(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: -)
المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر ت محيي الدين عبد الحميد   (ابن الأثير، ضياء الدين أبو الفتح)

القسم: البلاغة


اسم الكتاب: المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر

المؤلف: نصر الله بن محمد بن محمد بن عبد الكريم الشيباني، الجزري، أبو الفتح، ضياء الدين، المعروف بابن الأثير الكاتب (ت 637 هـ)

المحقق: محمد محي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]

الناشر: المكتبة العصرية للطباعة والنشر - بيروت

عام النشر:1420 هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাথালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ শায়ির - মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ সম্পাদিত   (ইবনুল আসীর, জিয়াউদ্দীন আবুল ফাতহ)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


গ্রন্থের নাম: আল-মাথালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ শায়ির

লেখক: নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারীম আশ-শাইবানী, আল-জাজারী, আবুল ফাতহ, জিয়াউদ্দীন, যিনি ইবনুল আসীর আল-কাতিব নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৩৭ হিজরী)

মুহাক্কিক: মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু: ১৩৯২ হিজরী]

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ লিত-তিবাআতি ওয়ান নাশর - বৈরুত

প্রকাশের বছর: ১৪২০ হিজরী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم*

‌‌المقدمة

الحمد لله، والصّلاة والسّلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه وسلّم.

أمّا بعد؛ فإنّ بي من حبّ العربيّة والشغف بها ما يدفعني إلى احتمال المصاعب والرّضا بركوب المخاطر والأهوال، وبذل النفيسين الوقت والراحة.

وإني لأجد من السرور بهذا ما لا يبلغ معشاره غريب ألقى بين أهله عصا الترحال، أو محبّ لقي حبيبه بعد طول افتراق، وواصله بعد طول تجنّ وجهود.

وقد أخذت على عاتقي أن أقوم لهذه اللغة بما يسعه جهدي من خدمة، فلم أجد أنبل مقصدا، ولا أسمى غرضا، ولا أقرب عند الله قبولا؛ من أن أتوفّر على كتب أسلافنا من علماء هذه اللغة، فأحققها وأحاول ردّها إلى الصورة التي خرجت عليها من أيدي مؤلّفيها قبل أن يصيبها تحريف النسّاخ وتصحيف الناشرين، أو مسحهم.

وأردت أن أجمع بذلك بين خلال أربع:

أولاها: أن أبتعد عن الغرور بالنفس والتفاخر بالتأليف.

وثانيتها: أن أظهر شباب هذه الأمة على تراثنا الذي ورثناه عن آباء لنا كانوا قادة العالم وأهل الرأي فيه يوم كان الناس كلهم يتيهون في بيداوات الجهالة ويعيشون عيش السائمة والأنعام، وأنا أعلم أنّ شبابنا اليوم ليس لهم الصبر والجلد على قراءة هذه الذخائر في منظرها الذي يختاره لهم الورّاقون وتجار الكتب، وأن من حسن الرأي أن نضع بين أيديهم كتبا بهيجة المنظر بديعة الرّواية؛ ليقلبوا عليها، وينتفعوا بما فيها من علم.
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আরবি ভাষার প্রতি আমার ভালোবাসা ও প্রবল অনুরাগ আমাকে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে, বিপদ-আপদ ও শঙ্কার মোকাবিলা করতে এবং অমূল্য সময় ও আরাম বিসর্জন দিতে উদ্বুদ্ধ করে।

আমি এতে এমন আনন্দ লাভ করি যার দশভাগের এক ভাগও সেই প্রবাসী ব্যক্তি পায় না, যে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে এসে তার ভ্রমণের দীর্ঘ ক্লান্তির অবসান ঘটায়; কিংবা সেই প্রেমিক পায় না, যে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর তার প্রিয়তমের সাক্ষাৎ পায় এবং দীর্ঘ উপেক্ষা ও প্রচেষ্টার পর তার সাথে মিলিত হয়।

আমি এই ভাষার জন্য সাধ্যমতো সেবা করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছি। তাই আমি আমাদের পূর্বসূরি ভাষাবিদদের গ্রন্থসমূহ নিয়ে কাজ করা, সেগুলোর তাহকীক (সম্পাদনা) করা এবং নকলনবিশদের বিকৃতি ও প্রকাশকদের ভুলত্রুটি বা কাটছাঁট স্পর্শ করার আগে লেখকগণ যেভাবে সেগুলো লিখেছিলেন, ঠিক সেই আদি রূপে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার চেয়ে মহৎ কোনো লক্ষ্য, শ্রেষ্ঠ কোনো উদ্দেশ্য কিংবা আল্লাহর নিকট কবুলিয়তের জন্য অধিকতর নিকটবর্তী কোনো কাজ খুঁজে পাইনি।

এর মাধ্যমে আমি চারটি গুণের সমন্বয় করতে চেয়েছি:

প্রথমত: আত্মতৃপ্তি এবং গ্রন্থ রচনার অহংকার থেকে দূরে থাকা।

দ্বিতীয়ত: এই উম্মতের যুবকদের আমাদের সেই ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যা আমরা আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে লাভ করেছি যারা ছিলেন বিশ্বের নেতা ও চিন্তানায়ক—এমন এক সময়ে যখন মানুষ অজ্ঞতার মরুভূমিতে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরছিল এবং গবাদিপশুর মতো জীবন অতিবাহিত করছিল। আমি জানি যে, বর্তমান সময়ের আমাদের যুবকদের সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা নেই যে তারা এই জ্ঞানভাণ্ডারগুলো প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতাদের প্রচলিত অবয়বে পাঠ করবে। তাই আমি সমীচীন মনে করেছি যে, তাদের সামনে আকর্ষণীয় ও চমৎকার উপস্থাপনায় বইগুলো পেশ করা; যাতে তারা এগুলো পাঠে আগ্রহী হয় এবং এর মধ্যকার জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وثالثتها: أن أثبت لهؤلاء الذين ينتقصون من قدر آبائنا وينالون منهم أنّ لأولئك الآباء من المجد والمنزلة ما يفاخر به الأبناء؛ وليس يضير الغادة الهيفاء ضنانة أهلها وبخلهم ولؤم أنفسهم، ولا يغض من جمالها أن تظهر في أطمار مهلهلة ولكنّ على من تكون من نصيبه أن ينفض عنها غبار الإهمال، ويجلوها في فاخر الديباج؛ ليظهر له بديع ما أنعمها الله من فتنة وجمال.

ورابعتها: أن أنفي عن نفسي تهمة التقصير في وقت نحن أحوج ما نكون إلى التساند والتضافر على إعادة رسومنا الدارسة إلى ما كانت عليه يوم كنا قادة الشعوب وسادة هذا العالم؛ وليس للبلاد العربية كلها من بدّ أن تسلك لوحدتها طريق الاتحاد في المشاعر والمعارف، وأقرب ما يصل بنا إلى هذه الغاية معاودة معارفنا القديمة مع اختيار أقربها إلى أنفسنا وقلوبنا في فروع العلم كلها.

ولا يسعني في هذا المقام إلا أن أنبّهك إلى حقيقة قد تغفلها أو تتشكك فيها إذا عرضت لك؛ أحبّ أن تعلم أن الجهد الذي يبذله من يحقق كتابا من كتب أسلافنا لا يقل عن الجهد الذي يبذله مؤلف كتاب حديث، بل أنا أجاهر بأن جهد الأول فوق جهد الثاني، وفرق بين من يعمد إلى المعارف فيختار منها ما يشاء ويدع منها ما يشاء، ثم يعبر عما اختاره بالأسلوب الذي يرضاه، وبين آخر لا يسعه إلّا إثبات ما بين يديه بالأسلوب الذي اختاره صاحبه منذ مئات السنين، وهو بين عبارات شوّهها التحريف وغيّر الكثير منها تعاقب أيدي الكتاب والصفافين، وأكثرهم ممن لا يتصل بالعلم من قريب أو بعيد.

والكتاب الذي أضعه اليوم بين يديك هو كتاب «المثل السائر، في أدب الكاتب والشاعر» الذي صنّفه في علم البلاغة الأديب الكاتب أبو الفتح نصر الله ضياء الدين بن أبي الكرم محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني، المعروف بابن الأثير؛ وهو كتاب «جمع فيه فأوعى. ولم يترك شيئا يتعلق بفن الكتابة إلا ذكره» «1» وهو كتاب امرىء:
আর তৃতীয়ত: যারা আমাদের পূর্বপুরুষদের মর্যাদাকে খাটো করে এবং তাঁদের সমালোচনা করে, তাদের সামনে এটি প্রমাণ করা যে, সেই সকল পূর্বপুরুষদের এমন গৌরব ও মর্যাদা ছিল যার ওপর উত্তরসূরিরা গর্ব করতে পারে। কোনো তন্বী সুন্দরী রূপসীর পরিবারের সংকীর্ণমনা ও কৃপণতা তার সৌন্দর্যের কোনো ক্ষতি করে না, তেমনি জীর্ণ পোশাকে আবৃত থাকাও তার রূপকে ম্লান করে না; তবে যার ভাগে সেই রূপসী জোটে, তার দায়িত্ব হলো তার ওপর থেকে অবহেলার ধুলো ঝেড়ে ফেলা এবং তাকে রাজকীয় রেশমি পোশাকে সুশোভিত করা; যাতে আল্লাহ তাকে যে অপূর্ব লাবণ্য ও সৌন্দর্য দান করেছেন তা তার কাছে প্রকাশ পায়।

আর চতুর্থত: নিজের ওপর থেকে অবহেলার অভিযোগ দূর করা এমন এক সময়ে যখন আমাদের বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ঠিক যেমনটা ছিল সেই দিনে যখন আমরা ছিলাম জাতিসমূহের নেতা এবং এই বিশ্বের অধিপতি। আর সমগ্র আরব ভূখণ্ডের জন্য তার ঐক্যের লক্ষ্যে আবেগ ও জ্ঞানের পথে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই; আর এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর সবচেয়ে নিকটবর্তী পথ হলো আমাদের প্রাচীন জ্ঞানসমূহের দিকে পুনরায় মনোনিবেশ করা এবং জ্ঞানের সকল শাখার মধ্যে যা আমাদের সত্তা ও হৃদয়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী তা বেছে নেওয়া।

এই পর্যায়ে আমি আপনাকে একটি সত্য সম্পর্কে সতর্ক না করে পারছি না, যা হয়তো আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন অথবা সামনে এলে সন্দেহ পোষণ করতে পারেন। আমি চাই আপনি জানুন যে, আমাদের পূর্বসূরিদের কোনো কিতাব যে ব্যক্তি সম্পাদনা করেন, তার শ্রম একজন আধুনিক কিতাব লেখকের শ্রমের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং আমি প্রকাশ্যে বলছি যে, প্রথমোক্ত ব্যক্তির শ্রম দ্বিতীয় ব্যক্তির শ্রমের চেয়েও বেশি। আর সেই ব্যক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য যে জ্ঞানরাজি থেকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যা ইচ্ছা গ্রহণ করে ও যা ইচ্ছা বর্জন করে এবং নিজের পছন্দমতো শৈলীতে তা প্রকাশ করে; আর সেই ব্যক্তির মধ্যে যে তার সামনে থাকা বিষয়বস্তুকে শত শত বছর আগেকার মূল লেখকের ব্যবহৃত শৈলীতেই উপস্থাপন করতে বাধ্য। সে এমন সব বাক্যের সম্মুখীন হয় যা বিকৃতি দ্বারা কলুষিত হয়েছে এবং লেখক ও মুদ্রাক্ষরিকদের ক্রমাগত হাত বদলের ফলে যার অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশেরই জ্ঞানের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কও নেই।

আজ আমি আপনার সামনে যে কিতাবটি পেশ করছি তা হলো ‘আল-মাছালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াস শায়ের’, যা অলঙ্কারশাস্ত্রে রচনা করেছেন প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক ও লেখক আবুল ফাতাহ নাসরুল্লাহ জিয়াউদ্দীন বিন আবিল কারাম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানি, যিনি ইবনুল আসির নামে পরিচিত। এটি এমন এক কিতাব যাতে তিনি ‘জ্ঞানের সব ভাণ্ডার একত্র করেছেন এবং রচনার শিল্প সংক্রান্ত এমন কিছু নেই যা তিনি উল্লেখ করতে ছেড়েছেন’। আর এটি এমন এক ব্যক্তির কিতাব:
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৭)
أطاعته أنواع البلاغة فاهتدى … إلى الشّعر من نهج إليه قويم «1»

وستقف على رأينا في هذا الكتاب عند الكلام على ترجمة المؤلف، ولكنا نذكر لك ههنا عملنا في هذا الكتاب لتدرك مقدار الجهد المضني الذي بذلناه في إخراجه على هذه الصورة التي نتمنى أن تخرج عليها كتب العربية، بل كتب الثقافة الإسلامية عامة؛ لتنقطع ألسنة الأفاكين الذين يتهمون آباءنا بقلة الإنتاج الصحيح، وإذا اعترف أحدهم لهم ذكر في جانب اعترافه هذا أن الإنتاج محدود لا أثر فيه لشخصية المنتج، ولا برهان فيه على الاستقلال والحرية الفكرية، في الوقت يسطو هو على إنتاجهم وعصارة أذهانهم فينتحلها وينسبها لنفسه، وهو بمأمن من أن يعرف ذلك سواد الناس ودهماؤهم؛ لأنهم لا يقرءون هذه الكتب.

لم يكن من رأيي أن أعمل على نشر هذا الكتاب الآن: فقد كنت أرى أنّ غيره من كتب العربية أحق بالتقديم وأكثر عائدة؛ ذلك لأن الكتاب قد طبع من قبل مرارا في بولاق وفي غير بولاق، ولأن الذين ينتفعون به عدد قليل من قرّاء العربية، وهم- أو أكثرهم- مستطيعون أن ينتفعوا منه على حاله التي كان عليها. ولكن بعض الإخوان رجاني أن يكون هذا الكتاب في مقدمة ما أخرجه من كتب العربية، وذكر لي أنه وكثيرا من المشتغلين بتحصيل العلم يجدون العنت والمشقة في تقويم عبارته التي عدت عليها عوادي المسخ والتشويه؛ فوعدته بأن أقبل؛ وكنت أظن الأمر هينا حين قطعت على نفسي ذلك العهد؛ ولكني حينما شرعت في مراجعة أصول الكتاب وجدت العجب العاجب؛ فمن عبارات مشوهة، إلى أعلام محرّفة تحريفا أبعدها كثيرا عن أصلها؛ إلى نصوص من الحديث النبويّ والشعر العربيّ قد بدّلتها الأيدي التي تناولت الكتاب، إلى غير ذلك بما ستراه في أثناء قراءتك؛ فلما رأيت ذلك هالني الأمر وترددت كثيرا في المضي فيه، ولكني لم أشأ أن أنقض ما قطعته من عهد، أو لم أشأ أن تضعف عزيمتي عن إتمام ما شرعت فيه.
বাগ্মিতার নানাবিধ অলঙ্কার তার বশীভূত হয়েছে, ফলে তিনি কবিতার সেই সঠিক পথের দিশা পেয়েছেন যা তাকে এর দিকে নিয়ে গেছে … «১»

এই গ্রন্থ সম্পর্কে আমাদের অভিমত আপনি লেখকের জীবনী আলোচনার সময় জানতে পারবেন। তবে এখানে আমরা এই গ্রন্থের সম্পাদনায় আমাদের কার্যাবলি উল্লেখ করছি, যাতে আপনি অনুধাবন করতে পারেন একে বর্তমান এই আঙ্গিকে উপস্থাপন করার পেছনে আমরা কী পরিমাণ হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছি। আমরা প্রত্যাশা করি যে, সকল আরবি গ্রন্থ, বরং সামগ্রিকভাবে ইসলামি সংস্কৃতির সকল গ্রন্থই যেন এই মান ও আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়; যাতে সেই সব মিথ্যাবাদীদের জিহ্বা স্তব্ধ হয়ে যায়, যারা আমাদের পূর্বসূরিদেরকে বিশুদ্ধ মৌলিক জ্ঞানের অভাবের অপবাদ দেয়। তাদের কেউ যদি তাদের অবদানের কথা স্বীকারও করে, তবে সেই স্বীকৃতির সাথে সাথে সে এ কথাও জুড়ে দেয় যে, সেই জ্ঞানচর্চা ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ, যেখানে লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের কোনো ছাপ ছিল না এবং চিন্তাগত স্বাধীনতা বা স্বকীয়তার কোনো প্রমাণ সেখানে পাওয়া যায় না। অথচ একই সময়ে সেই ব্যক্তিটিই তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক নির্যাস ও জ্ঞানভাণ্ডার লুণ্ঠন করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়; আর সে সাধারণ মানুষের অগোচরে থাকার বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকে, কারণ সাধারণ মানুষ এই বইগুলো পড়ে না।

এই বইটি এখন প্রকাশ করার বিষয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমি মনে করতাম যে, আরবি সাহিত্যের অন্যান্য বইগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার বেশি হকদার এবং সেগুলো অধিকতর কল্যাণকর। এর কারণ হলো, বইটি ইতিপূর্বে বুলাক ও অন্যান্য স্থানে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং আরবি পাঠকদের একটি ক্ষুদ্র অংশই এর দ্বারা উপকৃত হয়; আর তারা—বা তাদের অধিকাংশই—বইটি তার পূর্বের অবস্থায় রেখেও তা থেকে উপকৃত হতে সক্ষম ছিলেন। কিন্তু কতিপয় ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেন যেন আমি যে সকল আরবি গ্রন্থ প্রকাশ করছি তার শুরুতে এই বইটি রাখা হয়। তিনি আমাকে জানান যে, তিনি এবং জ্ঞান অন্বেষণে রত অনেকেই বইটির বাক্যরীতি সংশোধন করতে গিয়ে চরম কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হন, কারণ এর ওপর বিকৃতি ও পরিবর্তনের বিপর্যয় বয়ে গেছে। তখন আমি রাজি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিই। যখন এই অঙ্গীকার করেছিলাম তখন ভেবেছিলাম কাজটা সহজ হবে; কিন্তু যখন আমি বইটির পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনা শুরু করলাম, তখন আমি বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পেলাম। বিকৃত বাক্য থেকে শুরু করে এমন সব নাম যা বিকৃত হতে হতে মূল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে; এছাড়া নবিজির হাদিস ও আরবি কবিতার পাঠ্যগুলোকেও পূর্ববর্তী লিপিকাররা পরিবর্তন করে ফেলেছেন। এ জাতীয় আরও অনেক কিছু আপনি পড়ার সময় দেখতে পাবেন। যখন আমি এগুলো দেখলাম, তখন পরিস্থিতি আমাকে বিচলিত করে তুলল এবং সামনে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে আমি বারবার দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। কিন্তু আমি আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে চাইনি এবং যা শুরু করেছি তা সমাপ্ত করার বিষয়ে আমার দৃঢ় সংকল্পকেও দুর্বল হতে দিতে চাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৮)
الكتاب إذا كثير التحريف برغم أنه طبع مرارا، فما من بدّ لي من مراجعة أصوله على عدة نسخ، وما من بدّ لي من مراجعة جميع ما ورد فيه من النصوص على مصادرها الأولى، ثم ما من بدّ لي من الأناة والرويّة في تفهم عبارات المؤلف والوقوف عند كل جملة منها؛ وذلك أمر شاق يورث الضنى والكلال، ولكنه- مع ذلك- ميسور لمن لا يبالي بما يجد في هذا السبيل؛ ولما لم يكن بد من ذلك كله أقدمت عليه وثابرت فيه مثابرة الحريص على إدراك الغاية والوصول إلى النتيجة؛ وأعتقد أنني أدركت- بمعونة الله وتوفيقه- ما أردت، وبلغت ما أملت.

في دار الكتب المصرية جزء من نسخة خطية كتبها أبو المكارم بن منصور الباوشناي الموصلي، وفرغ من كتابته في يوم السبت الحادي والعشرين من شهر جمادى الأولى سنة (622) اثنتين وعشرين وستمائة من الهجرة، وفي أول هذا الجزء إجازة بخط المؤلف كتبها بالموصل في شهر شعبان من عام كتابته أجاز بها الشيخ أبا محمد المظفر عضد الدين بن محمد بن علي بن جعفر بن زهير الدمشقي. وفي الدار نسخة كاملة مكتوبة بقلم معتاد، ولم أعرف عن زمن كتابتها ولا عن قيمتها الأثرية شيئا؛ فراجعت نسختي على هاتين النسختين، وهما المرموز لهما في الحواشي بحرف د.

وعند صديقي الأستاذ الفاضل الشيخ أحمد محمد شاكر القاضي الشرعي نسخة خطية تمت كتابتها في نهار الأربعاء الموافق اليوم الخامس والعشرين من شهر جمادى الثانية في عام (1093) ثلاث وتسعين بعد الألف، وكاتبها محيي الدين بن ناصر الدين الصفوري، وهذه النسخة منقولة عن نسخة كتبها أحمد بن علي بن محمد بن علي بن محمد بن علي بن مهران القويسني وفرغ من كتابتها في مستهل جمادى الأولى من سنة سبع وعشرين وستمائة، ويقول محيي الدين بن ناصر الدين الصفوري في شأن النسخة التي نقل عنها نسخته: «وهي نسخة صحيحة، رحم الله مؤلفها وكاتبها رحمة واسعة، وهي على هذا التاريخ مكتوبة قبل موت المؤلف بعشر سنين أو ما يقرب منها» اه، ثم كتب على حاشية آخر ورقة: «بلغ مقابلة على
বইটি বারবার মুদ্রিত হওয়া সত্ত্বেও এতে অনেক বিকৃতি রয়েছে, তাই আমার জন্য এর মূল উৎসগুলো বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। একইভাবে এতে বর্ণিত সমস্ত পাঠকে তাদের আদি উৎসের সাথে মিলিয়ে নেওয়াও ছিল একান্ত জরুরি। এরপর লেখকের ভাবার্থ অনুধাবন করা এবং প্রতিটি বাক্যের ওপর গভীরভাবে থমকে দাঁড়ানোর জন্য ধৈর্য ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন ছিল; এটি একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ যা ক্লান্তি ও অবসাদ নিয়ে আসে, তথাপি যারা এই পথে আসা কষ্টের তোয়াক্কা করেন না, তাদের জন্য এটি সহজসাধ্য। যেহেতু এই সব কাজ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না, তাই আমি এতে প্রবৃত্ত হয়েছি এবং লক্ষ্য অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছানোর জন্য একজন আগ্রহী ব্যক্তির ন্যায় অধ্যবসায়ের সাথে চেষ্টা চালিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে আমি যা চেয়েছিলাম তা অর্জন করেছি এবং যা আশা করেছিলাম সেখানে পৌঁছাতে পেরেছি।

মিসরের ‘দারুল কুতুব’-এ একটি পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ রয়েছে যা আবুল মাকারিম বিন মনসুর আল-বাউশনাঈ আল-মাওসিলি লিখেছেন। তিনি ৬২২ হিজরি সনের ২১শে জুমাদাল উলা, শনিবার এটি লিখে শেষ করেছিলেন। এই অংশের শুরুতে লেখকের নিজ হস্তাক্ষরে একটি অনুমতিপত্র (ইজাযত) রয়েছে যা তিনি মাওসিল শহরে এটি রচনার বছরেই শাবান মাসে লিখেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-মুজাফফর আদুদুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন জাফর বিন জুহাইর আদ-দিমাশকিকে অনুমতি প্রদান করেছিলেন। উক্ত গ্রন্থাগারে সাধারণ লিখনশৈলীতে লেখা একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিও আছে, তবে এর লিখনকাল বা প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য সম্পর্কে আমি কিছুই জানতে পারিনি। আমি এই দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে আমার কপিটি মিলিয়ে দেখেছি, যা পাদটীকায় ‘দ’ অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু শায়খ আহমাদ মুহাম্মদ শাকির—যিনি একজন শরয়ি বিচারক—তার নিকট একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা ১০৯৩ হিজরি সনের ২৫শে জুমাদাস সানি, বুধবার দিনের বেলা লিখে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর লিপিকার হলেন মুহিউদ্দিন বিন নাসিরুদ্দিন আস-সাফুরি। এই কপিটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে যা আহমাদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মিহরান আল-কুওয়াইসিনি লিখেছিলেন এবং তিনি এর লেখনী সম্পন্ন করেছিলেন ৬২৭ হিজরি সনের জুমাদাল উলার শুরুতে। মুহিউদ্দিন বিন নাসিরুদ্দিন আস-সাফুরি সেই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে বলেন যেখান থেকে তিনি নকল করেছেন: “এটি একটি সঠিক পাণ্ডুলিপি, আল্লাহ এর লেখক ও লিপিকারের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন। এই তারিখ অনুযায়ী এটি লেখকের মৃত্যুর দশ বছর আগে বা তার কাছাকাছি সময়ে লেখা হয়েছে।” সমাপ্ত। অতঃপর তিনি শেষ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় লিখেছেন: “মোকাবেলা (মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা) সম্পন্ন হয়েছে...”
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৯)
أصله الذي كتب منه والله الموفق» اه. وقد تفضل الأستاذ الشيخ أحمد محمد شاكر- حين علم قيامي على تحقيق الكتاب- فأعارني هذه النسخة فراجعت عليها نسختي هذه، وهي المرموز إليها في حواشي الكتاب بحرف أ.

والكتاب مطبوع بمطبعة بولاق عام (1282) اثنين وثمانين ومائتين وألف من الهجرة، بتصحيح الشيخ محمد الصباغ، وهذه النسخة هي المرموز إليها في حواشي الكتاب بحرف ب.

والنسخ المطبوعة- عدا نسخة بولاق- هي المرموز إليها في الحواشي بحرف ج.

راجعت نسختي على هذه النسخ كلها، وراجعت جميع النصوص التي اشتمل عليها الكتاب في مظانها الأولى، فراجعت الحديث على أمهات كتب الحديث، وراجعت الشعر على دواوين الشعراء وكتب التراجم والشعر، مثل كتاب «الأغاني» وكتاب «ديوان الحماسة» وشرحه الذي صنّفه أبو زكرياء يحيى بن علي الخطيب التبريزي، وكتاب «طبقات الشعراء» لابن قتيبة، وكتاب «وفيات الأعيان» لابن خلكان وغيرها، ودللتك في أكثر الأحوال على مكان النص لترجع إليه إن شئت. وبيّنت لك اختلاف النسخ في الكثير الغالب مع بيان النسخة التي اعتمدتها في إثبات العبارة التي أثبتها في صلب الكتاب.

وضبطت جميع النصوص، وهي كثيرة جدا، وفسّرت غريبها تفسيرا بقدر ما تمس له الحاجة.

ولم أشأ أن أناقش المؤلف في آرائه، كما لم أشأ أن أترجم للأعلام التي ذكرها المؤلف؛ لأن ذلك يخرج بنا عن الغرض الأصلي من تحقيق الكتاب وإخراج صورة صحيحة منه بقدر ما وسعه الجهد، ثم إن الأعلام التي وردت فيه ليست مما يعسر على المتأدبين معرفتها والوصول إلى تراجمها إن كانت بهم حاجة إلى معرفة ذلك.

ولا أدّعي أنني بلغت بالكتاب درجة الكمال التي تتوق إليها نفسي،
এর মূল কপি যা থেকে এটি অনুলিপি করা হয়েছে, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা। সমাপ্ত। উস্তায শায়খ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির—যখন তিনি জানতে পারলেন যে আমি বইটি সম্পাদনার কাজ করছি—তখন অনুগ্রহপূর্বক আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি ধার দেন। ফলে আমি আমার এই কপির সাথে সেটিকে মিলিয়ে দেখেছি; বইয়ের টীকাসমূহে এটিকে 'আলিফ' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবং বইটি হিজরি ১২৮২ (এক হাজার দুইশত বিরাশি) সালে বুলাক প্রেস থেকে শায়খ মুহাম্মাদ আস-সাব্বাগের সংশোধনে মুদ্রিত হয়েছে। এই কপিটিকে বইয়ের টীকাসমূহে 'বা' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আর বুলাক সংস্করণ ছাড়া অন্যান্য মুদ্রিত কপিগুলোকে টীকাসমূহে 'জিম' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমি আমার কপিটিকে এই সকল কপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং বইটিতে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত মূল পাঠকে তাদের আদি উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমি হাদিসসমূহকে হাদিসের মূল গ্রন্থাবলির সাথে এবং কবিতাগুলোকে কবিদের কাব্যসমগ্র, জীবনীগ্রন্থ এবং কবিতা বিষয়ক গ্রন্থাবলির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যেমন— ‘আল-আঘানি’ গ্রন্থ, ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ ও আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আলি আল-খাতিব আত-তাবরিজি রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনে কুতাইবাহ রচিত ‘তাবাকাতুশ শুয়ারা’, ইবনে খাল্লিকান রচিত ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ এবং অন্যান্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি মূল পাঠের উৎস নির্দেশ করে দিয়েছি যাতে আপনি চাইলে সেখানে ফিরে যেতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি কপিগুলোর মধ্যকার পাঠভেদও উল্লেখ করেছি এবং বইয়ের মূল পাঠে যে পাঠটি আমি গ্রহণ করেছি, সেটি কোন কপির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছি।

আমি সমস্ত মূল পাঠের সঠিক উচ্চারণ ও বিন্যাস নির্ধারণ করেছি, যা সংখ্যায় অত্যন্ত অধিক, এবং সেগুলোর মধ্যকার কঠিন শব্দাবলির প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

আমি লেখকের মতামতের ব্যাপারে কোনো পর্যালোচনা করতে চাইনি এবং লেখক যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের জীবনীও প্রদান করতে চাইনি; কারণ তা আমাদের এই বইটির সম্পাদনা এবং সাধ্যমতো এর একটি নির্ভুল রূপ উপস্থাপনের মূল উদ্দেশ্য থেকে আমাদের বিচ্যুত করত। তা ছাড়া, এতে যেসব ব্যক্তিদের নাম এসেছে সাহিত্যমনা ব্যক্তিদের জন্য তাদের সম্পর্কে জানা এবং তাদের জীবনী খুঁজে পাওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়, যদি তারা তা জানার প্রয়োজন বোধ করেন।

আমি দাবি করছি না যে আমি বইটিকে সেই পূর্ণতার স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছি যার আকাঙ্ক্ষা আমার মন পোষণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১০)
ولكني أدّعي غير متحرّج أنني بذلت فيه جهدا ليس بالقليل، وأدّعي- مع ذلك- أنّ هذه المطبوعة أدقّ ما يتداوله الناس من نسخ الكتاب، وأقر بها إلى الصورة التي أرادها المؤلف منه، وأصحّ ما يعوّل عليه أهل العلم.

فإن حاز عملي هذا قبول إخوان في الأقطار العربية فذلك من نعمة الله تعالى وتوفيقه وفضله، وإن كانت الأخرى فمعذرتي أنني بذلت المستطاع، ولم أترك جهدا كان من الممكن أن أبذله؛ وبحسب المرء من عمله أن تحسن نيته، وأن يقوم فيه بالأسباب التي تبلّغ القصد عادة، وليس عليه أن يدرك النجح أو تتم له المطالب.

ربّ إني أبرأ من الحول إلا بك، وأسألك أن تبلغ بي من خير الدنيا والآخرة ما لا سلطان عليه إلا لك، ربّ اغفر لي ولوالديّ، ولمن دخل بيتي مؤمنا وللمؤمنين والمؤمنات ولا تزد الظالمين إلا تبارا.

القاهرة 26 من رجب الفرد 1358 هـ- 10 من سبتمبر 1939 م كتبه المعتز بالله تعالى أبو رجاء محمد محيي الدين عبد الحميد
তবে আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই দাবি করছি যে, আমি এতে অনেক পরিশ্রম করেছি; এবং এর পাশাপাশি আমি এ-ও দাবি করছি যে, এই মুদ্রিত সংস্করণটি মানুষের নিকট প্রচলিত এই কিতাবের অনুলিপিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক নির্ভুল, লেখকের অভিপ্রায়ের সর্বাধিক নিকটবর্তী এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

আমার এই কাজ যদি আরব বিশ্বের ভাইদের নিকট কবুলিয়াত পায়, তবে তা মহান আল্লাহর নেয়ামত, তৌফিক ও অনুগ্রহ। আর যদি অন্যথা হয়, তবে আমার ওজর এই যে, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং কোনো চেষ্টার ত্রুটি করিনি যা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল। মানুষের কাজের ক্ষেত্রে তার সুন্দর নিয়ত এবং সেই সব উপায়-উপকরণ অবলম্বন করাই যথেষ্ট যা সাধারণত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়; সফলতার শিখরে পৌঁছানো কিংবা সকল দাবি পূর্ণ করা তার দায়িত্ব নয়।

হে আমার প্রতিপালক! আপনি ব্যতীত আমার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের সেই সব কল্যাণ কামনা করি যার ওপর আপনি ব্যতীত অন্য কারো কর্তৃত্ব নেই। হে আমার প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতামাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাদেরকে এবং সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করে দিন; আর আপনি জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।

কায়রো, ২৬ রজবুল ফর্দ ১৩৫৮ হিজরি - ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ। এটি লিখেছেন আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসাকারী আবু রাজা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة ابن الأثير

صاحب كتاب المثل السائر، في أدب الكاتب والشاعر (558- 637 هـ)

‌‌نسبه:

هو أبو الفتح نصر الله ضياء الدين بن أبي الكرم محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشّيباني، المعروف بابن الأثير، الجزريّ، الموصليّ.

‌‌مولده:

ولد نصر الله بن الأثير في يوم الخميس العشرين من شعبان عام ثمان وخمسين وخمسمائة؛ بجزيرة ابن عمر.

وجزيرة ابن عمر- على ما يقول ياقوت الحموي معاصر أبناء الأثير الثلاثة-: «بلدة فوق الموصل، بينهما ثلاثة أيام، ولها رستاق مخصب واسع الخيرات، وأحسب أن أول من عمرها الحسن بن عمر بن خطاب التغلبي، وكانت له إمرة بالجزيرة وذكر، قرابة سنة 250 هـ، وهذه الجزيرة تحيط بها دجلة إلا من ناحية واحدة شبه الهلال؛ ثم عمل هناك خندق أجري فيه الماء، ونصبت عليه رحى فأحاط بها الماء من جميع جوانبها بهذا الخندق» «1» ويقول ابن خلكان «2» : «أكثر الناس يقولون إنها جزيرة ابن عمر، ولا أدري من ابن عمر، وقيل إنها منسوبة إلى يوسف بن عمر الثقفي أمير العراقين؛ ثم إني
ইবনুল আসীরের জীবনী

আল-মাসালুস সাঈর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াস শাঈর গ্রন্থের লেখক (৫৫৮- ৬৩৭ হিজরী)

তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ জিয়াউদ্দীন বিন আবিল কারাম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানী, যিনি ইবনুল আসীর, আল-জাযারি, আল-মাওসিলি নামে পরিচিত।

তাঁর জন্ম:

নাসরুল্লাহ ইবনুল আসীর পাঁচশত আটান্ন হিজরী সালের বিশে শাবান, বৃহস্পতিবার জাযিরা ইবনে উমরে জন্মগ্রহণ করেন।

আর জাযিরা ইবনে উমর সম্পর্কে—তিন ইবনুল আসীর ভ্রাতৃদ্বয়ের সমসাময়িক ইয়াকুত আল-হামাবী যেমনটি বলেছেন—: «এটি মসুলের উপরের দিকের একটি শহর, উভয়ের মধ্যে তিন দিনের পথ ব্যবধান, এবং এর একটি উর্বর ও কল্যাণময় সুবিস্তৃত গ্রামাঞ্চল রয়েছে। আমার ধারণা, এটি প্রথম আবাদ করেছিলেন হাসান বিন উমর বিন খাত্তাব আত-তাগলিবি, এবং ২৫০ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে জাযিরা অঞ্চলে তাঁর কর্তৃত্ব ও সুখ্যাতি ছিল। এই জাযিরা বা দ্বীপটিকে দজলা নদী পরিবেষ্টন করে রেখেছে, কেবল একদিক ব্যতীত যা অর্ধচন্দ্রের মতো; এরপর সেখানে একটি পরিখা খনন করা হয়েছিল যার ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় এবং এর ওপর যাতা স্থাপন করা হয়েছিল, ফলে এই পরিখার মাধ্যমে এর চারপাশ পানি দ্বারা বেষ্টিত হয়ে যায়।» «১» এবং ইবনে খাল্লিকান বলেন «২» : «অধিকাংশ মানুষ বলে যে এটি জাযিরা ইবনে উমর, কিন্তু আমি জানি না এই ইবনে উমর কে। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ইরাকদ্বয়ের আমীর ইউসুফ বিন উমর আস-সাকাফীর দিকে সম্পৃক্ত; এরপর আমি...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১২)
ظفرت بالصواب في ذلك، وهو أن رجلا من أهل برقعيد من أعمال الموصل بناها وهو عبد العزيز بن عمر، فأضيفت إليه، ورأيت في بعض التواريخ أنها جزيرة ابني عمر أوس وكامل، ولا أدري أيضا من هما، ثم رأيت في تاريخ ابن المستوفي في ترجمة أبي السعادات المبارك بن محمد (هو أخو نصر الله بن الأثير الذي نترجمه) أنه من جزيرة أوس وكامل ابني عمر بن أوس الثعلبي» .

فالجزريّ في نسب ابن الأثير نسبة إلى جزيرة ابن عمر هذه.

‌‌نشأته وحياته:

نشأ أبو الفتح نصر الله بن الأثير بجزيرة ابن عمر، ثم انتقل مع والده إلى الموصل، وبها اشتغل بحفظ القرآن الكريم وتحصيل العلوم، فحفظ القرآن، وكثيرا من الأحاديث النبوية، وطرفا صالحا من النحو واللغة وعلم البيان، وشيئا كثيرا من الشعر قديمه وحديثه.

ولما كملت له الأدوات قصد في شهر ربيع الأول من عام سبع وثمانين وخمسمائة جناب السلطان الملك الناصر أبي المظفر صلاح الدين يوسف ابن الأمير نجم الدين أيّوب بن شادي بن مروان؛ فاستعان بالقاضي الفاضل أبي علي عبد الرحيم بن علي بن محمد بن حسن اللخميّ البيسانيّ «1» ، وهو يومئذ آثر الناس عند صلاح الدين؛ فوصله القاضي بخدمة صلاح الدين في جمادى الآخرة من العام نفسه، ولم تطل به الإقامة في خدمة صلاح الدين، حتى أرسل الملك الأفضل نور الدين علي بن صلاح الدين يوسف بن أيوب، إلى أبيه صلاح الدين، يطلب أن يرسل إليه ابن الأثير، فخيّره صلاح الدين بين أن يقيم في خدمته وأن ينتقل إلى خدمة ولده نور الدين؛ فاختار أن ينتقل إلى خدمة نور الدين، فمضى إليه في شوال من العام نفسه، وهو يومئذ شاب لم يكمل العقد الثالث من عمره؛ فاستوزره الملك الأفضل، وحسنت حالته عنده.
আমি এ বিষয়ে সঠিক তথ্যটি পেয়েছি, আর তা হলো—মসুলের অন্তর্ভুক্ত বারকাইদ অঞ্চলের আব্দুল আজীজ ইবনে উমর নামক এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং তাঁর নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছিল। আমি কিছু ইতিহাসে দেখেছি যে, এটি উমরের দুই পুত্র আউস ও কামিলের দ্বীপ (জাযিরাতু ইবনিল উমর), তবে আমি এও জানি না তারা দুজন কে ছিলেন। অতঃপর ইবনুল মুস্তাওফির ইতিহাসে আবুল সা’দাত আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মাদের (যিনি আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি নাসরুল্লাহ ইবনুল আসীরের ভাই) জীবনীতে দেখেছি যে, তিনি উমর ইবনে আউস আস-সা’লাবীর দুই পুত্র আউস ও কামিলের দ্বীপের অধিবাসী ছিলেন।

সুতরাং ইবনুল আসীরের বংশীয় উপাধি ‘আল-জাযারি’ মূলত এই ‘জাযিরাতু ইবনে উমর’-এর দিকেই সম্পর্কিত।

‌‌তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবনকাল:

আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনুল আসীর জাযিরাতু ইবনে উমরে বেড়ে ওঠেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার সাথে মসুল শহরে চলে যান। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করতে এবং ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি কুরআন মাজীদ, অনেকগুলো হাদীসে নববী, নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা) ও ইলমুল বয়ানের (অলংকারশাস্ত্র) একটি বড় অংশ এবং প্রাচীন ও আধুনিক প্রচুর কবিতা মুখস্থ করেন।

যখন তাঁর জ্ঞানার্জনের যাবতীয় উপকরণ পূর্ণ হলো, তখন তিনি ৫৮৭ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে সুলতান আল-মালিক আন-নাসির আবুল মুজাফফর সালাহুদ্দীন ইউসুফ ইবনে আমির নাজমুদ্দীন আইয়ুব ইবনে শাদী ইবনে মারওয়ানের দরবারে যাওয়ার সংকল্প করলেন। তিনি আল-কাজি আল-ফাদিল আবু আলী আব্দুর রাহীম ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল-লাখমি আল-বাইসানির সহযোগিতা চাইলেন, যিনি সেই সময় সালাহুদ্দীনের নিকট অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। কাজি সাহেব একই বছরের জুমাদাল আখিরাতে তাঁকে সালাহুদ্দীনের খেদমতে পৌঁছে দিলেন। তবে সালাহুদ্দীনের অধীনে তাঁর অবস্থান দীর্ঘ হয়নি। শীঘ্রই আল-মালিক আল-আফদাল নূরুদ্দীন আলী ইবনে সালাহুদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব তাঁর পিতা সালাহুদ্দীনের নিকট লোক পাঠিয়ে অনুরোধ করেন যেন তিনি ইবনুল আসীরকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন। তখন সালাহুদ্দীন ইবনুল আসীরকে তাঁর নিজের খেদমতে থাকা অথবা পুত্র নূরুদ্দীনের অধীনে চলে যাওয়ার মাঝে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলেন। তিনি নূরুদ্দীনের অধীনে যাওয়াকেই বেছে নিলেন এবং একই বছরের শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট চলে গেলেন। তখন তিনি এক যুবক এবং তাঁর বয়স ত্রিশ পূর্ণ হয়নি। আল-মালিক আল-আফদাল তাঁকে তাঁর উজির (মন্ত্রী) হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তাঁর নিকট ইবনুল আসীরের অবস্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولما خلص للملك الأفضل ملك دمشق بعد وفاة أبيه: «استقلّ ضياء الدين بن الأثير بالوزراة، وردّت أمور الناس إليه، وصار الاعتماد في جميع الأحوال عليه» «1» فأساء ضياء الدين السيرة ويقول ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة «2» . إنه: «شغف قلوب الجند إلى مصر حتى ساروا إليها فلقيهم الملك العزيز عماد الدين عثمان بن صلاح الدين، وأكرم مثواهم» : «ولما انفصل الجند عن دمشق فوّض الملك الأفضل أمر الدولة إلى وزيره ابن الأثير وحاجبه الجمال محاسن ابن العجمي، ولم يكن أحدهما أحسن سياسة من الآخر، فأفسدا عليه الأحوال وكانا سببا في زوال دولته» «3» ، ويقال «4» : «إن أهل البلاد حينما خرج الأفضل هموا بقتل ضياء الدين بن الأثير، وإن الحاجب ابن العجمي أخرجه مستخفيا في صندوق مقفل عليه، ثم صار إليه وصحبه إلى مصر» ؛ ويقال: «إن الملك الأفضل حينما عاد إلى البلاد الشرقية طلب إلى ضياء الدين أن يخرج معه ليعود إلى خدمته، فلم يقبل ذلك لأنه خاف على نفسه من جماعة كانوا يقصدونه» . ولما استقرّ الملك الأفضل في سميساط عاد إلى خدمته، ولكنه لم يطل مقامه عنده، وما عتم أن فارقه، واتصل بخدمة الملك الظاهر غازي صاحب حلب، وهو أخو الملك الأفضل، ولم يطل مقامه عنده أيضا، ولا انتظم أمره، فعاد إلى الموصل، فلم يستقم حاله أيضا، فترك الموصل إلى إربل، ثم فارقها إلى سنجار، ثم عاد إلى الموصل واتخذها دار إقامته وكتب الإنشاء لصاحبها ناصر الدين محمود ابن الملك القاهر عزّ الدين مسعود بن نور الدين أرسلان شاه. ويقول تقيّ الدين أحمد بن علي المقريزي في كتاب السلوك «5» : «واستوزر الأفضل الوزير ضياء الدين نصر الله بن محمد بن الأثير، وفوض إليه أموره كلها؛ فحسّن له طرد أمراء أبيه وأكابر أصحابه، وأن يستجدّ أمراء غيرهم؛ ففارقه جماعة منهم الأمير فخر الدين جهاركس، وفارس الدين ميمون القصري،
যখন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর আল-মালিকুল আফদালের জন্য দামেস্কের রাজত্ব সুনিশ্চিত হলো: «জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসীর এককভাবে উজিরের দায়িত্ব লাভ করেন, মানুষের সকল বিষয় তাঁর কাছে ন্যস্ত হয় এবং সকল পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়» «১» তখন জিয়াউদ্দিনের শাসনপদ্ধতি ও আচরণ মন্দ হয়ে পড়ে। ইবনু তাগরিবারদি ‘আন-নুজুমুজ জাহেরা’ গ্রন্থে বলেন «২»: «তিনি সৈন্যদের অন্তরকে মিসরের প্রতি এমনভাবে আসক্ত করে তুলেছিলেন যে, তারা সেদিকে যাত্রা করে। ফলে আল-মালিকুল আজিজ ইমাদউদ্দিন উসমান বিন সালাহুদ্দিন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ আতিথেয়তা প্রদান করেন» : «যখন সৈন্যরা দামেস্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তখন আল-মালিকুল আফদাল রাষ্ট্রের যাবতীয় বিষয় তাঁর উজির ইবনুল আসীর এবং তাঁর হাজিব আল-জামাল মাহাসিন ইবনুল আজামির ওপর অর্পণ করেন। তাদের কেউই একে অপরের চেয়ে উত্তম রাজনীতিজ্ঞ ছিলেন না। ফলে তারা উভয়ে তাঁর অবস্থা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে ফেলে এবং তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়» «৩»। আরও বলা হয় «৪»: «মালিক আফদাল যখন প্রস্থান করেন, তখন সেই দেশের অধিবাসীরা জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসীরকে হত্যার সংকল্প করেছিল। ফলে হাজিব ইবনুল আজামি তাকে একটি তালাবদ্ধ সিন্দুকের ভেতরে লুকিয়ে বের করে আনেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে যান এবং তাঁর সাথে মিসর অভিমুখে রওনা হন» ; আরও বলা হয়: «মালিক আফদাল যখন পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ফিরে গেলেন, তখন তিনি জিয়াউদ্দিনকে তাঁর সাথে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেন যাতে তিনি পুনরায় তাঁর সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি, কারণ তিনি একদল লোকের পক্ষ থেকে নিজের জীবনের আশঙ্কা করছিলেন যারা তাঁকে খুঁজছিল» । যখন মালিক আফদাল সামাইসাতে স্থায়ী হলেন, তখন তিনি পুনরায় তাঁর সেবায় ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁর নিকট তাঁর অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং খুব দ্রুতই তিনি তাঁকে ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আলেপ্পোর অধিপতি আল-মালিকুল জহির গাজীর সেবায় নিযুক্ত হন, যিনি ছিলেন মালিক আফদালের ভাই। সেখানেও তাঁর অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তাঁর বিষয়াদি সুশৃঙ্খল হয়নি। ফলে তিনি মোসেলে ফিরে যান, কিন্তু সেখানেও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এরপর তিনি মোসেল ত্যাগ করে ইরবিলে যান, সেখান থেকে সিনজারে এবং সবশেষে পুনরায় মোসেলে ফিরে এসে সেটিকে নিজের স্থায়ী নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি মোসেলের অধিপতি নাসেরউদ্দিন মাহমুদ বিন মালিক কাহের ইজ্জুদ্দিন মাসউদ বিন নুরুদ্দিন আরসালান শাহর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকিউদ্দিন আহমদ বিন আলী আল-মাকরিজি ‘আস-সুলুক’ গ্রন্থে বলেন «৫»: «আল-আফদাল জিয়াউদ্দিন নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আসীরকে উজির হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তাঁর যাবতীয় বিষয় তাঁর ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি মালিক আফদালের নিকট তাঁর পিতার আমীরগণ এবং তাঁর বড় বড় সহচরদের বিতাড়িত করা এবং তাঁদের পরিবর্তে নতুন আমীর নিয়োগ করার বিষয়টিকে সুশোভিত করে তুলে ধরেন। ফলে তাদের মধ্য থেকে একদল লোক তাঁকে ত্যাগ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন আমীর ফখরুদ্দিন জাহারকাস এবং ফারেসউদ্দিন মাইমুন আল-কাসরি,
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وشمس الدين سنقر الكبير، وكانوا عظماء الدولة. فصاروا إلى الملك العزيز بالقاهرة فأكرمهم، وولي فخر الدين أستا داره وفوّض إليه أمره؛ وجعل فارس الدين وشمس الدين على صيداء وأعمالها، وكان ذلك لهما، وزادهما نابلس وبلادها؛ وسار القاضي الفاضل أيضا من دمشق ولحق بالقاهرة، فخرج العزيز إلى لقائه، وأجلّ قدومه وأكرمه، فشرع القوم في تقرير قواعد ملك العزيز، والأفضل في شغل عنهم» ، ويقول أيضا: إنه في سنة 590 تسعين وخمسمائة قويت الوحشة بين العزيز وأخيه الأفضل، وتنافرت القلوب، واضطربت أحوال الأفضل، وخرج العزيز من القاهرة بعساكر مصر يريد الشام لينتزعها من أخيه الأفضل، «وهمّ الأفضل بمراسلة أخيه العزيز واستعطافه؛ فمنعه من ذلك وزيره ابن الأثير وعدة من أصحابه، وحسّنوا له محاربته» «1» ، ويقول أيضا «2» : «وفي سنة اثنتين وتسعين وخمسمائة وصل الملك الأفضل إلى دمشق، وتفرقت العساكر إلى بلادها، ولزم الأفضل الزهد، وأقبل على العبادة. وصارت أمور الدولة بأسرها مفوضة إلى وزيره ضياء الدين بن الأثير، فاختلت به الأحوال غاية الاختلال، وكثر شاكوه» .

ومؤرخو هذا العصر مجمعون على أن ضياء الدين بن الأثير كان في وزارته سيىء السيرة مع رجال الدولة، وأن أحوال السلطنة كانت تسوء بسببه، ونحن نأخذ عليه أمرين: أحدهما: أنه كان يحاول الإيقاع بين الملك الأفضل وأخيه العزيز صاحب مصر، وكلما هم الأفضل بالاتّفاق مع أخيه وإعادة الصفاء بينهما اجتهد ضياء الدين في تنفيره وإبقاء الجفاء، مع ما كانت تتطلبه حال المسلمين في ذلك الوقت من اتحاد الكلمة واجتماع الشمل؛ إذ كان الصليبيون في نزاع دائم معهم وكانوا يهتبلون فرصة انقسامهم واختلافهم ليغيروا على البلاد وينتقصوها من أطرافها؛ والأمر الثاني: أنه كان سببا في إغضاب القاضي الفاضل وخروجه من دمشق إلى مصر، مع أن القاضي هو الذي قرّبه من الملوك وفتح له باب الاتّصال بصلاح الدين على ما سبق بيانه.
এবং শামসুদ্দিন সুনকুর আল-কাবির; তারা রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। তারা কায়রোতে মালিক আল-আজিজের নিকট গমন করলেন। তিনি তাদের সম্মানিত করলেন এবং ফখরুদ্দিনকে তার গৃহ-ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করলেন এবং তার নিকট সমস্ত দায়িত্ব অর্পণ করলেন। তিনি ফারিসুদ্দিন ও শামসুদ্দিনকে সাইদা এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত করলেন, যা আগে থেকেই তাদের অধীনে ছিল। উপরন্তু তিনি তাদের সাথে নাবলুস ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ যুক্ত করে দিলেন। আল-কাদি আল-ফাদিলও দামেস্ক থেকে রওনা হয়ে কায়রোতে পৌঁছালেন। আল-আজিজ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে বের হলেন, তার আগমনকে মহিমান্বিত করলেন এবং তাকে সম্মানিত করলেন। ফলে তারা আল-আজিজের রাজত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় করার কাজে লিপ্ত হলেন, অন্যদিকে আল-আফদাল তাদের থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন: ৫৯০ হিজরি সনে আল-আজিজ এবং তার ভাই আল-আফদালের মধ্যে বিদ্বেষ ঘনীভূত হয়, তাদের মন বিষিয়ে ওঠে এবং আল-আফদালের অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আল-আজিজ মিশরের সেনাবাহিনী নিয়ে কায়রো থেকে বের হলেন এই উদ্দেশ্যে যে, তিনি শাম অঞ্চল তার ভাই আল-আফদালের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন। "আল-আফদাল তার ভাই আল-আজিজের নিকট পত্র প্রেরণের এবং তার সহানুভূতি অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করলেন; কিন্তু তার উজির ইবনুল আসির এবং তার একদল সঙ্গী তাকে তা করতে বাধা দিলেন এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকেই তার জন্য উত্তম বলে তুলে ধরলেন।" তিনি আরও বলেন: "৫৯২ হিজরি সনে মালিক আল-আফদাল দামেস্কে পৌঁছালেন, সৈন্যরা নিজ নিজ এলাকায় ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল এবং আল-আফদাল বৈরাগ্য অবলম্বন করলেন ও ইবাদতে নিমগ্ন হলেন। রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয়াদি তার উজির জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসিরের ওপর ন্যস্ত হলো। ফলে তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে ভেঙে পড়ল এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর সংখ্যা বেড়ে গেল।"

এই যুগের ঐতিহাসিকগণ একমত যে, জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসির তার মন্ত্রিত্বের সময় রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন এবং তার কারণেই সালতানাতের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ উত্থাপন করছি: প্রথমত: তিনি মালিক আল-আফদাল এবং মিশরের শাসক তার ভাই আল-আজিজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করতেন। যখনই আল-আফদাল তার ভাইয়ের সাথে সমঝোতা করতে এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইচ্ছা পোষণ করতেন, জিয়াউদ্দিন তাকে বিমুখ করতে এবং বৈরিতা বজায় রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। অথচ তৎকালীন মুসলিম উম্মাহর পরিস্থিতি ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও সংহতি বজায় রাখার দাবি রাখছিল; কারণ ক্রুসেডাররা তাদের সাথে সর্বদা দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল এবং তারা মুসলমানদের বিভক্তি ও মতপার্থক্যের সুযোগের অপেক্ষায় থাকত যাতে করে তারা দেশ আক্রমণ করতে পারে এবং এর সীমান্তগুলো দখল করে নিতে পারে। দ্বিতীয়ত: তিনি আল-কাদি আল-ফাদিলকে ক্রোধান্বিত করার এবং তার দামেস্ক ছেড়ে মিশরে চলে যাওয়ার কারণ ছিলেন। যদিও এই কাদি-ই তাকে রাজন্যবর্গের সান্নিধ্যে নিয়ে এসেছিলেন এবং সুলতান সালাহউদ্দিনের সাথে যোগাযোগের পথ উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولسنا ندري أكان ذلك راجعا إلى المحيط الذي كان يعيش فيه ضياء الدين، وهو محيط مضطرب دائم الاصطخاب كثير المنازعات والمشاكل، أم كان يرجع إلى خلق فيه؛ فإنا نلمح في كتابته آثار الكبرياء والصلف والاعتداد بالنفس، وهذا خلق ينأى بصاحبه كثيرا عن الحكمة والاتزان والنظر إلى الأمور بعين الإنصاف ووزنها بميزان الروية والعقل.

‌‌مؤلفات ابن الأثير:

ذكر ابن خلكان لابن الأثير عدة مؤلفات، وصدّر كلامه عليها بقوله «1» :

«ولضياء الدين من التصانيف الدالة على غزارة فضله وتحقيق نبله» .

ونحن نذكر لك ما ذكره ابن خلكان وغيره من مصنفاته؛ فنقول:

1- أشهر هذه المؤلفات هو كتاب «المثل السائر، في أدب الكاتب والشاعر» ، وهو كتابنا هذا الذي نقدمه الآن؛ ويقول عنه ابن خلكان «2» : «وهو في مجلدين جمع فيه فأوعى، ولم يترك شيئا يتعلق بفن الكتاب إلا ذكره» .

2- ومن مؤلفاته كتاب «الوشي المرقوم، في حل المنظوم» ، ويقول عنه ابن خلكان «3» : «وهو مع وجازته في غاية الحسن والإفادة» ، وقد طبع هذا الكتاب في عام 1298 من الهجرة بمطبعة ثمرات الفنون بمدينة بيروت؛ ويقول المؤلف في أوله: «ولما ألفت كتاب المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر قصرت فصلا منه على ذكر هذه الطريقة «4» وأتيت فيها بالمعاني الجليلة التي تفتقر إلى الفهم الدقيق، غير أني أحلت في مواضع منه على هذا الكتاب؛ وجعلت لذلك رمز الاختصار ولهذا مكاشفة الإسهاب … وبنيته على مقدمة وثلاثة فصول: الفصل الأول، في حل الشعر؛ الفصل الثاني، في حل آيات القرآن؛ الفصل الثالث، في حل الأخبار النبوية» اه.
আমরা জানি না যে এটি কি জিয়াউদ্দীন যে পরিবেশে বাস করতেন তার কারণে ছিল—যা ছিল একটি অশান্ত, সর্বদা কোলাহলপূর্ণ এবং বিবাদ ও সমস্যায় জর্জরিত পরিবেশ—নাকি এটি তার স্বভাবজাত কোনো চরিত্রের কারণে ছিল। কেননা আমরা তার লেখনীতে অহংকার, দম্ভ এবং আত্মমুগ্ধতার ছাপ দেখতে পাই; আর এটি এমন এক স্বভাব যা তার অধিকারীকে প্রজ্ঞা, ভারসাম্য এবং বিষয়গুলোকে ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখা ও বিচার-বুদ্ধি ও ধীরস্থিরতার মানদণ্ডে সেগুলো পরিমাপ করা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়।

‌‌ইবনুল আসীরের রচনাবলি:

ইবনে খাল্লিকান ইবনুল আসীরের বেশ কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর আলোচনার শুরুতে বলেছেন «১» :

«জিয়াউদ্দীনের এমন কিছু রচনা রয়েছে যা তার পাণ্ডিত্যের প্রাচুর্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের সুনিশ্চিত পরিচায়ক» ।

ইবনে খাল্লিকান ও অন্যান্যরা তার যেসব রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, আমরা আপনার কাছে সেগুলো বর্ণনা করছি; আমরা বলছি:

১- এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ‘আল-মাসালুস সা’য়ির ফি আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ের’ (লেখক ও কবির অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রচলিত দৃষ্টান্ত), যা আমাদের এই বর্তমান উপস্থাপিত গ্রন্থ; ইবনে খাল্লিকান এটি সম্পর্কে বলেছেন «২» : «এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত, যাতে তিনি প্রচুর তথ্য সন্নিবেশ করেছেন এবং লিখনশৈলী সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই উল্লেখ করা বাদ দেননি» ।

২- তার রচনার মধ্যে আরেকটি হলো ‘আল-ওয়াশিউল মারকুম ফি হাল্লিল মানজুম’ (কাব্য নিরসনে অলঙ্কৃত সূচিকর্ম) নামক গ্রন্থটি। ইবনে খাল্লিকান এটি সম্পর্কে বলেছেন «৩» : «সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত সুন্দর ও উপকারী» । এই বইটি ১২৯৮ হিজরিতে বৈরুত শহরের সামারাতুল ফুনুন ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে। লেখক এর শুরুতে বলেছেন: «আমি যখন আল-মাসালুস সা’য়ির ফি আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ের গ্রন্থটি রচনা করি, তখন এর একটি পরিচ্ছেদ এই পদ্ধতির «৪» বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করি এবং সেখানে অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ অর্থ নিয়ে আসি যা সূক্ষ্ম উপলব্ধির দাবি রাখে। তবে আমি সেই বইয়ের বিভিন্ন স্থানে এই গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছি; সেখানে আমি সংক্ষেপের নীতি অবলম্বন করেছি আর এখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি … আমি একে একটি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ, কবিতার গদ্যরূপ প্রসঙ্গে; দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, কুরআনের আয়াতের প্রয়োগ প্রসঙ্গে; তৃতীয় পরিচ্ছেদ, নববী হাদিসের প্রয়োগ প্রসঙ্গে» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
3- ومن مؤلفاته كتاب «المعاني المخترعة، في صناعة الإنشاء» ، يقول عنه ابن خلكان «1» : «وهو أيضا نهاية في بابه» .

4- ومن مؤلفاته مجموع اختار فيه شعر أبي تمام والبحتري وديك الجن والمتنبي؛ ويقول عنه ابن خلكان: وهو في مجلد واحد كبير، وحفظه مفيد؛ وقال أبو البركات ابن المستوفي في تاريخ إربل: نقلت من خطه في آخر كتابه المختار ما مثاله:

تمتّع به علقا نفيسا فإنّه اخ- … - تيار بصير بالأمور حكيم

أطاعته أنواع البلاغة فاهتدى … إلى الشّعر من نهج إليه قويم

5- ومن مؤلفاته «ديوان ترسّل» ويقول عنه ابن خلكان: وهو في عدة مجلدات؛ وذكر المؤلف نفسه في كتاب المثل السائر أنّ رسائله تبلغ كثيرا من المجلدات.

6- ومن مؤلفاته «المختار من ديوان الترسّل» ويقول عنه ابن خلكان:

«وهو في مجلد واحد» .

هذا ما ذكره ابن خلكان من مؤلفاته، وابن خلكان معاصر لابن الأثير، وإن لم يقابله، وهو يقول في شأنه «2» : «ولقد ترددت إلى الموصل من إربل أكثر من عشر مرات، وهو مقيم بها، وكنت أود الاجتماع به لآخذ عنه شيئا لما كان بينه وبين الوالد رحمه الله تعالى من المودة الأكيدة، فلم يتفق ذلك، ثم فارقت بلاد المشرق، وانتقلت إلى الشام، وأقمت به مقدار عشر سنين، ثم انتقلت إلى الديار المصرية، وهو في قيد الحياة، ثم بلغني بعد ذلك خبر وفاته وأنا بالقاهرة» اه.

ومن مؤلفاته التي لم يذكرها ابن خلكان، ووقفنا عليها ما نذكره لك:

7- منها كتاب «الجامع الكبير، في صناعة المنظوم والمنثور» وهو
৩- তাঁর রচনাবলির অন্যতম হলো ‘আল-মাআনি আল-মুখতারাআ, ফি সিনাআতিল ইনশা’ গ্রন্থটি, যার সম্পর্কে ইবনে খাল্লিকান «১» বলেন: “এটিও এর নিজ ক্ষেত্রে এক অনন্য সৃষ্টি।”

৪- তাঁর রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে একটি কাব্য সংকলন যাতে তিনি আবু তাম্মাম, আল-বুহতুতি, দিক আল-জিন্ন এবং আল-মুতানাব্বির কবিতা নির্বাচন করেছেন; ইবনে খাল্লিকান এর সম্পর্কে বলেন: এটি একটি বৃহৎ খণ্ডে সমাপ্ত এবং এটি মুখস্থ রাখা উপকারী; আবু আল-বারাকাত ইবনুল মুসতাওফি ‘তারিখে ইরবিল’-এ বলেন: আমি তাঁর ‘আল-মুখতার’ গ্রন্থের শেষে তাঁর স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে যা নকল করেছি তার উদাহরণ হলো:

মূল্যবান সম্পদ হিসেবে এটি উপভোগ করো, কারণ এটি হচ্ছে— … বিষয়াবলির প্রতি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির নির্বাচন

অলঙ্কারশাস্ত্রের সকল শাখা তাঁর অনুগত হয়েছে, ফলে তিনি— … কবিতার এক সুদৃঢ় ও সঠিক পথের দিশা পেয়েছেন

৫- তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো ‘দিওয়ানে তারাসসুল’ (পত্রাবলি সংকলন) এবং ইবনে খাল্লিকান এর সম্পর্কে বলেন: এটি কয়েক খণ্ডে বিভক্ত; এবং লেখক নিজে ‘আল-মাছালুস সাইর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রচিত পত্রাবলি বহু খণ্ডে পৌঁছেছে।

৬- তাঁর রচনাবলির অন্যতম হলো ‘আল-মুখতার মিন দিওয়ানিত তারাসসুল’ এবং ইবনে খাল্লিকান এর সম্পর্কে বলেন:

“এটি এক খণ্ডে সমাপ্ত।”

এটিই ইবনে খাল্লিকান তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন। ইবনে খাল্লিকান ইবনুল আসিরের সমসাময়িক ছিলেন, যদিও তাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি তাঁর ব্যাপারে বলেন «২»: “আমি ইরবিল থেকে দশবারেরও বেশি সময় মোসেলে যাতায়াত করেছি যখন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। আমার মরহুম পিতার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সাথে তাঁর সুগভীর সখ্যতা থাকার কারণে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর কাছ থেকে কিছু শিক্ষা লাভ করার প্রবল ইচ্ছা আমার ছিল, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরপর আমি প্রাচ্যের দেশগুলো ত্যাগ করে সিরিয়ায় চলে আসি এবং সেখানে প্রায় দশ বছর অবস্থান করি। তারপর আমি মিসরে চলে আসি যখন তিনি তখনও জীবিত ছিলেন। পরবর্তীতে কায়রোতে থাকা অবস্থায় আমি তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পাই।” উক্তি সমাপ্ত।

ইবনে খাল্লিকান যেসব রচনাবলির কথা উল্লেখ করেননি এবং যেগুলো আমরা অবগত হয়েছি, তা আপনার নিকট উল্লেখ করছি:

৭- তার মধ্যে একটি হলো ‘আল-জামি আল-কাবির, ফি সিনাআতিল মানযুম ওয়াল মানসুর’ গ্রন্থটি এবং এটি...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقول في مفتتحه: «أما بعد فلما كان تأليف الكلام مما لا يوقف على غوره، ولا يعرف كنه أمره، إلا بالاطّلاع على علم البيان، الذي هو لهذه الصناعة بمنزلة الميزان؛ احتجت حين سدوت نبذة من الكلام المنثور، إلى معرفة هذا العلم المذكور، لشرعت عند ذلك في تطلبه، والبحث عن تصانيفه وكتبه، فلم أترك في تحصيله سبيلا إلا نهجته، ولا غادرت في إدراكه بابا إلا ولجته، حتى اتّضح عندي باديه وخافيه، وانكشفت لي أقوال الأئمة المشهورين فيه؛ كأبي الحسن علي بن عيسى الرماني، وأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي، وأبي عثمان الجاحظ، وقدامة بن جعفر الكاتب، وأبي هلال العسكري، وأبي العلاء محمد بن غانم المعروف بالغانمي، وأبي محمد عبد الله بن سنان الخفاجي، وغيرهم ممن له كتاب يشار إليه، وقول تعقد الخناصر عليه؛ ثم لما مضى على ذلك ملاوة من الدهر، وانقضى دونه برهة من العمر، لمحت في أثناء القرآن الكريم من هذا النحو أشياء ظريفة، ووجدت في مطاويه من هذا النوع نكتا دقيقة لطيفة، فعرضتها عند ذلك على الأقسام التي ذكرها هؤلاء العلماء وشرحوها، والأصناف التي بينوها في تصانيفهم وأوضحوها؛ فألفيتهم قد غفلوا عنها، ولم ينبهوا على شيء منها، فكان ذلك باعثا لي على تصفح آيات القرآن العزيز والكشف عن سره المكنون؛ فاستخرجت منه حينئذ ثلاثين ضربا من علم البيان، لم يأت به أحد من أولئك العلماء الأعيان، وكان ما ظفرت به أصل هذا الفن وعمدته، وخلاصة هذا العلم وزبدته» .

وفي دار الكتب المصرية نسختان خطيتان من هذا الكتاب: إحداهما:

مكتوبة في عام 1314 من الهجرة، وهي تحت رقم (370 بلاغة) ، والثانية مكتوبة في عام 1205 من الهجرة، وهي تحت رقم (166 مجاميع م) ؛ وفي مكتبتي الخاصة قطعة من هذا الكتاب.

وفي دار الكتب نسخة من كتاب «البديع» منسوبة إلى المبارك أبي السعادات مجد الدين بن محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني الجزري؛ وهو أخو ضياء الدين نصر الله بن الأثير صاحب المثل السائر؛ وأبو السعادات المبارك هو مؤلف كتاب «النهاية، في غريب الحديث
তিনি এর প্রারম্ভে বলেন: «অতঃপর, যেহেতু বাক্য বিন্যাস এমন একটি বিষয় যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না এবং এর মূল রহস্য উপলব্ধি করা যায় না অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমুল বয়ান) সম্পর্কে অবগত হওয়া ব্যতীত, যা এই শিল্পের জন্য মানদণ্ড স্বরূপ; আমি যখন গদ্য সাহিত্যের কিছু অংশ রচনা করতে শুরু করলাম, তখন উল্লেখিত এই বিদ্যাটি জানার প্রয়োজন অনুভব করলাম। ফলে আমি এটি অন্বেষণ করতে এবং এর সংকলন ও গ্রন্থসমূহ অনুসন্ধান করতে আরম্ভ করলাম। এটি অর্জনে আমি এমন কোনো পথ ছাড়িনি যা আমি অনুসরণ করিনি, এবং এটি অনুধাবনে এমন কোনো প্রবেশদ্বারে বাকি রাখিনি যেখান দিয়ে আমি প্রবেশ করিনি। পরিশেষে এর প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়গুলো আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং এই শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমামগণের বক্তব্যসমূহ আমার সামনে উন্মোচিত হলো; যেমন আবুল হাসান আলী বিন ঈসা আল-রুম্মানী, আবুল কাসিম হাসান বিন বিশর আল-আমিদী, আবু উসমান আল-জাহিজ, কুদামা বিন জাফর আল-কাতিব, আবু হিলাল আল-আসকারি, আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন গানিম (যিনি আল-গানিমি নামে পরিচিত), আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন সিনান আল-খাফাজি এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাঁদের রচিত কিতাবসমূহ প্রনিধানযোগ্য এবং যাঁদের বক্তব্যসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়। এরপর যখন দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং জীবনের একটি বড় অংশ ফুরিয়ে গেল, তখন আমি পবিত্র কুরআনের চরণে এই ধরণের কিছু চমৎকার বিষয় লক্ষ্য করলাম এবং এর ভাঁজে ভাঁজে এই শাস্ত্রের কিছু সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় রহস্য খুঁজে পেলাম। তখন আমি এই বিষয়গুলোকে সেই সকল শ্রেণির সামনে উপস্থাপন করলাম যা এই সকল আলেমগণ উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেই সকল প্রকারের সাথে তুলনা করলাম যা তাঁরা তাঁদের সংকলনসমূহে বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু আমি দেখলাম যে, তাঁরা এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলেন এবং এর কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি। আর এটিই আমাকে মহাগ্রন্থ কুরআনের আয়াতসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং এর সুপ্ত রহস্য উন্মোচন করতে উদ্বুদ্ধ করল। ফলস্বরূপ, আমি তখন তা থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের ত্রিশটি এমন প্রকরণ বের করলাম যা সেই সকল বরেণ্য আলেমদের কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি। আর আমি যা লাভ করেছি তা-ই হলো এই শিল্পের মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ এবং এই বিদ্যার সারসংক্ষেপ ও নির্যাস।» .

মিশরের দারুল কুতুবে (জাতীয় গ্রন্থাগার) এই কিতাবটির দুটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে: একটি হলো:

হিজরি ১৩১৪ সালে লিখিত, যা (৩৭০ বালাগাত) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে। দ্বিতীয়টি হিজরি ১২০৫ সালে লিখিত, যা (১৬৬ মাজামি' মিম) নম্বরের অধীনে রয়েছে। আর আমার নিজস্ব গ্রন্থাগারে এই কিতাবটির একটি খণ্ডাংশ রয়েছে।

দারুল কুতুবে ‘আল-বাদি’ নামক কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা মুবারক আবুস সাআদাত মাজদুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-শাইবানি আল-জাজারির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত; তিনি ‘আল-মাসালুস সায়ির’ গ্রন্থের প্রণেতা জিয়াউদ্দিন নাসরুল্লাহ বিন আল-আসীরের ভাই। আর আবুস সাআদাত মুবারক হলেন ‘আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস’ গ্রন্থের রচয়িতা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والأثر» ومؤلف كتاب «جامع الأصول، في أحاديث الرسول» ولم يعرف عنه أن له في البلاغة كتابا، فإذا صحّ أن هذا الكتاب لأحد أبناء الأثير فالغالب أنه لضياء الدين نصر الله الذي نترجمه.

‌‌نقد المثل السائر وشروحه:

ولم يكد كتاب «المثل السائر، في أدب الكاتب والشاعر» يظهر حتى تداوله الناس وكتبوه، وأخذوا في التقريظ له، والانتفاع به، وذاع أمره في البلاد، حتى نقله الناس إلى بغداد، وفيها الفقيه الأديب الشيخ عز الدين أبو حامد عبد الحميد بن هبة الله بن محمد بن الحسين، المعروف بابن أبي الحديد، وهو شديد الاتصال بالوزير مؤيد الدين محمد أبي طالب بن أحمد بن محمد العلقمي، فلما رأى تقريظ الناس للكتاب واشتغالهم بدراسته وتهافتهم على انتساخه تصدّى لمؤاخذته والرد عليه، وعنته، وجمع هذه المؤاخذات في كتاب سماه: «الفلك الدائر، على المثل السائر» ، وهو يقول في مفتتح هذا الكتاب: «وبعد؛ فقد وقفت على كتاب نصر الدين «1» بن محمد الموصلي المعروف بابن الأثير الجزري المسمّى كتاب «المثل السائر، في أدب الكاتب والشاعر» ؛ فوجدت فيه المحمود والمقبول، والمردود والمرذول؛ أما المحمود منه فإنشاؤه وصناعته، فإنه لا بأس بذلك؛ إلا في الأقل النادر، وأما المردود منه فنظره وجدله واحتجاجه واعتراضه؛ فإنه لم يأت في ذلك في الأكثر الأغلب بما يلتفت إليه، ولا بما يعتمد عليه؛ فحداني على تتبعه ومناقضته في هذه المواضع النظرية أمور: منها إزراؤه «2» على الفضلاء؛ وغضه منهم، وعيبه لهم، وطعنه عليهم؛ فإن في ذلك ما يدعو إلى الغيرة عليهم، والانتصار لهم ومنها إفراطه في الإعجاب بنفسه، والتبجح برأيه،
...এবং আল-আসার, এবং ‘জামেউল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল’ গ্রন্থের লেখক। অলঙ্কারশাস্ত্রে তাঁর কোনো গ্রন্থ আছে বলে জানা যায় না। সুতরাং যদি এটি সঠিক হয় যে এই গ্রন্থটি ইবনুল আসিরের পুত্রদের মধ্য থেকে কারো, তবে প্রবল ধারণা যে এটি যিয়াউদ্দীন নাসরুল্লাহর, যাঁর জীবনী আমরা বর্ণনা করছি।

‌‌আল-মাসালুস সায়ির-এর সমালোচনা ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:

‘আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ির’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হতে না হতেই মানুষ তা আদান-প্রদান ও লিপিভুক্ত করতে শুরু করল। তারা এর প্রশংসা করতে এবং এর থেকে উপকৃত হতে লাগল। বিভিন্ন জনপদে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, এমনকি মানুষ এটি বাগদাদে নিয়ে এল। সেখানে ছিলেন ফকিহ ও সাহিত্যিক শায়খ ইযযুদ্দীন আবু হামিদ আব্দুল হামিদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, যিনি ইবনে আবিল হাদিদ নামে পরিচিত। তিনি উজির মুয়াইয়িদুদ্দীন মুহাম্মদ আবু তালিব বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-আলকামির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। যখন তিনি গ্রন্থটির প্রতি মানুষের প্রশংসা, এর অধ্যয়নে তাদের একাগ্রতা এবং এটি অনুলিপি করার প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ দেখলেন, তখন তিনি এর ভুলত্রুটি ধরা ও তার প্রতিবাদে লিপ্ত হলেন। তিনি এই সমালোচনাগুলোকে একটি গ্রন্থে একত্রিত করলেন, যার নাম দিলেন: ‘আল-ফালাকুদ্দায়ির আলাল মাসালিস সায়ির’। তিনি এই গ্রন্থের শুরুতেই বলেন: “অতঃপর; আমি ইবনুল আসির আল-জাযারি নামে পরিচিত নাসরুদ্দীন «১» বিন মুহাম্মদ আল-মাওসিলির ‘আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ির’ নামক গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেছি; সেখানে আমি প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য বিষয় যেমন পেয়েছি, তেমনি বর্জনীয় ও তুচ্ছ বিষয়ও পেয়েছি। প্রশংসনীয় অংশ হলো এর গদ্যশৈলী ও নির্মাণশৈলী, কারণ এতে কোনো সমস্যা নেই; কেবল বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত। আর বর্জনীয় অংশ হলো এর তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিতর্ক, যুক্তিপ্রদর্শন ও আপত্তিগুলো; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু পেশ করতে পারেননি যা মনোযোগের দাবি রাখে অথবা যার ওপর নির্ভর করা যায়। এই তাত্ত্বিক স্থানগুলোতে তাঁর ভুল ধরা ও বিরোধিতা করতে আমাকে কয়েকটি বিষয় উদ্বুদ্ধ করেছে: তন্মধ্যে একটি হলো গুণীজনদের প্রতি তাঁর অবজ্ঞা «২», তাঁদের খাটো করা, তাঁদের দোষারোপ করা এবং তাঁদের আক্রমণ করা; কারণ এসব বিষয় তাঁদের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে এবং তাঁদের পক্ষে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে। অন্যটি হলো তাঁর নিজের প্রতি অতিরিক্ত মুগ্ধতা এবং নিজের মতামতের প্রতি অহমিকা প্রদর্শন...”
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
والتقريظ لمعرفته وصناعته، وهذا عيب قبيح يحبط عمل الإنسان، ويوجب المقت من الله والعباد؛ ومنها أنه قد أومأ مرارا في كتابه إلى عتاب دهره، إذ لم يعطه على قدر استحقاقه، فأردنا أن نعرّفه أن الأرزاق ليست على مقادير الاستحقاق، وأن الرزق مقسوم لا يجلبه الفضل، ولا يرده النقص؛ ومنها أن جماعة من أكابر الموصل قد حسن ظنهم في هذا الكتاب جدا، وتعصبوا له حتى فضلوه على أكثر الكتب المصنفة في هذا الفن، وأوصلوا منه نسخا معدودة إلى مدينة السلام (بغداد) وأشاعوه، وتداوله كثير من أهلها؛ فاعترضت عليه بهذا الكتاب، وتقربت به إلى الخزانة الشريفة المقدسة النبوية الإمامية المستنصرية، عمر الله تعالى بعمارتها أندية الفضل ورباعه وأطال بطول بقاء مالكها يد العلم وباعه، وجعل ملائكة السماء أنصاره وأشياعه، كما جعل ملوك الأرض أعوانه وأتباعه؛ وكان أكثر قصدي في ذلك أن يعلم مصنف هذا الكتاب ورؤساء بلدته أن من أصاغر خدم هذه الدولة الشريفة- ولا أعني نفسي فالعجب مبير، ولا أنبىء عني فمثلي كثير (ثم أخذ في مديح رجال مملكته بما يطول) - وهذا الكتاب وقع إليّ في غرة ذي الحجة من سنة ثلاث وثلاثين وستمائة؛ فتصفحته أوّلا أولا في ضمن الأشغال الديوانية التي أنا بصددها، وعلقت هذا الكتاب في أثناء تصفحه على المواضع المستدركة فيه إلى نصف الشهر المذكور فكان مجموع مطالعتي له واعتراضي عليه خمسة عشر يوما، ولم أعاود النظر فيه دفعة ثانية، وربما يسنح لي عند المعاودة نكت أخرى، وإن وقع ذلك ألحقتها، وقد سميت هذا الكتاب «الفلك الدائر، على المثل السائر» ؛ لأنه شاع في كلامهم وكثر في استعمالهم أن يقولوا لما باد ودثر: قد دار عليه الفلك، كأنهم يريدون أنه قد طحنه ومحا صورته، ومن ذلك قول أبي العتاهية:

إن كنت تنشدهم فإنّهم … همدوا ودار عليهم الفلك

وأنا أسأل الله المعونة والتوفيق، وأستمنحه الهداية إلى سواء الطريق؛ بمنّه وكرمه» اه كلامه بحروفه.
এবং নিজের জ্ঞান ও শিল্পনৈপুণ্যের প্রশংসা করা; এটি একটি কুৎসিত ত্রুটি যা মানুষের আমলকে বিনষ্ট করে দেয় এবং আল্লাহ ও বান্দাদের নিকট ঘৃণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি কারণ হলো, তিনি তাঁর গ্রন্থে বারবার তাঁর সময়ের ভাগ্যের প্রতি অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেহেতু তা তাঁকে তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়নি। তাই আমরা তাঁকে জানাতে চেয়েছি যে, রিজিক যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী হয় না এবং রিজিক বণ্টিত, যা শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা অর্জিত হয় না এবং কমতি দ্বারা প্রতিহত হয় না। এর মধ্যে আরেকটি বিষয় হলো, মোসুলের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি এই গ্রন্থটির প্রতি অত্যন্ত সুধারণা পোষণ করেছেন এবং এর প্রতি এতটাই পক্ষপাতিত্ব করেছেন যে তারা একে এই শাস্ত্রের অধিকাংশ গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তারা এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) পৌঁছে দিয়েছেন এবং এটি প্রচার করেছেন, ফলে সেখানকার অনেক অধিবাসী এটি আদান-প্রদান করেছে। তাই আমি এই গ্রন্থের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করেছি এবং এর দ্বারা সম্মানিত, পবিত্র, নববী, ইমামি, মুস্তানসিরিয়া কুতুবখানার নৈকট্য লাভ করেছি। আল্লাহ তাআলা এর আবাদের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের মজলিস ও আবাসস্থলসমূহকে সমৃদ্ধ করুন, এবং এর মালিকের দীর্ঘজীবনের মাধ্যমে ইলমের হাত ও তার প্রসারকে দীর্ঘায়িত করুন। তিনি আকাশের ফেরেশতাদের তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারী করুন, যেভাবে তিনি জমিনের রাজাদের তাঁর সহায়ক ও অনুগামী করেছেন। এতে আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যেন এই গ্রন্থের রচয়িতা এবং তাঁর শহরের নেতৃবৃন্দ জানতে পারেন যে, এই সম্মানিত রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাদেমদের মধ্য হতে—আমি নিজেকে বোঝাচ্ছি না, কারণ আত্মঅহংকার ধ্বংসাত্মক, আর আমি নিজের কথা বলছি না কেননা আমার মতো আরও অনেকে আছে (অতঃপর তিনি তাঁর রাজ্যের ব্যক্তিদের প্রশংসায় দীর্ঘ বর্ণনা দিলেন)—আর এই বইটি আমার হাতে এসেছে ছয়শ তেত্রিশ হিজরীর জিলহজ মাসের শুরুতে। আমি আমার ওপর অর্পিত দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেই এটি একে একে আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। পাঠ চলাকালীন উক্ত মাসের অর্ধেক পর্যন্ত আমি এতে সংশোধনযোগ্য স্থানগুলোর ওপর টীকা লিখেছি। সুতরাং আমার এই পাঠ এবং এর ওপর প্রতিবাদের মোট সময় ছিল পনের দিন। আমি দ্বিতীয়বার এতে দৃষ্টিপাত করিনি, হয়তো পুনরায় দেখার সময় আমার কাছে আরও সূক্ষ্ম বিষয় প্রকাশ পেতে পারে, আর তেমনটি ঘটলে আমি তা যুক্ত করে দেব। আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি 'আল-ফালাক আদ-দাইর আলাল মাসালিস সা’ইর'; কারণ মানুষের কথায় এটি প্রচলিত এবং তাদের ব্যবহারে এটি বহুল ব্যবহৃত যে, তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিলীন হয়ে যাওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে বলে থাকে: 'এর ওপর কালচক্র আবর্তিত হয়েছে', যেন তারা বোঝাতে চায় যে, এটি তাকে পিষে ফেলেছে এবং তার অস্তিত্ব মিটিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবুল আতাহিয়ার উক্তি হলো:

যদি তুমি তাদের সন্ধান করো, তবে তারা … নিথর হয়ে গেছে এবং তাদের ওপর কালচক্র আবর্তিত হয়েছে।

আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং তাঁর করুণা ও দানে সরল পথের হেদায়েত কামনা করছি। তাঁর কথা আক্ষরিকভাবে এখানেই শেষ হলো।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২০)
ولا أحبّ أن أعلّق على هذا الكلام، ولكني أقول: إني لما قرأت الكتاب- وكنت أفكر في نشره بأسفل صفحات هذا الكتاب عند مواطن النقد- لم أجد فيه ما يبعث على تحقيقه وبذل الجهد فيه.

ولم يكتف ابن أبي الحديد بهذا الكتاب، بل هو ينتهز الفرصة في شرحه على نهج البلاغة؛ فينقل كلام ابن الأثير ويعترض عليه، أسمع إليه يقول فيه (1- 441) : «وأنا أحكي ههنا كلام نصر الله بن محمد بن الأثير الجزري في كتابه المسمى بالمثل السائر في الكناية والتعريض، وأذكر ما عندي فيه» اه، ثم هو ينقل كلاما طويلا يقع في نسخة المثل السائر التي نقدمها لك اليوم في الجزء الثاني (من 180 إلى 203) ثم يأخذ بعد ذلك في نقد كلامه نقدا يرجع إلى العبارة وإلى طريق عرضها، ولا يرجع إلى لبابها وحقيقتها، مثل أن يقول: «إنه (يعني ابن الأثير) اختار حد الكناية، وشرع يبرهن على التحديد، والحدود لا يبرهن عليها، ولا هي من باب الدعاوى التي تحتاج إلى الدولة؛ لأن من وضع لفظ الكناية لمفهوم مخصوص لا يحتاج إلى دليل، كمن وضع لفظ الجدار للحائط لا يحتاج إلى دليل» اه، وأنت- أيها القارئ- لو رجعت إلى كلام ابن الأثير وجدت كلامه يتلخص في أن القوم الذين صنفوا في علم البيان من قبله قد عرّفوا الكناية بتعريف، وأنه لا يرتضي هذا التعريف، وهو يرى تعريفها بتعريف آخر، ويرى تعريفه خيرا من تعريف السابقين؛ وهو يبين أولا ما ينطبق عليه تعريف السابقين، وما ينطبق عليه تعريفه هو؛ ثم يبرهن في أثناء ذلك على دعواه أن تعريفه خير من تعريف غيره؛ فهذا البرهان- إن صحّ أن يكون برهانا بالمعنى المعروف في علم الجدل- ليس على الحد كما زعم ابن أبي الحديد، ولكنه على دعوى ادّعاها، إن صراحة وإن ضمنا، وهي أن ما ارتضاه من التعريف خير مما ذكره المتقدمون؛ والواقع أن كتاب «الفلك الدائر» يبدو لمن يتصفحه وهو منصف أن روح التحامل هي التي أملته على مؤلفه، وأنه كتب مع رغبة ملحّة في النّيل من ابن الأثير والغضّ من عمله. وليس معنى هذا الكلام أن ابن الأثير قد أصاب في الكتاب كله، وأنه لا مطعن عليه، ولكن الذي نريد أن نقرره في
আর আমি এই কথার ওপর কোনো মন্তব্য করতে চাই না, তবে আমি বলি যে: যখন আমি কিতাবটি পড়েছি—এবং আমি এই কিতাবের টীকা হিসেবে সমালোচনার স্থানগুলোতে এটি প্রকাশের কথা ভাবছিলাম—তখন আমি এতে এমন কিছু পাইনি যা এর তাহকীক এবং এতে শ্রম ব্যয় করার প্রেরণা জোগায়।

এবং ইবন আবিল হাদীদ কেবল এই কিতাবেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি নাহজুল বালাগা-এর শরহ্ রচনার সময়ও সুযোগ গ্রহণ করেছেন; সেখানে তিনি ইবনুল আসীরের কথা উদ্ধৃত করেন এবং তার প্রতিবাদ করেন। শুনুন তিনি সেখানে (১-৪৪১) কী বলছেন: «আমি এখানে নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আসীর আল-জাযারীর কিতাব আল-মাসালুস সায়ির-এর রূপক (কিনায়াহ) ও পরোক্ষ ইঙ্গিত (তা'রীদ) বিষয়ক বক্তব্য বর্ণনা করছি এবং এ বিষয়ে আমার কাছে যা আছে তা উল্লেখ করছি» সমাপ্ত। অতঃপর তিনি এক দীর্ঘ বক্তব্য উদ্ধৃত করেন যা আল-মাসালুস সায়ির-এর সেই পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান যা আজ আমরা আপনার সামনে দ্বিতীয় খণ্ডে (১৮০ থেকে ২০৩ পৃষ্ঠায়) পেশ করছি। এরপর তিনি তার বক্তব্যের সমালোচনা করতে শুরু করেন, যে সমালোচনা মূলত শব্দপ্রয়োগ এবং তা উপস্থাপনের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে, বক্তব্যের সারমর্ম ও হাকীকতের ওপর নয়। যেমন তিনি বলেন: «তিনি (অর্থাৎ ইবনুল আসীর) কিনায়াহ-এর একটি সংজ্ঞা চয়ন করেছেন এবং সেই সংজ্ঞায়িতকরণের ওপর প্রমাণ পেশ করতে শুরু করেছেন; অথচ সংজ্ঞার ওপর প্রমাণ পেশ করা হয় না এবং এটি এমন কোনো দাবির অন্তর্ভুক্ত নয় যার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে; কারণ যে ব্যক্তি একটি বিশেষ ধারণার জন্য কিনায়াহ শব্দটি নির্ধারণ করেছেন তার কোনো দলীলের প্রয়োজন নেই, যেমনটি যে ব্যক্তি দেয়ালের জন্য জিদার শব্দটি নির্ধারণ করেছেন তার কোনো দলীলের প্রয়োজন হয় না» সমাপ্ত। আর আপনি—হে পাঠক—যদি ইবনুল আসীরের বক্তব্যের দিকে ফিরে তাকান, তবে দেখতে পাবেন যে তার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো এই যে, তার পূর্বে যারা ইলমে বয়ান নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা কিনায়াহ-এর একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন, এবং তিনি সেই সংজ্ঞায় সন্তুষ্ট নন। তিনি একে অন্য একটি সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করতে চান এবং তার নিজের দেওয়া সংজ্ঞাকে পূর্ববর্তীদের সংজ্ঞার চেয়ে উত্তম মনে করেন। তিনি প্রথমে স্পষ্ট করেন যে পূর্ববর্তীদের সংজ্ঞা কোন বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং তার নিজের সংজ্ঞা কোন বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়; এরপর তিনি আলোচনার মাঝে এই দাবি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে তার সংজ্ঞাটি অন্যের সংজ্ঞার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং এই প্রমাণ—যদি একে বিতর্কশাস্ত্রের প্রচলিত অর্থে প্রমাণ বলা সঠিক হয়—তা সংজ্ঞার ওপর নয় যেমনটি ইবন আবিল হাদীদ ধারণা করেছেন, বরং এটি তার একটি দাবির ওপর, চাই তা স্পষ্টভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে, আর তা হলো—তিনি যে সংজ্ঞাটি পছন্দ করেছেন তা পূর্ববর্তীদের উল্লিখিত সংজ্ঞার চেয়ে উত্তম। এবং বাস্তবতা এই যে, আল-ফুলকুল দায়ির কিতাবটি যে ব্যক্তি নিরপেক্ষভাবে পাঠ করবেন তার কাছে প্রতীয়মান হবে যে, বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাবই এর লেখককে এটি লিখতে বাধ্য করেছে, এবং তিনি ইবনুল আসীরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ও তার কাজকে খাটো করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এটি লিখেছেন। এই কথার অর্থ এটি নয় যে, ইবনুল আসীর পুরো কিতাবেই সঠিক ছিলেন এবং তার সমালোচনা করার মতো কিছু নেই, বরং আমরা যা এখানে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই তা হলো—
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২১)
طمأنينة هو أن ابن أبي الحديد قد تعرض في الغالب لما لا ينبغي أن يتعرض له أديب يؤثر اللباب على القشور، وترك أشياء هي أولى بالنظر والرعاية، وعذره أنه قرأ الكتاب وكتب نقده عليه في خمسة عشر يوما هو مشتغل في أثنائها بعمله في الدولة؛ فهو- فيما نرى اليوم- أشبه بتقرير من تقريرات حضرات «الموظفين» في أمر من الأمور التي يكلفون مباشرة تنفيذها؛ إذ يكتبونه وهم يعلمون أنه لن يقرأ، وإن قرئ فلن يعمل بما فيه؛ ومن قرأ كتاب «الفلك الدائر» ثم قرأ عشرة أوراق من شرح ابن أبي الحديد على نهج البلاغة في مكان أي مكان منه يتبين له الفرق بين الكتابين، ويدرك تمام الإدراك قيمة رأينا هذا في هذا الكتاب.

قال صاحب كشف الظنون (2- 222 بولاق مصر) : «وشرحه أبو منصور موهوب بن أبي طاهر الجواليقي «1» المتوفى في عام … هـ، وصنّف بعضهم كتابا سماه «الروض الزاهر، في محاسن المثل السائر» وصنّف عز الدين بن أبي الحديد كتابا سماه «الفلك الدائر، على المثل السائر» وصنف أبو القاسم محمود بن الحسين الركن السنجاري المتوفى في عام 640 هـ كتابا يرد فيه عليه وسماه «نشر المثل السائر، وطي الفلك الدائر» وصنّف صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي المتوفى في عام 764 هـ- كتابا سماه «نصرة الثائر، على المثل السائر» ، وصنف عبد العزيز بن عيسى كتابا سماه «قطع الدابر، عن الفلك الدائر» اه.

ربّ اجعلني من الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه.

ربّ ولا تخزني يوم القيامة؛ واجعلني عندك من المقبولين؛ آمين.

كتبه المعتز بالله تعالى أبو رجاء محمد محيي الدين عبد الحميد
প্রশান্তি হলো এই যে, ইবনে আবিল হাদিদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হয়েছেন যা একজন সাহিত্যিকের জন্য সমীচীন নয়, যিনি খোসার চেয়ে সারবস্তুকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি এমন কিছু বিষয় বর্জন করেছেন যা পর্যবেক্ষণ ও সযত্ন বিবেচনার অধিক দাবিদার ছিল। তার ওজর এই যে, তিনি কিতাবটি পড়েছেন এবং মাত্র পনের দিনের মধ্যে এর সমালোচনা লিখেছেন, যখন তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই এটি—বর্তমানে আমাদের দৃষ্টিতে—‘কর্মকর্তা’ মহোদয়গণের সেই সব প্রতিবেদনের মতো, যা তাদের সরাসরি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া কোনো বিষয়ে তারা তৈরি করে থাকেন; তারা এটি লিখেন এই জেনে যে এটি পড়া হবে না, আর পড়া হলেও তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করা হবে না। যে ব্যক্তি ‘আল-ফালকুল দায়ির’ গ্রন্থটি পড়বে এবং এরপর ‘নাহজুল বালাগা’র ওপর ইবনে আবিল হাদিদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের যেকোনো স্থান থেকে দশটি পৃষ্ঠা পড়বে, তার কাছে এই দুই কিতাবের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং এই কিতাব সম্পর্কে আমাদের এই মতামতের মূল্য সে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবে।

‘কাশফুয যুনুন’ (২/২২২, বুলাক, মিশর) এর লেখক বলেছেন: “এর ব্যাখ্যা লিখেছেন আবু মানসুর মাওহুব ইবনে আবি তাহির আল-জাওয়ালিকি, যিনি ... হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের কেউ ‘আল-রাওযুল যাহির ফি মাহাসিনিল মাসালিল সায়ির’ নামে একটি কিতাব সংকলন করেছেন। ইযযুদ্দীন ইবনে আবিল হাদিদ ‘আল-ফালকুল দায়ির আলাল মাসালিল সায়ির’ নামে একটি কিতাব রচনা করেছেন। আবু কাসিম মাহমুদ ইবনুল হুসাইন আল-রুকন আল-সিনজারি (মৃত্যু ৬৪০ হিজরি) ইবনে আবিল হাদিদের প্রতিবাদে একটি কিতাব লিখেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘নাশরুল মাসালিল সায়ির ওয়া তয়িল ফালকিল দায়ির’। সালাহুদ্দীন খলিল ইবনে আয়বাক আল-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি) ‘নুসরাতুস সায়ির আলাল মাসালিল সায়ির’ নামক একটি কিতাব সংকলন করেছেন। আর আব্দুল আজিজ ইবনে ঈসা ‘কাতউল দাবির আনিল ফালকিল দায়ির’ নামক একটি কিতাব সংকলন করেছেন।” ইতি।

হে আমার রব! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ তা অনুসরণ করে।

হে আমার রব! কিয়ামতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না; এবং আমাকে আপনার নিকট কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর ওপর আস্থাশীল আবু রাজা মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[مقدمة الكتاب]

(بسم الله الرّحمن الرّحيم) نسأل الله ربّنا أن يبلغ بنا من الحمد ما هو أهله، وأن يعلّمنا من البيان ما يقصر عنه مزيّة الفضل «1» وأصله، وحكمة الخطاب وفضله؛ ونرغب إليه أن يوفقنا للصلاة على نبينا ومولانا محمد رسوله الذي هو أفصح من نطق بالضاد، ونسخ هديه شريعة كل هاد، وعلى آله وصحبه الذي منهم من سبق وبدر، ومنهم من صابر وصبر، ومنهم من آوى ونصر «2» .

وبعد؛ فإن علم البيان لتأليف النظم والنثر بمنزلة أصول الفقه للأحكام وأدلة الأحكام؛ وقد ألّف الناس فيه كتبا، وجلبوا ذهبا وحطبا، وما من تأليف إلّا وقد تصفّحت شينه وسينه «3» ، وعلمت غثّه وسمينه؛ فلم أجد ما ينتفع به في ذلك إلّا كتاب الموازنة لأبي القاسم الحسن بن بشر الآمديّ، وكتاب سر الفصاحة لأبي محمد عبد الله بن سنان الخفاجيّ، غير أن كتاب الموازنة أجمع أصولا، وأجدى
[গ্রন্থের ভূমিকা]

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই স্তরের প্রশংসায় পৌঁছে দেন যার তিনি উপযুক্ত, এবং তিনি যেন আমাদের এমন বাগ্মিতা শিক্ষা দেন যার সামনে শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা «১» ও তার মূল ভিত্তি এবং ভাষণের প্রজ্ঞা ও মর্যাদা ম্লান হয়ে যায়; আর আমরা তাঁর নিকট আকাঙ্ক্ষা করি তিনি যেন আমাদের আমাদের নবী ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (রাসূলুল্লাহ)-এর ওপর দরূদ পাঠের তাওফিক দান করেন, যিনি 'দাদ' (আরবি বর্ণ) উচ্চারণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী, এবং যাঁর হেদায়েত প্রত্যেক পথপ্রদর্শকের শরিয়তকে রহিত করেছে, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ (কল্যাণের পথে) অগ্রগামী ও বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন, এবং তাঁদের মধ্যে কেউ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন, এবং তাঁদের মধ্যে কেউ আশ্রয় দানকারী ও সাহায্যকারী ছিলেন «২»।

অতঃপর; গদ্য ও পদ্য রচনার ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বায়ান) মর্যাদা হলো বিধিবিধান ও বিধির দলীলসমূহের জন্য উসুলুল ফিকহের (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি) ন্যায়; মানুষ এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে মূল্যবান বিষয়বস্তু ও অসার কথা—উভয়ই সংগ্রহ করেছেন; এমন কোনো রচনা নেই যার খুঁটিনাটি «৩» আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করিনি এবং তার নিকৃষ্ট ও উৎকৃষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত হইনি; ফলে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে এমন কিছুই আমি পাইনি, কেবল আবুল কাসিম আল-হাসান ইবনে বিশর আল-আমিদির 'কিতাবুল মুওয়াজানা' এবং আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে সিনান আল-খাফাজির 'কিতাব সিররুল ফাসাহাহ' ব্যতীত; তবে 'কিতাবুল মুওয়াজানা' গ্রন্থটি মূলনীতির দিক থেকে অধিক সুসংহত এবং অধিক কার্যকর।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
محصولا، وكتاب سر الفصاحة- وإن نبّه فيه على نكت منيرة- فإنه قد أكثر، مما قلّ به مقدار كتابه، من ذكر الأصوات والحروف والكلام عليها، ومن الكلام على اللفظة المفردة وصفاتها مما لا حاجة إلى أكثره، ومن الكلام في مواضع شذّ عنه الصواب فيها، وسيرد بيان ذلك كله في مواضع من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.

على أن كلا الكتابين قد أهملا «1» من هذا العلم أبوابا، ولربما ذكرا في بعض المواضع قشورا وتركا لبابا، وكنت عثرت على ضروب كثيرة منه في غضون القرآن الكريم، ولم أجد أحدا ممن تقدّمني تعرّض لذكر شيء منها، وهي إذا عدّت كانت في هذا العلم بمقدار شطره، وإذا نظر إلى فوائدها وجدت محتوية عليه بأسره، وقد أوردتها ههنا، وشفعتها بضروب أخر مدوّنة في الكتب المتقدمة، بعد أن حذفت منها ما حذفته، وأضفت إليها ما أضفته، وهداني الله لابتداع أشياء لم تكن من قبلي مبتدعة، ومنحني درجة الاجتهاد التي لا تكون أقوالها تابعة وإنما هي متّبعة، وكل ذلك يظهر عند الوقوف على كتابي هذا وعلى غيره من الكتب.

وقد بنيته على مقدمة ومقالتين؛ فالمقدمة تشتمل على أصول علم البيان؛ ولا أدّعي فيما ألفته من ذلك فضيلة الإحسان، ولا السلامة من سلق «2» اللسان؛ فإن الفاضل من تعدّ سقطاته، وتحصى غلطاته.

ويسيء بالإحسان ظنّا، لا كمن … هو بابنه وبشعره مقتون «3»
সংক্ষিপ্তসার (হিসেবে), এবং ‘সিররুল ফাসাহাহ’ কিতাবটি—যদিও এতে উজ্জ্বল সূক্ষ্ম বিষয়াবলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে—তথাপি এতে এমন সব বিষয় অধিকহারে আলোচিত হয়েছে যার ফলে কিতাবটির মান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যেমন: শব্দ ও বর্ণের আলোচনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট কথাবার্তা, একক শব্দ ও তার গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা—যার অধিকাংশের কোনো প্রয়োজন ছিল না, এবং এমন কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা যাতে সঠিক পথ থেকে চ্যুতি ঘটেছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে সেসবের বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

তবে উভয় কিতাবই এই ইলমের অনেক অধ্যায় উপেক্ষা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা কেবল উপরিভাগের তুচ্ছ বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন এবং মূল নির্যাস বর্জন করেছেন। আমি পবিত্র কুরআনের ভাঁজে ভাঁজে এই ইলমের অনেক প্রকারভেদ খুঁজে পেয়েছি, যা আমার পূর্ববর্তী কারো আলোচনায় আমি পাইনি। এগুলো যদি গণনা করা হয় তবে তা এই ইলমের প্রায় অর্ধেকের সমান হবে। আর যদি এর উপকারিতার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে দেখা যাবে এটি পুরো ইলমকেই পরিব্যাপ্ত করে আছে। আমি সেগুলো এখানে উপস্থাপন করেছি এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ অন্যান্য প্রকারের সাথে একে যুক্ত করেছি—যেখান থেকে যা বর্জন করার তা বর্জন করেছি এবং যা সংযোজন করার তা সংযোজন করেছি। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু বিষয় উদ্ভাবনের তাওফিক দিয়েছেন যা আমার পূর্বে কেউ উদ্ভাবন করেনি, এবং তিনি আমাকে ইজতিহাদের এমন এক স্তরে উন্নীত করেছেন যেখানে কারো বক্তব্য অনুসারী হয় না, বরং তা অনুসৃত হয়। আমার এই কিতাব এবং অন্যান্য কিতাব পাঠ করলেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আমি এই কিতাবটিকে একটি ভূমিকা ও দুটি প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করেছি। ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইলমে বায়ানের মূলনীতিসমূহ। আমি আমার এই রচনায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করছি না, কিংবা জিহ্বার স্খলন থেকে মুক্ত থাকার দাবিও করছি না। কারণ গুণী ব্যক্তি তিনিই যার বিচ্যুতিগুলো গণনা করা যায় এবং যার ভুলগুলো গুনে শেষ করা যায়।

তিনি নিজের সুকর্মের প্রতিও কুধারণা (সংশয়) পোষণ করেন; তিনি ঐ ব্যক্তির মতো নন যে … তার সন্তান এবং তার কবিতার মোহে অন্ধ থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا تركت الهوى قلت: إن هذا الكتاب بديع في إغرابه، وليس له صاحب في الكتب فيقال: إنه من أخدانه أو من أترابه، مفرد بين أصحابه، ومع هذا فإني أتيت بظاهر هذا العلم دون خافيه، وحمت حول حماه ولم أقع فيه؛ إذ الغرض إنما هو الحصول على تعليم الكلم التي بها تنظم العقود وترصّع، وتخلب العقول فتخدع، وذلك شيء تحيل عليه الخواطر، لا تنطق به الدفاتر.

واعلم- أيها الناظر في كتابي- أن مدار علم البيان على حاكم الذوق السليم، الذي هو أنفع من ذوق التعليم، وهذا الكتاب- وإن كان فيما يلقيه إليك أستاذا، وإذا سألت عما ينتفع به في فنه قيل لك هذا- فإن الدربة والإدمان أجدى عليك نفعا، وأهدى بصرا وسمعا، وهما يريانك الخبر عيانا، ويجعلان عسرك من القول إمكانا، وكلّ جارحة منك قلبا ولسانا، فخذ من هذا الكتاب ما أعطاك، واستنبط بإدمانك ما أخطاك، وما مثلي فيما مهّدته لك من هذه الطريق إلا كمن طبع سيفا ووضعه في يمينك لتقاتل به، وليس عليه أن يخلق لك قلبا، فإن حمل النصال، غير مباشرة القتال.

وإنّما يبلغ الإنسان غايته … ما كلّ ماشية بالرّحل شملال «1»

ولنرجع إلى ما نحن بصدده، فنقول: أما مقدمة الكتاب، فإنها تشتمل على عشرة فصول:
আপনি যদি খেয়ালখুশি পরিহার করেন তবে বলবেন: নিশ্চয়ই এই কিতাবটি তার চমৎকারিত্বে অনন্য, আর কিতাবসমূহের মধ্যে এর কোনো সমকক্ষ নেই যে বলা হবে এটি তাদের কোনো সহচর বা সমসাময়িক। এটি তার সমজাতীয় কিতাবগুলোর মাঝে একক। তা সত্ত্বেও, আমি এই ইলমের বাহ্যিক দিকটি নিয়ে এসেছি, এর গূঢ় রহস্য নয়; আমি এর সংরক্ষিত এলাকার চারপাশে ঘুরেছি কিন্তু তাতে নিপতিত হইনি। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো এমন শব্দাবলির শিক্ষা অর্জন করা যার দ্বারা বিষয়বস্তু সুসংগঠিত ও অলঙ্কৃত হয় এবং যা জ্ঞানকে বশীভূত করে মুগ্ধ করে। আর এটি এমন বিষয় যা কেবল চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করে, যা খাতা-পত্র ব্যক্ত করতে পারে না।

জেনে রাখুন—হে আমার কিতাব পাঠকারী—ইলমে বয়ানের ভিত্তি হলো সুস্থ রুচিবোধের ওপর, যা কেতাবি শিক্ষার চেয়েও অধিক উপকারী। আর এই কিতাবটি—যদিও তা আপনার কাছে যা পেশ করছে সে বিষয়ে এটি একজন উস্তাদ স্বরূপ, এবং আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন যে এই শিল্পকলায় কীসের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া যায় তবে আপনাকে এই কিতাবের দিকেই ইশারা করা হবে—তথাপি অনুশীলন ও নিরন্তর চর্চা আপনার জন্য অধিক ফলপ্রসূ হবে এবং আপনার দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিকে অধিক সঠিক পথ দেখাবে। এই অনুশীলন ও চর্চা আপনাকে পরোক্ষ সংবাদকে প্রত্যক্ষরূপে দেখাবে এবং আপনার বাক্যের কঠিনতাকে সহজসাধ্য করে দেবে, এমনকি আপনার প্রতিটি অঙ্গকে—তা অন্তর হোক বা জবান—সচল করে দেবে। অতএব, এই কিতাব আপনাকে যা দান করে তা গ্রহণ করুন, আর যা আপনার নিকট অস্পষ্ট থেকে যায় তা আপনার নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে উদ্ধার করুন। আপনার জন্য আমি যে পথ সুগম করেছি তাতে আমার দৃষ্টান্ত কেবল সেই ব্যক্তির মতো যে একটি তরবারি তৈরি করেছে এবং তা আপনার ডান হাতে তুলে দিয়েছে যাতে আপনি তা দিয়ে লড়াই করতে পারেন; কিন্তু আপনার জন্য একটি সাহসী হৃদয় সৃষ্টি করা তার দায়িত্ব নয়। কেননা অস্ত্র বহন করা আর সরাসরি যুদ্ধ করা এক কথা নয়।

মানুষ কেবল তার উদ্দেশ্যেই পৌঁছে … শিবিকা বহনকারী সব পশু দ্রুতগামী হয় না «১»

এখন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি এবং বলি: কিতাবের ভূমিকাটি দশটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الفصل الاول في موضوع علم البيان

موضوع كل علم: هو الشيء الذي يسأل فيه عن أحواله التي تعرض لذاته؛ فموضوع الفقه هو أفعال المكلفين، والفقيه يسأل عن أحوالها التي تعرض لها: من الفرض والنّفل والحلال والحرام والندب والمباح، وغير ذلك، وموضوع الطبّ هو بدن الإنسان، والطبيب يسأل عن أحواله التي تعرض له من صحته وسقمه، وموضوع الحساب هو الأعداد، والحاسب يسأل عن أحوالها التي تعرض لها من الضرب والقسمة والنسبة، وغير ذلك، وموضوع النحو هو الألفاظ والمعاني، والنحوي يسأل عن أحوالهما في الدلالة من جهة الأوضاع اللغوية، وكذلك يجري الحكم في كل علم من العلوم، وبهذا الضابط انفرد كل علم برأسه، ولم يختلط بغيره، وعلى هذا فموضوع علم البيان هو الفصاحة والبلاغة، وصاحبه يسأل عن أحوالهما اللفظية والمعنوية، وهو والنحوي يشتركان في أن النحويّ ينظر في دلالة الألفاظ على المعاني من جهة الوضع اللغوي، وتلك دلالة عامة، وصاحب علم البيان ينظر في فضيلة تلك الدلالة، وهي دلالة خاصة، والمراد بها أن يكون على هيئة مخصوصة من الحسن، وذلك أمر وراء النحو والإعراب، ألا ترى أن النحوي يفهم معنى الكلام المنظوم والمنثور ويعلم مواقع إعرابه، ومع ذلك فإنه لا يفهم ما فيه من الفصاحة والبلاغة، ومن ههنا غلط مفسّر والأشعار في اقتصارهم على شرح المعنى وما فيها من الكلمات اللغوية، وتبيين مواضع الإعراب منها، دون شرح ما تضمنته من أسرار الفصاحة والبلاغة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলমুল বয়ানের আলোচ্য বিষয় প্রসঙ্গে

প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সেই সত্তাগত বিষয়, যার ওপর আপতিত অবস্থাগুলো সম্পর্কে সেখানে আলোচনা করা হয়। সুতরাং ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল) ব্যক্তিদের কার্যাবলী; এবং ফকীহ সেই কার্যাবলীর ওপর আপতিত অবস্থাগুলো—যেমন ফরজ, নফল, হালাল, হারাম, মুস্তাহাব, মুবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো মানবদেহ; এবং চিকিৎসক এর ওপর আপতিত অবস্থা—সুস্থতা ও অসুস্থতা নিয়ে আলোচনা করেন। গণিত শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সংখ্যা; এবং গণিতবিদ সংখ্যার ওপর আপতিত গুণ, ভাগ, অনুপাত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নাহু শাস্ত্রের (ব্যাকরণ) আলোচ্য বিষয় হলো শব্দ ও অর্থ; এবং নাহুবিদ ভাষাগত বিন্যাসের প্রেক্ষিতে অর্থের ওপর তাদের নির্দেশক হওয়ার অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এভাবেই প্রতিটি শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হয় এবং এই মূলনীতির মাধ্যমেই প্রতিটি শাস্ত্র স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় এবং অন্য শাস্ত্রের সাথে মিশে যায় না। এই সূত্র অনুযায়ী ইলমুল বয়ানের আলোচ্য বিষয় হলো ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) ও বালাগাত (অলঙ্কার); এবং এর বিশেষজ্ঞ এদের শব্দগত ও অর্থগত অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এবং নাহুবিদ এই বিষয়ে অংশীদার যে, নাহুবিদ ভাষাগত প্রয়োগের দিক থেকে অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশক হওয়ার বিষয়টি দেখেন, যা একটি সাধারণ নির্দেশনা। আর ইলমুল বয়ানের বিশেষজ্ঞ সেই নির্দেশনার শ্রেষ্ঠত্ব ও উৎকর্ষ নিয়ে আলোচনা করেন, যা একটি বিশেষ নির্দেশনা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্যের একটি বিশেষ কাঠামোর ওপর বিন্যস্ত হওয়া, যা মূলত নাহু ও এরাব (ব্যাকরণগত কারক চিহ্ন) বহির্ভূত একটি বিষয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, একজন নাহুবিদ পদ্য বা গদ্যের অর্থ বুঝতে পারেন এবং তার ব্যাকরণগত স্থানসমূহ জানেন, তা সত্ত্বেও তিনি এর অন্তর্নিহিত ফাসাহাত ও বালাগাত উপলব্ধি করতে পারেন না। এই কারণেই কবিতার ব্যাখ্যাদাতাগণ কেবল অর্থ বিশ্লেষণ, শব্দার্থ প্রদান এবং ব্যাকরণগত কারক স্পষ্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে ভুল করেছেন, অথচ তারা এর মধ্যে নিহিত ফাসাহাত ও বালাগাতের রহস্যসমূহ ব্যাখ্যা করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الثاني في آلات علم البيان وأدواته

اعلم أن صناعة تأليف الكلام من المنظوم والمنثور تفتقر إلى آلات كثيرة، وقد قيل: ينبغي للكاتب أن يتعلق بكل علم، حتى قيل: كلّ ذي علم يسوغ له أن ينسب نفسه إليه فيقول: فلان النحوي، وفلان الفقيه، وفلان المتكلم، ولا يسوغ له أن ينسب نفسه إلى الكتابة فيقول: فلان الكاتب، وذلك لما يفتقر إليه من الخوض في كل فن.

وملاك هذا كلّه الطبع «1» ؛ فإنه إذا لم يكن ثمّ طبع فإنه لا تغني تلك الآلات شيئا؛ ومثال ذلك كمثل النار الكامنة في الزناد والحديدة التي يقدح بها؛ ألا ترى أنه إذا لم يكن في الزناد نار لا تفيد تلك الحديدة شيئا؟.

وكثيرا ما رأينا وسمعنا من غرائب الطباع في تعلّم العلوم، حتى إن بعض الناس يكون له نفاذ في تعلم علم مشكل المسلك صعب المأخذ، فإذا كلّف تعلم ما هو دونه من سهل العلوم نكص على عقبيه، ولم يكن له فيه نفاذ.

وأغرب من ذلك أن صاحب الطبع في المنظوم يجيد في المديح دون الهجاء، أو في الهجاء دون المديح، أو يجيد في المراثي دون التهاني، أو في التهاني دون المراثي، وكذلك صاحب الطبع في المنثور؛ هذا ابن الحريري صاحب المقامات؛ قد كان- على ما ظهر عنه من تنميق المقامات- واحدا في فنّه، فلما حضر ببغداد ووقف على مقاماته قيل: هذا يستصلح لكتابة الإنشاء في ديوان الخلافة، ويحسن أثره فيه، فأحضر، وكلّف كتابة كتاب، فأفحم، ولم يجر لسانه في طويلة ولا قصيرة، فقال فيه بعضهم:
ইলমুল বয়ানের উপকরণ ও সরঞ্জামাদি সম্পর্কিত দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, পদ্য ও গদ্যের মাধ্যমে বাক্য রচনার শিল্প অনেক উপকরণের মুখাপেক্ষী। বলা হয়ে থাকে: একজন লেখকের উচিত প্রতিটি শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত থাকা। এমনকি এও বলা হয়েছে: প্রত্যেক শাস্ত্রের অধিকারীর জন্য বৈধ যে সে নিজেকে সেই শাস্ত্রের দিকে নিসবত করবে বা সম্পর্কিত করবে; যেমন সে বলবে: অমুক ব্যক্তি একজন ব্যাকরণবিদ, অমুক ব্যক্তি একজন ফকীহ, অমুক ব্যক্তি একজন ইলমুল কালাম বিশারদ। কিন্তু তার জন্য নিজেকে 'লেখক' হিসেবে নিসবত করা সমীচীন নয় এই বলে যে: অমুক ব্যক্তি একজন লেখক; কারণ এই শিল্পের জন্য প্রতিটি বিদ্যায় অবগাহন করা প্রয়োজন।

আর এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো স্বভাবজাত প্রতিভা; কেননা যদি সেখানে স্বভাবজাত প্রতিভা না থাকে, তবে ঐসব উপকরণ কোনো কাজেই আসবে না। এর উদাহরণ হলো চকমকি পাথরের ভেতরে লুকায়িত আগুন এবং সেই লোহার টুকরো যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। আপনি কি দেখেন না যে, চকমকি পাথরে যদি আগুন না থাকে, তবে সেই লোহার টুকরোটি কোনো কাজে আসে না?

আমরা শাস্ত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অনেক বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি ও শুনেছি। এমনকি কিছু মানুষের এমন অবস্থা হয় যে, অত্যন্ত জটিল ও দুর্ভেদ্য কোনো শাস্ত্র শিখতে তাদের দারুণ পারদর্শিতা থাকে, কিন্তু যখন তাদের এর চেয়ে সহজ কোনো বিষয় শিখতে দেওয়া হয়, তখন তারা পিছুটান দেয় এবং তাতে তাদের কোনো পারদর্শিতা থাকে না।

এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, পদ্য রচনায় প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তি হয়তো কেবল প্রশংসামূলক কবিতায় দক্ষ হয় কিন্তু নিন্দামূলক কবিতায় নয়, অথবা নিন্দামূলক কবিতায় পারদর্শী হয় কিন্তু প্রশংসামূলক কবিতায় নয়। আবার কেউ শোকগাঁথা রচনায় নিপুণ হয় কিন্তু অভিনন্দন বার্তা রচনায় নয়, অথবা অভিনন্দন বার্তা রচনায় দক্ষ হয় কিন্তু শোকগাঁথায় নয়। গদ্য রচনার প্রতিভাধর ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এই যে মাকামাত-এর রচয়িতা ইবনুল হারীরী; তিনি মাকামাতের চমৎকার অলঙ্করণের মাধ্যমে যা প্রকাশ করেছেন—তাতে তিনি নিজ শিল্পে অনন্য ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি বাগদাদে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর মাকামাত সম্পর্কে লোকেরা অবগত হলো, তখন বলা হলো: এই ব্যক্তি খিলাফতের দিওয়ানে দাপ্তরিক পত্র রচনার জন্য উপযুক্ত এবং সেখানে তাঁর কর্মের উত্তম প্রভাব থাকবে। অতঃপর তাঁকে উপস্থিত করা হলো এবং একটি পত্র লেখার দায়িত্ব দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি নির্বাক হয়ে পড়লেন। ছোট বা বড় কোনো বাক্যেই তাঁর রসনা চলল না। তখন তাঁর সম্পর্কে কেউ কেউ বলল:
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
شيخ لنا من ربيعة الفرس … ينتف عثنونه من الهوس

أنطقه الله بالمشان وقد … ألجمه في بغداد بالخرس

وهذا مما يعجب منه.

وسئلت عن ذلك فقلت: لا عجب؛ لأن المقامات مدارها جميعها على حكاية تخرج إلى مخلص. وأما المكاتبات فإنها بحر لا ساحل له؛ لأن المعاني تتجدّد فيها بتجدّد حوادث الأيام، وهي متجددة على عدد الأنفاس، ألا ترى أنه إذا خطب الكاتب المفلق عن دولة من الدّول الواسعة التي يكون لسلطانها سيف مشهور، وسعي مذكور، ومكث على ذلك برهة يسيرة لا تبلغ عشر سنين، فإنه يدوّن عنه من المكاتبات ما يزيد على عشرة أجزاء، كل جزء منها أكبر من مقامات الحريري حجما؛ لأنه إذا كتب في كل يوم كتابا واحدا اجتمع من كتبه أكثر من هذه العدة المشار إليها، وإذا نخلت وغربلت واختير الأجود منها إذ تكون كلها جيدة فيخلص منها النصف، وهو خمسة أجزاء، والله يعلم ما اشتملت عليه من الغرائب والعجائب، وما حصل في ضمنها من المعاني المبتدعة، على أن الحريري قد كتب في أثناء مقاماته رقاعا في مواضع عدة، فجاء بها منحطّة عن كلامه في حكاية المقامات، لا، بل جاء بالغثّ البارد الذي لا نسبة له إلى باقي كلامه فيها، وله أيضا كتابة أشياء خارجة عن المقامات، وإذا وقف عليها أقسم أن قائل هذه ليس قائل هذه؛ لما بينهما من التفاوت البعيد.

وبلغني عن الشيخ أبي محمد [عبد الله بن أحمد] بن الخشاب النحوي رحمه الله أنه كان يقول: ابن الحريريّ رجل مقامات: أي أنه لم يحسن من الكلام المنثور سواها، وإن أتى بغيرها لا يقول شيئا.

فانظر أيها المتأمل إلى هذا التفاوت في الصناعة الواحدة من الكلام المنثور؛ ومن أجل ذلك قيل: شيئان لا نهاية لهما: البيان، والجمال.

وعلى هذا فإذا ركب الله تعالى في الإنسان طبعا قابلا لهذا الفن فيفتقر حينئذ إلى ثمانية أنواع من الآلات.
আমাদের একজন শায়খ রবিআতুল ফারস গোত্রীয় … যিনি উন্মাদনায় নিজের দাড়ি ছিঁড়ে ফেলেন।

আল্লাহ তাকে মাশান সম্পর্কে বাগ্মী করেছেন, অথচ … বাগদাদে তাকে মূকতার লাগাম পরিয়ে দিয়েছেন।

আর এটি বিস্ময়কর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বললাম: এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ ‘মাকামাত’-এর সমস্ত পরিধি একটি গল্পের ওপর আবর্তিত যা একটি উপসংহারে পৌঁছায়। অন্যদিকে ‘মুকাতাবাত’ (পত্রাবলী) হলো একটি কূলহীন সমুদ্র; কারণ দিনরাত্রির ঘটনার পরিবর্তনের সাথে সাথে এর অর্থগুলোও নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে, আর এই পরিবর্তন নিঃশ্বাসের সংখ্যার ন্যায় অব্যাহত থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, যখন কোনো বাগ্মী লেখক এমন এক সুবিশাল সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে পত্র লেখেন যার সুলতানের তরবারি সুপরিচিত এবং প্রচেষ্টা স্মরণীয়, আর তিনি সেখানে মাত্র দশ বছরেরও কম সময়ের সংক্ষিপ্ত কাল অবস্থান করেন, তখন তাঁর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ পত্রাবলী সংকলিত হয় তা দশ খণ্ডেরও বেশি হয়ে যায়? যার প্রতিটি খণ্ড আয়তনে হারিরীর ‘মাকামাত’-এর চেয়েও বড়। কারণ তিনি যদি প্রতিদিন মাত্র একটি করে পত্র লেখেন, তবে তাঁর চিঠিপত্রের সংখ্যা উল্লেখিত পরিমাণের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। আর যদি সেগুলো বাছাই ও পরিশোধন করা হয় এবং সবচেয়ে উৎকৃষ্টগুলো নির্বাচন করা হয়—যেহেতু তাঁর সবগুলোই উৎকৃষ্ট—তবুও তার অর্ধেক অবশিষ্ট থাকবে, যা প্রায় পাঁচ খণ্ড। আল্লাহই ভালো জানেন এতে কত বিরল ও বিস্ময়কর বিষয় এবং কত অভিনব অর্থ নিহিত রয়েছে। অথচ হারিরী তাঁর মাকামাতগুলোর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কিছু চিরকুট লিখেছেন, যা মাকামাতের বর্ণনার তুলনায় নিম্নমানের হয়েছে। বরং সেগুলো অত্যন্ত অসার ও নিরস ছিল যার সাথে তাঁর অন্যান্য বক্তব্যের কোনো তুলনাই হয় না। মাকামাতের বাইরেও তাঁর কিছু লেখা রয়েছে, যা কেউ পাঠ করলে কসম করে বলবে যে এটি তাঁর লেখা নয়; কারণ উভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।

শায়খ আবু মুহাম্মদ [আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ] ইবনুল খাশশব আন-নাহবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলতেন: ইবনুল হারিরী হলেন কেবল মাকামাতের মানুষ। অর্থাৎ, মাকামাত ব্যতিরেকে অন্য কোনো গদ্যে তিনি পারদর্শী ছিলেন না, আর যদি তিনি অন্য কিছু রচনা করতেন তবে তা উল্লেখযোগ্য কিছু হতো না।

হে চিন্তাশীল পাঠক! গদ্য সাহিত্যের একই শিল্পের মধ্যে বিদ্যমান এই ব্যবধানের প্রতি লক্ষ্য করুন। এই কারণেই বলা হয়েছে: দু’টি জিনিসের কোনো শেষ নেই: বাকপটুতা এবং সৌন্দর্য।

এমতাবস্থায়, মহান আল্লাহ যখন মানুষের মধ্যে এই শিল্পের উপযোগী কোনো স্বভাব সৃষ্টি করেন, তখন সেটির জন্য আট প্রকার উপকরণের প্রয়োজন হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌النوع الأول: معرفة علم العربية من النحو والتصريف.

النوع الثاني: معرفة ما يحتاج إليه من اللغة، وهو المتداول المألوف استعماله في فصيح الكلام غير الوحشيّ الغريب ولا المستكره المعيب.

النوع الثالث: معرفة أمثال العرب وأيامهم، ومعرفة الوقائع التي جاءت في حوادث خاصة بأقوام؛ فإن ذلك جرى مجرى الأمثال أيضا.

النوع الرابع: الاطّلاع على تأليفات من تقدمه من أرباب هذه الصناعة المنظومة منه والمنثورة، والتحفظ للكثير منه.

النوع الخامس: معرفة الأحكام السلطانية: الإمامة، والإمارة، والقضاء، والحسبة، وغير ذلك.

النوع السادس: حفظ القرآن الكريم، والتدرّب باستعماله وإدراجه في مطاوي كلامه.

النوع السابع: حفظ ما يحتاج إليه من الأخبار الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم، والسلوك بها مسلك القرآن الكريم في الاستعمال.

النوع الثامن: وهو مختص بالناظم دون الناثر- وذلك علم العروض والقوافي الذي يقام به ميزان الشعر.

ولنذكر بعد ذلك فائدة كل نوع من هذه الأنواع؛ ليعلم أن معرفته مما تمسّ الحاجة إليه، فنقول:

النوع الأول:

أما علم النحو فإنه في علم البيان من المنظوم والمنثور بمنزلة أبجد في تعليم الخط وهو أول ما ينبغي إتقان معرفته لكل أحد ينطق باللسان العربي، ليأمن معرّة اللحن، ومع هذا فإنه، وإن احتيج إليه في بعض الكلام دون بعض لضرورة الإفهام، فإن الواضع لم يخص منه شيئا بالوضع، بل جعل الوضع عاما، وإلا فإذا نظرنا إلى ضرورته وأقسامه المدوّنة وجدنا أكثرها غير محتاج إليه في إفهام المعاني، ألا ترى أنك لو أمرت رجلا بالقيام فقلت له: قوم، بإثبات الواو ولم
প্রথম প্রকার: নাহু (ব্যাকরণ) এবং তাসরিফ (রূপান্তর) সহ আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জন করা।

দ্বিতীয় প্রকার: ভাষার প্রয়োজনীয় অংশটুকু জানা, যা প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধ ভাষায় ব্যবহৃত হয় এবং যা অপ্রচলিত, অদ্ভুত বা শ্রুতিকটু ও ত্রুটিযুক্ত নয়।

তৃতীয় প্রকার: আরবদের প্রবাদ-প্রবচন এবং তাদের ঐতিহাসিক দিবসসমূহ সম্পর্কে জানা, এবং বিভিন্ন গোত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষ ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়া; কারণ এগুলোও প্রবাদের মতো বহুল ব্যবহৃত হয়।

চতুর্থ প্রকার: এই শাস্ত্রের পূর্বসূরি পণ্ডিতদের কাব্যিক ও গদ্য রচনার অনুসন্ধান করা এবং তার অধিকাংশ আয়ত্তে রাখা।

পঞ্চম প্রকার: রাষ্ট্রীয় বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা: যেমন ইমামত (নেতৃত্ব), ইমারত (প্রশাসন), বিচারব্যবস্থা, হিসবাহ (জনশৃঙ্খলা রক্ষা) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

ষষ্ঠ প্রকার: পবিত্র কুরআন হিফজ করা এবং এর প্রয়োগের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করা ও নিজের বক্তব্যের ভাঁজে ভাঁজে তা অন্তর্ভুক্ত করা।

সপ্তম প্রকার: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রয়োজনীয় হাদিসসমূহ মুখস্থ করা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেগুলোকে পবিত্র কুরআনের মতোই ব্যবহার করা।

অষ্টম প্রকার: এটি গদ্যকারের পরিবর্তে কেবল কবির জন্য নির্দিষ্ট—তা হলো ইলমুল আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) এবং কাফিয়া (অন্ত্যমিল) সংক্রান্ত জ্ঞান, যার মাধ্যমে কবিতার মানদণ্ড নিরূপিত হয়।

এর পরে আমরা এই প্রতিটি প্রকারের উপকারিতা উল্লেখ করব; যাতে জানা যায় যে এগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং আমরা বলছি:

প্রথম প্রকার:

নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের বিষয়টি হলো, পদ্য ও গদ্যের অলঙ্কারশাস্ত্রে (ইলমুল বয়ান) এর অবস্থান ঠিক তেমনি যেমন লিপি শিক্ষার ক্ষেত্রে বর্ণমালার অবস্থান। আরবি ভাষায় কথা বলেন এমন প্রত্যেকের জন্য এটিই সর্বপ্রথম বিষয় যা আয়ত্ত করা আবশ্যক, যাতে ভাষাগত ভুলের গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে লক্ষ্যণীয় যে, যদিও মনের ভাব প্রকাশের প্রয়োজনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর আবশ্যকতা রয়েছে, কিন্তু ব্যাকরণ প্রণেতাগণ এর কোনো অংশকে সুনির্দিষ্ট করে প্রণয়ন করেননি, বরং একে সাধারণ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। অন্যথায় আমরা যদি এর প্রয়োজনীয়তা এবং সংকলিত বিভাগগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখব যে এর অধিকাংশ বিষয়ই অর্থ বুঝানোর জন্য আবশ্যক নয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি কাউকে দাঁড়ানোর আদেশ দিতে গিয়ে বলেন: 'কউম' (ওয়াও অক্ষরটি বহাল রেখে) এবং...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
تجزم، لما اختل من فهم ذلك شيء، وكذلك الشرط لو قلت: إن تقوم أقوم، ولم تجزم، لكان المعنى مفهوما، والفضلات كلها تجري هذا المجرى، كالحال والتمييز والاستثناء، فإذا قلت: جاء زيد راكب، وما في السماء قدر راحة سحاب، وقام القوم إلا زيد، فلزمت السكون في ذلك كله، ولم تبين إعرابا؛ لما توقّف الفهم على نصب الراكب والسحاب، ولا على نصب زيد، وهكذا يقال في المجرورات، وفي المفعول فيه، والمفعول له، والمفعول معه، وفي المبتدإ والخبر، وغير ذلك من أقسام أخر لا حاجة إلى ذكرها.

لكن قد خرج عن هذه الأمثلة ما لا يفهم إلا بقيود تقيّده، وإنما يقع ذلك في الذي تدل صيغته الواحدة على معان مختلفة، ولنضرب لذلك مثالا يوضحه فنقول:

اعلم أن من أقسام الفاعل والمفعول ما لا يفهم إلا بعلامة كتقديم المفعول على الفاعل؛ فإنه إذا لم يكن ثم علامة تبين أحدهما من الآخر وإلا أشكل الأمر كقولك: ضرب زيد عمرو، ويكون زيد هو المضروب؛ فإنك إذا لم تنصب زيدا وترفع عمرا، وإلا لا يفهم ما أردت؛ وعلى هذا ورد قوله تعالى: إنما يخشى الله من عباده العلماء.

وكذلك لو قال قائل: ما أحسن زيد، ولم يبين الإعراب في ذلك، لما علمنا غرضه منه؛ إذ يحتمل أن يريد به التعجب من حسنة، أو يريد به الاستفهام عن أي شيء منه أحسن، ويحتمل أن يريد به الإخبار بنفي الإحسان عنه، ولو بيّن الإعراب في ذلك فقال: ما أحسن زيدا، وما أحسن زيد، وما أحسن زيد؛ علمنا غرضه، وفهمنا مغزى كلامه؛ لانفراد كل قسم من هذه الأقسام الثلاثة بما يعرف به من الإعراب؛ فوجب حينئذ بذلك معرفة النحو؛ إذ كان ضابطا لمعاني الكلام، حافظا لها من الاختلاف.

وأول من تكلم في النحو أبو الأسود الدّؤلي، وسبب ذلك أنه دخل على ابنة له بالبصرة فقالت له: يا أبت ما أشدّ الحر، متعجبة، ورفعت أشد، فظنها مستفهمة، فقال: شهر ناجر؛ فقالت: يا أبت إنما أخبرتك ولم أسألك! فأتى عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه، فقال: يا أمير المؤمنين، ذهبت لغة العرب،
আপনি যদি জজম (শব্দান্তের স্থিরতা) করেন, তবে অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। অনুরূপভাবে শর্তের ক্ষেত্রেও, আপনি যদি বলেন: 'ইন তাকুম আকুম' (যদি তুমি দাঁড়াও আমি দাঁড়াব) এবং জজম না করেন, তবুও অর্থটি বোধগম্য হবে। সমস্ত পরিপূরক বিষয়গুলো (ফাযলাত) এই একই ধারায় চলে, যেমন হাল (অবস্থা), তামীয (পার্থক্যকারী) এবং ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম)। সুতরাং আপনি যখন বলেন: 'যাইদ আরোহী অবস্থায় এল', 'আকাশে হাতের তালু পরিমাণ মেঘ নেই', এবং 'যাইদ ছাড়া সম্প্রদায়টি দাঁড়াল', আর আপনি এই সবগুলোতে সুকুন (স্থিরতা) বজায় রাখেন এবং ই'রাব (বিভক্তি) প্রকাশ না করেন; তবে অর্থ বোঝার বিষয়টি 'আরোহী' ও 'মেঘ' শব্দকে যবর প্রদান করা বা 'যাইদ' শব্দকে যবর প্রদানের ওপর নির্ভর করবে না। মাজরুরাত (যেরযুক্ত পদ), মাফউল ফীহি (আধার), মাফউল লাহূ (উদ্দেশ্য), মাফউল মা'আহূ (অনুষঙ্গ), মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) এবং অন্যান্য বিভাগ—যা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই—সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

কিন্তু এই উদাহরণগুলোর বাইরে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা বা চিহ্ন ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। আর এটি তখনই ঘটে যখন একটিমাত্র শব্দরূপ বিভিন্ন অর্থের ওপর নির্দেশ করে। আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ প্রদান করছি এবং বলছি:

জেনে রাখুন যে, ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম)-এর এমন কিছু প্রকার রয়েছে যা আলামত বা চিহ্ন ছাড়া বোঝা যায় না, যেমন ফায়েলের ওপর মাফউলকে আগে আনা। কারণ সেখানে যদি এমন কোনো চিহ্ন না থাকে যা একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করবে, তবে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যাবে। যেমন আপনার উক্তি: 'যাইদ আমরকে প্রহার করেছে', যেখানে যাইদ প্রহৃতও হতে পারে। এমতাবস্থায় আপনি যদি 'যাইদ' শব্দটিকে যবর (নসব) না দেন এবং 'আমর' শব্দটিকে পেশ (রাফা) না দেন, তবে আপনি যা বুঝাতে চেয়েছেন তা বোঝা যাবে না। এই নিয়মেই মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।"

তেমনিভাবে যদি কেউ বলে: 'যাইদ কতই না সুন্দর', এবং তাতে ই'রাব স্পষ্ট না করে, তবে আমরা তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারব না। কারণ এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে এর মাধ্যমে যাইদের সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করছে, অথবা সে প্রশ্ন করছে যে যাইদের কোন বিষয়টি বেশি সুন্দর, আবার এও সম্ভাবনা রয়েছে যে সে যাইদের সুন্দর হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার সংবাদ দিচ্ছে। কিন্তু যদি সে ই'রাব স্পষ্ট করে বলত: 'মা আহসানা যাইদান', 'মা আহসানু যাইদিন', অথবা 'মা আহসানা যাইদুন'; তবে আমরা তার উদ্দেশ্য জেনে যেতাম এবং তার কথার মর্মার্থ বুঝে ফেলতাম। কারণ এই তিন প্রকারের প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ই'রাব দ্বারা চিহ্নিত হয়। সুতরাং সেই ক্ষেত্রে নাহু (ব্যাকরণ) জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে; যেহেতু এটি কথার অর্থের নিয়ন্ত্রক এবং একে বিকৃতি থেকে রক্ষাকারী।

নহু শাস্ত্র নিয়ে সর্বপ্রথম যিনি আলোচনা করেছেন তিনি হলেন আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালি। এর কারণ ছিল এই যে, তিনি বসরার তাঁর এক কন্যার কাছে প্রবেশ করেন এবং কন্যাটি বিস্ময় প্রকাশ করতে গিয়ে বলল: "হে পিতা, গ্রীষ্মের উত্তাপ কতই না তীব্র!", কিন্তু সে 'তীব্র' শব্দটিকে পেশযুক্ত করে উচ্চারণ করল। এতে তিনি মনে করলেন সে প্রশ্ন করছে। তিনি উত্তর দিলেন: "নাজির মাস (সবচেয়ে গরম মাস)।" তখন কন্যাটি বলল: "হে পিতা, আমি তো আপনাকে সংবাদ দিচ্ছিলাম, আপনাকে প্রশ্ন করিনি!" তখন তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আরবদের ভাষা তো হারিয়ে যাচ্ছে (বিকৃত হয়ে যাচ্ছে)!"
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ويوشك إن تطاول عليها زمان أن تضمحلّ، فقال له: وما ذاك؟ فأخبره خبر ابنته، فقال: هلمّ صحيفة، ثم أملى عليه «الكلام لا يخرج عن اسم وفعل وحرف جاء لمعنى» ثم رسم له رسوما فنقلها النحويون في كتبهم.

وقيل: «إن أبا الأسود دخل على زياد ابن أبيه بالبصرة فقال: إني أرى العرب قد خالطت العجم، وتغيرت ألسنتها، أفتأذن لي أن أصنع ما يقيمون به كلامهم؟

فقال: لا، فقام من عنده، ودخل عليه رجل فقال: أيها الأمير، مات أبانا، وخلّف بنون، فقال زياد: مات أبانا وخلف بنون!! مه، ردّوا عليّ أبا الأسود. فردّوه، فقال له: اصنع ما كنت نهيتك عنه، فوضع شيئا.

ثم جاء بعده ميمون الأقران فزاد عليه، ثم جاء بعده عنبسة بن معدان المهري، فزاد عليه، ثم جاء بعده عبد الله بن أبي إسحق الحضرمي، وأبو عمرو بن العلاء، فزادا عليه، ثم جاء بعدهما الخليل بن أحمد الأزديّ، وتتابع الناس، واختلف البصريون والكوفيون في بعض ذلك.

فهذا ما بلغني من أمر النحو في أول وضعه، وكذلك العلوم كلها: يوضع منها في مبادي أمرها شيء يسير، ثم يزاد بالتدريج إلى أن يستكمل آخرا.

فإن قيل: أما علم النحو فمسلّم إليك أنه تجب معرفته، لكن التصريف لا حاجة إليه؛ لأن التصريف إنما هو معرفة أصل الكلمة وزيادتها وحذفها وإبدالها، وهذا لا يضرّ جهله، ولا تنفع معرفته، ولنضرب لذلك مثالا كيف اتفق، فنقول: إذا قال القائل: رأيت سرداحا «1» ، لا يلزمه أن يعرف الألف في هذه الكلمة زائدة هي أم أصليه؛ لأن العرب لم تنطق بها إلا كذلك، ولو قالت سردحا، بغير ألف، لما جاز لأحد أن يزيد الألف فيها من عنده فيقول سرداحا، فعلم بهذا أنه إنما ينطق الألفاظ
আর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলে এটি বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হবে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী? তখন তিনি তাকে তার কন্যার সংবাদ দিলেন। তিনি বললেন: একটি পৃষ্ঠা নিয়ে এসো। এরপর তিনি তাকে শ্রুতলিপি দিলেন: «কালাম (বাক্য) ইসিম (বিশেষ্য), ফেইল (ক্রিয়া) এবং হারফ (অব্যয়)—যা কোনো অর্থের জন্য আসে—এর বাইরে যায় না»। এরপর তিনি তার জন্য কিছু নিয়ম এঁকে দিলেন, যা পরবর্তীতে ব্যাকরণবিদগণ তাদের গ্রন্থসমূহে সংকলন করেন।

বর্ণিত আছে যে: «নিশ্চয়ই আবু আল-আসওয়াদ বসরায় যিয়াদ ইবনে আবিহ-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আমি লক্ষ্য করছি যে আরবগণ অনারবদের সাথে মেলামেশা করছে এবং তাদের ভাষা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। আপনি কি আমাকে এমন কিছু তৈরি করার অনুমতি দেবেন যার মাধ্যমে তারা তাদের কথোপকথন সংশোধন করে নিতে পারবে?

তিনি বললেন: না। ফলে তিনি তার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন। এমতাবস্থায় একজন লোক তার নিকট প্রবেশ করে বলল: হে আমির, আমাদের পিতা মারা গেছেন এবং সন্তানাদি রেখে গেছেন (ভুল ব্যাকরণে)। তখন যিয়াদ বললেন: আমাদের পিতা মারা গেছেন এবং সন্তানাদি রেখে গেছেন!! থামো, আবু আল-আসওয়াদকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনল। তখন তিনি তাকে বললেন: আমি তোমাকে যা করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তা-ই করো। অতঃপর তিনি ব্যাকরণের কিছু ভিত্তি স্থাপন করলেন।

এরপর তার পরে আসলেন মায়মুন আল-আকরান এবং তিনি তাতে আরও সংযোজন করলেন। এরপর আসলেন আনবাসাহ বিন মাদানি আল-মাহরি এবং তিনিও তাতে সংযোজন করলেন। এরপর আসলেন আবদুল্লাহ বিন আবি ইসহাক আল-হাদরামি এবং আবু আমর বিন আল-আলা, তারা উভয়েই তাতে আরও নতুন কিছু যোগ করলেন। এরপর তাদের পরে আসলেন খলিল বিন আহমদ আল-আযদি। এরপর ক্রমান্বয়ে মানুষ আসতে থাকল এবং এসব বিষয়ের কিছু ক্ষেত্রে বসরা ও কুফার পণ্ডিতগণের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলো।

ব্যাকরণের প্রাথমিক সূচনা সম্পর্কে আমার নিকট এই তথ্যই পৌঁছেছে। আর সমস্ত শাস্ত্রের বিষয়টি এমনই: সূচনালগ্নে তা সামান্যই থাকে, অতঃপর ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না পরিশেষে তা পূর্ণতা লাভ করে।

যদি বলা হয়: নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আপনার কথা মেনে নেওয়া হলো যে তা জানা আবশ্যক, কিন্তু তাসরিফ বা রূপতত্ত্বের কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ তাসরিফ হলো শব্দের মূল রূপ, তার বৃদ্ধি, বিলোপ এবং পরিবর্তন সম্পর্কে জানা। আর এ বিষয়ে অজ্ঞতা কোনো ক্ষতি করে না এবং এ জ্ঞান কোনো উপকারেও আসে না। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি: যখন কোনো বক্তা বলে: ‘আমি একটি শক্তিশালী উট দেখেছি’, তখন তার জন্য এই শব্দের আলিফটি অতিরিক্ত নাকি মূল—তা জানার প্রয়োজন নেই। কারণ আরবরা এভাবেই কথা বলেছে। যদি তারা আলিফ ছাড়া বলত, তবে কারো জন্য নিজে থেকে তাতে আলিফ যোগ করে বলার অবকাশ থাকত না। সুতরাং এর মাধ্যমে জানা গেল যে, সে কেবল শব্দসমূহ উচ্চারণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
كما سمعت عن العرب، من غير زيادة فيها ولا نقص، وليس يلزم بعد ذلك أن يعلم أصلها ولا زيادتها؛ لأن ذلك أمر خارج تقتضيه صناعة تأليف الكلام.

فالجواب عن ذلك أنّا نقول: اعلم أنا لم نجعل معرفة التصريف كمعرفة النحو؛ لأن الكاتب أو الشاعر إذا كان عارفا بالمعاني، مختارا لها، قادرا على الألفاظ، مجيدا فيها، ولم يكن عارفا بعلم النحو؛ فإنه يفسد ما يصوغه من الكلام ويختلّ عليه ما يقصده من المعاني، كما أريناك في ذلك المثال المتقدم، وأما التصريف فإنه إذا لم يكن عارفا به لم تفسد عليه معاني كلامه، وإنما تفسد عليه الأوضاع، وإن كانت المعاني صحيحة، وسيأتي بيان ذلك في تحرير الجواب، فنقول: أما قولك إن التصريف لا حاجة إليه، واستدلالك بما ذكرته من المثال المضروب؛ فإن ذلك لا يستمرّ لك الكلام فيه، ألا ترى أنك مثّلت كلامك في لفظة سرداح، وقلت: إنه لا يحتاج إلى معرفة الألف زائدة هي أم أصلية لأنها إنما نقلت عن العرب على ما هي عليه من غير زيادة ولا نقص، وهذا لا يطرد إلا فيما هذا سبيله من نقل الألفاظ على هيئتها من غير تصرف فيها بحال، فأما إذا أريد تصغيرها أو جمعها والنسبة إليها فإنه إذا لم يعرف الأصل في حروف الكلمة وزيادتها وحذفها وإبدالها يضلّ حينئذ عن السبيل، وينشأ من ذلك مجال للعائب والطاعن، ألا ترى أنه إذا قيل للنحوي وكان جاهلا بعلم التصريف كيف تصغير لفظة اضطراب فإنه يقول: ضطيرب، ولا يلام على جهله بذلك، لأن الذي تقتضيه صناعة النحو قد أتى به، وذلك أن النحاة يقولون: إذا كانت الكلمة على خمسة أحرف وفيها حرف زائد أو لم يكن حذفته «1» نحو قولهم في منطلق: مطيلق، وفي جحمرش: جحيمر؛
আপনি আরবদের কাছ থেকে যেমন শুনেছেন, তাতে কোনো বাড়াবাড়ি বা কমতি নেই। এরপর তার মূল বা তার অতিরিক্ত অংশ জানার প্রয়োজন নেই; কারণ এটি এমন একটি বাহ্যিক বিষয় যা বাক্যের সংকলন শিল্পের জন্য প্রয়োজন।

এর উত্তর হলো আমরা বলি: জেনে রাখুন, আমরা সারফ বা তসরীফের (শব্দরূপতত্ত্ব) জ্ঞানকে নাহু বা ব্যাকরণবিদ্যার জ্ঞানের মতো (অপরিহার্য) মনে করি না; কারণ একজন লেখক বা কবি যদি অর্থের বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, তা চয়ণে দক্ষ হন এবং শব্দের প্রয়োগে পারদর্শী হন, কিন্তু নাহু শাস্ত্রে জ্ঞানী না হন, তবে তিনি যে বাক্য রচনা করবেন তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং তিনি যে অর্থ বুঝাতে চাইছেন তা বিঘ্নিত হবে, যেমনটি আমি আপনাকে পূর্বোক্ত উদাহরণে দেখিয়েছি। আর তসরীফের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, যদি তিনি এতে অভিজ্ঞ না হন তবে তার বাক্যের অর্থ নষ্ট হয় না, বরং শব্দের গঠনকাঠামো বা রূপান্তর প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ হয়, যদিও অর্থ সঠিক থাকে। উত্তরের বিস্তারিত আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাই আমরা বলি: তসরীফের কোনো প্রয়োজন নেই বলে আপনার যে দাবি এবং আপনি যে উদাহরণ পেশ করেছেন, তাতে আপনার যুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি 'সিরদাহ' শব্দের উদাহরণ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এতে আলিফটি অতিরিক্ত না কি মূল তা জানার প্রয়োজন নেই, কারণ তা আরবদের কাছ থেকে কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি ছাড়াই অবিকল রূপে প্রাপ্ত হয়েছে? এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন শব্দগুলো কোনো প্রকার রূপান্তর ছাড়াই তাদের মূল অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যখন সেই শব্দের তসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ), জমা (বহুবচন) বা নিসবত (সম্পর্কযুক্তকরণ) করার ইচ্ছা করা হয়, তখন যদি শব্দের মূল অক্ষর, অতিরিক্ত অক্ষর, বিলুপ্তি এবং রূপান্তর সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, তবে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে। আর এর ফলে সমালোচক ও নিন্দুকদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, যদি এমন কোনো নাহুবিদকে জিজ্ঞাসা করা হয়—যিনি তসরীফ শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ—যে 'ইযতিরাব' শব্দের তসগীর কী? তখন তিনি বলবেন: 'দুতাইরিব'। এবং এই অজ্ঞতার জন্য তাকে তিরস্কার করা হয় না, কারণ নাহু শাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী তিনি উত্তর দিয়েছেন। আর তা হলো নাহুবিদগণ বলেন: যদি কোনো শব্দ পাঁচ অক্ষরের হয় এবং তাতে কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে, তবে তা বিলুপ্ত করা হবে; যেমন তারা 'মুনতালিক' এর তসগীরে বলে 'মুতাইলিক' এবং 'জাহমারিশ' এর ক্ষেত্রে বলে 'জুহাইমির'।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فلفظة منطلق على خمسة أحرف، وفيها حرفان زائدان هما الميم والنون إلا أن الميم زيدت فيها لمعنى؛ فلذلك لم تحذف، وحذفت النون، وأما لفظة جحمرش فخماسية لا زيادة فيها وحذف منها حرف أيضا، ولم يعلم النحوي أن علماء النحو إنما قالوا ذلك مهملا اتكالا منهم على تحقيقه من علم الصرف؛ لأنه لا يلزمهم أن يقولوا في كتب النحو أكثر مما قالوا، وليس عليهم أن يذكروا في باب من أبواب النحو شيئا من التصريف؛ لأن كلا من النحو والتصريف علم منفرد برأسه، غير أن أحدهما مرتبط بالآخر، ومحتاج إليه.

وإنما قلت: إن النحوي إذا سئل عن تصغير لفظة اضطراب يقول: ضطيرب؛ لأنه لا يخلو إما أن يحذف من لفظة اضطراب الألف أو الضاد أو الطاء أو الراء أو الباء، وهذه الحروف المذكورة غير الألف ليست من حروف الزيادة؛ فلا تحذف، بل الأولى أن يحذف الحرف الزائد ويترك الحرف الذي ليس بزائد؛ فلذلك قلنا:

إن النحوي يصغر لفظة اضطراب على ضطيرب؛ فيحذف الألف التي هي حرف زائد، دون غيرها مما ليس من حروف الزيادة، وأما أن يعلم أن الطاء في اضطراب مبدلة من تاء، وأنه إذا أريد تصغيرها تعاد إلى الأصل الذي كانت عليه، وهو التاء، فيقال: ضتيرب؛ فإن هذا لا يعلمه إلا التصريفي، وتكليف النحوي الجاهل بعلم التصريف معرفة ذلك كتكليفه علم ما لا يعلمه؛ فثبت بما ذكرناه أنه يحتاج إلى علم التصريف؛ لئلا يغلط في مثل هذا.

ومن العجب أن يقال: إنه لا يحتاج إلى معرفة التصريف، ألم تعلم أن نافع ابن أبي نعيم، وهو من أكبر القراء السبعة قدرا، وأفخمهم شأنا، قال في معايش:

معائش، بالهمز»

، ولم يعلم الأصل في ذلك؛ فأوخذ عليه، وعيب من أجله، ومن
'মুনতালিক' শব্দটি পাঁচটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত, এবং এতে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ রয়েছে—মীম ও নূন। তবে মীম শব্দটি একটি বিশেষ অর্থের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়নি, কিন্তু নূন বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর 'জাহমারিশ' শব্দটি পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট মূল শব্দ, যাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ নেই, তবুও তা থেকে একটি বর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ব্যাকরণবিদ (নাহবী) জানতেন না যে, নাহবশাস্ত্রের পণ্ডিতগণ কেবল সারফশাস্ত্রের (রূপতত্ত্ব) বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করেই বিষয়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন; কারণ নাহবশাস্ত্রের কিতাবসমূহে যা বলা হয়েছে তার চেয়ে বেশি বলা তাদের জন্য আবশ্যক নয়। নাহবের কোনো অধ্যায়ে সারফ সংক্রান্ত কিছু উল্লেখ করাও তাদের দায়িত্ব নয়; কারণ নাহব ও সারফ প্রতিটিই স্বতন্ত্র জ্ঞানশাখা, যদিও একটি অপরটির সাথে সম্পৃক্ত এবং মুখাপেক্ষী।

আর আমি একথাই বলেছি যে: কোনো নাহবীকে যদি 'ইদতিরাব' শব্দের তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তিনি বলবেন 'দুতাইরিব' (ত্বা সহকারে); কারণ 'ইদতিরাব' শব্দ থেকে আলিফ, দদ, ত্বা, রা অথবা বা—এর যেকোনো একটিকে বিলুপ্ত করা ছাড়া উপায় নেই। আর আলিফ ব্যতীত উল্লিখিত এই বর্ণগুলো অতিরিক্ত বর্ণ নয়; তাই এগুলো বিলুপ্ত হবে না। বরং অতিরিক্ত বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা এবং যা অতিরিক্ত নয় তাকে বহাল রাখাই শ্রেয়। এই কারণেই আমরা বলেছি:

নাহবী ব্যক্তি 'ইদতিরাব' শব্দের তাসগীর করবেন 'দুতাইরিব' হিসেবে; ফলে তিনি অতিরিক্ত বর্ণ আলিফ বিলুপ্ত করবেন, অন্য কোনো মূল বর্ণ নয়। কিন্তু 'ইদতিরাব'-এর ত্বা (طاء) বর্ণটি যে মূল তা (تاء) থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে, এবং যখন এর তাসগীর করা হবে তখন তাকে তার মূলে অর্থাৎ তা (تاء)-তে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং 'দুতাইরিব' (তা সহকারে) বলতে হবে—এই বিষয়টি কেবল সারফশাস্ত্রবিদই (তাসরীফী) জানেন। আর সারফশাস্ত্রে অজ্ঞ একজন নাহবীর নিকট এ জাতীয় জ্ঞান আশা করা তাকে এমন বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করার মতো যা সে জানে না। সুতরাং আমাদের আলোচনার দ্বারা এটি প্রমাণিত হলো যে, তাকে অবশ্যই সারফশাস্ত্র জানতে হবে; যাতে সে এই জাতীয় ভুল না করে।

এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে বলা হয়: সারফশাস্ত্র জানার প্রয়োজন নেই। আপনি কি জানেন না যে, সাতজন প্রসিদ্ধ ক্বারীর মধ্যে মর্যাদায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সুমহান ব্যক্তিত্ব নাফে' ইবনে আবি নুআইম 'মাআয়িশ' শব্দের ক্ষেত্রে হামযা যোগে 'মাআইশ' পাঠ করেছেন? তিনি এর মূল উৎস সম্পর্কে অবগত ছিলেন না; ফলে এ কারণে তাকে সমালোচনা করা হয়েছে এবং এটি তাঁর একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ-শায়ির ত মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
جملة من عابه أبو عثمان المازني؛ فقال في كتابه في التصريف: إن نافعا لم يدر ما العربيّة، وكثيرا ما يقع أولو العلم في مثل هذه المواضع، فكيف الجهال الذين لا معرفة لهم بها ولا اطّلاع لهم عليها؟ وإذا علم حقيقة الأمر في ذلك لم يغلط فيما يوجب قدحا ولا طعنا، وهذه لفظة معايش لا يجوز همزها بإجماع من علماء العربية، لأن الياء فيها ليست مبدلة من همزة، وإنما الياء التي تبدل من الهمزة في هذا الموضع تكون بعد ألف الجمع المانع من الصرف، ويكون بعدها حرف واحد، ولا تكون عينا، نحو سفائن، وفي هذا الموضع غلط نافع رحمة الله عليه، لأنه لا شك اعتقد أن معيشة بوزن فعيلة وجمع فعيلة هو على فعائل، ولم ينظر إلى أن الأصل في معيشة معيشة على وزن مفعلة، وذلك لأن أصل هذه الكلمة من عاش التي أصلها عيش على وزن فعل، ويلزم مضارع فعل المعتل العين يفعل لتصح الياء، نحو يعيش، ثم تنقل حركة العين إلى الفاء فتصير يعيش، ثم يبني من يعيش مفعول فيقال: معيوش به، كما يقال: مسيور به، ثم يخفف ذلك بحذف الواو؛ فيقال: معيش به، كما يقال: مسير به، ثم تؤنث هذه اللفظة فتصير معيشة.

ومع هذا فلا ينبغي لصاحب هذه الصناعة من النظم والنثر أن يهمل من علم العربية ما يخفى عليه بإهماله اللحن الخفي؛ فإن اللحن الظاهر قد كثرت مفاوضات الناس فيه حتى صار يعلمه غير النحوي، ولا شك أن قلة المبالاة بالأمر واستشعار القدرة عليه توقع صاحبه فيما لا يشعر أنه وقع فيه؛ فيجهل بما يكون عالما به.

ألا ترى أن أبا نواس كان معدودا في طبقات العلماء مع تقدمه في طبقات الشعراء، وقد غلط فيما لا يغلط مثله فيه، فقال في صفة الخمر:

كأنّ صغرى وكبرى من فواقعها … حصباء درّ على أرض من الذّهب
আবু উসমান আল-মাযিনী যাদের সমালোচনা করেছেন তাদের একটি অংশ হলো; তিনি তাঁর রূপতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: নাফে' জানতেন না আরবী ভাষা কী। প্রায়শই জ্ঞানী ব্যক্তিরা এই ধরণের বিষয়ের সম্মুখীন হন, তাহলে ঐসব মূর্খদের কী অবস্থা হবে যাদের এই বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই এবং এর ওপর কোনো জানাশোনা নেই? যদি এই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ জানা থাকে, তবে এমন কোনো ভুল হবে না যা দোষারোপ বা সমালোচনার কারণ হয়। আর এই ‘মা‘আইশ’ শব্দটি আরবী ভাষাবিদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হামযা দিয়ে পড়া জায়েয নেই; কারণ এতে বিদ্যমান ‘ইয়া’ বর্ণটি হামযা থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসেনি। মূলত এই স্থানে সেই ‘ইয়া’-ই হামযাতে রূপান্তরিত হয় যা বর্জনীয় বহুবচনের (মানতায়ে সারফ) আলিফের পরে আসে এবং যার পরে একটি মাত্র বর্ণ থাকে এবং যা শব্দের মূল বর্ণ (আইন) হিসেবে থাকে না, যেমন ‘সাফাইন’। এই স্থানে নাফে' (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ভুল করেছেন; কারণ নিঃসন্দেহে তিনি ধারণা করেছিলেন যে ‘মাঈশাহ’ শব্দটি ‘ফাইলাহ’ ওজনে গঠিত এবং ‘ফাইলাহ’ এর বহুবচন হলো ‘ফায়াইল’। তিনি লক্ষ্য করেননি যে ‘মাঈশাহ’ এর মূল রূপ আসলে ‘মাফআলাহ’ ওজনে ‘মাঈশাহ’। এর কারণ হলো, এই শব্দটির মূল হলো ‘আশা’, যার উৎস ‘ফায়ালা’ ওজনে ‘আইশা’। আর আইন কালিমা দুর্বল এমন ‘ফায়ালা’ এর বর্তমানকাল ‘ইয়াফইলু’ এর অনুসারী হয় যাতে ‘ইয়া’ বর্ণটি বহাল থাকে, যেমন ‘আইয়াশু’। এরপর আইন কালিমার হরকত ফা কালিমায় স্থানান্তরিত হয় এবং তা ‘ইয়াঈশু’ হয়ে যায়। এরপর ‘ইয়াঈশু’ থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য গঠিত হলে তা হয় ‘মাঈয়ুশুন বিহি’, যেমন বলা হয় ‘মাসইয়ুরুন বিহি’। এরপর ‘ওয়াও’ বর্ণটি বিলুপ্ত করে একে সহজ করা হয় এবং বলা হয় ‘মাঈশুন বিহি’, যেমন বলা হয় ‘মাসীরুন বিহি’। এরপর এই শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ করা হয় এবং তা ‘মাঈশাহ’ তে রূপান্তরিত হয়।

এতদসত্ত্বেও, ছন্দ ও গদ্য রচয়িতাদের জন্য আরবী ভাষার এমন কোনো জ্ঞানকে অবহেলা করা উচিত নয় যা না জানার কারণে তার অলক্ষ্যে সূক্ষ্ম ব্যাকরণগত ভুল (লাহন খফি) সংঘটিত হতে পারে। কারণ প্রকাশ্য ভুল (লাহন জহির) নিয়ে মানুষের মধ্যে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, এখন ব্যাকরণবিদ ছাড়াও সাধারণ মানুষ তা জানে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এবং নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ব্যক্তিকে এমন ভুলের মধ্যে ফেলে দেয় যা সে নিজেও বুঝতে পারে না; ফলে সে যা জানত সে বিষয়েও সে অজ্ঞ সাব্যস্ত হয়।

আপনি কি দেখেন না যে, আবু নুওয়াস কবিদের মধ্যে শীর্ষস্থানে থাকা সত্ত্বেও আলেমদের কাতারভুক্ত ছিলেন? অথচ তিনিও এমন ভুল করেছেন যা তার মতো ব্যক্তির দ্বারা হওয়া অসম্ভব ছিল। মদের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন:

এর ফেনাগুলোর ছোট এবং বড় অংশগুলো যেন স্বর্ণালি মাটির ওপর ছড়িয়ে থাকা মুক্তার নুড়ি পাথর। …