(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة البيقونية - عبد الكريم الخضير   (عبد الكريم الخضير)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح المنظومة البيقونية

مؤلف الأصل: عمر (أوطه) بن محمد بن فتوح البيقوني الدمشقي الشافعي (ت نحو 1080هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিইয়াহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: শারহুল মানযুমাহ আল-বাইকুনিইয়াহ

মূল লেখক: উমর (আওতাহ) বিন মুহাম্মদ বিন ফুতুহ আল-বাইকুনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু আনুমানিক ১০৮০ হিজরি)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিলিপিকৃত পাঠসমূহ

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ৪টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح المنظومة البيقونية]ـ

مؤلف الأصل: عمر (أوطه) بن محمد بن فتوح البيقوني الدمشقي الشافعي (المتوفى: نحو 1080هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]
[শারহুল মানজুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহ]

মূল রচয়িতা: উমর (ত্বহা) বিন মুহাম্মাদ বিন ফুতুহ আল-বাইকুনী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: আনুমানিক ১০৮০ হিজরি)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদায়র

শায়খ খুদায়রের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের প্রতিলিপি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৪টি পাঠ]
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح المنظومة البيقونية (1)

الشيخ/ عبد الكريم الخضير

 

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فلا يخفى على أحد أهمية العلم الشرعي، وأن مداره على الكتاب والسنة.

 

العلم قال الله قال رسوله … قال الصحابة هم أولوا العرفانِ

 

فالأمة المحمدية أمة نص وإتباع، ولا يمكن أن يؤخذ العلم إلا من هذين المصدرين، فلا مسلك لنا، ولا وسيلة لتحصيل العلم إلا عن طريق الكتاب والسنة، فطالب العلم بأمس الحاجة إلى معرفة هذين الوحيين، وما يخدمهما، وما يعين على فهمهما، القرآن العظيم كلام الله -جل وعلا- ثابت ثبوتاً قطعياً، غير قابل للزيادة والنقصان، محفوظ، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [(9) سورة الحجر].

وأما السنة: وهي المصدر الثاني من مصادر التشريع لهذه الأمة، ولم يخالف في ذلك أحد ممن يعتد بقوله، ويعول على كلامه من أهل العلم، خالف في ذلك بعض طوائف البدع الذين لا يرون الاحتجاج بالسنة، وإنما يكتفون بالقرآن، والمراد بالسنة: ما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام، جميع ما ثبت عنه عليه الصلاة والسلام، المسلم ملزم بإتباعه، والعمل به، وليست له مندوحة في أن يختار غير هدي النبي عليه الصلاة والسلام، وكل عمل شرعي يشترط لقبوله بعد الإخلاص لله -جل وعلا- متابعة النبي عليه الصلاة والسلام، ((من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد))، فإذا كان الأمر كذلك فلا بد من العناية بالسنة النبوية، لكن العناية بما ثبت منها عن النبي عليه الصلاة والسلام، وكيف نعرف الثابت من غيره؟ لا بد أن نعرف القواعد والضوابط التي استنبطها أهل العلم ليتوصل بها إلى معرفة المقبول من المردود، وذلك في علم مصطلح الحديث.
আল-মানজুমা আল-বাইকুনিইয়াহর ব্যাখ্যা (১)

শাইখ/ আব্দুল কারীম আল-খুদাইর

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের প্রতি আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

শরয়ী ইলমের গুরুত্ব কারো কাছেই অস্পষ্ট নয় এবং এর মূল ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহ।

 

ইলম হলো যা আল্লাহ বলেছেন, যা রাসূল বলেছেন … আর যা সাহাবীগণ বলেছেন, তাঁরাই প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী

 

কেননা উম্মতে মুহাম্মাদী হলো দলিল এবং অনুসরণের উম্মত। এই দুটি উৎস ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়। কিতাব ও সুন্নাহর পথ ব্যতীত আমাদের জন্য ইলম হাসিল করার আর কোনো পথ বা মাধ্যম নেই। তাই ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এই দুই ওহী সম্পর্কে জানা এবং যা এই দুটিকে সাহায্য করে ও যা এই দুটি বুঝতে সহায়তা করে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। মহান কুরআন হলো প্রতাপশালী মহান আল্লাহর কালাম—যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, যা কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাসের ঊর্ধ্বে এবং এটি সংরক্ষিত। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী} [(৯) সূরা আল-হিজর]।

আর সুন্নাহ প্রসঙ্গে: এটি এই উম্মতের শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। আহলে ইলমদের মধ্যে যাদের কথা গ্রহণযোগ্য এবং যাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়, তাদের মধ্যে কেউই এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। এ বিষয়ে কেবল কিছু বিদআতি গোষ্ঠী দ্বিমত পোষণ করেছে যারা সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে না, বরং কেবল কুরআনের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে চায়। সুন্নাহ বলতে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে—তাঁর থেকে প্রমাণিত সকল কিছুর অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের হেদায়েত ব্যতিরেকে অন্য কিছু গ্রহণ করার কোনো সুযোগ তার নেই। আল্লাহর প্রতি ইখলাসের পর প্রতিটি শরয়ী আমল কবুল হওয়ার জন্য নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অনুসরণ শর্ত। "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে যা আমাদের এই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত"। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে অবশ্যই নববী সুন্নাহর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে; তবে সেই সুন্নাহর প্রতি যা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে সাব্যস্ত বা প্রমাণিত হয়েছে। আর আমরা কীভাবে সাব্যস্ত বিষয়কে অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদা করে জানব? এর জন্য অবশ্যই আমাদের সেই নীতিমালা ও মানদণ্ডসমূহ জানতে হবে যা আহলে ইলমগণ উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়; আর সেটিই হলো ইলমে মুসতালাহুল হাদিস বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা সম্পর্কিত জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২)
فهو علمٌ بأصول وقواعد يعرف بها الصحيح من الضعيف، المقبول من المردود، مما ينسب إلى النبي عليه الصلاة والسلام، ولسنا بصدد الكلام والإفاضة فيما ألف في هذا العلم، فالتأليف فيه قديم، يوجد أو توجد قواعد أهل العلم في كتب المتقدمين، وإن لم تدون في مصنف مستقل، توجد في سؤالات الأمة، بل وجد أصل بعض فنون هذا العلم من عهد النبي عليه الصلاة والسلام، فالجرح والتعديل، والكلام في الرجال حصل من النبي عليه الصلاة والسلام، فالنبي عليه الصلاة والسلام قال: ((بئس أخو العشيرة))، وهذا أصل في الجرح، لكن على ما سيأتي في بابه، لا ينبغي أن يكون هذا الأصل مدخلاً لبعض من يتفكه بأعراض الناس، بل على الإنسان أن يحتاط لنفسه، وأن يحافظ على ما اكتسبه من حسنات، ولا يأتي يوم القيامة مفلساً، كما جاء في الحديث الصحيح، فالجرح والتعديل واجب، لكن بقدر الحاجة، فإن احتيج إلى ذلك تعين، حفظاً للدين، وصيانة للشريعة المكرمة أوجب أهل العلم الكلام في الرواة، وليعلم طالب أن أعراض المسلمين حفرة من حفر النار، كما يقول ابن دقيق العيد، وجاء في النصوص القطعية ما يقتضي تحريم الكذب في أعراض الناس، مع الأسف الشديد أن يوجد بعض من يتكلم حتى في أعراض خيار الأمة، من المتقدمين والمتأخرين، لم يسلم منه أحد، فهذا المسكين لا يدري أنه قد يتعب على تحصيل الحسنات، ثم يفرقها، شعر أولم يشعر، كما جاء في الحديث الصحيح: ((أتدرون من المفلس؟ )) قلنا: المفلس من لا درهم له ولا متاع، قال: ((المفلس من يأتي بأعمال)) وفي بعض الروايات: ((كأمثال الجبال، يأتي وقد شتم هذا، وضرب هذا، وسفك دم هذا، ثم يأخذ هذا من حسناته، وهذا من حسناته، وهذا من حسناته، فإذا فنيت حسناته أخذ من سيآتهم فألقيت عليه، فطرح في النار)) يأتي يفني عمره، ويقضي وقته في طلب العلم، ثم بعد ذلك يأتي مفلساً يوم القيامة، هذه هي الخسارة، هذا الذي خسر نفسه يوم القيامة، وهذه هي الخسارة الحقيقية، وهذا هو الفلس الحقيقي، وإن كان الفلس أيضاً يطلق في أمور الدنيا: على من لا درهم له ولا متاع، وحقيقته أيضاً شرعية في باب الحجر والتفليس المفلس: من لا درهم له ولا متاع، أو عنده درهم ومتاع، لكن لا يفي

এটি এমন এক বিজ্ঞান যা মূলনীতি ও নিয়মের সমষ্টি, যার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধ করা হয়, সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ ও যয়িফ এবং মাকবুল ও মারদুদ সম্পর্কে জানা যায়। আর আমরা এই বিজ্ঞানে রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যায় প্রবৃত্ত হব না; কেননা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা অনেক প্রাচীন। আলেমগণের কায়দা-কানুন বা নিয়মাবলি প্রাচীনদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো পৃথক কোনো গ্রন্থে সংকলিত হয়নি। এগুলো উম্মতের ইমামদের কাছে করা প্রশ্নের উত্তরগুলোতে পাওয়া যায়। বরং এই বিজ্ঞানের কিছু শাখার মূল ভিত্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। আর জারহ ও তা'দিল এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকেই সঙ্ঘটিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "সে গোত্রের কতই না মন্দ ভাই।" আর এটি জারহ-এর একটি মূল ভিত্তি। তবে এই বিষয়ে যে আলোচনা সামনে আসবে, তার আলোকে এটি বলা জরুরি যে, এই মূলনীতিটি যেন মানুষের সম্মান নিয়ে যারা খেল-তামাশা করে, তাদের জন্য প্রবেশের পথ না হয়ে দাঁড়ায়। বরং মানুষের উচিত নিজের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং তার অর্জিত নেকিগুলো সংরক্ষণ করা, যাতে কিয়ামতের দিন তাকে নিঃস্ব হয়ে উপস্থিত হতে না হয়, যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে। সুতরাং জারহ ও তা'দিল ওয়াজিব, তবে তা প্রয়োজনের সীমার মধ্যে। যদি এর প্রয়োজন পড়ে তবে দ্বীন রক্ষা এবং সম্মানিত শরিয়তকে হেফাযত করার লক্ষ্যে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা আলেমদের পক্ষ থেকে আবশ্যক হয়ে যায়। শিক্ষার্থীর জানা উচিত যে, ইবনে দাকীক আল-ঈদ যেমনটি বলেছেন: "মুসলমানদের সম্মান হলো জাহান্নামের গর্তগুলোর মধ্যে একটি গর্ত।" আর অকাট্য দলিলাদিতে মানুষের সম্মান নিয়ে মিথ্যাচার করার হারামের বিষয়ে বর্ণনা এসেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কিছু লোককে এমন পাওয়া যায় যারা উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্মান নিয়েও কথা বলে, চাই তারা পূর্ববর্তী হোন বা পরবর্তী; তাদের থেকে কেউ নিরাপদ নয়। এই বেচারা জানে না যে সে নেকি অর্জনে হয়তো অনেক পরিশ্রম করছে, কিন্তু অতঃপর জেনে বা না জেনে সেগুলো বিলিয়ে দিচ্ছে। যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে: "তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে?" আমরা বললাম: নিঃস্ব তো সে যার কোনো দিরহাম বা আসবাবপত্র নেই। তিনি বললেন: "নিঃস্ব সেই যে আমল নিয়ে আসবে" -অন্য বর্ণনায় এসেছে: "পাহাড় সমতুল্য আমল নিয়ে আসবে- এমতাবস্থায় যে সে একে গালি দিয়েছে, একে প্রহার করেছে, এর রক্তপাত ঘটিয়েছে। অতঃপর এ ব্যক্তি তার নেকি থেকে নিয়ে নেবে, ও ব্যক্তি তার নেকি থেকে নিয়ে নেবে। যখন তার নেকি শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের গুনাহগুলো নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" সে সারাজীবন ব্যয় করে এবং ইলম অন্বেষণে সময় অতিবাহিত করে উপস্থিত হয়, অথচ কিয়ামতের দিন সে নিঃস্ব হয়ে যায়; এটিই হলো ক্ষতি। এই ব্যক্তিই কিয়ামতের দিন নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এটিই প্রকৃত ক্ষতি ও প্রকৃত নিঃস্বতা। যদিও 'নিঃস্ব' শব্দটি দুনিয়াবি ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এমন ব্যক্তির জন্য যার দিরহাম বা ধন-সম্পদ নেই। আর ফিকহশাস্ত্রের 'নিষেধাজ্ঞা ও দেউলিয়া' অধ্যায়ে এর একটি শরিয়তসম্মত বাস্তবতাও রয়েছে: নিঃস্ব হলো সেই ব্যক্তি যার কোনো দিরহাম বা সম্পদ নেই, অথবা তার কাছে দিরহাম ও সম্পদ আছে কিন্তু তা (ঋণ পরিশোধে) যথেষ্ট নয়।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৩)
بديونه، هذه حقيقة شرعية، لكن الحقيقة التي ينبغي أن نتنبه لها ما أشار إليه النبي عليه الصلاة والسلام بقوله: ((أتدرون من المفلس؟ )) وكلها حقائق شرعية، لكن تلك أهم، كما أن الغبن في أمور الدنيا أن يشتري الإنسان سلعة يُزاد في ثمنها عليه، أو يبع سلعة يُنقص من ثمنها بالنسبة لما تستحقه، هذا غبن عند أهل العلم، لا سيما إذا كان كثيراً، لكن الغبن الذي ينبغي أن يتفطن له طالب العلم ما جاء في سورة التغابن: {ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} [(9) سورة التغابن]، وتعريف الجزأين معروف أنه يدل على الحصر عند أهل العلم، ذلك يوم التغابن الحقيقي، أما الدنيا كلها لا شيء بالنسبة لغبن الآخرة، فلنتنبه لهذا.

وأصول هذا العلم وجدت منذ القدم، فالكلام على الرجال حصل منه عليه الصلاة والسلام، والتحري والتثبت والاحتياط للسنة، حصل من كبار صحابته عليه الصلاة والسلام، وحذر عليه الصلاة والسلام من أن يكذب عليه فقال: ((من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار)) وجاء ما هو في الاحتياط أشد: ((من حدّث عني بحديث يُرى أنه كذب فهو أحد الكاذِبِين)) أو الكاذِبَين، فعلى الإنسان أن يحتاط، وإذا كان الكذب على النبي عليه الصلاة والسلام كبيرة، وموبقة من الموبقات فالكذب في أحاديث الناس العادي تهمة بالكذب على النبي عليه الصلاة والسلام، كما سيأتي في حديث المتهم.
তার ঋণের মাধ্যমে; এটি একটি শারয়ী বাস্তবতা, কিন্তু যে বাস্তবতার প্রতি আমাদের সজাগ হওয়া উচিত তা হলো যা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে?" আর এই সবই শারয়ী বাস্তবতা, তবে সেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যেমন পার্থিব বিষয়ে ঠকে যাওয়া হলো—মানুষ এমন কোনো পণ্য ক্রয় করা যার দাম তার ওপর বাড়িয়ে ধরা হয়েছে, অথবা এমন কোনো পণ্য বিক্রয় করা যার দাম তার ন্যায্য মূল্যের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্বানদের নিকট এটিই ঠকে যাওয়া বা প্রতারণা, বিশেষ করে যখন তা পরিমাণে অনেক বেশি হয়। তবে যে প্রতারণার বিষয়ে একজন ইলম অন্বেষণকারীর সচেতন হওয়া উচিত, তা সূরা আত-তাগাবুন-এ এসেছে: "সেটিই পারস্পরিক ঠকার দিন" [সূরা আত-তাগাবুন: ৯]। বাক্যের উভয় অংশ নির্দিষ্ট (মারিফা) হওয়া বিদ্বানদের নিকট সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে—অর্থাৎ সেটিই হলো প্রকৃত ঠকার দিন। আর পরকালের ঠকে যাওয়ার তুলনায় দুনিয়ার সবকিছুই নগণ্য; সুতরাং আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।

আর এই ইলমের মূলনীতিসমূহ প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান। বর্ণনাকারীদের সমালোচনা স্বয়ং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে শুরু হয়েছে। আর সুন্নাহর সংরক্ষণে অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাই এবং সতর্কতা তাঁর বড় বড় সাহাবীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা থেকে সতর্ক করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আর সতর্কতার ক্ষেত্রে আরও কঠোর বাণী এসেছে: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করে যেটিকে মিথ্যা মনে করা হয়, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।" সুতরাং মানুষের উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা। আর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ওপর মিথ্যা বলা যদি কবীরা গুনাহ এবং ধ্বংসাত্মক পাপের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের কথায় মিথ্যা বলাও নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ওপর মিথ্যা আরোপের অভিযোগের দিকে নিয়ে যায়, যেমনটি অভিযুক্ত বর্ণনাকারীর হাদীস প্রসঙ্গে সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৪)
وجدت قواعد هذا العلم منثورة في كتب الأئمة، ففي كتب الشافعي، وفي سؤالات الإمام أحمد، وفي جامع الترمذي، وفيما يسأل عنه الإمام البخاري، وفي تواريخه، وفي صحيحه قواعد منثورة لهذا العلم، وفي أيضاً العلل الكبير، وعلل الجامع للإمام الترمذي قواعد كثيرة من قواعد هذا العلم، لكن من أول من صنف في هذا العلم على سبيل الاستقلال: القاضي الرامهرمزي في كتابه (المحدث الفاصل)، المحدث الفاصل هذا من أول ما صُنف، توفي مؤلفه سنة ستين وثلاثمائة، يعني على سبيل الاستقلال، ثم جاء بعده الحاكم أبو عبد الله فألف (المعرفة)، ثم جاء بعده أبو نعيم فألف على المعرفة مستخرجاً، ثم القاضي عياض، ثم ابن الصلاح الذي جمع شتات هذا العلم في كتابه (علوم الحديث)، وعكف الناس على هذا الكتاب، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومنتصر، دار الناس في فلكه، فاختصروه، ونظموه، وشرحوه، فاكتفوا به عما تقدم؛ لأنه جمع شتات هذا العلم، ثم بعد ذلك تتابع التأليف، فألف الحافظ ابن حجر نخبته الشهيرة، وسبق أن شرحناها هنا، وهذه النخبة أيضاً حصل لها من القبول ما حصل، وما زالت تقرأ وتُدْرَس وتُدَرّس، وتشرح وتنظم، وتختصر على اختصارها إلى يومنا هذا.

এই ইলমের মূলনীতিগুলো ইমামগণের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাওয়া যায়। ইমাম শাফেয়ীর কিতাবসমূহে, ইমাম আহমাদকে করা প্রশ্নাবলির সংকলনে, জামে আত-তিরমিযীতে, ইমাম বুখারীকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করা হতো তাতে, তাঁর ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এবং তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই ইলমের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন মূলনীতি রয়েছে। এছাড়াও ইমাম তিরমিযীর আল-ইলালুল কাবীর এবং ইলালুল জামে-তে এই ইলমের অসংখ্য মূলনীতি বিদ্যমান। তবে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সর্বপ্রথম এই ইলমের ওপর কে কিতাব রচনা করেছেন? তিনি হলেন কাজী রামাহুরমুযী, তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' নামক কিতাবে। এই 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' হলো স্বতন্ত্রভাবে রচিত প্রথমদিকের কিতাবসমূহের একটি। এর রচয়িতা ৩৬০ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ এটি স্বতন্ত্রভাবে রচিত। অতঃপর তাঁর পরে এলেন হাকেম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি 'আল-মা'রিফাহ' রচনা করেন। এরপর আবু নুআইম এসে 'আল-মা'রিফাহ'-এর ওপর 'মুস্তাখরাজ' রচনা করেন। এরপর কাজী আইয়ায, তারপর ইবনুস সালাহ; যিনি তাঁর 'উলূমুল হাদীস' নামক কিতাবে এই ইলমের বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন। মানুষ এই কিতাবের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। কতজন যে একে কাব্যরূপে সাজিয়েছেন, সংক্ষেপ করেছেন, এর ওপর সংযোজনী লিখেছেন কিংবা এর পক্ষাবলম্বন করেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। মানুষ একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে; তারা একে সংক্ষেপ করেছেন, পদ্যে রূপান্তর করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন। তারা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের পরিবর্তে এটিকেই যথেষ্ট মনে করেছেন; কারণ এটি এই ইলমের সমস্ত বিক্ষিপ্ত অংশকে একত্রিত করেছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ রচনা চলতে থাকে। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর বিখ্যাত 'নুখবাহ' রচনা করেন, যা আমরা ইতিপূর্বেই এখানে ব্যাখ্যা করেছি। এই 'নুখবাহ' কিতাবটিও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। আজও পর্যন্ত এটি পঠিত হচ্ছে, পঠন-পাঠন চলছে, এর ব্যাখ্যা ও কাব্যরূপ তৈরি হচ্ছে এবং সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আজও পর্যন্ত এটি আরও সংক্ষেপ করা হচ্ছে।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৫)
قد يقول طالب العلم: كتب علوم الحديث كثيرة جداً، لا يمكن الاحاطة بها، والأمر كذلك صحيح، لكن ما الذي ينبغي أن يعتني به، ويدرسه من كتب المصطلح، هذا الكتاب الذي معنا كتاب مختصر جداً، وهي منظومة سهلة، لكن نصيحة لطلاب العلم الذي لا تسعفه الحافظة يحفظ هذه المنظومة، أربعة وثلاثين بيت سهل، لكن الذي تسعفه الحافظة، حافظته متوسطة مثلاً يحفظ نظم النخبة، في مائتي بيت وبيت، أو ستة أبيات على خلاف بين النسخ، أو منظومة الشيخ حافظ الحكمي: (اللؤلؤ المكنون) وقد أنهينا شرحها قبل ثلاثة أيام أو أربعة، وهي منظومة رائعة، ثلاثمائة وأربعين بيت، فإن كانت الحافظة أقوى فليقصر حفظه على ألفيت العراقي، على كل حال يبدأ طالب العلم بالكتب الصغيرة، المتون الميسرة في مثل هذا الكتاب، ثم النخبة، ثم اختصار علوم الحديث للحافظ ابن كثير، ثم يتوفر جهده كله على ألفيت العراقي -رحمه الله تعالى- وشروحه، بعد ذلك يكون هذا العلم على ما قرره المتأخرون، وأما قواعد المتقدمين التي ينادي بها بعض الغيورين ممن عرف بالحرص والحرقة على السنة النبوية، وهي دعوة -إن شاء الله- إنها نابعة من قلب طيب، ومن إخلاص صادق، لكن مثل هذا الكلام لا يوجه إلى المبتدئين؛ لأنه إذا وجه مثل هذا الكلام للمبتدئين صار تضييعاً لهم؛ لأن المبتدئ لا يستطيع أن يتعامل مع أحكام المتقدمين، حتى يتأهل لذلك، كما يطالب الطالب المبتدئ بالاجتهاد في الأحكام الشرع، مثل هذا يضيعه، فعلى طالب العلم أن يتربى على قواعد المتأخرين، ثم بعد أن يتأهل لذلك، ويكثر النظر في أحكام الأئمة، ويخرج الأحاديث، ويدرس أسانيدها، ويكثر من ذلك، إذا صارت لديه الأهلية لمحاكات المتقدمين في أحكامهم هذا فرضه؛ لأن المتأخرين عالة على المتقدمين، ولا يضن بمن ينادي بنبذ قواعد المتأخرين، والاهتمام بكلام الأئمة، لا يضن بهم سوء لا أبداً، إنما باعثهم على ذلك الحرص على هذا العلم، ولا شك أن المتأخرين عالة على المتقدمين، لكن يبقى أنه كيف يتربى طالب العلم على كلام الأئمة المتقدمين؟ ومن يقلد من الأئمة المتقدمين؟ إذا عرف القواعد، وضبط وأتقن، وأكثر من دراسة تخريج الأحاديث، ودراسة الأسانيد، وتأهل للنظر في القرائن

একজন জ্ঞানান্বেষী হয়তো বলতে পারেন: হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি, যা পুরোপুরি আয়ত্ত করা অসম্ভব। কথাটি সত্য; কিন্তু তাকে কোন বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হতে হবে এবং পরিভাষা শাস্ত্রের কোন কিতাবগুলো সে অধ্যয়ন করবে? আমাদের সামনে থাকা এই কিতাবটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সহজ কাব্যগ্রন্থ। জ্ঞানান্বেষীদের প্রতি আমার উপদেশ হলো—যাদের মুখস্থ শক্তি প্রখর নয়, তারা যেন এই কাব্যগ্রন্থটি মুখস্থ করে। এটি মাত্র চৌত্রিশটি সহজ পঙক্তির। কিন্তু যাদের মুখস্থ করার সক্ষমতা রয়েছে, যেমন যাদের স্মৃতিশক্তি মাঝারি মানের, তারা যেন 'নযমুন নুখবাহ' মুখস্থ করে; যাতে পাণ্ডুলিপি ভেদে দুইশত এক বা দুইশত ছয়টি পঙক্তি রয়েছে। অথবা শেখ হাফিয আল-হাকামির কাব্যগ্রন্থ 'আল-লু'লু আল-মাকনুন' মুখস্থ করতে পারে; তিন-চার দিন আগেই আমরা এর ব্যাখ্যা পাঠ শেষ করেছি। এটি একটি চমৎকার কাব্যগ্রন্থ, যা তিনশত চল্লিশ পঙক্তি বিশিষ্ট। আর যদি স্মৃতিশক্তি আরও শক্তিশালী হয়, তবে সে যেন তার মুখস্থকরণকে 'আলফিয়্যাতুল ইরাকি'র মাঝে সীমাবদ্ধ রাখে। সর্বাবস্থায় একজন শিক্ষার্থী ছোট কিতাব এবং এই কিতাবটির মতো সহজ ও সংক্ষিপ্ত পাঠ (মতন) দিয়ে শুরু করবে। এরপর 'আন-নুখবাহ', তারপর হাফিয ইবনে কাসিরের 'ইখতিসারু উলুমিল হাদিস' পড়বে। এরপর সে তার যাবতীয় শ্রম ও প্রচেষ্টা হাফিয ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-র 'আলফিয়্যাহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের পেছনে ব্যয় করবে। এর মাধ্যমে এই শাস্ত্র পরবর্তী আলেমদের নির্ধারিত মূলনীতি অনুযায়ী আত্মস্থ হবে। আর পূর্ববর্তী আলেমদের মূলনীতিসমূহ, যেগুলোর প্রতি সুন্নাহর প্রতি অনুরাগী এবং দরদী কিছু ব্যক্তি আহ্বান জানাচ্ছেন—নিশ্চয়ই এই আহ্বান ইনশাআল্লাহ একটি নেক উদ্দেশ্য ও ঐকান্তিক ইখলাস থেকে উৎসারিত। তবে এ জাতীয় কথা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা সমীচীন নয়। কারণ নবীনদের সামনে এসব আলোচনা করা তাদের বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যচ্যুত করার শামিল। একজন নবীন শিক্ষার্থী ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ববর্তী আলেমদের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করে না, যতক্ষণ না সে সেই যোগ্যতা অর্জন করে। এটি অনেকটা একজন নবীন শিক্ষার্থীর কাছে শরয়ি আহকামসমূহে ইজতিহাদ দাবি করার মতো, যা তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। অতএব, একজন শিক্ষার্থীর উচিত পরবর্তী আলেমদের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নিজেকে গড়ে তোলা। অতঃপর যখন সে যোগ্য হয়ে উঠবে, ইমামগণের সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করবে, হাদিসের তাখরিজ করবে এবং সনদগুলো নিয়ে প্রচুর অধ্যয়ন করবে—এভাবে চর্চা করতে করতে যখন তার মধ্যে পূর্ববর্তী আলেমদের সিদ্ধান্তের অনুরূপ যোগ্যতা তৈরি হবে, তখন সেটিই হবে তার জন্য আবশ্যক। কারণ পরবর্তী আলেমগণ সর্বদাই পূর্ববর্তীদের ওপর নির্ভরশীল। আর যারা পরবর্তী আলেমদের মূলনীতি বর্জন করে ইমামদের বাণীর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান, তাদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করা যাবে না, কখনই না। বরং এই শাস্ত্রের প্রতি পরম মমত্ববোধই তাদের এই আহ্বানের মূল চালিকাশক্তি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, একজন শিক্ষার্থী কীভাবে পূর্ববর্তী ইমামগণের বাণীর আলোকে গড়ে উঠবে? আর সে কোন ইমামকে অনুসরণ করবে? যখন সে শাস্ত্রীয় মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করবে, তা সুদৃঢ় ও মজবুত করবে, হাদিসের তাখরিজ ও সনদ নিয়ে প্রচুর অধ্যয়ন করবে এবং আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি পর্যালোচনার সক্ষমতা অর্জন করবে, তখনই সে এটি করতে পারবে।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৬)
التي يرجح بها؛ لأن أحكام المتقدمين مبنية على القرائن، والقرائن ما كل يدركها، قد يفنى عمر الإنسان ما استطاع أن يحكم بالقرائن؛ لأن هذا العلم كما يقولون: إلهام، لكن إلهام مبني على صدق وإخلاص وحرص وجد واجتهاد، فالأئمة المتقدمون الذين يحفظون مئات الألوف من الأحاديث، أصبح لديهم ملكة، بالشم يعرفون الصحيح من الضعيف، لكن شخص لا يحفظ الأربعين كيف يحكم بالقرائن هذا؟ أو يخفى عليه حديث في بدهيات المتون المحفوظة عند صغار طلاب العلم هذا يحاكي المتقدمين؟ لا يمكن، فالدعوة التي تقال، وتطرق بين حين وأخر دعوة جيدة وصحيحة، ومقصد. . . . . . . . .، لكن لا يخاطب بها أحاد المتعلمين، إذا عرفنا أن من يقال: إنه مجدد لهذا العلم في هذا العصر قلنا: مثلاً إنه بالنسبة للرواية الشيخ الألباني رحمه الله، وبالنسبة للدراية والاستنباط الشيخ ابن باز، ولا نظير لهما فيما نعلم، يعني في العصر المتأخر، واهتمامهم بالسنة، ما قالوا بمحاكاة المتقدمين، ولا حاكوهم هم أيضاً، إنما حكموا من خلال القواعد المعروفة الآن، لكن إذا تعارض حكمهم مع أحكام الأئمة أعادوا النظر في أحكامها، وبهذا يتأهل الإنسان، والإنسان عليه أن يعرف قدر نفسه، فالإنسان إذا سلك الجادة وصل -بإذن الله تعالى-، لكن إذا كان يطوح يوماً في أقصى اليمين، ويوم في أقصى الشمال، ويجرب هذا القول ويجرب .. ، هذا يضيع، ويضيع عمره ما حصل شيء، هذا التصنيف لأهل العلم على الطرق المعروفة، وتقسيم الطلاب إلى مبتدئين ومتوسطين ومنتهيين وكذا، ويؤلفون على قدر عقول هؤلاء وعقول هؤلاء وعقول .. ، يعني هذا ما هو بعبث، هذا جرب من مئات السنين، ووجد من أنفع الأمور، إلى طبقة شيوخنا الآن المبرزين في العلم والعمل ولله الحمد وهم على هذه الجادة، وهم على هذه الجادة، وهي جادة مثمرة، وأنتجت فحول، قد يقول قائل: إن هذه الطرق، وهذه التقسيمات لا توجد عند سلف الأمة، سلف الأمة عندهم من الأذهان الصافية غير المشوشة، نعم وسلامة الفطرة، ومعرفة اللغة، ومعاصرة النصوص على وجهها ما يؤهلهم للاستنباط مباشرة، لكن شخص لا يعرف العام من الخاص، ولا المطلق من المقيد، ولا الناسخ من المنسوخ، كيف يتعامل مع النصوص

যার মাধ্যমে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়; কারণ পূর্ববর্তীদের (মুতাক্বাদ্দিমীন) সিদ্ধান্তসমূহ পারিপার্শ্বিক আলামত ও ইঙ্গিতের (ক্বারাইন) ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর এই আলামতসমূহ সবাই অনুধাবন করতে পারে না। একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে অথচ সে এই আলামতসমূহের ভিত্তিতে ফয়সালা করার সক্ষমতা অর্জন করতে নাও পারে; কারণ এই ইলম—যেমনটি তারা বলেন—একটি ইলহাম (অন্তঃপ্রেরণা)। তবে এটি এমন এক ইলহাম যা সততা, ইখলাস, গভীর আগ্রহ, একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। সুতরাং পূর্ববর্তী ইমামগণ, যারা লক্ষ লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন, তাদের মধ্যে এমন এক বিশেষ যোগ্যতা তৈরি হয়েছিল যে, তারা কেবল ঘ্রাণ বা অনুভবের মাধ্যমেই সহীহ ও যঈফ হাদীস শনাক্ত করতে পারতেন। কিন্তু যে ব্যক্তি চল্লিশটি হাদীসও (আরবাঈন) মুখস্থ রাখেনি, সে কীভাবে এই আলামতসমূহের মাধ্যমে বিচার করবে? অথবা ইলমে হাদীসের ছোট শিক্ষার্থীদের নিকট মুখস্থ থাকা প্রসিদ্ধ মতনসমূহের কোনো হাদীস যার নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়, সে কি পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করতে পারে? এটি অসম্ভব। সুতরাং যে দাওয়াহ বা আহ্বানের কথা মাঝেমধ্যে বলা হয় এবং আলোচিত হয়, তা একটি উত্তম ও সঠিক দাওয়াহ এবং উদ্দেশ্যও... তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আহ্বানে সম্বোধন করা ঠিক হবে না। যদি আমরা জানতে চাই যে, বর্তমান যুগে এই ইলমের মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) কাকে বলা হয়, তবে আমরা বলব: উদাহরণস্বরূপ, রিওয়াতের (বর্ণনা) ক্ষেত্রে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং দিরায়াত (গভীর বোধ) ও ইসতিনবাতের (বিধান আহরণ) ক্ষেত্রে শায়খ ইবনে বায। আমাদের জানামতে বর্তমান যুগে তাদের কোনো সমকক্ষ নেই, অর্থাৎ হাদীসের প্রতি তাদের যে যত্ন ও গুরুত্ব ছিল তার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। তারা পূর্ববর্তীদের হুবহু অনুকরণের কথা বলেননি এবং নিজেরাও তা করেননি। বরং তারা বর্তমানে প্রচলিত সুপরিচিত মূলনীতিসমূহের মাধ্যমেই ফয়সালা দিয়েছেন। তবে যখন তাদের সিদ্ধান্তসমূহ পূর্ববর্তী ইমামদের সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে, তখন তারা নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করেছেন। এভাবেই একজন মানুষ যোগ্যতা অর্জন করে; আর মানুষের উচিত নিজের সামর্থ্য ও সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা। মানুষ যদি সঠিক রাজপথ অনুসরণ করে, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে গন্তব্যে পৌঁছাবে। কিন্তু সে যদি একদিন চরম ডানে আর একদিন চরম বামে লক্ষ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করে এবং বিভিন্ন মতবাদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে, তবে সে পথভ্রষ্ট হবে এবং কোনো কিছু অর্জন ছাড়াই তার জীবন বিফলে যাবে। আহলে ইলমদের এই যে সুপরিচিত পদ্ধতি অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ করা এবং ছাত্রদেরকে প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চস্তরে বিন্যস্ত করা এবং তাদের মেধাশক্তি অনুযায়ী কিতাবাদি রচনা করা—এটি কোনো বৃথা কাজ নয়। এটি শত শত বছর ধরে পরীক্ষিত এবং অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি বর্তমান যুগের ইলম ও আমলে অগ্রগণ্য আমাদের শায়খগণও—সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এই সঠিক পদ্ধতিতেই রয়েছেন। এটি একটি ফলপ্রসূ পদ্ধতি যা বহু যোগ্য মনীষী তৈরি করেছে। কেউ বলতে পারেন যে, এই পদ্ধতি এবং শ্রেণীবিভাগগুলো উম্মতের সালাফদের যুগে ছিল না। সালাফদের ছিল পরিচ্ছন্ন ও বিভ্রান্তিমুক্ত মস্তিষ্ক, ফিতরতের সুস্থতা, আরবী ভাষার গভীর জ্ঞান এবং সরাসরি ওহীর বর্ণনাগুলো অবলোকন করার সুযোগ, যা তাদেরকে সরাসরি বিধান আহরণের উপযুক্ত করেছিল। কিন্তু যে ব্যক্তি আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুতলাক (অনির্ধারিত) ও মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) এর পার্থক্যই জানে না, সে নصوص (দলিল) থেকে কীভাবে ফয়সালা গ্রহণ করবে?

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৭)
مثل هذا؟ لا يستطيع أن يتعامل حتى إذا تأهل؛ لأن العلم ينمو في ذهن الإنسان مثل ما ينمو جسمه، مثل نمو النبات، ما تقول: والله هذا -ما شاء الله- شاب كامل القريحة، تجاوز بهذه المراحل، أعطوه كتب المتقدمين، ما يمكن، ولو كان كامل القريحة، ولو كان من أذكى الناس وأنبلهم، لا بد أن يتدرج؛ لأن العلم سلم يصعد إليه، حتى تصل إلى السقف، وليس معنى هذا السقف الاحاطة بالعلوم كلها، لن يحلم أحد بهذا؛ لأن الله -جل وعلا- يقول: {وَمَا أُوتِيتُم مِّن الْعِلْمِ إِلَاّ قَلِيلاً} [(85) سورة الإسراء] الأئمة الكبار الذين وصفوا بأنهم بحور العلم لن يخرجوا عن قوله تعالى: {وَمَا أُوتِيتُم مِّن الْعِلْمِ إِلَاّ قَلِيلاً} [(85) سورة الإسراء] قصة موسى والخضر أكبر شاهد على هذا، والنبي عليه الصلاة والسلام أخذ حديث الجساسة من تميم الداري، واكتسب الشرعية هذا الحديث من إقرار النبي عليه الصلاة والسلام، لا يقال كما يقول بعضهم: إن العلم الشرعي مزيج من حضارات وثقافات وما أدري إيش؟ هذا الكلام تضليل هذا، يستدلون بمثل هذه القضايا، حديث الجساسة لو لم يكتسب الإقرار من النبي عليه الصلاة والسلام ما التفتنا إليه قلنا: خرافة، لكن لما أقره النبي عليه الصلاة والسلام قلنا: على العين والرأس، اكتسب القطعية.

এরূপ ব্যক্তি? সে যোগ্যতা অর্জন করলেও এর সাথে সমন্বয় করতে পারবে না; কারণ জ্ঞান মানুষের মস্তিষ্কে সেভাবেই বৃদ্ধি পায় যেভাবে তার শরীর বৃদ্ধি পায়, ঠিক যেমন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে। আপনি এ কথা বলতে পারেন না যে: 'আল্লাহর শপথ, এই যুবকটি—মাশাআল্লাহ—অত্যন্ত প্রখর মেধাসম্পন্ন, সে এই স্তরগুলো অতিক্রম করে গেছে, তাকে পূর্বসূরিদের কিতাবগুলো দিয়ে দিন।' এটি সম্ভব নয়। সে যদি পূর্ণ মেধার অধিকারীও হয় এবং যদি সে সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবুও তাকে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হতে হবে। কারণ জ্ঞান হলো একটি সিঁড়ি যার মাধ্যমে উপরে আরোহণ করতে হয়, যতক্ষণ না আপনি ছাদে পৌঁছান। আর এই ছাদ অর্থ সব জ্ঞান পরিবেষ্টন করা নয়, এর স্বপ্ন কেউ দেখবে না; কারণ আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—বলেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [(৮৫) সূরা আল-ইসরা]। বড় বড় ইমামগণ, যাঁদের জ্ঞানের সমুদ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁরাও মহান আল্লাহর এই বাণীর বাইরে নন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [(৮৫) সূরা আল-ইসরা]। মূসা ও খিজিরের ঘটনা এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তামীম আদ-দারী থেকে জাসসাসার হাদীসটি গ্রহণ করেছেন এবং এই হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমোদনের মাধ্যমেই শরয়ী বৈধতা লাভ করেছে। কেউ কেউ যেমনটি বলে তেমনটি বলা যাবে না যে: 'শরয়ী জ্ঞান হলো বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ এবং আমি জানি না আর কী কী?'—এসব কথা বিভ্রান্তিকর। তারা এই ধরণের ঘটনাগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করে। জাসসাসার হাদীসটি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমোদন লাভ না করত, তবে আমরা এর প্রতি ভ্রুক্ষেপও করতাম না, বরং বলতাম: এটি একটি রূপকথা। কিন্তু যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি অনুমোদন করেছেন, তখন আমরা বলেছি: এটি শিরোধার্য, এটি অকাট্যতা লাভ করেছে।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৮)
حديث عبد الله بن زيد في الأذان رؤيا، لكن هل الرؤيا والأحلام يقرر بها شرع؟ لا أبداً، لكن اكتسب الشرعية من إقرار النبي عليه الصلاة والسلام، فإقرار النبي عليه الصلاة والسلام نوع من أنواع سنته عليه الصلاة والسلام، يأتي من يكتب في الصحف مثل هذا الكلام، ويقول: إن الشريعة والدين مأخوذ من مزيج من حضارات، والنبي عليه الصلاة والسلام يستفيد من حضارات الأخرى، ((وكدت أن أنهى عن الغيلة، فإذا فارس والروم يستعملونها ولا يؤثر عليهم)) يقول: أبداً النبي عليه الصلاة والسلام استفاد هذا الحكم من فارس والروم، نقول: ليس بصحيح، النبي عليه الصلاة والسلام بعث لجميع من على وجه الأرض، بعث للناس كلهم، والأحكام عامه، تشمل العرب وتشمل العجم، وتشمل فارس والروم والمشرق والمغرب، فكون هذا الأمر يؤثر على بيئة من الناس أو فئة من الناس، أو أهل مجتمع، نعم، لا يعطي حكم عام، فالنبي عليه الصلاة والسلام أراد أن ينهى لأنه يضر، لكن يضر من؟ يضر في هذه البيئة التي عاش فيها؛ لوجود مؤثرات أخرى مع هذا، فلما عرف أنه لا يؤثر على بقية الناس إذاً لا ينهى عن مثل هذا، نعم يبقى أن من يضره شيء يمتنع منه، بعض الناس يضره التمر نقول: لا تأكل التمر يا أخي، وليس معنى هذا أن التمر حرام، بعض الناس يضره اللبن نقول: يا أخي لا تشرب لبن، وليس معنى هذا أن اللبن حرام، بعض الناس يتضرر بالغيلة، والغيلة: إرضاع الطفل مع الحمل، مع حمل أمه، هذه الغيلة، العرب أو الحجاز على وجه الخصوص يتضررون لما يواكب ذلك من جو مثلاً، فلا يحسن أن يصدر حكم عام لمن بعث إليهم النبي صلى الله عليه وسلم في المشرق والمغرب، وأكثر الناس ما يتضرر؛ لأن الحكم للغالب، فبعض الناس يكتب في الصحف، ويحط من بعض النصوص، ويتكلم في بعض النصوص بناء على فهمه هو، نقول: لا يا أخي، لا بد من مراجع أهل العلم في مثل هذه الأمور، أنت أشكل عليك شيء، نعم أشكل عليك شيء أسأل يا أخي، نقول: الديانة مزيج من حضارات ما هو بصحيح أبداً، بل العكس، النبي عليه الصلاة والسلام حرم التشبه بالآخرين، باليهود والنصارى والمشركين وغيرهم، هل معنى هذا أنه مزيج؟ أبداً، أمة مستقلة، معتزة بدينها، موجودة
আযানের ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদের বর্ণিত হাদিসটি একটি স্বপ্ন, কিন্তু স্বপ্ন বা স্বপ্নের মাধ্যমে কি শরীয়তের বিধান নির্ধারিত হয়? না, কখনোই নয়। তবে এটি শরীয়তের স্বীকৃতি লাভ করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমোদনের মাধ্যমে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমোদন তাঁর সুন্নাহর অন্যতম একটি প্রকার। অনেক সময় সংবাদপত্রে এ জাতীয় কথা লেখা হয় এবং বলা হয় যে: শরীয়ত ও দ্বীন বিভিন্ন সভ্যতার সংমিশ্রণ থেকে সংগৃহীত হয়েছে, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সভ্যতা থেকে উপকৃত হয়েছেন। (যেমন তিনি বলেছিলেন:) "আমি ঘিলাহ (গর্ভবতী থাকাকালীন শিশুকে দুগ্ধদান) থেকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেখলাম পারস্য ও রোমানরা তা করে এবং এতে তাদের সন্তানদের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না বা ক্ষতি হয় না।" তারা বলে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পারস্য ও রোম থেকে এই বিধানটি লাভ করেছেন। আমরা বলি: এটি সঠিক নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী সকল মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছেন, তিনি সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর বিধানসমূহ সার্বজনীন, যা আরব ও অনারব, পারস্য ও রোম এবং পূর্ব ও পশ্চিম—সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। কোনো বিষয় যদি নির্দিষ্ট কোনো পরিবেশের মানুষের ওপর, কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর বা কোনো সমাজের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে তা কোনো সাধারণ বিধান প্রদানের ভিত্তি হতে পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিষেধ করতে চেয়েছিলেন কারণ এটি ক্ষতিকর ছিল। কিন্তু কাদের জন্য ক্ষতিকর ছিল? এটি সেই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ছিল যেখানে তিনি বসবাস করতেন; কারণ সেখানে এর সাথে অন্যান্য প্রভাবকও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু যখন জানা গেল যে এটি অবশিষ্ট অন্য মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে না, তখন তিনি এ থেকে নিষেধ করেননি। তবে হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই থাকে যে, যার জন্য কোনো কিছু ক্ষতিকর হবে সে তা থেকে বিরত থাকবে। যেমন কারো জন্য খেজুর ক্ষতিকর হতে পারে, তখন আমরা বলি: হে ভাই, আপনি খেজুর খাবেন না। এর অর্থ এই নয় যে, খেজুর হারাম। কারো জন্য দুধ ক্ষতিকর হতে পারে, আমরা বলি: হে ভাই, আপনি দুধ পান করবেন না। এর অর্থ এই নয় যে, দুধ হারাম। কিছু মানুষ ঘিলাহ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়; আর ঘিলাহ হলো: মায়ের গর্ভে অন্য সন্তান থাকা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করানো। এটিই হলো ঘিলাহ। আরবদের অথবা বিশেষভাবে হিজাজবাসীদের আবহাওয়ার কারণে এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে যাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন, তাদের সবার জন্য কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা সংগত ছিল না, বিশেষ করে যেখানে অধিকাংশ মানুষ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; কারণ বিধান সাধারণত অধিকাংশের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়। কিছু মানুষ সংবাদপত্রে লেখে এবং নিজের বুঝের ওপর ভিত্তি করে শরীয়তের দলিলের গুরুত্ব কমিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দলিল সম্পর্কে কথা বলে। আমরা বলি: না হে ভাই, এ জাতীয় বিষয়ে আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। আপনার কাছে কোনো কিছু অস্পষ্ট মনে হতে পারে, হ্যাঁ অস্পষ্ট মনে হলে হে ভাই, আপনি প্রশ্ন করুন। আমরা বলি: দ্বীন বিভিন্ন সভ্যতার সংমিশ্রণ—একথা মোটেও সঠিক নয়; বরং প্রকৃত সত্য এর বিপরীত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক ও অন্যদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম করেছেন। এর অর্থ কি এই যে এটি একটি সংমিশ্রণ? কখনোই নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র উম্মাহ, যারা নিজেদের দ্বীন নিয়ে গৌরবান্বিত এবং স্বমহিমায় বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৯)
وجوداً مؤهلاً لها لأن تكون خير أمة أخرجت للناس.

نعود إلى تقرير ما نحن بصدده، فهذا العلم لا شك أنه في غاية الأهمية لطالب العلم، يتدرج فيه الطالب كغيره من العلوم، يقرأ هذه المنظومة، ويقرأ شرحها، إن كانت حافظته ضعيفة جداً يحفظها، وينظر فيما عداها من مطولات هذا الفن، إذا كانت حافظته أقوى يحفظ نظم النخبة، أو (اللؤلؤ المكنون) لحافظ الحكمي رحمه الله، إن كانت حافظته أقوى وأقوى فليقصر همته على الألفية، ولا أنصح بحفظ أكثر من نظم في فن واحد؛ لأن بعض المتون يشوش بعضها على بعض، فإذا أراد الطالب أن يستشهد ببيت من الألفية طلع عليه كلام البيقوني، يشعر أو لا يشعر، إذا أراد أن يقرر كلام هذا طلع عليه كلام الصنعاني؛ لأنها متقاربة تنظم نظم علم واحد، تنظم في علم واحد، نعم، فإذا أراد هذا .. ، تشوش بعضها على بعض، ولا يستطيع أن يميز النظم، النظم غالب، يغلب على الإنسان، ويخرج من غير أن يقصد، ويشوش .. ، فيحفظ همته على متن واحد، وهو على حسب ما يؤنس من نفسه، ويعرف منها، إن كانت حافظته قوية فاليقصر همته على ألفية العراقي، وكل الصيد في جوف الفرا، أما هذه المنظومة في أربع وثلاثين بيت، يعني هي مجرد تذكرة لطالب العلم، وهي معتمدة على الشرح، إذا شرحت بأسلوب مناسب، يعني وأفيض في شرحها، بحيث تغطي حاجة الطالب لا بأس، لكن الغالب أن مثل هذا المتن ما يعطى المدة الكافية ليبسط في شرحه، أربع وثلاثين بيت يعطى ثلاث أيام، علشان يشرح شرحاً يناسب، يناسب المبتدئين، يمكن أن يشرح هذا في سنة، على طريقة البسط، وكل إنسان يؤنس من نفسه أنه يستطيع أن يشرح مثلاً العلوم التي يبثها لألفية العراقي يبثها هنا؛ لأن الأبواب هي هي ما تغيرت، ونشرح هذا المتن بأسلوب -إن شاء الله- يكون مناسب، وبطريقة بحيث ننهي هذا المتن خلال ثلاثة أيام، ومن أراد شروح كتب أخرى فهي موجودة في التسجيلات، شرحنا أكثر كتب المصطلح، أخر ما شرحنا (اللؤلؤ المكنون) أنهيناه قبل ثلاثة أيام، في شرح متوسط أيضاً، سم.

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার যোগ্য অস্তিত্ব হিসেবে।

আমরা আমাদের আলোচনার মূল বিষয়ে ফিরে আসি। নিঃসন্দেহে এই ইলম বা জ্ঞান একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায় এখানেও ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হবে; সে এই মানজুমাটি (কাব্যগ্রন্থ) পড়বে এবং এর ব্যাখ্যা পাঠ করবে। যদি তার মুখস্থ শক্তি খুব দুর্বল হয়, তবে সে এটি মুখস্থ করবে এবং এই শাস্ত্রের অন্যান্য বিস্তারিত গ্রন্থগুলো দেখবে। যদি তার মুখস্থ শক্তি কিছুটা শক্তিশালী হয়, তবে সে 'নুখবাহ'-এর কাব্যরূপ অথবা হাফেজ হাকামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আল-লু'লু আল-মাকনুন' মুখস্থ করবে। আর যদি তার মুখস্থ শক্তি আরও প্রখর হয়, তবে সে যেন কেবল 'আলফিয়্যাহ'-এর ওপরই স্বীয় হিম্মত বা একাগ্রতা সীমাবদ্ধ রাখে। আমি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একের অধিক কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করার পরামর্শ দিই না; কারণ কিছু মতন বা পাঠ্য একে অপরের সাথে গোলমাল পাকিয়ে ফেলে। যখন একজন শিক্ষার্থী আলফিয়্যাহ থেকে কোনো একটি পঙক্তি উদ্ধৃত করতে চায়, তখন সচেতনভাবে বা অবচেতনভাবে তার স্মৃতিতে 'বাইকুনিয়্যাহ'-এর কথা চলে আসে। সে যখন কোনো একটির বক্তব্য সাব্যস্ত করতে চায়, তখন সান’আনি-র কথা চলে আসে; কারণ এগুলো একই বিষয়ের কাব্য এবং একে অপরের নিকটবর্তী। হ্যাঁ, যখন সে এটি করতে যায়, তখন একটির সাথে অন্যটি মিলে যায় এবং সে কাব্যগুলো পৃথক করতে পারে না। কাব্য সাধারণত মানুষের স্মৃতির ওপর জয়ী হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সে যেন একটি মাত্র মতনের ওপর নিজের একাগ্রতা নিবদ্ধ রাখে। এটি নির্ভর করবে সে নিজের মাঝে কেমন সামর্থ্য অনুভব করছে তার ওপর। যদি তার মুখস্থ শক্তি প্রখর হয়, তবে সে যেন ইরাকি-র 'আলফিয়্যাহ'-এর ওপর একাগ্রতা সীমাবদ্ধ রাখে, কারণ বড় শিকার তো বন্য গাধার উদরেই থাকে (অর্থাৎ এটিই সবকিছুর জন্য যথেষ্ট)। আর এই মানজুমাটি মাত্র চৌত্রিশটি পঙক্তির, অর্থাৎ এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য কেবল একটি স্মারক মাত্র। এটি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। যদি এটি উপযুক্ত পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা হয় এবং বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয় যাতে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন পূর্ণ হয়, তবে তা ভালো। কিন্তু সাধারণত এই ধরনের মতনগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না। চৌত্রিশটি পঙক্তির জন্য হয়তো তিন দিন সময় দেওয়া হয়, যাতে উপযুক্ত এবং নবীনদের উপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। বিস্তারিত আলোচনার পদ্ধতিতে এটি এক বছরেও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের মধ্যে অনুভব করতে পারেন যে, তিনি ইরাকি-র আলফিয়্যাহ ব্যাখ্যা করার সময় যে জ্ঞানগুলো প্রদান করেন, তা এখানেও দিতে পারেন; কারণ অধ্যায়গুলো একই, কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা এই মতনটি ইনশাআল্লাহ উপযুক্ত পদ্ধতিতে এবং এমনভাবে ব্যাখ্যা করব যাতে এটি তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়। আর যারা অন্য কিতাবগুলোর ব্যাখ্যা শুনতে চান, সেগুলো রেকর্ডিংয়ে রয়েছে। আমরা হাদিস শাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাবই ব্যাখ্যা করেছি। সর্বশেষ আমরা 'আল-লু’লু আল-মাকনুন' ব্যাখ্যা করেছি যা তিন দিন আগে শেষ হয়েছে; সেটিও ছিল একটি মাঝারি স্তরের ব্যাখ্যা। পড়ুন।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১০)
قال العلامة البيقوني -رحمه الله تعالى- وغفر له، وجمعنا فيه ووالدينا وشيخنا في الفردوس الأعلى، إنه جواد كريم.

بسم الله الرحمن الرحيم

 

أبدأ بالحمد مصلياً على … محمد خير نبي أرسلا

وذي من أقسام الحديث عده … وكل واحد أتى وحده

أولها الصحيح وهو ما اتصل … إسناده ولم يشذ أو يعل

يرويه عدل ضابط عن مثله … معتمد في ضبطه ونقله

والحسن المعروف طرقاً وغدت … رجاله لا كالصحيح اشتهرت

وكل ما عن رتبة الحسن قصر … فهو الضعيف وهو أقساماً كثر

وما أضيف للنبي المرفوع … وما لتابع هو المقطوع

والمسند المتصل الإسناد من … راويه حتى المصطفى ولم يبن

وما بسمع كل راوٍ يتصل … إسناده للمصطفى فالمتصل

يقول الناظم -رحمه الله تعالى-: بسم الله الرحمن الرحيم.

 

أبدأ بالحمد مصلياً على … محمد خير نبي أرسلا
আল্লামা বাইকুনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- এবং তাঁকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের, আমাদের পিতামাতাকে এবং আমাদের শাইখকে তাঁর সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করুন, নিশ্চয়ই তিনি দানশীল ও পরম দয়ালু।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আমি প্রশংসা দিয়ে শুরু করছি এবং দরুদ পাঠ করছি … মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বোত্তম।

আর এগুলো হলো হাদিসের প্রকারভেদের মধ্যকার কয়েকটি প্রকার … যার প্রতিটি তার নিজ নিজ সংজ্ঞাসহ বর্ণিত হয়েছে।

তার মধ্যে প্রথম হলো সহিহ, আর তা হলো যার … সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং যা শায (বিচ্যুত) বা দোষযুক্ত নয়।

এটি বর্ণনা করেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন রাবি তাঁরই মতো একজনের থেকে … যিনি তাঁর স্মৃতি ও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য।

আর হাসান হলো সেই হাদিস যার সূত্রগুলো পরিচিত, কিন্তু … এর রাবিগণ সহিহ হাদিসের রাবিদের মতো অতটা প্রসিদ্ধ নন।

আর যা কিছু হাসান-এর স্তর থেকে নিচে অবস্থান করে … তাই যয়িফ (দুর্বল), আর এর অনেক প্রকার রয়েছে।

যা কিছু নবীর দিকে সম্বন্ধিত করা হয় তা মারফু … আর যা তাবেয়ির দিকে (সম্বন্ধিত), তা মাকতু।

আর মুসনাদ হলো রাবি থেকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত … নিরবচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট হাদিস যা মাঝখানে বিচ্ছিন্ন হয়নি।

প্রতিটি রাবির শ্রবণের মাধ্যমে যার সনদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত … নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে, তাকে মুত্তাসিল বলা হয়।

ছন্দকার -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- বলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আমি প্রশংসা দিয়ে শুরু করছি এবং দরুদ পাঠ করছি … মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বোত্তম।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১১)
ابتدأ المؤلف -رحمه الله تعالى- الناظم -رحمة الله تعالى عليه- بالبسملة، أولاً: الناظم لا يوجد له ترجمة، وقد أختلف في اسمه، هل هو طه أو عمر؟ ولا يعرف على وجه التأكيد إلا البيقوني؛ لإشارته إلى هذه النسبة في أخرها، أما اسمه فمختلف فيه، ولا يعرف عن حياته شيء يذكر، وهذا يسلكه بعض العلماء لإخفاء نفسه، مبالغة في الإخلاص لله تعالى، فالبيقوني وابن آجروم لا يعرف لهم كبير ترجمة، القحطاني الذي نونيته صارت بها الركبان لا يعرف له ترجمة، فيهمنا العلم الذي بين أيدينا، وأجره ثابت -إن شاء الله تعالى- لصاحبه، ولو لم يعرف، يكفيه أن يقال: قال -رحمه الله تعالى- يكفيه، والله المستعان، والآن بعض طلاب العلم قدمه اليمنى على العتبة الأولى من أبواب العلم، وتجد الترجمة المطولة منشورة على أعلى المستويات، في الإنترنت والمواقع وغيرها، والله المستعان، هذا حاصل، ووجد ما هو أشد من ذلك، نسأل الله -جل وعلا- العفو والمسامحة، على الإنسان أن يتواضع، وأن يهضم نفسه بقدر المستطاع، والحساب عند الله -جل وعلا-، لن يضيع شيء، يعني لا يتصور الإنسان أنه بيضيع له شيء، وكل ما أخفى الإنسان عمله كان أقرب إلى الإخلاص؛ لأن الإخفاء والبعد عن أنظار الناس هو لا شك أنه يعين النفس على الإخلاص؛ لأن الذكر بين الناس وإن كان كما جاء في الحديث الصحيح ((عاجل بشرى المؤمن)) لكن له أثر، ولذا جاء النهي عن مدح الإنسان في وجهه، مدح الإنسان في وجهه لا شك أنه يعرضه لخدش الإخلاص، وقد يزول عنده بالكلية في بعض الأحوال والظروف، وعلى الإنسان أن يلاحظ مثل هذه الأمور، إذا تيسر أن يعمل عملاً لا يطلع عليه أحد فهذا أقرب بلا شك، ولذا شرعت النوافل في البيوت ((أفضل صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة)) شرع إخفاء النوافل كلها، لكن إذا كان الإنسان بحيث إذا رئي يقتدي به، وأمن على نفسه من أن يزل قدمه في باب الإخلاص يظهر للناس، ولذا جاء في الحديث الصحيح ((من سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة)) فإذا كان غلب على ظنه أنه لا يتأثر بإظهار العمل، وقصد من ذلك إقتداء الناس به، فهذا له وجه، لكن ليحذر كل الحذر أن يتأثر بالمدح والذم، يقول ابن القيم -رحمه

লেখক -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- তথা কাব্যকার -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন- বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন। প্রথমত: এই কাব্যকারের কোনো জীবনী পাওয়া যায় না। তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তাঁর নাম কি ত্বহা নাকি উমর? নিশ্চিতভাবে শুধুমাত্র 'আল-বাইকুনি' নামটুকুই জানা যায়; কারণ তিনি কাব্যটির শেষে এই নিসবত বা সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ আছে এবং তাঁর জীবন সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছুই জানা যায় না। কিছু আলেম নিজেদের লুকিয়ে রাখার জন্য এই পথ অবলম্বন করেন, যা আল্লাহ তাআলার প্রতি ইখলাসের বা একনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়। যেমন আল-বাইকুনি এবং ইবন আজুররুম—তাঁদের ব্যাপারে তেমন কোনো জীবনী জানা যায় না। আল-কাহত্বানি, যাঁর 'নূনিয়্যাহ' কাব্যটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁরও কোনো জীবনী জানা যায় না। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ইলম বা জ্ঞান যা আমাদের সম্মুখে রয়েছে। আর এর সওয়াব—ইনশাআল্লাহ তাআলা—এর লেখকের জন্য সাব্যস্ত হয়ে আছে, যদিও তাঁকে চেনা না যায়। তাঁর জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে লোকে বলে: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন"। তাঁর জন্য এটিই যথেষ্ট, আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য। অথচ বর্তমানে ইলমের পথে পা রাখা মাত্রই কিছু তালিবে ইলমের দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্ত উচ্চপর্যায়ে ইন্টারনেটে, ওয়েবসাইটে এবং অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য, এটিই বর্তমান বাস্তবতা। এর চেয়েও গুরুতর বিষয় পরিলক্ষিত হয়; আমরা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি। মানুষের উচিত বিনয়ী হওয়া এবং সাধ্যমতো নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। আর হিসাব তো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কাছেই; কোনো কিছুই হারিয়ে যাবে না। অর্থাৎ মানুষ যেন মনে না করে যে তার কোনো কিছু নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষ তার আমল যত বেশি গোপন করবে, তা ইখলাসের তত নিকটবর্তী হবে। কেননা আমল গোপন করা এবং মানুষের দৃষ্টি থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে নফসকে ইখলাসের ওপর অটল থাকতে সাহায্য করে। কারণ মানুষের মাঝে চর্চিত হওয়া—যদিও সহীহ হাদীসে একে "মুমিনের জন্য দ্রুত সুসংবাদ" বলা হয়েছে—তবুও এর একটি প্রভাব রয়েছে। এই কারণেই মানুষের মুখের ওপর প্রশংসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। মানুষের মুখের ওপর প্রশংসা করা নিঃসন্দেহে তার ইখলাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমনকি কোনো কোনো অবস্থায় তা ইখলাসকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দিতে পারে। মানুষের উচিত এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা। যদি এমন কোনো আমল করা সম্ভব হয় যা কেউ দেখবে না, তবে তা নিঃসন্দেহে অধিক নিকটবর্তী। একারণেই ঘরে নফল ইবাদত পালনের বিধান দেওয়া হয়েছে: "ফরজ সালাত ব্যতীত ব্যক্তির সর্বোত্তম সালাত হলো তার ঘরে আদায়কৃত সালাত।" সমস্ত নফল ইবাদত গোপন রাখাই শরীয়তের বিধান। তবে কোনো ব্যক্তি যদি এমন হয় যে তাকে দেখলে মানুষ তার অনুসরণ করবে এবং সে যদি ইখলাসের বিষয়ে নিজের পদস্খলন ঘটার ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে, তবে সে আমল প্রকাশ করতে পারে। একারণেই সহীহ হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির প্রচলন করল, সে এর সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে।" সুতরাং যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে আমল প্রকাশ করার দ্বারা সে প্রভাবিত হবে না এবং তার উদ্দেশ্য হয় মানুষের তাকে অনুসরণ করা, তবে এর অবকাশ রয়েছে। কিন্তু প্রশংসা ও নিন্দার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ব্যাপারে তাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ইবনুল কাইয়্যিম -রহিমাহুল্লাহ- বলেন...

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১২)
الله تعالى-: "إذا حدثتك نفسك بالإخلاص فعمد إلى حب المدح والثناء فذبحه بسكين علمك أنه لا أحد ينفع مدحه، ولا يضر ذمه إلا الله -جل وعلا- "، ونحن ومن على شاكلتنا من أوساط المتعلمين إذا قيل له: أن فلان الشيخ فلان ذكرك أو مدحك، أو الوزير فلان، أو الأمير فلان يمكن ما ينام تلك الليلة من الفرح، غافلاً عن الحديث ((من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي)) الخالق هو الذي يذكرك إذا ذكرته، لا فلان ولا علان، الذي لا يستطيع أن يقدم لك شيء لم يكتبه الله لك، ((وإذا ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منه)) أقول: هذا المؤلف الذي لا يعرف أختلف في اسمه، ومجرد التماس واحد يقول: طه، واحد يقول: عمر، مجرد ميل واسترواح؛ لأنه قد يوجد على بعض النسخ من يجتهد ويكتب، وهل هو ابن محمد، أو ابن عمر، أو ابن فتوح؟ المقصود أن اسمه ليس بمعروف على سبيل القطع، إنما يعرف البيقوني، والمنظومة البيقونية، انتهى الإشكال، وابن آجروم، والكتاب: الآجرومية، والخلاف فيما عدا ذلك، ويكفيه أن يقال على مر العصور، قرون والأجر يكتب له: قال -رحمه الله تعالى-.

المؤلف -رحمه الله تعالى- بدأ بالبسملة، ثم ثنى بالحمدلة إقتداء بالقرآن الكريم، افتتح بالبسملة والحمدلة، وجاء في الحديث ((كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أقطع)) وفي رواية: ((بالحمد لله رب العالمين)) وفي رواية: ((بذكر الله)) وحكم بعضهم على الحديث بجميع طرقه وألفاظه بالضعف، وحسن بعضهم لفظ: (الحمد) فقط، كابن الصلاح والنووي، وبعض العلماء حسنوا لفظ: (الحمد)، وعلى كل حال يكفينا الإقتداء بالقرآن الكريم، والنبي عليه الصلاة والسلام في مخاطباته ومراسلاته يبدأ بالبسملة، وفي خطبه يبدأ بالحمدلة.
আল্লাহ তাআলা— "যখন তোমার নফস তোমাকে ইখলাস বা নিষ্ঠার কথা বলে, তখন তুমি প্রশংসা ও স্তুতির মোহের দিকে অগ্রসর হও এবং তোমার এই জ্ঞানের ছুরি দিয়ে তাকে জবাই করো যে, আল্লাহ—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—তিনি ছাড়া আর কারো প্রশংসায় কোনো উপকার হয় না এবং কারো নিন্দায় কোনো ক্ষতি হয় না।" আর আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী পর্যায়ের ব্যক্তিদের যখন বলা হয়: অমুক শাইখ আপনার কথা উল্লেখ করেছেন বা আপনার প্রশংসা করেছেন, অথবা অমুক মন্ত্রী বা অমুক আমীর আপনার প্রশংসা করেছেন; তখন আনন্দের আতিশয্যে সম্ভবত সেই রাতে আর ঘুমই আসে না। অথচ সে এই হাদিসটি সম্পর্কে গাফেল যে, "যে ব্যক্তি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে মনে মনে স্মরণ করি।" স্রষ্টাই হচ্ছেন তিনি, যিনি তোমাকে স্মরণ করেন যখন তুমি তাকে স্মরণ করো—অমুক বা তমুক ব্যক্তি নয়, যারা তোমার জন্য এমন কিছুই পেশ করতে সক্ষম নয় যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রাখেননি। "আর যদি সে আমাকে কোনো জনসমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম কোনো সমাবেশে স্মরণ করি।" আমি বলি: এই লেখক, যাঁর সঠিক পরিচয় জানা যায় না, তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এটি কেবলই এক প্রকার অনুমান; কেউ বলেন: ত্বহা, কেউ বলেন: উমর। এটি স্রেফ ঝোঁক বা অনুমানপ্রসূত; কারণ কিছু পাণ্ডুলিপিতে হয়তো কেউ গবেষণার ভিত্তিতে লিখে থাকতে পারেন—তিনি কি মুহাম্মাদের পুত্র, নাকি উমরের পুত্র, নাকি ফুতুহর পুত্র? উদ্দেশ্য হলো, তাঁর নাম নিশ্চিতভাবে পরিচিত নয়। কেবল আল-বাইকুনি এবং আল-মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়াহ নামেই তিনি পরিচিত, আর এখানেই অস্পষ্টতার অবসান। যেমন ইবনে আজুররুম এবং তাঁর কিতাব আল-আজুররুমিয়াহ। এর বাইরের বিষয়গুলোতে মতভেদ রয়েছে। তাঁর জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যুগ যুগ ধরে এবং শতাব্দীকাল ব্যাপী তাঁর সওয়াব লেখা হচ্ছে যখন বলা হয়: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কুরআন মাজিদের অনুসরণ করে প্রথমে বিস্মিল্লাহ এবং দ্বিতীয়ত আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শুরু করেছেন। তিনি বিস্মিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে সূচনা করেছেন। হাদিসে এসেছে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ বা লেজকাটা।" অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে: "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন দ্বারা।" আবার অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে: "আল্লাহর জিকির দ্বারা।" কেউ কেউ এই হাদিসের সকল সূত্র ও শব্দকে দুর্বল বলে হুকুম দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কেবল 'আল-হামদ' সম্বলিত শব্দটিকে 'হাসান' বলেছেন, যেমন ইবনে সালাহ ও নববী। কিছু আলেম 'আল-হামদ' শব্দটিকে হাসান বলেছেন। যাই হোক, কুরআন মাজিদের অনুসরণই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর সকল সম্বোধন ও চিঠিপত্রে বিস্মিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন এবং তাঁর খুতবা বা ভাষণসমূহে আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأما الصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام فقد جاء الأمر بها {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب] والحمد يعرفه بعضهم أو كثير ممن عرف الحمد قال: إنه الثناء على الله -جل وعلا- بما يستحقه من محامد، وابن القيم -رحمه الله تعالى- فرق بين الحمد والثناء، وأن الحمد ذكر الباري -جل وعلا- بأوصافه الجميلة، ونعمه العظيمة، والثناء تكرار المحامد، واستدل بحديث: ((قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين)) ثم قال: ((فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين قال: حمدني عبدي، فإذا قال: الرحمن الرحيم قال: أثنى عليّ عبدي)) فالثناء غير الحمد، وهذا ما قاله ابن القيم في الوابل الصيب، فليرجع إليه، الصلاة جاء الأمر بها في قوله -جلا وعلا-: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب] ولا يتم الامتثال، امتثال الأمر في الآية حتى يصلي ويسلم، أما الاقتصار على الصلاة فقط دون السلام، أو السلام دون الصلاة فقط، فلا يتم الامتثال بذلك، المؤلف يقول:

আর নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ওপর সালাত পাঠ করার ব্যাপারে নির্দেশ এসেছে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।} [(৫৬) সূরা আল-আহযাব] আর ‘হামদ’ (প্রশংসা)-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কেউ কেউ অথবা প্রশংসার পরিচয় প্রদানকারী অনেকের মতে: তা হলো আল্লাহ -যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ- তাঁর প্রাপ্য প্রশংসাসূচক গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর গুণগান করা। ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- ‘হামদ’ ও ‘ছানা’ (গুণগান)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ‘হামদ’ হলো মহান স্রষ্টা -যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ- তাঁর সুন্দর গুণাবলি এবং মহান নিআমতসমূহের উল্লেখ করা, আর ‘ছানা’ হলো প্রশংসার পুনরাবৃত্তি করা। তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: ((আমি সালাতকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি।)) এরপর তিনি বলেন: ((যখন বান্দা বলে: ‘সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা (হামদ) করল। যখন সে বলে: ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান (ছানা) করল।)) সুতরাং ‘ছানা’ হলো ‘হামদ’ থেকে ভিন্ন কিছু। ইবনুল কাইয়্যিম ‘আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব’ গ্রন্থে এটিই বলেছেন, তাই সেটির প্রতি রুজু করা (বিস্তারিত জানতে দেখা) উচিত। সালাত পাঠের নির্দেশ এসেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।} [(৫৬) সূরা আল-আহযাব] আর আয়াতে বর্ণিত নির্দেশের যথাযথ আনুগত্য ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সালাত ও সালাম উভয়টিই পাঠ করা হয়। তবে সালাম ব্যতীত শুধু সালাত অথবা সালাত ব্যতীত শুধু সালামের ওপর সীমাবদ্ধ থাকলে এর মাধ্যমে নির্দেশ পালন পূর্ণ হবে না। লেখক বলেন:

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৪)
(مصلياً على … محمد خير نبي أرسلا)، ما سلم على النبي صلى الله عليه وسلم، لم يتم امتثال الأمر، بل صرح النووي في مقدمة شرح مسلم بكراهة إفراد الصلاة دون السلام؛ لأن مسلم -رحمه الله تعالى- أفرد الصلاة دون السلام، فصرح النووي بكراهة ذلك، وابن حجر خص الكراهية بمن كان ديدنه ذلك، يصلي باستمرار ولا يسلم، أو يسلم باستمرار ولا يصلي، أما من كان يجمع بينهما تارة، ويفرد الصلاة تارة، ويفرد السلام تارة فلا تتناوله الكراهة، الكراهة تختص بمن ديدنه ذلك، وعلى كل حال امتثال الأمر لا يتم إلا بالجمع بينهما، وجاء عنه عليه الصلاة والسلام في الحث على الصلاة عليه نصوص كثيرة جداً، حتى أوجب بعض العلماء الصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام كل ما ذكر، أما وجوبها في التشهد الأخير كونها ركن. . . . . . . . .، معروف عند جمع من أهل العلم، وما عدا ذلك فعامة أهل العلم على الاستحباب، ولا شك أن الأصل في الأمر الوجوب، لكن قد يرد ما يصرف هذا الأمر، ولذا جمهور أهل العلم على الاستحباب، ولا شك أن من يسمع ذكر النبي عليه الصلاة والسلام ولا يصلي عليه محروم، فمن صلى على النبي صلاة واحدة صلى الله عليه بها عشراً، ممن له حق على الإنسان أن يلحقه بالنبي عليه الصلاة والسلام، ويعطفه عليه الآل، لما لهم من حق، فهم وصية النبي صلى الله عليه وسلم، فيعطفون عليه، وممن له حق أيضاً على المسلمين من وصلهم الدين بواسطتهم، وحملوه إلى الناس بأمانة وإتقان وصدق وإخلاص وهم الصحابة الكرام، الذين نشروا الدين وحملوه إلى أقطار المعمورة، فلهم علينا من الحق أن نصلي عليهم ونسلم تبعاً للنبي عليه الصلاة والسلام، فإذا قال: صلى الله عليه وسلم وآله وصحبه، ولا يفرد الآل، ولا يفرد الصحب؛ لأنه مطلوب منه أن يصلي على الآل؛ لأنهم وصية النبي عليه الصلاة والسلام، والصحب أيضاً لهم حق عظيم على الأمة فيصلى عليهم، تبعاً له عليه الصلاة والسلام، أما إفراد الآل فهو شعار لبعض المبتدعة، وإفراد الصحب أيضاً شعار لقوم آخرين، وأهل السنة يتوسطون، ويمتثلون جميع الأوامر، المقصود أن المؤلف -رحمه الله تعالى- بدأ بالبسملة، ثم ثنى بالحمدلة، ثم صلى على النبي

(দরুদ পাঠরত অবস্থায় … প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদের প্রতি), যতক্ষণ পর্যন্ত নবীর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি সালাম পেশ করা না হচ্ছে, ততক্ষণ নির্দেশের পূর্ণ অনুসরণ সম্পন্ন হয় না। বরং ইমাম নববী শারহু মুসলিমের ভূমিকায় সালাম ব্যতিরেকে কেবল দরুদ পাঠ করাকে অপছন্দীয় (মাকরুহ) বলে স্পষ্ট করেছেন; কারণ ইমাম মুসলিম -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন- সালাম ব্যতিরেকে কেবল দরুদ উল্লেখ করেছিলেন, ফলে ইমাম নববী একে মাকরুহ বলে অভিহিত করেছেন। আর ইবনু হাজার এই মাকরুহ হওয়াকে সেই ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যার অভ্যাসই এমন যে, সে সর্বদা কেবল দরুদ পড়ে কিন্তু সালাম দেয় না, অথবা সর্বদা কেবল সালাম দেয় কিন্তু দরুদ পড়ে না। তবে যে ব্যক্তি কখনো উভয়টি একত্রে পড়ে, আবার কখনো কেবল দরুদ পাঠ করে এবং কখনো কেবল সালাম পাঠ করে, সে এই মাকরুহের অন্তর্ভুক্ত হবে না। মূলত যার অভ্যাস বা রীতিই এমন (একটি বাদ দিয়ে অন্যটি করা) মাকরুহ কেবল তাকেই স্পর্শ করে। যাই হোক, উভয়টির সমন্বয় ছাড়া নির্দেশের পূর্ণ অনুসরণ সম্পন্ন হয় না। তাঁর (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠে উৎসাহিত করে অনেক অনেক বর্ণনা এসেছে, এমনকি কোনো কোনো আলেম যখনই নবীর (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) নাম উল্লেখ করা হয়, তখনই তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন। আর শেষ তাশাহহুদে এটি রুকন হওয়ার কারণে ওয়াজিব হওয়া... একদল আলেমের নিকট সুপরিচিত। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেম একে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বলেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নির্দেশের মূল দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া, কিন্তু এমন কিছু প্রমাণ থাকতে পারে যা এই নির্দেশকে ওয়াজিব থেকে সরিয়ে দেয়, আর এ কারণেই জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম একে মুস্তাহাব বলেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি নবীর (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) নাম শুনেও তাঁর প্রতি দরুদ পড়ে না, সে বঞ্চিত। যে ব্যক্তি নবীর প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। মানুষের ওপর নবীর (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সাথে যাঁদের নাম যুক্ত করা এবং সম্পৃক্ত করা হকের দাবি, তাঁরা হলেন তাঁর পরিবারবর্গ (আল); যেহেতু তাঁদের অধিকার রয়েছে। কেননা তাঁরা হলেন আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বিশেষ অসিয়ত, তাই তাঁদেরকেও তাঁর সাথে উল্লেখ করা হয়। আর মুসলমানদের ওপর যাঁদের অধিকার রয়েছে তাঁরা হলেন তাঁরাই যাঁদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে দ্বীন পৌঁছেছে এবং যাঁরা অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, দক্ষতা, সত্যবাদিতা ও নিষ্ঠার সাথে মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন; আর তাঁরা হলেন সম্মানিত সাহাবীগণ, যাঁরা দ্বীন প্রচার করেছেন এবং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে তা পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং আমাদের ওপর তাঁদের এই অধিকার রয়েছে যে, আমরা আল্লাহর রাসূলের (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) অনুগামী হিসেবে তাঁদের প্রতিও আল্লাহর রহমত ও শান্তি কামনা করব। অতএব যখন কেউ বলবে: "আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর বর্ষিত হোক", তখন যেন শুধু পরিবারকে বা শুধু সাহাবীদের আলাদা করে উল্লেখ না করে; কেননা তার প্রতি পরিবারের জন্য দুয়া করার নির্দেশ রয়েছে কারণ তাঁরা আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) অসিয়ত, আর উম্মতের ওপর সাহাবীদেরও অনেক বড় হক বা অধিকার রয়েছে, তাই তাঁর (তাঁর প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) অনুগামী হিসেবে তাঁদের জন্যও দুয়া করা হয়। আর কেবল পরিবারবর্গকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা কিছু বিদআতির নিদর্শন, আবার কেবল সাহাবীদের আলাদাভাবে উল্লেখ করাও অন্য একদল লোকের নিদর্শন। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন এবং সকল নির্দেশ পালন করেন। উদ্দেশ্য হলো, লেখক -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন- বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর দ্বিতীয়ত আলহামদুলিল্লাহ বা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন এবং তারপর নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেছেন।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৫)
-عليه الصلاة والسلام، ولو سلم لكن أكمل.

"خير نبي أرسلا" لا شك أنه عليه الصلاة والسلام سيد ولد آدم، وهو أفضل الأنبياء، وهو إمامهم وخاتمهم، من ختم الله به الرسالات، ورسالته عليه الصلاة والسلام إلى الخلق أجمعين، إلى الجن والإنس، رسالته عامة، وكان النبي يبعث إلى قومه وبعث النبي عليه الصلاة والسلام إلى الناس أجمعين، "خير نبي أرسلا" فهو خيرهم وأفضلهم على الإطلاق، وقد جاء النهي عن التفضيل بين الأنبياء، وجاء نهيه عليه الصلاة والسلام أن يُفضل على يونس أو على موسى، ولذا يمتنع كثير من العلماء عن التفضيل، لكن التفضيل جاء به النص القطعي {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [(253) سورة البقرة]، والنبي عليه الصلاة والسلام سيد ولد آدم، وله من الخصائص ما يجعله أشرف الخلق، وخير نبي أرسلا، والنهي عن التفضيل ((لا تفضلوا بين الأنبياء))، و ((لا تفضلوني على يونس)) إذا أقتضى هذا التفضيل تنقص المفضول؛ لأن سبب الورود، ورود النهي جاء بهذا الصدد، فيما تشاجر مسلم مع يهودي فقال اليهودي: والذي فضل موسى على البشر، وقال المسلم: والذي فضل محمد على البشر، حصلت الخصومة فالمسلم ضرب اليهودي، في مثل هذه الخصومات لا يسلم الإنسان من تنقص الطرف الآخر، وحينئذٍ ينهى عن التفضيل، أما في غير هذه الظروف فقوله -جل وعلا-: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [(253) سورة البقرة] يقتضي أنهم درجات، وألو العزم منهم الخمسة أفضل من غيرهم، وكل نبي من الأنبياء له مزية على غيره تقتضي تفضيله من هذه الحيثية، والنبي عليه الصلاة والسلام خير الأنبياء وأفضلهم على الإطلاق، ثم قال الناظم -رحمه الله تعالى-:

 

وذي من أقسام الحديث عدة … وكل واحد أتى وحده
—তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, আর যদি শান্তি (সালাম) প্রার্থনা করা হতো তবে তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হতো।

“প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী”; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আদম সন্তানদের নেতা, তিনি নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তিনি তাঁদের ইমাম এবং সর্বশেষ নবী, যাঁকে দিয়ে আল্লাহ রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি, জিন ও ইনসানের প্রতি তাঁর (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) রিসালাত ছিল সর্বজনীন। কোনো কোনো নবী কেবল নিজ কওমের প্রতি প্রেরিত হতেন, আর নবী (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) প্রেরিত হয়েছেন সকল মানুষের প্রতি। “প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী”, সুতরাং তিনি নিরঙ্কুশভাবে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। নবীদের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাঁর (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকেও নিষেধ এসেছে যেন তাঁকে ইউনুস বা মূসার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া না হয়। একারণে অনেক আলেম শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ থেকে বিরত থাকেন। তবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বিষয়টি অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত: “সেই রাসূলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৩]। নবী (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আদম সন্তানদের নেতা, তাঁর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাঁকে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং প্রেরিত নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নবীতে পরিণত করেছে। আর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় যে নিষেধাজ্ঞা—“তোমরা নবীদের মাঝে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো না” এবং “তোমরা আমাকে ইউনুসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না”—এটি তখন প্রযোজ্য যখন এই শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা অন্যজনের মর্যাদাহানির কারণ হয়। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা আসার প্রেক্ষাপট ছিল এই যে, একজন মুসলিম ও একজন ইহুদির মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। ইহুদি বলল: “সেই সত্তার কসম, যিনি মূসাকে সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।” আর মুসলিম বলল: “সেই সত্তার কসম, যিনি মুহাম্মদকে সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।” এরপর বিবাদ সৃষ্টি হলো এবং মুসলিম ব্যক্তিটি ইহুদি লোকটিকে আঘাত করল। এজাতীয় বিবাদের ক্ষেত্রে মানুষ অপর পক্ষের মর্যাদাহানি করা থেকে রক্ষা পায় না, আর তখনই শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে নিষেধ করা হয়। তবে এ জাতীয় পরিস্থিতি ছাড়া মহান আল্লাহর বাণী: “সেই রাসূলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৩] একথাই প্রমাণ করে যে তাঁদের মধ্যে মর্যাদাগত স্তর রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ‘উলুল আজম’ বা দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী পাঁচজন রাসূল অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রত্যেক নবীরই অন্যের ওপর এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সেই দিক থেকে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে। নবী (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) নিরঙ্কুশভাবে সকল নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। এরপর গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

 

আর এগুলো হাদীসের প্রকারভেদের একটি সংখ্যা … এবং প্রতিটি প্রকারই তার নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে এসেছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৬)
بعد البسملة والحمدلة والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام يشرع في الخطب وفي الكتب أن يقول الخطيب أو الكاتب: أما بعد، وجاءت بها النصوص، ثبتت في أكثر من ثلاثين حديثاً، أما بعد. . . . . . . . .، لكن هذا نظم مختصر جداً، يمكن يعوز أن يأتي بكل المطلوب، وإلا الإتيان بها سنة، ولا يتم أيضاً امتثال بالسنة حتى نقول: أما بعد، وأما الاستعاضة بـ (أما) عن (أما) بالواو بعض الناس يقول: وبعد، هذا لا يتم به الامتثال، وإن قال بعض المتأخرين: إن الواو قائمة مقام (أما)، ما الذي يمنع من النطق بالفظ النبوي، أما بعد.

বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর দরুদ পাঠের পর খুতবা ও কিতাবসমূহে খতিব বা লেখকের জন্য ‘অতঃপর’ বলা বিধেয়। এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে এবং ত্রিশটিরও বেশি হাদিসে ‘অতঃপর’ কথাটি প্রমাণিত হয়েছে। . . . . . . . . . , কিন্তু এটি একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পদ্যবিন্যাস, যা হয়তো প্রয়োজনীয় সবটুকু উপস্থাপনে যথেষ্ট নয়। অন্যথায় এটি বলা সুন্নাত, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ‘অতঃপর’ না বলা হবে ততক্ষণ সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণও সম্পন্ন হবে না। আর ‘অতঃপর’ শব্দের স্থলে ‘এবং’ ব্যবহার করে কিছু লোক যে ‘এবং অতঃপর’ বলে থাকেন, এর মাধ্যমে সুন্নাহর অনুসরণ পূর্ণ হয় না। যদিও পরবর্তী যুগের কিছু আলিম বলেছেন যে, ‘এবং’ শব্দটি ‘অতঃপর’ শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে নববীয় শব্দ ‘অতঃপর’ উচ্চারণে বাধা কোথায়?

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৭)
و"ذي" الأصل أن يقول: "أما بعد فذي"، وذي: إشارة إلى هذه المنظومة، أو إلى هذه الأبيات اللاحقة، إشارة إلى ما في الذهن، الأصل أن الإشارة تكون على ما في الأعيان، تشير إلى شيء موجود، هذا أو هذه، هذا الأصل في الإشارة، لكن لما كان ما في الذهن كل الموجود في الأعيان حكماً، يعني شيء مقدور عليه، يشار إليه، هذا إذا كانت هذه المقدمة كتبت قبل المنظومة، كثير من الناس يؤخر الكلام في المقدمة حتى ينتهي الكتاب، ثم يكتب له مقدمة، فإذا أشار أشار إلى شيء موجود في الأعيان، أما بعد: فهذا، كتاب جاهز، يمكن أن يشار إليه، أما إذا كان هذا البيت قبل نظم ما بعده فالإشارة إلى ما في الذهن، والإشارة إلى ما في الذهن المقطوع به، يعني ما تقدر تقول: أما بعد: فهذا كتاب يحتوي على عشرين مجلداً، ثلاثين مجلداً، يمكن تموت قبل ما تكمل، فلا تشير إلى مثل هذا، لكن أشياء مقدور عليها يغلب على الظن أنك تفي بها، هذه رسالة لطيفة يمكن تكتبها، نعم، فيغلب على الظن حصولها فتشير إليها، أما شيء لا يغلب على الظن حصوله، أما بعد: فهذا تفسير عظيم يحيط بجميع ما كتب في التفاسير، يمكن يصل مائة مجلد، تستطيع أن تشير إليه وأنت لا تدري وش ورآك؟ يحتاج إلى سنين طويلة، عشرين، ثلاثين سنة، ما تدري وش ورآك؟ فما تشير، لكن أشياء يسيرة ثلاثين بيت أو شبهها، يمكن أن تشير إليها، باعتبار أنها في حكم الموجود، ولذا قال: "وذي" يعني هذه المنظومة، وهذه الأبيات من أقسام الحديث عدة، يعني تشتمل على شيء من أقسام الحديث، من أقسام الحديث يعني وأنواعه: الصحيح، الحسن، الضعيف، أنواع الضعيف الكثيرة التي .. ، أيضاً الأقسام المساندة للأقسام الثلاثة الكبرى الكلية التي يأتي تعدادها، والحديث عنها -إن شاء الله تعالى-.

"ধী" শব্দটির ক্ষেত্রে মূল কথা হলো, তাঁর বলা উচিত ছিল: "অতঃপর এই"; আর "ধী" হলো এই কাব্য বা পরবর্তী এই পঙক্তিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত। এটি মনের মধ্যে বিদ্যমান বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত। মূলত কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয় যখন তা বাস্তবে উপস্থিত থাকে; আপনি উপস্থিত কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করেন—এটি বা ওটি। ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে এটাই মূল নিয়ম। কিন্তু মনের মধ্যে যা থাকে তা যখন হুকমান বা কার্যত বাস্তবে বিদ্যমান বস্তুর মতো হয়ে যায়—অর্থাৎ এমন কিছু যা সম্পাদন করা সম্ভব—তখন সেটির দিকে ইঙ্গিত করা যায়। এটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন এই ভূমিকাটি কাব্যের রচনার পূর্বে লেখা হয়। অনেক মানুষই ভূমিকার আলোচনাটি বই শেষ হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে দেন, তারপর সেটির জন্য একটি ভূমিকা লিখেন। এমতাবস্থায় যখন তিনি ইঙ্গিত করেন, তখন তিনি বাস্তবে বিদ্যমান কোনো কিছুর দিকেই ইঙ্গিত করেন। "অতঃপর: এটি" — এটি একটি প্রস্তুত বই, যা ইঙ্গিত করার যোগ্য। কিন্তু যদি এই পঙক্তিটি পরবর্তী অংশ রচনার পূর্বে হয়, তবে ইঙ্গিত হবে মনের বিষয়ের প্রতি। আর মনের বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত তখনই করা হয় যখন তা নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ, আপনি বলতে পারেন না যে: "অতঃপর: এটি বিশ বা ত্রিশ খণ্ডের একটি বই", কারণ আপনি তা শেষ করার আগেই মারা যেতে পারেন। তাই এ জাতীয় জিনিসের দিকে ইঙ্গিত করবেন না। কিন্তু এমন বিষয় যা সাধ্যের মধ্যে এবং যা পূর্ণ করার ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকে, যেমন এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা যা আপনি লিখে ফেলতে পারেন, হ্যাঁ, সেটি অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকায় আপনি সেটির দিকে ইঙ্গিত করতে পারেন। কিন্তু যা অর্জিত হওয়ার প্রবল ধারণা নেই, যেমন: "অতঃপর: এটি একটি মহান তাফসীর যা পূর্ববর্তী সকল তাফসীরকে পরিবেষ্টন করবে", যা হয়তো একশ খণ্ড পর্যন্ত হতে পারে; আপনি কি সেটির দিকে ইঙ্গিত করতে পারেন অথচ ভবিষ্যতে আপনার ভাগ্যে কী আছে তা আপনি জানেন না? এর জন্য দীর্ঘ সময়, বিশ বা ত্রিশ বছর প্রয়োজন। আপনি জানেন না আপনার সামনে কী আছে। তাই আপনি ইঙ্গিত করবেন না। কিন্তু সামান্য কিছু বিষয়, যেমন ত্রিশটি পঙক্তি বা এর সমরূপ কিছু, সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা সম্ভব এই বিবেচনায় যে সেগুলো বিদ্যমান জিনিসের পর্যায়ভুক্ত। আর এ কারণেই তিনি বলেছেন: "এবং এটি" অর্থাৎ এই কাব্য। আর এই পঙক্তিগুলো হাদিসের বিভিন্ন প্রকার সম্বলিত, অর্থাৎ এটি হাদিসের কতিপয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। হাদিসের প্রকারসমূহ অর্থাৎ এর ধরনগুলো হলো: সহিহ, হাসান, জয়িফ এবং জয়িফের বহু প্রকার যা... এছাড়াও সেই তিনটি বড় ও মৌলিক প্রকারের সহায়ক প্রকারসমূহ যার বর্ণনা এবং আলোচনা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
"عدة" يعني عديدة، يعني كثيرة أو معددة، نعم، "وكل واحد" يعني من هذه الأقسام "أتى وحده" يعني سيأتي، "أتى وحده" أتى: يعني سيأتي، وعبر بالماضي عن المضارع هذا إذا قلنا: إن المقدمة كتبت قبل الأبيات، عبر عنها لتحقق الوقوع، يعني في حكم الموجد حكماً، كأنه زور هذه الأبيات في ذهنه ثم سطرها على الورق، "وكل واحد أتى" وإذا قطع بمجيء الشيء، نعم، يعبر عنه بالماضي، كما في قوله -جلا وعلا-: {أَتَى أَمْرُ اللهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ} [(1) سورة النحل] وسيأتي، لكن لتحقق وقوعه يعبر عنه بالماضي، "أتى وحده" الحد هو التعريف، ويأتي كل واحد وحده، وهذا مما تختلف به هذه المنظومة عن منظومة لا تقل عنها، إن لم تكن أشهر منها، وهي منظومة ابن الفرح (غرامي صحيح)، هذه منظومة طارت بها الركبان، وشرحت عشرات الشروح، وهي ما فيها إلا الأسماء، تعداد، وهذه أولى منها، نعم تلك من الناحية الأدبية، الذوق الأدبي على ما يقولون أقوى، نعم، لكن هذه من حيث اقتران الاسم بالتعريف أفضل، نعم، نظم النخبة يقرن الاسم والتعريف والمثال والتقسيم، ألفية العراقي تأتي بهذا كله وتضيف إليه خلاف العلماء في المسائل الاصطلاحية، خلاف العلماء، هذا يأتي باسم الموضوع وحتى، التعريف، لكن لا يذكر أمثلة، ولا يذكر خلاف، ولا يذكر شيء؛ لأنها مختصرة جداً، أما نظم النخبة يذكر مثال، ويشير إلى بعض ما يحتاج إليه من قواعد وضوابط تعين على فهم النوع، وأما ألفية العراقي فيأتي بكل شيء يحتاجه طالب العلم، فلذا من حفظها أتقن هذا الفن، لاسيما إذا طبق بالأمثلة العملية، واقترن عنده النظري بالعملي، ولاحظ مواقع الاستعمال، استعمال الأمة لهذه الاصطلاحات، مثل هذا ينبل ويبرز في هذا الفن -إن شاء الله تعالى-، "وكل واحد أتى وحده" والحد كما هو معروف التعريف، "أولها" أول هذه العدة، وأول هذه الأنواع "الصحيح" لذا يقول الحافظ العراقي -رحمه الله تعالى-:

 

وأهل هذا الشأن قسموا السنن … إلى صحيح وضعيف وحسن

فالأول المتصل الإسنادِ … بنقل عدل ضابط الفؤادِ

عن مثله من غير ما شذوذِ … وعلة قادحة فتوذي
"عدة" মানে বহু সংখ্যক, অর্থাৎ অনেক বা সংখ্যাবদ্ধ, হ্যাঁ, "وكل واحد" অর্থাৎ এই বিভাগগুলোর প্রতিটি "أتى وحده" অর্থাৎ আসবে, "أتى وحده" এসেছে: অর্থাৎ আসবে। বর্তমানের পরিবর্তে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে, এটি তখনই প্রযোজ্য যদি আমরা বলি যে কাব্যগ্রন্থটি রচনার পূর্বেই ভূমিকা লেখা হয়েছে। যা নিশ্চিতভাবে ঘটবে তাকে বুঝানোর জন্য অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে, অর্থাৎ এটি বাস্তবে বিদ্যমান হওয়ার মতোই সুনিশ্চিত, যেন তিনি এই পঙক্তিগুলো মনে মনে সাজিয়ে নিয়েছেন এবং তারপর কাগজে লিপিবদ্ধ করেছেন। "وكل واحد أتى" এবং যখন কোনো কিছুর আগমনের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, হ্যাঁ, তখন অতীতকাল ব্যবহার করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেও না} [(১) সূরা আন-নাহল]। যদিও তা ভবিষ্যতে আসবে, কিন্তু ঘটা সুনিশ্চিত হওয়ার কারণে অতীতকাল দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। "أتى وحده" এখানে 'হাদ' (সীমা) মানে হলো সংজ্ঞা। প্রতিটি বিষয় তার নিজ নিজ সংজ্ঞাসহ আসবে। আর এই বিষয়টিই এই কাব্যগ্রন্থটিকে অন্য একটি কাব্যগ্রন্থ থেকে আলাদা করে যা গুরুত্বের দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়, এমনকি এটি থেকে বেশি প্রসিদ্ধ হতে পারে, আর তা হলো ইবনুল ফারাহ-এর কাব্য (গরামি সহিহ)। এই কাব্যগ্রন্থটি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে এবং এর ওপর কয়েক ডজন ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে, তবে এতে কেবল নামসমূহের গণনা রয়েছে। আর এই বর্তমান কাব্যটি তার চেয়েও উত্তম। হ্যাঁ, সেটি সাহিত্যিক দিক থেকে বা তারা যেটিকে সাহিত্যিক রুচি বলেন সেই দিক থেকে শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু নামের সাথে সংজ্ঞা প্রদানের দিক থেকে এই কাব্যটিই শ্রেষ্ঠ। 'নখবাহ'-এর কাব্য বিন্যাস নাম, সংজ্ঞা, উদাহরণ এবং বিভাগকে একসাথে যুক্ত করে। 'ইরাকি আলফিয়্যাহ' এই সব কিছুই নিয়ে আসে এবং সেই সাথে পরিভাষাগত বিষয়গুলোতে আলেমদের মতভেদও যোগ করে। এটি বিষয়ের নাম এবং সংজ্ঞাও নিয়ে আসে, কিন্তু কোনো উদাহরণ উল্লেখ করে না, কোনো মতভেদও উল্লেখ করে না এবং অন্য কিছুও উল্লেখ করে না; কারণ এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। পক্ষান্তরে 'নখবাহ'-এর কাব্য বিন্যাস উদাহরণ উল্লেখ করে এবং সেই প্রকারটি বোঝার জন্য সহায়ক কিছু প্রয়োজনীয় নিয়ম ও মূলনীতির দিকে ইশারা করে। আর 'ইরাকি আলফিয়্যাহ' ইলম অন্বেষণকারীর প্রয়োজনীয় সব কিছুই নিয়ে আসে, তাই যে ব্যক্তি এটি মুখস্থ করবে সে এই শাস্ত্রে পারদর্শী হবে, বিশেষ করে যদি সে ব্যবহারিক উদাহরণের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করে এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটায়, এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো লক্ষ্য করে—উম্মাহ এই পরিভাষাগুলো কীভাবে ব্যবহার করেছে। এমন ব্যক্তি এই শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব ও পারদর্শিতা লাভ করবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা। "وكل واحد أتى وحده" এবং 'হাদ' যেমনটি পরিচিত, তা হলো সংজ্ঞা। "أولها" এই সংখ্যার বা এই প্রকারসমূহের প্রথমটি হলো "সহিহ"। তাই হাফেজ ইরাকি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:

 

এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ সুন্নাহকে বিভক্ত করেছেন … সহিহ, যয়িফ এবং হাসান হিসেবে।

প্রথমটি (সহিহ) হলো যার সনদ নিরবিচ্ছিন্ন … যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ ও দৃঢ় স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর বর্ণনায় এসেছে,

যিনি তাঁর মতোই অন্য বর্ণনাকারীর থেকে গ্রহণ করেছেন কোনো ধরনের বিচ্যুতি … এবং ক্ষতিকর ত্রুটি ছাড়াই যা তাকে দোষযুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
هنا يقول: "أولها الصحيح" هذا الاسم، العنوان، وتعريفه، "وهو ما اتصل إسناده، ولم يشذ أو يعل".

 

يرويه عدل ضابط عن مثله … معتمد في ضبطه ونقله

 

هذا تعريف الحديث الصحيح، هذا كل ما عنده بالنسبة للصحيح؛ لأنها في غاية الاختصار، اقتصر على الاسم، والتعريف، "وكل واحد أتى وحده" التعريف، "أولها الصحيح" فعيل، صيغة مبالغة، من الصحة، ضد السقم، وهو ما اتصل إسناده بأن يكون كل راوٍ من رواته قد تحمله عمن فوقه، بطريق معتبر من طرق التحمل، ما تصل إسناده بأن يكون كل راوٍ من رواته الأتي وصفهم من العدول الضابطين، كل راوٍ من هؤلاء الرواة تحمل الخبر عمن فوقه بطريق معتبر من طرق التحمل الثمانية، التي تأتي الإشارة إليها -إن شاء الله تعالى-، التي هي: السماع من لفظ الشيخ، القراءة على الشيخ، الإجازة، المناولة، المكاتبة، الإعلام، الوصية، الوجادة، أما بالنسبة للسماع من لفظ الشيخ، والقراءة على الشيخ لا خلاف في اعتمادهما طرق من طرق التحمل، لم يخالف فيهما أحد، الإجازة محل خلاف بين أهل العلم، واستقر العمل على الرواية بها عند أهل العلم، المكاتبة أيضاً طريق معتبر من طرق الرواية، ووجدت بين الصحابة فيما بينهم، وبينهم وبين التابعين ومن بعدهم إلى شيوخ الأئمة، فرووا بها، واعتبروها طريقاً معتبراً، المناولة أيضاً إذا اقترنت بالإجازة فهي معتبرة، وإذا خلت عنها فالخلاف فيها قوي، والأصح باطلة، يقول الحافظ العراقي رحمه الله:

 

وإن خلت عن أذن المناولة … قيل: تصح والأصح باطلة

الإعلام بأن هذا مرويه أيضاً الرواية بها ضعيفة، وإن وجد الخلاف، وكذلك الوصية، إذا أوصى بكتبه، مروياته لأحد لا يجوز أن يروي بمجرد الوصية إلا على قول شاذ، والوجادة: أن يجد بخط شيخه الذي لا يشك فيه، يجد فيه مرويه، يرويه بطريق الوجادة، يقول: وجدت بخط فلان هذا معروف، وفي المسند أحاديث كثيرة يقول عبد الله بن أحمد: "وجدت بخط أبي"، فهي طريق معتبر إذا لم يشك في الخط.
এখানে তিনি বলছেন: "প্রথমটি হলো সহিহ।" এটি নাম বা শিরোনাম এবং এর সংজ্ঞা। "আর তা হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং যা শায (বিচ্যুতিপূর্ণ) কিংবা মু'আল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) নয়।"

 

এটি একজন ন্যায়পরায়ণ ও তুখোড় স্মৃতিশক্তির অধিকারী ব্যক্তি তাঁর মতো অন্যজনের থেকে বর্ণনা করেন … যা তাঁর স্মৃতিশক্তি ও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য।

 

এটি সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা। সহিহ সম্পর্কে তাঁর কাছে কেবল এটুকুই রয়েছে; কারণ এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তিনি কেবল নাম ও সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। "আর প্রত্যেকটি এককভাবে এসেছে"—এটি সংজ্ঞা। "প্রথমটি হলো সহিহ।" এটি 'ফাঈল' ওজনে আধিক্যবোধক রূপ, যা 'সিহ্হাত' (সুস্থতা) থেকে উদ্ভূত এবং যা 'সুকম' (অসুস্থতা)-এর বিপরীত। আর তা হলো এমন যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার উপরের স্তরের বর্ণনাকারীর কাছ থেকে হাদিসটি গ্রহণ করার স্বীকৃত পদ্ধতিসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে তা গ্রহণ করেছেন। সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার অর্থ হলো, এর বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে—যাদের বর্ণনা সামনে আসবে—ন্যায়পরায়ণ ও তুখোড় স্মৃতিশক্তির অধিকারী হবেন। এই বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে তাঁদের উপরের স্তরের বর্ণনাকারী থেকে হাদিসটি গ্রহণের আটটি স্বীকৃত পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন, যেগুলোর প্রতি ইনশাআল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতে ইঙ্গিত করা হবে। সেগুলো হলো: শাইখের মুখ থেকে শোনা, শাইখের নিকট পাঠ করা, ইজাজাহ (অনুমতি), মুনওয়ালাহ (হাতে অর্পণ), মুকাতাবাহ (পত্রালাপ), ইলাম (অবহিতকরণ), ওয়াসিয়্যাহ (অসিয়ত) এবং উিজাদাহ (প্রাপ্তি)। শাইখের মুখ থেকে শোনা এবং শাইখের নিকট পাঠ করার ব্যাপারে এগুলোকে হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই; এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। ইজাজাহ বা অনুমতির বিষয়টি আলিমদের মাঝে মতভেদের জায়গা, তবে আলিমদের নিকট এর মাধ্যমে বর্ণনা করার আমলটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুকাতাবাহ বা পত্রালাপও বর্ণনার একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এটি সাহাবীদের মাঝে পরস্পরের মধ্যে এবং তাঁদের ও তাবিঈদের মাঝে এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের ইমামদের শাইখদের পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। তাঁরা এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং একে একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করেছেন। মুনওয়ালাহ বা হাতে অর্পণ করাও যদি অনুমতির সাথে যুক্ত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য। আর যদি অনুমতি ছাড়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে মতভেদ প্রবল এবং বিশুদ্ধতম মতানুসারে তা বাতিল। হাফিজ ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

 

আর যদি 'মুনওয়ালাহ' অনুমতির বিহীন হয় … তবে বলা হয়েছে: তা শুদ্ধ হবে; কিন্তু বিশুদ্ধতম মত হলো তা বাতিল।

এটি আমার বর্ণিত হাদিস—এই মর্মে কেবল ইলাম বা অবগত করার মাধ্যমে বর্ণনা করাও দুর্বল, যদিও এতে মতভেদ রয়েছে। অনুরূপভাবে ওয়াসিয়্যাহ বা অসিয়ত; যদি কেউ তার কিতাব বা বর্ণিত হাদিসসমূহ কারও জন্য অসিয়ত করে যায়, তবে কেবল অসিয়তের কারণে তা বর্ণনা করা জায়েজ নয়, কেবল একটি বিচ্ছিন্ন মত ছাড়া। আর উিজাদাহ হলো: নিজের শাইখের হস্তাক্ষরে এমন কিছু পাওয়া যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, সেখানে তাঁর বর্ণিত হাদিস পাওয়া গেলে তা উিজাদাহ পদ্ধতিতে বর্ণনা করা। বর্ণনাকারী বলবেন: "আমি অমুকের হস্তাক্ষরে এটি পেয়েছি"—এটি সুপরিচিত। মুসনাদে অনেক হাদিস রয়েছে যেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: "আমি আমার পিতার হস্তাক্ষরে পেয়েছি।" সুতরাং হস্তাক্ষরের ব্যাপারে সন্দেহ না থাকলে এটি একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২০)
"أولها الصحيح وهو ما اتصل إسناده" عرفنا كيف يتصل الإسناد، أما إذا انقطع الإسناد سواء كان من أوله أو من أخره، نعم، أو من أثنائه بواحد أو أكثر، سواء كان الانقطاع ظاهراً أو خفياً، على ما سيأتي تفصيله في أنواع الانقطاع الظاهر والخفي، فلا يكون الخبر صحيحاً، فقوله: "ما اتصل إسناده" يخرج ما انقطع إسناده، على أي وجه كان الانقطاع، "ولم يشذ أو يعل" يعني لم يكن مشتمل على شذوذ، والشاذ الذي استقر عليه الأمر: ما يخالف فيه الثقة من هو أوثق منه.

 

الشاذ ما يخالف الثقة … فيه الملأ فالشافعي حققه

 

ومنهم من يطلق الشذوذ على مجرد التفرد، سواءً كان المتفرد ثقة أو غير ثقة، ومهم من يقول: الشاذ تفرد من لا يحتمل تفرده، على خلاف في ذلك مبسوط في كتب ومواضع أخرى.
এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সহীহ, আর তা হলো যার সনদ বা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন। আমরা জেনেছি কীভাবে সনদ সংযুক্ত হয়; কিন্তু যদি সনদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—চাই তা শুরুর দিক থেকে হোক বা শেষ দিক থেকে, হ্যাঁ, অথবা মাঝখান থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে—চাই সেই বিচ্ছিন্নতা প্রকাশ্য হোক বা গোপন, যেমনিভাবে প্রকাশ্য ও গোপন বিচ্ছিন্নতার প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, তবে সেই বর্ণনাটি সহীহ হবে না। সুতরাং তাঁর কথা: "যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন" এটি এমন বর্ণনাকে বাদ দিয়ে দেয় যার সনদ বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্নতা যে রূপেই হোক না কেন। "এবং তা শায (অসংগতিপূর্ণ) বা মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হবে না" অর্থাৎ এতে কোনো শাযুয বা অসংগতি থাকবে না। আর শায-এর যে সংজ্ঞাটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো: যে বর্ণনায় একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন।

 

শায হলো যেখানে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বিরোধিতা করেন … একদল বর্ণনাকারীর; ইমাম শাফেঈ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

 

আর পণ্ডিতদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল একক বর্ণনার (তাফাররুদ) ওপর 'শাযুয' শব্দটি প্রয়োগ করেন, চাই সেই একক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হোন বা না হোন। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেন: শায হলো এমন ব্যক্তির একক বর্ণনা যার একক বর্ণনা বহন করার সক্ষমতা নেই। এ বিষয়ে এমন মতভেদ রয়েছে যা অন্যান্য কিতাব ও স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২১)
"أو يعل" يعني لم يشتمل الخبر على علة، والعلة: سبب خفي غامض يقدح في صحة الحديث الذي ظاهره السلامة منها، "يرويه عدل ضابط عن مثله" العدل عند أهل العلم يقولون: من له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة، هذا العدل عند أهل العلم، بمعنى أنه لا يترك واجب، ولا يرتكب محرم؛ لأن التقوى فعل الواجبات، وترك المحرمات، والمروءة آداب نفسانية، تحمل مراعاتها التخلق بأجمل الأخلاق، وعدم الخروج على الأعراف، هذه هي المروءة، ليس من المروءة أن يخرج الإنسان حاسر عن رأسه بين أناس يغطون رؤوسهم، ليس من المروءة أن يأكل في الأسواق بين أناس يعيبون ذلك، نعم، فالمروءة ليست من الأمور المحرمة الظاهرة، وإنما هي ملاحظة الغير، وعدم الاشتهار بشيء يختلف فيه الإنسان عن غيره، نعم، وأما ارتكاب المحرمات وترك الواجبات هذا داخل في التقوى، "يرويه عدل ضابط" ضابط نعم، الضابط: الحازم الحافظ الذي يحفظ الخبر، ويأديه، يحفظه ويحافظ عليه بحزم من حيث يتحمل إلى أن يؤدي؛ لأن للرواية طرفين، الرواية لها طرفان: طرف يسمى التحمل، وطرف يسمى الأداء، فالتحمل: أخذ الأحاديث عن الشيوخ، حفظ، تسمع من الشيوخ، أو تقرأ على الشيوخ هذا تحمل، والأداء تؤدي إلى التلاميذ، نعم، في حال التحمل لا يشترط شيء، إنما يشترط التمييز، يعني تفهم وتحفظ فقط، لا يشترط أن يكون بالغاً، ولا يشترط أن يكون عدلاً، ولا يشترط أن يكون مسلماً أيضاً حال التحمل؛ لأن العبرة في حال الأداء، كون الإنسان يحفظ شيء في حال الصغر، في حال الفسق، في حال الكفر هذا لا يعنينا كونه يحفظ، متى نحتاج إلى الشروط؟ إذا أراد أن يؤدي، هل تنطبق عليه الشروط أو لا تنطبق؟ نأخذ عن هذا أو لا نأخذ؟ هنا لا بد من توافر الشروط، أما تحمل الفاسق، تحمل الصغير، تحمل الكافر مقبول إذا أدى بعد انطباق الشروط عليه، محمود بن الربيع عقل المجة التي مجها –النبي عليه الصلاة والسلام في وجهه من دلو، وهو ابن خمس سنين، تقول: ما نقبل روايته لأنه صغير ما هو مكلف؟ نعم لا نقبل أداءه لهذا الخبر إلا بعد أن تنطبق على الشروط، {إِن جَاءكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [(6) سورة الحجرات] وفي قراءة: "فتثبتوا" أما في حال الأداء
"অথবা ত্রুটিযুক্ত হওয়া," অর্থাৎ সংবাদটি (হাদিসটি) কোনো গোপন ত্রুটি সম্বলিত নয়। আর ত্রুটি বা ‘ইল্লাহ’ হলো: এমন এক গোপন ও অস্পষ্ট কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অথচ আপাতদৃষ্টিতে হাদিসটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়। "একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করবেন।" আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের নিকট 'ন্যায়পরায়ণ' (আদল) বলতে তারা বলেন: যার এমন এক চারিত্রিক গুণাবলি রয়েছে যা তাকে তাকওয়া (ধর্মভীরুতা) এবং মুরুওয়াত (ভদ্রতা ও আভিজাত্য) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে। এটিই আলেমদের নিকট 'আদল' এর সংজ্ঞা। এর অর্থ হলো সে কোনো ওয়াজিব (আবশ্যকীয় কাজ) ত্যাগ করে না এবং কোনো হারাম (নিষিদ্ধ কাজ) লিপ্ত হয় না; কারণ তাকওয়া হলো ওয়াজিবসমূহ পালন করা এবং হারামসমূহ বর্জন করা। আর 'মুরুওয়াত' হলো এমন আত্মিক শিষ্টাচার, যা মেনে চললে মানুষ সর্বোত্তম চরিত্রে ভূষিত হয় এবং প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি বা প্রথা লঙ্ঘন করে না। এটিই হলো মুরুওয়াত। এমন লোকদের মাঝে যারা মাথা ঢেকে রাখে, তাদের সামনে খোলা মাথায় বের হওয়া মুরুওয়াত বা ভদ্রতার পরিপন্থী। এমন লোকদের মাঝে বাজারে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়া যারা একে দোষণীয় মনে করে, তাও মুরুওয়াতের পরিপন্থী। হ্যাঁ, সুতরাং মুরুওয়াত কোনো প্রকাশ্য হারাম বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি হলো অন্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং এমন কোনো কাজে প্রসিদ্ধি লাভ না করা যার মাধ্যমে মানুষ অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। হ্যাঁ, আর হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া এবং ওয়াজিব ত্যাগ করা—এটি তাকওয়ার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। "একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তি বর্ণনা করবেন।" প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (দাবিত), হ্যাঁ। প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বা 'দাবিত' হলো: সেই দৃঢ় ও প্রখর মুখস্থকারী ব্যক্তি যে সংবাদটি (হাদিসটি) মুখস্থ রাখে এবং তা বর্ণনা করে; সে এটি গ্রহণ করার সময় থেকে বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সংরক্ষণ ও হেফাজত করে। কারণ বর্ণনার দুটি দিক রয়েছে। বর্ণনার দুটি পর্যায় আছে: একটি পর্যায়কে বলা হয় 'তাহাম্মুল' (গ্রহণ করা) এবং অন্য পর্যায়কে বলা হয় 'আদা' (বর্ণনা করা)। 'তাহাম্মুল' হলো: শায়খদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা, মুখস্থ করা, শায়খদের কাছ থেকে শোনা অথবা শায়খদের সামনে পাঠ করা—এটিই হলো তাহাম্মুল। আর 'আদা' বা বর্ণনা করা হলো ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। হ্যাঁ, হাদিস গ্রহণের সময় (তাহাম্মুল) কোনো শর্ত নেই, কেবল অনুধাবন ক্ষমতা বা পার্থক্য করার সক্ষমতা থাকা শর্ত। অর্থাৎ সে কেবল বুঝবে এবং মুখস্থ করবে। হাদিস গ্রহণের সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া শর্ত নয়, ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত নয়, এমনকি মুসলিম হওয়াও শর্ত নয়। কারণ মূল ধর্তব্য হলো বর্ণনা করার (আদা) সময়টি। একজন মানুষ শৈশবে, ফাসেকী অবস্থায় বা কুফরি অবস্থায় কোনো কিছু মুখস্থ করল কি না, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। শর্তগুলোর প্রয়োজন কখন পড়ে? যখন সে বর্ণনা করতে চায়। তখন কি তার ওপর শর্তগুলো প্রযোজ্য হচ্ছে কি হচ্ছে না? আমরা কি তার থেকে হাদিস গ্রহণ করব নাকি করব না? এই পর্যায়ে শর্তগুলো থাকা আবশ্যক। আর ফাসেক, শিশু বা কাফেরের হাদিস গ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সে তার ওপর শর্তগুলো প্রযোজ্য হওয়ার পর তা বর্ণনা করে। মাহমুদ বিন রাবি' (রা.) সেই কুলকুচির পানি মনে রেখেছিলেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বালতি থেকে নিয়ে তার মুখে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। আপনি কি বলবেন যে, আমরা তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করব না কারণ তিনি শিশু ছিলেন এবং তাঁর ওপর শরিয়তের বিধান অর্পিত ছিল না? হ্যাঁ, আমরা এই সংবাদের বর্ণনা গ্রহণ করব না যতক্ষণ না তাঁর ওপর শর্তগুলো প্রযোজ্য হয়। "যদি কোনো ফাসেক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।" [সুরা হুজুরাত: ৬] এবং অন্য কিরাতে এসেছে: "নিশ্চিত হয়ে নাও"। তবে বর্ণনা করার সময়—
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২২)
فلا نشترط شيء، جبير بن مطعم سمع النبي عليه الصلاة والسلام وهو في حال كفره يقرأ في صلاة المغرب بسورة الطور فتحمل على الوجه المطلوب، لكن لو أدى حال كفره نقبل وإلا ما نقبل؟ ما نقبل؛ لأن العدالة شرط، أدى بعد إسلامه فقبلنا، وخرج الخبر في الصحيحين.

 

أجمع جمهور أئمة الأثر … والفقه في قبول ناقل الخبر

بأن يكون ضابطاً معدلاً … أي يقضاً ولم يكن مغفلاً

يحفظ إن حدث حفظاً يحوي … كتابه إن كان منه يروي

 

لا بد أن يكون ضابطاً يضبط ما سمع، ولو كان عدل من أوثق الناس من خيار الناس بالصدق والعدالة، لكن إذا سمع شيء نسيه ما يقبل خبره، هذا ليس بضابط، ولو كان من أضبط الناس وأحفظهم، لكن يرتكب المحرمات، هذا لا يؤمن، إذاً لا يقبل خبره.

"يرويه عدل ضابط عن مثله" بأن يكون جميع طبقات السند يتصفون بهذين الوصفين: العدالة والضبط، ومجموع العدالة والضبط ينتج منهما وصف لا بد منه في الرواية هو الثقة، الثقة: هو عبارة عن اجتماع عدالة وضبط، فلا بد أن يتوافر هذان الشرطان في جميع طبقات السند من أوله إلى أخره عن مثله مع اتصال السند "معتمد في ضبطه ونقله" معتمد عن مثله، راوٍ مثله في الأوصاف السابقة، وهو أيضاً يكون ممن يعتمد عليه في الرواية "معتمد في ضبطه" ضابط، حافظ، حازم، حافظ، "ونقله" مأمون على السنة، وإذا توافر الشرطان: العدالة والضبط صار الراوي معتمد في ضبطه ونقله، والأمثلة على الحديث الصحيح كثيرة جداً، فالصحيحان وغيرهما فيهما الأحاديث الصحيحة، فمظنة الحديث الصحيح في الصحيحين.

 

أول من صنف في الصحيحِ … محمد وخص بالترجيحِ

ومسلم بعد وبعض الغرب مع … أبي علي فضلوا ذا لو نفع
আমরা কোনো শর্তারোপ করি না; জুবাইর ইবন মুতয়িম যখন কাফির অবস্থায় ছিলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তূর পাঠ করতে শুনেছিলেন। সুতরাং এটি কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিতে (রেওয়ায়েত হিসেবে) গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তিনি যদি কাফির অবস্থায় তা বর্ণনা করতেন, তবে কি আমরা তা গ্রহণ করতাম নাকি করতাম না? আমরা তা গ্রহণ করতাম না; কারণ 'আদালাত' (ন্যায়নিষ্ঠতা) একটি শর্ত। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তা বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা তা গ্রহণ করেছি এবং এই বর্ণনাটি সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে।

 

আসারের (হাদীসের) অধিকাংশ ইমাম … এবং ফকীহগণ সংবাদের বর্ণনাকারীকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন

যে, তাকে হতে হবে সংরক্ষণকারী ও ন্যায়নিষ্ঠ … অর্থাৎ সে হবে সজাগ এবং অসতর্ক হবে না

যদি সে মৌখিকভাবে বর্ণনা করে তবে তা যথাযথভাবে মুখস্থ রাখবে … আর যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করে তবে তার কিতাবকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে

 

তাকে অবশ্যই 'দাবিত' (সুসংরক্ষণকারী) হতে হবে যে যা শুনেছে তা যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে। যদি কেউ সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তও হন, কিন্তু তিনি যা শোনেন তা ভুলে যান, তবে তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না; কেননা তিনি 'দাবিত' নন। আবার যদি কেউ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে তুখোড় স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও প্রখর মেধাবী হন, কিন্তু হারামে (নিষিদ্ধ কাজে) লিপ্ত হন, তবে তিনি বিশ্বস্ত নন। ফলে তার বর্ণনাও গ্রহণ করা হবে না।

"একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও সুসংরক্ষণকারী রাবী তার অনুরূপ রাবী থেকে বর্ণনা করবেন" - এর অর্থ হলো সনদের সকল স্তরের বর্ণনাকারীদের এই দুটি গুণে গুণান্বিত হতে হবে: 'আদালাত' (ন্যায়নিষ্ঠতা) এবং 'দাবত' (সংরক্ষণ ক্ষমতা)। 'আদালাত' এবং 'দাবত' এর সমন্বয়ে বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য গুণ তৈরি হয়, যা হলো 'সিকাহ্' (নির্ভরযোগ্যতা)। 'সিকাহ্' হলো ন্যায়নিষ্ঠতা এবং সংরক্ষণ ক্ষমতার সমষ্টি। সুতরাং সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল স্তরে তার মতো অন্য বর্ণনাকারীর নিকট থেকে সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে এই দুটি শর্তের উপস্থিতি আবশ্যক। "তার সংরক্ষণ ও বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য" অর্থাৎ তার মতো গুণসম্পন্ন বর্ণনাকারীর নিকট থেকে গ্রহণ করা, যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। "তার সংরক্ষণে নির্ভরযোগ্য" অর্থাৎ যিনি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, মুখস্থকারী, দৃঢ় এবং حافظ (সংরক্ষণকারী)। "এবং তার বর্ণনায়" অর্থাৎ সুন্নাহর ক্ষেত্রে তিনি আমানতদার। যখন এই দুটি শর্ত—ন্যায়নিষ্ঠতা ও সংরক্ষণ ক্ষমতা—বিদ্যমান থাকবে, তখন বর্ণনাকারী তার সংরক্ষণ ও বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য হবেন। সহীহ হাদীসের উদাহরণ অগণিত। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে সহীহ হাদীসসমূহ রয়েছে। সহীহ হাদীস পাওয়ার প্রধান স্থান হলো সহীহাইন।

 

সহীহ বিষয়ক কিতাব সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন … মুহাম্মদ (আল-বুখারী) এবং তাকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট করা হয়েছে

তারপর মুসলিম, আর পশ্চিমাঞ্চলের কিছু আলিম … আবু আলীর সাথে একে (মুসলিমকে) শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যদি সেই অগ্রাধিকার কোনো উপকারে আসত।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৩)
"ولم يعماه" يعني ما عم جميع الصحيح، ولذا الدعوى إلى الاقتصار بالصحيح مع القرآن دعوى غير مقبولة، هناك من يقول: يكفينا الصحيحان، القرآن والصحيحان، وكل دعوى تجد من يتبعها، هناك جماعة يسمون جماعة الاقتصار على القرآن مع الصحيحين، وألف في ذلك: (تيسير الوحيين بالاقتصار على القرآن والصحيحين) لكن هذه دعوى غير صحيحة؛ لأننا بهذا نعطل أكبر قدر من السنة، فصح عن النبي عليه الصلاة والسلام في غير الصحيحين أكثر مما في الصحيحين، ولذا يقول الحافظ العراقي:

 

ولم يعماه ولكن قلما … عند ابن الأخرم منه قد فاتهما

 

فات الصحيحين قليل، "ورد" هذا الكلام ليس بصحيح بل كثير، "ورد لكن قال يحيى البرُ -النووي-، ولكن قال يحيى البر … لم يفت الخمسة إلا النزرُ"، الخمسة: يعني من الصحيح، الخمسة: البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي، هذه دواوين الإسلام الخمسة، قبل أن يضاف السادس، لم يفت الخمسة إلا النزر، يعني النزر القليل من الصحيح، "وفيه ما فيه" وهذا أيضاً كناية عن ضعفه؛ لأنه أيضاً يصفو لنا من مسند أحمد -رحمه الله تعالى- صحيح كثير، لا يوجد في الخمسة، يصفو من صحيح ابن حبان صحيح كثير، لا يوجد في الخمسة، يصفو من صحيح ابن خزيمة كذلك، من مستدرك الحاكم، من سنن البيهقي، من غيرها من الكتب يصفو صحيح كثير في غير الخمسة، "وفيه ما فيه" كناية عن ضعفه، "لقول الجعفي أحفظ منه -يعني من الصحيح- عُشْر ألفِ ألفِ" يعني يحفظ مائة ألف حديث البخاري -رحمه الله تعالى-، لكن قد يقول قائل: وين هاالمائة ألف؟ حديث صحيحة مائة ألف وين؟ أجاب الحافظ العراقي -رحمه الله تعالى- بقوله:

 

وعله أراد بالتكرار … لها وموقوف وفي البخاري

أربعة الآلف والمكررُ … منها ثلاثة ألوف ذكروا
"এবং তারা উভয়ই একে পরিবেষ্টন করেননি" অর্থাৎ তাঁরা সমস্ত সহীহ হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেননি, আর তাই কুরআনের সাথে শুধুমাত্র সহীহ হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার দাবিটি গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ বলেন: আমাদের জন্য দুটি সহীহ গ্রন্থই যথেষ্ট, অর্থাৎ কুরআন এবং সহীহাইন। প্রতিটি দাবিরই কিছু অনুসারী থাকে। একটি দল রয়েছে যাদের বলা হয় কুরআনের সাথে শুধুমাত্র সহীহাইন দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকার দল। এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচিত হয়েছে: (তৈসিরুল ওয়াহইয়াইন বিল ইক্তিসার আলাল কুরআন ওয়াস সহীহাইন)। কিন্তু এটি একটি ভুল দাবি; কারণ এর মাধ্যমে আমরা সুন্নাহর এক বিশাল অংশকে অকেজো বা পরিত্যক্ত করে দিচ্ছি। কারণ বুখারি ও মুসলিমের বাইরেও নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা এই দুই কিতাবে থাকা হাদিসের চেয়েও বেশি। এজন্যই হাফেজ আল-ইরাকি বলেন:

 

এবং তারা দুজনে একে পরিবেষ্টন করেননি, তবে খুব সামান্যই... … ইবনুল আখরামের মতে তা তাঁদের হাতছাড়া হয়েছে।

 

সহীহাইন থেকে ছুটে যাওয়া হাদিসের সংখ্যা কম, "বর্ণিত হয়েছে" যে এই কথাটি সঠিক নয় বরং তা অনেক। "বর্ণিত হয়েছে তবে ইয়াহইয়া আল-বার (ইমাম নববী) বলেছেন, কিন্তু ইয়াহইয়া আল-বার বলেছেন … পাঁচ কিতাব থেকে সামান্যই বাদ পড়েছে"। পাঁচটি বলতে সহীহ হাদিসের পাঁচটি কিতাব বুঝানো হয়েছে: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি এবং নাসাঈ। ষষ্ঠটি যোগ করার আগে এগুলোই ছিল ইসলামের পাঁচটি প্রধান দেওয়ান (সংকলন)। এই পাঁচ কিতাব থেকে খুব সামান্য অংশই বাদ পড়েছে, অর্থাৎ সহীহ হাদিসের সামান্য অংশ। "এর মাঝে যা আছে তা আছেই (তথা এর মাঝে কথা আছে)" এটি মূলত এই মতের দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে; কারণ ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুসনাদ থেকেও আমাদের নিকট অনেক সহীহ হাদিস পরিশ্রুত হয়ে বেরিয়ে আসে যা এই পাঁচ কিতাবে নেই। সহীহ ইবনে হিব্বান থেকেও অনেক সহীহ হাদিস পাওয়া যায় যা এই পাঁচ কিতাবে নেই, তেমনি সহীহ ইবনে খুযাইমাহ থেকেও, হাকেমের মুসতাদরাক থেকে, বায়হাকির সুনান থেকে এবং অন্যান্য কিতাব থেকেও এমন অনেক সহীহ হাদিস পাওয়া যায় যা এই পাঁচ কিতাবে নেই। "এর মাঝে যা আছে তা আছেই" উক্তিটি সেই মতের দুর্বলতার সংকেত। "কেননা জুফি (ইমাম বুখারি)-এর উক্তি অনুযায়ী তিনি (সহীহ হাদিস থেকে) মুখস্থ রাখতেন এক লক্ষ।" অর্থাৎ ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এক লক্ষ সহীহ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। কিন্তু কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: সেই এক লক্ষ হাদিস কোথায়? এক লক্ষ সহীহ হাদিস কোথায়? হাফেজ আল-ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে এর উত্তর দিয়েছেন:

 

সম্ভবত তিনি পুনরাবৃত্তিসহ হাদিসগুলোকে এবং … মাওকুফ হাদিসগুলোকে বুঝিয়েছেন। আর বুখারিতে

রয়েছে চার হাজার হাদিস এবং এর মাঝে পুনরাবৃত্তিকৃত … হাদিসের সংখ্যা তিন হাজার বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
المقصود أن الأحاديث الصحيحة كثيرة جداً، وفيها ما يشغل عمر المسلم تعلماً وتعليماً وعملاً، وما يغنيه عن تتبع الأخبار التي لم تثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم، فضلاً عن الأخبار التي تضاف إلى غيره، فضلاً عن الوسائل التي تلقن الناس اليوم، وفتنوا بها من وسائل إعلام مقروءة ومرئية ومسموعة، الناس انصرفوا عن العلم الصحيح الأصيل إلى هذه الأمور التي تشغلهم، وتشوش أفكارهم، ولا تفيدهم لا في دينهم، ولا في دنياهم، وعلينا أن نعنى بالأحاديث الصحيحة، ولتكن عنايتنا بصحيح البخاري أكثر من غيره؛ لأنه ديوان الإسلام بعد القرآن، وفيه من العلم ما لا يستغني عنه أحد، نعم طالب العلم المبتدئ يربى على المتون الصغيرة، يحفظ الأربعين، يحفظ العمدة، يحفظ البلوغ أو المحرر، لكن بعد ذلك لا يقف، يعتني بالكتب الكبار المسندة الأصلية في الباب، ولتكن عنايته الأولى بصحيح البخاري، حتى إذا أتقنه ينظر فيما عداه كصحيح مسلم والسنن وغيرها، ثم قال -رحمه الله تعالى-:

 

والحسن المعروف طرقاً وغدت … . . . . . . . . .
উদ্দেশ্য হলো এই যে, সহিহ হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি, এবং এর মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা একজন মুসলিমের জীবনকে জ্ঞানার্জন, শিক্ষাদান এবং আমলের মাধ্যমে ব্যস্ত রাখার জন্য যথেষ্ট; যা তাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা প্রমাণিত নয় এমন সংবাদগুলো অনুসরণের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে রক্ষা করে, অন্যদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সংবাদের তো প্রশ্নই আসে না। তদুপরি বর্তমান সময়ে মানুষকে যেসব মাধ্যমের সাহায্যে দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা যাতে ফিতনায় লিপ্ত হয়েছে—যেমন মুদ্রণ, দৃশ্যমান এবং শ্রবণযোগ্য সংবাদমাধ্যম। মানুষ বিশুদ্ধ ও মূল জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়ে এই সমস্ত বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে যা তাদের ব্যস্ত করে রাখে, তাদের চিন্তা-চেতনাকে বিভ্রান্ত করে এবং তাদের দ্বীন বা দুনিয়া কোনোক্ষেত্রেই কোনো উপকারে আসে না। আমাদের উচিত সহিহ হাদিসগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া, আর সহিহ বুখারির প্রতি আমাদের গুরুত্ব যেন অন্য কিতাবের চেয়ে অধিক হয়; কারণ কুরআনের পর এটিই ইসলামের প্রধান সংকলন, এবং এতে এমন জ্ঞান রয়েছে যা ব্যতীত কেউ চলতে পারে না। হ্যাঁ, একজন শিক্ষানবিশ ইলম অন্বেষণকারীকে ছোট ছোট মূল পাঠ বা মতনের ওপর গড়ে তোলা হবে; সে মুখস্থ করবে 'আরবাঈন', মুখস্থ করবে 'উমদাহ', মুখস্থ করবে 'বুলুগ' অথবা 'মুহাররার'। কিন্তু এরপর সে যেন থেমে না থাকে, বরং এই শাস্ত্রের বড় বড় মূল মুসনাদ গ্রন্থগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করে এবং তার প্রথম ও প্রধান মনোযোগ যেন হয় সহিহ বুখারির প্রতি। এমনকি যখন সে এতে পারদর্শী হয়ে উঠবে, তখন সে এর বাইরে অন্যান্য কিতাব যেমন সহিহ মুসলিম, সুনান গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্যগুলোর দিকে দৃষ্টি দেবে। অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন:

 

আর হাসান হলো যার সূত্রসমূহ সুপরিচিত এবং যা সাব্যস্ত হয়েছে … . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
"الحسن المعروف طرقاً" الأصل طرق جمع طريق، "وغدت رجاله لا كالصحيح اشتهرت"، والحسن المعروف طرقاً وغدت، أولاً: الحسن في مرتبة واقعة بين الصحيح والضعيف، وما كان هذا شأنه يصعب ويعسر تمييزه؛ لأن الإنسان أحياناً يتراءى له أن هذا الطريق إلى الصحيح أقرب، وأحياناً يتراءى له أنه إلى الضعيف أقرب، فيلحقه به، والأول يلحقه بالصحيح، فهذه المنزلة المتوسطة بين الطرفين يصعب تمييزها، وتحقيقها والاتفاق عليها، نعم قد يحكم الإنسان بأنه متأرجح بحيث لا يمكن إلحاقه بالصحيح، ولا يمكن إلحاقه بالضعيف، يأتي عالم يستروح إلى أن إلحاقه بالصحيح له وجه، ويأتي آخر يرى العكس أنه قصر أيضاً عن رتبة التوسط إلى أن يلحق بالضعيف، ولذا صعب تعريف الحديث الحسن، حتى صرح الحافظ الذهبي وغيره أنه لا مطمع في تمييزه، وليس في هذا تضيع ولا تذويب، لا، إنما في هذا حث وشحذ للهمم؛ لأن بعض الناس إذا قال: لا مطمع في تمييزه، ليش نسعى، خلاص، لا، لا، هم يريدون منك أن تعلو همتك، وتكثر من جمع الطرق التي عله يلتحق بها إلى الصحيح ولو لغيره، نعم، اختلف العلماء اختلاف كبير في تعريف الحسن، هنا يقول: "والحسن المعروف طرقاً وغدت" الطرق جمع طريق، وهو يذكر ويؤنث، تقول: من طريق آخر، كما تقول: من طريق أخرى، فالطريق يذكر ويؤنث، "وطرْقاً" سُكن للحاجة، لضرورة الوزن، "طرقاً وغدت" يعني صار "رجاله لا" كرجال "الصحيح اشتهرت" تعريف الحسن الذي اختلف فيه من قبل أهل العلم اختلفوا فيه على أقوال كثيرة، يقول الحافظ العراقي -رحمه الله تعالى-:

 

الحسن المعروف مخرجاً وقد … اشتهرت رجاله بذاك حد

(حمدٌ).

هذا قريب جداً من تعريف البيقوني.

 

الحسن المعروف مخرجاً وقد … اشتهرت رجاله بذاك حد

 

(حمدٌ) الخطابي.

 

وقال الترمذي ما سلم … من الشذوذ مع راوٍ ما اتهم

بكذب ولم يكن فرداً ورد … قلت وقد حسن بعض ما انفرد

وقيل ما ضعف قريب محتمل … فيه وما بكل ذا حد حصل

 

كل هذه الأقوال ما حصل بها حد يميزه عن الصحيح والضعيف.

 

الحسن المعروف طرقاً وغدت … رجاله لا كالصحيح اشتهرت
‘হাসান’ (হাদীস) যা এর সূত্রগুলোর মাধ্যমে পরিচিত। মূলত ‘তুরুক’ শব্দটি ‘তারিক’-এর বহুবচন। ‘এবং এর বর্ণনাকারীরা সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারীদের ন্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করেনি’। হাসান হাদীস হলো সহীহ এবং যঈফ হাদীসের মধ্যবর্তী একটি স্তরে অবস্থিত। যার প্রকৃতি এমন, তাকে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য; কারণ একজন মানুষের কাছে কখনও মনে হয় যে এই সূত্রটি সহীহ হাদীসের কাছাকাছি, আবার কখনও মনে হয় এটি যঈফ হাদীসের কাছাকাছি, ফলে সে একে তার অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে। আবার প্রথমজন একে সহীহের সাথে যুক্ত করেন। সুতরাং এই মধ্যবর্তী স্তরকে পৃথক করা, যথাযথভাবে নিরূপণ করা এবং এর ওপর একমত হওয়া কঠিন। হ্যাঁ, কোনো ব্যক্তি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে হাদীসটি দোদুল্যমান অবস্থায় আছে, যা সহীহ হাদীসের সাথে যুক্ত করা সম্ভব নয়, আবার যঈফের সাথেও যুক্ত করা সম্ভব নয়। আবার কোনো আলেম এসে অনুভব করতে পারেন যে একে সহীহের সাথে যুক্ত করার একটি দিক আছে, আবার অন্যজন বিপরীতটা দেখতে পারেন যে এটি মধ্যবর্তী স্তর থেকেও নিচে নেমে গেছে এবং যঈফের স্তরে পৌঁছে গেছে। এই কারণেই হাসান হাদীসের সংজ্ঞা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনকি হাফেজ যাহাবী ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে একে (সহীহ ও যঈফ থেকে) পুরোপুরি পৃথক করার কোনো উপায় নেই। এতে বিষয়ের বিলুপ্তি বা অবমূল্যায়ন ঘটে না; বরং এটি হলো প্রচেষ্টাকে আরও শাণিত করার উৎসাহ। কারণ কিছু মানুষ যখন বলে: ‘একে পৃথক করার কোনো উপায় নেই’, তখন তারা ভাবতে পারে ‘তবে আমরা কেন চেষ্টা করব?’, না, বিষয়টি এমন নয়। বরং তারা চান আপনার হিম্মত বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন বৃদ্ধি পায় এবং আপনি অধিক পরিমাণে সূত্রগুলো অনুসন্ধান করেন যাতে হয়তো তা অন্য সূত্রের মাধ্যমে সহীহের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। হ্যাঁ, হাসান হাদীসের সংজ্ঞায় আলেমগণ বড় ধরণের মতভেদ করেছেন। এখানে তিনি বলছেন: ‘হাসান হলো তা যা তার সূত্রগুলোর মাধ্যমে পরিচিত হয়েছে’। ‘তুরুক’ হলো ‘তারিক’-এর বহুবচন, আর ‘তারিক’ শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। আপনি ‘অন্য সূত্র থেকে’ বলতে পারেন, যেমনটি আপনি স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেও বলতে পারেন। সুতরাং ‘তারিক’ শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই হয়। ‘তুরুকান’ শব্দটিতে ছন্দের প্রয়োজনে সুকুন ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ওয়া গাদাত’ অর্থাৎ ‘পরিণত হয়েছে’, ‘এর বর্ণনাকারীরা সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারীদের ন্যায় প্রসিদ্ধ নয়’। হাসান হাদীসের সংজ্ঞা নিয়ে আলেমদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা অনেক মত ব্যক্ত করেছেন। হাফেজ ইরাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

 

হাসান হলো তা যার উৎসস্থল পরিচিত এবং … যার বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে—এটাই এর সংজ্ঞা

(হামদ)।

এটি বাইকুনীর সংজ্ঞার খুবই কাছাকাছি।

 

হাসান হলো তা যার উৎসস্থল পরিচিত এবং … যার বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে—এটাই এর সংজ্ঞা

 

(হামদ) খাত্তাবী।

 

ইমাম তিরমিযী বলেছেন যা শায হওয়া থেকে মুক্ত … সাথে এমন বর্ণনাকারী যে অভিযুক্ত নয়

মিথ্যাচারের দায়ে এবং যা এককভাবে বর্ণিত নয় … আমি বলি: কখনও যা একক সূত্রে বর্ণিত তাও হাসান হয়েছে

বলা হয়েছে যা সহনীয় পর্যায়ের দুর্বল … তবে এর কোনটি দ্বারাই পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা পাওয়া যায়নি

 

এই সকল বক্তব্যের কোনোটি দ্বারাই এমন কোনো সংজ্ঞা পাওয়া যায়নি যা একে সহীহ ও যঈফ থেকে পুরোপুরি পৃথক করতে পারে।

 

হাসান হাদীস যা এর সূত্রগুলোর মাধ্যমে পরিচিত এবং … এর বর্ণনাকারীরা সহীহ হাদীসের ন্যায় প্রসিদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৬)
"الحسن المعروف طرقاً" عرفت طرقه، هل عرفوا بضعف وإلا عرفوا بتوثيق؟ إن عرفوا بضعف صار ضعيف، وإن عرفوا بتوثيق صار صحيح، فهو متردد متأرجح بين هذين، إلا أن قوله: "لا كالصحيح اشتهرت" يخرج الصحيح، لكن كونهم معرفون بالقبول لكنهم دون رجال الصحيح، يخرج أيضاً الضعيف، وهذا يبين لنا مدى التأرجح بين الصحيح والضعيف في هذا النوع، ولذا صعب تمييزه عند أهل العلم، "وقال -يعني ابن الصلاح-":

 

وقال بان لي بإمعان النظر … أن له قسمين كل قد ذكر
"হাসান যা তার সূত্রের মাধ্যমে পরিচিত", এর সূত্রগুলো জানা গেছে। তারা কি দুর্বলতার জন্য পরিচিত নাকি নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত? যদি তারা দুর্বলতার জন্য পরিচিত হয় তবে তা যয়ীফ হয়ে যায়, আর যদি নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত হয় তবে তা সহীহ হয়ে যায়। সুতরাং এটি এই দুটির মাঝে দোদুল্যমান ও অনিশ্চিত। তবে তাঁর উক্তি: "সহীহর মতো প্রসিদ্ধ নয়" সহীহকে বহির্ভূত করে দেয়, কিন্তু বর্ণনাকারীরা গ্রহণযোগ্য হিসেবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও সহীহর বর্ণনাকারীদের চেয়ে নিম্নমানের হওয়া যয়ীফকেও বহির্ভূত করে দেয়। এটি এই প্রকারের ক্ষেত্রে সহীহ ও যয়ীফ-এর মাঝে দোদুল্যমানতার ব্যাপ্তি আমাদের নিকট স্পষ্ট করে দেয়, আর এ কারণেই আহলে ইলমদের নিকট একে পৃথক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। "আর তিনি (অর্থাৎ ইবনুস সালাহ) বলেছেন":

 

তিনি বলেছেন, গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার নিকট প্রতিভাত হয়েছে যে … এর দুটি প্রকার রয়েছে যার প্রতিটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৭)
يعني الخطابي ذكر قسم، والترمذي ذكر قسم، فالخطابي اقتصر على الحسن لذاته، والترمذي اقتصر على الحسن لغيره، وعلى كل حال المتأخرون استنبطوا تعريفاً جامعاً لكل نوع من نوعي الحسن، من خلال أقوال وتعاريف الأئمة المتقدمين؛ لأنه من خلال تعريف الأئمة المتقدمين يصعب أن تمييز الحسن من غيره، يعني لو كان عندك ثلاثة أولاد، ولد بار غاية في البر، والثاني عاق واضح العقوق، هل يختلف في تصنيف أن هذا ما شاء الله على خير عظيم وهذا على شر؟ نعم، لكن واحد دول يوم كذا، ويوم كذا، هذا إلي تبلش به، نعم إن أردت أن تدعو له ذكرت العقوق وأثر على قلبك، وإن أردت أن تدعو عليه ذكرت ما عنده من خير وفضل، وأحيان ينفع، مشكلة، هذا تصور إيش؟ الحسن الواقع بين هذين، يصعب أحياناً يزيد بره تستطيع أن تلحقه بالأول، وأحياناً ينقص، بحيث لو حصل وصية مثلاً، وصية: بيتي يسكنه البار من أولادي، العاق الذي ما في إشكال في عقوقه هذا لن يسكن، والبار الواضح البر هذا بيسكن، لكن الثالث: هذا الذي يوم كذا، ويوم كذا، ينطبق عليه الوصف وإلا ما ينطبق؟ هذا المتأرجح مثل الحسن عندنا هالحين، مثله، هل نقول: يلغى الحسن؟ نقول: ما يلغى يا أخي، موجود في اصطلاح الأئمة وتعبيراتهم، حكموا على أحاديث بأنها حسنة، فلا يمكن إلغاؤه، والمسألة إيش؟ اجتهادية، فتجدون هذا الحديث الذي حكم عليه بعض الأئمة بأنه حسن، اجتهد بعضهم وقال: صحيح، واستروح إلى هذا، ومال إليه، وقوي عنده من القرائن ما يقتضي ثبوته، بينما يجيء ثالث يقول: لا والله أنه أقل من الحسن، أنا واضح لي ضعفه، ولذا لا يستشكل الإنسان أن يجد في أحكام الأئمة في حديث واحد أن يحكم عليه بأكثر من حكم؛ لأن المسألة إيش؟ اجتهادية، ومسألة مبنية على القرائن التي تقتضي الثبوت أو عدم الثبوت.

অর্থাৎ খাত্তাবী একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন এবং তিরমিযী একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন। খাত্তাবী হাসান লি-যাতিহী (স্বকীয়ভাবে হাসান) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং তিরমিযী হাসান লি-গায়রিহী (অন্য কারণে হাসান) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। যা-ই হোক, পরবর্তী সময়ের আলেমগণ পূর্ববর্তী ইমামগণের বাণী ও সংজ্ঞাসমূহ থেকে হাসানের উভয় প্রকারের জন্য একটি সমন্বিত সংজ্ঞা উদ্ভাবন করেছেন; কেননা পূর্ববর্তী ইমামগণের সংজ্ঞার মাধ্যমে হাসানকে অন্যটি থেকে পৃথক করা কঠিন। যেমন ধরুন আপনার যদি তিনজন সন্তান থাকে; একজন অত্যন্ত অনুগত, দ্বিতীয়জন স্পষ্টত অবাধ্য—মাশাআল্লাহ্ একজন অত্যন্ত কল্যাণের ওপর এবং অন্যজন অকল্যাণের ওপর রয়েছে, এই শ্রেণিবিভাগে কি কোনো দ্বিমত হবে? অবশ্যই না। কিন্তু একজন হলো এমন যে একদিন একরকম এবং অন্যদিন অন্যরকম, তাকে নিয়েই আপনি সমস্যায় পড়বেন। হ্যাঁ, আপনি যদি তার জন্য দোয়া করতে চান তবে তার অবাধ্যতার কথা স্মরণ হবে এবং তা আপনার অন্তরে প্রভাব ফেলবে; আবার যদি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে চান তবে তার কল্যাণ ও অনুগ্রহের কথা আপনার মনে পড়বে, সে মাঝে মাঝে উপকারও করে। এক সমস্যা! এটি কিসের চিত্রায়ন? তা হলো এই উভয়ের মাঝে অবস্থানকারী 'হাসান' স্তরের হাদিস। মাঝে মাঝে বিষয়টি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়—কখনো তার আনুগত্য বেড়ে যায় ফলে আপনি তাকে প্রথমজনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, আবার কখনো তা কমে যায়। যেমন ধরুন একটি ওসিয়ত হলো: 'আমার অনুগত সন্তান আমার এই বাড়িতে বসবাস করবে'। যে অবাধ্য এবং যার অবাধ্যতার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই সে এখানে বসবাস করবে না। আর যে স্পষ্ট অনুগত সে এখানে বসবাস করবে। কিন্তু তৃতীয়জন—যে একদিন একরকম আর অন্যদিন অন্যরকম—তার ক্ষেত্রে কি এই বর্ণনাটি প্রযোজ্য হবে কি হবে না? এই দোদুল্যমান অবস্থাটিই বর্তমানে আমাদের নিকট 'হাসান'-এর মতো; ঠিক তার মতোই। আমরা কি তবে বলব যে 'হাসান' বাতিল হয়ে যাবে? আমরা বলি: না ভাই, এটি বাতিল হবে না; এটি ইমামগণের পরিভাষা ও অভিব্যক্তিতে বিদ্যমান রয়েছে। তাঁরা অনেক হাদিসকে হাসান বলে হুকুম দিয়েছেন, তাই এটি বাতিল করা সম্ভব নয়। তাহলে বিষয়টি কী? এটি একটি ইজতিহাদি বা গবেষণালব্ধ বিষয়। তাই আপনারা দেখতে পাবেন এমন হাদিস যাকে কোনো ইমাম হাসান বলে হুকুম দিয়েছেন, আবার অন্য কেউ ইজতিহাদ করে তাকে 'সহিহ' বলেছেন এবং সেদিকেই স্বস্তি ও ঝোঁক অনুভব করেছেন, আর তার নিকট এমন সব আলামত শক্তিশালী হয়েছে যা হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়ার দাবি রাখে। অন্যদিকে তৃতীয় একজন এসে বলেন: না আল্লাহর কসম, এটি হাসানের চেয়েও নিম্নমানের; আমার নিকট এর দুর্বলতা স্পষ্ট। এই কারণে কোনো হাদিসের ব্যাপারে ইমামগণের একাধিক হুকুম দেখে কারো বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়; কারণ বিষয়টি হলো ইজতিহাদি এবং এমন সব আলামতের ওপর নির্ভরশীল যা হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার দাবি রাখে।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযুমাতিল বায়কুনিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৮)
قد يقول قائل: الأحكام المبنية على مثل هذا الاختلاف مصيرها؟ يعني هل تتصور أن أحكام الإسلام كلها متفق عليها؟ نعم، لا، الخلاف موجود، ولولا الخلاف في أحكام الدين لصار العوام علماء، المسألة حفظ أحكام سهل، لكن الكلام كيف تثبت هذه الأحكام؟ هذا الذي يميز العالم من غير العالم، وإلا لو اتفق الناس على جمع المسائل، وهذا حلال، وهذا حرام، ومميز صار الناس كلهم علماء، لكن من حكمة الله -جل وعلا- أن جعل في هذا الدين في أحكامه، وفي وسائل ثبوت هذا الأحكام من النصوص أيضاً ما فيها، القرآن لا يشك أحد في حرف من حروفه أنه ثابت ثبوتاً قطعياً، لكن دلالة النصوص، دلالة الآيات على بعض الأحكام يكون فيها خلاف بين أهل العلم، والأجور العظيمة رتبت للعلماء في هذا الاستنباط، وهذا التعب، وكد الذهن، وإلا صار الناس كلهم علماء، ليس هذا كوننا نقول: إن هذا النوع متأرجح بين كذا وكذا، حتى الحكم بالصحة إلا أنه أسهل من الحكم بالحسن، الحكم بالصحة قد ينازع فيه من يحكم بالصحة، وهذه أمور اجتهادية رتب عليها الأجور العظيمة، والمنازل العالية في الدنيا والآخرة، من أجل إيش؟ أن يتميز الإنسان بالجد والاجتهاد، وإلا ما صار لأحد ميزة؛ لأنه لو كانت المسائل حلال، لا خلاف فيه، حرام لا خلاف فيه، ما صار هناك ميزة، المسألة مسألة حفظ كل الناس بيحفظون، وبالتوارث بيفهمونه، لكن لا من وجد شيخ يقول: هذا حرام، ثم وجد ثاني يقول: لا مكروه، ثم وجد ثالث. . . . . . . . .، ما يمكن يدرك العلم إلا بطلب، يعني لو صارت الأمور المسائل كلها متفق عليها أدرك العلم من غير طلب، بالتوارث يدركونه الناس، ولذلك المسائل القطعية التي لا خلاف بين أهل العلم عوام المسلمين يعرفونها، ما في عامي ما يعرف أن الزنا حرام، أو أن الصلاة واجبة، أو أن الحج ركن من أركان الإسلام، ما يختلفوا في هذا، لكن لو كانت كل مسائل الدين بهذه المثابة، هل يصير لأهل العلم مزية؟ ما لهم مزية، ولذا العلم من أقرب الموصلة إلى جنات النعيم، إذا طلب مع الإخلاص، وهو أفضل ما يتنفل به، وتقضى فيه الأعمار من الأعمال الصالحة، فمثل هذا الكلام لا يشكك طالب العلم في دينه، ولا في كيفية ثبوته، لنعلم أن العلم

কেউ বলতে পারেন: এই ধরণের মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত বিধানসমূহের পরিণতি কী? অর্থাৎ, আপনি কি মনে করেন যে ইসলামের সকল বিধানই সর্বসম্মত? হ্যাঁ, না, মতভেদ বিদ্যমান রয়েছে। আর দীনের বিধানসমূহে যদি মতভেদ না থাকতো, তবে সাধারণ মানুষও আলেম হয়ে যেত। মাসআলা বা বিধান মুখস্থ করা তো সহজ, কিন্তু মূল কথা হলো—এই বিধানগুলো কীভাবে প্রমাণিত হয়? এটাই একজন আলেমকে সাধারণ মানুষ থেকে পৃথক করে। অন্যথায়, মানুষ যদি সকল মাসআলা একত্র করার ব্যাপারে একমত হতো এবং কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম তা সুনির্দিষ্ট থাকতো, তবে সকল মানুষই আলেম হয়ে যেত। কিন্তু মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা হলো যে, তিনি এই দীনের বিধানসমূহের মধ্যে এবং এই বিধানগুলো প্রমাণের মাধ্যম হিসেবে যে নসুস (দলিলসমূহ) রয়েছে, তার মধ্যেও এমন বিষয় রেখেছেন (যা গবেষণার দাবি রাখে)। কুরআনের একটি হরফ নিয়েও কারো মনে সন্দেহ নেই যে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত, কিন্তু নসুস বা আয়াতসমূহ থেকে কিছু বিধান আহরণের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এই বিধান আহরণ (ইস্তিম্বাত), ক্লান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার কারণেই আলেমদের জন্য মহান প্রতিদান নির্ধারিত হয়েছে। অন্যথায় সব মানুষই আলেম হয়ে যেত। বিষয়টি এমন নয় যে আমরা বলব—এই বিষয়টি এদিক-সেদিক দুলছে; এমনকি সহীহ হওয়ার হুকুম দেওয়া হাসান হওয়ার হুকুম দেওয়ার চেয়ে সহজ। কোনো বিষয় সহীহ হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রেও আলেমদের মাঝে দ্বিমত থাকতে পারে। আর এগুলো হলো ইজতিহাদী বিষয়, যার ওপর দুনিয়া ও আখেরাতে মহান প্রতিদান ও সুউচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত রয়েছে। কেন? যাতে মানুষ তার পরিশ্রম ও ইজতিহাদের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হতে পারে, অন্যথায় কারো কোনো বিশেষত্ব থাকত না। কারণ যদি সকল মাসআলা এমন হতো যে, কোনটি হালাল তাতে কোনো মতভেদ নেই এবং কোনটি হারাম তাতেও কোনো মতভেদ নেই, তবে সেখানে কোনো বিশেষত্বের অবকাশ থাকতো না। তখন বিষয়টি কেবল মুখস্থ করার পর্যায়ে থাকতো—সবাই তা মুখস্থ করত এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বুঝে নিত। কিন্তু যখন দেখা যায় একজন শায়খ বলছেন এটি হারাম, আবার দ্বিতীয় জন বলছেন এটি মাকরূহ, আবার তৃতীয় জন... তখন অন্বেষণ ও সাধনা ছাড়া ইলম অর্জন করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ, যদি সমস্ত মাসআলা সর্বসম্মত হতো, তবে কোনো অন্বেষণ ছাড়াই উত্তরাধিকারসূত্রে মানুষ ইলম অর্জন করত। একারণেই যে সকল অকাট্য মাসআলায় আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, সেগুলো সাধারণ মুসলমানরাও জানে। এমন কোনো সাধারণ লোক নেই যে জানে না ব্যভিচার হারাম, কিংবা সালাত ওয়াজিব, অথবা হজ ইসলামের অন্যতম একটি রুকন। এগুলোতে তারা দ্বিমত করে না। কিন্তু দীনের সকল মাসআলাই যদি এমন স্তরের হতো, তবে কি আলেমদের কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকত? তাদের কোনো বিশেষত্ব থাকত না। একারণেই ইখলাসের সাথে ইলম অন্বেষণ করলে তা জান্নাতুন নাঈমে পৌঁছানোর নিকটতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এটি সর্বোত্তম নফল ইবাদত এবং এমন এক নেক আমল যাতে জীবন অতিবাহিত করা যায়। সুতরাং এই ধরণের আলোচনা যেন কোনো জ্ঞানান্বেষীকে তার দীন সম্পর্কে অথবা দীন প্রমাণের পদ্ধতি সম্পর্কে সংশয়ে নিপতিত না করে, যাতে আমরা জানতে পারি যে ইলম...