(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: -)
سير الحاث إلى علم الطلاق الثلاث - ط النوادر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: سَيرُ الحاثّ إلى عِلْم الطّلاق الثلاث
المؤلف: يوسف ابن عبد الهادي
المحقق: الدكتور صفوت عادل عبد الهادي (سليل أسرة آل عبد الهادي الحنابلة)
مطبوع بذيل كتاب: «الإمام يوسف بن عبد الهادي وآثاره الفقهية، وبيان أثر حنابلة فلسطين في دمشق» للمُحَقِق
الناشر: دار النوادر
الطبعة: الأولى 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 87
مصدر الكتاب: مكتبة يا باغي الخير أقبل - ملتقى أهل الحديث، وهو مقابل على المطبوع
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 جُمادَى الأولى 1443
সাইরুল হাস ইলা ইলমিত তলাকিস সালাসা - আন-নাওয়াদির প্রকাশনী বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সাইরুল হাস ইলা ইলমিত তলাকিস সালাসা
লেখক: ইউসুফ ইবনে আব্দুল হাদী
গবেষক: ডক্টর সাফোয়াত আদিল আব্দুল হাদী (হাম্বলী আল-আবদুল হাদী পরিবারের বংশধর)
গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত: গবেষক প্রণীত «ইমাম ইউসুফ বিন আব্দুল হাদী ও তাঁর ফিকহী অবদান, এবং দামেস্কে ফিলিস্তিনি হাম্বলীদের প্রভাবের বিবরণ»
প্রকাশনী: দারুন নাওয়াদির
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭
গ্রন্থের উৎস: মাকতাবাতু ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল - মুলতাকা আহলিল হাদিস; এবং এটি মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ জুমাদাল উলা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ১)
الإمام يوسف بن عبد الهادي
وآثاره الفقهية
وبيان أثر حنابلة فلسطين في دمشق
مع تحقيق علمي لكتابه
سير الحاث إلى علم الطلاق الثلاث إعداد ودراسة
الدكتور صفوت عادل عبد الهادي
سليل أسرة آل عبد الهادي الحنابلة
دار النوادر
الطبعة الأولى
1428 هـ - 2007 م
ইমাম ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি
এবং তাঁর ফিকহশাস্ত্রীয় (فقهي) অবদানসমূহ
এবং দামেস্কে ফিলিস্তিনি হাম্বলিদের প্রভাবের বিবরণ
তাঁর কিতাবটির বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা (تحقيق) সহ
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস উপস্থাপনা ও গবেষণা
ডক্টর সাফওয়াত আদিল আব্দুল হাদি
হাম্বলি ধারার আলে আব্দুল হাদি পরিবারের বংশধর
দারুন নাওয়াদির
প্রথম সংস্করণ
১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
كتاب سير الحاث إلى علم الطلاق الثلاث
جمع يوسف بن حسن بن أحمد بن حسن بن عبد الهادي
কিতাব সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাসা (তিন তালাকের ইলমের প্রতি ধাবিত হওয়ার নির্দেশিকা)
সংকলনে: ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমদ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المصنفالحمد لله الذي أوضح منهاج الحق للراغب، وكشف ظلمة الباطل للطالب، وحسن التجائر للجالب، وكسر الجبابرة وقهرهم، فما تقرب إليه أحد إلا ورجع بالمكاسب، ولا بعد عنه أحد إلا ورجع بالمصائب، استوى على عرشه كما قال، لا كما يقول أولو المصائب، وارتفع فوق سماواته فيا سعادة الآيب، «وينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلةٍ إلى سماء الدنيا فيسأل: هل من مستغفرٍ؟ هل من تائبٍ؟» فقم وسل حوائجك، فإن الباب بلا حاجب.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থকারের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যের অন্বেষণকারীর নিকট হকের পথ স্পষ্ট করেছেন, এবং জ্ঞানপিপাসুর নিকট বাতিলের অন্ধকার দূরীভূত করেছেন, এবং লাভকারীর নিকট ব্যবসাকে কল্যাণময় করেছেন। তিনি অহংকারী স্বৈরাচারীদের চূর্ণ করেছেন এবং তাদের পরাজিত করেছেন। ফলে যে কেউ তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করেছে, সে প্রভূত কল্যাণ নিয়েই ফিরেছে; আর যে কেউ তাঁর থেকে বিমুখ হয়েছে, সে কেবল বিপদগ্রস্ত হয়েই ফিরেছে। তিনি তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন যেমনটি তিনি বলেছেন—বিপদগ্রস্তদের উক্তির মতো নয়। তিনি তাঁর আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে সমুন্নত, সুতরাং প্রত্যাবর্তনকারীর জন্য কতই না সৌভাগ্য! “আমাদের বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালক প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং জিজ্ঞাসা করেন: কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? কোনো তওবাকারী আছে কি?” অতএব দণ্ডায়মান হও এবং তোমার অভাবসমূহ পেশ করো, কারণ এই দ্বার কোনো দ্বারপাল ছাড়াই উন্মুক্ত।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولا ضد، ولا ند، ولا شبيه، ولا مقارب.
وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وحبيبه وخليله، صلى الله عليه وآله وصبحه وسلم تسليماً كثيراً كلما أمطرت السحائب.
وبعد: فهذا كتاب في بيان الطلاق الثلاث، وحكمه، وبيان اختلاف الناس فيه، سميته: كتاب «سير الحاث إلى علم الطلاق الثلاث» وأسأل الله الإعانة، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وجعلت فيه اثني عشر فصلاً:
الفصل الأول: في أن الطلاق الثلاث يقع ثلاثاً.
الفصل الثاني: فيمن قال بهذا القول، وأفتى به.
الفصل الثالث: في ذكر ما احتجت به هذه الطائفة.
الفصل الرابع: في أنه إنما يقع بالثلاث واحدة.
الفصل الخامس: فيمن قال بهذا القول، وأفتى به.
الفصل السادس: في ذكر ما احتجت به هذه الطائفة.
الفصل السابع: في ذكر فصل النزاع بين الفريقين.
الفصل الثامن: في ذكر مذاهب الناس في ذلك.
الفصل التاسع: في ذكر الثلاث إذا أتت متفرقة.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই, সমকক্ষ নেই, সদৃশ নেই এবং সমতুল্য কেউ নেই।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর প্রিয়তম ও অন্তরঙ্গ বন্ধু; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন, যতক্ষণ মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়।
অতঃপর: এটি তিন তালাকের বিবরণ, এর বিধান এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদের বর্ণনাসংবলিত একটি কিতাব। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘সাইরুল হাসি ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস’। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং কামনা করি তিনি যেন একে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমি এতে বারোটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তিন তালাক যে তিন তালাক হিসেবেই কার্যকর হয়, সে প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা এই মত পোষণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন, তাদের বর্ণনায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই পক্ষটি যেসব দলীল পেশ করেছেন, তার বর্ণনায়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তিন তালাক প্রদান করলে তা যে এক তালাক হিসেবে গণ্য হয়, সে প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা এই মত পোষণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন, তাদের বর্ণনায়।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই পক্ষটি যেসব দলীল পেশ করেছেন, তার বর্ণনায়।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা বর্ণনায়।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে মানুষের বিভিন্ন মাযহাব বা মতাদর্শের বর্ণনায়।
নবম পরিচ্ছেদ: তিন তালাক যদি বিচ্ছিন্নভাবে প্রদান করা হয়, তার বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
الفصل العاشر: في ذكر أنها لا تحل له حتى تنكح زوجاً غيره.
الفصل الحادي عشر: في ذكر المحلل وأحكامه.
الفصل الثاني عشر: في أن الثلاث: هل تحرم أم لا؟
দশম পরিচ্ছেদ: তিনি অন্য স্বামী বিবাহ না করা পর্যন্ত তার জন্য বৈধ (تحل) হবেন না—এই বর্ণনায়।
একাদশ পরিচ্ছেদ: মুহাল্লিল (المحلل) এবং এর বিধানসমূহ (أحكام) প্রসঙ্গে।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তিন তালাক প্রসঙ্গে: তা কি হারাম (تحرم) সাব্যস্ত করে নাকি করে না?
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
الفصل الأول في أن الطلاق الثلاث يقع ثلاثاًهذا هو الصحيح من المذهب، ولا تحل له حتى تنكح زوجاً غيره؛ كما سيأتي، وهذا القول مجزوم فيه في أكثر كتب أصحاب الإمام أحمد؛ كـ «الخرقي»، و «المقنع»، و «المحرر»، و «الهداية»، وغيرهم من كتب أصحاب الإمام أحمد، ولا يعدل عنه.
قال الأثرم: (سألت أبا .. .. ..
প্রথম পরিচ্ছেদ: একত্রে তিন তালাক প্রদান করলে তা তিন তালাক হিসেবেই গণ্য হওয়া প্রসঙ্গেএটিই মাযহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত, এবং সে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে; যেমনটি সামনে বর্ণিত হবে। আর এই অভিমতটি ইমাম আহমদের অনুসারীদের অধিকাংশ কিতাবে সুনিশ্চিতভাবে বর্ণিত হয়েছে; যেমন: ‘আল-খিরাকী’, ‘আল-মুকনি’, ‘আল-মুহাররার’, ‘আল-হিদায়াহ’ এবং ইমাম আহমদের অনুসারীদের অন্যান্য কিতাবসমূহ। আর এ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।
আল-আছরাম বলেন: (আমি আবূকে জিজ্ঞেস করলাম...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
عبد الله عن حديث ابن عباس «كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكرٍ [وسنتين من خلافة] عمر، [طلاق الثلاث] واحدة» بأي شيء تدفعه؟ فقال: برواية الناس عن ابن عباس أنها ثلاث)، وقدمه في «الفروع»، وجزم به في «المغني»، وأكثرهم لم يحك غيره. والله أعلم بالصواب.
ইবনে আব্বাসের হাদিস সম্পর্কে আবদুল্লাহর বর্ণনা: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে, আবু বকরের যুগে এবং উমরের খিলাফতের [দুই বছর] পর্যন্ত [একত্রে তিন তালাক] এক (তালাক) হিসেবে গণ্য হতো।" আপনি এটি কীসের দ্বারা খণ্ডন করবেন? তিনি বললেন: "ইবনে আব্বাস থেকে লোকপরম্পরায় বর্ণিত বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে যে, তা তিন (তালাক) হিসেবেই গণ্য।" তিনি একে 'আল-ফুরু' গ্রন্থে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং 'আল-মুগনি' গ্রন্থে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) প্রদান করেছেন। তাদের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এটি ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করেননি। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৪)
الفصل الثاني فيمن قال بهذا القول وأفتى بهقال به ابن عباس غير مرة، وابن عمر، وعبد الله بن عمرو، وعثمان، وعلي، وابن مسعود، وأنس، ذكره في «المغني»،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা এই মত পোষণ করেছেন এবং এই অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেছেনইবনে আব্বাস (রা.) একাধিকবার এই মত ব্যক্ত করেছেন, এছাড়া ইবনে ওমর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, ওসমান, আলী, ইবনে মাসউদ ও আনাস (রা.)-ও এই কথা বলেছেন; ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৫)
وقال: «هو قول أكثر أهل العلم»، وبه قال أحمد: والشافعي، وأبو حنيفة، ومالك، وابن أبي ليلى، والأوزاعي.
وقال به من أصحابنا الخرقي، والقاضي، وأبو بكر، وابن حامد، وابن .. .. ..
এবং তিনি বলেছেন: "এটি অধিকাংশ আলেমদের (أهل العلم) বক্তব্য"; আর ইমাম আহমাদ, শাফিঈ, আবু হানিফা, মালিক, ইবন আবি লায়লা এবং আওযায়ীও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের (أصحابنا) মধ্যে খিরাকি, আল-কাদি, আবু বকর, ইবন হামিদ এবং ইবন... এই মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
عقيل، وأبو الخطاب، والشيرازي، والشيخ موفق الدين، والشيخ مجد الدين -وليس مطلقاً كما سيأتي-، والشريف، حتى أكثر أصحاب الإمام أحمد على هذا القول. وفي «إجماع» ابن المنذر ما يدل على أنه إجماع، ليس بصريح فيه. وهذا القول اختاره ابن رجب، وقد صنف رداً على من قال بخلافه. والله أعلم بالصواب.
আকিল, আবু আল-খাত্তাব, আশ-শিরাজি, শাইখ মুওয়াফফাক আদ-দিন এবং শাইখ মাজদ আদ-দিন —তবে এটি নিঃশর্ত (مطلقاً) নয় যেমনটি সামনে আসবে— এবং আশ-শরিফ; এমনকি ইমাম আহমাদ-এর অধিকাংশ অনুসারী এই মতের ওপর রয়েছেন। ইবনুল মুনযির-এর ইজমা গ্রন্থে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি একটি সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع), যদিও তাতে বিষয়টি সুস্পষ্ট (صريح) নয়। এই মতটি ইবনে রজব বেছে নিয়েছেন এবং যারা এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন তাদের খণ্ডনে তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল্লাহই সঠিক (صواب) বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৭)
الفصل الثالث في ذكر ما احتجت به هذه الطائفة، ومالها، وما عليهاقال في «أعلام الموقعين» -بعد ذكره دليل الطائفة الأولى- ثم قال: (لكن رأى أمير المؤمنين عمر أن الناس استهانوا بأمر الطلاق، وكثر منهم إيقاعه جملة واحدة، فرأى من المصلحة عقوبتهم بإمضائه عليهم؛ ليعلموا أن أحدهم إذا أوقعه جملة، بانت المرأة، وحرمت عليه حتى تنكح زوجاً غيره نكاح رغبة، يراد للدوام، لا نكاح تحليل؛ فإنه كان من أشد الناس فيه، فإذا علموا ذلك، كفوا عن الطلاق [المحرم].
فرأى عمر أن هذا مصلحة لهم في زمانه، ورأى أن ما كان عليه في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وعهد الصديق وصدر من خلافته كان لا يليق بهم؛ لأنهم لم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই দল যা দ্বারা দলিল (حجة) পেশ করেছে এবং তাদের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা কিছু রয়েছে তার বর্ণনায়‘আলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে—প্রথম দলের দলিলাদি উল্লেখ করার পর—তিনি বলেন: (তবে আমিরুল মুমিনিন উমর লক্ষ্য করলেন যে, মানুষ তালাকের বিষয়টিকে তুচ্ছজ্ঞান করছে এবং তাদের পক্ষ থেকে একত্রে তালাক প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তিনি জনকল্যাণের (مصلحة) স্বার্থে এটি তাদের ওপর কার্যকর করে তাদের শাস্তি দেওয়া সমীচীন মনে করলেন; যাতে তারা জানতে পারে যে, তাদের কেউ যদি একত্রে তালাক প্রদান করে, তবে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে যাবে এবং তার জন্য হারাম (حرمت) হয়ে যাবে যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে স্বাভাবিক দাম্পত্যের উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, যা স্থায়িত্বের জন্য সম্পাদিত হবে, কোনো তাহলিল বিবাহ (نكاح تحليل) নয়; কেননা তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যখন তারা এটি জানবে, তখন তারা [নিষিদ্ধ] তালাক প্রদান থেকে বিরত থাকবে।
উমর মনে করলেন যে এটি তাঁর সময়ের প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য কল্যাণকর (مصلحة)। তিনি আরও দেখলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে, সিদ্দিকে আকবরের যুগে এবং তাঁর খিলাফতের প্রারম্ভে যা বলবৎ ছিল, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য সমীচীন নয়; কারণ তারা...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৮)
يتتابعوا فيه، وكانوا يتقون الله في الطلاق، وقد جعل الله لكل من اتقاه مخرجاً، فلما تركوا تقوى الله، وتلاعبوا بكتاب الله، وطلقوا على غير ما شرعه الله، ألزمهم بما التزموه؛ عقوبة لهم؛ فإن الله إنما شرع الطلاق مرة بعد مرة، ولم يشرعه كله مرة واحدة، فمن جمع الثلاث في مرة واحدة، فقد تعدى حدود الله، وظلم نفسه، ولعب بكتاب الله، فهو حقيق أن يعاقب، ويلزم بما التزمه، ولا يقر على رخصة الله وسعته، وقد صعبها على نفسه، ولم يتق الله ويطلق كما أمره الله وشرعه له، بل استعجل فيما جعل الله له الأناة فيه، رحمةً منه وإحساناً، وليس على نفسه، واختار الأغلظ والأشد.
وهذه قاعدة، وهي: «من تعجل شيئاً قبل أوانه، عوقب بحرمانه» وهذه من حسن سياسة عمر وتأديبه لرعيته، وقد وافقه الصحابة على ما ألزم به، وصرحوا لمن استفتاهم بذلك.
قال عبد الله بن مسعود: «من أتى الأمر على وجهه، فقد بين
তারা এতে একে অপরের অনুগামী হতে থাকে, অথচ তারা তালাকের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করত। আর আল্লাহ প্রত্যেক তাকওয়া (تقوى الله) অবলম্বনকারীর জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ (مخرجاً) করে দিয়েছেন। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর তাকওয়া (تقوى الله) বর্জন করল এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেল-তামাশা শুরু করল এবং আল্লাহ যেভাবে বিধান (شرع) দিয়েছেন তার বাইরে তালাক প্রদান করল, তখন তিনি তাদের সেই বিষয়ের ওপরই বাধ্য করলেন যা তারা নিজেদের ওপর অবধারিত করে নিয়েছিল; এটি ছিল তাদের জন্য শাস্তি স্বরূপ। কেননা আল্লাহ তালাক বিধান করেছেন বারবার পৃথকভাবে (مرة بعد مرة), তিনি সব তালাক একবারে দেওয়ার বিধান করেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন তালাককে একবারে একত্রিত করে, সে আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করল, নিজের ওপর জুলুম করল এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলল। তাই সে শাস্তির যোগ্য এবং যা সে নিজের ওপর অবধারিত করেছে তাতেই তাকে আবদ্ধ করা সমীচীন। তাকে আল্লাহর দেওয়া সহজ অনুমতি (رخصة) ও প্রশস্ততার ওপর বহাল রাখা হবে না, কারণ সে নিজেই নিজের ওপর বিষয়টিকে কঠিন করে নিয়েছে। সে আল্লাহকে ভয় করেনি এবং আল্লাহ যেভাবে তাকে নির্দেশ ও বিধান দিয়েছেন সেভাবে তালাক দেয়নি, বরং আল্লাহ যে বিষয়ে তার জন্য ধৈর্য ও ধীরস্থিরতা (أناة) রেখেছিলেন রহমত ও অনুগ্রহ হিসেবে, সে তাতে তাড়াহুড়ো করেছে এবং নিজের জন্য কঠিনতম ও কঠোরতম বিষয়টি বেছে নিয়েছে।
এটি একটি মূলনীতি (قاعدة), আর তা হলো: «যে ব্যক্তি কোনো কিছু সময়ের আগেই পেতে তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়»। এটি ছিল উমরের (রা.) উত্তম প্রশাসনিক নীতি ও তাঁর প্রজাদের শিষ্টাচার শেখানোর অংশ। সাহাবীগণ (صحابة) উমর (রা.) যা বাধ্যতামূলক করেছিলেন তার সাথে একমত পোষণ করেছিলেন এবং যারা তাদের কাছে ফতোয়া (فتوى) প্রার্থনা করেছিল তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: «যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার সঠিক পদ্ধতিতে (وجهه) সম্পাদন করে, তবে তা সুস্পষ্টভাবে...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪২৯)
[الله له]، ومن لبس على نفسه جعلنا عليه لبسه، والله لا تلبسون على أنفسكم فنحمله عنكم. هو كما تقولون».
وقال النبي صلى الله عليه وسلم لمن فعل ذلك:
«أيلعب بكتاب الله وأنا بين أظهركم؟» حتى قام رجل وقال: يا رسول الله! ألا أقتله؟.
ولما توقف عبد الله بن الزبير في الإيقاع، وقال للسائل: «إن هذا لأمرٌ ما لنا فيه قولٌ، فاذهب إلى عبد الله بن عباسٍ وأبي هريرة، فلما جاء إليهما، قال ابن عباسٍ لأبي هريرة: أفته؛ فقد جاءتك معضلةٌ»، ثم أفتياه بالوقوع.
[আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য], আর যে ব্যক্তি নিজের ওপর বিভ্রান্তি আরোপ করে, আমরা সেই বিভ্রান্তি তার ওপরই ন্যস্ত করি। আল্লাহর কসম, তোমরা নিজেদের ওপর বিভ্রান্তি চাপিয়ে দিও না যেন আমাদের তা বহন করতে হয়। বিষয়টি তেমনই যেমন তোমরা বলছ।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওই ব্যক্তির সম্পর্কে বলেছিলেন যে এমনটি করেছিল:
«আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করা হবে?» এমনকি এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তাকে হত্যা করব না?
আর যখন আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (তালাক) কার্যকর করার বিষয়ে দ্বিধাবোধ করলেন এবং প্রশ্নকারীকে বললেন: «এটি এমন একটি বিষয় যাতে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রার কাছে যাও।» অতঃপর সে যখন তাঁদের নিকট পৌঁছাল, তখন ইবনে আব্বাস আবু হুরায়রাকে বললেন: «তাঁকে ফতোয়া প্রদান করুন; আপনার নিকট একটি জটিল (معضلة) সমস্যা এসেছে।» অতঃপর তাঁরা উভয়েই তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩০)
فالصحابة رضي الله عنهم، وفي مقدمتهم عمر بن الخطاب، لما رأوا الناس قد استهانوا بأمر الطلاق، وأرسلوا ما بيدهم منه، ولبسوا على أنفسهم، فلم يتقوا الله في التطليق الذي شرعه لهم، فأخذوا بالتشديد على أنفسهم، ولم يقفوا على ما حد لهم، ألزموهم بما التزموه، وأمضوا عليهم ما اختاروه لأنفسهم من التشديد الذي وسع الله عليهم ما شرعه لهم بخلافه، ولا ريب أن من فعل هذا حقيق بالعقوبة، بأن ينفذ عليه ما أنفذه على نفسه، ولم يقبل رخصة الله وتيسيره ومهلته.
ولهذا قال ابن عباس لمن طلق مئة: «عصيت ربك، وبانت منك امرأتك، إنك لم تتق الله فيجعل لك مخرجاً. {ومن يتق الله يجعل له مخرجاً}».
وأتاه رجل، فقال: إن عمي طلق ثلاثاً. فقال:
«إن عمك عصى الله، فأندمه الله، وأطاع الشيطان، فلم يجعل له مخرجاً. فقال: أفلا تحلها له؟ فقال: من يخادع الله يخدعه الله».
وقال سعيد بن جبير: «جاء رجلٌ إلى ابن عباس فقال: إني طلقت
সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব; তাঁরা যখন দেখলেন যে মানুষ তালাকের (طلاق) বিষয়টিকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শুরু করেছে এবং তাদের হাতে থাকা এই সুযোগের যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, আর তারা নিজেদের ওপর বিষয়টি জটিল করে ফেলেছে এবং তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করেনি যা তিনি তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছিলেন—তখন তারা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করতে শুরু করল এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকল না। ফলে সাহাবীগণ তাদের ওপর সেটিই অবধারিত করে দিলেন যা তারা নিজেরা নিজেদের ওপর অবধারিত করে নিয়েছিল। আল্লাহ তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছিলেন তার বিপরীতে তারা নিজেদের জন্য যে কঠোরতা বেছে নিয়েছিল, সাহাবীগণ তাদের ওপর সেটিই কার্যকর করলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে শাস্তির যোগ্য; আর তার শাস্তি হলো সে নিজের ওপর যা কার্যকর করেছে তা-ই তার ওপর প্রয়োগ করা। কেননা সে আল্লাহর দেওয়া অবকাশ (رخصة), সহজিকরণ এবং সুযোগ গ্রহণ করেনি।
এ কারণেই ইবনে আব্বাস সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে একশ তালাক দিয়েছিল: «তুমি তোমার রবের অবাধ্য হয়েছ এবং তোমার স্ত্রী তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে গেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি যাতে তিনি তোমার জন্য নিষ্কৃতির কোনো পথ বের করে দিতেন। {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন}»।
এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: আমার চাচা তিন তালাক দিয়েছেন। তিনি বললেন:
«তোমার চাচা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে, ফলে আল্লাহ তাকে অনুতপ্ত করেছেন; আর সে শয়তানের আনুগত্য করেছে, তাই আল্লাহ তার জন্য কোনো নিষ্কৃতির পথ রাখেননি। লোকটি বলল: আপনি কি মহিলাটিকে তার জন্য হালাল করে দেবেন না? তিনি বললেন: যে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আল্লাহ তাকে প্রতারিত করেন»।
সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: «এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বলল: আমি তালাক দিয়েছি...»
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
امرأتي ألفاً، فقال: أما ثلاث، فتحرم عليك امرأتك، وبقيتهن وزرٌ، اتخذت آيات الله هزواً».
وقال مجاهد: «كنت عند ابن عباس، فجاءه رجلٌ فقال: إنه طلق امرأته ثلاثاً، فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه، ثم قال: ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول: يا ابن عباس! وإن الله قال: {ومن يتق الله يجعل له مخرجاً}؛ فإنك لم تتق الله، فلم أجد لك مخرجاً، عصيت ربك، فبانت منك امرأته».
وليتدبر العالم الذي قصده معرفة الحق واتباعه من الشرع والقدر في
«...আমার স্ত্রীকে এক হাজার (তালাক দিলাম)।’ তিনি বললেন: ‘তিনটি তোমার স্ত্রীকে তোমার জন্য হারাম করে দিয়েছে, আর অবশিষ্টগুলো হলো পাপের বোঝা; তুমি আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসে পরিণত করেছ।’
মুজাহিদ বর্ণনা করেন: ‘আমি ইবনে আব্বাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল যে, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। তিনি (ইবনে আব্বাস) এমনভাবে নীরব হয়ে থাকলেন যে, আমি মনে করলাম তিনি হয়তো তাকে স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবেন। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের কেউ বোকামিতে লিপ্ত হয় এবং পরে এসে বলে: হে ইবনে আব্বাস! অথচ আল্লাহ বলেছেন: {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন}; কিন্তু তুমি তো আল্লাহকে ভয় করোনি, তাই আমি তোমার জন্য কোনো নিষ্কৃতির পথ খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি তোমার রবের অবাধ্য হয়েছ, ফলে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে গেছে।’
আর যে আলিমের লক্ষ্য হলো সত্যকে জানা এবং শরিয়ত ও তাকদিরের মধ্য থেকে তার অনুসরণ করা, তাঁর উচিত গভীরভাবে চিন্তা করা যে...»
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
قبول الصحابة هذه الرخصة والتيسير على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقواهم ربهم تبارك وتعالى في التطليق، فجرت عليهم رخصته وتيسيره شرعاً وقدراً، فلما ركب الناس الأحموقة، وتركوا تقوى الله، ولبسوا على أنفسهم، وطلقوا على غير ما شرعه الله لهم، أجرى الله الحكيم على لسان الخليفة الراشد، والصحابة معه، شرعاً، وقد ألزمهم بذلك، وإنفاذه عليهم، وإبقاءه الإصر الذي جعلوه في أعناقهم، وهذه أسرار من أسرار الشرع والقدر لا تناسب عقول أبناء الزمان، فجاء أئمة الإسلام على آثار الصحابة، سالكين مسلكهم، قاصدين رضاء الله ورسوله، وإنفاذ دينه، فمنهم من ترك القول بحديث ابن عباس، لظنه أنه منسوخ، وهذه طريقة الشافعي).
وقال الشيخ موفق الدين في «المغني» مثل هذا، واستدل بما روي عن عبادة بن الصامت، قال: («طلق بعض آبائي امرأته ألفاً، فانطلق إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا: يا رسول الله! إن أبانا طلق أمنا ألفاً، فهل له مخرجٌ؟ فقال: إن أباكم لم يتق الله فيجعل له من أمره مخرجاً، بانت منه
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাহাবায়ে কেরামের এই সুযোগ ও সহজ বিধান গ্রহণ এবং তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের মহান প্রতিপালকের প্রতি তাকওয়া (تقوى) ছিল যথার্থ; ফলে শরয়ি ও তাকদিরি উভয় দিক থেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সহজতা ও শিথিলতা তাঁদের জন্য কার্যকর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মানুষ যখন নির্বুদ্ধিতার পথে পা বাড়াল, আল্লাহর প্রতি তাকওয়া (تقوى) বর্জন করল, নিজেদের ওপর বিষয়টিকে জটিল করে তুলল এবং আল্লাহ তাদের জন্য যেভাবে তালাক বিধিবদ্ধ করেছিলেন তার বাইরে গিয়ে তালাক দিতে শুরু করল, তখন প্রজ্ঞাময় আল্লাহ খোলাফায়ে রাশেদিন ও তাঁদের সাথে থাকা সাহাবায়ে কেরামের যবানে একে শরয়ি বিধানে পরিণত করলেন। তিনি তাঁদের ওপর তা বাধ্যতামূলক করলেন এবং তা কার্যকর করলেন। তারা নিজেদের ঘাড়ে যে কঠিন বোঝা চাপিয়ে নিয়েছিল, তিনি তা বহাল রাখলেন। এগুলো হচ্ছে শরিয়ত ও তাকদিরের এমন কিছু গূঢ় রহস্য যা বর্তমান যুগের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। অতঃপর ইসলামের ইমামগণ সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের পথেই চলেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী মত দেয়া ছেড়ে দিয়েছেন এই ধারণায় যে, সেটি রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে; আর এটিই ইমাম শাফিয়ির পদ্ধতি।
শাইখ মুওয়াফফাকুদ্দীন 'আল-মুগনি' গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন এবং উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: "আমার পূর্বপুরুষদের একজন তাঁর স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দেন। এরপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পিতা আমাদের মাতাকে এক হাজার তালাক দিয়েছেন, এখন তাঁর জন্য কি বেরিয়ে আসার কোনো পথ আছে? তিনি বললেন: তোমাদের পিতা আল্লাহকে ভয় বা তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করেননি যে আল্লাহ তাঁর জন্য কোনো পথ বের করে দেবেন। সে তাঁর থেকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৩)
بثلاثٍ على غير السنة، وتسعٌ مئة وسبعةٌ وتسعون إثمٌ في عنقه»؛ ولأن النكاح ملك يصح إزالته متفرقاً، فيصح مجتمعاً كسائر الأملاك. فأما حديث ابن عباس، فقد صحت الرواية عنه بخلافه، وأفتى أيضاً بخلافه، قال الأثرم: «سألت أبا عبد الله عن حديث ابن عباس: بأي شيء تدفعه؟ قال: أدفعه برواية الناس عن ابن عباس من وجوه أنها ثلاث».
وقيل: «معنى حديث ابن عباس أن الناس كانوا يطلقون واحدة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر، فلا يجوز أن يخالف عمر ما كان في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر، ولا يسوغ لابن عباس أن يروي هذا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويفتي بخلافه).
قال ابن رجب في كتاب «مشكل الأحاديث الواردة في أن الطلاق الثلاث واحدة»:
(الحديث الأول: حديث طاوس عن ابن عباس قال: «كان الطلاق
তিনটি (তালাক) সুন্নাহ (سنة) বহির্ভূতভাবে এবং নয়শত সাতানব্বইটি পাপ তার কাঁধে বর্তাবে; কারণ বিবাহ হলো একটি মালিকানা যা পৃথকভাবে বিলুপ্ত করা বৈধ, সুতরাং অন্যান্য মালিকানার ন্যায় একত্রে বিলুপ্ত করাও বৈধ হবে। তবে ইবনে আব্বাসের হাদিসের ব্যাপারে কথা হলো, তাঁর থেকে এর বিপরীত বর্ণনা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে এবং তিনিও এর বিপরীত ফতোয়া দিয়েছেন। আছরাম বলেন: «আমি আবু আব্দুল্লাহকে ইবনে আব্বাসের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: আপনি এটি কিসের মাধ্যমে খণ্ডন করবেন? তিনি বললেন: আমি ইবনে আব্বাস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সূত্রের (وجوه) রেওয়ায়েত (رواية) দ্বারা এটি খণ্ডন করব যে তা ছিল তিনটি»।
বলা হয়ে থাকে: «ইবনে আব্বাসের হাদিসের অর্থ হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকরের যুগে মানুষ এক তালাক প্রদান করত; সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকরের যুগে যা প্রচলিত ছিল ওমর (রা.) তার বিরোধিতা করা জায়েজ নয়। আর ইবনে আব্বাসের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এটি বর্ণনা করা এবং এর বিপরীতে ফতোয়া দেওয়া সংগত নয়)।
ইবনে রজব তাঁর ‘মুশকিলুল আহাদিস আল-ওয়ারিদাহ ফি আন্নাত তলাকাস সালাসা ওয়াহিদা’ গ্রন্থে বলেছেন:
(প্রথম হাদিস: ইবনে আব্বাস থেকে তাউসের হাদিস, তিনি বলেন: «তালাক ছিল
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৪)
على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر: طلاق الثلاث واحدةٌ، فقال عمر بن الخطاب: إن الناس قد استعجلوا في أمرٍ كانت لهم فيه أناةٌ، فلو أمضيناه عليهم؟ فأمضاه عليهم»، وأخرجه أيضاً من طريق إبراهيم بن ميسرة عن طاوس، بنحوه).
فهذا الحديث لأئمة الإسلام فيه طريقان:
أحدهما: وهو مسلك الإمام أحمد ومن وافقه، ويرجع إلى الكلام في إسناد الحديث بشذوذه، وانفراد طاوس به، وأنه لم يتابع عليه، وانفراد الراوي بالحديث، وإن كان ثقة، هو علة في الحديث يوجب التوقف فيه، وأن يكون شاذاً ومنكراً إذا لم يرو معناه من وجه يصح. وهذه طريقة أئمة الحديث المتقدمين؛ كالإمام أحمد، ويحيى القطان، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، وغيرهم، وهذا الحديث لا يرويه عن ابن عباس غير طاوس.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে, আবু বকরের যুগে এবং ওমরের খিলাফতের প্রথম দুই বছরে তিন তালাক এক তালাক হিসেবে গণ্য হতো। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: 'নিশ্চয়ই মানুষ এমন এক বিষয়ে তড়িঘড়ি করছে যাতে তাদের জন্য ধীরস্থিরতার অবকাশ ছিল। অতএব, আমরা যদি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিতাম?' অতঃপর তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিলেন। (ইবরাহিম ইবনে মাইসারা থেকে তাউসের সূত্রে অনুরূপভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে)।
ইসলামের ইমামগণের নিকট এই হাদিসের ব্যাপারে দুটি পন্থা রয়েছে:
প্রথমটি: এটি ইমাম আহমাদ এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তাদের অনুসৃত পথ। এটি এই হাদিসের সনদের (إسناد) ত্রুটি তথা এর ব্যতিক্রমী (شاذ) হওয়া এবং তাউসের একাকী বর্ণনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে। মূলত এই বর্ণনায় অন্য কেউ তাঁর অনুগামী হয়নি। আর কোনো বর্ণনাকারীর এককভাবে হাদিস বর্ণনা করা—যদিও তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন—হাদিসের এমন একটি ত্রুটি (علة) যা সেই হাদিসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (توقف) আবশ্যক করে। এছাড়া যদি এর অর্থ অন্য কোনো বিশুদ্ধ সূত্র থেকে বর্ণিত না হয়, তবে তা ব্যতিক্রমী (شاذ) ও প্রত্যাখ্যাত (منكر) হিসেবে গণ্য হয়। এটিই পূর্ববর্তী হাদিস ইমামদের পদ্ধতি; যেমন ইমাম আহমাদ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদিনী এবং অন্যান্যগণ। আর ইবনে আব্বাস থেকে এই হাদিসটি তাউস ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৫)
قال الإمام أحمد في رواية ابن منصور: «كل أصحاب ابن عباس -يعني: روى عنه- خلاف ما روى طاوس».
وقال الروشنائي: «هو حديث شاذ، قال: وقد عنيت بهذا الحديث في قديم الدهر، فلم أجد له أصلاً».
قال المصنف: «ومتى أجمع الأمة على اطراح العمل بحديث، وجب اطراحه، وترك العمل به».
وقال ابن مهدي: «لا يكون إماماً في العلم من عمل بالشاذ».
ইমাম আহমাদ ইবনে মনসুরের বর্ণনায় বলেছেন: «ইবনে আব্বাসের সকল ছাত্র -অর্থাৎ যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন- তাউস যা বর্ণনা করেছেন তার বিপরীত বর্ণনা করেছেন।»
এবং রওশনায়ী বলেছেন: «এটি একটি ব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিস। তিনি আরও বলেন: আমি সুদীর্ঘকাল যাবৎ এই হাদিসটি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু আমি এর কোনো ভিত্তি (أصل) খুঁজে পাইনি।»
গ্রন্থকার বলেন: «যখন উম্মত কোনো হাদিসের ওপর আমল বর্জন করার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করে, তখন তা বর্জন করা এবং তার ওপর আমল ত্যাগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।»
এবং ইবনে মাহদী বলেন: «যে ব্যক্তি ব্যতিক্রমী (شاذ) বর্ণনা অনুযায়ী আমল করে, সে ইলমের ক্ষেত্রে ইমাম হতে পারে না।»
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৬)
وقال النخعي: «كانوا يكرهون الغريب من الحديث».
وقال يزيد بن أبي حبيب: «إذا سمعت الحديث، فانشده كما تنشد الضالة، فإن عرف، وإلا فدعه».
وعن مالك قال: «شر العلم الغريب، وخير العلم الظاهر الذي قد رواه الناس».
وفي هذا الباب شيء كثير، لعدم جواز العمل بالغريب وغير المشهور.
قال ابن رجب: «وقد صح عن ابن عباس -وهو راوي الحديث- أنه أفتى بخلاف هذا الحديث، ولزوم الثلاث مجموعة. وقد علل بهذا أحمد والشافعي كما ذكره في «المغني»، وهذه أيضاً علة في الحديث بانفرادها، فكيف وقد ضم إليها علة الشذوذ والإنكار وإجماع الأمة؟!».
وقال القاضي إسماعيل في كتاب «أحكام القرآن»: «طاوس مع فضله وصلاحه يروي أشياء منكرة، منها هذا الحديث».
ইব্রাহিম আন-নাখায়ি বলেন: «তারা হাদিসের বিরল (غريب) বিষয়গুলোকে অপছন্দ করতেন।»
ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: «যখন তুমি কোনো হাদিস শুনবে, তখন তা এমনভাবে অনুসন্ধান করবে যেমনটি হারানো বস্তু অনুসন্ধান করা হয়। যদি তা পরিচিত হয়, অন্যথায় তা বর্জন করো।»
ইমাম মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিকৃষ্টতম ইলম হলো বিরল (غريب) ইলম, আর সর্বোত্তম ইলম হলো তা যা প্রকাশ্য এবং যা সাধারণ মানুষ বর্ণনা করেছে।»
এই বিষয়ে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে, কেননা বিরল (غريب) এবং অ-প্রসিদ্ধ (غير مشهور) বিষয়ের ওপর আমল করা বৈধ নয়।
ইবনে রজব বলেন: «ইবনে আব্বাস (রাযি.) —যিনি এই হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي)— থেকে সহিহ (صح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি এই হাদিসের বিপরীতে এবং একত্রে তিন তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ ও শাফিয়ি একে ত্রুটি (علة) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেমনটি 'আল-মুগনি' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এককভাবেও হাদিসের একটি ত্রুটি (علة), তাহলে যখন এর সাথে শاذ বা ব্যতিক্রমধর্মী (شذوذ), আপত্তিকর (إنكار) এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থী হওয়ার বিষয়গুলো যুক্ত হয়, তখন তার অবস্থা কী দাঁড়াবে?!»
কাজি ইসমাইল তার 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেন: «তাউস তার মর্যাদা ও ন্যায়নিষ্ঠতা সত্ত্বেও কিছু আপত্তিকর (منكرة) বর্ণনা প্রদান করেন, যার মধ্যে এই হাদিসটিও একটি।»
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৭)
وعن أيوب: «أنه كان يعجب من كثرة خطأ طاوس».
وقال ابن عبد البر: «شذ طاوس في هذا الحديث».
قال ابن رجب: «وكان علماء أهل مكة ينكرون على طاوس ما ينفرد به من شواذ الأقاويل».
المسلك الثاني: وهو مسلك ابن راهويه ومن تابعه، وهو الكلام في معنى الحديث، وهو أن يحمل على غير المدخول بها، نقله ابن منصور عن إسحاق، وأشار إليه إسحاق في كتاب «الجامع»، وبوب عليه أبو بكر الأثرم في «سننه»، وأبو بكر الخلال يدل عليه.
وفي «سنن أبي داود» من رواية حماد بن زيد عن أيوب، عن غير
আইয়ুব হতে বর্ণিত: "তিনি তাউসের ভুলের (خطأ) আধিক্য দেখে বিস্মিত হতেন।"
ইবনে আব্দুল বার বলেন: "এই হাদিসে তাউস ব্যতিক্রমী (شذ) মত পোষণ করেছেন।"
ইবনে রজব বলেন: "মক্কাবাসী আলেমগণ তাউস তার একক বর্ণনায় (ينفرد) যেসব বিচ্যুতিপূর্ণ (شواذ) কথা বলতেন, সেগুলোর প্রতিবাদ করতেন।"
দ্বিতীয় পন্থা: এটি ইবনে রাহওয়াইহ এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছেন তাদের পন্থা, যা হলো হাদিসের মর্মার্থ সংক্রান্ত আলোচনা। আর তা হলো—একে এমন স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যার সাথে সহবাস করা হয়নি। ইবনে মানসুর এটি ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইসহাক তার 'জামে' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আবু বকর আল-আছরাম তার 'সুনান' গ্রন্থে এর উপর পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন এবং আবু বকর আল-খাল্লালও এর প্রতি নির্দেশ করেছেন।
এবং 'সুনান আবু দাউদ'-এ হাম্মাদ বিন যায়েদের সূত্রে আইয়ুব হতে বর্ণিত, অন্য একজনের নিকট থেকে...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৮)
واحد، عن طاوس: أن رجلاً يقال له أبو الصهباء كان كثير السؤال لابن عباس، قال: «كان الرجل إذا طلق امرأته ثلاثاً قبل أن يدخل بها، جعلوها واحدةً على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكرٍ، وصدراً من إمارة عمر، فلما رأى الناس قد تتابعوا فيها، قال: أجيزوهن عليهم، وأيوب إمام كبير.
فإن قيل: لكن الرواية مطلقة، قلنا: الجمع بين الدليلين، ونقول: هذا قبل الدخول.
قال ابن رجب: (الحديث الثاني: «روى عبد الرزاق عن ابن جريجٍ: أخبرني بعض بني أبي رافعٍ مولى النبي صلى الله عليه وسلم عن عكرمة مولى ابن عباس، عن ابن عباسٍ قال: طلق عبد يزيد أبو ركانة وإخوته أم ركانة، ونكح امرأةً من مزينة، فجاءت النبي صلى الله عليه وسلم، فقالت: ما يغني عني إلا كما تغني هذه الشعرة -لشعرةٍ أخذتها من رأسها- ففرق بيني وبينه.
فأخذت النبي صلى الله عليه وسلم حميةٌ، فدعا بركانة وإخوته، ثم قال لجلسائه: أترون
জনৈক ব্যক্তি, তাউস থেকে বর্ণিত: আবুল সাহবা নামক এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে প্রচুর প্রশ্ন করতেন। তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবু বকরের যুগে এবং ওমরের খিলাফতের শুরুর দিকে কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সহবাসের আগে তিন তালাক দিলে তারা সেটিকে এক হিসেবে গণ্য করতেন। অতঃপর যখন তিনি (ওমর) দেখলেন যে মানুষ এতে লাগামহীনভাবে লিপ্ত হচ্ছে, তখন তিনি বললেন: এটি তাদের ওপর কার্যকর করো।" আর আইয়ুব একজন মহান ইমাম (إمام)।
যদি বলা হয়: কিন্তু বর্ণনা (رواية) টি তো সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق), আমরা বলব: দুই দলিলের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে, আর আমরা বলি: এটি সহবাসের পূর্বের বিষয়।
ইবনে রজব বলেন: (দ্বিতীয় হাদিস: "আব্দুর রাজ্জাক ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাস (مولى) আবু রাফে-এর বংশধরদের কেউ আমাকে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস (مولى) ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রুকানার পিতা আবদ ইয়াজিদ রুকানা ও তার ভাইদের মাকে তালাক দেন এবং মুজাইনা গোত্রের এক নারীকে বিয়ে করেন। অতঃপর ওই নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: তিনি আমার জন্য ততটুকুই যথেষ্ট যতটুকু এই চুলটি—নিজের মাথা থেকে ছিঁড়ে নেওয়া একটি চুলের দিকে ইঙ্গিত করে—অতএব আপনি আমার ও তাঁর মধ্যে বিচ্ছেদ করে দিন।
এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হলো, তিনি রুকানা ও তার ভাইদের ডাকলেন, অতঃপর তাঁর মজলিসে উপবিষ্টদের বললেন: তোমরা কি দেখছ...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৩৯)
فلاناً يشبه منه كذا وكذا؟ قالوا: نعم، قال النبي صلى الله عليه وسلم لعبد يزيد: طلقها ففعل، فقال: راجع امرأتك أم ركانة وإخوته، فقال: إني طلقتها ثلاثاً يا رسول الله، قال: قد علمت، راجعها، وتلا: {يأيها النبي إذا طلقتم النساء فطلقوهن لعدتهن}. أخرجه أبو داود).
قال: (والكلام على هذا الحديث من وجوه:
أحدها: أن إسناده مجهول.
الثاني: أن الرجل الذي لم يسم في رواية عبد الرزاق، وهو محمد بن عبيد الله بن أبي رافع، وهو رجل ضعيف الحديث بالاتفاق، وأحاديثه منكرة، وقيل: إنه متروك، فسقط هذا الحديث حينئذٍ.
الثالث: أنه محمد بن ثور الصاغاني: ثقة كبير عابد، ولم يذكر محمد بن ثور في روايته أنه طلقها ثلاثاً، وإنما قال: «إني طلقتها»، وعبد الرزاق حدث في آخر عمره [أحاديث] منكرة جداً في فضائل أهل البيت وذم غيرهم، وكان له ميل إلى التشيع، وهذا الحكم مما يوافق هوى الشيعة.
الرابع: أن حديث عبد الرزاق لو صح متنه، فليس فيه أنه طلقها ثلاثاً
"অমুক ব্যক্তি কি তার মতো এই এই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদ ইয়াজিদকে বললেন: "তাকে তালাক দাও।" তিনি তা-ই করলেন। এরপর তিনি বললেন: "তোমার স্ত্রী উম্মু রুকানাহ এবং তার ভাইদের মা-এর কাছে ফিরে যাও।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো তাকে তিন তালাক দিয়েছি।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি তা জানি, তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও}। (এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন)।
তিনি বললেন: (এই হাদিসটির ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে করা হয়েছে:
প্রথমত: এর সনদ (إسناد) অজ্ঞাত (مجهول)।
দ্বিতীয়ত: আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনায় যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবি রাফি। তিনি সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) দুর্বল (ضعيف الحديث) হাদিসধারী এবং তার বর্ণিত হাদিসসমূহ অস্বীকৃত (منكرة)। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত (متروك)। এমতাবস্থায় এই হাদিসটি তখন বর্জিত বলে গণ্য হবে।
তৃতীয়ত: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন সাওর আস-সাগানি: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), মর্যাদাপূর্ণ (كبير) এবং ইবাদতগুজার (عابد) ব্যক্তি। মুহাম্মদ বিন সাওর তার বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেননি যে তিনি তাকে তিন তালাক দিয়েছেন; বরং তিনি কেবল বলেছেন: "আমি তাকে তালাক দিয়েছি।" আর আবদুর রাজ্জাক তার জীবনের শেষভাগে আহলে বাইতের ফযিলত এবং অন্যদের নিন্দায় অত্যন্ত অস্বীকৃত (منكرة) কিছু হাদিসসমূহ (أحاديث) বর্ণনা করেছিলেন। শিয়া মতাদর্শের প্রতি তার ঝোঁক ছিল এবং এই হুকুমটি শিয়াদের প্রবৃত্তির সাথে সংগতিপূর্ণ।
চতুর্থত: আবদুর রাজ্জাকের বর্ণিত হাদিসটির মূল পাঠ (متن) যদি বিশুদ্ধ (صحيح) হতো, তবুও এতে এই কথা নেই যে তিনি তাকে তিন তালাক দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪০)
بكلمة واحدة، فيحمل أنه طلق ثلاثاً في مرات متعددة، ولكن هذه الواقعة قبل حصر عدد الطلاق في الثلاث.
الخامس: أن أبا داود عارض حديث عبد الرزاق بما روى ولد ركانة عنه: «أنه طلق امرأته البتة» قال: «وهو أصح من حديث والد أبي رافع»).
ثم قال ابن رجب في هذا الكتاب: «فصل: اعلم أنه لم يثبت عن أحد من الصحابة، ولا من التابعين، ولا من أئمة السلف المعتد بقولهم في الفتاوى في الحلال والحرام شيءٌ صريح في أن الطلاق الثلاث بعد الدخول يحسب واحدة، ما إذا سيق بلفظ واحد.
وعن الأعمش قال: «كان بالكوفة شيخٌ يقول: سمعت علي بن أبي طالبٍ يقول: إذا طلق الرجل امرأته ثلاثاً في مجلسٍ واحدٍ فترد إلى واحدةٍ، والناس عنقٌ واحدٌ إلى ذلك، يأتونه ويستمعون منه، فأتيته، فقلت له: سمعت علي بن أبي طالبٍ يقول؟ قال: سمعته يقول: إذا طلق الرجل
এক শব্দে (একযোগে), তাই একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে তিনি বিভিন্ন সময়ে তিন তালাক দিয়েছিলেন, তবে এই ঘটনাটি তালাকের সংখ্যা তিনে সীমাবদ্ধ করার পূর্বের।
পঞ্চম: আবু দাউদ আব্দুর রাজ্জাকের হাদিসের বিপরীতে রুকানার পুত্রের বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যে: «তিনি তাঁর স্ত্রীকে অকাট্য তালাক দিয়েছিলেন»। তিনি (আবু দাউদ) বলেন: «এটি আবু রাফির পিতার হাদিসের তুলনায় অধিক বিশুদ্ধ (أصح)»।)
এরপর ইবনে রজব এই কিতাবে বলেন: «পরিচ্ছেদ: জেনে রাখুন যে, সহাবি (صحابة), তাবেয়ি (تابعين) কিংবা সালাফদের (سلف) নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মধ্যে—যাঁদের ফতোয়া হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য—কারো পক্ষ থেকে এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য সাব্যস্ত (يثبت) হয়নি যে, সহবাসের পর এক শব্দে তিন তালাক প্রদান করলে তা একটি হিসেবে গণ্য হবে।
আল-আ'মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «কুফায় একজন শায়খ (شيخ) ছিলেন যিনি বলতেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি: যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক দেয়, তবে তা এক তালাকে প্রত্যাবর্তিত হবে। আর মানুষ একযোগে সেই মতের দিকেই ঝুঁকে পড়ত, তারা তাঁর নিকট আসত এবং তাঁর কথা শুনত। আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম: আপনি কি আলী ইবনে আবি তালিবকে এ কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: যদি কোনো ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪১)
امرأته ثلاثاً في مجلسٍ واحدٍ، فإنها ترد إلى واحدةٍ، فقلت: أين سمعت هذا من علي؟ فقال: أخرج إليك كتابي، فأخرج كتابه فإذا فيه: بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما سمعت علي ابن أبي طالب يقول: إذا طلق الرجل امرأته ثلاثاً في مجلسٍ واحدٍ، فقد بانت منه، ولا تحل له حتى تنكح زوجاً غيره، قلت: ويحك! هذا غير الذي تقول، قال: الصحيح هو هذا، ولكن هؤلاء أرادوني على ذلك».
وعن إبراهيم بن عبد الأعلى عن سويد بن غفلة قال:
«كانت عائشة بنت الفضل عند الحسن بن علي، فلما بويع بالخلافة هنأته، فقال: لا تظهرن الشماتة بقتل أمير المؤمنين، أنت طالقٌ ثلاثاً، ومتعها بعشرة آلافٍ، ثم قال: لولا أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم جدي -أو سمعت أبي يحدث عن جدي صلى الله عليه وسلم أنه قال: إذا طلق الرجل امرأته ثلاثاً عند الأقراء، أو طلقها ثلاثاً مبهمةً، لم تحل له حتى تنكح زوجاً غيره، لراجعتها».
...স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক দিলে তা এক তালাকে ফিরে আসে; আমি বললাম: আপনি এটি আলীর নিকট থেকে কোথায় শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি তোমার সামনে আমার কিতাব বের করছি। অতঃপর তিনি তাঁর কিতাব বের করলেন এবং তাতে পাওয়া গেল: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এটিই আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক দেয়, তখন সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। আমি বললাম: তোমার দুর্ভোগ হোক! এটি তো তোমার বলা কথার বিপরীত। তিনি বললেন: সহিহ (الصحيح) বা সঠিক হলো এটিই, কিন্তু ওরা আমাকে দিয়ে তা বলিয়ে নিতে চেয়েছিল।»
এবং ইব্রাহিম ইবনে আবদিল আলা থেকে বর্ণিত, তিনি সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন:
«আয়িশা বিনতে ফাযল হাসান ইবনে আলীর স্ত্রী ছিলেন। যখন তাঁর খিলাফতের বায়াত সম্পন্ন হলো, তখন তিনি তাঁকে অভিনন্দন জানালেন। তিনি (হাসান) বললেন: আমিরুল মুমিনিনের শাহাদাতে উল্লাস প্রকাশ করো না; তোমাকে তিন তালাক। এবং তিনি তাঁকে দশ হাজার (দিরহাম) উপঢৌকন প্রদান করে বিদায় দিলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি যদি আমার নানা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে না শুনতাম—অথবা আমার পিতাকে আমার নানা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করতে না শুনতাম যে তিনি বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পবিত্রতাকালীন অবস্থায় তিন তালাক দেয়, অথবা অস্পষ্টভাবে তিন তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে—তবে আমি তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে নিতাম।»
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪২)
قال ابن رجب: «وإسناده صحيح».
ثم قال ابن رجب بعد هذا: (فصل: وقد استدل على وقوع الثلاث المجمعة بأدلة متعددة من الكتاب والسنة، أما الكتاب، فمواضع:
أحدها: قوله: {يأيها النبي إذا طلقتم النساء فطلقوهن لعدتهن}.
إلى قوله: {ومن يتق الله يجعل له مخرجاً} فاستنبط ابن عباس من قوله: {ومن يتق الله يجعل له مخرجاً} أن من طلق على ما أمره الله لاستقبال العدة طلاقاً رجعياً وتركها حتى تنقضي عدتها، أو استرجعها، فقد جعل الله له مخرجاً، أما مراجعتها في العدة، أو نكاحها بعدها من غير زوج ولا إصابة، ومن طلق على غير ما أمر به الله، فطلق ثلاثاً، فلم يجعل الله فرجاً ولا مخرجاً، وهذا ثابت عن ابن عباس.
الموضع الثاني: قوله في سياق آيات: {ولا تتخذوا آيات الله هزواً}، قال الحسن: «كان الرجل في عهد النبي صلى الله عليه وسلم يطلق ويقول: كنت لاعباً، ويعتق ويقول: كنت لاعباً، ويزوج ابنه ويقول: كنت لاعباً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ثلاثٌ من قالهن لاعباً جائزاتٌ عليهم: العتاق، والطلاق، والنكاح، فأنزل الله تعالى: {ولا تتخذوا آيات الله هزواً}.
ইবনে রজব বলেন: «এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)»।
এরপর ইবনে রজব এর পরে বলেন: (পরিচ্ছেদ: কিতাব ও সুন্নাহর একাধিক দলিলের মাধ্যমে একত্রে তিন তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। কিতাবের দলিলগুলো কয়েকটি স্থানে রয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দেবে, তখন তাদের ইদ্দত গণনার প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিও}।
{এবং যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন}—এই বাণী পর্যন্ত। ইবনে আব্বাস মহান আল্লাহর এই বাণী {এবং যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন} থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ইদ্দত পালনের সময় রেখে রাজয়ী তালাক প্রদান করে এবং ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয় অথবা তাকে ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ রেখেছেন; আর তা হলো ইদ্দত চলাকালীন তাকে ফিরিয়ে নেওয়া অথবা ইদ্দত শেষে অন্য কোনো স্বামীর সাথে বিবাহ ও মিলন ছাড়াই তাকে পুনরায় বিবাহ করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে তিন তালাক দেয়, আল্লাহ তার জন্য কোনো প্রশস্ততা বা নিষ্কৃতির পথ রাখেননি। আর এটি ইবনে আব্বাস থেকে সাব্যস্ত (ثابت)।
দ্বিতীয় স্থান: আয়াতের ধারাবাহিকতায় আল্লাহর এই বাণী: {এবং তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বস্তু করো না}। হাসান বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কোনো লোক তালাক দিয়ে বলত: ‘আমি তো ঠাট্টা করছিলাম’, দাস মুক্ত করে বলত: ‘আমি তো ঠাট্টা করছিলাম’ এবং নিজের ছেলেকে বিয়ে দিয়ে বলত: ‘আমি তো ঠাট্টা করছিলাম’। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তিনটি বিষয় এমন যে, কেউ ঠাট্টাচ্ছলে বললেও তা তাদের ওপর কার্যকর হয়ে যায়: দাস মুক্তি, তালাক এবং বিবাহ’। এরপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: {এবং তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বস্তু করো না}।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
الموضع الثالث: قال: وهو ما يظهر لي بحمد الله من الآية على أن المطلق مرتين مأمورٌ بالإمساك بالمعروف، أو تسريح بإحسان، فدلت الآية على أن المطلق مرتين مأمورٌ بالإمساك بالمعروف، وهو الرجعة باتفاق المفسرين، أو التسريح بإحسان.
وقد اختلف العلماء في المراد بالإحسان، فقالت طائفة: هو الطلقة الثالثة، وهو قول مجاهد وقتادة وغيرهما، واختاره أبو بكر عبد العزيز بن جعفر من أصحابنا.
والقول الثاني في الآية: أن المراد بالتسريح بالإحسان: تخلية سبيلها حتى تنقضي عدتها، فيخلي بينها وبين الأزواج).
وقد جعل ابن رجب في آخر كتابه هذا في إحداث عمر للطلاق، وأنه مقبول قوله، فقال: (فصل: أخرج البخاري من طريق أبي سلمة، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لقد كان فيما قبلكم من الأمم
তৃতীয় ক্ষেত্র: তিনি বলেন: আল্লাহর প্রশংসাসহ আয়াতের মাধ্যমে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যে ব্যক্তি দুইবার তালাক প্রদান করেছে তাকে সদ্ব্যবহারের সাথে (স্ত্রীকে) রেখে দেওয়ার অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আয়াতটি একথার প্রমাণ দেয় যে, দুইবার তালাক প্রদানকারীকে সদ্ব্যবহারের সাথে (স্ত্রীকে) রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর মুফাসসিরদের ঐকমত্যে এটি হলো প্রত্যাহার, অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া।
আর ইহসান (মহানুভবতা) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন। একদল বলেছেন: এটি হলো তৃতীয় তালাক। এটি মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং অন্যদের অভিমত। আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের মধ্যে আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন জাফর এটি পছন্দ করেছেন।
আয়াতে উল্লিখিত দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়ার অর্থ হলো তাকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া যতক্ষণ না তার ইদ্দত শেষ হয়, অতঃপর তাকে অন্য স্বামীদের (বিয়ের) জন্য সুযোগ করে দেওয়া।
ইবনে রাজাব তাঁর এই কিতাবের শেষাংশে উমর (রা.)-এর প্রবর্তিত তালাকের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কথাটি যে গ্রহণযোগ্য (مقبول), তা ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: (পরিচ্ছেদ: বুখারি আবু সালামাহর সূত্র (طريق) থেকে, আবু হুরায়রা হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
ناسٌ محدثون، فإن يك في أمتي أحدٌ، فإنه عمر».
وفي رواية ذكرها تعليقاً: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لقد كان فيمن [كان] قبلكم من بني إسرائيل رجالٌ يتكلمون من غير أن يكونوا أنبياء، فإن يكن منهم أحدٌ، فعمر»، قال ابن عباس رضي الله عنهما: من نبي ولا محدث».
وأخرج مسلم من حديث أبي سلمة، عن عائشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «قد كان يكون في الأمم [قبلكم] محدثون، فإن يكن في أمتي أحدٌ، فعمر بن الخطاب، وعنده: قال ابن وهبٍ: «تفسير محدثون: ملهمون».
وقال الترمذي عن سفيان بن عيينة قال: «يعني مفهمون».
এমন কিছু লোক ছিলেন যারা অনুপ্রাণিত হতেন (محدثون); যদি আমার উম্মতের মধ্যে এমন কেউ থাকে, তবে সে উমর।
এবং একটি বর্ণনায় তিনি এটি মুআল্লাকভাবে (تعليقاً) উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা নবী না হওয়া সত্ত্বেও কথা বলতেন; যদি তাদের মধ্যে কেউ থেকে থাকে, তবে সে উমর»; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: «কোনো নবী কিংবা অনুপ্রাণিত ব্যক্তি (محدث) নয়»।
ইমাম মুসলিম আবু সালামার সূত্রে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে অনুপ্রাণিত ব্যক্তিরা (محدثون) ছিলেন; যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ থাকে, তবে সে উমর ইবনুল খাত্তাব»; আর তাঁর বর্ণনায় ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: «মুহাদ্দাসুন-এর ব্যাখ্যা হলো: ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি (ملهمون)»।
এবং তিরমিযী সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «অর্থাৎ তারা হলো বোধশক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি (مفهمون)»।
(খণ্ড: ১)
সায়রুল হাস ইলা ইলমিত তালাকিস সালাস - ত-নাওয়াদির
(পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
وعن أبي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم، زاد فيه: «قالوا: يا رسول الله! كيف محدثٌ؟ قال: الملائكة على لسانه»). والله أعلم.
فصلقال ابن رجب في آخر كتابه: «اعلم أن ما قضى به عمر على قسمين:
أحدهما: ما لم يعلم للنبي صلى الله عليه وسلم فيه قضاء بالكلية، وهذا على نوعين:
أحدهما: ما جمع فيه عمر الصحابة وشاورهم فيه، فأجمعوا معه عليه.
فهذا لا يشك أنه الحق، كهذه المسألة، والعمريتين، وكقضائه فيمن جامع في إحرامه أنه يمضي في نسكه، وعليه القضاء والهدي، ومسائل كثيرة.
والثاني: ما لم يجمع الصحابة، بل مختلفين فيه في زمنه، وهذا يسوغ فيه الاختلاف، كمسائل الجد مع الإخوة.
القسم الثاني: ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم فيه قضاء، بخلاف قضاء عمر، وهو على أربعة أنواع:
أحدها: ما رجع فيه عمر إلى قضاء النبي صلى الله عليه وسلم، فهذا لا عبرة فيه بقول عمر الأول.
আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে, তিনি তাতে আরও যোগ করেছেন: «তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! অনুপ্রাণিত ব্যক্তি (محدث) কেমন হয়? তিনি বললেন: ফেরেশতাগণ তাঁর জিহ্বার মাধ্যমে কথা বলেন»)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদইবনে রাজাব তাঁর কিতাবের শেষে বলেন: «জেনে রাখুন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যেসব ফয়সালা দিয়েছেন তা দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: যে বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো ফয়সালা সম্পর্কে একেবারেই জানা যায় না; আর এটি আবার দুই প্রকার:
এক: যে বিষয়ে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীগণকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করেছেন, ফলে তাঁরা সকলে তাঁর সাথে এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (أجمعوا) করেছেন।
এটি যে ধ্রুব সত্য সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যেমন বর্তমান এই মাসআলাটি, এবং আল-উমারিয়াতাইন (উমর রা.-এর বিশেষ দুই মাসআলা), এবং ইহরাম অবস্থায় সহবাসকারীর বিষয়ে তাঁর ফয়সালা যে সে তার ইবাদত সম্পন্ন করবে এবং তার ওপর কাজা (قضاء) ও হাদি (هدي) ওয়াজিব হবে, এবং এ জাতীয় আরও অনেক মাসআলা।
দুই: যে বিষয়ে সাহাবীগণ ঐকমত্য পোষণ করেননি, বরং তাঁর যুগে এই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান ছিল; আর এ ধরনের বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) পোষণ করা বৈধ, যেমন ভাইদের সাথে দাদার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।
দ্বিতীয় বিভাগ: যে বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো ফয়সালা বর্ণিত (روي) হয়েছে যা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফয়সালার বিপরীত, এবং এটি চার প্রকার:
প্রথমটি: যে ক্ষেত্রে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালার দিকে ফিরে এসেছেন; সুতরাং এক্ষেত্রে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্ববর্তী বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা (عبرة) নেই।