আমার কঠোর পরিশ্রম ও যাত্রাকে সার্থক মনে করত।

এবং আমি তাঁর প্রাঙ্গণে সে ব্যক্তির কাছে নিজেকে পেশ করে আবৃত্তি করতাম, যার শানে রচিত আমার প্রশংসাগীতি আমার মুকুট ও অলঙ্কার স্বরূপ (৩)।

অন্যদিকে বুরায়ী (৪) রাসূলুল্লাহর জিয়ারতকে তাঁর কষ্ট ও পাপের বোঝা থেকে মুক্তির পথ এবং ক্ষমা প্রাপ্তির মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেন। তিনি বলেন:

আমি সেই মহান দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করি এবং তাঁর মাধ্যমে সুরক্ষা খুঁজি, যিনি দুঃখ-কষ্টের সময় দুঃখ বিমোচনকারী।

আমি দুনিয়াতে তাঁকে ডাকি ফলে আমার প্রয়োজনসমূহ পূর্ণ হয়, আর কিয়ামতের দিন আমি তাঁর প্রতি আরও বেশি মুখাপেক্ষী থাকব (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া: কায়েদাহ জালিল্লাহ, পৃষ্ঠা ১৮।

(২) সারসারী: ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ আল-আনসারী, একজন ফকিহ, সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ। তিনি তাঁর সময়ের নাত-ই-রাসূল বা নবী-প্রশস্তিতে হাসসানের ন্যায় ছিলেন। বাগদাদে প্রবেশের সময় তাতারীরা তাঁকে (৬৫৬ হিজরি) সনে হত্যা করে। তিনি অন্ধ ছিলেন। তাঁর দিওয়ান, পাতা ১।

(৩) দিওয়ানে সারসারী, পাতা ১৩।

(৪) বুরায়ী: আব্দুর রহিম বিন আহমদ আল-ইয়ামানি, একজন সূফি কবি। তিনি ফতোয়া দিতেন ও পাঠদান করতেন। তাঁর কবিতার একটি দিওয়ান রয়েছে। মৃত্যু (৮০৩ হিজরি): ইবনে যিয়ারাহ আল-ইয়ামানি: মুলহাকুল বাদরিত তালি: পৃষ্ঠা ১২০।

(৫) দিওয়ানে বুরায়ী, পৃষ্ঠা ২১১।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল মুলূকী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وبالإضافة إلى الاهتمام بالحج، والاحتفال بمواكبه، فإن المماليك حرصوا على الاحتفالات الدينية المختلفة من الأعياد الدينية والمواسم المقدسة، إلى المولد النبوي الذي احتفل له المماليك احتفالا عظيما، يليق بصاحب المناسبة، وشاركوا به إلى جانب جميع فئات الشعب، مضفين عليه العظمة والفخامة، موسعين على الفقراء والمحتاجين، فتقام الولائم، ويقرأ القرآن الكريم، وتنشد قصائد المديح النبوي.

فالمولد النبوي مناسبة هامة لنظم المدائح النبوية، فهي تذكّرهم بعظمة رسول الله صلى الله عليه وسلم وفضله على أمته، وتثير فيهم الاحتفالات الدينية مشاعر المحبة للنبي الكريم، فتنثال المدائح على ألسنتهم، فالشعراء كانوا يحضّرون القصائد لينشدوها في هذه المناسبة وكان يطلق على هذه المدائح النبوية اسم (مولدية) ، ومنها قصيدة لصفي الدين الحلي «1» ، يقول فيها:

خمدت لفضل ولادك النّيران … وانشقّ من فرح بك الإيوان

فوضعت لله المهيمن ساجدا … واستبشرت بظهورك الأكوان «2»

يضاف إلى ذلك اهتمام الناس في عهد المماليك بكل ما يتعلق برسول الله بسبب، وتعلق المسلمين عامة منذ القدم بكل ما يمت لرسول الله بصلة، فابن جبير «3» يذكر في رحلته أنه «بني على موضع مولد النبي صلى الله عليه وسلم مسجدا لم ير أحفل بناء منه، والموضع المقدس الذي سقط فيه صلى الله عليه وسلم ساعة الولادة السعيدة المباركة، التي جعلها الله رحمة للأمة أجمعين، محفوف بالفضة … يفتح هذا الموضع المبارك، فيدخله الناس كافة متبركين

--------------------------------------------

(1) صفي الدين الحلي: عبد العزيز بن سرايا بن نصر، شاعر مجيد، له ديوان شعر ومؤلفات، ت (810 هـ) . ديوان ص 8.

(2) ديوان صفي الدين الحلي ص 79.

(3) ابن جبير الكناني: محمد بن أحمد بن جبير الكناني البلنسي، عالم بالحديث، حج ورحل إلى المشرق مرتين، وتقدم في صناعة النظم والنثر، تزهد وتوفي سنة (614 هـ) . ابن العماد الحنبلي: شذرات الذهب 5/ 40.
হজ পালনের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং এর কাফেলার উদযাপনের পাশাপাশি, মামলুকরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পবিত্র মৌসুম পালনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। বিশেষ করে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মামলুকরা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করত, যা এই বরকতময় অনুষ্ঠানের মহান ব্যক্তিত্বের জন্য উপযুক্ত ছিল। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে তারা এতে অংশগ্রহণ করত এবং এই আয়োজনে রাজকীয় গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য যুক্ত করত। দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য তারা অকাতরে দান করত, ফলে ভোজের আয়োজন করা হতো, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হতো এবং নবীজির প্রশংসামূলক কাসিদা গাওয়া হতো।

মিলাদুন্নবী ছিল নবীজির প্রশংসামূলক কাব্য রচনার এক বিশেষ মুহূর্ত, যা তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর ইহসানের কথা স্মরণ করিয়ে দিত। এই ধর্মীয় উৎসব তাদের মাঝে প্রিয় নবীজির প্রতি ভালোবাসার আবেগ জাগিয়ে তুলত এবং তাদের মুখে প্রশংসার বাণী উপচে পড়ত। কবিরা এই উপলক্ষে আবৃত্তি করার জন্য বিশেষ কাসিদা তৈরি করতেন এবং এই প্রশংসামূলক কাব্যগুলোকে 'মাওলিদিয়া' বলা হতো। এর মধ্যে সফিউদ্দীন আল-হিল্লির «১» একটি কাসিদা রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন:

আপনার জন্মের বরকতে অগ্নিসমূহ নির্বাপিত হয়েছিল … এবং আপনার আগমনের খুশিতে রাজপ্রাসাদ বিদীর্ণ হয়েছিল

আপনি আল্লাহ আল-মুহাইমিনের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন … আর আপনার আগমনে সমগ্র মহাবিশ্ব সুসংবাদ লাভ করেছিল «২»

এর সাথে যোগ হয়েছিল মামলুক যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয়ের প্রতি মানুষের গভীর অনুরাগ। প্রাচীনকাল থেকেই সাধারণ মুসলমানরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতির সাথে জড়িত প্রতিটি জিনিসের প্রতি আসক্ত ছিল। ইবনে জুবায়ের «৩» তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ করেছেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্থানে এমন একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল যার চেয়ে চমৎকার স্থাপত্য আর দেখা যায়নি। সেই পবিত্র স্থান যেখানে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ ও বরকতময় জন্মমুহূর্তে অবতীর্ণ হয়েছিলেন—যাকে আল্লাহ সমগ্র উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—তা রূপা দিয়ে ঘেরা ছিল … এই বরকতময় স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হতো এবং বরকত লাভের আশায় সাধারণ মানুষ সেখানে প্রবেশ করত।

--------------------------------------------

(১) সফিউদ্দীন আল-হিল্লি: আব্দুল আজিজ বিন সারায়া বিন নাসর, একজন প্রথিতযশা কবি, তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) ও অন্যান্য রচনা রয়েছে, মৃত্যু (৮১০ হিজরি)। দিওয়ান, পৃষ্ঠা ৮।

(২) দিওয়ান সফিউদ্দীন আল-হিল্লি, পৃষ্ঠা ৭৯।

(৩) ইবনে জুবায়ের আল-কিনানি: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুবায়ের আল-কিনানি আল-বালানসি, হাদিস বিশারদ, তিনি হজ পালন করেছেন এবং দুইবার প্রাচ্য ভ্রমণ করেছেন। কাব্য ও গদ্য শিল্পে তিনি পারদর্শী ছিলেন। তিনি পরহেজগার ছিলেন এবং ৬১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি: শাজারাতুজ জাহাব ৫/৪০।